(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: -)
الكفيل بالوصول إلى ثمرات الأصول   (ابن المُنَيِّر)

القسم: أصول الفقه


اسم الكتاب: الكفيل بالوصول إلى ثمرات الأصول

(وهو مختصر «برهان» الجويني)

المؤلف: ناصر الدين ابن المنير أحمد بن محمد بن منصور الإسكندراني المالكي (ت 683 هـ)

المحقق: مَقصد فِكْرَت أُوغلُوكرِيمُوف

راجعه: إبراهيم بن صالح الخزي

الناشر: دار أسفار - الكويت

الطبعة: الأولى، 1442 هـ - 2021 م

عدد الصفحات: 360

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 27 جُمادَى الأولى 1447

আল-কাফীল বিল-উসুল ইলা সামারাতিল উসুল   (ইবনুল মুনাইয়্যির)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ


গ্রন্থের নাম: আল-কাফীল বিল-উসুল ইলা সামারাতিল উসুল

(এটি জুওয়াইনীর «আল-বুরহান» গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার)

লেখক: নাসিরুদ্দীন ইবনুল মুনাইয়্যির আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মানসুর আল-ইসকান্দারানি আল-মালিকি (মৃত্যু ৬৮৩ হি.)

সম্পাদক: মাকসাদ ফিকরাত ওগলু কারিমভ

নিরীক্ষক: ইব্রাহিম বিন সালিহ আল-খুযযি

প্রকাশক: দার আসফার - কুয়েত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪২ হি. - ২০২১ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৭ জুমাদিউল উলা ১৪৪৭

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

يَسُرُّ «مشروع أسفار» أنْ يُقدِّم للقارئ الكريم الإصدار الرابع والثلاثين من إصدارات المشروع: (الكفيل بالوصول إلى ثَمَرات الأصول) وهو مختصر لـ «برهان» أبي المعالي الجويني، للعلامة ناصر الدين ابن المنير الإسكندراني (ت 683)، مطبوعاً في أول خروج له.

وكتابنا فردٌ فذٌّ، جليلُ القدر عظيم الأهمية، حقيق بأن يكون محل عناية المشتغلين بعلم الأصول، فمؤلّفه ذو منزلةٍ عالية في اللغة والأصلين وسائر علوم الشريعة، قُرنت منزلته بعصرييه الإمامين: القرافي وابن دقيق العيد، ذو براعة في الاختصار جيّد التصنيف، يحسن اختيار ما يسطّره من مواضيع؛ ومنها كتابنا: الذي أصاب من أهميته اللباب، وازدانت فكرته كونه مختصراً لكتاب: «البرهان لأبي المعالي الجويني» أحدِ العُمَد الأصولية الكبار، معروف بـ (لغز الأمة)؛ لعلو في عبارته، ودقة وغموض في معانيه، فإلغازه من جهة التفنن في البيان والتصرُّف في أساليب الكلام، مما أخر انتفاع الناس به.

فجاء ابن المنير ببراعته في اللغة والأصول، ووثوق اتصاله بالبرهان كونه أحد شراحه: فاختصره بما بين يديك اختصاراً بديعاً قل نظيره، غاص في كتابه: «الكفيل» على معاني البرهان؛ فحقق مراد عبارته، وضم لأوائل مسائله أواخِرَها، واستنطق من كلماته سواحِرَها، فتفصَّلت عنده مجملاته، وانحلت له مشكلاته؛ إذ أداها بعبارة دقيقة وجيزة، سَفَرتْ عن معانيه الغموض، ورَفَعَت الوَعارَةَ عن العبارة، فكان من هذا الوجه مختصرا شارحاً للبرهان، لا يستغني
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‘আসফার প্রকল্প’ (মাশরু আসফার) সম্মানিত পাঠকদের সামনে তাদের প্রকল্পের ৩৪তম প্রকাশনাটি উপস্থাপন করতে পেরে আনন্দিত: ‘আল-কাফিল বিল-উসুল ইলা সামারাতিল উসুল’। এটি আল্লামা নাসিরুদ্দিন ইবনুল মুনাইয়্যির আল-ইসকান্দারির (মৃত্যু ৬৮৩ হি.) একটি গ্রন্থ, যা আবু আল-মা‘আলি আল-জুওয়াইনির ‘আল-বুরহান’ গ্রন্থের সারসংক্ষেপ। এটি প্রথমবারের মতো মুদ্রিত হয়ে প্রকাশিত হলো।

আমাদের এই গ্রন্থটি এক অনন্য ও অসাধারণ সৃষ্টি, যা অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্ববহ। উসুল শাস্ত্র নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে এটি। কারণ এর লেখক ভাষা, উভয় উসুল (উসুলুদ দীন ও উসুলুল ফিকহ) এবং শরিয়তের অন্যান্য সকল জ্ঞানে সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তাঁর জ্ঞানগত অবস্থানকে তাঁর সমসাময়িক দুই ইমাম: আল-কারাফি ও ইবনু দাকীক আল-ঈদ-এর সাথে তুলনা করা হয়। তিনি সংক্ষেপণে দক্ষ ও চমৎকার বিন্যাসকারী ছিলেন এবং বিষয়বস্তু নির্বাচনে ছিলেন অত্যন্ত কুশলী। এর একটি উদাহরণ হলো আমাদের এই গ্রন্থটি, যা গুরুত্বপূর্ণ মূল বিষয়বস্তুকে ধারণ করেছে। এর বিশেষত্বের কারণ হলো এটি আবু আল-মা‘আলিল জুওয়াইনির ‘আল-বুরহান’ গ্রন্থের সারসংক্ষেপ; যা উসুল শাস্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি এবং এর উচ্চাঙ্গের শব্দশৈলী ও গভীর ও রহস্যময় অর্থের কারণে ‘লুগযুল উম্মাহ’ (উম্মাহর ধাঁধা) হিসেবে পরিচিত। এর এই ধাঁধাসম কাঠিন্য মূলত এর অলঙ্কারপূর্ণ বর্ণনাভঙ্গি ও শব্দপ্রয়োগের বৈচিত্র্যের কারণে ছিল, যা মানুষের জন্য এটি থেকে উপকৃত হওয়াকে বিলম্বিত করেছিল।

অতঃপর ইবনুল মুনাইয়্যির তাঁর ভাষাগত ও উসুল শাস্ত্রীয় পারদর্শিতা এবং ‘আল-বুরহান’-এর ব্যাখ্যাকারী হওয়ার সুবাদে গভীর সংযোগ নিয়ে এগিয়ে এলেন। তিনি আপনার সামনে উপস্থাপিত এই গ্রন্থটিতে অত্যন্ত চমৎকার ও অতুলনীয় এক সারসংক্ষেপ প্রদান করেছেন। তিনি তাঁর ‘আল-কাফিল’ গ্রন্থে বুরহানের গূঢ় অর্থের গভীরে প্রবেশ করেছেন; ফলে তিনি এর শব্দমালার মূল উদ্দেশ্য অনুধাবন করেছেন এবং মাসআলাগুলোর শুরু ও শেষকে সুসমন্বিত করেছেন। তিনি এর শব্দগুলো থেকে চমৎকার সব তত্ত্ব বের করে এনেছেন, ফলে এর অস্পষ্ট বিষয়গুলো বিশদ হয়েছে এবং এর জটিলতাগুলো নিরসন হয়েছে। কেননা তিনি একে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সংক্ষিপ্ত ভাষায় উপস্থাপন করেছেন, যা এর অর্থের রহস্যময়তাকে উন্মোচিত করেছে এবং ভাষাগত জটিলতা দূর করেছে। ফলে এই দিক থেকে এটি বুরহান গ্রন্থের এমন এক সারসংক্ষেপ যা ব্যাখ্যারও কাজ করে, যা অপরিহার্য।
(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৬)
عنه المشتغل بالأصل ليفهم معانيه، ولا يكاد حينئذ يشكل عليه. وهو مقصود ابن المنير من اختصاره، حتى قال في مقدمته: "هذا الكتاب والبرهان؛ فرَسَا رهان، كلاهما خيَّم في بحبوحة الفصاحة وطنب، فهذا أوجز، وذاك أطنب".

هذا؛ وقد استفاد ابن المنير في تعبيره عن (مراد البرهان) من (شرح الأبياري) في مواضع كثيرة، نبه محقق الكتاب على عددٍ منها بلا استقصاء لذلك، وقد بذل في تحقيقه جهدًا مشكوراً، وحشى عليه في مواضع الإشكال بعبارات من البرهان وشرحه، وقارن عبارته بعبارته ولا سيما في مواضع إشكال المخطوط، حتى خرج بأجود ما يمكن وأقربه إلى الصواب.

وننوه إلى الجهد الكبير الذي بذله الشيخ إبراهيم بن صالح الخزي في مراجعة الكتاب ومقابلته على أصوله، فكان له نصيب وافر من حل مشكلاته والنظر في مغلقاته، فالله يشكر سعيه، ويجزيه على صنيعه خير الجزاء.

وأخيرا نحمد الله على أن وفقنا لإمداد مُعاني البرهان بعون على معانيه، وإثراء المكتبة الأصولية بهذا الكتاب النفيس، ونحمده تعالى على تيسير طباعته سائلين المولى أن يجزي من تكفل بتكاليف نشره عظيم الجزاء، وينزل عليه عفوه ورضوانه وبركته، وأن يشمل بهذا الدعاء العاملين في مشروع أسفار، ومختصر الكتاب ومصنف أصله ومحققه. والحمد لله رب العالمين.

 

أسفار لنشر نفيس الكتب والرسائل العلمية

دولة الكويت
মূল কিতাব নিয়ে নিমগ্ন থাকা ব্যক্তি যাতে এর অর্থ অনুধাবন করতে পারেন, এবং তখন যেন এটি তার নিকট জটিল মনে না হয়। ইবনুল মুনাইয়্যিরের সংক্ষেপণের উদ্দেশ্য ছিল এটিই, এমনকি তিনি তাঁর ভূমিকায় বলেছেন: "এই কিতাব এবং আল-বুরহান; যেন ঘোড়দৌড়ের দুই ঘোড়া, তারা উভয়েই সাবলীলতার প্রশস্ত প্রাঙ্গণে তাবু গেড়েছে এবং খুঁটি গেড়েছে; তবে এটি অতি সংক্ষিপ্ত এবং ওটি অতি বিস্তারিত।"

উল্লেখ্য যে, ইবনুল মুনাইয়্যির 'আল-বুরহানের মর্মার্থ' ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে অনেক স্থানে 'শারহুল আবিয়ারি' থেকে উপকৃত হয়েছেন; গ্রন্থটির মুহাক্কিক (সম্পাদক) বিস্তারিত অনুসন্ধান ব্যতিরেকেই বেশ কিছু স্থানে এ বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি এর সম্পাদনায় প্রশংসনীয় শ্রম ব্যয় করেছেন এবং জটিল স্থানগুলোতে আল-বুরহান ও এর শারহ থেকে বিভিন্ন বক্তব্য উদ্ধৃত করে টীকা প্রদান করেছেন। তিনি বর্তমান পাঠের সাথে মূল পাঠের তুলনা করেছেন বিশেষ করে পাণ্ডুলিপির অস্পষ্ট স্থানগুলোতে, যাতে করে এটি সম্ভাব্য সর্বোত্তম এবং সত্যের সর্বাধিক নিকটবর্তী রূপে প্রকাশিত হয়।

আমরা শেখ ইব্রাহিম বিন সালিহ আল-খুযি-র মহান প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করছি, যা তিনি গ্রন্থটি পুনঃনিরীক্ষণ এবং মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখার ক্ষেত্রে ব্যয় করেছেন। এর সমস্যাবলীর সমাধান এবং জটিল বিষয়সমূহ পর্যালোচনায় তাঁর বিশাল অংশীদারিত্ব রয়েছে। আল্লাহ তাঁর এই প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং তাঁর এই কাজের জন্য তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

পরিশেষে আমরা আল্লাহর প্রশংসা করছি যে, তিনি আমাদের আল-বুরহানের অর্থান্বেষীদের এর মর্মার্থ উপলব্ধিতে সহায়তা করার এবং উসুল শাস্ত্রের জ্ঞানভাণ্ডারকে এই মূল্যবান গ্রন্থটি দ্বারা সমৃদ্ধ করার তাওফিক দান করেছেন। এই গ্রন্থটি মুদ্রণ সহজসাধ্য করার জন্য আমরা মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন এর প্রকাশনার ব্যয়ভার বহনকারীকে মহান প্রতিদান দান করেন এবং তাঁর ওপর ক্ষমা, সন্তুষ্টি ও বরকত বর্ষণ করেন। আমরা এই দোয়াতে আসফার প্রকল্পের কর্মীগণ, গ্রন্থের সংক্ষেপকারী, মূল গ্রন্থের লেখক এবং এর মুহাক্কিককে শামিল করছি। সকল প্রশংসা জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

আসফার; মূল্যবান গ্রন্থ ও জ্ঞানগর্ভ গবেষণাপত্র প্রকাশনী

কুয়েত রাষ্ট্র
(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

إنَّ الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد ألا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنَّ محمدا عبده ورسوله؛ أما بعد:

فإن علم أصول الفقه من أجل العلوم الشرعية قدراً، وأرفعها مكانةً، وأشرفها نفعاً؛ لأنها مما توصل صاحبها إلى إدراك الأحكام الشرعية وفهمها، ومعرفة أسرارها، والاستنباط منها، واستحكام مسائلها. ولذا؛ فقد عُني العلماء بهذا العلم الشريف عناية فائقة، وصنف فيها مختلف الطوائف والمذاهب، فكان من أجل تلك المصنفات وأوعبها وأقعدها كتاب «البرهان في أصول الفقه» لأبي المعالي الجويني (ت 478 هـ)، وقد نال هذا الكتاب حظوةً عند الأصوليين والفقهاء، فأقبل عليه عدد منهم، يعتنون بفك رموزه، وكشف أسراره. وكان أحد هذه الأعمال التي دارت حول رحاه مختصر البرهان المسمى بـ: «الكفيل بالوصول إلى ثمرات الأصول» للقاضي ناصر الدين ابن المنير المالكي رحمه الله (ت 683 هـ)، الذي أجاد في تقريبه وتهذيبه - بشهادة بعض العلماء. ولما يسر الله تعالى الوقوف على هذا السفر، توجهنا ـدون تردد وتباطؤـ نحو تحقيقه والاعتناء به بما يليق بمكانته لينهل منه أهل العلم وطلابه.
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। অতপর:

নিশ্চয়ই ইলমে উসুলুল ফিকহ হলো শরয়ি ইলমসমূহের মাঝে মর্যাদার দিক থেকে অত্যন্ত মহিমান্বিত, অবস্থানের দিক থেকে অতি উচ্চ এবং উপকারের দিক থেকে সর্বাধিক সম্মানজনক; কারণ এটি এর অধিকারীকে শরয়ি হুকুম-আহকাম উপলব্ধি ও অনুধাবন করতে, সেগুলোর রহস্য জানতে, সেগুলো থেকে বিধান নিষ্কাশন করতে এবং এর মাসয়ালাসমূহকে সুদৃঢ় করতে সাহায্য করে। আর এই কারণেই আলেমগণ এই মহিমান্বিত ইলমের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং বিভিন্ন দল ও মাযহাবের অনুসারীরা এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। সেই সকল রচনাবলির মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ, ব্যাপক এবং সুপ্রতিষ্ঠিত গ্রন্থ হলো ইমাম আবুল মাআলি আল-জুওয়াইনি (মৃত ৪৭৮ হিজরি)-র রচিত ‘আল-বুরহান ফি উসুলিল ফিকহ’। এই গ্রন্থটি উসুলবিদ ও ফকিহগণের নিকট বিশেষ সমাদর লাভ করেছে। ফলে তাঁদের অনেকেই এর প্রতি মনোনিবেশ করেছেন, এর জটিল বিষয়গুলোর জট খুলতে এবং এর রহস্য উন্মোচন করতে যত্নবান হয়েছেন। আর এই গ্রন্থটিকে কেন্দ্র করে রচিত কাজগুলোর অন্যতম একটি হলো ‘আল-বুরহান’-এর সংক্ষিপ্তসার, যার নাম: ‘আল-কাফিল বিল-উসুল ইলা সামারাতিল উসুল’। এর লেখক হলেন কাজি নাসিরুদ্দিন ইবনুল মুনাইয়ির আল-মালিকি (রাহিমাহুল্লাহ) (মৃত ৬৮৩ হিজরি), যিনি কিছু আলেমের সাক্ষ্য অনুযায়ী এটি সহজবোধ্য ও পরিমার্জিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। যখন আল্লাহ তাআলা এই মূল্যবান গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপি লাভের পথ সহজ করে দিলেন, তখন আমরা কোনো দ্বিধা বা বিলম্ব ছাড়াই এর সম্পাদনা ও তাহকিকের কাজে এবং এর মর্যাদার উপযোগী যত্ন নেওয়ার দিকে মনোনিবেশ করলাম, যাতে ইলম অন্বেষী ও আলেমগণ এখান থেকে জ্ঞান আহরণ করতে পারেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৮)
من المعلوم لدى القاصي والداني أن كتاب البرهان مفخرة من مفاخر الأمة الإسلامية، حيث ضم بين دفتيه من الخصائص ما قل أن تجتمع في غيره من كتب الأصول، فلا غرو أنه أحد المصادر التي عليها مدار مصنفات المتأخرين في أصول الفقه(1)؛ فقد تميز بأسلوبه الفريد في الاستنباط والتحليل ومناقشة الأقوال والآراء؛ كما أنه اتصف بالابتكار في الأسلوب، وتحقيق المسائل بعيدًا عن تقليد السابقين؛ وتميز بشموله للمسائل الأصولية، مع كثرة الاستشهاد بالأمثلة الفقهية، إضافةً إلى المكانة المرموقة للجويني وشخصيته الفريدة. فحُقَّ لكتاب اجتمعت فيه تلك الخصائص والمميزات أن يكون من عُمَد أهل الأصول.

إلا أنه كتاب عويص، بعيد المنال؛ لما فيه من تعمية العبارات وغرابة الأسلوب في النظم، وكأنه كان مقصود مصنّفه في تقرير المسائل. وقد اعترف بصعوبته التاج السُّبكي مع كونه مُعجَبًا به أشدَّ الإعجاب؛ فذكر بأن البرهان لغز الأمة، لما فيه من مصاعب الأمور(2)، وأنَّه «لا يحوم نحو حماه، ولا يدندن حول مغزاه إلَّا غواص على المعاني، ثاقب الذهن مبرز في العلم»(3). فكونه بهذا الأسلوب والتعقيد ربما حال بينه وبين طالب درره وفوائده.

--------------------------------------------

(1) قال ابن خلدون: «وكان من أحسن ما كتب فيه المتكلمون: كتاب البرهان الإمام الحرمين، والمستصفى للغزالي - وهما من الأشعرية -، وكتاب العمد لعبد الجبار، وشرحه: المعتمد لأبي الحسين البصري - وهما من المعتزلة -. وكانت الأربعة قواعد هذا الفن وأركانه».

انظر: تاريخ ابن خلدون (1/ 576).

(2) انظر: طبقات الشافعية الكبرى (5/ 192).

(3) انظر: المصدر السابق (6/ 244).

সকলের নিকট এটি সুপরিচিত যে, আল-বুরহান গ্রন্থটি ইসলামি উম্মাহর অন্যতম গৌরব; কারণ এর দুই মলাটের মাঝে এমন সব বৈশিষ্ট্য একত্রিত হয়েছে যা উসুল (মূলনীতিশাস্ত্র) এর অন্যান্য গ্রন্থে খুব কমই দেখা যায়। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, এটি এমন একটি উৎস যার ওপর পরবর্তী লেখকদের উসুলুল ফিকহ বিষয়ক রচনাবলি আবর্তিত হয়েছে(১); এটি ইস্তিনবাত (উদ্ভাবন), বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন মত ও দৃষ্টিভঙ্গির পর্যালোচনায় তার অনন্য শৈলীর মাধ্যমে স্বতন্ত্র লাভ করেছে। এর পাশাপাশি এটি রচনাশৈলীতে অভিনবত্ব এবং পূর্বসূরিদের অন্ধ অনুকরণ থেকে দূরে থেকে মাসয়ালাগুলোর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত; এছাড়া ফিকহি উদাহরণের প্রচুর ব্যবহারের পাশাপাশি এটি উসুলী মাসয়ালাগুলোর ব্যাপকতার জন্যও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আল-জুওয়াইনীর উচ্চমর্যাদা এবং তার অনন্য ব্যক্তিত্ব। সুতরাং যে গ্রন্থে এই সব বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি একত্রিত হয়েছে, তার পক্ষে উসুল শাস্ত্রের পণ্ডিতদের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হওয়াটাই সংগত।

তবে এটি একটি অত্যন্ত কঠিন ও দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ; কারণ এর বাক্যগুলোতে রয়েছে অস্পষ্টতা এবং বিন্যাসের ক্ষেত্রে এক অদ্ভুত ভঙ্গি, মনে হয় মাসয়ালাগুলো বর্ণনার ক্ষেত্রে এটাই লেখকের উদ্দেশ্য ছিল। তাজ আল-সুবকী এই গ্রন্থের প্রতি চরম মুগ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এর কাঠিন্যের কথা স্বীকার করেছেন; তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আল-বুরহান হলো এই উম্মাহর এক ধাঁধা, কারণ এতে রয়েছে জটিল বিষয়াদি(২)। তিনি আরও বলেন যে, «এর সীমানার আশেপাশে কেউ বিচরণ করতে পারে না এবং এর মূল অর্থের কাছাকাছি কেউ যেতে পারে না কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে অর্থের গভীরে ডুব দিতে পারে, প্রখর মেধার অধিকারী এবং ইলমের ক্ষেত্রে পারদর্শী»(৩)। এই ধরণের শৈলী ও জটিলতা সম্ভবত এর মুক্তাসম জ্ঞান ও উপকারিতা অন্বেষণকারীর মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

--------------------------------------------

(১) ইবনে খালদুন বলেছেন: «কালামশাস্ত্রবিদরা এ বিষয়ে যা কিছু লিখেছেন তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিল: ইমামুল হারামাইনের কিতাব আল-বুরহান এবং গাযালীর আল-মুসতাসফা — এই দুটি আশআরী মতাদর্শের — এবং আব্দুল জাব্বারের কিতাব আল-উমাদ ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ আবুল হুসাইন আল-বসরীর আল-মুতামাদ — এই দুটি মুতাজিলা মতাদর্শের। এই চারটি গ্রন্থই এই বিদ্যার মূল ভিত্তি ও স্তম্ভ ছিল»।

দেখুন: তারিখ ইবনে খালদুন (১/ ৫৭৬)।

(২) দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাতিল কুবরা (৫/ ১৯২)।

(৩) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস (৬/ ২৪৪)।

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৯)
فإذا استحضرنا كل ما سبق، وعلمنا أنَّ القاضي ناصر الدين ابن المنير المالكي (ت 683 هـ) كان شديد الصلة بالبرهان، مع ما تمتع به من إمامة في المنقول والمعقول، لا سيما في اللغة والأصول: أدركنا قيمة نتاج فكره في هذا المجال؛ فإنَّه عني به بالشرح والاختصار والتدريس، فوضع فيه كتابين؛ وهما: «شرح البرهان»، ومختصره المسمى بـ: «الكفيل». فهو خبير بالجويني الأصولي ومعاني كلامه. وهذا مما زاد من قيمة هذا الكتاب. وتظهر أهميته أيضًا في كونه ضمن قائمة الأعمال التي تصب في خدمة كتابٍ يَحتل مكانةً عاليةً في هذا الفنّ، ومما يعين على فتح مغلقات عباراته.

ومن مميزات هذا الكتاب: إمامة ابن المنيّر وتقدمه في علم اللُّغة والأصول، وبراعته في فن الاختصار. فهذا العلق وإن كان في أصله تلخيصاً واختصارًا؛ إلَّا أنه قد نمّ عن عالم متضلّع من العلوم الشرعية، لا سيما في الأصلين واللغة، وتمكنه التام منها؛ فقد أظهر في هذا الكتاب إحكامه لصنعة الاختصار مع دقة فهم لمسائل البرهان؛ فلم يكن كتابه مجرد تلخيص كما قد يتوهم، بل هو إعادة سبك كلام الجويني بتعبيره المحرر والرصين مع الحفاظ على مسائل الكتاب ومراد مصنفه، مما يجعله تهذيبا وشرحا له في نفس الوقت. وقد تم كلُّ ذلك بأوجز نظم، وأقصر عبارة وأدقها.

فمن رام ضبط البرهان وفهم مسائله، فلن يستغني عن هذا الكتاب، وسيأتي إن شاء الله تعالى شيء من التفصيل حول مزايا هذا الكتاب.
আমরা যদি পূর্বোক্ত বিষয়গুলো স্মরণে রাখি এবং জানি যে, কাজী নাসিরুদ্দীন ইবনুল মুনাইয়ির আল-মালিকি (মৃত্যু ৬৮৩ হিজরি) 'আল-বুরহান' গ্রন্থের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন, পাশাপাশি মনকুল (শ্রুত) ও মাকুল (বুদ্ধিবৃত্তিক) উভয় বিদ্যায়, বিশেষ করে ভাষা ও উসুলশাস্ত্রে তার যে ইমামত বা শ্রেষ্ঠত্ব ছিল, তা বিবেচনায় নিলে আমরা এই ক্ষেত্রে তার চিন্তা-প্রসূত কর্মের মূল্য অনুধাবন করতে পারি। তিনি ব্যাখ্যা, সংক্ষেপণ ও পাঠদানের মাধ্যমে এর প্রতি যত্নবান হয়েছিলেন এবং এ বিষয়ে দুটি কিতাব রচনা করেছেন; সেগুলো হলো: 'শরহুল বুরহান' এবং সেটির সংক্ষিপ্তসার যার নাম 'আল-কাফিল'। তিনি উসুলবিদ জুওয়াইনি এবং তার বক্তব্যের মর্মার্থ সম্পর্কে অত্যন্ত অভিজ্ঞ। এটিই এই কিতাবটির গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর গুরুত্ব এই দিক থেকেও প্রকাশ পায় যে, এটি এমন একটি কিতাবকে কেন্দ্র করে রচিত কর্মতালিকায় অন্তর্ভুক্ত যা এই শাস্ত্রে অতি উচ্চ মর্যাদার অধিকারী এবং যা তার দুর্বোধ্য বাক্যগুলোর জট খুলতে সহায়ক।

এই কিতাবটির বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো: ভাষাবিজ্ঞান ও উসুলশাস্ত্রে ইবনুল মুনাইয়িরের শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রগামিতা এবং সংক্ষেপণ শিল্পে তার পারদর্শিতা। এই মূল্যবান কর্মটি যদিও মূলে একটি সারসংক্ষেপ ও সংক্ষেপণ, তথাপি এটি শরয়ি বিজ্ঞানে, বিশেষ করে উভয় উসুল (আকিদা ও ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি) ও ভাষাবিজ্ঞানে একজন সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী এবং তাতে পূর্ণ পারদর্শী আলিমের পরিচয় দেয়। তিনি এই কিতাবে 'আল-বুরহান'-এর মাসয়ালাগুলো সূক্ষ্মভাবে অনুধাবনের পাশাপাশি সংক্ষেপণ শিল্পের মুন্সিয়ানা প্রদর্শন করেছেন। তার এই কিতাবটি নিছক কোনো সারসংক্ষেপ নয় যেমনটি ধারণা করা হতে পারে, বরং এটি জুওয়াইনির বক্তব্যকে তার নিজস্ব পরিমার্জিত ও বলিষ্ঠ অভিব্যক্তিতে পুনর্গঠন করা, যেখানে কিতাবের মাসয়ালাসমূহ এবং মূল লেখকের উদ্দেশ্যকে অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে; যা একে একই সাথে একটি পরিমার্জন ও ব্যাখ্যা গ্রন্থে পরিণত করেছে। আর এই সবকিছুই সম্পন্ন হয়েছে সংক্ষিপ্ততম বিন্যাস এবং স্বল্পতম ও সূক্ষ্মতম শব্দচয়নের মাধ্যমে।

সুতরাং যে ব্যক্তি 'আল-বুরহান' আয়ত্ত করতে এবং এর মাসয়ালাসমূহ বুঝতে চায়, সে এই কিতাবটির মুখাপেক্ষিতা এড়াতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ তাআলা অচিরেই এই কিতাবের বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌أولا ترجمة ابن المُنَيِّر

*‌‌ اسمه ونسبه ونشأته العلمية (1):

هو أبو العباس أحمد بن محمد بن منصور بن القاسم(2) بن مختار(3) بن أبي بكر بن علي، الجُذَامي(4) الجَرَوِيُّ(5) الإسكندري المالكي، ناصر الدين، المعروف بابن المُنَيّرِ(6)، عالم الديار المصرية، وقاضي القضاة في الإسكندرية وخطيبها، مولده في الثالث من ذي القعدة سنة 620 هـ.

نشأ في أسرة علمية، فقد كان والده أبو المعالي وجيه الدين منصور بن محمد عالما جليلا، قاضيًا في الإسكندرية (ت 656 هـ)(7)، ونجيب الدين

--------------------------------------------

(1) ترجمته في ذيل مرآة الزمان (4/ 206)، تاريخ الإسلام (51/ 136)، فوات الوفيات (1/ 149)، برنامج الوادي آشي (ص 50)، الوافي بالوفيات (8/ 84)، الديباج المذهب (1/ 243)، درة الأسلاك (ق/ 40 و/ آيا صوفيا -287)، المقفى الكبير (1/ 399)، رقم الترجمة (628)، طبقات المفسرين (1/ 89)، سلم الوصول (4/ 110).

(2) في بعض المصادر - كالوافي بالوفيات والديباج المذهب: أبو القاسم.

(3) في سلم الوصول: بختيار.

(4) بضم الجيم وفتح الذال المعجمة، نسبة إلى جذام، قبيلة يمنية. انظر: الأنساب (3/ 224).

(5) ويقال أيضا: الجرواني. والجَرَوِيُّ: بفتح الجيم والراء، نسبةً إلى جري بن عوف بن مالك، بطن من جذام. انظر: اللباب في تهذيب الأنساب (1/ 274).

(6) بضم الميم، وفتح النون، وكسر الباء المثناة المثقلة. انظر: توضيح المشتبه (8/ 289). والمنير أحد أجداده.

(7) ترجمته في تاريخ الإسلام (48/ 295)، والوافي بالوفيات (5/ 51).

প্রথমত: ইবনুল মুনাইয়্যিরের জীবনী

*‌‌ তাঁর নাম, বংশপরিচয় এবং তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক বেড়ে ওঠা (১):

তিনি হলেন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মানসুর বিন আল-কাসিম(২) বিন মুখতার(৩) বিন আবি বকর বিন আলি, আল-জুযামি(৪) আল-জারাউয়ি(৫) আল-ইসকান্দারি আল-মালিকি, নাসিরুদ্দিন; যিনি ইবনুল মুনাইয়্যির(৬) নামে পরিচিত। তিনি মিশর ভূখণ্ডের একজন প্রথিতযশা আলেম এবং আলেকজান্দ্রিয়ার প্রধান বিচারপতি (কাযিউল কুযাত) ও খতীব ছিলেন। তাঁর জন্ম ৬২০ হিজরি সনের ৩রা জিলকদ মাসে।

তিনি একটি জ্ঞানচর্চাকারী পরিবারে লালিত-পালিত হন। তাঁর পিতা আবুল মাআলি ওয়াজিহুদ্দিন মানসুর বিন মুহাম্মাদ ছিলেন একজন মহান আলেম এবং আলেকজান্দ্রিয়ার বিচারক (মৃ. ৬৫৬ হি.)(৭)। আর নাজিবুদ্দিন...

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন: যাইলু মিরআতিল যামান (৪/ ২০৬), তারিখুল ইসলাম (৫১/ ১৩৬), ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত (১/ ১৪৯), বারনামাজুল ওয়াদি আশি (পৃ. ৫০), আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত (৮/ ৮৪), আদ-দিবাজুল মাজহাব (১/ ২৪৩), দুররাতুল আসলাক (পৃ./ ৪০ ও/ আয়া সোফিয়া -২৮৭), আল-মুক্বাফ্ফাল কাবির (১/ ৩৯৯), জীবনী নং (৬২৮), তাবাকাতুল মুফাসসিরিন (১/ ৮৯), সুল্লামুল উসুল (৪/ ১১০)।

(২) কোনো কোনো উৎসে - যেমন আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত এবং আদ-দিবাজুল মাজহাবে: আবু আল-কাসিম।

(৩) সুল্লামুল উসুল-এ: বাখতিয়ার।

(৪) 'জিম' বর্ণে পেশ এবং 'যাল' বর্ণে ফাতহা যোগে, এটি একটি ইয়ামানি গোত্র 'জুযাম'-এর দিকে সম্বন্ধিত। দেখুন: আল-আনসাব (৩/ ২২৪)।

(৫) এবং একে আল-জারাওয়ানিও বলা হয়। আল-জারাউয়ি: 'জিম' ও 'রা' বর্ণে ফাতহা যোগে, এটি জুযাম গোত্রের একটি শাখা 'জারি বিন আউফ বিন মালিক'-এর দিকে সম্বন্ধিত। দেখুন: আল-লুবাব ফি তাহযিবিল আনসাব (১/ ২৭৪)।

(৬) 'মিম' বর্ণে পেশ, 'নুন' বর্ণে ফাতহা এবং দ্বিত্বযুক্ত দুই নুক্তাবিশিষ্ট 'বা' বর্ণে কাসরা যোগে। দেখুন: তাওযিহুল মুশতাবিহ (৮/ ২৮৯)। মুনাইয়্যির তাঁর অন্যতম পূর্বপুরুষের নাম।

(৭) তাঁর জীবনী দেখুন: তারিখুল ইসলাম (৪৮/ ২৯৫) এবং আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত (৫/ ৫১)।

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১১)
أحمد ابن فارس(1) هُوَ جَدُّهُ لأُمِّهِ، كما أن كمال الدين ابن فارس (ت 676 هـ)(2) - شيخ القراء والتجويد - خَالُه.

وزين الدين أبو الحسن علي بن محمد (ت 695 هـ)، الإمام المحدث القاضي، شارح البخاري، هو أخوه الشقيق(3)، وقد تولى القضاء بعد أخيه ناصر الدين.

درس ابن المُنَيّر بعدة مدارس، وخدم في أول أمره في عدة جهات، وتولى الأحباس والمساجد وديوان النُّظر. ونال في الإسكندرية مناصب عالية، من خطابة وتدريس وقضاء وغير ذلك، وربما كان لوالده الفضل - بعد الله تعالى - في نيله شيئًا من تلك المناصب.

ولي قضاء الإسكندرية وخطابتها مرتين؛ وقد ناب قبل ذلك عن القاضي ابن التنيسي(4) سنة 651 هـ، وولي الخطابة في جامع الإسكندرية لمدة يسيرة في السنة نفسها، وذلك بعد عزل أبي الفرج محمد بن علي بن أبي الفرج(5)، ثُمَّ ولي القضاء والخطابة استقلالا(6) للمرة الأولى سنة 652 هـ، ثم عُزل في

--------------------------------------------

(1) انظر: معرفة القراء الكبار (ص 357).

(2) انظر: المصدر السابق (ص 357).

(3) ترجمته في: تاريخ الإسلام (52/ 266)، نيل الابتهاج (ص 324).

(4) أو التنسي. لم أقف على ترجمته سوى ما أشار إليه تلميذه ابن راشد القفصي إشارة عابرة

فيما نقله عنه التنبكتي. انظر: نيل الابتهاج (ص 392).

(5) انظر تفاصيل الخبر في المقفى الكبير (1/ 191).

(6) تفيد عدد من المصادر أنه كان قاضي القضاة، ولعل المقصود به قضاء قضاة المالكية. وسماه صاحب درّة الأسلاك بالحاكم فيها، وهو من ألقاب القضاة.

আহমাদ ইবন ফারিস(১) হলেন তাঁর মাতামহ, যেমন কামালুদ্দিন ইবন ফারিস (মৃত্যু ৬৭৬ হি.)(২) —যিনি ক্বারি ও তাজবিদ বিশেষজ্ঞদের শাইখ ছিলেন— হলেন তাঁর মামা।

আর জাইনুদ্দিন আবুল হাসান আলি বিন মুহাম্মাদ (মৃত্যু ৬৯৫ হি.), ইমাম, মুহাদ্দিস ও কাজি এবং বুখারির ব্যাখ্যাকারী, তিনি হলেন তাঁর সহোদর ভাই(৩); আর তিনি তাঁর ভাই নাসিরুদ্দিনের পর বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

ইবনুল মুনাইয়ির বেশ কয়েকটি মাদরাসায় পড়াশোনা করেছেন এবং কর্মজীবনের শুরুতে বিভিন্ন বিভাগে কাজ করেছেন। তিনি ওয়াকফ (আহবাস), মসজিদ এবং পরিদর্শন দেওয়ানের (দিওয়ানুন নুজ্জার) দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় খুতবা প্রদান, অধ্যাপনা ও বিচারকার্যসহ বিভিন্ন উচ্চ পদে আসীন হন। সম্ভবত আল্লাহ তায়ালার পর তাঁর পিতার অবদান ছিল তাঁর এসব পদের কিছু অর্জনের পেছনে।

তিনি দুইবার আলেকজান্দ্রিয়ার বিচারকার্য ও খুতবা প্রদানের দায়িত্ব লাভ করেন। এর আগে তিনি ৬৫১ হিজরিতে কাজি ইবনুল তানিছির(৪) প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছিলেন। একই বছর তিনি আলেকজান্দ্রিয়ার জামে মসজিদে স্বল্প সময়ের জন্য খতিবের দায়িত্ব পালন করেন, যা আবুল ফরাজ মুহাম্মাদ বিন আলি বিন আবুল ফরাজের(৫) অপসারণের পর ঘটেছিল। এরপর ৬৫২ হিজরিতে তিনি প্রথমবারের মতো স্বাধীনভাবে বিচারকার্য ও খুতবা প্রদানের দায়িত্ব লাভ করেন, অতঃপর তাঁকে অপসারণ করা হয়...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মারিফাতুল কুররা আল-কিবার (পৃ. ৩৫৭)।

(২) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস (পৃ. ৩৫৭)।

(৩) তাঁর জীবনী দেখুন: তারিখুল ইসলাম (৫২/ ২৬৬), নাইলুল ইবতিহাজ (পৃ. ৩২৪)।

(৪) অথবা আল-তানাসি। তাঁর জীবনী সম্পর্কে আমি কিছুই পাইনি, কেবল তাঁর ছাত্র ইবন রাশিদ আল-কফসি তাঁর সম্পর্কে যে সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত দিয়েছেন তা ছাড়া, যা তিম্বুকতি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। দেখুন: নাইলুল ইবতিহাজ (পৃ. ৩৯২)।

(৫) খবরের বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন: আল-মুকাফফা আল-কাবীর (১/ ১৯১)।

(৬) বেশ কিছু উৎস থেকে জানা যায় যে তিনি প্রধান বিচারপতি ছিলেন, এবং সম্ভবত এর দ্বারা মালিকি মাযহাবের প্রধান বিচারপতি বোঝানো হয়েছে। 'দুররাতুল আসলাক'-এর লেখক তাঁকে সেখানে 'আল-হাকিম' বলে অভিহিত করেছেন, যা বিচারপতিদের একটি উপাধি।

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১২)
أواخر حياته(1)، ثم أعيدت إليه مناصبه.

اشتهر في علوم اللغة والأصلين وغيرهما وهو دون الثلاثين، وتولى التدريس في حياة والده. وذكر هو عن نفسه أنه لم يجتمع بأبي عمرو بن الحاجب (ت 646 هـ) حتى حفظ مختصريه في الفقه والأصول، وأن ابن الحاجب أجازه بالإفتاء. بل صنف بعض تصانيفه في عنفوان شبابه، كتعقباته على كشاف الزمخشري، مما يدل على نبوغه في وقت مبكر.

وكان شاعراً مجيداً، وخطيبًا مصقعا، واشتهر بخُطبه ووعظه، وله خطبة خطب بها لما دخل هولاكو الشام سنة 658 هـ(2)، وكانت هذه الخطبة الشهيرة يوم الجمعة الخامس عشر من شهر ربيع الأول سنة 658 هـ(3).

حظي ابن المنير بمكانة عالية وشهرة واسعة بين علماء عصره، وذاع صيته في الإسكندرية وخارجها، وأثنى عليه عدد من الأئمة والعلماء، فمن ذلك ما ذكره ابن راشد القفصي (ت 736 هـ)، قال: «رحلتُ إلى الاسكندرية في زمن الملك السعيد(4) فلقيت بها صدورًا أكابر، وبحورا زواخر، كقاضي القضاة ناصر الدين بن المُنير، وكان ذا علوم فائقة … »(5).

--------------------------------------------

(1) انظر سبب عزله في عيون التواريخ (21/ 348،349)، نهاية الأرب (31/ 123).

(2) انظر اجتياح هولاكو للشام في البداية والنهاية (17/ 395).

(3) وقد أورد الحافظ الذهبي وغيره طرفًا منها في ترجمته.

(4) يعني الملك ناصر الدين محمد بركة خان بن الملك الظاهر بيبرس (ت 678 هـ).

(5) نيل الابتهاج (ص 392) رجح د. عبد الباسط قوادر أن رحلة ابن راشد إلى المشرق كانت في بداية السبعينات بعد المئة السادسة الهجرية، وأنه كان موجودًا في مصر سنة 677 هـ، وأنها لم تكن رحلة عابرة، بل رحلة للتكوين والتعمق في العلوم النقلية والعقلية. انظر: ابن راشد القفصي وآثاره العلمية (ص 78).

তাঁর জীবনের শেষ দিকে(১), এরপর তাঁর পদমর্যাদাগুলো তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি ভাষা বিজ্ঞান, দুই মূলনীতি (আকীদা ও উসুলুল ফিকহ) এবং অন্যান্য শাস্ত্রে ত্রিশ বছর বয়সের আগেই প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং তাঁর পিতার জীবদ্দশাতেই শিক্ষকতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি নিজের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আবু আমর ইবনুল হাজিবের (মৃত্যু ৬৪৬ হিজরী) সাথে ততক্ষণ পর্যন্ত সাক্ষাৎ করেননি যতক্ষণ না ফিকহ ও উসুলের ওপর তাঁর (ইবনুল হাজিবের) লেখা সংক্ষেপিত গ্রন্থদ্বয় মুখস্থ করেছিলেন। এবং ইবনুল হাজিব তাঁকে ফতোয়া প্রদানের অনুমতি দিয়েছিলেন। বরং তিনি তাঁর কিছু গ্রন্থ তাঁর যৌবনের প্রারম্ভেই রচনা করেছিলেন, যেমন যামাখশারীর তাফসীরে কাশশাফের ওপর তাঁর সমালোচনামূলক টীকা, যা তাঁর অল্প বয়সেই অসাধারণ প্রতিভার প্রমাণ দেয়।

তিনি একজন দক্ষ কবি এবং বাগ্মী সুবক্তা ছিলেন। তিনি তাঁর খুতবা ও ওয়ায-নসীহতের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। তাঁর একটি প্রসিদ্ধ খুতবা রয়েছে যা তিনি ৬৫৮ হিজরীতে হালাকু খাঁ যখন শাম (সিরিয়া) প্রবেশ করেন তখন প্রদান করেছিলেন(২)। এই প্রসিদ্ধ খুতবাটি প্রদান করা হয়েছিল ৬৫৮ হিজরী সালের ১৫ই রবিউল আউয়াল রোজ শুক্রবার(৩)।

ইবনুল মুনীর তাঁর সমসাময়িক আলেমদের মধ্যে উচ্চ মর্যাদা এবং ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। আলেকজান্দ্রিয়া এবং এর বাইরেও তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল। অসংখ্য ইমাম ও আলেম তাঁর প্রশংসা করেছেন। এর মধ্যে ইবনে রাশিদ আল-কাফসী (মৃত্যু ৭৩৬ হিজরী) যা উল্লেখ করেছেন তা হলো, তিনি বলেন: «আমি আল-মালিক আল-সাঈদের(৪) আমলে আলেকজান্দ্রিয়ায় সফর করেছিলাম, সেখানে আমি অনেক বড় বড় ব্যক্তিত্ব এবং জ্ঞানের বিশাল সমুদ্রতুল্য ব্যক্তিদের সাক্ষাৎ পেয়েছি, যেমন কাযিল কুযাত নাসিরুদ্দিন ইবনুল মুনীর; তিনি অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন … »(৫)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর পদচ্যুতির কারণ দেখুন উয়ুনুত তাওয়ারীখ (২১/ ৩৪৮, ৩৪৯) এবং নিহায়াতুল আরাব (৩১/ ১২৩)-এ।

(২) শামে হালাকু খাঁর আক্রমণ সম্পর্কে দেখুন আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৭/ ৩৯৫)-তে।

(৩) হাফেজ যাহাবী এবং অন্যান্যরা তাঁর জীবনী আলোচনায় এই খুতবার অংশবিশেষ উদ্ধৃত করেছেন।

(৪) অর্থাৎ আল-মালিক নাসিরুদ্দিন মুহাম্মদ বারাকাহ খান বিন আল-মালিক আল-জাহির বাইবার্স (মৃত্যু ৬৭৮ হিজরী)।

(৫) নীলুল ইবতিহাজ (পৃ. ৩৯২)। ড. আবদুল বাসিত কাওয়াদির এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, প্রাচ্যে ইবনে রাশিদের সফর ছিল ষষ্ঠ হিজরী শতকের সত্তর দশকের শুরুতে, এবং তিনি ৬৭৭ হিজরীতে মিসরে অবস্থান করছিলেন। আর এটি কোনো ক্ষণস্থায়ী সফর ছিল না, বরং তা ছিল নকলী (শ্রুতলব্ধ) এবং আকলী (বুদ্ধিবৃত্তিক) জ্ঞান অর্জনে গভীরতা ও বুৎপত্তি লাভের সফর। দেখুন: ইবনে রাশিদ আল-কাফসী ওয়া আসারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (পৃ. ৭৮)।

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৩)
ويقول فيه شيخه العلامة أبو عمرو ابن الحاجب (ت 646 هـ)(1):

لقد سَئِمْتُ حَياتِي البَحثَ لَولا … مباحث ساكن الإسكندريه

كأحمد سبط أحمد(2) حين يأتي … بكُلِّ غريبةٍ كالعبقريه

تذكرني مباحثه زمانًا … وإخوانا لقيتهم سريه

زماناً كان الأبياري فيه … مدرسنا وتغبطنا البريه

مضوا فكأنهم إما منام … وإما صبحة أضحت عشيه

وقال قاضي القضاة تقي الدين ابن شكر: «أجمع الشافعية والمالكية على أن أفضل أهل عصرنا بالديار المصرية ثلاثة: القرافي بمصر القديمة، والشيخ ناصر الدين بن مُنَيّر بالإسكندرية، والشيخ تقي الدين بن دقيق العيد بالقاهرة المعزية، وكلهم مالكية خلا الشيخ تقي الدين؛ فإنه جمع بين المذهبين»(3).

ويكفي فيه ما قاله شيخه الإمامُ عِزُّ الدين بن عبد السلام رحمه الله: «ديار مصر تفخر برجلين في طرفيها، ابن المُنَيّر بالإسكندرية، وابن دقيق العيد بقوص».

وكان لا يُجارَى في المناظرة والمباحثة، لكن عيب عليه شيء من التعالي في ذلك، وإساءة للخصم، وقد حصل بينه وبين ابن دقيق العيد ما يدل على ذلك، فقد ذكر ابن دقيق العيد أنه سأله يوما عن الحجة في كون

--------------------------------------------

(1) بغية الوعاة (1/ 384).

(2) قوله: سبط أحمد، أشار به إلى جده لأمه، وهو الإمام كمال الدين أحمد بن فارس.

(3) الديباج المذهب (1/ 238).

তাঁর সম্পর্কে তাঁর উস্তাদ আল্লামা আবু আমর ইবনুল হাজিব (মৃত্যু ৬৪৬ হিজরি) বলেন(১):

আমি আমার জীবনের জ্ঞানানুসন্ধানে ক্লান্ত হয়ে যেতাম, যদি না … আলেকজান্দ্রিয়ার বাসিন্দার গবেষণামূলক আলোচনাগুলো থাকত।

যেমন আহমদের নাতি আহমদ যখন উপস্থিত হন … অসাধারণ ও বিস্ময়কর সব সূক্ষ্ম জ্ঞান নিয়ে।

তাঁর জ্ঞানগর্ভ আলোচনাগুলো আমাকে সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয় … এবং সেই সুমহান ভাইদের কথা যাদের সান্নিধ্য আমি পেয়েছিলাম।

এমন এক সময় যখন আল-আবিয়ারি ছিলেন … আমাদের শিক্ষক এবং সৃষ্টিজগত আমাদের প্রতি ঈর্ষা পোষণ করত।

তাঁরা চলে গেছেন, যেন তাঁরা ছিলেন কোনো স্বপ্ন … অথবা এক সকাল যা সন্ধ্যায় রূপ নিয়েছে।

এবং প্রধান বিচারপতি তাকীউদ্দীন ইবনে শুকর বলেন: «শাফেঈ ও মালেকী মাযহাবের আলিমগণ একমত হয়েছেন যে, মিশর ভূখণ্ডে আমাদের যুগের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন তিনজন: পুরনো মিশরে আল-কারাফী, আলেকজান্দ্রিয়ায় শায়খ নাসিরুদ্দীন ইবনে মুনাইয়্যির এবং কায়রোতে শায়খ তাকীউদ্দীন ইবনে দাকীকুল ঈদ। শায়খ তাকীউদ্দীন ব্যতীত তাঁরা সবাই ছিলেন মালেকী মাযহাবের অনুসারী; কারণ তিনি উভয় মাযহাবের জ্ঞানকে একত্রিত করেছিলেন»(৩)।

তাঁর সম্পর্কে তাঁর উস্তাদ ইমাম ইযযুদ্দীন ইবনে আবদুস সালাম (রহ.)-এর এই উক্তিটুকুই যথেষ্ট: «মিশর ভূখণ্ড তার দুই প্রান্তের দুজন ব্যক্তিকে নিয়ে গর্ব করে: আলেকজান্দ্রিয়ায় ইবনে মুনাইয়্যির এবং কুসে ইবনে দাকীকুল ঈদ»।

তিনি বিতর্ক ও জ্ঞানীয় আলোচনায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, তবে এ ক্ষেত্রে কিছুটা অহমিকা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি রূঢ় আচরণের কারণে তাঁর সমালোচনা করা হয়েছে। তাঁর এবং ইবনে দাকীকুল ঈদের মধ্যে এমন কিছু ঘটেছিল যা এর প্রমাণ দেয়। ইবনে দাকীকুল ঈদ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি একদিন তাঁকে একটি বিষয়ের দলিল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে...

--------------------------------------------

(১) বুগইয়াতুল উয়াত (১/ ৩৮৪)।

(২) তাঁর উক্তি: 'আহমদের নাতি'; এর মাধ্যমে তিনি তাঁর মাতামহ ইমাম কামালুদ্দীন আহমদ বিন ফারিসের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

(৩) আদ-দিবাজুল মুযাহহাব (১/ ২৩৮)।

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৪)
عمل أهل المدينة حُجَّةً، فقال ابن المنير: هل يتجه غير هذا وذكر كلامًا طويلا، فلم يتكلم ابن دقيق العيد معه، فلما خرج، سئل عن ترك الكلام معه، فقال: «رأيتُ رجلًا لا يُنتصف منه إلا بالإساءة إليه»(1).

 

*‌‌ شيوخه وتلاميذه:

لم يكن ابن المنير من الرحالين في طلب العلم، بل الظاهر من سيرته أنه تنقل داخل مدن مصر، كالإسكندرية التي هي مسقط رأسه، والقاهرة، وما جاورهما، فأخذ عن أبرز العلماء فيها، وإليك ذكر أشهر شيوخه الذين أخذ عنهم العلم، ثم تلاميذه الذين استفادوا منه:

* أما شيوخه، فمن أبرزهم:

- الفقيه المحدث يوسف بن المخيلي المالكي الإسكندراني (ت 642 هـ)(2).

- العلامة أبو عمرو ابن الحاجب (ت 646 هـ)(3).

أبوه القاضي وجيه الدين أبو المعالي محمد بن منصور بن القاسم (ت 656 هـ).

- الفقيه المجتهد عز الدين بن عبد السلام (ت 660 هـ)(4).

--------------------------------------------

(1) انظر: بغية الوعاة (1/ 384)، وطبقات المفسرين للداوودي (1/ 91). وقال عنه أيضا: «مَا يقف في البحث على حد».

(2) ترجمته في تاريخ الإسلام (47/ 146). ومَخِيل: بالفتح، ثم الكسر. نسبة إلى وادي مخيل: وهو حصن قرب برقة بالمغرب. معجم البلدان (5/ 73).

(3) ترجمته في: وفيات الأعيان (3/ 248)، السير (23/ 264)، الديباج المذهب (2/ 86).

(4) ترجمته في: العبر (3/ 299)، طبقات الشافعية الكبرى (8/ 209)، العقد المذهب (ص 159).

মদিনাবাসীদের আমল বা কর্মপন্থা একটি দলীল। এ প্রসঙ্গে ইবনুল মুনাইয়ির বলেন: এ ছাড়া কি অন্য কিছু ভাবা যায়? এরপর তিনি দীর্ঘ বক্তব্য পেশ করলেন। তখন ইবনু দাকীকুল ঈদ তাঁর সাথে কোনো কথা বলেননি। যখন তিনি বেরিয়ে গেলেন, তখন তাঁকে তাঁর সাথে কথা না বলার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: «আমি এমন এক ব্যক্তিকে দেখেছি যার সাথে অসদাচরণ করা ছাড়া ইনসাফ করা সম্ভব নয়»(১).

 

*‌‌ তাঁর শিক্ষকগণ ও ছাত্রগণ:

ইবনুল মুনাইয়ির ইলম অর্জনের জন্য খুব বেশি সফরকারী ছিলেন না, বরং তাঁর জীবনী থেকে প্রতীয়মান হয় যে তিনি মিসরের বিভিন্ন শহর যেমন আলেকজান্দ্রিয়া—যা তাঁর জন্মস্থান—এবং কায়রো ও তার আশপাশের এলাকাগুলোতে যাতায়াত করেছেন। তিনি সেখানকার শ্রেষ্ঠ আলেমদের নিকট ইলম অর্জন করেছেন। নিচে তাঁর প্রসিদ্ধ শিক্ষক এবং তাঁর নিকট থেকে উপকৃত ছাত্রদের কথা উল্লেখ করা হলো:

* শিক্ষকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

- ফকীহ ও মুহাদ্দিস ইউসুফ বিন আল-মুখাইলী আল-মালিকী আল-ইসকান্দারানী (মৃত্যু ৬৪২ হিজরী)(২).

- আল্লামা আবু আমর ইবনুল হাজিব (মৃত্যু ৬৪৬ হিজরী)(৩).

তাঁর পিতা আল-কাজী ওয়াজীহুদ্দীন আবু আল-মাআলী মুহাম্মদ বিন মনসুর বিন আল-কাসিম (মৃত্যু ৬৫৬ হিজরী)।

- ফকীহ ও মুজতাহিদ ইজ্জুদ্দীন বিন আব্দুস সালাম (মৃত্যু ৬৬০ হিজরী)(৪).

--------------------------------------------

(১) দেখুন: বুগইয়াতুল উয়াত (১/ ৩৮৪), এবং দাওয়ূদী রচিত তাবাকাতুল মুফাসসিরীন (১/ ৯১)। তাঁর সম্পর্কে আরও বলা হয়েছে: «তিনি বিতর্কের সময় কোনো সীমায় স্থির থাকেন না»।

(২) তাঁর জীবনী রয়েছে তারিখুল ইসলামে (৪৭/ ১৪৬)। আর 'মুখাইল' শব্দটি মিমে ফাতহা এবং খ-এ কাসরা যোগে। এটি মাগরিবের বারকা অঞ্চলের নিকটবর্তী একটি দুর্গ 'ওয়াদি মুখাইল'-এর সাথে সম্পর্কিত। মুজামুল বুলদান (৫/ ৭৩)।

(৩) তাঁর জীবনী রয়েছে: ওফায়াতুল আইয়ান (৩/ ২৪৮), আস-সিয়ার (২৩/ ২৬৪), আদ-দীবাজুল মুদহহাব (২/ ৮৬)।

(৪) তাঁর জীবনী রয়েছে: আল-ইবার (৩/ ২৯৯), তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা (৮/ ২০৯), আল-আকদুল মুদহহাব (পৃষ্ঠা ১৫৯)।

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৫)
- الإمام اللغوي محمد بن عبد الله بن عبد العزيز بن عمر الزناتي المازني (ت 691 أو 693 هـ)(1)، المعروف بـ: حافي رأسه.

- أبو بحر عبد الوهاب بن رواج بن أسلم الطوسي(2).

* وممن تتلمذ له وأخذ عنه:

- تاج الدين إسماعيل بن إبراهيم بن عبد الرحمن المخزومي المصري (ت 694 هـ)(3)، المعروف بابن قريش.

- أخوه المحدث الفقيه القاضي زين الدين ابن المنير، علي بن محمد بن منصور (ت 695 هـ). - عبد الله بن يُوسُف بن مُوسَى الخَلاسي البلنسي (ت 697 هـ)(4).

- الإمام اللغوي صفي الدين محمود بن أبي بكر بن محمود الأرموي القرافي الصوفي الدمشقي (ت 723 هـ)(5).

--------------------------------------------

(1) ترجمته في: تاريخ الإسلام (52/ 133)، مسالك الأبصار (7/ 236)، درة الحجال (2/23). قرأ عليه ابن المُنَيّر في النحو. لكن صرّح أبو حيان الأندلسي - كما نقله عنه ابن فضل الله - أنه رآه في أحد دروس ابن المُنَيّر سنة 679 هـ، فإن صح ما ذكروه من قراءة ابن المنير عليه في النحو، فيكون قد أخذ كل منهما عن الآخر، وأن حافي رأسه يكون تلميذا وشيخًا لابن المنير في نفس الوقت.

(2) لم أجد له ترجمة.

(3) طبقات المفسرين للداوودي (1/ 90). وقد تحرفت «ابن قريش» في الديباج المذهب إلى «ابن قرمس».

(4) برنامج الوادي آشي (ص 50).

(5) المصدر السابق (ص 88).

- ইমাম ভাষাবিদ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে উমর আল-যানাতী আল-মাযিনী (মৃত্যু ৬৯১ অথবা ৬৯৩ হিজরি)(১), 'হাফি রা’সাহু' নামে পরিচিত।

- আবু বাহর আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে রাওয়াজ ইবনে আসলাম আত-তুসী(২)।

* এবং যারা তাঁর নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন:

- তাজউদ্দীন ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আব্দুর রহমান আল-মাখযূমী আল-মিশরী (মৃত্যু ৬৯৪ হিজরি)(৩), 'ইবনে কুরাইশ' নামে পরিচিত।

- তাঁর ভাই মুহাদ্দিস ফকিহ কাজী যাইনুদ্দীন ইবনুল মুনাইর, আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মানসুর (মৃত্যু ৬৯৫ হিজরি)। - আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইবনে মুসা আল-খালাসী আল-বালানসী (মৃত্যু ৬৯৭ হিজরি)(৪)।

- ইমাম ভাষাবিদ সফিউদ্দীন মাহমুদ ইবনে আবি বকর ইবনে মাহমুদ আল-আরমাভী আল-কারাফী আস-সূফী আদ-দামেশকী (মৃত্যু ৭২৩ হিজরি)(৫)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী রয়েছে: তারিখুল ইসলাম (৫২/ ১৩৩), মাসালিকুল আবসার (৭/ ২৩৬), দুররাতুল হিজাল (২/ ২৩)। ইবনুল মুনাইর তাঁর নিকট নাহু পড়েছেন। তবে আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসী—যেমনটি ইবনে ফাযলুল্লাহ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন—স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁকে ৬৭৯ হিজরিতে ইবনুল মুনাইরের একটি পাঠদান সভায় দেখেছিলেন। সুতরাং ইবনুল মুনাইর তাঁর নিকট নাহু পড়েছেন বলে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা যদি সঠিক হয়, তবে তাঁদের প্রত্যেকেই একে অপরের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, এবং সেক্ষেত্রে 'হাফি রা’সাহু' একই সাথে ইবনুল মুনাইরের ছাত্র এবং শিক্ষক উভয়ই হবেন।

(২) আমি তাঁর কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি।

(৩) দাওউদীর তাবাকাতুল মুফাসসিরীন (১/ ৯০)। 'আদ-দীবাজুল মুযাহহাব' গ্রন্থে 'ইবনে কুরাইশ' নামটি বিকৃত হয়ে 'ইবনে কুরামাস' হয়ে গেছে।

(৪) বারনামাজুল ওয়াদি আশি (পৃষ্ঠা ৫০)।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস (পৃষ্ঠা ৮৮)।

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৬)
- تاج الدين عبد الغفار بن محمد بن عبد الكافي السعدي المصري (ت 732 هـ)(1).

- العلامة النحوي عمر بن علي بن سالم بن صدقة اللخمي الإسكندري (ت 734)(2).

- الفقيه اللغوي محمد بن عبد الله بن راشد البكري القفصي (ت 736 هـ)(3).

- ابن أخيه، المحدث الفقيه عبد الواحد بن شرف الدين منصور بن

محمد بن منصور (ت 733 هـ)(4)، المعروف بـ: عِزّ القضاة.

- الإمام اللغوي المفسّر أبو حيان الأندلسي، محمد بن يوسف بن علي الغرناطي (ت 745 هـ)(5).

 

•‌‌ مؤلفاته

تقدّم في صدر الكلام على ترجمة ناصر الدين أن زين الدين شقيقه، وهو علي بن محمد بن منصور، ولد سنة 629 هـ، وتوفي 695 هـ؛ فهو أصغر من أخيه ناصر الدين بست سنوات، ويجمعهما أمور كثيرة مما جعل بعض

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق (ص 46).

(2) ترجمته في البداية والنهاية (18/ 370)، الدرر الكامنة (4/ 209).

(3) ترجمته في الديباج المذهب (2/ 328)، الوفيات لابن قنفذ (ص 346)، درة الحجال (2/ 112)، نيل الابتهاج (ص 392).

(4) ترجمته في أعيان العصر (3/ 187)، الدرر الكامنة (3/ 229)، شجرة النور الزكية (1/ 294).

(5) ترجمته في مسالك الأبصار (7/ 236)، طبقات المفسرين للداوودي (1/ 90).

- তাজউদ্দীন আব্দুল গাফফার বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল কাফি আল-সাদি আল-মিসরি (ওফাত ৭৩২ হি.)(১).

- আল্লামা নাহবি (ব্যাকরণবিদ) উমর বিন আলী বিন সালেম বিন সাদাকা আল-লাখমি আল-ইস্কান্দারি (ওফাত ৭৩৪ হি.)(২).

- ফকিহ ও ভাষাবিদ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন রাশিদ আল-বাকরি আল-কাফসি (ওফাত ৭৩৬ হি.)(৩).

- তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র, মুহাদ্দিস ও ফকিহ আব্দুল ওয়াহিদ বিন শরফুদ্দিন মানসুর বিন

মুহাম্মাদ বিন মানসুর (ওফাত ৭৩৩ হি.)(৪), যিনি 'ইজ্জুল কুদাত' নামে পরিচিত।

- ইমাম, ভাষাবিদ ও মুফাসসির আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি, মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন আলী আল-গারনাতি (ওফাত ৭৪৫ হি.)(৫).

 

•‌‌ তাঁর রচনাবলি

নাসিরুদ্দীনের জীবনীর আলোচনার শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যাইনুদ্দীন তাঁর সহোদর ভাই, আর তিনি হলেন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন মানসুর, যিনি ৬২৯ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৯৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন; ফলে তিনি তাঁর ভাই নাসিরুদ্দীনের চেয়ে ছয় বছরের ছোট ছিলেন, এবং তাঁদের উভয়ের মাঝে অনেক বিষয়ে অভিন্নতা ছিল যা কিছুকে...

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (পৃ. ৪৬)।

(২) তাঁর জীবনী রয়েছে আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া (১৮/৩৭০), আদ-দুরারুল কামিনাহ (৪/২০৯)-এ।

(৩) তাঁর জীবনী রয়েছে আদ-দিবাজুল মুযাহহাব (২/৩২৮), ইবনুল কুনফুযের আল-ওয়াফিয়াত (পৃ. ৩৪৬), দুররাতুল হিজাল (২/১১২), নাইলুল ইবতিহাজ (পৃ. ৩৯২)-এ।

(৪) তাঁর জীবনী রয়েছে আইয়ানুল আসর (৩/১৮৭), আদ-দুরারুল কামিনাহ (৩/২২৯), শাজরাতুন নূরুল জাকিয়্যাহ (১/২৯৪)-এ।

(৫) তাঁর জীবনী রয়েছে মাসালিকুল আবসার (৭/২৩৬), দাউদির তাবাকাতুল মুফাসসিরিন (১/৯০)-এ।

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৭)
القدامى والمحدثين قد يخلطون بينهما، وفي نسبة مصنفاتهما؛ فقد اشتهر كلُّ منهما بـ: «ابن المُنَيِّر»(1)، وبينهما تشابه في الاسم والاختصاص في أكثر الفنون؛ فكلاهما فقيه محدّث متكلم، ثُمَّ إِنَّ كليهما قد توليا القضاء، ويتفقان في كثير من الشيوخ، فلا غرابة أن ينتج عن ذلك اضطراب في التفريق بين مصنفاتهما، وسوف ننبه إلى شيء من ذلك في حواشي قائمة مصنفاته.

* مؤلفات ناصر الدين ابن المنير، مرتبة على حروف المعجم:

1 - «أسرار الإسراء(2) في تفسير حديث الإسراء»(3) في مجلد، قال الذهبي: «على طريقة المتكلمين، لا على طريقة السلف»، وصفه ابن فرحون والسيوطي بأنه كتاب نفيس، فيه فوائد جليلةٌ، واستنباطات حسنة. والكتاب مفقود، لكن بقيت منه شذرات يسيرة في بعض المصادر(4).

2 - «الاقتفاء في فضائل المصطفى»(5). عارض به «الشفا» للقاضي

--------------------------------------------

(1) وقد ظهر لي من خلال تتبع سريع لكلام البدر الزركشي وابن حجر في عدد من المواضع أنه إذا أُطلق: «ابن المنير»، فالمقصود به غالباً هو ناصر الدين.

(2) في بعض المصادر: «أسرار الإسرار». والصواب ما في سلم الوصول إلى طبقات الفحول (1/ 237) وغيره، والله أعلم.

(3) كما في تاريخ الإسلام (51/ 137)، وجاء عند ابن فرحون (1/ 245)، وشجرة النور (1/ 269): «المقتفى في آيات الإسراء»، وعند الداوودي في طبقاته (1/ 90): «المقتفى في آية الإسراء».

(4) انظر: الخصائص الكبرى للسيوطي (1/ 298)، والمواهب اللدنية للقسطلاني (2/5)، وفيض القدير (5/ 71).

(5) انظر: المقفى الكبير (1/ 399)، فوات الوفيات (1/ 149)، الجواهر والدرر (3/ 1253)، كشف الظنون (1/ 81). وهو عند المقريزي: «المقتفى»، وفي اللآلئ المصنوعة (1/ 246) =

প্রাচীন এবং আধুনিক পণ্ডিতগণ এই দুজনের মধ্যে এবং তাদের গ্রন্থগুলোর রচনার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ঘটিয়ে থাকেন। কারণ তারা উভয়েই ‘ইবনে আল-মুনাইয়ির’(১) নামে পরিচিত ছিলেন। তাদের নাম এবং অধিকাংশ শাস্ত্রের বিশেষত্বের ক্ষেত্রেও সাদৃশ্য রয়েছে। উভয়েই ফকিহ, মুহাদ্দিস এবং মুতাকাল্লিম ছিলেন। অধিকন্তু তারা উভয়েই বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাদের অনেক উস্তাদও একই ব্যক্তি ছিলেন। তাই তাদের গ্রন্থগুলোর পার্থক্যের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়া অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়। আমরা তাদের গ্রন্থের তালিকার পাদটীকাগুলোতে এ বিষয়ে কিছু আলোকপাত করব।

* নাসেরুদ্দিন ইবনে আল-মুনাইয়িরের রচনাবলি, বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো:

১ - ‘আসরারুল ইসরা(২) ফি তাফসিরি হাদিসিল ইসরা’(৩) এক খণ্ডে। ইমাম যাহাবি বলেছেন: "এটি মুতাকাল্লিমদের পদ্ধতিতে রচিত, সালাফদের পদ্ধতিতে নয়।" ইবনে ফারহুন এবং সুয়ূতী একে একটি মূল্যবান কিতাব হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যাতে মহান উপকারিতা এবং চমৎকার উদ্ভাবন রয়েছে। গ্রন্থটি বর্তমানে নিখোঁজ, তবে কিছু কিছু উৎসে এর সামান্য কিছু উদ্ধৃতি অবশিষ্ট রয়েছে(৪)।

২ - ‘আল-ইকতিফা ফি ফাদায়িলিল মুস্তাফা’(৫)। এর মাধ্যমে তিনি কাজী [আয়াজ]-এর ‘আশ-শিফা’র প্রতিউত্তরে লিখেছেন।

--------------------------------------------

(১) বদর আজ-জারকাশি এবং ইবনে হাজারের বক্তব্যের বিভিন্ন স্থানে দ্রুত পর্যালোচনার মাধ্যমে আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, যখন কেবল ‘ইবনে আল-মুনাইয়ির’ বলা হয়, তখন এর দ্বারা সাধারণত নাসেরুদ্দিনকেই উদ্দেশ্য করা হয়।

(২) কোনো কোনো উৎসে: ‘আসরারুল ইসরার’। তবে সঠিক হলো সেটি যা ‘সুল্লামুল উসুল ইলা তাবাকাতিল ফুহুল’ (১/ ২৩৭) এবং অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

(৩) যেমনটি ‘তারিখুল ইসলাম’ (৫১/ ১৩৭) গ্রন্থে রয়েছে। ইবনে ফারহুনের নিকট (১/ ২৪৫) এবং ‘শাজারাতুন নূর’ (১/ ২৬৯) গ্রন্থে এসেছে: ‘আল-মুক্তাফা ফি আয়াাতিল ইসরা’। আদ-দাউদীর ‘তাবাকাত’ (১/ ৯০) গ্রন্থে রয়েছে: ‘আল-মুক্তাফা ফি আয়াতিল ইসরা’।

(৪) দেখুন: সুয়ূতী রচিত ‘আল-খাসাইসুল কুবরা’ (১/ ২৯৮), কাসতালানী রচিত ‘আল-মাওয়াহিবুল্লাদুন্নিয়্যাহ’ (২/ ৫) এবং ‘ফায়দুল কাদির’ (৫/ ৭১)।

(৫) দেখুন: ‘আল-মুকাফফাল কাবির’ (১/ ৩৯৯), ‘ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত’ (১/ ১৪৯), ‘আল-জাওয়াহির ওয়াদ দুরার’ (৩/ ১২৫৩), ‘কাশফুজ্জুনুন’ (১/ ৮১)। আল-মাকরিযীর নিকট এটি ‘আল-মুক্তাফা’ নামে পরিচিত এবং ‘আল-লাআলিল মাসনুয়াহ’ (১/ ২৪৬) গ্রন্থে...

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৮)
عياض، ورتبه على قسمين: الأول: في فضائله صلى الله عليه وسلم، والثاني: في سيره، وبسط قصة المعراج بسطا في أربعة أبواب، وفيه فوائد كثيرة.

3 - «الانتصاف من صاحب الكشاف». مطبوع(1). وقد اشتهر ابن المنير بهذا الكتاب. ألفه في عنفوان شبابه، وكتب له عليه شمس الدين الخسروشاهي (ت 652 هـ) والعز بن عبد السلام (ت 660 هـ) بالثناء عليه. اختصره ابن بنت العراقي (ت 704 هـ) في «الإنصاف مختصر الانتصاف»(2)، وفيه محاكمات بين الزمخشري وابن المنير، واختصرهما ابن هشام الأنصاري مع زيادة قليلة(3).

4 - «البحر الكبير في بحث(4) التفسير(5)»، في تفسير القرآن. واعترض عليه في هذه التسمية بأنّ البحر الكبير مالح، وأجيب عن ذلك بأنه محل العجائب والدرر. وصفه الذهبي بأنه نفيس.

--------------------------------------------

= والحاوي للفتاوى (2/ 388) للسيوطي: «شرف المصطفى». له نسخة خطية في مكتبة أوقاف حلب برقم 1996.

(1) مطبوع عدة نشرات قديمة وحديثة، من طبعاته القديمة ما صدر في مصر بهامش الكشاف سنة 1318 هـ.

(2) وقد صدر في جائزة دبي الدولية في مجلدين.

(3) طبقات المفسرين للأدنه وي (ص 290).

(4) في بعض المصادر المطبوعة: «نخب».

(5) وله نسخ خطية ناقصة، منها الجزء الثالث منه في دار الكتب المصرية، تفسير - 60، تحت رقم 11246، تبدأ ببداية الجزء الثالث، وتنتهي مع نهاية سورة آل عمران، ونسخة أخرى في نفس المكتبة، رقم الحفظ 1/34 (60)، وفي مكتبة الخديوية برقم 1/ 130 (ن ع 60)، في ألمانيا في مكتبة جوتة، رقم الحفظ 534، تبدأ مع تفسير آية 38 من سورة المائدة، وتنتهي أثناء تفسير آية 100 من نفس السورة.

আয়ায; তিনি এটিকে দুই ভাগে বিন্যস্ত করেছেন: প্রথমত: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মর্যাদা ও ফযীলত সম্পর্কে, এবং দ্বিতীয়ত: তাঁর সীরাত বা জীবনচরিত সম্পর্কে। তিনি মেরাজের ঘটনাকে চারটি পরিচ্ছেদে অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এতে বহুবিধ উপকারিতা নিহিত রয়েছে।

৩ - ‘আল-ইনতিসাফ মিন সাহিবিল কাশশাফ’। এটি মুদ্রিত(১)। ইবনুল মুনাইয়ির এই গ্রন্থের জন্যই প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। তিনি তাঁর যৌবনের প্রারম্ভে এটি রচনা করেন এবং শামসউদ্দীন আল-খুসরোশাহী (ওফাত ৬৫২ হিজরি) ও ইযযুদ্দীন ইবনে আবদুস সালাম (ওফাত ৬৬০ হিজরি) এর ওপর তাঁর প্রশংসা লিখে দিয়েছেন। ইবনে বিনতুল ইরাকি (ওফাত ৭০৪ হিজরি) এটি ‘আল-ইনসাফ মুখতাসারুল ইনতিসাফ’ নামে সংক্ষেপ করেছেন(২), যাতে যামাখশারি ও ইবনুল মুনাইয়িরের মধ্যে বিচার-বিশ্লেষণ ও যুক্তিখণ্ডন রয়েছে। ইবনে হিশাম আল-আনসারি সামান্য কিছু বৃদ্ধিসহ এই গ্রন্থদ্বয়কে সংক্ষেপ করেছেন(৩)।

৪ - ‘আল-বাহরুল কাবীর ফী বাহসিত(৪) তাফসীর(৫)’, পবিত্র কুরআনের তাফসীর বিষয়ক। এই নামকরণের ওপর এই মর্মে আপত্তি করা হয়েছে যে, ‘আল-বাহরুল কাবীর’ (বিশাল সমুদ্র) তো লোনা হয়ে থাকে। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এটি বিস্ময়কর বস্তু এবং মণি-মুক্তার আধার। ইমাম আয-যাহাবী একে অত্যন্ত মূল্যবান হিসেবে অভিহিত করেছেন।

--------------------------------------------

= এবং আস-সুয়ূতী রচিত ‘আল-হাবী লিল-ফাতাওয়া’ (২/ ৩৮৮): ‘শারাফুল মুস্তাফা’। এর একটি পাণ্ডুলিপি আলেপ্পোর আওকাফ লাইব্রেরিতে ১৯৯৬ নম্বরে সংরক্ষিত আছে।

(১) এটি প্রাচীন ও আধুনিক বেশ কয়েকটি সংস্করণে মুদ্রিত হয়েছে। এর পুরাতন সংস্করণগুলোর মধ্যে একটি ১৩১৮ হিজরিতে মিসর থেকে ‘আল-কাশশাফ’-এর হাশিয়া বা টীকা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।

(২) এটি দুবাই আন্তর্জাতিক কুরআন পুরস্কারের অধীনে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।

(৩) আল-আদানাওয়ি রচিত ‘তাবাকাতুল মুফাসসিরীন’ (পৃ. ২৯০)।

(৪) কিছু মুদ্রিত উৎসে রয়েছে: ‘নুখাব’।

(৫) এর কিছু অসম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপি রয়েছে, যার মধ্যে তৃতীয় খণ্ডটি ‘দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ’-তে সংরক্ষিত (তাফসীর-৬০, নম্বর ১১২৪৬); যা তৃতীয় খণ্ডের শুরু থেকে শুরু হয়ে সূরা আল-ইমরানের শেষে গিয়ে শেষ হয়েছে। অপর একটি অনুলিপি একই লাইব্রেরিতে (সংরক্ষণ নম্বর ১/৩৪ (৬০)) এবং ‘আল-খাদিবিয়্যাহ’ লাইব্রেরিতে (নম্বর ১/১৩০ (ন আইন ৬০)) রয়েছে। জার্মানিতে ‘গোথা’ লাইব্রেরিতে (সংরক্ষণ নম্বর ৫৩৪) একটি কপি আছে যা সূরা আল-মায়িদাহর ৩৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর থেকে শুরু হয়ে একই সূরার ১০০ নম্বর আয়াতের তাফসীর চলাকালীন শেষ হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৯)
5 - «تحرير التنزيه وتحذير التشبيه». ذكره بروكلمان في تاريخ الأدب العربي(1). ولعله الكتاب الآتي.

6 - «تفسيرُ مشكلاتِ أحاديثَ يُشكل ظاهرُها». ومضمون الكتاب كما هو ظاهر من العنوان: إيراد الأحاديث العقدية وبيان وجه الإشكال فيها، ثم تأويلها بما يتوافق مع معتقد المصنف(2).

7 - «التيسير العجيب في تفسير الغريب»(3). وهو نظم في 1482 بيت

--------------------------------------------

(1) 1/ 738.

(2) صدر الكتاب عن دار الفتح عام 1434 هـ بتحقيق الأستاذ رياض منسي العيسى، وقد حققه على نسختين خطيتين متأخرتين، ونسب الكتاب إلى زين الدين علي ابن المنير؛ اعتمادًا على ما جاء في غاشية إحدى النسختين - وهي نسخة المكتبة السليمانية -.

والظاهر أن الكتاب لصاحبنا ناصر الدين، وليس لزين الدين. وذلك لأن العنوان في تلك النسخة الخطية مضطرب، فقد جاء فيها: «تصنيف القاضي الأجل ناصر السنة وسيف النقمة علي ابن المنير، ناصر الدين المالكي» فجمع ناسخها بين لقب أحمد، واسم أخيه علي، فدل على اضطرابه وعدم ضبطه، وعلى ذلك: فلا يصح الاعتماد عليه؛ علما بأن النسخة متأخرة، حيث فرغ الناسخ منها عام 1113 هـ.

ثم إن النسبة في النسخة الأخرى - وهي النسخة الأزهرية - جاءت سليمة من هذا الاضطراب، فنسب الكتاب فيها إلى ناصر الدين ابن المنير، وهو صاحبنا؛ فمن المعلوم بأن ناصر الدين هو أحمد بن محمد، أما علي بن محمد فهو زين الدين. فلا أدري لم لم يعتمد في تصحيح نسبة الكتاب على هذه النسخة الثانية السليمة من الاضطراب؟! مع العلم بأن الحافظ السيوطي قد نقل من هذه الرسالة مع تصريحه بأنها لناصر الدين ابن المنير، فقال: «قال القاضي ناصر الدين ابن المنير … »، ثم نقل كلاما، هو بحروفه موجود في هذه الرسالة، أعني «تفسير مشكلات أحاديث يشكل ظاهرها». والله أعلم.

انظر: تفسير مشكلات أحاديث يشكل ظاهرها (ص 81)، مصباح الزجاجة «ضمن شروح سنن ابن ماجه» (ص 133)، تحفة الأحوذي (8/ 420 - 421).

(3) انظر: نيل الابتهاج (ص 404).

৫ - «তাহরিরুত তানজিহ ওয়া তাহযিরুত তাশবিহ» (পবিত্রতা ঘোষণা এবং সাদৃশ্য প্রদানের ব্যাপারে সতর্কতা)। ব্রোকলম্যান একে ‘তারিখুল আদাবিল আরাবি’ (আরবি সাহিত্যের ইতিহাস) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সম্ভবত এটিই পরবর্তী গ্রন্থটি।

৬ - «তাফসিরু মুশকিলাতি আহাদিসা ইউশকিলু যাহিরুহা» (সেই সমস্ত হাদিসের জটিলতার ব্যাখ্যা যার বাহ্যিক অর্থ অস্পষ্ট)। গ্রন্থটির বিষয়বস্তু শিরোনাম থেকেই স্পষ্ট: আকিদা সংক্রান্ত হাদিসগুলো উপস্থাপন করা এবং সেগুলোর বাহ্যিক জটিলতার দিকটি বর্ণনা করা, অতঃপর গ্রন্থকারের আকিদা বা বিশ্বাসের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সেগুলোর ব্যাখ্যা (তাবিল) প্রদান করা।

৭ - «আত-তাইসিরুল আজিব ফি তাফসিরিল গারিব»। এটি ১৪৮২ পঙ্ক্তির একটি কাব্যগ্রন্থ।

--------------------------------------------

(১) ১/ ৭৩৮।

(২) গ্রন্থটি ১৪৩৪ হিজরিতে উস্তাদ রিয়াদ মানসি আল-ঈসার সম্পাদনায় দারুল ফাতহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি দুটি পরবর্তী সময়ের পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে এটি সম্পাদনা করেছেন এবং একটি পাণ্ডুলিপির শিরোনামের পাতার ওপর ভিত্তি করে—যা সুলায়মানিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি—গ্রন্থটিকে জাইন উদ্দিন আলী ইবনুল মুনাইয়ারের দিকে নিসবত (আরোপ) করেছেন।

প্রকৃতপক্ষে প্রতীয়মান হয় যে, গ্রন্থটি আমাদের আলোচ্য ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিনের, জাইন উদ্দিনের নয়। কারণ উক্ত পাণ্ডুলিপিতে শিরোনামটি বিভ্রান্তিকরভাবে এসেছে; সেখানে বলা হয়েছে: «কাজি আল-আজাল নাসিরুস সুন্নাহ ওয়া সাইফুন নিকমাহ আলী ইবনুল মুনাইয়ার, নাসির উদ্দিন আল-মালিকির সংকলন»। এখানে লিপিকার মূলত আহমদের উপাধি এবং তার ভাই আলীর নামকে একত্রে গুলিয়ে ফেলেছেন, যা তার বিভ্রান্তি ও অসতর্কতার প্রমাণ দেয়। ফলে এর ওপর নির্ভর করা সঠিক নয়; বিশেষ করে পাণ্ডুলিপিটি অনেক পরের সময়ের, যেখানে লিপিকার এটি ১১১৩ হিজরিতে সম্পন্ন করেছেন।

তাছাড়া অন্য পাণ্ডুলিপিটিতে—যা আজহারিয়া পাণ্ডুলিপি—গ্রন্থের নিসবতটি এই বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত। সেখানে গ্রন্থটিকে নাসির উদ্দিন ইবনুল মুনাইয়ারের দিকে নিসবত করা হয়েছে, যিনি আমাদের আলোচ্য ব্যক্তি। এটা সর্বজনবিদিত যে, নাসির উদ্দিন হলেন আহমদ বিন মুহাম্মদ, আর আলী বিন মুহাম্মদ হলেন জাইন উদ্দিন। সুতরাং বুঝতে পারছি না কেন গ্রন্থটির নিসবত সংশোধনের ক্ষেত্রে এই বিভ্রান্তিমুক্ত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করা হলো না?! বিশেষত হাফেজ সুয়ুতি এই রিসালা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং স্পষ্ট করে বলেছেন যে এটি নাসির উদ্দিন ইবনুল মুনাইয়ারের। তিনি বলেছেন: «কাজি নাসির উদ্দিন ইবনুল মুনাইয়ার বলেছেন...», অতঃপর তিনি এমন কিছু কথা উদ্ধৃত করেছেন যা হুবহু এই রিসালা তথা «তাফসিরু মুশকিলাতি আহাদিসা ইউশকিলু যাহিরুহা»-তে বিদ্যমান। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

দেখুন: তাফসিরু মুশকিলাতি আহাদিসা ইউশকিলু যাহিরুহা (পৃষ্ঠা ৮১), মিসবাহুজ জুজাজাহ «সুনানে ইবনে মাজাহ-র শরাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত» (পৃষ্ঠা ১৩৩), তুহফাতুল আহওয়াযি (৮/ ৪২০ - ৪২১)।

(৩) দেখুন: নাইলুল ইবতিহাজ (পৃষ্ঠা ৪০৪)।

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২০)
من أبيات الرجز، شَرَحَ فيه غريب القرآن كاملا. حققه سليمان ملا إبراهيم أوغلو، وصدر عن دار الغرب الإسلامي عام 1994 م.

8 - «جزء في أحكام السَّماع وشروطه»(1). مفقود.

9 - «حواش على شرح ابن بطال»(2). مفقود. لكن ينقل منه شراح الحديث - كثيرًا - بقولهم: «قال ابن المُنيّر في الحاشية»(3)، وصرّح الحافظ ابن حجر في مواضع من «الفتح» أنّها تعقبات وحواش على شرح صحيح البخاري لابن بطال (ت 449 هـ)(4).

10 - ديوان خطب، ويسمى: «عقود الجواهر على أجياد المنابر»(5).

مفقود. ذكره غير واحد من المترجمين له، ووصفوه بأنه مشهور بديع. وقالوا عنه: «أحسن فيه كُلَّ الإحسان».

--------------------------------------------

(1) انظر: المصدر السابق (ص 404).

(2) انظر: الجواهر والدرر للسخاوي (2/ 711)، إرشاد الساري للقسطلاني (1/43)، كشف الظنون (1/ 541). وقد وهم الأخير، فنسب شرح البخاري إلى صاحبنا ناصر الدين، والصواب أنه لأخيه زين الدين، وبه اشتهر، وهو أحد مصادر الحافظ ابن حجر في «الفتح».

والحاصل أن لناصر الدين وأخيه زين الدين ثلاثة كتب حول صحيح البخاري، فأما ناصر الدين فعمل حاشية على شرح ابن بطال، وشرح تراجم صحيح البخاري في «المتواري»، وأما زين الدين فله شرح حافل على صحيح البخاري، وهو مفقود، وهذه الكتب الثلاثة من مصادر الحافظين ابن حجر والعيني وغيرهما في شرح البخاري.

(3) انظر على سبيل المثال: شرح سنن أبي داود لابن رسلان (10/ 285، 340، 382)، الفتح (2/ 294، 302، 310)، (3/ 230)، انتقاض الاعتراض (2/5)، البدر التمام (5/39)، التحبير للصنعاني (5/ 334).

(4) انظر مثلا: الفتح (3/ 499)، (6/ 137)، (9/ 107)، (11/ 569)، (12/29).

(5) انظر: طبقات المفسرين للداودي (1/ 90).

রাজায ছন্দের পংক্তিমালায় রচিত, এতে তিনি কুরআনের অপরিচিত শব্দাবলি (গারিবুল কুরআন) পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। এটি সুলায়মান মোল্লা ইব্রাহিম ওগলু সম্পাদনা করেছেন এবং ১৯৯৪ সালে দারুল গারব আল-ইসলামি থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

৮ - «জুয ফি আহকামিস সামা ওয়া শুরোতিহি» (সামা বা শ্রবণ করার বিধান ও তার শর্তাবলি বিষয়ক পুস্তিকা)(১)। এটি নিখোঁজ।

৯ - «হওয়াশি আলা শারহি ইবনে বাত্তাল» (ইবনে বাত্তালের ব্যাখ্যার ওপর টীকা)(২)। এটি নিখোঁজ। তবে হাদিস ব্যাখ্যাকারগণ এটি থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেন এই বলে যে: «ইবনুল মুনাইয়ির হাশিয়াতে বলেছেন»(৩), আর হাফেজ ইবনে হাজার «আল-ফাতহ» গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এগুলো ইবনে বাত্তাল (মৃত্যু ৪৪৯ হি.)-এর সহিহ বুখারির ব্যাখ্যার ওপর পর্যালোচনা ও টীকা(৪)।

১০ - খুতবার সংকলন, যার নাম: «উকূদুল জাওয়াহির আলা আজইয়াদিল মানাবির»(৫)।

নিখোঁজ। তাঁর জীবনীকারদের একাধিক ব্যক্তি এর উল্লেখ করেছেন এবং এটিকে সুপ্রসিদ্ধ ও চমৎকার বলে অভিহিত করেছেন। তাঁরা এর সম্পর্কে বলেছেন: «তিনি এতে সর্বোত্তম নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন»।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস (পৃ. ৪০৪)।

(২) দেখুন: সাখাওয়ি রচিত আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার (২/৭১১), কাসতালানি রচিত ইরশাদুস সারি (১/৪৩), কাশফুজ জুনুন (১/৫৪১)। শেষোক্ত জন ভুল করেছেন, তিনি বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থটিকে আমাদের আলোচ্য ব্যক্তিত্ব নাসিরুদ্দিনের দিকে সম্পর্কিত করেছেন, অথচ সঠিক হলো এটি তাঁর ভাই যাইনুদ্দিনের রচনা, এবং এর মাধ্যমেই তিনি খ্যাতি লাভ করেছেন। এটি হাফেজ ইবনে হাজারের «আল-ফাতহ» গ্রন্থের অন্যতম উৎস।

সারকথা হলো, নাসিরুদ্দিন এবং তাঁর ভাই যাইনুদ্দিনের সহিহ বুখারি কেন্দ্রিক তিনটি গ্রন্থ রয়েছে; নাসিরুদ্দিন ইবনে বাত্তালের ব্যাখ্যার ওপর একটি হাশিয়া (টীকা) লিখেছেন এবং «আল-মুতাওয়ারি» গ্রন্থে সহিহ বুখারির অধ্যায় শিরোনামের ব্যাখ্যা করেছেন। আর যাইনুদ্দিন সহিহ বুখারির একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন যা বর্তমানে নিখোঁজ। এই তিনটি গ্রন্থই বুখারির ব্যাখ্যায় হাফেজ ইবনে হাজার, আইনি এবং অন্যদের অন্যতম উৎস।

(৩) উদাহরণস্বরূপ দেখুন: ইবনে রাসলান রচিত শারহু সুনানি আবি দাউদ (১০/২৮৫, ৩৪০, ৩৮২), আল-ফাতহ (২/২৯৪, ৩০২, ৩১০), (৩/২৩০), ইনতিকাদুল ইতিরাদ (২/৫), আল-বাদরুত তামাম (৫/৩৯), সানআনি রচিত আত-তাহবির (৫/৩৩৪)।

(৪) উদাহরণস্বরূপ দেখুন: আল-ফাতহ (৩/৪৯৯), (৬/১৩৭), (৯/১০৭), (১১/৫৬৯), (১২/২৯)।

(৫) দেখুন: দাউদি রচিত তাবাকাতুল মুফাসসিরিন (১/৯০)।

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২১)
«الرَّدُّ على المنطق». مفقود. ذكره كمال الدين الأدفوي (ت 748 هـ)(1)، فقد نقل عنه السيوطي قوله: «وقد صنَّف أبو العباس ابن المُنَيّر السكندراني كتاباً في الرد على المنطق … ».

12 - شرح البرهان(2). أي: البرهان في أصول الفقه لإمام الحرمين، وهو مفقود، وقد بقيت في عدد من المصادر الأصولية نُقُولٌ من هذا الشرح.

13 - «الضياء المتلألئ في تعقب الإحياء للغزالي»(3)، مفقود. وهو رد على مقولة مشهورة منسوبة للغزالي في «الإحياء» وغيره من كتبه: «ليس في

--------------------------------------------

(1) انظر: الفلك المشحون للسيوطي، (ق/ 233/ و). وانظر: القول المشرق في تحريم المنطق (ضمن الحاوي) (1/ 394).

(2) انظر: البحر المحيط (1/5، 217)، (2/ 467)، (3/ 144، 200)، (4/45، 144، 159، 162، 163، 169، 183، 203، 292، 300، 459)، التقرير والتحبير (3/40)، الفوائد السنية للبرماوي (4/ 109، 316)، التحبير للمرداوي (6/ 2973)، إرشاد الفحول (2/49، 116).

فإن قيل: لم لا يكون هذا الشرح لأخيه زين الدين؟ فالجواب أنه لناصر الدين، وليس لأخيه لأمور ثلاثة: الأول: أنه قد جاء التصريح في بعض المواضع بأن شارح «البرهان» هو أبو العباس. والثاني: أن المعروف عند إطلاق «ابن المنير» انصرافه إلى أبي العباس ناصر الدين، فإن كان المراد أخوه فيُقيَّد في الغالب بـ: زين الدين. الثالث: أن ناصر الدين هو الذي عُني ببرهان الجويني دون أخيه - بدليل هذا الكتاب الذي نحن بصدد تحقيقه ـ، وأنه هو الذي عُرف بالعالم الأصولي.

(3) انظر: إتحاف السادة المتقين (1/45). كان ابن المُنَيّر - على ما اشتهر من علماء المالكية - شديداً على أبي حامد الغزالي في بعض المسائل في الفلسفة والتصوف، فنجده قد تعرّض له دون التصريح باسمه في: «الانتصاف فيما تضمنه الكشاف»، (المطبوع بحاشية الكشاف 3/ 107)، وذلك للرد على مقولته المشهورة: «ليس في الإمكان أبدع مما كان»، وشدّد عليه النكير، كما أنه قد أفرد فيها رسالةً يرد عليه، وهي هذه الرسالة، وقد حط عليه فيها، وتنقص من مقامه وغض من رتبته - على حدّ تعبير الزبيدي (1205 هـ) -.

«আর-রদ্দু আলাল মানতিক» (তর্কবিদ্যার খণ্ডন)। এটি হারিয়ে গেছে। কামালুদ্দীন আল-আদফুওয়ী (মৃত্যু ৭৪৮ হি.) এটি উল্লেখ করেছেন(১), আস-সুয়ূতী তাঁর থেকে এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন: «আর আবুল আব্বাস ইবনুল মুনাইয়ির আল-ইসকান্দারানী তর্কবিদ্যার খণ্ডনে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন … »।

১২ - শরহুল বুরহান(২)। অর্থাৎ: ইমামুল হারামাইন-এর উসূলুল ফিকহ বিষয়ক গ্রন্থ ‘আল-বুরহান’-এর ব্যাখ্যা, এটি হারিয়ে গেছে। তবে বেশ কিছু উসূলী উৎসে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের উদ্ধৃতি অবশিষ্ট রয়েছে।

১৩ - «আদ-দিয়াউল মুতালাল্লি' ফি তাআক্কুবিল ইহয়া লিল গাজালী»(৩), হারিয়ে গেছে। এটি গাজালীর «ইহয়া» এবং তাঁর অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত একটি প্রসিদ্ধ উক্তির খণ্ডন: «বিদ্যমান জগতের চেয়ে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আস-সুয়ূতীর আল-ফালকুল মাশহুন, (পত্র/ ২৩৩/ ক)। আরও দেখুন: আল-কওলুল মাশরিক ফি তাহরিমিল মানতিক (আল-হাউয়ীর অন্তর্ভুক্ত) (১/ ৩৯৪)।

(২) দেখুন: আল-বাহরুল মুহিত (১/৫, ২১৭), (২/ ৪৬৭), (৩/ ১৪৪, ২০০), (৪/৪৫, ১৪৪, ১৫৯, ১৬২, ১৬৩, ১৬৯, ১৮৩, ২০৩, ২৯২, ৩০০, ৪৫৯), আত-তাকরির ওয়াত-তাহবির (৩/৪০), আল-ফাওয়াইদ আস-সানিয়্যাহ লিল বারমাউয়ী (৪/ ১০৯, ৩১৬), আত-তাহবির লিল মারদাউয়ী (৬/ ২৯৭৩), ইরশাদুল ফুহুল (২/৪৯, ১১৬)।

যদি বলা হয়: কেন এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি তাঁর ভাই যাইনুদ্দীনের হবে না? উত্তর হলো এটি নাসিরুদ্দীনেরই, তাঁর ভাইয়ের নয় তিনটি কারণে: প্রথমত: কিছু স্থানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে «আল-বুরহান»-এর ব্যাখ্যাকার হলেন আবুল আব্বাস। দ্বিতীয়ত: যখন কেবল «ইবনুল মুনাইয়ির» বলা হয় তখন সাধারণত তা আবুল আব্বাস নাসিরুদ্দীনকেই বোঝায়, আর যদি তাঁর ভাই উদ্দেশ্য হয় তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁকে «যাইনুদ্দীন» হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়। তৃতীয়ত: নাসিরুদ্দীনই জুওয়াইনীর বুরহান নিয়ে কাজ করেছেন তাঁর ভাইয়ের তুলনায় - যার প্রমাণ এই কিতাবটি যা আমরা বর্তমানে সম্পাদনা করছি -, এবং তিনিই উসূলবিদ হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন।

(৩) দেখুন: ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন (১/৪৫)। মালেকী আলেমদের মধ্যে যেমনটি প্রসিদ্ধ - ইবনুল মুনাইয়ির দর্শন ও তাসাউফের কিছু মাসআলায় আবু হামিদ আল-গাজালীর প্রতি অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। আমরা দেখতে পাই তিনি গাজালীর নাম সরাসরি উল্লেখ না করে «আল-ইনসাফ ফিমা তাদাম্মানাহুল কাশশাফ»-এ (কাশশাফের হাশিয়ায় মুদ্রিত ৩/ ১০৭) তাঁর সমালোচনা করেছেন, এবং তা তাঁর প্রসিদ্ধ উক্তি: «বিদ্যমান জগতের চেয়ে অধিকতর নিখুঁত ও চমৎকার কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব নয়»-এর খণ্ডন হিসেবে। তিনি এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে তাঁকে খণ্ডন করে একটি স্বতন্ত্র রিসালাহ রচনা করেছেন, যা এই রিসালাহটি। এতে তিনি তাঁর তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং তাঁর মর্যাদা ও স্তরকে খাটো করেছেন - যেমনটি যুবাইদী (১২০৫ হি.) ব্যক্ত করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২২)
الإمكان أبدع مما كان»(1)، وقد تصدى لابن المُنَيّر ورد عليه نور الدين السمهودي (ت 911 هـ) في رسالة سماها: «إيضاح البيان لما أراده الحجة من: ليس في الإمكان أبدع مما كان، وما عناه مما أقامه على ذلك من البرهان»(2).

وأما ما ورد في ترجمة ابن المُنَيّر مِنْ أنه لما أراد أن يصنف في الرد على «الإحياء» فخاصمته أمه، وقالت له: فرغت من مضاربة الأحياء وشرعت في مضاربة الأموات فتركه(3)، فمعناه عندي أن ابن المنير لم يُفرد كتابًا لبيان جميع المؤاخذات في «الإحياء»، وإن كان قد هَمَّ باستيعاب ذلك، فتركه.

14 - الكفيل بالوصول إلى ثمرات الأصول، أو «مختصر البرهان»، أي: برهان الجويني، وهو كتابنا هذا، وسيأتي الحديث عنه مفصلا.

15 - «مختصر التهذيب في الفقه». ذكره حاجي خليفة(4) ضمن مختصرات «التهذيب في الفروع» لمحيي السنة البغوي الشافعي (ت 516 هـ)، وتبعه البغدادي في هدية العارفين(5)، ولا أراه إلا وهما، فإن ابن المنير فقيه مالكي، وقاضي قضاتهم، فالأصل أنه إن كتب شيئًا في الفقه، فهو على مذهبه المالكي، وخدمة العالم لمذهب آخر خلافُ الأصل، ولعل المقصود به:

--------------------------------------------

(1) عبارة الغزالي في «الإحياء» (4/ 258): (ليس في الإمكان أصلا أحسن منه ولا أتم ولا أكمل)، وفي «الأربعين» (ص 161): (ليس في الإمكان أحسن منها وأكمل). وقد أفرد عدد من العلماء تأليفًا حولها، بين مؤيد ومعترض، فمن المعترضين ابن المنير والبقاعي، ومن المؤيدين للغزالي والذابين عنه السمهودي والسيوطي والأشموني وغيرهم.

(2) مخطوط، لها نسخ كثيرة موزعة في مكتبات تركيا والمغرب وألمانيا ومصر وغيرها.

(3) بغية الوعاة (1/ 384).

(4) كشف الظنون (1/ 517).

(5) (1/ 99).

«সম্ভাবনার জগতে যা বিদ্যমান আছে তার চেয়ে সুন্দর আর কিছু হওয়া সম্ভব নয়»(১)। ইবনুল মুনাইয়ির এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন এবং নূরুদ্দীন আস-সামহুদী (মৃত্যু ৯১১ হিজরী) তার প্রতিবাদ করেছেন একটি পুস্তিকায় যার নাম তিনি দিয়েছেন: «ইযাহুল বায়ান লিমা আরাদাহুল হুজ্জাহ মিন: লাইসা ফিল ইমকান আবদাউ মিম্মা কান, ওয়া মা আনাহু মিম্মা আকামাহু আলা যালিকা মিনাল বুরহান»(২)।

এবং ইবনুল মুনাইয়িরের জীবনীতে যা বর্ণিত হয়েছে যে, যখন তিনি ‘আল-ইহয়া’-এর প্রতিবাদে একটি গ্রন্থ রচনার ইচ্ছা করলেন, তখন তার মা তার বিরোধিতা করলেন এবং তাকে বললেন: তুমি জীবিতদের সাথে বিবাদ শেষ করে এখন মৃতদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়েছ? ফলে তিনি তা বর্জন করেন(৩)। আমার মতে এর অর্থ হলো, ইবনুল মুনাইয়ির ‘আল-ইহয়া’-এর সকল আপত্তিকর বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য কোনো স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করেননি, যদিও তিনি বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার সংকল্প করেছিলেন, কিন্তু পরে তা ছেড়ে দিয়েছিলেন।

১৪ - আল-কাফিল বিল-উসুল ইলা সামারাতিল উসুল, অথবা «মুখতাসারুল বুরহান», অর্থাৎ: আল-জুওয়াইনীর ‘বুরহান’; এটি আমাদের আলোচ্য গ্রন্থ এবং এ বিষয়ে সামনে বিস্তারিত আলোচনা আসছে।

১৫ - «মুখতাসারুত তাহযীব ফিল ফিকহ্»। হাজী খলীফা(৪) এটিকে মুহিউস সুন্নাহ আল-বাগাবী আশ-শাফিয়ীর (মৃত্যু ৫১৬ হিজরী) «আত-তাহযীব ফিল ফুরূ» এর সংক্ষিপ্তসারসমূহের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বাগদাদী ‘হাদিয়্যাতুল আরিফীন’(৫) গ্রন্থে তার অনুসরণ করেছেন। কিন্তু আমি একে বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছু মনে করি না, কারণ ইবনুল মুনাইয়ির একজন মালিকী ফকীহ এবং তাদের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। সুতরাং স্বাভাবিক নিয়ম হলো যে, তিনি যদি ফিকহ শাস্ত্রে কিছু লিখে থাকেন, তবে তা তার মালিকী মাযহাব অনুযায়ীই হবে। আর একজন আলিমের অন্য মাযহাবের জন্য কাজ করা স্বাভাবিক নিয়মের পরিপন্থী। সম্ভবত এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো:

--------------------------------------------

(১) ‘আল-ইহয়া’ (৪/২৫৮) গ্রন্থে আল-গাযালীর উক্তি: (সম্ভাবনার জগতে মূলত এর চেয়ে সুন্দর, পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত আর কিছু হওয়া সম্ভব নয়), এবং ‘আল-আরবাঈন’ (পৃষ্ঠা ১৬১) গ্রন্থে রয়েছে: (সম্ভাবনার জগতে এর চেয়ে সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ আর কিছু নেই)। একদল আলিম এই উক্তি নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, কেউ সমর্থন করেছেন আবার কেউ আপত্তি করেছেন। আপত্তিকারীদের মধ্যে রয়েছেন ইবনুল মুনাইয়ির ও আল-বিকাঈ, আর আল-গাযালীর সমর্থকদের মধ্যে এবং তার পক্ষ অবলম্বনকারীদের মধ্যে রয়েছেন আস-সামহুদী, আস-সুয়ূতী, আল-আশমুনী প্রমুখ।

(২) পাণ্ডুলিপি, এর অনেক অনুলিপি তুরস্ক, মরক্কো, জার্মানি, মিশর এবং অন্যান্য দেশের লাইব্রেরিগুলোতে ছড়িয়ে আছে।

(৩) বুগইয়াতুল উয়াত (১/৩৮৪)।

(৪) কাশফুয যুনূন (১/৫১৭)।

(৫) (১/৯৯)।

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৩)
«تهذيب المدونة» لأبي سعيد البراذعي (ت 438 هـ)، لا سيما وأن نسبته في طبقات المالكية وردت مطلقا، فتنصرف إلى المعروف والمعهود عند القوم. هذا؛ وقد وصفه ابن فرحون المالكي بأنه من أحسن مختصرات الكتاب.

16 - «مناسبات تراجم أبواب البخاري». وهو المطبوع بعنوان: «المتواري على أبواب البخاري»(1)، نُشر مرات. ولبدر الدين ابن جماعة (ت 733 هـ)(2) «مناسبات على تراجم أبواب البخاري»، لخصه من كتاب ابن المُنَيّر، وزاد عليه أشياء، وهو أيضا مطبوع متداول.

17 - «مناقب الشيخ أبي القاسم القباري»(3). وهو في نحو من خمسة كراريس، انتقاها الذهبي ونقل خلاصتها في تاريخ الإسلام(4). والقَبَارِيُّ: هو الشيخ الصالح محمد بن منصور بن يحيى الإسكندراني (ت 662 هـ)(5).

وخرَّج له تلميذه ابن قريش (ت 736 هـ) «مشيخة» قرأها عليه وحدث

--------------------------------------------

(1) وقد وهم في نسبته إلى زين الدين ابن المنير: إسماعيل البغدادي في هدية العارفين (1/ 714)، وعمر رضا كحالة في معجم المؤلفين (7/ 234) وغيرهما، وشكك في ذلك آخرون من المعاصرين. وانظر مناقشة صلاح الدين مقبول أحمد لذلك في مقدمة تحقيقه لـ: «المتواري».

(2) قال الحافظ ابن حجر عنه: « … وكذا صنع في مناسبات أبواب البخاري، أخذ كتاب ناصر الدين ابن المنير فاختصره اختصارًا بالغا ولم ينسبه إليه، لكنه هو بعينه لم يزد فيه سوى شيء يسير». رفع الإصر (ص 345).

(3) انظر: فتح الباري (1/ 127)، حسن المحاضرة (1/ 520)، هدية العارفين (1/ 99). ويقال: القباري والكباري. انظر: تبصير المنتبه (3/ 1204).

(4) (49/ 125 - 140).

(5) انظر ترجمته في: «ذيل مرآة الزمان» (2/ 315)، و «تاريخ الإسلام» (49/ 122)، البداية والنهاية (17/ 456)، الديباج المذهب (1/ 245)، وتصحفت «القباري» في الديباج إلى: «الغباري».

আবু সাঈদ আল-বারাদায়ি (মৃত্যু ৪৩৮ হি.) রচিত «তাহজিবুল মুদাওওয়ানা», বিশেষ করে যেহেতু মালিকি মাযহাবের স্তরবিন্যাস সংক্রান্ত গ্রন্থগুলোতে এর সম্বন্ধটি সাধারণভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাই এটি তাদের নিকট সুপরিচিত ও প্রচলিত কিতাবটির দিকেই নির্দেশ করে। তদুপরি, ইবনে ফারহুন আল-মালিকি এটিকে উক্ত কিতাবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংক্ষিপ্তসার হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

১৬ - «মুনাসাবাতু তারাজিমি আবওয়াবিল বুখারি»। এটি «আল-মুতাওয়ারি আলা আবওয়াবিল বুখারি»(১) শিরোনামে মুদ্রিত হয়েছে এবং একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে। বদরুদ্দিন ইবনে জামাআহ (মৃত্যু ৭৩৩ হি.)(২) এরও «মুনাসাবাতুন আলা তারাজিমি আবওয়াবিল বুখারি» নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে, যা তিনি ইবনুল মুনাইয়্যিরের কিতাব থেকে সংক্ষেপ করেছেন এবং তাতে কিছু বিষয় যোগ করেছেন; এটিও মুদ্রিত ও প্রচলিত।

১৭ - «মানাকিবুশ শাইখ আবিল কাসিম আল-কাব্বারি»(৩)। এটি প্রায় পাঁচটি পুস্তিকার সমান, যা ইমাম আজ-জাহাবি চয়ন করেছেন এবং এর সারসংক্ষেপ ‘তারিখুল ইসলাম’(৪) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। আর আল-কাব্বারি হলেন: নেককার শাইখ মুহাম্মদ বিন মানসুর বিন ইয়াহইয়া আল-ইসকান্দারানি (মৃত্যু ৬৬২ হি.)(৫)।

তার ছাত্র ইবনে কুরাইশ (মৃত্যু ৭৩৬ হি.) তার জন্য একটি «মাশয়াখা» (শাইখদের তালিকা) সংকলন করেছেন, যা তিনি তার নিকট পাঠ করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) গ্রন্থটিকে জাইনুদ্দিন ইবনুল মুনাইয়্যিরের দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে ইসমাইল আল-বাগদাদি ‘হাদিয়্যাতুল আরিফিন’ (১/ ৭১৪) গ্রন্থে, উমর রেজা কাহহালা ‘মু’জামুল মুআল্লিফিন’ (৭/ ২৩৪) গ্রন্থে এবং আরও অনেকে ভুল করেছেন। সমসাময়িকদের মধ্যে কেউ কেউ এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এ সংক্রান্ত আলোচনার জন্য সালাহউদ্দিন মকবুল আহমদের ‘আল-মুতাওয়ারি’ গ্রন্থের তাহকিকের ভূমিকা দেখুন।

(২) হাফিজ ইবনে হাজার তার সম্পর্কে বলেছেন: «...অনুরূপভাবে তিনি বুখারির অধ্যায়সমূহের যোগসূত্র (মুনাসাবাত) বর্ণনায় কাজ করেছেন; তিনি নাসিরুদ্দিন ইবনুল মুনাইয়্যিরের কিতাবটি গ্রহণ করে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং এটি তার (ইবনুল মুনাইয়্যিরের) দিকে সম্বন্ধ করেননি, তবে সামান্য কিছু বৃদ্ধি করা ছাড়া এটি হুবহু সেটিই।» রাফউল ইসর (পৃ. ৩৪৫)।

(৩) দেখুন: ফাতহুল বারি (১/ ১২৭), হুসনুল মুহাদারা (১/ ৫২০), হাদিয়্যাতুল আরিফিন (১/ ৯৯)। একে আল-কাব্বারি (القباري) এবং আল-কাব্বারি (الكباري) উভয়ভাবেই বলা হয়। দেখুন: তাবসিরুল মুনতাব্বিহ (৩/ ১২০৪)।

(৪) (৪৯/ ১২৫ - ১৪০)।

(৫) তার জীবনী দেখুন: «জাইলো মিরআতিয যামান» (২/ ৩১৫), «তারিখুল ইসলাম» (৪৯/ ১২২), «আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া» (১৭/ ৪৫৬), «আদ-দিবাজুল মাজহাব» (১/ ২৪৫); তবে «আদ-দিবাজ» গ্রন্থে ‘আল-কাব্বারি’ শব্দটি ‘আল-গুব্বারি’ হিসেবে ভুলভাবে ছাপা হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৪)
بها. ذكرها ابن ناصر الدين الدمشقي والداوودي(1)، وقد تقدم.

 

*‌‌ مذهبه الفقهي والعقدي

الإمام ناصر الدين ابن المُنيّر أحد أئمة المذهب المالكي بالإسكندرية وقاضي قضاتها، وقد أطبقت على ذلك المصادر التاريخية، وترجمته في طبقات المالكية، كالديباج المذهب(2)، وشجرة النور الزكية(3).

أما في الاعتقاد فهو على مذهب أبي الحسن الأشعري بلا نزاع أيضا، أولا لأنه الأصل الغالب في تلك الأزمنة على أهل المذهبين: المالكي والشافعي(4)، ثُمَّ إِنَّ كلامه المتفرّق في ثنايا «الانتصاف»، وكذا «المتواري»، ولا سيما في تعليقاته على «كتاب التوحيد» منه، وكلامه في مواضع كثيرة من «مختصر البرهان» يدلُّ على ما قلناه، فلن أطيل في هذه الجزئية لكونها من المسائل التي لا يتنازع فيها اثنان، فهو مالكي المذهب في الفروع، وأشعري المعتقد في الأصول.

 

*‌‌ شَيءٌ من شعره

كان ابن المُنَيّر من المبرزين في اللغة والأدب ومتبحرًا فيها، فله اليد الطولى في علومها. وكان مع ذلك خطيباً بليغاً، وكان يقول الشعر، ويجيد ذلك، وقد تقدم أنه نظم غريب القرآن كاملاً في قرابة 1500 بيت، ووجدنا

--------------------------------------------

(1) توضيح المشتبه (8/ 290)، طبقات المفسرين للداوودي (1/ 90).

(2) (1/ 243).

(3) (1/ 269).

(4) انظر للاستزادة: موقف ابن تيمية من الأشاعرة (2/ 498 - 504)، المصادر الأصلية المطبوعة للعقيدة الأشعرية (ص 39 - 45).

এটি তিনি উল্লেখ করেছেন। ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি এবং আদ-দাউদি এটি উল্লেখ করেছেন(১), যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

 

*‌‌ তাঁর ফিকহি ও আকিদাগত মাজহাব

ইমাম নাসিরুদ্দিন ইবনুল মুনাইয়ির আলেকজান্দ্রিয়ার মালিকি মাজহাবের অন্যতম ইমাম এবং সেখানকার প্রধান বিচারপতি ছিলেন। ঐতিহাসিক উৎসগুলো এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছে এবং তাঁর জীবনী মালিকি তবকাতগুলোতে বর্ণিত হয়েছে, যেমন আদ-দিবাজুল মাজহাব(২) এবং শাজরাতুন নূর আজ-জাকিয়্যাহ(৩)।

আর আকিদার ক্ষেত্রে তিনি কোনো বিরোধ ছাড়াই আবুল হাসান আল-আশআরির মাজহাবের অনুসারী ছিলেন। প্রথমত, কারণ সেই সময়কালে মালিকি ও শাফেয়ি—এই উভয় মাজহাবের অনুসারীদের মধ্যে এটিই ছিল প্রধান মূলনীতি(৪)। অতঃপর 'আল-ইনসাফ' এবং 'আল-মুতাওয়ারি' গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে তাঁর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বক্তব্যসমূহ, বিশেষ করে 'কিতাবুত তাওহিদ'-এর ওপর তাঁর টীকাগুলো এবং 'মুখতাসারুল বুরহান'-এর বহু স্থানে তাঁর কথা আমরা যা বলেছি তারই প্রমাণ দেয়। তাই আমি এই অংশটি দীর্ঘ করব না কারণ এটি এমন একটি বিষয় যাতে দুজন মানুষও মতবিরোধ করবে না; তিনি ফুরু তথা মাসআলার ক্ষেত্রে মালিকি মাজহাবের অনুসারী এবং উসুল তথা আকিদার ক্ষেত্রে আশআরি মতাদর্শের ছিলেন।

 

*‌‌ তাঁর কবিতার কিছু অংশ

ইবনুল মুনাইয়ির ভাষা ও সাহিত্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও বিশারদ ছিলেন; এই শাস্ত্রের জ্ঞানসমূহে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। পাশাপাশি তিনি একজন সুবক্তা ছিলেন এবং কবিতা রচনা করতেন ও তাতে পারদর্শী ছিলেন। পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি 'গারিবুল কুরআন' পূর্ণাঙ্গভাবে প্রায় ১৫০০ চরণে কাব্যিক রূপ দিয়েছিলেন এবং আমরা পেয়েছি—

--------------------------------------------

(১) তাওজিহুল মুশতাবহ (৮/ ২৯০), আদ-দাউদি প্রণীত তবকাতুল মুফাসসিরিন (১/ ৯০)।

(২) (১/ ২৪৩)।

(৩) (১/ ২৬৯)।

(৪) বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: আশআরিদের প্রতি ইবনে তাইমিয়্যার অবস্থান (২/ ৪৯৮ - ৫০৪), আশআরি আকিদার মুদ্রিত মূল উৎসসমূহ (পৃষ্ঠা ৩৯ - ৪৫)।

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৫)
في كتب التراجم والتواريخ طرفًا من شعره، فمن ذلك:

* ما قاله لما وردت إليه المراسيم بالإسكندرية، وعفي متوليها أثر المحرمات:

لَيْسَ لإبليس عندنا أربٌ … غر بِلَادِ الْأَمِير مَأْوَاه

حَرَمْتَه الْخمر والحشيش معًا … حَرَمْتَه مَاءَهُ ومرعاه

* ومن ذلك رثاؤه لابن عصفور علي بن مؤمن (ت 669 هـ)، حامل لواء العربية بالأندلس:

أسند النحو إلينا الدولي … عن أمير المؤمنين البطل

بدأ النَّحو عليٌ وكذا … قُلْ بحقِّ خَتَمَ النَّحْوَ عَلِي

* ومن رثائه لشيخه ابن الحاجب:

ألا أيها المختال في مطرف العُمر … هلم إلى قبر الفقيه أبي عمرو

ترى العلم والآداب والفضل والتُّقى … ونيل المنى والعِزَّ غُيَّبْنَ في قبر

وتوقن أن لا بد ترجع مَرَّةً … إلى صَدَفِ الأجداث مكنونة الدرّ

فتدعو له الرحمن دعوة رحمة … يُكافأ بها في مثل منزله القَفْرِ

* ومنه ما كتبه لقاضي القضاة شمس الدين ابن خلكان (ت 681 هـ) في صدر كتاب:

ليس شمس الضحى كأوصاف شمس الد … ين قاضي القضاة حاشا وكلا

تلك مهما علت محلا ثنت ظ … ــلا، وهذا مهما علا مدَّ ظلَّا
জীবনী এবং ইতিহাসের গ্রন্থসমূহে তাঁর কবিতার কিছু অংশ বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

* আলেকজান্দ্রিয়ায় যখন তাঁর নিকট রাজকীয় ফরমান পৌঁছাল এবং এর প্রশাসকের মাধ্যমে নিষিদ্ধ বিষয়সমূহের চিহ্ন মিটিয়ে দেওয়া হলো, তখন তিনি যা বলেছিলেন:

আমাদের কাছে ইবলিসের কোনো প্রয়োজন নেই … আমীরের জনপদকে প্রলুব্ধ করাই তার আশ্রয়স্থল।

তুমি তার জন্য মদ ও হাশিশ উভয়ই নিষিদ্ধ করেছ … তুমি তার জন্য তার পানি ও বিচরণভূমি হারাম করেছ।

* এর মধ্যে আরও রয়েছে আন্দালুসে আরবি ভাষার পতাকাবাহী আলী ইবনে মুমিন ইবনে আসফুর (মৃত্যু ৬৬৯ হিজরি)-এর স্মরণে তাঁর রচিত শোকগাথা:

আদ-দুয়ালি আমাদের নিকট নাহু শাস্ত্রের সনদ বর্ণনা করেছেন … বীর আমিরুল মুমিনীন (আলী) থেকে।

আলীই নাহু শাস্ত্রের সূচনা করেছিলেন এবং ঠিক তেমনি … সত্যনিষ্ঠভাবে বলো যে আলীই নাহু শাস্ত্রের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন।

* এবং তাঁর উস্তাদ ইবনুল হাজিবের স্মরণে তাঁর রচিত শোকগাথা থেকে:

হে জীবনের চাকচিক্যে গর্বিত ব্যক্তি! … ফকিহ আবু আমরের কবরের কাছে এসো।

তুমি দেখতে পাবে জ্ঞান, আদব, শ্রেষ্ঠত্ব ও তাকওয়া … এবং আকাঙ্ক্ষা ও মর্যাদা অর্জন সবই কবরে বিলীন হয়ে গেছে।

এবং তুমি নিশ্চিত বিশ্বাস করো যে তোমাকে অবশ্যই ফিরে যেতে হবে … কবরের শুক্তির ভেতরে সযত্নে রাখা মুক্তার মতো।

অতঃপর তুমি দয়াময় আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য রহমতের দোয়া করো … যার মাধ্যমে তাঁর এই নির্জন আবাসের মতো স্থানে প্রতিদান দেওয়া হয়।

* এবং এর মধ্যে রয়েছে প্রধান বিচারপতি শামসুদ্দিন ইবনে খল্লিকান (মৃত্যু ৬৮১ হিজরি)-এর উদ্দেশ্যে একটি গ্রন্থের শুরুতে তিনি যা লিখেছিলেন:

পূর্বাহ্ণের সূর্য প্রধান বিচারপতি শামসুদ্দিনের গুণাবলির মতো নয় … কক্ষনোই নয়, অসম্ভব।

ওটা (সূর্য) যতোই উচ্চস্থানে উঠুক না কেন তার ছায়া সংকুচিত হয় … আর ইনি যতোই উচ্চমর্যাদায় আরোহণ করেন তাঁর ছায়া বিস্তৃত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৬)
* ومنه هجاؤه لأحد القضاة لما نازعه في الحكم:

قل لمن يدعي المناصب بالجهـ … ل تنح عنها لمن هو أعلم

إن تكن في ربيع وليت يوما … فعليك القضاء أمسى محرّم

* ومنه ما كتبه إلى الوزير هبة الله بن صاعد الفائزي (ت 655 هـ) أبياتا مدحه بها، منها:

ويا سيّدا تأتي الوفود لبابه … فيلقاهم بالبشر والنائل الغمر

ويا من له في الجود ضرب بلاغة … يقابل منظوم المدائح بالنثر

متى ما أقمت العبد في الخمس نائبا … غدا مستقلا بالدعاء وبالشكر

وغير ذلك كثير.

 

*‌‌ وفاته

توفي رحمه الله قيل مسموما(1) - في يوم الخميس مستهل ربيع الأول سنة 683 هـ بثغر الإسكندرية، وكان عمره إذ ذاك 62 سنة وبضعة أشهر، ودفن بتربة والده عند الجامع الغربي(2).

--------------------------------------------

(1) انظر: البدر السافر عن أنس المسافر (2/ 752)، والله أعلم بحقيقة الحال.

(2) ولا يزال هذا الجامع موجوداً، يعرف اليوم بجامع المنير، وبه قبره، وهذا الجامع يقع على رأس تقاطع شارع المنير بشارع الباب الأخضر بالإسكندرية. انظر: النجوم الزاهرة (7/ 361)، (الهامش).

* আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো জনৈক বিচারকের প্রতি তার বিদ্রূপাত্মক কবিতা, যখন সে তার সাথে বিচারের বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল:

সেই ব্যক্তিকে বলো যে মূর্খতা দিয়ে উচ্চ পদের দাবি করে … তুমি সেই ব্যক্তির জন্য সরে দাঁড়াও যে অধিকতর জ্ঞানী

যদি তুমি রবিউল আউয়াল মাসে একদিনের জন্যও দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে থাকো … তবে তোমার জন্য বিচারকার্য পরিচালনা করা নিষিদ্ধ হয়ে গেছে

* আর এর মধ্যে আরও রয়েছে উজির হিবাতুল্লাহ বিন সাঈদ আল-ফায়েজী (মৃত্যু ৬৫৫ হি.)-এর কাছে লেখা তার কিছু পঙক্তি, যাতে তিনি তার প্রশংসা করেছেন, যার কিছু অংশ হলো:

হে সেই নেতা, যাঁর দরবারে প্রতিনিধিদল উপস্থিত হয় … অতঃপর তিনি তাদের সাথে প্রফুল্ল বদনে এবং অঢেল দাক্ষিণ্যের সাথে সাক্ষাৎ করেন

হে সেই ব্যক্তি, দানশীলতায় যাঁর রয়েছে অলঙ্কারশাস্ত্রের এক বিশেষ শৈলী … যিনি ছন্দোবদ্ধ প্রশংসার মোকাবিলা করেন গদ্যের (উপহারের) মাধ্যমে

যখনই আপনি এই দাসকে পাঁচ ওয়াক্তে প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করেছেন … সে তখন দোয়া এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশে নিমগ্ন হয়ে গেছে

এ ছাড়া আরও অনেক রয়েছে।

 

*‌‌ মৃত্যু

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ইন্তেকাল করেন—বলা হয়ে থাকে যে তাকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল(১)—৬৮৩ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের শুরুতে বৃহস্পতিবার দিন আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে। সে সময় তার বয়স ছিল ৬২ বছর কয়েক মাস। তাকে আল-জামে আল-গারবি (পশ্চিম জামে মসজিদ)-এর নিকট তার পিতার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়(২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-বাদরুস সাফির আন আনাসিল মুসাফির (২/ ৭৫২)। প্রকৃত অবস্থা আল্লাহই ভালো জানেন।

(২) এই মসজিদটি এখনো বিদ্যমান রয়েছে, যা বর্তমানে জামে আল-মুনির নামে পরিচিত এবং এখানেই তার কবর অবস্থিত। এই মসজিদটি আলেকজান্দ্রিয়ার আল-মুনির সড়ক ও আল-বাব আল-আখদার সড়কের সংযোগস্থলে অবস্থিত। দেখুন: আন-নুজুমুজ জাহেরা (৭/ ৩৬১), (টীকা)।

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌ثانيا مختصر ابن المنير وعلاقته بالبرهان

تناول البرهان عدداً من العلماء بالشرح والبيان والاختصار والتهذيب والتنكيت، وكان عامة هؤلاء من أتباع المذهب المالكي؛ فلماذا المالكية دون غيرهم؟ وقبل أن نتحدث عن شيء من أسبابها، نشير إلى المصنفات التي ارتبطت ببرهان الجويني، وذلك على وجه الاختصار حسب ترتيبها الزمني.

والغرض من ذلك رصد تلك المصنفات لعموم فائدتها، وإظهار عناية العلماء به على مر العصور، ومعرفة موقف كتاب ابن المُنَيّر من هذه السلسة.

فأول كتاب في هذه القائمة، هو «المنخول من تعاليق الأصول» لأبي حامد الغزالي الشافعي (ت 505 هـ)، تلميذ إمام الحرمين، وهذا الكتاب عداده ضمن مختصرات البرهان، والمقصود بذلك أنه جعل البرهان أصلا لمنخوله، واستخلص منه مادته مع مخالفته إياه في أسلوبه وآرائه وشيء من ترتيبه. يظهر ذلك بالاستقراء وتتبع مسائل الكتابين، والتوافق في ترتيب أكثر المسائل وتبويبها وطريقة العرض فيهما. ويمكن أن نقول إن الترابط بين الكتابين يشبه العلاقة بين «روضة الناظر» مع «المستصفى».

والدليل على أنه تلخيص للبرهان، ومستمدٌّ منه؛ ما أشار إليه الغزالي في خاتمته أنه قد لخصه من تعاليق الأصول لإمام الحرمين(1). ويعني بـ: «التعاليق»

--------------------------------------------

(1) انظر: المنخول (ص 504).

দ্বিতীয়ত: ইবনে আল-মুনাইয়্যিরের সংক্ষিপ্তসার এবং বুরহানের সাথে তার সম্পর্ক

অনেক আলেম 'আল-বুরহান' গ্রন্থের ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, সংক্ষিপ্তকরণ, পরিমার্জন এবং টিকা প্রদানের কাজ করেছেন। তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন মালিকি মাযহাবের অনুসারী। কেন অন্য মাযহাবের তুলনায় মালিকিরাই অগ্রগামী ছিলেন? এর কারণগুলো নিয়ে আলোচনার আগে আমরা কালানুক্রমিকভাবে জুওয়াইনির বুরহানের সাথে সংশ্লিষ্ট গ্রন্থগুলো সংক্ষেপে উল্লেখ করব।

এর উদ্দেশ্য হলো সেই গ্রন্থগুলোকে তাদের ব্যাপক উপযোগিতার কারণে তালিকাভুক্ত করা, যুগ যুগ ধরে আলেমদের এই গ্রন্থের প্রতি যে বিশেষ যত্ন ছিল তা প্রকাশ করা এবং এই ধারায় ইবনে আল-মুনাইয়্যিরের গ্রন্থের অবস্থান সম্পর্কে জানা।

এই তালিকার প্রথম গ্রন্থটি হলো ইমামুল হারামাইনের ছাত্র আবু হামিদ আল-গাজালি আশ-শাফিয়ি (ওফাত: ৫০৫ হি.) রচিত «আল-মানখুল মিন তা'আলিকিল উসুল»। এই গ্রন্থটি বুরহানের সংক্ষিপ্তসারগুলোর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য। এর অর্থ হলো, তিনি বুরহানকে তার মানখুলের মূল ভিত্তি বানিয়েছেন এবং এর বিষয়বস্তু সেখান থেকেই আহরণ করেছেন, যদিও তিনি এর রচনাশৈলী, মতাদর্শ এবং বিন্যাসের কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নতা অবলম্বন করেছেন। উভয় গ্রন্থের মাসআলাগুলোর নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় এবং অধিকাংশ মাসআলার বিন্যাস, অধ্যায় বিভাজন ও উপস্থাপনা শৈলীতেও তা ফুটে ওঠে। আমরা বলতে পারি যে, এই দুই গ্রন্থের মধ্যকার সম্পর্কটি «রাওদাতুন নাযির» এবং «আল-মুস্তাসফা»-র মধ্যকার সম্পর্কের অনুরূপ।

এটি যে বুরহানের সারসংক্ষেপ এবং তা থেকে উদ্ভূত, তার প্রমাণ হলো গাজালি তার গ্রন্থের উপসংহারে যা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি ইমামুল হারামাইনের 'তা'আলিকুল উসুল' থেকে সংক্ষেপিত করেছেন। আর 'তা'আলিক' দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন—

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মানখুল (পৃ. ৫০৪)।

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৮)
هنا: برهان الجويني. وفي ذلك يقول العلامة حسن العطار (ت 1250 هـ) في حاشيته على شرح المحلي(1): « … فإنَّ المنخول في الحقيقة تلخيص البرهان للإمام، كما يدل عليه تسميته بـ: المنخول من تعليق الأصول، وتصريح حُجَّةِ الإسلام في آخره بأنه لم يزد فيه على ما في تعليق الإمام، يعني البرهان»(2).

*ومنها: «البيان لشرح البرهان» لأبي عبد الله محمد بن المسلم بن محمد بن أبي بكر القرشي المخزومي الصقلي المازري، ساكن الإسكندرية (530 هـ)، وهو من تلاميذ أبي بكر الطرطوشي(3).

ومنها: شرح الإمام المازري (ت 536 هـ)، وهو «إيضاح المحصول من برهان الأصول»، ولم يتمه. وهذا الكتاب يعتبر من أوائل شروحه، وأصله كان إملاء على البرهان أثناء تدريسه للطلبة(4)، وقد نُشر ما عُثر عليه منه في مجلد، ولم يظهر لي استفادة ابن المنير منه في مختصره.

*ومنها: (النكت) لتقي الدين المقترح الشافعي (ت 612 هـ)، وهي

--------------------------------------------

(1) (1/ 268).

(2) ولم يشر إلى هذه الجزئية محقق «المنخول» فضلا عن مناقشتها، وَجَعَلَ «المنخول» كتابًا مستقلا من كتب الغزالي المتقدمة. وفي ذلك تهوين من قيمة الكتاب الحقيقية، كما أنه هضم لِحَقِّ البرهان، لأن المنخول دائر في فلكه.

(3) انظر: الغنية للقاضي عياض (ص 88). وقد استفدت هذه المعلومة من حساب الأستاذ أبي بكر سعداوي في الفيسبوك.

(4) انظر: إيضاح المحصول (ص 191، 251). ذكر ابن السبكي في طبقاته الكبرى (5/ 192) أن المازري عمل على البرهان «مشكلات»، وأنه كتاب آخر، غير الشرح السابق، لكن حقق د. عمار الطالبي أن الإملاء على البرهان، والمشكلات، وإيضاح المحصول من برهان الأصول، وشرح البرهان كلها أسماء لمسمى واحد. انظر مقدمته على إيضاح المحصول (ص 18).

এখানে: জুয়াইনীর বুরহান। এ সম্পর্কে আল্লামা হাসান আল-আত্তার (ওফাত ১২৫০ হিজরী) শারহুল মাহাল্লীর ওপর তাঁর হাশিয়াতে(১) বলেন: « … প্রকৃতপক্ষে আল-মানখুল হলো ইমামের আল-বুরহানের সংক্ষিপ্তসার। যেমনটি এর নাম ‘আল-মানখুল মিন তা'লীকিল উসুল’ দ্বারা প্রমাণিত হয় এবং হুজ্জাতুল ইসলাম এর শেষে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এতে ইমামের ভাষ্য অর্থাৎ আল-বুরহানে যা আছে তার অতিরিক্ত কিছু যোগ করেননি।»(২).

*এবং এর মধ্যে রয়েছে: আলেকজান্দ্রিয়ার বাসিন্দা আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-মুসলিম বিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর আল-কুরাশি আল-মাখজুমি আস-সিকাল্লি আল-মাজিরি (৫৩০ হিজরী) রচিত ‘আল-বায়ান লি শারহিল বুরহান’, যিনি আবু বকর আত-তুরতুশির অন্যতম ছাত্র ছিলেন।(৩).

এবং এর মধ্যে আরও রয়েছে: ইমাম আল-মাজিরির (ওফাত ৫৩৬ হিজরী) ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা হলো ‘ইদাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল’, এবং তিনি এটি সম্পন্ন করেননি। এই কিতাবটি তাঁর প্রাথমিক ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে গণ্য করা হয়। এর মূল উৎস ছিল ছাত্রদের পাঠদানের সময় আল-বুরহানের ওপর প্রদত্ত শ্রুতিলিপি (ইমলা)(৪)। এর যা কিছু পাওয়া গেছে তা এক খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। তবে ইবনুল মুনাইর তাঁর সংক্ষিপ্তসারে এটি থেকে কোনো উপকার গ্রহণ করেছেন বলে আমার কাছে স্পষ্ট হয়নি।

*এবং এর মধ্যে রয়েছে: তাকিউদ্দিন আল-মুকতারাহ আশ-শাফিয়ী (ওফাত ৬১২ হিজরী) রচিত ‘আন-নুকাতি’, যা হলো

--------------------------------------------

(১) (১/ ২৬৮)।

(২) ‘আল-মানখুল’-এর সম্পাদক এই অংশটির দিকে ইঙ্গিত করেননি, এর ওপর আলোচনা করা তো দূরের কথা। তিনি ‘আল-মানখুল’-কে ইমাম গাজালীর প্রাথমিক যুগের একটি স্বতন্ত্র কিতাব হিসেবে গণ্য করেছেন। এতে কিতাবটির প্রকৃত গুরুত্বকে খাটো করা হয়েছে, সেইসাথে এটি ‘আল-বুরহান’-এর অধিকারকেও ক্ষুণ্ণ করেছে, কারণ আল-মানখুল এরই চারপাশেই আবর্তিত।

(৩) দেখুন: কাজি আয়াজ রচিত আল-গুনিয়া (পৃষ্ঠা ৮৮)। আমি এই তথ্যটি উস্তাদ আবু বকর সাদাওয়ির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাভ করেছি।

(৪) দেখুন: ইদাহুল মাহসুল (পৃষ্ঠা ১৯১, ২৫১)। ইবনুস সুবকি তাঁর তাবাকাতুল কুবরা (৫/ ১৯২)-তে উল্লেখ করেছেন যে, আল-মাজিরি আল-বুরহানের ওপর ‘মুশকিলাত’ রচনা করেছেন এবং এটি পূর্বোক্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে ভিন্ন আরেকটি কিতাব। কিন্তু ড. আম্মার আল-তালিবি প্রমাণ করেছেন যে, আল-বুরহানের ওপর শ্রুতিলিপি (ইমলা), আল-মুশকিলাত, ইদাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল এবং শারহুল বুরহান—সবগুলোই একই কিতাবের বিভিন্ন নাম। দেখুন: ইদাহুল মাহসুলের প্রতি তাঁর ভূমিকা (পৃষ্ঠা ১৮)।

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৯)
تعليقات وحواش على مواضع من البرهان(1).

* ومنها: «مختصر البرهان»(2) لابن عطاء الله الإسكندراني(3).

* ومنها: «شرح مختصر البرهان» لابن عطاء الله(4).

* ومنها: «التحقيق والبيان في شرح البرهان»(5). للإمام أبي الحسن الأبياري (ت 618 هـ)، وهو يعتبر من الشروح المكتملة للبرهان مما وصل إلينا.

*ومنها: شرح أبي يحيى زكريا بن يحيى بن يوسف الشريف المغربي

--------------------------------------------

(1) تسمى: النكت - أو التعليق - على البرهان، مخطوط. وذكر الدكتور علي الجزائري في مقدمته لشرح الأبياري أنه قد حققها، ولم ينشرها إلى الآن، وإن كان قد بث شيئا منها في حواشي تحقيقه.

(2) نقل عنه الزركشي في موضعين من البحر المحيط (4/ 234)، (1/ 299) وسماه بـ: «مختصر البرهان».

(3) من المرجح عندي أن يكون المقصود به ابنُ عطاء الله الإسكندري الجَدُّ، وليس الحفيد، فالجد هو الفقيه الأصولي اللغوي أبو محمد رشيد الدين عبد الكريم بن عطاء الله السكندري المالكي (ت 612 هـ)، كان رفيقا لابن الحاجب، وتفقه على أبي الحسن الأبياري الأصولي الفقيه شارح «البرهان». انظر ترجم الجد في الديباج المذهب (2/43). أما حفيده أحمد بن محمد، المتوفى سنة 709 هـ (الديباج المذهب 1/ 242)، فلم يشتهر بالتأليف في العلوم الشرعية، بل غالب تصانيفه في الزهد والتصوف والمواعظ، فغَوْصُه في بحر «البرهان» بعيد عندي لما ذكرتُ، والله أعلم.

(4) انظر: المعيار المعرب (5/ 396). هل هو الجد (ت 612 هـ) أم الحفيد (ت 709 هـ): لا أستطيع أن أجزم بشيء، ولعله الأول. فعلى هذا يكون قد شرح البرهان، واختصره كابن المنير، والله أعلم.

(5) صدر عن دار الضياء عام 1432 هـ في أربعة أجلاد، بتحقيق د. علي بن عبد الرحمن الجزائري.

‘আল-বুরহান’-এর বিভিন্ন অংশের ওপর ব্যাখ্যা ও টীকা(১)।

* সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইবন আতাউল্লাহ আল-ইস্কান্দারি(৩) প্রণীত ‘মুখতাসারুল বুরহান’(২)।

* সেগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: ইবন আতাউল্লাহ প্রণীত ‘শারহু মুখতাসারিল বুরহান’(৪)।

* সেগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: ইমাম আবু হাসান আল-আবিয়ারি (মৃত্যু ৬১৮ হিজরি) প্রণীত ‘আত-তাহকিক ওয়াল বায়ান ফি শারহিল বুরহান’(৫)। এটি আমাদের নিকট পৌঁছানো ‘বুরহান’-এর পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত।

* সেগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: আবু ইয়াহইয়া জাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া ইবন ইউসুফ আশ-শরিফ আল-মাগরিবির ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

--------------------------------------------

(১) একে বলা হয়: আন-নুকাত—অথবা আত-তালিক—আলাল বুরহান; এটি একটি পাণ্ডুলিপি। ড. আলী আল-জাজায়েরি আল-আবিয়ারির ব্যাখ্যাগ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি সম্পাদনা করেছেন, তবে এখন পর্যন্ত তা প্রকাশ করেননি, যদিও তিনি তার সম্পাদিত গ্রন্থের টীকাগুলোতে এর কিছু অংশ প্রদান করেছেন।

(২) আয-যারকাশি ‘আল-বাহরুল মুহিত’-এর দুটি স্থানে (৪/ ২৩৪ এবং ১/ ২৯৯) তা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং এর নামকরণ করেছেন: ‘মুখতাসারুল বুরহান’।

(৩) আমার নিকট অধিকতর গ্রহণযোগ্য বিষয় হলো, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছেন দাদা ইবন আতাউল্লাহ আল-ইস্কান্দারি, নাতি নন। কারণ দাদা হলেন ফকিহ, উসুলবিদ ও ভাষাবিদ আবু মুহাম্মদ রশিদ উদ্দিন আব্দুল কারিম ইবন আতাউল্লাহ আস-সিকান্দারি আল-মালিকি (মৃত্যু ৬১২ হিজরি)। তিনি ইবনুল হাজিবের সহপাঠী ছিলেন এবং ‘বুরহান’-এর ব্যাখ্যাকার উসুলবিদ ও ফকিহ আবু হাসান আল-আবিয়ারির নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন। দাদার জীবনী দেখুন ‘আদ-দিবাজুল মুযাহহাব’ গ্রন্থে (২/৪৩)। অন্যদিকে তার নাতি আহমদ ইবন মুহাম্মদ, যিনি ৭০৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন (আদ-দিবাজুল মুযাহহাব ১/২৪২), তিনি শরীয়াহ বিজ্ঞানে গ্রন্থ রচনার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন না; বরং তার অধিকাংশ রচনা ছিল যুহদ (দুনিয়া বিমুখতা), তাসাউফ ও ওয়াজ-নসিহত বিষয়ক। তাই আমার উল্লিখিত কারণে ‘বুরহান’-এর গভীর সমুদ্রে তার অবগাহন করা আমার নিকট সুদূরপরাহত মনে হয়, আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

(৪) দেখুন: আল-মিয়ারুল মু'রাব (৫/ ৩৯৬)। তিনি কি দাদা (মৃত্যু ৬১২ হিজরি) নাকি নাতি (মৃত্যু ৭০৯ হিজরি)? আমি কোনো বিষয়েই সুনিশ্চিত হতে পারছি না, তবে সম্ভবত তিনি প্রথমজন (অর্থাৎ দাদা)। সেই অনুযায়ী, তিনি বুরহানের ব্যাখ্যাও করেছেন এবং ইবনুল মুনিরের মতো এর সংক্ষিপ্তসারও রচনা করেছেন, আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

(৫) এটি ১৪৩২ হিজরিতে দারুয যিয়া থেকে চার খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে, যা ড. আলী বিন আব্দুর রহমান আল-জাজায়েরি সম্পাদনা করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৩০)
(كان حيًّا سنة 629 هـ)، وسماه «كفاية طالب علم البيان في شرح البرهان»(1)، جمع فيه بين شرحي المازري والأبياري(2).

*ومنها: «شرح البرهان» لابن علاف(3)، وهو كذلك - حسب الزركشي - من المغاربة.

*ومنها: «شرح البرهان» لناصر الدين ابن المُنَيِّر الإسكندراني (ت 683 هـ)(4).

ومنها: مختصر البرهان المسمّى بـ: «الكفيل بالوصول إلى ثمرات الأصول»، له أيضاً، وهو كتابنا هذا(5).

*ومنها: مختصر البرهان، المسمّى بـ: «ناظر العين في مختصر البرهان لإمام الحرمين»، لعتيق بن أحمد بن محمد الفراء الوادي آشي (ت 696 هـ)(6).

فمن خلال هذه القائمة يتضح جلياً أن تصنيف ابن المنير مسبوق بعدد من الشروح والتعليقات، بل هو يعتبر من أواخر الكتب في منظومة الأعمال على البرهان، مما جعله يستفيد من بعضها، كشرح الأبياري على أقل تقدير؛

--------------------------------------------

(1) مخطوط، توجد منه نسخة ناقصة بمكتبة القيروان بفاس برقم (1397)، وأخرى بالخزانة الحمزاوية في المغرب برقم (35)، كما توجد منه نسخة ثالثة بمكتبة بريل بهولندا برقم (807). وقد حققه محمد عبد الإله الشعيري في جامعة عبد المالك السعدي بتطوان.

(2) أفاده التاج السبكي في طبقاته (5/ 192).

(3) وهو من مصادر الزركشي في البحر المحيط، ولم أقف على ترجمة لابن علاف.

(4) انظر ما تقدم في (ص 21).

(5) انظر: (ص 33 - 35).

(6) انظر: الذيل والتكملة (3/ 96)، درة الحجال (3/ 181).

(তিনি ৬২৯ হিজরি সনে জীবিত ছিলেন), এবং তিনি এর নামকরণ করেছেন «কিফায়াতু তালিব ইলমিল বায়ান ফি শারহিল বুরহান»(১), এতে তিনি আল-মাজিরি এবং আল-আবয়ারির দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের সমন্বয় করেছেন(২)।

*তন্মধ্যে একটি হলো: ইবনুল আল্লাফ-এর «শারহুল বুরহান»(৩), আর যারকাশির বর্ণনা অনুযায়ী তিনিও একজন মাগরেবি আলেম।

*তন্মধ্যে আরও একটি হলো: নাসিরুদ্দিন ইবনুল মুনাইয়ির আল-ইসকান্দারানি (মৃত্যু ৬৮৩ হি.)-এর «শারহুল বুরহান»(৪)।

তন্মধ্যে আল-বুরহানের একটি সংক্ষিপ্তসারও রয়েছে যার নাম: «আল-কাফিল বিল-উসুল ইলা সামারাতিল উসুল», এটিও তাঁরই রচনা এবং এটিই আমাদের আলোচ্য কিতাব(৫)।

*তন্মধ্যে আল-বুরহানের একটি সংক্ষিপ্তসার হলো «নাযিরুল আইন ফি মুখতাসারিল বুরহান লি-ইমামিল হারামাইন», যার লেখক আতিক বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-ফাররা আল-ওয়াদি আশি (মৃত্যু ৬৯৬ হি.)(৬)।

সুতরাং এই তালিকা থেকে এটি সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ইবনুল মুনাইয়িরের এই রচনাটির পূর্বে বেশ কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং টীকা রচিত হয়েছে, বরং এটি আল-বুরহানের ওপর লিখিত রচনাবলির ধারায় অন্যতম সর্বশেষ কিতাব হিসেবে গণ্য হয়, যা তাকে এর পূর্ববর্তী কিছু কিতাব থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে, যার মধ্যে ন্যূনতম আল-আবয়ারির ব্যাখ্যাগ্রন্থটি অন্যতম।

--------------------------------------------

(১) এটি একটি পাণ্ডুলিপি, মরক্কোর ফাস শহরের আল-কাইরাওয়ান লাইব্রেরিতে (১৩৯৭) নম্বরে এর একটি অসম্পূর্ণ কপি রয়েছে, আরেকটি মরক্কোর আল-খিজানা আল-হামজাবিয়্যা-তে (৩৫) নম্বরে এবং তৃতীয় একটি কপি নেদারল্যান্ডের ব্রিল লাইব্রেরিতে (৮০৭) নম্বরে সংরক্ষিত আছে। তিতওয়ানের জামিআতু আব্দুল মালিক আস-সাদি-তে মুহাম্মদ আব্দুল ইলাহ আশ-শাঈরি এটি সম্পাদনা করেছেন।

(২) তাজ আল-সুবকি তার ‘তাবাকাত’ (৫/ ১৯২) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

(৩) এটি ‘আল-বাহরুল মুহিত’ গ্রন্থে যারকাশির অন্যতম উৎস, তবে ইবনুল আল্লাফ-এর কোনো জীবনী আমি খুঁজে পাইনি।

(৪) পূর্বে পৃষ্ঠা ২১-এ যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা দেখুন।

(৫) দেখুন: (পৃষ্ঠা ৩৩ - ৩৫)।

(৬) দেখুন: আদ-যাইল ওয়াত-তাকমিলা (৩/ ৯৬), দুররাতুল হিজাল (৩/ ১৮১)।

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৩১)
فقد استفاد ابن المنير منه في عدد من المواضع، وأشرنا إلى ذلك في الحواشي دون تتبع لجميعها.

ومن اللافت للنظر في القائمة السابقة أن أكثرهم مالكيون، ويرجع تاج الدين ابن السبكي ذلك إلى أمرين(1):

أحدهما: عدم تقيد الجويني باختيارات أبي الحسن الأشعري، والمالكية يستصعبون مخالفة أبي الحسن، فكأنهم أقبلوا على كتاب الجويني دفاعا عن معتقد أبي الحسن الأشعري وآرائه.

والثاني: نيل الجويني من الإمام مالك في مواضع من «البرهان»، فأتباعه لم يتحملوا منه ذلك، وربما تحاملوا عليه.

وكلا الأمرين عند التأمل يرجع إلى طبيعة شخصية الجويني الفذّة أصوليا ومتكلّما، وطول باعه في العلوم العقلية والنقلية؛ وقد سلك في البرهان مسلك من بلغ الغاية في الاجتهاد والمرتبة العليا في العلوم، فهو يقرر ويرجح ويزيف حسب اجتهاده، وإن أدى ذلك في أحيان كثيرة إلى مخالفة الأئمة الكبار، كمالك والشافعي والأشعري والباقلاني وغيرهم. لكن من الأهمية بمكان أن نذكر هنا أن حضور الجويني في المغرب معروف ومشهور، لا سيما في علم الكلام، فليس محصوراً على البرهان؛ فإنَّ أكثر من عُني بـ: «إرشاد» الجويني، كانوا من المغاربة، كأبي الحجاج الضرير (ت 520 هـ)، والمازري (ت 536 هـ)، والسلالجي (574 هـ)، وابن دِهاق (ت 611 هـ)، وأبي يحيى الإدريسي (كان حيا عام 629 هـ)، وابن دوناس الفاسي (ت 639 هـ)،

--------------------------------------------

(1) انظر: طبقات الشافعية الكبرى (5/ 192 - 193).

ইবনুল মুনাইর তা থেকে বেশ কিছু স্থানে উপকৃত হয়েছেন, এবং আমরা সকল বিষয়ের অনুপুঙ্খ অনুসন্ধান ছাড়াই টীকাগুলোতে সেদিকে ইঙ্গিত করেছি।

পূর্বোক্ত তালিকায় এটি বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, তাদের অধিকাংশ মালেকী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। তাজউদ্দীন ইবনুস সুবকী এর পেছনে দুটি কারণ উল্লেখ করেছেন(১):

প্রথমত: আবুল হাসান আল-আশআরীর ইজতিহাদী সিদ্ধান্ত বা চয়নসমূহের প্রতি জুওয়াইনীর অনুগত না থাকা; আর মালেকীগণ আবুল হাসানের বিরোধিতা করাকে অত্যন্ত কঠিন মনে করেন। ফলে তারা যেন আবুল হাসান আল-আশআরীর আকিদা ও মতাদর্শের প্রতিরক্ষার্থেই জুওয়াইনীর কিতাবের প্রতি মনোনিবেশ করেছেন।

দ্বিতীয়ত: 'আল-বুরহান' গ্রন্থের বেশ কিছু স্থানে জুওয়াইনী কর্তৃক ইমাম মালিকের সমালোচনা করা; ফলে তাঁর অনুসারীরা তা মেনে নিতে পারেননি এবং সম্ভবত তারা তাঁর প্রতি কঠোর মনোভাব পোষণ করেছেন।

গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, উভয় বিষয়ই উসুলবিদ ও কালামশাস্ত্রবিদ হিসেবে জুওয়াইনীর অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং যৌক্তিক ও তাত্ত্বিক জ্ঞানে তাঁর সুগভীর পাণ্ডিত্যের দিকেই ধাবিত হয়। তিনি 'আল-বুরহান' গ্রন্থে এমন এক পথ অবলম্বন করেছেন, যা কেবল ইজতিহাদের চরম শিখরে এবং ইলমের সর্বোচ্চ স্তরে উপনীত ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব। ফলে তিনি নিজ ইজতিহাদ অনুযায়ী কোনো বিষয় সাব্যস্ত করেন, কোনোটিকে প্রাধান্য দেন আবার কোনোটিকে অসার প্রমাণ করেন; যদিও তা বহুক্ষেত্রে মালিক, শাফেয়ী, আশআরী, বাকিল্লানী ও অন্যান্য মহান ইমামগণের বিরোধিতার কারণ হয়েছে। তবে এখানে এটি উল্লেখ করা অত্যন্ত জরুরি যে, মাগরিব অঞ্চলে জুওয়াইনীর প্রভাব ও উপস্থিতি অত্যন্ত সুপরিচিত এবং তা বিশেষ করে ইলমে কালাম শাস্ত্রে, যা কেবল 'আল-বুরহান' গ্রন্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কারণ জুওয়াইনীর 'আল-ইরশাদ' গ্রন্থের প্রতি যারা সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছিলেন তারা ছিলেন মাগরিবী আলেমগণ, যেমন: আবুল হাজ্জাজ আদ-দরীর (মৃ. ৫২০ হি.), আল-মাযেরী (মৃ. ৫৩৬ হি.), আস-সালালজী (৫৭৪ হি.), ইবনে দিহাক (মৃ. ৬১১ হি.), আবু ইয়াহইয়া আল-ইদ্রিসী (যিনি ৬২৯ হিজরিতে জীবিত ছিলেন) এবং ইবনে দুনাস আল-ফাসী (মৃ. ৬৩৯ হি.)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা (৫/ ১৯২ - ১৯৩)।

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৩২)
وابن بزيزة التونسي (ت 662 هـ)، وغيرهم(1). وقد ذكر القاضي عياض(2) أنه قرأ على شيخه أبي الحجاج الضرير (ت 520 هـ) السالف ذكره نظم الإرشاد له، كما أن مختصر الإرشاد(3) للسلالجي (ت 574 هـ)، المسمى بـ: «العقيدة البرهانية» كانت هي العقيدة المعتمدة في المدارس، والجوامع، والمؤسسات التعليمية في بلاد المغرب، وأنَّ السلطة المعرفية فيها قد كانت لتلك العقيدة(4)، على الأقل قبل انتشار عقائد محمد بن يوسف السنوسي (ت 895 هـ)(5).

--------------------------------------------

(1) انظر: جامع الشروح والحواشي (1/ 149 - 154)، المصادر المغربية للعقيدة الأشعرية (2، 202، 21601، 199، 197، 194، 188، 166، 165، 1/ 118).

(2) انظر: الغنية (ص 226).

(3) أفاد ابن رشيد السبتي (ت 721 هـ) وابن تيمية (ت 728 هـ) أنّ العقيدة البرهانية للسلالجي ما هي إلا اختصار الإرشاد الجويني. انظر: ملء العبية (2/ 226)، شرح الأصبهانية (ص 475).

(4) انظر: مدخل إلى تاريخ العلوم بالمغرب المسلم (2/ 381)، المصادر المغربية للعقيدة الأشعرية (1/ 165).

(5) علما بأن السنوسي لم يخالف في عقائده إرشاد الجويني.

এবং ইবনে বাজিজাহ আত-তিউনিসি (মৃত্যু ৬৬২ হি.) ও অন্যান্যরা(১)। আর কাজী আইয়াজ(২) উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর পূর্বে উল্লিখিত শায়খ আবুল হাজ্জাজ আদ-দরীর (মৃত্যু ৫২০ হি.)-এর নিকট তাঁর 'নাজমুল ইরশাদ' পাঠ করেছেন। একইভাবে আস-সালালজি (মৃত্যু ৫৭৪ হি.) কর্তৃক রচিত ইরশাদের সংক্ষিপ্তসার(৩), যা «আল-আকিদাতুল বুরহানিয়্যাহ» নামে পরিচিত, মাগরেব অঞ্চলের মাদ্রাসা, জামে মসজিদ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে নির্ভরযোগ্য আকিদা হিসেবে গণ্য হতো এবং সেখানে জ্ঞানতাত্ত্বিক কর্তৃত্ব এই আকিদারই ছিল(৪), অন্তত মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আস-সানুসি (মৃত্যু ৮৯৫ হি.)-এর আকিদাসমূহ প্রসারের পূর্বে(৫)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: জামিউশ শুরূহ ওয়াল হাওয়াশি (১/ ১৪৯ - ১৫৪), আল-মাসাদিরুল মাগরিবিয়্যাহ লিল আকিদাতিল আশআরিয়্যাহ (২/ ২০২, ২০২, ২১৬, ২০১, ১৯৯, ১৯৭, ১৯৪, ১৮৮, ১৬৬, ১৬৫, ১/ ১১৮)।

(২) দেখুন: আল-গুনিয়্যাহ (পৃ. ২২৬)।

(৩) ইবনে রুশাইদ আস-সাবতি (মৃত্যু ৭২১ হি.) এবং ইবনে তাইমিয়াহ (মৃত্যু ৭২৮ হি.) বর্ণনা করেছেন যে, সালালজির আল-আকিদাতুল বুরহানিয়্যাহ মূলত জুয়াইনির ইরশাদেরই সংক্ষিপ্তসার। দেখুন: মিলউল আইবাহ (২/ ২২৬), শারহুল আসবাহানিয়্যাহ (পৃ. ৪৭৫)।

(৪) দেখুন: মাদখাল ইলা তারিখিল উলুম বিল মাগরিবিল মুসলিম (২/ ৩৮১), আল-মাসাদিরুল মাগরিবিয়্যাহ লিল আকিদাতিল আশআরিয়্যাহ (১/ ১৬৫)।

(৫) উল্লেখ্য যে, সানুসি তাঁর আকিদাসমূহে জুয়াইনির ইরশাদের বিরোধিতা করেননি।

(খণ্ড: ১) আল-কাফীল বিল উসুল ইলা সামারাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌ثالثاً عنوان الكتاب وإثبات نسبته إلى مؤلفه

نصٌّ غير واحدٍ من العلماء على أنَّ لابن المُنَيِّرِ مُختصراً لبرهان الجوينيّ؛ فقد صرَّح بذلك البدر الزركشيُّ (ت 794 هـ) في مقدمة «البحر المحيط»(1)، وذلك أثناء تعداد المصادر التي عوَّل عليها في جمع كتابه. وأما محمد بن أحمد التُّونسيُّ الوَانُّوغِيُّ (819 هـ)(2) فقد أثنى عليه قائلاً: «وقد اختصره ابن المنير فأبدع»(3).

ولما كان الكتاب اختصاراً للبرهان، غلب عليه هذا الوصف؛ وهو ما نجده مدوَّناً على الصفحة الأولى والأخيرة من النُّسخة الإسبانية. أمَّا النُّسخة التُّونسية، فالعنوان في غاشيتها: «الكفيل بالوصول إلى ثمرة الأصول»، وقد صرَّح المُصنِّفُ بذلك في قوله: «وباسمه نستفتحُ هذا الكتاب، وهو الكفيل بالوصول إلى ثمرات الأصول، فليقتطفها الطالبُ من هذه الفصول»، لكن نلاحظ أن هناك فارقاً يسيراً بين ما نص عليه ابن المنير وما جاء في غاشية إحدى النسختين، وقد رجَّحتُ أن أُثبتَ ما ذكره المُصنِّفُ، والأمر في ذلك قريبٌ. وقد يسمى الكتاب اختصاراً بـ: الكفيل.

--------------------------------------------

(1) (1/5).

(2) ترجمته في: العقد الثمين (2/25)، الضوء اللامع (3/7)، بغية الوعاة (1/31).

(3) العقد الثمين (2/28).

তৃতীয়ত: বইটির শিরোনাম এবং এর লেখকের প্রতি এর সম্পৃক্ততা নিশ্চিতকরণ

একাধিক আলিম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ইবনুল মুনাইয়ারের নিকট আল-জুয়াইনীর 'আল-বুরহান' গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্তসার (মুখতাসার) ছিল। আল-বদর আয-যারকাশী (মৃত্যু ৭৯৪ হিজরি) তাঁর 'আল-বাহরুল মুহিত' গ্রন্থের ভূমিকায় এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন(১), যখন তিনি তাঁর গ্রন্থটি সংকলনের ক্ষেত্রে যেসব উৎসের ওপর নির্ভর করেছিলেন তার তালিকা দিচ্ছিলেন। আর মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ আত-তিউনিসি আল-ওয়ানুগী (৮১৯ হিজরি)(২) এর প্রশংসা করে বলেছেন: "ইবনুল মুনাইয়ার একে সংক্ষেপ করেছেন এবং চমৎকারভাবে তা সম্পন্ন করেছেন"(৩)।

যেহেতু কিতাবটি 'আল-বুরহান'-এর একটি সংক্ষিপ্তসার, তাই এই বর্ণনাই এর ওপর প্রাধান্য পেয়েছে; যা আমরা স্প্যানিশ পাণ্ডুলিপির প্রথম এবং শেষ পৃষ্ঠায় লিপিবদ্ধ দেখতে পাই। তবে তিউনিসীয় পাণ্ডুলিপির ক্ষেত্রে শিরোনামটি এর প্রচ্ছদে নিম্নরূপ ছিল: 'আল-কাফিল বিল-উসুল ইলা সামারাতিল উসুল' (মূলনীতিসমূহের ফল লাভের নিশ্চয়তা প্রদানকারী)। গ্রন্থকার নিজেও তাঁর এই বাণীতে এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন: "এবং তাঁর নামে আমরা এই কিতাবটি শুরু করছি, আর এটিই মূলনীতিসমূহের ফল লাভের নিশ্চয়তা প্রদানকারী, সুতরাং জ্ঞানান্বেষী যেন এই পরিচ্ছেদগুলো থেকে তা আহরণ করে।" তবে আমরা লক্ষ্য করি যে, ইবনুল মুনাইয়ার যা উল্লেখ করেছেন এবং পাণ্ডুলিপিবদ্ব প্রচ্ছদে যা এসেছে তার মধ্যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। আমি লেখক যা উল্লেখ করেছেন তাকেই বহাল রাখা অগ্রাধিকার দিয়েছি, আর এ বিষয়টি কাছাকাছি। কিতাবটিকে সংক্ষেপে 'আল-কাফিল' বলেও অভিহিত করা হয়।

--------------------------------------------

(১) (১/৫)।

(২) তাঁর জীবনী দেখুন: আল-ইকদুস সামিন (২/২৫), আদ-দউউল লামি (৩/৭), বুগইয়াতুল উয়াত (১/৩১)।

(৩) আল-ইকদুস সামিন (২/২৮)।