(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: -)
أحاديث في فضل الإسكندرية وعسقلان القسم: كتب السنة
الكتاب: أحاديث في فضل الإسكندرية وعسقلان
المؤلف: أبو علي الحسن بن عمر بن الحسن بن أبي إسحاق الفقيه المالكي الإسكندري، المعروف بابن الصباغ (عاش في القرن الرابع الهجري)
تنبيهات مهمة:
1 - نُسب هذا الجزء للسيوطي (ت 911) - في مخطوط باسم «فضل ثغر الإسكندرية» - بالمكتبة الأزهرية، وهو خطأ من ناسخه؛ إذ إن مشايخ هذا الجزء من طبقة متقدمة عن مشايخ السيوطي، وفي أول حديث فيه أن شيخ شيخ المصنف حدث بالحديث عام 453.
2 - نسب أيضا لابن الصلاح في نسخة برلين على الورقة الأولى بغير خط النسخة، وهو خطأ أيضا، والصواب ما أثبتناه، إلا أن للجزء نسخة أخرى بالمكتبة الظاهرية ضمن مجموع (954) (27 - 36 ق)، ومنها نسخة مصورة بمعهد المخطوطات برقم (750)، وأخرى بمكتبة كلية آداب الإسكندرية برقم (779)، كما في تاريخ الإسكندرية وحضارتها في العصر الإسلامي لـ د. السيد عبد العزيز سالم (ص 93، ط 2)، مكتوب عليها: «الجزء من فضائل الإسكندرية حماها الله تعالى، جمع أبي علي الحسن بن عمر بن أبي إسحاق الفقيه رحمه الله … »، وهي بنفس إسناد الأزهرية وبرلين، ونسخة الظاهرية قيمة، وعليها سماعات قديمة، ومنها: سماع ابن تيمية وابن كثير وابن المبرد وغيرهم، وخطوطهم عليها، وكتب عليها ابن كثير: سمعه أجمع إسماعيل بن كثير، وفيه من المناكير كثير، وسماه ابن حجر: فضائل الإسكندرية وعزاه لابن الصباغ في المعجم المفهرس (ص 182، 420)، وكذا وكذا السخاوي في الإعلان بالتوبيخ (ص 396)، والروداني في صلة الخلف (ص 321)، إلا أنه سماه: فضل ثغر الإسكندرية.
3 - هذه النسخة الإلكترونية عن نسخة مكتبة الدولة - برلين برقم: 1389، المنسوبة لابن الصلاح (ت 643 هـ).
4 - وقع في كتاب التاريخ العربي والمؤرخون لـ شاكر مصطفى (2/ 173) في ذكر الكتب المؤلفة عن مصر ومدنها «وفضائل الإسكندرية لابن إسحاق أبي علي الحسن بن عمر الفقيه (من القرن الرابع)، ولابن الصباغ أبي علي الحسن (أواسط القرن الخامس) … »، وهذا وهم، وكلاهما واحد، وهو كتابنا هذا، والله أعلم.
عدد الصفحات: 67
[الكتاب مخطوط]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আলেকজান্দ্রিয়া ও আসকালানের ফজিলত বিষয়ক হাদিসসমূহ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আলেকজান্দ্রিয়া ও আসকালানের ফজিলত বিষয়ক হাদিসসমূহ
লেখক: আবু আলী হাসান ইবনে উমর ইবনে হাসান ইবনে আবি ইসহাক আল-ফকিহ আল-মালিকি আল-ইসকান্দারি, যিনি ইবনে সাব্বাগ নামে পরিচিত (চতুর্থ হিজরি শতাব্দীতে জীবিত ছিলেন)
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা:
১ - আজহারিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপিতে এই অংশটি ‘ফাজলু সাগরি আল-ইসকান্দ্রিয়া’ নামে সুয়ুতির (মৃত ৯১১) দিকে নিসবত করা হয়েছে। এটি এর অনুলিপিকারীর একটি ভুল; কারণ এই অংশের শাইখগণ সুয়ুতির শাইখদের তুলনায় অনেক আগের স্তরের। এর প্রথম হাদিসেই উল্লেখ আছে যে, লেখকের উস্তাদের উস্তাদ ৪৫৩ হিজরিতে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
২ - বার্লিন পাণ্ডুলিপির প্রথম পাতায় মূল লিপির বাইরের হাতের লেখায় এটি ইবনে সালাহের দিকেও নিসবত করা হয়েছে, যা একটি ভুল। সঠিক সেটিই যা আমরা সাব্যস্ত করেছি। তবে এই অংশটির আরেকটি পাণ্ডুলিপি জাহিরিয়া লাইব্রেরির ৯৫৪ নম্বর মজমুআ-র (২৭ - ৩৬ পৃষ্ঠা) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যার একটি ফটোকপি পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে ৭৫০ নম্বরে এবং অন্য একটি কপি আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের লাইব্রেরিতে ৭৭৯ নম্বরে সংরক্ষিত আছে। যেমনটি ড. আস-সাইয়্যিদ আব্দুল আজিজ সালেম রচিত ‘তারিখুল ইসকান্দ্রিয়া ওয়া হাদারাতিহা ফিল আসরিল ইসলামি’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে (পৃষ্ঠা ৯৩, ২য় সংস্করণ)। তার ওপর লেখা আছে: «আলেকজান্দ্রিয়ার ফজিলত বিষয়ক অংশ, আল্লাহ একে হিফাজত করুন; আবু আলী হাসান ইবনে উমর ইবনে আবি ইসহাক আল-ফকিহ রাহিমাহুল্লাহ-এর সংকলিত... »। এটি আজহারিয়া ও বার্লিন পাণ্ডুলিপির একই সনদে বর্ণিত। জাহিরিয়া পাণ্ডুলিপিটি অত্যন্ত মূল্যবান এবং এতে অনেক প্রাচীন শ্রবণলিপি রয়েছে, যার মধ্যে ইবনে তাইমিয়া, ইবনে কাসির, ইবনে মুবাররাদ এবং অন্যদের শ্রবণলিপি ও হস্তাক্ষর বিদ্যমান। ইবনে কাসির এর ওপর লিখেছেন: ইসমাঈল ইবনে কাসির এটি সম্পূর্ণ শুনেছেন, তবে এতে অনেক মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) বর্ণনা রয়েছে। ইবনে হাজার ‘আল-মু'জামুল মুফাহরাস’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১৮২, ৪২০) একে ‘ফাদাইলুল ইসকান্দ্রিয়া’ নামে অভিহিত করেছেন এবং ইবনে সাব্বাগের দিকে সম্বন্ধিত করেছেন। অনুরূপভাবে সাখাভি ‘আল-ই'লান বিত-তাওবিখ’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৩৯৬) এবং রুদ্দানি ‘সিলাতুল খালাফ’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৩২১) উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি একে ‘ফাজলু সাগরি আল-ইসকান্দ্রিয়া’ নামে নামকরণ করেছেন।
৩ - এই ই-সংস্করণটি স্টেট লাইব্রেরি - বার্লিনের ১৩৮৯ নম্বর পাণ্ডুলিপি থেকে গৃহীত, যা ইবনে সালাহের (মৃত ৬৪৩ হিজরি) দিকে নিসবত করা হয়েছিল।
৪ - শাকের মুস্তফা রচিত ‘আত-তারিখুল আরবি ওয়াল মুয়াররিকুন’ গ্রন্থে (২/ ১৭৩) মিসর ও এর শহরগুলো সম্পর্কে রচিত বইগুলোর তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে— «আলেকজান্দ্রিয়ার ফজিলত—যা ইবনে ইসহাক আবু আলী হাসান ইবনে উমর আল-ফকিহ (চতুর্থ শতাব্দীর) এবং ইবনে সাব্বাগ আবু আলী হাসান (পঞ্চম শতাব্দীর মাঝামাঝি) কর্তৃক রচিত... »। এটি একটি ভ্রম, তারা উভয়ই মূলত একই ব্যক্তি এবং এটিই হলো আমাদের এই কিতাব। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৭
[কিতাবটি পাণ্ডুলিপি]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ١)
هَذَا مُسْنَدُ الْحَافِظِ عُثْمَانَ بْنِ الصَّلَاحِ الْأَثَرِيِّ، قَدَّسَ سِرُّهُ، فِي فَضَائِلِ الْإسْكَنْدَرِيَّةِ، فِيمَا وَرَدَ مِنَ الْأَحَادِيثِ فِي فَضْلِ الْإسْكَنْدَرِيَّةِ وَعَسْقَلَانَ، عَلَيْهِ الرَّحْمَةُ وَالرِّضْوَانُ، آمِينَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا.
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ، وَلَا عُدْوَانَ إلَّا عَلَى الظَّالِمِينَ.
এটি হাফেজ উসমান বিন আস-সালাহ আল-আছারী (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন)-এর মুসনাদ, যা আলেকজান্দ্রিয়ার ফজিলত এবং আলেকজান্দ্রিয়া ও আসকালানের মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহের সংকলন। তাঁর ওপর রহমত ও সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক, আমীন। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য এবং সীমা লঙ্ঘনকারীদের ছাড়া আর কারো বিরুদ্ধে শত্রুতা নেই।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ٢)
1 - قَالَ: أَخْبَرَنِي الشَّرِيفُ أَبُو إسْمَاعِيلَ إبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ الْجُوَيْنِيُّ الْكُلْثُومِيُّ، فِي كِتَابِهِ إلَيْنَا مِنْ مِصْرَ، وَأَجَازَ لِيَ الرِّوَايَةَ عَنْهُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو الْفَتْحِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَلَيِّ بْنِ أَبِي مَطَرٍ، فِي الْعَشْرِ الْأَوْسَطِ مِنْ جُمَادٍ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَخَمْسِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ بِثَغْرِ الْإسْكَنْدَرِيَّةِ الْمَحْرُوسَةِ، حَمَاهَا اللَّهُ تَعَالَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ أَبُو الْحَسَنِ بْنُ أَبِي إسْحَاقَ الْفَقِيهُ، وَيُعْرَفُ بِابْنِ الصَّبَّاغِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ خَرُوفِ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ الْكَامِلِ الْمَدَنِيِّ، بِالْفُسْطَاطِ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَلِيدُ بْنُ الْعَبَّاسِ بْنِ مُسَافِرٍ، سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَسِتِّينَ وَثَلَاثِ مِائَةٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْحَسَنِ بْنُ التُّجِيبِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، كَاتِبُ اللَّيْثِ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عُرْوَةَ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه، أَنَّهُ سَأَلَهُ فَقَالَ لَهُ: مِنْ أَيْنَ جِئْتَ؟ وَقَدْ كَانَ لَقِيَهُ بِالشَّامِ، فَقَالَ: مِنَ الْإسْكَنْدَرِيَّةِ، فَقَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «إِنَّ الْمُقِيمَ بِهَا ثَلَاثَةَ أَيَّامِ مِنْ غَيْرِ رِيَاءٍ، كَمَنْ عَبَدَ اللَّهَ سَبْعِينَ سَنَةً مَا بَيْنَ الرُّومِ وَالْعَرَبِ»
১ - তিনি বলেন: শরীফ আবু ইসমাইল ইব্রাহিম ইবনে হাসান আল-জুওয়াইনি আল-কুলসুমি মিশর থেকে আমাদের নিকট প্রেরিত তাঁর পত্রে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি আমার জন্য তাঁর থেকে বর্ণনা করার অনুমতি প্রদান করেছেন। তিনি বলেন: আবু ফাতহ আবদুল্লাহ ইবনে হাসান ইবনে আলি ইবনে আবু মাতার চারশত তিপ্পান্ন হিজরি সনের জুমাদা মাসের মধ্য দশকে সুরক্ষিত আলেকজান্দ্রিয়া সীমান্তে—আল্লাহ তাআলা একে রক্ষা করুন—আমাকে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবুল হাসান আলি ইবনে উমর আবুল হাসান ইবনে আবু ইসহাক আল-ফকিহ—যিনি ইবনুল সাব্বাগ নামে পরিচিত—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ফুসতাতে মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে খারুফ ইবনুল ওয়ালিদ ইবনুল কামিল আল-মাদানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: তিনশত বাষট্টি হিজরি সনে ওয়ালিদ ইবনুল আব্বাস ইবনে মুসাফির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: শায়খ আবু হাসান ইবনে আল-তুজিবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: লাইসের কাতিব আবু সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: খালিদ ইবনে হুমাইদ সাঈদ ইবনে আবু আরওয়াহ থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাঈদ ইবনে জুবায়ের) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: "আপনি কোথা থেকে এসেছেন?"—আর সিরিয়ায় তাঁর সাথে দেখা হয়েছিল। তিনি বললেন: "আলেকজান্দ্রিয়া থেকে।" অতঃপর তিনি (আবু হুরায়রা) বললেন: "নিশ্চয়ই আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি লোক দেখানো মানসিকতা ছাড়া সেখানে তিন দিন অবস্থান করবে, সে যেন রোম ও আরবের মধ্যবর্তী স্থানে সত্তর বছর আল্লাহর ইবাদত করল।»"
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ٣)
2 - وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ خَرُوفٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَانِئُ بْنُ مُتَوَكِّلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عُرْوَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، وَكَانَ قَدْ لَقِيَهُ بِالشَّامِ، فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: مِنْ أَيْنَ جِئْتَ يَا سَعِيدُ؟ قَالَ: مِنَ الْإسْكَنْدَرِيَّةِ، فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «الْمُرَابِطُ بِهَا مِنْ غَيْرِ رِيَاءٍ كَمَنْ عَبَدَ اللَّهَ سَبْعِينَ سَنَةً فِيمَا بَيْنَ الرُّومِ وَالْعَرَبِ»
২ - এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন খারুফ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হানি ইবনে মুতাওয়াক্কিল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুস সালাম বিন মুহাম্মাদ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি সাঈদ বিন আবি আরুওয়াহ থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন; আর সাঈদ তাঁর সাথে সিরিয়ায় সাক্ষাৎ করেছিলেন। তখন আবু হুরায়রা জিজ্ঞাসা করলেন: হে সাঈদ, তুমি কোথা থেকে এসেছ? তিনি বললেন: ইস্কান্দারিয়া থেকে। তখন আবু হুরায়রা বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «সেখানে (ইস্কান্দারিয়ায়) লোকদেখানো উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে যে ব্যক্তি সীমান্ত পাহারা দিল, সে যেন রোম ও আরবের মধ্যবর্তী অঞ্চলে সত্তর বছর আল্লাহর ইবাদত করল»
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ٤)
3 - وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرِ بْنُ مَطْرُوحِ بْنِ مُحَمَّدٍ سَاكِنٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَانِئُ بْنُ مُتَوَكِّلٍ، عَنْ عَبْدِ السَّلَامِ، عَنْ أَبِيهِ سَعِيدِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ سَأَلَهُ: مِنْ أَيْنَ جِئْتَ يَا سَعِيدُ؟ وَكَانَ قَدْ لَقِيَهُ بِالشَّامِ، فَقَالَ: مِنَ الْإسْكَنْدَرِيَّةِ، قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «الْمُقِيمُ بِهَا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ غَيْرِ رِيَاءٍ بِمَنْزِلَةِ مَنْ عَبَدَ اللَّهَ تَعَالَى سَبْعِينَ سَنَةً مَا بَيْنَ الرُّومِ وَالْعَرَبِ»
৩ - এবং আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে উমর ইবনে উসমান ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু নাসর ইবনে মাত্রূহ ইবনে মুহাম্মাদ সাকিন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হানি ইবনে মুতাওয়াক্কিল বর্ণনা করেছেন, আব্দুস সালাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা সাঈদ ইবনে উরওয়া থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: হে সাঈদ, তুমি কোথা থেকে এসেছ? আর তিনি তাঁর সাথে শাম দেশে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তখন তিনি (সাঈদ) বললেন: আলেকজান্দ্রিয়া থেকে। আবু হুরায়রা বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি সেখানে লোকদেখানো উদ্দেশ্য ছাড়া তিন দিন অবস্থান করবে, সে ঐ ব্যক্তির মর্যাদাসম্পন্ন হবে যে রোম ও আরব ভূখণ্ডের মাঝে সত্তর বছর আল্লাহ তাআলার ইবাদত করেছে।»
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ٥)
4 - وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ خَرُوفٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِنَّ الْإسْكَنْدَرِيَّةَ وَعَسْقَلَانَ عَرُوسَانِ، وَالْإسْكَنْدَرِيَّةُ أَعْظَمُهُمَا عَرُوسًا، وَإِنَّهَا لَتَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ تُزَفُّ بِأَهْلِهَا إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ، فَمَنْ رَابَطَ بِالْإسْكَنْدَرِيَّةِ أرْبَعِينَ يَوْمًا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بَرَاءَةً مِنَ النَّارِ، وَأَمِنَ مِنَ الْعَذَابِ، وَخِيَارُ أَهْلِهَا أَفْضَلُ مِنْ خِيَارِ غَيْرِهَا، وَشِرَارُ أَهْلِهَا خَيْرٌ مِنْ شِرَارِ غَيْرِهَا، وَهِيَ مَدِينَةُ ذِي الْقَرْنَيْنِ، يَبْعَثُ اللَّهُ مِنْهَا سَبْعِينَ أَلْفِ شَهِيدٍ وُجُوهُهُمْ عَلَى ضَوْءِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ، يُعْطَى الرَّجُلُ مِنْهُمْ مِنَ النُّورِ عَلَى الصِّرَاطِ، وَيَشْفَعُ لِسَبْعِينَ أَلْفًا، طُوبَى لِمَنْ رَابَطَ فِيهَا، وَهِيَ مَدِينَةُ ذِي الْقَرْنَيْنِ، مَكْتُوبَةٌ فِي تَوْرَاةِ مُوسَى، وَزَبُورِ دَاوُدَ، وَالْإنْجِيلِ، وَالْفُرْقَانِ، مَوْصُوفَةٌ فِي الْكُتُبِ يَعْرِفُهَا أَهْلُ الْعِلْمِ، تُسَمَّى الْخَضْرَاءَ، وَاسْمُهَا فِي الزَّبُورِ الْبَيْضَاءُ، وَاسْمُهَا فِي التَّوْرَاةِ الْمُذَهَّبَةُ، وَفِي تَفْسِيرِ أَهْلِ الْإنْجِيلِ وَفِي الْفُرْقَانِ»
৪ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন খারূফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুস সালাম বিন মুহাম্মাদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি আল-হাসান বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন সালিহ থেকে, তিনি উরওয়াহ বিন আয-যুবাইর থেকে, তিনি সা'দ বিন আবী ওয়াক্কাস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই আলেকজান্দ্রিয়া ও আসকালান দুটি কনে (সদৃশ), আর আলেকজান্দ্রিয়া তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কনে। কিয়ামতের দিন এটিকে এর অধিবাসীদের সাথে নিয়ে কনের ন্যায় সাজিয়ে বাইতুল মাকদিসের দিকে আনা হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আলেকজান্দ্রিয়ায় চল্লিশ দিন সীমান্ত পাহারায় (রিবাত) রত থাকবে, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও আযাব থেকে নিরাপত্তা লিখে দেবেন। সেখানকার উত্তম ব্যক্তিরা অন্য স্থানের উত্তম ব্যক্তিদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ, আর সেখানকার মন্দ ব্যক্তিরা অন্য স্থানের মন্দ ব্যক্তিদের চেয়েও উত্তম। এটি যুল-কারনাইনের শহর। আল্লাহ সেখান থেকে সত্তর হাজার শহীদকে পুনরুত্থিত করবেন যাদের চেহারা পূর্ণিমার রাতের চাঁদের আলোর মতো উজ্জ্বল হবে। তাদের মধ্য থেকে প্রত্যেক ব্যক্তিকে সিরাতের ওপর নূর প্রদান করা হবে এবং সে সত্তর হাজার মানুষের জন্য সুপারিশ করবে। সুসংবাদ সেই ব্যক্তির জন্য যে সেখানে সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত থাকল। এটি যুল-কারনাইনের শহর, যা মূসার তাওরাত, দাউদের যাবূর, ইনজীল ও ফুরকানে লিপিবদ্ধ আছে এবং কিতাবসমূহে এর গুণাগুণ বর্ণিত হয়েছে যা জ্ঞানীরা জানেন। একে ‘আল-খাদরা’ (সবুজ শহর) বলা হয়, যাবূরে এর নাম ‘আল-বাইদা’ (শ্বেত শহর), আর তাওরাতে এর নাম ‘আল-মুযাহহাবাহ’ (স্বর্ণখচিত শহর), এবং ইনজীল অনুসারীদের তাফসীরে ও ফুরকানেও (এর উল্লেখ রয়েছে)।»
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ٦)
5 - وَحَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عُثْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَطْرُوحُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي هَانِئُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلَامِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الْإسْكَنْدَرِيَّةُ وَعَسْقَلَاْنُ عَرُوسَانِ، وَالْإسْكَنْدَرِيَّةُ أَفْضَلُهُمَا، وَإِنَّهَا لَتَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ تُزَفُّ بِأَهْلِهَا إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ، فَمَنْ رَابَطَ بِالْإسْكَنْدَرِيَّةِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بَرَاءَةً مِنَ النَّارِ، وَأَمْنًا مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَخِيَارُ أَهْلِهَا أَفْضَلُ مِنْ خِيَارِ غَيْرِهَا، وَشِرَارُ أَهْلِهَا أَفْضَلُ مِنْ شِرَارِ غَيْرِهَا، وَهِيَ مَدِينَةُ ذِي الْقَرْنَيْنِ، مَكْتُوبَةٌ فِي التَّوْرَاةِ، وَالزَّبُورِ، وَالْإنْجِيلِ، وَالْفُرْقَانِ، مَوْصُوفَةٌ فِي الْكُتُبِ، يَعْرِفُهَا أَهْلُ الْعِلْمِ، تُسَمَّى الْخَضْرَاءَ، وَاسْمُهَا فِي الزَّبُورِ الْبَيْضَاءُ، وَفِي التَّوْرَاةِ الْمُذَهَّبَةُ، وَفِي الْفُرْقَانِ مَدِينَةُ ذِي الْقَرْنَيْنِ، يَبْعَثُ اللَّهُ مِنْهَا أَلْفَ شَهِيدٍ، وُجُوهُهُمْ عَلَى ضَوْءِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ، يُعْطَى كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ نُورًا عَلَى الصِّرَاطِ، وَيَشْفَعُ لِسَبْعِينَ أَلْفًا، فَطُوبَى لِمَنْ رَابَطَ فِيهَا»
৫ - এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে উসমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাত্রুহ ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন হানি ইবনুল মুতাওয়াক্কিল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুস সালাম, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি হাসান ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা আবদুর রহমান থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের থেকে, তিনি সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আলেকজান্দ্রিয়া এবং আসকালান হলো দুই নববধূর ন্যায়, আর আলেকজান্দ্রিয়া তাদের মধ্যে অধিক শ্রেষ্ঠ। আর কিয়ামতের দিন এটি তার অধিবাসীদের নিয়ে সুসজ্জিত অবস্থায় বায়তুল মাকদিসের দিকে আসবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আলেকজান্দ্রিয়ায় চল্লিশ দিন সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত থাকবে, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং কবরের আজাব থেকে নিরাপত্তা লিখে দেবেন। আর এখানকার শ্রেষ্ঠ অধিবাসীরা অন্য স্থানের শ্রেষ্ঠ অধিবাসীদের চেয়েও উত্তম, এবং এখানকার অধম অধিবাসীরা অন্য স্থানের অধম অধিবাসীদের চেয়েও উত্তম। এটি যুল-কারনাইনের শহর, যা তাওরাত, যাবুর, ইনজিল এবং ফুরকানে লিখিত রয়েছে এবং কিতাবসমূহে এর বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে, যা জ্ঞানীরা জানেন। একে 'আল-খাদরা' (সবুজ শহর) বলা হয়, যাবুরে এর নাম 'আল-বাইদা' (সাদা শহর), তাওরাতে 'আল-মুযাহহাবাহ' (স্বর্ণালি শহর) এবং ফুরকানে 'যুল-কারনাইনের শহর'। আল্লাহ সেখান থেকে এক হাজার শহীদকে উত্থিত করবেন, যাদের মুখমণ্ডল পূর্ণিমার চাঁদের আলোর ন্যায় উজ্জ্বল হবে। তাদের প্রত্যেককে সিরাতের ওপর নূর দান করা হবে এবং তারা সত্তর হাজার মানুষের জন্য সুপারিশ করবে। সুতরাং সেই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ, যে সেখানে সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত থাকে।»
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ٧)
6 - قَالَ: حَدَّثَنَا مَطْرُوحُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَانِئُ بْنُ مُتَوَكِّلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الفريابي، عَنْ سُلَيْمَانَ الْأعْمَشِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَوْلَى لِعُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، أَنَّ رَجُلًا مِنَ الْأَنْصَارِ، أَتَى إِلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، فَقَالَ: أَلَا أُحَدِّثَنَّكَ بِحَدِيثٍ؟ قَالَ: بَلَى، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: "
مَدِينَتَانِ مِنْ مَدَائِنِ الْقِدَمِ، وَإِنَّهُمَا سَيُفْتَحَانِ عَلَى أُمَّتِي، إِحْدَاهُمَا مِنْ مَدَائِنِ الرُّومِ يُقَالُ لَهَا: الْإسْكَنْدَرِيَّةُ، وَالْأُخْرَى مِنْ مَدَائِنِ الدَّيْلَمِ، يُقَالُ لَهَا: قَزْوِينُ، فَمَنْ رَابَطَ إِلَى إِحْدَاهُمَا لَيْلَةً وَاحِدَةً خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ وَخَطَايَاهُ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ ".
فَاسْتَوَى عُمَرُ جَالِسًا وَكَانَ مُضَّجِعًا، وَقَالَ: اللَّهِ لَقَدْ حَدَّثَكَ بِهَذَا الْحَدِيثِ أَبُوكَ عَنْ جَدِّكَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ فَقَالَ الْأَنْصَارِيُّ: وَاللَّهِ لَقَدْ حَدَّثَنِي بِهِ أَبِي، عَنْ جَدِّي، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا حَدَّثْتُكَ، فَبَكَى عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ حَتَّى كَثُرَ بُكَاؤُهُ ثُمَّ قَالَ: اللَّهُمَّ اجْعَلْ قَبْرِي بِالْإسْكَنْدَرِيَّةِ أَوْ بِقَزْوِينَ، فَوَاللَّهِ لَوْلَا شُغْلُ مَا أَنَا فِيهِ لَاتَّخَذْتُ بِهَا دَارًا وَمَنْزِلًا
৬ - তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাত্রুহ ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হানি ইবনে মুতাওয়াক্কিল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-ফারয়াবি, সুলাইমান আল-আ'মাশ থেকে, তিনি বলেন: ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের একজন আযাদকৃত দাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আনসারদের একজন লোক ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের নিকট আসলেন এবং বললেন: আমি কি আপনাকে একটি হাদিস শোনাব না? তিনি বললেন: অবশ্যই। তিনি বললেন: আমার পিতা আমার দাদার সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "
প্রাচীন শহরগুলোর মধ্যে দুটি শহর রয়েছে এবং অচিরেই আমার উম্মতের জন্য সেগুলো বিজয় করা হবে; তার একটি রোমান শহরগুলোর অন্তর্ভুক্ত যাকে বলা হয়: ইসকান্দারিয়া, আর অন্যটি দাইলামের শহরগুলোর অন্তর্ভুক্ত যাকে বলা হয়: কাজভিন। সুতরাং যে ব্যক্তি এগুলোর কোনো একটিতে এক রাত পাহারায় নিয়োজিত থাকবে, সে তার গুনাহ ও ভুলত্রুটি থেকে এমনভাবে মুক্ত হয়ে বের হবে যেন আজই তার মা তাকে জন্ম দিয়েছেন।"
তখন ওমর শোয়া অবস্থা থেকে উঠে সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন: আল্লাহর কসম! তোমার পিতা কি তোমার দাদার সূত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সত্যিই তোমার নিকট এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন? তখন আনসারি ব্যক্তি বললেন: আল্লাহর কসম! আমার পিতা আমার দাদার সূত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি আমার নিকট সেভাবেই বর্ণনা করেছেন যেভাবে আমি আপনার নিকট বর্ণনা করলাম। তখন ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ কাঁদলেন, এমনকি তাঁর কান্নার বেগ অনেক বেড়ে গেল। তারপর তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আমার কবর ইসকান্দারিয়া অথবা কাজভিনে করুন। আল্লাহর কসম! আমি বর্তমানে যে কাজে ব্যস্ত আছি তা যদি না হতো, তবে আমি সেখানে অবশ্যই ঘর ও আবাস গ্রহণ করতাম।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ٨)
7 - وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ مَطْرُوحِ بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَانِئُ بْنُ مُتَوَكِّلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ وَاقِدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عُرْوَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: أَحَبُّ الْجِهَادِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى بِالْإسْكَنْدَرِيَّةِ، قِيلَ لَهُ: مِنَ الْبَحْرِ؟ قَالَ: وَمِنَ الْبَرِّ.
وَقَالَ الْحَسَنُ: لَوْ رَزَقَنِي اللَّهُ تَعَالَى الرِّبَاطَ بِالْإسْكَنْدَرِيَّةِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا، أَوْ أَرْبَعَةً وَعِشْرِينَ يَوْمًا، أَوِ اثْنَيْ عَشَرَ يَوْمًا، أَوْ سِتَّةَ أَيَّامٍ، كَانَ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْ سِتِّينَ حَجَّةً مَبْرُورَةً مُتَقَبَّلَةً بَعْدَ حَجَّةِ الْإسْلَامِ، وَلَكَانَ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنَ الدُّنْيَا بِحَذَافِيرِهَا
৭ - এবং আব্দুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাত্রুহ বিন মুহাম্মাদ থেকে, তিনি বলেন: হানি ইবনুল মুতাওয়াক্কিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ঈসা বিন ওয়াকিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আবি আরুওয়াহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলার নিকট প্রিয়তম জিহাদ হলো আলেকজান্দ্রিয়ায়। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: সমুদ্রপথে? তিনি বললেন: এবং স্থলপথেও।
এবং হাসান বলেন: যদি আল্লাহ তাআলা আমাকে আলেকজান্দ্রিয়ায় চল্লিশ দিন, অথবা চব্বিশ দিন, অথবা বারো দিন, অথবা ছয় দিন সীমান্ত পাহারার (রিবাত) তাওফিক দান করতেন, তবে তা আমার নিকট ইসলামের হজ্জের (ফরয হজ্জ) পর ষাটটি কবুল ও মকবুল হজ্জের চেয়েও অধিক প্রিয় হতো এবং তা আমার নিকট সমগ্র পৃথিবীর সবকিছু অপেক্ষা অধিক প্রিয় হতো।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ٩)
8 - قَالَ هَانِئٌ: وَحَدَّثَنِي خَالِدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ: وَكَانَ الضَّحَّاكُ بْنُ مُزَاحِمٍ، وَعَطَاءٌ، يَقُولَانِ: لَئِنْ رَزَقَنَا اللَّهُ الرِّبَاطَ بِالْإسْكَنْدَرِيَّةِ وَالْمَبِيتَ بِهَا لَكَانَ أَحَبَّ إِلَيْنَا مِنْ عِتْقِ رَقَبَةِ نَسَمَةٍ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ.
قَالَ: وَكَانَ عَطَاءٌ، يَقُولُ: إِنَّ لِي مِنَ الشَّوْقِ إِلَى الْإسْكَنْدَرِيَّةِ شَوْقًا لَا أَسْتَطِيعُ صِفَتَهُ
৮ - হানি বলেছেন: এবং আমার নিকট খালিদ ইবনে হুমাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: দাহহাক ইবনে মুজাহিম এবং আতা বলতেন: যদি আল্লাহ আমাদের আলেকজান্দ্রিয়ায় সীমান্ত পাহারা (রিবাত) দেওয়া এবং সেখানে রাত্রিযাপন করার তাওফিক দান করেন, তবে তা আমাদের নিকট ইসমাইলের বংশধরের মধ্য হতে কোনো ব্যক্তিকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দেওয়ার চেয়েও বেশি প্রিয় হবে।
তিনি বলেন: আতা বলতেন: আলেকজান্দ্রিয়ার প্রতি আমার মনে এমন তীব্র আকাঙ্ক্ষা রয়েছে যা আমি বর্ণনা করতে সক্ষম নই।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ١٠)
9 - وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَطْرُوحٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَانِئٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيَاضٍ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي رَوَّادٍ، قَالَ: لَقَدْ جَاوَرْتُ بَيْتَ اللَّهِ الْحَرَامَ سِتِّينَ سَنَةً فَلَوْ رَزَقَنِي اللَّهُ الْخُرُوجَ إِلَى الْإسْكَنْدَرِيَّةِ مُرَابِطًا لَكَانَ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْ مُجَاوَرَةِ بَيْتِ اللَّهِ الْحَرَامِ سِتِّينَ سَنَةً.
وَقَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ جُرَيْجٍ: لَقَدْ حَجَجْتُ سِتِّينَ حَجَّةً، فَلَوْ قَضَى اللَّهُ تَعَالَى لِي بِالْإسْكَنْدَرِيَّةِ، فَأُقِيمَ بِهَا شَهْرًا، وَأُصَلِّيَ عِنْدَ سَاحِلِهَا، وَأَدْعُوَ اللَّهَ تَعَالَى لَكَانَ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْ سِتِّينَ حَجَّةً الَّتِي حَجَجْتُ بَعْدَ حَجَّةِ الْإِسْلَامِ الْوَاجِبَةِ، فَمَنْ قَدَرَ عَلَى الْخُرُوجِ إِلَيْهَا فَلْيَفْعَلْ، فَإِنَّ فِيهَا بَابَيْنِ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ، أَحَدُهُمَا يُقَالُ لَهُ: بَابُ مُحَمَّدٍ، وَالْآخَرُ: بَابُ الرَّحْمَةِ، مَنْ صَلَّى فِي أَحَدِ الْبَابَيْنِ كَانَ غَدَا فِي جَنَّةِ عَدْنٍ مَعَ النَّبِيِّينَ، وَالصِّدِّقِينَ، وَالشُّهَدَاءِ، وَالصَّالِحِينَ، وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا
৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাত্রুহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াদ আল-আনসারি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ ইবনে আবি রাওয়াদ, তিনি বলেন: আমি ষাট বছর যাবৎ আল্লাহর পবিত্র ঘরের (বাইতুল্লাহ আল-হারাম) প্রতিবেশী হয়ে কাটিয়েছি। আল্লাহ যদি আমাকে আলেকজান্দ্রিয়ায় সীমান্তরক্ষী হিসেবে বের হওয়ার তাওফিক দিতেন, তবে তা আমার কাছে ষাট বছর আল্লাহর পবিত্র ঘরের প্রতিবেশী হয়ে থাকার চেয়েও প্রিয় হতো।
এবং আব্দুল মালিক ইবনে জুরাইজ বলেন: আমি ষাটটি হজ সম্পাদন করেছি। আল্লাহ তাআলা যদি আমার জন্য আলেকজান্দ্রিয়া সফর নির্ধারণ করতেন, সেখানে আমি এক মাস অবস্থান করতাম, তার উপকূলে নামাজ আদায় করতাম এবং আল্লাহ তাআলার নিকট দোয়া করতাম, তবে তা আমার নিকট ফরজ হজের পর সম্পাদন করা ষাটটি হজের চেয়েও অধিক প্রিয় হতো। সুতরাং যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, সে যেন তা করে। কেননা সেখানে জান্নাতের দরজাসমূহ হতে দুটি দরজা রয়েছে; একটির নাম হলো ‘বাব-ই-মুহাম্মদ’ (মুহাম্মদের দরজা) এবং অন্যটি ‘বাব-ই-রাহমাহ’ (রহমতের দরজা)। যে ব্যক্তি এই দুই দরজার কোনো একটিতে নামাজ আদায় করবে, সে পরদিন জান্নাতে আদন-এ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তিগণ, শহীদগণ এবং নেককার বান্দাদের সাথে থাকবে। আর তাঁরা কতই না চমৎকার সঙ্গী!
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ١١)
10 - وَحَدَّثَنَا مَطْرُوحٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَانِئٌ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ السَّلَامِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، قَالَ: مَا مِنْ عِبَادَةٍ أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى مِنْ عِبَادَةِ الْإسْكَنْدَرِيَّةِ، وَلَا رِبَاطٌ أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى مِنْ رِبَاطِهَا عَلَى سَيْفِ الْبَحْرِ، طُوبَى لِمَنْ رَابَطَ بِهَا، وَاسْتُشْهِدَ فِيهَا، وَصَلَّى فِيهَا الْتِمَاسًا لِلْخَيْرِ، فَطُوبَى لَهُمْ ثُمَّ طُوبَى لَهُمْ
১০ - আমাদের নিকট মাত্রূহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আব্দুস সালাম সংবাদ দিয়েছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি আব্দুল আজিজ ইবনে আবি রাওয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মহান আল্লাহর নিকট আলেকজান্দ্রিয়ার ইবাদতের চেয়ে অধিক প্রিয় কোনো ইবাদত নেই, এবং সমুদ্র উপকূলে সেখানকার পাহারাদারির (রিবাত) চেয়ে আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় কোনো পাহারাদারি নেই। সুসংবাদ তার জন্য যে সেখানে পাহারাদারি করেছে, সেখানে শহীদ হয়েছে এবং কল্যাণের প্রত্যাশায় সেখানে সালাত আদায় করেছে; তাদের জন্য সুসংবাদ, অতঃপর তাদের জন্য সুসংবাদ।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ١٢)
11 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ خَرُوفٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَلَّادٍ الْإسْكَنْدَرَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا ضِمَامُ بْنُ إسْمَاعِيلَ، أَنَّ زُهْرَةَ بْنَ مَعْبَدٍ، حَدَّثَنَا: أَنَّهُ لَقِيَ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، فَقَالَ: أَيْنَ تَسْكُنُ يَا زُهْرَةُ؟ قَالَ: أَسْكُنُ بِمِصْرَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، فَقَالَ عُمَرُ: أَيُّ مِصْرَ؟ فَقَالَ زُهْرَةُ: بِفُسْطَاطِهَا، فَقَالَ: أَيْنَ عَنْ طَيْبَةَ؟ فَقَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ طَيْبَةُ الْمَدِينَةُ، فَقَالَ: لَيْسَ أُرِيدُ الْمَدِينَةَ إِنَّمَا أُرِيدُ الْإسْكَنْدَرِيَّةَ، لَوْلَا شُغْلُ مَا أَنَا فِيهِ لَأَحْبَبْتُ أَنْ يَكُونَ مَنْزِلِي فِيهَا حَتَّى يَكُونَ قَبْرِي بَيْنَ تِلْكَ الْمَيْنَتَيْنِ.
وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَجِيبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ مُبَشَّرٍ، عَنِ الْأَصْبَحِيِّ، عَنْ ضِمَامِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ زُهْرَةَ بْنِ مَعْبَدٍ، قَالَ: لَقِيتُ عُمَرَ، وَذَكَرَ نَحْوَهُ
১১ - মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন খারুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন খাল্লাদ আল-ইসকান্দারানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দিমাম বিন ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, জুহরাহ বিন মাবাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ওমর বিন আবদুল আজিজের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তখন তিনি (ওমর) জিজ্ঞাসা করলেন: হে জুহরাহ, আপনি কোথায় বসবাস করেন? তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, আমি মিশরে বসবাস করি। ওমর বললেন: মিশরের কোন জায়গায়? জুহরাহ বললেন: এর ফুস্তাত অঞ্চলে। তিনি বললেন: তাইবা সম্পর্কে আপনার ধারণা কী? তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, তাইবা তো মদিনা। তিনি বললেন: আমি মদিনা উদ্দেশ্য করছি না, বরং আমি আলেকজান্দ্রিয়া উদ্দেশ্য করছি। আমি যে কাজের (রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব) মধ্যে নিমগ্ন আছি তা যদি না থাকত, তবে আমি সেখানে বসবাস করা পছন্দ করতাম, এমনকি যেন ওই দুই সমুদ্রবন্দরের মাঝে আমার সমাধি হতো।
এবং আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর বিন আজীব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে মুবাশশির আমাদের নিকট আল-আসবাহী থেকে, তিনি দিমাম বিন ইসমাইল থেকে, তিনি জুহরাহ বিন মাবাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ওমরের সাথে সাক্ষাৎ করেছি; এবং তিনি পূর্বোক্ত বর্ণনার অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ١٣)
12 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَطْرُوحٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَانِئٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلَامِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَقِيلِ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي شِهَابٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ كَعْبِ الْأَحْبَارِ، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ فِي كِتَابِ اللَّهِ عز وجل الَّذِي أَنْزَلَهُ عَلَى مُوسَى بْنِ عِمْرَانَ، عليه السلام: أَنَّ بِالْإسْكَنْدَرِيَّةِ شُهَدَاءَ يُسْتَشْهَدُونَ بِبَطْحَائِهَا هُمْ خِيَارُ مَنْ مَضَى، وَهُمُ الَّذِينَ يُبَاهِي اللَّهُ بِهِمْ شُهَدَاءَ بَدْرٍ، فَيَا لَهَا مِنْ وَقْعَةٍ وَقْعَةُ الْإسْكَنْدَرِيَّةِ
১২ - আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বিন উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মাতরুহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুস সালাম তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি উকাইল বিন খালিদ থেকে, তিনি আবু শিহাব থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি কাব আল-আহবার থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর সেই কিতাবে যা তিনি মুসা বিন ইমরানের (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) ওপর নাজিল করেছেন, তাতে রয়েছে: আলেকজান্দ্রিয়ায় এমন শহীদরা থাকবেন যারা এর বালুকাময় প্রান্তরে শহীদ হবেন; তাঁরা অতিবাহিত হওয়া লোকদের মধ্যে সর্বোত্তম। তাঁরাই সেইসব লোক যাদের নিয়ে আল্লাহ বদরের শহীদদের নিকট গর্ব করবেন। আলেকজান্দ্রিয়ার যুদ্ধটি কতই না এক বিশাল যুদ্ধ!"
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ١٤)
13 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَطْرُوحٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَانِئٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ الْأَعْمَشِ، قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ عِنْدَ بَعْضِ أَزْوَاجِهِ، وَرَأْسُهُ فِي حِجْرِهَا إِذْ نَعَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَتَبَسَّمَ، فَقَالَتْ لَهُ: أَضْحَكَ اللَّهُ سِنَّكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا الَّذِي أَضْحَكَكَ؟ قَالَ: «رَأَيْتُ أُنَاسًا مِنْ أُمَّتِي فِي أَصْلَابِ الرِّجَالِ لَمْ تَحْمِلْهُنَّ النِّسَاءُ فِي أَرْحَامِهِنَّ، يَبْعَثُهُمُ اللَّهُ عز وجل مِنَ الْإسْكَنْدَرِيَّةِ مُحْتَسَبِينَ شُهَدَاءَ»
১৩ - আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মাত্রূহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট খালিদ ইবনে হুমাইদ বর্ণনা করেছেন সুলাইমান আল-আ’মাশ থেকে, তিনি বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জনৈক স্ত্রীর নিকট ছিলেন এবং তাঁর মাথাটি সেই স্ত্রীর কোলে ছিল, এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তন্দ্রাচ্ছন্ন হলেন। এরপর তিনি তাঁর মাথা তুললেন এবং মৃদু হাসলেন। তখন সেই স্ত্রী তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনাকে সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল রাখুন, কোন বিষয়টি আপনাকে হাসাল? তিনি বললেন: «আমি আমার উম্মতের এমন কিছু মানুষকে দেখেছি যারা এখনও পুরুষদের পৃষ্ঠদেশে রয়েছে, নারীরা এখনও তাদের গর্ভে ধারণ করেনি; মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ তাদের পুনরুত্থিত করবেন ইসকান্দারিয়া থেকে সওয়াবের প্রত্যাশী শহীদ হিসেবে।»
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ١٥)
14 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَطْرُوحٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَانِئٌ، عَنْ خَالِدِ بْنِ حُمَيْدٍ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ صُبَيْحٍ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ: إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يُبَاهِي بِأَهْلِ هَذِهِ الثَّلَاثَةِ أَرَضِينَ، أَهْلِ قَيْسَارِيَّةَ، وَأَهْلِ الْإسْكَنْدَرِيَّةِ، وَأَهْلِ عَسْقَلَانَ، كَمَا يُبَاهِي اللَّهُ بِيَوْمِ الْجَمْعِ الْأَكْبَرِ بِأَهْلِ عَرَفَةَ الْمَلَائِكَةَ
১৪ - আব্দুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাতরূহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ বিন হুমাইদ থেকে, তিনি আর-রাবি বিন সুবাইহ থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা এই তিনটি ভূখণ্ডের অধিবাসীদের নিয়ে—অর্থাৎ কায়সারিয়া, আলেকজান্দ্রিয়া এবং আসকালানের অধিবাসীদের নিয়ে—ফেরেশতাদের নিকট গর্ব করেন, যেমনটি আল্লাহ বড় সমাবেশের দিনে আরাফাতের অধিবাসীদের নিয়ে ফেরেশতাদের নিকট গর্ব করেন।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ١٦)
15 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا مَطْرُوحٌ، حَدَّثَنَا هَانِئٌ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ بْنِ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ مَنْ حَدَّثَهُ، أَنَّ الرَّبِيعَ بْنَ خُثَيْمٍ، قَدِمَ عَلَى عَلِيٍّ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، فَقَالَ لَهُ: أَلَا تَدْخُلُ مَعَنَا فِيمَا نَحْنُ فِيهِ؟ فَقَالَ: مَا جِئْتُكَ لِأَكُونَ مَعَكَ وَلَا عَلَيْكَ وَلَكِنْ أُحِبُّ أَنْ تُخْبِرَنِي بِأَفْضَلِ الْأَعْمَالِ، قَالَ: أَفْضَلُ الْأَعْمَالِ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى، فَقَالَ لَهُ الرَّبِيعُ: فِي أَيِّ الْجِهَاتِ أَفْضَلُ؟ فَقَالَ عَلِيٌّ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ:
«إِنَّ فِي الْإِسْكَنْدَرِيَّةِ وَقَزْوِينَ بَابَيْنِ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ فَمَنْ رَابَطَ إِلَى إِحْدَاهُمَا لَيْلَةً وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ» .
فَخَرَجَ الرَّبِيعُ عَلَى وَجْهِهِ فِي جَمَاعَةٍ مِنَ النَّاسِ حَتَّى انْتَهَى عَلَى أَحَدِهِمَا فَرَابَطَ بِهَا خَمْسًا ثُمَّ قَفَلَ، فَقَالَ مَنْ مَعَهُ: الرِّبَاطُ أَرْبَعُونَ لَيْلَةً، فَقَالَ الرَّبِيعُ: لِيَجْتَهِدَنَّ الْعَابِدُونَ عَلَى أَنْ يُدْرِكُوا مَا أَدْرَكْنَا
১৫ - আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মাত্রূহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হানি' বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব সংবাদ দিয়েছেন, তিনি এমন একজনের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যিনি তাকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যে, রাবী' ইবনে খুথাইম আলী (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু)-এর নিকট আসলেন। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন: "আমরা যে পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি, আপনি কি আমাদের সাথে তাতে শরিক হবেন না?" তিনি বললেন: "আমি আপনার সাথে থাকার জন্য বা আপনার বিরুদ্ধে যাওয়ার জন্য আসিনি, বরং আমি চাই আপনি আমাকে সর্বোত্তম আমল সম্পর্কে অবহিত করুন।" তিনি বললেন: "সর্বোত্তম আমল হলো মহান আল্লাহর পথে জিহাদ করা।" রাবী' তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "কোন দিকের জিহাদ সর্বোত্তম?" আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি:
‘নিশ্চয়ই আলেকজান্দ্রিয়া ও কাজভিনে জান্নাতের দরজাগুলোর মধ্য হতে দুটি দরজা রয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি এ দুটির কোনো একটিতে এক রাত পাহারায় (রিবাত) নিযুক্ত থাকবে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে’।"
অতঃপর রাবী' একদল লোকের সাথে নিজ গন্তব্যে বেরিয়ে পড়লেন এবং তাদের একটি স্থানে গিয়ে পৌঁছলেন। সেখানে তিনি পাঁচ দিন পাহারায় নিয়োজিত থাকলেন, অতঃপর ফিরে আসলেন। তার সাথে যারা ছিল তারা বলল: "পাহারা (রিবাত) তো চল্লিশ রাতের জন্য হয়।" রাবী' বললেন: "ইবাদতকারীরা যেন আমরা যা অর্জন করেছি তা অর্জনের জন্য কঠোর সাধনা করে।"
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ١٧)
16 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَطْرُوحٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَانِئٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ لِلرَّبِيعِ بْنِ خُثَيْمٍ: مَا مَنَعَكَ أَنْ تُقَاتِلَ مَعِي؟ فَقَالَ الرَّبِيعُ: مَا كُنْتُ لِأُقَاتِلَكَ وَلَا أُقَاتِلَ مَعَكَ، فَدُلَّنِي عَلَى رِبَاطٍ أَوْ جِهَادٍ، فَقَالَ: عَلَيْكَ بِالْإِسْكَنْدَرِيَّةِ وَقَزْوِينَ، فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «إِنَّهُمَا سَيُفْتَحَانِ عَلَى أُمَّتِي، وَإِنَّهُمَا بَابَانِ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ، مَنْ رَابَطَ فِيهِمَا أَوْ فِي أَحَدِهِمَا لَيْلَةً وَاحِدَةً خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ وَخَطَايَاهُ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ»
১৬ - আব্দুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাত্রুহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ ইবনে হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান আল-আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) রাবি ইবনে খুসাইমকে বললেন: আমার সাথে লড়াই করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? রাবি বললেন: আমি আপনার বিরুদ্ধেও লড়াই করার নই এবং আপনার সাথে (অন্য কারও বিরুদ্ধেও) লড়াই করার নই; সুতরাং আমাকে কোনো রিবাতি (সীমান্ত পাহারা) অথবা জিহাদের পথ বাতলে দিন। তখন তিনি বললেন: তুমি আলেকজান্দ্রিয়া ও কাজভিনের পথ ধরো; কেননা আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই এ দুটি শহর শীঘ্রই আমার উম্মতের জন্য বিজিত হবে এবং এ দুটি জান্নাতের দরজাসমূহের মধ্য হতে দুটি দরজা। যে ব্যক্তি এ দুটিতে অথবা এ দুটির কোনো একটিতে এক রাত রিবাতি (সীমান্ত পাহারা) দিবে, সে তার গুনাহ ও ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে সেদিনের মতো মুক্ত হয়ে যাবে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিলেন।»
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ١٨)
17 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَطْرُوحٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَانِئٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ جُوَيْبِرٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ مُزَاحِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: «لِأَنْ أَبِيتَ لَيْلَةً بِالْإِسْكَنْدَرِيَّةِ عَلَى فِرَاشٍ وَطِيءٍ، وَطَعَامٍ طَيِّبٍ، لَا تَدْخُلُ فِي رِجْلِي شَوْكَةٌ، وَلَا أَلْقَى عَدُوًّا حَتَّى أَنْصَرِفَ مِنَ الْغَدَاةِ سَالِمًا، لَكَانَ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْ عِبَادَةِ سَبْعِينَ سَنَةً صِيَامِهَا وَقِيَامِهَا، فِي كُلِّ عَشْرٍ مِنْهَا لَيْلَةُ قَدْرٍ بِمَقَادِيرِهَا»
১৭ - আব্দুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাতরুহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি জুওয়াইবির থেকে, তিনি যাহহাক বিন মুযাহিম থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: “আলেকজান্দ্রিয়ায় একটি নরম বিছানায় এবং উত্তম খাবারের সাথে এক রাত অতিবাহিত করা—যেখানে আমার পায়ে কোনো কাঁটা বিঁধবে না এবং কোনো শত্রুর মুখোমুখি হব না যতক্ষণ না পরদিন সকালে নিরাপদে ফিরে আসি, তা আমার নিকট সত্তর বছরের ইবাদতের চেয়ে অধিক প্রিয়, যার দিনগুলোতে রোজা রাখা হবে এবং রাতগুলোতে নামাজে দণ্ডায়মান থাকা হবে, এবং যার প্রতি দশ বছরে তার নির্দিষ্ট গুরুত্বসহ একটি করে লাইলাতুল কদর থাকবে।”
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ١٩)
18 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ خَرُوفٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ جَابِرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَانِئُ بْنُ مُتَوَكِّلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلَامِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُقَاتِلُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْأَعْمَشِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، وَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: أَيُّ الْمَوَاضِعِ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَنْ تُرَابِطَ فِيهِ؟ قَالَ: بِالْإِسْكَنْدَرِيَّةِ، قَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «أَحَبُّ الرِّبَاطِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى بِالْإِسْكَنْدَرِيَّةِ لِأَنَّهَا تُشْرِفُ عَلَى الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي صُورَةِ الْمَدِينَةِ نُورُهَا يَتَلَأْلَأُ، مُكَلَّلَةً بِالدُّرِّ وَالْيَاقُوتِ وَذَلِكَ لِفَضْلِ الشُّهَدَاءِ»
১৮ - মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খারুফ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসহাক ইবনে জাবির আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হানি ইবনে মুতাওয়াক্কিল আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুস সালাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি বলেন: মুকাতিল ইবনে সুলাইমান আল-আ'মাশ আমাদের বর্ণনা করেছেন নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করল: আপনার নিকট কোন স্থানে রিবাআত (সীমান্ত পাহারা) দেওয়া সবচেয়ে বেশি প্রিয়? তিনি বললেন: আলেকজান্দ্রিয়ায়। তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «আল্লাহ তাআলার নিকট সবচেয়ে প্রিয় রিবাআত হলো আলেকজান্দ্রিয়ায়, কারণ কিয়ামত দিবসে এটি এমন এক শহরের আকৃতিতে সমস্ত সৃষ্টির সামনে প্রকাশিত হবে যার জ্যোতি ঝলমল করতে থাকবে এবং যা মুক্তা ও ইয়াকুত দ্বারা সুশোভিত থাকবে; আর তা হবে শহীদদের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে।»
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
19 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَطْرُوحٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَانِئٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ رَبِيعٍ، عَنْ مُقَاتِلِ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ مُزَاحِمٍ، وَعَطَاءٍ الْخُرَاسَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيْنَ يَكُونُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ قَالَ: " فِي خَيْرِ أَرْضٍ وَأَحَبِّهَا إِلَى اللَّهِ تَعَالَى تُعْرَفُ بِالسَّاهِرَةِ وَهِيَ أَرْضُ فِلَسْطِينَ، وَغَوْرُ الْأُرْدُنِّ، وَالْإِسْكَنْدَرِيَّةِ، وَهِيَ خَيْرُ الْأَرَضِينَ، وَأَحَبُّهَا إِلَى اللَّهِ تَعَالَى، الْمَقْتُولُونَ فِيهَا لَا يَخْرُجُونَ مِنْهَا إِلَى غَيْرِهَا، فِيهَا قُتِلُوا، وَفِيهَا يُحَاسَبُونَ، وَمِنْهَا يُبْعَثُونَ، وَمِنْهَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ، قُلْتُ: فَبِمَاذَا يُعْرَفُونَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ فَقَالَ: يُعْرَفُونَ بِأَيْدِيهِمُ السُّيُوفُ كَيَوْمِهِمُ الَّذِي قُتِلُوا فِيهِ، طُولُ أَحَدِهِمْ ثَمَانُونَ ذِرَاعًا، وَعَرْضُهُ أَرْبَعُونَ ذِرَاعًا، يَسْتَوْفِي فِي الْجَنَّةِ لَذَّةَ مِائَةِ رَجُلٍ مِنَ الْمَقْتُولِينَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فِي غَيْرِهَا مِنَ الْأَرَضِينَ "
১৯ - আব্দুর রহমান বিন উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাতরূহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান বিন রাবী থেকে, তিনি মুকাতিল বিন সুলায়মান থেকে, তিনি যাহহাক বিন মুযাহিম ও আতা আল-খুরাসানী থেকে, তারা আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি জিজ্ঞাসা করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন মানুষ কোথায় থাকবে? তিনি বললেন: "আল্লাহ তাআলার নিকট সর্বোত্তম এবং সর্বাধিক প্রিয় ভূমিতে, যা 'সাহেরা' নামে পরিচিত; আর তা হলো ফিলিস্তিন ভূমি, জর্ডান উপত্যকা এবং আলেকজান্দ্রিয়া, যা ভূমিসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম এবং আল্লাহ তাআলার নিকট সর্বাধিক প্রিয়। সেখানে যারা নিহত হয়েছে তারা তা থেকে অন্য কোথাও বের হবে না; সেখানেই তারা নিহত হয়েছে, সেখানেই তাদের হিসাব গ্রহণ করা হবে, সেখান থেকেই তাদের পুনরুত্থিত করা হবে এবং সেখান থেকেই তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে।" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কীসের মাধ্যমে পরিচিত হবে? তিনি বললেন: "তাদের হাতে তলোয়ার থাকবে, ঠিক সেই দিনের মতো যেদিন তারা নিহত হয়েছিল। তাদের একজনের দৈর্ঘ্য হবে আশি হাত এবং প্রস্থ হবে চল্লিশ হাত। সে জান্নাতে অন্যান্য ভূমিতে আল্লাহর পথে নিহত একশ জন মানুষের সমপরিমাণ স্বাদ বা আনন্দ পূর্ণরূপে লাভ করবে।"
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ٢١)
20 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا مَطْرُوحٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَانِئٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ رَبِيعٍ الْإِسْكَنْدَرَانِيِّ الْمُغَافِرِيِّ، عَنْ قَيْسِ بْنِ الْحَجَّاجِ، عَنْ بَلِيغٍ، أَنَّهُ قَالَ: فِي الْإِسْكَنْدَرِيَّةِ مَسَاجِدُ خَمْسَةٌ مُقَدَّسَةٌ: مَسْجِدٌ مِنْهَا بِالْقَيْسَارِيَّةِ الَّتِي تُبَاعُ فِيهَا الْمَوَارِيثُ، وَمْسجِدٌ لِلنَّجَاةِ، وَمَسْجِدُ عَمْرٍو
২০ - আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাতরুহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান বিন রাবী আল-ইসকান্দারানি আল-মুগাফিরি থেকে বর্ণিত, তিনি কাইস বিন আল-হাজ্জাজ থেকে, তিনি বালিগ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আলেকজান্দ্রিয়ায় পাঁচটি পবিত্র মসজিদ রয়েছে: সেগুলোর একটি কায়সারিয়ায় অবস্থিত যেখানে উত্তরাধিকারের সম্পদ বিক্রি করা হয়, একটি নাজাত মসজিদ এবং আমরের মসজিদ।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
21 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَطْرُوحٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَانِئٌ، عَنْ لَهِيعَةَ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَيُّوبَ الْغَافِقِيِّ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُسَيَّبِ الْعَدَوِيُّ، عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ شُرَاحَبِيلَ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَرِبَاطُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ بِالْإِسْكَنْدَرِيَّةِ أَفْضَلُ عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى مِنْ عِبَادَةِ أَلْفِ عَامٍ، صِيَامِ نَهَارِهَا، وَقِيَامِ لَيْلِهَا فِي غَيْرِهَا مِنَ الْأَرَضِينَ الْقَائِمُ الَّذِي لَا يَفْتُرُ»
২১ - আব্দুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাত্রূহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি লাহিয়াহ থেকে, তিনি মুসা ইবনে আইয়ুব আল-গাফিকি এবং আবদুল্লাহ ইবনে আল-মুসায়্যাব আল-আদাউয়ি থেকে, তারা দাহহাক ইবনে শুরাহবিল থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, আলেকজান্দ্রিয়ায় তিন দিনের পাহারাদারি মহান আল্লাহ তাআলার নিকট অন্য যেকোনো ভূখণ্ডে এক হাজার বছরের ইবাদত—তন্মধ্যে রোজা রাখা হয় দিবসে এবং রাতের বেলা ক্লান্তিহীনভাবে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করার চেয়েও শ্রেষ্ঠ।"
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
22 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَطْرُوحٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَانِئٌ، عَنْ عَبْدِ السَّلَامِ بْنِ عُمَرَ بْنِ خَالِدٍ الْمُغَافِرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَشْيَاخُنَا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ، وَذَكَرَهُ عَنْ كَعْبِ الْأَحْبَارِ، أَنَّهُ قَالَ: لَقَدْ وَدِدْتُ أَنْ لَا أَمُوتَ حَتَّى أُدْرِكَ الْإِسْكَنْدَرِيَّةَ، قِيلَ لَهُ: يَا كَعْبَ الْأَحْبَارِ، قَدْ فُتِحَتِ الْإِسْكَنْدَرِيَّةُ، فَقَالَ: لَيْسَ ذَلِكَ يَوْمَهَا، إِنَّمَا يَوْمُهَا إِذَا جَاءَتْهَا مِائَةُ سَفِينَةٍ حَتَّى تَتِمَّ سَبْعَ مِائَةٍ وَمِثْلَهَا أَيْضًا فَذَلِكَ أَلْفٌ وَأَرْبَعُ مِائَةِ مَرْكَبٍ حَتَّى يَنْزِلُوا بِالْإِسْكَنْدَرِيَّةِ، فَعِنْدَ ذَلِكَ الْوَقْعَةُ الْعُظْمَى، طُوبَى لِمَنْ أَدْرَكَهَا ثُمَّ طُوبَى لَهُ، وَالَّذِي نَفْسُ كَعْبٍ بِيَدِهِ لَيُقْتَلَنَّ بِهَا مِنَ الْخَلْقِ حَتَّى يَبْلُغَ الدَّمُ أَرْسَاغَ الْخَيْلِ فَعِنْدَهَا الشَّهَادَةُ الْعُظْمَى
২২ - আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাত্রুহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুস সালাম ইবনে উমর ইবনে খালিদ আল-মুগাফিরি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি বলেন: আহলে ইলমদের মধ্য থেকে আমাদের শাইখগণ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি এটি কাব আল-আহবার থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি অবশ্যই আকাঙ্ক্ষা করি যেন আলেকজান্দ্রিয়া না পৌঁছা পর্যন্ত আমার মৃত্যু না হয়। তাকে বলা হলো: হে কাব আল-আহবার, আলেকজান্দ্রিয়া তো বিজিত হয়েছে। তিনি বললেন: তা সেই দিন নয়, বরং এর দিন হলো যখন সেখানে একশত জাহাজ আসবে, এমনকি সাতশত পূর্ণ হবে এবং তার সমপরিমাণ আরও আসবে; অর্থাৎ এক হাজার চারশত নৌযান আলেকজান্দ্রিয়ায় অবতরণ করবে। তখন হবে সেই মহাযুদ্ধ; সুসংবাদ তার জন্য যে তা প্রত্যক্ষ করবে, পুনরায় তার জন্য সুসংবাদ। সেই সত্তার কসম যার হাতে কাবের প্রাণ রয়েছে, সেখানে সৃষ্টির এত বিপুল প্রাণহানি ঘটবে যে রক্ত ঘোড়ার পায়ের গাঁট পর্যন্ত পৌঁছে যাবে; আর সেটিই হলো মহা শাহাদাত।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
23 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَطْرُوحٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَانِئٌ، عَنْ عَبْدِ السَّلَامِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عُرْوَةَ، عَنْ عِمَارَةَ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ قَالَ:
«سَيُفْتَحُ لَكُمُ الشَّامُ، وَمِصْرُ، وَالْإِسْكَنْدَرِيَّةُ، وَلَيُرَابَطَنَّ فِيهَا، فَلَيُبَلِّغَنَّ الشَّاهِدُ مِنْكُمُ الْغَائِبَ، إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَدْ ضَمِنَ لِأَهْلِ الْإِسْكَنْدَرِيَّةِ الْمُقَامَ الْأَمِينَ حِينَ تَكُونُ الْقُلُوبُ لَدَى الْحَنَاجِرِ كَاظِمِينَ» .
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم، أَيْضًا: " اللَّهُ تَعَالَى صَالِحِي أُمَّتِي إِلَى يَوْمِ الْإِسْكَنْدَرِيَّةِ، يَنْزِلُهَا بَنُوا الْأَصْفَرِ وَهُمُ الرُّومُ، فَتَنْفِرُ أُمَّتِي تَسْقُطُ مِنْهَا كُلُّ خَشَبَةٍ وَلَبِنَةٍ، وَيُنْزِلُ اللَّهُ فِي قُلُوبِ الْخَيْلِ الصَّبْرَ وَالْقُوَّةَ، وَيَأْذَنُ لِلسَّيْفِ فَيَقْطَعُ، وَلِلسَّهْمِ فَيُصِيبُ رَامِيهِ، وَيُوحِي اللَّهُ تَعَالَى لِلنَّهَارِ فَيَطُولُ، وَإِلَى اللَّيْلِ فَيَقْصُرُ، حَتَّى يَفْنَى ثُلُثُ الْفَرِيقَيْنِ، وَيَبْقَى الثُّلُثُ أُولَئِكَ الشُّهَدَاءُ الْحَقُّ، تِلْكَ الشَّهَادَةُ الْعُظْمَى، فَيَشْفَعُ الرَّجُلُ لِسَبْعِينَ أَلْفًا مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ فَمِنْ جِيرَانِهِ، حَقٌّ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى أَنْ يُنْزِلَهُمُ الْجَنَّةَ.
وَفِي رِوَايَةٍ: الْفِرْدَوْسَ أُولَئِكَ حِزْبُ اللَّهِ "
২৩ - আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মাত্রূহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হানি বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুস সালাম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবি আরওয়াহ থেকে, তিনি ইমারা থেকে, তিনি হাসান ইবনে আবুল হাসান আল-বসরি থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:
«শীঘ্রই তোমাদের জন্য শাম, মিশর এবং আলেকজান্দ্রিয়া বিজিত হবে এবং সেখানে অবশ্যই সীমান্ত পাহারা দেওয়া হবে; সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত আছে তারা যেন অনুপস্থিতদের কাছে সংবাদটি পৌঁছে দেয়। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা আলেকজান্দ্রিয়াবাসীদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থলের নিশ্চয়তা দিয়েছেন, যখন হৃদয়গুলো কণ্ঠনালীর কাছে পৌঁছে যাবে এবং তারা তা দমিয়ে রাখবে।»
এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: "আল্লাহ তায়ালা আলেকজান্দ্রিয়ার যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার দিন পর্যন্ত আমার উম্মতের নেককারদের রক্ষা করবেন; সেখানে বানু আসফার তথা রোমানরা অবতরণ করবে, তখন আমার উম্মত জিহাদে বেরিয়ে পড়বে, সেখান থেকে প্রতিটি কাঠ ও ইট খসে পড়বে। আল্লাহ ঘোড়াদের হৃদয়ে ধৈর্য ও শক্তি দান করবেন, তলোয়ারকে কাটার অনুমতি দেবেন এবং তীরকে তার নিক্ষেপকারীর লক্ষ্যভেদে সাহায্য করবেন। আল্লাহ তায়ালা দিনকে দীর্ঘ হতে এবং রাতকে সংক্ষিপ্ত হতে নির্দেশ দেবেন, যতক্ষণ না উভয় পক্ষের এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়ে যায়। আর যে এক-তৃতীয়াংশ বাকি থাকবে তারাই প্রকৃত শহীদ, তা হবে সর্বশ্রেষ্ঠ শাহাদাত। তখন একজন ব্যক্তি তার পরিবারের সত্তর হাজার সদস্যের জন্য সুপারিশ করবে, আর যদি তার পরিবার না থাকে তবে তার প্রতিবেশীদের জন্য; আল্লাহ তায়ালার ওপর এটি অবধারিত হবে যে তিনি তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
এবং অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: (তাদের) ফিরদাউসে (প্রবেশ করাবেন); তারাই আল্লাহর দল।"
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
24 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَطْرُوحٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَانِئٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ الْأَعْمَشِ، قَالَ: سُئِلَ مُقَاتِلٌ: أَيُّ الرِّبَاطِ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: الْإِسْكَنْدَرِيَّةُ وَذَلِكَ أَنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، كَانَ يَقُولُ: «أَحَبُّ الرِّبَاطِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى الْإِسْكَنْدَرِيَّةُ، إِنَّهَا تُشْرِفُ عَلَى الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي صُورَةِ مَدِينَةٍ مِنْ مَدَائِنِ الْجَنَّةِ، تَتَلَأْلَأُ مُكَلَّلَةً بِالدُّرِّ وَالْيَاقُوتِ، تَتَطَاوَلُ عَلَى سَاحِلِ الْبَحْرِ لِكَرَامَتِهَا عَلَى اللَّهِ وَفَضْلِهَا عَلَى اللَّهِ هِيَ وَأَهْلِهَا الْمُرَابِطِينَ، بِهَا الْتِمَاسُ مَا عِنْدَ اللَّهِ»
২৪ - আমাদের নিকট আবদুর রহমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মাত্রূহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট খালিদ বিন হুমাইদ বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান আল-আ’মাশ থেকে, তিনি বলেন: মুকাতিলকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: আপনার নিকট কোন রিবাত (সীমান্ত পাহারা) সবচেয়ে বেশি প্রিয়? তিনি বললেন: আলেকজান্দ্রিয়া; আর তা এই কারণে যে, আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: «আল্লাহ তাআলার নিকট প্রিয়তম রিবাত হলো আলেকজান্দ্রিয়া। নিশ্চয়ই তা কিয়ামতের দিন সমস্ত সৃষ্টির ওপর জান্নাতের শহরগুলোর মধ্য হতে একটি শহরের আকৃতিতে উচ্চ মর্যাদায় দৃশ্যমান হবে, যা মুক্তা ও ইয়াকুত দ্বারা সুশোভিত হয়ে ঝকমক করবে। আল্লাহর নিকট এর মর্যাদা এবং তাঁর নিকট এর ও এর পাহারাদার অধিবাসীদের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তা সমুদ্র উপকূলে সগৌরবে দণ্ডায়মান হবে; সেখানে তারা আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা লাভের অন্বেষায় রত ছিল।»
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
25 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سِوَارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ خَالِدِ بْنِ مُبَشَّرٍ، قَالَ: وَحَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ خَالِدٍ الْأَصْبَحِيُّ، عَنْ ضِمَامِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ زُهْرَةَ بْنِ مَعْبَدٍ، قَالَ: لَقِيتُ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، فَقَالَ لِي: يَا أَبَا عَقِيلٍ، أَيْنَ تَسْكُنُ؟ فَقُلْتُ: بِمِصْرَ، فَقَالَ: أَيُّ مِصْرَ؟ فَقُلْتُ: بِفُسْطَاطِهَا، قَالَ: أَيْنَ عَنْ طَيْبَةَ؟ فَقُلْتُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ طَيْبَةُ بِالْمَدِينَةِ، قَالَ: لَيْسَ أُرِيدُ الْمَدِينَةَ إِنَّمَا أَرَدْتُ الْإِسْكَنْدَرِيَّةَ، وَلَوْلَا شُغْلُ مَا أَنَا فِيهِ لَأَحْبَبْتُ أَنْ يَكُونَ لِي بِهَا مَنْزِلٌ حَتَّى يَكُونَ قَبْرِي بَيْنَ الْمَيْنَتَيْنِ
২৫ - আবু বকর ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সিওয়ার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালিদ ইবনে মুবাশশির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এবং ইয়াযীদ ইবনে সাঈদ ইবনে খালিদ আল-আসবাহি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন দিমাম ইবনে ইসমাঈল থেকে, তিনি যুহরাহ ইবনে মা’বাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনে আব্দুল আযীযের সাথে সাক্ষাৎ করলাম, তিনি আমাকে বললেন: হে আবু আকীল, আপনি কোথায় বসবাস করেন? আমি বললাম: মিসরে। তিনি বললেন: মিসরের কোথায়? আমি বললাম: এর ফুসতাত শহরে। তিনি বললেন: ত্বয়িবাহ থেকে আপনার অবস্থান কত দূরে? আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন, ত্বয়িবাহ তো মদিনায়। তিনি বললেন: আমি মদিনা বুঝাতে চাইনি, বরং আমি আলেকজান্দ্রিয়া বুঝিয়েছি। আমি বর্তমানে যে রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার মধ্যে রয়েছি তা যদি না থাকতো, তবে আমি সেখানে আমার একটি আবাস থাকা পছন্দ করতাম, যাতে আমার কবরটি দুই বন্দরের মাঝখানে হতো।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
26 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَطْرُوحٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَانِئٌ، عَنْ عَبْدِ السَّلَامِ، عَنْ أُبَيٍّ، قَالَ: أَبُو بَكْرٍ الْعَقِيلُ، حَدَّثَنَا طَاوُوسُ الْيَمَانِيُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: " مَنْ صَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ وَالضُّحَى بِعَسْقَلَانَ، أَوْ بِقَيْسَارِيَّةِ فِلَسْطِينَ، أَوْ فِي الْإِسْكَنْدَرِيَّةِ، كُلَّ يَوْمٍ عَلَيْهَا أَرْبَعِينَ صَبَاحًا بَاعَدَهُ اللَّهُ تَعَالَى مِنْ جَهَنَّمَ، وَإِنْ عَرَضَ لَهُ إِبْلِيسُ يُرِيدُ أَنْ يُضِلَّهُ بَعَثَ اللَّهُ مَلَائِكَةً، يَقُولُونَ لَهُ: اغْرُبْ يَا مَلْعُونُ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَدْ حَمَاهُ، وَكَفَاهُ، وَرَزَقَهُ، وَتَقَبَّلَ مِنْهُ، وَيَنْقَلِبُ مَغْفُورًا لَهُ "
২৬ - আব্দুর রহমান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মাত্রুহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হানি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আব্দুস সালাম থেকে, তিনি উবাই থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু বকর আল-আকীল (বলেছেন), তাউস আল-ইয়ামানি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আসকালান অথবা ফিলিস্তিনের কায়সারিয়া অথবা আলেকজান্দ্রিয়ায় প্রতিদিন নিয়মিতভাবে চাশতের চার রাকাত সালাত আদায় করবে, এভাবে একটানা চল্লিশ দিন সকাল পর্যন্ত, আল্লাহ তায়ালা তাকে জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেবেন। আর যদি ইবলিস তাকে পথভ্রষ্ট করার মানসে তার সামনে আবির্ভূত হয়, তবে আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতা প্রেরণ করেন, যারা তাকে বলে: ‘হে অভিশপ্ত, দূর হ! কেননা আল্লাহ তায়ালা তাকে রক্ষা করেছেন, তার জন্য যথেষ্ট হয়েছেন, তাকে রিযিক দান করেছেন এবং তার থেকে (ইবাদত) কবুল করেছেন।’ আর সে ক্ষমাপ্রাপ্ত অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করবে।"
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
27 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَطْرُوحٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَانِئٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبَّادٍ الْهُزَلِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَأَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ: لَقَى أَنَسٌ، أَبَا الدَّرْدَاءِ، وَأَبَا هُرَيْرَةَ، وَابْنَ مَسْعُودٍ، مُقْبِلِينَ مِنْ سِلْسِلَةَ، وَسِلْسِلَةُ حِصْنٌ يَكُونُ بِسَاحِلِ دِمَشْقَ فِيهِ مِنْبَرٌ، قَالَ: «فَأَقَمْتُ بِالسِّلْسِلَةِ وَذَلِكَ أَنَّ جِبْرِيلَ، عليه السلام، عَرَضَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، سَوَاحِلَ الشَّامِ فَعَرَضَ عَلَيْهِ سِلْسِلَةَ فَوَجَدَهَا مَكْتُوبَةً فِي أُسْكُفَّةِ عَدْنٍ فِي جَنَّةِ الْمَأْوَى» .
قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ:
«أَقَمْتُ بِهَا ثَلَاثَةً فَقَصَّرْتُ الصَّلَاةَ، وَالْمُقَصِّرُ فِيهَا كَمَنْ أَتَمَّ الصَّلَاةَ سَبْعِينَ سَنَةً» .
قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ: «صَلَّيْتُ فِيهَا أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ قَرَأْتُ فِي الْأُولَى بِـ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ، وَفِي الثَّانِيَةِ الْحَمْدُ لِلَّهِ، وَإِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ، وَفِي الثَّالِثَّةِ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَإِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ، وَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَهُ»
২৭ - আব্দুর রহমান আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাতরুহ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হানি আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আব্বাদ আল-হুযালী থেকে, তিনি বলেন: আবু উমর আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাউস থেকে, আবু হুরাইরা এবং আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেন: আনাস (রা.) আবু দারদা, আবু হুরাইরা এবং ইবনে মাসউদ (রা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন যখন তাঁরা সিলসিলা থেকে আসছিলেন; আর সিলসিলা হলো দামেস্কের উপকূলে অবস্থিত একটি দুর্গ যেখানে একটি মিম্বর রয়েছে। তিনি (আনাস) বলেন: "আমি সিলসিলাতে অবস্থান করেছি। আর এটি এ কারণে যে, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট শামের উপকূলীয় অঞ্চলসমূহ উপস্থাপন করেছিলেন। তখন তিনি তাঁর নিকট সিলসিলাকেও উপস্থাপন করেন এবং তিনি সেটিকে জান্নাতুল মাওয়ার আদন উদ্যানের চৌকাঠে লিখিত অবস্থায় পেয়েছিলেন।"
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন:
"আমি সেখানে তিন দিন অবস্থান করেছি এবং নামাজ কসর করেছি। আর সেখানে যে ব্যক্তি কসর আদায় করে, সে যেন সত্তর বছর পূর্ণ নামাজ আদায়কারীর ন্যায়।"আবু দারদা (রা.) বলেন: "আমি সেখানে চার রাকাত নামাজ পড়েছি। প্রথম রাকাতে আমি 'আলহামদুলিল্লাহ' এবং 'ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' পাঠ করেছি, দ্বিতীয় রাকাতে 'আলহামদুলিল্লাহ' এবং 'ইযা জাআ নাসরুল্লাহ' পাঠ করেছি, এবং তৃতীয় রাকাতে 'আলহামদুলিল্লাহ' এবং 'ইযা যুলযিলাতিল আরদু' পাঠ করেছি। আর আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এটি উল্লেখ করতে শুনেছি।"
(খণ্ড: ১)
আহাদীসু ফী ফাদলিল ইস্কান্দারিয়্যাহ ওয়া আসকালান
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
28 - وَجَدْتُ وَرَأَيْتُ فِي كِتَابِ بَعْضِ أَصْحَابِنَا مِمَّنْ سَمِعْتُ مِنْهُ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَحْمَدَ بْنِ السَّرْحِ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ اللَّيْثَ، يَقُولُ: لَقَدْ أَدْرَكْتُ بِالْإِسْكَنْدَرِيَّةِ رِجَالًا لَوْ أَدْرَكَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَرَضِيَ عَنْهُمْ
২৮ - আমি আমাদের এমন কিছু সঙ্গীর কিতাবে পেয়েছি এবং দেখেছি যাঁদের নিকট থেকে আমি শ্রবণ করেছি, আহমাদ বিন সুলাইমান থেকে, আহমাদ বিন সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর বিন আহমাদ বিন আস-সারহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি লাইসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: আমি আলেকজান্দ্রিয়ায় এমন কিছু ব্যক্তিকে পেয়েছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তাঁদের পেতেন, তবে তিনি অবশ্যই তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হতেন।