(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: -)
التعليقة في أصول الفقه للكيا - قطعة منه   (الكيا الهراسي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: التعليقة في أصول الفقه

(قطعة تمثل النصف الأول من الكتاب)

عُلقت عن: إلكيا الهراسي عماد الدين علي بن الحسن الطبري الشافعي (ت 504 هـ)

ويليه: ملحق بآراء ونصوص الهراسي الأصولية

المحقق: مَقصد فِكْرَت أُوغلُوكرِيمُوف - المُثَنى بن عبد العزيز الجرباء

الناشر: دار أسفار - الكويت

الطبعة: الأولى، 1442 هـ - 2021 م

عدد الصفحات: 378

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 27 جُمادَى الأولى 1447

আত-তালীকা ফি উসূলিল ফিকহ লিল-কিয়া - এর একটি অংশ   (আল-কিয়া আল-হাররাসী)

বিভাগ: উসূলুল ফিকহ


বই: আত-তালীকা ফি উসূলিল ফিকহ

(একটি অংশ যা বইটির প্রথম অর্ধাংশকে উপস্থাপন করে)

যার থেকে সংকলিত: ইলকিয়া আল-হাররাসী ইমাদুদ্দীন আলী ইবনুল হাসান আত-তাবারী আশ-শাফেয়ী (মৃত্যু ৫০৪ হিজরি)

এবং এর পরে রয়েছে: আল-হাররাসীর উসূলী মতামত ও পাঠ্য সম্বলিত পরিশিষ্ট

সম্পাদক: মাকসাদ ফিকরাত ওগলু করিমভ - আল-মুসান্না বিন আব্দুল আজিজ আল-জারবা

প্রকাশক: দার আসফার - কুয়েত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪২ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭৮

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৭ জুমাদাল উলা ১৪৪৭

(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

يسر «مشروع أسفار» أنْ يقدّم للقارئ الكريم الإصدار التاسع والثلاثين من إصدارات المشروع: (التَّعليقة في أصول الفقه)، لشيخ الشافعية الإمام إلكيا الهراسي (ت 504).

كتابنا؛ من مهمات كتب الأصول، التي زخرت مدونات الفنّ بالنقل عنه، يعتبر امتداداً مهما لمدرسة شيخه «إمام الحرمين الجويني» ذات المعالم الأصولية المميزة.

كان مؤلفه إلكيا من محققي الشافعية المهرة بالتدريس والتعليم، وقد رُزِق في التعليم حسن البيان والتفهيم، وقصده للتعلم الأكابر من أهل عصره، وأثنوا عليه فقالوا: «تخرَّجَ بِهِ الأَئِمَّةُ»، وكانت تُعلَّق عنه التعاليق في «مجالس الدروس والتعليم» ومنها كتابنا القيّم الذي نقدّمه مطبوعاً لأول مرة، فمن مميزاته: أنه يتجلّى من الكتاب تحقيقه في النظر الأصولي؛ وتحريره للنزاع، والشرح وفق طريقة السؤال والجواب، وعنايته بربط مسائل الأصول وبناء بعضها على بعض؛ كما عُني بذلك تلميذه «الإمام ابن برهان» أيضاً في كتابه الأوسط؛ من منشوراتنا.

ونظراً لتعدد التعاليق عن إلكيا الهراسي، واشتمال المصادر المرجعية على نُقول أصولية عنه ليست موجودة ضمن تعليقنا أو هي من الجزء المفقود منه = اعتنى المحققان الفاضلان بجمع شتات تلك (النصوص المبثوثة) بتتبع دقيق، وجعلوه في ملحق آخر الكتاب، كما قاما بالتقديم للكتاب بمقدمة تميزت بدراسة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‘আসফার প্রজেক্ট’ সম্মানিত পাঠকের সামনে প্রকল্পের ৩৯তম প্রকাশনা উপস্থাপন করতে পেরে আনন্দিত: শাফেয়ী মাযহাবের শায়খ ইমাম ইলকিয়া আল-হাররাসী (মৃত্যু ৫০৪ হি.) রচিত ‘আত-তালীকা ফী উসূলিল ফিকহ’।

আমাদের এই বইটি উসূল শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যা থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের মাধ্যমে এই শাস্ত্রের বিভিন্ন সংকলন সমৃদ্ধ হয়েছে। এটি তাঁর উস্তাদ ‘ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনী’র স্বতন্ত্র উসূলী বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ধারার এক গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রসারণ হিসেবে বিবেচিত।

এর লেখক ইলকিয়া ছিলেন শাফেয়ী মাযহাবের একজন দক্ষ গবেষক আলেম এবং শিক্ষকতায় পারদর্শী। শিক্ষকতার ক্ষেত্রে তিনি চমৎকার বর্ণনাভঙ্গি ও বুঝানোর ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। তাঁর যুগের প্রথিতযশা আলেমরা তাঁর নিকট শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে আসতেন এবং তাঁরা তাঁর প্রশংসা করে বলতেন: “তাঁর মাধ্যমে বহু ইমামের শিক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।” তাঁর ‘পাঠদান ও শিক্ষাদান মজলিস’ থেকে বিভিন্ন টীকা (তালীকাত) লিপিবদ্ধ করা হতো; যার মধ্যে আমাদের এই মূল্যবান বইটি অন্যতম, যা আমরা প্রথমবারের মতো মুদ্রিত আকারে পেশ করছি। বইটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো: এতে উসূলী গবেষণার গভীরতা, মতভেদের নিরসন, প্রশ্নোত্তর পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা প্রদান এবং উসূলের মাসআলাসমূহের মধ্যে পারস্পরিক যোগসূত্র স্থাপন ও একটির ওপর অন্যটির ভিত্তি স্থাপনের প্রতি লেখকের বিশেষ যত্ন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে; যেমনটি তাঁর ছাত্র ‘ইমাম ইবনে বুরহান’ও তাঁর ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে (আমাদের প্রকাশিত অন্যতম গ্রন্থ) করেছেন।

ইলকিয়া আল-হাররাসীর নামে একাধিক টীকা প্রচলিত থাকা এবং বিভিন্ন মূল সূত্রে তাঁর থেকে এমন কিছু উসূলী উদ্ধৃতি বর্ণিত হওয়া যা আমাদের এই সংকলনে নেই অথবা তা বইটির হারিয়ে যাওয়া অংশের অন্তর্ভুক্ত—সে কারণে বিজ্ঞ গবেষকদ্বয় অত্যন্ত সূক্ষ্ম অনুসন্ধানের মাধ্যমে সেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাঠ্যসমূহ (আন-নুসূস আল-মাবসূসাহ) একত্রিত করার যত্ন নিয়েছেন এবং সেগুলোকে বইটির শেষে একটি পরিশিষ্টে যুক্ত করেছেন। পাশাপাশি তাঁরা বইটির জন্য এমন একটি ভূমিকাও প্রস্তুত করেছেন যা একটি বিশেষ গবেষণার মাধ্যমে...
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ৬)
موسعة عن المؤلف رحمه الله ومصنفاته.

ويؤكد أهمية قطعة الكتاب التي بأيدينا أنَّ الإمام إلكيا لم يطبع من تراثه إلا كتاب واحد هو «أحكام القرآن»؛ ثمَّ إِنَّ الله تعالى ساق لنا بفضله قطعةً صالحةً من كتابه «التعليقة في أصول الفقه» التي علقها عنه بعض تلاميذه، وكانت مخبوءةً ضمن مجموع عتيق منسوخ سنة (507) فوفق الله «الشيخ كريموف» للكشف عن حالها وإثبات نسبتها لإلكيا بما تجده مسطوراً في الدراسة.

فإلكيا شخصية علمية نشطة في طبقتها بمجالات الدرس الفقهي والأصولي، والسفارة بين الملوك والساسة، حريةٌ بالاهتمام والإبراز، فجزى الله الشيخين الكريمين خير الجزاء على عملهما وبارك لهما جهدهما.

وفي الختام نسأل الله لهذا المشروع المبارك (أسفار) مزيد توفيق وسداد واقتناص لعيون التراث ونفيس الكتب، وأن يكتب للقائمين عليه والداعمين له بأموالهم أعظم الأجر وأجزله وأوفاه، وأن يصب عليهم بركاته صبا، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين، والحمد لله رب العالمين.

 

أَسْفَار

لِنَشْرِ نَفِيسِ الكُتُب وَالرَّسَائِلِ العِلْمِيَّةِ

دولة الكويت
लेखক (রাহিমাহুল্লাহ) এবং তাঁর রচনাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা।

আমাদের হাতে থাকা বইটির এই অংশের গুরুত্ব এই বিষয় দ্বারা সুনিশ্চিত হয় যে, ইমাম ইলকিয়ার বৈজ্ঞানিক উত্তরাধিকার থেকে কেবল একটি বইই মুদ্রিত হয়েছিল, যা হলো «আহকামুল কুরআন»; অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে আমাদের জন্য তাঁর বই «আত-তালিকাহ ফি উসুলিল ফিকহ» এর একটি উত্তম অংশ নিয়ে এসেছেন, যা তাঁর কোনো এক ছাত্র তাঁর পক্ষ থেকে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। এটি (৫০৭) হিজরি সনে অনুলিপি করা একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের মধ্যে লুকায়িত ছিল। অতঃপর আল্লাহ «শাইখ কারিমভ»-কে এর প্রকৃত অবস্থা উন্মোচন করতে এবং এটি যে ইলকিয়ারই রচনা তা প্রমাণ করতে তাওফিক দিয়েছেন, যা আপনি এই গবেষণায় লিখিত আকারে পাবেন।

ইলকিয়া তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে ফিকহ ও উসুল পাঠের ক্ষেত্রে এবং রাজা ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে দূতিয়ালির ক্ষেত্রে এক সক্রিয় ইলমি ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যিনি বিশেষ মনোযোগ ও তুলে ধরার দাবি রাখেন। সুতরাং মহান আল্লাহ এই দুই সম্মানিত শাইখকে তাঁদের কাজের জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁদের পরিশ্রমে বরকত দিন।

পরিশেষে, আমরা আল্লাহর কাছে এই বরকতময় প্রজেক্টের (আসফার) জন্য আরও তাওফিক, সঠিক পথনির্দেশ এবং ঐতিহ্যের মণি-মুক্তা ও মূল্যবান বইসমূহ খুঁজে বের করার সক্ষমতা প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যেন এর পরিচালকবৃন্দ এবং যারা অর্থ দিয়ে একে সমর্থন করছেন, তাঁদের জন্য মহান, শ্রেষ্ঠ ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান লিখে দেন। তিনি যেন তাঁদের ওপর তাঁর বরকতসমূহ বর্ষণ করেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। আর সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।

 

আসফার

মূল্যবান বই এবং ইলমি গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য

কুয়েত রাষ্ট্র
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين. «الحمد لله الذي أكرمنا بتنزيله، وشرَّفنا بمعرفة تأويله، وشفى صدورنا بواضح بيانه، وهدانا من ظلم الضلالة، وعماية الجهالة به، وجعله ميزان قسط لا يحيف عن الحق غرب لسانه، وضوء هدى لا يجتنى من الشهاب نور برهانه، وعَلَمَ نجاة لا يضلُّ من أم قصد سُنَّتِه، ولا تنال أيدي الهلكات من تعلق بعروة عصمته.

نحمده على فنون بلائه، وضروب آلائه، ونشهد ألا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادة من يعتصم بحبله، ويأوي في الشبهات إلى حرز عدله، ونشهد أنَّ محمدا عبده ورسوله، وصفيه ونبيه، أرسله ببيان أوضحه، ولسان أفصحه، وشرع شرحه، ودين فسحه، فلم يدع صلوات الله عليه فسادًا إلا أصلحه، ولا عناداً إلا زحزحه، صلوات الله عليه ما هلَّل ملك وسبحه، وعلى من نصره وصحبه، وبَعْدُ»(1):

فإن أشرف العلوم ما ارتبط بكتاب الله تعالى وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم فهمًا واستنباطا، وحفظاً وصونًا، ولما كانت صنعة أصول الفقه لها حظ وافر من هذا الشرف؛ فقد حرصنا على نشر بعض كتبه المخطوطة مما لم ينشر، فوقع اختيارنا على هذا

--------------------------------------------

(1) مقتبس من مقدمة إلكيا في «أحكام القرآن» (1/1).

পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর। «সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের সম্মানিত করেছেন তাঁর কিতাব অবতীর্ণ করার মাধ্যমে, আমাদের মর্যাদা দান করেছেন এর ব্যাখ্যার জ্ঞান দ্বারা, এর সুস্পষ্ট বর্ণনার মাধ্যমে আমাদের অন্তরসমূহকে আরোগ্য দান করেছেন এবং এর মাধ্যমে আমাদের পথভ্রষ্টতার অন্ধকার ও মূর্খতার অন্ধত্ব থেকে হিদায়াত দিয়েছেন। তিনি একে ন্যায়বিচারের এমন এক মানদণ্ড বানিয়েছেন যার ভাষা সত্য থেকে বিচ্যুত হয় না, এবং একে হিদায়াতের এমন এক আলোকবর্তিকা করেছেন যার প্রমাণের জ্যোতি কোনো অগ্নিশিখা থেকে সংগৃহীত নয়। এটি নাজাতের এমন এক নিশান যে, যে ব্যক্তি এর তরীকার পথ অনুসরণ করে সে পথভ্রষ্ট হয় না; এবং যে ব্যক্তি এর সুরক্ষার মজবুত রজ্জু ধারণ করে, ধ্বংসের হাত তাকে স্পর্শ করতে পারে না।

আমরা তাঁর প্রশংসা করি তাঁর বিবিধ পরীক্ষা ও বিচিত্র নিআমতরাজির জন্য। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই—এমন এক ব্যক্তির সাক্ষ্য যে তাঁর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে এবং সংশয়ের সময় তাঁর ন্যায়বিচারের দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করে। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং তাঁর মনোনীত বন্ধু ও নবী। তিনি তাকে প্রেরণ করেছেন সুস্পষ্ট বর্ণনা, প্রাঞ্জল ভাষা, বিস্তারিত শরীয়ত এবং প্রশস্ত দ্বীন সহকারে। ফলে তিনি (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) কোনো বিপর্যয়ই সংস্কার করা ছাড়া ছাড়েননি এবং কোনো হঠকারিতাই দূরীভূত করা ছাড়া রাখেননি। তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক যতক্ষণ কোনো ফেরেশতা তাঁর একত্ববাদ ও পবিত্রতা ঘোষণা করবে, এবং তাঁর সাহায্যকারী ও সাহাবীগণের ওপরও। অতঃপর»(১):

নিশ্চয়ই সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান হলো তা যা অনুধাবন, বিধান আহরণ, মুখস্থকরণ ও সংরক্ষণের দিক থেকে মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর সাথে সম্পৃক্ত। যেহেতু উসূলে ফিকহ শাস্ত্রের এই মর্যাদায় এক বিশাল অংশ রয়েছে, তাই আমরা এর এমন কিছু পাণ্ডুলিপি প্রকাশের ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি যা ইতিপূর্বে প্রকাশিত হয়নি; ফলশ্রুতিতে আমাদের পছন্দ এই গ্রন্থটির ওপর স্থির হয়েছে—

--------------------------------------------

(১) ইলকিয়া-র 'আহকামুল কুরআন' (১/১) গ্রন্থের ভূমিকা থেকে উদ্ধৃত।

(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ৮)
العلق النادر الذي يكشف لنا جانبًا من جوانب الحالة العلمية في القرن الخامس الهجري؛ حيث إنه أول كتاب يصدر مطبوعًا في التقييد الأصولي. فقد انتشرت في ذاك الزمن: «التعاليق» و «التقاييد» في عدد من الفنون، ومنها علم أصول الفقه، ولم يطبع - إلى الآن - حسب علمنا تعليق في الأصول العالم قبل كتابنا هذا. ولذا؛ فإنك ستجد في هذا الكتاب نموذجا من أساليب التعليم - من عالم بارع في البيان ممارس للتدريس - في تكرار بعض المعلومات وتيسيرها وبسطها والإكثار من الأمثلة بما يخالف ما استقر عليه الحال في علم الأصول في العصور المتأخرة من الإيجاز واستعمال بعض العبارات العويصة أو التعمية والإغراب في أسلوب النظم.

كما أنه يُبرز جانبًا من أثر مدرسة أبي المعالي الجويني الأصولية الذي لم يكن معروفا عند الباحثين؛ فإن مصنفات الغزالي (ت 505 هـ) مشهورة بين أهل العلم قديما وحديثا؛ وأما قرينه - علما وسنا - إلكيا الهراسي، فلم يُعرف في عصرنا إلا بواسطة بعض العلماء - كابن السبكي (ت 771 هـ) والزركشي (ت 794 هـ) والسيوطي (ت 911 هـ) - الذين وقفوا على كتبه ونقلوا منها.

فجاء هذا الكتاب حاويا لفرائد ونفائس، من استنباط لأصول العلماء وتخريج للفروع على الأصول، وبيان مآخذ بعض المسائل، وعناية بتحرير مذهب الشافعي، مع تطبيق للجدل الأصولي الرفيع في مسائل متعددة. ولم يخل مع ذلك من نقولات عن بعض أعلام الأصول استفادة أو تعقبًا.

ونظرًا لوجود الاختلاف بين إبرازات التعاليق، حرصنا على مقارنة ما وُجد في هذه التعليقة بما نقله الأصوليون عن إلكيا، وجعلناها في الهامش، سواء جاء
এটি একটি দুর্লভ মূল্যবান রচনা, যা আমাদের সামনে হিজরি পঞ্চম শতাব্দীর ইলমি অবস্থার একটি দিক উন্মোচন করে; যেহেতু এটিই উসুল শাস্ত্রের ‘তাকয়ীদ’ (নোট) আকারে প্রকাশিত প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ। সেই যুগে বিভিন্ন বিদ্যায়—যার মধ্যে উসুলুল ফিকহ অন্যতম—‘তালিক’ (টিকা) এবং ‘তাকয়ীদ’ (ব্যাখ্যা-নোট)-এর ব্যাপক প্রচলন ছিল। আমাদের জানামতে, উসুল শাস্ত্রে কোনো বিজ্ঞ আলেমের লেখা ‘তালিক’ এই কিতাবটির আগে এখন পর্যন্ত মুদ্রিত হয়নি। তাই এই কিতাবে আপনি পাঠদানের পদ্ধতির এমন এক নমুনা পাবেন—যা একজন দক্ষ বাগ্মী ও অভিজ্ঞ শিক্ষকের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত—যেখানে তথ্যের পুনরাবৃত্তি, সহজীকরণ, বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং প্রচুর উদাহরণের ব্যবহার রয়েছে। এটি পরবর্তী যুগের উসুল শাস্ত্রের সেই ধারার বিপরীত, যেখানে সংক্ষিপ্ততা অবলম্বন করা হতো এবং জটিল শব্দাবলি ব্যবহার করে বিষয়বস্তুকে দুর্বোধ্য বা রহস্যময় করে তোলা হতো।

এছাড়া এটি আবুল মায়ালি জুওয়াইনির উসুলি ঘরানার প্রভাবের এমন এক দিক ফুটিয়ে তোলে যা গবেষকদের কাছে পরিচিত ছিল না। ইমাম গাজালির (মৃত্যু ৫০৫ হি.) রচনাবলি প্রাচীন ও আধুনিক কালের আলেমদের নিকট অত্যন্ত প্রসিদ্ধ; কিন্তু জ্ঞান ও বয়সের দিক থেকে তাঁর সমসাময়িক ইলকিয়া আল-হাররাসি আমাদের যুগে কেবল সেই সব আলেমদের মাধ্যমেই পরিচিত ছিলেন—যেমন ইবনে সাবকি (মৃত্যু ৭৭১ হি.), যারকাশি (মৃত্যু ৭৯৪ হি.) এবং সুয়ুতি (মৃত্যু ৯১১ হি.)—যারা তাঁর কিতাবসমূহ দেখার সুযোগ পেয়েছেন এবং তা থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।

এই কিতাবটি অনন্য ও মূল্যবান তথ্যের আধার হিসেবে এসেছে, যাতে রয়েছে উলামায়ে কেরামের উসুল থেকে মাসআলা উদ্ভাবন, উসুলের ভিত্তিতে ফুরুয়ি মাসআলা বিন্যাস, বিভিন্ন মাসআলার উৎস বর্ণনা এবং শাফেয়ি মাযহাব সুবিন্যস্ত করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব। সেই সাথে এতে বিভিন্ন মাসআলায় উচ্চাঙ্গের উসুলি বিতর্কের প্রয়োগ রয়েছে। তদুপরি, এতে উসুল শাস্ত্রের প্রখ্যাত ইমামদের থেকে ফায়দা অর্জনের উদ্দেশ্যে অথবা পর্যালোচনার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্ধৃতিও স্থান পেয়েছে।

তালিক বা টিকাগুলোর বিভিন্ন পাঠান্তরের মধ্যে পার্থক্য থাকায়, আমরা এই কিতাবে যা পাওয়া গেছে তার সাথে অন্যান্য উসুলবিদগণ ইলকিয়া থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন, তার তুলনা করার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি এবং তা পাদটীকায় উল্লেখ করেছি, চাই সেটি আসুক...
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ৯)
النص متطابقا أو مع زيادة لم تكن في تعليقتنا؛ وذلك إكمالا للفائدة، وتيسيرا على القارئ بجمع ما تفرق من آراء الإمام الكيا في مكان واحد. ولم يعكر صفو كتابنا إلا أمران:

أحدهما: أننا لم نجده تاما، فهذه القطعة تمثل النصف من حيث الموضوعات تقريبا، ولذا اجتهدنا في وضع ملحق نجمع فيه ما نُقل عن إلكيا من مسائل تسد جزءًا من هذا النقص.

والثاني: أنَّ المعلق لم يدوّن كل ما دار في الدرس، بل انتخب، واختصر أحيانا، وفاته أشياء، وليته كان من الموفقين في تقييد الدروس - حسب تعبير الإمام الكيا ـ، حيث يقول: « … المجلس الواحد قد يكون فيه من يُصغي إلى الكلام، ثُمَّ يختلفون في الإصغاء والاستماع، فيكون بعضُهم أحسن استماعا وتلقفا من بعض. وقد يظهر ذلك في الدروس والروايات، فيجوز أن يوفّق بعضهم أو واحد منهم لحسن التلقف، واستياق القصة من أولها إلى آخرها».

ومع كوننا لم نعرف هذا المعلّق إلا أنه وصل إلينا ما كتبه - على ما فيه - وفقد كثيرٌ من تعليقات المبرزين من أقرانه، فنسأل الله تعالى له الرحمة والمغفرة، وأن يجعل ذلك في ميزان أعماله الصالحة، وصلى الله وسلم على نبينا محمد.
মূল পাঠটি হুবহু অথবা কিছু অতিরিক্ত অংশসহ যা আমাদের টীকাগুলোতে ছিল না; আর এটি করা হয়েছে ফায়দা পূর্ণ করার লক্ষ্যে এবং ইমাম আল-কিয়ার বিক্ষিপ্ত মতগুলো একস্থানে জড়ো করার মাধ্যমে পাঠকের জন্য সহজ করার উদ্দেশ্যে। তবে আমাদের এই বইয়ের নির্মলতাকে কেবল দুটি বিষয় ব্যাহত করেছে:

তার মধ্যে একটি হলো: আমরা এটিকে পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় পাইনি; এই অংশটি বিষয়ের দিক থেকে প্রায় অর্ধেক উপস্থাপন করে। তাই আমরা একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করার চেষ্টা করেছি, যেখানে আল-কিয়া থেকে বর্ণিত এমন কিছু মাসআলা সংগ্রহ করেছি যা এই অপূর্ণতার একটি অংশ পূরণ করবে।

আর দ্বিতীয়টি হলো: টীকাকার পাঠদান বা দরসে যা যা আলোচিত হয়েছিল তার সবকিছু লিপিবদ্ধ করেননি; বরং তিনি কিছু অংশ নির্বাচন করেছেন, কখনো সংক্ষেপ করেছেন এবং অনেক কিছু তার থেকে বাদ পড়ে গেছে। আক্ষেপ যে, তিনি যদি দরসসমূহ লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাওফিকপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হতেন—যেমনটি ইমাম আল-কিয়া ব্যক্ত করেছেন, যেখানে তিনি বলেন: « … একটি মজলিসে এমন অনেকে থাকতে পারে যারা কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে, তারপরও তাদের মনোযোগ ও শ্রবণশক্তির মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। ফলে তাদের কেউ কেউ অন্যের তুলনায় উত্তমভাবে শুনতে ও গ্রহণ করতে সক্ষম হয়। দরস ও বর্ণনার ক্ষেত্রে এটি প্রকাশ পেতে পারে; সুতরাং এমনটি হওয়া সম্ভব যে তাদের মধ্যে কেউ কেউ বা কোনো একজন উত্তমরূপে বিষয়টি গ্রহণ করতে এবং বর্ণনাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যথাযথভাবে আয়ত্ত করতে সফল হয়েছেন»।

যদিও আমরা এই টীকাকারকে চিনি না, তবুও তিনি যা লিখেছেন—তা যেমনই হোক—তা আমাদের কাছে পৌঁছেছে; অথচ তার সমসাময়িক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনেক টীকা হারিয়ে গেছে। আমরা মহান আল্লাহর কাছে তার জন্য রহমত ও মাগফিরাত প্রার্থনা করি এবং দোয়া করি যেন তিনি এটিকে তার নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন। আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌أوَّلاً: المؤلّف (1)

(450 - 504 هـ) (1058 - 1110 م)

 

‌‌1 - اسمه ونسبه:

هو أبو الحسن شمس الإسلام(2) علي بن محمد بن علي بن إبراهيم الطبرستاني الشافعي، الملقب بـ: عماد الدين(3)، والمعروف اختصارا بـ:

--------------------------------------------

(1) جمعنا ترجمة المؤلف من مصادر متنوعة، وهذه أهمها:

«معجم السفر» (ص 161، 268، 454)، «المنتخب من كتاب السياق» (ص 433)، «تبيين كذب المفتري» (ص 538)، «المستفاد من ذيل تاريخ بغداد» (ص 347 - 348)، «مرآة الزمان» (20/46)، وفيات الأعيان (3/ 286)، «سير أعلام النبلاء» (19/ 350)، «البداية والنهاية» (12/14)، «طبقات الشافعية الكبرى» (7/ 231)، «طبقات الشافعية (الصغرى)» (1/ 570)، «طبقات الفقهاء الكبرى» (1/ 533)، «العقد المذهب في طبقات حملة المذهب (ص 114)، «شذرات الذهب» (6/14)، ذيل لب اللباب» (ص 238)، «الأعلام» (4/ 329). وقد أفرد الأستاذ برهان الدين محمد الداغستاني رحمه الله مقالا في ترجمته في مجلة «الرسالة»، ونُشر في السنة الخامسة عشرة منها، في العددين العدد 721 (ص 480 - 482)، وتتمته في العدد 722 (ص 508 - 510).

تنبيه: ذكرت بعض المصادر شخصية تشترك مع صاحبنا في الاسم والكنية واسم الأب والجد والبلد، وهو علي بن محمد بن علي الطبري الآملي الشافعي، وكان أسن من إلكيا، فقد ذكروا في ترجمته أنه سمع ببلده من إملاء الحافظ الجِنَاري المتوفى سنة 432 هـ. انظر: «طبقات الشافعية» لابن الصلاح (2/ 643).

(2) جاء في «الفنون» (1/ 123) في موضع واحد تلقبيه بـ: «شمس الأئمة»، وفي موضعين آخرين (1/ 119 - 120) بـ: «شمس الإسلام»، وهو المشهور.

(3) جاء في «التعليقة الكلامية» لإلكيا (ق/ 9/ ظ): «قال إمامنا كمال الدين رحمه الله فنقول: يأتي على إمامنا أبي المعالي أن النظر المهجوم عليه لا يضاد الجهل … ». والذي يظهر لنا أن المقصود=

প্রথমত: লেখক (১)

(৪৫০ - ৫০৪ হিজরি) (১০৫৮ - ১১১০ খ্রিস্টাব্দ)

 

১ - তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন আবুল হাসান শামসুল ইসলাম(২) আলি বিন মুহাম্মদ বিন আলি বিন ইবরাহিম তাবারিস্তানি শাফেয়ি, তাঁর উপাধি ছিল: ইমাদউদ্দিন(৩), এবং তিনি সংক্ষেপে পরিচিত ছিলেন:

--------------------------------------------

(১) আমরা বিভিন্ন উৎস থেকে লেখকের জীবনী সংকলন করেছি, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণগুলো হলো:

«মু'জামুস সাফার» (পৃ. ১৬১, ২৬৮, ৪৫৪), «আল-মুনতাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক» (পৃ. ৪৩৩), «তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি» (পৃ. ৫৩৮), «আল-মুস্তাফাদ মিন যাইল তারিখ বাগদাদ» (পৃ. ৩৪৭ - ৩৪৮), «মিরআতুয যামান» (২০/৪৬), «ওয়াফায়াতুল আইয়ান» (৩/ ২৮৬), «সিয়ারু আ'লামিন নুবালা» (১৯/ ৩৫০), «আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া» (১২/১৪), «তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ আল-কুবরা» (৭/ ২৩১), «তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ (আস-সুগরা)» (১/ ৫৭০), «তাবাকাতুল ফুকাহা আল-কুবরা» (১/ ৫৩৩), «আল-ইকদুম মুযাহাব ফি তাবাকাতি হামালাতিল মাযহাব» (পৃ. ১১৪), «শাযারাতুয যাহাব» (৬/১৪), «যাইল লুব্বিল লুবাব» (পৃ. ২৩৮), «আল-আ'লাম» (৪/ ৩২৯)। উস্তাদ বুরহানউদ্দিন মুহাম্মদ আদ-দাগেস্তানি (রহিমাহুল্লাহ) 'আর-রিসালা' সাময়িকীতে তাঁর জীবনী নিয়ে একটি পৃথক নিবন্ধ রচনা করেছেন, যা উক্ত সাময়িকীর ১৫তম বর্ষের ৭২১তম সংখ্যায় (পৃ. ৪৮০ - ৪৮২) এবং এর অবশিষ্টাংশ ৭২২তম সংখ্যায় (পৃ. ৫০৮ - ৫১০) প্রকাশিত হয়েছে।

সতর্কবাণী: কিছু উৎস এমন এক ব্যক্তিত্বের কথা উল্লেখ করেছে যার নাম, উপনাম (কুনিয়াত), পিতার নাম, দাদার নাম এবং দেশ আমাদের আলোচ্য লেখকের সাথে মিলে যায়। তিনি হলেন আলি বিন মুহাম্মদ বিন আলি তাবারি আমুলি শাফেয়ি। তিনি ইলকিয়া (আমাদের আলোচ্য লেখক) থেকে বয়সে বড় ছিলেন। জীবনীকাররা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি নিজ শহরে হাফেজ আল-জিনারি (মৃত্যু ৪৩২ হি.)-এর পাঠদান শ্রবণ করেছেন। দেখুন: ইবনে সালাহ রচিত «তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ» (২/ ৬৪৩)।

(২) «আল-ফুনুন» (১/ ১২৩) গ্রন্থের এক স্থানে তাঁকে ‘শামসুল আইম্মাহ’ উপাধিতে ভূষিত করার কথা উল্লেখ রয়েছে, এবং অন্য দুটি স্থানে (১/ ১১৯-১২০) ‘শামসুল ইসলাম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা অধিক পরিচিত।

(৩) ইলকিয়ার «আত-তালিকাতুল কালামিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা ৯/খ) গ্রন্থে এসেছে: "আমাদের ইমাম কামালউদ্দিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমরা বলি: আমাদের ইমাম আবুল মা'আলির নিকট এটি প্রতীয়মান হয় যে, হঠকারিতামূলক দৃষ্টিপাত অজ্ঞতার বিরোধী নয়..."। আমাদের কাছে যা স্পষ্ট হচ্ছে তা হলো এর উদ্দেশ্য হলো=

(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ১১)
«إلكيا»، و «إِلْكِيَا الهَرَّاسِي»، و «إِلْكِيَا الطَّبَرِي».

وَإِلْكِيَا(1): بهمزة مكسورة، ولام ساكنة، ثُمَّ كاف مكسورة، بعدها ياء مثناة من تحت، هذا هو الأشهر في ضبطها، فعلى هذا الضبط تكون الهمزة واللام من أصل الكلمة، وهو المشهور، وقد نص عليه غير واحد، منهم الحافظ ابن كثير في «طبقات الشافعية»(2).

وذهب آخرون إلى أنهما للتعريف فقط. قال شهاب الدين الكوراني (ت 893 هـ): «لفظ الكيا … بكسر الكاف، وفتح همزة الوصل؛ إذ اللام فيه للتعريف، ولفظ "كيا" مجردًا عن اللام اسم جنس لطائفة من ملوك العجم - كتبع لملوك حمير، وقيصر لملوك الروم -، وكسر الهمزة … سهو ظاهر»(3). ويؤيد ذلك ما جاء في القطعة التي بين أيدينا من كتاب «الفنون»(4) لابن عقيل (ت 513 هـ) وهو معاصر له - في سبعة مواضع تسميته إياه بـ: «كيا». وهذا يلائم إطلاق الألقاب والأسماء عند العجم، حيث تأتي مجردةً عن (ال).

فالظاهر أن كليهما سائغ إن شاء الله، لكن لما كان المشهور هو القول

--------------------------------------------

بكمال الدين هنا هو إلكيا الهراسي، وأن المقيّد - أو الناسخ - كتب ذلك بعد وفاته، ولم نقف في كتب التراجم على تلقيبه بهذا اللقب، فقد يكون هذا أحد ألقابه غير المنتشرة أو أنه وهم من الكاتب.

(1) قال السخاوي: قال ابن خلكان: هو بفتح الكاف، ولا أعلم لأي معنى قيل له إلكيا. انتهى. وقال غيره من أهل الأدب: إن معناه الأمير، وضبطه بكسر الكاف، وهو المشهور على الألسنة. «الجواهر والدرر» (1/ 131). ومعنى إلكيا: الكبير القدر، العظيم الشأن، المقدم بين الناس.

(تعليق الشاملة): كذا (بفتح الكاف) في حاشية «الجواهر والدرر» بخط السخاوي، كما نقله محقق الجواهر. والذي في مطبوع «وفيات الأعيان» (3/ 289): «وهو بكسر الكاف وفتح الياء المثناة من تحتها وبعدها ألف»، فالله أعلم

(2) (2/ 94).

(3) «الدرر اللوامع في شرح جمع الجوامع» (1/ 479).

(4) (1/ 119، 122، 123، 124، 125، 136). وينظر أيضا: «سلم الوصول» (5/ 259).

«ইলকিয়া», «ইলকিয়া আল-হাররাসী» এবং «ইলকিয়া আত-তাবারী»।

এবং ইলকিয়া(১): কাসরাযুক্ত হামজা, সুকুনযুক্ত লাম, এরপর কাসরাযুক্ত কাফ এবং তার পরে নিচে দুই নুক্তাবিশিষ্ট ইয়া—শব্দটির উচ্চারণের ক্ষেত্রে এটিই সর্বাধিক প্রসিদ্ধ রূপ। এই উচ্চারণ পদ্ধতি অনুযায়ী হামজা ও লাম মূল শব্দের অংশ বলে বিবেচিত হবে এবং এটিই প্রসিদ্ধ মত। হাফেজ ইবনে কাসীর তাঁর «তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ»(২) গ্রন্থেসহ একাধিক ব্যক্তি এই মতটি উল্লেখ করেছেন।

অন্য অনেকে মনে করেন যে, উক্ত অক্ষর দুটি কেবল পদাশ্রিত নির্দেশক (আলিফ-লাম) হিসেবে এসেছে। শিহাবুদ্দীন আল-কুরানী (মৃত্যু ৮৯৩ হি.) বলেন: «'আল-কিয়া' শব্দটি... কাফের নিচে কাসরা এবং হামজাতুল ওয়াসল ফাতহাযুক্ত হবে; কারণ এখানে লামটি পদাশ্রিত নির্দেশক হিসেবে এসেছে। আর 'লাম' বর্জিত 'কিয়া' শব্দটি পারস্য রাজাদের একটি সাধারণ উপাধি—যেমন হিময়ার রাজাদের জন্য 'তুব্বা' এবং রোমান সম্রাটদের জন্য 'কায়সার' ব্যবহৃত হয়। সুতরাং হামজায় কাসরা প্রদান করা... একটি স্পষ্ট ভুল»(৩)। আমাদের সামনে বিদ্যমান ইবনে আকীলের (মৃত্যু ৫১৩ হি.)—যিনি তাঁর সমসাময়িক ছিলেন—«আল-ফুনুন»(৪) গ্রন্থের একাংশের সাতটি স্থানে তাঁকে «কিয়া» বলে ডাকার বিষয়টি এই মতকেই সমর্থন করে। এটি অনারবদের উপাধি ও নাম ব্যবহারের রীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে সেগুলো «আল» বর্জিত হয়ে ব্যবহৃত হয়।

দৃশ্যত ইনশাআল্লাহ উভয়টিই বৈধ, তবে যেহেতু প্রসিদ্ধ মতটি হলো এই যে

--------------------------------------------

এখানে কামালুদ্দীন বলতে ইলকিয়া আল-হাররাসীকে বোঝানো হয়েছে এবং টীকাকার—অথবা পাণ্ডুলিপি লেখক—এটি তাঁর মৃত্যুর পর লিখেছেন। জীবনীগ্রন্থগুলোতে আমরা তাঁকে এই উপাধিতে ভূষিত হওয়ার কোনো উল্লেখ পাইনি। হতে পারে এটি তাঁর স্বল্প পরিচিত কোনো উপাধি ছিল অথবা এটি লেখকের কোনো ভুল ধারণা।

(১) আস-সাখাভী বলেন: ইবনে খাল্লিকান বলেছেন: এটি কাফের উপরে ফাতহা দিয়ে উচ্চারিত হবে, তবে আমি জানি না কেন তাঁকে ইলকিয়া বলা হতো। সমাপ্ত। সাহিত্যের পণ্ডিতদের মধ্যে অন্য অনেকে বলেছেন: এর অর্থ হলো আমীর বা নেতা, আর এর উচ্চারণ কাফের নিচে কাসরা দিয়ে হবে এবং এটিই মানুষের মুখে প্রসিদ্ধ। «আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার» (১/১৩১)। আর ইলকিয়া শব্দের অর্থ হলো: উচ্চ মর্যাদাশীল, মহান ব্যক্তিত্ব এবং মানুষের মাঝে অগ্রগণ্য।

(শামেলা টীকা): 'আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার'-এর হাশিয়ায় সাখাভীর স্বহস্তে লিখিত কপিতে এভাবেই (কাফে ফাতহা দিয়ে) আছে, যেমনটি জাওয়াহির-এর মুহাক্কিক বর্ণনা করেছেন। আর «ওয়াফায়াতুল আইয়ান»-এর মুদ্রিত সংস্করণে (৩/২৮৯) রয়েছে: «এটি কাফের নিচে কাসরা এবং নিচে দুই নুক্তাবিশিষ্ট ইয়ার উপরে ফাতহা এবং এরপর আলিফ যোগে উচ্চারিত হবে», আল্লাহই ভালো জানেন।

(২) (২/৯৪)।

(৩) «আদ-দুরারুল লাওয়ামি' ফী শারহি জাময়িল জাওয়ামি'» (১/৪৭৯)।

(৪) (১/১১৯, ১২২, ১২৩, ১২৪, ১২৫, ১৩৬)। আরও দেখুন: «সুল্লামুল উসুল» (৫/২৫৯)।

(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ১২)
الأول، جرينا عليه في كتابنا هذا، والله أعلم.

والهراسي(1): براء مشدَّدةٍ، وسين مهملتين؛ ذكر عامة من ترجمه أنه لا يُعلم نسبته لأي شيء، وانفرد ابن الملقن، فذكر أن هراس إحدى مدن طبرستان. وأما معناها: فقيل: إنها فارسية بمعنى: الذعر.

ولعل معنى: «إلكيا الهراسي» يعني: كبير القدر، مهيب الجانب، فهو لقب يدل على التعظيم والمهابة، والله أعلم.

 

‌‌2 - نشأته ومناصبه:

ولد في خامس ذي القعدة سنة 450 هـ في طبرستان، وتفقه ببلده، ثم رحل إلى نيسابور؛ قاصدًا إمام الحرمين وعمره ثماني عشرة سنة(2)، وقيل: كان عمره حين رحلته عشرون سنةً. وأيا كان الأمر؛ فإنَّ رحلته إلى أحد مشاهير عصره وهو في سن العشرين أو قبيله - وقد تفقه قبل ذلك - يدل على نيله حظا وافرا من العلم في سن مبكرٍ.

 

‌‌المرحلة الأولى من حياته من ولادته إلى سن (18) نشأته في مسقط رأسه:

لم نقف على معلومات تسلط الضوء على حياته في هذه المرحلة المبكرة، لكن الظاهر من خلال النظر في مصادر ترجمته أنه قد تعلّم وتفقه مبكرا، ولم يخرج من بلده إلى نيسابور إلا وقد استكمل مبادئ العلوم، ورغب في الفقه والأصول.

--------------------------------------------

(1) وفي بعض المصادر: «الهراس». انظر: «الفنون» (1/ 122، 123، 124)، «معجم السفر» (ص 161)، «الرياض المونقة» (ص 183)، «رفع الحاجب» (1/ 235).

(2) أي في حدود سنة 468 هـ؛ وعلى القول الثاني في حدود سنة 470 هـ.

প্রথমটি, যা আমরা আমাদের এই কিতাবে অনুসরণ করেছি, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আল-হাররাসী: তাসদীদযুক্ত 'রা' এবং নুক্তাবিহীন দুটি 'সীন' সহকারে; তাঁর জীবনীকারদের সাধারণ অংশ উল্লেখ করেছেন যে, এটি কিসের সাথে সম্পর্কিত তা জানা নেই। তবে ইবনুল মুলাক্কিন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন; তিনি উল্লেখ করেছেন যে, 'হাররাস' তাবারিস্তানের একটি শহর। আর এর অর্থের ব্যাপারে বলা হয়েছে: এটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ ভীতি বা আতঙ্ক।

সম্ভবত 'ইলকিয়া আল-হাররাসী' এর অর্থ হলো: উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব; সুতরাং এটি সম্মান ও গাম্ভীর্য প্রকাশকারী একটি উপাধি। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌২ - তাঁর শৈশব ও কর্মজীবন:

তিনি ৪৫০ হিজরির ৫ই যিলকদ তাবারিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নিজ শহরেই ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন, তারপর আঠারো বছর বয়সে ইমামুল হারামাইনের সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে নিশাপুরে পাড়ি জমান, মতান্তরে, তাঁর হিজরতের সময় বয়স ছিল বিশ বছর। বিষয়টি যাই হোক না কেন; বিশ বছর বা তার কিছু আগে তাঁর সমসাময়িক এক প্রখ্যাত মনীষীর কাছে যাত্রা করা—এবং ইতিপূর্বেই ফিকহ অর্জন করা—এটি নির্দেশ করে যে, তিনি অল্প বয়সেই ইলমের এক বিশাল অংশ অর্জন করেছিলেন।

 

‌‌তাঁর জীবনের প্রথম পর্যায়, জন্ম থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত - তাঁর জন্মস্থানে বেড়ে ওঠা:

এই প্রাথমিক পর্যায়ের জীবন সম্পর্কে আলোকপাত করে এমন কোনো তথ্য আমরা পাইনি। তবে তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ পর্যালোচনা করলে এটি স্পষ্ট হয় যে, তিনি খুব দ্রুতই জ্ঞানার্জন ও ফিকহ চর্চা শুরু করেছিলেন। তিনি তাঁর নিজ শহর থেকে নিশাপুরে ততক্ষণ পর্যন্ত বের হননি, যতক্ষণ না তিনি ইলমের মৌলিক বিষয়সমূহ সম্পন্ন করেছিলেন এবং ফিকহ ও উসূলে আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) কিছু কিছু উৎসে ‘আল-হাররাস’ উল্লেখ করা হয়েছে। দেখুন: ‘আল-ফুনুন’ (১/১২২, ১২৩, ১২৪), ‘মু'জামুস সাফার’ (পৃ. ১৬১), ‘আর-রিয়াদুল মুনাওয়াকাহ’ (পৃ. ১৮৩), ‘রাফউল হাজিব’ (১/২৩৫)।

(২) অর্থাৎ ৪৬৮ হিজরির কাছাকাছি সময়ে; আর দ্বিতীয় মত অনুযায়ী ৪৭০ হিজরির কাছাকাছি সময়ে।

(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌المرحلة الثانية (من سن 18 إلى 28) ملازمته لإمام الحرمين:

وأما ما بعد نشأته في طبرستان - مسقط رأسه ـ، فقد رحل إلى نيسابور قاصدا إمام الحرمين، وتعتبر هذه هي المرحلة الثانية من نشأته العلمية، وهي الأهم في تكوينه؛ فقد صحب إمام الحرمين وتخرج به ولازمه حتى وفاته، فكان مدة ملازمته إياه قرابة عشر سنوات. وأصبح أثناء صحبته لأبي المعالي من رؤوس معيديه، وصار من أكبر أصحابه وأعظم طلابه مع قرينه أبي حامد الغزالي وغيره.

ومن الدلائل على جده واجتهاده في طلب العلم وحرصه على الحفظ والإتقان ما قاله عن نفسه: «كنتُ في مدرسة سرهنك بنيسابور، وفيها قناةٌ لها سبعون درجة، وكنتُ إذا حفظت الدرس أنزِلُ القناة وأُعيد الدرس في كل درجة؛ مرَّةً في النزول، ومرَّةً في الصُّعود. قال: وكذا كنتُ أفعل في كل درس حفظته».

 

‌‌المرحلة الثالثة (من سن 28 إلى 42) الاستقلال وتولي المناصب:

بعد وفاة شيخه خرج إلى بيهق، فأقام بها مُدَّةً يدرّس ويُفيد الناس.

واتصل بخدمة الملك مجد الملك بركياروق بن ملك شاه السلجوقي (ت 498 هـ)، وحظي عنده بالمال والجاه وارتفع شأنه، وتولى القضاء بتلك الدولة.

وأما طبيعة خدمته للملك بركياروق، فقد وقفنا على إشارات في بعض المصادر:

فمنها ما ذكره ابن عقيل الحنبلي رحمه الله في «الفنون»(1) في سياقه لمسألة

--------------------------------------------

(1) (1/ 119، 124 - 125)

দ্বিতীয় পর্যায় (১৮ থেকে ২৮ বছর বয়স) ইমামুল হারামাইনের সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতা:

তাঁর জন্মস্থান তাবারিস্থানে প্রাথমিক বেড়ে ওঠার পর, তিনি ইমামুল হারামাইনের সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে নিশাপুরে যাত্রা করেন। এটি তাঁর ইলমি জীবনের দ্বিতীয় পর্যায় হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক গঠনে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেননা তিনি ইমামুল হারামাইনের সাহচর্য গ্রহণ করেন, তাঁর মাধ্যমে শিক্ষা সমাপ্ত করেন এবং তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট থাকেন। তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার এই সময়কাল ছিল প্রায় দশ বছর। আবু আল-মা'আলীর সাথে থাকাকালীন তিনি তাঁর প্রধান সহযোগীদের অন্তর্ভুক্ত হন এবং তাঁর সহপাঠী আবু হামিদ আল-গাজালি ও অন্যান্যদের সাথে তিনি তাঁর অন্যতম বড় ও শ্রেষ্ঠ ছাত্রে পরিণত হন।

ইলম অন্বেষণে তাঁর কঠোর পরিশ্রম ও সাধনা এবং মুখস্থ ও নিখুঁতকরণের প্রতি তাঁর একাগ্রতার অন্যতম প্রমাণ হলো যা তিনি নিজের সম্পর্কে বলেছেন: «আমি নিশাপুরের সারহাঙ্ক মাদরাসায় ছিলাম, সেখানে একটি পানির নহর ছিল যাতে সত্তরটি সিঁড়ি ছিল। আমি যখন কোনো সবক মুখস্থ করতাম, তখন সেই নহরে নামতাম এবং প্রতিটি সিঁড়িতে সবকটি একবার করে পুনরাবৃত্তি করতাম; একবার নামার সময় এবং একবার ওঠার সময়। তিনি বলেন: আমি মুখস্থ করা প্রতিটি সবকের ক্ষেত্রে এভাবেই করতাম।»

 

তৃতীয় পর্যায় (২৮ থেকে ৪২ বছর বয়স) স্বনির্ভরতা এবং বিভিন্ন পদ অলঙ্করণ:

তাঁর শায়খের ইন্তেকালের পর তিনি বায়হাকে চলে যান এবং সেখানে কিছুকাল অবস্থান করে দরস প্রদান ও মানুষকে উপকৃত করতে থাকেন।

তিনি সেলজুক সুলতান মালিক শাহের পুত্র সুলতান মাজদ আল-মুলক বারকিয়ারুক-এর (ওফাত ৪৯৮ হিজরি) খিদমতে যুক্ত হন। তাঁর কাছে তিনি ধন-সম্পদ ও প্রতিপত্তি লাভ করেন এবং তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। তিনি ওই রাষ্ট্রের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন।

রাজা বারকিয়ারুকের প্রতি তাঁর খিদমতের স্বরূপ সম্পর্কে আমরা কিছু উৎসে ইঙ্গিত পেয়েছি:

তার মধ্যে একটি হলো যা ইবন আকিল আল-হাম্বলি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর «আল-ফুনুন» গ্রন্থে একটি মাসআলার প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন:(১)

--------------------------------------------

(১) (১/ ১১৯, ১২৪ - ১২৫)

(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ১৪)
علمية، فقال في الموضع الأول: «استدل الشيخ الإمام شمس الإسلام عماد الدين كيا رسول الملك بكيارق إلى الإمام المستظهر بالله أدام الله سلطانهما». وقال في موضع آخر: «جرى بالمدرسة النظامية يوم حضر رسول الملك إلى الإمام المستظهر بالله - حفظ الله مجده، وأعز نصره، وخذل أعداءه ـــ المعروف بـ: كيا الهراس حفظه الله … ».

ومنها ما ذكره ابن كثير الشافعي (ت 774 هـ) في «تاريخه»(1): «حكى إلكيا الهراسي - حين بعثه السلطان بركياروق إلى السلطان إبراهيم بن محمود بن مسعود بن سبكتكين (ت 492 هـ) صاحب غزنة وأطراف الهند - في رسالة عما شاهده عنده من أمور السلطنة في ملبسه ومجلسه، وما عنده من السعادة الدنيوية، قال: "رأيتُ شيئًا عجيبًا"، وقد وعظه بحديث: «لمناديل سعد بن معاذ في الجنة خير من هذا»(2)، فبكى. قال: "وكان لا يبني لنفسه منزلًا إلا بنى قبله مسجدًا أو مدرسة أو رباطا"».

فمن خلال هذه النصوص يظهر لنا قرب الإمام إلكيا الهراسي من الملك بركياروق، حيث جعله رسولا إلى الخليفة والسلاطين(3)، وهذا يؤكد مكانته عند الملك وثقته فيه، إضافةً إلى ما نُقل أنه تولى القضاء في دولة هذا السُّلطان، فربما يكون قد تولى القضاء ابتداءً، ثم علا منصبه ليكون رسولا له، والله أعلم.

وهاهنا أمر؛ لا تجيب عنه المصادر التي بين أيدينا بدقة، وهو: متى كان

--------------------------------------------

(1) «البداية والنهاية» (16/ 168).

(2) أخرجه البخاري (2615)، ومسلم (2469) من حديث أنس.

(3) وقارن مع: «تارخ ابن خلدون» (3/ 603).

ইলমি বিষয়, তিনি প্রথম স্থানে বলেছেন: «শাইখ ইমাম শামসুল ইসলাম ইমাদ উদ-দীন কিয়া—যিনি রাজা বারকিয়ারুক কর্তৃক ইমাম আল-মুস্তাজহির বিল্লাহর কাছে প্রেরিত দূত ছিলেন, আল্লাহ তাদের উভয়ের শাসনকাল দীর্ঘায়িত করুন—দলিল পেশ করেছেন»। তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: «নিযামিয়া মাদরাসায় সেই দিনটি অতিবাহিত হয়েছিল যখন রাজার দূত ইমাম আল-মুস্তাজহির বিল্লাহর কাছে উপস্থিত হয়েছিলেন—আল্লাহ তাঁর মহিমা রক্ষা করুন, তাঁর সাহায্যকে শক্তিশালী করুন এবং তাঁর শত্রুদের লাঞ্ছিত করুন—যিনি কিয়া আল-হাররাসী নামে পরিচিত, আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন … »।

এগুলোর মধ্যে একটি হলো যা ইবনে কাসির শাফেয়ি (মৃত্যু ৭৭৪ হি.) তাঁর «ইতিহাস» গ্রন্থে(১) উল্লেখ করেছেন: «ইলকিয়া আল-হাররাসী বর্ণনা করেছেন—যখন সুলতান বারকিয়ারুক তাকে গজনী ও ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অধিপতি সুলতান ইব্রাহিম বিন মাহমুদ বিন মাসউদ বিন সবুক্তগিন (মৃত্যু ৪৯২ হি.)-এর কাছে পাঠিয়েছিলেন—একটি পত্রে তিনি সুলতানের পোশাক-পরিচ্ছদ, মজলিস এবং তার জাগতিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়ে যা দেখেছিলেন সে সম্পর্কে বলেন: "আমি এক অদ্ভুত জিনিস দেখেছি", অতঃপর তিনি তাকে এই হাদিস দ্বারা নসিহত করেন: «জান্নাতে সাদ ইবন মুআজের রুমালগুলোও এর চেয়ে উত্তম»(২), এতে তিনি কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন: "তিনি নিজের জন্য কোনো ঘর নির্মাণ করতেন না যতক্ষণ না তার আগে একটি মসজিদ বা মাদরাসা অথবা একটি রিবাত (খানকাহ) নির্মাণ করতেন"»।

এই পাঠ্যগুলোর মাধ্যমে রাজা বারকিয়ারুকের সাথে ইমাম ইলকিয়া আল-হাররাসীর নৈকট্য আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়, কারণ তিনি তাঁকে খলিফা ও সুলতানদের কাছে দূত হিসেবে পাঠিয়েছিলেন(৩)। এটি রাজার কাছে তাঁর মর্যাদা এবং তাঁর প্রতি আস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর পাশাপাশি এটিও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এই সুলতানের শাসনামলে বিচারকের (কাযী) দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্ভবত তিনি প্রাথমিকভাবে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে তাঁর দূত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

এখানে একটি বিষয় রয়েছে; যা আমাদের হাতে থাকা উৎসগুলো স্পষ্টভাবে উত্তর দেয় না, আর তা হলো: কখন...

--------------------------------------------

(১) «আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া» (১৬/ ১৬৮)।

(২) বুখারি (২৬১৫) এবং মুসলিম (২৪৬৯) আনাস (রাযি.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৩) তুলনা করুন: «তারিখ ইবনে খালদুন» (৩/ ৬০৩)।

(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ১৫)
اتصاله بالملك بركياروق؟

فنقول: من المحتمل أن يكون ذلك بعد وفاة شيخه وهو في نيسابور، ويحتمل أن يكون في بيهق بعد خروجه من نيسابور، وهذا أقرب، ويشهد له سياق كلام ابن عساكر (ت 571 هـ)، حيث قال: «ثُمَّ اتصل بعد موت إمام الحرمين بمجد الملك في زمان بركياروق وحظي عنده، ثُمَّ خرج إلى العراق … .».

 

‌‌المرحلة الرابعة: (من سن 42 إلى 54) العطاء العلمي:

خرج إلكيا من بيهق، وقدم بغداد سنة 492 هـ، وتولَّى التدريس بالمدرسة النظامية في سنة 493 هـ، واجتمع عليه الفقهاء، وقصده الطلبة من البلاد، وارتفع قدره وعلا شأنه وعظم جاهه؛ حتى أنَّ الوزير سعد الملك (ت 500 هـ) لما زار المدرسة النظامية، حضر درسه ليرغب الناس في العلم.

ولم يزل على التدريس إلى حين وفاته(1)، ثُمَّ خلفه بعد وفاته في تدريس النظامية أبو بكر الشاشي المعروف بالمستظهري (ت 507 هـ).

وكان في خدمة إلكيا بالمدرسة النظامية أبو إسحاق إبراهيم بن عثمان الغزي الأشهبي (ت 524 هـ) - الشاعر المشهور(2)، وقد رثاه ارتجالاً على ما حكاه ابن عساكر في «تاريخ دمشق»(3).

وبهذا ينتهي الحديث عن نشأته العلمية باختصار، وهي حافلة بالتعليم

--------------------------------------------

(1) مع الإشارة إلى أن تدريسه في النظامية كانت عشر سنوات تقريبا، وفي سنة 495 هـ انتزع من التدريس فترة، ثم عاد إليها. وسيأتي سبب ذلك في ذكر محنته.

(2) ترجمته في «وفيات الأعيان» (1/ 57).

(3) (7/ 52). وانظر: (ص 26) من هذا الكتاب

সুলতান বারকিয়ারুকের সাথে তার সম্পর্ক?

আমরা বলি: সম্ভবত এটি তার শায়খের মৃত্যুর পর যখন তিনি নিশাপুরে ছিলেন তখনকার ঘটনা, অথবা সম্ভবত নিশাপুর থেকে বের হওয়ার পর বাইহাকে থাকাকালীন ঘটনা হতে পারে, আর এটিই অধিক নিকটবর্তী মত। ইবনে আসাকির (মৃত ৫৭১ হি.)-এর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এর সাক্ষ্য দেয়, যেখানে তিনি বলেছেন: «অতঃপর তিনি ইমামুল হারামাইনের মৃত্যুর পর বারকিয়ারুকের শাসনামলে মাজদুল মুলকের সাথে যুক্ত হন এবং তার কাছে উচ্চ মর্যাদা লাভ করেন, এরপর তিনি ইরাকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন...।»

 

‌‌চতুর্থ পর্যায়: (৪২ থেকে ৫৪ বছর বয়স পর্যন্ত) জ্ঞানীয় অবদান:

ইলকিয়া বাইহাক থেকে বের হয়ে ৪৯২ হিজরিতে বাগদাদে আগমন করেন এবং ৪৯৩ হিজরিতে নিজামিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেখানে ফকিহগণ তার কাছে সমবেত হন এবং বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা তার কাছে আসতে থাকে। ফলে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, সম্মান সুউচ্চ হয় এবং প্রতিপত্তি মহান হয়; এমনকি উজির সাদুল মুলক (মৃত ৫০০ হি.) যখন নিজামিয়া মাদরাসা পরিদর্শনে আসেন, তখন তিনি মানুষের মাঝে ইলমের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে তার পাঠদানে উপস্থিত হন।

তিনি মৃত্যু পর্যন্ত শিক্ষকতা অব্যাহত রাখেন(১), অতঃপর তার মৃত্যুর পর নিজামিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতায় তার স্থলাভিষিক্ত হন আল-মুসতাযহিরী নামে পরিচিত আবু বকর আশ-শাশী (মৃত ৫০৭ হি.)।

আর নিজামিয়া মাদরাসায় ইলকিয়ার সেবায় (সান্নিধ্যে) ছিলেন বিখ্যাত কবি আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে উসমান আল-গাযযী আল-আশহাবী (মৃত ৫২৪ হি.)(২)। ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেস্ক'-এ যা বর্ণনা করেছেন সেই অনুযায়ী তিনি (ইলকিয়ার মৃত্যুতে) তৎক্ষণাৎ শোকগাথা রচনা করেছিলেন(৩)।

এর মাধ্যমেই তার শিক্ষাগত জীবনের আলোচনা সংক্ষেপে সমাপ্ত হলো, যা শিক্ষা ও দানে পরিপূর্ণ ছিল।

--------------------------------------------

(১) উল্লেখ্য যে, নিজামিয়ায় তার শিক্ষকতার কাল ছিল প্রায় দশ বছর। ৪৯৫ হিজরিতে তাকে কিছু সময়ের জন্য শিক্ষকতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর তিনি আবার সেখানে ফিরে আসেন। তার পরীক্ষার (বিপদের) বর্ণনায় এর কারণ সামনে আসবে।

(২) তার জীবনী 'ওয়াফায়াতুল আইয়ান' (১/ ৫৭)-এ দ্রষ্টব্য।

(৩) (৭/ ৫২)। এবং দেখুন: এই বইয়ের (২৬ পৃষ্ঠা)।

(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ১৬)
والتدريس وتخريج الطلاب، ومع أنه توفي في سن النضج ولم يبلغ الشيخوخة إلا أنه خرج علماء فقهاء وألف في فنون متنوعة، فرحمه الله تعالى.

 

‌‌3 - أسرته:

لم نقف في مصادر ترجمته على شيء في الحديث عن والديه وعائلته، فهل عاش في أكنافهما أم نشأ يتيما؟ إلا أن نشأته في التعليم وتميزه فيه منذ الصغر يدل على وجود رعاية وعناية به.

أما أسرته الخاصة؛ فقد تزوج إلكيا وأنجب، لكن لم نجد في كتب التراجم رصدًا لتفاصيله حياته سوى ما نُقل من أخبار يسيرة عن ابنه وحفيده.

أما ابنه، فهو: عبد الملك، وكنيته أبو المعالي، ويظهر لنا من كنيته واسمه إعجاب أبيه بشيخه أبي المعالي الجويني ووفاؤه له، حتى أنه سمى ولده باسمه.

ولد عبد الملك بن إلكيا في بغداد ونشأ بها؛ سمع الحديث عن بعض العلماء وحدث باليسير، ولم يكن له كبير اشتغال بالعلم، فلم يسلك طريقة والده في العلم والسياسة الشرعية.

عمل مع أصحاب الديوان، وخدم في أشغالهم وعلت مرتبته، فرتّب حاجبا بالباب النوبي، وناظرًا في المظالم في سنة 550 هـ، فأقام نحوا من أربعين يومًا، ثُمَّ عُزل(1)، وحبس لمدة 10 سنين أيَّامَ الخليفة العباسي المستنجد بالله (ت 566 هـ)، وأطلق بعد وفاته، فلم يلبث طويلا، فتوفي في يوم الأربعاء ثامن ربيع الآخر سنة 567 هـ، ودفن في مقبرة الشونيزية.

--------------------------------------------

(1) انظر مزيد تفصيل للقصة في: «المنتظم» (18/ 101)، و «تاريخ الإسلام» (12/ 357).

এবং শিক্ষাদান ও ছাত্র তৈরির কাজে (নিযুক্ত ছিলেন)। যদিও তিনি পূর্ণ বয়সে ইন্তেকাল করেছেন এবং বার্ধক্যে পৌঁছাননি, তবুও তিনি আলেম ও ফকিহ তৈরি করেছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।

 

‌‌৩ - তাঁর পরিবার:

তাঁর জীবনীগ্রন্থগুলোতে তাঁর পিতামাতা ও পরিবার সম্পর্কে কোনো আলোচনা আমাদের নজরে আসেনি; তিনি কি তাঁদের ছত্রচ্ছায়ায় বড় হয়েছেন নাকি এতিম হিসেবে বেড়ে উঠেছেন? তবে তাঁর শিক্ষা-দীক্ষা এবং ছোটবেলা থেকেই তাতে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব একথারই প্রমাণ দেয় যে, তাঁর প্রতি যথেষ্ট যত্ন ও মনোযোগ ছিল।

তাঁর নিজস্ব পরিবারের ক্ষেত্রে; ইলকিয়া বিবাহ করেছিলেন এবং তাঁর সন্তানাদিও ছিল। কিন্তু জীবনীগ্রন্থগুলোতে তাঁর জীবনের খুঁটিনাটি সম্পর্কে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি, কেবল তাঁর ছেলে ও নাতি সম্পর্কে সামান্য কিছু তথ্য ছাড়া।

তাঁর ছেলে হলেন: আবদুল মালিক, তাঁর উপনাম (কুনিয়াত) ছিল আবুল মাআলি। তাঁর কুনিয়াত ও নাম থেকে আমাদের কাছে তাঁর পিতার নিজ উস্তাদ আবুল মাআলি আল-জুওয়াইনির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আনুগত্যের বিষয়টি ফুটে ওঠে, এমনকি তিনি নিজের ছেলের নামকরণও তাঁর উস্তাদের নামানুসারেই করেছিলেন।

আবদুল মালিক বিন ইলকিয়া বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি কিছু আলেমের কাছ থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং সামান্য বর্ণনাও করেছেন। তবে ইলম চর্চায় তাঁর তেমন মগ্নতা ছিল না, তাই তিনি জ্ঞানার্জন ও শরিয়াহ রাজনীতির ক্ষেত্রে তাঁর পিতার পথ অনুসরণ করেননি।

তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে কাজ করতেন এবং তাঁদের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত থেকে উচ্চ পদমর্যাদা লাভ করেন। ৫৫০ হিজরি সনে তাঁকে ‘বাবুন্নুবি’-তে দ্বাররক্ষী এবং ‘নাজিরুল মাজালিম’ (অবিচার নিরসন পরিদর্শক) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেখানে তিনি প্রায় চল্লিশ দিন অবস্থান করেন, এরপর তাঁকে পদচ্যুত করা হয়(১) এবং আব্বাসীয় খলিফা আল-মুসতানজিদ বিল্লাহ-র (ওফাত ৫৬৬ হি.) শাসনামলে ১০ বছর বন্দি রাখা হয়। খলিফার মৃত্যুর পর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়, তবে তিনি এরপর আর বেশিদিন বেঁচে ছিলেন না। ৫৬৭ হিজরি সনের ৮ই রবিউস সানি, বুধবার তিনি ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে ‘শুনিজিয়্যাহ’ কবরস্থানে দাফন করা হয়।

--------------------------------------------

(১) এই কাহিনীর বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন: ‘আল-মুনতাজাম’ (১৮/ ১০১), এবং ‘তারিখুল ইসলাম’ (১২/ ৩৫৭)।

(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ১৭)
أما حفيده، فهو: أبو الفتوح يحيى بن عبد الملك، ولد سنة 542 هـ، سمع من أبيه، ومن أبي الوقت عبد الأول بن عيسى السجزي، حدث ببغداد ودمشق. ذكر المنذري (ت 656 هـ) في «التكملة»(1) «أنه لقيه في دمشق وسمع منه». تولّى يحيى ديوان الأوقاف بدمشق، وكان ناهضاً أميناً، وله شعر. توفي سنة 614 هـ.

هذا ما وقفنا عليه من أخبار أسرته، ويبقى هنا أمر، وهو أن كنية إلكيا: أبو الحسن، ولا نعلم: هل له ابن اسمه الحسن، أو أن التكنية كانت لأجل أن اسمه علي، فكني به كما اشتهر من تكنية الصغار بأسماء الأئمة والقدوات من المسلمين.

 

‌‌4 - شيوخه وأساتذته:

لم نقف فيما بين أيدينا من المصادر إلا على شيوخ ثلاثة ممن أخذ عنهم إلكيا، فقد تتلمذ لأبي المعالي الجويني، وصحبه وبه تخرّج ــ كما سبق ــ. وهو أعظم شيوخه وأكثرهم تأثيرًا عليه، سواء في علم الكلام أو الأصول أو الخلاف، وهو يُكثر من ذكره والنقل عنه، ومع ذلك فلم يكن تابعا له مقلدا إياه، بل كان يصرّح بمخالفته في أكثر من مسألة(2).

وسمع من الفقيه أبي علي النيسابوري الحسن بن محمد الصفار (ت 475 هـ)(3)، وأبي الفضل زيد بن صالح الطبري الأملي الحنفي(4).

--------------------------------------------

(1) (2/ 414).

(2) انظر مثلا: التعليقة الكلامية (ق/ 4/ ظ).

(3) ترجمته في «تاريخ الإسلام» (10/ 377).

(4) لم نجد له ترجمة. قال الذهبي في ترجمة إلكيا: «حدث عن زيد بن صالح الآملي، وجماعة». «السير» (19/ 351). وجاء ذكره عابرا أثناء رواية إلكيا عنه في: «المنتظم» (14/ 376).

আর তাঁর নাতির ব্যাপারে বলা যায় যে, তিনি হলেন: আবু আল-ফুতুহ ইয়াহইয়া বিন আব্দুল মালিক, তিনি ৫৪২ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে এবং আবু আল-ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল বিন ঈসা আস-সিজযীর নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন; তিনি বাগদাদ ও দামেস্কে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আল-মুনযিরী (মৃত্যু ৬৫৬ হি.) ‘আত-তাকমিলা’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে,(১) ‘তিনি দামেস্কে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন’। ইয়াহইয়া দামেস্কের দিওয়ানুল আওকাফের (ওয়াকফ বিভাগ) দায়িত্ব পালন করেন, তিনি অত্যন্ত উদ্যমী ও বিশ্বস্ত ছিলেন এবং তাঁর কাব্যপ্রতিভাও ছিল। তিনি ৬১৪ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর পরিবারের সংবাদ সম্পর্কে আমরা এই পর্যন্তই অবগত হয়েছি। তবে এখানে একটি বিষয় অবশিষ্ট থাকে, তা হলো ইলকিয়ার উপনাম ছিল: আবু আল-হাসান; কিন্তু আমরা জানি না যে তাঁর হাসান নামে কোনো পুত্র ছিল কি না, অথবা তাঁর নাম আলী হওয়ার কারণে এই উপনাম রাখা হয়েছিল কি না—যেমনটি ছোটদেরকে মুসলমানদের ইমাম ও আদর্শ ব্যক্তিদের নামে উপনাম প্রদান করার প্রসিদ্ধি রয়েছে।

 

‌‌৪ - তাঁর শাইখ ও শিক্ষকবৃন্দ:

আমাদের হাতে থাকা উৎসগুলোর মধ্যে আমরা কেবল তিনজন শাইখের নাম পেয়েছি যাদের নিকট থেকে ইলকিয়া শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি আবু আল-মাআলী আল-জুওয়াইনীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন, তাঁর দীর্ঘ সাহচর্যে থাকেন এবং তাঁর মাধ্যমেই শিক্ষা সম্পন্ন করেন—যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনিই ছিলেন তাঁর শ্রেষ্ঠ শাইখ এবং ইলমুল কালাম, উসুল কিংবা খিলাফ—সকল ক্ষেত্রেই তাঁর ওপর সর্বাধিক প্রভাব বিস্তারকারী। তিনি অত্যন্ত বেশি পরিমাণে তাঁর কথা উল্লেখ করতেন এবং তাঁর থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করতেন; তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর অন্ধ অনুসারী ছিলেন না, বরং তিনি অনেক মাসআলায় তাঁর সাথে ভিন্নমত পোষণ করার কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতেন।(২)

তিনি ফকীহ আবু আলী আন-নাইসাবুরী আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আস-সাফফার (মৃত্যু ৪৭৫ হি.)(৩) এবং আবু আল-ফাদল যায়িদ বিন সালিহ আত-তাবারী আল-আমালী আল-হানাফীর নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন।(৪)

--------------------------------------------

(১) (২/ ৪১৪)।

(২) উদাহরণস্বরূপ দেখুন: আত-তালীকা আল-কালামিয়্যাহ (কাফ/ ৪/ জো)।

(৩) তাঁর জীবনী ‘তারিখুল ইসলাম’ (১০/ ৩৭৭)-এ দ্রষ্টব্য।

(৪) আমরা তাঁর কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি। ইমাম আয-যাহাবী ইলকিয়ার জীবনীতে বলেন: ‘তিনি যায়িদ বিন সালিহ আল-আমালী এবং এক জামাত (উস্তাদ) থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।’ ‘আস-সিয়ার’ (১৯/ ৩৫১)। ইলকিয়ার বর্ণনার সূত্রে ‘আল-মুন্তাযাম’ (১৪/ ৩৭৬)-এ প্রাসঙ্গিকভাবে তাঁর উল্লেখ এসেছে।

(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ১৮)
تَتِمَّةٌ:

إلكيا الهراسي من فقهاء الشافعية على طريقة الخراسانيين (المراوزة)(1)، وشيخه في هذه الطريقة: أبو المعالي الجويني (ت 478 هـ)، الذي تفقه على والده أبي محمد الجويني (ت 438 هـ)، وأبو محمد تفقه على أبي بكر القفال المروزي (ت 417 هـ)، والقفال تفقه على أبي زيد المروزي (ت 371 هـ)، وأبو زيد تفقه على أبي إسحاق المروزي (ت 340 هـ)، وأبو إسحاق تفقه على أبي العباس ابن سريج (ت 306 هـ)، وهو تفقه على أبي القاسم الأنماطي (ت 288 هـ)، والأنماطي تفقه على أبي إبراهيم المزني (ت 264 هـ)، الذي تفقه على الإمام الشافعي. وقد ذكر هذه السلسلة ابن الصلاح (ت 643 هـ) أثناء سرده لإسناد طريقته في التفقه، فذكر أنه أخذ الفقه عن والده صلاح الدين (ت 618 هـ)، الذي تفقه على شيخ المذهب في زمانه أبي القاسم ابن البزري (ت 560 هـ)، وهو تلميذ الإمام الكيا (ت 504 هـ)، ثم سرد باقي الإسناد إلى الإمام الشافعي.

 

‌‌5 - تلاميذه:

كان ابتداء تدريس الكيا لما كان معيدًا عند إمام الحرمين في نيسابور، واستقل بالتدريس أولاً في بيهق، ثُمَّ في المدرسة النظامية، وتتلمذ له هناك كثير من الأعلام، ولئن قل شيوخه - فيما بين أيدينا من كتب التراجم ـ، فإنه قد رُزِق من التلاميذ بعدد يصعب حصرهم، ولذا؛ فقد اقتصرنا على أهم هؤلاء الأعلام، وهم حسب تواريخ وفياتهم:

--------------------------------------------

(1) للاستزادة راجع: «طبقات الشافعية الكبرى» لابن السبكي في ترجمة القفال الصغير المروزي (ت 417 هـ) (5/ 54).

পরিশিষ্ট:

ইলকিয়া আল-হাররাসী ছিলেন খোরাসানী (মারওয়াজী) ধারার শাফেয়ী ফকীহদের অন্তর্ভুক্ত(১)। এই ধারায় তাঁর উস্তাদ ছিলেন: আবুল মা'আলি আল-জুওয়াইনি (মৃত্যু: ৪৭৮ হিজরী), যিনি তাঁর পিতা আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনির (মৃত্যু: ৪৩৮ হিজরী) নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন। আর আবু মুহাম্মদ ফিকহ শিক্ষা করেন আবু বকর আল-কাফফাল আল-মারওয়াজীর (মৃত্যু: ৪১৭ হিজরী) নিকট। আল-কাফফাল ফিকহ শিক্ষা করেন আবু যায়েদ আল-মারওয়াজীর (মৃত্যু: ৩৭১ হিজরী) নিকট। আবু যায়েদ ফিকহ শিক্ষা করেন আবু ইসহাক আল-মারওয়াজীর (মৃত্যু: ৩৪০ হিজরী) নিকট। আবু ইসহাক ফিকহ শিক্ষা করেন আবুল আব্বাস ইবনে সুরাইজের (মৃত্যু: ৩০৬ হিজরী) নিকট। তিনি ফিকহ শিক্ষা করেন আবুল কাসেম আল-আনমাতীর (মৃত্যু: ২৮৮ হিজরী) নিকট। আল-আনমাতী ফিকহ শিক্ষা করেন আবু ইবরাহিম আল-মুজানীর (মৃত্যু: ২৬৪ হিজরী) নিকট, যিনি ইমাম শাফেয়ীর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন। ইবনে সালাহ (মৃত্যু: ৬৪৩ হিজরী) তাঁর ফিকহ শিক্ষার ধারার সনদ বর্ণনার সময় এই সিলসিলা উল্লেখ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর পিতা সালাহউদ্দিনের (মৃত্যু: ৬১৮ হিজরী) কাছ থেকে ফিকহ গ্রহণ করেছেন, যিনি তাঁর সময়ের মাযহাবের শায়খ আবুল কাসেম ইবনুল বিজরীর (মৃত্যু: ৫৬০ হিজরী) নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন। আর তিনি ছিলেন ইমাম আল-কিয়ার (মৃত্যু: ৫০৪ হিজরী) ছাত্র। এরপর তিনি ইমাম শাফেয়ী পর্যন্ত বাকি সনদ বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌৫ - তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

আল-কিয়ার শিক্ষকতা শুরু হয়েছিল যখন তিনি নিশাপুরে ইমামুল হারামাইনের অধীনে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি প্রথমে বাইহাকে এবং পরবর্তীতে নিযামিয়া মাদরাসায় স্বাধীনভাবে শিক্ষকতা শুরু করেন। সেখানে অনেক বরেণ্য ব্যক্তি তাঁর নিকট ইলম অর্জন করেন। আমাদের নিকট বিদ্যমান জীবনীগ্রন্থগুলোতে যদিও তাঁর উস্তাদদের সংখ্যা কম দেখা যায়, তবে তিনি বিপুল সংখ্যক ছাত্র লাভ করেছিলেন যাদের সংখ্যা নিরূপণ করা কঠিন। তাই আমরা কেবল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বরেণ্য ব্যক্তিদের বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থাকব, যারা তাঁদের মৃত্যু তারিখ অনুযায়ী নিম্নরূপ:

--------------------------------------------

(১) বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: ইবনে সুবকী রচিত 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা', আল-কাফফাল আস-সাগীর আল-মারওয়াজীর (মৃত্যু: ৪১৭ হিজরী) জীবনী অংশে (৫/ ৫৪)।

(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ১৯)
* أبو الفتح أحمد بن علي بن محمد، المعروف بـ: ابن برهان (ت 518 هـ)، الفقيه الحنبلي ثُمَّ الشَّافعي، تفقه على ابن عقيل والشاشي والغزالي، وصحب إلكيا ولازمه.

* وأبو القاسم الرازي الفقيه (522 هـ)، وهو: عبد الكريم بن علي بن أبي طالب، أخذ عن الكيا وصحب الغزالي.

* وأبو الحجاج اللخمي الميورقي (ت 523 هـ)، وهو: يوسف بن عبد العزيز بن علي، تفقه ببغداد على إلكيا.

* ومحمد بن عبد الله بن تومرت (ت 524 هـ)، الملقب نفسه بـ: «المهدي».

* وأبو القاسم الجيلي، وهو: عبد السلام بن الفضل (ت 534 هـ)، تفقه على الكيا في النظامية.

* وأبو منصور الرزاز (ت 539 هـ)، وهو: سعيد بن محمد بن عمر، كان من كبار الشافعية ببغداد، ومدرساً في النظامية، تفقه على الغزالي وإلكيا وأبي بكر الشاشي وغيرهم.

* ومحمد بن عشير، أبو بكر الدربندي الشَّرواني (ت 539 هـ)، تفقه على إلكيا.

* وسعد الخير الأنصاري ابن محمد بن سهل الأندلسي (ت 541 هـ)، أخذ عنه الحديث والفقه.

* وأبو عبد الله الجيلي (ت 541 هـ)، وهو: شافع بن عبد الرشيد بن القاسم، تفقه على إلكيا والغزالي.
* আবুল ফাতহ আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ, যিনি ইবনে বুরহান (মৃত্যু ৫১৮ হিজরি) নামে পরিচিত; তিনি হাম্বলি ফকিহ ছিলেন এবং পরবর্তীতে শাফেঈ মাযহাব গ্রহণ করেন। তিনি ইবনে আকিল, শাশী ও গাজালীর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন এবং ইলকিয়া হাররাসীর সান্নিধ্যে থেকেছেন ও সর্বদা তাঁর সাথে যুক্ত ছিলেন।

* এবং ফকিহ আবুল কাসেম আর-রাজি (৫২২ হিজরি), তিনি হলেন: আব্দুল করিম বিন আলী বিন আবু তালিব; তিনি ইলকিয়ার নিকট হতে ইলম অর্জন করেছেন এবং গাজালীর সান্নিধ্য লাভ করেছেন।

* এবং আবুল হাজ্জাজ আল-লাখমি আল-মায়ুরকি (মৃত্যু ৫২৩ হিজরি), তিনি হলেন: ইউসুফ বিন আব্দুল আজিজ বিন আলী; তিনি বাগদাদে ইলকিয়ার নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন।

* এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন তুমারত (মৃত্যু ৫২৪ হিজরি), যিনি নিজেকে ‘আল-মাহদী’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

* এবং আবুল কাসেম আল-জিলি, তিনি হলেন: আব্দুস সালাম বিন আল-ফজল (মৃত্যু ৫৩৪ হিজরি); তিনি নিজামিয়া মাদরাসায় ইলকিয়ার নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন।

* এবং আবু মনসুর আর-রাজ্জাজ (মৃত্যু ৫৩৯ হিজরি), তিনি হলেন: সাঈদ বিন মুহাম্মদ বিন উমর; তিনি বাগদাদের প্রখ্যাত শাফেঈ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত এবং নিজামিয়া মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন। তিনি গাজালী, ইলকিয়া, আবু বকর শাশী এবং অন্যান্যদের নিকট ফিকহ অধ্যয়ন করেছেন।

* এবং মুহাম্মদ বিন আশির, আবু বকর আদ-দারবান্দি আশ-শারওয়ানি (মৃত্যু ৫৩৯ হিজরি); তিনি ইলকিয়ার নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন।

* এবং সাদুল খাইর আল-আনসারী ইবনে মুহাম্মদ বিন সাহল আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৫৪১ হিজরি); তিনি তাঁর নিকট থেকে হাদিস ও ফিকহ গ্রহণ করেছেন।

* এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-জিলি (মৃত্যু ৫৪১ হিজরি), তিনি হলেন: শাফে বিন আব্দুর রশিদ বিন আল-কাসিম; তিনি ইলকিয়া ও গাজালীর নিকট ফিকহ অধ্যয়ন করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ২০)
* ومحمد بن علي بن عبد الله البغدادي (ت 541 هـ)، تفقه على الكيا والغزالي والشاشي وابن عقيل وغيرهم.

* وعبد الله بن علي بن سعيد البغدادي (ت 542 هـ)، الفقيه، أخذ عن إلكيا وأبي بكر الشاشي.

* ومحمد بن محمد بن أحمد بن القاسم البغدادي (ت 544 هـ)، تفقه على إلكيا.

* وعلي بن محمد بن عيسى بن المؤمل المعروف بـ: ابن كراز الواسطي (ت 545 هـ)، تفقه على الإمام إلكيا.

* ومحمد بن منصور النيسابوري الحرضي (ت 547 هـ)، سمع القشيري ويعقوب الصيرفي وإلكيا.

* ومحمد بن عبد الله بن محمد، أبو علي البسطامي (ت 548 هـ)، الفقيه، المعروف بـ: إمام بغداد، تفقه على إلكيا.

* وأبو الفتح الباقرحي (ت 553 هـ)، وهو: عبد الواحد بن الحسن بن محمد البغدادي، تفقه على إلكيا ببغداد، وعلى الغزالي بخراسان.

* وعمر بن محمد بن أحمد أبو القاسم ابن البزري (ت 560 هـ)، الفقيه الشافعي، اشتغل على إلكيا وأبي حامد الغزالي وجماعة.

* وأبو العباس الإربلي (ت 567 هـ)، وهو: الخضر بن نصر بن عقيل، الفقيه الشافعي، تفقه على إلكيا وأبي بكر الشاشي.

* والحافظ أبو طاهر السَّلَفيُّ (ت 576 هـ)، وهو: أحمد بن محمد بن
এবং মুহাম্মদ বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ আল-বাগদাদী (মৃ. ৫৪১ হি.), তিনি ইলকিয়া, আল-গাযালী, আশ-শাশী, ইবনু আকীল এবং অন্যান্যদের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন।

এবং আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন সাঈদ আল-বাগদাদী (মৃ. ৫৪২ হি.), ফকীহ, তিনি ইলকিয়া এবং আবু বকর আশ-শাশীর নিকট হতে জ্ঞান অর্জন করেছেন।

এবং মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-কাসিম আল-বাগদাদী (মৃ. ৫৪৪ হি.), তিনি ইলকিয়ার নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন।

এবং আলী বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন আল-মুআম্মাল, যিনি ইবনু কাররায আল-ওয়াসিতী (মৃ. ৫৪৫ হি.) নামে পরিচিত, তিনি ইমাম ইলকিয়ার নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন।

এবং মুহাম্মদ বিন মানসুর আন-নিসাবুরী আল-হারযী (মৃ. ৫৪৭ হি.), তিনি আল-কুশায়রী, ইয়াকুব আস-সায়রাফী এবং ইলকিয়ার নিকট হতে হাদীস শ্রবণ করেছেন।

এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ, আবু আলী আল-বিস্তামী (মৃ. ৫৪৮ হি.), ফকীহ, বাগদাদের ইমাম হিসেবে পরিচিত, তিনি ইলকিয়ার নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন।

এবং আবুল ফাতহ আল-বাকারহী (মৃ. ৫৫৩ হি.), আর তিনি হলেন: আব্দুল ওয়াহিদ বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আল-বাগদাদী, তিনি বাগদাদে ইলকিয়ার নিকট এবং খোরাসানে আল-গাযালীর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন।

এবং উমর বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আবু আল-কাসিম ইবনুল বিযরী (মৃ. ৫৬০ হি.), শাফেয়ী ফকীহ, তিনি ইলকিয়া, আবু হামিদ আল-গাযালী এবং একদল মনীষীর নিকট জ্ঞানচর্চা করেছেন।

এবং আবুল আব্বাস আল-ইরবিলী (মৃ. ৫৬৭ হি.), আর তিনি হলেন: আল-খাযির বিন নাসর বিন আকীল, শাফেয়ী ফকীহ, তিনি ইলকিয়া এবং আবু বকর আশ-শাশীর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন।

এবং হাফেজ আবু তাহির আস-সিলাফী (মৃ. ৫৭৬ হি.), আর তিনি হলেন: আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন...
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ২১)
أحمد، تفقه على الكيا وروى عنه.

* وأبو الفضل الطوسي ثُمَّ البغدادي (ت 578 هـ)، وهو: عبد الله بن أحمد بن محمد، قرأ على الكيا في الفقه والأصول، وتوفّي وله اثنتين وتسعين سنة.

* وأبو زكريا الزناتي، وهو: يحيى بن أبي ملول بن عشيرة، الفقيه المالكي، دخل بغداد، وتفقه بها على إلكيا.

هذا؛ وقد أطلنا في ذكر التلاميذ نسبيًّا - وإن لم نستقص ـ؛ لاحتمال أن يكون أحدهم هو من كتب التعليقة التي بين أيدينا، نسأل الله أن يرحم الجميع.

ويلحظ مما سبق أن أكثر التلاميذ - إن لم يكن كلهم - كانوا في بغداد من طلاب المدرسة النظامية، ونعزو ذلك إلى أمرين:

الأول: أن بغداد كانت من أشهر مواطن العلم والعلماء، وكانت عاصمةً للخلافة الإسلامية، إضافةً إلى وجود المدرسة النظامية فيها، التي كانت محل اهتمام ورغبة من العلماء وطلاب العلم.

والثاني: أن التدوين في رصد الحركة العلمية وأهلها في مثل هذه البلدان أكثر شيوعا من غيرها. وذلك أن غالب المصادر التاريخية تعتني في العادة بتراجم علماء المدن الشهيرة.

 

‌‌6 - من أقوال العلماء فيه، وشيء من صفاته:

إلكيا الهراسي علم مشهور، وفقيه من فقهاء الشافعية، وشهرته بين العلماء تغني عن الاستقصاء في جمع أقوال العلماء عنه، ومن باب التأكيد على مكانته العلمية نذكر بعض النماذج على ذلك:
আহমদ, তিনি ইলকিয়ার কাছে ফিকহ অধ্যয়ন করেছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

* এবং আবুল ফজল আত-তুসী, অতঃপর আল-বাগদাদী (মৃ. ৫৭৮ হিজরি), তিনি হলেন: আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ, তিনি ইলকিয়ার কাছে ফিকহ ও উসুল অধ্যয়ন করেছেন এবং বিরানব্বই বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন।

* এবং আবু জাকারিয়া আজ-জানাতী, তিনি হলেন: ইয়াহইয়া বিন আবি মালুল বিন আশিরাহ, মালিকি ফকিহ, তিনি বাগদাদে প্রবেশ করেন এবং সেখানে ইলকিয়ার কাছে ফিকহ অধ্যয়ন করেন।

এই হলো বিবরণ; আমরা ছাত্রদের বর্ণনায় তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ আলোচনা করেছি—যদিও আমরা তা নিঃশেষ করিনি—যাতে সম্ভাবনা থাকে যে তাদের মধ্যে কেউ একজনই আমাদের সামনে থাকা এই 'তালীকা' (টীকাটি) লিখেছেন, আমরা আল্লাহর কাছে সকলের জন্য রহমত প্রার্থনা করি।

পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে লক্ষ্য করা যায় যে, অধিকাংশ ছাত্রই—যদি সকলে না-ও হয়—বাগদাদে মাদরাসা নিযামিয়ার শিক্ষার্থী ছিলেন, এবং আমরা এর পেছনে দুটি কারণ মনে করি:

প্রথমত: বাগদাদ ছিল ইলম ও ওলামাদের প্রসিদ্ধতম স্থানগুলোর অন্যতম, এবং এটি ছিল ইসলামি খিলাফতের রাজধানী। সেইসাথে সেখানে মাদরাসা নিযামিয়ার অস্তিত্ব ছিল, যা ছিল আলেম ও তালিবে ইলমদের আগ্রহ ও আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু।

দ্বিতীয়ত: এ জাতীয় শহরগুলোতে ইলমি আন্দোলন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টদের নথিভুক্ত করার প্রচলন অন্যান্য স্থানের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। কারণ, অধিকাংশ ঐতিহাসিক উৎস সাধারণত প্রসিদ্ধ শহরগুলোর আলেমদের জীবনী রচনার প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

 

‌‌৬ - তাঁর সম্পর্কে আলেমদের উক্তি এবং তাঁর কিছু গুণাবলি:

ইলকিয়া আল-হাররাসী একজন সুপ্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব এবং শাফেয়ী ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত। আলেমদের মাঝে তাঁর প্রসিদ্ধি এতটাই যে, তাঁর সম্পর্কে আলেমদের সমস্ত উক্তি একত্রিত করার প্রয়োজন পড়ে না; তবুও তাঁর ইলমি উচ্চমর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য আমরা এর কিছু নমুনা উল্লেখ করছি:
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ২২)
قال الحافظ السلفي: «سمعتُ الفقهاء يقولون: كان الجويني يقول في تلاميذه إذا ناظروا: التحقيق للخَوَافي (ت 500 هـ)، والجريان للغزاليّ، والبيان لإلكيا».

وقال ابن عساكر: «الإمام البالغ في النَّظر مبلغ الفحول».

وقال ابن كثير (ت 774 هـ): «أحدُ الفقهاء الكبار من رؤوس الشافعية … ، وكان من أكابر العلماء، وسادات الفقهاء».

وقال الخيضريّ (ت 894 هـ): «الإمام الكبير، الجليل القدر، المعظم بين الأئمة، إمام الأصحاب».

ومن صفاته التي نقلها من ترجم له أنه كان فاضلاً، فصيح العبارة، جهوريّ الصوت حسنه، وحسن المنظر.

وقد اشتهر عنه البيان؛ وهذا الوصف تكاد تتفق عليه المراجع، والبيان صفة يتحقق منها من يسمع منه مباشرة؛ ويوصف كذلك البيان في الكتابة، وقد وجدناه كذلك في هذه «التعليقة» وكتاب «أحكام القرآن»؛ ويعزز ذلك أنه كان من العلماء المتفّننين؛ فقد برع في الأصلين والفقه والتفسير والخلاف وغيرها من العلوم، فمن حاز هذه العلوم وتمكّن منها، فهو حقيق أن يكون من أهل البيان.

 

‌‌7 - من علاقته بأهل العلم في زمانه:

ممّا تميّز به الكيا الهراسيُّ أنه كان طيّب المعشر، حسن الأخلاق كما جاء في وصفه عند مترجميه، وقد وقفنا على عدد من النماذج التي تشهد لذلك، وقبل أن نسردها يحسن بيان أن ما حصل من منافسة ومنازعة وجدل في المسائل العلمية
হাফেজ আস-সালাফি বলেছেন: “আমি ফকিহগণকে বলতে শুনেছি: আল-জুওয়াইনি তার ছাত্রদের সম্পর্কে বলতেন যখন তারা বিতর্ক করতেন: সূক্ষ্মতা আল-খাওয়াফির জন্য (মৃত্যু ৫০০ হিজরি), ক্ষিপ্রতা আল-গাজালির জন্য এবং প্রাঞ্জলতা ইলকিয়ার জন্য।”

ইবনে আসাকির বলেছেন: “তিনি এমন এক ইমাম যিনি গবেষণায় বীরত্বপূর্ণ স্তরে পৌঁছেছিলেন।”

ইবনে কাসির (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরি) বলেছেন: “শাফেয়ী মাযহাবের নেতৃস্থানীয় বড় ফকিহদের অন্যতম … , তিনি বড় আলেম এবং ফকিহদের সরদারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।”

আল-খাইদারি (মৃত্যু ৮৯৪ হিজরি) বলেছেন: “সুমহান ইমাম, উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, ইমামদের মাঝে সম্মানিত, শাফেয়ী আলেমগণের ইমাম।”

তার জীবনীকাররা তার যে সকল গুণের কথা বর্ণনা করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো তিনি ছিলেন অত্যন্ত গুণী, প্রাঞ্জলভাষী, উচ্চ ও সুমধুর কণ্ঠের অধিকারী এবং সুদর্শন।

তার প্রাঞ্জলতা ও সাবলীল বাচনভঙ্গি প্রসিদ্ধ ছিল; প্রায় সকল সূত্রই এই বর্ণনার ব্যাপারে একমত। এই প্রাঞ্জলতা এমন একটি গুণ যা সরাসরি শ্রবণকারীর নিকট স্পষ্ট হয়; তেমনিভাবে লেখার ক্ষেত্রেও প্রাঞ্জলতা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়। আমরা এই ‘আত-তালিকাহ’ এবং ‘আহকামুল কুরআন’ গ্রন্থেও তা অনুরূপ পেয়েছি। এর প্রমাণ আরও সুদৃঢ় হয় যে তিনি বহুমুখী পাণ্ডিত্যের অধিকারী আলেম ছিলেন; তিনি উসুলদ্বয় (উসুলে দ্বীন ও উসুলে ফিকহ), ফিকহ, তাফসির, খিলাফ (মতের ভিন্নতা সংক্রান্ত শাস্ত্র) এবং অন্যান্য বিজ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন। সুতরাং যিনি এই সকল জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তাতে পূর্ণ দক্ষতা লাভ করেছেন, তিনি প্রাঞ্জলভাষীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ারই যোগ্য।

 

‌‌৭ - সমকালীন আলেমদের সাথে তার সম্পর্ক:

ইলকিয়া আল-হাররাসির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল যে তিনি অত্যন্ত অমায়িক ও সচ্চরিত্রবান ছিলেন, যেমনটি তার জীবনীকারদের বর্ণনায় এসেছে। আমরা এমন অনেক নিদর্শনের সন্ধান পেয়েছি যা এর সাক্ষ্য দেয়। তবে সেগুলো বিস্তারিত বর্ণনার আগে এটি স্পষ্ট করা সমীচীন যে, ইলমি মাসআলাসমূহে যে প্রতিযোগিতা, বিবাদ ও বিতর্ক সংঘটিত হয়েছিল...
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ২৩)
وغيرها، لم تكن مؤثرةً في علاقته الاجتماعية بأهل العلم والفضل.

- فمما نُقل عن علاقته مع بعض أعلام الحنابلة: ثناؤه على الإمام الفقيه أبي الخطاب الكلوذاني (ت 510 هـ). ففي «سير أعلام النبلاء»(1): «كان إلكيا إذا رأى الكلوذاني مُقبلا قال: قد جاء الجبل»، وفي نقل آخر: «كان إلكيا إذا رأى أبا الخطّاب قال: قد جاء الفقه».

- وكذلك ما جاء عن علاقته العلمية بالعالم الفقيه ابن عقيل الحنبلي أنهما كانا يتناظران كثيرًا(2)، فكان يُنشد إلكيا - تلطفا مع ابن عقيل - في المناظرة:

«أرفق بعبدك إن فيه فهاهةً … جبلية ولك العراق وماؤها»(3)

- وقال السلفي: «ولقد تكلم - يعني ابن عقيل - يومًا مع شيخنا أبي الحسن إلكيا الهراسي في مسألة، فقال شيخُنا: هذا ليس مذهبك، فقال: أنا لي اجتهادٌ، متى ما طالبني خصمي بحُجَّةٍ: كان عندي ما أدفع به عن نفسي، وأقوم له بحجتي، فقال له شيخنا: كذلك الظن بك»(4).

- سياق إيراد ابن خلكان فتوى إلكيا الهراسي في حكم لعن يزيد بن معاوية، ثُمَّ تعقيبه بفتوى مخالفة لأبي حامد الغزالي في نفس المسألة قد يُشعر بوجود منافسة بينهما، وهو أمر طبيعي بين الأقران، لا سيما وقد جمعهم بلدٌ واحد والتتلمذ لشيخ واحد.

--------------------------------------------

(1) (19/ 348).

(2) وقد سجل ابن عقيل شيئا من تلك المناظرات في «فنونه».

(3) «ذيل طبقات الحنابلة» (1/ 326).

(4) المصدر السابق.

এবং অন্যান্য বিষয়গুলো, জ্ঞান ও ফযীলতপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে তাঁর সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি।

- হাম্বলী মাযহাবের কিছু প্রথিতযশা ইমামের সাথে তাঁর সম্পর্কের বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো: ইমাম ফকীহ আবু আল-খাত্তাব আল-কালুযানী (মৃত ৫১০ হিজরী)-এর প্রতি তাঁর ভূয়সী প্রশংসা। 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে(১): "ইলকিয়া যখন কালুযানীকে আসতে দেখতেন, তখন বলতেন: 'পাহাড় এসেছে'"; অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে: "ইলকিয়া যখন আবু আল-খাত্তাবকে দেখতেন, তখন বলতেন: 'স্বয়ং ফিকহ চলে এসেছে'।"

- একইভাবে ফকীহ ইবনে আকীল আল-হাম্বলীর সাথে তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক সম্পর্কের বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা উভয়ে প্রচুর বিতর্কে লিপ্ত হতেন(২)। ইলকিয়া—ইবনে আকীলের প্রতি সৌজন্য ও নম্রতা প্রদর্শন করে—বিতর্কের সময় এই কবিতাটি আবৃত্তি করতেন:

«আপনার দাসের প্রতি সদয় হোন, যার মধ্যে স্বভাবজাত জড়তা রয়েছে … আর আপনার জন্যই তো সমগ্র ইরাক ও তার বারিনিধি (পানি)»(৩)

- আস-সিলাফী বলেন: "একদিন তিনি—অর্থাৎ ইবনে আকীল—আমাদের শায়খ আবুল হাসান ইলকিয়া আল-হাররাসীর সাথে একটি মাসআলা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন আমাদের শায়খ বললেন: 'এটি তো আপনার মাযহাব নয়।' তিনি উত্তর দিলেন: 'আমার নিজস্ব ইজতিহাদ রয়েছে; যখনই আমার প্রতিপক্ষ আমার কাছে কোনো দলীল দাবি করবে, তখন আমার কাছে এমন কিছু থাকবে যা দিয়ে আমি আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারব এবং নিজের প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারব।' তখন আমাদের শায়খ তাঁকে বললেন: 'আপনার প্রতি আমার এমনই সুধারণা ছিল'"(৪)।

- ইবনে খাল্লিকান কর্তৃক ইয়াযীদ বিন মুয়াবিয়ার ওপর লানত দেওয়ার বিধান সম্পর্কে ইলকিয়া আল-হাররাসীর ফতোয়া উল্লেখ করা এবং এর পরপরই একই বিষয়ে আবু হামিদ আল-গাজালীর ভিন্নধর্মী ফতোয়া নিয়ে আসা—তাঁদের উভয়ের মধ্যে এক ধরণের প্রতিযোগিতার অস্তিত্বের ইঙ্গিত দিতে পারে। সমসাময়িকদের মধ্যে এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়, বিশেষ করে যখন তাঁরা একই ভূখণ্ডে অবস্থান করতেন এবং একই শায়খের নিকট শিক্ষালাভ করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) (১৯/ ৩৪৮)।

(২) ইবনে আকীল সেই সব বিতর্কের কিছু অংশ তাঁর 'ফুনুন' গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন।

(৩) 'যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ' (১/ ৩২৬)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস।

(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌8 - من الأقوال المشهورة عنه:

- حدَّث الحافظ أبو طاهر السِّلَفيُّ قال: «استفتيتُ شيخنا إِلكْيا الهراسيَّ ببغداد سنة 495 هـ - أو قبلها أو بعدها بقليل - لكلامٍ جرى بيني وبين الفقهاء بالمدرسة النظامية التي هو مدرسها: ما يقول الإمام وفَّقه الله تعالى في رجلٍ أوصى بثلث ماله للعلماء والفقهاء، هل يدخل كتَبَةُ الحديث تحت هذه الوصية أم لا؟

كتب بخطِّه تحت السؤال: نعم، وكيف لا، وقد قال النبيُّ صلى الله عليه وسلم: من حفظ على أمتي أربعين حديثاً من أمر دينها بعثه الله يوم القيامة فقيهاً عالماً»(1).

- ومنها قوله: «إذا جالت فرسان الأحاديث في ميادين الكفاح، طارت رؤوس المقاييس في مهاب الرِّياح».

 

‌‌9 - محنته:

من ابتلاء الله تعالى لإلكيا الهراسيِّ أنه اتُّهم ورُمي عند السلطان بمذهب الباطنية، فعزم السلطان السلجوقيُّ على قتله، فحماه الخليفة المستظهر، وشهد له جماعة من العلماء بالبراءة.

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن عبد البر في «جامع بيان العلم» (1/ 292) عن أنس وأبي هريرة ومعاذ بن جبل، والبيهقي في «شعب الإيمان» (1596) من حديث أبي هريرة، ومن حديث أبي الدرداء (1597). قال النووي: «طرقه كلها ضعيفة»، وقال ابن حجر: «جمعت طرقه في جزء ليس فيها طريق تسلم من علة قادحة»، لكن يُفهم من كلام الحافظ السلفي في «الأربعين البلدانية» (ص 28) أن بعض العلماء يراه ثابتاً، وسياق إيراد إلكيا للحديث يؤيد ذلك؛ ولعله بناء على كثرة طرقها وانضمام بعضها إلى بعض. انظر: «البدر المنير» (7/ 278)، «كشف الخفاء» (2/ 246).

৮ - তাঁর প্রসিদ্ধ কিছু উক্তি:

- হাফেজ আবু তাহের আস-সিলাফি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আমি বাগদাদে ৪৯৫ হিজরি সালে — অথবা এর সামান্য আগে বা পরে — আমাদের শায়খ ইলকিয়া আল-হাররাসিকে একটি ফতোয়া জিজ্ঞাসা করেছিলাম। এটি নেজামিয়া মাদরাসায় আমার এবং ফকিহদের মধ্যে চলা একটি আলোচনার প্রেক্ষিতে ছিল, যেখানে তিনি শিক্ষকতা করতেন। প্রশ্নটি ছিল: ইমাম (আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন) এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলেন যে তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ আলেম ও ফকিহদের জন্য ওসিয়ত করেছে; হাদিস অনুলিপিকারীরা কি এই ওসিয়তের অন্তর্ভুক্ত হবে কি না?

তিনি প্রশ্নের নিচে নিজ হাতে লিখলেন: হ্যাঁ, কেন হবে না? অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য দ্বীনের ব্যাপারে চল্লিশটি হাদিস মুখস্থ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে ফকিহ ও আলেম হিসেবে পুনরুত্থিত করবেন।(১)

- তাঁর আরেকটি উক্তি হলো: "যখন হাদিসের অশ্বারোহীরা সংগ্রামের ময়দানে বিচরণ করে, তখন কিয়াস বা যুক্তি-তর্কের মস্তকগুলো ঝোড়ো বাতাসে উড়ে যায়।"

 

৯ - তাঁর পরীক্ষা:

ইলকিয়া আল-হাররাসির ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে এক পরীক্ষা ছিল যে, সুলতানের নিকট তাঁর বিরুদ্ধে বাতিনি মতাদর্শের অপবাদ দেওয়া হয়। ফলে সেলজুক সুলতান তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু খলিফা আল-মুস্তাজহির তাঁকে সুরক্ষা প্রদান করেন এবং একদল আলেম তাঁর নির্দোষ হওয়ার সাক্ষ্য দেন।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আব্দুল বার এটি 'জামেউ বায়ানিল ইলম' (১/২৯২) গ্রন্থে আনাস, আবু হুরায়রা ও মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেছেন। বায়হাকি 'শুয়াবুল ঈমান' (১৫৯৬) গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে এবং (১৫৯৭) গ্রন্থে আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী বলেছেন: "এর সকল সূত্রই দুর্বল।" ইবনে হাজার বলেছেন: "আমি এর সূত্রগুলো একটি পুস্তিকায় জমা করেছি, যার কোনোটিই ত্রুটিমুক্ত নয়।" তবে হাফেজ আস-সিলাফির 'আল-আরবাউনাল বুলদানিয়্যাহ' (পৃষ্ঠা ২৮) এর বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, কিছু আলেম এটিকে প্রমাণিত বলে মনে করেন। ইলকিয়া কর্তৃক হাদিসটি উপস্থাপনের ভঙ্গিও এটিকেই সমর্থন করে; সম্ভবত সূত্রের আধিক্য এবং একে অপরের পরিপূরক হওয়ার ভিত্তিতে তিনি এটি করেছেন। দেখুন: 'আল-বাদরুল মুনির' (৭/২৭৮), 'কাশফুল খাফা' (২/২৪৬)।

(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ২৫)
وممن ذكر تفاصيل هذه القضية: ابن الجوزي في «المنتظم»(1)، فقال في حوادث سنة 495 هـ: «في يوم الخميس سادس محرم قبض على إلكيا أبي الحسن عل بن محمد - المدرس بالنظامية ـ، فحمل إلى موضع أفرد له، ووكل به جماعة؛ وذلك أنه رفع عنه إلى السلطان محمد بأنه باطني، فتقدم بالقبض عليه فتجرَّد في حقه أبو الفرج بن السيبي القاضي (ت 504 هـ)، وأخذ المحاضر، وكتب أبو الوفاء بن عقيل خطه له بصحة الدين، وشهد له بالفضل، وخوطب من دار الخلافة في تخليصه فاستنقذ».

وقد بين ابن السبكي سبب هذه الفتنة قائلا: «ومن غريب ما اتفق له أنه أُشيع أنَّ إلكيا باطني يرى رأي الإسماعيلية، فنمت له فتنة هائلةٌ، وهو بريء من ذلك، ولكن وقع الاشتباه على الناقل؛ فإنَّ صاحب الألموت ابن الصباح الباطني الإسماعيلي كان يُلقب بـ: إلكيا أيضًا، ثم ظهر الأمر وفرجت كربة شمس الإسلام صلى الله عليه وسلم، وعلم أنَّه أُتي من توافق اللقبين»(2)، وكان من آثار هذه المحنة أنه نزع من التدريس في النظامية وقت الفتنة، ثم بعد ما شهد له العلماء بالبراءة، أعيد له التدريس.

تنويه: جاء في كتاب «يوميات فقيه حنبلي»(3) لابن البناء (ت 471 هـ) ما نصه: «وفي يوم الجمعة الثالث عشر منه(4)، وكانت نوبتي في جامع المنصور، عُرفتُ أَنَّ الهراسي الواعظ حُطَّ من الكرسي، وأنكر عليه أسباب يوردها فظيعة.

--------------------------------------------

(1) (17/ 74).

(2) «طبقات الشافعية الكبرى» (7/ 233).

(3) (ص 154 - 155).

(4) أي: من عام 461 هـ.

আর যারা এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: ইবনুল জাওযি তাঁর ‘আল-মুনতাজাম’ গ্রন্থে(১)। তিনি ৪৯৫ হিজরি সালের ঘটনাবলীতে বলেন: “মুহাররম মাসের ছয় তারিখ বৃহস্পতিবার নিযামিয়ার শিক্ষক—ইলকিয়া আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একদল রক্ষী মোতায়েন করা হয়। কারণ এই ছিল যে, সুলতান মুহাম্মদের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে এই মর্মে অভিযোগ করা হয়েছিল যে তিনি একজন বাতিনি (বাতেনি মতাবলম্বী)। ফলে কাজী আবু আল-ফারাজ ইবনে আস-সাইবি (মৃত্যু ৫০৪ হি.) তাঁর বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হন এবং নথিপত্র গ্রহণ করেন। আবু আল-ওয়াফা ইবনে আকিল তাঁর দ্বীনের সঠিকতার পক্ষে নিজ হাতে প্রত্যায়নপত্র লিখে দেন এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দেন। খিলাফত দরবার থেকে তাঁকে মুক্ত করার ব্যাপারে আলোচনা করা হয় এবং তাঁকে উদ্ধার করা হয়।”

ইবনুল সুবকী এই ফিতনার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন: “একটি অদ্ভুত ঘটনা এই ঘটেছিল যে, গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল ইলকিয়া একজন বাতিনি এবং ইসমাইলি মতাদর্শ পোষণ করেন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ ফিতনা তৈরি হয়েছিল, অথচ তিনি তা থেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন। মূলত সংবাদদাতার পক্ষ থেকে বিভ্রান্তি ঘটেছিল; কারণ আলামুত দুর্গের অধিপতি বাতিনি ইসমাইলি ইবনুস সাব্বাহ-কেও ‘ইলকিয়া’ উপাধিতে ভূষিত করা হতো। পরবর্তীতে বিষয়টি স্পষ্ট হয় এবং শামসুল ইসলামের বিপদ দূর হয়। তখন জানা গেল যে, মূলত দুই ব্যক্তির উপাধি এক হওয়ার কারণেই এই বিপত্তি ঘটেছিল”(২)। এই পরীক্ষার অন্যতম প্রভাব ছিল যে, ফিতনার সময় তাঁকে নিযামিয়ার শিক্ষকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উলামায়ে কেরাম তাঁর নির্দোষ হওয়ার সাক্ষ্য দিলে তাঁকে পুনরায় শিক্ষকতায় ফিরিয়ে আনা হয়।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ইবনুল বান্না (মৃত্যু ৪৭১ হি.)-এর ‘ইউমিয়্যাতু ফকিহিন হামবালিয়্যিন’ (একজন হামবলি ফকিহর ডায়েরি)(৩) গ্রন্থে যা এসেছে তার মূল পাঠ হলো: “ঐ মাসের তেরো তারিখ শুক্রবার(৪), যখন আল-মানসুর জামে মসজিদে আমার পালা ছিল, আমি জানতে পারলাম যে ওয়ায়েজ (ওয়াজকারী) আল-হাররাসিকে তাঁর আসন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি যেসব ভয়াবহ বিষয় বর্ণনা করতেন তার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) (১৭/ ৭৪)।

(২) ‘তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা’ (৭/ ২৩৩)।

(৩) (পৃষ্ঠা ১৫৪ - ১৫৫)।

(৪) অর্থাৎ: ৪৬১ হিজরি সাল থেকে।

(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ২৬)
ومناكير يذكرها، وتعريضات بأهل السُّنَّة، وتلويحات بفضل الأشعري ومن وافقهم، وتوهيمات على العوام بأنّ أصحاب الحديث مشبهة، وفعل ثانيةً كذاك، وكسر كرسيه الذي بجامع المنصور، وتولَّى ذلك ابن سُكَرة الهاشمي حفظه الله».

ولنا مع هذا النص وقفةٌ، وهي أن يقال: إنَّ هذا المذكور في القصة ليس هو إلكيا الهراسي، الفقيه المشهور - صاحب هذه التعليقة - كما توهم المعلق على الكتاب المذكور؛ لأنَّ الهراسي كان وقتها عمره قرابة إحدى عشرة سنة، ولم يكن قد دخل بغداد كما سبق بيانه في رحلاته، فضلا عن كونه يتصدر مجالس الوعظ في هذا السن المبكر من عمره. ولعل المذكور في تلك القصة شخص آخر يشابهه في هذه النسبة إن صحت قراءة المحقق؛ وإلا فإنها تحتمل - حسب الرسم الذي اطلعنا عليه في النسخة الخطية من الكتاب المذكور - أوجها أخرى، والله أعلم.

 

‌‌10 - وفاته:

توفي الإمام إلكيا في بغداد، عصر يوم الخميس، مستهل شهر محرم عام 504 للهجرة، - وله ثلاث وخمسون (53) سنة ـ، ودفن من الغد في مقبرة باب أبرز بتربة الشيخ أبي إسحاق الشيرازي -رحمهما الله-. ورثاه تلميذه وخادمه في النظامية أبو القاسم إبراهيم بن عثمان الغزي ارتجالاً من قصيدة، وهي:

هي الحوادث لا تبقي ولا تذر … ما للبرية من محتومها وَزَرُ

لَو كَانَ يُنجِي عُلُوٌّ مِنْ بَوَائِقِهَا … لَمْ تُكْسَفِ الشَّمْسُ، بَلْ لَم يُكْسَفِ(1) الْقَمَرُ

قُلْ للجبان الَّذِي أَمْسَى عَلَى حَذَرٍ … مِنَ الْحِمَامِ مَتَى رَدَّ الرَّدَى الْحَذَرُ

--------------------------------------------

(1) في بعض المصادر: (لم يخسف).

এবং সেখানে তিনি এমন কিছু আপত্তিকর কথা উল্লেখ করেছেন, যা আহলে সুন্নতের প্রতি কটাক্ষপূর্ণ, আশআরী ও তাদের অনুসারীদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি ইঙ্গিতবাহী, এবং সাধারণ মানুষের মনে এই বিভ্রম সৃষ্টি করার প্রয়াস যে হাদীসবিদগণ (আসহাবুল হাদীস) হলেন সাদৃশ্যদানকারী (মুসাব্বিহা)। তিনি দ্বিতীয়বারও অনুরূপ কাজ করেন। পরে জামে মনসুরে অবস্থিত তার আসনটি ভেঙে ফেলা হয়। ইবনে সুকারা আল-হাশিমী (আল্লাহ তাকে হেফাজত করুন) এই কাজটি সম্পন্ন করেছিলেন।

এই পাঠ্যটি সম্পর্কে আমাদের একটি পর্যবেক্ষণ রয়েছে। আর তা হলো: এই ঘটনায় উল্লিখিত ব্যক্তিটি বিখ্যাত ফকীহ ইলকিয়া আল-হাররাসী—যিনি এই টীকাগ্রন্থের (তালীকা) রচয়িতা—তিনি নন, যা উক্ত গ্রন্থের ভাষ্যকার ভুলবশত ধারণা করেছেন। কারণ, তখন হাররাসীর বয়স ছিল মাত্র এগারো বছরের কাছাকাছি এবং ইতিপূর্বে তার ভ্রমণবৃত্তান্তে যেমনটি বর্ণিত হয়েছে, তখনো তিনি বাগদাদে প্রবেশ করেননি। এছাড়া এত অল্প বয়সে তার পক্ষে ওয়ায-নসিহতের মজলিসে নেতৃত্ব দেওয়াও সম্ভব ছিল না। সম্ভবত এই ঘটনায় উল্লিখিত ব্যক্তিটি অন্য কেউ, যার উপাধি তার সাথে মিলে যায়—যদি মুহাক্কিকের পাঠোদ্ধার সঠিক হয়ে থাকে। অন্যথায়, উক্ত গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে আমরা যে লিখনশৈলী দেখেছি, তা অনুযায়ী এর আরও ভিন্ন পাঠের সম্ভাবনা রয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌১০ - তার মৃত্যু:

ইমাম ইলকিয়া ৫০৪ হিজরী সনের মহররম মাসের শুরুতে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন। সে সময় তার বয়স হয়েছিল তিপ্পান্ন (৫৩) বছর। পরদিন তাকে বাবুল আবরাজ কবরস্থানে শায়খ আবু ইসহাক আল-শিরাজীর সমাধিস্থলে দাফন করা হয়—আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন। নিযামিয়া মাদরাসায় তার ছাত্র ও খাদেম আবুল কাসিম ইবরাহিম ইবনে উসমান আল-গাযযী তাৎক্ষণিকভাবে একটি শোকগাথা আবৃত্তি করেন, যা হলো:

এগুলো হলো বিপদাপদ, যা কাউকে ছাড় দেয় না এবং কোনো কিছু অবশিষ্ট রাখে না … সৃষ্টির জন্য এর অমোঘ নিয়তি থেকে কোনো আশ্রয় নেই।

যদি উচ্চ মর্যাদা কাউকে বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারতো … তবে সূর্য গ্রহণ লাগত না, এমনকি চন্দ্রও গ্রহণ লাগত(১) না।

সেই ভীরুকে বলো, যে মৃত্যুর ভয়ে সর্বদা সতর্ক থাকে … সতর্কতা কবেই বা মৃত্যুকে প্রতিহত করতে পেরেছে?

--------------------------------------------

(১) কোনো কোনো উৎসে বর্ণিত হয়েছে: (চন্দ্রগ্রহণ লাগত না)।

(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ২৭)
بكى على شمسه الإسلام إذ أفلت … بأدمع قل في تشبيهها المطر

حبر عهدناه طلق الوجه مبتسما … والبشر أحسن ما يلقى به البشر

لئن طوته المنايا تحت أخمصها … فعلمه الجم في الآفاق منتشر

سقى ثراك - عماد الدين - كل ضحى … صافي الغمام ملئ الودق منهمر

عند الورى من أسى ألفيته خبر … فهل أتاك من استيحاشهم خبر

أحيا ابن إدريس درس كنت تورده … تحار في نظمه الأذهان والفكر

من فاز منه بتعليق فقد علقت … يمينه بشهاب(1) ليس ينكسر

كأنما مشكلات الفقه يوضحها … جباه دهم لها من لفظه غرر

ولو عرفت له مثلا دعوت له … وقلت دهري إلى شرواه مفتقر(2)

 

‌‌11 - مؤلفاته:

ذكر في ترجمة إلكيا أن له مصنفات كثيرة، إلا أنه لم يصل إلينا منها - مما استطعنا الاطلاع عليه - إلا ثلاثة كتب، ولم ينشر منها حتى كتابة هذه المقدمة إلا «أحكام القرآن».

وكتب التراجم لم تسرد لنا عناوينها بشكل واضح، ولقد اجتهدنا في جمع هذه الكتب ووصف محتواها قدر الوسع، وحاولنا تحرير عناوينها بما تيسر لنا من معلومات.

1 - «أحكام القرآن»(3)، مطبوع بهذا العنوان. أغلب المصادر لم تذكره في

--------------------------------------------

(1) في بعض المصادر: (بحسام).

(2) «تاريخ دمشق» (7/ 52). وقارن مع: «معجم السفر» (ص 454).

(3) «اللمع الألمعية» (1/ 411)، «العقد المذهب» (ص 115)، «كشف الظنون» (1/20).

ইসলামের সূর্য যখন অস্তমিত হলো, ইসলাম তার বিদায়ে রোদন করল … এমন সব অশ্রুবিন্দুতে যা বৃষ্টির তুলনায় নগণ্য

তিনি ছিলেন এমন এক বিদগ্ধ পণ্ডিত যাঁকে আমরা সর্বদা হাসোজ্জ্বল ও প্রফুল্ল চিত্তে দেখতাম … আর মানুষের সাথে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে প্রফুল্লতাই তো শ্রেষ্ঠ গুণ

যদিও মৃত্যু তাঁকে আপন পদতলে পিষ্ট করেছে … তবুও তাঁর অগাধ জ্ঞান দিগন্তজুড়ে বিস্তৃত

হে ইমাদুদ্দীন, প্রতিদিন প্রভাতে স্বচ্ছ ও বারিধারাসিক্ত মেঘমালা … তোমার কবরের মাটি সিক্ত করুক

শোকের কারণে মানুষের কাছে তুমি আজ এক স্মৃতিতে পরিণত হয়েছ … তবে তাদের এই বিমর্ষতার সংবাদ কি তোমার কাছে পৌঁছেছে?

তুমি যে পাঠ দান করতে ইবনে ইদ্রিস তা পুনর্জীবিত করেছেন … যার বিন্যাসশৈলী দেখে মেধা ও চিন্তাশক্তি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যায়

যে ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে কোনো টীকা বা ভাষ্য লাভ করেছে, সে যেন তাঁর ডান হাত দিয়ে … এমন এক নক্ষত্রকে(১) আঁকড়ে ধরেছে যা কখনো বিলীন হয় না

ফিকহ শাস্ত্রের জটিল বিষয়গুলোকে তিনি এমনভাবে স্পষ্ট করেন … যেন তাঁর শব্দের দীপ্তিতে কালো ঘোড়ার কপালে শুভ্র তিলক ফুটে ওঠে

যদি তাঁর সমতুল্য কেউ আছে বলে আমার জানা থাকত, তবে আমি তাঁর জন্য প্রার্থনা করতাম … এবং বলতাম যে, আমার এই সময়কাল তাঁর মতো মানুষের অভাব বোধ করছে(২)

 

‌‌১১ - তাঁর রচনাবলী:

ইলকিয়ার জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর বহু গ্রন্থ রয়েছে। তবে আমাদের লভ্য তথ্যানুযায়ী সেগুলোর মধ্য থেকে মাত্র তিনটি বই আমাদের নিকট পৌঁছেছে। এই ভূমিকা লেখা পর্যন্ত সেগুলোর মধ্য থেকে কেবল ‘আহকামুল কুরআন’ গ্রন্থটিই প্রকাশিত হয়েছে।

জীবনী গ্রন্থগুলোতে তাঁর বইগুলোর শিরোনাম স্পষ্টভাবে বিন্যস্ত করা হয়নি। আমরা সাধ্যমতো তাঁর বইগুলো সংগ্রহ করার এবং সেগুলোর বিষয়বস্তু বর্ণনা করার প্রয়াস চালিয়েছি এবং আমাদের প্রাপ্ত তথ্যানুসারে শিরোনামসমূহ পরিমার্জন করার চেষ্টা করেছি।

১ - ‘আহকামুল কুরআন’(৩), এই শিরোনামেই মুদ্রিত। অধিকাংশ উৎস এটি উল্লেখ করেনি...

--------------------------------------------

(১) কিছু উৎসে রয়েছে: (তলোয়ার দ্বারা)।

(২) ‘তারিখু দিমাশক’ (৭/৫২)। এবং তুলনা করুন: ‘মুজামুস সাফার’ (পৃষ্ঠা ৪৫৪)।

(৩) ‘আল-লুমআ আল-আলমায়্যাহ’ (১/৪১১), ‘আল-আকদ আল-মুদাহহাব’ (পৃষ্ঠা ১১৫), ‘কাশফুয যুনুন’ (১/২০)।

(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ২৮)
ترجمته؛ وأول من وجدنا ينسبه إليه بهذا العنوان هو قطب الدين الخيضري (894 هـ)؛ وعند ابن الملقن (ت 804 هـ) جاء تسميته بـ: «الأحكام»، ولعله من باب الاختصار في التسمية. والكتاب اشتهر بهذه التسمية عند المتأخرين، وطبع بهذا العنوان، ويؤيد هذه التسمية ما ذكره إلكيا في مقدمة كتابه قائلا: «أردت أن أصنف في أحكام القرآن كتابا … ».

إلا أن عنوان الكتاب في نسخة خطية: «شفاء الغليل في غوامض التنزيل»(1). وجاء في المقدمة: «أردت أن أصنّف في أحكام القرآن كتابا أشرح فيه ما انتزعه الشافعي رضي الله عنه من أخذ الدلائل في غوامض المسائل … حرَّرتُ في شرحها: هذه الفصول المتضمنة من اللفظ والمعنى، شفاء كل عليل مع انتخابي فيها قصد السبيل»(2). ومن خلال هذا النص نجد إلكيا أشار إلى هذا العنوان، وهذه التسمية أقرب لبيان محتواه، ويناسب طريقة إلكيا في تسمية كتبه.

ثم إننا بالنظر في محتوى الكتاب وجدنا أن إلكيا اعتنى باستنباط مسائل أصولية وفقهية وعقدية ولغوية، ولم يقتصر على الأحكام الفقهية، ومع ذلك لا يمكن الجزم بعنوان الكتاب الذي وضعه مصنفه، وإن كان كلاهما صادقا في الدلالة على مضمونه.

وأول من نقل عنه - فيما وقفنا عليه - هو ابن السبكي(3)، ثم الزركشي(4)،

--------------------------------------------

(1) وقد ذكر إسماعيل باشا في «إيضاح المكنون» (2/ 51) هذا الكتاب ونسبه للطبري، والمقصود إلكيا الطبري الهراسي.

(2) (1/2، 3).

(3) انظر: الأشباه والنظائر (2/ 126). والنقل في «أحكام القرآن» (2/ 424)

(4) «المنثور في القواعد» (2/ 164)، «تشنيف المسامع» (1/ 643)، «البحر المحيط» (3/ 457)، =

তাঁর জীবনী; আমরা সর্বপ্রথম যাকে পেয়েছি যিনি একে এই শিরোনামে তাঁর দিকে নিসবত করেছেন তিনি হলেন কুতুবুদ্দিন আল-খাইদারি (৮৯৪ হিজরি); ইবনুল মুলাক্কিনের (মৃত্যু ৮০৪ হিজরি) নিকট এর নামকরণ ‘আল-আহকাম’ হিসেবে এসেছে, সম্ভবত এটি নামকরণের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্তকরণের অংশ হিসেবে করা হয়েছে। আর বইটি পরবর্তী যুগের আলিমদের নিকট এই নামেই প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং এই শিরোনামেই মুদ্রিত হয়েছে। এই নামকরণকে সমর্থন করে ইলকিয়া তাঁর বইয়ের ভূমিকায় যা উল্লেখ করেছেন: “আমি আহকামুল কুরআনের বিষয়ে একটি গ্রন্থ সংকলন করতে চেয়েছি … ”।

তবে একটি পাণ্ডুলিপিতে বইটির শিরোনাম হলো: ‘শিফাউল গালীল ফী গাওয়ামিদিত তানযীল’(১)। এবং ভূমিকায় এসেছে: “আমি আহকামুল কুরআনের বিষয়ে একটি গ্রন্থ সংকলন করতে চেয়েছি যেখানে আমি ইমাম শাফেঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জটিল মাসআলাসমূহের দলিল আহরণ থেকে যা উদ্ভাবন করেছেন তা ব্যাখ্যা করব … আমি এর ব্যাখ্যায় এই পরিচ্ছেদগুলো লিপিবদ্ধ করেছি যা শব্দ ও অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা প্রতিটি পিপাসার্তের জন্য প্রশান্তি স্বরূপ এবং এতে আমি সঠিক পথটি বেছে নিয়েছি”(২)। এই পাঠ্যের মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে ইলকিয়া এই শিরোনামের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, এবং এই নামকরণটি এর বিষয়বস্তু বর্ণনার অধিক নিকটতর এবং এটি তাঁর বইয়ের নামকরণের পদ্ধতির সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অতঃপর বইটির বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে আমরা দেখতে পেয়েছি যে, ইলকিয়া উসূলি, ফিকহি, আকিদাগত এবং ভাষাতাত্ত্বিক মাসআলাসমূহ উদ্ভাবনের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন এবং শুধুমাত্র ফিকহি বিধানের (আহকাম) মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি। তা সত্ত্বেও, লেখক কর্তৃক নির্ধারিত বইটির শিরোনাম নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়, যদিও উভয় শিরোনামই এর বিষয়বস্তু নির্দেশ করার ক্ষেত্রে সঠিক।

আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, তাঁর থেকে সর্বপ্রথম যিনি উদ্ধৃতি দিয়েছেন তিনি হলেন ইবনুস সুবকি(৩), তারপর যারকাশি(৪),

--------------------------------------------

(১) ইসমাঈল পাশা ‘ইদাহুল মাকনুন’ (২/৫১) গ্রন্থে এই বইটির কথা উল্লেখ করেছেন এবং একে তাবারির দিকে নিসবত করেছেন, আর এখানে উদ্দেশ্য হলো ইলকিয়া তাবারি আল-হাররাসি।

(২) (১/২, ৩)।

(৩) দেখুন: আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর (২/১২৬)। আর ‘আহকামুল কুরআন’ (২/৪২৪) থেকে উদ্ধৃতি।

(৪) ‘আল-মানসুর ফিল কাওয়াইদ’ (২/১৬৪), ‘তাশনীফুল মাসামি’ (১/৬৪৩), ‘আল-বাহরুল মুহীত’ (৩/৪৫৭), =

(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ২৯)
وهذه النقول موجودة في المطبوع من «أحكام القرآن».

كما قد أشار إلكيا في هذا الكتاب إلى تصانيفه في الأصول والخلاف دون تسميتها، مما يدل على تأخر «أحكام القرآن» في التأليف عنها.

ومن مقاصد الكيا في هذا الكتاب: الرد على أبي بكر الجصاص (ت 370 هـ) في كتابه: «أحكام القرآن» انتصاراً للإمام الشافعي، كما ألمح إليه في مقدمته، وصرح به في ثنايا كتابه؛ كما أنه يرد على القاضي إسماعيل المالكي (ت 282 هـ) في عدد من المواضع فيما يتعلق بالنقل عن الإمام الشافعي.

2 - «تعليق في الكلام»، ويسمى أيضاً: «التعليقة الكلامية» أو «كتاب في أصول الدين»(1). ذكر الرازي في «الرِّياض المونقة»(2) في باب «شرح أقوال أهل السنة والجماعة» ضمن مصنفات وأعلام الأشاعرة ما نصه: « … والإمام شمس الإسلام أبو الحسن الهراس، وله تعليقة في الكلام، لو قلت إنها أحسن ما صنف في مذهبنا لصدقت». وقد نقل عنها أبو العباس ابن تيمية (ت 728 هـ) في «درء التعارض»(3)، في موضعين وصفه بأنه في الكلام، وبالمقارنة بين نقوله والمخطوطة التي بين أيدينا من التعليقة وقفنا على وجودها فيها بألفاظها(4).

ومن الأهمية بمكان أن نذكر هنا أن ابن تيمية قال في موضعين: «وممن ذكر ذلك: أبو الحسن الطبري المعروف بـ: إلكيا في كتابه في الكلام أو بعض

--------------------------------------------

= والنقل بمعناه: في «أحكام القرآن» (1/42)، (4/ 259).

(1) مخطوط في دار الكتب المصرية كلام/ 290، ناقص.

(2) (ص 183).

(3) (3/ 108 - 109)، (7/ 357)، (8/ 94).

(4) انظر: التعليقة الكلامية (ق/ 12/ ظ - 13/ ظ)

এই উদ্ধৃতিগুলো 'আহকামুল কুরআন' এর মুদ্রিত সংস্করণে বিদ্যমান রয়েছে।

তেমনিভাবে ইলকিয়া এই গ্রন্থে উসুল এবং খিলাফ বিষয়ের ওপর তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির নাম উল্লেখ না করেই সেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা নির্দেশ করে যে 'আহকামুল কুরআন' গ্রন্থটি সেগুলোর পরে রচিত হয়েছে।

এই গ্রন্থে আল-কিয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ইমাম শাফিঈর পক্ষালম্বন করে আবু বকর আল-জাসসাস (মৃত্যু: ৩৭০ হিজরি)-এর 'আহকামুল কুরআন' গ্রন্থের খণ্ডন করা, যেমনটি তিনি তাঁর ভূমিকার মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং তাঁর গ্রন্থের মাঝখানে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও তিনি ইমাম শাফিঈর উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্থানে কাজী ইসমাইল আল-মালিকি (মৃত্যু: ২৮২ হিজরি)-এরও জবাব দিয়েছেন।

২ - 'তালীক ফিল কালাম', একে 'আত-তালীকাতুল কালামিয়্যাহ' অথবা 'কিতাবুন ফী উসুলিদ্দীন'ও বলা হয়(১)। রাজি তাঁর 'আর-রিয়াযুল মুনিফাহ'(২) গ্রন্থে 'আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বক্তব্যসমূহের ব্যাখ্যা' অধ্যায়ে আশআরি গ্রন্থকার ও ব্যক্তিবর্গের তালিকায় নিম্নোক্তভাবে উল্লেখ করেছেন: '... এবং ইমাম শামসুল ইসলাম আবুল হাসান আল-হাররাস; কালাম শাস্ত্রের ওপর তাঁর একটি তালীকা (টীকা) রয়েছে। আমি যদি বলি যে আমাদের মাজহাবে এটিই শ্রেষ্ঠতম রচনা, তবে আমি সত্যই বলব।' আবু আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরি) তাঁর 'দারউত তাআরুয'(৩) গ্রন্থে এ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। তিনি দুটি স্থানে একে কালাম শাস্ত্রের কিতাব হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর উদ্ধৃতি এবং আমাদের হাতে থাকা পাণ্ডুলিপির তালীকার সাথে তুলনা করার মাধ্যমে আমরা সেগুলো হুবহু শব্দসহ উক্ত কিতাবে পেয়েছি(৪)।

এখানে এটি উল্লেখ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, ইবনে তাইমিয়্যাহ দুটি স্থানে বলেছেন: "যাঁরা এটি উল্লেখ করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আবুল হাসান আত-তবারী, যিনি ইলকিয়া নামে পরিচিত; কালাম শাস্ত্রের ওপর রচিত তাঁর গ্রন্থে অথবা কিছু

--------------------------------------------

= এবং ভাবার্থসহ উদ্ধৃতি: 'আহকামুল কুরআন' (১/৪২), (৪/২৫৯)।

(১) মিসরীয় জাতীয় গ্রন্থাগারের (দারুল কুতুব) পাণ্ডুলিপি, কালাম/ ২৯০, অসম্পূর্ণ।

(২) (পৃ. ১৮৩)।

(৩) (৩/ ১০৮ - ১০৯), (৭/ ৩৫৭), (৮/ ৯৪)।

(৪) দেখুন: আত-তালীকাতুল কালামিয়্যাহ (পত্র/ ১২/ খ - ১৩/ খ)

(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ৩০)
نظرائه … »، و «ذكره بعض فضلاء المتكلمين من أصحاب أبي المعالي، أظنه أبا الحسن الطبري المعروف بـ: إلكيا، أو بعض نظرائه … »، إشارة إلى عدم جزمه بالنسبة إليه، وفي المخطوط الذي بين أيدينا هو منسوب إلى إلكيا، والله أعلم.

3 - «التعليقة - أو: التعليق - في الأصول»(1). وسيأتي الكلام عليه مفصلا.

4 - «تلويح مدارك الأحكام»(2)، وقد أحال عليه الزركشي في كتبه في أكثر من موضع(3)، فتارة يذكره بعنوانه كاملا، وتارة يختصره بالتلويح، وتارة بالمدارك، وتارة بمدارك الأحكام.

5 - «الجدل». ذكره ابن تيمية في «المسودة»(4).

--------------------------------------------

(1) انظر: «سلاسل الذهب» (ص 99)، «البحر المحيط» (2/ 259)، «البحر الذي زخر في شرح ألفية الأثر» (2/ 794)، مسالك الحنفا (ضمن الحاوي للفتاوى) (2/ 359)، «كشف الظنون» (1/ 423).

ذكر ابن السبكي في «الطبقات الكبرى» من تصانيفه: «كتاب في أصول الفقه». لكن جاء في «الوسطى» له و «اللمع الألمعية»: «كتابان»، وفي الطبقات الصغرى لابن السبكي و «شذرات الذهب»: «كتب». ومما يؤيد أنها ثلاثة فأكثر ما ذكره إلكيا نفسه في كتابه «أحكام القرآن» بعد تقرير صحة الإجماع، قال ما نصه (2/ 499): «فدل على صحة إجماع الأمة؛ على ما قررناه في تصانيفنا في الأصول، وبينا ما يرد عليه من الاعتراض ومنع الاحتجاج»، والذي يمكن أن نقوله هنا أن لإلكيا أكثر من كتاب في أصول الفقه.

(2) انظر: «النكت على ابن الصلاح» للزركشي (2/ 288)، «البحر الذي ذخر في شرح ألفية الأثر» (1/ 355).

(3) انظر مثلا: «البحر المحيط» (1/ 475)، (3/27، 37، 52، 116، 130 - 131، 177، 315، 378)، (4/25، 294)، «النكت على ابن الصلاح» (2/ 288 - 289)، «سلاسل الذهب» (ص 432).

(4) (2/ 971).

তার সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ … », এবং «আবু আল-মা'আলীর অনুসারীদের মধ্যে কালামশাস্ত্রের কতিপয় শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত এটি উল্লেখ করেছেন, আমি মনে করি তিনি আবুল হাসান তাবারী, যিনি ইলকিয়া নামে পরিচিত, অথবা তার সমপর্যায়ের কেউ … », এটি তাঁর প্রতি এই সম্বন্ধ নিশ্চিত না হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। আর আমাদের হাতে থাকা পাণ্ডুলিপিতে এটি ইলকিয়ার প্রতি সম্বন্ধিত করা হয়েছে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

৩ - «আত-তালিকাহ - অথবা: আত-তালিক - ফিল উসুল»(১)। এর ওপর বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।

৪ - «তালউইহু মাদারিকিল আহকাম»(২), যার উদ্ধৃতি জারকাশী তাঁর গ্রন্থসমূহে একাধিক স্থানে দিয়েছেন(৩)। কখনো তিনি একে এর পূর্ণ শিরোনামে উল্লেখ করেছেন, কখনো সংক্ষেপে 'আত-তালউইহ' নামে, কখনো 'আল-মাদারিক' নামে, আবার কখনো 'মাদারিকুল আহকাম' নামে।

৫ - «আল-জাদল»। ইবনে তাইমিয়া এটি «আল-মুসাউয়াদাহ» গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন(৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: «সালাসিলুজ জাহাব» (পৃ. ৯৯), «আল-বাহরুল মুহিত» (২/ ২৫৯), «আল-বাহরুল্লাযি যাখারা ফি শারহি আলফিয়াতিল আসার» (২/ ৭৯৪), মাসালিকুল হুনাফা (আল-হাউয়ি লিল ফাতাউয়ার অন্তর্ভুক্ত) (২/ ৩৫৯), «কাশফুজ জুনুন» (১/ ৪২৩)।

ইবনুস সুবকী «আত-তাবাকাতুল কুবরা» গ্রন্থে তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেছেন: «উসুলুল ফিকহ-এর উপর একটি কিতাব»। তবে তাঁর «আল-উস্তা» এবং «আল-লুমা' আল-লামি'আহ» গ্রন্থে এসেছে: «দুটি কিতাব», আর ইবনুস সুবকীর আত-তাবাকাতুস সুগরা এবং «শাযারাতুজ জাহাব» গ্রন্থে এসেছে: «কয়েকটি কিতাব»। এটি যে তিনটি বা তার অধিক, তার প্রমাণ হিসেবে ইলকিয়া নিজেই তাঁর «আহকামুল কুরআন» গ্রন্থে ইজমা'র বিশুদ্ধতা প্রমাণের পর যা বলেছেন তা উদ্ধৃত করা যায় (২/ ৪৯৯): «এটি উম্মাহর ইজমা'র বিশুদ্ধতা প্রমাণ করে; যা আমরা উসুল সংক্রান্ত আমাদের গ্রন্থাবলীতে প্রতিষ্ঠা করেছি এবং এর ওপর আসা আপত্তি ও দলীল হিসেবে গ্রহণের প্রতিবন্ধকতাসমূহ স্পষ্ট করেছি», এখানে আমরা যা বলতে পারি তা হলো, উসুলুল ফিকহ বিষয়ে ইলকিয়ার একাধিক কিতাব রয়েছে।

(২) দেখুন: জারকাশী রচিত «আন-নুকাতি আলা ইবনিস সালাহ» (২/ ২৮৮), «আল-বাহরুল্লাযি যাখারা ফি শারহি আলফিয়াতিল আসার» (১/ ৩৫৫)।

(৩) উদাহরণস্বরূপ দেখুন: «আল-বাহরুল মুহিত» (১/ ৪৭৫), (৩/ ২৭, ৩৭, ৫২, ১১৬, ১৩০ - ১৩১, ১৭৭, ৩১৫, ৩৭৮), (৪/ ২৫, ২৯৪), «আন-নুকাতি আলা ইবনিস সালাহ» (২/ ২৮৮ - ২৮৯), «সালাসিলুজ জাহাব» (পৃ. ৪৩২)।

(৪) (২/ ৯৭১)।

(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ৩১)
6 - «شفاء المسترشدين في مباحث المجتهدين»(1). قال عنه ابن السبكي: «وهو من أجود كتب الخلافيات»، ونقل عنه فوائد في «طبقاته الكبرى». ونقل ابن إمام الكاملية (ت 864 هـ) قولاً لإلكيا الهراسي وعزاه لكتابه «تعليق في الخلاف»(2)، والنَّص موجود في «البحر المحيط» منسوبًا إليه دون ذكر الكتاب(3)؛ فهل كتاب «شفاء المسترشدين» هو نفس «تعليقة في الخلافيات»؟ نحن وإن كنا نميل إلى ذلك إلا أننا لا نستطيع أن نجزم بشيء(4)، والله أعلم.

7 - «الكتاب المصنف في الروايات»، أحال عليه في «أحكام القرآن» أثناء كلامه على مسألة الإيتاء(5). والكتاب لم يتبين لنا موضوعه بدقة؛ فقد يكون في الروايات الحديثية، وقد يكون في الروايات عن الإمام الشافعي أو المذهب(6)، حيث إن سياق كلامه أثناء إحالته على الكتاب كانت في مسألة فقهية، حرّر فيها قول الشافعي(7).

8 - «لوامع الدلائل في زوايا المسائل». أحال عليه مختصرًا عنوانه بـ:

--------------------------------------------

(1) «كشف الظنون» (2/ 1056).

(2) «مختصر تيسير الوصول» (2/ 993). وانظر أيضا: «أحكام القرآن» (2/ 479)، «البحر المحيط» (2/ 205).

(3) «البحر المحيط» (4/ 105)، «المنثور في القواعد» (1/ 160).

(4) وقد أطلق بعضهم - كصاحب: «اللمع الألمعية» - أنَّ له تعليقاً، وهو وإن كان يحتمل أن يكون تعليقته في الأصول أو الكلام أو الخلاف؛ إلا أنَّ المشهور هو إطلاقها في الخلافيات. انظر: «الإبرازات المتعددة للكتاب» (ص 330).

(5) (4/ 318).

(6) قارن بـ: «أحكام القرآن» (3/ 53).

(7) وعلى الاحتمال الثاني؛ فهل له علاقة بكتاب: «نصرة القولين» (انظر: ص 33) أو هو غيره؟ يحتمل الأمرين.

৬ - «শিফাউল মুস্তারশিদিন ফি মাবাহিসিল মুজতাহিদিন»(১)। ইবনুস সুবকি এটি সম্পর্কে বলেছেন: «এটি খিলাফিয়্যাত (মতপার্থক্যমূলক বিষয়াবলি) সংক্রান্ত শ্রেষ্ঠ বইগুলোর একটি», এবং তিনি তাঁর «তাবাকাতুল কুবরা» গ্রন্থে এটি থেকে কিছু ফায়দা (উপকারী তথ্য) উদ্ধৃত করেছেন। ইবনু ইমামিল কামিলিয়্যাহ (মৃত্যু ৮৬৪ হিজরি) ইলকিয়া আল-হাররাসির একটি উক্তি উদ্ধৃত করেছেন এবং তা তাঁর গ্রন্থ «তালিক ফিল খিলাফ»-এর দিকে নিসবত করেছেন(২); আর এই মূল পাঠটি «আল-বাহরুল মুহিত» গ্রন্থে বইটির নাম উল্লেখ ছাড়াই তাঁর প্রতি নিসবত করে বিদ্যমান রয়েছে(৩); তাহলে «শিফাউল মুস্তারশিদিন» গ্রন্থটিই কি সেই «তালিকাতুন ফিল খিলাফিয়্যাত»? আমরা যদিও সেই দিকেই ঝুঁকে আছি, তবুও আমরা কোনো বিষয়ে দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত হতে পারছি না(৪), আর আল্লাহই ভালো জানেন।

৭ - «আল-কিতাবুল মুসান্নাফ ফির রিওয়ায়াত», তিনি তাঁর «আহকামুল কুরআন» গ্রন্থে ‘ইতা’ (প্রদান) সংক্রান্ত মাসআলা আলোচনার সময় এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন(৫)। বইটির বিষয়বস্তু আমাদের কাছে স্পষ্টভাবে ধরা দেয়নি; এটি হাদিসের বর্ণনা সংক্রান্ত হতে পারে, আবার ইমাম শাফিঈ বা মাযহাবের বর্ণনা সংক্রান্তও হতে পারে(৬), কারণ বইটির উদ্ধৃতি দেওয়ার সময় তাঁর আলোচনার প্রেক্ষাপট ছিল একটি ফিকহি মাসআলা, যেখানে তিনি শাফিঈর উক্তিটি বিশ্লেষণ করছিলেন(৭)।

৮ - «লাওয়ামি উদ-দালাইল ফি জাওয়ায়াল মাসায়িল»। তিনি এটির শিরোনাম সংক্ষিপ্ত করে এভাবে উদ্ধৃতি দিয়েছেন:

--------------------------------------------

(১) «কাশফুয যুনুন» (২/ ১০৫৬)।

(২) «মুখতাসার তায়সিরুল উসুল» (২/ ৯৯৩)। আরও দেখুন: «আহকামুল কুরআন» (২/ ৪৭৯), «আল-বাহরুল মুহিত» (২/ ২০৫)।

(৩) «আল-বাহরুল মুহিত» (৪/ ১০৫), «আল-মানসুর ফিল কাওয়াইদ» (১/ ১৬০)।

(৪) কেউ কেউ—যেমন «আল-লুমা আল-আলমাঈয়্যাহ»-এর লেখক—স্পষ্ট করে বলেছেন যে তাঁর একটি ‘তালিক’ (টিকাগ্রন্থ) আছে; যদিও সম্ভাবনা আছে যে সেটি উসুল, কালাম (ধর্মতত্ত্ব) কিংবা খিলাফ (মতপার্থক্য) বিষয়ের হতে পারে; তবে প্রসিদ্ধ মত হলো এটি খিলাফিয়্যাত (মতপার্থক্যমূলক বিষয়াবলি) সংক্রান্ত। দেখুন: «আল-ইবরাযাতুল মুতাআদ্দিদাহ লিল কিতাব» (পৃ. ৩৩০)।

(৫) (৪/ ৩১৮)।

(৬) তুলনা করুন: «আহকামুল কুরআন» (৩/ ৫৩)।

(৭) দ্বিতীয় সম্ভাবনা অনুযায়ী; এর সাথে কি «নুসরাতুল কাওলাইন» (দেখুন: পৃ. ৩৩) বইটির কোনো সম্পর্ক আছে নাকি সেটি ভিন্ন কিছু? উভয় সম্ভাবনা বিদ্যমান।

(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ৩২)
«الزوايا» في كتابه «أحكام القرآن»(1)، ونسبه إليه كذلك ابن الصلاح (ت 643) في موضعين من كتابين له؛ أما الموضع الأول، فهو في «شرح مشكل الوسيط»(2)، وأما الموضع الثاني، فهو ما نقله كمال الدين الدميري (ت 808 هـ) في كتابه «حياة الحيوان الكبرى»(3) عن ابن الصلاح (ت 643 هـ) في «رحلته». ونسبه إليه كذلك النووي (ت 676 هـ)(4)؛ وكلها في مسائل فقهية؛ وعلى هذا؛ فنستطيع أن نقول إن محتوى الكتاب في المسائل الفقهية، وعنوانه يوحي بأنه في المسائل غير المشهورة التي ليست في مظنتها. ولكن يعكر على ذلك أن إلكيا لما نقل عنه مسألة في كتاب «أحكام القرآن» تتعلق بالفرق بين حجب النقصان وحجب الحرمان، قال بعد ذلك ما نصه: «وذكرنا فرقة بين الحجبين في مسائل الزوايا»(5)، وهو فرق حسن … وذكرنا فرقة بينهما، فيفهم من خلال هذا النص أن محتواه في ذكر الفروق الفقهية، فالكتاب في الفقه، لكن تفاصيل محتواه غير معلومة لدينا، والله أعلم.

9 - «مسائل الدور»، وقد صنف في ذلك عدد من العلماء، كالغزالي وابن السبكي(6). وقد ذكر جمال الدين الإسنوي (772 هـ) تصنيفا في ذلك لإلكيا، فقال أثناء الحديث على مسألة من مسائل الطلاق في شرح كلام النووي: «إذا قال لامرأته: إذا طلقتك - أو مهما أو متى ـ، فأنت طالق قبله ثلاثا، ثم طلقها،

--------------------------------------------

(1) (2/ 352).

(2) «شرح مشكل الوسيط» (1/ 124).

(3) (2/ 1569).

(4) «المجموع شرح المذهب» (1/ 259).

(5) وقع في المطبوع من «أحكام القرآن»: الروايا، وهو تصحيف.

(6) انظر: «كشف الظنون» (2/ 1353، 1192، 1988).

«আয-যাওয়ায়া» তার «আহকামুল কুরআন» কিতাবে(১), এবং একইভাবে ইবনে আস-সালাহ (মৃত্যু ৬৪৩) তার দুটি কিতাবের দুই স্থানে এটিকে তাঁর দিকেই নিসবত করেছেন; প্রথম স্থানটি হলো «শারহু মুশকিলিল ওয়াসিত» কিতাবে(২), আর দ্বিতীয় স্থানটি হলো যা কামালুদ্দীন আদ-দামিরি (মৃত্যু ৮০৮ হি.) তার «হায়াতুল হাইওয়ানিল কুবরা» কিতাবে(৩) ইবনে আস-সালাহ (মৃত্যু ৬৪৩ হি.)-এর «রেহলা» থেকে উদ্ধৃত করেছেন। ইমাম নববীও (মৃত্যু ৬৭৬ হি.) এটিকে তাঁর প্রতি নিসবত করেছেন(৪); আর এর সবগুলোই ফিকহি মাসআলা সম্পর্কিত; এর উপর ভিত্তি করে আমরা বলতে পারি যে কিতাবটির বিষয়বস্তু ফিকহি মাসআলা সংবলিত এবং এর শিরোনাম থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে এটি এমন সব বিরল মাসআলা বিষয়ক যা সাধারণত তাদের প্রত্যাশিত স্থানে পাওয়া যায় না। তবে এতে কিছুটা সংশয় তৈরি হয় যখন ইলকিয়া তার «আহকামুল কুরআন» কিতাবে একটি মাসআলা উদ্ধৃত করেন যা অংশত বঞ্চিত হওয়া (হাজবে নুকসান) এবং পূর্ণত বঞ্চিত হওয়া (হাজবে হিরমান)-এর মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কিত; তিনি এরপর যা বলেছেন তার ভাষ্য হলো: «এবং আমরা আয-যাওয়ায়ার মাসআলাগুলোতে উভয় প্রকার বঞ্চনার মধ্যকার পার্থক্য উল্লেখ করেছি»(৫), আর এটি একটি চমৎকার পার্থক্য … এবং আমরা তাদের মধ্যে একটি পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছি। সুতরাং এই পাঠের মাধ্যমে বোঝা যায় যে এর বিষয়বস্তু ফিকহি পার্থক্যসমূহ (ফুরূক) বর্ণনার ক্ষেত্রে। অতএব কিতাবটি ফিকহ শাস্ত্রের উপর, কিন্তু এর বিষয়বস্তুর বিস্তারিত বিবরণ আমাদের কাছে অজ্ঞাত, আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

৯ - «মাসাইলুদ দাওর» (চক্রাকার মাসআলাসমূহ), এবং এ বিষয়ে একদল আলেম গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন আল-গাজালি এবং ইবনুস সুবকি(৬)। জামালুদ্দীন আল-ইসনাভি (৭৭২ হি.) ইলকিয়ার জন্য এ বিষয়ে একটি রচনার কথা উল্লেখ করেছেন, তিনি ইমাম নববীর বক্তব্যের ব্যাখ্যায় তালাকের একটি মাসআলা নিয়ে আলোচনার সময় বলেছেন: «যদি কেউ তার স্ত্রীকে বলে: যদি আমি তোমাকে তালাক দেই - অথবা যখনই বা যখনই হোক -, তবে তুমি তার আগে তিন তালাক, অতঃপর সে তাকে তালাক দিল...»

--------------------------------------------

(১) (২/ ৩৫২)।

(২) «শারহু মুশকিলিল ওয়াসিত» (১/ ১২৪)।

(৩) (২/ ১৫৬৯)।

(৪) «আল-মাজমু' শারহুল মাজহাব» (১/ ২৫৯)।

(৫) «আহকামুল কুরআন»-এর মুদ্রিত কপিতে 'আর-রাওয়ায়া' শব্দ এসেছে, যা মূলত একটি লেখনীগত ভুল (তাসহিফ)।

(৬) দেখুন: «কাশফুজ জুনুন» (২/ ১৩৫৩, ১১৯২, ১৯৮৮)।

(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতু ফী উসুলিল ফিকহ লিল-কিয়া - কিতআতুম মিনহু (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ففيه ثلاثة أوجه … »، نقلا عن إمام الحرمين: «ذهب معظم الأصحاب إلى أنه لا يقع شيء بالكلية، وكذلك إلكيا الهراسي، وصنَّف في ذلك تصنيفا إلا أنه صحَّح فيه وقوع المنجَّز وطلقتين من المعلَّق»(1). ولا نعلم إن كان المؤلِّف قد وضع له عنوانا خاصا.

10 - «مطالع الأحكام»، ذكره البدر الزركشي ونقل منه في موضع واحد قائلا: «قال إلكيا الهراسي في مطالع الأحكام … »(2)، لكن ورد نفس النقل في «شرح مختصر الروضة» للطوفي (716 هـ) منسوباً إلى الكناني في «مطالع الأحكام»(3)، وفي موضع آخر نقل منه الطوفي وسماه: «مطالع الشريعة» منسوبا إلى الكناني كذلك(4)، فالذي يظهر أن الاسم في كلا الموضعين تحرف من «إلكيا»(5) إلى «الكناني»؛ لأن رسمهما متقارب؛ ولأن الزركشي قد نقل منه الموضع الأول منسوبا إلى إلكيا الهراسي صريحاً، ثم إنه لا يُدرى من هذا الكناني(6)، والله أعلم.

11 - نصرة القولين. والمقصود أن يكون العالم له قولان مختلفان في مسألة واحدة، وهو مشهور عن الإمام الشافعي، ولذلك أفرد فيه عدد من علماء

--------------------------------------------

(1) انظر: «المهمات في شرح الروضة والرافعي» (7/ 403).

(2) انظر: «البحر المحيط» (1/ 414).

(3) (2/ 205) تحقيق آل إبراهيم، (1/ 208) تحقيق التركي.

(4) (2/ 227) تحقيق آل إبراهيم، (1/ 227) تحقيق التركي.

(5) وقد نبه الدكتور إبراهيم آل إبراهيم محقق «شرح مختصر الروضة» أن في إحدى النسخ وردت «الكتاني» بدل الكناني.

(6) ثم رأينا بعد ذلك أن الدكتور محمد بن طارق الفوزان قد أشار إلى ذلك في كتابه: «الإخلال بالنقل» (1/ 149)، ونبه على هذا الخطأ، فحمدنا الله تعالى على هذا التوارد والاتفاق في الوصول إلى نفس النتيجة البحثية.

এতে তিনটি দিক রয়েছে … », ইমামুল হারামাইন থেকে উদ্ধৃত করে: «অধিকাংশ অনুসারী এই মত পোষণ করেছেন যে, মোটেও কোনো কিছু কার্যকর হবে না। ইলকিয়া আল-হাররাসিও অনুরূপ মত পোষণ করেছেন এবং এ বিষয়ে তিনি একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন, তবে তাতে তিনি তাৎক্ষণিক তালাক এবং স্থগিত (মুআল্লাক) তালাকের মধ্য থেকে দুটি তালাক কার্যকর হওয়াকে সঠিক বলে গণ্য করেছেন»(১)। আর আমরা জানি না লেখক এর জন্য কোনো বিশেষ শিরোনাম নির্ধারণ করেছিলেন কি না।

১০ - «মাতালিউল আহকাম», বদরুদ্দীন আল-যারকাশি এটি উল্লেখ করেছেন এবং এক স্থানে তা থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন: «ইলকিয়া আল-হাররাসি মাতালিউল আহকাম-এ বলেছেন … »(২), কিন্তু তুফি (৭১৬ হি.) রচিত «শারহু মুখতাসারি রওদাহ»-এ একই উদ্ধৃতি «মাতালিউল আহকাম» গ্রন্থে আল-কিনানির প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করে বর্ণিত হয়েছে(৩), এবং অন্য এক স্থানে তুফি তা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং এর নাম দিয়েছেন: «মাতালিউশ শরীআহ», যা একইভাবে আল-কিনানির প্রতি সম্বন্ধযুক্ত(৪)। সুতরাং যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, উভয় স্থানে নামটি «ইলকিয়া»(৫) থেকে বিকৃত হয়ে «আল-কিনানি» হয়ে গেছে; কারণ তাদের লেখ্যরূপ কাছাকাছি; এবং যেহেতু যারকাশি প্রথম স্থানটি স্পষ্টভাবে ইলকিয়া আল-হাররাসির দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে উদ্ধৃত করেছেন। তদুপরি, এই কিনানি কে তা জানা নেই(৬), আর আল্লাহই ভালো জানেন।

১১ - নুসরাতুল কাওলাইন। এর উদ্দেশ্য হলো কোনো আলেমের একটি মাসআলায় দুটি ভিন্ন মত থাকা, যা ইমাম শাফেয়ীর ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ। এই কারণে একদল আলেম এ বিষয়ে স্বতন্ত্র...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: «আল-মুহিম্মাত ফি শারহির রওদাহ ওয়ার রাফেয়ি» (৭/৪০৩)।

(২) দেখুন: «আল-বাহরুল মুহিত» (১/৪১৪)।

(৩) (২/২০৫) আল-ইবরাহিম-এর সম্পাদনা, (১/২০৮) আল-তুর্কি-র সম্পাদনা।

(৪) (২/২২৭) আল-ইবরাহিম-এর সম্পাদনা, (১/২২৭) আল-তুর্কি-র সম্পাদনা।

(৫) «শারহু মুখতাসারি রওদাহ» এর সম্পাদক ডক্টর ইব্রাহিম আল-ইবরাহিম সতর্ক করেছেন যে, একটি পাণ্ডুলিপিতে «আল-কিনানি»-র পরিবর্তে «আল-কাত্তানি» এসেছে।

(৬) অতঃপর আমরা পরে দেখেছি যে, ডক্টর মুহাম্মাদ বিন তারিক আল-ফাওজান তাঁর «আল-ইখলাল বিন নাকল» (১/১৪৯) গ্রন্থে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং এই ভুলটি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তাই একই গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারায় আমরা মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি।