(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: -)
أحاديث السلفي عن جعفر السراج (أبو طاهر السلفي)
القسم: كتب السنة
الكتاب: أحاديث السلفي عن جعفر السراج
المؤلف: صدر الدين، أبو طاهر السِّلَفي أحمد بن محمد بن أحمد بن محمد بن إبراهيم سِلَفَه الأصبهاني (ت 576هـ)
الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية
الطبعة: الأولى، 2004
[الكتاب مخطوط]
عدد الصفحات: 83
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জাফর আস-সাররাজ হতে আস-সিলাফির বর্ণিত হাদিসসমূহ (আবু তাহের আস-সিলাফি)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: জাফর আস-সাররাজ হতে আস-সিলাফির বর্ণিত হাদিসসমূহ
লেখক: সদরুদ্দীন, আবু তাহের আস-সিলাফি আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম সিলাফাহ আল-আসবাহানি (মৃত্যু ৫৭৬ হিজরি)
প্রকাশক: ইসলাম ওয়েব সাইটের অন্তর্ভুক্ত ‘জাওয়ামিউল কালিম’ নামক ফ্রি প্রোগ্রামে প্রকাশিত পাণ্ডুলিপি
সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪
[কিতাবটি একটি পাণ্ডুলিপি]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৩
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ١)
الْجُزْءُ الثَّانِي مِنْ أَحَادِيثِ أَبِي طَاهِرٍ السِّلَفِيِّ عَلَى جَعْفَرٍ السَّرَّاجِ رِوَايَةُ أَبِي الْفَضْلِ جَعْفَرِ بْنِ عَلِيٍّ الْهَمْدَانِيِّ الْمُقْرِئِ ، عَنْ السِّلَفِيِّ.رِوَايَةُ التَّقِيِّ سُلَيْمَانَ بْنِ حَمْزَةَ بْنِ أَحْمَدَ الْحَاكِمِ ، عَنْهُ.رِوَايَةُ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي أَحْمَدَ الدِّمَشْقِيِّ ، عَنْهُ إِذْنًا.رِوَايَةُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ حُجْرٍ فِي الْجُزْءِ ، عَنْهُ.بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا
জাফর আস-সাররাজের সান্নিধ্যে পঠিত আবু তাহির আস-সিলাফির হাদিসসমূহের দ্বিতীয় খণ্ড; আস-সিলাফি থেকে আবু আল-ফজল জাফর বিন আলী আল-হামদানি আল-মুকরির বর্ণনা।তাঁর থেকে তাকি সুলাইমান বিন হামজা বিন আহমাদ আল-হাকিমের বর্ণনা।অনুমতিক্রমে তাঁর থেকে আবু আল-হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আবি আহমাদ আদ-দিমাশকির বর্ণনা।এই খণ্ডে তাঁর থেকে আহমাদ বিন আলী বিন হুজরের বর্ণনা।পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আমার প্রতিপালক, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٢)
1 - أَخْبَرَنِي أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْمَجْدِ الْجَوْزِيُّ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ ظَاهِرَ الْقَاهِرَةِ، أَنْبَأَكُمْ سُلَيْمَانُ بْنُ حَمْزَةَ بْنِ أَبِي عُمَرَ الْقَاضِي، نا جَعْفَرُ بْنُ عَلِيٍّ الْهَمْدَانِيُّ، أنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْحَافِظُ السِّلَفِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي ثَالِثَ عَشَرَ الْمُحَرَّمِ سَنَةَ إِحْدَى وَسَبْعِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ، أنا الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ جَعْفَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ السَّرَّاجِ الْمُقْرِئُ، بِبَغْدَادَ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ مِنْ أُصُولِ كُتُبِهِ فِي ذِي الْقَعْدَةِ سَنَةَ ثَمَانٍ وَتِسْعِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، أنا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ الْمُحْسِنِ بْنِ عَلِيٍّ التَّنُوخِيُّ، نا أَبُو عُمَرَ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ بْنِ حَيُّوَيْهِ الْخَزَّارُ، نا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ بَشَّارٍ الأَنْبَارِيُّ، نا أَبِي، قَالَ: قَالَ الْخَلِيلُ: اجْعَلْ مَا فِي الدَّفْتَرِ رَأْسَ مَالِكَ، وَمَا فِي قَلْبِكَ لِلنَّفَقَةِ، وَأَنْشَدَ:لَيْسَ بِعِلْمٍ مَا حَوَى الْقِمْطَرُ … مَا الْعِلْمُ إِلا مَا حَوَاهُ الصَّدْرُ
১ - আবু আল-হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আবি আল-মাজদ আল-জাওজি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন কায়রোর উপকণ্ঠে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে; সুলাইমান বিন হামজাহ বিন আবি উমর আল-কাদি আপনাদেরকে অবহিত করেছেন, জাফর বিন আলী আল-হামদানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-হাফিজ আস-সিলাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে যখন আমি শ্রবণ করছিলাম—৫৭১ হিজরি সালের ১৩ই মুহাররম তারিখে; শায়খ আবু মুহাম্মদ জাফর বিন আহমাদ বিন আল-হুসাইন বিন আস-সাররাজ আল-মুকরি বাগদাদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে পাঠের মাধ্যমে—৪৯৮ হিজরি সালের জিলকদ মাসে; আবু আল-কাসিম আলী বিন আল-মুহসিন বিন আলী আত-তানুখি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু উমর মুহাম্মদ বিন আল-আব্বাস বিন হাইয়ুওয়াইহ আল-খাজ্জার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম বিন বাশার আল-আনবারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-খলিল বলেছেন: "খাতায় যা আছে তাকে তোমার মূলধন বানাও, আর তোমার অন্তরে যা আছে তাকে খরচের জন্য রাখো।" এবং তিনি আবৃত্তি করেন:পুস্তকাধার যা ধারণ করে তা জ্ঞান নয় … জ্ঞান তো কেবল তা-ই যা অন্তর ধারণ করে।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٣)
2 - وَبِهِ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الأَنْبَارِيِّ، أَنْشَدَنَا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ الْبَرَاءِ:إِذَا كَلَّمَتْنِي بِالْجُفُونِ الْفَوَاتِرِ … رَدَدْتُ عَلَيْهَا بِالدُّمُوعِ الْبَوَادِرِفَلَمْ يَعْلَمِ الْوَاشُونَ مَا كَانَ بَيْنَنَا … وَقَدْ قُضِيَتْ حَاجَاتُنَا بِالضَّمَائِرِوَتَقْتُلَنِي ظُلْمًا بِأَسْهُمِ لَحْظِهَا … أَمَا حَكَمٌ يَقْضِي عَلَى طَرْفِ جَائِرِفَلَوْ كَانَ لِلْعُشَّاقِ قَاضٍ مِنَ الْهَوَى … لَقَضَى بَيْنَ الْفُؤَادِ وَنَاظِرِي
২ - এবং উক্ত সনদে আবু বকর আল-আনবারী পর্যন্ত; আবুল হাসান ইবনুল বারা আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন:যখন সে তার ক্লান্ত আঁখিপল্লব দিয়ে আমার সাথে কথা বলে … তখন আমি বিগলিত অশ্রুধারায় তার উত্তর দিইচোগলখোররা আমাদের মধ্যকার বিষয়াবলী জানতে পারেনি … অথচ মনের সংগোপন ইশারায় আমাদের প্রয়োজনসমূহ পূর্ণ হয়ে গেছেসে তার চাহনিরূপ তীরের মাধ্যমে আমাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে … এমন কি কোনো বিচারক নেই, যে এই অত্যাচারী চোখের বিচার করবে?যদি প্রেমাসক্তদের জন্য অনুরাগের পক্ষ থেকে কোনো বিচারক থাকত … তবে সে আমার অন্তর ও আমার চোখের মধ্যে ফয়সালা করে দিত
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٤)
3 - أَنْشَدَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ، أَنْشَدَنَا الْمُقْرِئُ عَنْ رِجَالِهِ:دَهَانِي مِنَ الأَيَّامِ سُرْعَةُ مَرِّهَا … وَكَثْرَةُ تَصْرِيفِ اللَّيَالِي وَكَرْبِهَافَصِرْتُ إِلَى فَقْدِ الشَّبَابِ وَظِلِّهِ … وَمَهْرَمَةِ الشَّيْبِ وَتَنْقُصُ دَرّهَاأُعَلِّلُ بِالْفَضْلِ مِنْ نَفْسِي وانقضى … عَلَى قَرِّ أَيَّام الزَّمَانِ وَحَرّهَارَأَيْتُ الْفَتَى يُبْلَى وَيَلْهُو عَنِ الْبِلَى … عَلَى سحر آمَال طُوَال. . . . . . . . .
৩ - মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিম আমাদের নিকট কবিতা আবৃত্তি করেছেন, আল-মুকরি তাঁর বর্ণনাকারীদের সূত্রে আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন:সময়ের দ্রুত অতিবাহিত হওয়া আমাকে শোকাচ্ছন্ন করেছে … এবং রাতের আবর্তন ও তার ক্লেশের আধিক্য।আমি উপনীত হয়েছি যৌবন ও তার ছায়া হারানোর অবস্থায় … এবং বার্ধক্যের জরাজীর্ণতায় ও তার প্রাণশক্তির হ্রাসে।আমি নিজের ভেতরের অবশিষ্ট গুণাবলি দিয়ে নিজেকে প্রবোধ দেই, অথচ তা ফুরিয়ে গেছে … মহাকালের দিনগুলোর শীত ও গ্রীষ্মের আবর্তনে।আমি যুবককে জরাজীর্ণ হতে দেখি, অথচ সে বিনাশ হওয়া থেকে বিমুখ হয়ে আমোদে মত্ত … সুদীর্ঘ আশার জাদুকরী মোহে। . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٥)
4 - وَبِهِ إِلَى ابْنِ حَيُّوَيْهِ، أَنْشَدَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْقُرَشِيُّ: أَنْشَدَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى قَوْلَهُ:مِفْتَاحُ بَابِ الْفَرَجِ الصَّبْرُ … وَكُلُّ عُسْرٍ بَعْدَهُ يُسْرُوَالدَّهْرُ لا يَبْقَى عَلَى حَالِهِ … وَالأَمْرُ يَأْتِي بَعْدَهُ الأَمْرُوَالْكَرْب تُفْنِيهِ اللَّيَالِي الَّتِي … يَأْتِي عَلَيْهَا الْخَيْرُ وَالشَّرُّفَكَيْفَ يَبْقَى حَالٌ مَنْ حَالُهُ … يُسْرِعُ فِيهَا النَّوْمُ وَالسَّهَرُ
৪ - এবং তাঁর মাধ্যমেই ইবনে হাইয়ুওয়াইহ্ পর্যন্ত বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-কুরাশী আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন: আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট তাঁর এই উক্তিটি আবৃত্তি করেছেন:স্বস্তির দুয়ারের চাবিকাঠি হলো ধৈর্য … আর প্রতিটি কষ্টের পরেই রয়েছে স্বস্তি।কাল কখনো এক অবস্থায় স্থির থাকে না … আর এক বিষয়ের পর অন্য বিষয় আসতেই থাকে।দুঃখ-কষ্টকে সেই রাতগুলো মিটিয়ে দেয় … যার ওপর দিয়ে কল্যাণ ও অকল্যাণ অতিবাহিত হয়।সুতরাং সেই ব্যক্তির অবস্থা কীভাবে স্থির থাকতে পারে যার অবস্থা … দ্রুত ঘুম ও জাগরণের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٦)
5 - وَبِهِ إِلَى حَيُّوَيْهِ أَنْشَدَنَا بِخَطِّهِ:وَإِنِّي لَأُعْطِي كُلَّ أَمْرٍ بِقِسْطٍ … إِذَا الْخَطْبُ فِي بَعْضِ الْحَوَادِثِ. . . وأستعتب الأَخْلَاق. . . . … وأستعتب. . . . . . . . . . . . . . . .
৫ - এবং তাঁর মাধ্যমে হাইয়ুওয়াইহ্ পর্যন্ত (সনদ পৌঁছেছে), তিনি আমাদের নিকট নিজের হস্তাক্ষরে লিখে আবৃত্তি করেছেন:আর নিশ্চয়ই আমি প্রতিটি বিষয়কে ন্যায়নিষ্ঠার সাথে প্রদান করি … যখন কিছু ঘটনার ক্ষেত্রে সংকট দেখা দেয়... এবং আমি চারিত্রিক সংশোধন কামনা করি... … এবং আমি সংশোধন কামনা করি... . . . . . . . . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٧)
6 - وَبِهِ إِلَى ابْنِ حَيُّوَيْهِ، أَنْشَدَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي طَاهِرٍ: أَنْشَدَنِي أَبِي لِبَعْضِهِمْ فِي الْمَشَايِخِ، قَالَ أَبُو عَمْرٍو: نَرْوِي هَذِهِ الأَبْيَاتَ لِلأُمَوِيِّ:أَرْضٌ مُرَبَّعَةٌ حَمْرَاءُ مِنَ أَدَمٍ … مَا بَيْنَ اثْنَيْنِ مُعْرَفَيْنِ بِالْكَرَمِتَذَاكَرَا الْحَرْبَ فَاحْتَالا لَهَا حِيَلا … مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْثَمَا فِيهَا بِسَفْكِ دَمِهَذَا يُغِيرُ عَلَى هَذَا وَذَاكَ عَلَى … هَذَا يُغِيرُ وَعَيْنُ الْحَزْمِ لَمْ تَنَمِفَانْظُرْ إِلَى فِطَنٍ جَالَتْ بِمَعْرِفَةٍ … فِي عَسْكَرَيْنِ بلا طَبْلٍ وَلا عَلَمِ
৬ - এবং তাঁর মাধ্যমে ইবনে হাইয়্যুবাইহ থেকে বর্ণিত, আমাদের নিকট আবুল হুসাইন আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে আবি তাহির আবৃত্তি করেছেন: আমার পিতা আমার নিকট কোনো এক শায়খের পংক্তি আবৃত্তি করেছেন, আবু আমর বলেন: আমরা এই পংক্তিগুলো উমাবীর সূত্রে বর্ণনা করি:চামড়ার তৈরি একটি লাল বর্গাকার ভূমি … যা মহানুভবতার জন্য পরিচিত দুই ব্যক্তির মাঝে অবস্থিততারা যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করল এবং এর জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করল … তাতে রক্তপাতের পাপে লিপ্ত হওয়া ছাড়াইএ জন ও জনের ওপর আক্রমণ চালায় এবং ও জন এর ওপর … আক্রমণ চালায়, অথচ বিচক্ষণতার চোখ কখনো ঘুমায় নাঅতএব সেই প্রজ্ঞার দিকে তাকাও যা জ্ঞানের সাথে বিচরণ করে … ঢাক-ঢোল বা পতাকা বিহীন দুটি সৈন্যদলের মাঝে।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٨)
7 - وَبِهِ إِلَى ابْنِ حَيُّوَيْهِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ جَعْفَرٍ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الرَّبِيعِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ زُرَارَةَ، حَدَّثَنِي مُحَلِّمُ بْنُ أَبِي مُحَلِّمٍ الشَّاعِرُ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: شَخَصْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ طَاهِرٍ إِلَى خُرَاسَانَ فِي الْوَقْتِ الَّذِي شَخَصَ، وَكُنْتُ أُعَادِلُهُ وَأُسَامِرُهُ، فَلَمَّا صِرْنَا إِلَى الرَّيِّ مَرَرْنَا بِهَا سَحَرًا، فَسَمِعْنَا أَصْوَاتَ الأَطْيَارِ وَغَيْرِهَا، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: لِلَّهِ دَرُّ أَبِي كَثِيرٍ الْهُذَلِيِّ حَيْثُ قَالَ:أَلا يَا حَمَامَ الأَيْكِ إِلْفُكَ حَاضِرٌ … وَغُصْنُكَ مَيَّادٌ فَفِيمَ تَنُوحُثُمَّ قَالَ: يَا أَبَا مُحَلِّمٍ هَلْ حَضَرَكَ فِي هَذَا شَيْءٌ؟ فَقُلْتُ: أَصْلَحَ اللَّهُ الأَمِيرَ كَبُرَتْ سِنِّي وَفَسَدَ ذِهْنِي، وَلَعَلَّ شَيْئًا أَنْ يَحْضُرَ، ثُمَّ حَضَرَ شَيْءٌ، فَقُلْتُ: أَصْلَحَ اللَّهُ الأَمِيرَ قَدْ حَضَرَ شَيْءٌ تَسْمَعُهُ؟ فَقَالَ: هَاتِهِ، فَقُلْتُ:أَفِي كُلِّ يَوْمٍ غُرْبَةٌ وَنُزُوحُ … أَمَا لِلنَّوَى مِنْ وَنْيَةٍ فَتُرِيحُ؟لَقَدْ طَلَّحَ الْبَيْنُ الْمُشِتُّ رَكَائِبِي … فَهَلْ أَرَيَنَّ الْبَيْنَ وَهُوَ طَلِيحُ؟وَذَكَّرَنِي بِالرَّيِّ نَوْحُ حَمَامَةٍ … فَنُحْتُ وَذُو الشَّجْوِ الْحَزِينُ يَنُوحُعَلَى أَنَّهَا نَاحَتْ وَلَمْ تُذْرِ دَمْعَةً … وَنُحْتُ وَأَسْرَابُ الدُّمُوعِ سُفُوحُوَنَاحَتْ وَفَرْخَاهَا بِحَيْثُ تَرَاهُمَا … وَمِنْ دُونِ أَفْرَاخِي مَهَامِهُ فِيحُعَسَى جُودُ عَبْدِ اللَّهِ أَنْ يَعْكِسَ النَّوَى … فَنَلْقَى عَصَا التَّطْوَافِ وَهِيَ طَلِيحُقَالَ: فَقَالَ: يَا غُلامُ أَنِخْ ، لا وَاللَّهِ لا جُزْتَ مَعِي حَافِرًا وَلا خُفًّا حَتَّى تَرْجِعَ إِلَى فِرَاخِكَ.كَمِ الأَبْيَاتُ؟ فَقُلْتُ: سِتَّةٌ، فَقَالَ: يَا غُلَامُ أَعْطِهِ سِتِّينَ أَلْفًا، وَمَرْكَبًا، وَكِسْوَةً، وَوَدَّعْتُهُ وَانْصَرَفْتُ
৭ - এবং তাঁর মাধ্যমেই ইবনে হাইয়ুওয়াইহ পর্যন্ত (সূত্র পৌঁছেছে), মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিম ইবনে জাফর আল-বাজ্জায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আমর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনুর রাবী ইবনে সাঈদ ইবনে যুরারাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কবি মুহাল্লিম ইবনে আবি মুহাল্লিম তাঁর পিতা থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে তাহির যখন খোরাসানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন, আমিও তাঁর সাথে রওয়ানা হলাম। আমি ছিলাম তাঁর সফরসঙ্গী এবং নৈশকালীন আলাপচারী। যখন আমরা 'রাই' শহরে পৌঁছলাম এবং শেষ রাতে তা অতিক্রম করছিলাম, তখন আমরা পাখপাখালি ও অন্যান্য প্রাণীর আওয়াজ শুনতে পেলাম। তখন আব্দুল্লাহ বললেন: আবু কাসীর আল-হুযালী কতই না চমৎকার বলেছেন যখন তিনি বলেছিলেন:ওহে কুঞ্জবনের কবুতর, তোমার সঙ্গী তো তোমার কাছেই উপস্থিত … আর তোমার গাছের ডালটিও দোদুল্যমান, তবে কেন তুমি বিলাপ করছ?অতঃপর তিনি বললেন: হে আবু মুহাল্লিম, এ বিষয়ে আপনার কি কিছু মনে পড়ছে? আমি বললাম: আল্লাহ আমীরের কল্যাণ করুন, আমার বয়স হয়েছে এবং বুদ্ধি লোপ পেয়েছে, তবে হয়তো কিছু মনে পড়তে পারে। কিছুক্ষণ পর কিছু একটা মনে পড়ল। আমি বললাম: আল্লাহ আমীরের কল্যাণ করুন, কিছু কথা মনে পড়েছে, আপনি কি তা শুনবেন? তিনি বললেন: শোনান। আমি বললাম:প্রতিদিনই কি এভাবে প্রবাসে আর নির্বাসনে থাকতে হবে? … দূরত্বের কি কোনো ক্লান্তি নেই যা স্বস্তি দেবে?বিচ্ছেদ ও বিচ্ছিন্নতা আমার বাহনগুলোকে পরিশ্রান্ত করে দিয়েছে … আমি কি কখনো বিচ্ছেদকে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত অবস্থায় দেখতে পাব?'রাই' শহরে এক কবুতরের বিলাপ আমাকে ব্যথিত করল … তাই আমিও বিলাপ করলাম, আর দুঃখী হৃদয় তো বিলাপই করে।যদিও সে বিলাপ করেছে কিন্তু কোনো অশ্রু ঝরায়নি … আর আমি বিলাপ করেছি যখন আমার চোখের জল অবিরত ঝরছিল।সে বিলাপ করেছে এমতাবস্থায় যে তার ছানাগুলো তার চোখের সামনেই ছিল … অথচ আমার সন্তানদের ও আমার মাঝে রয়েছে বিশাল ধূ ধূ মরুভূমি।হয়তো আব্দুল্লাহর বদান্যতা এই দূরত্বের অবসান ঘটাবে … ফলে আমরা আমাদের পরিভ্রমণের লাঠিটি ক্লান্ত অবস্থায় নামিয়ে রাখতে পারব।বর্ণনাকারী বলেন: তখন আব্দুল্লাহ বললেন: ওহে বালক, উট বসাও। আল্লাহর কসম, তুমি তোমার সন্তানদের কাছে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত খুর বা খুর বিশিষ্ট কোনো বাহনে চড়ে আমার সাথে আর এক কদমও অগ্রসর হবে না।তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: কবিতাগুলো কয়টি? আমি বললাম: ছয়টি। তখন তিনি বললেন: হে বালক, একে ষাট হাজার (দিরহাম), একটি বাহন এবং পোশাক প্রদান করো। অতঃপর আমি তাঁকে বিদায় জানালাম এবং ফিরে এলাম।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٩)
8 - وَبِهِ نا أَبُو مُزَاحِمٍ الْخَاقَانِيُّ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو الْوَرَّاقُ، نا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الأَنْصَارِيُّ، شَيْخٌ مِنْ أَهْلِ الرَّقَّةِ، قَالَ: رَأَيْتُ فِي طَرِيقِ مَكَّةَ أَحْسَبُهُ بِبُطْنَان أَعْرَابِيًّا، قُلْتُ: يَا أَعْرَابِيُّ أَمَعَكَ مِنْ كَلامِ اللَّهِ عز وجل شَيْءٌ؟ قَالَ: لا، إِلا هَذِهِ الْقلاقِلَ، وَشَتْمَ أَبِي لَهَبٍ، يَعْنِي: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} [الإخلاص: 1] ، وَ {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ} [الفلق: 1] ، و {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ} [الناس: 1]
৮ - এবং তাঁর মাধ্যমেই আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুজাহিম আল-খাকানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে আমর আল-ওয়াররাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন রাক্কা অধিবাসীদের একজন শাইখ ইসহাক ইবনে ইসমাইল আল-আনসারি; তিনি বলেন: আমি মক্কার পথে—আমার ধারণা সেটি ছিল বুতনান নামক স্থান—এক বেদুইনকে দেখলাম। আমি বললাম: হে বেদুইন, তোমার নিকট কি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণীর কোনো অংশ আছে? সে বলল: না, কেবল এই ‘কলাকিল’ এবং আবু লাহাবের নিন্দা ব্যতীত। অর্থাৎ: {বলুন, তিনি আল্লাহ, এক} [আল-ইখলাস: ১], {বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের} [আল-ফালাক: ১], এবং {বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের} [আন-নাস: ১]
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
9 - وَبِهِ أَنْشَدَنَا أَبُو مُزَاحِمٍ الْخَاقَانِيُّ لِنَفْسِهِ: أَضَرَالشِّعْرُ فِي مَقَالٍ. . . وَاضِحٍ جَامِعٍ بِبَيْتٍ رَضِيٍّ هُوَ أَسْرَى مَسِيرَةً لَدِيَّ وَهُوَ أَدْنَى مَسِيرَةً لِسِرْي
৯ - এবং সেই একই সূত্রে আবু মুজাহিম আল-খাকানি আমাদের নিকট তার নিজের কাব্য পাঠ করেছেন: কবিতা তো এক স্পষ্ট ও ব্যাপক আলোচনাকে (সংক্ষিপ্ত করার মাধ্যমে) ক্ষতিগ্রস্ত করেছে... একটি সন্তোষজনক পংক্তির মাধ্যমে। তা আমার নিকটে সুদূরতম পরিভ্রমণ এবং তা-ই আমার নিভৃত রহস্যের নিকটতম সফর।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ١١)
10 - حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الْمُنَادِي، حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي مُحَمَّدٍ الزَّيْدِيُّ، أَخْبَرَنِي أَخِي أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَأَخْبَرَنِي عَمِّي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالا: أنا أَبُو مُحَمَّدٍ يَحْيَى بْنُ الْمُبَارَكِ بْنِ الْمُغِيرَةِ الْعَدَوِيُّ الْيَزِيدِيُّ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ: " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ: مَلِكِ يَوْمِ الدِّينِ بِغَيْرِ أَلِفٍ حَتَّى مَاتَ "أَنْشَدَنِي مُحَمَّدُ بْنُ خَلَفِ بْنِ الْمَرْزُبَانِ: أَنْشَدَنِي فَضْلٌ الشَّاعِرُ:تَلُومُ عَلَى مَنْ سَمِعَ مِنْكَ الْمِزَاحِ لِغَيْرِكُمْ … لَقَدْ جِئْتُ مَا عَنْهُ نُهِيتُ عَلَى عَمْدِوَفِيمَ لَوْ صَرَّحْتُ بِاسْمِكَ فِي الْهَوَى … لأقْصَرْتُ عَنْ أَشْيَاء فِي الْهَزْلُ وَالْجِدُّوَلَكِنَّنِي أُبْدِي لِهَذَا مَوَدَّةً … وَذَاكَ وَأَخْلُو فِيكَ بِالْبَثِ وَالْوُدُّحَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى حَائِطٍ بِبَيْتٍ كَانَ يَعْرِفُونَ هَذَا الشَّعْرَ، وَذَكَرَ كَاتِبَهُ أَنَّهُ مُحَمَّدُ بْنُ هَارُونَ بْنِ حِبَّانَ:لَمَا تَرَكْتُ الْعِرَاقَ أَرْضِي لأَنِّي … أَبْتَغِي غَيْرَهَا مِنَ الأَرْضِ أَرْضَاغَيْرَ أَنَّ الْفَتَى إِذَا خَانَهُ الدَّهْرُ … وَقَلَّ الْوَفَاءُ قَرْضًا وَفَرْضَاقَدْ أَحْيَاهُ بِصَدِيقٍ وَيَسْتَنْكِرُ … الأَهْلُ دَهْر الزَّمَان. . . . . .فَتَخَوَّفْتُ مَا رَأَيْتُ مِنَ الدَّهْرِ وَمِنْ … صَرْفِهِ فَأَسْرَعْتُ رَكْضَاوَجَعَلْتُ الْمَطِيَّ أَكْثَرَ هَمِّي … وَقَطَعْتُ الْبِلادَ طُولا وَعَرْضَاكَيْ أَنَالَ الَّذِي يُبَدِّلُ بِالْفَقْرِ … غِنًى ظَاهِرًا وَيُورِثُ خَفْضَاوَأَقِي الْعِرْضَ مَا حَيِيتُ فَإِنِّي … لا أَرَى لِلْفَتَى مَعَ الْفَقْرِ عِرْضَافَوَجَدْتُ أَسْفَلَ هَذَا الشِّعْرِ:وَطُولُ مُقَامِ الْمَرْءِ فِي الْحَيِّ مُخْلِقٌ … لِدِيبَاجَتِهِ فَاغْتَرِبْ تَتَجَدَّدِفَإِنِّي رَأَيْتُ الشَّمْسَ زِيدَتْ مَحَبَّةً … إِلَى النَّاسِ أَنْ لَيْسَتْ عَلَيْهِمْ بِسَرْمَدِ
১০ - আবু আল-হুসাইন আহমদ ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবায়দুল্লাহ আল-মুনাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি মুহাম্মদ আজ-যাইদী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার ভাই আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন এবং আমার চাচা ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদও আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ইবনে আল-মুবারক ইবনে আল-মুগীরা আল-আদাবী আল-ইয়াযীদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত 'মালিকি ইয়াওমিদ দ্বীন' শব্দটি আলিফ ছাড়া (অর্থাৎ 'মালিক' হিসেবে) পাঠ করতেন।"মুহাম্মদ ইবনে খালাফ ইবনে আল-মারযুবান আমার নিকট আবৃত্তি করেছেন, কবি ফাদল আমার নিকট আবৃত্তি করেছেন:তুমি তাকে তিরস্কার করছ যে তোমার থেকে অন্যদের জন্য কৌতুক শুনেছে … অথচ আমি ইচ্ছাকৃতভাবেই সেই কাজ করেছি যা থেকে আমাকে নিষেধ করা হয়েছিলআর যদি আমি প্রেমে তোমার নাম স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতাম … তবে আমি তামাশা ও সিরিয়াস অনেক বিষয় থেকেই বিরত থাকতামকিন্তু আমি এর প্রতি এবং ওর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করি … আর তোমার বিরহে আমি শোক ও অনুরাগের সাথে নির্জনে সময় কাটাইআমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি একটি ঘরের দেয়ালে এই কবিতাটি লেখা দেখেছি যা ওই ঘরের বাসিন্দারা জানতেন, এবং এর লেখক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল যে তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে হারুন ইবনে হিব্বান:আমি আমার ভূমি ইরাক পরিত্যাগ করিনি এই কারণে যে … আমি পৃথিবী থেকে অন্য কোনো ভূমি চাইবরং যুবক যখন কালচক্রের নিকট প্রতারিত হয় … এবং ঋণ ও কর্তব্যের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ততা কমে যায়সে বন্ধুর মাধ্যমে প্রাণ ফিরে পায়, কিন্তু আত্মীয়-স্বজন … সময়ের পরিবর্তনের কারণে তাকে অস্বীকার করে . . . . . .অতঃপর আমি কালচক্র ও এর পরিবর্তন থেকে যা দেখলাম তাতে ভীত হলাম … তাই আমি দ্রুত পলায়ন করলামআর বাহন সংগ্রহ করাকেই আমার প্রধান চিন্তায় পরিণত করলাম … এবং দেশের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ পাড়ি দিলামযাতে আমি তা অর্জন করতে পারি যা দারিদ্র্যকে … প্রকাশ্য সচ্ছলতায় পরিণত করবে এবং স্বাচ্ছন্দ্য দান করবেআর যতদিন বেঁচে থাকি আমি আমার মান-মর্যাদা রক্ষা করব, কারণ আমি মনে করি না … যে দারিদ্র্যের সাথে কোনো যুবকের মান-সম্মান অটুট থাকেএই কবিতার নিচে আমি আরও পেলাম:জনপদে মানুষের দীর্ঘ অবস্থান তার উজ্জ্বলতাকে … ম্লান করে দেয়, তাই প্রবাসে যাও, তুমি নতুনত্ব লাভ করবেকেননা আমি সূর্যকে দেখেছি মানুষের নিকট তার প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পেয়েছে … একারণে যে তা তাদের নিকট চিরস্থায়ী নয়
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
11 - حَدَّثَنا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سُلَيْمَانَ السِّجِسْتَانِيُّ، نا عِيسَى بْنُ شَاذَانَ، نا أَيُّوبُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ، نا الْفُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «سَأَلْتُ رَبِّي عز وجل اللاهِينَ مِنَ ذُرِّيَّةِ الْبَشَرِ فَأَعْطَانِي»
১১ - আমাদের নিকট আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান আস-সিজিস্তানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ঈসা বিন শাযান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আইয়ুব বিন আল-মুতাওয়াক্কিল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-ফুযাইল বিন সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রহমান বিন ইসহাক থেকে, তিনি আয-যুহরি থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি আমার মহান ও পরাক্রমশালী রবের নিকট মানবজাতির সন্তানদের মধ্য থেকে যারা গাফেল বা উদাসীন তাদের বিষয়ে প্রার্থনা করেছি, অতঃপর তিনি আমাকে তা দান করেছেন»
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
12 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ خَلَفٍ الآجُرِّيُّ، حَدَّثَنِي أَبُو عَلِيٍّ الْمَرْوَزِيُّ، أنا السَّرِيُّ بْنُ يَزِيدَ الْمَرْوَزِيُّ، نا إِسْمَاعِيلُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ التَّيْمِيُّ، نا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ أَبِي قَيْسٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، يَقُولُ: «خَلَقَ اللَّهُ عز وجل لأَهْلِ الْجَنَّةِ لِكُلِّ رَجُلٍ وَلِكُلِّ أُنْثَى حُسْنًا عَلَى خَدِّهِ، وَخَلَقَ لأَهْلِ الدُّنْيَا حُسْنًا مِنْ حُسْنِ آدَمَ عليه السلام، وَلَمْ يَخْلُقِ اللَّهُ شَيْئًا فِي الدُّنْيَا أَحْسَنَ مِنْ آدَمَ»
১২ - আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে খালাফ আল-আজুরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আলী আল-মারওয়াজি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আস-সাররি ইবনে ইয়াজিদ আল-মারওয়াজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসমাইল ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উবাইদুল্লাহ আত-তাইমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফইয়ান থেকে, তিনি আবু ইসহাক আশ-শাইবানি থেকে, তিনি আবু কায়েস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে আবি তালিবকে বলতে শুনেছি: “আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা জান্নাতবাসীদের জন্য প্রত্যেক পুরুষ ও প্রত্যেক নারীর গালের ওপর সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি দুনিয়াবাসীদের জন্য আদম আলাইহিস সালামের সৌন্দর্য থেকে কিছু সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ দুনিয়াতে আদম অপেক্ষা সুন্দর কোনো কিছু সৃষ্টি করেননি।”
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
13 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَلَفٍ الْمُحَوَّلِيُّ، نا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ، نا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ أَحْسَنَ رَجُلٍ رَأَتْهُ قُرَيْشٌ قَطُّ
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন খালাফ আল-মুহাওয়ালী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন মানসুর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবন আব্দুল মুত্তালিব ছিলেন কুরাইশদের দেখা সর্বকালের সবচেয়ে সুদর্শন ব্যক্তি।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
14 - حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الطَّاهِرِ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ. . . . . .، سَمِعْتُ أَبِي، يَقُولُ: أَتَيْنَا ابْنَ سُرَيْحٍ، فِي مَرَضِهِ، فَقُلْتُ لَهُ: كَيْفَ أَصْبَحْتَ؟ فَقَالَ: كَمَا قَالَ الشَّاعِرُ:مَرِيضٌ غَابَ عَنْهُ أَقْرَبُوهُ … وَأَسْلَمَهُ الْمُدَاوِي لِلْحَمِيمِثُمَّ مَاتَ مِنْ لَيْلَتِهِحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْكَاتِبُ، حَدَّثَنِي مَيْمُونُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ: دَخَلَ أَعْرَابِيٌّ مِنَ الْبَادِيَةِ الْعِرَاقَ فِي أَوَانِ الرُّطَبِ، فَرَأَى بُسْتَانًا كَثِيرَ النَّخْلِ وَجَمَاعَةٌ يَدْخُلُونَهُ، فَدَخَلَهُ فَرَأَى قَوْمًا يَعَبُّونَ الرُّطَبَ، وَالتَّمْرَ فِي الأَطْبَاقِ وَيُغَطُّونَهُ، فَمَدَّ يَدَهُ لِيَأْكُلَ، فَمَنَعَهُ صَاحِبُهُ، فَقَالَ:أَرَى النَّخْلَ عِنْدَ النَّاسِ أَضْحَى مُحَلَّلا … وَعَهْدِي بِهِ فِيمَا مَضَى لا يُحَلَّلُيَرِفُّ عَلَى الأَطْبَاقِ بَرْقًا كَأَنَّهُ … عَرُوسٌ تُفَدِّي تَارَّةً وَتَبْخَلُوَإِنْ رُمْتَهُ فِي النَّخْلِ قَبْلُ … حَرَامُهُ يَلْقَاكَ ناظور بِكَفَّيْهِ مُنَجَّلُأَنْشَدَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي طَاهِرٍ، أَنْشَدَنِي أَبِي. . . . . . . بْن حَسَن:إِذَا مَا رَنَوْنَا نَحْوَهَا بِعُيُونِنَا … رَنَتْ بِعُيُونٍ سُهَّدٍ غَيْرِ هُجَّدِتُلاحِظُ أَحْدَاقَ الْوَرَى حَدَقَ الثَّرَى … لَهَا زَهَرَاتٌ لَمْ تُكَحَّلْ بِإِثْمِدِمُفَتَّحَةً أَحْدَاقُهَا ذَهَبِيَّةٌ … بِأَغْصَانِ دُرٍّ فِي غُصُونِ زَبَرْجَدِأَنْشَدَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، أَنْشَدَنِي أَبِي:أَهِنِ اللَّئِيمَ إِنِ اسْتَطَعْتَ هَوَانَهُ … إِنَّ الْكَرَامَةَ عِنْدَهُ لا تَنْفَعُأَنْشَدَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْعَبَّاسِ، أَنْشَدَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الصُّوفِيُّ لِنَفْسِهِ:الْبُخْلُ شُؤْمٌ وَلَهُ قَسْوَةٌ … وَكُلُّ مَا ضَرَّ فَمَذْمُومُقَدْ فَازَ مَنْ كَانَتْ لَهُ نِعْمَةٌ … تَظْهَرُ وَالْمَعْرُوفُ مَكْتُومُأَمْوَالُهُ يُتْلِفُهَا رَاضِيًا … وَهُوَ لِشُكْرِ اللَّهِ مَوْسُومُوَآخَرُ يَحْرُسُ أَمْوَالَهُ … مُوَكَّلٌ بِالْجَمْعِ مَهْمُومُقَدْ عَدِمَ اللَّذَّاتِ فِي رِفْقِهِ … كَأَنَّهُ لِلْمُشِحَّاتِ مَحْمُومُ
১৪ - আমাদের নিকট আবু আল-হাসান মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবি আল-তাহির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইসহাক ইবনে... আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: আমরা ইবনে সুরাইজের অসুস্থাবস্থায় তাঁর নিকট আসলাম। আমি তাঁকে বললাম: আপনার সকাল কেমন কাটল? তিনি বললেন: যেমন কবি বলেছেন:জনৈক অসুস্থ ব্যক্তি যার নিকটাত্মীয়রা তাকে ছেড়ে চলে গেছে … এবং চিকিৎসক তাকে মরণঘাতী বিপদের মুখে সোপর্দ করেছেঅতঃপর তিনি সেই রাতেই ইন্তেকাল করেন।আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-কাতিব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার নিকট মাইমুন ইবনে হারুন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক গ্রাম্য বেদুইন তাজা খেজুর পাকার মৌসুমে ইরাকে প্রবেশ করল। সে প্রচুর খেজুর গাছ সমৃদ্ধ একটি বাগান দেখল এবং একদল লোককে তাতে প্রবেশ করতে দেখল। সেও তাতে প্রবেশ করল এবং দেখল যে একদল লোক পাত্রে তাজা ও শুকনো খেজুর ভরছে এবং তা ঢেকে রাখছে। সে খাওয়ার জন্য হাত বাড়াল, কিন্তু বাগানের মালিক তাকে বাধা দিল। তখন সে বলল:আমি দেখছি মানুষের কাছে খেজুর গাছ এখন বৈধ হয়ে গেছে … অথচ অতীতে আমার জানা মতে তা বৈধ ছিল নাএটি পাত্রের ওপর বিদ্যুতের মতো ঝিকমিক করছে যেন … এমন এক কনে যে কখনও দান করে আবার কখনও কার্পণ্য করেআর এর আগে যদি তুমি খেজুর গাছে তা পেতে চাইতে … তবে তার নিষিদ্ধতা তোমার সামনে আসত এমন এক প্রহরীরূপে যার হাতে কাস্তে রয়েছেউবাইদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে আবি তাহির আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা... ইবনে হাসান আমার নিকট আবৃত্তি করেছেন:যখন আমরা আমাদের চোখের দৃষ্টি সেগুলোর দিকে নিবদ্ধ করি … তখন সেগুলোও নির্ঘুম অতন্দ্র চোখে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকেমাটির চোখগুলো সৃষ্টির চোখের দিকে লক্ষ্য করে … এতে এমন সব ফুল রয়েছে যাতে ইসমাদ সুরমা লাগানো হয়নিতার সোনালি চক্ষুগুলো উন্মুক্ত … যবরজদের ডালপালার মধ্যে মুক্তার শাখার মতোউবাইদুল্লাহ আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট আবৃত্তি করেছেন:ইতর বা নীচ ব্যক্তিকে অপদস্থ করো যদি তুমি তাকে অপদস্থ করতে সক্ষম হও … কারণ মহানুভবতা তার কোনো উপকারে আসে নাআল-আব্বাস ইবনে আল-আব্বাস আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, তিনি বলেন, আবু আবদুল্লাহ আল-সুফি নিজের রচিত কবিতা আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন:কৃপণতা একটি অমঙ্গল এবং এতে কঠোরতা রয়েছে … আর যা কিছু ক্ষতিসাধন করে তা নিন্দনীয়সেই ব্যক্তি সফল হয়েছে যার নিকট এমন নেয়ামত রয়েছে … যা প্রকাশ্য, অথচ তার নেক আমল বা অনুগ্রহ গোপনসে সন্তুষ্টচিত্তে নিজের ধন-সম্পদ ব্যয় করে … আর সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতার গুনে গুণান্বিতআর অন্যজন কেবল নিজের ধন-সম্পদ পাহারা দেয় … সে কেবল সম্পদ সঞ্চয়ের কাজে নিয়োজিত এবং অত্যন্ত দুশ্চিন্তাগ্রস্তসে তার স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যেও স্বাদ-আহ্লাদ হারিয়ে ফেলেছে … যেন সে কৃপণতার কারণে জ্বরাক্রান্ত।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
15 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّكَّرِيُّ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ شَبَّةَ، حَدَّثَنِي عِيسَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ مَوْلاةُ ابْنِ أَبِي الْفَخْرِ، عَنْ مَوْلاهَا ابْنِ أَبِي الْفَخْرِ، قَالَ: سَمَّنْتُ بَهِيمَةً لِي ثُمَّ خَرَجْتُ بِهَا أَبِيعُهَا، فَمَرَرْتُ بِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ، فَقَالَ: يَا صَاحِبَ الْبَهِيمَةِ أَتَبِيعُ؟ فَرَجَعْتُ إِلَيْهِ، فَقُلْتُ: لا وَاللَّهِ وَلَكِنْ هِيَ لَكَ، وَانْصَرَفْتُ وَتَرَكْتُهُ، فَأَقَمْنَا أَيَّامًا، ثُمَّ إِذَا الْحَمَّالُونَ عَلَى الْبَابَ، فَإِذَا عِشْرُونَ يَحْمِلُونَ حِنْطَةً، وَعِشْرُونَ يَحْمِلُونَ زَيْتًا، وَخَمْسَةٌ يَحْمِلُونَ كِسْوَةً، وَوَاحِدٌ يَحْمِلُ مَالا حَتَّى أُدْخِلَتْ عَلَيَّ
১৫ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ উবাইদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আস-সুক্কারী, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে, তিনি বলেন আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উমর বিন শাব্বাহ, তিনি বলেন আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ঈসা বিন আবদুল্লাহ বিন আবু মুহাম্মাদ বিন উমর বিন আলী বিন আবু তালিব, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনু আবিল ফখরের মুক্তদাসী আয়েশা, তিনি তাঁর মনিব ইবনু আবিল ফখর হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার একটি পশু হৃষ্টপুষ্ট করেছিলাম, অতঃপর সেটি বিক্রয় করার উদ্দেশ্যে বের হলাম। এমতাবস্থায় আমি আবদুল্লাহ বিন জাফরের নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলাম, তখন তিনি বললেন: হে পশুর মালিক! আপনি কি এটি বিক্রয় করবেন? আমি তাঁর নিকট ফিরে আসলাম এবং বললাম: আল্লাহর কসম, না; বরং এটি আপনার জন্যই। অতঃপর আমি সেখান থেকে প্রস্থান করলাম এবং তাঁকে রেখে চলে আসলাম। আমরা কয়েক দিন অতিবাহিত করলাম, অতঃপর হঠাৎ দেখলাম একদল মালবাহী লোক আমার দরজায় উপস্থিত; তাদের মধ্যে বিশ জন গম বহন করছিল, বিশ জন তেল বহন করছিল, পাঁচ জন পোশাক-পরিচ্ছদ বহন করছিল এবং একজন অর্থ-সম্পদ বহন করছিল, পরিশেষে এই সমস্ত কিছু আমার নিকট পৌঁছে দেওয়া হলো।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
16 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّكَّرِيُّ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْوَرَّاقُ، نا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى الْخُوَارِزْمِيُّ، نا مَعْنُ بْنُ عِيسَى، نا عُمَرُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ: لَمَّا دَفَعَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَرْوَانَ وَلَدَهُ إِلَى الشَّعْبِيِّ يُؤَدِّبُهُمْ، قَالَ: عَلِّمْهُمُ الشِّعْرَ يَنْجُدُوا، وَيَمْجُدُوا، وَأَطْعِمْهُمُ اللَّحْمَ تَشْتَدُّ قُلُوبُهُمْ، وَجُزَّ شُعُورَهُمْ لِتَغْلُظَ رِقَابُهُمْ وَجَالِسْ بِهِمْ عِلْيَةَ الرِّجَالِ يُنَاقِضُوهُمُ الْكَلامَأَنْشَدَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ الْمَرْزُبَانِ ، أَنْشَدَنِي مُنْشَدًا:وَصَهْبَاءِ مِثْلِ الشَّمْسِ طَيِّبَةِ النَّشْرِ … تَجِيؤُكَ مِنْ أَسْرَابِهَا نَفْحُ الْعِطْرِهِيَ الْبَدْرُ إِلا أَنَّ فِيهَا لَطَائِفٌ … مِنَ الْحُسْنِ لَيْسَتْ فِي هِلالٍ وَلا بَدْرِوَتَنْظُرُ فِي الْوَجْهِ الْقَبِيحِ لِحُسْنِهَا … فَتَكْسُوهُ حُسْنًا بَاقِيًا آخِرَ الدَّهْرِأَنْشَدَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْفَاخُورِيُّ، أَنْشَدَنَا لِسَهْلِ بْنِ هَارُونَ:إِنْ يَكُنْ فِي الأَرْضِ شَيْءٌ حَسَنْ … فَهُوَ فِي هَدِيَّتِي عِنْدَ الْمَلِكْحُجِبَتْ لأَتَنَزْهُ عَنْ قَوْلِ لا فَهِيَ … لا تَعْرِفُ إِلا قَوْلَ فَهِيَ لَكْأَنْشَدَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ الْعَسْكَرِيُّ، أَنْشَدَنِي عُمَرُ بْنُ شَبَّةَ فِي مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ:الآنَ قُلْ. . . . . . . فَقْدِ مَالِكٍ … الآنَ فَقَدْنَا الْعِلْمَ إِذَا مَاتَ مَالِكُفَمَا لِيَ لا أَبْكِي عَلَيْهِ وَقَدْ بَكَتْ … عَلَيْهِ الثُّرَيَّا وَالنُّجُومُ الشَّوَابِكُوَمَا لِيَ لا أَبْكِي عَلَى فَقْدِ مَالِكٍ … إِذَا عَزَّ مَفْقُودٌ مِنَ النَّاسِ هَالِكُحَلَفْتُ بِمَا أَهْدَتْ قُرَيْشٌ وَحَلَلْتُ … صَبِيحَةَ عَشْرٍ حَيْثُ تُقْضَى الْمَنَاسِكُمِنْهُمْ وِعَاءُ الْعِلْمِ وَالْفِقْهِ مَالِكٌ … إِذَا انْتَهَتْ إِعْجَازُ أَمْرٍ وَحَارِكُ. . . . . . . عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ عَنْ شُيُوخِهِ وَبِهِ إِلَى السَّرَّاجِ، أَنْشَدَنَا التَّنُوخِيُّ ، أَنْشَدَنِي أَبُو الْفَرَجِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَبْدَكَ الْمِصْرِيُّ، فِي مَجْلِسِ ابْنِ حَيُّوَيْهِ، أَنْشَدَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُعْتَمِدِ عَلَى اللَّهِ، أَنْشَدَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُعْتَزِّ لِنَفْسِهِ:مَا ذُقْتُ طَعْمَ النَّوْمِ لَوْ يَدْرِي … كَأَنَّ جَنْبِي عَلَى الْجَمْرِفِي قَمَرٍ مُسْتَبْرَقٍ نِصْفُهُ … كَأَنَّهُ مِجْرَفَةُ الْعِطْرِ
১৬ - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আস-সুক্কারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন উমর আল-ওয়াররাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুজাহিদ বিন মুসা আল-খাওয়ারিজমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মা'ন বিন ঈসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উমর বিন সালাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান যখন তাঁর সন্তানদের শিষ্টাচার শেখানোর জন্য আশ-শা'বির নিকট সোপর্দ করলেন, তখন তিনি বললেন: "তাদেরকে কবিতা শেখাও যাতে তারা সাহসী ও মর্যাদাবান হয়, তাদের গোশত আহার করাও যাতে তাদের অন্তর দৃঢ় হয়, তাদের চুল ছেঁটে দাও যাতে তাদের ঘাড় মজবুত হয় এবং তাদের অভিজাত ব্যক্তিবর্গের মজলিসে বসাও যাতে তারা তাদের সাথে কথোপকথনে পারদর্শী হতে পারে।"আবু বকর বিন আল-মারজুবান আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, তিনি আমার উদ্দেশ্যে আবৃত্তি করেছেন:সূর্যের ন্যায় উজ্জ্বল রক্তিম সেই বস্তু যা সুগন্ধ ছড়ায় … যার সুরভি তার আপন উৎস হতে তোমার নিকট বয়ে আসে।এটি যেন পূর্ণিমা, তবে এতে এমন কিছু সৌন্দর্যের লালিত্য আছে … যা নতুন চাঁদ কিংবা পূর্ণিমা—কোনোটিতেই নেই।তার সৌন্দর্যের প্রভাবে তুমি যখন কোনো কুৎসিত চেহারার দিকে তাকাও … তখন সে তাকে মহাকালের শেষ অবধি এক অক্ষয় সৌন্দর্যে আবৃত করে দেয়।আবু আব্দুল্লাহ আল-ফাখুরি আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, তিনি সাহল বিন হারুনের পংক্তি আবৃত্তি করেছেন:যদি পৃথিবীতে সুন্দর কোনো কিছু থেকে থাকে … তবে তা বাদশাহর সমীপে প্রেরিত আমার এই উপহারের মাঝেই রয়েছে।একে 'না' বলা থেকে রক্ষা করার জন্য আড়ালে রাখা হয়েছে, কেননা সে … 'এটি আপনার জন্য'—একথা ছাড়া আর কিছু জানে না।মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম আল-আসকারি আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, উমর বিন শাব্বাহ মালেক বিন আনাস সম্পর্কে আমার নিকট আবৃত্তি করেছেন:এখন বলো. . . . . . . মালেকের বিয়োগে … আজ আমরা ইলমকে হারিয়ে ফেললাম যখন মালেক মৃত্যুবরণ করলেন।আমার কী হলো যে আমি তাঁর জন্য কাঁদব না, অথচ তাঁর জন্য … কৃত্তিকা নক্ষত্র ও পুঞ্জীভূত তারকারাজি ক্রন্দন করেছে।মালেকের বিয়োগে আমার কী হলো যে আমি রোদন করব না? … যখন মানুষের মধ্য থেকে এমন একজন হারিয়ে গেলেন যার অভাব পূরণ করা দুঃসাধ্য।আমি শপথ করছি কুরাইশদের উৎসর্গকৃত পশুর এবং সেই দশম তারিখের … প্রভাতের, যখন হজের কার্যাদি সম্পন্ন করা হয়।তাদের মধ্যে ইলম ও ফিকহের আধার হলেন মালেক … যখন কোনো বিষয়ের সমাধান কিংবা সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।. . . . . . . ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি তাঁর শিক্ষকদের থেকে এবং তাঁর সূত্রে আস-সাররাজ পর্যন্ত; আত-তানুখি আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, আবুল ফারাজ আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন আবদাক আল-মিসরি ইবনে হাইয়্যুইয়াহ-এর মজলিসে আমার নিকট আবৃত্তি করেছেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-মুতামিদ আলাল্লাহ আমার নিকট আবৃত্তি করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন আল-মুতাজ নিজের সম্পর্কে আবৃত্তি করেছেন:আমি ঘুমের স্বাদ গ্রহণ করিনি, যদি সে জানত … যেন আমার পার্শ্বদেশ জ্বলন্ত অঙ্গারের ওপর রয়েছে।উজ্জ্বল চাঁদের আলোয় যার অর্ধেক অংশ … যেন তা সুগন্ধি মাখার একটি পাত্র।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
17 - وَبِهِ إِلَى السَّرَّاج، أنا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ ابْنِ الْبَلَدِيِّ، نا الْمُعَافَى بْنُ بَكْرٍ، نا الْجَرِيرِيُّ، إِمْلاءً ، نا مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدِ بْنِ حَفْصٍ الْعَطَّارُ، نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَتِيقُ، نا دَاوُدُ بْنُ مِهْرَانَ، نا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَؤُمُّكُمْ أَقْرَؤُكُمْ وَإِنْ كَانَ وَلَدَ زِنًا»
১৭ - এবং তাঁর মাধ্যমেই আস-সাররাজ পর্যন্ত (সনদ পৌঁছেছে); আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবন মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ ইবনুল বালাদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মুআফা ইবন বকর, আমাদের নিকট শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন আল-জারীরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন মাখলাদ ইবন হাফস আল-আত্তার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবন মুহাম্মাদ আল-আতিক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবন মিহরান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনুল ফাদল, সালিহ ইবন কায়সান থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কুরআন পাঠে সর্বাধিক পারদর্শী, সে-ই তোমাদের ইমামতি করবে, যদিও সে ব্যভিচারজাত সন্তান হয়»।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
18 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْفَضْلِ الطَّحَّانُ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ ، نا أَبُو الْقَاسِمِ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُنْبُكٍ الْقَاضِي، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْمُقْرِئُ، نا حَاجِبُ بْنُ الْوَلِيدِ، نا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «وُلِدَ لِنُوحٍ ثَلاثَةٌ سَامٌ وَحَامٌ وَيَافِثُ، فَأَمَّا سَامٌ فَأَبُو الْعَرَبِ وَفَارِسَ وَالرُّومِ وَأَهْلِ الشَّامِ وَمِصْرَ، وَأَمَّا يَافِثُ فَأَبُو يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَالْخَزَرِ، وَأَمَّا حَامٌ فَأَبُو هَذِهِ الْجِلْدَةِ السَّوْدَاءِ»
১৮ - আবুল কাসিম আবদুল আজিজ ইবনে আলী ইবনে আহমদ ইবনে ফাদল আত-তাহহান তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন, আবুল কাসিম উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুনবুক আল-কাদি আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল আজিজ আল-মুকরি আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন, হাজিব ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ সুলাইমান থেকে, তিনি আয-যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নূহের তিনজন সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিল—সাম, হাম ও ইয়াফাস। সাম হলেন আরব, পারস্য, রোম এবং সিরিয়া ও মিশরের অধিবাসীদের আদি পিতা; আর ইয়াফাস হলেন ইয়াজুজ, মাজুজ ও খাযারদের আদি পিতা; আর হাম হলেন এই কৃষ্ণাঙ্গদের আদি পিতা।»
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
19 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ شَاهِينَ، نا أَبِي، نا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ، نا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، نا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ، قَالَ: وَلَدُ نُوحٍ ثَلاثَةٌ: حَامٌ وَسَامٌ وَيَافِثُ، فَوَلَدُ كُلِّ وَاحِدٍ ثَلاثَةٌ، فَوَلَدُ سَامٍ الْعَرَبُ وَفَارِسُ وَالرُّومُ، وَفِي كُلِّ هَؤُلاءِ خَيْرٌ، وَوَلَدُ حَامٍ الْقِبْطُ وَالسُّودَانُ وَبَرْبَرٌ، وَوَلَدُ يَافِثَ التُّرْكُ وَالصَّقَالِبَةُ وَيَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ، وَلَيْسَ فِي هَؤُلاءِ خَيْرٌ فَهَذَا آخِرُ الأَنْسَابِ أَنْ أَقُولَهُ
১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবাইদুল্লাহ বিন উমর বিন আহমাদ বিন শাহিন, তিনি বলেন, সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, তিনি বলেন, সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান, তিনি বলেন, সংবাদ দিয়েছেন উসমান বিন আবি শায়বাহ, তিনি বলেন, সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল বিন আইয়াশ, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে, তিনি ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: নূহের সন্তান তিনজন: হাম, সাম এবং ইয়াফিস। অতঃপর তাঁদের প্রত্যেকেরই তিনজন করে সন্তান হয়েছে। সামের সন্তানগণ হলো আরব, পারস্য এবং রোম; আর এদের সবার মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। হামের সন্তানগণ হলো কিবতি, সুদান এবং বারবার। আর ইয়াফিসের সন্তানগণ হলো তুর্কি, সাকালাবা এবং ইয়াজুজ ও মাজুজ; এদের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। বংশপরম্পরা সম্পর্কে এটিই আমার শেষ বক্তব্য যা আমি বলছি।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
20 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ. . . .، نا سُلَيْمَانُ بْنُ الرَّبِيعِ، نا كَادِحٌ، عَنْ مُقَاتِلٍ، بَلَغَنِي أَنَّ وَلَدَ نُوحٍ ثَلاثَةٌ: سَامٌ وَحَامٌ وَيَافِثُ، فَوَلَدُ سَامٍ الْعَرَبُ وَأَهْلُ الشَّامِ وَفَارِسُ وَالْيَهُودُ. . . . . وَمِصْرُ، وَوَلَدُ حَامٍ السُّودَانُ،. . . . . . . الْقِبْطُ وَبَرْبَرٌ وَالْهِنْدُ وَالسِّنْدُ، وَوَلَدُ يَافِثَ التُّرْكُ وَالرُّومُ وَالصَّقَالِبَةُ وَيَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ إِلَى الصِّينِ
২০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আবদুল আজিজ বিন আলি বিন. . . . , আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুলায়মান বিন আর-রাবী‘, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কাদিহ, মুকাতিল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, নূহের সন্তান তিনজন: সাম, হাম এবং ইয়াফিস। সামের বংশধর হলো আরব, শামবাসী, পারস্য, ইয়াহুদি. . . . . এবং মিসর। হামের বংশধর হলো সুদানবাসী, . . . . . . . কিবতি, বারবার, হিন্দ এবং সিন্ধু। আর ইয়াফিসের বংশধর হলো তুর্কি, রোমক, সাকালিবা, ইয়াজুজ ও মাজুজ, যা চীন পর্যন্ত বিস্তৃত।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
21 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ شَاهِينَ، نا أَبِي، نا الْحُسَيْنُ بْنُ صَدَقَةَ، نا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي خَيْثَمَةَ، نا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، نا ضَمْرَةُ، عَنِ ابْنِ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: وَلَدُ حَامٍ كُلُّ أَسْوَدَ جَعْدُ الشَّعْرِ، وَوَلَدُ يَافِثَ كُلُّ عَظِيمِ الْوَجْهِ صَغِيرُ الْعَيْنِ، وَوَلَدُ سَامٍ كُلُّ حَسَنِ الْوَجْهِ وَحَسَنُ الشَّعْرِ، قَالَ: وَدَعَا نُوحٌ عَلَى حَامٍ أَنْ لا يَعْدُوَ شَعْرُ وَلَدِهِ آذَانَهُمْ وَحَيْثُ مَا لَقِيَ وَلَدَهُ وَلَدُ سَامٍ اسْتَعْبَدُوهُمْ
২১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে শাহীন, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবনে সাদাকা, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আবি খাইসামা, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারুন ইবনে মারুফ, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দামরাহ, ইবনে আতা থেকে বর্ণিত, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হামের বংশধররা সকলে কৃষ্ণবর্ণ ও কোঁকড়ানো চুল বিশিষ্ট, ইয়াফিসের বংশধররা সকলে চওড়া মুখমণ্ডল ও ছোট চোখ বিশিষ্ট এবং সামের বংশধররা সকলে সুন্দর চেহারা ও সুন্দর চুল বিশিষ্ট। তিনি বলেন: নূহ হামের বিরুদ্ধে এই বদদোয়া করেছিলেন যে, তার সন্তানদের চুল যেন তাদের কান অতিক্রম না করে এবং যেখানেই সামের সন্তানরা তার সন্তানদের দেখা পাবে, তারা যেন তাদের দাসে পরিণত করে।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
22 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخَلالُ، نا يُوسُفُ بْنُ عُمَرَ الزَّاهِدُ، قَالَ: قُرِئَ عَلَى أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ النَّيْسَابُورِيِّ، وَأَنَا أَسْمَعُ ، قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، أنا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قِيلَ لِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ: أَحْيِ حَامَ بْنَ نُوحٍ، قَالَ: أَرُونِي قَبْرَهُ، فَأَرَوْهُ فَقَامَ عَلَيْهِ فَقَالَ: يَا حَامُ بْنَ نُوحٍ احْيَ بِإِذْنِ اللَّهِ، فَلَمْ يَخْرُجْ، ثُمَّ قَالَهَا الثَّانِيَةَ فَإِذَا شِقُّ رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ أَبْيَضُ قَالَ: مَا هَذَا؟ قَالَ: سَمِعْتُ الدُّعَاءَ الأَوَّلَ فَظَنَنْتُ أَنَّهُ مِنَ اللَّهِ عز وجل فَشَابَ لَهُ شِقِّي ، ثُمَّ سَمِعْتُ الثَّانِي فَعَلِمْتُ أَنَّهُ مِنَ الدُّنْيَا فَخَرَجْتُ، قَالَ: مُنْذُ كَمْ مُتَّ؟ قَالَ: مِنْ أَرْبَعَةِ آلافِ سَنَةٍ مَا ذَهَبَتْ عَنِّي سَكْرَةُ الْمَوْتِ
22 - আমাদের কাছে আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে মুহাম্মাদ আল-খাল্লাল বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ ইবনে উমর আজ-জাহিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ আন-নিসাবুরীর নিকট পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি তখন শুনছিলাম। তাকে বলা হয়েছিল: ইউনুস ইবনে আব্দুল আ'লা আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে লাহিয়াহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল হাদ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেন যে, ঈসা ইবনে মারইয়ামকে বলা হলো: আপনি নূহের পুত্র হামকে জীবিত করুন। তিনি বললেন: আমাকে তার কবর দেখাও। তারা তাকে কবরটি দেখালো। তখন তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বললেন: হে নূহের পুত্র হাম! আল্লাহর অনুমতিক্রমে জীবিত হও। কিন্তু সে বের হলো না। অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার ডাক দিলেন, তখন দেখা গেল তার মাথার এক পাশ এবং দাড়ি সাদা হয়ে গেছে। তিনি বললেন: এটি কী? সে বলল: আমি প্রথম ডাকটি শুনেছিলাম এবং মনে করেছিলাম যে এটি মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে, ফলে সেই কারণে আমার এক পাশ পেকে সাদা হয়ে গিয়েছে। অতঃপর আমি দ্বিতীয় ডাকটি শুনলাম এবং বুঝতে পারলাম যে এটি দুনিয়া থেকে (আহ্বান করা হচ্ছে), তাই আমি বের হলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কত বছর আগে মারা গিয়েছ? সে বলল: চার হাজার বছর আগে, কিন্তু এখনও আমার থেকে মৃত্যুর যন্ত্রণা দূর হয়নি।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
23 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْقَزْوِينِيُّ الزَّاهِدُ، أنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبَزَّازُ، نا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ. . .، نا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْحَسَّانِيُّ، نا وَكِيعٌ، نا أَبِي، وَإِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي مُوسَى، فِي قَوْلِهِ: {يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ} ، مَنْ قَالَ: «ضِعْفَيْنِ بِلِسَانِ الْحَبَشِيَّةِ»
২৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ আল-কাজভিনী আল-জাহিদ, আমাদের অবহিত করেছেন আবু বকর আহমদ ইবনে ইবরাহিম আল-বাজজাজ, আমাদের বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে আহমদ... আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-হাসসানি, আমাদের বর্ণনা করেছেন ওয়াকি, আমাদের বর্ণনা করেছেন আমার পিতা এবং ইসরাঈল, তারা আবু ইসহাক থেকে, তিনি আল-আহওয়াস থেকে, তিনি আবু মুসা থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: {তিনি তোমাদেরকে দ্বিগুণ অংশ দান করবেন}, তিনি বলেন: "হাবশী ভাষায় এর অর্থ হলো দ্বিগুণ অংশ।"
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
24 - وَبِهِ إِلَى وَكِيعٍ، نا إِسْرَائِيلُ،. . . . أَبِي مَيْسَرَةَ عَمْرو بْنُ شُرَحْبِيلَ، قَالَ: الأَوَّاهُ: الرَّحِيمُ بِلِسَانِ الْحَبَشَةِ
২৪ - এবং একই সনদে ওকী পর্যন্ত; ইসরাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন... আবূ মাইসারাহ আমর ইবনে শুরাহবীল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: 'আল-আওয়াহ' এর অর্থ হাবশী ভাষায় পরম দয়ালু।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
25 - وَبِهِ إِلَى وَكِيعٍ، نا إِسْرَائِيلُ، وَأَبِي، عَنْ سَعْدِ بْنِ عِيَاضٍ، قَالَ: الْمِشْكَاةُ الْكُوَّةُ بِلِسَانِ الْحَبَشَةِ
২৫ - এবং উক্ত সূত্রের মাধ্যমে ওয়াকি' পর্যন্ত পৌঁছেছে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসরাঈল এবং আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, সাদ ইবনে ইয়াদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: মিশকাত হলো হাবাশি (আবিসিনীয়) ভাষায় দেয়ালের কুলুঙ্গি।
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
26 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ شَاهِينَ ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، نا أَبِي، نا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ هُوَ ابْنُ الهَادِي، نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ، نا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَعْبَدٍ الْهَاشِمِيِّ، عَنْ أَسْمَاءَ ابْنَةِ عُمَيْسٍ، قَالَتْ: " كُنْتُ مَعَ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ فِي أَرْضِ الْحَبَشَةِ، فَسَمِعْتُ حَبَشِيَّةً تَقُولُ لِحَبَشِيٍّ دَفَعَ مِكْتَلا عَنْ رَأْسِهَا فِيهِ دَقِيقٌ، فَنَسَفَتِ الرِّيحُ الطَّبَقَ: أَكِلُكَ إِلَى الْمَلِكِ يَوْمَ يَقْعُدُ عَلَى الْكُرْسِيِّ، فَيَأْخُذُ لِلْمَظْلُومِ مِنَ الظَّالِمِ "
২৬ - আবু আল-কাসিম উবাইদুল্লাহ বিন উমর বিন শাহিন—তার নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন ইসহাক—যিনি ইবনুল হাদি—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম বিন সাঈদ আল-জাওহারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু উসামা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যাকারিয়া বিন আবি যায়িদা থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি সাঈদ বিন মাবাদ আল-হাশেমি থেকে, আসমা বিনতে উমাইস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি জাফর বিন আবি তালিবের সাথে হাবশা ভূখণ্ডে ছিলাম। তখন আমি এক হাবশি নারীকে জনৈক হাবশি পুরুষকে বলতে শুনলাম—যে তার মাথার ওপর থেকে আটার একটি ঝুড়ি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিল এবং বাতাস আটাগুলো উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল—সে বলছিল: 'আমি তোমাকে সেই বাদশাহর নিকট সোপর্দ করছি, যেদিন তিনি কুরসির ওপর বসবেন এবং জালেমের নিকট থেকে মজলুমের পাওনা বুঝে নেবেন'।"
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
27 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ شَاهِينَ، نا أَبِي، نا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَيُّوبَ. . . . . ، هُو و َعَبْد اللَّهِ بْن مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ النَّيْسَابُورِيُّ، نا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، نا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ ابْنِ خَيْثَمٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: لَمَّا رَجَعَتْ مُهَاجِرَةُ الْحَبَشَةِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «أَلا تُحَدِّثُونِي بِأَعْجَبِ شَيْءٍ رَأَيْتُمْ بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ» ، قَالَ فِتْيَةٌ مِنْهُمْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ إِذْ مَرَّتْ عَلَيْنَا عَجُوزٌ مِنْ عَجَائِزِهِمْ تَحْمِلُ عَلَى رَأْسِهَا قُلَّةً مِنْ مَاءٍ فَمَرَّتْ بِفَتًى مِنْهُمْ، فَجَعَلَ إِحْدَى يَدَيْهِ بَيْنَ كَتِفَيْهَا ثُمَّ دَفَعَهَا عَلَى رُكْبَتِهَا فَانْكَسَرَتْ قُلَّتُهَا، فَلَمَّا ارْتَفَعَتِ الْتَفَتَتْ إِلَيْهِ، فَقَالَتْ: سَوْفَ تَعْلَمُ يَا غُدَرُ إِذَا وَضَعَ اللَّهُ عز وجل الْكُرْسِيَّ وَجَمَعَ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ وَتَكَلَّمَتِ الأَيْدِي وَالأَرْجُلُ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ تَعْلَمُ أَمْرِي وَأَمْرَكَ عِنْدَهُ غَدًا.فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «صَدَقَتْ ، كَيْفَ يُقَدِّسُ اللَّهُ قَوْمًا لا يُؤْخَذُ لِضَعِيفِهِمْ مِنْ قَوِيِّهِمْ»
২৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসেম উবায়দুল্লাহ বিন উমর বিন শাহীন, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আইয়ুব. . . . . , তিনি এবং আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন যিয়াদ আন-নাইসাবুরী, তাঁরা বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস বিন আব্দুল আ'লা, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে ওয়াহাব, তিনি বলেন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুসলিম বিন খালিদ, ইবনে খাইসাম থেকে, তিনি আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন আবিসিনিয়ার হিজরতকারীরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে এলেন, তিনি বললেন: «তোমরা কি আমাকে আবিসিনিয়া ভূখণ্ডে দেখা সবচেয়ে আশ্চর্যজনক কোনো বিষয় সম্পর্কে বলবে না?», তাদের মধ্য থেকে কয়েকজন যুবক বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, একদিন আমরা বসে ছিলাম, তখন আমাদের পাশ দিয়ে তাদের জনৈক বৃদ্ধা মহিলা যাচ্ছিলেন, যিনি তাঁর মাথায় একটি পানির কলস বহন করছিলেন। তিনি যখন তাদের এক যুবকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন যুবকটি তার এক হাত বৃদ্ধার দুই কাঁধের মাঝখানে রেখে তাকে ধাক্কা দিল, ফলে তিনি তাঁর হাঁটুর ওপর পড়ে গেলেন এবং তাঁর কলসটি ভেঙে গেল। যখন তিনি উঠে দাঁড়ালেন, তিনি সেই যুবকের দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন: হে বিশ্বাসঘাতক! তুমি শীঘ্রই জানতে পারবে যখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা কুরসি স্থাপন করবেন এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে একত্রিত করবেন এবং হাত ও পা তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে কথা বলবে; তখন আগামীকাল তাঁর কাছে তুমি আমার ও তোমার বিষয়টি জানতে পারবে।তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «সে সত্য বলেছে। আল্লাহ কীভাবে সেই জাতিকে পবিত্র করবেন, যাদের সবলদের নিকট থেকে দুর্বলদের পাওনা আদায় করা হয় না?»
(খণ্ড: ১)
আহাদীসুস সালাফী আন জাফার আস-সাররাজ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
28 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، نا أَبِي، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، نا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْمَرْوَزِيُّ، نا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ ابْنِ خَيْثَمٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: لَمَّا رَجَعَتْ مُهَاجِرَةُ الْحَبَشَةِ، قَالَ: بَعَثَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَلا تُحَدِّثُونِي بِأَعْجَبِ مَا رَأَيْتُمْ» .وَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ
২৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে উমর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আল-মারওয়াযি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সুলায়মান, তিনি ইবনে খাইসাম থেকে, তিনি আবু আয-যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: যখন হাবশার মুহাজিরগণ ফিরে আসলেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে পাঠালেন (এবং বললেন): «তোমরা কি আমাকে তোমাদের দেখা সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়টি বলবে না?»।এবং তিনি হাদিসটি দীর্ঘভাবে উল্লেখ করেছেন।