(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: -)
كتاب المحاربة من موطأ ابن وهب (ابن وهب)
القسم: كتب السنة
الكتاب: كتاب المحاربة من موطأ ابن وهب
المؤلف: أبو محمد عبد الله بن وهب بن مسلم المصري القرشي (ت 197هـ)
الناشر: دار الغرب - بيروت
الطبعة: الأولى
عدد الصفحات: 27
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবন ওয়াহাবের মুওয়াত্তা থেকে কিতাবুল মুহারাবাহ (ইবন ওয়াহাব)
বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
বই: ইবন ওয়াহাবের মুওয়াত্তা থেকে কিতাবুল মুহারাবাহ
লেখক: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবন ওয়াহাব ইবন মুসলিম আল-মিসরি আল-কুরাশি (মৃত্যু: ১৯৭ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল গারব - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ১)
كِتَابُ الْمُحَارَبَةِ مِنْ مُوَطَّإِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبٍ رِوَايَةُ يُونُسَ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّدَفِيِّ سَمِعْتُهُ مِنْ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدٍ وَقَابَلْتُهُ بِكِتَابِهِ حَرْفًا بِحَرْفٍ، صَحَّ إِنْ شَاءَ اللَّهُ وَسَمِعَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّبَعِيُّ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى قَالَ: حَدَّثَنِي سُحْنُونٌ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، وَأَبُو الطَّاهِرِ أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ سَرْحٍ قَالُوا: وَحَدَّثَنِي بِهِ أَيْضًا أَبُو بَكْرٍ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ دَاوُدَ، عَنْ سُحْنُونٍ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، صَحَّ.أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ يَقُولُ: قَطْعُ الذَّهَبِ وَالْوَرِقِ مِنَ الْفَسَادِ فِي الأَرْضِوَأَخْبَرَنِي حَفْصُ بْنُ مَيْسَرَةَ، وَيَزِيدُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ أَنَّهُ مَرَّ بِرَجُلٍ قَدْ جُلِدَ، فَقَالَ ابْنُ الْمُسَيِّبِ: مَا هَذَا، فَقَالُوا: رَجُلٌ كَانَ يَقْطَعُ الدَّرَاهِمَ، فَقَالَ ابْنُ الْمُسَيِّبِ: هَذَا الْفَسَادُ فِي الأَرْضِ، وَسَمِعْتُ سُفْيَانَ بْنَ سَعِيدٍ الثَّوْرِيَّ يَقُولُ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَرْمَلَةَ أَنَّهُ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ يَقُولُ ذَلِكَأَخْبَرَنِي عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ التَّيْمِيِّ قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَاعِدًا وَهُوَ إِذْ ذَاكَ أَمِيرٌ عَلَى الْمَدِينَةِ، فَأُتِيَ بِرَجُلٍ يَقْطَعُ الدَّرَاهِمَ، وَقَدْ شَهِدَ عَلَيْهِ، فَضَرَبَهُ وَحَلَقَهُ وَأَمَرَ بِهِ فَطِيفَ بِهِ، وَأَمَرَهُ أَنْ يَقُولَ: هَذَا جَزَاءُ مَنْ يَقْطَعُ الدَّرَاهِمَ، ثُمَّ أَمَرَ بِهِ أَنْ يُرَدَّ إِلَيْهِ، فَقَالَ: أَمَا إِنَّهُ لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أَقْطَعَ يَدَكَ إِلا إِنِّي لَمْ أَكُنْ تَقَدَّمْتُ فِي ذَلِكَ قَبْلَ الْيَوْمِ، وَقَدْ تَقَدَّمْتُ فِي ذَلِكَ، فَمَنْ شَاءَ فَلْيَقْطَعْحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ ضَرَبَ رَجُلا فِي قَطْعِ الدَّنَانِيرِ وَالدَّرَاهِمَوَأَخْبَرَنِي دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ الْمَدَنِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ زَيْدَ بْنَ أَسْلَمَ يَقُولُ فِي قَوْلِ اللَّهِ: {قَالُوا يَا شُعَيْبُ أَصَلاتُكَ تَأْمُرُكَ أَنْ نَتْرُكَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا أَوْ أَنْ نَفْعَلَ فِي أَمْوَالِنَا مَا نَشَاءُ} [هود: 87] قَالَ زَيْدٌ: كَانَ مِنْ ذَلِكَ قَطْعُ الدَّرَاهِمِ.قَالَ زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ: وَذَلِكَ مِنَ الْفَسَادِ فِي الأَرْضِ 7 - قَالَ: وَسَأَلْتُ مَالِكًا عَنْ ذَلِكَ، فَقَرَأَ قَوْلَ اللَّهِ: {قَالُوا يَا شُعَيْبُ} [هود: 87] ، مِثْلَ مَا قَالَ زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ.- قَالَ: وَقَالَ لِي مَالِكٌ: وَذَلِكَ مِنَ الْفَسَادِ فِي الأَرْضِ، وَفِي ذَلِكَ الْعُقُوبَةُ مِنَ السُّلْطَانِ لِمَنْ قُدِرَ عَلَيْهِ يَقْطَعُ الدَّنَانِيرَ وَالدَّرَاهِمَ.- قَالَ: وَسَمِعْتُ اللَّيْثَ يَقُولُ ذَلِكَ.مَا جَاءَ فِي الْمُحَارِبِ وَالْقَاطِعِ لِلسَّبِيلِ 10 - ابْنُ وَهْبٍ: وَقَالَ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ: مَا كَانَ مَنْ قَتَلَ غِيلَةً عَنْ غَيْرِ ظِنَّةٍ وَلا عَدَاوَةٍ وَلا نَائِرَةٍ، أَوْ مُحَارَبَةً لِلْمُسْلِمِينَ بِلُصُوصِيَّةٍ عَنْ غَيْرِ تَأْوِيلٍ فِي دِينٍ وَلا شُبْهَةٍ إِلا خُلُوعًا وَفِسْقًا وَمُحَارَبَةً لِلْمُسْلِمِينَ وَمُرُوقًا، فَإِنَّهُ لَيْسَ لأَهْلِ الدَّمِ فِي ذَلِكَ قَبْضٌ وَلا شَرْطٌ مِنْ عَفْوٍ وَلا غَيْرِهِ، إِنَّمَا وَلِيَ ذَلِكَ الإِمَامُ.- قَالَ: قَالَ مَالِكٌ: قَتْلُ الْغِيلَةِ أَنْ يَقْتُلَ رَجُلٌ رَجُلا عَلَى غَيْرِ ذِحْلٍ وَلا عَدَاوَةٍ، وَأَنْ يَقْتُلَ رَجُلٌ عَلَى مَالِهِ، فَإِنَّ ذَلِكَ لَيْسَ يُعْفَى عَنْهُ، لَيْسَ بِمَنْزِلَةِ قَتْلِ الْعَمْدِ عَلَى وَجْهِ الْعَدَاوَةِ وَالنَّائِرَةِ، وَإِنَّمَا قَاتِلُ الْغِيلَةِ يُعَدُّ مِنَ الْمُحَارِبَةِ، فَمَا كَانَ مِنْ قَتْلِ غِيلَةٍ عَنْ غَيْرِ ظِنَّةٍ وَلا عَدَاوَةٍ وَلا نَائِرَةٍ إِلا مُحَارَبَةً لِلْمُسْلِمِينَ بِلُصُوصِيَّةٍ، فَإِنَّمَا وَلِيَ ذَلِكَ الإِمَامُ.ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ: بَلَغَنَا عَنْ عُلَمَائِنَا أَنَّهُمْ كَانُوا يَقُولُونَ: مَنْ حَارَبَ الدِّينَ فَقَتَلَ قَتِيلا أَوْ قَتَلَ رَجُلا غِيلَةً عَلَى مَالِهِ، فَالسُّلْطَانُ يَقْتُلُ بِهِ، لَيْسَ إِلَى وَلِيِّ الْقَتِيلِ مِنْ حَيَاتِهِ وَلا مَوْتِهِ شَيْءٌ، وَإِنْ كَانَ أَبَاهُ أَوْ أَخَاهُ 13 - وَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ فِيمَنْ حَارَبَ جَمَاعَةَ الْمُسْلِمِينَ فِي عَلانِيَةٍ أَوْ غِيلَةٍ أَوْ فَسَادٍ، قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: وَالإِمَامُ وَلِيُّ عُقُوبَتِهِ يَقْتُلُهُ بِقَتْلٍ إِنْ قُتِلَ فِي عَلانِيَةٍ أَوْ غِيلَةٍ بِالْفَسَادِ بِمَا فَرَضَ اللَّهُ عَلَى أَهْلِ الْفَسَادِ، مِنْ ذَلِكَ قَتْلُ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمَالِ يَكُونُ مَعَهُ، أَوْ قَطْعُ السَّبِيلِ بِالْخَرَابَةِ أَوِ اللُّصُوصِيَّةُ فِي الْعَلانِيَةِ، أَوِ الْغِيلَةُ أَوِ الْغَارَةُ عَلَى الْمُسْلِمِينَ وَأَهْلِ الذِّمَّةِ، وَالْفَسَادُ الْمَشْهُورُ فِي الأَرْضِ، وَالرَّدْعُ الَّذِي يُعَادِي فِيهِ وَلِيَّ الأَمْرِ، وَيُظْهِرُ فِيهِ مَعْصِيَتَهُ حَتَّى يَعْظُمَ فِيهِ الْفَسَادُ، كُلُّ هَذَا مِمَّا ذَكَرَ اللَّهُ فِي الآيَةِ.ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ سَمْعَانَ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ قَالَ: مَضَتِ السُّنَّةُ فِي الْمُحَارِبِ الْخَارِبِ إِذَا قَتَلَ عُدْوَانًا وَبَغْيًا وَفَسَادًا فِي الأَرْضِ وَغِيلَةً فِي الدِّينِ وَلَمْ يُصِبْ مِنَ الأَمْوَالِ شَيْئًا أَنَّ الأَئِمَّةَ وُلَاةَ قِبَلِهِ يَقْتُلُونَهُ، لا يَصْلُحُ لِلإِمَامِ اسْتِبْقَاءَهُ، وَإِنْ قَتَلَ أَبَا رَجُلٍ أَوْ أَخَاهُ وَعَفَا عَنْهُ فَلَيْسَ ذَلِكَ إِلَيْهِ، خَالَفَ الإِمَامُ السُّنَّةَ إِنْ أَحْيَاهُ.وَإِذَا أَصَابَ الأَمْوَالَ وَلَمْ يَقْتُلْ قُطِعَتْ يَدُهُ وَرِجْلُهُ مِنْ خِلافٍ، وَإِذَا أُخِذَ فِي تُهْمَةٍ فِي الْخَرَابَةِ وَلَمْ تَقُمْ عَلَيْهِ بَيِّنَةٌ إِلا بِحَقٍّ قَامَ عَدَائُهُ، وَظُهُورُ الْفِسْقِ فِي أَمْرِهِ نُكِّلَ وَنُفِيَ إِلَى بَلَدٍ سِوَاهُ، وَحُبِسَ فِي السِّجْنِ وَلَمْ يَنْبَغِ لِلْوَالِي أَنْ يُرْسِلَ بِبَلَدِهِ مَنْ يَتَخَوَّفَهُ الْمُسْلِمُونَ عَلَى دِمَائِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْوَأَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ قَالَ: نَرَى أَنْ يُقْتَلَ مَنْ قَتَلَ، وَيُقْطَعُ مَنْ غَصَبَ الأَمْوَالَ، وَيُجْتَهَدُ فِي مَنْ أَخَافَ النَّاسَ، وَإِنْ قَطَعَ فِيهِمَا الإِمَامُ أَوْ رَأَى غَيْرَ ذَلِكَ اتَّبَعَ فِيهِمْ رَأْيَهُ وَيُنَكَّلُ مَنْ يَأْوِي مَنْ أَحْدَثَ فِي الدِّينِ
আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহবের মুয়াত্তা থেকে বিদ্রোহ ও দস্যুতা (মুহারাবাহ) অধ্যায়; ইউনুস ইবনে আবদুল আ'লা আস-সাদাফির বর্ণনা। আমি এটি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ থেকে শুনেছি এবং তাঁর মূল পাণ্ডুলিপির সাথে অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়েছি; ইনশাআল্লাহ তা সঠিক হয়েছে। এটি আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ আল-রাবায়িও শুনেছেন। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আবু বকর আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুহনুন, হারিস ইবনে মিসকিন এবং আবু তাহির আহমদ ইবনে আমর ইবনে সারহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন: এবং এটি আবু বকরও আমার কাছে আহমদ ইবনে দাউদের সূত্রে, তিনি সুহনুন থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহব থেকে বর্ণনা করেছেন, যা সহীহ।আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মালিক ইবনে আনাস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের সূত্রে যে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবকে বলতে শুনেছেন: স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা কর্তন করা জমিনে ফাসাদ বা বিপর্যয় সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত।হাফস ইবনে মায়সারা ও ইয়াজিদ ইবনে ইয়াদ আমাকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সাঈদ) জনৈক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যাকে বেত্রাঘাত করা হচ্ছিল। ইবনুল মুসায়্যিব জিজ্ঞেস করলেন: এটি কী? তাঁরা বললেন: এই ব্যক্তি দিরহাম (মুদ্রা) কাটত। তখন ইবনুল মুসায়্যিব বললেন: এটিই জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি। আমি সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আস-সাওরিকে বলতে শুনেছি যে, আবদুর রহমান ইবনে হারমালা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবকে তা বলতে শুনেছেন।আবদুল জব্বার ইবনে উমর আমাকে আবু আবদুর রহমান আত-তাইমির সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনে আবদুল আজিজের কাছে বসা ছিলাম, তখন তিনি মদিনার আমির ছিলেন। তাঁর কাছে জনৈক ব্যক্তিকে আনা হলো যে দিরহাম কাটত এবং তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া হলো। তিনি তাকে প্রহার করলেন, তার মাথা মুণ্ডন করলেন এবং নির্দেশ দিলেন যেন তাকে জনসমক্ষে ঘুরানো হয়। তিনি তাকে এই বলতে নির্দেশ দিলেন: এটিই সেই ব্যক্তির শাস্তি যে দিরহাম কাটে। এরপর তিনি তাকে পুনরায় তাঁর কাছে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন: জেনে রেখো, আজকের আগে আমি এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেইনি বলেই তোমার হাত কাটা থেকে আমি বিরত থাকলাম। এখন আমি এ বিষয়ে ঘোষণা দিয়ে দিলাম, এরপর যার ইচ্ছা (হাত) কাটা পড়ুক।আবদুল্লাহ ইবনে লাহিয়া আমার কাছে আবদুল মালিক ইবনে আবদুল আজিজের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর দিনার ও দিরহাম কাটার অপরাধে এক ব্যক্তিকে প্রহার করেছিলেন।দাউদ ইবনে কায়স আল-মাদানি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি জাইদ ইবনে আসলামকে আল্লাহর বাণী—"তারা বলল: হে শুআইব! তোমার সালাত কি তোমাকে এই নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃপুরুষরা যার ইবাদত করত আমাদের তা বর্জন করতে হবে অথবা আমাদের সম্পদে আমরা যা ইচ্ছা করি তা ছেড়ে দিতে হবে?" [হুদ: ৮৭]—এর ব্যাখ্যায় বলতে শুনেছেন: জাইদ বলেন, দিরহাম কাটা এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।জাইদ ইবনে আসলাম বলেন: এবং তা জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত। তিনি (ইবনে ওয়াহব) বলেন: আমি মালিককে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি জাইদ ইবনে আসলাম যা বলেছেন অনুরূপ আল্লাহর এই বাণীটি তিলাওয়াত করলেন—"তারা বলল: হে শুআইব!" [হুদ: ৮৭]।তিনি (ইবনে ওয়াহব) বলেন: মালিক আমাকে বললেন, এটি জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত এবং যে ব্যক্তি দিনার ও দিরহাম কাটার সময় ধরা পড়বে, এর জন্য সুলতানের (রাষ্ট্রীয়) পক্ষ থেকে শাস্তির বিধান রয়েছে।তিনি (ইবনে ওয়াহব) বলেন: আমি লাইসকেও অনুরূপ বলতে শুনেছি।বিদ্রোহী ও দস্যু (পথরোধকারী) সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে। ইবনে ওয়াহব বলেন: আবদুল আজিজ ইবনে আবু সালামা বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো সন্দেহ, শত্রুতা বা পূর্ব আক্রোশ ছাড়াই গুপ্তহত্যা (গিলাহ) করে, অথবা দ্বীনের কোনো ভুল ব্যাখ্যা বা সংশয় ছাড়াই কেবল দস্যুতা, অবাধ্যতা ও পাপাচারের উদ্দেশ্যে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও বিদ্রোহ করে, তবে এ ক্ষেত্রে রক্তের উত্তরাধিকারীদের (নিহতের স্বজনদের) কোনো দাবি বা ক্ষমা করার শর্ত প্রযোজ্য হবে না; বরং এর ফয়সালা কেবল ইমাম বা রাষ্ট্রপ্রধান করবেন।তিনি (ইবনে ওয়াহব) বলেন: মালিক বলেছেন, গুপ্তহত্যা (কাতলুল গিলাহ) হলো—কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তিকে কোনো শত্রুতা বা প্রতিহিংসা ছাড়াই হত্যা করা, অথবা কোনো ব্যক্তিকে তার সম্পদের জন্য হত্যা করা। এ ক্ষেত্রে ক্ষমা করা হবে না, এটি শত্রুতা বা প্রতিহিংসার কারণে সাধারণ ইচ্ছাকৃত হত্যার মতো নয়। বরং গুপ্তহত্যাকারী বিদ্রোহ ও দস্যুতার (মুহারাবাহ) অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। সুতরাং কোনো সন্দেহ বা শত্রুতা ছাড়া কেবল দস্যুতার মাধ্যমে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে যদি কোনো গুপ্তহত্যা সংঘটিত হয়, তবে তার ফয়সালা ইমামের এখতিয়ারে থাকবে।ইবনে ওয়াহব বলেন: ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ ইবনে শিহাবের সূত্রে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের আলেমদের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তাঁরা বলতেন: যে ব্যক্তি দ্বীনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে কাউকে হত্যা করে, অথবা সম্পদের লোভে কাউকে গুপ্তহত্যা করে, তবে সুলতান (রাষ্ট্রপ্রধান) তার বিনিময়ে তাকে হত্যা করবেন। নিহতের অভিভাবকের তার জীবন বা মৃত্যু নিয়ে কোনো অধিকার থাকবে না, এমনকি নিহত ব্যক্তি যদি তার পিতা বা ভাইও হয়। ইবনে শিহাব সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেন যে প্রকাশ্যে অথবা গোপনে বা বিপর্যয় সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মুসলিম জামাতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। ইবনে শিহাব বলেন: ইমাম তার দণ্ড প্রদানের মালিক; যদি সে বিপর্যয় সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে বা গোপনে কাউকে হত্যা করে, তবে আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের জন্য যা নির্ধারিত করেছেন সেই অনুযায়ী তাকে হত্যা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে সম্পদের জন্য কোনো মুসলিমকে হত্যা করা, ডাকাতির মাধ্যমে পথরোধ করা, প্রকাশ্যে দস্যুতা করা, গুপ্তহত্যা করা, অথবা মুসলিম ও জিম্মিদের ওপর আক্রমণ চালানো। এ ছাড়া জমিনে সুপরিচিত বিপর্যয় সৃষ্টি করা এবং এমন অবাধ্যতা করা যার মাধ্যমে সে রাষ্ট্রপ্রধানের শত্রুতা করে এবং অবাধ্যতা প্রকাশ করে বিপর্যয়কে চরম পর্যায়ে নিয়ে যায়। এ সবকিছুই আল্লাহ আয়াতে উল্লেখ করেছেন।ইবনে ওয়াহব বলেন: ইবনে সামআন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইবনে শিহাব তাঁকে জানিয়েছেন যে তিনি বলেছেন: বিদ্রোহী ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারীর ক্ষেত্রে সুন্নাহ (নিয়ম) হলো—যখন সে শত্রুতা, সীমালঙ্ঘন ও জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টির মাধ্যমে এবং দ্বীনের ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে কাউকে হত্যা করে এবং কোনো সম্পদ হস্তগত করতে না পারে, তখন তার অঞ্চলের ইমামরা তাকে হত্যা করবেন। ইমামের জন্য তাকে বাঁচিয়ে রাখা সংগত নয়। আর সে যদি কোনো ব্যক্তির পিতা বা ভাইকে হত্যা করে এবং সেই ব্যক্তি তাকে ক্ষমা করে দেয়, তবে তাও গ্রহণযোগ্য হবে না। ইমাম যদি তাকে জীবিত ছেড়ে দেন তবে তিনি সুন্নাহর বিরুদ্ধাচরণ করবেন।আর যদি সে সম্পদ হস্তগত করে কিন্তু কাউকে হত্যা না করে, তবে তার হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলা হবে। আর যদি সে দস্যুতার অভিযোগে ধৃত হয় কিন্তু তার বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ না পাওয়া যায়, তবে কেবল তার শত্রুতা ও পাপাচার প্রকাশ পাওয়ার কারণে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে এবং অন্য শহরে নির্বাসন দেওয়া হবে ও কারাগারে বন্দি করা হবে। ওয়ালীর (শাসক) জন্য উচিত নয় যে তাকে এমন শহরে পাঠিয়ে দেওয়া যেখানে সে মুসলমানদের জান ও মালের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ ইবনে শিহাবের সূত্রে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: আমাদের মত হলো যে ব্যক্তি হত্যা করবে তাকে হত্যা করা হবে, যে সম্পদ লুণ্ঠন করবে তার হাত কাটা হবে এবং যে মানুষকে আতঙ্কিত করবে তার বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর যদি ইমাম এ ক্ষেত্রে হাত কাটার সিদ্ধান্ত নেন বা অন্য কোনো রায় দেন, তবে তাঁর রায় অনুসরণ করা হবে। আর যে ব্যক্তি দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু (বিদআত) উদ্ভাবনকারীকে আশ্রয় দেবে, তাকেও কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ২)
16 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ حَفْصٍ وَغَيْرُهُ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ ابْنِ مَالِكٍ، أَنَّ نَاسًا مِنْ عُرَيْنَةَ قَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ عليه السلام، فَاجْتَوَوُا الْمَدِينَةَ، فَبَعَثَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ إِلَى ذَودٍ لَهُ، فَشَرِبُوا مِنْ أَلْبَانِهَا وَأَبْوَالِهَا، فَلَمَّا صَحُّوا ارْتَدُّوا عَنِ الإِسْلامِ وَقَتَلُوا رَاعِيَ رَسُولِ اللَّهِ عليه السلام مُؤْمِنًا وَاسْتَاقُوا الإِبِلَ، فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ عليه السلام فِي آثَارِهِمْ فَأُخِذُوا، فَقَطَعَ أَيْدِيَهُمْ وَأَرْجُلَهُمْ وَسَمَلَ أَعْيُنَهُمْ وَصَلَبَهُمْ
১৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে হাফস এবং অন্যান্যরা, হুমায়দ আত-তবিল থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, উরায়না গোত্রের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালামের নিকট আগমন করল। অতঃপর মদীনার আবহাওয়া তাদের স্বাস্থ্যের প্রতিকূল হলো। তখন রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তাদেরকে তাঁর উটের পালের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। তারা সেগুলোর দুধ ও মূত্র পান করল। অতঃপর যখন তারা সুস্থ হলো, তখন তারা ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়ে মুরতাদ হয়ে গেল এবং রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালামের মুমিন রাখালকে হত্যা করল ও উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে গেল। এরপর রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তাদের সন্ধানে লোক পাঠালেন এবং তারা ধৃত হলো। অতঃপর তিনি তাদের হাত ও পা কেটে ফেললেন, তাদের চোখ উপড়ে ফেললেন এবং তাদের শূলে চড়ালেন।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ৩)
17 - أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ، عَنْ أَبِي قِلابَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَدِمَ ثَمَانِيَةُ رَهْطٍ مِنْ عُكْلٍ فَاسْتَوْخَمُوا الْمَدِينَةَ، ثُمَّ ذَكَرَ الْحَدِيثَ، قَالَ أَبُو قِلابَةَ: ثُمَّ ارْتَدُّوا عَنِ الإِسْلامِ وَقَتَلُوا أَوْ سَرَقُوا، وَقَالَ فِي الْحَدِيثِ: وَتُرِكُوا حَتَّى مَاتُوا
১৭ - ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: জারীর বিন হাযিম আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আইয়ুব আস-সাখতিয়ানী থেকে বর্ণিত, আবু কিলাবাহ থেকে বর্ণিত, আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উকল গোত্রের আট জনের একটি দল এসেছিল, অতঃপর মদিনার আবহাওয়া তাদের প্রতিকূল মনে হলো, অতঃপর তিনি হাদিসটি বর্ণনা করলেন। আবু কিলাবাহ বলেন: এরপর তারা ইসলাম ত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে গেল এবং তারা হত্যা করল অথবা চুরি করল। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: এবং তাদের ফেলে রাখা হলো যতক্ষণ না তারা মারা গেল।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ৪)
18 - أَخْبَرَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، وَيَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، أَنَّهُ قَالَ: قَدِمَ نَاسٌ مِنَ الْعَرَبِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ فَأَسْلَمُوا ثُمَّ مَرِضُوا بِالْمَدِينَةِ وَاسْتَوْبَئُوهَا، فَبَعَثَ بِهِمْ رَسُولُ اللَّهِ عليه السلام إِلَى لِقَاحٍ لَهُ، لِيَشْرَبُوا مِنْ أَلْبَانِهَا فَكَانُوا فِيهَا، ثُمَّ عَمَدُوا إِلَى الرَّاعِي، غُلامٍ لِرَسُولِ اللَّهِ عليه السلام فَقَتَلُوهُ وَاسْتَاقُوا اللِّقَاحَ، فَزَعَمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ عليه السلام قَالَ: عَطَّشَ اللَّهُ مَنْ عَطَّشَ آلَ مُحَمَّدٍ اللَّيْلَةَ، فَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ عليه السلام فِي طَلَبِهِمْ، فَأُخِذُوا، فَقَطَعَ أَيْدِيَهُمْ وَأَرْجُلَهُمْ وَسَمَلَ أَعْيُنَهُمْ، وَبَعْضُهُمْ يَزِيدُ عَلَى بَعْضٍ، إِلا أَنَّ مُعَاوِيَةَ قَالَ فِي الْحَدِيثِ: اسْتَاقُوهَا إِلَى أَرْضِ أَهْلِ الشِّرْكِ
১৮ - মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ এবং ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আমাকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আরবের কিছু লোক রাসূলুল্লাহর নিকট এসে ইসলাম গ্রহণ করল। এরপর তারা মদিনায় অসুস্থ হয়ে পড়ল এবং সেখানকার আবহাওয়া তাদের স্বাস্থ্যের অনুকূল মনে হলো না। তখন রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তাদেরকে তাঁর কতগুলো দুগ্ধবতী উটের কাছে পাঠিয়ে দিলেন, যেন তারা সেগুলোর দুধ পান করতে পারে। তারা সেখানে অবস্থান করছিল, এরপর তারা রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালামের রাখাল দাসের প্রতি আক্রমণ করল এবং তাকে হত্যা করে উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে গেল। রাবী উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাম বলেছিলেন: "যে আজ রাতে মুহাম্মাদের পরিবারকে তৃষ্ণার্ত রেখেছে, আল্লাহ তাকে তৃষ্ণার্ত রাখুন।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তাদের সন্ধানে লোক পাঠালেন এবং তারা ধরা পড়ল। তখন তিনি তাদের হাত ও পা কেটে দিলেন এবং তাদের চোখ উপড়ে ফেললেন। বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় একে অপরের চেয়ে কিছু কমবেশি রয়েছে, তবে মুয়াবিয়া হাদিসে বলেছেন: তারা উটগুলোকে মুশরিকদের ভূখণ্ডের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ৫)
19 - وَأَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، وَأَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَالِمٍ، وَسَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُمَحِيُّ، وَابْنُ سَمْعَانَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ: أَغَارَ نَاسٌ مِنْ عُرَيْنَةَ عَلَى لِقَاحِ رَسُولِ اللَّهِ عليه السلام وَاسْتَاقَوْهَا وَقَتَلُوا غُلامًا لَهُ فِيهَا، فَبَعَثَ فِي آثَارِهِمْ فَأُخِذُوا، فَقَطَعَ أَيْدِيَهُمْ وَأَرْجُلَهُمْ وَسَمَلَ أَعْيُنَهُمْ
১৯ - এবং আমাকে আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া সংবাদ দিয়েছেন আবুল আসওয়াদ থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনুল জুবায়ের থেকে; এবং আমাকে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সালিম, সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-জুমাহি ও ইবনে সামআন সংবাদ দিয়েছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে: উরাইনাহ গোত্রের একদল লোক আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর দুগ্ধবতী উটগুলোর ওপর আক্রমণ করল এবং সেগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে গেল এবং সেখানে তাঁর এক গোলামকে হত্যা করল। অতঃপর তিনি তাদের পিছু ধাওয়া করতে লোক পাঠালেন এবং তাদের ধরা হলো। এরপর তিনি তাদের হাত ও পা কেটে দিলেন এবং তাদের চোখ উপড়ে ফেললেন।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ৬)
20 - ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلالٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ عليه السلام، وَنَزَلَتْ فِيهِمْ آيَةُ الْمُحَارَبَةِ
২০ - ইবনে ওয়াহাব বলেছেন: আমর ইবনুল হারিস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি সাঈদ ইবনে আবি হিলাল থেকে, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং তাদের ব্যাপারে যুদ্ধের আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ৭)
21 - ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلانَ، عَنْ أَبِي الزَّنَادِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ عليه السلام لَمَّا قَطَعَ الَّذِينَ سَرَقُوا لِقَاحَهُ وَسَمَلَ أَعْيُنَهُمْ بِالنَّارِ، عَاتَبَهُ اللَّهُ فِي ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ: {إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الأَرْضِ فَسَادًا} [المائدة: 33] ، الآيَةَ كُلَّهَاابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ قَالَ فِي رَجُلٍ قَتَلَ أَوْ زَنَا أَوْ سَرَقَ فَهَرَبَ إِلَى أَرْضِ الْكُفْرِ وَأُعْطِيَ أَمَانًا قَبْلَ أَنْ يُؤْخَذَ، هَلْ يُؤْخَذُ بِشَيْءٍ مِنْ تِلْكَ الْحُدُودِ أَمْ يُنْجِيهِ الأَمَانُ وَالْعَهْدُ، قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: بَلَغَنَا عَنْ عُلَمَائِنَا أَنَّهُمْ كَانُوا يَقُولُونَ: مَنْ حَارَبَ الدِّينَ فَقَتَلَ قَتِيلا، أَوْ قَتَلَ رَجُلٌ عَلَى مَالِهِ غِيلَةً فَالسُّلْطَانُ يَقْتُلُ بِهِ، وَلَيْسَ إِلَى وَلِيِّ الْقَتِيلِ مِنْ حَيَاتِهِ شَيْءٌ وَإِنْ كَانَ أَبَاهُ أَوْ أَخَاهُ، قَالَ يُونُسُ: وَقَالَ أَبُو الزِّنَادِ: إِذَا أُخِذَ قَبْلَ أَنْ يَكْفُرَ أَوْ كَفَرَ، ثُمَّ رَجَعَ فَأَسْلَمَ ثُمَّ أُخِذَ، قَالَ: تُقَامُ عَلَيْهِ الْحُدُودُ، حَدَّ الزَّانِي إِنْ كَانَ زِنًا، وَيُقْتَلُ إِنْ كَانَ قَتَلَ، قَالَ يُونُسُ: وَقَالَ رَبِيعَةُ: تُقَامُ عَلَيْهِ الْحُدُودُ، وَذَلِكَ لأَنَّهَا لَوْ عَفِيَتْ لِمَنْ أَصَابَهَا، ثُمَّ فَرَّ إِلَى أَرْضِ الْكُفْرِ فَكَفَرَ أَوْ أَقَامَ عَلَى إِسْلامِهِ، فَحَمَلَ أَصْحَابُ الْحُدُودِ التَّنَجِّي مِنْهَا أَنْ يَخْرُجُوا إِلَى أَرْضِ الْكُفْرِ فِرَارًا مِنَ الإِسْلامِ وَخُرُوجًا مِنَ الإِسْلامِ إِلَى الْكُفْرِ، فَمَنْ أَصَابَ حَدًّا بَيْنَ ظَهْرَانِيِّ الْمُسْلِمِينَ فَلا يُنَجِّيهِ مِنْهُ شَيْءٌ عَمِلَهُ وَلا بَلَدٌ بَلَغَهُ وَلا حَرْثٌ دَخَلَ فِيهِوَأَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُمَحِيُّ، وَأَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، وَابْنُ أَبِي الزِّنَادِ أَنَّ هِشَامَ بْنَ عُرْوَةَ أَخْبَرَهُمْ، أَنَّهُ سَأَلَ أَبَاهُ عَنِ الرَّجُلِ يَتَلَصَّصُ فَيُصِيبُ الْحُدُودَ، ثُمَّ يَأْتِي تَائِبًا، أَيُقَامُ عَلَيْهِ شَيْءٌ مِمَّا أَصَابَ أَمْ لا، فَقَالَ: لَوْ قُبِلَ ذَلِكَ مِنْهُمُ اجْتَرَءُوا عَلَيْهِ وَفَعَلَهُ نَاسٌ كَثِيرٌ، وَلَكِنْ لَوْ فَرَّ رَجُلٌ إِلَى أَرْضِ الْعَدُوِّ، ثُمَّ مَكَثَ فِيهِمْ، ثُمَّ جَاءَ تَائِبًا لَمْ أَرَ عَلَيْهِ عُقُوبَةًابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ قَالَ فِي قَوْلِ اللَّهِ: {إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ} [المائدة: 33] إِلَى آخِرِ الآيَتَيْنِ.قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: أُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ فِي الْمُشْرِكِينَ، فَمَنْ تَابَ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُقْدَرَ عَلَيْهِ، وَلَيْسَتْ تُحْرِزُ هَذِهِ الآيَةُ الْمُؤْمِنَ مِنْ حَدٍّ أَوْ قَتْلٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الأَرْضِ أَوْ كُفْرٍ، ثُمَّ رَجَعَ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُقْدَرَ عَلَيْهِ لَيْسَ يَمْنَعُهُ ذَلِكَ أَنْ تُقَامَ عَلَيْهِ الْحُدُودُ وَالْقِصَاصُقَالَ يُونُسُ: وَقَالَ أَبُو الزِّنَادِ: اللُّصُوصُ الَّذِينَ يَقْطَعُونَ الطَّرِيقَ وَلا يَخْشَوْنَ السُّلْطَانَ، وَهُمْ يَقْتُلُونَ وَيَسْلُبُونَ مَنِ اسْتَطَاعُوا ذَلِكَ مِنْهُ، فَكُلُّ أُولَئِكَ يُنْزِلُهُ الْمُسْلِمُونَ بِمَنْزِلَةِ الْمُحَارِبِ، لا يُجِيبُ دَعْوَتَهُمْ، وَالْقَطْعُ فِيهِمْ، وَيُخِيفُ سَبِيلَهُمْ، فَإِنَّ ذَلِكَ مَا فَعَلَ الْوَالِي فِيهِمْ، فَهُوَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ صَوَابٌ مَنْ صُلِبَ مِنْهُمْ أَوْ قُتِلَ أَوْ قُطِّعَ أَوْ نُفِيَ، قَالَ أَبُو الزِّنَادِ: وَقَدْ كَانَ مَنْفَى النَّاسِ مَنْ يُنْفَوْا فِي ذَلِكَ إِلَى بَاضِعَ مِنْ أَرْضِ الْحَبَشَةِ، وَدَهْلَكَ، وَتِلْكَ النَّاحِيَةِ مِنْ أَقْصَى تِهَامَةِ الْيَمَنِقَالَ يُونُسُ: وَقَالَ رَبِيعَةُ بْنُ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ: أَمَّا الْمُحَارِبُ مِنْ أَهْلِ الذِّمَّةِ يَقْطَعُ أَوْ يُعَاوِنُ عَلَى عَوْرَةٍ مِنْ عَوْرَاتِ الْمُسْلِمِينَ أَوْ دِينٍ بَيْنَ ظَهْرَانِيِّهِمْ أَوْ بَعْضِ مَا يَكُونُ فِيهِ نَقْضُ ذِمَّتِهِ، فَرَضَ اللَّهُ فِيهِ مَا فَرَضَ عَلَى قَدْرِ ذُنُوبِهِ عَلَى مَا اسْتَيْقَنُوا مِنْ عَمَلِ مَنْ عَمِلَ بِهِ إِذَا وَقَعَتْ فِيهِ تُهْمَتُهُ، وَكَانَ سِنُّهُ مَا فَرَضَ اللَّهُ فِيهِ مِنَ الْعُقُولِ فَكَانَ الَّذِي وَقَعَتْ فِيهِ تُهْمَتُهُ مِنْهُ يُسْنَدُ إِلَيْهِ بِالسُّوءِ، وَيُنْفَى إِلَى أَرْضِ الْعَدُوِّ، وَلا يَعْجَلُ عَلَيْهِ بِالْقَتْلِ، لأَنَّهُ لَمْ يَسْتَيْقِنْ عَمَلَهُ وَلَمْ يَبْدُ أَمْرٌ عَلَى التُّهْمَةِ إِذَا بَدَتْ ظِنَّتُهُ، قَالَ اللَّهُ: {إِلا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ} [المائدة: 34] .فَمَنْ أَظْهَرَ ذَنْبَهُ وَتَابَ إِلَى اللَّهِ أَمِنَ عَلَى نَفْسِهِ وَصَارَ عَلَى عَهْدِهِ، وَمَنْ اطَّلَعَ الْمُسْلِمُونَ عَلَيْهِ قَبْلَ ذَلِكَ كَانَ فِيهِ مَا فَرَضَ اللَّهُ مِنْ نَكَالِهِ وَكَمَا أَخْرَجَ رَسُولُ اللَّهِ عليه السلام بَنِي الْحَقِيقِ مِنْ بَنِي النَّضِيرِ إِلَى خَيْبَرَ اتَّهَمَهُمْ، وَكَمَا أَخْرَجَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَهْلَ فَدَكٍ وَأَهْلَ حُنَيْنٍ إِلَى أَرِيحَا، وَأَهْلَ دِينِهِمْ مِنْ أَهْلِ الشَّامِ، وَإِنَّمَا كَانَ إِخْرَاجُهُمْ حِينَ نُفُوا لَمَّا وَصَلَ إِلَى الْعَرَبِ مِنَ الأَرَضِينَ لِدُنُوِّهِمْ إِلَى الْمُسْلِمِينَ، لأَنَّهُ لا يُصْلِحُهُمْ مَا تَحْتَ أَيْدِيهِمْ، فَلَيْسَ الْيَوْمَ يَنْفِي أَحَدٌ إِلَى عَدُوٍّ لا يَبْلُغُهُ مَشَالِحُ الْمُسْلِمِينَ وَلا مَسَاكِنُهُمْ إِلَى مَا جَاوَزَتِ الدُّرُوبُ وَالْبِحَارُ، وَلَكِنْ يُقَامُ عَلَى ذَلِكَ مِنْ أَهْلِ الذِّمَّةِ النَّكَالُ الَّذِي أَمَرَ اللَّهُ بِهِ، وَالسِّجْنُ فِي عَمَلٍ يُؤَدِّي مِنْهُ الْجِزْيَةَ فِيمَا اتّهَمُوا عَلَيْهِقَالَ يُونُسُ: وَقَالَ رَبِيعَةُ: أَمَّا اللِّصُّ الْعَادِي مِمَّنْ يَدَّعِي بِالإِسْلامِ فَلَوْ أَنَّهُ تَابَ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُقْدَرَ عَلَيْهِ وَعِنْدَهُ حَقٌّ لأُقِيمَ عَلَيْهِ أَوْ تِبَاعَةٌ فِي جَسَدِهِ لأُتْبِعَتْ، أَوْ مَالٌ لِمُسْلِمٍ لأُخِذَ لَهُ مِنْهُ وَأُدَّيَ عَلَى الْمُسْلِمِ مِنْهُ، وَلا تُنَجِّيهِ التَّوْبَةُ مِنْ ذَلِكَ، وَلَوْ وُضِعَتْ عَنْهُ تِلْكَ الْحُقُوقُ بِتَوْبَتِهِ قَبْلَ أَنْ يُقْدَرَ عَلَيْهِ لَمْ يَزَلْ لِصًّا يَأْخُذُ أَمْوَالَ النَّاسِ الْمُسْلِمِينَ وَيَبْلُغُ أَنْفُسَهُمْ فَيَجْتَرِئُ عَلَى حُدُودِ اللَّهِ فِيهِمْ، ثُمَّ يُنَادِي بِالتَّوْبَةِ فَيُوضَعُ عَنْهُ بِذَلِكَ الْحُقُوقُ وَنُكِّلَقَالَ يُونُسُ: وَقَالَ رَبِيعَةُ: فَإِذَا كَانَ اللِّصُّ عَادِيا لَمْ يُصِبْ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَتَابَ قَبْلَ أَنْ يُقْدَرَ عَلَيْهِ، كَانَ قَمِنًا مِنْ أَنْ لا يُعَاقَبَ عَلَى مَا مَضَى، لأَنَّهُ لَيْسَ عَلَيْهِ حَقٌّ يُتَّبَعُ بِهِ إِلا رَأْيَ الإِمَامِ، وَإِنَّمَا يُعَاقَبُ الإِمَامُ لِيَرْجِعَ النَّاسُ إِلَى طَاعَةِ اللَّهِ، وَإِنْ أَخَذَهُ الإِمَامُ مِنْ قَبْلِ تَوْبَتِهِ وَيُرَوِّعُهُ، رَأَى فِيهِ مِنْ عُقُوبَتِهِ عَلَى قَدْرِ مَا بَلَغَ مِنَ الذَّنْبِ، وَلا يُنْفَ مُسْلِمٌ مِنْ بَلَدٍ وَلا يَخْرُجْ إِلَى أَرْضِ الْعَدُوِّ، فَيَخْرُجْ مِنَ الإِسْلامِ إِلَى الْكُفْرِ، وَحَرَى أَنْ يَكُونَ مِنْ أُولَئِكَ مَنْ يُوَافِقُهُ بَعْضُ ذَلِكَ ، إِلا أَنْ يُسْجَنَ الرَّجُلُ بِأَرْضِ الْغُرْبَةِ لِتَضِيقَ عَلَيْهِ وَلِيَبْعِدَهُ مِنْ رَحْمَةِ الْقَرَابَةِابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ يَحْيَى ابْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ قَالَ فِي الْمُحَارِبِ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ: إِنْ كَانَ فَرَّ إِلَى أَرْضِ الْعَدُوِّ أَوْ تَرَكَ دِينَ الإِسْلامِ وَصَارَ عَلَى دِينِ مَنْ فَرَّ إِلَيْهِ، فَإِنَّهُ يُقْتَلُ إِذَا أُخِذَ، وَإِنْ كَانَ خَرَجَ فِي أَرْضِ الإِسْلامِ فَقَطَعَ الطَّرِيقَ وَأَخَافَهُمْ، فَإِنَّهُ إِنْ أَصَابَ دَمًا قُتِلَ، وَإِنْ لَمْ يُصِبْ دَمًا قُطِعَتْ يَدُهُ وَرِجْلُهُ مِنْ خِلافٍ، وَإِنْ كَانَ خَرَجَ وَلَمْ يُصِبْ دَمًا وَلا مَالا، فَإِنَّ النَّفْيَ فِيهِ، فِيمَا بَلَغَنَا، أَنْ يَخْرُجَ مِنْ أَرْضِهِ إِلَى أَرْضِ غَيْرِهَاابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، أَنَّ يَزِيدَ الْمَلَطِيَّ كَانَ فِي أَصْحَابٍ لَهُ، فَقَطَعُوا السَّبِيلَ وَانْتَهَبُوا الأَمْوَالَ وَلَمْ يَقْتُلُوا، فَأَمَرَ بِهِمْ عُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ الْجُهَنِيُّ صَاحِبُ رَسُولِ اللَّهِ عليه السلام فَقَطَعَ مِنْ كُلِّ إِنْسَانٍ فِيهِمْ يَدًا أَوْ رِجْلا، قَالَ يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ: رَأَيْتُ بَعْضُهُمْ.قَالَ يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ: إِنَّ الَّذِي يُفْسِدُ فِي الأَرْضِ، إِنْ قُتِلَ وَجَبَ عَلَيْهِ الْقَتْلُابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءِ ابْنِ أَبِي رَبَاحٍ وَعَبْدِ الْكَرِيمِ قَالا: إِنْ أَقَرُّوا بِالإِسْلامِ، ثُمَّ حَارَبُوا فَلَمْ يَقْرَبُوا دَمًا وَلا مَالا حَتَّى أُخِذُوا فَفِيهِمْ حَكَمَ اللَّهُ إِلا أَنْ يُعْفَوْا، أَيُّ ذَلِكَ شَاءَ الإِمَامُ إِنْ شَاءَ قَتَلَهُمْ، وَإِنْ شَاءَ صَلَبَهُمْ أَوْ قَطَعَ أَيْدِيَهُمْ وَأَرْجُلَهُمْ مِنْ خِلافٍ، وَإِنْ شَاءَ وَاحِدَةً مِنْهُنَّ فَعَلَهُ وَيَتْرُكُ مَا بَقِيَ، قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ: وَقَالَ عَطَاءٌ وَعَبْدُ الْكَرِيمِ: وَإِنْ أَقَرُّوا بِالإِسْلامِ، ثُمَّ حَارَبُوا وَلَمْ يَقْرَبُوا دَمًا وَلا مَالا حَتَّى تَابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ يُقْدَرَ عَلَيْهِمْ، وَلا سَبِيلَ عَلَيْهِمْ، وَإِنْ أَصَابُوا دَمًا أَوْ مَالا، ثُمَّ تَابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ يُقْدَرَ عَلَيْهِمْ، اقْتُصَّ مِنْهُمْ مَا أَصَابُوا قَطُّ، ثُمَّ أُعْفَوْاابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ قَالَ: أَيُّمَا شَاءَ الإِمَامُ فَعَلَ فِي الْمُحَارِبِ إِذَا أُخِذَ 33 - ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: سَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ فِي الْمُحَارِبِ الَّذِي يَقْطَعُ السَّبِيلَ وَيَنْفِرُ بِالنَّاسِ فِي كُلِّ مَكَانٍ وَيَعْظُمُ فَسَادُهُ فِي الأَرْضِ إِنَّهُ إِذَا ظَهَرَ عَلَيْهِ قَتْلٌ، وَإِنْ لَمْ يَقْتُلْ أَحَدًا، وَقَدْ كَانَ أَعْظَمَ الْفَسَادَ وَأَخَافَ السَّبِيلَ وَذَهَبَ بِأَمْوَالِ النَّاسِ.قَالَ: فَإِنْ قَدَرَ عَلَيْهِ السُّلْطَانُ قَبْلَ أَنْ يَأْتِيَ تَائِبًا، فَإِنَّ السُّلْطَانَ يَرَى فِيهِ رَأْيَهُ فِي الْقَتْلِ أَوِ الصَّلْبِ أَوِ الْقَطْعِ أَوِ النَّفْيِ.قَالَ مَالِكٌ: وَيَسْتَشِيرُ فِي ذَلِكَ.وَقَالَ مَالِكٌ فِي اللُّصُوصِ يَقْتُلُونَ الْقَتِيلَ أَوِ الْقَتْلَى مِنَ النَّاسِ، ثُمَّ يُؤْخَذُونَ، فَلا يَدْرِي مَنِ الَّذِي كَانَ يَقْتُلُ مِنْهُمْ، إِنَّ الإِمَامَ مُخَيَّرٌ فِيهِمْ، إِنْ شَاءَ قَتَلَهُمْ وَإِنْ شَاءَ صَلَبَهُمْ.وَقَالَ مَالِكٌ فِي الْمُحَارِبِ الْمُعْلِنِ لِمُحَارَبَتِهِ أَوْ مَنْ كَانَ مُسْتَخْفِيًا بِذَلِكَ وَهُوَ يَظْهَرُ فِي النَّاسِ، قَالَ: الْمُعْلِنُ وَالْمُسْتَخْفِي فِي ذَلِكَ سَوَاءٌ، إِذَا كَانَ إِنَّمَا يُرِيدُ الأَمْوَالَ، فَإِنَّهُ إِنْ أَخَافَ فَقَطَعَ السَّبِيلَ أَوْ قَتَلَ، فَذَلِكَ إِلَى السُّلْطَانِ يُقِيمُ عَلَيْهِ أَيَّ هَذِهِ الْخِصَالِ رَأَى بِالاجْتِهَادِ فِي قَدْرِ جُرْمِهِ وَفَسَادِهِ، وَلَيْسَ ذَلِكَ إِلَى هَوَى الإِمَامِ وَلَكِنْ إِلَى اجْتِهَادِهِ، وَالنَّفْيُ إِلَى أَرْضِ غُرْبَةٍ مِنْ بِلادِ الْمُسْلِمِينَ، فَقَدْ نَفَى أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ مِنَ الْمَدِينَةِ إِلَى فَدَكٍ.- ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: سَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ فِي اللِّصِّ الْمُحَارِبِ الَّذِي يَقْطَعُ السَّبِيلَ، إِنَّهُ إِذَا جَاءَ تَائِبًا فَإِنَّ الإِمَامَ يَقْبَلُ ذَلِكَ مِنْهُ، وَلا يُعَاقِبُهُ فِي شَيْءٍ أَتَاهُ، إِلا أَنْ يَأْتِيَ أَحَدٌ يَطْلُبُهُ بِدَمٍ أَوْ مَالٍ، فَإِنَّ الإِمَامَ يَأْخُذُهُ بِذَلِكَ وَيُقِيمُهُ عَلَيْهِ، وَكُلُّ مَا كَانَ قَبْلَهُ مِنْ حُقُوقِ النَّاسِ، فَإِنَّ الإِمَامَ لا يَضَعُهُ عَنْهُ، وَإِنْ جَاءَ تَائِبًا، فَإِنَّ السُّلْطَانَ يَقْبَلُ مِنْهُ وَيَضَعُ عَنْهُ الْقَتْلَ وَالصَّلْبَ وَالْقَطْعَ وَالنَّفْيَ، إِلا أَنْ يَأْتِيَ أَحَدٌ يَطْلُبُهُ بِشَيْءٍ، فَإِنَّ السُّلْطَانَ يَأْخُذُهُ بِحَقِّهِ مِنْهُ، لا يَضَعُ السُّلْطَانُ لِتَوْبَتِهِ حُقُوقَ النَّاسِ قَبْلَهُ.- قَالَ: سَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ فِي قَوْلِ اللَّهِ: {أَوْ يُنْفَوْا مِنَ الأَرْضِ} [المائدة: 33] قَالَ: النَّفْيُ فِي ذَلِكَ أَنْ يَنْفِيَهُ السُّلْطَانُ مِنْ بَلَدِهِ ذَلِكَ إِلَى بَلَدٍ آخَرَ، ثُمَّ لا يَتْرُكُهُ يَرْجِعُ إِلَى بَلَدِهِ حَتَّى يَعْرِفَ مِنْهُ التَّوْبَةَ وَحُسْنَ الْحَالِ.ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ أَنَّ عَامِلا لِعُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَخَذَ نَاسًا فِي حِرَابَةٍ وَلَمْ يَقْتُلُوا، فَأَرَادَ أَنْ يَقْتُلَ أَوْ يَقْطَعَ، فَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ: لَوْ أَخَذْتَ بِأَيْسَرِ ذَلِكَ.قَالَ مَالِكٌ: يُرِيدُ بِذَلِكَ النَّفْيَابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ أَنَّ الصَّلْتَ كَاتِبَ حَيَّانَ بْنِ شُرَيْحٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ حَيَّانَ كَتَبَ إِلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ: إِنَّ نَاسًا مِنَ الْقِبْطِ قَامَتْ عَلَيْهِمُ الْبَيِّنَةُ بِأَنَّهُمْ حَارَبُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَسَعَوْا فِي الأَرْضِ فَسَادًا، وَإِنَّ اللَّهَ يَقُولُ: {إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِنْ خِلافٍ} [المائدة: 33] ، وَسَكَتَ عَنِ النَّفْيِ.وَكَتَبَ: فَإِنْ رَأَى أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ أَنْ يَمْضِيَ قَضَاءُ اللَّهِ فِيهِمْ فَلْيَكْتُبْ بِذَلِكَ.فَلَمَّا قَرَأَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ كِتَابَهُ قَالَ: لَقَدِ اجْتَرَأَ حَيَّانُ، ثُمَّ كَتَبَ إِلَيْهِ: إِنَّهُ قَدْ بَلَغَنِي كِتَابُكَ وَفَهِمْتُهُ، وَلَقَدِ اجْتَرَأْتَ لَكَأَنَّمَا كَتَبْتَ بِكِتَابِ يَزِيدَ بْنِ أَبِي مُسْلِمٍ أَوْ صَالِحٍ صَاحِبِ الْعِرَاقِ مِنْ غَيْرِ أَنْ أُشَبِّهَكَ بِهِمَا، وَكَتَبْتَ بِأَوَّلِ الآيَةِ، ثُمَّ سَكَتَّ عَنْ آخِرِهَا، وَإِنَّ اللَّهَ يَقُولُ: {أَوْ يُنْفَوْا مِنَ الأَرْضِ} [المائدة: 33] ، فَإِنْ كَانَتْ قَامَتْ عَلَيْهِمُ الْبَيِّنَةُ بِمَا كَتَبْتَ بِهِ فَاعْقِدْ فِي أَعْنَاقِهِمْ حَدِيدًا، ثُمَّ غَرِّبْهُمْ إِلَى شَغْبٍ وَبَدَاابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ وَغَيْرِهِ بِنَحْوِ هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ: فَكَتَبَ إِلَيْهِ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ: أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّكَ كَتَبْتَ إِلَيَّ تَذْكُرُ قَوْلَ اللَّهِ تبارك وتعالى فِي الْمُحَارِبِ، وَتَرَكْتَ قَوْلَ اللَّهِ: {أَوْ يُنْفَوْا مِنَ الأَرْضِ} [المائدة: 33] ، فَبِئْسَمَا أَنْتَ يَا حَيَّانُ بْنَ أُمِّ حَيَّانَ، لا تُحَرِّكِ الأَشْيَاءَ عَنْ مَوَاضِعِهَا، إِذْ تَجَرَّدْتَ لِلْقَتْلِ وَالصَّلْبِ، كَأَنَّكَ عَبْدُ بَنِي أَبِي عَقِيلٍ، مِنْ غَيْرِ أَنْ أُشَبِّهَكَ بِهِ، فَإِذَا أَتَاكَ كِتَابِي هَذَا فَانْفِهِمْ إِلَى شَغْبٍ 39 - قَالَ ابْنُ وَهْبٍ: وَقَالَ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ: قَالَ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ: {إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا} [المائدة: 33] ، الآيَةَ كُلَّهَا، قَالَ ابْنُ أَبِي سَلَمَةَ: فَمَنْ نَزَلَ بِهَذَا الْمَنْزِلِ فِي دَارِ الْمُسْلِمِينَ، وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ دَعْوَتِهِمْ فَحَارَبَهُمْ وَقَطَعَ سَبِيلَهُمْ وَسَعَى بِالْفَسَادِ فِي الأَرْضِ عَلَيْهِمْ، فَإِنَّ هَذِهِ الأَحْكَامَ تَجْرِي عَلَيْهِمْ بِاجْتِهَادِ الإِمَامِ بَعْدَ الْمَشُورَةِ مِمَّنْ هُوَ أَهْلٌ لَهَا، فَإِنْ قَتَلَ هَذَا الْمُحَارِبُ أَحَدًا قُتِلَ بِهِ، وَإِنْ لَمْ يَقْتُلْ وَقَدْ أَعْظَمَ الْفَسَادَ، حَلَّ بِذَلِكَ دَمُهُ، وَكَانَ الإِمَامُ يَرَى فِي ذَلِكَ رَأْيَهُ أَنْ قَتَلَهُ أَوْ صَلَبَهُ أَوْ قَطَعَهُ، كَانَ ذَلِكَ لَهُ، لأَنَّ اللَّهَ إِنَّمَا قَالَ: {وَيَسْعَوْنَ فِي الأَرْضِ فَسَادًا} [المائدة: 33] ، وَلَمْ يَذْكُرِ الْقَتْلَ بِخَاصَّةٍ إِلا مَا يَدْخُلُ فِيهِ الْقَتْلُ وَغَيْرُهُ مِنْ جُمْلَةِ الْفَسَادِ.فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: لا يَنْبَغِي أَنْ يُقْتَلَ إِلا إِذَا قَتَلَ، فَقَدْ أَحَلَّ اللَّهُ قَتْلَ النَّفْسِ بِالْفَسَادِ حِينَ قَالَ: {مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الأَرْضِ} [المائدة: 32] ، إِنَّهُ يَقُولُ: بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ بِغَيْرِ فَسَادٍ فِي الأَرْضِ، يَقُولُ: فَمَنْ قَتَلَهُ وَلَمْ يَقْتُلْ نَفْسًا وَلَمْ يُفْسِدْ {فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا} [المائدة: 32] ، وَلَمْ يُخَصِّصِ اللَّهُ الْقَتْلَ فِي ذِكْرِ الْمُحَارَبَةِ بِشَيْءٍ إِلا مَا يَجْمَعُهُ وَغَيْرَهُ مِنَ الْفَسَادِ، وَلَكِنَّ الْفَسَادَ يَخْتَلِفُ، فَمِنْهُ مَا يَكُونُ كَبِيرًا عَظِيمًا، وَمِنْهُ مَا يَكُونُ عَلَى غَيْرِ ذَلِكَ، فَالإِمَامُ يَجْتَهِدُ فِي ذَلِكَ رَأْيَهُ فِي الْقَتْلِ أَوِ الْقَطْعِ أَوِ الصَّلْبِ.
২১ - ইবনে ওয়াহব বলেন: লায়স ইবনে সাদ আমাকে মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে, তিনি আবুয যিনাদ থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (তার উপর শান্তি বর্ষিত হোক) যখন সেই ব্যক্তিদের হাত-পা কেটে দিলেন যারা তাঁর উট চুরি করেছিল এবং আগুনের সাহায্যে তাদের চোখ উপড়ে ফেলেছিলেন, তখন আল্লাহ তাকে এ বিষয়ে তিরস্কার করেন। অতঃপর আল্লাহ অবতীর্ণ করেন: {যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি কেবল এই...} [আল-মায়িদাহ: ৩৩], আয়াতের শেষ পর্যন্ত।ইবনে ওয়াহব বলেন: ইউনুস আমাকে ইবনে শিহাব থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে হত্যা করেছে অথবা ব্যভিচার করেছে অথবা চুরি করেছে, অতঃপর সে কুফরি রাষ্ট্রে পালিয়ে গিয়েছে এবং তাকে পাকড়াও করার আগে নিরাপত্তা প্রদান করা হয়েছে—তাকে কি সেই হদ (নির্ধারিত দণ্ড) সমূহের কোনোটির মাধ্যমে পাকড়াও করা হবে, নাকি নিরাপত্তা ও অঙ্গীকার তাকে মুক্তি দেবে? ইবনে শিহাব বলেন: আমাদের নিকট আমাদের আলেমদের পক্ষ থেকে এই সংবাদ পৌঁছেছে যে, তারা বলতেন: যে ব্যক্তি দ্বীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং কাউকে হত্যা করেছে, অথবা কোনো ব্যক্তি তার সম্পদের লোভে প্রতারণামূলকভাবে কাউকে হত্যা করেছে, তবে সুলতান (শাসক) তার বিনিময়ে তাকে হত্যা করবেন। এক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তির অভিভাবকের জীবন বা মরণের বিষয়ে কোনো ইখতিয়ার নেই, যদিও সে তার পিতা বা ভাই হোক না কেন। ইউনুস বলেন: আবুয যিনাদ বলেছেন: যদি তাকে কুফরি করার আগে পাকড়াও করা হয়, অথবা সে কুফরি করল, অতঃপর ফিরে এসে ইসলাম গ্রহণ করল এবং তারপর তাকে পাকড়াও করা হলো, তবে তার উপর হদ কায়েম করা হবে; যদি ব্যভিচার হয় তবে ব্যভিচারীর দণ্ড, আর যদি হত্যা করে থাকে তবে তাকে হত্যা করা হবে। ইউনুস বলেন: রাবীআহ বলেছেন: তার উপর হদ কায়েম করা হবে। কারণ, যদি অপরাধীদের ক্ষেত্রে এটি ক্ষমা করা হতো যে, সে অপরাধ করে কুফরি রাষ্ট্রে পালিয়ে গেল এবং কুফরি গ্রহণ করল অথবা ইসলামের উপর অটল থাকল, তবে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এর থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে ইসলাম থেকে পলায়ন করে কুফরি রাষ্ট্রে চলে যাওয়াকে গ্রহণ করত। সুতরাং যে ব্যক্তি মুসলিমদের মাঝে থাকাকালীন কোনো দণ্ডযোগ্য অপরাধ করবে, তার কোনো আমল, কোনো দেশ বা কোনো আশ্রয়স্থল তাকে তা থেকে বাঁচাতে পারবে না।সাঈদ ইবনে আবদুর রহমান আল-জুমাহী, আনাস ইবনে ইয়াদ এবং ইবনে আবিয যিনাদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, হিশাম ইবনে উরওয়াহ তাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তার পিতাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে চুরি-ডাকাতি করে দণ্ডযোগ্য অপরাধ করে, অতঃপর তওবা করে ফিরে আসে; তার কৃতকর্মের জন্য কি তার উপর কোনো দণ্ড কায়েম করা হবে কি না? তিনি বললেন: যদি তাদের থেকে এটি কবুল করা হতো, তবে তারা এতে সাহসী হয়ে উঠত এবং অনেক মানুষ এটি করত। কিন্তু যদি কোনো ব্যক্তি শত্রুর রাষ্ট্রে পালিয়ে যায়, সেখানে অবস্থান করে এবং অতঃপর তওবা করে ফিরে আসে, তবে আমি তার ওপর কোনো শাস্তি দেখি না।ইবনে ওয়াহব বলেন: ইউনুস আমাকে ইবনে শিহাব থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বলেছেন: {যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের শাস্তি কেবল এই...} [আল-মায়িদাহ: ৩৩], দুই আয়াতের শেষ পর্যন্ত।ইবনে শিহাব বলেন: এই আয়াত মুশরিকদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি তাকে আয়ত্তে আনার আগে তওবা করবে (সে রেহাই পাবে)। কিন্তু এই আয়াত কোনো মুমিনকে দণ্ড, হত্যা, জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি বা কুফরি থেকে রক্ষা করবে না। অতঃপর সে যদি তাকে আয়ত্তে আনার আগে ফিরে আসে, তবে তা তার ওপর হদ ও কিসাস (প্রতিবিধান) কায়েম করা থেকে বাধা দেবে না।ইউনুস বলেন: আবুয যিনাদ বলেছেন: যেসব চোররা ডাকাতি করে এবং সুলতানকে ভয় পায় না, আর তারা যাকে পারে হত্যা করে ও লুণ্ঠন করে, মুসলিমরা তাদের সবাইকে 'মুহারিব' (বিদ্রোহী/সন্ত্রাসী) হিসেবে গণ্য করবে। তাদের কোনো দাবি গ্রহণ করা হবে না, তাদের হাত-পা কাটা হবে এবং তাদের পথকে ভীতিমুক্ত করা হবে। শাসক তাদের ব্যাপারে যা করবেন—তা হত্যা, শূলে চড়ানো, হাত-পা কাটা বা নির্বাসন—তা ইনশাআল্লাহ সঠিক হবে। আবুয যিনাদ বলেন: লোকেদের নির্বাসনের জায়গা ছিল আবিসিনিয়া অঞ্চলের বাদি', দাহলাক এবং ইয়ামেনের তিহামার প্রান্তিক এলাকা।ইউনুস বলেন: রাবীআহ ইবনে আবি আবদুর রহমান বলেছেন: যিম্মিদের (অমুসলিম নাগরিক) মধ্য থেকে যে ব্যক্তি মুহারিব (বিদ্রোহী) হয়, ডাকাতি করে অথবা মুসলিমদের কোনো দুর্বলতার বিষয়ে সাহায্য করে অথবা তাদের মাঝে অবস্থান করে তাদের দ্বীনের ক্ষতি করে অথবা এমন কিছু করে যাতে তার নিরাপত্তা চুক্তি (জিম্মা) ভঙ্গ হয়, তবে আল্লাহ তার জন্য যা অবধারিত করেছেন তা-ই প্রয়োগ করা হবে তার অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী; যদি তার অপরাধ নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়। আর যদি কেবল সন্দেহের বশবর্তী হয়ে ধরা হয়, তবে তাকে কঠোরভাবে অভিযুক্ত করা হবে এবং শত্রুর দেশে নির্বাসিত করা হবে, কিন্তু তাকে হত্যায় তাড়াহুড়ো করা হবে না; কারণ তার অপরাধ নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি এবং সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে কোনো চূড়ান্ত বিষয় প্রকাশ পায়নি। আল্লাহ বলেছেন: {তবে যারা তোমাদের আয়ত্তে আসার আগে তওবা করে...} [আল-মায়িদাহ: ৩৪]।সুতরাং যে ব্যক্তি তার অপরাধ প্রকাশ করে আল্লাহর কাছে তওবা করবে, সে নিজের জীবনের নিরাপত্তা পাবে এবং তার পূর্ব চুক্তিতে ফিরে আসবে। আর মুসলিমরা যদি এর আগেই তাকে পাকড়াও করে ফেলে, তবে তার জন্য আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি কার্যকর হবে। যেমন রাসূলুল্লাহ (তার উপর শান্তি বর্ষিত হোক) বনু নাযিরের বনু হাকিককে খায়বারে বহিষ্কার করেছিলেন তাদের অভিযুক্ত হওয়ার কারণে। যেমন ওমর ইবনুল খাত্তাব ফাদাক ও হুনাইনের অধিবাসীদের আরীহায় এবং সিরিয়ার সমধর্মীদের বহিষ্কার করেছিলেন। তাদের বহিষ্কার বা নির্বাসন ছিল মূলত আরব ভূমি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য, যেহেতু তারা মুসলিমদের খুব কাছে ছিল এবং তাদের প্রভাব মুসলিমদের জন্য শুভকর ছিল না। বর্তমানে কাউকে এমন কোনো শত্রুর দেশে নির্বাসিত করা যাবে না যেখানে মুসলিমদের সীমান্ত রক্ষী বা বসতি নেই, অথবা যা গিরিপথ ও সমুদ্র অতিক্রম করে চলে যায়। বরং যিম্মিদের মধ্য থেকে অপরাধীদের জন্য আল্লাহ যে শাস্তির নির্দেশ দিয়েছেন তা কার্যকর করা হবে, এবং যে কাজের জন্য সে অভিযুক্ত হয়েছে তার বিনিময়ে তাকে কারারুদ্ধ করে রাখা হবে যাতে সে জিযিয়া আদায় করে।ইউনুস বলেন: রাবীআহ বলেছেন: ইসলামের দাবিদার সাধারণ চোর যদি তাকে আয়ত্তে আনার আগে তওবা করে এবং তার কাছে কারো হক পাওনা থাকে, তবে তা আদায় করা হবে। তার ওপর যদি শারীরিক কোনো দাবি থাকে তবে তা কার্যকর করা হবে, অথবা কোনো মুসলিমের সম্পদ থাকলে তা তার থেকে নিয়ে মুসলিমকে ফেরত দেওয়া হবে। তওবা তাকে এ থেকে মুক্তি দেবে না। যদি তওবা করার কারণে তাকে আয়ত্তে আনার আগেই এই হকগুলো মওকুফ করা হতো, তবে সে সর্বদা মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন করত এবং মানুষের জীবন বিপন্ন করত, আর এভাবে আল্লাহর হদসমূহের অবমাননা করার দুঃসাহস দেখাত। এরপর সে তওবার ঘোষণা দিত এবং এভাবে তার ওপর থেকে সব পাওনা ও শাস্তি মওকুফ হয়ে যেত (যা কাম্য নয়)।ইউনুস বলেন: রাবীআহ বলেছেন: চোর যদি ডাকাতি করতে গিয়ে কোনো সম্পদ হস্তগত করার আগেই ধরা পড়ার পূর্বে তওবা করে, তবে পূর্বের কাজের জন্য তাকে শাস্তি না দেওয়াটাই সঙ্গত। কারণ তার ওপর কোনো পাওনা হক নেই, কেবল ইমামের বিবেচনামূলক শাস্তি (তা’যীর) ছাড়া। আর ইমাম শাস্তি দেন যাতে মানুষ আল্লাহর আনুগত্যে ফিরে আসে। আর যদি ইমাম তাকে তওবা করার আগেই ধরেন এবং সে আতঙ্ক সৃষ্টি করে থাকে, তবে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী তিনি শাস্তির ব্যবস্থা করবেন। কোনো মুসলিমকে নিজের দেশ থেকে এমনভাবে নির্বাসিত করা যাবে না যে সে শত্রুর দেশে গিয়ে ইসলাম ত্যাগ করে কুফরি গ্রহণ করে। তবে কোনো ব্যক্তিকে প্রবাসে কারারুদ্ধ করা যেতে পারে যাতে তার জীবন সংকীর্ণ হয় এবং আত্মীয়স্বজনের সান্নিধ্য থেকে সে বঞ্চিত থাকে।ইবনে ওয়াহব বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আমাকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী সম্পর্কে বলেছেন: যদি সে শত্রুর দেশে পালিয়ে যায় অথবা ইসলাম ত্যাগ করে সেই দেশের মানুষের ধর্ম গ্রহণ করে তবে তাকে পাকড়াও করলে হত্যা করা হবে। আর যদি সে ইসলামী রাষ্ট্রে থেকে ডাকাতি করে এবং মানুষকে আতঙ্কিত করে, তবে সে যদি রক্তপাত (হত্যা) ঘটায় তাকে হত্যা করা হবে। আর যদি হত্যা না করে থাকে তবে বিপরীত দিক থেকে তার হাত ও পা কেটে ফেলা হবে। আর সে যদি বের হয় কিন্তু রক্তপাত বা সম্পদ লুণ্ঠন কোনোটিই না করে থাকে, তবে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে সে অনুযায়ী তাকে নির্বাসিত করা হবে, অর্থাৎ তাকে তার নিজ এলাকা থেকে অন্য এলাকায় সরিয়ে দেওয়া হবে।ইবনে ওয়াহব বলেন: ইবনে লাহীআহ আমাকে ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইয়াজিদ আল-মালাতী তার কিছু সঙ্গীদের সাথে মিলে পথরোধ করেছিল এবং সম্পদ লুণ্ঠন করেছিল কিন্তু কাউকে হত্যা করেনি। রাসূলুল্লাহর (তার উপর শান্তি বর্ষিত হোক) সাহাবী উকবাহ ইবনে আমির আল-জুহানি তাদের ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তাদের প্রত্যেকের একটি হাত অথবা একটি পা কেটে দিলেন। ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব বলেন: আমি তাদের কয়েকজনকে দেখেছি।ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব বলেন: যে ব্যক্তি জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে, যদি তাকে হত্যা করা হয় তবে তার ওপর মৃত্যুদণ্ডই ওয়াজিব ছিল।ইবনে ওয়াহব বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আমর আমাকে ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ ও আবদুল কারীম থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তারা উভয়ে বলেছেন: যদি তারা ইসলামের স্বীকৃতি দেয়, অতঃপর যুদ্ধ শুরু করে কিন্তু ধরা পড়ার আগে কোনো রক্তপাত বা সম্পদ লুণ্ঠন না করে, তবে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ ফয়সালা দিয়েছেন—যদি না তাদের ক্ষমা করা হয়—ইমাম যা ইচ্ছা করবেন: চাইলে তাদের হত্যা করবেন, চাইলে শূলে চড়াবেন, অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলবেন। তিনি চাইলে এর কোনো একটি করবেন এবং বাকিগুলো ছেড়ে দেবেন। ইবনে জুরাইজ বলেন: আতা ও আবদুল কারীম বলেছেন: যদি তারা ইসলামের স্বীকৃতি দেয়, অতঃপর যুদ্ধ শুরু করে কিন্তু ধরা পড়ার আগেই তওবা করে এবং কোনো রক্তপাত বা সম্পদ লুণ্ঠন না করে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। আর যদি তারা রক্তপাত বা সম্পদ লুণ্ঠন করে থাকে এবং ধরা পড়ার আগে তওবা করে, তবে যা করেছে তার কিসাস (প্রতিবিধান) নেওয়া হবে, অতঃপর তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।ইবনে ওয়াহব বলেন: ইসমাইল ইবনে আইয়াশ আমাকে মুজাহিদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: মুহারিবকে পাকড়াও করার পর ইমাম তার ব্যাপারে যা ইচ্ছা করবেন। ৩৩ - ইবনে ওয়াহব বলেন: আমি মালিককে সেই মুহারিব সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে পথরোধ করে, সব জায়গায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায় এবং জমিনে যার বিপর্যয় ব্যাপক হয়—যদি তাকে পাকড়াও করা যায় তবে তাকে হত্যা করা হবে, যদিও সে কাউকে হত্যা না করে থাকে; কারণ সে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে, পথ ভীতিময় করেছে এবং মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে।তিনি বলেন: যদি সুলতান তাকে তওবা করে আসার আগেই পাকড়াও করতে সক্ষম হন, তবে সুলতান তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন—হত্যা, শূলে চড়ানো, হাত-পা কাটা অথবা নির্বাসন।মালিক বলেন: এবং তিনি এ বিষয়ে পরামর্শ করবেন।মালিক সেই চোরদের সম্পর্কে বলেছেন যারা একজনকে বা একাধিক ব্যক্তিকে হত্যা করে, অতঃপর ধরা পড়ে কিন্তু তাদের মধ্যে কে হত্যা করেছে তা জানা যায় না; এক্ষেত্রে ইমামের ইখতিয়ার থাকবে, তিনি চাইলে তাদের সবাইকে হত্যা করবেন অথবা চাইলে শূলে চড়াবেন।মালিক সেই মুহারিব সম্পর্কে বলেছেন যে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করে অথবা যে গোপনে এটি করে কিন্তু মানুষের মাঝে প্রকাশ্যে চলাফেরা করে। তিনি বলেন: এক্ষেত্রে প্রকাশ্য ও গোপনকারী উভয়ই সমান। যদি তার উদ্দেশ্য কেবল সম্পদ হয়, সে যদি আতঙ্ক সৃষ্টি করে পথরোধ করে অথবা হত্যা করে, তবে এটি সুলতানের এখতিয়ারে থাকবে; তিনি তার অপরাধ ও বিপর্যয়ের মাত্রা অনুযায়ী ইজতিহাদ করে এই শাস্তিগুলোর যেকোনোটি কার্যকর করবেন। এটি ইমামের খেয়ালখুশি অনুযায়ী হবে না বরং তার ইজতিহাদ অনুযায়ী হবে। আর নির্বাসন হবে মুসলিমদের কোনো প্রবাসী জনপদে। আবু বকর সিদ্দিক (রা.) মদিনা থেকে ফাদাকে নির্বাসিত করেছিলেন।- ইবনে ওয়াহব বলেন: আমি মালিককে সেই ডাকাত মুহারিব সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে যদি তওবা করে ফিরে আসে, তবে ইমাম তা কবুল করবেন এবং তার কৃতকর্মের জন্য তাকে শাস্তি দেবেন না। তবে যদি কেউ তার বিরুদ্ধে রক্তপাত বা সম্পদের দাবি নিয়ে আসে, তবে ইমাম তাকে পাকড়াও করবেন এবং তার ওপর দণ্ড কার্যকর করবেন। মানুষের হকের সাথে সংশ্লিষ্ট যা কিছু তার ওপর আছে, ইমাম তা মওকুফ করবেন না। যদি সে তওবা করে আসে, তবে সুলতান তা কবুল করবেন এবং তার ওপর থেকে হত্যা, শূলে চড়ানো, হাত-পা কাটা ও নির্বাসন মওকুফ করবেন। কিন্তু কেউ যদি কিছু দাবি করে তবে সুলতান তার হক আদায় করবেন; মানুষের হক সুলতান তার তওবার কারণে মাফ করবেন না।- তিনি বলেন: আমি মালিককে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বলতে শুনেছি: {অথবা তাদের দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে} [আল-মায়িদাহ: ৩৩]। তিনি বলেন: নির্বাসন হলো সুলতান তাকে সেই শহর থেকে অন্য শহরে পাঠিয়ে দেবেন এবং তাকে তার শহরে ফিরতে দেবেন না যতক্ষণ না তার তওবা এবং অবস্থার উন্নতির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়।ইবনে ওয়াহব বলেন: মালিক আমাকে আবুয যিনাদ থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ওমর ইবনে আবদুল আজিজের একজন গভর্নর কিছু লোককে ডাকাতির অভিযোগে পাকড়াও করেছিলেন কিন্তু তারা কাউকে হত্যা করেনি। গভর্নর তাদের হত্যা করতে বা হাত-পা কাটতে চেয়েছিলেন। তখন ওমর ইবনে আবদুল আজিজ লিখে পাঠালেন: "তুমি যদি এর মধ্যে সবচেয়ে সহজটি গ্রহণ করতে।"মালিক বলেন: এর দ্বারা তিনি নির্বাসন বুঝিয়েছেন।ইবনে ওয়াহব বলেন: ইবনে লাহীআহ আমাকে ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, হায়িয়ান ইবনে শুরাইহ-এর লেখক সালত তাকে জানিয়েছেন যে, হায়িয়ান ওমর ইবনে আবদুল আজিজের কাছে লিখেছিলেন: কিবতী সম্প্রদায়ের কিছু লোকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণিত হয়েছে যে তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়িয়েছে। আর আল্লাহ বলেন: {যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি কেবল এই যে, তাদের হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হবে} [আল-মায়িদাহ: ৩৩], কিন্তু তিনি নির্বাসনের কথা উল্লেখ করেননি।তিনি লিখেছিলেন: আমিরুল মুমিনীন যদি তাদের ব্যাপারে আল্লাহর ফয়সালা কার্যকর করা সমীচীন মনে করেন, তবে যেন সেই মর্মে লিখে পাঠান।ওমর ইবনে আবদুল আজিজ যখন তার চিঠি পড়লেন, তিনি বললেন: হায়িয়ান তো বেশ ধৃষ্টতা দেখিয়েছে! অতঃপর তিনি তাকে লিখলেন: তোমার চিঠি আমার কাছে পৌঁছেছে এবং আমি তা বুঝতে পেরেছি। তুমি এমন ধৃষ্টতা দেখিয়েছ যেন তুমি ইয়াজিদ ইবনে আবি মুসলিম বা ইরাকের শাসনকর্তা সালিহ-এর মতো করে লিখেছ—যদিও আমি তোমাকে তাদের সাথে তুলনা করছি না। তুমি আয়াতের প্রথম অংশ লিখলে আর শেষ অংশ চেপে গেলে? আল্লাহ তো বলেন: {অথবা তাদের দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে} [আল-মায়িদাহ: ৩৩]। তুমি যা লিখেছ সে অনুযায়ী যদি তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে, তবে তাদের গলায় বেড়ি পরিয়ে দাও এবং তাদের শাগব ও বাদা অঞ্চলে নির্বাসিত করো।ইবনে ওয়াহব বলেন: লায়স ইবনে সাদ আমাকে ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব ও অন্যদের থেকে এই হাদিসের অনুরূপ সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: ওমর ইবনে আবদুল আজিজ তাকে লিখেছিলেন: অতঃপর, তুমি আমাকে মহিমান্বিত আল্লাহর সেই বাণী স্মরণ করিয়ে চিঠি লিখেছ যা মুহারিব সম্পর্কে, কিন্তু আল্লাহর এই বাণী ছেড়ে দিয়েছ: {অথবা তাদের দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে} [আল-মায়িদাহ: ৩৩]। হে উম্মে হায়িয়ানের পুত্র হায়িয়ান, তুমি কতই না মন্দ! বিষয়গুলোকে তার নিজ স্থান থেকে বিচ্যুত করো না। তুমি তো হত্যা ও শূলে চড়ানোর জন্য কোমর বেঁধেছ যেন তুমি বনু আবি আকীলের কোনো দাস—যদিও আমি তোমাকে তার সাথে তুলনা করছি না। যখন তোমার কাছে আমার এই চিঠি পৌঁছাবে, তখন তুমি তাদের শাগব অঞ্চলে নির্বাসিত করো। ৩৯ - ইবনে ওয়াহব বলেন: আবদুল আজিজ ইবনে আবি সালামাহ বলেছেন: আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেছেন: {যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি কেবল এই যে, তাদের হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে...} [আল-মায়িদাহ: ৩৩], পুরো আয়াত। ইবনে আবি সালামাহ বলেন: যারা মুসলিমদের ভূখণ্ডে এই পর্যায়ে পৌঁছাবে—যদিও তারা মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়—এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, পথরোধ করবে ও জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে, তবে এই বিধানগুলো তাদের ওপর কার্যকর হবে যোগ্য ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শক্রমে ইমামের ইজতিহাদ অনুযায়ী। যদি এই মুহারিব কাউকে হত্যা করে থাকে তবে তার বিনিময়ে তাকে হত্যা করা হবে। আর যদি সে হত্যা না-ও করে কিন্তু ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করে থাকে, তবে তার রক্ত বৈধ হয়ে যাবে। ইমাম যদি মনে করেন তাকে হত্যা করবেন, শূলে চড়াবেন বা অঙ্গচ্ছেদ করবেন, তবে তার সেই অধিকার থাকবে। কারণ আল্লাহ বলেছেন: {এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায়} [আল-মায়িদাহ: ৩৩]। তিনি বিশেষভাবে হত্যার কথা উল্লেখ করেননি বরং এমন সব বিষয় উল্লেখ করেছেন যার মধ্যে হত্যা ও অন্যান্য বিপর্যয় অন্তর্ভুক্ত।যদি কেউ বলে: হত্যা না করলে তাকে হত্যা করা উচিত নয়; তবে জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহ বিপর্যয়ের কারণে প্রাণনাশ বৈধ করেছেন যখন তিনি বলেছেন: {যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করল নরহত্যার বিনিময় ছাড়া অথবা জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করা ছাড়া...} [আল-মায়িদাহ: ৩২]। তিনি বলছেন: নরহত্যা বা জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করা ছাড়া। অর্থাৎ যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করল অথচ সে কাউকে হত্যা করেনি বা বিপর্যয় সৃষ্টি করেনি, {সে যেন সব মানুষকে হত্যা করল} [আল-মায়িদাহ: ৩২]। আল্লাহ যুদ্ধের আলোচনায় হত্যাকে বিশেষভাবে আলাদা করেননি বরং তাকে অন্যান্য বিপর্যয়ের সাথে যুক্ত করেছেন। তবে বিপর্যয়ের ধরন ভিন্ন হয়; কোনোটি হয় অনেক বড় ও ভয়াবহ, আবার কোনোটি সেরকম নয়। সুতরাং ইমাম তার ইজতিহাদ অনুযায়ী হত্যা, অঙ্গচ্ছেদ বা শূলে চড়ানোর সিদ্ধান্ত নেবেন।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ৮)
40 - ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ لِعَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ عليه السلام يَقُولُ: " لا يَحِلُّ قَتْلُ الْمُؤْمِنِ إِلا فِي ثَلاثِ خِلالٍ: أَنْ يَقْتُلَ فَيُقْتَلَ بِهِ، أَوْ بِزِنًا بَيِّنٍ فَيُرْجَمُ، أَوْ بِفَسَادٍ فِي الأَرْضِ "، وَاللَّهِ، مَا أَتَى عُثْمَانُ مِنْ هَؤُلاءِ الثَّلاثِ شَيْئًا
৪০ - ইবনু ওয়াহাব বলেন: ইউনুস আমাকে ইবনু শিহাব থেকে অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, আয়েশা আম্মার ইবনু ইয়াসিরকে বলেছিলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "তিনটি কারণ ব্যতীত কোনো মুমিনকে হত্যা করা বৈধ নয়: কাউকে হত্যা করলে তার বিনিময়ে তাকে হত্যা করা হবে, অথবা স্পষ্ট ব্যভিচারের অপরাধে পাথর নিক্ষেপ করা হবে, অথবা ফাসাদ সৃষ্টির মাধ্যমে জমিনে।" আল্লাহর শপথ, উসমান এই তিনটির কোনোটিই করেননি।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ৯)
41 - ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ قَالَ: لا نَعْلَمُهُ يَحِلُّ قَتْلُ الْمُسْلِمِ إِلا بِأَرْبَعَةٍ: بِأَنْ يَكْفُرَ بَعْدَ إِيمَانِهِ، أَوْ يَقْتُلَ نَفْسًا فَيُقَادَ بِهَا، أَوْ يَزْنِيَ وَقَدْ أُحْصِنَ فَيُرْجَمَ، أَوْ بِفَسَادٍ فِي الأَرْضِ فَيُقْتَلَ بِالْفَسَادِ- قَالَ مَالِكٌ: أَمَّا الْمُحَارِبُ فَرَجُلٌ حَمَلَ عَلَى قَوْمٍ بِالسِّلاحِ فَضَرَبَ رَجُلا عَلَى غَيْرِ نَائِرَةٍ وَلا دَخْلٍ وَلا عَدَاوَةٍ ، أَوْ قَطَعَ طَرِيقًا، أَوْ أَخَافَ الْمُسْلِمِينَ، فَهَذَا إِذَا أُخِذَ فَإِنَّ الإِمَامَ يَلِي قَتْلَهُ وَلا يَنْتَظِرُ بِهِ وَلا يَجُوزُ لَهُ فِيهِ عَفْوٌ، وَأَمَّا الْمُغْتَالُ فَرَجُلٌ عَرَضَ لِرَجُلٍ أَوْ صَبِيٍّ فَخَدَعَهُ حَتَّى أَدْخَلَهُ بَيْتًا فَقَتَلَهُ وَأَخَذَ مَتَاعَهُ، فَهَذِهِ الْغِيلَةُ، أَوْ رَجُلٌ شَدَّ عَلَى قَوْمٍ، عَرَضَ لَهُمْ فِي طَرِيقٍ، فَشَدَّ عَلَيْهِمْ فَقَتَلَ وَأَخَذَ مَتَاعًا، فَتِلْكَ الْغِيلَةُ أَيْضًا، وَهِيَ عِنْدِي بِشَبَهِ الْمُحَارَبَةِ، فَإِذَا ظَهَرَ عَلَى هَذَا فَقَتَلَ، وَلَمْ يَكُنْ لِلإِمَامِ أَنْ يَعْفُوَ عَنْهُ، وَإِنَّمَا قَاتِلُ الْغِيلَةِ يُعَدُّ مِنَ الْمُحَارِبَةِ.- قَالَ مَالِكٌ: وَأَمَّا رَجُلٌ دَخَلَ عَلَى رَجُلٍ فِي حَرِيمِهِ مُكَابِرًا حَتَّى ضَرَبَهُ أَوْ جَرَحَهُ أَوْ قَتَلَهُ، وَخَرَجَ مُكَابِرًا وَلَمْ يَنْتَهِبْ مَتَاعًا، وَإِنَّمَا كَانَ ضَرْبُهُ إِيَّاهُ لِنَائِرَةٍ كَانَتْ بَيْنَهُمَا أَوْ عَدَاوَةٍ، فَهَذِهِ النَّائِرَةُ لا يَشُكُّ فِيهَا أَحَدٌ، أَنَّهُ إِذَا أُخِذَ فَعَلَيْهِ الْقِصَاصُ.قَالَ: وَالْعَفْوُ يَجُوزُ فِيهِ لأَوْلِيَاءِ الْمَقْتُولِ، إِنْ هُمْ عَفَوْا وَعَلَيْهِ الْعُقُوبَةُ جَلْدُ مِائَةٍ، وَحَبْسُ عَامٍ.4- وَقَالَ مَالِكٌ: إِذَا كَانَ الرَّجُلُ قَاطِعًا لِلسَّبِيلِ يَحِقُّ عَلَى مَنْ لَقِيَهُ قِتَالُهُ وَالْحِرْصُ عَلَى سَفْكِ دَمِهِ، وَلَوْ قَطَعَ بِنَاسٍ، ثُمَّ رَآهُ غَيْرُهُمْ كَانَ حَقًّا عَلَيْهِمْ أَنْ يَتَعَاوَنُوا عَلَيْهِ، قِيلَ لَهُ: فَمَنْ قُتِلَ عَلَى مِثْلِ ذَلِكَ، قَالَ: قُتِلَ عَلَى خَيْرٍ، وَلَمْ أَزَلْ أَسْمَعُ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ عليه السلام قَالَ: مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ وَنَفْسِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ.- وَقَالَ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ: مَا كَانَ مِنْ قَتَلَ غِيلَةً عَنْ غَيْرِ ظِنَّةٍ وَلا عَدَاوَةٍ وَلا نَائِرَةٍ، أَوْ مُحَارَبَةً لِلْمُسْلِمِينَ بِلُصُوصِيَّةٍ عَنْ غَيْرِ تَأْوِيلٍ فِي دِينٍ وَلا شُبْهَةٍ وَلا خُلُوعًا وَفِسْقًا وَمُحَارَبَةً لِلْمُسْلِمِينَ وَمُرُوقًا، فَإِنَّهُ لَيْسَ لأَهْلِ الدَّمِ فِي ذَلِكَ قَبْضٌ، وَلا شَرْطٌ مِنْ عَفْوٍ، وَلا غَيْرُهُ، وَإِنَّمَا وَلِيَ ذَلِكَ الإِمَامُ.- قَالَ مَالِكٌ: قَتْلُ الْغِيلَةِ أَنْ يَقْتُلَ رَجُلٌ رَجُلا عَلَى غَيْرِ ذِحْلٍ وَلا عَدَاوَةٍ، وَأَنْ يَقْتُلَ رَجُلٌ عَلَى مَالِهِ، وَإِنَّ ذَلِكَ لَيْسَ بِعَفْوٍ عَنْهُ، لَيْسَ بِمَنْزِلَةِ قَتْلِ الْعَمْدِ عَلَى وَجْهِ الْعَدَاوَةِ وَالنَّائِرَةِ، وَإِنَّمَا قَاتِلُ الْغِيلَةِ يُعَدُّ مِنَ الْمُحَارِبَةِ، وَمَا كَانَ مِنْ قَتَلَ غِيلَةً عَنْ غَيْرِ ظِنَّةٍ وَلا عَدَاوَةٍ وَلا نَائِرَةٍ إِلا مُحَارَبَةً لِلْمُسْلِمِينَ بِلُصُوصِيَّةٍ فَإِنَّمَا وَلِيَ ذَلِكَ الإِمَامُ.
41 - ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইউনুস ইবনে শিহাব থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে পৌঁছেছে যে উসমান ইবনে আফফান (রা.) বলেছেন: আমরা জানি না যে কোনো মুসলিমকে হত্যা করা বৈধ, কেবল চারটি কারণ ব্যতীত: ঈমান আনার পর কুফরি করলে, অথবা কাউকে হত্যা করলে যার কারণে কিসাস হিসেবে তাকে হত্যা করা হবে, অথবা বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও ব্যভিচার করলে তখন তাকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা হবে, অথবা জমিনে ফাসাদ (বিপর্যয়) সৃষ্টি করলে সেই ফাসাদের কারণে তাকে হত্যা করা হবে।- ইমাম মালিক বলেন: 'মুহারিব' (যোদ্ধা/ডাকাত) হলো সেই ব্যক্তি যে একদল লোকের ওপর অস্ত্র নিয়ে হামলা করে এবং কোনো পূর্ব শত্রুতা, দ্বন্দ্ব বা বিদ্বেষ ছাড়াই কাউকে আঘাত করে, অথবা পথিমধ্যে ডাকাতি করে, অথবা মুসলিমদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করে। এমন ব্যক্তিকে যখন ধরা হবে, তখন ইমাম (রাষ্ট্রপ্রধান) তাকে হত্যা করার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তার ব্যাপারে অপেক্ষা করা হবে না এবং এক্ষেত্রে ইমামের জন্য ক্ষমা করারও কোনো অবকাশ নেই। আর 'মুগতাল' (গুপ্তঘাতক) হলো সেই ব্যক্তি যে কোনো পুরুষ বা শিশুর সামনে উপস্থিত হয়ে তাকে প্রতারিত করে কোনো ঘরে নিয়ে যায় এবং তাকে হত্যা করে তার মালপত্র নিয়ে নেয়; এটিই হলো 'গিলাহ' (গুপ্তহত্যা)। অথবা যে ব্যক্তি কোনো দলের ওপর চড়াও হয় এবং পথে তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, অতঃপর তাদের ওপর আক্রমণ করে হত্যা করে এবং মালামাল নিয়ে নেয়, সেটিও 'গিলাহ' হিসেবে গণ্য। আমার মতে এটি 'মুহারাবা' (সশস্ত্র ডাকাতি) এর সমতুল্য। সুতরাং যখন এই ব্যক্তির ওপর বিজয় লাভ করা হবে এবং সে হত্যা করে থাকবে, তখন ইমামের জন্য তাকে ক্ষমা করার অধিকার থাকবে না। মূলত গুপ্তঘাতককে 'মুহারাবা'র অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়।- ইমাম মালিক বলেন: আর যে ব্যক্তি কোনো লোকের ব্যক্তিগত সীমানায় জবরদস্তিমূলকভাবে প্রবেশ করে তাকে প্রহার করে বা জখম করে অথবা হত্যা করে, এবং কোনো মালামাল লুট না করে দাপটের সাথে বেরিয়ে যায়, আর তার সেই প্রহার যদি তাদের মধ্যকার কোনো পূর্ব শত্রুতা বা বিদ্বেষের কারণে হয়, তবে এটি এমন এক শত্রুতা যাতে কারো কোনো সন্দেহ নেই যে, তাকে ধরা হলে তার ওপর 'কিসাস' (প্রতিবিধান) কার্যকর হবে।তিনি বলেন: এক্ষেত্রে নিহতের উত্তরাধিকারীদের জন্য ক্ষমা করা বৈধ; যদি তারা ক্ষমা করে দেয়, তবে সেই অপরাধীর ওপর শাস্তি হিসেবে একশত দোররা এবং এক বছরের কারাদণ্ড কার্যকর হবে।4- ইমাম মালিক বলেন: যখন কোনো ব্যক্তি পথিমধ্যে ডাকাতি করে (ডাকাত হয়), তখন যার সাথেই তার দেখা হবে তার জন্য তাকে হত্যা করা এবং তার রক্ত ঝরানোর ব্যাপারে সচেষ্ট হওয়া আবশ্যক। সে যদি কিছু লোকের ওপর ডাকাতি করে, অতঃপর অন্য কেউ তাকে দেখতে পায়, তবে তাদের জন্য আবশ্যক হলো তার বিরুদ্ধে পরস্পরকে সহযোগিতা করা। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: এই অবস্থায় যে নিহত হলো তার সম্পর্কে কী বলবেন? তিনি বললেন: সে কল্যাণের ওপর মৃত্যুবরণ করল। আমি সর্বদা আহলে ইলমদের (বিদ্বানদের) কাছ থেকে শুনে আসছি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ ও জীবন রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ।- আব্দুল আজিজ ইবনে আবি সালামাহ বলেন: যে ব্যক্তি কোনো সন্দেহ, শত্রুতা বা বিদ্বেষ ছাড়াই গুপ্তহত্যা (গিলাহ) করেছে, অথবা দ্বীনের কোনো ভুল ব্যাখ্যা (তাবিল) বা সংশয় ছাড়াই কেবল দস্যুতার মাধ্যমে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, অথবা অবাধ্যতা, পাপাচার ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং দ্বীন থেকে বের হয়ে যাওয়ার কারণে লড়াই করেছে—এক্ষেত্রে রক্তের উত্তরাধিকারীদের (নিহতের ওয়ারিশদের) কোনো অধিকার নেই যে তারা হত্যাকারীকে পাকড়াও করবে বা ক্ষমার শর্তারোপ করবে বা অন্য কিছু করবে; বরং এর কর্তৃত্ব কেবল ইমামের হাতে ন্যস্ত।- ইমাম মালিক বলেন: গুপ্তহত্যা (গিলাহ) হলো কোনো ব্যক্তি কর্তৃক অন্য ব্যক্তিকে কোনো পূর্ব শত্রুতা বা বিদ্বেষ ছাড়াই হত্যা করা, অথবা কোনো ব্যক্তিকে তার সম্পদের জন্য হত্যা করা। এক্ষেত্রে হত্যাকারীকে ক্ষমা করা হবে না। এটি শত্রুতা বা বিদ্বেষের কারণে সংঘটিত সাধারণ ইচ্ছাকৃত হত্যার মতো নয়। মূলত গুপ্তঘাতককে 'মুহারাবা'র (সশস্ত্র দস্যুতা) অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়। আর যে ব্যক্তি কোনো সন্দেহ, শত্রুতা বা বিদ্বেষ ছাড়াই কেবল দস্যুতার মাধ্যমে মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করে এবং গুপ্তহত্যা করে, তার বিষয়টি বিচারের ভার কেবল ইমামের ওপর ন্যস্ত।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ১০)
47 - ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي خَالِدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَنَّ إِسْحَاقَ بْنَ أَبِي سُلَيْمَانَ الأَنْصَارِيَّ حَدَّثَهُمْ، أَنَّهُ سَأَلَ رَبِيعَةَ بْنَ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ رَجُلٍ عَرَضَ لَهُ لِصٌّ لِيَغْصِبَهُ مَالَهُ، فَرَمَاهُ فَنَزَعَ عَيْنَهُ، هَلْ عَلَيْهِ دِيَةٌ، فَقَالَ: لا، وَلا نَفْسَهُ، فَقُلْتُ لِرَبِيعَةَ: عَنْ مَنْ تَذْكُرُ ذَلِكَ، فَقَالَ: كَانَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ يُخْبِرَانِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ عليه السلام أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَأَفْضَلُ شَهِيدٍ قُتِلَ فِي الإِسْلامِ بَعْدَ أَنْ يَتَعَوَّذَ بِاللَّهِ وَبِالإِسْلامِ ثَلاثَ مَرَّاتٍ، وَإِنْ قَتَلَ الرَّجُلُ اللِّصَّ فَشَرُّ قَتِيلٍ قُتِلَ فِي الإِسْلامِ» .قَالَ إِسْحَاقُ: وَكَانَ مُسْلِمُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ يَرَى هَذَا أَيْضًا
৪৭ - ইবনে ওয়াহাব বলেন: খালিদ ইবনে হুমাইদ আমাকে অবহিত করেছেন যে, ইসহাক ইবনে আবি সুলাইমান আল-আনসারি তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাবিয়া ইবনে আবি আবদুর রহমানকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যার সম্পদের ওপর এক চোর চড়াও হয়েছিল তা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে; এরপর সে (মালিক) তাকে আঘাত করল এবং তার চোখ উপড়ে ফেলল, এমতাবস্থায় তার ওপর কি কোনো রক্তপণ (দিয়াত) বর্তাবে? তিনি (রাবিয়া) বললেন: না, এমনকি তার জীবনের (হত্যার) ক্ষেত্রেও কোনো দায় নেই। আমি রাবিয়াকে বললাম: আপনি কার উদ্ধৃতিতে এটি উল্লেখ করছেন? তিনি বললেন: সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস এবং আবদুর রহমান ইবনে আউফ আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করতেন যে তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়, সে ইসলামে নিহত হওয়া শ্রেষ্ঠ শহীদ, যদি সে (তার আগে) তিনবার আল্লাহর নিকট এবং ইসলামের দোহাই দিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করে থাকে। আর যদি ওই ব্যক্তি চোরকে হত্যা করে, তবে সে (চোর) ইসলামে নিহত হওয়া নিকৃষ্টতম ব্যক্তি।”ইসহাক বলেন: মুসলিম ইবনে আবি মারইয়ামও এই মত পোষণ করতেন।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ১১)
48 - ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ الْعُمَرِيُّ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ عليه السلام: «مَنْ قَاتَلَ دُونَ مَالِهِ حَتَّى يُقْتَلَ فَهُوَ شَهِيدٌ»ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ قَالَ: سَأَلْتُ نَافِعًا مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ لِصٍّ إِمَّا مُسْلِمًا وَإِمَّا كَافِرًا لَقِيَ رَجُلا مُسْلِمًا فَأَرَادَ أَنْ يَأْخُذَ مَالَهُ أَوْ يُهَرِيقَ دَمَهُ قَالَ: لَوْ كُنْتُ أَنَا امْتَنَعْتُ، قَالَ اللَّهُ: {وَالَّذِينَ إِذَا أَصَابَهُمُ الْبَغْيُ هُمْ يَنْتَصِرُونَ} [الشورى: 39] ، وَهَذَا الَّذِي يَسْتَقْتِلُنِي، يُرِيدَ تَهْرِيقَ دَمِي وَيَأْخُذَ مَالِي، لَيْسَ بِمُسْلِمٍأَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَتِيقٍ قَالَ: قُلْتُ لِلْحَسَنِ، يَا أَبَا سَعِيدٍ، إِنَّا نَخْرُجُ تُجَّارًا يَعْرِضُ لَنَا قَوْمٌ يَقْطَعُونَ عَلَيْنَا السَّبِيلَ مِنْ أَهْلِ الإِسْلامِ، قَالَ: أَيُّهَا الرَّجُلُ، قَاتِلْ عَنْ نَفْسِكَ وَمَالِكَأَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَشْهَلُ بْنُ حَاتِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ أَنَّهُ قَالَ: مَا عَلِمْتُ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ تَرَكَ قِتَالَ مَنْ يُرِيدُ نَفْسَهُ وَمَالَهُ تَأَثُّمًا، وَكَانُوا يَكْرَهُونَ قِتَالَ الأُمَرَاءِابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ أَنَّهُ قَالَ: مَا عَلِمْتُ أَحَدًا تَرَكَ قِتَالَ الْحَرُورِيَّةِ وَاللُّصُوصِ تَخَرُّجًا إِلا أَنْ يَجْبُنَ رَجُلٌ، فَإِنَّ ذَلِكَ الْمِسْكِينَ لا يُلامُ
48 - ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমাকে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যায়েদ আল-উমারি সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আসেম ইবনে উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে লড়াই করে এবং নিহত হয়, সে শহীদ।»ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমাকে ইবনে লাহিয়াহ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আবু জাফর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমরের মুক্তদাস নাফেকে এমন এক চোর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম—সে মুসলিম হোক বা কাফের—যে কোনো মুসলিম ব্যক্তির মুখোমুখি হয় এবং তার সম্পদ কেড়ে নিতে চায় অথবা তার রক্ত ঝরাতে চায়। তিনি বললেন: আমি যদি হতাম তবে অবশ্যই তাকে প্রতিহত করতাম। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং যারা আক্রান্ত হলে তারা প্রতিরোধ করে} [আশ-শূরা: ৩৯]। আর যে আমাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়, আমার রক্ত ঝরাতে চায় এবং আমার সম্পদ কেড়ে নিতে চায়, সে মুসলিম (সুলভ আচরণকারী) নয়।আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাকে জারীর ইবনে হাযিম সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আতিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি হাসান বসরীকে বললাম, হে আবু সাঈদ, আমরা ব্যবসায়ী হিসেবে সফরে বের হই, এমতাবস্থায় আহলে ইসলামের মধ্য থেকে কিছু লোক আমাদের সামনে আসে যারা আমাদের পথরোধ করে (ডাকাতি করে)। তিনি বললেন: হে ব্যক্তি, তুমি তোমার নিজের জান ও মালের রক্ষায় লড়াই করো।আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাকে আশহাল ইবনে হাতিম সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আউন থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: মানুষের মধ্যে এমন কাউকে আমি জানি না যে পাপের ভয়ে (তাকওয়ার কারণে) এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধে লড়াই ত্যাগ করেছে যে তার জান ও মাল কেড়ে নিতে চায়; তবে তারা শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াই করা অপছন্দ করতেন।ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমাকে জারীর ইবনে হাযিম সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আইয়ুব আল-সাখতিয়ানি থেকে, তিনি ইবনে সিরীন থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমি কাউকে জানি না যে হারুরিয়া (খারেজি) এবং চোর-ডাকাতদের বিরুদ্ধে লড়াই করাকে ধর্মীয় সাবধানতার কারণে বর্জন করেছে, তবে কেউ যদি ভীরুতার কারণে বর্জন করে (সে আলাদা বিষয়), কেননা সেই অসহায় ব্যক্তিকে তিরস্কার করা যাবে না।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ১২)
53 - ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ عليه السلام: «مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلاحَ فَلَيْسَ مِنَّا، وَلا رَاصِدٌ بِطَرِيقٍ»
৫৩ - ইবনে ওয়াহাব বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আমর আমাকে অবহিত করেছেন, ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আমর ইবনে শুআইব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, এবং যে পথে ওত পেতে থাকে সেও (আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়)»
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
54 - ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، وَيُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، وَأُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ وَغَيْرُهُمْ، أَنَّ نَافِعًا أَخْبَرَهُمْ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ عليه السلام قَالَ: «مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلاحَ فَلَيْسَ مِنَّا»وَأَخْبَرَنِي ابْنُ سَمْعَانَ قَالَ: كَانَ مُجَاهِدُ بْنُ جَبْرٍ يَقُولُ فِي الْمُحَارِبِ الْمُرْتَدِّ عَنِ الإِسْلامِ الْمُشْرِكِ أَنْ يُصْلَبَ فَيُقْتَلَ مَصْلُوبًاوَأَخْبَرَنِي ابْنُ سَمْعَانَ أَنَّ غَالِبَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ مَنْ أَدْرَكَ مِنَ الْعُلَمَاءِ أَنَّهُ مَضَتِ السُّنَّةُ فِي الْمُحَارِبِ الْخَارِبِ إِذَا قَتَلَ وَأَصَابَ الأَمْوَالَ أَنْ يُصْلَبَ فَيُقْتَلَ مَصْلُوبًا 57 - قَالَ: وَسَمِعْتُ اللَّيْثَ بْنَ سَعْدٍ يَقُولُ فِي الَّذِي يَقْتُلُ وَيَأْخُذُ الْمَالَ أَنَّهُ يُصْلَبُ حَيًّا وَيُطْعَنُ بِالْحَرْبَةِ حَتَّى يَمُوتَ، وَالَّذِي يُقْتَلُ بِغَيْرِ صَلْبٍ أَنَّهُ يُقْتَلُ بِالسَّيْفِ.مَا جَاءَ فِي قَتْلِ الْحَرُورِيَّةِقَالَ: وَأَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ: قُلْتُ لِعَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ: مَا يُحِلُّ لِي قِتَالَ الْحَرُورِيَّةِ قَالَ: إِذَا قَطَعُوا السَّبِيلَ وَأَخَافُوا الآمِنَ، قَالَ: فَقُلْتُ لِعَطَاءٍ: فَقَاتَلَتِ الْحَرُورِيَّةُ، ثُمَّ أُخِذُوا، قَالَ: يُقْتَلُ مِنْهُمْ مَنْ قَتَلَ، وَيُؤْخَذُ الْمَتَاعُ مِمَّنْ أَخَذَهُ مِنْهُمْ، وَلا يُقَطَّعُ، وَيُسْجَنُ مِنْ نَفْيٍ، وَيُسْتَتَابُونَ وَلا يُقْتَلُونَ.قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ: وَقَالَهُ عَبْدُ الْكَرِيمِ 59 - قَالَ ابْنُ وَهْبٍ: وَبَلَغَنِي عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَنَّهُ كَتَبَ فِي خَارِجِيٍّ خَرَجَ بِخُرَسَانَ فَأَشَارَ بِسَيْفِهِ فَأُخِذَ، إِنْ كَانَ قَتَلَ قُتِلَ، وَإِنْ كَانَ جَرَحَ جُرِحَ، وَإِلا اسْتُودِعَ السِّجْنَ، فَاجْعَلُوا أَهْلَهُ قَرِيبًا مِنْهُ حَتَّى يَتُوبَ مِنْ رَأْيِهِ السُّوءِ.وَقَالَ الضَّحَّاكُ بْنُ مُزَاحِمٍ مِثْلَهُ.ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مَسْلَمَةُ بْنُ عَلِيٍّ، وَغَيْرُهُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ أَنَّهُ قَالَ فِي الْحَرُورِيَّةِ: إِذَا خَرَجُوا فَسَفَكُوا الدِّمَاءَ فَقِتَالُهُمْ حَلالٌ.قَالَ: وَسَمِعْتُ مَنْ أَرْضَى مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ يَقُولُ ذَلِكَوَحَدَّثَنِي سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ قَالَ: ذَكَرْتُ الْخَوَارِجَ وَاجْتِهَادَهُمْ عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَنَا عِنْدَهُ، قَالَ: فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: لَيْسُوا بِأَشَدِّ اجْتِهَادًا مِنَ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى، ثُمَّ هُمْ يُضَلُّونَابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ أَنَّ الْحَرُورِيَّةَ خَرَجَتْ فَنَازَعُوا عَلِيًّا وَفَارَقُوهُ وَشَهِدُوا عَلَيْهِ بِالشِّرْكِ، فَلَمْ يَهْجُهُمْ، ثُمَّ خَرَجُوا إِلَى حَرُورَاءَ، فَأُتِيَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فَأُخْبِرَ أَنَّهُمْ يَتَجَهَّزُونَ مِنَ الْكُوفَةِ، فَقَالَ: دَعُوهُمْ، ثُمَّ خَرَجُوا فَنَزَلُوا بِالنَّهْرَوَانِ فَمَكَثُوا بِهِ شَهْرًا، فَقِيلَ لَهُ: أَغْزِهِمُ الآنَ، فَقَالَ: لا، حَتَّى يُهَرِيقُوا الدِّمَاءَ وَيَقْطَعُوا السَّبِيلَ وَيُخِيفُوا الأَمْنَ، فَلَمْ يَهْجُهُمْ حَتَّى قَتَلُوا، فَأَغْزَاهُمْ، فَقُتِلُوا
৫৪ - ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমাকে আবদুল্লাহ ইবনে উমর, মালিক ইবনে আনাস, ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ, উসামা ইবনে যায়েদ এবং অন্যরা সংবাদ দিয়েছেন যে, নাফে' তাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সালাম) বলেছেন: «যে আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়»এবং আমাকে ইবনে সামআন সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুজাহিদ ইবনে জাবর ইসলাম থেকে ধর্মত্যাগী মুশরিক মুহারিব (সশস্ত্র ডাকাত) সম্পর্কে বলতেন যে, তাকে ক্রুশবিদ্ধ করা হবে এবং ক্রুশবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হত্যা করা হবে।এবং আমাকে ইবনে সামআন সংবাদ দিয়েছেন যে, গালিব ইবনে উবাইদুল্লাহ তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি যে সকল আলেমদের পেয়েছেন তাদের নিকট শুনেছেন যে, ধ্বংসাত্মক মুহারিবের ব্যাপারে সুন্নাহ (প্রথা) এই যে, যখন সে কাউকে হত্যা করে এবং সম্পদ আত্মসাৎ করে, তখন তাকে ক্রুশবিদ্ধ করা হবে এবং ক্রুশবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হত্যা করা হবে। ৫৭ - তিনি বলেন: আমি লাইস ইবনে সা'দকে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে হত্যা করে এবং সম্পদ লুণ্ঠন করে যে, তাকে জীবিত অবস্থায় ক্রুশবিদ্ধ করা হবে এবং বর্শা দিয়ে আঘাত করা হবে যতক্ষণ না সে মৃত্যুবরণ করে; আর যাকে ক্রুশবিদ্ধ করা ছাড়া হত্যা করা হবে, তাকে তলোয়ার দিয়ে হত্যা করা হবে।হারুরিয়াদের (খাওয়ারিজ) হত্যার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছেতিনি বলেন: এবং আমাকে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে জুরাইজ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আতা ইবনে আবি রাবাহকে বললাম: কোন বিষয়টি আমার জন্য হারুরিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হালাল করবে? তিনি বললেন: যখন তারা পথ রোধ করবে এবং নিরাপদ ব্যক্তিদের ভীত-সন্ত্রস্ত করবে। তিনি বলেন: এরপর আমি আতাকে বললাম: যদি হারুরিয়ারা যুদ্ধ করে এবং পরে ধরা পড়ে? তিনি বললেন: তাদের মধ্যে যে হত্যা করেছে তাকে হত্যা করা হবে, এবং যাদের থেকে সম্পদ নেওয়া হয়েছে তাদের থেকে তা ফিরিয়ে নেওয়া হবে, আর (হাত-পা) কাটা হবে না, এবং নির্বাসনের পরিবর্তে কারারুদ্ধ করা হবে, আর তাদের তাওবা করানো হবে কিন্তু (অন্যথায়) হত্যা করা হবে না।ইবনে জুরাইজ বলেন: এবং আবদুল করিমও অনুরূপ কথা বলেছেন। ৫৯ - ইবনে ওয়াহাব বলেন: উমর ইবনে আবদুল আজিজ থেকে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি খোরাসানে বিদ্রোহকারী এক খারেজী সম্পর্কে লিখেছিলেন যে নিজের তলোয়ার দ্বারা ইঙ্গিত করেছিল এবং তাকে ধরা হয়েছিল: যদি সে হত্যা করে থাকে তবে তাকে হত্যা করা হবে, যদি সে আহত করে থাকে তবে তাকে (কিসাস স্বরূপ) আহত করা হবে, অন্যথায় তাকে কারাগারে সোপর্দ করা হবে; এবং তার পরিবারকে তার নিকটবর্তী স্থানে থাকতে দাও যতক্ষণ না সে তার মন্দ চিন্তা থেকে তাওবা করে।এবং যাহহাক ইবনে মুজাহিমও অনুরূপ বলেছেন।ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমাকে মাসলামাহ ইবনে আলী এবং অন্যান্যরা আল-আওজায়ী থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি হারুরিয়াদের সম্পর্কে বলেছেন: যখন তারা বিদ্রোহ করে রক্তপাত ঘটাবে, তখন তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হালাল।তিনি বলেন: আমি আলেমদের মধ্যে যাদের বক্তব্য নির্ভরযোগ্য মনে করি, তাদেরও এটি বলতে শুনেছি।এবং সুফিয়ান ইবনে উইয়ায়না উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি ইয়াজিদ থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসের নিকট থাকাকালীন খারেজীদের এবং তাদের ইবাদতের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করলাম। তিনি বলেন: তখন আমি তাকে বলতে শুনলাম: তারা ইয়াহুদী ও নাসারাদের চেয়ে বেশি ইবাদত প্রচেষ্টাকারী নয়, অথচ তারা পথভ্রষ্ট।ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমাকে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে জুরাইজ থেকে এবং তিনি আবদুল করিম থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, হারুরিয়ারা বিদ্রোহ করল এবং আলীর সাথে বিবাদে লিপ্ত হলো এবং তাকে ত্যাগ করল এবং তার বিরুদ্ধে শিরকের সাক্ষ্য দিল, কিন্তু তিনি তাদের উত্যক্ত করেননি। এরপর তারা হারুরার দিকে চলে গেল, তখন আলী ইবনে আবি তালিবের নিকট এসে সংবাদ দেওয়া হলো যে তারা কুফা থেকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বললেন: তাদের ছেড়ে দাও। এরপর তারা বের হয়ে নাহারওয়ানে অবস্থান করল এবং সেখানে এক মাস অতিবাহিত করল। তাকে বলা হলো: এখনই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করুন। তিনি বললেন: না, যতক্ষণ না তারা রক্তপাত ঘটায়, পথ রোধ করে এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে। ফলে তিনি তাদের উত্যক্ত করেননি যতক্ষণ না তারা হত্যাযজ্ঞ চালাল; এরপর তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন এবং তারা নিহত হলো।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
63 - ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: بَيْنَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ عليه السلام، وَهُوَ يَقْسِمُ قَسْمًا، أَتَاهُ ذُو الْخُوَيْصِرَةِ، وَهُوَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَعْدِلْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ عليه السلام: وَيْلَكَ، وَمَنْ يَعْدِلُ إِذَا لَمْ أَعْدِلْ، قَدْ خِبْتَ وَخَسِرْتَ إِنْ لَمْ أَعْدِلْ، قَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ائْذَنْ لِي فِيهِ أَضْرِبَ عُنُقَهُ، قَالَ: دَعْهُ، فَإِنَّ لَهُ أَصْحَابًا يُحَقِّرُ أَحَدُكُمْ صَلاتَهُ مَعَ صَلاتِهِمْ وَصِيَامَهُ مَعَ صِيَامِهِمْ، يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ، يَمْرُقُونَ مِنَ الإِسْلامِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ، يُنْظَرُ إِلَى نَصْلِهِ فَلا يُوجَدُ فِيهِ شَيْءٌ، ثُمَّ يُنْظَرُ إِلَى رِصَافِهِ فَلا يُوجَدُ فِيهِ شَيْءٌ، ثُمَّ يُنْظَرُ إِلَى نَضِيِّهِ فَلا يُوجَدُ فِيهِ شَيْءٌ، وَهُوَ الْقِدْحُ، ثُمَّ يُنْظَرُ إِلَى قُذَذِهِ فَلا يُوجَدُ فِيهِ شَيْءٌ، سَبَقَ الْفَرْثَ وَالدَّمَ، آيَتُهُمْ رَجُلٌ أَسْوَدُ، إِحْدَى عَضُدَيْهِ مِثْلَ ثَدْيِ الْمَرْأَةِ، أَوْ مِثْلَ الْبَضْعَةِ تَدَرْدَرُ، يَخْرُجُونَ عَلَى خَيْرِ فِرْقَةٍ مِنَ النَّاسِ.قَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ: فَأَشْهَدُ أَنِّي سَمِعْتُ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ، وَأَشْهَدُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ قَاتَلَهُمْ وَأَنَا مَعَهُ، فَأَمَرَ بِذَلِكَ الرَّجُلِ، فَالْتُمِسَ فَوُجِدَ فَأُتِيَ بِهِ حَتَّى نَظَرْتُ إِلَيْهِ عَلَى نَعْتِ رَسُولِ اللَّهِ عليه السلام الَّذِي نَعَتَ
৬৩ - ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইউনুস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে শিহাব থেকে, তিনি বলেন: আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে, তিনি বলেন: আমরা যখন আল্লাহর রাসূলের (সা.) নিকট উপস্থিত ছিলাম এবং তিনি বণ্টন করছিলেন, তখন যুল-খুওয়াইসিরা তাঁর নিকট আসলো—সে ছিল বনী তামীম গোত্রের একজন লোক। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! ইনসাফ করুন। তখন আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন: তোমার জন্য আক্ষেপ! আমি যদি ইনসাফ না করি তবে কে ইনসাফ করবে? আমি যদি ইনসাফ না করি তবে তো তুমি ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হলে। ওমর (রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন যেন আমি তার ঘাড় উড়িয়ে দিই। তিনি বললেন: তাকে ছেড়ে দাও, কারণ তার এমন কিছু সঙ্গী থাকবে যাদের নামাযের তুলনায় তোমাদের কেউ নিজের নামাযকে তুচ্ছ মনে করবে এবং তাদের রোযার তুলনায় নিজের রোযাকে তুচ্ছ মনে করবে। তারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালীর নিচে নামবে না। তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়। তীরের ফলার দিকে তাকালে তাতে কিছুই পাওয়া যাবে না, এরপর তার বেষ্টনীর দিকে তাকালে তাতেও কিছু পাওয়া যাবে না, এরপর তার দণ্ডের দিকে তাকালে তাতেও কিছু পাওয়া যাবে না—আর তা হলো কাঠের অংশ—এরপর তার পালকের দিকে তাকালে তাতেও কিছু পাওয়া যাবে না। তীরটি (এত দ্রুত) মলমূত্র ও রক্ত অতিক্রম করে গেছে যে তাতে কোনো চিহ্ন নেই। তাদের নিদর্শন হলো এমন এক কালো লোক, যার এক বাহু নারীর স্তনের মতো অথবা মাংসপিণ্ডের মতো যা নড়াচড়া করছে। তারা মানুষের মধ্যে একটি উত্তম দলের বিভক্তির সময় বের হবে।আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) বলেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি এটি আল্লাহর রাসূলের (সা.) নিকট থেকে শুনেছি এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আলী ইবনে আবী তালিব তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন এবং আমি তাঁর সাথে ছিলাম। এরপর তিনি সেই লোকটির ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন, তাকে খোঁজা হলো এবং পাওয়া গেল। তাকে নিয়ে আসা হলো, এমনকি আমি তাকে আল্লাহর রাসূলের (সা.) দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী হুবহু দেখতে পেলাম।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
64 - وَأَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ عليه السلام يَقُولُ: إِنَّ الْحَرُورِيَّةَ لَمَّا خَرَجَتْ وَهُوَ مَعَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ فَقَالُوا: لا حُكْمَ إِلا لِلَّهِ، قَالَ عَلِيٌّ: كَلِمَةُ حَقٍّ أُرِيدَ بِهَا بَاطِلٌ، إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ وَصَفَ نَاسًا، إِنِّي لَأَعْرِفُ صِفَتَهُمْ فِي هَؤُلاءِ، يَقُولُونَ الْحَقَّ بِأَلْسِنَتِهِمْ لا يُجَاوِزُ هَذَا مِنْهُمْ، وَأَشَارَ إِلَى حَلْقِهِ، مِنْ أَبْغَضِ خَلْقِ اللَّهِ إِلَيْهِ مِنْهُمْ أَسْوَدُ إِحْدَى يَدَيْهِ طُبْيُ شَاةٍ أَوْ حَلَمَةُ ثَدْيٍ، فَلَمَّا قَتَلَهُمْ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ قَالَ: انْظُرُوا، فَنَظَرُوا فَلَمْ يَجِدُوا شَيْئًا، قَالَ: ارْجِعُوا فَوَاللَّهِ ، مَا كَذَبْتُ وَلا كُذِبْتُ، مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاثًا، ثُمَّ وَجَدُوهُ فِي خَرِبَةٍ فَأَتَوْا بِهِ حَتَّى وَضَعُوهُ بَيْنَ يَدَيْهِ.فَقَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ: أَنَا حَاضِرٌ ذَلِكَ مِنْ أَمْرِهِمْ وَقَوْلِ عَلِيٍّ فِيهِمْ.قَالَ بُكَيْرٌ: وَحَدَّثَنِي رَجُلٌ عَنِ ابْنِ حُنَيْنٍ أَنَّهُ قَالَ: رَأَيْتُ ذَلِكَ الأَسْوَدَابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، أَنَّ رَجُلا حَدَّثَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ: أَرْسَلَنِي عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ إِلَى الْحَرُورِيَّةِ لأُكَلِّمَهُمْ، فَلَمَّا قَالُوا: لا حُكْمَ إِلا لِلَّهِ، قُلْتُ: أَجَلْ صَدَّقْتُمْ، لا حُكْمَ إِلا لِلَّهِ ، إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَكَمَ فِي رَجُلٍ وَامْرَأَةٍ، وَحَكَمَ فِي قَتْلِ الصَّيْدِ، فَالْحُكْمُ فِي رَجُلٍ وَامْرَأَةٍ وَصَيْدٍ أَفْضَلُ أَمِ الْحُكْمِ فِي الْأُمَّةِ تَرْجِعُ بِهِ وَتُحْقَنُ دِمَاؤُهَا وََيُلَمُّ شَعَثُهَا، قَالَ ابْنُ الْكَوَاءِ، دَعُوهُ فَإِنَّ اللَّهَ قَدْ أَنْبَأَكُمْ أَنَّهُمْ {قَوْمٌ خَصِمُونَ} [الزخرف: 58]
৬৪ - আমর ইবনে হারিস আমাকে খবর দিয়েছেন বুকাইর ইবনুল আশাজ থেকে, তিনি বুসর ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আযাদকৃত গোলাম উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি রাফে থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন হারুরিয়্যাহরা বিদ্রোহ করল এবং তিনি আলী ইবনে আবি তালিবের সাথে ছিলেন, তখন তারা বলল: "আল্লাহর বিধান ব্যতীত কোনো বিধান নেই"। আলী বললেন: "এটি একটি সত্য কথা, যার মাধ্যমে বাতিলের উদ্দেশ্য করা হয়েছে।" নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন কিছু লোকের বর্ণনা দিয়েছেন, যাদের বৈশিষ্ট্য আমি এদের মাঝে চিনতে পারছি; তারা তাদের মুখে সত্য কথা বলে, কিন্তু তা তাদের এটি অতিক্রম করে না—এবং তিনি তাঁর কণ্ঠনালীর দিকে ইঙ্গিত করলেন। আল্লাহর নিকট তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘৃণিতদের মধ্যে তাদের একজন হলো কালো লোক, যার এক হাত বকরির বাঁটের মতো অথবা স্তনের বোঁটার মতো। অতঃপর আলী ইবনে আবি তালিব যখন তাদের হত্যা করলেন, তখন তিনি বললেন: "তোমরা খোঁজো।" তারা খুঁজল কিন্তু কিছুই পেল না। তিনি বললেন: "তোমরা ফিরে গিয়ে আবার খোঁজো, আল্লাহর কসম! আমি মিথ্যা বলিনি এবং আমাকেও মিথ্যা বলা হয়নি।"—তিনি কথাটি দুই বা তিনবার বললেন। এরপর তারা তাকে একটি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খুঁজে পেল এবং তাকে নিয়ে এসে তাঁর সামনে রাখল।উবাইদুল্লাহ বললেন: আমি তাদের সেই অবস্থা এবং তাদের সম্পর্কে আলীর উক্তির সময় উপস্থিত ছিলাম।বুকাইর বলেন: জনৈক ব্যক্তি ইবনে হুনাইন থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি সেই কালো লোকটিকে দেখেছি।ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমর ইবনে হারিস আমাকে বুকাইর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল আশাজ থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, এক ব্যক্তি তাঁর কাছে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আলী ইবনে আবি তালিব আমাকে হারুরিয়্যাহদের কাছে পাঠিয়েছিলেন যাতে আমি তাদের সাথে আলোচনা করি। যখন তারা বলল: "আল্লাহর বিধান ব্যতীত কোনো বিধান নেই", তখন আমি বললাম: "হ্যাঁ, তোমরা সত্য বলেছ, আল্লাহর বিধান ব্যতীত কোনো বিধান নেই। তবে আল্লাহ একজন পুরুষ ও একজন নারীর (বিবাদ) বিষয়ে ফয়সালার বিধান দিয়েছেন এবং শিকার হত্যার বিষয়ে ফয়সালার বিধান দিয়েছেন। এখন একজন পুরুষ ও নারীর বিষয় এবং শিকারের বিষয়ে ফয়সালা করা কি বেশি উত্তম নাকি এই উম্মাহর বিষয়ে ফয়সালা করা—যার মাধ্যমে তারা ফিরে আসবে, তাদের রক্ত রক্ষা পাবে এবং তাদের অনৈক্য দূর হবে?" ইবনুল কাওয়া বলল: "তাঁকে ছেড়ে দাও, কারণ আল্লাহ তোমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে তারা হলো {এক ঝগড়াটে সম্প্রদায়}" [সূরা যুখরুফ: ৫৮]।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
66 - وَأَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعُمَرِيِّ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ وَذَكَرَ الْحَرُورِيَّةَ، فَقَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ عليه السلام: «يَمْرُقُونَ مِنَ الإِسْلامِ مُرُوقَ السَّهْمِ مِنَ الرَّمِيَّةِ»وَأَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ بُكَيْرًا حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَأَلَ نَافِعًا: كَيْفَ كَانَ رَأْيُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فِي الْحَرُورِيَّةِ، قَالَ: يَرَاهُمْ شِرَارَ خَلْقِ اللَّهِ، قَالَ: إِنَّهُمُ انْطَلَقُوا إِلَى آيَاتٍ أُنْزِلَتْ فِي الْكُفَّارِ فَجَعَلُوهَا عَلَى الْمُؤْمِنِينَابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ سَمْعَانَ ، أَنَّ نَافِعًا أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ إِذَا سُئِلَ عَنِ الْحَرُورِيَّةِ فَقَالَ: يَكَفِّرُونَ الْمُسْلِمِينَ، وَيَسْتَحِلُّونَ دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ، وَيَنْكِحُونَ النِّسَاءَ فِي عَدَدِهِمْ، وَتَأْتِيهِمُ الْمَرْأَةُ فَيَنْكِحُهَا الرَّجُلُ مِنْهُمْ وَلَهَا زَوْجٌ، فَتَكُونُ الْمَرْأَةُ عِنْدَهُمْ لَهَا زَوْجَانِ، فَلا أَعْلَمُ أَحَدًا أَحَقَّ بِالْقِتَالِ وَالْقَتْلَ مِنَ الْحَرُورِيَّةِابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ نَافِعٍ مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: قَدِمَ جَيْشٌ مِنَ الْحَرُورِيَّةِ فِي الْفِتْنَةِ وَهُمْ مِنْ أَهْلِ الْيَمَامَةِ، فَأَغَارُوا لِيَأْخُذُوا أَمْوَالَ الْمُسْلِمِينَ وَيَقْتُلُوا مَنْ دَفَعَ عَنْ مَالِهِ وَنَفْسِهِ، حَتَّى دَنَوْا مِنَ الْمَدِينَةِ فَكَانُوا مِنْهَا مَسِيرَةَ لَيْلَةٍ وَيَوْمٍ، فَدَعَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَيَّاشِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ فَقَالَ: اخْرُجْ إِلَى النَّاسِ وَكَلِّمْهُمْ، فَإِنْ كَانَ عِنْدَهُمْ قِتَالٌ لِهَؤُلاءِ قُمْنَا فَقَاتَلْنَا مَعَهُمْ، وَإِنْ كَانَ لَيْسَ عِنْدَهُمْ قِتَالٌ خَرَجْنَا إِلَى مَكَّةَ وَلَمْ نَعْرِضْهُمْ دِينَنَا وَدِمَاءَنَا، وَكَانَ ذَلِكَ مِنْ أَمْرِهِمْ بِحِدْثَانِ مَا أُصِيبَ أَهْلُ الْمَدِينَةِ بِالْحَرَّةِ، فَقَالَ ابْنُ عَيَّاشٍ: النَّاسُ حَدِيثُو عَهْدٍ بِنَكْبَةٍ شَدِيدَةٍ، وَإِنَّكَ إِنْ تُكَلِّمَهُمْ يَقُولُوا: نَعَمْ، ثُمَّ يَفِرُّوا عَنْكَ وَلا يُقَاتِلُوا مَعَكَ، فَلَمَّا رَأَيَا ذَلِكَ ارْتَحَلا مِنْ لَيْلَتِهِمَا وَأَنَا مَعَهُمَا وَنَاسٌ، فَلَحِقُوا بِمَكَّةَ، ثُمَّ رَدَّ اللَّهُ أُولَئِكَ الْحَرُورِيَّةَ عَنِ الْمَدِينَةِ فَلَمْ يَقْدَمُوهَاابْنُ وَهْبٍ: وَحَدَّثَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ اللَّيْثِيُّ، عَنْ نَافِعٍ أَنَّ جَيْشَ الْحَرُورِيَّةِ نَزَلُوا بِنَخْلٍ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْمَدِينَةِ لَيْلَتَانِ، ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوَ هَذَا الْحَدِيثِ 71 - وَأَخْبَرَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ قَالَ: خَرَجَ أَرْبَعُونَ حَرُورِيًّا فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، فَكَتَبَ إِلَيْهِمْ يَدْعُوهُمْ إِلَى الْجَمَاعَةِ وَيُنْكِرُ عَلَيْهِمْ خُرُوجَهُمْ خِلافًا لِلْحَقِّ وَالسُّنَّةِ، وَأَنْتُمْ قَلِيلٌ أَذِلَّةٌ، فَكَتَبُوا إِلَيْهِ جَوَابًا أَبْلَغُوا فِيهِ فَقَالُوا: أَمَّا مَا ذَكَرْتَ مِنْ قِلَّتِنَا وَذِلَّتِنَا فَإِنَّ اللَّهَ قَالَ لأَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ عليه السلام: {وَاذْكُرُوا إِذْ أَنْتُمْ قَلِيلٌ مُسْتَضْعَفُونَ فِي الأَرْضِ تَخَافُونَ أَنْ يَتَخَطَّفَكُمُ النَّاسُ فَآوَاكُمْ وَأَيَّدَكُمْ بِنَصْرِهِ} [الأنفال: 26] ، فَنَحْنُ نَرْجُو ذَلِكَ.فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ عَوْنَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ الْهُذَلِيُّ، فَلَمَّا قَدِمَ عَلَيْهِمْ قَالَ لَهُمْ: قَاتَلْتُمْ دَهْرَكُمْ كُلَّهُ عَلَى أَنْ يَعْمَلَ بِالَّذِي عَمِلَ بِهِ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، فَلَمَّا جَاءَ رَأْيُكُمُ الَّذِي كُنْتُمْ تَطْلُبُونَ، وَقَالَ النَّاسُ: هَذَا، وَاللَّهِ ، رَأْيُهُمْ، كُنْتُمْ أَوَّلُ مَنْ نَفَرَ عَنْهُ، قَالُوا: وَاللَّهِ ، لَقَدْ صَدَقْتَ مَا كُنَّا نَطْلُبُ إِلا الَّذِي عَمِلَ بِهِ، وَلَكِنَّهُ لَمْ يَتَبَرَّأْ مِنَ الَّذِينَ كَانُوا قَبْلَهُ، وَلَمْ يَلْعَنْهُمْ ، فَقُلْتُ: هَلْ أَنْتُمْ صَادِقِيَّ عَمَّا أَسْأَلُكُمْ عَنْهُ، فَقَالُوا: نَعَمْ، لَمْ تَسْأَلْنَا عَنْ شَيْءٍ إِلا صَدَقْنَاكَ، فَقُلْتُ: مَتَى عَهْدُكُمْ بِلَعْنِ هَامَانَ؟ فَقَالُوا: مَا لَعَنَّاهُ قَطُّ فَقُلْتُ لَهُمْ: أَفَيَسَعُكُمْ أَنْ تَتْرُكُوا وَزِيرَ فِرْعَوْنَ الْمُنَفِّذَ لأَمْرِهِ، وَلا يَسَعُ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَنْ يَعْمَلَ بِالْحَقِّ وَيَكُفَّ اللَّعْنَ عَنْ أَهْلِ قِبْلَتِهِ إِنْ كَانُوا أَخْطَئُوا فِي شَيْءٍ وَعَمِلُوا بِغَيْرِ الْحَقِّ.فَرَجَعَ إِلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ فَأَخْبَرَهُ، فَقَالَ: مَا أُحِبُّ أَنِّي بَعَثْتُ إِلَيْهِمْ غَيْرَكَ، فَقَالَ لَهُ: كَيْفَ فَطِنْتَ لِهَامَانَ، فَقَالَ: تَخَوَّفْتُ إِنْ ذَكَرْتُ فِرْعَوْنَ أَنْ يَقُولُوا قَدْ لَعَنَّاهُ فَإِنَّهُ مُلْعَنٌ خَبِيثٌ.قَالَ: وَكَتَبَ عُمَرُ إِلَى يَحْيَى بْنِ يَحْيَى الْغَسَّانِيِّ وَكَانَ عَلَى الْمَوْصِلِ أَنْ أَقْرِرْهُمْ مَا لَمْ يَسْفِكُوا دَمًا أَوْ يَقْطَعُوا سَبِيلا أَوْ يُخِيفُوا مُعَاهِدًا، فَإِنْ فَعَلُوا شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ فَهُمُ الْعَدُوُّ، فَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ، فَأَمْسَكُوا بِأَيْدِيهِمْ حَتَّى تُوُفِّيَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ.ثُمَّ خَرَجُوا فِي خِلافَةِ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، فَقُتِلُوا.ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ أَنَّ رَجُلا مِنَ الْحَرُورِيَّةِ قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ: إِنَّكَ كَافِرٌ، قَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ: كَذَبْتَ، ثُمَّ لَقِيَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قُلْ يَأَيُّهَا الْكَافِرُونَ لا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ، فَقَرَأَهَا حَتَّى خَتَمَهَا: قَالَ الْحَرُورِيُّ: قَالَ اللَّهُ: {بَلْ هُمْ قَوْمٌ خَصِمُونَ} [الزخرف: 58] بَابٌ فِي قَتْلِ الْقَدَرِيَّةِابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَمِّهِ أَبِي سُهَيْلِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: سَأَلَنِي عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ وَأَنَا مَعَهُ: مَاذَا تَرَى فِي هَؤُلاءِ الْقَدَرِيَّةِ، قَالَ: قُلْتُ: أَسْتَتِيبُهُمْ، فَإِنْ قَبِلُوا ذَلِكَ وَإِلا فَأَعْرِضُهُمْ عَلَى السَّيْفِ، قَالَ عُمَرُ: وَأَنَا أَرَى ذَلِكَ.قَالَ مَالِكٌ: وَرَأْيِيِ عَلَى ذَلِكَابْنُ وَهْبٍ قَالَ: حَدَّثَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي سُهَيْلٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ لَهُ: مَا الْحُكْمُ فِي هَؤُلاءِ الْقَدَرِيَّةِ، قَالَ: قُلْتُ: يُسْتَتَابُونَ، فَإِنْ تَابُوا قُبِلَ ذَلِكَ مِنْهُمْ، وَإِنْ لَمْ يَتُوبُوا قُوتِلُوا عَلَى وَجْهِ الْبَغْيِ، فَقَالَ عُمَرُ: ذَلِكَ الرَّأْيُ فِيهِمْ، وَيْحَهُمْ، فَأَيْنَ هُمْ عَنْ هَذِهِ الآيَةِ: {فَإِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ {161} مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ بِفَاتِنِينَ {162} إِلا مَنْ هُوَ صَالِ الْجَحِيمِ {163} } [الصافات: 161-163]ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ أَنَّ رَجُلا مِنَ الْقَدَرِيَّةِ قَالَ: إِنَّ مَعَنَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ يَزِيدَ بْنِ هُرْمُزَ، وَعُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، فَسُئِلَ ابْنُ هُرْمُزَ، فَقَالَ: كَذَبَ، وَاللَّهِ، لَقَدْ أَدْرَكْتُ الْمَدِينَةَ وَمَا يُذْكَرُ فِيهَا إِلا رَجُلٌ وَاحِدٌ مِنْ جُهَيْنَةَ يُقَالُ لَهُ مَعْبَدٌ، قَالَ: ثُمَّ سَأَلْتُ أَبَا سُهَيْلٍ عَمَّ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ فَقَالَ: كَذَبَ، اسْتَشَارَنِي عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ فَقَالَ لِي: كَيْفَ تَرَى فِي الَّذِينَ يُكَذِّبُونَ بِالْقَدَرِ، قَالَ: قُلْتُ: أَرَى أَنْ يُسْتَتَابُوا، فَإِنْ تَابُوا وَإِلا ضَرَبْتُ رِقَابَهُمْ، فَقَالَ عُمَرُ: ذَلِكَ الرَّأْيُ فِيهِمْ، وَاللَّهِ، لَوْ لَمْ تَكُنْ هَذِهِ الآيَةُ لَكَفَى بِهَا حُجَّةً عَلَيْهِمْ: {فَإِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ {161} مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ بِفَاتِنِينَ {162} إِلا مَنْ هُوَ صَالِ الْجَحِيمِ {163} } [الصافات: 161-163] ، ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عُمَرَ مَوْلَى غَفْرَةَ، عَنْ أَبِي سُهَيْلِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَنَّهُ قَالَ ذَلِكَ: وَلَمْ يَذْكُرِ الآيَةَ بَابٌ فِي الْمُرْتَدِّ عَنِ الإِسْلامِ
৬৬ - উমর ইবনে মুহাম্মদ আল-উমারি ইবনে যায়েদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে আল-খাত্তাব আমাকে তার পিতার সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে সংবাদ দিয়েছেন, এবং তিনি হারুরিয়্যাদের কথা উল্লেখ করে বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনভাবে তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়।»আমর ইবনুল হারিস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, বুকাইর তাকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি নাফেকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: হারুরিয়্যাদের সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে উমরের মতামত কেমন ছিল? তিনি বললেন: তিনি তাদের আল্লাহর নিকৃষ্টতম মাখলুক মনে করতেন। তিনি বলতেন: তারা কাফিরদের শানে নাযিল হওয়া আয়াতগুলোর দিকে ধাবিত হয়েছে এবং সেগুলো মুমিনদের ওপর প্রয়োগ করেছে।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইবনে সামআন আমাকে অবহিত করেছেন যে, নাফে তাকে জানিয়েছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমরকে যখন হারুরিয়্যাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো তখন তিনি বলতেন: তারা মুসলমানদের কাফির সাব্যস্ত করে, তাদের রক্ত ও সম্পদ হালাল মনে করে এবং তাদের খেয়ালখুশিমতো নারী বিবাহ করে। কোনো নারী তাদের কাছে আসলে তাদের মধ্যকার কোনো লোক তাকে বিবাহ করে নেয় অথচ সেই নারীর স্বামী থাকে; ফলে তাদের কাছে একজন নারীর দুজন স্বামী থাকে। হারুরিয়্যাদের চেয়ে লড়াই করা এবং হত্যা করার জন্য অধিক যোগ্য আমি আর কাউকে চিনি না।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইউনুস ইবনে ইয়াযিদ আমাকে নাফে থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ফিতনার সময় ইয়ামামার অধিবাসী হারুরিয়্যাদের একটি বাহিনী এসেছিল। তারা মুসলমানদের সম্পদ লুণ্ঠন এবং যারা নিজেদের সম্পদ ও জীবন রক্ষার্থে বাধা দেয় তাদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ চালিয়েছিল। এমনকি তারা মদীনার এত নিকটবর্তী হয়েছিল যে সেখান থেকে মদীনা এক দিন ও এক রাতের দূরত্বে ছিল। তখন আবদুল্লাহ ইবনে উমর আবদুল্লাহ ইবনে আইয়াশ ইবনে আবি রাবিয়াকে ডেকে বললেন: মানুষের কাছে যাও এবং তাদের সাথে কথা বলো। যদি তাদের মাঝে এই হারুরিয়্যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার মানসিকতা থাকে, তবে আমরাও দাঁড়িয়ে তাদের সাথে লড়াই করব। আর যদি তাদের মাঝে লড়াই করার মানসিকতা না থাকে, তবে আমরা মক্কায় চলে যাব এবং তাদের সামনে আমাদের দ্বীন ও রক্তকে তুচ্ছ করব না। এটি মদীনার অধিবাসীদের হাররার বিপর্যয়ের কিছুকাল পরের ঘটনা। ইবনে আইয়াশ বললেন: মানুষ এইমাত্র এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে। আপনি যদি তাদের সাথে কথা বলেন তবে তারা বলবে ‘হ্যাঁ’, কিন্তু পরে আপনার কাছ থেকে পালিয়ে যাবে এবং আপনার সাথে লড়াই করবে না। যখন তারা দুজন বিষয়টি দেখলেন, তখন তারা সেই রাতেই রওনা হলেন এবং আমি ও আরও কিছু লোক তাদের সাথে ছিলাম। তারা মক্কায় পৌঁছালেন। অতঃপর আল্লাহ সেই হারুরিয়্যাদের মদীনা থেকে ফিরিয়ে দিলেন এবং তারা মদীনায় প্রবেশ করতে পারেনি।ইবনে ওয়াহাব বলেন: উসামা ইবনে যায়েদ আল-লাইসি আমাকে নাফে থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হারুরিয়্যাদের বাহিনী নাখলে অবস্থান নিয়েছিল, যা মদীনা থেকে দুই রাতের দূরত্বে। অতঃপর তিনি অনুরূপ হাদীস উল্লেখ করেন। ৭১ - লাইস ইবনে সাদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, উমর ইবনে আবদুল আজিজের শাসনকালে চল্লিশজন হারুরি বিদ্রোহ করেছিল। তিনি তাদের কাছে ঐক্যের ডাক দিয়ে এবং সত্য ও সুন্নাহর পরিপন্থী বিদ্রোহের নিন্দা জানিয়ে পত্র লিখলেন এবং বললেন যে, তোমরা সংখ্যায় অল্প ও হীন। তারা তাকে অত্যন্ত জোরালো এক জবাব লিখে পাঠাল। তারা বলল: আমাদের সংখ্যাস্বল্পতা ও হীনতা সম্পর্কে আপনি যা উল্লেখ করেছেন, সে সম্পর্কে আল্লাহ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: {স্মরণ করো, যখন তোমরা ছিলে অল্প, জমিনে তোমাদের দুর্বল মনে করা হতো, তোমরা ভয় করতে যে মানুষ তোমাদের ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে, অতঃপর তিনি তোমাদের আশ্রয় দিলেন এবং স্বীয় সাহায্য দ্বারা তোমাদের শক্তিশালী করলেন} [আনফাল: ২৬]। আমরাও সেই আশা পোষণ করি।অতঃপর তিনি তাদের নিকট আউন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ আল-হুযালিকে পাঠালেন। তিনি যখন তাদের কাছে পৌঁছালেন, তখন তাদের বললেন: তোমরা তোমাদের সারা জীবন লড়াই করেছ যেন উমর ইবনে আবদুল আজিজ যা করছেন তেমন আমল করা হয়। এখন যখন তোমাদের কাঙ্ক্ষিত শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলো এবং মানুষ বলল: আল্লাহর কসম, এটাই তাদের চাওয়া ছিল, তখন তোমরাই প্রথম ব্যক্তি যারা তার থেকে বিমুখ হলে। তারা বলল: আল্লাহর কসম, আপনি সত্য বলেছেন। তিনি যা করছেন আমরা তা ছাড়া অন্য কিছু চাইনি। কিন্তু তিনি তার পূর্বসূরিদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি এবং তাদের অভিশাপ দেননি। আমি (আউন) বললাম: আমি তোমাদের যা জিজ্ঞাসা করব সে বিষয়ে তোমরা কি আমার কাছে সত্য বলবে? তারা বলল: হ্যাঁ, আপনি আমাদের যা-ই জিজ্ঞাসা করবেন আমরা আপনার কাছে সত্যই বলব। আমি বললাম: সর্বশেষ কবে তোমরা হামানকে অভিশাপ দিয়েছ? তারা বলল: আমরা তাকে কখনো অভিশাপ দেইনি। আমি তাদের বললাম: ফেরাউনের নির্দেশ বাস্তবায়নকারী মন্ত্রীকে অভিশাপ না দিয়ে যদি তোমাদের চলে যায়, তবে উমর ইবনে আবদুল আজিজ যদি সত্য অনুযায়ী আমল করেন এবং তার কিবলার লোকদের (মুসলমানদের) অভিশাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকেন—যদিও তারা কোনো বিষয়ে ভুল করে থাকে বা সত্যের বাইরে আমল করে থাকে—তবে কি তার চলবে না?অতঃপর তিনি উমর ইবনে আবদুল আজিজের কাছে ফিরে এসে তাকে অবহিত করলেন। উমর বললেন: আপনার পরিবর্তে অন্য কাউকে তাদের কাছে পাঠানো আমি পছন্দ করতাম না। তিনি আউনকে জিজ্ঞাসা করলেন: হামানের বিষয়টি আপনার মাথায় কীভাবে এলো? আউন বললেন: আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে যদি আমি ফেরাউনের কথা উল্লেখ করি তবে তারা বলবে আমরা তাকে অভিশাপ দেই, কারণ সে অভিশপ্ত ও খবীস।বর্ণনাকারী বলেন: উমর মসুলে দায়িত্বরত ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আল-গাস্সানিকে লিখে পাঠালেন যে, তারা যতক্ষণ রক্তপাত না করে, পথ রুদ্ধ না করে কিংবা কোনো চুক্তিবদ্ধ নাগরিককে আতঙ্কিত না করে ততক্ষণ তাদের ছেড়ে দাও। কিন্তু যদি তারা এর কোনোটি করে তবে তারা শত্রু; যেখানেই তাদের পাও হত্যা করো। ফলে উমর ইবনে আবদুল আজিজের মৃত্যু পর্যন্ত তারা শান্ত ছিল।অতঃপর তারা ইয়াযিদ ইবনে আবদুল মালিকের খিলাফতকালে বিদ্রোহ করল এবং নিহত হলো।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইবনে লাহিয়া আমাকে ইয়াযিদ ইবনে আবি হাবিবের সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন যে, হারুরিয়্যাদের এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে উমরকে বলল: আপনি একজন কাফির। আবদুল্লাহ ইবনে উমর তাকে বললেন: তুমি মিথ্যা বলেছ। অতঃপর লোকটি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের সাথে সাক্ষাৎ করে তাকেও অনুরূপ কথা বলল। ইবনে আব্বাস বললেন: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। বলুন, হে কাফিররা! আমি তার ইবাদত করি না যার ইবাদত তোমরা করো—এভাবে তিনি সূরাটি শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। হারুরি ব্যক্তিটি বলল: আল্লাহ বলেছেন: {বরং তারা এক ঝগড়াটে জাতি} [যুখরুফ: ৫৮]। ক্বদারিয়্যাদের হত্যার পরিচ্ছেদ।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইমাম মালিক আমাকে তার চাচা আবু সুহাইল ইবনে মালিকের সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে আবদুল আজিজ তার সাথে থাকা অবস্থায় আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন: এই ক্বদারিয়্যাদের সম্পর্কে আপনার মতামত কী? আমি বললাম: আমার মতে তাদের তাওবা করতে বলা উচিত, যদি তারা তাওবা করে তবে ভালো, অন্যথায় তাদের ওপর তরবারি চালনা করা (মৃত্যুদণ্ড প্রদান) উচিত। উমর বললেন: আমিও তাই মনে করি।মালিক বলেন: আমার অভিমতও তার ওপরই অটল।ইবনে ওয়াহাব বলেন: উসামা ইবনে যায়েদ আবু সুহাইল থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনে আবদুল আজিজ তাকে বলেছিলেন: এই ক্বদারিয়্যাদের ব্যাপারে বিধান কী? তিনি বললেন: আমি বললাম: তাদের তাওবা করতে বলা হবে। যদি তারা তাওবা করে তবে তা গ্রহণ করা হবে, আর যদি না করে তবে তাদের বিদ্রোহী হিসেবে গণ্য করে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা হবে। উমর বললেন: তাদের ব্যাপারে এটাই সঠিক অভিমত। তাদের জন্য আক্ষেপ! এই আয়াত সম্পর্কে তাদের অবস্থান কোথায়: {নিশ্চয় তোমরা এবং তোমরা যার ইবাদত করো {১৬১} তোমরা কাউকেও বিভ্রান্ত করতে পারবে না {১৬২} তাকে ছাড়া যে জাহান্নামে দগ্ধ হবে {১৬৩}} [সাফফাত: ১৬১-১৬৩]।ইবনে ওয়াহাব বলেন: আনাস ইবনে ইয়াদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ক্বদারিয়্যাদের এক ব্যক্তি বলেছিল: আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে হুরমুয এবং উমর ইবনে আবদুল আজিজ আমাদের সাথেই আছেন। ইবনে হুরমুযকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: সে আল্লাহর কসম করে মিথ্যা বলেছে। আমি মদীনাকে এমন অবস্থায় পেয়েছি যখন সেখানে জুহায়না গোত্রের মাবাদ নামক এক ব্যক্তি ছাড়া আর কারো কথা এ বিষয়ে আলোচিত হতো না। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আমি মালিক ইবনে আনাসের চাচা আবু সুহাইলকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: সে মিথ্যা বলেছে। উমর ইবনে আবদুল আজিজ আমার সাথে পরামর্শ করেছিলেন এবং আমাকে বলেছিলেন: যারা কদর বা তাকদীরকে অস্বীকার করে তাদের সম্পর্কে আপনার রায় কী? আমি বললাম: আমার রায় হলো তাদের তাওবা করতে বলা হবে, যদি তারা তাওবা করে তবে ভালো, অন্যথায় আমি তাদের গর্দান উড়িয়ে দেব। উমর বললেন: তাদের ব্যাপারে এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। আল্লাহর কসম, যদি এই আয়াতটি ছাড়া আর কিছু না থাকত, তবে তাদের বিরুদ্ধে দলীল হিসেবে এটাই যথেষ্ট ছিল: {নিশ্চয় তোমরা এবং তোমরা যার ইবাদত করো {১৬১} তোমরা কাউকেও বিভ্রান্ত করতে পারবে না {১৬২} তাকে ছাড়া যে জাহান্নামে দগ্ধ হবে {১৬৩}} [সাফফাত: ১৬১-১৬৩]। ইবনে ওয়াহাব বলেন: লাইস ইবনে সাদ আমাকে গাফরার আযাদকৃত গোলাম উমর থেকে, তিনি আবু সুহাইল ইবনে মালিক থেকে, তিনি উমর ইবনে আবদুল আজিজ থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি অনুরূপ কথা বলেছেন, তবে আয়াতের কথা উল্লেখ করেননি। ইসলাম থেকে মুরতাদ হওয়ার পরিচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
77 - ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، وَهِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، وَدَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ، أَنَّ زَيْدَ بْنَ أَسْلَمَ حَدَّثَهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ عليه السلام قَالَ: «مَنْ غَيَّرَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ» ، قَالَ مَالِكٌ: فَإِنَّمَا يَعْنِي بِذَلِكَ مَنْ خَرَجَ مِنَ الإِسْلامِ وَكَفَرَ بِاللَّهِ، وَلَمْ يَعْنِ بِذَلِكَ مَنِ انْتَقَلَ مِنَ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى وَالْمَجُوسِ إِلَى دِينٍ آخَرَ، أَنْ يَتَهَوَّدَ النَّصْرَانِيُّ أَوْ يَتَنَصَّرَ الْيَهُودِيُّ أَوِ الْمَجُوسِيُّابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ مَنْ أَخْبَرَهُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ أَبِي بَكْرٍ كَتَبَ إِلَى عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ يَسْأَلَهُ عَنْ نَصْرَانِيٍّ تَحَوَّلَ يَهُودِيًّا أَوْ مَجُوسِيًّا، أَوْ يَهُودِيٍّ تَحَوَّلَ نَصْرَانِيًّا أَوْ مَجُوسِيًّا، قَالَ: فَكَتَبَ إِلَيْهِ: إِنَّمَا تَحَوُلٌّ مِنْ كُفْرٍ إِلَى كُفْرٍ، لَيْسَ عَلَيْهِ شَيْءٌ
৭৭ - ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমাকে মালেক ইবনে আনাস, হিশাম ইবনে সাদ এবং দাউদ ইবনে কায়স অবহিত করেছেন যে, জায়দ ইবনে আসলাম তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি তার দীন (ধর্ম) পরিবর্তন করবে, তাকে তোমরা হত্যা করো»; ইমাম মালেক বলেন: এর দ্বারা কেবল তাকেই বোঝানো হয়েছে যে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় এবং আল্লাহর সাথে কুফরি করে। এর দ্বারা তাকে বোঝানো হয়নি যে ইহুদি, খ্রিস্টান ও অগ্নিপূজকদের মধ্য থেকে কেউ অন্য ধর্মে স্থানান্তরিত হয়; যেমন কোনো খ্রিস্টানের ইহুদি হওয়া, অথবা কোনো ইহুদি বা অগ্নিপূজকের খ্রিস্টান হওয়া।ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমাকে আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ তাঁর নিকট সংবাদ প্রদানকারীর সূত্রে অবহিত করেছেন, তিনি সিমাক ইবনে হারব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর আলী ইবনে আবি তালিবের নিকট পত্র লিখে জনৈক খ্রিস্টান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে ইহুদি বা অগ্নিপূজকে রূপান্তরিত হয়েছে, অথবা জনৈক ইহুদি সম্পর্কে যে খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজকে রূপান্তরিত হয়েছে। তিনি (আলী রা.) তাঁর নিকট লিখে পাঠালেন: এটি কেবল এক কুফর থেকে অন্য কুফরে রূপান্তর মাত্র, তার ওপর (শাস্তিস্বরূপ) কোনো কিছু নেই।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
79 - ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، وَابْنُ سَمْعَانَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ عليه السلام قَالَ: «مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِهِ طَائِعًا فَاقْتُلُوهُ» ، قَالَ ابْنُ سَمْعَانَ: وَلا أَعْلَمُ إِلا أَنَّ نَافِعًا، وَزَيْدَ بْنَ أَسْلَمَ حَدَّثَانِي هَذَا الْحَدِيثَ
৭৯ - ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমর বিন আল-হারিস এবং ইবনে সামআন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: «যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ঈমান আনার পর আল্লাহর সাথে কুফরি করে, তোমরা তাকে হত্যা করো» , ইবনে সামআন বলেন: আমি যতদূর জানি নাফি' এবং জায়েদ বিন আসলাম আমাকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
80 - ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي الْحَارِثُ بْنُ نَبْهَانَ، عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيُّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ عليه السلام قَالَ: «مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ، وَلا تُعَذِّبُوا بِعَذَابِ اللَّهِ»ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، وَابْنُ سَمْعَانَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ قَالَ: هَاجَتِ الْفِتْنَةُ الأُولَى فَأَدْرَكَتْ رِجَالا ذَوِي عَدَدٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ عليه السلام، فَبَلَغَنَا أَنَّهُمْ كَانُوا يَرَوْنَ أَنْ يُهْدَمَ أَمْرُ الْفِتْنَةِ فَلا يُقَامُ فِيهَا عَلَى رَجُلٍ قَاتِلٍ فِي تَأْوِيلِ الْقُرْآنِ قِصَاصٌ فِيمَنْ قَتَلَ، وَلا حَدٌّ فِي سَبْيِ امْرَأَةٍ سُبِيَتْ، وَلا نَرَى عَلَيْهِ حَدًّا، وَلا نَرَى بَيْنَهَا وَبَيْنَ زَوْجِهَا مُلاعَنَةً، وَلا نَرَى أَنْ يَقْذِفَهَا أَحَدٌ إِلا جُلِدَ الْحَدَّ، وَنَرَى أَنْ تُرَدَّ إِلَى زَوْجِهَا الأَوَّلِ بَعْدَ أَنْ تَعْتَدَّ فَتَنْقَضِي عِدَّتُهَا مِنْ زَوْجِهَا الآخَرِ، وَنَرَى أَنْ تَرِثَ زَوْجَهَا الأَوَّلَابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ رِجَالٍ شَهِدُوا بَدْرًا أَنَّهُمْ كَانُوا يَقُولُونَ: لَوْ أَنَّ رَجُلا تَأَوَّلَ مَعَ الْحَرُورِيَّةِ فَقَاتَلَ وَقُتِلَ، ثُمَّ مَاتَ، أَوِ امْرَأَةً تَأَوَّلَتِ الْقُرْآنَ فَخَرَجَتْ حَتَّى لَحِقَتْ بِالْخَوَارِجِ وَتَرَكَتْ زَوْجَهَا وَقَاتَلَتْ مَعَهُمْ وَتَزَوَّجَتْ فِيهِمْ، ثُمَّ جَاءَتْ تَائِبَةً لَمْ يَكُنْ عَلَيْهَا حَدٌّ، وَكَانَ عَلَى مَنْ قَذَفَهَا الْحَدُّ، وَلَمْ تَكُنْ بَيْنَهَا وَبَيْنَ زَوْجِهَا مُلاعَنَةٌ، وَحُبِسَتْ عَنْ زَوْجِهَا حَتَّى تُسْتَبْرَأَ، ثُمَّ تَرْجِعَ إِلَى زَوْجِهَا الأَوَّلِابْنُ وَهْبٍ قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ سَمْعَانَ يَقُولُ: أَخْبَرَنِي ابْنُ شِهَابٍ أَنَّ الْفُرْقَةَ وَقَعَتْ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ عليه السلام وَأَصْحَابِ النَّبِيِّ مُتَوَافِرُونَ، فَاجْتَمَعَ الأَمْرُ فِيهِمْ أَلا يُحَدَّ فَرْجٌ اسْتُحِلَّ بِتَأْوِيلِ الْقُرْآنِ، وَلا يُقَادَ وَلا يُودَى مَا اسْتُحِلَّ بِتَأْوِيلِ الْقُرْآنِ وَلا يُضْمَنَ مَالٌ ذَهَبَ إِلا إِنْ يُضْمَنْ شَيْءٌ بِعَيْنِهِ فَيُرَدَّ إِلَى أَهْلِهِابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ سَمْعَانَ أَنَّ مَنْ أُدْرِكَ مِنَ السَّلَفِ كَانُوا يَقُولُونَ: هُمَا رِدَّتَانِ، رِدَّةُ كُفْرٍ يُسْتَحَلُّ بِهَا الْقَتْلُ وَالسَّبْيُ وَقَطْعُ الْمَوَارِيثُ، وَرِدَّةُ انْتِقَاضِ شَرَائِعِ الإِسْلامِ، فَقَاتَلَ عَلَيْهَا أَهْلُهَا لا يَحِلُّ سَبْيُهُمْ وَلا أَخْذُ أَمْوَالُهُمْ، وَهِيَ سِيرَةُ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فِي مَنِ ارْتَدَّ فِي زَمَانِهِابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي الْحَارِثُ بْنُ نَبْهَانَ، عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ أَنَّ عَلْقَمَةَ بْنَ عُلاثَةَ ارْتَدَّ عِنْدَ وَفَاةِ النَّبِيِّ عليه السلام فَانْطَلَقَ حَتَّى لَحِقَ بِهِرَقْلَ أَوْ بِقَيْصَرَ، فَأَرْسَلَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ إِلَى امْرَأَتِهِ وَابْنَتِهِ وَخَيَّرَهُنَّ، فَقَالَتِ امْرَأَتُهُ: إِنْ كَانَ عَلْقَمَةُ كَفَرَ مَا كَفَرْتُ أَنَا وَلا ابْنَتِي، فَتَرَكَهُنَّ، فَقَدِمَ عَلْقَمَةُ فِي خِلافَةِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، فَجَعَلَ يَشُدُّ عَلَيْهِ فِي الْقَوْلِ، فَقَالَ: حَسْبُكَ سَائِرَ الْيَوْمِ، بَايِعْنِي 86 - ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ قَالَ: كَتَبَ إِلَيَّ رَبِيعَةُ فِي أَهْلِ قَرْيَةٍ أَسْلَمُوا وَأَسْلَمَ نِسَاؤُهُمْ وَذَرَارِيُّهُمْ، ثُمَّ ارْتَدُّوا عَنِ الإِسْلامِ بَعْدَ ذَلِكَ فَكَفَرُوا وَقَاتَلُوا فَقُتِلَتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ وَأُسِرَتْ طَائِفَةٌ، فَهَلْ يَحِلُّ سَبْيُهُمْ أَمْ لا يَنْبَغِي أَنْ يُقْبَلَ مِنْهُمْ إِلا الإِسْلامُ، فَقَالَ رَبِيعَةَ: يُقْتَلُ الرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ وَكُلُّ مَنْ بَلَغَ مِنَ الذَّرِيَّةِ مِنْ رَجُلٍ أَوِ امْرَأَةٍ صَاغِرًا قَمِئًا، إِلا كُلَّ ذَرِيَّةٍ وُلِدَتْ بَعْدَ أَنْ أَسْلَمُوا، ثُمَّ كَفَرُوا وَقَاتَلُوا قَبْلَ أَنْ تَبْلُغَ تِلْكَ الذَّرِيَّةُ بِكَامِلِ السِّنِّ الَّتِي تَقَعُ عِنْدَهَا الْحُدُودُ وَتَكَامُلُ الْفَرَائِضِ، وَذَلِكَ لأَنَّهُمْ وُلِدُوا فِي حُجُورِ الْمُؤْمِنِينَ وَلأَنَّهُمْ وُلِدُوا فِي حُجُورٍ مُسْلِمَةٍ، فَلَيْسَ لَهُمْ أَنْ يَنْقُضُوا عَلَيْهِمْ وَلَمْ يَبْلُغُوا السِّنَّ، فَيَكُونُوا هُمْ نَقَضُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ، فَأُولَئِكَ مُسْلِمُونَ أَحْرَارًا.أَمَّا كُلُّ ذَرِيَّةٍ وُلِدَتْ فِي حُجُورِهِمْ وَهُمْ كُفَّارٌ ثُمَّ أَسْلَمُوا فَكَانُوا عَلَى ذَرَارِيِّهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ ثُمَّ نَقَضُوا فَقَدْ نَقَضُوا عَنْ مَنْ دَخَلَ فِي الإِسْلامِ أَدْخَلُوهُمْ، وَكَانَ فِي الْكُفْرِ قَبْلَ ذَلِكَ مَعَهُمْ، فَقَدْ نَقَضُوا عَلَيْهِمْ وَأَخْرَجُوهُمْ كَمَا كَانُوا أَدْخَلُوهُمْ فَأُولَئِكَ يُسْبَوْنَ، لَيْسُوا كَهِبَةِ مَنْ وُلِدَ بَعْدَ إِسْلامِهِمْ وَلَمْ يُدْرَكْ حَتَّى نَقَضُوا، إِسْلامُ تِلْكَ الذَّرِيَّةِ إِسْلامُ الْمُسْلِمِينَ كُلِّهِمْ ، فَهُمْ أَحْرَارٌ وَلا يُسْبَوْنَ.
৮০ - ইবনে ওয়াহাব বলেন: হারিস বিন নাবহান আমাকে আইয়ুব সাখতিয়ানি থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করবে তাকে হত্যা করো, তবে আল্লাহর শাস্তি (আগুন) দিয়ে শাস্তি দিয়ো না»ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইউনুস বিন ইয়াযিদ ও ইবনে সামআন আমাকে ইবনে শিহাব থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: প্রথম ফিতনা যখন শুরু হয়েছিল, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অনেক সাহাবী জীবিত ছিলেন। আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তাঁরা মনে করতেন ফিতনার বিষয়গুলো মিটিয়ে ফেলা উচিত। তাই কুরআনের অপব্যাখ্যার (তাউইল) ভিত্তিতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের জন্য কোনো ব্যক্তির ওপর কিসাস (রক্তপণ বা মৃত্যুদণ্ড) কার্যকর করা হতো না, এবং বন্দিনী কোনো মহিলার ওপর কোনো হদ (শাস্তি) প্রয়োগ করা হতো না। আমরা তার ওপর কোনো হদ প্রয়োগ সংগত মনে করি না এবং তার ও তার স্বামীর মাঝে লান (অভিশাপ বিনিময়) করাও প্রয়োজন মনে করি না। আর কেউ তাকে অপবাদ দিলে তাকে অবশ্যই হদ (বেত্রাঘাত) প্রদান করা হবে। আমরা মনে করি যে, তার পরবর্তী স্বামীর ইদ্দত শেষ হওয়ার পর সে তার প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাবে এবং সে তার প্রথম স্বামীর উত্তরাধিকারী হবে।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইবনে আবি যিব আমাকে ইবনে শিহাব থেকে, তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁরা বলতেন: যদি কোনো ব্যক্তি হারুরিয়াদের (খারেজি) সাথে অপব্যাখ্যার (তাউইল) বশবর্তী হয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং নিহত হয় বা মারা যায়; অথবা কোনো নারী কুরআনের অপব্যাখ্যা করে বের হয়ে খারেজিদের সাথে যোগ দেয় এবং তার স্বামীকে ত্যাগ করে তাদের মাঝে কাউকে বিবাহ করে, অতঃপর সে তাওবা করে ফিরে আসে, তবে তার ওপর কোনো হদ কার্যকর হবে না। আর যে ব্যক্তি তাকে অপবাদ দেবে তার ওপর হদ কার্যকর হবে। তার ও তার (প্রথম) স্বামীর মাঝে লান হবে না। পবিত্রতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে তার স্বামীর থেকে পৃথক রাখা হবে, অতঃপর সে তার প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাবে।ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমি ইবনে সামআনকে বলতে শুনেছি: ইবনে শিহাব আমাকে জানিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর তিরোধানের পর যখন বিভেদ সৃষ্টি হয়েছিল এবং তখন নবীর অনেক সাহাবী বর্তমান ছিলেন, তখন তাঁরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন যে, কুরআনের অপব্যাখ্যার (তাউইল) মাধ্যমে যে যৌন সম্পর্ককে বৈধ মনে করা হয়েছে তার ওপর হদ প্রয়োগ করা হবে না। কুরআনের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে যা বৈধ করা হয়েছে তার জন্য কিসাস বা দিয়াত (রক্তপণ) প্রদান করতে হবে না। আর যে সম্পদ নষ্ট হয়ে গেছে তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না, যদি না নির্দিষ্ট কোনো বস্তু অবিকৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, তবে তা তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইবনে সামআন আমাকে জানিয়েছেন যে, পূর্ববর্তী সলফদের মধ্যে যারা বর্তমান ছিলেন তারা বলতেন: মুরতাদ হওয়া দুই প্রকার। এক. কুফরের কারণে মুরতাদ হওয়া, যার ফলে হত্যা, বন্দি করা এবং উত্তরাধিকার বন্ধ করা বৈধ হয়। দুই. ইসলামের বিধি-বিধান লঙ্ঘনজনিত মুরতাদ হওয়া, যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা হয় কিন্তু তাদের বন্দি করা বা তাদের সম্পদ কেড়ে নেওয়া বৈধ নয়। আর এটাই ছিল আবু বকর সিদ্দিকের (রাযি.) নীতি তাদের প্রতি যারা তাঁর সময়ে মুরতাদ হয়েছিল।ইবনে ওয়াহাব বলেন: হারিস বিন নাবহান আমাকে আইয়ুব সাখতিয়ানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে সিরীন থেকে বর্ণনা করেন যে, আলকামা বিন উলাসাহ নবী (সা.)-এর ওফাতের সময় মুরতাদ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি পালিয়ে হেরাক্লিয়াস বা কায়সারের কাছে চলে যান। আবু বকর সিদ্দিক (রাযি.) তার স্ত্রী ও কন্যার কাছে লোক পাঠান এবং তাদের পছন্দ করার সুযোগ দেন। তার স্ত্রী বললেন: আলকামা কুফরি করলেও আমি বা আমার মেয়ে কুফরি করিনি। তাই তিনি তাদের ছেড়ে দিলেন। অতঃপর আলকামা ওমর ইবনুল খাত্তাবের খেলাফতকালে ফিরে আসেন। ওমর (রাযি.) তার সাথে কঠোর ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। তখন আলকামা বললেন: আজ সারাদিনের জন্য আপনার এই কঠোরতাই যথেষ্ট, এখন আমার বায়আত গ্রহণ করুন। ৮৬ - ইবনে ওয়াহাব বলেন: লাইস বিন সাদ আমাকে জানিয়েছেন যে, রাবিয়াহ তাকে একটি গ্রামের লোকদের সম্পর্কে লিখেছিলেন যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং তাদের নারী ও সন্তানরাও ইসলাম গ্রহণ করেছিল। অতঃপর তারা ইসলাম ত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে যায়, কুফরি করে এবং যুদ্ধ লিপ্ত হয়। ফলে তাদের একদল নিহত হয় এবং একদল বন্দি হয়। এখন তাদের কি দাস হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ হবে, নাকি ইসলাম ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করা হবে না? রাবিয়াহ উত্তরে বললেন: পুরুষ, নারী এবং সাবালকদের মধ্য থেকে যারা অবাধ্য ও লাঞ্ছিত অবস্থায় আছে তাদের হত্যা করা হবে। তবে ওই সব সন্তানদের হত্যা করা হবে না যারা তাদের ইসলাম গ্রহণের পর জন্মগ্রহণ করেছিল, কিন্তু তাদের সাবালক হওয়ার আগে এবং শরয়ি বিধান ও হদ কার্যকর হওয়ার বয়সে পৌঁছানোর আগেই তাদের অভিভাবকরা পুনরায় কুফরি ও যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। কারণ তারা মুমিনদের কোলে এবং মুসলিম পরিবেশে জন্মগ্রহণ করেছে। তাই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে তাদের অভিভাবকরা তাদের ওপর কুফরি চাপিয়ে দিতে পারে না, ফলে তারা নিজেরাই নিজেদের ওপর বিপর্যয় টেনে আনেনি। সুতরাং তারা স্বাধীন মুসলিম হিসেবে গণ্য হবে।পক্ষান্তরে যেসব সন্তান তাদের কুফরি অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছিল এবং পরে তাদের সাথেই ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তারা তাদের সন্তানদের এবং নিজেদের ওপর যা কার্যকর করেছিল পরে তা লঙ্ঘন করেছে। তারা ইসলামে প্রবেশ করেছিল এবং তাদেরও প্রবেশ করিয়েছিল, কিন্তু আগে তারা তাদের সাথেই কুফরিতে ছিল। এখন যেহেতু তারা ইসলাম ত্যাগ করেছে, তাই তারা তাদেরও বের করে নিয়েছে যেভাবে প্রবেশ করিয়েছিল। সুতরাং তাদের বন্দি করা হবে। তারা ওই শিশুদের মতো নয় যারা তাদের ইসলাম গ্রহণের পর জন্মগ্রহণ করেছে এবং তারা মুরতাদ হওয়া পর্যন্ত সাবালক হয়নি। সেই শিশুদের ইসলাম সকল মুসলমানের ইসলামের মতো (স্বয়ংক্রিয়ভাবে বলবৎ)। অতএব তারা স্বাধীন এবং তাদের বন্দি করা যাবে না।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ২০)
87 - أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَزِيدَ الْحَضْرَمِيِّ ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَعْدٍ كَانَ قَدِ ارْتَدَّ عَنِ الإِسْلامِ فَأَمَرَ النَّبِيَّ عليه السلام بِقَتْلِهِ إِنْ وُجِدَ، فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ الْفَتْحِ اسْتَجَارَ بِعُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ وَكَانَ أَخَاهُ مِنَ الرَّضَاعَةِ ، فَاسْتَجَارَ لَهُ عُثْمَانُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ عليه السلام قَالَ: فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ سَاعَةً ، ثُمَّ كَلَّمَهُ عُثْمَانُ فِيهِ ، فَآمَنَهُ رَسُولُ اللَّهِ عليه السلام، فَقَامَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ائْذَنْ لِي فِيهِ أَضْرِبَ عُنُقَهُ، فَقَالَ: الآنَ، أَلَمْ تَرَ كَيْفَ سَكَتُّ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، انْتَظَرْتُ أَنْ تُومِئَ إِلَيَّ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ: لا يَحِلُّ لِنَبِيٍّ أَنْ يُومِئَ
৮৭ - আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া আমাকে হারিস ইবনে ইয়াজিদ আল-হাদরামী থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ ইসলাম থেকে বিচ্যুত (মুরতাদ) হয়েছিলেন। তখন নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাকে যেখানেই পাওয়া যাক হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অতঃপর যখন মক্কা বিজয়ের দিন এলো, তিনি উসমান ইবনে আফফানের নিকট আশ্রয় চাইলেন, আর তিনি ছিলেন তাঁর দুগ্ধ-ভাই। উসমান তাঁর জন্য রাসূলুল্লাহর (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) নিকট নিরাপত্তা প্রার্থনা করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন, অতঃপর উসমান পুনরায় তাঁর বিষয়ে কথা বললেন। তখন রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁকে নিরাপত্তা প্রদান করলেন। এরপর আনসারদের এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন যাতে আমি ওর গর্দান উড়িয়ে দিই। তিনি বললেন: এখন? তুমি কি লক্ষ্য করোনি কেন আমি নীরব ছিলাম? তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি অপেক্ষা করছিলাম যে আপনি আমাকে ইশারা করবেন। তখন রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বললেন: কোনো নবীর জন্য শোভনীয় নয় যে তিনি (চোখের) ইশারা করবেন।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ২১)
88 - وَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ عليه السلام قَالَ: «لا يَحِلُّ لِنَبِيٍّ أَنْ يُومِئَ»وَحَدَّثَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، وَغَيْرِهِ ، أَنَّ الأَشْعَثَ بْنَ قَيْسٍ الْكِنْدِيَّ كَانَ أَسْلَمَ فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ عليه السلام وَقَدِمَ عَلَيْهِ ، فَلَمَّا ارْتَدَّتِ الْعَرَبُ بَعْدَ وَفَاةِ رَسُولِ اللَّهِ عليه السلام ارْتَدَّ فِيمَنِ ارْتَدَّ، فَلَمَّا قَاتَلَهُمْ أَبُو بَكْرٍ وَقَتَلَ قَوْمَ الأَشْعَثِ فَأُتِيَ بِهِ أَسِيرًا إِلَى أَبِي بَكْرٍ، قَالَ لأَبِي بَكْرٍ: إِنْ رَأَيْتَ أَنْ تَسْتَبْقِيَنِي عَلَى الْعَدُوِّ أَوْ تَنْكِحَنِي أُخْتَكَ أُمَّ فَرْوَةَ بِنْتَ أَبِي قُحَافَةَ، قَالَ: فَاسْتَبْقَاهُ أَبُو بَكْرٍ وَأَنْكَحَهُ أُخْتَهُ، فَوَلَدَتْ مِنْهُ مُحَمَّدَ بْنَ الأَشْعَثِ 90 - قَالَ: وَحَدَّثَنِي أَيْضًا أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ قَالَ لِلأَشْعَثِ بْنِ قَيْسٍ: إِنِّي لأَرَى فِي عَقِبِكَ غَدْرَهُ يَوْمَ النَّجِيرِ ، قَالَ: فَكَانَ ابْنُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الأَشْعَثِ افْتُتِنَ فِي زَمَانِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ ، فَخَرَجَ عَلَى الْحَجَّاجِ بْنِ يُوسُفَ فَقَاتَلَهُ سَنَتَيْنِ أَوْ نَحْوَ ذَلِكَ ، ثُمَّ انْهَزَمَ بَعْدُ فَهَلَكَ.
৮৮ - এবং আব্দুল্লাহ ইবন লাহীআহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ ইবন আবী হাবীব থেকে, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: «কোনো নবীর জন্য চোখের ইশারা করা বৈধ নয়»এবং ইবন লাহীআহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ ইবন আবী হাবীব ও অন্যান্যদের থেকে, নিশ্চয়ই আশআস ইবন কায়স আল-কিনদী রাসূলুল্লাহ (আলাইহিস সালাম)-এর যুগে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর নিকট উপস্থিত হয়েছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (আলাইহিস সালাম)-এর ওফাতের পর যখন আরবরা ধর্মত্যাগী (মুরতাদ) হয়ে গেল, তিনিও তাদের সাথে ধর্মত্যাগী হলেন। এরপর যখন আবু বকর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন এবং আশআসের কওমকে হত্যা করলেন, তখন তাকে বন্দী হিসেবে আবু বকরের নিকট আনা হলো। তিনি আবু বকরকে বললেন: "আপনি যদি সমীচীন মনে করেন তবে আমাকে শত্রুর বিরুদ্ধে (আপনার সাথে) জীবিত রাখুন এবং আপনার বোন উম্মে ফারওয়া বিনতে আবী কুহাফাকে আমার সাথে বিবাহ দিন।" বর্ণনাকারী বলেন: আবু বকর তাকে জীবিত রাখলেন এবং তার নিকট নিজ বোনকে বিবাহ দিলেন। অতঃপর তার গর্ভে মুহাম্মদ ইবন আশআস জন্মগ্রহণ করেন। ৯০ - বর্ণনাকারী বলেন: আমার নিকট আরও বর্ণিত হয়েছে যে, আলী ইবন আবী তালিব আশআস ইবন কায়সকে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই আমি তোমার বংশধরদের মধ্যে নাজিরের যুদ্ধের দিনের বিশ্বাসঘাতকতা দেখতে পাচ্ছি।" বর্ণনাকারী বলেন: পরবর্তীতে তার পুত্র আবদুর রহমান ইবন মুহাম্মদ ইবন আশআস আব্দুল মালিক ইবন মারওয়ানের শাসনামলে ফিতনায় পতিত হন। তিনি হাজ্জাজ ইবন ইউসুফের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং দুই বছর বা তার কাছাকাছি সময় যুদ্ধ করেন। অবশেষে তিনি পরাজিত হন এবং মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ২২)
91 - ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مَسْلَمَةُ بْنُ عَلِيٍّ ، عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ: أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ عليه السلام بِنَبْهَانَ أَسِيرًا فَأَسْلَمَ ، فَخَلَّى سَبِيلَهُ فَكَفَرَ ، ثُمَّ أُتِيَ بِهِ فَأَسْلَمَ ، ثُمَّ كَفَرَ، أَرْبَعًا أَوْ خَمْسًا ، ثُمَّ قَالَ: اللَّهُمَّ أَمْكِنِّي مِنْ نَبْهَانَ فِي حَبْلٍ أَبْرَقَ ، فَتَغَيَّرَ حَبْلُ رَسُولِ اللَّهِ عليه السلام ، فَأَتَوْا بِهِ فِي حَبْلٍ أَبْرَقَ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ عليه السلام: اضْرِبُوا عُنُقَهُ ، فَلَمَّا وَلِيَ قَالَ: مَا يُرِيدُ مِنِّي ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ ، فَأَنَا أَشْهَدُ أَلَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ ، قَالَ النَّبِيُّ عليه السلام: مَا يَقُولُ؟ فَأَخْبَرُوهُ بِقَوْلِهِ ، فَخَلَّى سَبِيلَهُ
৯১ - ইবনে ওয়াহাব বলেন: মাসলামাহ ইবনে আলী আমাকে অবহিত করেছেন একাধিক ব্যক্তি থেকে, তাঁরা ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর নিকট নাবহানকে বন্দী অবস্থায় আনা হলো, এরপর সে ইসলাম গ্রহণ করল। ফলে তিনি তাকে মুক্ত করে দিলেন, কিন্তু সে পুনরায় কুফরি করল। এরপর তাকে আবার আনা হলো এবং সে ইসলাম গ্রহণ করল, তারপর সে পুনরায় কুফরি করল; এভাবে চার বা পাঁচবার ঘটল। এরপর তিনি বললেন: হে আল্লাহ, আমাকে নাবহানের ওপর একটি বিচিত্র রঙের দড়ির মাধ্যমে সামর্থ্য দান করুন। এরপর আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর দড়ি পরিবর্তিত হলো এবং তারা তাকে একটি বিচিত্র রঙের দড়িতে বেঁধে নিয়ে এল। তখন আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বললেন: তার শিরশ্ছেদ করো। যখন তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন সে বলল: আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র আমার থেকে কী চান? আমি তো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বললেন: সে কী বলছে? তারা তাঁকে তার কথা সম্পর্কে অবহিত করল, ফলে তিনি তাকে মুক্তি দিলেন।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
92 - ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ ، عَنْ رَجُلٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ اللَّيْثِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ عليه السلام اسْتَتَابَ نَبْهَانَ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ ، وَكَانَ نَبْهَانُ قَدِ ارْتَدَّقَالَ سُفْيَانُ: وَأَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يَزِيدَ أَنَّهُ قَالَ: الْمُرْتَدُّ يُسْتَتَابُ أَبَدًا كُلَّمَا رَجَعَ قَالَ: وَسَأَلْتُ مَالِكًا فَقَالَ لِي: يُسْتَتَابُ كُلَّمَا رَجَعَ.قَالَ مَالِكٌ: وَقَدْ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: أَلا اسْتَتَبْتُمُوهُ ثَلاثًا.قَالَ: وَأَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ مُحَمَّدِ بْنِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ أَمَرَ خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ حِينَ بَعَثَهُ إِلَى مَنِ ارْتَدَّ مِنَ الْعَرَبِ أَنْ يَدْعُوَهُمْ بِدِعَايَةِ الإِسْلامِ وَيُنَبِّئَهُمْ بِالَّذِي لَهُمْ فِيهِ وَعَلَيْهِمْ وَيَحْرِصَ عَلَى هُدَاهُمْ ، فَمَنْ أَجَابَهُ مِنَ النَّاسِ كُلِّهِمْ أَحْمَرِهِمْ وَأَسْوَدِهِمْ فَلْيَقْبَلْ ذَلِكَ مِنْهُ ، فَإِنَّهُ إِنَّمَا يُقَاتِلُ مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ عَلَى الإِيمَانِ بِاللَّهِ ، فَإِذَا أَجَابَ الْمَدْعُو إِلَى الإِسْلامِ وَصَدَقَ إِيمَانُهُ لَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ سَبِيلٌ ، وَكَانَ اللَّهُ هُوَ حَسْبُهُ ، وَمَنْ لَمْ يُجِبْهُ إِلَى مَا دَعَاهُ إِلَيْهِ مِنَ الإِسْلامِ مِمَّنْ رَجَعَ عَنْهُ أَنْ يَقْتُلَهُقَالَ: وَحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَالِمٍ ، وَيَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الزُّهْرِيُّ ، وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْقَارِي ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّهُ قَدِمَ عَلَيْهِ رَجُلٌ مِنْ قِبَلِ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ فَسَأَلَهُ عَنِ النَّاسِ فَأَخْبَرَهُ ، ثُمَّ قَالَ: هَلْ كَانَ فِيكُمْ مَنْ مُغَرِّبَةِ خَبَرٍ ، قَالَ: نَعَمْ ، رَجُلٌ كَفَرَ بَعْدَ إِسْلامِهِ قَالَ: فَمَاذَا فَعَلْتُمْ بِهِ، قَالَ: قَرَّبْنَاهُ فَضَرَبْنَا عُنُقَهُ ، فَقَالَ عُمَرُ: فَهَلا حَبَسْتُمُوهُ ثَلاثًا وَطَيَّنْتُمْ عَلَيْهِ بَيْتًا ، وَأَطْعَمْتُمُوهُ كُلَّ يَوْمٍ رَغِيفًا وَاسْتَتَبْتُمُوهُ لَعَلَّهُ يَتُوبُ وَيُرَاجِعُ أَمْرَ اللَّهِ ، اللَّهُمَّ إِنِّي لَمْ أَحْضُرْ ، وَلَمْ آمُرْ ، وَلَمْ أَرْضَ إِذْ بَلَغَنِي، قَالَ: وَسَمِعْتُ اللَّيْثَ يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَافِعٍ مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ بِنَحْوِ ذَلِكَ ، وَقَالَ: اللَّهُمَّ ، إِنِّي أَبْرَأُ إِلَيْكَ مِنْ دَمِهِ 97 - ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ ، قَالَ: كَتَبَ صَاحِبُ فِلَسْطِينَ إِلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَنَّ رَجُلا مَجُوسِيًّا مِمَّنْ قَبْلَهُ أَسْلَمَ ، ثُمَّ كَفَرَ بَعْدَ إِسْلامِهِ ، وَاسْتَشَارَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ النَّاسَ فِي ذَلِكَ ، فَقَالَ أَبُو قِلابَةَ الْجَرْمِيُّ: فُتِحَ حِصْنٌ مِنَ الْحُصُونِ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَوَجَدُوا فِيهِ رَجُلا قَدْ كَفَرَ بَعْدَ إِسْلامِهِ فَقَتَلُوهُ ، فَبَلَغَ ذَلِكَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَقَالَ: أَلا أَعْطَشْتُمُوهُ وَجَوَّعْتُمُوهُ ، ثُمَّ أَقَلْتُمُوهُ الإِسْلامَ ، إِنِّي أَبْرَأُ إِلَى اللَّهِ مِنْهُ ، فَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَنِ احْبِسْهُ ، ثُمَّ جَوِّعْهُ وَأَعْطِشْهُ ، فَإِنْ تَابَ فَكَسَبِيلِ ذَلِكَ وَإِنْ لَمْ يَفْعَلْ فَاكْتُبْ إِلَيَّ بِأَمْرِهِ.ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مَخْرَمَةُ بْنُ بُكَيْرٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ ، أَنَّهُ قَالَ: كَتَبَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي رَجُلٍ كَانَ مُسْلِمًا ، ثُمَّ تَنَصَّرَ ، فَكَتَبَ إِلَيْهِ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَنْ أَعْرِضْ عَلَيْهِ الإِسْلامَ، فَإِنْ أَبَى فَاقْتُلْهُ ، فَعَرَضَ عَلَيْهِ الإِسْلامَ فَأَبَى ، فَقَتَلَهُقَالَ: وَأَخْبَرَنِي ابْنُ سَمْعَانَ قَالَ: بَلَغَنَا أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ أُتِيَ بِرَجُلٍ كَانَ أَسْلَمَ ، ثُمَّ كَفَرَ ، فَاسْتَتَابَهُ ، وَأَمَرَهُ بِالرَّجْعَةِ إِلَى الإِسْلامِ ، فَأَبَى فَضَرَبَهُ عَلِيٌّ بِيَدِهِ ، وَضَرَبَهُ النَّاسُ حِينَ رَأَوْا عَلِيًّا ضَرَبَهُ حَتَّى قَتَلُوهُابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ شُبْرُمَةَ حَدَّثَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ أُتِيَ بِيَهُودِيٍّ أَسْلَمَ ، ثُمَّ تَهَوَّدَ ، فَاسْتَتَابَهُ فَأَبَى أَنْ يَتُوبَ ، وَقَالَ: يَحْسَبُ أَنَّ هَؤُلاءِ كُلَّهُمْ مُؤْمِنُونَ ، فَغَضِبَ عَلِيٌّ فَأَمَرَ بِهِ فَقُتِلَ ، ثُمَّ تَخَوَّفَ أَنْ يُفْتَنُوا فِيهِ لِشِدَّةِ نَفْسِهِ وَجُرْأَتِهِ ، فَأَمَرَ بِهِ فَأُدْرِجَ فِي حَصِيرَةٍ ، ثُمَّ أَحْرَقَهُ بِالنَّارِعَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ ، قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ أَخَذَ بِالْكُوفَةِ رِجَالا يُنْعِشُونَ حَدِيثَ مُسَيْلِمَةَ الْكَذَّابِ يَدْعُونَ إِلَيْهِ ، فَكَتَبَ فِيهِمْ إِلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ ، فَكَتَبَ عُثْمَانُ أَنْ أَعْرِضْ عَلَيْهِمْ دِينَ الْحَقِّ وَشَهَادَةِ أَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ ، فَمَنْ قَبِلَهَا وَتَبَرَّأَ مِنْ مُسَيْلِمَةَ فَلا تَقْتُلْهُ ، وَمَنْ لَزِمَ دِينَ مُسَيْلِمَةَ فَاقْتُلْهُ ، فَقَبَلِهَا رِجَالٌ مِنْهُمْ فَتُرِكُوا ، وَلَزِمَ دِينَ مُسَيْلِمَةَ رِجَالٌ فَقُتِلُواأَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ ، قَالَ: أَخْبَرَنِي الْحَارِثُ بْنُ نَبْهَانَ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيِّ ، عَنِ الْحَارِثَةَ بْنِ مُضَرِّبٍ ، قَالَ: ذَهَبْتُ بِفَرَسٍ لِي أُرِيدُ أُنْزِيَ عَلَيْهَا فِي بَنِي حَنِيفَةَ ، فَأُقِيمَتِ الصَّلاةُ فَدَخَلْتُ أُصَلِّي ، فَإِذَا إِمَامُهُمْ يَقْرَأُ بِسَجْعِ مُسَيْلِمَةَ الْكَذَّابِ ، فَخَرَجْتُ ، فَأَتَيْتُ ابْنَ مَسْعُودٍ فَأَخْبَرْتُهُ ، فَبَعَثَ مَعِي نَاسًا فَأَتَيْنَاهُمْ لِلْغَدِ فَوَجَدْنَاهُ يَقْرَأُ بِتِلْكَ الْقِرَاءَةِ ، فَرَجَعُوا إِلَى ابْنِ مَسْعُودٍ ، فَاسْتَتَابَ الرِّجَالَ وَالنِّسَاءَ وَقَالَ: إِنْ لَمْ تَفْعَلُوا قَتَلْتُكُمْ ، فَتَابُوا إِلا الإِمَامَ ، فَقَدَّمَهُ فَضَرَبَ عُنُقَهُابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ دَعَا إِنْسَانًا كَفَرَ بَعْدَ إِسْلامِهِ فَدَعَاهُ إِلَى الإِسْلامِ ثَلاثًا ، فَأَبَى ، فَقَتَلَهُ 104 - قَالَ: وَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ: إِذَا أَشْرَكَ الْمُسْلِمُ دُعِيَ إِلَى الإِسْلامِ ثَلاثَ مَرَّاتٍ ، فَإِنْ أَبَى ضُرِبَتْ عُنُقُهُ.ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مُسَيْلِمَةُ بْنُ عَلِيٍّ ، عَنْ رَجُلٍ حَدَّثَهُ ، عَنْ قَتَادَةَ ، أَنَّ رَجُلا يَهُودِيًّا أَسْلَمَ ، ثُمَّ ارْتَدَّ عَنِ الإِسْلامِ، فَحَبَسَهُ أَبُو مُوسَى أَرْبَعِينَ يَوْمًا يَدْعُوهُ إِلَى الإِسْلامِ ، فَأَتَاهُ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ فَرَآهُ عِنْدَهُ فَقَالَ: لا أَنْزِلُ حَتَّى تَضْرِبَ عُنُقَهُ ، فَلَمْ يَنْزِلْ حَتَّى ضُرِبَتْ عُنُقُهُ، قَالَ قَتَادَةُ: وَقَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ: إِنْ كَفَرَ بَعْدَ إِسْلامِهِ اسْتُتِيبَ ، فَإِنْ أَبَى أَنْ يَتُوبَ قُتِلَ ، وَاعْتَدَّتِ امْرَأَتُهُ عِدَّةَ الْمُطَلَّقَةِ وَمِيرَاثُهُ لأَهْلِ دِينِهِ الَّذِي اخْتَارَ 106 - قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ: لا أَعْمَلُ بِهَذَا، وَقَالَ مَالِكٌ: مِيرَاثُهُ لِلْمُسْلِمِينَ.ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ ، وَعَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ وَغَيْرُهُمَا أَنَّ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ أَخْبَرَهُمْ ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ كَتَبَ إِلَى عُرْوَةَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ صَاحِبِ الْيَمَنِ فِي رَجُلٍ تَهَوَّدَ بَعْدَ إِسْلامِهِ أَنْ يَدْعُوَهُ إِلَى الإِسْلامِ ، فَإِنْ أَسْلَمَ تَرَكَهُ ، وَإِنْ أَبَى قَتَلَهُ ، قَالَ: فَأَمَرَ أَمِيرَهُمْ إِذَا رُفِعَ عَلَى الْخَشَبَةِ أَنْ يُرْسِلَ إِلَيْهِ ، فَلَمَّا رُفِعَ جَاءَ ، فَلَمْ يَزَلْ بِهِ وَيَقُولُ لَهُ: وَيْحَكَ ، إِنَّ لَكَ أَوْلادًا ، فَلَمْ يَزَلْ بِهِ حَتَّى تَابَ ، فَأُنْزِلَ وَلَمْ يُقْتَلْ.وَبَعْضُهُمْ يُزِيدُ عَلَى بَعْضٍ فِي الْحَدِيثِ، ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ ، قَالَ: وَأَخْبَرَنِي جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ ، عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ ، قَالَ: وَأَخْبَرَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ ، كُلُّهُمْ عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بِذَلِكَ.ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ عُمَرَ أَنَّ رُزَيْقَ بْنَ الْحَكِيمِ حَدَّثَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ كَتَبَ إِلَيْهِ فِي ابْنِ عَارِقٍ بِمِثْلِ ذَلِكَ 110 - ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ عُمَرَ أَنَّ رَجُلا مِنَ النِّبْطِ كَفَرَ بَعْدَ إِسْلامِهِ ، فَأَمَرَ سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الرُّمَاحِسَ أَنْ يَسْتَتِيبَهُ ، فَإِنْ تَابَ ، وَإِلا قَتَلَهُ ، قَالَ: فَلَمْ يَتُبْ ، فَقَتَلَهُ الرُّمَاحِسُ بِأَمْرِ سَعِيدٍ.ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ قَالَ فِي نَصْرَانِيٍّ أَسْلَمَ ، ثُمَّ تَنَصَّرَ ، قَالَ: يُعْرَضُ عَلَيْهِ الإِسْلامُ وَيُسْتَتَابُ ، فَإِنْ أَسْلَمَ قَبْلَ ذَلِكَ مِنْهُ ، وَإِنْ أَبَى إِلا الإِقَامَةَ عَلَى الْكُفْرِ بَعْدَ الإِسْلامِ ، فَإِنَّا نَرَى أَنْ يُقْتَلَ بِاسْتِحْبَابِهِ الْكُفْرَ عَلَى الإِيمَانِ 112 - قَالَ: وَأَخْبَرَنِي ابْنُ سَمْعَانَ قَالَ: سَمِعْتُ رِجَالا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ يُحَدِّثُونَ عَنْ سَلَفِنَا أَنَّهُمْ كَانُوا يَقُولُونَ: يُسْتَتَابُ مَنْ كَفَرَ بَعْدَ إِيمْانِهِ مِمَّنْ دَخَلَ فِي الإِسْلامِ مِنْ أَهْلِ الإِيمَانِ مِنَ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى وَالْمَجُوسِ وَغَيْرِهِمْ بِجَهَالَتِهِمْ بِالدِّينِ ، ثُمَّ يُفَقَّهُونَ وَيُعَلَّمُونَ شَرَائِعَ الإِسْلامِ ، وَيُسْتَتَابُ مَنْ كَفَرَ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِهِ مِمَّنْ وُلِدَ فِي الإِسْلامِ وَثَبُتَ عَلَيْهِ ، فَإِنْ تَابَ قُبِلَ مِنْهُ ، وَإِنْ أَبَى قُتِلَ ، وَقَدْ بَلَغَنَا أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَمَرَ بِاسْتِتَابَتِهِمْ ثَلاثَةَ أَيَّامٍ.ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ: كَتَبَ إِلَيَّ رَبِيعَةُ يَقُولُ فِي نَاسٍ مِنْ قِبْطِ مِصْرَ يُسْلِمُونَ ، ثُمَّ يَتَنَصَّرُونَ ، قَالَ: لَوْلا مَا خَلى بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ النَّاسِ مِنْ ذَلِكَ حَتَّى أَصَابَتْهُمْ غِرَّتُهُ وَأَمِنُوا جَهْدَهُ لَرَأَيْتَ عَلَيْهِمُ الْقَتْلَ صِغْرَةً قَمِئَةً ، وَلا يُحْيِيهِمْ ، قَدْ كَانَ لَهُمْ عُذْرٌ بِتَرْكِ النَّاسِ إِيَّاهُمْ وَقِلَّةِ مُعَاتَبَتِهِمْ فِي ذَلِكَ إِذَا نَزَعُوا عَنِ الإِسْلامِ ، فَالرَّأْيُ أَنْ يَتَقَدَّمَ إِلَيْهِمْ وَأَنْ يَعْلَمُوا الَّذِي فِي النُّزُوعِ عَنِ الإِسْلامِ عَلَيْهِمْ فَلَذَلِكَ أَحْذَرُ أَلا يَدْخُلَ فِي الإِسْلامِ إِلا أَهْلُ النِّيَّةِ ، وَأَنْ تَكُونَ عَلَى مَنْ خَرَجَ مِنَ الإِسْلامِ الْحُجَّةُ.وَقَالَ رَبِيعَةُ: إِنَّهُ لا يُلْتَمَسُ مِنَ الْمُسْلِمِ سِوَى الإِجَابَةِ إِلَى الإِسْلامِ، قَدْ سُتِرَ مَنِ اسْتَجَنَّ بِالإِسْلامِ مِنْ غَيْبِهِ أَبْيَنَ فِي غَشْمِ الإِسْلامِ عِنْدَ مَنْ سَتَرَهُ مِنْهُ مَا اسْتُجِنَّ ، فَسَتَرَ الْمُنَافِقِينَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ مَا أَعْلَنُوا بِهِ مِنَ الإِسْلامِ وَهُوَ يَعْرِفُهُمْ بِسِيمَاهِمْ وَيَعْرِفُهُمْ فِي لَحْنِ الْقَوْلِ وَتَأْتِيهِ أَنْبَاؤُهُمْ ، وَلا تَبْتَغِي عِلَّةٌ عَلَى مَنْ أَظْهَرَ الإِسْلامَ وَلا يَصْدُقُ ، وَعَلَيْهِمْ فِي أَمْرِ الإِسْلامِ غرَّةٌ بِأَنْ يَخْرُجُوا مِنْ أَوْطَانِهِمْ وَيَسْكُنُوا أَرْضَ الْغُرْبَةِ ، إِذَا كَانَ نِكَاحُ النَّصْرَانِيِّ جَائِزًا فَإِنَّهُ أَجْوَزُ لَهُ ، وَالإِسْلامُ يُلْبِسُهُ وَلا يَمْتَحِنُ كُلَّ الْمُسْلِمِينَ بِأَنْ يُسْتَقْرَأَ وَيُسْأَلَ عَنِ الْفِقْهِ مَا أَكْثَرَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ مَنْ لا يُتَّهَمُ عَلَى الإِسْلامِ ، وَعَسَى أَلا يَكُونَ قَارِئًا وَلا فَقِيهًا 114 - قَالَ مَالِكٌ: فِي الَّذِي يَكُونُ كَافِرًا فَيُسْلِمُ حَتَّى يَحْسُنَ إِسْلامُهُ ، ثُمَّ يَكْفُرُ ، إِنَّهُ إِنْ لَمْ يَتُبْ قُتِلَ ، قَالَ: وَالْعَبْدُ وَالْحُرُّ فِي ذَلِكَ سَوَاءٌ ، إِنْ لَمْ يَتُبِ الْعَبْدُ قُتِلَ.بَابٌ فِي الْمَرْأَةِ تَرْتَدُّ عَنِ الإِسْلامِ
৯২ - ইবনে ওয়াহাব বলেন: সুফিয়ান সাওরি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, এক ব্যক্তি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উবায়েদ ইবনে উমায়ের আল-লাইসি থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নাভহানকে চারবার তওবা করতে বলেছিলেন, আর নাভহান মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল।সুফিয়ান বলেন: ওমর ইবনে কায়স আমাকে ইব্রাহিম ইবনে ইয়াজিদ থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: মুরতাদ যখনই ফিরে আসবে তখনই তাকে সর্বদা তওবা করতে বলা হবে। তিনি বলেন: আমি মালিককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে বললেন: যখনই সে ফিরে আসবে তখনই তাকে তওবা করতে বলা হবে।মালিক বলেন: ওমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: তোমরা কেন তাকে তিনবার তওবা করতে বললে না?তিনি বলেন: ইবনে লাহিয়া আমাকে আবুল আসওয়াদ মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু বকর সিদ্দিক খালেদ ইবনুল ওয়ালিদকে যখন আরব মুরতাদদের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন, তখন তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি তাদের ইসলামের দাওয়াত দেন এবং তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত করেন এবং তাদের হেদায়েতের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকেন। সুতরাং মানুষের মধ্যে যে কেউ তার ডাকে সাড়া দেবে—সে লাল হোক বা কালো—তার থেকে তা গ্রহণ করতে হবে। কারণ সে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের ভিত্তিতে কেবল তাদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করবে যারা আল্লাহকে অস্বীকার করেছে। যখন আমন্ত্রিত ব্যক্তি ইসলামের ডাকে সাড়া দেবে এবং তার ঈমান সত্য হবে, তখন তার বিরুদ্ধে কোনো পথ থাকবে না এবং আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট হবেন। আর যে ব্যক্তি তার দেওয়া ইসলামের দাওয়াত গ্রহণ করবে না, সে মুরতাদদের অন্তর্ভুক্ত হলে তাকে হত্যা করবে।তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সালিম, ইয়াকুব ইবনে আবদুর রহমান আল-জুহরি এবং মালিক ইবনে আনাস আমার কাছে আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ক্বারি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ওমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে আবু মুসা আল-আশআরির পক্ষ থেকে এক ব্যক্তি এল। তিনি তাকে লোকজনের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং সে তাকে সংবাদ দিল। তারপর তিনি বললেন: তোমাদের মধ্যে কি কোনো নতুন খবর আছে? সে বলল: হ্যাঁ, এক ব্যক্তি তার ইসলামের পর কুফরি করেছে। তিনি বললেন: তোমরা তার সাথে কী করেছ? সে বলল: আমরা তাকে কাছে এনে তার ঘাড় উড়িয়ে দিয়েছি (শিরশ্ছেদ করেছি)। তখন ওমর বললেন: তোমরা তাকে তিন দিন বন্দি করে রাখলে না কেন এবং তার জন্য একটি ঘর মাটির প্রলেপ দিয়ে বন্ধ করে দিলে না কেন, আর প্রতিদিন তাকে একটি রুটি খেতে দিতে এবং তাকে তওবা করতে বলতে, হয়তো সে তওবা করত এবং আল্লাহর আদেশের দিকে ফিরে আসত। হে আল্লাহ, আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না, আদেশও দিইনি এবং খবর পেয়ে সন্তুষ্টও হইনি। তিনি বলেন: আমি লাইসকে আবদুল্লাহ ইবনে নাফি—যিনি আবদুল্লাহ ইবনে ওমরের মুক্তদাস—থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ওমর ইবনুল খাত্তাব থেকে অনুরূপ বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেছিলেন: হে আল্লাহ, আমি তার রক্তের ব্যাপারে আপনার কাছে দায়মুক্ত চাচ্ছি। ৯৭ - ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ফিলিস্তিনের শাসনকর্তা ওমর ইবনে আবদুল আজিজের কাছে লিখেছিলেন যে, তার কাছে থাকা জনৈক অগ্নিউপাসক ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তারপর ইসলামের পর সে কুফরি করেছে। ওমর ইবনে আবদুল আজিজ এ বিষয়ে মানুষের সাথে পরামর্শ করলেন। তখন আবু কিলাবা আল-জারমি বললেন: ওমর ইবনুল খাত্তাবের যুগে একটি দুর্গ জয় করা হয়েছিল, সেখানে তারা এমন এক ব্যক্তিকে পেয়েছিল যে ইসলামের পর কুফরি করেছিল, ফলে তারা তাকে হত্যা করে। এ খবর ওমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে পৌঁছালে তিনি বললেন: তোমরা তাকে তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত রাখলে না কেন, তারপর তাকে ইসলামের প্রস্তাব দিতে। আমি আল্লাহর কাছে এ থেকে দায়মুক্ত হচ্ছি। তখন ওমর ইবনে আবদুল আজিজ লিখে পাঠালেন যে, তাকে বন্দি করো, তারপর তাকে ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত রাখো; যদি সে তওবা করে তবে সে পথই প্রশস্ত, আর যদি না করে তবে তার বিষয়টি আমাকে লিখে জানাও।イবনে ওয়াহাব বলেন: মাখরামা ইবনে বুকায়ের তার পিতা থেকে, তিনি আমর ইবনে শুআইব থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: আমর ইবনুল আস ওমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে এক ব্যক্তি সম্পর্কে লিখেছিলেন যে মুসলমান ছিল, তারপর খ্রিস্টান হয়ে গিয়েছিল। তখন ওমর ইবনুল খাত্তাব তাকে লিখেছিলেন যে, তার সামনে ইসলাম পেশ করো; যদি সে অস্বীকার করে তবে তাকে হত্যা করো। অতঃপর তার সামনে ইসলাম পেশ করা হলে সে অস্বীকার করল, ফলে তিনি তাকে হত্যা করলেন।তিনি বলেন: ইবনে সামআন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আলী ইবনে আবি তালিবের কাছে এক ব্যক্তিকে আনা হয়েছিল যে ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তারপর কুফরি করেছে। তিনি তাকে তওবা করতে বললেন এবং ইসলামে ফিরে আসার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু সে অস্বীকার করল, তখন আলী তাকে নিজের হাত দিয়ে আঘাত করলেন এবং মানুষজন আলীকে আঘাত করতে দেখে তাকে মেরে ফেলল।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে শুবরুমা তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আলী ইবনে আবি তালিবের কাছে এক ইহুদিকে আনা হয়েছিল যে ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তারপর পুনরায় ইহুদি ধর্মে ফিরে গিয়েছিল। তিনি তাকে তওবা করতে বললেন কিন্তু সে তওবা করতে অস্বীকার করল। সে বলেছিল: সে মনে করে এরা সবাই মুমিন। এতে আলী রাগান্বিত হলেন এবং তাকে হত্যার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর সে নিহত হলো। তারপর তিনি আশঙ্কা করলেন যে, লোকগুলো তার মনের কঠোরতা ও ধৃষ্টতার কারণে ফিতনায় পড়ে যেতে পারে, তাই তিনি তাকে চাটাইয়ে মুড়িয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন।আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ আমাকে ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ কুফায় এমন কিছু লোককে ধরলেন যারা মিথ্যাবাদী মুসায়লিমা-র কথা প্রচার করছিল এবং তার দিকে দাওয়াত দিচ্ছিল। তিনি তাদের সম্পর্কে উসমান ইবনে আফফানের কাছে লিখলেন। উসমান লিখে পাঠালেন যে, তাদের সামনে সত্য দ্বীন এবং 'লাইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ' সাক্ষ্য পেশ করো। যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করবে এবং মুসায়লিমা থেকে দায়মুক্ত হবে তাকে হত্যা করো না; আর যে মুসায়লিমার দ্বীনের ওপর অটল থাকবে তাকে হত্যা করো। তাদের মধ্যে কিছু লোক তা গ্রহণ করল ফলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলো, আর কিছু লোক মুসায়লিমার দ্বীনের ওপর অটল থাকল ফলে তাদের হত্যা করা হলো।আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হারিস ইবনে নাভহান আমাকে মুহাম্মদ ইবনে উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি আবু ইসহাক আল-হামদানি থেকে, তিনি হারিসা ইবনে মুদাররিব থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আমার একটি ঘোড়া নিয়ে বনু হানিফা গোত্রে প্রজননের জন্য গেলাম। সালাতের ওয়াক্ত হলে আমি সালাত আদায় করতে প্রবেশ করলাম। হঠাৎ দেখি তাদের ইমাম মিথ্যাবাদী মুসায়লিমার ছন্দোবদ্ধ গদ্য পাঠ করছে। আমি বেরিয়ে ইবনে মাসউদের কাছে এসে তাকে জানালাম। তিনি আমার সাথে কিছু লোক পাঠালেন এবং আমরা পরের দিন তাদের কাছে গেলাম এবং তাকে সেই কিরাত পড়তে দেখলাম। তারা ইবনে মাসউদের কাছে ফিরে এল। তিনি পুরুষ ও নারীদের তওবা করতে বললেন এবং বললেন: যদি তোমরা তওবা না করো তবে আমি তোমাদের হত্যা করব। তারা তওবা করল, কিন্তু ইমাম তওবা করল না। তখন তিনি তাকে সামনে এনে তার শিরশ্ছেদ করলেন।ইবনে ওয়াহাব বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আমর আমাকে ইবনে জুরায়জ থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে মুসা থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, উসমান ইবনে আফফান এক ব্যক্তিকে ডেকেছিলেন যে ইসলামের পর কুফরি করেছিল। তিনি তাকে তিনবার ইসলামের দাওয়াত দিলেন, কিন্তু সে অস্বীকার করল, ফলে তিনি তাকে হত্যা করলেন। ১০৪ - তিনি বলেন: ইবনে শিহাব বলেছেন: যখন কোনো মুসলিম শিরক করবে, তাকে তিনবার ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হবে। যদি সে অস্বীকার করে তবে তার শিরশ্ছেদ করা হবে।ইবনে ওয়াহাব বলেন: মুসায়লিমা ইবনে আলী আমাকে এক ব্যক্তি থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি কাতাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ইহুদি ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তারপর সে ইসলাম থেকে বিচ্যুত (মুরতাদ) হয়। আবু মুসা তাকে চল্লিশ দিন বন্দি করে রেখে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন। অতঃপর মুয়াজ ইবনে জাবাল তার কাছে এলেন এবং তাকে সেখানে দেখে বললেন: আমি ততক্ষণ পর্যন্ত বসব না যতক্ষণ না তুমি তার শিরশ্ছেদ করবে। তিনি তার শিরশ্ছেদ না করা পর্যন্ত বসলেন না। কাতাদা বলেন: ওমর ইবনে আবদুল আজিজ বলেছেন: যদি সে ইসলামের পর কুফরি করে তবে তাকে তওবা করতে বলা হবে; যদি সে তওবা করতে অস্বীকার করে তবে তাকে হত্যা করা হবে, তার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা নারীর ন্যায় ইদ্দত পালন করবে এবং তার উত্তরাধিকার হবে তার বেছে নেওয়া ধর্মের অনুসারীদের জন্য। ১০৬ - আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমি এর ওপর আমল করি না। মালিক বলেন: তার উত্তরাধিকার মুসলিমদের জন্য।ইবনে ওয়াহাব বলেন: লাইস ইবনে সাদ, আমর ইবনুল হারিস ও অন্যরা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ তাদের জানিয়েছেন যে, ওমর ইবনে আবদুল আজিজ ইয়েমেনের শাসনকর্তা উরওয়াহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদের কাছে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে লিখেছিলেন যে ইসলামের পর ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করেছে, তাকে যেন ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হয়। যদি সে ইসলাম গ্রহণ করে তবে তাকে ছেড়ে দাও, আর যদি অস্বীকার করে তবে তাকে হত্যা করো। তিনি বলেন: তাদের আমির নির্দেশ দিলেন যখন তাকে কাঠের ওপর (শূলে) তোলা হবে তখন যেন তাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়। যখন তাকে তোলা হলো, সে (আমির) এল এবং অনবরত তাকে বলতে লাগল: তোমার ধ্বংস হোক, তোমার সন্তানাদি আছে। তিনি অনবরত বলতে থাকলেন যতক্ষণ না সে তওবা করল। অতঃপর তাকে নামিয়ে আনা হলো এবং তাকে হত্যা করা হলো না।তাদের কেউ কেউ হাদিসে একে অপরের চেয়ে বেশি বর্ণনা করেছেন। ইবনে ওয়াহাব বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে লাহিয়া আমাকে ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আর জারির ইবনে হাজিম আমাকে আইয়ুব সাখতিয়ানি থেকে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আর লাইস ইবনে সাদ আমাকে উবায়দুল্লাহ ইবনে আবি জাফর থেকে সংবাদ দিয়েছেন। তারা সবাই ওমর ইবনে আবদুল আজিজ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।ইবনে ওয়াহাব বলেন: আবদুল জব্বার ইবনে ওমর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রুজাইক ইবনুল হাকিম তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, ওমর ইবনে আবদুল আজিজ তার কাছে ইবনে আরিক সম্পর্কে অনুরূপ লিখেছিলেন। ১১০ - ইবনে ওয়াহাব বলেন: আবদুল জব্বার ইবনে ওমর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নবতীদের এক ব্যক্তি ইসলামের পর কুফরি করেছিল। সাঈদ ইবনে আবদুল মালিক রুমাহিসকে নির্দেশ দিলেন তাকে তওবা করতে বলতে; যদি তওবা করে (তবে ভালো), নতুবা তাকে হত্যা করতে। তিনি বলেন: সে তওবা করেনি, ফলে রুমাহিস সাঈদের আদেশে তাকে হত্যা করলেন।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইউনুস আমাকে ইবনে শিহাব থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি এমন একজন খ্রিস্টান সম্পর্কে বলেছেন যে ইসলাম গ্রহণ করার পর পুনরায় খ্রিস্টান হয়ে গেছে; তিনি বলেন: তার সামনে ইসলাম পেশ করা হবে এবং তওবা করতে বলা হবে। যদি সে ইসলাম গ্রহণ করে তবে তা তার থেকে কবুল করা হবে। আর যদি সে ইসলামের পর কুফরির ওপর অটল থাকতে চায়, তবে আমরা মনে করি তাকে হত্যা করা হবে, কারণ সে ঈমানের ওপর কুফরিকে প্রাধান্য দিয়েছে। ১১২ - তিনি বলেন: ইবনে সামআন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি একদল আলেমকে আমাদের পূর্বসূরিদের (সালাফ) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তারা বলতেন: যারা ঈমান আনার পর কুফরি করে এবং ইসলামের বিধিবিধান সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে ইসলামে প্রবেশকারী ইহুদি, খ্রিস্টান, অগ্নিউপাসক ও অন্যদের মধ্য থেকে যারা কুফরি করে, তাদের তওবা করতে বলা হবে। তারপর তাদের দ্বীন বুঝানো হবে এবং ইসলামের বিধানসমূহ শিক্ষা দেওয়া হবে। আর যারা ইসলামে জন্মগ্রহণ করেছে এবং তাতে অটল থাকার পর কুফরি করে, তাদেরও তওবা করতে বলা হবে। যদি তওবা করে তবে তা গ্রহণ করা হবে, আর যদি অস্বীকার করে তবে তাকে হত্যা করা হবে। আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, ওমর ইবনুল খাত্তাব তাদের তিন দিন তওবার সময় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।ইবনে ওয়াহাব বলেন: লাইস ইবনে সাদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: রাবিয়া আমাকে মিশরের কিতাবীদের (কিবতি) মধ্য থেকে কিছু লোক সম্পর্কে লিখেছিলেন যারা ইসলাম গ্রহণ করার পর পুনরায় খ্রিস্টান হয়ে যায়। তিনি বলেন: যদি মানুষের মধ্যে তাদের এ অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া না হতো যতক্ষণ না তাদের ওপর অসতর্কতা গ্রাস করে এবং তারা প্রচেষ্টা থেকে নিরাপদ বোধ করে, তবে আমি তাদের লাঞ্ছনাকরভাবে হত্যা করাকেই যুক্তিযুক্ত মনে করতাম এবং তাদের জীবিত রাখতাম না। মানুষ তাদের ছেড়ে দেওয়ার কারণে এবং তারা ইসলাম ত্যাগ করলে তাদের খুব একটা জবাবদিহি না করার কারণে তারা একটি ওজর (অজুহাত) পেয়েছিল। তাই যুক্তিযুক্ত মনে হয় যেন তাদের সতর্ক করা হয় এবং ইসলাম ত্যাগের ফলে তাদের ওপর কী (শাস্তি) আসবে তা যেন তারা জানতে পারে। এজন্য আমি সতর্কতা অবলম্বন করি যেন নিয়ত খাঁটি না হলে কেউ ইসলামে প্রবেশ না করে এবং যে ব্যক্তি ইসলাম থেকে বেরিয়ে যাবে তার ওপর যেন দলিল প্রতিষ্ঠিত থাকে।রাবিয়া বলেন: মুসলিমের কাছে ইসলামের ডাক গ্রহণ করা ছাড়া আর কিছুই চাওয়া হয় না। যে ব্যক্তি ইসলামের আশ্রয়ে তার গোপন বিষয় লুকিয়ে রেখেছে তা ঢাকা পড়ে গেছে। যারা তার গোপন বিষয় সম্পর্কে জানে তাদের কাছে ইসলামের কঠোরতায় তার লুকায়িত বিষয়টি স্পষ্ট ছিল। আল্লাহর রাসূলের কাছে মুনাফিকদের তারা যে ইসলাম প্রকাশ করত তা তাদের গোপন বিষয়কে ঢেকে রেখেছিল, যদিও তিনি তাদের চিহ্ন দেখে চিনতেন এবং তাদের কথার ধরণ দেখে চিনতেন এবং তাদের সংবাদ তাঁর কাছে আসত। যারা ইসলাম প্রকাশ করে কিন্তু মনে সত্যতা নেই, তাদের ব্যাপারে কোনো খুঁত অন্বেষণ করা হয় না। ইসলামের ব্যাপারে তাদের ওপর একটি সুযোগ থাকে যে তারা তাদের স্বদেশ ত্যাগ করে প্রবাসে বসবাস করে। যখন খ্রিস্টান মহিলার সাথে বিবাহ বৈধ, তখন তার জন্য এটি অধিক বৈধ। ইসলাম তাকে আবৃত করে রাখে এবং প্রত্যেক মুসলিমকে পরীক্ষা করা হয় না যে সে কিরাত পড়বে এবং ফিকহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। মুসলিমদের মধ্যে কত মানুষ আছে যারা ইসলামের ব্যাপারে অভিযুক্ত নয়, অথচ সম্ভবত সে কারীও নয় এবং ফকিহও নয়। ১১৪ - মালিক বলেন: যে ব্যক্তি কাফের ছিল তারপর ইসলাম গ্রহণ করে এবং তার ইসলাম সুন্দর হয়, অতঃপর সে কুফরি করে, সে যদি তওবা না করে তবে তাকে হত্যা করা হবে। তিনি বলেন: এ ক্ষেত্রে গোলাম ও স্বাধীন ব্যক্তি সমান; যদি গোলাম তওবা না করে তবে তাকেও হত্যা করা হবে।ইসলাম ত্যাগকারিণী নারী সম্পর্কে অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
115 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَنْ سَمِعَ عَبَّادَ بْنَ كَثِيرٍ يُحَدِّثُ ، عَنِ الْحَسَنِ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ عليه السلام قَالَ: " إِذَا ارْتَدَّتِ الْمَرْأَةُ عَنِ الإِسْلامِ قُتِلَتْوَأَخْبَرَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ ، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ التَّنُوخِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّ امْرَأَةً يُقَالُ لَهَا أُمُّ قِرْفَةَ كَفَرَتْ بَعْدَ إِسْلامِهَا ، فَاسْتَتَابَهَا أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ فَلَمْ تَتُبْ ، فَقَتَلَهَا ، وَقَالَ لِي اللَّيْثُ: وَذَلِكَ الَّذِي سَمِعْنَا ، وَهُوَ رَأْيِي.ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ ذَلِكَ، ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ ، أَنَّ النَّخَعِيَّ كَانَ يَقُولُ ذَلِكَ وَيَقُولُ: إِنَّمَا هُوَ حَدٌّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ وَقَعَ عَلَيْهَا 118 - وَقَالَ لِي مَالِكٌ فِي الْمَرْأَةِ الْمُسْلِمَةِ تَتَنَصَّرُ: إِنَّهَا إِنْ لَمْ تَتُبْ قُتِلَتْ كَمَا يُصْنَعُ بِالرَّجُلِ.بَابٌ فِي الزَّنَادِقَةِأَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ ، قَالَ: أَخْبَرَنِي الْحَارِثُ بْنُ نَبْهَانَ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَنَّهُ أُتِيَ بِزَنَادِقَةٍ يَعْبُدُونَ وَثَنًا بِالْكُوفَةِ ، فَخَرَجَ بِهِمْ فَحَفَرَ لَهُمْ حُفْرَةً وَأَمَرَ بِضَرْبِ أَعْنَاقِهِمْ 120 - قَالَ: وَسَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ: أَمَّا مَنْ أَسَرَّ الْكُفْرَ وَأَظْهَرَ الإِسْلامَ مِثْلَ الزَّنَادِقَةِ وَأَشْبَاهِهِمْ فَأُولَئِكَ إِذَا ظَهَرَ عَلَيْهِمْ قُتِلُوا وَلَمْ يُنْتَظَرْ بِهِمْ شَيْئًا لأَنَّهُمْ لا تُعْرَفُ تَوْبَتُهُمْ ، وَإِنَّهُمْ قَدْ كَانُوا عَلَى الْكُفْرِ وَهُمْ يُظْهِرُونَ الإِسْلامَ ، فَأَمَّا مَنْ أَظْهَرَ الْكُفْرَ وَأَعْلَنَ بِهِ بَعْدَ الإِسْلامِ فَإِنَّهُ لَوِ اجْتَمَعَتْ عَلَى ذَلِكَ جَمَاعَةٌ مِنَ النَّاسِ كَانَ يَنْبَغِي أَنْ يُقَاتِلُوا وَأَنْ يَدَعُوا وَيُسْتَتَابُوا قَبْلَ أَنْ يُقَاتَلُوا ، الْوَاحِدُ مِنْهُمْ مِثْلُ الْجَمَاعَةِ ، يُسْتَتَابُ قَبْلَ أَنْ يُقْتَلَ.- قَالَ: وَسَمِعْتُ اللَّيْثَ بْنَ سَعْدٍ يَقُولُ فِي الزَّنَادِقَةِ مِثْلَ قَوْلِ مَالِكٍ.قَالَ: وَسَمِعْتُ اللَّيْثَ بْنَ سَعْدٍ يَقُولُ: حَدَّثَنِي عَبْدُ رَبِّهِ بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ ، أَنَّهُ قَالَ فِي الزِّنْدِيقِيِّ: إِمَّا هُوَ جَاءَ جَاحِدًا وَقَدْ قَامَتْ عَلَيْهِ الْبَيِّنَةُ ، فَإِنَّهُ يُقْتَلُ وَلا يُسْتَتَابُ ، وَإِمَّا هُوَ جَاءَ تَائِبًا مُعْتَرِفًا ، فَإِنَّهُ يُتْرَكُوَأَخْبَرَنِي خَالِدُ بْنُ حُمَيْدٍ ، عَنْ عَقِيلِ بْنِ خَالِدٍ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ ، أَنَّهُ قَالَ: لا يَخْرُجُ الْعَبْدُ مِنَ الإِسْلامِ حَتَّى يَخْرُجَ كَمَا دَخَلَ إِلا سُجُودًا لِغَيْرِ اللَّهِ أَوْ جُحُودًا لِلَّهِ بَابٌ فِي سَبِّ النَّبِيِّ عليه السلام وَالْوُلاةِوَأَخْبَرَنِي خَالِدُ بْنُ حُمَيْدٍ ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّهُ كَانَ عَلَى الْكُوفَةِ فِي عَهْدِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ ، فَكَتَبَ إِلَيْهِ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ: إِنِّي وَجَدْتُ رَجُلا بِالْكُنَاسَةِ سُوقٍ مِنْ أَسْوَاقِ الْكُوفَةِ يَسُبُّكَ ، وَقَدْ قَامَتْ عَلَيْهِ الْبَيِّنَةُ ، فَهَمَمْتُ بِقَتْلِهِ أَوْ قَطْعِ يَدِهِ أَوْ لِسَانِهِ أَوْ جَلْدِهِ ، ثُمَّ بَدَا لِي أَنْ أُرَاجِعَكَ فِيهِ ، فَكَتَبَ إِلَيْهِ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ: سَلامٌ عَلَيْكَ ، أَمَّا بَعْدُ ، فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ، لَوْ قَتَلْتَهُ لَقَتَلْتُكَ بِهِ ، وَلَوْ قَطَعْتَهُ لَقَطَعْتُكَ بِهِ ، وَلَوْ جَلَدْتَهُ أَقَدْتُهُ مِنْكَ ، فَإِذَا جَاءَكَ كِتَابِي هَذَا فَاخْرُجْ بِهِ إِلَى الْكُنَاسَةِ فَسُبَّهُ كَالَّذِي سَبَّنِي ، أَوْ أَعْفُ عَنْهُ ، فَإِنَّ ذَلِكَ أَحَبُّ إِلَيَّ ، فَإِنَّهُ لا يَحِلُّ قَتْلُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَسُبُّ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ إِلا رَجُلٌ سَبَّ رَسُولَ اللَّهِ عليه السلام ، فَمَنْ سَبَّ رَسُولَ اللَّهِ فَقَدْ حَلَّ دَمُهُوَأَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنْ رَجُلٍ ، عَنْ مُجَاهِدٍ ، قَالَ: ذُكِرَ عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَاهِبٌ تَنَاوَلَ رَسُولَ اللَّهِ عليه السلام ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ: فَهَلا قَتَلْتُمُوهُ 126 - وَسَأَلْتُ مَالِكًا فَقَالَ: لا يُسْتَتَابُ مَنْ سَبَّ النَّبِيَّ عليه السلام مِنَ الْمُسْلِمِينَ أَوِ الْكُفَّارِ.بَابٌ فِي قَتْلِ السَّحَّارِقَالَ: وَأَخْبَرَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ ، عَنْ أَبِي الرِّجَالِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ جَارِيَةً كَانَتْ لِحَفْصَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ مُدْبِرَةً ، فَسَحَرَتْهَا ، فَأَمَرَتْ بِهَا حَفْصَةُ فَقُتِلَتْوَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، وَأُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ، أَنَّ حَفْصَةَ أَمَرَتْ بِهَا ، فَقُتِلَتْفَأَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأسدِيِّ ، أَنَّهُ كَانَ يَقْتُلُ السَّحَّارَ عِنْدَهُمْ ، وَأَنَّ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ قَتَلَ سَاحِرًا كَانَ مَنْزِلُهُ قَرِيبًا مِنْ مَنْزِلِ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، وَلَمْ يَزَالُوا يَقْتُلُونَابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مَسْلَمَةُ بْنُ عَلِيٍّ ، وَيَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنِ الْمُثَنَّى بْنِ الصَّبَّاحِ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ ، أَنَّهُ قَالَ: السَّاحِرُ يُقْتَلُ إِنِ اعْتَرَفَوَأَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ ، أَنَّهُ قَالَ: عُقُوبَةُ السَّاحِرِ الْقَتْلُ ابْنُ وَهْبٍ: وَفِي كِتَابٍ جَاءَ مِنَ ابْنِ أَبِي سَبْرَةَ الْقُرَشِيِّ ، عَنْ رَبِيعَةَ ، وَأَبِي الزِّنَادِ مِثْلَهُ: إِذَا قَامَتِ الْبَيِّنَةُ بِذَلِكَ عَلَيْهِ وَعَرَفَ.
১১৫ - আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাকে এমন এক ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন যিনি আব্বাদ বিন কাসীরকে বর্ণনা করতে শুনেছেন, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: " যখন কোনো নারী ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়, তাকে হত্যা করা হবে।এবং আমাকে লাইস বিন সাদ সংবাদ দিয়েছেন যে, সাঈদ বিন আব্দুল আজিজ আত-তানুখী তাঁকে বর্ণনা করেছেন যে, উম্মু কিরফা নামক এক নারী ইসলাম গ্রহণের পর কুফরি করেছিল। ফলে আবু বকর সিদ্দীক তাঁর নিকট তওবা চাইলেন কিন্তু সে তওবা করেনি, তাই তিনি তাকে হত্যা করেন। লাইস আমাকে বলেছেন: এটিই আমরা শুনেছি এবং এটাই আমার অভিমত।ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমাকে ইউনুস সংবাদ দিয়েছেন ইবনে শিহাব থেকে যে, তিনি এটিই বলতেন। ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমাকে জারীর বিন হাযিম সংবাদ দিয়েছেন যে, নাখয়ী এটিই বলতেন এবং বলতেন: এটি মূলত আল্লাহর নির্ধারিত বিধানগুলোর (হুদুদ) একটি যা তার উপর কার্যকর হয়েছে। ১১৮ - এবং মালেক আমাকে জনৈকা মুসলিম নারী সম্পর্কে বলেছেন যে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে: সে যদি তওবা না করে তবে তাকে হত্যা করা হবে, যেমনটি পুরুষের ক্ষেত্রে করা হয়।যিন্দিকদের (ধর্মদ্রোহী) বিষয়ে অনুচ্ছেদআবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাকে হারিস বিন নাবহান সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি আউন বিন আবি জুহাইফা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলী বিন আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁর নিকট কুফায় একদল যিন্দিককে আনা হলো যারা মূর্তিপূজা করছিল। তিনি তাদের নিয়ে বের হলেন, তাদের জন্য গর্ত খুঁড়লেন এবং তাদের গর্দান উড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। ১২০ - তিনি বলেন: আমি মালেককে বলতে শুনেছি: যারা কুফরি গোপন করে এবং ইসলামের প্রকাশ ঘটায় যেমন যিন্দিক ও তাদের সমগোত্রীয়রা, যখন তারা ধরা পড়ে তখন তাদের হত্যা করা হবে এবং তাদের জন্য কোনো কিছুর অপেক্ষা করা হবে না। কারণ তাদের তওবা নির্ভরযোগ্য বলে গণ্য হয় না এবং তারা কুফরিতে লিপ্ত থেকেও ইসলাম প্রকাশ করছিল। তবে যারা ইসলাম ত্যাগের পর কুফরি প্রকাশ করে ও তা ঘোষণা দেয়, তাদের ক্ষেত্রে যদি একদল লোক একত্রিত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা উচিত এবং যুদ্ধের পূর্বে তাদের আহ্বান জানানো ও তওবা করার সুযোগ দেওয়া উচিত। তাদের মধ্য থেকে একজনও যদি হয়, তবে হত্যার পূর্বে তাকে তওবা করার সুযোগ দেওয়া হবে।- তিনি বলেন: আমি লাইস বিন সাদকে যিন্দিকদের সম্পর্কে মালেকের মতের অনুরূপ বলতে শুনেছি।তিনি বলেন: আমি লাইস বিন সাদকে বলতে শুনেছি: আমাকে আব্দুর রাব্বিহ বিন সাঈদ আল-আনসারী ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি যিন্দিক সম্পর্কে বলেছেন: যদি সে অস্বীকারকারী হিসেবে আসে এবং তার বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তাকে হত্যা করা হবে এবং তওবা করার সুযোগ দেওয়া হবে না। আর যদি সে তওবাকারী ও স্বীকারোক্তি প্রদানকারী হিসেবে আসে, তবে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।এবং আমাকে খালিদ বিন হুমাইদ সংবাদ দিয়েছেন আকীল বিন খালিদ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: কোনো বান্দা ইসলাম থেকে বের হয় না যতক্ষণ না সে যেভাবে প্রবেশ করেছিল সেভাবেই বের হয়ে যায় (অর্থাৎ ইমান ত্যাগ করে), তবে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে সিজদা করা বা আল্লাহকে অস্বীকার করা ভিন্ন। নবী (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) এবং শাসকদের গালি দেওয়া সম্পর্কিত অনুচ্ছেদএবং আমাকে খালিদ বিন হুমাইদ সংবাদ দিয়েছেন ওমর বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আব্দুল হামিদ বিন আব্দুর রহমান বিন যায়েদ বিন আল-খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ওমর বিন আব্দুল আজিজের আমলে কুফার দায়িত্বে ছিলেন। ওমর বিন আব্দুল আজিজ তাঁর নিকট লিখেছিলেন: আমি কুফার অন্যতম বাজার কুন্নাসায় এমন এক ব্যক্তিকে পেয়েছি যে আপনাকে গালি দিচ্ছিল এবং তার বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি তাকে হত্যা করার অথবা তার হাত বা জিহ্বা কেটে ফেলার অথবা তাকে বেত্রাঘাত করার ইচ্ছা করেছিলাম। এরপর আমার মনে হলো এ বিষয়ে আপনার সাথে পরামর্শ করি। ওমর বিন আব্দুল আজিজ তাকে প্রতিউত্তরে লিখলেন: আপনার প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর, সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, যদি আপনি তাকে হত্যা করতেন তবে আমি তার বিনিময়ে আপনাকে হত্যা করতাম। যদি তার অঙ্গচ্ছেদ করতেন তবে আমি আপনার অঙ্গচ্ছেদ করতাম। আর যদি তাকে বেত্রাঘাত করতেন তবে আমি তার প্রতিশোধ গ্রহণ করতাম। সুতরাং যখন আমার এই পত্র আপনার নিকট পৌঁছাবে, তখন আপনি কুন্নাসায় বের হবেন এবং সে আমাকে যেভাবে গালি দিয়েছে আপনিও তাকে সেভাবে গালি দেবেন অথবা তাকে ক্ষমা করে দেবেন, যা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। কেননা কোনো মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যা করা বৈধ নয় যে অন্য কোনো মানুষকে গালি দেয়, তবে যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূলকে (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) গালি দেয় সে ব্যতীত। যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূলকে গালি দেয় তার রক্ত বৈধ হয়ে যায়।এবং সুফিয়ান বিন উয়াইনা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এক ব্যক্তি থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন ওমরের নিকট জনৈক পাদ্রীর কথা উল্লেখ করা হলো যে আল্লাহর রাসূলকে (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) কটাক্ষ করেছিল। আবদুল্লাহ বিন ওমর বললেন: তোমরা তাকে হত্যা করলে না কেন? ১২৬ - এবং আমি মালেককে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি বললেন: মুসলিম বা কাফিরদের মধ্য থেকে যারা নবীকে (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) গালি দেয় তাদের তওবা গ্রহণ করা হবে না।জাদুকরকে হত্যা করা সম্পর্কিত অনুচ্ছেদতিনি বলেন: মালেক বিন আনাস আমাকে আবু রিজাল মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে নবীর স্ত্রী হাফসার একজন মুদাব্বারা দাসী ছিল, সে তাকে জাদু করেছিল। হাফসা তার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তাকে হত্যা করা হলো।এবং আবদুল্লাহ বিন ওমর এবং উসামা বিন যায়েদ আমাকে নাফে থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন ওমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হাফসা তার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তাকে হত্যা করা হয়েছিল।ইবনে লাহিয়া আমাকে মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-আসাদী থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাদের নিকট জাদুকরকে হত্যা করতেন এবং মারওয়ান বিন আল-হাকাম এক জাদুকরকে হত্যা করেছিলেন যার ঘর উরওয়া বিন আল-যুবাইরের ঘরের কাছে ছিল এবং তারা সর্বদা হত্যা করতেন।ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমাকে মাসলামা বিন আলী এবং ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব সংবাদ দিয়েছেন মুসান্না বিন সাবাহ থেকে, তিনি আমর বিন শুয়াইব থেকে, তিনি সাঈদ বিন আল-মুসাইয়্যিব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: জাদুকর যদি স্বীকারোক্তি দেয় তবে তাকে হত্যা করা হবে।এবং আমাকে ইবনে লাহিয়া সংবাদ দিয়েছেন ইয়াযীদ বিন আবি হাবীব থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: জাদুকরের শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। ইবনে ওয়াহাব: ইবনে আবি সাবরা আল-কুরায়শী থেকে আসা একটি পত্রে রাবীআহ এবং আবুয যিনাদ থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে: যখন তার বিরুদ্ধে এর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তা জানা যাবে।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
132 - وَأَخْبَرَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ ، عَنْ بَعْضِ أَشْيَاخِ أَهْلِ مِصْرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ عليه السلام قَادَ يَوْمًا أَوْ لَيْلَةً بِالرَّكْبِ فَجَعَلَ يَقُولُ: " جُنْدُبٌ ، وَمَا جُنْدُبٌ ، وَمَا يُدْرِيكَ مَا جُنْدُبٌ ، يَضْرِبُهُ ضَرْبَةً يَفْرُقُ فِيهَا بَيْنَ الْحَقِّ وَالْبَاطِلِفَلَمْ يَدْرِ النَّاسُ مَا ذَلِكَ الأَمْرُ حَتَّى كَانَ فِي زَمَانِ زِيَادِ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ إِنْسَانٌ يَلْعَبُ بِأَشْيَاءَ يَعْلَمُ النَّاسُ أَنَّهَا لا تَكُونُ ، يُدْخِلُ حَصَاةً مِنْ دِمَاغِهِ وَيُخْرِجُهَا مِنْ فِيهِ ، وَيَأْخُذُ الشَّيْءَ فَيُحْرِقُهُ ، ثُمَّ يَأْتِي بِهِ كَمَا هُوَ عَلَى حَالِهِ ، وَأَشْبَاهَ هَذَا النَّحْوِ ، فَخَرَجَ النَّاسُ مِنْ عِنْدِهِ يَتَعَجَّبُونَ لِشَيْءٍ لَمْ يَرَوْا مِثْلَهُ ، فَجَلَسَ بَعْضُ مَنْ خَرَجَ مِنْ عِنْدِ زِيَادٍ إِلَى مَجْلِسٍ فِيهِ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ جُنْدُبٌ مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ ، فَحَدَّثَهُمْ بِالَّذِي رَأَى ، فَقَالَ لَهُ جُنْدُبٌ: فِي الإِسْلامِ يَعْمَلُ بِهَذَا ، فَقَالَ: نَعَمْ ، ابْقَ عِنْدَ الأَمْيِرِ ، قَالَ: فَمَتَى تَرَاهُ يَعُودُ ، قَالَ: بِالْغَدَاةِ أَرَى ، قَالَ: وَاشْتَمَلَ جُنْدُبٌ عَلَى سَيْفِهِ وَدَخَلَ مَعَ النَّاسِ ، وَجَاءَ ذَلِكَ الرَّجُلُ فَعَمِلَ بِمِثْلِ عَمَلِهِ ، فَلَمَّا عَايَنَهُ جُنْدُبٌ وَثَبَ إِلَيْهِ بِالسَّيْفِ فَضَرَبَهُ حَتَّى ثَرَدَ ، وَهَرَبَ زِيَادٌ وَظَنَّ أَنَّهُ يُرِيدُهُ فَقَالَ: إِنِّي لَمْ أُرِدْ زِيَادًا ، إِنَّمَا أَرَدْتُ هَذَا الَّذِي يَعْمَلُ عَلانِيَةً فِي الإِسْلامِ بِالسِّحْرِ.وَحَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ ، عَنْ بَجَالَةَ بْنِ عَبْدَةَ قَالَ: كُنْتُ كَاتِبَ جَزْءِ بْنِ مُعَاوَيَةَ ، فَكَتَبَ إِلَيْنَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَبْلَ قَتْلِهِ بِسَنَةٍ أَنِ اقْتُلُوا كُلَّ سَاحِرٍ ، وَفَرِّقُوا بَيْنَ الْمَجُوسِ وَذَوَاتِ الْمَحَارِمِ فِي كِتَابِ اللَّهِ وَامْنَعُوهُمُ الْزَّمْزَمَةَ ، قَالَ: وَقَتَلْنَا ثَلاثَ سَوَاحِرَ ، وَفَرَّقْنَا بَيْنَ كُلِّ رَجُلٍ وَحَرِيمَتِهِ فِي كِتَابِ اللَّهِ ، وَجَعَلَ طَعَامًا وَوَضَعَ السَّيْفَ عَلَى فَخِذِهِ ، ثُمَّ دَعَاهُمْ ، فَأَكَلُوا بِغَيْرِ زَمْزَمَةٍ ، وَأَتَوْا بِوقْرِ بَغْلٍ أَوْ بَغْلَيْنِ وَرِقًا قَالَ: وَلَمْ يَكُنْ عُمَرُ يَأْخُذُ الْجِزْيَةَ مِنَ الْمَجُوسِ حَتَّى شَهِدَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ عليه السلام أَخَذَهَا مِنْ مَجُوسِ هَجَرَ، فَأَخَذَهَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ.- وَقَالَ مَالِكٌ: إِنَّ السَّاحِرَ إِذَا سَحَرَ هُوَ نَفْسَهُ لا يَعْمَلُ ذَلِكَ لَهُ غَيْرُهُ، السِّحْرُ الَّذِي ذَكَرَ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ ، قَالَ: {وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الآخِرَةِ مِنْ خَلاقٍ} [البقرة: 102] ، إِنَّ عَلَيْهِ الْقَتْلَ إِذَا عَمِلَ ذَلِكَ هُوَ نَفْسُهُ.قَالَ مَالِكٌ: وَأَرَاهُ كَالزِّنْدِيقِ الَّذِي يُظْهِرُ الإِسْلامَ وَيَسْتُرُ الْكُفْرَ ، فَكَيْفَ يُسْتَتَابُ.
১৩২ - এবং লাইস ইবনে সা'দ মিশরের জনৈক শায়খ থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন বা এক রাতে কাফেলার সাথে পথ চলছিলেন, তখন তিনি বলতে লাগলেন: "জুনদুব, আর কী সেই জুনদুব! তুমি কি জানো জুনদুব কে? সে তাকে এমন এক আঘাত করবে যার মাধ্যমে সে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করে দিবে।মানুষ জানত না সেই বিষয়টি কী, যতক্ষণ না যিয়াদ ইবনে আবি সুফিয়ানের সময় এল। তখন তার কাছে এক ব্যক্তি প্রবেশ করল যে এমন সব বিষয় নিয়ে খেলা দেখাচ্ছিল যা মানুষ জানে যে তা হওয়া সম্ভব নয়। সে তার মগজ দিয়ে একটি পাথর প্রবেশ করাচ্ছিল এবং তা মুখ দিয়ে বের করছিল। সে কোনো জিনিস নিয়ে তা পুড়িয়ে ফেলছিল, অতঃপর তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনছিল—এবং এই জাতীয় আরও অনেক কিছু। মানুষ তার কাছ থেকে এমন কিছু দেখে বিস্ময় নিয়ে বের হচ্ছিল যা তারা আগে কখনও দেখেনি। যিয়াদের কাছ থেকে বের হওয়া কিছু লোক এমন এক মজলিসে বসল যেখানে ইরাকের জুনদুব নামক এক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তারা তাকে যা দেখেছিল তা বর্ণনা করল। জুনদুব তাকে বললেন: ইসলামের মধ্যে কি এসব কাজ করা হচ্ছে? সে বলল: হ্যাঁ। জুনদুব বললেন: আমিরের কাছেই অবস্থান করো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তুমি তাকে কখন ফিরে আসতে দেখবে? সে বলল: আমি মনে করি আগামীকাল সকালে। রাবী বলেন: জুনদুব তার তরবারিটি কাপড়ের নিচে লুকিয়ে নিলেন এবং মানুষের সাথে প্রবেশ করলেন। সেই ব্যক্তি এল এবং তার আগের কাজের মতোই কাজ শুরু করল। জুনদুব যখন তাকে দেখলেন, তখন তরবারি নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং তাকে এমনভাবে আঘাত করলেন যে তাকে টুকরো টুকরো করে ফেললেন। যিয়াদ পালিয়ে গেলেন এবং ভাবলেন যে জুনদুব তাকেই আক্রমণ করতে চাচ্ছেন। তখন জুনদুব বললেন: আমি যিয়াদকে মারতে চাইনি, বরং আমি এই ব্যক্তিকে চেয়েছিলাম যে ইসলামের মধ্যে প্রকাশ্যভাবে জাদু করছিল।সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আমর ইবনে দিনার থেকে এবং তিনি বাজাল্লাহ ইবনে আবদাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি জুজ ইবনে মুয়াবিয়ার লেখক ছিলাম। উমর ইবনে আল-খাত্তাব (রা.) তাঁর শাহাদাতের এক বছর আগে আমাদের কাছে লিখে পাঠালেন যে, তোমরা প্রত্যেক জাদুকরকে হত্যা করো, এবং অগ্নিপূজকদের (মাজুস) মধ্যে যাদের সাথে বিবাহ আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী হারাম তাদের বিচ্ছেদ করে দাও, আর তাদের গুঞ্জন (খাওয়ার সময় অস্পষ্ট আওয়াজ করা) থেকে বিরত রাখো। বর্ণনাকারী বলেন: আমরা তিনজন নারী জাদুকরকে হত্যা করলাম এবং আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী প্রত্যেক পুরুষ ও তার হারামকৃত আত্মীয়দের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলাম। তিনি খাবারের ব্যবস্থা করলেন এবং নিজের উরুর ওপর তলোয়ার রাখলেন, এরপর তাদের ডাকলেন। তারা গুঞ্জন ছাড়াই খাবার খেল। তারা এক বা দুই খচ্চর বোঝাই রূপা নিয়ে এল। তিনি বলেন: উমর (রা.) অগ্নিপূজকদের কাছ থেকে জিযিয়া নিতেন না যতক্ষণ না আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) সাক্ষ্য দিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাজার-এর অগ্নিপূজকদের থেকে তা গ্রহণ করেছিলেন। এরপর উমর ইবনে আল-খাত্তাব (রা.) তা গ্রহণ করলেন।- ইমাম মালিক বলেন: জাদুকর যখন নিজেই জাদু করে এবং অন্য কেউ তার হয়ে তা করে দেয় না, সেই জাদু যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: "তারা ভালোভাবেই জানত যে, যে কেউ তা (জাদু) ক্রয় করবে, পরকালে তার জন্য কোনো অংশ নেই।" [সূরা আল-বাকারাহ: ১০২]। যদি সে নিজে তা করে, তবে তাকে হত্যা করা ওয়াজিব।মালিক বলেন: আমি তাকে জিন্দিকের মতো মনে করি যে ইসলাম প্রকাশ করে কিন্তু কুফর লুকিয়ে রাখে; সুতরাং কীভাবে তার তাওবা চাওয়া হবে? (অর্থাৎ তার তাওবা গ্রহণীয় হবে না)।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
135 - ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ ، أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ مَنْ سُحِرَ مِنْ أَهْلِ الْعَهْدِ أَعَلَيْهِ قَتْلٌ ، قَالَ: بَلَغَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ عليه السلام قَدْ صُنِعَ لَهُ ذَلِكَ ، فَلَمْ يَقْتُلْ مَنْ صَنَعَهُ وَكَانَ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ- وَقَالَ مَالِكٌ: لا أَرَى أَنْ يُقْتَلَ سَحَّارُ أَهْلِ الْعَهْدِ إِلا أَنْ يَدْخُلُوا عَلَى الْمُسْلِمِينَ بِسِحْرِهِمْ ضِرَرًا لَمْ يُعَاهِدُوهُمْ عَلَيْهِ.- قَالَ مَالِكٌ: وَلا يُؤْخَذُ كَافِرٌ بِشَيْءٍ صَنَعَهُ فِي كُفْرِهِ إِذَا أَسْلَمَ ، وَذَلِكَ أَنَّ اللَّهَ يَقُولُ: {قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ يَنْتَهُوا يُغْفَرْ لَهُمْ مَا قَدْ سَلَفَ وَإِنْ يَعُودُوا فَقَدْ مَضَتْ سُنَّةُ الأَوَّلِينَ} [الأنفال: 38] .بَابٌ فِي ضَرْبِ الْعَبِيدِ وَجِرَاحَاتِهِمْ
১৩৫ - ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইউনুস আমাকে ইবনে শিহাব থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল সেই ব্যক্তি সম্পর্কে যে চুক্তিভুক্ত অমুসলিমদের মধ্য থেকে জাদু করে, তার কি মৃত্যুদণ্ড হবে? তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে এমনটি করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি হত্যা করেননি সেই ব্যক্তিকে যে এটি করেছিল এবং সে ছিল আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত।- এবং ইমাম মালিক বলেন: আমি মনে করি না যে আহলে আহদের (চুক্তিভুক্ত অমুসলিম) জাদুকরকে হত্যা করা হবে, যতক্ষণ না তারা তাদের জাদুর মাধ্যমে মুসলিমদের ওপর এমন কোনো ক্ষতি বয়ে আনে যার ব্যাপারে তাদের সাথে কোনো চুক্তি হয়নি।- ইমাম মালিক বলেন: কোনো কাফির ইসলাম গ্রহণ করলে কুফর অবস্থায় সে যা করেছে তার জন্য তাকে পাকড়াও করা হবে না। আর তা এজন্য যে, আল্লাহ তাআলা বলেন: {আপনি কাফিরদের বলুন, যদি তারা বিরত হয়, তবে যা অতীতে অতিবাহিত হয়েছে তা তাদের জন্য ক্ষমা করে দেওয়া হবে; আর যদি তারা পুনরায় তা-ই করে, তবে পূর্ববর্তীদের রীতি তো গত হয়েছেই} [আল-আনফাল: ৩৮]।দাসদের প্রহার করা এবং তাদের জখম সম্পর্কিত অধ্যায়।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল মুহারাবাহ মিন মুয়াত্তা ইবনু ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
138 - أَخْبَرَنِي ابْنُ سَمْعَانَ قَالَ: بَلَغَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ أُتِيَ بِرَجُلٍ ضَرَبَ مَمْلُوكًا لَهُ فَقَتَلَهُ ، فَجَلَدَهُ رَسُولُ اللَّهِ عليه السلام مِائَةً، وَأَخْبَرَنِي الْحَارِثُ بْنُ نَبْهَانَ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ ، وَعُمَرَ بْنِ الْخَطَّاب مِثْلَهُقَالَ: وَأَخْبَرَنِي شَبِيبُ بْنُ سَعِيدٍ التَّمِيمِيُّ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ الْجَزَرِيِّ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ: قَتَلَ رَجُلٌ عَبْدًا عَمْدًا فِي وِلايَةِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ ، فَضَرَبَهُ أَبُو بَكْرٍ مِائَةً ، وَأَغْرَمَهُ ثَمَنَهُ ، وَلَمْ يَجْعَلْ أَبُو بَكْرٍ بَيْنَهُمَا قَوَدًاابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مَخْرَمَةُ بْنُ بُكَيْرٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ: سَمِعْتُ سُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ وَاسْتُفْتِيَ: هَلْ يُقْتَلُ الرَّجُلُ بِعَبْدِهِ ، فَقَالَ: لا ، وَلَكِنَّهُ يُجْلَدُ، قَالَ بُكَيْرٌ: وَقَالَ ذَلِكَ ابْنُ قُسَيْطٍابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ سَمْعَانَ قَالَ: سَمِعْتُ رِجَالا مِنْ عُلَمَائِنَا يَقُولُونَ: مَنْ ضَرَبَ مَمْلُوكًا لَهُ فَقَتَلَهُ فَلْيَسْتَحْلِفْ بِاللَّهِ الَّذِي لا إِلَهَ إِلا هُوَ مَا أَرَادَ قَتْلَهُ ، فَإِنْ حَلَفَ أَمَرَ بِالْكَفَّارَةِ ، وَإِنْ نَكَلَ جُلِدَ مِائَةًابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ قَالَ: إِنْ قَتَلَ عَبْدَهُ عَمْدًا عُوقِبَ بِجَلْدٍ وَجِيعٍ وَسِجْنٍ ، وَأُمِرَ بِعِتْقِ رَقَبَةٍ ، فَإِنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ 144 - وَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ فِي الرَّجُلِ يَقْتُلُ الْمَمْلُوكَ عَمْدًا ، قَالَ: يُعَاقَبُ عُقُوبَةً مُوجِعَةً مُنْكِلَةً فِي شعره وَشِرَائِهِ ، وَيسمَعُ بِهِ وَيُغَرَّمُ أَغْلَى ثَمَنِ الْعَبْدِ يَوْمَ قَتْلِهِ مِنْ مَالِهِ خَالِصًا ، وَإِنْ كَانَ ثَمَنُهُ أَلْفَ دِينَارٍ ، ثُمَّ يَدْفَعُ ذَلِكَ إِلَى سَيِّدِ الْعَبْدِ.قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: وَنَرَى أَنْ يُضَمَّنَ السِّجْنَ حَتَّى يَدِيَ الْجَزَاءَ وَالصِّغَارَ إِلا أَنْ يَتُوبَ تَوْبَةً تُرْضَى مِنْهُ فَيُطْلَقُ لِتَوْبَتِهِ وَيُكَفِّرُ بِالْكَفَّارَةِ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ بِهَا فِي الْقَتْلِ.ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ سَمْعَانَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فِي الرَّجُلِ الْحُرِّ الْمُسْلِمِ يَقْتُلُ الْعَبْدَ عَمْدًا مِثْلَ ذَلِكَ ، قَالَ: وَيُعَاقَبُ بِمِائَةِ جَلْدَةٍ 146 - قَالَ: وَسَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ فِي الَّذِي يَقْتُلُ عَبْدَهُ عَمْدًا: إِنَّ عَلَيْهِ الْعُقُوبَةَ مِنَ السُّلْطَانِ مَعَ الْحَبْسِ وَعَلَيْهِ الْكَفَّارَةَ مَعَ ذَلِكَ عِتْقَ رَقَبَةٍ أَوْ صِيَامَ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ.قَالَ: وَإِنْ ضَرَبَ عَبْدًا لِغَيْرِهِ فَقَتَلَهُ أَعْطَى سَيِّدَهُ ثَمَنَهُ ، قَالَ: يَعْتِقُ رَقَبَةً.قَالَ: وَأَخْبَرَنِي يُونُسُ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ ، أَنَّهُ قَالَ: إِنْ قَتَلَ عَبْدَهُ خَطَأً أُمِرَ بِعِتْقِ رَقَبَةٍ أَوْ صِيَامِ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ ، وَلَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ جَلَدٌابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ سَمْعَانَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: إِنْ قَتَلَ رَجُلٌ عَبْدًا خَطَأً ، فَقِيمَتُهُ يَوْمَ أُصِيبَ عَلَيْهِ ، إِنِ ارْتَفَعَ ثَمَنُهُ بِالِغًا مَا يَبْلُغُ ، وَإِنْ رُخِّصَ ثَمَنُهُ رُخِّصَ عَقْلُهُ ، وَيُكَفِّرُ بِالْكَفَّارَةِ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ بِهَا فِي الْقَتْلِ بِعِتْقِ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ ، فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ 149 - قَالَ: وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنِ الرَّجُلِ يَقْتُلُ الْعَبْدَ خَطَأً ، أَعَلَيْهِ كَفَّارَةٌ ، قَالَ مَالِكٌ: أَمَّا الَّذِي جَاءَ فِيهِ الْقُرْآنُ فَهُوَ الْحُرُّ ، وَذَلِكَ أَنَّ اللَّهَ يَقُولُ: {فَدِيَةٌ مُسَلَّمَةٌ} [النساء: 92] .قَالَ مَالِكٌ: فَأَنَا أَرَى الْكَفَّارَةَ فِي قَتْلِ الْعَمْدِ حُسْنًا.- وَقَالَ مَالِكٌ فِي الرَّجُلِ أَوِ الْمَرْأَةِ يَبْعَثُ إِلَى جَارِهَا يَضْرِبُ غُلامَهَا ، فَيَضْرِبُهُ فَيُنْزِي فِي ضَرْبِهِ فَيَهْلِكُ ، أَوْ يَسْتَعِيرُ الرُّجُلُ الرَّجُلَ عَلَى ضَرْبِ غُلامِهِ ، قَالَ: لَيْسَ عَلَى وَاحِدٍ مِنْهُمَا ضَمَانٌ وَلَكِنْ عَلَيْهِمَا أَنْ يُكَفِّرَا ، إِنَّمَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ مِنَ الْكَفَّارَةِ فِي قَتْلِ النَّفْسِ.ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ ، أَنَّ سُلَيْمَانَ بْنَ سِنَانٍ الْمُزَنِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّهُ اسْتَفْتَى عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ ، عَنْ رَجُلٍ نَوطَ عَبْدًا لَهُ فَمَاتَ وَلَمْ يُرِدْ قَتْلَهُ ، قَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ: لِيَعْتِقْ رَقَبَةً أَوْ لِيَصُمْ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِقَالَ: وَأَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ ، عَنْ نَافِعٍ مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ رَجُلٍ ضَرَبَ أَمَتَهُ فَأَلْقَتْ مَا فِي بَطْنِهَا ، أَفِيهِ كَفَّارَةٌ ، قَالَ نَافِعٌ: مَا سَمِعْتُ أَحَدًا يَذْكُرُ مِنْ هَذَا شَيْئًا ، وَلَوْ كُنْتُ مَكَانَهُ أَعْتَقْتُ الْوَلِيدَةُ، قَالَ نَافِعٌ: أَعْتَقَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَلِيدَةً لِبَعْضِ بَيِّنَةٍ جَلَدَهَا جَلْدًا شَدِيدًا وَلَيْسَ بِهَا حَمْلٌابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ: سَأَلَ حَيَّانُ عَطَاءَ بْنَ أَبِي رَبَاحٍ عَنْ رَجُلٍ شَجَّ عَبْدًا لَهُ أَوْ كَسَرَهُ ، قَالَ: لِيُكْسِهِ ثَوْبًا أَوْ لِيُعْطِهِ.قَالَ حَيَّانُ: هَكَذَا أَخْبَرَنَا جَابِرُ بْنُ زَيْدٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ أَنَّهُ سَمِعَ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ يَقُولُ فِي رَجُلٍ كَرِهَ مِنْ غُلامِهِ بَعْضَ الأَمْرِ فَضَرَبَهُ بِحَجَرٍ أَوْ بِعَصًى فَقَتَلَهُ ، فَقَالَ: رُبَّمَا ضَرَبَ الرَّجُلَ بَعْضَ رَقِيقِهِ فَدَمِيَ فِي يَدِهِ فَمَاتَ ، فَلَيْسَ عَلَيْهِ مِنَ السُّلْطَانِ عُقُوبَةٌ ، فَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ ، وَإِنْ مَثَّلَ بِهِ أَوْ قَتَلَهُ بِسِلاحٍ فَذَلِكَ الَّذِي يُعَاقِبُهُ السُّلْطَانُ 155 - وَقَالَ مَالِكٌ فِي الْعَبْدِ يَكُونُ بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ ، لا يَضْرِبُهُ أَحَدُهُمَا إِلا بِرِضَاءِ صَاحِبِهِ ، فَإِنْ فَعَلَ ضَمِنَ إِلا أَنْ يَكُونَ ضَرْبًا دَوِيًّا، لَيْسَ مِثْلُهُ يَعْنِتُ أَحَدًا فِي ذَلِكَ.ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ ، وَابْنُ سَمْعَانَ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: عَقْلُ الْعَبْدِ الْمَمْلُوكِ فِي ثَمَنِهِ يَوْمَ يُصَابُوَأَخْبَرَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ ، وَيُونُسُ ، وَابْنُ سَمْعَانَ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ قَالَ: سَمِعْتُ رِجَالا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ يَقُولُونَ: تُقَامُ سَلْعَةٌ مِنَ السِّلَعِ ، ثُمَّ عَقْلُهُ فِي ثَمَنِهِ يَوْمَ يُصَابُ ، إِنْ قُتِلَ أَوْ جُرِحَ ، وَبَعْضُهُمْ يَزِيدُ عَلَى بَعْضٍ فِي الْحَدِيثِابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مَالِكٌ قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ كَانَ يَقْضِي فِي الْعَبْدِ يُصَابُ بِالْجُرْحِ أَنَّ عَلَى الَّذِي أَصَابَهُ قَدْرَ مَا نَقَصَ مِنْهُ، وَأَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ ، عَنْ خَالِدِ بْنِ أَبِي عِمْرَانَ ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ ، وَسَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ.قَالَ: وَأَخْبَرَنِي مَخْرَمَةُ بْنُ بُكَيْرٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ ، وَابْنِ قُسَيْطٍ.وَأَخْبَرَنِي اللَّيْثُ ، وَيُونُسُ ، عَنْ رَبِيعَةَ.وَأَخْبَرَنِي يُونُسُ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ.وَأَخْبَرَنِي الْحَارِثُ بْنُ نَبْهَانَ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَيٍّ.عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ الأَشْعَرِيِّ ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ.وَأَخْبَرَنِي جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُمَارَةَ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ.وَأَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ: وَالْمَتَاعُ مِثْلُهُوَأَخْبَرَنِي شَبِيبُ بْنُ سَعِيدٍ التَّمِيمِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ الْجَزَرِيِّ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، أَنَّهُمْ كَانُوا يَقُولُونَ: الرَّقِيقُ مَالٌ، قِيمَتُهُ بَالِغُ مَا بَلَغَ فِي نَفْسِهِ وَجِرَاحِهِ وَقَالَ ابْنُ غَنْمٍ: فَقُلْتُ لِمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ: إِنَّهُمْ يَقُولُونَ: لا يُجَاوِزُ دِيَةَ الْحُرِّ، فَقَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ، إِنْ قُتِلَ فَرَسُهُ كَانَتْ قِيمَتُهُ، إِنَّمَا غُلامُهُ مَالٌ فَهُوَ قِيمَتُهُ.ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ قَالَ: قِيمَتُهُ مَا بَلَغَتْ، إِنَّمَا هُوَ مَالٌ، وَإِنْ بَلَغَ ثَلاثِينَ أَلْفًاابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ رَبِيعَةَ، أَنَّهُ قَالَ: يُرَدُّ عَلَى السَّيِّدِ، وَإِنْ كَانَ الثَّمَنُ أَرْبَعَةَ آلافِ دِينَارٍ أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ سَمْعَانَ قَالَ: سَمِعْتُ رِجَالا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ كَانُوا يَقُولُونَ فِيمَنْ أَصَابَ عَبْدًا مَمْلُوكًا أَوْ وَلِيدَةً فَكَسَرَ يَدًا أَوْ رِجْلا أَوْ فَقَأَ عَيْنًا أَوْ أَصَابَهُ بِجِرَاحٍ: لَهَا عَقْلٌ، إِنَّ عَقْلَهُ عَلَى قَدْرِ ثَمَنِهِ، إِنْ عَلا الْمَمْلُوكُ أَوْ هَانَ، كَانَ بِمَنْزِلَةِ الدَّارِ يَحْرِقُهَا، أَوِ الْفَرَسِ يَقْتُلُهُ، أَوِ الْمَتَاعِ يُفْسِدُهُ، فَيَغْرَمُ ثَمَنَهُ 164 - ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مَالِكٌ قَالَ: الأَمْرُ عِنْدَنَا أَنَّ مُوضِحَةَ الْعَبْدِ نِصْفُ عُشْرِ ثَمَنِهِ، وَفِي مُنَقِّلَتِهِ عُشْرٌ وَنِصْفُ عُشْرِ ثَمَنِهِ، وَفِي مَأْمُومَتِهِ وَجَائِفَتِهِ فِي كُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا ثُلُثُ ثَمَنِهِ، وَفِيمَا سِوَى هَذِهِ الْخِصَالِ مِمَّا يُصَابُ بِهِ الْعَبْدُ مَا نَقَصَ مِنْ ثَمَنِهِ مِمَّا يُصَابُ، يَنْظُرُ كَمْ ذَلِكَ بَعْدَ مَا يَصِحُّ الْعَبْدُ، فَيَنْظُرُ إِلَى قِيمَةِ الْعَبْدِ الْيَوْمَ بَعْدَ مَا أَصَابَهُ هَذَا وَإِيَّاهُ، وَقِيمَتِهِ صَحِيحًا قَبْلَ أَنْ يُصِيبَهُ هَذَا، ثُمَّ يَغْرَمُ مَا بَيْنَ الْقِيمَتَيْنِ.ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مَخْرَمَةُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ ، وَسُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّهُمَا قَالا: إِذَا شُجَّ الْعَبْدُ مُوضِحَةً فَلَهُ فِيهَا نِصْفُ عُشْرِ ثَمَنِهِوَأَخْبَرَنِي مَالِكٌ قَالَ: بَلَغَنِي عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ ، وَسُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُمَا كَانَا يَقُولانِ فِي مُوضِحَةِ الْعَبْدِ نِصْفَ عُشْرِ ثَمَنِهِ 167 - قَالَ مَالِكٌ فِي الْجَائِفَةِ وَالْمَأْمُومَةِ وَالْمُنَقِّلَةِ وَالْمُوضِحَةِ فِي ثَمَنِ الْعَبْدِ بِمَنْزِلَتِهِنَّ فِي دِيَةِ الْحُرِّ، فَالْمُوضِحَةِ فِي دِيَةِ الْحُرِّ نِصْفُ عُشْرِ دِيَتِهِ، وَكَذَلِكَ فِي ثَمَنِ الْعَبْدِ وَالْمَأْمُومَةِ ثُلُثُ دِيَةِ الْحُرِّ، وَهِيَ ثُلُثُ ثَمَنِ الْعَبْدِ.- قَالَ مَالِكٌ: وَإِذَا كَانَ فِي جَائِفَةِ الْعَبْدِ أَوْ مَأْمُومَتِهِ أَوْ مُوضِحَتِهِ عَيْبٌ وَعَثْمٌ، فَإِنَّهُ لا يَرَاهُ لِذَلِكَ الْعَيْبِ شَيْئًا سِوَى عَقْلِ ذَلِكَ الْجُرْحِ.- قَالَ مَالِكٌ: وَإِذَا كُسِرَتْ يَدَا الْعَبْدِ أَوْ رِجْلاهُ فَلَيْسَ عَلَى مَنْ أَصَابَهُ شَيْءٌ إِذَا صَحَّ كَسْرُهُ ذَلِكَ، وَإِنْ أَصَابَ كَسْرَهُ ذَلِكَ نَقْصٌ أَوْ عَيْبٌ كَانَ عَلَى مَنْ أَصَابَهُ قَدْرُ مَا نَقَصَ مِنْ ثَمَنِهِ.- قَالَ مَالِكٌ فِي الْعَبْدِ: إِنَّمَا هُوَ مَالٌ مِنَ الأَمْوَالِ، إِذَا أُصِيبَ الْعَبْدُ عَمْدًا أَوْ خَطَأً فَجَاءَ سَيِّدُهُ بِشَاهِدٍ وَاحِدٍ حَلَفَ مَعَ شَاهِدِهِ، ثُمَّ كَانَ لَهُ ثَمَنُ عَبْدِهِ إِنْ قُتِلَ، وَإِنَّمَا هُوَ مَالٌ يَحْلِفُ عَلَيْهِ سَيِّدُهُ، وَلَيْسَ فِي الْعَبِيدِ قَسَامَةٌ لأَنَّهُ لا يَحْلِفُ مَعَ سَيِّدِ الْمَقْتُولِ أَحَدٌ مِنْ قَوْمِهِ، إِنَّمَا هُوَ مَالٌ يَأْخُذُهُ، وَلَيْسَ يَغْرَمُ مَعَ سَيِّدِ الْقَاتِلِ أَحَدٌ مِنْ عَشِيرَتِهِ، وَإِنَّمَا يَحْلِفُ سَيِّدُهُ يَمِينًا وَاحِدَةً وَيَسْتَحِقُّ ثَمَنَهُ، فَإِنْ قُتِلَ عَمْدًا لَمْ تَكُنْ فِيهِ أَيْضًا قَسَامَةٌ وَلا يَمِينٌ وَلَمْ يَسْتَحِقَّ سَيِّدُهُ ذَلِكَ، هَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِيهِ.- وَقَالَ مَالِكٌ فِي الْعَبْدِ يُجْرَحُ خَطَأً فَيَأْتِي سَيِّدُهُ بِشَاهِدٍ وَاحِدٍ قَالَ: يَحْلِفُ سَيِّدُ الْعَبْدِ يَمِينًا وَيَسْتَحِقُّ دِيَةَ جَرْحِ عَبْدِهِ.ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ: قَالَ لِي ابْنُ شِهَابٍ: لَيْسَ فِي الْعَبِيدِ قَسَامَةٌ وَتَرْدِيدُ، إِنَّمَا هِيَ الأَيْمَانُ كَهِبَةِ الْحَقِّ تُدْعَى 173 - وَقَالَ لِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ: وَجِرَاحُ الْعَبْدِ قِيمَتُهُ يُقَامُ صَحِيحًا أَوْ يُقَامُ مَجْرُوحًا، ثُمَّ يُنْظَرُ مَا بَيْنَ ذَلِكَ، فَيَغْرَمُهُ الْجَارِحُ، لا نَعْلَمُ شَيْئًا أَعْدَلَ مِنْ ذَلِكَ.وَذَلِكَ مِنْ أَجْلِ أَنَّ الْيَدَ مِنَ الْعَبْدِ وَالرَّجُلِ إِذَا قُطِعَتْ تَدْخُلُ مُصُيبِتُهَا بِأَعْظَمَ مِنْ نِصْفِ ثَمَنِهِ، ثُمَّ لا يَكُونُ لَهَا بَعْدُ ثَمَنٌ، وَإِنَّ أُذُنَهُ تَدْخُلُ مُصِيبَتُهَا بِأَدْنَى مِنْ نِصْفِ ثَمَنِهِ إِذَا كَانَ غُلامًا يَنْسَجُ الدِّيبَاجَ وَالطّرَازَ، أَوْ كَانَ عَامِلا بِغَيْرِ ذَلِكَ مِمَّا يَرْتَفِعُ فِي ثَمَنِهِ، فَإِذَا أُقِيمَتِ الْمُصِيبَةُ مَا بَلَغَتْ فَلَمْ يُظْلَمِ السَّيِّدُ وَلَمْ يُظْلَمْ لَهُ، وَإِنْ كَانَتْ تِلْكَ الْمُصِيبَةُ قَلِيلا، فَقَلِيلا، وَإِنْ كَانَتْ كَثِيرًا فَكَثِيرًا، إِلا أَنَّ مُوضِحَةَ الْعَبْدِ وَمُنَقِّلَتَهُ وَمَأْمُومَتَهُ وَجَائِفَتَهُ لا بُدَّ لَهُنَّ مِنْ أَنْ يَكُونَ فِيهِنَّ شَيْءٌ، فَإِنْ أَخَذْنَ بِالْقِيمَةِ لَمْ تَكُنْ لَهُنَّ قِيمَةٌ لأَنَّهُنَّ لا يَرْجِعْنَ بِمُصِيبَتِهِ، وَلا يَكُونُ فِيهَا عَيْبٌ وَلا نَقْصٌ إِلا مَا لا ذِكْرَ لَهُ، وَلَهَا مَوْضِعٌ مِنَ الرَّأْسِ وَالدِّمَاغِ، فَرُبَّمَا أَفْضَى إِلَى الْعَظْمِ مِنَ النَّفسِ، فَنَرَى أَنْ يُجْعَلَ فِي ثَمَنِهِ عَلَى مِثْلِ حِسَابِهِ مِنْ عَقْلِ الْحُرِّ.ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، وَابْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، أَنَّهُ قَالَ: إِنْ شَجَّ الْحُرُّ الْعَبْدَ مُوضِحَةً فَلِسَيِّدِ الْعَبْدِ عَلَى الْحُرِّ الْجَارِحِ نِصْفُ عُشْرِ قِيمَةِ الْعَبْدِ يَوْمَ يُصَابُابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، وَشُرَيْحٍ، فِي دِيَةِ الْعَبْدِ: ثَمَنُهُ ، وَإِنْ خلف، دِيَة الْحُرِّوَأَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، أَنَّهُ قَالَ فِي جَائِفَةِ الْعَبْدِ وَمَأْمُومَتِهِ وَمنْقلَتِهِ وَمُوضِحَتِهِ: إِنَّمَا ذَلِكَ كُلُّهُ فِي ثَمَنِهِ، وَهُوَ سَلْعَةٌ مِنَ السِّلَعِ يَرْتَفِعُ وَيَنْخَفِضُ 177 - ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ اللَّهُ: {الْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ وَالأُنْثَى بِالأُنْثَى} [البقرة: 178] فَإِذَا قَتَلَ الْعَبْدُ الْعَبْدَ عَمْدًا خُيِّرَ سَيِّدُ الْعَبْدِ الْمَقْتُولِ، فَإِنْ شَاءَ قَتَلَ الْعَبْدَ الْقَاتِلَ، وَإِنْ كَانَ أَفْضَلَ مِنْهُ بِأَضْعَافٍ، وَإِنْ شَاءَ قَبِلَ الْعَقْلَ، فَإِنْ أَخَذَ الْعَقْلَ أَخَذَ قِيمَةَ عَبْدِهِ الْمَقْتُولِ، وَإِنْ شَاءَ أَرْبَابُ الْعَبْدِ الْقَاتِلِ أَنْ يُعْطُوهُ ثَمَنَ الْعَبْدِ الْمَقْتُولِ فَعَلُوا، وَإِنْ أَسْلَمُوا عَبْدَهُمْ فَلَيْسَ عَلَيْهِمْ إِلا ذَلِكَ، وَلَيْسَ لأَرْبَابِ الْعَبْدِ الْمَقْتُولِ، إِذَا أَخَذُوا الْعَبْدَ الْقَاتِلَ وَرَضُوا بِالْعَقْلِ، أَنْ يَقْتُلُوا الْعَبْدَ الْقَاتِلَ الَّذِي يَأْخُذُونَ.قَالَ: وَذَلِكَ فِي الْقِصَاصِ كُلِّهِ بَيْنَ الْعَبْدَيْنِ فِي الْقَتْلِ وَفِي قَطْعِ الْيَدِ وَالرِّجْلِ وَأَشْبَاهِ ذَلِكَ.- قَالَ: وَأَخْبَرَنِي مَالِكٌ قَالَ: الأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا أَنَّ الْعَبْدَ إِذَا جَرَحَ بِزَّةً لا يَعْقِلُهُ إِلا سَيِّدُهُ، كُلُّ جُرْحٍ جَرَحَهُ الْعَبْدُ مِنْ قَتْلٍ أَوْ غَيْرِهِ فَسَيِّدُهُ فِي ذَلِكَ بِالْخِيَارِ: إِنْ شَاءَ أَنْ يَجْرَحَ ذَلِكَ الْعَقْلَ وَيَمْسِكَ غُلامَهُ فَعَلَ، وَإِنْ شَاءَ أَنْ يُسَلِّمَ عَبْدَهُ أَسْلَمَهُ ، وَلا يَكُونُ عَلَيْهِ إِلا ذَلِكَ، وَلَيْسَ عَلَى السَّيِّدِ أَكْثَرَ مِنْ ثَمَنِ عَبْدِهِ فِيمَا أَصَابَ بِهِ مِنَ الْجِرَاحَاتِ.- قَالَ: وَسَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ فِيمَنْ كَانَ لَهُ عَبْدٌ وَلَهُ مَالٌ فَجُرِحَ الْعَبْدُ، إِنَّ الْعَبْدَ وَمَالَهُ لِصَاحِبِ الْجُرْحِ مَعَ رَقَبَتِهِ فِي جَرِيرَتِهِ إِلا أَنْ يُقِيدَ بِهِ سَيِّدُهُ.- ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مَالِكٌ قَالَ: الأَمْرُ عِنْدَنَا فِي الْقِصَاصِ فِي الْمَمَالِيكِ بَيْنَهُمْ كَهَيْئَتِهِ فِي الأَحْرَارِ، نَفْسُ الأَمَةِ بِنَفْسِ الْعَبِيدِ وَجَرْحُهَا بِجَرْحِهِ، قَالَ: وَأَقَادَهُ الْعَبِيدُ بَعْضُهُمْ مِنْ بَعْضٍ فِي الْجِرَاحِ، يُخَيَّرُ سَيِّدُ الْمَجْرُوحِ: إِنْ شَاءَ اسْتَقَادَ، وَإِنْ شَاءَ أَخَذَ الْعَقْلَ.ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مَخْرَمَةُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَابِرٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ يَقُولُ: إِذَا قَتَلَ الْعَبْدُ الْعَبْدَ عَمْدًا فَهُوَ بِهِ، وَإِذَا قَتَلَهُ خَطَأً فَإِنْ كَانَ الْقَاتِلُ هُوَ أَغْلَى ثَمَنًا مِنَ الْمَقْتُولِ أُقِيمَ الْمَقْتُولُ قِيمَةَ عَدْلٍ، ثُمَّ أُعْطُوا ثَمَنَهُ، وَإِنْ كَانَ الْمَقْتُولُ هُوَ أَفْضَلُ مِنَ الْقَاتِلِ لَمْ يَكُنْ لأَهْلِ الْمَقْتُولِ إِلا قَاتِلِ عَبْدِهِمْ، قَالَ بُكَيْرٌ: وَقَالَ ذَلِكَ ابْنُ شِهَابٍابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ قَالَ فِي مَمْلُوكَيْنِ قَتَلا مَمْلُوكًا عَمْدًا، فَأَرَادَ وَلِيُّ الْمَقْتُولِ أَنْ يَسْتَرِقَّهُمَا وَلا يَقْتُلَهُمَا، قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: إِنْ قَتَلَهُمَا قَوْدًا خَلَّى بَيْنَهُ وَبَيْنَ قَتْلِهِمَا، وَإِنْ أَرَادَ اسْتِرْقَاقَهُمَا، وَاسْتِحْيَاءَهُمَا فَلَيْسَ لَهُ فِيهِمَا إِلا ثَمَنُ مَا أَصَابَا 183 - وَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ فِي حُرٍّ وَعَبْدٍ قَتَلا حُرًّا أَوْ عَبْدًا عَمْدًا، قَالَ: سُنَّتُهُمَا سنة إِلَى قَوْمِهِمَا.ابْنَ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ نَوْفَلِ بْنِ مُسَاحِقٍ أَنَّهُ كَانَ يُقِيدُ الْعَبِيدَ بَعْضَهُمْ مِنْ بَعْضٍوَأَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ: كَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، أَنَّ الْعَبْدَيْنِ قِصَاصٌ فِي الْعَمْدِ أَنْفُسُهُمَا، فَمَا دُونَ ذَلِكَ مِنْ جِرَاحِهِمَا.قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ: وَقَالَ ذَلِكَ سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَقَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ: وَأَخْبَرَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، أَنَّ فِي كِتَابٍ لِعُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّهُ قَالَ: يُقَادُ الْمَمْلُوكُ مِنَ الْمَمْلُوكِ فِي كُلِّ عَمْدٍ يَبْلُغُ نَفْسَهُ، فَمَا دُونَ ذَلِكَ مِنَ الْجِرَاحِ فَإِنِ اصْطَلَحُوا فِيهِ عَلَى الْعَقْلِ فَقِيمَةُ الْمَقْتُولِ عَلَى أَهْلِ الْقَاتِلِ أَوِ الْجَارِحِابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ قَالَ: يُقَادُ الْعَبْدُ مِنَ الْعَبْدِ فِي الْقَتْلِ عَمْدًا، وَيُقَادُ الْعَبْدُ مِنَ الْعَبْدِ فِي الْجِرَاحِ عَمْدًا، فَإِنْ قُبِلَ الْعَقْلُ مِنَ الْعَبْدِ كَانَ عَقْلُ الْجِرَاحِ لِلْمَمْلُوكِ، كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا فِي ثَمَنِهِ بِقِيمَةِ عَدْلٍ، وَإِنْ قَتَلَ عَبْدٌ عَبْدًا عَمْدًا أُقِيدَ بِهِ فِي الْقَتْلِ، وَإِنْ أَرَادَ صَاحِبُهُ أَنْ يَسْتَحْيِيَ الْعَبْدَ أُعْطِيَ قِيمَةَ عَبْدِهِ الْمَقْتُولِ فِي ثَمَنِ الْعَبْدِ الْقَاتِلِ، لا يُزَادُ عَلَى ذَلِكَ إِلا إِنْ يُحِبَّ أَهْلُهُ أَنْ يُسَلِّمُوهُ بِجَرِيرَتِهِ، وَأَهْلُ الْعَبْدِ الْقَاتِلِ أَمْلَكُ بِأَنْ يُفْدُوهُ بِعَقْلِ الْعَبْدِ الْمَقْتُولِ أَوْ يُسَلِّمُوا الْعَبْدَ الْقَاتِلَ بِجَرِيرَتِهِ إِنْ شَاءُوا 188 - وَقَالَ ابْنُ أَبِي سَلَمَةَ: الْقِصَاصُ بَيْنَ الْعَبِيدِ، قَالَ اللَّهُ تبارك وتعالى: {وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ} [البقرة: 178] ، {وَالْجُرُوحَ قِصَاصٌ} [المائدة: 45] .ابْنُ وَهْبٍ: وَقَالَ ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، فِي عَبْدٍ قَتَلَ عَبْدًا عَمْدًا: يُسَلَّمُ الْقَاتِلُ إِلَى سَيِّدِ الْعَبْدِ الْمَقْتُولِ فَيَقْتُلَهُ، فَإِنْ أَرَادَ أَنْ يَسْتَحْيِيَهُ فَيَكُونَ عَبْدًا لَهُ، لَمْ يَكُنْ ذَلِكَ لَهُ إِلا عَنْ طِيبِ نَفْسٍ مِنْ سَيِّدِهِابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ قَالَ فِي حُرٍّ وَعَبْدٍ قَتَلا رَجُلا حُرًّا خَطَأً: عَلَى الْحُرِّ نِصْفُ الدِّيَةِ وَتغلق رَقَبَةُ الْعَبْدِ، فَإِنْ كَانَ الْعَبْدُ خَيْرًا مِنْ نِصْفِ الدِّيَةِ فَلَيْسَ عَلَيْهِ إِلا نِصْفُ الدِّيَةِابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ: قُلْتُ لِعَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ: حُرٌّ وَعَبْدٌ قَتَلا رَجُلا حُرًّا عَمْدًا قَالَ: الْحُرُّ يُقْتَلُ بِهِ، وَالْعَبْدُ لأَهْلِهِ.قَالَ: قُلْتُ: فَعَبْدٌ قَتَلَ حُرًّا عَمْدًا ، قَالَ: الْعَبْدُ لَهُمْ، قُلْتُ: فَأَرَادَ سَيِّدُ الْعَبْدِ أَنْ يُعْطِيَ الدِّيَةَ، وَيَقْضِيَ عَبْدَهُ، وَأَبَى أَهْلُ الْحُرِّ إِلا الْعَبْدَ، قَالَ: فَهُمْ أَحَقُّ بِهِ، هُوَ لَهُمْ.قَالَ: قُلْتُ لِعَطَاءٍ: إِنْ قَتَلَ حُرٌّ وَعَبْدٌ حُرًّا خَطَأً قَالَ: فِدْيَتُهُ مِنْ حِسَابِ ثَمَنِ الْعَبْدِ، فحصته دية الحر 192 - وَقَالَ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ: إِذَا جَرَحَ الْعَبْدُ الْحُرَّ خَطَأً أَوْ عَمْدًا، فَإِنَّ سَيِّدَ الْعَبْدِ بِالْخِيَارِ بَيْنَ أَنْ يُسَلِّمَ عَبْدَهُ أَوْ يُؤَدِّيَ عَقْلَ جِرَاحِ الْحُرِّ مَا كَانَتْ.ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ قَضَى فِي الْعَبْدِ يَجْرَحُ الْحُرَّ أَنَّ الْعَبْدَ يُبَاعُ فَيُعْطَى الْمَجْرُوحُ ثَمَنَ جُرْحِهِ، وَلا يُسَلَّمُ إِلَيْهِ لِئَلا يُمَثِّلَ بِالْعَبْدِ أَوْ يُعَذِّبَهُقَالَ: وَسَمِعْتُ شِمْرَ بْنَ نُمَيْرٍ يُحَدِّثُ، عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَنَّهُ قَالَ: إِذَا جَنَى الْعَبْدُ فَلَيْسَ عَلَى سَيِّدِهِ غُرْمٌ فَوْقَ رَقَبَتِهِ، إِنْ أَحَبَّ أَنْ يَفْتَدِيَهُ افْتَدَاهُ، وَإِنْ أَحَبَّ أَنْ يُسَلِّمَهُ أَسْلَمَهُابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يَزِيدُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: الْعَبْدُ لا يَغْرَمُ سَيِّدُهُ فَوْقَ نَفْسِهِ شَيْئًا، وَإِنْ كَانَتْ دِيَةُ الْمَجْرُوحِ أَكْثَرُ مِنْ رَقَبَةِ الْعَبْدِ فَلا زِيَادَةَ لَهُ 196 - قَالَ: وَقَالَ مَالِكٌ فِي الْعَبْدِ يَقْتُلُ الْحُرَّ عَمْدًا فَيَسْتَحْيِيهِ أَهْلُ الْمَقْتُولِ، أَيَكُونُ لِسَيِّدِهِ أَنْ يَأْخُذَهُ بِقِيمَتِهِ أَوْ بِالْعَقْلِ كَامِلا أَوْ يُبَاعُ عَلَيْهِمْ، قَالَ: إِذَا اسْتَحْيَوْهِ خُيِّرَ سَيِّدُ الْعَبْدِ بَيْنَ أَنْ يُعْطِيَ الْقَوْمَ الدِّيَةَ كَامِلَةً وَبَيْنَ أَنْ يُسَلِّمَ غُلامَهُ إِلَيْهِمْ.- قَالَ مَالِكٌ: وَإِنْ جَرَحَ عَبْدٌ يَهُودِيًّا أَوْ نَصْرَانِيًّا عَقَلَ عَنْهُ سَيِّدُهُ مَا أَصَابَ، وَإِلا أَسْلَمَهُ يُبَاعُ، ثُمَّ يَدْفَعُ ثَمَنَهُ إِلَى الْيَهُودِيِّ أَوِ النَّصْرَانِيِّ، وَلا يُعْطِي الْيَهُودِيَّ وَلا النَّصْرَانِيَّ الْعَبْدَ الْمُسْلِمَ.- قَالَ: وَسَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ فِي جِنَايَةِ الْعَبْدِ: إِنَّ مَا أَصَابَ مِنْ جُرْحٍ جَرَحَ بِهِ إِنْسَانًا، أَوْ شَيْءٍ اخْتَلَسَهُ مِنْ إِنْسَانٍ، أَوْ بَعِيرٍ احْتَرَسَهُ، أَوْ ثَمَرٍ مُعَلَّقٍ أَخَذَهُ، أَوْ سَرِقَةٍ سَرَقَهُ لا قَطْعَ فِيهَا، إِنَّ ذَلِكَ فِي رَقَبَةِ الْعَبْدِ إِنْ شَاءَ سَيِّدُهُ أَنْ يُعْطِيَ قِيمَةَ مَا أَخَذَ أَوْ أَفْسَدَ أَوْ جَرَحَ، وَإِنْ شَاءَ أَسْلَمَهُ فَسَيِّدُهُ فِي ذَلِكَ بِالْخِيَارِ، فَأَمَّا مَا دَفَعَ إِلَيْهِ بِعَمَلِهِ أَوْ أَدَانَ بِهِ، فَإِنَّ ذَلِكَ يَكُونُ فِي ذِمَّتِهِ.قَالَ مَالِكٌ: وَذَلِكَ الأَمْرُ عِنْدَنَا.- وَقَالَ مَالِكٌ فِي الْعَبْدِ الَّذِي يُؤْذَنُ لَهُ فِي التِّجَارَةِ يَجْنِي الْجِنَايَةَ يُحِيطُ بِرَقَبَتِهِ وَعَلَيْهِ دُيُونُ النَّاسِ، فَيَجْتَمِعُ أَهْلُ الْجِنَايَةِ وَغُرَمَاءُ الْعَبْدِ، قَالَ: يُؤْخَذُ الْعَبْدُ بِجِنَايَتِهِ. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
১৩৮ - ইবনে সামআন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, আল্লাহর রাসূলের নিকট এমন এক ব্যক্তিকে আনা হলো যে তার এক দাসকে প্রহার করে হত্যা করেছিল। রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তাকে একশ বেত্রাঘাত করলেন। আল-হারিস ইবনে নাবহান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি আমর ইবনে শুয়াইব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু বকর সিদ্দিক এবং উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।তিনি বলেন: শাবিব ইবনে সাঈদ আত-তামিমি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি উনাইসা আল-জাজারি থেকে, তিনি আমর ইবনে শুয়াইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আবু বকর সিদ্দিকের শাসনামলে এক ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে এক দাসকে হত্যা করে। আবু বকর তাকে একশ বেত্রাঘাত করেন এবং তার মূল্যের জরিমানা করেন, কিন্তু আবু বকর তাদের মাঝে কোনো কিসাস (প্রাণের বদলে প্রাণ) কার্যকর করেননি।ইবনে ওয়াহাব বলেন: মাখরামাহ ইবনে বুকাইর তাঁর পিতা থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি সুলাইমান ইবনে ইয়াসারকে বলতে শুনেছি যখন তাকে ফতোয়া জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কোনো ব্যক্তিকে কি তার নিজের দাসের বিনিময়ে হত্যা করা হবে? তিনি বললেন: না, তবে তাকে বেত্রাঘাত করা হবে। বুকাইর বলেন: ইবনে কুসাইতও একই কথা বলেছেন।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইবনে সামআন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আমাদের একদল আলেমকে বলতে শুনেছি যে: যে ব্যক্তি তার কোনো দাসকে প্রহার করে হত্যা করবে, সে যেন আল্লাহর নামে শপথ করে—যিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই—যে সে তাকে হত্যা করতে চায়নি। যদি সে শপথ করে, তবে তাকে কাফফারার আদেশ দেওয়া হবে। আর যদি সে শপথ করতে অস্বীকার করে, তবে তাকে একশ বেত্রাঘাত করা হবে।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ আমাকে ইবনে শিহাব থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি বলেছেন: যদি কেউ তার দাসকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, তবে তাকে যন্ত্রণাদায়ক বেত্রাঘাত ও কারাদণ্ড দেওয়া হবে এবং তাকে একটি দাস মুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হবে। যদি সে তা না পায়, তবে টানা দুই মাস রোজা রাখবে। ১৪৪ - ইবনে শিহাব সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো দাসকে হত্যা করে: তাকে তার চুল ও চামড়ায় (শারীরিকভাবে) যন্ত্রণাদায়ক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে, মানুষের মাঝে তাকে অপমানিত করা হবে এবং তার ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে হত্যার দিনের সর্বোচ্চ মূল্য জরিমানা হিসেবে আদায় করা হবে, যদি তার মূল্য এক হাজার দিনারও হয়। অতঃপর তা দাসের মালিককে প্রদান করা হবে।ইবনে শিহাব বলেন: আমাদের অভিমত হলো, তাকে কারাগারে বন্দি রাখা হবে যতক্ষণ না সে ক্ষতিপূরণ এবং লাঞ্ছনা (শাস্তি) ভোগ করে, তবে যদি সে গ্রহণযোগ্য তওবা করে তবে তার তওবার কারণে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং সে কাফফারা আদায় করবে যা আল্লাহ হত্যার ক্ষেত্রে নির্দেশ দিয়েছেন।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইবনে সামআন আমাকে ইবনে শিহাব থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি সেই স্বাধীন মুসলিম ব্যক্তি সম্পর্কে অনুরূপ কথা বলতেন যে কোনো দাসকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে। তিনি বলেন: তাকে একশ বেত্রাঘাত করা হবে। ১৪৬ - তিনি বলেন: আমি মালেককে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে তার দাসকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে: তার ওপর শাসকের পক্ষ থেকে শাস্তির পাশাপাশি কারাদণ্ড রয়েছে এবং এর সাথে কাফফারা হিসেবে একটি দাস মুক্ত করা অথবা টানা দুই মাস রোজা রাখা তার ওপর আবশ্যক।তিনি বলেন: যদি সে অন্যের দাসকে প্রহার করে হত্যা করে, তবে সে তার মালিককে তার মূল্য প্রদান করবে এবং (কাফফারা হিসেবে) একটি দাস মুক্ত করবে।তিনি বলেন: ইউনুস আমাকে ইবনে শিহাব থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি বলেছেন: যদি কেউ তার দাসকে ভুলবশত হত্যা করে, তবে তাকে একটি দাস মুক্ত করার অথবা টানা দুই মাস রোজা রাখার নির্দেশ দেওয়া হবে, তবে তার ওপর কোনো বেত্রাঘাত নেই।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইবনে সামআন আমাকে ইবনে শিহাব থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি বলতেন: যদি কোনো ব্যক্তি ভুলবশত কোনো দাসকে হত্যা করে, তবে যে দিন সে আক্রান্ত হয়েছে সে দিনের তার যা মূল্য ছিল তা-ই তার দিয়াত (রক্তপণ)। তার মূল্য যতোই বৃদ্ধি পাক না কেন তা দিতে হবে, আর যতোই কম হোক তাই দিতে হবে। আর সে সেই কাফফারা আদায় করবে যা আল্লাহ হত্যার ক্ষেত্রে নির্দেশ দিয়েছেন অর্থাৎ একজন মুমিন দাস মুক্ত করা, আর যে তা পাবে না সে টানা দুই মাস রোজা রাখবে। ১৪৯ - তিনি বলেন: মালেককে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে ভুলবশত দাস হত্যা করে, তার ওপর কি কাফফারা আছে? মালেক বলেন: কুরআনে যার (রক্তপণের) কথা এসেছে তা হলো স্বাধীন ব্যক্তি, আর তা এজন্য যে আল্লাহ বলেন: {অতঃপর অর্পণকৃত রক্তপণ} [আন-নিসা: ৯২]।মালেক বলেন: আমি ইচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষেত্রে কাফফারা আদায় করাকে উত্তম মনে করি।- মালেক সেই পুরুষ বা নারী সম্পর্কে বলেছেন যে তার প্রতিবেশীর নিকট কাউকে পাঠায় তার গোলামকে প্রহার করার জন্য, অতঃপর সে তাকে প্রহার করে এবং সেই প্রহারে সে বাড়াবাড়ি করে যার ফলে গোলামটি মারা যায়; অথবা কোনো ব্যক্তি তার গোলামকে প্রহার করার জন্য অন্য ব্যক্তির সাহায্য নেয়। তিনি বলেন: তাদের কারো ওপর কোনো জরিমানা (ক্ষতিপূরণ) নেই, তবে তাদের ওপর কাফফারা আদায় করা আবশ্যক, কারণ আল্লাহ মানব হত্যার ক্ষেত্রে কাফফারার নির্দেশ দিয়েছেন।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আমাকে জাফর ইবনে রাবিআ থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, সুলাইমান ইবনে সিনান আল-মুজানি তাকে বলেছেন যে তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের নিকট এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে ফতোয়া চেয়েছিলেন যে তার দাসকে লটকে দিয়েছিল এবং সে মারা গিয়েছিল অথচ সে তাকে হত্যা করতে চায়নি। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস তাকে বললেন: সে যেন একটি দাস মুক্ত করে অথবা টানা দুই মাস রোজা রাখে।তিনি বলেন: ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ আমাকে আবদুল্লাহ ইবনে উমরের মুক্তদাস নাফে থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁকে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তার দাসীকে প্রহার করেছে এবং সে তার গর্ভপাত ঘটিয়েছে, এতে কি কোনো কাফফারা আছে? নাফে বলেন: আমি এ বিষয়ে কাউকে কিছু বলতে শুনিনি। তবে আমি যদি তার জায়গায় হতাম তবে দাসীটিকে মুক্ত করে দিতাম। নাফে বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে উমর তাঁর এক দাসীকে কোনো এক অপরাধের কারণে কঠোরভাবে বেত্রাঘাত করেছিলেন—অথচ সে গর্ভবতী ছিল না—অতঃপর তিনি তাকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন।ইবনে ওয়াহাব বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আমর আমাকে ইবনে জুরাইজ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাইয়ান আতা ইবনে আবি রাবাহকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে তার দাসকে জখম করেছে অথবা তার হাড় ভেঙে দিয়েছে। তিনি বললেন: সে যেন তাকে একটি পোশাক পরিধান করায় অথবা তাকে কিছু দান করে।হাইয়ান বলেন: জাবের ইবনে জায়েদ আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে আমাদের নিকট এভাবেই বর্ণনা করেছেন।ইবনে ওয়াহাব বলেন: লাইস ইবনে সাদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলতে শুনেছেন যে তার গোলামের কোনো কাজে অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে পাথর বা লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে। তিনি বললেন: কখনো কোনো ব্যক্তি তার অধীনস্থ কাউকে প্রহার করে আর তার হাতেই সে রক্তাক্ত হয়ে মারা যায়, এমতাবস্থায় শাসকের পক্ষ থেকে তার ওপর কোনো শাস্তি নেই, তার বিষয়টি আল্লাহর ওপর ন্যস্ত। কিন্তু যদি সে তাকে বিকলাঙ্গ করে দেয় অথবা অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে, তবে শাসক তাকে শাস্তি দেবে। ১৫৫ - মালেক দুই ব্যক্তির মালিকানাধীন দাসের ক্ষেত্রে বলেছেন: তাদের একজন অন্যজনের অনুমতি ছাড়া তাকে প্রহার করবে না। যদি সে এমনটি করে তবে সে দায়বদ্ধ হবে, যদি না প্রহারটি মামুলি হয় যা কাউকে কষ্ট দেয় না।ইবনে ওয়াহাব বলেন: লাইস ইবনে সাদ ও ইবনে সামআন আমাকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি বলতেন: দাসের দিয়াত হলো যেদিন সে আক্রান্ত হয়েছে সেই দিনে তার মূল্যের সমপরিমাণ।লাইস ইবনে সাদ, ইউনুস ও ইবনে সামআন আমাকে ইবনে শিহাব থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি বলেছেন: আমি আলেমদের একদল লোককে বলতে শুনেছি যে: দাসকে অন্য সব পণ্যের মতো একটি পণ্য হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে, অতঃপর যেদিন সে আক্রান্ত হয়েছে সেদিন তার মূল্যের হিসেবে তার দিয়াত নির্ধারিত হবে, চাই সে নিহত হোক বা আহত। বর্ণনায় তাদের একজন অন্যজনের চেয়ে কিছু বেশি বলেছেন।ইবনে ওয়াহাব বলেন: মালেক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে মারওয়ান ইবনুল হাকাম জখমপ্রাপ্ত দাসের ক্ষেত্রে ফয়সালা দিতেন যে, যে তাকে জখম করেছে তার ওপর ওই পরিমাণ জরিমানা হবে যা দাসের মূল্য থেকে হ্রাস পেয়েছে। ইবনে লাহিয়া আমাকে খালিদ ইবনে আবি ইমরান থেকে, তিনি আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ও সালিম ইবনে আবদুল্লাহ থেকে সংবাদ দিয়েছেন।তিনি বলেন: মাখরামাহ ইবনে বুকাইর তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনুল কাসিম ও ইবনে কুসাইত থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন।লাইস ও ইউনুস আমাকে রাবিআ থেকে সংবাদ দিয়েছেন।ইউনুস আমাকে ইবনে শিহাব থেকে সংবাদ দিয়েছেন।আল-হারিস ইবনে নাবহান আমাকে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি উবাদাহ ইবনে নুসাই থেকে সংবাদ দিয়েছেন।আবদুর রহমান ইবনে গানম আল-আশআরি থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে।জারির ইবনে হাজিম আমাকে আল-হাসান ইবনে উমারাহ থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব থেকে সংবাদ দিয়েছেন।ইবনে লাহিয়া আমাকে বুকাইর ইবনুল আশাজ থেকে, তিনি উমর ইবনে আবদুল আজিজ থেকে সংবাদ দিয়েছেন: আসবাবপত্রের বিধানও অনুরূপ।শাবিব ইবনে সাঈদ আত-তামিমি আমাকে ইয়াহইয়া ইবনে আবি উনাইসা আল-জাজারি থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে তারা বলতেন: দাস-দাসী হলো সম্পদ, তার প্রাণ ও জখমের ক্ষেত্রে তার মূল্য যতোই হোক তা-ই প্রদেয়। ইবনে গানম বলেন: আমি মুয়াজ ইবনে জাবালকে বললাম: লোকেরা তো বলে যে এটি স্বাধীন ব্যক্তির দিয়াতের বেশি হবে না। তিনি বললেন: সুবহানাল্লাহ! যদি কারো ঘোড়া মারা যায় তবে তার (পুরো) মূল্য দিতে হয়, আর গোলাম তো সম্পদ, তাই তার মূল্যই তার দিয়াত।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইসমাইল ইবনে আইয়াশ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আলী ইবনে আবি তালিব বলেছেন: তার মূল্য যতোই পৌঁছাক তা-ই দিতে হবে, কারণ সে সম্পদ; এমনকি যদি তার মূল্য ত্রিশ হাজারও হয়।ইবনে ওয়াহাব বলেন: লাইস ইবনে সাদ আমাকে রাবিআ থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি বলেছেন: মালিককে (দাসের মূল্য) ফিরিয়ে দেওয়া হবে, এমনকি যদি তার মূল্য চার হাজার দিনার বা তার চেয়েও বেশি হয়।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইবনে সামআন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি একদল আলেমকে বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি কোনো দাস বা দাসীর হাত বা পা ভেঙে দেবে অথবা চোখ উপড়ে ফেলবে অথবা জখম করবে: তার দিয়াত আছে। তার দিয়াত হলো তার মূল্যের অনুপাতে, দাসের মূল্য যতো বেশি বা কমই হোক। এটি এমন ঘর বা বাড়ির মতো যা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, অথবা ঘোড়া যা হত্যা করা হয়েছে, অথবা কোনো আসবাবপত্র যা নষ্ট করা হয়েছে, সুতরাং সে তার মূল্য জরিমানা হিসেবে দেবে। ১৬৪ - ইবনে ওয়াহাব বলেন: মালেক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট নিয়ম হলো যে, দাসের 'মুদিহা' (যে জখমে হাড় প্রকাশ পায়) হলো তার মূল্যের বিশ ভাগের এক ভাগ (অর্ধ-উশর)। তার 'মুনাক্কিলাহ' (যে জখমে হাড় স্থানচ্যুত হয়) হলো মূল্যের দশ ভাগের এক ভাগ এবং বিশ ভাগের এক ভাগ (দেড়-উশর)। তার 'মা'মুমাহ' (যে জখম মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছায়) এবং 'জায়িফাহ' (শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশকারী জখম)—প্রতিটির জন্য তার মূল্যের এক-তৃতীয়াংশ। আর এসব বিষয় ছাড়া অন্য জখমের ক্ষেত্রে দাসের মূল্য যতোটুকু হ্রাস পাবে তাই জরিমানা দিতে হবে। দেখা হবে দাসটি সুস্থ হওয়ার পর তার অবস্থা কেমন। বর্তমান জখমপ্রাপ্ত অবস্থার মূল্য এবং জখম হওয়ার আগের সুস্থ অবস্থার মূল্য পর্যবেক্ষণ করা হবে, অতঃপর দুই মূল্যের মাঝে যে ব্যবধান তা জরিমানা হিসেবে দিতে হবে।ইবনে ওয়াহাব বলেন: মাখরামাহ ইবনে বুকাইর তাঁর পিতা থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব ও সুলাইমান ইবনে ইয়াসার থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তারা উভয়ে বলেছেন: যদি দাসকে 'মুদিহা' জখম করা হয়, তবে তার জন্য তার মূল্যের বিশ ভাগের এক ভাগ নির্ধারিত।মালেক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব ও সুলাইমান ইবনে ইয়াসার থেকে আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে তারা উভয়ে দাসের 'মুদিহা' জখমের ক্ষেত্রে তার মূল্যের বিশ ভাগের এক ভাগের কথা বলতেন। ১৬৭ - মালেক দাসের জায়িফাহ, মা'মুমাহ, মুনাক্কিলাহ ও মুদিহা জখমের মূল্যের ক্ষেত্রে বলেছেন যে এগুলো স্বাধীন ব্যক্তির দিয়াতের অনুরূপ অনুপাতে হবে। যেমন স্বাধীন ব্যক্তির দিয়াতে মুদিহা হলো তার দিয়াতের বিশ ভাগের এক ভাগ, দাসের মূল্যের ক্ষেত্রেও তেমনি। মা'মুমাহ হলো স্বাধীন ব্যক্তির দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ, দাসের ক্ষেত্রেও তা মূল্যের এক-তৃতীয়াংশ।- মালেক বলেন: যদি দাসের জায়িফাহ, মা'মুমাহ বা মুদিহা জখমে কোনো খুঁত বা হাড়ের বিকৃতি থেকে যায়, তবে তিনি সেই খুঁতের জন্য ওই জখমের নির্ধারিত দিয়াত ছাড়া অতিরিক্ত কিছু দেখেন না।- মালেক বলেন: যদি দাসের দুই হাত বা দুই পা ভেঙে দেওয়া হয়, তবে জখমকারী ব্যক্তির ওপর কোনো দায় নেই যদি তা সঠিকভাবে জোড়া লেগে সুস্থ হয়ে যায়। কিন্তু যদি সেই হাড় ভাঙার কারণে কোনো হ্রাস বা খুঁত সৃষ্টি হয়, তবে জখমকারীর ওপর সেই পরিমাণ জরিমানা হবে যা তার মূল্য থেকে হ্রাস পেয়েছে।- মালেক দাসের ক্ষেত্রে বলেন: দাস হলো অন্যান্য সম্পদের মতো একটি সম্পদ। যদি দাসের ওপর ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত কোনো আঘাত করা হয় এবং তার মালিক একজন মাত্র সাক্ষী নিয়ে আসে, তবে সে তার সাক্ষীর সাথে শপথ করবে, অতঃপর যদি দাসটি নিহত হয় তবে সে তার দাসের মূল্য পাবে। এটি মূলত একটি সম্পদ যার ওপর তার মালিক শপথ করবে। দাসের ক্ষেত্রে 'কাসামাহ' (দলগত শপথ) নেই, কারণ নিহতের মালিকের সাথে তার গোত্রের কেউ শপথ করবে না, বরং এটি একটি সম্পদ যা সে গ্রহণ করবে। আর হত্যাকারীর মালিকের পক্ষ থেকে তার আত্মীয়স্বজনের কেউ জরিমানা দেবে না। বরং তার মালিক একটি মাত্র শপথ করবে এবং তার মূল্যের হকদার হবে। যদি তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হয় তবুও তাতে কাসামাহ বা শপথ নেই এবং তার মালিক তা পাবে না। এটিই এ বিষয়ে আমার শোনা সবচেয়ে উত্তম কথা।- মালেক ভুলবশত জখমপ্রাপ্ত দাসের বিষয়ে বলেছেন যার মালিক একজন মাত্র সাক্ষী নিয়ে আসে: দাসের মালিক একটি শপথ করবে এবং তার দাসের জখমের দিয়াতের হকদার হবে।ইবনে ওয়াহাব বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আমর আমাকে ইবনে জুরাইজ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে শিহাব আমাকে বলেছেন: দাসের ক্ষেত্রে কাসামাহ ও শপথের পুনরাবৃত্তি নেই, এটি কেবল সাধারণ অধিকারের দাবির শপথের মতো। ১৭৩ - আবদুল আজিজ ইবনে আবি সালামাহ আমাকে বলেছেন: দাসের জখম হলো তার মূল্যের ওপর ভিত্তি করে; তাকে সুস্থ অবস্থায় মূল্যায়ন করা হবে এবং জখমপ্রাপ্ত অবস্থায় মূল্যায়ন করা হবে, অতঃপর উভয়ের মধ্যবর্তী ব্যবধান দেখা হবে এবং জখমকারী তা জরিমানা দেবে। আমরা এর চেয়ে ন্যায়সঙ্গত আর কিছু জানি না।আর এর কারণ হলো দাসের হাত বা পা কাটা পড়লে তার ক্ষতির পরিমাণ তার মূল্যের অর্ধেকের চেয়েও বেশি হয়ে যায়, এরপর তার আর কোনো মূল্য থাকে না। আবার তার কানের ক্ষতির পরিমাণ তার মূল্যের অর্ধেকের চেয়ে কম হয় যদি সে রেশমি কাপড় বুননকারী গোলাম হয় বা এমন কোনো কারিগর হয় যার কারণে তার মূল্য বেশি। সুতরাং ক্ষতিটি যতোটুকু পৌঁছাবে সেভাবে মূল্যায়ন করলে মালিকও ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এবং তার ওপর জুলুমও হবে না; ক্ষতি কম হলে কম, বেশি হলে বেশি। তবে দাসের মুদিহা, মুনাক্কিলাহ, মা'মুমাহ ও জায়িফাহ জখমের ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু নির্দিষ্ট থাকতে হবে। কারণ যদি এগুলো কেবল মূল্যের হ্রাসের ভিত্তিতে নেওয়া হয় তবে হয়তো কোনো মূল্যই থাকবে না, কারণ এগুলোতে অনেক সময় বাহ্যিক কোনো খুঁত বা হ্রাস দেখা যায় না কেবল সামান্য চিহ্ন ছাড়া, অথচ মাথার হাড় বা মস্তিষ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে এর অবস্থান। কখনো তা প্রাণের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমরা মনে করি দাসের ক্ষেত্রে এগুলোকে স্বাধীন ব্যক্তির দিয়াতের হিসাব অনুযায়ী তার মূল্যের অনুপাতে নির্ধারণ করা উচিত।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ ও ইবনে আবিজ জিনাদ আমাকে আবুয জিনাদ থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি বলেছেন: যদি কোনো স্বাধীন ব্যক্তি কোনো দাসকে 'মুদিহা' জখম করে, তবে দাসের মালিক সেই জখমকারী স্বাধীন ব্যক্তির কাছ থেকে দাসের আক্রান্ত হওয়ার দিনের মূল্যের বিশ ভাগের এক ভাগ পাবে।ইবনে ওয়াহাব বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আমর আমাকে ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আবদুল করিম থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও শুরাইহ থেকে দাসের দিয়াতের বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন: তার দিয়াত হলো তার মূল্য, যদিও তা স্বাধীন ব্যক্তির দিয়াতের চেয়ে বেশি হয়।ইবনে লাহিয়া আমাকে রাবিআ ইবনে আবি আবদুর রহমান থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি দাসের জায়িফাহ, মা'মুমাহ, মুনাক্কিলাহ ও মুদিহা সম্পর্কে বলেছেন: এ সবই তার মূল্যের অন্তর্ভুক্ত হবে। সে অন্যান্য পণ্যের মতো একটি পণ্য যার মূল্য বাড়ে এবং কমে। ১৭৭ - ইবনে ওয়াহাব বলেন: মালেক ইবনে আনাস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে আল্লাহ বলেছেন: {স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি, দাসের বদলে দাস এবং নারীর বদলে নারী} [আল-বাকারা: ১৭৮]। সুতরাং যদি কোনো দাস অন্য দাসকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, তবে নিহত দাসের মালিককে ইখতিয়ার দেওয়া হবে; সে চাইলে হত্যাকারী দাসকে হত্যা করতে পারে যদিও সে (মূল্যে) নিহতের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামী হয়। আর সে চাইলে রক্তপণ (দিয়াত) গ্রহণ করতে পারে। যদি সে রক্তপণ গ্রহণ করে তবে তার নিহত দাসের মূল্যের সমান নেবে। আর যদি হত্যাকারী দাসের মালিকরা নিহত দাসের মূল্য দিতে চায় তবে তারা তা করবে। আর যদি তারা তাদের দাসকে সমর্পণ করে দেয় তবে তাদের ওপর এর চেয়ে বেশি কিছু নেই। নিহত দাসের মালিকরা যদি হত্যাকারী দাসকে গ্রহণ করে রক্তপণে রাজি হয়, তবে যে দাসকে তারা গ্রহণ করেছে তাকে তারা হত্যা করার অধিকার রাখবে না।তিনি বলেন: দুই দাসের মধ্যে হত্যার কিসাস এবং হাত-পা কাটা ও অনুরূপ জখমের ক্ষেত্রে কিসাসের বিধান একই।- তিনি বলেন: মালেক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন: আমাদের নিকট সর্বসম্মত বিষয় হলো যে, দাস যখন কোনো অপরাধ করে তখন তার মালিক ছাড়া আর কেউ তার জরিমানা দেয় না। দাস হত্যা বা অন্য কোনো জখম করলে তার মালিকের ইখতিয়ার থাকবে: সে চাইলে সেই জরিমানা আদায় করে তার গোলামকে নিজের কাছে রেখে দেবে, আর চাইলে সে তার দাসকে সমর্পণ করে দেবে। তার ওপর এর চেয়ে বেশি কিছু নেই এবং মালিকের ওপর তার দাসের জখমের কারণে দাসের মূল্যের চেয়ে বেশি জরিমানা হবে না।- তিনি বলেন: আমি মালেককে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলতে শুনেছি যার এমন এক দাস আছে যার নিজের কিছু সম্পদ আছে, অতঃপর সেই দাস কাউকে জখম করে। এমতাবস্থায় সেই দাস এবং তার সম্পদ—উভয়ই জখমপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য হবে তার অপরাধের দণ্ড হিসেবে, যদি না তার মালিক তার পক্ষ থেকে জরিমানা দিয়ে তাকে মুক্ত করে নেয়।- ইবনে ওয়াহাব বলেন: মালেক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন: আমাদের নিকট দাসদের মাঝে কিসাসের বিধান স্বাধীনদের বিধানের মতোই। দাসীর প্রাণ দাসের প্রাণের বদলে এবং তার জখম তার জখমের বদলে। তিনি বলেন: জখমের ক্ষেত্রে দাসদের একে অপরের থেকে কিসাস নেওয়া হবে। জখমপ্রাপ্ত দাসের মালিককে ইখতিয়ার দেওয়া হবে: সে চাইলে কিসাস নেবে, আর চাইলে দিয়াত (ক্ষতিপূরণ) নেবে।ইবনে ওয়াহাব বলেন: মাখরামাহ ইবনে বুকাইর তাঁর পিতা থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি সাঈদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জাবেরকে বলতে শুনেছি, তিনি উরওয়াহ ইবনে জুবাইরকে বলতে শুনেছেন: যদি কোনো দাস অন্য দাসকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে তবে তার বদলে তাকে হত্যা করা হবে। আর যদি ভুলবশত হত্যা করে এবং হত্যাকারী যদি নিহতের চেয়ে বেশি দামী হয়, তবে নিহতের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা হবে এবং তারা সেই মূল্য পাবে। আর যদি নিহত ব্যক্তি হত্যাকারীর চেয়ে উত্তম (দামী) হয়, তবে নিহতের পক্ষ কেবল হত্যাকারী দাসকেই পাবে। বুকাইর বলেন: ইবনে শিহাবও একই কথা বলেছেন।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ ইবনে শিহাব থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি এমন দুই দাস সম্পর্কে বলেছেন যারা ইচ্ছাকৃতভাবে এক দাসকে হত্যা করেছে, আর নিহতের অভিভাবক চাচ্ছে তাদের দাস হিসেবে গ্রহণ করতে, হত্যা করতে নয়। ইবনে শিহাব বলেন: যদি সে তাদের কিসাস হিসেবে হত্যা করতে চায় তবে তাকে সুযোগ দেওয়া হবে। আর যদি সে তাদের দাস হিসেবে রাখতে চায় এবং জীবিত রাখতে চায় তবে তাদের কৃত অপরাধের মূল্যের বেশি কিছু সে পাবে না। ১৮৩ - ইবনে শিহাব এক স্বাধীন ও এক দাস সম্পর্কে বলেছেন যারা মিলে কোনো স্বাধীন বা দাসকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে: তাদের উভয়ের বিধান তাদের সম্প্রদায়ের প্রথা অনুযায়ী হবে।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইবনে আবি যিব আমাকে আল-হারিস ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি নওফাল ইবনে মুসাহিক থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি দাসদের একে অপরের থেকে কিসাস গ্রহণ করতেন।মুহাম্মদ ইবনে আমর আমাকে ইবনে জুরাইজ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে আবদুল আজিজ লিখেছিলেন যে, ইচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষেত্রে দুই দাসের মাঝে প্রাণের বদলে প্রাণ এবং জখমের ক্ষেত্রে জখমের কিসাস হবে।ইবনে জুরাইজ বলেন: সালিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমরও একই কথা বলেছেন।ইবনে জুরাইজ বলেন: আবদুল আজিজ ইবনে উমর ইবনে আবদুল আজিজ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, উমর ইবনে আবদুল আজিজের একটি পত্রে উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেছেন: দাসকে দাসের বদলে কিসাস দেওয়া হবে প্রতিটি ইচ্ছাকৃত অপরাধে যা প্রাণের বিনাশ ঘটায় এবং তার নিচের পর্যায়ের জখমের ক্ষেত্রেও। তবে যদি তারা দিয়াতের ওপর সমঝোতা করে, তবে নিহতের মূল্য হত্যাকারী বা জখমকারীর মালিকের ওপর বর্তাবে।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ ইবনে শিহাব থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি বলেছেন: ইচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষেত্রে দাসের বদলে দাসকে কিসাস দেওয়া হবে এবং ইচ্ছাকৃত জখমের ক্ষেত্রেও দাসের বদলে দাসকে কিসাস দেওয়া হবে। যদি দাসের পক্ষ থেকে দিয়াত গ্রহণ করা হয় তবে জখমের দিয়াত দাসের মূল্যের ন্যায্য হিসেবে হবে। যদি এক দাস অন্য দাসকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে তবে তার বদলে তাকে হত্যা করা হবে। আর যদি তার মালিক হত্যাকারী দাসকে জীবিত রাখতে চায় তবে সে হত্যাকারী দাসের মূল্যের ভিত্তিতে তার নিহত দাসের মূল্য পরিশোধ করবে, এর চেয়ে বেশি কিছু বাড়ানো হবে না। তবে যদি হত্যাকারীর মালিকরা তাকে তার অপরাধের কারণে সমর্পণ করতে চায় তবে ভিন্ন কথা। হত্যাকারী দাসের মালিকরাই বেশি হকদার যে তারা চাইলে নিহত দাসের মূল্য দিয়ে তাকে মুক্ত করবে অথবা চাইলে হত্যাকারী দাসকে তার অপরাধের দায়ে সমর্পণ করে দেবে। ১৮৮ - ইবনে আবি সালামাহ বলেন: দাসদের মাঝে কিসাস আছে। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: {দাসের বদলে দাস} [আল-বাকারা: ১৭৮] এবং {জখমের বদলে কিসাস} [আল-মায়েদা: ৪৫]।ইবনে ওয়াহাব: ইবনে আবিয জিনাদ তাঁর পিতা থেকে এমন এক দাস সম্পর্কে বলেছেন যে ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য এক দাসকে হত্যা করেছে: হত্যাকারীকে নিহত দাসের মালিকের নিকট সোপর্দ করা হবে এবং সে তাকে হত্যা করবে। তবে সে যদি তাকে জীবিত রাখতে চায় যাতে সে তার দাসের পরিণত হয়, তবে তার মালিকের স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছাড়া সে তা করতে পারবে না।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইউনুস ইবনে শিহাব থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি এক স্বাধীন ও এক দাস সম্পর্কে বলেছেন যারা ভুলবশত এক স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করেছে: স্বাধীন ব্যক্তির ওপর অর্ধেক দিয়াত এবং দাসের গর্দান দায়বদ্ধ হবে। যদি দাসটি অর্ধেক দিয়াতের চেয়ে ভালো (দামী) হয় তবুও তার ওপর অর্ধেক দিয়াতের বেশি কিছু নেই।ইবনে ওয়াহাব বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে জুরাইজ থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আতা ইবনে আবি রাবাহকে বললাম: এক স্বাধীন ও এক দাস মিলে যদি এক স্বাধীন ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে? তিনি বললেন: স্বাধীন ব্যক্তিকে তার বদলে হত্যা করা হবে আর দাসটি তার মালিকদের কাছে থাকবে।তিনি বলেন: আমি বললাম: এক দাস যদি এক স্বাধীন ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে? তিনি বললেন: দাসটি তাদের (নিহতের অভিভাবকদের) হয়ে যাবে। আমি বললাম: দাসের মালিক যদি দিয়াত দিয়ে তার দাসকে ছাড়িয়ে নিতে চায় কিন্তু স্বাধীন ব্যক্তির পরিবার দাসটিকেই নিতে চায়? তিনি বললেন: তারা তার প্রতি বেশি হকদার, সে তাদেরই হবে।তিনি বলেন: আমি আতাকে বললাম: যদি এক স্বাধীন ও এক দাস মিলে এক স্বাধীন ব্যক্তিকে ভুলবশত হত্যা করে? তিনি বললেন: তার দিয়াত দাসের মূল্যের হিসাব অনুযায়ী হবে এবং তার অংশ হবে স্বাধীন ব্যক্তির দিয়াত। ১৯২ - আবদুল আজিজ ইবনে আবি সালামাহ বলেছেন: যদি দাস কোনো স্বাধীন ব্যক্তিকে ভুলবশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে জখম করে, তবে দাসের মালিকের ইখতিয়ার থাকবে সে চাইলে তার দাসকে সোপর্দ করবে অথবা সেই স্বাধীন ব্যক্তির জখমের দিয়াত যতোই হোক তা পরিশোধ করবে।ইবনে ওয়াহাব বলেন: আবদুর জব্বার ইবনে উমর রাবিআ ইবনে আবি আবদুর রহমান থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে মারওয়ান ইবনুল হাকাম স্বাধীন ব্যক্তিকে জখমকারী দাসের ক্ষেত্রে ফয়সালা দিয়েছেন যে, দাসকে বিক্রি করা হবে এবং জখমপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে তার জখমের মূল্য দেওয়া হবে। তাকে দাসের হাতে সোপর্দ করা হবে না যাতে সে দাসকে বিকলাঙ্গ না করে বা তাকে নির্যাতন না করে।তিনি বলেন: আমি শিমর ইবনে নুমাইরকে হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে তিনি বলেছেন: যখন দাস কোনো অপরাধ করবে তখন তার মালিকের ওপর তার দাসের জীবনের অতিরিক্ত কোনো দায় থাকবে না। সে চাইলে তার পক্ষ থেকে মুক্তিপণ দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেবে অথবা চাইলে তাকে সমর্পণ করে দেবে।ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইয়াজিদ ইবনে আইয়াশ আবদুল মালিক ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি বলতেন: দাসের মালিক দাসের প্রাণের অতিরিক্ত কোনো জরিমানা দেবে না। যদি জখমপ্রাপ্ত ব্যক্তির দিয়াত দাসের মূল্যের চেয়ে বেশিও হয় তবুও কোনো অতিরিক্ত কিছু দেওয়া হবে না। ১৯৬ - তিনি বলেন: মালেক সেই দাস সম্পর্কে বলেছেন যে স্বাধীন ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে অতঃপর নিহতের পরিবার তাকে জীবিত রাখতে চায়। এমতাবস্থায় তার মালিকের কি অধিকার আছে তাকে তার মূল্য বা পূর্ণ দিয়াত দিয়ে নিয়ে নেওয়ার নাকি তাকে তাদের নিকট বিক্রি করা হবে? তিনি বললেন: যখন তারা তাকে জীবিত রাখার সিদ্ধান্ত নেবে তখন দাসের মালিকের ইখতিয়ার থাকবে সে চাইলে তাদের পূর্ণ দিয়াত দেবে অথবা তার গোলামকে তাদের নিকট সমর্পণ করবে।- মালেক বলেন: যদি কোনো দাস কোনো ইহুদি বা খ্রিস্টানকে জখম করে তবে তার মালিক তার পক্ষ থেকে সেই জখমের জরিমানা দেবে নতুবা তাকে সমর্পণ করবে যা বিক্রি করা হবে এবং তার মূল্য সেই ইহুদি বা খ্রিস্টানকে দেওয়া হবে। তবে কোনো ইহুদি বা খ্রিস্টানকে মুসলিম দাস দেওয়া হবে না।- তিনি বলেন: আমি মালেককে দাসের অপরাধের বিষয়ে বলতে শুনেছি: সে যদি কোনো মানুষকে জখম করে, অথবা কারো থেকে কিছু ছিনিয়ে নেয়, অথবা কারো উট মেরে ফেলে, অথবা গাছের ঝুলন্ত ফল নিয়ে নেয়, অথবা এমন চুরি করে যাতে হাত কাটার বিধান নেই—এ সবই দাসের জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট। তার মালিক চাইলে যা সে নিয়েছে বা নষ্ট করেছে বা জখম করেছে তার মূল্য দেবে, আর চাইলে তাকে সমর্পণ করে দেবে। এক্ষেত্রে মালিকের ইখতিয়ার থাকবে। তবে তাকে তার কাজের জন্য যা দেওয়া হয়েছে বা সে যা ঋণ নিয়েছে, তা তার জিম্মায় থাকবে।মালেক বলেন: এটিই আমাদের নিকট নিয়ম।- মালেক সেই দাস সম্পর্কে বলেছেন যাকে ব্যবসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সে যদি এমন কোনো অপরাধ করে যা তার জীবনের মূল্যের সমান এবং তার ওপর মানুষের ঋণও থাকে, এমতাবস্থায় অপরাধের শিকার ব্যক্তি ও দাসের পাওনাদাররা একত্রিত হয়। তিনি বলেন: দাসকে তার অপরাধের জন্য পাকড়াও করা হবে... . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .