(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: -)
المختصر الوافي لأهم مسائل الطهارة   (عبد الله بن محمد العسكر)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: المختصر الوافي لأهم مسائل الطهارة

المؤلف: عبد الله بن محمد العسكر

تقديم وتعليق ومراجعة: الشيخ عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين

الناشر: دار طيبة للنشر والتوزيع، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2004 م

عدد الصفحات: 94

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 30 محرم 1447

পবিত্রতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাসমূহের সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ   (আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-আসকার)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: পবিত্রতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাসমূহের সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ

লেখক: আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-আসকার

উপস্থাপনা, টীকা ও পর্যালোচনা: শাইখ আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-জিবরীন

প্রকাশক: দার তাইয়িবাহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৩০ মুহাররম ১৪৪৭

(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على محمد وآله وصحبه أجمعين، وبعد:

فقد قرأت هذه الرسالة في بعض أحكام الطهارة من باب المياه إلى آخر باب الحيض والنفاس فوجدت الكاتب قد أحسن في الانتقاء والاختيار للمهم مما يحتاج الناس إليه في مسائل الطهارة، مع ذكر الدليل ومن قال بالمسألة من الأئمة الأربعة ومن اختارها من مشاهير العلماء كشيخ الإسلام ابن تيمية وبعض المشايخ في هذه الأزمنة من المملكة؛ حيث أن ذلك مما يقوي المسألة في نفوس القراء فجزاه الله خيرا وأثابه على جهده. وهو أخونا عبد الله بن محمد العسكر من سكان مدينة الخرج وممن له جهد في التعليم والدعوة إلى الله تعالى فجزاه الله خيرا، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه.

 

9/ 4 / 1425 هـ

عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর। অত:পর:

আমি পবিত্রতা (طهارة) সংশ্লিষ্ট কিছু বিধানাবলী (أحكام) বিষয়ক এই রিসালাহটি পাঠ করেছি, যা পানির অধ্যায় থেকে শুরু করে ঋতুস্রাব (حيض) ও প্রসূতি অবস্থা (نفاس) এর অধ্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। আমি লক্ষ্য করেছি যে, লেখক পবিত্রতার মাসআলা (مسائل) সমূহের মধ্য থেকে মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চয়ন ও নির্বাচনে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। সেই সাথে তিনি দলিল (الدليل) উল্লেখ করেছেন এবং চার ইমামের (الأئمة الأربعة) মধ্যে কারা এই মাসআলাগুলোর সপক্ষে মত দিয়েছেন এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও বর্তমান সময়ে এই রাজ্যের প্রখ্যাত মাশায়েখদের (مشايخ) ন্যায় প্রসিদ্ধ আলেমদের মধ্যে কারা এই মতগুলো চয়ন করেছেন তাও উল্লেখ করেছেন; কেননা এটি পাঠকদের মনে মাসআলাটিকে শক্তিশালী করে। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁর এই প্রচেষ্টার জন্য তাঁকে সওয়াব দান করুন। তিনি আমাদের ভাই আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-আসকার, আল-খারজ শহরের অধিবাসী এবং শিক্ষা ও আল্লাহর পথে দাওয়াহর ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ প্রচেষ্টা রয়েছে। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

৯/ ৪ / ১৪২৫ হিজরি

আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জিবরীন
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له ولي الصالحين، وأشهد أن محمداً عبدُ الله ورسولُه الأمين، بعثه الله بين يدي الساعة بشيرا ونذيرا، وداعيا إلى الله بإذنه وسراجا منيرا. صلى الله وبارك عليه وعلى آله وأصحابه والتابعين، وسلم تسليما كثيراً إلى يوم الدين. أما بعد:

فإن من أعظم مِنَّةِ الله على عبده المسلم وإكرامه له أن يرزقه الفقه في دينه، فيعرف ما أوجبه عليه وما حرَّمه ونهاه عنه. فيكون ممن يعبد ربه على علم وبصيرة وَفْق ما يريده تبارك وتعالى.

ومتى سار المسلم على بصيرة في عبادته لربه كان ذلك من دلائل الخير وأَمَارات التوفيق.

ومن أراد الله به خيرا بصّره بطريقة العبادة التي توصل إلى مرضاته. قال صلى الله عليه وسلم: «من يُرِد اللهُ به خيراً يفقِّهْه في الدين»(1).

وأبواب الطهارة من الأبواب المهمة في ديوان الفقه. ومعرفةُ أحكامها ومسائلها مما يحتاجه المسلم كثيراً في حياته.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري (71) ومسلم (1. 37) عن معاوية رضي الله عنه.
‌‌উপক্রমণিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি নেককারদের অভিভাবক। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর বিশ্বস্ত রাসূল। আল্লাহ তাঁকে কিয়ামতের প্রাক্কালে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এবং তাঁর অনুমতিক্রমে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ ও তাবেয়ীদের (التابعين) ওপর কিয়ামত পর্যন্ত অজস্র রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। অতঃপর:

নিশ্চয়ই একজন মুসলিম বান্দার প্রতি আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ ও সম্মান হলো তাকে দীনের গভীর জ্ঞান বা ফিকহ (الفقه) দান করা, যাতে সে তার ওপর অর্পিত আবশ্যিক ও নিষিদ্ধ বিষয়গুলো জানতে পারে। ফলে সে মহান আল্লাহর অভিপ্রায় অনুযায়ী জ্ঞান ও প্রজ্ঞার (بصيرة) সাথে তাঁর ইবাদত করতে পারে।

একজন মুসলিম যখন তার রবের ইবাদতে প্রজ্ঞার (بصيرة) সাথে পরিচালিত হয়, তখন তা কল্যাণের নিদর্শন ও তাওফিকের (التوفيق) লক্ষণ হিসেবে গণ্য হয়।

আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে ইবাদতের সেই পদ্ধতির ওপর দূরদৃষ্টি দান করেন যা তাঁর সন্তুষ্টি পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দীনের গভীর জ্ঞান (يفقهه) দান করেন।”(1)।

পবিত্রতার অধ্যায়গুলো ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর বিধি-বিধান ও মাসআলাসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা একজন মুসলিমের প্রাত্যহিক জীবনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

--------------------------------------------

(1) এটি বর্ণনা করেছেন (رواه) বুখারি (৭১) ও মুসলিম (১০৩৭), মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
ومن هنا جاءت فكرة جمع مهمات هذه المسائل في كتاب يكون برزخاً بين الطول الممل والإيجاز المخلّ؛ ليعين طالب العلم المبتدئ على ولوج هذا الباب من أبواب علم الشريعة.

وأحسب أن مادة هذا الكتاب مناسبة لمن أراد الاستعانة بها في وضع منهج مختصر في كتاب الطهارة للطلاب من ذوي التخصصات غير الشرعية، كما أنه يمكن الاستفادة منها في إقامة دورة قصيرة في هذا الموضوع في حدود أربعة أيام أو خمسة.

[وقد طُبع من هذا الكتاب أوّلَ ما طبع أكثرُ من ثمانين ألف نسخة نفدت جميعها بفضل الله تعالى، وكان ذلك قبل ما يقارب خمسة عشر عاما، فرأيت إعادة طباعته لعلّ الله أن ينفع به.

وكنت عرضت هذا الكتاب بعد فراغي منه على سماحة والدنا الشيخ العلامة عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين أسكنه الله فسيح جناته وأسبغ عليه شآبيب رحماته ليراجعه ويقدّم له ويعلق عليه بما يرى، وقد فعل جزاه الله عني خيرا، وطلبت منه حينها أن يبدي رأيه في كل مسألة يرى خلافها على أن أثبت رأيه كما هو في هامش الكتاب ليستفيد منه القارئ، وكان ذلك كذلك في تلك الطبعة غير أن بعض الأفاضل من طلبة العلم راجعوني في ذلك واقترحوا عليّ استبعاد تلك الآراء المخالفة لما في الكتاب لا زهداً فيها وإنما حرصا على عدم تشتيت القارئ خاصة ممن هو في بداية الطلب. وقد أخذت بهذا المقترح في هذه الطبعة[*] بعد طول تفكير، ولعل في الأمر خيرا إن شاء الله].

 

‌‌وجملة ما صنعته في هذا الكتاب يمكن حصرُه في النقاط التالية:

أولاً: ذكرت ما يزيد على مئة وعشرين مسألة من مسائل الطهارة موزعة على عشرة أبواب وهي: (المياه، الآنية، إزالة النجاسة، الوضوء، المسح على الخفين، نواقض الوضوء، آداب قضاء الحاجة، الغُسل، التيمم، الحيض والاستحاضة والنفاس).

وقد حرصت على صياغة هذه المسائل صياغةً موجزة تجمع أطراف كل مسألة بأسلوب يسير بعيد عن التفريعات والتفصيلات الفقهية.

 

ثانياً: أشرتُ في الغالب بعد كل مسألة إلى مَنْ قال بها من الأئمة الأربعة ومن اختارها من أكابر الفقهاء المتأخرين كشيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم، ثم أتبعتُ ذلك بذكر واحدٍ ممن اختارها من أعلام العلماء المعاصرين في الجزيرة العربية كالشيخ محمد بن إبراهيم والسعدي وابن باز وابن عثيمين [رحم الله الجميع].

--------------------------------------------

[*] تعليق المكتبة الشاملة: وذلك في هذه النسخة الإلكترونية (انتُقى فيها من تعليقات الشيخ ابن جبرين رحمه الله ما لا يخالف ما في الكتاب؛ لعدم تشتيت القارئ)، أما المطبوع (ط طيبة)، ففيه جميع تعليقات الشيخ رحمه الله.

ونذكر مثالا للإيضاح:

ورد في الكتاب (ص 42): «. . . وعلى هذا فلا يلزم لُبْسها (أي العمامة) على طهارة مائية كالخف، والقياس على الخف يحتاج إلى دليل»

فجاء في الهامش ما نصه: علق الشيخ ابن جبرين بقلمه بعد هذا الموضع فقال: «لكن الأصل أنها كالخف».

فلعل مثل هذا هو المقصود من تشتيت القارئ: «والقياس على الخف يحتاج إلى دليل»

- «الأصل أنها كالخف»
এখান থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাসমূহকে একটি বইয়ে সংকলন করার চিন্তাটি এসেছে, যা হবে বিরক্তিকর দীর্ঘতা এবং ত্রুটিপূর্ণ সংক্ষিপ্ততার মাঝে একটি সেতুবন্ধন; যাতে এটি প্রাথমিক পর্যায়ের জ্ঞান অন্বেষণকারীকে শরয়ি বিজ্ঞানের এই অন্যতম দ্বারে প্রবেশ করতে সহায়তা করে।

আমি মনে করি যে, এই বইটির বিষয়বস্তু তাদের জন্য উপযুক্ত যারা অ-শরয়ি বিশেষায়িত শিক্ষার্থীদের জন্য পবিত্রতা অধ্যায় (কিতাবুত তাহারাহ) এর উপর একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ্যক্রম প্রণয়নে সহায়তা নিতে চান। একইভাবে, চার বা পাঁচ দিনের মধ্যে এই বিষয়ের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত কোর্স পরিচালনা করতেও এটি থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব।

[আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে এই বইটি প্রথমবার প্রকাশের সময় আশি হাজারেরও বেশি কপি মুদ্রিত হয়েছিল এবং এর সবগুলোই নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। এটি ছিল প্রায় পনেরো বছর আগের কথা। তাই আমি এটি পুনরায় মুদ্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে আল্লাহ এর দ্বারা অন্যদের উপকৃত করেন।

আমি এই বইটি শেষ করার পর আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শায়খ আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জিবরীন—আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন এবং তাঁর ওপর রহমতের বারিধারা বর্ষণ করুন—এর নিকট পেশ করেছিলাম, যাতে তিনি এটি পর্যালোচনা করেন, এর একটি ভূমিকা লিখে দেন এবং তাঁর প্রয়োজন অনুযায়ী মন্তব্য করেন। তিনি তা করেছেন, আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। সে সময় আমি তাঁর নিকট অনুরোধ করেছিলাম যে, যদি কোনো মাসআলায় তিনি ভিন্নমত পোষণ করেন, তবে যেন তা প্রকাশ করেন এবং আমি তাঁর মতটিকে হুবহু বইয়ের টীকায় উল্লেখ করব যাতে পাঠক তা থেকে উপকৃত হতে পারে। সেই মুদ্রণে বিষয়টি তেমনই ছিল। তবে জ্ঞান অন্বেষণকারীদের মধ্যে কিছু গুণী ব্যক্তি এ বিষয়ে আমার সাথে কথা বলেন এবং প্রস্তাব করেন যে, বইয়ের মূল পাঠের বিরোধী সেই মতগুলোকে যেন বাদ দেওয়া হয়। এটি সেই মতগুলোর প্রতি অবজ্ঞাবশত নয়, বরং পাঠকের মনোযোগ যাতে বিক্ষিপ্ত না হয় সে জন্য—বিশেষ করে যারা জ্ঞান অর্জনের শুরুতে রয়েছেন। দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর এই মুদ্রণে[*] আমি সেই প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছি, ইনশাআল্লাহ এতে কল্যাণ নিহিত রয়েছে।].

 

‌‌এই বইটিতে আমি যা করেছি তার সারসংক্ষেপ নিচের পয়েন্টগুলোতে তুলে ধরা হলো:

প্রথমত: আমি পবিত্রতা সংক্রান্ত একশ বিশটিরও বেশি মাসআলা উল্লেখ করেছি যা দশটি অধ্যায়ে বিভক্ত: (পানি, পাত্র, অপবিত্রতা দূরীকরণ, ওজু, মোজার ওপর মাসেহ, ওজু ভঙ্গের কারণসমূহ, শৌচাগার ব্যবহারের আদব, গোসল, তায়াম্মুম, হায়েদ-ইস্তিহাযা ও নিফাস)।

আমি এই মাসআলাগুলোকে একটি সংক্ষিপ্ত অবয়বে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি যা প্রতিটি বিষয়ের মূল দিকগুলোকে সহজ সাবলীল ভঙ্গিতে একত্রিত করে, এবং ফিকহশাস্ত্রীয় জটিল উপ-শাখা ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা থেকে মুক্ত থাকে।

 

দ্বিতীয়ত: অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতিটি মাসআলার পরে আমি উল্লেখ করেছি যে, চার ইমামের মধ্যে কে এই মতটি পোষণ করেছেন এবং পরবর্তী যুগের বড় ফকিহদের মধ্যে কে এটি গ্রহণ করেছেন, যেমন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কায়্যিম। এরপর আমি আরব উপদ্বীপের বর্তমান যুগের বিশিষ্ট আলেমদের মধ্যে অন্তত একজনের নাম উল্লেখ করেছি যিনি এই মতটি পছন্দ করেছেন, যেমন শায়খ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম, আস-সাদী, ইবনে বায এবং ইবনে উসাইমিন [আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর রহমত বর্ষণ করুন]।

--------------------------------------------

[*] মাকতাবা শামিলার মন্তব্য: এটি এই ডিজিটাল সংস্করণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (যেখানে শায়খ ইবনে জিবরীন রহ.-এর টীকা থেকে সেগুলোই নির্বাচন করা হয়েছে যা বইয়ের মূল পাঠের বিরোধী নয়; যাতে পাঠকের মনোযোগ বিক্ষিপ্ত না হয়), তবে মুদ্রিত সংস্করণে (তৈয়বা সংস্করণ) শায়খ রহ.-এর সকল টীকা বিদ্যমান রয়েছে।

নিচে স্পষ্ট করার জন্য একটি উদাহরণ দেওয়া হলো:

বইটিতে (পৃষ্ঠা ৪২) এসেছে: «. . . আর এই কারণে, মোজার মতো পাগড়ির ওপর মাসেহ করার জন্য পবিত্র অবস্থায় (ওজু করে) তা পরিধান করা আবশ্যক নয়, কারণ মোজার সাথে একে কিয়াস করার জন্য প্রমাণের প্রয়োজন আছে»

তখন টীকায় শায়খ ইবনে জিবরীন তাঁর কলমে মন্তব্য করেছেন: «কিন্তু মূলকথা হলো এটি মোজার মতোই (হুকুম রাখে)»।

সম্ভবত এই ধরনের বিষয়গুলোই পাঠকের মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করার কারণ হিসেবে বোঝানো হয়েছে: «মোজার সাথে কিয়াস করার জন্য দলিলের প্রয়োজন»

- «মূলকথা হলো এটি মোজার মতো»
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
ثالثاً: أوردتُ دليلاً على كل مسألة ما أمكنني ذلك، وقد بذلت وسعي في أن تكون جميع الأدلة ثابتة صحيحة أو حسنة، واستفدت في هذا الباب من تحقيقات وتصحيحات عدد من الحفاظ والمحدثين كابن عبد البر الأندلسي والنووي وابن حجر وأحمد شاكر والألباني وغيرهم.

 

رابعاً: اجتهدتُ في توثيق أقوال العلماء واختياراتهم في الهوامش وأرجعتها إلى مصادرها، لتكون معينة لمن أراد التوسع في المسألة والرجوع إلى تفاصيل الخلاف فيها وأقوال أهل العلم ومناقشاتهم وأدلتهم.

 

خامساً: ذكرت في هوامش بعض المسائل نُتفاً من الفوائد والإيضاحات لبعض المصطلحات والكلمات الغامضة، ولم أدوِّنها في الأصل رغبةً في الإيجاز.

 

وختاماً: فهذا جهد المقل، فما كان فيه من صواب فالفضل فيه لله تعالى وهو أهل الفضل والجود، وما كان فيه من نقصان وخطأ فمردُّه إلى نفسٍ مقصّرة وشيطان رجيم، والله ورسوله بريئان منه. وأستغفر الله وأتوب إليه.
তৃতীয়ত: আমি প্রতিটি মাসআলায় যথাসম্ভব দলিল উপস্থাপন করেছি এবং সমস্ত দলিল যেন সুসাব্যস্ত বিশুদ্ধ (صحيحة) অথবা উত্তম (حسنة) হয়, সে ব্যাপারে আমি আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি। এক্ষেত্রে আমি ইবনে আবদুল বার আল-আন্দালুসি, আন-নববী, ইবনে হাজার, আহমাদ শাকির, আল-আলবানি ও অন্যান্য হাফেজ এবং হাদিস বিশারদদের তাহকিক ও সংশোধনসমূহ থেকে উপকৃত হয়েছি।

 

চতুর্থত: আমি পাদটীকায় আলেমদের বক্তব্য ও তাদের চয়নকৃত মতসমূহের প্রামাণিকতা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হয়েছি এবং সেগুলোকে তাদের মূল উৎসের উদ্ধৃতিসহ উল্লেখ করেছি, যাতে তা সংশ্লিষ্ট মাসআলায় বিস্তারিত জ্ঞান অন্বেষণে আগ্রহী এবং সেখানে বিদ্যমান মতপার্থক্য, আহলে ইলমদের বক্তব্য, তাদের আলোচনা ও দলিলসমূহের বিস্তারিত বিবরণের দিকে ফিরে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য সহায়ক হয়।

 

পঞ্চমত: আমি কিছু মাসআলার পাদটীকায় কতিপয় পরিভাষা ও অস্পষ্ট শব্দের ব্যাখ্যা এবং সংক্ষিপ্ত কিছু ফায়দা উল্লেখ করেছি; সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে সেগুলো মূল পাঠে লিপিবদ্ধ করিনি।

 

পরিশেষে: এটি এক নগণ্য প্রচেষ্টা মাত্র। এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে, তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ; আর তিনিই অনুগ্রহ ও মহানুভবতার অধিকারী। আর এতে যা কিছু ত্রুটি বা ভুল রয়েছে, তা আমার ত্রুটিপূর্ণ নফস এবং বিতাড়িত শয়তানের পক্ষ থেকে; আল্লাহ ও তাঁর রাসুল এ থেকে মুক্ত। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই নিকট তওবা করছি।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
[وكم سأكون ممتنَّاً لمن يهدي إليّ عيبا أو خللا رآه، أو يفيدني بمقترَح يُسهِم في تقويم الكتاب ونشره.]

 

أسأل الله أن يجعل هذا العمل متقبلاً عنده بأحسن القبول، نافعاً لعباده وإمائه، نقيَّاً من شائبة الرياء والسمعة، وأن يلحقنا ووالدينا وأزواجنا وذرياتنا بصالح عباده المؤمنين في دار الكرامة والنعيم.

والحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

 

عبد الله بن محمد العسكر

السعودية الخرج

13/ 5/ 1440 هـ[*]

البريد الإلكتروني alaskar5@gmail.com

[الموقع الشخصي على الشبكة العنكبوتية dr-alaskr.com]

--------------------------------------------

[*] تعليق المكتبة الشاملة: هذه النسخة الإلكترونية أحدث من المطبوع (ط طيبة 1425 هـ). ووضعنا بعض الاختلافات التي وقفنا عليها بين معكوفين
[আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ থাকব সেই ব্যক্তির প্রতি, যিনি আমার কোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি ধরিয়ে দেবেন অথবা আমাকে এমন কোনো পরামর্শ দেবেন যা এই কিতাবটির সংশোধন ও প্রকাশনায় সহায়ক হবে।]

 

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই আমলটিকে তাঁর দরবারে সর্বোত্তমভাবে কবুল করেন, তাঁর দাস ও দাসীদের জন্য একে উপকারী করেন, লোকদেখানো (رياء) ও সুখ্যাতি অর্জনের (سمعة) কলুষতা থেকে একে মুক্ত রাখেন এবং আমাদের ও আমাদের পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তানদের তাঁর সৎকর্মশীল মুমিন বান্দাদের সাথে জান্নাতুল ফিরদাউসে (دار الكرامة والنعيم) সমবেত করেন।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

 

আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-আসকার

আল-খারজ, সৌদি আরব

১৩/ ০৫/ ১৪৪০ হিজরি[*]

ইমেল: alaskar5@gmail.com

[ইন্টারনেটে ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট: dr-alaskr.com]

--------------------------------------------

[*] মাকতাবাতুশ শামেলার মন্তব্য: এই ইলেকট্রনিক সংস্করণটি মুদ্রিত সংস্করণের (ত্বাইবা প্রকাশনী ১৪২৫ হিজরি) চেয়েও আধুনিক। আমরা উভয় সংস্করণের মধ্যে যে পার্থক্যগুলো পেয়েছি সেগুলো থার্ড ব্র্যাকেটের মধ্যে রেখেছি।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌باب المياه

‌‌1 - الماء طاهرٌ ما لم تتغير إحدى صفاته الثلاث (لونه - طعمه - ريحه)؛ فإن تغيرت إحدى الصفات السابقة بسبب ما وقع فيه من نجاسة فهو نجس، قلَّ الماء أو كثُر.

أما إذا لم يتغير الماء مع وجود النجاسة فيه فهو طاهر سواء أكان دون القُلَّتين(1) أو أكثر، فالضابط هو التغيُّر وليس قلةَ الماء وكثرتَه، وهو مذهب الإمام مالك(2) ورجّحه شيخ الإسلام ابن تيمية(3)، واختاره ابن باز(4).

الدليل: حديث أبي سعيد رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " إن الماء طَهور لا يُنجِّسه شيء"رواه الترمذي والنسائي وصححه الإمام أحمد(5).

وقد انعقد الإجماع على أن الماء إذا وقعت فيه نجاسة فغيَّرته فهو نجس، قلَّ أو كثر(6).

 

‌‌2 - الماء نوعان فقط: طَهور ونجس، وهو اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية(7)، ورجّحه السَّعدي(8).

--------------------------------------------

(1) القُلَّة: " جَرّة بقدر ما يطيق الإنسان المتوسط حملها لو ملئت ماء، وقدَّر الشافعية القلتين بمكعب كلُّ بُعدٍ من أبعاده ذراعٌ وربعُ ذراعٍ بذراع الآدمي، وهي تساوي 93، 75 صاعا = 160، 5 لتراً ". (معجم لغة الفقهاء ص 336).

(2) المجموع 1/ 163.

(3) مجموع الفتاوى 21/ 32، الفروع 1/ 231.

(4) مجموع فتاوى ومقالات متنوعة 10/ 16.

(5) بلوغ المرام ص 2، وصحح الحديث الألباني في صحيح أبي داود حديث رقم (66).

(6) الإجماع لابن المنذر ص 33.

(7) مجموع الفتاوى 19/ 236، 237.

(8) فقه ابن سعدي 1/ 182.
পানি সম্পর্কিত অধ্যায়

১ - পানি পবিত্র (طاهر) যতক্ষণ না এর তিনটি গুণের (রং, স্বাদ ও গন্ধ) কোনো একটি পরিবর্তিত হয়; যদি অপবিত্রতা পড়ার কারণে পানির উল্লেখিত গুণাবলির কোনো একটি পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে পানি অপবিত্র (نجس), পানির পরিমাণ কম হোক বা বেশি।

পক্ষান্তরে যদি পানির মধ্যে অপবিত্রতা থাকা সত্ত্বেও তা পরিবর্তিত না হয়, তবে তা পবিত্র (طاهر), চাই তা দুই কুল্লা(১)-এর কম হোক অথবা বেশি। মূল মানদণ্ড হলো পরিবর্তন হওয়া, পানির কম-বেশি হওয়া নয়। এটিই ইমাম মালিকের মাযহাব(২) এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ একেই প্রাধান্য দিয়েছেন(৩), আর ইবনে বায এটিকেই নির্বাচন করেছেন(৪)।

দলিল: আবু সাঈদ (রা.)-এর হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই পানি পবিত্র ও পবিত্রকারী (طهور), কোনো কিছুই একে অপবিত্র করতে পারে না।" এটি তিরমিজি ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম আহমদ একে বিশুদ্ধ (صحح) সাব্যস্ত করেছেন(৫)।

এই মর্মে ঐক্যমত (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, পানির মধ্যে অপবিত্রতা পড়লে যদি তা পানির গুণ পরিবর্তন করে দেয়, তবে পানি অপবিত্র (نجس) হয়ে যাবে, পানির পরিমাণ কম হোক বা বেশি(৬)।

 

২ - পানি কেবল দুই প্রকার: পবিত্র ও পবিত্রকারী (طهور) এবং অপবিত্র (نجس), যা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর অভিমত(৭) এবং আস-সা’দী একেই প্রাধান্য দিয়েছেন(৮)।

--------------------------------------------

(১) কুল্লা: "একটি মটকা যার পরিমাণ একজন মাঝারি গড়নের মানুষ পানি পূর্ণ অবস্থায় বহন করতে সক্ষম। শাফেঈ আলেমদের মতে দুই কুল্লা হলো এমন একটি ঘনক্ষেত্র যার প্রতিটি বাহু মানুষের হাতের এক হাত এবং হাতের চারভাগের একভাগ সমান। এটি ৯৩.৭৫ সা’ = ১৬০.৫ লিটারের সমতুল্য।" (মু’জামু লুগাতিল ফুকাহা, পৃষ্ঠা ৩৩৬)।

(২) আল-মাজমু’ ১/ ১৬৩।

(৩) মাজমুউল ফাতাওয়া ২১/ ৩২, আল-ফুরূ’ ১/ ২৩১।

(৪) মাজমু’ ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাত মুতানাওয়্যিআহ ১০/ ১৬।

(৫) বুলুগুল মারাম পৃষ্ঠা ২; আলবানী সহিহ আবি দাউদ-এর ৬৬ নম্বর হাদিসে একে বিশুদ্ধ (صحح) বলেছেন।

(৬) আল-ইজমা, ইবনুল মুনযির পৃষ্ঠা ৩৩।

(৭) মাজমুউল ফাতাওয়া ১৯/ ২৩৬, ২৩৭।

(৮) ফিকহু ইবনি সা’দী ১/ ১৮২।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
والطَّهور: هو الماء الباقي على خلقته التي خلقه الله عليها.

والنَّجس: هو الماء الذي تغيَّرت إحدى صفاته الثلاث بسبب ما استقرَّ فيه من نجاسة.

 

‌‌3 - لا يجوز الاغتسال للجُنُب في الماء الراكد غير المتحرك.

الدليل: حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال صلى الله عليه وسلم: "لا يغتسلْ أحدُكم في الماء الدائم (أي الراكد) وهو جُنُب "رواه مسلم.

والبولُ وقضاءُ الحاجة في هذا الماء أشدُّ في النهي.

 

‌‌4 - يجوز للرجل أن يغتسل بما تبقى من الماء الذي اغتسلت منه المرأة، كما أنه يجوز للمرأة أن تغتسل بما تبقى من الماء الذي اغتسل منه الرجل.

الدليل: حديث ابن عباس رضي الله عنه قال: "اغتسل النبي صلى الله عليه وسلم بفضل ميمونة "رواه مسلم.

ولأصحاب السنن: "اغتسل بعض أزواج النبي صلى الله عليه وسلم في جَفْنةٍ فجاء يغتسل منها فقالت: إني كنت جُنُباً، فقال: "إن الماء لا يُجنِب"(1).

 

‌‌5 - لُعاب الكلب نجسٌ. وإذا ولغ في الإناء وجَبَ أن يراق ما في هذا الإناء، ثم يُغسل الإناء سبع غسلات أولاها بالتراب الممزوجِ بالماء، ثم يُتْبَعُ بستِ غَسَلات بالماء.

وهذا الحكم خاصٌّ بالكلب دونه غيره.

الدليل: حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال صلى الله عليه وسلم: " طَهور إناء أحدكم إذا ولغ فيه الكلب أن يغسله سبع مرات أولاهنّ بالتراب " رواه مسلم.

--------------------------------------------

(1) صححه الألباني في إرواء الغليل 1/ 64.
পবিত্র পানি (الطَّهور): এটি সেই পানি যা স্বীয় প্রাকৃতিক অবস্থায় বিদ্যমান রয়েছে যেমনটি আল্লাহ তাআলা তাকে সৃষ্টি করেছেন।

অপবিত্র পানি (النَّجس): এটি সেই পানি যার তিনটি গুণের কোনো একটি তাতে পতিত অপবিত্রতার কারণে পরিবর্তিত হয়ে গেছে।

 

‌‌৩ - অপবিত্র (জুনুব) ব্যক্তির জন্য স্থির ও প্রবাহহীন পানিতে গোসল করা বৈধ নয়।

দলিল: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন অপবিত্র অবস্থায় স্থির (অর্থাৎ প্রবাহহীন) পানিতে গোসল না করে।" মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

এই পানিতে প্রস্রাব করা এবং প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করা আরও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

 

‌‌৪ - পুরুষের জন্য মহিলার ব্যবহৃত অবশিষ্ট পানি দ্বারা গোসল করা জায়েজ, অনুরূপভাবে মহিলার জন্যও পুরুষের ব্যবহৃত অবশিষ্ট পানি দ্বারা গোসল করা জায়েজ।

দলিল: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মায়মুনার ব্যবহৃত অবশিষ্ট পানি দ্বারা গোসল করেছেন।" মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

সুনান গ্রন্থকারদের নিকট বর্ণিত হয়েছে: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জনৈকা স্ত্রী একটি বড় গামলার পানি দিয়ে গোসল করেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই পাত্র থেকে গোসল করতে আসলে তিনি বললেন: আমি অপবিত্র ছিলাম। তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই পানি অপবিত্র হয় না"(১)।

 

‌‌৫ - কুকুরের লালা অপবিত্র (نجس)। যদি কুকুর কোনো পাত্রে মুখ দেয়, তবে ঐ পাত্রে যা আছে তা ঢেলে ফেলা ওয়াজিব। অতঃপর পাত্রটিকে সাতবার ধৌত করতে হবে যার প্রথমবার হতে হবে মাটির সাথে মিশ্রিত পানি দিয়ে, এরপর আরও ছয়বার পানি দিয়ে ধৌত করতে হবে।

এই বিধানটি কেবল কুকুরের জন্য সুনির্দিষ্ট, অন্য কোনো প্রাণীর জন্য নয়।

দলিল: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কারও পাত্রে যদি কুকুর মুখ দেয়, তবে তার পবিত্রতা (طَهور) অর্জনের উপায় হলো তা সাতবার ধৌত করা, যার প্রথমবার হবে মাটি দিয়ে।" মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আলবানী ইরওয়াউল গালীল ১/৬৪-তে একে সহিহ (صححه) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
وجسد الكلب طاهر غير نجس وإنما النجاسة في لعابه وروثه وبوله، وهو قول أبي حنيفة(1)، ورجّحه شيخ الإسلام ابن تيمية(2).

وعلى هذا: مَنْ مَسَّ الكلب فلا ينتقض وضوؤه، ولا يجب عليه غسل يده؛ حيث إن الكلاب كانت تُقبِل وتدبر في المسجد في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولم يُنقَل عن النبي صلى الله عليه وسلم ولا عن الصحابة أنهم كانوا يتوقَّون من مسَّها، ولو كانت نجسة لوجب البيان، لأن تأخير البيان عن وقت الحاجة لا يجوز.

 

‌‌6 - الماء الذي ولغ فيه الكلب ولم يتغير يعدُّ طاهراً، وهي رواية عن الإمام مالك(3)، أما إن تغيرَّ فهو نجس.

الدليل: عموم حديث أبي سعيد رضي الله عنه السابق قال صلى الله عليه وسلم: " إن الماء طَهور لا ينجِّسه شيء " رواه الترمذي.

ويمكن معرفة وجود النجاسة (لعاب الكلب) برؤيتها طافيةً على سطح الماء؛ حيث تظهر هناك لزوجةٌ بيّنة، أو تكون هناك رائحةٌ مميزة تدل على وجود هذا النوع من النجاسة.

أما إن كان الإناء صغيراً وولغ فيه الكلب فالأحوط أن يقال بنجاسة هذا الماء.

 

‌‌7 - سُؤرُ الهِرَّة (لعابُها) طاهرٌ. فلو شَرِبَتْ من إناءٍ فإنه لا يَنجُس، وهو مذهب الجمهور(4).

--------------------------------------------

(1) حاشية ابن عابدين 1/ 322.

(2) الفتاوى 21/ 53.

(3) بداية المجتهد 1/ 58.

(4) الاستذكار 1/ 203، المجموع 1/ 225، المغني 1/ 7.
কুকুরের দেহ পবিত্র (طاهر), অপবিত্র (نجس) নয়; বরং অপবিত্রতা (النجاسة) কেবল তার লালা, বিষ্ঠা ও প্রস্রাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এটিই ইমাম আবু হানিফার অভিমত(১) এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া একেই প্রাধান্য দিয়েছেন(২)।

এর ওপর ভিত্তি করে: যে ব্যক্তি কুকুর স্পর্শ করবে তার ওজু ভঙ্গ হবে না এবং তার হাত ধোয়াও ওয়াজিব হবে না; যেহেতু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে কুকুরগুলো মসজিদে আসা-যাওয়া করত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা সাহাবায়ে কেরাম থেকে এমন কিছু বর্ণিত হয়নি যে, তাঁরা এগুলো স্পর্শ করা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতেন। আর যদি তা অপবিত্র (نجسة) হতো, তবে অবশ্যই তা বর্ণনা করার প্রয়োজন হতো, কারণ প্রয়োজনের সময় বর্ণনা বিলম্বিত করা জায়েজ নয়।

 

‌‌৬ - যে পানিতে কুকুর মুখ দিয়েছে কিন্তু পানির কোনো পরিবর্তন হয়নি, তা পবিত্র (طاهراً) বলে গণ্য হবে; এটি ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)(৩), তবে যদি তা পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে তা অপবিত্র (نجس) হিসেবে গণ্য হবে।

দলিল: আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর পূর্বোল্লিখিত হাদিসের সাধারণ অর্থ, যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই পানি পবিত্রকারী (طهور), কোনো কিছুই একে অপবিত্র করতে পারে না।" এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন।

পানির উপরিভাগে নাপাকি বা অপবিত্রতার (النجاسة) উপস্থিতি (কুকুরের লালা) ভাসমান অবস্থায় দেখে চেনা সম্ভব; সেখানে একটি স্পষ্ট আঠালো ভাব প্রকাশ পাবে অথবা সেখানে একটি বিশেষ ঘ্রাণ থাকবে যা এই ধরণের অপবিত্রতার (النجاسة) উপস্থিতিকে নির্দেশ করে।

তবে যদি পাত্রটি ছোট হয় এবং তাতে কুকুর মুখ দেয়, তবে সেই পানি অপবিত্র (بنجاسة) হওয়ার কথা বলাই অধিক সতর্কতামূলক।

 

‌‌৭ - বিড়ালের ঝুটা বা লালা পবিত্র (طاهرٌ)। সুতরাং সে যদি কোনো পাত্র থেকে পান করে, তবে তা অপবিত্র (يَنجُس) হবে না; এটিই জুমহুর বা অধিকাংশ আলিমের (الجمهور) মাজহাব(৪)।

--------------------------------------------

(১) হাশিয়া ইবনে আবিদিন ১/৩২২।

(২) আল-ফাতাওয়া ২১/৫৩।

(৩) বিদায়াতুল মুজতাহিদ ১/৫৮।

(৪) আল-ইস্তিজকার ১/২০৩, আল-মাজমু ১/২২৫, আল-মুগনি ১/৭।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
الدليل: حديث أبي قتادة رضي الله عنه قال: قال صلى الله عليه وسلم في الهِرَّة: " إنها ليست بِنَجَس، إنما هي من الطوافين عليكم " رواه أهل السن(1).

 

‌‌8 - تطهير النجاسة يختلف بحسب نوعها: فقد يكون تطهيرها عن طريق غسلها بالماء وهذا هو الأكثر، وقد يكون بالريح أو بالشمس أو بالتراب كما إذا عَلِقَتْ النجاسة بالحذاء، وقد يكون بالنَّزْح(2)، أو بإضافة ماء طَهورٍ عليها حتى تذهب عينُ تلك النجاسة، كما لو وقعت النجاسة في ماء ويُراد استعماله.

الدليل: حديث أنس بن مالك رضي الله عنه في قصة بول الأعرابي الذي بال في طائفة المسجد فأمر النبيُّ صلى الله عليه وسلم أن يُصَبَّ على بوله ذَنوبٌ(3) من ماءٍ فأُهريقَ عليه " متفق عليه.

الدليل على التطهير بالتراب: أن امرأة من بني عبد الأشهل قالت للنبي صلى الله عليه وسلم: إن لنا طريقاً منتنة فماذا نفعل إذا أمطرنا؟ قال: " أليس بعدها طريق هو أطيب منها"؟ قالت: بلى؛ قال فهذه بهذه " رواه أبو داود(4).

ويمكن أن يكون التطهير بالوسائل الحديثة إذا كانت طاهرة في نفسها.

 

‌‌9 - قَطْع جزء من البهيمة حال حياتها حرام؛ إلا الشعر فهو جائز لمصلحتها، وهو طاهر غير نجس.

أما كل عضو يُقطع من البهيمة وهي حيّة فهو نجس؛ لأنه صار في حكم الميتة(5).

--------------------------------------------

(1) وحسَّن إسناده ابن باز في حاشيته على بلوغ المرام ج 1/ 61.

(2) كما لو كانت النجاسة وقعت في ماء فتزال منه ويُنزَح من الماء بقدر ما يُذْهِب أثرَ النجاسة.

(3) الذَّنوب: الدلو الكبيرة (معالم السنن 1/ 100).

(4) وصححه الألباني في مشكاة المصابيح حديث رقم (512).

(5) المغني 1/ 99 - 100.
প্রমাণ: আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বিড়াল সম্পর্কে বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি অপবিত্র নয়, বরং এটি তোমাদের আশেপাশে বিচরণকারীদের অন্তর্ভুক্ত।" এটি আহলুস সুনান বর্ণনা করেছেন।(1).

 

‌‌৮ - অপবিত্রতা পবিত্রকরণের পদ্ধতি এর ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয়: কখনো তা পানি দিয়ে ধোয়ার মাধ্যমে পবিত্র করা হয় এবং এটিই অধিক প্রচলিত। কখনো বাতাস, রোদ বা মাটির মাধ্যমে হতে পারে, যেমন জুতায় অপবিত্রতা লেগে থাকলে। আবার কখনো পানি সেঁচে ফেলে দেওয়ার মাধ্যমে হতে পারে, অথবা তাতে পবিত্রকারী পানি যোগ করার মাধ্যমে হতে পারে যতক্ষণ না সেই অপবিত্রতার উৎস দূর হয়; যেমন কোনো পানিতে অপবিত্রতা পড়লে এবং সেটি ব্যবহারের ইচ্ছা থাকলে।

প্রমাণ: আনাস বিন মালিক (রা.) বর্ণিত সেই গ্রাম্য ব্যক্তির পেশাব করার হাদিস, যে মসজিদের এক কোণে পেশাব করেছিল, তখন নবী (সা.) তার পেশাবের ওপর এক বড় বালতি পানি ঢেলে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং তা ঢেলে দেওয়া হলো। এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه)।

মাটির মাধ্যমে পবিত্রকরণের প্রমাণ: বনু আবদিল আশহাল গোত্রের এক মহিলা নবী (সা.)-কে বললেন: আমাদের পথটি অত্যন্ত দুর্গন্ধময়; বৃষ্টির সময় আমাদের কী করণীয়? তিনি বললেন: "এর পরে কি আরও পরিচ্ছন্ন পথ নেই?" তিনি বললেন: হ্যাঁ, আছে। নবী (সা.) বললেন: "তাহলে এটি সেটির বদলে (অর্থাৎ পরবর্তী পবিত্র পথটি আগের অপবিত্রতাকে মিটিয়ে দেবে)।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।(4).

আধুনিক মাধ্যমগুলোর সাহায্যেও পবিত্রকরণ সম্ভব যদি সেগুলো স্বয়ং পবিত্র হয়।

 

‌‌৯ - জীবন্ত চতুষ্পদ জন্তুর কোনো অংশ কেটে নেওয়া হারাম; তবে পশম বা লোম এর ব্যতিক্রম, যা তার উপকারের জন্য কাটা জায়েজ এবং তা পবিত্র, অপবিত্র নয়।

তবে জীবন্ত পশু থেকে বিচ্ছিন্ন করা প্রতিটি অঙ্গই অপবিত্র; কারণ তা মৃত পশুর হুকুমে গণ্য হয়।(5).

--------------------------------------------

(1) এবং ইবনে বাজ তার বুলুগুল মারাম-এর টিকায় এর সনদ (إسناد)-কে হাসান (حسن) বলেছেন। খণ্ড ১/ পৃষ্ঠা ৬১।

(2) যেমন পানিতে অপবিত্রতা পড়লে তা অপসারণ করা হয় এবং পানি থেকে ততটুকু সেঁচে ফেলা হয় যতটুকুতে অপবিত্রতার চিহ্ন দূর হয়।

(3) আদ-যানুব: বড় বালতি (মাআলিমুস সুনান ১/ ১০০)।

(4) এবং আলবানী মিশকাতুল মাসাবীহ-তে একে সহিহ (صحيح) বলেছেন, হাদিস নং (৫১২)।

(5) আল-মুগনি ১/ ৯৯ - ১০০।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الدليل: حديث أبي واقد الليثي رضي الله عنه قال: قال صلى الله عليه وسلم: " ما قطع من البهيمة وهي حية فهو ميّت " أخرجه أبو داود والترمذي وحسنه(1).

 

‌‌10 - جسد الميتة من الحيوانات (باستثناء صيد البحر وما ليس له نَفْس سائلة(2) وباستثناء الخنزير(3) ينقسم من حيث النجاسة وعدمها إلى قسمين:

أ- الأشياء الصُّلبة في الميتة طاهرة، كالضرس والعظم والريش ونحو ذلك؛ فهذه ليست نجسة وهو مذهب الحنفية(4)، ورجّحه شيخ الإسلام ابن تيمية وعزاه إلى جمهور السلف(5).

الدليل: حديث ابن عباس رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم مرَّ بشاة ميتة فقال: " هلا استمتعتم بإهابها "؟ قالوا: إنها ميتة، قال " إنما حَرُمَ أكلُها " متفق عليه(6).

ب- الأشياء الرَّطبة كاللحم والدم والعصب فهذه نجسة بالإجماع(7)

--------------------------------------------

(1) وحسن إسناده ابن باز في حاشيته على بلوغ المرام ج 1/ 65.

(2) فهي طاهرة وسيأتي ذكر ذلك في المسألة (27)، و المراد بما ليس له نفْس سائلة: أي ليس له دمٌ يسيل كالبعوض والذباب ونحوها.

(3) فهو نجس كلُّه حيّا وميتا.

(4) بدائع الصنائع 1/ 200.

(5) مجموع الفتاوى 21/ 100.

(6) قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: " … وإذا كان كذلك علم أن علة نجاسة الميتة هي احتباس الدم فيها، فمالا نَفْسَ له سائلة، وليس فيه دم فإذا مات لم يحتبس فيه الدم فلا ينجس، فالعظم ونحوه أولى بعدم التنجيس " مجموع الفتاوى 21/ 99.

(7) المجموع 1/ 291.
প্রমাণ: আবু ওয়াকিদ আল-লাইছি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "জীবিত পশু থেকে যা বিচ্ছিন্ন করা হয় তা মৃত (মৃত পশুর অন্তর্ভুক্ত)।" এটি আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এটিকে হাসান (حسن) বলেছেন(১)।

 

‌‌১০ - মৃত প্রাণীর দেহ (সমুদ্রের শিকার এবং যার প্রবাহিত রক্ত (نفس سائلة) নেই(২) এবং শূকর ব্যতীত(৩)) অপবিত্রতা এবং পবিত্রতার বিচারে দুই ভাগে বিভক্ত:

ক- মৃত পশুর শক্ত অংশসমূহ পবিত্র (طاهر), যেমন দাঁত, হাড়, পালক এবং এই জাতীয় জিনিস; এগুলো অপবিত্র (نجس) নয়। এটি হানাফি মাজহাবের মত(৪) এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া একেই প্রাধান্য দিয়েছেন এবং একে অধিকাংশ সালাফের (جمهور السلف) অভিমত হিসেবে উল্লেখ করেছেন(৫)।

প্রমাণ: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি মৃত বকরির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন: "তোমরা কেন এর চামড়া ব্যবহার করলে না?" তারা বললেন: এটি তো মৃত। তিনি বললেন: "শুধুমাত্র এটি খাওয়া হারাম করা হয়েছে।" মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه)(৬)।

খ- আর্দ্র বা নরম অংশসমূহ যেমন গোশত, রক্ত ও স্নায়ু; এগুলো ইজমা বা সর্বসম্মতিক্রমে (إجماع) অপবিত্র (نجس)(৭)

--------------------------------------------

(১) ইবনে বাজ তার 'বুলুগুল মারাম' এর টীকায় (খণ্ড ১/ ৬৫) এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن) বলেছেন।

(২) সেগুলো পবিত্র (طاهر) এবং ২৭ নং মাসআলায় এর বিস্তারিত আলোচনা আসবে। আর 'প্রবাহিত রক্ত (نفس سائلة) নেই' বলতে উদ্দেশ্য হলো: যার প্রবাহিত হওয়ার মতো রক্ত নেই, যেমন মশা, মাছি ও এই জাতীয় প্রাণী।

(৩) এটি জীবিত বা মৃত সর্বাবস্থায় সম্পূর্ণরূপে অপবিত্র (نجس)।

(৪) বাদায়িউস সানায়ি ১/ ২০০।

(৫) মাজমুউল ফাতাওয়া ২১/ ১০০।

(৬) শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "… আর যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে জানা গেল যে মৃত পশুর অপবিত্রতার কারণ হলো তার ভেতরে রক্ত আটকে থাকা। সুতরাং যার প্রবাহিত রক্ত (نفس سائلة) নেই এবং যার মধ্যে রক্ত নেই, তা মারা গেলে রক্ত আটকে থাকে না, ফলে তা অপবিত্র হয় না। অতএব হাড় ও অনুরূপ বস্তুগুলো অপবিত্র না হওয়ার অধিক দাবিদার।" মাজমুউল ফাতাওয়া ২১/ ৯৯।

(৭) আল-মাজমু ১/ ২৯১।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌باب الآنية

‌‌11 - يحرم الأكل والشراب في آنية الذهب والفضة. ويعد ذلك من الكبائر.

الدليل: حديث حذيفة رضي الله عنه قال: قال صلى الله عليه وسلم: " لا تشربوا في آنية الذهب والفضة، ولاتأكلوا في صحافهما فإنها لهم في الدنيا ولكم في الآخرة " متفق عليه.

وعن أم سلمة رضي الله عنها قالت: قال صلى الله عليه وسلم: " الذي يأكل أو يشرب في آنية الذهب والفضة إنما يجرجر في بطنه نار جهنم " متفق عليه.

 

‌‌12 - لا يجوز استخدام آنية الذهب والفضة حتى ولو لم يكن لأجل الشرب والأكل فيها، كأن تُتَّخذ زينة في الجدران(1). قال ابن القيم عن هذا الحكم: " هذا أمر لا يشك فيه عالم "(2)، وهو قول الجمهور(3).

الدليل: قوله صلى الله عليه وسلم في حديث حذيفة السابق: " فإنها لهم في الدنيا ولكم في الآخرة ". وهذه هي العلة في المنع، وهو ادخارها للمسلم في الآخرة(4).

--------------------------------------------

(1) وأجاز ذلك الأحناف (الفروع 1/ 97)، ورجّحه الصنعاني في: سبل السلام 1/ 139، والشوكاني في: نيل الأوطار 1/ 66، وابن عثيمين الشرح الممتع 1/ 62.

(2) حاشية الروض المربع 1/ 103.

(3) المجموع 1/ 305، فتح الباري 10/ 97، وانظر مناقشة ابن حزم لهذه المسألة في المحلى 1/ 215 - 216.

(4) وقال ابن القيم _ رحمه الله _: " الصواب أن العلة والله أعلم ما يكسب استعمالها القلب من الهيئة والحالة المنافية للعبودية منافاة ظاهرة، ولهذا علل النبي صلى الله عليه وسلم بأنها للكفار في الدنيا إذ ليس لهم نصيب من العبودية التي ينالون بها في الآخرة نعيمها فلا يصلح استعمالها لعبيد الله في الدنيا وإنما يستعملها من خرج عن عبوديته ورضي بالدنيا وعاجلها من الآخرة ". زاد المعاد (4/ 351).
‌‌পাত্র সংক্রান্ত অধ্যায়

‌‌১১ - স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্রে পানাহার করা হারাম। একে কবিরা গুনাহ হিসেবে গণ্য করা হয়।

দলীল: হুজাইফা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্রে পান করো না এবং এর থালায় আহার করো না; কারণ এগুলো দুনিয়াতে তাদের (কাফেরদের) জন্য এবং আখেরাতে তোমাদের জন্য।" সর্বসম্মত (متفق عليه)।

উম্মে সালামাহ (রাযিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্রে আহার করে বা পান করে, সে মূলত তার পেটে জাহান্নামের আগুন প্রবেশ করায়।" সর্বসম্মত (متفق عليه)।

 

‌‌১২ - স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্র ব্যবহার করা বৈধ নয়, যদিও তা পানাহার করার উদ্দেশ্যে না হয়, যেমন দেয়ালে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য রাখা(১)। ইবনুল কায়্যিম এই বিধান সম্পর্কে বলেন: "এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে কোনো আলেম সন্দেহ করেন না"(২), আর এটিই অধিকাংশ আলেমের মত(৩)।

দলীল: হুজাইফার পূর্বোক্ত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বাণী: "কারণ এগুলো দুনিয়াতে তাদের জন্য এবং আখেরাতে তোমাদের জন্য।" আর এটিই হলো (ব্যবহার) নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ, আর তা হলো মুমিনের জন্য আখেরাতের সঞ্চয় হিসেবে রাখা(৪)।

--------------------------------------------

(১) হানাফিগণ একে বৈধ বলেছেন (আল-ফুরু ১/ ৯৭), আর আস-সানআনি 'সুবুলুস সালাম' ১/ ১৩৯, আশ-শাওকানি 'নাইলুল আওতার' ১/ ৬৬ এবং ইবনে উসাইমিন 'আশ-শারহুল মুমতি' ১/ ৬২ গ্রন্থে এটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

(২) হাশিয়াতুর রওদিল মুরবি ১/ ১০৩।

(৩) আল-মাজমু ১/ ৩০৫, ফাতহুল বারি ১০/ ৯৭, এবং এই মাসআলাটি নিয়ে ইবনে হাজমের আলোচনা দেখুন আল-মুহাল্লা ১/ ২১৫ - ২১৬ গ্রন্থে।

(৪) ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সঠিক কথা এই যে, এর কারণ হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—এর ব্যবহার অন্তরে এমন এক অবস্থা ও মেজাজ তৈরি করে যা দাসত্বের (বন্দেগির) সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এজন্যই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, এগুলো দুনিয়াতে কাফেরদের জন্য, যেহেতু দাসত্বের সেই অংশ তাদের নেই যার মাধ্যমে তারা আখেরাতে নেয়ামত লাভ করবে। সুতরাং আল্লাহর বান্দাদের জন্য দুনিয়াতে এর ব্যবহার সমীচীন নয়; বরং এটি কেবল তারাই ব্যবহার করে যারা তাঁর দাসত্ব থেকে বের হয়ে গেছে এবং আখেরাতের বদলে দুনিয়া ও এর নগদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছে।" যাদুল মাআদ (৪/ ৩৫১)।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وهذا [الحكم جارٍ] في استعمالها كآنيةٍ للأكل والشرب ولغيرها من الأغراض المختلفة، وإنما ذُكِر الأكل والشرب في الحديث لأن الأصل في الآنية أنها صنعت لذلك فخرج الكلام مخرج الغالب.

والتزيُّن بها للنساء في حليهن جائز لا حرج فيه.

وأما الرجال فيحرم عليهم التحلِّي بالذهب مطلقاً. أما الفضة فيجوز للرجل اتخاذها خاتماً، واختلف فيما عداه.

الدليل: حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال صلى الله عليه وسلم: " ولكنْ عليكم بالفضة العبوا بها لعباً" رواه أحمد(1).

 

‌‌13 - من توضأ بماء موضوع في آنية الذهب أو الفضة مع علمه بالتحريم فهو آثم؛ لكنَّ وضوءه صحيح، وهو قول جماهير العلماء(2)، ورجّحه ابن عثيمين(3).

‌‌14 - يجوز تضبيب الإناء إذا انكسر بشيء من الفضة (4)، وذلك بشروط أربعة(5):

1 - أن تكون ضَبَّةً، فلو جُعل غطاءُ الإناء أو يدُه من فضةً حَرُمَ ذلك.

--------------------------------------------

(1) وقال عنه البنا (شارح المسند) " صالح للاحتجاج 17/ 264، وحسنه الأرناؤوط في تحقيقه لزاد المعاد 4/ 349.

(2) المجموع 1/ 307.

(3) الشرح الممتع 1/ 64.

(4) أي رَقْعُ المنكسرِ منه أوربطُه بشيء من الفضة، قال الصنعاني: " لا خلاف في جوازه " (سبل السلام 1/ 48).

(5) الشرح الممتع 1/ 64.
এবং এই [বিধানটি কার্যকর] খাবার এবং পানীয়ের পাত্র হিসেবে এবং অন্যান্য বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ক্ষেত্রে। হাদিসে কেবল আহার ও পানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে কারণ পাত্র তৈরির মূল উদ্দেশ্যই হলো সেটি, ফলে কথাটি সচরাচর যা ঘটে সেই প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছে।

আর নারীদের জন্য তাদের অলঙ্কার হিসেবে এগুলো দ্বারা সৌন্দর্য্য অর্জন করা বৈধ (جائز), এতে কোনো দোষ নেই।

পক্ষান্তরে পুরুষদের জন্য স্বর্ণের অলঙ্কার ব্যবহার করা সম্পূর্ণ হারাম (حرام)। তবে রুপার ক্ষেত্রে পুরুষের জন্য আংটি হিসেবে তা ব্যবহার করা বৈধ (جائز), এবং এটি ব্যতিরেকে অন্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে।

দলিল: আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তবে তোমাদের জন্য রুপা আবশ্যক, তোমরা তা দিয়ে খেলা করো (অর্থাৎ ব্যবহার করো)।" এটি আহমদ বর্ণনা করেছেন(১)।

 

‌‌১৩ - যে ব্যক্তি নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও স্বর্ণ বা রুপার পাত্রে রাখা পানি দিয়ে অজু করে, সে গুনাহগার হবে; তবে তার অজু সঠিক (صحيح) হবে। এটি জমহুর (সংখ্যাগুরু) উলামায়ে কেরামের অভিমত(২), এবং ইবনে উসাইমিন একে প্রধান্য দিয়েছেন(৩)।

‌‌১৪ - পাত্র ভেঙে গেলে রুপার পাত দিয়ে তা মেরামত করা বৈধ (يجوز)(৪), এবং তা চারটি শর্ত সাপেক্ষে(৫):

১ - তা যেন একটি জোড়া বা পাত (দাব্বাহ) হয়। সুতরাং পাত্রের ঢাকনা বা হাতল যদি রুপা দিয়ে তৈরি করা হয়, তবে তা হারাম (حرام) হবে।

--------------------------------------------

(১) এবং এটি সম্পর্কে আল-বান্না (মুসনাদ-এর ব্যাখ্যাকার) বলেছেন, "এটি দলিল হিসেবে পেশ করার উপযুক্ত (صالح للاحتجاج)" ১৭/২৬৪; এবং আল-আরনাউত জাদুল মা'আদ-এর তাহকিকে একে হাসান (حسن) বলেছেন ৪/৩৪৯।

(২) আল-মাজমু ১/৩০৭।

(৩) আশ-শারহুল মুমত্বি ১/৬৪।

(৪) অর্থাৎ এর ভেঙে যাওয়া অংশ রুপা দিয়ে জোড়া দেওয়া বা আটকে দেওয়া। আস-সানআনি বলেন: "এর বৈধতার (جواز) ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই" (সুবুলুস সালাম ১/৪৮)।

(৫) আশ-শারহুল মুমত্বি ১/৬৪।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
2 - أن يكون التضبيب يسيراً.

3 - أن يكون بفضة، فيخرج بذلك الذهب.

4 - أن يكون ذلك لحاجة.

الدليل: حديث أنس بن مالك رضي الله عنه أن قدح النبي صلى الله عليه وسلم انكسر فاتخذ مكان الشَّعب سِلْسلة من فضة" رواه البخاري.

- أما التضبيب بالذهب فلا يجوز إلا في الضرورة بحيث لا يوجد ما يقوم مقامه، ولا يكفي التعلُّل بالحاجة كالفضة.

الدليل: حديث عرفجة بن أسعد أنه قطع أنفُه يوم الكُلاب فاتخذ أنفاً من ورِق (فضة) فأنتنَ عليه، فأمره النبي صلى الله عليه وسلم أن يتخذ أنفاً من ذهب". رواه الترمذي(1).

 

‌‌15 - جلود الميْتة تَطْهُر بالدبغ (2)، ولكن يُشترط في هذه الميتة أن تكون من الحيوانات الطاهرة في حال حياتها، وهو قول أكثر أهل العلم كالشافعي(3) وأحمد في الرواية الأخيرة عنه(4)، وهو أحد قولي شيخ الإسلام(5).

--------------------------------------------

(1) وحسنه الألباني في صحيح الترمذي حديث رقم (1770).

(2) الدبغ: إزالة النتن والرطوبة من الجلد بمواد خاصة. انظر: معجم لغة الفقهاء ص 183.

(3) الإقناع في حل ألفاظ أبي شجاع 1/ 102.

(4) الإنصاف 1/ 162.

(5) المصدر السابق 1/ 163، والقول الثاني لشيخ الإسلام عدم طهارة جلد الميتة بالدباغ إلا ما كان مأكول اللحم حال حياته. أما مالا يجوز أكل لحمه حال الحياة كالسباع فلا تطهر حتى ولو دبغت، وهو قول إسحاق بن راهوية وابن القيم. انظر: مجموع الفتاوى 21/ 95، الاختيارات الفقهية ص 42، زاد المعاد 5/ 757 - 758.
2 - জোড়াতালি বা পাত লাগানো সামান্য হতে হবে।

3 - এটি রূপা দ্বারা হতে হবে, ফলে এর মাধ্যমে সোনা বাদ যাবে।

4 - এটি প্রয়োজনের খাতিরে হতে হবে।

দলীল: আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সা.)-এর পানপাত্রটি ভেঙে গিয়েছিল, তখন তিনি ফাটলের স্থানে রূপার একটি পাত লাগিয়েছিলেন। এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।

- তবে সোনা দিয়ে মেরামত করা চরম আবশ্যকতা ছাড়া জায়েয নয়, যাতে এর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার মতো অন্য কিছু না পাওয়া যায়। আর রূপার মতো কেবল সাধারণ প্রয়োজন এক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়।

দলীল: আরফাজা ইবনে আসআদ থেকে বর্ণিত হাদিস যে, কুলাব যুদ্ধের দিন তাঁর নাক কেটে গিয়েছিল, তখন তিনি রূপার (ওয়ারাখ) তৈরি একটি নাক লাগিয়েছিলেন, কিন্তু তাতে দুর্গন্ধ দেখা দেয়। তখন নবী (সা.) তাঁকে সোনার তৈরি একটি নাক ব্যবহারের নির্দেশ দেন। এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন(1)।

 

‌‌১৫ - মৃত পশুর চামড়া পাকাকরণের মাধ্যমে পবিত্র হয় (2), তবে শর্ত হলো এই মৃত পশুটিকে জীবিত অবস্থায় পবিত্র প্রাণীদের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। এটি অধিকাংশ আলেমদের মত, যেমন শাফেয়ী(3) এবং আহমাদ থেকে বর্ণিত সর্বশেষ বর্ণনা অনুযায়ী(4), যা শায়খুল ইসলামের দুটি মতের একটি(5)।

--------------------------------------------

(1) আলবানী একে হাসান (حسن) বলেছেন; সহীহ তিরমিযী, হাদিস নং (১৭৭০)।

(2) পাকাকরণ: বিশেষ পদার্থের মাধ্যমে চামড়া থেকে দুর্গন্ধ ও আর্দ্রতা দূর করা। দেখুন: মুজামু লুগাতিল ফুকাহা, পৃষ্ঠা ১৮৩।

(3) আল-ইকনা ফি হাল্লি আলফাজি আবি শুজা ১/১০২।

(4) আল-ইনসাফ ১/১৬২।

(5) পূর্বোক্ত উৎস ১/১৬৩; শায়খুল ইসলামের দ্বিতীয় মতটি হলো, মৃত পশুর চামড়া পাকাকরণের মাধ্যমে পবিত্র হবে না যদি না তা জীবিত অবস্থায় ভক্ষণযোগ্য প্রাণী হয়। আর যেসব প্রাণীর গোশত জীবিত অবস্থায় খাওয়া জায়েয নয়, যেমন হিংস্র প্রাণী, সেগুলো পাকাকরণ করলেও পবিত্র হবে না। এটি ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি এবং ইবনুল কাইয়্যিমের মত। দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া ২১/৯৫, আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৪২, যাদুল মাআদ ৫/৭৫৭ - ৭৫৮।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الدليل على طهارة جلد الميتة بالدبغ: حديث ابن عباس رضي الله عنه قال: قال صلى الله عليه وسلم: " إذا دبغ الإهاب فقد طهر(1) " رواه مسلم.

 

‌‌16 - يجوز استعمال أواني المشركين ولكن بالتفصيل التالي:

أ- إذا رُئي فيها أثرُ النجاسة كأن يكون فيها بقايا من لحم الخنزير مثلاً، فهنا يجب غسلُها أولاً قبل استعمالها.

ب- أن لا يُرى فيها أثر للنجاسة، ولكن يُعلم من حال هؤلاء القوم أنهم يستعملون النجاسة في أوانيهم، فهنا يُكره استعمالها قبل غسلها.

ج- أن يُعلم من حالهم أنهم لا يستعملون النجاسة في هذه الأواني، فهنا يجوز استعمالها بلا كراهة، ولا يلزم غسلها.

الدليل: حديث أبي ثعلبة الخشني رضي الله عنه قال: قلت يا رسول الله إنَّا بأرضِ قومٍ أهلِ كتاب أفنأكل في آنيتهم؟ قال: " لا تأكلوا فيها إلا أن لا تجدوا غيرها فاغسلوها وكلوا فيها " متفق عليه.

--------------------------------------------

(1) الإهاب: "الجلد المغلِّف لجسم الحيوان قبل أن يُدبغ "المعجم الوسيط 1/ 31.
মৃত প্রাণীর চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পবিত্র হওয়ার দলিল: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন পশুর কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়(১)।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌১৬ - মুশরিকদের পাত্র ব্যবহার করা বৈধ তবে তা নিচের বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী:

ক- যদি তাতে অপবিত্রতার কোনো চিহ্ন দেখা যায়, যেমন উদাহরণস্বরূপ তাতে শুকরের মাংসের অবশিষ্টাংশ থাকে, তবে সে ক্ষেত্রে ব্যবহারের আগে তা ধৌত করা আবশ্যক।

খ- যদি তাতে অপবিত্রতার কোনো চিহ্ন না দেখা যায়, কিন্তু সেই সম্প্রদায়ের অবস্থা সম্পর্কে এটি জানা থাকে যে তারা তাদের পাত্রে অপবিত্র বস্তু ব্যবহার করে, তবে সে ক্ষেত্রে ধোয়ার আগে তা ব্যবহার করা মাকরূহ।

গ- যদি তাদের অবস্থা থেকে এটি জানা থাকে যে তারা এই পাত্রগুলোতে অপবিত্র বস্তু ব্যবহার করে না, তবে সে ক্ষেত্রে কোনো অপছন্দনীয়তা ছাড়াই তা ব্যবহার করা বৈধ এবং তা ধৌত করা জরুরি নয়।

দলিল: আবু সা’লাবা আল-খুশানি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের জনপদে বসবাস করি, আমরা কি তাদের পাত্রে খাবার খেতে পারি? তিনি বললেন: "তোমরা তাতে খেও না, তবে যদি তোমরা অন্য কোনো পাত্র না পাও, তবে তা ধুয়ে নাও এবং তাতে খাও।" মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه)।

--------------------------------------------

(১) আল-ইহাব: "পশুর শরীরের উপরিভাগের চামড়া যা প্রক্রিয়াজাত করার পূর্বের অবস্থায় থাকে।" আল-মু’জাম আল-ওয়াসিত ১/ ৩১।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌باب إزالة النجاسة

‌‌17 - لا يجوز إبقاء الخمر عند المسلم حتى ولو لم يستعملها في شرب ونحوه.

وأما تحويلها إلى الخَلّ فعلى النحو التالي:

إن تحولت إلى الخلّ بدون فعل آدمي، كما لو ظلت الخمر فترة طويلة أو تغير عليها الجوُّ من ظلٍّ إلى شمس أو العكس، فهنا تصبح طاهرة ويجوز استعمالها. وهذا الحكم مُجمعٌ عليه(1).

أما تحويلها إلى خلٍّ بفعل الآدمي نفسِه فمحرّمٌ لا يجوز، وهو قول الجمهور(2).

الدليل: حديث أنس بن مالك رضي الله عنه قال: سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الخمر تُتخذ خلاً؟ قال: " لا " رواه مسلم.

والمقصود بتخليل الخمر: إضافة شيء عليها كالخبز أو البصل أو الملح فتصبح بعد ذلك خَلاًّ، أو يكون بإضافة خَلٍّ كثير لها، أو بنقلها من الشمس إلى الظل أو العكس.

 

‌‌18 - الخمر نجاستُها معنوية وليست حسيَّة، فلو وقعت على الثوب فلا يلزم غسلُه. وهذا هو قول ربيعةَ والليثِ والمزنيِّ(3)، ورجّحه من المعاصرين ابن عثيمين(4).

--------------------------------------------

(1) مجموع فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية 21/ 71.

(2) المجموع 2/ 594.

(3) المجموع 1/ 581، أضواء البيان 2/ 99.

(4) الشرح الممتع 1/ 366.
‌‌অপবিত্রতা দূরীকরণ সংক্রান্ত অধ্যায়

‌‌১৭ - কোনো মুসলিমের নিকট মদ রাখা বৈধ নয়, এমনকি যদি সে তা পান করার জন্য বা এই জাতীয় কোনো কাজে ব্যবহার না-ও করে।

আর একে সিরকায় রূপান্তরের বিষয়টি নিম্নরূপ:

যদি মানুষের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই তা সিরকায় রূপান্তরিত হয়, যেমন—মদ দীর্ঘ সময় পড়ে থাকল অথবা ছায়া থেকে রোদে বা রোদ থেকে ছায়ায় নেওয়ার ফলে আবহাওয়ার পরিবর্তনে তা পরিবর্তিত হয়ে গেল, তবে এক্ষেত্রে তা পবিত্র (طاهرة) হয়ে যাবে এবং তা ব্যবহার করা জায়েজ হবে। এই বিধানটি সর্বসম্মত (مجمع عليه)(১)।

পক্ষান্তরে, মানুষের নিজস্ব কর্মতৎপরতার মাধ্যমে একে সিরকায় রূপান্তর করা নিষিদ্ধ (محرم) ও নাজায়েজ; আর এটিই জমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশ আলেমের অভিমত(২)।

দলিল: আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মদ থেকে সিরকা তৈরি করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: "না।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

মদ থেকে সিরকা তৈরির অর্থ হলো: এতে রুটি, পেঁয়াজ বা লবণের মতো কোনো কিছু মিশিয়ে দেওয়া যাতে পরবর্তীতে তা সিরকায় পরিণত হয়; অথবা এতে প্রচুর পরিমাণে সিরকা যোগ করা, অথবা রোদ থেকে ছায়ায় বা ছায়া থেকে রোদে স্থানান্তর করা।

 

‌‌১৮ - মদের অপবিত্রতা হলো আত্মিক (معنوية), দৃশ্যমান (حسية) নয়। সুতরাং যদি তা কাপড়ে লাগে, তবে তা ধোয়া জরুরি নয়। এটি রাবিয়াহ, লাইস এবং মুজানীর অভিমত(৩); আর সমকালীন আলেমদের মধ্যে ইবনে উসাইমীন একে প্রাধান্য (رجحه) দিয়েছেন(৪)।

--------------------------------------------

(১) মাজমুউ ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ২১/ ৭১।

(২) আল-মাজমুউ ২/ ৫৯৪।

(৩) আল-মাজমুউ ১/ ৫৮১, আদওয়াউল বায়ান ২/ ৯৯।

(৪) আশ-শারহুল মুমতি ১/ ৩৬৬।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
الدليل: أن الناس كانوا يشربون الخمر قبل تحريمها فربما انسكبت على أثوابهم، وكذلك فقد سكبها الناس في الشوارع لما حُرّمت، ولم ينقل عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه أمر بالتوقي منها عند الذهاب إلى المسجد، ولا نُقِل أن أحداً أُمِرَ بإعادة الوضوء أو غسل ثوبه. فلمّا لم ينقل دلّ ذلك على أن الأصل فيها الطهارة.

 

‌‌19 - بناء على ما سبق في المسألة السالفة لا حرج في استعمال الخمر في غير الشرب، خاصة فيما دعت إليه الحاجة كاستعمالها في التعقيم الطبي. بل حتى لو قيل بنجاستها الحسيّة فإنه لا حرج في استعمال النجاسة في التداوي من غير الشرب والأكل(1).

--------------------------------------------

(1) انظر أحكام الجراحة الطبية ص 286، وقال شيخ الإسلام في مجموع الفتاوى 24/ 270: " التداوي بأكل شحم الخنزير لا يجوز، أما التداوي بالتلطخ به ثم يغسله بعد ذلك فهذا مبنيٌّ على جواز مباشرة النجاسة في غير الصلاة، وفيه نزاع مشهور، والصحيح أنه يجوز للحاجة وما أبيح للحاجة جاز التداوي به "
প্রমাণ: মদ হারাম হওয়ার পূর্বে মানুষ তা পান করত, ফলে সম্ভবত তা তাদের পোশাকে পতিত হতো। অনুরূপভাবে, যখন তা নিষিদ্ধ করা হলো, তখন মানুষ তা রাস্তায় ঢেলে দিয়েছিল। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না যে, তিনি মসজিদে যাওয়ার সময় এ থেকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। কিংবা এমন কোনো বর্ণনাও নেই যে, কাউকে ওযু পুনরায় করতে বা পোশাক ধৌত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এমন কিছু বর্ণিত হয়নি, এটি প্রমাণ করে যে, এটি মূলত পবিত্র (طهارة)।

 

‌‌১৯ - পূর্বোক্ত মাসআলার ভিত্তিতে, পান করা ব্যতীত অন্য কোনো কাজে মদ ব্যবহারে কোনো বাধা নেই, বিশেষ করে যেখানে প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, যেমন চিকিৎসাক্ষেত্রে জীবাণুমুক্তকরণের কাজে এর ব্যবহার। এমনকি একে যদি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অপবিত্র (نجاسة حسية) বলা হয়, তবুও পানাহার ব্যতীত চিকিৎসার প্রয়োজনে অপবিত্র (نجاسة) বস্তু ব্যবহারে কোনো দোষ নেই(১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আহকামুল জিরাহাতিত তিব্বিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২৮৬। শায়খুল ইসলাম মাজমুউল ফাতাওয়া গ্রন্থে (২৪/২৭০) বলেছেন: "শূকরের চর্বি ভক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসা করা বৈধ নয়। তবে শরীরে লেপন করে চিকিৎসা করা এবং পরবর্তীতে তা ধৌত করার বিষয়টি সালাতের বাইরে অপবিত্র (نجاسة) বস্তুর সরাসরি ব্যবহারের বৈধতার ওপর নির্ভরশীল। এ বিষয়ে প্রসিদ্ধ মতভেদ রয়েছে। তবে সঠিক (صحيح) মত হলো, প্রয়োজনের তাগিদে তা জায়েজ। আর যা প্রয়োজনের জন্য বৈধ করা হয়েছে, তা দিয়ে চিকিৎসা করাও জায়েজ।"
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌20 - لا يجوز أكل الحُمُر الأهلية:

الدليل: حديث أنس بن مالك رضي الله عنه قال: لما كان يومُ خيبر أمر رسولُ الله صلى الله عليه وسلم أبا طلحة فنادى: "إن الله ورسوله ينهيانكم عن لحوم الحمر الأهلية فإنها رجس " متفق عليه.

 

‌‌21 - سؤر الحمار (لعابه) طاهرٌ غير نجس؛ بل وكلُّ السباع كالأسد والنمر والذئب سؤرها طاهر. وهو قول مالك والشافعي(1) وأحمد في إحدى الروايتين عنه(2).

الدليل: حديث جابر رضي الله عنه قال: قيل لرسول الله صلى الله عليه وسلم: أنتوضأ بما أَفْضَلَتِ الحُمُر؟ قال: " نعم، وبما أفضلت السباعُ كلُّها " رواه الدارقطني، وقوَّى سنده البيهقي(3).

 

‌‌22 - كل الحيوانات التي يجوز أكلُها فلعابُها طاهر، وهذا بالاتفاق(4).

الدليل: حديث عمرو بن خارجة رضي الله عنه قال: خطبَنا رسولُ الله صلى الله عليه وسلم بمنىً وهو على راحلته ولعابها يسيل على كتفي. رواه أحمد وابن ماجه(5).

--------------------------------------------

(1) المغني 1/ 67.

(2) الكافي 1/ 28.

(3) عون المعبود 1/ 100، ولو فُرض عدمُ صحة الحديث كما قال بذلك بعض العلماء فإن القول بطهارة سؤر الحمير والبغال ونحوها يقال به قياساً على طهارة سؤر الهرة وذلك لصعوبة التحرز منها وكثرة مخالطتها الناس، ولم ينقل عنه عليه الصلاة و السلام أنه أمر بالتحرز من لعابها. فيبقى القول بطهارتها هو الأصل.

(4) الإجماع ص 33، المغني 1/ 70.

(5) وصححه الألباني في إرواء الغليل 6/ 88.
‌‌২০ - গৃহপালিত গাধার গোশত খাওয়া বৈধ নয়:

দলিল: আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: যখন খায়বারের যুদ্ধের দিন উপস্থিত হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু তালহা (রা.)-কে নির্দেশ দিলেন, তখন তিনি ঘোষণা করলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তোমাদেরকে গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করছেন, কারণ তা অপবিত্র (رجس)"। সর্বসম্মত (متفق عليه)।

 

‌‌২১ - গাধার উচ্ছিষ্ট বা লালা পবিত্র, নাপাক নয়; বরং সিংহ, চিতা ও নেকড়ের মতো সকল হিংস্র পশুর উচ্ছিষ্টও পবিত্র। এটি ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ী এবং ইমাম আহমদের নিকট থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটির অভিমত।

দলিল: জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: গাধার পান করার পর অবশিষ্ট পানি দিয়ে কি আমরা ওযু করব? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, এবং সমস্ত হিংস্র পশুর অবশিষ্ট পানি দিয়েও।" এটি দারাকুতনি বর্ণনা করেছেন এবং বায়হাকি এর সনদকে শক্তিশালী (قوَّى سنده) বলে অভিহিত করেছেন।

 

‌‌২২ - যে সকল পশুর গোশত খাওয়া জায়েজ, তাদের লালা পবিত্র; এটি ঐকমত্যের ভিত্তিতে (بالاتفاق) স্বীকৃত।

দলিল: আমর ইবনে খারিজাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিনায় তাঁর সওয়ারির ওপর আরোহিত অবস্থায় আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন, আর তখন সেটির লালা আমার কাঁধের ওপর গড়িয়ে পড়ছিল। এটি আহমদ এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আল-মুগনি ১/৬৭।

(২) আল-কাফি ১/২৮।

(৩) আউনুল মাবুদ ১/১০০। আর যদি কোনো কোনো আলেমের উক্তি অনুযায়ী হাদিসটির বিশুদ্ধতা (صحة) না থাকার বিষয়টি ধরেও নেওয়া হয়, তবুও গাধা ও খচ্চর জাতীয় পশুর উচ্ছিষ্ট পবিত্র হওয়ার বিষয়টি বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পবিত্র হওয়ার ওপর কিয়াস (قياساً) করে সাব্যস্ত হবে। কেননা এগুলোর সংস্পর্শ থেকে বেঁচে থাকা কঠিন এবং মানুষের সাথে এগুলোর মেলামেশা অনেক বেশি। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এগুলোর লালা থেকে বেঁচে থাকার কোনো নির্দেশ বর্ণিত হয়নি। ফলে এগুলোর পবিত্রতার বিষয়টিই মূল বিধান হিসেবে বহাল থাকবে।

(৪) আল-ইজমা পৃ. ৩৩, আল-মুগনি ১/৭০।

(৫) এবং আলবানী ইরওয়াউল গালিল (৬/৮৮) গ্রন্থে একে সহিহ (صححه) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌23 - ما يخرج من ذكر الرجل حكمه على التفصيل التالي:

‌‌أ- البول: وهو نجس بالإجماع، ومن بال وجب عليه غسل ذكره قبل أن يتوضأ(1).

‌‌ب- الوَدِي: وهو عصارة تخرج بعد البول على شكل نقطٍ بيضاء، وحكمه حكم البول.(2)

‌‌ج- المَنِيُّ: وهو سائلٌ غليظ له رائحة ويخرج دفقاً عند اشتداد الشهوة. وهو طاهر ليس بنجس، ويوجب الغُسْل لمن أراد التطهر لأجل الصلاة ونحوها، ولا يلزم غَسلُ الثوبِ الذي أصابه؛ بل يكفي حَكُّه.

الدليل: حديث عائشة رضي الله عنها قالت: لقد كنت أحكُّ المنيَّ يابساً بظفري من ثوب رسول الله صلى الله عليه وسلم ". رواه مسلم، وفي لفظ له: " لقد كنت أفركه من ثوب رسول الله صلى الله عليه وسلم فركاً فيصلي فيه ".

 

‌‌د- المَذِيّ: وهو ماء رقيقٌ ليس له رائحة كرائحة المني، ويخرج بدون دَفْقٍ عند فتور الشهوة بعد اشتدادها. وهو موجبٌ لغَسل الذكر والخصيتين قبل الوضوء. وما وقع عليه يكفي فيه النضح(3).

الدليل: حديث علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: كنتُ رجلا مَذّاءً وكنت أستحي أن أسأل النبي صلى الله عليه وسلم لمكان ابنته فأمرت المقداد بن الأسود فسأله، فقال: " يغسل ذكره ويتوضّأ " رواه البخاري ومسلم.

--------------------------------------------

(1) علق الشيخ ابن جبرين بقلمه بعد هذا الموضع فقال: " أو مسحُه بحجر ونحوه وهو الاستجمار ".

(2) المغني 1/ 233.

(3) الاختيارات ص 43، السيل الجرار 1/ 35.
‌‌২৩ - পুরুষের গোপনাঙ্গ থেকে যা নির্গত হয় এর বিধানের বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:

‌‌ক- প্রস্রাব: এটি সর্বসম্মতিক্রমে অপবিত্র, আর যে ব্যক্তি প্রস্রাব করবে ওজু করার পূর্বে তার লিঙ্গ ধৌত করা তার ওপর ওয়াজিব(১)।

‌‌খ- ওয়াদী: এটি প্রস্রাবের পর নির্গত সাদা বিন্দুর ন্যায় এক প্রকার নির্যাস; এর বিধান প্রস্রাবের বিধানের অনুরূপ।(২)

‌‌গ- মণি (বীর্য): এটি একটি ঘন তরল যার একটি বিশেষ ঘ্রাণ রয়েছে এবং তীব্র কামোত্তেজনার সময় যা বেগে নির্গত হয়। এটি পবিত্র, অপবিত্র নয়, তবে সালাত বা অনুরূপ ইবাদতের জন্য পবিত্রতা অর্জনের উদ্দেশ্যে এটি নির্গত হলে গোসল ওয়াজিব হয়। আর যে কাপড়ে এটি লেগেছে তা ধৌত করা আবশ্যক নয়; বরং তা খুঁটে ফেলাই যথেষ্ট।

দলিল: আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাপড় থেকে বীর্য শুকনা অবস্থায় নখ দিয়ে খুঁটে দিতাম।" মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। তাঁর অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাপড় থেকে তা ঘষে দিতাম, অতঃপর তিনি সেটি পরেই সালাত আদায় করতেন।"

 

‌‌ঘ- মাযী: এটি পাতলা পানি যার ঘ্রাণ মণির মতো নয় এবং কামোত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার সময় কোনো বেগ ছাড়াই নির্গত হয়। এটি ওজু করার আগে লিঙ্গ ও অণ্ডকোষ ধৌত করা আবশ্যক করে। আর কাপড়ের যেখানে এটি পড়বে সেখানে পানি ছিটিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট(৩)।

দলিল: আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "আমি এমন একজন ব্যক্তি ছিলাম যার প্রচুর মাযী নির্গত হতো। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যার (মর্যাদার) কারণে আমি তাঁকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জা পাচ্ছিলাম। তাই আমি মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদকে আদেশ করলে তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি বললেন: 'সে যেন তার লিঙ্গ ধৌত করে এবং ওজু করে'।" বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) শেখ ইবনে জিবরীন এই স্থানের পরে তাঁর কলম দিয়ে টীকা দিয়ে বলেছেন: "অথবা পাথর বা অনুরূপ কিছু দিয়ে তা মুছে নেওয়া, যা হলো ইস্তিজমার।"

(২) আল-মুগনী ১/২৩৩।

(৩) আল-ইখতিয়ারাআত পৃষ্ঠা ৪৩, আস-সায়লুল জাররার ১/৩৫।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌24 - ما يخرج من فرج المرأة فحكمه على التفصيل التالي:

‌‌أ- البول: وهو نجس كبول الرجل ويجب منه غسل الفرج(1).

‌‌ب- دم الحيض: وهو دم نجس، يمنع الصلاة والصوم، ويجب الاغتسال منه بعد انقطاعه لمن تستطيع استخدام الماء، فإن لم تقدر على استخدامه وجب التيمم.

‌‌ج- ماء الاحتلام: وهو كالمنيّ بالنسبة للرجل يوجب الغسل.

الدليل: حديث أم سليم رضي الله عنها قالت: يا رسول الله إن الله لا يستحيي من الحق: هل على المرأة من غسل إذا احتلمت؟ قال: " نعم إذا هي رأت الماء " رواه البخاري ومسلم.

 

‌‌د- السوائل الخارجة من الفرج والمسماة بالرطوبة، وهذه طاهرة ليست بنجسة شأنها شأن العَرَق الخارج من الجسم، وهذا هو المشتهر من قول الأحناف(2)، والصحيح من مذهب الحنابلة(3)، ورجّحه النووي(4). والأولى والأحوط أن تتوضأ المرأة منها إذا أرادت فعل ما يوجب الطهارة كالصلاة ومسِّ المصحف، وتغسل ما وقعت تلك الرطوبة عليه.

‌‌هـ- دم الاستحاضة: وهو دم نجس يوجب الوضوء وإذا استمر فلا يمنع الصلاةَ ولا الصيام؛ لكنْ لا يلزم الاغتسال منه بعد انقطاعه كما في الحيض (وسيأتي تفصيله في باب الحيض).

--------------------------------------------

(1) علق الشيخ ابن جبرين بقلمه بعد هذا الموضع فقال: " أو الاستجمار بالأحجار ونحوها ".

(2) حاشية ابن عابدين 1/ 274.

(3) الإنصاف 1/ 352.

(4) شرح مسلم 2/ 531.
‌‌২৪ - নারীর যৌনাঙ্গ থেকে যা নির্গত হয় তার বিধান বিস্তারিত নিম্নরূপ:

‌‌ক. প্রস্রাব: এটি পুরুষের প্রস্রাবের মতোই অপবিত্র এবং এর ফলে যৌনাঙ্গ ধৌত করা ওয়াজিব।(১)

‌‌খ. ঋতুস্রাব (হায়েজ): এটি একটি অপবিত্র রক্ত, যা নামাজ ও রোজা পালনে বাধা দেয়; আর যার পানি ব্যবহারের সক্ষমতা আছে, রক্ত বন্ধ হওয়ার পর তার জন্য গোসল করা ওয়াজিব। যদি সে পানি ব্যবহারে সক্ষম না হয়, তবে তায়াম্মুম করা ওয়াজিব।

‌‌গ. স্বপ্নদোষের ফলে নির্গত তরল: এটি পুরুষের বীর্যের (মানি) মতো, যা গোসল ওয়াজিব করে।

দলিল: উম্মে সুলাইম (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: হে আল্লাহর রাসুল! নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্য প্রকাশে লজ্জাবোধ করেন না; নারীর যদি স্বপ্নদোষ হয় তবে কি তার ওপর গোসল ওয়াজিব? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, যদি সে তরল (বীর্য) দেখতে পায়।" এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌ঘ. যৌনাঙ্গ থেকে নির্গত তরল যা 'আর্দ্রতা' (রুতুবাত) নামে পরিচিত: এটি পবিত্র, অপবিত্র নয়; এর হুকুম শরীর থেকে নির্গত ঘামের মতো। হানাফি আলেমদের নিকট এটিই প্রসিদ্ধ মত, হাম্বলি মাযহাবের বিশুদ্ধ (صحيح) মত এটিই এবং ইমাম নববী একেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে উত্তম ও অধিক সতর্কতামূলক বিষয় হলো, নারী যখন নামাজ পড়া বা মুসহাফ (কুরআন) স্পর্শ করার মতো পবিত্রতা প্রয়োজন এমন কাজ করতে চাইবে, তখন এর জন্য অজু করবে এবং সেই আর্দ্রতা যেখানে লেগেছে তা ধুয়ে ফেলবে।

‌‌ঙ. ইস্তিহাজার রক্ত: এটি একটি অপবিত্র রক্ত যা অজু ওয়াজিব করে। যদি এই রক্ত অব্যাহত থাকে তবে তা নামাজ বা রোজা পালনে বাধা দেয় না; তবে ঋতুস্রাবের মতো রক্ত বন্ধ হওয়ার পর এর জন্য গোসল করা আবশ্যক নয় (এর বিস্তারিত বিবরণ ঋতুস্রাব অধ্যায়ে আসবে)।

--------------------------------------------

(১) শেখ ইবনে জিবরীন তার কলমে এই অংশের পরে মন্তব্য করেছেন: "অথবা পাথর বা অনুরূপ কিছু দ্বারা ইস্তিজমার (পবিত্রতা অর্জন) করা।"

(২) হাশিয়া ইবনে আবিদিন ১/২৭৪।

(৩) আল-ইনসাফ ১/৩৫২।

(৪) শারহু মুসলিম ২/৫৩১।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌25 - إذا وقع بول الطفل على ثوبٍ أو سجادة فحكمه ما يلي:

أ- إن كان الطفل ذكراً لم يطعم إلا اللبن الذي يرضعه أو العسل أو الدواء أو نحو ذلك من السوائل فإنه يكفي في تنظيف الثوب أن يُرش بالماء.

ب- إن كان الطفل الذكر بدأ يَطعم بنفسه غير اللبن والسوائل فلابد من غسل ما وقع عليه البول، ولا يُكتفى بالرش (النَّضح).

ج- إن كان الطفل أنثى فلابد من غسل ما وقع عليه بولها؛ سواء طعمت غير اللبن أم لم تطعم سواه.

الدليل: حديث أبي السمح رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يُغسَل من بول الجارية، ويُرَشُّ من بول الغلام" رواه أبو داود والنسائي(1).

 

‌‌26 - بول الحيوان على نوعين:

أ - بول ما يؤكل لحمه؛ فهذا ليس بنجس، بل وروثه طاهر أيضاً. وهو قول الحنابلة(2)، ورجّحه شيخ الإسلام ابن تيمية(3) خلافاً للجمهور(4).

--------------------------------------------

(1) وصححه الألباني صحيح النسائي حديث رقم (303)، وقال ابن باز: "و [جاء] في المسند (1/ 98، 97) بسندٍ جيد على شرط مسلم عن علي رضي الله عنه مرفوعا مثله " حاشية الشيخ ابن باز على بلوغ المرام 1/ 72.

(2) الشرح الكبير 2/ 345، مسائل الإمام أحمد برواية ابنه صالح ص 72، الاختيارات الفقهية ص 42.

(3) الاختيارات ص 42، وقال رحمه الله: " وبول ما أُكِل لحمُه وروثُه ومنيُّه طاهر لم يذهب أحد من الصحابة إلى تنجُّسِه؛ بل القول بنجاسته قول مُحدَث لا سلف له من الصحابة ".

(4) الإقناع في حل ألفاظ أبي شجاع 1/ 223، مواهب الجليل 1/ 222، حاشية ابن عابدين 1/ 453، ونَقَل زُفَرُ عن الإمام مالك أن روث ما يؤكل لحمه طاهر (بدائع الصنائع 1/ 197).
‌‌২৫ - যদি কোনো শিশুর প্রস্রাব কাপড় বা জায়নামাজে পড়ে তবে তার বিধান নিম্নরূপ:

ক- যদি শিশুটি এমন ছেলে হয় যে কেবল দুধ পান করে অথবা মধু, ঔষধ বা এই জাতীয় তরল গ্রহণ করে, তবে কাপড় পরিষ্কার করার জন্য তার ওপর পানি ছিটিয়ে দেয়াই যথেষ্ট।

খ- যদি ছেলে শিশুটি দুধ ও তরল ব্যতীত অন্য কিছু নিজে থেকে খাওয়া শুরু করে, তবে যেখানে প্রস্রাব পড়েছে তা ধৌত করা আবশ্যক এবং কেবল পানি ছিটানো (النضح) যথেষ্ট নয়।

গ- যদি শিশুটি মেয়ে হয়, তবে তার প্রস্রাব যেখানে লেগেছে তা ধৌত করা আবশ্যক; সে দুধ ছাড়া অন্য কিছু খাওয়া শুরু করুক বা না করুক।

দলিল: আবু আস-সামহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মেয়ে শিশুর প্রস্রাব ধৌত করতে হবে এবং ছেলে শিশুর প্রস্রাবের ওপর পানি ছিটাতে হবে।" এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ও নাসায়ি(১)।

 

‌‌২৬ - পশুর প্রস্রাব দুই প্রকার:

ক - যে পশুর গোশত খাওয়া হয় তার প্রস্রাব; এটি অপবিত্র নয়, বরং এর বিষ্ঠাও পবিত্র। এটি হাম্বলিদের অভিমত এবং অধিকাংশ আলেমের বিপরীতে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ একেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) আলবানি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন, সহিহ নাসায়ি হাদিস নং ৩০৩; এবং ইবনে বাজ বলেন: "মুসনাদ (১/ ৯৭, ৯৮)-এ মুসলিমের শর্তানুযায়ী (على شرط مسلم) একটি উত্তম (جيد) সনদ (سند) সহকারে আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে অনুরূপ একটি মারফু (مرفوع) হাদিস বর্ণিত হয়েছে।" হাশিয়া আশ-শাইখ ইবনে বাজ আলা বুলুগুল মারাম ১/ ৭২।

(২) আশ-শারহুল কাবীর ২/ ৩৪৫, মাসায়েলুল ইমাম আহমাদ বি-রিওয়ায়াতি ইবনিহি সালিহ পৃষ্ঠা ৭২, আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৪২।

(৩) আল-ইখতিয়ারাত পৃষ্ঠা ৪২, এবং তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যে পশুর গোশত খাওয়া হয় তার প্রস্রাব, বিষ্ঠা ও বীর্য পবিত্র; সাহাবীদের মধ্যে কেউ এটি অপবিত্র হওয়ার মত পোষণ করেননি; বরং এর অপবিত্রতার বিষয়টি একটি নব-উদ্ভাবিত কথা যার সলফে বা সাহাবীদের মাঝে কোনো ভিত্তি নেই।"

(৪) আল-ইকনা ফি হাল্লি আলফাজি আবি শুজা ১/ ২২৩, মাওয়াহিবুল জালীল ১/ ২২২, হাশিয়া ইবনে আবিদিন ১/ ৪৫৩; যুফার ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যে পশুর গোশত খাওয়া হয় তার বিষ্ঠা পবিত্র (বাদায়েউস সানায়ে ১/ ১৯৭)।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
الدليل: حديث أنس بن مالك رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي في مرابض الغنم قبل أن يَبني المسجد. رواه مسلم. وهذه المرابض لا تخلو من روث وبول.

وكذلك جاء في حديث أنس رضي الله عنه: " أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر العُرنيين أن يلحقوا بإبل الصدقة فيشربوا من أبوالها وألبانها". رواه البخاري. والنجس لا يباح شربه، ولو أبيح للضرورة لأمرهم بغسل أثر أبوال الإبل على أفواههم أو أوانيهم.

ب- بول ما لا يؤكل لحمه: وهذا نجس.

 

‌‌27 - الدم من حيث النجاسة والطهورية أنواع(1):

الأول: دم نجس لا يعفى عن شيء منه. وهو:

أ _ ما خرج من أحد السبيلين.

ب _ ما خرج من حيوانٍ نجس.

ج _ ما كان دما مسفوحاً.

الثاني: دم طاهر، وهو أنواع:

أ _ دم الأسماك والحيتان وكلِّ حيواناتِ البحر، لأن مَيْتَتها طاهرة. قال صلى الله عليه وسلم في البحر: " هو الطَّهور ماؤه، الحِلُّ مَيتته " رواه أهل السنن عن أبي هريرة رضي الله عنه(2).

ب - الدم اليسير الذي لا يسيل، كدم البعوضة والذباب. فلو تلوث الثوب بشيء من ذلك الدم فهو طاهر لا يجب غسلُه.

--------------------------------------------

(1) الشرح الممتع 1/ 374 - 378.

(2) وحسن إسناده ابن باز في حاشيته على بلوغ المرام 1/ 55.
প্রমাণ: আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) মসজিদ নির্মাণের পূর্বে ভেড়া-বকরির খোঁয়াড়ে সালাত আদায় করতেন। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আর এই খোঁয়াড়গুলো গোবর ও প্রস্রাব থেকে মুক্ত ছিল না।

একইভাবে আনাস (রা.)-এর হাদিসে এসেছে: "নবী (সা.) উরাইনা গোত্রের লোকদের সদকার উটের পালের নিকট যাওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং সেগুলোর প্রস্রাব ও দুধ পান করতে বললেন।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। অপবিত্র বস্তু পান করা বৈধ নয়; আর যদি প্রয়োজনের খাতিরে তা বৈধ হতোই, তবে তিনি তাদের মুখে বা পাত্রে লেগে থাকা উটের প্রস্রাবের চিহ্ন ধোয়ার নির্দেশ দিতেন।

খ- যেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় না সেগুলোর প্রস্রাব: আর এটি অপবিত্র।

 

‌‌২৭ - অপবিত্রতা ও পবিত্রতার বিচারে রক্ত বিভিন্ন প্রকারের(1):

প্রথম: অপবিত্র রক্ত, যার সামান্য অংশও মার্জনীয় নয়। তা হলো:

ক _ যা মল ও মূত্র ত্যাগের পথ দিয়ে বের হয়।

খ _ যা কোনো অপবিত্র প্রাণী থেকে বের হয়।

গ _ যা প্রবাহিত রক্ত।

দ্বিতীয়: পবিত্র রক্ত, যা কয়েক প্রকারের:

ক _ মাছ, তিমি এবং সমুদ্রের সকল প্রাণীর রক্ত, কারণ সেগুলোর মৃতদেহ পবিত্র। সমুদ্র সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তার পানি পবিত্রকারী এবং তার মৃত প্রাণী হালাল।" আবু হুরায়রা (রা.) থেকে সুনান গ্রন্থকারগণ এটি বর্ণনা করেছেন(2)।

খ - সামান্য রক্ত যা প্রবাহিত হয় না, যেমন মশা ও মাছির রক্ত। সুতরাং যদি কাপড়ে এই রক্তের সামান্য কিছু লাগে তবে তা পবিত্র এবং তা ধোয়া আবশ্যক নয়।

--------------------------------------------

(1) আশ-শারহুল মুমতি ১/ ৩৭৪ - ৩৭৮।

(2) এবং ইবনে বাজ বুলুগুল মারাম-এর ওপর তাঁর হাশিয়া (১/ ৫৫)-তে এর সনদ (إسناد)-কে হাসান (حسن) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الدليل: حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال صلى الله عليه وسلم: " إذا وقع الذباب في شراب أحدكم فليغمسه؛ فإن في أحد جناحيه داءً، وفي الآخر شفاء " رواه البخاري.

ج _ الدم الذي يبقى في الذبيحة المذكاة بعد تذكيتها كالذي يكون في العروق والقلب والكبد؛ فهذا طاهر: قلَّ أو كثر.

د - دم الآدمي طاهرٌ ما لم يكن خارجا من أحد السبيلين.

والدليل على ذلك: أن الأصل الطهارة حتى يقوم دليل على النجاسة. ولم يثبت دليل صريح على نجاسة دم الآدمي غير دم الحيض. مع أنه كثيراً ما يخرج من الإنسان دم من رعاف أو حجامة أو جروح، ولو كانت تلك الدماء نجسة لبينها صلى الله عليه وسلم.

وقد كان الصحابة يصلون في جراحاتهم ودماؤهم تسيل على ثيابهم، ولم يؤمروا بغسلها أو التحرز منها(1).

--------------------------------------------

(1) وقال شيخ الإسلام ابن تيمية في: الاختيارات الفقهية ص 28: " والدم والقيء وغيرهما من النجاسات الخارجة من غير المخرج المعتاد لا تنقض الوضوء ولو كثرن، وهو مذهب مالك والشافعي ".
প্রমাণ: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যদি তোমাদের কারো পানীয় দ্রব্যে মাছি পড়ে, তবে সে যেন তা ডুবিয়ে দেয়; কারণ তার এক ডানায় রোগ রয়েছে এবং অন্যটিতে রয়েছে আরোগ্য।" বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।

গ - শরীয়তসম্মতভাবে জবেহকৃত (مذكاة) পশুর শরীরের অভ্যন্তরে জবেহ করার পর যে রক্ত অবশিষ্ট থাকে, যেমন—রগ, হৃৎপিণ্ড ও কলিজায় লেগে থাকা রক্ত; তা পবিত্র (طاهر): তা পরিমাণে কম হোক বা বেশি।

ঘ - মানুষের রক্ত পবিত্র (طاهر), যতক্ষণ না তা দুটি রাস্তা (মল-মূত্রের পথ) দিয়ে নির্গত হয়।

এর প্রমাণ হলো: মূল বিধান হলো পবিত্রতা (طهارة), যতক্ষণ না অপবিত্রতার (نجاسة) কোনো দলিল পাওয়া যায়। আর হায়েজের (حيض) রক্ত ছাড়া মানুষের অন্য রক্তের অপবিত্রতার (نجاسة) ওপর কোনো সুস্পষ্ট দলিল সাব্যস্ত হয়নি। অথচ মানুষের শরীর থেকে প্রায়ই নাক দিয়ে রক্ত পড়া, সিঙা (حجامة) লাগানো বা জখমের কারণে রক্ত বের হয়; যদি সেই রক্ত অপবিত্র (نجسة) হতো, তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবশ্যই তা বর্ণনা করতেন।

সাহাবীগণ জখম থাকা অবস্থায় সালাত আদায় করতেন এবং তাদের রক্ত কাপড়ে গড়িয়ে পড়ত, কিন্তু তাদের তা ধোয়ার বা তা থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়নি(১)।

--------------------------------------------

(১) শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ‘আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ’ এর ২৮ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "রক্ত, বমি এবং সাধারণ নির্গমন পথ ছাড়া অন্য কোনো পথ দিয়ে নির্গত হওয়া অপবিত্র (نجاسات) বস্তুসমূহ ওযু ভঙ্গ করে না (لا تنقض الوضوء), যদিও তা পরিমাণে অধিক হয়; এটি ইমাম মালিক ও শাফেয়ীর মাজহাব।"
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌باب الوضوء

‌‌28 - السواك من سنن الوضوء: سواء قبل الشروع فيه، أو عند المضمضة (1).

الدليل: حديث أبي هريرة قال: قال صلى الله عليه وسلم: " لولا أن أشق على أمتي لأمرتهم بالسواك مع كل وضوء " أخرجه مالك وأحمد(2).

 

‌‌29 - صفة الوضوء تؤخذ من حديث حمران أن عثمان رضي الله عنه دعا بوضوء فغسل كفيه ثلاث مرات، ثم تمضمض واستنشق واستنثر، ثم غسل وجهه ثلاث مرات، ثم غسل يده إلى المرفق ثلاث مرات، ثم اليسرى مثل ذلك، ثم مسح برأسه ثم غسل رجله اليمنى إلى الكعبين ثلاث مرات، ثم اليسرى مثل ذلك، ثم قال: "رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم توضأ نحو وضوئي هذا " متفق عليه.

--------------------------------------------

(1) وهو أيضاً مسنون في خمسة مواضع أخر: الأول: عند كل صلاة لرواية في حديث أبي هريرة السابق وهي في صحيح مسلم " عند كل صلاة ". الثاني: عند الاستيقاظ من النوم لحديث حذيفة أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا قام من الليل يشوص فاه " رواه الشيخان. الثالث: عند دخول البيت وقد سئلت عائشة: بأي شيء كان يبدأ رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا دخل البيت؟ قالت بالسواك. رواه مسلم. الرابع: عند قراءة القرآن لحديث علي بن أبي طالب قال صلى الله عليه وسلم: " إن المصلي إذا قرأ في الصلاة فإن الملك يدنو منه حتى يضع فاهُ على فيه، فما يخرج من فم المصلي فإنه في فم الملك" رواه البزار وجوّد إسناده المنذري وابن حجر في (تلخيص الحبير 1/ 242) وصححه الألباني في (صحيح الترغيب حديث رقم (215) الخامس: عند الحاجة إليه كأن تظهر رائحة الفم لحديث عائشة رضي الله عنها قالت: قال صلى الله عليه وسلم: "السواك مطهرة للفم مرضاة للرب". رواه أحمد والنسائي وحسن إسناده ابن حجر (هداية الرواة 1/ 214).

(2) وصححه ابن عبد البر في التمهيد 1/ 472.
‌ওজু অনুচ্ছেদ

‌২৮ - মেসওয়াক করা ওজুর সুন্নতসমূহের (سنن) অন্তর্ভুক্ত: তা ওজু শুরু করার পূর্বে হোক কিংবা কুলি করার সময়(১).

দলিল: আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে আমি তাদের প্রত্যেক ওজুর সাথে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।" এটি মালেক ও আহমদ বর্ণনা করেছেন(২).

 

‌২৯ - ওজুর নিয়ম হুমরান বর্ণিত হাদিস থেকে গৃহীত, যেখানে উসমান (রা.) ওজুর পানি চাইলেন এবং তার উভয় কবজি তিনবার ধুইলেন, অতঃপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং নাক ঝাড়লেন। তারপর তিনবার তার মুখমণ্ডল ধুইলেন, তারপর ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুইলেন, এরপর বাম হাতও তদ্রূপ। তারপর মাথা মাসাহ করলেন এবং তার ডান পা টাখনু পর্যন্ত তিনবার ধুইলেন, এরপর বাম পা-ও তদ্রূপ। অতঃপর তিনি বললেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে আমার এই ওজুর ন্যায় ওজু করতে দেখেছি।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه)।

--------------------------------------------

(১) এবং এটি আরও পাঁচটি স্থানে সুন্নাত (مسنون): প্রথম: প্রত্যেক নামাজের সময়, আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিসের একটি বর্ণনার (رواية) কারণে, যা সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত হয়েছে: "প্রত্যেক নামাজের সময়"। দ্বিতীয়: ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সময়, হুযায়ফা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, নবী (সা.) যখন রাতে (নামাজের জন্য) উঠতেন, তখন মেসওয়াক দিয়ে তার মুখ পরিষ্কার করতেন। এটি শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন। তৃতীয়: ঘরে প্রবেশের সময়, আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘরে প্রবেশ করে প্রথমে কী কাজ করতেন? তিনি বললেন: মেসওয়াক করতেন। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। চতুর্থ: কুরআন পাঠের সময়, আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই নামাজি ব্যক্তি যখন নামাজে কুরআন পাঠ করে, তখন ফেরেশতা তার নিকটবর্তী হয় এমনকি সে তার মুখ নামাজি ব্যক্তির মুখের ওপর রাখে। ফলে নামাজি ব্যক্তির মুখ থেকে যা কিছু বের হয় তা ফেরেশতার মুখেই প্রবেশ করে।" এটি বাজ্জার বর্ণনা করেছেন এবং মুনযিরি ও ইবনে হাজার তালখিসুল হাবির (১/২৪২)-এ এর সনদকে (إسناد) উত্তম (جيد) বলেছেন এবং আলবানি সহিহ আত-তারগিব (হাদিস নং ২১৫)-এ একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। পঞ্চম: যখন প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন মুখের দুর্গন্ধ প্রকাশ পাওয়া। আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "মেসওয়াক মুখের পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম এবং রবের সন্তুষ্টির কারণ।" এটি আহমদ ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হাজার হিদায়াতুর রুওয়াত (১/২১৪)-এ এর সনদকে (إسناد) হাসান (حسن) বলেছেন।

(২) এবং ইবনে আবদিল বার আত-তামহিদ (১/৪৭২)-এ একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌30 - غسل الكفين سنة وليس بواجب إلا إذا كان قد قام من نوم ليلٍ فإنه لا يجوز له أن يدخل يديه في الإناء إلا بعد أن يغسلهما خارجَه، وهو المشتهر من مذهب الحنابلة(1).

الدليل: حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال صلى الله عليه وسلم: " إذا استيقظ أحدكم من نومه فلا يغمس يده في الإناء حتى يغسلها ثلاثاً، فإنه لا يدري أين باتت يده" متفق عليه.

وهنا مسألتان:

الأولى: أن النوم الذي يجب منه غسل الكفين هو نوم الليل لمن أراد الوضوء، وتُغسلُ اليدان خارج الإناء إن كان الماء موضوعاً في إناء. والذي يدل على تخصيص الحكم بنوم الليل دون غيره قوله صلى الله عليه وسلم في الحديث: " أين باتت يده " والبيتوتة لا تكون إلا في الليل(2).

الثانية: الغَسْل في الحالة السابقة واجبٌ مرة واحدة فقط، أما الثلاث فسنّة لتحقق الطهارة بواحدة.

 

‌‌31 - المضمضة والاستنشاق واجبان في الوضوء والغُسل، وهو قول الحنابلة(3).

الدليل: حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال صلى الله عليه وسلم: " إذا توضأ أحدكم فليجعل في أنفه ماءً ثم لينتثر" رواه الشيخان، وحديث لقيط بن صبرة رضي الله عنه قال صلى الله عليه وسلم:: " إذا توضأت فمضمض " رواه أبو داود(4).

--------------------------------------------

(1) زاد المستقنع ص 9، وقال الشيخ محمد بن إبراهيم: " فلا يَحلُّ إدخالهما قبل غسلهما ثلاثاً، فإن أدخلهما قبل ذلك فهو عاصٍ آثم مخالف لأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم " مجموع الفتاوى 2/ 29.

(2) شفاء العليل شرح منار السبيل 1/ 112.

(3) الكافي 1/ 57، الفروع 1/ 116.

(4) وصححه الألباني في صحيح أبي داود حديث رقم (144).
৩০ - দুই কব্জি ধোয়া সুন্নাহ (سنة), এটি ওয়াজিব (واجب) নয়; তবে যদি কেউ রাতের ঘুম থেকে ওঠে, তবে তার পক্ষে পাত্রে হাত প্রবেশ করানো বৈধ নয় যতক্ষণ না সে পাত্রের বাইরে তা ধুয়ে নেয়। আর এটিই হাম্বলি মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত(1)。

দলিল: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন তোমাদের কেউ তার ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, সে যেন তার হাত পাত্রে না ডোবায় যতক্ষণ না সে তা তিনবার ধুয়ে নেয়; কারণ সে জানে না তার হাত রাতে কোথায় ছিল।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه)।

এখানে দুটি মাসআলা রয়েছে:

প্রথমত: যে ঘুম থেকে ওঠার পর দুই কব্জি ধোয়া ওয়াজিব (واجب) তা হলো রাতের ঘুম—সেই ব্যক্তির জন্য যে ওজু করতে চায়। পানি যদি কোনো পাত্রে রাখা থাকে তবে হাত পাত্রের বাইরে ধুতে হবে। হুকুমটি অন্য সময়ের ঘুম বাদ দিয়ে কেবল রাতের ঘুমের সাথে নির্দিষ্ট হওয়ার দলিল হলো হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "তার হাত কোথায় রাত অতিবাহিত করেছে"; আর রাত অতিবাহিত করা কেবল রাতেই হয়ে থাকে(2)।

দ্বিতীয়ত: পূর্বোক্ত অবস্থায় ধোয়া কেবল একবার ওয়াজিব (واجب), আর তিনবার ধোয়া সুন্নাহ (سنة); কারণ একবার ধোয়াতেই পবিত্রতা অর্জিত হয়ে যায়।

 

‌৩১ - ওজু ও গোসলের ক্ষেত্রে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া ওয়াজিব (واجب), আর এটি হাম্বলিদের অভিমত(3)।

দলিল: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন ওজু করে, সে যেন তার নাকে পানি দেয় এবং এরপর তা ঝেড়ে ফেলে।" এটি বর্ণনা করেছেন দুই শেখ (رواه الشيخان) [বুখারি ও মুসলিম]। লাকীত ইবনে সাবরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন তুমি ওজু করবে, তখন কুলি করবে।" এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ(4)।

--------------------------------------------

(1) যাদুল মুস্তাকনি, পৃষ্ঠা ৯; শায়খ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম বলেন: "তিনবার ধোয়ার আগে পাত্রে হাত প্রবেশ করানো বৈধ নয়। যদি সে এর আগে হাত প্রবেশ করায়, তবে সে অবাধ্য ও গুনাহগার এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদেশের বিরুদ্ধাচরণকারী হিসেবে গণ্য হবে।" মাজমুউল ফাতাওয়া ২/২৯।

(2) শিফাউল আলীল শারহু মানারিস সাবীল ১/১১২।

(3) আল-কাফি ১/৫৭, আল-ফুরু ১/১১৬।

(4) এবং আলবানি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন সহিহ আবু দাউদ-এ, হাদিস নং (১৪৪)।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌32 - المرفق داخل في غسل اليد أثناء الوضوء، وهو قول جمهور أهل العلم(1).

الدليل: حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنه قال: "كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا توضأ أدار الماء على مرفقيه " رواه الدارقطني والبيهقي(2).

 

‌‌33 - مسحُ الرأسِ مرةٌ واحدة فقط، ويكون لجميع الرأس لا بعضه، وهو مذهب الإمام مالك(3) والإمام أحمد(4) وقول شيخ الإسلام ابن تيمية(5) وابن القيم(6).

الدليل: حديث عبد الله بن زيد بن عاصم رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم مسح رأسه فأقبل بهما (أي بيديه) وأدبر مرة واحدة "رواه البخاري.

ومن مسح بعضَ رأسِه لا ينطبق عليه أنه مسح رأسَه؛ بل بعضه.

 

‌‌34 - الأذنان تُمسحان مع الرأس، وهو من مفردات المذهب الحنبلي(7)، واختاره ابن القيم(8).

--------------------------------------------

(1) المجموع 1/ 419

(2) وصححه الألباني في السلسلة الصحيحة حديث رقم (2. 67).

(3) مواهب الجليل 1/ 293.

(4) الإنصاف 1/ 358.

(5) الفتاوى 21/ 123.

(6) زاد المعاد 1/ 193.

(7) الإنصاف 1/ 352.

(8) زاد المعاد 1/ 194.
‌‌৩২ - ওজুর সময় হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে কনুই অন্তর্ভুক্ত, এবং এটি অধিকাংশ আলিমের অভিমত(1)।

দলিল: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ওজু করতেন, তখন তিনি তাঁর দুই কনুইয়ের ওপর পানি ঘুরাতেন।" এটি দারা কুতনী এবং বায়হাকী বর্ণনা করেছেন(2)।

 

‌‌৩৩ - মাথা মাসাহ কেবল একবারই করতে হবে, এবং তা পুরো মাথার জন্য হবে, আংশিক নয়। এটি ইমাম মালিক(3) ও ইমাম আহমাদ-এর মাজহাব(4) এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ(5) ও ইবনুল কাইয়্যিমের(6) অভিমত।

দলিল: আবদুল্লাহ ইবনে যাইদ ইবনে আসিম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মাথা মাসাহ করলেন, ফলে তিনি তাঁর দুই হাত (সামনে) আনলেন এবং পেছনে নিলেন—একবার। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

আর যে ব্যক্তি তার মাথার কিছু অংশ মাসাহ করে, তার ক্ষেত্রে এটি বলা প্রযোজ্য নয় যে সে তার মাথা মাসাহ করেছে; বরং সে তার মাথার একাংশ মাসাহ করেছে।

 

‌‌৩৪ - কান দুটো মাথার সাথেই মাসাহ করা হবে, এটি হাম্বলি মাজহাবের একক বৈশিষ্ট্যগুলোর অন্তর্ভুক্ত(7) এবং ইবনুল কাইয়্যিম(8) এটিকেই পছন্দ করেছেন।

--------------------------------------------

(1) আল-মাজমু ১/৪১৯

(2) আলবানী একে সিলসিলাহ আস-সাহীহাহ গ্রন্থের ৬৭ নম্বর হাদিসে সহিহ (صححه) বলেছেন।

(3) মাওয়াহিবুল জলীল ১/২৯৩।

(4) আল-ইনসাফ ১/৩৫৮।

(5) আল-ফাতওয়া ২১/১২৩।

(6) যাদুল মা'আদ ১/১৯৩।

(7) আল-ইনসাফ ১/৩৫২।

(8) যাদুল মা'আদ ১/১৯৪।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
الدليل: حديث أبي أمامة رضي الله عنه قال: قال صلى الله عليه وسلم: " الأذنان من الرأس " رواه أبو داود والترمذي(1).

وطريقة مسح الرأس كما يلي:

يَبلُّ يديه بالماء، ثم يمسح بهما على رأسه ابتداءً من ناصية رأسه إلى آخره من الخلف، ثم يعود بهما مرة أخرى إلى الناصية مع استيفاء جميع الرأس. ويُعفى عن الشعرات اليسيرة. وأما الأذنان فيكون الإبهامان خلف الأذنين يحركهما على ظهر الأذنين ويدخل إصبعيه السبابتين داخل الصِّماخين.

وأما الغضاريف فلا يلزم مسحها.

ولا يأخذ ماءً جديداً للأذنين(2) إلا إذا احتاج إلى ذلك كأن يكون الشعر كثيفاً.

وهذا الوصف لمسح الرأس عام للرجل والمرأة ولا فرق بينهما.

 

‌‌35 - الترتيب في فروض الوضوء واجب، وهو مذهب الشافعية(3) والحنابلة(4).

الدليل: آية الوضوء؛ حيث ذكر الله جل وعلا ممسوحاً (وهو الرأس) بين مغسولين. فدل على وجوب الترتيب، ولو لم يكن الترتيب واجباً لأَخَّره حتى ينتهي من ذكر المغسولات. كما أن النبي صلى الله عليه وسلم لم ينقل عنه أنه أخلَّ بهذا الترتيب طيلة حياته.

--------------------------------------------

(1) وصححه الألباني في السلسلة الصحيحة حديث رقم (36).

(2) الاختيارات ص 12، زاد المعاد 1/ 195.

(3) بداية المجتهد 1/ 42.

(4) الكافي 1/ 68.
দলিল: আবু উমামা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "দুই কান মাথারই অংশ।" এটি আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন(১).

মাথা মাসেহ করার পদ্ধতি হলো নিম্নরূপ:

দুই হাত পানি দিয়ে ভেজাবে, তারপর তা দিয়ে মাথার অগ্রভাগ থেকে শুরু করে পিছনের শেষ পর্যন্ত মাসেহ করবে, অতঃপর পুনরায় হাত দুটিকে শুরুর স্থানে ফিরিয়ে আনবে এবং পুরো মাথা মাসেহ সম্পন্ন করবে। অল্প কয়েকগাছি চুলের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে। আর কানের ক্ষেত্রে বৃদ্ধাঙ্গুলি দুটি কানের পেছনের অংশে রেখে কানের পিঠের ওপর ঘুরাবে এবং শাহাদাত আঙুল দুটি কানের ছিদ্রে প্রবেশ করাবে।

আর কানের তরুণাস্থিগুলো মাসেহ করা আবশ্যক নয়।

কানের জন্য নতুন করে পানি নেবে না(২), তবে যদি প্রয়োজন হয় যেমন চুল ঘন হয় তবে ভিন্ন কথা।

মাথা মাসেহ করার এই বিবরণ নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই সাধারণ এবং তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

 

‌‌৩৫ - ওযুর ফরজগুলোর ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যক (واجب), এটি শাফেঈ(৩) ও হাম্বলি(৪) মাযহাবের অভিমত।

দলিল: ওযুর আয়াত; যেখানে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা ধৌত করা হয় এমন দুটি অঙ্গের মাঝে মাসেহ করা হয় এমন একটি অঙ্গ (যা হলো মাথা) উল্লেখ করেছেন। এটি ধারাবাহিকতার আবশ্যকতা (وجوب) নির্দেশ করে, কারণ যদি ধারাবাহিকতা আবশ্যক (واجب) না হতো তবে ধৌত করার অঙ্গগুলোর বর্ণনা শেষ করার পরই তা উল্লেখ করা হতো। তাছাড়া নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে তাঁর সারা জীবনে কখনো এই ধারাবাহিকতা লঙ্ঘন করার কথা বর্ণিত হয়নি।

--------------------------------------------

(১) এবং আলবানী একে সিলসিলাহ সহিহাহ গ্রন্থে সহিহ (صحيح) বলেছেন, হাদিস নং (৩৬)।

(২) আল-ইখতিয়ারাতে পৃষ্ঠা ১২, যাদুল মাআদ ১/ ১৯৫।

(৩) বিদায়াতুল মুজতাহিদ ১/ ৪২।

(৪) আল-কাফি ১/ ৬৮।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌36 - الموالاة في الوضوء هي: أن لا يؤخِّر المتوضِّئ غَسلَ عضوٍ إلى أن يَجفَّ الذي قبله.

وهي واجبة إلا إذا وُجد عذرٌ، كما لو انقطع الماء والحاجةُ إليه قائمة، أو اشتغل بتنظيف بعض أعضاء الوضوء. وهو مذهب الإمام مالك(1)، وقولٌ للإمام أحمد(2) رجّحه شيخ الإسلام ابن تيمية(3).

الدليل على وجوب الموالاة: حديث خالد بن معدان عن بعض أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أنه عليه الصلاة والسلام أبصر رجلاً توضأ وعلى قدمه مثلُ الظفر (يعني لم يصبها الماء) فقال له: "ارجع فأحسن وضوءك " فرجع فتوضأ ثم صلى. رواه مسلم.

 

‌‌37 - لا يجوز أن يزيد المسلم في غسل أعضائه في الوضوء عن ثلاث غسلات (4).

الدليل: حديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده: أن أعرابياً سأل الرسول صلى الله عليه وسلم أن يُعلِّمه صفة الوضوء فتوضأ صلى الله عليه وسلم وضوءه المعتاد وغسل كل عضو ثلاثاً إلا الرأس ثم قال: " هذا الوضوء، فمن زاد فقد أساء وتعدى وظلم " رواه أبو داود(5).

--------------------------------------------

(1) حاشية الدسوقي 1/ 153.

(2) المغني 1/ 192.

(3) وقال رحمه الله في مجموع الفتاوى 21/ 135 - 167: " هذا القول هو الأظهر والأشبه بأصول الشريعة، وبأصول مذهب أحمد وغيره، وذلك أن أدلة الوجوب لا تتناول إلا المفرِّط، لا تتناول العاجز عن الموالاة ".

(4) الشرح الكبير 1/ 367.

(5) وصحح إسناده النووي في شرحه لصحيح مسلم 3/ 479.
৩৬ - অজুর ধারাবাহিকতা (الموالاة) হলো: অজুকারী এক অঙ্গ ধৌত করতে এত বিলম্ব করবে না যে, তার পূর্বের অঙ্গটি শুকিয়ে যায়।

আর এটি ওয়াজিব (واجب), তবে কোনো ওজর থাকলে ভিন্ন কথা। যেমন যদি পানি ফুরিয়ে যায় এবং পানির প্রয়োজন অবশিষ্ট থাকে, অথবা অজুর কোনো অঙ্গ পরিষ্কার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এটি ইমাম মালিকের মাযহাব(১) এবং ইমাম আহমদের একটি অভিমত(২), যাকে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া প্রাধান্য দিয়েছেন(৩)।

ধারাবাহিকতা (الموالاة) ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার দলিল: খালিদ ইবনে মা’দান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবীর (أصحاب) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে সে অজু করেছে কিন্তু তার পায়ের পাতায় নখের সমান স্থান শুকনো রয়ে গেছে (অর্থাৎ সেখানে পানি পৌঁছেনি)। তখন তিনি তাকে বললেন: "ফিরে যাও এবং তোমার অজু সুন্দরভাবে সম্পন্ন করো।" এরপর সে ফিরে গিয়ে অজু করল এবং সালাত আদায় করল। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

 

‌৩৭ - অজুর অঙ্গসমূহ ধৌত করার ক্ষেত্রে একজন মুসলিমের জন্য তিনবারের অধিক ধৌত করা বৈধ নয়(৪)।

দলিল: আমর ইবনে শুআইব তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন: এক বেদুইন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অজুর পদ্ধতি জানতে চাইল। তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্বাভাবিক নিয়মে অজু করলেন এবং মাথা ব্যতীত প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধৌত করলেন। এরপর তিনি বললেন: "এটিই হলো অজু; যে ব্যক্তি এর চেয়ে বেশি করল সে মন্দ কাজ করল, সীমালঙ্ঘন করল এবং জুলুম করল।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন(৫)।

--------------------------------------------

(১) হাশিয়াতুদ দাউসুকি ১/ ১৫৩।

(২) আল-মুগনি ১/ ১৯২।

(৩) তিনি (রহিমাহুল্লাহ) মাজমুউল ফাতাওয়া ২১/ ১৩৫ - ১৬৭ গ্রন্থে বলেছেন: "এই মতটিই অধিক স্পষ্ট এবং শরিয়তের মূলনীতি (أصول) ও আহমদ রহ.-সহ অন্যদের মাযহাবের মূলনীতির (أصول) সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার দলিলসমূহ কেবল অবহেলাকারীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, তা ধারাবাহিকতা (الموالاة) বজায় রাখতে অক্ষম ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।"

(৪) আশ-শারহুল কাবীর ১/ ৩৬৭।

(৫) ইমাম নববী সহিহ মুসলিম-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে ৩/ ৪৭৯-এ এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌38 - الاستنثار واجب في الوضوء، وهو قولٌ للإمام أحمد(1) رجَّحه ابن حجر(2).

الدليل: حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال صلى الله عليه وسلم: " إذا توضأ أحدكم فليجعل في أنفه ماء ثم لينتثر " رواه البخاري ومسلم. والأمر ظاهره الوجوب، ولا يوجد صارفٌ له عن ذلك.

 

‌‌39 - المراد بإسباغ الوضوء: تبليغ الماء إلى المحل المفروض وليس تعدِّيه(3).

الدليل على الإسباغ حديث لقيط بن صبرة رضي الله عنه وفيه: " أسبغ الوضوء " رواه أهل السنن وصححه ابن خزيمة(4).

 

‌‌40 - المبالغة في الاستنشاق سنة لغير الصائم.

الدليل: حديث لقيطٍ السالف، وفيه: " وبالغ في الاستنشاق إلا أن تكون صائماً ".

 

‌‌41 - تخليل الأصابع سنّة. ويكون بالنسبة لأصابع اليدين بإدخال بعضها في بعض، وأما أصابع الرجلين فيكون بإدخال خِنصرِ يده اليسرى في أصابع الرجلين(5).

--------------------------------------------

(1) الفروع 1/ 116، الإنصاف 1/ 327.

(2) فتح الباري 1/ 315.

(3) وأما حديث أبي هريرة "فمن استطاع أن يطيل منكم غرته فليفعل "رواه الشيخان فهو مدرج من كلام أبي هريرة، وليس من كلام النبي صلى الله عليه وسلم، وهو فهمُ لأبي هريرة لم يوافقه غيره من الصحابة، والعبرة بما روى الصحابي لا بما رأى. انظر: فتح الباري 1/ 285، زاد المعاد 1/ 196.

(4) بلوغ المرام ص 10.

(5) حاشية الروض المربع 1/ 173.
‌‌৩৮ - ওজুর মধ্যে নাক ঝাড়া ওয়াজিব (واجب)، এটি ইমাম আহমদের একটি অভিমত(১) যা ইবনে হাজার(২) প্রাধান্য দিয়েছেন।

দলিল: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন ওজু করবে, সে যেন তার নাকে পানি দেয় এবং এরপর তা ঝেড়ে ফেলে।" এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আর নির্দেশের বাহ্যিক রূপ হলো ওয়াজিব (وجوب) হওয়া, এবং একে এই অর্থ থেকে সরিয়ে নেওয়ার মতো অন্য কোনো প্রমাণ নেই।

 

‌‌৩৯ - ওজু পরিপূর্ণ (إسباغ) করার অর্থ হলো: নির্ধারিত অঙ্গে পানি পৌঁছানো, সীমা অতিক্রম করা নয়(৩)।

ওজু পরিপূর্ণ করার দলিল হলো লাকিত বিন সাবরাহ (রা.)-এর হাদিস যাতে রয়েছে: "ওজু পরিপূর্ণ (إسباغ) করো।" এটি সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে খুজাইমাহ একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন(৪)।

 

‌‌৪০ - রোজাদার ব্যতীত অন্য ব্যক্তির জন্য নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে আধিক্য করা সুন্নাত (سنة)‌।

দলিল: লাকিতের পূর্ববর্তী হাদিস, যাতে রয়েছে: "এবং নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে আধিক্য করো, তবে যদি তুমি রোজাদার হও (তবে করো না)।"

 

‌‌৪১ - আঙুল খিলাল করা সুন্নাত (سنة)‌। হাতের আঙুলের ক্ষেত্রে একে অপরের মধ্যে প্রবেশের মাধ্যমে তা করতে হয়, আর পায়ের আঙুলের ক্ষেত্রে বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুল পায়ের আঙুলের মধ্যে প্রবেশের মাধ্যমে তা করতে হয়(৫)।

--------------------------------------------

(১) আল-ফুরু ১/১১৬, আল-ইনসাফ ১/৩২৭।

(২) ফাতহুল বারি ১/৩১৫।

(৩) আর আবু হুরায়রার হাদিস "তোমাদের মধ্যে যে সক্ষম সে যেন তার শুভ্রতাকে দীর্ঘ করে", যা বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তা আবু হুরায়রার নিজস্ব বক্তব্য থেকে প্রক্ষিপ্ত (مدرج), এটি নবী (সা.)-এর কথা নয়। এটি আবু হুরায়রার নিজস্ব অনুধাবন ছিল যার সাথে অন্য কোনো সাহাবী একমত হননি। আর গ্রহণযোগ্য হলো সাহাবীর বর্ণনা (যা তিনি বর্ণনা করেছেন), তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত নয়। দেখুন: ফাতহুল বারি ১/২৮৫, যাদুল মা’আদ ১/১৯৬।

(৪) বুলুগুল মারাম পৃ. ১০।

(৫) হাশিয়াতুর রওদিল মুরবি ১/১৭৩।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসারুল ওয়াফি লি-আহামম্মি মাসাইলিত ত্বাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الدليل: على مشروعية تخليل الأصابع: حديث لقيط السابق وفيه " وخلل بين الأصابع ".

وكذلك حيث ابن عباس رضي الله عنه قال صلى الله عليه وسلم: " خلّل أصابعَ يديك ورجليك" رواه أحمد(1).

وأما الدليل على الصفة المذكورة للتخليل فحديث المستورد بن شداد رضي الله عنه قال: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم إذا توضأ يدلك أصابع رجليه بخنصره " رواه أبو داود(2).

 

‌‌42 - يجب غسل ما تحت اللحية بالماء، فإن لم يُمكن غسله إلا بالتخليل وجب التخليل، وماعدا ذلك فسنة لا واجب. فصاحب اللحية الخفيفة - وهو من تبدو بشرة وجهه من خلالها - يجب عليه غسلُ ما تحتها، أما صاحب اللحية الكثّة - وهي التي تستر البشرة - فيأخذ كفَّاً من ماء، ثم يُخلِّل به الشعر حتى يرى أنه روّى البشرة.

الدليل: حديث عثمان بن عفان رضي الله عنه، وفيه: "أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يخلل لحيته في الوضوء"رواه ابن ماجه(3).

ويقال في العنفقة(4) ما يقال في اللحية وكذا باقي شعر الوجه.

 

‌‌43 - أقلُّ ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه توضأ بثُلُثَي مُدّ. والمدُّ: ربع الصاع، وهو ملءُ كفَّي الإنسان المعتدل إذا ملأهما ومدّ يده بهما.(5)

الدليل: حديث أم عمارة رضي الله عنها: أن النبي صلى الله عليه وسلم توضّأ فأتي بإناء فيه

--------------------------------------------

(1) وصحح إسناده أحمد شاكر في تحقيقه للمسند 3/ 170.

(2) وحسنه ابن حجر في هداية الرواة 1/ 221، وقد صحح الحديث الألباني في صحيح أبي داود حديث رقم (148). ولعل المراد الخنصر الأيسر دون الأيمن لكون الموضع موضعَ تنظُّفٍ فاستعملت الشمال لأنها المستعملة في إزالة القذى.

(3) وصححه الألباني في صحيح ابن ماجه حديث رقم (350).

(4) العَنفقة: هي شعيرات بين الشفة السفلى والذقن (المعجم الوسيط 1/ 631).

(5) القاموس المحيط مادة (مدّ) ص 407.
প্রমাণ: আঙুল খিলাল করার শরয়ী বিধানের ওপর: লাকিত-এর পূর্ববর্তী হাদিস, যেখানে রয়েছে "আঙুলগুলোর মাঝে খিলাল করো"।

অনুরূপভাবে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমার হাত ও পায়ের আঙুলগুলো খিলাল করো।" আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন(1)।

আর খিলাল করার উল্লিখিত পদ্ধতির প্রমাণ হলো মুস্তাওরিদ বিন শাদ্দাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস, তিনি বলেন: "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি, যখন তিনি অজু করতেন, তখন তিনি তাঁর পায়ের আঙুলগুলো তাঁর কনিষ্ঠ আঙুল দিয়ে ঘষতেন।" আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন(2)।

 

‌‌42 - দাড়ির নিচের অংশ পানি দিয়ে ধোয়া ওয়াজিব (يجب), যদি খিলাল করা ছাড়া তা ধোয়া সম্ভব না হয়, তবে খিলাল করা ওয়াজিব (وجب)। এছাড়া বাকি ক্ষেত্রে এটি সুন্নাত (سنة), ওয়াজিব (واجب) নয়। পাতলা দাড়িবিশিষ্ট ব্যক্তি—যার দাড়ির ভেতর দিয়ে চেহারার চামড়া দেখা যায়—তার জন্য এর নিচের অংশ ধোয়া ওয়াজিব (يجب)। পক্ষান্তরে ঘন দাড়িবিশিষ্ট ব্যক্তি—যা চামড়াকে ঢেকে রাখে—এক আঁজলা পানি নিয়ে তা দিয়ে চুল খিলাল করবেন, যতক্ষণ না তিনি মনে করেন যে চামড়া সিক্ত হয়েছে।

প্রমাণ: উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস, যাতে রয়েছে: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অজুর সময় তাঁর দাড়ি খিলাল করতেন।" ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন(3)।

আনফাকা (العنفقة)(4) বা নিচের ঠোঁটের পশম সম্পর্কে তা-ই বলা হবে যা দাড়ি সম্পর্কে বলা হয়েছে, এবং চেহারার বাকি পশমের ক্ষেত্রেও একই হুকুম।

 

‌‌43 - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সর্বনিম্ন যা প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে তা হলো, তিনি এক মুদ-এর দুই-তৃতীয়াংশ পানি দিয়ে অজু করেছেন। আর মুদ (المدُّ): হলো এক সা’-এর চার ভাগের এক ভাগ; যা একজন স্বাভাবিক মানুষের দুই হাতের পূর্ণ আঁজলা পরিমাণ, যখন সে হাত দুটি ভরে সম্প্রসারিত করে।(5)

প্রমাণ: উম্মে আম্মারা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদিস: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অজু করলেন, তখন তাঁর কাছে একটি পাত্র আনা হলো যাতে ছিল...

--------------------------------------------

(1) আহমাদ শাকির মুসনাদ-এর তাহকীকে এর সনদকে (إسناده) সহিহ (صحح) বলেছেন, 3/ 170।

(2) এবং ইবনে হাজার হিদায়াতুর রুওয়াত-এ একে হাসান (حسنه) বলেছেন, 1/ 221; আর আলবানি সহিহ আবু দাউদ-এ হাদিসটিকে সহিহ (صحح) বলেছেন, হাদিস নং (148)। সম্ভবত এখানে ডান হাতের পরিবর্তে বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুল উদ্দেশ্য, কারণ জায়গাটি পরিষ্কার করার জায়গা, তাই বাম হাত ব্যবহার করা হয়েছে যেহেতু এটি ময়লা দূর করতে ব্যবহৃত হয়।

(3) এবং আলবানি সহিহ ইবনে মাজাহ-তে একে সহিহ (صححه) বলেছেন, হাদিস নং (350)।

(4) আনফাকা (العَنفقة): এটি হলো নিচের ঠোঁট এবং থুতনির মধ্যবর্তী পশম (আল-মুজামুল ওয়াসিত 1/ 631)।

(5) আল-কামুসুল মুহিত, 'মুদ' (مدّ) পরিচ্ছেদ, পৃষ্ঠা 407।