(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: -)
معجم الشيخة مريم - ط الثقافة   (ابن حجر العسقلاني)

القسم: كتب السنة


الكتاب: معجم الشيخة مريم، ست القضاة مريم بنت عبد الرحمن بن أحمد الأذرعية (ت 797 م)

المؤلف: ابن حجر العسقلاني

المحقق: محمد عثمان

الناشر: مكتبه الثقافة الدينية

الطبعة: الأولى، 1431 هـ - 2010 م

عدد الصفحات: 215

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ربيع الأول 1443

মুজামুশ শাইখা মারইয়াম - সাকাফাহ সংস্করণ   (ইবনে হাজার আল-আসকালানি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: মুজামুশ শাইখা মারইয়াম, সিততুল কুদাত মারইয়াম বিনতে আবদুর রহমান বিন আহমদ আল-আজরুয়িয়্যাহ (মৃত্যু ৭৯৭ হিজরি)

লেখক: ইবনে হাজার আল-আসকালানি

মুহাক্কিক: মুহাম্মদ উসমান

প্রকাশক: মাকতাবাতুস সাকাফাহ আদ-দিনিইয়াহ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩১ হিজরি - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ١)
معجم الشيخة مريم، ست القضاة مريم بنت عبد الرحمن بن أحمد (المتوفاة 797 م)

تحقيق: محمد عثمان

الناشر: مكتبه الثقافة الدينية
মুজামুশ শায়খা মারইয়াম, সিত্তুল কুদাত মারইয়াম বিনতে আবদুর রহমান বিন আহমাদ (মৃত্যু ৭৯৭ খ্রিষ্টাব্দ)

সম্পাদনা: মুহাম্মদ উসমান

প্রকাশক: মাকতাবাতুস সাকাফাহ আদ-দিনিয়্যাহ
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ٤)
الطبعة الأولى

1431 هـ - 2010

حقوق الطبع محفوظة للناشر

مكتبة الثقافة الدينية

526 شارع بورسعيد - القاهرة

25922620 - 25938411 / فاكس: 25936277

E-mail: [email protected]

بطاقة الفهرسة

إعداد الهيئة المصرية العامة لدار الكتب والوثائق القومية

إدارة الشئون الفنية

ست القضاه، مريم بنت عبد الرحمن بن أحمد بن عبد الرحمن، 1292 - 1358

معجم الشيخة مريم / ست القضاه / مريم بنت عبد الرحمن بن احمد

تخرج: أحمد بن علي بن محمد العسقلاني.

- ط 1 - القاهرة: مكتبة الثقافة الدينية، 2010

400 ص، 24 سم

تدمك: 3 - 457 - 341 - 977 - 978

1 - الحديث - معجم

ا - ابن حجر العسقلاني، احمد بن على بن الكناني العسقلاني، 1372 - 1449 (مخرج)

ب - عثمان، محمد

ج - العنوان

ديوي: 3. 230

رقم الايداع: 23351
প্রথম সংস্করণ

১৪৩১ হিজরী - ২০১০

প্রকাশকের নিকট সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

মাকতাবাতুস সাকাফাহ আদ-দ্বীনিয়্যাহ (ধর্মীয় সংস্কৃতি গ্রন্থাগার)

৫২৬ পোর্ট সাঈদ স্ট্রিট - কায়রো

২৫৯২২৬২০ - ২৫৯৩৮৪১১ / ফ্যাক্স: ২৫৯৩৬২৭৭

ই-মেইল: [ইমেইল সুরক্ষিত]

ক্যাটালগিং কার্ড

মিশরীয় ন্যাশনাল লাইব্রেরি ও আর্কাইভস (দারুল কুতুব) এর কারিগরি বিষয়ক বিভাগ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত

কারিগরি বিষয়ক ব্যবস্থাপনা বিভাগ

সিত্তুল কুদাত, মারইয়াম বিনতে আবদুর রহমান বিন আহমাদ বিন আবদুর রহমান, ১২৯২ - ১৩৫৮

মু'জামুশ শায়খাহ মারইয়াম / সিত্তুল কুদাত / মারইয়াম বিনতে আবদুর রহমান বিন আহমাদ

তাখরিজ: আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-আসকালানী।

- ১ম সংস্করণ - কায়রো: মাকতাবাতুস সাকাফাহ আদ-দ্বীনিয়্যাহ, ২০১০

৪০০ পৃষ্ঠা, ২৪ সেমি

আইএসবিএন: ৩ - ৪৫৭ - ৩৪১ - ৯৭৭ - ৯৭৮

১ - হাদিস - মু'জাম (অভিধান)

ক - ইবনে হাজার আল-আসকালানী, আহমাদ বিন আলী বিন আল-কিনানী আল-আসকালানী, ১৩৭২ - ১৪৪৯ (তাখরিজকারী)

খ - উসমান, মুহাম্মাদ

গ - শিরোনাম

ডিউই: ২৩০.৩

জমাদান নম্বর: ২৩৩৫১
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

مقدمة

الحمد لله الذي جعل في السماء بروجا وجعل فيها سراجا وقمرا منيرا، وهو الذي جعل الليل والنهار خلفة لمن أراد أن يذكر أو أراد شكورا، وصلى الله على من بعث بالهدى ودين الحق بشيرا ونذيرا، وعلى آله وصحبه ومن سار على نهجه واقتفى أثره وسلم تسليما كثيرا.

وبعد:

فقد جاء الإسلام فأعلى من قيمة المرأة وكرمها، ومن هنا ظهر دور بارز للمرأة على مدى التاريخ الإسلامي، فها هي أم المؤمنين السيدة خديجة رضي الله عنها وأرضاها، تقف بجوار الرسول في دعوته، وتؤيده وتنصره، حتى قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أمرت أن أبشر خديجة ببيت من قصب لا صخب فيه ولا نصب". والقصب: اللؤلؤ المجوف.

وأم المؤمنين السيدة عائشة رضي الله عنها وأرضاها أفقه النساء مطلقا، حتى قال عنها النبي صلى الله عليها وسلم: " فضل عائشة على النساء كفضل الثريد على سائر الطعام".

وقال عنها أبو موسى الأشعري: ما أشكل علينا أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم حديث قط فسألنا عائشة عنه إلا وجدنا عندها منه علما.

وقال عنها الزهرى: لو جمع علم عائشة إلى علم جميع أزواج النبي صلى الله عليه وسلم وعلم جميع النساء؛ لكان علم عائشة أفضل.

وفي غزوة أحد، ظهرت مواقف البطولة، فقد قاتلت أم عمارة حول رسول الله فضربها ابن قمئه على عاتقها ضربة تركت جرحا أجوف، وضربته فنجا بدرعه، وبقيت تقاتل حتى أصابها اثنا عشر جرحا.

وفي غزوة الأحزاب جاء رجل من بني قريظة بعد أن خانوا عهد رسول الله فجعل يطوف بالحصن الذي فيه النساء والذراري، فرأته صفية بنت عبد المطلب عمة رسول الله
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

ভূমিকা

সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আকাশে নক্ষত্ররাজি স্থাপন করেছেন এবং তাতে একটি প্রদীপ ও আলোকময় চন্দ্র সৃষ্টি করেছেন। আর তিনিই সেই সত্তা, যিনি রাত ও দিনকে একে অপরের অনুগামী করেছেন তাঁর জন্য, যে উপদেশ গ্রহণ করতে চায় অথবা কৃতজ্ঞ হতে চায়। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর প্রদর্শিত পথে চলেছেন ও তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন তাদের ওপর, এবং তাদের ওপর অগণিত সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

ইসলামের আগমন ঘটেছে এবং তা নারীর মর্যাদাকে সুউচ্চ ও সম্মানিত করেছে। এখান থেকেই ইসলামের ইতিহাসজুড়ে নারীর এক উজ্জ্বল ভূমিকা প্রকাশ পেয়েছে। এই তো মুমিন জননী সায়্যিদা খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা), তিনি রাসূলুল্লাহর দাওয়াতের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তাঁকে সমর্থন ও সহযোগিতা করেছিলেন, এমনকি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি খাদিজাকে ফাঁপা মুক্তার তৈরি এমন এক প্রাসাদের সুসংবাদ প্রদান করি, যেখানে কোনো শোরগোল নেই এবং কোনো ক্লান্তি নেই।" আর 'কাসাব' হলো ফাঁপা মুক্তা।

আর মুমিন জননী সায়্যিদা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ছিলেন সামগ্রিকভাবে নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ফকীহ। এমনকি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "সমস্ত খাদ্যের ওপর সারীদের শ্রেষ্ঠত্ব যেমন, সমস্ত নারীর ওপর আয়েশার শ্রেষ্ঠত্ব তেমন।"

আবু মুসা আল-আশআরী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণের কাছে যখনই কোনো হাদীস অস্পষ্ট মনে হতো এবং আমরা আয়েশাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম, তখনই আমরা তাঁর কাছে সে বিষয়ে জ্ঞান পেতাম।

যুহরী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: যদি আয়েশার জ্ঞানকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সমস্ত সহধর্মিণী ও সমস্ত নারীর জ্ঞানের সাথে একত্রিত করা হতো, তবে আয়েশার জ্ঞানই শ্রেষ্ঠ হতো।

উহুদ যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবস্থান ফুটে উঠেছিল; উম্মে আমারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চারপাশে থেকে যুদ্ধ করেছিলেন। তখন ইবনে কামিয়াহ তাঁর কাঁধে এমন এক আঘাত করেছিল যা একটি গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল, আর তিনিও তাকে পাল্টা আঘাত করেছিলেন কিন্তু সে তার বর্মের কারণে বেঁচে গিয়েছিল। তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন যতক্ষণ না তিনি বারোটি যখমে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

আহযাব (খন্দক) যুদ্ধে বনী কুরাইজার এক ব্যক্তি, তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করার পর, সেই দুর্গের চারপাশে ঘুরপাক খেতে শুরু করল যেখানে নারী ও শিশুরা ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ফুফু সাফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিব তাকে দেখতে পেলেন...
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ٦)
فشدت على وسطها ثم أخذت عمودا، ونزلت من الحصن، فضربته بالعمود حتى قتلته، ثم رجعت إلى الحصن، وهذا ظن اليهود أن للمسلمين ظهرا فلم يقربوهم.

ومواقف البطولة كثيرة وكثيرة… ، والاهتمام بالعلم كان أكثر وأكثر، اقتداء بأم المؤمنين السيدة عائشة رضي الله عنها.

فهناك نفيسة العلم، السيدة نفيسة بنت الحسن بن زيد بن الحسن بن علي بن أبي طالب: صاحبة المشهد المعروف بمصر. تقية صالحة، عالمة بالتفسير والحديث.

ولدت بمكة، ونشأت في المدينة، وتزوجت إسحاق المؤتمن ابن جعفر الصادق. وانتقلت إلى القاهرة فتوفيت فيها.

حجت ثلاثين حجة. وكانت تحفظ القرآن. وسمع عليها الإمام الشافعي، ولما مات أدخلت جنازته إلى دارها وصلت عليه. وكان العلماء يزوروها ويأخذون عنها، وهي أمية، ولكنها سمعت كثيرا من الحديث. وللمصريين فيها اعتقاد عظيم.

وهناك شهدة بنت أبي نصر أحمد بن الفرج بن عمر الإبري. فقيهة، من العلماء في عصرها، أصلها من الدينور، مولدها ووفاتها ببغداد، روت الحديث وسمع عليها خلق كثير، وطار صيتها، وتزوج بها ثقة الدولة ابن الأنباري، وكان من أخصاء المقتفي العباسي، وتوفي عنها سنة 549 هـ، وعرفت بـ (الكاتبة) لجودة خطها.

وانطلاقا من كل هذا أحيينا أن نقدم معجم الشيخة مريم، لنظهر للأمة الإسلامية والعالم بأسرة أن المرأة كان لها دورا بارزا في أهم العلوم الحديث والفقه والتفسير، وكانت تحضر مجالس العلم، ويسمع منها الفقهاء والمحدثون.

وأحببنا أن نقدم لكتابنا هذا بمقدمة نستعرض فيها مكانة المرأة في مختلف الثقافات قبل الإسلام، وعلو مكانتها بعد أن أعزها وأكرمها الإسلام، ونسأل الله التوفيق.
তিনি নিজের কোমরে কাপড় শক্ত করে বাঁধলেন, তারপর একটি খুঁটি হাতে নিলেন এবং দুর্গ থেকে নিচে নেমে এলেন। তিনি সেই খুঁটি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করলেন, তারপর পুনরায় দুর্গে ফিরে এলেন। এতে ইহুদিরা মনে করল যে মুসলমানদের পেছনে কোনো প্রতিরক্ষা বা সাহায্যকারী বাহিনী রয়েছে, তাই তারা আর তাদের নিকটবর্তী হয়নি।

বীরত্বগাথার এমন অনেক অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে… , আর ইলম বা জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ ছিল আরও ব্যাপক, যা উম্মুল মুমিনীন সায়্যিদা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার পদাঙ্ক অনুসরণের ফল।

সেখানেই রয়েছেন ইলমের রত্ন সায়্যিদা নাফিসা বিনতে হাসান বিন যায়েদ বিন হাসান বিন আলি বিন আবি তালিব, যাঁর মাশহাদ বা মাজার মিসরে সুপরিচিত। তিনি ছিলেন মুত্তাকী, সতী-সাধ্বী এবং তাফসির ও হাদিস শাস্ত্রে বিদুষী।

তিনি মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং মদিনায় লালিত-পালিত হন। তিনি জাফর আস-সাদিকের পুত্র ইসহাক আল-মুতামানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরবর্তীতে তিনি কায়রোতে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন।

তিনি ত্রিশবার হজ সম্পাদন করেন এবং তিনি হাফেজে কুরআন ছিলেন। ইমাম শাফিয়ি তাঁর নিকট হাদিস শ্রবণ করতেন। যখন ইমাম শাফিয়ি ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর জানাজা সায়্যিদা নাফিসার ঘরে নিয়ে আসা হয় এবং তিনি তাঁর জানাজার সালাত আদায় করেন। ওলামায়ে কেরাম তাঁর সাক্ষাতে আসতেন এবং তাঁর থেকে ইলম অর্জন করতেন। যদিও তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা (উম্মি) গ্রহণ করেননি, তবুও তিনি প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেছিলেন। মিসরীয়দের নিকট তাঁর প্রতি গভীর ভক্তি ও বিশ্বাস রয়েছে।

আরও রয়েছেন শাহদাহ বিনতে আবি নাসর আহমাদ বিন আল-ফারাজ বিন উমর আল-ইবরি। তিনি ছিলেন তাঁর সমকালের একজন প্রথিতযশা ফকিহা ও আলেম। তাঁর আদি নিবাস ছিল দিনাওয়ারে, তবে তাঁর জন্ম ও মৃত্যু বাগদাদে। তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে অসংখ্য লোক হাদিস শ্রবণ করেছেন। তাঁর সুখ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। সিকাতুদ দাওলা ইবনুল আম্বারি তাঁকে বিবাহ করেন, যিনি আব্বাসীয় খলিফা আল-মুকতাফির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজনদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ৫৪৯ হিজরিতে স্বামী ইন্তেকাল করলে তিনি বিধবা হন। তাঁর চমৎকার হস্তাক্ষরের জন্য তিনি 'আল-কাতিবাহ' (লেখিকা) নামে সুপরিচিত ছিলেন।

এই সবকিছুকে সামনে রেখেই আমরা 'মুজামুশ শায়খা মারইয়াম' গ্রন্থটি পেশ করতে চেয়েছি, যাতে মুসলিম উম্মাহ এবং সমগ্র বিশ্বের কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে, হাদিস, ফিকহ ও তাফসিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রগুলোতে নারীর অত্যন্ত উজ্জ্বল ভূমিকা ছিল। তাঁরা ইলমি মজলিসে অংশগ্রহণ করতেন এবং ফকিহ ও মুহাদ্দিসগণ তাঁদের থেকে ইলম গ্রহণ করতেন।

আমরা এই গ্রন্থের প্রারম্ভে একটি ভূমিকা যুক্ত করতে চেয়েছি, যেখানে ইসলাম-পূর্ব বিভিন্ন সংস্কৃতিতে নারীর অবস্থান এবং ইসলাম নারীকে সম্মান ও মর্যাদায় ভূষিত করার পর তাঁর উচ্চমর্যাদার কথা তুলে ধরা হয়েছে। আমরা আল্লাহর নিকট তাওফিক প্রার্থনা করি।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌الإسلام والمرأة

عندما تداعي محور الكفر على الإسلام وأهله، وأخذوا زمام المبادرة في قيادة البشرية، ارتفعوا بما في مجال التقدم العلمي، والحضارة المادية، إلا أن البشرية وقفت على حافة الهاوية بسبب إفلاسها في جانب الدين والأخلاق، وظهر الفساد في البر والبحر، وعرف الأعداء الذين درسوا تاريخنا وحقائق حياتنا، أن سر عظمتنا هو إسلامنا وعقيدتنا الربانية، التي ترقي بنا عن بريق الدنيا ومتاعها الزائل؛ لذا عمدوا إلى استلال مفاهيم العقيدة السليمة من قلوبنا، بالحكمة حينا وبالمكر والخداع حينا آخر، وبتخطيط ماكر استطاعوا أن يسلخوا المسلمين عن دينهم، وذلك بإقناع السذج منهم أن الإسلام تحفة قديمة، غالية الثمن إلى حد أنه يصعب استخدامها في هذا الزمن الأهوج، ولا بد من حفظ تلك التحفة على أجمل الرفوف، وفي أفخم الخزائن البلورية، تريك كل شيء لكنك لا تستطيع لمسها. وبهذه الصورة الرائعة من الخداع أبعدوا المسلمين عن شرعهم العظيم وعقيدتهم الصحيحة.

وقد أنبأنا رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الخطر الذي يتهدد المسلمين إذا ما ابتعدوا عن دينهم وعقيدتهم. فقد روى أبو داود، عن ثوبان رضي الله عنه مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم حيث قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " يوشك أن تداعي عليكم الأمم كما تداعي الأكلة إلى قصعتها. فقال قائل: أومن قلة نحن يومئذ؟ قال: بل أنتم يومئذ كثير، ولكنكم غثاء كغثاء السيل، ولينزعن الله من صدور عدوكم المهابة منكم، وليقذفن في قلوبكم الوهن. فقال قائل: يا رسول الله؛ وما الوهن؟ قال: حب الدنيا وكراهية الموت".

وأصبح حال المسلمين، كما قال الشاعر:

أني نظرت إلى الإسلام في بلد… رأيته كالطير مقصوصا جناحاه

وفي هذا الجو المشحون بالفوضي نشأ جيل مسلم، وجد الطريق، ولكنه تخبط وتعثر في خطواته، ولم يتعلم من كبواته كيف يقف ويصحح المسيرة، ويعترف بالخطأ، ويحدد العزم، ويمضي من جديد، فها نحن نرى الشباب الحائر الضائع، لاهثا وراء الشهوات، وقد ملئت بهم جامعاتنا ومعاهدنا ومدارسنا، وصارت كأنها مسرح يتسابق فيه الشباب
ইসলাম ও নারী

যখন কুফরের পক্ষগুলো ইসলাম ও এর অনুসারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হলো এবং মানবতার নেতৃত্ব প্রদানের লাগাম নিজেদের হাতে তুলে নিল, তারা বৈজ্ঞানিক উন্নতি এবং বস্তুগত সভ্যতার ক্ষেত্রে উৎকর্ষ লাভ করল। তবে দ্বীন ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে দেউলিয়া হওয়ার কারণে মানবতা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে এবং স্থলে ও জলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। যারা আমাদের ইতিহাস এবং আমাদের জীবনের বাস্তবতাগুলো অধ্যয়ন করেছে, সেই শত্রুরা বুঝতে পেরেছে যে, আমাদের শ্রেষ্ঠত্বের রহস্য হলো আমাদের ইসলাম এবং আমাদের রব্বানী আকিদা (বিশ্বাস), যা আমাদের দুনিয়ার চাকচিক্য ও এর নশ্বর ভোগবিলাস থেকে ঊর্ধ্বে নিয়ে যায়। তাই তারা কখনও কৌশলে, আবার কখনও ধূর্ততা ও প্রতারণার মাধ্যমে আমাদের অন্তর থেকে বিশুদ্ধ আকিদার ধারণাগুলোকে উপড়ে ফেলার সংকল্প করল। এক ধূর্ত পরিকল্পনার মাধ্যমে তারা মুসলিমদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম হলো। আর তা এভাবে যে, তারা তাদের মধ্য থেকে সরলমনাদের এই বিশ্বাস করাল যে, ইসলাম হলো একটি প্রাচীন প্রত্নবস্তু, যা এতোটাই মূল্যবান যে এই অস্থির সময়ে তা ব্যবহার করা কঠিন। এবং সেই প্রত্নবস্তুকে অবশ্যই সবচেয়ে সুন্দর তাকে এবং সবচেয়ে দামী স্ফটিকের সিন্দুকে সংরক্ষণ করতে হবে, যা তোমাকে সব দেখাবে কিন্তু তুমি তা স্পর্শ করতে পারবে না। প্রতারণার এই বিস্ময়কর রূপের মাধ্যমে তারা মুসলিমদেরকে তাদের মহান শরীয়ত এবং সঠিক আকিদা থেকে দূরে সরিয়ে দিল।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সেই বিপদ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যা মুসলিমদেরকে হুমকির মুখে ফেলবে যদি তারা তাদের দ্বীন ও আকিদা থেকে দূরে সরে যায়। আবু দাউদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস সাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "অচিরেই বিজাতীয় জাতিগুলো তোমাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে ডাকবে, যেভাবে আহারকারীরা তাদের খাবারের পাত্রের দিকে একে অপরকে ডাকে।" জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল: "আমরা কি সেদিন সংখ্যায় কম হবো?" তিনি বললেন: "না, বরং সেদিন তোমরা সংখ্যায় অনেক হবে, কিন্তু তোমরা হবে প্লাবনের খড়কুটোর মতো। আর আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের ভীতি দূর করে দেবেন এবং তোমাদের অন্তরে 'ওয়াহন' ঢেলে দেবেন।" জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করল: "হে আল্লাহর রাসূল! ওয়াহন কী?" তিনি বললেন: "দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা।"

এবং মুসলিমদের অবস্থা তেমন হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেমন কবি বলেছেন:

আমি এক দেশে ইসলামের দিকে তাকিয়েছি... আমি তাকে এমন এক পাখির মতো দেখেছি যার দুটি ডানা কাটা।

বিৃঙ্খলাপূর্ণ এই পরিবেশে এমন এক মুসলিম প্রজন্মের উদ্ভব হয়েছে যারা পথ তো খুঁজে পেয়েছে, কিন্তু তাদের পদক্ষেপে তারা বিভ্রান্ত ও হোঁচট খেয়েছে। তারা তাদের পতন থেকে শেখেনি কীভাবে উঠে দাঁড়াতে হয়, পথ সংশোধন করতে হয়, ভুল স্বীকার করতে হয়, সংকল্প দৃঢ় করতে হয় এবং নতুন করে পথ চলতে হয়। তাই আজ আমরা লক্ষ্য করি বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট যুবসমাজকে, যারা প্রবৃত্তির পিছনে হন্যে হয়ে ছুটছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট এবং স্কুলগুলো তাদের দ্বারা পরিপূর্ণ হয়ে গেছে এবং সেগুলো যেন এক রঙ্গমঞ্চে পরিণত হয়েছে যেখানে যুবকরা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
والفتيات، لإظهار حبهم للغرب ومواكبة أفكاره ومبادئه، التي تعتبر حسب زعمهم قمة التطور والحضارة المعاصرة.

وكم يعتصرنا الحزن عندما نرى فتيات في عمر الزهور يقعن فريسة التقليد الأعمى للممثلات والمغنيات الغربيات، وشبابا في ريعان الصبا، ولكنه مائع مستهتر بمبادئ الدين والأخلاق.

فمن هو المسئول عن ضياع هؤلاء جميعا؟

لكي نجيب على هذا السؤال لابد أن نقف على حقيقة هامة؛ وهي: إن المرأة طرف فيما يتعرض له هذا الجيل من ضياع وانحراف عن طريق الهدى والرشاد، فلقد طالها جانب كبير من مؤامرة أهل الغي والضلال، حيث إنهم اهتدوا إلى معرفة سر قوة وعظمة جيل السلف الرائد، ولقد أقض مضاجعهم أن تبقى المرأة في مملكتها تربي الأجيال، وتصنع الأبطال العظام، فخططوا بمكر بالغ لإخراجها من بيتها، وزجوا بها في معركة تقليد المرأة الغربية، وهي الخاسر فيها لا محالة، وفعلا نجحوا في مطلبهم ومرادهم.

فالمرأة ركن أساسي في بناء المجتمع وهي سر سعادته أو شقائه، بصلاحها يصلح الجيل الناشئ وبفسادها يفسد، فهي الأم والزوجة والأخت والمعلمة والمربية، فهي تمثل نصف المجتمع، وهي تلد النصف الثاني، فهي الأمة بأسرها، وعليها أن تجد السبيل لتغيير هذا الواقع الأليم؛ وذلك بالعمل على تربية جيل إيماني، فريد بصفاته وملامحه، جيل يتربي في أحضان العقيدة الربانية، يحفظ القرآن الكريم ويتدبره، ويتفهم معاني السنة النبوية الشريفة، ويتدبر سيرة السلف الصالح من الصحابة المجاهدين الفاتحين ليكون أهلا للقيادة، ويغير مجرى الأمور كلها، ويسهم في قلب موازين القوى في العالم، لتصب في صالح الإسلام والمسلمين، فإذا حققت هذا الهدف وأوجدت هذا الجيل القرآني، فإنها ستكون الصخرة التي ستتحطم عليها مؤامرات من أطلقوا شعار (دمروا الإسلام أبيدوا أهله).

ولئن كانت حصيلة القرن الماضي في غياب الإسلام عن الساحة، فذلك لا يعني الغروب؛ لأن الغروب لا يحول دون الشروق مرة أخرى في كل صبح جديد معلنا رجوع الأمور إلى نصابها، عندها سيأوي العباد إلى الإسلام كما تأوي الطير إلى أعشاشها، طلبا للعيش الكريم والأمن والأمان بعيدا عن ضوضاء الفوضى والتناقضات.
এবং তরুণীরা, পশ্চিমাদের প্রতি তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করতে এবং তাদের চিন্তাধারা ও মূলনীতির সাথে তাল মেলাতে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী সমসাময়িক উন্নয়ন ও সভ্যতার শিখর হিসেবে বিবেচিত।

আমরা অত্যন্ত ব্যথিত হই যখন দেখি প্রস্ফুটিত কুঁড়ির ন্যায় বয়সের তরুণীরা পাশ্চাত্য অভিনেত্রী ও গায়িকাদের অন্ধ অনুকরণের শিকারে পরিণত হচ্ছে, এবং তরুণরা তাদের যৌবনের প্রারম্ভে থাকা সত্ত্বেও দ্বীন ও নৈতিকতার মূলনীতির প্রতি শিথিল ও বেপরোয়া।

তবে এই সকলের পথভ্রষ্টতার জন্য দায়ী কে?

এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যের মুখোমুখি হতে হবে; আর তা হলো: হেদায়েত ও সঠিক পথ থেকে এই প্রজন্মের পথভ্রষ্টতা ও বিচ্যুতিতে নারী একটি পক্ষ, কেননা বিভ্রান্তি ও গোমরাহীর ধারক-বাহকদের ষড়যন্ত্রের এক বিশাল অংশ তাকেও স্পর্শ করেছে; যেহেতু তারা আদর্শ উত্তরসূরিদের প্রজন্মের শক্তি ও শ্রেষ্ঠত্বের রহস্য জানতে পেরেছে, এবং নারী তার নিজ রাজ্যে অবস্থান করে পরবর্তী প্রজন্মকে গড়ে তুলবে ও মহান বীরদের তৈরি করবে - এই বিষয়টি তাদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। তাই তারা তাকে ঘর থেকে বের করার জন্য অত্যন্ত ধূর্ততার সাথে পরিকল্পনা করেছে এবং তাকে পাশ্চাত্য নারীর অনুকরণের যুদ্ধে নিক্ষেপ করেছে, যাতে সে নিশ্চিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এবং বাস্তবে তারা তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে সফল হয়েছে।

সুতরাং নারী সমাজ গঠনের এক মৌলিক ভিত্তি এবং এর সুখ বা দুর্ভাগ্যের রহস্য। তার সংশোধনের মাধ্যমেই নতুন প্রজন্মের সংশোধন হয় এবং তার বিপথগামিতার মাধ্যমে প্রজন্ম কলুষিত হয়; কারণ সে মা, স্ত্রী, বোন, শিক্ষিকা এবং লালনকারিণী। সে সমাজের অর্ধেক অংশ এবং বাকি অর্ধেকের জন্মদাত্রী, ফলত সে সমগ্র উম্মাহরই প্রতিনিধি। আর এই বেদনাদায়ক বাস্তবতা পরিবর্তনের পথ তাকেই খুঁজে বের করতে হবে; আর তা হলো একটি ঈমানি প্রজন্ম গড়ে তোলার মাধ্যমে কাজ করা, যা তার গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যে হবে অনন্য; এমন এক প্রজন্ম যা খোদায়ী আকিদার কোলে লালিত হবে, পবিত্র কুরআন মুখস্থ করবে ও তা নিয়ে গবেষণা করবে, এবং সুন্নাহর মর্মার্থ অনুধাবন করবে এবং মুজাহিদ ও বিজয়ী সাহাবীগণের ন্যায় নেককার পূর্বসূরিদের জীবনী নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে, যেন তারা নেতৃত্বের যোগ্য হতে পারে এবং সকল বিষয়ের গতিধারা পরিবর্তন করতে পারে। তারা বিশ্বের ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অবদান রাখবে যাতে তা ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষে আসে। যদি সে এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে পারে এবং এই কুরআনী প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারে, তবে সে হবে সেই শিলাখণ্ড যার ওপর আছড়ে পড়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে তাদের ষড়যন্ত্র যারা এই শ্লোগান দিয়েছিল যে— "ইসলামকে ধ্বংস করো এবং এর অনুসারীদের নির্মূল করো"।

যদিও গত শতাব্দীর ফলাফল ছিল ময়দান থেকে ইসলামের অনুপস্থিতি, তবে তার অর্থ এই নয় যে এটি চিরস্থায়ী সূর্যাস্ত; কারণ সূর্যাস্ত প্রতিটি নতুন সকালে পুনরায় সূর্যোদয়কে বাধা দিতে পারে না, যা সমস্ত বিষয়কে তার পূর্বের সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দেয়। তখন মানুষ ইসলামের দিকে সেভাবেই আশ্রয় নেবে যেভাবে পাখিরা তাদের নীড়ে ফিরে আসে—সম্মানজনক জীবন এবং শান্তি ও নিরাপত্তার সন্ধানে, বিশৃঙ্খলা ও বৈপরীত্যের কোলাহল থেকে দূরে।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌مكانة المرأة عبر التاريخ

‌‌المرأة عند اليونان:

كانت المرأة في المجتمع اليوناني أول عهده محصنة عنيفة، لا تغادر البيت، ولا تسهم في الحياة العامة لا بقليل ولا بكثير، وكانت محتقرة حتى سموها رجسا، وكانت مستعبدة تباع وتشتري، مسلوبة الإرادة والحرية لا تستطيع التصرف بما تملك حتى زواجها كان موكولا للرجل.

وعندما بدت مظاهر الحضارة اليونانية ابتذلت المرأة، واختلطت بالرجال في الأندية والمجتمعات، فانتشر الفساد وعمت المنكرات.

 

‌‌المرأة عند الرومان:

كان رب الأسرة هو المسيطر على الأبناء ذكورا وإناثا، فكل ما يملكه الأبناء هو ملك للأب، والبنت ليس لها حق التصرف فيما تملك، وهي ليست مؤهلة للتصرف في أي شيء.

وعندما فكروا بتعديل القانون قرروا إعطاء البنت حق ملكية ما تكسبه بسبب عملها، وكذلك أعطوها حق بيع نفسها لمن تريد بعد وفاة وليها، وكان عندهم في عقد الزواج صك اسمه حق سيادة الرجل عليها، وتوقع عليه المرأة ويسمى (اتفاق السيادة).

 

‌‌المرأة عند الهنود:

لم يكن للمرأة في شريعة (مانو) حق في الاستقلال عن أبيها أو أخيها أو زوجها، ولم يكن لها حق الحياة بعد وفاة زوجها، بل يجب أن تموت يوم موته وأن تحرق معه وهي حية على موقد واحد، وكانت تقدم قربانا للآلهة لترضى، ولكثرة احتقارهم لها، فقد جاء في شرائعهم: (ليس الصبر المقدر والريح والموت والجحيم والسم والأفاعي والنار أسوأ من المرأة).

 

‌‌المرأة عند اليهود:

هي في مرتبة الخادم محرومة من الميراث، وإذا ملكته لعدم وجود إخوة لها يحرم عليها الزواج من عائلة غريبة. وهي عندهم لعنة؛ لأنها أغوت آدم، فأخرجته من الجنة، وكانوا إذا
ইতিহাসে নারীর মর্যাদা

গ্রিকদের নিকট নারী:

গ্রিক সমাজের আদি যুগে নারীরা অবরুদ্ধ ও কঠোর নিয়ন্ত্রণে ছিল; তারা ঘর থেকে বের হতে পারত না এবং সামাজিক জীবনে সামান্যতম অংশ নেওয়ার সুযোগও তাদের ছিল না। তারা এতটাই ঘৃণিত ছিল যে, তাদের 'অপবিত্র' বলে গণ্য করা হতো। তারা দাসের ন্যায় কেনাবেচা হতো এবং তাদের ইচ্ছা ও স্বাধীনতা বলতে কিছু ছিল না। নিজেদের মালিকানাধীন কোনো বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারত না, এমনকি তাদের বিবাহের বিষয়টিও পুরুষের ওপর ন্যস্ত ছিল।

পরবর্তীতে যখন গ্রিক সভ্যতার বিকাশ ঘটল, তখন নারীর শ্লীলতাহানি শুরু হয় এবং তারা বিভিন্ন ক্লাব ও জনসমাবেশে পুরুষদের সাথে অবাধ মেলামেশায় লিপ্ত হয়, ফলে সমাজে পাপাচার ছড়িয়ে পড়ে এবং অনাচার ব্যাপক রূপ নেয়।

 

রোমানদের নিকট নারী:

পরিবারের কর্তা ছিলেন ছেলে ও মেয়ে উভয়ের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী; ফলে সন্তানরা যা কিছুর মালিক হতো, প্রকৃতপক্ষে তা ছিল পিতার সম্পদ। মেয়ের নিজের মালিকানাধীন কোনো কিছু পরিচালনার অধিকার ছিল না এবং সে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের যোগ্য বলে বিবেচিত হতো না।

পরবর্তীতে তারা যখন আইন সংশোধনের কথা ভাবল, তখন মেয়েকে তার শ্রমের বিনিময়ে উপার্জিত সম্পদের মালিকানা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। একইভাবে তারা তাকে তার অভিভাবকের মৃত্যুর পর নিজেকে যার কাছে ইচ্ছা বিক্রয় করার অধিকার দান করল। তাদের বিবাহ চুক্তিতে 'নারীর ওপর পুরুষের সার্বভৌমত্বের অধিকার' নামক একটি দলিল থাকত, যাতে নারী স্বাক্ষর করত এবং একে বলা হতো 'সার্বভৌমত্ব চুক্তি'।

 

ভারতীয়দের নিকট নারী:

'মনু' শাস্ত্রে নারীর তার পিতা, ভাই বা স্বামী থেকে স্বাধীন থাকার কোনো অধিকার ছিল না। স্বামীর মৃত্যুর পর তার বেঁচে থাকার অধিকারও ছিল না; বরং স্বামীর মৃত্যুর দিনেই তার সাথে একই চিতায় জীবন্ত পুড়ে মরতে হতো। দেবতাদের সন্তুষ্টির জন্য তাদের উৎসর্গ করা হতো। তাদের প্রতি অবজ্ঞার মাত্রা এতই বেশি ছিল যে, তাদের ধর্মশাস্ত্রে এসেছে: (নির্ধারিত ধৈর্য, বায়ু, মৃত্যু, নরক, বিষ, সর্প এবং অগ্নির চেয়েও নারী অধিক মন্দ)।

 

ইহুদিদের নিকট নারী:

নারীর অবস্থান ছিল সেবিকার স্তরে এবং সে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। ভাই না থাকার কারণে যদি সে সম্পদের মালিক হতো, তবে ভিন্ন বংশে বিবাহ করা তার জন্য নিষিদ্ধ ছিল। তাদের নিকট নারী ছিল অভিশপ্ত; কারণ সে আদমকে প্রলুব্ধ করেছিল এবং তাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছিল। তারা যখন...
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
حاضت المرأة لم يؤاكلوها ولم يشاربوها وهجروها، فقد جاء عندهم في التوراة: (المرأة أمر من الموت، إن الصالح أمام الله من ينجو منها، رجلا واحدا بين هؤلاء وجدت، أما امرأة واحدة بين كل أولئك لم أجد).

 

‌‌المرأة عند النصارى:

لقد هال رجال الدين النصارى ما آل إليه المجتمع الروماني من انحلال أخلاقي شنيع، فاعتبروا المرأة مسئولة عن هذا كله، فقرروا أن الزواج دنس يجب الابتعاد عنه، وأعلنوا أنها باب الشيطان، وهي سلاح إبليس للفتنة والإغراء.

فهي كما يقول القديس تروتوليان: (إنها مدخل الشيطان إلى نفس الإنسان ناقضة لنواميس الله مشوهة لصورة الله - الرجل -).

وقد عقد مؤتمر في فرنسا عام 586 للميلاد موضوعه الجواب عن السؤال التالي: هل تعد المرأة إنسانا أم غير إنسان؟ وأخيرا قرروا أنها خلقت لخدمة الرجل فحسب، وهي قاصر لا يحق لها أن تتصرف بأموالها دون إذن زوجها أو وليها.

وقد كان القانون الإنجليزي يبيح للرجل أن يبيع زوجته.

ولما قامت الثورة الفرنسية، وأعلنت تحرير الإنسان من العبودية والمهانة، لم تشمل المرأة بحنوها، ونص القانون الفرنسي على أنها ليست أهلا للتعاقد دون رضى وليها إن كانت غير متزوجة.

 

‌‌المرأة عند العرب قبل الإسلام:

كانت المرأة مهضومة الحقوق لا ميراث لها، وليس لها أي حق على زوجها، فهو يطلقها متى يشاء، ويتزوج من غيرها بلا حدود، وكان العرب في الجاهلية يتشاءمون من ولادة الأنثى حتى وصل الأمر بهم إلى وأد البنات وهن أحياء خشية الفقر والعار.
যখন কোনো নারী ঋতুবতী হতো, তারা তার সাথে আহার করত না, পান করত না এবং তাকে বর্জন করত। তাদের নিকট তাওরাতে এসেছে: (নারী মৃত্যুর চেয়েও অধিক তিক্ত; আল্লাহর সামনে সেই পুণ্যবান যে তার থেকে মুক্তি পায়; আমি এই পুরুষদের মধ্যে একজন পুরুষ পেয়েছি, কিন্তু এই সবের মাঝে একজন নারীও পাইনি)।

 

‌‌খ্রিস্টানদের নিকট নারী:

রোমান সমাজের যে জঘন্য চারিত্রিক অবক্ষয় ঘটেছিল, তা খ্রিস্টান ধর্মযাজকদের আতঙ্কিত করে তুলেছিল। তারা এই সবকিছুর জন্য নারীকে দায়ী মনে করত। ফলে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে বিবাহ হলো একটি অপবিত্রতা যা থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। তারা ঘোষণা করেছিল যে নারী হলো শয়তানের প্রবেশদ্বার এবং ফিতনা ও প্রলোভনের জন্য ইবলিসের অস্ত্র।

সেন্ট টারটুলিয়ান যেমনটি বলেছেন: (সে মানুষের আত্মায় শয়তানের প্রবেশের পথ, আল্লাহর বিধানসমূহ লঙ্ঘনকারী এবং আল্লাহর প্রতিচ্ছবি -অর্থাৎ পুরুষ- এর বিকৃতি সাধনকারী।)

৫৮৬ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল যার বিষয়বস্তু ছিল নিম্নোক্ত প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা: নারী কি মানুষ হিসেবে গণ্য হবে নাকি অ-মানুষ? অবশেষে তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে নারী কেবল পুরুষের সেবার জন্যই সৃষ্টি হয়েছে; সে আইনত অক্ষম হওয়ায় তার স্বামী বা অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া নিজের সম্পদ ব্যবহারের কোনো অধিকার তার নেই।

এমনকি ইংরেজ আইন পুরুষকে তার স্ত্রীকে বিক্রি করার অনুমতি প্রদান করত।

যখন ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হলো এবং মানুষকে দাসত্ব ও অবমাননা থেকে মুক্তির ঘোষণা দেওয়া হলো, তখন তা নারীদের অন্তর্ভুক্ত করেনি। ফরাসি আইনে বর্ণিত ছিল যে, অবিবাহিত নারী তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া কোনো চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়ার যোগ্য নয়।

 

‌‌ইসলাম-পূর্ব আরবদের নিকট নারী:

সে সময় নারী ছিল অধিকারবঞ্চিত, তার কোনো উত্তরাধিকার ছিল না এবং স্বামীর ওপর তার কোনো অধিকার ছিল না। স্বামী যখন ইচ্ছা তাকে তালাক দিতে পারত এবং সীমাহীন বিয়ে করতে পারত। জাহেলি যুগে আরবরা কন্যা সন্তান জন্মালে কুলক্ষণ মনে করত, এমনকি দারিদ্র্য ও লজ্জার ভয়ে তারা কন্যাদের জীবন্ত সমাহিত করার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌مكانة المرأة في الإسلام

بقيت المرأة مستضعفة مهضومة الحقوق، مهيضة الجناح، مسلوبة الإرادة حتى جاء الإسلام بشريعته الغراء ووضع الميزان الحق في إقراره لكرامة المرأة، وإنسانيتها، وأهليتها لأداء رسالة سامية في المجتمع، وأعطاها مكانة عالية لتجد ممن حولها التقدير والاحترام اللائق بها كأم مربية للأجيال، وزوجة لها حقوق وعليها واجبات، وشابة يصان عرضها من عبث العابثين وأصحاب الشهوات. فقد قال الرسول: "إنما النساء شقائق الرجال" رواه أبو داود.

ومن أهم الحقوق التي أعطاها الإسلام للمرأة والتي سلبت منها عبر العصور السابقة هي:

 

‌‌1 - حق الحياة:

فقد حرم الله عز وجل وأدها كما كان يصنع بها العرب في الجاهلية، فقال عز وجل: {وَإِذَا الْمَوْءُودَةُ سُئِلَتْ (8) بِأَيِّ ذَنْبٍ قُتِلَتْ} [التكوير: 8، 9]

وأنكر على من يتشاءمون لولادتها فقال الله تعالى: {وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِالْأُنْثَى ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ (58) يَتَوَارَى مِنَ الْقَوْمِ مِنْ سُوءِ مَا بُشِّرَ بِهِ أَيُمْسِكُهُ عَلَى هُونٍ أَمْ يَدُسُّهُ فِي التُّرَابِ أَلَا سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ} [النحل: 58، 59]

 

‌‌2 - حق الملكية والتصرف بأموالها:

لقد أعطى الإسلام للمرأة حق ملكية الميراث، فقال تعالى: {يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ} [النساء: 11]

وأعطاها أيضا حق التصرف بأموالها، فلها أن تبيع وتشتري وتتصدق من أموالها كما تشاء، فهي كاملة الأهلية. وإذا كانت عاملة، فهي تستطيع أن تتصرف بمالها، وتنفق منه بالطريقة التي تريد وفق الأحكام الشرعية.

 

‌‌3 - حق الموافقة على الخاطب أو رفضه:

فالمرأة كالرجل لها حق اختيار الزوج المؤمن الصالح، ولا يجوز إجبارها على الاقتران برجل لا تريده. فقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " الأيم أحق بنفسها من وليها والبكر تستأذن، وإذنها صمتها". رواه مسلم.
ইসলামে নারীর মর্যাদা

ইসলাম তার গৌরবোজ্জ্বল শরীয়ত নিয়ে আসার আগ পর্যন্ত নারী জাতি নির্যাতিত, অধিকারবঞ্চিত, শক্তিহীন ও ইচ্ছাশক্তিহীন অবস্থায় ছিল। ইসলাম নারীর মর্যাদা, মানবতা এবং সমাজে একটি সুউচ্চ লক্ষ্য পালনের যোগ্যতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সত্যের মানদণ্ড স্থাপন করেছে। এটি তাকে একটি উচ্চ মর্যাদা প্রদান করেছে যাতে সে তার চারপাশের মানুষের কাছ থেকে প্রজন্মের লালনকারী মা হিসেবে, অধিকার ও কর্তব্য সম্পন্ন স্ত্রী হিসেবে এবং কামুক ও লম্পটদের হাত থেকে সতীত্ব রক্ষিত হওয়া এক তরুণী হিসেবে যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মান পায়। রাসূলুল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই নারীরা পুরুষদেরই সহোদরা।" (আবু দাউদ)।

ইসলাম নারীকে যেসব গুরুত্বপূর্ণ অধিকার দিয়েছে, যা বিগত যুগগুলোতে তাদের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে প্রধান হলো:

 

‌১ - জীবনের অধিকার:

আল্লাহ তাআলা কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া হারাম করেছেন, যেমনটি জাহেলিয়াত যুগে আরবরা করত। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যখন জীবন্ত কবরস্থ কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে, কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে?} [আত-তাকভীর: ৮, ৯]

আর যারা কন্যাসন্তানের জন্মে অশুভ লক্ষণ মনে করত, তিনি তাদের নিন্দা জ্ঞাপন করে বলেছেন: {যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে যে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, তার গ্লানি হেতু সে নিজ সম্প্রদায় থেকে আত্মগোপন করে; সে কি লাঞ্ছনা সয়ে তাকে রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে ফেলবে? সাবধান! তারা যা ফয়সালা করে তা কতই না মন্দ।} [আন-নাহল: ৫৮, ৫৯]

 

‌২ - মালিকানা এবং নিজ সম্পদের ওপর কর্তৃত্বের অধিকার:

ইসলাম নারীকে উত্তরাধিকারের মালিকানা দান করেছে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন: এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান।} [আন-নিসা: ১১]

এছাড়াও তাকে তার সম্পদের ওপর কর্তৃত্বের অধিকারও দেওয়া হয়েছে। ফলে সে তার ইচ্ছা অনুযায়ী সম্পদ ক্রয়-বিক্রয় ও দান করতে পারে; কারণ সে পূর্ণ আইনি যোগ্যতাসম্পন্ন। যদি সে কর্মজীবী হয়, তবে সে তার উপার্জিত সম্পদ শরীয়তের বিধান অনুযায়ী নিজের ইচ্ছামতো ব্যবহার ও ব্যয় করতে পারে।

 

‌৩ - পাণিপ্রার্থনাকারীকে গ্রহণ বা বর্জন করার অধিকার:

পুরুষের মতো নারীরও একজন মুমিন ও নেককার স্বামী নির্বাচনের অধিকার রয়েছে। তাকে এমন কোনো পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধ্য করা বৈধ নয় যাকে সে পছন্দ করে না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "অভিভাবকের তুলনায় পূর্বে বিবাহিতা নারী (বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা) তার নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার, আর কুমারী মেয়ের অনুমতি নিতে হবে; তার নীরবতাই তার অনুমতি।" (মুসলিম)।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
وقال صلى الله عليه وسلم أيضا: " لا تنكح البكر حتى تستأذن ولا الثيب حتى تستأمر. فقيل له: إن البكر تستحي، فقال: إذنها صمتها". رواه البخاري.

وقد جاءت الخنساء بنت خدام، فأخبرت الرسول صلى الله عليه وسلم: " بأن أباها زوجها وهي ثيب، فكرهت ذلك فرد نكاحه". رواه البخاري.

 

‌‌4 - حق العلم والتعلم:

سواء أكان العلم في المسجد، كما كان في زمن الرسول صلى الله عليه وسلم، أو في المدارس والجامعات، كما هو في وقتنا الحالي، فقد قال الرسول صلى الله عليه وسلم: " أيما رجل كانت عنده وليدة فعلمها فأحسن تعليمها، وأدبها فأحسن تأديبها… فله أجران… " رواه البخاري.

"وقد كان الرسول صلى الله عليه وسلم يجعل للنساء يوما ليعظهن ويذكرهن ويأمرهن بطاعة الله تعالى".

 

‌‌5 - حق مفارقة الزوج:

فعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: "جاءت امرأة ثابت بن قيس إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقالت: يا رسول الله ما أنقم علي ثابت في دين ولا خلق إلا أني أخاف الكفر. فقال رسول الله: فتردين عليه حديقته؟ فقالت: نعم. فردت عليه حديقته، وأمره ففارقها". رواه البخاري.

وإلى جانب هذه الحقوق فقد قرر الإسلام أن المرأة والرجل خلقا من أصل واحد فقال تعالى: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء: 1]

ثم إن الإسلام ساوى بين الرجل والمرأة في التكليف، فقال عز وجل: {مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [النحل: 97]

إلى جانب ذلك، فقد دفع عنها اللعنة، فلم يحملها مسئولية خروج آدم من الجنة بدليل قوله تعالى: {فَوَسْوَسَ لَهُمَا الشَّيْطَانُ لِيُبْدِيَ لَهُمَا مَا وُورِيَ عَنْهُمَا مِنْ سَوْآتِهِمَا
এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: "কুমারী নারীর অনুমতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাকে বিবাহ দেওয়া যাবে না এবং ইতিপূর্বে বিবাহিত নারীর (বিধবা/তালাকপ্রাপ্তা) নির্দেশ গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাকে বিবাহ দেওয়া যাবে না। তাঁকে বলা হলো: কুমারী মেয়ে তো লজ্জা পায়। তিনি বললেন: তার নীরবতাই তার অনুমতি।" বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং খানসা বিনতে খিদাম বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এসে সংবাদ দিলেন যে, তাঁর পিতা তাঁকে তাঁর অসম্মতিতে বিবাহ দিয়েছেন অথচ তিনি ইতিপূর্বে বিবাহিতা ছিলেন। তিনি এই বিবাহ অপছন্দ করলেন, ফলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই বিবাহ বাতিল করে দিলেন। বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌৪ - জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষা লাভের অধিকার:

জ্ঞান অর্জনের বিষয়টি মসজিদে হোক, যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর যুগে ছিল, অথবা বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে হোক, যেমনটি আমাদের বর্তমান সময়ে রয়েছে; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তির নিকট কোনো দাসী থাকে, আর সে তাকে শিক্ষা দেয় এবং উত্তমরূপে শিক্ষা দেয়, তাকে আদব-কায়দা শেখায় এবং উত্তমরূপে আদব-কায়দা শেখায়… তবে তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব… " বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন।

"রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নারীদের জন্য একটি দিন নির্দিষ্ট করে রাখতেন যাতে তিনি তাদের নসিহত করতে পারেন, উপদেশ দিতে পারেন এবং মহান আল্লাহর আনুগত্যের নির্দেশ দিতে পারেন।"

 

‌‌৫ - স্বামী থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকার:

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "সাবিত বিন কায়েসের স্ত্রী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি সাবিতের দ্বীনদারী বা চরিত্রের ওপর কোনো অভিযোগ করছি না, কিন্তু আমি ইসলামে থেকে কুফরীর (অকৃতজ্ঞতার) ভয় করছি। তখন আল্লাহর রাসূল বললেন: তুমি কি তাকে তার বাগানটি ফিরিয়ে দেবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর তিনি তাকে তার বাগান ফিরিয়ে দিলেন এবং তিনি (রাসূল) তাকে নির্দেশ দিলেন, ফলে তিনি তাকে বিচ্ছিন্ন করে দিলেন।" বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন।

এই অধিকারগুলোর পাশাপাশি ইসলাম এটিও সাব্যস্ত করেছে যে, নারী ও পুরুষ একই উৎস থেকে সৃষ্টি হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে প্রার্থনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সচেতন থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [নিসা: ১]

অতঃপর ইসলাম বিধি-বিধান পালনের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে সমতা বিধান করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {যে ব্যক্তিই ঈমানদার অবস্থায় নেক আমল করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী, অবশ্যই আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং অবশ্যই আমি তাদেরকে তাদের সর্বোত্তম আমলের প্রতিদান দেব।} [নাহল: ৯৭]

এর পাশাপাশি, ইসলাম নারীর ওপর থেকে অভিশপ্ত হওয়ার অপবাদ দূর করেছে। ফলে জান্নাত থেকে আদমের প্রস্থানের জন্য তাকে দায়ী করেনি, যার প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর শয়তান তাদের উভয়কে কুমন্ত্রণা দিল, যাতে তাদের কাছে প্রকাশ করে দেয় তাদের লজ্জাস্থান যা তাদের থেকে গোপন রাখা হয়েছিল...}
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
وَقَالَ مَا نَهَاكُمَا رَبُّكُمَا عَنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ إِلَّا أَنْ تَكُونَا مَلَكَيْنِ أَوْ تَكُونَا مِنَ الْخَالِدِينَ} [الأعراف: 20]

وقد أكرم الله تعالى المرأة بنتا وأما وزوجة، فقال في كتابه العزيز عن حق الأم: {وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا حَتَّى إِذَا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَبَلَغَ أَرْبَعِينَ سَنَةً قَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ (15)} [الأحقاف: 15]

وقال الرسول صلى الله عليه وسلم: "الدنيا متاع، وخير متاعها المرأة الصالحة" رواه مسلم.

وقال صلى الله عليه وسلم أيضا: " استوصوا بالنساء خيرا… " رواه البخاري ومسلم.

أما تكريمها بنتا؛ فقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " من يلي من هذه البنات شيئا، فأحسن إليهن كن له سترا من النار" رواه البخاري ومسلم.

 

‌‌6 - حق المشاركة السياسية:

لقد أجاز الإسلام للمرأة أن تشارك في انتخاب رئيس الدولة. فقد قال تعالى: {وَلَا تَكْتُمُوا الشَّهَادَةَ وَمَنْ يَكْتُمْهَا فَإِنَّهُ آثِمٌ قَلْبُهُ} [البقرة: 283]

كما قال مجيد أبو حجير: (والشهادة واجبة على الرجل والمرأة، والانتخاب هو شهادة حق فيها إخبار عمن يصلح لقيادة الأمة.

والانتخاب اجتهاد لا تمنع منه الأنوثة؛ لأن الفتيا تصح من المرأة، كما أن عملية الانتخاب في عصرنا الحاضر منظمة، وتجري في فترة قصيرة لا تعطل المرأة عن وظائفها الأصلية، كزوجة وأم مربية.

وهذا بعكس ما إذا أرادت المرأة أن ترشح نفسها نائبة في البرلمان، فإن الإسلام يقف من ذلك موقف النفور لا لعدم أهلية المرأة لذلك، بل للأضرار الاجتماعية التي تنشأ عن ذلك والمخالفات لأحكام الشريعة وآداب الإسلام وأخلاقه، وللجناية البالغة على سلامة الأسرة وتماسكها، وانصراف المرأة عن معاجة شئونها بكل هدوء وطمأنينة).
আর সে বলল, 'তোমাদের রব এই গাছটি থেকে তোমাদের কেবল এজন্যই নিষেধ করেছেন যে, পাছে তোমরা ফেরেশতা হয়ে যাও কিংবা তোমরা চিরঞ্জীবদের অন্তর্ভুক্ত হও।' [আল-আরাফ: ২০]

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ নারীকে কন্যা, মা এবং স্ত্রী হিসেবে সম্মানিত করেছেন। তিনি তাঁর সম্মানিত কিতাবে মায়ের অধিকার সম্পর্কে বলেছেন: "আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের সাথে গর্ভে ধারণ করেছেন এবং কষ্টের সাথে প্রসব করেছেন। আর তাকে গর্ভে ধারণ করা ও তার দুধ ছাড়ানোর সময়সীমা হলো ত্রিশ মাস। এমনকি যখন সে পূর্ণ শক্তিপ্রাপ্ত হয় এবং চল্লিশ বছরে উপনীত হয়, তখন সে বলে, 'হে আমার রব! আপনি আমাকে তাওফীক দিন যেন আমি আপনার সেই নিআমতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি যা আপনি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে দান করেছেন এবং যেন আমি এমন নেক আমল করতে পারি যা আপনি পছন্দ করেন। আর আপনি আমার জন্য আমার সন্তানদের সংশোধন করে দিন। নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে তাওবা করলাম এবং নিশ্চয়ই আমি আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত'।" [আল-আহকাফ: ১৫]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "দুনিয়া হলো সম্পদ (ভোগের বস্তু), আর দুনিয়ার সর্বোত্তম সম্পদ হলো পুণ্যবতী নারী।" (মুসলিম বর্ণনা করেছেন)।

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "তোমরা নারীদের সাথে উত্তম আচরণের উপদেশ গ্রহণ করো…" (বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন)।

আর কন্যা হিসেবে তাকে সম্মান জানানোর ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি এই কন্যা সন্তানদের লালন-পালনের কোনো দায়িত্ব পালন করে এবং তাদের সাথে উত্তম আচরণ করে, তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে অন্তরাল হবে।" (বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন)।

 

‌‌৬ - রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকার:

ইসলাম নারীকে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছে। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না; যে ব্যক্তি তা গোপন করে, অবশ্যই তার অন্তর পাপী।" [আল-বাকারাহ: ২৮৩]

যেমনটি মাজিদ আবু হুজাইর বলেছেন: (সাক্ষ্য প্রদান করা পুরুষ ও নারী উভয়ের ওপরই ওয়াজিব। আর নির্বাচন হলো সত্য সাক্ষ্য প্রদান করা, যার মাধ্যমে উম্মাহর নেতৃত্বের জন্য কে যোগ্য সে সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়।

আর নির্বাচন হলো একটি ইজতিহাদ (গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত), যেখানে নারী হওয়া কোনো বাধা নয়; কেননা নারীর পক্ষ থেকে ফতোয়া প্রদান সঠিক ও বৈধ। তাছাড়া বর্তমান যুগে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল এবং তা খুব অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়, যা একজন নারীকে তার মূল দায়িত্ব—যেমন স্ত্রী হওয়া এবং আদর্শ মা হিসেবে গড়ে তোলা—থেকে বিরত রাখে না।

তবে এর বিপরীত হলো যখন নারী নিজেকে পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে প্রার্থী করতে চায়; সেক্ষেত্রে ইসলাম বিমুখতা প্রদর্শন করে। তা নারীর অযোগ্যতার কারণে নয়, বরং এর ফলে যে সামাজিক ক্ষতির উদ্ভব হয় এবং শরীয়তের বিধান ও ইসলামের শিষ্টাচার ও নৈতিকতার পরিপন্থী বিষয়গুলো ঘটে তার কারণে। এছাড়া এটি পরিবারের নিরাপত্তা ও সংহতির ওপর চরম আঘাত এবং নারীর নিজস্ব কার্যাবলি অত্যন্ত শান্ত ও স্থিরভাবে সম্পন্ন করার পথ থেকে বিচ্যুতি ঘটায়)।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
لأن متطلبات العمل السياسي المعاصر كثيرة ومتنوعة، فمن خروج من البيت ساعات طوال لمواكبة الأحداث اليومية، وما يقتضيه العمل السياسي من خروج المرأة، وسفرها خارج البلاد، وكثرة المتغيرات السياسية، كل هذه الأمور تتعارض مع طبيعة المرأة ومهمتها كزوجة و كأم و كمربية للأجيال.

وحتى إذ تولت المرأة المناصب السياسية، فلن يغير هذا العمل من صفاتها التي فطرها الله عليها، وستبقي الرقة والحنان هي طبيعتها التي تميزها عن الرجل. والدلائل على ذلك كثيرة: فهذه (أنديرا غاندي) رئيسة وزراء الهند كانت عند ذكر ابنها (سانجهاي) الذي قتل في حادث طائرة تبكي شأنها شأن أي امرأة في العالم، وينزف قلبها ألما وحسرة على فقد ولدها.

وهذه رئيسة وزراء بريطانيا (مارغريت تاتشر) تفقد ابنها في صحراء إفريقيا، فتظهر على شاشات التلفاز، وهي تبكي وتعتذر عن القيام بعملها كرئيسة الوزراء حتى يعثروا لها على ولدها. علما أنها كانت تلقب بالمرأة الحديدية.
সমকালীন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চাহিদা বহুমাত্রিক ও বিচিত্র। দৈনন্দিন ঘটনাবলির সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য দীর্ঘ সময় গৃহের বাইরে অবস্থান করা এবং রাজনৈতিক কাজের প্রয়োজনে নারীর বাইরে বের হওয়া, বিদেশে সফর করা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির ঘনঘন পরিবর্তন—এই সব বিষয়ই নারীর প্রকৃতি এবং স্ত্রী, মাতা ও প্রজন্মের লালনকারিণী হিসেবে তার মৌলিক দায়িত্বের পরিপন্থী।

এমনকি নারী যদি রাজনৈতিক উচ্চপদে আসীনও হয়, তবুও এই কর্ম তার সেই সহজাত গুণাবলি পরিবর্তন করতে পারবে না, যার ওপর আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন। বরং কোমলতা ও মমতা তার প্রকৃতি হিসেবেই স্থায়ী থাকবে যা তাকে পুরুষ থেকে পৃথক করে। এর সপক্ষে বহু প্রমাণ রয়েছে: ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কথাই ধরা যাক; তাঁর পুত্র সঞ্জয় যখন বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান, তখন তিনি বিশ্বের অন্য যেকোনো সাধারণ নারীর ন্যায় কান্নায় ভেঙে পড়তেন এবং সন্তান হারানোর বেদনায় ও আক্ষেপে তাঁর অন্তর বিদীর্ণ হতো।

অনুরূপভাবে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার যখন আফ্রিকার মরুভূমিতে তাঁর পুত্রকে হারিয়ে ফেলেন, তখন তিনি টেলিভিশনের পর্দায় ক্রন্দনরত অবস্থায় আবির্ভূত হন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না তাঁর পুত্রকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য যে, তাঁকে 'লৌহমানবী' উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
‌‌شذرات عطرة من سيرة المرأة المسلمة

لقد اتصفت المرأة المسلمة في صدر الإسلام بجملة من الصفات، أهلتها لتشارك بفاعلية في الحياة العامة، فقد كان لها من قوة الشخصية، والقدرة العقلية وفصاحة اللسان وحسن الفهم والبيان، والقدرة على الصبر والثبات ما جعل الرسول صلى الله عليه وسلم يحث على تكريمها ورفع شأنها، وإعطائها المكانة التي تليق بما في المجتمع، فها هو معلم البشرية الأول عليه الصلاة والسلام يعلم زوجاته بنفسه.

فقد مر على زوجته جويرية بنت الحارث، وقد كانت عابده قانتة لله تعالى، فقال لها: "ألا أعلمك كلمات تقوليهن: سبحان الله وبحمده عدد خلقه، ورضاء نفسه، وزنة عرشه، ومداد كلماته" رواه مسلم.

ولقد كانت السيدة عائشة رضي الله عنها فقيهة محدثة تنظم الشعر أيضا، ويروي الشعبي، فيقول: قيل لعائشة رضي الله عنها: يا أم المؤمنين هذا القرآن تلقيته عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وكذلك الحلال والحرام، وهذا الشعر والنسب والأخبار سمعتها عن أبيك وغيره، فما بال الطب؟ قالت: "كانت الوفود تأتي رسول صلي الله عليه وسلم، فلا يزال الرجل يشكو علته، فيسأل عن دوائها فيخبره بذلك، فحفظت ما كان يصفه وفهمته".

وقال أبو موسى الأشعري: ما أشكل علينا أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم حديث قط، فسألنا عنه عائشة إلا وجدنا عندها منه علما. رواه الترمذي.

وقد بلغ مسندها ألفان ومائتان وعشرة أحاديث، وقال الزهري: لو جمع علم الناس كلهم وأمهات المؤمنين، لكانت عائشة أوسعهم علما. رواه الحاكم.

وقد ذكر البلاذري في (فتوح البلدان): "أن أم المؤمنين حفصة بنت عمر بن الخطاب كانت تتعلم الكتابة في الجاهلية على يد امرأة كاتبة تدعى الشفاء العدوية، فلما تزوجها النبي صلى الله عليه و سلم طلب إلى الشفاء أن تعلمها تحسين الخط، وتزيينه كما علمتها أصل الكتابة".
মুসলিম নারীর জীবনী থেকে সুগন্ধি বিচ্ছুরণ

ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলিম নারী এমন কিছু গুণের অধিকারী ছিলেন, যা তাঁকে জনজীবনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের যোগ্য করে তুলেছিল। তাঁর ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা, মানসিক সক্ষমতা, বাগ্মিতা, উন্নত বোধশক্তি ও বর্ণনাভঙ্গি এবং ধৈর্য ও অটল থাকার ক্ষমতা এমন ছিল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সম্মান করতে, তাঁর মর্যাদা সমুন্নত করতে এবং সমাজে তাঁকে তাঁর উপযুক্ত স্থান প্রদান করতে উৎসাহিত করতেন। এই তো মানবজাতির প্রথম শিক্ষক আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম নিজেই তাঁর স্ত্রীদের শিক্ষা দিচ্ছেন।

তিনি তাঁর স্ত্রী জুওয়াইরিয়া বিনতে আল-হারিসের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, যিনি আল্লাহ তাআলার একনিষ্ঠ ইবাদতকারিনী ছিলেন। তিনি তাঁকে বললেন: "আমি কি তোমাকে এমন কিছু বাক্য শিখিয়ে দেব না যা তুমি বলবে: আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি তাঁর সৃষ্টির সংখ্যার সমান, তাঁর সত্তার সন্তুষ্টির সমান, তাঁর আরশের ওজনের সমান এবং তাঁর বাণীর কালির পরিমাণের সমান।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

সায়্যিদা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন একজন ফকিহ ও মুহাদ্দিস, তিনি কবিতাও রচনা করতেন। আশ-শা'বী বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলা হলো: হে উম্মুল মুমিনীন, আপনি এই কুরআন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে লাভ করেছেন, তেমনিভাবে হালাল ও হারামের জ্ঞানও। আর এই কবিতা, বংশলতিকা এবং ইতিহাস আপনার পিতা ও অন্যদের কাছ থেকে শুনেছেন; কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের জ্ঞান কোথা থেকে এলো? তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বিভিন্ন প্রতিনিধি দল আসতেন, তখন কোনো ব্যক্তি তাঁর রোগের অভিযোগ করতেন এবং এর প্রতিকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন, আর তিনি তাঁকে তা বলে দিতেন। ফলে তিনি যা ব্যবস্থাপত্র দিতেন, আমি তা মুখস্থ করে রাখতাম এবং তা বুঝে নিতাম।"

আবু মুসা আল-আশআরি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ যখনই কোনো হাদিস নিয়ে সংশয়ে পড়েছি এবং আয়েশাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, তখনই তাঁর কাছে সে বিষয়ে জ্ঞান পেয়েছি। এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন।

তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ছিল দুই হাজার দুইশ দশটি। আয-যুহরি বলেন: যদি সমস্ত মানুষের জ্ঞান এবং উম্মুল মুমিনীনদের জ্ঞান একত্রিত করা হয়, তবে আয়েশার জ্ঞানই হতো সবার চেয়ে বিস্তৃত। এটি হাকিম বর্ণনা করেছেন।

আল-বালাজুরি 'ফুতুহুল বুলদান'-এ উল্লেখ করেছেন: "উম্মুল মুমিনীন হাফসা বিনতে উমর ইবনুল খাত্তাব জাহেলিয়াতের যুগে আশ-শিফা আল-আদাবিয়্যা নামক একজন লেখিকার কাছে লিখতে শিখেছিলেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিবাহ করলেন, তখন তিনি আশ-শিফাকে অনুরোধ করলেন যেন তিনি তাঁকে হস্তাক্ষর সুন্দর ও সুশোভিত করতে শিখিয়ে দেন, যেমনটি তিনি তাঁকে লেখার মূল বিষয় শিখিয়েছিলেন।"
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
وهذه أم الدرداء الصغرى (هجينة بنت يحيى الوصابية) روت علما جما عن زوجها أبي الدرداء، وعن سلمان الفارسي، وعن عائشة، وعن أبي هريرة؛ وعرضت القرآن علي أبي الدرداء، واشتهرت بالعلم والعمل، وكانت تقية زاهدة؛ عاشت طويلا حتى أدركت خلافة عبد الملك بن مروان، وكان مرة جالسا في صخرة بيت المقدس، وأم الدرداء جالسة معه حين نودي لصلاة المغرب، فقام وقامت تتوكأ عليه حتى دخل بها المسجد، وكانت عالمة فقيهة يجلس إليها الرجال، فيقرأون عليها، وكان عبد الملك بن مروان يستمع إليها. وهذه فاطمة بنت علاء الدين السمرقندي الحنفي صاحب كتاب (تحفة الفقهاء) حفظت التحفة، فكانت فقيهة، طلبها كثير من الرجال، فلم يزوجها والدها، وعندما صنف أبو بكر الكاساني كتابه (بدائع الصنائع) وهو شرح التحفة عرضه على شيخه - أبوها - ففرح به كثيرا، وزوجه ابنته، وجعل مهرها منه ذلك، فقالوا: شرح تحفته فزوجه ابنته.

وكانت الفتوى تأتي، فتخرج وعليها خطها وخط أبيها، فلما تزوجت صاحب البدائع كانت تخرج وعليها خطها وخط أبيها وخط زوجها.

وهذه خولة بنت ثعلبة أنزل الله فيها قرآنا عندما أخذت تشتكي زوجها، وتقول: "يا رسول الله أكل شبابي، ونثرت له ما في بطني، حتى إذا كبرت سني، وانقطع ولدي، ظاهر مني. اللهم إني أشكو إليك. فسألت النبي صلى الله عليه وسلم عن ظهار زوجها منها، فقال لها: حرمت عليه. فأنزل الله قوله تعالى: {قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا وَتَشْتَكِي إِلَى اللَّهِ وَاللَّهُ يَسْمَعُ تَحَاوُرَكُمَا إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ} [المجادلة: 1] ".

ويأخذ رسول الله البيعة من النساء فيقول: "تبايعن على ألا تشركن بالله شيئا. قالت هند زوج أبي سفيان - وكانت متخفية لم يعرفها رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد - إنك - والله - لتأخذ علينا ما لا تأخذ على الرجال، فسنؤتيكه. قال: ولا تسرقن. قالت: والله إن كنت لأحببت من مال أبي سفيان الهنة والهنة. فقال أبو سفيان - وكان حاضرا -: أما ما مضى فأنت منه في حل. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أهند؟ قالت: أنا
আর এই হলেন উম্মুদ দারদা আস-সুগরা (হাজিনা বিনতে ইয়াহইয়া আল-ওয়াসাবিয়া), যিনি তাঁর স্বামী আবু দারদা, সালমান আল-ফারিসি, আয়িশা এবং আবু হুরায়রা থেকে প্রচুর ইলম বর্ণনা করেছেন। তিনি আবু দারদার নিকট কুরআন পাঠ করেছেন এবং ইলম ও আমলের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত মুত্তাকি ও দুনিয়াবিমুখ। তিনি দীর্ঘকাল জীবিত ছিলেন, এমনকি আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের খিলাফতকালও পেয়েছিলেন। একবার আব্দুল মালিক বায়তুল মাকদিসের সাখরার ওপর বসে ছিলেন এবং উম্মুদ দারদাও তাঁর সাথে বসা ছিলেন। এমন সময় মাগরিবের নামাজের আজান হলে আব্দুল মালিক দাঁড়ালেন এবং উম্মুদ দারদাও তাঁর ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন, এমনকি তিনি তাঁকে নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করলেন। তিনি ছিলেন এমন একজন বিদুষী ও ফকিহ যে, পুরুষরা তাঁর নিকট বসতেন এবং তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করতেন, আর আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানও তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। আর এই হলেন ফাতেমা বিনতে আলাউদ্দিন আস-সামারকান্দি আল-হানাফি, যিনি 'তুহফাতুল ফুকাহা' কিতাবের রচয়িতার কন্যা। তিনি 'তুহফা' মুখস্থ করেছিলেন, ফলে তিনি ফকিহ হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। অনেক পুরুষ তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর পিতা তাঁকে বিয়ে দেননি। যখন আবু বকর আল-কাসানি তাঁর 'বাদায়েউস সানায়ে' কিতাবটি রচনা করেন—যা মূলত 'তুহফা'রই ব্যাখ্যাগ্রন্থ—তখন তিনি তা তাঁর উস্তাদ অর্থাৎ ফাতেমার পিতার সামনে পেশ করেন। তিনি এতে অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং তাঁর সাথে নিজের মেয়ের বিয়ে দেন। আর এই কিতাবটিকেই তিনি তাঁর মোহর হিসেবে নির্ধারণ করেন। ফলে মানুষ বলত: "তিনি তাঁর উস্তাদের 'তুহফা'র ব্যাখ্যা লিখেছেন, তাই উস্তাদ তাঁকে নিজ কন্যার সাথে বিয়ে দিয়েছেন।"

তখন ফতোয়া আসত, আর তা যখন জারি হতো তখন তাতে তাঁর এবং তাঁর পিতার হস্তাক্ষর থাকত। এরপর যখন তিনি 'বাদায়ে' কিতাবের লেখকের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন, তখন ফতোয়া বের হতো যাতে তাঁর হস্তাক্ষর, তাঁর পিতার হস্তাক্ষর এবং তাঁর স্বামীর হস্তাক্ষর থাকত।

আর এই হলেন খাওলা বিনতে সা'লাবা, যাঁর সম্পর্কে আল্লাহ কুরআন নাজিল করেছেন যখন তিনি তাঁর স্বামীর ব্যাপারে অভিযোগ পেশ করতে শুরু করেছিলেন এবং বলছিলেন: "হে আল্লাহর রাসুল! সে আমার যৌবন গ্রাস করেছে এবং আমি তাঁর জন্য আমার গর্ভ খালি করেছি (সন্তান জন্ম দিয়েছি)। অবশেষে যখন আমার বয়স বৃদ্ধি পেল এবং সন্তান জন্মদান বন্ধ হলো, তখন সে আমার সাথে 'জিহার' করল। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকটই অভিযোগ করছি।" তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর স্বামীর জিহার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন নবী তাঁকে বলেছিলেন: "তুমি তাঁর জন্য হারাম হয়ে গেছ।" এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণী নাজিল করলেন: "আল্লাহ অবশ্যই সেই নারীর কথা শুনেছেন যে তাঁর স্বামীর ব্যাপারে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছিল এবং আল্লাহর কাছে অভিযোগ করছিল। আল্লাহ আপনাদের উভয়ের কথোপকথন শোনেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" [সূরা আল-মুজাদালা: ১]।

এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের নিকট থেকে বায়আত গ্রহণ করার সময় বলছিলেন: "তোমরা এই মর্মে বায়আত গ্রহণ করো যে, আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না।" আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দ—যিনি ছদ্মবেশে ছিলেন এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখনও তাঁকে চিনতে পারেননি—বললেন: "আল্লাহর কসম! আপনি আমাদের নিকট থেকে এমন প্রতিশ্রুতি নিচ্ছেন যা আপনি পুরুষদের নিকট থেকে নেননি, তবুও আমরা তা আপনাকে দেব।" তিনি বললেন: "আর তোমরা চুরি করবে না।" হিন্দ বললেন: "আল্লাহর কসম! আমি আবু সুফিয়ানের সম্পদ থেকে সামান্য সামান্য কিছু নিতাম।" তখন সেখানে উপস্থিত থাকা আবু সুফিয়ান বললেন: "অতীতে যা হয়েছে সে ব্যাপারে তুমি ক্ষমাপ্রাপ্ত।" তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তুমি কি হিন্দ?" তিনি বললেন: "আমিই সে।"
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
هند، فاعفو عما سلف عفا الله عنك - وكانت قد لاكت كبد عمه حمزة بعد استشهاده في أحد -.

قال: ولا تزنين. قالت: وهل تزني الحرة؟ قال: ولا تقتلن أولادكن. قالت: ربيناهم صغارا، وقتلتهم في بدر كبارا، فأنت وهم أعلم. فضحك عمر حتى استلقي. قال: ولا تأتين ببهتان تفتريته بين أيديكن وأرجلكن، قالت: والله إن إتيان البهتان لقبيح، ولبعض التجاوز أمثل. قال: ولا تعصينني في معروف. قالت: ما جلسنا هذا المجلس، ونحن نريد أن تعصيك. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لعمر: بايعهن واستغفر لهن الله".

فها هو القائد الأول، ومعلم البشرية يصغي لهند، ولا ينهرها، ولا يعنفها، وإن دل ذلك على شيء، فإنما يدل على مدى احترام رسول الله صلى الله عليه وسلم لرأي المرأة، وحقها في المناقشة والحوار.

وقد روت كتب السيرة عن فصاحة وبلاغة المرأة شيئا كثيرا، فقد روي أن عمر بن الخطاب قد ساءه مغالاة الناس في مهور بناتهم، فصعد المنبر وحمد الله، وأثنى عليه، ثم قال: لا أعرف من زاد في الصداق على أربع مائة درهم؟ فقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه الصداق فيما بينهم أربع مائة درهم فما دون ذلك، ولو كان الإكثار في ذلك تقوى عند الله، أو مكرمة لما سبقتموهم إليها، ثم نزل المنبر، فاعترضته امرأة من قريش، فقالت: يا أمير المؤمنين: نهيت الناس أن يزيدوا في صدقاتهم على أربع مائة؟ قال: نعم. قالت: أما سمعت الله يقول في القرآن؟ قال: وأي ذلك؟ قالت: قوله تعالى: {وَإِنْ أَرَدْتُمُ اسْتِبْدَالَ زَوْجٍ مَكَانَ زَوْجٍ وَآتَيْتُمْ إِحْدَاهُنَّ قِنْطَارًا فَلَا تَأْخُذُوا مِنْهُ شَيْئًا أَتَأْخُذُونَهُ بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا} [النساء: 20] قال عمر: اللهم اغفر، كل الناس أفقه من عمر. وقال - قولته المشهورة -: أصابت امرأة وأخطأ عمر.

فهذا أمير المؤمنين رغم مكانته وهيبته عند المسلمين يصغي إلى نصح امرأة ويعترف بخطأه وبصحة قولها، وهذا من تمام العقل والحكمة، ويدل على مدى الاحترام والتقدير الذي كانت تحظى به المرأة في صدر الإسلام.
হিন্দ, যা অতিবাহিত হয়েছে তা ক্ষমা করো, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন - অথচ তিনি ওহুদ যুদ্ধে তাঁর (রাসূলের) চাচা হামজার শাহাদাতের পর তাঁর কলিজা চিবিয়েছিলেন -।

তিনি বললেন: আর তোমরা ব্যভিচার করবে না। তিনি বললেন: কোনো স্বাধীন নারী কি ব্যভিচার করে? তিনি বললেন: আর তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না। তিনি বললেন: আমরা তাদের ছোটবেলায় লালন-পালন করেছি, আর আপনি তাদের বদরের যুদ্ধে বড় অবস্থায় হত্যা করেছেন; সুতরাং আপনি এবং তারা এ বিষয়ে অধিক অবগত। তখন ওমর এতই হাসলেন যে তিনি চিত হয়ে পড়ে গেলেন। তিনি বললেন: আর তোমরা তোমাদের হাত ও পায়ের মাঝখানে কোনো মিথ্যা অপবাদ রটনা করবে না। তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, মিথ্যা অপবাদ রটানো অত্যন্ত জঘন্য কাজ, আর কিছু ক্ষেত্রে উপেক্ষা করাই শ্রেয়। তিনি বললেন: আর তোমরা সৎ কাজে আমার অবাধ্য হবে না। তিনি বললেন: আমরা আপনার অবাধ্য হওয়ার সংকল্প নিয়ে এই মজলিসে বসিনি। তখন আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ওমরকে বললেন: তুমি তাদের থেকে বাইয়াত গ্রহণ করো এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো।

এই তো সেই প্রথম সেনাপতি এবং মানবতার শিক্ষক, যিনি হিন্দের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন, তাকে ধমক দিচ্ছেন না কিংবা তার সাথে কঠোরতা করছেন না; আর এটি যদি কোনো কিছুর প্রমাণ দেয়, তবে তা আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) নারীর মতামতের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং আলোচনা ও বিতর্কে তার অধিকারের বিষয়টিরই প্রমাণ দেয়।

সীরাতগ্রন্থসমূহ নারীর বাগ্মিতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের দক্ষতা সম্পর্কে অনেক কিছু বর্ণনা করেছে। বর্ণিত আছে যে, ওমর ইবনুল খাত্তাব মানুষের তাদের কন্যাদের মোহরের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি দেখে অসন্তুষ্ট হলেন। অতঃপর তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন। এরপর বললেন: আমি জানি না এমন কেউ আছে কি না যে মোহরের পরিমাণ চারশত দিরহামের বেশি নির্ধারণ করেছে? কেননা আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এবং তাঁর সাহাবীদের মাঝে মোহরের পরিমাণ ছিল চারশত দিরহাম অথবা তার কম। আর যদি এতে আধিক্য আল্লাহর নিকট তাকওয়া বা সম্মানের বিষয় হতো, তবে তারা আপনাদের চেয়ে অগ্রগামী থাকতেন। এরপর তিনি মিম্বর থেকে নামলেন, তখন কুরাইশ বংশের এক নারী তাঁকে বাধা দিয়ে বললেন: হে আমীরুল মুমিনীন! আপনি কি মানুষকে তাদের মোহরের পরিমাণ চারশত দিরহামের বেশি করতে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আপনি কি আল্লাহকে কুরআনে বলতে শুনেননি? তিনি বললেন: সেটি কোনটি? তিনি বললেন: মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি তোমরা এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী পরিবর্তন করতে চাও এবং তাদের একজনকে অগাধ ধনসম্পদ প্রদান করে থাকো, তবে তা থেকে কিছুই গ্রহণ করো না। তোমরা কি মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের মাধ্যমে তা গ্রহণ করবে?} [আন-নিসা: ২০]। ওমর বললেন: হে আল্লাহ! ক্ষমা করুন, সকল মানুষ ওমরের চেয়ে অধিক প্রজ্ঞাবান। আর তিনি তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তিটি করলেন: একজন নারী সঠিক বলেছে এবং ওমর ভুল করেছে।

এই সেই আমীরুল মুমিনীন, যিনি মুসলমানদের নিকট তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা ও গাম্ভীর্য থাকা সত্ত্বেও একজন নারীর উপদেশ মনোযোগ দিয়ে শুনছেন এবং নিজের ভুল ও ওই নারীর কথার সঠিকতা স্বীকার করছেন। এটি পূর্ণ বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞার পরিচায়ক এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগে নারী যে পরিমাণ সম্মান ও মর্যাদা লাভ করত, তা প্রমাণ করে।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
وحكت كتب السير والتاريخ عن قدرة المرأة العقلية، وذكائها، فهذه أسماء بنت أبي بكر الصديق رضي الله عنها لما هاجر رسول الله صلى الله عليه وسلم من مكة، وكان معه أبو بكر الصديق، فحمل معه جميع ماله، تقول أسماء: فأتاني جدي أبو قحافة - وقد عمي - فقال: إن هذا فجعكم بماله ونفسه. فقلت: كلا! قد ترك لنا خيرا كثيرا، فعمدت إلى أحجار، فجعلتها في كوة البيت، وغطيت عليها بثوب، ثم أخذت بيده ووضعتها على الثوب، فقلت: هذا ما تركه لنا، فقال: أما إذا ترك لكم هذا، فنعم.

وشاركت المرأة الرجل عبر التاريخ الإسلامي ميادين الجهاد، فهذه أم عمارة - نسيبة المازنية - تقول: " لقد رأيتني، وقد انكشف الناس عن رسول الله، وما بقي إلا نفر يتمون عشرة، وأنا وابناي وزوجي بين يديه تذب عنه، والناس يمرون به منهزمين، ورآني لا ترس معي، فرأى رجلا موليا معه ترس، فقال لصاحب الترس: ألق ترسك لمن يقاتل. فألقى ترسه فأخذته، فجعلت أتترس به عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأقبل رجل على فرس، فضربني فتترست له، فلم يصنع سيفه شيئا، وولي، وأضرب عرقوب فرسه، فوقع على ظهره، فجعل النبي صلى الله عليه وسلم يصيح: يا أم عمارة أمامك. قالت: فعاونني عليه حتى أوردته شعوب المنية".

وهذه صفية بنت عبد المطلب عمة رسول الله صلى الله عليه وسلم في يوم الخندق قالت: أنا أول امرأة قتلت رجلا، فقد كان حسان بن ثابت معنا، فمر بنا يهودي يطوف بالحصن، فقلت لحسان: مثل هذا لا آمنه على أن يدل على عوراتنا، فقم فاقتله قال: يغفر الله لك لقد عرفت ما أنا بصاحب هذا. فاحتجزت - شدت وسطها - وأخذت عمودا ونزلت، فضربته حتى قتلته.

وعن أم عطية الأنصارية رضي الله عنها قالت: "غزوت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم سبع غزوات أخلفهم في رحالهم، وأصنع لهم الطعام" رواه مسلم. وكانت رفيدة الأنصارية تحرج للمعركة لتداوي الجرحى، وتسقي العطشي، فكان لها خيمة تداوي فيها الجرحى، وتحتسب ذلك عند ربها، وعندما أصيب سعد بن معاذ في معركة الخندق قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اجعلوه في خيمة رفيدة حتى أعوده من قريب".
সীরাত ও ইতিহাসের গ্রন্থসমূহ নারীর বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা ও প্রখর মেধার কথা বর্ণনা করেছে। এই যে আসমা বিনতে আবি বকর সিদ্দিক (রা.), যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা থেকে হিজরত করেন এবং তাঁর সাথে আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ছিলেন, তখন তিনি তাঁর সমস্ত সম্পদ সাথে নিয়ে যান। আসমা (রা.) বলেন: আমার দাদা আবু কুহাফা আমার কাছে আসলেন—তখন তিনি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন—তিনি বললেন: এই ব্যক্তি (আবু বকর) তার সম্পদ ও নিজেকে নিয়ে গিয়ে তোমাদের বিপদে ফেলেছেন। আমি বললাম: কক্ষনো না! তিনি আমাদের জন্য অনেক কল্যাণ রেখে গেছেন। অতঃপর আমি কিছু পাথর নিয়ে ঘরের একটি কুলুঙ্গিতে রাখলাম এবং একটি কাপড় দিয়ে তা ঢেকে দিলাম। এরপর আমি তাঁর হাত ধরলাম এবং তা কাপড়ের ওপর রাখলাম। আমি বললাম: এই যে সম্পদ তিনি আমাদের জন্য রেখে গেছেন। তিনি বললেন: যেহেতু তিনি তোমাদের জন্য এগুলো রেখে গেছেন, তবে তো ভালোই।

ইসলামী ইতিহাসজুড়ে নারীরা পুরুষদের পাশাপাশি জিহাদের ময়দানে অংশগ্রহণ করেছেন। এই যে উম্মে আম্মারা—নুসাইবা আল-মাজিনিয়্যাহ—তিনি বলেন: "আমি নিজেকে দেখেছি যখন মানুষ আল্লাহর রাসূলের নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল এবং দশ জনের মতো একটি ক্ষুদ্র দল ছাড়া আর কেউ বাকি ছিল না। আমি, আমার দুই পুত্র এবং আমার স্বামী তাঁর সামনে থেকে তাঁকে রক্ষা করছিলাম, আর মানুষ পরাজিত হয়ে তাঁর পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছিল। তিনি আমাকে লক্ষ্য করলেন যে আমার সাথে কোনো ঢাল নেই। তখন তিনি এক পলায়নপর ব্যক্তিকে দেখলেন যার সাথে ঢাল ছিল। তিনি ঢালওয়ালা ব্যক্তিকে বললেন: তোমার ঢালটি তাকে দিয়ে দাও যে যুদ্ধ করছে। সে তার ঢালটি ফেলে দিল এবং আমি তা তুলে নিলাম। আমি তা দিয়ে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আড়াল করে রক্ষা করতে লাগলাম। এমতাবস্থায় ঘোড়ায় সওয়ার এক ব্যক্তি এগিয়ে এল এবং আমাকে আঘাত করল, আমি ঢাল দিয়ে তা প্রতিহত করলাম। ফলে তার তলোয়ার কোনো ক্ষতি করতে পারল না এবং সে ফিরে যেতে লাগল। তখন আমি তার ঘোড়ার পায়ের রগ লক্ষ্য করে আঘাত করলাম, ফলে সে পিঠের ওপর পড়ে গেল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চিৎকার করে বলতে লাগলেন: হে উম্মে আম্মারা! তোমার সামনে (শত্রু)! তিনি বলেন: অতঃপর তিনি আমাকে তার বিরুদ্ধে সাহায্য করলেন এমনকি আমি তাকে মৃত্যুর ঘাটে পৌঁছে দিলাম।"

আর এই হলেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ফুফু সাফিয়্যা বিনতে আব্দুল মুত্তালিব। খন্দকের যুদ্ধের দিন তিনি বলেছিলেন: আমিই প্রথম নারী যে কোনো পুরুষকে হত্যা করেছে। হাসসান বিন সাবিত আমাদের সাথে ছিলেন। তখন একজন ইয়াহুদি আমাদের পাশ দিয়ে দুর্গের চারপাশ ঘুরছিল। আমি হাসসানকে বললাম: এ ধরনের লোককে আমি নিরাপদ মনে করছি না যে সে আমাদের দুর্বলতাগুলো জানিয়ে দেবে। সুতরাং আপনি উঠে গিয়ে তাকে হত্যা করুন। তিনি বললেন: আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন, আপনি তো জানেনই যে আমি এই কাজের মানুষ নই। তখন আমি আমার কোমর কষে বাঁধলাম এবং একটি খুঁটি নিয়ে নিচে নেমে গেলাম। এরপর তাকে আঘাত করে হত্যা করলাম।

উম্মে আতিয়্যাহ আল-আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। আমি তাঁদের মালপত্র দেখাশোনা করতাম এবং তাঁদের জন্য খাবার তৈরি করতাম।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আর রুফাইদাহ আল-আনসারী যুদ্ধের ময়দানে বের হতেন আহতদের চিকিৎসা করতে এবং তৃষ্ণার্তদের পানি পান করাতে। আহতদের সেবা করার জন্য তাঁর একটি তাবু ছিল এবং তিনি এর প্রতিদান তাঁর রবের কাছে আশা করতেন। যখন খন্দকের যুদ্ধে সাদ বিন মুয়াজ (রা.) আহত হলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমরা তাকে রুফাইদাহর তাবুতে রাখো যেন আমি নিকট থেকেই তাকে দেখতে পারি।"
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
وقد شاركت المرأة المسلمة في صدر الإسلام بالحدث السياسي، فهذه زينب بنت رسول الله، أسلمت قبل زوجها، وفرق الإسلام بينها وبينه، وعندما حصلت معركة بدر كان أبو العاص بن الربيع في صف قريش ضد المسلمين، فوقع في الأسر، ولما علمت زينب بذلك بعثت بقلادة لها لتفتدي بها زوجها، فلما رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم القلادة عرف أنها لزينب، فرق لها وقال: "إن أردتم أن تطلقوا لها أسيرها. فأطلقوه، وبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم من يأتيه بزينب من مكة، وحاول أهل زوجها منعها من ذلك، ولكنها استطاعت أخيرا أن تلحق بأبيها مع زيد بن حارثة، وبقي زوجها العاص بن الربيع بمكة حتى خرج مرة تاجرا إلى بلاد الشام، فلقيته سرية للرسول صلى الله عليه وسلم، فأصابوا ما معه، وقفل هاربا حتى دخل على زينب تحت جنح الليل، فاستجار بها، فأجارته، وجاء في طلب ماله، فلما خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى صلاة الصبح، فكبر و كبر الناس صرخت زينب من صفة النساء، وأخذت تقول: أيها الناس إني قد أجرت أبا العاص بن الربيع. قال: فلما سلم رسول الله صلى الله عليه وسلم من الصلاة، أقبل على الناس فقال: أيها الناس؛ هل سمعتم ما سمعت؟ قالوا: نعم. قال: أما والذي نفس محمد بيده ما علمت بشيء من ذلك حتى سمعت ما سمعتم أنه يجير على المسلمين أدناهم. ثم انصرف رسول الله، فدخل على ابنته، فقال: أي بنية أكرمي مثواه، ولا يخلصن إليك، فإنك لا تحلين له. وخرج إلى المسلمين، فقال لهم: إن أردتم أن تردوا عليه ماله أو أن تأخذوه، فهو فيء الله، وأنتم أحق به. فقالوا: يا رسول الله، بل نرده عليه، فردوه عليه، ثم قفل راجعا إلى مكة، وأدى إلى كل ذي مال حقه، ثم قال: يا معشر قريش هل بقي لأحد عندي مال لم يأخذه؟ قالوا: لا! فجزاك الله خيرا، فقد وجدناك وفيا كريما قال: أما أنا، فأشهد أن لا إله إلا الله، وأن محمدا رسول الله، والله ما منعني من الإسلام عنده إلا تخوف أن تظنوا أني إنما أردت أكل أموالكم، فلما أداها الله إليكم، وفرغت منها أسلمت، ثم خرج حتى قدم على رسول الله يطلب زوجته فردها رسول الله صلى الله عليه وسلم إليه"

وقد أجارت أم هانئ بنت أبي طالب عام الفتح رجلا، وقد أراد أخوها علي بن أبي طالب أن يقتله، فجاءت إلى الرسول صلى الله عليه وسلم، فقالت: زعم ابن أبي وأمي علي

ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে মুসলিম নারীগণ রাজনৈতিক ঘটনাবলিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা যয়নাব এর একটি উদাহরণ; তিনি তাঁর স্বামীর পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং ইসলাম তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছিল। যখন বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হলো, তখন আবুল আস ইবনুর রবী' কুরাইশদের পক্ষে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন এবং তিনি যুদ্ধবন্দী হিসেবে ধৃত হন। যখন যয়নাব এ সংবাদ জানতে পারলেন, তখন তিনি তাঁর একটি হার পাঠিয়ে দিলেন যাতে এর মাধ্যমে তাঁর স্বামীকে মুক্ত করতে পারেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সেই হারটি দেখলেন, তখন তিনি চিনে ফেললেন যে এটি যয়নাবের। এতে তাঁর মন বিগলিত হলো এবং তিনি বললেন: "তোমরা যদি তাঁর বন্দীকে মুক্তি দিতে চাও, তবে তাকে মুক্তি দিতে পারো।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে যয়নাবকে নিয়ে আসার জন্য লোক পাঠালেন। তাঁর স্বামীর পরিবার তাঁকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পরিশেষে তিনি যায়েদ ইবনে হারিসাহর সাথে তাঁর পিতার নিকট পৌঁছাতে সক্ষম হন। তাঁর স্বামী আবুল আস ইবনুর রবী' মক্কায় থেকে যান, একদা তিনি বণিক হিসেবে শাম দেশের অভিমুখে বের হন। পথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি সারিয়ার (অভিযাত্রী দল) সাথে তাঁর দেখা হয় এবং তারা তাঁর কাছে থাকা মালামাল হস্তগত করে। তিনি পলায়ন করে রাতের অন্ধকারে যয়নাবের নিকট প্রবেশ করেন এবং তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। যয়নাব তাঁকে আশ্রয় দিলেন। তিনি তাঁর সম্পদের খোঁজে এসেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফজরের সালাতের জন্য বের হলেন এবং তাকবীর বললেন এবং লোকেরাও তাকবীর বলল, তখন যয়নাব নারীদের কাতার থেকে উচ্চস্বরে বললেন: "হে লোকসকল! আমি আবুল আস ইবনুর রবী'কে আশ্রয় প্রদান করেছি।" বর্ণনাকারী বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শেষ করলেন, তখন মানুষের দিকে ফিরে বললেন: "হে লোকসকল! আমি যা শুনেছি, তোমরা কি তা শুনেছ?" তারা বলল: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "সেই সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! আমি এ সম্পর্কে কিছুই জানতাম না যতক্ষণ না তা শুনেছি যা তোমরা শুনেছ; নিশ্চয়ই মুসলিমদের মধ্যে সাধারণ স্তরের ব্যক্তিও কাউকে আশ্রয় দিতে পারে।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে গেলেন এবং তাঁর কন্যার নিকট প্রবেশ করে বললেন: "হে প্রিয় কন্যা! তাঁর মেহমানদারিতে সম্মান প্রদর্শন করো, তবে তিনি যেন তোমার কাছে না আসেন, কারণ তুমি তাঁর জন্য হালাল নও।" এরপর তিনি মুসলিমদের কাছে বের হয়ে বললেন: "যদি তোমরা তাঁর সম্পদ তাঁকে ফিরিয়ে দিতে চাও অথবা তা রেখে দিতে চাও, তবে তা আল্লাহর দেওয়া সম্পদ (ফে), আর তোমরাই এর অধিক হকদার।" তারা বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! বরং আমরা তা তাঁকে ফিরিয়ে দেব।" অতঃপর তারা তা তাঁকে ফিরিয়ে দিল। এরপর তিনি মক্কায় ফিরে গেলেন এবং প্রত্যেক পাওনাদারকে তার হক বুঝিয়ে দিলেন। অতঃপর বললেন: "হে কুরাইশ সম্প্রদায়! আমার কাছে কি আর কারো কোনো সম্পদ বাকি আছে যা সে পায়নি?" তারা বলল: "না! আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন, আমরা আপনাকে প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী এবং মহানুভব হিসেবে পেয়েছি।" তিনি বললেন: "তবে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। আল্লাহর শপথ! ইতিপূর্বে ইসলাম গ্রহণে আমাকে কেবল এই ভয়ই বাধা দিচ্ছিল যে, তোমরা হয়তো ভাববে আমি তোমাদের সম্পদ আত্মসাৎ করতে চেয়েছি। এখন যখন আল্লাহ তা তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং আমি তা থেকে দায়মুক্ত হয়েছি, তখন আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম।" এরপর তিনি মক্কা থেকে বেরিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলেন এবং তাঁর স্ত্রীকে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যয়নাবকে তাঁর নিকট ফিরিয়ে দিলেন।

উম্মেহানী বিনতে আবি তালিব মক্কা বিজয়ের বছর এক ব্যক্তিকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। তাঁর ভাই আলী ইবনে আবি তালিব তাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন। তখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন: আমার আপন ভাই আলী দাবি করছে...
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
أنه قاتل رجلا أجرته - فلان بن هبيرة - فقال صلى الله عليه وسلم: "قد أجرنا من أجرت يا أم هانئ". رواه البخاري ومسلم.

وقد تصدت المرأة بشجاعة وجرأة للحكام، فوقفت في وجوههم لتقول الحق، فهذه أسماء بنت أبي بكر يدخل عليها الحجاج عندما قتل ولدها عبد الله بن الزبير، فيقول لها: إن ولدك ألحد في هذا البيت، وإن الله أذاقه من عذاب أليم، وفعل به ما فعل. فقالت له: كذبت والله لقد كان بارا بوالديه صواما قواما فلقد أخبرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أنه سيخرج من ثقيف كذابان، الآخر منهم شر من الأول وهو مبير". أما الكذاب، فقد رأيناه وأما المبير، فلا أخالك إلا إياه، فلقد أفسدت عليه دنياه، وأفسد عليك آخرتك.

وقد كان رسولنا الكريم يرفع من شأن النساء سواء كن زوجاته أم بناته أم نساء المؤمنين عامة، فقد كان الأب الحاني، والزوج الرفيق بزوجاته، والقائد الحكيم المتواضع، وقد سار أصحابه من بعده على نهجه في إعلاء شأن النساء.
নিশ্চয়ই তিনি এমন এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন যাকে তিনি (উম্মে হানি) আশ্রয় দিয়েছিলেন - অমুক বিন হুবায়রা - তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে উম্মে হানি! তুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছ আমরাও তাকে আশ্রয় দিলাম।" এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

নারীগণ সাহসিকতা ও বীরত্বের সাথে শাসকদের মোকাবিলা করেছেন এবং সত্য কথা বলার জন্য তাদের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছেন। এই যেমন আসমা বিনতে আবি বকর; তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইরকে হত্যা করার পর হাজ্জাজ যখন তাঁর নিকট প্রবেশ করল, তখন সে তাঁকে বলল: নিশ্চয়ই আপনার পুত্র এই পবিত্র ঘরে ধর্মদ্রোহিতা করেছে এবং আল্লাহ তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করিয়েছেন এবং তার সাথে যা করার করেছেন। তখন তিনি তাকে বললেন: আল্লাহর কসম, তুমি মিথ্যা বলেছ। সে তো তার পিতামাতার প্রতি অত্যন্ত সদাচারী, অধিক রোজা পালনকারী এবং রাত্রিবেলা অধিক ইবাদতকারী ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে: "ছাকীফ গোত্র থেকে দুইজন মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব হবে, যাদের মধ্যে দ্বিতীয়জন প্রথমজনের চেয়েও নিকৃষ্ট এবং সে হবে ধ্বংসকারী।" মিথ্যাবাদীকে তো আমরা দেখেছি, আর ধ্বংসকারীর ব্যাপারে আমার প্রবল ধারণা যে তুমিই সেই ব্যক্তি। তুমি তার দুনিয়া নষ্ট করেছ, আর সে তোমার আখেরাত নষ্ট করেছে।

আমাদের প্রিয় রাসূল নারীদের মর্যাদা সমুন্নত রাখতেন, তারা তাঁর স্ত্রী হোক, কন্যা হোক কিংবা সাধারণ মুমিন নারী হোক। তিনি ছিলেন একজন মমতাময় পিতা, স্ত্রীদের প্রতি কোমল স্বামী এবং একজন প্রজ্ঞাবান ও বিনয়ী নেতা। তাঁর তিরোধানের পর তাঁর সাহাবীগণও নারীদের মর্যাদা সমুন্নত করার ক্ষেত্রে তাঁরই নীতি অনুসরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌ترجمة الشيخة مريم (691 - 758 هـ = 1292 - 1357 م)

‌‌اسمها ونسبها:

ست القضاة مريم بنت عبد الرحمن بن أحمد بن عبد الرحمن بن عبد المنعم بن نعمة بن سلطان بن سرور بن رافع بن حسن بن جعفر النابلسية، أم محمد، الملقبة بـ (ست القضاة) مسندة، حنبلية، من العالمات بالحديث. روته بنابلس ودمشق.

وهي أخت محمد بن أحمد الأذرعي الأصل القاهري الحنفي، ولد سنة 738 هـ، بدمشق، وولي مشيخة الجامع الجديد بمصر، وخطابة جامع شيخو، وحدث، وسمع منه غير واحد، وأجاز وأجيز، واشتهر، ومات في القاهرة سنة 805 هـ.

كانت زوجة عبد القادر بن عثمان الجعفري. وهي والدة شمس الدين محمد بن عبد القادر المتوفي سنة 797 هـ.

سمعت من أبي الفضل ابن عساكر.

 

‌‌مولدها ووفاتها:

ولدت سنة 691 هـ، وكان مولدها ووفاتها بنابلس، وماتت في شهر المحرم سنة 758 هـ.

وخرج لها الشهاب ابن حجر العسقلاني، (معجم الشيخة مريم) في دار الكتب (1421 حديث) كما في فهرس المخطوطات المصورة 1/ 106.
শায়খা মরিয়মের জীবনী (৬৯১ - ৭৫৮ হি. = ১২৯২ - ১৩৫৭ খ্রি.)

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

সিত্তুল কুদাত মরিয়ম বিনতে আব্দুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল মুনইম ইবনে নি'মাহ ইবনে সুলতান ইবনে সুরুর ইবনে রাফি' ইবনে হাসান ইবনে জাফর আল-নাবুলসি, উম্মে মুহাম্মদ, তিনি 'সিত্তুল কুদাত' উপাধিতে ভূষিত। তিনি একজন মুসনিদাহ (হাদিস বর্ণনাকারী), হাম্বলি এবং বিজ্ঞ নারী হাদিস বিশারদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি নাবলুস এবং দামেস্কে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

তিনি মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-আজরুয়ি আল-আসলি আল-কাহিরি আল-হানাফির বোন। তিনি (ভাই) ৭৩৮ হিজরিতে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন এবং মিশরের জামে আল-জাদিদের প্রধান শায়খ ও জামে শায়খুর খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে একাধিক ব্যক্তি হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি হাদিস বর্ণনার অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করেছেন ও লাভ করেছেন এবং প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তিনি ৮০৫ হিজরিতে কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি আব্দুল কাদির ইবনে উসমান আল-জাফরির স্ত্রী ছিলেন। তিনি ৭৯৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল কাদিরের মাতা।

তিনি আবুল ফজল ইবনে আসাকিরের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।

 

তাঁর জন্ম ও মৃত্যু:

তিনি ৬৯১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্ম ও মৃত্যু উভয়ই ছিল নাবলুসে এবং তিনি ৭৫৮ হিজরির মহররম মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

শিহাব ইবনে হাজার আল-আসকালানি তাঁর জন্য 'মু'জাম আশ-শায়খা মরিয়ম' সংকলন করেন যা দারুল কুতুব-এ সংরক্ষিত (১৪২১টি হাদিস), যেমনটি চিত্রিত পাণ্ডুলিপি সূচি (১/১০৬)-তে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
‌‌ترجمة ابن حجر العسقلاني

اسمه: هو أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن محمد بن علي، الشهير بـ (ابن حجر العسقلاني)، الإمام، حافظ الدنيا، أمير المؤمنين في الحديث.

نسبه: الكناني، العسقلاني، المصري.

1 - الكناني نسبة إلى قبيلة كنانة.

2 - العسقلاني نسبة إلى مدينة عسقلان بفلسطين.

3 - المصري نسبة إلى مصر حيث كان فيها مولده ونشأته ووفاته.

لقبه: شهاب الدين، أما ابن حجر فقد اختلفت المصادر في كونها لقبا أو اسما، والراجح أنها لقب لبعض آبائه كما ذكره السخاوي، وجزم بذلك الشوكاني. مولده: ولد سنة 773 هـ بالقاهرة.

نشأته: نشأ ابن حجر يتيم الأم، حيث ماتت قبل أن يتم 4 سنوات، ثم ما لبث أبوه أن توفي عندما أتم ابن حجر 4 سنوات، أوصى به والده قبل موته كبير التجار الزكي أبا بكر الخروبي، فقام على أمره بعد وفاة والده. وقد رزقه الله سرعة، وقوة في الحفظ، ونهما للعلم وشدة في الذكاء فاق بهما أقرانه. فقد حفظ سورة مريم في يوم واحد وقد أتم 5 سنوات وأتم حفظ القرآن الكريم وله 9 سنين، وحفظ بعد ذلك الكتب المختصرة في مبادئ العلوم مثل مختصر ابن الحاجب، والعمدة في الأحكام للمقدسي وذلك في علم الأصول، وألفية العراقي في الحديث و كتاب الحاوي الصغير لأبيه. وبعد موت وصيه الخروبي 787 هـ، أصابه فتور عن التحصيل إلى أن استكمل 17 سنة، وذلك في سنة 790 هـ. فاستمرت هذه الفترة لمدة 3 سنوات ما لبث بعدها أن أكب على علم الحديث إلى جانب ما حبب إليه من الأدب، واللغة، والشعر. ولعل السبب الرئيسي في نبوغ ابن حجر ووصوله إلى هذا الشأن ذكاءه المتوقد، وقوة حفظه، فقد أثر عنه أنه قرأ السنن لابن ماجه في أربعة مجالس، وقرأ صحيح مسلم على محمد بن العز الربعي في يومين من بكرة النهار إلى الظهر، وقرأ صحيح البخاري كله في عشرة مجالس، وكل مجلس منها من بعد صلاة الظهر إلى العصر، وقرأ المعجم الصغير للطبراني في مجلس واحد بين صلاة
ইবনে হাজার আল-আসকালানির জীবনী

তাঁর নাম: তিনি হলেন আবুল ফজল আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী, যিনি (ইবনে হাজার আল-আসকালানি) নামে সুপরিচিত; তিনি ছিলেন ইমাম, হাফিজুদ দুনিয়া এবং হাদিস শাস্ত্রে আমিরুল মুমিনিন।

তাঁর বংশপরিচয়: আল-কিনানি, আল-আসকালানি, আল-মিসরি।

1 - আল-কিনানি শব্দটি কিনানা গোত্রের সাথে সম্পর্কিত।

2 - আল-আসকালানি শব্দটি ফিলিস্তিনের আসকালান শহরের সাথে সম্পর্কিত।

3 - আল-মিসরি শব্দটি মিসরের সাথে সম্পর্কিত, যেখানে তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং মৃত্যু হয়েছিল।

তাঁর উপাধি: শিহাবুদ্দিন। ইবনে হাজার নামটির ব্যাপারে উৎসসমূহে মতভেদ রয়েছে যে এটি উপাধি নাকি নাম; তবে বিশুদ্ধ মতানুসারে এটি তাঁর কোনো এক পূর্বপুরুষের উপাধি ছিল, যেমনটি সাখাভি উল্লেখ করেছেন এবং শাওকানি এটি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর জন্ম: তিনি ৭৭৩ হিজরি সনে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর বেড়ে ওঠা: ইবনে হাজার মাতৃহীন এতিম হিসেবে বেড়ে ওঠেন, কারণ তিনি ৪ বছর পূর্ণ করার আগেই তাঁর মা মারা যান। এরপর তাঁর ৪ বছর পূর্ণ হওয়ার পর তাঁর বাবাও ইন্তেকাল করেন। তাঁর বাবা মৃত্যুর আগে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাকি আবু বকর আল-খাররুবির নিকট তাঁর দায়িত্ব অর্পণের ওসিয়ত করে যান। ফলে তাঁর বাবার মৃত্যুর পর তিনি তাঁর দেখাশোনা করেন। আল্লাহ তাঁকে দ্রুত ও শক্তিশালী মুখস্থ শক্তি, ইলমের প্রতি প্রবল তৃষ্ণা এবং অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মেধা দান করেছিলেন, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তিনি মাত্র ৫ বছর বয়সে এক দিনে সূরা মারইয়াম মুখস্থ করেছিলেন এবং ৯ বছর বয়সে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি ইলমের মূলনীতি বিষয়ক সংক্ষিপ্ত কিতাবসমূহ মুখস্থ করেন, যেমন উসুল শাস্ত্রে ইবনে হাজিবের মুখতাসার এবং মাকদিসির উমদাতুল আহকাম; হাদিস শাস্ত্রে ইরাকির আলফিয়্যাহ এবং তাঁর বাবার লেখা কিতাব আল-হাভি আস-সগির। তাঁর অভিভাবক আল-খাররুবির মৃত্যুর পর (৭৮৭ হিজরি), ১৭ বছর বয়স পূর্ণ করা পর্যন্ত (অর্থাৎ ৭৯০ হিজরি পর্যন্ত) ইলম অর্জনে তাঁর কিছুটা শিথিলতা আসে। এই ৩ বছর সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি হাদিস শাস্ত্রের প্রতি নিবিষ্ট হন এবং পাশাপাশি সাহিত্য, ভাষা ও কবিতার প্রতিও তাঁর অনুরাগ সৃষ্টি হয়। ইবনে হাজারের মেধা ও এই উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছানোর মূল কারণ ছিল সম্ভবত তাঁর প্রখর বুদ্ধি এবং অসাধারণ স্মরণশক্তি। বর্ণিত আছে যে, তিনি ইবনে মাজাহ-এর সুনান গ্রন্থটি মাত্র চারটি মজলিসে পাঠ শেষ করেছিলেন। তিনি মুহাম্মদ বিন আল-ইজ্জ আল-রাবঈ-এর কাছে সহিহ মুসলিম মাত্র দুই দিনে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পাঠ করেছিলেন। তিনি পুরো সহিহ বুখারি দশটি মজলিসে পাঠ শেষ করেন, যার প্রতিটি মজলিস ছিল জোহর থেকে আসর নামাজের মধ্যবর্তী সময়ের। তিনি তাবারানির আল-মুজাম আস-সগির একটি মজলিসে পাঠ করেছিলেন নামাজের সময়ের মধ্যে।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
الظهر والعصر. وقد اجتمع له من الشيوخ الذين يشار إليهم بالبنان ويعول عليهم في حل المشكلات ما لم يجتمع لأحد من أهل عصره، لأن كل واحد منهم كان متبحرا ورأسا في فنه الذي اشتهر به. التنوخي في القراءات، والحافظ العراقي في الحديث، والفيروزاباذي في اللغة والنحو.

 

‌‌تحصيله للعلم:

1 - الحافظ ابن حجر وعلم القراءات: قرأ الحافظ على شيخه التنوخي من أول الفاتحة إلى قوله "المفلحون" من سورة البقرة جامعا للقراءات السبع، ثم قرأ عليه الشاطبية تامة بسماعه لهما على القاضي بدر الدين بن جماعة، وأذن له التنوخي بالإقراء سنة 769 ـ.

2 - الحافظ ابن حجر وعلم الحديث: أما علم الحديث فقد تخرج فيه على يد شيخه العراقي بعد أن لازمه عشر سنوات، وهو أول من أذن له في تدريس علم الحديث، كما أذن له في تدريس ألفيته، وشرحها، وذلك في سنة 797 هـ. وهو أول من لقبه بالحافظ. أما الهيثمي فقد قرأ عليه الحافظ منفردا، وملازما لشيخه العراقي، وكان ابن حجر قد شرع في تتبع أوهام الهيثمي في مجمع الزوائد فبلغ ذلك الهيثمي وعاتبه فترك ذلك، كما أن ابن حجر قد أكمل ترتيب حلية الأولياء على الأبواب بعد أن توفي الهيثمي وهي مسودة.

3 - الحافظ ابن حجر والفقه: كان ابن حجر بالإضافة إلى كونه محدثا فهو أيضا فقيه يفتي بقول الشافعي، ولا عجب فقد لازم ابن حجر شيخه البلقيني الملقب بشيخ الإسلام فسمع عليه مختصر المزني بقراءة البرماوي، والبلقيني هو أول من أذن للحافظ بالفتية وتدريس الفقه ثم تبعه غيره.

4 - الحافظ ابن حجر وعلم العربية: فقد كان لابن حجر حظا وافرا من اللغة والنحو وتتلمذ على يد العديد من علماء هذا الشأن مثل الفيروزاباذي الذي ناوله القاموس المحيط وأذن له في المناولة بروايته عنه كما أن ابن حجر له من النظم والشعر ما وصفه تلامذته بأنه رائق.
যোহর ও আসর। তাঁর নিকট এমন সব শায়খ সমবেত হয়েছিলেন যাদের দিকে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা হতো এবং জটিল সমস্যার সমাধানে যাদের ওপর নির্ভর করা হতো, যা তাঁর সমসাময়িক আর কারও ক্ষেত্রে ঘটেনি। কারণ তাদের প্রত্যেকেই ছিলেন নিজ নিজ শাস্ত্রে পারদর্শী ও শীর্ষস্থানীয় ইমাম। যেমন: কিরাআতে আত-তানূখী, হাদীসে আল-হাফিজ আল-ইরাকী এবং লুগাত ও নাহু শাস্ত্রে আল-ফিরোযাবাদী।

 

‌‌তাঁর জ্ঞান অর্জন:

১ - হাফিজ ইবনে হাজার ও কিরাআত শাস্ত্র: হাফিজ তাঁর শায়খ আত-তানূখীর নিকট সূরা আল-ফাতিহার শুরু থেকে সূরা আল-বাকারার "আল-মুফলিহুন" পর্যন্ত সাত কিরাআতের সমন্বয়ে পাঠ সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি তাঁর কাছে পূর্ণ 'শাতীবিয়্যাহ' পাঠ করেন, যা তিনি কাযী বদরুদ্দীন ইবনে জামাআহ থেকে শুনেছিলেন। আত-তানূখী তাকে ৭৬৯ হিজরীতে কিরাআত পাঠদানের অনুমতি প্রদান করেন।

২ - হাফিজ ইবনে হাজার ও হাদীস শাস্ত্র: হাদীস শাস্ত্রে তিনি তাঁর শায়খ আল-ইরাকীর নিকট দশ বছর সান্নিধ্যে থাকার পর ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। তিনিই প্রথম তাকে হাদীস শাস্ত্র পাঠদানের অনুমতি দেন, এবং ৭৯৭ হিজরীতে তাঁর 'আলফিয়্যাহ' ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ পড়ানোর অনুমতি প্রদান করেন। তিনিই সর্বপ্রথম তাকে 'আল-হাফিজ' উপাধিতে ভূষিত করেন। আর আল-হাইসামীর নিকট হাফিজ ইবনে হাজার এককভাবে এবং তাঁর শায়খ আল-ইরাকীর সাথে থেকে পাঠ গ্রহণ করেন। ইবনে হাজার 'মাজমাউয যাওয়াইদ' গ্রন্থে আল-হাইসামীর ভুলভ্রান্তিগুলো চিহ্নিত করা শুরু করেছিলেন, যা আল-হাইসামীর নিকট পৌঁছালে তিনি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন, ফলে তিনি তা বর্জন করেন। এছাড়াও ইবনে হাজার আল-হাইসামীর মৃত্যুর পর তাঁর পাণ্ডুলিপি অবস্থায় থাকা 'হিলয়াতুল আউলিয়া' গ্রন্থটিকে অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেন।

৩ - হাফিজ ইবনে হাজার ও ফিকহ: হাফিজ ইবনে হাজার মুহাদ্দিস হওয়ার পাশাপাশি একজন ফকীহও ছিলেন, তিনি শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী ফাতওয়া দিতেন। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ ইবনে হাজার 'শায়খুল ইসলাম' উপাধিতে ভূষিত তাঁর শায়খ আল-বুলকীনীর সান্নিধ্যে ছিলেন। তিনি তাঁর নিকট আল-বারমাভীর পাঠের মাধ্যমে 'মুখতাসারুল মুযানী' শ্রবণ করেন। আল-বুলকীনীই সর্বপ্রথম হাফিজকে ফাতওয়া প্রদান ও ফিকহ পাঠদানের অনুমতি দেন, পরবর্তীতে অন্যরা তাঁকে অনুমতি প্রদান করেন।

৪ - হাফিজ ইবনে হাজার ও আরবী ভাষা শিক্ষা: আরবী ভাষা ও নাহু শাস্ত্রে ইবনে হাজারের ব্যাপক দখল ছিল। তিনি এ শাস্ত্রের বহু আলেমের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, যেমন আল-ফিরোযাবাদী; যিনি তাকে 'আল-কামুসুল মুহীত' প্রদান করেন এবং তাঁর সূত্রে এটি বর্ণনার অনুমতি দেন। এছাড়াও ইবনে হাজারের এমন কাব্য ও পদ্য সংকলন রয়েছে যা তাঁর ছাত্ররা অত্যন্ত চমৎকার ও পরিমার্জিত বলে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
‌‌نشاطه:

1 - التدريس: قام ابن حجر بالتدريس في عدد من المدارس فبدأ بالإملاء في المدرسة الشيخونية بأمر السلطان فرج بن برقوق، وكان ذلك في سنة 808 هـ وعمره 35 سنة، وكان لا يبدأ در سه حتى يقرأ سورة الأعلى، ويدعو له وللحاضرين، وذلك تأسيا بشيخه العراقي، وبعدها بثلاث سنوات بدأ في تدريس الفقه بالمدرسة الشيخونية سنة 811 هـ، وكان قد بلغ 38 سنة، ولم يقتصر تدريس ابن حجر على المدرسة الشيخونية، بل درس في غيرها من المدارس، فقام بتدريس الفقه في المدرسة الخروبية البدرية، والمدرسة الشريفية الفخرية، والمدرسة الصالحية النجمية، والمدرسة الصلاحية المجاورة للإمام الشافعي، والمدرسة المؤيدة المنشأة بباب زويلة. كما قام بتدريس علم الحديث بمدرسة الحسينية، والجمالية الجديدة والمستجدة. كما جلس لتدريس التفسير بمدارس المنصورية والحسينية. كما تصدر للإسماع بالمدرسة المحمودية. وتولى مشيخة المدرسة البيبرسية قرابة 20 سنة.

2 - الوعظ والخطابة: عهدت الخطابة لابن حجر في أكبر مساجد مصر. فارتقى منبر الجامع الأزهر في سنة 819 هـ. وكان عمره 46 سنة، ثم تولى الخطابة في مسجد عمرو بن العاص وهو لا يقل أهمية عن الأزهر. كما جلس للوعظ في جامع الطاهر بالحسينية.

3 - الإفتاء: تولى الحافظ ابن حجر الإفتاء بدار العدل في سنة 815 هـ، وكان عمره 42 سنة.

4 - القضاء: شغل القضاء من عمر ابن حجر مدة ليست بالقصيرة فقد أربت على 21 سنة بالرغم من أنه كان راغبا عنه. وكان الملك المؤيد كثير الإقبال عليه، وسأله في قضاء دمشق فلم يقبل حتى إنه لم يوافق الصدر المناوي لما عرض عليه النيابة عنه. وألح عليه القاضي جلال الدين البلقيني و كان بينهما مزيد اختصاص حتى ناب عنه، وجره ذلك إلى النيابة عن غيره. فلما كان في محرم سنة 827 هـ ولي القضاء بالقاهرة وما يتبعها للملك الأشرف برسباي، فعزل نفسه قبل أن يتم العام. ثم في أول رجب من سنة 828 هـ أعيد للقضاء، واستمر إلى صفر من سنة 833 هم فصرف نفسه أيضا، ولا زال كذلك يعزل
তাঁর কর্মকাণ্ড:

১ - অধ্যাপনা: ইবনে হাজার বেশ কিছু মাদরাসায় অধ্যাপনা করেছেন। তিনি সুলতান ফারাজ বিন বারকুউকের নির্দেশে ৮০৮ হিজরি সনে ৩৫ বছর বয়সে শায়খুনিয়া মাদরাসায় শ্রুতিলিখন (ইমলা) প্রদানের মাধ্যমে শুরু করেন। তিনি তাঁর উস্তাদ আল-ইরাকির অনুসরণ করে সূরা আল-আলা পাঠ না করে এবং নিজের ও উপস্থিতদের জন্য দোয়া না করে পাঠদান শুরু করতেন না। এর তিন বছর পর ৮১১ হিজরি সনে ৩৮ বছর বয়সে তিনি শায়খুনিয়া মাদরাসায় ফিকহ শাস্ত্রের পাঠদান শুরু করেন। ইবনে হাজারের অধ্যাপনা কেবল শায়খুনিয়া মাদরাসায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি অন্যান্য মাদরাসায়ও পাঠদান করেছেন। তিনি খারুবিয়া বদরিয়া, শারীফিয়া ফাখরিয়া, সালিহিয়া নাজমিয়া, ইমাম শাফিঈর মাজার সংলগ্ন সালাহিয়া এবং বাব জুওয়াইলায় অবস্থিত মুআইয়্যাদিয়া মাদরাসায় ফিকহ শাস্ত্রের পাঠদান করেন। পাশাপাশি তিনি হুসাইনিয়া, জামালিয়া জাদিদা এবং মুস্তাজাদ্দাহ মাদরাসায় হাদীস শাস্ত্রের অধ্যাপনা করেন। মানসুরিয়া ও হুসাইনিয়া মাদরাসায় তিনি তাফসীর শাস্ত্রের পাঠদানের জন্যও বসতেন। মাহমুদিয়া মাদরাসায় তিনি হাদীস শ্রবণের (ইসমা') প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া প্রায় ২০ বছর যাবত তিনি বায়বারসিয়া মাদরাসার প্রধান শায়খের দায়িত্ব পালন করেন।

২ - ওয়াজ ও খুতবা প্রদান: ইবনে হাজারকে মিশরের বৃহত্তম মসজিদগুলোতে খুতবা প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ৮১৯ হিজরি সনে ৪৬ বছর বয়সে তিনি আল-আজহার মসজিদের মিম্বারে আরোহণ করেন। এরপর তিনি আমর ইবনুল আস মসজিদে খুতবা প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা গুরুত্বের দিক থেকে আল-আজহারের চেয়ে কম নয়। তিনি হুসাইনিয়ার জাহির মসজিদে ওয়াজ করার জন্যও বসতেন।

৩ - ইফতা (ফতোয়া প্রদান): হাফেজ ইবনে হাজার ৮১৫ হিজরি সনে ৪২ বছর বয়সে 'দারুল আদল'-এ ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব লাভ করেন।

৪ - বিচারকার্য: ইবনে হাজারের জীবনের দীর্ঘ একটি সময় বিচারকার্যে অতিবাহিত হয়েছে, যা ২১ বছরেরও অধিক সময় ছিল, যদিও তিনি এই পদের প্রতি আগ্রহী ছিলেন না। সুলতান মুআইয়্যাদ তাঁর প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন এবং তাঁকে দামেস্কের বিচারকের দায়িত্ব নিতে অনুরোধ করেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। এমনকি আস-সাদর আল-মানাবি যখন তাঁকে তাঁর প্রতিনিধি হওয়ার প্রস্তাব দেন, তখন তিনি তাতেও সম্মত হননি। তবে বিচারক জালালুদ্দিন আল-বুলকিনি—যাঁর সাথে তাঁর গভীর ঘনিষ্ঠতা ছিল—তাঁকে অত্যন্ত পিড়াপীড়ি করেন, শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন এবং এটিই তাঁকে পরবর্তীতে অন্যদের প্রতিনিধি হওয়ার পথে নিয়ে যায়। অতঃপর ৮২৭ হিজরি সনের মহররম মাসে সুলতান আশরাফ বারসবাই তাঁকে কায়রো এবং তৎসংলগ্ন এলাকার প্রধান বিচারক নিযুক্ত করেন, কিন্তু বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর ৮২৮ হিজরি সনের রজব মাসের শুরুতে তাঁকে পুনরায় বিচারকের পদে ফিরিয়ে আনা হয় এবং ৮৩৩ হিজরি সনের সফর মাস পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করে পুনরায় নিজেকে অব্যাহতি দেন। এভাবেই তিনি বারবার পদত্যাগ করতেন...
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
نفسه ثم يعاد إليه دون رغبته، إلى أن أخلص في الإقلاع عنه عقب صرفه في جمادي الثانية سنة 852 هـ.

رحلاته:

1 - الرحلة الأولى: وكانت إلى مكة في سنة 785 هـ وعمره 12 سنة. مع وصيه الخروبي إلى مكة وجاور بها. وسمع صحيح البخاري على العفيف النشاوري. وصلى في المسجد الحرام صلاة التراويح إماما بالمسلمين وكان ذلك دليلا على نبوغه المبكر وأهليته على الصدارة في كل موطن وهو لا يزال صبيا وعاد في سنة 786 هـ.

1 - الرحلة الثانية: وكانت إلى صعيد مصر في سنة 793 هـ فرحل إلى قوص وغيرها وسمع من علمائها.

2 - الرحلة الثالثة: كانت إلى الإسكندرية في سنة 797 هـ وكان عمره وقتها 24 سنة فالتقى بجماعة من المحدثين والمسندين مثل شمس الدين الجزري، وابن الفراط. ومكث بها عدة أشهر ثم قفل عائدا.

3 - الرحلة الرابعة: في سنة 799 هـ. وكان عمره 26 سنة رحل إلى اليمن وهي خرجته الأولى لها وفي طريقه إليها التقى بالرضي الزبيدي، والصلاح الأقفهسي، والنجم المرجاني فسمع منهم. وفي اليمن دعاه الملك الأشرف إسماعيل بن عباس. وأحسن إليه وأكرمه. وتنقل بين مدن اليمن فسمع من علمائها مثل ابن الخياط الشافعي. ففي زبيد التقى بكل من ابن عبد الصمد الجيرتي، وأحمد بن أبي بكر الناشري، والشريف ابن المقرئ. وفي عدن لقي الرضي بن المستأذن فسمع ابن حجر منه وأسمعه.

4 - الرحلة الخامسة: رجع فيها من اليمن إلى مكة للمرة الثانية ليحج حجة الإسلام. وكان ذلك في سنة 800 هـ. وكان عمره 27 سنة.

5 - الرحلة السادسة: وكانت في سنة 802 هـ. وقد أتم 30 سنة. فقصد بلاد الشام والتقى هناك بعلمائها ومسنديها فأخذ عنهم. ومكث بدمشق مائة يوم سمع فيها نحو ألف جزء حديثي. كما دخل حماه وحمص وحلب.
নিজে এবং এরপর তাঁর অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাঁর কাছে পদটি ফিরিয়ে দেওয়া হতো, যতক্ষণ না ৮৫২ হিজরির জমাদিউল সানি মাসে তিনি পদচ্যুত হওয়ার পর তা থেকে চূড়ান্তভাবে বিমুক্ত হন।

তাঁর সফরসমূহ:

১ - প্রথম সফর: এটি ছিল ৭৮৫ হিজরিতে মক্কার উদ্দেশ্যে, যখন তাঁর বয়স ছিল ১২ বছর। তিনি তাঁর অভিভাবক আল-খাররুবীর সাথে মক্কায় যান এবং সেখানে অবস্থান করেন। তিনি আল-আফিফ আন-নাশাওয়ারীর নিকট সহিহ আল-বুখারি শ্রবণ করেন। তিনি মসজিদে হারামে মুসলমানদের ইমাম হয়ে তারাবিহ নামাজ পড়ান, যা ছিল শৈশবকালেই তাঁর অকাল মেধা এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতৃত্বের যোগ্যতার প্রমাণ। তিনি ৭৮৬ হিজরিতে ফিরে আসেন।

১ - দ্বিতীয় সফর: এটি ছিল ৭৯৩ হিজরিতে উচ্চ মিশরের উদ্দেশ্যে। তিনি কূস ও অন্যান্য অঞ্চলে সফর করেন এবং সেখানকার আলেমদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন।

২ - তৃতীয় সফর: এটি ছিল ৭৯৭ হিজরিতে আলেকজান্দ্রিয়ার উদ্দেশ্যে, তখন তাঁর বয়স ছিল ২৪ বছর। সেখানে তিনি শামসুদ্দিন আল-জাজারি এবং ইবনুল ফুরাতের মতো একদল মুহাদ্দিস ও মুসনিদদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি সেখানে কয়েক মাস অবস্থান করেন এবং এরপর ফিরে আসেন।

৩ - চতুর্থ সফর: ৭৯৯ হিজরিতে। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৬ বছর। তিনি ইয়ামেনের উদ্দেশ্যে সফর করেন এবং এটি ছিল সেখানে তাঁর প্রথম যাত্রা। পথে তিনি আর-রাযি আজ-জাবিদি, আস-সালাহ আল-আকফাহাসি এবং আন-নাজম আল-মারজানির সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন। ইয়ামেনে বাদশাহ আশরাফ ইসমাইল বিন আব্বাস তাঁকে দাওয়াত করেন এবং তাঁর প্রতি সদাচরণ ও সম্মান প্রদর্শন করেন। তিনি ইয়ামেনের বিভিন্ন শহরের মাঝে ভ্রমণ করেন এবং ইবনুল খাইয়াত আশ-শাফিয়ির মতো আলেমদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন। জাবিদ শহরে তিনি ইবনে আব্দুস সামাদ আল-জাইরতি, আহমদ বিন আবু বকর আন-নাশিরি এবং আশ-শরিফ ইবনুল মুকরি-র সাথে সাক্ষাৎ করেন। এডেনে তিনি আর-রাযি বিন আল-মুস্তা’যিনের সাথে সাক্ষাৎ করেন, ইবনে হাজার তাঁর থেকে শ্রবণ করেন এবং তাঁকেও শ্রবণ করান।

৪ - পঞ্চম সফর: এতে তিনি ইয়ামেন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো মক্কায় ফিরে আসেন ইসলামের হজ আদায়ের জন্য। এটি ছিল ৮০০ হিজরিতে। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৭ বছর।

৫ - ষষ্ঠ সফর: এটি ছিল ৮০২ হিজরিতে। তখন তাঁর ৩০ বছর পূর্ণ হয়েছিল। তিনি শাম অঞ্চলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং সেখানে আলেম ও মুসনিদদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁদের থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি দামেস্কে একশ দিন অবস্থান করেন, যে সময়ে তিনি প্রায় এক হাজার হাদিসের পুস্তিকা (জুয) শ্রবণ করেন। এছাড়াও তিনি হামাহ, হিমস ও আলেপ্পোতে প্রবেশ করেন।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
6 - الرحلة السابعة: وكانت إلى اليمن للمرة الثانية وذلك في سنة 806 هـ ولقي فيها متاعب كثيرة. حيث انصدع المركب الذي يقله، وغرق جميع ما كان معه من المتاع والكتب، والنقد ثم يسر الله إنقاذ أكثرها بعد أن دفع مالا كثيرا إلى من استخرجوها.

7 - الرحلة الثامنة: وكانت في سنة 824 هـ وعمره 52 سنة. حيث دخل بلاد الحجاز للحج والمحاورة.

8 - الرحلة التاسعة: وكانت إلى بلاد الشام للمرة الثانية حيث دخلها سنة 836 هـ وعمره 64 سنة، ومر فيها على دمشق وحمص، وحماة.

 

‌‌قرابة المصنف:

1 - ابن: علي بن محمد بن محمد محدث مشهور وناب في القضاء. ت 777 هـ.

2 - ابن: تجار بنت الفخر بن شمس بن محمد.

3 - أخو: ست الركب بنت علي بن محمد أثنى عليها قائلا: كانت أمي بعد أمي. ت 798 هـ

4 - حفيد: قطب الدين محمد بن محمد بن علي، كان تاجرا بارعا، ونال إجازات من العلماء.

5 - زوج: أنس بنت كريم الدين عبد الكريم، أسمعها من شيخه العراقي، وحدثت بحضور زوجها.

6 - زوج: ليلي بنت محمود بن طوعان الحلبية.

7 - والد: زين خاتون وهي البكر، وأسمعها على شيخه العراقي، والهيثمي. ت 833 هـ.

8 - والد: فرحة واستجيز لها من بعض العلماء مع أمها أنس. ت 828 هـ.

9 - والد: غالية ماتت هي وأختها فاطمة بالطاعون في سنة 819 هـ.

10 - والد: فاطمة. توفيت بالطاعون سنة 819 هـ.

11 - والد: رابعة أسمعها أبوها من المراغي بمكة، وأجاز لها جمع من الشاميين والمصريين. ت 832 هـ.
6 - সপ্তম সফর: এটি ছিল দ্বিতীয়বারের মতো ইয়ামেন অভিমুখে এবং তা ছিল ৮০৬ হিজরিতে। এতে তিনি অনেক কষ্টের সম্মুখীন হন। সেখানে তাকে বহনকারী নৌকাটি ফেটে যায় এবং তার সাথে থাকা সমস্ত আসবাবপত্র, বইপত্র ও অর্থ ডুবে যায়। অতঃপর আল্লাহ সেগুলোর অধিকাংশ উদ্ধার করা সহজ করে দেন, যখন তিনি উদ্ধারকারীদের প্রচুর অর্থ প্রদান করেন।

7 - অষ্টম সফর: এটি ছিল ৮২৪ হিজরিতে এবং তার বয়স তখন ছিল ৫২ বছর। তখন তিনি হজ এবং জ্ঞানগর্ভ আলোচনার উদ্দেশ্যে হিজাজ ভূমিতে প্রবেশ করেন।

8 - নবম সফর: এটি ছিল দ্বিতীয়বারের মতো সিরিয়া অভিমুখে। সেখানে তিনি ৮৩৬ হিজরিতে প্রবেশ করেন এবং তখন তার বয়স ছিল ৬৪ বছর। এই সফরে তিনি দামেস্ক, হিমস এবং হামাত অতিক্রম করেন।

 

‌‌গ্রন্থকারের আত্মীয়বর্গ:

1 - পুত্র: আলী বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ। তিনি একজন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ছিলেন এবং বিচারকের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যু ৭৭৭ হিজরি।

2 - কন্যা: তুজ্জার বিনতে আল-ফাখর বিন শামস বিন মুহাম্মাদ।

3 - বোন: সিত্তুর রুকাব বিনতে আলী বিন মুহাম্মাদ। তিনি তার প্রশংসা করে বলেছেন: তিনি ছিলেন আমার মায়ের পর আমার দ্বিতীয় মা। মৃত্যু ৭৯৮ হিজরি।

4 - নাতি: কুতুবুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী। তিনি একজন দক্ষ ব্যবসায়ী ছিলেন এবং আলেমদের নিকট থেকে ইজাযত লাভ করেছিলেন।

5 - স্ত্রী: উনস বিনতে কারীমুদ্দীন আব্দুল কারীম। তিনি তাকে তার শায়খ ইরাকীর নিকট হাদীস শ্রবণ করান এবং তিনি তার স্বামীর উপস্থিতিতে হাদীস বর্ণনা করতেন।

6 - স্ত্রী: লায়লা বিনতে মাহমুদ বিন তুআন আল-হালাবিয়্যাহ।

7 - কন্যা: যায়ন খাতুন। তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠা সন্তান। তিনি তাকে তার শায়খ ইরাকী ও হাইসামীর নিকট হাদীস শ্রবণ করান। মৃত্যু ৮৩৩ হিজরি।

8 - কন্যা: ফারহা। তার জন্য এবং তার মা উনসের জন্য কিছু আলেমের নিকট থেকে ইজাযত গ্রহণ করা হয়েছিল। মৃত্যু ৮২৮ হিজরি।

9 - কন্যা: গালিয়াহ। তিনি এবং তার বোন ফাতিমা ৮১৯ হিজরিতে প্লেগ রোগে মৃত্যুবরণ করেন।

10 - কন্যা: ফাতিমা। ৮১৯ হিজরিতে প্লেগ রোগে মৃত্যুবরণ করেন।

11 - কন্যা: রাবিয়াহ। তার পিতা তাকে মক্কায় মারাগীর নিকট হাদীস শ্রবণ করান এবং সিরিয়া ও মিসরীয় আলেমদের একটি দল তাকে ইজাযত প্রদান করেন। মৃত্যু ৮৩২ হিজরি।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
12 - والد: محمد بدر الدين أبي العالي، اهتم به ابن حجر، وأسمعه الحديث على الواسطي.

 

‌‌شيوخه:

1 - عمر بن محمد البالسي ت 803 هـ.

2 - فاطمة بنت محمد بن عبد الله المقدسية ت 803 هـ.

3 - عمر بن علي بن أحمد أبو علي ابن الملقن ت 804 هـ.

4 - عمر بن رسلان بن نصير أبو حفص البلقيني ت 805 هـ.

5 - عبد الرحيم بن الحسين بن عبد الرحمن أبو الفضل العراقي ت 806 هـ.

6 - علي بن أبي بكر بن سليمان أبو الحسن الهيثمي ت 807 هـ.

7 - أحمد بن أبي بك الناشري 815 هـ.

8 - محمد بن يعقوب بن محمد الفيروزاباذي ت 817 هـ.

9 - محمد بن أبي بكر أبو عبد الله الكنايني ت 819 هـ.

10 - محمد بن محمد بن محمد بن الجزري ت 833 هـ.

 

‌‌تلاميذه:

1 - ناصر بن أحمد بن يوسف أبو زيان الفزاري ت 823 هـ.

2 - محمد بن إبراهيم بن محمد بدر الدين البشتكي ت 830 هـ. وهو شيخه أيضا.

3 - محمد بن أحمد بن علي أبو الطيب الفاسي ت 832 هـ

4 - محمد بن محمد بن فهد أبو الفضل المكي ت 871 هـ.

5 - يوسف بن تغري بردي بن عبد الله أبو المحاسن القاهري ت 874 هـ.

6 - قاسم بن قطلوبغا أبو العدل الحنفي ت 879 هـ.

7 - إبراهيم بن عمر بن حسن البقاعي ت 885 هـ.

8 - محمد بن عبد الرحمن بن محمد شمس الدين السخاوي 902 هـ.

9 - إبراهيم بن محمد بن خليل برهان الدين سبط ابن العجمي ت 841 هـ.
১২ - ছেলে: মুহাম্মদ বদরুদ্দিন আবু আল-আলি, ইবনে হাজার তাঁর প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছিলেন এবং তাঁকে ওয়াসিতির নিকট হাদিস শ্রবণ করিয়েছিলেন।

 

‌‌তাঁর শিক্ষকগণ:

১ - উমর বিন মুহাম্মদ আল-বালিসি (মৃত্যু ৮০৩ হি.)।

২ - ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মাকদিসিয়া (মৃত্যু ৮০৩ হি.)।

৩ - উমর বিন আলী বিন আহমাদ আবু আলী ইবনুল মুলাক্কিন (মৃত্যু ৮০৪ হি.)।

৪ - উমর বিন রাসলান বিন নাসির আবু হাফস আল-বুলকিনি (মৃত্যু ৮০৫ হি.)।

৫ - আব্দুর রহিম বিন আল-হুসাইন বিন আব্দুর রহমান আবু আল-ফজল আল-ইরাকি (মৃত্যু ৮০৬ হি.)।

৬ - আলী বিন আবি বকর বিন সুলাইমান আবু আল-হাসান আল-হাইসামি (মৃত্যু ৮০৭ হি.)।

৭ - আহমাদ বিন আবি বকর আন-নাশিরি (মৃত্যু ৮১৫ হি.)।

৮ - মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব বিন মুহাম্মদ আল-ফিরোজাবাদি (মৃত্যু ৮১৭ হি.)।

৯ - মুহাম্মদ বিন আবি বকর আবু আব্দুল্লাহ আল-কিনাইনি (মৃত্যু ৮১৯ হি.)।

১০ - মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ ইবনুল জাজারি (মৃত্যু ৮৩৩ হি.)।

 

‌‌তাঁর ছাত্রগণ:

১ - নাসির বিন আহমাদ বিন ইউসুফ আবু যাইয়ান আল-ফাজারি (মৃত্যু ৮২৩ হি.)।

২ - মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বদরুদ্দিন আল-বিশতিকি (মৃত্যু ৮৩০ হি.)। তিনি তাঁর শিক্ষকও ছিলেন।

৩ - মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আলী আবু আল-তৈয়্যিব আল-ফাসি (মৃত্যু ৮৩২ হি.)।

৪ - মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ফাহাদ আবু আল-ফজল আল-মাক্কি (মৃত্যু ৮৭১ হি.)।

৫ - ইউসুফ বিন তাগরি বারদি বিন আব্দুল্লাহ আবু আল-মাহাসিন আল-কাহিরি (মৃত্যু ৮৭৪ হি.)।

৬ - কাসিম বিন কুতলুবুগা আবু আল-আদল আল-হানাফি (মৃত্যু ৮৭৯ হি.)।

৭ - ইব্রাহিম বিন উমর বিন হাসান আল-বিকাঈ (মৃত্যু ৮৮৫ হি.)।

৮ - মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান bin মুহাম্মদ শামসুদ্দিন আস-সাখাভি (মৃত্যু ৯০২ হি.)।

৯ - ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন খলিল বুরহানুদ্দিন সিবত ইবনুল আজামি (মৃত্যু ৮৪১ হি.)।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
‌‌علوم برز فيها:

1 - علم الحديث رواية ودراية. فانتهت إليه رياسة هذا الفن في زمنه، وكانت له الكلمة العليا في علم الجرح والتعديل، ومعرفة الرجال وأحوالهم، وتحليل الأسانيد، وتمييز السليم من السقيم، حتى صار هو المعول عليه في هذا الشأن في سائر الأقطار وهو علم لا يشتهر فيه إلا الأذكياء من العلماء. وهذا غيض من فيض.

2 - الفقه على مذهب الإمام الشافعي وقد درسه في العديد من المدارس. كما أنه تولى منصب قاضي القضاة والإفتاء ويلزمهما النبوغ في الفقه.

3 - اللغة والشعر، وكان في كل منهما رأسا كأنه لم يتعلم غيره من سائر العلوم وذلك لتخصصه فيه وإحاطته بكل شاردة وواردة. ومن شعره قصيدة مدح فيها النبي صلى الله عليه وسلم استهلها بقوله لو أن عذالي لوجهك أسلموا لرجوت أني في المحبة أسلم كيف السبيل لكتم أسرار الهوى؟ ولسان دمعي بالغرام يترجم

4 - الوعظ والخطابة فتولى الخطابة في أكبر المساجد.

5 - التأريخ نال من ابن حجر اهتماما يراه من يطالع كتابه أنباء الغمر، وقد هيأت له الوظائف التي تقلدها في الدولة من معرفة مجريات الأمور والسياسة ما لم يتح لغيره.

6 - تفسير القرآن برع ابن حجر فيه، فكان يأتي في مجلسه بدقائق التفسير التي لا توجد في سائر التفاسير بل كان يعمل فكره وله مصنفات تشهد له بالسبق في هذا الفن مثل الإعجاب بيان الأسباب، والأحكام لبيان ما في القرآن من الإمام.

 

‌‌وفاته

توفي عام 852 هـ، عن عمر يناهز 79 سنة.

توعك ابن حجر في آخر أيامه وعانى آلاما شديدة في معدته، لازمته لمدة شهر أفقدته نشاطه فكان يصلي وهو جالس، كما أنه تخلف عن صلاة عيد الأضحى وهو الذي لم يتخلف عن صلاة جماعة قط، ولعل الآلام كانت شديدة عليه لكبر سنه فكان ينشد قائلا أشكو إلى الله ما بي وما حوته ضلوعي قد طال السقم جسمي بنزلة وطلوعي وفي يوم الثامن والعشرين من ذي الحجة في القاهرة أسلم الحافظ ابن حجر روحه إلى
‌‌যে সকল জ্ঞানে তিনি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন:

1 - রেওয়ায়েত ও দিরায়েত (বর্ণনা ও মূলনীতি) উভয় দিক থেকে হাদিস শাস্ত্র। তাঁর যুগে এই শাস্ত্রের নেতৃত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব তাঁর ওপরই বর্তেছিল। আল-জারহ ওয়াত-তাদিল (বর্ণনাকারীদের দোষ-গুণ বিচার), বর্ণনাকারীদের পরিচয় ও অবস্থা এবং সনদ বিশ্লেষণে তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। সহিহ ও জয়িফ হাদিস পৃথকীকরণে তিনি এমন এক স্তরে পৌঁছেছিলেন যে, সারা বিশ্বের সকল প্রান্তে এই বিষয়ে তাঁর ওপরই নির্ভর করা হতো। এটি এমন এক শাস্ত্র যাতে কেবল অত্যন্ত মেধাবী আলেমগণই খ্যাতি অর্জন করতে পারেন। আর এটি ছিল তাঁর ইলমের বিশাল সমুদ্রের একটি বিন্দু মাত্র।

2 - ইমাম শাফেয়ীর মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্র; তিনি অনেক মাদরাসায় এই বিষয়ে পাঠদান করেছেন। এছাড়া তিনি প্রধান বিচারপতির পদ এবং ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন, যার জন্য ফিকহ শাস্ত্রে অনন্য মেধার প্রয়োজন হয়।

3 - ভাষা ও কবিতা; এই উভয় ক্ষেত্রে তিনি এমন এক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন যে মনে হতো তিনি অন্য কোনো শাস্ত্রই শিখেননি। এর কারণ ছিল এই বিষয়ে তাঁর গভীর বিশেষজ্ঞতা এবং প্রতিটি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়ে অগাধ জ্ঞান। তাঁর রচিত কবিতার মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় একটি কাসিদা রয়েছে, যার সূচনা তিনি করেছেন এভাবে: "যদি আমার নিন্দুকরা তোমার চেহারার প্রতি আত্মসমর্পণ করত, তবে আমি প্রত্যাশা করতাম যে আমি ভালোবাসার পথে নিরাপদ থাকব। প্রেমের রহস্য গোপন রাখার উপায় কী? অথচ আমার অশ্রুর ভাষা অনুরাগের অনুবাদ করে চলেছে।"

4 - ওয়াজ ও বক্তৃতা; তিনি কায়রোর বৃহত্তম মসজিদগুলোতে খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

5 - ইতিহাস; ইবনে হাজার এক্ষেত্রে যে গভীর মনোযোগ দিয়েছিলেন তা তাঁর 'ইনবাউল গুমর' গ্রন্থ পাঠ করলেই স্পষ্ট হয়। রাষ্ট্রে তাঁর উচ্চপদস্থ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের কারণে সমসাময়িক ঘটনাবলি ও রাজনীতি সম্পর্কে তাঁর এমন অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জিত হয়েছিল যা অন্যদের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব ছিল না।

6 - আল-কুরআনের তাফসির; ইবনে হাজার এই বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি তাঁর মজলিসে তাফসিরের এমন সব সূক্ষ্ম ও গভীর আলোচনা উপস্থাপন করতেন যা প্রচলিত অন্য কোনো তাফসিরে পাওয়া যেত না। বরং তিনি স্বীয় চিন্তাশক্তি প্রয়োগ করতেন। এই শিল্পে তাঁর অগ্রগামী হওয়ার সাক্ষ্য দেয় এমন কতিপয় গ্রন্থ হলো 'আল-ইজাব বি-বায়ানিল আসবাব' এবং 'আল-আহকাম লি-বায়ানি মা ফিল কুরআন মিনাল ইমাম'।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু

তিনি ৭৯ বছর বয়সে ৮৫২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

জীবনের শেষ দিনগুলোতে ইবনে হাজার অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন। এক মাস যাবত এই অসুস্থতা চলায় তিনি শারীরিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন এবং বসে সালাত আদায় করতেন। এমনকি তিনি ঈদুল আজহার সালাতেও উপস্থিত হতে পারেননি, অথচ তিনি কখনোই জামাতে সালাত ত্যাগ করতেন না। সম্ভবত বার্ধক্যের কারণে ব্যথা তাঁর জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ছিল, তাই তিনি এই কবিতাটি আবৃত্তি করতেন: "আমার যে অবস্থা এবং আমার পাঁজরের ভেতরে যা আছে তা নিয়ে আমি আল্লাহর কাছেই অভিযোগ করছি। দীর্ঘ অসুস্থতা বারংবার ওঠানামার মাধ্যমে আমার শরীরকে জীর্ণ করে ফেলেছে।" অতঃপর যিলহজ মাসের আটাশ তারিখ কায়রোতে হাফেজ ইবনে হাজার মহান রবের নিকট তাঁর প্রাণ সমর্পণ করেন।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
بارئها، بعد أن نفع الله به وبعلمه الأمة. وغسل و كفن وصلى عليه بكتمر المؤمن بأمر من السلطان جقمق. ودفن تجاه تربة الديلمي بتربة بني الخروبي بين مقام الشافعي، ومقام الشيخ مسلم السلمي. وشيع جنازته السلطان جقمق وحمل نعشه بنفسه، ولم يتخلف عنها واحد من الأكابر والعلماء. ولم يكن بعد جنارة ابن تيمية أحفل منها. ورثاه الكثير من هل العلم من معاصريه، ومن بعدهم، وأجمل ما قيل في رثائه قول ابن دريد:

إن المنية لم تتلف بها رجلا… بل أبلغت علما للدين منصوبا

كان الزمان به تصفو مشاربه… والآن أصبح بالتكدير مقطوبا

كلا وأيامه الغر التي جعلت… للعلم نورا وللتقوى محاريبا

 

‌‌أقوال علماء الجرح والتعديل:

أثنى العلماء على ابن حجر ثناء بالغا، شيوخه ومعاصروه من أقرانه وتلامذته والأئمة الكبار من بعده.

1 - قال شيخه العراقي: ولما كان الشيخ العالم، الكامل الفاضل، المحدث المفيد المجيد، الحافظ المتقن الضابط، الثقة المأمون، شهاب الدين أحمد أبو الفضل… فجمع الرواة والشيوخ، وميز بين الناسخ والمنسوخ، وجمع الموافقات والأبدال، وميز بين الثقات والضعفاء من الرجال، وأفرط بجده الحثيث حتى انخرط في سلك أهل الحديث، وحصل في الزمن اليسير على علم كثير.

2 - قال السخاوي: و لم يخلف بعده في مجموعه مثله، ورثاه غير واحد ما مقامه أجل

منه رحمه الله وإيانا -

3 - قال تلميذه التقي المكي: وهو إمام علامة، حافظ متقن، متين الديانة، حسن الأخلاق لطيف المحاضرة، حسن التعبير، عديم النظير، لم تر العيون مثله، ولا رأي هو مثل نفسه.

4 - قال الحافظ جلال الدين السيوطي: شيخ الإسلام، وإمام الحفاظ في زمانه، وحافظ الديار المصرية، بل حافظ الدنيا منطلقا. وقال مرة: فريد زمانه، وحامل لواء السنة في أوانه، ذهبي هذا العصر ونضاره، وجوهره الذي ثبت به على كثير من الأعصار فخاره،
তার স্রষ্টার কাছে (গমন করলেন), যখন আল্লাহ তাকে এবং তার জ্ঞান দ্বারা উম্মতকে উপকৃত করেছেন। সুলতান জাকমাকের আদেশে বুকতিমুর আল-মু'মিন তাকে গোসল করান, কাফন পরান এবং তার জানাজা পড়ান। তাকে দাইলামির কবরের বিপরীতে বনু আল-খারুবির কবরস্থানে ইমাম শাফিয়ী এবং শেখ মুসলিম আল-সুলামির মাকামের মাঝে দাফন করা হয়। সুলতান জাকমাক তার জানাজায় অংশগ্রহণ করেন এবং নিজেই তার খাটিয়া বহন করেন। বিশিষ্ট ব্যক্তি ও আলেমদের একজনও জানাজায় অনুপস্থিত ছিলেন না। ইবনে তাইমিয়্যাহর জানাজার পর এর চেয়ে বড় সমাগম আর দেখা যায়নি। তার সমসাময়িক এবং পরবর্তী অনেক আলেম তার শোকগাঁথা রচনা করেছেন। তার মৃত্যুতে বলা সবচাইতে সুন্দর উক্তি হলো ইবনে দুরাইদের এই পঙ্ক্তি:

নিশ্চয়ই মৃত্যু তার মাধ্যমে কেবল একজন মানুষকে কেড়ে নেয়নি... বরং দ্বীনের একটি সুউচ্চ জ্ঞানস্তম্ভকে বিদায় দিয়েছে।

কালপ্রবাহ ছিল এমন যার ঝরনাধারা ছিল স্বচ্ছ... আর এখন তা কলুষতায় আচ্ছন্ন হয়ে বিমর্ষ হয়ে পড়েছে।

কখনোই নয়! তার সেই উজ্জ্বল দিনগুলো যা সাব্যস্ত হয়েছে... ইলমের জন্য নূর এবং তাকওয়ার জন্য মেহরাব হিসেবে।

 

‌‌জারহ ও তাদীল শাস্ত্রের পণ্ডিতদের উক্তি:

আলেমগণ ইবনে হাজারের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন; তাঁর শিক্ষকগণ, সমসাময়িক সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ, ছাত্রগণ এবং পরবর্তী যুগের মহান ইমামগণ।

১ - তাঁর শিক্ষক আল-ইরাকি বলেন: যখন তিনি ছিলেন আলিম শেখ, পূর্ণাঙ্গ ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, ফায়দা দানকারী ও মর্যাদাবান মুহাদ্দিস, সুসংহত ও সুশৃঙ্খল হাফেজ, বিশ্বস্ত ও আমানতদার, শিহাবুদ্দীন আহমদ আবু ফজল... তিনি বর্ণনাকারী ও শিক্ষকদের একত্রিত করেছেন, নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত)-এর মাঝে পার্থক্য করেছেন, মুওয়াফাকাত ও আবদাল সংগ্রহ করেছেন এবং বর্ণনাকারীদের মধ্যে বিশ্বস্ত ও দুর্বলদের মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন। তিনি তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় এতোটাই অগ্রসর হয়েছিলেন যে, শেষ পর্যন্ত তিনি আহলে হাদিসের কাতারে শামিল হন এবং স্বল্প সময়ে বিপুল জ্ঞান অর্জন করেন।

২ - আল-সাখাভি বলেন: তিনি তাঁর সামগ্রিকতায় নিজের মতো আর কাউকে উত্তরসূরি হিসেবে রেখে যাননি। তাঁর শোকে একাধিক ব্যক্তি শোকগাঁথা গেয়েছেন, যদিও তাঁর মর্যাদা ছিল আরও মহৎ।

আল্লাহ তাঁর প্রতি এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। -

৩ - তাঁর ছাত্র আত-তাকী আল-মাক্কী বলেন: তিনি একজন আল্লামা ইমাম, সুসংহত হাফেজ, দ্বীনদারীতে মজবুত, উত্তম চরিত্রের অধিকারী, অমায়িক আলাপচারী, চমৎকার প্রকাশভঙ্গির অধিকারী এবং অনন্যসাধারণ। চোখ তাঁর মতো কাউকে দেখেনি এবং তিনি নিজেও নিজের মতো কাউকে দেখেননি।

৪ - হাফেজ জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী বলেন: শাইখুল ইসলাম, তাঁর সময়ের হাফেজদের ইমাম, মিসরীয় ভূখণ্ডের হাফেজ, বরং গোটা বিশ্বের অপ্রতিদ্বন্দ্বী হাফেজ। তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: তিনি তাঁর যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব, নিজ সময়ের সুন্নাহর পতাকাবাহী, এই যুগের যাহাবী ও স্বর্ণতুল্য ব্যক্তি এবং এমন এক রত্ন যার মাধ্যমে অনেক যুগের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও গৌরব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
إمام هذا الفن للمتقدمين، ومقدم عساكر المحدثين، وعمدة الوجود في التوهية والتصحيح، وأعظم الشهود والحكام في بابي التعديل والتجريح.

5 - قال الحافظ ابن ناصر الدين الدمشقي الشافعي: مولانا وسيدنا شيخ الإسلام حافظ الأعلام، ناصر السنة، إمام الأئمة، قاضي قضاة الأمة....

6 - قال العلامة ابن تغري بردي: كان إماما عالما، حافظا شاعرا أديبا مصنفا، مليح الشكل منور الشيبة، حلو المحاضرة إلى الغاية والنهاية، عذب المذاكرة مع وقار وأبهة، وعقل وسكون وحلم وسياسة.

7 - قال العلامة المحدث الشوكاني: الحافظ الكبير الشهير، الإمام المنفرد بمعرفة الحديث وعلله في الأزمنة المتأخرة.. وشهد له بالحفظ والإتقان القريب والبعيد، والعدو والصديق، حتى صار إطلاق لفظ الحافظ عليه كلمة إجماع. ورحل الطلبة إليه من الأقطار، وطارت مؤلفاته في حياته، وانتشرت في البلاد، وتكاتبت الملوك من قطر إلى قطر في شأنها، وهي كثيرة جدا.

8 - قال سراج الدين البلقين: الشيخ الحافظ، المحدث المتقن المحقق.

9 - قال محمد بن محمد بن محمد بن الجزري المقرئ: حضرت على العماد ابن كثير، وعلى غيره من شيوخ الحافظ العراقي، فلم أر فيهم أحفظ من ابن حجر.

10 - قال سبط ابن العجمي: وهذا الرجل في غاية ما يكون من استحضار الرجال، والكلام فيهم، وله مؤلفات كثيرة في تراجمهم، وأما الحديث فله معرفة تامة برجاله المتقدمين والمتأخرين، لا أستحضر أني رأيت مثله في معرفة رجاله المتقدم والمتأخر، والله أعلم.

11 - قال التقي ابن فهد: الإمام العلامة الحافظ، فريد الوقت، مفخرة الزمان بقية الحفاظ، علم الأئمة الأعلام، عمدة المحققين، وخاتمة الحفاظ المبرزين، والقضاة المشهورين. كان في حال طلبه مفيدا في زي مستفيد، إلى أن انفر في المشبوبية بين علماء زمانه بمعرفة فنون الحديث، لا سيما رجاله وما يتعلق بهم، فألف التواليف المفيدة، المليحة السائرة، الشاهدة له بكل فضيلة، الدالة على غزارة فوائده، والمعربة عن حسن مقاصده، جمع فيها
পূর্বসূরিদের মাঝে এই শিল্পের ইমাম, মুহাদ্দিসদের বাহিনীর অগ্রনায়ক, দুর্বলতা নিরূপণ ও সংশোধনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিশ্বের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি এবং জারহ ও তা'দিল (সমালোচনা ও গুণকীর্তন) অধ্যায়ে মহানতম সাক্ষী ও বিচারক।

৫ - হাফেজ ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি আশ-শাফেয়ী বলেছেন: আমাদের অভিভাবক ও নেতা শাইখুল ইসলাম, প্রখ্যাত হাফেজ, সুন্নাহর সাহায্যকারী, ইমামদের ইমাম, উম্মাহর প্রধান বিচারপতি....

৬ - আল্লামা ইবনে তাগরি বারদি বলেছেন: তিনি ছিলেন একজন ইমাম, আলেম, হাফেজ, কবি, সাহিত্যিক ও লেখক; তিনি সুন্দর অবয়ব ও নূরানি শুভ্র দাড়িবিশিষ্ট ছিলেন; তাঁর আলোচনার ভঙ্গি ছিল অত্যন্ত চমৎকার, গাম্ভীর্য ও মহিমার সাথে তাঁর জ্ঞানগর্ভ আলোচনা ছিল অত্যন্ত শ্রুতিমধুর। সেই সাথে তিনি ছিলেন প্রখর বুদ্ধিমান, শান্ত মেজাজী, ধৈর্যশীল ও বিচক্ষণ।

৭ - আল্লামা মুহাদ্দিস আশ-শাওকানি বলেছেন: সুবিখ্যাত মহান হাফেজ, পরবর্তী যুগসমূহে হাদিস ও তার সূক্ষ্ম দোষত্রুটি নির্ণয়ে অনন্য ইমাম। তাঁর স্মরণশক্তি ও দক্ষতার ব্যাপারে কাছের ও দূরের মানুষ এবং শত্রু ও বন্ধু—সকলেই সাক্ষ্য দিয়েছেন; এমনকি তাঁর ক্ষেত্রে 'হাফেজ' শব্দের প্রয়োগ সর্বসম্মত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। দেশ-দেশান্তর থেকে ছাত্ররা তাঁর কাছে ছুটে আসতেন, তাঁর জীবদ্দশাতেই তাঁর রচনাবলি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং দেশসমূহে তা প্রসারিত হয়েছিল। রাজন্যবর্গ তাঁর কিতাবসমূহের ব্যাপারে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে পত্রবিনিময় করতেন, আর তাঁর কিতাবসমূহ ছিল অত্যন্ত বিপুল।

৮ - সিরাজুদ্দিন আল-বুলকিনি বলেছেন: শাইখ, হাফেজ, সুনিপুণ মুহাদ্দিস ও গবেষক।

৯ - মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-জাজারি আল-মুকরি বলেছেন: আমি ইমাদুদ্দিন ইবনে কাসির এবং হাফেজ ইরাকির অন্যান্য শিক্ষকদের সান্নিধ্য লাভ করেছি, কিন্তু আমি তাঁদের মাঝে ইবনে হাজারের চেয়ে বড় কোনো হাফেজ দেখিনি।

১০ - সিবত ইবনুল আজামি বলেছেন: রাবিদের (বর্ণনাকারী) স্মরণ রাখা এবং তাঁদের সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্রে এই ব্যক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন। তাঁদের জীবনী সম্পর্কে তাঁর অনেকগুলো রচনাবলি রয়েছে। আর হাদিসের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী রাবিদের সম্পর্কে তাঁর পূর্ণ জ্ঞান ছিল। আমার মনে পড়ে না যে, আমি তাঁর মতো পূর্ববর্তী ও পরবর্তী রাবিদের সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন এমন কাউকে দেখেছি। আল্লাহই ভালো জানেন।

১১ - তাকি ইবনে ফাহাদ বলেছেন: ইমাম, আল্লামা, হাফেজ, সময়ের অনন্য ব্যক্তিত্ব, যুগের গর্ব, অবশিষ্ট হাফেজদের একজন, প্রখ্যাত ইমামগণের মাঝে আলোকবর্তিকা, গবেষকদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয় এবং শ্রেষ্ঠ হাফেজ ও প্রসিদ্ধ বিচারপতিদের শেষ উত্তরসূরি। তিনি ইলম অর্জনের সময় ছাত্রের বেশে শিক্ষকের মতো কল্যাণ পৌঁছে দিতেন। অবশেষে যৌবনকালেই তিনি তাঁর সময়ের আলেমদের মাঝে হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা, বিশেষ করে রাবি এবং তাঁদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞানের কারণে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি অত্যন্ত উপকারী, চমৎকার ও বহুল প্রচলিত কিতাবসমূহ রচনা করেন, যা তাঁর প্রতিটি শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দেয়, তাঁর জ্ঞানের প্রাচুর্য প্রমাণ করে এবং তাঁর সুনিপুণ উদ্দেশ্যের পরিচয় দেয়। তিনি তাতে সংগ্রহ করেছেন...
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শাইখাহ মারইয়াম - ত থাকাফাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
فأوعي، وفاق أقرانه جنسا ونوعا، التي شنف بسماعها الأسماع، وانعقد على كمالها لسان الإجماع، ورزق فيها الحظ السامي عن اللمس، وسارت بها الركبان سير الشمس، وهو حافظ محقق، متين الديانة، حسن الأخلاق، لطيف المحاضرة، حسن التعبير، علم النظير.

13 - كان شيخه ابن جماعة يرده كثيرا ويشهد له في غيبته بالتقدم.

14 - قال البرهان الحلبي: ما رأينا مثله.

15 - قال تاج الدين الغرابيلي: ما رأيت مثله وما رأى هو مثل نفسه وما دخل دمشق بعد ابن عساكر أجل منه، ولا مثله.

16 - قال الحافظ تقي الدين أبو الطيب الفاسي: وبالجملة فهو أحفظ أهل العصر للأحاديث والآثار، وأسماء الرجال المتقدمين والمتأخرين، والعالي من ذلك والنازل مع معرفة قوية بعلل الأحاديث، وبراعة حسنة في الفقه وغيره.

17 - قال القاضي قطب الدين الخيضري: شيخنا الإمام شيخ الإسلام ملك العلماء الأعلام إمام الحفاظ فارس المعاني والألفاظ قدوة المحدثين عمدة المخرجين علم الناقدين… عرف العالي والنازل وحفظ المتون و نظر في الرجال وطبقاتهم ومعرفة تراجمهم من جرح وتعديل، وحقق جميع أنواع هذه الصناعة، وغيرها من فقه وأصول وعربية.

 

‌‌مصنفاته:

صنف ابن حجر تصانيف في مختلف الفنون، من الحديث، والفقه، واللغة والأدب لذا فقد زادت مصنفاته على 150 مصنف كما ذكر السخاوي. وزاعت شهرة مؤلفاته حتى صارت بها الركبان وتهادى بها الملوك، وهذه بعض من مؤلفاته:

1 - فتح الباري شرح صحيح البخاري. وهو من أجل الشروح على صحيح البخاري، وأكثرها نفعا وفوائد. مما جعل الملوك تتهادى به فقد أرسل شاه رخ في سنة 830 هـ. إلى الملك الأشرف طالبا منه ما أكتمل من فتح الباري. ثم طلب بقيته في سنة 837 هـ. كما طلبه سلطان المغرب. وقيل أنه بيع بثلاثمائة دينار.

2 - هدي الساري وهي مقدمة فتح الباري مطبوعة مع الفتح.

3 - نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر.
তিনি তা আয়ত্ত করেছিলেন এবং স্বজাতীয় ও সমকালীনদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর সেই জ্ঞান যার শ্রবণে কানগুলো অলংকৃত হয়েছে এবং যা পূর্ণতা পাওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি এতে চাক্ষুষ অনুভবের ঊর্ধ্বে এক সুউচ্চ মর্যাদা লাভ করেছেন এবং সূর্যালোকের মতো তাঁর খ্যাতি দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি ছিলেন একজন প্রাজ্ঞ হাফেজ, গবেষক, ধর্মনিষ্ঠায় সুদৃঢ়, উত্তম চরিত্রের অধিকারী, চমৎকার আলাপচারী, প্রাঞ্জল প্রকাশভঙ্গি সম্পন্ন এবং এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।

১৩ - তাঁর উস্তাদ ইবনুল জামাআ প্রায়ই তাঁর মতামত নিতেন এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিতেন।

১৪ - বুরহান আল-হালাবি বলেন: আমরা তাঁর মতো কাউকে দেখিনি।

১৫ - তাজউদ্দীন আল-গরাবিলি বলেন: আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি এবং তিনিও তাঁর নিজের মতো কাউকে দেখেননি। ইবনে আসাকিরের পর দামেস্কে তাঁর চেয়ে মহান কিংবা তাঁর সমতুল্য কেউ প্রবেশ করেনি।

১৬ - হাফেজ তাকিউদ্দীন আবু তাইয়্যিব আল-ফাসি বলেন: মোটের ওপর তিনি ছিলেন সমকালীন হাদিস, আসার (সাহাবীদের বাণী) এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বর্ণনাকারীদের নাম সংরক্ষণে সবচেয়ে বড় হাফেজ। তিনি উচ্চ ও নিম্ন সনদ সম্পর্কে প্রবল জ্ঞান রাখতেন এবং সেই সাথে হাদিসের ইল্লত (সূক্ষ্ম ত্রুটি) সম্পর্কে গভীর প্রজ্ঞা এবং ফিকহ ও অন্যান্য বিষয়ে চমৎকার পারদর্শিতার অধিকারী ছিলেন।

১৭ - কাজী কুতুবুদ্দীন আল-খাইদারি বলেন: আমাদের শায়খ, ইমাম, শায়খুল ইসলাম, বরেণ্য আলেমদের সম্রাট, হাফেজদের ইমাম, অর্থ ও শব্দের নিপুণ কারিগর, মুহাদ্দিসদের আদর্শ, তাখরিজকারীদের প্রধান অবলম্বন, সমালোচকদের শিরোমণি… তিনি উচ্চ ও নিম্ন সনদ চিনতেন, মতন (মূল পাঠ) মুখস্থ রাখতেন এবং বর্ণনাকারীদের জীবনী, তাঁদের স্তরসমূহ এবং জারাহ-তাদিল (সমালোচনা ও গুণাগুণ) সংক্রান্ত পরিচিতি সম্পর্কে সজাগ দৃষ্টি রাখতেন। তিনি এই শাস্ত্রের সকল প্রকার শাখা এবং ফিকহ, উসুল ও আরবি ভাষাসহ অন্যান্য বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন।

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

ইবনে হাজার হাদিস, ফিকহ, ভাষা ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনা করেছেন। সাখাভী যেমনটি উল্লেখ করেছেন, তাঁর রচনাবলি ১৫০-এর অধিক। তাঁর গ্রন্থাবলির খ্যাতি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল, এমনকি রাজারা একে অপরকে উপহার হিসেবে এগুলো প্রদান করতেন। নিচে তাঁর কিছু রচনাবলি উল্লেখ করা হলো:

১ - ফাতহুল বারী শারহু সহিহিল বুখারি: এটি সহিহ বুখারির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং সবচেয়ে বেশি উপকারী ও জ্ঞানগর্ভ। এর গুরুত্বের কারণে রাজারা এটি উপহার হিসেবে আদান-প্রদান করতেন। ৮৩০ হিজরিতে শাহ রুখ বাদশাহ আল-আশরাফের কাছে ফাতহুল বারীর যতটুকু সমাপ্ত হয়েছে তা চেয়ে পাঠান। অতঃপর ৮৩৭ হিজরিতে এর অবশিষ্টাংশ চেয়ে পাঠান। মরক্কোর সুলতানও এটি চেয়েছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, এটি তিনশ দিনারে বিক্রি হয়েছিল।

২ - হাদিউস সারি: এটি ফাতহুল বারীর ভূমিকা, যা ফাতহুল বারীর সাথেই মুদ্রিত।

৩ - নুখবাতুল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার।