(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: -)
أحاديث ضعاف وعليها العمل بغير خلاف   (عاطف الفاروقي)

القسم: العلل والسؤلات الحديثية


الكتاب: أحاديث ضعاف وعليها العمل بغير خلاف

المؤلف: أبو عبد الرحمن عاطف بن حسن الفاروقي

قدم له: طارق بن عوض الله

الناشر: مكتبة التوعية الإسلامية للتحقيق والنشر، القاهرة - مصر

الطبعة: الأولى، 1432 هـ -2011 م

عدد الصفحات: 136

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 صفر 1447

দুর্বল হাদিসসমূহ যেগুলোর ওপর মতপার্থক্যহীনভাবে আমল করা হয়   (আতিফ আল-ফারুকী)

বিভাগ: হাদিসের ইলল (ত্রুটি) ও প্রশ্নাবলি


বই: দুর্বল হাদিসসমূহ যেগুলোর ওপর মতপার্থক্যহীনভাবে আমল করা হয়

লেখক: আবু আব্দুর রহমান আতিফ ইবনে হাসান আল-ফারুকী

ভূমিকা: তারেক ইবনে আওয়াদুল্লাহ

প্রকাশক: মাকতাবাতুত তাউইয়াহ আল-ইসলামিয়াহ লিত-তাহকিক ওয়ান-নাশর, কায়রো - মিশর

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৬

[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ সফর ১৪৪৭

(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৩)
وإذا الديار تنكرت سافرتُ في … طلب المعارف هاجر الدياري

وإذا أقمتُ فمُؤنسي كتبي فلا … أنفك في الحالين من أسفاري
যখন স্বদেশ বিরাগ প্রকাশ করে, তখন জ্ঞান অন্বেষণে আমি দেশান্তরী হয়ে ভ্রমণ করি …

আর যখন আমি কোথাও অবস্থান করি, তখন আমার কিতাবসমূহ হয় আমার সঙ্গী; সুতরাং উভয় অবস্থাতেই আমি আমার সফর হতে … বিচ্ছিন্ন হই না।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تقديم

الشيخ/ طارق بن عوض الله

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده.

فليس من شك أن أفضل ما أنفقت فيه الأوقات هو سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم تعلما وتفقها وعملا، ولقد بذل أسلافنا وأئمتنا رحمهم الله، جهودًا كبيرة في خدمة سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم من حيث تمييز صحيحها من غير صحيحها، ومن حيث شرحها وبيان ما اشتملت عليه من معان جليلة وحكم عظيمة، وكانوا رضي الله عنهم أكثر الناس حرصا على العمل بها وتطبيقها في واقعهم.

ولقد تبين للباحثين المتوسعين في معرفة مناهج أئمة السنة أنهم رضي الله عنهم كانوا يقسمون الأحاديث إلى قسمين: قسم ثابت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من حيث الدراية إلى معمول به، وغير معمول به، ويتبين للباحث أن المعمول به ليس هو الصحيح فقط، وغير المعمول به هو الضعيف قط، فقد يكون الحديث صحيحًا من حيث الرواية، وهو غير معمول به من حيث الدراية؛ لكونه منسوخا مثلا، وقد يكون الحديث ضعيفًا من حيث الرواية، لكنه معمول به من حيث الدراية؛ لكونه موافقا لظاهر القرآن، أو لظاهر الأحاديث الصحيحة، أو لعمل الأمة، أو لظاهر القياس، وهذا ما تنبه له أسلافنا
উপস্থাপনা

শাইখ তারিখ বিন আওয়াদুল্লাহ

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সময় ব্যয় করার সর্বোত্তম ক্ষেত্র হলো আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ শিক্ষা করা, তা অনুধাবন করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা। আমাদের পূর্বসূরি ও ইমামগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর সেবায় বিশাল প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন—তার সহিহ ও জয়িফের পার্থক্য নিরূপণের ক্ষেত্রে এবং তার ব্যাখ্যা ও তাতে বিদ্যমান মহান অর্থ ও প্রজ্ঞাসমূহ বর্ণনা করার ক্ষেত্রে। তাঁরা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মানুষের মধ্যে সুন্নাহর ওপর আমল করা এবং স্বীয় জীবনে তা প্রয়োগ করার ব্যাপারে সর্বাধিক আগ্রহী ছিলেন।

সুন্নাহর ইমামগণের কর্মপন্থা সম্পর্কে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন গবেষকদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তাঁরা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) হাদিসসমূহকে দু’টি ভাগে ভাগ করতেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সাব্যস্ত হাদিসের একটি অংশ যা দিরোয়াহ বা গবেষণার বিচারে আমলযোগ্য এবং অন্যটি যা আমলযোগ্য নয়। গবেষকের নিকট এটিও স্পষ্ট হয় যে, কেবল সহিহ হাদিসই আমলযোগ্য নয় এবং কেবল জয়িফ হাদিসই আমল অযোগ্য নয়। কারণ কোনো হাদিস রিওয়ায়াহ বা বর্ণনার দিক থেকে সহিহ হতে পারে, কিন্তু দিরোয়াহ বা পর্যালোচনার দিক থেকে তা আমলযোগ্য নাও হতে পারে; উদাহরণস্বরূপ সেটি রহিত (মানসুখ) হওয়ার কারণে। আবার কোনো হাদিস বর্ণনার দিক থেকে দুর্বল (জয়িফ) হতে পারে, কিন্তু দিরোয়াহ বা পর্যালোচনার দিক থেকে তা আমলযোগ্য হতে পারে; যেহেতু তা কুরআনের বাহ্যিক অর্থের সাথে, অথবা সহিহ হাদিসসমূহের বাহ্যিক অর্থের সাথে, অথবা উম্মাহর আমলের সাথে কিংবা কিয়াসের বাহ্যিক বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। আমাদের পূর্বসূরিগণ এই বিষয়টি সম্পর্কে বিশেষভাবে সজাগ ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৬)
رضي الله عنهم، فميزوا بين المعمول به وغير المعمول به، كما ميزوا بين الصحيح وغير الصحيح.

ومن تأمل صنيع المصنفين في السنة من علماء الحديث يتبين له ذلك بوضوح وجلاء، فهذا الإمام أبو داود قد ألف كتابه «السنن»، وذكر في رسالته إلى أهل مكة أنه قد اختار له أصح ما عنده في كل باب، وأنه لا يخرج فيه إلا ما كان صحيحا أو شبيها بالصحيح، أو ضعيفًا هينًا، فإن كان ضعفًا شديدا بينه، وذكر أن ما سكت عنه فهو صالح، وذكر أيضًا في هذه الرسالة أنه لا يحتج بالحديث الشاذ، ولو كان من رواية مالك ويحيى بن سعيد والثقات من أهل العلم، وإنما يقصد بالشاذ بالدرجة الأولى ما كان شاذًا من حيث المتن، وكلامه يدل على أنه يتجنب ما اشتمل على معنى يتعارض مع الأصول المقررة من قرآن وسنة وإجماع، أما ما لا يتعارض من هذه الأصول فهو يخرجه في كتابه، فما كان منه صحيحًا أو حسنًا فلا إشكال فيه، وما كان ضعيفًا من حيث الإسناد فهو يسكت عليه، إذا لم يكن في الباب ما هو أقوى منه، وذلك واضح في كونه ليس شاذا، وليس معارضًا للأصول المتقررة، وهذا المذهب الذي اختاره الإمام أبو داود هو مذهب شيخه الإمام أحمد بن حنبل، فقد كان رحمه الله يحتج بالمرسل إذا لم يكن في الباب ما يعارضه، وكذلك يحتج بالضعيف الذي ليس منكرًا أو باطلا إذا لم يعارضه ما هو أقوى منه، وقد أثر عنه أنه قال: لست أخالف ما ضعف إذا لم يكن في الباب ما يعارضه، وأنه قال: ولضعيف الحديث أحب إلي من رأي الرجال. ونحو ذلك من العبارات المأثورة عنه، وإنما يقصد بالضعيف في كلامه هذا،
আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন; তাঁরা আমলযোগ্য ও আমলযোগ্য নয় এমন বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করেছেন, যেমনটি তাঁরা সহিহ ও অ-সহিহ বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করেছেন।

হাদিস বিশারদদের মধ্য থেকে সুন্নাহর সংকলকদের কর্মপন্থা নিয়ে যদি কেউ গভীরভাবে চিন্তা করে, তবে তার কাছে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হবে। এই যে ইমাম আবু দাউদ তাঁর ‘আস-সুনান’ গ্রন্থটি সংকলন করেছেন এবং মক্কাবাসীদের কাছে প্রেরিত তাঁর পত্রে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এই গ্রন্থে প্রতিটি অধ্যায়ে তাঁর কাছে থাকা সবচেয়ে সহিহ হাদিসগুলোই নির্বাচন করেছেন। তিনি এতে কেবল সহিহ, বা সহিহ-এর সমপর্যায়ভুক্ত কিংবা সামান্য দুর্বল হাদিসই বর্ণনা করেছেন। যদি কোনো হাদিসের দুর্বলতা অত্যন্ত বেশি হয়, তবে তিনি তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। আর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যে হাদিসের ব্যাপারে তিনি নীরব থেকেছেন তা গ্রহণযোগ্য। তিনি এই পত্রে আরও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি শায (বিচ্ছিন্ন) হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ করেন না, যদিও তা ইমাম মালিক, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ এবং নির্ভরযোগ্য ইলম অন্বেষণকারীদের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয় না কেন। শায বলতে তিনি প্রধানত মূল পাঠ বা মতনের দিক থেকে শায হওয়াকেই বুঝিয়েছেন। তাঁর কথা একথাই প্রমাণ করে যে, তিনি এমন বিষয় এড়িয়ে চলেন যা কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মূলনীতিসমূহের সাথে সাংঘর্ষিক অর্থ বহন করে। পক্ষান্তরে যা এই মূলনীতিসমূহের সাথে সাংঘর্ষিক নয়, তা তিনি তাঁর গ্রন্থে সংকলন করেছেন। সুতরাং তার মধ্য থেকে যা সহিহ বা হাসান, তাতে কোনো সংশয় নেই। আর সনদের দিক থেকে যা দুর্বল, সেটির ব্যাপারে তিনি নীরব থেকেছেন যদি সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে তার চেয়ে শক্তিশালী অন্য কোনো হাদিস না থাকে। আর তা শায না হওয়া এবং প্রতিষ্ঠিত মূলনীতিসমূহের সাথে সাংঘর্ষিক না হওয়ার ক্ষেত্রে এটি সুস্পষ্ট। ইমাম আবু দাউদ যে পন্থাটি বেছে নিয়েছেন, তা মূলত তাঁর শিক্ষক ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলেরই মাযহাব। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) মুরসাল হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ করতেন যদি সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে তার বিরোধী কিছু না থাকত। একইভাবে তিনি সেই দুর্বল হাদিস দ্বারাও দলিল গ্রহণ করতেন যা মুনকার (অস্বীকৃত) বা বাতিল নয়, যদি তার বিপরীতে অধিকতর শক্তিশালী কিছু না থাকত। তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যেটি দুর্বল আমি সেটির বিরোধিতা করি না যদি ওই অধ্যায়ে তার বিপরীত কিছু না থাকে।" তিনি আরও বলেছেন: "মানুষের ব্যক্তিগত মতামতের চেয়ে দুর্বল হাদিস আমার কাছে অধিক প্রিয়।" তাঁর থেকে এই জাতীয় আরও উক্তি বর্ণিত হয়েছে। তিনি তাঁর এই বক্তব্যে দুর্বল বলতে যা বুঝিয়েছেন তা হলো...
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৭)
الضعيف المحتمل كالمرسل، ورواية المستور، ومن في حفظه شيء، حيث لا يكون شاذا ولا منكرا، أما الشاذ والمنكر والموضوع فهذا لا يعرج عليه؛ لا أحمد ولا أبو داود ولا غيرهما من أهل العلم؛ ولهذا بين الإمام ابن تيمية، وكذلك ابن القيم، وابن رجب الحنبلي أن الضعيف الذي يحتج به الإمام أحمد هو قريب من الحديث الذي يحسنه الإمام الترمذي رحمه الله تعالى في «جامعه».

وهذا الإمام الترمذي ذكر في كتاب «العلل» أن أحاديث جامعه هذا كلها قد عمل بها بعض أهل العلم سوى حديثين، وقد أشار إليهما، مع أنه هو نفسه قد ضعف كثيرًا من الأحاديث التي أوردها فيه، وهذا يدل على أنه قد يكون الحديث ضعيفًا من حيث الرواية، لكنه معمول به من حيث الدراية، إذا تحقق فيه الوصف الذي بيانه آنفًا. ولعلك أخي الباحث إذا تأملت مصطلح الحسن عنده، وما ذكره من تعاريفه له، حيث قال: وما ذكرنا في هذا الكتاب: حديث حسن. فإنما أردنا به حسن إسناده عندنا، كل حديث يروى لا يكون في إسناده من هو متهم بالكذب، ولا يكون الحديث شاذا، ويروى من غير وجه نحو ذلك، فهو عندنا: حديث حسن.

فتلاحظ أخي الباحث أن تحسينه للحديث يدور مع المتن ومعناه، بحيث إذا كان الحديث ليس متوغلا في الضعف فلا يكون من رواية كذاب أو متهم بالكذب، ولا يكون شاذا ولا منكرًا ثم روي معناه من أوجه متعددة، كان ذلك مقويا له، ورافعًا له إلى مصاف الحجة، رغم أن كل رواية من رواياته
যোগ্য দুর্বল হাদিস যেমন মুরসাল, মাস্তুর (অজ্ঞাতনামা) রাবীর বর্ণনা এবং যার মুখস্থ শক্তিতে কিছু বিচ্যুতি রয়েছে—যেখানে তা শায (ব্যতিক্রমী) বা মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) হয় না। পক্ষান্তরে শায, মুনকার এবং মাওদু (জাল) হাদিসের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা হয় না; ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ বা ইলমের অধিকারী অন্য কেউই এর প্রতি ভ্রূক্ষেপ করেননি। এই কারণেই ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, এবং অনুরূপভাবে ইবনুল কাইয়্যিম ও ইবনে রাজাব আল-হাম্বালি স্পষ্ট করেছেন যে, ইমাম আহমাদ যে দুর্বল হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করতেন, তা ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) তার ‘জামে’ গ্রন্থে যে হাদিসকে ‘হাসান’ হিসেবে গণ্য করেছেন তার কাছাকাছি।

আর এই ইমাম তিরমিযী তার ‘আল-ইলাল’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তার এই ‘জামে’ গ্রন্থের হাদিসগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি হাদিস বাদে বাকি সবগুলোর ওপরই কোনো না কোনো আলেম আমল করেছেন, এবং তিনি সেই দুটি হাদিসের প্রতি ইঙ্গিতও করেছেন। অথচ তিনি নিজেই এর মধ্যে উল্লিখিত অনেক হাদিসকে দুর্বল বলেছেন। এটি একথার প্রমাণ দেয় যে, কোনো হাদিস বর্ণনাসূত্রের দিক থেকে দুর্বল হতে পারে, কিন্তু তা তত্ত্বগত দিক থেকে আমলযোগ্য হতে পারে, যখন তাতে সেই গুণাবলি বিদ্যমান থাকে যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। হে গবেষক ভাই, সম্ভবত আপনি যদি তার নিকট ‘হাসান’ পরিভাষাটি এবং এর যে সংজ্ঞা তিনি দিয়েছেন তা নিয়ে চিন্তা করেন, যেখানে তিনি বলেছেন: “আমরা এই কিতাবে যা ‘হাসান হাদিস’ হিসেবে উল্লেখ করেছি, তা দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হলো আমাদের নিকট এর সনদের গ্রহণযোগ্যতা। যে হাদিসের বর্ণনাসূত্রে এমন কেউ নেই যে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত, এবং হাদিসটি শায বা ব্যতিক্রমী নয় এবং এটি অন্য কোনো সূত্র থেকেও অনুরূপভাবে বর্ণিত হয়েছে, তবে তা আমাদের নিকট: ‘হাসান হাদিস’।”

অতএব হে গবেষক ভাই, আপনি লক্ষ্য করবেন যে, কোনো হাদিসকে হাসান বলাটি এর মূল পাঠ ও অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট। ফলে হাদিসটি যদি চরম দুর্বল না হয়—যেমন তা কোনো মিথ্যাবাদী বা মিথ্যার অভিযুক্ত ব্যক্তির বর্ণনা না হয় এবং তা শায বা মুনকার না হয়—অতঃপর এর অর্থ একাধিক সূত্র থেকে বর্ণিত হয়, তবে তা হাদিসটিকে শক্তিশালী করে এবং দলিলের স্তরে উন্নীত করে, যদিও এর প্রতিটি বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৮)
على حدة قد لا تكون صالحة للاحتجاج.

وقوله: ويروى من غير وجه نحو ذلك. يدخل فيه المرفوع والموقوف، كما ذكر ابن رجب الحنبلي في «شرح علل الترمذي».

وصنيعه هذا كمثل صنيع الإمام الشافعي حيث قوى المرسل بالموقوفات على الصحابة والتابعين، كما قواه بالمرفوعات المرسلة، أو المسندة، وكذا بفتاوى بعض الصحابة، بما يوافق معناه، أو عمل عامة أهل العلم به، كما بينه في كتابه «الرسالة».

وقد جاء عن الإمام أحمد أنه سُئل عن دية المعاهد؟ فقال: على النصف من دية المسلم، أذهب إلى حديث عمرو بن شعيب. فقيل له: تحتج بحديث عمرو بن شعيب، عن أبيه، عن جده؟ قال: ليس كلها، روى هذا فقهاء أهل المدينة قديما، ويروى عن عثمان. وهذا يدل أن العلماء رحمهم الله في سياق الاحتجاج بالحديث يراعون عمل الأمة من الصحابة والتابعين ومدى موافقة الحديث لهذا أم لا.

ومن هنا ندرك أن صنيع أسلافنا رحمهم الله حيث أدخلوا في كتب السنن بعض الأحاديث هي ضعيفة من حيث الرواية، إنما لم يفعلوا ذلك جزافًا ولا غفلة، وإنما كان ذلك بناءً على منهج مستقيم، جمع بين الرواية والدراية.

وهذا الكتاب الذي بين يديك أخي الباحث هو محاولة مباركة إن شاء الله من الأخ المؤلف لجمع مثل هذه الأحاديث التي هي ضعيفة من حيث الرواية، لكنها من المعمول بها من حيث الدراية لدى علماء السنة قديما
পৃথকভাবে হয়তো তা দলীল হিসেবে গ্রহণের যোগ্য নয়।

এবং তাঁর উক্তি: "এরকম আরও বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।" এর মধ্যে মারফু ও মাওকুফ উভয় প্রকারই অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি ইবনে রজব হাম্বলী তাঁর 'শারহু ইলালিত তিরমিযী' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

তাঁর এই কর্মপদ্ধতি ইমাম শাফেয়ীর কর্মপদ্ধতির অনুরূপ, যেখানে তিনি সাহাবী ও তাবেয়ীদের মাওকুফ বর্ণনার মাধ্যমে মুরসাল বর্ণনাকে শক্তিশালী করেছেন, ঠিক যেভাবে তিনি মুরসাল বা মুসনাদ মারফু বর্ণনার মাধ্যমে এবং সাহাবীদের ফতোয়ার মাধ্যমে তাকে শক্তিশালী করেছেন— যা সেটির অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, অথবা অধিকাংশ আহলে ইলম কর্তৃক সেটির ওপর আমলের মাধ্যমে। যেমনটি তিনি তাঁর 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থে স্পষ্ট করেছেন।

ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁকে মুয়াহেদের (চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম) রক্তপণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: "মুসলমানের রক্তপণের অর্ধেক, আমি আমর ইবনে শুয়াইবের হাদীসের দিকে যাই।" তাঁকে বলা হলো: "আপনি কি আমর ইবনে শুয়াইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে—এই হাদীসকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেন?" তিনি বললেন: "সবগুলো নয়; তবে মদীনার প্রাচীন ফকীহগণ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি উসমান থেকেও বর্ণিত। এটি প্রমাণ করে যে, উলামায়ে কেরাম (রাহিমাহুমুল্লাহ) হাদীসকে দলীল হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্রে উম্মতের সাহাবী ও তাবেয়ীদের আমল এবং হাদীসটি সেটির সাথে কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ তা বিবেচনা করতেন।"

এ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, আমাদের পূর্বসূরিগণ (রাহিমাহুমুল্লাহ) তাঁদের সুনান গ্রন্থসমূহে এমন কিছু হাদীস অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা বর্ণনাসূত্রের দিক থেকে দুর্বল। তাঁরা এটি আন্দাজে বা অসতর্কতাবশত করেননি; বরং এটি ছিল একটি সুসংহত মানহাজের ওপর ভিত্তি করে, যা রিওয়ায়াত ও দিরায়াত (তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ) উভয়ের সমন্বয় ঘটিয়েছে।

হে গবেষক ভাই, আপনার হাতে থাকা এই বইটি—ইনশাআল্লাহ—লেখক ভাইয়ের একটি বরকতময় প্রচেষ্টা; যেখানে তিনি এমন সব হাদীস সংকলন করেছেন যা বর্ণনাসূত্রের দিক থেকে দুর্বল, কিন্তু প্রাচীন সুন্নী আলেমদের নিকট তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের দিক থেকে সেগুলো আমলযোগ্য।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৯)
وحديثا؛ وذلك ليكون الباحث على دراية تامة بهذا الجانب من جوانب العلم، وبمعرفة لمناهج العلماء في التعامل مع مثل هذه الأحاديث، وعسى أن يكون هذا الكتاب طريقًا لبحوث مهمة لأهل العلم.

وأسأل الله عز وجل أن يعين أخي المصنف الشيخ عاطف بن حسن الفاروقي في الاستمرار على هذا النهج، وتقديم أعمال قيمة لا تقل قيمة عن هذا العمل المبارك للمكتبة الإسلامية، وللباحثين في السنة النبوية، والله من وراء القصد، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين.

وكتبه

أبو معاذ طارق بن عوض الله
এবং আধুনিক; আর তা এজন্য যে গবেষক যেন ইলমের এই দিকটি সম্পর্কে সম্যক অবগত হতে পারেন এবং এই ধরনের হাদিসগুলোর সাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে আলেমদের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেন। আশা করা যায় যে, এই বইটি ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার একটি পথ হবে।

আর আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার ভাই লেখক শাইখ আতিফ বিন হাসান আল-ফারুকীকে এই ধারা অব্যাহত রাখতে এবং ইসলামি লাইব্রেরি ও সুন্নাহর গবেষকদের জন্য এই বরকতময় কাজের চেয়ে কোনো অংশে কম নয় এমন মূল্যবান কাজ উপহার দিতে সাহায্য করেন। আর আল্লাহই প্রকৃত উদ্দেশ্য পূর্ণকারী। আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

এটি লিখেছেন

আবু মু'আয তারিক বিন আওয়াদুল্লাহ
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌تمهيد

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه ومن والاه.

أما بعد …

فإن من طرائق المحدثين في التصنيف إفراد بعض الأحاديث بجزء أو مصنف، والكلام عليه؛ لهذا ألفت هذا الكتاب الذي يحتوي على «أحاديث ضعاف وعليها العمل بغير خلاف»، وهو يتكون من مقدمة، وأربعة فصول.

أما المقدمة: فقد ذكرت فيها كلاما عن أهمية علم الحديث، ومدى الجهود التي بذلها العلماء قديما وحديثا، واستقيت كلاما رائعًا لبعض العلماء، أستشهد به على ما أردت أن أذكره، متضمنا أن هناك من العلماء من نقلوا أن بعض الأحاديث تكون ضعيفةً من حيث الإسناد، ثم هي صحيحة من حيث المضمون والمعنى المجمع عليه بين العلماء، ثم ذكرت أهداف الكتاب، ثم أردفته بشعر في مدح أهل الحديث، ثم شكر واعتراف بالجميل.

أما الفصل الأول: ففيه تخريج طرق حديث: «القرآن كلام الله غير مخلوق».
উপক্রমণিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং যারা তাঁর আনুগত্য করেছেন তাদের ওপর।

অতঃপর ...

গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের অন্যতম পদ্ধতি হলো কোনো নির্দিষ্ট হাদিসকে একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা বা সংকলনের রূপ দেওয়া এবং সে বিষয়ে আলোচনা করা। এ কারণেই আমি এই গ্রন্থটি রচনা করেছি যা এমন সব ‘দুর্বল হাদিস যেগুলোর ওপর কোনো মতভেদ ছাড়াই আমল করা হয়’ বিষয়টিকে ধারণ করে। এটি একটি ভূমিকা ও চারটি অধ্যায়ের সমন্বয়ে গঠিত।

ভূমিকা প্রসঙ্গে: এতে আমি হাদিস শাস্ত্রের গুরুত্ব এবং প্রাচীন ও আধুনিক কালের আলেমগণ এ ক্ষেত্রে যে ব্যাপক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন সে সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আমি কিছু আলেমের চমৎকার বক্তব্য উদ্ধৃত করেছি, যা আমি যা উল্লেখ করতে চেয়েছি তার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছি; এতে এটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যে, কোনো কোনো আলেম বর্ণনা করেছেন যে কিছু হাদিস সনদের দিক থেকে দুর্বল হলেও সেগুলোর মূল বিষয়বস্তু ও অর্থ সঠিক, যার ওপর আলেমদের ঐকমত্য রয়েছে। এরপর আমি কিতাবটির লক্ষ্যসমূহ উল্লেখ করেছি, তারপর আহলে হাদিসগণের প্রশংসায় কিছু কবিতা যুক্ত করেছি এবং পরিশেষে কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছি।

প্রথম অধ্যায় প্রসঙ্গে: এতে ‘কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্টি নয়’—এই হাদিসের বিভিন্ন সূত্রের বিশ্লেষণ (তাখরিজ) করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ১১)
وفيه مباحث:

المبحث الأول: تخريج حديث علي بن أبي طالب (والحكم عليه من كلام أهل العلم).

المبحث الثاني: تخريج حديث عبد الله بن مسعود (والحكم عليه من كلام أهل العلم).

المبحث الثالث: تخريج حديث أبي سعيد الخدري (والحكم عليه من كلام أهل العلم).

المبحث الرابع: تخريج حديث جابر بن عبد الله (والحكم عليه من كلام أهل العلم).

المبحث الخامس: تخريج حديث أبي هريرة (والحكم عليه من كلام أهل العلم).

المبحث السادس: تخريج حديث أبي الدرداء (والحكم عليه من كلام أهل العلم).

المبحث السابع: تخريج حديث معاذ بن جبل (والحكم عليه من كلام أهل العلم).

المبحث الثامن: تخريج حديث أبي موسى الأشعري (والحكم عليه من كلام أهل العلم).
এবং এতে পরিচ্ছেদসমূহ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আলী ইবন আবি তালিব-এর হাদিসের তাখরিজ (এবং আহলে ইলমদের বক্তব্যের আলোকে এর উপর বিধান)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ-এর হাদিসের তাখরিজ (এবং আহলে ইলমদের বক্তব্যের আলোকে এর উপর বিধান)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আবু সাঈদ আল-খুদরি-এর হাদিসের তাখরিজ (এবং আহলে ইলমদের বক্তব্যের আলোকে এর উপর বিধান)।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: জাবির ইবন আবদুল্লাহ-এর হাদিসের তাখরিজ (এবং আহলে ইলমদের বক্তব্যের আলোকে এর উপর বিধান)।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আবু হুরায়রা-এর হাদিসের তাখরিজ (এবং আহলে ইলমদের বক্তব্যের আলোকে এর উপর বিধান)।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: আবু দারদা-এর হাদিসের তাখরিজ (এবং আহলে ইলমদের বক্তব্যের আলোকে এর উপর বিধান)।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: মুয়াজ ইবন জাবাল-এর হাদিসের তাখরিজ (এবং আহলে ইলমদের বক্তব্যের আলোকে এর উপর বিধান)।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: আবু মুসা আল-আশআরী-এর হাদিসের তাখরিজ (এবং আহলে ইলমদের বক্তব্যের আলোকে এর উপর বিধান)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ১২)
المبحث التاسع: تخريج حديث أنس بن مالك (والحكم عليه من كلام أهل العلم).

المبحث العاشر: تخريج حديث عبد الله بن عباس (والحكم عليه من كلام أهل العلم).

المبحث الحادي عشر: تخريج حديث رافع بن خديج (والحكم عليه من كلام أهل العلم).

المبحث الثاني عشر: تخريج حديث أبي حكيم الشامي (والحكم عليه من كلام أهل العلم).

المبحث الثالث عشر: تخريج حديث عبد الله بن عبد الغافر مولى النبي صلى الله عليه وسلم (والحكم عليه من كلام أهل العلم).

المبحث الرابع عشر: خلاصة الحكم، ونقل الإجماع وكلام السلف عن مضمون الحديث.

الفصل الثاني: فيه تخريج طرق حديث: «الماء لا ينجسه شيء إلا ما غلب على ريحه … .».

وفيه مباحث:

المبحث الأول: تخريج حديث أبي أمامة الباهلي (والحكم عليه من كلام أهل العلم).
নবম পরিচ্ছেদ: আনাস বিন মালিক বর্ণিত হাদিসের তাখরীজ (এবং আলেমদের বক্তব্যের আলোকে এর ওপর হুকুম)।

দশম পরিচ্ছেদ: আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস বর্ণিত হাদিসের তাখরীজ (এবং আলেমদের বক্তব্যের আলোকে এর ওপর হুকুম)।

একাদশ পরিচ্ছেদ: রাফে বিন খাদীজ বর্ণিত হাদিসের তাখরীজ (এবং আলেমদের বক্তব্যের আলোকে এর ওপর হুকুম)।

দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: আবু হাকিম আশ-শামি বর্ণিত হাদিসের তাখরীজ (এবং আলেমদের বক্তব্যের আলোকে এর ওপর হুকুম)।

ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আযাদকৃত গোলাম আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল গাফির বর্ণিত হাদিসের তাখরীজ (এবং আলেমদের বক্তব্যের আলোকে এর ওপর হুকুম)।

চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: হুকুমের সারসংক্ষেপ এবং হাদিসের বিষয়বস্তুর ওপর ইজমা ও সালাফদের বক্তব্য উদ্ধৃতি।

দ্বিতীয় অধ্যায়: এতে এই হাদিসের বিভিন্ন সূত্রের তাখরীজ রয়েছে: «পানিকে কোনো কিছুই অপবিত্র করতে পারে না, কেবল তা ব্যতীত যা এর ঘ্রাণের ওপর প্রবল হয় … .»।

এবং এতে নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আবু উমামাহ আল-বাহিলি বর্ণিত হাদিসের তাখরীজ (এবং আলেমদের বক্তব্যের আলোকে এর ওপর হুকুম)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ১৩)
المبحث الثاني: تخريج حديث ثوبان (والحكم عليه من كلام أهل العلم).

المبحث الثالث: تخريج حديث راشد بن سعد مرسلاً (والحكم عليه من كلام أهل العلم).

المبحث الرابع: خلاصة الحكم، ونقل الإجماع وكلام السلف عن الحديث ومضمونه.

المبحث الخامس: تقنين لمسألة الإجماع، وهل الإجماع مستند بذاته، أم لابد من دليل عليه؟ ونقل كلام العلماء، ثم الترجيح.

الفصل الثالث: وفيه تخريج طرق حديث: «الصلاة خلف كل بر وفاجر».

وفيه مباحث:

المبحث الأول: تخريج حديث أبي هريرة (والحكم عليه من كلام أهل العلم).

المبحث الثاني: تخريج حديث علي بن أبي طالب (والحكم عليه من كلام أهل العلم).

المبحث الثالث: تخريج حديث عبد الله بن عمر (والحكم عليه من كلام أهل العلم).
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাওবান (রাযি.) বর্ণিত হাদিসের তাখরীজ (এবং আহলে ইলম বা বিদ্বানগণের বক্তব্যের আলোকে এর হুকুম)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রশিদ ইবনে সাদ থেকে বর্ণিত মুরসাল হাদিসের তাখরীজ (এবং আহলে ইলম বা বিদ্বানগণের বক্তব্যের আলোকে এর হুকুম)।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হুকুমের সারসংক্ষেপ, এবং হাদিস ও এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে ইজমা ও সালাফদের বক্তব্য উদ্ধৃতি।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ইজমার মাসআলাটির বিধিবদ্ধকরণ; এবং ইজমা কি স্বয়ংসম্পূর্ণ দলিল, নাকি এর জন্য কোনো দলিলে ভিত্তি থাকা আবশ্যক? আলেমদের বক্তব্য উদ্ধৃতি এবং এরপর প্রাধান্যযোগ্য মত (তরজীহ) প্রদান।

তৃতীয় অধ্যায়: এতে «প্রত্যেক নেককার ও পাপাচারীর পেছনে সালাত আদায়» সংক্রান্ত হাদিসের সূত্রসমূহের তাখরীজ বর্ণিত হয়েছে।

এতে নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আবু হুরায়রা (রাযি.) বর্ণিত হাদিসের তাখরীজ (এবং আহলে ইলম বা বিদ্বানগণের বক্তব্যের আলোকে এর হুকুম)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আলী ইবনে আবু তালিব (রাযি.) বর্ণিত হাদিসের তাখরীজ (এবং আহলে ইলম বা বিদ্বানগণের বক্তব্যের আলোকে এর হুকুম)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযি.) বর্ণিত হাদিসের তাখরীজ (এবং আহলে ইলম বা বিদ্বানগণের বক্তব্যের আলোকে এর হুকুম)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الرابع: تخريج حديث عبد الله بن مسعود (والحكم عليه من كلام أهل العلم).

المبحث الخامس: تخريج حديث أبي الدرداء (والحكم عليه من كلام أهل العلم).

المبحث السادس: تخريج حديث واثلة بن الأسقع (والحكم عليه من كلام أهل العلم).

المبحث السابع: تخريج حديث معاذ بن جبل (والحكم عليه من كلام أهل العلم).

المبحث الثامن: تخريج حديث أبي أمامة (والحكم عليه من كلام أهل العلم).

المبحث التاسع: خلاصة الحكم، ونقل إجماع السلف على مضمونه، ونقل كلام لشيخ الإسلام ابن تيمية فيه تأصيل دقيق.

الفصل الرابع: وفيه تخريج الحديث: «كلُّ قرض جر نفعًا فهو ربا». وفيه مباحث:

المبحث الأول: تخريج حديث علي بن أبي طالب (والحكم عليه من كلام أهل العلم).

المبحث الثاني: تخريج حديث محمد بن كعب القرظي مرسلاً (والحكم عليه من كلام أهل العلم).
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর হাদীসের তাখরীজ (এবং আলিমগণের বক্তব্যের আলোকে এর মান নির্ণয়)।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আবু দারদা (রা.)-এর হাদীসের তাখরীজ (এবং আলিমগণের বক্তব্যের আলোকে এর মান নির্ণয়)।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ওয়াসিলা বিন আসকা (রা.)-এর হাদীসের তাখরীজ (এবং আলিমগণের বক্তব্যের আলোকে এর মান নির্ণয়)।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)-এর হাদীসের তাখরীজ (এবং আলিমগণের বক্তব্যের আলোকে এর মান নির্ণয়)।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: আবু উমামা (রা.)-এর হাদীসের তাখরীজ (এবং আলিমগণের বক্তব্যের আলোকে এর মান নির্ণয়)।

নবম পরিচ্ছেদ: হুকুমের সারসংক্ষেপ, এর বিষয়বস্তুর ওপর সালাফদের ইজমা (ঐক্যমত) বর্ণনা এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর একটি বক্তব্য উদ্ধৃতি যাতে সূক্ষ্ম মূলনীতিগত আলোচনা রয়েছে।

চতুর্থ অধ্যায়: এতে ‘প্রত্যেক ঋণ যা কোনো মুনাফা টেনে আনে তা সুদ’ হাদীসটির তাখরীজ রয়েছে। এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর হাদীসের তাখরীজ (এবং আলিমগণের বক্তব্যের আলোকে এর মান নির্ণয়)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাযী থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হাদীসের তাখরীজ (এবং আলিমগণের বক্তব্যের আলোকে এর মান নির্ণয়)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ১৫)
المبحث الثالث: تخريج حديث بمعناه. ونقل كلام الشيخ الألباني، ومن ثم كلام العلماء على الحديث.

المبحث الرابع: الخلاصة، وذكر الآثار الواردة عن الصحابة والسلف رحمهم الله.

المبحث الخامس: نقل الإجماع من كلام أهل العلم، مع تحقيق الكلام عن اشتراط الزيادة وعدم اشتراطها في القرض، والكلام على ذلك، ثم ذكر الخلاصة.

الفصل الخامس: فيه ذكر الخاتمة، وتتضمن أبرز النتائج، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: بعض الفوائد المستخلصة من الكتاب.

المطلب الثاني: فهرس علمي، ويتضمن فهرسا للموضوعات والفوائد العلمية، وللرواة المجروحين.

والله أسأل أن ينفعني بما كتبته، وأن يجعل ذلك في ميزان حسناتي، وأن يغفر لي، إنه ولي ذلك والقادر عليه، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিসের মর্মার্থ অনুযায়ী এর তাখরিজ (সূত্রনির্দেশ)। শেখ আলবানীর বক্তব্য উদ্ধৃত করা এবং এরপর উক্ত হাদিসের বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য আলোচনা করা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সারসংক্ষেপ এবং সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফ (পূর্বসূরি) রহিমাহুমুল্লাহ থেকে বর্ণিত আসারসমূহ (বিবরণ) উল্লেখ করা।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আহলে ইলমের (বিদ্বানদের) বক্তব্য থেকে ইজমা (ঐকমত্য) উদ্ধৃত করা, সেইসাথে ঋণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কিছু প্রদানের শর্তারোপ করা বা না করার বিষয়ে তাহকিক (গবেষণা) ও আলোচনা করা এবং এরপর সারসংক্ষেপ উল্লেখ করা।

পঞ্চম অধ্যায়: এতে উপসংহার বর্ণিত হয়েছে, যা প্রধান ফলাফলগুলো অন্তর্ভুক্ত করে এবং এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: কিতাব থেকে সংগৃহীত কিছু ফায়দা বা উপকারিতা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: একটি ইলমি (বিদ্বতপূর্ণ) নির্ঘণ্ট, যা বিষয়বস্তু, ইলমি ফায়দা এবং মাজরুহ (ত্রুটিপূর্ণ) রাবীদের (বর্ণনাকারীদের) তালিকা অন্তর্ভুক্ত করে।

আর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, আমি যা লিখেছি তার মাধ্যমে তিনি যেন আমাকে উপকৃত করেন এবং এটিকে আমার নেক আমলের পাল্লায় অন্তর্ভুক্ত করেন এবং আমাকে ক্ষমা করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আর আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত নাজিল করুন।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

إنَّ الحمدَ للهِ نحمدُهُ ونستعينُهُ ونستغفِرهُ، ونعوذُ باللهِ من شرورِ أنفسِنا ومن سيئاتِ أعمالِنا، من يهدِهِ اللهُ فلا مُضِلَّ لهُ، ومن يُضلِلْ فلا هاديَ لهُ، وأشهدُ أنْ لا إلهَ إلا اللهُ وحدَهُ لا شريكَ لهُ، وأشهدُ أنَّ محمداً عبدُهُ ورسولُهُ، صلى الله عليه وسلم.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُّسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1].

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70، 71].

أما بعد، فإنَّ أصدق الحديث كتاب الله تعالى، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা সেই আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট চেয়ে থাকো এবং আত্মীয়তার বন্ধন (ছিন্ন করা) থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য লাভ করল।} [আল-আহযাব: ৭০, ৭১]।

অতঃপর, নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وبعد، فإنَّ شرائعَ الدين إنَّما تُؤخَذُ من كتاب الله وسُنَّة رسوله صلى الله عليه وسلم، وقد تكفَّل الله بحفظ كتابه الذي {لَا يَأْتِيهِ الْبَطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ … تَنزِيلٌ مِّنْ حَكِيمٍ حَمِيدِ} [فصلت: 42].

وكذا حَفِظَ سُنَّةَ نبيِّه صلى الله عليه وسلم، فقال عنهما: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَفِظُونَ} [الحجر: 9].

والذي عليه المحققون من أهل العلم كالشافعي وغيره، أنَّ الذكر المحفوظ إنما هو القرآن والسُّنَّة، وكلاهما وحي من الله سبحانه وتعالى، وقد سخَّر الله سبحانه وتعالى رجالاً لذلك، واختص نبيه صلى الله عليه وسلم برجال صادقين صالحين {رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُم مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُم مَنْ يَنتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلًا} [الأحزاب: 23]، إنهم صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم، جعلهم الله خير أمة، إنهم السابقون إلى تصديقه وتبعيته، إنهم المجاهدون بين يديه، والناقلون لسنته وقضاياه، المقتدون به في أفعاله ومزاياه، فلا خير إلا وقد سبقوا إليه مَنْ بعدهم، ولا فضل إلا وقد استفرغوا فيه جهدهم، فجميع هذا الدين راجع إلى نقلهم وتعليمهم، ومُتَلَقَّى من جهتهم بإبلاغهم وتفهيمهم، فلهم مثل أجور كل من اهتدى بشيء من ذلك على مر الأزمان، وذلك فضل الله يؤتيه من يشاء بالطول والإحسان(1).

وإن أولى ما نظر فيه الطالب، وعُني به العالم - بعد كتاب الله عز وجل

--------------------------------------------

(1) بعض هذا الكلام مقتبس من كلام العلائي في كتابه الفذ «منيف الرتبة لمن ثبت له شرف الصحبة» ص 31 - 32.
এবং এরপর, নিশ্চয়ই দ্বীনের বিধানসমূহ কেবল আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ থেকে গ্রহণ করা হয়। আর আল্লাহ তাঁর কিতাব সংরক্ষণের জিম্মাদারি গ্রহণ করেছেন, যার ব্যাপারে তিনি বলেছেন, {তাতে কোনো মিথ্যা অনুপ্রবেশ করতে পারে না, না সামনে থেকে আর না পেছন থেকে ... এটি প্রজ্ঞাময়, পরম প্রশংসিতের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ} [ফুসসিলাত: ৪২]।

তেমনিভাবে তিনি তাঁর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাহকেও সংরক্ষণ করেছেন এবং এই উভয় সম্পর্কেই বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমিই যিকর অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তা সংরক্ষণকারী} [আল-হিজর: ৯]।

আর ইমাম শাফেঈ ও অন্যান্য জ্ঞানীদের মধ্যে যারা মুহাক্কিক (সত্যের অনুসন্ধানী), তাদের অভিমত হলো এই যে, সংরক্ষিত যিকর মূলত কুরআন ও সুন্নাহ, আর এ উভয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে ওহী। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এর জন্য একদল মানুষকে নিয়োজিত করেছেন এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কতিপয় সত্যবাদী ও নেককার ব্যক্তির মাধ্যমে বিশেষিত করেছেন, {এমন কিছু লোক যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদাকে সত্যে পরিণত করেছে; তাদের কেউ কেউ তার মানত পূর্ণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে, আর তারা তাদের প্রতিশ্রুতিতে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন ঘটায়নি} [আল-আহযাব: ২৩]। তারা হলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ। আল্লাহ তাদেরকে সর্বোত্তম উম্মত বানিয়েছেন। তারাই তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করা ও তাঁর আনুগত্য করার ক্ষেত্রে অগ্রগামী। তারাই তাঁর সম্মুখে জিহাদকারী, তাঁর সুন্নাহ ও ফয়সালাসমূহের বর্ণনাকারী এবং তাঁর কার্যাবলি ও বৈশিষ্ট্যের অনুসরণকারী। এমন কোনো কল্যাণ নেই যেক্ষেত্রে তারা তাদের পরবর্তীদের চেয়ে অগ্রগামী হননি, এবং এমন কোনো মর্যাদা নেই যার জন্য তারা তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেননি। সুতরাং এই পূর্ণ দ্বীন তাদের বর্ণনা ও শিক্ষার দিকেই প্রত্যাবর্তন করে এবং তাদের প্রচার ও বুঝানোর মাধ্যমেই তা গ্রহণ করা হয়। অতএব, সর্বযুগে যারা এর মাধ্যমে কোনো কিছুতে হেদায়াত পাবে, তারা তাদের সমান সওয়াব পাবেন। আর এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা দান ও দয়া হিসেবে তা দান করেন(১)।

আর আল্লাহর কিতাব আযযা ওয়া জাল্ল-এর পর—শিক্ষার্থীর জন্য গবেষণার ক্ষেত্রে যা সবচেয়ে অগ্রাধিকারযোগ্য এবং জ্ঞানীদের জন্য যা সবচেয়ে বেশি যত্নশীল হওয়ার বিষয়—তা হলো

--------------------------------------------

(১) এই বক্তব্যের কিছু অংশ আল-আলাঈর তাঁর অনন্য গ্রন্থ 'মুনিফুর রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারফুস সোহবাহ', পৃষ্ঠা ৩১-৩২ থেকে উদ্ধৃত।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ১৮)
سنة رسوله صلى الله عليه وسلم، فهي المبينة لمراد الله عز وجل من مجملات كتابه، والدالة على حدوده، والمفسرة له، والهادية إلى الصراط المستقيم، صراط الله، من اتَّبعها اهتدى، ومن سلك غير سبيلها ضلَّ وغوى، وولاه الله ما تولى، ومن أو كد آلات السنن المعينة عليها والمؤدية إلى حفظها، معرفة الذين نقلوها عن نبيهم صلى الله عليه وسلم ذاك الصحب الكرام - الحواريون الذين وعوها وأدوها ناصحين محسنين حتى كَمُلَ بما نقلوه الدين، وثبتت بهم حجة الله تعالى على المسلمين، فهم خير القرون، رضي الله عنهم وأرضاهم، ثم أتى من بعدهم أناس آخرون ساروا على نهجهم، فهم أمناء الله من خليقته، والواسطة بين النبي صلى الله عليه وسلم وأمته، والمجتهدون في حفظ ملته، أنوارهم زاهرة، وفضائلهم سائرة، وآياتهم باهرة، ومذاهبهم ظاهرة، وحججهم قاهرةٌ، وكلُّ فئة تتحيز إلى هوى ترجع إليه أو تستحسن رأيًا تعكف عليه سوى أصحاب الحديث؛ فإن الكتاب عدتهم، والسنة حجتهم، والرسول فئتهم، وإليه نسبتهم، لا يعرجون على الأهواء، ولا يلتفتون إلى الآراء، يُقبل منهم ما رووا عن الرسول، وهم المأمونون عليه والعدول، حفظة الدين وخزنته، وأوعية العلم وحملته، إذا اختلف في حديث كان إليهم الرجوع، فما حكموا به فهو المقبول المسموع، ومنهم كلُّ فقيه وإمام رفيع نبيه، وزاهد في قبيلة، ومخصوص بفضيلة، قارئ متقن، وخطيب محسن، وهم الجمهور العظيم، وسبيلهم السبيل المستقيم، وكل مبتدع باعتقادهم يتظاهر، وعلى الإفصاح بغير مذاهبهم لا يتجاسر، من كادهم قصمه الله، ومن عاندهم خذله الله، لا يضرهم من خذلهم، ولا يفلح من اعتزلهم، المحتاط لدينه إلى إرشادهم
তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ; যা মহান আল্লাহর কিতাবের সংক্ষিপ্ত বিষয়সমূহ থেকে তাঁর উদ্দেশ্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে, তাঁর নির্ধারিত সীমারেখাসমূহ নির্দেশ করে, কিতাবের ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং সরল সঠিক পথ—অর্থাৎ আল্লাহর পথের—দিশারি। যে ব্যক্তি তা অনুসরণ করল সে হেদায়েত পেল, আর যে ব্যক্তি তার পথ ব্যতীত অন্য পথ অবলম্বন করল সে পথভ্রষ্ট ও লক্ষ্যচ্যুত হলো; আল্লাহ তাকে সেই পথেই ছেড়ে দেন যা সে বেছে নিয়েছে। সুন্নাহর সহায়ক ও তা সংরক্ষণের দিকে নিয়ে যাওয়ার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হলো সেইসব ব্যক্তিদের চেনা যারা তাঁদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে তা বর্ণনা করেছেন; আর তাঁরা হলেন সেই সম্মানিত সাহাবীগণ—এমন একান্ত সহচর যারা একে আত্মস্থ করেছেন এবং কল্যাণকামী ও নিষ্ঠাবান হয়ে তা পৌঁছে দিয়েছেন, এমনকি তাঁদের বর্ণিত বর্ণনার মাধ্যমেই দ্বীন পূর্ণতা পেয়েছে এবং তাঁদের মাধ্যমেই মুসলিমদের ওপর মহান আল্লাহর হুজ্জাত (প্রমাণ) সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁরাই সর্বোত্তম যুগের লোক, আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁদেরকেও সন্তুষ্ট করেছেন। অতঃপর তাঁদের পরে এমন একদল লোক এসেছেন যারা তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন; তাঁরা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে তাঁর আমানতদার, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর উম্মতের মাঝে যোগসূত্র এবং তাঁর দ্বীন সংরক্ষণে কঠোর পরিশ্রমী। তাঁদের নুরসমূহ প্রোজ্জ্বল, তাঁদের ফযীলতসমূহ সুপ্রসিদ্ধ, তাঁদের নিদর্শনসমূহ সুস্পষ্ট, তাঁদের মাযহাব বিজয়ী এবং তাঁদের প্রমাণসমূহ অকাট্য। আহলে হাদীস ব্যতীত প্রতিটি দলই কোনো না কোনো কুপ্রবৃত্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে যার দিকে তারা ফিরে যায় অথবা কোনো মনগড়া মতকে সুন্দর মনে করে যাতে তারা মগ্ন থাকে। কেননা কিতাব (কুরআন) হলো তাঁদের পাথেয়, সুন্নাহ হলো তাঁদের দলীল, রাসূল হলেন তাঁদের আশ্রয় এবং তাঁর দিকেই তাঁদের সম্বন্ধ। তাঁরা কুপ্রবৃত্তির অনুগামী হন না এবং ব্যক্তিগত মতামতের দিকে ভ্রূক্ষেপ করেন না। রাসূলের পক্ষ থেকে তাঁরা যা বর্ণনা করেন তা কবুল করা হয়; তাঁরাই এর ওপর বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ। তাঁরা দ্বীনের হিফাযতকারী ও এর ভাণ্ডারি, ইলমের আধার ও তার বাহক। যখন কোনো হাদীসের ব্যাপারে মতভেদ দেখা দেয়, তখন তাঁদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হয়; সুতরাং তাঁরা যা ফয়সালা করেন তা-ই গ্রহণযোগ্য ও শ্রবণযোগ্য। তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন প্রত্যেক ফকীহ ও সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ইমাম, দুনিয়াত্যাগী যাহিদ, বিশেষ ফযীলতের অধিকারী ব্যক্তি, দক্ষ ক্বারী এবং উত্তম খতীব। তাঁরাই হলো বিশাল জনগোষ্ঠী এবং তাঁদের পথই হলো সরল সঠিক পথ। প্রত্যেক বিদআতী তাঁদের আকিদাহ প্রদর্শনের ভান করে এবং তাঁদের মাযহাবের পরিপন্থী কোনো কিছু প্রকাশ করার সাহস পায় না। যে তাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেন, আর যে তাঁদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন। যারা তাঁদের অপদস্থ করতে চায় তারা তাঁদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না এবং যারা তাঁদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয় তারা সফলকাম হয় না। যে ব্যক্তি নিজ দ্বীনের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে চায়, সে তাঁদেরই নির্দেশনার মুখাপেক্ষী।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ১৯)
فقير، وبصر الناظر بالسوء إليهم حسيرٌ، {وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرُ} [الحج: 39](1).

أهل الحديث هم أهل النبي وإن … لم يصحبوا نفسه أنفاسه صحبوا

دين النبي محمد أخبار … نعم المطية للفتى آثار

لا تعدل عن الحديث وأهله … فالرأي ليل والحديث نهار

أهل الحديث، حفظوا - بحفظ الله - ما تلقوه من النقل عن الصحب الكرام، فوفق الله لهذا النقل وهذه السنة حفاظاً عارفين، وجهابذة عالمين، وصيارفة ناقدين، ينفون عنها تحريف الغالين، وانتحال المبطلين، وتأويل الجاهلين، فظهرت هذه الطائفة على غيرها بما تحمله من الحق، فمهما ظهر الباطل وعلا، فإنها ظاهرة منصورة، وقد جعل الله هذه الطائفة المنصورة حراس الدين، وصرف عنهم كيد المعاندين؛ لتمسكهم بالشرع المتين، واقتفائهم آثار الصحابة والتابعين، فشأنهم حفظ الآثار، وقطع المفاوز والقفار، وركوب البراري والبحار، في اقتباس ما شَرَّعَ الرسول المصطفى، لا يعرجون عنه إلى رأي ولا هوى، قبلوا شريعته قولا وفعلا، وحرسوا سنته حفظاً ونقلا، حتى ثبتوا بذلك أصلها، وكانوا أحق بها وأهلها، فكما أن هذه الشريعة المباركة معصومة، وصاحبها صلى الله عليه وسلم معصوم، فكذلك أمته فيما اجتمعت عليه معصومة(2)، وكم من ملحد يروم(3) أن يخلط بالشريعة ما

--------------------------------------------

(1) مقتبس من مقدمة الخطيب البغدادي في «شرف أصحاب الحديث» ص 8 - 9.

(2) انظر: الموافقات 2/ 91 للشاطبي.

(3) رامه يرومه روما ومراما: طلبه. «المعجم الوسيط» (ر ا م).
...দরিদ্র, আর তাদের প্রতি কুদৃষ্টি নিক্ষেপকারীর দৃষ্টি ক্লান্ত-শ্রান্ত। {আর আল্লাহ নিশ্চয়ই তাদের সাহায্য করতে সক্ষম} [হজ: ৩৯](১).

আহলে হাদিসগণই হলেন নবীর পরিজন, যদিও তারা … তাঁর শরীরের সান্নিধ্য পাননি, তবে তাঁর বাণীর সান্নিধ্য লাভ করেছেন।

নবী মুহাম্মাদের দ্বীন হলো হাদিসসমূহ; … যুবকের জন্য সর্বোত্তম বাহন হলো আছার (সাহাবীদের বর্ণনা)।

তুমি হাদিস ও আহলে হাদিসদের থেকে বিমুখ হয়ো না, … কারণ ব্যক্তিগত অভিমত হলো রাত্রি আর হাদিস হলো দিবস।

আহলে হাদিসগণ—আল্লাহর হিফাজতের মাধ্যমে—সম্মানিত সাহাবীদের থেকে বর্ণনা পরম্পরায় যা লাভ করেছেন তা সংরক্ষণ করেছেন। অতঃপর আল্লাহ এই বর্ণনা ও সুন্নাহর হিফাজতের জন্য এমন সব হাফেজদের তাওফিক দিয়েছেন যারা পরিচয়জ্ঞাত ও প্রাজ্ঞ, এমন সব পণ্ডিতদের যারা মহাজ্ঞানী এবং এমন সব সূক্ষ্মদর্শী সমালোচকদের যারা তা থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করেন। ফলে এই দলটি সত্য ধারণ করার কারণে অন্যদের ওপর বিজয়ী হয়েছে। সুতরাং বাতিল যতই প্রকাশিত ও উচ্চকিত হোক না কেন, এই দলটি সুস্পষ্টভাবে সাহায্যপ্রাপ্ত। আল্লাহ এই সাহায্যপ্রাপ্ত দলটিকে দ্বীনের প্রহরী বানিয়েছেন এবং তাদের থেকে বিদ্বেষীদের ষড়যন্ত্র দূর করেছেন; কারণ তারা সুদৃঢ় শরীয়তকে আঁকড়ে ধরেছে এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। সুতরাং তাদের কাজ হলো আছার (বর্ণনা) সংরক্ষণ করা, জনমানবহীন প্রান্তর ও মরুভূমি পাড়ি দেওয়া এবং জঙ্গল ও সমুদ্র ভ্রমণ করা—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বিধিবদ্ধ করেছেন তা আহরণের জন্য। তারা তা থেকে বিচ্যুত হয়ে কোনো ব্যক্তিগত মত বা প্রবৃত্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে না। তারা তাঁর শরীয়তকে কথা ও কাজে গ্রহণ করেছে এবং তাঁর সুন্নাহকে হিফাজত ও বর্ণনার মাধ্যমে পাহারা দিয়েছে। এমনকি এর মাধ্যমে তারা এর মূল ভিত্তি মজবুত করেছে এবং তারা এর সবচেয়ে বেশি হকদার ও যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। সুতরাং এই বরকতময় শরীয়ত যেমন সংরক্ষিত এবং এর প্রবর্তক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন সংরক্ষিত, তেমনি তাঁর উম্মত যে বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছে তাও সংরক্ষিত(২)। আর কত নাস্তিক আছে যারা কামনা করে(৩) যে শরীয়তের সাথে এমন কিছু মিশ্রিত করবে যা...

--------------------------------------------

(১) খতিব বাগদাদীর ‘শারাফু আসহাবিল হাদিস’ গ্রন্থের ভূমিকা থেকে সংগৃহীত, পৃষ্ঠা ৮-৯।

(২) দেখুন: শাতীবীর ‘আল-মুওয়াফাকাত’, ২/৯১।

(৩) সে এটি অনুসন্ধান করেছে বা চেয়েছে। ‘আল-মু’জাম আল-ওয়াসীত’ (রা ম)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ২০)
ليس منها، والله تعالى يذب بأصحاب الحديث عنها؛ فهم الحفاظ لأركانها، والقوامون بأمرها وشأنها، إذا صدف عن الدفاع عنها فهم دونها يناضلون {أُوْلَئِكَ حِزْبُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [المجادلة: 22].

هؤلاء هم أهل الحديث، الذين قيضهم الحق سبحانه يبحثون عن الصحيح من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وعن أهل الثقة والعدالة من النقلة؛ حتى ميزوا بين الصحيح والسقيم، وتعرفوا التواريخ وصحة الدعاوى في الأخذ لفلان عن فلان؛ حتى استقر الثابت المعمول به من أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم(1)، هم الذين تنوعُوا في تصنيف السنة، وتفننوا في تدوينها على أنحاء كثيرة، وضروب عديدة؛ حرصا منهم على حفظها، وخوفًا من إضاعتها، وتسهيلا لطلابها، فظهرت «المصنفات»، و «المسانيد»، و «السنن»، و «الجوامع»، ونحوها.

وقد رأينا في هذا العصر الذي تطوَّر فيه العلم، وتنوعت فيه أساليب البحث العلمي، ما قام به المسلمون الباحثون من تيسير سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى طلابها العاملين بها، وَفْقَ طرق من التنظيم والترتيب والتخريج، وإظهار علم العلل؛ وذلك اقتفاء واتباعًا لسلفهم من علماء الحديث المتخصصين في هذا الفن، فلله الحمد والمنة، وله الحمد أولا وآخرا.

فلما كان ذلك كذلك، حرصت أن أكون من هذا الركب الذي يُظهر ما

--------------------------------------------

(1) انظر الموافقات 2/ 94 للشاطبي.
সেগুলো এর অংশ নয়, এবং মহান আল্লাহ আহলে হাদিসের মাধ্যমে তা থেকে (বাতিল বিষয়সমূহ) দূর করে দেন; তারা এর স্তম্ভসমূহের সংরক্ষক এবং এর বিষয় ও অবস্থার তদারককারী। যখন এর প্রতিরক্ষা থেকে বিমুখ হওয়া হয়, তখন তারাই এর জন্য লড়াই করেন। {তারাই আল্লাহর দল। জেনে রেখো, আল্লাহর দলই সফলকাম।} [আল-মুজাদালা: ২২]।

এরাই হলেন আহলে হাদিস, যাদেরকে মহান সত্য (আল্লাহ) নিযুক্ত করেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের মধ্য থেকে সহিহ হাদিস এবং বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের অনুসন্ধানের জন্য; এমনকি তারা সহিহ ও দুর্বল হাদিসের মধ্যে পার্থক্য করেছেন এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে একজনের কাছ থেকে অন্যজনের গ্রহণের তারিখ ও দাবির সত্যতা নিরূপণ করেছেন; ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসসমূহের মধ্য থেকে যা সাব্যস্ত ও আমলযোগ্য তা স্থির হয়েছে(১)। তারা সুন্নাহর শ্রেণিবিন্যাসে বৈচিত্র্য এনেছেন এবং বিভিন্ন পদ্ধতিতে ও বহু প্রকারে তা লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে নিপুণতা দেখিয়েছেন; এটি তারা করেছেন সুন্নাহ সংরক্ষণের গভীর আগ্রহ থেকে, তা হারিয়ে যাওয়ার ভয় থেকে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ করার উদ্দেশ্যে। ফলে «মুসান্নাফাত», «মাসানিদ», «সুনান», «জাওয়ামি» এবং এই জাতীয় গ্রন্থসমূহ আত্মপ্রকাশ করেছে।

আর আমরা বর্তমান যুগে—যেখানে ইলম বা জ্ঞান বিকশিত হয়েছে এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতি বৈচিত্র্যময় হয়েছে—মুসলিম গবেষকদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহকে এর শিক্ষার্থীদের এবং যারা এর ওপর আমল করেন তাদের জন্য সহজতর করার প্রয়াস দেখেছি। তারা এটি করেছেন বিন্যাস, সাজানো এবং তাখরিজ ও ইলমুল ইলাল (হাদিসের নিগূঢ় ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান) প্রকাশ করার বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে। আর এটি করা হয়েছে এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ পূর্বসূরি হাদিস শাস্ত্রের আলেমদের পদাঙ্ক অনুসরণ ও অনুকরণের মাধ্যমে। সুতরাং সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই জন্য, এবং তাঁরই প্রশংসা আদিতে ও অন্তে।

যেহেতু বিষয়টি এমনই ছিল, তাই আমি এই কাফেলার অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহী হয়েছি যারা প্রকাশ করে যা

--------------------------------------------

(১) শাতবি প্রণীত আল-মুয়াফাকাত, ২/৯৪ দেখুন।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ২১)
كان خفيًا في بطون الكتب وشتات الصحف، فأردت أن أجمع هذا الشتات، مستعينا برب الأرض والسموات، فهو الموفق، وهو المستعان، ومن استعان بغيره لا يُعان.

- ولقد رأيتُ؛ خدمة للسنة النبوية المطهرة، وحرصا على ثواب الله سبحانه وتعالى، أن أفرد هذا الكتاب، والذي يحتوي على بعض الأحاديث التي رُويت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم بأسانيد ضعيفة لا تصح، وهذه الأحاديث مع كونها لا تصح سندا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، إلا أنها صحيحة المعنى، وعمل بها أهل العلم والمعرفة بهذا الدين.

وكما قال ابن عبد البر حافظ المغرب والأندلس في مقدمة (التمهيد) (ص 60): ورُبَّ حديث ضعيف الإسناد صحيح المعنى.

وقال الخطيب البغدادي في «الكفاية في علم الرواية» ص 51: وأما خبر الآحاد فهو ما قصر عن صفة التواتر، ولم يقع به العلم وإن روته الجماعة، والأخبار كلها على ثلاثة أضرب؛ فضرب منها يُعلم صحته، وضرب منها يُعلَمُ فساده، وضرب منها لا سبيل إلى العلم بكونه على واحد من الأمرين دون الآخر. أما الضرب الأول، وهو ما يُعلَمُ صحته، فالطريق إلى معرفته إن لم يتواتر حتى يقع العلم الضروري به أن يكون مما تدلُّ العقول على موجبه، كالإخبار عن حدوث الأجسام، وإثبات الصانع، وصحة الأعلام التي أظهرها اللهُ عز وجل على أيدي الرسل، ونظائر ذلك مما أدلة العقول تقتضي صحته، وقد يُستدل أيضًا على صحته بأن يكون خبرا عن أمر اقتضاه نص القرآن أو السنة المتواترة، أو اجتمعت الأمة على تصديقه، أو تلقته الكافة بالقبول،
এটি কিতাবসমূহের অভ্যন্তরে এবং বিক্ষিপ্ত পত্রাবলীতে সুপ্ত ছিল। তাই আমি পৃথিবী ও আসমানসমূহের রবের সাহায্য প্রার্থনা করে এই বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একত্রিত করতে চেয়েছি। তিনিই তাওফীকদাতা এবং সাহায্য প্রার্থনার একমাত্র স্থল। আর যে ব্যক্তি তিনি ছাড়া অন্য কারো কাছে সাহায্য চায়, তাকে সাহায্য করা হয় না।

- পবিত্র সুন্নাহর খিদমত এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সওয়াবের আশায় আমি এই কিতাবটিকে পৃথক করার সংকল্প করেছি। এতে এমন কিছু হাদীস রয়েছে যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে দুর্বল সনদে বর্ণিত হয়েছে এবং সেগুলো সহীহ নয়। যদিও এই হাদীসগুলোর সনদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত সহীহ নয়, তথাপি এগুলোর অর্থ সঠিক এবং এই দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞানী ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ এগুলোর ওপর আমল করেছেন।

যেমনটি মাগরিব ও আন্দালুসের হাফিয ইবনে আব্দুল বার (আল-তামহীদ)-এর ভূমিকা (পৃষ্ঠা ৬০)-তে বলেছেন: কতই না এমন হাদীস রয়েছে যার সনদ দুর্বল কিন্তু অর্থ সঠিক।

এবং খতীব আল-বাগদাদী ‘আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ’ (পৃষ্ঠা ৫১)-তে বলেছেন: পক্ষান্তরে খবরুল আহাদ হলো এমন বর্ণনা যা মুতাওয়াতির হওয়ার গুণ লাভ করতে পারেনি এবং যা দ্বারা (নিশ্চিত) জ্ঞান অর্জিত হয় না, যদিও একদল লোক তা বর্ণনা করে থাকে। সংবাদসমূহ মোট তিন প্রকার; এক প্রকার যার বিশুদ্ধতা জানা যায়, এক প্রকার যার অসারতা জানা যায় এবং এক প্রকার এমন যা সম্পর্কে উল্লিখিত দুই অবস্থার কোনটি তা জানার কোনো পথ নেই। প্রথম প্রকারটি হলো যার বিশুদ্ধতা জানা যায়। তা জানার পদ্ধতি হলো—যদি তা মুতাওয়াতির না হয় যার মাধ্যমে অত্যাবশ্যকীয় জ্ঞান অর্জিত হয়—তবে তা এমন বিষয় হতে হবে যার আবশ্যকতা বিবেকের দলীল দ্বারা প্রমাণিত। যেমন বস্তুসমূহের অনিত্যতার খবর প্রদান করা, স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করা এবং সেই নিদর্শনসমূহের সত্যতা যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা রাসূলগণের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। অনুরূপ অন্যান্য বিষয় যা বিবেকের দলীলসমূহ সঠিক বলে দাবি করে। এছাড়াও এর বিশুদ্ধতার সপক্ষে দলীল দেওয়া যেতে পারে যদি তা এমন কোনো সংবাদ হয় যা কুরআনের সুস্পষ্ট পাঠ (নস) বা সুন্নাহে মুতাওয়াতিরা দাবি করে, অথবা পুরো উম্মত যার সত্যতার ওপর একমত পোষণ করেছে অথবা যা সর্বজনগৃহীত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ২২)
وعملت بموجبه لأجله.

وقال أبو بكر ابن العربي في «عارضة الأحوذي» 2/ 215 - 216 معلقًا على حديث ابن عمر: «لا صلاة بعد الفجر إلا سجدتين»: فهو وإن لم يصح مسندًا، فهو صحيح المعنى.

وما أكثر قول أبي عيسى الترمذي رحمه الله:

وعليه العمل عند أهل العلم. أو: العمل عليه عند عامة أهل العلم، أو نحو ذلك(1)، مع تضعيفه للحديث.

وقال ابن عبد البر في التمهيد 23/ 437: … وهو حديث مشهور عند أهل العلم بالحجاز والعراق، مستفيض عندهم، يُستغنى بشهرته وقبوله والعمل به عن الإسناد فيه، حتى يكاد أن يكون الإسناد في مثله لشهرته تكلفا.

قُلْتُ: وبنحو هذا الكلام، قال جماعة من أهل العلم.

وقد سميت هذا الكتاب وعنونت له بـ: «أحاديث ضعاف وعليها العمل بغير خلاف».

وأسأل الله أن يتقبله مني، وقصدت بهذا العنوان أن الأحاديث التي

--------------------------------------------

(1) انظر جامع الترمذي (113، 720، 1128، 1191) وغيرها من الأمثلة. وانظر «كشف اللثام عن الأحاديث الضعيفة في الأحكام المعمول بها عند الأئمة الأعلام» لسعيد بن عبد القادر باشنفر. وهو كتاب مقتصر على الأحاديث التي أعلها الترمذي وعمل بها العلماء أو بعضهم، كما ذكر الترمذي نفسه.
এবং আমি তাঁর সন্তুষ্টির নিমিত্তে এর দাবি অনুযায়ী আমল করেছি।

আবু বকর ইবনুল আরাবি ‘আরিজাতুল আহওয়াযি’ গ্রন্থে (২/২১৫-২১৬) ইবনে উমরের বর্ণিত হাদিস—“ফজরের (সুন্নত) দুই রাকাত ব্যতীত আর কোনো নামাজ নেই”—এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: এটি সনদ বা সূত্রগতভাবে বিশুদ্ধ না হলেও এর অর্থ সঠিক।

আবু ঈসা তিরমিযি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর এই জাতীয় উক্তি কতই না বেশি:

“জ্ঞানীদের নিকট এর ওপর আমল বিদ্যমান।” অথবা: “সাধারণ জ্ঞানীদের নিকট এর ওপর আমল রয়েছে,” বা এই জাতীয় কথা(১), অথচ তিনি হাদিসটিকে দুর্বল বলে অভিহিত করেছেন।

ইবনে আব্দুল বারর ‘আত-তামহিদ’ গ্রন্থে (২৩/৪৩৭) বলেছেন: … হিজাজ ও ইরাকের জ্ঞানীদের নিকট এটি একটি প্রসিদ্ধ হাদিস এবং তাঁদের নিকট এটি বহুল প্রচলিত। এর প্রসিদ্ধি, গ্রহণযোগ্যতা এবং এর ওপর আমল বিদ্যমান থাকার কারণে এটি সনদের প্রয়োজনীয়তা থেকে বিমুখ করে দেয়; এমনকি এর প্রসিদ্ধির কারণে এই জাতীয় হাদিসে সনদ উল্লেখ করা প্রায় অনর্থক পরিশ্রমের শামিল।

আমি বলছি: একদল আলেম ঠিক এই ধরনের কথাই বলেছেন।

আমি এই কিতাবটির নামকরণ ও শিরোনাম দিয়েছি: ‘দুর্বল হাদিসসমূহ যার ওপর কোনো বিরোধ ছাড়াই আমল করা হয়’।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার পক্ষ থেকে এটি কবুল করেন। এই শিরোনামের মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য হলো সেই সব হাদিস যা—

--------------------------------------------

(১) দেখুন: জামে তিরমিযি (১১৩, ৭২০, ১১২৮, ১১৯১) এবং অন্যান্য উদাহরণসমূহ। আরও দেখুন: সাঈদ বিন আব্দুল কাদির বাশানফার রচিত ‘কাশফুল লিসাম আনিল আহাদিসিজ যঈফা ফিল আহকামিল মামুলি বিহা ইনদাল আইম্মাতিল আলাম’। এটি এমন একটি বই যা কেবল সেইসব হাদিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ যেগুলোকে তিরমিযি ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন এবং আলেমগণ বা তাঁদের একাংশ যার ওপর আমল করেছেন, যেমনটি তিরমিযি নিজেই উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ২৩)
جمعتها لا تصح رواية، إلا أنها تصح درايةً ومعنى ومضمونًا، أجمع العلماء عليها، وإذا كان هناك خلاف شاذ ناقشته ورددت عليه وأثبت صحة الإجماع، وذلك من كلام أهل العلم، وسوف أجعلها على طريقة الأبواب - بإذن الله - لكن لعله سيكون فيما بعد، بعد أن أنتهي من جملة هذه الأحاديث، والتي ستكون على شكل سلسلة، تصدر في شكل أجزاء، في كل جزء حديثان أو أكثر، ثم إذا انتهيت - بإذن الله - من تحقيق تلك الأحاديث رتبتها، كما ذكرتُ، على طريقة الأبواب، وأسأل الله التوفيق والسداد.

وإني أناشد أهل العلم وطلابه ألا يبخلوا عليَّ بالنصح والإرشاد، فالمرء بإخوانه وأهله، والعلم رحم بين أهله، وألا يبخلوا علي بذكر الأحاديث التي تندرج تحت شرطي في هذا الكتاب، ولهم جزيل الشكر والعرفان، و: «من لم يشكر الناس، لم يشكر الله(1)».

- هذا وقد بدأت عملي في هذا الكتاب منذ فترة ليست بالقريبة - يوم أن كنت مقيما في المملكة العربية السعودية - حرسها الله وبلادنا وسائر بلاد المسلمين من كل سوء ومكروه - ثم قمتُ بعونه سبحانه وتوفيقه بتنقيح بعض

--------------------------------------------

(1) حديث: أخرجه الطيالسي (2491)، وأحمد 12/ 472 (4/ 750)، والبخاري في الأدب المفرد (218)، وأبو داود (4811)، والترمذي (1954)، وابن حبان (3407) وغيرهم من حديث أبي هريرة مرفوعًا، وله شاهد من حديث أبي سعيد الخدري، والنعمان بن بشير، والأشعث بن قيس، رضي الله عنهم جميعًا. وانظر السلسلة الصحيحة (416)
আমি এগুলো সংগ্রহ করেছি যা বর্ণনার দিক থেকে বিশুদ্ধ নয়, তবে তা বিশ্লেষণ, অর্থ ও বিষয়বস্তুর দিক থেকে সঠিক; ওলামায়ে কেরাম এগুলোর ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আর সেখানে যদি কোনো বিচ্ছিন্ন মতভেদ থেকে থাকে, তবে আমি তা নিয়ে আলোচনা করেছি, তা খণ্ডন করেছি এবং ইলম অন্বেষীগণের বক্তব্যের আলোকে ঐকমত্যের বিশুদ্ধতা প্রমাণ করেছি। আল্লাহর ইচ্ছায় আমি এগুলোকে অধ্যায় ভিত্তিক বিন্যাস করব—তবে সম্ভবত এটি পরে হবে, যখন আমি এই হাদিসগুলোর সমষ্টি শেষ করব। এগুলো একটি ধারাক্রম হিসেবে হবে, যা বিভিন্ন খণ্ডে প্রকাশিত হবে এবং প্রতিটি খণ্ডে দুটি বা ততোধিক হাদিস থাকবে। এরপর যখন আমি আল্লাহর ইচ্ছায় এই হাদিসগুলোর তাহকীক (যাচাই-বাছাই) শেষ করব, তখন আমি সেগুলো পূর্বে উল্লিখিত পদ্ধতিতে অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করব। আমি আল্লাহর নিকট তাওফীক ও সঠিক পথে অটল থাকার প্রার্থনা করছি।

আমি আহলে ইলম এবং তালিবে ইলমদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই যে, তারা যেন আমাকে নসিহত ও দিকনির্দেশনা প্রদানে কার্পণ্য না করেন; কারণ মানুষ তার ভাই ও আপনজনদের মাধ্যমেই শক্তিশালী হয়, আর ইলম হলো এর ধারকদের মধ্যে একটি আত্মীয়তার বন্ধন। আরও অনুরোধ করছি তারা যেন এই কিতাবের জন্য আমার নির্ধারিত শর্তের আওতায় পড়ে এমন হাদিসগুলো আমাকে জানাতে কৃপণতা না করেন। তাদের প্রতি রইল গভীর কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি। আর হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না(১)।"

— আমি এই কিতাবের কাজ বেশ আগে থেকেই শুরু করেছি—যখন আমি সৌদি আরবে অবস্থান করছিলাম—আল্লাহ একে, আমাদের দেশকে এবং মুসলিমদের অন্যান্য সকল দেশকে যাবতীয় অনিষ্ট ও অপছন্দনীয় বিষয় থেকে রক্ষা করুন। এরপর আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাহায্য ও তাওফীকে এর কিছু অংশ পরিমার্জন করেছি...

--------------------------------------------

(১) হাদিস: এটি বর্ণনা করেছেন তায়ালিসি (২৪৯১), আহমাদ ১২/৪৭২ (৪/৭৫০), আল-আদাবুল মুফরাদে বুখারি (২১৮), আবু দাউদ (৪৮১১), তিরমিযী (১৯৫৪), ইবনে হিব্বান (৩৪০৭) এবং অন্যান্যরা আবু হুরায়রা থেকে মারফু হিসেবে। আবু সাঈদ খুদরী, নুমান ইবনে বশীর এবং আশআস ইবনে কায়েস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) থেকে এর সমর্থক বর্ণনা রয়েছে। দেখুন: আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ (৪১৬)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ২৪)
ما كتبته، وحذفت تارةً، وزدت تارةً أخرى.

ولا زلت أقدم وأؤخرُ، وهكذا البشر، يستحسن المرء شيئًا، ثم تراه بعد ذلك لا يرضاه، وكما قال الإمام القاضي الفاضل البليغ عبد الرحيم بن علي البيساني(1)، رحمه الله ت 596 في رسالة بعثها إلى العماد الأصفهاني معتذرا عن كلام استدركه عليه: إني رأيتُ أنه لا يكتب إنسان كتابًا في يومه إلا قال في غيره: لو غُيّر هذا لكان أحسن، ولو زيد كذا لكان يستحسن، ولو قدم هذا لكان أفضل، ولو تُرِكَ هذا لكان أجمل، وهذا من أعظم العبر، وهو دليل على استيلاء النقص على جملة البشر.

وأستغفر الله مما زل به اللسان، أو داخله ذهول، أو غلب عليه نسيان، فإن كلَّ مُصَنِّف مع التؤدة والتأني، وإمعان النظر، وطول الفكر، قل أن ينفك عن شيء من ذلك(2).

وكما قال الخطيب البغدادي - كما في سير أعلام النبلاء (18/ 281، 19/ 308): مَنْ صنَّف فقد جعل عقله على طبق يعرضه على الناس.

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في وفيات الأعيان 3/ 158، 7/ 219، وسير أعلام النبلاء 21/ 338، والعبر في خبر من غبر 4/ 293، وطبقات الشافعية للسبكي 7/ 167، وطبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 2/ 30، ومعجم البلدان 1/ 527. وهذه الكلمات المنقولة للبيساني، وليست للعماد الأصفهاني كما هو مشهور، والله أعلم. وانظر الحطة في ذكر الصحاح الستة ص 22، وأبجد العلوم 1/ 70 لصديق حسن خان.

(2) مقتبس من كلام الإمام المندري في آخر كتابه «الترغيب والترهيب» 4/ 318.
আমি যা লিখেছি, কখনো তা থেকে কিছু বাদ দিয়েছি, আবার কখনো কিছু বৃদ্ধি করেছি।

আমি ক্রমাগত বিষয়বস্তুকে আগে-পিছে করেছি; আর মানুষ তো এমনই, কোনো এক সময় সে একটি বিষয়কে ভালো মনে করে, আবার পরবর্তীতে দেখা যায় সে নিজেই তাতে সন্তুষ্ট হতে পারছে না। যেমনটি ইমাম, কাজী, ফাদিল ও সুবক্তা আব্দুর রহিম বিন আলী আল-বাইসানি(১) (রহিমাহুল্লাহ, মৃত্যু ৫৯৬ হি.) ইমাদ আল-আসফাহানির নিকট প্রেরিত এক পত্রে নিজের কিছু কথার সংশোধনী ও ক্ষমা চেয়ে লিখেছিলেন: "আমি দেখেছি যে, কোনো মানুষ আজ একটি বই লিখলে পরদিন অবশ্যই বলে: যদি এটি পরিবর্তন করা হতো তবে আরও ভালো হতো; যদি এমন কিছু বাড়ানো হতো তবে তা আরও পছন্দনীয় হতো; যদি এটি আগে আনা হতো তবে তা আরও উত্তম হতো; আর যদি এটি বর্জন করা হতো তবে তা আরও সুন্দর হতো। এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা এবং এটি সমগ্র মানবজাতির ওপর অপূর্ণতা ও ত্রুটির প্রভাব বজায় থাকার এক অকাট্য প্রমাণ।"

আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি জিহ্বার স্খলন, অসাবধানতা কিংবা বিস্মৃতিবশত ঘটে যাওয়া ত্রুটিসমূহ থেকে। কেননা প্রত্যেক গ্রন্থকারই—যতই ধৈর্য, সতর্কতা, গভীর পর্যবেক্ষণ এবং দীর্ঘ চিন্তা-ভাবনা অবলম্বন করেন না কেন—খুব কমই এই জাতীয় বিষয় থেকে মুক্ত থাকতে পারেন(২)।

যেমনটি আল-খাতিব আল-বাগদাদি বলেছেন—সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৮/২৮১, ১৯/৩০৮) গ্রন্থে যেমনটি বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি কোনো গ্রন্থ রচনা করল, সে মূলত তার নিজের বিবেক ও বুদ্ধিকে একটি পাত্রে রেখে মানুষের সামনে পেশ করল।"

--------------------------------------------

(১) তার জীবনী দেখুন: ওফায়াতুল আ’য়ান ৩/১৫৮, ৭/২১৯; সিয়ারু আলামিন নুবালা ২১/৩৩৮; আল-ইবার ফি খাবারি মান গাবার ৪/২৯৩; সুবকির তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ৭/১৬৭; ইবনে কাদি শুহবার তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ২/৩০ এবং মু’জামুল বুলদান ১/৫২৭। উদ্ধৃত এই কথাগুলো আল-বাইসানির, ইমাদ আল-আসফাহানির নয় যেমনটি প্রসিদ্ধ রয়েছে, আল্লাহই ভালো জানেন। আরও দেখুন: সিদ্দিক হাসান খানের আল-হিত্তাহ ফি জিকরিল সিহাহিস সিত্তাহ, পৃষ্ঠা ২২ এবং আবজাদুল উলুম ১/৭০।

(২) ইমাম মুনজিরির 'আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব' (৪/৩১৮) গ্রন্থের শেষাংশের বক্তব্য থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌أهداف الكتاب

أولاً: لقد عزمت - بفضل الله - على جمع هذه المادة المتواضعة؛ لتكون لي ذخرا يوم القيامة، وأسأل الله تعالى أن يجعل كل أعمالي صالحة خالصة لوجهه الكريم، وأسأله سبحانه أن يرزقني العلم النافع، والعمل الصالح، وأن يغفر لي خطئي وعمدي، وكل ذلك عندي.

ثانيًا: مساعدتها طالب العلم على معرفة شتات بعض الأحاديث المتناثرة في بطون الكتب من «المسانيد»، و «السنن»، وغيرها، والتي عليها - أعني الأحاديث - إجماع من أهل العلم من حيث معناها ومضمونها العقدي أو الفقهي أو غير ذلك؛ وكي تسهل على طالب العلم طريقه في البحث عن بعض المسائل.

ثالثًا: جِدَّتُها(1)؛ إذ تجمع من الأحاديث التي رويت في الكتب ولا تصح رواية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإنما صحت من أصول الشريعة والإجماع، فهي بذلك تصح دراية، لا رواية، وهذا العمل لم يسبق إليه - حسب علمي - والله أعلم.

فهذه بنات أفكاري أزفها إليكم، فإن كانت خيرًا فمتاع بمعروف، وإن كانت غير ذلك، فتسريح بإحسان، وإني - وايم الله - لا أدعي فيها أنني

--------------------------------------------

(1) انظر مادة (جدد) في «القاموس المحيط»، و «المصباح المنير»: جَدَّ الشيء يجد، بالكسر، جدة فهو جديد.
গ্রন্থের উদ্দেশ্যসমূহ

প্রথমত: আমি আল্লাহর অনুগ্রহে এই বিনীত পাণ্ডুলিপিটি সংকলন করার সংকল্প করেছি; যাতে এটি কিয়ামতের দিন আমার জন্য পাথেয় হয়। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার সকল আমলকে সৎ এবং একমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন। তাঁর নিকট আরও প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে উপকারী জ্ঞান এবং নেক আমল দান করেন এবং আমার অনিচ্ছাকৃত ও ইচ্ছাকৃত ভুলগুলো ক্ষমা করেন; আর এসবই আমার মধ্যে বিদ্যমান।

দ্বিতীয়ত: এটি ইলম অন্বেষণকারীকে বিভিন্ন কিতাব যেমন ‘মুসনাদ’, ‘সুনান’ এবং অন্যান্য গ্রন্থের ভেতরে ছড়িয়ে থাকা বিক্ষিপ্ত কিছু হাদিস সম্পর্কে জানতে সহায়তা করবে; যে হাদিসগুলোর অর্থের ব্যাপারে - অর্থাৎ সেগুলোর আকিদাগত বা ফিকহগত মর্মার্থ বা অনুরূপ বিষয়ে - আহলুল ইলমগণের (বিদ্বানদের) ইজমা বা ঐকমত্য রয়েছে। এছাড়া এটি ইলম অন্বেষণকারীর জন্য কিছু মাসআলা অনুসন্ধানের পথ সুগম করে দিবে।

তৃতীয়ত: এর নতুনত্ব(১); কেননা এটি এমন কিছু হাদিসকে একত্রিত করেছে যা বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে কিন্তু আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা হিসেবে (রিওয়ায়াতগতভাবে) সহিহ নয়, বরং শরিয়তের মূলনীতি ও ইজমা অনুযায়ী তার বিষয়বস্তু সহিহ। অর্থাৎ এগুলো ‘দিরায়াত’ বা অর্থগত দিক থেকে সহিহ, কিন্তু ‘রিওয়ায়াত’ বা বর্ণনার দিক থেকে নয়। আমার জানা মতে—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—এই কাজটি এর আগে কেউ করেননি।

সুতরাং এগুলো আমার চিন্তাপ্রসূত ফসল যা আমি আপনাদের নিকট পেশ করছি; যদি তা কল্যাণকর হয় তবে তা উত্তম পাওনা, আর যদি অন্যথা হয় তবে মহানুভবতার সাথে বর্জনীয়। আমি—আল্লাহর কসম—এতে এমন দাবি করছি না যে

--------------------------------------------

(১) ‘আল-কামুসুল মুহিত’ এবং ‘আল-মিসবাহুল মুনির’ গ্রন্থে (জ-দ-দ) মূলধাতু দেখুন: কোনো কিছু নতুন হওয়া, এর বর্তমান কাল কাসরা (জের) যোগে হয়, এর ক্রিয়ামূল ‘জিদ্দাহ’, সুতরাং তা ‘জাদিদ’ বা নতুন।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ২৬)
جئت بكمال الأمور - كلا - بل إنني جمعتُ ورتبتُ، ثم حكمت على كل حديث بما حكم عليه أهل الحديث بما ترجَّح عندهم، ثم نقلتُ كلام العلماء وإجماعهم، فإن كان ما صنعته صوابا فمن الله وحده، وإن كان غير ذلك فمن نفسي والشيطان، والله بريء منه ورسوله، والله المستعان.

وقد جعلتُ في هذا الجزء أربعة أحاديث؛ الأول: يتعلق بالعقيدة، وكلام الله وأنه غير مخلوق، والثاني: يتعلق بالطهارة، والثالث: يتعلق بالصلاة خلف البر والفاجر. والرابع: يتعلق بالقرض وما يكون فيه من ربّا.

وكلها لا تصح من حيث الأسانيد، إلا أنها تصح معنى ومضمونًا وعليها إجماع، كما سأبين ذلك. والله المستعان.

هذا، والله أسألُ أن ينفع بهذا الكتاب كل طالب عالم محب للخير وأهله، وأن يعصمني من الزلل والخطأ، وأسأله سبحانه أخرى أن يوفقني وإخواني إلى ما يحبه ويرضاه.

إنه ولي ذلك والقادر عليه، وصلَّى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.

وكتبه

أبو عبد الرحمن

عاطف بن حسن الفاروقي
আমি সব বিষয়ের পূর্ণতা নিয়ে এসেছি—তা নয়—বরং আমি সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করেছি, অতঃপর প্রতিটি হাদিসের ওপর হাদিসবিশারদগণ তাদের নিকট যা অগ্রগণ্য সে অনুযায়ী যে হুকুম দিয়েছেন, তা প্রয়োগ করেছি। এরপর আমি উলামায়ে কেরামের বক্তব্য ও তাঁদের ইজমা (ঐক্যমত) উদ্ধৃত করেছি। সুতরাং আমি যা করেছি তা যদি সঠিক হয়, তবে তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে; আর যদি অন্য কিছু হয়, তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তা থেকে মুক্ত। আর আল্লাহই সাহায্যস্থল।

আমি এই খণ্ডে চারটি হাদিস রেখেছি; প্রথমটি: আকীদাহ এবং আল্লাহর কালাম তথা তা যে মাখলুক (সৃষ্ট) নয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট। দ্বিতীয়টি: পবিত্রতা সংশ্লিষ্ট। তৃতীয়টি: পুণ্যবান ও পাপাচারী উভয়ের পেছনে সালাত আদায় করা সংশ্লিষ্ট। এবং চতুর্থটি: ঋণ এবং তাতে বিদ্যমান সুদের বিষয়াদি সংশ্লিষ্ট।

সনদের দিক থেকে এগুলোর কোনোটিই সহীহ নয়, তবে অর্থ ও বিষয়বস্তুর দিক থেকে এগুলো সহীহ এবং এগুলোর ওপর ইজমা রয়েছে, যা আমি অচিরেই বর্ণনা করব। আর আল্লাহই সাহায্যস্থল।

পরিশেষে, আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কিতাবের মাধ্যমে প্রত্যেক ইলম অন্বেষণকারী এবং কল্যাণ ও কল্যাণকামী ব্যক্তিদের ভালোবাসেন এমন প্রত্যেককে উপকৃত করেন, আর আমাকে পদস্খলন ও ভুল থেকে রক্ষা করেন। আমি মহাপবিত্র আল্লাহর নিকট আরও প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে ও আমার ভাইদেরকে এমন সব কাজের তাওফিক দান করেন যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন।

নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এতে সক্ষম। আর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।

এটি লিখেছেন

আবু আব্দুর রহমান

আতিফ বিন হাসান আল-ফারুকী
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌شعر في مدح أهل الحديث:

قال الحافظ ابن حجر العسقلاني رحمه الله تعالى(1):

هنيئا لأصحاب خير الورى … وطوبى لأصحاب أخباره

أولئك فازوا بتذكيره … ونحن سعدنا بتذكاره

وهم سبقونا إلى نصره … وها نحن تباع أنصاره

ولما حرمنا لقي عينه … عَكَفْنا على حِفْظِ آثاره

عسى الله يجمعنا كلنا … برحمةٍ مَعْه في داره

وقال العلامة محمد بن إبراهيم الوزير، رحمه الله تعالى(2):

عليك بأصحاب الحديث الأفاضل … تجد عندهم كل الهدى والفضائل

أَحِنُّ إليهم كلما هبت الصَّبا … وأدعُو إليهم في الضحى والأصائل

لئن شحَّتِ الأيام في الجمع بيننا … سخت بالقوافي بيننا والرسائل

وقد تلتقي الأرواح والبون نازح … عن الجمع للأشباح ذات الهياكل

شيوخ حديث المصطفى وعلومه … ومتَّبعو أقواله في المسائل

هم القدوة الوسطى وهم خيرة الورى … وهمْ أَنْجُمٌ للدين غير أوافل

هم نقحُوا منها الصحيح وبينوا … معارفه في المشيعات الحوافل

يذبون عن دين النبي محمد … بألسنة مثل السيوف الفواصل

--------------------------------------------

(1) انظر «الحطة في ذكر الصحاح الستة» ص 35 لصديق حسن خان، وقواعد التحديث للقاسمي ص 404.

(2) الروض الباسم 2/ 595.
আহলে হাদিসের প্রশংসায় কবিতা:

হাফিজ ইবন হাজার আসকালানী রহমাতুল্লাহি তাআলা(১) বলেছেন:

শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির সঙ্গীদের জন্য অভিনন্দন ... এবং তাঁর সংবাদের (হাদিসের) বাহকদের জন্য সুসংবাদ

তাঁরা তাঁর প্রত্যক্ষ সান্নিধ্যে সফল হয়েছেন ... আর আমরা ধন্য হয়েছি তাঁর স্মৃতিচারণে

তাঁকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে তাঁরা আমাদের অগ্রগামী ... আর এই তো আমরা তাঁর সাহায্যকারীদের অনুসারী

যখন আমরা তাঁর সরাসরি সাক্ষাৎ থেকে বঞ্চিত হলাম ... আমরা তাঁর রেখে যাওয়া নিদর্শন (হাদিস) সংরক্ষণে আত্মনিয়োগ করলাম

আশা করি আল্লাহ আমাদের সকলকে একত্রিত করবেন ... তাঁর রহমতে, তাঁর নিজ আবাসে তাঁর সাথে

আল্লামা মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-ওয়াজির রহমাতুল্লাহি তাআলা(২) বলেছেন:

আপনি শ্রেষ্ঠ আহলে হাদিসদের আঁকড়ে ধরুন ... তাদের কাছেই আপনি সকল হিদায়েত ও ফজিলত পাবেন

যখনই পুবালি বাতাস প্রবাহিত হয় আমি তাদের জন্য ব্যাকুল হই ... এবং আমি সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের জন্য দোয়া করি

যদি দিনগুলো আমাদের একত্রে মেলাতে কার্পণ্য করে থাকে ... তবে তা আমাদের মাঝে কবিতা ও পত্রের মাধ্যমে উদারতা দেখিয়েছে

কখনো রূহগুলোর মিলন ঘটে যদিও দেহের দূরত্ব থাকে অনেক ... নশ্বর দেহের কাঠামোবদ্ধ মিলন ছাড়াই

তাঁরা হলেন মুস্তফার হাদিস ও তাঁর জ্ঞানসমূহের শাইখগণ ... এবং বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর বাণীর অনুসারী

তাঁরা হলেন মধ্যমপন্থা অবলম্বনে আদর্শ এবং সৃষ্টির সেরা ... তাঁরা দ্বীনের এমন নক্ষত্র যারা কখনো অস্তমিত হয় না

তাঁরা হাদিসসমূহ থেকে সহিহকে সংকলন করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন ... এর জ্ঞানসমূহকে পরিপূর্ণ ও বিস্তৃত মজলিসসমূহে

তাঁরা নবী মুহাম্মদের দ্বীনকে রক্ষা করেন ... চূড়ান্ত ফয়সালাকারী তলোয়ারের মতো ধারালো জিহ্বা দ্বারা

--------------------------------------------

(১) দেখুন সিদ্দিক হাসান খানের ‘আল-হিত্তাহ ফি জিকরিল সিহাহিস সিততাহ’ পৃষ্ঠা ৩৫, এবং আল-কাসিমির ‘কাওয়ায়িদুল তাহদিস’ পৃষ্ঠা ৪০৪।

(২) আর-রওযুল বাসিম ২/৫৯৫।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقال العلامة كمال الدين محمد بن محمد الشمني المالكي، رحمه الله

تعالى(1):

جزى الله أصحاب الحديث مثوبة … وبوأهم في الخلد أعلى المنازل

فلولا اعتناؤهم بالحديث وحفظه … ونفيهم عنه ضروب الأباطل

وإنفاقهم أعمارهم في طلابه … وبحثهم عنه بجد مواصل

لما كان يدرى من غدا متفقها … صحيح الحديث من سقيم وباطل

ولم يستبن ما كان في الذكرى مجملا … ولم يدر فرضا من عموم النوافل

لقد بذلوا فيه نفوسا نفيسة … وباعوا بحظ آجل كل عاجل

فحبهم فرض على كل مسلم … وليس يعاديهم سوى كل جاهل

لله درهم

--------------------------------------------

(1) انظر «الضوء اللامع» للسخاوي في ترجمة محمد بن محمد بن حسن بن علي الكمال

التميمي الشمني، بضم الشين المعجمة والميم، وكسر النون مع تشديدها.
আল্লামা কামালুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আশ-শুমুন্নি আল-মালিকি (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেছেন(১):

আল্লাহ হাদিস বিশারদদের উত্তম প্রতিদান দান করুন … এবং জান্নাতে তাদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন।

যদি হাদিসের প্রতি তাদের যত্ন ও তা সংরক্ষণ করা এবং তা থেকে বিভিন্ন প্রকার বাতিল বিষয়গুলোকে দূরীভূত করা না থাকত, …

এবং হাদিস অন্বেষণে তাদের জীবন ব্যয় করা এবং নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার মাধ্যমে তা অনুসন্ধান করা না থাকত, …

তবে আজ যে ফকীহ হয়েছে, সে সহীহ হাদিসকে দুর্বল ও বাতিল থেকে পৃথক করতে সক্ষম হতো না। …

আর কুরআনে যা সংক্ষিপ্তভাবে এসেছে তা স্পষ্ট হতো না … এবং সাধারণ নফল ইবাদত থেকে ফরযকে পৃথক করা যেত না।

তারা এর জন্য তাদের মূল্যবান জীবন উৎসর্গ করেছেন … এবং আখিরাতের কল্যাণের বিনিময়ে পার্থিব সবকিছু বিক্রয় করেছেন।

সুতরাং তাদের ভালোবাসা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরয … এবং কেবল জাহেল ব্যক্তিই তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে।

আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য কতই না উত্তম বিনিময় রয়েছে!

--------------------------------------------

(১) সাখাওয়ি রচিত ‘আদ-দউ আল-লামি’ গ্রন্থে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাসান ইবনে আলি আল-কামাল আত-তামিমি আশ-শুমুন্নি-এর জীবনী দ্রষ্টব্য। শুমুন্নি শব্দটি ‘শিন’ এবং ‘মিম’ অক্ষরে পেশ যোগে এবং ‘নুন’ অক্ষরে তাশদীদসহ যের যোগে পড়তে হবে।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌شكر ودعاء

الحمد الله أولا وآخرا، وأشكره على نعمه وآلائه، ثُمَّ أَشْكُرُ كُلَّ مَنْ أعانني على إخراج هذا الكتاب، وأسأل الله أن ينفعني وإخواني به.

- وأشكُرُ كلَّ مَنْ قدَّمَ لي النصح والإرشاد، وأخص بالذكر والدي على ما قاما به من رعاية ونصح وإرشاد، وأسأل الله تعالى أن يغفر لوالدي، وأن يحفظ والدتي المباركة، وأن يشفيها ومرضى المسلمين.

- وكذا أشكر زوجتي الفاضلة أم عبد الرحمن بنت مصطفى المصري، حفظها الله، على مساعدتها لي، وتوفير الوقت لي، فجزاها الله خيرا.

- هذا، وأسأل الله أن يرحم علماءنا ومشايخنا في كل زمان ومكان، وعلى رأسهم في زماننا: العلامة الألباني، والعلامة ابن باز، والعلامة ابن عثيمين، رحمهم الله.

- فلهم، بعد الله سبحانه وتعالى، فضل علي، بل وعلى كثير من أهل زماننا هذا، فنسأل الله لهم الرحمة والغفران، وأن يسكنهم فسيح الجنان، مع النبي العدنان، وأن يُلحِقَنَا بهم في الصالحين، إنه ولي ذلك والقادر عليه.

ولا يفوتني أن أشكر الشيخ طارق بن عوض الله - حفظه الله - على ما كتب من مقدمة نافعة، أسأل الله أن ينفع به الإسلام والمسلمين.

وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله محمد، وآله وصحبه أجمعين.
কৃতজ্ঞতা ও দুআ

প্রথমে ও শেষে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। তাঁর নেয়ামত ও অনুগ্রহসমূহের জন্য আমি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। অতঃপর আমি সেই প্রত্যেক ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানাই যারা এই বইটি প্রকাশে আমাকে সহায়তা করেছেন। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে ও আমার ভাইদেরকে এর দ্বারা উপকৃত করেন।

- এবং যারা আমাকে উপদেশ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, আমি তাদের সকলের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি। বিশেষভাবে আমি আমার শ্রদ্ধেয় পিতার কথা উল্লেখ করছি তাঁর যত্ন, উপদেশ ও দিকনির্দেশনার জন্য। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার পিতাকে ক্ষমা করেন এবং আমার বরকতময়ী জননীকে হিফাজত করেন এবং তাঁকে ও সকল অসুস্থ মুসলিমকে আরোগ্য দান করেন।

- অনুরূপভাবে আমি আমার বিদুষী স্ত্রী উম্মু আবদির রহমান বিনতে মুস্তফা আল-মিসরী (আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন)-এর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমাকে সাহায্য করার জন্য এবং আমার জন্য সময় বের করে দেওয়ার জন্য; আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন।

- আর আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন সকল যুগের ও সকল স্থানের আমাদের উলামা ও মাশায়েখদের প্রতি দয়া করেন, যাদের শীর্ষে রয়েছেন আমাদের সময়ের আল্লামা আলবানী, আল্লামা ইবনে বায এবং আল্লামা ইবনে উসাইমীন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)।

- মহান আল্লাহর পর আমার উপর এবং বর্তমান সময়ের অনেকের উপরই তাঁদের অবদান রয়েছে। সুতরাং আমরা আল্লাহর নিকট তাঁদের জন্য রহমত ও মাগফিরাত প্রার্থনা করি এবং তিনি যেন তাঁদেরকে আদনানি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে প্রশস্ত জান্নাতে স্থান দান করেন এবং আমাদেরকে নেককারদের সাথে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক ও এ বিষয়ে ক্ষমতাবান।

আর আমি শায়খ তারিক বিন আওয়াদুল্লাহ (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন)-এর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলছি না একটি উপকারী ভূমিকা লিখে দেওয়ার জন্য। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করেন।

আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর উপর সালাত, সালাম ও বরকত নাযিল করুন।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌الفصل الأول تخريج حديث «القرآن كلام الله غير مخلوق»

هذا الحديثُ مَرْوِيٌّ عن جماعة من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم مرفوعا، منهم: علي بن أبي طالب، وابن مسعود، وأبو سعيد الخدري، وجابر بن عبد الله، وأبو هريرة، وأبو الدرداء، ومعاذ بن جبل، وأبو موسى الأشعري، وأنس بن مالك، وعبد الله بن عباس، ورافع بن خديج، وأبو حكيم الشامي، وعبد الله ابن عبد الغافر مولى النبي صلى الله عليه وسلم رضي الله عنهم جميعا.

قال ابن الجوزي، رحمه الله، في كتابه «الموضوعات» (1/ 108): وقد تحذلق أقوام فوضعوا أحاديث تدلُّ على قِدَمِ(1) القرآن.

قلتُ: إليك هذه الأحاديث وطرقها وبيان ما فيها من علل:

--------------------------------------------

(1) هذه اللفظة لم ترد في كلام السلف من المتقدمين، فلذا ينبغي طرحها.
প্রথম অধ্যায়: ‘কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্ট নয়’ হাদিসটির তাখরিজ

এই হাদিসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আলী ইবনে আবু তালিব, ইবনে মাসউদ, আবু সাঈদ আল-খুদরি, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ, আবু হুরায়রা, আবু দারদা, মুয়াজ ইবনে জাবাল, আবু মুসা আল-আশআরি, আনাস ইবনে মালিক, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, রাফি ইবনে খাদিজ, আবু হাকিম আশ-শামি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল গাফির (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।

ইবনুল জাওযি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘আল-মাওযুয়াত’ (১/১০৮) গ্রন্থে বলেছেন: একদল লোক পাণ্ডিত্য জাহির করতে গিয়ে এমন কিছু হাদিস জাল করেছে যা কুরআনের অনাদিত্বের(১) প্রমাণ দেয়।

আমি বলছি: আপনার সম্মুখে এই হাদিসগুলো, সেগুলোর সূত্রসমূহ এবং সেগুলোর মধ্যে বিদ্যমান ত্রুটিসমূহের বর্ণনা উপস্থাপন করা হলো:

--------------------------------------------

(১) এই শব্দটি পূর্ববর্তী সালাফগণের বক্তব্যে আসেনি, তাই এটি বর্জন করা উচিত।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌المبحث الأول: تخريج حديث علي بن أبي طالب رضي الله عنه

أخرجه الخطيب البغدادي في «تاريخ بغداد» (4/ 63) من طريق أحمد ابن جعفر الدوري الثعلبي، عن محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن موسى بن جعفر بن محمد، عن الحسن بن موسى بن جعفر بن محمد، عن أبيه موسى ابن جعفر بن محمد، عن أبيه محمد بن علي، عن أبيه علي بن الحسين، عن الحسين بن علي، عن علي، قال: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن القرآن؟ فقال لي: «يا علي، كلام الله غير مخلوق».

قُلْتُ: لم يبين الخطيب أي علة له، بل سكت عليه، وذلك في ترجمة الدوري الثعلبي هذا، وتبعه على هذا السكوت السيوطي في «اللآلئ المصنوعة في الأحاديث الموضوعة» (1/ 13) فلم يذكر شيئًا.

وقد قال ابن عراق في «تنزيه الشريعة المرفوعة عن الأحاديث الشنيعة الموضوعة» (1/ 135): قال بعض أشياخي: وأظنه الذي اسم جده: عبد الله، وهو مشهور بالوضع، والله أعلم.

قُلْتُ: إن كان هو، فقد قال الذهبي في «ميزان الاعتدال» (1/ 87)، وكذا في لسانه لابن حجر (1/ 144): شيخ لأبي نعيم الحافظ، ذكر ابن طاهر أنه مشهور بالوضع. فالله أعلم، وعلى كل حال فالمتن لا يثبت عن
প্রথম পরিচ্ছেদ: আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের তাখরিজ

খতিব আল-বাগদাদি এটি তার ‘তারিখু বাগদাদ’ (৪/ ৬৩) গ্রন্থে আহমাদ ইবনে জাফর আদ-দাওরি আস-সা’লাবি-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুসা ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, তিনি হাসান ইবনে মুসা ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, তিনি তার পিতা মুসা ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, তিনি তার পিতা মুহাম্মাদ ইবনে আলী থেকে, তিনি তার পিতা আলী ইবনে আল-হুসাইন থেকে, তিনি আল-হুসাইন ইবনে আলী থেকে, তিনি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুরআন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে বললেন: “হে আলী, আল্লাহর কালাম মাখলুক (সৃষ্ট) নয়।”

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: খতিব এর কোনো ত্রুটি বর্ণনা করেননি, বরং তিনি এ বিষয়ে নীরব থেকেছেন। এটি উক্ত দাওরি আস-সা’লাবি-এর জীবনীতে বর্ণিত হয়েছে। সুয়ূতীও তার ‘আল-লাআলি আল-মাসনুয়াহ ফিল আহাদিস আল-মাউদুয়াহ’ (১/ ১৩) গ্রন্থে এই নীরবতার ক্ষেত্রে তাকে অনুসরণ করেছেন এবং কোনো কিছুই উল্লেখ করেননি।

ইবনে ইরাক তার ‘তানজিহুশ শারিয়াহ আল-মারফূআহ আনিল আহাদিস আশ-শানিয়াহ আল-মাউদুয়াহ’ (১/ ১৩৫) গ্রন্থে বলেছেন: আমার জনৈক শাইখ বলেছেন: আমার ধারণা তিনি সেই ব্যক্তি যার দাদার নাম আব্দুল্লাহ, আর তিনি হাদিস জাল করার জন্য প্রসিদ্ধ। আল্লাহই ভালো জানেন।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: যদি তিনি সেই ব্যক্তিই হয়ে থাকেন, তবে যাহাবি তার ‘মিজানুল ইতিদাল’ (১/ ৮৭) গ্রন্থে এবং একইভাবে ইবনে হাজার তার ‘লিসানুল মিজান’ (১/ ১৪৪) গ্রন্থে বলেছেন: তিনি হাফেজ আবু নুয়াইমের একজন শাইখ, ইবনে তাহের উল্লেখ করেছেন যে তিনি হাদিস জাল করার জন্য প্রসিদ্ধ। আল্লাহই ভালো জানেন। যাই হোক, এই হাদিসের মূল পাঠটি (মতন) প্রমাণিত নয়।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু দিআফ ওয়া আলাইহাল আমালু বি-গাইরি খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
النبي صلى الله عليه وسلم بحال باتفاق علماء الحديث؛ فلم يُحفظ قط أن النبي صلى الله عليه وسلم خاص في ذكر هذا.

* * *
হাদিস বিশারদগণের ঐকমত্যে কোনো অবস্থাতেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রে (এমনটি ঘটেনি); কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বিষয়টি উল্লেখ করার আলোচনায় লিপ্ত হয়েছেন বলে কখনোই সংরক্ষিত হয়নি।

* * *