(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الحافظ العراقي وأثره في السنة القسم: علوم الحديث
الكتاب: الحافظ العراقي وأثره في السنة
المؤلف: أحمد معبد عبد الكريم
أصل الكتاب: رسالة دكتوراه في الحديث وعلومه، كلية أصول الدين بالقاهرة، جامعة الأزهر، 1398 هـ - 1978 م
الناشر: مكتبة أضواء السلف، الرياض - السعودية
الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2004 م
عدد الأجزاء: 5 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 25 جُمادَى الآخرة 1447
আল-হাফিজ আল-ইরাকি এবং সুন্নাহর ওপর তাঁর প্রভাব বিভাগ: উলূমুল হাদীস
গ্রন্থ: আল-হাফিজ আল-ইরাকি এবং সুন্নাহর ওপর তাঁর প্রভাব
লেখক: আহমদ মাবাদ আব্দুল কারীম
মূল গ্রন্থ: হাদীস ও উলূমুল হাদীসে ডক্টরেট থিসিস, কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দিন কায়রো, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়, ১৩৯৮ হিজরী - ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দ
প্রকাশক: মাকতাবাতু আদওয়াউস সালাফ, রিয়াদ - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরী - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৫ (ধারাবাহিক নম্বরযুক্ত)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলার প্রকাশকাল: ২৫ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৭
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
أصل هذا الكتاب، رسالة علمية تقدم بها المؤلف لنيل درجة العالمية (الدكتوراه) في الحديث وعلومه، من كلية أصول الدين بالقاهرة جامعة الأزهر في عام 1398 هـ الموافق عام 1978 م
وقد تكونت لجنة المناقشة والحكم على الرسالة من كل من:
الأستاذ الدكتور/ موسى شاهين لاشين عميد كلية أصول الدين بالقاهرة (حينئذ مشرفا)
الأستاذ الدكتور/ محمد سيد طنطاوي - شيخ الأزهر حاليا، والأستاذ بكلية أصول الدين بأسيوط (حينئذ عضوا)
الأستاذ الدكتور/ أبو العلا علي أبو العلا رحمه الله أستاذ الحديث وعلومه بكلية أصول الدين بالقاهرة - (حينئذ عضوا)
وقررت اللجنة بالإجماع منح المؤلف درجة العالمية (الدكتوراه) في الحديث وعلومه بمرتبة الشرف الأولى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এই গ্রন্থের মূল ভিত্তি হলো লেখকের একটি গবেষণামূলক অভিসন্দর্ভ, যা তিনি ১৩৯৮ হিজরি মোতাবেক ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে কায়রোর আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দীন (ধর্মতত্ত্ব অনুষদ) থেকে হাদীস ও হাদীস শাস্ত্রসমূহে ‘আল-আলামিয়্যাহ’ (পিএইচডি) ডিগ্রি অর্জনের উদ্দেশ্যে পেশ করেছিলেন।
উক্ত অভিসন্দর্ভটির পর্যালোচনা ও বিচারিক কমিটি নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল:
প্রফেসর ডক্টর মুসা শাহীন লাশীন, কায়রোর কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দীনের তৎকালীন ডিন (তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে)
প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মাদ সাইয়্যিদ তানতাউই - তৎকালীন শায়খুল আযহার এবং আসইউত কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দীনের প্রফেসর (তৎকালীন সদস্য হিসেবে)
প্রফেসর ডক্টর আবু আল-উলা আলী আবু আল-উলা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), কায়রোর কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দীনের হাদীস ও হাদীস শাস্ত্রসমূহের প্রফেসর (তৎকালীন সদস্য হিসেবে)
কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে লেখককে হাদীস ও হাদীস শাস্ত্রসমূহে প্রথম শ্রেণির সম্মানসহ ‘আল-আলামিয়্যাহ’ (পিএইচডি) ডিগ্রি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمةفي
أهمية الموضوع ومنهج بحثه وصعوباتهالحمد لله رب العالمين حمدًا يوافي نعمه، ويدفع نقمه، ويكافئ مزيده والصلاة والسلام على سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم، أرسله الله سبحانه وتعالى بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، وآتاه الكتاب ومثله معه، وكلّفه بأن يبين للناس ما نزل إليهم. فكان له صلى الله عليه وسلم وحي متلو معجزا هو القرآن، ووحي غير متلو وهو السنة المطهرة التي بين بها قولا وعملاً وإقرارًا للناس ما نزل إليهم، وكان الوحي رائدًا له في كل ذلك.
ولولا السنة ما عرفنا عدد ركعات الصلاة ولا هيئاتها، ولا تحديد أوقاتها وكذا باقي تشريعات الإسلام في مختلف نواحي الحياة؛ حيث تعرض القرآن لها بالإجمال والإشارة وجعل البيان راجعًا إلى سنة الرسول صلى الله عليه وسلم.
ومن هنا واكبت العناية بالسنة العناية بالقرآن الكريم منذ عصر الرسول صلى الله عليه وسلم وحتى الآن.
ولقد امتن الله عليّ أثناء دراستي الجامعية بالاتجاه إلى التخصص في التفسير والحديث فدرست ما تيسر لي من علوم القرآن والسنة، فلما كانت مرحلة الدراسات العليا، أنعم الله عليّ بالتخصص بدراسة علوم السنة.
وحصلت بفضل الله تعالى على درجة التخصص «الماجستير» في الحديث وعلومه بتقدير «جيد جدًا».
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকাবিষয়ের
গুরুত্ব, গবেষণার পদ্ধতি এবং এর প্রতিবন্ধকতাসমূহ প্রসঙ্গেসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য; এমন প্রশংসা যা তাঁর নেয়ামতসমূহের সমতুল্য হয়, তাঁর গজবকে প্রতিহত করে এবং তাঁর অতিরিক্ত অনুগ্রহের উপযুক্ত প্রতিদান হয়। আর দরুদ ও সালাম আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যাঁকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে একে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন, আর তাঁকে কিতাব এবং তাঁর সাথে অনুরূপ আরও কিছু (সুন্নাহ) প্রদান করেছেন এবং মানুষের কাছে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা তাদের নিকট স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। সুতরাং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি অবতীর্ণ হয়েছিল তিলাওয়াতযোগ্য মুজিযাস্বরূপ ওহি—যা কুরআন, এবং তিলাওয়াত-বহির্ভূত ওহি—যা পবিত্র সুন্নাহ; যার মাধ্যমে তিনি কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতির দ্বারা মানুষের কাছে তাদের প্রতি অবতীর্ণ বিষয়সমূহ ব্যাখ্যা করেছেন। আর এই সবকিছুর মূলে ওহিই ছিল তাঁর পথপ্রদর্শক।
আর সুন্নাহ না থাকলে আমরা সালাতের রাকাত সংখ্যা, এর পদ্ধতি কিংবা এর ওয়াক্তের সীমারেখা সম্পর্কে জানতে পারতাম না। অনুরূপভাবে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইসলামের অন্যান্য বিধিবিধানগুলোও জানা সম্ভব হতো না; যেহেতু কুরআন সেগুলোকে সংক্ষেপে ও ইঙ্গিতে বর্ণনা করেছে এবং এগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর ওপর ন্যস্ত করেছে।
এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত পবিত্র কুরআনের যত্নের পাশাপাশি সুন্নাহর প্রতি যত্ন ও গুরুত্ব প্রদান সমানভাবে অব্যাহত রয়েছে।
আমার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা চলাকালীন আল্লাহ আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, আমি তাফসির ও হাদিস শাস্ত্রে বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জনের দিকে ধাবিত হয়েছি। ফলে আমি কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞানবিজ্ঞানের যতটুকু সম্ভব হয়েছে অধ্যয়ন করেছি। অতঃপর যখন উচ্চতর গবেষণার পর্যায় এল, আল্লাহ আমাকে সুন্নাহর জ্ঞানবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণায় বিশেষত্ব লাভের তৌফিক দান করেছেন।
এবং আল্লাহর অনুগ্রহে আমি হাদিস ও উলুমুল হাদিস (হাদিস বিজ্ঞান) বিষয়ে 'খুব ভালো' (ভেরি গুড) ফলাফলসহ বিশেষায়িত ডিগ্রি 'মাস্টার্স' অর্জন করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ووقع اختياري بعد استخارة الله تعالى على أن يكون «الحافظ العراقي» هو موضوع الرسالة، وذلك لأني نظرت فوجدت من سبقني أو لحقني من الأساتذة والزملاء الأفاضل، قد عنوا بالكتابة إما عن شيوخ العراقي ومعاصريه كابن كثير والذهبي والمزي، وإما عن تلاميذه ومن بعده كابن حجر والسيوطي، أما العراقي فلم أجد من تناوله من قبلي بالدراسة المتخصصة، رغم أنه كما أثبت في هذا البحث كان رائد مدرسة السنة في عصره داخل مصر وخارجها، حتى انتشر تلاميذه وذاعت مؤلفاته منذ عصره، من الأندلس غرباً حتى بلاد الهند وفارس شرقاً.
* لهذا لقبه الغزي في «بهجة الناظرين» بحافظ الدنيا
(1).
* وقال تلميذه ابن حجر في رثائه:
وَمِنْ سِتِّينَ عَامَاً لَمْ يُجَارَى
… وَلَا طَمِعُ الْمُجَارِي فِي اللِّحَاقِ
* وقال أيضًا: إن الحافظ الكامل في المتأخرين بعد البيهقي شيخنا العراقي
(2).
* وقال السخاوي: إنه منقطع القرين في فنون الحديث وصناعته
(3).
كما عدّه السيوطي وغيره مجدد علوم السنة في القرن الثامن الهجري
* وقال السيوطي والذي أقوله: «إن المحدثين عيال الآن في الرجال وغيرها من فنون الحديث على أربعة: المزي والذهبي والعراقي وابن حجر»
(4).
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলার কাছে ইস্তিখারা করার পর আমি ‘হাফেজ ইরাকি’-কে আমার এই গবেষণার বিষয় হিসেবে নির্বাচন করেছি। এর কারণ হলো, আমি লক্ষ্য করে দেখেছি যে, আমার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী যেসকল সম্মানিত শিক্ষক ও সহকর্মী রয়েছেন, তারা হয় ইরাকির শিক্ষক ও সমসাময়িকদের নিয়ে (যেমন ইবনে কাসির, যাহাবি ও মিযযি) কাজ করেছেন, অথবা তার ছাত্র ও পরবর্তীকালের পণ্ডিতদের নিয়ে (যেমন ইবনে হাজার ও সুয়ুতি) চর্চা করেছেন। কিন্তু হাফেজ ইরাকিকে নিয়ে আমার পূর্বে কেউ বিশেষায়িত গবেষণার মাধ্যমে তাকে তুলে ধরেননি। যদিও আমি এই গবেষণায় প্রমাণ করেছি যে, তিনি মিশরের ভেতরে ও বাইরে তার যুগে ইলমে সুন্নাহর ধারার পথিকৃৎ ছিলেন; এমনকি তার সময় থেকেই তার ছাত্ররা এবং তার রচনাবলি পশ্চিমে আন্দালুস থেকে শুরু করে পূর্বে ভারত ও পারস্য পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল।
* এজন্যই আল-গাজ্জি ‘বাহজাতুন নাযিরিন’ গ্রন্থে তাকে ‘হাফেজুদ দুনিয়া’ (বিশ্বের শ্রেষ্ঠ হাফেজ) উপাধিতে ভূষিত করেছেন
(১)।
* তার ছাত্র ইবনে হাজার তার শোকগাথায় বলেছেন:
বিগত ষাট বছর যাবৎ কেউ তার সমকক্ষ হতে পারেনি
… আর প্রতিযোগীরা তাকে স্পর্শ করার আশাও পোষণ করেনি।
* তিনি আরও বলেছেন: ইমাম বায়হাকির পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে আমাদের শায়খ ইরাকি হলেন পূর্ণাঙ্গ হাফেজ
(২)।
* আল-সাখাভি বলেছেন: হাদিসের বিভিন্ন শাখা ও শৈল্পিক দক্ষতায় তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী
(৩)।
অনুরূপভাবে আস-সুয়ুতি ও অন্যান্যরা তাকে অষ্টম হিজরি শতকের হাদিস শাস্ত্রের সংস্কারক (মুজাদ্দিদ) হিসেবে গণ্য করেছেন।
* আস-সুয়ুতি বলেন এবং আমার কথা হলো: «বর্তমানে মুহাদ্দিসগণ ইলমে রিজাল ও হাদিসের অন্যান্য শাস্ত্রে এই চারজনের ওপর নির্ভরশীল: মিযযি, যাহাবি, ইরাকি ও ইবনে হাজার»
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
لهذا عقدتُ العزم بعد خيرة الله وسجلت الموضوع بعنوان:
الحافظ العراقي وأثره في السنة
وقسمته بعد هذه المقدمة إلى: أربعة أبواب وخاتمة وفهارس.
وخصصت الباب الأول «للسنة وعصر العراقي».
وقسمته إلى ثلاثة أقسام:
القسم الأول: تحقيق مفهوم السنة: ويتضمن بيان مفهومها في اللغة وَرَدُّ القول بأخذها من اليهودية، ثم بيان مفهومها في اصطلاح علمائها وردُّ القول بقصرها على أعمال الرسول صلى الله عليه وسلم المنقولة عنه بالتواتر. ثم بيان مفهومها في اصطلاح الأصوليين والفقهاء والوُعَّاظ، والتمييز بين اصطلاح هؤلاء واصطلاح علماء السنة. ثم بيان الألفاظ المرادفة للسنة عند علمائها وإقرار العراقي لها.
القسم الثاني: بيان علوم السنة: ويتضمن بيان مفهوم علوم السنة عند المتقدمين والمتأخرين حتى عصر العراقي وتقسيمها إلى علوم رواية وعلوم ودراية ومشتملات كل منهما، ثم بيان مخالفة المتأخرين منذ عصر العراقي للمتقدمين في التقسيم الموضوعي لعلوم الرواية والدراية، وتعريفهم العلمي للرواية والدراية. وتسميتهم لكل منهما.
القسم الثالث: عصر العراقي ومكانة السنة فيه: وتناولت فيه بإيجاز، سياسة العصر وأحواله داخل وخارج مصر في عهد المماليك، وصلة العراقي
এজন্য আমি আল্লাহর কাছে কল্যাণের প্রার্থনা করার পর সংকল্পবদ্ধ হয়েছি এবং বিষয়টিকে নিম্নোক্ত শিরোনামে নিবন্ধন করেছি:
হাফিজ আল-ইরাকি এবং সুন্নাহর ওপর তাঁর প্রভাব
এবং এই ভূমিকার পর আমি একে চারটি অধ্যায়, একটি উপসংহার এবং নির্ঘণ্টসমূহে বিভক্ত করেছি।
আমি প্রথম অধ্যায়টিকে ‘সুন্নাহ এবং ইরাকির যুগ’ এর জন্য নির্দিষ্ট করেছি।
একে আমি তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর ধারণার বিশ্লেষণ: এতে আভিধানিক অর্থে সুন্নাহর ধারণা এবং এটি ইহুদি ধর্ম থেকে নেওয়া হয়েছে এমন বক্তব্যের খণ্ডন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরপর হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষায় সুন্নাহর ধারণা এবং একে কেবল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত কার্যাবলীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার মতের খণ্ডন আলোচিত হয়েছে। এরপর উসুলবিদ, ফকীহ এবং ওয়ায়েজদের (উপদেশদাতা) পরিভাষায় সুন্নাহর ধারণা এবং তাদের পরিভাষা ও সুন্নাহর আলিমদের পরিভাষার মধ্যে পার্থক্য আলোচিত হয়েছে। এরপর সুন্নাহর আলিমদের নিকট সুন্নাহর সমার্থক শব্দাবলির বর্ণনা এবং আল-ইরাকি কর্তৃক সেগুলোর স্বীকৃতি বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর শাস্ত্রসমূহের (উলূম) বর্ণনা: এতে আল-ইরাকির যুগ পর্যন্ত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলিমদের নিকট সুন্নাহর উলূমের ধারণা এবং একে ইলমুর রিওয়ায়াত ও ইলমুদ দিরায়াত—এই দুই ভাগে বিভক্তকরণ এবং উভয়ের অন্তর্ভুক্ত বিষয়াবলির বর্ণনা রয়েছে। এরপর রিওয়ায়াত ও দিরায়াতের শাস্ত্রসমূহের বিষয়ভিত্তিক বিভাজনে আল-ইরাকির যুগ থেকে পরবর্তী আলিমদের কর্তৃক পূর্ববর্তী আলিমদের সাথে ভিন্নমতের বর্ণনা এবং রিওয়ায়াত ও দিরায়াতের পারিভাষিক সংজ্ঞা ও নামকরণ আলোচিত হয়েছে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল-ইরাকির যুগ এবং তাতে সুন্নাহর মর্যাদা: এতে আমি সংক্ষেপে মামলুক যুগে মিশরের অভ্যন্তরে ও বাইরে সমসাময়িক রাজনীতি ও অবস্থা এবং আল-ইরাকির সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
بذلك، وانتقلت إلى الحالة العلمية فتناولتها بإيجاز أيضًا مع التركيز على مكانة علوم السنة آنذاك وعوامل إزدهارها في مسرح حياة العراقي وهو مصر والشام والحجاز، وأثر ذلك في المساعدة على التكوين العلمي للعراقي، كما رددت القول بجمود الحالة العلمية والعلماء في ذلك العصر، وبينت بعض مظاهر العناية بالسنة حينذاك تعلما وتعليمًا وتأليفا، حتى شاركت فيها المرأة الرجل، كما شارك الأمراء والحكام. حتى كان من شيوخ العراقي وتلامذته بعض أمراء المماليك الكبار.
* أما الباب الثاني: فتناولت فيه: «شخصية الحافظ العراقي من جوانبها المختلفة».
وقد استغرق هذا الباب قدرًا كبيرًا من الرسالة وبذلت في عرضه وتحقيق نقاطه جهدًا شاقا؛ نظرًا لأن شخصية العراقي لم يسبق دراستها كما أسلفت، كما أن جوانبها متسعة ومتشعبة. ولا عجب فهو رائد مدرسة، ومجدد جيل بالإضافة إلى أنه قد علق بجوانب شخصيته كثير من الأخطاء والأوهام والغمزات التي يعتبر هذا البحث أول تصدّ لها فيما أعلم.
* وقد قسمت هذا الباب إلى ثلاثة أقسام:
القسم الأول: مُشَخّصات عامة: تناولت فيها فرار بعض أسرة العراقي من العراق إلى مصر وتوطنهم بها. وبينت تاريخ ولادة العراقي وتسميته وتحديد مكان الولادة حاليًا بالقاهرة، مع تصحيح الخطأ في ذلك، ثم بينت نسبه وصححت سلسلته، وحققت أصله وبينت كنيته ولقبه، ثم أوضحت تعدد نسبته واشتباهه في بعضها بغيره وأثر ذلك، مع بيان ما يمكن تمييزه به عن غيره في هذا.
এর মাধ্যমে আমি ইলমি বা জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থার দিকে অগ্রসর হয়েছি এবং সংক্ষিপ্তভাবে তা আলোচনা করেছি। পাশাপাশি তৎকালীন সময়ে সুন্নাহর উলুম বা জ্ঞানসমূহের মর্যাদা এবং ইরাকির জীবনপট অর্থাৎ মিসর, শাম ও হিজাজে এর সমৃদ্ধির কারণসমূহের ওপর আলোকপাত করেছি। এছাড়া ইরাকির ইলমি গঠনের ক্ষেত্রে এর প্রভাবও তুলে ধরেছি। একইভাবে আমি সেই যুগে জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা ও আলেমদের স্থবিরতার দাবিকে খণ্ডন করেছি এবং তৎকালীন সময়ে সুন্নাহর চর্চা, শিক্ষাদান ও গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বের কিছু দিক বর্ণনা করেছি। এমনকি এতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা এবং আমির ও শাসকরাও অংশগ্রহণ করেছিলেন। ফলে ইরাকির শায়খ ও ছাত্রদের মধ্যে বড় বড় মামলুক আমিরদেরও দেখা যায়।
* আর দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমি আলোচনা করেছি: "হাফেজ ইরাকির ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক।"
এই অধ্যায়টি গবেষণাপত্রের একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে এবং এর উপস্থাপনা ও বিষয়গুলো পর্যালোচনায় আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি; কারণ পূর্বে যেমনটি উল্লেখ করেছি, ইরাকির ব্যক্তিত্ব নিয়ে আগে কখনো এভাবে গবেষণা করা হয়নি এবং এর পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত ও বহুমুখী। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ তিনি ছিলেন একটি ঘরানার পথিকৃৎ এবং এক প্রজন্মের মুজাদ্দিদ। অধিকন্তু, তাঁর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে অনেক ভুল ধারণা, সংশয় ও কটাক্ষ জড়িয়ে ছিল, যা আমার জানামতে এই গবেষণাই প্রথম তা নিরসনে সচেষ্ট হয়েছে।
* আমি এই অধ্যায়টিকে তিনটি পরিচ্ছেদে ভাগ করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সাধারণ পরিচিতি: এতে আমি ইরাকির পরিবারের কিছু সদস্যের ইরাক থেকে মিসরে হিজরত এবং সেখানে বসতি স্থাপনের বিষয়টি আলোচনা করেছি। আমি ইরাকির জন্ম তারিখ, তাঁর নামকরণ এবং বর্তমানে কায়রোতে তাঁর জন্মস্থান নির্ধারণের বিষয়টি উল্লেখ করেছি এবং এ সংক্রান্ত ভুলগুলো সংশোধন করেছি। এরপর তাঁর বংশপরিচয় বর্ণনা করেছি এবং তাঁর বংশপরম্পরা সংশোধন করেছি। তাঁর আদি উৎস নিয়ে অনুসন্ধান করেছি এবং তাঁর কুনিয়াত ও উপাধি বর্ণনা করেছি। অতঃপর তাঁর একাধিক নিসবত এবং এর ফলে অন্যের সাথে সংশয়ের সৃষ্টি হওয়া ও তার প্রভাব স্পষ্ট করেছি এবং এই ক্ষেত্রে অন্যদের থেকে তাঁকে পৃথক করার উপায়গুলো বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ثم انتقلت إلى القسم الثاني: وجعلته عن جوانب شخصية العراقي:
فبدأت بذكر نشأته ومؤثراتها، وصححت خطأ القول بأنه نشأ يتيما، ثم بينت حياة العراقي الزوجية والأسرية وأثرها في السنة، ولما كان توثيق المحدِّث أمرًا أساسيا فإني عنيت ببيان توثيق العراقي من خلال أوصافه الظاهرية ومواهبه العقلية وعقيدته وأخلاقه. ثم انتقلت إلى بيان دراسات العراقي الأولى والعامة حيث حفظ القرآن الكريم في صغره، ثم درس على عادة عصره الفقه وأصوله وكان شيوخه فيه من أبرز علماء عصره، كتقي الدين السبكي وجمال الدين الإسنوي، فعرفت بهما بإيجاز، مع الاهتمام ببيان أثرهما في العراقي وختمت ذلك ببيان مكانة العراقي في علمي الفقه والأصول.
* ثم بينت دراساته اللغوية والأدبية، نظرًا لصلتها الأكيدة بتخصصه ونتاجه في علوم السنة.
وبينت في ذلك مكانته في معرفة علوم اللغة وملامح أسلوبه النثري في مؤلفاته، ثم بينت درايته بقواعد النظم، وتركز شعره في علوم السنة وما يتصل بها، وتوظيف شعره الأدبي لخدمة السنة وشرح معانيها، ولما كان شعره الأدبي هذا لم يُدوَّن في تأليف مستقل، فإني بينت بعض المصادر التي يمكن الوقوف فيها على قدر كبير منه.
* وانتقلت من ذلك إلى القسم الثالث والأخير: حيث تناولت فيه اختصاص العراقي بعلوم السنة وأهم شيوخه وأثرهم فيه، وتلاميذه، وأثره فيهم، ثم مكانته.
* وبينت أنه اتجه أولا للتخصص في علم القراءات، ثم عدل عنه بتوجيه.
এরপর আমি দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে স্থানান্তরিত হয়েছি এবং একে ইরাকির ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে নির্ধারণ করেছি:
আমি তাঁর বেড়ে ওঠা এবং এর প্রভাবসমূহ উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করেছি এবং তিনি এতিম হিসেবে বড় হয়েছেন—এই ভুল উক্তিটি সংশোধন করেছি। এরপর ইরাকির বৈবাহিক ও পারিবারিক জীবন এবং সুন্নাহর ওপর এর প্রভাব বর্ণনা করেছি। যেহেতু একজন মুহাদ্দিসের নির্ভরযোগ্যতা (তাওসিক) একটি মৌলিক বিষয়, তাই আমি ইরাকির বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য, বৌদ্ধিক প্রতিভা, আকিদাহ এবং নৈতিক চরিত্রের আলোকে তাঁর নির্ভরযোগ্যতা বর্ণনার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। এরপর আমি ইরাকির প্রাথমিক ও সাধারণ শিক্ষা অর্জনের বর্ণনায় ফিরে গেছি, যেখানে তিনি শৈশবে পবিত্র কুরআন হিফজ করেছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর যুগের প্রথা অনুযায়ী ফিকহ ও উসূলে ফিকহ অধ্যয়ন করেন এবং এই শাস্ত্রে তাঁর উস্তাদগণ ছিলেন সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত, যেমন—তাকিউদ্দীন আস-সুবকি এবং জামালুদ্দীন আল-ইসনাবি। আমি তাঁদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরেছি এবং ইরাকির ওপর তাঁদের প্রভাব বর্ণনার প্রতি যত্নশীল হয়েছি। পরিশেষে ফিকহ ও উসূলে ফিকহ শাস্ত্রে ইরাকির অবস্থান বর্ণনার মাধ্যমে এই অংশটি সমাপ্ত করেছি।
* অতঃপর আমি তাঁর ভাষাতাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক অধ্যয়নসমূহ বর্ণনা করেছি, কারণ সুন্নাহ বিজ্ঞানে তাঁর বিশেষত্ব ও রচনার সাথে এর সুনিশ্চিত সম্পর্ক রয়েছে।
সেখানে আমি ভাষাতত্ত্বে তাঁর অবস্থান এবং তাঁর গ্রন্থাবলিতে গদ্যরীতির বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করেছি। এরপর কাব্যরীতির নিয়মাবলিতে তাঁর ব্যুৎপত্তি এবং সুন্নাহ বিজ্ঞান ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁর কবিতার নিবিষ্টতা উল্লেখ করেছি। এছাড়া সুন্নাহর খিদমত ও এর অর্থ ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তাঁর সাহিত্যিক কবিতার প্রয়োগ সম্পর্কে আলোকপাত করেছি। যেহেতু তাঁর এই সাহিত্যিক কবিতাগুলো পৃথক কোনো গ্রন্থে সংকলিত হয়নি, তাই আমি এমন কিছু উৎসের কথা উল্লেখ করেছি যেখানে এর একটি বিশাল অংশ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
* এরপর আমি সেখান থেকে তৃতীয় ও শেষ পরিচ্ছেদে প্রবেশ করেছি: যেখানে আমি সুন্নাহ বিজ্ঞানে ইরাকির বিশেষ বুৎপত্তি, তাঁর প্রধান উস্তাদগণ ও তাঁর ওপর তাঁদের প্রভাব, তাঁর ছাত্রবৃন্দ ও তাঁদের ওপর তাঁর প্রভাব এবং সবশেষে তাঁর মর্যাদা নিয়ে আলোচনা করেছি।
* এবং আমি বর্ণনা করেছি যে, তিনি প্রথমে কিরাআত শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ হওয়ার দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে দিকনির্দেশনা পেয়ে তা থেকে ফিরে আসেন।
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
شيخه عز الدين بن جماعة، لما رأى حبه للسنة وذكاءه فقال له: «إني أراك متوقد الذهن؛ فاصرف نفسك إلى علم الحديث».
ثم أوضحت بداية طلبه للحديث ومعوقاته في ذلك واجتيازها، مع الرد على تلميذه ابن حجر في وصف شيخه العراقي بالتراخي في بداية الطلب.
* وفصلت القول في دراساته لعلوم السنة باعتبارها مبعث مجده العلمي وتكوينه، وبينت تخرجه في علوم السنة رواية ودراية، ومن خرجه من حفاظ عصره، مع الرد على ابن حجر في قوله: إن العراقي لم يكن له من يُخرجه، ثم عرفت بأربعة من شيوخه البارزين في علوم السنة وبيان تأثيرهم فيه.
* وانتقلت من ذلك إلى بيان رحلاته في سبيل السنة تعلما وتعليما ونتائجها وهي عبارة عن رحلات إلى الشام والحجاز، ورحلات محلية داخل مصر وعرفت خلال ذلك بأهم شيوخه وشيخاته في تلك البلاد، مع الرد على المستشرقين، في تفسير قيام المرأة برواية السنة وتدريسها للرجال.
* كما أوضحت تغير طابع رحلاته عن بعضها، حيث أخذت رحلاته الحجازية طابع الإفادة لغيره من أهل الحجاز والواردين عليه.
* ثم بينت مدى حرص العراقي على الرحلة في سبيل تحمل السنة ونشرها، حتى عزم على الرحلة إلى بغداد وتونس فحالت دونه المقادير.
* وأوضحت أنه فيما بين تلك الرحلات كان يقوم بنشاطه الحديثي تعلما وتعليما وتأليفا في مقره الأصلي وهو القاهرة، ونظرًا لضخامة ما وقفت عليه من دراساته للسنة وشيوخه فيها، فإني بينت أهم المصادر التي يمكن الوقوف منها على ذلك؛ ليدرك القارئ والباحث أن ما ذكرته قليل جدا من كثير جدا.
তাঁর উস্তাদ ইযযুদ্দিন বিন জামাআহ, যখন সুন্নাহর প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং প্রখর মেধা দেখলেন, তখন তাঁকে বললেন: «আমি তোমাকে প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত হিসেবে দেখছি; অতএব তুমি নিজেকে হাদীস শাস্ত্রের দিকে মনোনিবেশ করাও।»
অতঃপর আমি তাঁর হাদীস অন্বেষণের সূচনা এবং এক্ষেত্রে তাঁর প্রতিবন্ধকতা ও তা উত্তরণের বিষয়টি স্পষ্ট করেছি। সেই সঙ্গে তাঁর ছাত্র ইবনে হাজারের সেই বর্ণনার জবাব দিয়েছি, যেখানে তিনি তাঁর উস্তাদ ইরাকীকে জ্ঞান অন্বেষণের শুরুতে শিথিলতার গুণে গুণান্বিত করেছেন।
* আমি তাঁর সুন্নাহ শাস্ত্র অধ্যয়ন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, কারণ এটিই ছিল তাঁর ইলমী মর্যাদা ও পূর্ণতা লাভের উৎস। আমি সুন্নাহর রেওয়ায়ত (বর্ণনা) ও দেরায়ত (জ্ঞান) উভয় শাস্ত্রে তাঁর বুৎপত্তি অর্জন এবং সমকালীন হাফেযগণের মধ্য থেকে কারা তাঁকে পারদর্শী করে তুলেছেন তা বর্ণনা করেছি। পাশাপাশি ইবনে হাজারের এই উক্তিরও জবাব দিয়েছি যে: ইরাকীর এমন কেউ ছিল না যে তাকে এই শাস্ত্রে গড়ে তুলেছেন। এরপর আমি সুন্নাহ শাস্ত্রে তাঁর চারজন বিশিষ্ট উস্তাদের পরিচয় দিয়েছি এবং তাঁর ওপর তাঁদের প্রভাবের কথা বর্ণনা করেছি।
* সেখান থেকে আমি সুন্নাহ শেখা এবং শেখানোর উদ্দেশ্যে তাঁর সফরের বর্ণনা এবং এর ফলাফলের দিকে অগ্রসর হয়েছি। এই সফরগুলো ছিল সিরিয়া ও হিজাজ অভিমুখে এবং মিশরের অভ্যন্তরেও স্থানীয় সফর ছিল। এর মাধ্যমে আমি সেসব অঞ্চলের তাঁর প্রধান প্রধান পুরুষ ও নারী উস্তাদদের পরিচয় দিয়েছি। এর সাথে সাথে প্রাচ্যবিদদের সেই ব্যাখ্যারও জবাব দিয়েছি, যা তারা নারীদের সুন্নাহ বর্ণনা করা এবং পুরুষদের শিক্ষাদান সম্পর্কে প্রদান করেছে।
* এছাড়াও আমি তাঁর সফরগুলোর ধরনে যে পরিবর্তন এসেছে তা স্পষ্ট করেছি, কারণ তাঁর হিজাজ সফরগুলো হিজাজবাসী এবং সেখানে আগত অন্যদের উপকৃত করার রূপ পরিগ্রহ করেছিল।
* এরপর আমি সুন্নাহ গ্রহণ ও প্রচারের পথে ইরাকীর সফরের প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষার মাত্রা বর্ণনা করেছি, এমনকি তিনি বাগদাদ ও তিউনিসিয়া সফরের সংকল্প করেছিলেন, কিন্তু তাকদীর তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
* আমি আরও স্পষ্ট করেছি যে, সেই সফরগুলোর অন্তর্বর্তী সময়ে তিনি তাঁর মূল আবাসস্থল কায়রোতে শিক্ষাগ্রহণ, শিক্ষাদান এবং গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে তাঁর হাদীস বিষয়ক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। সুন্নাহ শাস্ত্রে তাঁর অধ্যয়ন এবং উস্তাদদের সম্পর্কে আমি যা পেয়েছি তার বিশালতার কথা বিবেচনা করে, আমি এর প্রধান প্রধান উৎসগুলো বর্ণনা করেছি যেখান থেকে তা জানা সম্ভব; যাতে পাঠক ও গবেষক বুঝতে পারেন যে, আমি যা উল্লেখ করেছি তা বিশালের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
* ثم لفت نظري عناية العراقي هو والمؤرخون له بالإشادة بمكتبته الخاصة، حتى كان يُضرب بها المثل في القاهرة، فألقيت بعض الضوء عليها، مع بيان أثرها في تكوينه العلمي ونتاجه.
* وختمتُ ذلك كله ببيان وظائف العراقي العلمية التي تقلدها رسميًا أو تطوعًا داخل مصر وخارجها لعشرات السنين، ومدى تأثيرها في نشر وإفادة علوم السنة: تدريسًا وتأليفًا ومقابلة وتصحيحًا وإجازة وإملاء، بين الحرمين المكي والمدني والقاهرة، حيث أحيا سُنَّةَ إملاء الحديث بها لأكثر من عشر سنوات.
* وبينتُ في ذلك ريادته لمدرسة السنة، ومواقفه المشهودة، وجهوده من أجلها، وأستاذيته لجيل المُحدِّثين والمُحدَّثات وحُفَّاظ السنة من بعده في العالم الإسلامي، وكيف قام بالإشراف العلمي والتوجيه بالنسبة لبعض طلابه في مؤلفاتهم كما نفعل اليوم في نظام دراستنا العليا، وخَرَّج من تحت يده بذلك ثمارًا علمية، ومراجع هي عمدتنا إلى اليوم، (كمجمع الزوائد) وغيره لتلميذه نور الدين الهيثمي.
* ثم عَرَّفْتُ بأبرز تلاميذ العراقي والمُتَخَرِّجين على يديه، مع بيان تأثيره فيهم، وبيان انتشارهم في حياته ومن بعده، حاملين لواء السنة بين المراكز العلمية في العالم، من بلاد المغرب غربًا، حتى فارس والروم والهند شرقًا، ثم قدمتُ خلاصة لنتائج وظائف العراقي العلمية وأثرها في السنة، وأنهيتُ الباب ببيان وفاة العراقي وتصحيح تأريخها، وتحديد مكانها بالقاهرة حاليًا، ثم تحديد مكان مدفنه الآن بالقاهرة أيضًا، ثم ذكرتُ بعض تقدير العلماء وغيرهم للعراقي، مع تعقيب ختامي انتهى به ذلك الباب بحمد الله.
এরপর ইরাকির যত্ন এবং ঐতিহাসিকদের পক্ষ থেকে তাঁর ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারের ভূয়সী প্রশংসার বিষয়টি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে, এমনকি কায়রোতে তা দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহৃত হতো; ফলে আমি এর ওপর আলোকপাত করেছি এবং তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক গঠন ও রচনার ক্ষেত্রে এর প্রভাব বর্ণনা করেছি।
পরিশেষে আমি কয়েক দশক ধরে মিশরের ভেতরে ও বাইরে ইরাকির অধিষ্ঠিত সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী ইলমি পদসমূহ এবং সুন্নাহর উলূম প্রচার ও প্রসারে সেগুলোর প্রভাব বর্ণনা করেছি: যা পাঠদান, গ্রন্থরচনা, পাণ্ডুলিপি মুকাবিলা ও সংশোধন, ইজাযত প্রদান এবং ইমলা (শ্রুতিলিপি প্রদান) এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে; মক্কা ও মদিনার হারামাইন এবং কায়রোর মাঝে, যেখানে তিনি দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাদিস ইমলার সুন্নাতকে পুনর্জীবিত করেছিলেন।
এতে আমি সুন্নাহর মাদরাসায় তাঁর নেতৃত্ব, তাঁর স্মরণীয় অবস্থান এবং এর জন্য তাঁর প্রচেষ্টাসমূহ বর্ণনা করেছি; সেইসাথে পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিম বিশ্বের মুহাদ্দিস, মুহাদ্দিসা ও সুন্নাহর হাফেজদের প্রতি তাঁর উস্তাদসুলভ অভিভাবকত্ব তুলে ধরেছি। তিনি কীভাবে তাঁর কিছু ছাত্রের গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছিলেন—যেমনটি আমরা আজ উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় করে থাকি—এবং এর মাধ্যমে তাঁর হাত দিয়ে এমন কিছু ইলমি ফলাফল ও রেফারেন্স গ্রন্থ বের হয়ে এসেছে যা আজ অবধি আমাদের মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য (যেমন তাঁর ছাত্র নূরুদ্দীন হাইসামীর ‘মাজমাউয যাওয়াইদ’ ইত্যাদি)।
অতঃপর আমি ইরাকির বিশিষ্ট ছাত্রবৃন্দ এবং তাঁর কাছে শিক্ষা সমাপ্তকারীদের পরিচয় তুলে ধরেছি, তাঁদের ওপর ইরাকির প্রভাব এবং তাঁর জীবদ্দশায় ও তাঁর মৃত্যুর পর বিশ্বের বিভিন্ন ইলমি কেন্দ্রে সুন্নাহর ঝাণ্ডা নিয়ে তাঁদের ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি বর্ণনা করেছি—পশ্চিমে মাগরিব থেকে শুরু করে পূর্বে পারস্য, রোম ও ভারত পর্যন্ত। এরপর আমি ইরাকির ইলমি পদসমূহের অর্জিত ফলাফলের সারসংক্ষেপ এবং সুন্নাহর ওপর এর প্রভাব উপস্থাপন করেছি। পরিশেষে ইরাকির মৃত্যু ও এর সঠিক তারিখ বর্ণনা এবং বর্তমানে কায়রোতে তাঁর মৃত্যুর স্থান ও বর্তমান কবরের অবস্থান নির্দিষ্ট করার মাধ্যমে এই অধ্যায়টি সমাপ্ত করেছি। এরপর আমি ইরাকির প্রতি ওলামায়ে কেরাম ও অন্যদের মূল্যায়নের কিছু অংশ উল্লেখ করেছি এবং আল্লাহর প্রশংসা ও একটি চূড়ান্ত মন্তব্যের মাধ্যমে এই অধ্যায়টি শেষ হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
أما الباب الثالث: فتضمن أثر العراقي بمؤلفاته وآرائه في مصطلح علوم السنة وعلم رجالها.
وقد قسمته إلى قسمين:
القسم الأول: في مصطلح علوم السنة:
وتناولت فيه خمسة مؤلفات للعراقي في ذلك، وهي:
1 - ألفيته المسماة بـ «التبصرة والتذكرة» و «شرحه الكبير» لها.
2 - و «شرحه المتوسط».
3 - و «التقييد والإيضاح لما أُطلق وأغلق من كتاب ابن الصلاح».
4 - و «نظم كتاب الإقتراح» لابن دقيق العيد.
5 - و «شرح تقريب النواوي»، وهذا الأخير لم أجده.
أما الأربعة التي قبله فبحثت كلا منها، من حيث تسميته ونسبته إلى العراقي، وبيان ما للموجود من تلك الكتب، من نسخ خطية، وبيان ما طبع منها وتقويم الطبعة، وتفصيل منهج العراقي في كل كتاب مع التحليل والمقارنة، وذكر بعض النماذج من آرائه، ثم تقويم الكتاب عموما ببيان أهم مميزاته، وبعض المآخذ عليه إن وجدت، وبيان عناية العلماء بتلك الكتب، وأثرها فيما بعدها من المؤلفات في موضوعها، وفي الدارسين له.
وقد استدعى ذلك تناول عدد غير قليل من المؤلفات التي خدمت مؤلفات العراقي السابقة بالشرح أو التعليق أو الإختصار، وكثير من تلك المؤلفات ما يزال مخطوطا حتى الآن.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এতে সুন্নাহর উলূম (পরিভাষা) এবং এর রিজাল শাস্ত্রের (বর্ণনাকারী বিষয়ক জ্ঞান) ক্ষেত্রে ইরাকীর রচনাবলী ও মতামতের প্রভাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আর আমি একে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি:
প্রথম ভাগ: সুন্নাহর উলূম বা পরিভাষা প্রসঙ্গে:
এতে আমি ইরাকীর পাঁচটি গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেছি, সেগুলো হলো:
১ - তাঁর আলফিয়্যাহ, যার নাম ‘আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ’ এবং এর ওপর রচিত তাঁর ‘শরহে কবীর’ (বৃহৎ ব্যাখ্যাগ্রন্থ)।
২ - এবং তাঁর ‘শরহে মুতাওয়াসসিত’ (মধ্যম ব্যাখ্যাগ্রন্থ)।
৩ - এবং ইবনুল সালাহর গ্রন্থের ওপর রচিত তাঁর গ্রন্থ ‘আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈযাহ লিমা উতলিকা ওয়া উগলিকা মিন কিতাব ইবনিস সালাহ’।
৪ - এবং ইবনু দাকীকিল ঈদ-এর ‘কিতাবুল ইকতিরাহ’-এর কাব্যরূপ (নাজম)।
৫ - এবং ‘শরহু তাকরীবিন নাওয়াবী’; এই শেষোক্তটি আমি খুঁজে পাইনি।
এর আগের চারটি গ্রন্থের প্রত্যেকটি সম্পর্কে আমি গবেষণা করেছি; সেগুলোর নামকরণ ও ইরাকীর প্রতি সেগুলোর সম্বন্ধ নির্ণয়, গ্রন্থগুলোর বিদ্যমান পাণ্ডুলিপিগুলো বর্ণনা, যেগুলো মুদ্রিত হয়েছে সেগুলোর বর্ণনা ও মুদ্রণ-মান মূল্যায়ন, বিশ্লেষণ ও তুলনাসহ প্রতিটি গ্রন্থে ইরাকীর পদ্ধতির বিস্তারিত বিবরণ, তাঁর মতামতের কিছু নমুনা উল্লেখ, অতঃপর গ্রন্থের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে গ্রন্থটির মূল্যায়ন, যদি কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে থাকে তবে তা উল্লেখ, এই গ্রন্থগুলোর প্রতি ওলামায়ে কেরামের বিশেষ মনোযোগ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরবর্তীকালের রচনা ও গবেষকদের ওপর এগুলোর প্রভাব বর্ণনা করেছি।
আর এর প্রয়োজনে ইরাকীর পূর্বোক্ত গ্রন্থগুলোর ব্যাখ্যা, টীকা বা সংক্ষিপ্তসার হিসেবে কাজ করেছে এমন বেশ কিছু সংখ্যক গ্রন্থ নিয়েও আলোচনা করতে হয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোই এখন পর্যন্ত পাণ্ডুলিপি (অপ্রকাশিত) আকারে রয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
والقسم الثاني: تضمن أثر العراقي بمؤلفاته وآرائه في عِلْم رجال السنة واشتمل ذلك على بيان تأليفه وآرائه في معرفة الصحابة، وفي المؤتلف والمختلف من أسماء الرواة وكُناهم وألقابهم، وفي الرواة الأكابر الذين رووا عن الأصاغر، وفي نقد رواة السنة عموماً، وذلك في تذييله على «ميزان الاعتدال»، للذهبي، وفي الرواة المدلسين ورواة المراسيل، والوحدان من رجال الصحيحين، وردّ الجهالة عنهم، ورجال كل من: «صحيح ابن حبان» و «سنن الدارقطني» و «تقريب الأسانيد للعراقي» نفسه، وتذييله على بعض كتب تاريخ الرجال ووفياتهم، ويشمل ذلك: تذييله على كتاب «العِبَر» للذهبي، وتذييله على «وفيات نقلة العلم وذوي الشأن» للحافظ ابن أَيْتك الدّمياطي، وتذييله على ذيل آخر لابن أيبك هذا على «وفيات الأعيان» لابن خَلَّكان، وتأليفه في التراجم المفردة لبعض شيوخه، ولبعض معاجم الشيوخ ومشيخاتهم.
* وقد تناولتُ تلك المؤلفات من جوانبها المختلفة: من حيث التسمية وإثبات النسبة للعراقي، وتصحيح ما قد يكون في ذلك من خطأ، وكشف ما وَجَدتُه منها مجهول النسبة لمؤلّف، وبيان ما وقفت عليه من نسخ الكتاب أو نصوصه المتضمنة في غيره، وتحديد موضوع الكتاب وأهميته العلمية، وعناصر منهج العراقي فيه، ونماذج من آرائه، مع المقارنة والتقويم، بذكر أهم المميزات وبعض المآخذ، ثم ما توصلت إليه من أثر لكل كتاب فيما بعده.
* والباب الرابع: خصصته لبيان أثر العراقي بمؤلفاته وآرائه في علم التخريج وفقه السنة، ونقدها، وشرحها، والسيرة النبوية.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর রিজালশাস্ত্রে ইরাকির রচিত গ্রন্থাবলি ও মতামতের প্রভাব এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাহাবীদের পরিচিতি, বর্ণনাকারীদের নামের সদৃশ ও বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিক, তাদের কুনিয়া ও উপাধি সম্পর্কে তার গ্রন্থ ও মতামত এতে বিবৃত হয়েছে। তদ্রূপ ছোটদের নিকট থেকে বড়দের বর্ণনার বিষয় এবং সাধারণভাবে সুন্নাহর বর্ণনাকারীদের সমালোচনার বিষয়টিও এতে আলোচিত হয়েছে; যা মূলত যাহাবির 'মিজানুল ইতিদাল' গ্রন্থের ওপর তার লিখিত পরিশিষ্টে বিদ্যমান। আরও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মুদাল্লিস ও মারাসিল বর্ণনাকারী এবং সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম) এর সেই সব একক বর্ণনাকারী যাদের সম্পর্কে অজ্ঞতা দূর করা হয়েছে। এছাড়া 'সহীহ ইবনে হিব্বান', 'সুনানে দারাকুতনি' এবং খোদ ইরাকির 'তাকরিবুল আসানিদ' গ্রন্থের বর্ণনাকারীদের পরিচয় এবং রিজালশাস্ত্র ও মৃত্যু-তারিখ বিষয়ক কতিপয় গ্রন্থের ওপর তার লিখিত পরিশিষ্ট এতে শামিল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যাহাবির 'কিতাবুল ইবার' এর ওপর তার পরিশিষ্ট, হাফেজ ইবন আইতাক আদ-দিময়াতির 'ওয়াফায়াতু নাকিলাতিল ইলম ওয়া যাবিশ শান' এর ওপর তার পরিশিষ্ট, এবং ইবন খাল্লিকানের 'ওয়াফায়াতুল আইয়ান' গ্রন্থের ওপর উক্ত ইবন আইতাকের লিখিত একটি পরিশিষ্টের ওপর ইরাকির নিজস্ব পরিশিষ্ট। এছাড়াও এতে রয়েছে তার কতিপয় উস্তাদের একক জীবনী এবং উস্তাদদের বিভিন্ন অভিধান ও জীবনবৃত্তান্ত বিষয়ক সংকলন।
* আমি এই গ্রন্থগুলোকে বিভিন্ন দিক থেকে আলোচনা করেছি: সেগুলোর নামকরণ, ইরাকির প্রতি সেগুলোর সম্পৃক্ততার প্রমাণাদি, এসব ক্ষেত্রে বিদ্যমান ভুলত্রুটির সংশোধন, লেখকের নাম অজ্ঞাত ছিল এমন বইগুলোর লেখক শনাক্তকরণ, গ্রন্থগুলোর যে সকল পাণ্ডুলিপি বা অন্যান্য গ্রন্থে বিদ্যমান উদ্ধৃতি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি সেগুলোর বর্ণনা, গ্রন্থের বিষয়বস্তু ও বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব নির্ধারণ, এতে ইরাকির অনুসৃত পদ্ধতির মূল উপাদানসমূহ এবং তুলনামূলক আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে তার কিছু মতামতের নমুনা প্রদান। এতে আমি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি উল্লেখ করেছি এবং সবশেষে প্রতিটি গ্রন্থের পরবর্তী সময়কালের ওপর কী প্রভাব রয়েছে তা তুলে ধরেছি।
* চতুর্থ অধ্যায়: এটি আমি আল-ইরাকির রচিত গ্রন্থাবলি ও মতামতের মাধ্যমে হাদিস নিষ্কাশন শাস্ত্র (তাখরিজ), সুন্নাহর সমঝ (ফিকহ), হাদিস সমালোচনা, ব্যাখ্যা এবং সিরাতে নববীর ওপর তার প্রভাব বর্ণনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وجعلته في خمسة أقسام:
القسم الأول: تأليف العراقي وآراؤه في أنواع علم التخريج، وأثر ذلك: وتناولت فيه بيان مفهوم التخريج، ثم كتب التخريج التي ألفها العراقي، مخطوطة أو مطبوعة أو مفتقدة، وما تمكنت من الوقوف عليه تناولته من حيث: التسمية والنسبة للعراقي، ومنهجه فيه، مع المقارنة والتحليل والتقويم، بذكر أهم المميزات والمآخذ، ثم أثر الكتاب فيما بعده.
القسم الثاني: في تأليف العراقي وآرائه في فقه السنة؛ من أحاديث الأحكام عموما، وبعض الموضوعات المفردة، وأثر ذلك.
القسم الثالث: تأليف العراقي وآراؤه في الأحاديث المنتقدة والموضوعة وأثر ذلك.
والقسم الرابع: تأليف العراقي وآراؤه في شروح كتب السنة، وغريب ألفاظ الحديث، وأثر ذلك.
والقسم الخامس: بيان تأليف العراقي وآراؤه في السيرة النبوية، وأثر ذلك.
* وسلكت في بحث تلك الأقسام الأربعة المنهج الذي انتهجته في بحث القسم الأول.
* وختمت الرسالة ببيان أهم النتائج التي توصلت إليها خلال الأبواب الأربعة
* ثم ذكرت فهرسا لأهم المراجع الخطية والمطبوعة، وفهرسا للموضوعات.
وبالله التوفيق.
* * *
এবং আমি একে পাঁচটি অংশে বিন্যস্ত করেছি:
প্রথম অংশ: তাখরীজ শাস্ত্রের প্রকারভেদ সম্পর্কে আল-ইরাকির রচনা ও তাঁর মতামত এবং এর প্রভাব: এতে আমি তাখরীজের ধারণার বর্ণনা এবং এরপর আল-ইরাকির রচিত তাখরীজ বিষয়ক গ্রন্থসমূহ—সেগুলো পাণ্ডুলিপি হোক, মুদ্রিত হোক বা হারিয়ে যাওয়া হোক—আলোচনা করেছি। আমি যেগুলোর সন্ধান লাভে সক্ষম হয়েছি, সেগুলোকে এর নামকরণ, আল-ইরাকির প্রতি এর সম্পৃক্ততা এবং এতে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতির বিচারে আলোচনা করেছি; সাথে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ও সমালোচনা উল্লেখপূর্বক তুলনা, বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন এবং পরবর্তী সময়ে এই গ্রন্থের প্রভাব।
দ্বিতীয় অংশ: সুন্নাহর ফিকহ বিষয়ে আল-ইরাকির রচনা ও তাঁর মতামত; যা সাধারণভাবে বিধান সংক্রান্ত হাদীসসমূহ এবং কিছু নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু ও এর প্রভাব সংশ্লিষ্ট।
তৃতীয় অংশ: সমালোচিত ও জাল হাদীস সম্পর্কে আল-ইরাকির রচনা ও তাঁর মতামত এবং এর প্রভাব।
চতুর্থ অংশ: সুন্নাহর কিতাবসমূহের ব্যাখ্যা এবং হাদীসের দুর্বোধ্য শব্দাবলি সম্পর্কে আল-ইরাকির রচনা ও তাঁর মতামত এবং এর প্রভাব।
পঞ্চম অংশ: সীরাতুন্নবী সম্পর্কে আল-ইরাকির রচনা ও তাঁর মতামতের বর্ণনা এবং এর প্রভাব।
* আমি শেষোক্ত চারটি অংশের গবেষণায় সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করেছি যা আমি প্রথম অংশের গবেষণায় অবলম্বন করেছি।
* আমি এই গবেষণাপত্রটি চারটি অধ্যায়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ বর্ণনার মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি।
* অতঃপর আমি গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত তথ্যসূত্রসমূহের একটি সূচি এবং একটি বিষয়সূচি উল্লেখ করেছি।
আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
مِنْ صُعُوبَاتِ المَوْضُوعِهذا ولابد من الإشارة إلى بعض الصعوبات التي اعترضتني أثناء البحث وكان لها دخل كبير في تأخير إنجازه.
* فمن ذلك: أن المطبوع من مؤلفات العراقي قليل بالنسبة لباقي مؤلفاته التي ما تزال مخطوطة حتى الآن.
* ثم إن أغلب المطبوع إما غير محقق، أو منسوب خطأ إلى العراقي، أو إلى ولده أبي زُرْعَة، أو إلى غيرهما.
* ثم إن الموجود من مؤلفاته المخطوطة موزع بين القاهرة والإسكندرية وباقي بلاد العالم، كأسبانيا وألمانيا والمغرب و ليبيا وسوريا وبغداد والموصل والمدينة المنورة على ساكنها أفضل الصلاة والسلام، وتركيا والهند.
وبعض مؤلفاته مذكورة في الفهارس على أنها مجهولة المؤلف، وأثبت بفحصها نسبتها إليه.
وبعد أن سجلت الموضوع وتمت الموافقة عليه، بدأت الاطلاع على الموجود بالقاهرة مع السعي بجهدي الشخصي للحصول على مُصَوَّرَات أو نصوص كافية من تلك المخطوطات المنتشرة في أنحاء العالم، وعانيت كثيرا من الكلفة والانتظار والأخذ والرد، لأكثر من ثلاث سنين، حتى حصلت بحمد الله على كثير من مُصَوَّرات أو نصوص تلك المخطوطات.
*- لكني فوجئت بعقبة أخرى وهي: تخزين المخطوطات الموجودة بدار الكتب المصرية بسبب ظروف الحرب مع إسرائيل منذ عام 1967 م والتي
বিষয়ের কিছু জটিলতাএ ক্ষেত্রে গবেষণার সময় আমি যে সব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি এবং যা এই কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্বের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, সেগুলো উল্লেখ করা প্রয়োজন।
* তার মধ্যে একটি হলো: আল-ইরাকির রচনাবলির মধ্যে যা মুদ্রিত হয়েছে, তা তাঁর অন্যান্য পাণ্ডুলিপির তুলনায় খুবই সামান্য, যেগুলো আজ পর্যন্ত পাণ্ডুলিপি আকারেই রয়ে গেছে।
* তাছাড়া অধিকাংশ মুদ্রিত কাজ হয় অসম্পাদিত (তাহকিক বিহীন), অথবা ভুলবশত আল-ইরাকির দিকে নিসবত করা হয়েছে, কিংবা তাঁর পুত্র আবু যুরআ বা অন্য কারো নামে যুক্ত করা হয়েছে।
* তদুপরি, তাঁর বিদ্যমান পাণ্ডুলিপিগুলো কায়রো, আলেকজান্দ্রিয়া এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেমন: স্পেন, জার্মানি, মরক্কো, লিবিয়া, সিরিয়া, বাগদাদ, মোসুল, মদিনা মুনাওয়ারা—যিনি সেখানে অবস্থান করছেন তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—তুরস্ক ও ভারতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
তালিকায় তাঁর কিছু রচনা অজ্ঞাত লেখকের হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমি তাঁরই কাজ হিসেবে প্রমাণ করেছি।
বিষয়টি নিবন্ধিত ও অনুমোদিত হওয়ার পর আমি কায়রোতে বিদ্যমান পাণ্ডুলিপিগুলো দেখা শুরু করি এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা পাণ্ডুলিপিগুলোর ফটোকপি বা পর্যাপ্ত মূলপাঠ সংগ্রহের জন্য ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা চালাই। দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে আর্থিক ব্যয়, প্রতীক্ষা এবং যোগাযোগ আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে আমাকে অনেক কষ্ট পোহাতে হয়েছে, অবশেষে আল্লাহর প্রশংসায় আমি সেই সব পাণ্ডুলিপির অনেকগুলোর ফটোকপি বা মূলপাঠ লাভে সক্ষম হই।
*- কিন্তু আমি অন্য একটি বাধার সম্মুখীন হই, আর তা হলো: ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধের পরিস্থিতির কারণে মিশরের 'দারুল কুতুব'-এ (জাতীয় গ্রন্থাগার) পাণ্ডুলিপিগুলো গুদামজাত করে রাখা হয়েছিল, যা...
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
عشناها سنين، وبالتالي أصبح عملي في الرسالة مُجزَّءًا حتى انتهت ظروف الحرب عام 1973 م - بحمد الله - وسَمَح بالاطلاع على المخطوطات، فاستأنفتُ العمل متكاملاً، وكان عليَّ مُراجعة المصورات بواسطة أجهزة القراءة التي يُدرِك إرهاقها - حينذاك - كل من اضطرته ظروف بحثه للاستعانة بها.
* وبالإضافة إلى ذلك فإني وجدتُ عددًا من مؤلفات العراقي غير موجود حاليًا بذاته، وإنما أخذه بعض تلاميذه، ومَنْ بعدهم وأودعوه مُفرَّقًا أو مجموعًا في مؤلفاتهم، وذلك كالحافظ ابن حجر في «لسان الميزان» وفي «القول المسدد في الذَّب عن مسند أحمد» وفي «طبقات المدلسين».
وكسبط ابن العجمي في «الاغتباط بمعرفة من رُمي بالاختلاط» وفي «المُحضَرمين» وكالغزّي في «بهجة الناظرين» وكجلال الدين السيوطي في كثير من مؤلفاته.
وبذلك أصبح التعرف على مؤلفات العراقي تلك، متوقفًا على الاطلاع على تلك المؤلفات رغم بلوغ بعضها عدة مجلدات، وبقاء بعضها مخطوطًا حتى الآن.
* ثم إن أكثر المؤلفات التي احتجتُ إليها في مقارنة نتاج العراقي العلمي بغيره، غالبها أيضًا مخطوط كما يلاحظ القارئ ذلك من مراجع الرسالة ومن الإحالة عليها خلال أبواب البحث.
* ورغم هذا كله فقد واصلت الليل بالنهار كما يشهد الله، حتى أخرجتُ الموضوع على خير ما أمكنني، دون أن أُبرِّئ نفسي مما هو لازم لكل إنسان من الخطأ والنسيان، وبالله التوفيق.
আমরা সেই বছরগুলো অতিবাহিত করেছি, ফলে আমার গবেষণাপত্রের কাজ বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছিল। পরিশেষে ১৯৭৩ সালে—আল্লাহর প্রশংসায়—যুদ্ধের পরিস্থিতির সমাপ্তি ঘটে এবং পাণ্ডুলিপিগুলো দেখার সুযোগ সৃষ্টি হয়। তখন আমি পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ পুনরায় শুরু করি। তখন আমাকে রিডিং ডিভাইসের মাধ্যমে পাণ্ডুলিপির ছায়াচিত্রগুলো পর্যালোচনা করতে হতো; সেই সময়ে গবেষণার প্রয়োজনে যারা এগুলো ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছিলেন, তারা এর ক্লান্তিকর হওয়ার বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবেন।
* এছাড়া, আমি আল-ইরাকির বেশ কিছু রচনা বর্তমানে স্বতন্ত্রভাবে বিদ্যমান পাইনি। বরং তাঁর কয়েকজন ছাত্র এবং পরবর্তীকালের পণ্ডিতগণ সেগুলো গ্রহণ করেছেন এবং বিচ্ছিন্নভাবে বা সমষ্টিগতভাবে নিজেদের কিতাবসমূহে সন্নিবেশিত করেছেন। যেমন হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর 'লিসানুল মিজান', 'আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফিদ-যাববি আন মুসনাদি আহমাদ' এবং 'তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন' গ্রন্থে তা করেছেন।
অনুরূপভাবে সিবত ইবনুল আজামি তাঁর 'আল-ইগতিবাত বি-মা'রিফাতি মান রুমিয়া বিল-ইখতিলাত' এবং 'আল-মুহাদরামিন' গ্রন্থে; গাজ্জি তাঁর 'বাহজাতুন নাজিরিন' গ্রন্থে এবং জালালুদ্দিন সুয়ূতি তাঁর অনেক রচনায় এটি করেছেন।
এর ফলে আল-ইরাকির সেই রচনাগুলোর সাথে পরিচিত হওয়া উক্ত গ্রন্থগুলো পর্যালোচনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যদিও সেগুলোর কোনো কোনোটি কয়েক খণ্ডে বিস্তৃত এবং কোনো কোনোটি এখন পর্যন্ত পাণ্ডুলিপি আকারেই রয়ে গেছে।
* অধিকন্তু, আল-ইরাকির ইলমি খিদমতকে অন্যদের সাথে তুলনা করার জন্য আমার যে বইগুলোর প্রয়োজন হয়েছিল, সেগুলোর অধিকাংশও পাণ্ডুলিপি ছিল। পাঠক এই অভিসন্দর্ভের তথ্যসূত্র এবং গবেষণার বিভিন্ন অধ্যায়ে প্রদত্ত উদ্ধৃতিগুলো থেকে তা লক্ষ্য করতে পারবেন।
* এসব সত্ত্বেও, আল্লাহ সাক্ষী যে আমি দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করেছি, যাতে বিষয়টি সাধ্যমতো সর্বোত্তম উপায়ে উপস্থাপন করতে পারি। তবে ভুলভ্রান্তি ও বিস্মৃতি যা মানুষের জন্য স্বাভাবিক, তা থেকে আমি নিজেকে দায়মুক্ত ঘোষণা করছি না। আর আল্লাহর নিকট থেকেই তাওফিক কাম্য।
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
البَابُ الأَوَّلُ: السُّنَّةُ وَعَصْرُ العِرَاقِيِّالقِسْمُ الأَوَّلُ: تَحْقِيقُ مَفْهُومِ السُنَّةِ
القِسْمُ الثَّانِي: بَيَانُ عُلُومِ السُنَّةِ
القِسْمُ الثَّالِثُ: عَصْرُ العِرَاقِيِّ
প্রথম অধ্যায়: সুন্নাহ ও ইরাকির যুগপ্রথম অংশ: সুন্নাহর ধারণার বিশ্লেষণ
দ্বিতীয় অংশ: সুন্নাহর জ্ঞানসমূহের বর্ণনা
তৃতীয় অংশ: ইরাকির যুগ
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
لما كان موضوعنا هذا عن الحافظ العراقي وأثره في السنة، لزمنا أن نقدم بين يديه تعريفاً للسنة، وبياناً مجملاً لعلومها.
ثم نتبع ذلك بلمحة عن عصر العراقي ومكانة السنة وعلومها فيه حتى يتسنى لنا على أساس ذلك تبيين تكوين الشخصية العلمية للعراقي، ونواحي تأثيره في أبحاث السنة وعلومها المختلفة.
ونوقع ذلك في الآتي:
যেহেতু আমাদের বর্তমান আলোচনার বিষয় হাফিজ ইরাকি এবং সুন্নাহর ক্ষেত্রে তাঁর প্রভাব সম্পর্কে, তাই আমাদের জন্য আবশ্যক হলো এর পূর্বে সুন্নাহর একটি সংজ্ঞা এবং এর শাস্ত্রসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রদান করা।
অতঃপর আমরা এর অনুগামী হিসেবে ইরাকির সমকালীন যুগ এবং সেই যুগে সুন্নাহ ও এর শাস্ত্রসমূহের মর্যাদা সম্পর্কে আলোকপাত করব, যাতে এর ভিত্তিতে আমাদের পক্ষে ইরাকির পাণ্ডিত্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের গঠন এবং সুন্নাহর গবেষণা ও এর বিভিন্ন শাস্ত্রের ক্ষেত্রে তাঁর প্রভাবের দিকগুলো স্পষ্ট করা সম্ভব হয়।
এবং আমরা তা নিম্নোক্তভাবে উপস্থাপন করছি:
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
اَلْقِسْمُ الْأَوَّلُ تَحْقِيقُ مَفْهُومِ السُّنَّةِ
প্রথম অংশ: সুন্নাহর ধারণার স্বরূপ বিশ্লেষণ
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أ - عربية «السنة» وعالميتهاذكر الإمام الشافعي رضي الله عنه أن تنبيه عامة المسلمين إلى نزول القرآن بلسان عربي مبين، يعد من ضمن النصيحة لهم التي تدور بين الفرض والنافلة وعلّل هذا بأنه لا يعلم إيضاح مجملات القرآن الكريم أحد جهل سعة لسان العرب وكثرة وجوهه، وجماع معانيه وتفرقها، ومن علم ذلك انتفت عنه الشبهة التي دخلت على من جهل لسان العرب
(1).
وقد حدث بالنسبة للسنة النبوية أن بعض أعدائها ممن جهل سعة لسان العرب كما ذكر الشافعي أو تجاهله، زعم أن اسمها هذا ليس عربيا، بل مأخوذ بالنقل أو الاشتقاق من كلمة «مشناة» أو «مسناة» العبرانية التي يطلقها اليهود على مجموعة الروايات الشفاهية التي تناقلها أحبارهم جيلا بعد جيل، والتفاسير التي جعلوها شروحا للتوراة، وكل ذلك من كلام الأحبار والمفسرين، لا من كلام الرسل والأنبياء
(2).
وعلّلوا ذلك بأنه كما أن اليهود تركوا التوراة وعملوا بمجموعة الروايات الإسرائيلية
(3) وسموها «مثناة» أو «مسناة» أي الشريعة المكررة الموضحة، فكذلك المسلمون لما تركوا القرآن وعملوا بالسنة، اشتقوا لها اسما من كلمة «مشناة» اليهودية وسموها «سنة»
(4).
--------------------------------------------
ক - "সুন্নাহ"-এর আরবি ভিত্তি ও এর বিশ্বজনীনতাইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উল্লেখ করেছেন যে, সাধারণ মুসলিমদেরকে কুরআন যে সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে সে সম্পর্কে সচেতন করা তাদের প্রতি নসিহতের (কল্যাণকামিতা) অন্তর্ভুক্ত, যা ফরয ও নফল-এর মধ্যে আবর্তিত হয়। তিনি এর কারণ হিসেবে বলেন যে, আরবের ভাষার বিশালতা, এর নানামুখী ব্যবহার, এর অর্থসমূহের ব্যাপ্তি ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে যারা অজ্ঞ, তাদের পক্ষে পবিত্র কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা অনুধাবন করা সম্ভব নয়। আর যারা এ বিষয়ে অবগত, তাদের থেকে সেই সংশয় দূরীভূত হয়ে যায় যা আরবি ভাষা সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তির মাঝে প্রবেশ করেছিল।
সুন্নাহর ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছে যে, এর কতিপয় শত্রু—যাদের সম্পর্কে ইমাম শাফিঈ উল্লেখ করেছেন যে তারা আরবি ভাষার প্রশস্ততা সম্পর্কে অজ্ঞ অথবা তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তা এড়িয়ে যায়—দাবি করেছে যে, এই 'সুন্নাহ' নামটি আরবি নয়। বরং এটি হিব্রু শব্দ 'মিশনাহ' বা 'মিসনাহ' থেকে সরাসরি গ্রহণ করা হয়েছে বা উদ্ভূত হয়েছে। ইহুদিরা তাদের ধর্মগুরুদের মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মুখে মুখে চলে আসা বর্ণনাসমূহ এবং তাওরাতের ব্যাখ্যা হিসেবে তারা যা প্রণয়ন করেছে, সেগুলোকে এই নামে অভিহিত করে। আর এই সব কিছুই ধর্মগুরু ও ব্যাখ্যাকারীদের কথা, কোনো রাসূল বা নবীর বাণী নয়।
তারা এর সপক্ষে যুক্তি দিয়েছে যে, ইহুদিরা যেভাবে তাওরাত পরিত্যাগ করে ইসরায়েলি বর্ণনাসমূহ অনুযায়ী আমল করা শুরু করেছিল এবং সেগুলোকে 'মিশনাহ' বা 'মিসনাহ' (অর্থাৎ পুনরাবৃত্ত বা ব্যাখ্যায়িত শরীয়ত) নাম দিয়েছিল, ঠিক তেমনিভাবে মুসলিমরা যখন কুরআন ত্যাগ করে সুন্নাহ অনুযায়ী আমল শুরু করল, তখন তারা ইহুদি শব্দ 'মিশনাহ' থেকে এর সাদৃশ্যে 'সুন্নাহ' নাম গ্রহণ করল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
لهذا، كان من النصيحة للمسلمين ولتأصيل موضوع البحث أن نُبَيِّن أصل الكلمة واستعمالها في لغة العرب، ثم مفهومها في اصطلاح علماء السنة وغيرهم، ورجوعه للأصل اللغوي، وعدم تنافي ذلك مع عالمية مضمون السنة، ثم مكانة السنة في الإسلام. وبذلك يثبت فساد هذا الزعم من كل جوانبه وتتضح لنا حقيقة السنة.
ب - اشتقاق السنة واستعمالها اللغويفمن ناحية الاشتقاق قرر اللغويين أن اللغات لا تشتق الواحدة منها من الأخرى، فلا يشتق العربي من العجمي ولا العكس، وإنما يشتق في اللغة الواحدة بعضها من بعض، وإذا وافق لفظ أعجمي لفظا عربيا في حروفه، فلا يدل ذلك على أن أحدهما مأخوذ من الآخر
(1).
وعليه فالقول باشتقاق كلمة سنة من «مشناة» أو «مسناة» العبرية، مردود على زاعمه، ولو قيل إنها مأخوذة بالنقل لا بالاشتقاق، فإن ذلك يرده أيضًا وجود أصل الكلمة ومشتقاتها المجردة والمزيدة في لغة العرب، واستعمالهم لها بمعان حقيقية ومجازية، متعارفة في حياتهم وبيئتهم الخالصة، من قبل الإسلام ومن بعده، وموافقة للمعنى الاصطلاحي لها في عموم الشريعة ومتسعة لما أطلقها عليه كافة علماء الإسلام على مختلف تخصصاتهم ومطالبهم من السنة، وقد بين ذلك بالدقة والتفصيل علماء اللغة وفقهاؤها، واستوعب جمال الدين ابن منظور في كتابه الجامع «لسان العرب» ما جاء عن جمهور المتقدمين والمتأخرين من أهل اللغة وأئمتها، في بيان أصل الكلمة ومشتقاتها واستعمالات العرب لها في
--------------------------------------------
অতএব, মুসলমানদের কল্যাণার্থে এবং গবেষণার বিষয়টি সুদৃঢ় করার জন্য এটি আবশ্যক যে, আমরা শব্দটির মূল এবং আরবি ভাষায় এর ব্যবহার স্পষ্ট করব, অতঃপর আহলুস সুন্নাহর আলেমগণ ও অন্যদের পরিভাষায় এর অর্থ এবং ভাষাগত মূলের সাথে এর সম্পৃক্ততা বর্ণনা করব। সেইসাথে এটিও দেখাব যে, সুন্নাহর বিষয়বস্তুর বিশ্বজনীনতার সাথে এর কোনো বিরোধ নেই। এরপর ইসলামে সুন্নাহর মর্যাদা আলোচনা করব। এর মাধ্যমে এই দাবির অসারতা সবদিক থেকে প্রমাণিত হবে এবং আমাদের নিকট সুন্নাহর প্রকৃত স্বরূপ স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
খ - 'সুন্নাহ' শব্দের ব্যুৎপত্তি ও এর ভাষাগত ব্যবহারব্যুৎপত্তির দিক থেকে ভাষাবিদগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, এক ভাষা অন্য ভাষা থেকে ব্যুৎপন্ন হয় না। সুতরাং আরবি ভাষা অনারবি (আজমি) ভাষা থেকে ব্যুৎপন্ন হয় না এবং এর বিপরীতটিও ঘটে না। বরং একটি নির্দিষ্ট ভাষার শব্দাবলি সেই ভাষারই অন্য শব্দ থেকে ব্যুৎপন্ন হয়। যদি কোনো অনারবি শব্দ বর্ণের দিক থেকে কোনো আরবি শব্দের সাথে মিলে যায়, তবে সেটি প্রমাণ করে না যে তাদের একটি অন্যটি থেকে গৃহীত হয়েছে
(১)।
সুতরাং, 'সুন্নাহ' শব্দটি হিব্রু 'মিশনাহ' বা 'মিসনাহ' থেকে ব্যুৎপন্ন হয়েছে—এমন দাবি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। এমনকি যদি বলা হয় যে এটি ব্যুৎপত্তির মাধ্যমে নয় বরং সরাসরি স্থানান্তরের মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে, তবে সেই দাবিও এই কারণে প্রত্যাখ্যাত হবে যে, আরবি ভাষায় এই শব্দের মূল এবং এর অতিরিক্ত বর্ণযুক্ত ও বর্ণহীন (মুজাররাদ ও মাজিদ) উভয় প্রকার ব্যুৎপন্ন রূপ বিদ্যমান রয়েছে। আরবরা ইসলামপূর্ব ও ইসলাম পরবর্তী যুগে তাদের জীবন ও বিশুদ্ধ পরিবেশে এই শব্দটিকে এর প্রকৃত ও রূপক উভয় অর্থেই ব্যবহার করত। তাছাড়া এটি সামগ্রিক শরিয়তে সুন্নাহর পারিভাষিক অর্থের সাথে সংগতিপূর্ণ এবং ইসলামের সকল বিষয়ের আলেমগণ তাদের নিজ নিজ শাস্ত্রীয় প্রয়োজনে সুন্নাহর যে অর্থ গ্রহণ করেছেন তা এতে বিদ্যমান। ভাষাবিদ ও ফকিহগণ অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও বিস্তারিতভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। জামালুদ্দিন ইবনে মনজুর তার সংকলন গ্রন্থ 'লিসানুল আরব'-এ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অধিকাংশ ভাষাবিদ ও ইমামগণের বক্তব্যসমূহ একত্রিত করেছেন, যেখানে শব্দটির মূল, এর ব্যুৎপন্ন রূপসমূহ এবং আরবদের নিকট এর ব্যবহারসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
جاهليتهم وإسلامهم، مستشهدًا في ذلك بشعرهم الذي هو سجل حياتهم، ونثرهم، ثم بالقرآن الكريم المنزل من عند الله {بِلِسَانٍ عَرَبِيٌّ مُبِينٍ} وبنفس السُّنة النبوية التي صدرت عن أفصح العرب صلى الله عليه وسلم
(1).
ونقل عن الزجاج بيان ورود كلمة السُّنة وما تصرف منها في حديث الرسول صلى الله عليه وسلم بما يوافق أصل الاستعمال اللغوي لها. وهذا من أظهر الأدلة على أن عنونة السُّنة بهذا الاسم نابع من داخلها، وصادر عن الرسول صلى الله عليه وسلم نفسه تعبيرًا عن واقعها، ومكوناتها، وليس دخيلا عليها ولا مستحدث الوضع من بعده، ولا مستجلبا كما هو مزعوم.
قال الزجاج: «وقد تكرر في الحديث ذكر السُّنة وما تصرف منها، والأصل فيه الطريقة والسيرة، ويجوز أن يكون من سنَنْتُ الإبل إذا أحسنت رعيها والقيام عليها»، ثم ساق عدة أحاديث، وبين رجوع معناها لهذا الأصل اللغوي، وهو الطريقة والسيرة وإحسان الرعاية والتوجيه ومن ذلك قوله: «وفي الحديث» «إنما أُنسى لِأَسُنَّ»
(2). أي إنما أُدفع إلى النسيان، لأسوق الناس بالهداية إلى الطريق المستقيم، وأبين لهم ما يحتاجون أن يفعلوا إذا عرض لهم النسيان
(3).
ويطول بنا تتبع ما ذكره صاحب (اللسان) فنجتزئ منه بنقله عن ابن
--------------------------------------------
তাদের জাহেলিয়াত ও ইসলাম, এতে তিনি তাদের কাব্য—যা তাদের জীবনের দলিল, তাদের গদ্য, অতঃপর আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ কুরআনুল কারীম যা {সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়} এবং স্বয়ং সুন্নাহ যা সবচেয়ে বিশুদ্ধভাষী আরবের (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে উৎসারিত, তা দ্বারা প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন
(১)।
আর তিনি আয-যাজ্জাজ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে 'সুন্নাহ' শব্দ এবং এর থেকে উদ্ভূত শব্দসমূহের ব্যবহারের বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন যা এর ভাষাগত ব্যবহারের মূলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি সবচেয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণগুলোর অন্তর্ভুক্ত যে, সুন্নাহকে এই নামে নামকরণ করা এর ভেতর থেকেই উৎসারিত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিজের পক্ষ থেকেই এর বাস্তবতা ও উপাদানসমূহের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এসেছে। এটি বাইরের কোনো বিষয় নয়, তাঁর পরে উদ্ভাবিত কোনো নাম নয় এবং যেমনটি দাবি করা হয় তেমন কোনো আমদানিকৃত বিষয়ও নয়।
আয-যাজ্জাজ বলেন: «হাদীসে সুন্নাহ এবং এর থেকে উদ্ভূত শব্দরূপগুলোর উল্লেখ বারবার এসেছে। এর মূল অর্থ হলো পদ্ধতি ও জীবনচরিত। আর এটি 'সানান্তুল ইবিল' (আমি উট পরিচালনা করেছি) থেকেও হতে পারে, যার অর্থ হলো যখন কেউ উটের উত্তম তদারকি ও দেখাশোনা করে», অতঃপর তিনি কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করেছেন এবং এর অর্থের সংশ্লিষ্টতা এই ভাষাগত মূলের দিকেই দেখিয়েছেন, যা হলো পদ্ধতি, জীবনচরিত এবং উত্তম তদারকি ও নির্দেশনা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর বাণী: «এবং হাদীসে রয়েছে» «আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয় যেন আমি সুন্নাহ (পদ্ধতি) নির্ধারণ করতে পারি»
(২)। অর্থাৎ, আমাকে বিস্মৃতির দিকে ঠেলে দেওয়া হয় যেন আমি হিদায়াতের মাধ্যমে মানুষকে সরল পথের দিকে পরিচালিত করি এবং তাদের কাছে স্পষ্ট করে দেই যে, বিস্মৃতি বা ভুল ঘটে গেলে তাদের কী করা প্রয়োজন
(৩)।
‘লিসান’ গ্রন্থের সংকলক যা উল্লেখ করেছেন তা বিস্তারিত আলোচনা করা আমাদের জন্য দীর্ঘ হবে, তাই আমরা ইবনে থেকে তাঁর উদ্ধৃতিটুকু গ্রহণ করেই ক্ষান্ত হচ্ছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الأعرابي، أن «السن» مصدر والفعل منه «سَنَّ» والاسم «سُنَّةٌ» و «سُنَن» وعليه يقال: من الحديد سنا وسن للقوم سنة وسُننا» وفي «المحكم» لابن سيده: «سن الشئ يسنه فهو مسنون»
(1).
وبذلك يظهر لك عربية الكلمة بتصاريفها المختلفة، أما استعمالاتها، فيرجع معظم ما أفاض في ذكره فيها إلى إطلاق كلمة «السنة» على صورة أو حالة معينة، حسية أو معنوية، سواء كانت حسنة أو سيئة، ولذلك تُستعمل في الشئ ونقيضه، كما في الحديث: «من سن سنة حسنة فله أجرها وأجر من عمل بها، ومن سن سنة سيئة» الحديث
(2).
ومن استعمالها في السيرة السيئة قول الشاعر العربي خالد بن عتبة الهذلي:
لا تجزعن من سيرة أنت سرتها
… فأول راض سنة من يسيرها
(3).
إلا أن أكثر استعمالها فيما هو حسن، ولذلك إذا استعملت مجردة عن الوصف، تنصرف لذلك، فإذا أريد ما هو سي قيدت به
(4)، وعندما نستعرض ما أُطلقت عليه «السنة» في اصطلاح علمائها وغيرهم من المختصين في جوانب الشريعة على تنوع مقاصدهم، من أصوليين وفقهاء ووعاظ، نجده لا يجاوز
--------------------------------------------
আল-আ’রাবী বলেন, «আস-সিন» একটি মাসদার (মূলশব্দ), এর ক্রিয়া হলো «সান্না» এবং বিশেষ্য হলো «সুন্নাহ» ও «সুনান»। এর ওপর ভিত্তি করেই বলা হয়: লোহা ধারালো করা এবং কোনো সম্প্রদায়ের জন্য একটি সুন্নাহ বা রীতি প্রবর্তন করা। ইবনে সিদাহ-র ‘আল-মুহকাম’ গ্রন্থে রয়েছে: ‘সে বস্তুটিকে ধারালো করেছে, সুতরাং সেটি ধারালো করা হয়েছে’
(১)।
এর মাধ্যমে আপনার কাছে শব্দটির বিভিন্ন রূপান্তরসহ এর আরবী ব্যুৎপত্তি স্পষ্ট হলো। আর এর ব্যবহারিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে দেখা যায়, এ বিষয়ে বিস্তারিত যা বলা হয়েছে তার অধিকাংশের মূল হলো—«সুন্নাহ» শব্দটি কোনো নির্দিষ্ট অবস্থা বা পদ্ধতির ওপর প্রয়োগ করা, চাই তা দৃশ্যমান হোক বা অর্থগত, ভালো হোক বা মন্দ। এজন্য শব্দটি কোনো বিষয় এবং তার বিপরীত উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়; যেমন হাদিসে এসেছে: «যে ব্যক্তি কোনো ভালো সুন্নাহ (পদ্ধতি) প্রবর্তন করবে, সে তার সওয়াব পাবে এবং যারা এরপর তা আমল করবে তাদের সওয়াবও সে পাবে। আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ সুন্নাহ প্রবর্তন করবে...» (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)
(২)।
মন্দ আচরণের ক্ষেত্রে শব্দটির ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে আরব কবি খালিদ বিন উতবা আল-হুযালীর উক্তিটি উল্লেখযোগ্য:
তুমি এমন কোনো আচরণে ঘাবড়ে যেও না যা তুমি নিজেই শুরু করেছ
... কেননা কোনো সুন্নাহ বা পদ্ধতির ব্যাপারে প্রথম সন্তুষ্ট ব্যক্তি তো সেই যে তা পরিচালনা করে।
(৩)তবে এর অধিকাংশ ব্যবহার ভালো অর্থেই হয়। তাই যখন এটি কোনো বিশেষণ ছাড়াই সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন সেটি ভালো অর্থেই পর্যবসিত হয়। আর যখন মন্দ কিছু বোঝানোর ইচ্ছা হয়, তখন তার সাথে তা শর্তযুক্ত করা হয়
(৪)। যখন আমরা শরীয়াহর বিভিন্ন দিকের বিশেষজ্ঞ আলেমদের—যাদের মধ্যে উসুলবিদ, ফকিহ এবং ওয়ায়েজরা রয়েছেন—তাদের নিজ নিজ উদ্দেশ্য অনুযায়ী «সুন্নাহ» শব্দের পারিভাষিক প্রয়োগগুলো পর্যালোচনা করি, তখন আমরা দেখি যে তা অতিক্রম করে না—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الاستعمال اللغوي للكلمة فيما هو حسن ماديا أو معنويا، فإليك تعريفها في اصطلاح كل وتوضيح مشتملاتها، ثم بيان مطابقة ذلك لمدلولاتها اللغوية.
جـ - السنة في اصطلاح علمائهالما كان مقصود علماء السنة نقل وإثبات كل ما هو مضاف للنبي صلى الله عليه وسلم، مباشرة أو بالواسطة، فإن جمهورهم عَرَّف السنة بما يُحقق هذا القصد، فقالوا: «السنة كل ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو سيرة أو صفة خُلقية أو خَلقية، حتى الحركات والسكنات في اليقظة والمنام سواء كان ذلك قبل البعثة أم بعدها، وسواء تعلق به حكم شرعي أم لا».
وزاد المحققون: ما أضيف إلى الصحابة والتابعين كذلك من أقوال وأفعال وتقريرات تتعلق بالدين
(1)؛ لكون ذلك مآله الرجوع للرسول صلى الله عليه وسلم، وإن لم يُصرحوا بذلك في كل حال، رهبة من الخطأ في النقل أو رغبة في التقليل من الحديث
(2) والتركيز على العمل التطبيقي، أو اعتمادًا على ما عُرِفُوا به من
--------------------------------------------
শব্দটির ভাষাগত ব্যবহার যা বস্তুগত বা ভাবগতভাবে উত্তম, তার প্রেক্ষিতে এখানে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের পরিভাষায় এর সংজ্ঞা এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়াবলির ব্যাখ্যা, অতঃপর ভাষাগত অর্থের সাথে তার সামঞ্জস্য বর্ণনা করা হলো।
গ - সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের আলেমদের পরিভাষায় সুন্নাহযেহেতু সুন্নাহর আলেমদের উদ্দেশ্য হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সম্বন্ধযুক্ত যা কিছু আছে তা বর্ণনা ও প্রমাণ করা, তাই তাঁদের অধিকাংশ সুন্নাহর এমন সংজ্ঞা দিয়েছেন যা এই উদ্দেশ্যকে সফল করে। তাঁরা বলেন: «সুন্নাহ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত প্রতিটি কথা, কাজ, মৌন সম্মতি, জীবনচরিত অথবা চারিত্রিক বা শারীরিক বৈশিষ্ট্য, এমনকি জাগ্রত অবস্থায় বা ঘুমের ঘোরে তাঁর নড়াচড়া এবং স্থির থাকা—তা নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বের হোক বা পরের, এবং এর সাথে শরয়ি বিধানের সম্পর্ক থাকুক বা না থাকুক»।
গবেষক আলেমগণ আরও যোগ করেছেন: অনুরূপভাবে সাহাবী এবং তাবিঈদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত দ্বীন সংক্রান্ত কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতিসমূহও (সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত)
(১); কারণ এগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকেই ফিরে যাওয়া, যদিও তাঁরা বর্ণনায় ভুল হওয়ার ভয় অথবা হাদীসের সংখ্যা কমানোর আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তব আমলের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কারণে, কিংবা তাঁদের পরিচিত... এর ওপর নির্ভর করে সর্বাবস্থায় তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
التزامهم بما شاهدوه، وما بلغهم عن الرسول صلى الله عليه وسلم، أو ربما صرحوا بإضافته للرسول صلى الله عليه وسلم ولم ينقل إلينا
(1).
وقد وجد بعد التدوين العام للسنن كثير مما رُوي موقوفًا على الصحابة أو التابعين، مرويًا من طرق أخرى مضافًا للنبي صلى الله عليه وسلم، ومن المعروف أنهم لا يصدرون في مثل هذا إلا عن توقيف أو استنباط.
وقد أقر الرسول صلى الله عليه وسلم أصحابه على اجتهادهم في حديث معاذ رضي الله عنه حين أرسله صلى الله عليه وسلم إلى اليمن فقال: كيف تقضي؟ قال: أقضي بما في كتاب الله، قال: فإن لم يكن في كتاب الله؟ قال: فبسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: فإن لم يكن في سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال: أجتهد رأبي، قال: الحمد لله الذي وفق رسول رسول الله
(2)، وتقريره صلى الله عليه وسلم من سنته بالاتفاق
(3).
كما أنه قرن سنة خلفائه الراشدين بسنته وأمر باتباعهما فقال في حديث العرباض بن سارية: «وسترون بعدي اختلافا شديدًا فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين، عضوا عليها بالنواجذ»
(4).
--------------------------------------------
তারা যা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা তাদের কাছে পৌঁছেছে, অথবা সম্ভবত তারা যেগুলোকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সরাসরি সম্বন্ধযুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন কিন্তু তা আমাদের নিকট (মরফু হিসেবে) বর্ণিত হয়নি
(১)—সেগুলোর প্রতি তাদের অবিচল আনুগত্য।
সুন্নাহর সাধারণ সংকলনের পর এমন অনেক বর্ণনা পাওয়া গেছে যা সাহাবী বা তাবিঈগণের নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে বর্ণিত হলেও অন্য সব সূত্রে সেগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করে বর্ণিত হয়েছে। আর এটি সুবিদিত যে, তারা এ জাতীয় বিষয়ে ওহীর জ্ঞান অথবা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকে নিজস্ব কোনো মত প্রদান করতেন না।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে সাহাবীদের ইজতিহাদের প্রতি স্বীকৃতি প্রদান করেছেন। যখন তিনি তাঁকে ইয়ামেনে প্রেরণ করলেন তখন বললেন: তুমি কীভাবে বিচার করবে? তিনি বললেন: আমি আল্লাহর কিতাবে যা আছে তা দিয়ে ফয়সালা করব। তিনি বললেন: যদি আল্লাহর কিতাবে না থাকে? তিনি বললেন: তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী। রাসূলুল্লাহ বললেন: যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহতেও না থাকে? তিনি বললেন: আমি আমার বুদ্ধি খাটিয়ে ইজতিহাদ করব। তখন রাসূলুল্লাহ বললেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আল্লাহর রাসূলের প্রতিনিধিকে তাওফিক দান করেছেন
(২)। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই মৌন সমর্থন সর্বসম্মতিক্রমে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত
(৩)।
তেমনিভাবে তিনি তাঁর খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে তাঁর নিজের সুন্নাহর সাথে যুক্ত করেছেন এবং উভয়টি অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে ইরবায ইবনে সারিয়া বর্ণিত হাদীসে বলেছেন: "তোমরা আমার পরে তীব্র মতভেদ দেখতে পাবে। এমতাবস্থায় তোমাদের জন্য আমার সুন্নাহ এবং হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহ অনুসরণ করা আবশ্যক; তোমরা তা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে"
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
كما جعل أصحابه هداة للأمة من بعده حيث رفع رأسه إلى السماء، فقال: «النجوم أَمَنَة للسماء فإذا ذهبت النجوم أتى السماء ما توعدون، وأنا أَمَنَة لأصحابي، فإذا ذهبت أتى أصحابي، ما يوعدون، وأصحابي أَمَنَة لأمتي فإذا ذهب أصحابي أتى أمتي ما يوعدون»
(1).
وقد كان شأن التابعين بإحسان مع الصحابة شأن الصحابة مع الرسول صلى الله عليه وسلم فكانت أقوالهم وأفعالهم في أمور الدين ترجمة وتطبيقا لما شاهدوه منهم وما تلقوه عنهم وإن لم يُصرحوا بذلك بدورهم في كل حال؛ خشية ما ظهر من الفتن، كما أنه لم يُنقل إلينا كل تصريحاتهم، وهم مُرْتَضَوْن من الله تعالى في قوله: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ}
(2).
كما أنهم مشاركون للصحابة في الخيرية المشهود لهم بها من الرسول صلى الله عليه وسلم في قوله: «خير أُمتي القرن الذين بعثت فيهم ثم الذين يلونهم»، قال أبو هريرة راوي الحديث: «والله أعلم أذكر الثالث أم لا»
(3).
فليس بينهم وبين الرسول صلى الله عليه وسلم إلا واسطة واحدة وهم الصحابة، لهذا كان الأحوط اعتبار ما أضيف إلى الصحابة والتابعين من أمور الدين أقوالا وفتاوى وأعمالاً وتقريرات، من السنة، طالما لم يكن ذلك من باب الرأي والاجتهاد، حتى
--------------------------------------------
তেমনিভাবে তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে তাঁর পরবর্তী উম্মতের জন্য হিদায়াতকারী করেছেন, যখন তিনি আকাশের দিকে তাঁর মাথা তুললেন এবং বললেন: "নক্ষত্ররাজি হলো আকাশের জন্য নিরাপত্তাদানকারী; সুতরাং যখন নক্ষত্ররাজি চলে যাবে, তখন আকাশের ওপর তা আপতিত হবে যার প্রতিশ্রুতি তাকে দেওয়া হয়েছে। আর আমি হলাম আমার সাহাবীদের জন্য নিরাপত্তাদানকারী; সুতরাং যখন আমি চলে যাব, তখন আমার সাহাবীদের ওপর তা আপতিত হবে যার প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেওয়া হয়েছে। আর আমার সাহাবীরা হলো আমার উম্মতের জন্য নিরাপত্তাদানকারী; সুতরাং যখন আমার সাহাবীরা চলে যাবে, তখন আমার উম্মতের ওপর তা আপতিত হবে যার প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেওয়া হয়েছে"
(১).
আর সাহাবীদের সাথে নিষ্ঠার সাথে অনুসরণকারী তাবেঈগণের অবস্থা ছিল ঠিক তেমন, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাহাবীদের অবস্থা ছিল। ফলে দ্বীনি বিষয়ে তাঁদের কথা ও কাজ ছিল সাহাবীদের থেকে তাঁরা যা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তাঁদের কাছ থেকে যা গ্রহণ করেছেন তারই ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ; যদিও ফিতনার আশঙ্কায় তাঁরা প্রতিটি ক্ষেত্রে সবসময় তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেননি। তেমনিভাবে তাঁদের সকল বক্তব্য আমাদের কাছে পৌঁছায়নি। আর তাঁরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত, যেমনটি তিনি তাঁর বাণীতে বলেছেন: "মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম ও অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে"
(২).
তদুপরি তাঁরা সাহাবীদের সাথে সেই শ্রেষ্ঠত্বের অংশীদার যার সাক্ষ্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই বাণীতে দিয়েছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম যুগ হলো তারা যাদের মধ্যে আমি প্রেরিত হয়েছি, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী হবে।" হাদিস বর্ণনাকারী আবু হুরায়রা বলেন: "আল্লাহই ভালো জানেন আমি তৃতীয় যুগের কথা উল্লেখ করেছি কি না"
(৩).
সুতরাং তাঁদের এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে মাত্র একজন মধ্যস্থতাকারী রয়েছেন এবং তাঁরা হলেন সাহাবীগণ। এই কারণে সাহাবী এবং তাবেঈগণের সাথে সম্পৃক্ত দ্বীনি বিষয়সমূহ—তাঁদের কথা, ফতোয়া, আমল ও অনুমোদনকে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত গণ্য করাই অধিকতর নিরাপদ, যতক্ষণ না তা কেবল ব্যক্তিগত রায় ও ইজতিহাদের পর্যায়ে পড়ে, যতক্ষণ পর্যন্ত না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
لا يفوتنا منها شيء وإن تفاوتت درجاتها في الاستدلال كما سيأتي عن الأصوليين.
الجمع بين التعريفين ودليله:وإذا كانت سنة الصحابة والتابعين لهم بإحسان، مردها إلى الرسول صلى الله عليه وسلم على النحو الذي أوضحته، فإنها تعد من اللوازم المتفرعة عن مشتملات السنة في تعريف الجمهور المتقدم، فهي تفصيل للوازم ما ذكر فيه من أقواله صلى الله عليه وسلم وأفعاله وتقريراته، ولا يبعد أن يكون عدم النص عليها في تعريفهم، ليس لاستبعادها بل لما هو معروف من الاكتفاء في تعريف الشئ بأصوله دون استيعاب فروعه ولوازمه، صونًا للتعريف عن الإسهاب.
وبهذا الوجه يمكن الجمع بين التعريفين واعتبارهما تعريفا واحدا اختلفت عبارته بالإجمال والتفصيل، وعليه يصبح أعم تعريف للسنة عند علمائها وأجمعه للمتفق عليه بينهم أنها: ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم مما تقدم عند الجمهور، وما أُضيف إلى الصحابة والتابعين من قول أو فعل أو تقرير مما يتعلق بأمور الدين، وليس من الرأي أو الاجتهاد، وبذلك يشمل سائر جوانب السنة صراحة لا التزاما، ولهذا ارتضاه السلف والمحققون من العلماء
(1).
• ويؤيده الآتي:
(1) ما استقر عليه علماء السنة المعتمدون منذ فجر تدوينها العام وما تلاه من التصنيف المنظم حتى الآن.--------------------------------------------
এ থেকে আমাদের কোনো কিছুই বাদ পড়বে না, যদিও দলিলের দিক থেকে সেগুলোর স্তরে ভিন্নতা রয়েছে, যেমনটি মূলনীতিবিদদের পক্ষ থেকে সামনে বর্ণিত হবে।
উভয় সংজ্ঞার মধ্যে সমন্বয় এবং এর প্রমাণ:যদি সাহাবী এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণের সুন্নাহর ভিত্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকেই ফিরে যায় যে পদ্ধতিতে আমি ব্যাখ্যা করেছি, তবে তা ইতিপূর্বে বর্ণিত জুমহুর উলামায়ে কিরামের সংজ্ঞায় সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত বিষয়াবলি থেকে নির্গত একটি আবশ্যিক বিষয় হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কথা, কাজ এবং মৌনসম্মতি সম্পর্কে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তার আবশ্যিক বিষয়গুলোর একটি বিস্তারিত রূপ। তাদের সংজ্ঞায় এটির স্পষ্ট উল্লেখ না থাকাটি একে বাদ দেওয়ার জন্য নয়, বরং কোনো বিষয়ের সংজ্ঞায় তার মূল ভিত্তিগুলো উল্লেখ করাই যথেষ্ট বলে যা পরিচিত এবং এর শাখা-প্রশাখা ও আবশ্যিক বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত না করা—যাতে সংজ্ঞাটি দীর্ঘসূত্রতা থেকে রক্ষা পায়—হয়তো সেই কারণেই এমনটি হয়েছে।
এই পন্থায় উভয় সংজ্ঞার মধ্যে সমন্বয় করা এবং সেগুলোকে একটি সংজ্ঞাই বিবেচনা করা সম্ভব, যার শব্দবিন্যাসে কেবল সংক্ষিপ্তকরণ ও বিস্তারিতকরণের পার্থক্য রয়েছে। এর ভিত্তিতে, সুন্নাহর ইমামগণের নিকট এবং তাঁদের মধ্যে সর্বসম্মত বিষয়গুলোর আলোকে সুন্নাহর সবচেয়ে ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞাটি দাঁড়ায় এই যে: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধিত করা হয়েছে—যেমনটি জুমহুর উলামায়ে কিরামের নিকট ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে—এবং যা সাহাবী ও তাবিঈগণের কথা, কাজ বা মৌনসম্মতি হিসেবে দ্বীনি বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে এবং যা কেবল রায় বা ইজতিহাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। এর মাধ্যমে সুন্নাহর যাবতীয় দিক কেবল পরোক্ষভাবে নয় বরং স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এ কারণেই সালাফ এবং গবেষক আলিমগণ একে পছন্দ করেছেন
(১)।
• নিচের বিষয়টি একে সমর্থন করে:
(১) সুন্নাহর সাধারণ সংকলনের সূচনালগ্ন এবং পরবর্তী সুশৃঙ্খল শ্রেণিবিন্যাস থেকে বর্তমান পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য সুন্নাহ বিশারদগণ যে বিষয়ের ওপর স্থির হয়েছেন।--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
حيث نجد التابعي الجليل محمد بن شهاب الزهري رائد الجامعين للسنة في عصره، يحدثنا عنه رفيقه صالح بن كيسان فيقول: «كنت أنا وابن شهاب ونحن نطلب العلم فاجتمعنا على أن نكتب السنن فكتبنا كل شي جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم، ثم قال (أي الزهري) نكتب ما جاء عن أصحابه فقلت لا، ليس سنة، وقال هو: بل هو سنة، فكتب ولم أكتب فأنجح وضيعت»
(1).
ومن هذا يظهر لك استقرار الأمر على ما رأى الزهري، من عد ما جاء عن الصحابة سنة، ورجوع صالح لذلك وندمه على ما ضيعه منها بمخالفته أولا، وعدم مشاركة الزهري في تدوينها بالإضافة لسنة الرسول صلى الله عليه وسلم.
وبهذا كان مفهوم السنة الذي جرى عليه الزهري كما نرى، ووافقه عليه معاصروه، مطابقًا لتعريفها العام الذي ذكرناه، وقد بين الزهري مشاركة غيره له في هذا، وانتشار ما دونوه على ذلك المنهج رسميًا في أقطار الإسلام عمومًا بأمر الخليفة العالم عمر بن عبد العزيز، دون نكير عليه، فيقول: «أمرنا عمر ابن عبد العزيز بجمع السنن، فكتبناها دفترًا دفترًا فبعث إلى كل أرض له عليها سلطان دفترًا»
(2).
وقد تتابع علماء السنة على ذلك فيما تلا هذا التدوين العام، من التأليف المنظم على مر العصور، حتى عصر العراقي وما بعده إلى يومنا هذا، فما من مؤلف جامع، للمتقدمين أو المتأخرين، على مختلف شروطهم ومناهجهم، إلا نجده مشتملًا على ما هو مضاف للرسول صلى الله عليه وسلم ولأصحابه وللتابعين،
--------------------------------------------
যেখানে আমরা মহান তাবেয়ী মুহাম্মাদ ইবন শিহাব আয-যুহরীকে পাই, যিনি তাঁর যুগে সুন্নাহ সংকলনকারীদের অগ্রদূত ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে তাঁর সঙ্গী সালিহ ইবন কায়সান আমাদের বলেন: «আমি এবং ইবন শিহাব যখন ইলম অন্বেষণ করছিলাম, তখন আমরা সুন্নাহগুলো লিখে রাখার ব্যাপারে একমত হলাম। সুতরাং আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা কিছু এসেছে তা লিখে ফেললাম। অতঃপর তিনি (অর্থাৎ আয-যুহরী) বললেন, সাহাবীদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে আমরা তাও লিখব। আমি বললাম, না, তা সুন্নাহ নয়। তিনি বললেন, বরং তাও সুন্নাহ। ফলে তিনি লিখলেন আর আমি লিখলাম না। পরিশেষে তিনি সফল হলেন আর আমি সুযোগ হারালাম»
(১).
এ থেকে আপনার কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সাহাবীদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তাকে সুন্নাহ হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে আয-যুহরীর মতটিই সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আর সালিহ-এর সেই মতে ফিরে আসা এবং শুরুতে দ্বিমত পোষণ করার কারণে যা তিনি হারিয়েছিলেন তার জন্য অনুশোচনা করা, এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর পাশাপাশি সাহাবীদের বাণী ও কর্ম সংকলনে আয-যুহরীর সাথে অংশগ্রহণ না করার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়।
এর মাধ্যমেই সুন্নাহর সেই ধারণাটি ফুটে ওঠে যা আয-যুহরী অনুসরণ করেছিলেন যেমনটি আমরা দেখতে পাচ্ছি, এবং তাঁর সমসাময়িকগণও তাঁর সাথে একমত হয়েছিলেন, যা আমাদের উল্লিখিত সুন্নাহর সাধারণ সংজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আয-যুহরী এ কাজে অন্যদের অংশগ্রহণের কথা এবং সেই মানহাজ অনুযায়ী তাদের সংকলিত বিষয়গুলো আলেম খলীফা উমর ইবন আব্দুল আজিজের নির্দেশে কোনো আপত্তি ছাড়াই সমগ্র ইসলামী ভূখণ্ডে রাষ্ট্রীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: «উমর ইবন আব্দুল আজিজ আমাদের সুন্নাহসমূহ সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছিলেন, ফলে আমরা খণ্ড খণ্ড করে তা লিখেছিলাম। এরপর তিনি তাঁর কর্তৃত্বাধীন প্রতিটি অঞ্চলে একটি করে খণ্ড পাঠিয়েছিলেন»
(২).
এই সাধারণ সংকলনের পর পরবর্তী যুগগুলোতে সুন্নাহর আলেমগণ যুগ যুগ ধরে সুশৃঙ্খল রচনার মাধ্যমে এই ধারা অব্যাহত রেখেছেন, এমনকি ইরাকী-র যুগ এবং তার পরবর্তী থেকে আজ পর্যন্ত। পূর্ববর্তী বা পরবর্তী এমন কোনো জামে (সংকলন গ্রন্থ) নেই—তাঁদের শর্ত ও মানহাজ যাই হোক না কেন—যাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ এবং তাবেয়ীদের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ونجدهم يعدون كل ذلك سننا مأثورة، وأن تفاوت القدر الوارد في كل منها قلة وكثرة، وتفاوتت جهة إيراد المروي عن الصحابة والتابعين، من دليل أصلي تارة، إلى دليل ثانوي للتقوية والاستشهاد والاستئناس.
فأمير المؤمنين في الحديث عبد الله بن المبارك وطبقته، من أوائل المصنفين في السنة في العالم الإسلامي جمعوا في مصنفاتهم بين المروي عن الرسول صلى الله عليه وسلم والمروي عن صحابته وتابعيهم، متخذين الكل دليلا أصليا
(1)، ونظرة منا إلى الفهرس التحليلي لكتاب «الزهد والرقائق» لابن المبارك ترينا أن الوارد فيه عن الصحابة والتابعين، ضعف الوارد عن الرسول صلى الله عليه وسلم
(2).
وأيضا الإمام مالك في «موطئه» يورد ما جاء عن الصحابة والتابعين، دليلا أصليا ويسميه سنة
(3)، لكن ما أورده أقل كما مما أورده ابن المبارك في الزهد بكثير، أما الإمام البخاري في «صحيحه» فقال عنه الحافظ ابن حجر: «وإنما يورد من الموقوفات من فتاوى الصحابة والتابعين وتفاسيرهم لكثير من الآيات، على طريق الاستئناس والتقوية لما يختاره من المذاهب في المسائل المختلف فيها»
(4)، وهذا بلا شك نوع من الاستدلال بها، وإن كان أوفى من صنيع من تقدموه، ولو نظرنا إلى المسانيد نجد أوفاها وهو مسند الإمام أحمد
--------------------------------------------
আমরা তাঁদের দেখি যে তাঁরা এই সব কিছুকেই বর্ণিত সুন্নাহ হিসেবে গণ্য করছেন, যদিও এগুলোর প্রত্যেকটিতে বর্ণিত পরিমাণের আধিক্য ও স্বল্পতার তারতম্য রয়েছে। সাহাবী ও তাবিঈদের থেকে বর্ণিত উদ্ধৃতিগুলোর উপস্থাপনার ধরণও ভিন্ন ভিন্ন; কখনো তা মৌলিক দলিল হিসেবে, আবার কখনো শক্তি প্রদান, প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন এবং সমর্থন লাভের জন্য গৌণ দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
সুতরাং হাদীস শাস্ত্রে আমীরুল মুমিনীন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক এবং তাঁর সমসাময়িকগণ, যাঁরা ইসলামী বিশ্বে সুন্নাহর প্রাথমিক সংকলকদের অন্তর্ভুক্ত, তাঁরা তাঁদের সংকলনগুলোতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বর্ণিত হাদীস এবং তাঁর সাহাবী ও তাবিঈদের বর্ণনাসমূহের মধ্যে সমন্বয় করেছেন এবং এই সব কিছুকেই মৌলিক দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন
(১)। ইবনুল মুবারকের «আয-যুহদ ওয়ার রাকায়িক» গ্রন্থের বিশ্লেষণমূলক সূচির দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, সেখানে সাহাবী ও তাবিঈদের থেকে বর্ণিত বর্ণনার সংখ্যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত বর্ণনার দ্বিগুণ
(২)।
তেমনিভাবে ইমাম মালিক তাঁর «মুওয়াত্তা» গ্রন্থে সাহাবী ও তাবিঈদের থেকে বর্ণিত বিষয়াদি মৌলিক দলিল হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সেটিকে সুন্নাহ নামে অভিহিত করেন
(৩), তবে তাঁর উদ্ধৃত বর্ণনার পরিমাণ ইবনুল মুবারকের «আয-যুহদ» গ্রন্থে বর্ণিত বর্ণনার চেয়ে অনেক কম। আর ইমাম বুখারীর «সহীহ» সম্পর্কে হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: «তিনি সাহাবী ও তাবিঈদের ফতোয়া এবং অনেক আয়াতের তাফসীর সংক্রান্ত মাওকুফ বর্ণনাগুলো কেবল সমর্থন ও শক্তি প্রদানের জন্য উল্লেখ করেন, যাতে মতভেদপূর্ণ মাসআলাগুলোতে তিনি যে মতটি বেছে নিয়েছেন তার অনুকূলে প্রমাণ পাওয়া যায়»
(৪)। এটি নিঃসন্দেহে সেসব বর্ণনা দিয়ে দলিল পেশ করারই একটি ধরণ, যদিও তা তাঁর পূর্বসূরিদের কাজের চেয়ে অধিকতর পরিমার্জিত। আর আমরা যদি মুসনাদ গ্রন্থগুলোর দিকে তাকাই, তবে সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ হলো ইমাম আহমদের মুসনাদ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
يشتمل على ما رواه الصحابة عن الرسول صلى الله عليه وسلم، وعلى ما روي عن الصحابي نفسه من كلامه أو فعله أو تقريره، وكذلك عن التابعي
(1) وعلى نهج هؤلاء الأئمة سار من بعدهم إلى يومنا هذا.
(2) تقرير مصطلح علوم السنة:ومما يؤيد دخول المروي عن الصحابة والتابعين، مما ليس من رأيهم واجتهادهم، في مفهوم السنة الاصطلاحي، تقرير العلماء الذين ألفوا في مصطلح علوم السنة وقواعد بحثها لذلك، فنجدهم يقسمون السنن باعتبار من أضيفت إليه، إلى ثلاثة أقسام، ويُلقبون كلا منها بلقب خاص، ويخصصون له مبحثًا فيلقبون المضاف للرسول صلى الله عليه وسلم بالمرفوع.
وفي ذلك يقول العراقي في «ألفيته»:
وسمْ مرفوعًا مضافًا للنبي
(2)ويلقبون المضاف للصحابي بالموقوف، كما يقول العراقي في «الألفية»:
وسِمْ بالموقوف ما قصرته
… بصاحب وَصَلْتَهُ أو قطعته
قال السخاوي: أي ما قصرته على صحابي قولا له وفعلا أو نحوهما مما لا قرينة فيه للرفع
(3).
ويلقبون المضاف للتابعي بالمقطوع، يقول العراقي في «الألفية» أيضًا:
--------------------------------------------
এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা সাহাবীগণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন এবং যা স্বয়ং সাহাবীর কথা, কাজ বা মৌন সম্মতি থেকে বর্ণিত হয়েছে, তেমনিভাবে তাবিঈদের থেকেও বর্ণিত বিষয়াদি এতে অন্তর্ভুক্ত
(১)। আর এই ইমামগণের পথ অনুসরণ করেই তাঁদের পরবর্তীগণ বর্তমানকাল পর্যন্ত চলেছেন।
(২) সুন্নাহর উলুম বা হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষার স্বীকৃতি:সাহাবী ও তাবিঈগণ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে এবং যা তাঁদের নিজস্ব মতামত বা ইজতিহাদ নয়, তা সুন্নাহর পারিভাষিক ধারণার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি সেই সব আলিমদের সিদ্ধান্তের দ্বারাও সমর্থিত হয় যারা সুন্নাহর উলুমের পরিভাষা এবং এর গবেষণার নিয়মাবলি সম্পর্কে গ্রন্থ রচনা করেছেন। আমরা দেখতে পাই যে, সুন্নাহ কার দিকে সম্বন্ধিত হয়েছে সেই বিবেচনায় তাঁরা একে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন এবং প্রত্যেকটির জন্য বিশেষ উপাধি দিয়েছেন ও স্বতন্ত্র আলোচনার পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করেছেন। ফলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে সম্বন্ধিত বর্ণনাকে তাঁরা 'মারফু' হিসেবে অভিহিত করেন।
এই প্রসঙ্গে ইরাকী তাঁর «আলফিয়্যাহ» গ্রন্থে বলেছেন:
নবীর দিকে যা সম্বন্ধিত, তাকে মারফু বলে নামকরণ করো
(২)আর সাহাবীর দিকে সম্বন্ধিত বর্ণনাকে তাঁরা 'মাওকুফ' বলে অভিহিত করেন, যেমনটি ইরাকী তাঁর «আলফিয়্যাহ» গ্রন্থে বলেছেন:
যাকে তুমি সাহাবীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছ তাকে মাওকুফ বলে অভিহিত করো
… চাই তার সনদ তুমি যুক্ত করো বা বিচ্ছিন্ন করো
সাখাভী বলেন: অর্থাৎ যা তুমি কোনো সাহাবীর কথা, কাজ বা এই জাতীয় অন্য কিছুর মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছ, যাতে মারফু হওয়ার মতো কোনো আলামত বা চিহ্ন বিদ্যমান নেই
(৩)।
আর তাবিঈর দিকে সম্বন্ধিত বর্ণনাকে তাঁরা 'মাকতু' হিসেবে অভিহিত করেন। ইরাকী তাঁর «আলফিয়্যাহ» গ্রন্থে আরও বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وسم بالمقطوع قول التابعي وفعله
… الخ
(1) ويطلقون على الجميع اسم السنة، كما يقول العراقي:
وأهل هذا الشأن قسموا السنن إلى صحيح وضعيف وحسن
(2).
(3) الاعتماد على ما جاء عن الصحابة والتابعين في التشريعات:فقد اعتبر جمهور الأئمة من أصوليين وفقهاء، ما جاء عن الصحابة والتابعين، أحد أدلة الأحكام الشرعية وأنواعها المعمول بها، كما سنذكره عنهم، وبالتالي كان لابد من اعتبار علماء السنة لذلك ضمن أنواعها مع تمييزها عن المرفوع وعنايتهم بجمعها وإثباتها كالسنة المرفوعة، حتى يُوفّروا أقصى ما يمكن من الأدلة والأحكام الواردة عن السلف، لتمكين العلماء والمجتهدين من استنباط الأحكام المتجددة في ضوء ما ثبت عن الرسول صلى الله عليه وسلم مباشرة، أو بواسطة صحابته وتابعيهم بإحسان كما قدمنا.
أمثلة لمشتملات مفهوم السنة عند علمائهاوبعد أن بينا إستقرار الأمر على أن السنة في اصطلاح علمائها ومؤلفاتهم، تتضمن ما أضيف إلى الرسول صلى الله عليه وسلم وإلى أصحابه وتابعيهم بإحسان، نرى الأمر يتطلب ذكر أمثلة توضيحية من واقع مدونات السنة وعلومها، ليتأكد انطباق التعريف على المعرف، وتتضح عموم الجوانب التي جعلها العراقي مجال أعماله وآثاره وتزول بعض الشبهات.
1 - السنة القولية والرد على من ينكرها:فمثال ما أُضيف إلى الرسول صلى الله عليه وسلم من الأقوال: ما رواه الإمام الشافعي
--------------------------------------------
তাবিয়ীদের কথা ও কাজকে 'মাকতু' (বিচ্ছিন্ন) হিসেবে অভিহিত করা হয়
… ইত্যাদি
(১) এবং তাঁরা এই সবকিছুর উপরেই 'সুন্নাহ' নাম প্রয়োগ করেন, যেমন ইরাকি বলেন:
এবং এই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ সুন্নাহকে সহিহ, যঈফ এবং হাসান হিসেবে বিভক্ত করেছেন
(২)।
(৩) বিধান প্রণয়নে সাহাবী ও তাবিয়ীদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর নির্ভর করা:উসুলবিদ এবং ফকিহগণের অধিকাংশ ইমামই সাহাবী ও তাবিয়ীদের থেকে বর্ণিত বিষয়গুলোকে শরয়ী বিধানের অন্যতম দলিল এবং এর প্রচলিত প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন, যা আমরা তাঁদের পক্ষ থেকে উল্লেখ করব। ফলস্বরূপ, সুন্নাহর আলেমদের জন্য মারফু হাদিস থেকে এদের পৃথক করে সুন্নাহর প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য ছিল। তাঁরা মারফু সুন্নাহর মতো এগুলো সংগ্রহ ও প্রমাণের ক্ষেত্রেও যত্নশীল ছিলেন, যাতে সালাফদের থেকে বর্ণিত দলিল ও বিধানসমূহ যতটুকু সম্ভব সরবরাহ করা যায়। এর ফলে আলেম ও মুজতাহিদগণ সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত অথবা ইতিপূর্বে আমরা যেভাবে উল্লেখ করেছি, তাঁর সাহাবী ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিয়ীদের মাধ্যমে প্রমাণিত বিষয়ের আলোকে নিত্যনতুন বিধান উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হন।
সুন্নাহর আলেমদের নিকট সুন্নাহর ধারণার অন্তর্ভুক্ত বিষয়াবলির উদাহরণসুন্নাহর আলেমদের পরিভাষায় এবং তাঁদের রচনাবলীতে সুন্নাহ বলতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিয়ীদের দিকে যা কিছু সম্পৃক্ত করা হয়েছে তাকেই অন্তর্ভুক্ত করে—এই বিষয়টি স্থির হওয়ার পর, আমরা মনে করি যে সুন্নাহর সংকলনসমূহ এবং এর ইলমের বাস্তবতা থেকে কিছু ব্যাখ্যামূলক উদাহরণ উল্লেখ করা প্রয়োজন। যাতে সংজ্ঞার সাথে সংজ্ঞায়িত বিষয়ের মিল নিশ্চিত হয় এবং ইরাকি যে সমস্ত দিককে তাঁর কর্ম ও রচনার ক্ষেত্র হিসেবে নির্ধারণ করেছেন তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং কিছু সংশয় দূর হয়।
১ - সুন্নাতে কউলি (বাচনিক সুন্নাহ) এবং যারা এটি অস্বীকার করে তাদের জবাব:রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্পৃক্ত বাচনিক বিষয়ের উদাহরণ: যা ইমাম শাফেয়ী বর্ণনা করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাফিজ আল-ইরাকি ওয়া আসারুহু ফিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
رضي الله عنه قال: وجدنا علي بن الحسين يقول: أخبرنا عمر بن عثمان عن أسامة ابن زيد أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا يرث المسلم الكافر» فيثبتها «أي عمر ابن عثمان» سنة ويثبتها الناس بخبره سنة
(1).
وأخرج الحاكم أيضا بسنده عن عبد الله بن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يقبل الله صلاة بغير طهور، ولا صدقة من غلول» ثم قال: «هذه سنة صحيحة لا معارض لها»
(2).
وفي تسمية الشافعي والحاكم لقول الرسول صلى الله عليه وسلم «سنة» رد على من يقول: «إن المراد بـ «السنة» عمل الرسول صلى الله عليه وسلم المتواتر وليس المراد بها كل رواية رويت بالسند اللفظي، فلان عن فلان
(3) بل الموجود في كتب السنة المتعددة، من السنة القولية الثابتة، أكثر من السنن الفعلية فضلا عن المتواتر منها».
2 - السنة العملية:وأما أفعاله صلى الله عليه وسلم فمن أمثلة ما كان منها قبل البعثة ما روته عائشة رضي الله عنها من قول خديجة رضي الله عنها له: «إنك لتصل الرحم وتحمل الكل، وتكسب المعدوم وتقري الضيف، وتعين على نوائب الحق»
(4).
وهذا الحديث من أمثلة ما تشمله السنة في اصطلاح علمائها، دون الأصوليين والفقهاء؛ لأنه لا يتضمن حكما تكليفيا للأمة ولا يعد دليلا،
--------------------------------------------
(আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তিনি বলেন: আমরা আলি ইবনুল হুসাইনকে বলতে শুনেছি: আমাদের নিকট উমর ইবনু উসমান উসামা ইবনু যায়েদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুসলিম কাফিরের উত্তরাধিকারী হবে না"। সুতরাং উমর ইবনু উসমান একে একটি 'সুন্নাহ' হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর সংবাদের ভিত্তিতে মানুষও একে সুন্নাহ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন
(১).
আল-হাকিমও তাঁর সনদে আবদুল্লাহ ইবনু উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "পবিত্রতা ব্যতীত আল্লাহ কোনো সালাত কবুল করেন না এবং আত্মসাৎকৃত মালের সাদাকাহও নয়।" অতঃপর তিনি (আল-হাকিম) বলেন: "এটি একটি সহীহ সুন্নাহ যার কোনো বিরোধী বর্ণনা নেই"
(২).
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর ক্ষেত্রে শাফিঈ ও হাকিম কর্তৃক 'সুন্নাহ' পরিভাষার ব্যবহার তাদের জন্য খণ্ডনস্বরূপ যারা দাবি করেন যে: "'সুন্নাহ' বলতে কেবল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুতাওয়াতির (নিরবচ্ছিন্ন) কর্মসমূহকেই বুঝায়, শাব্দিক সনদে অমুক হতে অমুক সূত্রে বর্ণিত প্রতিটি বর্ণনাকে সুন্নাহ বলা হয় না
(৩)। বরং সুন্নাহর বিভিন্ন কিতাবে প্রমাণিত যে পরিমাণ বাচনিক সুন্নাহ (সুন্নাতে কাওলিয়াহ) বিদ্যমান রয়েছে, তা কর্মগত সুন্নাহর (সুন্নাতে ফেইলিয়াহ) তুলনায় অনেক বেশি, আর মুতাওয়াতির বর্ণনার সংখ্যা তো আরও কম।"
২ - কর্মগত সুন্নাহ:আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কর্মসমূহের মধ্যে নবুওয়াত পূর্ববর্তী সময়ের উদাহরণ হলো যা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেছেন—খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) নবীজিকে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই আপনি আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখেন, অসহায়দের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বদের উপার্জনের ব্যবস্থা করেন, মেহমানদারী করেন এবং ন্যায়ের পথে আসা বিপদ-আপদে সাহায্য করেন"
(৪).
এই হাদীসটি এমন সব বিষয়ের উদাহরণ যা হাদীসবিশারদদের পরিভাষায় 'সুন্নাহ'র অন্তর্ভুক্ত, তবে উসূলবিদ ও ফকীহদের নিকট নয়; কেননা এতে উম্মতের জন্য কোনো পালনীয় বিধান (হুকমে তাকলিফী) নেই এবং একে দলিল হিসেবেও গণ্য করা হয় না।
--------------------------------------------