(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مسالك الأبصار في ممالك الأمصار - ط العلمية القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: مسالك الأبصار في ممالك الأمصار
المؤلف: ابن فضل الله العمري شهاب الدين أحمد بن يحيى (ت 749 هـ)
المحقق: كامل سلمان الجبوري - مهدي النجم
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 2010 م
عدد الأجزاء: 27
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 20 شوّال 1447
মাসালিকুল আবসার ফি মামালিকিল আমসার - ইলমিয়্যাহ সংস্করণ বিভাগ: দেশসমূহ এবং ভ্রমণকাহিনী
কিতাব: মাসালিকুল আবসার ফি মামালিকিল আমসার
লেখক: ইবনে ফাদলুল্লাহ আল-উমারি শিহাবুদ্দিন আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া (মৃত্যু ৭৪৯ হিজরি)
সম্পাদক: কামিল সালমান আল-জাবুরি - মাহদি আন-নাজম
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ২০১০ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২৭
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২০ শাওয়াল ১৪৪৭
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
لائحة محققي الأجزاء 1 - كامل سلمان الجبوري
2 - مهدي النجم
3: 11 - كامل سلمان الجبوري
12 و 13 - مهدي النجم
14: 23 - كامل سلمان الجبوري
24: 27 - مهدي النجم
খণ্ডসমূহের গবেষকবৃন্দের তালিকা ১ - কামিল সালমান আল-জুবুরি
২ - মাহদি আন-নাজম
৩: ১১ - কামিল সালমান আল-জুবুরি
১২ এবং ১৩ - মাহদি আন-নাজম
১৪: ২৩ - কামিল সালমান আল-জুবুরি
২৪: ২৭ - মাহদি আন-নাজম
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
ابن فضل الله العمري (700 - 749 هـ/ 1300 - 1349 م)
نسبه:هو شهاب الدين، أبو العباس، أحمد بن محيي الدين أبي زكريا يحيى بن أبي المعالي فضل الله بن أبي الفضل المُجَلِّي بن جمال الدين دعجان بن خلف بن أبي الفضل نصر بن منصور بن عبيد الله بن عدي بن محمد بن أبي بكر بن عبيد الله بن أبي بكر بن عبيد الله الصالح بن أبي سلمة عبد الله (وقيل أسلمة) ابن عبيد الله بن أبي عبد الرحمن عبد الله بن عمر بن الخطاب القرشي العدوي العمري
(1).
القاضي، الفقيه، الأديب، كاتب السر
(2)، «وهو الإمام الفاضل، البليغ المفوّه، الحافظ حُجَّة الكتاب، إمام أهل الأدب، أحد رجالات الزمان كتابة وترسلًا، وتوصلًا
--------------------------------------------
ইবনে ফজলুল্লাহ আল-উমারি (৭০০ - ৭৪৯ হিজরি/ ১৩০০ - ۱۳৪৯ খ্রিস্টাব্দ)তাঁর বংশপরিচয়:তিনি হলেন শিহাবুদ্দিন, আবুল আব্বাস, আহমদ বিন মুহিউদ্দিন আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন আবিল মায়ালি ফজলুল্লাহ বিন আবিল ফজল আল-মুজাল্লি বিন জামালুদ্দিন দায়জান বিন খালাফ বিন আবিল ফজল নাসর বিন মনসুর বিন উবায়দুল্লাহ বিন আদি বিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন উবায়দুল্লাহ বিন আবি বকর বিন উবায়দুল্লাহ আস-সালিহ বিন আবি সালামা আব্দুল্লাহ (মতামতান্তরে আসলামা) ইবনে উবায়দুল্লাহ বিন আবি আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ বিন উমর ইবনুল খাত্তাব আল-কুরাশি আল-আদাউয়ি আল-উমারি
(১)।
তিনি ছিলেন একজন বিচারক, ফকিহ, সাহিত্যিক এবং রাজকীয় সচিব
(২), «তিনি একজন বিদগ্ধ ইমাম, সাবলীল বাগ্মী, হাফেজ এবং লেখকদের জন্য প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যিকদের ইমাম এবং রচনাশৈলী ও পত্রালাপের ক্ষেত্রে সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্যতম, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
إلى غايات المعالي وتوسلًا»
(1).
أسرته:من أسرة تولّت رئاسة ديوان الإنشاء بمصر والشام مدة قرن من الزمان تقريبًا، وقد استقر أجداده الأقربون في البُرْلُس بمصر السُّفْلَى، ولكنهم كانوا يشعرون على الدوام بأنهم أكثر ارتباطًا بدمشق منهم بمصر، فاحتفظوا باسم الدمشقي كنسبة أساسية لهم.
فوالده القاضي محيي الدين كان قد تولّى كتابة سرّ دمشق مرتين في سنة 727 هـ/ 1326 م، ثم وقع له محنة مع الملك الناصر محمد بن قلاوون وعزله، ولزم داره سنتين إلى أن طلبه ووُلّاه كتابة سرّ مصر عوضًا عن علاء الدين ابن الأثير
(2)، ثم نُقل إلى دمشق سنة 732 هـ/ 1331 م، ثم عاد إلى مصر في العام التالي وظل بها حتى وفاته سنة 738 هـ/ 1337 م
(3).
وأخوه علاء الدين
(4) عليّ، كان يعضد والده لكبر سنه.
وأخوه بدر الدين محمد
(5).
وله أخ باسمه أجاز له الأبْرَقُوهي
(6)، ومحمد بن الحسين بن الفوي
(7) وغيرهما. وولده شمس الدين محمد
(8)، له ذيل على كتاب والده (مسالك الأبصار).
ولادته:ولد بمدينة دمشق في ثالث شوال سنة سبعمائة هجرية
(9).
--------------------------------------------
উচ্চমর্যাদার লক্ষ্যে পৌঁছাতে এবং একে একটি মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতে»
(১)।
তার পরিবার:তিনি এমন এক পরিবারের সন্তান যারা প্রায় এক শতাব্দীকাল ধরে মিশর ও সিরিয়ার (শাম) দিওয়ানুল ইনশা (প্রশাসনিক সচিবালয়)-এর প্রধান পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তার নিকটবর্তী পূর্বপুরুষগণ নিম্ন মিশরের বুরলুসে বসতি স্থাপন করেছিলেন, কিন্তু তারা সর্বদা অনুভব করতেন যে মিশরের তুলনায় দামেস্কের সাথে তাদের সম্পর্ক অধিক নিবিড়। তাই তারা তাদের মূল বংশীয় পরিচয় হিসেবে 'দামেশকী' নিসবত বা উপাধিটি সংরক্ষণ করেছিলেন।
তার পিতা কাজী মুহিউদ্দীন ৭২৭ হিজরি/১৩২৬ খ্রিস্টাব্দে দুইবার দামেস্কের 'কিতাবাতুস সির' (প্রধান সচিব) পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে সুলতান আন-নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউনের সাথে তার মনোমালিন্য ঘটে এবং তিনি অপসারিত হন। এরপর তিনি দুই বছর নিজ গৃহে অবস্থান করেন। পরবর্তীতে সুলতান তাকে পুনরায় তলব করেন এবং আলাউদ্দীন ইবনুল আসিরের স্থলাভিষিক্ত করে মিশরের 'কিতাবাতুস সির' পদে নিয়োগ দেন
(২)। এরপর ৭৩২ হিজরি/১৩৩১ খ্রিস্টাব্দে তাকে দামেস্কে স্থানান্তরিত করা হয়। পরবর্তী বছর তিনি পুনরায় মিশরে ফিরে আসেন এবং ৭৩৮ হিজরি/১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন
(৩)।
তার ভাই আলাউদ্দীন
(৪) আলী; তিনি তার পিতার বার্ধক্যের কারণে তাকে দাপ্তরিক কাজে সহযোগিতা করতেন।
এবং তার ভাই বদরুদ্দীন মুহাম্মদ
(৫)।
তার সমনামীয় (একই নামের) এক ভাই ছিল, যাকে আল-আবরাকুহি
(৬), মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনুল ফুওয়ি
(৭) এবং অন্যান্যরা (হাদিস বর্ণনার) ইজাযত প্রদান করেছিলেন। আর তার পুত্র শামসুদ্দীন মুহাম্মদ
(৮); তিনি তার পিতার কিতাব 'মাসালিকুল আবসার'-এর একটি পরিশিষ্ট (যাইল) রচনা করেছেন।
তার জন্ম:তিনি ৭০০ হিজরি সনের ৩রা শাওয়াল দামেস্ক শহরে জন্মগ্রহণ করেন
(৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
نشأته وتعلمه:سمع بالقاهرة ودمشق من جماعة، وتخرج في الأدب على والده، وقرأ العربية على الشيخ كمال الدين ابن قاضي شهبة
(1)، ثم على قاضي القضاة شمس الدين محمد بن مسلم
(2)، والفقه على قاضي القضاة شهاب الدين محمد بن المجد عبد الله
(3)، وعلى الشيخ برهان الدين
(4) قليلًا، وقرأ «الأحكام الصغرى
(5) على الشيخ تقي الدين أحمد بن عبد الحليم بن تيمية
(6)، والعروض والأدب على الشيخ شمس الدين الصايغ
(7)، وتدرب في النظم على علاء الدين الوداعي
(8)، وقرأ جملة من المعاني والبيان على العلامة شهاب الدين محمود
(9)، وقرأ عليه جملة من الدواوين وكتب الأدب، وقرأ بعض شيء من العروض على الشيخ كمال الدين ابن الزملكاني
(10)، والأصول على الشيخ شمس الدين الأصبهاني، وأخذ العربية عن الشيخ أثير الدين سمع عليه «الفصيح»
… و «الأشعار الستة» و «الدريدية» وأكثر ديوان أبي تمام» وغير ذلك
(11). وقد
--------------------------------------------
তাঁর বেড়ে ওঠা ও শিক্ষালাভ:তিনি কায়রো ও দামেস্কে একদল আলেম থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর পিতার নিকট সাহিত্যে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন। তিনি শেখ কামাল উদ্দীন ইবনে কাজী শুহবাহ্র
(১) নিকট আরবি ব্যাকরণ পড়েছেন, এরপর প্রধান বিচারপতি শামস উদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিমের
(২) নিকট পড়েছেন। তিনি প্রধান বিচারপতি শিহাব উদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে আল-মাজদ আবদুল্লাহর
(৩) নিকট এবং শেখ বুরহান উদ্দীনের
(৪) নিকট অল্প কিছুকাল ফিকহ শাস্ত্র পড়েছেন। তিনি শেখ তাকী উদ্দীন আহমাদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহর
(৬) নিকট ‘আল-আহকাম আস-সুগরা’
(৫) পাঠ করেছেন এবং শেখ শামস উদ্দীন আস-সায়েগের
(৭) নিকট ছন্দ ও সাহিত্য পাঠ করেছেন। তিনি আলাউদ্দীন আল-ওয়াদায়ীর
(৮) নিকট কাব্য রচনার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তিনি আল্লামা শিহাব উদ্দীন মাহমুদের
(৯) নিকট অলঙ্কারশাস্ত্রের (মানি ও বায়ান) একটি বিশাল অংশ পাঠ করেছেন এবং তাঁর নিকট বেশ কিছু কাব্যসংকলন ও সাহিত্যের কিতাব পড়েছেন। এছাড়া তিনি শেখ কামাল উদ্দীন ইবনুয যামলকানীর
(১০) নিকট ছন্দের কিছু অংশ এবং শেখ শামস উদ্দীন আল-ইসফাহানীর নিকট উসূল (মূলনীতিশাস্ত্র) পাঠ করেছেন। তিনি শেখ আসীর উদ্দীনের নিকট আরবি ভাষা ও সাহিত্য গ্রহণ করেছেন; তাঁর নিকট তিনি ‘আল-ফাসিহ’, … ‘আল-আশআর আস-সিত্তা’, ‘আদ-দুরাইদিয়্যাহ’ এবং আবু তাম্মামের কাব্যগ্রন্থের (দেওয়ান) অধিকাংশসহ আরও অনেক কিছু শ্রবণ করেছেন
(১১)। এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
أذن له العلامة شمس الدين الأصبهاني في الإفتاء على مذهب الشافعي
(1).
وسمع بدمشق من الحجار، ومحمد بن يعقوب الجرائدي
(2)،، ومحمد بن أبي بكر بن عثمان بن شرف
(3)، وست القضاة
(4) بنت يحيى بن أحمد الشيرازي بالقاهرة، ومن والده، وأبي زكريا يحيى بن يوسف ابن المصري
(5)، وأحمد بن محمد بن عمر الحلبي
(6) وغيرهم.
وأجاز له جماعة، وحدث بالقاهرة ودمشق
(7).
وخرج له الذهبي مشيخة كثيرة حدّث بها ورويت عنه
(8).
مكانته:ومما يدل على مكانته، وعلوّ مقامه، وسبقه في ميدان الكتابة الديوانية، ما قاله بعض معاصرين، ومن كتبوا عنه:
قال الصفدي:
«هو الإمام الفاضل البليغ المفوّه الحافظ حجة الكتاب، إمام أهل الآداب. أحد رجالات الزمان كتابة وترسلًا، وتوصلًا إلى غايات المعالي وتوسلًا. وإقدامًا على الأسود في غابها، وإرغامًا لأعاديه بمنع رغابها. يتوقد ذكاء وفطنة ويتلهب، ويتحدر سَيْلُه ذاكرة وحفظًا ويتصبب. ويتدفق بحره بالجواهر كلامًا، ويتألق إنشاؤه بالبوارق المتسرعة نظامًا. ويقطر كلامه فصاحة وبلاغة، وتندى عبارته انسجامًا وصياغة. وينظر إلى غيب المعاني من ستر رقيق، ويغوص في لجة البيان فيظفر بكبار الدر من البحر العميق. استوت بديهته وارتجاله، وتأخر عن فروسيته من هذا الفن رجاله. يكتب من رأس قلمه بديهًا، ما يعجز تروّي القاضي الفاضل أن يدانيه تشبيهًا. وينظم من المقطوع والقصيدة جوهرًا، ما يخجل الروض الذي باكره الحيا مزهرًا. صرف الزمان
--------------------------------------------
আল্লামা শামসুদ্দিন আল-আসবাহানি তাকে শাফিঈ মাযহাব অনুযায়ী ফতোয়া প্রদানের অনুমতি দেন
(১)।
তিনি দামেস্কে আল-হাজ্জার, মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-জারাইদি
(২), মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন উসমান বিন শরাফ
(৩) এবং কায়রোতে ইয়াহইয়া বিন আহমাদ আশ-শিরাজির কন্যা সিততুল কুদাত
(৪), তার পিতা, আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন ইউসুফ ইবনুল মিসরি
(৫), আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন উমর আল-হালাবি
(৬) ও অন্যদের নিকট শ্রবণ করেছেন।
একদল আলেম তাকে ইজাজত প্রদান করেছেন এবং তিনি কায়রো ও দামেস্কে হাদিস বর্ণনা করেছেন
(৭)।
আয-যাহাবি তার জন্য অনেক মাশয়াখা (শিক্ষক-তালিকা) সংকলন করেছেন যা তিনি বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে বর্ণিত হয়েছে
(৮)।
তার মর্যাদা:তার উচ্চ মর্যাদা, সুউচ্চ অবস্থান এবং দিওয়ানি (প্রশাসনিক) রচনাশৈলীর ক্ষেত্রে তার অগ্রগামিতার প্রমাণ পাওয়া যায় তার সমসাময়িক এবং যারা তাকে নিয়ে লিখেছেন তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে:
আস-সাফাদি বলেন:
«তিনি হলেন শ্রেষ্ঠ ইমাম, সুবক্তা, সাবলীল ভাষী, হাফেজ, লেখকদের জন্য হুজ্জাত (প্রমাণস্বরূপ) এবং আদব বা সাহিত্যিকদের ইমাম। রচনা ও পত্রবিনিময়ে তিনি সমকালের অন্যতম ব্যক্তিত্ব; শ্রেষ্ঠত্বের চরম শিখরে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এক অনন্য মাধ্যম। তিনি বনের সিংহের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর মতো সাহসী ছিলেন এবং তার শত্রুদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে না দিয়ে তাদের লাঞ্ছিত করতেন। তার মেধা ও প্রজ্ঞা প্রদীপ্ত আগুনের মতো প্রজ্বলিত ছিল এবং তার মুখস্থ বিদ্যা ও স্মৃতিশক্তি ছিল প্রবাহমান ঝরনার মতো। তার কথোপকথন ছিল মণি-মুক্তার মতো প্রবহমান সমুদ্র এবং তার রচনা ছিল দ্রুতগামী বিদ্যুৎ-চমকের মতো সুবিন্যস্ত। তার বক্তব্যে বাগ্মিতা ও অলঙ্কারিতা ঝরে পড়ত এবং তার প্রকাশভঙ্গি ছিল অত্যন্ত সুসামঞ্জস্য ও সুনিপুণ। তিনি সূক্ষ্ম আবরণের আড়াল থেকে অর্থের অদৃশ্যের দিকে দৃষ্টিপাত করতেন এবং বাগ্মিতার অতল গহ্বরে ডুব দিয়ে গভীর সমুদ্র থেকে শ্রেষ্ঠ মুক্তা আহরণ করতেন। তার তাৎক্ষণিক প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব এবং তাৎক্ষণিক রচনাশৈলী ছিল সমপর্যায়ের; এই শিল্পের পারদর্শিতায় সমকালীন অশ্বারোহীরাও তার পেছনে পড়ে থাকত। তিনি তার কলমের ডগা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এমন কিছু লিখতেন যা অনুকরণ করতে কাযি আল-ফাদিলের চিন্তাশীলতাও অক্ষম হতো। তিনি খণ্ডিত কবিতা বা দীর্ঘ কাসিদায় এমন সব রত্ন গেঁথেছেন যা ভোরের বৃষ্টির ছোঁয়ায় প্রস্ফুটিত বাগানকেও লজ্জিত করে দিত। তিনি কাল অতিবাহিত করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
أمرًا ونهيًا، ودبر الممالك تنفيذًا ورأيًا. وَصَل الأرزاق بقلمه، ورويت تواقيعه وهي إسجالات حُكمه وحكمه. لا أرى أن اسم الكاتب يَصْدُق على غيره ولا يطلق على سواه:
لا يعمل القول المكـ
… رر منه والرأي المردد
ظَن يصيب به الغُيو
… ب إذا توخى أو تَعمَّد
مثل الحام إذا تألـ
… ـق والشهاب إذا توقد
كالسيف يقطع وهو مسـ
… لول وَيُرْهَبُ حين يُغْمَدْ
ولا أعتقد أن بينه وبين القاضي الفاضل من جاء مثله، على أنه قد جاء مثل تاج الدين ابن الأثير ومحيي الدين ابن عبد الظاهر وشهاب الدين محمود وكمال الدين ابن العطار وغيرهم. هذا إلى ما فيه من لطف أخلاق وسعة صدر وبشر محيا. رزقه الله أربعة أشياء لم أرها اجتمعت في غيره وهي: الحافظة، قَلَّما طالع شيئًا إلا وكان مستحضرًا لأكثره، والذاكرة التي إذا أراد ذكرى شيء من زمن متقدم كان ذلك حاضرًا كأنه إنما مَرَّ به بالأمس، والذكاء الذي تسلط به على ما أراد، وحسن القريحة في النظم والنثر. أما نثره فلعله في ذروة كان أوج الفاضل لها حضيضًا ولا أرى أحدًا يلحقه فيه جودة وسرعة عمل لما يحاوله في أي معنى أراد وأي مقام توخاه وأما نظمه فلعله لا يلحقه فيه إلا الأفراد.
وأضاف الله تعالى له إلى ذلك كله حسن الذوق الذي هو العمدة في كل فن. وهو أحد الأدباء الكملة الذين رأيتهم؛ وأعني بالكملة الذين يقومون بالأدب علمًا وعملًا في النظم والنثر ومعرفة بتراجم أهل عصرهم ومن تقدمهم على اختلاف طبقات الناس وبخطوط الأفاضل وأشياخ الكتابة. ثم إنه يشارك من رأيته من الكملة في أشياء وينفرد عنه بأشياء بلغ فيها الغاية وقصر ذلك عن شأوه لأنه جَوَّد فنَّ الإنشاء: النثر وهو فيه آية، والنظم وساير فنونه، والترسل البارع عن الملوك. ولم أر من يعرف تواريخ ملوك المغل من لدن جنكز خان وهلم جرًّا معرفته وكذلك ملوك الهند الأتراك. وأما معرفة الممالك والمسالك وخطوط الأقاليم ومواقع البلدان وخواصها فإنه فيها إمام وقته وكذلك معرفة الاسطرلاب وحل التقويم وصور الكواكب. وقد أذن له العلامة الشيخ شمس الدين الأصبهاني في الإفتاء على مذهب الإمام الشافعي رضي الله عنه فهو حينئذ أكمل الكملة الذين رأيتهم. ولقد استطرد الكلام يومًا إلى ذكر القضاة فسرد ذكر القضاة الأربعة الذين عاصرهم شامًا ومصرًا وألقابهم وأسماءهم وعلامة كل قاض منهم حتى إني ما كدت أقضي العجب مما رأيت منه. واتفق يومًا آخر أنه احتجت إلى كتابة صداق
আদেশ এবং নিষেধের মাধ্যমে, তিনি বাস্তবায়ন ও সুচিন্তিত মতামতের ভিত্তিতে রাজ্যসমূহ পরিচালনা করেছেন। নিজ কলমের মাধ্যমে তিনি মানুষের জীবিকার সংস্থান করেছেন, এবং তাঁর স্বাক্ষরসমূহ বর্ণিত হয়েছে যা তাঁর বিচার ও প্রজ্ঞার দলিলস্বরূপ। আমি মনে করি না যে 'লেখক' (কাতিব) উপাধিটি অন্য কারও জন্য যথার্থ হতে পারে বা অন্য কারও ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে:
তাঁর নিকট পুনরাবৃ
… ত কথা এবং দ্বিধাগ্রস্ত অভিমত কার্যকর হয় না
লক্ষ্যস্থির বা সংকল্প করলে তাঁর অনু
… মান অদৃশ্যের রহস্য ভেদ করে ফেলে
যেন তা বিচ্ছুরিত বি
… দ্যুৎ কিংবা প্রজ্বলিত অগ্নিপিণ্ড
কোষমুক্ত তরবারির মতো যা ছেদ করে, আর কোষব
… দ্ধ থাকলেও ভীতি জাগায়
আমি মনে করি না যে তাঁর এবং কাজি আল-ফাদিলের মধ্যবর্তী সময়ে তাঁর মতো আর কেউ এসেছেন, যদিও তাজউদ্দীন ইবনুল আসির, মহিউদ্দীন ইবনু আবদিয যাহির, শিহাবুদ্দীন মাহমুদ, কামালউদ্দীন ইবনুল আত্তার এবং তাঁদের মতো আরও অনেকে এসেছেন। এর সাথে যোগ হয়েছে তাঁর শিষ্ট চরিত্র, উদারতা এবং হাস্যোজ্জ্বল মুখমণ্ডল। আল্লাহ তাঁকে এমন চারটি জিনিস দান করেছেন যা আমি অন্য কারও মাঝে একত্রে দেখিনি, সেগুলো হলো: প্রখর ধারণক্ষমতা—তিনি কোনো কিছু পাঠ করলে তার অধিকাংশ বিষয়ই তাঁর আয়ত্তে চলে আসত; বিস্ময়কর স্মৃতিশক্তি—তিনি যদি অতীত সময়ের কোনো কিছু স্মরণ করতে চাইতেন, তবে তা এমনভাবে তাঁর সামনে উপস্থিত হতো যেন তা গতকালই অতিক্রান্ত হয়েছে; তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা—যার মাধ্যমে তিনি যা চাইতেন তা আয়ত্ত করতে পারতেন; এবং কাব্য ও গদ্য রচনায় চমৎকার সহজাত প্রতিভা। তাঁর গদ্যের কথা বলতে গেলে, তা ছিল এমন এক উচ্চতায় যার কাছে কাজি আল-ফাদিলের শিখরও ছিল পাদদেশের মতো। কোনো বিষয় বা প্রেক্ষাপটে রচনার ক্ষেত্রে উৎকর্ষ এবং ক্ষিপ্রতায় তাঁর সমকক্ষ কাউকে আমি দেখি না। আর তাঁর পদ্য রচনার ক্ষেত্রে সম্ভবত গুটিকয়েক অসাধারণ ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তাঁর নাগাল পাবে না।
আল্লাহ তাআলা এসবের পাশাপাশি তাঁকে উত্তম রুচিবোধ দান করেছেন, যা প্রতিটি শিল্পের মূল ভিত্তি। তিনি আমার দেখা পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যিকদের অন্যতম; আর ‘পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যিক’ বলতে আমি তাঁদের বোঝাতে চাচ্ছি যারা জ্ঞান ও প্রয়োগ উভয় ক্ষেত্রে কাব্য ও গদ্যের চর্চা করেন এবং নিজ সময়ের ও পূর্ববর্তী বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনী সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন, সেই সাথে গুণীজন ও লেখনশৈলীর ওস্তাদদের হস্তলিপি সম্পর্কেও অবগত। অধিকন্তু, আমি যেসব পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্ব দেখেছি, অনেক বিষয়ে তাঁদের সাথে তাঁর মিল থাকলেও এমন কিছু বিষয়ে তিনি অনন্য ছিলেন যেখানে তিনি চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছেন এবং অন্যরা তাঁর সমকক্ষ হতে পারেনি। কারণ তিনি রচনা শিল্পকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ করেছেন: গদ্যে তিনি এক অনন্য নিদর্শন, পদ্য ও এর বিভিন্ন শাখায় এবং রাজন্যবর্গের পক্ষ থেকে প্রেরিত পত্রবিনিময়ে তিনি অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। চেঙ্গিস খান থেকে শুরু করে পরবর্তী মঙ্গোল রাজাদের ইতিহাস এবং ভারতের তুর্কি রাজাদের ইতিহাস তাঁর মতো করে জানতে আমি আর কাউকে দেখিনি। রাজ্যসমূহ, পথঘাট, অঞ্চলের সীমানা, শহরের অবস্থান ও তাদের বৈশিষ্ট্যাবলি সম্পর্কে জ্ঞানে তিনি নিজ সময়ের ইমাম বা অগ্রণী ছিলেন। তেমনিভাবে অ্যাস্ট্রোলেব (অক্ষাংশ নির্ণায়ক যন্ত্র), বর্ষপঞ্জি বিশ্লেষণ এবং গ্রহ-নক্ষত্রের মানচিত্র সম্পর্কেও তিনি পারদর্শী ছিলেন। আল্লামা শেখ শামসুদ্দীন আল-আসফাহানী তাঁকে ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাযহাব অনুযায়ী ফতোয়া প্রদানের অনুমতি প্রদান করেছিলেন; ফলে তিনি আমার দেখা পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ছিলেন। একদিন আলোচনার প্রসঙ্গে বিচারকদের কথা উত্থাপিত হলে তিনি তাঁর সমসাময়িক সিরিয়া ও মিশরের চারজন প্রধান বিচারকের নাম, উপাধি এবং তাঁদের প্রত্যেকের স্বাতন্ত্র্যসূচক বৈশিষ্ট্যের কথা একাধারে বর্ণনা করলেন, যা দেখে আমি বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে পড়েছিলাম। অন্য একদিনের ঘটনা, আমার একটি মোহরনামা (কাবিননামা) লেখার প্রয়োজন হলো...
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
لبنت شمس الدين ابن الشيرازي فذكر على الفور اسمها واسم أبيها وسرد نسبه فجئت إلى البيت وراجعت تعاليقي ومسوداتي فكان الأمر كما ذكر لم يُخل باسم ولا لقب ولا كنية»
(1).
وقال ابن تغري بردي: «كان إمامًا فاضلًا بارعًا، ناظمًا ناثرًا، جوادًا ممدحًا»
(2).
وقال القلقشندي: «الفاضل الألمعي، والمِصْقَع اللوزعي، ملك الكتابة وإمامها، وسلطان البلاغة ومالك زمامها»
(3).
وقال المقريزي: «
… وكان يتوقد ذكاء وفطنةً، وله حافظة قوية، ومحاضرة جميلة، وكلامه فصيح بليغ، وله غوص على المعاني، وعنده اقتدار على النظم، بحيث تساوت بديهته وارتجاله. وكان يكتب من رأس قلمه بديهًا ما يعجز عنه غيره بعد إعمال رويته مع لطف الأخلاق وسعة الصدر وبشر المحيا.
واجتمع فيه أربع خصال قلما جمعها غيره: جودة الحافظة، فقلما طالع شيئًا إلا استحضره أو أكثره، وحسن الذاكرة، فكان إذا أراد، تذكر شيئًا ولو قدم عهده كأنما مر به أمس.
والذكاء الذي تسلّط به على ما أراد. وحسن القريحة في النظم والنثر.
وأضاف الله له مع ذلك حسن الذوق. وكان إمامًا في الأدب عارفًا بتراجم الناس، سيّما أهل عصره. عارفًا بخطوط الفضلاء وشيوخ الكتابة، قد جود فن الإنشاء حتى كان فيه آية. وجود النظم وبرع في التاريخ، سيّما ما قارب وقته، وعرف مسالك الأرض وممالكها، وحذق في علم الاصطرلاب وحل التقويم»
(4).
وقال محمد بن إياس: «
… وكان عالمًا فاضلًا، بارعًا في صناعة الإنشاء، وله في ذلك المصنّفات الجليلة، والعبارة اللطيفة في الإنشاء، وصار العمل على ما وضعه في صنعة الإنشاء إلى الآن عند الموقعين.
… وكان ناظمًا ناثرًا، وله خط جيد، عالي الطبقة»
(5).
وظائفه:تقلّد جملة وظائفة هامة، فقد باشر في كتابة الإنشاء بدمشق أيام محمود حتى ولي أبوه محيي الدين كتابة السرّ بها. ثم قدم معه إلى القاهرة في سنة 728 هـ لما ولّي
--------------------------------------------
শামস উদ্দিন ইবন শিরাজীর কন্যার প্রসঙ্গে তিনি সাথে সাথে তার নাম এবং তার পিতার নাম উল্লেখ করলেন এবং তার বংশপরম্পরা বর্ণনা করলেন। এরপর আমি বাড়িতে এসে আমার টীকা ও খসড়াগুলো যাচাই করলাম এবং দেখলাম বিষয়টি ঠিক তেমনি ছিল যেমন তিনি উল্লেখ করেছিলেন; তিনি নাম, উপাধি বা ডাকনামের কোনোটিতেই ভুল করেননি।
(১).
ইবন তাগরি বারদি বলেন: «তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ ও দক্ষ ইমাম, কাব্য ও গদ্যে পারদর্শী, দানশীল এবং প্রশংসিত ব্যক্তি»
(২).
আল-কালকাশান্দি বলেন: «তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও বিদগ্ধ ব্যক্তি, অত্যন্ত সাবলীল ও তীক্ষ্ণধী বক্তা, লেখনী জগতের সম্রাট ও ইমাম, এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের সুলতান ও এর নিয়ন্ত্রক»
(৩).
আল-মাকরিজি বলেন: «
… তিনি অত্যন্ত প্রখর মেধা ও বিচক্ষণতার অধিকারী ছিলেন, তার স্মৃতিশক্তি ছিল অত্যন্ত প্রখর, তার ভাষণ ছিল চমৎকার এবং কথা ছিল প্রাঞ্জল ও অলঙ্কৃত। তিনি অর্থের গভীরে অবগাহন করতে পারতেন এবং কাব্য রচনায় তার এমন দক্ষতা ছিল যে তার উপস্থিত বুদ্ধি ও তাৎক্ষণিক রচনা সমান মানের হতো। তিনি কলমের ডগা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এমন সব লেখা লিখতেন যা অন্য কেউ গভীর চিন্তা-ভাবনা করার পরও লিখতে অক্ষম হতো; এর সাথে ছিল তাঁর নম্র চরিত্র, উদারতা এবং হাস্যোজ্জ্বল মুখমণ্ডল।
তাঁর মধ্যে এমন চারটি গুণের সমাবেশ ঘটেছিল যা অন্য কারও মধ্যে খুব কমই দেখা যায়: প্রখর মুখস্থ শক্তি—তিনি যাই পড়তেন তা-ই স্মরণে আনতে পারতেন বা তার অধিকাংশ মনে রাখতেন; চমৎকার স্মৃতিশক্তি—তিনি যখনই কিছু স্মরণ করতে চাইতেন, তা যত পুরনোই হোক না কেন, মনে হতো যেন গতকালই তা ঘটেছে।
এমন প্রজ্ঞা যার মাধ্যমে তিনি যা চাইতেন তা আয়ত্ত করতে পারতেন; এবং কাব্য ও গদ্য রচনায় চমৎকার স্বাভাবিক প্রতিভা।
আল্লাহ এর সাথে তাঁকে যুক্ত করে দিয়েছিলেন মার্জিত রুচিবোধ। তিনি ছিলেন সাহিত্যের ইমাম, মানুষের জীবনী সম্পর্কে বিশেষভাবে অবগত, বিশেষ করে তাঁর সমসাময়িকদের ব্যাপারে। তিনি বিদগ্ধ ব্যক্তি এবং লেখনীর উস্তাদদের হস্তলিপি চিনতেন। তিনি রচনাশৈলী বা ইনশা-র শিল্পকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন যে তিনি এতে এক বিস্ময়কর নিদর্শনে পরিণত হয়েছিলেন। তিনি কাব্যিক ছন্দকে উন্নত করেছিলেন এবং ইতিহাসে পারদর্শী ছিলেন, বিশেষ করে তাঁর সময়ের কাছাকাছি ঘটনাবলীতে। তিনি পৃথিবীর পথঘাট ও রাজ্যসমূহ সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং অ্যাস্ট্রোল্যাব (নক্ষত্র মাপার যন্ত্র) ও পঞ্জিকা সমাধানে দক্ষ ছিলেন»
(৪).
মুহাম্মদ ইবন ইয়াস বলেন: «
… তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ আলিম, রচনাশৈলীতে অত্যন্ত দক্ষ। এ বিষয়ে তাঁর অনেক মহান গ্রন্থ রয়েছে এবং তাঁর রচনাশৈলীর প্রকাশভঙ্গি ছিল অত্যন্ত চমৎকার। তাঁর প্রবর্তিত রচনাশৈলীর নিয়মাবলি আজ পর্যন্ত লিপিবিশারদদের নিকট অনুসৃত হচ্ছে।
… তিনি ছিলেন একাধারে কবি ও গদ্যকার, এবং তাঁর হস্তাক্ষর ছিল অত্যন্ত সুন্দর ও উচ্চমানের»
(৫).
তাঁর দায়িত্বসমূহ:তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছিলেন। তিনি মাহমুদ-এর আমলে দামেস্কে সরকারি চিঠিপত্র (ইনশা) রচনার কাজ শুরু করেন, এমনকি তাঁর পিতা মহিউদ্দিন সেখানকার গোপন সচিব (কিতাবাতুস সির) পদে নিযুক্ত হওয়া পর্যন্ত তিনি কাজ চালিয়ে যান। এরপর ৭২৮ হিজরিতে তিনি তাঁর পিতার সাথে কায়রোতে আসেন যখন তিনি নিযুক্ত হলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
كتابة السر بديار مصر، وكان يقرأ البرد على السلطان.
ثم سار مع أبيه إلى دمشق؛ وعاد معه إلى القاهرة لما ولي كتابة السرّ ثانيًا في سنة 733 هـ.
وقرأ أيضًا البريد على السلطان، وجلس في دار العدل.
واتفق ذات يوم وقوع مفاوضة بينه وبين الأمير صلاح الدين يوسف الدوادار، فاجتهد على الدوادار وتنافرا. فما زال هو وأبوه بالسلطان حتى صرفه وأقام سيف الدين بغا دوادارًا عوضه.
حدة مزاجه:فلما قدم الأمير تنكز نائب الشام في سنة سبع وثلاثين سأل السلطان في ولاية علم الدين [محمد] ابن القطب كتابة السرّ بدمشق فأجابه وولاه. [فأخذ] أحمد شهاب الدين، يضع منه عند السلطان بأنّه قبطي لا يصلح لكتابة السرّ، والسلطان يغضي عن ذلك مراعاة لنائب الشام. فلما كتب توقيعه رسم له بزيادة المعلوم فأبى شهاب الدين من ذلك وشافه السلطان بكلام خشن، وقد قويت نفسه وشرست أخلاقه على عادته، واسترسل في الكلام الجافي حتى قال: كيف يكون رجل أسلمي تعمله كاتب السرّ وتزيد جامكيّته؟ ما يفلح من يخدمك، وخدمتك علي حرام!
وقام من يدي السلطان مغضبًا، والأمراء وقوف بالخدمة، وقد أقشعروا من كلامه، وما شكوا في أن السلطان يضرب عنقه. وسار شهاب الدين إلى أبيه وعرفه ما وقع فبُهِتَ. فبادر للقيام في تدبير ما فرط من ابنه وتلافي خطئه. فقبل الأرض عندما دخل على السلطان وسأل العفو فأجابه السلطان بأنه لأجله قد حَلُمَ عليه وسامحه، وتقدم إليه بإحضار ابنه علاء الدين علي ليقوم مقام شهاب الدين في قراءة البريد وتنفيذ الأشغال، فاعتذر بأنه صغير، فقال: أنا أربّيه كما أعرف فأحضره.
ولزم شهاب الدين بيته حتى مات أبوه وأشتغل أخوه علاء الدين بكتابة السرّ من بعده. [فـ] كتب قصة يسأل فيها السفر إلى دمشق، فحركت هذه القصة من السلطان ساكنًا وأمر طاجار الدوادار أن يطلبه إلى قاعة الصاحب من القلعة وأن يعريه حتى يكتب خطه بعشرة آلاف دينار، فإن امتنع ضربه بالمقارع. فعندما عرّاه أرعد حتى كاد يموت، وكتب خطه بالمبلغ، وأوقعت الحوطة على موجوده وأخذ في بيعه وبيع أملاكه بدمشق، وأقترض خمسين ألف درهم وأورد مائة وأربعين ألف درهم، وذلك في 14 شعبان 739 هـ. ثم ثمّ أُفرج عنه في 3 ربيع الآخر 740 هـ بعد ستة أشهر وثمانية عشر يومًا بسبب
মিশরের গোপন সচিবালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এবং সুলতানের নিকট ডাকসমূহ পাঠ করতেন।
অতঃপর তিনি তার পিতার সাথে দামেস্কে গমন করেন; এবং তার সাথে পুনরায় কায়রোতে ফিরে আসেন যখন তার পিতা ৭৩৩ হিজরিতে দ্বিতীয়বারের মতো গোপন সচিবের দায়িত্ব লাভ করেন।
তিনি সুলতানের নিকট ডাকও পাঠ করতেন এবং বিচারালয়ে উপবেশন করতেন।
একদিন তার এবং আমির সালাহুদ্দীন ইউসুফ দাওয়াদারের মধ্যে একটি আলোচনা চলাকালীন মতানৈক্য সৃষ্টি হয়, ফলে তিনি দাওয়াদারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব তৈরি হয়। তিনি এবং তার পিতা সুলতানের কাছে তদবির চালিয়ে যেতে থাকেন যতক্ষণ না সুলতান তাকে অপসারিত করেন এবং তার পরিবর্তে সাইফুদ্দীন বুগাকে দাওয়াদার হিসেবে নিযুক্ত করেন।
তার মেজাজের উগ্রতা:যখন দামেস্কের প্রতিনিধি আমির তানকিজ ৭৩৭ হিজরিতে আগমন করলেন, তিনি সুলতানের কাছে আলম আদ-দীন [মুহাম্মদ] ইবনে আল-কুতুবকে দামেস্কের গোপন সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করলেন এবং সুলতান তাতে সম্মত হয়ে তাকে নিয়োগ দিলেন। তখন আহমদ শিহাবুদ্দীন সুলতানের কাছে তার কুৎসা রটাতে শুরু করলেন যে, সে একজন কিবতি (কপটিক) এবং গোপন সচিবের পদের জন্য যোগ্য নয়। সুলতান দামেস্কের প্রতিনিধির খাতিরে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। যখন তার নিয়োগপত্র লেখা হলো এবং তার ভাতা বৃদ্ধির আদেশ দেওয়া হলো, তখন শিহাবুদ্দীন তা অস্বীকার করলেন এবং সুলতানের সাথে অত্যন্ত রূঢ় ভাষায় কথা বললেন। তার মেজাজ উগ্র হয়ে উঠেছিল এবং তার স্বভাবজাত কর্কশতা প্রকাশ পেল। তিনি অসংলগ্ন ভাষায় কথা বলতে বলতে বললেন: "কীভাবে একজন নওমুসলিমকে আপনি গোপন সচিব বানান এবং তার বেতন বৃদ্ধি করেন? যে আপনার সেবা করে সে সফল হয় না, আর আপনার সেবা করা আমার জন্য হারাম!"
তিনি সুলতানের সামনে থেকে ক্রুদ্ধ হয়ে উঠে গেলেন, অথচ আমিররা তখন সেবার জন্য দণ্ডায়মান ছিলেন। তারা তার কথা শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন এবং তাদের মনে কোনো সন্দেহ ছিল না যে সুলতান তার শিরশ্ছেদ করবেন। শিহাবুদ্দীন তার পিতার কাছে গিয়ে যা ঘটেছে তা জানালেন, এতে তার পিতা হতভম্ব হয়ে গেলেন। তিনি দ্রুত তার পুত্রের করা ভুল সংশোধন ও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য তৎপর হলেন। সুলতানের নিকট প্রবেশ করে তিনি ভূমি চুম্বন করলেন এবং ক্ষমা চাইলেন। সুলতান তাকে জানালেন যে, তার খাতিরেই তিনি ধৈর্য ধরেছেন এবং তাকে ক্ষমা করেছেন। অতঃপর সুলতান তাকে নির্দেশ দিলেন যেন তার পুত্র আলাউদ্দীন আলীকে উপস্থিত করা হয় যাতে সে শিহাবুদ্দীনের স্থলে ডাক পাঠ ও অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করতে পারে। পিতা ওজুহাত দিলেন যে সে বয়সে ছোট, সুলতান বললেন: "আমি তাকে আমার মতো করে গড়ে নেব, তাকে উপস্থিত করো।"
শিহাবুদ্দীন তার পিতার মৃত্যু পর্যন্ত গৃহবন্দী থাকলেন এবং তার ভাই আলাউদ্দীন তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে গোপন সচিবের দায়িত্ব পালন করতে লাগলেন। অতঃপর তিনি একটি আবেদনপত্র লিখলেন যাতে দামেস্কে যাওয়ার অনুমতি চাইলেন। এই আবেদনটি সুলতানের সুপ্ত ক্ষোভকে জাগ্রত করল এবং তিনি দাওয়াদার তাজারকে নির্দেশ দিলেন যেন তাকে কেল্লার 'কায়াতুস সাহিব'-এ তলব করা হয় এবং তাকে বিবস্ত্র করে দশ হাজার দিনারের অঙ্গীকারনামা লিখিয়ে নেওয়া হয়; যদি সে অস্বীকার করে তবে যেন তাকে মুগুর দিয়ে প্রহার করা হয়। যখন তাকে বিবস্ত্র করা হলো, সে ভয়ে কাঁপতে লাগল এবং মৃত্যুর উপক্রম হলো। সে উক্ত অর্থের অঙ্গীকারনামা লিখে দিল। তার সম্পদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো এবং তা ও দামেস্কে অবস্থিত তার ভূ-সম্পত্তি বিক্রির ব্যবস্থা করা হলো। তিনি পঞ্চাশ হাজার দিরহাম ঋণ করলেন এবং এক লক্ষ চল্লিশ হাজার দিরহাম পরিশোধ করলেন। এটি ৭৩৯ হিজরির ১৪ই শাবান তারিখের ঘটনা। অতঃপর ৭৪০ হিজরির ৩রা রবিউস সানি তারিখে ছয় মাস আঠারো দিন পর তাকে মুক্তি দেওয়া হলো, যার কারণ—
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
غريب: وهو أنّ بعض الكتاب زوّر خطّ السلطان، فرسم بقطع يده. فتلطف شهاب الدين بالسلطان حتى عفا عنه وسجنه، فأقام مدّة في السجن إلى أن وقع في هذا الوقت قصة يسأل فيها العفو عنه وتخلية سبيله. فلم يعرف السلطان خبره ولا سببَ حَبْسِه. فقيل له: إنَّ أمره يعرفُهُ شهاب الدين أبن فضل الله. فبعث إليه ليخبره بشأن هذا المحبوس، فعرفه الخبر فأمر بالإفراج عن الرجل وعن شهاب الدين.
فنزل إلى داره بالقاهرة. ثم استدعاه السلطان في محرّم سنة إحدى وأربعين بعد قتل تنكز نائب الشّام، واستحلفه على المناصحة، وولاه كتابة السرّ بدمشق عوضًا عن شهاب الدين يحيى بن إسماعيل ابن القيسراني. فسار إليها وقد قُبض على ابن القيسراني وأخذ ماله ورسم بقطع يده لتهمته بموافقة الأمير تنكز على ما قام به من المخامرة. فما زال يجهد في أمره حتى أفرج عنه.
واستمر في كتابة السرّ حتّى مات السلطان، وكان الاختلاف من بعده. فعزل بأخيه بدر الدين محمد في يوم الاثنين 3 صفر 743 هـ وطلب لكثرة الشكايات فيه. فقدم في صفر سنة 744 هـ وقد لَطَّفَ أخوه علاء الدين علي كاتب السر أمره حتى أعيد إلى دمشق»
(1).
ولم يزل فيها مقيمًا في بيته، بطالًا، مستقرًا بمرتب يكفيه، إلى أن حدث الطاعون بدمشق فقلق منه، وتطاير به، وعزم على الحج، ثم أبطله. وتوجّه بأهله إلى القدس، فتوفيت هناك زوجته ابنة عمه، فدفنها هناك، وما به قلبة
(2)، غير أنه مروع من الطاعون، فحصل له يوم وصوله حمى ربع
(3)، ودامت به إلى أن حصل له صرع، فمات منه
(4).
وفاته ومراثيه:وكانت وفاته يوم السبت، (يوم عرفة) سنة 749 هـ
(5).
وجرى له تشييع حافل، ودفن بتربتهم بالصالحية
(6)، على سفح قاسيون
(7) قبالة
--------------------------------------------
একটি অদ্ভুত ঘটনা: বিষয়টি হলো এই যে, কিছু লেখক সুলতানের হস্তাক্ষর জাল করেছিল, ফলে তার হাত কেটে ফেলার নির্দেশ জারি করা হয়। অতঃপর শিহাবুদ্দীন সুলতানের কাছে এমনভাবে অনুনয়-বিনয় করেন যে, তিনি তাকে ক্ষমা করেন এবং পরিবর্তে কারাবন্দী করেন। তিনি সেখানে বেশ কিছুকাল অবস্থান করেন। অবশেষে এমন এক সময় উপস্থিত হলো যখন তার ক্ষমা ও মুক্তির আবেদন জানানো হয়। সুলতান তার সম্পর্কে বা তার কারাবাসের কারণ কিছুই জানতেন না। তাকে বলা হলো যে, শিহাবুদ্দীন ইবনে ফজলুল্লাহ তার ব্যাপারটি জানেন। সুলতান এই বন্দীর বিষয়ে সংবাদ জানতে তাকে ডেকে পাঠান। তিনি তাকে বিষয়টি অবহিত করলে সুলতান সেই ব্যক্তি এবং শিহাবুদ্দীন উভয়কে মুক্তির নির্দেশ দেন।
অতঃপর তিনি কায়রোতে তার বাড়িতে ফিরে যান। এরপর সিরিয়ার (শাম) প্রতিনিধি তানকাজের হত্যার পর ৭৪১ হিজরির মহররম মাসে সুলতান তাকে তলব করেন এবং তার থেকে একনিষ্ঠার শপথ গ্রহণ করেন। তিনি তাকে শিহাবুদ্দীন ইয়াহইয়া ইবনে ইসমাইল ইবনুল কায়সারানির স্থলাভিষিক্ত করে দামেস্কে গোপন সচিব (কাতিবুস সির) পদে নিযুক্ত করেন। তিনি সেখানে গমন করেন। এদিকে ইবনুল কায়সারানিকে গ্রেফতার করা হয়, তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং আমির তানকাজের বিদ্রোহের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে তার হাত কেটে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি (শিহাবুদ্দীন) তার মুক্তির বিষয়ে সচেষ্ট থাকেন যতক্ষণ না তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
সুলতানের মৃত্যু পর্যন্ত তিনি গোপন সচিব পদে বহাল থাকেন। সুলতানের পর মতভেদ সৃষ্টি হয়। অতঃপর ৭৪৩ হিজরির ৩ সফর সোমবার তাকে পদচ্যুত করে তার ভাই বদরুদ্দীন মুহাম্মাদকে স্থলাভিষিক্ত করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগের কারণে তাকে তলব করা হয়। তিনি ৭৪৪ হিজরির সফর মাসে উপস্থিত হন। তবে তার ভাই গোপন সচিব আলাউদ্দীন আলী তার বিষয়টি নমনীয় করেন এবং তাকে পুনরায় দামেস্কে ফিরিয়ে আনা হয়।
(১)।
তিনি সেখানে তার বাড়িতেই অবস্থান করতে থাকেন, কোনো দাপ্তরিক পদ ছাড়াই সেখানে স্থিতু হন এবং তার জন্য পর্যাপ্ত ভাতার ব্যবস্থা ছিল। দামেস্কে প্লেগ মহামারি দেখা দিলে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন এবং একে অশুভ লক্ষণ মনে করে হজ্জের ইচ্ছা করেন, কিন্তু পরে তা বাতিল করেন। তিনি সপরিবারে জেরুসালেমের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সেখানে তার চাচাতো বোন (স্ত্রী) মারা যান এবং তিনি তাকে সেখানেই দাফন করেন। তার কোনো শারীরিক অসুস্থতা ছিল না, কেবল প্লেগের ভয়ে তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর দিনেই তিনি চতুর্থিক জ্বরে আক্রান্ত হন। সেই জ্বর অব্যাহত থাকে এবং একপর্যায়ে মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
(৪)।
তার মৃত্যু ও শোকগাথা:৭৪৯ হিজরির আরাফার দিন শনিবার তিনি ইন্তেকাল করেন।
(৫)।
তার এক বিশাল জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং কাসিউন পর্বতের পাদদেশে সালিহিয়াতে তাদের পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
(৬), যা মুখামুখি ছিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
البيقونية، مع أبيه وأخيه بدر الدين محمد
(1).
وقد أخلع السلطان على ولده القاضي بدر الدين محمد وقرّره في كتابة السرّ، وصاحب ديوان الإنشاء الشريف، عوضًا عن أبيه، بحكم وفاته
(2).
وقد رثى نفسه قبل أن يموت بهذين البيتين، وجدت مكتوبة في ورقة في دواته، بخط يده، وهو قوله:
قُلْتُ لأقلامي اكتبي وانطقي
… إلخ البيتين
(3).
ولما توفي، كتب الصفدي إلى أخيه القاضي علاء الدين صاحب دواوين الإنشاء يعزيه، نصه: يقبل الأرض وينهي ما عنده من الألم الذي برح، والسقم الذي جرّ ذيول الدمع على الخدود وجرح، لما قدّره الله تعالى من وفاة القاضي شهاب الدين:
سَقَتْهُ بألطف أندائها
… وأغزرها ساريات الغمام
فِـ {إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ}
(4) قَوْلَ من غاب شهابه، وآب التهابه، وذاب قلبه فصار للدمع قليبًا، وشاب فوده لما شب جمر فؤاده، ولا غرو فيومه جعل الولدان شيبًا، فيا أسفي على ذلك الوجه الملي بالملاحة واللسان الذي طالما سحر العقول ببيانه فصاحت يا ملك الفصاحة، واليد التي كم روّضت الطروس أقلامها، وأنشأت أسجاعًا لم تذكر معها بانات الحمى ولا حمامها، وكأن أبا الطيب ما عنى سواه بقوله
(5):
تعثرت بك في الأفواه ألسنها
… والبرد في الطرق والأقلام في الكتب
فرحم الله ذلك الوجه، وبلغه ما يرجوه، وضواه بالمغفرة يوم تبيض وجوه وتسود وجوه، لقد فقد المجد المؤثل منه ركنًا تتكثر به الجبال فما تقله ولا تستقلّه، وعدمت الآداب منه بارعًا لو عاصره الجاحظ ما كان له جاحدًا، أو البديع علم أنّ ما فُض له فضله، وغاب من الإنشاء منه كاتب ليس بينه وبين الفاضل لولا أخوه مثله، أترى ابن المعتز عناه بقوله
(6):
--------------------------------------------
আল-বাইকুনিয়াহ, তার পিতা এবং তার ভাই বদরুদ্দিন মুহাম্মাদের সাথে
(১)।
সুলতান তার পুত্র কাযী বদরুদ্দিন মুহাম্মাদকে রাজকীয় সম্মানসূচক পোশাক পরিধান করান এবং তাকে তার পিতার মৃত্যুর কারণে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে 'কিতাবাতুস সির' (গোপন পত্রালাপ) এবং 'দিওয়ানুল ইনশা আশ-শরীফ' (রাজকীয় চ্যান্সারি) এর প্রধান পদে নিযুক্ত করেন
(২)।
তিনি মৃত্যুর পূর্বে নিজেই নিজের শোকগাথা হিসেবে এই দুটি পঙক্তি রচনা করেছিলেন, যা তার দোয়াতের ভেতরে একটি কাগজে তার নিজ হস্তাক্ষরে লিখিত পাওয়া গেছে; তা হলো তার এই উক্তি:
আমি আমার কলমগুলোকে বললাম, তোমরা লেখো এবং কথা বলো... ইত্যাদি দুটি পঙক্তি
(৩)।
আর যখন তিনি ইন্তেকাল করলেন, আস-সাফাদী তার ভাই দিওয়ানুল ইনশার অধিপতি কাযী আলাউদ্দিনের নিকট সমবেদনা জানিয়ে পত্র লিখেছিলেন, যার পাঠ নিম্নরূপ: (প্রেরক) ভূমি চুম্বন করছেন এবং তার সেই তীব্র বেদনার কথা জানাচ্ছেন যা প্রকাশ পেয়েছে, এবং সেই ব্যথার কথা যা গাল বেয়ে অশ্রুর ধারা বইয়ে দিয়েছে এবং ক্ষত সৃষ্টি করেছে, কাযী শিহাবুদ্দিনের মৃত্যুতে আল্লাহ তাআলা যা নির্ধারণ করেছেন তার কারণে:
মেঘমালা তার স্নিগ্ধতম এবং প্রচুর শিশিরকণা দ্বারা তাকে সিক্ত করুক
সুতরাং {নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী}
(৪) - এটি এমন এক ব্যক্তির উক্তি যার (জীবনের) উল্কা অস্তমিত হয়েছে, যার দহন ফিরে এসেছে, যার হৃদয় গলে অশ্রুর কূপে পরিণত হয়েছে এবং যার কপালে অকালপক্কতা দেখা দিয়েছে যখন তার হৃদয়ের অঙ্গার জ্বলে উঠেছে; এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ এই দিনটি শিশুদের বৃদ্ধ করে দিয়েছে। হায় আফসোস সেই লাবণ্যময় চেহারার জন্য, এবং সেই রসনার জন্য যা দীর্ঘকাল তার বাগ্মিতা দিয়ে বুদ্ধিকে বিমোহিত করেছিল, ফলে মানুষ চিৎকার করে বলে উঠত— হে অলঙ্কারশাস্ত্রের রাজা! আর সেই হাতের জন্য যার কলম কতই না কাগজকে বশ করেছিল এবং এমন গদ্যশৈলী তৈরি করেছিল যার সামনে মদিনার বৃক্ষরাজি বা তার কপোতীর গুঞ্জনকেও কেউ স্মরণ করত না। যেন আবু তইয়িব (আল-মুতানাব্বী) তার এই উক্তি দ্বারা তাকেই বুঝিয়েছেন
(৫):
তোমার (শোকে) মুখগহ্বরে জিহ্বাগুলো হোঁচট খাচ্ছে... পথে ডাকবাহকগণ থেমে গেছে এবং কিতাবের পৃষ্ঠায় কলমগুলো থমকে দাঁড়িয়েছে
আল্লাহ সেই চেহারার ওপর রহম করুন, তাকে তার প্রত্যাশিত গন্তব্যে পৌঁছে দিন এবং যে দিন অনেক মুখ উজ্জ্বল হবে আর অনেক মুখ কালো হবে, সে দিন তাকে ক্ষমার আলোয় আলোকিত করুন। সুপ্রতিষ্ঠিত মর্যাদা তার মাঝে এমন এক স্তম্ভকে হারিয়েছে যা পাহাড়কেও ছাড়িয়ে যেত, কিন্তু কোনো পাহাড়ই তা বহন করতে বা সরাতে সক্ষম নয়। সাহিত্য জগত তার মাঝে এমন এক অনন্য প্রতিভাকে হারিয়েছে যে, যদি আল-জাহিজ তার সমসাময়িক হতেন তবে তিনি তাকে অস্বীকার করতে পারতেন না, অথবা আল-বাদী (আল-হামাদানী) জানতে পারতেন যে তার শ্রেষ্ঠত্ব কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে। রাজকীয় পত্রালাপ (ইনশা) বিভাগ থেকে এমন এক লেখক অন্তর্হিত হলেন, যার এবং (আল-কাযী) আল-ফাদিলের মধ্যে তার ভাই ব্যতীত আর কোনো সমকক্ষ ছিল না। আপনি কি মনে করেন ইবনুল মুতায তাকেই উদ্দেশ্য করে তার এই উক্তিটি বলেছিলেন
(৬):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
هذا أبو العباس في نعشه
… قوموا انظروا كيف تزول الجبال
وما يقول المملوك في البيت الكريم، إلا إن كان قد غاب بدره وأفل شهابه، أو غاص قطره وتقشع سحابه فإنّ نيّره الأعظم باقٍ في أوجه، وبحره الزاخر متلاطم في موجه، وفي بقاء مولانا خَلَفٌ عمّن سلف، وعِوَضٌ عما انهدم ركنه وانقض، وجبر لمن عدم الجلد والصبر والله يمتع المسلمين بحياته، ويجمع لديه بين ثوابه وثباته، لأنه قد عاش الدر المفدى بالذهب وأضاءت شمس المعالي إن كان قد حمد اللهب:
علم الله كيف أنت فأعطا
… ك المحل الجليل من سلطانه
جعل الدين في ضمانك والدنـ
… يا فعش سالمًا [لنا] في ضمانه
وقد نظم المملوك قصيدةً مختصرة في رثاء المشار إليه، وجعل ألفاظها تبكيه وقوافيها تنوح عليه، وهي
(1):
الله أكبر يا ابن فضل الله
… شَغَلَتْ وفاتُكَ كلَّ قلب لاءِ
كل يقول وقد عرته كآبة
… واهًا لفقدك إن صبري وَاهِ
فقَدَتْ بك الأملاك بحر ترسل
… متلاطم الأمواج بالأمواه
يا وحشة الإنشاء منك لكاتب
… ألفاظه زهر النجوم تباهي
وتوجع الأشعار فيك لناظم
… من لطفه لشذا النسيم يُضاهي
كم أمسكت يمناك طرسًا أبيضًا
… فأعدته في الحال طرزًا باهي
كم قد أدرت من القريض قوافيًا
… هي نشوة «الناشي» وزهو «الزاهي»
ورسالة أنشأتها في حانة النبا
… ذ حازت حضرة الفَكَّاءِ
ووضعت في الآداب كل مصنف
… قالت له البلغاء زاه زاه
كم قد خطرت على المجرة رافلًا
… يوم الفخار بمعطف تياهِ
شخصت لعلياك النجوم تعجبًا
… ولك الشهى يرنو بطرف ساه
ما كنت إلا واحد الدهر الذي
… يسمو على الأنظار والأشباه
من بعدك الكتاب قد كتبوا فما
… يجدون منجاة لهم من جاه
أقلامهم قد أُمْلِقَتْ ورمى الردى
… أدواتهم ودواتهم بدواهي
وطروسُهُمْ لبست حداد مدادها
… أسفًا عليك مؤكدًا بسفاه
أما القلوب فإنها رهن الأسى
… تَرِدُ القيامة وهي فيك كما هي
أبدًا يخيل لي بأنك حاضر
… تملي الفوائد لي وأنت تجاهي
--------------------------------------------
এই তো আবুল আব্বাস তাঁর খাটিয়ায়
… দাঁড়াও এবং দেখো কীভাবে পাহাড়গুলো অপসৃত হয়
আর এই অধম এই সম্মানিত গৃহ সম্পর্কে কী-ই বা বলতে পারে, কেবল এটাই যে এর পূর্ণিমা চাঁদ হারিয়ে গেছে এবং এর উজ্জ্বল নক্ষত্র অস্তমিত হয়েছে, অথবা এর বৃষ্টিধারা গভীরে তলিয়ে গেছে এবং এর মেঘমালা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। তবে এর মহান আলোকবর্তিকা তো তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষার শিখরে এখনও দেদীপ্যমান, এবং এর উত্তাল সমুদ্র এখনও ঢেউয়ে ঢেউয়ে তরঙ্গায়িত। আমাদের মাওলার বেঁচে থাকার মাঝে পূর্বসূরিদের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, যা ভেঙে পড়া স্তম্ভের বিনিময় এবং ধৈর্যহারাদের জন্য সান্ত্বনা। আল্লাহ তাআলা তাঁর হায়াতের মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করুন, এবং তাঁর নিকট সওয়াব ও অবিচলতার মিলন ঘটান। কেননা তিনি স্বর্ণের ন্যায় মহামূল্যবান মোতির ন্যায় জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং আভিজাত্যের সূর্যকে আলোকিত করেছেন, যদি আগুনের শিখাও প্রশংসিত হয়:
আল্লাহ জানেন আপনি কেমন, তাই তিনি আপনাকে
… তাঁর রাজত্বের সুমহান মর্যাদা দান করেছেন
তিনি দ্বীনকে আপনার জিম্মায় দিয়েছেন আর দুনিয়াকেও
… তাই তাঁর হেফাজতে আমাদের জন্য শান্তিতে বেঁচে থাকুন
আর এই অধম উল্লিখিত ব্যক্তির শোকগাথা হিসেবে একটি সংক্ষিপ্ত কাসিদা রচনা করেছে, যার শব্দাবলিকে তাঁর জন্য ক্রন্দনরত এবং অন্ত্যমিলকে বিলাপকারী হিসেবে নির্ধারণ করেছে, আর তা হলো
(১):
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, হে ফদলিল্লাহর পুত্র
… আপনার মৃত্যু প্রতিটি ব্যথিত হৃদয়কে আচ্ছন্ন করেছে
বিষণ্ণতায় আচ্ছন্ন হয়ে প্রত্যেকে বলছে
… আপনার বিচ্ছেদে হায় আফসোস! আমার ধৈর্য এখন বড়ই দুর্বল
আপনার বিদায়ে রাজত্বগুলো গদ্যের এমন এক সমুদ্র হারিয়েছে
… যার ঢেউগুলো পানির তোড়ে উত্তাল ছিল
আপনার অভাব রচয়িতার জন্য কতই না একাকীত্বের
… যার শব্দাবলি উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির ন্যায় শোভা পেত
আপনার শোকে কবিতাগুলো সেই ছন্দকারের জন্য ব্যথিত
… যার মাধুর্য বসন্তের সমীরণের সুবাসের সাথে পাল্লা দিত
আপনার ডান হাত কতবার সাদা কাগজ ধারণ করেছে
… আর মুহূর্তেই তাকে চমৎকার অলংকারে সজ্জিত করেছে
কতই না কবিতার অন্ত্যমিল আপনি আবর্তন করিয়েছেন
… যা 'নাশি'-র মাদকতা আর 'জাহি'-র অহংকার স্বরূপ ছিল
এবং সেই পত্র যা আপনি সংবাদ-সুধালয়ে রচনা করেছিলেন
… যা বাগ্মীদের উপস্থিতিকে জয় করেছিল
সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় আপনি এমন সব গ্রন্থ রচনা করেছেন
… যার প্রশংসা করে বাগ্মীরা বলেছে, চমৎকার! চমৎকার!
গৌরবের দিনে অহংকারের চাদর জড়িয়ে
… কতবার আপনি ছায়াপথের উপর দিয়ে দম্ভভরে হেঁটেছেন
আপনার উচ্চমর্যাদা দেখে নক্ষত্ররা বিস্ময়ে চেয়ে থাকত
… আর চাঁদ উদাস দৃষ্টিতে আপনার দিকে তাকিয়ে থাকত
আপনি তো ছিলেন যুগের সেই অনন্য ব্যক্তি
… যিনি সকল দৃষ্টি ও সমসাময়িকদের ঊর্ধ্বে আরোহণ করেন
আপনার পরে লেখকরা বিস্তর লিখেছেন, কিন্তু তারা
… তাদের পদমর্যাদা দিয়ে কোনো মুক্তি খুঁজে পায়নি
তাদের কলমগুলো নিঃস্ব হয়ে গেছে এবং মৃত্যু
… তাদের সরঞ্জাম ও দোয়াতের ওপর বিপদ ছুড়ে মেরেছে
তাদের কাগজগুলো কালির শোকাতুর পোশাক পরিধান করেছে
… আপনার জন্য সেই আফসোস মূর্খতা দিয়ে সুনিশ্চিত হয়েছে
আর হৃদয়গুলো তো দুঃখের নিকট বন্ধক হয়ে আছে
… কিয়ামতের ময়দানেও সেগুলো আপনার শোকে তেমনই থাকবে
সর্বদা আমার মনে হয় আপনি যেন উপস্থিত আছেন
… আপনি আমার সামনে থেকে আমাকে জ্ঞানগর্ভ কথা বলে দিচ্ছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فتعز فيه واصطبر لمصابه
… يا خير مولى أمر أو ناهي
فدوام ظلك في البرية نعمة
… ولَشُكْرُها حتم على الأفواه
لا زال جَدُّكَ في المبادئ صاعدًا
… رتبًا سعادتها بغير تناهي
إن شاء الله تعالى.
مصنفاته (1):
أنشأ كثيرًا من التقاليد والمناشير والتواقيع والأصدقة.
ووضع في حياته القصيرة (700 - 749 هـ) عددًا من الكتب التي تفاوتت في حجمها وموضوعاتها.
1 - مسالك الأبصار في ممالك الأمصار: موسوعة كبرى في التأريخ والجغرافيا والأدب والفلك والطب والاجتماع وغيرها، كتبها ابن فضل الله العمري في النصف الأول من القرن الثامن الهجري، وهي من أهم ما أنتجه عصر سلاطين المماليك، وقد وصفها الصفدي بأنها «كتاب حافل ما يُعلم أن لأحد مثله»
(2).
وقد عكفنا على تحقيقها منذ أكثر من ست سنوات وسترى النور قريبًا.
2 - التعريف بالمصطلح الشريف: وقد وضعه ليعرض فيه كل ما يُحتاج إليه في عمل الدواوين وألفه في الفترة التالية لعام 741 هـ - أي بعد أن أنهى كتابه الباب الخاص بمصر والشام والحجاز في موسوعته الكبيرة، وبعد أن تمتع بخبرة واسعة في ديوان الإنشاء.
وقد اكتسب هذا الكتاب مكانة خاصة لدى العاملين بديوان الإنشاء المملوكي فأطلق عليه القلقشندي «الدستور» ووصفه بأنه «أَنْفَس الكتب المُصَنَّفة في هذا الباب»
(3).
وطبع هذا الكتاب في القاهرة سنة 1312 هـ طبعة سقيمة، نفدت منذ زمن وأصبحت الحاجة ماسة إلى إعادة نشره اعتمادًا على مخطوطات جديدة ومقابلًا على «صبح الأعشى» و «المقصد الرفيع المنشا» اللذين اعتمدا عليه اعتمادًا كليًا، خاصة بعد أن توفّر على درسه المستشرق الألماني هارتمان
(4) والمستشرق الفرنسي
--------------------------------------------
সুতরাং আপনি এতে সান্ত্বনা খুঁজুন এবং তাঁর বিপদে ধৈর্য ধরুন
… হে আদেশ বা নিষেধকারী শ্রেষ্ঠ অভিভাবক
সৃষ্টির মাঝে আপনার ছায়ার স্থায়িত্ব একটি নেয়ামত
… আর তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ প্রতিটি মুখে অনিবার্য
আপনার সৌভাগ্য সূচনালগ্ন থেকেই সদাসমুন্নত থাকুক
… এমন মর্যাদায় যার সুখ সীমাহীন
যদি মহান আল্লাহ চান।
তাঁর রচনাবলী (১):
তিনি অনেক প্রশাসনিক নিয়োগপত্র, ইশতেহার, রাজকীয় স্বাক্ষর এবং বৈবাহিক চুক্তিপত্র রচনা করেছেন।
তিনি তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনে (৭০০ - ৭৪৯ হিজরি) বেশ কিছু কিতাব রচনা করেছেন যা কলেবর এবং বিষয়বস্তুর দিক থেকে বৈচিত্র্যময়।
১ - মসালিকুল আবসার ফি মামালিকিল আমসার: এটি ইতিহাস, ভূগোল, সাহিত্য, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসা, সমাজবিজ্ঞান এবং অন্যান্য বিষয়ের এক বিশাল বিশ্বকোষ। ইবনে ফাদলুল্লাহ আল-উমারি এটি অষ্টম হিজরি শতকের প্রথমার্ধে রচনা করেন। এটি মামলুক সুলতানদের যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি। আল-সাফাদি একে বর্ণনা করেছেন এই বলে যে, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাব, যার সমতুল্য কারো কোনো কিতাব আছে বলে জানা নেই।
(২)।
আমরা ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে এর সম্পাদনার কাজে নিয়োজিত আছি এবং শীঘ্রই এটি প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।
২ - আত-তারিফ বিল মুস্তালাহ আশ-শারিফ: তিনি এটি রচনা করেছেন দাপ্তরিক কাজে প্রয়োজনীয় সমস্ত বিষয় তুলে ধরার জন্য। তিনি এটি ৭৪১ হিজরির পরবর্তী সময়ে রচনা করেন—অর্থাৎ তাঁর বিশাল বিশ্বকোষের মিশর, সিরিয়া ও হিজাজ বিষয়ক অধ্যায়টি শেষ করার পর এবং দিওয়ানুল ইনশায় (রাজকীয় চিঠিপত্র বিভাগ) ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জনের পর।
মামলুক দিওয়ানুল ইনশার কর্মীদের কাছে এই কিতাবটি এক বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছিল; তাই আল-কালকাশান্দি একে 'আদ-দুস্তুর' (সংবিধান) বলে অভিহিত করেছেন এবং একে 'এই বিষয়ে রচিত সর্বাপেক্ষা মূল্যবান কিতাব' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
(৩)।
১৩১২ হিজরিতে কায়রোতে এই কিতাবটি একটি ত্রুটিপূর্ণ সংস্করণে মুদ্রিত হয়েছিল, যা অনেক আগেই নিঃশেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে এবং 'সুবহুল আ’শা' ও 'আল-মাকসাদ আল-রাফি আল-মুন্শা'—যা পুরোপুরি এই কিতাবের ওপর নির্ভরশীল—সেগুলোর সাথে মিলিয়ে এটি পুনরায় প্রকাশের তীব্র প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জার্মান প্রাচ্যবিদ হার্টম্যান
(৪) এবং ফরাসি প্রাচ্যবিদের গবেষণার পর এটি আরও গুরুত্ব লাভ করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
جودفري دي مومبين
(1)وتوجد مخطوطات هذا الكتاب في المكتبات الآتية:
دار الكتب المصرية برقم 57 أدب خ. 764 هـ، و 2134 أدب خ. 793 هـ، 352، Leiden Or خ. 837 هـ (مصورة بمعهد المخطوطات العربية برقم 1001 تاريخ)، 3823 آيا صوفيا Leipzig 659، Berlin 8639، Esc. 1639، نسخة خزائنية من القرن التاسع، 1640 Esc 2. خ 869 هـ (والنسختان مصورتان في معهد المخطوطات بالقاهرة فيما لم يفهرس)،. 1657 Gotha
وقام بتنقيح هذا الكتاب والزيادة عليه أحد أفراد أسرة المُحِبي يُعرف بالمقر التقوي بن ناظر الجيش وسمى كتابه «تثقيف التعريف بالمصطلح الشريف» قال القلقشندي: أنه أورد فيه ما أهمله العمري في التعريف، وذكر ما فاته من مصطلح ما يكتب أو حَدَث بعد تأليفه، ومع ذلك فقد ترك مما تضمنه التعريف مقاصد لا غنى للكاتب عنها حتى أصبح لا يستغنى بأحدهما عن الآخر
(2).
وتوجد مخطوطات هذا الكتاب في المكتبات الآتية:
Ambro 161، Golha 2126 Bodl. (2) 363، Esc 2. 550 (مصورة بمعهد المخطوطات في القاهرة فيما لم يفهرس).
وحقق هذا الكتاب الأستاذ عبد الرحمن أمين صادق وحصل به على درجة الماجستير من جامعة الأزهر سنة 1979، كما حققه المستشرق البولندي رودلف فَسَلي وهو الآن تحت الطبع لدى المعهد الفرنسي بالقاهرة.
ثم طبع محققًا من قبل السيد محمد حسين شمس الدين في بيروت - دار الكتب العلمية 1408 هـ/ 1988 م.
3 - ممالك عُبّاد الصليب: وصف فيه ملوك الإفرنج في عصره، وقد روى ذلك عن بلبان الجنوي، أحد مماليك بَهَادر المعزّي، فوصف مُلك فرنسا وألمانيا وأحوالهما السياسية والاجتماعية، وفعل نحو ذلك في البنادقة والإيطاليين وأهل جَنْوَة، وبين علائقهم بالمسلمين. والكتاب طبع في روما سنة 1883 م مع ترجمة إيطالية لأماري (هدية العارفين 3/ 239).
4 - النزهة الكافية في معرفة الكتابة والقافية: منه نسخة في 493 Leipzig، وأخرى في مكتبة فلايشر.
--------------------------------------------
গাউডফ্রয়-ডিমোম্বিনস
(১)এই বইটির পাণ্ডুলিপিগুলো নিম্নোক্ত লাইব্রেরিগুলোতে বিদ্যমান:
দারুল কুতুব আল-মিসরিয়া, নম্বর ৫৭ আদব খ. ৭৬৪ হি., এবং ২১৩৪ আদব খ. ৭৯৩ হি., ৩৫২, লাইডেন Or খ. ৮৩৭ হি. (আরবি পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে ১০০১ ইতিহাস নম্বরে চিত্রায়িত), ৩৮২৩ আয়া সোফিয়া, লাইপজিগ ৬৫৯, বার্লিন ৮৬৩৯, এসকোরিয়াল ১৬৩৯, নবম শতাব্দীর একটি রাজকীয় সংস্করণ, ১৬৪০ এসকোরিয়াল ২ খ. ৮৬৯ হি. (উভয় সংস্করণ কায়রোস্থ পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে অ-তালিকাভুক্ত অংশে চিত্রায়িত), ১৬৫৭ গোথা।
আল-মুহিব্বী পরিবারের একজন সদস্য, যিনি আল-মাকার আল-তাক্বাবী বিন নাযির আল-জাইশ নামে পরিচিত, তিনি এই বইটি পরিমার্জন করেছেন এবং এতে নতুন কিছু সংযোজন করেছেন। তিনি তার কিতাবের নাম রেখেছেন ‘তাসক্বীফুত তারিফ বিল মুস্তালাহিশ শরিফ’। আল-ক্বালকাশান্দী বলেন: তিনি এতে এমন অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা আল-উমারী ‘আত-তারিফ’ গ্রন্থে বাদ দিয়েছিলেন, এবং এমন পরিভাষাগুলো উল্লেখ করেছেন যা তার কাছে এড়িয়ে গিয়েছিল অথবা কিতাবটি রচনার পরে উদ্ভূত হয়েছিল। তা সত্ত্বেও, তিনি ‘আত-তারিফ’ গ্রন্থে বর্ণিত এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য বাদ দিয়েছেন যা একজন লেখকের জন্য অপরিহার্য, যার ফলে একটি কিতাব অন্যটির পরিপূরক হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং কোনোটিই অপরটির বিকল্প হতে পারছে না
(২)।
এই বইটির পাণ্ডুলিপিগুলো নিম্নোক্ত লাইব্রেরিগুলোতে বিদ্যমান:
আমব্রোসিয়ানা ১৬১, গোথা ২১২৬, বোডলিয়ান (২) ৩৬৩, এসকোরিয়াল ২, ৫৫০ (কায়রোস্থ পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে অ-তালিকাভুক্ত অংশে চিত্রায়িত)।
এই বইটি সম্পাদনা করেছেন জনাব আবদুর রহমান আমিন সাদিক এবং এর মাধ্যমে তিনি ১৯৭৯ সালে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়াও পোলিশ প্রাচ্যবিদ রুডলফ ভ্যাসেলি এটি সম্পাদনা করেছেন এবং এটি বর্তমানে কায়রোতে অবস্থিত ফরাসি ইনস্টিটিউটে মুদ্রণাধীন রয়েছে।
পরবর্তীতে জনাব মুহাম্মদ হুসাইন শামসুদ্দিনের সম্পাদনায় এটি বৈরুতের দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ থেকে ১৪০৮ হিজরি/১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
৩ - মামালিকু উব্বাদিস সলিব (ক্রুসেডারদের রাজ্যসমূহ): এতে তিনি তার সমসাময়িক ইউরোপীয় রাজাদের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি এই বর্ণনাগুলো বাহাদার আল-মুইযযি-এর অন্যতম দাস (মামলুক) বুলবান আল-জেনুই-এর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ফ্রান্স ও জার্মানির রাজত্ব এবং তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন। একইভাবে তিনি ভেনিসীয়, ইতালীয় ও জেনোয়ার অধিবাসীদের বর্ণনা এবং মুসলমানদের সাথে তাদের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন। বইটি ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে রোমে আম্যারির ইতালীয় অনুবাদসহ প্রকাশিত হয়েছে (হাদিয়াতুল আরিফীন ৩/২৩৯)।
৪ - আন-নুযহাতুল কাফিয়া ফি মা’রিফাতিল কিতাবাতি ওয়াক্ব ক্বাফিয়া: এর একটি কপি লাইপজিগ ৪৯৩-এ এবং অন্যটি ফ্লাইশার লাইব্রেরিতে রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
5 - دمعة الباكي ويقظة الشاكي (أو الساهر): (الوافي 8/ 255، الفوات 1/ 160، المنهل الصافي 2/ 265، المقفى الكبير 1/ 733، النجوم الزاهرة 10/ 235، كشف الظنون 1/ 761، هدية العارفين 1/ 110).
منه نسخة في مكتبة تشستربتي في إيرلندا بخط العُمري جاء في آخرها «سمعه من لفظي المولى الشيخ الحافظ
… أبو الخير سعيد بن عبد الله الدهلي الحنبلي أطال الله بقاءه، والشيخ الصالح برهان الدين إبراهيم بن كمال الدين محمد بن نصر الأنصاري بداري بسفح قاسيون في يوم السبت سابع صفر سنة خمس وأربعين وسبعمائة
… وكتبها أحمد بن يحيى بن فضل الله العمري عفا الله عنه».
(راجع Rice، D.S.) A miniature in an autogrph of shihab al - Din ibn، Fadlallah al - Umari)، BSOAS (XIII (1949 - 50)، pp. 856 - 867).
6 - ذَهَبِيَّة العصر: ذكر فيه شعراء المشرق والمغرب الإسلامي من أهل المئة الثامنة وذكر أشعارهم وأخبارهم على نهج من سبقه في التأليف عن أدباء عصره وشعرائه، كالثعالبي في كتابه يتيمة الدهر والباخرزي في كتابه دمية القصر، والعماد الأصفهاني في خريدة القصر، ومن بعده كالصفدي في كتابه أعيان العصر وغيرهم.
والعمري في كتابه هذا يمتاز على من تقدّمه بسعة إطلاعه على أحوال الممالك الإسلامية وقوة ارتباطه بحكامها، قوة مكنته من معرفة الكثير من أحوالها، مع اتصاله بمشاهيرها من علماء وأمراء وشعراء، يضاف إلى هذا اهتمامه بجزيرة العرب، اهتمامًا يوضحه ابتداء كتابه هذا بذكر مشاهيرها من العلماء والشعراء وغيرهم، ومن هنا فليس من المستبعد أن يذكر في هذا الكتاب من المغمورين مَنْ لم يذكره غيره.
وقد صرّح مؤلفه «في المسالك 3/ 133 - خ» إلى عام 746 هـ، ويشير ذلك إلى أنه آخر مؤلفاته.
لم يصل إلى الوجود سوى 5 صفحات منه لدى الشيخ علي العسلي، صاحب المكتبة العتيقة في تونس.
وقد اطلع عليها الاستاذ أيمن فؤاد السيد.
والاستاذ إبراهيم شبوح مدير الآثار في تونس، وأمين المجمع الملكي لبحوث الحضارة الإسلامية في عمان، والعلامة الشيخ حمد الجاسر وقد وصفها في بحثه حول الكتاب.
৫ - দামআতুল বাকি ওয়া ইয়াকজাতুশ শাকি (অথবা আস-সাহিুর): (আল-ওয়াফি ৮/ ২৫৫, আল-ফাওয়াত ১/ ১৬০, আল-মানহালুস সাফি ২/ ২৬৫, আল-মুক্বাফ্ফাল কাবির ১/ ৭৩৩, আন-নুজুমুজ জাহিরা ১০/ ২৩৫, কাশফুজ্জুনুন ১/ ৭৬১, হাদিয়াতুল আরিফিন ১/ ১১০)।
আয়ারল্যান্ডের চেস্টার বিটি লাইব্রেরিতে আল-উমারির স্বহস্তে লেখা এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে, যার শেষে উল্লেখ করা হয়েছে: "এটি আমার মুখ থেকে শুনেছেন সম্মানিত শেখ হাফেজ
... আবুল খায়ের সাঈদ বিন আব্দুল্লাহ আদ-দেহলভী আল-হাম্বলি (আল্লাহ তার দীর্ঘায়ু দান করুন), এবং নেককার শেখ বুরহান উদ্দিন ইব্রাহিম বিন কামাল উদ্দিন মুহাম্মদ বিন নাসর আল-আনসারী কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে, শনিবার, ৭ই সফর, ৭৪৫ হিজরিতে
... এবং এটি লিখেছেন আহমদ বিন ইয়াহিয়া বিন ফাদলুল্লাহ আল-উমারি, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন।"
(দ্রষ্টব্য: রাইস, ডি.এস.) শিহাব আল-দীন ইবনে ফাদলুল্লাহ আল-উমারির একটি স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপির মিনিয়েচার, বিএসওএএস (খণ্ড ১৩ (১৯৪৯-৫০), পৃষ্ঠা ৮৫৬-৮৬৭)।
৬ - জাহাবিয়্যাতুল আসর: এতে তিনি অষ্টম শতাব্দীর ইসলামি বিশ্বের পূর্ব ও পশ্চিমের কবিদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাদের কবিতা ও সংবাদ বর্ণনা করেছেন তার পূর্ববর্তী লেখকদের অনুসরণে যারা তাদের সমসাময়িক সাহিত্যিক ও কবিদের সম্পর্কে লিখেছেন; যেমন আস-সাআলাবি তার 'ইয়াতীমাতুদ দাহর' গ্রন্থে, আল-বাখারজি তার 'দুমইয়াতুল কাসর' গ্রন্থে, আল-ইমাদ আল-আসফাহানি তার 'খারীদাতুল কাসর' গ্রন্থে এবং পরবর্তীকালে আস-সাফাদি তার 'আয়ানুল আসর' গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা।
আল-উমারি তার এই গ্রন্থে তার পূর্ববর্তীদের তুলনায় ইসলামি রাজ্যগুলোর অবস্থা সম্পর্কে তার ব্যাপক জ্ঞান এবং তাদের শাসকদের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। এই শক্তি তাকে অনেক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে সক্ষম করেছে, সাথে সাথে তিনি প্রখ্যাত আলেম, আমির এবং কবিদের সাথেও যুক্ত ছিলেন। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আরব উপদ্বীপের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ, যা এই গ্রন্থের শুরুতে প্রখ্যাত আলেম, কবি এবং অন্যদের বর্ণনার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। তাই, এখান থেকে এটি অসম্ভব নয় যে তিনি এই গ্রন্থে এমন অনেক অপরিচিত ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করেছেন যা অন্য কেউ উল্লেখ করেনি।
লেখক 'আল-মাসালিক' (৩/ ১৩৩ - পাণ্ডুলিপি) গ্রন্থে ৭৪৬ হিজরি সাল পর্যন্ত এর সময়কাল উল্লেখ করেছেন এবং এটি ইঙ্গিত দেয় যে এটি তার শেষ রচনাগুলোর একটি।
তিউনিসিয়ার আল-মাকতাবাতুল আতিকার মালিক শেখ আলী আল-আসলি-এর কাছে এর মাত্র ৫টি পৃষ্ঠা বিদ্যমান রয়েছে।
অধ্যাপক আয়মান ফুয়াদ সাইয়্যিদ এটি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
এবং অধ্যাপক ইব্রাহিম শাব্বুহ (তিউনিসিয়ার প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পরিচালক ও আম্মানের রয়্যাল একাডেমি ফর ইসলামিক সিভিলাইজেশন রিসার্চ-এর সচিব) এবং আল্লামা শেখ হামাদ আল-জাসিরও এটি দেখেছেন এবং তিনি এই গ্রন্থটি সম্পর্কে তার গবেষণায় এর বর্ণনা দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
كما عُثر على جزء من الكتاب في خزانة كتب الشيخ محمد سرور الصبّان التي ضمت إلى مكتبة جامعة أم القرى، وتقع مصوّرة مخطوطة هذا الجزء في 136 ورقة بـ 272 صفحة وقد وصفه ونقل بعض من نصوص الشيخ الجاسر في بحثه المذكور
(1).
7 - صَبَابة المُشْتَاق: مجلد في المدائح النبوية (الوافي 8/ 255، الفوات 1/ 160، المنهل 2/ 265، النجوم 10/ 235 المقفى الكبير 1/ 733، كشف الظنون 2/ 1070).
8 - الشتويات: مجموعة رسائل إخوانية كتبها في الشتاء. منها نسخة في ليدن برقم 351. Leiden Or، ومكتبة جامعة استانبول برقم 1144 (مصورة بمعهد المخطوطات العربية برقم 498 أدب).
9 - الدعوة المستجابة: المقفى الكبير (1/ 733، كشف الظنون 1/ 756.
10 - نَفْحَة الروض: في الأدب المقفى الكبير/ 1/ 733، كشف الظنون 2. 1968
11 - سفرة السفرة: (الوافي 8/ 255، الفوات 1/ 160، المنهل 2/ 265، النجوم 10/ 235، كشف الظنون 2/ 992، المقفى الكبير 1/ 733).
12 - فواضل السمر في فضائل آل عمر: وهو دراسة عن أُسرته ورجالاتها وفضائلها في أربع مجلدات، وهو مفقود. (الوافي 8/ 255، الفوات 1/ 260، الدرر الكامنة 1/ 354، المنهل 2/ 265، النجوم 10/ 235، كشف الظنون 2/ 1293).
13 - الدرر الفرائد: وهو مختصر قلائد العقيان في محاسن الأعيان لابن خاقان وموضوعه تراجم لطائفة من ملوك ووزراء وقضاة وعلماء وأدباء وشعراء المغرب. منه نسخة في الخزانة التيمورية كتبت سنة 720 هـ. (مجلة المجمع العلمي العربي بدمشق 3 (1923) 343.
14 - الدائرة بين مكة والبلاد: (الأعلام للزركلي 1/ 268).
15 - تذكرة الخاطر: كشف الظنون 1/ 385).
16 - حسن الوفا لمشاهير الخلفا: وهي قصيدة رائية، كشف الظنون 1/ 668).
--------------------------------------------
তেমনিভাবে বইটির একটি অংশ শেখ মুহাম্মদ সুরুর আস-সাব্বানের কুতুবখানায় পাওয়া গেছে, যা উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই অংশের পাণ্ডুলিপির ফটোকপি ১৩৬টি পাতায় ২৭২ পৃষ্ঠাজুড়ে বিস্তৃত। শেখ আল-জাসির তাঁর উল্লিখিত গবেষণায় এর বর্ণনা দিয়েছেন এবং এর কিছু পাঠ্য উদ্ধৃত করেছেন
(১).
৭ - সাবাবাতুল মুশতাক: নবীজির প্রশংসামূলক কবিতার একটি খণ্ড (আল-ওয়াফি ৮/ ২৫৫, আল-ফাওয়াত ১/ ১৬০, আল-মানহাল ২/ ২৬৫, আন-নুজুম ১০/ ২৩৫, আল-মুকাফ্ফা আল-কাবীর ১/ ৭৩৩, কাশফুয যুনুন ২/ ১০৭০)।
৮ - আশ-শাতাবিয়াত: শীতকালে লেখা ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পত্রাবলির একটি সংগ্রহ। এর একটি অনুলিপি লাইডেনে ৩৫১ নম্বর (Leiden Or) এবং ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে ১১৪৪ নম্বরে রয়েছে (আরব পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে ৪৯৮ আদব নম্বরে এর ফটোকপি সংরক্ষিত)।
৯ - আদ-দাওয়াতুল মুস্তাজাবাহ: আল-মুকাফ্ফা আল-কাবীর (১/ ৭৩৩, কাশফুয যুনুন ১/ ৭৫৬)।
১০ - নাফহাতুর রওদ: সাহিত্য বিষয়ক, আল-মুকাফ্ফা আল-কাবীর ১/ ৭৩৩, কাশফুয যুনুন ২/ ১৯৬৮।
১১ - সুফরাতুস সুফরাহ: (আল-ওয়াফি ৮/ ২৫৫, আল-ফাওয়াত ১/ ১৬০, আল-মানহাল ২/ ২৬৫, আন-নুজুম ১০/ ২৩৫, কাশফুয যুনুন ২/ ৯৯২, আল-মুকাফ্ফা আল-কাবীর ১/ ৭৩৩)।
১২ - ফাওয়াদিলুস সামার ফি ফাদায়িলি আলি উমর: এটি তাঁর পরিবার, এর ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের গুণাবলি সম্পর্কে চার খণ্ডে একটি গবেষণা, যা বর্তমানে নিখোঁজ। (আল-ওয়াফি ৮/ ২৫৫, আল-ফাওয়াত ১/ ২৬০, আদ-দুরারুল কামিনাহ ১/ ৩৫৪, আল-মানহাল ২/ ২৬৫, আন-নুজুম ১০/ ২৩৫, কাশফুয যুনুন ২/ ১২৯৩)।
১৩ - আদ-দুরারুল ফারায়েদ: এটি ইবনে খাকানের 'কালাইদুল উকিয়ান ফি মাহাসিনিল আইয়ান'-এর সংক্ষিপ্তসার। এর বিষয়বস্তু হলো মাগরিবের একদল রাজা, উজির, বিচারক, আলেম, সাহিত্যিক ও কবিদের জীবনী। এর একটি অনুলিপি আল-খিজানাতুত তাইমুরিয়্যাহ-তে রয়েছে যা ৭২০ হিজরিতে লেখা হয়েছিল। (মাজাল্লাতুল মাজমাউল ইলমি আল-আরাবি বি-দিমাশক ৩ (১৯২৩) ৩৪৩।
১৪ - আদ-দাইরাহ বাইনা মাক্কাহ ওয়াল বিলাদ: (আল-আলাম লির-যিরিকলি ১/ ২৬৮)।
১৫ - তাযকিরাতুল খাতির: কাশফুয যুনুন ১/ ৩৮৫)।
১৬ - হুসনুল ওয়াফা লি-মাশাহিরিল খুলাফা: এটি 'রা' অন্ত্যমিল বিশিষ্ট একটি দীর্ঘ কবিতা, কাশফুয যুনুন ১/ ৬৬৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
17 - الجواهر الملتقطة: وهو مجموعة من المكاتبات من إنشاء العمري. (صبح الأعشى؟).
شعره:نظم أشعارًا كثيرة، منها ما ذكرها في تضاعيف كتبه، وفي هذا الكتاب خاصة، ومنها في كتابه «صبابة المشتاق» وما ذكرته كتب التراجم التي ترجمت له. وقد نحى بها مناح عديدة، وأغراض مختلفة، تدلل على شاعرية الشاعر وأفكاره ونزعاته وقد قمت بجمع ما تناثر من شعره ليصدر في مجموع خاص، ونورد هنا بعضًا من أشعاره:
[1]كتب إلى الصفدي وهو بصفد، ضمن كتاب: [من الخفيف]
1 - مُحْسِنًا لَمْ يَدَعْ لَنا بِأَيادِي
… هـ على كَثْرَةِ الرَّجاءِ رَجَاءَ
2 - جادَ قَبْلَ السُّؤالِ بِرًَّا فَلَمَّا
… لم نَسَلَّ مِنْ نَداهُ جَادَ ابْتِدَاءَ
التخريج:
ألحان السواجع 1/ 177.
[2]قال:
1 - وحق الذي أبلى فؤادي بحبكم
… وصير قلبي فيكم هائمًا صَبّا
2 - محبكم المضني على ما عهدتم
… ولم يجن فعلًا في الفراق ولا ذنبا
3 - ولكنها الأقدار تجري على الفتى
… وتحمل فيها من أحبته عتبا
4 - أأحبابنا أنتم بقلبي وناظري
… لذلك لا أشكو بعادًا ولا قربا
التخريج:
الوافي بالوفيات 8/ 268.
[3]وقوله:
1 - قبح الطاعون داء
… ذهبت فيه الأحبة
2 - أرخص الأنفس بيعًا
… كل إنسان بحبة
التخريج:
১৭ - আল-জাওয়াহির আল-মুলতাকাতাহ: এটি আল-উমারি রচিত পত্রাবলির একটি সংকলন। (সুবহুল আ'শা?)।
তাঁর কবিতা:তিনি অনেক কবিতা রচনা করেছেন, যার কিছু তাঁর বইসমূহের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত হয়েছে, বিশেষ করে এই বইটিতে। এর কিছু তাঁর 'সাবাবাতুল মুশতাক' গ্রন্থে এবং তাঁর জীবনী সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কবিতার মাধ্যমে বিভিন্ন দিক ও উদ্দেশ্য ফুটিয়ে তুলেছেন, যা কবির কাব্যপ্রতিভা, চিন্তা ও ঝোঁককে প্রকাশ করে। আমি তাঁর বিক্ষিপ্ত কবিতাগুলো একত্রিত করেছি যাতে সেগুলো একটি বিশেষ সংকলন হিসেবে প্রকাশিত হয়। এখানে তাঁর কিছু কবিতা উল্লেখ করা হলো:
[১]সাফেদে অবস্থানরত আস-সাফাদি-কে একটি চিঠির মাধ্যমে লিখেছিলেন: [খাফিফ ছন্দে]
১ - তিনি এমন এক অনুগ্রহকারী, যিনি তাঁর করুণাধারার আধিক্যের কারণে আমাদের জন্য কোনো আকাঙ্ক্ষা অবশিষ্ট রাখেননি।
২ - তিনি প্রার্থনার পূর্বেই সদাচার দান করেছেন, আর যখন আমরা তাঁর বদান্যতা প্রার্থনা করিনি, তখনও তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে দান করেছেন।
উৎস:
আলহান আল-সাউয়াজি ১/১৭৭।
[২]তিনি বলেছেন:
১ - সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাদের ভালোবাসায় আমার অন্তরকে জীর্ণ করেছেন এবং আমার হৃদয়কে আপনাদের প্রেমে ব্যাকুল ও উম্মাদ বানিয়েছেন।
২ - আপনাদের সেই ক্ষীণকায় প্রেমিক পূর্বের ন্যায় অটল রয়েছে, বিরহের সময় সে কোনো অপরাধ বা পাপাচার করেনি।
৩ - তবে মানুষের ওপর নিয়তিই কার্যকর হয়, আর এতে প্রিয়জনদের পক্ষ থেকে অনুযোগ সহ্য করতে হয়।
৪ - হে আমার প্রিয়জনেরা, আপনারা আমার অন্তরে এবং দৃষ্টির সামনেই আছেন, তাই আমি দূরত্ব বা নৈকট্য কোনোটিরই অভিযোগ করি না।
উৎস:
আল-ওয়াফি বিল-ওয়াফায়াত ৮/২৬৮।
[৩]তাঁর উক্তি:
১ - প্লেগ কতই না নিকৃষ্ট ব্যাধি, যাতে প্রিয়জনেরা চলে যায়।
২ - এটি জীবনকে এতটাই সস্তা করে দিয়েছে যে, প্রতিটি মানুষ যেন সামান্য কণার বিনিময়ে বিকিয়ে যাচ্ছে।
উৎস:
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
تعريف ذوي العلا 64.
[4]ومن مدائحة النبويّة:
1 - جنحت إلي مع الأصيل المذهب
… والركب ممتد الخطا في المذهب
2 - واليوم مبيض الإزار وإنما
… جنب الإزار مطرز بالغيهب
3 - والشمس قد همت لتذهب رهبة
… لكنها بقيت لنا لم تذهب
4 - وعلى الأصائل رقة فكأنما
… لبست نحول العاشق المتلهب
5 - والجو حيث شممت ينفح عنبرا
… ويذر منه فوق فرق المغرب
6 - ومبشر النوار جاء مخلقا
… لا شك قد خطرت نوافح يثرب
7 - وافى يبشر بالحمى وبأهله
… يهنيكم هذي المدينة والنبي
8 - هذي المدينة أشرقت أعلامها
… يهنيكم فزتم بأشرف مطلب
9 - هذي القباب كأنهن عرائس
… مجلوة سفرت ولم تتنقب
10 - هذي الحدائق والنخيل وماؤها
… ثم واستظل من الهواجر واشرب
11 - هذا رسول الله جدوا نحوه
… تجدوا النوال الجم والخلق الأبي
12 - هذا رسول الله هذا أحمد
… هذا النقي الجيب هذا مطلبي
13 - هذا صباح المهتدي هذا ربيـ
… ـع المجتبى هذا شفيع المذنب
14 - هذا النبي الهاشمي المجتبى
… من نسل إبراهيم أكرم من أب
15 - هذا المصفى من سلالة آدم
… الطيب ابن الطيب ابن الطيب
16 - شرفت به آباؤه وأتت به
… أبناؤه والكل مثل الكوكب
17 - واختاره الله المهيمن ربه
… وحباه بالقربى وعز المنصب
18 - آتاه في المعراج فضلا لم يكن
… لسواه من دون البرية قد حبي
19 - يا حبذا فيه مهاجمة الدجى
… ولو أنه أسد يصول بمخلب
20 - ودوام إيراد الركاب صواديا
… والفجر مثل الماء تحت الطحلب
21 - لتنيخ في باب النبي محمد
… وتراح من طول المسير المتعب
22 - يا معشر العشاق هذا أنتم
… وحبيبكم والليل داجي الغيهب
23 - قوموا انظروا وتمتعوا بجماله
… وتأملوا فجماله لم يحجب
24 - وتزودوا قبل الرحيل فإنه
… لم يبق غير هنيهة لم تذهب
25 - قرب الفراق فليته لم يقترب
… منا وليت مطيه لم تقرب
26 - أيام عمري ما أقمت بطيبة
… أما سواه فإنني لم أحسب
তা’রীফ যাউয়িল উলা ৬৪।
[৪]এবং তাঁর নবিপ্রেমমূলক প্রশংসা কাব্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত:
১ - সুবর্ণ অপরাহ্নের সাথে আমার পানে ঝুঁকে পড়ল … আর কাফেলা দীর্ঘ কদমে নির্দিষ্ট পথে পথ চলে চলল।
২ - আর দিনটি ছিল শুভ্র বসনধারী, কিন্তু … সেই বসনের প্রান্তদেশ অন্ধকার দ্বারা খচিত।
৩ - আর সূর্য ভীতিতে বিদায় নিতে উদ্যত হয়েছিল … কিন্তু তা আমাদের জন্য রয়ে গেল, বিদায় নেয়নি।
৪ - আর অপরাহ্নগুলোতে এমন কোমলতা ছিল যেন … তারা কোনো ব্যাকুল প্রেমিকের কৃশতা পরিধান করেছে।
৫ - আর যেদিক থেকেই আমি ঘ্রাণ নিই না কেন, বাতাস আম্বর ছড়াচ্ছে … আর সূর্যাস্তের উপরিভাগে তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
৬ - আর সুগন্ধিময় ফুলের সুসংবাদদাতা সুবাস ছড়িয়ে এল … নিঃসন্দেহে ইয়াসরিবের সুবাসিত বাতাস বইতে শুরু করেছে।
৭ - সে পবিত্র ভূমি ও তার অধিবাসীদের সুসংবাদ নিয়ে উপনীত হল … তোমাদের মোবারকবাদ, এই তো মদিনা এবং এই তো নবি।
৮ - এই সেই মদিনা যার নিশানসমূহ উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে … তোমাদের মোবারকবাদ, তোমরা শ্রেষ্ঠতম মকসুদ লাভে সফল হয়েছ।
৯ - এই গম্বুজগুলো যেন একেকজন নবোঢ়া বধূ … যারা ঘোমটা সরিয়ে প্রস্ফুটিত হয়েছে এবং নিকাবাবৃত হয়নি।
১০ - এই সেই উদ্যান, খেজুর বাগান এবং তার সুপেয় পানি … সেখানে অবস্থান করো, দুপুরের প্রচণ্ড উত্তাপ থেকে ছায়া নাও এবং পান করো।
১১ - এই আল্লাহর রাসুল, তাঁর দিকে দ্রুত ধাবিত হও … তোমরা সেখানে অজস্র দান এবং সুমহান চরিত্রের সন্ধান পাবে।
১২ - এই আল্লাহর রাসুল, এই আহমদ … এই পবিত্রাত্মা, এই তো আমার পরম আকাঙ্ক্ষিত।
১৩ - এই হিদায়াতপ্রাপ্তদের প্রভাত, এই মনোনীতদের … বসন্তকাল, এই অপরাধীদের সুপারিশকারী।
১৪ - এই হাশেমী বংশোদ্ভূত মনোনীত নবি … যিনি ইবরাহিমের বংশধর, যিনি সকল পিতার চেয়েও সম্মানিত।
১৫ - আদমের বংশধারা থেকে এই সেই নিষ্কলুষ সত্তা … যিনি পবিত্র, পবিত্রের সন্তান, পবিত্রের বংশধর।
১৬ - তাঁর মাধ্যমে তাঁর পিতৃপুরুষগণ সম্মানিত হয়েছেন এবং তাঁর থেকে … তাঁর সন্তানগণ এসেছেন, যারা প্রত্যেকেই একেকটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায়।
১৭ - মহাপ্রতাপশালী আল্লাহ, তাঁর রব তাঁকে মনোনীত করেছেন … এবং তাঁকে নৈকট্য ও সুউচ্চ মর্যাদা দান করেছেন।
১৮ - মিরাজে আল্লাহ তাঁকে এমন ফযিলত দান করেছেন যা … সৃষ্টিজগতের অন্য কাউকেই প্রদান করা হয়নি।
১৯ - তাঁর (সাক্ষাতের) জন্য অন্ধকারের বিরুদ্ধে লড়াই কতই না উত্তম … যদিও সেখানে থাবাওয়ালা গর্জনকারী সিংহের মোকাবিলা করতে হয়।
২০ - আর তৃষ্ণার্ত অবস্থায় সওয়ারিগুলোকে ক্রমাগত চালিত রাখা … যখন ফজর ছিল শৈবালের নিচে টলটলে পানির মতো স্বচ্ছ।
২১ - যেন তুমি নবি মুহাম্মদের দ্বারে উট বসাতে পারো … এবং দীর্ঘ ক্লান্তিকর সফর থেকে প্রশান্তি লাভ করো।
২২ - হে আশেকদল! এই তো তোমরা … এবং এই তোমাদের প্রিয়তম, আর রাতটি ছিল ঘোর অন্ধকার।
২৩ - ওঠো, দেখো এবং তাঁর সৌন্দর্যে বিমোহিত হও … গভীর মনোযোগে প্রত্যক্ষ করো, কারণ তাঁর সৌন্দর্য তো আবৃত নয়।
২৪ - প্রস্থানের পূর্বে পাথেয় সংগ্রহ করে নাও, কেননা … সামান্য কিছু মুহূর্ত ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
২৫ - বিচ্ছেদের সময় নিকটবর্তী হল, হায় যদি তা ঘনিয়ে না আসত … আর হায় যদি বিদায়ের সওয়ারি আমাদের নিকটে না আসত।
২৬ - আমার জীবনের দিনগুলো তো কেবল তাই যা আমি তৈয়্যবায় কাটিয়েছি … এ ছাড়া অন্য কোনো সময়কে তো আমি (জীবন বলে) গণ্যই করি না।
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
27 - ليت الزمان يدوم لي بوصالها
… أو لم يَجُدْ فَبِطَيفها المتأوّبِ
التخريج:
الوافي بالوفيات 8/ 265 - 266.
[5]وكتب إلى الصفدي من دمشق وكان يومئذ بالقاهرة سنة (741):
1 - رحلتم فلا والله ما بَعْدَكم قلبي
… بقلبي ولا والله عقلي ولا لُبّي
2 - هجرتم زمانًا ثم شط مزاركم
… فاهًا على بعدي وآها على قربي
3 - وبدلتم غيري ووالله ما رأت
… سوى حسنكم عيني ولا غيركم قلبي
4 - لئن كان ذنبي أن قلبي يحبكم
… فيا رب زدني منه ذنبًا على ذنبي
5 - ولا تحسبوا أني تغيرت مثلكم
… فما قلبكم قلبي ولا حبكم حبي
6 - رحلتم وما كنتم سوي روح مغرم
… قضى بكم وجدًا وما غاب في الترب
7 - نأيتم فلا والله ما هبت الصبا
… فنمت مع النوام جنبًا على جَنْبي
8 - لئن عُدْتُم عاد السرور جميعه
… وإلا فمالي بالرسائل والكتب
9 - دَعُوا عنكم التعليل باليوم أو غد
… فلست بمن يبقى إلى البعد والقرب
10 - ولا تعجبوا إن من حين فراقكم
… إذا بان حبي كيف لا ينقضي نحبي
11 - أأحبابنا كيف استقلت ركابكم
… وما علقتها العين في شرك الهدب
12 - وطرتم سراعًا كالطيور مشقة
… فهلا وقعتم في القلوب على الحبّ
13 - ووالله ما حدثت نفسي بمجلس
… سوى ما أفاض الدمع فيه من الجب
14 - ولا كان شرق الدمع من طبع مقلتي
… إلى أن تغربتم ففاض من الغرب
15 - ونغصتم طيب الحياة ببعدكم
… وهيهات أن ترجى حَيَاةُ فتى صَبٌ
16 - أأبغي سواكم في الهوى أو أريده
… وهجركم سقمي ووصلكم طبي
17 - دعوني وأطلال الديار أنح بها
… وأندبها إن كان ينفعها ندبي
فكتب إليه الصفدي:
دعوتم على بعد فلباكم لبي
… وناجاكم قلبي على البعد والقرب
ومالي وذكر الدار يا ساكني الحشا
… وداركم عيني وداركم قلبي
وأقسم أن الجفن فيكم جفا الكرى
… وأحرق قلب الصب من دَمْعِه الصَّبٌ
إذا قلتُ هُبّي يا نسيمة دارهم
… يقول الجوى يا نار أشواقه شبي
أيا جيرة بالقلب لا الشام خيموا
… محاسنكم تصبي القلوب فلم تسبي
২৭ - আফসোস! যদি কাল তার মিলনে আমার জন্য চিরস্থায়ী হতো
… অথবা মিলন যদি অঢেল না হতো, তবে যেন তার ফিরে আসা কাল্পনিক প্রতিচ্ছবিই হতো।
সূত্র:
আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৮/ ২৬৫ - ২৬৬।
[৫]দামেস্ক থেকে আস-সাফাদীর কাছে লেখা হয়েছিল, যখন তিনি সেই সময় (৭৪১) হিজরিতে কায়রোতে ছিলেন:
১ - আপনারা চলে গেছেন, আল্লাহর কসম! আপনাদের পর আমার হৃদয়
… আর আমার নেই; আল্লাহর কসম! না আমার বুদ্ধি না আমার মেধা।
২ - আপনারা দীর্ঘকাল বিচ্ছিন্ন ছিলেন, তারপর আপনাদের সাক্ষাতের স্থান দূরে সরে গেল
… আফসোস আমার দূরত্বের জন্য, আর আক্ষেপ আমার নৈকট্যের জন্য।
৩ - আপনারা আমার পরিবর্তে অন্য কাউকে গ্রহণ করেছেন, অথচ আল্লাহর কসম!
… আমার চোখ আপনাদের সৌন্দর্য ব্যতীত অন্য কিছু দেখেনি এবং আমার হৃদয় আপনাদের ছাড়া অন্য কাউকে চায়নি।
৪ - যদি আপনাদের ভালোবাসা আমার হৃদয়ের অপরাধ হয়
… তবে হে প্রতিপালক! এই অপরাধের ওপর আমার অপরাধ আরও বাড়িয়ে দিন।
৫ - আপনারা ভাববেন না যে আমি আপনাদের মতো বদলে গেছি
… কারণ আপনাদের হৃদয় আমার হৃদয়ের মতো নয় এবং আপনাদের ভালোবাসা আমার ভালোবাসার মতো নয়।
৬ - আপনারা চলে গেছেন, অথচ আপনারা ছিলেন কেবল এক অনুরাগী আত্মা
… আপনাদের বিরহে সে প্রেমে বিলীন হয়েছে, অথচ মাটির গভীরে হারিয়ে যায়নি।
৭ - আপনারা দূরে সরে গেছেন, আল্লাহর কসম! যখনই পুবাল বাতাস বয়ে যায়
… আমি ঘুমন্তদের সাথে কাৎ হয়ে ঘুমাতে পারি না।
৮ - আপনারা যদি ফিরে আসেন, তবে সমস্ত আনন্দ ফিরে আসবে
… নতুবা চিঠি আর বই দিয়ে আমার কী কাজ?
৯ - আজ বা কাল বলে অজুহাত দেওয়া বাদ দিন
… কারণ আমি এমন কেউ নই যে স্থায়িত্ব এবং সান্নিধ্য পর্যন্ত বেঁচে থাকবে।
১০ - আপনাদের বিচ্ছেদের সময় থেকে আপনারা অবাক হবেন না
… যখন আমার ভালোবাসা প্রকাশ পায়, তখন কেন আমার মৃত্যু হবে না?
১১ - হে আমাদের প্রিয়জন! আপনাদের কাফেলা কীভাবে যাত্রা শুরু করল
… অথচ চোখের পাপড়ির ফাঁদে তা আটকা পড়ল না?
১২ - আপনারা কষ্টের সাথে দ্রুত পাখির মতো উড়ে গেলেন
… তবে কেন আপনারা ভালোবাসার টানে হৃদয়ে এসে পড়লেন না?
১৩ - আল্লাহর কসম! আমি কোনো মজলিসে নিজের সাথে কথা বলিনি
… কেবল সেই প্রেমপূর্ণ বিষাদ ছাড়া যা চোখের জল প্রবাহিত করে।
১৪ - অশ্রুর প্লাবন আমার চোখের স্বভাব ছিল না
… যতক্ষণ না আপনারা প্রবাসী হলেন, তখন তা অশ্রুর উৎস থেকে প্লাবিত হতে লাগল।
১৫ - আপনারা আপনাদের দূরত্ব দিয়ে জীবনের মাধুর্যকে বিষিয়ে তুলেছেন
… আর বিরহী যুবকের জীবনের আশা করা কতই না সুদূরপরাহত!
১৬ - আমি কি প্রেমে আপনাদের ছাড়া অন্য কাউকে খুঁজব বা চাইব?
… অথচ আপনাদের বিচ্ছেদই আমার অসুখ আর আপনাদের মিলনই আমার প্রতিকার।
১৭ - আমাকে এবং গৃহের ধ্বংসাবশেষগুলোকে ছেড়ে দিন যাতে আমি বিলাপ করতে পারি
… আমি সেগুলোর জন্য শোক করব যদি আমার শোক কোনো উপকারে আসে।
তারপর আস-সাফাদী তাকে লিখলেন:
আপনারা দূর থেকে ডেকেছেন, তাই আমার প্রাণ আপনাদের ডাকে সাড়া দিয়েছে
… আর দূরত্ব ও সান্নিধ্য—উভয় অবস্থাতেই আমার হৃদয় আপনাদের সাথে গোপনে কথা বলেছে।
হে আমার প্রাণের অধিবাসী! ঘরবাড়ির কথা বলে আমার কী কাজ?
… আপনাদের ঘর তো আমার চোখ এবং আপনাদের ঘর তো আমার হৃদয়।
আর আমি শপথ করছি যে, আপনাদের বিরহে চোখের পাতা ঘুমকে ত্যাগ করেছে
… আর অনুরাগীর ঝরে পড়া চোখের জল তার অন্তরকে দগ্ধ করেছে।
আমি যখনই বলি, ‘হে তাদের গৃহের মন্দ বাতাস, তুমি প্রবাহিত হও’
… তখনই অন্তরের দহন বলে ওঠে, ‘হে তার আকাঙ্ক্ষার আগুন, তুমি প্রজ্বলিত হও’।
হে প্রতিবেশী! যারা সিরিয়ায় নয়, বরং হৃদয়ে তাবু গেড়েছেন
… আপনাদের সৌন্দর্য হৃদয়গুলোকে মোহিত করে, তবে কেন তা বন্দি করে না?
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
لأنتم وإن أضرمتم النار في الحشا
… ألذ إلى قلبي من البارد العذب
رفعتكم جرًا إلى نصب ناظري
… فيا حبذا رفع يجر إلى نصب
أحاشيكم أن يألف القلب غيركم
… فقلبي لا يرضى بهذا ولا ربي
وحقكم ما راقني غير حسنكم
… وإحسانكم حسبي بما راقني حسبي
رحلت ولي قلب مقيم على الوفا
… لعهدكم حتى أود في الترب
أحاول عودي نحوكم ويصدني
… خيانة دهر راح حربي لا حزبي
أليس من الأنكاد أن لا مخبر
… يبلغكم عني سلامي ولا كتبي
ولولا المنى أن يجمع الله شملنا
… قريبًا لما فارقت نوحي ولا نَدْبي
سأجهد في عودي لمطلع حبكم
… ولو أن لي في مصر مملكة الغرب
بعثتم على بخل الزمان لأنكم
… كرام بنظم فاق منسجم السحب
غدا خارجًا في النظم عن قدرة الورى
… ولكنّه في حسنه داخل الضرب
فقلت لدهري زد علي قساوة
… فقد ظفرت كفاي باللؤلؤ الرطب
التخريج:
أعيان العصر 1/ 425 - 427
[6]وقال في «الدير الأبيض»: [من المتقارب]
1 - ولم أَنْسَ بالدير يومًا لنا
… وعيش السرور بهِ يُنْتَهَبْ
2 - ففضض أبكاره باللُّجَيْنِ
… وموه أصاله بالذهب
3 - وكأس المُدام علينا تطوف
… بحمراء صافيةٍ كاللَّهَبْ
4 - يطوف بها من بَنَاتِ القُسُو
… س باخلةُ الكَفَّ ليستْ تَهَبْ
5 - مُبَتَّلةٌ بين رهبانها
… لألحاظها في حَشَانا رَهَبْ
6 - مسيحية طلعت في المسوح
… كصبح أَصَلَّ وليل ذَهَبْ
7 - وقد غاب عَنَّا عِيانُ الرقيب
… وجاد الزمان بما قد وَهَبْ
8 - فرَشْفُ اللَّمى خُلَس بيننا
… وعض الخُدُود لدينا نَهُبْ
التخريج:
مسالك الأبصار 1/ 464.
আপনারাই—যদিও আপনারা আমার অন্তরে আগুন জ্বালিয়েছেন—আমার হৃদয়ের কাছে শীতল সুপেয় পানির চেয়েও বেশি সুস্বাদু।
আমি আপনাদের সম্মানকে টেনে আমার দৃষ্টির সামনে তুলে ধরেছি; কতই না চমৎকার সেই উত্তোলন যা ক্লান্তির দিকে টেনে নিয়ে যায়!
আমি আপনাদের পবিত্র মনে করি এই ধারণা থেকে যে আমার হৃদয় অন্য কারো সাথে সখ্যতা গড়বে; কেননা আমার হৃদয় এতে সন্তুষ্ট নয় এবং আমার প্রতিপালকও নন।
আপনাদের কসম, আপনাদের সৌন্দর্য ছাড়া অন্য কিছুই আমাকে মুগ্ধ করেনি; আপনাদের অনুগ্রহই আমার জন্য যথেষ্ট, যা আমাকে মুগ্ধ করেছে তার বদলে তাই আমার জন্য যথেষ্ট।
আমি প্রস্থান করেছি অথচ আমার হৃদয় আপনাদের প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বস্ততায় স্থির রয়েছে, যতক্ষণ না আমাকে মাটিতে দাফন করা হয়।
আমি আপনাদের নিকট ফিরে আসার চেষ্টা করি, কিন্তু কালের বিশ্বাসঘাতকতা আমাকে বাধা দেয়, যা আমার হিতাকাঙ্ক্ষী না হয়ে বরং আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।
এটা কি চরম দুর্ভাগ্যের বিষয় নয় যে, এমন কোনো সংবাদবাহক নেই যে আপনাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে সালাম বা আমার চিঠিগুলো পৌঁছে দেবে?
আল্লাহ শীঘ্রই আমাদের পুনর্মিলন ঘটাবেন—এই আশা যদি না থাকত, তবে আমি বিলাপ ও শোক প্রকাশ করা ছেড়ে দিতাম না।
আমি আপনাদের ভালোবাসার উদয়স্থলে ফিরে আসার আপ্রাণ চেষ্টা করব, যদিও মিশরে আমার জন্য পশ্চিমা সাম্রাজ্য থাকত।
কালের কৃপণতা সত্ত্বেও আপনারা এই কাব্য পাঠিয়েছেন; কারণ আপনারা এমন এক কাব্যশৈলীর মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী মহানুভব ব্যক্তি যা প্রবহমান মেঘমালাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
রচনার দিক থেকে এটি মানুষের ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে; তবে সৌন্দর্যের বিচারে এটি শ্রেষ্ঠত্বের অন্তর্ভুক্ত।
তখন আমি কালকে বললাম, "আমার প্রতি তোমার কঠোরতা আরও বাড়িয়ে দাও, কারণ আমার দুই হাত সিক্ত মুক্তা লাভে সফল হয়েছে।"
উৎস:
আ'ইয়ানুল আসর ১/ ৪২৫ - ৪২৭
[৬]এবং তিনি 'আদ-দাইরুল আবইয়াদ' (শ্বেত মঠ) সম্পর্কে বলেছেন: [মুতাকারিব ছন্দে]
১ - আমি মঠের সেই দিনটির কথা ভুলিনি, যেখানে আমাদের আনন্দের জীবন অবারিত ছিল।
২ - সে তার প্রভাতকে রূপালী আলোয় রঞ্জিত করেছিল এবং তার গোধূলিকে স্বর্ণালী আভায় রাঙিয়েছিল।
৩ - আর আমাদের চারদিকে মদিরার পেয়ালা আবর্তিত হচ্ছিল, যা ছিল আগুনের শিখার মতো স্বচ্ছ লাল বর্ণের।
৪ - পাদ্রীদের কন্যাদের মধ্য থেকে একজন কৃপণ হস্তের অধিকারিণী সেই পেয়ালা নিয়ে ঘুরছিল, যে কিছুই দান করতে চায় না।
৫ - সে তার সন্ন্যাসীদের মাঝে এক নিভৃতচারিণী, যার চাহনি আমাদের অন্তরে ভীতি জাগিয়ে তোলে।
৬ - পশমি পোশাকে এক খ্রিস্টান নারী আবির্ভূত হয়েছে, যেন এক নির্মল প্রভাত এবং বিদায় নেওয়া রাত।
৭ - পাহারাদারের দৃষ্টি তখন আমাদের থেকে আড়ালে ছিল এবং কাল তার উপহারের মাধ্যমে আমাদের প্রতি উদারতা প্রদর্শন করেছিল।
৮ - আমাদের মাঝে অধর সুধা পান করা ছিল অত্যন্ত সংগুপ্ত, আর গণ্ডদেশে চুম্বন ছিল লুণ্ঠনের মতো।
উৎস:
মাসালিকুল আবসার ১/ ৪৬৪।
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
[7]
قال الصفدي:
وأَنْشَدَني هو أيضًا لِنَفْسِهِ: [من الكامل]
1 - إِنَّا نُقيم على حماةٍ حُجَّةً
… في حُسْنِهَا وَلَهَا جَمَالٌ يَبْهَتُ
2 - ومن النواعير الفصاح خُصومنا
… ولها لسان ناطق لا يَسْكُتُ
فَأَنْشَدْتُهُ أَنا أَيْضًا لِنَفْسي: [من السريع]
ناعُورَةٌ أَنَّتْ وَحَنَّتْ فَقَدْ
… شَوَّقَتِ الدَّانِي والقاصي
قَدْ نَبَّهَتْني لِلْهدى والتقى
… لَمَّا غَدَتْ تبكي على العاصي
التخريج: ألحان السواجع 1/ 190. أعيان العصر 1/ 424 - 425.
[8]وقال: [من الرمل]
1 - سل شجيًّا عن فؤادٍ نَزَحا
… وخليًا فيهم كيف صحا
2 - ومحبًّا لم يذق بعدهم
… غير تبريح بهم ما بَرِحا
3 - مزج الدمع بذكراه لهم
… مثل خديْ مَنْ سقاه القدحا
4 - زاره الطيف وهذا عَجَبٌ
… شبح كيف يلاقي شبحا
التخريج: الوافي بالوفيات 8/ 267
[9]قال الصفدي:
وكتبت إليه قرينَ أَغْنام للضحايا: [من الطويل]
أَيا سَيِّدًا أَرْجُو دَوامَ ظِلالِهِ
… عَلَيْنَا وأَن يُمْسِي بِخَيْرٍ كَمَا يُضْحِي
وَحَقَّكَ ما هَذي ضحايا بَعَثْتُها
… ولَكِنَّنِي سُقْتُ الأَعادِي إِلَى الذَّبْحِ
فكتب إليَّ الجواب عن ذلك: [من الطويل]
1 - أَتَتْني ضحاياك التي قد بَعَثْتَها
… لِتُصْبِحَ كَالأَعْداءِ فِي بُكْرَةِ الأَضْحَى
2 - وحَقِّكَ أَعْدانا كلابٌ جَميعُهُمْ
… وحاشاك لا تجزي الكِلابُ لِمَنْ ضَحَى
التخريج:
ألحان السواجع 1/ 189 - 190، الوافي بالوفيات 8/ 256، تعريف ذوي العلا 65، أعيان العصر 1/ 423.
[৭]
আল-সাফাদী বলেন:
তিনি নিজেও আমাকে নিজের রচিত কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন: [কামিল ছন্দ থেকে]
১ - আমরা হামাহর সৌন্দর্যের সপক্ষে একটি প্রমাণ উপস্থাপন করি... তার এমন রূপ-লাবণ্য রয়েছে যা মানুষকে হতবাক করে দেয়।
২ - আর বাকপটু জলচক্রগুলো (নাউরা) হলো আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী... তাদের এমন এক মুখর জিহ্বা রয়েছে যা কখনও নীরব হয় না।
অতঃপর আমিও তাকে আমার নিজের রচিত কবিতা আবৃত্তি করে শোনালাম: [সারী' ছন্দ থেকে]
জলচক্রটি বিলাপ ও আর্তনাদ করল, যার ফলে সে... নিকটবর্তী ও দূরবর্তী সকলের হৃদয়ে ব্যাকুলতা জাগিয়ে তুলল।
তা আমাকে হিদায়াত ও খোদাভীতির প্রতি জাগ্রত করেছে... যখন সে আসী নদীর (বা পাপিষ্ঠের) ওপর কাঁদতে শুরু করল।
উৎস: আলহান আল-সাওয়াতি' ১/ ১৯০। আ'য়ান আল-আসর ১/ ৪২৪ - ৪২৫।
[৮]তিনি বলেন: [রামাল ছন্দ থেকে]
১ - শোকাতুর ব্যক্তিকে সেই হৃদয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন যা বিচ্যুত হয়েছে... আর তাদের মধ্যকার ভারমুক্ত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করুন কীভাবে সে সুস্থ হলো।
২ - আর সেই প্রেমিককে জিজ্ঞাসা করুন যে তাদের বিচ্ছেদের পর... নিরন্তর যাতনা ছাড়া আর কিছুর স্বাদ গ্রহণ করেনি।
৩ - সে তাদের স্মৃতির সাথে অশ্রুকে এমনভাবে মিশ্রিত করেছে... যেন সেই ব্যক্তির গালদ্বয় যাকে সুরাপাত্র পান করানো হয়েছে।
৪ - তার নিকট কল্পছায়া এসেছিল, আর এটি আশ্চর্যের বিষয়... একটি ছায়া কীভাবে অন্য একটি ছায়ার সাক্ষাৎ পায়!
উৎস: আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৮/ ২৬৭
[৯]আল-সাফাদী বলেন:
আমি কুরবানির পশুর সাথে তার নিকট লিখলাম: [তাবীল ছন্দ থেকে]
হে সেই মহান ব্যক্তিত্ব, যার ছায়া সর্বদা আমাদের ওপর বিরাজমান থাকার প্রত্যাশা করি... এবং তিনি যেন প্রভাতের ন্যায় সন্ধ্যাতেও কুশলে থাকেন।
আপনার হকের কসম, এগুলো কোনো কুরবানির পশু নয় যা আমি পাঠিয়েছি... বরং আমি শত্রুদের জবেহ করার জন্য হাঁকিয়ে নিয়ে এসেছি।
অতঃপর তিনি আমাকে এর জবাবে লিখলেন: [তাবীল ছন্দ থেকে]
১ - আপনার পাঠানো কুরবানির পশুগুলো আমার কাছে পৌঁছেছে... যেন তা ঈদুল আযহার ভোরে শত্রুদের মতো (জবেহ হওয়ার যোগ্য) হয়।
২ - আপনার হকের কসম, আমাদের শত্রুরা সবাই কুকুর... আর আপনার মর্যাদা অনেক উচ্চে, কুরবানিদাতার জন্য কুকুর কখনও কুরবানির বিকল্প হতে পারে না।
উৎস:
আলহান আল-সাওয়াতি' ১/ ১৮৯ - ১৯০, আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৮/ ২৫৬, তারিফ যাবি আল-উলা ৬৫, আ'য়ান আল-আসর ১/ ৪২৩।
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
[10]
قال ضمن كتاب أجاب به الصفدي: [من السريع]
1 - كأنما اليَوْمُ وَقَدْ تَوَّهَتْ
… مَشْرِقَهُ الشَّمْسُ وَلا جَاحِدُ
2 - ثَوْبٌ من الشَّرْبِ وَلَكِنَّهُ
… طُرِّزَ مِنْهُ كُمُّهُ الواحد
التخريج:
ألحان السواجع 1/ 158، مسالك الأبصار - خ - 12/ الورقة 507.
[11]وَكَتَبَ إلى الصفدي وقد تَوَاتَرَتِ الأَمْطار في شهر شباط، من سنة 746: [من البسيط]
1 - هِيَ السَّحائِبُ أَمَّا وَجْهُها فَندِ
… طلق وأمَّا نَداهَا فَهْوَ مِلْءُ يَدي
2 - خُضْرٌ تَسُنُّ سُيوفَ البَرْقِ آوِنَةً
… إِنَّ السَّحابَ لَجلاء لِكُلِّ صَدي
3 - ما كانَ أَمْشِيرُ مِمَّنْ لا يُشيرُ بِما
… أَوْمَتْ إليهِ بِكَفِّ خُضْبَتْ وَيَدِ
(1)4 - جَاءَتْ بِجَمْرَةِ كَانُون وقد طُفِئَتْ
… نِيْرَانُ كَانُونَ لا بالماء والبَرَدِ
5 - عادَتْ عَلَيْنا وقد وَلَّى الشَّتَاءُ بِما
… فِيهِ وَفاءَ عَلَيْنَا الصَّيْفُ بالمَدَدِ
6 - وجاءَ شَهْرُ شُباط فَوقَ عاتِقِهِ
… بزاخِرِ البَحْرِ تَحْتَ العَارِضِ البَرِدِ
7 - طالَتْ عَلَيْنا لَهُ أَيَّامُ مُدَّتِهِ
… كَأَنَّ أَيَّامَهُ أَضْحَتْ بِلا عَدَدِ
8 - لَقَدْ جَرى وَهُوَ مُمْتَدُّ العِنانِ بِلا
… نِهايَةٍ في مَدَى سَبْقٍ ولا أَمَدِ
9 - ودامَ يَهْمي سجالَ المُزْنِ سَاكِبَةً
… والبَرْقُ يَحْمَدُ مِنْهُ كُلُّ مُتَّقِدِ
10 - وقد خفى البَرْقُ فِي أَثْنَائِهَا وَجَرَتْ
… سواكِبُ المُزْنِ مِثْلَ اللُّؤْلُؤِ البَدَدِ
11 - فَأَرْمَدَتْ كُلَّ عَيْنِ مَدُّ سَائِلِها
… لكِنْ عُيونُ الحَيَا مِنْهُ بِلا رَمَدِ
12 - وصَيِّبُ الرَّعْدِ لا يَنْفَكُ يَزْجُرُها
… أما تَرى الرَّعْدَ مِنْهَا مِثْلُ مُرْتَعِدِ
13 - يرمي رواشِقَ نَبْلٍ صَوْبُ سَاكِبِهِ
… فَتَتَّقِيهِ دُرُوعُ الرَّوْضِ بِالزَّرَدِ
14 - وفاخِتِيُّ سَحَابٍ فَضْلُ مُطْرَفِهِ
… يَجُرُّ فَوْقَ الثَّرَى ذَيْلًا بِكُلِّ يَدِ
15 - وَرُبَّ صَهْبَاءَ فَوْقَ الزَّهْرِ سَائِرَةٌ
… حَمْراءَ تَعْبَقُ بَيْنَ الماءِ والزَّبَدِ
16 - وَرُبَّ وَفاءَ كَحْلاءِ المَدامِعِ ما
… ذَرَّ الكَرِى بَيْنَ جَفْنَيْها من السُّهُدِ
--------------------------------------------
[১০]
তিনি আস-সাফাদিকে দেওয়া এক উত্তরমূলক পত্রের মধ্যে বলেছেন: [ছন্দ: আস-সারি’]
১ - দিনটি যেন এমন, যার সূর্যোদয়কে সূর্য অস্পষ্ট করে দিয়েছে... আর এতে কোনো অস্বীকারকারী নেই।
২ - এটি যেন মিহি মসলিনের একটি পোশাক, তবে তার কেবল একটি হাতা কারুকার্যখচিত।
উৎস নির্দেশ:
আলহান আস-সাওয়াজি ১/১৫৮, মাসালিক আল-আবসার (পা-লি-) ১২/ পত্র ৫০৭।
[১১]এবং তিনি আস-সাফাদির নিকট লিখলেন, যখন ৭৪৬ হিজরি সনের শুবাতি (ফেব্রুয়ারি) মাসে অঝোরে বৃষ্টি ঝরছিল: [ছন্দ: আল-বাসিত]
১ - এ তো মেঘমালা; যার উপরিভাগ আর্দ্র ও প্রফুল্ল, আর তার বদান্যতা আমার হস্তপূর্ণ করে দেয়।
২ - শ্যামল মেঘমালা, যা ক্ষণে ক্ষণে বিজলির তলোয়ার শাণিত করে; নিশ্চয়ই মেঘমালা সকল তৃষ্ণা নিবারণকারী।
৩ - আমশির এমন মাস ছিল না যে সেই দিকে ইশারা করবে না, যার দিকে রঞ্জিত করতল ও হাত ইঙ্গিত করেছে।
(১)৪ - এটি কানুন মাসের তপ্ত অঙ্গার নিয়ে এসেছে, অথচ কানুন মাসের আগুন নিভে গেছে—তা পানি বা শিলাবৃষ্টি দিয়ে নয়।
৫ - শীত তার বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিদায় নেওয়ার পর তা পুনরায় আমাদের নিকট ফিরে এসেছে এবং গ্রীষ্মকাল সাহায্যের রসদ নিয়ে আমাদের দিকে ধাবিত হয়েছে।
৬ - শুবাতি মাস উপস্থিত হলো, তার কাঁধে উত্তাল সমুদ্রের ভার নিয়ে, শীতল মেঘমালার নিচে।
৭ - আমাদের কাছে তার স্থায়িত্বকাল দীর্ঘ হয়ে গেল, যেন তার দিনগুলো সংখ্যাতীত হয়ে পড়েছে।
৮ - এটি অবারিত বেগে ছুটে চলেছে, শ্রেষ্ঠত্বের এই দৌড়ে যার কোনো শেষ বা সীমানা নেই।
৯ - মেঘ থেকে অবিরাম ধারায় বারি বর্ষিত হতে থাকল, আর বিজলির প্রতিটি শিখা তার প্রশংসা করছে।
১০ - তার আড়ালে বিজলি লুকিয়ে ছিল এবং মেঘের বারিধারা বিক্ষিপ্ত মুক্তার মতো ঝরছিল।
১১ - তার সিক্ত ধারার প্রসারণ প্রতিটি চোখকে পীড়িত (চোখ ওঠা রোগ) করল, কিন্তু বৃষ্টির চোখগুলো রোগমুক্ত রইল।
১২ - মুষলধারে বৃষ্টির সাথে গর্জনকারী বজ্র তাকে অবিরত ধমক দিচ্ছে; তুমি কি দেখছ না যে বজ্র তার ভয়ে কম্পমান?
১৩ - এর বারিধারা ক্ষিপ্র তীরের মতো নিক্ষিপ্ত হচ্ছে, যা থেকে উদ্যানের বর্মগুলো তাদের লৌহ কড়া দিয়ে আত্মরক্ষা করছে।
১৪ - ধূসর বর্ণের মেঘমালা, যার অলঙ্কৃত চাদরের আঁচল প্রতিটি হাত দিয়ে মাটির ওপর টেনে নেওয়া হচ্ছে।
১৫ - কতই না লালচে বারিধারা ফুলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে, যা পানি ও ফেনার মাঝে সুগন্ধে আমোদিত।
১৬ - আর কতই না সুরমা মাখা অশ্রুসজল অনুগত নারী, অনিদ্রার কারণে যার চোখের পাতায় ঘুমের লেশমাত্র নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
17 - وَرُبَّ رَبِّقِ مُزْنٍ طَعْمُ رِيْقَتِهِ
… أشهى من الرَّاحِ أَوْ أَحْلَى من الشُّهُدِ
18 - لَكِنَّهُ رُبَّما طالَ الثَّواءُ بِهِ
… وعافَهُ النَّاسُ لِلتَّطْوِيلِ فِي المُدَدِ
19 - فَرُبَّما جاوَزَ المِقْدارَ مَنْفَعَةً
… وجاءَ بِالعَيْثِ صَوْبُ الغَيْثِ وَالنَّكَدِ
20 - وكم تَضَرَّرَ بادٍ من تَناقُلِهِ
… وكم تَضَيَّرَ مِنْهُ سَاكِنُ البَلَدِ
التخريج:
ألحان السواجع 1/ 168 - 169.
[12]قال الصفدي:
كتب هو إليَّ مُلْغِزًا في «زُبَيْدَة»: [من الخفيف]
1 - أَيُّها الفاضل الذي حازَ فَضْلًا
… ما عَلَيْهِ لِمِثلِهِ مِنْ مَزِيدِ
2 - قد تداني عبد الرحيم إليه
… وتَناءَ لَدَيْهِ عبد الحميد
3 - أَيُّ شَيْءٍ سُمِّي بِهِ ذاتُ خِدْرٍ
… تائه بالإماء أو بالعبيد
4 - هُوَ وَصْفُ لِذاتِ سِتْرِ مَصون
… وَهْيَ لم تَخْفَ في جَميعِ الوُجودِ
5 - مُذْ مَضى حِيْنُها بِها لَيْسَ تَأْتِي
… وَهْيَ تأتي مع الربيع الجديد
6 - وَهْيَ مِمَّا يُبَشِّرُ النَّاسَ طُرًَّا
… مِنْهُ مَأْتي وَكَثْرَةً في العديدِ
7 - وحليم أَرادَهُ لا لِذات
… بَلْ لِشَيْءٍ سِواهُ في المَقْصودِ
8 - ذاك شَيْءٌ مَنِ ارْتَجاهُ سَفيه
… وَهُوَ شَيْءٌ مُخَصَّصُ بالرَّشِيدِ
فكتبتُ أنا الجواب إليهِ: [من الخفيف]
يا فريدًا أَلْفاظُهُ كالفريد
… ومجيدًا قد فاق عبد الحميد
وإمام الأنام في كُلِّ عِلْمٍ
… وشريكًا في الفَضْل للتوحيدي
عَرَفَ العالِمُونَ فَضْلَكَ بِالـ
… ـعلم وقال الجُهَّالُ بِالتَّقْلِيدِ
مَنْ تَمَنَّى بِأَنْ يَرَى لَكَ شِبْها
… رام نقضًا بِالجَهْلِ حُكْمَ الوُجودِ
طال قدري على السماكَيْنِ لمَّا
… جاءني مِنْهُ عِقْدُ دُرِّ نَضِيدِ
شابَهُ الدُّرَّ في النظام ولما
… شابه السِّحْرَ شَابَ رَأْسُ الوليد
هُوَ لُغْزُ في ذاتِ خِدْرٍ مَنِيع
… نَزَلَتْ في العُلى بِقَصْرٍ مَشيدِ
هي أم الأمين ذات المعالي
… من بني هاشم ذوي التأبيدِ
أَنْتَ كُنْتَ الهادِي لِمَعْناهُ حَقًَّا
… حِيْنَ لَوَّحْتَ لِي بِذِكْرِ الرَّشيد
১৭ - অনেক মেঘের বৃষ্টির ফোঁটা যার আস্বাদন
… সুরা অপেক্ষা অধিক আকাঙ্ক্ষিত কিংবা মধু অপেক্ষা অধিক মিষ্টি।
১৮ - কিন্তু কখনও কখনও এর অবস্থান দীর্ঘায়িত হয়
… ফলে সময়ের দীর্ঘতার কারণে মানুষ একে অপছন্দ করে।
১৯ - কখনও কখনও উপকারিতার সীমা ছাড়িয়ে যায়
… এবং বৃষ্টির পতন অনিষ্ট ও কষ্ট নিয়ে আসে।
২০ - এর বিচরণে কত মরুচারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
… এবং কত শহরবাসী এর দ্বারা কষ্টের শিকার হয়েছে।
উৎস নির্দেশ:
আলহান আল-সাওয়াযে’ ১/ ১৬৮ - ১৬৯।
[১২]আস-সাফাদি বলেন:
তিনি ‘জুবাইদা’ সম্পর্কে একটি ধাঁধা লিখে আমার কাছে পাঠিয়েছেন: [খাফিফ ছন্দে]
১ - হে সেই গুণী ব্যক্তি যিনি এমন শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন
… যার সমকক্ষদের জন্য তাঁর উপর আর কোনো আধিক্য নেই।
২ - তাঁর নিকট আব্দুর রহীম নিকটবর্তী হয়েছে
… আর তাঁর কাছে আব্দুল হামীদ দূরবর্তী হয়েছে।
৩ - এমন কী জিনিস যার দ্বারা কোনো পর্দানশীন নারীর নামকরণ করা হয়েছে
… যে দাসীদের মাধ্যমে বা দাসদের মাধ্যমে গর্বিত?
৪ - এটি এক সংরক্ষিত পর্দানশীন সত্তার গুণ
… অথচ তা সমস্ত অস্তিত্বের মাঝে গোপন নয়।
৫ - যখন তার সময় চলে যায়, তখন সে আর আসে না
… অথচ সে নতুন বসন্তের সাথে আগমন করে।
৬ - এবং এটি এমন যা সমস্ত মানুষকে সুসংবাদ দেয়
… তার থেকে আগত বস্তু এবং সংখ্যার আধিক্য নিয়ে।
৭ - এবং কোনো ধৈর্যশীল একে কোনো সত্তার জন্য চাননি
… বরং উদ্দেশ্যগতভাবে অন্য কিছুর জন্য চেয়েছেন।
৮ - এটি এমন এক বস্তু যার আশা যে করে সে নির্বোধ
… অথচ এটি ‘রশীদ’-এর সাথে বিশেষভাবে যুক্ত।
অতঃপর আমি এর উত্তরে তাঁর কাছে লিখলাম: [খাফিফ ছন্দে]
হে অনন্য ব্যক্তি যার শব্দগুলো মুক্তার মতো
… এবং হে মহিমান্বিত যিনি আব্দুল হামীদকে অতিক্রম করেছেন।
এবং প্রত্যেক জ্ঞানে সৃষ্টিজগতের ইমাম
… এবং শ্রেষ্ঠত্বে আত-তাওহীদী-র অংশীদার।
জ্ঞানীরা আপনার শ্রেষ্ঠত্বকে জ্ঞানের মাধ্যমে চিনেছে
… আর মূর্খরা তা অনুকরণ করে বলেছে।
যে আপনার কোনো সদৃশ দেখার আকাঙ্ক্ষা করে
… সে অজ্ঞতার কারণে অস্তিত্বের নিয়মকে খণ্ডন করার ইচ্ছা পোষণ করে।
আমার মর্যাদা নক্ষত্রদ্বয়ের উপরে উঠে গেল যখন
… তাঁর পক্ষ থেকে আমার কাছে সুবিন্যস্ত মুক্তার মালা এল।
এটি শৃঙ্খলার দিক থেকে মুক্তার সাদৃশ্য রাখে এবং যখন
… এটি জাদুর সাদৃশ্য রাখল, তখন বালকের মাথাও পেকে গেল।
এটি এক দুর্ভেদ্য পর্দানশীন নারী সম্পর্কে ধাঁধা
… যে উচ্চতায় এক সুউচ্চ প্রাসাদে অবস্থান করছে।
তিনি হলেন উম্মুল আমীন, উচ্চ মর্যাদাপূর্ণা
… চিরস্থায়ী ঐতিহ্যের অধিকারী বনী হাশিম বংশের।
আপনিই ছিলেন এর অর্থের প্রকৃত পথপ্রদর্শক
… যখন আপনি ‘রশীদ’-এর কথা উল্লেখ করে আমার কাছে ইঙ্গিত দিলেন।
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
دُمْتَ تُهْدِي إِليَّ كُلَّ عَجِيبٍ
… ما عَلَيْهِ فِي حُسْنِهِ مِنْ مَزيد
التخريج:
ألحان السواجع 1/ 150 - 151، الوافي بالوفيات 8/ 256 - 257، أعيان العصر 1/ 421 - 422.
[13]وقال:
1 - شربت مع غادة عجوز طلا
… فاستصحبت بعد مَنْعِها العادة
2 - لينها السكر لي فحينئذ
… سلَّمْتُ أَنَّ العجوز قواده
التخريج:
الوافي بالوفيات 8/ 267.
[14]وله أيضًا في معذر:
1 - بعارضيه بدا عذار
… به جميع القلوب تعذر
2 - يا قلب كيف الطريق حتى
… اسلو هواه وقد تعذر
التخريج:
المنهل الصافي 8/ 266.
وله في «الدير الأبيض»: [من الطويل]
1 - وبالدير يوم أبيض لي كاسمه
… وقد طلعت من جانب الدير أقمار
2 - وقد جُلِيَتْ في الكأس صهباء مُزَّةٌ
… تَكَشَّفَ منها في الدُّجُنَّةِ أستار
3 - وبالدير ديرانيَّةٌ بَرَزَتْ لنا
… فتم لنا فيها حديث وأسمار
4 - جَلَتْها كأنَّ الطُّور جانب كأسها
… وإلا ربي دارين من دونها دار
التخريج:
مسالك الأبصار 1/ 464.
[16]وله:
1 - من شَقْتي في هواه حظي
… من حسنه الخد والعذار
আপনি দীর্ঘজীবী হোন, আমাকে প্রতিটি আশ্চর্যজনক বস্তু উপহার দিচ্ছেন
… যার সৌন্দর্যে আর কোনো বৃদ্ধির অবকাশ নেই
তথ্যসূত্র:
আলহানুল সাওয়াজি ১/ ১৫০ - ১৫১, আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৮/ ২৫৬ - ২৫৭, আইয়ানুল আসর ১/ ৪২১ - ৪২২।
[১৩]এবং তিনি বলেছেন:
১ - আমি এক সুন্দরী বৃদ্ধার সাথে পুরাতন মদ পান করেছি
… তার বাধার পরে আমি সেই অভ্যাসই বজায় রেখেছি
২ - মত্ততা তাকে আমার প্রতি কোমল করে তুলেছিল, আর তখনই
… আমি স্বীকার করলাম যে সেই বৃদ্ধাই এর চালিকাশক্তি
তথ্যসূত্র:
আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৮/ ২৬৭।
[১৪]গণ্ডদেশের কেশরেখা সম্পর্কে তার আরও উক্তি:
১ - তার কপোলে কেশরেখা প্রকাশিত হয়েছে
… যার কারণে সকল হৃদয় ওজর পেশ করছে
২ - হে হৃদয়, নিষ্কৃতির পথ কোথায়? যাতে
… আমি তার প্রেম ভুলে যাই, অথচ তা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে
তথ্যসূত্র:
আল-মানহালুস সাফি ৮/ ২৬৬।
‘আদ-দাইরুল আবয়াজ’ (শ্বেত মঠ) সম্পর্কে তার উক্তি: [তওয়ীল ছন্দ]
১ - সেই মঠে আমার একটি শুভ্র দিন কেটেছে তার নামের মতোই
… আর মঠের এক প্রান্ত থেকে উদিত হয়েছে অনেক পূর্ণিমা চাঁদ
২ - পানপাত্রে টক-মিষ্টি লাল শরাব পরিবেশন করা হয়েছে
… যা দিয়ে অন্ধকারের পর্দাগুলো উন্মোচিত হয়েছে
৩ - সেই মঠে এক মঠবাসিনী আমাদের সামনে প্রকাশ পেলেন
… যার ফলে আমাদের মাঝে কথাবার্তা ও সান্ধ্যকালীন গল্পগুজব পূর্ণতা পেল
৪ - তিনি একে এমনভাবে উজ্জ্বল করেছেন যেন তার পেয়ালার একপাশ তূর পাহাড়ের মতো
… নতুবা ‘দারীন’-এর টিলাগুলো তার সামনে তুচ্ছ
তথ্যসূত্র:
মাসালিকুল আবসার ১/ ৪৬৪।
[১৬]এবং তার উক্তি:
১ - তার প্রেমে আমার দুঃখজনক পরিণতিই হলো আমার ভাগ্য
… আর তার সৌন্দর্য হলো সেই গণ্ডদেশ ও কেশরেখা
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
2 - قد قَرَّبا لي مدى حياتي
… كذلك الليل والنهار
التخريج:
تعريف ذوي العلا 64.
[17]وله يصف «دير بلودان»: [من الخفيف]
1 - حبَّذا الديرُ من بَلُودَانَ دارا
… أي دير به وأي نَصَارى
2 - فيهم كلُّ أَحْوَرِ الطرف أحوى
… فائق الحسن في حياء العذارى
3 - وغلام رأيته كلال
… ما بدا للعيون حتى توارى
4 - بقوام إذا تمايل نشوا
… نًا فألحاظ مقلتيه شكاري
5 - ناحل الخضر حلّ عقد اصطباري
… عندما شَدَّ خَصْره الزُّنارا
6 - قبل رؤياه ما رأيتُ غَزَالًا
… بات يسقي من مَرْشِفِيه العُقارا
التخريج:
مسالك الأبصار 1/ 445.
[18]قال الصفدي:
وكتبتُ أنا إليهِ مُلْغِزًا في «نجم»: [من السريع]
يا سَيِّدًا أَقْلامُهُ لم تزَلْ
… تُهْدِي لآلي النظم والنَّرِ
قُلْ لي ما اسْمٌ لَمْ يَزَلْ قَلْبُهُ
… مُعَذَّبًا بِالْبِيْضِ وَالسُّمْرِ
(1)وَكُلُّهُ في الأَرْضِ أَوْ في السما
… وَثُلْتُهُ يَسْبَحُ فِي البَحْرِ
(2)فكتب هو الجواب إليَّ: [من السريع]
1 - دُمْتَ خَليلي سائِرَ الذِّكْرِ
… مِثْلَ الذي أَلْغَزْتَ في القَدْرِ
2 - بَعَثْتَها نَجْمِيَّةً قَدْ حَلَتْ
… لكنها من سُكَّرِ الشَّكْرِ
3 - تَطْلُعُ بِالنَّجْم فأَما الذي
… في مَطْمَح الزُّهْرِ أَوْ الزَّهْرِ
4 - عَجِبْتُ مِنْهُ كَيْفَ شَقَّ الدُّجى
… وما أتى إلا مع الفَجْرِ
5 - من صنْعَةِ البَرِّ ولكنَّه
… قد جاءني في راحةِ البَحْرِ
--------------------------------------------
২ - তারা আমার সারা জীবনের জন্য নিকটবর্তী হয়েছে
… তেমনি রাত ও দিন।
উৎস নির্দেশ:
তারিফু দাওয়িল উলা ৬৪।
[১৭]এবং তাঁর সেই কবিতা যাতে তিনি «দাইর বালুদান»-এর বর্ণনা দিয়েছেন: [খাফিফ ছন্দ থেকে]
১ - আবাস হিসেবে বালুদানের গির্জাটি কতই না চমৎকার!
… সেখানে কী অদ্ভুত গির্জা এবং কী চমৎকার খ্রিস্টান সম্প্রদায়!
২ - তাদের মধ্যে রয়েছে ডাগর কালো চোখের প্রতিটি লাবণ্যময় ব্যক্তি
… যারা কুমারীদের লজ্জাশীলতার ন্যায় রূপ-লাবণ্যে অনন্য।
৩ - আর এমন এক যুবককে আমি দেখলাম যে অত্যন্ত ক্ষীণকায়
… চোখের সামনে প্রকাশ পেতে না পেতেই যেন সে অদৃশ্য হয়ে গেল।
৪ - এমন এক দৈহিক সৌষ্ঠব নিয়ে, যা যখন মদমত্তের ন্যায় হেলেদুলে চলে
… তখন তার চোখের চাহনিগুলো নেশাতুর মনে হয়।
৫ - সেই কৃশকটি বিশিষ্ট ব্যক্তি আমার ধৈর্যের বাঁধন টুটে দিল
… যখন সে তার কোমরে 'জুন্নার' (ধর্মীয় কটিবন্ধ) বাঁধল।
৬ - তাকে দেখার পূর্বে আমি এমন কোনো হরিণ দেখিনি
… যে তার ওষ্ঠাধরের সুধা দিয়ে শরাব পান করায়।
উৎস নির্দেশ:
মাসালিকুল আবসার ১/ ৪৪৫।
[১৮]আস-সাফাদি বলেছেন:
আমি তাঁর নিকট «নাজম» (নক্ষত্র) শব্দ নিয়ে একটি ধাঁধা লিখে পাঠিয়েছিলাম: [সারী' ছন্দ থেকে]
হে এমন এক মহান ব্যক্তি যাঁর কলম সর্বদা
… পদ্য ও গদ্যের মুক্তা উপহার দিয়ে চলেছে!
আমাকে বলুন তো সেই নাম কোনটি যার অন্তর (অক্ষর বিন্যাস) সর্বদা
… শ্বেত ও শ্যামলদের (রূপসীদের) বিরহে যন্ত্রণাকাতর?
(১)তার পূর্ণরূপ পৃথিবীতে আছে অথবা আকাশে
… আর তার এক-তৃতীয়াংশ সমুদ্রে বিচরণ করে।
(২)অতঃপর তিনি আমার কাছে এর উত্তর লিখে পাঠালেন: [সারী' ছন্দ থেকে]
১ - হে আমার বন্ধু! আপনি সর্বদা সুখ্যাত থাকুন
… ঠিক যেমনটি আপনি আপনার ধাঁধায় সেই মর্যাদাবান (নক্ষত্র) সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন।
২ - আপনি নক্ষত্র-সংক্রান্ত এমন এক ধাঁধা পাঠিয়েছেন যা সুমিষ্ট হয়েছে
… তবে তা যেন কৃতজ্ঞতার চিনি দিয়ে নির্মিত।
৩ - এটি নক্ষত্র হিসেবে উদিত হয়; তবে যা
… উজ্জ্বল তারকা বা পুষ্পের প্রত্যাশায় থাকে।
৪ - আমি আশ্চর্যান্বিত হলাম যে এটি কীভাবে অন্ধকার বিদীর্ণ করল
… অথচ এটি কেবল ভোরের সাথেই আগমণ করেছে।
৫ - এটি স্থলের কারুকার্য কিন্তু
… এটি আমার নিকট সমুদ্রের প্রশস্ততায় পৌঁছেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
6 - أَقْسَمْتُ منه قَسَمًا بالغًا
… بِالفَجْرِ واللَّيْلِ إِذا يَسْرِي
7 - لقد أَغَرْتَ الغِيْدَ إِذْ لم تَجِدْ
… شَبيهَهُ في الجِيَّدِ والنَّغَرِ
8 - بِعِقْدِ دُرِّ ما لَهُ قِيمَةٌ
… يا حُسْنَهُ لِلْكَوْكَبِ الدِّرِّي
9 - مُسَهَّدٌ تُذْكَى لَهُ مُقْلَةٌ
… مَقْلُوبَةٌ كالنَّظَرِ الشَّزْرِ
10 - وهو إذا حَقَّقْتَ تَعْرِيفَهُ
… عَرَفْتَ منهُ مَنْزِلَ البَدْرِ
11 - بِوَاحِدٍ عَدُّوا لَهُ سَبْعَةٌ
… تقيسُ ذَيْلَ اللَّيْلِ بِالشَّبْرِ
12 - فاعْذِرْ أُخَيَّ اليَوْمَ إِنْ قَصَّرَتْ
… بديهتي واقْبَلْ لَها عُذري
13 - فَلَيْسَ بِالألغاز لي عادة
… ولا غزا في جَيْشِها فكري
التخريج: ألحان السواجع 1/ 151 - 152، الوافي بالوفيات 8/ 255 - 256، أعيان العصر 1/ 422 - 423.
[19]وله في «دير طرا»: [من مجزوء الرجز]
1 - يومَ طُرا وديرها
… وما أتى من خَيْرِها
2 - وأبيض من يومها
… وأحمر من مَيْرِها
3 - مُدامةٌ تسري بنا
… مُجِدَّةً في سَيْرِها؟
4 - لم أَنْسَ هِيف نخلها
… ويومنا في حَيْرِها
5 - وأكلنا من حُوتِها
… ووحشها وطيرها
6 - هذا إلى فاتة
… مَلِيحةٍ في دَيْرِها
7 - فلا تَقُلْ لِي: غيرُها
… ما أَرَبِي في غَيْرِها
التخريج: مسالك الأبصار 1/ 457.
[20]ومن شعره: [من الرمل]
1 - شادن جَدَّد وجدي بعد ما
… صرتُ شيخًا ليس ترضاني العجوز
2 - قلت: جاوز لي متاعي قال: قل
… غير هذا، ذاك شيء لا يجوز
التخريج:
الوافي بالوفيات 8/ 266.
6 - আমি তার শপথ করে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে শপথ করেছি
… ভোরের কসম এবং রাতের কসম যখন তা প্রস্থান করে।
7 - তুমি নিশ্চয়ই লাবণ্যময়ীদের ঈর্ষান্বিত করেছ, যখন তারা পায়নি
… গর্দান ও সৌন্দর্যে এর সদৃশ কিছু।
8 - মুক্তার হার দ্বারা যার কোনো মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব নয়
… উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো তার কী অপূর্ব সৌন্দর্য!
9 - নির্ঘুম তার চোখ জ্বালিয়ে রাখা হয়েছে
… যা বক্রদৃষ্টির মতো উল্টানো।
10 - আর যখন তুমি এর পরিচয় নিশ্চিত করবে
… তখন তুমি এর মাঝে পূর্ণিমার চাঁদের অবস্থান জানতে পারবে।
11 - একজনের জন্য তারা সাতটি গণনা করেছে
… তুমি রাতের প্রান্তকে বিঘত দিয়ে পরিমাপ করছ।
12 - হে প্রিয় ভাই, আজ আমাকে ক্ষমা করো যদি আমার তাৎক্ষণিক বুদ্ধি ব্যর্থ হয়
… এবং আমার পক্ষ থেকে ওজর কবুল করো।
13 - কেননা ধাঁধা বলা আমার অভ্যাস নয়
… আর ধাঁধার বাহিনীর সাথে আমার চিন্তা কখনো যুদ্ধ করেনি।
সূত্র: আলহানুস সাওয়াজি ১/ ১৫১ - ১৫২, আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৮/ ২৫৫ - ২৫৬, আ’য়ানুল আসর ১/ ৪২২ - ৪২৩।
[১৯]তার ‘দাইরে তুরা’ সম্পর্কে রচিত কবিতা: [মাজজু রাজায ছন্দে]
1 - তুরা’র দিন এবং সেখানকার মঠ
… আর এর যা কিছু কল্যাণ অর্জিত হয়েছে।
2 - এবং এর দিনের শুভ্রতা
… আর এর খাদ্যসামগ্রীর লাল আভা।
3 - পুরাতন সুরা যা আমাদের নিয়ে বয়ে চলে
… তার গতিপথে সে অত্যন্ত দ্রুত।
4 - আমি সেখানকার লিকলিকে খেজুর গাছগুলোকে ভুলিনি
… এবং সেখানকার বাগানবাড়িতে আমাদের কাটানো দিনগুলোকেও না।
5 - এবং সেখানকার মাছ ভক্ষণ
… এবং সেখানকার বন্যপ্রাণী ও পাখি।
6 - এটি একজন লাবণ্যময়ী রূপসীর জন্য
… যে তার মঠের ভেতর অত্যন্ত সুন্দরী।
7 - সুতরাং আমাকে বোলো না: অন্য কেউ
… তাকে ছাড়া অন্য কারো মাঝে আমার কোনো আগ্রহ নেই।
সূত্র: মাসালিকুল আবসার ১/ ৪৫৭।
[২০]তার কবিতার মধ্য থেকে: [রামাল ছন্দে]
1 - এক কিশোর আমার প্রেমকে নতুন করেছে যখন
… আমি বৃদ্ধ হয়েছি আর বৃদ্ধা নারী আমাকে পছন্দ করে না।
2 - আমি বললাম: আমার মালপত্র পার করে দাও; সে বলল: বলো
… এছাড়া অন্য কিছু, এটি এমন বিষয় যা অনুমোদিত নয়।
সূত্র:
আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৮/ ২৬৬।
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
[21]
وقال: [من الطويل]
1 - أأحبابنا والعذر منا إليكم
… إذا ما شغلنا بالنوى أن نودعا
2 - أبتكم شوقًا أباري ببعضه
… حمام العابا رنَّةً وتوجعا
أبيت سمير البرق، قلبي مثله
… أقضي به الليل التمام مروعا
4 - وما هو شوق مدةً ثم تنقضي
… ولا أنه يبكي محبًا مفجعا
هـ ولكنه شوق على القرب والنوى
… أغص المآقي مدمعًا ثم مدمعا
6 - ومن فارق الأحباب في العمر ساعة
… كمن فارق الأحباب في العمر أجمعا
التخريج:
الوافي بالوفيات 8/ 267.
[22]وقال:
1 - يقول لي مَنْ شَعره أسود
… كالليل بل بينهما فَرْقُ
2 - قلت وبي مَنْ وَجْهُهُ أبيض
… فقال لي: هذا هو الحق
التخريج:
الوافي بالوفيات 8/ 267.
[23]قال الصفدي:
وأَنشَدَنِي لِنَفْسِهِ بحماة، ونحنُ بشاطئ العاصي: [من البسيط]
1 - لَقَدْ نَزَلْنا على العاصي بِمَنْزِلَةٍ
… زانَتْ مَحاسِنَ شَطَّيْهِ حَدَائِقُها
2 - تَبْكِي نَوَاعِيْرُهُ العَبْرَى بِأَدْمُعِها
… لِكَوْنِهِ بَعْدَ لُقْياهُ يُفارِقُها
فأَنْشَدْتُه أَنا أَيضًا لِنَفْسي: [من الطويل]
وناعورة في جَانِبِ النَّهْرِ قد غَدَتْ
… تُعَبِّرُ عن شَوْقِ الشَّجِيِّ وَتُعْرِبُ
تُرَقِّصُ عِطْفَ الغُصْنِ تِيْهَا لأَنَّها
… تُغَنِّي لَهُ طُولَ الزَّمانِ وَيَشْرَبُ
التخريج:
ألحان السواجع 1/ 190، أعيان العصر 1/ 424، النجوم الزاهرة 10/ 235، المنهل الصافي 2/ 265.
[২১]
তিনি বলেন: [তবীল ছন্দ]
১ - হে আমাদের প্রিয়জন, আপনাদের কাছে আমাদের ওজর এই যে... বিরহ-বিচ্ছেদ আমাদের এমনভাবে মগ্ন করেছিল যে আমরা বিদায়টুকুও জানাতে পারিনি।
২ - আমি এমন ব্যাকুলতায় রাত কাটিয়েছি, যার কিয়দাংশের মাধ্যমে আমি পাল্লা দিই... 'আল-আব' অঞ্চলের কপোতদের বিলাপ ও যাতনার সাথে।
আমি বজ্রের সহচর হয়ে রাত কাটাই, আমার হৃদয়ও যেন তারই মতো... পূর্ণ রাত আমি শঙ্কিত অবস্থায় অতিবাহিত করি।
৪ - আর এটি এমন কোনো সাময়িক আবেগ নয় যা নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে শেষ হয়ে যাবে... আর না এটি এমন যা কেবল কোনো শোকাতুর প্রেমিককে কাঁদাবে।
৫ - বরং এটি এমন এক ব্যাকুলতা যা নৈকট্য ও দূরত্ব উভয় অবস্থায় বিদ্যমান... যা চোখের কোণকে বারবার অশ্রুসিক্ত করে তোলে।
৬ - আর যে ব্যক্তি জীবনে এক মুহূর্তের জন্য তার প্রিয়জনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হলো... সে যেন সারা জীবনের জন্যই প্রিয়জনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।
উৎস নির্দেশ:
আল-ওয়াফি বিল-ওয়াফায়াত ৮/ ২৬৭।
[২২]তিনি বলেন:
১ - সেই ব্যক্তি আমাকে বলল যার চুলগুলো নিকষ কালো... রাতের মতো, বরং উভয়ের মাঝে পার্থক্য রয়েছে।
২ - আমি বললাম: আমার নিকট এমন একজন রয়েছেন যার চেহারা ধবধবে সাদা... তখন সে আমাকে বলল: এটাই সত্য।
উৎস নির্দেশ:
আল-ওয়াফি বিল-ওয়াফায়াত ৮/ ২৬৭।
[২৩]আস-সাফাদী বলেন:
তিনি হামাহ শহরে থাকাকালীন আমাকে নিজের রচিত কিছু কবিতা শোনালেন, যখন আমরা আসী নদীর তীরে ছিলাম: [বাসীত ছন্দ]
১ - আমরা আসী নদীর তীরে এমন এক স্থানে অবতরণ করলাম... যার বাগানসমূহ নদীর দুই তীরের সৌন্দর্যকে সুশোভিত করেছে।
২ - এর বিষণ্ণ জলচক্রগুলো (নাউরা) নিজের অশ্রু বিসর্জন দিয়ে কাঁদছে... কারণ নদী থেকে পানি তোলার পরমুহূর্তেই তাকে তা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হচ্ছে।
অতঃপর আমিও তাকে আমার নিজের রচিত কবিতা শোনালাম: [তবীল ছন্দ]
নদীর কিনারে অবস্থিত একটি জলচক্র যেন... বিরহী হৃদয়ের ব্যাকুলতা প্রকাশ করছে এবং তা ব্যক্ত করছে।
সে গর্বভরে বৃক্ষশাখাগুলোকে নাচিয়ে তুলছে, কেননা... সে সারাক্ষণ শাখাগুলোর উদ্দেশ্যে গান গায় আর তারা পান করে।
উৎস নির্দেশ:
আলহান আস-সাওয়াজি ১/ ১৯০, আ'য়ান আল-আসর ১/ ৪২৪, আন-নুজুম আয-যাহিরা ১০/ ২৩৫, আল-মানহাল আস-সাফী ২/ ২৬৫।
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
[24]
وله في وصف «دير صيدنايا»: [من السريع]
1 - في جانبِ الدَّيْرِ لنا مَنْزِلُ
… ومَنْهَلٌ عَذْبٌ بِهِ نَنْهَلُ
2 - وشادن قد جاءنا أحْوَرُ
… في كفّه كأس له تُشعَلُ
3 - وروضة تشرق أنهارها
… قد شقها في وَسْطها جَدْوَلُ
4 - ومُطْرِبٌ تُطْرِبُ ألحانه
… كأنه إسحاق أو زَلْزَلُ
5 - فدونك الراح ففي دنها
… شَهْدٌ وفي الطعم بها فُلْفُلَ
6 - وافي بها في الكأس لكنّها
… عَذْراءُ مِنْ خُطابها تَخْجَلُ
التخريج:
مسالك الأبصار 1/ 444.
وكتب إلى الصفدي: [من الكامل]
1 - وافى الكَمِيُّ بِها يَهُزُّ مَناصلًا
… ويذُمُّ صِبْغًا لِلشَّبيبَةِ ناصلا
2 - سَبَقَ الظَّلامَ بِها بِزِينَةِ لَيْلِهِ
… ولو أَنَّهُ في الفَجْرِ حَتَّى العاطلا
3 - حَمْراءُ قَانِيَةٌ يَذُوبُ شُعاعُها
… وترى حصا الياقوت منها سائلا
4 - حَمْراءُ قَانِيَةً يَحُبُّ كُؤوسُها
… وَقْعَ الصَّوارِم والوَشِيْجَ الذَّابِلا
5 - ذَهَبِيَّةٌ ما عِرْقُ عَانَةَ كَرْمَها
… لكنَّهُ كَفُ الكريم شمائلا
6 - كَفَّ لِمُنْبَجِسِ النَّوالِ كَأَنَّما
… دفَعُ السُّيولِ تُمِدُّ مِنْهُ نائِلا
7 - كَرَم خَليلي يُمِدُّ سِمَاطَهُ
… ويَشِبُّ نارًا للقرى وفواضلا
8 - ولهيب فِكْرِ لو يَطِيرُ شَرارَةٌ
… منهُ لَما بَلَّ السَّحابُ الوابلا
9 - يُذْكِي بِهِ في كلِّ صُبْحَةِ قَرِّهِ
… فَهْمًا لِنيران القرائح آكلا
10 - عَجَبًا لَهُ من سابقٍ مُتَأَخِّرٍ
… فاق الأواخر ثم فات أوائلا
11 - دانوْهُ في شَبَه وما قِيْسُوا بِهِ
… من ذا تَراهُ لِلغمام مساجلا
12 - مائل بِهِ البَحْرَ الخِضَمَّ فَإِنَّهُ
… لا يَرْتَضِي خَلْقًا سِوَاهُ مُمائِلا
13 - وافَتْ عَقيلَتُهُ ولو بَذَلَ امْرُؤٌ
… فيها اسْتَقَلَّ مِنْ البُروجِ مَعاقِلا
14 - جاءَتْ شَبيهَ الخَوْدِ فِي حُلَلٍ لَها
… حُمْرٍ كَنَوَّارِ الشَّقِيقِ مَواثِلا
15 - قد خُضْبَتْ بِدَمِ الحَسودِ أَما تَرَى
… أَثَرَ السَّوادِ بِها عَلَيْهِ دلائلا
[২৪]
সাইদনায়া মঠের বর্ণনায় তাঁর পংক্তিমালা: [সারী' ছন্দে]
১ - মঠের পাশে আমাদের একটি আবাস রয়েছে... এবং আছে এক সুমিষ্ট পানাধার, যা থেকে আমরা তৃষ্ণা মেটাই।
২ - আর এক ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট সুদর্শন কিশোর আমাদের নিকট এসেছে... যার হাতে রয়েছে এক প্রজ্বলিত পানপাত্র।
৩ - এবং আছে এমন এক উদ্যান যার নদীগুলো উজ্জ্বল... যার মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে একটি ছোট ঝরনা।
৪ - আর আছে এক গায়ক যার সুর বিমোহিত করে... যেন সে ইসহাক কিংবা যালযাল।
৫ - অতঃপর এই সুরা গ্রহণ করো, যার জারে রয়েছে মধু... আর স্বাদে তা গোলমরিচের মতো ঝাঁঝালো।
৬ - সে পাত্রে করে তা নিয়ে এসেছে, কিন্তু তা যেন এক কুমারী... যে তার পাণিপ্রার্থীদের সামনে লজ্জায় সংকুচিত হয়।
উৎস:
মাসালিকুল আবসার ১/৪৪৪।
তিনি আস-সাফাদীর নিকট লিখেছেন: [কামিল ছন্দে]
১ - বীরপুরুষটি তলোয়ার দুলিয়ে তা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে... এবং সে যৌবনের ফিকে হয়ে যাওয়া রঙের নিন্দা করছে।
২ - সে তার রাত্রিকালীন সৌন্দর্য দিয়ে অন্ধকারকে ছাড়িয়ে গেছে... যদিও তা ভোরের আলোয় অলংকারহীনদের মতো হয়ে পড়ে।
৩ - উজ্জ্বল লাল বর্ণের সুরা, যার রশ্মি গলে পড়ছে... এবং তুমি দেখবে ইয়াকুত পাথর যেন তা থেকে তরল হয়ে ঝরছে।
৪ - টকটকে লাল সুরা, যার পেয়ালাগুলো পছন্দ করে... ধারালো তলোয়ারের আঘাত এবং আনত বর্শার কম্পন।
৫ - এটি স্বর্ণালী বর্ণের, 'আনা' অঞ্চলের আঙ্গুরলতা এর উৎস নয়... বরং তার বৈশিষ্ট্য হলো দাতার হাতের বদান্যতার মতো।
৬ - অবারিত দানকারী হাত, মনে হয় যেন... প্রবল বন্যার স্রোত তার দানকে পুষ্ট করছে।
৭ - আমার বন্ধুর বদান্যতা তার দস্তরখান বিস্তৃত করে... এবং মেহমানদারির জন্য ও অনুগ্রহের জন্য আগুন প্রজ্জ্বলিত করে।
৮ - তার চিন্তার এমন অগ্নিশিখা যে, যদি তা থেকে একটি স্ফুলিঙ্গ উড়ে যেত... তবে মুষলধারে বৃষ্টিও মেঘকে ভেজাতে পারত না।
৯ - সে এর মাধ্যমে প্রতি হাড়কাঁপানো শীতে প্রজ্জ্বলিত করে... এমন এক প্রজ্ঞা যা প্রতিভার অগ্নিকে গ্রাস করে ফেলে।
১০ - বিস্ময়কর তার অবস্থা! বিলম্বে এসেও সে অগ্রগামী... সে পরবর্তীদের ছাড়িয়ে গেছে এবং পূর্ববর্তীদেরও পেছনে ফেলে দিয়েছে।
১১ - তারা সাদৃশ্যের বিচারে তার নিকটবর্তী হতে চেয়েছে কিন্তু তার সাথে তুলনীয় হতে পারেনি... এমন কে আছে যাকে তুমি মেঘের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত দেখবে?
১২ - তাকে বিশাল সমুদ্রের সাথে তুলনা করো, কারণ সে... অন্য কাউকে তার সমকক্ষ হিসেবে মেনে নিতে রাজি নয়।
১৩ - তার শ্রেষ্ঠ কাব্যটি এসেছে, যদি কেউ এর বিনিময়ে... নক্ষত্ররাজির দুর্ভেদ্য দুর্গগুলোও দান করে, তবে তা অতি সামান্যই মনে হবে।
১৪ - তা এসেছে এক সুন্দরী তরুণীর ন্যায় অলংকারে সজ্জিত হয়ে... পপি ফুলের মতো রক্তিম বর্ণে বিকশিত।
১৫ - তা যেন হিংসুকের রক্তে রঞ্জিত, তুমি কি দেখছ না... তাতে কালচে দাগগুলো তার বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ বহন করছে।
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
16 - حُلَلٌ على سَحْبانَ تَسْحَبُ بُرْدَها
… وتَجُرُّ من طَرَفِ الذُّيول الفاضلا
17 - خِلْتُ الهِلالَ يَلوحُ طَلْعَ نِقابها
… حتَّى نَضَتْ فَرَأَيْتُ بَدْرًا كاملا
18 - بِنْتُ القَريحَةِ ما وَنَتْ فِي خِدْرِها
… حُسْنُ المَليحَةِ أَنْ تُواصِلَ عاجِلا
19 - جاءَتْ تَصوغ من العِناقِ أَساوِرًا
… لا بَلْ تَخوض من السُّيولِ خَلاخلا
20 - قَبَّلْتُها وأَعَدْتُ تَقْبيلي لها
… إِنَّ المُتَيَّمَ لا يَخافُ العاذِلا
21 - وأَتَتْ وَجَيْسُ النَّوْءِ مَرْهُوبُ السُّطا
… ملا الوُجودَ لَهُ قَنًا وقنابلا
22 - والبَرْقُ مَشْبُوبُ الصِّرامِ لأَنَّهُ
… صاد الغزالَةَ حَيْثُ مَدَّ حَبائِلا
23 وافَتْ وَرَأْسُ الطَّوْدِ يَشْكُو لِمَّةً
… قَدْ عُمِّمتْ بِالثَّلْجِ شَيْبًا شامِلا
24 - وَكَأَنَّما نَشَرَتْ قُراضَةَ فِضَّةٍ
… أَيْدِي البُرُوقِ وقد خُرِقْنَ أَنامِلا
25 - مَلأَتْ بِهِ كُلَّ الفَضَاءِ فَلا تَرَى
… إلا لُجينًا جامدًا أو سائلا
26 - والأفقُ كَالكَأْسِ المُقَصَّصِ مِلْؤُهُ
… صَهْبَاءُ قد عَقَدَتْ حَبابًا جائِلا
27 - أَثْناءَ يَوْمِ قد تَقَهْقَرَ ضَوؤُهُ
… وبدا بالًا في الأصائل ناصلا
28 - والجو مُنْخَرِقُ القَمِيصِ كَأَنَّهُ
… حَنِقٌ يَقُدُّ مِنَ السَّحابِ غَلَائِلا
-29 - والسَّيْلُ مُنْحَدِرٌ يَسُلُّ مُهَنَّدًا
… إفْرِنْدُهُ ذَهَبٌ يَمُدُّ سَلاسِلا
30 - اللهِ أَنْتَ أَبا الصَّفاءِ فَإِنَّني
… ألقى خليلًا مِنْكَ لي ومُخالِلا
31 - أَنْتَ الَّذِي حَلَّقْتَ صَقْرًا أَجْدلًا
… وَضَمَمْتَ فِي بُرْدَيْكَ لَيْثًا بامِلا
32 - يا مَنْ يُنَفِّقُ سُوقَ كُلِّ فَضيلَةٍ
… أَسْئِرْ فَما أَبْقَيْتَ بَعْدَكَ فاضلا
التخريج:
ألحان السواجع 1/ 160 - 162، الوافي بالوفيات/ 8/ 260 - 265. مسالك الأبصار 12/ 509.
[26]وقال:
1 - لا تسل بعد بينهم ما جرى لي
… من دموع كأنهن اللالي
2 - خففت وطأة الغرام ولكن
… عرفت في الجفون طيف الخيال
التخريج:
الوافي بالوفيات 8/ 267.
১৬ - সাহবানের ওপর এমন পোশাক যা তার চাদরকে টেনে নিয়ে যায়
… এবং আঁচলের প্রান্ত দিয়ে অতিরিক্ত অংশকে আকর্ষণ করে।
১৭ - আমি মনে করেছিলাম তার নেকাবের আড়াল থেকে নতুন চাঁদ উঁকি দিচ্ছে
… যতক্ষণ না সে তা উন্মোচন করল, তখন আমি এক পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে পেলাম।
১৮ - মেধার এই দুহিতা তার পর্দার অন্তরালে অলস হয়ে বসে থাকেনি
… রূপসীর সৌন্দর্য তো এটাই যে সে দ্রুত সাক্ষাৎ দান করে।
১৯ - সে এসেছে আলিঙ্গন থেকে চুড়ি তৈরি করতে
… বরং সে স্রোতধারা থেকে মল পরিধান করে পথ চলছে।
২০ - আমি তাকে চুম্বন করলাম এবং বারবার তাকে চুম্বন করলাম
… নিশ্চয়ই প্রেমে উন্মত্ত ব্যক্তি কোনো তিরস্কারকারীকে ভয় পায় না।
২১ - সে এমন সময় এসেছে যখন মেঘের গর্জন ও বৃষ্টির আক্রমণ ছিল ভয়াবহ
… যা অস্তিত্বের জগতকে বল্লম ও গোলা দিয়ে পূর্ণ করে দিয়েছিল।
২২ - আর বিজলি ছিল তীব্র জ্যোতির্ময়, কারণ সেটি
… সূর্যকে শিকার করেছে যেখানে সে তার জাল বিস্তার করেছিল।
২৩ সেটি উপস্থিত হলো এমতাবস্থায় যে পাহাড়ের চূড়া তার চুলের গুচ্ছের অভিযোগ করছিল
… যা তুষারের শুভ্রতায় পূর্ণ বৃদ্ধাবস্থার মতো পাগড়ী পরেছে।
২৪ - মনে হচ্ছিল যেন বিদ্যুতের হাতগুলো রূপার কণা ছড়িয়ে দিচ্ছে
… আর তাদের আঙুলগুলো যেন ছিদ্র হয়ে গেছে।
২৫ - তা দিয়ে সমস্ত আকাশ পূর্ণ হয়ে গেল, ফলে এখন
… জমাটবদ্ধ বা তরল রূপা ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না।
২৬ - আর দিগন্ত যেন একটি কারুকার্যখচিত পানপাত্র যার পূর্ণ অংশটি
… লাল সুরা, যা তার ওপর ঘূর্ণায়মান বুদবুদ সৃষ্টি করেছে।
২৭ - এমন এক দিনের মাঝে যার আলো ম্লান হয়ে গেছে
… এবং শেষ বিকেলে তা বিবর্ণ জীর্ণ কাপড়ের মতো দেখাচ্ছিল।
২৮ - আর আকাশ যেন ছিন্নবস্ত্র পরিহিত, মনে হচ্ছে সেটি
… এক ক্রুদ্ধ সত্তা যে মেঘ থেকে অন্তর্বাস ছিঁড়ে ফেলছে।
-২৯ - আর প্লাবন নিচে নেমে আসছে যেন সে হিন্দুস্থানি তলোয়ার কোষমুক্ত করছে
… যার ঔজ্জ্বল্য স্বর্ণের মতো এবং যা শিকল প্রসারিত করছে।
৩০ - আল্লাহর কসম, হে আবু সাফা! আপনি অনন্য, কারণ আমি
… আপনার মাঝে আমার এক অকৃত্রিম বন্ধু ও সহচরকে খুঁজে পাই।
৩১ - আপনিই সেই ব্যক্তি যে তুখোড় বাজপাখির মতো আকাশে ওড়েন
… এবং নিজের চাদরের নিচে এক শক্তিশালী সিংহকে ধারণ করেন।
৩২ - হে সেই ব্যক্তি যিনি প্রতিটি গুণের বাজারকে জমিয়ে তোলেন
… আপনিই শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখুন, কারণ আপনার পরে আপনি আর কোনো গুণী ব্যক্তিকে অবশিষ্ট রাখেননি।
উৎস নির্দেশ:
আলহান আস-সাওয়াযি ১/ ১৬০ - ১৬২, আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৮/ ২৬০ - ২৬৫। মাসালিকুল আবসার ১২/ ৫০৯।
[২৬]এবং তিনি বললেন:
১ - তাদের বিচ্ছেদের পর আমার কী দশা হয়েছে তা জিজ্ঞাসা করো না
… চোখের জলগুলো যেন মুক্তোর দানার মতো ঝরছিল।
২ - অনুরাগের তীব্রতা কিছুটা লাঘব হয়েছে, কিন্তু
… চোখের পাতায় তার কল্পিত অবয়ব রয়ে গেছে।
উৎস নির্দেশ:
আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৮/ ২৬৭।
(খণ্ড: ১)
মাসালিকুল আবসার ফী মামালিকিল আমসার - তিবআতুল ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
[27]
وكتب إلى الصفدي عند قدومه من القاهرة، أوائل سنة 746 هـ في صدر كتاب: [من الطويل]
1 - رعى اللهُ قَلْبًا لا يَزالُ يَشُوقُهُ
… حبيب على طول المدى وخليل
2 - وَدَهْرًا أَعادَ اللهُ فِيهِ زَمانَنا
… وقُصِّرَ ذَيْلٌ لِلفراق طويل
3 - فَمَا مِثْلُ مَنْ قَدْ كُنْتُ فَارَقْتُ شَخْصَهُ
… وعاد وقلبي بالبعاد عليل
4 - لقد جَلَّ يَوْمَ البَيْنِ قَدْرُ فِراقِهِ
… وهل كخليل في الفِراقِ خَليلُ
التخريج:
ألحان السواجع 1/ 174.
[28]وكتب إلى الصفدي وهو بصفد: [من الطويل]
1 - سَمَتْ نَحْوَها الأَبْصَارُ حَتَّى كَأَنَّهَا
… بنارَيْهِ مِنْ هَنَّا وثَمَّ صَوالي
التخريج:
ألحان السواجع 1/ 176.
وكتب إلى الصفدي في نهاية كتاب: [من الطويل]
1 - وطوبى لِمَنْ أَمْسى على دارَةِ الحِمى
… لَهُ مَنْزِلٌ أَوْ دُونَهُ بِقَليل
التخريج:
ألحان السواجع 1/ 171.
قال الصفدي:
وكتبتُ أنا إليه، أتقاضاهُ ما وَعَدني بِهِ، من قَلْعِ شَجَرَةِ لَيْمُونٍ مُخَتَّمٍ وتَجْهيزها إليَّ؛ والْتَزَمْتُ الياءَ قبلَ النُّونِ: [من مخلع البسيط]
يا سَيِّدًا فيه لي ولاء
… عِنْدَ جَميع الوَرى تَتَبَّين
اللهِ لَيمونَةٌ أَراها
… لي مُونَةً غُصْنُها تَزَيَّنْ
كأَعْيُنِ الحاسدينَ بَغْيًا
… لأَجْلِ ذا قَلْعُها تَعَيَّنْ
[২৭]
তিনি ৭৪৬ হিজরির শুরুর দিকে আল-সাফাদি কায়রো থেকে আসার সময় তাকে একটি পত্রের শুরুতে লিখেছিলেন: [তওয়ীল ছন্দ]
১ - আল্লাহ সেই অন্তরকে রক্ষা করুন যা সর্বদা আকাঙ্ক্ষা করে
… সুদীর্ঘ কাল ধরে একজন প্রিয়তম ও বন্ধুর জন্য।
২ - আর এমন এক সময়ের জন্য, যাতে আল্লাহ আমাদের দিনগুলোকে ফিরিয়ে দিয়েছেন
… এবং বিচ্ছেদের দীর্ঘ আঁচল ছোট হয়ে গিয়েছে।
৩ - আমি যার সান্নিধ্য থেকে আলাদা হয়েছিলাম তার মতো আর কেউ নেই
… সে ফিরে এসেছে অথচ দূরত্বের কারণে আমার অন্তর অসুস্থ।
৪ - বিচ্ছেদের দিনে তার বিরহের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম
… আর বিচ্ছেদে খলীলের মতো কি কোনো বন্ধু আছে?
উৎস নির্দেশ:
আলহান আল-সাওয়াজি' ১/১৭৪।
[২৮]তিনি আল-সাফাদির কাছে লিখেছিলেন যখন তিনি সাফাদে ছিলেন: [তওয়ীল ছন্দ]
১ - দৃষ্টিগুলো তার দিকে নিবদ্ধ ছিল যেন সেগুলো
… এখান ও ওখানের আগুনের উত্তাপে দগ্ধ হচ্ছে।
উৎস নির্দেশ:
আলহান আল-সাওয়াজি' ১/১৭৬।
তিনি আল-সাফাদির কাছে একটি কিতাবের শেষে লিখেছিলেন: [তওয়ীল ছন্দ]
১ - সুসংবাদ তার জন্য যে 'দারাতুল হিমা'-তে সন্ধ্যা অতিবাহিত করেছে
… সেখানে তার একটি আবাস আছে অথবা তার থেকে সামান্য দূরে।
উৎস নির্দেশ:
আলহান আল-সাওয়াজি' ১/১৭১।
আস-সাফাদি বলেন:
আমি তার কাছে লিখেছিলাম, তিনি আমাকে যা ওয়াদা করেছিলেন তা প্রার্থনা করে—একটি 'মুখাত্তাম' লেবু গাছ উপড়ে তা আমার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া; এবং আমি 'নুন' অক্ষরের আগে 'ইয়া' অক্ষরের অন্তমিলের বাধ্যবাধকতা মেনে চলেছিলাম: [মুখাল্লা' আল-বাসীত ছন্দ]
হে এমন এক মহান ব্যক্তি যার প্রতি আমার আনুগত্য রয়েছে
… যা সমস্ত মানুষের কাছে স্পষ্ট।
আল্লাহর কসম, একটি লেবু গাছ যা আমি দেখছি
… আমার জন্য রসদস্বরূপ, যার ডালপালা সুশোভিত।
সীমালঙ্ঘনকারী হিংসুকদের চোখের মতো
… আর সে কারণেই এটি উপড়ে ফেলা অনিবার্য হয়ে পড়েছে।