(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: -)
المفردات القسم: الفقه الحنبلي
الكتاب: المفردات
تصنيف: علي بن عبيد الله بن نصر ابن الزاغوني الحنبلي (455 - 527 هـ)
المحقق: د. عبد المجيد بن عبد الله بن محمد الخنين
أصل التحقيق: أطروحة دكتوراة، قسم الشريعة والدراسات الإسلامية، بجامعة الملك عبد العزيز بجدة، 1439 هـ
الناشر: دار الحضارة، الرياض - السعودية
الطبعة: الثانية، 1446 هـ - 2025 م
عدد الصفحات: 810
أهداه للشاملة: المحقق، جزاه الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 صفر 1447
আল-মুফরাদাত বিভাগ: হাম্বলী ফিকহ
কিতাব: আল-মুফরাদাত
রচয়িতা: আলী বিন উবাইদুল্লাহ বিন নাসর ইবনে আল-জাগুনি আল-হাম্বলী (৪৫৫ - ৫২৭ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা: ড. আব্দুল মাজিদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-খানীন
গবেষণার মূল উৎস: পিএইচডি থিসিস, শরীয়াহ ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জেদ্দাস্থ কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়, ১৪৩৯ হিজরি
প্রকাশক: দারুল হাদারাহ, রিয়াদ - সৌদি আরব
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৪৬ হিজরি - ২০২৫ ঈসায়ী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮১০
শামিলার জন্য উপহার দিয়েছেন: গবেষক, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১ সফর ১৪৪৭
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ৬)
أصل هذا العمل رسالة علميّة مقدمة لنيل درجة العالميّة العالية (الدكتوراه) في الفقه، من قسم الشريعة والدراسات الإسلامية، بجامعة الملك عبد العزيز بجدة، وقد نوقشت بتاريخ 26/ 7/ 1439 هـ، ومُنح الباحث درجة (الدكتوراه).
এই কাজের মূল উৎস এটি জেদ্দাস্থ কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা বিভাগ থেকে ফিকহ শাস্ত্রে উচ্চতর বৈশ্বিক ডিগ্রি (পিএইচডি) অর্জনের উদ্দেশ্যে উপস্থাপিত একটি গবেষণাপত্র। এটি ২৬/০৭/১৪৩৯ হিজরি তারিখে পর্যালোচিত হয়েছে এবং গবেষককে (পিএইচডি) ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ৮)
المقدمة
1 ـ الافتتاحية.
2 ـ أهمية الكتاب وأسباب اختياره.
3 ـ أهداف البحث.
4 ـ الدراسات السابقة.
5 ـ خطة البحث.
6 ـ منهج التحقيق.
ভূমিকা
১ — প্রারম্ভিকা।
২ — গ্রন্থের গুরুত্ব এবং এটি নির্বাচনের কারণসমূহ।
৩ — গবেষণার লক্ষ্যসমূহ।
৪ — পূর্ববর্তী অধ্যয়নসমূহ।
৫ — গবেষণার রূপরেখা।
৬ — সম্পাদনা পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ৯)
المقدمةإن الحمد لله نحمده، ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يَهْدِ الله فلا مضلّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله ـ صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم ـ تسليماً كثيراً، أما بعد:
فقد صُنِّفت كتبٌ في (المفردات) عند الحنابلة؛ منها ما هو في رؤوس المسائل المفردة، ومنها ما هو في الخلاف العالي، ومن أهم المصنفات في الخلاف العالي «المفردات» لأبي الحسن ابن الزاغوني الحنبلي المتوفى 527 هـ.
وهذا الكتاب مكوّن من جزئين، الثاني منهما مفقود، أما الأول فيبدأ من (كتاب الطهارة) إلى (مسألة إذا مثّل بعبده قاصداً من كتاب الغصب)، وقد عقدتُ العزم على تحقيق ودراسة وإخراج هذا الجزء، لما يلي:
أهميَّة الكتاب وأسباب اختياره:1 ـ الرغبة في خدمة الفقه الإسلامي عموماً، والفقه الحنبلي على وجه الخصوص، ومن ذلك كتب التراث؛ فإن في تحقيقها وإخراجها إضافةً متميّزةً لمكتبة الفقه الزاخرة.
2 ـ ما تبوّأه صاحب هذا الكتاب من مكانةٍ علميَّةٍ رفيعةٍ في المذهب الحنبلي، فهو أحد أعلامه وذو قدمٍ راسخةٍ فيه.
3 ـ أن هذا الكتاب «المفردات» ذو قيمةٍ علميَّة كبيرة، وأبيّن هنا موجزها:
أ ـ أنّ مؤلّفه أحد المجتهدين في المذهب الحنبلي، وممن بلغ مرتبة الترجيح بين الروايات والأوجه.
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের মন্দ কাজ ও আমাদের আমলের অশুভ পরিণাম থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল—আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:
হাম্বলী মাজহাবে 'মুফরাদাত' (একক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মাসআলা) বিষয়ে অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে; যার মধ্যে কিছু একক মাসআলার মূল বিষয়াবলি নিয়ে, আবার কিছু উচ্চতর মতভেদ (আল-খিলাফ আল-আলি) নিয়ে রচিত। উচ্চতর মতভেদ বিষয়ক গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো ৫২৭ হিজরীতে মৃত্যুবরণকারী আবুল হাসান ইবনুল যাগুনী আল-হাম্বলীর 'আল-মুফরাদাত' গ্রন্থটি।
এই গ্রন্থটি দুই খণ্ডে বিভক্ত, যার দ্বিতীয় খণ্ডটি বিলুপ্ত। তবে প্রথম খণ্ডটি 'পবিত্রতা অধ্যায়' থেকে শুরু হয়ে 'জবরদখল অধ্যায়'-এর 'যদি কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দাসের অঙ্গহানি করে' সংক্রান্ত মাসআলা পর্যন্ত বিস্তৃত। আমি নিম্নোক্ত কারণসমূহের প্রেক্ষিতে এই অংশটির তাহকীক, গবেষণা ও প্রকাশের সংকল্প করেছি:
গ্রন্থটির গুরুত্ব এবং এটি নির্বাচনের কারণসমূহ:১. সাধারণভাবে ইসলামী ফিকহ এবং বিশেষভাবে হাম্বলী ফিকহের সেবা করার আকাঙ্ক্ষা, যার অন্তর্ভুক্ত হলো ঐতিহ্যবাহী পাণ্ডুলিপিসমূহ; কেননা এগুলোর তাহকীক ও প্রকাশ সমৃদ্ধ ফিকহী গ্রন্থাগারে এক অনন্য সংযোজন।
২. এই গ্রন্থের লেখকের হাম্বলী মাজহাবে সুউচ্চ ইলমী অবস্থান; তিনি এই মাজহাবের অন্যতম ইমাম এবং এতে সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী।
৩. এই 'আল-মুফরাদাত' গ্রন্থটির ইলমী মূল্য অত্যন্ত বেশি, আমি এখানে সংক্ষেপে তা তুলে ধরছি:
ক. এর লেখক হাম্বলী মাজহাবের অন্যতম মুজতাহিদ এবং তিনি বিভিন্ন বর্ণনা ও মতামতের (রিওয়ায়াত ও আওজুহ) মধ্যে প্রাধান্য নির্ণয়ের (তারজীহ) স্তরে পৌঁছেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ১০)
ب ـ عناية جملةٍ من جهابذة العلماء بذكر آراء ابن الزاغوني واختياراته، ونقلهم عنه.
ج ـ أن هذا الكتاب يحوي عدداً من المسائل الخلافيَّة على المذاهب الأربعة، كما أنه يحوي الخلاف داخل المذهب.
د ـ أن هذا الكتاب يُعدّ من كتب الحنابلة المتقدّمة، فقد توفّي مصنّفه عام 527 هـ.
هـ أن هذا الكتاب يبيّن ما عليه الحنابلة من عنايتهم بالاستدلال من الكتاب والسنّة.
و ـ أن هذا الكتاب تضمّن في أثنائه قواعد أصوليَّة، ولا غرو في ذلك، فصاحبه فقيهٌ أصوليّ.
ز ـ أن آراء ابن الزاغوني واختياراته الفقهيَّة تذكر ويُذكر معها آراء واختيارات فحول العلماء وجهابذتهم.
4 ـ ما يحتوي عليه هذا الكتاب من أبرز المسائل الخلافيَّة بين أهل العلم، وتوثيق هذه المسائل ومعرفة مذاهب أهل العلم فيها مما يعود على طالب العلم بفائدة عظيمة.
5 ـ أن هذا الكتاب يُعَدُّ مرجعاً لجملةٍ من فحول العلماء وأكابرهم، كابن مُفلح، والمرداوي، فكان حريّاً بتحقيقه وإخراجه، وليس إخراج الكتب الناقلة بأولى من المنقول عنها.
6 ـ أن هذا الكتاب غيرُ مخدومٍ علميّاً البتّة، بل إنه لم يطبع طبعةً تجاريَّة على أقلّ الأحوال؛ وخدمته بعملٍ علميّ فرصةٌ يجب اغتنامُها.
أهداف البحث:لقد كان من أهمّ أهداف هذا البحث ما يلي:
1 ـ خدمة الفقه الإسلامي عموماً، والفقه الحنبلي على وجه الخصوص، ومن ذلك كتب التراث؛ فإن في تحقيقها وإخراجها إضافةً متميّزةً لمكتبة الفقه الزاخرة.
খ — একদল শ্রেষ্ঠ আলেম ইবনে আল-জাগুনির মতামত ও অগ্রাধিকারসমূহ উল্লেখ করার এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন।
গ — এই গ্রন্থটি চার মাযহাবের মধ্যকার বেশ কিছু মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলা অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন এটি মাযহাবের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকেও ধারণ করে।
ঘ — এই গ্রন্থটি হাম্বলি মাযহাবের পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচিত হয়, কারণ এর লেখক ৫২৭ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
ঙ — এই গ্রন্থটি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে হাম্বলি আলেমদের যে বিশেষ যত্ন ও গুরুত্ব রয়েছে তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।
চ — এই গ্রন্থটি এর বিষয়বস্তুর ভেতরে অনেক উসূলি মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত করেছে; আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ এর রচয়িতা একজন ফকিহ ও উসূলবিদ ছিলেন।
ছ — ইবনে আল-জাগুনির ফিকহি মতামত ও পছন্দসমূহের পাশাপাশি অন্যান্য শ্রেষ্ঠ ও প্রাজ্ঞ আলেমদের মতামত ও অগ্রাধিকারগুলোও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
৪ — আলেমদের মধ্যকার প্রধান প্রধান মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাসমূহ যা এই গ্রন্থে বিদ্যমান, সেগুলোর নথিবদ্ধকরণ এবং এ বিষয়ে আলেমদের মাযহাবসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া ইলম অন্বেষণকারীর জন্য অনেক বড় উপকারের কারণ।
৫ — এই গ্রন্থটি ইবনে মুফলিহ এবং মারদাওয়ির মতো বরেণ্য ও বড় একদল আলেমের নিকট একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত। তাই এটি সম্পাদনা ও প্রকাশ করা অত্যন্ত জরুরি ছিল; কারণ উদ্ধৃতি প্রদানকারী গ্রন্থগুলো প্রকাশ করা মূল উৎস গ্রন্থের চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য হতে পারে না।
৬ — এই গ্রন্থটির ওপর ইতিপূর্বে কোনো তাত্ত্বিক বা ইলমি কাজ একেবারেই করা হয়নি, এমনকি এটি অন্তত বাণিজ্যিকভাবেও মুদ্রিত হয়নি; তাই একটি ইলমি কাজের মাধ্যমে এর সেবা করার এই সুযোগটি গ্রহণ করা অপরিহার্য।
গবেষণার লক্ষ্যসমূহ:এই গবেষণার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যসমূহ ছিল নিম্নরূপ:
১ — সাধারণভাবে ইসলামি ফিকহের এবং বিশেষভাবে হাম্বলি ফিকহের খেদমত করা, যার অন্তর্ভুক্ত হলো ঐতিহ্যবাহী (তুরাত) গ্রন্থসমূহ; কেননা এগুলো সম্পাদনা ও প্রকাশ করা সমৃদ্ধ ফিকহ লাইব্রেরির জন্য একটি অনন্য সংযোজন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ১১)
2 ـ خدمة تراث ابن الزاغوني، فلم يُنشر له أي كتاب في المجال الفقهيّ، وإخراج هذا الكتاب سيجعل له ميزة خاصة.
الدراسات السابقة:إنه بتتبّع ومراجعة قوائم الرسائل العلميَّة في جامعة أمّ القرى، والجامعة الإسلاميَّة، وجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلاميّة، ومكتبة الملك فهد الوطنيّة، ومكتبة الملك فيصل، لم أظفر بشيء يفيد أنَّه تم تحقيق الكتاب.
وقد سألتُ بعض المختصّين بكتب الحنابلة فأفادني فضيلة الشيخ الدكتور/ ناصر بن سعود السلامة بعدم تحقيقه وإخراجه، وزودني بنسخته، وأشاد بأهمّيَّة الكتاب وضرورة خدمته بعملٍ علمي.
خطّة البحث:وتشتمل على مقدمة، وبابين.
المقدّمة، وتحتوي على:
تحديد موضوع الرسالة، وأهميَّته، وأسباب اختياره، والدراسات السابقة، وتقسيمات البحث، ومنهجه.
الباب الأول: القسم الدراسي، وفيه فصلان:
الفصل الأول: التعريف بالمؤلِّف، وفيه أربعة مباحث:
المبحث الأول: اسمه، ونسبه، وكنيته.
المبحث الثاني: مولده، ونشأته، ووفاته.
المبحث الثالث: شيوخه، وتلامذته.
المبحث الرابع: منزلته العلميّة، ومؤلفاته.
২. ইবনে আল-জাগুনির ইলমি ঐতিহ্যের সেবা করা; কারণ ফিকহী অঙ্গনে তাঁর কোনো কিতাব ইতিপূর্বে প্রকাশিত হয়নি, আর এই কিতাবটি প্রকাশের ফলে তাঁর একটি বিশেষ স্বাতন্ত্র্য তৈরি হবে।
পূর্ববর্তী গবেষণাগুলো:উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কিং ফাহাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরি এবং কিং ফয়সাল লাইব্রেরির উচ্চতর গবেষণাপত্রগুলোর (থিসিস) তালিকা অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা করে আমি এমন কোনো হদিস পাইনি যা কিতাবটি ইতিপূর্বে সম্পাদিত হওয়ার প্রমাণ দেয়।
আমি হাম্বলি মাযহাবের কিতাবাদি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ কতিপয় ব্যক্তির নিকট এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছি। ফলশ্রুতিতে শ্রদ্ধেয় শাইখ ডক্টর নাসের বিন সাউদ আস-সালামাহ আমাকে জানিয়েছেন যে, কিতাবটি ইতিপূর্বে সম্পাদিত ও প্রকাশিত হয়নি। তিনি আমাকে তাঁর নিকটে সংরক্ষিত কিতাবটির অনুলিপি প্রদান করেছেন এবং কিতাবটির গুরুত্ব ও একটি একাডেমিক কাজের মাধ্যমে এর সেবা করার প্রয়োজনীয়তার কথা ব্যক্ত করেছেন।
গবেষণা পরিকল্পনা:এটি একটি ভূমিকা এবং দুটি অধ্যায় সম্বলিত।
ভূমিকা, যা নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করে:
গবেষণার বিষয় নির্ধারণ, এর গুরুত্ব, নির্বাচনের কারণসমূহ, পূর্ববর্তী গবেষণাগুলো, গবেষণার বিন্যাস এবং এর কর্মপদ্ধতি।
প্রথম অধ্যায়: গবেষণা বিভাগ, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থকারের পরিচয়, এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয় এবং উপনাম।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং ইন্তেকাল।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর উস্তাদগণ এবং ছাত্রগণ।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা এবং রচনাবলী।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ১২)
الفصل الثاني: التعريف بالكتاب، وفيه خمسة مباحث:
المبحث الأول: اسم الكتاب، ونسبته إلى مؤلِّفه.
المبحث الثاني: منهج المصنّف في تأليفه.
المبحث الثالث: موارد الكتاب، ومصادره.
المبحث الرابع: القيمة العلميَّة للكتاب.
المبحث الخامس: نسخة الكتاب، ووصفها.
الباب الثاني: النص المحقّق.
منهج التحقيق:لقد اتّبعتُ في التحقيق المنهج التالي:
1 ـ الالتزام بتدوين عبارة المخطوط كما هي في صلب المتن، وإذا كانت تحتاج إلى تصويب فأجعل التصويب بين معكوفين هكذا [] في المتن، وأشير في الهامش إلى عبارة المخطوط، وأبيّن مصدر التصويب أو تعليله.
2 ـ إثبات ما سقط من الحروف والكلمات من المخطوط في المتن وأجعله بين معكوفين هكذا []، وأشير في الهامش إلى المرجع إن وجد.
3 ـ عزو الآيات القرآنية إلى السور مع ذكر أرقامها.
4 ـ تخريج الأحاديث الواردة في المخطوط، فإن كان الحديث في الصحيحين أو أحدهما اكتفيت بالعزو إليهما أو أحدهما، وإن لم يكن في أحدهما فأذكر موضعه مع نقل كلام العلماء عليه ـ إن وجد ـ، وإنْ نَسَبَ المصنف الحديث لأحد الأئمة الذين لم تخرج كتبهم، كالجوزجاني والساجي وأبي بكر النجاد وغيرهم، أو لأئمة لم يخرج من كتبهم إلا شيئاً يسيراً كابن أبي حاتم، فإني سوف أقوم بتخريج الحديث مباشرة من غيرهم في الحالة الأولى، أما في الحالة الثانية
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কিতাবের পরিচিতি, এতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: কিতাবের নাম এবং এর লেখকের প্রতি তার সম্বন্ধ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: রচনায় গ্রন্থকারের কর্মপদ্ধতি।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কিতাবের উপাদানসমূহ এবং এর উৎসসমূহ।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: কিতাবের জ্ঞানতাত্ত্বিক গুরুত্ব।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: কিতাবের পাণ্ডুলিপি এবং তার বিবরণ।
দ্বিতীয় অধ্যায়: সম্পাদিত মূল পাঠ।
সম্পাদনার কর্মপদ্ধতি:আমি সম্পাদনার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
১ ـ পাণ্ডুলিপির বক্তব্য মূল পাঠে হুবহু লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা। যদি তা সংশোধনের প্রয়োজন হয়, তবে আমি সংশোধনটিকে মূল পাঠের ভেতর এভাবে [ ] থার্ড ব্র্যাকেটের মধ্যে রেখেছি এবং পাদটীকায় পাণ্ডুলিপির মূল বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছি, আর সংশোধনের উৎস বা কারণ বর্ণনা করেছি।
২ ـ পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়া অক্ষর ও শব্দসমূহ মূল পাঠে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সেগুলোকে এভাবে [ ] থার্ড ব্র্যাকেটের মধ্যে রাখা, আর উৎস পাওয়া গেলে পাদটীকায় তার উল্লেখ করা।
৩ ـ কুরআনের আয়াতসমূহকে সূরার নামের সাথে আয়াত নম্বর উল্লেখপূর্বক সংশ্লিষ্ট করা।
৪ ـ পাণ্ডুলিপিতে বর্ণিত হাদিসসমূহের তাখরিজ করা। হাদিসটি যদি সহীহাইন বা তার কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি কেবল সেই দুটির বা কোনো একটির উদ্ধৃতি দেওয়ার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। আর যদি তা সহীহাইনের কোনোটিতে না থাকে, তবে আমি হাদিসটির মূল অবস্থান উল্লেখ করেছি এবং তার ওপর ওলামায়ে কেরামের মন্তব্য—যদি পাওয়া যায়—উদ্ধৃত করেছি। আর যদি গ্রন্থকার হাদিসটিকে এমন কোনো ইমামের দিকে সম্বন্ধ করেন যাদের কিতাবসমূহ প্রকাশিত হয়নি, যেমন আল-জাওযাজানি, আস-সাজি, আবু বকর আন-নাজ্জাদ এবং অন্যান্যরা, অথবা এমন ইমামদের দিকে যাদের কিতাব থেকে কেবল সামান্য কিছু অংশই প্রকাশিত হয়েছে যেমন ইবনে আবি হাতিম, তবে প্রথম ক্ষেত্রে আমি সরাসরি অন্যদের থেকে হাদিসটির তাখরিজ করব, আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فسوف أقوم بتخريجه مباشرة من غيرهم ـ إن لم أجده فيما هو مطبوع من كتبهم ـ، من غير ذكر عبارة (لم أقف عليه) في الحالتين؛ حتى لا تكون كثرتها ملفتة للنّظر.
5 ـ تخريج الآثار الواردة في المخطوط دون الحكم عليها.
6 ـ عزو الأبيات الشعريّة لمصادرها مع ذكر قائلها.
7 ـ توثيق النصوص والمذاهب والآراء من المصادر الفقهيّة المعتمدة.
8 ـ توضيح المصطلحات والعبارات الغامضة من مصادرها المعتمدة.
9 ـ الترجمة لجميع الأعلام الوارد ذكرهم في المخطوط عند أول ذكر لهم.
10 ـ التعريف بالمدن الوارد ذكرها في المخطوط.
11 ـ التعريف بالكتب الوارد ذكرها في المخطوط.
12 ـ ضبط العبارات التي تحتاج إلى ضبط.
13 ـ الالتزام بالرسم الإملائي المعاصر وعلامات الترقيم.
الفهارس:
1 ـ فهرس الآيات القرآنية.
2 ـ فهرس الأحاديث الشريفة.
3 ـ فهرس الآثار.
4 ـ فهرس الأعلام.
5 ـ فهرس الأبيات الشعرية.
6 ـ فهرس المصادر والمراجع.
7 ـ فهرس الموضوعات.
وبَعْدُ، فهذا جُهد المقلّ، ومن الله أستمدّ العون، وعليه أتوكّل، فهو حسبي ونعم الوكيل.
আমি সরাসরি তাদের (বই) ব্যতীত অন্য উৎস থেকে এর তাখরিজ করব—যদি তাদের মুদ্রিত গ্রন্থসমূহে আমি তা খুঁজে না পাই—উভয় ক্ষেত্রেই 'আমি এর সন্ধান পাইনি' কথাটি উল্লেখ না করে; যাতে এর আধিক্য দৃষ্টি আকর্ষণ না করে।
৫ — পাণ্ডুলিপিতে উল্লেখিত আসারসমূহের তাখরিজ করা, তবে সেগুলোর ওপর কোনো হুকুম বা মান নির্ণয় না করা।
৬ — কাব্য পঙক্তিগুলোকে তাদের মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা এবং কবির নাম উল্লেখ করা।
৭ — নির্ভরযোগ্য ফিকহি উৎস থেকে মূল পাঠ (নুসুস), মাযহাব এবং মতামতসমূহ প্রামাণ্যভাবে উপস্থাপন করা।
৮ — অস্পষ্ট পরিভাষা ও বাক্যসমূহকে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে ব্যাখ্যা করা।
৯ — পাণ্ডুলিপিতে উল্লিখিত সকল ব্যক্তির প্রথমবার উল্লেখের সময় তাদের জীবনী প্রদান করা।
১০ — পাণ্ডুলিপিতে উল্লিখিত শহরগুলোর পরিচয় প্রদান করা।
১১ — পাণ্ডুলিপিতে উল্লিখিত গ্রন্থসমূহের পরিচয় প্রদান করা।
১২ — যে সকল বাক্য সুবিন্যস্ত করার প্রয়োজন, তা যথাযথভাবে সম্পন্ন করা।
১৩ — আধুনিক বানানরীতি ও বিরামচিহ্ন অনুসরণ করা।
সূচিপত্রসমূহ:
১ — কুরআনের আয়াতসমূহের সূচি।
২ — হাদিস শরিফের সূচি।
৩ — আসারসমূহের সূচি।
৪ — ব্যক্তিবর্গের সূচি।
৫ — কাব্য পঙক্তিসমূহের সূচি।
৬ — উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহের সূচি।
৭ — বিষয়বস্তুর সূচি।
পরিশেষে, এটি সামান্য প্রচেষ্টা মাত্র, আর আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর ওপরই ভরসা করছি; তিনি আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فأشكرُ الله ـ تعالى ـ على أفضاله، وأحمده على خيره ونَواله، وأثني عليه بما هو أهله، فاللهم أعنّي على ذكرك وشكرك وحسن عبادتك.
وإنّ من القيامِ بالواجب، والجزاءِ على الإحسانِ، والمكافأةِ على المعروف أو بعضِه؛ الشكرَ والدعاءَ لمن كان له فضلٌ عليَّ شخصيّاً أو علميّاً، وقد جمعَ هذه الأفضالَ والمحامدَ كلّها والدي الكريم ـ أدام الله عزّه وتوفيقه ـ وما حباني به من حُسن توجيهٍ وتعليمٍ وإرشادٍ، فضائله عليّ تترا، لم يزل يكلؤني برعايته وعنايته، له في كل صغيرة وكبيرة لي أيادٍ عليّ أذكرها فأشكرها، عساي أدركُ حقّه وبرّه، وأن أكون لعينه قرّة، لا أثني عليه مدحاً وإطراءً، بل صدقاً ووفاء.
ثم الشّكر مزجىً لوالدتي الكريمة، فلم تألُ جهداً في الحرص عليّ ومتابعتي في كلّ شأني حتى اعتمدتُ على نفسي، مستمرّاً دعاؤها واهتمامها بعد ذلك، فاللهم ارحمهما كما ربّياني صغيراً.
كما لا يفوتني أن أقدم شكري لفضيلة الشيخ الدكتور/ ناصر بن سعود السلامة؛ الذي أشار عليّ بتحقيق هذا المخطوط، وزودني بنسخته، فجزاه الله خيراً وأحسن إليه.
كما لا يفوتني أيضاً أن أقدّم شكري لكلّ من أسدى إليّ معروفاً، وكان عوناً على إخراج الكتاب، فحقهم عليّ الدعاء.
سدد الله الخُطا، وبارك في الجهود، وتقبل صالح الأعمال، وأصلح ذريتي، ووفقهم لكلّ خير فيما يصلح دينهم ودنياهم، ويخدم أمتهم ومجتمعهم.
ولستُ أقول ـ في الختام ـ إلا كما قال القلقشنديّ: «ولْيَعْذر الواقف عليه، فنتائجُ الأفكار على اختلاف القرائح لا تتناهى، وإنّما ينفق كلّ أحدٍ على قَدْرِ سَعَتِه، لا يكلّف الله نفساً إلا ما آتاها، ورحم اللهُ من وَقَفَ فيه على خطأٍ فأصلحه عاذراً لا عاذلاً، ومُنِيلاً لا نائلاً،
আমি মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি তাঁর অনুগ্রহের জন্য, এবং তাঁর প্রশংসা করছি তাঁর কল্যাণ ও প্রাপ্তির জন্য। আমি তাঁর সেই স্তুতি গাইছি যাঁর তিনি যোগ্য। হে আল্লাহ! আমাকে আপনার যিকির, শুকরিয়া ও উত্তম ইবাদত করার তাওফিক দান করুন।
কর্তব্য পালন, অনুগ্রহের প্রতিদান এবং উপকারের স্বীকৃতি প্রদানের অন্যতম দাবি হলো সেই ব্যক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও দুআ করা, ব্যক্তিগত বা জ্ঞানগতভাবে যাঁর অনুগ্রহ আমার ওপর রয়েছে। এই সকল অনুগ্রহ ও প্রশংসনীয় গুণের সার্থক সমাবেশ ঘটিয়েছেন আমার সম্মানিত পিতা—আল্লাহ তাঁর মর্যাদা ও তাওফিক দীর্ঘস্থায়ী করুন। তিনি আমাকে যে উত্তম দিকনির্দেশনা, শিক্ষা ও পথপ্রদর্শন করেছেন, আমার ওপর তাঁর সেই অনুগ্রহরাজি নিরবচ্ছিন্ন। তিনি সর্বদা তাঁর মমতা ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে আমাকে আগলে রেখেছেন। আমার প্রতিটি ছোট-বড় বিষয়ে তাঁর অগণিত অনুগ্রহ রয়েছে যা আমি স্মরণ করি এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। আশা করি আমি তাঁর প্রাপ্য হক ও আনুগত্য আদায় করতে পারব এবং তাঁর নয়নপুতলি হতে পারব। আমি তাঁর এই প্রশংসা কেবল লোকদেখানো চাটুকারিতার জন্য করছি না, বরং সত্যনিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততা থেকেই করছি।
অতঃপর আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রিয় রত্নগর্ভা মাতার প্রতি; তিনি আমার প্রতি যত্নশীল হতে এবং আমার সকল বিষয়ের তদারকি করতে কোনো ত্রুটি করেননি, যতক্ষণ না আমি স্বাবলম্বী হয়েছি। এরপরও তাঁর দুআ ও গভীর মমত্ববোধ অব্যাহত রয়েছে। হে আল্লাহ! তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন, যেমন তাঁরা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন।
সেই সঙ্গে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি শ্রদ্ধেয় শাইখ ডক্টর নাসির বিন সাউদ আস-সালামাহ-এর প্রতি; যিনি আমাকে এই পাণ্ডুলিপিটি সম্পাদনার পরামর্শ দিয়েছেন এবং আমাকে এর অনুলিপি সরবরাহ করেছেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করুন।
আমি আরও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি তাদের সকলের প্রতি যারা আমার প্রতি কোনো উপকার করেছেন এবং এই বইটি প্রকাশের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছেন। তাঁদের প্রাপ্য হলো আমার পক্ষ থেকে দুআ।
আল্লাহ আমাদের পথ সুগম করুন, প্রচেষ্টাসমূহে বরকত দিন এবং নেক আমলসমূহ কবুল করুন। তিনি আমার সন্তানদের সংশোধন করুন এবং তাঁদের দীন ও দুনিয়ার কল্যাণকর প্রতিটি বিষয়ে এবং তাঁদের উম্মাহ ও সমাজের খিদমতের জন্য তাওফিক দান করুন।
পরিশেষে আমি কালকাশান্দি-র সেই উক্তির মতোই বলছি: «পাঠক যেন একে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখেন; কেননা মেধার ভিন্নতার কারণে চিন্তার ফলাফল সীমাহীন। প্রত্যেকে কেবল তার সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করে, আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না। আল্লাহ ঐ ব্যক্তির প্রতি রহম করুন, যিনি এতে কোনো ভুল দেখে ক্ষমার সাথে তা সংশোধন করে দেবেন, তিরস্কারকারী হিসেবে নয়; এবং কল্যাণকামী হিসেবে, দোষান্বেষী হিসেবে নয়।»
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فليس المبرّأ من الخطل إلا من وقى الله وعصم، وقد قيل: الكتاب كالمكلّف لا يسلم من المؤاخذة ولا يرتفع عنه القلم»
(1).
وبعدُ، فهذا جهدي، ولست أدّعي الكمال ولا السلامة من الخطأ، فرحم الله امرأً وقف فيه على خطأ فأصلحه، وعلى عثرةٍ فأقالها، فالكمال لله وحده، والعصمة لرسوله عليه السلام فيما يبلِّغ عن ربّه.
المحقق
د. عبد المجيد بن عبد الله بن محمد الخنين
الرياض 11477 ص. ب 30254
ABDAL-MAJED. 1@HOTMAIL.COM
--------------------------------------------
সুতরাং আল্লাহ যাকে রক্ষা করেছেন এবং হিফাযত করেছেন তিনি ব্যতীত আর কেউ ভুলভ্রান্তি থেকে মুক্ত নয়। যেমনটি বলা হয়েছে: «কিতাব একজন মুকাল্লাফ (দায়িত্বশীল) ব্যক্তির ন্যায়; এটি সমালোচনা থেকে নিষ্কৃতি পায় না এবং এর উপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয় না»
(১).
অতঃপর, এটিই আমার প্রচেষ্টা; আমি পূর্ণতা কিংবা ভুলত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়ার দাবি করি না। আল্লাহ ঐ ব্যক্তির প্রতি রহম করুন, যে এতে কোনো ভুল দেখতে পেয়ে তা সংশোধন করে দিল এবং কোনো বিচ্যুতি দেখে তা মার্জনা করল। কেননা পূর্ণতা একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর তাঁর রাসূলের (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) জন্য রয়েছে নিষ্পাপতা ঐসব বিষয়ে যা তিনি তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে পৌঁছে দেন।
গবেষক
ড. আব্দুল মাজীদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-খানীন
রিয়াদ ১১৪৭৭, পি.ও. বক্স ৩০২৫৪
ABDAL-MAJED. 1@HOTMAIL.COM
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الباب الأول
القسم الدراسي
وفيه فصلان:
الفصل الأول: التعريف بالمؤلِّف.
الفصل الثاني: التعريف بالكتاب.
প্রথম অধ্যায়
অধ্যয়নমূলক অংশ
এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থকার পরিচিতি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থ পরিচিতি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الفصل الأولالتعريف بالمؤلفوفيه أربعة مباحث:
المبحث الأول: اسمه، ونسبه، وكنيته.
المبحث الثاني: مولده، ونشأته، ووفاته.
المبحث الثالث: شيوخه، وتلامذته.
المبحث الرابع: منزلته العلميّة، ومؤلفاته.
প্রথম পরিচ্ছেদলেখকের পরিচিতিএতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও উপনাম।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা ও মৃত্যু।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ ও ছাত্রবৃন্দ।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানগত মর্যাদা ও রচনাবলি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ২১)
المبحث الأول اسمه، ونسبه، وكنيتهاسمه ونسبه وكنيته
(1):
هو: أبو الحسن، علي بن عبيد الله بن نصر ابن الزاغوني البغدادي.
وذكر بعض المؤرخين أن اسم أبيه «عبد الله»
(2)، ولعلّه خطأ من النسّاخ، والصحيح أن اسم أبيه «عبيد الله»
(3).
ولم أقف على من كنّاه بغير الكنية المذكورة أعلاه إلا صاحب الكامل في التاريخ
(4) فقد كنّاه بـ «أبي الحسين»، ولعلّ ذلك وهمٌ أو خطأ من النُّساخ؛ لمخالفته باقي المؤرخين.
وقد ذكر ابن السمعاني جدّه فقال: «نصر بن عبيد الله بن سهل»
(5)، وزاد الذهبي فقال: «ابن السري»
(6)، فيكون اسمه ـ على الراجح ـ كما يلي:
علي بن عبيد الله بن نصر بن عبيد الله بن سهل بن السري ابن الزاغوني البغدادي.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ তাঁর নাম, বংশপরিচয় এবং উপনামতাঁর নাম, বংশপরিচয় এবং উপনাম
(১):
তিনি হলেন: আবুল হাসান, আলী ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে নাসর ইবনুল যাগূনী আল-বাগদাদী।
কোনো কোনো ঐতিহাসিক উল্লেখ করেছেন যে তাঁর পিতার নাম «আবদুল্লাহ»
(২), এবং সম্ভবত এটি পাণ্ডুলিপি লেখকদের ভুল; সঠিক হলো তাঁর পিতার নাম «উবাইদুল্লাহ»
(৩)।
উপরে উল্লিখিত উপনামটি ছাড়া অন্য কোনো উপনামে তাঁকে কেউ অভিহিত করেছেন বলে আমি জানতে পারিনি, কেবলমাত্র 'আল-কামিল ফিত তারিখ'-এর লেখক
(৪) ছাড়া; তিনি তাঁকে «আবুল হুসাইন» উপনামে অভিহিত করেছেন। সম্ভবত এটি একটি সংশয় অথবা পাণ্ডুলিপি লেখকদের ভুল; কারণ এটি অন্যান্য ঐতিহাসিকদের বর্ণনার পরিপন্থী।
ইবনে সামআনী তাঁর দাদার উল্লেখ করে বলেছেন: «নাসর ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে সাহল»
(৫), এবং আয-যাহাবী আরও বর্ধিত করে বলেছেন: «ইবনে আস-সারী»
(৬), ফলে অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী তাঁর নাম নিম্নরূপ দাঁড়ায়:
আলী ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে নাসর ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে সাহল ইবনে আস-সারী ইবনুল যাগূনী আল-বাগদাদী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ২২)
فالزَّاغُوْنيّ: نسبة إلى «زاغون»، وهي من قرى بغداد
(1)، والبغداديّ: نسبة إلى عاصمة العراق «بغداد».
--------------------------------------------
আয-যাগুনি: ‘যাগুন’-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত, যা বাগদাদের গ্রামগুলোর অন্যতম একটি গ্রাম
(১), এবং আল-বাগদাদি: ইরাকের রাজধানী ‘বাগদাদ’-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المبحث الثاني مولده، ونشأته، ووفاتهمولده
(1):
ولد في جمادى الأولى سنة 455 هـ، ولم أقف على من ذكر مكان ولادته، ولعلّ ولادته في قرية زاغون؛ لأنّه إليها يُنسب.
نشأته:عاش ابن الزاغوني من سنة 455 هـ وقت ولادته إلى سنة 527 هـ وقت وفاته في عهد الخلافة العبّاسية التي بدأت من سنة 132 هـ، وانتهت سنة 656 هـ، فيكون قد عاش في فترة ضعف الخلافة العبّاسية وتفكُّكِها، وقد تميّزت هذه المرحلة بأمور
(2):
1 ـ سيطرة الجند على مركز الخلافة العبّاسية، وذلك عندما استقدم المعتصم الأتراك السلاجقة من بلاد ما وراء النهر جنداً له، وما قاموا به من تآمر وسيطرةٍ على الخلافة وصارت الأمور في الحقيقة بأيديهم، والخليفة صورة في الظاهر، وتآمروا مع المنتصر على قتل أبيه المتوكّل، وفسد الأمن، وكثرت الفتن، ثم تولّى بعدهم البويهيّون الرافضة، فازداد الأمر سوءاً، حتى قوي نفوذ الأتراك السلاجقة، فدخلوا بغداد وقضوا على البويهيّين الرافضة، فتحسن الأمر عن ذي قبل،
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং মৃত্যুজন্ম
(১):
তিনি ৪৫৫ হিজরির জমাদিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন। আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি তাঁর জন্মস্থান উল্লেখ করেছেন, সম্ভবত তাঁর জন্ম যাগুন গ্রামে; কারণ সেই স্থানের দিকেই তাঁর নিসবত (সম্বন্ধ) করা হয়।
বেড়ে ওঠা:ইবনুল যাগুনি তাঁর জন্মলগ্ন ৪৫৫ হিজরি থেকে তাঁর মৃত্যু ৫২৭ হিজরি পর্যন্ত আব্বাসীয় খিলাফতের যুগে জীবন অতিবাহিত করেন, যা ১৩২ হিজরিতে শুরু হয়েছিল এবং ৬৫৬ হিজরিতে সমাপ্ত হয়েছিল। ফলে তিনি আব্বাসীয় খিলাফতের দুর্বলতা ও ভাঙনের যুগে বসবাস করেছেন। এই পর্যায়টি কিছু বিষয়ের দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল
(২):
১. আব্বাসীয় খিলাফতের কেন্দ্রে সেনাবাহিনীর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা; আর তা ঘটেছিল যখন আল-মুতাসিম মা-ওয়ারাউন নহর (ট্রান্সঅক্সিয়ানা) অঞ্চল থেকে সেলজুক তুর্কিদের নিজের সৈন্য হিসেবে নিয়ে এসেছিলেন। তারা যে ষড়যন্ত্র ও খিলাফতের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল, তাতে প্রকৃত ক্ষমতা তাদের হাতে চলে গিয়েছিল এবং খলিফা ছিলেন কেবল বাহ্যিক এক প্রতিচ্ছবি। তারা আল-মুনতাসিরের সাথে মিলে তার পিতা আল-মুতাওয়াক্কিলকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। এর ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং ফিতনা বৃদ্ধি পায়। এরপর তাদের পরে রাফেজি বুওয়াইহিরা ক্ষমতা দখল করে, ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। অবশেষে সেলজুক তুর্কিদের প্রভাব বৃদ্ধি পায়, তারা বাগদাদে প্রবেশ করে এবং রাফেজি বুওয়াইহিদের সমূল উৎপাটন করে, ফলে অবস্থা পূর্বের চেয়ে উন্নত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقضوا على ضلالات الرافضة والقرامطة في الجزيرة العربية، وانتصروا على الروم البيزنطيين، ووقفوا ضدّ الصليبيّين.
2 ـ ظهور دويلات إسلامية متعدّدة أدّى ظهورها إلى ضعف الخلافة العبّاسية وإلى سقوطها نهاية الأمر، فظهرت الدولة الصفارية في خراسان (254 هـ 290 هـ)، والدولة السامانية الفارسية في سمرقند (261 هـ 389 هـ)، والدولة الغزنوية التركية في غزنة (351 هـ 582 هـ)، والدولة الطولونية بمصر (256 هـ 292 هـ)، وكذا الدولة الإخشيدية (323 هـ 358 هـ)، ودولة بني حمدان في الموصل (317 هـ 369 هـ)، وكذا في حلب (333 هـ 392 هـ)، ودولة المرابطين في المغرب (448 هـ 541 هـ)، ودولة الموحدين (524 هـ 667 هـ)، ودولة بني زياد في اليمن (204 هـ 207 هـ)، وغيرها.
وهناك أمور أخرى تميّزت بها هذه المرحلة، منها الاختلاف بين العبّاسيين، وحياة الترف التي تحيط بهم، وغير ذلك.
وقد عاصر ابن الزاغوني من الخلفاء العبّاسيّين من يلي:
1 ـ عبد الله القائم بأمر الله بن أحمد القادر (422 هـ 467 هـ).
2 ـ عبد الله المقتدي بالله بن محمد بن القائم (467 هـ 487 هـ).
3 ـ أحمد المستظهر بالله بن المقتدي (487 هـ 512 هـ).
4 ـ الفضل المسترشد بالله بن المستظهر بالله (512 هـ 529 هـ).
ورغم ما كان في هذا العصر من ضعف وتفكّك وصراعات وأحداث داخلية وخارجية فإنه كانت هناك نهضة علمية وازدهار للحضارة والعلوم والآداب، وبناء للمدارس والصروح العلمية، وإقامة لحلقات التدريس في المساجد ومجالس المناظرة، واهتمام بالكتب والمكتبات التي تضمّ شتى العلوم والفنون.
وظهر في هذا العصر علماء أفذاذ ونوابغ في علومٍ شتّى، منهم الشاطبيّ في القراءات، وابن عطية الأندلسيّ في التفسير، والبغويّ في الحديث،
তারা আরব উপদ্বীপে রাফেজি ও কারামতিদের বিভ্রান্তি নির্মূল করেছিলেন, বাইজেন্টাইন রোমানদের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করেছিলেন এবং ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন।
২ — একাধিক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইসলামী রাষ্ট্রের উত্থান, যার ফলে আব্বাসীয় খিলাফত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তার পতন ঘটে। ফলে খোরাসানে সাফারি রাজবংশ (২৫৪ হি. - ২৯০ হি.), সমরকন্দে পারস্যের সামানি রাজবংশ (২৬১ হি. - ৩৮৯ হি.), গজনীতে তুর্কি গজনভি রাজবংশ (৩৫১ হি. - ৫৮২ হি.), মিশরে তুলুনি রাজবংশ (২৫৬ হি. - ২৯২ হি.), তেমনি ইখশিদি রাজবংশ (৩২৩ হি. - ৩৫৮ হি.), মোসুলে বনু হামদান রাষ্ট্র (৩১৭ হি. - ৩৬৯ হি.) এবং আলেপ্পোতে (৩৩৩ হি. - ৩৯২ হি.), মরক্কোতে মুরাবিতুন রাষ্ট্র (৪৪৮ হি. - ৫৪১ হি.), মুওয়াহহিদুন রাষ্ট্র (৫২৪ হি. - ৬৬৭ হি.), ইয়ামেনে বনু জিয়াদ রাষ্ট্র (২০৪ হি. - ২০৭ হি.) এবং আরও অন্যান্য রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে।
এই যুগটি আরও কিছু বৈশিষ্ট্যে অনন্য ছিল, যার মধ্যে অন্যতম হলো আব্বাসীয়দের মধ্যকার মতভেদ, তাদের পরিবেষ্টিত বিলাসিতা এবং অন্যান্য বিষয়াদি।
ইবনুয যাগুনি নিম্নোক্ত আব্বাসীয় খলিফাদের সমসাময়িক ছিলেন:
১ — আবদুল্লাহ আল-কায়িম বি-আমরিল্লাহ বিন আহমাদ আল-কাদির (৪২২ হি. - ৪৬৭ হি.)।
২ — আবদুল্লাহ আল-মুকতাদি বিল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-কায়িম (৪৬৭ হি. - ৪৮৭ হি.)।
৩ — আহমাদ আল-মুসতাজহির বিল্লাহ বিন আল-মুকতাদি (৪৮৭ হি. - ৫১২ হি.)।
৪ — আল-ফাদল আল-মুসতারশিদ বিল্লাহ বিন আল-মুসতাজহির বিল্লাহ (৫১২ হি. - ৫২৯ হি.)।
এই যুগে দুর্বলতা, অনৈক্য, সংঘাত এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নানা ঘটনাপ্রবাহ থাকা সত্ত্বেও সেখানে একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণ এবং সভ্যতা, বিজ্ঞান ও সাহিত্যের সমৃদ্ধি ঘটেছিল। সেই সাথে নির্মিত হয়েছিল মাদ্রাসা ও জ্ঞানতাত্ত্বিক সৌধসমূহ, মসজিদে মসজিদে শিক্ষাদান আসর ও বিতর্ক সভা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং বিভিন্ন বিজ্ঞান ও কলার সমাহার সমৃদ্ধ বই ও গ্রন্থাগারের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছিল।
এই যুগে বিভিন্ন শাস্ত্রে অসামান্য ও প্রতিভাবান আলেমদের আবির্ভাব ঘটেছিল, যাদের মধ্যে ক্বিরাআত শাস্ত্রে আশ-শাতিবি, তাফসীর শাস্ত্রে ইবনু আতিয়্যাহ আল-আন্দালুসি এবং হাদীস শাস্ত্রে আল-বাগাওয়ী অন্যতম।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وابن عساكر في التاريخ، وغيرهم من العلماء المتبحرين كابن الجوزي، والغزالي
(1).
واتّسم هذا العصر في الجانب الفقهي باستقرار المدارس الفقهية المختلفة وسريان التقليد، وبدأت مرحلة التهذيب والتنقيح وتحرير أقوال علماء المذاهب وإظهار علل الأحكام التي استنبطها الأئمة والترجيح بين الآراء المختلفة في المذهب رواية ودراية، ونصرة أتباع كلّ مذهبٍ مذهبهم، إلى غير ذلك
(2).
واشتهر في هذه الفترة من فقهاء الحنابلة من يلي:
1 ـ القاضي أبو يعلى (ت: 458 هـ).
2 ـ أبو جعفر الهاشميّ (ت: 470 هـ).
3 ـ أبو الخطاب الكلوذاني (ت: 510 هـ).
4 ـ ابن عقيل (ت: 513 هـ).
5 ـ ابن هبيرة (ت: 560 هـ).
كما اشتهر غيرهم من فقهاء المذاهب الأخرى.
فمن فقهاء الحنفية:
1 ـ السرخسي (ت: 483 هـ).
2 ـ أبو عبد الله بن الدامغاني (ت: 478 هـ).
3 ـ أبو بكر الكاساني (ت: 587 هـ).
ومن فقهاء المالكية:
1 ـ أبو الوليد الباجي (ت: 494 هـ).
2 ـ أبو بكر ابن العربي (ت: 534 هـ).
--------------------------------------------
এবং ইতিহাসে ইবনে আসাকির, এবং অন্যান্য অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী আলেমগণ যেমন ইবনুল জাওজি ও আল-গাজালি
(১)।
ফিকহী দিক থেকে এই যুগটি বিভিন্ন ফিকহী মাযহাবের স্থিতিশীলতা এবং তাকলিদের প্রসারের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ছিল। এ সময় মাযহাবের আলেমদের বক্তব্যগুলো পরিমার্জন, সংশোধন ও সম্পাদনার পর্যায় শুরু হয় এবং ইমামগণ যে বিধানগুলো উদ্ভাবন করেছিলেন তার কারণগুলো প্রকাশ করা এবং বর্ণনা ও প্রজ্ঞা উভয় দিক থেকে মাযহাবের বিভিন্ন মতামতের মধ্যে প্রাধান্য দেওয়ার কাজ শুরু হয়। সেইসাথে প্রতিটি মাযহাবের অনুসারীদের নিজ নিজ মাযহাবকে সমর্থন করার ধারাও পরিলক্ষিত হয়, ইত্যাদি
(২)।
এই সময়কালে হাম্বলি ফকিহদের মধ্যে যারা প্রসিদ্ধ ছিলেন তারা হলেন:
১ — কাজি আবু ইয়ালা (মৃত্যু: ৪৫৮ হিজরি)।
২ — আবু জাফর আল-হাশেমি (মৃত্যু: ৪৭০ হিজরি)।
৩ — আবুল খাত্তাব আল-কালওয়াজানি (মৃত্যু: ৫১০ হিজরি)।
৪ — ইবনে আকিল (মৃত্যু: ৫১৩ হিজরি)।
৫ — ইবনে হুবায়রা (মৃত্যু: ৫৬০ হিজরি)।
একইভাবে অন্যান্য মাযহাবের ফকিহগণও প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন।
হানাফি ফকিহদের মধ্যে:
১ — আস-সারখাসি (মৃত্যু: ৪৮৩ হিজরি)।
২ — আবু আব্দুল্লাহ বিন আদ-দামেগানি (মৃত্যু: ৪৭৮ হিজরি)।
৩ — আবু বকর আল-কাসানি (মৃত্যু: ৫৮৭ হিজরি)।
মালেকি ফকিহদের মধ্যে:
১ — আবু ওয়ালিদ আল-বাজি (মৃত্যু: ৪৯৪ হিজরি)।
২ — আবু বকর ইবনুল আরাবি (মৃত্যু: ৫৩৪ হিজরি)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
3 ـ القاضي عياض (ت: 541 هـ).
ومن فقهاء الشافعية:
1 ـ إمام الحرمين الجويني (ت: 487 هـ).
2 ـ علي الطبري، المعروف بـ «الكيا الهرّاسي»، (ت: 504 هـ).
3 ـ أبو حامد الغزالي (ت: 505 هـ).
وغيرهم.
وقد نتج عن اجتهاد أتباع كلّ مذهب في تحرير مذاهبهم واجتماعهم في قِطر إسلاميّ اتّصالٌ علميّ بينهم، وتبادل للأفكار، وشيوع مجالس المناظرة.
وفاته:توفي ابن الزاغوني يوم الأحد، السادس عشر من شهر الله المحرّم سنة خمس مئة وسبعة وعشرين
(1).
وقيل: وفاته في السابع عشر
(2).
وصحح ابن رجب أن وفاته كانت في السادس عشر
(3).
وله اثنان وسبعون سنة.
وكانت وفاته في بغداد، وصُلّي عليه يوم الإثنين، ودُفن بمقبرة «باب حرب»
(4)، وقد حضر جنازته جمع كبير
(5).
--------------------------------------------
৩ — আল-কাযী আইয়াজ (ওফাত: ৫৪১ হিজরী)।
এবং শাফেয়ী ফকীহগণের মধ্যে রয়েছেন:
১ — ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনী (ওফাত: ৪৮৭ হিজরী)।
২ — আলী আত-তাবারী, যিনি «আল-কিয়া আল-হাররাসী» নামে পরিচিত, (ওফাত: ৫০৪ হিজরী)।
৩ — আবু হামিদ আল-গাজালী (ওফাত: ৫০৫ হিজরী)।
এবং আরও অনেকে।
প্রতিটি মাযহাবের অনুসারীদের নিজ নিজ মাযহাবকে সুবিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ এবং একটি ইসলামী জনপদে তাদের একত্রিত হওয়ার ফলে তাদের মধ্যে একটি ইলমী যোগাযোগ, চিন্তা ও ধারণার আদান-প্রদান এবং মুনাজারা বা বিতর্ক সভার ব্যাপকতা তৈরি হয়েছিল।
তাঁর মৃত্যু:ইবনুল যাগুনী ৫২৭ হিজরীর আল্লাহর মাস মুহাররমের ১৬ তারিখ, রবিবার মৃত্যুবরণ করেন
(১)।
বলা হয়েছে: তাঁর মৃত্যু ১৭ তারিখে হয়েছিল
(২)।
ইবনে রজব সঠিক বলে মত দিয়েছেন যে, তাঁর মৃত্যু ১৬ তারিখে হয়েছিল
(৩)।
তাঁর বয়স হয়েছিল বাহাত্তর বছর।
তাঁর মৃত্যু বাগদাদে হয়েছিল, সোমবার তাঁর জানাযার নামায পড়া হয় এবং তাঁকে «বাব হারব» কবরস্থানে দাফন করা হয়
(৪), আর তাঁর জানাযায় বিশাল জনসমাগম হয়েছিল
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المبحث الثالثشيوخه، وتلامذتهتبوّأ ابن الزاغوني مكانةً علميَّة رفيعة في المذهب الحنبلي، أساسها الإعداد العلميّ، ثم المشاركة في التدريس والتأليف.
فمن شيوخه في الحديث (1):
1 ـ أبو القاسم، علي بن أحمد البسري.
2 ـ أبو جعفر، محمد بن أحمد بن محمد ابن المسلمة.
ومن شيوخه في الفقه (2):
القاضي أبو علي العُكبري، وهو يعقوب بن إبراهيم بن أحمد بن سطور البرزيني
(3).
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদতাঁর শিক্ষকগণ ও ছাত্রগণইবনুল যাগূনী হাম্বলী মাযহাবে এক উচ্চতর ইলমি মর্যাদা লাভ করেছিলেন, যার ভিত্তি ছিল তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রস্তুতি এবং পরবর্তীতে শিক্ষকতা ও গ্রন্থ রচনায় তাঁর অংশগ্রহণ।
হাদীসশাস্ত্রে তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন (১):
১ — আবুল কাসিম, আলী ইবনে আহমাদ আল-বিসরী।
২ — আবু জাফর, মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল মুসলিমাহ।
ফিকহশাস্ত্রে তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন (২):
কাযী আবু আলী আল-উকবারী, তিনি হলেন ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম ইবনে আহমাদ ইবনে সুতূর আল-বারযীনি
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ومن تلاميذه في الحديث (1):
1 ـ عبد الرحمن بن أبي الكرم محمد بن أبي ياسر هبة الله، المعروف بـ «ابن ملاح الشط».
2 ـ أبو الفتوح، مسعود بن عبد الله بن عبد الكريم بن غيث البغدادي الدقاق.
3 ـ أبو محمد، بركات بن أبي غالب البغدادي السقلاطوني.
4 ـ أبو حفص، عمر بن محمد بن معمر بن أحمد البغدادي الدارقزي، المعروف بـ «ابن طبرزد».
5 ـ أحمد بن عمر بن بركة الأزجي البزار، المعروف بـ «ابن الكزلي».
6 ـ أبو جعفر، عبد الله بن أحمد الواسطي المقرئ الضرير.
7 ـ عمر بن المبارك بن أبي الفضل العاقولي ثم الأزجي، المعروف بـ «ابن طروية».
8 ـ أبو عبد الله، حنبل بن عبد الله بن فرج بن سعادة البغدادي الرصافي.
9 ـ أبو الفتح، نصر بن فتيان بن مطر بن المني النهرواني الحنبلي.
ومن تلاميذه في الفقه (2):
1 ـ أبو الفرج، عبد الرحمن بن علي بن محمد البغدادي الحنبلي، المعروف بـ «ابن الجوزي»
(3).
2 ـ الناسخ أبو الفرج، صدقة بن الحسين بن الحسن الحداد.
3 ـ أبو القاسم، موسى بن أحمد بن محمد النشادري.
--------------------------------------------
হাদিসশাস্ত্রে তাঁর ছাত্রগণের মধ্যে রয়েছেন (১):
১ — আব্দুর রহমান ইবনে আবিল করম মুহাম্মদ ইবনে আবি ইয়াসির হিবাতুল্লাহ, যিনি «ইবনুল মাল্লাশ শাত» নামে পরিচিত।
২ — আবুল ফুতুহ, মাসউদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল কারিম ইবনে গাইস আল-বাগদাদি আদ-দাক্কাক।
৩ — আবু মুহাম্মদ, বারাকাত ইবনে আবি গালিব আল-বাগদাদি আস-সাকলাতুনি।
৪ — আবু হাফস, উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুয়াম্মার ইবনে আহমাদ আল-বাগদাদি আদ-দারকাজি, যিনি «ইবনু তাবারজাদ» নামে পরিচিত।
৫ — আহমাদ ইবনে উমর ইবনে বারাকাত আল-আজজি আল-বাজজার, যিনি «ইবনুল কাযালি» নামে পরিচিত।
৬ — আবু জাফর, আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ আল-ওয়াসিতি আল-মুকরি আদ-দারির।
৭ — উমর ইবনুল মুবারক ইবনে আবিল ফাদল আল-আকুলি অতঃপর আল-আজজি, যিনি «ইবনু তারওয়িয়াহ» নামে পরিচিত।
৮ — আবু আব্দুল্লাহ, হানবাল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ফারাজ ইবনে সাআদাহ আল-বাগদাদি আর-রুসাফি।
৯ — আবুল ফাতহ, নাসর ইবনে ফিতইয়ান ইবনে মাতার ইবনুল মান্নি আন-নাহরাওয়ানি আল-হাম্বলি।
ফিকহশাস্ত্রে তাঁর ছাত্রগণের মধ্যে রয়েছেন (২):
১ — আবুল ফারাজ, আব্দুর রহমান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগদাদি আল-হাম্বলি, যিনি «ইবনুল জাওজি» নামে পরিচিত
(৩)।
২ — আন-নাসিখ আবু আল-ফারাজ, সাদাকা ইবনুল হুসাইন ইবনুল হাসান আল-হাদ্দাদ।
৩ — আবুল কাসিম, মুসা ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আন-নাাশাদারি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
4 ـ أبو العلاء ابن شرف الإسلام أبي البركات عبد الوهاب بن الشيخ أبي الفرج عبد الواحد بن محمد الأنصاري.
5 ـ القاسم الواعظ، رستم بن سرهنك بن عمر البزار الأرموي
(1).
--------------------------------------------
৪ - আবুল আলা ইবনে শরফুল ইসলাম আবুল বারাকাত আব্দুল ওয়াহহাব বিন শায়খ আবুল ফারাজ আব্দুল ওয়াহেদ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারী।
৫ - আল-কাসিম আল-ওয়ায়েজ, রুস্তম বিন সারহাঙ্ক বিন উমর আল-বাজ্জার আল-আরমাউয়ী
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
المبحث الرابعمنزلته العلميّة، ومؤلفاتهمنزلته العلميّة:
برع ابن الزاغوني في عدّة علوم، وتميّز في عدّة فنون، فهو فقيه، أصوليّ، فرضيّ، أحد أئمّة المذهب الحنبليّ وأعيانه، وكانت له حلقة في جامع المنصور يُناظر فيها يوم الجمعة قبل الصلاة ثم يَعِظُ بعدها، وكان يجلس يوم السبت للتدريس
(1).
ومما يدلّ على مكانة ابن الزاغوني العليّة في العِلم ثناء العلماء عليه، فقد قال ابن الجوزي عنه: «كان متفنِّناً في علوم شتى، مصنِّفاً في الأصول والفروع، وأنشأ الخطب والوعظ، ووعظ، وصحبته زمناً فسمعت منه الحديث، وعلقت عنه الفقه والوعظ»
(2).
كما أثنى الإمام الذهبي على ابن الزاغوني فقال: «شيخ الحنابلة ببغداد .. كان إماماً فقيهاً، متبحراً في الأصول والفروع، متفنِّناً واعظاً مناظراً ثقة مشهوراً بالصلاح والديانة والورع والصيانة، كثير التصانيف»
(3)، وأثنى عليه ـ مرّة ثانية ـ فقال: «شيخ الحنابلة ذو الفنون، من بحور العلم، كثير التصانيف، يرجع إلى دين وتقوى وزهد وعبادة»
(4).
ونقل صاحب شذرات الذهب ثناء ابن ناصر على ابن الزاغوني
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদতাঁর ইলমি মাকাম (বিদ্বতীয় মর্যাদা), ও রচনাবলিতাঁর ইলমি মাকাম (বিদ্বতীয় মর্যাদা):
ইবনে আল-যাগুনী বেশ কিছু বিদ্যায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে অনন্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন ফকীহ, উসূলে শাস্ত্রবিদ এবং ফারায়েজ বিশেষজ্ঞ। তিনি হাম্বলী মাযহাবের অন্যতম ইমাম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ছিলেন। মানসুর জামে মসজিদে তাঁর একটি ইলমি হালকা (পাঠচক্র) ছিল, যেখানে তিনি জুমার নামাজের পূর্বে মুনাযারা (বিতর্ক) করতেন এবং এরপর ওয়াজ করতেন। আর শনিবার দিন তিনি পাঠদানের জন্য বসতেন
(১)।
ইলমের ময়দানে ইবনে আল-যাগুনীর উচ্চ মাকামের একটি প্রমাণ হলো তাঁর সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের প্রশংসা। ইবনে আল-জাওযী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন, উসূল ও ফুরু (মূলনীতি ও শাখা) উভয় বিষয়ে গ্রন্থকার ছিলেন। তিনি খুৎবা ও ওয়াজ রচনা করতেন এবং ওয়াজ করতেন। আমি দীর্ঘকাল তাঁর সাহচর্যে ছিলাম, তাঁর থেকে হাদীস শুনেছি এবং তাঁর নিকট ফিকহ ও ওয়াজ অর্জন করেছি»
(২)।
অনুরূপভাবে ইমাম আয-যাহাবী ইবনে আল-যাগুনীর প্রশংসা করে বলেছেন: «বাগদাদের হাম্বলীগণের শায়খ... তিনি ছিলেন একজন ইমাম, ফকীহ, উসূল ও ফুরু শাস্ত্রে গভীর জ্ঞানের অধিকারী, বহু বিদ্যায় পারদর্শী, ওয়ায়েজ, মুনাযির (তার্কিক) এবং নির্ভরযোগ্য। তিনি নেক আমল, দ্বীনদারি, পরহেযগারী ও আত্মরক্ষায় প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং বহু গ্রন্থের প্রণেতা ছিলেন»
(৩)। তিনি দ্বিতীয়বার তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন: «হাম্বলীগণের শায়খ, বহু বিদ্যার অধিকারী, ইলমের সমুদ্রসমূহের অন্যতম, অনেক গ্রন্থের প্রণেতা; তিনি দ্বীনদারি, তাকওয়া, যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) ও ইবাদতের অনুসারী ছিলেন»
(৪)।
'শাযারাতুয যাহাব' গ্রন্থের লেখক ইবনে আল-যাগুনীর ব্যাপারে ইবনে নাসিরের প্রশংসা উদ্ধৃত করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فقال: «كان فقيه الوقت»
(1).
وقد وصف ابن كثير الإمام ابن الزاغوني بقوله: «إمام مشهور، اشتغل بالفقه، وله مصنفات كثيرة في الأصول والفروع»
(2).
مؤلفاته:لقد كان ابن الزاغوني غزير العلم، واسع الاطلاع، لا يكاد يخلو فنٌّ من الفنون ليس له فيه مشاركة، وكان متفنِّناً في شتى العلوم، ومع ذلك فلم يُنشر له إلا مؤلف واحد فقط
(3)، مع أنها مؤلفات كثيرة، فمن هذه المؤلفات
(4):
أولاً: في القرآن وعلومه:1 ـ الوجوه والنظائر.
2 ـ ناسخ القرآن ومنسوخه
(5).
3 ـ مسائل القرآن.
ثانياً: في الحديث:تصحيح حديث الأطيط.
ثالثاً: في أصول الدّين:1 ـ الإيضاح في أصول الدين
(6)، وهو من مطبوعات مركز الملك فيصل
--------------------------------------------
তিনি বলেন: «তিনি ছিলেন সমকালীন ফকিহ»
(১)।
ইবনে কাসির ইমাম ইবনুল যাগুনিকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: «একজন প্রসিদ্ধ ইমাম, ফিকহ চর্চায় মগ্ন ছিলেন এবং উসুল (মূলনীতি) ও ফুরু (শাখা-প্রশাখা) বিষয়ে তাঁর বহু রচনা রয়েছে»
(২)।
তাঁর রচনাবলি:ইবনুল যাগুনি ছিলেন অগাধ ইলম ও বিস্তৃত জ্ঞানের অধিকারী। এমন কোনো শাস্ত্র খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যেখানে তাঁর পদচারণা ছিল না। তিনি বিভিন্ন জ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন, তা সত্ত্বেও তাঁর রচনাবলির মধ্যে কেবল একটিমাত্র গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে
(৩), যদিও তাঁর অনেকগুলো পাণ্ডুলিপি রয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি হলো
(৪):
প্রথমত: কুরআন ও এর জ্ঞান সম্পর্কিত:১ ـ আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর।
২ ـ নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসুখুহু
(৫)।
৩ ـ মাসাইলুল কুরআন।
দ্বিতীয়ত: হাদিস শাস্ত্রে:তাসহিহু হাদিসিল আতীত।
তৃতীয়ত: উসুলুদ্দিনে (ধর্মতত্ত্ব):১ ـ আল-ইদাহ ফি উসুলিদ দিন
(৬), যা কিং ফয়সাল সেন্টারের প্রকাশনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
للبحوث والدراسات الإسلاميّة لعام 1424 هـ/ 2003 م، حقّقه: عصام السيّد محمود، ويقع في (706) صفحة.
2 ـ سماع الموتى في قبورهم.
3 ـ سدرة في المستحيل
(1).
4 ـ حياة الأنبياء بعد الموت.
رابعاً: في الفقه:1 ـ الإقناع، في مجلد واحد.
2 ـ الواضح.
3 ـ الخلاف الكبير.
4 ـ المفردات، في مجلّدين، وهو الكتاب محل التّحقيق.
5 ـ مناسك الحج.
6 ـ الدور والوصايا.
7 ـ الفتاوى.
8 ـ الوجيز
(2).
9 ـ الفتوى الرحبيّة.
10 ـ التلخيص في الفرائض.
11 ـ عويص المسائل الحسابيّة.
--------------------------------------------
১৪২৪ হিজরি/ ২০০৩ খ্রিস্টাব্দের ইসলামি গবেষণা ও অধ্যয়নের জন্য, এটি সম্পাদনা করেছেন: ইসাম আস-সায়্যিদ মাহমুদ, এবং এটি (৭০৬) পৃষ্ঠায় বিস্তৃত।
২- কবরে মৃতদের শ্রবণ।
৩- অসম্ভব (মুস্তাহিল) বিষয়ে সিদরাহ
(১)।
৪- মৃত্যুর পর নবীদের জীবন।
চতুর্থত: ফিকহ শাস্ত্রে:১- আল-ইকনা, এক খণ্ডে।
২- আল-ওয়াদিহ।
৩- আল-খিলাফ আল-কাবির।
৪- আল-মুফরাদাত, দুই খণ্ডে, এটিই বর্তমান তাহকিক বা গবেষণার অন্তর্ভুক্ত কিতাব।
৫- মানাসিকুল হাজ্জ।
৬- আদ-দূর ওয়াল ওয়াসায়া।
৭- আল-ফাতাওয়া।
৮- আল-ওয়াজিজ
(২)।
৯- আল-ফাতওয়া আর-রাহবিয়্যাহ।
১০- আত-তালখিস ফিল ফারায়েদ।
১১- গাণিতিক জটিল মাসআলাসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
خامساً: في أصول الفقه:غرر البيان.
سادساً: في التاريخ:تاريخ بغداد
(1).
سابعاً: في الخطب والوعظ:1 ـ ديوان الخطب.
2 ـ مجالس في الوعظ.
--------------------------------------------
পঞ্চম: উসুলুল ফিকহ (ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি) বিষয়ে:গুরারুল বায়ান।
ষষ্ঠ: ইতিহাস বিষয়ে:তারীখে বাগদাদ
(১)।
সপ্তম: খুতবা ও ওয়ায-নসীহত বিষয়ে:১ — দিওয়ানুল খুতাব।
২ — মাজালিসু ফিল ওয়ায।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الفصل الثانيالتعريف بالكتابوفيه خمسة مباحث:
المبحث الأول: اسم الكتاب، ونسبته إلى مؤلِّفه.
المبحث الثاني: منهج المصنّف في تأليفه.
المبحث الثالث: موارد الكتاب، ومصادره.
المبحث الرابع: القيمة العلميَّة للكتاب.
المبحث الخامس: نسخة الكتاب، ووصفها.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদগ্রন্থ পরিচিতিএতে পাঁচটি আলোচ্য বিষয় রয়েছে:
প্রথম আলোচ্য বিষয়: গ্রন্থের নাম এবং লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধ।
দ্বিতীয় আলোচ্য বিষয়: গ্রন্থটি রচনার ক্ষেত্রে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি।
তৃতীয় আলোচ্য বিষয়: গ্রন্থের উপাদান এবং এর উৎসসমূহ।
চতুর্থ আলোচ্য বিষয়: গ্রন্থটির জ্ঞানতাত্ত্বিক গুরুত্ব।
পঞ্চম আলোচ্য বিষয়: গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি এবং তার বিবরণ।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
المبحث الأولاسم الكتاب، ونسبته إلى مؤلّفهاسم الكتاب:
«المفردات»، فقد صرّح ابن رجب بذلك فقال: «ولابن الزاغوني مصنفات كثيرة .. «المفردات» في مجلدين وهي مئة مسألة»
(1).
كما صرّح المرداوي بذلك فقال: «وابن الزاغوني قال في «مفرداته»: النكاح واجب في إحدى الروايتين»
(2).
وهذا الكتاب في المفردات، يؤكد ذلك مضمونه، ويؤكده ـ أيضاً ـ أنّ طريقة تأليفه هي كطريقة تأليف أبي الخطّاب في كتابه «المفردات».
نسبة الكتاب لمؤلفه:لقد كُتب في ورقة غلاف المخطوط ـ بخطٍّ حديث يختلف عن خطِّ المخطوط تماماً ـ ما يشير إلى أنّ هذا الكتاب «المفردات» لأبي يعلى، ولم يظهر سبب ذلك، ولا يمكن الاعتماد على هذه الكتابة الحديثة من غير دليل يدلّ عليها، وبعد الدراسة تبيّن لي أن هذا الكتاب «المفردات» لابن الزاغوني، ومما يؤكد نسبة هذا الكتاب لابن الزاغوني الأمور الآتية:
1 ـ غالب من ترجم لابن الزاغوني ذكر أن من ضمن مؤلفاته الفقهيّة: «المفردات»، منهم ابن رجب، وذكر أنه مبني على مئة مسألة في جزئين
(3).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদবইয়ের নাম, এবং এর লেখকের সাথে এর সম্পৃক্ততাবইয়ের নাম:
«আল-মুফরাদাত»; ইবনে রাজাব এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "ইবনুল যাগুনীর অনেকগুলো সংকলন রয়েছে... «আল-মুফরাদাত» দুই খণ্ডে এবং এটি একশত মাসআলা সম্বলিত"
(১)।
তেমনিভাবে আল-মারদাভী এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বলেছেন: "ইবনুল যাগুনী তাঁর «মুফরাদাত» গ্রন্থে বলেছেন: দুই বর্ণনার একটি অনুযায়ী বিবাহ ওয়াজিব"
(২)।
আর এই বইটি 'মুফরাদাত' (স্বতন্ত্র অভিমত) বিষয়ে, এর বিষয়বস্তু তা নিশ্চিত করে এবং এটি আরও নিশ্চিত হয় যে, এর রচনার পদ্ধতি আবুল খাত্তাবের তাঁর «আল-মুফরাদাত» গ্রন্থের রচনার পদ্ধতির অনুরূপ।
লেখকের সাথে বইয়ের সম্পৃক্ততা:পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদ পৃষ্ঠায়—পাণ্ডুলিপির মূল লিপির তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আধুনিক হাতের লেখায়—এমনটি লেখা আছে যা ইঙ্গিত করে যে, এই «আল-মুফরাদাত» গ্রন্থটি আবু ইয়া'লার। এর কারণ স্পষ্ট নয় এবং কোনো দলিল ছাড়া এই আধুনিক লেখার ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়। পর্যালোচনার পর আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই «আল-মুফরাদাত» গ্রন্থটি ইবনুল যাগুনীর। ইবনুল যাগুনীর সাথে এই গ্রন্থের সম্পৃক্ততা যা নিশ্চিত করে তা হলো নিম্নোক্ত বিষয়গুলো:
১- ইবনুল যাগুনীর জীবনীকারদের অধিকাংশ উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর ফিকহী গ্রন্থসমূহের মধ্যে «আল-মুফরাদাত» অন্যতম। তাঁদের মধ্যে ইবনে রাজাবও রয়েছেন এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এটি দুই খণ্ডে একশত মাসআলার ওপর ভিত্তি করে রচিত
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وهذا الكتاب في المفردات كما ذكرتُ آنفاً، ويظهر أنّه مكوّن من جزئين، وأنّ عدد مسائله مئة مسألة.
يرجّح ذلك أنّ عدد المسائل في الجزء الأول المراد تحقيقه (49) مسألة، وقد شملت تلك المسائل أبواب الفقه من كتاب الطهارة حتى كتاب الغصب.
كما يرجّحه ـ أيضاً ـ أنه جاء في آخر النسخة المراد تحقيقها ما نصه: «آخر الجزء الأول، ويتلوه في الذي يليه ـ إن شاء الله ـ مسألة إذا غصب أرضاً فزرعها».
فكون «المفردات» لابن الزاغوني مئة مسألة، وفي جزئين، وكون الجزء الأول ـ محل التحقيق ـ شمل نصف أبواب الفقه الأولى تقريباً في (49) مسألة، فإنّ الجزء الثاني ـ المتبقي من الكتاب، وهو يمثل نصف أبوب الفقه الأخيرة تقريباً ـ يُرجّح أن يكون تمام المئة مسألة.
2 ـ أنّ الكُتب التي أُلِّفت في مفردات الحنابلة بالقرن الخامس والسادس هي:
أ ـ «المفردات»، ويسمى «الخلاف الكبير»، ويسمى «الانتصار في المسائل الكبار»، لأبي الخطّاب (ت: 510 هـ)، وقد طُبع منه كتاب الطهارة والصلاة والزكاة، وبمقارنة مسائل هذين الكتابين يتبيّن أنّ هناك اختلافاً في المسائل، وهذا دليل على أنّ كتابنا هذا ليس هو مفردات أبي الخطّاب
(1).
ينضاف لذلك: أنّ عادة أبي الخطّاب في كتاباته إذا ورد ذكر أبي يعلى أن يقول: «قال شيخنا أبو يعلى»، أو يقول: «قال شيخنا»
(2)، ولا يذكره بوصفه مجرّداً، ومؤلف كتابنا هذا لا يذكر أبا يعلى إلا بوصفه «القاضي» فقط.
--------------------------------------------
এবং 'মুফরাদাত' (একক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মাসআলাসমূহ) বিষয়ক এই গ্রন্থটি, যেমনটি আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি, দৃশ্যত এটি দুটি খণ্ড নিয়ে গঠিত এবং এর মাসআলাসমূহের সংখ্যা একশটি।
এর স্বপক্ষে যুক্তি হলো যে, প্রথম খণ্ডে—যা সম্পাদনা (তাহকিক) করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—মাসআলার সংখ্যা হলো (৪৯) টি, এবং এই মাসআলাগুলো পবিত্রতা অধ্যায় থেকে শুরু করে জবরদখল অধ্যায় পর্যন্ত ফিকহের বিভিন্ন পরিচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এর সপক্ষে আরও জোরালো প্রমাণ হলো যে, সম্পাদনযোগ্য পাণ্ডুলিপির শেষে নিম্নোক্ত পাঠটি এসেছে: «প্রথম খণ্ড সমাপ্ত, এবং আল্লাহ চাহেন তো পরবর্তী খণ্ডে যা আসবে—যদি কেউ জমি জবরদখল করে তাতে চাষাবাদ করে তবে তার মাসআলা»।
যেহেতু ইবনুল যাগুনীর 'মুফরাদাত' একশটি মাসআলার সমষ্টি এবং এটি দুটি খণ্ডে বিভক্ত, এবং যেহেতু প্রথম খণ্ডটি—যা সম্পাদনার ক্ষেত্র—ফিকহের প্রথম অর্ধেকের প্রায় অর্ধেক পরিচ্ছেদকে (৪৯টি মাসআলায়) কভার করেছে, সেহেতু গ্রন্থের অবশিষ্ট অংশ তথা দ্বিতীয় খণ্ডটি—যা ফিকহের বাকি প্রায় অর্ধেক পরিচ্ছেদকে উপস্থাপন করে—তাতে মাসআলা সংখ্যা একশতে পূর্ণ হওয়ার বিষয়টিই প্রবল।
২— পঞ্চম ও ষষ্ঠ হিজরী শতাব্দীতে হাম্বলি মাযহাবের 'মুফরাদাত' (স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসমূহ) বিষয়ে রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
ক— «মুফরাদাত», যাকে «আল-খিলাফুল কাবির» এবং «আল-ইন্তিসার ফিল মাসাইলিল কিবার» ও বলা হয়, এটি আবুল খাত্তাবের (মৃত্যু: ৫১০ হি.) রচনা। এর পবিত্রতা, নামায ও যাকাত অধ্যায়গুলো মুদ্রিত হয়েছে। এই দুই গ্রন্থের মাসআলাগুলোর তুলনামূলক পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয় যে, মাসআলাগুলোর মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। এটি একটি প্রমাণ যে আমাদের আলোচ্য এই বইটি আবুল খাত্তাবের মুফরাদাত নয়
(১)।
এর সাথে আরও যুক্ত করা যায় যে, আবুল খাত্তাবের রচনারীতি হলো যখনই আবু ইয়া’লার উল্লেখ আসে তখন তিনি বলেন: «আমাদের শাইখ আবু ইয়া’লা বলেছেন», অথবা বলেন: «আমাদের শাইখ বলেছেন»
(২), তিনি তাকে কেবল বিশেষণহীন অবস্থায় উল্লেখ করেন না। অথচ আমাদের আলোচ্য গ্রন্থের লেখক আবু ইয়া’লাকে কেবল «আল-কাদি» (বিচারক) উপাধিতেই উল্লেখ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
ب ـ «المفردات»، لأبي الوفاء ابن عقيل (ت: 513 هـ)، وكتابنا هذا ليس له؛ لأنه قد جرت عادته في كتاباته إذا ورد ذكر أبي يعلى أن يقول: «شيخنا الإمام أبو يعلى ابن الفراء كرّم الله وجهه»، أو يقول: «شيخنا رضي الله عنه»، أو يقول: «شيخنا»
(1)، ولا يذكره بوصفه مجرّداً، ومؤلف كتابنا هذا لا يذكر أبا يعلى إلا بوصفه «القاضي» فقط.
ج ـ «المفردات»، ويسمى «رؤوس المسائل المفردات في الفقه»، لأبي الحسين، محمد بن القاضي أبي يعلى (ت: 526 هـ)، وكتابنا هذا ليس له؛ لأنه قد جرت عادته في كتاباته إذا ورد ذكر أبي يعلى أن يقول: «قال الوالد السعيد»
(2)، ولا يذكره بوصفه مجرّداً، ومؤلف كتابنا هذا لا يذكر أبا يعلى إلا بوصفه «القاضي» فقط.
د ـ «المفردات»، لابن الحنبليّ، عبد الوهاب بن عبد الواحد بن محمد الشيرازي
(3) (ت: 536 هـ)، وكتابنا هذا ليس له؛ لأنه لو كان له لنَقَل عن والده أبو الفرج الشيرازي (ت: 486 هـ) شيخه وشيخ الحنابلة في الشام بوقته، وصاحب المصنّفات الشهيرة؛ كالمنتخب والمبهج والإيضاح والتبصرة في أصول الفقه، وكتابنا لم يرد فيه ذكر للشيرازي ولا نقل عنه.
هـ «المفردات»، للوزير أبي المظفّر، يحيى بن محمد بن هبيرة (ت: 560 هـ)، وكتابنا هذا ليس له؛ لأنه قد جرت عادته في كتاباته ـ عند ذكر القاضي أبي يعلى ـ أن يقول: «القاضي أبو يعلى الفراء»، أو يقول: «القاضي أبو يعلى ابن الفراء»،
--------------------------------------------
খ — «আল-মুফরাদাত», আবুল ওয়াফা ইবন আকিল (মৃ: ৫১৩ হি) এর রচিত, এবং আমাদের এই বইটি তাঁর নয়; কারণ তাঁর রচনার রীতি হলো যখনই আবু ইয়া’লার উল্লেখ আসে তিনি বলেন: «আমাদের শাইখ ইমাম আবু ইয়া’লা ইবনুল ফারা আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন», অথবা তিনি বলেন: «আমাদের শাইখ আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন», অথবা বলেন: «আমাদের শাইখ»
(১), এবং তিনি তাঁকে কেবল উপাধিহীনভাবে সরাসরি উল্লেখ করেন না, অথচ আমাদের এই বইয়ের লেখক আবু ইয়া’লাকে কেবল «আল-কাদি» হিসেবেই উল্লেখ করেছেন।
গ — «আল-মুফরাদাত», যাকে «রুউসুল মাসায়িল আল-মুফরাদাত ফিল ফিকহ» বলা হয়, আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আল-কাদি আবু ইয়া’লা (মৃ: ৫২৬ হি) এর রচিত, এবং আমাদের এই বইটি তাঁর নয়; কারণ তাঁর রচনার রীতি হলো যখনই আবু ইয়া’লার কথা আসে তিনি বলেন: «সৌভাগ্যবান পিতা বলেছেন»
(২), এবং তিনি তাঁকে কেবল উপাধিহীনভাবে সরাসরি উল্লেখ করেন না, অথচ আমাদের এই বইয়ের লেখক আবু ইয়া’লাকে কেবল «আল-কাদি» হিসেবেই উল্লেখ করেছেন।
ঘ — «আল-মুফরাদাত», ইবনুল হাম্বলি আব্দুল ওয়াহহাব বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ আশ-শিরাজি
(৩) (মৃ: ৫৩৬ হি) এর রচিত, এবং আমাদের এই বইটি তাঁর নয়; কারণ এটি যদি তাঁর হতো তবে তিনি অবশ্যই তাঁর পিতা আবুল ফারাজ আশ-শিরাজি (মৃ: ৪৮৬ হি) থেকে উদ্ধৃতি দিতেন, যিনি তাঁর শাইখ এবং তৎকালীন সময়ে শামের হাম্বলিদের শাইখ ও প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলির রচয়িতা ছিলেন; যেমন: আল-মুন্তাখাব, আল-মুবহিজ, আল-ইদাহ এবং আত-তাবসিরাহ ফি উসুলিল ফিকহ। অথচ আমাদের এই বইটিতে শিরাজি সম্পর্কে কোনো উল্লেখ নেই এবং তাঁর থেকে কোনো উদ্ধৃতিও প্রদান করা হয়নি।
ঙ — «আল-মুফরাদাত», উজির আবুল মুজাফফর ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন হুবাইরা (মৃ: ৫৬০ হি) এর রচিত, এবং আমাদের এই বইটি তাঁর নয়; কারণ তাঁর রচনার রীতি হলো—কাদি আবু ইয়া’লার উল্লেখ করার সময়—তিনি বলেন: «আল-কাদি আবু ইয়া’লা আল-ফারা», অথবা বলেন: «আল-কাদি আবু ইয়া’লা ইবনুল ফারা»,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফরাদাত
(পৃষ্ঠা: ৪০)
أو يقول: «القاضي أبو يعلى»
(1)، ولا يذكره بوصفه مجرّداً، ومؤلف كتابنا هذا لا يذكر أبا يعلى إلا بوصفه «القاضي» فقط.
و ـ «المفردات»، لأبي يعلى الصغير (ت: 560 هـ)
(2)، وكتابنا هذا ليس له؛ لأن المرداوي نقل عن الكتاب المذكور فقال: «قال أبو يعلى الصغير في مفرداته عن بعض الأصحاب: تسقط الزكاة بالتحيّل، وفاقاً لأبي حنيفة والشافعي»
(3)، وفي كتابنا لما تكلّم عن هذه المسألة؛ لم يذكر إلا رواية واحدة، فقال: «لم تسقط الزكاة .. هذا مذهبنا، وهو اختيار الخرقي، وهو مذهب مالك. وعند أبي حنيفة والشافعي: أنها تسقط».
كما أنّ المرداوي نقل ـ أيضاً ـ عن مفردات أبي يعلى الصغير في مسألة: أيهما أفضل الحج ماشياً أو راكباً أو هما سواء؟ فقال: «قال أبو يعلى الصغير في مفرداته: المشي أفضل»
(4)، وفي كتابنا انتهى قسم العبادات كاملاً ولم يتكلّم عن أي مسألة في الحج.
ينضاف لذلك: أنّ هذا الكتاب لو كان له لنَقَل عن شيخه ووالده محمد أبو خازم ابن أبي يعلى، صاحب المصنفات الشهيرة؛ كشرح الخرقي، ورؤوس المسائل، والتبصرة في الخلاف، وكتابنا لم يرد فيه ذكر لوالده.
--------------------------------------------
অথবা তিনি বলেন: «আল-কাদি আবু ইয়ালা»
(১), এবং তিনি তাঁকে শুধু তাঁর নাম দিয়ে উল্লেখ করেন না; আর আমাদের এই বইয়ের লেখক আবু ইয়ালাকে কেবল «আল-কাদি» উপাধি ছাড়া উল্লেখ করেন না।
ও — «আল-মুফরাদাত», যা আবু ইয়ালা আস-সগির (মৃত্যু: ৫৬০ হিজরি)
(২) এর রচনা, কিন্তু আমাদের এই বইটি তাঁর নয়; কারণ আল-মারদাউয়ি উক্ত কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন: «আবু ইয়ালা আস-সগির তাঁর মুফরাদাত গ্রন্থে কিছু সাথীদের (মাযহাবের আলিমদের) সূত্রে বলেছেন: কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে জাকাত রহিত হয়ে যায়, যা আবু হানিফা ও শাফিয়ির মতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ»
(৩), অথচ আমাদের এই বইটিতে যখন এই মাসআলা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, তখন কেবল একটি বর্ণনাই উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে: «জাকাত রহিত হবে না... এটিই আমাদের মাযহাব, এবং এটিই আল-খিরাকির পছন্দকৃত মত এবং এটিই মালিকের মাযহাব। আর আবু হানিফা ও শাফিয়ির মতে: তা রহিত হয়ে যাবে»।
অনুরূপভাবে আল-মারদাউয়ি আবু ইয়ালা আস-সগিরের মুফরাদাত থেকে আরও একটি মাসআলায় উদ্ধৃতি দিয়েছেন: পায়ে হেঁটে হজ করা উত্তম নাকি আরোহন করে, নাকি উভয়টি সমান? তিনি বলেছেন: «আবু ইয়ালা আস-সগির তাঁর মুফরাদাত গ্রন্থে বলেছেন: হেঁটে হজ করা উত্তম»
(৪), অথচ আমাদের বইটিতে ইবাদত অধ্যায়টি পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ হয়েছে কিন্তু হজের কোনো মাসআলা নিয়ে আলোচনা করা হয়নি।
এর সাথে আরও যোগ করা যায় যে: এই বইটি যদি তাঁর হতো, তবে তিনি অবশ্যই তাঁর উস্তাদ ও পিতা মুহাম্মদ আবু খাযিম ইবনে আবু ইয়ালা থেকে উদ্ধৃতি দিতেন, যিনি প্রসিদ্ধ সব গ্রন্থের রচয়িতা; যেমন: শারহুল খিরাকি, রুউসুল মাসাইল এবং আত-তাবসিরাহ ফিল খিলাফ। কিন্তু আমাদের এই বইটিতে তাঁর পিতার কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না।
--------------------------------------------