(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: -)
بلاد العرب   (لغدة الأصفهاني)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: بلاد العرب

المؤلف: الحسن بن عبد الله [لُغدة] الأصفهاني

المحقق: حمد الجاسر - صالح العلي

الناشر: دار اليمامة، الرياض - السعودية

(ساعد المجمع العلمي العراقي على نشر هذا الكتاب)

الطبعة: الأولى، 1388 هـ - 1968 م

تنبيه: في آخر المطبوع تصويبات واستدراكات. تم توزيعها على مواضعها من هذه النسخة الإلكترونية مع التنبيه

عدد الصفحات: 418

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 1 صفر 1447

আরব ভূখণ্ড   (লুগদাহ আল-আসফাহানি)

বিভাগ: দেশসমূহ ও ভ্রমণকাহিনী


গ্রন্থ: বিলাদ আল-আরব (আরব ভূখণ্ড)

লেখক: আল-হাসান বিন আব্দুল্লাহ [লুগদাহ] আল-আসফাহানি

গবেষক/সম্পাদক: হামাদ আল-জাসির - সালেহ আল-আলী

প্রকাশক: দার আল-ইয়ামামাহ, রিয়াদ - সৌদি আরব

(ইরাকি সায়েন্টিফিক একাডেমি এই গ্রন্থটি প্রকাশে সহায়তা করেছে)

সংস্করণ: প্রথম, ১৩৮৮ হিজরি - ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দ

সতর্কতা: মুদ্রিত কপির শেষে কিছু সংশোধন ও পরিমার্জন রয়েছে। সেগুলোকে এই ইলেকট্রনিক কপির সংশ্লিষ্ট স্থানে সতর্কবার্তাসহ যুক্ত করা হয়েছে

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১ সফর ১৪৪৭

(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة الكتاب

 

• هذا الكتاب

• من مؤلفه؟

• نهج الكتاب

• وصف النسخ الخطية

• إيضاحات حول النشر
গ্রন্থের ভূমিকা

 

• এই গ্রন্থ

• এর লেখক কে?

• গ্রন্থের পদ্ধতি

• পাণ্ডুলিপিসমূহের বিবরণ

• প্রকাশনা সংক্রান্ত ব্যাখ্যা
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌هذا الكتاب

هذا الكتاب أثر من آثارنا القديمة، يرجع إلى الربع الأول من القرن الثالث الهجري فما قبله، نجد منه سمات في بعض المؤلفات القديمة، ككتاب نصر بن عبد الرحمن الاسكندري الفزاري، وكتاب الزمخشري، ومعجم البلدان للحموي، ولكننا لا نجده كاملا إلا في هذا الكتاب الذي نحاول أن نقدمه كاملا.

 

ولهذا الأثر ميزات أهمها: -

1 - أنه يحدّد أجزاء كثيرة من منازل القبائل العربية، التي كانت تقطن وسط جزيرة العرب، متجاورة، ويحاول أن يحصي ما لها من مناهل وجبال وأمكنة، مما يعين دارسي الأدب العربي في عصوره القديمة، وهذا ما لا نجده إلا في هذا الكتاب، في عهدنا الحاضر.

2 - أنه حوى أسماء كثيرة ومنها ما ورد في الشعر، مما لا نجده فيما بين أيدينا من المصادر.

3 - ضم طائفة من المعلومات المتعلقة بالقبائل من أنساب وأسماء شعراء،
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

 

‌‌এই গ্রন্থটি

এই গ্রন্থটি আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্যের অন্যতম এক নিদর্শন, যা হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর প্রথম চতুর্থাংশ বা তার পূর্ববর্তী সময়ের। এর কিছু বৈশিষ্ট্য আমরা কিছু প্রাচীন রচনায় লক্ষ্য করি, যেমন নাসর ইবনে আবদুর রহমান আল-ইস্কান্দারি আল-ফাজারির কিতাব, যামাখশারির কিতাব এবং আল-হামাউয়ির মু’জামুল বুলদান; কিন্তু আমরা এই গ্রন্থটি ব্যতীত একে পূর্ণাঙ্গভাবে কোথাও পাই না, যা আমরা এখন পূর্ণাঙ্গরূপে পেশ করার প্রয়াস চালাচ্ছি।

 

এই নিদর্শনের কতগুলো বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো: -

১ - এটি আরব উপদ্বীপের মধ্যভাগে পাশাপাশি বসবাসকারী আরব গোত্রগুলোর আবাসস্থলের অনেক অংশ সুনির্দিষ্ট করে এবং তাদের পানিস্থল, পাহাড় ও স্থানসমূহ নিরূপণ করার চেষ্টা করে, যা প্রাচীন যুগের আরবি সাহিত্যের গবেষকদের জন্য সহায়ক। এটি এমন এক বিষয় যা বর্তমান যুগে আমরা কেবল এই গ্রন্থেই খুঁজে পাই।

২ - এটি অনেক নাম ধারণ করেছে, যার মধ্যে কিছু কবিতায় এসেছে, যা আমাদের কাছে বিদ্যমান অন্যান্য উৎসসমূহে পাওয়া যায় না।

৩ - এটি গোত্রসমূহের বংশলতিকা এবং কবিদের নাম সংক্রান্ত একগুচ্ছ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করেছে,
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ৮)
وكلمات لغوية، ينفرد بها عن غيره مما وصل إلينا، ومن أسماء المواضع ما بقي معروفا في عهدنا مما يضيف إلى معجمات الأمكنة معلومات لا تكمل بدونها ومن الشعراء ومن الشعر ما لا يوجد في غيره، بحيث نفقد بفقده جزءا من ثقافتنا العربية.

4 - يصور لنا أول نهج سلك في تحديد المواضع، تحديدا قام على أساس المشاهدة والخبرة الكاملتين.

5 - يتضمن تفصيلات لا نجدها في غيره - من الكتب التي وصلت الينا - عن معادن قلب جزيرة العرب، وهي معلومات على بساطتها لا يستغني عنها أي باحث في المجال الاقتصادي.

6 - وأمر على جانب كبير من الأهمية هو أنه يذكر لنا المواضع التي تتفق في الاسم، ولكنها تختلف باختلاف القبائل التي كانت تسكن في تلك المواضع، وهذا من الأمور التي أوقعت اللبس والخطأ والخلط في تحديد كثير من مواضع الجزيرة، مما لا تمكن معرفته إلا بمعرفة من يسكنه من القبائل، وهذا ما لم ينتبه له كثير ممن كتبوا عن تحديد منازل القبائل في جزيرة العرب، ممن لم يدركوا أن الاسم الواحد قد يطلق على عدة مسميات.

مما تقدم ذكره من الميزات ومن غيرها مما لم نذكره، يستطاع القول بأن هذا الأثر ذو قيمة كبيرة في تراثنا العلمي للعربي، وذو أثر عظيم بالنسبة للمعنيين بدراسة التراث العربي، بوجه الاجمال.

أما من كان أول من خلف ذلك الأثر فهو - بدون شك - ممن كان ذا خبرة ودراية بالجزيرة العربية وسكانها، من الأعراب القدماء، وصلت بطريق الرواة المعروفين عند بدء التدوين، أمثال الأصمعي وغيره من العلماء، ممن كان عملهم مقتصرا على التدوين المجرّد، ولهذا فإن الباحث لا يعنيه من الأمر إلا وصول المعلومات صحيحة دقيقة - وهذا ما يجده في هذا الكتاب.
ভাষাগত শব্দাবলি, যা আমাদের কাছে পৌঁছানো অন্যান্য উৎস থেকে একে অনন্য করে তোলে। এছাড়া এমন সব স্থানের নাম রয়েছে যা আমাদের যুগেও পরিচিত এবং যা ভৌগোলিক অভিধানগুলোতে এমন তথ্য যোগ করে যা ব্যতীত সেগুলো অসম্পূর্ণ। এতে এমন কিছু কবি ও কাব্য রয়েছে যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না, ফলে এটি হারিয়ে যাওয়া মানে আমাদের আরবি সংস্কৃতির একটি অংশ হারিয়ে ফেলা।

৪ - এটি আমাদের সামনে স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনুসৃত প্রথম পদ্ধতিটি ফুটিয়ে তোলে, যা পূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল।

৫ - এতে এমন সব বিশদ বিবরণ রয়েছে যা আমাদের কাছে পৌঁছানো অন্য কোনো গ্রন্থে পাওয়া যায় না—যেমন আরব উপদ্বীপের কেন্দ্রস্থলের খনিজ সম্পদ সম্পর্কে। এই তথ্যগুলো সাধারণ মনে হলেও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের যেকোনো গবেষকের জন্য তা অপরিহার্য।

৬ - আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি আমাদের সামনে এমন সব স্থানের কথা উল্লেখ করে যেগুলোর নাম এক, কিন্তু সেখানে বসবাসকারী গোত্রভেদে স্থানগুলো ভিন্ন। এটি এমন এক বিষয় যা আরব উপদ্বীপের অনেক স্থানের পরিচয় নির্ধারণে বিভ্রান্তি ও ভুলের সৃষ্টি করেছিল। সেখানে কোন গোত্র বসবাস করত তা জানা ব্যতিরেকে এই বিভ্রান্তি নিরসন সম্ভব নয়। আরব উপদ্বীপের গোত্রগুলোর আবাসস্থল নিয়ে যারা লিখেছেন, তাদের অনেকেই এই বিষয়টি অনুধাবন করতে পারেননি যে একই নাম একাধিক ভিন্ন ভিন্ন স্থানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে।

উপরে উল্লিখিত এবং অনুল্লিখিত অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বলা যায় যে, আমাদের আরবি বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্যে এই নিদর্শনটি অত্যন্ত মূল্যবান এবং যারা সামগ্রিকভাবে আরবি ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করেন, তাদের জন্য এটি গভীর প্রভাববাহী।

আর এই নিদর্শনের মূল প্রবর্তক কে ছিলেন সে প্রসঙ্গে বলা যায়—তিনি নিঃসন্দেহে আরব উপদ্বীপ এবং এর প্রাচীন বেদুইন অধিবাসীদের সম্পর্কে গভীর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও জ্ঞানবান কেউ ছিলেন। সংকলন যুগের সূচনালগ্নে আল-আসমাঈ এবং অন্যান্য আলেমদের মতো প্রখ্যাত বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে এটি আমাদের কাছে পৌঁছেছে, যাদের মূল কাজ ছিল কেবল সংকলন করা। তাই গবেষকের কাছে মূল বিষয় হলো সঠিক ও সূক্ষ্ম তথ্য লাভ করা—আর এই গ্রন্থেই তিনি তা খুঁজে পাবেন।
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ৯)
ولئن وجدنا كثيرا من نصوص أثرنا هذا منسوبة إلى الأصمعي - كما نجد في «معجم البلدان» لياقوت الحموي - فإننا نجد آخرين نقلوا جزءا كبيرا منها غير منسوبة اليه، ونجد الكتاب - في مجموعه - منسوبا إلى عالم جليل أصفهانيّ من علماء القرن الثالث الهجري، ممن جاء بعد الأصمعي.

وكل ما يتطلع اليه الباحثون هو أن يظفروا بشيء جديد عن الجزيرة وسكانها، وسيجدون طرفا نافعا مفيدا من ذلك في هذا الكتاب، لا يجدونه في غيره مما وصل اليهم الآن. وهو من أقدم ما كتب عن تحديد منازل القبائل في قلب جزيرة العرب، وهو - في الوقت نفسه - وثيق الصلة برواة وعلماء وشعراء من أهل تلك البلاد، ممن يفوقون الأصمعي وأمثاله خبرة ودراية ومعرفة بمواضع الجزيرة، وبسكانها، ممن هم أساتذة الأصمعي وغيره ممن قاموا بتدوين أخبار أهل البادية وما يتصل بها من معلومات.
যদিয়ো আমরা আমাদের এই ঐতিহ্যের অনেক পাঠ আসমায়ীর প্রতি সম্পর্কিত পাই—যেমনটি ইয়াকুত আল-হামাভীর ‘মু’জামুল বুলদান’-এ পাওয়া যায়—তবুও আমরা অন্যদের দেখতে পাই যারা এর একটি বড় অংশ তাঁর প্রতি সম্বন্ধ না করেই বর্ণনা করেছেন। এবং আমরা এই গ্রন্থটিকে—এর সামগ্রিকতায়—তৃতীয় হিজরি শতকের একজন সম্মানিত ইস্পাহানি আলিমের প্রতি সম্পর্কিত পাই, যিনি আসমায়ীর পরবর্তী যুগের ছিলেন।

গবেষকরা যা কিছু প্রত্যাশা করেন তা হলো আরব উপদ্বীপ এবং এর অধিবাসীদের সম্পর্কে নতুন কিছু লাভ করা। তারা এই গ্রন্থে তার একটি উপকারী ও ফলপ্রসূ অংশ খুঁজে পাবেন, যা তাদের কাছে এ পর্যন্ত পৌঁছানো অন্য কোনো গ্রন্থে পাওয়া যায় না। এটি আরব উপদ্বীপের অভ্যন্তরে গোত্রসমূহের আবাসস্থল নির্ধারণ সম্পর্কে লিখিত প্রাচীনতম রচনাগুলোর অন্যতম। একই সাথে এটি সেই ভূখণ্ডের বর্ণনাকারী, আলিম ও কবিদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত, যারা উপদ্বীপের স্থানসমূহ এবং এর অধিবাসীদের সম্পর্কে অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও পরিচিতির ক্ষেত্রে আসমায়ী ও তাঁর সমসাময়িকদের চেয়েও অগ্রগামী ছিলেন; যারা ছিলেন আসমায়ী এবং মরুচারী বেদুইনদের সংবাদ ও সংশ্লিষ্ট তথ্যসমূহ লিপিবদ্ধকারীদের উস্তাদ।
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌من مؤلفه؟!

‌‌جزيرة العرب للأصمعي

[هذا بحث ممتع لا من حيث تعلقه بهذا الكتاب، بل من حيث شموله، القاء الدكتور صالح العلي أثناء اجتماع مؤتمر (مجمع اللغة العربية) في القاهرة، في دورته الثالثة والثلاثين في 24 شوال سنة 1386 (2/ 1967/4)]

«جزيرة العرب» للأصمعي واحد من الكتب الكثيرة القيمة المحسوبة في عداد المفقود من التراث الفكري العربي الضخم، لم يبق منه إلا مقتطفات نقلتها بعض المؤلفات المتأخرة، وخاصة معجم البلدان لياقوت، حتى قادتني الصدف خلال تتبعي لأحوال الجزيرة والشرق الأوسط في صدر الاسلام إلى الاطلاع على مخطوط عن جزيرة العرب وضع على خلافه اسم مؤلفه «لغدة الأصبهاني» فذكرتني مادته بما نقله الأقدمون من نصوص عن جزيرة العرب، ووجدت أغلب ما نقلوه واردا عرضا في هذا المخطوط مما حملني على الاعتقاد بأنه هو كل أو معظم كتاب الأصمعي، فنسخت الكتاب ودونت في هامش نسختي أرقام صفحات الكتب التي نقلت ما ورد في متنه، وسجلت ما بدا لي من ملاحظات عن المخطوطة ومادتها، ثم ركنت كل ذلك مع أكداس أخرى من أبحاث ناقصة، ومرت الأيام تتابع، والسنين تتلاحق، وأنا خلالها أفكر في أهمية ما جاء فيه، وبجدارته بالنشر، ولما لم أسمع بأحد معتزم نشره، فقد أخذت أفكر في الشكل الذي ينبغي أن ينشر عليه.
এর লেখক কে?!

আল-আসমাঈ রচিত জাজিরাতুল আরব

[এটি একটি চমৎকার গবেষণা, কেবল এই বইটির সাথে এর সংশ্লিষ্টতার দিক থেকেই নয়, বরং এর ব্যাপকতার দিক থেকেও; যা ডক্টর সালেহ আল-আলী কায়রোতে ‘আরবি ভাষা একাডেমি’ সম্মেলনের তেত্রিশতম অধিবেশনে ২৪ শাওয়াল ১৩৮৬ হিজরি (৪/২/১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দ) তারিখে উপস্থাপন করেছিলেন]

আল-আসমাঈ রচিত «জাজিরাতুল আরব» হলো বিশাল আরবি বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের মধ্য থেকে হারিয়ে যাওয়া বইগুলোর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচিত অনেকগুলো মূল্যবান বইয়ের একটি। পরবর্তীকালের কিছু লেখকের রচনায় উদ্ধৃত কিছু অংশ বিশেষ করে ইয়াকুতের ‘মুজামুল বুলদান’-এ যা উদ্ধৃত হয়েছে তা ছাড়া এর আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। অবশেষে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে আরব উপদ্বীপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার সময় কাকতালীয়ভাবে আমি আরব উপদ্বীপ সম্পর্কিত একটি পাণ্ডুলিপির সন্ধান পাই, যাতে এর লেখকের নাম ভুলবশত «লুগদাহ আল-আসবাহানি» হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এর বিষয়বস্তু আমাকে আরব উপদ্বীপ সম্পর্কে প্রাচীনদের উদ্ধৃত করা পাঠ্যগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। আমি দেখতে পাই যে, তারা যা কিছু উদ্ধৃত করেছিলেন তার বেশিরভাগই এই পাণ্ডুলিপিতে প্রাসঙ্গিকভাবে বিদ্যমান রয়েছে, যা আমাকে এই বিশ্বাসে উপনীত করে যে এটিই আল-আসমাঈর সম্পূর্ণ বই অথবা তার অধিকাংশ। ফলে আমি বইটি অনুলিপি করি এবং আমার অনুলিপির মার্জিনে সেইসব বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর লিখে রাখি যেগুলোতে এর মূল পাঠ থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করা হয়েছিল। আমি পাণ্ডুলিপি এবং এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে আমার মনে আসা পর্যবেক্ষণগুলোও লিপিবদ্ধ করি। এরপর আমি সেসবকে অন্যান্য অসম্পূর্ণ গবেষণার স্তূপের সাথে একপাশে সরিয়ে রাখি। দিন অতিবাহিত হতে থাকে এবং বছর পার হয়ে যায়। এই সময়ের মধ্যে আমি এতে থাকা তথ্যের গুরুত্ব এবং এর প্রকাশের যোগ্যতার কথা ভেবেছি। যেহেতু আমি কাউকে এটি প্রকাশের উদ্যোগ নিতে দেখিনি, তাই আমি এটি কোন আঙ্গিকে প্রকাশ করা উচিত তা নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করি।
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ১১)
ومن المعلوم أنه لا توجد قواعد عامة معترف بها يسير على هديها الناشرون، وقد أدى فقدان هذه القواعد إلى كثير من الاضطراب والبلبلة، وإلى تنوع صور المنشورات، وإلى حيرة كثير من الناشرين، فبعضهم يرى نشر النص كما ورد في المخطوط دون تبديل، وبذلك يعرض الناشر للقارئ الكتاب كما أراده ناسخ المخطوط، أو راوي الكتاب، وبعضهم يرى ضرورة تدقيق النص وتثبيته على وجه الصواب، وفريق يرى بالاضافة إلى ذلك، أن تثبت في الهوامش اختلاف قراءات النسخ ومن المعلوم أن كل هذا أمر معقد في في نشر كتب ألفت في عصور لم تخترع فيها الطباعة بعد، ولم تكتسب حقوق المؤلفين الشرعية التي صارت لها، بالرغم من أن بعض المؤلفين حددوا النسخة المعتمدة بمن يجيزونه روايتها. ولا ننسى أن كثيرا من المؤلفين كان يعيد النظر في ما يؤلفه فيبدل فصوله، ويحذف أو يضيف أو يعدل ما يراه، وبذلك تصلنا من المؤلف الواحد عدة نسخ مختلفة في مادتها وتبويبها.

ولا تقف مشاكل نشر الكتب عند تثبيت النص بل تتعداها إلى مقدار ما تمتد اليه الهوامش، فهل يكتفى فيها بمجرد ذكر اختلاف القراءات ومصادر المادة المثبتة في المتن؟ أم تمتد إلى شرح هذه المادة وتوضيحها وذكر ما ذكرته المصادر الأخرى عنها؟ أي هل يكون واجب الناشر عرض النص المحقق بالشكل الذي أراده المؤلف، أم وضعه في نطاق يجعله ملذا ومفيدا للقارئ المعاصر بكتابة مقدمة وافية عن الكتاب ومؤلفه، ومادة بحثه، ومكانتها في تاريخ الفكر والحياة المعاصرة؟

لا توجد في البلاد العربية قواعد عامة أو مبادئ متفق عليها يسير على هديها العاملون على نشر المخطوطات، وكل ما نجده آراء فردية عرضها بعض الباحثين من العرب والمستعربين، وتطبيقات متعددة منوعة قام بها كل ناشر حيث سار على ما تراءى له أصولا جديرة بالاتباع. ولكن كل هذه الآراء والتطبيقات لم ترتفع إلى مستوى القواعد العامة التي تكون نبراسا يهتدي به
এটা সুবিদিত যে, এমন কোনো স্বীকৃত সাধারণ নিয়মাবলী নেই যার দিকনির্দেশনায় প্রকাশকরা পথ চলবেন। এই নিয়মাবলীর অনুপস্থিতি ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে, প্রকাশনার ধরণকে বিচিত্র করেছে এবং অনেক প্রকাশককে সংশয়ে নিপতিত করেছে। কেউ কেউ পাণ্ডুলিপিতে যেভাবে পাঠ্যটি এসেছে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সেভাবেই তা প্রকাশের পক্ষপাতী, যার মাধ্যমে প্রকাশক পাঠকের কাছে গ্রন্থটি সেভাবেই উপস্থাপন করেন যেভাবে পাণ্ডুলিপির লিপিকার বা গ্রন্থের বর্ণনাকারী চেয়েছিলেন। আবার কেউ কেউ পাঠ্যটিকে যাচাই-বাছাই করা এবং একে নির্ভুলভাবে স্থির করাকে আবশ্যক মনে করেন। অন্য এক দল এর পাশাপাশি বিভিন্ন অনুলিপির পাঠান্তরকে পাদটীকায় লিপিবদ্ধ করার অভিমত ব্যক্ত করেন। এটা জানা কথা যে, মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কারের পূর্বে রচিত গ্রন্থসমূহ প্রকাশের ক্ষেত্রে এই পুরো বিষয়টি অত্যন্ত জটিল, কারণ তখন লেখকদের বর্তমানের মতো অর্জিত শরয়ী স্বত্বাধিকারও ছিল না; যদিও কিছু লেখক তাদের অনুমোদিত বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য অনুলিপি নির্দিষ্ট করে দিতেন। আমরা এও ভুলে যাই না যে, অনেক লেখকই তাদের রচনার ওপর পুনরায় দৃষ্টিপাত করতেন, ফলে এর অধ্যায়সমূহ পরিবর্তন করতেন এবং নিজের বিবেচনানুযায়ী কোনো অংশ বিলুপ্ত, সংযোজন কিংবা সংশোধন করতেন। এর ফলে একই লেখকের কাছ থেকে আমরা এমন একাধিক অনুলিপি পাই যার বিষয়বস্তু ও বিন্যাসে ভিন্নতা রয়েছে।

গ্রন্থ প্রকাশের সমস্যাবলি কেবল মূল পাঠ্য সাব্যস্ত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা পাদটীকা কতটুকু দীর্ঘ হবে সেই পর্যন্ত বিস্তৃত। সেখানে কি কেবল পাঠান্তর এবং মূল পাঠে থাকা তথ্যের উৎস উল্লেখ করাই যথেষ্ট হবে? নাকি এর পরিধি এই বিষয়ের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য উৎস থেকে এ সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্য উল্লেখ করা পর্যন্ত প্রসারিত হবে? অর্থাৎ প্রকাশকের দায়িত্ব কি কেবল লেখক যেভাবে চেয়েছিলেন সেভাবে সম্পাদিত পাঠ্যটি উপস্থাপন করা, নাকি একে এমন এক আঙ্গিকে উপস্থাপন করা যা সমকালীন পাঠকের জন্য উপভোগ্য ও ফলপ্রসূ হবে—গ্রন্থটি, এর লেখক, এর গবেষণার বিষয় এবং চিন্তার ইতিহাস ও সমকালীন জীবনে এর গুরুত্ব সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ভূমিকা রচনার মাধ্যমে?

আরব দেশগুলোতে পাণ্ডুলিপি প্রকাশের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পরিচালনার জন্য কোনো সাধারণ নিয়ম বা সর্বসম্মত মূলনীতি নেই। আমরা যা কিছু পাই তা কেবল আরব ও প্রাচ্যবিদ গবেষকদের উপস্থাপিত কিছু ব্যক্তিগত অভিমত এবং প্রতিটি প্রকাশকের কৃত বিবিধ প্রয়োগ, যেখানে প্রত্যেকে নিজের দৃষ্টিতে অনুসরণের যোগ্য মূলনীতি অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছেন। কিন্তু এই সকল অভিমত ও প্রয়োগসমূহ সাধারণ নিয়মের সেই স্তরে উন্নীত হয়নি যা পথপ্রদর্শক আলো হিসেবে কাজ করতে পারে।
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ১২)
الناشرون، ومعيارا على ضوئه يحكم الناقدون بحسن النشر وعدمه. إن هذا المجمع الذي ضم خيرة من لهم الفطنة والخبرة والتمرس في هذا الميدان، وإن المكانة العظيمة التي يشغلها أعضاؤه، وما تتسم به نظرتهم من أفق واسع في الزمان والمكان، وما يتجلى في تفكيرهم من عمق واتزان، يجعله أجدر مؤسسة بوضع قواعد شاملة مفصلة واضحة عملية للنشر، جديرة بالتطبيق تكون معيارا لتقييم الجهد، وتضع حدا لهذا التنوع المنبعث من الاجتهادات الشخصية، والذي وصل حدا يسبب الارباك والاضطراب.

لقد تم نشر مقدار عظيم من التراث العربي في مختلف ميادين المعرفة، وساهم في هذا النشر عدد عظيم من الناشرين العرب والأعاجم، من العلماء والتجار، وتعدد نشرات عدد غير قليل من الكتب، ولكن بالرغم من ذلك لا تزال كثير من المخطوطات المهمة تنتظر الطبع، وكثير من المنشورات بحاجة إلى إعادة طبع يتوفر فيه شرائط النشر العلمي، ولعل من أبرز مظاهر التقدم الفكري في العالم العربي تزايد عدد المقدرين لتراثنا الفكري، ونمو الرغبة في المساهمة في هذا النشر، غير أن كثيرا منهم يقف حائرا في أول الطريق، وهو بحاجة إلى الهداية إلى ما ينبغي أن يسبق غيره في النشر لأهميته. وإني أرى أن مجمعكم الموقر هو من أولى من يقوم بهذه الهداية، وأن يكون ذلك عن طريق نشر قوائم يعاد النظر فيها كل سنتين أو أكثر في المخطوطات الأجدر بالنشر، لقيمة مادتها العلمية أو لإصالة نسختها، وأن تشمل مواضيع متعددة في أزمنة مختلفة، مع تفضيل مخطوطات المواضيع التي تبحث في مشاكل تشغل بالنا بالدرجة الأولى.

ومما يتصل بأمر النشر ضرورة تنسيق جهود الناشرين لغرض تحقيق أقصى المنافع منها.

فمن المعلوم أن المخطوطات الجديرة بالنشر كثيرة، ومعظمها سهل المنال لمن يريد قراءتها والاستفادة منها أو نشرها - وليس في البلاد العربية قيد على من يريد النشر.
প্রকাশকগণ, এবং একটি মানদণ্ড যার আলোকে সমালোচকগণ প্রকাশনার উৎকর্ষ বা অপকর্ষ বিচার করেন। এই একাডেমি, যা এই ক্ষেত্রের প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও পারদর্শিতার অধিকারীদের মধ্যে সেরাদের অন্তর্ভুক্ত করেছে, এবং এর সদস্যগণ যে সুমহান মর্যাদায় আসীন, আর সময় ও স্থানের প্রেক্ষিতে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গির যে দিগন্তপ্রসারী ব্যাপ্তি রয়েছে এবং তাঁদের চিন্তাধারায় যে গভীরতা ও ভারসাম্য পরিলক্ষিত হয়, তা এই প্রতিষ্ঠানটিকে প্রকাশনার ক্ষেত্রে ব্যাপক, বিস্তারিত, সুষ্পষ্ট ও ব্যবহারিক নীতিমালা প্রণয়নের সবচেয়ে যোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। এই নীতিমালাসমূহ বাস্তবায়নের যোগ্য হবে যা পরিশ্রম মূল্যায়নের মানদণ্ড হিসেবে গণ্য হবে এবং ব্যক্তিগত ইজতিহাদ থেকে উদ্ভূত সেই বৈচিত্র্যের পরিসমাপ্তি ঘটাবে যা বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় আরবি ঐতিহ্যের এক বিশাল অংশ প্রকাশিত হয়েছে এবং এই প্রকাশনা কার্যে আলেম ও ব্যবসায়ীসহ বিপুল সংখ্যক আরব ও অনারব প্রকাশক অবদান রেখেছেন। অনেক গ্রন্থের একাধিক সংস্করণও প্রকাশিত হয়েছে; তা সত্ত্বেও বহু গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপি এখনও মুদ্রণের অপেক্ষায় রয়েছে এবং অনেক প্রকাশনার পুনরায় মুদ্রণ প্রয়োজন যেখানে তাত্ত্বিক প্রকাশনার শর্তাবলি বিদ্যমান থাকবে। সম্ভবত আরব বিশ্বে বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতির অন্যতম উজ্জ্বল দিক হলো আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের মূল্যায়নকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং এই প্রকাশনা ক্ষেত্রে অবদান রাখার আকাঙ্ক্ষার প্রসার। তবে তাদের অনেকেই পথের শুরুতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন এবং গুরুত্বের বিচারে কোন পাণ্ডুলিপিটি আগে প্রকাশ করা সমীচীন সে বিষয়ে তাঁদের দিকনির্দেশনার প্রয়োজন রয়েছে। আর আমি মনে করি যে, আপনাদের এই সম্মানিত একাডেমিই এই দিকনির্দেশনা প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য, এবং তা হতে পারে এমন পাণ্ডুলিপিগুলোর তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে যা প্রকাশের জন্য অধিকতর উপযোগী এবং প্রতি দুই বছর বা তার বেশি সময় অন্তর তা পুনর্নিরীক্ষণ করা হবে। এই উপযোগিতার ভিত্তি হবে পাণ্ডুলিপিগুলোর বৈজ্ঞানিক মূল্য অথবা সেগুলোর মূল পাঠের বিশুদ্ধতা। এই তালিকায় বিভিন্ন সময়ের নানাবিধ বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত, তবে সেই বিষয়গুলোর পাণ্ডুলিপিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন যা আমাদের সমসাময়িক মৌলিক সমস্যাবলি নিয়ে আলোচনা করে।

প্রকাশনা সংক্রান্ত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট আরেকটি দিক হলো সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রকাশকদের প্রচেষ্টার মধ্যে সমন্বয় সাধনের প্রয়োজনীয়তা।

এটি সুপরিচিত যে, প্রকাশের যোগ্য পাণ্ডুলিপির সংখ্যা অনেক এবং যারা এগুলো পাঠ করতে, তা থেকে উপকৃত হতে বা প্রকাশ করতে চান তাদের অধিকাংশের জন্যই এগুলো সহজলভ্য—আর আরব দেশগুলোতে যারা প্রকাশ করতে ইচ্ছুক তাদের ওপর কোনো প্রকার বাধানিষেধ নেই।
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقد سبب هذا بالاضافة إلى عزلة معظم الباحثين وقلة اتصالهم: أن يعمل أكثر من واحد في نشر كتاب واحد من دون علم أحدهما بالآخر، مما يؤدي إلى ضياع كثير من الجهد الذي كان بالامكان الاستفادة منه في ميادين أخرى أو نشر كتب أخرى. لذلك فإني أرى من المفيد إقرار جهة أو مؤسسة لتكون مرجعا لمن يريد معرفة ما يجري نشره من مخطوطات، فيخبر من يقوم بالنشر هذه الجهة لتطلع عليها وتنبه من أراد النشر بعده إلى العمل القائم، فيتحاشى المتأخر العمل وينصرف إلى غيره، أو يؤيد السابق في العمل، وبذلك تنزل نوعا من العقاب الأدبي ببعض المناكفين في هذا الميدان العامي. وأرى هنا أن مجمعكم الموقر هو المؤسسة التي يمكن أن تكون المرجع، او تقترح المرجع الملائم لتحقيق هذا الغرض، فإن لهم من سعة الاطلاع وتقدم في السن وسمو في النفس ما يجعلهم جديرين بالقيام بهذا الواجب.

قد تتباين آراء الباحثين في تقدير الأهم من جوانب الحضارة، ويختلفون في اختيار المواضيع لأبحاثهم، ولكن تبقى حقيقة ثابتة أراها ترقى إلى مستوى البدهيات وهي أن كل دراسة لا تأخذ بنظر الاعتبار مكان الموضوع والناس الذين يتصل بهم الموضوع، تكون ناقصة، ويتعرض القائم بها إلى الوقوع في أخطاء أو على الأقل إلى الغموض المربك. وهذه الحقيقة أوثق ما تكون صلة بعمل المجمع اللغوي الذي يهدف أعضاؤه الكرام تفهم لغة العرب الأصيلة ويعملون على إحياء ما يفيدنا منها في هذه الحياة المعاصرة المتسعة المعقدة.

ولا ريب أن كثيرا مما نتصوره تعدد معان، أو مرادفات، أو أشباه ونظائر، أو تنوع في القراءات والنحو والصرف، إنما مرجعه تعدد اللهجات الناجمة بدورها من وجود مجتمعات متعددة في الجزيرة يحتفظ كل منها ببعض الأساليب الخاصة به في الحياة أو التعبير.

فإذا كان اعتبار اللغة العربية تتبع قواعد معينة موحدة جامدة هو خطأ يفضحه القرآن الكريم بما فيه من تنوع في معاني المفردات وأساليب تركيب
এর সাথে অধিকাংশ গবেষকের বিচ্ছিন্নতা এবং তাদের মাঝে যোগাযোগের অভাবও যুক্ত হয়েছে: যেমন একাধিক ব্যক্তি একে অপরের অজান্তেই একটি বই প্রকাশের কাজ করেন, যা এমন অনেক শ্রমের অপচয় ঘটায় যা অন্য কোনো ক্ষেত্রে কাজে লাগানো বা অন্য বই প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা সম্ভব ছিল। তাই আমি মনে করি, পাণ্ডুলিপি প্রকাশের ক্ষেত্রে বর্তমানে কী কাজ চলছে তা জানার জন্য একটি কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানকে রেফারেন্স হিসেবে নির্ধারণ করা ফলপ্রসূ হবে। যারা প্রকাশনার কাজ করবেন তারা এই কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন, যাতে তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন এবং পরবর্তীতে কেউ একই কাজ করতে চাইলে তাকে চলমান কাজ সম্পর্কে সতর্ক করতে পারেন। ফলে পরবর্তী ব্যক্তি সেই কাজ এড়িয়ে অন্য কাজে মনোনিবেশ করতে পারবেন, অথবা পূর্ববর্তী ব্যক্তির কাজকে সমর্থন করবেন। এর মাধ্যমে এই সাধারণ অঙ্গনের কিছু কলহপ্রিয় ব্যক্তির ওপর এক ধরণের নৈতিক শাস্তি আরোপ করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে আমি মনে করি যে, আপনাদের এই সম্মানিত একাডেমিই সেই প্রতিষ্ঠান হতে পারে যা রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে, অথবা এই উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কোনো উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব দেবে। কেননা তাদের ব্যাপক জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং উন্নত মানসিকতা তাদের এই দায়িত্ব পালনে যোগ্য করে তুলেছে।

সভ্যতার বিভিন্ন দিকের গুরুত্ব বিচারে গবেষকদের মতামতে ভিন্নতা থাকতে পারে এবং তারা তাদের গবেষণার বিষয়বস্তু নির্বাচনেও দ্বিমত পোষণ করতে পারেন, কিন্তু একটি ধ্রুব সত্য রয়ে যায় যা আমার দৃষ্টিতে স্বতঃসিদ্ধের পর্যায়ে পড়ে। তা হলো, যেকোনো গবেষণা যদি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের স্থান এবং সেই বিষয়ের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গুরুত্বের কথা বিবেচনায় না নেয়, তবে তা অসম্পূর্ণ থেকে যায় এবং গবেষকও ভুলের শিকার হন অথবা অন্তত বিভ্রান্তিকর অস্পষ্টতায় নিপতিত হন। এই সত্যটি ভাষা একাডেমির কাজের সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে জড়িত, যার সম্মানিত সদস্যবৃন্দ মূল আরবি ভাষা অনুধাবনের লক্ষ্য রাখেন এবং এই বিস্তৃত ও জটিল সমকালীন জীবনে আমাদের জন্য যা যা উপকারী তা পুনরুজ্জীবিত করার কাজ করে যাচ্ছেন।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমরা যে বিষয়গুলোকে একাধিক অর্থ, প্রতিশব্দ, সাদৃশ্যপূর্ণ শব্দ অথবা কিরাত, নাহু ও সরফের বৈচিত্র্য হিসেবে মনে করি, তার মূল উৎস হলো উপভাষার বৈচিত্র্য। এই উপভাষাগত বৈচিত্র্য আবার আরব উপদ্বীপের নানাবিধ সমাজের অস্তিত্ব থেকে উদ্ভূত হয়েছে, যেখানে প্রতিটি সমাজ জীবনযাপন বা ভাবপ্রকাশের ক্ষেত্রে নিজস্ব কিছু বিশেষ শৈলী সংরক্ষণ করে।

সুতরাং আরবি ভাষাকে নির্দিষ্ট, অভিন্ন ও অনমনীয় কিছু ব্যাকরণিক নিয়মের অনুসারী মনে করা একটি ভুল, যা পবিত্র কুরআন তার শব্দের অর্থের বৈচিত্র্য এবং বাক্য গঠনশৈলীর বৈচিত্র্যের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে উন্মোচিত করে দেয়।
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ১৪)
الجمل، وطرائق اللفظ، وإذا كنا كالأقدمين، ونحن على حق، نرى أن المكان الأول لمعرفة الأصيل في لغة العرب وثقافتها هو جزيرة العرب، فإن واجبنا الأول هو دراسة الجزيرة العربية وأحوالها بدقة وتفصيل، أو على الأقل تشجيع البحوث عنها.

ولدراسة جزيرة العرب أهمية خاصة في تاريخ العرب والاسلام، ففيها ظهر الرسول صلى الله عليه وسلم ودعى إلى الإسلام وأسس دولة الإسلام، وعلى أهلها اعتمد الرسول والخلفاء الراشدون في فتح البلاد وتوسيع رقعة دولة الإسلام، ومن أبنائها كان الجند الذين وسعوا حدود دولة الإسلام وثبتوا فيها الأمن والنظام ومنهم كان الخلفاء والقواد وكبار رجال الإدارة الذين سيروا دفة الدولة.

والحق أن مثلهم العليا المنعكسة في الشعر والأدب سادت في عصرهم، وكانت أساس الحركة الفكرية في العصور الإسلامية. وان مجمعكم العتيد باستهدافه الحفاظ على لغة العرب، وتثبيتها في مختلف مجالات الحياة والفكر بقدر الامكان، إن هو في الحقيقة إلا يستهدف حفظ لغة أهل جزيرة العرب التي احتفظت أكثر من غيرها بالأصيل، وتأثرت أقل من غيرها بالدخيل. ولما علا صوت الأعاجم في الثقافة، وبدا أثرهم يظهر في حياة العرب ولغتهم، وتجلت الحاجة إلى معرفة الأصيل وتثبيته، لجأ أسلافكم من علماء اللغة والباحثين فيها إلى الصحراء، يستمدون منها المعرفة الصحيحة، فأخذوا يتتبعون العلم في منابعه والمعرفة من مصادرها.

ولا بد هنا من الاشارة إلى أمر أوقع الغافلين عنه في أخطاء فاضحة، وخلق في أذهانهم بلبلة محيرة، ألا وهو التنوع الكبير في أجزاء الجزيرة، والتبدل الذي تعرضت له. ولست أريد الدخول هنا في عرض أو مناقشة النظريات التي لقيت صدى في بعض الأوساط عن تبدل مناخ الجزيرة في التاريخ الموغل في القدم كما يقول الجغرافيون، أو قبيل الإسلام كما يرى (كايتاني) ومتابعوه، بل اقتصر على لفت النظر إلى التنوع في تركيب الأرض وأحوال
বাক্য গঠন, উচ্চারণের পদ্ধতিসমূহ; আর আমরা যদি পূর্বসূরিদের মতো মনে করি—এবং আমরা সত্যের ওপরই রয়েছি—যে আরবি ভাষা ও সংস্কৃতির মৌলিকত্ব জানার প্রধান স্থান হলো আরব উপদ্বীপ, তবে আমাদের প্রথম কর্তব্য হলো আরব উপদ্বীপ এবং এর অবস্থাসমূহ সূক্ষ্ম ও বিস্তারিতভাবে অধ্যয়ন করা, অথবা অন্তত এর ওপর গবেষণাকে উৎসাহিত করা।

আরব ও ইসলামের ইতিহাসে আরব উপদ্বীপ অধ্যয়নের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এখানেই রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) আবির্ভূত হয়েছিলেন, ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন এবং ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর ওপর এবং এর অধিবাসীদের ওপর রাসূল ও খুলাফায়ে রাশিদুন দেশসমূহ বিজয় এবং ইসলামি রাষ্ট্রের পরিধি বিস্তারে নির্ভর করেছিলেন। এর সন্তানদের মধ্য থেকেই সেই সব সৈন্য তৈরি হয়েছিল যারা ইসলামি রাষ্ট্রের সীমানা প্রসারিত করেছিলেন এবং সেখানে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তাদের মধ্য থেকেই খলিফাগণ, সেনাপতিগণ এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ এসেছিলেন যারা রাষ্ট্রের দিকনির্দেশনা প্রদান করেছিলেন।

প্রকৃতপক্ষে, কবিতা ও সাহিত্যে প্রতিফলিত তাদের সুউচ্চ আদর্শসমূহ তাদের যুগে আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং ইসলামি যুগসমূহের বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল। আপনাদের এই প্রতিষ্ঠিত একাডেমি আরবি ভাষাকে রক্ষা করার এবং জীবন ও চিন্তার বিভিন্ন ক্ষেত্রে একে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ মাত্রায় সুপ্রতিষ্ঠিত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তা প্রকৃতপক্ষে আরব উপদ্বীপের অধিবাসীদের ভাষাকেই রক্ষা করার নামান্তর, যা অন্য সবকিছুর চেয়ে বেশি মৌলিকত্ব ধরে রেখেছে এবং বিজাতীয় প্রভাবে সবচেয়ে কম প্রভাবিত হয়েছে। যখন সংস্কৃতিতে অনারবদের আধিপত্য বৃদ্ধি পেল এবং আরবদের জীবন ও ভাষায় তাদের প্রভাব পরিলক্ষিত হতে শুরু করল, তখন বিশুদ্ধ ও মৌলিক রূপটি জানার ও তা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠল। এমতাবস্থায় আপনাদের পূর্বসূরি ভাষাবিদ ও গবেষকগণ মরুভূমির শরণাপন্ন হলেন, যেন সেখান থেকে বিশুদ্ধ জ্ঞান আহরণ করতে পারেন। ফলে তারা জ্ঞানের মূল উৎস এবং তথ্যের আদি আধার থেকে জ্ঞান অনুসন্ধান করতে শুরু করলেন।

এখানে এমন একটি বিষয়ের অবতারণা করা আবশ্যক যা থেকে গাফেল ব্যক্তিরা জঘন্য ভুলের শিকার হয়েছেন এবং যা তাদের মনে বিভ্রান্তিকর সংশয় সৃষ্টি করেছে; আর তা হলো আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন অঞ্চলের বিশাল বৈচিত্র্য এবং এর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পরিবর্তনসমূহ। আমি এখানে সেই সকল তত্ত্বের অবতারণা বা আলোচনা করতে চাই না যা ভৌগোলিকবিদদের মতে অতি প্রাচীনকালে কিংবা কাইটানি ও তাঁর অনুসারীদের মতে ইসলামের প্রাক্কালে আরব উপদ্বীপের জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো কোনো মহলে প্রভাব ফেলেছে; বরং আমি কেবল ভূমির গঠন ও অবস্থার বৈচিত্র্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব।
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ১৫)
سطحها، ومدى توفر المياه والنباتات والمزروعات فيها، وما يتبع ذلك من تنوع في مظاهر الحضارة، وأثر ذلك في تنوع تفاصيل مظاهر الحياة واللغة.

لم تكن الجزيرة في تاريخها منعزلة عن أحداث البلاد المجاورة لها في الحياة السياسية أو الحضارية، فإذا تركنا الحديث عن صلاتها بالعالم قبل الاسلام، فإنها احتفظت منذ ظهور الاسلام بصلات وثيقة مع أقاليم العالم الاسلامي، بفضل العدد الكبير من أبنائها الذين ساهموا في الفتوح، وصاروا مقاتلة في الدولة، واستقروا في الأمصار، هذا بجانب العدد الكبير الذي كان يمر بها سنويا في طريقه إلى الحج، أو يستقر مقيما في مدنها المقدسة أو في مراكز الحياة الاقتصادية فيها. وأخيرا فإن صلة جزيرة العرب بما يجاورها ظلت وثيقة بفضل القوافل التجارية التي كانت تمر بها والمنتوجات التي كانت تصدرها.

وقد عرضها كل ذلك إلى تطورات كبيرة، وأوجد فيها أحوالا متبدلة.

فإذا كانت دراسة التنوع في الجزيرة ضرورية، فإن مراعاة التطورات الزمنية أمر أساسيّ لفهم أحوالها على وجه الصحة.

تكتسب دراسة أوضاع الجزيرة في صدر الاسلام أهمية خاصة، ففي هذه الفترة اعتنق أبناؤها الإسلام وقاتلوا من أجل تكوين وتوسيع وتثبيت دولة الاسلام، وساهموا في الفتوح والادارة، واعتزوا بلغتهم وثقافتهم وآدابهم وحضارتهم، ولما حاول بعض الأعاجم في الأمصار خاصة، تحدي هذه النظم والمفاخرة بتراث الأعاجم، انبرى عدد كبير يدافع عن البداوة وتراث الصحراء.

وشارك في هذا الدفاع الخلفاء والعلماء، فإنهم عرب ينحدرون من عالم كبير من علماء العربية، وقد عينوا لادارة أقاليم دولتهم وقيادة جيوشها رجالا أغلبهم من أقاربهم العباسيين، أي من العرب، وأودعوا تربية أولادهم لعلماء في العربية، وشجع الأولون جمع الشعر العربي البدوي، وقربوا علماءه
এর ভূপৃষ্ঠ, সেখানে পানি, উদ্ভিদ ও ফসলের প্রাপ্যতা এবং এর ফলে সভ্যতার বৈচিত্র্যপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ, এবং জীবন ও ভাষার নিগূঢ় দিকগুলোর বৈচিত্র্যের ওপর এর প্রভাব।

আরব্য উপদ্বীপ তার ইতিহাসে রাজনৈতিক বা তামাদ্দুনিক জীবনের ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ঘটনাবলি থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল না। ইসলামের পূর্ববর্তী বিশ্বের সাথে এর সম্পর্কের আলোচনা বাদ দিলেও, ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকে এটি মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এটি সম্ভব হয়েছে এর বিপুল সংখ্যক সন্তানদের মাধ্যমে যারা বিভিন্ন রাজ্যজয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন, রাষ্ট্রের যোদ্ধা হয়েছিলেন এবং বিভিন্ন জনপদে বসতি স্থাপন করেছিলেন। এর পাশাপাশি প্রতি বছর হজের উদ্দেশ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে যাতায়াত করত, অথবা এর পবিত্র শহরগুলোতে কিংবা এর অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে স্থায়ীভাবে বসবাস করত। পরিশেষে, বাণিজ্যিক কাফেলাসমূহ যা এর ভেতর দিয়ে যাতায়াত করত এবং এর উৎপাদিত পণ্যসমূহ যা রপ্তানি করা হতো, তার বদৌলতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে আরব্য উপদ্বীপের সম্পর্ক সুদৃঢ় ছিল।

এই সবকিছুই একে বড় ধরনের বিবর্তনের সম্মুখীন করেছে এবং সেখানে পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটিয়েছে।

সুতরাং যদি উপদ্বীপটির বৈচিত্র্য সম্পর্কে অধ্যয়ন করা জরুরি হয়, তবে এর সঠিক অবস্থা যথাযথভাবে অনুধাবনের জন্য সময়ক্রমিক বিবর্তনগুলো বিবেচনা করা একটি মৌলিক বিষয়।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে উপদ্বীপটির অবস্থা অধ্যয়ন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে; কারণ এই সময়েই এর অধিবাসীরা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং ইসলামি রাষ্ট্র গঠন, সম্প্রসারণ ও সুসংহত করার জন্য লড়াই করেছিলেন। তাঁরা রাজ্যজয় ও প্রশাসনিক কাজে অবদান রেখেছিলেন এবং নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও সভ্যতা নিয়ে গর্ববোধ করতেন। যখন বিশেষ করে বিভিন্ন জনপদে কিছু অনারব এই ব্যবস্থাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করার এবং অনারব ঐতিহ্যের বড়াই করার চেষ্টা করল, তখন এক বিশাল গোষ্ঠী মরুময় জীবন ও মরুভূমির ঐতিহ্যের প্রতিরক্ষায় সচেষ্ট হলো।

খলিফা ও ওলামায়ে কেরামও এই প্রতিরক্ষায় শরিক হয়েছিলেন; কেননা তাঁরা ছিলেন এমন আরব যারা আরবি ভাষা বিশারদদের এক সুবৃহৎ জগত থেকে উঠে এসেছেন। তাঁরা তাঁদের রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চল পরিচালনা এবং সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের জন্য এমন সব ব্যক্তিদের নিযুক্ত করেছিলেন যাদের অধিকাংশ ছিলেন তাঁদের আব্বাসীয় আত্মীয়-স্বজন তথা আরব বংশোদ্ভূত। তাঁরা তাঁদের সন্তানদের লালন-পালনের ভার আরবি ভাষা বিশেষজ্ঞদের ওপর ন্যস্ত করেছিলেন। পূর্বসূরি খলিফাগণ মরুময় আরবের কবিতা সংগ্রহের কাজে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন এবং এর পণ্ডিতদের সান্নিধ্য দান করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ১৬)
وأغدقوا على شعراء الجزيرة ومن ينسج على منوالهم العطاء بسخاء، وتمسكوا بالقرآن العربي ولم يسمحوا بترجمته، وكان في جندهم عدد من الأعراب، وفي حاشيتهم عدد من الأنصار وجماعة من العرب سموهم الصحابة، هذا فضلا عن أن جيشهم الخراساني كان أغلبه من عرب خراسان، وقواده من العرب. وأما العلماء فقد نشطوا لدراسة أحوال أهل الصحراء وتاريخهم ولغتهم وثقافتهم، وسعوا ما شاء لهم السعي في توخي الدقة والضبط فبرز في هذا العصر علماء أفذاذ وقفوا كالقمم الشامخة في الحركة الفكرية، واعتمد الناس على مؤلفاتهم فتناقلوها كلها أو بعضها. وقد أدى تقدير الناس انتاجهم إلى الاعتماد على ما كتبوه والاقتصار على النقل أو الشرح ويكفي لبيان مكانة علماء العصر العباسي الأول وأثرهم أن نشير إلى مكانة سيرة النبي صلى الله عليه وسلم لابن اسحق، وكتاب سيبويه في النحو، وطبقات الصحابة لابن سعد، وأوزان الخليل في الشعر، والأنساب لابن الكلبي، وأيام العرب لابي عبيدة، ومؤلفات أبي مخنف، وعمر بن شبة والمدائني والهيثم بن عدى، في أحداث القرن الأول. تلك المؤلفات التي كان تقدير الناس لها سببا في سيطرتها على الفكر العربي قرونا عدة، وجعلت الباحثين يقتصرون على نسخ المؤلفات الأولى أو الاقتباس منها دون محاولة التأليف في مواضيعها حتى جاء القرن السادس الهجري.

لقيت جزيرة العرب من علماء العصر العباسي اهتماما كبيرا، فقد درس عدد من هؤلاء العلماء أحوال الجزيرة وأوضاعها، وألفوا فيها كتبا غير قليلة أورد ابن النديم في كتابه «الفهرست» أسماء عدد كبير منها، كما نقل نتفا منها عدد غير قليل من المؤلفين المتأخرين، وخاصة البكري في «معجم ما استعجم» وياقوت في «معجم البلدان» والسمهودي في «وفاء الوفاء».

ويمكن تصنيف هذه المؤلفات إلى صنفين رئيسيين، أولهما: بحوث محددة عن مواضيع خاصة، كالكلام عن عشيرة واحدة أو مكان واحد. وقد أوردت في الفصل الذي أضفته إلى ترجمة كتاب علم التاريخ عند المسلمين قائمة
তারা জাযিরাতুল আরবের কবি এবং যারা তাদের শৈলী অনুসরণ করত তাদের ওপর অঢেল দান-দক্ষিণা বর্ষণ করতেন। তারা আরবি কুরআনকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছিলেন এবং এর অনুবাদের অনুমতি দেননি। তাদের সেনাবাহিনীতে বেশ কিছু বেদুইন ছিল এবং তাদের পারিষদবর্গে ছিল একদল আনসার ও একদল আরব যাদের তারা সাহাবী বলে অভিহিত করত। এছাড়া তাদের খোরাসানি বাহিনীর অধিকাংশ ছিল খোরাসানি আরব এবং এর সেনাপতিগণ ছিলেন আরব। আর আলেমদের কথা বলতে গেলে, তারা মরুচারী জনগণের অবস্থা, তাদের ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতি অধ্যয়নে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তারা সঠিকতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সাধ্যমতো প্রচেষ্টা চালান, যার ফলে এই যুগে এমন সব ক্ষণজন্মা আলেম আত্মপ্রকাশ করেন যারা বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনে সুউচ্চ পাহাড়ের ন্যায় অটল ছিলেন। মানুষ তাদের রচনার ওপর নির্ভর করত এবং সেগুলো সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে একে অপরের কাছে পৌঁছে দিত। তাদের কাজের প্রতি মানুষের এই উচ্চ মূল্যায়ন তাদের লিখিত বিষয়ের ওপর নির্ভরতা এবং কেবল উদ্ধৃতি বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে সীমাবদ্ধ থাকার পথ প্রশস্ত করে। প্রথম আব্বাসীয় যুগের আলেমদের মর্যাদা ও প্রভাব তুলে ধরার জন্য ইবনে ইসহাকের সীরাতুন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), নাহু শাস্ত্রে সীবওয়াইহ-এর কিতাব, ইবনে সা’দের তাবাকাতুস সাহাবা, কবিতায় খলিলের ছন্দপ্রকরণ, ইবনুল কালবীর বংশলতিকা, আবু উবায়দার ‘আইয়ামুল আরব’ এবং প্রথম শতাব্দীর ঘটনাবলি নিয়ে আবু মিখনাফ, উমর ইবনে শাব্বাহ, মাদায়িনী ও হাইসাম বিন আদীর রচনাবলির কথা উল্লেখ করাই যথেষ্ট। এই গ্রন্থগুলোর প্রতি মানুষের গভীর শ্রদ্ধা ও মূল্যায়ন কয়েক শতাব্দী ধরে আরব চিন্তাধারার ওপর এগুলোর আধিপত্যের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটি গবেষকদের ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দী পর্যন্ত নতুন কোনো মৌলিক রচনার পরিবর্তে প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলো নকল করা বা সেখান থেকে উদ্ধৃতি নেওয়ার মাঝেই সীমাবদ্ধ করে রাখে।

আব্বাসীয় যুগের আলেমদের নিকট জাযিরাতুল আরব (আরব উপদ্বীপ) ব্যাপক গুরুত্ব লাভ করেছিল। এই আলেমদের একটি বড় অংশ জাযিরার অবস্থা ও পরিস্থিতি অধ্যয়ন করেছেন এবং এ বিষয়ে অসংখ্য কিতাব রচনা করেছেন। ইবনে নাদিম তার ‘আল-ফিহরিস্ট’ গ্রন্থে এমন অনেক গ্রন্থের নাম উল্লেখ করেছেন। তেমনিভাবে পরবর্তীকালের বহু লেখক এ থেকে নানা অংশ উদ্ধৃত করেছেন, বিশেষ করে আল-বাকরী তার ‘মু’জাম মা ইস্তা’জাম’ গ্রন্থে, ইয়াকুত তার ‘মু’জামুল বুলদান’ গ্রন্থে এবং সামহুদী তার ‘ওয়াফাউল ওয়াফা’ গ্রন্থে।

এই গ্রন্থগুলোকে দুটি প্রধান শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা যায়; প্রথমটি হলো: নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর বিশেষায়িত গবেষণা, যেমন কোনো একটি গোত্র বা একটি স্থান সম্পর্কে আলোচনা। ‘মুসলিমদের ইতিহাস চর্চাবিদ্যা’ গ্রন্থের অনুবাদের সাথে আমি যে পরিচ্ছেদটি যুক্ত করেছি, তাতে একটি তালিকা প্রদান করেছি।
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ১৭)
بما ذكره ابن النديم من مؤلفات عربية في تواريخ مكة والمدينة، وأخبار العشائر المستوطنة في الجزيرة.

والصنف الثاني: كتب شاملة يبحث كل منها في عدة مواضيع، مثل كتاب النسب الكبير وكتاب اقتراق العرب لأبي المنذر هشام بن محمد بن السائب الكلبي.

فأما الكتاب الثاني فهو في عداد المفقودات، ولكن ياقوتا الحموي وأبو عبيد البكري نقلا عنه نصوصا كثيرة، وبعضها طويلة، يظهر منها أن المؤلف بحث فيه تاريخ حركات وتنقلات العشائر العربية في جزيرة العرب قبيل الاسلام، وهو موضوع يشبه كتابا مفقودا أشار اليه ابن النديم لأبي الوزير عمر بن المطرف، أما كتاب النسب الكبير فقد كان عماد أغلب من تطرق إلى أنساب العرب، فقد نقل منه ابن اسحق في السيرة، وابن سعد في الطبقات، والسمعاني في الأنساب، وياقوت في معجم البلدان، وعدد كبير غيرهم، وإن نقل هذه المصادر المعتمدة عنه دليل على توثيقهم إياه وتقديرهم لعلمه.

ولا عبرة هنا في رأي ابن الحائك الهمداني الذي انتقد كتاب ابن الكلبي على أخطائه في الأنساب العليا والأسماء القديمة، ولم يعب الكتاب جملة، غير أن توثيق الثقات لما كتبه ابن الكلبي ينبغي أن يفهم ضمن نطاق بحثه، فإن ابن الكلبي بحث في كتاب النسب الكبير الوحدات القلبية والعشائرية وأشار إلى أبرز رجالها في الاسلام، وإلى خطط سكناها في الكوفة خاصة وبهذا يمكن القول أن هدفه الأول هو وصف الوحدات العشائرية في الكوفة ووضعها ضمن نطاق عشائر العرب عامة.

ولما كانت الكوفة موطنا لأكثر من مائة عشيرة من مختلف أنحاء الجزيرة، لذلك صار بحثه شاملا للجزيرة. وقد خص قريشا والأوس والخزرج بتفصيل يعادل ما لعشائر الكوفة، غير أنه لم يشر إلى خططهم، وذكر شجرات
ইবনে আন-নাদিম মক্কা ও মদীনার ইতিহাস এবং আরব উপদ্বীপে বসবাসকারী গোত্রসমূহের সংবাদ সম্পর্কিত যেসব আরবি রচনার কথা উল্লেখ করেছেন।

আর দ্বিতীয় শ্রেণীটি হলো: এমন কিছু ব্যাপক গ্রন্থ যার প্রত্যেকটি একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, যেমন- আবুল মুনযির হিশাম বিন মুহাম্মদ বিন আস-সাইব আল-কালবি রচিত ‘কিতাবুন নাসাব আল-কাবীর’ এবং ‘কিতাবুন ইফতিরাকিল আরব’।

দ্বিতীয় কিতাবটি বর্তমানে হারিয়ে যাওয়া গ্রন্থরাজির অন্তর্ভুক্ত, তবে ইয়াকুত আল-হামাউয়ি এবং আবু উবাইদ আল-বাকরি তা থেকে অনেক উদ্ধৃতি নকল করেছেন, যার কিছু বেশ দীর্ঘ। সেসব থেকে প্রতীয়মান হয় যে, লেখক এতে ইসলাম-পূর্ব যুগে আরব উপদ্বীপে আরব গোত্রসমূহের গতিবিধি ও স্থানান্তরের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেছেন। এটি এমন একটি বিষয় যা আবু আল-ওয়াযীর উমর বিন আল-মুতাররিফ রচিত একটি হারিয়ে যাওয়া কিতাবের সদৃশ, যার কথা ইবনে আন-নাদিম উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে ‘কিতাবুন নাসাব আল-কাবীর’ ছিল আরবদের বংশতালিকাবিদ্যা নিয়ে যারা কাজ করেছেন তাদের অধিকাংশের প্রধান ভিত্তি। ইবনে ইসহাক ‘আস-সিরাত’-এ, ইবনে সা’দ ‘আত-তাবাকাত’-এ, আস-সামআনি ‘আল-আনসাব’-এ, ইয়াকুত ‘মু’জামুল বুলদান’-এ এবং আরও অনেক নির্ভরযোগ্য সূত্র তা থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন। এই নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহ কর্তৃক তাঁর থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করাই হলো তাঁর নির্ভরযোগ্যতা এবং তাঁর জ্ঞানের প্রতি তাদের উচ্চ ধারণার প্রমাণ।

এক্ষেত্রে ইবনে আল-হাইক আল-হামদানির মতামতের কোনো গুরুত্ব নেই, যিনি উচ্চতর বংশলতিকা এবং প্রাচীন নামসমূহের ভুলের কারণে ইবনে আল-কালবির কিতাবটির সমালোচনা করেছেন; যদিও তিনি কিতাবটিকে সামগ্রিকভাবে দোষারোপ করেননি। তবে ইবনে আল-কালবির রচনার ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের এই প্রামাণ্যতাকে তাঁর গবেষণার পরিসরের গণ্ডিতেই বুঝা উচিত। কেননা ইবনে আল-কালবি ‘কিতাবুন নাসাব আল-কাবীর’-এ গোত্র ও বংশীয় এককসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং ইসলামের ইতিহাসে তাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, বিশেষ করে কুফায় তাদের আবাসস্থলের নকশার দিকে। এর দ্বারা বলা যেতে পারে যে, তাঁর প্রথম লক্ষ্য ছিল কুফার গোত্রীয় এককসমূহের বর্ণনা দেওয়া এবং সেগুলোকে সাধারণ আরব গোত্রসমূহের কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা।

যেহেতু কুফা ছিল উপদ্বীপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা একশটিরও বেশি গোত্রের আবাসস্থল, তাই তাঁর গবেষণা সমগ্র উপদ্বীপকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তিনি কুরাইশ, আওস এবং খাযরাজ গোত্রকে কুফার গোত্রগুলোর সমপরিমাণ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি তাদের আবাসস্থলের নকশার প্রতি ইঙ্গিত করেননি এবং তিনি বংশবৃক্ষসমূহ উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ১৮)
أنسابهم ممدا بعضها إلى اسماعيل، وإلى هذه الشجرات الطويلة وجه ابن الحائك الهمداني انتقاده لابن الكلبي، غير أن أبا المنذر لم يتطرق قط إلى مواطن العشائر العربية في جزيرة العرب، ولا في خراسان ومصر وشمالي أفريقية والاندلس، ولم يذكر العلاقات بينها، أو تاريخها، كما لم يشر إلى مواقفها واتجاهاتها السياسية. والحق انك لا تظفر منه عن أحوال الجزيرة بمادة مغنية.

لقد بقي كتاب الأنساب في مخطوطتين احداهما في الاسكوريال والأخرى في لندن، وكل منهما ناقص، وتكملان بعضهما إلى حد كبير. كما بقي منه ملخص قام به ياقوت الحموي، ويستطيع المرء أخذ فكرة عن محتوى كتاب النسب من قراءة كتاب جمهرة الأنساب لابن حزم الذي يحتوي ما لا يقل عن ثمانين بالمئة من المادة التي في كتاب ابن الكلبي، حتى أنه يصح القول أن ابن حزم لخص كتاب ابن الكلبي مع اضافات عن الأندلس.

وقد نقل ياقوت من ابن الكلبي نصوصا كثيرة تتعلق بالجزيرة أخذ بعضها من كتاب الأصنام (16) ومن اشتقاق البلدان (71) ومن افتراق العرب (11) ومن النسب (28) ومن عجائب الدنيا (4) بالاضافة إلى معلومات جغرافية وخاصة عن الحجاز (21) ومعلومات تاريخية (11) ومن النسب (28) وقد نقل البكري في أوائل كتاب معجم ما استعجم صفحات كثيرة عن كتاب افتراق العرب لابن الكلبي.

ذكر ابن النديم أسماء عدة كتب ألفت في جزيرة العرب، والبلدان:

منها جزيرة العرب، ومياه العرب للأصمعي (82) والبلدان لأبي حنيفة الدينوري (116) والمناهل والقرى للسكري (117) ومنازل العرب وحدودها وأين كانت محلة قوم وإلى أين انتقل منها لعمر بن المطرف (184) والبلدان الكبير والصغير للبلاذري (164) والبلدان الكبير والصغير، وقسمة الأرضين، وأسواق العرب لابن الكلبي (142) هذا فضلا عن الكتب المؤلفة عن المدينة، وعن مكة، وعن العقيق. وقد عدد ياقوت «الذين قصدوا ذكر الأماكن العربية والمنازل البدوية فطبقة أهل الأدب، وهم أبو سعيد الأصمعي ظفرت
তাদের বংশপরম্পরা ইসমাইল পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এই দীর্ঘ বংশলতিকার প্রতিই ইবনুল হাইক আল-হামদানী ইবনুল কালবীর প্রতি সমালোচনা ছুঁড়ে দিয়েছেন। তবে আবু আল-মুনজির আরব উপদ্বীপে, কিংবা খুরাসান, মিসর, উত্তর আফ্রিকা এবং আন্দালুসে আরব গোত্রগুলোর আবাসস্থল সম্পর্কে মোটেও আলোচনা করেননি। তিনি তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক বা তাদের ইতিহাস উল্লেখ করেননি, যেমন তিনি তাদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং গতিপ্রকৃতি সম্পর্কেও কোনো ইঙ্গিত দেননি। সত্য বলতে, আরব উপদ্বীপের অবস্থা সম্পর্কে আপনি তার কাছ থেকে পর্যাপ্ত কোনো উপাদান পাবেন না।

বংশপরিচয় (আনসাব) গ্রন্থটি দুটি পাণ্ডুলিপিতে সংরক্ষিত রয়েছে, যার একটি এসকোরিয়ালে এবং অন্যটি লন্ডনে; উভয়েই অসম্পূর্ণ এবং তারা অনেকাংশেই একে অপরের পরিপূরক। এছাড়া ইয়াকুত আল-হামাভী কর্তৃক কৃত এর একটি সারসংক্ষেপও বিদ্যমান। ইবনে হাজমের ‘জামহারাতুল আনসাব’ গ্রন্থটি পাঠ করলে বংশপরিচয় গ্রন্থের বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব, যাতে ইবনুল কালবীর গ্রন্থের উপাদানের অন্তত আশি শতাংশ বিদ্যমান। এমনকি এ কথা বলাও সঠিক হবে যে, ইবনে হাজম আন্দালুস বিষয়ক কিছু সংযোজনসহ ইবনুল কালবীর গ্রন্থের সারসংক্ষেপ করেছেন।

ইয়াকুত ইবনুল কালবী থেকে আরব উপদ্বীপ সংক্রান্ত অনেক উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যার কিছু তিনি ‘কিতাবুল আসনাম’ (১৬), ‘ইশতিকাকুল বুলদান’ (৭১), ‘ইফতিরাকুল আরব’ (১১), ‘আন-নাসাব’ (২৮) এবং ‘আজায়িবুদ দুনিয়া’ (৪) থেকে গ্রহণ করেছেন। এর পাশাপাশি বিশেষ করে হিজাজ সম্পর্কে ভৌগোলিক তথ্য (২১), ঐতিহাসিক তথ্য (১১) এবং বংশপরিচয় (২৮) থেকে উদ্ধৃত করেছেন। আল-বাকরী তার ‘মুজাম মা ইস্তাজাম’ গ্রন্থের শুরুতে ইবনুল কালবীর ‘ইফতিরাকুল আরব’ গ্রন্থ থেকে অনেক পৃষ্ঠা উদ্ধৃত করেছেন।

ইবনুন নাদীম আরব উপদ্বীপ এবং দেশসমূহ সম্পর্কে রচিত বেশ কয়েকটি গ্রন্থের নাম উল্লেখ করেছেন:

তার মধ্যে রয়েছে আল-আসমাঈর (৮২) ‘জাজিরাতুল আরব’ ও ‘মিয়াহুল আরব’, আবু হানিফা আদ-দিনাওয়ারীর (১১৬) ‘আল-বুলদান’, আস-সুক্কারীর (১১৭) ‘আল-মানাহিল ওয়াল কুরা’, উমর ইবনুল মুতাররিফের (১৮৪) ‘আরবদের আবাসস্থল ও তার সীমানা এবং কোনো সম্প্রদায়ের বসতি কোথায় ছিল এবং তারা সেখান থেকে কোথায় স্থানান্তরিত হয়েছিল’, আল-বালাযুরীর (১৬৪) ‘আল-বুলদান আল-কাবীর ও আল-সাগীর’, এবং ইবনুল কালবীর (১৪২) ‘আল-বুলদান আল-কাবীর ও আল-সাগীর’, ‘ভূমি বন্টন’ ও ‘আরবদের বাজারসমূহ’। এছাড়া মদিনা, মক্কা এবং আল-আক্বীক সম্পর্কে রচিত গ্রন্থাবলিও রয়েছে। ইয়াকুত সেই সব ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করেছেন যারা আরবের স্থানসমূহ এবং মরুবাসীদের আবাসস্থল বর্ণনা করার সংকল্প করেছিলেন, তারা হলেন সাহিত্যিক শ্রেণি, যাদের মধ্যে আবু সাঈদ আল-আসমাঈকে আমি পেয়েছি।
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ১৯)
به رواية لابن دريد عن عبد الرحمن عن عمه، وأبو عبيد السكوني، والحسن ابن أحمد الهمداني له كتاب جزيرة العرب، وأبو الأشعث الكندي في جبال تهامة، وأبو سعيد السيرافي بلغني أن له كتابا في جزيرة العرب، وأبو محمد الأسود الغندجاني له كتاب في مياه العرب، وأبو زياد الكلابي ذكر في نوادره من ذلك قدرا صالحا وقفت على أكثره، ومحمد بن ادريس بن أبي حفصة وقفت له على كتاب سماه مناهل العرب».

وقد طبع من هذه المؤلفات كتاب الحسن الهمداني «صفة جزيرة العرب» وكذلك كتاب عرام بن الأصبغ السلمي الذي طبعه عبد السلام هارون ضمن مجموعة نوادر المخطوطات طبعة فيها مجال للتحسين إذا قورنت بما اقتطفه منها البكري في معجم ما استعجم. وياقوت في معجم البلدان والسمهودي في وفاء الوفاء. والكتاب يتناول المنطقة التي نسميها اليوم الحجاز، أي من جنوب الطائف إلى حرة بني سليم وإلى أطراف ينبع وإلى البحر. وقد بحثت بشيء من التفصيل عن هذه النصوص وعلاقة عرام بالسكوني وبأبي الأشعث الكندي في مقال نشرته في مجلة المجمع العلمي العراقي بعنوان «المؤلفات العربية عن المدينة والحجاز»

أما بقية هذه الكتب فمفقودة، غير أن بعضها بقيت منه نصوص كثيرة نقلها ياقوت في معجم البلدان، والبكري في معجم ما استعجم، وأهم من بقيت نصوص منه هو أبو عبيد السكوني، ومحمد بن عبد الله الأسدي، وأبو زياد الكلابي، ومحمد بن ادريس بن أبي حفصة، والأصمعي.

فأما السكوني والاسدي، فقد أفضت في الكلام عنهما في مقالي عن «المؤلفات العربية عن المدينة والحجاز» المذكور آنفا، ولذا اكتفى هنا باحالة من يريد الاستزادة إلى ذلك المقال.

فأما أبو زياد الكلابي فهو يزيد بن عبد الله بن الحر بن همام، من بني عبد الله
ইবনে দুরাইদ কর্তৃক আবদুর রহমান থেকে, তিনি তার চাচার থেকে প্রাপ্ত বর্ণনানুসারে; এবং আবু উবাইদ আস-সুকুনি; এবং হাসান ইবনে আহমদ আল-হামদানি—তার 'জাযিরাতুল আরব' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে; এবং তিহামার পাহাড়সমূহ সম্পর্কে আবু আল-আশআদ আল-কিন্দি; এবং আবু সাঈদ আস-সিরাফি—আমি জানতে পেরেছি যে আরব উপদ্বীপ সম্পর্কে তার একটি গ্রন্থ রয়েছে; এবং আবু মুহাম্মদ আল-আসওয়াদ আল-গান্দাজানি—আরবের জলাশয়সমূহ সম্পর্কে তার একটি গ্রন্থ রয়েছে; এবং আবু জিয়াদ আল-কিলাবি তার 'নাওয়াদির' গ্রন্থে এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উল্লেখ করেছেন যা আমি অধিকাংশ পড়েছি; এবং মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস ইবনে আবি হাফসা—আমি তার একটি গ্রন্থ পেয়েছি যার নাম তিনি দিয়েছেন 'মানাহিলুল আরব'।

এই রচনাসমূহের মধ্যে হাসান আল-হামদানির 'সিফাতু জাযিরাতিল আরব' গ্রন্থটি মুদ্রিত হয়েছে। একইভাবে আররাম ইবনে আল-আসবাহ আস-সুলামির গ্রন্থটিও মুদ্রিত হয়েছে, যা আব্দুস সালাম হারুন 'নাওয়াদিরুল মাখতুতাত' সংগ্রহমালার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে প্রকাশ করেছেন; তবে এই মুদ্রণটি আল-বাকরি কর্তৃক 'মুজাম মা ইস্তাজাম', ইয়াকুত কর্তৃক 'মুজামুল বুলদান' এবং আস-সামহুদি কর্তৃক 'ওয়াফাউল ওয়াফা' গ্রন্থে উদ্ধৃত অংশের সাথে তুলনা করলে এতে আরও উন্নতির অবকাশ রয়েছে। এই গ্রন্থটি সেই অঞ্চলটি নিয়ে আলোচনা করে যাকে আমরা আজ হিজাজ বলি, অর্থাৎ তায়েফের দক্ষিণ থেকে হাররাতু বনি সুলাইম পর্যন্ত এবং ইয়ানবুর প্রান্তসীমা থেকে সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত। আমি ইরাকি সায়েন্টিফিক একাডেমি জার্নালে প্রকাশিত 'মদিনা ও হিজাজ বিষয়ক আরবি রচনাবলি' শীর্ষক একটি প্রবন্ধে এই পাঠ্যসমূহ এবং আস-সুকুনি ও আবু আল-আশআদ আল-কিন্দি-র সাথে আররামের সম্পর্কের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

বাকি গ্রন্থগুলো হারিয়ে গেছে, তবে এগুলোর কিছু অংশ বিদ্যমান রয়েছে যা ইয়াকুত তার 'মুজামুল বুলদান' গ্রন্থে এবং আল-বাকরি তার 'মুজাম মা ইস্তাজাম' গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। যাদের পাঠ্যসমূহ টিকে আছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলেন আবু উবাইদ আস-সুকুনি, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসাদি, আবু জিয়াদ আল-কিলাবি, মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস ইবনে আবি হাফসা এবং আল-আসমাঈ।

আস-সুকুনি এবং আল-আসাদি সম্পর্কে আমি পূর্বে উল্লেখিত 'মদিনা ও হিজাজ বিষয়ক আরবি রচনাবলি' শীর্ষক প্রবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তাই যারা আরও বিস্তারিত জানতে চান, তাদের জন্য আমি সেই প্রবন্ধটির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমেই এখানে ক্ষান্ত হচ্ছি।

আর আবু জিয়াদ আল-কিলাবি হলেন ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল হুর ইবনে হাম্মাম, যিনি বনু আব্দুল্লাহ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ২০)
ابن كلاب، ذكر ابن النديم انه قدم بغداد ايام المهدي حين أصابت الناس المجاعة، ونزل قطيعة العباس بن محمد، فاقام أربعين سنة حتى مات، وقد ذكر له كتاب النوادر، وكتاب الفرق، وكتاب الابل، وكتاب خلق الإنسان (الفهرست 73) ان أهم مؤلفات ابي زياد هي النوادر التي عندما الف علي بن حمزة البصري كتابه «التنبيهات على أخطاء الرواة» بدأ كتابه بنوادر ابي زياد وقال «وإنما بدأنا بها لشرف قدرها وسمو ذكرها ونباهة صيتها (ص 8) وقد نقل عن أبي زياد كل من الزبيدي صاحب طبقات النحويين، والمرزوقي شارح ديوان الحماسة وابي الفرج الاصبهاني مؤلف الأغاني (5/ 276) والتوحيدي في البصائر والذخائر (34) كما أشار اليه أبو عبيد في كتاب الأموال (205). غير أن أوسع من نقل عنه هو ياقوت في معجمه.

يعتبر ياقوت أبا زياد الكلابي «من طبقة أهل الأدب الذين قصدوا إلى ذكر الأماكن العربية والمنازل البدوية، ذكر في نوادره من ذلك صدرا صالحا وقفت على أكثره» (1/ 7) وقد كرر ياقوت اسم النوادر في ستة مواضع (1/ 7، 701، 2/ 363، 853، 3/ 324، 476) ولكن كلام ياقوت صريح بانه لم يقف على كل النوادر أو ينقلها جميعا.

ولقد أورد ياقوت لأبي زياد شروحا لغوية (1/ 68، 3/ 117، 4/ 852) وأشعارا بعضها من نظمه وبعضها من روايته (1/ 132، 488، 581 2/ 290، 3/ 393، 4/ 260، 1007) ونقل عنه أيضا معلومات تاريخية ذات علاقة ببعض الأماكن كيوم خزاز، والشيصبان (؟) ويوم النشاش، كما نقل عنه أيضا وصف طريق مصدق بني كلاب ومحطات ذلك الطريق (3/ 734، 4/ 450، 471، 556 وكذلك 1/ 229) وأشار إلى بعض محطات الطرق امّرة (1/ 362) وتربان 1/ 833 والدبيل 2/ 876).

يتبين مما نقله ياقوت ان أبا زياد الكلابي تناول بالبحث اليمن، حيث نقل منه نصوصا عن الدثين، ومريع، ونجدان، وديار همدان. [نجد اليمن]
ইবনে কিলাব, ইবনে আন-নাদিম উল্লেখ করেছেন যে তিনি মাহদীর আমলে বাগদাদে এসেছিলেন যখন মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছিল। তিনি আব্বাস বিন মুহাম্মদের বরাদ্দকৃত এলাকায় (কাতিআহ) অবস্থান করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেখানে চল্লিশ বছর অতিবাহিত করেন। তার রচিত গ্রন্থের মধ্যে ‘কিতাবুন নাওয়াদির’, ‘কিতাবুল ফিরাক’, ‘কিতাবুল ইবিল’ এবং ‘কিতাবুল খালকিল ইনসান’ (আল-ফিহরিস্ত ৭৩) এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবু জিয়াদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রচনা হলো ‘আন-নাওয়াদির’। আলী বিন হামজাহ আল-বাসরি যখন তার ‘আত-তানবিহাতু আলা আখতায়ির রুওয়াত’ গ্রন্থটি রচনা করেন, তখন তিনি সেটি আবু জিয়াদের নাওয়াদির দিয়ে শুরু করেন এবং বলেন, “আমি এটি দিয়েই শুরু করেছি এর সুউচ্চ মর্যাদা, সুউচ্চ খ্যাতি এবং সুপরিচিত সুখ্যাতির কারণে (পৃষ্ঠা ৮)।” আবু জিয়াদ থেকে ‘তাবাকাতুন নাহউইয়্যিন’-এর লেখক যুবাইদি, ‘দিওয়ানু হামাসাহ’-এর ব্যাখ্যাকার মারজুকি, ‘আল-আগানি’-এর লেখক আবুল ফারাজ আল-ইসফাহানি (৫/২৭৬) এবং ‘আল-বাসাইর ওয়াজ জাকাইর’-এ তাওহিদি (৩৪) উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। এছাড়া আবু উবাইদও তার ‘কিতাবুল আমওয়াল’ (২০৫) গ্রন্থে তার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তবে যিনি তার কাছ থেকে সবচেয়ে বিস্তারিতভাবে উদ্ধৃতি দিয়েছেন তিনি হলেন ইয়াকুত তার অভিধান গ্রন্থে।

ইয়াকুত আবু জিয়াদ আল-কিলাবিকে “সেই স্তরের সাহিত্যিকদের অন্তর্ভুক্ত মনে করেন যারা আরবীয় স্থান এবং বেদুঈনদের আবাসস্থলসমূহ উল্লেখ করার সংকল্প করেছিলেন; তিনি তার নাওয়াদির গ্রন্থে এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বর্ণনা করেছেন যার অধিকাংশ আমি অবগত হয়েছি” (১/৭)। ইয়াকুত ছয়টি স্থানে ‘নাওয়াদির’ নামটির পুনরাবৃত্তি করেছেন (১/৭, ৭০১, ২/৩৬৩, ৮৫৩, ৩/৩২৪, ৪৭৬), কিন্তু ইয়াকুতের বক্তব্য স্পষ্ট যে তিনি নাওয়াদিরের সবটুকু অবগত হতে পারেননি অথবা এর সবকিছু উদ্ধৃত করেননি।

ইয়াকুত আবু জিয়াদের ভাষাতাত্ত্বিক ব্যাখ্যাসমূহ (১/৬৮, ৩/১১৭, ৪/৮৫২) এবং কিছু কবিতা উদ্ধৃত করেছেন যার কয়েকটি তার নিজস্ব রচনা এবং কয়েকটি তার বর্ণনাকৃত (১/১৩২, ৪৮৮, ৫৮১, ২/২৯০, ৩/৩৯৩, ৪/২৬০, ১০০৭)। তিনি তার থেকে কিছু ঐতিহাসিক তথ্যও বর্ণনা করেছেন যা নির্দিষ্ট কিছু স্থানের সাথে সম্পর্কিত, যেমন ইয়াওমু খাযায, আশ-শাইসাবান (?) এবং ইয়াওমুন নাশাস। এছাড়াও তিনি তার কাছ থেকে বনু কিলাবের জাকাত সংগ্রাহকদের পথ এবং সেই পথের বিরতিস্থলগুলোর বর্ণনাও নকল করেছেন (৩/৭৩৪, ৪/৪৫০, ৪৭১, ৫৫৬ এবং সেই সাথে ১/২২৯)। তিনি রাস্তার আরও কিছু বিরতিস্থলের প্রতিও ইঙ্গিত করেছেন যেমন: ইম্মাহ (১/৩৬২), তুরবান (১/৮৩৩) এবং আদ-দাবিল (২/৮৭৬)।

ইয়াকুত যা বর্ণনা করেছেন তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আবু জিয়াদ আল-কিলাবি ইয়েমেন নিয়েও গবেষণা করেছেন; কারণ তিনি (ইয়াকুত) তার থেকে আদ-দাসিন, মারিয়া, নাজদান এবং দিয়ারে হামদান সম্পর্কে পাঠসমূহ উদ্ধৃত করেছেন। [ইয়েমেনের নজদ]
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ২১)
وتناول بالبحث أيضا اليمامة فذكر عدة أماكن فيها مثل: بلبول، حايل، والفرط، سعد، السلى، قو، ناضحة، والفلج، وبعض الأماكن فيه مثل حرم، والكظائم والزرنوق، والشطبتان، والغيل.

وتكلم أيضا عن حمى ضرية وذكر من أماكنه الجلهتان، الجنينة، الذنائب الريان، مهزول.

ان النصوص التي نقلها ياقوت عن أبي زياد الاعرابي حول هذه الأماكن لم يرد فيها معلومات عن لعشائر، وهذ ينطبق أيضا على ما نقله منه عن أماكن أخرى مثل التسرير، جرعاء مالك، والدبيل، ردينة، الستار، الصعيراء، القهر، نخلة، غرب، العارض، عرعر، العقوبان، العيكان، عريقية.

غير ان الاغلبية المطلقة للنصوص الكثيرة التي نقلها ياقوت عن أبي زياد الكلابي تتركز على العشائر ومواطنها، فاساس تنظيم معلوماته هو العشائر، أما الأماكن فقد جاء ذكرها تابعا، وينقل ياقوت: «قال أبو زياد وهو يذكر مياه غنى بن أعصر» .. (2/ 345) وهو دليل واضح أنه رتب كلامه على أساس العشائر.

يبدو مما نقله ياقوت أن أبا زياد اهتم بعشائر بني كلاب ومواطن سكناها، حيث نقل عن هذه العشائر نصوصا كثيرة: لبني أبي بكر (21)، وربيعة (1) ومالك (1) ووقاص (1) وبني عمرو بن كلاب (21) والعجلان من بني عامر (8)، وجعفر بن كلاب (6) ولكل من وبرة بن الأضبط وعبد الله مكانان، ولبني كلاب عامة (3) والضباب (11).

وقد نقل عنه نصوصا عن قبائل وعشائر أخرى: نمير (17) عقيل (13) غني (7) قشير (7) تميم (5) سلول (3) فزارة (2) خديج (2) ونصا واحدا عن كل من باهلة، كلب، عامر، ذويبة، بجيلة، خثعم، همدان، زبيد، كعب، سليم.
তিনি ইয়ামামা অঞ্চল নিয়েও আলোচনা করেছেন এবং সেখানকার বেশ কিছু স্থানের কথা উল্লেখ করেছেন, যেমন: বিলবুল, হাইল, আল-ফারত, সাদ, আস-সুলা, কুউ, নাদিহাহ এবং আল-ফালাজ। এছাড়াও এর অন্তর্ভুক্ত কিছু স্থান যেমন: হারাম, আল-কাযাইম, আয-যারনুক, আশ-শাতবাতান এবং আল-গাইল উল্লেখ করেছেন।

তিনি হিম্মা দরিয়্যাহ সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন এবং এর অন্তর্ভুক্ত স্থান হিসেবে আল-জালাহাতান, আল-জুনাইনাহ, আদ-দানায়িব আর-রাইয়ান এবং মাহযুল-এর নাম উল্লেখ করেছেন।

আবু যিয়াদ আল-আরাবি থেকে ইয়াকুত এই স্থানগুলো সম্পর্কে যে বর্ণনাগুলো উদ্ধৃত করেছেন, তাতে গোত্রসমূহ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। এটি আবু যিয়াদের বর্ণনা করা অন্যান্য স্থানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যেমন: আত-তাসরির, জারআ মালিক, আদ-দুবাইল, রুদাইনাহ, আস-সিততার, আস-সুআইরা, আল-কাহর, নাখলাহ, গারব, আল-আরদি, আরআর, আল-উকু্বান, আল-আইকান এবং আরিকিয়্যাহ।

তবে আবু যিয়াদ আল-কিলাবি থেকে ইয়াকুত যে অসংখ্য বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন তার সিংহভাগই গোত্র এবং তাদের আবাসস্থলের ওপর কেন্দ্রীভূত। মূলত তার তথ্য বিন্যাসের ভিত্তি হলো গোত্রসমূহ, আর স্থানগুলোর নাম আনুষঙ্গিকভাবে এসেছে। ইয়াকুত উদ্ধৃত করেছেন: «আবু যিয়াদ গানি বিন আসুর-এর জলাধারগুলো বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন...» (২/৩৪৫)। এটি একটি স্পষ্ট প্রমাণ যে, তিনি তার আলোচনা গোত্রীয় ভিত্তিতে সাজিয়েছিলেন।

ইয়াকুত যা উদ্ধৃত করেছেন তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আবু যিয়াদ বনু কিলাব গোত্র এবং তাদের বসতিগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি এই গোত্রগুলোর ব্যাপারে অনেক বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন: বনু আবু বকর (২১), রবীআহ (১), মালিক (১), ওয়াক্কাস (১), বনু আমর বিন কিলাব (২১), বনু আমিরের অন্তর্ভুক্ত আল-আজলান (৮), জাফর বিন কিলাব (৬), ওয়াবরাহ বিন আল-আদবাত এবং আবদুল্লাহ—উভয়ের জন্য দুটি করে স্থান, সাধারণ বনু কিলাব (৩) এবং আদ-দিবাব (১১)।

এছাড়াও তিনি অন্যান্য গোত্র ও শাখা সম্পর্কেও তার থেকে বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন: নুমাইর (১৭), আকিল (১৩), গানি (৭), কুশাইর (৭), তামীম (৫), সালুল (৩), ফাযারাহ (২), খাদীজ (২) এবং বাহিলাহ, কালব, আমির, যুওয়াইবাহ, বাজিলাহ, খাসআম, হামদান, যুবাইদ, কাব ও সুলাইম—এই প্রতিটি গোত্র সম্পর্কে একটি করে বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ২২)
ويتبين من هذا أن أبا زياد الكلابي ركز معرفته على بني كلاب، ولكنه لم يقتصر عليهم بل شمل بحثه عشائر وأماكن أخرى، بشكل مقتضب لا نعلم فيما إذا كان مرجعه قلة ما روى عنهم أبو زياد أم إلى قلة ما نقله ياقوت.

أما محمد بن ادريس بن أبي حفصة فان كتابه هو مناهل العرب (ياقوت 1/ 7) وقد اعتمد عليه ياقوت في أكثر من مائة وخمسين موضعا، وخاصة في كلامه عن اليمامة ومناهلها كما نقل عنه بعض النصوص المتعلقة بالبحرين وأماكنها (2/ 354) 4/ 13، 4:4). ويبدو من هذه النصوص أن الحفصي فصل في وصف اليمامة وما فيها من أماكن، وبحث طرق المواصلات التي تربطها بالبصرة وبمكة.

ولم يذكر الحفصي من مصادره إلا الأصمعي حيث ذكر ياقوت «قال الحفصي عن الأصمعي بلاد باليمامة يقال لها الموفية، فيها نخيلات» (4/ 686) ويدل هذا النص على أن الحفصي كان مطلعا على كتاب الأصمعي، ويبدو أنه لم يكتف به بل أضاف اليه معلومات وتصويبات حملت ياقوت على الاعتماد عليه في وصف أماكن اليمامة، وإهمال الأصمعي في ذلك.

إن مكانة الأصمعي بين علماء اللغة ورواة أخبار العرب وأهل البادية أشهر من أن تحتاج إلى التنويه، وهي تخرج عن نطاق بحثنا الذي نحصره في دراسة كتابة جزيرة العرب، فقد ذكر هذا الكتاب للأصمعي من ترجم له، ونقل عنه ياقوت نصوصا كثيرة، كما نقل عنه الحفصي (686،4) ونصر بن عبد الرحمن أبو الفتح الاسكندري، والسمهودي.

وقبل أن نبحث هذا الكتاب نرى من المناسب أن نذكر مكانة الأصمعي عند البكري فان البكري ألف معجم ما استعجم وهو أقدم كتاب جغرافي في العربية مرتب على حروف المعجم وهو يبحث في الدرجة الأولى أماكن جزيرة العرب، وقد اعتمد على المؤلفين القدماء وخاصة من أهل اللغة، ونقل عن الأصمعي 150 نصا، منها 86 منقولة عنه مباشرة والأخرى عن طريق
এখান থেকে স্পষ্ট হয় যে, আবু যিয়াদ আল-কিলাবি তার জ্ঞান বনী কিলাবের ওপর কেন্দ্রীভূত করেছিলেন, কিন্তু তিনি কেবল তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং তার গবেষণা অন্যান্য গোত্র এবং স্থানকেও সংক্ষিপ্তভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। আমরা জানি না এর কারণ আবু যিয়াদের তাদের সম্পর্কে বর্ণনার স্বল্পতা ছিল নাকি ইয়াকুত যা উদ্ধৃত করেছেন তার স্বল্পতা ছিল।

অন্যদিকে মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস বিন আবি হাফসার কথা বলতে গেলে, তার বইয়ের নাম হলো 'মানাহিলুল আরব' (ইয়াকুত ১/৭)। ইয়াকুত দেড়শটিরও বেশি স্থানে এর ওপর নির্ভর করেছেন, বিশেষ করে ইয়ামামা এবং এর পানির উৎসগুলো সম্পর্কে আলোচনায়। পাশাপাশি তিনি তার কাছ থেকে বাহরাইন এবং এর এলাকাগুলো সম্পর্কিত কিছু পাঠ্যও উদ্ধৃত করেছেন (২/৩৫৪, ৪/১৩, ৪:৪)। এই পাঠ্যগুলো থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আল-হাফসি ইয়ামামা এবং এর অন্তর্গত স্থানগুলোর বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং একে বসরা ও মক্কার সাথে সংযুক্তকারী যোগাযোগ পথগুলো নিয়েও গবেষণা করেছেন।

আল-হাফসি তার উৎসগুলোর মধ্যে কেবল আল-আসমায়ীর কথা উল্লেখ করেছেন। ইয়াকুত উল্লেখ করেছেন: "আল-হাফসি আল-আসমায়ী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইয়ামামায় আল-মুফিয়াহ নামক একটি জনপদ রয়েছে, যেখানে কিছু ছোট খেজুর গাছ আছে" (৪/৬৮৬)। এই পাঠ্যটি নির্দেশ করে যে, আল-হাফসি আল-আসমায়ীর কিতাব সম্পর্কে অবগত ছিলেন। প্রতীয়মান হয় যে, তিনি কেবল এতেই সন্তুষ্ট থাকেননি, বরং এতে এমন কিছু তথ্য ও সংশোধনী যোগ করেছেন যা ইয়াকুতকে ইয়ামামার স্থানগুলোর বর্ণনায় তার ওপর নির্ভর করতে এবং এক্ষেত্রে আল-আসমায়ীকে বর্জন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

ভাষাবিদ, আরব সংবাদ বর্ণনাকারী এবং মরুচারীদের মধ্যে আল-আসমায়ীর মর্যাদা এতই প্রসিদ্ধ যে তা নতুন করে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। এটি আমাদের গবেষণার পরিধির বাইরে, যা আমরা কেবল আরব উপদ্বীপের লিখনীসমূহের অধ্যয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছি। যারা আল-আসমায়ীর জীবনী লিখেছেন তারা তার এই বইটির কথা উল্লেখ করেছেন। ইয়াকুত তার থেকে অনেক পাঠ্য উদ্ধৃত করেছেন, যেমনটি তার থেকে আল-হাফসি (৪/৬৮৬), নাসর বিন আব্দুর রহমান আবুল ফাতহ আল-ইসকান্দারি এবং আস-সামহুদি উদ্ধৃত করেছেন।

এই বইটি নিয়ে আলোচনা করার আগে আমরা আল-বাকরির কাছে আল-আসমায়ীর মর্যাদা উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি। কারণ আল-বাকরি 'মু'জাম মা ইস্তাজাম' রচনা করেছেন, যা আরবি ভাষায় বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো প্রাচীনতম ভৌগোলিক গ্রন্থ। এটি প্রধানত আরব উপদ্বীপের স্থানগুলো নিয়ে আলোচনা করে। তিনি প্রাচীন লেখকগণ, বিশেষ করে ভাষাবিদদের ওপর নির্ভর করেছেন এবং আল-আসমায়ী থেকে ১৫০টি পাঠ্য উদ্ধৃত করেছেন, যার মধ্যে ৮৬টি সরাসরি তার থেকে এবং বাকিগুলো অন্য মাধ্যমে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ২৩)
الاخفش (323/ 392) ومحمد بن حبيب (181) وابن قتيبة (2 - 164 - 210) وابي عمرو بن العلاء (218) وابي نصر (620 - 898 - 999 - 1133) وعن طريق أبي حاتم 42 نصا مباشرة الا ستة جاءت بطريق الزهري 232 وابن دريد (639 - 1402) وابن الأنباري (729 - 1348) وعن رجاله (395) ويشير أبو حاتم إلى انه قرأ على الاصمعي (20) وقال الاصمعي (828 - 1337) ولكنه يذكر أحيانا: زعم الاصمعي. وتتناول روايات ابي حاتم أمورا لغوية وأشياء عن الشعر ويمكن تصنيف ما نقله البكري عن الاصمعي إلى ما يلي:

1) نصوص عن أماكن في بلاد الهلال الخصيب مثل طرسوس، عمواس، النهروان، دمشق، بغداد، سلوقية، درنى، السدير، دارين.

2) تعريفات لغوية مثل: معنى قلهى، الاعراض، المناقب، عانات، معافر، الاربعا، اللقيطة، الدارة، الشرى، وكذلك النسبة إلى دراورد ودارا بجرد.

3) نصوص تتعلق بالشعر وشرحه وقراءاته، وخاصة شعر ابي ذؤيب، وابن أحمر، وابن مقبل، واوس بن حجر، وامرئ القيس، والفقعسي، وساعدة بن جؤية، والمثقب العبدي، ومزرد، والنابغة، وبشر بن ابي خازم، ومزاحم، وسليك، والمتامس، وعمرو بن معدي كرب، ومتمم بن نويرة.

ومن هذا يتبين انه لم ينقل عن الأصمعي نصوصا تتعلق باماكن الجزيرة، ولعله لم يطلع على كتاب جزيرة العرب.

لقد كان ياقوت في معجمه أكثر المؤلفين القدماء نقلا عن الاصمعي، وقد اشار بصراحة إلى نقله عن الاصمعى في ثلاثمائة وخمسة وثلاثين نصا، منها ثلاثة وستون نصا يتعلق باللغة والشعر، وثلاثة وعشرون يتعلق بمكة وجبالها،
আল-আখফাশ (৩২৩/ ৩৯২), মুহাম্মদ ইবনে হাবিব (১৮১), ইবনে কুতায়বা (২ - ১৬৪ - ২১০), আবু আমর ইবনুল আলা (২১৮) এবং আবু নাসর (৬২০ - ৮৯৮ - ৯৯৯ - ১১৩৩) হতে। এবং আবু হাতিমের মাধ্যমে সরাসরি ৪২টি পাঠ বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি ব্যতীত বাকিগুলো আজ-জুহরি (২৩২), ইবনে দুরাইদ (৬৩৯ - ১৪০২), ইবনে আল-আনবারি (৭২৯ - ১৩৪৮) এবং তার বর্ণনাকারীদের (৩৯৫) সূত্রে এসেছে। আবু হাতিম ইঙ্গিত করেছেন যে, তিনি আল-আসমাঈর (২০) নিকট পাঠ করেছেন এবং আল-আসমাঈ (৮২৮ - ১৩৩৭) বলেছেন, তবে মাঝে মাঝে তিনি উল্লেখ করেন: "আল-আসমাঈ ধারণা করেছেন"। আবু হাতিমের বর্ণনাগুলো ভাষাতাত্ত্বিক বিষয় এবং কবিতা সংক্রান্ত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত করে। আল-বাকরি আল-আসমাঈ থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তাকে নিম্নোক্তভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা যেতে পারে:

১) উর্বর চন্দ্রিমা (ফারটাইল ক্রিসেন্ট) অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান বিষয়ক পাঠ, যেমন: তারসুস, আমওয়াস, নাহরাওয়ান, দামেস্ক, বাগদাদ, সেলিউসিয়া, দারনা, আস-সাদির, দারিন।

২) ভাষাতাত্ত্বিক সংজ্ঞাসমূহ যেমন: কালাহা, আল-আ’রাজ, আল-মানাকিব, আনাত, মা’আফির, আল-আরবা’আ, আল-লাকিতা, আদ-দারা, আশ-শারা-এর অর্থ, এবং তদ্রূপ দারওয়ার্দ ও দারাবজারদ-এর নিসবত বা সম্বন্ধ।

৩) কবিতা এবং এর ব্যাখ্যা ও পঠন-পদ্ধতি সম্পর্কিত পাঠসমূহ, বিশেষ করে আবু জুয়াইব, ইবনে আহমার, ইবনে মুকবীল, আওস ইবনে হাজার, ইমরুল কায়স, আল-ফাক’আসি, সা’ইদা ইবনে জুয়ায়্যা, আল-মুসাক্কাব আল-আবদি, মুজাররিদ, আন-নাবিগাহ, বিশর ইবনে আবি খাজিম, মুজাহিম, সুলাইক, আল-মুতালম্মিস, আমর ইবনে মা’দী কারিব এবং মুতামমিম ইবনে নুয়াইরাহ-এর কবিতা।

এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, তিনি আল-আসমাঈ থেকে আরব উপদ্বীপের স্থানসমূহ সম্পর্কিত কোনো পাঠ বর্ণনা করেননি, সম্ভবত তিনি "কিতাব জাজিরাতুল আরব" গ্রন্থটি দেখার সুযোগ পাননি।

ইয়াকুত তার মুজাম গ্রন্থে প্রাচীন লেখকদের মধ্যে আল-আসমাঈ থেকে সর্বাধিক উদ্ধৃতি প্রদানকারী ছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আল-আসমাঈ থেকে তিনশত পঁয়ত্রিশটি পাঠ উদ্ধৃত করেছেন, যার মধ্যে তেষট্টিটি পাঠ ভাষা ও কবিতা সংক্রান্ত এবং তেইশটি মক্কা ও এর পাহাড়সমূহ সংক্রান্ত।
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ২৪)
ومثل ذلك بعض البلدان وخاصة العراقية منها، وثمانية نصوص عن حكايات وأخبار هي ادخل في باب القصص.

ويتبين من ذلك انه اشار إلى نقله من الاصمعي في مواضع جزيرة العرب، بمائتين وثمانين نصا، فضلا عن نصوص أخرى نقلها عن الأصمعي دون أن يذكر مصدره.

وقد ذكر ياقوت انه نقل عن كتاب جزيرة العرب للاصمعي في احد عشر موضعا (1/ 152، 355، 667، 2/ 18، 260، 513، 541 690، 802، 4/ 433) وذكر كتاب الاصمعي دون ان يسميه في أربعة عشر موضعا (2/ 261 - 280، 350، 501، 743، 791، 822، 3/ 39 - 272 - 462 - 508، 4/ 514). كما ذكر النسخة التي اعتمدها مرتين حيث قال: والذي قرأته في كتاب جزيرة العرب الذي رواه ابن دريد عن عبد الرحمن عن عمه (4/ 746) في كتاب الاصمعي الذي رواه ابن دريد عن عبد الرحمن عن عمه (4/ 746) في كتاب الاصمعي الذي املاه ابن دريد عن عبد الرحمن عنه (4/ 814).

فهو يقول:

«قال الاصمعي وهو يذكر منازل قيس بنجد فقال: واما أبو بكر بن كلاب» (3 - 706).

«قال الاصمعي وهو يذكر بلاد ابي بكر بن كلاب» (1 - 667، 2 - 799، 3 - 414).

«ذكر الاصمعي في كتاب جزيرة العرب مياه جعفر بن كلاب بنجد ثم قال .. » (2 - 18، 4 - 573).

وفي كتاب الجزيرة للاصمعي يعدد منازل بني عقيل وعامر» (3 - 392).

«قال الاصمعي وهو يعدد جبال هذيل» (3 - 852، 4 - 345)
অনুরূপভাবে কিছু দেশ, বিশেষ করে ইরাকি অঞ্চলসমূহ, এবং কাহিনী ও সংবাদ সংক্রান্ত আটটি পাঠ যা গল্পের অন্তর্ভুক্ত।

এর থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, তিনি জাযিরাতুল আরবের (আরব উপদ্বীপ) স্থানসমূহের বর্ণনায় আল-আসমায়ি থেকে দুই শত আশিটি পাঠ উদ্ধৃত করার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, এছাড়া অন্যান্য আরও অনেক পাঠ রয়েছে যা তিনি তাঁর (আসমায়ির) সূত্র উল্লেখ না করেই আল-আসমায়ি থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইয়াকুত উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আল-আসমায়ির ‘জাযিরাতুল আরব’ গ্রন্থ থেকে এগারোটি স্থানে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন (১/১৫২, ৩৫৫, ৬৬৭, ২/১৮, ২৬০, ৫১৩, ৫৪১, ৬৯০, ৮০২, ৪/৪৩৩) এবং নাম উল্লেখ না করে চৌদ্দটি স্থানে আল-আসমায়ির কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন (২/২৬১-২৮০, ৩৫০, ৫০১, ৭৪৩, ৭৯১, ৮২২, ৩/৩৯-২৭২-৪৬২-৫০৮, ৪/৫১৪)। তেমনিভাবে তিনি যে পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন তার কথা দুইবার উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: “এবং আমি জাযিরাতুল আরব নামক গ্রন্থে যা পাঠ করেছি, যা ইবনে দুরিদ আব্দুর রহমান থেকে এবং তিনি তাঁর চাচা থেকে বর্ণনা করেছেন (৪/৭৪৬); আল-আসমায়ির গ্রন্থে যা ইবনে দুরিদ আব্দুর রহমান থেকে এবং তিনি তাঁর চাচা থেকে বর্ণনা করেছেন (৪/৭৪৬); আল-আসমায়ির গ্রন্থে যা ইবনে দুরিদ আব্দুর রহমান থেকে তাঁর সূত্রে শ্রুতিলিপি দিয়েছেন (৪/৮১৪)।”

অতঃপর তিনি বলেন:

«আল-আসমায়ি নজদ অঞ্চলে কায়েস গোত্রের আবাসস্থলের বর্ণনায় বলেছেন: আর আবু বকর বিন কিলাব সম্পর্কে...» (৩ - ৭০৬)।

«আল-আসমায়ি আবু বকর বিন কিলাবের অঞ্চলসমূহের বর্ণনায় বলেছেন» (১ - ৬৬৭, ২ - ৭৯৯, ৩ - ৪১৪)।

«আল-আসমায়ি ‘জাযিরাতুল আরব’ গ্রন্থে নজদ অঞ্চলে জাফর বিন কিলাবের জলাশয়সমূহের কথা উল্লেখ করেছেন, অতঃপর বলেছেন... » (২ - ১৮, ৪ - ৫৭৩)।

এবং আল-আসমায়ির ‘আল-জাযিরা’ গ্রন্থে তিনি বনু আকিল ও বনু আমিরের আবাসস্থলসমূহ গণনা করেছেন» (৩ - ৩৯২)।

«আল-আসমায়ি হুযাইল গোত্রের পাহাড়সমূহ গণনা করার সময় বলেছেন» (৩ - ৮৫২, ৪ - ৩৪৫)
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ২৫)
«قال الاصمعي في كتاب جزيرة العرب وذكر نواحى الطائف» (3 - 637).

«قال الاصمعي يعدد مياه نجد» (3 - 461) «وقال الاصمعي في تحديد نجد» (3 - 623).

قال الاصمعي وهو يذكر نجدا (2 - 249).

قال الاصمعي وهو يذكر جبال مكة (2 - 712، 826) قال الاصمعي في كتاب جزيرة العرب وذكر مكة وما حولها (3 - 104).

تكاد كافة النصوص التي نقلها ياقوت عن جزيرة العرب للاصمعي موجودة في مخطوطة نسخها العالم العراقي نعمان بن شهاب الدين الالوسي، وهي من المخطوطات التي تضمها مكتبة الاوقاف في بغداد، وقد نسخها المرحوم الاب انستاس ماري الكرملي والحقها بفهارس، وهي من مخطوطات مكتبة المتحف العراقي. أما مخطوطة الالوسي فتتكون من مائة وواحد وأربعين صحيفة بالقطع الصغير، نسخت سنة 1299 هـ وقد نسبت في أولها الى لغدة الاصبهاني، وهو اعرابي ذكره ابن النديم من الاعراب الذين وفدوا إلى المدن واخذت عنهم اللغة ولكنه لم يشر هو ولا غيره إلى انه الف كتابا عن الجزيرة. وان تطابق النصوص الكثيرة التي نقلها ياقوت عن الاصمعي مع ما جاء في هذا المخطوط يحملنا على الاعتقاد بان الكتاب للاصمعي، ومما يؤيد هذا الاعتقاد 1 - مادة المخطوط منظمة على أساس العشائر ومواطنها، وهي تطابق اشارات ياقوت الى ان كتاب الاصمعي مرتب تبعا للعشائر وذكر ما لها من مياه وأماكن.

وقد علمت ان مخطوطة أخرى من كتاب لغدة لدى الزميل السيد حمد الجاسر لم أطلع عليها، وارجو ان أوافق في التعاون لطبعها، وسأقصر كلامي هنا على مخطوطة الالوسي.

لقد نقل ياقوت حرفيا تقريبا كل ما جاء في السبعين صحيفة الأولى من المخطوط، واشار في معظمها الى الاصمعي مصدرا لنقله، كما نقل منه نصوصا
«আসমাঈ 'জাজিরাতুল আরব' গ্রন্থে এবং তায়েফের অঞ্চলসমূহের বর্ণনায় বলেছেন» (৩ - ৬৩৭)।

«আসমাঈ নজদের জলাশয়সমূহ গণনা করতে গিয়ে বলেছেন» (৩ - ৪৬১) «এবং আসমাঈ নজদের সীমানা নির্ধারণ প্রসঙ্গে বলেছেন» (৩ - ৬২৩)।

আসমাঈ নজদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন (২ - ২৪৯)।

আসমাঈ মক্কার পাহাড়সমূহের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেন (২ - ৭১২, ৮২৬) আসমাঈ 'জাজিরাতুল আরব' গ্রন্থে মক্কা ও এর চারপাশের বর্ণনায় বলেছেন (৩ - ১০৪)।

ইয়াকুত জাজিরাতুল আরব সম্পর্কে আসমাঈর যে সকল উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, তার প্রায় সবগুলোই ইরাকি আলিম নুমান বিন শিহাবুদ্দিন আল-আলুসি কর্তৃক প্রতিলিপিকৃত একটি পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান। এটি বাগদাদের আওকাফ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপিগুলোর অন্তর্ভুক্ত। মরহুম ফাদার আনাস্তাস মারি আল-কারমালি এটি প্রতিলিপি করেছিলেন এবং নির্ঘণ্টের সাথে যুক্ত করেছিলেন; এটি ইরাকি মিউজিয়াম লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপিগুলোর অন্যতম। আল-আলুসির পাণ্ডুলিপিটি ছোট আকারের ১৪১টি পৃষ্ঠা নিয়ে গঠিত, যা ১২৯৯ হিজরিতে প্রতিলিপি করা হয়েছিল। এর শুরুতে এটি লুগদাহ আল-আসফাহানির প্রতি দায়ী করা হয়েছে; তিনি ছিলেন একজন বেদুঈন, ইবনে নাদিম যার কথা উল্লেখ করেছেন সেইসব বেদুঈনদের মধ্যে যারা শহরগুলোতে আগমন করেছিলেন এবং যাদের কাছ থেকে ভাষা গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে তিনি বা অন্য কেউ উল্লেখ করেননি যে তিনি জাজিরা (আরব উপদ্বীপ) সম্পর্কে কোনো বই রচনা করেছেন। ইয়াকুত আসমাঈর বরাতে যে অসংখ্য পাঠ্য উদ্ধৃত করেছেন, তার সাথে এই পাণ্ডুলিপির বিষয়বস্তুর ব্যাপক মিল আমাদের এই বিশ্বাস করতে বাধ্য করে যে বইটি আসমাঈর। এই বিশ্বাসকে যা সমর্থন করে তা হলো: ১- পাণ্ডুলিপির বিষয়বস্তু গোত্র এবং তাদের আবাসস্থলের ভিত্তিতে বিন্যস্ত, যা ইয়াকুতের দেওয়া ইঙ্গিতের সাথে মিলে যায় যে আসমাঈর বইটি গোত্রভিত্তিক বিন্যস্ত এবং এতে তাদের জলাশয় ও স্থানসমূহের উল্লেখ রয়েছে।

আমি জানতে পেরেছি যে লুগদাহর বইটির অন্য একটি পাণ্ডুলিপি সহকর্মী জনাব হামাদ আল-জাসিরের কাছে রয়েছে যা আমি দেখার সুযোগ পাইনি। আমি আশা করি এটি মুদ্রণের ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে একমত হতে পারব। তবে আমি এখানে আমার আলোচনা আল-আলুসির পাণ্ডুলিপির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখব।

ইয়াকুত পাণ্ডুলিপিটির প্রথম সত্তর পৃষ্ঠায় যা আছে তার প্রায় সবটুকুই আক্ষরিকভাবে উদ্ধৃত করেছেন এবং এর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আসমাঈকে তাঁর উদ্ধৃতির উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি এর থেকে আরও পাঠ্য উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ২৬)
كثيرة أخري دون أن يشير إلى مصدره، وهذا لا يصح اتخاذه دليلا ينقض نسبة الكتاب للاصمعي، لان ياقوت لم يلزم نفسه دائما بذكر مصادر معلوماته.

ويلاحظ ان النصف الثاني من المخطوطة يذكر أماكن كثيرة، وخاصة في اليمامة ومحطات الطريق منها إلى مكة والى البصرة، وطريق الحج، واماكن عشائر تميم في شرقي نجد وهي غير مذكورة في كتاب ياقوت. غير ان هذا لا يدل على أن الكتاب ليس للاصمعي، لأن ياقوت بالرغم من اعتماده الكبير على الاصمعي لم يقتصر عليه، فقد نقل أيضا عن عرام في الحجاز، وعن السيد علي في تهامة، وعن الحفصي في اليمامة. ولعل عدم نقله عن الاصمعي يرجع إلى ترجيحه هؤلاء المؤلفين في هذه المناطق الخاصة، علما بأنه اشار الى نقله عن الاصمعي عن طريق النص نصا موجودا في النصف الثاني من المخطوط.

وفي ياقوت نصوص غير قليلة منقولة عن الاصمعي وهي غير موجودة في مخطوطتنا وهي تشبه المواضيع التي تناولتها المخطوطة، فمثال ذلك كلامه عن جبال مكة الابيض (1 - 109) اجياد (1 - 139) الاخشبان (1 - 163) اظلم (1 - 313) الحجون (2 - 215) الربائع (2 - 746) جبل شيبه (2 - 712) رنقاء (2 - 826) الطود (3 - 65) السقيا (3 - 104) وهو يشير بصراحة الى أنه أخذه من كتاب جزيرة العرب) الصابح (3 - 359) ضب (3 - 462) القابل (4 - 5) القرن (4 - 72) مقص (4 - 73) المأزم (4 - 392) مجنة (4 - 422) المحصب (4 - 426) المشرق (4 - 539) المفجر (4 - 586) مقص (4 - 607) نبهان (4 - 740) ياجج (4 - 1001).

ان عدم وجود هذه النصوص في مخطوطتنا لا يصح ان يتخذ دليلا على ان الكتاب ليس للاصمعي، فان هذه النصوص قليلة اذا قورنت بالنصوص التي نقلها ياقوت عن الاصمعي وهي في صلب المخطوطة.

ولكن عدم وجود هذه النصوص في مخطوطتنا بالرغم صلتها
আরও অনেক তথ্য তিনি তার উৎসের উল্লেখ না করেই দিয়েছেন, আর একে আসমাঈর প্রতি বইটির নিসবত বা সম্বন্ধকে নাকচ করার দলিল হিসেবে গ্রহণ করা সঠিক নয়; কারণ ইয়াকুত সবসময় তথ্যের উৎস উল্লেখ করাকে নিজের জন্য আবশ্যক মনে করেননি।

এটি লক্ষণীয় যে, পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয় অর্ধাংশে অনেক স্থানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষ করে ইয়ামামা এবং সেখান থেকে মক্কা ও বসরার পথে অবস্থিত যাত্রাবিরতিস্থলসমূহ, হজ্জের পথ এবং পূর্ব নজদে তামীম গোত্রের বসতিসমূহ; যেগুলো ইয়াকুতের গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়নি। তবে এটি নির্দেশ করে না যে বইটি আসমাঈর নয়; কারণ ইয়াকুত আসমাঈর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়া সত্ত্বেও কেবল তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। বরং তিনি হিজাজের বর্ণনায় আররাম থেকে, তিহামার বর্ণনায় সাইয়্যিদ আলী থেকে এবং ইয়ামামার বর্ণনায় হাফসী থেকেও উদ্ধৃতি দিয়েছেন। সম্ভবত আসমাঈ থেকে উদ্ধৃতি না দেওয়ার কারণ হলো—এই বিশেষ অঞ্চলগুলোর ক্ষেত্রে তিনি উক্ত লেখকদের প্রাধান্য দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয় অর্ধাংশে বিদ্যমান একটি নির্দিষ্ট পাঠের ক্ষেত্রে তিনি সরাসরি আসমাঈ থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার কথা ইঙ্গিত করেছেন।

ইয়াকুতের গ্রন্থে আসমাঈ থেকে বর্ণিত বেশ কিছু পাঠ রয়েছে যা আমাদের এই পাণ্ডুলিপিতে নেই, যদিও সেগুলো পাণ্ডুলিপিতে আলোচিত বিষয়বস্তুর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, মক্কার পাহাড়সমূহ সম্পর্কে তার আলোচনা: আল-আবয়ায (১-১০৯), আজইয়াদ (১-১৩৯), আল-আখশাবান (১-১৬৩), আযলাম (১-৩১৩), আল-হাজুন (২-২১৫), আর-রাবায়ি (২-৭৪৬), জাবালু শায়বা (২-৭১২), রানকা (২-৮২৬), আত-তাওদ (৩-৬৫), আস-সুকয়া (৩-১০৪)—যেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে তিনি এটি ‘কিতাব জাজিরাতুল আরব’ থেকে গ্রহণ করেছেন—আস-সাবিহ (৩-৩৫৯), যাব্ব (৩-৪৬২), আল-কাবিল (৪-৫), আল-কারন (৪-৭২), মাকাস (৪-৭৩), আল-মাযিম (৪-৩৯২), মাজান্নাহ (৪-৪২২), আল-মুহাসসাব (৪-৪২৬), আল-মাশরিক (৪-৫৩৯), আল-মাফজার (৪-৫৮৬), মাকাস (৪-৬০৭), নাবহান (৪-৭৪০), ইয়াজাজ (৪-১০০১)।

আমাদের পাণ্ডুলিপিতে এই পাঠগুলোর অনুপস্থিতিকে এই বই আসমাঈর নয় বলে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা সঠিক হবে না। কারণ ইয়াকুত আসমাঈর বরাতে যেসব উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং যেগুলো পাণ্ডুলিপির মূল পাঠে বিদ্যমান, তার তুলনায় এই অনুপস্থিত উদ্ধৃতিগুলো সংখ্যায় অতি নগণ্য।

কিন্তু আমাদের পাণ্ডুলিপিতে এই পাঠগুলোর অনুপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও, এগুলোর গভীর সম্পর্ক থাকা...
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ২৭)
الوثقى بموضوع بحث المخطوط هو دليل على أن هذه المخطوطة لا تمثل كل الكتاب بل جزءا منه، ومما يؤيد نقص هذه المخطوطة اشتمالها على بعض الحجاز وبعض اليمامة وبعض وادي الرمة، وعلى نجد، فهي لا تبحث عن اليمن أو البحرين أو عمان ولا معظم الحجاز واليمامة ووادي الرمة، كما انها لا تتحدث عن تعريف جزيرة العرب وحدودها وأقسامها. يضاف إلى ذلك أنها تبدأ فجأة بالكلام عن ديار بني عقيل بشكل مفاجئ، مع العلم اننا لا نرى أي مبرر للابتداء بذكر ديار هذه العشيرة إلا الافتراض بأن المخطوطة ناقصة.

يتبين من المخطوط أن الكتاب مرتبة مادته تبعا للعشائر وفروعها، فهو يعدد العشائر ويذكر الفروع الصغرى لكل عشيرة، ومياهها ومواطن سكناها ويتبين من ثنايا كلامه أنه يصف الأحوال البشرية وتوزيع العشائر في زمنه، ولا يتطرق إلا نادرا جدا، إلى أمر التبدلات الماضية في مناطق سكناها، وهو يذكر فروعا كثيرة من العشائر، لا يرد ذكرها في كتاب النسب الكبير لابن الكلبي ومن تابعه، كما انه لا يذكر شجرات النسب، وقلما يشير إلى علاقات النسب بينها، فدراسته إذا يمكن اعتبارها واقعية تصف الأحوال السكانية القائمة في الصحراء في النصف الثاني من القرن الثاني الهجري، ومن المعلوم أن توزيع العشائر ومناطق سكناها قد تعرض إلى تبدلات كثيرة بدليل اختلاف الصورة التي ترسم من هذا الكتاب عن الصورة التي يكونها الدارس من توزيع العشائر عند ظهور الاسلام، أو من كتاب صفة جزيرة العرب للهمداني.

يذكر المؤلف الأماكن التي كانت لكل فرع من فروع العشائر، سواء كانت مياها أو دارات. ويشير أيضا إلى المناجم، وخاصة مناجم الفضة والذهب التي خصها بصفحتين (129 - 130 المخطوطة) بالاضافة إلى الاشارات المتفرقة لها في ثنايا الكتاب. ومعلوماته عنها تختلف بعض الشيء عن المعلومات
পাণ্ডুলিপির গবেষণার বিষয়ের সাথে নিবিড় সংশ্লিষ্টতাই এই প্রমাণ বহন করে যে, এই পাণ্ডুলিপিটি সমগ্র গ্রন্থের প্রতিনিধিত্ব করে না, বরং এটি তার একটি অংশ মাত্র। পাণ্ডুলিপিটির অপূর্ণতার বিষয়টি এই তথ্য দ্বারাও সমর্থিত হয় যে, এতে হিজায, ইয়ামামা ও ওয়াদি আর-রুম্মাহর কিয়দংশ এবং নজদ এলাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; অথচ এতে ইয়ামেন, বাহরাইন কিংবা ওমান সম্পর্কে কোনো আলোচনা নেই, এমনকি হিজায, ইয়ামামা ও ওয়াদি আর-রুম্মাহর অধিকাংশ এলাকা সম্পর্কেও কিছু বলা হয়নি। তদুপরি, এতে জাজিরাতুল আরবের সংজ্ঞা, এর সীমানা ও বিভাগসমূহ সম্পর্কেও কোনো আলোচনা করা হয়নি। এর সাথে আরও যোগ করা যায় যে, এটি অতর্কিতভাবে বনু আকিলের বসতি বর্ণনার মাধ্যমে শুরু হয়েছে। পাণ্ডুলিপিটি অসম্পূর্ণ—এই ধারণা ছাড়া উক্ত গোত্রের বসতি আলোচনার মাধ্যমে গ্রন্থটি শুরু করার আর কোনো যৌক্তিক কারণ আমাদের নজরে পড়ে না।

পাণ্ডুলিপি থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, গ্রন্থের বিষয়বস্তু গোত্র ও তাদের উপগোত্র অনুসারে বিন্যস্ত করা হয়েছে। লেখক এতে বিভিন্ন গোত্রকে সংখ্যায়ন করেছেন এবং প্রতিটি গোত্রের ক্ষুদ্র শাখাগুলো, তাদের পানির উৎস ও আবাসস্থলগুলো উল্লেখ করেছেন। তাঁর বর্ণনার ধরন থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, তিনি তাঁর সমসাময়িক সময়ের মানবিক অবস্থা ও গোত্রীয় বিন্যাস চিত্রায়িত করছেন। তাদের আবাসস্থলের অতীত পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি খুব কমই আলোকপাত করেছেন। তিনি গোত্রসমূহের এমন অনেক শাখার কথা উল্লেখ করেছেন যা ইবনুল কালবীর ‘কিতাবুন নাসাব আল-কাবীর’ কিংবা তাঁর অনুসারীদের গ্রন্থে পাওয়া যায় না। একইভাবে, তিনি কোনো বংশলতিকা উল্লেখ করেননি এবং গোত্রগুলোর পারস্পরিক বংশীয় সম্পর্কের দিকেও খুব কমই ইঙ্গিত করেছেন। সুতরাং তাঁর এই গবেষণাকে একটি বাস্তবধর্মী বর্ণনা হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে, যা হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে মরুভূমির বিদ্যমান জনতাত্ত্বিক অবস্থার বিবরণ দেয়। এটি সর্বজনবিদিত যে, গোত্রসমূহের বিন্যাস ও আবাসস্থলগুলো ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে; যার প্রমাণ মেলে এই গ্রন্থে অঙ্কিত চিত্রের সাথে ইসলামের আবির্ভাবকালীন কিংবা হামদানীর ‘সিফাতু জাজিরাতিল আরব’ গ্রন্থ থেকে প্রাপ্ত গোত্রীয় বিন্যাসের চিত্রের পার্থক্যের মাধ্যমে।

লেখক গোত্রসমূহের প্রতিটি শাখার অধিকৃত স্থানগুলো উল্লেখ করেছেন, চাই তা পানির আধার হোক কিংবা বসতবাড়ি। তিনি খনিগুলোর দিকেও ইঙ্গিত করেছেন, বিশেষ করে স্বর্ণ ও রৌপ্য খনিসমূহ, যার জন্য তিনি পাণ্ডুলিপির দুটি পৃষ্ঠা (১২৯-১৩০) বরাদ্দ করেছেন। এ ছাড়াও গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে এ সম্পর্কে বিক্ষিপ্ত ইঙ্গিত রয়েছে। এই খনিগুলো সম্পর্কে তাঁর প্রদানকৃত তথ্য অন্য তথ্যের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন।
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ২৮)
التي قدمها الهمداني. وقد فصل في تعداد أماكن سكنى كل فرع، ولما كان بحثه يدور حول سكنى العشائر، وأن كثيرا من العشائر كان كل منها يسكن أماكن متباعدة، فإن معلوماته الجغرافية مرتبة تبعا للسكان لا للمكان.

فهو بهذا يختلف عن السكوني الذي يظهر مما نقل عنه البكري انه كان يهتم بوصف الأماكن وينظم مادته على أساس ذلك، ويذكر العشائر تبعا لهذا التنظيم، ويختلف أيضا عن تنظيم مؤلفي المعاجم الذين يتبعون التسلسل الأبجدي في ذكر أماكن الجزيرة. ومن الطبيعي أنه يختلف أساسيا عن أصحاب المسالك والممالك والرحالين الذين يهتمون بوصف المدن وما يقع على طرق المواصلات دون التركيز على مواطن العشائر. حقا إنه قد وصف الطرق ومحطاتها بين اليمامة والبصرة (102 - 110) وذكر عدد كبيرا من محطات هذه الطرق وأشار إلى العشائر بين حجر ومكة (123 - 127) وذكر عددا كبيرا من محطات هذه الطرق وأشار إلى العشائر المستوطنة فيها، ولكنه لم يصف أيا منها، ما عدا إشارته إلى أهمية حجر وأعمال اليمامة (110).

لقد اهتم المؤلف بعشائر جزيرة العرب ومواطن سكناها فيها، فهو ليس كتاب نسب ولا هو شامل لكل عشائر العرب، فقد أهمل تماما العشائر العربية التي استوطنت الأمصار الإسلامية، وحتى التي استوطنت مدن الجزيرة، ولم يشر إليها، بل انه ذهب إلى أبعد من ذلك حيث روى كثيرا من الأشعار التي يعبر فيها ناطقوها عن شوقهم إلى الصحراء وحنينهم إلى مواطنهم الاصلية في الصحراء، وتذمرهم من سكنى يلاد الشام والعراق، فهو يقدم مادة دسمة لمن يريد دراسة شاملة لموقف البدو من الحضر ومن بعض ما قامت به الدولة في القرن الأول الهجري.

وقد استشهد بأكثر من مائة وخمسين بيتا من الشعر تعبر كلها عن نفسية ومواقف واتجاهات أهل البادية المقيمين في الصحراء، واورد اسماء كثير من
যা আল-হামদানি প্রদান করেছেন। তিনি প্রতিটি শাখার আবাসস্থলের সংখ্যা গণনায় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। যেহেতু তাঁর গবেষণা গোত্রগুলোর আবাসস্থলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে এবং অনেক গোত্রের প্রতিটি শাখা দূরবর্তী স্থানে বসবাস করত, তাই তাঁর ভৌগোলিক তথ্যগুলো স্থানের পরিবর্তে জনবসতি অনুসারে বিন্যস্ত।

এই দিক থেকে তিনি আল-সুকুনি থেকে ভিন্ন, যার সম্পর্কে আল-বাকরির উদ্ধৃতি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি স্থানসমূহের বর্ণনার প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং সেই ভিত্তিতেই তাঁর বিষয়বস্তু সাজিয়েছিলেন এবং এই বিন্যাস অনুযায়ী গোত্রগুলোর উল্লেখ করতেন। তিনি অভিধান রচয়িতাদের বিন্যাস থেকেও ভিন্ন, যারা জাজিরাতুল আরবের (আরব উপদ্বীপ) স্থানসমূহ বর্ণনায় বর্ণানুক্রমিক পদ্ধতি অনুসরণ করেন। আর স্বাভাবিকভাবেই তিনি 'আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক' (পথ ও রাজ্যসমূহ) রচয়িতা এবং পর্যটকদের থেকে মৌলিকভাবে ভিন্ন, যারা শহর এবং যোগাযোগ পথে অবস্থিত স্থানসমূহের বর্ণনায় গুরুত্ব দেন এবং গোত্রগুলোর আবাসস্থলের ওপর বিশেষ মনোযোগ দেন না। প্রকৃতপক্ষে তিনি ইয়ামামা ও বসরার মধ্যবর্তী পথ এবং এর বিশ্রামস্থলসমূহ (১০২ - ১১০) বর্ণনা করেছেন এবং এই পথগুলোর বিপুল সংখ্যক বিশ্রামস্থলের কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া তিনি হাজর ও মক্কার মধ্যবর্তী গোত্রগুলোর (১২৩ - ১২৭) কথা ইঙ্গিত করেছেন এবং এই পথগুলোর অনেকগুলো বিশ্রামস্থলের নাম উল্লেখ করে সেখানে বসবাসরত গোত্রগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তবে হাজর এবং ইয়ামামার প্রশাসনিক অঞ্চলের গুরুত্বের (১১০) প্রতি তাঁর ইঙ্গিত ছাড়া তিনি এগুলোর কোনোটিই বিস্তারিত বর্ণনা করেননি।

লেখক আরব উপদ্বীপের গোত্রসমূহ এবং সেখানে তাদের আবাসস্থলের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। এটি কোনো বংশলতিকার বই নয় এবং এটি সমস্ত আরব গোত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে না। তিনি সেইসব আরব গোত্রকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করেছেন যারা ইসলামী মহানগরগুলোতে বসতি স্থাপন করেছিল, এমনকি যারা উপদ্বীপের শহরগুলোতে বসতি গেড়েছিল তাদের কথাও তিনি উল্লেখ করেননি। বরং তিনি এর চেয়েও বেশিদূর অগ্রসর হয়েছেন, যেখানে তিনি এমন অনেক কবিতা বর্ণনা করেছেন যার মাধ্যমে বক্তারা মরুভূমির প্রতি তাঁদের আকাঙ্ক্ষা এবং মরুভূমিতে তাঁদের আদি আবাসস্থলের প্রতি গভীর মমতা প্রকাশ করেছেন, এবং সিরিয়া ও ইরাক অঞ্চলে বসবাসের প্রতি তাঁদের অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন। ফলে তিনি হিজরি প্রথম শতাব্দীতে নগরবাসীর প্রতি যাযাবরদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত কিছু পদক্ষেপ সম্পর্কে যারা বিস্তারিত অধ্যয়ন করতে চান, তাদের জন্য সমৃদ্ধ উপাদান সরবরাহ করেছেন।

তিনি একশ পঞ্চাশটিরও বেশি কাব্যপঙ্ক্তি উদ্ধৃত করেছেন, যার সবগুলোই মরুভূমিতে বসবাসরত যাযাবরদের মনস্তত্ত্ব, অবস্থান এবং ঝোঁক প্রকাশ করে। তিনি অনেকগুলোর নাম উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ২৯)
ناظمي هذه الأشعار، فأبان صورة عن الحركة الادبية في الصحراء.

وقد اشار إلى بعض المراكز الادارية، والأماكن التي فيها منابر، غير انه لم يشر إلى التقسيمات الادارية، ولم يتطرق إلى ذكر الادارة واحوالها، علما بأنه تناول تقسيم جزيرة العرب على أسس جغرافية، فذكر تهامة والحجاز ونجد، وقد تناقل المتأخرون تقسيمه، وهو أوضح من التقسيمات التي رتبها غيره.

وقد قصر بحثه على الأحوال القائمة للعشائر، فلم يذكر تاريخ أية عشيرة ودورها التاريخي ولم يشر إلى رجالها البارزين، كما فعل أبو عبيدة في أيام العرب، أو ابن الكلبي ومصعب الزبيري في كتابيهما عن النسب. فبحث الاصمعي قائم على الجماعات لا الافراد، وعلى الحاضر دون الماضي وعلى الاوضاع الطبيعية دون الادارية، وعلى الجغرافية الطبيعية دون غيرها، فهو لم يهتم بذكر النباتات والمزروعات أو قيام الصناعات أو تطورات الحضارة التي نمت في الجزيرة على أثر الفتوح الاسلامة. وقد تجاهل وصف مدن الجزيرة وأهلها تماما، الا مكة حيث فصل إلى حد ما في ذكر جبالها، وليس في ذكر اهلها.

وقد تناول بحثه مواطن عقيل، والمنتفق، وخفاجة، وعامر، وخويلد وربيعة، ومعاوية وعوف ابني ربيعة، وانسان وجشم ونصر بني معاوية، ودهمان، وعصيمة، وجذيمة، وهذيل، وفهم، وعدوان، وكنانة، والدئل وعمرو بن الحارث، وزليفة، وثقيف، وأسد، ومرة، ووهب، وبرثن، ووالبه، وحشر، وعبس، واعيى، ونعامة، وأنيف، والهذيم، وجحوان، بني قعين، وسعد بن الحارث، والاشعر، وطيء، ونمير، وربيعة، واعيار وعبد الله بن غطفان، وفزارة، وغنى: وغاضرة، وضبينة، وعميلة، والضباب، وجعفر، ولقيطة وقواله، والضباب، وأبو بكر، والاضبط وكعب بن عبد الله، وزنبل، وعمرو بن قريط، وربيعة بن عبد الله، وعوف ابن عبد الله، والاراسه، وعامر، وسليم، وباهله، وسلول، وكلاب، وفزاره، والاضبط، وبرقان، ووقاص، وزرعه، وسعد بن
এই কবিতাগুলোর রচয়িতাগণ; ফলে তিনি মরুভূমির সাহিত্যিক আন্দোলনের একটি চিত্র তুলে ধরেছেন।

তিনি কিছু প্রশাসনিক কেন্দ্র এবং মিম্বরবিশিষ্ট স্থানসমূহের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তবে তিনি প্রশাসনিক বিভাজনগুলো উল্লেখ করেননি এবং প্রশাসন ও এর অবস্থা সম্পর্কেও আলোচনা করেননি। যদিও তিনি ভৌগোলিক ভিত্তিতে আরব উপদ্বীপের বিভাজন নিয়ে আলোচনা করেছেন, ফলে তিনি তিহামা, হিজাজ এবং নজদ উল্লেখ করেছেন। পরবর্তীগণ তাঁর এই বিভাজনটি গ্রহণ করেছেন এবং এটি অন্যদের বিন্যস্ত বিভাজনগুলোর তুলনায় অধিকতর স্পষ্ট।

তিনি তাঁর গবেষণাকে গোত্রগুলোর বিদ্যমান অবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন, ফলে তিনি কোনো গোত্রের ইতিহাস এবং তাদের ঐতিহাসিক ভূমিকা উল্লেখ করেননি, এমনকি তাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিও ইঙ্গিত করেননি—যেমনটি আবু উবাইদাহ 'আইয়ামুল আরব'-এ করেছেন অথবা ইবনে কলবি এবং মুসআব আজ-জুবাইরি বংশলতিকা বিষয়ক তাঁদের গ্রন্থদ্বয়ে করেছেন। সুতরাং আসমাঈর গবেষণা ব্যক্তিদের পরিবর্তে সমষ্টির ওপর, অতীতের পরিবর্তে বর্তমানের ওপর, প্রশাসনিক অবস্থার পরিবর্তে প্রাকৃতিক অবস্থার ওপর এবং অন্য কিছুর পরিবর্তে প্রাকৃতিক ভূগোলের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি উদ্ভিদ ও শস্যরাজি, অথবা শিল্পের উদ্ভব অথবা ইসলামী বিজয়াভিযানের ফলে আরব উপদ্বীপে গড়ে ওঠা সভ্যতার বিবর্তনগুলো উল্লেখ করার ব্যাপারে গুরুত্ব দেননি। তিনি আরব উপদ্বীপের শহরগুলো এবং সেগুলোর অধিবাসীদের বর্ণনা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন, কেবল মক্কা ব্যতীত; সেখানে তিনি এর পাহাড়গুলো বর্ণনায় কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, কিন্তু এর অধিবাসীদের বর্ণনায় নয়।

তাঁর গবেষণা আকিল, আল-মুন্তাফিক, খাফাজাহ, আমির, খুওয়াইলিদ, রাবিআহ, মুয়াবিয়া ও আউফ (রাবিআর দুই পুত্র), ইনসান, জুশাম, নাসর ইবনে মুয়াবিয়া, দাহমান, আসিমাহ, জাযিমাহ, হুযাইল, ফাহম, আদওয়ান, কিনানাহ, আদ-দিল, আমর ইবনুল হারিস, যুলাইফাহ, সাকিফ, আসাদ, মুররাহ, ওয়াহাব, বুরসান, ওয়ালিবা, হাশার, আবস, আইয়া, নাআমাহ, উনাইফ, আল-হুযাইম, জুহওয়ান, বনু কাইন, সাদ ইবনুল হারিস, আল-আশআর, তাই, নুমাইর, রাবিআহ, আইয়ার, আব্দুল্লাহ ইবনে গাতফান, ফাজারাহ, গানি, গাদিরাহ, দুবাইনা, আমিলাহ, আদ-দিবাব, জাফর, লাকিতা, কাওয়ালাহ, আদ-দিবাব, আবু বকর, আল-আদবাত, কাব ইবনে আব্দুল্লাহ, যানবাল, আমর ইবনে কুরাইত, রাবিআহ ইবনে আব্দুল্লাহ, আউফ ইবনে আব্দুল্লাহ, আল-আরাসাহ, আমির, সুলাইম, বাহিলাহ, সালুল, কিলাব, ফাজারাহ, আল-আদবাত, বুরকান, ওয়াক্কাস, জুরআহ এবং সাদ ইবনে...-এর আবাসস্থলসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ৩০)
زيد، وكعب بن ربيعة، ومحارب ومزينة، وحرام بن جشم، ووهب، ووهبان، وواهب وجعدة والحريش، وهزان، ومعاوية وسلمة ابني قشير، وبلقين، وعبد الله وعمرو ومالك وكعب يني جندب، وكعب ومالك بني العنبر، وعدى، والرباب التيم، وحمان، وحنيفة، وضبة، والهجيم، والصيداء والسبيع، وامرئ القيس، وعضل، وثور، وسليط، وبكر وثعلبة ومبذول بني سعد بن ضبه، وعبد الله، وحويزة، وعمرو بن نميم، وعبد الله ونهشل ومناف وربيعة بن مالك بني دارم، وكعب وجندب بني العنبر، وتميم، وحميس، والفقيم، وحرماز وسعد بن زيد مناة، وامرئ القيس.

وهذه العشائر غير منسقة، فقد تذكر العشيرة اكثر من مرة وفي أكثر من صحيفة.

والكتاب واضح في تعابيره، بسيطة جمله، مألوفة كلماته، مركز خال من الحشو والتكرار، يذكر أحيانا مصادره التي استقى منها معلوماته، وهي أسماء أشخاص ينتمون في الغالب إلى العشيرة التي يذكر مواطنها ومياهها، ولا يذكر شيئا عن حياة هؤلاء الرواة وثقافتهم، وأكثر ما نقل عنه ثمالية عشر نصا، كما نقل عن أبي الورد العقيلي وعن عمارة وعن دعامة بن ثامل والغنوى، والفزاري، وحميد، وأبي مهدي، وأبي الأزهر، والتيمي، والتميمي، وأبي المسلم، وأبي المجيب، وأبي جعفر، وأبي مهذب.

وقد ذكر أسماء عدد من الشعراء مثل أبي ذؤيب، والسعدي، والعقيلي، والثقفي، وأبي عمر، والكميت، ورويشد الأسدي، والحشري، ومعاوية النصري، والفقعسي، ومحمد بن عبد الملك الفقعسي، وهديلة بن سماعة، وعباس النصري، وسوار بن الهذيم.

ليس في المخطوطة ما يدل على سنة تأليفه، ولا في الكتاب ما يشير إلى ذلك، ولا إلى الدافع لتأليفه، ولكننا نعلم أن الأصمعي عاش في أوائل العصر
জায়দ, কাব ইবনে রাবিআহ, মুহারিব ও মুযাইনাহ, হারাম ইবনে জুশাম, ওয়াহাব, ওয়াহবান, ওয়াহিব, জাদাহ ও আল-হারিশ, হাযযান, মুআবিয়াহ ও সালামাহ (কুশায়রের দুই পুত্র), বিলকাইন, আব্দুল্লাহ, আমর, মালিক ও কাব (জুন্দুবের পুত্রগণ), কাব ও মালিক (আল-আনবার এর পুত্রগণ), আদি, আর-রাবাব আত-তায়ম, হাম্মান, হানিফাহ, দাব্বাহ, আল-হুজায়ম, আস-সায়দা ও আস-সুবাই, ইমরাউল কায়েস, আদল, সাওর, সালিত, বকর, সালাবাহ ও মাবযুল (সাদ ইবনে দাব্বাহ এর পুত্রগণ), আব্দুল্লাহ, হুওয়াইযাহ, আমর ইবনে নামিম, আব্দুল্লাহ, নাহশাল, মানাফ ও রাবিআহ ইবনে মালিক (দারিম এর পুত্রগণ), কাব ও জুন্দুব (আল-আনবার এর পুত্রগণ), তামীম, হুমাইস, আল-ফাকিম, হুরমায, সাদ ইবনে যাইদ মানাত এবং ইমরাউল কায়েস।

এই গোত্রগুলোর নাম সুবিন্যস্ত নয়; ফলে একটি গোত্রের নাম একাধিকবার এবং একাধিক পৃষ্ঠায় উল্লিখিত হতে পারে।

গ্রন্থটির প্রকাশভঙ্গি অত্যন্ত স্পষ্ট, এর বাক্যগুলো সরল এবং শব্দাবলী সুপরিচিত। এটি অনর্থক কথা ও পুনরাবৃত্তি মুক্ত একটি সুসংহত গ্রন্থ। এতে মাঝে মাঝে সেই উৎসগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে যেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে; আর এই উৎসগুলো মূলত এমন ব্যক্তিদের নাম, যারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই গোত্রভুক্ত যাদের বাসস্থান এবং জলাশয় সম্পর্কে এখানে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে এই বর্ণনাকারীদের জীবন বা সংস্কৃতি সম্পর্কে এতে কোনো আলোচনা করা হয়নি। যার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে তার পাঠের সংখ্যা আঠারোটি। এছাড়া আবু আল-ওয়ারদ আল-উকাইলি, উমারা, দুআমাহ ইবনে সামিল আল-গানাবি, আল-ফাযারি, হুমাইদ, আবু মাহদি, আবু আল-আযহার, আত-তাইমি, আত-তামিমি, আবু আল-মুসলিম, আবু আল-মুজিব, আবু জাফর এবং আবু মুহাযযাব থেকেও এতে উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে।

এতে বেশ কয়েকজন কবির নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন: আবু জুআইব, আস-সাদি, আল-উকাইলি, আস-সাকাফি, আবু উমর, আল-কুমাইত, রুয়াইশিদ আল-আসাদি, আল-হাশারি, মুআবিয়াহ আন-নাসরি, আল-ফাকআসি, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক আল-ফাকআসি, হুদাইলাহ ইবনে সামাআহ, আব্বাস আন-নাসরি এবং সাওয়ার ইবনে আল-হুযাইম।

পাণ্ডুলিপিটিতে এটি রচনার সাল নির্দেশক কোনো তথ্য নেই এবং গ্রন্থটিতেও এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় না যা রচনার বছর কিংবা এটি রচনার কারণ স্পষ্ট করে। তবে আমরা জানি যে আল-আসমাঈ প্রাথমিক যুগের দিকে বসবাস করতেন।
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ৩১)
العباسي، عندما تثبتت أركان الدولة العباسية الجديدة، وتمتع الموالي والأعاجم وأهل الحضر بالحرية التي فسحت لهم مجال التعببر عن مشاعرهم ومثلهم في الحياة، وقد استغل البعض هذه الحرية واندفعوا يتهجمون على المثل العربية الصحراوية مما يهدد مكانة العرب، وقد يهدد مكانة الاسلام، كل هذا في زمن كانت الجزيرة قد استنزفت طاقاتها البشرية فلم تمد الدولة بنفس العدد الكبير من المقاتلة؛ وقد أدرك كثير من العرب ومؤيديهم والمعجبين بهم خطر هذا الوضع الجديد فحاولوا إيقاف أثره وإبراز تراث جزيرة العرب، فاهتم الخلفاء العباسيون - وهم عرب - بالتراث العربي الصحراوي، وأظهروا حبهم لشعر أهل الصحراء، وأغدقوا على شعراء الصحراء الهبات، وجعلوا مؤدبي أولادهم من العلماء بثقافة جزيرة العرب، وعملوا على ترجمة الكتب إلى العربية لدفع العلماء على الاستغناء عن غير العربية، وشجعوا دراسة تراث الجزيرة ولغتها وآدابها، فظهرت المفضليات والمختارات ومجاميع الشعر العربي القديم، واهتم عدد من العلماء بتسجيل ثقافة عرب الصحراء واتصلوا بالوافدين منها، ورحلوا إليها ليستمدوا معلوماتهم من المقيمين بها. وقد كانت ثمرة ذلك ثروة ضخمة غنية في كثير من ميادين المعرفة، ومنها الاهتمام بقبائل العرب ومواطنها وتاريخها.

في هذا الجو العلمي ألف الأصمعي كتابه عن جزيرة العرب، مركزا اهتمامه بوصف ديار كل عشيرة كانت قائمة، ومواطنها. فهدفه محدد واضح، وهو ينسجم مع تأليف الكتب آنذاك، حيث كان لكل كتاب هدف محدد معين، يمثل جانبا من ثقافة المؤلف، ولا يمثل نظرته، إذ ان نظرة المؤلف تتجلى في جملة ما يكتب، وقد كتب الأصمعي كتبا أخرى عن جوانب أخرى من حياة الجزيرة وأهلها.

صالح أحمد العلي
আব্বাসীয় যুগে যখন নতুন আব্বাসীয় রাষ্ট্রের ভিত্তি সুদৃঢ় হলো এবং মাওয়ালী, অনারব ও নগরবাসীরা এমন স্বাধীনতা লাভ করল যা তাদের অনুভূতি ও জীবনবোধ প্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছিল, তখন কেউ কেউ এই স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে মরু-আরবীয় আদর্শের ওপর আক্রমণ চালাতে শুরু করল। এটি আরবদের এবং সম্ভবত ইসলামের মর্যাদাকেও হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছিল। এই পরিস্থিতি এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছিল যখন আরব উপদ্বীপ তার জনশক্তি হারিয়ে ফেলেছিল এবং রাষ্ট্রকে আগের মতো পর্যাপ্ত সংখ্যক যোদ্ধা সরবরাহ করতে পারছিল না। অনেক আরব এবং তাদের সমর্থক ও অনুরাগীরা এই নতুন পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে এর প্রভাব রুখতে এবং আরব উপদ্বীপের ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে সচেষ্ট হন। আব্বাসীয় খলিফাগণ—যারা বংশগতভাবে আরব ছিলেন—মরু-আরব ঐতিহ্যের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তারা মরুচারীদের কবিতার প্রতি অনুরাগ প্রদর্শন করেন, মরু অঞ্চলের কবিদের দুহাতে দান-দক্ষিণা করেন এবং নিজেদের সন্তানদের শিক্ষিত করে তোলার জন্য আরব উপদ্বীপের সংস্কৃতিতে প্রাজ্ঞ আলেমদের গৃহশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। তারা বিজ্ঞান ও জ্ঞানচর্চার গ্রন্থগুলো আরবিতে অনুবাদের উদ্যোগ নেন যাতে আলেম সমাজ অন্য ভাষার ওপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠতে পারেন। তারা উপদ্বীপের ঐতিহ্য, ভাষা ও সাহিত্য চর্চায় উৎসাহ প্রদান করেন; ফলে 'মুফাদ্বলীয়াত', 'মুখতারাত' এবং প্রাচীন আরবি কবিতার নানাবিধ সংকলন আত্মপ্রকাশ করে। অনেক আলেম মরু-আরবদের সংস্কৃতি সংরক্ষণে মনোযোগী হন এবং তথ্যানুসন্ধানে সেখান থেকে আগত ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করার পাশাপাশি সরাসরি মরু অঞ্চলে সফর করে স্থানীয় অধিবাসীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। এরই ফলশ্রুতিতে জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় এক বিশাল সমৃদ্ধ ভাণ্ডার গড়ে ওঠে, যার অন্যতম প্রধান দিক ছিল আরব গোত্রসমূহ, তাদের আবাসভূমি ও ইতিহাসের চর্চা।

এই জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটে আসমাঈ আরব উপদ্বীপ বিষয়ক তাঁর গ্রন্থটি রচনা করেন। সেখানে তিনি তৎকালীন প্রতিটি গোত্র ও তাদের বসতিগুলোর বর্ণনায় বিশেষ অভিনিবেশ প্রদান করেন। তাঁর এই উদ্দেশ্য ছিল সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট, যা তৎকালীন গ্রন্থ রচনারীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। সে সময়ে প্রতিটি গ্রন্থের একটি বিশেষ লক্ষ্য থাকত যা লেখকের পাণ্ডিত্যের একটি নির্দিষ্ট দিক তুলে ধরত, তাঁর সামগ্রিক জীবনদর্শন নয়। কেননা একজন লেখকের পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর সকল রচনার সামগ্রিকতায় ফুটে ওঠে। আসমাঈ আরব উপদ্বীপের জীবন ও সেখানকার অধিবাসীদের অন্যান্য দিক নিয়ে আরও বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন।

সালিহ আহমদ আল-আলী
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌ليس هذا الكتاب للأصمعي

لعلماء بغداد من أهلها ومن الوافدين عليها عناية جيدة بهذا الكتاب الذي تحدث عنه الدكتور صالح أحمد العلي هذا الحديث الذي كان شاملا ومستوفيا لوصف الكتاب ومتضمنا معلومات قيمة عن كتاب «جزيرة العرب» للأصمعي الذي حسبه الدكتور هذا الكتاب الذي تحدث عنه. إن من عناية علماء بغداد، اننا لا نجد بين أيدينا الآن أصلا لهذا الكتاب إلا ما جاءنا عن طريقهم، ولم نكن نعرف شيئا عنه لو لم يذكروه في مؤلفاتهم، أو يتحدثوا عنه في محاضراتهم.

1 - إن أقدم نسخة وصلت إلينا هي النسخة التي كتبها العالم البغدادي المحقق نعمان بن شهاب الدين الألوسي، وهي النسخة المحفوظة في خزانة الأوقاف في بغداد والمخطوطة سنة 1299 هـ.

2 - وعن هذه النسخة فيما ظهر لنا نقل علامة العراق الأستاذ محمود شكري الألوسي ابن أخ السيد نعمان المتقدم ذكره، نقل نسخة فرغ من كتابتها في سنة 1299 هـ أي في السنة التي كتب فيها السيد نعمان نسخته، والفرق بين تاريخ كتابة النسختين هما شهر وستة أيام وفي إحدى هوامش نسخة السيد نعمان تعليقة بخط السيد محمود تدل على اطلاعه عليها.

ونسخة السيد محمود مما تزدان به خزانة صديقنا العالم الجليل عباس العزاوي.
এই কিতাবটি আসমায়ী-এর নয়

বাগদাদের স্থানীয় এবং সেখানে আগত আলেমগণের এই কিতাবটির প্রতি গভীর মনোনিবেশ ছিল, যে কিতাবটি সম্পর্কে ডক্টর সালিহ আহমদ আল-আলী আলোচনা করেছেন। তার এই আলোচনাটি ছিল কিতাবটির বর্ণনায় অত্যন্ত ব্যাপক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং এতে আসমায়ী-এর ‘জাজিরাতুল আরব’ কিতাব সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেটিকে ডক্টর সেই কিতাব হিসেবেই গণ্য করেছিলেন যেটির বিষয়ে তিনি আলোচনা করছিলেন। বাগদাদের আলেমগণের এই বিশেষ যত্নের কারণেই আমরা বর্তমানে তাদের মাধ্যমে প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপি ছাড়া এই কিতাবটির অন্য কোনো মূল কপি আমাদের হাতে পাই না। যদি তারা তাদের গ্রন্থাবলীতে এটি উল্লেখ না করতেন বা তাদের পাঠদানে এ নিয়ে আলোচনা না করতেন, তবে আমরা এটি সম্পর্কে কিছুই জানতে পারতাম না।

১ - আমাদের কাছে পৌঁছানো প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপিটি হলো সেই সংস্করণ যা বাগদাদের গবেষক আলেম নুমান বিন শিহাবুদ্দিন আল-আলুসী অনুলিখন করেছিলেন। এটি বাগদাদের ওয়াকফ ভাণ্ডারে সংরক্ষিত রয়েছে এবং এটি ১২৯৯ হিজরিতে অনুলিখিত পাণ্ডুলিপি।

২ - দৃশ্যত এই সংস্করণটি থেকেই ইরাকের আল্লামা উস্তাদ মাহমুদ শুকরী আল-আলুসী—যিনি ইতিপূর্বে উল্লিখিত সাইয়্যেদ নুমানের ভ্রাতুষ্পুত্র—একটি অনুলিপি তৈরি করেছিলেন। তিনি এটি লিখার কাজ ১২৯৯ হিজরিতে সমাপ্ত করেন, অর্থাৎ ঠিক সেই বছরই যে বছর সাইয়্যেদ নুমান তার সংস্করণটি লিখেছিলেন। এই দুই সংস্করণ লিখনের সময়ের মধ্যে ব্যবধান হলো মাত্র এক মাস ছয় দিন। সাইয়্যেদ নুমানের সংস্করণের একটি পার্শ্বটীকায় সাইয়্যেদ মাহমুদের হস্তাক্ষরে একটি মন্তব্য রয়েছে, যা তার এটি পর্যালোচনার প্রমাণ দেয়।

আর সাইয়্যেদ মাহমুদের সংস্করণটি আমাদের বন্ধু প্রথিতযশা আলেম আব্বাস আল-আযযাউয়ীর কিতাবশালাকে অলঙ্কৃত করে রেখেছে।
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ৩৩)
3 - وفي الكتب التي آلت إلى مكتبة الآثار العراقية من كتب العلامة الأب انستاس ماري الكرملي، نسخة ثالثة كانت للاستاذ سليمان الدخيل النجدي ثم البغدادي، وقد كتب في مقدمتها ما هذا نصه، بلفظه: (تنبيه:

عندما جليت عن العراق خوفا من أن أقع بشبكة الاتحاديين الني كانت تفتك يومها برجال العرب ذهبت إلى بلاد أمير شمر الأمير سعود بن عبد العزيز الرشيد ومن هناك توجهت إلى المدينة المنورة، فزرت عدة مكتبات فيها ومن هذه المكتبات مكتبة داود باشا والي العراق في زمن مضى فاستنسخت منها عدة كتب ثمينة منها هذا الكتاب تأليف العلامة أبي (؟) لغدة الأصبهاني، فلما عرضت النسخة على استاذي المرحوم السيد محمود شكري الألوسي المتوفي سنة [1342] هـ، أخذها مني واستنسخها وأعطاني هذه النسخة التي قابلها على ما ورد في كتب اللغة فجاءت صحيحة أو أصح من كل نسخة، ففضلت الاحتفاظ بهذه لكونها نسخة صحيحة ولكونها تمتاز بأنها مصححة على استاذي المرحوم السيد محمود شكري الألوسي رحمه الله وطيب ثراه وأسكنه في دار جنته ورضاه - سليمان الدخيل).

وهذه النسخة التي تحدث عنها مخطوطة في جمادى الآخرة سنة 1336 هـ بقلم عبد الرزاق السعداوي من محلة الشيخ الكيلاني في بغداد.

ومما ينبغي ملاحظته أن الاستاذ الدخيل - والله يعفو عنه - كان يظهر كتبه بمظهر الندرة عندما يعرضها على الأب انستاس لشرائها، وقد وقع له من هذا القبيل عندما باع على الأب جزءا من تاريخ نجد لابن غنام، كما يدل على هذا ما سجله الأب الكرملي في طرة تلك النسخة مما يدل على طيب قلبه.

4 - وأضيفت إلى مكتبة الأوقاف ببغداد نسخة كتبها السيد حسن الانكرلي من هذا الكتاب وتاريخ كتابتها 6 ربيع الأول سنة 1305 هـ، ويرى صديقنا الاستاذ عباس العزاوي أنها منقولة عن النسخة الألوسية.
৩ - আল্লামা ফাদার আনাসতাস মারি আল-কারমালি-এর বইসমূহ থেকে যে বইগুলো ইরাকি প্রত্নতত্ত্ব পাঠাগারে স্থানান্তরিত হয়েছে, তার মধ্যে একটি তৃতীয় পাণ্ডুলিপি ছিল যা উস্তাদ সুলাইমান আদ-দাখিল আন-নাজদি অতঃপর আল-বাগদাদি-এর মালিকানাধীন ছিল। তিনি এর ভূমিকায় হুবহু যা লিখেছেন তা হলো: (সতর্কবার্তা:

যখন আমি ইত্তিহাদিদের জালের ভয়ে ইরাক ত্যাগ করেছিলাম, যারা সেই দিনগুলোতে আরব পুরুষদের ধ্বংস করত, তখন আমি শামার-এর আমির সাউদ বিন আব্দুল আজিজ আর-রশিদের দেশে যাই। সেখান থেকে আমি মদিনা মুনাওয়ারার দিকে যাত্রা করি এবং সেখানে বেশ কিছু পাঠাগার পরিদর্শন করি। এই পাঠাগারগুলোর মধ্যে অতীতে ইরাকের ওয়ালি দাউদ পাশার একটি পাঠাগার ছিল। সেখান থেকে আমি বেশ কিছু মূল্যবান বইয়ের প্রতিলিপি করি, যার মধ্যে আল্লামা আবু (?) লুগদাহ আল-আসফাহানির রচিত এই বইটি অন্যতম। অতঃপর আমি যখন এই পাণ্ডুলিপিটি আমার উস্তাদ মরহুম সাইয়্যিদ মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি (মৃত্যু ১৩৪২ হিজরি)-এর নিকট পেশ করি, তখন তিনি এটি আমার কাছ থেকে নিয়ে প্রতিলিপি তৈরি করেন এবং আমাকে এই পাণ্ডুলিপিটি প্রদান করেন। তিনি এটি ভাষাতত্ত্বের বইসমূহের সাথে মিলিয়ে সংশোধন করেছিলেন, ফলে এটি প্রতিটি পাণ্ডুলিপির তুলনায় বিশুদ্ধ বা অধিক বিশুদ্ধ হয়েছে। তাই আমি এটিকেই সংরক্ষণ করা শ্রেয় মনে করেছি, কারণ এটি একটি বিশুদ্ধ পাণ্ডুলিপি এবং এটি আমার উস্তাদ মরহুম সাইয়্যিদ মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি—আল্লাহ তাকে রহমত করুন, তার মাটিকে সুবাসিত করুন এবং তাকে তাঁর জান্নাত ও সন্তুষ্টির আবাসে স্থান দান করুন—এর মাধ্যমে সংশোধিত হওয়ার বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। - সুলাইমান আদ-দাখিল)।

তিনি যে পাণ্ডুলিপির কথা বলেছেন, তা ১৩৩৬ হিজরির জমাদিউল আখির মাসে বাগদাদের শেখ কাইলানি মহল্লার আব্দুর রাজ্জাক আস-সাদাউয়ি-এর কলমে লিখিত।

যে বিষয়টি লক্ষ্য করা উচিত তা হলো, উস্তাদ আদ-দাখিল—আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন—যখন ফাদার আনাসতাসের কাছে বইগুলো বিক্রির জন্য পেশ করতেন, তখন সেগুলোকে দুষ্প্রাপ্য হিসেবে জাহির করতেন। ইবনে গন্নামের 'তারিখে নজদ'-এর একটি অংশ ফাদারের কাছে বিক্রি করার সময়ও এমনটি ঘটেছিল। ফাদার আল-কারমালি সেই পাণ্ডুলিপির কভারে যা লিখে রেখেছেন তা থেকে এটি প্রমাণিত হয়, যা তার সরল হৃদয়েরও পরিচয় দেয়।

৪ - বাগদাদের মাকতাবাতুল আওকাফে এই বইটির আরও একটি পাণ্ডুলিপি যুক্ত করা হয়েছে যা সাইয়্যিদ হাসান আল-আঙ্কারলি প্রতিলিপি করেছিলেন এবং এর প্রতিলিপির তারিখ ৬ রবিউল আউয়াল ১৩০৫ হিজরি। আমাদের বন্ধু উস্তাদ আব্বাস আল-আজ্জাভি মনে করেন যে, এটি আলুসি পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) বিলাদুল আরব (পৃষ্ঠা: ৩৪)
5 - وهناك نسخة مخطوطة في 14 شعبان 1313 هـ وكانت من كتب الشيخ ابراهيم بن صالح بن عيسى أحد علماء نجد، وهذا العالم له صلة قوية بالسيد محمود شكري الألوسي ويظهر أنه استنسخ هذه النسخة عن نسخته، وأن ناسخها هو السيد محمد سعيد ابن السيد مال الله التكريتي لأن كتابة هذه النسخة تشابه إلى حد كبير كتاب «شرح منظومة عمود النسب في أنساب العرب» الذي ألفه السيد الألوسي في سنة 1336 هـ والموجود في مكتبة الآثار العراقية.

وهذه النسخة يوجد أصلها لدى الشيخ محمد بن حمد بن فارس - توفى رحمه الله في عام 1387 - في الرياض.

إذن هذه النسخ التي تقدم ذكرها - وهي كل ما نعرف من مخطوطات هذا الكتاب - ترجع إلى أصل بغدادي هو نسخة السيد نعمان عم السيد محمود، أو عن نسخة السيد محمود نفسه.

هذا طرف من عناية علماء بغداد بهذا الكتاب أما الطرف الثاني فهو ما ستأتي الإشارة إليه.

ومن ذلك ما نقله السيد محمود شكري الألوسي رحمه الله في كتابيه «بلوغ الارب» و «تاريخ نجد» ولكنه رحمه الله سمى المؤلف أبا لغدة وسيأتي كلامه.

وقام الأديب النجدي ثم البغدادي سليمان الدخيل بوضع سبعة فهارس لنسخته الموجودة في مكتبة الآثار، ففي الصفحة 187 منها ما هذا نصه:

بعد أن صححت هذا الكتاب على المرحوم الأستاذ السيد محمود شكري الألوسي وضعت له الفهارس الآتية:

1 - فهرس في الأمكنة والبقاع الوارد ذكرها في هذا الكتاب.

2 - «في ذكر القبائل والبطون والافخاذ.
৫ - ১৪ শাবান ১৩১৩ হিজরির একটি পাণ্ডুলিপি সংস্করণ রয়েছে এবং এটি নাজদ অঞ্চলের অন্যতম আলেম শেখ ইব্রাহিম বিন সালেহ বিন ঈসার কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই আলেমের সাথে সাইয়্যেদ মাহমুদ শুকরি আল-আলুসির গভীর সম্পর্ক ছিল এবং প্রতীয়মান হয় যে, তিনি এই কপিটি তাঁর কপি থেকেই অনুলিপি করেছেন। এর অনুলিপিকারক হলেন সাইয়্যেদ মুহাম্মদ সাঈদ ইবনে সাইয়্যেদ মালুল্লাহ আত-তিকরিতি; কারণ এই কপির লিখনশৈলীর সাথে সাইয়্যেদ আলুসি কর্তৃক ১৩৩৬ হিজরিতে রচিত ‘শারহু মানজুমাত আমুদুন নাসাব ফি আনসাবিল আরাব’ গ্রন্থটির লিখনশৈলীর অনেক মিল রয়েছে, যা ইরাকি প্রত্নতাত্ত্বিক গ্রন্থাগারে বিদ্যমান।

এই পাণ্ডুলিপির মূল কপিটি রিয়াদের শেখ মুহাম্মদ বিন হামাদ বিন ফারিসের নিকট রয়েছে—যিনি ১৩৮৭ হিজরিতে ইন্তেকাল করেছেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

সুতরাং, পূর্বে উল্লিখিত এই পাণ্ডুলিপিগুলো—যা এই কিতাবের আমাদের জানা সমস্ত পাণ্ডুলিপি—একটি বাগদাদী মূল কপির দিকেই প্রত্যাবর্তন করে, যা হলো সাইয়্যেদ মাহমুদের চাচা সাইয়্যেদ নুমানের কপি, অথবা স্বয়ং সাইয়্যেদ মাহমুদের কপি।

এই কিতাবটির প্রতি বাগদাদের আলেমদের গুরুত্বারোপের এটি এক দিক, আর দ্বিতীয় দিকটি সামনে উল্লেখ করা হবে।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা সাইয়্যেদ মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘বুলুগুল আরাব’ এবং ‘তারিখে নাজদ’ গ্রন্থদ্বয়ে উদ্ধৃত করেছেন। তবে তিনি লেখকের নাম ‘আবু লুগদাহ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর বক্তব্য সামনে আসবে।

নাজদী ও পরবর্তীতে বাগদাদী সাহিত্যিক সুলাইমান আদ-দাখিল প্রত্নতাত্ত্বিক গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত তাঁর কপির জন্য সাতটি সূচিপত্র তৈরি করেছেন। এর ১৮৭ পৃষ্ঠায় নিম্নরূপ পাঠ রয়েছে:

মরহুম উস্তাদ সাইয়্যেদ মাহমুদ শুকরি আল-আলুসির নিকট এই কিতাবটি সংশোধন করার পর আমি এতে নিম্নোক্ত সূচিপত্রগুলো যুক্ত করেছি:

১ - এই কিতাবে উল্লিখিত স্থান ও ভূখণ্ডসমূহের সূচিপত্র।

২ - গোত্র, শাখা-গোত্র এবং উপ-শাখাগুলোর বর্ণনার সূচিপত্র।