(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: -)
جامع أحكام صلاة الإمام القسم: مسائل فقهية
الكتاب: جامع أحكام صلاة الإمام
(دراسة حديثة فقهية مقارنة)
تصنيف: أحمد الجابري
راجعه وقدم له: مصطفى بن العدوي
الناشر: دار اللؤلؤة، المنصورة - مصر
الطبعة: الأولى، 1445 هـ - 2024 م
عدد الصفحات: 489
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 29 شعبان 1447
ইমামের সালাতের বিধানাবলির সংকলন বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
বই: ইমামের সালাতের বিধানাবলির সংকলন
(একটি আধুনিক তুলনামূলক ফিকহি গবেষণা)
রচনা: আহমদ আল-জাবেরী
পর্যালোচনা ও উপস্থাপনা: মুস্তফা বিন আল-আদাবী
প্রকাশক: দারুল লু'লু'আহ، মানসুরা - মিশর
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪৫ হিজরি - ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮৯
[বইয়ের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৯ শাবান ১৪৪৭
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الناشرإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
{ياأيها الذين أمنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون}.
{ياأيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالًا كثيرًا ونساء واتقواالله الذي تساءلون به والأرحام إن الله كان عليكم رقيبا}.
{ياأيها الذين أمنوا اتقوا الله وقولوا قولا سديدا * يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزا عظيما}.
أما بعد:
* فلا يخفى على مسلم عاقل، فضلًا عن لبيب، ما للصلاة من أهمية في حياته، فهي عماد الدين، وعموده المتين، وحُقَّ لركن مثل هذا أنْ يُوليَه المسلمون مزيدَ عناية واهتمام، لا بالعمل فحسب، فهذا فرض عليهم، وإنما كذلك بالتَّفقُّهِ والتعلُّمِ، خاصَّة ونحن في زمان طغت فيه
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
প্রকাশকের ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।}
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।}
অতঃপর:
* কোনো বুদ্ধিমান মুসলিমের কাছে, এমনকি কোনো প্রাজ্ঞ ব্যক্তির কাছেও তার জীবনে সালাতের গুরুত্ব অজানা নয়। এটি দীনের স্তম্ভ এবং এর সুদৃঢ় খুঁটি। সালাতের মতো এমন একটি রুকনের প্রতি মুসলিমদের অধিক যত্ন ও গুরুত্ব প্রদান করা বাঞ্ছনীয়; কেবল আমলের মাধ্যমেই নয়—যা তাদের ওপর ফরজ—বরং (সালাত সম্পর্কে) প্রজ্ঞা ও শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমেও। বিশেষ করে আমরা এমন এক সময়ে রয়েছি যেখানে...
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
المادية على حياة المسلم الدينية، وتساهل كثير منهم في أداء الفرائض والأركان، إلا من رحم الله الرحيم الرحمن.
* ومن أبواب الصلاة التي أولاها الفقهاء رحمهم الله مزيد عناية واهتمام؛ باب الإمامة. وذلك لعظم شأنها، وكثرة مسائلها، وحاجة المسلم إلى التعرف على الأحكام الخاصة بها. وذلك أنَّ أحدًا منّا لا ينفكُّ في وقت من الأوقات أنْ يكون إمامًا في الصلاة، في مسجد حيِّه تارة، أو في عمله تارة، أو بين أصحابه في سفره، أو
… ، أو
… ، إلى غير ذلك مما يَعْرِض له.
* ورغبةً مِنَّا في المشاركة في نفع المسلمين، وإيصال هذه الأحكام المتعلقة بصلاة الإمام إليهم، وشعورًا بمسؤولية النشر الهادف؛ نُقدِّم اليوم للقارئ هذا الكتاب: «جامع أحكام صلاة الإمام». والذي اجتهد فيه مؤلِّفه في جمع وتقريب هذه الأحكام، لتكون عونًا - بإذن الله - على أداء تلك العبادة على الوجه الذي يُقرِّب إلى الله.
راجين من الله الكريم النفع لنا ولكاتبه ولعموم المسلمين، وأن يعيننا على ما يحبه ويرضاه، وأن يتقبل منا أعمالنا بقبول حسن، وأن يجعل هذا الجهد من مُبيِّضات الوجوه يوم نلقاه، إنه نعم المولى ونعم المجيب.
والحمد لله رب العالمين.
الناشر
মুসলিমদের ধর্মীয় জীবনে বস্তুবাদী প্রভাব এবং তাদের অনেকেরই ফরজ ও রুকনসমূহ পালনে শিথিলতা প্রদর্শন, তবে দয়াময় পরম দয়ালু আল্লাহ যাদের প্রতি দয়া করেছেন তারা ছাড়া।
* সালাতের অধ্যায়সমূহের মধ্যে ফকিহগণ (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন) যে অধ্যায়ের প্রতি অধিক যত্ন ও গুরুত্ব প্রদান করেছেন তা হলো ইমামতের অধ্যায়। আর তা এর সুমহান মর্যাদা, এর মাসআলাসমূহের আধিক্য এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ বিধানাবলি জানার প্রতি মুসলিমদের প্রয়োজনীয়তার কারণে। কারণ আমাদের কেউ না কেউ কোনো না কোনো সময় সালাতে ইমাম হওয়ার অবস্থা থেকে মুক্ত নয়; কখনো নিজ এলাকার মসজিদে, কখনো কর্মস্থলে, আবার কখনো সফরে বন্ধুদের মাঝে অথবা
… , কিংবা
… অথবা এ জাতীয় অন্য কোনো পরিস্থিতিতে যা তার সামনে উপস্থিত হয়।
* মুসলিমদের উপকারে অংশগ্রহণ করার আকাঙ্ক্ষা, ইমামের সালাত সংক্রান্ত এই বিধানগুলো তাদের নিকট পৌঁছে দেওয়া এবং উদ্দেশ্যমূলক প্রকাশনার দায়িত্ববোধ থেকে আজ আমরা পাঠকদের সমীপে এই বইটি পেশ করছি: «জামে আহকাম সালাতিল ইমাম»। এর লেখক এই বিধানগুলো একত্রিত ও সহজবোধ্য করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যাতে এটি -আল্লাহর অনুমতিতে- আল্লাহর নৈকট্য দানকারী পদ্ধতিতে সেই ইবাদত পালনে সহায়ক হয়।
আমরা মহান আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য, এর লেখকের জন্য এবং সাধারণ মুসলিমদের জন্য এর উপকারিতা কামনা করছি। আরও প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদের সেই সব কাজের তাওফিক দান করেন যা তিনি পছন্দ করেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন এবং আমাদের আমলগুলো উত্তমরূপে কবুল করেন। আর এই প্রচেষ্টাকে যেন তাঁর সাথে সাক্ষাতের দিনে মুখমণ্ডল উজ্জ্বলকারী আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেন; নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম কবুলকারী।
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
প্রকাশক
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
تقديم فضيلة الشيخ مصطفى بن العدويالحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله،
وبعد؛
فهذا بحثٌ جيدٌ ونافع في أحكام الإمامة في الصلاة، وما يتعلق بها، أعدَّه أخي في الله: أحمد الجابري -حفظه الله وبارك فيه-، وقد اعتنى -وفَّقه الله- بالناحيتين: الحديثية والفقهية على السواء، فاعتنى بتخريج الأحاديث والآثار، والحكم عليها بما تستحقه، مع النظر في أقوال علماء العلل في ذلك، كما اعتنى بنقل أقوال أئمة الفقه رحمهم الله، فخرج بحثه جيدًا، موفقًا، نافعًا جدًّا في بابه، أحسبه كذلك، وقد قمت مع أخي بمراجعة ما كتبه؛ فألفيته -كما عهدتُه في أبحاثه- دقيقًا إلى حد كبير، متقنًا في عمله، ولا أزكّيه على الله.
فاللهَ أسألُ أن يوفقه لمواصلة طلب العلم الشرعي، والتأليف، والبحث والتحرير، والدعوة إلى الله، وأن ينفع به وبكتابه الإسلام والمسلمين.
هذا؛ وصلِّ اللهم على نبينا محمد وسلم.
والحمد لله رب العالمين.
كتبه
أبو عبد الله
مصطفى بن العدوي
শ্রদ্ধেয় শায়খ মুস্তফা বিন আল-আদাওয়ীর ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম আল্লাহর রাসূলের ওপর বর্ষিত হোক।
অতঃপর;
এটি সালাতের ইমামতের বিধিবিধান এবং এ সংক্রান্ত বিষয়াবলির ওপর একটি চমৎকার ও উপকারী গবেষণা। এটি প্রস্তুত করেছেন আল্লাহর পথে আমার ভাই: আহমদ আল-জাবীরী —আল্লাহ তাকে হিফজ করুন এবং তাতে বরকত দান করুন—। তিনি —আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন— হাদিস ও ফিকহ উভয় দিকের প্রতি সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি হাদিস ও আছারসমূহের (বর্ণনা) তাখরীজ এবং সেগুলোর ওপর যথাযথ হুকুম প্রদানের পাশাপাশি এ বিষয়ে 'ইলমে ইলাল' বা হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বিশারদ ইমামদের বক্তব্যের প্রতিও লক্ষ্য রেখেছেন। তদ্রূপ তিনি ফিকহের ইমামদের —আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন— মতামত উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রেও যত্নশীল ছিলেন। ফলে তাঁর গবেষণাটি অত্যন্ত চমৎকার, সার্থক এবং এ বিষয়ে অত্যন্ত তথ্যবহুল হয়েছে; আমি অন্তত এমনটিই মনে করি। আমি আমার ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর এই পাণ্ডুলিপিটি পর্যালোচনা করেছি এবং আমি তাকে —যেমনটা তাঁর পূর্বের গবেষণাগুলোতে দেখে আসছি— অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও কাজে পারদর্শী হিসেবে পেয়েছি। তবে আমি আল্লাহর সামনে কাউকে পবিত্র বলে ঘোষণা করি না।
অতএব, আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাকে শরয়ী জ্ঞান অর্জন, গ্রন্থ রচনা, গবেষণা ও সম্পাদনা এবং আল্লাহর দিকে দাওয়াতের কাজ অব্যাহত রাখার তাওফিক দান করেন। আর তাঁর মাধ্যমে এবং তাঁর এই গ্রন্থের মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ সাধন করেন।
পরিশেষে; হে আল্লাহ! আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
এবং সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লিখেছেন
আবু আব্দুল্লাহ
মুস্তফা বিন আল-আদাওয়ী
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدِّمةالحمد لله الذي سهَّل لعباده المتقين إلى مرضاته سبيلًا، وأوضح لهم طريق الهداية وجعل اتباع الرسول عليه دليلًا، واتخذهم عبيدًا له فأقروا له بالعبودية ولم يتخذوا من دونه وكيلًا.
والحمد لله الذي أقام في أزمنة الفترات من يكون ببيان سنن المرسلين كفيلًا، واختص هذه الأمة بأنه لا تزال طائفة فيها على الحق لا يضرهم من خذلهم ولا من خالفهم حتى يأتي أمره ولو اجتمع الثقلان على حربهم قبيلًا
(1).
أحمده -والتوفيق للحمد من نعمه-، وأشكره -والشكر كفيل بالمزيد من فضله وكرمه وقسمه-، وأستغفره وأتوب إليه من الذنوب التي توجب زوال نعمه وحلول نقمه.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادة أشهد بها مع الشاهدين، وأدخرها عند الله عُدَّة ليوم الدين، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله الصادق الأمين، صلى الله عليه وآله وأصحابه والتابعين، ومن لزم طريقه واستن بسنته إلى يوم الدين.
وبعد؛
فإن الاشتغال بالعلم من أفضل القرب وأجلِّ الطاعات، وأهم أنواع الخير وآكد العبادات، وأولى ما أُنفقت فيه نفائسُ الأوقات، وشَمَّرَ في
--------------------------------------------
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর মুত্তাকী বান্দাদের জন্য তাঁর সন্তুষ্টির পথ সহজ করেছেন, তাদের জন্য হিদায়াতের পথ স্পষ্ট করেছেন এবং রাসূলের অনুসরণকে এর ওপর প্রমাণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। তিনি তাদেরকে তাঁর বান্দা হিসেবে গ্রহণ করেছেন, ফলে তারা তাঁর দাসত্ব স্বীকার করেছে এবং তিনি ছাড়া কাউকে কর্মবিধায়ক হিসেবে গ্রহণ করেনি।
আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নবুওয়াতের বিরতিকালীন সময়ে এমন ব্যক্তিদের দাঁড় করিয়েছেন যারা রাসূলগণের সুন্নাহ বর্ণনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি এই উম্মতকে এই বৈশিষ্ট্য দান করেছেন যে, তাদের মধ্যে একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর অটল থাকবে; যারা তাদেরকে লাঞ্ছিত করতে চাইবে বা যারা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে, এমনকি যদি জিন ও মানুষ উভয় সম্প্রদায় মিলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে দলবদ্ধ হয় তবুও।
(১)আমি তাঁর প্রশংসা করি—আর প্রশংসার তাওফীক পাওয়াও তাঁর অন্যতম নিয়ামত—এবং আমি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি—আর কৃতজ্ঞতা তাঁর অনুগ্রহ, মেহেরবানী ও বন্টন বৃদ্ধির জামিন—এবং আমি তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও তাঁর কাছে সেইসব গুনাহ থেকে তওবা করছি যা নিয়ামত দূর করে দেয় এবং তাঁর আযাবকে অনিবার্য করে তোলে।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এমন সাক্ষ্য যা আমি সাক্ষ্যদাতাদের সাথে প্রদান করছি এবং কিয়ামতের দিনের পাথেয় হিসেবে আল্লাহর নিকট জমা রাখছি। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি সত্যবাদী ও আমানতদার। আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবীগণ ও তাবিঈগণের ওপর এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর পথ আঁকড়ে ধরবে ও তাঁর সুন্নাহ অনুযায়ী চলবে তাদের ওপর।
অতঃপর;
নিশ্চয়ই ইলম বা জ্ঞান অর্জনে আত্মনিয়োগ করা আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায় এবং মহানতম আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত। এটি কল্যাণের গুরুত্বপূর্ণ প্রকারসমূহের অন্যতম এবং ইবাদতসমূহের মধ্যে অত্যন্ত তাকিদপ্রাপ্ত। এটিই সেই ক্ষেত্র যেখানে মূল্যবান সময়গুলো ব্যয় করা সবচাইতে বেশি সমীচীন এবং যার জন্য কোমর বেঁধে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
إدراكه والتمكُّن فيه أصحاب الأنفس الزكيات، وقد تظاهر على ذلك جمل من الآيات الكريمات، والأحاديث الصحيحة المشهورات، وأقاويل السلف رضي الله عنهم النيِّرات، ومن ذلك -مثالًا لا حصرًا-:
قول الله تعالى: {قل هل يستوي الذين يعلمون والذين لا يعلمون}.
وقوله تعالى: {يرفع الله الذين آمنوا منكم والذين أوتوا العلم درجات}.
وقول النبي صلى الله عليه وسلم: «من يرد الله به خيرًا يفقهه في الدين»
(1).
وقوله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «إنَّ مثل ما بعثني الله به من الهدى والعلم كمثل غيث أصاب أرضًا، فكانت منها طائفة طيبة قبلت الماء، فأنبتت الكلأ
(2) والعشب الكثير، وكان منها أجادب
(3) أمسكت الماء فنفع الله بها الناس، فشربوا منها وسقوا وزرعوا، وأصاب طائفة منها أخرى إنما هي قيعان
(4) لا تمسك الماء ولا تنبت كلأ، فذلك مثل من فقه في دين الله ونفعه ما بعثني الله به، فعَلِم وعَلَّم، ومثل من لم يرفع بذلك رأسًا، ولم يقبل هدى الله الذي أُرسلت به»
(5).
--------------------------------------------
পবিত্র আত্মার অধিকারীরাই তা উপলব্ধি ও আয়ত্ত করতে সক্ষম হন। আর এ বিষয়ে বহু সংখ্যক সম্মানীয় আয়াত, প্রসিদ্ধ বিশুদ্ধ হাদিস এবং সালাফদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) উজ্জ্বল উক্তিগুলো দলীল হিসেবে বিদ্যমান। তার মধ্যে কয়েকটি উদাহরণ হলো (তবে এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়):
মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে?}।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় উন্নত করবেন}।
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন»
(১)।
এবং তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «আল্লাহ আমাকে যে হেদায়েত ও জ্ঞান দিয়ে পাঠিয়েছেন, তার উদাহরণ হলো সেই বৃষ্টির মতো যা কোনো জমিনে বর্ষিত হলো। সেই জমিনের একটি অংশ ছিল উর্বর, যা পানি গ্রহণ করে নিলো এবং প্রচুর ঘাস ও লতাপাতা উৎপন্ন করল। অন্য এক অংশ ছিল শক্ত মাটি, যা পানি ধরে রাখল, ফলে আল্লাহ তার দ্বারা মানুষের উপকার করলেন; তারা তা থেকে পান করল, তৃষ্ণার্তকে পান করাল এবং চাষাবাদ করল। আর বৃষ্টির পানি এমন এক জমিনেও পড়ল যা ছিল মূলত চাতাল সমতল ভূমি, যা পানিও ধরে রাখে না এবং ঘাসও উৎপন্ন করে না। এটি হলো সেই ব্যক্তির উদাহরণ যে আল্লাহর দ্বীনে পাণ্ডিত্য অর্জন করেছে এবং আল্লাহ আমাকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তা তার উপকারে এসেছে, ফলে সে নিজে শিখেছে ও অপরকে শিখিয়েছে। আর এটি সেই ব্যক্তিরও উদাহরণ যে এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি এবং আল্লাহর সেই হেদায়েত গ্রহণ করেনি যা দিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি»
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
وقال الإمام الشافعي رحمه الله:
"كفى بالعلم فضيلة أن يدَّعيه من ليس فيه، ويفرح إذا نُسب إليه، وكفى بالجهل شينًا أن يتبرأ منه من هو فيه، ويغضب إذا نُسب إليه"
(1).
والكلام في فضل العلم وشرفه والحثِّ عليه= متسع كبير، يحوي من الآيات والأحاديث والآثار -فوق ما ذُكر- الكثير والكثير.
ولله درُّ القائل:
تعلم فليس المرء يولد عالمًا
… وليس أخو علم كمن هو جاهل
وأن كبيرَ القوم لا علم عنده
… صغير إذا التفّت عليه المحافل
ثم إن شرف العلوم يتفاوت بشرف مدلولها، وقدرها يعظم بعظم محصولها، ولا خلاف عند ذوي البصائر أن أجلَّها ما كانت الفائدةُ فيه أعمَّ، والنفعُ به أتمَّ، والسعادةُ باقتنائه أدوم، والإنسان بتحصيله ألزم، كعلم الشريعة الذي هو طريق السعداء إلى دار البقاء.
وعلوم الشريعة على اختلافها تنقسم إلى: فرض ونفل، والفرض ينقسم إلى: فرض عين، وفرض كفاية.
ولكل واحد منها أقسام وأنواع، بعضها أصول وبعضها فروع، وبعضها مقدِّمات وبعضها تتمات، وليس هذا موضعَ تفصيلها، إذ ليس لنا بغرض
(2).
ومن العلوم التي يتعين على المسلم -والمسلمة- البالغ العاقل معرفتُها: علمه بكيفية الوضوء، والصلاة، وشبهها.
--------------------------------------------
ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
“জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটিই যথেষ্ট যে, যার মধ্যে জ্ঞান নেই সেও তা দাবি করে এবং যখন তার দিকে জ্ঞানকে সম্বন্ধ করা হয় তখন সে আনন্দিত হয়। আর মূর্খতার কলঙ্কের জন্য এটিই যথেষ্ট যে, যে মূর্খ সেও তা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে চায় এবং যখন তার দিকে মূর্খতা সম্বন্ধ করা হয় তখন সে রাগান্বিত হয়”
(১)।
জ্ঞানের ফযিলত, এর মর্যাদা এবং এর প্রতি উৎসাহিত করার বিষয়ে আলোচনা অনেক দীর্ঘ; যা এখানে উল্লেখিত বিষয়ের বাইরেও প্রচুর পরিমাণে আয়াত, হাদিস ও পূর্বসূরিদের বর্ণনা (আছার) সমৃদ্ধ।
কবি কতই না চমৎকার বলেছেন:
শেখো! কেননা কেউ জ্ঞানী হয়ে জন্মায় না
… আর জ্ঞানবান ব্যক্তি মূর্খ ব্যক্তির সমান নয়।
সম্প্রদায়ের বড় ব্যক্তিও যদি জ্ঞানহীন হয়
… তবে সমাবেশ যখন তাকে ঘিরে ধরে তখন সে তুচ্ছ হিসেবে গণ্য হয়।
অতঃপর, ইলম বা বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব তার বিষয়ের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তারতম্য হয় এবং এর অর্জিত ফলাফল বা গুরুত্বের বিশালতা অনুযায়ী এর মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। বিচক্ষণ ব্যক্তিদের নিকট এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, সেই ইলমই সবচেয়ে মহান যার উপযোগিতা সর্বাধিক ব্যাপক, যার উপকারিতা সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ, যার অর্জন দীর্ঘস্থায়ী সৌভাগ্য বয়ে আনে এবং যা অর্জন করা মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি আবশ্যক; যেমন শরীয়তের জ্ঞান, যা পরকালের চিরস্থায়ী ঠিকানায় সৌভাগ্যবানদের পথ।
শরীয়তের জ্ঞানসমূহ বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত: ফরজ (আবশ্যিক) ও নফল (ঐচ্ছিক)। আর ফরজ দুই প্রকার: ফরজে আইন ও ফরজে কেফায়া।
এগুলোর প্রত্যেকটির আবার বিভিন্ন প্রকার ও শাখা রয়েছে। কোনোটি মূলনীতি (উসুল), কোনোটি শাখা (ফুরু), কোনোটি ভূমিকা এবং কোনোটি পরিপূরক। এটি সেগুলোর বিস্তারিত আলোচনার স্থান নয়, কারণ তা আমাদের বর্তমান উদ্দেশ্য নয়
(২)।
যেসব বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান মুসলিম নর-নারীর ওপর আবশ্যক, তা হলো: ওজু, সালাত এবং এই জাতীয় ইবাদতসমূহের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কিত জ্ঞান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
فلا يُعقل أن مسلمًا مُكلَّفًا يصلي لربه في كل يوم وليلة خمس مرات -على الأقل- ومع ذلك: لا يدري شيئًا عن أحكام هذه الصلاة، وكيفيتها، وقد قال عليه الصلاة والسلام: «صلوا كما رأيتموني أُصلي»
(1).
هذا مع توافر الوسائل المساعدة على التعليم، والإرشاد والتقويم.
ولم أر في عيوب الناس عيبًا كنقص القادرين على التمام!
وهذا الركن العظيم من أركان الإسلام، والذي تولى اللهُ عز وجل فرضه بنفسه بدون واسطة -أعني: ركن الصلاة- أفرد له الفقهاءُ رحمهم الله، وجزاهم عنا خيرًا- كتابًا كبيرًا واسعًا من كتب الفقه، ضمنوه المسائل والأحكام التي كان يُحتاج إليها في عصرهم، بل حتى التي لم يكن يُسأل عنها في عصرهم!
ولكثرة الأحكام المتعلقة بالصلاة، والمسائل المتفرعة منها: قَسَّمَ العلماءُ كتاب الصلاة إلى كتب مصغَّرة وأبواب، فتجدهم في كتاب الصلاة يذكرون -على سبيل المثال-:
* باب المواقيت. * باب صفة الصلاة.
* باب سجود السهو. * كتاب صلاة الجماعة.
* باب الإمامة. * كتاب صلاة الجمعة.
* كتاب صلاة الخوف.
إلى غير ذلك مما يذكر من الكتب والأبواب.
وهذه الأبواب أيضًا تتشعَّب فيها المسائل وتكثر فيها التفريعات بحسب احتياجات المسلمين وأسئلتهم، وبحسب الأحكام المتعلقة بكل باب -في المقام الأول-.
--------------------------------------------
এটা অভাবনীয় যে, একজন শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত (মুকাল্লাফ) মুসলিম দিনে ও রাতে কমপক্ষে পাঁচবার তার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করবেন, অথচ তিনি এই সালাতের বিধানাবলি ও এর পদ্ধতি সম্পর্কে কিছুই জানবেন না; অথচ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ।”
(১).
বিশেষ করে যখন শিক্ষা, দিকনির্দেশনা এবং সংশোধনের সহায়ক মাধ্যমসমূহ পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যমান রয়েছে।
আর আমি মানুষের ত্রুটিগুলোর মধ্যে পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম ব্যক্তিদের অপূর্ণ থেকে যাওয়ার মতো বড় কোনো ত্রুটি দেখিনি!
ইসলামের এই মহান রকনটি, যা আল্লাহ মহিয়ান ও গরীয়ান কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি ফরজ করেছেন—অর্থাৎ সালাতের রকন—ফকিহগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন এবং আমাদের পক্ষ থেকে তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন) এর জন্য ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে একটি বিশাল ও বিস্তৃত অধ্যায় নির্দিষ্ট করেছেন। এতে তাঁরা সেইসব মাসআলা ও বিধান অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা তাঁদের যুগে প্রয়োজনীয় ছিল, এমনকি সেসব মাসআলাও আলোচনা করেছেন যা তাঁদের যুগে জিজ্ঞাসিতও হয়নি!
সালাত সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি এবং এর থেকে উদ্ভূত মাসআলাসমূহের প্রাচুর্যের কারণে উলামায়ে কেরাম ‘সালাত অধ্যায়’কে ছোট ছোট পরিচ্ছেদ ও উপ-পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছেন। উদাহরণস্বরূপ আপনি সালাত অধ্যায়ে পাবেন:
* ওয়াক্তসমূহের পরিচ্ছেদ। * সালাতের পদ্ধতির পরিচ্ছেদ।
* সাহু সিজদার পরিচ্ছেদ। * জামায়াতে সালাতের অধ্যায়।
* ইমামতির পরিচ্ছেদ। * জুমআর সালাতের অধ্যায়।
* সালাতুল খাওফের (ভয়ের সময়ের সালাত) অধ্যায়।
এ ছাড়াও আরও অনেক অধ্যায় ও পরিচ্ছেদ সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিচ্ছেদগুলোতেও মুসলমানদের প্রয়োজন ও তাঁদের জিজ্ঞাসার আলোকে এবং প্রধানত প্রতিটি পরিচ্ছেদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানের প্রেক্ষাপটে মাসআলাসমূহ বিস্তৃত হয়েছে এবং এর শাখা-প্রশাখা বৃদ্ধি পেয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
ومن هذه الأبواب التي يشتد الاحتياج إليها عن غيرها، ويكثر السؤال عن العديد من فروعها: باب الإمامة.
ذلك أن أحدًا منا لا ينفك أن يكون إمامًا في وقت من الأوقات على مدار حياته، بل على مدار يومه وليلته.
فإن لم يكن إمامًا راتبًا في المسجد: فهو إمام لأصحابه في العمل، أو في الدراسة، أو في السفر، أو -على أقل حال- إمام لأهل بيته.
ومع هذا: فإن الكثيرين -إلا من رحم رب العالمين- يجهلون أكثر مما يعرفون من أحكام الإمامة وشؤونها!
وإن تعجب أيها القارئ الكريم: فعجبٌ ما تشاهده هذه الأيام من تنافس كثير من الناس على مكان الإمامة، وحزنهم وخِصامِهم إذا لم يُقدَّموا لها
(*)!!
مع أنك قد تجد ذلك الحزين المخاصِم لأنه لم يُقَدَّم: فاسقًا ظاهر الفسق، أو لحَّانًا لا يجيد القراءة، أو لا يدري شيئًا عن أحكام الصلاة والإمامة، أو
… ، أو يجتمع فيه كل ما ذُكر!!
وهنا يبدأ تقاطر الأسئلة:
- هل مثل هذا يصلح أن يُقدَّم للإمامة؟!
- وإذا تقدَّم من تلقاء نفسه: هل تصح الصلاة خلفه؟!
- وماذا سيصنع ذلك الإمام إن نابه شيء في صلاته، إن أحدث -مثلًا-؟ أو قام من ركعتين ناسيًا التشهد الأول؟ أو
… ، أو غير ذلك مما قد يتعرض له الإمام سهوًا أو خطأً.
أسئلة شتَّى تدور في خَلَدِ كثير من المسلمين، بعضهم يبحث عن جواب لها في أقرب مصدر فقه يقع بين يديه، وبعضهم يتركها حبيسة صدره!
--------------------------------------------
আর সেসব অধ্যায়গুলোর মধ্য থেকে যার প্রতি প্রয়োজনীয়তা অন্যের তুলনায় অধিক তীব্র এবং যার বহু শাখা-প্রশাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসার আধিক্য পরিলক্ষিত হয়, তা হলো: ইমামতের অধ্যায়।
এর কারণ হলো, আমাদের কেউই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে ইমাম হওয়া থেকে মুক্ত নয়, এমনকি দিন-রাত্রির আবর্তনেও।
সুতরাং কেউ যদি মসজিদের নির্ধারিত ইমাম নাও হয়, তবুও সে কর্মক্ষেত্রে, পড়াশোনায় অথবা সফরে তার সঙ্গীদের ইমাম, কিংবা—ন্যূনতমপক্ষে—তার নিজ পরিবারের সদস্যদের ইমাম।
এতদসত্ত্বেও, অনেক মানুষই—যাদের প্রতি জগতসমূহের রব দয়া করেছেন তারা ব্যতীত—ইমামতের আহকাম ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে যা জানেন, তার চেয়ে অধিক বিষয়ে অজ্ঞ!
হে সম্মানিত পাঠক, আপনি যদি বিস্মিত হতে চান, তবে বর্তমান সময়ে ইমামতের পদের জন্য বহু মানুষের প্রতিযোগিতা করা এবং তাদেরকে ইমাম হিসেবে সামনে এগিয়ে না দিলে তাদের দুঃখ ও বিবাদ দেখে বিস্মিত হওয়াই স্বাভাবিক!
(*)!!
অথচ আপনি সেই দুঃখিত ও বিবাদকারী ব্যক্তিকে—যাকে ইমাম হিসেবে এগিয়ে দেওয়া হয়নি—হয়তো দেখবেন সে একজন প্রকাশ্য পাপাচারী, অথবা অশুদ্ধ পাঠকারী যে সঠিক তিলাওয়াত করতে জানে না, অথবা সালাত ও ইমামতের আহকাম সম্পর্কে কিছুই জানে না, অথবা
..., অথবা তার মাঝে উল্লিখিত সব কটি দোষই বিদ্যমান রয়েছে!!
আর এখান থেকেই বিভিন্ন প্রশ্নের সূত্রপাত হয়:
- এই ধরণের ব্যক্তি কি ইমামতের জন্য উপযুক্ত?!
- আর সে যদি নিজ উদ্যোগে সামনে এগিয়ে যায়, তবে কি তার পেছনে সালাত শুদ্ধ হবে?!
- আর সেই ইমাম যদি সালাতের মধ্যে কোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, তবে তিনি কী করবেন? যেমন ধরুন যদি ওজু নষ্ট হয়ে যায়? অথবা প্রথম তাশাহহুদ ভুলে দুই রাকাতের পর দাঁড়িয়ে যান? অথবা
..., অথবা এ জাতীয় অন্য কিছু যা একজন ইমামের ভুলবশত বা অসাবধানতাবশত ঘটে যেতে পারে।
বহু মুসলিমের মনে এ জাতীয় বিবিধ প্রশ্ন উঁকি দেয়; তাদের কেউ কেউ হাতের কাছে পাওয়া নিকটতম ফিকহ শাস্ত্রীয় উৎস থেকে এর উত্তর খুঁজে বেড়ায়, আবার কেউ কেউ তা নিজের বুকেই চেপে রাখে!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
سبب تأليف الكتاب:
مع الحاجة إلى بحثٍ مستقل، أو كتاب مفرَدٍ يجمع هذه المسائل والأحكام؛ لم تتحرك نفسي للقيام بعبء هذا الأمر، خاصَّة وقد سبق إليه بعض المعاصرين
(1)، إلى أن جاء يوم وعرض عليَّ شيخنا الفاضل: أبو عبد الله مصطفى بن العدوي -حفظه الله ورعاه- أن أجمع شتات هذه المسائل المتعلقة بالإمامة، والتي يكثر السؤال عنها، ويحتاج المسلمون إليها.
* فاستخرتُ الله في ذلك، ثم وافقته فيما عرض، وأجبته لما طلب، راجيًا من الله -جلَّ في علاه- النفع لنفسي وإخواني، ومن هنا كانت البداية.
لم يكن الأمر يسيرًا كما هي العادة في أمثال هذه الأبحاث، وكما لا يخفى على القائمين عليها، ففي هذا الكتاب، ومع كل مسألة من مسائله -والتي بلغت ثمانيًا وثلاثين مسألة- كان عليَّ أن أجمع أقوال الفقهاء من المذاهب الأربعة، مع أقوال بعض العلماء المتأخرين (كشيخِ الإسلام ابن تيمية، وابن القيم، والشوكاني،
… وغيرهم)، وبعض العلماء المعاصرين (كالشيخ ابن باز، والشيخ ابن عثيمين، .. وغيرهما) أحيانًا- وذلك بحسب ما تقتضي المسألة-
(2).
ثم يأتي بعد ذلك النظرُ في أدلة كل قول، وتخريج الأحاديث والآثار المستدلِّ بها، مع تحقيقها وبيان مرتبتها -عند أهل الحديث- من حيث الصحة والضعف.
--------------------------------------------
বই রচনার কারণ:
একটি স্বতন্ত্র গবেষণা বা এই মাসআলা ও আহকামগুলো একত্রিতকারী একটি একক কিতাবের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও, এই দায়িত্ব পালন করার জন্য আমার মন সায় দিচ্ছিল না; বিশেষ করে যেহেতু কিছু সমসাময়িক লেখক এই বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন
(১)। পরিশেষে একদিন আমাদের সম্মানিত শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুস্তফা বিন আল-আদাবী —আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন ও রক্ষণাবেক্ষণ করুন— আমার কাছে প্রস্তাব করলেন যে, আমি যেন ইমামত সংক্রান্ত এই বিক্ষিপ্ত মাসআলাগুলো একত্রিত করি, যেগুলি সম্পর্কে অধিক পরিমাণে জিজ্ঞাসা করা হয় এবং যেগুলির প্রয়োজন মুসলিমদের রয়েছে।
* তখন আমি এই বিষয়ে আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করলাম, অতঃপর তাঁর প্রস্তাব গ্রহণ করলাম এবং তাঁর অনুরোধ রক্ষা করলাম। আমি সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর নিকট নিজের জন্য এবং আমার ভাইদের জন্য এর দ্বারা উপকারের আশা করছি; আর এখান থেকেই শুরু।
সাধারণত এই ধরণের গবেষণার ক্ষেত্রে যেমন হয়ে থাকে, বিষয়টি তেমন সহজ ছিল না। এই ধরণের কাজের সাথে যারা জড়িত তাদের নিকট বিষয়টি অস্পষ্ট নয়। এই কিতাবে এবং এর প্রতিটি মাসআলার সাথে—যা সংখ্যায় আটত্রিশটি মাসআলায় পৌঁছেছে—আমাকে চার মাযহাবের ফকীহগণের মতামতের পাশাপাশি পরবর্তীকালের কিছু আলিমের মতামত (যেমন: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কাইয়্যিম, আশ-শাওকানী... প্রমুখ) এবং কখনো কখনো কিছু সমসাময়িক আলিমের মতামত (যেমন: শায়খ ইবনে বায, শায়খ ইবনে উসাইমীন... প্রমুখ) মাসআলার চাহিদা অনুযায়ী সংগ্রহ করতে হয়েছে
(২)।
এরপর প্রতিটি মতের দলীলসমূহ পর্যালোচনা করা এবং দলীল হিসেবে পেশকৃত হাদীস ও আসারসমূহের তাখরীজ করার কাজ এসেছে। সেই সাথে মুহাদ্দিসগণের নিকট সেগুলোর নির্ভরযোগ্যতা ও দুর্বলতার মান বিশ্লেষণ করে সেগুলোর পর্যায় বর্ণনা করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ثم تأتي المرحلة الأخيرة -وليست بأيسرَ مما سبقها- وهي: ترتيب هذه الأقوال، وعرض المسألة بشكل مُيسَّرٍ -قدر الاستطاعة- يتيح للقارئ تَصُّورَ المسألة، واستيعابَ الأقوال فيها.
•
عملي في هذا الكتاب:بعد أن طُفتُ -بحمد الله- على «كتاب الإمامة»
(1) في جُلِّ كتب الفقه المعتمَدة عند أهل المذاهب الأربعة، واستخرجت المسائل التي يُحتاج إليها في زماننا -فيما أرى- مسترشدًا في ذلك بنصائح شيخنا العدوي -حفظه الله-؛ جمعتُها ورتبتها في هذا الكتاب على النهج التالي:
1 - قسَّمتُ الكتاب إلى أبواب، وكل باب يحوي مسألة واحدة -بفروعها-، وهو مع ذلك مستقلٌّ بذاته عن غيره، فلا يحتاج إلى سابقه أو لاحقه لتكتمل فائدته -غالبًا-، وإن كانت المسائل كلها تتواصل مع بعضها ليصل القارئ إلى معرفة ما يلزمه من أحكام تتعلق بصلاة الإمام. ولم ألتزم في ترتيب الأبواب بنهج معين.
2 - قمتُ بتخريج الأحاديث والآثار التي يستدل بها الفقهاء، مع تحقيقها والتوسع في الكلام عنها، ونقل أحكام الأئمة عليها، ليستبين للقارئ صحة الدليل من ضعفه، وهذه الخطوة من أهم ما يميز هذا الكتاب عما سواه، فإن غالب الأبحاث التي تناولت هذا الموضوع، أو جزءًا منه، أو ما يشابهه= تكون همةُ القائمين عليه -غالبًا- جمعَ أقوال الفقهاء وأدلتهم، ومناقشة تلك الأدلة، مع تخريج ضعيف،
--------------------------------------------
এরপর আসে সর্বশেষ পর্যায় —যা পূর্ববর্তী ধাপগুলোর চেয়ে মোটেও সহজ নয়— আর তা হলো: এই বক্তব্যসমূহ বিন্যস্ত করা এবং বিষয়টি যতটা সম্ভব সহজভাবে উপস্থাপন করা —সাধ্যানুযায়ী— যাতে পাঠক বিষয়টি অনুধাবন করতে পারে এবং এর অন্তর্ভুক্ত বক্তব্যগুলো আয়ত্ত করতে পারে।
•
এই গ্রন্থে আমার কাজ:আল্লাহর প্রশংসার সাথে চার মাযহাবের অনুসারীদের নিকট নির্ভরযোগ্য অধিকাংশ ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহের «ইমামত অধ্যায়»
(১) পর্যালোচনার পর এবং আমার দৃষ্টিতে বর্তমান সময়ে যেসব মাসআলার প্রয়োজন রয়েছে সেগুলো বের করার পর —এক্ষেত্রে আমাদের শাইখ আল-আদভী (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন)-এর পরামর্শ দ্বারা নির্দেশিত হয়ে— আমি সেগুলোকে এই কিতাবে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে সংকলন ও বিন্যস্ত করেছি:
১ - আমি কিতাবটিকে কয়েকটি পরিচ্ছেদে ভাগ করেছি এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদে একটি করে মাসআলা —তার শাখাসহ— অন্তর্ভুক্ত করেছি। তদুপরি প্রতিটি পরিচ্ছেদ অন্যটি থেকে স্বতন্ত্র, ফলে এর পূর্ণ উপযোগিতা লাভের জন্য সাধারণত পূর্ববর্তী বা পরবর্তী পরিচ্ছেদের মুখাপেক্ষী হতে হয় না, যদিও মাসআলাগুলো একে অপরের সাথে সংযুক্ত, যাতে পাঠক ইমামের সালাত সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় বিধানাবলি সম্পর্কে অবগত হতে পারে। পরিচ্ছেদসমূহ বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে আমি বিশেষ কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করিনি।
২ - আমি ফকীহগণ কর্তৃক দলিল হিসেবে পেশকৃত হাদীস ও আসারসমূহ (সাহাবীদের বাণী) তাখরীজ করেছি, সাথে সেগুলোর তাহকীক ও বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং সেগুলোর ব্যাপারে ইমামগণের হুকুম বা মন্তব্য উদ্ধৃত করেছি, যাতে পাঠকের কাছে দলিলের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে যায়। এই পদক্ষেপটি এই কিতাবকে অন্যান্য কিতাব থেকে পৃথক করার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। কেননা এই বিষয়ে বা এর অংশবিশেষে অথবা সমজাতীয় বিষয়ে রচিত অধিকাংশ গবেষণায় সংকলকদের মূল লক্ষ্য থাকে সাধারণত ফকীহদের বক্তব্য ও দলিলসমূহ একত্র করা এবং সেই দলিলগুলো নিয়ে আলোচনা করা, যেখানে তাখরীজ থাকে দুর্বল,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أو تعليق خفيف على الأحاديث والآثار المستدل بها
(1).
و
طريقتي في التخريج هي: أنَّ الحديث أو الأثر إن كان في الصحيحين أو أحدهما؛ فأكتفي بالعزو إليهما، دون ذكر باقي المصادر، إلا إن كانت هناك فائدة من ذكرها، فذِكْرُ الحديث في الصحيحين -أو أحدهما-، مع قبول الأمة له، وعدم انتقاد أحد من الأئمة له= كافٍ جدًّا لنا أن نقبل الحديث ونحكم بصحته، وعلى ذلك فعندها يكون ذكر باقي المصادر التي أخرجت الحديث من باب: «التعب الذي ليس من ورائه أرب».
3 - ليس من منهجي في هذا الكتاب أن أُرجِّح بين أقوال الفقهاء، إنما قمت بالجمع والتنسيق والترتيب، محاولًا في ذلك كله أن لا أضع شيئًا من عندي، أو أتدخل بقولي - إلا نادرًا-.
4 - ذيَّلتُ جُلَّ المسائل بقول شيخنا مصطفى العدوي -حفظه الله-، بعد أن استأذنته في ذلك فأذن -جزاه الله خيرًا-، ليكون ذلك بمثابة عون للقارئ على الوصول للراجح من الأقوال في كل مسألة.
ولما كان الكتاب يتناول أصالةً: أحكامًا تختص بالإمام -دون المأمومين- فلا أتعرض لشيء من أحكام صلاة المأمومين إلا في مواطن معينة، ولما كان ترتيبه كما ذكرت آنفًا على صورة أبواب تحوي مسائل مستقلة= فقد آثرت أن يكون اسم الكتاب:
--------------------------------------------
অথবা দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হাদিস ও আছারগুলোর ওপর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য
(১)।
এবং
তাখরিজের ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি হলো: হাদিস বা আছারটি যদি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) অথবা এর যেকোনো একটিতে থাকে, তবে আমি শুধু সেই দুটির উদ্ধৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছি; অন্যান্য উৎস উল্লেখ করিনি, যদি না তা উল্লেখ করার মধ্যে কোনো বিশেষ ফায়দা থাকে। কেননা সহিহাইনে —বা এর যেকোনো একটিতে— কোনো হাদিসের উল্লেখ থাকা, সেই সাথে উম্মতের নিকট তা গ্রহণযোগ্য হওয়া এবং ইমামগণের কেউ তার ওপর সমালোচনা না করা আমাদের জন্য সেই হাদিসটি গ্রহণ করতে এবং তার বিশুদ্ধতার ফয়সালা দিতে যথেষ্ট। এমতাবস্থায় হাদিসটির অন্যান্য উৎস উল্লেখ করা হবে "এমন এক পরিশ্রম যার পেছনে কোনো সার্থকতা নেই" এর অন্তর্ভুক্ত।
৩ - ফকিহগণের মতামতের মধ্যে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়া (তারজিহ) এই কিতাবে আমার কর্মপদ্ধতি নয়; বরং আমি কেবল সংগ্রহ, সমন্বয় ও বিন্যাস করেছি। এই পুরো প্রক্রিয়ায় আমি চেষ্টা করেছি নিজের পক্ষ থেকে কোনো কিছু না রাখার অথবা বিরল ক্ষেত্র ছাড়া নিজের কোনো বক্তব্য না দেওয়ার।
৪ - আমি অধিকাংশ মাসআলার শেষে আমাদের শায়খ মুস্তফা আল-আদাউয়ি —আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন— এর বক্তব্য যুক্ত করেছি, এ ব্যাপারে তার অনুমতি চাওয়ার পর তিনি অনুমতি দিয়েছেন —আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন—। এর উদ্দেশ্য হলো, প্রতিটি মাসআলায় নির্ভরযোগ্য (রাজাহ) মতটিতে পৌঁছাতে এটি যেন পাঠকের জন্য সহায়ক হয়।
যেহেতু কিতাবটি মূলত ইমামের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো নিয়ে আলোচনা করে —মুক্তাদিদের বাদ দিয়ে— তাই আমি নির্দিষ্ট কিছু স্থান ছাড়া মুক্তাদিদের সালাতের বিধানাবলি নিয়ে কোনো আলোচনা করিনি। আর যেহেতু এর বিন্যাস পদ্ধতি ইতিপূর্বে যেমনটি উল্লেখ করেছি সে অনুযায়ী স্বতন্ত্র মাসআলা সংবলিত অধ্যায় আকারে করা হয়েছে, তাই আমি কিতাবটির নাম হিসেবে পছন্দ করেছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
«جامع أحكام صلاة الإمام»
وقد حاولت أن أضمنه المسائل التي يكثر السؤال عنها، وتدعو الحاجة إلى معرفتها.
فإذا رأى القارئ أن هناك مسألة تختص بالإمامة ولم أُوردها هنا: فسبب ذلك لا يخرج -بإذن الله- عن أحد أمور ثلاثة؛ وهي:
أ - أنني رأيت أن تلك المسألة ليس لها كبير فائدة، أو نفع، أو استخدام في تلك الأيام، ومثال ذلك: «إمامة العبد»، «إمامة ولد الزنا»، «الرجل يصلي بقوم عراة»،
… ، وغير ذلك من الأمثلة التي دونها الفقهاء في كتبهم، ووجودها في هذه الأيام نادرٌ جدًّا، إن لم يكن منعدمًا!
ب - أو أنني رأيت أن المسألة تلتصق بباب أو كتاب آخر من أبواب الفقه وكتبه أكثر من التصاقها بكتابنا هذا، ومثال ذلك: «إمامة المسافر للمقيمين»، حيث رأيت أنها تتعلق بـ «كتاب صلاة المسافرين»، و «خطيب الجمعة هل يصلي بنفسه أم يقدم آخر ليصلي بالناس»، فإنها تتعلق بـ «كتاب صلاة الجمعة»، إلى غير ذلك.
جـ- فإن لم يكن سببُ الإغفال أحدَ السببين المذكورين آنفًا: فلا مناص من أن تجعله السبب الأخير، وهو: النسيان، الذي لا ينفك عنه بشرٌ أو إنسان!
ولله درُّ ابن حزم حين قال -وهو يتكلم عن وهم ونسيان بعض رواة الحديث، على جلالة قدرهم وحفظهم-:
"فإذا صح أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نسي آية من القرآن
(1)، فمن الزهري، ومن سُليمان، ومن يحيى حتى لا ينسى؟!
--------------------------------------------
«ইমামের সালাতের বিধিবিধানের সংকলন»
আমি এতে সেই সব মাসআলা অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছি যেগুলি সম্পর্কে প্রশ্ন বেশি করা হয় এবং যেগুলি জানার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
পাঠক যদি দেখেন যে ইমামত সংশ্লিষ্ট কোনো মাসআলা এখানে আমি উল্লেখ করিনি, তবে এর কারণ—আল্লাহর ইচ্ছায়—তিনটি বিষয়ের বাইরে হবে না; আর সেগুলো হলো:
ক - আমি দেখেছি যে সেই মাসআলাটির বিশেষ কোনো ফায়দা, উপকার বা বর্তমান সময়ে তার প্রয়োগ নেই। উদাহরণস্বরূপ: «দাসের ইমামত», «ব্যভিচারজাত সন্তানের ইমামত», «উলঙ্গ একদল লোককে কোনো ব্যক্তির সালাত পড়ানো»,
… , এবং ফকীহগণ তাদের কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ করেছেন এমন অন্যান্য উদাহরণ, যার অস্তিত্ব বর্তমান সময়ে বিরল, যদি তা অস্তিত্বহীন না হয়ে থাকে!
খ - অথবা আমি মনে করেছি যে মাসআলাটি আমাদের এই কিতাবের চেয়ে ফিকহের অন্য কোনো অধ্যায় বা বিষয়ের সাথে বেশি সংশ্লিষ্ট। উদাহরণস্বরূপ: «মুকিমদের ইমামতকারী মুসাফির», যেখানে আমি দেখেছি যে এটি «মুসাফিরের সালাত অধ্যায়»-এর সাথে সংশ্লিষ্ট। আর «জুমার খতিব কি নিজে সালাত পড়াবেন নাকি অন্য কাউকে মানুষের ইমামতির জন্য সামনে এগিয়ে দেবেন», তা «জুমার সালাত অধ্যায়»-এর সাথে সংশ্লিষ্ট, ইত্যাদি।
গ- যদি বাদ পড়ার কারণ উল্লিখিত দুটি কারণের কোনোটি না হয়: তবে আপনাকে অবশ্যই একে শেষ কারণ হিসেবে গণ্য করতে হবে, আর তা হলো: বিস্মৃতি বা ভুলে যাওয়া, যা থেকে কোনো মানুষই মুক্ত নয়!
ইবনে হাযমের কী চমৎকার উক্তি যখন তিনি বলেছিলেন—কিছু হাদিস বর্ণনাকারীর ভ্রম ও বিস্মৃতি সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে, তাদের সুউচ্চ মর্যাদা ও স্মরণশক্তি থাকা সত্ত্বেও—:
"যদি এটা সাব্যস্ত হয় যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরআনের কোনো আয়াত ভুলে গিয়েছিলেন
(১), তবে যুহরী কে, সুলায়মান কে, আর ইয়াহইয়াই বা কে যে তারা ভুলবেন না?!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وقد قال الله عز وجل: {ولقد عهدنا إلى آدم من قبل فنسي} " [طه: الآية 115]. اهـ
(1).
ثم لا يخفى على القارئ الكريم أن هذا العمل جهد بشري، فحقيق أن يصدق فيه قول الله تعالى: {ولو كان من عند غير الله لوجدوا فيه اختلافا كثيرا}
(2).
بل إنك حين تطالع كتب سلف الأمة، تراهم أحيانًا -مع غزارة علمهم، وقلة أخطائهم، وشدة ورعهم- لا يفوتهم أن يذكروا بهذا الأمر، أعني: احتمال ورود الخطأ فيما كتبوه، فيستغفرون الله منه، ويعلنون تراجعهم عنه، ويلتمسون العذر من قارئه.
يقول ابن القيم رحمه الله:
"فيا أيها الناظر فيه - أي: في كتابه -، لك غُنْمُه وعلى مؤلفه غُرْمُه، ولك صفْوُه وعليه كَدَرُه، وهذه بضاعته المزجاة تُعرَض عليك، وبنات أفكاره تُزَفُّ إليك، فإن صادفت كفؤًا كريمًا لم تعدم منه إمساكًا بمعروف، أو تسريحًا بإحسان، وإن كان غيره فالله المستعان، فما كان من صواب فمن الواحد المنان، وما كان من خطأ فمني ومن الشيطان، والله بريء منه ورسوله"
(3).
--------------------------------------------
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {এবং আমি ইতিপূর্বে আদমের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু সে ভুলে গিয়েছিল} [ত্বহা: ১১৫]। সমাপ্ত।
(১).
অতঃপর সম্মানীত পাঠকের নিকট এটা গোপন নয় যে, এই কাজ মানুষের প্রচেষ্টা; সুতরাং এতে আল্লাহ তাআলার এই বাণী সত্য হওয়া বাঞ্ছনীয়: {যদি এটা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট হতে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরীত্য পেত}
(২).
বরং আপনি যখন উম্মতের সালাফগণের কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করবেন, তখন দেখবেন যে—তাঁদের জ্ঞানের প্রাচুর্য, ভুলের স্বল্পতা এবং চরম তাকওয়া থাকা সত্ত্বেও—তাঁরা এই বিষয়টি উল্লেখ করতে ভুলতেন না, অর্থাৎ: তাঁদের লিখিত বিষয়ে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা; ফলে তাঁরা এজন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন, তা থেকে ফিরে আসার ঘোষণা দিতেন এবং পাঠকের কাছে ওজরখ্ওয়াহি (ক্ষমা) চাইতেন।
ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন:
"হে এতে (অর্থাৎ: তাঁর কিতাবে) দৃষ্টিপাতকারী, এর উপকার আপনার জন্য এবং এর দায়ভার এর লেখকের ওপর; এর স্বচ্ছতা আপনার জন্য এবং এর আবিলতা তাঁর ওপর। আর এটি তাঁর সামান্য পুঁজি যা আপনার সামনে পেশ করা হয়েছে, এবং তাঁর চিন্তাপ্রসূত বিষয়াদি যা আপনার নিকট নিবেদন করা হয়েছে। সুতরাং এটি যদি কোনো মহান যোগ্য ব্যক্তির সান্নিধ্য পায়, তবে তিনি হয়তো অনুগ্রহের সাথে তা গ্রহণ করবেন অথবা সদাচরণের সাথে তা ত্যাগ করবেন। আর যদি অন্য কেউ হয়, তবে আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থিত। সুতরাং যা কিছু সঠিক হয়েছে তা দয়াময় একক আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল হয়েছে তা আমার পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা থেকে মুক্ত"
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فأستغفر الله عما بدر مني في هذا الكتاب من خطأ فيه وقعت، وأسأله العون على ما قصدت، والتوفيق لصلاح النية والقصد فيما أردت، وأعول في أمري كله عليه، وأبرأ من الحول والقوة إلا إليه.
وختامًا أقول:
لقد كان من فضل الله عز وجل عليَّ -ولا يزال فضلُه بحمده قائمًا متصلًا- أن حبب إليَّ العلمَ وأهله، فشغلني بذلك عما شُغل به الكثيرون من أقراني وأبناء سني، فاللهم لك الحمد على هذه النعمة.
ثم كان من فضله عليَّ أيضًا: أن يسر لي اللقاء بذلكم الشيخ المبارك -بإذن الله- فضيلة شيخنا: أبي عبد الله مصطفى بن العدوي -حفظه الله ورعاه-، فشرفتُ بالأخذ عنه، والتلقي منه، والجلوس بين يديه، وكم صوَّبَ لي من خطإ في الفهم، وقوّم لي من اعوجاج في اللسان، وفتح الله لي على يديه أبوابًا من العلم ما كنت أراها قبل الوفود عليه.
ناهيك عما تعلمته من سمته ودماثة خُلُقه، وجوده وكرمه، وبذله نفسه ووقته لإخوانه وطلابه، فأحسبه -والله حسيبه، ولا أزكي على الله أحدًا- من الداعين إلى سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وهديه بالفعل قبل القول.
وإن نسيت كل هذا فلا أنسى أنه كان صاحب الفضل عليَّ -بعد الله، ثم والديّ- في أن أسلك هذا الطريق، طريق العلم والدعوة، فلا أدري -والله- كيف أشكره على ما تسبب لي فيه من الخير!
فأترك مكافأته لله، فلا أنساه من دعائي -حين أدعو- أن يجزيه الله عني خيرًا، وأن يبارك له في عمره وأهله، وأن ينفع بعلمه المسلمين، وأن يلبسه ثوب الصحة والعافية والستر في الدارين، وأن يختم لنا وله بخاتمة السعادة أجمعين، اللهم آمين.
كما أسأله -جلَّ في علاه- لإخواني الذين قدَّموا لي النصح،
আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এই কিতাবে আমার পক্ষ থেকে ঘটা ভুল-ত্রুটির জন্য, এবং আমি যা ইচ্ছা করেছি তাতে তাঁর কাছে সাহায্য কামনা করছি, আর আমি যা চেয়েছি তাতে নিয়ত ও লক্ষ্যের বিশুদ্ধতার জন্য তাওফিক প্রার্থনা করছি। আমি আমার সমস্ত বিষয়ে তাঁর ওপরই নির্ভর করছি এবং তাঁর সাহায্য ছাড়া অন্য কোনো উপায় বা শক্তি থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করছি।
পরিশেষে আমি বলছি:
মহান আল্লাহর এটি আমার ওপর এক বিশেষ অনুগ্রহ ছিল—এবং তাঁর প্রশংসার সাথে তাঁর অনুগ্রহ এখনও অব্যাহত রয়েছে—যে তিনি আমার প্রতি জ্ঞান এবং জ্ঞানীদের ভালোবাসাকে প্রিয় করে দিয়েছেন। ফলে তিনি আমাকে এমন বিষয়ে ব্যস্ত রেখেছেন যা থেকে আমার সমবয়সী ও সমসাময়িক অনেকেই বিমুখ রয়েছে। হে আল্লাহ, এই নিয়ামতের জন্য আপনারই সমস্ত প্রশংসা।
এরপর তাঁর আরও একটি অনুগ্রহ ছিল যে, তিনি আমার জন্য সেই বরকতময় শায়খ—আল্লাহর ইচ্ছায়—আমাদের সম্মানিত শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুস্তফা বিন আল-আদাউয়ি—আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন ও তাঁর যত্ন নিন—এর সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি সহজ করে দিয়েছেন। আমি তাঁর থেকে ইলম গ্রহণ করে, তাঁর কাছে শিক্ষা লাভ করে এবং তাঁর সম্মুখে বসে ধন্য হয়েছি। তিনি আমার বোঝার কত যে ভুল সংশোধন করেছেন এবং জিহ্বার কত জড়তা কাটিয়ে দিয়েছেন! আর আল্লাহ তাঁর হাত ধরে আমার জন্য ইলমের এমন সব দুয়ার খুলে দিয়েছেন, যা তাঁর কাছে আসার আগে আমি দেখিনি।
এছাড়া তাঁর গাম্ভীর্যপূর্ণ চালচলন, স্বভাবের নম্রতা, দানশীলতা, উদারতা এবং তাঁর ভাই ও ছাত্রদের জন্য নিজের জীবন ও সময় উৎসর্গ করার বিষয়টি তো বলাই বাহুল্য। আমি তাঁকে মনে করি—আর আল্লাহই তাঁর প্রকৃত হিসাব গ্রহণকারী, আমি আল্লাহর সমীপে কাউকে পবিত্র ঘোষণা করছি না—এমন একজন ব্যক্তি যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ ও তাঁর আদর্শের দিকে কথার আগে কাজের মাধ্যমে দাওয়াত দেন।
আমি যদি এই সবকিছু ভুলে যাই, তবুও আমি ভুলব না যে, আল্লাহর পর এবং আমার পিতামাতার পর, এই পথে অর্থাৎ ইলম ও দাওয়াতের পথে চলার পেছনে তাঁরই অনুগ্রহ ছিল। আল্লাহর কসম, তিনি আমার যে কল্যাণের কারণ হয়েছেন, তার জন্য আমি কীভাবে তাঁকে ধন্যবাদ দেব তা আমি জানি না!
তাই আমি তাঁর প্রতিদানের বিষয়টি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। আমি আমার দুআয় তাঁকে ভুলি না—যখনই আমি দুআ করি—যে আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁর আয়ু ও পরিবারে বরকত দান করুন, তাঁর ইলম দ্বারা মুসলিমদের উপকৃত করুন, তাঁকে উভয় জগতে সুস্থতা, নিরাপত্তা ও আবরণের পোশাক পরিধান করান এবং আমাদের ও তাঁর—আমাদের সকলের শেষ পরিণাম যেন সৌভাগ্যের সাথে হয়। হে আল্লাহ, কবুল করুন।
একইভাবে আমি মহান সুউচ্চ আল্লাহর কাছে আমার সেই ভাইদের জন্য প্রার্থনা করছি যারা আমাকে নসিহত প্রদান করেছেন,
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ومدوا إليّ يد العون، وشدوا من أزري، وما بخلوا عليَّ بما يستطيعون تقديمه= أن يجزيهم خير الجزاء، وإن لم أذكرهم هنا بأسمائهم فالله يعلمهم، ويسمع دعائي لهم، فأسأله كما جمعنا في الدنيا على طاعته أن يجمعنا في الآخرة في جنته، إخوانًا على سرر متقابلين، آمين.
وأما أنتما: فرحمة من الله لي، ونعمة من الله -فوق نعمه- عليَّ، ورزق ساقه الله إليَّ، ولو سوَّدتُ صفحات هذا الكتاب كله بشكركما والثناء عليكما ما عَدَلَ ذلك عندي شكر فضلكما، فماذا عساي أن أقول في كلمات معدودات في أسطر قليلة؟!
إني لأسأل الله بأسمائه الحسنى وصفاته العلى أن يتقبل منكما ما قدَّمتما -وهو أعلم بما قدمتما- بقبول حسن، وألا يحرمكما ثواب كل عمل صالح يوفقني إليه، وأن يقر أعينكما بما رجوتما، وأن يطيل في طاعته عمركما، وأن يعينني على بركما على الوجه الذي يرضيه عني ثم يرضيكما.
{رب أوزعني أن أشكر نعمتك التي أنعمت علي وعلى والدي وأن أعمل صالحًا ترضاه وأصلح لي في ذريتي إني تبت إليك وإني من المسلمين}. [الأحقاف: الآية 15]
نفعني الله وإخواني بما علمني، وأسأله التوفيق والرشاد لما فيه الحق والصواب، وأن يرزقني الصدق والإخلاص لوجهه الكريم، في القول والعمل، والسر والعلن.
والحمد لله رب العالمين، له النعمة وله الفضل وله الثناء الحسن الجميل، وصلى الله علي سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا إلى يوم الدين.
وكتبه
أحمد بن إبراهيم الجابريّ
তারা আমার প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, আমার শক্তি যোগিয়েছেন এবং তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যা কিছু প্রদান করা সম্ভব তা প্রদানে কার্পণ্য করেননি—আল্লাহ যেন তাদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। আমি যদি এখানে নাম ধরে তাদের কথা উল্লেখ নাও করি, তবে আল্লাহ তাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং তাদের জন্য আমার দুআ তিনি শোনেন। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি, যেমন তিনি আমাদের এই দুনিয়াতে তাঁর আনুগত্যের ওপর সমবেত করেছেন, তেমনি যেন পরকালেও তাঁর জান্নাতে আমাদের ভ্রাতৃরূপে মুখোমুখি আসনে সমবেত করেন। আমিন।
আর তোমাদের দুইজনের ব্যাপারে বলি: তোমরা আমার প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক রহমত এবং আমার ওপর তাঁর নিয়ামতরাজির মাঝে এক বিশেষ নিয়ামত, আর এমন এক রিযিক যা আল্লাহ আমার নিকট পরিচালিত করেছেন। যদি আমি এই কিতাবের সকল পৃষ্ঠা তোমাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও তোমাদের প্রশংসায় পূর্ণ করে দিতাম, তবুও তা আমার নিকট তোমাদের অনুগ্রহের শুকরিয়ার সমতুল্য হতো না। অতএব সামান্য কয়েকটি পঙ্ক্তিতে গুটিকতক শব্দে আমি আর কী-ই বা বলতে পারি?!
নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর নিকট তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ ও তাঁর সুউচ্চ গুণাবলির উসিলায় প্রার্থনা করছি, তিনি যেন তোমাদের পক্ষ থেকে যা পেশ করা হয়েছে—আর তোমরা যা পেশ করেছ সে সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত—তা উত্তমরূপে কবুল করে নেন; আর তিনি যেন আমাকে যে সকল নেক আমল করার তাওফিক দান করবেন তার সওয়াব থেকে তোমাদের বঞ্চিত না করেন; তিনি যেন তোমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী তোমাদের চক্ষু শীতল করেন, তাঁর আনুগত্যের ওপর তোমাদের হায়াত দীর্ঘ করেন এবং তোমাদের প্রতি এমন সদ্ব্যবহার করার তাওফিক আমাকে দান করেন যা তাঁর সন্তুষ্টি এবং অতঃপর তোমাদের সন্তুষ্টির কারণ হয়।
{হে আমার রব! আপনি আমাকে তাওফিক দান করুন যেন আমি আপনার সেই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি যা আপনি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে দান করেছেন এবং আমি যেন এমন নেক আমল করতে পারি যা আপনি পছন্দ করেন; আর আমার জন্য আমার বংশধরদের সংশোধন করে দিন। নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট তওবা করলাম এবং আমি আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত।} [সূরা আল-আহকাফ: আয়াত ১৫]
আল্লাহ আমাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তা দ্বারা আমাকে ও আমার ভাইদের উপকৃত করুন। আমি সত্য ও সঠিক বিষয়ের প্রতি তাওফিক ও হেদায়েত প্রার্থনা করছি। আর প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাকে কথা ও কাজে, গোপনে ও প্রকাশ্যে তাঁর সুমহান সত্তার জন্য একনিষ্ঠতা ও ইখলাস দান করেন।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। সকল নিয়ামত, সকল অনুগ্রহ এবং সমস্ত উত্তম ও সুন্দর প্রশংসা তাঁরই। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অজস্র ধারায় দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
এটি লিখেছেন
আহমদ বিন ইবরাহিম আল-জাবিরি
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
معنى الإمامة
الإمامة لغة:تطلق على معان كثيرة، أهمها هنا: أنها بمعنى: القصد والتقدم، يقال: أمهم، وأم بهم: تقدمهم، وهي الإمامة
(1).
وقال الفيومي: أمه أمًّا: من باب قتل: قصده وأممه، وتأممه أيضًا: قصده، وأمه، وأم به إمامة، صلى به إمامة
(2).
الإمامة اصطلاحًا:تطلق على ثلاثة معان، وهي:
1 - الإمامة الكبرى: وهي الخلافة أو الملك أو رئاسة الدولة.
2 - الإمامة الصغرى: وهي إمامة الصلاة، وهي التي نحن بصددها.
3 - الإمامة في الدين: والمراد العالم المقتدى به
(3).
الإمامة عند الفقهاء:لم يهتم الفقهاء كثيرًا في كتبهم بذكر تعريف لها، ولعل ذلك لاشتهار المعنى، ووضوحه عند الجميع.
لكن عرفها بعضهم بأنها «ربط صلاة المؤتم بالإمام»
(4).
--------------------------------------------
ইমামতের অর্থআভিধানিক অর্থে ইমামত:এটি অনেকগুলো অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো: এটি সংকল্প করা এবং অগ্রগামী হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়। বলা হয়: তিনি তাদের ইমামত করেছেন এবং তাদের নিয়ে ইমামতি করেছেন অর্থাৎ তিনি তাদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, আর এটাই হলো ইমামত
(১)।
ফাইয়ুমি বলেন: তিনি তার দিকে সংকল্প করেছেন—এটি 'কাতলা' পরিচ্ছেদের সদৃশ: অর্থাৎ তিনি তার সংকল্প ও লক্ষ্য স্থির করেছেন। 'তাআম্মামাহু' অর্থও সংকল্প করা। আর তিনি তাকে নিয়ে ইমামতি করেছেন এবং তার ইমাম হিসেবে সালাত পড়েছেন
(২)।
পারিভাষিক অর্থে ইমামত:এটি তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যথা:
১ - ইমামতে কুবরা: এটি হলো খিলাফত, রাজতন্ত্র বা রাষ্ট্রপ্রধানের পদ।
২ - ইমামতে সুগরা: এটি হলো সালাতের ইমামতি, যা আমাদের আলোচনার বিষয়।
৩ - দ্বীনের ক্ষেত্রে ইমামত: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন আলিম যাকে অনুসরণ করা হয়
(৩)।
ফকীহগণের নিকট ইমামত:ফকীহগণ তাদের কিতাবসমূহে এর সংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে খুব একটা গুরুত্ব দেননি, সম্ভবত এর অর্থ সকলের নিকট সুপ্রসিদ্ধ ও স্পষ্ট হওয়ার কারণে।
তবে তাদের কেউ কেউ একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, এটি হলো «ইমামের সালাতের সাথে মুক্তাদির সালাতকে সম্পৃক্ত করা»
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
وعرفها آخرون بأنها «اقتداء الغير بالمصلي»
(1).
والأمر في ذلك قريب، وليس فيه اختلاف - بحمد الله -.
--------------------------------------------
অন্যরা একে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, এটি হলো "সালাত আদায়কারীর পেছনে অন্যের ইকতিদা (অনুসরণ) করা"
(১)।
এ ব্যাপারে বিষয়টি কাছাকাছি, এবং এতে কোনো মতভেদ নেই - আল্লাহর সকল প্রশংসা -।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
1 - نية الإمامةالمقصود من هذه المسألة: هو بيان هل يلزم لصحة الإمامة أن ينوي الرجل الإمامة أم لا يلزم؟
قال ابن رشد رحمه الله
(1):
وقد اختلفوا: هل يجب على الإمام أن ينوي الإمامة أم لا؟.
فذهب قوم إلى أنه ليس ذلك بواجب عليه لحديث ابن عباس: أنه قام إلى جنب رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد دخوله في الصلاة
(2)، ورأى قوم أن هذا محتمل، وأنه لا بد من ذلك إذا كان يحمل بعض أفعال الصلاة عن المأمومين. اهـ.
قلت: ما ذكره ابن رشد هو الإجمال في المسألة، وأما التفصيل فيها فدونك إياه:
قد اختلف أهل العلم في هذه المسألة على خمسة أقوال، وهي:
أولًا: لا تجب نية الإمامة على الإمام مطلقًا.وهو قول زفر
(3)--------------------------------------------
১ - ইমামতির নিয়তএই মাসআলার উদ্দেশ্য হলো: ইমামতি সহীহ হওয়ার জন্য ব্যক্তির ইমামতির নিয়ত করা কি আবশ্যক, নাকি আবশ্যক নয়—তা স্পষ্ট করা।
ইবনে রুশদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন
(১):
আলিমগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, ইমামের ওপর কি ইমামতির নিয়ত করা ওয়াজিব নাকি নয়?
একদল আলিম এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি তার ওপর ওয়াজিব নয়। এর সপক্ষে দলিল হলো ইবনে আব্বাসের হাদিস: তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাতে প্রবেশ করার পর তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন
(২)। অন্য একদল আলিম মনে করেন যে, এতে ভিন্ন সম্ভাব্যতা রয়েছে; অর্থাৎ এটি (নিয়ত) অবশ্যই প্রয়োজন যখন ইমাম মুক্তাদিদের পক্ষ থেকে সালাতের কিছু কার্যাবলীর দায়ভার বহন করেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: ইবনে রুশদ যা উল্লেখ করেছেন তা এই মাসআলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ। আর এর বিস্তারিত বিবরণ আপনার সামনে উপস্থাপন করছি:
আহলে ইলমগণ এই মাসআলায় পাঁচটি মতে বিভক্ত হয়েছেন, আর সেগুলো হলো:
প্রথমত: ইমামের ওপর সাধারণভাবে ইমামতির নিয়ত করা ওয়াজিব নয়।এটি যুফার-এর অভিমত
(৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
من الحنفية
(1)، ونُقل عن مالك
(2)، وهو مذهب الشافعية، باستثناء الجمعة عندهم
(3). ورواية عند الحنابلة
(4).
--------------------------------------------
হানাফিদের থেকে
(১), মালেক থেকে বর্ণিত হয়েছে
(২), এটি শাফিয়ি মাজহাবের অভিমত, তাদের নিকট জুমার দিন ব্যতীত
(৩)। এবং এটি হাম্বলিদের একটি বর্ণনা
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
واستدل هؤلاء بالأثر والنظر:
أما استدلالهم بالأثر فهو:
الدليل الأول: ما جاء في حديث ابن عباس رضي الله عنه أنه قال: بت عند خالتي ميمونة بنت الحارث زوج النبي صلى الله عليه وسلم، وكان النبي صلى الله عليه وسلم عندها في ليلتها فصلى النبي العشاء، ثم جاء إلى منزله فصلى أربع ركعات، ثم نام، ثم قام، ثم قال: «نام الغليم»، أو كلمة تشابهها، ثم قام فقمت عن يساره، فجعلني عن يمينه، فصلى خمس ركعات ثم صلى ركعتين، ثم نام حتى سمعت غطيطه، ثم خرج إلى الصلاة
(1).
وجه الدلالة:
أن النبي صلى الله عليه وسلم دخل الصلاة ولم ينو أن يكون إمامًا، ثم لحقه ابن عباس فائتم به، وأكمل النبي صلى الله عليه وسلم صلاته، ولم ينه ابن عباس عن ذلك، فدلنا ذلك على أن نية الإمام لا تجب، وإلا لبين ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم، إذ أنه: لا يجوز تأخير البيان عن وقت الحاجة.
الدليل الثاني: عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنْ اللَّيْلِ فِي حُجْرَتِهِ، وَجِدَارُ الْحُجْرَةِ قَصِيرٌ، فَرَأَى النَّاسُ شَخْصَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ أُنَاسٌ يُصَلُّونَ بِصَلَاتِهِ، فَأَصْبَحُوا فَتَحَدَّثُوا بِذَلِكَ، فَقَامَ اللَّيْلَةَ الثَّانِيَةَ، فَقَامَ مَعَهُ أُنَاسٌ يُصَلُّونَ بِصَلَاتِهِ صَنَعُوا ذَلِكَ لَيْلَتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا، حَتَّى إِذَا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ جَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَمْ يَخْرُجْ، فَلَمَّا أَصْبَحَ ذَكَرَ ذَلِكَ النَّاسُ فَقَالَ: «إِنِّي خَشِيتُ أَنْ تُكْتَبَ عَلَيْكُمْ صَلَاةُ اللَّيْلِ»
(2).
--------------------------------------------
তারা দলীল হিসেবে বর্ণনা এবং যুক্তি পেশ করেছেন:
বর্ণনার মাধ্যমে তাদের প্রমাণ উপস্থাপন হলো:
প্রথম দলীল: ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে যা এসেছে, তিনি বলেন: আমি আমার খালা মায়মুনা বিনতে আল-হারিসের নিকট রাত্রি যাপন করলাম, যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী ছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সে রাতে তাঁর নিকট ছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এশার সালাত আদায় করলেন, এরপর তাঁর ঘরে ফিরে এসে চার রাকাত সালাত পড়লেন। তারপর তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। এরপর তিনি জাগ্রত হলেন এবং বললেন: "ছোট ছেলেটি কি ঘুমিয়ে পড়েছে?" অথবা অনুরূপ কোনো শব্দ বললেন। এরপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন, আমিও তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমাকে সরিয়ে তাঁর ডান পাশে নিয়ে আসলেন। তিনি পাঁচ রাকাত সালাত আদায় করলেন, এরপর আরও দুই রাকাত পড়লেন। এরপর তিনি ঘুমালেন এমনকি আমি তাঁর নাক ডাকার শব্দ শুনতে পেলাম। অতঃপর তিনি সালাতের উদ্দেশ্যে বের হলেন
(১)।
দলীলের ভিত্তি:
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত শুরু করেছিলেন এবং তিনি ইমাম হওয়ার নিয়ত করেননি। অতঃপর ইবনে আব্বাস তাঁর সাথে যোগ দিলেন এবং তাঁর অনুসরণ করে সালাত আদায় করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সালাত পূর্ণ করলেন এবং ইবনে আব্বাসকে তা থেকে নিষেধ করেননি। এটি আমাদের প্রমাণ দেয় যে, ইমামের নিয়ত (ইমামতির জন্য) আবশ্যক নয়। অন্যথায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা স্পষ্ট করে দিতেন; কেননা প্রয়োজনের সময় ব্যাখ্যা প্রদানে বিলম্ব করা বৈধ নয়।
দ্বিতীয় দলীল: আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতে তাঁর কক্ষে সালাত আদায় করতেন। কক্ষের প্রাচীর ছিল নিচু, ফলে মানুষ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অবয়ব দেখতে পায়। তখন কিছু মানুষ তাঁর সালাত অনুসরণ করে সালাত পড়তে শুরু করে। সকালে তারা এই নিয়ে আলোচনা করে। দ্বিতীয় রাতে তিনি আবার সালাতে দাঁড়ালেন এবং কিছু মানুষ তাঁর সাথে তাঁর সালাত অনুসরণ করে সালাত পড়ল। তারা দুই বা তিন রাত এমনটি করল। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বসে রইলেন এবং বের হলেন না। যখন সকাল হলো, মানুষ এ নিয়ে আলোচনা করলে তিনি বললেন: "আমি আশঙ্কা করেছিলাম যে তোমাদের ওপর রাতের সালাত (তাহাজ্জুদ) ফরয করে দেওয়া হবে।"
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وجه الدلالة:
أنه صلى الله عليه وسلم دخل في صلاته ولم ينو إمامة أصحابة، ثم دخلوا معه في الصلاة مؤتمين به، ولما فرغ ما نهاهم عن ذلك ولا أمرهم بالإعادة، فدل ذلك على أن نية الإمام لا تجب.
وقد اعترض على هذين الدليلين، بأن ذلك كان في النفل وليس في الفرض.
وأجيب عن ذلك: بأن الأصل مساواة الفرض للنفل في النية
(1).
وأن ما صح في النفل صح في الفرض إلا ما استثني بدليل، وقوى هذه الإجابة:
الدليل الثالث: حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنهما، وفيه: «
… ثُمَّ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْحَوْضِ، فَتَوَضَّأَ مِنْهُ ثُمَّ قُمْتُ فَتَوَضَّأْتُ مِنْ مُتَوَضَّإِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَذَهَبَ جَبَّارُ بْنُ صَخْرٍ يَقْضِي حَاجَتَهُ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيُصَلِّيَ، وَكَانَتْ عَلَيَّ بُرْدَةٌ ذَهَبْتُ أَنْ أُخَالِفَ بَيْنَ طَرَفَيْهَا، فَلَمْ تَبْلُغْ لِي، وَكَانَتْ لَهَا ذَبَاذِبُ فَنَكَّسْتُهَا، ثُمَّ خَالَفْتُ بَيْنَ طَرَفَيْهَا، ثُمَّ تَوَاقَصْتُ عَلَيْهَا، ثُمَّ جِئْتُ حَتَّى قُمْتُ عَنْ يَسَارِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَخَذَ بِيَدِي فَأَدَارَنِي حَتَّى أَقَامَنِي عَنْ يَمِينِهِ، ثُمَّ جَاءَ جَبَّارُ بْنُ صَخْرٍ فَتَوَضَّأَ، ثُمَّ جَاءَ فَقَامَ عَنْ يَسَارِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدَيْنَا جَمِيعًا، فَدَفَعَنَا حَتَّى أَقَامَنَا خَلْفَهُ»
(2).
--------------------------------------------
দলীল গ্রহণের পদ্ধতি:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সালাতে প্রবেশ করলেন অথচ তিনি তাঁর সাহাবীদের ইমামতির নিয়ত করেননি, অতঃপর তাঁরা তাঁর সাথে ইক্তিদা করে সালাতে প্রবেশ করলেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তিনি তাঁদেরকে তা করতে নিষেধ করেননি এবং সালাত পুনরায় আদায় করার নির্দেশও দেননি। ফলে এটি প্রমাণ করে যে, ইমামের নিয়ত ওয়াজিব নয়।
এই দলীল দুটির উপর আপত্তি করা হয়েছে যে, তা নফল সালাতের ক্ষেত্রে ছিল, ফরয সালাতের ক্ষেত্রে নয়।
এর উত্তর দেওয়া হয়েছে এভাবে যে: মূলনীতি হলো নিয়তের ক্ষেত্রে ফরয ও নফল সালাত সমান
(১)।
আর নফল সালাতে যা বৈধ, তা ফরয সালাতেও বৈধ, যদি না দলীল দ্বারা কোনো কিছুকে ব্যতিক্রম করা হয়। এই উত্তরটিকে শক্তিশালী করেছে:
তৃতীয় দলীল: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস, যাতে রয়েছে: «
... অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পানির হাউজের নিকট আসলেন এবং তা থেকে উযু করলেন। এরপর আমি দাঁড়ালাম এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে স্থান থেকে উযু করেছিলেন সেখান থেকে উযু করলাম। জাব্বার ইবনে সাখর তাঁর প্রয়োজন সারতে গেলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়ালেন। আমার গায়ে একটি চাদর ছিল, আমি এর দুই প্রান্ত আড়াআড়িভাবে জড়ানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু তা আমার জন্য যথেষ্ট হচ্ছিল না। এর দুই প্রান্তে ঝালর ছিল, তাই আমি তা উল্টিয়ে নিলাম এবং এর দুই প্রান্ত আড়াআড়ি করে বাঁধলাম। অতঃপর আমি চাদরটি সামলে নিয়ে আসলাম এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে ঘুরিয়ে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন। এরপর জাব্বার ইবনে সাখর আসলেন এবং উযু করলেন। অতঃপর তিনি এসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাম পাশে দাঁড়ালেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের উভয়ের হাত ধরলেন এবং আমাদের ঠেলে তাঁর পিছনে দাঁড় করালেন»
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وجه الدلالة:
أن جابرًا وجبارًا أحرما مع النبي صلى الله عليه وسلم، فصلى بهما، ولم ينكر فعلهما، فدل ذلك على عدم اشتراط نية الإمام للإمامة.
يقول ابن قدامة
(1): والظاهر أنها كانت صلاة مفروضة؛ لأنهم كانوا مسافرين. اهـ.
وأما استدلالهم من ناحية النظر فقالوا:
إن الحاجة تدعو إلى نقل النية إلى الإمامة، وبيان الحاجة: أن المنفرد إذا جاء قوم فأحرموا وراءه فإن قطع الصلاة وأخبر بحاله قبح، وكان مرتكبًا للنهي في قوله تعالى: {ولا تبطلوا أعمالكم}. وإن أتم الصلاة بهم ثم أخبرهم بفساد صلاتهم كان أقبح وأشق، لأن الانفراد أحد حالتي عدم الإمامة في الصلاة، فجاز الانتقال منها إلى الإمامة، كما لو كان مأمومًا
(2).
وقد ورد على أصحاب هذا القول سؤال، وهو:
هل تحصل فضيلة الجماعة لهذا الإمام الذي لم ينو أم لا؟
قال النووي
(3): تحصل فضيلة الجماعة للمأمومين، وفي حصولها للإمام ثلاثة أوجه:
أصحها وأشهرها: لا تحصل وبه قطع الشيخ الجويني وآخرون؛ لأن الأعمال بالنيات
(4).
--------------------------------------------
দলিলের যৌক্তিকতা:
জাবির এবং জাব্বার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে (সালাতের) ইহরাম বাঁধলেন, অতঃপর তিনি তাঁদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং তাঁদের এই কাজে তিনি কোনো আপত্তি করেননি। এটি প্রমাণ করে যে, ইমামতির জন্য ইমামের নিয়ত থাকা শর্ত নয়।
ইবনে কুদামা
(১) বলেন: দৃশ্যত এটি ছিল ফরজ সালাত; কারণ তাঁরা তখন সফরে ছিলেন। সমাপ্ত।
আর বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির নিরিখে তাঁদের দলিল হলো, তাঁরা বলেন:
প্রয়োজন এই দাবি রাখে যে, নিয়তকে ইমামতির দিকে স্থানান্তরিত করা যাবে। আর সেই প্রয়োজনটির বর্ণনা হলো: কোনো ব্যক্তি যদি একাকী সালাত আদায়রত থাকে এবং একদল লোক এসে তার পেছনে ইকতিদা করে ইহরাম বাঁধে, এমতাবস্থায় সে যদি সালাত বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং তার অবস্থা সম্পর্কে তাদের অবহিত করে, তবে তা হবে অশোভন। তাছাড়া সে মহান আল্লাহর এই বাণীর নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে: {তোমরা তোমাদের আমলসমূহ বাতিল করো না}। আর যদি সে তাঁদের নিয়ে সালাত পূর্ণ করে এবং পরে তাদের জানায় যে তাঁদের সালাত বাতিল হয়েছে, তবে তা হবে আরও অধিকতর অশোভন ও কষ্টদায়ক। যেহেতু সালাতে ইমামতি না থাকার অন্যতম একটি অবস্থা হলো একাকী থাকা, তাই সেখান থেকে ইমামতির দিকে পরিবর্তিত হওয়া বৈধ, যেমনটি মুক্তাদির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে
(২)।
এই মত পোষণকারীদের ওপর একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, তা হলো:
যিনি ইমামতির নিয়ত করেননি, সেই ইমাম কি জামাতের ফজিলত লাভ করবেন কি না?
ইমাম নববী
(৩) বলেন: মুক্তাদিগণ জামাতের ফজিলত লাভ করবেন। তবে ইমামের ক্ষেত্রে ফজিলত অর্জনের বিষয়ে তিনটি অভিমত রয়েছে:
তার মধ্যে বিশুদ্ধতম ও প্রসিদ্ধতম অভিমত হলো: তিনি ফজিলত লাভ করবেন না। শেখ জুয়াইনি এবং অন্যান্য ওলামাগণ এই বিষয়ে সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন; কারণ আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الثاني: تحصل؛ لأنها حاصلة لمتابعيه، فوجب أن تحصل له.
الثالث: قاله القاضي حسين
(1): إن علمهم ولم ينو الإمامة لم تحصل، وإن كان منفردًا ثم اقتدوا به، ولم يعلم اقتداءهم، حصل له ثواب الجماعة. اهـ.
ثانيا: لا تجب إلا عند إمامة النساء.وهو قول الحنفية
(2)، واختلفوا في الجمعة والعيدين
(3).
وقد اعترض على هؤلاء بالقياس على ما إذا أم رجلًا، وإذا لم ينو الإمامة صحت صلاته، بخلاف المأموم، فإن صلاته إنما تبطل بتوقيفه إياها على أفعال من ليس إمامًا له: وها هنا أفعال الإمام غير مربوطة بغيره
(4).
--------------------------------------------
দ্বিতীয়: তা অর্জিত হবে; কারণ তা তার অনুসারীদের জন্য অর্জিত হয়েছে, তাই এটি তার জন্যও অর্জিত হওয়া আবশ্যক।
তৃতীয়: কাজী হুসাইন
(১) বলেছেন: যদি তিনি তাদের সম্পর্কে অবগত হন অথচ ইমামতির নিয়ত না করেন, তবে তা অর্জিত হবে না। আর যদি তিনি একাকী নামাজরত থাকেন এবং এরপর তারা তাকে অনুসরণ করে, অথচ তিনি তাদের অনুসরণের কথা না জানেন, তবে তিনি জামাতের সওয়াব লাভ করবেন। সমাপ্ত।
দ্বিতীয়ত: নারীদের ইমামতি করা ছাড়া এটি ওয়াজিব নয়।এটিই হানাফীদের
(২) অভিমত, তবে জুমুআ ও দুই ঈদের ব্যাপারে তারা মতভেদ করেছেন
(৩)।
তাদের এই মতের বিরুদ্ধে আপত্তি করা হয়েছে এমন বিষয়ের ওপর কিয়াস করে যেখানে জনৈক ব্যক্তি অপর কোনো পুরুষের ইমামতি করেন; আর যখন তিনি ইমামতির নিয়ত করেন না তখন তার নামাজ সহীহ হয়, যা মুক্তাদির ক্ষেত্রে ভিন্ন। কেননা মুক্তাদির নামাজ তখনই বাতিল হয় যখন সে তার নামাজকে এমন ব্যক্তির কার্যাবলীর সাথে সম্পৃক্ত করে যে তার ইমাম নয়। আর এখানে ইমামের কার্যাবলী অন্য কারো সাথে সংশ্লিষ্ট নয়
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فأجابوا: بأن هذا القياس غير سديد؛ لأن المعنى يوجب الفرق بينهما وهو أنه لو صح اقتداء المرأة بالرجل، - أي: من غير نيته - فربما تحاذيه فتفسد صلاته، فيلحقه الضرر من غير اختياره، فشرط نية اقتدائها به حتى لا يلزمه الضرر من غير التزامه ورضاه
(1).
ثم اعترض عليهم بأن ما ذكروه منقوض بالجمعة
(2).
ثالثا: لا تجب نية الإمامة إلا في خمسة مواضع: الجمعة، والجمع(3)، والجنائز، والخوف، والاستخلاف.وهذا قول المالكية
(4).
واستدلوا على ذلك بالنظر:
فقالوا: السر في هذه الخمسة، من جهة الفقه شيء واحد، وهو: أن الإمامة فيها شرط، ولما كانت صلاة المنفرد مساوية لصلاة الإمام لم يحصل وصف الإمامة إلا بالنية
(5).
--------------------------------------------
তারা উত্তর দিলেন: এই কিয়াস (অনুমান) সঠিক নয়; কারণ এর অর্থ উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করা আবশ্যক করে। আর তা হলো, যদি পুরুষের নিয়ত ব্যতীতই তার পেছনে মহিলার ইক্তিদা (অনুসরণ) সহীহ হতো, তবে হতে পারত যে মহিলাটি পুরুষের সমান্তরালে দাঁড়িয়ে যেত, ফলে পুরুষের নামাজ নষ্ট হয়ে যেত। এভাবে তার অনিচ্ছাকৃতভাবেই তার ক্ষতি হতো। তাই মহিলার ইক্তিদার জন্য (ইমামের) নিয়তকে শর্ত করা হয়েছে যাতে তার প্রতিশ্রুতি ও সন্তুষ্টি ব্যতীত কোনো ক্ষতি তার ওপর আপতিত না হয়
(১).
অতঃপর তাদের ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে যে, তারা যা উল্লেখ করেছেন তা জুমার নামাজের মাধ্যমে খণ্ডিত হয়ে যায়
(২).
তৃতীয়ত: ইমামতির নিয়ত করা ওয়াজিব নয়, তবে পাঁচটি ক্ষেত্র ব্যতীত: জুমা, দুই নামাজ একত্রে পড়া (জামউ)(৩), জানাজা, সালাতুল খাওফ (ভয়ের নামাজ) এবং ইস্তিখলাফ (নামাজে কাউকে স্থলাভিষিক্ত করা)।আর এটি মালেকী মাযহাবের মত
(৪).
তারা এ বিষয়ে যৌক্তিক পর্যালোচনার (নজর) মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন:
তারা বলেছেন: ফিকহী দৃষ্টিকোণ থেকে এই পাঁচটি বিষয়ের নিহিত রহস্য একই, আর তা হলো: এগুলোতে ইমামতি হওয়া একটি শর্ত। আর যেহেতু একাকী ব্যক্তির নামাজ ইমামের নামাজের সমান, তাই নিয়ত ব্যতীত ইমামতির বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয় না
(৫).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
رابعًا: تجب النية مطلقًا.وهو الصحيح من مذهب الحنابلة،
(1) ونُقل عن الشافعي
(2) وهو وجه عند الشافعية
(3) وهو قول الثوري وإسحاق وأصحاب الرأى
(4).
واستدل هؤلاء بالنظر، فقالوا:
إن الإمام إذا لم ينوها تكن صلاتهم فرادى
(5) ولأن الجماعة تتعلق بها أحكام وجوب الاتباع، وسقوط السهو عن المأموم، وفساد صلاته بفساد صلاة إمامه، وإنما يتميز الإمام عن المأموم بالنية، فكانت شرطًا لصحة انعقاد الجماعة
(6).
وأجيب على هؤلاء: بأن الأثر الثابت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يعارض
--------------------------------------------
চতুর্থত: সাধারণভাবে নিয়ত করা ওয়াজিব।এটিই হাম্বলি মাযহাবের বিশুদ্ধ মত, এবং এটি ইমাম শাফিঈ থেকেও বর্ণিত হয়েছে এবং এটি শাফিঈগণের একটি অভিমত। এছাড়া এটি সাওরী, ইসহাক এবং আহলে রায়-এর বক্তব্য।
তারা যুক্তির মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন এবং বলেছেন:
ইমাম যদি নিয়ত না করেন, তবে তাদের সালাত একাকী আদায়ের পর্যায়ভুক্ত হবে। কারণ জামাআতের সাথে অনুসরণ ওয়াজিব হওয়া, মুক্তাদির পক্ষ থেকে সাহু সেজদা রহিত হওয়া এবং ইমামের সালাত নষ্ট হওয়ার কারণে মুক্তাদির সালাত নষ্ট হওয়ার মতো বিধানগুলো জামাআতের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর নিয়তের মাধ্যমেই ইমাম মুক্তাদি থেকে পৃথক হন। সুতরাং জামাআত সংগঠিত হওয়ার বিশুদ্ধতার জন্য এটি একটি শর্ত।
তাদের এই যুক্তির উত্তরে বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত বর্ণনা এর বিরোধী নয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
بالنظر الذي يخطئ ويصيب.
خامسًا: تجب النية في الفرض دون النفل، ويستثنى في الفرض ما لو كان الإمام ينتظر أحدًا.وهو رواية عن الإمام أحمد
(1).
واستدل على عدم الإيجاب في النفل: بحديث ابن عباس
(2).
واستدل على الاستثناء المذكور في الفريضة بحديث جابر بن عبد الله
(3).
وأجيب على هذين الدليلين: بأن الأصل مساواة الفرض للنفل في النية، ثم إن هذا التفريق لم يرد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا عن أصحابه، فبقي الأمر على الجواز في جميع الصلوات إذا جاز في بعضها، والله أعلم
(4).
وأخيرًا: قال شيخنا أبو عبد الله مصطفى بن العدوي - حفظه الله -:
تصح، لحديث ائتمام ابن عباس بالنبي صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে যা ভুল ও সঠিক উভয়ই হতে পারে।
পঞ্চম: নফল ব্যতিরেকে ফরজ সালাতে (ইমামতির) নিয়ত করা ওয়াজিব, তবে ফরজের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হলো যদি ইমাম কারও অপেক্ষায় থাকেন।এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা
(১)।
নফল সালাতে এটি ওয়াজিব না হওয়ার সপক্ষে ইবনে আব্বাসের হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে
(২)।
ফরজ সালাতের ক্ষেত্রে উল্লিখিত ব্যতিক্রমটির সপক্ষে জাবির বিন আব্দুল্লাহর হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে
(৩)।
এই দলিল দুটির উত্তর এভাবে দেওয়া হয়েছে যে: নিয়তের ক্ষেত্রে ফরজ ও নফল সমান হওয়াই মূলনীতি। তাছাড়া এই পার্থক্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিংবা তাঁর সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত হয়নি। সুতরাং যদি কোনো সালাতে এটি জায়েজ হয়, তবে সকল সালাতেই তা জায়েজ হওয়ার বিষয়টি বহাল থাকবে। আর আল্লাহই ভালো জানেন
(৪)।
পরিশেষে আমাদের শাইখ আবু আব্দুল্লাহ মুস্তফা বিন আল-আদাবী - আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন - বলেছেন:
এটি সহীহ বা বৈধ, কারণ ইবনে আব্বাস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে ইক্তিদা করার হাদিস রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
2 - الأحق بالإمامةوهذه مسألة طالما كثر السؤال عنها، ألا وهي:
من الأحق بالإمامة؟؟ هل هو أفقه القوم؟ أم أقرؤهم؟
وما المقصود بأقرئهم؟
فأقول - وبالله التوفيق -:
المبحث الأول: الأحق بالإمامة:اختلف أهل العلم في هذه المسألة على قولين، وكتصور مبدئي لشكل هذا الاختلاف وسببه أسوق قول ابن رشد رحمه الله حيث قال:
اختلفوا فيمن أولى بالإمامة وسبب هذا الاختلاف: اختلافهم في مفهوم قوله عليه الصلاة والسلام: «يَؤُمُّ الْقَوْمَ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ، فَإِنْ كَانُوا فِي الْقِرَاءَةِ سَوَاءً فَأَعْلَمُهُمْ بِالسُّنَّةِ، فَإِنْ كَانُوا فِي السُّنَّةِ سَوَاءً، فَأَقْدَمُهُمْ هِجْرَةً، فَإِنْ كَانُوا فِي الْهِجْرَةِ سَوَاءً، فَأَقْدَمُهُمْ سِلْمًا، وَلَا يَؤُمَّنَّ الرَّجُلُ الرَّجُلَ فِي سُلْطَانِهِ، وَلَا يَقْعُدْ فِي بَيْتِهِ عَلَى تَكْرِمَتِهِ إِلَّا بِإِذْنِهِ»
(1).
وهو حديث متفق على صحته
(2)، لكن اختلف العلماء في مفهومه، فمنهم من حمله على ظاهره، ومنهم من فهم الأقرأ هاهنا الأفقه؛ لأنه زعم أن الحاجة إلى الفقه في الإمامة: أمس من الحاجة إلى القراءة، وأيضًا فإن الأقرأ من الصحابة كان هو الأفقه ضرورة، وذلك بخلاف ما
--------------------------------------------
২ - ইমামতের অধিকতর যোগ্য ব্যক্তিআর এটি এমন একটি মাসয়ালা যা সম্পর্কে দীর্ঘকাল যাবত অনেক বেশি প্রশ্ন করা হয়, আর তা হলো:
ইমামতের অধিকতর যোগ্য কে? তিনি কি কওমের সবচেয়ে বিজ্ঞ ফকিহ (আইনবিদ)? নাকি তাদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো কুরআন তেলাওয়াতকারী?
আর ‘সবচেয়ে ভালো তেলাওয়াতকারী’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
আমি বলছি—আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি—:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমামতের অধিকতর যোগ্য ব্যক্তি:আলেমগণ এ বিষয়ে দুটি মত পোষণ করেছেন। এই মতভেদের রূপ ও কারণ সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা প্রদানের জন্য আমি ইবনে রুশদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যটি তুলে ধরছি, যেখানে তিনি বলেছেন:
ইমামতের জন্য কে বেশি উপযুক্ত সে সম্পর্কে তাঁরা মতভেদ করেছেন। এই মতভেদের কারণ হলো রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর মর্মার্থ নিয়ে তাঁদের মতভেদ: «আল্লাহর কিতাব যে সবচেয়ে ভালো তেলাওয়াত করতে পারে, সে কওমের ইমামতি করবে। যদি তারা তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যে সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ সে ইমামতি করবে। যদি তারা সুন্নাহর বিষয়েও সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যে আগে হিজরত করেছে সে। আর যদি হিজরতের ক্ষেত্রেও তারা সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যে আগে ইসলাম গ্রহণ করেছে সে। কোনো ব্যক্তি যেন অন্যের কর্তৃত্বাধীন স্থানে তার অনুমতি ছাড়া ইমামতি না করে এবং তার ঘরে তার নির্দিষ্ট আসনে যেন তার অনুমতি ছাড়া না বসে»
(১)।
এটি এমন একটি হাদিস যার বিশুদ্ধতার বিষয়ে সকলে একমত
(২), তবে আলেমগণ এর মর্মার্থ নিয়ে মতভেদ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ একে এর বাহ্যিক অর্থের ওপর প্রয়োগ করেছেন। আবার কেউ কেউ এখানে 'সবচেয়ে ভালো তেলাওয়াতকারী' বলতে 'সবচেয়ে বিজ্ঞ ফকিহ' বুঝেছেন; কারণ তাঁর দাবি হলো ইমামতের ক্ষেত্রে তেলাওয়াতের চেয়ে ফিকহের প্রয়োজনীয়তা বেশি। অধিকন্তু, সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে যিনি সবচেয়ে ভালো তেলাওয়াতকারী ছিলেন, তিনি আবশ্যিকভাবেই সবচেয়ে বিজ্ঞ ফকিহ ছিলেন। আর এটি সেই অবস্থার বিপরীত যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
عليه الناس اليوم
(1) اهـ.
كان هذا موجزًا قصيرًا عن المسألة، وإليك التفصيل بشيء من البيان:
قد ذكرت أن أهل العلم اختلفوا في هذه المسألة على قولين، وهما.
القول الأول: يقدم الأفقه على الأقرأ، بشرط أن يعلم الحد الأدنى من القراءة.وبهذا قال أبو حنيفة ومحمد بن الحسن
(2)، بل هو الأصح عند الحنفية
(3)، وبه قال المالكية
(4) وهو الأصح عند الشافعية
(5)، ورواية عند الحنابلة
(6)،
--------------------------------------------
আজকাল মানুষ এর ওপরই রয়েছে।
(১) সমাপ্ত।
এটি ছিল মাসআলাটির একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ, আর আপনার সামনে উপস্থাপিত হলো বর্ণনাসহ বিস্তারিত আলোচনা:
আমি উল্লেখ করেছি যে, ইলম অন্বেষণকারী আলেমগণ এই মাসআলায় দুটি মতের ওপর ভিন্নমত পোষণ করেছেন, আর তা হলো:
প্রথম মত: অধিক ফকিহকে (ইসলামি ফিকহশাস্ত্রে অভিজ্ঞ) অধিক ক্বারি (কুরআন তিলাওয়াতে দক্ষ) ব্যক্তির ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তবে শর্ত হলো তাকে তিলাওয়াতের ন্যূনতম অংশ জানতে হবে।ইমাম আবু হানিফা ও মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান এই মতটি পোষণ করেছেন
(২), বরং হানাফি মাযহাবের নিকট এটিই অধিক বিশুদ্ধ মত
(৩)। মালিকি মাযহাবের আলেমগণও এটিই বলেছেন
(৪) এবং শাফেয়ি মাযহাবের নিকটও এটিই অধিক বিশুদ্ধ মত
(৫)। এটি হাম্বলি মাযহাবের একটি বর্ণনাও বটে
(৬),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জামিউ আহকাম সলাতিল ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
واختاره الشيخ ابن عثيمين
(1).
واستدلوا على ذلك بالأثر والنظر:
أما استدلالهم بالأثر:
فقوله صلى الله عليه وسلم: «مروا أبا بكر يصلي بالناس»
(2).
وجه الدلالة: قالوا: قد كان في القوم من هو أقرأ من أبي بكر كأبي ابن كعب مثلًا، لكن لم يكن هناك أعلم من أبي بكر، كما قال أبو سعيد الخدري: وكان أبو بكر أعلمنا
(3) وهذا آخر الأمرين من رسول الله صلى الله عليه وسلم فيكون المعول عليه
(4).
وأما من ناحية النظر:
فقالوا: إن القراءة يحتاج إليها في ركن واحد، والعلم يحتاج إليه في جميع الصلاة، والخطأ المفسد للصلاة في القراءة لا يعرف إلا بالعلم
(5).
وأجاب هؤلاء عن عمدة استدلال الفريق الثاني: وهو حديث: «يَؤُمُّ الْقَوْمَ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ»
(6) بقولهم:
إن الصحابة كانوا في ذلك الزمان يتعلمون القرآن بأحكامه، فكان
--------------------------------------------
এবং শাইখ ইবনে উসাইমীন
(১) একেই পছন্দ করেছেন।
তারা এর সপক্ষে আসার (বর্ণনা) এবং যুক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:
আসার বা বর্ণনার মাধ্যমে তাদের দলিল পেশ হলো:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «তোমরা আবু বকরকে নির্দেশ দাও সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে»
(২)।
দালিলিক দিক: তারা বলেন: সমবেত লোকদের মাঝে এমন ব্যক্তিও ছিলেন যিনি আবু বকরের তুলনায় কুরআন পাঠে অধিক পারদর্শী ছিলেন, যেমন উবাই ইবনে কাব; কিন্তু সেখানে আবু বকরের চেয়ে বড় কোনো জ্ঞানী বা আলিম ব্যক্তি ছিলেন না, যেমনটি আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: «আবু বকর আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলিম ছিলেন»
(৩)। আর এটি ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে দেওয়া শেষ নির্দেশসমূহের অন্তর্ভুক্ত, ফলে এর ওপরই নির্ভর করা হবে
(৪)।
আর যুক্তির দিক থেকে:
তারা বলেন: কিরাত বা কুরআন পাঠের প্রয়োজন হয় সালাতের মাত্র একটি রুকনে, কিন্তু ইলম বা জ্ঞানের প্রয়োজন হয় সমগ্র সালাতে। আর কিরাতের ক্ষেত্রে সালাত বিনষ্টকারী ভুল ইলম বা জ্ঞান ব্যতীত শনাক্ত করা সম্ভব নয়
(৫)।
দ্বিতীয় পক্ষের মূল দলিলের উত্তরে তারা বলেন, যা হলো এই হাদিস: «লোকদের ইমামতি করবে তাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাবের অধিক পাঠকারী ব্যক্তি»
(৬):
নিশ্চয়ই সাহাবীগণ সেই যুগে কুরআনকে এর বিধিবিধানসহ শিক্ষা করতেন, ফলে...
--------------------------------------------