(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: -)
مسند الحارث بن أبي أسامة القسم: كتب السنة
الكتاب: مسند الحارث
المؤلف: الحارث بن محمد بن أبي أسامة (ت 282 هـ)
علق عليه وخرج أحاديثه: د مسعود أحمد الأعظمي
الناشر: جائزة دبي الدولية للقرآن الكريم، الإمارات
الطبعة: الأولى: 1441 هـ - 2019 م
عدد الأجزاء: 5
إعداده للشاملة: على نفقة الحاج علي وهبة رحمه الله وغفر له
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 ذو الحجة 1447
মুসনাদ আল-হারিস ইবনে আবি উসামা বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: মুসনাদ আল-হারিস
লেখক: হারিস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি উসামা (মৃত্যু ২৮২ হিজরি)
টীকা প্রদান ও হাদিস যাচাইকরণ: ড. মাসউদ আহমদ আল-আযমি
প্রকাশক: দুবাই ইন্টারন্যাশনাল হোলি কুরআন অ্যাওয়ার্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত
সংস্করণ: প্রথম: ১৪৪১ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৫
শামেলার জন্য প্রস্তুতকরণ: হাজি আলি ওয়াহবার সৌজন্যে, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁকে ক্ষমা করুন
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ জিলহজ ১৪৪৭
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ৫)
- أ -
تقديمالحمد لله ربّ العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا ونبينا محمد خاتم النبيين وإمام المرسلين، وخير خلق الله أجمعين، ورحمة الله للعالمين، وعلى آله وصحبه أجمعين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
وبعد، فإنّ علم الحديث النبوي الشريف بأصوله وتفريعاته، من أكثر العلوم التي شهدت حركة تأليفية في تراثنا الإسلامي، امتدت من الجمع والتدوين، إلى الشرح والترتيب والتأليف، إلى النقدِ والتنقيحِ والتمحيص، إلى غير ذلك من أبواب العلم.
وقد قيد الصّحابةُ رضوانُ الله عليهم كلام النبيِّ صلى الله عليه وسلم مثلما قيَّدوا عنه القرآن الكريم، باعتباره المصدر الثاني للتشريع الإسلامي، دونَ خلطٍ أو تداخلٍ بينهما، فقد روى الإمام أبو داود عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: "كنتُ أكتبُ كلَّ شيء أسمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم، أريدُ حفظه، فنهتني قريش، وقالوا: أتكتب كلَّ شيء تسمعه ورسول الله صلى الله عليه وسلم بشرٌ يتكلَّم في الغضب والرضا؟! فأمسكتُ عن الكتاب، فذكرتُ ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم، فأومأ بأصبعه إلى فيه، فقال: اكتب، فوالذي نفسي بيده ما يخرج منه إلا حق".
ولا تعارضَ بين هذا الحديث وبين ما رواهُ الإمام مسلم من حديث أبي سعيدٍ الخدري رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا تكتبُوا عنِّي، ومن
- ক -
উপস্থাপনাসমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকুলের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি, যিনি শেষ নবী ও রাসূলদের ইমাম, আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং বিশ্বজগতের জন্য রহমত। তাঁর পরিবার-পরিজন, সকল সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাঁদের সকলের প্রতিও (সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)।
অতঃপর, মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাদিস শাস্ত্র এর মূলনীতি ও শাখাপ্রশাখাসহ আমাদের ইসলামি ঐতিহ্যের সেই সকল বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত যা সবচেয়ে বেশি গ্রন্থনা ও সংকলন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে। এর ব্যাপ্তি ছিল সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধকরণ থেকে শুরু করে ব্যাখ্যা, বিন্যাস ও রচনা, এবং সমালোচনা, সংশোধন ও যাচাই-বাছাইসহ ইলমের অন্যান্য অধ্যায় পর্যন্ত।
সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) নবী কারিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীসমূহকে ঠিক সেভাবেই সংরক্ষণ করেছিলেন যেভাবে তারা তাঁর কাছ থেকে প্রাপ্ত কুরআন মাজীদকে সংরক্ষণ করেছিলেন। কারণ এটি ছিল ইসলামি শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস, আর তারা এ দুটির মাঝে কোনো প্রকার সংমিশ্রণ বা বিভ্রান্তি ঘটতে দেননি। ইমাম আবু দাউদ আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুখ থেকে যা কিছু শুনতাম, আমি তা মুখস্থ রাখার উদ্দেশ্যে লিখে রাখতাম। তখন কুরাইশরা আমাকে তা করতে নিষেধ করল এবং বলল: 'তুমি কি তাঁর মুখ থেকে শোনা সব কিছুই লিখে রাখবে? অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন মানুষ, তিনি রাগের বশবর্তী হয়ে বা সন্তুষ্ট চিত্তেও কথা বলেন।' তখন আমি লেখা থেকে বিরত থাকলাম এবং বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জানালাম। তখন তিনি তাঁর আঙুল দিয়ে নিজের মুখের দিকে ইশারা করে বললেন: 'তুমি লিখে রাখো, সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, এখান থেকে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বের হয় না'।"
এই হাদিস এবং ইমাম মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, যেখানে তিনি বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আমার পক্ষ থেকে কিছু লিখো না, আর যে ব্যক্তি..."
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ৬)
- ب -
كتب عنِّي غيرَ القرآنِ فَلْيَمْحُه، وحدِّثوا عني ولا حرجَ، ومَن كذب عليَّ - قال همامٌ: أحسِبُه قال: متعمِّدًا - فليتبوأ مقعَدَه من النارِ"؛ وذلكَ أنّ هذا النهي كانَ في بداية الإسلام؛ مخافةَ اختلاط الحديثِ بالقرآن، فلمّا أُمِن الالتباس نُسِخَ هذا النهي، وأذِنَ لهم النبي صلى الله عليه وسلم بكتابة الحديث
(1).
وقد رصدَ الإمام الحافظ جلال الدِّين السيوطي رحمه الله تعالى بدايات تدوين الحديث الشريف، فقال
(2):
أولُ جامعِ الحديث والأثر
… ابنُ شهابٍ آمرًا لهُ عُمَرُ
وأوّلُ الجامع للأبواب
… جماعةٌ في العصر ذو اقترابِ
كابن جُريجٍ وهُشَيمٍ مالكِ
… ومَعْمَرٍ وولد المُبارك
وأوّلُ الجامع باقتصارِ
… على الصحيح فقَطِ البُخاري
ومُسلمٌ من بعده والأوّلُ
… على الصّوابِ في الصحيح أفضلُ
وفي العصر العباسي توسّع العلماءُ في تدوين الحديث الشّريف، وظهرت المسانيد وكتب السُّنن والجوامع والمستدركات والأجزاء، واشتملت على أحاديث متفاوتةٍ في الصحة والضعف، مما استدعى الحاجة إلى ظهور علم الجرح والتعديل، ونقد الحديث متنًا وسندًا، ويعنى بتمحيص المرويات.
--------------------------------------------
- খ -
"আমার থেকে কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লিখে থাকলে তা মুছে ফেলো। আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে - হাম্মাম বলেন: আমার ধারণা তিনি বলেছেন: ইচ্ছাকৃতভাবে - সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" এর কারণ হলো, এই নিষেধাজ্ঞা ইসলামের প্রাথমিক যুগে ছিল; যাতে কুরআনের সাথে হাদিস মিশে যাওয়ার ভয় না থাকে। যখন এই বিভ্রান্তির আশঙ্কা দূর হলো, তখন এই নিষেধাজ্ঞা রহিত করা হলো এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে হাদিস লেখার অনুমতি প্রদান করলেন
(১).
ইমাম হাফিজ জালালুদ্দিন সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) হাদিস শরিফ সংকলনের সূচনাগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন, তিনি বলেছেন
(২):
হাদিস ও আছার (সাহাবীদের বাণী) প্রথম সংগ্রহকারী হলেন
… ইবনে শিহাব (যুহরি), যাকে উমর (ইবনে আব্দুল আজিজ) নির্দেশ দিয়েছিলেন।
অধ্যায়ভিত্তিক প্রথম সংগ্রহকারী হলেন
… সমসাময়িক একদল আলিম।
যেমন ইবনে জুরাইজ, হুশাইম, মালিক
… মা'মার এবং ইবনুল মুবারক।
শুধুমাত্র সহিহ হাদিসের ওপর সীমাবদ্ধ রেখে
… প্রথম সংগ্রহকারী হলেন বুখারি।
এবং তাঁর পরে মুসলিম; তবে সঠিক মতে
… সহিহ হাদিসের ক্ষেত্রে প্রথমজনই শ্রেষ্ঠ।
আব্বাসীয় যুগে আলিমগণ হাদিস শরিফ সংকলনের পরিধি বিস্তৃত করেন। এ সময় মাসানিদ, সুনান গ্রন্থসমূহ, জাওয়ামে', মুস্তাদরাকাত এবং আজযা (পুস্তিকা) প্রকাশ পায়। এসবে সহিহ ও যয়িফ (দুর্বল) এর মানদণ্ডে ভিন্ন ভিন্ন স্তরের হাদিস অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার ফলে জারহ ওয়াত তা'দিল (হাদিস বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও মূল্যায়ন) শাস্ত্র এবং হাদিসের মতন (মূল পাঠ) ও সনদের (সূত্র) চুলচেরা বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এর উদ্দেশ্য ছিল বর্ণিত বিষয়াবলি যাচাই-বাছাই করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ৭)
- ج -
وبين أيدينا سِفْرٌ جليل من ذلك العصر الزاهر، ظل حبيس الرفوف حتى ظُنّ أنه مفقود، لذا، فإن إخراجه يبعث في قلوب الباحثين في السنة السرور والبهجة، كتاب طلعت أنواره في العصر الذهبي للسنة: "مسند الحارث بن أبي أسامة".
صنّفه الحافظ المحدّث المعمَّر ملحِق الأحفاد بالأجداد، مُسنِد العراق، الإمام الحارث بن أبي أسامة المولود سنة ستٍّ وثمانين ومئة، والمتوفى سنة اثنتين وثمانين ومئتين عن سبع وتسعين سنة.
أثنى عليه كبار أئمة الإسلام، ومنهم الإمام أبو إسحاق إبراهيم الحربي (ت 285 هـ) وهو من أقرانه، وكذلك إمام النقد والعلل أبو الحسن الدارقطني (ت 385 هـ)، وأمر تلميذه البَرْقاني بإخراج حديث الحارث في الصحيح، وحسبك به. وقال الذهبي: "كان حافظاً عارفًا بالحديث، عالي الإسناد بالمرّة".
وكفاه شرفًا وفضلاً ونبلاً وإخلاصًا أنّ ما أُخِذَ عليه عند بعض الجارحين له هو أخذه الأجرة على التحديث، ولا يضرّه ذلك إن شاء الله؛ إذ كان فقيرًا، ولعلّ هذا الخبر يُسْفِر عن سرّ أخذه الأجرة، فعن محمد بن موسى الرازي قال: سمعت الحارث بن أبي أسامة يقول: "لي ست، بنات، أصغرهن بنت ستين سنة، ما زوجت واحدة منهن؛ لأنني فقير، وما جاءني إلا فقير، وكرهتُ أن أزيد في عيالي، وها كفني على الوتد من ثلاثين سنة، خفتُ أن لا يجدوا لي كفنًا".
- জ -
আমাদের সামনে রয়েছে সেই দীপ্তিময় যুগের এক মহান গ্রন্থ, যা দীর্ঘদিন তাকের ভেতরেই বন্দি ছিল, এমনকি এক সময় মনে করা হয়েছিল যে এটি হারিয়ে গেছে। তাই এর প্রকাশ হাদিস গবেষকদের হৃদয়ে আনন্দ ও খুশির জোয়ার নিয়ে এসেছে। হাদিসের স্বর্ণযুগে যার আলোকচ্ছটা উদ্ভাসিত হয়েছে, সেই কিতাবটি হলো: "মুসনাদে হারিস বিন আবি উসামাহ"।
এটি সংকলন করেছেন দীর্ঘজীবী হাফেজ ও মুহাদ্দিস, যিনি নাতিদের পূর্বপুরুষদের সাথে সংযুক্ত করেছেন, ইরাকের মুসনিদ, ইমাম হারিস বিন আবি উসামাহ। তিনি ১৮৬ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৮২ হিজরি সনে ৯৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
ইসলামের বড় বড় ইমামগণ তাঁর প্রশংসা করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম আবু ইসহাক ইবরাহিম আল-হারবি (মৃত্যু: ২৮৫ হিজরি), যিনি ছিলেন তাঁর সমসাময়িক। একইভাবে হাদিস সমালোচনা ও ইলমে ইলাল (ত্রুটি-বিচ্যুতি)-এর ইমাম আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি (মৃত্যু: ৩৮৫ হিজরি) তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং তিনি তাঁর ছাত্র আল-বারকানিকে হারিসের হাদিস সহিহ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন; তাঁর জন্য এটিই যথেষ্ট। হাফেজ যাহাবি বলেন: "তিনি ছিলেন একাধারে হাফেজ ও হাদিস বিশারদ, তাঁর সনদগুলো ছিল অত্যন্ত উচ্চস্তরের।"
তাঁর সম্মান, মর্যাদা, আভিজাত্য ও একনিষ্ঠতার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, কিছু সমালোচক তাঁর ওপর কেবল এই বিষয়েই অভিযোগ তুলেছিলেন যে, তিনি হাদিস বর্ণনার জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করতেন। ইনশাআল্লাহ, এটি তাঁর কোনো ক্ষতি করবে না; কারণ তিনি ছিলেন অত্যন্ত অভাবী। সম্ভবত নিচের এই ঘটনাটি তাঁর পারিশ্রমিক গ্রহণের পেছনের রহস্য উন্মোচন করে। মুহাম্মদ বিন মুসা আর-রাজি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি হারিস বিন আবি উসামাহকে বলতে শুনেছি, "আমার ছয়জন মেয়ে রয়েছে, যাদের মধ্যে ছোটটির বয়স ষাট বছর। আমি তাদের কাউকেই বিয়ে দিতে পারিনি; কারণ আমি অভাবী, আর যারা সম্বন্ধ নিয়ে এসেছে তারাও ছিল দরিদ্র। আমি আমার পরিবারের বোঝা বাড়াতে অপছন্দ করেছি। আর এই যে আমার কাফন, এটি তিরিশ বছর ধরে খুঁটিতে ঝোলানো আছে; আমি ভয় পেয়েছি যে পাছে তারা আমার জন্য কাফনের কাপড়ও খুঁজে না পায়।"
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ৮)
- د -
وأما كتابه المسند فقد حفظ الله له ذلك وأبقاه له، وحَرِص العلماء على اقتنائه والأخذ منه، إلّا أنّ كثيرًا من المخطوطات فُقِدت أو ظُنَّ فقدها في الآونة الأخيرة، ولولا أن العلماء الأجلاء حفظوا لنا جملة مما جاء في تلك المخطوطات لما عَلِمنا بمحتوياتها ولما أفدنا من الكنوز التي فيها، وكان من ضمن تلكم الأصول هذا المسند، إذ وصلنا ما ألّفه العلماء في زوائده على المسانيد الأخرى دون أن نعثر على أصل الكتاب.
وقد خُدِم مسند الحارث من قِبَل علماء كبار، منهم الإمام نور الدِّين الهيثمي (ت 807 هـ)، فجمع زوائدَه على الكتب الستة، وسماه: "بغية الباحث عن زوائد مسند الحارث"، وهو مطبوع متداول من سنوات عدة.
وهذا العمل كان بإشارة الحافظ المحدِّث زين الدِّين العراقي للهيثمي، وحثِّ ابنه ولي الدِّين له، وليس ذاك إلا لعظم وَقْع مسند الحارث في قلوب العلماء والمحدثين، وكبر مكانته.
وكذلك فعل هذا العمل - أعني جمع زوائده على الكتب الستة - الحافظُ ابن حجر (ت 852 هـ)، كما أشار إلى ذلك تلميذه السخاوي.
ومن خدمات العلماء على مسند الحارث عملان جليلان آخران: وهما:
صنيع الإمام شهاب الدِّين أبي العباس البوصيري في كتابه "إتحاف الخِيَرة المَهَرة بزوائد المسانيد العشرة"، حيث جمع زوائد عشرة مسانيد من أمّات الحديثية على الكتب الستة، ومن تلك المسانيد مسند الحارث بن أبي أسامة.
- দ -
আর তাঁর মুসনাদ গ্রন্থের ব্যাপারে কথা হলো, আল্লাহ তাআলা তা তাঁর জন্য হিফাজত করেছেন এবং তা অবশিষ্ট রেখেছেন। আলেমগণ তা সংগ্রহ করতে এবং তা থেকে জ্ঞান আহরণ করতে আগ্রহী ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক পাণ্ডুলিপি হারিয়ে গেছে অথবা হারিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়েছে। যদি সম্মানিত আলেমগণ সেই সব পাণ্ডুলিপিতে যা এসেছে তার একটি অংশ আমাদের জন্য হিফাজত না করতেন, তবে আমরা সেগুলোর বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে পারতাম না এবং সেখানে থাকা জ্ঞানভাণ্ডার থেকে উপকৃত হতে পারতাম না। সেই মূল উৎসগুলোর মধ্যে এই মুসনাদটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল; যেহেতু আলেমগণ অন্যান্য মুসনাদগুলোর ওপর এর অতিরিক্ত অংশসমূহ (যাওয়ায়েদ) নিয়ে যা রচনা করেছেন তা আমাদের নিকট পৌঁছেছে, যদিও আমরা মূল গ্রন্থটি খুঁজে পাইনি।
মুসনাদে হারিস বড় বড় আলেমদের দ্বারা পরিবেশিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম নূরুদ্দীন আল-হাইসামি (মৃত্যু: ৮০৭ হি.), তিনি কুতুবে সিত্তাহর অতিরিক্ত হাদীসসমূহ (যাওয়ায়েদ) এতে সংকলন করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন: "বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়ায়েদি মুসনাদিল হারিস"। এটি বহু বছর ধরে মুদ্রিত ও প্রচলিত রয়েছে।
এই কাজটি হাফেজ মুহাদ্দিস যাইনুদ্দীন আল-ইরাকির ইশারায় হাইসামি করেছিলেন এবং তাঁর পুত্র ওয়ালীউদ্দীন তাঁকে এ বিষয়ে উৎসাহিত করেছিলেন। আর এটি কেবল আলেম ও মুহাদ্দিসগণের হৃদয়ে মুসনাদে হারিসের সুগভীর প্রভাব এবং এর সুউচ্চ মর্যাদার কারণেই হয়েছে।
একইভাবে হাফেজ ইবনে হাজার (মৃত্যু: ৮৫২ হি.) এই কাজটি করেছেন—অর্থাৎ কুতুবে সিত্তাহর অতিরিক্ত হাদীসগুলো সংকলন করেছেন—যেমনটি তাঁর ছাত্র সাখাওয়ী উল্লেখ করেছেন।
মুসনাদে হারিসের ওপর আলেমদের সেবামূলক কাজের মধ্যে আরও দুটি মহান কাজ রয়েছে, সেগুলো হলো:
ইমাম শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস আল-বুসিরির তাঁর "ইতহাফুল খিয়ারাতিল মাহারা বি-যাওয়ায়েদিল মাসানিদিল আশারা" গ্রন্থে কৃত কাজ। সেখানে তিনি দশটি মূল মুসনাদ গ্রন্থ থেকে কুতুবে সিত্তাহর অতিরিক্ত হাদীসসমূহ সংকলন করেছেন এবং সেই মুসনাদগুলোর মধ্যে হারিস বিন আবি উসামার মুসনাদটিও রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ৯)
- هـ -
وصنيع الحافظ ابن حجر العسقلاني في كتابه الحافل النافع "المطالب العالية بزوائد المسانيد الثمانية"، حيث جمع زوائد ثمانية كتب على الكتب الستة ومسند أحمد، ومن تلك المسانيد مسند الحارث.
ورغم نفاسة هذه الكتب وصنيع هؤلاء الأئمّة إلا أنها لا تغني عن أصل الكتاب، لاسيما في الإسفار عن طرق الحديث، وألفاظه، وألفاظ النقلة للحديث تحمّلاً وأداءً، وغيرها من الأمور النافعة التي يجدها الباحث في أصل هذا الكتاب المبارك.
والكتاب كان محجوبًا عن أنظار الدارسين والباحثين المعاصرين. كما ذكرت إلى أن قيض الله له أحد أعيان علماء الحديث في عصرنا ألا وهو العلامة المحدث الشيخ حبيب الرحمن الأعظمي (ت 1412 هـ)، حيث وقف في إحدى المكتبات الخاصة في الهند على نسخة خطية منه فاستنسخها وقابلها، ثمّ جاء سبطه الدكتور مسعود أحمد الأعظمي فقام بتحقيق الكتاب على تلك النسخة وقابلها بقطع أخرى من الكتاب، وبذل في ذلك جهده وأفرغ فيها وسعه، وقد بلغت أحاديث المسند الأصل في هذا التحقيق (3007) حديثًا، لذلك حرصت جائزة دبي الدولية للقرآن الكريم على إحياء هذا الأثر العظيم، والمساهمة بإبراز هذا المسند الكريم من أحاديث النبي عليه أفضل الصلاة والتسليم.
- হিজরি -
এবং হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানীর অবদান তাঁর তথ্যসমৃদ্ধ ও উপকারী গ্রন্থ 'আল-মাতালিব আল-আলিয়া বি-জাওয়াইদ আল-মাসানিদ আস-সামানিয়া'-তে পরিলক্ষিত হয়, যেখানে তিনি কুতুবুস সিত্তা এবং মুসনাদে আহমাদের অতিরিক্ত হিসেবে আটটি মুসনাদ গ্রন্থের হাদিসসমূহ সংকলন করেছেন; আর সেই মুসনাদগুলোর একটি হলো মুসনাদে হারিস।
এই গ্রন্থগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব এবং এই ইমামগণের অবদান সত্ত্বেও এগুলো মূল গ্রন্থের অভাব পূরণ করে না, বিশেষ করে হাদিসের বিভিন্ন সূত্র, শব্দাবলি এবং হাদিস গ্রহণ ও প্রদানের ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের পরিভাষা ও অন্যান্য তাত্ত্বিক বিষয়সমূহ উন্মোচনের ক্ষেত্রে, যা একজন গবেষক এই বরকতময় মূল গ্রন্থে খুঁজে পান।
যেমনটি আমি উল্লেখ করেছি, এই গ্রন্থটি সমকালীন শিক্ষার্থী ও গবেষকদের দৃষ্টি থেকে আড়ালে ছিল, যতক্ষণ না আল্লাহ এই যুগের অন্যতম হাদিস বিশারদ আল্লামা মুহাদ্দিস শেখ হাবিবুর রহমান আল-আজমিকে (মৃত্যু ১৪১২ হিজরি) এর জন্য মনোনীত করেন। তিনি ভারতের একটি ব্যক্তিগত পাঠাগারে এর একটি পাণ্ডুলিপির সন্ধান পান, অতঃপর সেটি অনুলিপি করেন এবং পাঠান্তর মিলিয়ে দেখেন। এরপর তাঁর দৌহিত্র ডক্টর মাসুদ আহমদ আজমি উক্ত পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে গ্রন্থটি সম্পাদনা করেন এবং গ্রন্থের অন্যান্য অংশের সাথে তা মিলিয়ে দেখেন। তিনি এই কাজে তাঁর সর্বোচ্চ শ্রম ও সামর্থ্য ব্যয় করেন। এই সম্পাদিত সংস্করণে মূল মুসনাদের হাদিস সংখ্যা ৩০০৭-এ পৌঁছেছে। এই কারণেই দুবাই আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন অ্যাওয়ার্ড এই মহান ইলমি ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস সমৃদ্ধ এই সম্মানিত মুসনাদটিকে প্রকাশে অবদান রাখতে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ১০)
- و -
وفي مسك الختام أخص بالشكر والامتنان، أتمّه وأجزَله صاحب السموّ الشيخ محمّد بن راشد آل مكتوم، نائب رئيس دولة الإمارات العربية المتحدة، رئيس مجلس الوزراء، حاكم دبي حفظه الله، راعي جائزة دبي الدولية للقرآن الكريم، الذي أنشأ هذه الجائزة لتكون منارَ خيرٍ تنشر ما تجود به القرائح في حقل الدراسات الإسلامية النافعة الجادّة، فجزاه الله عن العلم والدين خير الجزاء.
ومن منطلق إسناد الفضل لأهله؛ فإنّ وحدة البحوث والدراسات في الجائزة تتقدّم بالشكر والتقدير إلى رئيس اللجنة المنظمة للجائزة سعادة المستشار إبراهيم محمد بوملحة، مستشار صاحب السمو حاكم دبي للشؤون الثقافية والإنسانية، الذي ما فتئ يشجع نشر الكتب العلمية القيمة في إطار رسالة الجائزة في خدمة كتاب الله الكريم وسنة رسوله العظيم صلى الله عليه وسلم وسيرته العطرة ونشر العلوم الإسلامية.
وصلى الله وسلّم على سيدنا ونبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين، وآخر دعوانا أن الحمد لله ربّ العالمين.
الأستاذ الدكتور محمد عبد الرحيم سلطان العلماء
رئيس وحدة البحوث والدراسات
- এবং -
পরিশেষে আমি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও অশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক হিজ হাইনেস শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের প্রতি (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন), যিনি দুবাই ইন্টারন্যাশনাল হলি কুরআন অ্যাওয়ার্ডের পৃষ্ঠপোষক। তিনি এই পুরস্কারটি প্রতিষ্ঠা করেছেন কল্যাণের এক আলোকবর্তিকা হিসেবে, যাতে এটি গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ ইসলামি গবেষণার ক্ষেত্রে মেধার নির্যাসসমূহ প্রচার ও প্রসার করতে পারে। আল্লাহ তাঁকে জ্ঞান ও দ্বীনের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
যোগ্য ব্যক্তিকে কৃতিত্ব প্রদানের নীতি অনুযায়ী, এই পুরস্কারের গবেষণা ও অধ্যয়ন বিভাগ অশেষ কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করছে আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান মহামান্য উপদেষ্টা ইব্রাহিম মোহাম্মদ বুমিলহার প্রতি, যিনি সাংস্কৃতিক ও মানবিক বিষয়ে দুবাইয়ের শাসকের উপদেষ্টা। তিনি মহান আল্লাহর কিতাব, তাঁর মহান রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ ও সুগন্ধিময় সীরাতের খিদমতে এবং ইসলামি জ্ঞান প্রসারে এই পুরস্কারের যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, তার অধীনে মূল্যবান ইলমি কিতাবসমূহ প্রকাশে নিরন্তর উৎসাহ জুগিয়ে চলেছেন।
এবং আল্লাহ আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ আবদুর রহিম সুলতান আল-উলামা
গবেষণা ও অধ্যয়ন বিভাগের প্রধান
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: -)
مسند الحارث بن أبي أسامة القسم: كتب السنة
الكتاب: مسند الحارث
المؤلف: الحارث بن محمد بن أبي أسامة (ت 282 هـ)
علق عليه وخرج أحاديثه: د مسعود أحمد الأعظمي
الناشر: جائزة دبي الدولية للقرآن الكريم، الإمارات
الطبعة: الأولى: 1441 هـ - 2019 م
عدد الأجزاء: 5
إعداده للشاملة: على نفقة الحاج علي وهبة رحمه الله وغفر له
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 ذو الحجة 1447
মুসনাদ আল-হারিস ইবনে আবি উসামাহ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: মুসনাদ আল-হারিস
লেখক: আল-হারিস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি উসামাহ (ওফাত ২৮২ হিজরি)
টীকা প্রদান ও হাদিস বিশ্লেষণ করেছেন: ড. মাসউদ আহমদ আল-আজমি
প্রকাশক: দুবাই ইন্টারন্যাশনাল হলি কুরআন অ্যাওয়ার্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত
সংস্করণ: প্রথম: ১৪৪১ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৫
শামেলার জন্য প্রস্তুতকরণ: হাজি আলি ওয়াহবার সৌজন্যে, আল্লাহ তাঁর উপর দয়া করুন এবং তাঁকে ক্ষমা করুন
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ জিলহজ ১৪৪৭
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ৫)
الإهداءإلى روح
سيدتي الوالدة العابدة الصالحة المربية الجليلة التي نشأتُ في كنفها وترعرتُ، وكان مهدها وحَجْرها أول مدرسة تربَّيتُ فيها، ثم لم تزل ترعاني وتحفُّني وإخوتي وأخواتي بدعواتها الصالحة صباح مساء وليل نهار. وكانت أصغر أولاد شيخنا العلامة المحدث حبيب الرحمن الأعظمي رحمه الله تعالى ومن أحبِّهم إليه. وقد فارَقَتنا في 22/ 1/ 1439 هـ = 13/ 10/ 2017 م، وهذا الكتاب في طريقه إلى المطبعة ولم يظهر بعد، حتى تراه وتستبشر به.
رحمها الله رحمة واسعة، وأمطر عليها شآبيب رضوانه، وأسكنها فسيح جناته، وجمَعَنا معها في دار كرامته.
مسعود أحمد الأعظمي
উৎসর্গতদীয় রুহের প্রতি
আমার শ্রদ্ধাভাজন জননী, ইবাদতগুজার, মহীয়সী ও পুণ্যবতী লালনকারিণী, যাঁর ছায়াতলে আমি লালিত-পালিত ও বর্ধিত হয়েছি। যাঁর কোল ও কোলই ছিল আমার প্রথম বিদ্যাপীঠ যেখানে আমি শিক্ষা লাভ করেছি। এরপর তিনি আজীবন তাঁর নেক দুআ দ্বারা সকাল-সন্ধ্যা ও দিবা-রাত্রি আমাকে এবং আমার ভাই-বোনদের আগলে রেখেছেন। তিনি ছিলেন আমাদের শাইখ আল্লামা মুহাদ্দিস হাবিবুর রহমান আজমি (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা)-এর কনিষ্ঠ সন্তান এবং তাঁর নিকট অত্যন্ত প্রিয়ভাজন। তিনি ২২/ ০১/ ১৪৩৯ হিজরি মোতাবেক ১৩/ ১০/ ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে আমাদের ছেড়ে পরলোকগমন করেছেন। বইটি তখনো যন্ত্রস্থ ছিল এবং তা প্রকাশিত হয়নি যে তিনি তা দেখবেন এবং এতে আনন্দিত হবেন।
আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন, তাঁর ওপর স্বীয় সন্তুষ্টির বারিধারা বর্ষণ করুন, তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ত উদ্যানে স্থান দিন এবং তাঁর সাথে আমাদের তাঁর চিরস্থায়ী সম্মান ও মর্যাদার আবাসে একত্রিত করুন।
মাসউদ আহমদ আজমি
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ৭)
تمهيد للعالم المسنِد المعمَّر الشيخ رشيد أحمد الأعظمي
النجل الأكبر للعلامة المحدث الأعظمي
بسم الله الرحمن الرحيم
نحمده ونصلي على رسوله الكريم.
وبعد، فمن المعلوم لدى أهل العلم أن والدي العلامة الشيخ حبيب الرحمن الأعظمي - رحمه الله تعالى - كان من المولعين بالعلم، مشغوفًا بحب الكتب حُبًّا يفوق الوصف، وكان له غرام زائد عجيب بالمخطوطات ونوادر الآثار، وبلغ من غرامه بها أنه كان يتصفَّح؛ بل يدرس ويقرأ المجلدات الكبار الضخام من فهارس المكتبات التي تتوفر فيها الكتب الخطية مما صنَّفه القدماء في العلوم الإسلامية نحو الحديث والفقه والتاريخ والتراجم والطبقات ونظائرها. كما كان يسافر بين فينة وأخرى إلى شتى أرجاء الهند وأطرافها للقيام بشئونه العلمية أو الدعوية والتوجيهية، وفي هذه الرحلات عندما ينزل بمدينة أو بلدة لا يفوته أن يُلِمَّ بتأريخها وبمن مضى فيها من أهل العلم والدين، وبما خلَّفوه من كتب ومصنفات، وأورثوه من تراث علمي.
وكثيراً ما كان يشدُّ الرحال إلى إحدى المراكز العلمية أو المدن التي فيها خزانة كتب أو مكتبة شهيرة، كمكتبة خدا بخش (بانكي فور، فتنه)
ভূমিকাবিজ্ঞ আলিম, প্রবীণ মুসনিদ শায়খ রশিদ আহমদ আল-আজমি কর্তৃক
আল্লামা মুহাদ্দিস আজমি-র জ্যেষ্ঠ পুত্র
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমরা তাঁর প্রশংসা করছি এবং তাঁর সম্মানিত রাসূলের ওপর দরুদ পাঠ করছি।
অতঃপর, জ্ঞানী মহলে এটি সুপরিচিত যে, আমার পিতা আল্লামা শায়খ হাবিবুর রহমান আজমি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—জ্ঞানের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী এবং বর্ণনাতীতভাবে কিতাব-প্রেমিক ছিলেন। পাণ্ডুলিপি এবং দুর্লভ নিদর্শনসমূহের প্রতি তাঁর এক বিস্ময়কর ও অতিরিক্ত আসক্তি ছিল। এই বিষয়ে তাঁর আসক্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তিনি গ্রন্থাগারসমূহের সেই সব বিশাল ও স্থূল ক্যাটালগগুলো উল্টেপাল্টে দেখতেন, বরং গভীরভাবে অধ্যয়ন ও পাঠ করতেন, যেগুলোতে হাদিস, ফিকহ, ইতিহাস, জীবনী এবং স্তর-বিন্যাসসহ ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় প্রাচীন মনীষীদের রচিত পাণ্ডুলিপিগুলোর তালিকা থাকত। একইভাবে তিনি তাঁর ইলমি খিদমত অথবা দাওয়াত ও দিকনির্দেশনামূলক কাজ সম্পাদনের জন্য সময়ে সময়ে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সফর করতেন। এই সফরগুলোতে তিনি যখন কোনো শহর বা জনপদে অবস্থান করতেন, তখন সেখানকার ইতিহাস, সেখানে অতিবাহিত হওয়া পূর্বসূরি আলেম ও দ্বীনদার ব্যক্তিদের সম্পর্কে এবং তাঁরা যেসব কিতাব ও রচনা এবং ইলমি ঐতিহ্য রেখে গেছেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে মোটেও ভুল করতেন না।
তিনি প্রায়ই এমন সব ইলমি কেন্দ্র বা শহর অভিমুখে সফর করতেন যেখানে কুতুবখানা বা কোনো প্রসিদ্ধ লাইব্রেরি রয়েছে, যেমন—খুদা বখশ লাইব্রেরি (বাঁকিপুর, পাটনা)।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ৮)
ومكتبات دار المصنفين (أعظم كره) ودار العلوم (ديوبند) وندوة العلماء (لكنئو) ومكتبات حيدر آباد، وبومباي، وكلكوتا، وأمثالها مما يطول ذكرها.
وفي إحدى هذه الرحلات، التي قام بها إلى ولاية غجرات - الهند -، والتي زار فيها بليدة فتن - موطن العلامة المحدث الشيخ محمد طاهر الفتني - كان يتفحَّص خزانة كتب المدرسة التي تنتمي إلى العلامة الفتني، إذا به قد اطلع على نسخة خطية نادرة، هي بحق من نوادر الدهر، ألا وهي كتاب "مسند الحارث بن أبي أسامة"، فاستعارها الشيخ الوالد من أمين المكتبة أو ناظر المدرسة، وجاء بها إلى بلده، ولم يلبث أن وزَّع أجزاءها على نخبة من تلاميذه الموثوق بهم لاستنساخها، وأنا واحد ممن كان نصيبه أجزاء منها، فنسخناها في أول فرصة وأسرع وقت، ولما تمَّ النسخ أعاد الوالد رحمه الله النسخة الأصلية إلى مكانها الأصلي من بلدة فتن.
ولم تزل نسخة الوالد من ذلك الحين في حيازته، يراجعها عند الضرورة ويستفيد منها، ولكنه لم يجد فرصة لإعدادها للطبع والنشر، وبقيت محفوظة في آثاره
هذا، وقد كان يهمني قيمة هذا الكتاب وأهميتها، وطالما كنت أودُّ لو نشر هذا الكتاب عن هذه النسخة التي تكاد تكون وحيدة في العالم الإسلامي، لكان خدمة عظيمة للسنة النبوية والحديث الشريف - على صاحبه أزكى التحيات وأطيب التسليمات، ولم يزل حرصي على ذلك يزداد على مرِّ الوقت
দারুল মুসান্নিফীন (আজমগড়), দারুল উলূম (দেওবন্দ), নদওয়াতুল উলামা (লক্ষ্ণৌ) এর পাঠাগারসমূহ এবং হায়দ্রাবাদ, বোম্বে, কলকাতা ও এ জাতীয় অন্যান্য পাঠাগার যা বর্ণনা করতে গেলে দীর্ঘ হবে।
ভারতের গুজরাট রাজ্যে তিনি যে সকল সফর করেছিলেন, যার মধ্যে একটির সময় তিনি আল্লামা মুহাদ্দিস শায়খ মুহাম্মদ তাহের ফাত্তানির জন্মভূমি পাতান ক্ষুদ্র শহরটি পরিদর্শন করেন—সেখানে তিনি আল্লামা ফাত্তানির সাথে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার কুতুবখানা বা গ্রন্থাগারটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন। হঠাৎ তিনি একটি বিরল পাণ্ডুলিপির সন্ধান পান, যা প্রকৃতপক্ষে যুগের অন্যতম বিরল বস্তুসমূহের অন্তর্ভুক্ত; আর সেটি হলো "মুসনাদুল হারিস ইবনে আবি উসামা" নামক কিতাব। তখন শায়খ (আমার সম্মানিত পিতা) কুতুবখানার দায়িত্বশীল বা মাদ্রাসার প্রধানের নিকট থেকে সেটি ধার নিলেন এবং তা নিজ শহরে নিয়ে এলেন। কালক্ষেপণ না করে তিনি এর অংশগুলো তাঁর বিশ্বস্ত একদল বিশেষ ছাত্রের মাঝে প্রতিলিপি করার জন্য বন্টন করে দিলেন। আমিও তাদের মধ্যে একজন ছিলাম যার ভাগে এর কিছু অংশ পড়েছিল। অতঃপর আমরা প্রথম সুযোগেই এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা প্রতিলিপি করে নিলাম। যখন প্রতিলিপি করা শেষ হলো, তখন শ্রদ্ধেয় আব্বাজান (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) মূল পাণ্ডুলিপিটি পাতান শহরের তার মূল স্থানে ফেরত পাঠিয়ে দিলেন।
তখন থেকে আব্বাজানের নিকট থাকা সেই অনুলিপিটি তাঁর কাছেই সংরক্ষিত ছিল। প্রয়োজনে তিনি তা দেখতেন এবং তা থেকে উপকৃত হতেন। কিন্তু মুদ্রণ ও প্রকাশের জন্য এটি প্রস্তুত করার সুযোগ তিনি পাননি; ফলে তাঁর সংগ্রহশালাতেই এটি সংরক্ষিত রয়ে গেল।
বস্তুত, এই কিতাবটির মূল্য ও গুরুত্ব আমার নিকট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। আমি দীর্ঘকাল ধরে কামনা করছিলাম যে, মুসলিম বিশ্বে প্রায় অনন্য এই অনুলিপিটি থেকে যদি কিতাবটি প্রকাশিত হতো, তবে তা সুন্নাহে নববী এবং হাদিসে শরীফের—যাঁর ওপর পবিত্রতম অভিবাদন ও সর্বোত্তম সালাম বর্ষিত হোক—এক মহান খিদমত বা সেবা হতো। সময়ের আবর্তনে এ বিষয়ে আমার আগ্রহ কেবল বৃদ্ধিই পেয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ৯)
والزمان، ولكن الكتاب كان في حاجة إلى تحقيقه وتخريج أحاديثه ومقارنته بكتب الأحاديث والآثار، حتى يكون مواتيًا لروح هذا العصر الراهن. والقيام بأداء هذا الأمر المهم أمانة عظيمة، ولم يقع بصري لها إلا على ابن أختي الأخ العزيز مسعود أحمد الأعظمي، فاقترحت عليه أن يقوم بأداء هذا الواجب والأمانة العلمية العظيمة التي وقعت على كواهلنا بعد وفاة الوالد رحمه الله رحمة واسعة. فاشتغل به وبذل جهدًا كبيرًا في تحقيق الكتاب، ومقارنة رواياته بمظانها من الكتب، وتخريج أحاديثه وكتابة التعليقات الحافلة عليه، ولإعداده إعدادًا ينسجم تمامًا لروح العصر ومنهجه في البحث والتحقيق، ولما أطلعني على عمله بدا لي فوق ما كنت أتوقعه وأقدِّره، ورأيته قد جاء في حلة قشيبة، وصورة أنيقة رائعة، تروق النواظر وتثلج الصدور، فحمدت الله سبحانه وتعالى على توفيقه لهذا العمل المبارك الميمون.
وختامًا؛ بل دائمًا أدعو الله سبحانه وتعالى أن يتلقاه بالقبول، ويجزي محققه عنا وعن سائر أهل العلم خير الجزاء وأحسنه، ويحسن مثوبته في الدنيا والآخرة، فإنه نعم المولى ونعم والوكيل.
এবং সময়, তবে বর্তমান যুগের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য বইটি তাহকীক, হাদিসগুলোর তাখরিজ এবং অন্যান্য হাদিস ও আসারের গ্রন্থের সাথে তুলনা করার প্রয়োজন ছিল। আর এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটির সম্পাদন একটি মহান আমানত, আর এর জন্য আমার প্রিয় ভাগ্নে মাসুদ আহমদ আল-আ’জমী ব্যতীত অন্য কারো ওপর আমার দৃষ্টি পড়েনি। তাই আমি তাকে এই মহান ইলমি আমানত ও দায়িত্ব পালনের প্রস্তাব দিই, যা আমাদের শ্রদ্ধেয় পিতার—আল্লাহ তাকে প্রশস্ত রহমত দান করুন—ইন্তেকালের পর আমাদের কাঁধে অর্পিত হয়েছিল। ফলে সে এতে নিমগ্ন হয় এবং বইটির তাহকীক, এর বর্ণনাগুলোকে সংশ্লিষ্ট উৎসগ্রন্থের সাথে তুলনা, হাদিসগুলোর তাখরিজ এবং এর ওপর পূর্ণাঙ্গ টীকা রচনার ক্ষেত্রে ব্যাপক শ্রম ব্যয় করে। সে এটিকে বর্তমান সময়ের মেজাজ এবং গবেষণা ও যাচাই-বাছাইয়ের মানদণ্ডের সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তুত করেছে। যখন সে আমাকে তার কাজ দেখাল, তখন তা আমার প্রত্যাশা ও অনুমানের চেয়েও উন্নত মনে হয়েছে। আমি দেখলাম এটি একটি নবীন ও সুশোভিত রূপ পেয়েছে এবং অত্যন্ত চমৎকার ও মার্জিত অবয়বে উপস্থাপিত হয়েছে, যা দৃষ্টিকে আকর্ষণ করে এবং অন্তরকে শীতল করে। তাই আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার প্রশংসা করলাম এই বরকতময় ও কল্যাণকর কাজের তাওফিক দেওয়ার জন্য।
পরিশেষে—বরং সর্বদা—আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে দোয়া করি তিনি যেন এটি কবুল করেন এবং এর মুহাক্কিককে আমাদের পক্ষ থেকে ও অন্যান্য সকল জ্ঞানান্বেষীদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম ও সুন্দরতম প্রতিদান দান করেন। আর দুনিয়া ও আখিরাতে তার পুরস্কারকে উত্তম করেন; নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ১০)
مقدمة فضيلة الأستاذ الجليل والعالم النبيل الشيخ نعمة الله الأعظمي
رئيس قسم التخصص في الحديث بالجامعة الإسلامية
دار العلوم، ديوبند، الهند
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء وسيد المرسلين، وعلى آله وصحبه أجمعين، والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد، فإن الحديث الشريف مصدر ثانٍ من مصادر التشريع الإسلامي، وهو شرح وتبيان لكتاب الله العزيز، فلا يتم الانتفاع والاتباع والاهتداء بهدي القرآن الكريم الذي نزَّله الله سبحانه وتعالى على نُبَيْهٍ الأمي الكريم، وجعله شرعةً ومنهاجًا، إلا في ضوء أحاديثه الكريمة صلى الله عليه وسلم، فهو آخر كتاب إلهي نزل على آخر نبي، وخاتم الكتب المنزلُ على خاتم الرسل. وإذا كان الكتاب والرسول كل منهما خاتمًا وآخرًا، حيث لا ينزل كتاب بعده، كما لا يأتي رسول ولا نبي بعد، كان من الطبيعي أن يُحفظ هذا الكتاب ويبقى أبد الدهر بحيث لا يتطرَّق إليه تحريف ولا تبديل، وإذا لم يمكن العمل به - تمامًا - بدون أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم كان من الطبيعي كذلك؛ بل من الضروري أن تبقى تلك الأحاديث والآثار التي هي
ভূমিকা সম্মানিত উস্তাদ, মহান ও মহানুভব আলিম শাইখ নি'মাতুল্লাহ আল-আজমী
প্রধান, হাদিস গবেষণা বিভাগ, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
দারুল উলুম দেওবন্দ, ভারত
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবীকুলের শ্রেষ্ঠ ও রাসূলগণের সর্দার, তাঁর পরিবারবর্গ, সকল সাহাবী এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন—সবার ওপর।
অতঃপর, নিশ্চয়ই হাদিসে শরীফ ইসলামি শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস। এটি আল্লাহর সম্মানিত কিতাবের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ। মহান আল্লাহ তাঁর নিরক্ষর ও সম্মানিত নবীর ওপর যে মহাগ্রন্থ কুরআন মাজিদ অবতীর্ণ করেছেন এবং একে জীবনবিধান ও পথনির্দেশিকা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, সেই কুরআনের হিদায়াত থেকে উপকৃত হওয়া, এর অনুসরণ করা এবং এর মাধ্যমে হেদায়েত লাভ করা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের আলো ব্যতীত সম্পন্ন হয় না। এটি হলো সর্বশেষ নবীর ওপর অবতীর্ণ সর্বশেষ ঐশী কিতাব এবং সর্বশেষ রাসুলের ওপর অবতীর্ণ কিতাবসমূহের পরিসমাপ্তি। যেহেতু কিতাব ও রাসুল উভয়েই সর্বশেষ, যার পর আর কোনো কিতাব নাজিল হবে না এবং কোনো রাসুল বা নবীও আসবেন না, তাই এটিই স্বাভাবিক ছিল যে, এই কিতাবটি সংরক্ষিত থাকবে এবং চিরকাল অবশিষ্ট থাকবে যাতে কোনো প্রকার বিকৃতি বা পরিবর্তন এতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে। আর যেহেতু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস ব্যতিরেকে এর ওপর—পুরোপুরিভাবে—আমল করা সম্ভব নয়, তাই এটিও স্বাভাবিক ছিল; বরং অপরিহার্য ছিল যে, সেই সমস্ত হাদিস ও আসার (বর্ণনা) সংরক্ষিত থাকবে যা—
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ১১)
بمثابة الشرح والتبيان والتفسير لذلك الكتاب. وإننا لنرى أن الله عز وجل لم يحمل على كاهل أحد من عباده مسئولية حفظ هذا الكتاب؛ بل الله تبارك وتعالى تكفَّل بنفسه حفظه وصيانته، وأعلن عهده هذا بأسلوب قوي متين مؤكد - أبلغ التأكيد - حيث يقول جل جلاله وعمَّ نواله: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9].
وفي ضمن هذا الوعد الإلهي والعهد الرباني لحفظ كتابه العظيم، يأتي صيانة الأحاديث التي هي شرحه على لسان النبي الكريم صلى الله عليه وسلم. وقد وقع كل ذلك فعلاً، وظهر ظهورًا لا يخفى على من له أدنى بصيرة، وأتفه حظ من العلم والفهم.
وقد قيَّض الله سبحانه وتعالى من أجل ذلك أفواجًا من عباده العلماء والحفاظ والمحدثين وأئمة الدين، ووفَّق في كل عصر ومصر من وقف حياته وبذل نفسه ونفيسه في خدمة هذا الدين الإسلامي وعلومه، مما أدَّى إلى بقاء العلوم الإسلامية، وفي جملتها - بل على رأسها - الحديث النبوي على صاحبه ألف ألف صلاة وتحية - على ما مضى عليه أربعة عشر قرنًا - غضًا طريًّا، حيًّا ناضرًا، خالصًا كما كان في مطلع فجره، ولم يزل مصونًا من مكايد الأعداء ودسائس الحُسَّاد لمساس كرامته وتشويه وجهه، ورغم الجهود المكدَّسة لتكدير صفائه وبهجته وبهائه، فكان جهود أئمة الدين والمحدثين وعلماء المسلمين من هذه الناحية تفسيرًا حياً لما رُوي عن النبي صلى الله عليه وسلم: "سيحملُ هذا
এটি সেই কিতাবের ব্যাখ্যা, বিবরণ ও তাফসির স্বরূপ। আমরা দেখতে পাই যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর বান্দাদের মধ্যে কারো ওপরই এই কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব অর্পণ করেননি; বরং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা স্বয়ং নিজেই এর রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের ভার গ্রহণ করেছেন এবং তিনি এই অঙ্গীকার অত্যন্ত সুদৃঢ়, মজবুত ও সুনিশ্চিতভাবে—সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে—ঘোষণা করেছেন, যেখানে আল্লাহ জাল্লা জালালুহু ওয়া আম্মা নাওয়ালুহু বলেন: "নিশ্চয়ই আমিই এই যিকির (কুরআন) নাযিল করেছি এবং অবশ্যই আমিই এর সংরক্ষক।" [হিজর: ৯]।
এই মহান কিতাব সংরক্ষণের খোদায়ী ওয়াদা ও রব্বানী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই শামিল হয়েছে হাদিসসমূহের সংরক্ষণ, যা সম্মানিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জবানের মাধ্যমে সেই কিতাবেরই ব্যাখ্যা। বাস্তবে এর প্রতিটি বিষয়ই সংঘটিত হয়েছে এবং এমন স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে যা সামান্যতম অন্তর্দৃষ্টি এবং জ্ঞান ও বুঝের নূ্যনতম অংশ আছে এমন কারো কাছেও অস্পষ্ট নয়।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই উদ্দেশ্যে তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে আলেম, হাফেজ, মুহাদ্দিস এবং দ্বীনের ইমামদের বহু দলকে নিয়োজিত করেছেন। তিনি প্রতিটি যুগে ও প্রতিটি ভূখণ্ডে এমন ব্যক্তিদের তাওফিক দিয়েছেন যারা এই ইসলামি দ্বীন ও এর জ্ঞানসমূহের সেবায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং নিজেদের প্রাণ ও মূল্যবান সম্পদ বিলিয়ে দিয়েছেন। এর ফলেই ইসলামি জ্ঞানসমূহ টিকে আছে, যার অন্তর্ভুক্ত—বরং যার শীর্ষে—রয়েছে নববী হাদিস (যার প্রবক্তার প্রতি লক্ষ লক্ষ দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)। চৌদ্দটি শতাব্দী অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও এটি সতেজ, সজীব, উজ্জ্বল এবং বিশুদ্ধ রয়ে গেছে, ঠিক যেমনটি ছিল এর নবুওয়াতের ঊষালগ্নে। শত্রুদের কূটকৌশল এবং হিংসুকদের চক্রান্ত—যারা এর মর্যাদা হানি করতে এবং এর রূপ বিকৃত করতে চেয়েছিল—তা থেকে এটি সর্বদা সুরক্ষিত রয়েছে। এর নির্মলতা ও সৌন্দর্যকে কলুষিত করার জন্য ক্রমাগত নানাবিধ অপচেষ্টা সত্ত্বেও এই ক্ষেত্রে দ্বীনের ইমাম, মুহাদ্দিস ও মুসলিম আলেমদের প্রচেষ্টা ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এই বাণীর একটি জীবন্ত ব্যাখ্যা: "এই (ইলম) বহন করবে..."
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ১২)
العلم من كلِّ خَلَفٍ عُدولُه، يَنفُون عنه تَحريفَ الغَالِين، وانتحالَ المُبطِلين، وتأويل الجاهلين"
(1) أو كما قال عليه الصلاة والسلام.
وقد جاء عن ابن مسعود رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا شَيْئًا فَبَلَّغَهُ كَمَا سَمِعَ، فَرُبَّ مُبَلَّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ"
(2). وقال عليه الصلاة والسلام: "بلِّغوا عني ولو آية"
(3). وقال أيضا: "فليبلِّغ الشاهدُ الغائب"
(4).
عني المسلمون بحفظ الأحاديث والآثار - سواء كان عن ظهر القلب أو بالكتابة أو التعليم والتبليغ - عناية تدهش العقول وتحيِّر القلوب، وجهودهم في ذلك تفوق الوصف والبيان، ولا يمكن الإحاطة بما لهم فيه من تاريخ مشرق، وعهد زاهر، ومفاخر عظيمة هائلة لا يسيغها العقل البشري بسهولة.
فمن تصفَّح تاريخ الثقافة الإسلامية منذ العهد النبوي؛ بل منذ أول يوم طلعت فيه شمس الإسلام، وانبثق شعاعها على وجه الأرض، حتى الأجيال المتعاقبة والقرون المتأخرة، وجد في كل طبقة من طبقات الرجال والتاريخ، جموعًا جمةً من رجال العلم والرواية والإسناد يشتغلون بحفظ الأحاديث وأدائها
--------------------------------------------
"এই ইলম প্রতিটি প্রজন্মের ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরা বহন করবেন; তাঁরা এটি থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করবেন"
(১) অথবা রাসূলুল্লাহ (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) যেমনটি বলেছেন।
ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-কে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো কিছু শুনেছে এবং তা যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই অন্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। কেননা অনেক সময় যাকে পৌঁছে দেওয়া হয়, সে শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে"
(২)। রাসূলুল্লাহ (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) আরও বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়"
(৩)। তিনি আরও বলেছেন: "উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়"
(৪)।
মুসলিমরা হাদীস ও আসার (সাহাবী ও তাবিঈদের বাণী) সংরক্ষণের প্রতি—চাই তা মুখস্থকরণের মাধ্যমে হোক কিংবা লিখন, শিক্ষাদান ও প্রচারের মাধ্যমে হোক—এমন গুরুত্বারোপ করেছেন যা বুদ্ধিকে স্তব্ধ করে দেয় এবং হৃদয়কে বিমোহিত করে। এ ক্ষেত্রে তাঁদের প্রচেষ্টা বর্ণনা ও ব্যাখ্যার ঊর্ধ্বে। তাঁদের এই উজ্জ্বল ইতিহাস, স্বর্ণযুগ এবং মহান গৌরবময় কীর্তিগাথা যা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি সহজে অনুধাবন করতে পারে না, তা সম্পূর্ণরূপে আয়ত্ত করা অসম্ভব।
যে ব্যক্তি নববী যুগ থেকে—বরং ইসলামের সূর্য উদিত হওয়ার এবং পৃথিবীর বুকে তার রশ্মি বিকিরিত হওয়ার প্রথম দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রজন্ম ও পরবর্তী শতাব্দীসমূহ পর্যন্ত—ইসলামী সংস্কৃতির ইতিহাস পর্যালোচনা করবে, সে ইতিহাসের প্রতিটি স্তরে ইলম, রেওয়ায়ত ও ইসনাদধারী ব্যক্তিদের এমন বিশাল এক জামাতকে খুঁজে পাবে যারা হাদীস সংরক্ষণ এবং তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وتبليغها إلى من جاء بعدهم، لا يهمُّهم شيء ولا يعنيهم إلا الاهتمام بالكتاب والسنة، والاشتغال بخدمة العلم والدين، ووَجَد المجتمع الإسلامي كله يمثِّل تفسيرًا عمليًا مثاليًا لما جاء على لسان النبي صلى الله عليه وسلم من التأكيد البالغ للتعليم والتبليغ ونشر العلم. فقد ظهر من علماء الإسلام، والمحدثين، وحفاظ الأحاديث ورواة الآثار، لا في القرون الأولى فحسب؛ بل عبر القرون المتتالية نشاطات وممارسات، لا يوجد لها نظير في عصر من عصور التاريخ الإنساني برمتها؛ بل لم تشهد البشرية عشر معشارها عبر تاريخها الطويل. فأصحاب النبي صلى الله عليه وسلم الذين كانوا الرعيل الأول من علماء هذه الأمة وحُفَّاظها ومحدِّثيها، والذين اقتبسوا العلم والدين ونور الهداية واليقين مباشرة من مهبط الوحي الإلهي، والتابعون لهم، وتابعوهم، ومن بعدهم، حتى القرون الأربعة أفنوا أعمارهم في النشاطات العلمية التي لها أثر قوي بالغ، ودور أساسي هام في صيانة الكتاب والسنة وعلومهما عن يد الحدثان وغوائل الدهر. وليس هذا موضع بسطه وتفصيله، وكفى بتاريخ الثقافة والعلوم الإسلامية وتراجم الرجال دليلاً عليها وشاهدًا لها.
وإلى جانب الحفظ عن ظهر القلب ومهمة الرواية والإسناد، ظهر منهم عناية عظيمة منقطعة النظير بالتصنيف والتأليف والكتابة، فبدأت ظاهرة كتابة الحديث في العهد النبوي، واستمرَّت خلال القرن الأول للهجرة، ونفقت سوقها في القرن الثاني للهجرة. وكتابته في العهد النبوي وعصر الصحابة
এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া; কিতাব ও সুন্নাহর প্রতি গভীর মনোযোগ প্রদান এবং ইলম ও দীনের খেদমতে মগ্ন থাকা ব্যতীত অন্য কোনো কিছুই তাদের কাছে গুরুত্ববহ ছিল না। আর সমগ্র ইসলামী সমাজ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জবান থেকে নিঃসৃত শিক্ষা, প্রচার ও ইলম বিস্তারের প্রতি অত্যধিক গুরুত্বারোপের এক আদর্শিক ও ব্যবহারিক ব্যাখ্যা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছিল। ফলে ইসলামের উলামা, মুহাদ্দিসীন, হাফিজে হাদিস এবং আসার বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে কেবল প্রাথমিক শতাব্দীগুলোতেই নয়, বরং পরবর্তী শতাব্দীগুলোতেও এমন কর্মতৎপরতা ও অনুশীলন প্রকাশ পেয়েছে যার নজির সমগ্র মানব ইতিহাসের কোনো যুগেই খুঁজে পাওয়া যায় না; এমনকি মানবজাতি তাদের দীর্ঘ ইতিহাসে এর দশ ভাগের এক ভাগও প্রত্যক্ষ করেনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ যারা এই উম্মতের উলামা, হাফেজ ও মুহাদ্দিসদের প্রথম কাফেলা ছিলেন এবং যারা সরাসরি ওহী অবতীর্ণ হওয়ার স্থান থেকে ইলম, দীন এবং হেদায়েত ও একিনের নূর হাসিল করেছিলেন, তারা এবং তাদের অনুসারী তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীগণ এমনকি চতুর্থ শতাব্দী পর্যন্ত পরবর্তীগণ তাদের জীবনকে এমন সব ইলমী কর্মকাণ্ডে উৎসর্গ করেছিলেন যার অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। কিতাব ও সুন্নাহ এবং এ সংক্রান্ত জ্ঞানসমূহকে মহাকালের বিবর্তন ও বিপর্যয় থেকে সুরক্ষায় তাদের একটি মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এটি সেসবের বিস্তারিত আলোচনার স্থান নয়, বরং ইসলামী সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানের ইতিহাস এবং মনীষীদের জীবনচরিতই এর জন্য যথেষ্ট দলিল ও সাক্ষী।
মুখস্থ করার পাশাপাশি এবং বর্ণনা ও ইসনাদের গুরুত্বের সাথে সাথে তাদের মধ্যে গ্রন্থ সংকলন ও রচনার প্রতি এক অভূতপূর্ব ও মহান যত্নশীলতা প্রকাশ পেয়েছিল। ফলস্বরূপ নববী যুগেই হাদিস লিপিবদ্ধকরণের সূচনা হয়, যা হিজরি প্রথম শতাব্দী পর্যন্ত অব্যাহত থাকে এবং দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীতে এর ব্যাপক প্রসার ঘটে। নববী যুগ এবং সাহাবায়ে কেরামের যুগে হাদিস লিখন...
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والتابعين قد ثبت تاريخيًّا؛ بل بما هو أقوى منه حجة، وأشدُّ وثاقة، وأجلى برهانًا. وهذا النشاط لم يزل يتطوَّر عبر الوقت والزمان، ومع انقضاء القرن الأول بدأ تدوين الحديث الشريف وجمعه في بطون الكتب والدفاتر، وما انقضى القرن الثاني للهجرة حتى اتسع نطاق التصنيف والتأليف في علم الحديث، وظهرت خلال تلك المدة مجموعات شتى في هذا العلم الشريف، ولم يقتصر مصنفوها على الأحاديث النبوية المرفوعة؛ بل ربما توسعوا فيها فأودعوها آثار الصحابة والتابعين. وتتابعت الكتب والتصانيف في القرن الثالث الهجري، فوضعوا كتب الجوامع، والسنن، والمسانيد، والمصنَّفات والمعاجم وما إلى ذلك. ولسنا بصدد بسطه وتفصيله، كما أن هذا ليس موضعه.
وفي نفس القرن الثالث بدأت التصانيف تظهر في غريب الحديث ومُشْكِله، وتراجم الرجال والرواة، ثم كثرت العلوم والفنون فيما يتعلق بالحديث الشريف في القرون التالية.
هذا، ولما تمَّ تدوين الحديث وجمعه في بطون الكتب والدفاتر، ووقع الأمن من أن يتطرَّق إليه الضياع أو العفاء والدروس، من أجل ما كثرت التصانيف بالأسانيد، توجَّه الناس إلى وضع التصانيف في شروح الحديث، وكتب الزوائد، والتخريجات، كما عني بعضهم بإفراد الكتب المجردة من الأسانيد للتسهيل على الناشئين من طلاب هذا الفن ورواده.
এবং তাবেয়ীদের এই ধারা ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত; বরং এটি এর চেয়েও অধিক শক্তিশালী যুক্তি, অধিক নির্ভরযোগ্য এবং অত্যধিক সুস্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে সুসাব্যস্ত। এই কর্মতৎপরতা সময়ের পরিক্রমায় ক্রমাগত বিকশিত হতে থাকে। প্রথম হিজরি শতাব্দী শেষ হওয়ার সাথে সাথে হাদিস শরিফ লিপিবদ্ধকরণ এবং কিতাব ও নথিপত্রের অভ্যন্তরে তা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দী শেষ হতে না হতেই হাদিস বিজ্ঞানে শ্রেণিবিন্যাস ও গ্রন্থ রচনার পরিধি বিস্তৃত হয় এবং সেই সময়ে এই মহান বিদ্যায় নানাবিধ সংকলন আত্মপ্রকাশ করে। এর সংকলকগণ কেবল মারফু হাদিসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তারা এর পরিধি আরও বিস্তৃত করে তাতে সাহাবী ও তাবেয়ীদের আছারসমূহও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তৃতীয় হিজরি শতাব্দীতেও একের পর এক কিতাব ও সংকলন প্রকাশিত হতে থাকে; ফলে তারা জামে, সুনান, মুসনাদ, মুসান্নাফ, মু’জাম এবং এই জাতীয় গ্রন্থসমূহ প্রণয়ন করেন। আমরা এখানে এর বিস্তারিত বর্ণনায় প্রবৃত্ত হচ্ছি না, কেননা এটি তার উপযুক্ত স্থান নয়।
এই তৃতীয় শতাব্দীতেই গরিবুল হাদিস ও মুশকিলুল হাদিস এবং বর্ণনাকারী ও রাবীদের জীবনী সংক্রান্ত সংকলনসমূহ প্রকাশিত হতে শুরু করে। এরপর পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে হাদিস শরিফ সংশ্লিষ্ট জ্ঞান-বিজ্ঞানের বহুবিধ শাখার উদ্ভব ও বিকাশ ঘটে।
অতঃপর যখন হাদিস লিপিবদ্ধকরণের কাজ সম্পন্ন হলো এবং কিতাব ও নথিপত্রের অভ্যন্তরে তা সংগৃহীত হলো, আর সনদসহ বহুসংখ্যক সংকলন বিদ্যমান থাকার কারণে হাদিস হারিয়ে যাওয়া কিংবা বিলুপ্ত ও বিস্মৃত হওয়ার শঙ্কা থেকে নিরাপত্তা অর্জিত হলো, তখন মানুষ হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যাওয়ায়েদ এবং তাখরিজ বিষয়ক গ্রন্থ রচনার দিকে মনোনিবেশ করলেন। একইভাবে তাদের কেউ কেউ এই বিদ্যার নবীন শিক্ষার্থী ও অনুসারীদের সুবিধার্থে সনদবর্জিত পৃথক গ্রন্থ সংকলনের প্রতিও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
والآثار العلمية والقلمية التي برزت في ذلك العصر الزاهر، منها ما أفناه حوادث الدهر، ولم يبق منه إلا الاسم أو الرسم، ومنها ما قد ساعده الجدُّ، فظلَّ محفوظًا مصونًا من براثن الزمان، وتداولته أيدي العلماء والمحدثين، خلفًا عن سلف وكابرًا عن كابر، حتى وصل الأمر إلى هذا العصر الذي انتشر فيه طباعة الكتب وإذاعتها وإصدارها انتشارًا عظيمًا واسعًا، حتى أصبحنا نستفيد من المصادر الأساسية الأصلية إفادة ما كان يرجو مثلها العلماء الذين مضوا قبلنا بقليل. ومن تلك الكتب والآثار الأثرية التي ظلَّت مصونة عن يد الدهر، هذا الكتاب النادر الذي حُمِّلتُ مسئولية التقديم لها، وقبل أن أقول شيئًا عن هذا الكتاب وجهود محققه في إخراجه وإعداده، يبدو لي أن أتحدث عن إسهام علماء الهند في الحديث الشريف بشيء من الإيجاز والاختصار.
فمن الأمر العجيب أن الهند مع كونها ذات صلة عريقة قوية بالبلاد العربية، كان حظُّها من الحديث قليلاً مدى القرون، فلا نرى فيها من مجالس الرواية والإملاء والتحديث ونشاطات التصنيف والتأليف في هذا الفن الشريف، قرونًا طويلة، مثل ما نراها في العراق والشام ومصر والمغرب وخراسان وغيرها من البلاد التي دخلها الإسلام، وترفرفت على أرضها الراية الإسلامية، على أن الإسلام قد جاوز ثغور الهند ودخلها في القرن الأول، ووصل الجيوش الإسلامية إلى العديد من مدنها في خلافة عمر بن الخطاب رضي الله عنه، كما يقول المؤرخ العلامة البلاذري في فتوح البلدان
সেই উজ্জ্বল যুগে যে জ্ঞানতাত্ত্বিক ও লিখিত নিদর্শনসমূহ প্রকাশিত হয়েছিল, তার মধ্যে কিছু কালের আবর্তে বিলীন হয়ে গেছে, যার নাম বা সামান্য চিহ্ন ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আবার কিছু নিদর্শনের ক্ষেত্রে সৌভাগ্য সহায়ক হয়েছে, ফলে তা কালের থাবা থেকে সুরক্ষিত ও সংরক্ষিত রয়ে গেছে। পূর্বসূরিদের থেকে উত্তরসূরিগণ এবং বড়দের থেকে ছোটরা ধারাবাহিকভাবে আলেম ও মুহাদ্দিসগণের হাতে তা আবর্তিত হয়েছে। পরিশেষে বিষয়টি বর্তমান যুগে এসে পৌঁছেছে, যাতে কিতাব মুদ্রণ, প্রচার ও প্রকাশের ব্যাপক ও বিশাল প্রসার ঘটেছে। এমনকি বর্তমানে আমরা মৌলিক ও মূল উৎসসমূহ থেকে এমনভাবে উপকৃত হচ্ছি, যার আশা আমাদের সামান্য পূর্বের আলেমগণও করতে পারতেন না। কালের করাল গ্রাস থেকে সংরক্ষিত সেই সকল কিতাব ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো এই বিরল কিতাবটি, যার ভূমিকা লেখার দায়িত্ব আমার ওপর অর্পণ করা হয়েছে। এই কিতাব এবং এর সম্পাদকের সম্পাদনা ও প্রস্তুতিমূলক প্রচেষ্টা সম্পর্কে কিছু বলার আগে, সংক্ষেপে ইলমে হাদিসে হিন্দুস্তানের আলেমদের অবদান সম্পর্কে কিছু আলোচনা করা সমীচীন মনে করছি।
এটি এক বিস্ময়কর বিষয় যে, আরব দেশগুলোর সাথে হিন্দুস্তানের সুপ্রাচীন ও সুদৃঢ় সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও শতাব্দীকাল ধরে হাদিস শাস্ত্রে এর অংশ ছিল যৎসামান্য। দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী যাবত এই মহান বিদ্যায় আমরা সেখানে রিওয়ায়াত, ইমলা ও হাদিস পাঠের মজলিস এবং কিতাব রচনা ও সংকলনের সেই তৎপরতা দেখি না, যা আমরা ইরাক, শাম, মিসর, মাগরিব, খোরাসান এবং অন্যান্য দেশে দেখতে পাই যেগুলোতে ইসলাম প্রবেশ করেছিল এবং যেগুলোর জমিনে ইসলামের পতাকা উড্ডীন হয়েছিল। অথচ ইসলাম প্রথম শতাব্দীতেই হিন্দুস্তানের সীমান্ত অতিক্রম করে সেখানে প্রবেশ করেছিল এবং খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতকালে মুসলিম বাহিনী এর অনেক শহরে পৌঁছেছিল, যেমনটি ঐতিহাসিক আল্লামা বালাজুরি তাঁর 'ফুতুহুল বুলদান' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
"ولَّى: عمر بن الخطاب رضي الله عنه عثمان بن أبي العاص الثقفي البحرين وعمان سنة 15، فوجه أخاه الحكم إلى البحرين ومضى إلى عمان، فأقطع جيشًا إلى تانه ......... ووجه الحكم أيضًا إلى بروص، ووجه أخاه المغيرة بن أبي العاص إلى خور الدَّيْبَل"
(1).
و "تانه" و "بروص" و "ديبل" ثلاثتها كانت من سواحل الهند الشهيرة في ذلك الزمان. وبعد فترة من ذلك أخذ الإسلام ينتشر في أرجاء الهند، وكان يزداد أثره وانتشاره خصوصًا في المدن الساحلية، ولكن الحقيقة أن الهند - رغم تلك الصلة والعلاقة - لم تشهد من مجالس الرواية والإملاء والتحديث، ومظاهر التصنيف في هذا الفن الشريف كما شهدها البلاد الآخر.
والتطوُّر الحقيقي للحديث الشريف في الهند يبدأ منذ نهاية القرن التاسع الهجري، كما يقول العلامة المحقق السيد سليمان الندوي في إحدى مقالاته ما معربه:
"إن العهد الحقيقي لتطور علم الحديث في الهند هو نهاية القرن التاسع وبداية القرن العاشر الهجري"
(2).
وهذا هو العهد الذي قويت فيه العلاقات العلمية والثقافية بين شبه القارة الهندية وشبه الجزيرة العربية، وظهر فيه التبادل الثقافي والعلمي بين
--------------------------------------------
"উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ১৫ হিজরি সনে উসমান ইবনে আবিল আস আস-সাকাফীকে বাহরাইন ও ওমানের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। এরপর তিনি তাঁর ভাই হাকামকে বাহরাইনের দিকে পাঠান এবং নিজে ওমানের দিকে গমন করেন। অতঃপর তিনি তানা’র অভিমুখে একটি সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেন... এবং হাকামকেও ব্রোচ (বারওয়াস)-এর দিকে পাঠান। আর তিনি তাঁর ভাই মুগীরা ইবনে আবিল আসকে খোর দাইবাল অভিমুখে প্রেরণ করেন"
(১)।
‘তানা’, ‘ব্রোচ’ এবং ‘দাইবাল’—এই তিনটিই সেই যুগে ভারতের প্রসিদ্ধ উপকূলীয় অঞ্চল ছিল। এর কিছুকাল পর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ইসলাম ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে এবং বিশেষ করে উপকূলীয় শহরগুলোতে এর প্রভাব ও প্রসার বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে প্রকৃত সত্য এই যে, ভারতের সাথে সেই প্রাচীন যোগাযোগ ও সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও, এখানে হাদিস বর্ণনার আসর, শ্রুতলিখন (ইমলা), হাদিস পাঠদান এবং এই মহান বিদ্যায় গ্রন্থ সংকলনের যে ধারা অন্যান্য দেশগুলোতে দেখা গিয়েছিল, ভারত তা প্রত্যক্ষ করেনি।
ভারতে হাদিস শাস্ত্রের প্রকৃত উন্নয়ন নবম হিজরি শতাব্দীর শেষভাগ থেকে শুরু হয়; যেমনটি আল্লামা মুহাক্কিক সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী তাঁর একটি প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন, যার ভাষান্তর হলো:
“ভারতে ইলমে হাদিসের উন্নতির প্রকৃত যুগ হলো নবম শতাব্দীর শেষ এবং দশম হিজরি শতাব্দীর শুরু”
(২)।
আর এটাই সেই যুগ যখন ভারতীয় উপমহাদেশ এবং আরব উপদ্বীপের মধ্যে ইলমী ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছিল এবং উভয় অঞ্চলের মধ্যে জ্ঞান ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান প্রকাশ পেয়েছিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الهند والعرب على أوسع نطاق، فقد نزح العديد من العلماء والمحدثين العرب عن أوطانهم، وقدموا الهند، واستوطنوها، وقاموا فيها بتدريس الحديث وتحديثه ونشره، وهؤلاء العلماء القادمون من أرض العرب منهم من كان من أصحاب الإمام المحدث الحافظ ابن حجر العسقلاني، وأكثرهم كانوا من أصحاب تلاميذه.
وفي نفس هذا العصر بادر كثير من علماء الهند الذين ولدوا فيها، وفيها تمت نشأتهم، إلى الحجاز لأداء فريضة الحج، واستفادوا خلال تلك الرحلات المباركة من علماء الحرمين الشريفين، وأخذوا عنهم علم الحديث، وحصلوا على ما لديهم من الأسانيد والإجازات والمرويات.
وممن اشتهر في القرن العاشر والحادي عشر بالاشتغال بالحديث والاختصاص به، وامتاز بعظيم خدماته في هذا الفن والصنعة: الشيخُ حسام الدين علي المتقي الكجراتي - المتوفى بمكة سنة 975 هـ، وتلميذه الشيخ محمد بن طاهر الفتني - المتوفى سنة 986 هـ -، والشيخ عبد الأول بن علي بن العلاء الحسيني - المتوفى سنة 968 هـ -، وتلميذه الشيخ طاهر بن يوسف السندي - المتوفى سنة 1004 هـ -، - والشيخ أحمد بن عبد الأحد السرهندي - المتوفى سنة 1034 هـ -. وجاء من بعدهم، وهو أجلُّهم من ناحية المساهمة في التصنيف والتأليف في فمن الحديث، العلامة المحدث الشيخ عبد الحق الدهلوي - المتوفى سنة 1052 هـ -.
ভারত ও আরব ভূখণ্ড অত্যন্ত বিস্তৃত পরিসরে একে অপরের সাথে যুক্ত ছিল; বহু আরব আলেম ও মুহাদ্দিস তাঁদের স্বদেশ ত্যাগ করে ভারতে আগমন করেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তাঁরা সেখানে ইলমে হাদিস শিক্ষা প্রদান এবং এর চর্চা ও প্রসারে আত্মনিয়োগ করেন। আরব ভূমি থেকে আগত এই আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ ইমাম মুহাদ্দিস হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানির প্রত্যক্ষ শিষ্য ছিলেন, তবে তাঁদের অধিকাংশ ছিলেন তাঁর শিষ্যদের ছাত্র।
ঠিক একই যুগে ভারতে জন্মগ্রহণকারী এবং বেড়ে ওঠা অনেক আলেম হজের ফরজ বিধান পালনের উদ্দেশ্যে হিজাজে গমন করেন। এই বরকতময় সফরগুলোতে তাঁরা হারামাইন শরিফাইনের আলেমদের থেকে জ্ঞান অর্জন করেন, তাঁদের কাছ থেকে ইলমে হাদিস গ্রহণ করেন এবং তাঁদের নিকট থাকা বিভিন্ন সনদ, ইজাজত ও বর্ণিত হাদিসসমূহ লাভ করেন।
দশম ও একাদশ শতাব্দীতে যাঁরা ইলমে হাদিসের চর্চা ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন এবং এই শাস্ত্র ও শিল্পে মহৎ খিদমতের মাধ্যমে বিশিষ্টতা অর্জন করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: শেখ হুসামুদ্দিন আলী মুত্তাকী আল-গুজরাতি—যিনি ৯৭৫ হিজরিতে মক্কায় ইন্তেকাল করেন, তাঁর শিষ্য শেখ মুহাম্মদ বিন তাহির আল-ফাত্তানি—যিনি ৯৮৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, শেখ আব্দুল আউয়াল বিন আলী বিন আল-আলা আল-হুসাইনি—যিনি ৯৬৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, তাঁর শিষ্য শেখ তাহির বিন ইউসুফ আস-সিন্ধি—যিনি ১০০৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং শেখ আহমদ বিন আব্দুল আহাদ আস-সিরহিন্দি—যিনি ১০৩৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তাঁদের পরবর্তী সময়ে আগমন করেন আল্লামা মুহাদ্দিস শেখ আব্দুল হক দেহলভি—যিনি ১০৫২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন—যিনি হাদিস শাস্ত্রের গ্রন্থনা ও রচনার ক্ষেত্রে অবদানের দিক থেকে তাঁদের সকলের চেয়ে অগ্রগণ্য ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ومنذ القرن العاشر أخذت تظهر التصانيف في الحديث وعلومه في البلاد الهندية تترى، وانتشر هذا العلم انتشارًا عظيمًا بعد أن كانت سوقه فيها مدى عشرة قرون راكدة، كما يقول العلامة المحدث الشيخ محمد زاهد الكوثري:
"ثم توزَّعت الأقطار النشاط العلمي، وكان حظ إقليم الهند من هذا الميراث - منذ منتصف القرن العاشر - هو النشاط في علوم الحديث، فأقبل علماء الهند عليها إقبالاً كليًا، بعد أن كانوا منصرفين إلى الفقه المجرد والعلوم النظرية، ولو استعرضنا ما لعلماء الهند من الهمة العظيمة في علوم الحديث من ذاك الحين - مدة ركود سائر الأقاليم - لوقع ذلك موقع الإعجاب الكلي والشكر العميق، وكم لعلمائهم من شروح ممتعة وتعليقات نافعة على الأصول الستة وغيرها، وكم لهم من مؤلفات واسعة في أحاديث الأحكام، وكم لهم من أيادٍ بيضاء في نقد الرجال، وعلل الحديث، وشرح الآثار، وتأليف مؤلفات في شتى الموضوعات. والله سبحانه هو المسؤول أن يديم نشاطهم في خدمة مذاهب أهل الحق ويوفقهم لأمثال أمثال ما وفقوا له إلى الآن، وأن يبعث هذا النشاط في سائر الأقاليم من جديد"
(1).
هكذا كثر التصانيف في علم الحديث وزاد إقبال الناس عليه، ولم تزل تلك النشاطات تزداد رُقيًا وازدهارًا، حتى دخل القرن الثاني عشر، وولد فيه شيخ مشايخ علماء الهند نابغة العصر ونادرة الزمان العلامة المحدث الفقيه
--------------------------------------------
দশম শতাব্দী থেকে হিন্দুস্তানে ইলমে হাদিস ও এর শাখা-প্রশাখা নিয়ে একের পর এক গ্রন্থ রচিত হতে শুরু করে এবং এই ইলমটি অত্যন্ত ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দীর্ঘ দশ শতাব্দী ধরে এর চর্চা স্থবির ছিল; যেমনটি আল্লামা মুহাদ্দিস শায়খ মুহাম্মদ জাহিদ আল-কাওসারী বলেন:
"অতঃপর বিভিন্ন ভূখণ্ডে ইলমি তৎপরতা বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং দশম শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে এই উত্তরাধিকারের অংশ হিসেবে হিন্দুস্তান ভূখণ্ডের ভাগ্যে জোটে ইলমে হাদিসের চর্চা। ফলে হিন্দুস্তানের উলামায়ে কেরাম এর প্রতি পূর্ণাঙ্গরূপে মনোনিবেশ করেন, অথচ এর আগে তারা কেবল ফিকহ ও তাত্ত্বিক ইলমসমূহে মগ্ন ছিলেন। সেই সময় থেকে—যখন অন্যান্য ভূখণ্ডে স্থবিরতা বিরাজ করছিল—ইলমে হাদিসের ক্ষেত্রে হিন্দুস্তানের উলামায়ে কেরামের সুউচ্চ হিম্মত ও প্রচেষ্টার বিষয়টি যদি আমরা পর্যালোচনা করি, তবে তা হবে অত্যন্ত বিস্ময়কর এবং গভীর কৃতজ্ঞতার উদ্রেককারী। উসুলুস সিত্তা ও অন্যান্য কিতাবের উপর তাদের উলামায়ে কেরামের কতই না চমৎকার ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও উপকারী টীকা রয়েছে! আহকামুল হাদিসের ক্ষেত্রে তাদের কতই না সুবিশাল গ্রন্থরাজি রয়েছে! রিজাল শাস্ত্রের সমালোচনা, হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলাল), আসার-এর ব্যাখ্যা এবং বিভিন্ন বিষয়ে গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে তাদের কতই না মহান অবদান রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন হকপন্থীদের মাজহাবের খিদমতে তাদের এই তৎপরতা অব্যাহত রাখেন এবং এ যাবৎ তারা যে তাওফিক লাভ করেছেন, ভবিষ্যতে তার অনুরূপ আরও তাওফিক দান করেন। আর তিনি যেন অন্যান্য ভূখণ্ডেও নতুন করে এই তৎপরতা জাগ্রত করেন"
(1)।
এভাবেই ইলমে হাদিসে গ্রন্থ রচনার সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং এর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়তে থাকে। এই তৎপরতা ক্রমেই উন্নতি ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে থাকে, এমনকি দ্বাদশ শতাব্দী শুরু হয়। আর এই শতাব্দীতেই জন্মগ্রহণ করেন হিন্দুস্তানের উলামায়ে কেরামের প্রধান উস্তাদ, যুগের বিস্ময় ও সময়ের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব, আল্লামা মুহাদ্দিস ফকিহ—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الأصولي الشيخ الشاه أحمد بن عبد الرحيم المعروف بالشاه ولي الله الدهلوي، الذي ولد في اليوم الرابع من شوال عام 1114 هـ، ونشأ في بيت علم ودين، وأخذ العلم عن نوابغ عصره وفضلاء دهره، ثم سافر إلى الحجاز، واستفاد كثيرا من علماء الحرمين الشريفين، وتشرَّف بالإجازة والرواية عن كثير من مشايخهما الأجلاء المعروفين برواية الحديث وعلو الإسناد، من أشهرهم العلامة المحدث المسند الشيخ أبو طاهر الكردي الكوراني - المتوفى سنة 1145 هـ - ابن العلامة المحدث الراوية الشيخ إبراهيم الكردي صاحب كتاب "الأمم لإيقاظ الهمم".
وبعد ما رجع الشيخ ولي الله من هذه الرحلة المباركة إلى أرض الهند أخذ في نشر علم الحديث بهمة جديدة وحماسة بالغة، وقام بوضع تصانيف كثيرة في شتى العلوم والفنون الإسلامية، فحصل على يده لهذا العلم نهضة جديدة في المناخ الهندي، وتعتبر تصانيفه وتأليفاته نقطة تحول في الإصلاح الاعتقادي والتعليمي والفكري والاجتماعي على مستوى الهند.
وإلى جانب التصنيف والتأليف عني هذا الرجل العظيم عناية تامة بتربية الأجيال القادمة ورُوَّاد العلوم الدينية والإسلامية وطلابها، حتى تخرَّج عليه جماعة من أفراد الزمان ونوابغ العصر الذين لعبوا دورًا بارزًا في تقديم الركب العلمي بوجه عام، وعلم الحديث بوجه خاص. ومن أجلِّ أصحابه الذين ورثوا منه هذه الأمانة العلمية، وأدَّوها إلى الأجيال اللاحقة، وقاموا بنشرها
উসূলবিদ শায়খ শাহ আহমদ ইবনে আব্দুল রহীম, যিনি শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি নামে পরিচিত, ১১১৪ হিজরি সনের ৪ঠা শাওয়াল জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একটি ইলমি ও দ্বীনি পরিবারে লালিত-পালিত হন এবং তাঁর সমকালীন যুগশ্রেষ্ঠ পণ্ডিত ও গুণীজনদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। অতঃপর তিনি হিজাজ সফর করেন এবং হারামাইন শরীফাইনের ওলামায়ে কেরামের নিকট থেকে প্রভূত উপকৃত হন। তিনি হাদিস বর্ণনা ও উচ্চতর ইসনাদের জন্য সুপরিচিত বহু মর্যাদাবান শায়খের নিকট থেকে ইজাজত ও রেওয়ায়েত লাভের গৌরব অর্জন করেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রখ্যাত হলেন আল্লামা মুহাদ্দিস আল-মুসনিদ শায়খ আবু তাহের আল-কুর্দি আল-কুরানি — মৃত্যু ১১৪৫ হিজরি — যিনি "আল-উমাম লি-আইকাজিল হিমাম" গ্রন্থের রচয়িতা প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও রাবী শায়খ ইব্রাহিম কুর্দির পুত্র।
এই বরকতময় সফর শেষে হিন্দুস্তানের মাটিতে ফিরে আসার পর শায়খ ওয়ালিউল্লাহ এক নতুন উদ্যম ও সুতীব্র উদ্দীপনার সাথে ইলমে হাদিস প্রসারের কাজ শুরু করেন। তিনি ইসলামের বিভিন্ন শাখা ও বিদ্যায় বহু গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর মাধ্যমেই ভারতীয় ভূখণ্ডে এই ইলমের এক নতুন জাগরণ সূচিত হয়। তাঁর রচনাবলি ও সংকলনসমূহ ভারতের আকিদাগত, শিক্ষাগত, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক সংস্কারের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সন্ধিক্ষণ হিসেবে গণ্য হয়।
গ্রন্থ রচনার পাশাপাশি এই মহান মনীষী পরবর্তী প্রজন্ম এবং দ্বীনি ও ইসলামি ইলমের পথিকৃৎ ও শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার প্রতি পূর্ণ মনোনিবেশ করেন। ফলশ্রুতিতে তাঁর তত্ত্বাবধানে সমকালের এমন একদল ক্ষণজন্মা ও প্রতিভাধর ব্যক্তি তৈরি হন, যারা সামগ্রিকভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের কাফেলাকে এবং বিশেষভাবে ইলমে হাদিসকে এগিয়ে নিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর সেই সকল মহান সাথীদের মধ্য থেকে যারা তাঁর নিকট থেকে এই ইলমি আমানত উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছিলেন এবং তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন ও প্রচার করেছিলেন...
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ২০)
تدريسًا وتصنيفًا وتعليمًا وإملاءً عبقري وقته الإمام المحدث المفسر الفقيه الشيخ الشاه عبد العزيز الدهلوي ابن الشاه ولي الله وخلَفُه في العلم والعمل. وتوفي الشاه عبد العزيز في السابع من شوال سنة 1239 هـ عن عمر يناهز ثمانين سنة.
ومن المسندين عنه والآخذين منه هذا العلم المبارك ابن بنته ومسند وقته الشهير في الآفاق المحدث الشيخ الشاه محمد إسحاق بن محمد أفضل الدهلوي المهاجر المكي - المتوفى سنة 1262 هـ بمكة المكرمة -.
وعن الشاه محمد إسحاق انتشرت هذه السلسلة الذهبية للإسناد انتشارًا واسعًا في كافة أرجاء الهند وأطرافها، فأسند عنه واستفاد كثير من الناس، من أجلِّهم وأشهرهم في العلم والفضل وأبعدهم صيتًا العلامة المحدث الشيخ عبد الغني بن أبي سعيد الدهلوي - المتوفى سنة 1296 هـ بالمدينة المنورة.
ومن نجباء تلاميذ الشيخ عبد الغني: الإمام العلامة الحجة الشيخ محمد قاسم النانوتوي - المتوفى سنة 1297 هـ -، وعصريُّه الإمام الرباني العلامة المحدث الفقيه الشيخ رشيد أحمد الكنكوهي - المتوفى سنة 1323 هـ -.
وأخذ منهما العلم والمعرفة كثير من علماء الهند ومشايخها الأجلاء البارزين في مجال العلم والفن وخدمة الإسلام والدين المبين، المتفانين في نشر العلوم الإسلامية والدينية في شبه القارة الهندية إثر سقوط الإمبراطورية المغولية. وهما اللذان اقتبس منهما الرواية والإسناد علماءُ ديوبند ومن سلك مسلكهم من معظم علماء المدارس الدينية في الهند.
পাঠদান, গ্রন্থরচনা, শিক্ষা প্রদান ও শ্রুতিলিখনের ক্ষেত্রে নিজ সময়ের বিস্ময়কর প্রতিভা ছিলেন ইমাম, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও ফকিহ শায়খ শাহ আব্দুল আজিজ দেহলভি, যিনি শাহ ওয়ালিউল্লাহর পুত্র এবং জ্ঞান ও কর্মে তাঁর উত্তরসূরি। শাহ আব্দুল আজিজ ১২৩৯ হিজরি সনের ৭ই শাওয়াল প্রায় আশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
তাঁর নিকট থেকে সনদ গ্রহণকারী এবং এই বরকতময় জ্ঞান অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হলেন তাঁর দৌহিত্র, স্বীয় সময়ের বিশ্বখ্যাত মুসনিদ, মুহাদ্দিস শায়খ শাহ মুহাম্মদ ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ আফজাল দেহলভি আল-মুহাজির আল-মাক্কি—যিনি ১২৬২ হিজরি সনে মক্কা মুকাররমায় ইন্তেকাল করেন।
আর শাহ মুহাম্মদ ইসহাক থেকে এই স্বর্ণালি সনদ-পরম্পরা সমগ্র ভারতের আনাচে-কানাচে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অসংখ্য মানুষ তাঁর থেকে সনদ গ্রহণ করেছেন এবং উপকৃত হয়েছেন। জ্ঞান ও শ্রেষ্ঠত্বে তাঁদের মধ্যে অন্যতম মহান, প্রসিদ্ধ এবং সর্বাধিক খ্যাতিমান হলেন আল্লামা মুহাদ্দিস শায়খ আব্দুল গনি ইবনে আবু সাঈদ দেহলভি—যিনি ১২৯৬ হিজরি সনে মদিনা মুনাওয়ারায় ইন্তেকাল করেন।
শায়খ আব্দুল গনির মেধাবী ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন: ইমাম আল্লামা হুজ্জাত শায়খ মুহাম্মদ কাসিম নানুতভি—যিনি ১২৯৭ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন—এবং তাঁর সমসাময়িক ইমাম রব্বানি, আল্লামা, মুহাদ্দিস ও ফকিহ শায়খ রশিদ আহমদ গাঙ্গোহি—যিনি ১৩২৩ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
তাঁদের নিকট থেকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অর্জন করেছেন ভারতের বহু আলিম ও মহান মাশায়েখ, যাঁরা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকলায় এবং ইসলাম ও সুস্পষ্ট দ্বীনের খিদমতে ছিলেন অগ্রগণ্য। মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের পর ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামি ও দ্বীনি জ্ঞান বিস্তারে তাঁরা ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। মূলত এই দুজন থেকেই দেওবন্দের ওলামায়ে কিরাম এবং ভারতের অধিকাংশ দ্বীনি মাদরাসার ওলামাগণ, যাঁরা তাঁদের পথ অনুসরণ করেছেন, রেওয়ায়েত ও সনদের ধারা গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ২১)
ولكن من أشهر مَن أخذ منهما وتخرَّج عليهما: الإمام العَلَم الفَرْد المحدِّث المفسِّر حامل لواء العِلم والإصلاح والتربية الدينية مع قيادة حركة الحرية الوطنية الشيخ محمود حسن الديوبندي الشهير بشيخ الهند - المتوفى سنة 1339 هـ -
وقد حمل عنه العلم رجال كثيرون، بارعون في العلم والفضل والكمال، ونبغ بفضل تربيته وتثقيفه عدد كبير لا يتفق مثلها لشيخ واحد إلا نادرًا، فقد قرأ عليه وتخرج مثل: الإمام العلامة المحدث الأوحد الشيخ أنور شاه الكشميري المتوفى سنة 1352 هـ، والعلامة المحدث المفسر الشيخ شبير أحمد الديوبندي - المتوفى سنة 1369 هـ -، وشيخنا العلامة المحدث شيخ العرب والعجم السيد حسين أحمد المدني - المتوفى سنة 1377 هـ وخلق سواهم، تغمَّدهم الله برحمته، وأمطر عليهم شآبيب رضوانه، وأسكنهم فسيح جنانه.
فجهود علماء الهند في مجال علم الحديث عند ركود سائر العالم فيه، وقيادتهم لموكبه النبيل في تلك الظروف المتدهورة تستحق الاعتراف والتقدير، وممن اعترف بفضلهم وبارز دورهم فيه، وأشاد بجهودهم المباركة في هذا المضمار، العلامة السيد الشيخ رشيد رضا، حيث يقول في مقدمة مفتاح كنوز السنة المطبوع بمصر سنة 1353 هـ = 1934 م ما نصه:
"ولولا عناية إخواننا علماء الهند بعلوم الحديث في هذا العصر، لقُضِي عليها بالزَّوال من أمصار الشرق، فقد ضعُفت في مصر والشام والعراق
কিন্তু তাঁদের নিকট থেকে যারা জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তাঁদের নিকট শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলেন: ইমাম, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, অনন্য মুহাদ্দিস, মুফাসসির, জ্ঞান, সংস্কার ও ধর্মীয় শিক্ষার ঝাণ্ডাবাহী এবং জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা শায়খ মাহমুদ হাসান দেওবন্দি, যিনি শায়খুল হিন্দ নামে প্রসিদ্ধ - মৃত্যু ১৩৩৯ হিজরি -।
তাঁর নিকট থেকে বহু ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করেছেন, যারা জ্ঞান, মর্যাদা ও পূর্ণতায় পারদর্শী ছিলেন। তাঁর লালন-পালন ও শিক্ষার বরকতে এমন বিপুল সংখ্যক মেধাবী ছাত্র তৈরি হয়েছে, যা একজন শায়খের ক্ষেত্রে সচরাচর দেখা যায় না। তাঁর নিকট পড়াশোনা করেছেন এবং উত্তীর্ণ হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন: ইমাম, আল্লামা, অনন্য মুহাদ্দিস শায়খ আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (মৃত্যু ১৩৫২ হিজরি), আল্লামা মুহাদ্দিস ও মুফাসসির শায়খ শাব্বির আহমদ দেওবন্দি - মৃত্যু ১৩৬৯ হিজরি -, এবং আমাদের শায়খ আল্লামা মুহাদ্দিস, আরব ও আজমের শায়খ সাইয়্যেদ হুসাইন আহমদ মাদানি - মৃত্যু ১৩৭৭ হিজরি - ও আরও অনেকে। আল্লাহ তাঁদেরকে নিজ রহমতের চাদরে আবৃত করুন, তাঁদের ওপর সন্তুষ্টির বারিধারা বর্ষণ করুন এবং জান্নাতের সুপ্রশস্ত স্থানে তাঁদের আবাস দান করুন।
সুতরাং বিশ্বের বাকি অংশে যখন হাদিস চর্চায় স্থবিরতা বিরাজ করছিল, তখন হাদিস শাস্ত্রের ময়দানে ভারতের উলামায়ে কেরামের প্রচেষ্টা এবং সেই সংকটময় পরিস্থিতিতে এই মহৎ কাফেলার নেতৃত্ব প্রদান স্বীকৃতি ও প্রশংসার দাবিদার। যারা তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব ও এই ক্ষেত্রে তাঁদের অনন্য ভূমিকা স্বীকার করেছেন এবং এই ময়দানে তাঁদের বরকতময় প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন, তাঁদের অন্যতম হলেন আল্লামা সাইয়্যেদ শায়খ রশিদ রিদা। তিনি ১৩৫৩ হিজরি মোতাবেক ১৯৩৪ সালে মিশরে মুদ্রিত 'মিফতাহ কুনুজুস সুন্নাহ' এর ভূমিকায় যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ:
"যদি এই যুগে আমাদের ভারতীয় উলামা ভাইদের হাদিস শাস্ত্রের প্রতি বিশেষ যত্ন ও মনোযোগ না থাকত, তবে প্রাচ্যের শহরগুলো থেকে তা বিলুপ্ত হয়ে যেত। কেননা মিশর, সিরিয়া এবং ইরাকে এই চর্চা দুর্বল হয়ে পড়েছিল।"
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ২২)
والحجاز منذ القرن العاشر للهجرة، حتى بلغت منتهى الضعف في أوائل هذا القرن الرابع عشر"
(1).
وقد انتهت رئاسة علم الحديث وهذا الفن الشريف في الهند إلى شيخنا العلامة المحدث المحقق الناقد البارع الشيخ حبيب الرحمن الأعظمي رحمه الله تعالى. وعنايته بهذه الصناعة، ومنزلته السامية، ومكانته المرموقة، وخدماته الجليلة فيها قد اشتهرت اشتهارًا أجلُّ من أن يوصف ويُذكر، فقد اعترف بإمامته في علم الحديث وحذقه ومهارته فيه فُرسان مضمار العلم وجهابذة هذا الشأن. ولا شك في أنه كان قد حظي ببراعة لا تتيسر مثلها إلا لأفذاذ الرجال، وله - مع ذلك كله - أيادٍ بيضاء في نشر هذا العلم على مستوى واسع بإعداد كثير من كتب الحديث القديمة ومخطوطاتها النادرة بعد المقابلة والتصحيح والتخريج والتعليق عليها، مع الاشتغال بالتدريس والإفادة والتصنيف والتأليف، والمداومة عليها مدى حياته.
ومما يزيد في قائمة مهماته العلمية اكتشاف مخطوط هذا الكتاب الذي فوِّض إليَّ مسؤولية التقديم له، فلا شك أنه من نوادر التراث الإسلامي، وهو مما لم يكن يوجد له أثر ولا عين، وكنا كثيرًا ما نُلِمُّ برواياته التي يوردها أصحاب شروح الحديث ومصنِّفو كتب الزوائد والتخريجات في تصانيفهم، وما كان يُعتقد؛ بل لم يكن يخطر ببال أحد، أن له نسخةً في مكتبة من مكتبات
--------------------------------------------
এবং হিজাযে হিজরি দশম শতাব্দী থেকে, এমনকি তা এই চতুর্দশ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত চরম দুর্বলতায় পৌঁছেছিল।"
(১).
আর ভারতে ইলমে হাদিস এবং এই মহিমান্বিত শিল্পের নেতৃত্ব আমাদের শাইখ, আল্লামা, মুহাদ্দিস, গবেষক, দক্ষ সমালোচক শাইখ হাবীবুর রহমান আল-আ’জমী (রহিমাহুল্লাহ তা‘আলা)-এর নিকট এসে সমাপ্ত হয়েছে। এই শাস্ত্রের প্রতি তাঁর গভীর মনোযোগ, তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা, তাঁর অনন্য অবস্থান এবং এতে তাঁর মহান খিদমতসমূহ এমন প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যা বর্ণনা বা উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তার ঊর্ধ্বে। ইলমে হাদিসে তাঁর ইমামত, প্রজ্ঞা এবং দক্ষতাকে এই ময়দানের অশ্বারোহী এবং বিদগ্ধ পণ্ডিতগণ অকপটে স্বীকার করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি এমন এক শ্রেষ্ঠত্ব ও নিপুণতা অর্জন করেছিলেন যা কেবল ক্ষণজন্মা ব্যক্তিদের পক্ষেই সম্ভব। এতদসত্ত্বেও, হাদিসের বহু প্রাচীন গ্রন্থ এবং দুর্লভ পাণ্ডুলিপিগুলো পাঠান্তর যাচাই, সংশোধন, তাখরিজ ও টীকা প্রদানের মাধ্যমে ব্যাপক স্তরে এই ইলম ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অনন্য অবদান রয়েছে; সেই সাথে তিনি সারা জীবন শিক্ষকতা, জ্ঞানদান এবং গ্রন্থ রচনা ও সংকলনে নিরবচ্ছিন্নভাবে মগ্ন ছিলেন।
তাঁর ইলমি গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলীর তালিকায় যা বিশেষ মাত্রা যোগ করে তা হলো এই কিতাবটির পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার, যার ভূমিকা লেখার দায়িত্ব আমাকে অর্পণ করা হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি ইসলামি ঐতিহ্যের এক দুর্লভ রত্ন, যার কোনো নাম-নিশানা বা চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। আমরা প্রায়শই সেই বর্ণনাগুলোর মুখোমুখি হতাম যা হাদিসের ব্যাখ্যাকারগণ এবং যাওয়ায়েদ ও তাখরিজ শাস্ত্রের রচয়িতাগণ তাঁদের কিতাবে উদ্ধৃত করতেন। অথচ এমন কোনো ধারণা ছিল না, বরং কারও মনেও আসেনি যে, কোনো একটি গ্রন্থাগারে এর কোনো কপি বা পাণ্ডুলিপি থাকতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
العالم، إلا ما نراه من عزو شيخنا الأعظمي في بعض تعليقاته على المطالب العالية. فرحم الله شيخنا العلامة المحدث الأعظمي، إذ هو السبب الأول الذي قد يسَّر لنا سبيل الاستفادة من هذا الكتاب، حيث كشف القناع عن نسخته الوحيدة الفريدة في العالم - فيما نعلم، ولم يكن قد اكتفى به؛ بل استنسخ منها نسخة لنفسه، وقارن بين النسختين، وخلال مطالعته أثبت على نسخته تعليقات وملاحظات في كثير من المواضع، مما يكفي لتوثيق نسخة الكتاب.
أما مهمة تحقيق الكتاب والتعليق عليه، فإني قد تصفَّحته من مواضع شتى، وسرَّحت النظر في التعليقات الحافلة عليه، فوقع مني موقع الإعجاب والاستحسان، ووجدته من مناهج هذا العصر في التحقيق والإخراج والإعداد بأسمى مكان، وقد قام بتحقيق الكتاب والتعليق عليه ومعارضته على أصوله وتخريج أحاديثه من مظانه حِبي وقرة عيني الأخ العزيز الدكتور مسعود أحمد الأعظمي أحد أصحابي. ألا وإن عمله هذا قد ذكَّرني بجهود جده لأمه - المحدث الجليل والمحقق الكبير العلامة الشيخ حبيب الرحمن الأعظمي - قدَّس الله سرَّه العزيز - في خدمة السنة النبوية المطهرة ونشر الحديث الشريف، فإنه ليتَبَلْوَر أثره وتشفُ روحه في تعليقات حفيده على الكتاب. وإن حفيده الأخ الباحث مسعود أحمد الأعظمي - جزاه الله خيرًا - قد بذل جهودًا مشكورةً في استخراج هذا الكنز الثمين النادر من زاوية الخمول والخفاء، وإعداده للطباعة والنشر، كما أن لجدِّه مولانا العلامة الشيخ حبيب الرحمن
বিশ্বজুড়ে, তবে আমাদের শাইখ আল-আজমীর তাঁর 'আল-মাতালিব আল-আলিয়া'র কিছু টীকায় করা উদ্ধৃতি ছাড়া আর কিছুই আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় না। আল্লাহ আমাদের শাইখ আল্লামা মুহাদ্দিস আল-আজমীর প্রতি রহম করুন, কারণ তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি আমাদের জন্য এই কিতাব থেকে উপকৃত হওয়ার পথ সুগম করে দিয়েছেন। তিনি বিশ্বজুড়ে এর একমাত্র অনন্য পাণ্ডুলিপিটির—যতটুকু আমরা জানি—আবরণ উন্মোচন করেছেন। তিনি কেবল এতেই ক্ষান্ত হননি; বরং নিজের জন্য এর একটি অনুলিপি তৈরি করেছিলেন এবং উভয় কপির মধ্যে তুলনা করেছিলেন। অধ্যয়নকালে তিনি তাঁর অনুলিপিতে অনেক স্থানে বিভিন্ন টীকা ও পর্যবেক্ষণ লিপিবদ্ধ করেছিলেন, যা কিতাবটির পাণ্ডুলিপির নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট।
কিতাবটির তাহকীক (সম্পাদনা) এবং এর ওপর টীকা প্রদানের কাজের ব্যাপারে বলতে গেলে, আমি এর বিভিন্ন অংশ উল্টেপাল্টে দেখেছি এবং এর ওপর করা সমৃদ্ধ টীকাগুলোর ওপর নজর বুলিয়েছি। এটি আমার কাছে অত্যন্ত বিস্ময়কর ও প্রশংসনীয় মনে হয়েছে। আমি এটিকে বর্তমান যুগের তাহকীক, প্রকাশনা ও বিন্যাসের পদ্ধতির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আসনে পেয়েছি। কিতাবটির তাহকীক, টীকা প্রদান, মূল পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা এবং সম্ভাব্য উৎসগুলো থেকে এর হাদীসগুলোর তাখরীজ করেছেন আমার ভালোবাসার পাত্র ও নয়নমণি, আমার অন্যতম সাথী স্নেহভাজন ভাই ডক্টর মাসউদ আহমদ আজমী। জেনে রাখুন, তাঁর এই কাজ আমাকে তাঁর মাতামহ—মহান মুহাদ্দিস ও প্রখ্যাত গবেষক আল্লামা শাইখ হাবিবুর রহমান আজমী (আল্লাহ তাঁর মর্যাদাকে পবিত্র করুন)—এর পবিত্র সুন্নাহর সেবা এবং হাদীস শরীফ প্রচারের প্রচেষ্টার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। তাঁর সেই প্রভাব ও রূহানিয়ত তাঁর নাতির এই কিতাবের টীকাগুলোর মাঝে মূর্ত হয়ে উঠেছে। আর তাঁর নাতি, গবেষক ভাই মাসউদ আহমদ আজমী—আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন—অজ্ঞাত ও অপ্রকাশিত অবস্থা থেকে এই বিরল ও মূল্যবান জ্ঞানভাণ্ডারটি বের করে আনা এবং এটি মুদ্রণ ও প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। যেমনটি তাঁর মাতামহ মাওলানা আল্লামা শাইখ হাবিবুর রহমানের...
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الأعظمي منة عظيمة في رقاب أهل العلم باكتشافه لهذا الكتاب الذي لم يزل متواريًا عن أعين أهل العلم. فعناية حفيده بهذا الكتاب على أثر رحيله تستحق الشكر والتقدير من الأوساط العلمية، وإننا لنرجو من فضل الله سبحانه وتعالى بعد العثور على عمله هذا أنه سوف يسدُّ - إن شاء الله - بعض الفراغ الذي كان قد وقع بوفاة جده رحمه الله تعالى في مجال البحث والتحقيق على مستوى الهند، وإنه يبدو لنا أن الغراس قد أتى بثماره.
فأدعو الله سبحانه وتعالى أن يتقبَّل عمله هذا بقبول حسن، ويجعله له أجرًا وذخرًا، ويجزيه على هذه الخدمة العظيمة المباركة الجزاء الأوفر والأوفى.
এই কিতাবটি আবিষ্কারের মাধ্যমে আল-আজমী আলেম সমাজের জন্য এক মহান অনুগ্রহ রেখে গেছেন, যা এতদিন আলেমদের দৃষ্টির অন্তরালে ছিল। তার প্রয়াণের পর এই কিতাবের প্রতি তার নাতির বিশেষ যত্ন তাত্ত্বিক মহলে কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসার দাবি রাখে। আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার অনুগ্রহের নিকট আশা করি যে, তার এই কাজটির খোঁজ পাওয়ার পর—আল্লাহ যদি চান—এটি তার দাদার (আল্লাহ তায়ালা তার ওপর রহম করুন) ইন্তেকালের ফলে ভারতের গবেষণা ও তাহকিকের ক্ষেত্রে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা পূরণ করবে। আমাদের নিকট এটি প্রতীয়মান হচ্ছে যে, রোপিত চারাটি ফল দান করতে শুরু করেছে।
অতঃপর আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন তার এই কাজটিকে উত্তমভাবে কবুল করেন, একে তার জন্য প্রতিদান ও পাথেয় হিসেবে গণ্য করেন এবং এই মহান ও বরকতময় খিদমতের জন্য তাকে পরিপূর্ণ ও সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
كلمة التحقيقالحمدُ لله نَحمَده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، من يهدي الله فلا مُضِلَّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمَّدًا عبدُه ورسوله.
وبعد، فإنه يسعدني ويسرني أن أتقدَّم إلى أهل العلم ولا سيما رُوَّاد الحديث الشريف وطلابهم بهذا الكنز الدفين والتراث العلمي الثمين الذي لم يزل حتى الآن مستورًا عن أعين الناس ونواظرهم، وإني أحمد الله سبحانه وتعالى أنه وفَّق هذا العاجز المسكين لخدمته وإعداده وإخراجه إلى عالم الطباعة والنشر، فإنه هو الموفِّق والمعين، وهو المستعان وعليه التكلان، وبنعمته وعزته وجلاله تتم الصالحات.
وهذه نبذة يسيرة ونظرة عابرة ينبغي أن أقدِّمها قبل أن نبدأ الكتاب، فهذه الكلمة تشتمل على دراسة تكاد تكون شاملة لحياة المصنِّف - الحارث ابن أبي أسامة - وسيرته، ومكانته في الأوساط العلمية؛ ودراسةٍ لهذا المسند، وما حظي به من تمام العناية والاحتفاء لدى أهل العلم بالحديث والمصنفين في هذا الفن الشريف. كما تشتمل على وصف مشبع لهذه النسخة التاريخية القيمة، والطريق التي وصل بها إلينا. عسى أن يكون فيها مقنع وكفاية للناظر في الكتاب وقارئه الكريم.
সম্পাদকের কথাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
অতঃপর, জ্ঞানান্বেষী বিশেষ করে হাদিস শাস্ত্রের গবেষক এবং শিক্ষার্থীদের সামনে এই গুপ্ত ধনভাণ্ডার ও মূল্যবান ইলমি ঐতিহ্য উপস্থাপন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও প্রীত, যা এখন পর্যন্ত মানুষের দৃষ্টির অন্তরালে আবৃত ছিল। আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার প্রশংসা করছি যে, তিনি এই অক্ষম অকিঞ্চিৎকর ব্যক্তিকে এর খিদমত করার, এটি প্রস্তুত করার এবং মুদ্রণ ও প্রকাশনার জগতে নিয়ে আসার তাওফিক দান করেছেন। কেননা তিনিই তাওফিকদাতা ও পরম সাহায্যকারী। তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা হয় এবং তাঁরই ওপর ভরসা। তাঁর অনুগ্রহ, সম্মান ও মহিমার মাধ্যমেই সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়।
মূল কিতাবটি শুরু করার পূর্বে এটি একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ ও আলোকপাত যা পেশ করা আবশ্যক। এই আলোচনায় গ্রন্থকার আল-হারিস ইবনে আবি উসামার জীবন, তাঁর জীবনী এবং ইলমি অঙ্গনে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে একটি প্রায় পূর্ণাঙ্গ অধ্যয়ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এই মুসনাদ গ্রন্থের পরিচয় এবং হাদিস বিশারদ ও এই মহৎ শাস্ত্রের সংকলকদের নিকট এটি যে পূর্ণাঙ্গ মনোযোগ ও সমাদর লাভ করেছে, তার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এতে আরও রয়েছে এই মূল্যবান ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপির বিস্তারিত বর্ণনা এবং যে সূত্রের মাধ্যমে এটি আমাদের নিকট পৌঁছেছে তার বিবরণ। আশা করি, কিতাবের পাঠক ও পর্যালোচনাকারীর জন্য এটি পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক হবে।
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ترجمة المصنف (1)
اسمه وكنيته ونسبه:هو: مسند العراق
(2)، الإمام أبو محمد الحارث بن محمد بن أبي أسامة البغدادي الحافظ، صاحب المسند
(3).
--------------------------------------------
গ্রন্থকারের জীবনী (১)তাঁর নাম, উপনাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন: ইরাকের মুসনিদ
(২), ইমাম আবু মুহাম্মদ আল-হারিস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি উসামা আল-বাগদাদি আল-হাফিজ, মুসনাদ গ্রন্থের রচয়িতা
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আনশাবুল কাসাবি ফী আনসাবিল কুতুব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وجاء نسبه في الأنساب
(1): الحارث بن محمد بن أبي أسامة - واسمه زاهر - بن يزيد بن عَدي بن السَّائب بن شمَّاس بن حنظلة بن عامر بن الحارث بن مُرَّة بن مالك بن حنظلة بن مالك بن زيد بن مناة بن تميم بن مُرَّة بن أُدِّ بن طابخة التميمي من أهل بغداد.
وكذا ذكره الخطيب في تاريخ بغداد إلا أنه زاد بعد "طابخة": ابن إلياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان
(2).
قال الخطيب بعد سياق نسبه المذكور: "قرأت نسبه هذا بخط أبي عمر بن حَيُّويه"؛ ثم حكى بإسناده عن عبد الصمد بن علي بن محمد بن مكرم أنه قال: "أبو محمد الحارث بن محمد بن الحارث بن داهر التميمي"؛ وأتبعه الخطيب بقوله: "كذا قال دَاهِر بالدال، وزاد قبله الحارث"، وحكى عن علي بن إسحاق المادراني نحو ما قال عبد الصمد بن علي.
ومن أجل هذا الاختلاف قد جاء في غير واحد من المصادر اسم أبي أسامة "داهر" مكان "زاهر"، ولكن أكثر المترجمين لم يذكروا الحارث.
وجاء لقبه في تاريخ الإسلام وسير الأعلام
(3) "الخَضِيب"، ولعله لقب به لأنَّه كان يَخضِب بالحمرة، كما في تاريخ بغداد وكتاب التقييد.
--------------------------------------------
তাঁর বংশপরম্পরা আল-আনসাব
(১) গ্রন্থে এভাবে এসেছে: আল-হারিস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি উসামা - তাঁর নাম ছিল জাহির - ইবনে ইয়াজিদ ইবনে আদি ইবনে আস-সাইব ইবনে শাম্মাস ইবনে হানজালা ইবনে আমির ইবনে আল-হারিস ইবনে মুররা ইবনে মালিক ইবনে হানজালা ইবনে মালিক ইবনে জাইদ ইবনে মানাত ইবনে তামিম ইবনে মুররা ইবনে উদ্দ ইবনে তাবিখা আত-তামিমি, তিনি বাগদাদের অধিবাসী ছিলেন।
অনুরূপভাবে খতিব (বাগদাদি) এটি তারিখ বাগদাদে উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি "তাবিখা"-এর পরে আরও যুক্ত করেছেন: ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিজার ইবনে মা'দ ইবনে আদনান
(২)।
খতিব উক্ত বংশপরম্পরা বর্ণনার পর বলেন: "আমি এই বংশপরম্পরাটি আবু উমর ইবনে হাইয়্যুউয়াইহর হস্তাক্ষরে পাঠ করেছি"; অতঃপর তিনি তাঁর সনদে আবদুস সামাদ ইবনে আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাকরাম থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "আবু মুহাম্মদ আল-হারিস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হারিস ইবনে দাহির আত-তামিমি"; খতিব এর অনুবর্তনে বলেছেন: "তিনি এভাবে 'দাল' বর্ণ সহযোগে 'দাহির' বলেছেন, এবং এর আগে 'আল-হারিস' যুক্ত করেছেন", এবং তিনি আলি ইবনে ইসহাক আল-মাদারানি থেকে আবদুস সামাদ ইবনে আলির অনুরূপ বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন।
এই মতপার্থক্যের কারণেই একাধিক উৎসে আবু উসামার নাম "জাহির"-এর পরিবর্তে "দাহির" এসেছে, কিন্তু অধিকাংশ জীবনীকার "আল-হারিস" (নামটি) উল্লেখ করেননি।
তারিখুল ইসলাম এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা
(৩) গ্রন্থে তাঁর উপাধি "আল-খাদিব" হিসেবে এসেছে, সম্ভবত তাঁর এই উপাধি হওয়ার কারণ ছিল তিনি লাল রঙের খিজাব ব্যবহার করতেন, যেমনটি তারিখ বাগদাদ এবং কিতাবুত তাকিদ-এ বর্ণিত হয়েছে।
--------------------------------------------