(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: -)
تنقيح الفصول في علم الأصول القسم: أصول الفقه
الكتاب: تنقيح الفصول في علم الأصول
المؤلف: شهاب الدين القرافي أحمد بن إدريس الصنهاجي المالكي (ت 684 هـ)
المحقق: سعد بن عدنان بن سعد الحضاري
أصل التحقيق: رسالة ماجستير، قسم أصول الفقه، جامعة القصيم - السعودية
الناشر: دار أسفار - الكويت
الطبعة: الأولى، 1441 هـ - 2019 م
عدد الصفحات: 524
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 27 جُمادَى الآخرة 1447
তানকিহুল ফুসুল ফি ইলমিল উসুল বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
কিতাব: তানকিহুল ফুসুল ফি ইলমিল উসুল
লেখক: শিহাবুদ্দিন আল-কারাফি আহমাদ ইবনে ইদরিস আস-সিনহাজি আল-মালিকি (মৃত্যু ৬৮৪ হিজরি)
সম্পাদক: সাদ ইবনে আদনান ইবনে সাদ আল-হাদারি
সম্পাদনার উৎস: মাস্টার্স থিসিস, উসুলুল ফিকহ বিভাগ, কাসিম বিশ্ববিদ্যালয় - সৌদি আরব
প্রকাশক: দার আসফার - কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪১ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২৪
[কিতাবটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৭
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
يسر «مشروع أسفار» أن يقدم للقارئ الكريم الإصدار العشرين من إصدارات المشروع: (تنقيح الفصول في علم الأصول) للعلامة شهاب الدين القرافي (ت 684 هـ)، وهو الثالث من «سلسلة المحصوليات».
فإن القرافي قامة أصولية رفيعة؛ قد اغتذى بمدرسة المحصول بعد صهرها وتمكن من استيعاب معارفها، فكانت خير منطلق علمي له، ثم إنه ارتقى بالدرس الأصولي إلى الذروة، فأبدع وابتكر وحقق وحرر، وانتقل بالتقعيد من التجريد إلى التخريج والإعمال المفيد، مع الاهتمام البين بالمصالح الكلية وأسرار الشريعة ومقاصدها.
واستطاع ربط الأواخر بعلوم المجتهدين الأوائل، فكان (حلقة وصل علمية بين طبقات الأصوليين) ونجاحه متمثل في جانبين أصيلين: الأول: إعادة صياغة قواعد هذا العلم وتقديمها بما يناسب عصره، والثاني: التطبيقات العملية على الفروع والعناية الظاهرة بالأمثلة، بما يلائم جودة التعليم الأصولي، حتى صار له التأثير الواسع فيمن جاء بعده من العلماء؛ لأنه مهد لهم طرق هذا العلم وقربه وفتح لهم منه الآفاق.
ومما تزدان به المكتبة الأصولية كتابه (التنقيح) الذي جمع فيه مؤلفه مسائل (المحصول) للرازي و (الإفادة) للقاضي عبد الوهاب، و (الإشارة) للباجي و (مقدمة ابن القصار) بأرشق عبارة مع حسن التبويب والترتيب، مع زيادات وتنبيهات، نقدمه لقرائنا الكرام محققا في حلته القشيبة.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
‘মাশরু আসফার’ সম্মানিত পাঠকদের সামনে তাদের প্রকল্পের ২০তম প্রকাশনা: আল্লামা শিহাবউদ্দীন আল-কারাফি (মৃত্যু ৬৮৪ হি.) রচিত ‘তানকীহুল ফুসুল ফি ইলমিল উসুল’ উপস্থাপন করতে পেরে আনন্দিত। এটি ‘সিলসিলাতুল মাহসুলিয়াত’-এর তৃতীয় গ্রন্থ।
নিশ্চয়ই আল-কারাফি উসুল শাস্ত্রের এক সুউচ্চ ব্যক্তিত্ব; তিনি ‘মাহসুল’ ঘরানার জ্ঞানকে আত্মস্থ করার পর তা থেকে পুষ্টি লাভ করেছেন এবং এর জ্ঞানরাজি আয়ত্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। এটিই ছিল তাঁর জন্য সর্বোত্তম ইলমি যাত্রাপথ। অতঃপর তিনি উসুল শাস্ত্রের পাঠকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান; তিনি নতুনত্ব সৃষ্টি করেছেন, উদ্ভাবন করেছেন, তাহকীক ও তাহরীর করেছেন। তিনি নীতি নির্ধারণের বিষয়টিকে নিছক তাত্ত্বিকতা থেকে প্রয়োগমুখী ও কার্যকরী উপযোগিতার দিকে নিয়ে গেছেন। এর পাশাপাশি তিনি সামষ্টিক জনকল্যাণ, শরয়ি রহস্য ও শরীয়তের মাকাসিদের প্রতিও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
তিনি পরবর্তী যুগের সাথে পূর্ববর্তী মুজতাহিদগণের জ্ঞানরাজির মেলবন্ধন ঘটাতে সক্ষম হন। ফলে তিনি হয়ে ওঠেন ‘উসুল শাস্ত্রবিদদের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে ইলমি সংযোগকারী সূত্র’। তাঁর সাফল্য প্রধানত দুটি মৌলিক দিক থেকে স্পষ্ট: প্রথমত, এই শাস্ত্রের নীতিমালার নতুন বিন্যাস এবং নিজ যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে তা উপস্থাপন করা। দ্বিতীয়ত, মাসআলাগুলোর শাখা-প্রশাখায় ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং উদাহরণের প্রতি বিশেষ মনোযোগ প্রদান, যা উসুল শাস্ত্রের গুণগত শিক্ষার জন্য উপযুক্ত। ফলে তাঁর পরবর্তী উলামায়ে কেরামের ওপর তাঁর ব্যাপক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়; কেননা তিনি তাঁদের জন্য এই শাস্ত্রের পথ সুগম করেছেন, একে নিকটবর্তী করেছেন এবং তাঁদের সামনে জ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন।
উসুল শাস্ত্রের সমৃদ্ধ লাইব্রেরির অন্যতম এক অলঙ্কার হলো তাঁর ‘আত-তানকীহ’ গ্রন্থটি। এতে লেখক রাজির ‘আল-মাহসুল’, কাজী আব্দুল ওয়াহহাবের ‘আল-ইফাদাহ’, বাজির ‘আল-ইশারাহ’ এবং ইবনুল কাসসারের ‘মুকাদ্দিমাহ’-এর মাসআলাগুলোকে অত্যন্ত চমৎকার ভাষা, নিখুঁত বিন্যাস ও সুশৃঙ্খল বিন্যাসের মাধ্যমে একত্র করেছেন। সেই সাথে এতে রয়েছে প্রয়োজনীয় সংযোজন ও বিশেষ সতর্কতা। আমরা আমাদের সম্মানিত পাঠকদের নিকট গ্রন্থটির এই পরিমার্জিত ও সুশোভিত সংস্করণটি উপস্থাপন করছি।
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪)
وأصل ما بين يديك: (رسالة ماجستير) من قسم أصول الفقه من جامعة القصيم بالمملكة العربية السعودية.
وأخيرا؛ نسأل الله تعالى المغفرة والرحمة والرضوان لمؤلف الكتاب ومحققه، ولـ (عبد المحسن ياسين درويش الدرويش) وذويه الذين تحملوا تمويل الكتاب، فجزاهم الله تعالى خيرا، وأسبل عليهم بركته، والحمد لله رب العالمين.
أسفار لنشر نفيس الكتب والرسائل العلمية
دولة الكويت
আপনার সম্মুখে যা রয়েছে তার মূল হলো: সৌদি আরব রাজতন্ত্রের কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুল ফিকহ বিভাগ থেকে উপস্থাপিত (একটি মাস্টার্স থিসিস)।
পরিশেষে; আমরা মহান আল্লাহর নিকট এই গ্রন্থের লেখক ও এর গবেষক-সম্পাদকের জন্য, এবং (আব্দুল মুহসিন ইয়াসিন দরবেশ আদ-দরবেশ) ও তাঁর পরিজনদের জন্য ক্ষমা, রহমত এবং সন্তুষ্টি প্রার্থনা করছি, যারা এই গ্রন্থের অর্থায়নের ভার বহন করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাদের উপর তাঁর বরকত বর্ষণ করুন। আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
আসফার: মূল্যবান গ্রন্থ এবং জ্ঞানগর্ভ গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য
কুয়েত রাষ্ট্র
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده أما بعد:
فإن كتاب «تنقيح الفصول في علم الأصول» لأبي العباس شهاب الدين أحمد بن إدريس القرافي المالكي (684 هـ)، من أهم المختصرات الأصولية، وقد كتب الله عز وجل له القبول، وكثر اشتغال أهل العلم به من حياة المؤلف إلى يومنا هذا، حتى قال الشيخ محمد جعيط (1337 هـ) - مفتي الديار التونسية رحمه الله -: «وقد فشا عندنا بالجامع الأعظم في الديار التونسية، تعاطي المالكية لأصول السادة الحنفية والشافعية، والسر في ذلك عدم وجود الكتب المؤلفة في أصول مذهب مالك، ولم يجر عندنا بحرها العباب، ولم يوجد منها سوى تنقيح العلامة الشهاب»
(1)، وهذا مما يدل على إخلاص مؤلفه وحسن قصده، إضافة إلى ما امتاز به من إحكام وإتقان وإحاطة لأهم مهمات هذا العلم، مع حسن التبويب والترتيب، كما اشتمل على قواعد وفوائد وفروق أصولية لا توجد إلا فيه.
وقد وفقني الله سبحانه بأن كان هذا الكتاب هو محل دراستي في الماجستير، وقد بذلت وسعي فيه، واجتهدت فيه غاية الاجتهاد، فجمعت نسخه، وضبطت نصه، وفقرت عباراته، ونبهت على تراجعات المؤلف فيه، وتعقبات واستدراكات الشراح عليه، وقدمت له بمقدمة بينت فيها شيئا من جلالته، وترجمت فيها لمؤلفه، واستوعبت فيها الكلام عن آثاره.
ثم إني أعدت النظر فيه بعد الفراغ منه، فرأيت تهذيبه من المتطلبات الأكاديمية قبل طباعته، فخففت منه قرابة الثلث، فحذفت واختصرت منه بعض
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যার পরে কোনো নবী নেই। অতঃপর:
উসুলশাস্ত্রে আবুল আব্বাস শিহাবুদ্দিন আহমদ ইবন ইদরিস আল-কারাফি আল-মালিকি (৬৮৪ হি.) রচিত ‘তানকিহুল ফুসুল ফি ইলমিল উসুল’ গ্রন্থটি উসুল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্তসারগুলোর অন্যতম। মহান আল্লাহ একে কবুলিয়াত দান করেছেন এবং গ্রন্থকারের জীবনকাল থেকে শুরু করে আজ অবধি আলেমগণ ব্যাপকভাবে এটি নিয়ে চর্চা করে আসছেন। এমনকি তিউনিসিয়ার মুফতি শায়খ মুহাম্মদ জায়িত (১৩৩৭ হি.) —আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন— বলেছেন: “আমাদের তিউনিসিয়া ভূখণ্ডের জামে আজমে মালিকি মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যে হানাফি ও শাফিয়ি ইমামগণের উসুল চর্চা করার প্রচলন ঘটেছিল। এর কারণ ছিল মালিকি মাযহাবের উসুল সংক্রান্ত কিতাবসমূহের অপ্রাপ্যতা। সেই শাস্ত্রের উত্তাল সমুদ্র আমাদের এখানে প্রবাহিত হয়নি এবং আল্লামা শিহাবের (কারাফি) ‘তানকিহ’ ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যেত না।”
(১) এটি গ্রন্থকারের ইখলাস ও নেক নিয়তেরই বহিঃপ্রকাশ। এর পাশাপাশি গ্রন্থটি এই শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সুনিপুণ ও সুবিন্যস্ত উপস্থাপনা এবং চমৎকার বিন্যাসের জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এছাড়া এতে এমন কিছু উসুলি নিয়ম, ফায়দা ও পার্থক্য আলোচিত হয়েছে যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।
মহান আল্লাহ আমাকে তওফিক দিয়েছেন যে, এই গ্রন্থটিই আমার মাস্টার্সের গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল। আমি এতে আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি এবং সর্বোচ্চ পরিশ্রম করেছি। আমি এর পাণ্ডুলিপিগুলো সংগ্রহ করেছি, মূল পাঠ যাচাই করেছি, ইবারতগুলো সুবিন্যস্ত করেছি এবং এতে গ্রন্থকারের পূর্বের মত থেকে ফিরে আসা এবং এর ব্যাখ্যাকারীদের সমালোচনা ও সংশোধনীগুলো উল্লেখ করেছি। এছাড়াও আমি একটি ভূমিকা প্রদান করেছি যেখানে গ্রন্থটির শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করেছি, লেখকের জীবনী আলোচনা করেছি এবং তাঁর অন্যান্য রচনাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেছি।
কাজ শেষ করার পর আমি পুনরায় এটি পর্যালোচনা করি এবং মুদ্রণের আগে প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনেই একে পরিমার্জন করা আবশ্যক মনে করি। তাই আমি এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে দিয়েছি এবং কিছু অংশ বাদ দিয়ে সংক্ষেপ করেছি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬)
الفصول الدراسية، وحذفت تراجم الأعلام المشهورين، واختصرت تخريج الأحاديث، وحذفت أرقام الألواح، وحذفت بعض الفهارس وأمورا أخرى.
ولا يخفى ما يمر به كل باحث من معاناة نفسية في مراجعة عمله قبل إخراجه للناس، حتى إن بعض الفضلاء قد تصده رغبة الكمال عن إخراج جهده الذي ظل يعاني فيه السنتين والثلاث، فلا هو الذي أخرجه، ولا فسح المجال لغيره لإخراجه، وحتى لا يكون حالي كحالهم رأيت المبادرة إلى إخراجه على الرغم من رغبة في النفس لإعادة النظر فيه، لكن الظن بمن وقف على خلل فيه، أو زلة قلم، أو نبوة فهم، أن يبادر إلى إصلاحه، وأن يشعرنا به لتعديله، فالأذن مصغية والصدر منشرح.
ومن الأمور التي يبارك الله فيها بالأعمال؛ نسبة الفضل لأهله، فما كان هذا العمل ليخرج بهذه الصورة إلا بفضل الله تبارك وتعالى ثم بفضل شيخي أ. د. عبد العزيز بن محمد العويد - حفظ الله - الذي شرفني بالإشراف على هذا العمل، ورفع من مستواه، وأحاطني برعايته، وأحلني محل السواد من العين، والروح من الجسد، فجزاه الله خير ما جزى شيخا عن تلميذه.
ولا يفوتني في هذ المقام أن أشكر ثلة من الفضلاء، وهم:
أولا: فضيلة الشيخ د. نصف بن عيسى العصفور؛ فقد كان اختياري لهذا الكتاب اقتراحا وتشجيعا منه، فشكر الله له، وجعله في ميزانه.
ثانيا: أشكر فضيلة الشيخ أ. د. عبد العزيز بن علي النملة رئيس قسم أصول الفقه بجامعة القصيم - سابقا -، فقد كان نعم المعين خلال فترة إرشاده لي، مع ما كساه الله من دماثة خلق وكرم نفس، فجزاه الله عني خيرا.
ثالثا: أشكر فضيلة الشيخ د. محمد بن مهدي العجمي، والشيخ د. محمد بن طارق الفوزان، على ما قدماه لي من نصائح وتوجيهات علمية، فلهما مني كل
শিক্ষাবর্ষগুলো, এবং আমি প্রখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনী বাদ দিয়েছি, হাদিসের তাখরিজ (সূত্র নির্দেশ) সংক্ষেপ করেছি, পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠাসংখ্যা মুছে ফেলেছি এবং কিছু নির্ঘণ্ট ও অন্যান্য বিষয় বাদ দিয়েছি।
কোনো কাজ মানুষের সামনে প্রকাশের পূর্বে তা পর্যালোচনার সময় একজন গবেষক যে মানসিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যান তা গোপন নয়। এমনকি অনেক গুণী ব্যক্তি পূর্ণতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষার কারণে তাদের সেই প্রচেষ্টাকে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেন যা নিয়ে তারা দুই বা তিন বছর যাবৎ মেহনত করেছেন। ফলে তারা নিজেরাও তা প্রকাশ করেন না, আবার অন্যদের জন্যও তা প্রকাশের পথ সুগম করেন না। আমার অবস্থা যেন তাদের মতো না হয়, সেজন্য এটি পুনরায় পর্যালোচনার ইচ্ছা মনে থাকা সত্ত্বেও আমি দ্রুত এটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে যারা এতে কোনো ত্রুটি, লেখনীর বিচ্যুতি বা বোধগম্যতার অপ্রতুলতা খুঁজে পাবেন, তাদের প্রতি আমার সুধারণা এই যে, তারা তা সংশোধনে এগিয়ে আসবেন এবং পরিবর্তনের জন্য আমাদের অবহিত করবেন; কারণ কান পেতে আছি শোনার জন্য এবং হৃদয় প্রশস্ত।
যে কাজগুলোতে আল্লাহ বরকত দান করেন তার অন্যতম হলো এর কৃতিত্ব যোগ্য ব্যক্তিকে প্রদান করা। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার অনুগ্রহ এবং এরপর আমার শাইখ প্রফেসর ড. আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-উওয়াইদ -আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন- এর অবদানের মাধ্যমেই এই কাজটি এই রূপে প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি এই কাজের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দিয়ে আমাকে ধন্য করেছেন, এর মান উন্নত করেছেন এবং তাঁর অভিভাবকত্ব দিয়ে আমাকে আগলে রেখেছেন; আমাকে চোখের মণির মতো এবং দেহের আত্মার মতো স্থান দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁকে একজন শাইখকে তাঁর ছাত্রের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
এই পর্যায়ে কয়েকজন গুণী ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলছি না, তাঁরা হলেন:
প্রথমত: সম্মানিত শাইখ ড. নাসিফ বিন ঈসা আল-আসফুর; এই কিতাবটি আমার নির্বাচনের বিষয়টি ছিল মূলত তাঁরই পরামর্শ ও উৎসাহের ফল। আল্লাহ তাঁকে এর প্রতিদান দিন এবং এটিকে তাঁর আমলের পাল্লায় ভারী করুন।
দ্বিতীয়ত: আমি সম্মানিত শাইখ প্রফেসর ড. আব্দুল আজিজ বিন আলি আন-নামলাহকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, যিনি কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুল ফিকহ বিভাগের প্রাক্তন প্রধান। তাঁর নির্দেশনার সময়কালে তিনি আমার জন্য এক অনন্য সহায়তাকারী ছিলেন, সেই সাথে আল্লাহ তাঁকে চারিত্রিক মাধুর্য ও আত্মার মহানুভবতা দান করেছেন। আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দিন।
তৃতীয়ত: আমি সম্মানিত শাইখ ড. মুহাম্মদ বিন মাহদি আল-আজমি এবং শাইখ ড. মুহাম্মদ বিন তারিক আল-ফাওজানকে তাঁদের প্রদত্ত বৈজ্ঞানিক পরামর্শ ও নির্দেশনার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তাঁদের প্রতি রইল আমার পক্ষ থেকে সকল...
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭)
محبة وتقدير وإجلال، وأسبغ عليهما ربي نعمه الظاهرة والباطنة.
وأخص بالشكر أخي الكبير، فضيلة الشيخ د. منصور بن عدنان العتيقي، الذي لا أجازيه إلا بالدعاء على أخوته الصادقة وإفادتي بملحوظاته القيمة حول الكتاب على الرغم من كثرة أشغاله وضيق وقته، فرفع الله قدره، وأعلى شأنه، وأسبل عليه ستره.
وأخيرا: فإني أحمد الله وأشكره، فما كان ليتيسر شيء من هذا العمل لولا عونه وتوفيقه سبحانه، فله الحمد حمدا طيبا كثيرا مباركا فيه ملء السماوات وملء الأرض وملء ما شاء من شيء بعد.
وفي الختام أيها القارئ لهذا العمل والناظر فيه، هذه بضاعة صاحبه المزجاة مسوقة إليك، وهذا فهمه وعقله معروض عليك، لك غنمه وعليه غرمه، ولك ثمرته وعليه عائدته، فإن عدم منك حمدا وشكرا، فلا يعدم منك مغفرة وعذرا.
(1)والله المسؤول أن يجعله لوجه خالصا، وأن ينفع به في الدنيا والآخرة، إنه سميع الدعاء، وأهل الرجاء، وهو حسبنا ونعم الوكيل، وصل اللهم وسلم على سيدنا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
وكتبه
سعد بن عدنان الخضاري
غرة ذي القعدة سنة 1440 هـ
الموافق 3/7 /2019
Saad.alkhudari@gmail.com
--------------------------------------------
ভালোবাসা, সম্মান ও শ্রদ্ধাসহ; আমার প্রতিপালক তাঁদের ওপর তাঁর প্রকাশ্য ও গোপন নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ণরূপে বর্ষণ করুন।
আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার বড় ভাই, সম্মানিত শাইখ ড. মানসুর বিন আদনান আল-আতিকির প্রতি। তাঁর অকৃত্রিম ভ্রাতৃত্ব এবং তাঁর অধিক ব্যস্ততা ও সময়ের স্বল্পতা সত্ত্বেও এই বইটির বিষয়ে তাঁর মূল্যবান পর্যবেক্ষণ দিয়ে আমাকে উপকৃত করার প্রতিদান আমি দোয়া ছাড়া আর কিছুই দিতে পারি না। আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন, তাঁর সম্মান সুউচ্চ করুন এবং তাঁর ওপর তাঁর করুণার আবরণ বজায় রাখুন।
পরিশেষে: আমি আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করছি। তাঁর সাহায্য ও তাওফিক ছাড়া এই কাজের কোনো কিছুই সহজ হতো না; তিনি পবিত্র ও সুমহান। সুতরাং তাঁরই জন্য সকল প্রশংসা—এমন প্রশংসা যা উত্তম, প্রচুর ও বরকতময়; যা আসমানসমূহ পূর্ণ করে, জমিন পূর্ণ করে এবং এরপর তিনি যা চান তা পূর্ণ করে।
উপসংহারে, হে এই কাজের পাঠক ও পর্যবেক্ষক! লেখকের এই নগণ্য পুজি আপনার কাছে পেশ করা হলো এবং তাঁর বোধ ও বুদ্ধি আপনার সম্মুখে উপস্থাপন করা হলো। এর যা কিছু কল্যাণ তা আপনার জন্য, আর এর দায়ভার লেখকের। এর সুফল আপনার, আর এর জবাবদিহিতা তাঁর। যদি লেখকের জন্য আপনার পক্ষ থেকে কোনো প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা না-ও থাকে, তবে যেন ক্ষমা ও ওজর হতে বঞ্চিত না হয়।
(১)আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন এই কাজটিকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতে উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি দোয়া শ্রবণকারী এবং পরম আশার স্থল। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। হে আল্লাহ! আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
এটি লিখেছেন
সাআদ বিন আদনান আল-খুদারি
পহেলা জিলকদ, ১৪৪০ হিজরি
মোতাবেক ৩/৭/২০১৯
Saad.alkhudari@gmail.com
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৯)
القسم الدراسي
وفيه ثلاثة فصول:
الفصل الأول: التعريف بالمؤلف.
الفصل الثاني: التعريف بالكتاب.
الفصل الثالث: نسخ الكتاب ومنهج التحقيق.
গবেষণা বিভাগ
এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের পরিচিতি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থ পরিচিতি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিসমূহ এবং সম্পাদনা পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الأول التعريف بالمؤلفوفيه ثمانية مباحث:
المبحث الأول: اسمه ونسبه وكنيته.
المبحث الثاني: مولده ونشأته.
المبحث الثالث: طلبه للعلم ورحلاته.
المبحث الرابع: شيوخه.
المبحث الخامس: مكانته العلمية وثناء العلماء عليه.
المبحث السادس: آثاره العلمية.
المبحث السابع: تلاميذه.
المبحث الثامن: وفاته.
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের পরিচিতিএতে আটটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও উপনাম।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানার্জন ও সফরসমূহ।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকগণ।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা ও তাঁর প্রতি আলেমগণের প্রশংসা।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলমি রচনাবলী।
সপ্তম অনুচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রগণ।
অষ্টম অনুচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু।
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المبحث الأول اسمه ونسبههو: أبو العباس أحمد بن إدريس بن عبد الرحمن بن عبد الله بن يلين الصنهاجي البهفشيمي البهنسي القرافي.
«يلين»: بياء مثناة من تحت مفتوحة، ولام مشددة مكسورة، وياء ساكنة مثناة من تحت، ونون ساكنة.
(1)و «الصنهاجي»: بضم الصاد المهملة وكسرها وفتحها، وسكون النون، وفتح الهاء، وبعد الألف جيم، نسبة إلى صنهاجة، وصنهاجة قبيلة مشهورة من حمير، وحمير من عرب اليمن، اشتهر بها جماعة كثيرة من المغاربة.
(2)وقد نص القرافي رحمه الله على أن أصله منها، حيث قال: «وإنما أنا من صنهاجة الكائنة في قطر مراكش بأرض المغرب»
(3)، وهذا يدلنا على أنه عربي الأصل.
و «البهفشيمي»
(4): بالباء الموحدة المفتوحة، والهاء المجزومة، والفاء
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়তিনি হলেন: আবু আব্বাস আহমাদ বিন ইদ্রিস বিন আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন ইয়ালিন আস-সানহাজি আল-বাহফাশীমি আল-বাহনাসি আল-কারাফি।
‘ইয়ালিন’: নিচে দুই নুকতা বিশিষ্ট যবরযুক্ত ‘ইয়া’, তাসদীদ ও যেরযুক্ত ‘লাম’, নিচে দুই নুকতা বিশিষ্ট সাকিনযুক্ত ‘ইয়া’ এবং সাকিনযুক্ত ‘নুন’ সহযোগে গঠিত।
(১)আর ‘আস-সানহাজি’: ‘সদ’ বর্ণটি পেশ, যের অথবা যবর বিশিষ্ট, ‘নুন’ সাকিন, ‘হা’ যবরযুক্ত এবং আলিফের পর ‘জিম’ বর্ণ সহযোগে; এটি সানহাজার সাথে সম্বন্ধযুক্ত। সানহাজা হলো হিমইয়ারের একটি প্রসিদ্ধ গোত্র, আর হিমইয়ার হলো ইয়েমেনি আরবদের অন্তর্ভুক্ত, মাগরিববাসীদের এক বিশাল গোষ্ঠী এই নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।
(২)ইমাম কারাফি (রহিমাহুল্লাহ) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে তাঁর মূল উৎস সেখান থেকেই, যেখানে তিনি বলেছেন: “আমি মূলত মাগরিব ভূখণ্ডের মারাকেশ অঞ্চলে অবস্থিত সানহাজা গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।” এটি আমাদের নির্দেশ করে যে তিনি বংশগতভাবে আরব।
এবং ‘আল-বাহফাশীমি’
(৪): এক নুকতা বিশিষ্ট যবরযুক্ত ‘বা’, সাকিনযুক্ত ‘হা’ এবং ‘ফা’...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المفتوحة، والشين المعجمة المكسورة، والياء المثناة من تحت الساكنة.
وهي نسبة إلى قرية من قرى «بوش» من صعيد مصر
(1)، وهي القرية التي ولد فيها.
(2)و «البهنسي»: نسبة إلى «بهنسا» بفتح الباء الموحدة، وسكون الهاء - وقيل بفتحها -، وسكون النون، بعدها سين مهملة مفتوحة بعدها ألف، نسبة إلى بلدة بصعيد مصر الأدنى، غربي النيل، وليست على ضفته.
(3)وأما شهرته بـ: «القرافي»: فقد ذكر رحمه الله بنفسه سبب اشتهاره به، وهو أن القرافة اسم لمحل بمصر القديمة، وأن تلك البقعة سميت بذلك لقبيلة سكنتها، وأن القرافة هو اسم جدة القبيلة، وأنه اشتهر به لأنه سكن بتلك البقعة فترة يسيرة، لا لأنه من سلالة تلك القبيلة.
قال: «واشتهاري بالقرافي ليس لأجل أني من سلالة هذه القبيلة، بل للسكن بالبقعة الخاصة مدة يسيرة، فاتفق الاشتهار بذلك»
(4).
وقد ذكر ابن فرحون سببا آخر لاشتهاره بـ «القرافي»، وهو أنه لما أراد الكاتب أن يثبت اسمه في بيت الدرس كان حينئذ غائبا فلم يعرف اسمه، وكان إذا جاء للدرس يقبل من جهة القرافة، فكتب: «القرافي» فجرت عليه هذه النسبة.
(5)وذكرت قصة قريبة من هذه، وهي أنه سئل عنه عند تفريق الأرزاق في المدرسة التي كان يدرس فيها، فقيل عنه: توجه إلى القرافة، فقال بعض من حضر:
--------------------------------------------
জবরযুক্ত, জেরযুক্ত মু'জাম শীন এবং সাকিনযুক্ত নিচে দুই নুক্তাওয়ালা ইয়া।
এটি মিসরের সাঈদ অঞ্চলের 'বুশ' গ্রামগুলোর একটির দিকে সম্পৃক্ততা, আর এটি সেই গ্রাম যেখানে তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন।
(১)(২)এবং 'আল-বাহনাসি': এটি 'বাহনাসা'-এর দিকে সম্পৃক্ততা; যা এক নুক্তাওয়ালা বা-তে জবর, হা-তে সাকিন—কেউ কেউ এতে জবরও বলেছেন—এবং নুন-এ সাকিন, এরপর জবরযুক্ত মুহমালা সীন এবং তারপর আলিফ দিয়ে গঠিত। এটি নিম্ন মিসরের সাঈদ অঞ্চলের একটি শহরের নাম, যা নীল নদের পশ্চিমে অবস্থিত এবং এর তীরের সাথে লাগোয়া নয়।
(৩)আর 'আল-কারাফি' হিসেবে তাঁর প্রসিদ্ধি লাভের বিষয়ে তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) নিজেই তাঁর এই নামে প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণ উল্লেখ করেছেন। তা হলো, 'কারাফা' প্রাচীন মিসরের একটি স্থানের নাম। সেই স্থানটিকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে সেখানে বসবাসকারী একটি গোত্রের কারণে। আর 'কারাফা' ছিল সেই গোত্রের দাদীর নাম। তিনি এই নামে প্রসিদ্ধ হয়েছেন কারণ তিনি সেই স্থানে স্বল্প সময়ের জন্য বসবাস করেছিলেন, এই কারণে নয় যে তিনি সেই গোত্রের বংশধর।
তিনি বলেন: "কারাফি হিসেবে আমার প্রসিদ্ধি এই গোত্রের বংশধর হওয়ার কারণে নয়, বরং নির্দিষ্ট সেই স্থানে স্বল্প সময় অবস্থানের কারণে। ফলে সেই নামেই প্রসিদ্ধি ঘটে যায়"
(৪)।
ইবনে ফারহুন তাঁর 'আল-কারাফি' হিসেবে প্রসিদ্ধ হওয়ার অন্য একটি কারণ উল্লেখ করেছেন। তা হলো, লেখক যখন পাঠচক্রে তাঁর নাম নথিবদ্ধ করতে চাইলেন, তখন তিনি অনুপস্থিত ছিলেন, তাই লেখক তাঁর নাম জানতেন না। তিনি যখন পাঠচক্রে আসতেন, তখন কারাফা অঞ্চলের দিক থেকে আসতেন। তাই লেখক লিখে দিলেন: 'আল-কারাফি', আর এরপর থেকে এই নামই তাঁর ওপর প্রচলিত হয়ে গেল।
(৫)এর কাছাকাছি আরেকটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। তা হলো, তিনি যে মাদরাসায় পড়তেন সেখানে যখন ভাতা বণ্টন করা হচ্ছিল, তখন তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। বলা হলো: তিনি কারাফার দিকে গিয়েছেন। তখন উপস্থিতদের একজন বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
اكتبوه «القرافي»، فلزمه ذلك.
(1)والذي يبدو أنها قصة واحدة، ومن حيث الجملة، فإنه لا تعارض بين ما ذكره المؤلف وما ذكره ابن فرحون وغيره، فالجمع بين هذه الأسباب ممكن، بأن يكون القرافي قد سكن تلك المحلة مدة يسيرة كما قال، وكان يجيء منها إلى الدرس، وأن كاتب الدرس كتبه القرافي لكونه يجيء من جهتها، والكاتب الذي يوزع الأرزاق على الطلاب كتبه بمشورة بعض من يعرفه، ومن المعلوم أن اللقب ينطبق على الشخص بالتكرار وهذا ما حدث.
(2)
المبحث الثاني مولده ونشأتهصرح القرافي رحمه الله عن تأريخ مولده بنفسه، فقال: «ونشأتي ومولدي بمصر سنة ست وعشرين وستمائة (626 هـ)»
(3)، وقوله هذا يوحي بطول إقامته في محل ولادته، وإلا لما جمع بينهما في كلامه.
وأما نشأته: فكانت بمصر، وتحديدا بقرية «بهفشيم» وهي قرية من قرى بوش من صعيد مصر.
ولم أقف على شيء عن حال نشأته، إلا أن المتأمل في تراث هذا العلم، وشخصيته العلمية المتميزة، يجزم بأنه كان مجدا في طلب العلم، شغوفا بتعلم العلوم كلها، الشرعية والدنيوية.
* * *
--------------------------------------------
তাকে 'আল-কারাফি' হিসেবে লিখুন, আর সেটিই তাঁর নামের সাথে স্থায়ী হয়ে গেল।
(১)যা প্রতীয়মান হয় তা হলো এটি মূলত একটিই ঘটনা। মোটের উপর, লেখক যা উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে ফারহুন ও অন্যান্যরা যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। এই কারণগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব; সম্ভবত আল-কারাফি সেই এলাকায় অল্প সময়ের জন্য বসবাস করেছিলেন যেমনটি তিনি বলেছেন, এবং সেখান থেকেই তিনি পাঠদানস্থলে আসতেন। পাঠ্যতালিকা লেখক তাঁকে 'আল-কারাফি' লিখেছিলেন কারণ তিনি সেই দিক থেকে আসতেন। আর যে লেখক ছাত্রদের মধ্যে ভাতা বণ্টন করতেন, তিনি তাঁকে এমন একজনের পরামর্শে (কারাফি হিসেবে) লিখেছিলেন যে তাঁকে চিনত। এটা সুবিদিত যে, বারবার ব্যবহারের মাধ্যমেই উপাধি কোনো ব্যক্তির নামের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যায় এবং এখানে সেটাই ঘটেছে।
(২)
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠাআল-কারাফি (রহিমাহুল্লাহ) নিজেই নিজের জন্ম তারিখ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "আমার বেড়ে ওঠা এবং জন্ম মিশরে, ৬২৬ হিজরি সনে।"
(৩) তাঁর এই উক্তিটি জন্মস্থানে তাঁর দীর্ঘ অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়, অন্যথায় তিনি তাঁর কথায় এই দুটির সমন্বয় করতেন না।
আর তাঁর বেড়ে ওঠা: তা ছিল মিশরে, সুনির্দিষ্টভাবে 'বাহফাশিম' গ্রামে; যা উচ্চ মিশরের বাওশ অঞ্চলের একটি গ্রাম।
তাঁর বেড়ে ওঠার অবস্থা সম্পর্কে আমি বিশেষ কিছু জানতে পারিনি, তবে এই মহাজ্ঞানীর জ্ঞানতাত্ত্বিক উত্তরাধিকার এবং তাঁর অনন্য ইলমি ব্যক্তিত্বের দিকে যিনি গভীরভাবে লক্ষ্য করবেন, তিনি নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারবেন যে, তিনি ইলম অর্জনে অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং শরয়ী ও পার্থিব সকল প্রকার জ্ঞান অর্জনে প্রবল আগ্রহী ছিলেন।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المبحث الثالث طلبه للعلم ورحلاتهلم يذكر القرافي رحمه الله أو من ترجم له أن له رحلات علمية، إلا رحلته إلى مصر القديمة - القاهرة - للدراسة بمدارسها، ولعل ذلك لعدم وجود حاجة للرحلة إلى مكان سواها، فقد كانت مصر في عصره محلا لنزوح كثير من أهل العلم من بغداد والبصرة والشام بسبب التتار
(1) ولكثرة المدارس التي أجريت الأرزاق فيها على الطلاب.
وكان من ضمن هذه المدارس الوقفية المدرسة «الصاحبية»: وهي مدرسة خاصة بالمالكية، سميت بذلك نسبة لمنشئها الصاحب بن شكر (622 هـ)
(2)، وهذه المدرسة التي درس فيها القرافي، وكانت توزع عليه فيها الأرزاق، ويبدو أنها هي التي حصلت فيها القصة التي اشتهر بعدها بالقرافي، وقد ذكر القرافي أن فيها مكتبة استفاد منها، قال: «وهذه الفصول وجدتها في كتاب في الخزانة الصاحبية الوزيرية التاجية، أسبغ الله ظلالها»
(3).
ولم يشتغل القرافي في حياته بشيء سوى العلم، فلم ينقل لنا اشتغاله بشيء من طلب الرزق أو غيره، بل كان منقطعا لطلب العلم تعلما وتعليما.
(4)--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানার্জন ও সফরসমূহকারাফি (রাহিমাহুল্লাহ) অথবা তাঁর জীবনীকারগণ তাঁর কোনো ইলমি সফরের কথা উল্লেখ করেননি, তবে প্রাচীন মিসর — কায়রোতে — এর মাদরাসাগুলোতে অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে তাঁর সফরের বিষয়টি ব্যতিক্রম। সম্ভবত অন্য কোনো স্থানে সফরের প্রয়োজনীয়তা না থাকাই এর কারণ ছিল, কেননা তাঁর যুগে তাতারদের (আক্রমণের) কারণে বাগদাদ, বসরা ও শাম থেকে অনেক আলেম মিসরে এসে বসতি স্থাপন করেছিলেন এবং সেখানে প্রচুর মাদরাসা ছিল যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা ছিল।
এই ওয়াকফকৃত মাদরাসাগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল "আল-মাদরাসাতুস সাহিবিয়্যাহ": এটি মালিকি মাজহাবের জন্য নির্ধারিত একটি মাদরাসা ছিল, এর প্রতিষ্ঠাতা আস-সাহিব ইবনে শুকর (৬২২ হি.)-এর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়। এই মাদরাসাতেই কারাফি পড়াশোনা করেন এবং এখানেই তাঁকে বৃত্তি প্রদান করা হতো। প্রতীয়মান হয় যে, এখানেই সেই ঘটনাটি ঘটেছিল যার পর তিনি 'আল-কারাফি' হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। কারাফি উল্লেখ করেছেন যে, সেখানে একটি কুতুবখানা (লাইব্রেরি) ছিল যা থেকে তিনি উপকৃত হয়েছেন; তিনি বলেন: "এই পরিচ্ছেদগুলো আমি আল-খাজানাতুস সাহিবিয়্যাহ আল-ওয়াজিরিয়্যাহ আত-তাজিয়্যাহ-এর একটি কিতাবে পেয়েছি, আল্লাহ এর ছায়াকে বিস্তৃত করুন।"
কারাফি তাঁর জীবনে ইলম ছাড়া অন্য কোনো কাজে লিপ্ত হননি। জীবিকা অন্বেষণ বা অন্য কোনো কাজে তাঁর ব্যস্ত থাকার কথা আমাদের কাছে বর্ণিত হয়নি; বরং তিনি শিক্ষা গ্রহণ ও প্রদানের মাধ্যমে ইলম অর্জনে একনিষ্ঠভাবে নিবেদিত ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قال ابن فرحون: «جد في طلب العلوم فبلغ الغاية القصوى»
(1).
المبحث الرابع شيوخهكان القرافي رحمه الله حريصا على طلب العلم بشتى فنونه، فلم يقتصر على فن من العلوم، بل درس الفقه والأصول والنحو والمنطق والعقيدة والرياضيات والجغرافيا وغيرها، ويظهر ذلك جليا في آثاره العلمية - كما سيأتي ـ، مما يدل على أنه قد أخذ عن جماعة من الشيوخ، إلا أن المصادر لم تسعفنا إلا بالقليل منهم، ومن أبرزهم أولئك:
1 - جمال الدين ابن الحاجب (ت 646 هـ): أبو عمرو عثمان بن عمرو بن أبي بكر بن يونس المالكي.
(2)قال القرافي في كتابه «الفروق» عند الكلام عن بعض الأبيات المشكلة: «وقد وقع هذا البيت لشيخنا الإمام الصدر العالم، جمال الفضلاء، رئيس زمانه في العلوم، وسيد وقته في التحصيل والفهوم: جمال الدين الشيخ أبي عمرو بأرض الشام، وأفتى فيه وتفنن، وأبدع فيه ونوع رحمه الله وقدس روحه الكريمة، وها أنا قائل
(3) لك لفظه الذي وقع لي بفصه ونصه»
(4).
--------------------------------------------
ইবনে ফারহুন বলেন: «তিনি জ্ঞান অর্জনে কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন, ফলে তিনি সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছিলেন»
(১).
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকগণআল-কারাফি রহিমাহুল্লাহ জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা অন্বেষণে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তিনি কেবল একটি শাস্ত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং তিনি ফিকহ, উসুল, নাহু (ব্যাকরণ), মানতিক (যুক্তিবিদ্যা), আকিদাহ, গণিত, ভূগোল এবং অন্যান্য বিষয় অধ্যয়ন করেছেন। তাঁর ইলমি কর্মকাণ্ডে এটি সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে—যেমনটি সামনে আসবে। এটি প্রমাণ করে যে তিনি একদল শিক্ষকের নিকট থেকে জ্ঞান লাভ করেছেন, যদিও উৎসসমূহ আমাদের কাছে তাঁদের সামান্য কয়েকজনের তথ্যই পৌঁছে দিয়েছে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
১ - জামালুদ্দিন ইবনুল হাজিব (ওফাত ৬৪৬ হিজরি): আবু আমর উসমান ইবনে আমর ইবনে আবি বকর ইবনে ইউনুস আল-মালিকি।
(২)কারাফি তাঁর «আল-ফুরূক» কিতাবে কিছু জটিল পঙ্ক্তি সম্পর্কে আলোচনার সময় বলেন: «এই পঙ্ক্তিটি আমাদের শায়খ, ইমাম, প্রধান আলেম, গুণীজনদের সৌন্দর্য, সমকালীন জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রধান এবং জ্ঞান অর্জন ও উপলব্ধিতে তাঁর সময়ের সর্দার: জামালুদ্দিন শায়খ আবু আমরের সামনে পেশ করা হয়েছিল যখন তিনি শাম দেশে ছিলেন। তিনি এতে ফতোয়া দিয়েছেন, পাণ্ডিত্য প্রদর্শন করেছেন এবং এতে চমৎকার ও বৈচিত্র্যময় বিশ্লেষণ পেশ করেছেন—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁর পবিত্র আত্মাকে মহিমান্বিত করুন। আমি আপনার কাছে তাঁর সেই বক্তব্যটিই হুবহু এবং আক্ষরিকভাবে তুলে ধরছি যা আমার কাছে পৌঁছেছে»
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
2 - شمس الدين الخسروشاهي (ت 652 هـ): عبد الحميد بن عمويه بن يونس الشافعي.
(1)قرأ القرافي عليه «المحصول» وضبطه، قال في شرحه للمحصول: "والنسخة التي قرأتها على شمس الدين الخسروشاهي كان فيها إذا أبدلت لفظ «من» بلفظ «إن»، وكذلك كان الشيخ شمس الدين الذي يقربه
(2) يقول: هو هكذا لفظ الأصل"
(3).
وذكر في أكثر من موضع تقريرات له أخذها منه، ويقول: "وهكذا كان الخسروشاهي يقرره"
(4)، أو يورد أسئلته على كلام الرازي ويقول: "وكان الشيخ شمس الدين الخسروشاهي: يورد هذا السؤال بين هاتين القاعدتين"
(5)، وينبه على المسائل التي كان يستشكلها، وكان القرافي معجبا به.
(6)
3 - زكي الدين المنذري (ت 656 هـ): أبو محمد عبد العظيم بن عبد القوي.
(7)ذكره القرافي في كتابه الفروق، فقال: «قال لي الشيخ زكي الدين عبد العظيم
--------------------------------------------
২ - শামসুদ্দিন আল-খসরুশাহী (মৃত্যু ৬৫২ হি.): আব্দুল হামিদ ইবনে আমওয়াইহ ইবনে ইউনুস আশ-শাফিঈ।
(১)কারাফি তাঁর নিকট «আল-মাহসুল» পাঠ করেছেন এবং তা সংকলন করেছেন। তিনি আল-মাহসুলের ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন: "আমি শামসুদ্দিন আল-খসরুশাহীর নিকট যে পাণ্ডুলিপিটি পাঠ করেছি, তাতে 'মিন' শব্দের পরিবর্তে 'ইন' শব্দ ছিল। তদ্রূপ শেখ শামসুদ্দিন, যিনি এটি পাঠদান করতেন, বলতেন: মূল পাঠে এভাবেই ছিল"
(৩)।
তিনি একাধিক স্থানে তাঁর থেকে প্রাপ্ত তাঁর বিশ্লেষণগুলো উল্লেখ করেছেন এবং বলেন: "খসরুশাহী এভাবেই বিষয়টি বিশ্লেষণ করতেন"
(৪), অথবা তিনি রাজির বক্তব্যের ওপর তাঁর প্রশ্নসমূহ উত্থাপন করে বলেন: "শেখ শামসুদ্দিন আল-খসরুশাহী এই প্রশ্নটি এই দুটি মূলনীতির মাঝে উল্লেখ করতেন"
(৫)। তিনি এমন সব বিষয় সম্পর্কেও সতর্ক করতেন যেগুলোকে তিনি জটিল মনে করতেন। কারাফি তাঁর প্রতি অত্যন্ত মুগ্ধ ছিলেন।
(৬)
৩ - জাকিউদ্দিন আল-মুনজিরি (মৃত্যু ৬৫৬ হি.): আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিম ইবনে আব্দুল কাভি।
(৭)কারাফি তাঁর ‘আল-ফুরুক’ গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: «শেখ জাকিউদ্দিন আব্দুল আজিম আমাকে বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المحدث رحمه الله تعالى: إن الذي خشي منه مالك رحمه الله تعالى قد وقع بالعجم فصاروا يتركون المسحرين على عادتهم، والقوانين، وشعائر رمضان إلى آخر الستة الأيام، فحينئذ يظهرون شعائر العيد»
(1)، وقال: «وقد كان الشيخ زكي الدين عبد العظيم المحدث رحمه الله يقول: قد ورد حديث في لفظ السيد، فعلى هذا يجوز إطلاقه على المذهبين إجماعا»
(2).
4 - العز ابن عبد السلام (ت 660 هـ): أبو محمد عبد العزيز بن عبد السلام بن القاسم السلمي الشافعي، الملقب بسلطان العلماء.
(3)أخذ عنه القرافي ولازمه، وكان شديد الإعجاب به، قال القرافي: «لقد حضرت يوما عند الشيخ عز الدين بن عبد السلام، وكان من أعيان العلماء، وأولي الجد في الدين، والقيام بمصالح المسلمين خاصة وعامة، والثبات على الكتاب والسنة، غير مكترث بالملوك فضلا عن غيرهم، لا تأخذه في الله لومة لائم»
(4).
وقال في موضع آخر يصفه: «كان سديد التحرير لمواضع كثيرة في الشريعة، معقولها ومنقولها، وكان يفتح عليه بأشياء لا توجد لغيره رحمه الله رحمة واسعة»
(5).
--------------------------------------------
মুহাদ্দিস (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেন: "মালিক (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা) যা নিয়ে আশঙ্কা করেছিলেন, তা অনারবদের মধ্যে ঘটে গেছে। ফলে তারা মুসাহহিরদের (সাহরির জন্য আহ্বানকারী) তাদের প্রথা অনুযায়ী রেখে দেয়, এবং রমজানের বিধিবিধান ও নিদর্শনসমূহ শাওয়ালের ছয় রোজা শেষ হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত রাখে; কেবল তখনই তারা ঈদের নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করে।"
(১) এবং তিনি বলেন: "শাইখ জাকিউদ্দিন আব্দুল আজিম আল-মুহাদ্দিস (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন: 'সাইয়্যিদ' শব্দের ব্যাপারে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, সুতরাং এর ভিত্তিতে উভয় মাযহাব অনুযায়ী সর্বসম্মতিক্রমে (ইজমা) এটি প্রয়োগ করা জায়েজ।"
(২).
৪ - আল-ইয ইবন আব্দুস সালাম (মৃত্যু: ৬৬০ হিজরি): আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজীজ ইবন আব্দুস সালাম ইবন আল-কাসিম আস-সুলামি আশ-শাফিঈ, যিনি 'সুলতানুল উলামা' (উলামাদের সুলতান) উপাধিতে ভূষিত।
(৩)আল-কারাফি তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন এবং তাঁর সান্নিধ্যে থেকেছেন; তিনি তাঁর অত্যন্ত গুণমুগ্ধ ছিলেন। আল-কারাফি বলেন: "আমি একদিন শাইখ ইযউদ্দীন ইবন আব্দুস সালামের মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। তিনি ছিলেন অন্যতম বিশিষ্ট আলিম, দ্বীনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত পরিশ্রমী, মুসলিমদের সাধারণ ও বিশেষ স্বার্থ রক্ষায় নিবেদিত এবং কুরআন ও সুন্নাহর ওপর অটল। তিনি রাজাবাদশাহদের পরোয়া করতেন না, অন্য কারো তো প্রশ্নই আসে না; আল্লাহর পথে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দার ভয় করতেন না।"
(৪)।
তিনি অন্য এক স্থানে তাঁর বর্ণনা দিয়ে বলেন: "তিনি শরীয়তের আকলি (বিচক্ষণতাভিত্তিক) ও নাকলি (বর্ণনাভিত্তিক) বহু বিষয়ের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন এবং তাঁর জন্য এমন অনেক বিষয় উন্মোচিত হতো যা অন্য কারো ক্ষেত্রে পাওয়া যেত না। আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন।"
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২০)
5 - شمس الدين المقدسي (676 هـ): محمد بن إبراهيم بن عبد الواحد بن شرف الدين الحنبلي.
(1)قال ابن فرحون: أخذ القرافي عنه، وسمع عليه كتابه: «وصول ثواب القرآن».
(2)
6 - الشريف الكركي (ت 688 هـ): شمس الدين محمد بن عمران بن موسى.
(3)نقل ابن فرحون عن القرافي أنه قال عنه: «إنه تفرد بمعرفة ثلاثين علما وحده! وشارك الناس في علومهم»
(4)، فهذا التعبير من القرافي يظهر لنا مدى إعجابه به، وأنه يعرفه حق المعرفة، وأنه أخذ عليه.
المبحث الخامس مكانته العلمية وثناء العلماء عليه*
أولا: مكانته العلمية:عاش القرافي رحمه الله حياته كلها في خدمة العلم، تعلما وتعليما وتصنيفا، حتى أصبح إماما مجتهدا وعالما في كثير من العلوم، فلا تكاد تجد فنا من فنون العلم إلا
--------------------------------------------
৫ - শামসুদ্দিন আল-মাকদিসি (৬৭৬ হিজরি): মুহাম্মদ ইবন ইবরাহিম ইবন আবদিল ওয়াহিদ ইবন শারাফুদ্দিন আল-হাম্বলি।
(১)ইবন ফারহুন বলেন: আল-কারাফি তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর নিকট তাঁর কিতাব ‘উসুলু সাওয়াবিল কুরআন’ (কুরআনের সওয়াব পৌঁছানো) শ্রবণ করেছেন।
(২)
৬ - আশ-শারিফ আল-কারাকি (মৃত্যু ৬৮৮ হিজরি): শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবন ইমরান ইবন মুসা।
(৩)ইবন ফারহুন আল-কারাফি থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: “তিনি একাই ত্রিশটি শাস্ত্রের জ্ঞানে অনন্য ছিলেন! এবং বিভিন্ন শাস্ত্রীয় জ্ঞানেও মানুষের সাথে অংশগ্রহণ করতেন”
(৪), আল-কারাফির এই উক্তিটি তাঁর প্রতি তাঁর মুগ্ধতার মাত্রা প্রকাশ করে এবং এটিও ফুটিয়ে তোলে যে, তিনি তাঁকে যথাযথভাবে চিনতেন এবং তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা এবং আলেমদের নিকট তাঁর প্রশংসা*
প্রথমত: তাঁর ইলমি মর্যাদা:আল-কারাফি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর পুরো জীবন ইলমের খিদমতে অতিবাহিত করেছেন—শিক্ষা গ্রহণ, শিক্ষাদান এবং গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে। এমনকি তিনি একজন মুজতাহিদ ইমাম এবং বহু শাস্ত্রে পণ্ডিত আলেম হিসেবে পরিগণিত হন। আপনি ইলমের এমন কোনো শাখাই পাবেন না যেখানে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২১)
وله مصنف فيه، مما يدل على سعة اطلاعه وشدة ذكائه.
فهو بالفقه ذو باع طويل، وباللغة لغوي متمكن، وبالأصول علم من أعلامه، وبأصول الدين سيف على اليهود والنصارى، وبالتفسير إمام، وله باع طويل في المنطق والكلام.
ولم تقتصر مكانته العلمية على العلوم الشرعية والعقلية، بل برع في الهندسة، والفلك، والحساب، والرياضيات، والجغرافيا وغيرها من الفنون.
ونقل ابن فرحون أن القرافي حرر أحد عشر علما في ثمانية أشهر، أو ثمانية علوم في أحد عشر شهرا.
(1)ومن عجيب ما ذكره القرافي عن نفسه أنه: «أخبر عن القاضي الفاضل وزير الملك الناصر صلاح الدين، أنه جاءه رجل فقال له: عندنا صنم يتكلم، فذهب إليه معه، فوجد صنما من رخام أحمر قد أتى عليه الرمل إلا رأسه وهو ساكت.
فقال له الفاضل: ما له لا يتكلم؟ فقال له: تريد ذلك؟ فقال: نعم، فوضع الرجل إصبعه على ثقب في وسط رأسه، فمنع الريح من الخروج حتى تغمر باطن الصنم به، ثم فتح ذلك الثقب، فشرع الريح يخرج، وجعل الصنم يقول: "هاتان المدينتان كانتا لشداد وشديد ابني عاد، ماتا وصارا إلى التراب، من ذا الذي يبقى على الحدثان؟ " وطول في الحدثان تطويلا شديدا حتى فرغ الريح من جوفه، ثم أعاد سد ذلك الثقب، فأعاد القول بعينه مرارا، وهو لا يزيد على ذلك، ولا ينقص.
-قال القرافي:-وسر ذلك أن الكلام أصله الريح، الذي هو النفس، فإذا ضغطه الإنسان حدث الصوت من غير حرف، فإن قطع ذلك الصوت في مقطع مخصوص حدث الحرف المناسب لذلك المقطع، فصار الصوت عارضا للنفس،
--------------------------------------------
তাঁর এ বিষয়ে একটি গ্রন্থ রয়েছে, যা তাঁর জ্ঞানের পরিধি এবং তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়।
ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল, ভাষাতত্ত্বে তিনি ছিলেন একজন দক্ষ ভাষাবিদ, উসুল (মূলনীতি) শাস্ত্রে তিনি ছিলেন এ শাস্ত্রের অন্যতম এক দিকপাল, উসুলুদ্দীন (আকীদা) শাস্ত্রে ইহুদি ও নাসারাদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন এক উন্মুক্ত তলোয়ার, তাফসীরে তিনি ছিলেন একজন ইমাম, আর যুক্তিবিদ্যা ও ইলমুল কালামেও তাঁর দীর্ঘ পদচারণা ছিল।
তাঁর ইলমি মর্যাদা কেবল শরয়ী ও আকলী (যৌক্তিক) শাস্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি প্রকৌশল, জ্যোতির্বিদ্যা, হিসাববিজ্ঞান, গণিত, ভূগোল এবং অন্যান্য শিল্পকলায়ও পারদর্শী ছিলেন।
ইবনে ফারহুন বর্ণনা করেছেন যে, কারাফী আট মাসে এগারোটি শাস্ত্র অথবা এগারো মাসে আটটি শাস্ত্র আয়ত্ত করেছিলেন।
(১)কারাফী নিজের সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে একটি বিস্ময়কর বিষয় হলো এই যে: «তিনি সুলতান আন-নাসির সালাহুদ্দীনের উজির কাযী আল-ফাদিল সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল: আমাদের কাছে এমন একটি মূর্তি আছে যা কথা বলে। তিনি তার সাথে সেখানে গেলেন এবং দেখলেন যে, লাল মার্বেল পাথরের একটি মূর্তি বালিতে ঢাকা পড়ে আছে কেবল তার মাথাটি ছাড়া, আর সেটি তখন নীরব ছিল।
আল-ফাদিল তাকে বললেন: এটি কথা বলছে না কেন? সে বলল: আপনি কি তা শুনতে চান? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন লোকটি মূর্তির মাথার মাঝখানে একটি ছিদ্রের ওপর নিজের আঙুল রাখল, ফলে বাতাস বের হওয়া বন্ধ হয়ে গেল এবং মূর্তির ভেতরটা বাতাসে পূর্ণ হয়ে গেল। এরপর সে ছিদ্রটি খুলে দিলে বাতাস বের হতে শুরু করল এবং মূর্তিটি বলতে লাগল: "এই শহর দুটি ছিল আ’দ-এর দুই পুত্র শাদ্দাদ ও শাদীদের, তারা উভয়েই মারা গেছে এবং মাটিতে পরিণত হয়েছে; মহাকালের বিবর্তনে আর কে অবশিষ্ট থাকে?" সে 'হাদাসান' (মহাকাল) শব্দটিকে অনেক দীর্ঘ করল যতক্ষণ না তার ভেতর থেকে সব বাতাস বের হয়ে গেল। এরপর সে পুনরায় ছিদ্রটি বন্ধ করল এবং একইভাবে বার বার সেই কথাটিই অবিকল বলতে লাগল, এর চেয়ে বেশিও বলছিল না, কমও নয়।
-কারাফী বলেন:- এর রহস্য হলো, কথা বা বাণীর মূল উৎস হলো বায়ু, যা হলো নিশ্বাস। যখন মানুষ একে চাপ দেয় তখন কোনো বর্ণ ছাড়াই শব্দ তৈরি হয়, আর যদি সেই শব্দকে কোনো বিশেষ স্থানে বাধা দেওয়া হয় তবে সেই স্থানের উপযোগী বর্ণ বা হরফ সৃষ্টি হয়। ফলে শব্দ নিশ্বাসের ওপর আপতিত একটি বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২২)
والحرف عارضا للصوت، لكن يشترط في المجرى ملوسة خاصة وصقال خاص، فإن تغير بطل الكلام، ألا ترى أن الإنسان إذ خشن حلقه بكثرة الصياح انقطع كلامه، أو بكثرة الرطوبة كما في النزلات الباردة انقطع كلامه أيضا، فمن استطاع أن يصنع مجرى على هذه الصورة تأتى له أن يتخيل على هذا الكلام من الجماد.
فعامل هذا الصنم صنع هذا المجرى، وسلط عليه الريح من مكان ينزل منه، ويخرج من رأس هذا الصنم، وإذا سد الثقب انبعث الهواء في ذلك المجرى المصنوع، فإذا فتح الثقب شرع الهواء يخرج من ذلك المجرى، ويتقطع في مقاطع وضعت فيه، فتحدث حروف في تلك المقاطع، فوضع في ذلك الصنم مقاطع حروف تلك الكلمات فقط».
ولم يتوقف الأمر عند هذا الجواب، بل قال: «وكذلك بلغني أن الملك الكامل وضع له شمعدان، كلما مضى من الليل ساعة انفتح باب منه، وخرج منه شخص يقف في خدمة السلطان، فإذا انقضت عشر ساعات، طلع شخص على أعلى الشمعدان وقال: "صبح الله السلطان بالسعادة، فيعلم أن الفجر قد طلع".
- قال القرافي: - وعملت أنا هذا الشمعدان وزدت فيه أن الشمعة يتغير لونها في كل ساعة، وفيه أسد تتغير عيناه من السواد الشديد إلى البياض الشديد، ثم إلى الحمرة الشديدة في كل ساعة لهما لون، فيعرف التنبيه في كل ساعة، وتسقط حصاتان من طائرين، ويدخل شخص، ويخرج شخص غيره، ويغلق باب ويفتح باب، وإذا طلع الفجر طلع شخص على أعلى الشمعدان وإصبعه في أذنه يشير إلى الأذان، غير أني عجزت عن صنعة الكلام!».
بل قال أيضا: «وصنعت أيضا صورة حيوان يمشي ويلتفت يمينا وشمالا، ويصفر ولا يتكلم».
(1)--------------------------------------------
এবং বর্ণ ধ্বনির অনুগামী হয়, তবে নির্গমন পথে বিশেষ মসৃণতা ও বিশেষ স্বচ্ছতা থাকা শর্ত। যদি এর পরিবর্তন ঘটে তবে কথা বলা অচল হয়ে পড়ে। আপনি কি দেখেন না যে, মানুষ যখন অতিরিক্ত চিৎকারের কারণে তার কণ্ঠস্বর কর্কশ করে ফেলে তখন তার কথা বন্ধ হয়ে যায়, অথবা সর্দি-কাশির মতো অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণেও তার কথা বন্ধ হয়ে যায়? সুতরাং, যে ব্যক্তি এই আদলে একটি নির্গমন পথ তৈরি করতে সক্ষম হবে, তার পক্ষে জড় পদার্থ থেকেও এই কথার কল্পনা করা সম্ভব হবে।
অতঃপর এই মূর্তির নির্মাতা এমন একটি নির্গমন পথ তৈরি করলেন এবং একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে এর ওপর বাতাস প্রবাহিত করলেন যেখান থেকে বাতাস নিচে নামে এবং মূর্তির মাথা দিয়ে বের হয়। যখন ছিদ্রটি বন্ধ করা হয়, তখন সেই কৃত্রিম পথে বাতাস প্রবাহিত হয়, আর যখন ছিদ্রটি খোলা হয়, তখন বাতাস সেই পথ দিয়ে বের হতে শুরু করে এবং সেখানে স্থাপিত বিভিন্ন ছেদবিন্দুতে বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে সেই ছেদবিন্দুগুলোতে বর্ণের সৃষ্টি হয়। তিনি ওই মূর্তিতে কেবল নির্দিষ্ট কিছু শব্দের বর্ণের ছেদবিন্দুগুলোই স্থাপন করেছিলেন।
বিষয়টি কেবল এই উত্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তিনি বলেন: «অনুরূপভাবে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, সুলতান আল-মালিক আল-কামিলের জন্য একটি শামাদান (বাতিদান) তৈরি করা হয়েছিল। রাতের প্রতিটি ঘণ্টা অতিক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে তার একটি দরজা খুলে যেত এবং সেখান থেকে একজন ব্যক্তি বের হয়ে সুলতানের খিদমতে দাঁড়িয়ে থাকত। যখন দশ ঘণ্টা পূর্ণ হতো, তখন শামাদানের উপরিভাগে একজন ব্যক্তি আবির্ভূত হতো এবং বলত: "আল্লাহ সুলতানকে সৌভাগ্যমণ্ডিত সকাল দান করুন", তখন বোঝা যেত যে সুবহে সাদিক উদিত হয়েছে।
- আল-কারাফি বলেন: - আমি এই শামাদানটি তৈরি করেছি এবং এতে আরও কিছু সংযোজন করেছি যে, মোমবাতির রং প্রতি ঘণ্টায় পরিবর্তিত হবে। এতে একটি সিংহ রয়েছে যার চোখ দুটি প্রতি ঘণ্টায় গাঢ় কালো থেকে গাঢ় সাদা, তারপর গাঢ় লাল রঙে পরিবর্তিত হয়; প্রতি ঘণ্টায় সেগুলোর জন্য একটি স্বতন্ত্র রং থাকে। এর মাধ্যমে প্রতি ঘণ্টার সংকেত বোঝা যায়। এছাড়া দুটি পাখি থেকে দুটি কণা নিচে পড়ে, একজন ব্যক্তি প্রবেশ করে এবং অন্য একজন বের হয়, একটি দরজা বন্ধ হয় এবং অন্যটি খুলে যায়। আর যখন ফজর উদিত হয়, তখন শামাদানের শীর্ষে একজন ব্যক্তি আবির্ভূত হয় যার আঙুল নিজের কানে থাকে এবং সে আজানের দিকে ইঙ্গিত করে। তবে আমি কথা বলার কারিগরি তৈরিতে অক্ষম হয়েছিলাম!»
বরং তিনি আরও বলেন: «আমি একটি প্রাণীর অবয়বও তৈরি করেছি যা হাঁটাচলা করে এবং ডানে-বামে তাকায়, শিস দেয় কিন্তু কথা বলতে পারে না»।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ومن ينظر في كتابه «الاستبصار فيما تدركه الأبصار» في تشريح العين والقرنية والشبكية، أو كلامه في باب الفرائض واستعماله للحساب والجبر
(1)، أو علمه بالفلك عند تحديد القبلة
(2)، وغيرها من جوانب الإبداع في تصانيفه يجد أنه أمام إمام منقطع النظير.
ولما كان بهذا القدر من الذكاء والفطنة والعلم صدر للتدريس، فدرس بالمدرسة الطيبرسية
(3)، وكان أول مدرس لها من المالكية، ودرس بجامع مصر.
ودرس بالمدرسة الصالحية
(4) بعد وفاة الشيخ شرف الدين السبكي
(5)، ثم أخرجت عنه لقاضي القضاة نفيس الدين ابن شكر
(6)، ثم أعيدت إليه بعد مدة، وكانت آخر محطاته العلمية، وبقي مدرسا فيها حتى مات.
(7) *
ثانيا: ثناء العلماء عليه:قال الذهبي: «العالم، الشهير، الأصولي، الشيخ، الإمام،
… كان إماما في
--------------------------------------------
এবং কেউ যদি চোখের শারীরস্থান, কর্নিয়া ও রেটিনা বিষয়ক তাঁর ‘আল-ইস্তিবসার ফি-মা তুদরিকুহু আল-আবসার’ কিতাবটি দেখেন, অথবা মিরাসের মাসআলা ও তাতে গণিত ও বীজগণিতের ব্যবহার সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য দেখেন
(১), কিংবা কিবলা নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাঁর জ্যোতির্বিদ্যার জ্ঞান
(২) এবং তাঁর রচনায় সৃজনশীলতার অন্যান্য দিকগুলো দেখেন, তবে তিনি দেখতে পাবেন যে তিনি একজন অতুলনীয় ইমামের সামনে রয়েছেন।
তিনি যখন এই পর্যায়ের মেধা, বিচক্ষণতা ও জ্ঞানের অধিকারী হলেন, তখন তাঁকে শিক্ষকতার জন্য মনোনীত করা হলো। ফলে তিনি মাদরাসা তাইবারসিয়্যাহ-তে শিক্ষকতা করেন
(৩) এবং তিনি ছিলেন সেখানে মালিকি মাযহাবের প্রথম শিক্ষক। এছাড়া তিনি জামে মিসর (মিসরের প্রধান মসজিদ)-এও শিক্ষকতা করেছেন।
তিনি শেখ শরাফউদ্দীন সুবকির
(৫) মৃত্যুর পর মাদরাসা সালিহিয়্যাহ-তে
(৪) শিক্ষকতা করেন। এরপর তাঁর পরিবর্তে প্রধান বিচারপতি নাফিসউদ্দীন ইবনে শুকরকে
(৬) সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর কিছুদিন পর তাঁকে পুনরায় সেখানে ফিরিয়ে আনা হয়। এটিই ছিল তাঁর ইলমি জীবনের সর্বশেষ কর্মস্থল এবং তিনি মৃত্যু পর্যন্ত সেখানে শিক্ষক হিসেবে বহাল ছিলেন।
(৭) *
দ্বিতীয়: তাঁর সম্পর্কে উলামায়ে কিরামের প্রশংসা:ইমাম যাহাবি বলেন: «আলেম, প্রসিদ্ধ, উসুলি (মূলনীতিবিদ), শেখ, ইমাম,
… তিনি ইমাম ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أصول الدين وأصول الفقه، عالما بمذهب مالك وبالتفسير، وعلوم أخر»
(1).
وقال ابن فرحون: «الإمام، العلامة، وحيد دهره وفريد عصره، أحد الأعلام المشهورين، انتهت إليه رئاسة الفقه على مذهب مالك رحمه الله تعالى».
وقال: «جد في طلب العلوم فبلغ الغاية القصوى، فهو الإمام، الحافظ، والبحر اللافظ، المفوه المنطيق، والآخذ بأنواع الترصيع والتطبيق»، وقال: «كان إماما بارعا في الفقه والأصول والعلوم العقلية وله معرفة بالتفسير»، وقال: «كان أحسن من ألقى الدروس، وحلي من بديع كلامه نحور الطروس، إن عرضت حادثة فبحسن توضيحه تزول، وبعزمته تحول»
(2).
ونقل لنا أيضا قول بعض أهل العلم: «أجمع الشافعية والمالكية على أن أفضل أهل عصرهم بالديار المصرية ثلاثة: القرافي بمصر القديمة، والشيخ ناصر الدين ابن منير بالإسكندرية، والشيخ تقي الدين ابن دقيق العيد بالقاهرة المعزية»
(3).
وقال السيوطي: «أحد الأعلام، انتهت إليه رئاسة المالكية في عصره، وبرع في الفقه وأصوله والعلوم العقلية»
(4).
المبحث السادس آثاره العلميةأثرى القرافي رحمه الله المكتبة الإسلامية بتراثه العلمي المتنوع، فلم تكن همته مقتصرة على التصنيف بالفقه والأصول، بل صنف علاوة عليهما في أصول الدين،
--------------------------------------------
উসূলুদ দীন ও উসূলুল ফিকহ, মালিকি মাজহাব, তাফসীর এবং অন্যান্য জ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন»
(১).
ইবনে ফারহুন বলেন: «তিনি ইমাম, আল্লামা, নিজ যুগের অদ্বিতীয় ও অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং খ্যাতিমান আলেমদের অন্যতম। মালিকি মাজহাবে ফিকহ শাস্ত্রের নেতৃত্ব তাঁর ওপর এসে সমাপ্ত হয়েছে, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।».
তিনি আরও বলেন: «তিনি জ্ঞান অর্জনে কঠোর সাধনা করেছেন এবং সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছেন। তিনি ইমাম, হাফেজ, অফুরন্ত সমুদ্রের ন্যায় জ্ঞানী, বাগ্মী ও যুক্তিবিদ এবং অলংকারশাস্ত্র ও প্রয়োগশৈলীর বিবিধ পন্থায় পারদর্শী।», তিনি আরও বলেন: «তিনি ফিকহ, উসূল এবং আকলি (যুক্তিনির্ভর) জ্ঞানে একজন দক্ষ ইমাম ছিলেন এবং তাফসীর শাস্ত্রেও তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল।», এবং তিনি বলেন: «পাঠদানকারী হিসেবে তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠতম এবং তাঁর চমৎকার বাণীর অলংকারে পাণ্ডুলিপির বুক সজ্জিত হতো। কোনো জটিল সমস্যা দেখা দিলে তাঁর সুন্দর ব্যাখ্যায় তা দূর হয়ে যেত এবং তাঁর সংকল্পে তা পরিবর্তিত হতো।»
(২).
তিনি আমাদের কাছে আরও কিছু আলেমের উক্তি বর্ণনা করেন: «শাফিঈ ও মালিকি মাযহাবের আলেমগণ একমত হয়েছেন যে, মিসর ভূখণ্ডে তাদের সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন তিনজন: পুরনো মিসরে কারাফি, আলেকজান্দ্রিয়ায় শায়খ নাসিরুদ্দিন ইবনুল মুনাইয়্যির এবং কায়রোতে শায়খ তাকিউদ্দিন ইবনু দাকীকিল ঈদ।»
(৩).
সুয়ূতী বলেন: «তিনি অন্যতম প্রধান আলেম, তাঁর সময়ে মালিকি মাজহাবের নেতৃত্ব তাঁর কাছে এসে সমাপ্ত হয় এবং তিনি ফিকহ, উসূল ও আকলি জ্ঞানে পারদর্শিতা অর্জন করেন।»
(৪).
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি অবদানআল-কারাফি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর বৈচিত্র্যময় ইলমি ঐতিহ্যের মাধ্যমে ইসলামি গ্রন্থাগারকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর কর্মতৎপরতা কেবল ফিকহ ও উসূলের কিতাব রচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এ দুটির পাশাপাশি তিনি উসূলুদ দীনের ওপরও কিতাব রচনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والعربية، والرياضيات والجبر، والفلك، والجغرافيا، وتعبير الرؤيا، وغيرها من العلوم، ولهذا أشار الذهبي بقوله: «كان إماما في أصول الدين وأصول الفقه، عالما بمذهب مالك، وبالتفسير، وعلوم أخر»
(1).
وقد أشار ابن فرحون إلى ذلك أيضا بعد ذكره لمصنفاته، حيث ذكر أن له كتبا أخرى لم تذكر في كتب التراجم.
(2)وقد كتب لمصنفاته القبول، وصفها ابن فرحون بقوله: «سارت مصنفاته مسير الشمس، ورزق فيها الحظ السامي عن اللمس، مباحثه كالرياض المونقة، والحدائق المعرقة، تتنزه فيها الأسماع دون الأبصار، ويجني الفكر ما بها من أزهار وأثمار، كم حرر مناط الإشكال؟ وفاق أضرابه النظراء والأشكال، ألف كتبا مفيدة انعقد على كمالها لسان الإجماع، وتشنفت بسماعها الأسماع».
وقال: «دلت مصنفاته على غزارة فوائده، وأعربت عن حسن مقاصده، جمع فأوعى، وفاق أضرابه جنسا ونوعا»
(3).
وذكر الذهبي والصفدي أن مؤلفاته كانت محلا لاستفادة أهل العلم - لاسيما الأصولية منها ـ، فقالا: «صنف في أصول الفقه الكتب المفيدة، وأفاد واستفاد منه الفقهاء»
(4).
فلا شك أن ما خلفه من تراث يعد أكبر شاهد على فضله، وبرهانا صادقا على ذكائه وفطنته.
وهذا سرد لمصنفاته رحمه الله، مع ذكر من نسبها إليه، وبيان المطبوع منها أو
--------------------------------------------
আরবি ভাষা, গণিত ও বীজগণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, ভূগোল, স্বপ্নের ব্যাখ্যা এবং অন্যান্য বিজ্ঞান; একারণেই আয-যাহাবি তার এই উক্তি দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন: “তিনি ছিলেন ধর্মের মূলনীতি (উসুলুদ্দিন) ও ফিকহের মূলনীতি (উসুলুল ফিকহ) শাস্ত্রের একজন ইমাম, মালিকি মাজহাব, তাফসির এবং অন্যান্য বিজ্ঞানে সুপণ্ডিত।”
(১).
ইবন ফারহুনও তার রচনাবলির উল্লেখ করার পর এই বিষয়টি ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে তার আরও কিছু গ্রন্থ রয়েছে যা জীবনীগ্রন্থগুলোতে উল্লিখিত হয়নি।
(২)তার রচনাবলি গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে। ইবন ফারহুন এগুলোকে এভাবে বর্ণনা করেছেন: “তার রচনাবলি সূর্যের গতির ন্যায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাতে এমন সুউচ্চ মর্যাদা নসিব হয়েছে যা স্পর্শাতীত। তার গবেষণাসমূহ সুশোভিত কানন এবং সুগভীর উদ্যানের ন্যায়, যাতে চোখের পরিবর্তে কানসমূহ বিচরণ করে এবং চিন্তা সেখান থেকে ফুল ও ফল আহরণ করে। তিনি কতই না জটিল সমস্যার সমাধান করেছেন! তিনি তার সমসাময়িক ও সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে গেছেন। তিনি এমন সব উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন যার পূর্ণাঙ্গতার বিষয়ে ইজমা (ঐক্যমত) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং যা শ্রবণে কর্ণসমূহ তৃপ্ত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেছেন: “তার রচনাবলি তার জ্ঞানের প্রাচুর্যের প্রমাণ দেয় এবং তার চমৎকার উদ্দেশ্যাবলি ফুটিয়ে তোলে। তিনি জ্ঞান আহরণ করেছেন এবং তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেছেন। তিনি সমজাতীয় ও সমগোত্রীয় সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন।”
(৩).
আয-যাহাবি এবং আস-সাফাদি উল্লেখ করেছেন যে তার গ্রন্থসমূহ আলেমদের উপকৃত হওয়ার মাধ্যম ছিল—বিশেষ করে উসুল (মূলনীতি) সংক্রান্ত গ্রন্থগুলো। তারা বলেন: “তিনি উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে উপকারী গ্রন্থাবলি রচনা করেছেন, তিনি অন্যদের উপকৃত করেছেন এবং ফকিহগণ তার থেকে উপকৃত হয়েছেন।”
(৪).
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি যে ঐতিহ্য (মিরাস) রেখে গেছেন তা তার শ্রেষ্ঠত্বের সবচেয়ে বড় সাক্ষী এবং তার মেধা ও বিচক্ষণতার এক সত্যনিষ্ঠ প্রমাণ।
নিম্নে তার (রহিমাহুল্লাহ) রচনাবলির একটি তালিকা দেওয়া হলো, সাথে কে এগুলো তার দিকে নিসবত (সম্পর্কিত) করেছেন তার উল্লেখ এবং সেগুলোর মধ্য থেকে যা মুদ্রিত হয়েছে তার বর্ণনা অথবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المخطوط أو المفقود، مع الإشارة إلى موضوعات بعضها إن رأيت الحاجة داعية لذلك، ورتبتها حسب حروف الهجاء، وهي على ما يلي:
*
أولا: آثاره المطبوعة:
1 - «الأجوبة الفاخرة عن الأسئلة الفاجرة»: وهو رد على أسئلة لليهود والنصارى أثاروها طعنا في الإسلام والقرآن، قام بتحقيقه د. ناجي محمد داود بجامعة أم القرى، رسالة دكتوراه في العقيدة عام 1404 هـ، وقد حقق قبله الباحث سالم بن محمد القرني الباب الأول والثاني من الكتاب في رسالة ماجستير بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية - كلية أصول الدين - سنة 1404 هـ، والكتاب مطبوع بتحقيق مجدي محمد الشهاوي بالقاهرة، وله طبعات تجارية.
2 - «الاحتمالات المرجوحة»: رسالة في نفي القطعية عن الأدلة اللفظية الشرعية، مستفادة من القانون الكلي المقرر في المحصول للرازي، إلا أن القرافي تناولها بالشرح والتمثيل، طبعت في دار ابن حزم 1426 هـ ضمن مجموع بعنوان «من خزانة المذهب المالكي» بتحقق الباحث: جلال علي الجهاني، وطبع في المكتبة الأثرية/ الأردن 1433 هـ بعنوان «رسالة في تعارض الاحتمالات العشرة المخلة بالفهم في التخاطب المذكورة في كتاب المحصول من علم الأصول» بتحقيق د. أشرف بن محمود الكناني، كلاهما على نسخة وحيدة.
3 - «الإحكام في تمييز الفتاوى عن الأحكام وتصرفات القاضي والإمام»(1)، أو «الإحكام في الفرق بين الفتاوى والأحكام»
(2): وهو كتاب في بيان الفرق بين الفتيا من المجتهد، والحكم من القاضي، وتصرفات الإمام أي وجه
--------------------------------------------
পাণ্ডুলিপি বা হারানো গ্রন্থসমূহ, যেখানে প্রয়োজন মনে করেছি সেখানে কোনো কোনোটির বিষয়বস্তু উল্লেখসহ, এবং আমি সেগুলোকে বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত করেছি, যা নিম্নরূপ:
*
প্রথমত: তাঁর মুদ্রিত রচনাবলী:
১ - «আল-আজউয়িবাতুল ফাখিরা আনিল আসয়িলাতিল ফাজিরা»: এটি ইসলাম ও কুরআনের প্রতি আক্রমণাত্মক ইহুদি ও খ্রিস্টানদের উত্থাপিত প্রশ্নের একটি খণ্ডন। উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪০৪ হিজরিতে আকীদাহর ওপর ডক্টরেট থিসিস হিসেবে ড. নাজি মুহাম্মদ দাউদ এটি সম্পাদনা করেছেন। এর আগে গবেষক সালেম বিন মুহাম্মদ আল-কুরনি ১৪০৪ হিজরিতে ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদে মাস্টার্স থিসিস হিসেবে বইটির প্রথম ও দ্বিতীয় অধ্যায় সম্পাদনা করেছিলেন। বইটি কায়রোতে মাজদি মুহাম্মদ আল-শাহাউয়ির সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে এবং এর বাণিজ্যিক সংস্করণও রয়েছে।
২ - «আল-ইহতিমালাতুল মারজুহা»: এটি শারয়ী শাব্দিক দলীলসমূহের অকাট্যতা নাকচ সংক্রান্ত একটি পুস্তিকা, যা রাজির 'আল-মাহসুল' গ্রন্থে বর্ণিত মূলনীতি থেকে সংগৃহীত। তবে আল-কারাফি এটি ব্যাখ্যা ও উদাহরণের মাধ্যমে আলোচনা করেছেন। এটি ১৪২৬ হিজরিতে দার ইবনে হাজম থেকে 'মিন খাজানাতিল মাজহাবিল মালিকি' শিরোনামে একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গবেষক জালাল আলী আল-জুহানির সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে। এছাড়া ১৪৩৩ হিজরিতে জর্ডানের আল-মাকতাবাতুল আসারিয়্যাহ থেকে ড. আশরাফ বিন মাহমুদ আল-কিনানির সম্পাদনায় ‘রিসালা ফী তা’আরুদিল ইহতিমালাতিল আশারাহ আল-মুখিল্লাতিল ফাহমি ফিত তাখাতুব আল-মাযকুরা ফী কিতাবিল মাহসুল মিন ইলমিল উসুল’ শিরোনামে মুদ্রিত হয়েছে, উভয়টিই একটিমাত্র পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে।
৩ - «আল-ইহকাম ফী তাময়ীজিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাদি ওয়াল ইমাম»(১), অথবা «আল-ইহকাম ফীল ফারকি বাইনাল ফাতাওয়া ওয়াল আহকাম»
(২): এটি মুজতাহিদের ফতোয়া, বিচারকের রায় এবং ইমামের (রাষ্ট্রপ্রধানের) কর্মকাণ্ডের ধরণ ও পার্থক্য বর্ণনার ওপর একটি গ্রন্থ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
تحمل؟ وقد أحال إليه القرافي في شرح التنقيح
(1)، وكذا في كتابه الفروق
(2)، والكتاب مطبوع بتحقيق الشيخ عبد الفتاح أبو غدة رحمه الله، طبع الطبعة الأولى بمطبعة مكتبة المطبوعات الإسلامية بحلب سنة 1387 هـ، والثانية ببيروت 1416 هـ فيها مزيد من التحقيق والتعليق، ثم طبع طبعة ثالثة ورابعة بتصحيح وتدقيق ومقابلة على أربع نسخ بدار البشائر الإسلامية.
4 - «الاستغناء في أحكام الاستثناء»: وهو كتاب استقصى فيه القرافي أحكام الاستثناء في اللغة العربية، حقيقته، وأنواعه، وأحواله وتطبيقاته في الأيمان والطلاق والأقارير، وجمع آيات الاستثناء من القرآن وشرحها، أحال القرافي إليه في كتبه في أكثر من موضع
(3)، وهو مطبوع، حققه د. طه محسن بمطبعة الإرشاد ببغداد من إصدار وزارة الأوقاف العراقية سنة 1402 هـ.
5 - «الأمنية في إدراك النية»: وهي رسالة في حقيقة النية، ومحلها، وشروطها، وأقسامها، وأحكامها، وفوائد أخرى متعلقة بالنية، أحال القرافي إليها في كتبه
(4)، وقد حققها د. محمد بن يونس السويسي بالكلية الزيتونية للشريعة بتونس عام 1402 هـ، وحققها أيضا د. مساعد بن قاسم الفالح - رسالة ماجستير، طبعت بمطبعة مكتبة الحرمين/ الرياض 1408 هـ، ولها طبعات أخرى.
6 - «أنوار البروق في أنواع الفروق»: المشهور بـ «الفروق»، قال في مقدمته المطبوعة: «وسميته (أنوار البروق في أنواء الفروق) ولك أن تسميه: (كتاب الأنوار والأنواء) أو (كتاب الأنوار والقواعد السنية في الأسرار الفقهية) كل ذلك لك»
(5).
--------------------------------------------
বহন করা? আল-কারাফি ‘শারহুত তানকিহ’
(১) গ্রন্থে এবং অনুরূপভাবে তাঁর ‘আল-ফুরুক’
(২) গ্রন্থে এর প্রতি নির্দেশ করেছেন। গ্রন্থটি শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর তাহকিকসহ মুদ্রিত। ১৩৮৭ হিজরিতে হালব-এর ‘মাকতাবাতুল মাতবুয়াতিল ইসলামিয়্যাহ’ থেকে এর প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়। এর দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪১৬ হিজরিতে বৈরুত থেকে প্রকাশিত হয়, যাতে অধিকতর তাহকিক ও তালীক (টিকা) যুক্ত করা হয়েছে। এরপর ‘দারুল বাশাইরিল ইসলামিয়্যাহ’ থেকে চারটি পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে সংশোধন ও সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এর তৃতীয় ও চতুর্থ সংস্করণ মুদ্রিত হয়।
৪ - «আল-ইস্তিগনা ফি আহকামিল ইস্তিসনা»: এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে আল-কারাফি আরবি ভাষায় ‘ইস্তিসনা’ (ব্যতিক্রম) সংক্রান্ত বিধিবিধান, এর স্বরূপ, প্রকারভেদ, অবস্থা এবং কসম, তালাক ও স্বীকারোক্তির ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ সম্পর্কে সবিস্তারে আলোচনা করেছেন। তিনি কুরআনের ইস্তিসনা সংক্রান্ত আয়াতগুলো একত্রিত করেছেন এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। আল-কারাফি তাঁর গ্রন্থসমূহের একাধিক স্থানে এর প্রতি নির্দেশ করেছেন
(৩)। এটি মুদ্রিত; যা ১৪০২ হিজরিতে ইরাকের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশনায় বাগদাদের ‘মাতবাআতুল ইরশাদ’ থেকে ড. ত্বহা মুহসিনের তাহকিকে প্রকাশিত হয়েছে।
৫ - «আল-উমনিয়্যাহ ফি ইদরাকিন নিয়্যাহ»: এটি নিয়তের স্বরূপ, এর স্থান, শর্তাবলি, প্রকারভেদ, বিধানাবলি এবং নিয়ত সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ফায়দা সংক্রান্ত একটি রিসালা। আল-কারাফি তাঁর গ্রন্থসমূহে এর প্রতি নির্দেশ করেছেন
(৪)। এটি ১৪০২ হিজরিতে তিউনিসিয়ার ‘কুল্লিয়াতুয যাইতুনিয়্যাহ আশ-শারিয়্যাহ’-তে ড. মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস আস-সুয়াইসি তাহকিক করেছেন। এছাড়া ড. মুসাঈদ ইবনে কাসিম আল-ফালিহ এটি তাহকিক করেছেন—যা একটি মাস্টার্স থিসিস এবং এটি ১৪০৮ হিজরিতে রিয়াদের ‘মাকতাবাতুল হারামাইন’ ছাপাখানা থেকে মুদ্রিত হয়েছে। এর আরও অন্যান্য সংস্করণও রয়েছে।
৬ - «আনওয়ারুল বুরুক ফি আনওয়ায়িল ফুরুক»: যা ‘আল-ফুরুক’ নামেই সমধিক প্রসিদ্ধ। তিনি এর মুদ্রিত ভূমিকার শুরুতে বলেছেন: “আমি এর নামকরণ করেছি ‘আনওয়ারুল বুরুক ফি আনওয়ায়িল ফুরুক’; তবে আপনি চাইলে একে ‘কিতাবুল আনওয়ার ওয়াল আনওয়া’ কিংবা ‘কিতাবুল আনওয়ার ওয়াল কাওয়াইদিস সানিয়্যাহ ফিল আসরারিল ফিকহিয়্যাহ’ বলতে পারেন; এর সবটুকুই আপনার জন্য (অর্থাৎ যেকোনোটি ব্যবহারের অবকাশ রয়েছে)”
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وهو كتاب في بيان الفروق بين القواعد الفقهية، ذكر فيه القرافي (274) فرقا، والكتاب له عدة طبعات، من أجودها طبعة الرسالة العالمية بتحقيق الباحث عمر حسن القيام، ومعها حاشية ابن الشاط (723 هـ)، كما حقق الكتاب بخمس رسائل علمية في جامعة أم القرى ولم يطبع.
7 - «تنقيح الفصول في علم الأصول»(1)، أو «تنقيح الفصول في اختصار المحصول»، أو «التنقيح»
(2) أو «التنقيح في أصول الفقه»
(3) أو «مختصر تنقيح الفصول»
(4)، وهو كتابنا هذا، وسيأتي تفصيل الكلام عليه في الفصل اللاحق.
8 - «الذخيرة»(5)، أو «الذخيرة في الفقه»
(6)، أو «الذخيرة في فروع المالكية»
(7)، أو «الذخيرة في الفروع»
(8): طبع بدار الغرب الإسلامي، بتحقيق د. محمد حجي وآخرين، ولكنه غير كامل
(9)، ووجدت جهودا متفرقة قامت بتحقيق بعض أجزاء الكتاب، وهي:
* طبع الجزء الأول منه بمصر بعناية كلية الشريعة بالأزهر سنة 1381 هـ، وأعيد طبعه في الكويت سنة 1402 هـ في موسوعة تحقيق التراث بوزارة الأوقاف.
* رسالة ماجستير: لإبراهيم سيلا بالجامعة الإسلامية سنة 1406 هـ.
--------------------------------------------
এটি ফিকহি মূলনীতিসমূহের মধ্যকার পার্থক্যসমূহ বর্ণনার উপর একটি গ্রন্থ, যাতে কারাফি ২৭৪টি পার্থক্য উল্লেখ করেছেন। বইটির একাধিক সংস্করণ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হলো গবেষক উমর হাসান আল-কাইয়ামের সম্পাদনায় আর-রিসালাহ আল-আলামিয়্যাহ সংস্করণটি, যার সাথে ইবনে আশ-শাত (৭২৩ হি.)-এর টীকাও রয়েছে। এছাড়াও উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচটি গবেষণামূলক থিসিসের মাধ্যমে বইটি সম্পাদিত হয়েছে, তবে তা মুদ্রিত হয়নি।
৭ - «তানকিহুল ফুসুল ফি ইলমিল উসুল»(১), অথবা «তানকিহুল ফুসুল ফি ইখতিসারিল মাহসুল», অথবা «আত-তানকিহ»
(২) অথবা «আত-তানকিহ ফি উসুলিল ফিকহ»
(৩) অথবা «মুখতাসারু তানকিহিল ফুসুল»
(৪), এটিই আমাদের এই গ্রন্থ। পরবর্তী পরিচ্ছেদে এটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসছে।
৮ - «আয-যাখিরা»(৫), অথবা «আয-যাখিরা ফিল ফিকহ»
(৬), অথবা «আয-যাখিরা ফি ফুরূইল মালিকিয়্যাহ»
(৭), অথবা «আয-যাখিরা ফিল ফুরূ»
(৮): এটি ড. মুহাম্মদ হাজ্জি ও অন্যদের সম্পাদনায় দারুল গারব আল-ইসলামি থেকে মুদ্রিত হয়েছে, তবে এটি অসম্পূর্ণ
(৯)। গ্রন্থটির কিছু অংশ সম্পাদনার ক্ষেত্রে আরও কিছু বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছে, সেগুলো হলো:
* এর প্রথম খণ্ড ১৩৮১ হিজরিতে আল-আযহারের শারীয়াহ অনুষদের তত্ত্বাবধানে মিশরে মুদ্রিত হয়েছিল এবং ১৪০২ হিজরিতে কুয়েতের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ঐতিহ্য সম্পদ সম্পাদনা বিশ্বকোষের অধীনে পুনরায় মুদ্রিত হয়েছিল।
* মাস্টার্স থিসিস: ১৪০৬ হিজরিতে ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে ইব্রাহিম সিলা কর্তৃক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
* رسالة دكتوراه لإبراهيم العاقب أحمد بجامعة أم القرى سنة 1409 هـ.
* رسالة دكتوراه للحسن عمر مساعد بالجامعة الإسلامية.
* رسالة دكتوراه لمحمد عالم عبد المجيد الأفغاني بجامعة أم درمان بالسودان سنة 1416 هـ.
9 - «الخصائص» في قواعد العربية (1): حققه د. ناجي محمدو حين عبد الجليل - كلية اللغة العربية - الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، كما حققه أ. د. طه محسن و د. كيان أحمد، وطبع في المدار الإسلامي.
وذكر القرافي أنه باحث الفحول الأدباء في فوائد عجيبة ومباحث غريبة في العربية فعسر عليهم تحقيقها، فدعاه لتأليفه. قال: "ضمنت هذا الكتاب من هذه الخصائص ثلاثا وعشرين خصيصة، وسميته بالخصائص توفيقا بين الاسم والمسمى"
(2).
10 - الرائض في الفرائض: وهو في الأصل كتاب الفرائض والمواريث من الذخيرة، وسبب إفراده هو قول المؤلف في بدايته: وقد سميته كتاب (الرائض في الفرائض)، فمن أراد أن يفرده أفرده، فإنه حسن في نفسه، ينتفع به في المواريث نفعا جليلا إن شاء الله تعالى»
(3).
11 - شرح الأربعين في أصول الدين ذكره القرافي في كتابه الفروق
(4)، ونفائس الأصول
(5)، والاستغناء
(6)، والكتاب طبع في دار الضياء في الكويت بتحقيق نزار حمادي.
--------------------------------------------
* ১৪০৯ হিজরিতে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইব্রাহিম আল-আকিব আহমদের পিএইচডি থিসিস।
* ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে আল-হাসান উমর মুসায়িদের পিএইচডি থিসিস।
* ১৪১৬ হিজরিতে সুদানের উম্মে দুরমান বিশ্ববিদ্যালয়ে মুহাম্মদ আলম আবদুল মাজিদ আল-আফগানির পিএইচডি থিসিস।
৯ - আরবি ব্যাকরণের মূলনীতি বিষয়ক «আল-খাসাইস» (১): এটি সম্পাদনা করেছেন ড. নাজি মুহাম্মাদু হিন আবদুল জলিল - আরবি ভাষা অনুষদ - মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়াও এটি সম্পাদনা করেছেন প্রফেসর ড. ত্বহা মুহসিন এবং ড. কিয়ান আহমদ এবং এটি আল-মাদার আল-ইসলামি থেকে মুদ্রিত হয়েছে।
কারাফি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আরবি ভাষার বিস্ময়কর উপকারিতা এবং বিচিত্র গবেষণা সম্পর্কে শীর্ষস্থানীয় সাহিত্যিকদের সাথে আলোচনা করেছিলেন, কিন্তু তাদের জন্য তা নিরূপণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল; তাই এই পরিস্থিতি তাকে এটি রচনা করতে উৎসাহিত করে। তিনি বলেন: "আমি এই গ্রন্থে এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্য থেকে তেইশটি বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং নাম ও নামীয় বিষয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে এর নামকরণ করেছি আল-খাসাইস"
(২)।
১০ - আর-রাইদ ফিল ফারায়িদ: এটি মূলত ‘আয-যাখিরা’ গ্রন্থের ফারায়িদ ও উত্তরাধিকার অধ্যায়। এটি পৃথক করার কারণ হলো বইটির শুরুতে লেখকের উক্তি: "আমি এর নাম রেখেছি (আর-রাইদ ফিল ফারায়িদ); সুতরাং কেউ যদি একে পৃথক করতে চায় তবে সে তা করতে পারে; কারণ এটি স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে চমৎকার এবং ইনশাআল্লাহ উত্তরাধিকার আইনের ক্ষেত্রে এর মাধ্যমে মহান উপকার লাভ করা যাবে"
(৩)।
১১ - শারহুল আরবাঈন ফি উসুলিদ দ্বীন কারাফি এটি তাঁর ‘আল-ফুরুক’
(৪), ‘নাফাইসুল উসুল’
(৫) এবং ‘আল-ইস্তিঘনা’
(৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। বইটি কুয়েতের দারুদ দিয়া থেকে নিজার হাম্মাদির সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
12 - «شرح تنقيح الفصول» وهو شرح المؤلف لكتابنا، هذا وسيأتي الكلام عليه في الفصل اللاحق.
13 - «العقد المنظوم في الخصوص والعموم»: وهو كتاب في تحقيق مباحث العموم والخصوص، والفرق بين العام والأعم، والخاص والأخص، والعام والمطلق، وعد فيه القرافي صيغ العموم حتى أوصلها إلى (250) صيغة، وفيه من الفرائد والفوائد التي لا تجدها في غيره.
حققه الأستاذ محمد علوي بنصر سنة 1418 هـ، وطبع بوزارة الأوقاف والشئون الإسلامية بالمغرب، كما حققه د. أحمد الختم عبد الله، وطبع بدار الكتبي بالقاهرة، بالتعاون مع المكتبة المكية بمكة المكرمة سنة 1420 هـ.
وقد ذكر ابن فرحون
(1) أن للمؤلف مصنفا باسم: «العموم ورفعه»، والظاهر أنه يعني هذا الكتاب؛ لأنه لم يذكره أحد ممن ترجم للمؤلف، كما أنه أغفل هذا الكتاب مع أهميته.
14 - القواعد الثلاثون في علم العربية: لم يرد ذكر هذا الكتاب في مصادر ترجمة المؤلف، إلا أن ذلك لا يعني نفي نسبته عنه؛ لأن مصادر الترجمة لم تستوعب كل مصنفاته، كما تقدم في مطلع هذا المبحث من كلام الذهبي وابن فرحون.
وقد قام بإثبات نسبته إلى المؤلف د. عثمان محمود الصيني في تحقيقه له، وذكر عدة من الأدلة القوية التي تؤكد نسبته له، من أبرزها: تشابه الأسلوب والأدلة والأمثلة والآراء فيه مع كتب المؤلف، مع إثبات اسمه على غلاف المخطوط، وهو مطبوع بمكتبة التوبة - الرياض 1422 هـ/ 2002 م.
(2)--------------------------------------------
১২ - «শারহু তানকিহিল ফুসুল» এটি আমাদের এই কিতাবের ওপর লেখকের নিজস্ব ব্যাখ্যাগ্রন্থ, এবং পরবর্তী অধ্যায়ে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
১৩ - «আল-ইকদুন মানজুম ফিল খুসুসি ওয়াল উমুম»: এটি 'আম (সাধারণ) ও খাস (বিশেষ) সংক্রান্ত বিষয়াবলি বিশ্লেষণ এবং 'আম ও আ'আম (সাধারণ ও সাধারণতর), খাস ও আখাস (বিশেষ ও বিশেষতর), এবং 'আম ও মুতলাক (সাধারণ ও নিরঙ্কুশ)-এর মধ্যে পার্থক্যের ওপর লিখিত একটি গ্রন্থ। আল-কারাফি এতে 'আম-এর শব্দাবলি (সিগা) গণনা করেছেন এবং সেগুলোকে ২৫০টি রূপ পর্যন্ত নিয়ে গেছেন। এতে এমন কিছু দুর্লভ তথ্য ও উপকারিতা রয়েছে যা আপনি অন্য কোথাও পাবেন না।
এটি ১৪১৮ হিজরিতে উস্তাদ মুহাম্মাদ আলাউয়ি বিনসার কর্তৃক সম্পাদিত (তাহকিককৃত) হয়ে মরক্কোর আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে মুদ্রিত হয়েছে। এছাড়াও ড. আহমাদ আল-খাতম আবদুল্লাহ এটি সম্পাদনা করেছেন এবং ১৪২০ হিজরিতে মক্কার আল-মাকতাবাতুল মাক্কিয়্যাহর সহযোগিতায় কায়রোর দারুল কুতুবি থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
ইবনে ফারহুন উল্লেখ করেছেন যে, লেখকের «আল-উমুম ওয়া রাফউহু» নামে একটি রচনা রয়েছে; এবং প্রতীয়মান হয় যে তিনি এই কিতাবটিকেই বুঝিয়েছেন। কারণ লেখকের জীবনীকারদের মধ্যে অন্য কেউ ঐ শিরোনামে কোনো কিতাব উল্লেখ করেননি, অথচ তিনি এর গুরুত্ব সত্ত্বেও এই কিতাবটির নাম উল্লেখ করতে ভুল করেছেন।
১৪ - আল-কাওয়ায়িদুল ছালাছুন ফি ইলমিল আরাবিয়্যাহ (আরবি ব্যাকরণ শাস্ত্রের ৩০টি মূলনীতি): লেখকের জীবনীমূলক উৎসগুলোতে এই কিতাবটির উল্লেখ পাওয়া যায় না, তবে এর অর্থ এই নয় যে এটি তাঁর রচনা হওয়ার দাবিটি নাকচ হয়ে যাবে; কারণ জীবনীমূলক উৎসগুলো তাঁর সমস্ত রচনাকে পরিবেষ্টন করতে পারেনি, যেমনটি এই আলোচনার শুরুতে আয-যাহাবি এবং ইবনে ফারহুনের বক্তব্য থেকে অতিক্রান্ত হয়েছে।
ড. উসমান মাহমুদ আস-সিনি কিতাবটি সম্পাদনার সময় এটি লেখকের রচনা বলে প্রমাণ করেছেন। তিনি বেশ কিছু শক্তিশালী প্রমাণ উল্লেখ করেছেন যা এটি তাঁর রচনা হওয়াকে নিশ্চিত করে, যার মধ্যে প্রধান হলো: এর রচনাশৈলী, দলিল-প্রমাণ, উদাহরণ এবং মতামতের সাথে লেখকের অন্যান্য গ্রন্থের সাদৃশ্য থাকা, এর পাশাপাশি পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে তাঁর নাম লিপিবদ্ধ থাকা। এটি রিয়াদের মাকতাবাতুত তাওবাহ থেকে ১৪২২ হি./ ২০০২ খ্রি. মুদ্রিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
15 - «المنجيات والموبقات في الأدعية»: وهو كتاب تضمن حقيقة الدعاء وأقسامه، وآدابه الظاهرة والباطنة، وهيئات الداعين، وعوارض الدعاء وأحكامها، وجمع فيه الأدعية النبوية والأدعية المنقولة عن السلف، والكلام على اسم الله الأعظم واختلاف الناس فيه، ذكره المؤلف في كتابه الفروق
(1)، وهو مطبوع بتحقيق د. محمد بن يونس بدار سحنون في تونس 1435 هـ/ 2014 م، وطبع أيضا بتحقيق أحمد رجب أبو سالم بدار الضياء في الكويت 1435 هـ/ 2014 م.
(2)
16 - «نفائس الأصول في شرح المحصول»: وهو شرح لكتاب «المحصول في علم الأصول» للرازي، حقق بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض في ثلاث رسائل دكتوراه سنة 1406 هـ، قام بتحقيق القسم الأول: أ. د. عياض بن نامي السلمي، والقسم الثاني: د. عبد الكريم بن علي النملة رحمه الله رحمة واسعة، والقسم الثالث: د. عبد الرحمن المطير، والكتاب مطبوع طبعة تجارية
(3).
17 - «اليواقيت في أحكام المواقيت»(4): ذكره القرافي في الفروق
(5)، وذكره الحطاب في مواهب الجليل
(6)، حققه الباحث جراح نايف الفضلي برسالة الماجستير بجامعة أم القرى وطبع بمؤسسة الرسالة 1432 هـ/ 2011 م، ثم حققه بعده واستفاد من تحقيقه الباحث جلال علي الجهاني، وهو موجود بالشبكة العنكبوتية من غير طبعة.
--------------------------------------------
১৫ - «আল-মুনজিয়াত ওয়াল-মুবিকাত ফিল-আদইয়াহ»: এটি এমন একটি কিতাব যা দুআর হাকিকত বা বাস্তবতা, এর প্রকারভেদ, এর বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আদবসমূহ, দুআকারীদের অবস্থা এবং দুআর আনুষঙ্গিক বিষয় ও তার বিধানসমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছে। এতে তিনি নববী দুআসমূহ ও সালাফদের থেকে বর্ণিত দুআসমূহ এবং আল্লাহর ইসমে আযম ও এ বিষয়ে মানুষের মতভেদ সংক্রান্ত আলোচনা একত্রিত করেছেন। লেখক তাঁর 'আল-ফুরূক' কিতাবে এটি উল্লেখ করেছেন
(১)। এটি তিউনিসিয়ার দারুন সাহনুনে ড. মুহাম্মদ বিন ইউনুসের সম্পাদনায় ১৪৩৫ হিজরী/২০১৪ খ্রিস্টাব্দে মুদ্রিত হয়েছে। এছাড়াও কুয়েতের দারুল জিয়া-তে আহমদ রজব আবু সালিমের সম্পাদনায় ১৪৩৫ হিজরী/২০১৪ খ্রিস্টাব্দে মুদ্রিত হয়েছে।
(২)
১৬ - «নাফায়িসুল উসুল ফি শারহিল মাহসুল»: এটি ইমাম রাযীর রচিত «আল-মাহসুল ফি ইলমিল উসুল» কিতাবের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি পিএইচডি গবেষণাপত্র হিসেবে ১৪০৬ হিজরীতে এটি সম্পাদিত হয়েছে। প্রথম অংশ সম্পাদনা করেছেন: প্রফেসর ড. ইয়াদ বিন নামি আস-সুলামী, দ্বিতীয় অংশ: ড. আব্দুল কারীম বিন আলী আন-নামলাহ (আল্লাহ তাকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন), এবং তৃতীয় অংশ: ড. আব্দুর রহমান আল-মুতাইর। কিতাবটি বাণিজ্যিক সংস্করণে মুদ্রিত হয়েছে
(৩)।
১৭ - «আল-ইয়াওয়াকীত ফি আহকামিল মাওয়াকীত»(৪): কারাফী এটি 'আল-ফুরূক' কিতাবে উল্লেখ করেছেন
(৫), এবং হাত্তাব এটি 'মাওয়াহিবুল জলীল' কিতাবে উল্লেখ করেছেন
(৬)। গবেষক জাররাহ নায়েফ আল-ফাদলী উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স থিসিস হিসেবে এটি সম্পাদনা করেছেন এবং ১৪৩২ হিজরী/২০১১ খ্রিস্টাব্দে মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ থেকে এটি মুদ্রিত হয়েছে। অতঃপর গবেষক জালাল আলী আল-জুহানী এটি সম্পাদনা করেন এবং পূর্ববর্তী সম্পাদনা থেকে উপকৃত হন; এটি কোনো মুদ্রণ সংস্করণ ছাড়াই ইন্টারনেটে বিদ্যমান রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
*
ثانيا: آثاره المحققة التي لم تطبع:
18 - «الاستبصار فيما تدركه الأبصار»(1) أو «الإبصار في مدركات الأبصار»
(2)، أو «الاستبصار فيما يدرك بالأبصار»
(3): أحال القرافي إليه في نفائس الأصول
(4)، وهي رسالة يشرح فيها ظاهرة الإبصار، ومراحل تكون الصور في الذهن، وبحث فيها حاسة العين وتشريحها، وانعكاس الصور، ونحو ذلك.
وكان الباعث على تأليفها أن الأنبرور ملك الإفرنج بصقلية كتب إلى الملك الكامل أسئلة صعبة المسلك ليمتحن بها المسلمين، وكان ذا دهاء وعلم وفهم، فجمع القرافي خمسين مسألة غريبة المدرك صعبة المسلك، من جنس تلك المسائل وفيها بعضها، وأجاب عليها، والرسالة مثال جلي لقدرة القرافي العقلية الفذة.
حققه الباحث جلال علي الجهاني على نسختين خطيتين ولم يطبع، تقع في (83) صفحة A 4.
19 - «أدلة الوحدانية في الرد على النصرانية»(5): هذا الكتاب يختلف عن كتاب «الأجوبة الفاخرة عن الأسئلة الفاجرة»، لا كما ظنه بعضهم، وإن كان اتحاد الموضوع يوحي بذلك، وهو كتاب آخر مستقل.
وفي نسبته للقرافي جدل وإشكال؛ ذلك أن الكتاب عبارة عن إهداء للملك الكامل (ت 635 هـ)، والقرافي ولد سنة (626 هـ) مما يعني أن عمر
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: তাঁর সম্পাদিত পাণ্ডুলিপি যা এখনো মুদ্রিত হয়নি:১৮ - «আল-ইসতিবসার ফিমা তুদরিকুহু আল-আবসার»(১) অথবা «আল-ইবসার ফি মুদরিকাতিল আবসার»
(২), অথবা «আল-ইসতিবসার ফিমা ইয়ুদরাকু বিল-আবসার»
(৩): কারাফি তাঁর ‘নাফাইসুল উসুল’
(৪) গ্রন্থে এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন। এটি এমন একটি গবেষণাপত্র যাতে তিনি দর্শনের স্বরূপ, মস্তিষ্কে চিত্র গঠনের পর্যায়সমূহ ব্যাখ্যা করেছেন এবং এতে চোখের সংবেদনশীলতা ও এর শারীরস্থান, প্রতিবিম্বের প্রতিফলন ও অনুরূপ বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এটি রচনার প্রেক্ষাপট ছিল এই যে, সিসিলির ইউরোপীয় রাজা ‘এম্পেরর’ (সম্রাট) সুলতান আল-মালিকুল কামিলের নিকট মুসলমানদের পরীক্ষা করার জন্য অত্যন্ত জটিল কিছু প্রশ্ন লিখে পাঠিয়েছিলেন। তিনি অত্যন্ত চতুর, জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান ছিলেন। ফলে কারাফি সেই জাতীয় এবং তার মধ্য থেকে পঞ্চাশটি অত্যন্ত বিরল ও জটিল মাসআলা একত্রিত করে সেগুলোর উত্তর প্রদান করেন। এই পুস্তিকাটি কারাফির অনন্য বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
গবেষক জালাল আলী আল-জিহানি এটি দুটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সম্পাদনা করেছেন কিন্তু তা মুদ্রিত হয়নি, এটি (৮৩) পৃষ্ঠার একটি এ-ফোর (A 4) সাইজের পাণ্ডুলিপি।
১৯ - «আদিল্লাতুল ওয়াহদানিয়্যাহ ফির-রাদ্দি আলান নাসরানিয়্যাহ»(৫): এই গ্রন্থটি ‘আল-আজউবাতুল ফাখিরা আনিল আসইলাতিল ফাজিরা’ গ্রন্থ থেকে ভিন্ন, যেমনটি কেউ কেউ ধারণা করেছেন তা নয়; যদিও বিষয়ের অভিন্নতা তেমনটিই ইঙ্গিত দেয়, তবে এটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র একটি গ্রন্থ।
কারাফির প্রতি এর সম্বন্ধের ক্ষেত্রে বিতর্ক ও জটিলতা রয়েছে; কারণ গ্রন্থটি সুলতান আল-মালিকুল কামিলকে (মৃত ৬৩৫ হিজরি) উৎসর্গ করা হয়েছে, অথচ কারাফি জন্মগ্রহণ করেছেন ৬২৬ হিজরিতে, যার অর্থ হলো তখন তাঁর বয়স ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
القرافي كان تسع سنين!
ولم أقف على إحالة من كتب القرافي أو غيره له، ولم أقف على من نسبه إليه - ولو بالمعنى - من المتقدمين.
غير أن موضوع الكتاب ومادته ليست ببعيدة عن القرافي، لاسيما أنه سبق وألف في الرد على اليهود والنصارى في كتابه الأجوبة الفاخرة، وله مناظرات مع أهل الكتاب، واطلع على كتبهم ونقل منها، وغيرها من القرائن التي تقوي صلة القرافي بالكتاب، إلا أنه ورد في بعض نسخ الكتاب، وهي نسخة طوبكابي سرايا رقم 4832 ر - 506 في مجموع من ورقة 62 ب - 85 أ نسبة الكتاب لبرهان الدين أبي الفضل جعفر بن عبد الوهاب بن عبد القوي الخطيب الإسكندراني.
ولكن مازال الإشكال قائما في نسبته لغير القرافي أيضا؛ حيث إن نسخة طوبكابي سرايا هذه متأخرة، فقد نسخت سنة (1115 هـ)، وهي مجهولة الناسخ، ولا توجد ترجمة للمؤلف، ولا يوجد من نسب الكتاب إليه، ولا يعرف له ذكر في تلك الحقبة من الزمن، وأما نسخ الكتاب الأخرى فقد سقطت منها صفحة عنوان الكتاب.
والكتاب له نسخة بمركز الملك فيصل برقم (105 ف) تقع في (14) ورقة بخط صغير وفي الصفحة 38 سطرا.
وقد طبع قديما بتحقيق الدكتور عبد الرحمن دمشقية منسوبا للقرافي، وحقق بجامعة الملك سعود بتحقيق الطالبة فاطمة بنت حيدر آل معافا سنة 1429 هـ ونسبته للخطيب الإسكندراني ولم تكن دراستها وافية في ترجيح نسبته للخطيب الإسكندراني ولا إبطال نسبته للقرافي.
والموضوع يحتاج إلى إعادة نظر وتحقيق، فإن أقوى ما يقدح بنسبته للقرافي
আল-কারাফির বয়স ছিল নয় বছর!
আমি আল-কারাফির কিতাবসমূহ বা অন্য কারও কিতাবে এর কোনো উদ্ধৃতি পাইনি, এবং পূর্ববর্তীদের মধ্যে এমন কাউকে পাইনি যিনি একে তাঁর দিকে নিসবত (আরোপ) করেছেন—এমনকি অর্থগতভাবেও নয়।
তবে কিতাবটির বিষয়বস্তু এবং উপাদান আল-কারাফি থেকে দূরে নয়, বিশেষ করে যেহেতু তিনি ইতিপূর্বে ইহুদি ও নাসারাদের খণ্ডন করে তাঁর কিতাব ‘আল-আজরিবাতুল ফাখিরাহ’ লিখেছেন। আহলে কিতাবদের সাথে তাঁর মুনাজারা (বিতর্ক) রয়েছে, তিনি তাদের কিতাবসমূহ পর্যালোচনা করেছেন এবং সেখান থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। এগুলোসহ অন্যান্য আলামত কিতাবটির সাথে আল-কারাফির সম্পর্ককে শক্তিশালী করে। তবে কিতাবটির কিছু পাণ্ডুলিপিতে, যা তোপকাপি প্রাসাদের ৪৮৩২ র - ৫০৬ নম্বর পাণ্ডুলিপি (৬২ বি - ৮৫ এ পর্যন্ত সংকলিত), সেখানে কিতাবটিকে বুরহানউদ্দিন আবুল ফজল জাফর বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আব্দুল কাবি আল-খাতিব আল-ইসকান্দারানির দিকে নিসবত করা হয়েছে।
কিন্তু আল-কারাফি ব্যতীত অন্য কারও দিকে এর নিসবতের বিষয়েও জটিলতা রয়ে গেছে; কেননা তোপকাপি প্রাসাদের এই পাণ্ডুলিপিটি পরবর্তীকালের, যা ১১১৫ হিজরিতে অনুলিপি করা হয়েছে। এর অনুলিপিকারক অজ্ঞাত, এবং (উল্লিখিত) লেখকের কোনো জীবনী পাওয়া যায় না। এমন কেউ নেই যিনি কিতাবটিকে তাঁর দিকে নিসবত করেছেন এবং সেই যুগে তাঁর কোনো উল্লেখও পাওয়া যায় না। আর কিতাবটির অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে এর শিরোনামের পাতাটি হারিয়ে গেছে।
কিতাবটির একটি পাণ্ডুলিপি কিং ফয়সাল সেন্টারে (১০৫ ফা) নম্বরে রয়েছে, যা ছোট অক্ষরে ১৪টি পাতায় লিখিত এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ৩৮টি লাইন রয়েছে।
এটি অতীতে ডক্টর আব্দুর রহমান দিমাস্কিয়ার সম্পাদনায় আল-কারাফির দিকে নিসবত করে মুদ্রিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৪২৯ হিজরিতে কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী ফাতিমা বিনতে হায়দার আল-মুয়াফার সম্পাদনায় এটি আল-খাতিব আল-ইসকান্দারানির দিকে নিসবত করে সম্পাদিত হয়। তবে আল-খাতিব আল-ইসকান্দারানির দিকে এর নিসবতকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বা আল-কারাফির নিসবত বাতিল করার ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণাটি পর্যাপ্ত ছিল না।
বিষয়টি পুনঃনিরীক্ষণ ও গবেষণার দাবি রাখে, কেননা আল-কারাফির দিকে এর নিসবতের বিষয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী যে আপত্তিটি তোলা হয় তা হলো—
(খণ্ড: ১)
তানকিহুল ফুসুল ফী ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
هو أنه إهداء للملك الكامل (ت 635 هـ)، والقرافي ولد سنة (626 هـ) مما يعني أن عمر القرافي كان تسع سنين - كما تقدم -، غير أننا نجد أن القرافي ذكر الملك الكامل في كتبه في أكثر من موضع وكأنه قريب عهد به، كما في شرح المحصول في قصة الشمعدان، وفي سبب تأليفه لكتاب اليواقيت في أحكام المواقيت - كما تقدم - فالقضية تحتاج إلى مزيد بحث وتحقيق، ولعل الوقوف على نسخ أخرى للكتاب يكون مرجحا في نسبته لأحدهما.
*
ثالثا: آثاره المخطوطة:
20 - «البيان في تعليق الأيمان»(1) نقل منه الزركشي
(2) وسماه: «كتاب الأيمان»، ولا يزال مخطوطا، وله نسخة خطية في مكتبة رضا برامبور برقم (2625 - 8533 D) منسوخة في سنة (967 هـ)، وعدد أوراقها (78 ورقة)، ووجد له مختصر بالخزانة العامة بالرباط برقم (160 ك) ضمن مجموع، ويقع في إحدى - وعشرين صفحة من القطع الكبير.
(3)
21 - «التعليقات على المنتخب»(4).
هكذا جاء اسمه في مصادر الترجمة، وسماه في نفائس الأصول
(5) «شرح المنتخب»، ونقل منه ابن رسلان
(6) في شرحه على منهاج البيضاوي وسماه
--------------------------------------------
এটি হলো আল-মালিক আল-কামিল (মৃত্যু ৬৩৫ হি.)-এর প্রতি একটি উপহার, আর আল-কারাফি জন্মগ্রহণ করেছেন (৬২৬ হি.) সালে, যার অর্থ হলো আল-কারাফির বয়স তখন ছিল নয় বছর—যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আমরা দেখতে পাই যে আল-কারাফি তাঁর গ্রন্থসমূহের একাধিক স্থানে আল-মালিক আল-কামিলের কথা এমনভাবে উল্লেখ করেছেন যেন তিনি তাঁর সমসাময়িক বা তাঁর খুব নিকট সময়ের মানুষ ছিলেন; যেমনটি 'শারহুল মাহসুল'-এ বাতিদানের কাহিনীতে এবং 'আল-ইয়াওয়াকিত ফি আহকামিল মাওয়াকিত' গ্রন্থটি রচনার কারণ বর্ণনায় এসেছে—যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং বিষয়টি আরও গভীর গবেষণা ও অনুসন্ধানের দাবি রাখে। সম্ভবত এই গ্রন্থের অন্যান্য পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেলে যে কোনো একজনের দিকে এটি সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে তা সহায়ক হবে।
*
তৃতীয়: তাঁর পাণ্ডুলিপি রচনাসমূহ:
২০ - «আল-বায়ান ফি তালীকিল আইমান»(১) আয-যারকাশি
(২) এটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং এর নামকরণ করেছেন: «কিতাবুল আইমান»; এটি এখনো পাণ্ডুলিপি আকারে বিদ্যমান। ভারতের রামপুরের রাজা লাইব্রেরিতে (২৬২৫ - ৮৫৩৩ ডি) নম্বরে এর একটি হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে যা (৯৬৭ হি.) সালে অনুলিপি করা হয়েছে এবং এর পাতা সংখ্যা (৭৮টি পাতা)। রাবাতের পাবলিক লাইব্রেরিতে (১৬০ কাফ) নম্বরে একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত এর একটি সংক্ষিপ্তসার পাওয়া গেছে, যা বড় আকারের একুশ পৃষ্ঠা ব্যাপী বিস্তৃত।
(৩)
২১ - «আত-তালিকাত আলাল মুনতাখাব»(৪)।
জীবনীগ্রন্থের উৎসসমূহে এর নাম এভাবেই এসেছে, আর তিনি 'নাফাইসুল উসুল'
(৫) গ্রন্থে এর নাম দিয়েছেন «শারহুল মুনতাখাব», এবং ইবনে রুসলান
(৬) বায়দাভির 'মিনহাজ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং এর নামকরণ করেছেন...
--------------------------------------------