(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মাসমুয়াতিল জিয়া আল-মাকদিসি বি মারওয়াহ (পৃষ্ঠা: -)
المنتقى من مسموعات الضياء المقدسي بمرو   (ضياء الدين المقدسي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: المنتقى من مسموعات الضياء المقدسي بـ (مرو)

المؤلف: ضياء الدين أبو عبد الله محمد بن عبد الواحد المقدسي [ت 643 هـ]

قرأه وخرج نصوصه: أبو عبد الله عمر بن بسام بن الصادق

راجعه وقدم له: أبو عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان

راجعه وأشرف على طبعه: د محمد محمدي محمد جميل النورستاني

الناشر: الهيئة العامة للعناية بطباعة ونشر القرآن الكريم والسنة النبوية وعلومهما - الكويت

الطبعة: الأولى، 1437 هـ - 2016 م

عدد الأجزاء: 4 (متسلسلة الترقيم)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 جُمادَى الآخرة 1447

মার্ভ-এ যিয়াউদ্দীন আল-মাকদিসির শ্রুত বিষয়াবলির সংকলন   (যিয়াউদ্দীন আল-মাকদিসি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: মার্ভ-এ যিয়াউদ্দীন আল-মাকদিসির শ্রুত বিষয়াবলির সংকলন

লেখক: যিয়াউদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি [মৃ. ৬৪৩ হিজরি]

পাঠ ও তখরিজ: আবু আবদুল্লাহ উমর বিন বাসসাম বিন আস-সাদিক

সম্পাদনা ও ভূমিকা: আবু উবায়দাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান

সম্পাদনা ও প্রকাশনা তদারকি: ড. মুহাম্মদ মুহাম্মাদি মুহাম্মদ জামিল আন-নুরিস্তানি

প্রকাশক: পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ এবং সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহের মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিষয়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষ - কুয়েত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৭ হিজরি - ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪ (ধারাবাহিক নম্বরযুক্ত)

[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৪ জুমাদিউল আখিরা ১৪৪৭

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মাসমুয়াতিল জিয়া আল-মাকদিসি বি মারওয়াহ (পৃষ্ঠা: ١)
‌‌مقدمة الناشر

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين، ومن استن بسنتهم واقتدى أثرهم إلى يوم الدين، أما بعد:

فإنَّ (الهيئة العامة للعناية بطباعة ونشر القرآن الكريم والسنة النبوية وعلومهما) من الصروح التي أنشئت لخدمة وعناية كتاب الله تعالى، وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، وقد عقدت العزم من بداية نشأتها على انتقاء المصادر المهمة التي تخدم هذين المجالين، بغية نشرها، حتى تعم الفائدة.

ومن الكتب التي تعتزم الهيئة طبعها ونشرها: كتاب (المنتقى من مسموعات الضياء المقدسي بمرو)، وهو كتاب لم يسبق طبعه ونشره، وهو من روائع تراث أسلافنا، وهو يصل الشرق بالغرب، ويُذكِّرُنا - بعنوانه قبل محتواه - بتلك الجهود الجبارة التي بذلها المحدثون لجمع حديث النبي صلى الله عليه وسلم، حيث طافوا الدنيا، والتقطوا أحاديثه من أفواه الأئمة والمشايخ بتجشم الرحلة إليهم، متحملين في سبيل ذلك كافة المشاق التي لا يتغلب عليها إلا أصحاب الهمم العالية.

وقد قام فضيلة الشيخ/ أبو عبد الله عمر بن بسام بن الصادق بتخريج أحاديث الكتاب وآثاره، والحكم عليها حسب ما أداه إليها اجتهاده.

وقد كلفت الهيئة الدكتور محمد محمدي بن محمد جميل بمراجعة الكتاب، كما طلبت منه استكمال بعض النواقص في الكتاب، فأضاف في المقدمة:
প্রকাশকের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের সরদার আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সকল সাহাবী এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা তাঁদের সুন্নাহর অনুসরণ ও পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন তাদের ওপর। অতঃপর:

নিশ্চয়ই (পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ এবং এর জ্ঞানসমূহের মুদ্রণ ও প্রকাশনার যত্ন ও সেবায় নিয়োজিত সাধারণ কর্তৃপক্ষ) হলো মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর সেবা ও যত্নের জন্য প্রতিষ্ঠিত অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান। এটি এর সূচনালগ্ন থেকেই এই দুই ক্ষেত্রে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ উৎসসমূহ নির্বাচন করে তা প্রকাশ করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করেছে, যাতে এর উপকারিতা ব্যাপক হয়।

কর্তৃপক্ষ যে বইগুলো মুদ্রণ ও প্রকাশের ইচ্ছা পোষণ করেছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: ‘আল-মুনতাকা মিন মাসমুয়াতিয যিয়া আল-মাকদিসি বি-মারউ’ (মারউতে যিয়া আল-মাকদিসির শ্রবণকৃত হাদীসসমূহের সংকলন) কিতাবটি। এটি এমন একটি কিতাব যা পূর্বে কখনও মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়নি। এটি আমাদের পূর্বসূরিদের ঐতিহ্যের এক অনবদ্য নিদর্শন, যা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে। এর বিষয়বস্তুর পূর্বেই এর শিরোনাম আমাদের মুহাদ্দিসগণের সেই সুমহান প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যা তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস সংগ্রহের জন্য ব্যয় করেছিলেন। তাঁরা বিশ্ব ভ্রমণ করেছেন এবং ইমাম ও শাইখদের নিকট সফরের কষ্ট সহ্য করে সরাসরি তাঁদের মুখ থেকে হাদীসসমূহ সংগ্রহ করেছেন। এ পথে তাঁরা এমন সব কষ্ট ও ক্লান্তি সহ্য করেছেন যা কেবল সুউচ্চ সংকল্পের অধিকারীরাই জয় করতে পারেন।

সম্মানিত শাইখ আবু আব্দুল্লাহ উমর ইবনে বাসসাম ইবনে আস-সাদিক কিতাবটির হাদীস ও আসারসমূহের তাখরীজ (উৎস নির্দেশ) করেছেন এবং তাঁর ইজতিহাদ অনুযায়ী সেগুলোর ওপর হুকুম (মান) বর্ণনা করেছেন।

কর্তৃপক্ষ ডক্টর মুহাম্মদ মুহাম্মাদী বিন মুহাম্মদ জামিলকে কিতাবটি পর্যালোচনার দায়িত্ব প্রদান করেছে। সেই সাথে তাঁর নিকট কিতাবটির কিছু অপূর্ণতা সম্পন্ন করার অনুরোধ করা হয়েছিল, ফলে তিনি ভূমিকায় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সংযোজন করেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মাসমুয়াতিল জিয়া আল-মাকদিসি বি মারওয়াহ (পৃষ্ঠা: ٢)
1 - ترجمة المؤلف (الحافظ ضياء الدين المقدسي).

2 - رحلاته، وقد تحدث فيها عن رحلاته، مركّزًا على رحلته إلى مرو.

3 - منهجه في هذا الكتاب.

ونحن إذ نقدِّمُ هذا الكتاب بهذه الحلة القشيبة؛ نأمل من القراء الكرام أن يتكرموا علينا بآرائهم حول إصدارات الهيئة، حتى نستفيد منها، ونتمكن من تطوير العمل على ضوئها.

وصلى الله وسلم على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين، والحمد لله رب العالمين.

د. فهد صياح الديحاني

نائب المدير العام للبحوث والدراسات

بالهيئة العامة للعناية بطباعة ونشر

القرآن الكريم والسنة النبوية وعلومهما
১ - লেখকের জীবনী (আল-হাফিজ জিয়াউদ্দীন আল-মাকদিসি)।

২ - তাঁর সফরসমূহ; এতে তিনি তাঁর সফরগুলো সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যেখানে মার্ভ সফরের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

৩ - এই গ্রন্থে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি।

আমরা যখন এই গ্রন্থটি এই চমৎকার অবয়বে উপস্থাপন করছি; তখন আমরা সম্মানিত পাঠকদের নিকট আশা করছি যে, তাঁরা কর্তৃপক্ষের প্রকাশনা সম্পর্কে তাঁদের মতামত প্রদান করে আমাদের ধন্য করবেন, যাতে আমরা তা থেকে উপকৃত হতে পারি এবং তার আলোকে কাজটিকে আরও উন্নত করতে পারি।

আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

ড. ফাহাদ সায়্যাহ আদ-দিহানি

গবেষণা ও সমীক্ষা বিষয়ক উপ-মহাপরিচালক

কুরআনুল কারীম, সুন্নাহ এবং সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহের মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিষয়ক

সাধারণ কর্তৃপক্ষ
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মাসমুয়াতিল জিয়া আল-মাকদিসি বি মারওয়াহ (পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة المراجع

تشتمل هذه المقدمة على: ترجمة المؤلف، واستعراض رحلاته، ونبذة عن موطن المؤلّف (بيت المقدس)، وعن مدينة (مرو)، والتي جمع فيها هذا الكتاب.

 

‌‌أولا: ترجمة المؤلّف

المؤلف أحد أئمة أسرة المقادسة آل قدامة، وأحد أشهر المحدثين من الحنابلة، وقد ترجم له الكثيرون من القدامى والمعاصرين(1)، وأوسع من ترجم له من القدامى هو الإمام الذهبي في كتابه (تاريخ الإسلام)، وسأكتفي هنا بنقل ترجمته منه، مع تعليقات مختصرة عند الحاجة.

قال الإمام الذهبي في ترجمته:

«محمد بن عبد الواحد بن أحمد بن عبد الرحمن بن إسماعيل الحافظ الحجة الإمام ضياء الدين، أبو عبد الله السعدي، المقدسي، ثم الدمشقي الصالحي، صاحب التصانيف النافعة.

ولد بالدير المبارك في سنة تسع وستين وخمسمائة.

وسمع من: أبي المعالي بن صابر، ومحمد حمزة بن أبي الصقر، وأبي المجد الفضل بن الحسين البانياسي، وأبي الحسين أحمد بن الموازيني، والخضر بن طاوس، ويحيى الثقفي، وأبي الفتح عمر بن علي الجويني، وابن صدقة

--------------------------------------------

(1) أوسع من أفرده بترجمة مستقلة من المعاصرين: الدكتور محمد مطيع الحافظ، في كتابه (التنويه والتبيين في سيرة محدّث الشام الحافظ ضياء الدين)، وهو مطبوع.

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌সম্পাদকের ভূমিকা

এই ভূমিকাটি অন্তর্ভুক্ত করে: লেখকের জীবনী, তার সফরের বিবরণ, লেখকের জন্মভূমি (বাইতুল মাকদিস) সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা এবং (মার্ভ) শহর সম্পর্কে, যেখানে তিনি এই গ্রন্থটি সংকলন করেছেন।

 

‌‌প্রথমত: লেখকের জীবনী

লেখক হলেন মাকাদিসা বা আলে কুদামা বংশের ইমামদের অন্যতম এবং হাম্বলি মাযহাবের প্রসিদ্ধতম মুহাদ্দিসগণের একজন। প্রাচীন ও সমসাময়িক অনেক আলেমই তার জীবনী রচনা করেছেন(১)। প্রাচীনদের মধ্যে সবচেয়ে বিস্তারিতভাবে তার জীবনী উল্লেখ করেছেন ইমাম যাহাবী তার ‘তারিখুল ইসলাম’ গ্রন্থে। আমি এখানে প্রয়োজন অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত টীকাসহ সেখান থেকে তার জীবনী উদ্ধৃত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব।

ইমাম যাহাবী তার জীবনীতে বলেছেন:

«মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ইসমাঈল, আল-হাফিয, আল-হুজ্জাহ, আল-ইমাম যিয়াউদ্দীন, আবু আব্দুল্লাহ আস-সা’দী, আল-মাকদিসী, অতঃপর আদ-দিমাশকী আস-সালিহী, উপকারী গ্রন্থসমূহের রচয়িতা।

তিনি ৫৬৯ হিজরী সনে দাইরুল মুবারাকে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন: আবুল মা’আলী ইবনে সাবির, মুহাম্মাদ হামযাহ ইবনে আবিল সাক্বর, আবুল মাজদ আল-ফাযল ইবনুল হুসাইন আল-বানিয়াসি, আবুল হুসাইন আহমদ ইবনুল মাওয়াযীনি, আল-খিযর ইবনে তাউস, ইয়াহইয়া আস-সাকাফী, আবুল ফাতহ উমর ইবনে আলী আল-জুওয়াইনী এবং ইবনে সাদাকা থেকে।

--------------------------------------------

(১) সমসাময়িকদের মধ্যে যারা তার ওপর স্বতন্ত্র জীবনীগ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিস্তারিত হলো: ড. মুহাম্মাদ মুতী আল-হাফিযের ‘আত-তানবীহ ওয়াত তাব্যীন ফী সীরাতি মুহাদ্দিসিশ শাম আল-হাফিয যিয়াউদ্দীন’ গ্রন্থটি, যা বর্তমানে মুদ্রিত।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মাসমুয়াতিল জিয়া আল-মাকদিসি বি মারওয়াহ (পৃষ্ঠা: ٤)
الحراني، وإسماعيل الجنزوي، وخلق.

ولزم الحافظ عبد الغني وتخرج به، وحفظ القرآن، وتفقه.

ورحل أولًا:

إلى مصر سنة خمس وسبعين، فسمع: أبا القاسم البوصيري، وإسماعيل بن ياسين، والأرتاحي، وبنت سعد الخير، وعلي بن حمزة، وجماعة.

ورحل إلى بغداد بعد موت ابن كُلَيب، فلهذا روى عن أصحابه، وفاته الأخذ عنه. وقد أجاز له ابن كليب ومن هو أكبر من ابن كليب؛ كشهدة، والسِّلَفي.

وسمع من: المبارك بن المعطوش، وهو أكبر شيخ له ببغداد، وأبي الفرج بن الجوزي، وعبد الله بن أبي المجد، وبقاء بن حُنَّد(1)، وعبد الله بن أبي الفضل بن مزروع، وعبد الرحمن بن محمد بن ملاح الشَّط، وطائفة من أصحاب قاضي المرستان، وابن الحصين، وعرض القرآن على عبد الواحد بن سلطان.

ثم دخل أصبهان بعد موت أبي المكارم بن اللبان(2)، وسمع من: أبي جعفر الصيدلاني، وأبي القاسم عبد الواجد الصيدلاني، وخلف بن أحمد الفراء، والمفتي أسعد بن محمود العجلي، وأبي الفخر أسعد بن سعيد بن روح، وأسعد بن أحمد الثقفي الضرير، وإدريس بن محمد آل والوية(3)، وزاهر بن أحمد الثقفي، وهو أخو أسعد، والمؤيد ابن الإخوة(4)، وعفيفة.

--------------------------------------------

(1) هو بقاء بن عمر بن عبد الباقي بن حُنَّد الدقاق، أبو المعمر الأزجي (ت 600 هـ).

(2) هو القاضي العالم مسند أصبهان أبو المكارم أحمد بن أبي عيسى محمد بن محمد التيمي الشروطي، ابن اللبان (ت 597 هـ). ترجمته في (السير) (21/ 362).

(3) هو إدريس بن محمد بن أبي القاسم أبو القاسم العطار الأصبهاني، المعروف بآل والوية العطار. ترجمته في: (تاريخ الإسلام) للذهبي (13/ 128).

(4) هو المؤيد بن عبد الرحيم بن أحمد بن محمد ابن الإخوة، أبو مسلم البغدادي، ثم الأصبهاني المعدل، واسمه الأصلي هشام (527 - 606 هـ)، ترجمته في: (تاريخ الإسلام) للذهبي (13/ 150).

আল-হাররানি, ইসমাঈল আল-জানযাওয়ি এবং আরও অনেকে।

তিনি হাফেজ আব্দুল গানি-এর সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁর মাধ্যমেই শিক্ষা সমাপ্ত করেন, কুরআন হিফজ করেন এবং ফিকহ অর্জন করেন।

তিনি প্রথম সফর করেন:

পাঁচাত্তর সালে মিসরে, সেখানে তিনি শ্রবণ করেন: আবুল কাসিম আল-বুসাইরি, ইসমাঈল বিন ইয়াসিন, আল-আরতাহি, বিনতে সাদ আল-খাইর, আলি বিন হামজা এবং একদলের নিকট থেকে।

ইবনুল কুলাইবের মৃত্যুর পর তিনি বাগদাদ সফর করেন, একারণে তিনি তাঁর ছাত্রদের থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে সরাসরি তাঁর কাছ থেকে গ্রহণ করার সুযোগ হারিয়েছেন। অবশ্য ইবনুল কুলাইব এবং তাঁর চেয়েও বড় ব্যক্তিবর্গ তাঁকে ইজাজত (অনুমতি) দিয়েছিলেন; যেমন শুহদাহ এবং আস-সিলাফি।

তিনি শ্রবণ করেন: আল-মুবারক বিন আল-মাতুশ—যিনি বাগদাদে তাঁর সবচেয়ে বড় শাইখ ছিলেন—আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযি, আবদুল্লাহ বিন আবিল মাজদ, বাকা বিন হুন্নান্দ(১), আবদুল্লাহ বিন আবিল ফজল বিন মাযরু‘, আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন মাল্লাহুশ শাত এবং কাযি আল-মারিস্তানের ছাত্রদের একদল ও ইবনুল হুসাইনের নিকট থেকে। আর তিনি আবদুল ওয়াহিদ বিন সুলতানের কাছে কুরআন উপস্থাপন করেন।

এরপর তিনি আবু মাকারিম ইবনুল লাব্বান(২)-এর মৃত্যুর পর ইসফাহানে প্রবেশ করেন এবং শ্রবণ করেন: আবু জাফর আস-সাইদালানি, আবুল কাসিম আবদুল ওয়াজিদ আস-সাইদালানি, খালাফ বিন আহমদ আল-ফাররা, মুফতি আসআদ বিন মাহমুদ আল-ইজলি, আবুল ফখর আসআদ বিন সাঈদ বিন রুহ, আসআদ বিন আহমদ আস-সাকাফি আদ-দারির, ইদ্রিস বিন মুহাম্মদ আল ওয়ালওয়িয়াহ(৩), যাহির বিন আহমদ আস-সাকাফি—যিনি আসআদের ভাই—আল-মুয়ায়্যাদ ইবনুল ইখওয়াহ(৪) এবং আফিফার নিকট থেকে।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন বাকা বিন উমর বিন আবদুল বাকি বিন হুন্নান্দ আদ-দাক্কাক, আবু মুয়াম্মার আল-আযজি (মৃত্যু ৬০০ হি.)।

(২) তিনি হলেন আলিম বিচারক, ইসফাহানের মুসনিদ আবু মাকারিম আহমদ বিন আবি ঈসা মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আত-তাইমি আশ-শুরুতি, ইবনুল লাব্বান (মৃত্যু ৫৯৭ হি.)। তাঁর জীবনী (আস-সিয়ার) গ্রন্থে রয়েছে (২১/ ৩৬২)।

(৩) তিনি হলেন ইদ্রিস বিন মুহাম্মদ বিন আবিল কাসিম আবু কাসিম আল-আত্তার আল-ইসফাহানি, যিনি আল ওয়ালওয়িয়াহ আল-আত্তার নামে পরিচিত। তাঁর জীবনী আয-যাহাবির (তারিখুল ইসলাম) গ্রন্থে রয়েছে (১৩/ ১২৮)।

(৪) তিনি হলেন আল-মুয়ায়্যাদ বিন আবদুর রহিম বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ ইবনুল ইখওয়াহ, আবু মুসলিম আল-বাগদাদি, অতঃপর আল-ইসফাহানি আল-মুআদ্দিল, তাঁর মূল নাম হিশাম (৫২৭ - ৬০৬ হি.), তাঁর জীবনী আয-যাহাবির (তারিখুল ইসলাম) গ্রন্থে রয়েছে (১৩/ ১৫০)।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মাসমুয়াতিল জিয়া আল-মাকদিসি বি মারওয়াহ (পৃষ্ঠা: ٥)
الفارفانية، وأبي زرعة عبيد الله بن محمد اللفتواني، وخَلْقٌ سواهم. وبهمذان من: عبد الباقي بن عثمان بن صالح، وجماعة.

ورجع إلى دمشق بعد الستمائة، ثم رحل إلى أصبهان ثانيًا، فأكثر بها وتزيد، وحصل شيئًا كثيرًا من المسانيد والأجزاء.

ورحل منها إلى نيسابور، فدخلها ليلة وفاة منصور الفراوي، فسمع من: المؤيد الطوسي، وزينب الشعرية، والقاسم الصفار.

ورحل إلى هراة، فأكثر بها عن أبي روح عبد المعز، وجماعة. ورحل إلى مرو، فأقام بها نحوًا من سنتين. وأكثر بها عن: أبي المظفر بن السمعاني، وجماعة.

وسمع بحلب، وحران، والموصل. وقدم دمشق بعد خمسة أعوام بعلم كثير وكتب وأصول نفيسة فتح الله عليه بها هبة ونسخًا وشراءً. وسمع بمكةً من أبي الفتوح بن الحصري وغيره. ورجع ولزم الاشتغال والنسخ والتصنيف.

وسمع في خلال ذلك على الشيخ الموفَّق وبابته(1).

وأجاز له: السلفي، وشُهدة، وأحمد بن علي بن الناعم، وأسعد بن يلدرك، وتَجَنِّي الوهبانية، وابن شاتيل، وعبد الحق اليوسفي، وأخوه عبد الرحيم اليوسفي، وعيسى الدُّوشابي، ومحمد بن نسيم العيشوني، ومسلم بن ثابت النحاس، وأبو شاكر السقلاطوني، وعبد الله بن بري النحوي، وأبو الفتح عبد الله بن أحمد الخرقي، وخَلْقٌ كثير.

ذكره ابن الحاجب تلميذه فقال: شيخنا أبو عبد الله شيخ وقته، ونسيج وحده علمًا وحفظًا وثقة ودينًا، من العلماء الربانيين، وهو أكبر من أن يدل

--------------------------------------------

(1) في نسخة دار الغرب: «ويسمع في خلال ذلك على الشيخ الموفق ويأتيه»، والمثبت أنسب.

আল-ফারফানিয়া, আবু যুরআ উবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-লাফতাওয়ানি এবং তাঁদের ছাড়াও আরও অনেকে। হামাদানে: আবদুল বাকি বিন উসমান বিন সালিহ এবং এক জামাতের নিকট থেকে।

তিনি ছয়শত হিজরির পর দামেস্কে ফিরে আসেন, এরপর দ্বিতীয়বার ইসফাহানে সফর করেন। সেখানে তিনি প্রচুর ইলম অর্জন করেন এবং অনেক মুসনাদ ও আজযা (হাদিসের অংশ বিশেষ) সংগ্রহ করেন।

সেখান থেকে তিনি নিশাপুরে সফর করেন। মানসুর আল-ফারাওয়ির ইন্তেকালের রাতে তিনি সেখানে প্রবেশ করেন। তিনি আল-মুয়াইয়াদ আত-তুসি, যায়নাব আশ-শা’রিয়াহ এবং আল-কাসিম আস-সাফফারের নিকট থেকে শ্রবণ করেন।

তিনি হেরাতে সফর করেন এবং সেখানে আবু রুহ আবদুল মুয়িয ও এক জামাতের নিকট থেকে প্রচুর হাদিস গ্রহণ করেন। এরপর তিনি মারভে সফর করেন এবং সেখানে প্রায় দুই বছর অবস্থান করেন। সেখানে আবু আল-মুজাফফর বিন আস-সামআনি ও এক জামাত থেকে প্রচুর হাদিস সংগ্রহ করেন।

তিনি হালাব, হাররান ও মসুলে শ্রবণ করেন। পাঁচ বছর পর তিনি প্রচুর ইলম, কিতাবাদি এবং মূল্যবান পাণ্ডুলিপি নিয়ে দামেস্কে আগমন করেন, যা আল্লাহ তাঁকে উপহার, প্রতিলিপি গ্রহণ ও ক্রয়ের মাধ্যমে দান করেছিলেন। মক্কায় তিনি আবুল ফুতুহ বিন আল-হুসরি ও অন্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন। এরপর ফিরে এসে তিনি ইলমি কাজ, প্রতিলিপি তৈরি এবং গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেন।

এরই মাঝে তিনি শাইখ আল-মুওয়াফফাক এবং তাঁর পর্যায়ের ব্যক্তিদের(১) নিকট শ্রবণ করেন।

তাঁকে ইজাজত প্রদান করেছেন: আস-সিলাফি, শুহদাহ, আহমাদ বিন আলি বিন আন-নায়িম, আসআদ বিন ইয়ালদাক, তাজানি আল-ওয়াহবানিয়াহ, ইবনু শাতিল, আবদুল হক আল-ইউসুফি, তাঁর ভাই আবদুর রাহিম আল-ইউসুফি, ঈসা আদ-দুশাবি, মুহাম্মাদ বিন নাসিম আল-আইশুনি, মুসলিম বিন সাবিত আন-নাহহাস, আবু শাকির আস-সাকলাতুনি, আবদুল্লাহ বিন বাররি আন-নাহবি, আবুল ফাতহ আবদুল্লাহ বিন আহমাদ আল-খিরাকি এবং আরও অনেক মানুষ।

তাঁর ছাত্র ইবনুল হাজিব তাঁর সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: আমাদের শাইখ আবু আবদুল্লাহ তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ শাইখ ছিলেন; ইলম, হিফজ, বিশ্বস্ততা ও দ্বীনদারিতে তিনি ছিলেন অনন্য। তিনি রব্বানি আলেমদের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি এর চেয়েও মহান যে তাঁর গুণ বর্ণনা করা প্রয়োজন হবে...

--------------------------------------------

(১) দারুল গারব সংস্করণে রয়েছে: "এরই মধ্যে তিনি শাইখ আল-মুওয়াফফাকের নিকট শ্রবণ করতেন এবং তাঁর নিকট আসতেন", তবে মূল পাঠে যা সাব্যস্ত করা হয়েছে তা-ই অধিক মানানসই।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মাসমুয়াতিল জিয়া আল-মাকদিসি বি মারওয়াহ (পৃষ্ঠা: ٦)
عليه مثلي.

كان شديد التحري في الرواية، ثقة فيما يرويه، مجتهدًا في العبادة، كثير الذكر، منقطعًا عن الناس، متواضعًا في ذات الله، صحيح الأصول، سهل العارية.

ولقد سألت عنه في رحلتي جماعةً من العارفين بأحوال الرجال، فأطنبوا في حقه ومدحوه بالحفظ والزهد، حتى إنه لو تكلم في الجرح والتعديل لقبل منه.

سألت أبا عبد الله البرزالي عنه فقال: حافظ ثقة، جبل دين.

وذكره ابن النجار في تاريخه فقال: كتب وحصل الأصول، وسمعنا بقراءته الكثير.

وأقام بهراة ومرو مدةً، وكتب الكتب الكبار بهمة عالية، وجد واجتهاد، وتحقيق وإتقان.

كتبت عنه ببغداد، ودمشق، وبنيسابور.

وهو حافظ متقن ثبت حجة عالم بالحديث والرجال، ورع تقي، زاهد، عابد، محتاط في أكل الحلال، مجاهد في سبيل الله. ولعمري ما رأت عيناي مثله في نزاهته وعفته وحسن طريقته في طلب العلم.

سألته عن مولده فقال: في جمادى الأولى سنة تسع وستين. ورأيت بخطه: مولدي في سادس جمادى الآخرة، فالله أعلم.

قلت: الثاني هو الصحيح؛ فإنه كذلك أخبر لعمر بن الحاجب.

قلت: سمعت الحافظ أبا الحجاج المزي - وما رأيت مثله - يقول: الشيخ الضياء أعلم بالحديث والرجال من الحافظ عبد الغني، ولم يكن في وقته مثله. وحكى النجم بن الخباز عن العزّ عبد الرحمن بن محمد بن الحافظ قال: ما جاء بعد الدارقطني مثل شيخنا الضياء.
আমার মতো ব্যক্তি তাঁর ব্যাপারে এমনটিই বলে।

তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ও সূক্ষ্মানুসন্ধানী ছিলেন, যা বর্ণনা করতেন তাতে নির্ভরযোগ্য ছিলেন, ইবাদতে কঠোর পরিশ্রমী, অধিক জিকিরকারী, মানুষের নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন (নির্জনতাপ্রিয়), আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে বিনয়ী, বিশুদ্ধ মূল পাণ্ডুলিপির অধিকারী এবং গ্রন্থ ধার দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উদার ছিলেন।

আমি আমার সফরকালে বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞ একদল ব্যক্তির কাছে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি; তাঁরা তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন এবং তাঁর স্মৃতিশক্তি ও দুনিয়াবিমুখতার (জুহদ) ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, এমনকি তিনি যদি 'জারহ ও তাদিল' (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও গ্রহণ যোগ্যতা) বিষয়ে কোনো কথা বলতেন, তবে তা গ্রহণ করা হতো।

আমি আবু আব্দুল্লাহ আল-বিরজালিকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "তিনি একজন নির্ভরযোগ্য হাফিজ এবং দ্বীনের পাহাড় সদৃশ।"

ইবনুন নাজ্জার তাঁর ইতিহাসে তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "তিনি লিখেছেন এবং মূল পাণ্ডুলিপিগুলো সংগ্রহ করেছেন এবং আমরা তাঁর পাঠ থেকে অনেক কিছু শুনেছি।"

তিনি হেরাত ও মার্ভে দীর্ঘকাল অবস্থান করেন এবং সুউচ্চ হিম্মত, একাগ্রতা, কঠোর পরিশ্রম, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও নিপুণতার সাথে বড় বড় গ্রন্থসমূহ লিপিবদ্ধ করেন।

আমি বাগদাদ, দামেস্ক ও নিশাপুরে তাঁর নিকট থেকে (হাদীস) লিখেছি।

তিনি একজন নিপুণ হাফিজ, নির্ভরযোগ্য প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব, হাদীস ও রিজাল (বর্ণনাকারী) শাস্ত্রের পণ্ডিত, পরহেজগার, আল্লাহভীরু, দুনিয়াবিমুখ, ইবাদতকারী, হালাল আহারের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক এবং আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদ ছিলেন। আমার জীবনের কসম! জ্ঞান অন্বেষণের পথে তাঁর সততা, পবিত্রতা এবং চমৎকার কর্মপদ্ধতির ক্ষেত্রে আমার দুই চোখ তাঁর মতো দ্বিতীয় কাউকে দেখেনি।

আমি তাঁকে তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "ঊনসত্তর (৫৬৯ হিজরী) সালের জমাদিউল উলা মাসে।" আবার আমি তাঁর নিজের হাতের লেখায় দেখেছি: "আমার জন্ম ছয়ই জমাদিউল আখিরাত," আল্লাহই ভালো জানেন।

আমি বলি: দ্বিতীয়টিই সঠিক; কারণ তিনি উমর ইবনুল হাজিবকেও অনুরূপ সংবাদ দিয়েছিলেন।

আমি বলি: আমি হাফিজ আবুল হাজ্জাজ আল-মিজ্জীকে বলতে শুনেছি—আর আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি—তিনি বলতেন: "হাদীস ও রিজাল শাস্ত্রে হাফিজ আব্দুল গণীর চেয়ে শেখ যিয়া (যিয়াউদ্দীন) অধিক জ্ঞানী ছিলেন এবং তাঁর সময়ে তাঁর মতো কেউ ছিল না।" আর নাজম ইবনুল খাব্বায আল-ইযয আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাফিজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "ইমাম দারা কুতনীর পরে আমাদের শেখ যিয়াউদ্দীনের মতো আর কেউ আসেনি।"
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মাসমুয়াতিল জিয়া আল-মাকদিসি বি মারওয়াহ (পৃষ্ঠা: ٧)
وقال الشرف أبو المظفر بن النابلسي: ما رأيت مثل شيخنا الضياء.

 

•‌‌ ذكر تصانيف الضياء:

كتاب الأحكام، يعوز قليلًا في ثلاث مجلدات، فضائل الأعمال في مجلد، الأحاديث المختارة، خرج منها تسعين جزءًا، وهي الأحاديث التي تصلح أن يُحتج بها سوى ما في الصحيحين، خرجها من مسموعاته، كتاب فضائل الشام، ثلاثة أجزاء، كتاب فضائل القرآن، جزء، كتاب الحجة، كتاب النار، كتاب مناقب أصحاب الحديث، كتاب النهي عن سب الأصحاب، كتاب سير المقادسة، كالحافظ عبد الغني، والشيخ الموفق، والشيخ أبي عمر، وغيرهم، في عدة أجزاء.

وله تصانيف كثيرة في أجزاء عديدة لا يحضرني ذكرها.

وله مجاميع ومنتخبات كثيرة، وله كتاب الموافقات في نيف وخمسين جزءًا. وبنى مدرسة على باب الجامع المظفري، وأعانه عليها بعض أهل الخير، وجعلها دار حديث، وأن يسمع فيها جماعة من الصبيان، ووقف بها كتبه وأجزاءه. وفيها وقف الشيخ الموفق والبهاء عبد الرحمن، والحافظ عبد الغني، وابن الحاجب، وابن سلام، وابن هامل، والشيخ علي الموصلي.

وقد نهبت في نكبة الصالحية - نوبة غازان - وراح منها شيء كثير، ثم تماثلت، وتراجع حالها. وفيها، بحمد الله، الآن جملة نافعة للطلبة.

وكان رحمه الله ملازمًا لجبل الصالحية، قَلَّ أن يدخل البلد أو يحدث به. ولا أعلم أحدًا سمع منه بالمدينة، وإن كان فنزر يسير.

أخذ عنه جماعة من شيوخه، وروى عنه: الحافظ أبو عبد الله البرزالي، والحافظ أبو عبد الله بن النجار، وجماعة.

ومن شيوخنا: أبو العباس بن الظاهري، وأبو الفدا إسماعيل بن الفراء، والتقي أحمد بن مؤمن، والشمس محمد بن حازم، والشيخ علي بن بقا،
এবং আশ-শরাফ আবু মুজাফফর বিন আন-নাবুলুসি বলেছেন: আমাদের শায়খ আদ-দিয়া-এর মতো কাউকে আমি দেখিনি।

 

•‌‌ আদ-দিয়া-এর রচনাবলির বর্ণনা:

'কিতাবুল আহকাম', যা তিনটি খণ্ডে সামান্য অসম্পূর্ণ; এক খণ্ডে 'ফাদায়িলুল আমাল'; 'আল-আহাদিসুল মুখতারা', যার নব্বইটি খণ্ড তিনি বের করেছেন, আর এগুলো এমন হাদিস যা সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) ব্যতীত দলিল হিসেবে পেশ করার উপযোগী, তিনি এগুলো তার শ্রবণকৃত হাদিসসমূহ থেকে চয়ন করেছেন; তিন খণ্ডে 'কিতাবু ফাদায়িলিশ শাম'; এক খণ্ডে 'কিতাবু ফাদায়িলিল কুরআন'; 'কিতাবুল হুজ্জাহ'; 'কিতাবুন নার'; 'কিতাবু মানাকিবি আসহাবিল হাদিস'; 'কিতাবুন নাহয়ি আন সাব্বিল আসহাব' (সাহাবায়ে কিরামকে গালি দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত গ্রন্থ); এবং হাফিজ আব্দুল গনি, শায়খ আল-মুওয়াফফাক, শায়খ আবু উমর ও অন্যান্য মাকদিসিগণের জীবনী নিয়ে কয়েক খণ্ডে 'কিতাবু সিয়ারিল মাকাদিসাহ'।

অনেক খণ্ডে তার আরও বহু গ্রন্থ রয়েছে যা এই মুহূর্তে আমার স্মরণে নেই।

তার অনেক সংকলন ও নির্বাচিত অংশ রয়েছে, এবং পঞ্চাশের অধিক খণ্ডে তার 'কিতাবুল মুওয়াফাকাত' রয়েছে। তিনি মুজাফফারি জামে মসজিদের ফটকে একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করেন, যাতে কিছু সৎ ব্যক্তি তাকে সাহায্য করেছিলেন। তিনি একে 'দারুল হাদিস' হিসেবে নির্ধারণ করেন এবং ব্যবস্থা করেন যেন সেখানে একদল শিশু হাদিস শ্রবণ করতে পারে। তিনি সেখানে তার কিতাবসমূহ ও পাণ্ডুলিপিগুলো ওয়াকফ করেন। সেখানে শায়খ আল-মুওয়াফফাক, আল-বাহা আব্দুর রহমান, আল-হাফিজ আব্দুল গনি, ইবনুল হাজিব, ইবনু সালাম, ইবনু হামিল এবং শায়খ আলী আল-মাওসিলিও তাদের কিতাবসমূহ ওয়াকফ করেছেন।

সালেহিয়ার বিপর্যয়ে—গাজানের আক্রমণের সময়—এটি লুণ্ঠিত হয়েছিল এবং এর অনেক কিছু হারিয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে এটি পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে আসে এবং অবস্থার উন্নতি হয়। আল্লাহর প্রশংসায়, বর্তমানে সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য উপকারী এক বিশাল সংগ্রহ রয়েছে।

তিনি (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) জাবালে সালেহিয়াতে সর্বদা অবস্থান করতেন, শহরে খুব কমই প্রবেশ করতেন বা সেখানে হাদিস বর্ণনা করতেন। আমি জানি না যে শহরে কেউ তার থেকে হাদিস শুনেছে কি না, আর যদি কেউ শুনেও থাকে তবে তা অতি সামান্য।

তার একদল শায়খ তার থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তার থেকে বর্ণনা করেছেন: হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ আল-বারজালি, হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ ইবনুন নাজ্জার এবং আরও অনেকে।

আমাদের শায়খদের মধ্যে রয়েছেন: আবুল আব্বাস বিন আজ-জাহিরি, আবু আল-ফিদা ইসমাইল বিন আল-ফাররা, আত-তাকি আহমদ বিন মুমিন, আশ-শামস মুহাম্মদ বিন হাজিম এবং শায়খ আলী বিন বাকা।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মাসমুয়াতিল জিয়া আল-মাকদিসি বি মারওয়াহ (পৃষ্ঠা: ٨)
والنجم موسى الشقراوي، والنجم إسماعيل بن الخباز، وداود بن حمزة، ومحمد بن علي ابن الموازيني، وعثمان الحمصي، والشهاب أحمد الدشتي، وأبو علي بن الخلال، وعيسى بن المطعم، وأبو بكر بن عبد الدائم، ومحمد ابن خطيب بيت الآبار، وزينب بنت عبد الله ابن الرضي، والقاضي المجد سالم بن أبي الهيجا، ومحمد بن يوسف الذهبي، ومسند الشام القاضي تقي الدين، سليمان فأكثر عنه، فإني سمعته يقول: سمعت من شيخنا الضياء ألف جزء.

وقرأت بخط المحدث محمد بن الحسن بن سلام قال: محمد بن عبد الواحد شيخنا، ما رأيت مثله في ما اجتمع له، كان مقدمًا في علم الحديث، فكأن هذا العلم قد انتهى إليه وسلم له. ونظر في الفقه وناظر فيه. وجمع بين فقه الحديث ومعانيه. وشَدَا طرفًا من الأدب وكثيرًا من اللغة والتفسير. وكان يحفظ القرآن واشتغل مدة به، وقرأ بالروايات على مشايخ عديدة، وكان يتلوه تلاوةً عذبة. وجمع كلَّ هذا مع الورع التام، والتقشف الزائد، والتعفف والقناعة والمروءة والعبادة الكثيرة، وظلف النفس وتجنبها أحوال الدنيا ورعوناتها، والرفق بالغرباء والطلاب، والانقطاع عن الناس، وطول الروح على الفقير والغريب.

وكان محبًا لمن يأخذ عنه، مكرمًا لمن يسمع عليه. وكان يحرض على الاشتغال، ويعاون بإعارة الكتب. وكنت أسأله عن المشكلات فيجيبني أجوبةً شافية عجز عنها المتقدمون، ولم يدرك شأوها المتأخرون. قرأت عليه الكثير، وما أفادني أحد كإفادته. وكان ينبهني على المهمات من العوالي، ويأمرني بسماعها، ويكرمني كثيرًا.

وقرأت عليه صحيح مسلم، كانت له أُرَيْضَة بباب الجامع ورثها من أبيه، وكان يبني فيها قليلًا قليلًا على قدر طاقته، فيسر بناء كثير عنها بهمته، وحسن قصده، وإجابة دعوته، ونزَّلَ فيها المشتغلين بالفقه والحديث، وكان
এবং নাজমুদ্দিন মুসা আশ-শাকরাবী, নাজমুদ্দিন ইসমাঈল ইবনুল খাব্বায, দাউদ ইবনে হামযা, মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনুল মুওয়াযিনী, উসমান আল-হিমসী, শিহাব আহমাদ আদ-দাশতী, আবু আলী ইবনুল খাল্লাল, ঈসা ইবনুল মুতয়িম, আবু বকর ইবনে আব্দুল দায়িম, মুহাম্মাদ ইবনে খতীব বাইতিল আবার, যায়নাব বিনতে আব্দুল্লাহ ইবনুর রাযী, আল-কাযী আল-মাজদ সালিম ইবনে আবিল হাইজা, মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আয-যাহাবী এবং মুসনাদুশ শাম আল-কাযী তাকীউদ্দীন সুলাইমান। আমি তাঁর (সুলাইমান) নিকট থেকে অনেক বর্ণনা গ্রহণ করেছি; আমি তাঁকে বলতে শুনেছি যে, "আমি আমাদের শায়খ যিয়াউদ্দীন (আল-মাকদিসী) থেকে এক হাজার জুয (খণ্ড) শ্রবণ করেছি।"

আমি মুহাদ্দিস মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান ইবনে সালামের হস্তাক্ষরে লিখিত দেখেছি, তিনি বলেন: আমাদের শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ; তাঁর মাঝে যেসব গুণের সমাবেশ ঘটেছিল, আমি তার সমতুল্য কাউকে দেখিনি। তিনি হাদিস শাস্ত্রে অগ্রণী ছিলেন, যেন এই ইলম তাঁর নিকট এসেই সমাপ্ত হয়েছে এবং তাঁর জন্যই এটি নির্ধারিত হয়েছে। তিনি ফিকহ শাস্ত্র পর্যালোচনা ও এতে বিতর্ক (মুনাযারা) করতেন। তিনি হাদিসের ফিকহ এবং এর মর্মার্থের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছিলেন। তিনি সাহিত্য এবং ভাষা ও তাফসীরের একটি বড় অংশের জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। তিনি কুরআন হিফয করেছিলেন এবং দীর্ঘকাল এতে নিমগ্ন ছিলেন। তিনি বহু শায়খের নিকট বিভিন্ন কিরাআতে কুরআন পাঠ করেন এবং অত্যন্ত মধুর স্বরে তিলাওয়াত করতেন। এই সবকিছুর সাথে তাঁর মাঝে ছিল পূর্ণ তাকওয়া, চরম কৃচ্ছ্রসাধন, নিষ্কলঙ্কতা, অল্পে তুষ্টি, চারিত্রিক মাধুর্য ও প্রচুর ইবাদত। তিনি সর্বদা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেন এবং দুনিয়াবী মোহ ও এর অসারতা থেকে নিজেকে দূরে রাখতেন। তিনি আগন্তুক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি অত্যন্ত নম্র ছিলেন, লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতেন এবং অভাবী ও মুসাফিরদের প্রতি সুদীর্ঘ ধৈর্যের অধিকারী ছিলেন।

তিনি যারা তাঁর কাছ থেকে ইলম গ্রহণ করত তাদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং যারা তাঁর নিকট হাদিস শ্রবণ করত তাদের সম্মান করতেন। তিনি ইলম অর্জনে সর্বদা উৎসাহিত করতেন এবং কিতাব ধার দিয়ে সহযোগিতা করতেন। আমি তাঁকে বিভিন্ন জটিল বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম এবং তিনি এমন সন্তোষজনক উত্তর দিতেন যা পূর্ববর্তীরা দিতে অক্ষম ছিলেন এবং পরবর্তীরা তার নাগাল পায়নি। আমি তাঁর নিকট অনেক পাঠ গ্রহণ করেছি, অন্য কেউ আমাকে তাঁর মতো উপকৃত করতে পারেনি। তিনি আমাকে গুরুত্বপূর্ণ উচ্চ সনদধারী হাদিসগুলো সম্পর্কে সচেতন করতেন এবং সেগুলো শোনার নির্দেশ দিতেন; তিনি আমাকে অনেক সম্মান করতেন।

আমি তাঁর নিকট সহীহ মুসলিম পাঠ করেছি। মসজিদের দরজার পাশেই তাঁর এক খণ্ড ক্ষুদ্র জমি ছিল যা তিনি তাঁর পিতার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন। তিনি সেখানে তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী অল্প অল্প করে নির্মাণ কাজ করতেন। অতঃপর তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সৎ উদ্দেশ্য এবং দোয়ার বরকতে সেখানে অনেক বড় নির্মাণ কাজ সহজ হয়ে যায়। তিনি সেখানে ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি ছিলেন...
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মাসমুয়াতিল জিয়া আল-মাকদিসি বি মারওয়াহ (পৃষ্ঠা: ٩)
ما يصل إليه من رفق(1) يوصله إليهم ويصرفه عليهم.

ورام بعض الكبار مساعدته ببناء مصنع للماء فأبى ذلك وقال: لا حاجة لنا في ماله.

وكان من صغره إلى كبره موصوفًا بالنسك، مشتغلًا بالعلم.

قلت: توفي يوم الاثنين، الثامن والعشرين من جمادى الآخرة، وله أربع وسبعون سنة وأيام، رحمه الله ورضي عنه»(2).

 

‌‌ثانيًا: رحلات الإمام الضياء المقدسي

‌‌أ - رحلاته:

الرحلة في طلب الحديث والعلم كانت سنة متبعة عند المحدثين، فكان العلماء بعد أن يأخذوا عن علماء بلدهم، والبلاد المجاورة، يرحلون إلى بلاد بعيدة.

والإمام الضياء من الأئمة الذين اشتهروا بالرحلات الطويلة، بل قد يكون من أشهر الرحالين في زمانه، إن لم يكن أشهرهم.

والكتاب الذي يُطبع الآن هو من ثمار رحلاته المتتابعة، وهو نتاج محطة واحدة من عشرات البلاد التي قصدها بالرحلة، وهي «مرو»، وتسمى «مرو الشاهجان»، كما أنّ الكتاب خير شاهد على همة الضياء المقدسي، حيث جمع هذه الأحاديث والآثار في رحلاته المتتابعة.

وقد تتبع الإمام الذهبي محطات رحلته من البداية إلى النهاية(3)، كما أنّ الدكتور محمد مطيع الحافظ تتبعها محطةً محطة، وحاول تحديد تواريخ رحلاته

--------------------------------------------

(1) في نسخة دار الغرب: «رمق».

(2) (تاريخ الإسلام) للإمام الذهبي (14/ 472 - 476) ط: دار الغرب الإسلامي، و: (47/ 208 - 214) من طبعة دار الكتاب العربي.

(3) انظر: (تاريخ الإسلام) (14/ 472 - 473) ط: دار الغرب.

তিনি যে সাহায্য-সহযোগিতা(১) পেতেন, তা তাঁদের নিকট পৌঁছে দিতেন এবং তাঁদের জন্য ব্যয় করতেন।

কিছু উচ্চপদস্থ ব্যক্তি একটি পানির স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে তাঁকে সহায়তা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন: "তাঁর সম্পদে আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই।"

তিনি শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্নতা এবং জ্ঞানচর্চায় নিয়োজিত থাকার গুণে গুণান্বিত ছিলেন।

আমি (যাহাবী) বলছি: তিনি আটাশে জুমাদাল আখিরাহ, সোমবার ইন্তেকাল করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল চুয়াত্তর বছর কয়েক দিন। আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন এবং তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন।»(২)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: ইমাম দিয়া আল-মাকদিসীর সফরসমূহ

‌‌ক - তাঁর সফরসমূহ:

হাদীস এবং জ্ঞান অন্বেষণে সফর করা মুহাদ্দিসগণের নিকট একটি অনুসৃত রীতি ছিল। আলেমগণ তাঁদের নিজ শহরের এবং নিকটবর্তী দেশগুলোর আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণের পর সুদূর দেশগুলোতে সফর করতেন।

ইমাম দিয়া সেই সকল ইমামদের অন্তর্ভুক্ত যাঁরা দীর্ঘ সফরের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন; বরং তিনি তাঁর সময়ের অন্যতম প্রসিদ্ধ সফরকারী ছিলেন, যদি না তিনি তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হন।

বর্তমানে যে কিতাবটি মুদ্রিত হচ্ছে তা তাঁর ধারাবাহিক সফরসমূহেরই অন্যতম ফসল। এটি সফরকৃত বহু জনপদের মধ্যে একটি মাত্র কেন্দ্রের ফলাফল, আর তা হলো 'মার্ভ', যাকে 'মার্ভ আশ-শাহজান' বলা হয়। তদুপরি এই কিতাবটি দিয়া আল-মাকদিসীর উচ্চাকাঙ্ক্ষার এক অনন্য দলিল, কেননা তিনি তাঁর ধারাবাহিক সফরগুলোতে এই হাদীস ও আসারসমূহ (বর্ণনাগুলো) সংগ্রহ করেছেন।

ইমাম যাহাবী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর সফরের বিভিন্ন পর্যায় অনুসরণ করেছেন(৩), ঠিক তেমনি ডক্টর মুহাম্মদ মুতী' আল-হাফিজও প্রতিটি পর্যায় অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর সফরসমূহের তারিখ নির্ধারণের চেষ্টা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) দারুল গারব সংস্করণে রয়েছে: "রামাক" (সামান্য আহার)।

(২) ইমাম যাহাবী রচিত (তারিখুল ইসলাম) (১৪/ ৪৭২ - ৪৭৬) মুদ্রণ: দারুল গারব আল-ইসলামী, এবং: (৪৭/ ২০৮ - ২১৪) দারুল কিতাব আল-আরাবী মুদ্রণ।

(৩) দেখুন: (তারিখুল ইসলাম) (১৪/ ৪৭২ - ৪৭৩) মুদ্রণ: দারুল গারব।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মাসমুয়াতিল জিয়া আল-মাকদিসি বি মারওয়াহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
من خلال قراءته في أثباته ومسموعاته(1)، وفيما يلي ذكر رحلاته، مع التركيز على إقامته في «مرو»، حيث أخذ عن مشايخه بها الأحاديث والآثار التي جمعها في كتابه هذا.

 

‌‌بداية رحلته:

‌‌1 - رحلته إلى بيت المقدس ومصر:

رحل الضياء المقدسي إلى القدس بعد فتحها سنة (583 هـ) على يد القائد صلاح الدين الأيوبي - رحمه الله تعالى رحمة واسعة-، رحل إليها بصحبة الشيخ عبد الله بن عمر بن أبي بكر المقدسي، المتوفى سنة (586 هـ)، فتكون فترة سفره إليها في هذه الفترة بين سنتي (583 - 586 هـ).

ثم رحل إلى مصر سنة (594 هـ)(2)، وأخذ عن علمائها، وتتبعهم في مجالسهم، فسمع من أبي القاسم البوصيري وطبقته، وآخر سماع له بها في 13 من رجب، سنة (595 هـ).

 

‌‌2 - رحلته الأولى المشرقية:

بعد تلك الرحلة المختصرة: بدأت رحلات الضياء المتتابعة، فيمم إلى المشرق، ورحل إليها رحلتين كبيرتين:

الأولى: وصل فيها إلى بغداد في ذي القعدة سنة (596 هـ) فسمع على ابن الجوزي وطبقته. وعرض القرآن فيها على عبد الواحد بن سلطان.

ثم غادر بغداد في رجب سنة (598 هـ)، ووصل إلى همذان في شعبان، من السنة نفسها، وسمع عن مشايخها المعروفين، وآخر سماع له في همذان في 21 شعبان، سنة 598 هـ.

--------------------------------------------

(1) انظر: (التنويه والتبيين) (ص/ 60 - 135).

(2) انظر: (التنويه والتبيين) للدكتور محمد مطيع (ص/ 67)، ولاحظ تعقيبه على الإمام الذهبي في تأريخ هذه الرحلة.

তাঁর সনদগ্রন্থ (আসবাত) এবং শ্রুত বিষয়াদির (মাসমুআত)(১) পাঠ করার মাধ্যমে এটি জানা যায়। নিম্নে তাঁর সফরসমূহের বিবরণ দেওয়া হলো, যেখানে ‘মার্ভ’-এ তাঁর অবস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেননা সেখানকার উস্তাদদের নিকট থেকেই তিনি সেই সকল হাদিস ও আছার (পূর্বসূরীদের বর্ণনা) গ্রহণ করেছেন যা তিনি তাঁর এই গ্রন্থে সংকলন করেছেন।

 

‌‌তাঁর সফরের সূচনা:

‌‌১ - বাইতুল মাকদিস এবং মিশরে তাঁর সফর:

দিয়া আল-মাকদিসি (৫৮৩ হিজরী) সালে সেনাপতি সালাহউদ্দীন আইয়ুবী -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর ব্যাপক রহমত বর্ষণ করুন- এর মাধ্যমে বিজিত হওয়ার পর জেরুজালেমে সফর করেন। তিনি শেখ আবদুল্লাহ বিন উমর বিন আবি বকর আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৫৮৬ হিজরী)-এর সঙ্গে সেখানে সফর করেছিলেন। ফলে সেখানে তাঁর সফরের সময়কাল ছিল ৫৮৩ থেকে ৫৮৬ হিজরীর মধ্যবর্তী সময়ে।

এরপর তিনি ৫৯৪ হিজরী(২) সালে মিশরে সফর করেন এবং সেখানকার আলিমদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন ও তাঁদের মাজলিসসমূহে নিয়মিত যাতায়াত করেন। তিনি আবু কাসেম আল-বুসিরি এবং তাঁর সমসাময়িকদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। সেখানে তাঁর সর্বশেষ হাদিস শ্রবণের তারিখ ছিল ১৩ই রজব, ৫৯৫ হিজরী।

 

‌‌২ - তাঁর প্রথম প্রাচ্য সফর:

সেই সংক্ষিপ্ত সফরের পর দিয়া-এর একের পর এক সফর শুরু হয়। তিনি প্রাচ্যের অভিমুখে যাত্রা করেন এবং সেখানে দুটি বড় সফর করেন:

প্রথমটি: এতে তিনি ৫৯৬ হিজরীর জিলকদ মাসে বাগদাদে পৌঁছান এবং ইবনুল জাওযি ও তাঁর সমসাময়িকদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। সেখানে তিনি আবদুল ওয়াহিদ বিন সুলতানের নিকট কুরআন পেশ (তিলাওয়াত) করেন।

এরপর তিনি ৫৯৮ হিজরীর রজব মাসে বাগদাদ ত্যাগ করেন এবং একই বছরের শাবান মাসে হামাদানে পৌঁছান। তিনি সেখানকার প্রখ্যাত উস্তাদদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন এবং হামাদানে তাঁর সর্বশেষ হাদিস শ্রবণ ছিল ২১শে শাবান, ৫৯৮ হিজরী।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: (আত-তানবীহ ওয়াত-তাবয়ীন) (পৃষ্ঠা/ ৬০ - ১৩৫)।

(২) দেখুন: ডক্টর মুহাম্মদ মুতি' রচিত (আত-তানবীহ ওয়াত-তাবয়ীন) (পৃষ্ঠা/ ৬৭); এবং এই সফরের তারিখের বিষয়ে ইমাম যাহাবীর ওপর তাঁর করা মন্তব্যটি লক্ষ্য করুন।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মাসমুয়াতিল জিয়া আল-মাকদিসি বি মারওয়াহ (পৃষ্ঠা: ١١)
ثم غادر همذان متوجهًا إلى أصبهان.

وهذه هي رحلته الأولى إلى همذان، وقد رحل إليها مرةً أخرى في صفر سنة (606 هـ)، في طريقه إلى أصبهان، وبقي فيها إلى شهر ربيع الأول من السنة نفسها، وتلقَّى عن عددٍ من الشيوخ لم يأخذ عنهم في رحلته الأولى(1). ثم رحل إلى أصبهان، وقد رحل إليها مرتين:

الأولى: في رمضان سنة (598 هـ)، وآخر سماعٍ له بها في هذه الرحلة: في شوال سنة (599 هـ).

والثانية: في ربيع الثاني سنة (606 هـ)، مرورًا بهمذان.

وقد تلقَّى الضياء في رحلته الأولى لأصبهان من كثير من مشايخه، وأخذ عنهم مئات من كتب الحديث والتفسير واللغة والأدب.

وقد ذكر الذهبي كثيرًا من شيوخه الذين تلقى عنهم في هذه الرحلة(2). ثم رجع إلى بغداد في ذي القعدة سنة (599 هـ)، وهي التي يسميها الضياء القدمة الثانية إلى بغداد، وظل يتلقَّى عن شيوخها، وبقي فيها إلى صفر من سنة (602 هـ).

ثم غادرها متوجهًا إلى الموصل، وسمع من مشايخها، ثم وصل إلى دمشق مرة أخرى في جمادى الأولى من السنة نفسها (602 هـ).

عاد الضياء إلى دمشق بعد رحلة دامت أكثر من خمس سنوات ونصف السنة، وعاود الأخذ عن كبار المقادسة فيها، ومنهم خاله الموفق، كما تلقى عن كبار العلماء الوافدين إلى دمشق.

ومن أهم الأعمال التي قام بها الضياء في هذه الفترة: بناء مدرسته (الضيائية) على أرض ورثها من أبيه؛ ليضع فيها الكتب التي عاد بها من رحلاته.

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق (ص/ 112).

(2) انظر: (تاريخ الإسلام) (14/ 472 - 473).

তারপর তিনি হামাদান ত্যাগ করে আসফাহানের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

এটি ছিল হামাদানে তাঁর প্রথম সফর। আসফাহান যাওয়ার পথে ৬০৬ হিজরীর সফর মাসে তিনি পুনরায় সেখানে সফর করেন এবং একই বছরের রবিউল আউয়াল মাস পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। সেখানে তিনি এমন অনেক শাইখের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন যাদের নিকট থেকে তিনি তাঁর প্রথম সফরে ইলম অর্জন করেননি(১)। এরপর তিনি আসফাহানের দিকে সফর করেন; তিনি সেখানে দুইবার সফর করেছেন:

প্রথমবার: ৫৯৮ হিজরীর রমজান মাসে এবং এই সফরে সেখানে তাঁর শেষ হাদিস শ্রবণ ছিল ৫৯৯ হিজরীর শাওয়াল মাসে।

দ্বিতীয়বার: হামাদান হয়ে ৬০৬ হিজরীর রবিউস সানি মাসে।

যিয়া (আল-মাকদিসী) আসফাহানে তাঁর প্রথম সফরে সেখানকার অনেক শাইখের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন এবং তাঁদের নিকট থেকে হাদিস, তাফসির, ভাষা ও সাহিত্যের শত শত কিতাব গ্রহণ করেন।

এই সফরে যিয়া যাদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছিলেন, ইমাম যাহাবী তাঁদের অনেক শাইখের নাম উল্লেখ করেছেন(২)। তারপর তিনি ৫৯৯ হিজরীর যিলকদ মাসে বাগদাদে ফিরে আসেন, যেটিকে যিয়া বাগদাদে তাঁর 'দ্বিতীয় আগমন' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বাগদাদের শাইখদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করতে থাকেন এবং সেখানে ৬০২ হিজরীর সফর মাস পর্যন্ত অবস্থান করেন।

অতঃপর তিনি বাগদাদ ত্যাগ করে মোসেলের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং সেখানকার শাইখদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। এরপর একই বছরের (৬০২ হি.) জুমাদাল উলা মাসে পুনরায় দামেশকে পৌঁছেন।

যিয়া সাড়ে পাঁচ বছরেরও বেশি সময়ব্যাপী এক দীর্ঘ সফর শেষে দামেশকে ফিরে আসেন এবং সেখানকার বড় বড় মাকদিসী আলেমদের নিকট থেকে পুনরায় শিক্ষা গ্রহণ শুরু করেন, যাদের মধ্যে তাঁর মামা আল-মুয়াফফাকও ছিলেন। পাশাপাশি তিনি দামেশকে আগত বড় বড় আলেমদের নিকট থেকেও ইলম অর্জন করেন।

এই সময়ে যিয়া যে সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম হলো: তাঁর পিতার নিকট থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে নিজের মাদরাসা (যিয়াউইয়্যাহ) নির্মাণ করা; যাতে তিনি তাঁর সফরসমূহ থেকে নিয়ে আসা কিতাবগুলো সেখানে সংরক্ষণ করতে পারেন।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (পৃষ্ঠা/ ১১২)।

(২) দেখুন: (তারিখুল ইসলাম) (১৪/ ৪৭২ - ৪৭৩)।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মাসমুয়াতিল জিয়া আল-মাকদিসি বি মারওয়াহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
وفي سنة (603 هـ) في ذي الحجة زار (ياسوف) من قرى نابلس. وفي سنة (604 هـ) في المحرم زار (نابلس ورفيد) وغيرها. وبقي بدمشق إلى ذي الحجة سنة (605 هـ).

 

‌‌3 - رحلته الثانية المشرقية:

بعد أن مكث الضياء - رحمه الله تعالى- بدمشق في هذه الفترة، عزم على الرحلة إلى المشرق ثانيةً، ليستكمل رحلته إلى المدن التي لم يرحل إليها في رحلته الأولى، وليستزيد من التلقي من شيوخ بعض المدن التي رحل إليها في رحلته الأولى.

وهذه هي الرحلة الثانية الطويلة؛ حيث غادر دمشق في ذي الحجة سنة (605 هـ)، واتجه إلى أصبهان ثانيةً، عن طريق الموصل، وإربل، ودقوقا، وهمذان، وفي كل بلد من هذه البلدان كان يمكثُ ليأخذ عن شيوخها.

وفي هذه الرحلة وصل إلى همذان في صفر سنة (606 هـ)، ومكث فيها إلى شهر ربيع الأول من السنة نفسها، ثم توجه إلى أصبهان، وهذه هي رحلته الثانية إليها، وقد ذكر -رحمه الله تعالى- تاريخ دخوله إليها قائلا: «دخلنا أصبهان - حرسها الله - في ربيع [الثاني] سنة ست وست مائة»(1)، وعلى قول الذهبي: «ثم رحل إلى أصبهان ثانيًا، فأكثر بها وتزيد، وحصل شيئًا كثيرًا من المسانيد والأجزاء»(2).

ثم رحل منها إلى نيسابور، قال الضياء: «دخلتُ نيسابور يوم السبت، ثامن شهر شعبان، سنة ثمان وست مائة»(3)، وفي هذه الليلة توفي منصور

--------------------------------------------

(1) (ثبت المسموعات) (ق 54)، نقلا عن (التنويه والتبيين) (ص/ 113)، وما بين المعكوفت ين منه.

(2) (تاريخ الإسلام) (14/ 473).

(3) (ثبت المسموعات) (ق 54)، نقلا عن (التنويه والتبيين) (ص/ 120).

এবং ৬০৩ হিজরি সনের জিলহজ মাসে তিনি নাবলুসের গ্রামগুলোর অন্তর্ভুক্ত (ইয়াসুফ) সফর করেন। এবং ৬০৪ হিজরি সনের মহররম মাসে তিনি (নাবলুস ও রাফিদ) এবং অন্যান্য স্থান সফর করেন। তিনি ৬০৫ হিজরি সনের জিলহজ মাস পর্যন্ত দামেস্কে অবস্থান করেন।

 

‌‌৩ - তাঁর দ্বিতীয় প্রাচ্য সফর:

যিয়া -আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন- এই সময়কালে দামেস্কে অবস্থান করার পর, দ্বিতীয়বার প্রাচ্য অভিমুখে সফরের সংকল্প করেন, যাতে তিনি তাঁর প্রথম সফরে যেসব শহরে যেতে পারেননি সেগুলোতে ভ্রমণ সম্পন্ন করতে পারেন এবং প্রথম সফরে যেসব শহরে গিয়েছিলেন সেখানকার শায়খদের কাছ থেকে আরও অধিক জ্ঞান অর্জন করতে পারেন।

আর এটিই দ্বিতীয় দীর্ঘ সফর; যেখানে তিনি ৬০৫ হিজরি সনের জিলহজ মাসে দামেস্ক ত্যাগ করেন এবং মসুল, ইরবিল, ডাকুকা ও হামদান হয়ে পুনরায় ইসফাহানের দিকে অগ্রসর হন। এই শহরগুলোর প্রতিটিতেই তিনি সেখানকার শায়খদের কাছ থেকে জ্ঞান গ্রহণের জন্য অবস্থান করতেন।

এই সফরে তিনি ৬০৬ হিজরি সনের সফর মাসে হামদানে পৌঁছান এবং সেই বছরেরই রবিউল আউয়াল মাস পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। এরপর তিনি ইসফাহানের দিকে অগ্রসর হন, আর এটি ছিল সেখানে তাঁর দ্বিতীয় সফর। তিনি -আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন- সেখানে তাঁর প্রবেশের তারিখ উল্লেখ করে বলেন: «আমরা ৬০৬ হিজরি সনের রবিউস [সানি] মাসে ইসফাহানে প্রবেশ করি -আল্লাহ একে রক্ষা করুন-»(১)। আর যাহাবীর বক্তব্য অনুযায়ী: «অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার ইসফাহান সফর করেন, সেখানে তিনি অনেক অবস্থান করেন ও জ্ঞান বৃদ্ধি করেন এবং প্রচুর পরিমাণে মাসানিদ ও অজযা লাভ করেন»(২)।

এরপর তিনি সেখান থেকে নিশাপুর সফর করেন। যিয়া বলেন: «আমি ৬০৮ হিজরি সনের শাবান মাসের আট তারিখ শনিবার নিশাপুরে প্রবেশ করি»(৩), এবং এই রাতেই মানসুর ইন্তেকাল করেন।

--------------------------------------------

(১) (সাবাতুল মাসমুআত) (পৃষ্ঠা ৫৪), (আত-তানওয়িহ ওয়াত-তাবয়িন) (পৃষ্ঠা ১১৩) থেকে উদ্ধৃত, এবং বন্ধনীভুক্ত অংশটি সেখান থেকেই সংগৃহীত।

(২) (তারিখুল ইসলাম) (১৪/ ৪৭৩)।

(৩) (সাবাতুল মাসমুআত) (পৃষ্ঠা ৫৪), (আত-তানওয়িহ ওয়াত-তাবয়িন) (পৃষ্ঠা ১২০) থেকে উদ্ধৃত।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মাসমুয়াতিল জিয়া আল-মাকদিসি বি মারওয়াহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
الفراوي، فسمع من المؤيد بن محمد الطوسي (ت 617 هـ) وغيره، وبقي فيها مدة بسيطة، حتى شوال من السنة نفسها.

وهذه رحلته الأولى إلى نيسابور، والثانية كانت في صفر سنة (611 هـ)، وغادرها إلى بغداد في شعبان من السنة نفسها.

 

•‌‌ رحلته من نيسابور إلى مرو:

تُعتبر نيسابور ومرو - وكذلك هراة - من أمهات المدن في تلك النواحي، وكلها تقع في خراسان، وهي أشهر مدن خراسان مساحةً وعمارةً وحضارة. توجَّهَ الضياء من نيسابور إلى مرو، قال الذهبي: «ورحل إلى مرو، فأقام بها نحوًا من سنتين. وأكثر بها عن: أبي المظفر ابن السمعاني، وجماعة»(1).

أما تاريخ دخوله لمرو: فقد قال الضياء: «دخلنا مرو -حرسها الله- في العشر الأول من ذي القعدة سنة ثمان وست مائة»(2)، وبدأ التلقي من علمائها بعد وروده إليها فورًا، حيث ورد في إحدى السماعات: أنه سمع على شيخه السمعاني في السادس من ذي القعدة سنة (608 هـ)(3)

وأبو المظفر السمعاني هو الإمام عبد الرحيم بن الحافظ عبد الكريم السمعاني الشافعي (ت 617 هـ)، وقد أكثر عنه جدا في هذه المدة، وفي ثبت مسموعات الضياء ذكر بعضًا مما قرأه على شيخه السمعاني، حيث قال:

«سمعت بقراءتي - ولله الحمد والمنة -: مسند أبي عوانة، والمنتخب من تاريخ المصريين لابن يونس، وأحاديث حاجب الطوسي، وتاريخ جرجان للسهمي، وتاريخ يعقوب بن سفيان، والدعوات للخليل بن أحمد القاضي، والسنن للنسائي، والرقاق لابن المبارك، وتاريخ مرو لأحمد بن سيار،

--------------------------------------------

(1) (تاريخ الإسلام) (14/ 473).

(2) (ثبت المسموعات) (ق 54)، نقلا عن (التنويه والتبيين) (ص/ 124).

(3) (التنويه والتبيين) (ص/ 124).

আল-ফারাবি, এরপর তিনি আল-মুআইয়িদ বিন মুহাম্মাদ আত-তুসি (মৃত্যু ৬১৭ হি.) এবং অন্যদের থেকে শ্রবণ করেন এবং সেখানে অল্প সময় অবস্থান করেন, সেই বছরের শাওয়াল মাস পর্যন্ত।

এটি ছিল নিশাপুরে তার প্রথম সফর, আর দ্বিতীয় সফরটি ছিল ৬১১ হিজরির সফর মাসে, এবং তিনি সেই বছরেরই শাবান মাসে সেখান থেকে বাগদাদের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

 

•‌‌ নিশাপুর থেকে মার্ভ পর্যন্ত তার সফর:

নিশাপুর এবং মার্ভ —সেই সাথে হেরাতও— ওই অঞ্চলের প্রধান শহরগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং এগুলোর সবই খুরাসানে অবস্থিত। আয়তন, স্থাপত্য ও সভ্যতার দিক থেকে এগুলো খুরাসানের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ শহর। যিয়া নিশাপুর থেকে মার্ভের দিকে যাত্রা করেন। আয-যাহাবি বলেন: «তিনি মার্ভের দিকে সফর করেন এবং সেখানে প্রায় দুই বছর অবস্থান করেন। সেখানে তিনি আবুল মুযাফফর ইবনুল সামআনি এবং একটি জামাত (একদল আলেম) থেকে প্রচুর বর্ণনা গ্রহণ করেন»(১)।

আর মার্ভে তার প্রবেশের তারিখ সম্পর্কে যিয়া বলেন: «আমরা ৬০৮ হিজরির যিলকদ মাসের প্রথম দশকে মার্ভে —আল্লাহ এটিকে রক্ষা করুন— প্রবেশ করি»(২)। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই তিনি সেখানকার আলেমদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ শুরু করেন। যেমন একটি শ্রুতি-সনদে (সামাআ) বর্ণিত হয়েছে যে: তিনি ৬০৮ হিজরির ৬ই যিলকদ তারিখে তার শায়খ সামআনির নিকট পাঠ শ্রবণ করেছেন(৩)।

আর আবুল মুযাফফর সামআনি হলেন ইমাম আবদুর রহিম বিন হাফেয আবদুল কারিম সামআনি আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু ৬১৭ হি.)। এই সময়ে তিনি তার কাছ থেকে প্রচুর হাদিস গ্রহণ করেছেন। যিয়ার শ্রুত বিষয়াদির তালিকায় (সাবাতুল মাসমুআত) তিনি তার শায়খ সামআনির কাছে যা পাঠ করেছেন তার কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বলেন:

«আমি আমার পাঠের মাধ্যমে শ্রবণ করেছি —সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই—: মুসনাদে আবু আওয়ানা, ইবনু ইউনুসের তারিখুল মিসরিয়্যিন-এর নির্বাচিত অংশ (আল-মুনতাখাব), হাজিব আত-তুসির হাদিসসমূহ, আস-সাহমির তারিখু জুরজান, ইয়াকুব বিন সুফিয়ানের তারিখ, খলিল বিন আহমাদ আল-কাজির আদ-দাওয়াত, আন-নাসায়ির আস-সুনান, ইবনুল মুবারকের আর-রিকাক এবং আহমাদ বিন সাইয়ারের তারিখু মার্ভ।

--------------------------------------------

(১) (তারিখুল ইসলাম) (১৪/ ৪৭৩)।

(২) (সাবাতুল মাসমুআত) (পৃষ্ঠা ৫৪), (আত-তানওয়িহ ওয়াত-তাবয়িন) (পৃষ্ঠা ১২৪) থেকে উদ্ধৃত।

(৩) (আত-তানওয়িহ ওয়াত-তাবয়িন) (পৃষ্ঠা ১২৪)।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মাসমুয়াতিল জিয়া আল-মাকদিসি বি মারওয়াহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
وكتاب الآداب للخليل بن أحمد، وأحاديث يحيى بن صاعد، وكتاب الأطعمة لعثمان بن سعيد الدارمي، وأحاديث أبي العباس بن السراج، ومسند علي بن عبد العزيز البغوي، وأخبار مكة للأزرقي، ومعرفة الثقات والضعفاء للعجلي»(1)، وغيرها(2).

ولكثرة مسموعات الضياء -رحمه الله تعالى عن شيخه السمعاني: فقد عمد إلى منتخب انتقى فيه بعض الأحاديث والآثار التي رواها عن طريقه، وهذا الكتاب عبارة عن تلك المجموعة.

 

•‌‌ مغادرة الضياء لمرو:

واصل الضياء المقدسي رحلته المشرقية، فغادرها متوجهًا إلى مدينة من أمهات مدن خراسان، وهي مدينة هراة، وتقع الآن في أفغانستان، في أقصى الغرب منها.

يقول الضياء متحدثًا عن تاريخ دخولها: «دخلتُ هراة -حرسها الله- يوم الخميس السابع والعشرين من صفر، سنة عشر وست مائة، وخرجت منها في المحرم [سنة إحدى عشرة](3)».

وأكثر بها عن شيخ هراة، مسند العصر، الشيخ المعمر أبي روح عبد المعز بن محمد بن أحمد الساعدي البزازي الهروي (ت 618 هـ).

 

•‌‌ عودته إلى دمشق:

وبعد أن انتهى من هراة: بدأت رحلة العودة إلى دمشق، فرجع إلى نيسابور، ومكث فيه مدة وجيزة، ثم وصل إلى بغداد، ثم وصل إلى الموصل، ثم وصل أخيرًا إلى دمشق، وإلى الصالحية منها.

--------------------------------------------

(1) (ثبت المسموعات) (66 ب)، نقلا عن (التنويه والتبيين) (ص/ 124).

(2) انظر: المصدر السابق (ص/ 126).

(3) المصدر السابق (ص/ 128)، وما بين المعكوفتين منه للتوضيح.

এবং খলীল ইবনে আহমদের ‘কিতাবুল আদাব’, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের হাদিসসমূহ, উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমীর ‘কিতাবুল আত’ইমাহ’ (খাদ্যদ্রব্য বিষয়ক গ্রন্থ), আবুল আব্বাস ইবনে আস-সাররাজের হাদিসসমূহ, আলী ইবনে আব্দুল আযীয আল-বাগাওয়ীর ‘মুসনাদ’, আযরকীর ‘আখবারু মক্কা’ (মক্কার ইতিহাস) এবং ইজলীর ‘মা‘রিফাতুত থিকাত ওয়াদ দুয়াফা’ (বিশ্বস্ত ও দুর্বল বর্ণনাকারীদের পরিচিতি)»(১) এবং অন্যান্য গ্রন্থসমূহ(২)।

শায়েখ সামআনী থেকে যিয়া (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন)-এর শ্রুত বর্ণনার প্রাচুর্যের কারণে: তিনি একটি সংকলন প্রস্তুত করার সংকল্প করেন যাতে তিনি তাঁর মাধ্যমে বর্ণিত কিছু হাদিস ও আসার (সাহাবী ও তাবেয়ীদের বাণী) নির্বাচন করেন; আর এই গ্রন্থটি মূলত সেই সংগ্রহেরই একটি সংকলন।

 

•‌‌ যিয়ার মার্ভ ত্যাগ:

যিয়া মাকদিসী তাঁর প্রাচ্য সফর অব্যাহত রাখেন, অতঃপর তিনি সেখান থেকে খোরাসানের অন্যতম প্রধান শহর হেরাতের দিকে রওয়ানা হন, যা বর্তমানে আফগানিস্তানের সুদূর পশ্চিমে অবস্থিত।

যিয়া সেখানে প্রবেশের তারিখ সম্পর্কে বলেন: «আমি ৬১০ হিজরি সনের ২৭শে সফর বৃহস্পতিবার হেরাতে—আল্লাহ একে রক্ষা করুন—প্রবেশ করেছি এবং ৬১১ হিজরির মহররম মাসে সেখান থেকে বের হয়েছি(৩)»।

সেখানে তিনি হেরাতের শায়েখ, সমকালীন মুসনিদ (হাদিস বিশারদ), দীর্ঘজীবী শায়েখ আবু রুহ আব্দুল মুইয ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ আস-সাঈদী আল-বায্যাযী আল-হারাভী (মৃত্যু ৬১৮ হিজরি) থেকে প্রচুর বর্ণনা গ্রহণ করেন।

 

•‌‌ দামেস্কে তাঁর প্রত্যাবর্তন:

হেরাতের সফর শেষ করে তিনি দামেস্কে ফেরার সফর শুরু করেন। তিনি নিশাপুরে ফিরে আসেন এবং সেখানে অল্প সময় অবস্থান করেন, তারপর বাগদাদে পৌঁছান, এরপর মোসেলে পৌঁছান এবং অবশেষে দামেস্কে ও সেখানকার সালিহিয়্যাহ-তে এসে পৌঁছান।

--------------------------------------------

(১) (ছাবাতুল মাসমুআত) (৬৬ বি), (আত-তানওয়ীহ ওয়াত-তাবয়ীন) (পৃষ্ঠা ১২৪) থেকে উদ্ধৃত।

(২) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস (পৃষ্ঠা ১২৬)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (পৃষ্ঠা ১২৮), এবং বন্ধনীভুক্ত অংশটি স্পষ্টীকরণের জন্য যুক্ত করা হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মাসমুয়াতিল জিয়া আল-মাকদিসি বি মারওয়াহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
واستقرَّ في دمشق، ولزم الاشتغال والنسخ والتصنيف، وسمع في أثناء ذلك من خاله الشيخ الموفق وغيره، وبقي على حاله هذه حتى أتاه أمر الله. ولم يخرج من دمشق إلا للحج سنة (619 هـ)، وإلى نابلس في محرم سنة (625 هـ)، وإلى القدس في شوال سنة (625 هـ) أيضًا.

 

•‌‌ بيت المقدس … ومرو:

هذا الكتابُ من روائع تراث أسلافنا، وهو يصل الشرق بالغرب، ويُذكِّرُنا - بعنوانه قبل محتواه - بتلك الجهود الجبارة التي بذلها المحدثون لجمع حديث النبي صلى الله عليه وسلم، حيث طافوا الدنيا، والتقطوا أحاديثه من أفواه الأئمة والمشايخ بالرحلة إليهم، فالضياء المقدسيُّ - رحمه الله تعالى - من بيت المقدس، وشيخه السمعانيُّ ومشايخه: جُلُّهم من المشرق، من خراسان، وما وراء النهر.

فالحافظ الضياء ينتسب إلى أسرة المقادسة، المعروفة بين الأُسَرِ بالعلم، والزهد، والفضل والصلاح، والجهاد في سبيل الله. وعُرفوا أيضًا بكثرة التحصيل، ويدل على ذلك كثرة الحفاظ والفقهاء الذين تناسلوا من هذه الأسرة العظيمة.

كانت هذه الأسرة تعيش في جمَّاعيل(1)، ثم هاجرت إلى دمشق بسبب الاعتداءات التي كان يتعرض لها بيت المقدس على أيدي الفرنج، وكان ذلك في رجب من سنة (551 هـ)، يتقدَّمُهم شيخهم الشيخ أحمد بن محمد بن

--------------------------------------------

(1) جمَّاعيل - بالفتح وتشديد الميم وألف وعين مهملة مكسورة وياء ساكنة -، قرية في جبل نابلس، من أرض فلسطين، وأسرة آل قدامة ينتسبون إلى بيت المقدس لقرب جماعيل منها؛ ولأن نابلس وأعمالها من مضافات البيت المقدس.

وهي تعرف الآن بجمَّاعين بالنون وتبعد عن بيت المقدس قرابة أربعين كيلومتر، وفيها وقف يعرف بوقف ابن قدامة - وهو بيته الذي كان يسكنه.

তিনি দামেস্কে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং জ্ঞানচর্চা, অনুলিপি ও গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেন। এই সময়ে তিনি তাঁর মামা শাইখ মুয়াফফাক ও অন্যদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে ফয়সালা (মৃত্যু) আসা পর্যন্ত তিনি এই অবস্থাতেই অতিবাহিত করেন। ৬১৯ হিজরি সালে হজ্জের উদ্দেশ্যে এবং ৬২৫ হিজরির মহররম মাসে নাবলুস ও একই বছরের শাওয়াল মাসে জেরুজালেম ভ্রমণ ব্যতীত তিনি দামেস্ক ত্যাগ করেননি।

 

•‌‌ বায়তুল মাকদিস … ও মার্ভ:

এই গ্রন্থটি আমাদের পূর্বসূরিদের ঐতিহ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন, যা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরি করে। এর বিষয়বস্তুর পূর্বেই এর শিরোনাম আমাদের সেই সুমহান প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যা মুহাদ্দিসগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস সংগ্রহের জন্য ব্যয় করেছিলেন। তাঁরা বিশ্ব পরিভ্রমণ করেছিলেন এবং ইমাম ও শাইখদের নিকট সফরের মাধ্যমে তাঁদের মুখ থেকে সরাসরি হাদিসগুলো সংগ্রহ করেছিলেন। যিয়া আল-মাকদিসি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ছিলেন বায়তুল মাকদিসের অধিবাসী, আর তাঁর উস্তাদ সামআনি এবং তাঁর অন্যান্য অধিকাংশ উস্তাদ ছিলেন প্রাচ্যের—খুরাসান এবং মা-ওয়ারাউন নাহর অঞ্চলের।

হাফেয যিয়া মাকদিসি পরিবারভুক্ত ছিলেন, যারা ইলম, যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা), মর্যাদা, সততা এবং আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য সুপরিচিত। তাঁরা অধিক জ্ঞান অর্জনের জন্যও প্রসিদ্ধ ছিলেন, যার প্রমাণ মেলে এই মহান পরিবারে জন্ম নেওয়া বিপুল সংখ্যক হাফেয ও ফকিহদের মাধ্যমে।

এই পরিবারটি জাম্মাঈলে(১) বসবাস করত। পরবর্তীতে ক্রুসেডারদের আক্রমণের শিকার হওয়ার কারণে তারা বায়তুল মাকদিস থেকে দামেস্কে হিজরত করেন। এটি ছিল ৫৫১ হিজরি সালের রজব মাসের ঘটনা, আর তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন শাইখ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন...

--------------------------------------------

(১) জাম্মাঈল—জিম বর্ণে ফাতহাহ (যবর), মিম বর্ণে তাশদীদ ও আলিফ, কাসরাহযুক্ত (যের) আইন এবং সাকিন ইয়া সহকারে—ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের নাবলুস পাহাড়ের একটি গ্রাম। আল কুদামা পরিবার বায়তুল মাকদিসের সাথে নিজেদের সম্বন্ধ করেন কারণ জাম্মাঈল এর নিকটবর্তী এবং নাবলুস ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো বায়তুল মাকদিসেরই অংশ ছিল।

এটি বর্তমানে 'নুন' বর্ণ যোগে 'জাম্মাঈন' নামে পরিচিত এবং বায়তুল মাকদিস থেকে এর দূরত্ব প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার। সেখানে ইবন কুদামার ওয়াকফ নামে একটি স্থান পরিচিত—যা মূলত তাঁর বসবাসের ঘর ছিল।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মাসমুয়াতিল জিয়া আল-মাকদিসি বি মারওয়াহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
قدامة، شيخ المقادسة الذين هاجروا إلى دمشق.

وأول من هاجر من هذه الأسرة مع الشيخ أحمد هم: ابن أخيه محمد بن أبي بكر، وابن أخته عبد الواحد بن أحمد (والد الضياء)، وعبد الواحد بن علي بن سرور (والد الحافظ عبد الغني)، ولما وصل إلى دمشق طلب من أولاده وأهله الهجرة إلى دمشق، فخرج منهم خمس وثلاثون نفسًا من مجموعة من القرى، واستقرَّت هذه الأسرة في الصالحية في سفح قاسيون.

 

•‌‌ ومن أعلام هذه الأسرة المباركة:

جده الأكبر لأمه: الشيخ أحمد بن محمد بن قدامة وهو العالم الزاهد التقي (ت 558 هـ)، وخالاه: الإمام الرباني أبو عمر محمد (ت 607 هـ)، والإمام العالم الشيخ الموفق عبد الله بن أحمد المقدسي (ت 620 هـ)، شيخ فقهاء الحنابلة، صاحب (المغني)، وصاحب التصانيف المشهورة. وأما جده لأبيه: فهو أحمد بن عبد الرحمن (ت 553 هـ)، وكان رجلًا صالحًا عابدًا.

ووالده: عبد الواحد هاجر إلى دمشق - كما سبق- صحبة خاله الشيخ أحمد بن محمد بن قدامة، ورحل إلى بغداد طلبًا للحديث والعلم، وسمع بدمشق، وحجّ مع الموفق سنة 573 هـ وحدَّث، وأجاز له كثيرون، وتوفي مقتولًا ظلمًا سنة (590 هـ).

ووالدته: رقية بنت الشيخ أحمد بن محمد بن قدامة، هي أخت الشيخ أبي عمرو والشيخ الموفق، كانت امرأة صالحة، وكانت تاريخًا للمقادسة، روى عنها الضياء. توفيت سنة (621 هـ).

وأخوه الأكبر: الشيخ الحافظ شمس الدين أبو العباس أحمد بن عبد الواحد، كان عالمًا محدثًا مسندًا للحديث فقيهًا، رحل إلى المشرق صغيرًا،
কুদামা, সেই মাকদিসিগণের শাইখ যারা দামেশকে হিজরত করেছিলেন।

শাইখ আহমদের সাথে এই পরিবার থেকে সর্বপ্রথম যারা হিজরত করেছিলেন তারা হলেন: তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র মুহাম্মদ বিন আবি বকর, তাঁর ভাগ্নে আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ (যিয়ার পিতা), এবং আব্দুল ওয়াহিদ বিন আলী বিন সুরূর (হাফেয আব্দুল গানীর পিতা)। যখন তিনি দামেশকে পৌঁছালেন, তখন তিনি তাঁর সন্তানদের ও পরিবারবর্গকে দামেশকে হিজরত করতে বললেন। ফলে বিভিন্ন গ্রাম থেকে তাদের মধ্য থেকে পঁয়ত্রিশ জন বের হলেন এবং এই পরিবারটি কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে সালিহিয়্যাহ নামক স্থানে বসতি স্থাপন করল।

 

•‌‌ এই বরকতময় পরিবারের কতিপয় প্রখ্যাত মনীষী হলেন:

তাঁর মাতামহ: শাইখ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামা, যিনি ছিলেন একজন আলেম, যাহিদ ও পরহেযগার (মৃত্যু ৫৫৮ হি.)। তাঁর দুই মামা: ইমাম রাব্বানী আবু উমর মুহাম্মদ (মৃত্যু ৬০৭ হি.) এবং ইমাম ও আলেম শাইখ মুওয়াফফাক আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৬২০ হি.), যিনি হাম্বলী ফকীহগণের শাইখ, 'আল-মুগনী' গ্রন্থের রচয়িতা এবং বহু প্রসিদ্ধ কিতাবের প্রণেতা। আর তাঁর দাদামহ: তিনি হলেন আহমদ বিন আব্দুর রহমান (মৃত্যু ৫৫৩ হি.), এবং তিনি ছিলেন একজন নেককার ও ইবাদতগুজার ব্যক্তি।

তাঁর পিতা: আব্দুল ওয়াহিদ, তিনি তাঁর মামা শাইখ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামার সাথে দামেশকে হিজরত করেন—যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে—এবং হাদীস ও ইলম অন্বেষণে বাগদাদে সফর করেন। তিনি দামেশকে হাদীস শ্রবণ করেন এবং ৫৭৩ হিজরীতে মুওয়াফফাকের সাথে হজ সম্পাদন করেন। তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং অনেকে তাঁকে ইজাযত প্রদান করেছেন। তিনি ৫৯০ হিজরীতে অন্যায়ভাবে নিহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর মাতা: রুকাইয়া বিনতে শাইখ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামা, তিনি ছিলেন শাইখ আবু আমর ও শাইখ মুওয়াফফাকের বোন। তিনি একজন নেককার নারী ছিলেন এবং মাকদিসিগণের ইতিহাসের সাক্ষী ছিলেন, তাঁর নিকট থেকে যিয়া বর্ণনা করেছেন। তিনি ৬২১ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর বড় ভাই: শাইখ হাফেয শামসুদ্দিন আবু আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ, তিনি ছিলেন একজন আলেম, মুহাদ্দিস, হাদীসের বর্ণনাকারী (মুসনিদ) ও ফকীহ। তিনি অল্প বয়সেই প্রাচ্যের দেশসমূহে সফর করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মাসমুয়াতিল জিয়া আল-মাকদিসি বি মারওয়াহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
وكان ثقة صدوقًا، وكان يعرف بـ (البخاري). توفي سنة (623 هـ)(1). وكان للحافظ البخاري ولد وهو الحافظ فخر الدين، أبو الحسين علي، بن أحمد، بن عبد الواحد، المقدسي، المتوفى سنة (690 هـ)(2).

وكان للضياء شقيق آخر هو عبد الرحيم بن عبد الواحد، ولد سنة (572 هـ)، ورحل إلى بغداد، وسمع بدمشق وغيرها وحدث، ودرس الفقه وغيره. توفي سنة (612 هـ). وولده الحافظ شمس الدين محمد بن عبد الرحيم بن عبد الواحد المتوفى سنة ثمان وثمانين وستمائة.

وأخت الضياء: آسية أمُّ الإمام الحافظ سيف الدين ابن المجد أبو العباس أحمد بن عيسى بن عبد الله ابن قدامة المقدسي، الذي تخرّج بخاله. توفي سنة (643 هـ)(3).

وأخته الأخرى: زينب بنت عبد الواحد، كانت أيضًا صالحة راوية للحديث، تزوجها ابن عمها عبد الرحمن بن إبراهيم بن أحمد المقدسي، المتوفى سنة (624 هـ)(4).

وأما زوجته: فهي آسية بنت الشهاب محمد بن خلف بن راجح، وهي سبطة الشيخ أبي عمر، وكانت ديّنة خيّرة حافظة لكتاب الله، راوية للحديث، توفيت سنة (633 هـ).

وإذا ما انتقلنا إلى أهل أمّه وجدنا أن أخواله هما العالمان الجليلان: الشيخ الزاهد أبو عمر محمد بن أحمد بن محمد بن قدامة المقدسي، والشيخ الفقيه عبد الله بن أحمد بن قدامة المقدسي رحمهما الله تعالى.

--------------------------------------------

(1) انظر: (ذيل طبقات الحنابلة) (2/ 168).

(2) المصدر السابق (2/ 325).

(3) المصدر السابق (2/ 491).

(4) السابق (2/ 170).

তিনি নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী ছিলেন এবং তিনি (আল-বুখারী) নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি (৬২৩ হি.) সনে মৃত্যুবরণ করেন(১)। হাফিজ আল-বুখারীর একজন পুত্র ছিলেন, তিনি হলেন হাফিজ ফখরউদ্দীন আবুল হুসাইন আলী ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী, যিনি (৬৯০ হি.) সনে মৃত্যুবরণ করেন(২)。

আদ-দিয়া-র আরেকজন সহোদর ভাই ছিলেন আব্দুর রহীম ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ, তিনি (৫৭২ হি.) সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং বাগদাদে সফর করেন। তিনি দামেশক ও অন্যান্য স্থানে হাদীস শ্রবণ করেছেন ও বর্ণনা করেছেন এবং ফিকহ ও অন্যান্য শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন। তিনি (৬১২ হি.) সনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর পুত্র হাফিজ শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহীম ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ৬৮৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

আদ-দিয়া-র বোন: আসিয়া, যিনি ইমাম হাফিজ সাইফুদ্দীন ইবনুল মাজদ আবু আব্বাস আহমদ ইবনে ঈসা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কুদামাহ আল-মাকদিসীর মা; তিনি তাঁর মামার নিকট শিক্ষা লাভ করেছিলেন। তিনি (৬৪৩ হি.) সনে মৃত্যুবরণ করেন(৩)।

তাঁর অন্য বোন: যায়নাব বিনতে আব্দুল ওয়াহিদ, তিনিও নেককার ও হাদীস বর্ণনাকারী ছিলেন। তাঁর চাচাতো ভাই আব্দুর রহমান ইবনে ইবরাহীম ইবনে আহমদ আল-মাকদিসী তাঁকে বিবাহ করেছিলেন, যিনি (৬২৪ হি.) সনে মৃত্যুবরণ করেন(৪)।

আর তাঁর স্ত্রী: তিনি হলেন শিহাব মুহাম্মদ ইবনে খালাফ ইবনে রাজেহ-এর কন্যা আসিয়া, তিনি শায়খ আবু উমরের দৌহিত্রী ছিলেন। তিনি দ্বীনদার, নেককার ও আল্লাহর কিতাবের হাফেজা এবং হাদীস বর্ণনাকারী ছিলেন। তিনি (৬৩৩ হি.) সনে মৃত্যুবরণ করেন।

যদি আমরা তাঁর মায়ের পরিবারের দিকে ফিরে তাকাই, তবে দেখতে পাই যে তাঁর মামারা ছিলেন দুইজন মহান আলেম: যাহিদ শায়খ আবু উমর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কুদামাহ আল-মাকদিসী এবং ফকীহ শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে কুদামাহ আল-মাকদিসী, আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: (যায়লু তাবাকাতিল হানাবিলাহ) (২/ ১৬৮)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (২/ ৩২৫)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (২/ ৪৯১)।

(৪) পূর্বোক্ত (২/ ১৭০)।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মাসমুয়াতিল জিয়া আল-মাকদিসি বি মারওয়াহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
وأما خالته: فهي رابعة بنت أحمد بن محمد بن قدامة - زوجة الحافظ عبد الغني المقدسي(1).

هذه الأسرة المباركة الصالحة، والأسرة العلمية المجاهدة في سبيل الله هي التي وصفها سبط ابن الجوزي بقوله: «شاهدت من الشيخ أبي عمر وأخيه الموفق ونسيبه العماد إبراهيم بن عبد الواحد: ما نرويه عن الصحابة والأولياء الأفراد، فأنساني حالهم أهلي وأوطاني، ثم عدت إليهم على نية الإقامة، عسى أن أكون معهم في دار الإقامة».

وقد ظهر من المقادسة عشرات الحفاظ، ومئات المسندين، وقد ذكر الكثير منهم الحافظ ابن رجب في (ذيل طبقات الحنابلة)، وكذلك كلُّ من ترجم للحنابلة على مر العصور، وكان لهم الأثر الواضح في نشر العلم وخاصة علم الحديث، ومن تتبع المسموعات على الكثير من المخطوطات لمس هذا الأثر، حيث إنهم كلهم تقريبًا اشتركوا في السماع والتسميع والرحلة في طلب العلم، ولولا المقادسة لما انتشر الحديث في الشام، ولله الحمد. أما مرو: فهي من أمهات مدن خراسان، وكانت قصبة خراسان أيام أن كان المأمون فيها، وهي التي تُسمَّى (مرو الشاهجان)، تمييزًا لها عن (مرو الروذ).

والنسبة إلى (مرو): (مروزي)، قال السمعاني: «وكان إلحاق الزاي في هذه النسبة فيما أظن للفرق بين النسبة إلى (المروي)، وهي الثياب المشهورة بالعراق، منسوبة إلى قرية بالكوفة»(2).

أما النسبة إلى (مرو الروذ): فهي: (المروذي).

وتقع (مرو) الآن في (تركمانستان)، وهي من الجمهوريات التي استقلت

--------------------------------------------

(1) السابق (2/28).

(2) (الأنساب) للسمعاني (5/ 266).

আর তাঁর খালা হলেন: রাবেয়া বিনতে আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামা - হাফেজ আবদুল গনি আল-মাকদিসীর স্ত্রী(১).

এই বরকতময় নেককার পরিবার এবং আল্লাহর পথে জিহাদকারী ইলমি পরিবার সম্পর্কে সিবত ইবনুল জাওজি তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন: «আমি শায়খ আবু ওমর, তাঁর ভাই আল-মুওয়াফফাক এবং তাঁর আত্মীয় আল-ইমাদ ইবরাহিম বিন আবদুল ওয়াহিদের মাঝে এমন কিছু প্রত্যক্ষ করেছি, যা আমরা সাহাবায়ে কেরাম এবং অনন্য আউলিয়াদের সম্পর্কে বর্ণনা করি। তাঁদের অবস্থা আমাকে আমার পরিবার ও স্বদেশ ভুলিয়ে দিয়েছে; এরপর আমি সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের নিয়তে ফিরে আসি, যাতে পরকালে আমি তাঁদের সাথে থাকতে পারি»।

মাকদিসিগণের মধ্য থেকে দশের অধিক হাফেজ এবং শত শত মুসনিদ (হাদিস বর্ণনাকারী) আত্মপ্রকাশ করেছেন। হাফেজ ইবনে রজব 'যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা' গ্রন্থে তাঁদের অনেকের কথা উল্লেখ করেছেন, ঠিক তেমনি যুগে যুগে যারা হাম্বলিদের জীবনী লিখেছেন তাঁরাও তা করেছেন। ইলম প্রসারে, বিশেষ করে হাদিস শাস্ত্রে তাঁদের সুস্পষ্ট প্রভাব ছিল। যারা অনেক পাণ্ডুলিপির শ্রবণ-লিপি (মাসমুআত) অনুসন্ধান করবেন, তারা এই প্রভাব অনুভব করতে পারবেন; কেননা তাঁদের প্রায় সকলেই হাদিস শ্রবণ, পাঠদান এবং ইলম অন্বেষণে সফরে অংশগ্রহণ করতেন। মাকদিসিগণ না থাকলে সিরিয়ায় হাদিস শাস্ত্রের এত প্রচার হতো না, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আর মার্ভ (Marw): এটি খোরাসানের প্রধান শহরগুলোর অন্যতম। মামুন যখন সেখানে ছিলেন তখন এটি খোরাসানের রাজধানী ছিল। (মার্ভ আর-রূদ) থেকে পৃথক করার জন্য এটিকে (মার্ভ আশ-শাহজান) বলা হয়।

আর 'মার্ভ'-এর দিকে নিসবত বা সম্বন্ধ করে (মার্ভাজি) বলা হয়। আস-সামআনি বলেন: «আমার ধারণা মতে, এই নিসবতে 'যা' (Zay) অক্ষরটি যুক্ত করার কারণ হলো 'আল-মারভী'-এর সাথে পার্থক্য করা; যা ইরাকের প্রসিদ্ধ একটি কাপড়, যা কুফার একটি গ্রামের দিকে সম্পৃক্ত»(২).

আর 'মার্ভ আর-রূদ'-এর দিকে নিসবত হলো: (আল-মারওয়াযি)।

বর্তমানে 'মার্ভ' (তুর্কমেনিস্তান)-এ অবস্থিত, যা স্বাধীন হওয়া প্রজাতন্ত্রগুলোর অন্যতম।

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত (২/২৮)।

(২) আস-সামআনির 'আল-আনসাব' (৫/২৬৬)।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মাসমুয়াতিল জিয়া আল-মাকদিসি বি মারওয়াহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
من الاتحاد السوفيتي، وتُسمَّى الآن (ماري)، وتقع إلى الشمال الشرقي من (عشق آباد)، عاصمة (تركمانستان).

فأصل الضياء من (جماعيل)، القريبة من (بيت المقدس)، وقد بدأ رحلته من دمشق، وانتهت رحلته إلى المشرق إلى مدينة (مرو)، عاصمة خراسان، وكان مكثه بها أكثر من المدن الأخرى، وهذا الكتاب ثمرة من ثمار تلك الرحلة المباركة.

 

‌‌ثالثًا: منهجه في هذا الكتاب

لم يُقدِّم الضياء - رحمه الله تعالى - كتابه بمقدمة يبين فيها منهجه فيه، بل بدأ في صلب الكتاب.

وقد عُرف بقراءة الكتاب والتتبع: أنه لم يشترط للكتاب شرطًا معينًا من الصحة أو غيرها، بل فيه الصحيح، والحسن، والضعيف، بل فيه من الموضوعات الشيء الكثير.

 

أما عن‌‌ شيوخه في الكتاب، وطريقة ترتيبه:

فقد عُرف أيضًا أنَّ جلَّ مسموعاته - إن لم تكن كلها - عن شيخه أبي المظفر عبد الرحيم بن عبد الكريم بن محمد بن منصور السمعاني، وقد قسم الكتاب إلى أقسام، حيث يجمع أحاديث شيخ من شيوخ السند، ويُسمّيها (أمالي فلان)، ثم يسرد الأحاديث والآثار التي يرويها عن شيخه -السمعاني مثلا-، يسردها عن طريق ذلك الشيخ، وإذا انتهت أحاديثه يُشير إلى ذلك، ثم يبدأ أحاديث شيخ آخر في السند، وهكذا.

وقد بدأ الكتاب بأمالي الجميلي الخطيب، وفي بدايته روى الحديث بسنده عن أبي المظفر السمعاني المذكور فقال:

«أخبرنا الشيخ الإمام العالم أبو المظفر عبد الرحيم بن عبد الكريم بن
প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত, যা বর্তমানে (মেরি) নামে পরিচিত এবং এটি (তুর্কমেনিস্তান) এর রাজধানী (আশখাবাদ) এর উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।

আদ-দিয়া (জামাঈল) এর অধিবাসী ছিলেন, যা (বাইতুল মাকদিস) এর নিকটবর্তী। তিনি দামেস্ক থেকে তাঁর সফর শুরু করেন এবং তাঁর সফর শেষ হয় পূর্বের খোরাসানের রাজধানী (মার্ভ) শহরে। সেখানে তাঁর অবস্থান ছিল অন্যান্য শহরের তুলনায় দীর্ঘতর এবং এই গ্রন্থটি সেই বরকতময় সফরেরই অন্যতম একটি ফসল।

 

‌‌তৃতীয়ত: এই গ্রন্থে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি

আদ-দিয়া —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন— তাঁর এই গ্রন্থের শুরুতে কোনো ভূমিকা প্রদান করেননি যাতে তিনি তাঁর কর্মপদ্ধতি ব্যক্ত করেছেন, বরং তিনি সরাসরি মূল গ্রন্থ থেকে আলোচনা শুরু করেছেন।

গ্রন্থটি পাঠ ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে এটি প্রতীয়মান হয়েছে যে: তিনি এই গ্রন্থের জন্য বিশুদ্ধতা (সহিহ) বা অন্য কোনো সুনির্দিষ্ট শর্তারোপ করেননি; বরং এতে সহিহ, হাসান ও জয়িফ (দুর্বল) হাদিস রয়েছে, এমনকি এতে জাল (মাওজু) হাদিসও অনেক রয়েছে।

 

গ্রন্থটিতে তাঁর‌‌ শায়খগণ এবং এর বিন্যাস পদ্ধতি সম্পর্কে:

এটিও জানা গেছে যে, তাঁর শ্রুত হাদিসগুলোর অধিকাংশ —যদি সবটুকু না-ও হয়— তাঁর শায়খ আবুল মুজাফফর আবদুর রহিম বিন আবদুল করিম বিন মুহাম্মদ বিন মানসুর আস-সামআনি থেকে বর্ণিত। তিনি গ্রন্থটিকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করেছেন, যেখানে তিনি সনদের শায়খদের মধ্য থেকে কোনো এক শায়খের হাদিসগুলো একত্রিত করেছেন এবং সেগুলোর নামকরণ করেছেন (অমুকের আমালি)। অতঃপর তিনি তাঁর সেই শায়খ —উদাহরণস্বরূপ আস-সামআনি— থেকে বর্ণিত হাদিস ও আসারসমূহ ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেন, যা তিনি সেই শায়খের মাধ্যমেই বর্ণনা করেন। সেই শায়খের হাদিসসমূহ শেষ হলে তিনি সেদিকে ইঙ্গিত করেন এবং সনদের অন্য একজন শায়খের হাদিস শুরু করেন, আর এভাবেই চলতে থাকে।

তিনি গ্রন্থটি আল-জুমাইলি আল-খাতিব-এর 'আমালি' দিয়ে শুরু করেছেন এবং এর প্রারম্ভে তিনি উল্লিখিত আবুল মুজাফফর আস-সামআনি-এর সূত্রে তাঁর নিজ সনদে হাদিস বর্ণনা করে বলেন:

«আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ, ইমাম, আলিম আবুল মুজাফফর আবদুর রহিম বিন আবদুল করিম বিন
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মাসমুয়াতিল জিয়া আল-মাকদিসি বি মারওয়াহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
محمد بن منصور السمعاني - بقراءتي بـ (مرو) - قلت له: أخبركم أبو عمرو عثمان بن علي بن محمد بن علي البيكندي - قراءةً عليه بـ (بخار): ثنا الشيخ الإمام الزاهد أبو بكر محمد بن نصر بن الحسين بن عبد الرحمن ابن علي الجميلي الخطيب إملاء، ثنا شمس الأئمة أبو محمد عبد العزيز بن أحمد(1)، ثنا أبو سعد شعيب بن أحمد بن عبد الرحيم الفارسي، ثنا أبو الفتح محمد بن الحسين، ثنا أحمد بن الحسين بن عبد الواحد بن عبد الصمد، ثنا عباد بن الوليد، ثنا بشر بن بكر بن الحكم، ثنا حماد ابن سلمة، عن حميد، عن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من كثرت ذنوبه فليكثر أن يقول: استغفر الله، ومن كثرت عليه نعم الله؛ فليكثر أن يقول: الحمد لله، ومن أبطأ عليه الرزق فليكثر من قول: لا حول ولا قوة إلا بالله».

فهذا الحديث سرد فيه السند من بدايته إلى نهايته، ثم بعد ذلك لم يفعل هذا، بل بدأه بالجميلي، أو بشيخ من شيوخه، قال في الحديث الثاني:

«حدثنا القاضي الإمام أبو علي النسفي … »، وقائل (حدثنا) هنا ليس هو الضياء المقدسي - المصنّف - وإنما هو شمس الأئمة الحلواني، وهو شيخ الجميلي، كما أنه أحيانًا - وهو الأكثر - يبدأ بصاحب الأمالي نفسه، كما فعل ذلك في الحديث الرابع، وهكذا.

فقائل (حدثنا) ليس هو المصنّف في جميع الأحاديث والآثار، بل قد يكون هو، إذا كان في بداية الأمالي، وقد يكون غيره، كما سبق شرحه.

كتبه

د. محمد محمدي محمد جميل النورستاني

--------------------------------------------

(1) هو الحلواني - أو الحلوائي- شمس الأئمة الأكبر.

মুহাম্মদ ইবনে মনসুর আস-সামআনি - মার্ভে আমার পাঠের মাধ্যমে - আমি তাকে বললাম: আবু আমর উসমান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-বাইকান্দি আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন - বুখারায় তাঁর কাছে পাঠের মাধ্যমে: শায়খ ইমাম যাহেদ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে নাসর ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আলী আল-জুমায়লি আল-খাতিব শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শামসুল আইম্মাহ আবু মুহাম্মদ আবদুল আজিজ ইবনে আহমাদ(১) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সাদ শুআইব ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুর রহিম আল-ফারিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আবদুস সামাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাদ ইবনে আল-ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনে বকর ইবনে আল-হাকাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যার গুনাহ বেড়ে যায়, সে যেন অধিক পরিমাণে বলে: আস্তাগফিরুল্লাহ (আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি), আর যার ওপর আল্লাহর নেয়ামত বেড়ে যায়, সে যেন অধিক পরিমাণে বলে: আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য), এবং যার রিজিক আসতে বিলম্ব হয়, সে যেন অধিক পরিমাণে এই কথাটি বলে: লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ (আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো পরিবর্তন বা শক্তি নেই)»।

এই হাদিসটিতে তিনি সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ক্রমানুসারে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু এরপর তিনি আর এটি করেননি, বরং তিনি আল-জুমায়লি অথবা তাঁর কোনো শায়খের মাধ্যমে শুরু করেছেন। তিনি দ্বিতীয় হাদিসে বলেছেন:

«আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাজী ইমাম আবু আলী আন-নাসাফি … », আর এখানে "আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন" (হাদ্দাসানা) কথাটির বক্তা গ্রন্থকার দিয়া আল-মাকদিসি নন, বরং তিনি হলেন শামসুল আইম্মাহ আল-হালওয়ানি, আর তিনি হলেন আল-জুমায়লির শায়খ। যেমনটি তিনি কখনো কখনো — যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটে — খোদ আমালি প্রণেতার মাধ্যমেই শুরু করেন, যেমনটি তিনি চতুর্থ হাদিসে করেছেন, এবং এভাবেই।

সুতরাং সমস্ত হাদিস ও আসারে "আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন" কথাটির বক্তা খোদ গ্রন্থকার নন, বরং কখনো তিনি হতে পারেন যদি তা আমালির শুরুতে হয়, আবার কখনো অন্য কেউ হতে পারেন, যা ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এটি লিখেছেন

ড. মুহাম্মদ মুহাম্মদি মুহাম্মদ জামিল আন-নুরস্তানি

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আল-হালওয়ানি — অথবা আল-হালওয়ায়ি — বড় শামসুল আইম্মাহ।