(খণ্ড: ১) হাওলা শুবহাতির রাকীক - যিমন মুহাযারাতুশ শানকিতী (পৃষ্ঠা: -)
حول شبهة الرقيق - ضمن «محاضرات الشنقيطي»   (محمد الأمين الشنقيطي)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: حول شبهة الرقيق

[آثار الشيخ العلامة محمد الأمين الشنقيطي (11) «المحاضرات»]

المؤلف: محمد الأمين بن محمد المختار الجكني الشنقيطي (1325 - 1393 هـ)

المحقق: علي بن محمد العمران

الناشر: دار عطاءات العلم (الرياض) - دار ابن حزم (بيروت)

الطبعة: الخامسة، 1441 هـ - 2019 م (الأولى لدار ابن حزم)

عدد الصفحات: 13

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 شوّال 1442

দাসপ্রথা বিষয়ক সংশয় নিরসন প্রসঙ্গে - «শানকিতির বক্তৃতাসমগ্র» এর অন্তর্ভুক্ত   (মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকিতি)

বিভাগ: মতবাদ এবং খণ্ডন


গ্রন্থ: দাসপ্রথা বিষয়ক সংশয় নিরসন প্রসঙ্গে

[শায়খ আল্লামা মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকিতির রচনাবলী (১১) «বক্তৃতাসমগ্র»]

লেখক: মুহাম্মাদ আল-আমিন বিন মুহাম্মাদ আল-মুখতার আল-জাকানি আশ-শানকিতি (১৩২৫ - ১৩৯৩ হিজরি)

সম্পাদক: আলী বিন মুহাম্মাদ আল-উমরান

প্রকাশক: দার আতায়াতিল ইলম (রিয়াদ) - দার ইবনে হাজম (বৈরুত)

সংস্করণ: পঞ্চম, ১৪৪১ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ (দার ইবনে হাজম কর্তৃক প্রথম সংস্করণ)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩

শামেলা লাইব্রেরিতে পেশ করেছে: «আতায়াতিল ইলম» ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৪ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১) হাওলা শুবহাতির রাকীক - যিমন মুহাযারাতুশ শানকিতী (পৃষ্ঠা: ১৮১)
المحاضرة الثامنة حول شُبْهة الرقيق

--------------------------------------------

قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: قال المحقق في المقدمة: كتبها الشيخ في عام 1385 وألقاها عنه تلميذه الشيخ محمد رشاد سالم وهو حاضر، ثم طبعت بعد ذلك في رسالة لطيفة مع مقدمة مطوّلة للشيخ محمد رشاد، وقد علق على بعض المواضع فيها فأثبتنا تعليقاته وختمناها بحرف [ع].

وهذه المحاضرة لم تكن في الطبعات السابقة، فألحقناها بهذه الطبعة، وقد أرسَلَتْها لي إحدى الأخوات الدارسات في مرحلة الدكتوراه جزاها الله خيرًا.
দাসপ্রথা সংক্রান্ত সংশয় বিষয়ক অষ্টম বক্তৃতা

--------------------------------------------

শামেলা লাইব্রেরির জন্য গ্রন্থটি প্রস্তুতকারী বলেছেন: মুহাক্কিক (গবেষক) ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন: শায়খ এটি ১৩৮৫ হিজরি সালে রচনা করেছেন এবং তাঁর উপস্থিতিতেই তাঁর ছাত্র শায়খ মুহাম্মদ রাশাদ সালিম তাঁর পক্ষ থেকে এটি পাঠ করেন। পরবর্তীতে এটি শায়খ মুহাম্মদ রাশাদের একটি দীর্ঘ ভূমিকার সাথে একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকা হিসেবে মুদ্রিত হয়। তিনি এর কিছু স্থানে টীকা প্রদান করেছেন, যা আমরা এখানে বহাল রেখেছি এবং সেগুলোকে [আঈন] বর্ণ দিয়ে চিহ্নিত করেছি।

এই বক্তৃতাটি পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোতে ছিল না, তাই আমরা বর্তমান সংস্করণে এটি অন্তর্ভুক্ত করেছি। পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণারত জনৈক বোন এটি আমার নিকট পাঠিয়েছেন; আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) হাওলা শুবহাতির রাকীক - যিমন মুহাযারাতুশ শানকিতী (পৃষ্ঠা: ১৮৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

والصلاة والسلام على نبينا محمد صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه وبعد.

فإن إزالة هذه الشبهة ونحوها واضحة من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، ولا شك أن دين الإسلام الذي هو تشريع خالق السموات والأرض على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم صالحٌ في كل الأزمنة والأمكنة إلى يوم القيامة، ولو بلغ التطوّرُ ما بلغ. وهو كفيل بحفظ جميع المصالح البشرية، وتنظيم علاقاتهم فيما بينهم وسائر أحوالهم. وفيه المحافظة التامة بأقوم الطرق وأعدلها على حفظ دين المجتمع وأنفسهم وعقولهم وأنسابهم وأعراضهم وأموالهم.

ولا شك أن من أوضح أحكامه حكمةً، وأظهرها دليلًا، الحكم بالملك بالرقّ، المعبَّر عنه في القرآن "بالملك باليمين"؛ لأن اليمين هي الجارحة التي بها أغلب التصرفات، فأضيف ملك الرقيق إلى اليمين تأكيدًا لحكم ذلك الملك واقتضائه تصرفُّ السيد في عبده التصرفَ الكامل حسب ما اقتضاه الشرع الكريم. وذلك كقوله تعالى: {فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ} [النساء: 3]، وقوله تعالى: {وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ (5) إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ} [المؤمنون: 5، والمعارج: 29]، وقوله تعالى: {وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ} [النساء: 36]، وقولِه تعالى: {وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ} [النساء: 24]، وقولِه تعالى: {لَا يَحِلُّ لَكَ النِّسَاءُ مِنْ بَعْدُ وَلَا أَنْ تَبَدَّلَ بِهِنَّ مِنْ أَزْوَاجٍ وَلَوْ أَعْجَبَكَ حُسْنُهُنَّ إِلَّا مَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ} [الأحزاب: 52]، وقولِه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক। অতঃপর:

নিশ্চয়ই এই সংশয় এবং অনুরূপ অন্যান্য সংশয়ের নিরসন আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইসলাম ধর্ম—যা আসমান ও যমীনের স্রষ্টার পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জবানে বর্ণিত একটি বিধান—তা কিয়ামত পর্যন্ত সকল কাল ও স্থানের জন্য উপযোগী, বিবর্তন বা আধুনিকতা যে পর্যায়েই পৌঁছাক না কেন। এটি মানবজাতির সকল কল্যাণ রক্ষা এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও যাবতীয় অবস্থা সুশৃঙ্খল করার নিশ্চয়তা প্রদান করে। এতে সমাজের ধর্ম, জীবন, বুদ্ধি-বিবেক, বংশমর্যাদা, সম্মান ও সম্পদ সুরক্ষার সুদৃঢ় ও ইনসাফপূর্ণ পদ্ধতি বিদ্যমান রয়েছে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রজ্ঞার দিক থেকে ইসলামের অন্যতম স্পষ্ট বিধান এবং দলিলের দিক থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল বিষয় হলো দাসত্বের মাধ্যমে মালিকানা লাভের বিধান, যাকে পবিত্র কুরআনে "ডান হাতের মালিকানা" বলে ব্যক্ত করা হয়েছে। কারণ ডান হাত হচ্ছে সেই অঙ্গ যা দ্বারা অধিকাংশ কার্যাবলি সম্পাদিত হয়; তাই দাসের মালিকানাকে ডান হাতের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে সেই মালিকানার বিধানকে সুসংহত করার জন্য এবং মহিমান্বিত শরীয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী দাসের ওপর তার মালিকের পূর্ণ কর্তৃত্বের দাবি পূরণের লক্ষ্যে। যেমনটি মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তবে তোমরা যদি আশঙ্কা কর যে তোমরা ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে একজনকে (বিয়ে কর) অথবা তোমাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে} [নিসা: ৩], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে হেফাজত করে (৫) তবে তাদের স্ত্রী অথবা তাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে তারা ব্যতীত; কারণ তারা এতে তিরস্কৃত হবে না} [মুমিনূন: ৫, মা'আরিজ: ২৯], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং পার্শ্বস্থ সঙ্গী, মুসাফির এবং তোমাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে} [নিসা: ৩৬], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং নারীদের মধ্যে যারা বিবাহিতা তারা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ, তবে তোমাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে তারা ব্যতীত} [নিসা: ২৪], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এরপর তোমার জন্য অন্য কোনো নারী বৈধ নয় এবং এদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করাও বৈধ নয়, যদিও তাদের সৌন্দর্য তোমাকে মুগ্ধ করে, তবে তোমার ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে তারা ব্যতীত} [আহযাব: ৫২], এবং তাঁর বাণী ও সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ...
(খণ্ড: ১) হাওলা শুবহাতির রাকীক - যিমন মুহাযারাতুশ শানকিতী (পৃষ্ঠা: ১৮৪)
تعالى: {وَلَا نِسَائِهِنَّ وَلَا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ} [الأحزاب: 55]، وقوله تعالى: {أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ} [النور: 31]، وقولِه تعالى: {وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ مِنْكُمْ طَوْلًا أَنْ يَنْكِحَ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ فَمِنْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ مِنْ فَتَيَاتِكُمُ الْمُؤْمِنَاتِ} [النساء: 25]، وقوله تعالى: {فَمَا الَّذِينَ فُضِّلُوا بِرَادِّي رِزْقِهِمْ عَلَى مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ} [النحل: 71]، وقوله تعالى: {ضَرَبَ لَكُمْ مَثَلًا مِنْ أَنْفُسِكُمْ هَلْ لَكُمْ مِنْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ مِنْ شُرَكَاءَ} الآية [الروم: 28] إلى غير ذلك من الآيات. والمراد بمِلك اليمين في جميعها ملكُ الرقيق بالرقّ، وإنما قلنا إنه من أوضح الأحكام حكمةً، وأظهرها دليلًا؛ لأن سبب الرقّ هو الكفر ومحاربة اللّه ورسوله.

وإيضاح ذلك: أن الله خلَقَ الخَلْق ليوحّدوه ويعبدوه ويمتثلوا أمرَه ويجتنبوا نهيه، كما قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ (56) مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَنْ يُطْعِمُونِ} [الذاريات: 56، 57] وأسبغ عليهم نعمه ظاهرةً وباطنة، كما قال تعالى: {أَلَمْ تَرَوْا أَنَّ اللَّهَ سَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَأَسْبَغَ عَلَيْكُمْ نِعَمَهُ ظَاهِرَةً وَبَاطِنَةً} [لقمان: 20]، وقال تعالى: {وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا} [النحل: 18]، وجعل لهم السمع والأبصار والأفئدة ليشكروا له، وقال تعالى: {وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْئًا وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} [النحل: 78].
মহান আল্লাহ বলেন: "তাদের নারীগণের ক্ষেত্রেও নয় এবং তাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীদের ক্ষেত্রেও নয়" [আল-আহযাব: ৫৫], এবং মহান আল্লাহর বাণী: "অথবা তাদের নারীগণের নিকট অথবা তাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীদের নিকট" [আন-নূর: ৩১], এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন মুমিন নারীদের বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, সে যেন তোমাদের মালিকানাধীন মুমিন দাসীদের বিয়ে করে" [আন-নিসা: ২৫], এবং মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর যাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করা হয়েছে তারা তাদের জীবিকা তাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীদের ফিরিয়ে দেয় না" [আন-নাহল: ৭১], এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকে একটি দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন; আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দান করেছি, তাতে কি তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীদের মধ্য থেকে তোমাদের কোনো অংশীদার আছে?" আয়াতটি শেষ পর্যন্ত [আর-রুম: ২৮], এবং এই জাতীয় অন্যান্য আয়াতসমূহ। এই সবকটি আয়াতে 'মালিকানাধীন' বলতে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ দাসের মালিকানাকেই বোঝানো হয়েছে। আমরা বলেছি যে, হিকমত বা প্রজ্ঞার বিচারে এটি অন্যতম স্পষ্ট বিধান এবং দলিলের দিক থেকেও অত্যন্ত সুস্পষ্ট; কারণ দাসত্বের মূল কারণ হলো কুফরী এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া।

এর ব্যাখ্যা হলো: আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন যাতে তারা তাঁর একত্ববাদ ঘোষণা করে, তাঁর ইবাদত করে, তাঁর আদেশসমূহ পালন করে এবং তাঁর নিষেধসমূহ বর্জন করে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের কাছে কোনো রিযিক চাই না এবং আমি চাই না যে তারা আমাকে আহার করাক" [আদ-যারিয়াত: ৫৬, ৫৭]। এবং তিনি তাদের ওপর তাঁর প্রকাশ্য ও গোপন নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করে দিয়েছেন, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা কি দেখনি যে, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে আল্লাহ তা তোমাদের অনুগত করে দিয়েছেন এবং তোমাদের ওপর তাঁর প্রকাশ্য ও গোপন নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন?" [লুকমান: ২০]। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামত গণনা করো, তবে তার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না" [আন-নাহল: ১৮]। এবং তিনি তাদের জন্য শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ তৈরি করেছেন যাতে তারা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের গর্ভ থেকে বের করেছেন এমন অবস্থায় যে তোমরা কিছুই জানতে না; আর তিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ ও অন্তঃকরণ দান করেছেন যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো" [আন-নাহল: ৭৮]।
(খণ্ড: ১) হাওলা শুবহাতির রাকীক - যিমন মুহাযারাতুশ শানকিতী (পৃষ্ঠা: ১৮৫)
فتمرَّد الكفارُ على ربهم وطغَوا وعتَوا وأعلنوا الحرب على رسله لئلا تكون كلمتُه هي العليا، واستعملوا جميع المواهب التي أنعم الله عليهم بها في محاربته وارتكاب ما يُسخطه ومعاداته ومعاداة أوليائه القائمين بأمره. وهذا من أعظم الجرائم التي يتصوّرها الإنسان.

فعاقبهم الله الحَكَمُ العدل اللطيف الخبير جل وعلا عقوبةً شديدة تُناسب جريمتَهم، فوضعهم من مقام الإنسانية الكاملة إلى مقام أسفل منه كمقام الحيوانات، وهم في الحقيقة كالحيوانات. كما قال تعالى: {أَمْ تَحْسَبُ أَنَّ أَكْثَرَهُمْ يَسْمَعُونَ أَوْ يَعْقِلُونَ إِنْ هُمْ إِلَّا كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ سَبِيلًا} [الفرقان: 44] وقال تعالى: {أُولَئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ} [الأعراف: 179]. وقال تعالى: {وَالَّذِينَ كَفَرُوا يَتَمَتَّعُونَ وَيَأْكُلُونَ كَمَا تَأْكُلُ الْأَنْعَامُ وَالنَّارُ مَثْوًى لَهُمْ} [محمد: 12] فأجاز بيعَهم وشراءهم وغير ذلك من التصرفات المالية.

وهذه العقوبة الثانوية التي شرعها خالق السموات والأرض المحيطُ علمه بكلّ شيء كأنه قِتلة أدبية لا قِتلةٌ قاطعةٌ للحياة بمفارقة الروح البدن.

ولو فرضنا - ولله المثل الأعلى - أن حكومة من هذه الحكومات - التي تنكر المِلك بالرق وتُشنِّع على دين الإسلام بذلك - قام عليها رجال من رعاياها - كانت تُغدِق عليهم النعم وتسدي إليهم جميعَ أنواع الإحسان - ودبَّروا عليها ثورةً مسلحة لمحاولة قلب نظام حكمها، ثم قدَرت عليهم بعد مقاومة شديدة فإنها تقتلهم شرَّ قِتلة قاضيةً بمفارقة
অনন্তর কাফেররা তাদের রবের অবাধ্যতা করল, সীমালঙ্ঘন করল ও ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করল এবং তাঁর রাসূলগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল যাতে আল্লাহর বাণী সর্বোচ্চ না থাকে। তারা আল্লাহ প্রদত্ত সকল মেধা ও সক্ষমতাকে তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া, তাঁর অসন্তোষজনক কাজ সম্পাদন এবং তাঁর ও তাঁর আদিষ্ট পথে অটল থাকা বন্ধুদের সাথে শত্রুতা পোষণে ব্যয় করল। এটি মানুষের কল্পনায় আসা জঘন্যতম অপরাধসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

অতঃপর ন্যায়বিচারক, পরম দয়ালু ও সর্বজ্ঞ আল্লাহ (যাঁর মহিমা অতি উচ্চ) তাদের অপরাধের উপযুক্ত কঠোর শাস্তি প্রদান করলেন। তিনি তাদের পূর্ণাঙ্গ মানবতার স্তর থেকে পশুত্বের নিম্নস্তরে নামিয়ে দিলেন; আর তারা প্রকৃতপক্ষে চতুষ্পদ জন্তুর মতোই। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "আপনি কি মনে করেন যে তাদের অধিকাংশই শোনে অথবা বোঝে? তারা তো কেবল চতুষ্পদ জন্তুর মতো, বরং তারা আরও অধিক পথভ্রষ্ট।" [সূরা আল-ফুরকান: ৪৪] তিনি আরও বলেছেন: "তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো, বরং তারা আরও অধিক পথভ্রষ্ট; তারাই হলো গাফেল বা উদাসীন।" [সূরা আল-আরাফ: ১৭৯] আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "আর যারা কুফরি করে তারা ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকে এবং চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় আহার করে; আর জাহান্নামই তাদের আবাসস্থল।" [সূরা মুহাম্মদ: ১২] ফলে তিনি তাদের ক্রয়-বিক্রয় এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেনকে বৈধ করেছেন।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা—যাঁর জ্ঞান সর্বব্যাপী—কর্তৃক প্রবর্তিত এই আনুষঙ্গিক শাস্তিটি মূলত একটি আধ্যাত্মিক বা মর্যাদাগত মৃত্যুদণ্ডের ন্যায়; এটি দেহ থেকে আত্মার বিচ্ছেদের মাধ্যমে জীবনাবসানকারী কোনো মৃত্যু নয়।

এবং আমরা যদি ধরে নিই—আর আল্লাহর জন্যই সর্বোচ্চ উদাহরণ—যে এই সকল সরকারের কোনো একটি, যারা দাসত্বের মাধ্যমে মালিকানা লাভকে অস্বীকার করে এবং এ কারণে ইসলাম ধর্মের নিন্দা জ্ঞাপন করে; তাদেরই কিছু প্রজা—যাদের প্রতি সরকার সর্বদা অনুগ্রহ করত এবং সব ধরনের কল্যাণ সাধন করত—তারা যদি সেই সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের ষড়যন্ত্র করে শাসনব্যবস্থা উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং তীব্র প্রতিরোধের পর সরকার যদি তাদের কাবু করতে সক্ষম হয়, তবে সরকার তাদের অত্যন্ত নৃশংসভাবে মৃত্যুদণ্ড দেবে, যা জীবনাবসান ঘটাবে দেহ থেকে আত্মার বিচ্ছেদের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) হাওলা শুবহাতির রাকীক - যিমন মুহাযারাতুশ শানকিতী (পৃষ্ঠা: ১৮৬)
الروح البدن. والكافر يغدِقُ عليه خالقُه نِعَم الدنيا، وهو يُدبِّر ثورةً مسلحة لمحاولة قلب النظام السماوي الذي وصفه خالقُ السموات والأرض.

فكيف يُنكرون حكمَ الله بقتله القِتلةَ الأدبية المذكورة وهو لو كان مثلُه قائمًا عليهم لقتلوه أعظم قتلة؟

وهذا يدلّ على سخافة عقولهم في إنكارهم المِلكَ بالرق وهم يُسوِّغون لأنفسهم ما هو أعظم منه، بل عُرف يقينًا من عادتهم أنهم يستعبدون كلَّ مَن قدَروا على استعباده من الأحرار بدون مبرّرٍ يقتضي ذلك، فتوزعهم عن الحكم بالرقّ صيانةً لحقوق الأنسانية في زعمهم الكاذب مع استعبادهم كلَّ مَن قدَروا على استعباده شرَّ استعباد شبيه بتورُّع القائل:

أُريدُ هِجاءَه وأخاف ربي … وأعلمُ أنه عبدٌ لئيم

مع أن خالق السموات والأرض لما عاقب الكفار العقوبةَ المذكورةَ الشبيهة بالقِتْلة الأدبية لم يسلبهم حقوقَ الإنسانية سلبًا كليًّا، بل أوجب على مالكهم الرفقَ بهم، والإحسانَ إليهم، وأن يُطعموهم مما يَطعمون، ويكسوهم مما يلبسون، ولا يكلفوهم من العمل ما لا يطيقون، وإن كلفوهم أعانوهم كلما هو معلوم.

وبالجملة فقد بذل الكافر كلَّ ما في وُسعه ليحول دون إقامة نظام الله الذي شرعَه ليسير عليه خلقه، فينشر به في الأرض الأمنَ والطمأنينة والرخاءَ والعدالةَ والمساواة في الحقوق الشرعية، وتنتظم به الحياة من
প্রাণ ও দেহ। আর কাফের ব্যক্তির প্রতি তার স্রষ্টা দুনিয়াবি নেয়ামত অকাতরে দান করেন, অথচ সে আসমান ও যমীনের স্রষ্টা কর্তৃক নির্ধারিত আসমানি বিধানকে উৎখাত করার লক্ষে সশস্ত্র বিপ্লবের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে।

সুতরাং তারা আল্লাহর সেই হুকুমকে কীভাবে অস্বীকার করে যাতে তাকে উল্লিখিত মর্যাদাগত মৃত্যুর দণ্ড দেওয়া হয়েছে, অথচ তার মতো কেউ যদি তাদের ওপর ক্ষমতাসীন হতো তবে তারা তাকে নৃশংসতম পন্থায় হত্যা করত?

আর এটি তাদের বিবেকের অসারতাকেই প্রমাণ করে যে, তারা দাসত্বের মালিকানাকে অস্বীকার করে অথচ তারা নিজেদের জন্য তার চেয়েও গুরুতর বিষয়কে বৈধ মনে করে। বরং নিশ্চিতভাবে এটি জানা আছে যে, তাদের অভ্যাস হলো তারা যে কোনো স্বাধীন মানুষকে কবজায় পাওয়া মাত্রই কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই দাসে পরিণত করে। তাই তাদের মিথ্যা দাবিতে মানবাধিকার রক্ষার দোহাই দিয়ে দাসত্বের বিধান থেকে বিমুখ থাকা এবং একই সাথে সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষকে নিকৃষ্টতম দাসত্বে আবদ্ধ করা সেই ব্যক্তির কৃত্রিম খোদাভীতির মতো যে বলে:

আমি তাকে ব্যঙ্গ করতে চাই কিন্তু আমার রবকে ভয় পাই … অথচ আমি জানি সে এক হীন দাস

অথচ আসমান ও যমীনের স্রষ্টা যখন কাফেরদেরকে উল্লিখিত মর্যাদাগত মৃত্যুর সদৃশ দণ্ড প্রদান করেন, তখন তিনি তাদের থেকে মানবিক অধিকারসমূহ পুরোপুরি কেড়ে নেননি। বরং তিনি তাদের মালিকদের ওপর তাদের সাথে নম্র ব্যবহার করা এবং তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা আবশ্যক করেছেন; আরও নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা যা খায় তা-ই তাদের খাওয়ায়, নিজেরা যা পরিধান করে তা-ই তাদের পরিধান করায় এবং তাদের ওপর সাধ্যাতীত কাজের বোঝা না চাপায়; আর যদি তারা তাদের কষ্টকর কোনো কাজের দায়িত্ব দেয় তবে যেন তারা তাতে সাহায্য করে—যেমনটি সুপরিচিত।

সারকথা এই যে, কাফের ব্যক্তি আল্লাহর প্রবর্তিত সেই বিধান প্রতিষ্ঠায় বাধা দিতে নিজের সর্বশক্তি ব্যয় করে যা তিনি তাঁর সৃষ্টির অনুসরণের জন্য শরয়িভাবে নির্ধারণ করেছেন, যাতে এর মাধ্যমে পৃথিবীতে নিরাপত্তা, প্রশান্তি, সমৃদ্ধি, ইনসাফ ও শরয়ি অধিকারের ক্ষেত্রে সাম্য ছড়িয়ে পড়ে এবং এর মাধ্যমে জীবন সুসংগঠিত হয়...
(খণ্ড: ১) হাওলা শুবহাতির রাকীক - যিমন মুহাযারাতুশ শানকিতী (পৃষ্ঠা: ১৮৭)
جميع وجوهها ونواحيها على أكمل الوجوه وأعدلها وأسماها. {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ} [النحل: 90].

وبذلُه كل ما في وسعه ضدَّ ذلك يستوجب به القتلَ الأدبي، بل والقتل القاطع للحياة(1).

 

ومعلوم أن يخطر(2) في ذهن الطالب السامع أن يقول: إذا كان الرقيق مسلمًا فما وجه ملكه بالرق، مع أن سبب الرقّ الذي هو الكفر والتمرُّد على النظام السماوي قد زال؟

والجواب عنه: أن القاعدة المعروفة عند العقلاء والعلماء أن الحق السابق لا يرفعه اللاحق، والأحقِّيَّةُ بالأسبقية ظاهرة لا خفاء بها. فالمسلمون حين يَسْبُون الكفار يثبت لهم عليهم حقُّ الملكية عقوبةً على تمردهم على خالقهم كما أوضحنا، وهذه الملكية بتشريع خالق الجميع وهو الحكيم الخبير. فإذا استقر هذا الحق وثبت ثم أسلم ذلك الرقيق، بعد ذلك كان حقه في الخروج من الرقِّ بالإسلام مسبوقًا بحقِّ

--------------------------------------------

(1) بل لو خرجت جماعة من نفس المسلمين لقَطْع الطريق وأخافت الناسَ وأخذت أموالهم، ولو لم تتعرض لدينهم، لوجب على الحاكم المسلم أن يردعهم ولو بقتلهم: {إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوا} الآية [المائدة: 33]. [ع]

(2) في ط: "يحضر" وستأتي في عدة مواضع كما أثبتنا.
এর সকল দিক ও বিভাগে সর্বাধিক নিখুঁত, ইনসাফপূর্ণ ও সুউচ্চ পন্থায়। "নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দিচ্ছেন; আর তিনি অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করছেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।" [আন-নাহল: ৯০]।

আর এর বিপরীতে কারো সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো তার নৈতিক মৃত্যু, এমনকি জীবন সংহারকারী দণ্ডকেও অনিবার্য করে তোলে(১)।

 

এটি সুবিদিত যে, শিক্ষার্থী বা শ্রোতার মনে এই প্রশ্নের উদয় হতে পারে যে: যদি দাস মুসলিম হয়, তবে দাসত্বের মাধ্যমে তার ওপর মালিকানা বহাল থাকার ভিত্তি কী, যেখানে দাসত্বের মূল কারণ তথা কুফর এবং ঐশী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ অপসারিত হয়েছে?

এর উত্তর হলো: প্রাজ্ঞজন এবং আলিমদের নিকট একটি পরিচিত মূলনীতি রয়েছে যে, ‘পূর্ববর্তী অধিকার পরবর্তী কোনো বিষয় দ্বারা রহিত হয় না’, আর অগ্রগণ্যতার ভিত্তিতে প্রাপ্য অধিকারের বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট। মুসলমানরা যখন কাফেরদের যুদ্ধবন্দী করে, তখন তাদের স্রষ্টার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের শাস্তি হিসেবে তাদের ওপর মালিকানা স্বত্ব সাব্যস্ত হয়, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করেছি। আর এই মালিকানা সবার স্রষ্টা, যিনি প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ, তাঁর শরয়ি বিধান অনুযায়ীই সাব্যস্ত হয়। সুতরাং যখন এই অধিকার স্থির ও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় এবং এরপর যদি সেই দাস ইসলাম গ্রহণ করে, তবে ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে দাসত্ব থেকে মুক্তি লাভের তার অধিকারটির পূর্বেই মালিকানার অধিকারটি...

--------------------------------------------

(১) এমনকি যদি মুসলিমদের মধ্য থেকেই কোনো দল দস্যুবৃত্তি করার জন্য বের হয় এবং মানুষকে আতঙ্কিত করে ও তাদের ধনসম্পদ ছিনিয়ে নেয়, যদিও তারা তাদের দ্বীনের ওপর কোনো আঘাত না হানে, তবুও মুসলিম শাসকের ওপর আবশ্যক হলো তাদের দমন করা, এমনকি তা যদি তাদের হত্যার মাধ্যমেও হয়: "নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি হলো এই যে, তাদের হত্যা করা হবে..." আয়াত [আল-মায়িদাহ: ৩৩]। [আ]

(২) ‘ত্ব’ (ط) পাণ্ডুলিপিতে "উপস্থিত হওয়া" শব্দ এসেছে এবং আমরা যেভাবে সাব্যস্ত করেছি সেভাবে আরও কয়েকটি স্থানে এটি আসবে।
(খণ্ড: ১) হাওলা শুবহাতির রাকীক - যিমন মুহাযারাতুশ শানকিতী (পৃষ্ঠা: ১৮৮)
المجاهدين الذين سبقت لهم ملكيته قبل إسلامه، وليس من العدل والإنصاف رفعُ الحقِّ السابق بالحقِّ المتأخِّر عنه، كما هو معروف عند العقلاء.

ومعلوم أيضًا أن يخطر في ذهن طالب العلم أن يقول: سلَّمنا أن الحق اللاحق لا يَرفع الحقَّ السابق، ولكن يجَمُلُ بصاحب الحق السابق أن يتنازل عن حقِّه لأخيه عندما يكون مسلمًا فيعتقه ولا يسترقّه.

 

والجواب أن يقال: نعم جاء بذلك دين الإسلام، فأمر المسلم بعتق أخيه المسلم، ورغَّبَه في ذلك غايةَ الترغيب، وفتح للعتق أبوابًا كثيرة كإيجابه في الكفارات، وكأمره بالكتابة والحكم بسراية العتق. ونحو ذلك:

1 - قال تعالى: {وَمَنْ قَتَلَ مُؤْمِنًا خَطَأً فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ} [النساء: 92]، وقال تعالى: {فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ} [المائدة: 89]، وقوله تعالى: {وَالَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ} [المجادلة: 3].

2 - وقال تعالى: {وَالَّذِينَ يَبْتَغُونَ الْكِتَابَ مِمَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ فَكَاتِبُوهُمْ إِنْ عَلِمْتُمْ فِيهِمْ خَيْرًا وَآتُوهُمْ مِنْ مَالِ اللَّهِ الَّذِي آتَاكُمْ} [النور: 33]، وحديث الحكم بسراية العتق صحيح مشهور كما هو معلوم.
সেই মুজাহিদগণ, যাদের মালিকানা ওই ব্যক্তির ইসলাম গ্রহণের পূর্বেই সাব্যস্ত হয়েছিল; আর বুদ্ধিমানদের নিকট এটি সর্বজনবিদিত যে, কোনো পরবর্তী অধিকারের মাধ্যমে পূর্ববর্তী অধিকার রহিত করা ন্যায়সংগত ও ইনসাফ পরিপন্থী নয়।

আরও জানা কথা যে, কোনো জ্ঞানান্বেষীর মনে এই প্রশ্ন উদিত হতে পারে যে: আমরা মেনে নিলাম পরবর্তী অধিকার পূর্ববর্তী অধিকারকে রহিত করে না; তবে পূর্ববর্তী অধিকারের অধিকারীর জন্য এটিই শোভনীয় যে, যখন তার দাস মুসলিম হয়, তখন সে তার ভাইয়ের খাতিরে নিজের অধিকার ত্যাগ করবে এবং তাকে মুক্ত করে দেবে, দাসে পরিণত করবে না।

 

এর উত্তরে বলা হবে: হ্যাঁ, ইসলাম ধর্ম সেটিই নিয়ে এসেছে। ইসলাম একজন মুসলিমকে তার মুসলিম ভাইকে মুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে এবং এ বিষয়ে তাকে সর্বোচ্চ উৎসাহিত করেছে। উপরন্তু, দাসমুক্তির জন্য বহু দ্বার উন্মোচন করেছে; যেমন কাফফারার ক্ষেত্রে একে ওয়াজিব করা, মুকাতাবাত (মুক্তির চুক্তি) এর নির্দেশ প্রদান এবং দাসের আংশিক মুক্তিতে পূর্ণ মুক্তির (সরায়া) বিধান। ইত্যাদি:

১ - মহান আল্লাহ বলেন: “আর কেউ যদি ভুলবশত কোনো মুমিনকে হত্যা করে, তবে একজন মুমিন দাস মুক্ত করা আবশ্যক।” [আন-নিসা: ৯২], এবং মহান আল্লাহ বলেন: “সুতরাং এর কাফফারা হলো দশজন মিসকিনকে মধ্যম মানের খাদ্য প্রদান করা যা তোমরা তোমাদের পরিবারকে খাইয়ে থাকো, অথবা তাদের পোশাক দান করা কিংবা একজন দাস মুক্ত করা।” [আল-মায়িদাহ: ৮৯], এবং মহান আল্লাহর বাণী: “আর যারা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে জিহার করে, অতঃপর তারা যা বলেছে তা থেকে ফিরে আসতে চায়, তবে (তাদের প্রায়শ্চিত্ত হলো) একজন দাস মুক্ত করা।” [আল-মুজাদালাহ: ৩]।

২ - মহান আল্লাহ আরও বলেন: “তোমাদের মালিকানাধীন দাসদের মধ্যে যারা মুক্তির জন্য লিখিত চুক্তি করতে চায়, তাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হও যদি তোমরা তাদের মধ্যে কল্যাণের সন্ধান পাও এবং আল্লাহর দেওয়া সম্পদ থেকে তাদের দান করো।” [আন-নূর: ৩৩], আর দাসের আংশিক মুক্তিতে পূর্ণ মুক্তির বিধান সম্বলিত হাদিসটি বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ, যেমনটি সবার জানা।
(খণ্ড: ১) হাওলা শুবহাতির রাকীক - যিমন মুহাযারাতুশ শানকিতী (পৃষ্ঠা: ১৮৯)
* أما دعوى أن الإسلام جاء بالرقِّ في فترة معينة فقط، فهو افتراء على الله ورسوله وعلى دينه، وعلامات الإلحاد في مثل ذلك القول واضحة لا لبس فيها. بل المِلك بالرق حكمٌ من أحكام الإسلام يتحقق بوجود مقتضيه إلى يوم القيامة. وقد بيَّنَّا ظهورَ حكمته.

ودعوى إجماع البشرية على منع الرقِّ، من جنس دعاوى الملحدين الكافرين، والبشرية التي يُدَّعى إجماعُها يُراد بها الكفار المتمرِّدون على مَن خلقهم وأذنابهُم الذي يتبعونهم في كل ما قالوا، وهم في الحقيقة مجمعون على إباحتهم لأنفسهم استرقاق جميع مَن قَدَروا على استرقاقه من جميع البشرية كما هو معلوم لا ينازع فيه إلا مكابر في المحسوس(1)، فالاستدلال لإجماع مثل هؤلاء من الكفرة على منع ما جاء في القرآن والسنة الصحيحة أمره واضح كما ترى.

 

* والاحتجاج بآية {فَإِمَّا مَنًّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً} [محمد: 4] على أن القرآن يمنع الرقّ ويوجب على المسلمين أن يمُنّوا على الأسير الكافر أو يفادوه باطل؛ لأن ذِكر المنّ والفِداء في موضعٍ لا يمنَعُ من ذِكْر القتل والاسترقاق في موضع آخر.

قال ابن جرير الطبري في تفسير قوله تعالى: {فَإِمَّا مَنًّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً}:

--------------------------------------------

(1) والرق كان معروفًا في الأمم الماضية، وقد سجل القرآن في قصة يوسف أن السارق كان يسترق. بل قوانينهم الوضعية وكتبهم الدينية تنص على جواز الاسترقاق ولأتفه الأسباب كما ستراه فيما بعد - إن شاء الله - عند المقارنة بين الرق في الإسلام وفي القانون. [ع]
আর ইসলামের দাসত্ব প্রথা কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছিল—এই দাবিটি আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং তাঁর দ্বীনের ওপর একটি অপবাদ মাত্র। এই জাতীয় বক্তব্যের মধ্যে নাস্তিকতার লক্ষণ সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন। বরং দাসের মালিকানা ইসলামের বিধানসমূহের একটি বিধান, যা এর প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীয়তা বিদ্যমান থাকা সাপেক্ষে কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ইতিপূর্বেই আমরা এর হিকমত বা প্রজ্ঞার বিষয়টি স্পষ্ট করেছি।

দাসত্ব নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে মানবজাতির ঐকমত্যের (ইজমা) দাবিটি মূলত অবিশ্বাসী নাস্তিকদের দাবির পর্যায়ভুক্ত। আর এখানে যে 'মানবজাতি'র ঐকমত্যের কথা বলা হচ্ছে, তা দিয়ে মূলত উদ্দেশ্য হলো সেই সব কাফের যারা তাদের স্রষ্টার বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী এবং তাদের সেইসব অনুসারী যারা তাদের প্রতিটি কথা অন্ধভাবে অনুসরণ করে। প্রকৃতপক্ষে, তারা সমগ্র মানবজাতির মধ্য থেকে যাদেরকে দাস বানানো সম্ভব, তাদের দাসত্বকে নিজেদের জন্য বৈধ মনে করার ব্যাপারে একমত; যেমনটি সর্বজনবিদিত এবং যা কেবল বাস্তবতাকে অস্বীকারকারী ব্যক্তিই অস্বীকার করতে পারে(১)। সুতরাং কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর বিধানকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে এই জাতীয় কাফেরদের ঐকমত্যকে দলিল হিসেবে পেশ করার বিষয়টি কতটা অসার, তা আপনার কাছে স্পষ্ট।

 

* কুরআনের আয়াত—"অতঃপর হয় অনুগ্রহ, না হয় মুক্তিপণ" [সূরা মুহাম্মাদ: ৪]—কে দলিল হিসেবে পেশ করে এই দাবি করা যে, কুরআন দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করে এবং কাফের যুদ্ধবন্দীদের প্রতি অনুগ্রহ করা বা মুক্তিপণ গ্রহণ করা মুসলিমদের জন্য আবশ্যক করে দিয়েছে, তা সম্পূর্ণ বাতিল ও ভিত্তিহীন। কারণ, এক স্থানে অনুগ্রহ ও মুক্তিপণের উল্লেখ থাকা অন্য স্থানে হত্যা বা দাসত্বের বিধান থাকার পরিপন্থী নয়।

ইমাম ইবনে জারীর তাবারী মহান আল্লাহর বাণী—"অতঃপর হয় অনুগ্রহ, না হয় মুক্তিপণ"—এর তাফসীরে বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) প্রাচীন জাতিসমূহের মাঝেও দাসপ্রথা প্রচলিত ছিল। কুরআনুল কারীমে ইউসুফ (আ.)-এর কাহিনীতে বর্ণিত হয়েছে যে, সে সময়ে চোরকে দাস হিসেবে গ্রহণ করা হতো। এমনকি তাদের মানবরচিত আইন ও ধর্মীয় গ্রন্থসমূহে অত্যন্ত তুচ্ছ কারণেও দাস বানানোর বৈধতা ছিল, যা আপনি পরবর্তীতে ইনশাআল্লাহ ইসলাম ও মানবরচিত আইনের দাসপ্রথা তুলনামূলক আলোচনার সময় দেখতে পাবেন। [আ]
(খণ্ড: ১) হাওলা শুবহাতির রাকীক - যিমন মুহাযারাতুশ শানকিতী (পৃষ্ঠা: ১৯০)
* وإنما ذَكر جل وعلا في هذه الآية المنَّ والفِداء في الأسارى، فخص ذكرَهما فيها لأن الأمر بقتلهم والإذن منه بذلك قد كان تقدم في سائر تنزيله مكررًا، فاعْلَمَ نبيَّه صلى الله عليه وسلم بما ذكر في هذه الآية من المن والفداء - ما له فيهم مع القتل. اهـ. منه. وهو دليل على عدم الحصر في المن والفداء.

وتؤيد ذلك أدلةٌ معروفة: منها أن "المنَّ" و"الفداء" مصدران حكمهما حكم أسماء الأجناس الجامدة، وإناطة الحكم بها لا مفهوم مخالفة لها على التحقيق عند جماهير العلماء، وهو الحق؛ لأنها من مفهوم اللقب وهو غير معتبر. فقولك: رأيت إنسانًا، لا يُفهم منه أنك لم(1) تر شيئا آخر غيرَه. وذِكر "المن "و"الفداء" في موضع لا يستلزم أنه لم يُذكر شيء آخر في موضع آخر.

وادعاء أن لفظة (إما) تقتضي الحصرَ في القسم بها دعوى باطلة بإجماع العقلاء، كما حرره علماء الجدل في مبحث تقسيم الكلي إلى جزئياته وتقسيم الكل إلى أجزائه، وعلماء المنطق في مبحث الشرطي المنفصل، وعلماء الأصول في مبحث السَّبر والتقسيم. والمعروف أن الحصر لا يكون إلا بأحد طريقين لا ثالث لهما. وهما:

1 - العقل. 2 - الاستقراء. لا ثالث لهما البتة.

فالحصر العقلي: كقولك: المعلوم إما موجود، وإما ليس بموجود. فهذا حصر عقلي؛ لأن العقل الصحيح يمنع وجود واسطةٍ بين الشيء

--------------------------------------------

(1) ط: "لا" ولعله ما أثبت.
আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে বন্দীদের ক্ষেত্রে কেবল অনুগ্রহ প্রদর্শন ও মুক্তিপণের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি এখানে বিশেষভাবে এই দুটির কথা উল্লেখ করেছেন কারণ তাদের হত্যার আদেশ এবং এ ব্যাপারে তাঁর পক্ষ থেকে অনুমতি ইতিপূর্বে তাঁর অবতীর্ণ অন্যান্য বাণীতে বারবার বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং তিনি এই আয়াতে অনুগ্রহ ও মুক্তিপণ সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন, তার মাধ্যমে তিনি তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে হত্যার পাশাপাশি তাদের ক্ষেত্রে তাঁর জন্য আর কী বিকল্প রয়েছে তা অবগত করেছেন। - (মূল গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। এটি অনুগ্রহ ও মুক্তিপণের মাঝেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ না থাকার একটি প্রমাণ।

পরিচিত কিছু দলিল এই মতকে সমর্থন করে: তন্মধ্যে একটি হলো, "অনুগ্রহ" ও "মুক্তিপণ" শব্দ দুটি হলো মাসদার (ক্রিয়ামূল), যেগুলোর বিধান মূলত অজাতবাচক জাতিবাচক বিশেষ্যের (আসমায়ে আজনাসে জামেদা) বিধানের অনুরূপ। জমহুর উলামায়ে কেরামের নিকট সঠিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কোনো বিধানকে এগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট করার অর্থ এই নয় যে, এর বিপরীতে অন্য কিছু হওয়া সম্ভব নয় (মাফহুমুল মুখালাফাহ)। আর এটিই সঠিক; কারণ এটি 'মাফহুমুল লাকাব'-এর অন্তর্ভুক্ত, যা দালিলিক বিচারে নির্ভরযোগ্য নয়। যেমন আপনার উক্তি: "আমি একজন মানুষ দেখেছি", এর দ্বারা এটি বোঝায় না যে আপনি মানুষ ছাড়া অন্য কিছু দেখেননি। তদ্রূপ, এক স্থানে "অনুগ্রহ" ও "মুক্তিপণ"-এর উল্লেখ থাকা অন্য কোনো স্থানে অন্য কিছু উল্লিখিত না থাকাকে অপরিহার্য করে না।

আর এই দাবি করা যে, (হয়তো/ইম্মা) শব্দটির মাধ্যমে কৃত বিভাজন সীমাবদ্ধতা (হাসর) নির্দেশ করে—তা বিবেকসম্পন্নদের ঐকমত্যে একটি অসার দাবি। যেমনটি বিতর্কবিদ্যার পণ্ডিতগণ 'কুলি' (সামগ্রিক)-কে তার 'জুজইয়াত' (অংশবিশেষ)-এ এবং 'কুল' (সমগ্র)-কে তার 'আজজা' (অংশ)-এ বিভক্ত করার পরিচ্ছেদে, যুক্তিবিদ্যার পণ্ডিতগণ 'শরতি মুনফাসিল' (বিয়োজক শর্তসাপেক্ষ বাক্য) আলোচনায় এবং উসুলবিদগণ 'সাবর ও তাকসিম' (পরীক্ষণ ও বিভাজন) আলোচনায় সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন। এটি সুপরিচিত যে, সীমাবদ্ধতা কেবল দুটি উপায়ের মাধ্যমেই হতে পারে এবং এর তৃতীয় কোনো পথ নেই। যথা:

১ - বুদ্ধি বা যুক্তি (আকল)। ২ - অনুসন্ধান বা আরোহী পদ্ধতি (ইস্তিকরা)। এ দুটির বাইরে নিশ্চিতভাবেই তৃতীয় কোনো পথ নেই।

যৌক্তিক সীমাবদ্ধতা হলো: যেমন আপনার উক্তি: "জ্ঞাত বস্তু হয় বিদ্যমান হবে, না হয় বিদ্যমান হবে না।" এটি একটি যৌক্তিক সীমাবদ্ধতা; কারণ সুস্থ বিবেক কোনো বিষয়ের (অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের) মাঝে তৃতীয় কোনো অবস্থার অবস্থানকে অসম্ভব মনে করে...

--------------------------------------------

(১) ত পাণ্ডুলিপিতে: "না", সম্ভবত এটিই সঠিক যা এখানে সাব্যস্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) হাওলা শুবহাতির রাকীক - যিমন মুহাযারাতুশ শানকিতী (পৃষ্ঠা: ১৯১)
ونقيضه. وما يزعمه بعض المتكلمين من أن الأحوال المعنوية أمور ثبوتية ليست بموجودة ولا معدومة، وَهْمٌ باطل، وخيال لا حقيقةَ له على التحقيق الذي لا شك فيه؛ فكل ما ليس بموجود فهو معدوم قطعًا، وكل ما ليس بمعدوم فهو موجود قطعًا.

والحصر الاستقرائي كقولك: العنصر إما تراب، وإما ماء، وإما نار، وإما هواء؛ لأن التتبع والاستقراء دل على انحصار جنس العنصر في الأربعة المذكورة. وكقولك: الكلمة إما اسم، وإما فعل، وإما حرف.

أما حصر معاملة الأسير الكافر في "المن "و"الفداء" فقط فلم يدل عليه عقل ولا استقراء شرعي؛ لأن الاستقراء الشرعي دل على أقسام أخرى في مواضع أخر، كالقتل والاسترقاق. وقد فعل النبي صلى الله عليه وسلم جميع الأقسام الأربعة المذكورة:

1 - فقد قتل النضر بن الحارث، وعقبة بن أبي مُعيط صبرًا يوم بدر بعد أن وقَعَا في يده أسيرين.

2 - فادى أسارى بدر من قريش ومَنَّ على البعض منهم.

3 - ومَنَّ على ثمامة بن أثال، سيدِ بني حنيفة.

4 - واسترقاقه لسبي الكفار أشهر من أن يُذكر كما هو معلوم في سبي هوازن وسبي أوطاس. وإن كانت وقعة أوطاس على هوازن بعد هزيمتهم.

وقد كانت زوجته جويرية بنتُ الحارث المصطلقية في سهم ثابت بن قيس لما قسم سبيَ بني المصطَلِق، فكاتَبَتْه على نفسها، فأدَّى
...এবং এর বিপরীত। আর কিছু কালামশাস্ত্রবিদ যে দাবি করেন যে, ভাবগত অবস্থাসমূহ (আহওয়াল মা’নাবিয়্যাহ) হলো এমন কিছু সুনিশ্চিত বিষয় যা বিদ্যমানও নয় আবার অবিদ্যমানও নয়—তা একটি বাতিল ভ্রান্তি এবং এমন এক কল্পনা যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই সেই সুনিশ্চিত গবেষণার আলোকে যাতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ, যা বিদ্যমান নয় তা নিশ্চিতভাবেই অবিদ্যমান, আর যা অবিদ্যমান নয় তা নিশ্চিতভাবেই বিদ্যমান।

আর আরোহী সীমাবদ্ধকরণ (আল-হাসরুল ইস্তিকরাঈ) হলো যেমন আপনার কথা: মৌলিক উপাদান হয় মাটি, নতুবা পানি, নতুবা আগুন, নতুবা বায়ু; কেননা অনুসন্ধান ও আরোহ পদ্ধতি প্রমাণ করেছে যে মৌলিক উপাদানের প্রকারভেদ এই উল্লিখিত চারটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আবার যেমন আপনার কথা: শব্দ হয় বিশেষ্য, নতুবা ক্রিয়া, নতুবা অব্যয়।

পক্ষান্তরে, কাফির যুদ্ধবন্দীর সাথে আচরণের বিষয়টি কেবল "অনুগ্রহ" এবং "মুক্তিপণ"-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা কোনো যুক্তি বা শরয়ী আরোহ পদ্ধতি দ্বারা প্রমাণিত নয়; কারণ শরয়ী আরোহ পদ্ধতি অন্যান্য ক্ষেত্রে আরও কিছু প্রকারভেদ নির্দেশ করেছে, যেমন হত্যা করা এবং দাসে পরিণত করা। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উল্লিখিত চারটি প্রকারই কার্যকর করেছেন:

১ - তিনি বদরের দিনে নযর ইবনে হারিস এবং উকবা ইবনে আবি মুআইতকে বন্দী অবস্থায় হস্তগত হওয়ার পর মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিলেন।

২ - তিনি কুরাইশদের মধ্য থেকে বদরের বন্দীদের মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং তাদের মধ্য থেকে কিছু লোকের ওপর অনুগ্রহ করে (বিনা মুক্তিপণে) ছেড়ে দিয়েছিলেন।

৩ - তিনি বনু হানিফা গোত্রের নেতা সুমামাহ ইবনে উসালকে অনুগ্রহ করে মুক্তি দিয়েছিলেন।

৪ - আর কাফির যুদ্ধবন্দীদের দাসে পরিণত করার বিষয়টি উল্লেখ করার অপেক্ষা রাখে না এমন প্রসিদ্ধ, যেমনটি হাওয়াযিন ও আওতাসের যুদ্ধবন্দীদের ক্ষেত্রে সুপরিচিত। যদিও হাওয়াযিনের বিরুদ্ধে আওতাসের যুদ্ধটি ছিল তাদের পরাজয়ের পর।

আর তাঁর স্ত্রী জুওয়াইরিয়াহ বিনতে হারিস মুস্তালিকিয়া যখন বনু মুস্তালিকের যুদ্ধবন্দীদের বণ্টন করা হয়েছিল তখন সাবিত ইবনে কায়স-এর অংশে পড়েছিলেন। অতঃপর তিনি নিজের মুক্তির জন্য তাঁর সাথে চুক্তি (মুকাতিব) করেছিলেন, তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ সা.) তা পরিশোধ করেন...
(খণ্ড: ১) হাওলা শুবহাতির রাকীক - যিমন মুহাযারাতুশ শানকিতী (পৃষ্ঠা: ১৯২)
عنها رسولُ اللّه صلى الله عليه وسلم نُجومَ الكتابة وتزوجها، كما هو مشهور عند أهل الأخبار، فأعتق المسلمون سبايا بني المصطلِق لما صاروا أصهارَ الرسول صلى الله عليه وسلم.

وكانت زوجته صفية بنت حيي مملوكةً من سبي خيبر أخذها أولًا دحية، ثم استعادها منه صلى الله عليه وسلم وأعتقها وتزوجها كما هو ثابت في الصحيح.

مع أن جماعة من أهل العلم قالوا: إن هذه الآية - أعني آية: {فَإِمَّا مَنًّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً} - منسوخة بقوله: {فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُوا لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ} [التوبة: 5] وقوله تعالى: {فَإِمَّا تَثْقَفَنَّهُمْ فِي الْحَرْبِ فَشَرِّدْ بِهِمْ مَنْ خَلْفَهُمْ} [الأنفال: 57] وممن قال بذلك قتادة والضحاك والسُّدّي وابن جُريج والعوفي عن ابن عباس وكثير من الكوفيين، كما نقله عنهم القرطبي وغيره. ونقله ابن جرير عن قتادة والسّدُّي والضحّاك وغيرهم.

ويدل للنسخ المذكور أن آية {فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ} من سورة براءة، وهي من آخر ما نزل من القرآن، نزلت عام تسع من الهجرة، فهي نازلة بعد سورة القتال التي فيها آية {فَإِمَّا مَنًّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً}. والتأخُّر في النزول من موجبات معرفة الناسخ إن لم يمكن الجمع.

مع أنا لو سلَّمنا ما ذكره الملحد النافي للرق المستدلُّ على ذلك بآية {فَإِمَّا مَنًّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً} تسليمًا جدليًّا، فإنها لا تدل على نفي الرقّ بالكلية؛
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পক্ষ থেকে কিতাবাতের (মুক্তির চুক্তির) কিস্তিগুলো পরিশোধ করেন এবং তাঁকে বিবাহ করেন, যেমনটি ইতিহাসবেত্তাদের নিকট সুপ্রসিদ্ধ। ফলে বনু মুস্তালিক যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বৈবাহিক আত্মীয়তে পরিণত হলো, তখন মুসলিমগণ তাদের যুদ্ধবন্দীদের মুক্ত করে দিলেন।

তাঁর পত্নী সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই খাইবারের বন্দীদের মধ্য থেকে দাসী হিসেবে ছিলেন। প্রথমে দাহইয়া তাঁকে গ্রহণ করেছিলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট থেকে তাঁকে ফিরিয়ে নেন এবং তাঁকে মুক্ত করে বিবাহ করেন, যা সহীহ হাদীসে প্রমাণিত।

যদিও একদল আলিম বলেছেন যে, এই আয়াতটি—অর্থাৎ: {অতঃপর হয় অনুগ্রহ, না হয় মুক্তিপণ}—আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে রহিত হয়ে গেছে: {অতঃপর মুশরিকদের যেখানেই পাও হত্যা করো, তাদের বন্দী করো, তাদের অবরুদ্ধ করো এবং প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের জন্য ওত পেতে থাকো} [আত-তাওবাহ: ৫] এবং আল্লাহর এই বাণী: {সুতরাং যদি তুমি যুদ্ধে তাদের আয়ত্তে পাও, তবে তাদের মাধ্যমে তাদের পশ্চাতে যারা আছে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দাও} [আল-আনফাল: ৫৭]। কাতাদাহ, যাহহাক, সুদ্দী, ইবনে জুরাইজ, ইবনে আব্বাস থেকে আউফী এবং কুফাবাসীদের অনেকেই এই মত পোষণ করেছেন, যা ইমাম কুরতুবী ও অন্যান্যরা তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে জারীরও কাতাদাহ, সুদ্দী, যাহহাক ও অন্যদের থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

উল্লিখিত রহিতকরণের সপক্ষে প্রমাণ হলো, {মুশরিকদের যেখানেই পাও হত্যা করো} আয়াতটি সূরা বারাআত-এর অন্তর্ভুক্ত, যা কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ হওয়া অংশগুলোর অন্যতম এবং এটি হিজরীর নবম বর্ষে অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং এটি সূরা আল-কিতাল-এর পরে অবতীর্ণ, যে সূরায় {হয় অনুগ্রহ, না হয় মুক্তিপণ} আয়াতটি রয়েছে। আর যদি সমন্বয় করা সম্ভব না হয়, তবে কালানুক্রমিকভাবে পরবর্তী হওয়া নাসিখ (রহিতকারী) চেনার অন্যতম মাধ্যম।

তাছাড়া, দাসপ্রথা অস্বীকারকারী যে নাস্তিক {হয় অনুগ্রহ, না হয় মুক্তিপণ} আয়াতটি দ্বারা দলিল পেশ করে, আমরা যদি তর্কর খাতিরে তার সেই দাবি মেনেও নেই, তবুও এটি দাসপ্রথাকে সম্পূর্ণরূপে নাকচ করার ওপর প্রমাণ বহন করে না;
(খণ্ড: ১) হাওলা শুবহাতির রাকীক - যিমন মুহাযারাতুশ শানকিতী (পৃষ্ঠা: ১৯৩)
لأنها نازلة في خصوص المقاتلين من الذكور البالغين، بدليل قوله تعالى: {فَإِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا فَضَرْبَ الرِّقَابِ حَتَّى إِذَا أَثْخَنْتُمُوهُمْ} أي: أوجعتم فيهم قتلًا {فَشُدُّوا الْوَثَاقَ} [محمد: 4] يعني الأسر. فلم تتعرضِ الآية الكريمة لغير الرجال من النساء والصبيان إذ لا شك أنهم غيرُ داخلين فيها، لما ثبت في الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم من النهي عن قتل النساء والصبيان كما هو معلوم، فلا يقول الله فيهم: فضَرْبَ الرقاب. للنهي الصحيح من النبي صلى الله عليه وسلم عن قتلهم.

أما استرقاقهم بالسبي فلا خلاف فيه بين أهل العلم، وفِعلُ النبي صلى الله عليه وسلم لذلك معلوم في غزواته، وكذلك فِعلُ أصحابه بعده، وإجماع أمته على ذلك. فقد ردّ لهوازن ما سُبِيَ من نسائهم وأولادهم بعد أن كان مِلكًا للمسلمين. وملكُ الصحابة لسبايا أوطاس ووطئهم للنساء المسبيات من سبي أوطاس بمِلك اليمين. كلّ ذلك معروف ولا مخالفَ فيه.

 

وقد يخطر في ذهن الطالب أن يقول: ما ذنب الصغير يُستَرَقُّ؟

والجواب: إن الصغار تَبَعٌ لآبائهم فهم منهم، فالجرعة من تلك الأضية(1).

وقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال في نساء المشركين وأبنائهم: "إنهم منهم".

 

وقد يخطر في ذهن طالب العلم أيضًا أن يقول: إذا كانت الأَمَة

--------------------------------------------

(1) الأضية هي المستنقع. قاموس.
কারণ এটি নির্দিষ্টভাবে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ যোদ্ধাদের বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যখন তোমরা কাফিরদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হও, তখন তাদের ঘাড়ে আঘাত করো। অবশেষে যখন তোমরা তাদেরকে পূর্ণরূপে পরাভূত করবে} অর্থাৎ: হত্যার মাধ্যমে তাদের পর্যুদস্ত করবে {তখন তাদের বন্ধন দৃঢ় করো} [মুহাম্মাদ: ৪] অর্থাৎ বন্দি করো। এই মহিমান্বিত আয়াতে পুরুষ ব্যতীত নারী ও শিশুদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়নি, কেননা এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তারা এই নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ সহীহ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে নারী ও শিশুদের হত্যা করার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা প্রমাণিত রয়েছে তা সর্বজনবিদিত। তাই আল্লাহ তাদের ক্ষেত্রে "তাদের ঘাড়ে আঘাত করো" বলেননি; যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে তাদের হত্যার ব্যাপারে সহীহ নিষেধাজ্ঞা বিদ্যমান।

পক্ষান্তরে যুদ্ধবন্দি হিসেবে তাদের দাসত্বে গ্রহণ করার বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর যুদ্ধসমূহে এটি করেছেন যা সুপরিচিত, এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহাবীগণের কর্মপন্থা এবং এ বিষয়ে উম্মতের ইজমা বা ঐক্যমতও স্বীকৃত। তিনি হাওয়াযেন গোত্রের নারী ও শিশুদের যারা মুসলমানদের মালিকানাধীন হয়েছিল, তাদের পুনরায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আর আওতাস যুদ্ধের বন্দিনীদের ক্ষেত্রে সাহাবীগণের মালিকানা লাভ এবং 'মিলকুল ইয়ামিন' বা অধিকারভুক্ত দাসী হিসেবে তাদের সাথে সহবাস করাও স্বীকৃত। এ সবকিছুই সুবিদিত এবং এতে কোনো দ্বিমত নেই।

 

শিক্ষার্থীর মনে হয়তো এই প্রশ্নের উদ্রেক হতে পারে যে: ছোট শিশুর অপরাধ কী যে তাকে দাসে পরিণত করা হবে?

এর উত্তর হলো: শিশুরা তাদের পিতাদের অনুগামী, তাই তারা তাদেরই অংশ। যেমন একটি জলাশয় থেকে নেওয়া এক ঢোক পানি সেই জলাশয়েরই অংশ(১)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এটি প্রমাণিত যে, তিনি মুশরিকদের নারী ও সন্তানদের সম্পর্কে বলেছেন: "তারা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।"

 

জ্ঞানান্বেষী শিক্ষার্থীর মনে এ প্রশ্নও জাগতে পারে যে: যদি দাসীটি

--------------------------------------------

(১) আদিয়্যাহ অর্থ হলো জলাশয়। কামুস (অভিধান)।
(খণ্ড: ১) হাওলা শুবহাতির রাকীক - যিমন মুহাযারাতুশ শানকিতী (পৃষ্ঠা: ১৯৪)
مُسلِمة وولدت(1) فبأي طريقٍ يخرج ولدُها منَ الرحم رقيقًا، وأيُّ ذنب ارتكبه في بطن أمه حتى مسه الرق في البطن.

 

والجواب: هو أن الشرع والعقل دلًّا على أن كل جنين متخلِّقٍ في رحمٍ فهو بمنزلة الأم التي تَخَلَّقَ في رحمِها. والذين ينتقدون مسَّ الرقِّ له في بطن أمه وخروجه من بطنها رقيقًا لو كان لواحدٍ منهم شاةٌ أو ناقةٌ فوَلَدت، وقال له آخر: هذا الجنين الذي ولدته شاتُك أو ناقتُك ليس لك، ولستَّ أحقّ به مني، فإنه يقول: لا فرق بين هذا الجنين وبين أمه التي ولدته فما لي عليها من الملك ينسحب عليه. وهذا واضح كما ترى.

 

أَملاه فضيلة والدنا الشيخ محمد الأمين الشنقيطي.

--------------------------------------------

(1) وهذا بعنيه نص القانون الروماني إذا ولدت الأم وهي مملوكة ولو لم يمسها الرق إلا قبل الولادة بلحظة فإن الجنين يولد رقيقًا. [ع]
তিনি মুসলিম এবং সন্তান প্রসব করলেন(১) তবে কোন পন্থায় তার সন্তান গর্ভ হতে দাস হিসেবে ভূমিষ্ঠ হয়? এবং মায়ের উদরে থাকাকালীন সে এমন কী অপরাধ করেছে যার দরুন গর্ভেই তাকে দাসত্ব স্পর্শ করল?

 

উত্তর হলো: শরীয়ত এবং বিবেক এই মর্মে নির্দেশ প্রদান করেছে যে, জরায়ুতে সৃজিত প্রতিটি ভ্রূণ সেই মাতার স্থলাভিষিক্ত যার জরায়ুতে সে গঠিত হয়েছে। আর যারা গর্ভস্থ থাকাকালীন তাকে দাসত্ব স্পর্শ করা এবং দাস হিসেবে ভূমিষ্ঠ হওয়ার সমালোচনা করেন, তাদের কারো যদি একটি মেষ বা উষ্ট্রী থাকে এবং সেটি শাবক প্রসব করে, আর অন্য কেউ তাকে বলে: "তোমার মেষ বা উষ্ট্রী যে শাবকটি প্রসব করেছে তা তোমার নয়, এবং তুমি এর ওপর আমার চেয়ে অধিক হকদার নও," তবে সে বলবে: "এই শাবক এবং একে প্রসবকারিনী মাতার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; সুতরাং মাতার ওপর আমার যে মালিকানা রয়েছে তা শাবকের ওপরও বর্তাবে।" বিষয়টি আপনি যেমন দেখছেন তদ্রূপ স্পষ্ট।

 

এটি আমাদের শ্রদ্ধেয় পিতা শাইখ মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শানকিতী কর্তৃক শ্রুতিলিখিত।

--------------------------------------------

(১) এটি হুবহু রোমান আইনের বিধান যে, যদি মা দাসী অবস্থায় সন্তান প্রসব করেন, এমনকি যদি প্রসবের মাত্র এক মুহূর্ত পূর্বেও তার ওপর দাসত্ব আপতিত হয়, তবে সন্তান দাস হিসেবেই জন্মগ্রহণ করবে। [আ]