(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: -)
لماذا التوحيد أولا   (محمد بن خليفة التميمي)

القسم: العقيدة


الكتاب: لماذا التوحيد أولا؟

المؤلف: محمد بن خليفة بن علي التميمي

اعتنى به وأعده للنشر: عبد الجبار بن عبد العظيم آل ماجد

الناشر: (دار الأماجد، الناشر المتميز) - (الرياض - السعودية)

الطبعة: الأولى، 1445 هـ - 2024 م

عدد الصفحات: 665

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 14 صفر 1447

কেন তাওহীদ সবার আগে   (মুহাম্মদ বিন খলিফা আত-তামিমি)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: তাওহীদ কেন সবার আগে?

লেখক: মুহাম্মদ বিন খলিফা বিন আলি আত-তামিমি

সম্পাদনা ও প্রকাশনার প্রস্তুতি: আব্দুল জব্বার বিন আব্দুল আজিম আল মাজেদ

প্রকাশক: (দারুল আমাজিদ, আন-নাশিরুল মুতামায়্যিজ) - (রিয়াদ - সৌদি আরব)

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪৫ হিজরি - ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৬৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৪ সফর ১৪৪৭

(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبدُه ورسولُه صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عِمْرَان: 102]

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النِّسَاء: 1].

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [الأَحْزَاب: 70 - 71].

أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ، وَخَيْرَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وآله وسلم، وَشَرَّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَكُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ، وَكُلَّ ضَلَالَةٍ فِى النَّارِ.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাথীদের ওপর অজস্র ধারায় রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তাঁর স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে কিছু চেয়ে থাকো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} [আন-নিসা: ১]

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (তাহলে) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করে।} [আল-আহযাব: ৭০-৭১]

অতঃপর: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হচ্ছে মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ৬)
فإن أولى أولويات علم العقيدة علم التوحيد الذي هو باب الإيمان بالله عز وجل، فهو أول أركان الإيمان الستة، وأهمها على الإطلاق، وما عداه من الأركان تبع له، وبسلامته مما يضاده ينظر فيما عداه من الأركان.

وهذا كتاب عنونته باسم "لماذا التوحيد أولاً؟ " أهدف من خلاله تسليط الضوء على جوانب أكثر عمقًا تتعلق بآهميةهذا الباب هذا العلم ومكانته ومنزلته، وتسليط الضوء على جوانب تتعلق بثمراته وما يتعلق بها، وكذلك ما يتصل بمسمياته في النصوص الشرعية، وقد وجدت من خلال سنوات تدريسي لعلوم العقيدةأن لذلك الأثر الكبير في نفسي ونفوس الناس عمومًا وطلاب العلم خصوصًا.

وقد لمست من خلال اطلاعي على ما تم تأليفه في أهمية التوحيد على كثرته أن هناك جوانب لم يشر إليها بشكل موسع ومفصل فأحببت جمع شتات تلك المسائل تحت عنوان واحد بغية إفادة القراء الفضلاء ممن لديهم شغف في الوصول إلى معلومات أكثر دقة وتحديدًا تتعلق بهذه الجزئيات الدقيقة من مسائل التوحيد، فالعلم كما وصفه بعض العلماء: "المتعمق في العلم كالسابح في البحر ليس يرى أرضًا، ولا يعرف طولًا ولا عرضا"(1).

وقد حرصت على بيان معتقد أهل السنة والجماعة في المسائل المتعلقة بأهمية التوحيد وثمراته ومسمياته بشكل يجمع بين الشمولية والتعمق، بغية جمع شتات المسائل المتعلقة بهذا الجانب، وهي مسائل متناثرة ومتفرقة

--------------------------------------------

(1) أدب الدنيا والدين للماوردي ص 37.
আকীদা শাস্ত্রের অগ্রাধিকারসমূহের মধ্যে প্রথম হলো তাওহীদের জ্ঞান, যা মহান আল্লাহর প্রতি ঈমানের প্রবেশদ্বার। এটি ঈমানের ছয়টি রুকনের মধ্যে প্রথম এবং সবদিক থেকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্য সকল রুকন এরই অনুগামী। তাওহীদ যদি তার পরিপন্থী বিষয়সমূহ থেকে মুক্ত ও নিরাপদ থাকে, তবেই অন্যান্য রুকনগুলো বিবেচনাযোগ্য হয়।

এটি এমন একটি বই যার শিরোনাম আমি দিয়েছি "কেন তাওহীদ আগে?"। এর মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য হলো এই শাস্ত্রের গুরুত্ব, মর্যাদা ও অবস্থান সম্পর্কিত গভীরতর দিকগুলোর ওপর আলোকপাত করা এবং এর ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি, সেই সাথে শরয়ী দলীলসমূহে এর বিভিন্ন নামকরণ সম্পর্কে আলোকপাত করা। আকীদা শাস্ত্র পাঠদানের দীর্ঘ বছরের অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি যে, এটি আমার নিজের মনে এবং সাধারণ মানুষের মনে, বিশেষ করে ইলম অন্বেষণকারীদের মনে এক বিশাল প্রভাব ফেলে।

তাওহীদের গুরুত্ব সম্পর্কে রচিত প্রচুর গ্রন্থাদি পর্যালোচনা করে আমি অনুভব করেছি যে, এমন কিছু দিক রয়েছে যা বিস্তারিত ও বিশদভাবে আলোচনা করা হয়নি। তাই আমি সেই বিক্ষিপ্ত মাসআলাগুলোকে একটি শিরোনামের অধীনে একত্রিত করতে চেয়েছি, যাতে সেই গুণী পাঠকদের উপকার হয় যাদের তাওহীদের মাসআলাসমূহের এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলো সম্পর্কে আরও নির্ভুল ও সুনির্দিষ্ট তথ্য অর্জনের ব্যাকুলতা রয়েছে। জ্ঞান সম্পর্কে জনৈক আলেম যেমন বর্ণনা করেছেন: "জ্ঞানে গভীরতা অর্জনকারী ব্যক্তি সমুদ্রে সন্তরণকারীর ন্যায়, যে কোনো স্থলভাগ দেখতে পায় না এবং এর দৈর্ঘ্য বা প্রস্থও জানে না"(১)।

আমি তাওহীদের গুরুত্ব, এর ফলাফল এবং এর নামকরণ সংক্রান্ত মাসআলাগুলোতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা এমনভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি যা পূর্ণাঙ্গতা ও গভীরতার সমন্বয় ঘটায়। এর মূল লক্ষ্য হলো এই বিষয় সংশ্লিষ্ট বিক্ষিপ্ত মাসআলাগুলোকে একত্রিত করা, যা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আল-মাওয়ার্দী রচিত আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ্দীন, পৃষ্ঠা ৩৭।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ৭)
في ثنايا كتب أهل السنة، وقد بذلت جهدي وطاقتي في جمعها وترتيبها وتبويبها وإخراجها في نسق تنتظم معه تلك المسائل، ليسهل بعد ذلك معرفتها والاطلاع عليها.

والتأليف في هذا الجانب حرصت أن يكون بعيدًا عن ذكر جوانب الاختلاف في باب التوحيد ومسائله، فالتأليف عند أهل السنة والجماعة ينقسم من حيث غرضه وهدفه إلى قسمين هما:

• القسم الأول: العرض.

• والقسم الثاني: الرد.

ويتميز القسم الأول وهو الذي سلكته في هذا التأليف بأنه يهدف إلى بيان المسائل مجردة عن ذكر أقوال المخالفين بغية دعوة الناس إلى معرفة هذا الدين من خلال ما جاءت به نصوص القرآن والسنة وأقوال السلف الصالح من الصحابة والتابعين وتابعي التابعين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين. وذلك على اعتبار أن أكثر الناس قلوبهم مفطورة على محبة الله وما يقرب إليه ما يحبه ويرضاه، كما أن في ذلك دعوة للمخالف لسماع الحق والاستجابة لشرع الله ودينه القويم بعيدًا عن تحريفات الغالين وشبهات المبطلين.

وقد قمت بتقسيم الكتاب إلى مقدمة وثلاثة فصول وخاتمة:

• المقدمة

• الفصل الأول: فضل التوحيد وأهميته ومكانته.
আহলুস সুন্নাহর গ্রন্থসমূহের ভাঁজে ভাঁজে (বিদ্যমান তথ্যগুলো), আমি সেগুলো সংগ্রহ, বিন্যাস, অধ্যায় বিন্যাস এবং এমন এক নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে উপস্থাপনে আমার সামর্থ্য ও প্রচেষ্টাকে ব্যয় করেছি যাতে বিষয়গুলো সুশৃঙ্খল থাকে, যেন পরবর্তীতে তা জানা এবং দেখার কাজ সহজ হয়।

আর এই বিষয়ের রচনায় আমি তাওহীদের অধ্যায় ও এর মাসআলাসমূহে মতভেদের দিকগুলো উল্লেখ করা থেকে দূরে থাকার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি। কেননা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট রচনার বিষয়বস্তু উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের বিচারে দুটি ভাগে বিভক্ত:

• প্রথম অংশ: উপস্থাপন।

• দ্বিতীয় অংশ: খণ্ডন।

প্রথম অংশটি—যা আমি এই রচনায় অনুসরণ করেছি—এর বৈশিষ্ট্য হলো যে, এর লক্ষ্য হলো বিরোধীদের বক্তব্য উল্লেখ করা ব্যতিরেকে কেবল মাসআলাগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা; যার উদ্দেশ্য হলো কুরআন ও সুন্নাহর নস (মূল পাঠ) এবং সাহাবী, তাবিঈ, তাবে-তাবিঈ ও কিয়ামত পর্যন্ত ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারী সালাফে সালেহীনের বক্তব্যসমূহের মাধ্যমে মানুষকে এই দ্বীন সম্পর্কে জানার দাওয়াত দেওয়া। এটি এই বিবেচনায় যে, অধিকাংশ মানুষের অন্তর আল্লাহর ভালোবাসা এবং যা তাঁকে সন্তুষ্ট ও খুশি করে তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার স্বভাবজাত প্রবৃত্তির উপর সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি এতে বিরোধীদের জন্যও চরমপন্থীদের বিকৃতি এবং বাতিলপন্থীদের সংশয় থেকে দূরে থেকে সত্য শ্রবণ এবং আল্লাহর শরীয়ত ও তাঁর সঠিক দ্বীনের প্রতি সাড়া দেওয়ার একটি আহ্বান রয়েছে।

আর আমি কিতাবটিকে একটি ভূমিকা, তিনটি অধ্যায় ও একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি:

• ভূমিকা

• প্রথম অধ্যায়: তাওহীদের মর্যাদা, গুরুত্ব ও তাৎপর্য।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ৮)
• الفصل الثاني: ثمرات التوحيد.

• الفصل الثالث: أسماء التوحيد.

• الخاتمة.

ولعل فيما كتبته إضافة جديدة لهذا الجانب من جوانب علم التوحيد، والله أسأل أن ينفع بما جمعت وقيدت، وأن يجعله عملًا صالحًا وخالصًا لوجهه الكريم، وهوسبحانه الموفق والهادي إلى سواء السبيل.

كتبه

أ. د/ محمد بن خليفة التميمي
• দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহীদের সুফলসমূহ।

• তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহীদের নামসমূহ।

• উপসংহার।

সম্ভবত আমি যা লিখেছি তাতে তাওহীদ বিদ্যার এই দিকের ক্ষেত্রে নতুন একটি সংযোজন রয়েছে। এবং আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমি যা সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করেছি তার মাধ্যমে উপকার দান করেন এবং তিনি যেন একে একটি সৎকর্ম হিসেবে গণ্য করেন যা শুধুমাত্র তাঁর সম্মানিত চেহারার জন্য নিবেদিত; আর তিনি অতি পবিত্র, তৌফিকদাতা এবং সঠিক পথের দিকে হেদায়াতদানকারী।

লিখেছেন

প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামীমী
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الفصل الأول

فضل التوحيد وأهميته ومكانته
প্রথম পরিচ্ছেদ

তাওহীদের ফযীলত, এর গুরুত্ব ও মর্যাদা
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌تمهيد

من المفيد والمهم لطالب الحق أن يكون لديه معرفة بأهمية هذا التوحيد وما له من قيمة ومنزلة ودور في جانب الاعتقاد على وجه الخصوص، وفي سائر جوانب الدين على وجه العموم، فإيجاد هذا التصور المفيد في ذهن المسلم عما للتوحيد من مكانة عالية ودرجة رفيعة سيعود بإذن الله تعالى عليه بالنفع في إيمانه بالله عز وجل، فيولي هذا الجانب القدر الواجب له من الأهمية، كما يزيده ذلك رغبة في التفقه في مسائله ومباحثه وتفريعاته، والتي لا يستغني عنها طالب العلم الراغب في التزود من العلم النافع المفيد.

لا يخفى على المسلم أهمية الإيمان بالله، فهو أول أركان الإيمان، بل هو أعظمها، فما بقية الأركان إلا تبع له وفرع عنه، وهو أهم ما خلق لها الخلق وأرسلت به الرسل، وأنزلت به الكتب، وأسست عليه الملة، فالإيمان بالله هو أساس كل خير، ومصدر كل هداية، وسبب كل فلاح، ذلك لأن الإنسان لما كان مخلوقا مربوبا عاد في علمه وعمله إلى خالقه وباريه فبه يهتدي، وله يعمل، وإليه يصير، فلا غنى له عنه، وانصرافه إلى غيره هو عين هلاكهوفساده، والإنسان له بالله عن كل شيء عوض، وليس لكل شيء عن الله عوض، فليس للعبد صلاح ولا فلاح إلا بمعرفة ربه وعبادته، فإذا حصل له ذلك فهو الغاية
ভূমিকা

সত্যের অনুসন্ধানীর জন্য এই তাওহীদের গুরুত্ব এবং বিশেষত আকিদাহর ক্ষেত্রে এবং সাধারণভাবে দ্বীনের অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে এর যে মূল্য, মর্যাদা ও ভূমিকা রয়েছে সে সম্পর্কে জ্ঞান রাখা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও গুরুত্বপূর্ণ। একজন মুসলিমের মানসপটে তাওহীদের সুউচ্চ মর্যাদা ও সুউন্নত অবস্থান সম্পর্কে এই হিতকর ধারণা সৃষ্টি হলে, তা ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহর প্রতি তার ঈমানের ক্ষেত্রে কল্যাণ বয়ে আনবে। ফলে সে এই বিষয়টিকে তার যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করবে। পাশাপাশি এটি তাকে তাওহীদের মাসআলাসমূহ, এর আলোচনা ও শাখা-প্রশাখাগুলো সম্পর্কে ব্যুৎপত্তি অর্জনে আরও আগ্রহী করে তুলবে, যা উপকারী ইলম অর্জনে আগ্রহী একজন তালিবে ইলমের জন্য অপরিহার্য।

আল্লাহর প্রতি ঈমানের গুরুত্ব কোনো মুসলিমের কাছে অস্পষ্ট নয়। এটি ঈমানের স্তম্ভসমূহের মধ্যে প্রথম, বরং এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ। ঈমানের অবশিষ্ট স্তম্ভসমূহ এর অনুগামী এবং এর শাখা মাত্র। এটিই সেই মহান উদ্দেশ্য যার নিমিত্তে সৃষ্টিজগত সৃজিত হয়েছে, রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছেন, কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে এবং যার ওপর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং আল্লাহর প্রতি ঈমানই হলো সকল কল্যাণের মূল ভিত্তি, সকল হিদায়াতের উৎস এবং সকল সফলতার সোপান। কারণ মানুষ যেহেতু এক সৃষ্টি ও প্রতিপালিত সত্তা, তাই সে তার জ্ঞান ও কর্মের ক্ষেত্রে তার স্রষ্টা ও সৃজনকর্তারই মুখাপেক্ষী। তাঁর মাধ্যমেই সে হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়, তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য সে কর্ম সম্পাদন করে এবং তাঁর দিকেই তার প্রত্যাবর্তন। সুতরাং তাঁকে ব্যতীত মানুষের কোনো গত্যন্তর নেই। তাঁকে বর্জন করে অন্য কিছুর দিকে ধাবিত হওয়া মানেই হলো সুনিশ্চিত ধ্বংস ও বিপর্যয়। মানুষের জন্য আল্লাহর পরিবর্তে অন্য সবকিছুর বিকল্প হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর পরিবর্তে অন্য কোনো কিছুই বিকল্প হতে পারে না। সুতরাং আপন রবকে চেনা এবং তাঁর ইবাদত করা ব্যতীত বান্দার কোনো সংশোধন বা সফলতা নেই। আর যখন সে তা লাভ করে, সেটিই তার পরম লক্ষ্য।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ১২)
المرادة له والتي خلق من أجلها، فما سوى ذلك إما فضل نافع، أو فضول غير نافعة، أو فضول ضارة، ولهذا صارت دعوة الرسل لأممهم إلى الإيمان بالله وعبادته، فكل رسول يبدأ دعوته بذلك كما يعلم من تتبع دعوات الرسل في القرآن.

قال ابن تيمية: "والقرآن كله مملوء من تحقيق هذا التوحيد والدعوة إليه، وتعليق النجاة والفلاح، واقتضاء السعادة في الآخرة به. ومعلوم أن الناس متفاضلون في تحقيقه، وحقيقته إخلاص الدين كله لله"(1).

قال ابن تيمية: "قوله تعالى: {وَوَيْلٌ لِلْمُشْرِكِينَ (6) الَّذِينَ لَا يُؤْتُونَ الزَّكَاةَ} [فُصِّلَت: 6 - 7]، وهي التوحيد والإيمان الذي به يزكو القلب فإنه يتضمن نفي إلهية ما سوى الحق من القلب، وإثبات إلهية الحق في القلب، وهو حقيقة لا إله إلا الله وهذا أصل ما تزكو به القلوب"(2).

قال الشيخ ابن عثيمين رحمه الله: "الإنسان إذا فتح عليه معرفة الحِكَم من الأحكام الشرعية ازداد إيمانا ويقينا، وعرف بذلك سمو الشريعة الإسلامية، وأنها لا تأمر إلا بالخير، ولا تنهى إلا عن الشر"(3).

--------------------------------------------

(1) منهاج السنة 5/ 347.

(2) أمراض القلوب وشفائها ص: 8.

(3) أحكام القرآن الكريم 2/ 138.
যা তাঁর জন্য অভিপ্রেত এবং যার জন্য তাঁকে সৃষ্টি করা হয়েছে; সুতরাং এ ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে তা হয়তো উপকারী ফযিলত, অথবা অপকারী অনর্থক বিষয়, অথবা ক্ষতিকারক অনর্থক বিষয়। এই কারণেই উম্মতদের প্রতি রাসূলগণের দাওয়াত ছিল আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর ইবাদতের দিকে। প্রত্যেক রাসূলই এই দাওয়াতের মাধ্যমে শুরু করেছেন, যেমনটি কুরআনে রাসূলগণের দাওয়াত অনুসরণের মাধ্যমে জানা যায়।

ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "সমগ্র কুরআন এই তাওহীদ প্রতিষ্ঠা এবং এর প্রতি দাওয়াতে পরিপূর্ণ। আর মুক্তি ও সফলতা এবং আখিরাতে সৌভাগ্য লাভের বিষয়টিকে এর সাথেই সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এটা সর্বজনবিদিত যে, মানুষ এটি অর্জনের ক্ষেত্রে একে অপরের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে, আর এর প্রকৃত রূপ হলো পুরো দ্বীনকে একমাত্র আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করা"(১)।

ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর মুশরিকদের জন্য ধ্বংস (৬) যারা যাকাত দেয় না} [ফুসসিলাত: ৬-৭], আর তা হলো সেই তাওহীদ ও ঈমান যার মাধ্যমে অন্তর পরিশুদ্ধ হয়। কেননা এটি অন্তর থেকে সত্য ইলাহ ব্যতীত অন্য সকল উপাস্যের অস্তিত্ব অস্বীকার করা এবং অন্তরে সত্য ইলাহ-এর উলুহিয়্যাত বা উপাস্য হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত করাকে অন্তর্ভুক্ত করে। এটাই হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর হাকিকত বা বাস্তবতা এবং এটাই অন্তরসমূহ পরিশুদ্ধ হওয়ার মূল ভিত্তি"(২)।

শায়খ ইবনে উসাইমীন রহিমাহুল্লাহ বলেন: "মানুষের জন্য যখন শরয়ী বিধানসমূহের হিকমত বা রহস্য উন্মোচিত হয়, তখন তার ঈমান ও ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস) বৃদ্ধি পায় এবং এর মাধ্যমে সে ইসলামী শরীয়তের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে জানতে পারে যে, এটি কেবল কল্যাণেরই আদেশ দেয় এবং কেবল অকল্যাণ হতেই নিষেধ করে"(৩)।

--------------------------------------------

(১) মিনহাজুস সুন্নাহ ৫/ ৩৪৭।

(২) আমরাদুল কুলুব ওয়া শিফাউহা, পৃষ্ঠা: ৮।

(৩) আহকামুল কুরআন আল-কারীম ২/ ১৩৮।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ১৩)
وفي هذا الفصل النقاط الآتية:

 

‌‌1. مما يدل على أهميته أن التوحيد أول الدين وآخره وظاهره وباطنه.

- عن معاذ رضي الله عنه قال صلى الله عليه وسلم: «فليكن أول ما تدعوهم إليه: شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله»(1).

- قال الفيروز أبادي: "والدين ورد فى القرآن بمعنى التوحيد والشهادة {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ} [آل عِمْرَان: 19]، {أَلَا لِلَّهِ الدِّينُ الْخَالِصُ} [الزُّمَر: 3]، {أَفَغَيْرَ دِينِ اللَّهِ يَبْغُونَ} [آل عِمْرَان: 83]، أي: التوحيد وله نظائر"(2).

- قال ابن تيمية (ت: 728 هـ): "أول الدين وآخره وظاهره وباطنه هو التوحيد وإخلاص الدين كله لله هو تحقيق قول لا إله إلا الله"(3).

- وقال ابن تيمية (ت: 728 هـ): "أصول الإيمان" وأعلاها وأفضلها هو "التوحيد"وهو شهادة أن لا إله إلا الله، كما قال تعالى: {مَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُلَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ (25)} [الأَنبِيَاء: 25]، وقال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النَّحْل: 36] وقال تعالى: {وَاسْأَلْ مَنْ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رُسُلِنَا أَجَعَلْنَا مِنْ دُونِ الرَّحْمَنِ آلِهَةً

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري (1458)، ومسلم (19) بلفظ: «فليكن أول ما تدعوهم إليه عبادة الله». من حديث ابن عباس رضي الله عنهما.

(2) بصائر ذوي التمييز في لطائف الكتاب العزي 2/ 617.

(3) مجموع الفتاوى (15/ 264)، الفتاوى الكبرى 5/ 237.
এই অধ্যায়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো রয়েছে:

 

‌‌১. তাওহীদের গুরুত্বের অন্যতম প্রমাণ হলো এটি দ্বীনের শুরু ও শেষ এবং এর প্রকাশ্য ও গোপন।

- মুয়াজ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «তুমি তাদের সর্বপ্রথম যে জিনিসের দিকে আহ্বান জানাবে তা যেন হয়: এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল»(১).

- আল-ফায়রূযাবাদী বলেন: "কুরআনে দ্বীন শব্দটি তাওহীদ ও শাহাদাতের (সাক্ষ্য প্রদানের) অর্থে এসেছে। যেমন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম} [আলে ইমরান: ১৯], {জেনে রেখো, খাঁটি দ্বীন কেবল আল্লাহরই জন্য} [যুমার: ৩], {তবে কি তারা আল্লাহর দ্বীন ছাড়া অন্য কিছু তালাশ করছে?} [আলে ইমরান: ৮৩], অর্থাৎ: তাওহীদ; এবং এর আরও অনুরূপ উদাহরণ রয়েছে"(২).

- ইবনে তাইমিয়া (মৃ. ৭২৮ হি.) বলেন: "দ্বীনের শুরু ও শেষ এবং এর প্রকাশ্য ও গোপন হলো তাওহীদ; আর আল্লাহর জন্য সমগ্র দ্বীনকে একনিষ্ঠ করাই হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বাণীর প্রকৃত বাস্তবায়ন"(৩).

- ইবনে তাইমিয়া (মৃ. ৭২৮ হি.) আরও বলেন: "ঈমানের মূল ভিত্তি" এবং এর মধ্যে সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম হলো "তাওহীদ", আর তা হলো এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি যার প্রতি এই ওহী নাযিল করিনি যে, আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; অতএব তোমরা কেবল আমারই ইবাদত করো (২৫)} [আম্বিয়া: ২৫], এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} [নাহল: ৩৬] এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমার পূর্বে আমি যেসব রাসূল পাঠিয়েছিলাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, আমি কি পরম করুণাময় আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ স্থির করেছিলাম

--------------------------------------------

(১) বুখারী (১৪৫৮) ও মুসলিম (১৯) বর্ণনা করেছেন। মুসলিমের শব্দ হলো: «তুমি তাদের সর্বপ্রথম যে জিনিসের দিকে আহ্বান জানাবে তা যেন হয় আল্লাহর ইবাদত করা»। এটি ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদীস থেকে বর্ণিত।

(২) বাসাইরু যাউয়িত তামীয ফী লাতাইফিল কিতাবিল আযীয ২/৬১৭।

(৩) মাজমুউল ফাতাওয়া (১৫/২৬৪), আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা ৫/২৩৭।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ১৪)
يُعْبَدُونَ (45)} [الزُّخْرُف: 45]، وقال تعالى: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى} [الشُّورَى: 13] "(1).

- وقال ابن تيمية: "التوحيد كثير في القرآن، وهو أول الدين وآخره، وباطن الدين وظاهره"(2).

- قال ابن المنذر: "أجمع كل من أحفظ عنه من أهل العلم على أن الكافر إذا قال: أشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، وأن كل ما جاء به محمد حق، وأبرأ من كل دين خالف دين الإسلام، وهو بالغ صحيح العقل أنه مسلم، فإن رجع بعد ذلك فأظهر الكفر كان مرتدا، يجب عليه ما يجب على المرتد"(3).

- وقال ابن القيم: "مقام التوحيد أولى المقامات أن يبدأ به، كما أنه أول دعوة الرسل كلهم، قال النبي صلى الله عليه وسلم لمعاذ بن جبل حين بعثه إلى اليمن «فليكن أول ما تدعوهم إليه شهادة أن لا إله إلا الله»(4). وفي رواية «إلى أن يعرفوا الله». ولأنه لا يصح مقام من المقامات، ولا حال من الأحوال إلا به، فلا وجه لجعله آخر المقامات، وهو مفتاح دعوة الرسل، وأول فرض فرضه الله على العباد، وما عدا هذا من الأقوال فخطأ، كقول من يقول: أول الفروض

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى (3/ 365).

(2) منهاج السنة 5/ 349.

(3) الأوسط: ص 735.

(4) أخرجه البخاري (1496) واللفظ له، ومسلم (19).
উপাসনা করা হতো (৪৫)} [আয-যুখরুফ: ৪৫], এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারিত করেছেন, যার আদেশ তিনি দিয়েছিলেন নূহকে এবং যা আমি আপনার প্রতি ওহী করেছি, আর যার আদেশ আমি দিয়েছিলাম ইব্রাহীম ও মূসাকে} [আশ-শূরা: ১৩] "(১).

- এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "কুরআনে তাওহীদের বর্ণনা অনেক, আর এটিই দ্বীনের শুরু ও শেষ এবং দ্বীনের অন্তর্নিহিত ও প্রকাশ্য রূপ"(২).

- ইবনুল মুনযির বলেছেন: "আমি আহলে ইলমের যাদের থেকেই মাসআলা সংরক্ষণ করেছি, তারা সবাই এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন যে, যখন কোনো কাফের বলে: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, আর মুহাম্মদ যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা সত্য, এবং সে ইসলাম বিরোধী সকল ধর্ম থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে—আর সে যদি প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিস্কের হয়, তবে সে মুসলিম হিসেবে গণ্য হবে। এরপর যদি সে পুনরায় ফিরে গিয়ে কুফরী প্রকাশ করে, তবে সে মুরতাদ হয়ে যাবে; এবং একজন মুরতাদের ওপর যা যা বিধেয়, তার ওপরও তা বর্তাবে"(৩).

- এবং ইবনুল কায়্যিম বলেছেন: "তাওহীদের মাকাম (স্তর) হলো সেই মাকাম যা দিয়ে শুরু করা সর্বাগ্রে আবশ্যক, যেমন এটিই ছিল সকল রাসূলের দাওয়াতের প্রথম বিষয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়ায ইবনে জাবালকে যখন ইয়ামেনে প্রেরণ করেন তখন তাকে বলেছিলেন: «তুমি তাদেরকে সর্বপ্রথম যে বিষয়ের প্রতি আহ্বান জানাবে, তা যেন হয় এই সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই»(৪)। অন্য বর্ণনায় এসেছে «যাতে তারা আল্লাহকে চিনে নেয় (একত্ববাদ স্বীকার করে)»। আর যেহেতু কোনো স্তর বা কোনো অবস্থাই তাওহীদ ছাড়া সঠিক হয় না, তাই একে সর্বশেষ স্তর হিসেবে গণ্য করার কোনো সুযোগ নেই। অথচ এটিই হলো রাসূলগণের দাওয়াতের চাবিকাঠি এবং বান্দাদের ওপর আল্লাহর ফরযকৃত প্রথম বিষয়। এর বাইরে অন্যান্য সকল বক্তব্য ভুল, যেমন সেই ব্যক্তির কথা যে বলে: প্রথম ফরয হলো...

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া (৩/ ৩৬৫)।

(২) মিনহাজুস সুন্নাহ ৫/ ৩৪৯।

(৩) আল-আওসাত: পৃ. ৭৩৫।

(৪) বুখারী (১৪৯৬) এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দবিন্যাস তাঁরই, আর মুসলিম (১৯)।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ১৫)
النظر، أو القصد إلى النظر، أو المعرفة، أو الشك الذي يوجب النظر. وكل هذه الأقوال خطأ"(1).

- قال الشيخ مُحمد بنُ عبد الوهّاب رحمه الله: "فأَهمُّ مَا عَليكَ: مَعرفةُ التوحِيد، قَبل مَعرفة العِبَادَاتِ كلِّها، حتى الصَّلاة"(2).

 

‌‌2. ومما يدل على أهميته أن الإيمان بالله الذي هو التوحيد هو خير العمل:

- قال الشيخ محمد الأمين الشنقيطي: "جميع الأعمال كلها هو أولًا وقبل كل شيء الإيمان بالله، وذلك أنه صلى الله عليه وسلم سئل: «أي الأعمال أفضل يا رسول الله؟ قال: إيمان بالله. قيل: ثم ماذا؟ فقال مرة: الجهاد في سبيل الله»(3).

وقال مرة: «الصلاة على أول وقتها»(4).

وقال مرة: «بر الوالدين»(5). وفي كل مرة يقدم إيمانا بالله.

فعليه الإيمان بالله هو خير العمل، وليست الصلاة، ثم بعد الإيمان بالله فهو

--------------------------------------------

(1) مدارج السالكين 1/ 154.

(2) الدُّرَرُ السَنِيَّة فِي الأَجوبةِ النَّجدِيَّة (107/ 1).

(3) أخرجه البخاري (1519)، ومسلم (83).

(4) أخرجه البخاري (7534)، ومسلم (85).

(5) أخرجه البخاري (7534)، ومسلم (85).
চিন্তা-গবেষণা, অথবা চিন্তা-গবেষণার সংকল্প করা, কিংবা জ্ঞান লাভ করা, অথবা সন্দেহ যা চিন্তা-গবেষণাকে আবশ্যক করে। আর এই সকল উক্তিই ভুল(১).

- শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "আপনার ওপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: সমস্ত ইবাদত, এমনকি সালাত সম্পর্কে জানার আগেই তাওহীদ সম্পর্কে জানা"(২).

 

‌‌২. এর গুরুত্বের অন্যতম প্রমাণ হলো এই যে, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন—যা মূলত তাওহীদ—তা হলো সর্বোত্তম আমল:

- শায়খ মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শানক্বিতী বলেছেন: "সকল আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম এবং সবকিছুর আগে হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান। আর তা এজন্য যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: «হে আল্লাহর রাসুল, কোন আমলটি সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন: আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা। জিজ্ঞাসা করা হলো: তারপর কোনটি? তিনি একবার বললেন: আল্লাহর পথে জিহাদ করা»(৩).

এবং তিনি অন্য এক সময় বলেছেন: «প্রথম ওয়াক্তে সালাত আদায় করা»(৪).

এবং আরেকবার বলেছেন: «পিতামাতার সাথে সদাচরণ করা»(৫)। আর প্রত্যেকবারই তিনি আল্লাহর প্রতি ঈমানকে অগ্রগণ্য করেছেন।

অতএব, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়নই হলো সর্বোত্তম আমল, সালাত নয়। অতঃপর আল্লাহর প্রতি ঈমানের পর তা হলো

--------------------------------------------

(১) মাদারিজুস সালিকিন ১/ ১৫৪।

(২) আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউবাতিন নাজদিয়্যাহ (১০৭/ ১)।

(৩) বুখারি (১৫১৯) এবং মুসলিম (৮৩) বর্ণনা করেছেন।

(৪) বুখারি (৭৫৩৪) এবং মুসলিম (৮৫) বর্ণনা করেছেন।

(৫) বুখারি (৭৫৩৪) এবং মুসলিম (৮৫) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ১৬)
بحسب حال السائل وحالة كل شخص، فمن كان قويا وليس عليه حق لوالديه، فالجهاد أفضل الأعمال في حقه مع الحفاظ على الصلاة، فإن كان ذا والدين، فبرهما مقدم على كل عمل، ولم لا! فإن الصلاة على أول وقتها لغير هؤلاء، فإطلاق القول بالصلاة خير العمل في حق جميع الناس لا يصح مع هذه الأحاديث، ولهذا منع رسول الله صلى الله عليه وسلم بلالا أن يقولها، وجعلها: خيرا من النوم(1)، وهذا لا نزاع فيه ولا بالنسبة لأي أحد من الناس، والله تعالى أعلم"(2).

 

‌‌3. ومما يدل على أهميته أن التوحيد جماع الدين.

- قال ابن تيمية (ت: 728 هـ): "التوحيد جماع الدين، والله لا يغفر أن يشرك به ويغفر ما دون ذلك لمن يشاء"(3).

- قال ابن تيمية (ت: 728 هـ) رحمه الله: "التوحيد هو جماع الدين الذي هو أصله وفرعه ولبُّه، وهو الخير كله، والاستغفار يزيل الشر كله، فيحصل من هذين جميع الخير وزوال جميع الشر. وكل ما يصيب المؤمن من الشر فإنما هو بذنوبه"(4).

--------------------------------------------

(1) أخرجه الطبراني في المعجم الكبير 1/ 352. (هذا الاثر ضعيف ولا يصح وعلته عبد الرحمن بن سعد).

(2) أضواء البيان (8/ 157).

(3) مجموع الفتاوى (1/ 212).

(4) جامع المسائل 6/ 274.
প্রশ্নকর্তার অবস্থা এবং প্রত্যেক ব্যক্তির পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে, যে ব্যক্তি শক্তিশালী এবং যার ওপর পিতামাতার কোনো হক নেই, তার ক্ষেত্রে সালাত রক্ষার পাশাপাশি জিহাদই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল। কিন্তু যার পিতামাতা আছে, তাদের সাথে সদাচরণ করা সব আমলের চেয়ে অগ্রগণ্য। আর কেনই বা নয়! কেননা ওয়াক্তের শুরুতে সালাত পড়া তাদের জন্য যারা এই অবস্থায় নেই। সুতরাং এই হাদিসগুলোর উপস্থিতিতে সালাত সবার জন্য সর্বোত্তম আমল—এ কথা ঢালাওভাবে বলা সঠিক নয়। আর এই কারণেই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেলালকে তা বলতে নিষেধ করেছেন এবং একে ‘ঘুমের চেয়ে উত্তম’ করেছেন। এ বিষয়ে কারও কোনো দ্বিমত নেই এবং কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রেও নেই। আর আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।

 

‌‌৩. তাওহিদের গুরুত্বের আরেকটি প্রমাণ হলো এটি দ্বীনের সারনির্যাস।

— ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরী) বলেন: "তাওহিদ হলো দ্বীনের সারনির্যাস; আর আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না, তবে এ ছাড়া অন্য যেকোনো গুনাহ যার জন্য ইচ্ছা ক্ষমা করেন।"

— ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরী) রহিমাহুল্লাহ বলেন: "তাওহিদ হলো দ্বীনের সারনির্যাস, যা দ্বীনের মূল, শাখা এবং হৃৎপিণ্ড। এটিই সমগ্র কল্যাণ। আর ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) সব অকল্যাণ দূর করে। সুতরাং এই দুটির মাধ্যমে সব কল্যাণ অর্জিত হয় এবং সব অকল্যাণ দূরীভূত হয়। মুমিনের ওপর যে বিপদই আপতিত হয়, তা তার গুনাহের কারণেই হয়ে থাকে।"

--------------------------------------------

(১) আত-তাবারানি এটি আল-মুজামুল কাবিরে ১/৩৫২-এ বর্ণনা করেছেন। (এই বর্ণনাটি দুর্বল এবং সহিহ নয়; এর ত্রুটি হলো আবদুর রহমান বিন সাদ)।

(২) আদওয়াউল বায়ান (৮/১৫৭)।

(৩) মাজমুউল ফাতাওয়া (১/২১২)।

(৪) জামিউল মাসায়িল ৬/২৭৪।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ১৭)
- قال ابن تيمية (ت: 728 هـ) رحمه الله: "وهذان الأصلان جماع الدين: أن لا نعبد إلا الله، وأن نعبده بما شرع، لا نعبده بالبدع.

وقال تعالى: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا (110)} [الكَهْف: 110].

- وكان عمر بن الخطّاب (ت: 23 هـ) رضي الله عنه يقول في دعائه: "اللهم اجعل عملي كله صالحا، واجعله لوجهك خالصا، ولا تجعل لأحد فيه شيئا"(1).

- وقال الفضيل بن عياض (ت: 187 هـ) رحمه الله، في قوله تعالى: {لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا} [المُلْك: 2]. قال: "أخلصه وأصوبه". قالوا: يا أبا علي، ما أخلصه وأصوبه؟ قال: "إن العمل إذا كان خالصا ولم يكن صوابا لم يقبل، وإذا كان صوابا ولم يكن خالصا لم يقبل، حتى يكون خالصا صوابا، والخالص أن يكون لله، والصواب: أن يكون على السنة"(2). "(3).

- قال ابن تيمية (ت: 728 هـ) رحمه الله: "توحيد الله الذي هو إخلاص الدين له، والعدل الذي نفعله نحن هو جماع الدين"(4).

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد في الزهد (615) من طريق الحسن أن عمر كان يقول، فذكره؛ والحسن لم يسمع عن عمر. وأخرجه أبو الشيخ في طبقات المحدثين بأصبهان (1018) من طريق آخر ..

(2) ذكره أبو نعيم في الحلية بسنده عن إبراهيم بن الأشعث أنه سمع الفضيل يقول ذلك (8/ 95).

(3) اقتضاء الصراط المستقيم 2/ 373.

(4) جامع المسائل 8/ 45، مجموع الفتاوى 1/ 87.
ইবনে তাইমিয়া (মৃ: ৭২৮ হি.) রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "এই দুটি মূলনীতি হলো দ্বীনের সারকথা: আমরা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করব না এবং তাঁর ইবাদত করব কেবল তিনি যা বিধিবদ্ধ করেছেন তার মাধ্যমে; আমরা বিদআতের (নব উদ্ভাবিত বিষয়) মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করব না।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতএব যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে অন্য কাউকেও শরিক না করে (১১০)} [আল-কাহফ: ১১০]।

- উমর ইবনুল খাত্তাব (মৃ: ২৩ হি.) রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর দোয়ায় বলতেন: "হে আল্লাহ, আমার সমস্ত আমলকে সৎ আমল হিসেবে কবুল করুন এবং তা একান্তই আপনার সন্তুষ্টির (চেহারার) জন্য নিবেদিত করুন, আর এতে অন্য কারো জন্য কোনো অংশ রাখবেন না"(১)।

- ফুযাইল ইবন আইয়ায (মৃ: ১৮৭ হি.) রহিমাহুল্লাহ আল্লাহ তাআলার এই বাণী সম্পর্কে: {যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন যে, তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে কে শ্রেষ্ঠ} [আল-মুলক: ২]। তিনি বলেন: "সবচেয়ে একনিষ্ঠ এবং সবচেয়ে সঠিক"। তারা জিজ্ঞাসা করল: হে আবু আলী, সবচেয়ে একনিষ্ঠ এবং সবচেয়ে সঠিক কোনটি? তিনি বললেন: "আমল যদি একনিষ্ঠ হয় কিন্তু সঠিক না হয় তবে তা কবুল করা হবে না, আবার যদি সঠিক হয় কিন্তু একনিষ্ঠ না হয় তবেও তা কবুল করা হবে না—যতক্ষণ না তা একনিষ্ঠ এবং সঠিক উভয়ই হয়। একনিষ্ঠ হওয়ার অর্থ হলো আমলটি কেবল আল্লাহর জন্য হওয়া, আর সঠিক হওয়ার অর্থ হলো তা সুন্নাহ মোতাবেক হওয়া"(২)। "(৩)।

- ইবনে তাইমিয়া (মৃ: ৭২৮ হি.) রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "আল্লাহর তাওহীদ—যা হলো দ্বীনকে তাঁর জন্য একনিষ্ঠ করা—এবং ইনসাফ যা আমরা পালন করি, তা-ই হলো দ্বীনের সারকথা"(৪)।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ 'আয-যুহদ' (৬১৫) গ্রন্থে হাসানের সূত্রে যে উমর বলতেন, এরপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন; তবে হাসান উমর থেকে সরাসরি শোনেননি। এটি আবু শায়খ 'তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান' (১০১৮) গ্রন্থে অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন...

(২) আবু নুয়াইম 'আল-হিলইয়া' গ্রন্থে ইব্রাহিম ইবনুল আশআস-এর সূত্রে এটি উল্লেখ করেছেন যে তিনি ফুযাইলকে এটি বলতে শুনেছেন (৮/৯৫)।

(৩) ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম ২/৩৭৩।

(৪) জামিউল মাসায়েল ৮/৪৫, মাজমুউল ফাতাওয়া ১/৮৭।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ১৮)
- قال ابن تيمية (ت: 728 هـ) رحمه الله: "جماع الدين هو عبادة الله وحده، وأعظم الذنوب الشرك، والقرآن مملوء من تعظيم التوحيد بالدعاء إليه والترغيب فيه، وبيان سعادة أهله، وتعظيم الشرك بالنهي عنه والتحذير منه وبيان شقاوة أهله"(1).

- قال ابن تيمية (ت: 728 هـ) رحمه الله: "وجماع الدين أصلان: ألا نعبد إلا الله، ولا نعبده إلا بما شرع، لا نعبده بالبدع، كما قال تعالى: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا} [الكَهْف: 110].

وذلك تحقيق الشهادتين: شهادة أن لا إله إلا الله، وشهادة أن محمدا رسول الله.

ففي الأولى: ألا نعبد إلا إياه.

وفي الثانية: أن محمدا صلى الله عليه وسلم هو رسول مبلغ عنه، فعلينا أن نصدق خبره ونطيع أمره"(2).

- قال ابن القيم (ت: 751 هـ) رحمه الله: "وقال النبي صلى الله عليه وسلم لمعاذ: "والله إني لأحبك؛ فلا تنس أن تقول دبر كل صلاة: اللهم! أعني على ذكرك وشكرك وحسن عبادتك"(3).

وليس المراد بالذكر مجرد ذكر اللسان، بل الذكر القلبي واللساني، وذكره

--------------------------------------------

(1) الرد على الإخنائي صـ 172 ..

(2) العبودية لابن تيمية صـ 141.

(3) أخرجه أحمد (5/ 244، 247) وأبو داود (1522) والنسائي (3/ 53) عن معاذ. وإسناده صحيح.
ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃ. ৭২৮ হি.) রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "দীনের সারকথা হলো কেবল আল্লাহর ইবাদত করা এবং সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো শিরক। কুরআন তাওহীদকে মহিমান্বিত করার বর্ণনায় পরিপূর্ণ—তাওহীদের দিকে আহ্বান ও এর প্রতি উৎসাহিত করার মাধ্যমে, তাওহীদপন্থীদের সৌভাগ্যের বর্ণনার মাধ্যমে; এবং শিরককে নিকৃষ্ট সাব্যস্ত করার বর্ণনায় পরিপূর্ণ—তা থেকে নিষেধ ও সতর্ক করার মাধ্যমে এবং শিরককারীদের দুর্ভাগ্যের বর্ণনার মাধ্যমে"(১).

- ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃ. ৭২৮ হি.) রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "দীনের সারকথা হলো দুটি মূলনীতি: আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করব না এবং তিনি যেভাবে বিধান দিয়েছেন কেবল সেভাবেই তাঁর ইবাদত করব, বিদআতের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করব না। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতএব যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ প্রত্যাশা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে} [আল-কাহফ: ১১০]।

আর এটিই হলো দুই শাহাদাতের বাস্তবতা: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল।

প্রথমটির দাবি হলো: আমরা কেবল তিনি ছাড়া আর কারো ইবাদত করব না।

আর দ্বিতীয়টির দাবি হলো: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন প্রচারকারী রাসুল, সুতরাং আমাদের দায়িত্ব হলো তাঁর সংবাদকে সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং তাঁর আদেশ মেনে চলা"(২).

- ইবনুল কাইয়্যিম (মৃ. ৭৫১ হি.) রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াযকে বলেছেন: 'আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে অবশ্যই ভালোবাসি; সুতরাং প্রত্যেক সালাতের পর এ কথাটি বলতে ভুলো না: হে আল্লাহ! আমাকে তোমার যিকর করতে, তোমার শুকরিয়া আদায় করতে এবং তোমার উত্তম ইবাদত করতে সাহায্য করো'"(৩).

আর এখানে যিকর বলতে কেবল জিহ্বার যিকর উদ্দেশ্য নয়, বরং তা হলো অন্তরের ও জিহ্বার যিকর এবং তাঁর যিকর...

--------------------------------------------

(১) আর-রাদ্দু আলাল ইখনাঈ, পৃ. ১৭২।

(২) আল-উবুদিয়্যাহ, ইবনে তাইমিয়্যাহ, পৃ. ১৪১।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (৫/ ২৪৪, ২৪৭), আবু দাউদ (১৫২২) এবং নাসায়ী (৩/ ৫৩) মুয়ায থেকে। এর সনদ সহীহ।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ১৯)
يتضمن ذكر أسمائه وصفاته، وذكر أمره ونهيه وذكره بكلامه، وذلك يستلزم معرفته والإيمان به وبصفات كماله ونعوت جلاله والثناء عليه بأنواع المدح، وذلك لا يتم إلا بتوحيده.

فذكره الحقيقي يستلزم ذلك كله ويستلزم ذكر نعمه وآلائه وإحسانه إلى خلقه.

وأما الشكر فهو القيام له بطاعته والتقرب إليه بأنواع محابه ظاهرا وباطنا.

وهذان الأمران هما جماع الدين؛ فذكره مستلزم لمعرفته، وشكره متضمن لطاعته.

وهذان هما الغاية التي خلق لأجلها الجن والإنس والسماوات والأرض، ووضع لأجلها الثواب والعقاب، وأنزل الكتب، وأرسل الرسل، وهي الحق الذي به خلقت السماوات والأرض وما بينهما"(1).

- قال عبد الرحمن بن حسن آل الشيخ (1285 هـ) رحمه الله: "جماع الدين أن لا يعبد إلا الله، وأن لا يعبد إلا بما شرع لا يعبد بالبدع"(2).

- قال عبد الرحمن بن محمد بن قاسم (ت: 1392 هـ) رحمه الله: "إخلاص جميع الأعمال لله وحده لا شريك له، ومتابعة الرسول صلى الله عليه وسلم وهذان الأصلان

--------------------------------------------

(1) الفوائد 1/ 186.

(2) كشف ما ألقاه إبليس من البهرج والتلبيس على قلب داود بن جرجيس (ص ـ 55).
এর মধ্যে তাঁর নাম ও গুণাবলির আলোচনা, তাঁর আদেশ ও নিষেধের উল্লেখ এবং তাঁর বাণীর মাধ্যমে তাঁর জিকির অন্তর্ভুক্ত। আর এটি তাঁর পরিচয় লাভ করা, তাঁর প্রতি ঈমান আনয়ন করা এবং তাঁর পূর্ণাঙ্গ গুণাবলি ও মহিমান্বিত বৈশিষ্ট্যসমূহে বিশ্বাস স্থাপন করা এবং বিভিন্ন প্রকার প্রশংসার মাধ্যমে তাঁর গুণগান গাওয়ার দাবি রাখে। আর এটি তাঁর তাওহিদ বা একত্ববাদ ব্যতীত পূর্ণ হওয়া সম্ভব নয়।

সুতরাং তাঁর প্রকৃত জিকির বা স্মরণ এই সবকিছুর দাবি রাখে এবং তাঁর নেয়ামত, অনুগ্রহ ও তাঁর সৃষ্টির প্রতি তাঁর ইহসানের আলোচনারও দাবি রাখে।

আর শুকর বা কৃতজ্ঞতা হলো—তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর হক আদায় করা এবং প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যভাবে তাঁর পছন্দনীয় বিষয়গুলোর মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন করা।

আর এই দুটি বিষয়ই হলো দ্বীনের মূল সারকথা; সুতরাং তাঁর জিকির তাঁর মারেফত বা পরিচয়ের দাবি রাখে এবং তাঁর শুকর তাঁর আনুগত্যকে অন্তর্ভুক্ত করে।

আর এ দুটিই হলো সেই চূড়ান্ত লক্ষ্য যার জন্য জিন, মানুষ, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করা হয়েছে। এর জন্যই প্রতিদান ও শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং রাসূলগণকে প্রেরণ করা হয়েছে। আর এটিই হলো সেই সত্য যার ওপর ভিত্তি করে আসমানসমূহ, জমিন এবং তাদের মধ্যবর্তী সবকিছু সৃষ্টি করা হয়েছে(১)।

- আব্দুর রহমান বিন হাসান আলে শেখ (১২৮৫ হি.) রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "দ্বীনের মূল নির্যাস হলো—একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করা এবং তিনি যা বিধিবদ্ধ করেছেন তা ছাড়া অন্য কোনোভাবে ইবাদত না করা; বিদআতের মাধ্যমে ইবাদত করা যাবে না"(২)।

- আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন কাসিম (ওফাত: ১৩৯২ হি.) রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "সমস্ত আমলকে একমাত্র আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করা যাঁর কোনো শরিক নেই এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা। আর এই দুটি মূলনীতি...

--------------------------------------------

(১) আল-ফাওয়ায়িদ ১/১৮৬।

(২) কাশফ মা আলকাহু ইবলিসু মিনাল বাহরাজ ওয়াত তালবিস আলা কলবি দাউদ বিন জারজিস (পৃ. ৫৫)।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ২০)
هما جماع الدين، ولا يستقيم دين إلا عليهما، كما قال تعالى: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا} [الكَهْف: 110] "(1).

 

‌‌4. ومما يدل على أهميته أن التوحيد هو الصراط المستقيم.

قال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ}

[ال عِمْرَان: 51].

- قال ابن كثير: "أي: أنا وأنتم سواء في العبودية له والخضوع والاستكانة إليه"(2).

- وقال ابن سعدي: "وفي هذا رد على النصارى القائلين بأن عيسى إله أو ابن الله، وهذا إقراره عليه السلام بأنه عبد مدبر مخلوق، كما قال {قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا (30)} [مَرْيَم: 30]، وقال تعالى: {وَإِذْ قَالَ اللَّهُ يَاعِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ أَأَنْتَ قُلْتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّيَ إِلَهَيْنِ مِنْ دُونِ اللَّهِ قَالَ سُبْحَانَكَ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أَقُولَ مَا لَيْسَ لِي بِحَقٍّ إِنْ كُنْتُ قُلْتُهُ فَقَدْ عَلِمْتَهُ تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلَا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ إِنَّكَ أَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ (116)} [المَائِدَة: 116]، إلى قوله {مَاقُلْتُ لَهُمْ إِلَّا مَا أَمَرْتَنِي بِهِ أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ} [المَائِدَة: 117]، وقوله {هَذَا} أي: عبادة الله وتقواه وطاعة رسوله {صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (142)} [البَقَرَةِ: 142]

--------------------------------------------

(1) الدرر السنية في الأجوبة النجدية 14/ 20.

(2) تفسير ابن كثير (سورة آل عمران الآية: 51).
এই দুটিই দ্বীনের সারকথা, আর এই দুটি ছাড়া দ্বীন সঠিক হতে পারে না, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকাজ করে এবং তার রবের ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক না করে} [আল-কাহফ: ১১০] (1).

 

‌‌৪. তাওহীদ যে সিরাতুম মুস্তাকীম (সরল পথ), তা এর গুরুত্বের প্রমাণ বহন করে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদের রব, সুতরাং তোমরা তাঁরই ইবাদত করো। এটিই সরল পথ}

[আলে ইমরান: ৫১]।

- ইবনে কাসীর বলেন: "অর্থাৎ: তাঁর দাসত্বে এবং তাঁর প্রতি আনুগত্য ও বিনয় প্রকাশে আমি এবং আপনারা সমান"(2)।

- ইবনে সাদী বলেন: "এর মধ্যে সেই সব খ্রিস্টানদের প্রতিবাদ রয়েছে যারা বলে যে ঈসা একজন উপাস্য বা আল্লাহর পুত্র। এটি তাঁর (ঈসা আলাইহিস সালামের) পক্ষ থেকে এই স্বীকৃতি যে তিনি একজন লালিত-পালিত ও সৃষ্ট বান্দা, যেমনটি তিনি বলেছিলেন {তিনি বললেন: আমি আল্লাহর বান্দা, তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী বানিয়েছেন} [মারইয়াম: ৩০]। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যখন আল্লাহ বলবেন: হে মারইয়াম তনয় ঈসা! তুমি কি মানুষকে বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমাকে ও আমার মাকে দুই উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করো? তিনি বলবেন: আপনি অতি পবিত্র! যা বলার অধিকার আমার নেই, তা বলা আমার পক্ষে শোভা পায় না। আমি যদি তা বলতাম, তবে আপনি অবশ্যই তা জানতেন। আমার অন্তরে (নফসে) যা আছে তা আপনি জানেন, কিন্তু আপনার সত্তায় (নফসে) যা আছে তা আমি জানি না; নিশ্চয়ই আপনি অদৃশ্য বিষয়ে পরিজ্ঞাত} [আল-মায়িদাহ: ১১৬], তাঁর এই বাণী পর্যন্ত {আমি তাদের কেবল তা-ই বলেছি যা আপনি আমাকে আদেশ করেছিলেন যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, যিনি আমার রব ও তোমাদের রব} [আল-মায়িদাহ: ১১৭]। আর তাঁর বাণী {এটি} অর্থাৎ: আল্লাহর ইবাদত, তাঁর তাকওয়া অবলম্বন এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্যই হলো {সরল পথ} [আল-বাক্বারাহ: ১৪২]"

--------------------------------------------

(1) আদ-দুরার আস-সুনিয়্যাহ ফিল আজউইবাতিন নাজদিয়্যাহ ১৪/ ২০।

(2) তাফসীরে ইবনে কাসীর (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৫১)।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ২১)
موصل إلى الله وإلى جنته، وما عدا ذلك فهي طرق موصلة إلى الجحيم"(1).

- قال ابن القيم: "وإنما ضمنت النجاة لمن حكم هدى الله تعالى على غيره، وتزود التقوى، وأتم بالدليل وسلك الصراط المستقيم، واستمسك من التوحيد واتباع الرسول صلى الله عليه وسلم بالعروة الوثقى التي لا انفصام لها، والله سميع عليم"(2).

- قال ابن القيم: "مراتب العلم بدينه مرتبتان:

• إحداهما: دينه الأمري الشرعي: وهو الصراط المستقيم الموصل إليه.

• والثانية: دينه الجزائي المتضمن ثوابه وعقابه، وقد دخل في هذا العلم: العلم بملائكته وكتبه ورسله"(3).

قال تعالى: {شَاكِرًا لِّأَنْعُمِهِ اجْتَبَاهُ وَهَدَاهُ إِلَى صِرَاط مُسْتَقِيمٍ} [النَّحْل: 121].

- قال مقاتل بن سليمان (ت: 150 هـ) رحمه الله: {وَهَدَاهُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (121)}، يعني: إلى دين مستقيم، وهو الإسلام"(4).

- قال ابن كثير (ت: 774 هـ) رحمه الله: {وَهَدَاهُ إِلَى اصِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (121)}، وهو عبادة الله وحده لا شريك له على شرع مرضي"(5).

--------------------------------------------

(1) تفسير السعدي (سورة آل عمران الآية: 51).

(2) اجتماع الجيوش الإسلامية 1/ 83.

(3) مدارج السالكين (1/ 128).

(4) تفسير مقاتل بن سليمان (سورة النحل الآية: 121).

(5) تفسير ابن كثير (النحل: الآية: 121).
(যা) আল্লাহর দিকে এবং তাঁর জান্নাতের দিকে পৌঁছে দেয়, আর এ ছাড়া বাকিগুলো জাহান্নামে পৌঁছে দেওয়ার পথ"(১).

- ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "নিশ্চয়ই সেই ব্যক্তির জন্য মুক্তির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, যে অন্যের ওপর মহান আল্লাহর হিদায়াতকে প্রাধান্য দেয়, তাকওয়ার পাথেয় গ্রহণ করে, দলিলের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে, সিরাতুল মুস্তাকিম (সরল পথ) অনুসরণ করে এবং তাওহিদ ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণের মাধ্যমে এমন এক মজবুত হাতল ধারণ করে যার কোনো বিচ্ছেদ নেই। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ"(২).

- ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "তাঁর দ্বীনের ইলমের (জ্ঞানের) স্তর হলো দুইটি:

• একটি: তাঁর আদেশমূলক শরয়ী দ্বীন: যা হলো তাঁর দিকে পৌঁছে দেওয়ার সিরাতুল মুস্তাকিম (সরল পথ)।

• দ্বিতীয়টি: তাঁর প্রতিফল সংক্রান্ত দ্বীন যা তাঁর পুরস্কার ও শাস্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এই ইলমের অন্তর্ভুক্ত হলো: তাঁর ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ এবং রাসুলগণের প্রতি ঈমান সংক্রান্ত জ্ঞান"(৩).

মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি ছিলেন তাঁর অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি তাঁকে মনোনীত করেছিলেন এবং তাঁকে সরল পথে পরিচালিত করেছিলেন} [আন-নাহল: ১২১]।

- মুকাতিল বিন সুলাইমান (মৃ: ১৫০ হি.) রাহিমাহুল্লাহ বলেন: {এবং তাঁকে সরল পথে পরিচালিত করেছিলেন (১২১)}, অর্থাৎ: একটি সঠিক দ্বীনের দিকে, আর তা হলো ইসলাম"(৪).

- ইবনে কাসির (মৃ: ৭৭৪ হি.) রাহিমাহুল্লাহ বলেন: {এবং তাঁকে সরল পথে পরিচালিত করেছিলেন (১২১)}, আর তা হলো পছন্দনীয় শরীয়তের ওপর ভিত্তি করে কোনো শরিক ছাড়াই একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা"(৫).

--------------------------------------------

(১) তাফসিরুস সাদী (সুরা আলে ইমরান আয়াত: ৫১)।

(২) ইজতিমাউল জুইউশিল ইসলামিয়া ১/ ৮৩।

(৩) মাদারিজুস সালিকিন (১/ ১২৮)।

(৪) তাফসিরে মুকাতিল বিন সুলাইমান (সুরা আন-নাহল আয়াত: ১২১)।

(৫) তাফসিরে ইবনে কাসির (আন-নাহল: আয়াত: ১২১)।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ২২)
- قال الشيخ حافظ بن أحمد حكمي (ت: 1377 هـ) رحمه الله: "لزوم الصراط المستقيم لا يحصل إلا بالتمسك بالكتاب والسنة والسير بسيرهما والوقوف عند حدودهما وبذلك يحصل تجريد التوحيد لله، وتجريد المتابعة للرسول صلى الله عليه وسلم {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا (69)} [النِّسَاء: 69]، وهؤلاء المنعم عليهم المذكورون هاهنا تفصيلا هم الذين أضاف الصراط إليهم في فاتحة الكتاب بقوله تعالي: {صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ (7)} [الفَاتِحَةِ: 7]، ولا أعظم نعمة على العبد من هدايته إلى هذا الصراط المستقيم، وتجنيبه السبل المضلة، وقد ترك النبي صلى الله عليه وسلم أمته على ذلك كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: «تركتكم على المحجة البيضاء ليلها كنهارها لا يزيغ عنها بعدي إلا هالك»(1)(2).[*]

 

‌‌5. ومما يدل على أهميته أن التوحيد برهان على أن الحق واحد وهو الصراط المستقيم.

فالحق واحد، وهو صراط الله المستقيم، الذي أُمرنا بالتمسك به، قال تعالى: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ (153)} [الأَنْعَام: 153]. فأفرد الله (الصراط)، وجمع

--------------------------------------------

(1) (صحيح) رواه أحمد (4/ 126)، وابن ماجه (43)، والحاكم (1/ 96)، وابن أبي عاصم (48، 49) وقد صححه الألباني.

(2) أعلام السنة المنشورة لاعتقاد الطائفة الناجية المنصورة ص 119 - 120.

[*] تعليق الشاملة: تكررت هذه النقول كلها (عن ابن القيم، ومقاتل، وابن كثير، وحافظ حكمي) وزيادة، في مبحث (الاسم السادس والعشرون: ومن أسماء التوحيد «الصراط المستقيم، ص 563 - 566
শেখ হাফেজ ইবনে আহমদ হাকামি (মৃত্যু: ১৩৭৭ হিজরি) রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "সিরাতাল মুস্তাকিম বা সরল পথ আঁকড়ে ধরা কেবল কিতাব ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা, এ দুটির নির্দেশ অনুযায়ী চলা এবং এগুলোর সীমার মধ্যে অবস্থান করার মাধ্যমেই সম্ভব হয়। আর এর মাধ্যমেই আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ তাওহীদ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একনিষ্ঠ অনুসরণ অর্জিত হয়। 'আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, তারা তাদের সঙ্গী হবে যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মশীলগণ। আর সঙ্গী হিসেবে তারা কতই না উত্তম!' [আন-নিসা: ৬৯]। এখানে যাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয়েছে বলে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে, তারাই হলেন তারা যাদের দিকে ইঙ্গিত করে সূরা ফাতিহায় আল্লাহ তাআলা পথটির সম্বন্ধ করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: 'তাদের পথ, যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন; তাদের পথ নয় যারা ক্রোধভাজন হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।' [আল-ফাতিহা: ৭]। কোনো বান্দার জন্য তাকে এই সরল পথের দিকে হেদায়েত দান করা এবং বিভ্রান্তিকর পথসমূহ থেকে তাকে দূরে রাখার চেয়ে বড় কোনো নেয়ামত আর নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে এর উপরেই রেখে গেছেন, যেমনটি তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'আমি তোমাদেরকে এক উজ্জ্বল ও পরিষ্কার পথের ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাতও দিনের মতো (সুস্পষ্ট); আমার পরে ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ তা থেকে বিচ্যুত হবে না'(১)(২)।[*]

 

‌‌৫. এর গুরুত্বের অন্যতম প্রমাণ হলো এই যে, তাওহীদ হলো সত্য এক হওয়ার দলীল, আর তা হলো সিরাতাল মুস্তাকিম বা সরল পথ।

অতএব সত্য এক, আর তা হলো আল্লাহর সরল পথ, যা আমাদের আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: 'আর নিশ্চয়ই এটি আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথ অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।' [আল-আনআম: ১৫৩]। এখানে আল্লাহ 'পথ' (সিরাত) শব্দটিকে একবচনে ব্যবহার করেছেন এবং অন্যান্য পথগুলোকে বহুবচনে ব্যবহার করেছেন।

--------------------------------------------

(১) (সহীহ) বর্ণনা করেছেন আহমদ (৪/ ১২৬), ইবনে মাজাহ (৪৩), হাকীম (১/ ৯৬), ইবনে আবি আসিম (৪৮, ৪৯) এবং আলবানী একে সহীহ বলেছেন।

(২) আলামুস সুন্নাহ আল-মানশুরাহ লি-ইতিিকাদ আত-তায়েফাহ আন-নাজিয়াহ আল-মানসুরাহ, পৃষ্ঠা ১১৯ - ১২০।

[*] শামেলার টীকা: ইবনুল কাইয়্যিম, মুকাতিল, ইবনে কাসীর এবং হাফেজ হাকামির এই সকল উদ্ধৃতি এবং আরও অতিরিক্ত আলোচনা ২৬তম নাম: এবং তাওহীদের অন্যতম নাম হলো «সিরাতাল মুস্তাকিম», ৫৬৩ - ৫৬৬ পৃষ্ঠায় পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ২৩)
(السبُل)، وأمرنا أن نسأله ذلك في كل صلاة {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ (6) صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ} [الفَاتِحَةِ: 6 - 7] فهو واحد، وقال تعالى: {قَالَ هَذَا صِرَاطٌ عَلَيَّ مُسْتَقِيمٌ (41)} [الحِجْر: 41].

- وعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: "خط رسول الله صلى الله عليه وسلم خطّاً بيده، ثم قال: «هذا سبيل الله مستقيماً، ثم خطّ عن يمينه وشماله، ثم قال: هذه السبل، وليس منها سبيل إلا عليه شيطان يدعو إليه، ثم قرأ النبي صلى الله عليه وسلم: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ}، بعد ذلك. قال: ثمّ خط عن يمينه وشماله، ثم قال: هذه السُبل، وليس منها سبيل إلا عليه شيطان يدعو إليه، ثم قرأ: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ}»(1).

- قال الفيروزأبادي: "أجمع العقلاء على أن قولنا: لا إله إلا الله يوجب التوحيد المحض"(2).

وسئل صديق الأمة وأعظمها استقامة أبو بكر الصديق رضي الله عنه عن الاستقامة فقال: "ألا تشرك بالله شيئًا". قال الفيروزأبادي: "يريد الاستقامة على محض التوحيد"(3).

- قال ابن رجب -رحمه الله تعالى-: "أصل الاستقامة استقامة القلب على التوحيد، وقد فسر أبو بكر رضي الله عنه الاستقامة في قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ

--------------------------------------------

(1) رواه أحمد: 4142، وابن حبان: 7، وصححه الألباني في التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان 1/ 147. وهو حديث حسن صحيح.

(2) بصائر ذوي التمييز في لطائف الكتاب العزيز 2/ 12.

(3) بصائر ذوي التمييز في لطائف الكتاب العزيز 4/ 312.
(অনেক পথসমূহ), এবং আমাদের আদেশ করা হয়েছে যে আমরা যেন প্রতিটি সালাতে তাঁর কাছে এটি প্রার্থনা করি: {আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন (৬) তাদের পথ যাদের আপনি নেয়ামত দান করেছেন} [আল-ফাতিহা: ৬ - ৭]। সুতরাং এটি একটিই, এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তিনি বললেন, এটিই আমার দিকে পৌঁছার সরল পথ (৪১)} [আল-হিজর: ৪১]।

- এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাত দিয়ে একটি রেখা টানলেন, অতঃপর বললেন: «এটি আল্লাহর সরল পথ। তারপর তিনি তাঁর ডানে ও বামে আরও কিছু রেখা টানলেন এবং বললেন: এগুলো অনেক পথ, আর এর প্রতিটি পথে শয়তান রয়েছে যে সেদিকে আহ্বান করছে। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো}», এরপর তিনি বলেন: তারপর তিনি তাঁর ডানে ও বামে রেখা টানলেন এবং বললেন: এ সকল পথ, আর এর প্রতিটি পথে শয়তান রয়েছে যে সেদিকে আহ্বান করছে। তারপর তিনি পাঠ করলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো}»(১).

- আল-ফিরোজাবাদি বলেছেন: "বিবেকবান ব্যক্তিগণ এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আমাদের এই কথা: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' বিশুদ্ধ তাওহীদকে আবশ্যক করে"(২).

আর এই উম্মতের সিদ্দীক এবং একনিষ্ঠতার দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইস্তিকামাত (অবিচলতা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করা"। আল-ফিরোজাবাদি বলেন: "তিনি বিশুদ্ধ তাওহীদের ওপর অবিচল থাকাকে বুঝিয়েছেন"(৩).

- ইবনে রজব -রহিমানুল্লাহু তাআলা- বলেছেন: "ইস্তিকামাতের মূল হলো তাওহীদের ওপর অন্তরের অবিচলতা, আর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে ইস্তিকামাতের ব্যাখ্যা করেছেন: {নিশ্চয় যারা বলে আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর তারা...

--------------------------------------------

(১) আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন: ৪১৪২, এবং ইবনে হিব্বান: ৭, এবং আলবানী এটিকে সহীহ ইবনে হিব্বানের 'আত-তালিকাতুল হাসান' ১/ ১৪৭ গ্রন্থে সহীহ বলেছেন। এটি একটি হাসান সহীহ হাদিস।

(২) বাসাইরু যাউয়িত তামীজ ফী লাতাইফিল কিতাবিল আযীয ২/ ১২।

(৩) বাসাইরু যাউয়িত তামীজ ফী লাতাইফিল কিতাবিল আযীয ৪/ ৩১২।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ২৪)
اسْتَقَامُوا}، بأنهم لم يلتفتوا إلى غيره"(1).

والصدّيق رضي الله عنه استقى هذا المعنى من آيتين في كتاب الله تعالى ..

الآية الأولى: قول الله عن عيسى عليه السلام لقومه: {اللَّهَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ (51)} [آل عِمْرَان: 51].

والثانية: {أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَابَنِي آدَمَ أَنْ لَا تَعْبُدُوا الشَّيْطَانَ إِنَّهُلَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ (60) وَأَنِ اعْبُدُونِي هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ (61)} [يس: 60 - 61].

- وقال عثمان بن عفان رضي الله عنه: "استقاموا: أخلصوا العمل لله"(2).

- وقال مجاهد: "استقاموا على شهادة أن لا إله إلا الله حتى لحقوا بالله"(3).

- قال ابن القيم رحمه الله: "والمقصود أن طريق الحق واحد إذ مرده إلى الله الملك الحق، وطرق الباطل متشعبة، ومتعددة"(4).

- وقال ابن القيم: "والمقصود أن الطريق إلى الله تعالي واحد، فإنه الحق المبين، والحق واحد، مرجعه إلى واحد، وأما الباطل والضلال فلا ينحصر، بل كل ما سواه باطل، وكل طريق إلى الباطل فهو باطل، فالباطل متعدد وطرقه متعددة"(5).

--------------------------------------------

(1) جامع العلوم 193.

(2) مدارج السالكين 2/ 104.

(3) مدارج السالكين 2/ 104.

(4) بدائع الفوائد: 1/ 127.

(5) طريق الهجرتين صـ 162.
তারা অবিচল ছিল}, অর্থাৎ তারা তাঁর ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে ভ্রুক্ষেপ করেনি"(1).

এবং আস-সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর কিতাবের দুটি আয়াত থেকে এই অর্থ গ্রহণ করেছেন...

প্রথম আয়াত: ঈসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর কওমের উদ্দেশ্যে যা বলেছিলেন সে সম্পর্কে আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদের রব; সুতরাং তাঁরই ইবাদত করো। এটাই সরল পথ (৫১)} [আল ইমরান: ৫১]।

এবং দ্বিতীয়টি: {হে বনী আদম! আমি কি তোমাদের নির্দেশ দেইনি যে, তোমরা শয়তানের ইবাদত করো না, কারণ সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু? (৬০) আর তোমরা কেবল আমারই ইবাদত করো; এটিই সরল পথ (৬১)} [ইয়াসিন: ৬০ - ৬১]।

- এবং উসমান বিন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "তারা অবিচল ছিল: অর্থাৎ তারা আল্লাহর জন্য আমলকে একনিষ্ঠ করেছিল"(2).

- এবং মুজাহিদ বলেছেন: "তারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সাক্ষ্যের ওপর অবিচল ছিল যতক্ষণ না তারা আল্লাহর সাথে মিলিত হয়েছে"(3).

- ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "উদ্দেশ্য হলো যে, সত্যের পথ একটিই, যেহেতু এর প্রত্যাবর্তন সত্য অধিপতি আল্লাহর দিকে; আর বাতিলের পথসমূহ শাখা-প্রশাখাযুক্ত এবং বহু"(4).

- এবং ইবনুল কায়্যিম বলেছেন: "উদ্দেশ্য হলো যে, মহান আল্লাহর দিকে যাওয়ার পথ একটিই, কারণ তিনিই সুস্পষ্ট সত্য; আর সত্য এক, এর প্রত্যাবর্তনস্থলও এক। অন্যদিকে বাতিল ও পথভ্রষ্টতা সীমাবদ্ধ নয়, বরং তিনি ব্যতীত সবকিছুই বাতিল এবং বাতিলের দিকে নিয়ে যাওয়া প্রতিটি পথই বাতিল; সুতরাং বাতিল বহুমুখী এবং এর পথসমূহও বহু"(5).

--------------------------------------------

(1) জামিউল উলুম ১৯৩।

(2) মাদারিজুস সালিকিন ২/ ১০৪।

(3) মাদারিজুস সালিকিন ২/ ১০৪।

(4) বাদাইউল ফাওয়াইদ: ১/ ১২৭।

(5) তরিকুল হিজরাতাইন পৃ. ১৬২।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ২৫)
- قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: "إن الحق واحد، ولا يخرج عما جاءت به الرسل، وهو الموافق لصريح العقل فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا"(1).

فالأدلة متوافرة على أن الدين واحد، وهو الصراط الموصل إلى الله، وأن منهجه، وسبيله، التوحيد، فالإسلام واحد، فالله تعالى هو الإله الحق الواحد، ومن يعبدونه، ويوحدونه هم أهل الحق، والآلهة الأخرى باطلة، وعابدوها على الباطل.

قال تعالى: {ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ هُوَ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ (62)} [الحَج: 62]، وقال تعالى: {أَأَرْبَابٌ مُتَفَرِّقُونَ خَيْرٌ أَمِ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ (39)} [يُوسُف: 39]، ودين الحق واحد، وهو دين الإسلام، وبقية الأديان باطلة، قال تعالى: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ (85)} [آل عِمْرَان: 85].

وقال تعالى: {هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ (33)} [التَّوْبَة: 33].

فطريق الحق واحد، وهو طريق الله، وهو طريق الهداية، وهو طريق الإسلام، وهو طريق الاستقامة، وسبُل الضلال كثيرة خبيثة، وقد قال تعالى: {قُلْ لَا يَسْتَوِي الْخَبِيثُ وَالطَّيِّبُ وَلَوْ أَعْجَبَكَ كَثْرَةُ الْخَبِيثِ} [المَائِدَة: 100].

- قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: "صار المتمسكون بالإسلام المحض

--------------------------------------------

(1) منهاج السنة النبوية: 5/ 190.
- শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "নিশ্চয়ই সত্য এক, এবং তা রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তার বাইরে যায় না। আর এটি স্পষ্ট আকলের (বিবেকের) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা আল্লাহর সেই ফিতরাত (প্রকৃতি) যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন"(১).

সুতরাং দ্বীন যে এক, তার স্বপক্ষে বহু প্রমাণ বিদ্যমান। আর এটিই হচ্ছে আল্লাহর নিকট পৌঁছানোর পথ। এর কর্মপন্থা ও পথ হলো তাওহীদ। ইসলাম এক। আল্লাহ তাআলাই হচ্ছেন একমাত্র সত্য ইলাহ। যারা তাঁর ইবাদত করে এবং তাঁর একত্ববাদ ঘোষণা করে, তারাই সত্যের অনুসারী। আর অন্যান্য উপাস্যরা বাতিল এবং তাদের উপাসকরা ভ্রান্তির ওপর রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {তা এ কারণে যে, নিশ্চয় আল্লাহই সত্য আর তারা তাঁর পরিবর্তে যাকে ডাকে তা বাতিল এবং আল্লাহই সমুচ্চ, মহান (৬২)} [আল-হাজ্জ: ৬২], এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {ভিন্ন ভিন্ন বহু রব উত্তম, নাকি পরাক্রমশালী এক আল্লাহ? (৩৯)} [ইউসুফ: ৩৯], আর সত্য দ্বীন এক, আর তা হলো ইসলাম। অবশিষ্ট সব ধর্ম বাতিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করবে, তার থেকে তা কখনোই কবুল করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে (৮৫)} [আল ইমরান: ৮৫]।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনিই সেই সত্তা, যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন, যেন তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে (৩৩)} [আত-তাওবাহ: ৩৩]।

সুতরাং সত্যের পথ এক, আর তা আল্লাহর পথ। এটি হিদায়াতের পথ, ইসলামের পথ এবং সরল সঠিক পথ। পক্ষান্তরে ভ্রষ্টতার পথসমূহ অনেক এবং তা কদর্য। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, অপবিত্র ও পবিত্র সমান নয়, যদিও অপবিত্রের আধিক্য আপনাকে বিম্মিত করে} [আল-মায়িদাহ: ১০০]।

- শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যারা বিশুদ্ধ ইসলামকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছে তারা হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নববীয়াহ: ৫/ ১৯০।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ২৬)
الخالص عن الشَّوب، هم أهل السنة والجماعة، وفيهم الصديقون، والشهداء، والصالحون، ومنهم أعلام الهدى، ومصابيح الدجى، وهم الطائفة المنصورة"(1).

- قال الإمام سفيان الثوري رحمه الله: "نحن اليوم على الطريق، فإذا رأيتمونا قد أخذنا يمينًا أو شمالًا فلا تقتدوا بنا"(2).

- قال محمد بن المنكدر: "كابدت نفسي أربعين سنة حتى استقامت"(3).

- قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: "غاية الكرامة لزوم الاستقامة، فلم يكرم الله عبدا بمثل أن يعينه على ما يحبه ويرضاه ويزيده مما يقربه إليه ويرفع به درجته"(4).

- قال ابن القيم: "إِنَّمَا يُكْرِمُ الله مَنْ يُكْرِمُهُ بِمَعْرِفَتِهِ وَمَحَبَّتِهِ وَطَاعَتِهِ، وَيُهِينُ مَنْ يُهِينُهُ بِالْإِعْرَاضِ عنه؛

فالإكرام والإهانة لا يدوران على المال وسعة الرزق وتقديره، فإنه سبحانه يوسع على الكافر ويقتر على المؤمن لا لإهانته"(5).

- قال ابن القيم: "على قدر ثبوت قدم العبد على هذا الصراط في هذه الدار، يثبت على الصراط في الآخرة"(6).

--------------------------------------------

(1) العقيدة الواسطية: 1/ 32.

(2) أخبار الشيوخ للمروذي (99).

(3) صفوة الصفوة 2/ 141.

(4) مجموع الفتاوى 11/ 298.

(5) مدارج السالكين 172.

(6) مدارج السالكين 1/ 16.
সংমিশ্রণমুক্ত বিশুদ্ধ (মতাদর্শের অনুসারী) হলেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত। তাদের মধ্যে রয়েছেন সত্যনিষ্ঠ সিদ্দিকগণ, শহীদগণ এবং নেককার সালেহীনগণ। তাদের মধ্যেই রয়েছেন হিদায়াতের উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং অন্ধকারের প্রদীপসমূহ, আর তারাই হলো সাহায্যপ্রাপ্ত দল(১).

- ইমাম সুফিয়ান আস-সাওরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমরা আজ সঠিক পথের ওপর আছি, তবে তোমরা যদি আমাদের ডানে বা বামে সরে যেতে দেখো, তবে আমাদের অনুসরণ করো না"(২).

- মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির বলেছেন: "আমি চল্লিশ বছর ধরে আমার নফসের (প্রবৃত্তির) সাথে সংগ্রাম করেছি, যতক্ষণ না তা সঠিক পথে অবিচল হয়েছে"(৩).

- শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সর্বোচ্চ মর্যাদা (কারামাত) হলো সঠিক পথে অটল থাকা (ইস্তিকামাত)। আল্লাহ কোনো বান্দাকে এর চেয়ে বড় কোনো সম্মান দান করেননি যে, তিনি তাকে এমন বিষয়ে সাহায্য করবেন যা তিনি পছন্দ করেন ও যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট, এবং যা তাকে আল্লাহর নৈকট্য লাভে বৃদ্ধি ঘটায় ও যার মাধ্যমে তার মর্যাদা উন্নীত করেন"(৪).

- ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন: "আল্লাহ কেবল তাকেই সম্মানিত করেন যাকে তিনি তাঁর পরিচয় (মারিফাত), ভালোবাসা এবং আনুগত্যের মাধ্যমে সম্মানিত করেন; আর তাকেই অপমানিত করেন যে তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে নিজেকে হীন করে।

সুতরাং সম্মান ও অপমান ধন-সম্পদ এবং রিযিকের প্রশস্ততা বা সংকীর্ণতার ওপর আবর্তিত হয় না। কেননা তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা কাফিরের রিযিক প্রশস্ত করে দেন এবং মুমিনের রিযিক সংকীর্ণ করেন, তবে তা তাকে অপমান করার জন্য নয়"(৫).

- ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন: "এই পৃথিবীতে এই সিরাতের (সরল পথ) ওপর বান্দার পা যতটুকু সুদৃঢ় থাকবে, পরকালেও সিরাতের ওপর তার পা ততটুকুই সুদৃঢ় থাকবে"(৬).

--------------------------------------------

(১) আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ: ১/ ৩২।

(২) আখবারুশ শুয়ুখ লিল-মারওয়াযী (৯৯)।

(৩) সিফাতুস সাফওয়াহ ২/ ১৪১।

(৪) মাজমুউল ফাতাওয়া ১১/ ২৯৮।

(৫) মাদারিজুস সালিকীন ১৭২।

(৬) মাদারিজুস সালিকীন ১/ ১৬।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌6. ومما يدل على أهميته أن كلمة التوحيد هي الأعلى.

قال تعالى: {وَجَعَلَ كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُوا السُّفْلَى وَكَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ (40)} [التَّوْبَة: 40].

- عن أبي موسى الأشعري (ت: 44 هـ) رضي الله عنه، قال: سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الرجل يقاتل شجاعة، ويقاتل حَمِيَّة، ويقاتل رياء، أي ذلك في سبيل الله؟ فقال: «من قاتل لتكون كلمة الله هي العليا فهو في سبيل الله»(1).

- قال السيوطى (ت: 911 هـ) رحمه الله: "وأخرج ابن المنذر (ت: 318 هـ) رحمه الله، وابن أبي حاتم (ت: 327 هـ) رحمه الله، والبيهقي (ت: 458 هـ) رحمه الله في الأسماء والصفات، عن ابن عباس (ت: 68 هـ) رضي الله عنهما في قوله {وَجَعَلَ كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُوا السُّفْلَى} قال: هي الشرك {وَكَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا} قال: لا إله إلا الله. وأخرج أبو الشيخ (ت: 369 هـ) رحمه الله، عن الضحاك بن مزاحم (ت: 102 هـ) رحمه الله مثله"(2).

- وقال مقاتل بن سليمان (ت: 150 هـ) رحمه الله: " {وَجَعَلَ كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُوا}، يعني دعوة الشرك {السُّفْلَى}، {وَكَلِمَةُ اللَّهِ}، يعنى دعوة الإخلاص، {هِيَ الْعُلْيَا} يعنى العالية، {وَاللَّهُ عَزِيزٌ} فيملكه، {حَكِيمٌ} حكم إطفاء دعوة المشركين، وإظهار التوحيد"(3).

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري برقم (2810) وصحيح مسلم برقم (1904).

(2) تفسير الدر المنثور (سورة التوبة الآية: 40).

(3) تفسير مقاتل بن سليمان (سورة التوبة الآية: 40).
৬. এর গুরুত্বের অন্যতম প্রমাণ হলো যে, তাওহীদের বাণীই হলো সমুন্নত।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তিনি কাফিরদের বাণীকে অধঃপতিত করেছেন এবং আল্লাহর বাণীই হলো সমুন্নত। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় (৪০)} [আত-তাওবাহ: ৪০]।

- আবু মুসা আল-আশআরী (ওফাত: ৪৪ হি.) রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, যে বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য যুদ্ধ করে, যে আত্মমর্যাদার জন্য যুদ্ধ করে এবং যে লোক দেখানোর জন্য যুদ্ধ করে; এদের মধ্যে কোনটি আল্লাহর পথে? তিনি বললেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার জন্য যুদ্ধ করে, সে-ই আল্লাহর পথে»(১)।

- আস-সুয়ূতী (ওফাত: ৯১১ হি.) রাহিমাহুল্লাহ বলেন: "ইবনুল মুনজির (ওফাত: ৩১৮ হি.) রাহিমাহুল্লাহ, ইবনে আবি হাতিম (ওফাত: ৩২৭ হি.) রাহিমাহুল্লাহ এবং আল-বায়হাকী (ওফাত: ৪৫৮ হি.) রাহিমাহুল্লাহ 'আল-আসমা ওয়াস-সিফাত' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (ওফাত: ৬৮ হি.) রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন {আর তিনি কাফিরদের বাণীকে অধঃপতিত করেছেন} তিনি বলেন: এটি হলো শিরক {আর আল্লাহর বাণীই হলো সমুन्नत} তিনি বলেন: এটি হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। আর আবুশ শাইখ (ওফাত: ৩৬৯ হি.) রাহিমাহুল্লাহ আদ-দাহহাক বিন মুজাহিম (ওফাত: ১০২ হি.) রাহিমাহুল্লাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন"(২)।

- মুকাতিল বিন সুলাইমান (ওফাত: ১৫০ হি.) রাহিমাহুল্লাহ বলেন: "{আর তিনি কাফিরদের বাণীকে অধঃপতিত করেছেন}, অর্থাৎ শিরকের দাওয়াতকে {অধঃপতিত} করেছেন, {আর আল্লাহর বাণী}, অর্থাৎ ইখলাসের দাওয়াত, {তা হলো সমুন্নত} অর্থাৎ উচ্চ, {আর আল্লাহ পরাক্রমশালী} তিনি এর মালিক, {প্রজ্ঞাময়} তিনি মুশরিকদের দাওয়াত নির্বাপিত করার এবং তাওহীদকে বিজয়ী করার ফয়সালা করেছেন"(৩)।

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী, হাদিস নং (২৮১০) এবং সহীহ মুসলিম, হাদিস নং (১৯০৪)।

(২) তাফসীর আদ-দুররুল মানসুর (সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৪০)।

(৩) তাফসীর মুকাতিল বিন সুলাইমান (সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৪০)।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقال يحيى بن زياد الفراء (ت: 207 هـ) رحمه الله: " {كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُوا} الشرك بالله، {وَكَلِمَةُ اللَّهِ} قول: (لا إله إلا الله) "(1).

- عن ابن عباس: "قوله: {وَجَعَلَ كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُوا السُّفْلَى}، وهي: الشرك بالله {وَكَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا}، وهي: لا إله إلا الله"(2).

- قال الطبري: " {وَجَعَلَ كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُوا}، وهي كلمة الشرك {السُّفْلَى}، لأنها قُهِرَت وأذِلَّت، وأبطلها الله تعالى، ومحق أهلها، وكل مقهور ومغلوب فهو أسفل من الغالب، والغالب هو الأعلى {وَكَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا}، يقول: ودين الله وتوحيده وقولُ لا إله إلا الله، وهي كلمتُه (العليا)، على الشرك وأهله، الغالبةُ"(3).

 

‌‌7. ومما يدل على أهميته أن كلمة التوحيد أعلى شعب الإيمان.

قال تعالى {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى (1)} [الأَعْلَى: 1]

- قال مقاتل بن سليمان (ت: 150 هـ) رحمه الله: "قوله: {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ} آية يقول سبحانه: نزه اسم ربك الأعلى، يقول: نزهه من الشرك بشهادة أن لا إله إلا الله، فذلك قوله: {الْأَعْلَى} "(4).

--------------------------------------------

(1) معاني القرآن للفراء (سورة التوبة الآية: 40).

(2) تفسير الطبري (سورة التوبةالآية: 40).

(3) تفسير الطبري (سورة التوبةالآية: 40).

(4) تفسير مقاتل بن سليمان (سورة الأعلى الآية: 1).
এবং ইয়াহইয়া ইবনে যিয়াদ আল-ফাররা (মৃত: ২০৭ হি.) রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: " {কাফেরদের কথা} হলো আল্লাহর সাথে শিরক করা, এবং {আল্লাহর বাণী} হলো এই কথা: (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই) "(১).

- ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: "তাঁর বাণী: {এবং তিনি কাফেরদের কথাকে নিচু করে দিলেন}, আর তা হলো: আল্লাহর সাথে শিরক করা {এবং আল্লাহর বাণীই হলো উচ্চ}, আর তা হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই"(২).

- আত-তাবারী বলেছেন: " {এবং তিনি কাফেরদের কথাকে করে দিলেন}, আর তা হলো শিরকের কথা {নিচু}, কারণ তা পরাজিত ও লাঞ্ছিত হয়েছে, এবং আল্লাহ তাআলা একে বাতিল করে দিয়েছেন এবং এর অনুসারীদের ধ্বংস করেছেন। আর প্রতিটি পরাজিত ও বিজিত পক্ষ বিজয়ীর চেয়ে নিচু হয়, আর বিজয়ীই হলো উচ্চ। {এবং আল্লাহর বাণীই হলো উচ্চ}, তিনি বলছেন: আল্লাহর দ্বীন, তাঁর তাওহীদ এবং আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই বলা—এটাই হলো তাঁর (উচ্চ) বাণী, যা শিরক ও মুশরিকদের উপর বিজয়ী"(৩).

 

‌‌৭. এর গুরুত্বের একটি প্রমাণ হলো যে, তাওহীদের বাণী ঈমানের শাখাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

আল্লাহ তাআলা বলেন {আপনি আপনার সুউচ্চ রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন (১)} [আল-আলা: ১]

- মুকাতিল ইবনে সুলাইমান (মৃত: ১৫০ হি.) রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "তাঁর বাণী: {আপনি আপনার রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন} আয়াতে তিনি (সুবহানাহু) বলছেন: আপনি আপনার সুউচ্চ রবের নামের পবিত্রতা বর্ণনা করুন; তিনি বলছেন: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই' এই সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে তাঁকে শিরক থেকে পবিত্র ঘোষণা করুন, আর এটিই হলো তাঁর বাণী: {সুউচ্চ}"(৪).

--------------------------------------------

(১) আল-ফাররা রচিত মাআনিল কুরআন (সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৪০)।

(২) তাফসিরে তাবারী (সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৪০)।

(৩) তাফসিরে তাবারী (সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৪০)।

(৪) তাফসিরে মুকাতিল ইবনে সুলাইমান (সূরা আল-আলা, আয়াত: ১)।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ২৯)
- قال ابن تيمية (ت: 728 هـ) رحمه الله: "والعلمُ الأعلى، هو العلمُ بالأعلى"(1).

- قال ابن تيمية (ت: 728 هـ) رحمه الله: "وهذا بخلاف العلم الأعلى عند المسلمين فإنه العلم بالله، الذي هو في نفسه أعلى من غيره من كل وجه، والعلم به أعلى العلوم من كل وجه، والعلم به أصل لكل علم"(2).

- قال ابن تيمية (ت: 728 هـ) رحمه الله: "وإنما العلم الأعلى هو العلم بالله، والله هو الأعلى على كل شيء من كل وجه، كما قال سبحانه: {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى (1)} [الأَعْلَى: 1]، فالعلم به أعلى العلوم، وإرادة وجهه أفضل الإرادات، ومحبته أفضل المحبات"(3).

- وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «الإيمان بضع وسبعون أو بضع وستون شعبة، فأفضلها قول لا إله إلا الله، وأدناها إماطة الأذى عن الطريق، والحياء شعبة من الإيمان» متفق عليه»(4).

وفي لفظ آخرَ عند أحمد: «أرفعها وأعلاها قول: لا إله إلا الله»(5).

فتَّوحيدَ اللهِ وعَدَمَ الإشراكِ به هو مَبدأُ الإيمانِ ومُنتَهاهُ، وما كان سِواهُ مِنْ أعمالٍ فهو مِنْ مُكَمِّلاتِ الإيمانِ.

--------------------------------------------

(1) جامع الرسائل (2/ 685).

(2) الرد على المنطقيين صـ 111.

(3) الرد على الشاذلي بن حزبية وما صنفه في آداب الطريق 1/ 242.

(4) أخرجه البخاري، كتاب الإيمان، باب أمور الإيمان، برقم (9)، ومسلم، كتاب الإيمان، باب شعب الإيمان، برقم (35)، واللفظ له.

(5) أخرجه الإمام أحمد في مسنده، 2/ 379، برقم (8926).
- ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরী) রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: "সর্বোচ্চ জ্ঞান হলো মহান সত্তা সম্পর্কে জ্ঞান"(১).

- ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরী) রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: "এটি মুসলিমদের নিকট থাকা সর্বোচ্চ জ্ঞানের বিপরীত; কারণ তা হলো আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান, যা সত্তাগতভাবে অন্য যে কোনো কিছুর চেয়ে সকল দিক থেকে শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান সকল দিক থেকে জ্ঞানের মধ্যে সর্বোচ্চ জ্ঞান। আর তাঁর সম্পর্কে জ্ঞান প্রতিটি জ্ঞানের মূল ভিত্তি"(২).

- ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরী) রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: "প্রকৃতপক্ষে সর্বোচ্চ জ্ঞান হলো আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান। আর আল্লাহ সকল দিক থেকে সকল কিছুর ঊর্ধ্বে, যেমন তিনি পবিত্র সত্তা বলেছেন: {আপনার সুমহান রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন (১)} [আল-আ'লা: ১]। সুতরাং আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানই হলো সর্বোচ্চ জ্ঞান, আর তাঁর সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষা হলো সর্বোত্তম আকাঙ্ক্ষা এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা হলো সর্বোত্তম ভালোবাসা"(৩).

- আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ঈমানের সত্তরের অধিক অথবা ষাটের অধিক শাখা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা, আর সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা» (বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত)(৪).

আহমাদের অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে: «এর মধ্যে সর্বোচ্চ ও শ্রেষ্ঠ হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা»(৫).

সুতরাং আল্লাহর একত্ববাদ এবং তাঁর সাথে শরিক না করাই হলো ঈমানের শুরু এবং শেষ। আর এর বাইরে অন্যান্য আমল হলো ঈমানের পূর্ণতাদানকারী।

--------------------------------------------

(১) জামেউর রাসায়িল (২/ ৬৮৫)।

(২) আর-রাদ্দু আলাল মানতিকিয়্যিন, পৃষ্ঠা ১১১।

(৩) আর-রাদ্দু আলাশ শাযিলি ইবনে হিযবিয়্যাহ ওয়া মা সন্নাফাহু ফী আদাবিত ত্বরীক ১/ ২৪২।

(৪) ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন, ঈমান অধ্যায়, ঈমানের বিষয়সমূহ অনুচ্ছেদ, হাদিস নং (৯) এবং ইমাম মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, ঈমানের শাখাসমূহ অনুচ্ছেদ, হাদিস নং (৩৫), আর শব্দসমূহ তাঁর (মুসলিম)।

(৫) ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন, ২/ ৩৭৯, হাদিস নং (৮৯২৬)।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌8. ومما يدل على أهميته أن التوحيد أول منازل الطريق، وأول مقام يقوم فيه السالك إلى الله تعالى.

- قال ابن القيم: "التوحيد أول منازل الطريق، وأول مقام يقوم فيه السالك إلى الله تعالى"(1).

- قال ابن أبي العز (ت: 792 هـ رحمه الله: "اعلم أن التوحيد أول دعوة الرسل، وأول منازل الطريق، وأول مقام يقوم فيه السالك إلى الله عز وجل "(2).

- قال ابن القيم (: 751 هـ) رحمه الله: "ولما كان كمال الإرادة بحسب كمال مرادها، وشرف العلم تابعا لشرف معلومه، كانت نهاية سعادة العبد الذي لا سعادة له بدونها، ولا حياة له إلا بها؛ أن تكون إرادته متعلقة بالمراد الذي لا يبلى ولا يفوت، وعزمات همته مسافرة إلى حضرة الحي الذي لا يموت، ولا سبيل له إلى هذا المطلب الأسنى، والحظ الأوفى؛ إلا بالعلم الموروث عن عبده ورسوله وخليله وحبيبه الذي بعثه لذلك داعيا، وأقامه على هذا الطريق هاديا، وجعله واسطة يينه وببين الأنام، وداعيا لهم بإذنه إلى دار السلام، وأبى سبحانه أن يفتح لأحد منهم إلا على يديه، أو يقبل من أحد منهم سعيا إلا أن يكون مبتدئا منه، ومنتهيا إليه، صلى الله عليه وسلم "(3).

--------------------------------------------

(1) مدارج السالكين 3/ 411.

(2) شرح العقيدة الطّحاويّة لابن أبي العزّ الحنفيّ: 77 - 78.

(3) مفتاح دار السعادة 1/ 59.
৮. এর গুরুত্বের অন্যতম প্রমাণ হলো এই যে, তাওহীদ হলো পথের প্রথম মঞ্জিল এবং মহান আল্লাহর দিকে যাত্রাকারী পথিকের প্রথম মাকাম (অবস্থান)।

- ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেছেন: "তাওহীদ হলো পথের প্রথম মঞ্জিল এবং মহান আল্লাহর দিকে যাত্রাকারী পথিকের প্রথম মাকাম।"(১).

- ইবনে আবিল ইয (ওফাত: ৭৯২ হি.) রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "জেনে রেখো যে, তাওহীদ হলো রাসূলগণের দাওয়াতের প্রথম বিষয়, পথের প্রথম মঞ্জিল এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর দিকে যাত্রাকারী পথিকের প্রথম মাকাম।"(২).

- ইবনুল কাইয়্যিম (ওফাত: ৭৫১ হি.) রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "যেহেতু সংকল্পের পূর্ণতা তার লক্ষ্যের পূর্ণতা অনুযায়ী হয়ে থাকে এবং ইলমের মর্যাদা তার বিষয়বস্তুর মর্যাদা অনুযায়ী হয়ে থাকে; তাই বান্দার চূড়ান্ত সৌভাগ্য—যা ব্যতীত তার কোনো সৌভাগ্য নেই এবং যা ব্যতীত তার কোনো জীবন নেই—তাহলো তার সংকল্প যেন এমন এক সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট হয় যিনি কখনো লয় প্রাপ্ত হন না এবং যা কখনো হারিয়ে যায় না। আর তার সংকল্পের দৃঢ়তা যেন সেই চিরঞ্জীব সত্তার দরবার অভিমুখে সফর করে যার কোনো মৃত্যু নেই। আর এই সুমহান লক্ষ্য এবং পরিপূর্ণ অংশ লাভের কোনো পথ নেই সেই ইলম ব্যতীত যা তাঁর বান্দা, রাসূল, খলীল ও হাবীবের নিকট থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত; যাকে তিনি এ জন্যই আহ্বানকারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং এই পথের দিশারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁকে তিনি তাঁর এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে মাধ্যম বানিয়েছেন এবং তাঁরই অনুমতিতে তাদের শান্তির আবাসের (দারুস সালাম) দিকে আহ্বানকারী করেছেন। মহান আল্লাহ অস্বীকার করেছেন যে, তিনি তাঁর (রাসূলের) হাত ব্যতীত কারো জন্য (সাফল্যের দ্বার) উন্মুক্ত করবেন, কিংবা কারো প্রচেষ্টা কবুল করবেন যতক্ষণ না তা তাঁর (রাসূলের সুন্নাহ) থেকে শুরু হয় এবং তাঁর কাছে গিয়েই সমাপ্ত হয়; তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।"(৩).

--------------------------------------------

(১) মাদারিজুস সালিকীন ৩/ ৪১১।

(২) ইবনে আবিল ইয আল-হানাফী রচিত শারহুল আকিদাহ আত-তহবিয়্যাহ: ৭৭ - ৭৮।

(৩) মিফতাহু দারিস সা'আদাহ ১/ ৫৯।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌9. ومما يدل على أهميته أن التوحيد أول ما يدخل به في الإسلام، وآخر ما يخرج به من الدنيا.

كما قال النبي صلى الله عليه وسلم «من كان آخر كلامه لا إله إلا الله دخل الجنة»(1)، فهو أول واجب؛ وآخر واجب، وأول الأمر؛ وآخره"(2).

- قال ابن القيم: "وأجمع المسلمون على أن الكافر إذا قال: لا إله إلا الله، محمد رسول الله فقد دخل في الإسلام، وشهد شهادة الحق، ولم يتوقف إسلامه على لفظ الشهادة وأنه قد دخل في قوله: «حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله»(3)، وفي لفظ آخر: «حتى يقولوا لا إله إلا الله»(4)، فدل على أن مجرد قولهم لا إله إلا الله شهادة منهم"(5).

 

‌‌10. ومما يدل على أهميته أن التوحيد أول واجب على المكلف.

- قال ابن تيمية: "إن السلف والأئمة متفقون على أن أول ما يؤمر به العبد الشهادتان، ومتفقون على أن من فعل ذلك قبل البلوغ لم يؤمر بتجديد ذلك

--------------------------------------------

(1) رواه أحمد (21529) وأبو داود (3116) وحسنه الألباني في "إرواء الغليل" (687).

(2) مدارج السالكين 3/ 111.

(3) رواه مسلم: (22/ كتاب الإيمان/ باب: الدعاء إلى الشهادتين وشرائع الإسلام).

(4) أخرجه مسلم، كتاب الايمان، باب الأمر بقتال الناس حتى يقولوا لا اله إلا الله محمد رسول الله، (1/ 40).

(5) مدارج السالكين 3/ 421.
৯. আর যে বিষয়গুলো তাওহীদের গুরুত্ব প্রমাণ করে তা হলো, তাওহীদ হচ্ছে প্রথম বিষয় যার মাধ্যমে ইসলামে প্রবেশ করা হয় এবং সর্বশেষ বিষয় যার মাধ্যমে দুনিয়া থেকে প্রস্থান করা হয়।

যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, «যার শেষ কথা হবে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে»(১)। সুতরাং এটিই প্রথম ওয়াজিব এবং এটিই সর্বশেষ ওয়াজিব; এটিই বিষয়ের সূচনা এবং এটিই তার সমাপ্তি"(২)।

- ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "মুসলিমগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, কোনো কাফির যখন বলবে: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল', তখন সে ইসলামে প্রবেশ করল এবং সত্য সাক্ষ্য দিল। তার ইসলাম গ্রহণ 'শাহাদাহ' (সাক্ষ্য প্রদান) শব্দটির উচ্চারণের ওপর স্থগিত থাকবে না। সে নবীজির এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় যে: «যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই»(৩), এবং অন্য বর্ণনায় রয়েছে: «যতক্ষণ না তারা বলে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই»(৪)। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, তাদের কেবল 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলাই তাদের পক্ষ থেকে সাক্ষ্য প্রদান হিসেবে গণ্য"(৫)।

 

১০. আর তাওহীদের গুরুত্বের আরেকটি প্রমাণ হলো, তাওহীদ হচ্ছে মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি)-এর ওপর প্রথম ওয়াজিব।

- ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "সালাফ এবং ইমামগণ এ বিষয়ে একমত যে, বান্দাকে সর্বপ্রথম যে বিষয়ের নির্দেশ দেওয়া হবে তা হলো দুই শাহাদাহ (সাক্ষ্য), এবং তারা এ বিষয়েও একমত যে, যদি কেউ সাবালক হওয়ার আগে এটি সম্পাদন করে, তবে তাকে পুনরায় তা করার নির্দেশ দেওয়া হবে না

--------------------------------------------

(১) আহমদ (২১৫২৯) ও আবু দাউদ (৩১১৬) এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী 'ইরওয়াউল গালীল' (৬৮৭) গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন।

(২) মাদারিজুস সালিকীন ৩/ ১১১।

(৩) মুসলিম বর্ণনা করেছেন: (২২/ কিতাবুল ঈমান/ পরিচ্ছেদ: দুই শাহাদাহ এবং ইসলামের বিধানসমূহের প্রতি দাওয়াত)।

(৪) মুসলিম এটি বের করেছেন, কিতাবুল ঈমান, পরিচ্ছেদ: মানুষের সাথে লড়াই করার নির্দেশ যতক্ষণ না তারা বলে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, (১/ ৪০)।

(৫) মাদারিজুস সালিকীন ৩/ ৪২১।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ৩২)
عقب البلوغ".

- قال ابن القيم: "الصحيح: أن أول واجب يجب على المكلف: شهادة أن لا إله إلا الله، لا النظر، ولا القصد إلى النظر، ولا الشك كما هي أقوال لأرباب الكلام المذموم(1) "(2).

- قال الإمام ابن أبي العز رحمه الله: "الصحيح أن أول واجب يجب على المكلف شهادة أن لا إله إلا الله، لا النظر، ولا القصد إلى النظر، ولا الشك، فالتوحيد أول ما يدخل به في الإسلام، وآخر ما يخرج به من الدنيا، فهو أول واجب وآخر واجب"(3).

--------------------------------------------

(1) يقول القاضي عبد الجبار المعتزلي: "إن سأل سائل فقال: ما أول ما أوجب الله عليك؟ فقل النظر المؤدي إلى معرفة الله تعالى؛ لأنه تعالى لا يعرف ضرورة ولا بالمشاهدة، فيجب أن نعرفه بالتفكير والنظر". المحيط بالتكليف» للقاضي عبد الجبار (ص: 26)، و «شرح الأصول الخمسة» له (ص: 70، 76).

ويقول عبد القاهر البغدادي: "الصحيح عندنا قول من يقول: إن أول الواجبات على المكلف النظر والاستدلال المؤديات إلى المعرفة بالله تعالى وبصفاته وتوحيده وعدله وحكمته، ثم النظر والاستدلال المؤديان إلى جواز إرسال الرسل منه، وجواز تكليف العباد ما شاء، ثم النظر المؤدي إلى وجوب الإرسال والتكليف منه، ثم النظر المؤدي إلى تفصيل أركان الشريعة، ثم العمل بما يلزمه منها على شروطه" «أصول الدين» للبغدادي (ص: 75).

ويقول الجويني: "أول ما يجب على العاقل البالغ - باستكمال سن البلوغ أو الحلم شرعاً - القصد إلى النظر الصحيح المفضي إلى العلم بحدوث العالم .. " «الشامل» للجويني (ص: 26).

(2) مدارج السالكين 3/ 411 - 412.

(3) شرح العقيدة الطحاوية لابن أبي العز (1/ 21 - 23).
প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর।"

- ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "সঠিক অভিমত হলো: মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি)-এর ওপর সর্বপ্রথম যা ওয়াজিব হয় তা হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই—এই সাক্ষ্য প্রদান করা। চিন্তা-গবেষণা (নজর), কিংবা চিন্তা-গবেষণার সংকল্প করা, অথবা সন্দেহ পোষণ করা প্রথম ওয়াজিব নয়, যেমনটি নিন্দিত ইলমুল কালামের প্রবক্তাদের অভিমত(১)"(২)।

- ইমাম ইবনে আবিল ইয রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: "সঠিক কথা হলো যে, মুকাল্লাফের ওপর সর্বপ্রথম যে বিষয়টি ওয়াজিব তা হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) এর সাক্ষ্য প্রদান করা; চিন্তা-গবেষণা, কিংবা চিন্তা-গবেষণার সংকল্প করা, অথবা সন্দেহ পোষণ করা নয়। সুতরাং তাওহীদই হচ্ছে প্রথম বিষয় যার মাধ্যমে ইসলামে প্রবেশ করা হয় এবং শেষ বিষয় যার মাধ্যমে দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া হয়। অতএব এটিই প্রথম ওয়াজিব এবং এটিই শেষ ওয়াজিব"(৩)।

--------------------------------------------

(১) কাযী আবদুল জাব্বার মুতাযিলী বলেন: "যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে বলে: আল্লাহ তোমার ওপর সর্বপ্রথম কী ওয়াজিব করেছেন? তবে বলো: সেই চিন্তা-গবেষণা (নজর) যা মহান আল্লাহর পরিচয়ের দিকে নিয়ে যায়; কারণ মহান আল্লাহকে স্বতঃসিদ্ধভাবে বা সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চেনা যায় না, তাই চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে তাঁকে চেনা আবশ্যক।" কাযী আবদুল জাব্বার প্রণীত 'আল-মুহিত বিত-তাকলীফ' (পৃষ্ঠা: ২৬), এবং তাঁর 'শারহুল উসুলিল খামসাহ' (পৃষ্ঠা: ৭০, ৭৬)।

আবদুল কাহের আল-বাগদাদী বলেন: "আমাদের নিকট সঠিক কথা হলো তাদের বক্তব্য যারা বলেন: মুকাল্লাফের ওপর ওয়াজিবসমূহের মধ্যে প্রথম হলো সেই চিন্তা-গবেষণা ও দলিল অনুসন্ধান যা মহান আল্লাহ, তাঁর গুণাবলি, তাঁর একত্ববাদ, তাঁর ন্যায়বিচার ও তাঁর প্রজ্ঞা সম্পর্কে জানার পথে পরিচালিত করে। অতঃপর সেই চিন্তা-গবেষণা ও দলিল অনুসন্ধান যা তাঁর পক্ষ থেকে রাসুল প্রেরণের বৈধতা এবং বান্দাদেরকে যা ইচ্ছা সেই বিধান দেওয়ার বৈধতা প্রমাণ করে। এরপর সেই চিন্তা-গবেষণা যা তাঁর পক্ষ থেকে রাসুল প্রেরণ ও বিধান প্রদানের অপরিহার্যতাকে নির্দেশ করে। এরপর শরীয়তের রুকনগুলোর বিস্তারিত বিবরণের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য চিন্তা-গবেষণা, এবং পরিশেষে তার শর্তানুযায়ী প্রয়োজনীয় আমল করা।" বাগদাদী প্রণীত 'উসুলুদ দ্বীন' (পৃষ্ঠা: ৭৫)।

জুওয়াইনী বলেন: "প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান ব্যক্তির ওপর—শরীয়ত অনুযায়ী সাবালক হওয়ার বয়স পূর্ণ হলে বা স্বপ্নদোষের মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্ক হলে—সর্বপ্রথম যা ওয়াজিব তা হলো সঠিক চিন্তা-গবেষণার সংকল্প করা যা মহাবিশ্বের নশ্বরতা বা নতুনত্ব সম্পর্কে জ্ঞানের দিকে নিয়ে যায়..." জুওয়াইনী প্রণীত 'আশ-শামিল' (পৃষ্ঠা: ২৬)।

(২) মাদারিজুস সালিকিন ৩/ ৪১১ - ৪১২।

(৩) ইবনে আবিল ইয প্রণীত শারহুল আকীদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ (১/ ২১ - ২৩)।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ৩৩)
- قال ابن المنذر رحمه الله: "أجمع كل من أحفظ عنه من أهل العلم أن الكافر إذا قال أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا عبده ورسوله وأن كل ما جاء به محمد صلى الله عليه وسلم حق وأبرأ إلى الله من كل دين يخالف دين الإسلام، وهو بالغ صحيح يعقل، أنه مسلم"(1).

- قال عبد القادر الجيلاني: "الذي يجب على من يريد الدخول في دين الإسلام أولا أن يتلفظ بالشهادتين لا إله إلا الله محمد رسول الله، ويتبرأ من كل دين غير دين الإسلام، ويعتقد بقلبه وحدانية الله تعالى"(2).

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: "إن السلف والأئمة متفقون على أن أول ما يؤمر به العباد الشهادتان"(3).

ولا يقدح في هذا الإجماع ما يذكره بعض أصحاب المذاهب الأربعة ممن تأثر بعلم الكلام في نسبة القول بأن أول واجب على المكلف هو المعرفة والنظر إلى الأصحاب، ويعني به أصحاب المذهب، وهو في الحقيقة قول من تأثر به من أصحاب الكلام.

- قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: "ولما كان الكلام في هذه الأبواب المبتدعة مأخوذة في الأصل عن المعتزلة والجهمية ونحوهم، وقد تكلم هؤلاء في أول الواجبات: هل هو النظر، أو القصد، أو الشك، أو المعرفة؟ صار كثير

--------------------------------------------

(1) الإجماع ص 154.

(2) الغنية للجيلاني (1/ 2).

(3) درء تعارض العقل والنقل (8/ 11).
- ইবনুল মুনযির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমি যাদের নিকট থেকে ইলম সংরক্ষণ করেছি, তাদের সকলেই এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, কোনো কাফির যদি সাক্ষ্য দেয় যে 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল' এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা সত্য, আর সে ইসলাম বিরোধী সকল ধর্ম থেকে আল্লাহর নিকট দায়মুক্ত হয়, এবং সে যদি প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও বিবেকবান হয়, তবে সে একজন মুসলিম"(১).

- আব্দুল কাদির জিলানি বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করতে চায়, তার জন্য সর্বপ্রথম যা ওয়াজিব তা হলো— শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্যবাণী) 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল' উচ্চারণ করা, ইসলাম ব্যতীত অন্য সকল ধর্ম থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং অন্তরে আল্লাহ তাআলার একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন করা"(২).

শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই সালাফ এবং ইমামগণ এই বিষয়ে একমত যে, বান্দাদেরকে সর্বপ্রথম যে বিষয়ের আদেশ দেওয়া হবে তা হলো শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্যবাণী)"(৩).

আর এই ইজমার (ঐক্যমত্যের) ক্ষেত্রে সেই বিষয়টি কোনো ত্রুটি বা সংশয় তৈরি করে না, যা চার মাযহাবের এমন কিছু অনুসারী উল্লেখ করেছেন যারা ইলমুল কালাম দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই মতটি তাদের মাযহাবের অনুসারীদের (আসহাব) দিকে সম্বন্ধ করেছেন যে— মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তির ওপর প্রথম ওয়াজিব হলো 'মা'রিফাত' (পরিচয় লাভ) ও 'নাযার' (পর্যবেক্ষণ)। প্রকৃতপক্ষে এটি কেবল তাদেরই কথা যারা ইলমুল কালাম দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।

- শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যেহেতু এই বিদআতি অধ্যায়গুলোতে আলোচিত বিষয়গুলো মূলত মুতাযিলা, জাহমিয়্যাহ এবং তাদের সমমনাদের থেকে গৃহীত হয়েছে, এবং তারা প্রথম ওয়াজিবের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছে যে: তা কি পর্যবেক্ষণ (নাযার), নাকি সংকল্প (কাসদ), নাকি সন্দেহ (শাক), নাকি পরিচয় লাভ (মা'রিফাত)? এর ফলে অনেক

--------------------------------------------

(১) আল-ইজমা, পৃষ্ঠা ১৫৪।

(২) আল-গুনইয়াহ লিল জিলানি (১/ ২)।

(৩) দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি (৮/ ১১)।
(খণ্ড: ১) লিমাজা আত-তাওহীদু আউওয়ালান (পৃষ্ঠা: ৩৪)
من المنتسبين إلى السنة، المخالفين للمعتزلة في جمل أصولهم، يوافقونهم على ذلك، ثم الواحد من هؤلاء إذا انتسب إلى إمام من أئمة العلم كمالك، وأبي حنيفة، والشافعي، وأحمد، وصنف كتابا في هذا الباب يقول فيه: (قال أصحابنا) و (اختلف أصحابنا)، فإنما يعني بذلك أصحابه الخائضين في هذا الكلام، وليسوا من هذا الوجه من أصحاب ذلك الإمام"(1).

- قال محمد بن عبد الوهاب بن سليمان التميمي النجدي (ت 1206 هـ) رحمه الله في رده على محمد بن عباد في هذا الجانب: "قولك أول واجب على كل ذكر وأنثى النظر في الوجود ثم معرفة العقيدة ثم علم التوحيد، وهذا خطأ وهو من علم الكلام الذي أجمع السلف على ذمه، وإنما الذي أتت به الرسل أول واجب هو التوحيد ليس النظر في الوجود ولا معرفة العقيدة كما ذكرته أنت في الأوراق أن كل نبي يقول لقومه: {اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} [المُؤْمِنُون: 23] "(2).

 

‌‌11. ومما يدل على أهميته أن التوحيد هو حق الله على العبيد.

- قال الله عز وجل: {وَمَاخَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ (56) مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَنْ يُطْعِمُونِ (57) إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ} [الذَّارِيَات: 56 - 58] والمعنى: ما خلقت الجن والإنس إلا ليُوحِّدونِ(3).

--------------------------------------------

(1) درء تعارض العقل والنقل (8/ 3).

(2) الرسائل الشخصية- الرسالة الثانية ص 16، والدرر السنية في الأجوبة النجدية 1/ 67.

(3) الجامع لأحكام القرآن الكريم، للقرطبي، 17/ 57.
আহলে সুন্নাতের অনুসারী দাবিদারদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা তাদের মূলনীতির অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুতাযিলাদের বিরোধিতা করলেও এই বিষয়ে তাদের সাথে একমত পোষণ করে। এরপর তাদের মধ্য থেকে কেউ যখন ইলমের ইমামদের মধ্য হতে কোনো ইমাম—যেমন মালিক, আবু হানিফা, শাফিয়ী এবং আহমাদ (রাহিমাহুমুল্লাহ)-এর সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করে এবং এই বিষয়ে কোনো কিতাব রচনা করে সেখানে বলে: 'আমাদের সাথীরা বলেছেন' এবং 'আমাদের সাথীরা মতভেদ করেছেন', তখন সে এর মাধ্যমে কেবল ইলমে কালামে নিমগ্ন তার সাথীদেরই বুঝিয়ে থাকে; তারা এই দিক থেকে সেই ইমামের প্রকৃত অনুসারী বা সাথীদের অন্তর্ভুক্ত নয়"(১)।

- মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে সুলাইমান আত-তামিমী আন-নাজদী (মৃ. ১২০৬ হি.) রাহিমাহুল্লাহ এই ক্ষেত্রে মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদের জবাবে বলেন: "আপনার এই কথা যে, প্রত্যেক নর-নারীর ওপর প্রথম ওয়াজিব বা আবশ্যক হলো অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তা করা, এরপর আকিদা চেনা, এরপর তাওহীদের জ্ঞান অর্জন করা—এটি ভুল। এটি সেই ইলমে কালামের অন্তর্ভুক্ত যার নিন্দার ওপর সালাফগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। বরং রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তাতে প্রথম ওয়াজিব হলো তাওহীদ; অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তা করা বা আকিদা পরিচিতি নয় যা আপনি আপনার কাগজপত্রে উল্লেখ করেছেন যে, প্রত্যেক নবী তাঁর কওমকে বলেছেন: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই} [আল-মুমিনুন: ২৩]"(২)।

 

‌‌১১. তাওহীদের গুরুত্বের অন্যতম প্রমাণ হলো যে, তাওহীদ হলো বান্দাদের ওপর আল্লাহর প্রাপ্য অধিকার।

- মহান আল্লাহ বলেন: {আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি (৫৬) আমি তাদের কাছে কোনো রিযিক চাই না এবং আমি চাই না যে তারা আমাকে আহার করাবে (৫৭) নিশ্চয়ই আল্লাহই হলেন পরম রিযিকদাতা, মহাশক্তিধর ও অত্যন্ত প্রবল (৫৮)} [আয-যারিয়াত: ৫৬ - ৫৮]। এর অর্থ হলো: আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার একত্ববাদ (তাওহীদ) প্রতিষ্ঠার জন্যই সৃষ্টি করেছি(৩)।

--------------------------------------------

(১) দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি (৮/৩)।

(২) আর-রাসাইলুশ শাখসিয়্যাহ—দ্বিতীয় রিসালাহ, পৃ. ১৬; এবং আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউইবাতিন নাজদিয়্যাহ ১/৬৭।

(৩) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআনিল কারীম, আল-কুরতুবী কৃত, ১৭/৫৭।