(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: -)
تأكيد الوثاق في اشتراط الإشهاد عند الطلاق القسم: مسائل فقهية
الكتاب: تأكيد الوثاق في اشتراط الإشهاد عند الطلاق
المؤلف: عبد الحكيم صالح اليزيدي اليافعي
الناشر: دار اللؤلؤة للنشر والتوزيع، المنصورة - مصر
الطبعة: الأولى، 1447 هـ - 2025 م
عدد الصفحات: 44
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 30 محرم 1447
তাকীদুল ওয়াছাক ফী ইশতিরাতিল ইশহাদ ইনদাত তালাক বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: তাকীদুল ওয়াছাক ফী ইশতিরাতিল ইশহাদ ইনদাত তালাক
লেখক: আব্দুল হাকীম সালিহ আল-ইয়াযিদী আল-ইয়াফিয়ী
প্রকাশক: দারুল লুলুআহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, মানসুরা - মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪৭ হিজরি - ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৩০ মহররম ১৪৪৭
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة الإصدار الثاني:الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه، وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليماً، أما بعد. فبعد الإصدار الأول في 28 ربيع الآخر 1445 هـ لهذا الكتاب وقفتُ على حديثٍ لأبي فراس السلمي رضي الله عنه (الإبانة الكبرى 1/ 338 رقم 203) والذي كان عمدةً في إثبات حجية قول الصحابي وخصوصاً إذا قال "سنة" وغيره فشرعتُ في مراجعة الإصدار الأول لهذا الكتاب. وقد انتهيت من الإصدار الثاني في 1446/ 6/ 29 الموافق 30/ 12/ 2024.
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা:সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবিগণের (صحابة) ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাদের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন। অতঃপর, ২৮শে রবিউস সানি ১৪৪৫ হিজরিতে এই কিতাবটির প্রথম সংস্করণ প্রকাশের পর আমি আবু ফিরাস আস-সুলামি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত একটি হাদিসের সন্ধান পাই (আল-ইবানাহ আল-কুবরা ১/৩৩৮, নং ২০৩), যা সাহাবির (صحابي) বক্তব্যের প্রামাণিকতা (حجية) প্রমাণের ক্ষেত্রে একটি প্রধান ভিত্তি (عمدة), বিশেষ করে যখন তিনি "সুন্নাহ (سنة)" শব্দ ব্যবহার করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমি এই কিতাবটির প্রথম সংস্করণটি পুনরায় পর্যালোচনার কাজ শুরু করি। ২৯শে জুমাদাস সানি ১৪৪৬ হিজরি মোতাবেক ৩০শে ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে আমি দ্বিতীয় সংস্করণের কাজ সম্পন্ন করেছি।
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৬)
مقدمة الإصدار الأول:إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليما.
أما بعد،
فمع ازدياد في معدلات الطلاق بين المتزوجين شرعت في البحث عن أحكام الطلاق في الإسلام في ضوء الكتاب والسنة والصحابي والعلماء إلى أن وقفت على فتوى للعلامة الألباني يشترط الإشهاد لوقوع الطلاق (سلسلة الهدى والنور - شريط: 402). وقبله الإمام ابن حزم في المحلى بالآثار (10/ 17).
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই ও তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবী (صحابي)-গণের ওপর এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর শান্তি ও অজস্র রহমত বর্ষণ করুন।
অতঃপর,
বিবাহিত দম্পতিদের মধ্যে তালাকের হার বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে আমি কুরআন, সুন্নাহ, সাহাবী (صحابي) এবং আলেমগণের মতামতের আলোকে ইসলামের তালাক সংক্রান্ত বিধানাবলি নিয়ে গবেষণা শুরু করি। এক পর্যায়ে আমি আল্লামা আলবানী-এর একটি ফতোয়া সম্পর্কে অবগত হই যেখানে তিনি তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য সাক্ষী উপস্থিত থাকাকে শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন (সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর - ক্যাসেট: ৪০২)। তাঁর পূর্বে ইমাম ইবনে হাজম আল-মুহাল্লা বিল আসার (১০/ ১৭) গ্রন্থে এই মতটি প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৭)
وفي مراحل وضعي لهذا العمل وجدت من تكلمَ في هذه المسألة لم يستوعب لكافة الأحاديث والآثار في هذا الباب وخصوصاً روايات عمران بن حصين رضي الله عنه وهي العمدة في هذه المسألة والتي لم يُطرق لبعضها في كتب الفقه. وعليه قمت باستيعابها تلك الأثار تخريجاً وحكماً. ومن ثمَ شرعتُ في بيان أدلة من قال إن الإشهاد عند الطلاق مستحباً وأيضاً من قال إنه واجباً وشرطاً. ثم بيان أن الراجح هو اشتراط الإشهاد عند الطلاق والرجعة. سائلاً الله أن يخلص نياتنا ويتقبله وينفع به. هذا والله ولي التوفيق.
এই গবেষণাকর্মটি সংকলনের বিভিন্ন পর্যায়ে আমি লক্ষ্য করেছি যে, যারা এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন তারা এই অধ্যায়ের সকল হাদিস ও আসর (آثار) সামগ্রিকভাবে আয়ত্ত করতে পারেননি; বিশেষ করে ইমরান ইবনুল হুসাইন (রা.)-এর বর্ণনাগুলো, যা এই বিষয়ের প্রধান ভিত্তি হওয়া সত্ত্বেও ফিকহশাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে সেগুলোর সবকটির অবতারণা করা হয়নি। তাই আমি সেই আসর (آثار) সমূহকে উৎস বিশ্লেষণ (تخريج) এবং বিধান (حكم) প্রদানের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গভাবে সন্নিবেশিত করেছি। অতঃপর আমি তালাকের সময় সাক্ষী রাখা মুস্তাহাব (مستحب) মনে করেন এমন ব্যক্তিদের দলীলসমূহ এবং যারা একে ওয়াজিব (واجب) ও শর্ত (شرط) হিসেবে গণ্য করেন তাদের দলীলসমূহ বর্ণনা করতে প্রবৃত্ত হয়েছি। এরপর আমি স্পষ্ট করেছি যে, তালাক ও রাজআতের সময় সাক্ষী রাখার শর্তারোপ করাই অধিকতর গ্রহণযোগ্য (الراجح) মত। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদের নিয়তসমূহকে বিশুদ্ধ করেন, এটি কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে সবাইকে উপকৃত করেন। আল্লাহই তাওফিক দানকারী।
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৮)
أدلة المانعين لوقوع الطلاق بدون إشهاد عند الطلاق:فأما المانعون فقد استدلوا بنصوص صريحة صحيحة من الكتاب والسنة والصحابة والتي لها حكم المرفوع إلى النبي صلى الله عليه وسلم.
1) فمن الكتاب، قوله تعالى "يا أيها النبي إذا طلقتم النساء فطلقوهن لعدتهن وأحصوا العدة واتقوا الله ربكم لا تخرجوهن من بيوتهن ولا يخرجن إلا أن يأتين بفاحشة مبينة وتلك حدود الله ومن يتعد حدود الله فقد ظلم نفسه لا تدري لعل الله يحدث بعد ذلك أمرا * فإذا بلغن أجلهن فأمسكوهن بمعروف أو فارقوهن بمعروف وأشهدوا ذوي عدل منكم وأقيموا الشهادة لله ذلكم يوعظ به من كان يؤمن بالله واليوم الآخر ومن يتق الله يجعل له مخرجا" (الطلاق: 1 - 2). فالإشهاد في قوله تعالى "وأشهدوا ذوي عدل منكم" يعود على الطلاق والرجعة معاً لأثرٍ حسن لابن عباس رضي الله عنه.
2) أثر ابن عباس رضي الله عنه:قال ابن جرير الطبري: حدثني علي، قال: ثنا أبو صالح، قال: ثني معاوية عن علي عن ابن عباس قال: إن أراد مراجعتها قبل أن تنقضي
তালাকের সময় সাক্ষী রাখা ব্যতীত তালাক কার্যকর না হওয়ার প্রবক্তাদের দলিলসমূহ:পক্ষান্তরে যারা (সাক্ষী ব্যতীত তালাক) অবৈধ মনে করেন, তারা কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবীদের থেকে বর্ণিত এমন স্পষ্ট ও সহিহ (صحيحة) নস বা পাঠ দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু (المرفوع) হিসেবে গণ্য।
১) কুরআন থেকে দলিল, মহান আল্লাহর বাণী: "হে নবী, তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দাও, তখন তাদেরকে তালাক দাও তাদের ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং ইদ্দত গণনা কর। আর তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা তাদেরকে তাদের ঘর থেকে বহিষ্কার করো না এবং তারাও বের হবে না, যদি না তারা লিপ্ত হয় স্পষ্ট নির্লজ্জতায়। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমা অতিক্রম করে, সে নিজেরই ওপর জুলুম করে। তুমি জান না, হয়তো আল্লাহ এর পর কোনো নতুন পথ উন্মুক্ত করবেন। অতঃপর যখন তারা তাদের ইদ্দতকালে পৌঁছাবে, তখন তোমরা হয় তাদেরকে যথাযথভাবে রেখে দেবে, না হয় সদ্ভাবে তাদেরকে ত্যাগ করবে। আর তোমাদের মধ্য থেকে দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখবে এবং আল্লাহর ওয়াস্তে সাক্ষ্য প্রদান করবে। যারা আল্লাহ ও পরকালের ওপর বিশ্বাস রাখে, তাদেরকে এর দ্বারা উপদেশ দেওয়া হচ্ছে। আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য কোনো না কোনো পথ বের করে দেবেন।" (আত-তালাক: ১-২)। সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী "তোমাদের মধ্য থেকে দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখবে"-তে সাক্ষ্য রাখার বিষয়টি তালাক এবং রাজআত (প্রত্যাবর্তন) উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য; যা ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাসান (حسن) আসার (أثر) দ্বারা সমর্থিত।
২) ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর আসার (أثر):ইবনে জারির তাবারী বলেন: আলী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সালেহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া আমার নিকট আলী থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (ইবনে আব্বাস) বলেছেন: যদি সে ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে তাকে ফিরিয়ে নিতে চায়...
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৯)
عدتها أشهد رجلين كما قال الله (وأشهدوا ذوي عدل منكم) عند الطلاق وعند المراجعة" (تفسير الطبري 28/ 88) وهذا حديث حسن، فقد تُكلم في رواية علي بن أبي طلحة عن ابن عباس أنه لم يسمع من ابن عباس لكن علي بن أبي طلحة حمل عن مجاهد وعكرمة، قال الطحاوي "احتملنا حديث علي بن أبي طلحة عن ابن عباس رضي الله عنهما وإن كان لم يلقه لأنه عند أهل العلم بالأسانيد إنما أخذ الكتاب الذي فيه هذه الأحاديث عن مجاهد وعن عكرمة" (شرح مشكل الآثار 6/ 282 رقم 2483) وكذلك قال ابن حجر "لم يلق ابن عباس لكنه إنما حمل عن ثقات أصحابه" (العجاب في بيان الأسباب 1/ 207) وتُكلم أيضاً في أبي صالح عبد الله بن صالح في حديثه عن الليث إلا أن نسخته عن معاوية بن صالح عن علي بن أبي طلحة عن ابن عباس جيدة فقد أكثر منها البخاري في صحيحه، قال ابن حجر "لكنهم قالوا لم يسمع علي بن أبي طلحة من ابن عباس وإنما أخذ التفسير عن مجاهد وسعيد بن جبير عنه قلت بعد أن عرفت الواسطة وهي معروفة بالثقة حصل الوثوق به" (الأمالي المطلقة: صفحة 62). ويعضده ما جاء بسند حسن عن صاحب ابن عباس سعيد بن جبير أنه قال "الطلاق الذي أمر الله به أن يطلق الرجل امرأته وهي طاهر من غير جماع وأن يشهد على طلاقها وعلى
"তার ইদ্দতকালে আমি দুইজন পুরুষকে সাক্ষী রাখি যেমন আল্লাহ বলেছেন: (এবং তোমাদের মধ্য থেকে দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখো) তালাক এবং রাজআ (প্রত্যাবর্তন)-এর সময়।" (তাফসিরে তবারি ২৮/৮৮)। এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস; ইবনে আব্বাস থেকে আলী বিন আবি তালহার বর্ণিত বর্ণনার ব্যাপারে আপত্তি করা হয়েছে যে, তিনি সরাসরি ইবনে আব্বাস থেকে শ্রবণ করেননি, তবে আলী বিন আবি তালহা এটি মুজাহিদ এবং ইকরিমা থেকে গ্রহণ করেছেন। ইমাম তাহাবি বলেন: "আমরা ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত আলী বিন আবি তালহার হাদিসটি গ্রহণ করেছি যদিও তিনি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেননি, কারণ সনদসমূহ (الأسانيد) বিশেষজ্ঞ আলেমগণের নিকট এটি সাব্যস্ত যে, তিনি মূলত এই হাদিসসমূহ সম্বলিত পাণ্ডুলিপিটি মুজাহিদ এবং ইকরিমা থেকে গ্রহণ করেছিলেন।" (শরহু মুশকিলিল আসার ৬/২৮২, নম্বর ২৪৮৩)। অনুরুপভাবে ইবনে হাজার বলেছেন: "তিনি ইবনে আব্বাসের সাথে সাক্ষাৎ করেননি কিন্তু তিনি এটি তাঁর নির্ভরযোগ্য (ثقات) সাথীদের থেকে গ্রহণ করেছেন।" (আল-উজাব ফি বয়ানিল আসবাব ১/২০৭)। লাইস থেকে বর্ণিত হাদিসের ক্ষেত্রে আবু সালেহ আব্দুল্লাহ বিন সালেহ সম্পর্কেও সমালোচনা করা হয়েছে, তবে মুয়াবিয়া বিন সালেহ-এর সূত্রে আলী বিন আবি তালহা হয়ে ইবনে আব্বাস থেকে তাঁর কপিটি উত্তম (جيدة); ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে তা প্রচুর পরিমাণে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হাজার বলেন: "তবে তাঁরা বলেছেন আলী বিন আবি তালহা ইবনে আব্বাস থেকে সরাসরি শ্রবণ করেননি, বরং তিনি তাঁর থেকে মুজাহিদ ও সাঈদ বিন জুবাইরের মাধ্যমে তাফসীর গ্রহণ করেছেন। আমি বলি, যখন মধ্যস্থতাকারী সম্পর্কে জানা গেল এবং তিনি নির্ভরযোগ্যতা (بالثقة) হিসেবে পরিচিত, তখন এর ওপর আস্থা প্রতিষ্ঠিত হলো।" (আল-আমালি আল-মুতলাকাহ: পৃষ্ঠা ৬২)। আর একে শক্তিশালী করে যা ইবনে আব্বাসের ছাত্র সাঈদ বিন জুবাইর থেকে হাসান (حسن) সনদ (سند) সহকারে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "তালাক যার নির্দেশ আল্লাহ দিয়েছেন তা হলো—ব্যক্তি তার স্ত্রীকে এমন অবস্থায় তালাক দিবে যখন সে পবিত্র এবং তাঁর সাথে সহবাস করা হয়নি, আর তাঁর তালাকের ওপর এবং..."
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১০)
رجعتها إن أراد ذلك فذلك الطلاق الذي أمر الله به" (سنن سعيد بن منصور 1/ 299 رقم 1062). ويشهد لأثر ابن عباس هذا أثر الصحابي عمران بن حصين المتفق على صحته الذي سيأتي ذكره وهو العمدة في هذه المسألة.
3) أثر عمران بن حصين رضي الله عنه:لقد صح "أن عمران بن حصين سئل عن الرجل يطلق امرأته ثم يقع بها ولم يشهد على طلاقها ولا على رجعتها فقال: طلقت لغير سنة وراجعت لغير سنة أشهد على طلاقها وعلى رجعتها ولا تعد"، أخرجه أبو داود في سننه (2/ 257 رقم 2186) وقال: حدثنا بشر بن هلال أن جعفر بن سليمان حدثهم عن يزيد الرشك عن مطرف بن عبد الله أن عمران بن حصين .... الأثر". وإسناده صحيح.
وفي روايات أخرى صريحة صحيحة عن عمران بن حصين مدارها على محمد بن سيرين أو مطرف أن رجلاً سألَ عمران ومرةً سُئل عمران عن رجل طلقَ ولم يشهد وراجعَ ولم يشهد:
أ) فقد أخرجَ الطبراني في المعجم الكبير وقال "حدثنا عبدان بن أحمد ثنا سليمان بن أيوب صاحب البصري ثنا جعفر بن سليمان عن
"তার ফিরিয়ে নেওয়া (رجعة), যদি সে তা চায়, তবে এটাই সেই তালাক যার আদেশ আল্লাহ দিয়েছেন" (সুনানে সাঈদ ইবনে মানসুর ১/২৯৯, নম্বর ১০৬২)। ইবনে আব্বাসের এই বর্ণনাটির (أثر) সপক্ষে সাহাবী ইমরান ইবনে হুসাইনের সেই বর্ণনাটি (أثر) সাক্ষ্য দেয় যার বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে ঐকমত্য (متفق عليه) পোষণ করা হয়েছে এবং যা সামনে উল্লেখ করা হবে। এই মাসআলায় এটিই প্রধান ভিত্তি।
৩) ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনা (أثر):এটি বিশুদ্ধ (صح) বলে প্রমাণিত যে, "ইমরান ইবনে হুসাইনকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে, অতঃপর তার সাথে মিলিত হয়েছে অথচ তার তালাকের ওপর বা তার ফিরিয়ে নেওয়ার (رجعة) ওপর কোনো সাক্ষী রাখেনি। তখন তিনি বললেন: তুমি সুন্নাহ বহির্ভূত পদ্ধতিতে তালাক দিয়েছ এবং সুন্নাহ বহির্ভূত পদ্ধতিতে ফিরিয়ে নিয়েছ। তার তালাক ও ফিরিয়ে নেওয়ার ওপর সাক্ষী রাখো এবং পুনরায় এমনটি করো না", এটি আবু দাউদ তার সুনানে (২/২৫৭, নম্বর ২১৮৬) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "আমাদের নিকট বিশর ইবনে হিলাল বর্ণনা করেছেন যে, জাফর ইবনে সুলাইমান তাদের নিকট ইয়াজিদ আর-রিশক থেকে, তিনি মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইমরান ইবনে হুসাইন .... (পুরো বর্ণনাটি)"। আর এর সনদ (إسناد) বিশুদ্ধ (صحيح)।
ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণিত আরও কিছু স্পষ্ট ও বিশুদ্ধ (صحيحة) বর্ণনা (روايات) রয়েছে যার সূত্র (مدار) মুহাম্মদ ইবনে সিরিন অথবা মুতাররিফ-এর ওপর আবর্তিত; যেখানে এক ব্যক্তি ইমরানকে জিজ্ঞাসা করেছিল এবং অন্য এক সময় ইমরানকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তালাক দিয়েছে কিন্তু সাক্ষী রাখেনি এবং ফিরিয়ে নিয়েছে কিন্তু সাক্ষী রাখেনি:
ক) ইমাম তাবারানি আল-মুজাম আল-কবির-এ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন "আমাদের নিকট আবদান ইবনে আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি সুলাইমান ইবনে আইয়ুব সাহিবুল বাসরি থেকে, তিনি জাফর ইবনে সুলাইমান থেকে..."
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১১)
يزيد الرشك عن مطرف قال: سئل عمران بن حصين عن رجل طلق امرأته تطليقة ولم يشهد ثم راجعها ولم يشهد؟ فقال عمران "طلقت لغير سنة وراجعت لغير سنة أشهد على طلاقها وعلى رجعتها" (المعجم الكبير 18/ 130 رقم 271). وهذا الخبر يعضد ما أخرجه الطحاوي في أحكام القرآن الكريم (2/ 328 رقم 1807) وقال: حدثنا يحيى قال حدثنا نعيم قال حدثنا ابن المبارك قال حدثنا جعفر بن سليمان عن يزيد الرشك قال حدثنا مطرف عن عمران "فيمن طلق واحدة ثم وقع بها ولم يشهد على طلاقها ولا على رجعتها فقال: طلق لغير عدة وراجع لغير سنة، ليشهد على طلاقه وعلى رجعتها ولا يعد". وهذا الإسناد رجاله موثقون وإن تُكلم في نعيم بن حماد إلا أنه حسن فالراوي عن نعيم هو يحيى بن معين وهو أعرف الناس بحماد لقول ابن معين " نعيم بن حماد، ثقة صدوق رجل صدق، أنا أعرف الناس به" (تاريخ بغداد رقم 7237) وابن معين لا يروي إلا ثقة وقد سبر ابن عدي أحاديثه المتكلم فيها وقال "وعامة ما أنكر عليه هو هذا الذي ذكرته وارجوا ان يكون باقي حديثه مستقيما" ولم يذكر هذا الحديث (الكامل في ضعفاء الرجال رقم 1959).
ইয়াজিদ আর-রিশক মুতাররিফ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তার স্ত্রীকে এক তালাক দিয়েছে এবং কোনো সাক্ষী রাখেনি, অতঃপর তাকে পুনরায় ফিরিয়ে নিয়েছে (রুজূ করেছে) অথচ সাক্ষী রাখেনি? তখন ইমরান (রা.) বললেন, "তুমি সুন্নাহর পরিপন্থী পদ্ধতিতে তালাক দিয়েছ এবং সুন্নাহর পরিপন্থী পদ্ধতিতে ফিরিয়ে নিয়েছ; তার তালাক এবং ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সাক্ষী রাখো।" (আল-মু'জাম আল-কাবীর ১৮/১৩০, নং ২৭১)। এই বর্ণনাটি ইমাম তাহাবি কর্তৃক আহকামুল কুরআন আল-কারীম (২/৩২৮, নং ১৮০৭) গ্রন্থে বর্ণিত বর্ণনাটিকে শক্তিশালী করে। তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন জাফর ইবনে সুলাইমান ইয়াজিদ আর-রিশক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুতাররিফ ইমরান থেকে বর্ণনা করেছেন: "এমন ব্যক্তি সম্পর্কে যে এক তালাক দিয়েছে এবং এরপর তার সাথে মিলিত হয়েছে অথচ তালাক বা ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সাক্ষী রাখেনি। তখন তিনি বললেন: সে ইদ্দত বহির্ভূত পদ্ধতিতে তালাক দিয়েছে এবং সুন্নাহর পরিপন্থী পদ্ধতিতে ফিরিয়ে নিয়েছে; সে যেন তার তালাক ও ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সাক্ষী রাখে এবং পুনরায় এমন কাজ না করে।" এই সূত্রের (إسناد) রাবীগণ নির্ভরযোগ্য (موثقون), যদিও নুআইম বিন হাম্মাদ সম্পর্কে কিছুটা সমালোচনা রয়েছে, তবে তিনি হাসান (حسن) স্তরের। আর নুআইম থেকে বর্ণনাকারী হলেন ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, যিনি হাম্মাদ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞাত। কেননা ইবনে মাঈন বলেছেন, "নুআইম বিন হাম্মাদ একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة), সত্যবাদী (صدوق) এবং সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তি, আমি তার সম্পর্কে মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি জানি।" (তারিখে বাগদাদ, নং ৭২৩৭)। আর ইবনে মাঈন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি ছাড়া কারো থেকে বর্ণনা করেন না। ইবনে আদি তার সেই সকল হাদিসসমূহ পর্যালোচনা করেছেন যেগুলোর সমালোচনা করা হয়েছে এবং তিনি বলেছেন: "তার থেকে যা কিছু বর্জনীয় (منكر) গণ্য করা হয়েছে তা সাধারণত এই যা আমি উল্লেখ করেছি; আমি আশা করি তার বাকি হাদিসসমূহ সঠিক (مستقيم) হবে।" আর তিনি এই হাদিসটি উল্লেখ করেননি (আল-কামিল ফি দুয়াফা আল-রিজাল, নং ১৯৫৯)।
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১২)
ب) وصحَ عن عمران أنه قال "طلقتَ في غير عدة وارتجعتَ في غير سنة"، أخرجه عبد الرزاق في مصنفه (6/ 136 رقم 10258) وقال: عن الثوري عن يونس بن عبيد عن ابن سيرين عن عمران بن الحصين قال: .... الأثر". وإسناده صحيح.
ت) وصحَ عن عمران أنه قال "طلق في غير عدة وارتجع في غير سنة فليشهد على طلاقه وعلى مراجعته وليستغفر الله"، أخرجه عبد الرزاق في مصنفه (6/ 135 رقم 10255) وقال: عن معمر عن أيوب عن ابن سيرين قال: سأل رجل عمران بن حصين عن رجل طلق ولم يشهد وراجع ولم يشهد" قال: .... الأثر". ورجاله ثقات وإن تكلم في معمر فهو "ثقة ثبت فاضل إلا أن في روايته عن ثابت والأعمش وهشام بن عروة وعاصم بن أبي النجود شيئا وكذا فيما حدث به بالبصرة" (تقريب التهذيب رقم 6809) وهذا الأثر حدث معمر به في اليمن بعد أن رحل لليمن فلم يرويه عنه إلا عبد الرزاق وعبد الرزاق كان في اليمن وهو أثبت الناس في حديث معمر (تاريخ ابن معين - رواية الدوري رقم 538) وقال ابن رجب: قال أحمد في رواية الأثرم: حديث عبد الرزاق عن معمر أحب إلي من حديث هؤلاء البصريين، كان يتعاهد كتبه وينظر، يعني باليمن، وكان
খ) ইমরান (রা.) থেকে প্রমাণিত (صحيح) হয়েছে যে তিনি বলেছেন, "তুমি ইদ্দত ছাড়াই তালাক দিয়েছ এবং সুন্নাহ বহির্ভূতভাবে পুনরায় গ্রহণ করেছ"। এটি আব্দুর রাজ্জাক তার মুসান্নাফ গ্রন্থে (৬/১৩৬, নং ১০২৫৮) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: সাওরি থেকে, তিনি ইউনুস ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি ইবনে সিরিন থেকে এবং তিনি ইমরান বিন হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: .... আছারটি"। আর এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)।
গ) ইমরান (রা.) থেকে প্রমাণিত (صحيح) হয়েছে যে তিনি বলেছেন, "যে ব্যক্তি ইদ্দত ছাড়াই তালাক দিল এবং সুন্নাহ বহির্ভূতভাবে পুনরায় গ্রহণ করল, সে যেন তার তালাক ও পুনরায় গ্রহণের ওপর সাক্ষী রাখে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে"। এটি আব্দুর রাজ্জাক তার মুসান্নাফ গ্রন্থে (৬/১৩৫, নং ১০২৫৫) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: মা’মার থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি ইমরান বিন হুসাইন (রা.)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে তালাক দিয়েছে কিন্তু সাক্ষী রাখেনি এবং পুনরায় গ্রহণ করেছে কিন্তু সাক্ষী রাখেনি, তিনি বললেন: .... আছারটি"। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات); যদিও মা’মার সম্পর্কে সমালোচনা রয়েছে, তবুও তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), সুদৃঢ় (ثبت) ও শ্রেষ্ঠ (فاضل) ব্যক্তি, তবে সাবিত, আমাশ, হিশাম ইবনে উরওয়াহ এবং আসিম বিন আবিদ নুজুদ থেকে তার বর্ণনায় কিছু সমস্যা রয়েছে এবং অনুরূপভাবে বসরার অধিবাসীদের কাছে তার বর্ণিত হাদিসগুলোর ক্ষেত্রেও (তাকরিবুত তাহজিব, নং ৬৮০৯)। আর এই আছারটি মা’মার ইয়ামেনে হিজরত করার পর সেখানে বর্ণনা করেছিলেন, তাই আব্দুর রাজ্জাক ছাড়া আর কেউ তার থেকে এটি বর্ণনা করেননি। আব্দুর রাজ্জাক ইয়ামেনে ছিলেন এবং মা’মারের হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য (أثبت الناس) ব্যক্তি (তারিখে ইবনে মায়িন - রিওয়ায়াতুদ দুরি, নং ৫৩৮)। ইবনে রজব বলেন: আল-আছরামের বর্ণনায় ইমাম আহমাদ বলেছেন: মা’মারের সূত্রে আব্দুর রাজ্জাকের হাদিস আমার কাছে ওইসব বসরার বর্ণনাকারীদের হাদিসের চেয়ে বেশি পছন্দনীয়; তিনি তার কিতাবসমূহ নিয়মিত দেখাশোনা ও পর্যবেক্ষণ করতেন, অর্থাৎ ইয়ামেনে থাকাকালীন।
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
يحدثهم بخطأ بالبصرة" (شرح علل الترمذي: صفحة 121). وأخرج أيضاً عبد الرزاق في مصنفه (6/ 135 رقم 10256) وقال: قال معمر وحدثني قتادة عن العلاء بن زياد عن عمران بن الحصين بمثل ذلك". وإن كان معمر ضُعف في قتادة وعنعنَ قتادة فيه وهو مدلس إلا أن كل من الإسناديين يعضد الآخر فلا ينزل هذا الأثر عن درجة الحسن.
ث) وصحَ عن عمران أنه قال "بئس ما صنع، طلق في بدعة وارتجع في غير سنة، ليشهد على ما فعل" (مصنف عبد الرزاق 6/ 136 رقم 10257)، أخرجه عبد الرزاق وقال: عن ابن جريج قال: أخبرني أيوب بن أبي تميمة عن ابن سيرين: أن رجلا سأل عمران بن الحصين، فقال: رجل طلق ولم يشهد وراجع ولم يشهد قال
… الأثر". ويشهد له ما أخرجه الطبراني وقال: حدثنا إسحاق بن إبراهيم الدبري عن عبد الرزاق عن ابن جريج أنا أيوب بن أبي تميمة عن ابن سيرين أن رجلا سأل عمران بن حصين فقال: رجل طلق ولم يشهد وراجع ولم يشهد؟ قال:
… الأثر" (المعجم الكبير 18/ 181 رقم 421). وإسناده صحيح وإن تُكلم في إسحاق بن إبراهيم الدبري، قال الذهبي "قال ابن عدي: استصغر في عبد الرزاق،
"তিনি তাদের নিকট বসরায় ভুল বর্ণনা করতেন" (শারহু ইলালিত তিরমিযী: পৃষ্ঠা ১২১)। আব্দুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফ-এও (৬/১৩৫, নং ১০২৫৬) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: মা'মার বলেছেন, কাতাদাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আলা ইবনে যিয়াদ থেকে, তিনি ইমরান ইবনুল হুসাইন থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। যদিও মা'মার কাতাদাহর বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল সাব্যস্ত হয়েছেন (ضُعف) এবং কাতাদাহ এতে 'আন' শব্দে বর্ণনা (عنعن) করেছেন অথচ তিনি একজন মুদাল্লিস (مدلس), তবুও এই দুটি সনদের প্রতিটিই অপরটিকে শক্তিশালী করে, ফলে এই আসার (الأثر) হাসান (الحسن) পর্যায়ের নিচে নামবে না।
৩) ইমরান (রা.) থেকে সহিহ সাব্যস্ত হয়েছে (صح) যে তিনি বলেছেন, "সে যা করেছে তা খুবই মন্দ, সে বিদআত অনুযায়ী তালাক দিয়েছে এবং সুন্নাহ বহির্ভূতভাবে রাজআত করেছে; সে যা করেছে তার ওপর যেন সাক্ষী রাখে" (মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক ৬/১৩৬, নং ১০২৫৭)। আব্দুর রাজ্জাক এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আইয়ুব ইবনে আবি তামিমাহ ইবনে সিরিন থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে: এক ব্যক্তি ইমরান ইবনুল হুসাইনকে জিজ্ঞাসা করল: এক ব্যক্তি তালাক দিয়েছে কিন্তু সাক্ষী রাখেনি এবং রাজআত করেছে কিন্তু সাক্ষী রাখেনি? তিনি বললেন
… আসার (الأثر)"। এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয় তাবারানি যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আদ-দাবারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, আইয়ুব ইবনে আবি তামিমাহ ইবনে সিরিন থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, এক ব্যক্তি ইমরান ইবনুল হুসাইনকে জিজ্ঞাসা করল: এক ব্যক্তি তালাক দিয়েছে কিন্তু সাক্ষী রাখেনি এবং রাজআত করেছে কিন্তু সাক্ষী রাখেনি? তিনি বললেন:
… আসার (الأثر)" (আল-মু'জামুল কাবির ১৮/১৮১, নং ৪২১)। এবং এর সনদ (إسناده) সহিহ (صحيح), যদিও ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আদ-দাবারি সম্পর্কে সমালোচনা করা হয়েছে। যাহাবি বলেন, "ইবনে আদি বলেছেন: আব্দুর রাজ্জাকের নিকট (হাদিস শ্রবণের সময়) তাকে অল্পবয়স্ক গণ্য করা হয়েছে,
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أحضره أبوه عنده وهو صغير جدًا فكان يقول: قرأنا على عبد الرزاق، قرأ غيره وحدث عنه بأحاديث منكرة" ثم تعقبه الذهبي فقال "ساق له حديثًا واحدًا من طريق ابن أنعم الإفريقي يحتمل مثله فأين الأحاديث الذي ادعى أنها له مناكير والدبري صدوق محتج به في الصحيح سمع كتبًا فأداها كما سمعها" (تاريخ الإسلام 6/ 714). وأخرجه أيضاً الطبراني فقال: وحدثنا علي بن عبد العزيز ثنا حجاج بن المنهال ثنا حماد عن أيوب وهشام وحبيب عن محمد بن سيرين عن عمران بن حصين بمثله" (المعجم الكبير 18/ 181 رقم 422). وإسناده صحيح.
ج) وصحَ عن عمران أنه قال "إن طلقَ في غير عدة وراجعَ في غير سنة فليشهدْ الآن" (السنن الكبرى للبيهقي 7/ 611 رقم 15189)، أخرجه البيهقي من طريق حماد بن سلمة عن قتادة ويونس بن عبيد عن الحسن وأيوب عن ابن سيرين عن عمران، ورجاله ثقات وإن تكلم في حماد بن سلمة من جهة اختلاطه فهو ثقة وفي هذا الحديث روى حماد عن قتادة وهو من أصحاب قتادة الثقات وعندما ذكره الدارمي في أصحاب قتادة وسأل الدارمي ابن معين عن حاله فقال "ثقة" (تاريخ ابن معين - رواية الدارمي صفحة 49) وسبر ابن عدي
তাঁর পিতা তাঁকে অতি শৈশবে তাঁর নিকট নিয়ে এসেছিলেন, তখন তিনি বলতেন: "আমরা আব্দুর রাজ্জাকের নিকট পড়েছি"; মূলত অন্য কেউ পাঠ করত আর তিনি তাঁর পক্ষ থেকে কিছু অস্বীকৃত (منكرة) হাদিস বর্ণনা করেছেন। অতঃপর ইমাম যাহাবি এর সমালোচনা করে বলেন, "তিনি ইবনে আনআম আল-ইফরিকির সূত্রে তাঁর পক্ষ থেকে মাত্র একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যার মতো বর্ণনা গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তাহলে সেই হাদিসগুলো কোথায় যেগুলোকে তিনি অস্বীকৃত (مناكير) বলে দাবি করেছেন? আদ-দাবারি একজন সত্যবাদী (صدوق) বর্ণনাকারী, সহিহ গ্রন্থে যাঁর বর্ণনা দলিলযোগ্য (محتج به)। তিনি কিতাবসমূহ শ্রবণ করেছেন এবং যেভাবে শুনেছেন ঠিক সেভাবেই তা বর্ণনা করেছেন।" (তারিখুল ইসলাম ৬/৭১৪)। ইমাম তাবারানিও এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমাদের নিকট আলি ইবনে আব্দুল আজিজ বর্ণনা করেছেন, তিনি হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল থেকে, তিনি হাম্মাদ থেকে, তিনি আইয়ুব, হিশাম ও হাবিব থেকে, তাঁরা মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন থেকে, আর তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।" (আল-মুজামুল কাবির ১৮/১৮১, নম্বর ৪২২)। আর এর সনদটি সহিহ (صحيح)।
গ) ইমরান থেকে সহিহ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, "যদি কেউ ইদ্দত চলাকালীন ব্যতীত তালাক প্রদান করে এবং সুন্নাহ বহির্ভূতভাবে রাজআত করে, তবে সে যেন এখন সাক্ষী রাখে।" (আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকি ৭/৬১১, নম্বর ১৫১৮৯)। ইমাম বায়হাকি এটি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ—কাতাদাহ ও ইউনুস ইবনে উবাইদ—হাসান ও আইয়ুব—ইবনে সিরিন—ইমরান সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। যদিও হাম্মাদ ইবনে সালামাহর স্মৃতিভ্রম (اختلاط) ঘটার কারণে তাঁর ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে, তথাপি তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)। আর এই হাদিসটিতে হাম্মাদ কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ তিনি কাতাদাহর নির্ভরযোগ্য (الثقات) সাথীদের অন্তর্ভুক্ত। যখন ইমাম দারিমি কাতাদাহর সাথীদের মধ্যে তাঁর কথা উল্লেখ করেন এবং ইবনে মাঈনকে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তখন তিনি বলেন, "নির্ভরযোগ্য (ثقة)।" (তারিখ ইবনে মাঈন - রেওয়ায়াতুদ দারিমি, পৃষ্ঠা ৪৯)। আর ইবনে আদি এটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أحاديث حماد المتكلم فيها في الكامل في ضعفاء الرجال (431) ولم يذكر هذا الأثر.
ح) وصحَ عن عمران بن حصين أنه قال "طلقَ في غير سنة وراجعَ في غير عدة، ليشهدْ الآن"، أخرجه الطبراني (المعجم الكبير 18/ 182 رقم 423) وقال: حدثنا أحمد بن محمد الخزاعي الأصبهاني ثنا موسى بن إسماعيل ثنا أبو هلال ثنا محمد بن سيرين قال: سئل عمران بن حصين عن رجل طلق ولم يشهد، وراجع ولم يشهد؟ فقال
… الأثر". وإسناده حسن. وإن تكلم في أبي هلال محمد بن سليم الراسبي في مروياته عن قتادة وهو لا ينزل عن درجة حسن الحديث. وقد توبع أبو هلال الراسبي عند ابن المقرئ في معجمه (185/ 568) وقال: حدثنا أبو الحسين أحمد بن محمد بن نصير بن إبان ثنا أحمد بن عصام ثنا أزهر بن سعد، عن ابن عون عن محمد بن سيرين قال: سئل عمران بن حصين عن رجل طلق امرأته فلم يعلمها، وراجع فلم يشهد قال: "بئس ما صنع، طلق لغير السنة، وراجع لغير العدة، ليشهد على ما صنع". وهذا إسناد حسن فرجاله موثقون سوى أبي الحسين أحمد بن محمد بن نصير فقد روى عنه أبو بكر ابن المقرئ (معجم ابن المقرئ 185/ 568) والحافظ
হাম্মাদের সেই সমস্ত হাদিস যেগুলোর ব্যাপারে আপত্তি তোলা হয়েছে (المتكلم فيها), সেগুলো 'আল-কামিল ফি দুয়াফাউর রিজাল' (৪৩১)-এ বর্ণিত হয়েছে, তবে তিনি এই আছারটি উল্লেখ করেননি।
৮) ইমরান বিন হুসাইন (রা.) থেকে সহিহ (صحيح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, "সুন্নত বহির্ভূতভাবে তালাক দেওয়া হয়েছে এবং ইদ্দত বহির্ভূতভাবে রাজআত (প্রত্যাবর্তন) করা হয়েছে; সে যেন এখনই সাক্ষী রাখে।" এটি তাবারানি বর্ণনা করেছেন (আল-মু'জামুল কাবির ১৮/১৮২, নম্বর ৪২৩) এবং তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-খুজায়ি আল-আসবাহানি, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুসা বিন ইসমাইল, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু হিলাল, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সিরিন, তিনি বলেন: ইমরান বিন হুসাইন (রা.)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তালাক দিয়েছে কিন্তু সাক্ষী রাখেনি, এবং রাজআত করেছে কিন্তু সাক্ষী রাখেনি? তিনি বললেন
… আছারটি।" আর এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن)। যদিও আবু হিলাল মুহাম্মদ বিন সুলাইম আল-রাসিবির কাতাদাহ থেকে বর্ণিত বর্ণনার ব্যাপারে আপত্তি তোলা হয়েছে (تكلم فيه), তবুও তার মান হাসান (حسن) হাদিসের স্তরের নিচে নয়। ইবনুল মুকরি তার মু'জামে (১৮৫/৫৬৮) আবু হিলাল আল-রাসিবির বর্ণনার ক্ষেত্রে সমর্থনমূলক বর্ণনা (توبع) উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল হুসাইন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন নুসায়ের বিন আবান, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন ইসাম, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আযহার বিন সাদ, তিনি ইবনে আউন থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন সিরিন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইমরান বিন হুসাইন (রা.)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে কিন্তু তাকে জানায়নি এবং রাজআত করেছে কিন্তু সাক্ষী রাখেনি। তিনি বললেন: "সে যা করেছে তা মন্দ। সে সুন্নত বহির্ভূতভাবে তালাক দিয়েছে এবং ইদ্দত বহির্ভূতভাবে রাজআত করেছে; সে যা করেছে তার জন্য যেন সাক্ষী রাখে।" আর এটি একটি হাসান (حسن) সনদ (إسناد); কেননা আবুল হুসাইন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন নুসায়ের ব্যতীত এর সকল বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য (موثقون)। তার থেকে আবু বকর ইবনুল মুকরি (মু'জাম ইবনুল মুকরি ১৮৫/৫৬৮) এবং হাফিজ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
محمد بن علي بن عمر بن مهدي الأصبهاني (ثلاثة مجالس من أمالي أبي سعيد النقاش 1/ 35 رقم 34) وأبو بكر بن مردويه (تاريخ الإسلام 45/ 202) وأخرج له الضياء المقدسي في الأحاديث المختارة (10/ 225 رقم 238) ولم يرد فيه جرح فلا ينزل عن درجة حسن الحديث.
وإلى هنا وجب القول إن عمران بن حصين رضي الله عنه هو من فقهاء الصحابة فقد أخرج أبو نعيم بسند صحيح في معرفة الصحابة (4/ 2108 رقم 5297) وقال: حدثنا سليمان بن أحمد ثنا علي بن عبد العزيز ثنا أبو نعيم ثنا هشام بن سعد عن سعيد بن أبي هلال عن أبي الأسود الدؤلي قال: قدمت البصرة وبها أبو نجيد عمران بن الحصين وكان عمر بن الخطاب بعثه يفقه أهل البصرة". وكذلك ابن سيرين قال "ما قدم البصرة أحد من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم يفضل على عمران بن الحصين" (المعجم الكبير 18/ 104 رقم 190). وأما ما جاء عن الدارقطني أنه قال "لم يسمع] محمد بن سيرين [من عمران بن حصين" (تهذيب التهذيب 3/ 587) إلا أن هذا القول إن صح من الدارقطني لا يسلم به فمحمد بن سيرين ثقة ولم يعرف بالتدليس وقد توفي في 110 هـ (تقريب التهذيب رقم 5947) وعليه
মুহাম্মদ বিন আলি বিন উমর বিন মাহদি আল-আসবাহানি (সালাসা মাজালিস মিন আমালি আবি সাঈদ আন-নাক্কাশ ১/ ৩৫, নং ৩৪) এবং আবু বকর বিন মারদুওয়াহ (তারিখ আল-ইসলাম ৪৫/ ২০২) এবং আদ-দিয়া আল-মাকদিসি আল-আহাদিস আল-মুখতারা (১০/ ২২৫, নং ২৩৮) গ্রন্থে তার হাদিস বর্ণনা করেছেন। তার সম্পর্কে কোনো সমালোচনা (جرح) পাওয়া যায়নি, তাই তার মান হাসান পর্যায়ের হাদিস (حسن الحديث) থেকে নিচে নামবে না।
এখান থেকে এটি বলা আবশ্যক যে, ইমরান বিন হুসাইন (রা.) সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে ফকিহদের (فقهاء) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আবু নুআইম মারেফাত আস-সাহাবাহ (৪/ ২১০৮, নং ৫২৯৭) গ্রন্থে একটি সহিহ সনদ (سند صحيح) সহ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "সুলাইমান বিন আহমদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আলি বিন আব্দুল আজিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম বিন সাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আবি হিলাল থেকে, তিনি আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালি থেকে বর্ণনা করেন, যিনি বলেন: 'আমি বসরায় আসলাম এবং সেখানে আবু নুজাইদ ইমরান বিন আল-হুসাইন ছিলেন। উমর বিন আল-খাত্তাব তাকে বসরার অধিবাসীদের ফিকহ বা দ্বীনি জ্ঞান শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রেরণ করেছিলেন'।" অনুরূপভাবে ইবনে সিরিন বলেছেন, "নবী (সা.)-এর সাহাবীদের মধ্যে যারা বসরায় এসেছেন, তাদের মধ্যে ইমরান বিন আল-হুসাইনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই" (আল-মুজাম আল-কাবির ১৮/ ১০৪, নং ১৯০)। আর দারাকুতনি থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "মুহাম্মদ বিন সিরিন ইমরান বিন হুসাইন থেকে শ্রবণ করেননি (لم يسمع)" (তাহজিব আত-তাহজিব ৩/ ৫৮৭); তবে দারাকুতনির এই উক্তিটি যদি সঠিকও হয়, তবুও তা গ্রহণ করা যায় না। কেননা মুহাম্মদ বিন সিরিন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ছিলেন এবং তিনি তাদলিস বা তথ্য গোপনের (التدليس) জন্য পরিচিত ছিলেন না। তিনি ১১০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (তাকরিব আত-তাহজিব নং ৫৯৪৭) এবং এর ভিত্তিতে...
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فإدراكه لعمران رضي الله عنه المتوفي في 52 هـ (تقريب التهذيب رقم 5150) راجح وقد صرح ابن سيرين بسماعه من عمران رضي الله عنه فيما أخرجه مسلم في صحيحه (1/ 137 رقم 218) وقال: حدثنا يحيى بن خلف الباهلي حدثنا المعتمر عن هشام بن حسان عن محمد - يعني: ابن سيرين - قال: حدثني عمران قال
… الحديث".
لفظ "سنة" لها حكم الرفع:وهذا الأثر موقوف اصطلاحاً ومع قول عمران بن حصين فيه "لغير سنة" فيكون مرفوع حكماً للنبي صلى الله عليه وسلم لأن الصحابة لا يهتدون ولا يأخذون الا بسنة النبي صلى الله عليه وسلم لقوله صلى الله عليه وسلم "لم يكن نبي قط إلا كان له من أمته حواريون وأصحاب يتبعون أمره ويهتدون بسنته
… " (الإبانة الكبرى 1/ 212 رقم 54 وشعب الإيمان 6/ 86 رقم 7560 بألفاظ قريبة) والفعل المضارع هنا في "يهتدون" يفيد أن هذا حالهم على الدوام. ولما رواه أبو فراس الأسلمي رضي الله عنه عن صلى الله عليه وسلم "والذي نفسي بيده لا يبتدع رجل شيئا ليس في سنتي ولا في سنة أصحابي إلا كان ما خالف خيرا مما ابتدع ولا تزال به بدعته حتى يجحد كل ما جئت به" (الإبانة الكبرى 1/ 338 رقم 203). وإيضاً صحَ إن ابن مسعود قال "إن رسول الله صلى الله عليه وسلم علمنا سنن الهدى" (صحيح مسلم 1487) والذي يدل على إن إستعمال الصحابي كلمة "سنة" لها حكم الرفع لان النبي صلى الله عليه وسلم هو الذي علم أصحابه السنة التي يكون بها الهدى. وبه فهم التابعين ومن بعدهم فقد أخرج ابن خزيمة في صحيحه من حديث ابن شهاب عن سالم
৫২ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী ইমরান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর (তাকরিবুত তাহযিব, নম্বর: ৫১৫০) সাথে তার সাক্ষাৎ পাওয়াটি (إدراك) অধিক যুক্তিযুক্ত (راجح)। আর ইবনে সিরিন সরাসরি ইমরানের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কাছ থেকে শোনার (سماع) বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, যা মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে (১/১৩৭, নম্বর ২১৮) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "ইয়াহইয়া ইবনে খালাফ আল-বাহিলি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি মুতামির থেকে, তিনি হিশাম ইবনে হাসসান থেকে, তিনি মুহাম্মদ — অর্থাৎ ইবনে সিরিন — থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইমরান আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন
… হাদিস"।"
"সুন্নাহ" শব্দের মারফু হওয়ার বিধান (حكم الرفع) থাকা:আর এই বর্ণনাটি (أثر) পরিভাষাগতভাবে মাওকুফ (موقوف); তবে এতে ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি "সুন্নাহ পরিপন্থী" থাকায় এটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি মারফু হুকমি (مرفوع حكماً) হিসেবে গণ্য হবে। কারণ সাহাবীগণ কেবল নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুসারেই হিদায়াত লাভ করতেন এবং তা গ্রহণ করতেন। কেননা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "এমন কোনো নবী অতিক্রান্ত হননি যার উম্মতের মধ্যে তাঁর এমন কিছু হাওয়ারি ও সাহাবী ছিল না, যারা তাঁর আদেশ অনুসরণ করত এবং তাঁর সুন্নাহ অনুযায়ী হিদায়াত লাভ করত
… " (আল-ইবানাহ আল-কুবরা ১/২১২ নম্বর ৫৪ এবং শুআবুল ঈমান ৬/৮৬ নম্বর ৭৫৬০, কাছাকাছি শব্দে)। এখানে "يهتدون" (তারা হিদায়াত লাভ করে) বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়াটি (فعل مضارع) নির্দেশ করে যে, এটি সর্বদা তাদের অবস্থা ছিল। এছাড়াও আবু ফিরাাস আল-আসলামি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন: "সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, কোনো ব্যক্তি যখন এমন কোনো নতুন বিষয়ের উদ্ভাবন করে যা আমার সুন্নাহ কিংবা আমার সাহাবীদের সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে সে যা বর্জন করেছে তা তার উদ্ভাবিত বিষয় অপেক্ষা উত্তম ছিল। আর তার এই বিদআত তাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ছাড়বে না যতক্ষণ না সে আমার আনীত সব কিছুকে অস্বীকার করবে" (আল-ইবানাহ আল-কুবরা ১/৩৩৮ নম্বর ২০৩)। তদ্রূপ এটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صح) যে, ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, "নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের হিদায়াতের সুন্নাহসমূহ শিক্ষা দিয়েছেন" (সহিহ মুসলিম ১৪৮৭)। যা প্রমাণ করে যে, সাহাবী কর্তৃক "সুন্নাহ" শব্দের ব্যবহার মারফু হওয়ার বিধান (حكم الرفع) রাখে, কারণ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ই তাঁর সাহাবীদের সেই সুন্নাহ শিক্ষা দিয়েছিলেন যার মাধ্যমে হিদায়াত লাভ হয়। তাবিঈন (التابعين) এবং তাদের পরবর্তীগণও বিষয়টি এভাবেই বুঝেছেন। ইমাম ইবনে খুজাইমা তাঁর সহিহ গ্রন্থে ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সালেম থেকে বর্ণিত হাদিস সংকলন করেছেন...
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بنِ عبد الله بن عمر عن أبيه في قصته مع الحجاج حين قال سالم له: إن كنت تريد السنة فهجر بالصلاة. قال ابن شهاب: لسالم: أفعل ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فقال: إنما يتبعون سنته" (صحيح ابن خزيمة 4/ 253 رقم 2813). فنقل سالم - وهو أحد الفقهاء السبعة من المدينة وأحد الحفاظ من التابعين - عن الصحابة أنهم إذا أطلقوا السنة فإنهم لا يريدون بذلك إلا سنة النبي صلى الله عليه وسلم.
معنى لفظ "غير سنة":هذا ولفظ "غير سنة" التي قاله الصحابي لا تأتي في كتب السنة إلا بمعنى البدعة أو خلاف الدين لأمورٍ:
الأول: لقول النبي صلى الله عليه وسلم "والذي نفسي بيده لا يبتدع رجل شيئا ليس في سنتي ولا في سنة أصحابي إلا كان ما خالف خيرا مما ابتدع ولا تزال به بدعته حتى يجحد كل ما جئت به" (الإبانة الكبرى 1/ 338 رقم 203)،
والثاني: لقول عمران رضي الله عنه مرةً "طلقَ في بدعة" (مصنف عبد الرزاق 6/ 136 رقم 10257) فيمن طلقَ ولم يشهدْ، وعمران هو راوي الحديث وهو أدرى بحديثه،
বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর তাঁর পিতা থেকে হাজ্জাজের সাথে তাঁর ঘটনার বর্ণনায় বলেন যে, তখন সালেম তাঁকে বলেছিলেন: "যদি আপনি সুন্নাহ (سنة) অনুসরণ করতে চান, তবে নামাজের জন্য আগেভাগে বের হোন।" ইবনে শিহাব সালেমকে জিজ্ঞেস করলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এমনটি করতেন?" তিনি বললেন: "তারা তো তাঁর সুন্নাহরই (سنة) অনুসরণ করে থাকেন" (সহিহ ইবনে খুজাইমা ৪/২৫৩, নম্বর ২৮১৩)। সালেম—যিনি মদিনার সাত ফকিহ এবং তাবেয়ীদের মধ্য হতে অন্যতম একজন সংরক্ষণকারী (الحفاظ)—সাহাবায়ে কেরাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা যখন কেবল 'সুন্নাহ' (سنة) শব্দটি উচ্চারণ করেন, তখন এর দ্বারা তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (سنة) ব্যতীত অন্য কিছু বোঝান না।
"সুন্নাহ বহির্ভূত" (غير سنة) শব্দের অর্থ:সাহাবীগণ কর্তৃক ব্যবহৃত "সুন্নাহ বহির্ভূত" (غير سنة) শব্দটি হাদিসের কিতাবসমূহে বিদআত (بدعة) বা দ্বীন-পরিপন্থী অর্থ ব্যতীত অন্য কোনো অর্থে আসেনি। এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে:
প্রথমত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর কারণে: "যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ! কোনো ব্যক্তি যখন এমন কোনো নতুন বিষয়ের উদ্ভাবন (يبتدع) করে যা আমার সুন্নাহ (سنة) বা আমার সাহাবীদের সুন্নাহর (سنة) অন্তর্ভুক্ত নয়, তখন সে যা কিছু বর্জন করল তা সেই নবউদ্ভাবিত বিষয় থেকে উত্তম ছিল। আর তার সেই বিদআত (بدعة) তাকে ততক্ষণ ছাড়বে না যতক্ষণ না সে আমার আনীত সব কিছু অস্বীকার করে বসবে" (আল-ইবানাতুল কুবরা ১/৩৩৮, নম্বর ২০৩)।
দ্বিতীয়ত: ইমরান রাদিয়াল্লাহু আনহুর একটি উক্তির কারণে, তিনি একবার বলেছিলেন: "সে বিদআতি (بدعة) উপায়ে তালাক দিয়েছে" (মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক ৬/১৩৬, নম্বর ১০২৫৭)—এটি তিনি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলেছিলেন যে সাক্ষী রাখা ছাড়াই তালাক প্রদান করেছিল। ইমরান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজেই এই হাদিসের বর্ণনাকারী এবং তিনি তাঁর বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
والثالث: لقول حذيفة رضي الله عنه "لو مت مت على غير سنة محمد صلى الله عليه وسلم" وفي روايةٍ أخرى قال حذيفة "ما صليت ولو مت مت على غير الفطرة التي فطر الله محمداً صلى الله عليه وسلم عليها" (صحيح البخاري 1/ 158 رقم 791). ويؤكد ذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم "من مات على هذا مات على غير ملة محمد ينقر صلاته كما ينقر الغراب الدم" (صحيح ابن خزيمة 1/ 332 رقم 665) وإسناد حسن ورجاله ثقات سوى شيبة بن الأحنف الأوزاعي وهو حسن الحديث، فقد قال عنه ابن عبد الهادي "لا بأس به" في تعليقة على العلل لابن أبي حاتم (1/ 210) وذكره ابن حبان في الثقات وروى عنه الوليد بن مسلم ومحمد بن شعيب بن شابور وهشام أبو عبد الله صاحب الصدقة (تهذيب التهذيب 4/ 375) ولم يرد فيه جرح،
والرابع: فقد صح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال "من رغب عن سنتي فليس مني
… فإن لكل عابد شرة ولكل شرة فترة فإما إلى سنة وإما إلى بدعة فمن كانت فترته إلى سنة فقد اهتدى ومن كانت فترته إلى غير ذلك فقد هلك" (مسند أحمد 11/ 8 رقم 6477 ومسند البزار 6/ 338 رقم 2346 وإتحاف المهرة بزوائد المسانيد العشرة 1/ 102) وفي روايةٍ "أنا أصلي وأنام وأصوم وأفطر ولكل عمل شرة
তৃতীয়ত: হুযায়ফা (রা.)-এর উক্তির কারণে, "যদি আমি (এভাবে) মৃত্যুবরণ করি, তবে আমি মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ (سنة) ব্যতীত অন্য কিছুর ওপর মৃত্যুবরণ করব।" অন্য এক বর্ণনায় হুযায়ফা (রা.) বলেন, "তুমি তো নামাজই পড়নি; আর যদি তুমি (এভাবে) মৃত্যুবরণ করতে, তবে তুমি সেই ফিতরাত (স্বভাবজাত ধর্ম) ব্যতীত অন্য কিছুর ওপর মৃত্যুবরণ করতে, যার ওপর আল্লাহ মুহাম্মদ (সা.)-কে সৃষ্টি করেছেন" (সহীহ বুখারী ১/১৫৮, নম্বর ৭৯১)। নবি (সা.)-এর এই উক্তিটি বিষয়টিকে সুদৃঢ় করে: "যে ব্যক্তি এ অবস্থায় মারা গেল, সে মুহাম্মদের আদর্শের বাইরে মৃত্যুবরণ করল; সে তার নামাজে এমনভাবে ঠোকর দিচ্ছিল যেমন কাক রক্তে ঠোকর দেয়" (সহীহ ইবনে খুজাইমা ১/৩৩২, নম্বর ৬৬৫)। আর এর সূত্র (إسناد) হাসান (حسن) এবং শাইবা বিন আল-আহনাফ আল-আওযায়ী ব্যতীত এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। আর তিনি (শাইবা) হাসানুল হাদিস (حسن الحديث); ইবনে আব্দুল হাদি তাঁর সম্পর্কে 'তালীকা আলাল ইলাল' লি ইবনি আবি হাতিম (১/২১০)-এ বলেছেন, "তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به)"। ইবনে হিব্বান তাঁকে আস-সিকাত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর থেকে ওয়ালিদ বিন মুসলিম, মুহাম্মদ বিন শুয়াইব বিন শাবুর এবং হিশাম আবু আব্দুল্লাহ সাহেবুস সাদাকাহ বর্ণনা করেছেন (তাহযীবুত তাহযীব ৪/৩৭৫)। তাঁর ব্যাপারে কোনো সমালোচনা (جرح) পাওয়া যায়নি।
চতুর্থত: নবি (সা.) থেকে এটি সহীহ (صح) সাব্যস্ত হয়েছে যে তিনি বলেছেন, "যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ (سنة) থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল, সে আমার দলভুক্ত নয়
… নিশ্চয়ই প্রত্যেক ইবাদতকারীর একটি উদ্যম থাকে এবং প্রত্যেক উদ্যমের একটি শৈথিল্য থাকে। সেই শৈথিল্য কখনো সুন্নাহর (سنة) দিকে ধাবিত হয়, আবার কখনো বিদআতের (بدعة) দিকে। যার শৈথিল্য সুন্নাহর (سنة) দিকে হয়, সে হিদায়াত প্রাপ্ত হলো। আর যার শৈথিল্য অন্য কিছুর দিকে হয়, সে ধ্বংস হলো" (মুসনাদে আহমদ ১১/৮, নম্বর ৬৪৭৭, মুসনাদে বাযযার ৬/৩৩৮, নম্বর ২৩৪৬ এবং ইতহাফুল মাহারা বি যাওয়ায়েদিল মাসানিদিল আশারা ১/১০২)। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, "আমি সালাত আদায় করি ও ঘুমাই, রোজা রাখি ও রোজা ভঙ্গ করি, আর প্রত্যেক আমলেরই একটি উদ্যম রয়েছে..."
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২০)
ولكل شرة فترة فمن كانت فترته إلى سنة فقد اهتدى ومن تكن إلى غير ذلك فقد ضل ومن رغب عن سنتي فليس مني" (شرح مشكل الآثار 3/ 267 رقم 1238 - 1240) وأيضاً "من رغب عن سنتي فليس مني، إن لكل عمل شرة ثم فترة فمن كانت فترته إلى بدعة فقد ضل ومن كانت فترته إلى سنة فقد اهتدى" (مسند أحمد 38/ 457 رقم 23474).
والشرة والفترة في الطلاق هو في التلاعب بالطلاق فقد صح عن زيد بن وهب أنه قال "لقي رجل رجلا لعاباً بالمدينة فقال: أطلقت امرأتك؟ قال: نعم قال: كم؟ قال: ألفاً قال: فرفع إلى عمر قال: فطلقت امرأتك؟ " قال: إنما كنت ألعب" فعلاه بالدرة وقال: إنما يكفيك من ذلك ثلاثة" (مصنف عبد الرزاق 6/ 393 رقم 11340) ويؤكده قول النبي صلى الله عليه وسلم "ما بال أقوام يلعبون بحدود الله طلقتك راجعتك طلقتك راجعتك" (السنن الكبرى للبيهقي 7/ 528 رقم 14898). وهذا التلاعب في الطلاق رفضه النبي صلى الله عليه وسلم لقوله "لم يقول أحدكم لامرأته قد طلقتك قد راجعتك ليس هذا بطلاق المسلمين، طلقوا المرأة في قبل طهرها " (السنن الكبرى للبيهقي 7/ 528 رقم 14900) وإسناده حسن وقد تُكلم في يزيد بن عبد الرحمن الدالاني
"এবং প্রত্যেক তেজস্বিতা ও উদ্যমের একটি অবসাদ (فترة) রয়েছে। অতএব যার অবসাদ সুন্নাহর দিকে ধাবিত হয় সে সুপথ প্রাপ্ত হয়েছে, আর যার অবসাদ এর বাইরে অন্য কিছুর দিকে ধাবিত হয় সে পথভ্রষ্ট হয়েছে। আর যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহর প্রতি বিমুখ হয়, সে আমার দলভুক্ত নয়" (শরহু মুশকিলিল আসার ৩/২৬৭, নম্বর ১২৩৮ - ১২৪০)। আরও বর্ণিত হয়েছে, "যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহর প্রতি বিমুখ হয় সে আমার দলভুক্ত নয়। নিশ্চয়ই প্রতিটি আমলের একটি তেজস্বিতা রয়েছে এবং অতঃপর তার একটি অবসাদ (فترة) রয়েছে। অতএব যার অবসাদ বিদআতের দিকে ধাবিত হয় সে পথভ্রষ্ট হয়েছে, আর যার অবসাদ সুন্নাহর দিকে ধাবিত হয় সে সুপথ প্রাপ্ত হয়েছে" (মুসনাদ আহমাদ ৩৮/৪৫৭, নম্বর ২৩৪৭৪)।
তালাকের ক্ষেত্রে তেজস্বিতা ও অবসাদ বলতে মূলত তালাক নিয়ে খেল-তামাশা করাকে বোঝানো হয়েছে। যায়িদ বিন ওয়াহাব থেকে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে যে তিনি বলেন, "মদিনায় এক ব্যক্তি জনৈক উপহাসকারী ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করল এবং তাকে জিজ্ঞেস করল: আপনি কি আপনার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: কতবার? তিনি বললেন: এক হাজার বার। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর বিষয়টি উমর (রা.)-এর নিকট উত্থাপন করা হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কি তোমার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছ? সে বলল: আমি তো কেবল খেল-তামাশা করছিলাম। তখন উমর (রা.) তাকে দোররা দিয়ে প্রহার করলেন এবং বললেন: তোমার জন্য তো এ থেকে তিনবারই যথেষ্ট" (মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক ৬/৩৯৩, নম্বর ১১৩৪০)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী একে সমর্থন করে: "সেই সম্প্রদায়ের কী হলো যারা আল্লাহর সীমারেখা নিয়ে খেলা করে! আমি তোমাকে তালাক দিলাম, আমি তোমাকে ফিরিয়ে নিলাম, আমি তোমাকে তালাক দিলাম, আমি তোমাকে ফিরিয়ে নিলাম" (আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকি ৭/৫২৮, নম্বর ১৪৮৯৮)। তালাক নিয়ে এই উপহাস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যাখ্যান করেছেন, কেননা তিনি বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন তার স্ত্রীকে না বলে যে ‘আমি তোমাকে তালাক দিয়েছি, আমি তোমাকে ফিরিয়ে নিয়েছি’, এটি মুসলমানদের তালাক নয়। তোমরা নারীদের তাদের পবিত্রতার শুরুতে তালাক দাও" (আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকি ৭/৫২৮, নম্বর ১৪৯০০)। এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن); আর ইয়াজিদ বিন আবদুর রহমান আদ-দালানি সম্পর্কে সমালোচনা (تكلم فيه) রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২১)
وهو حسن الحديث فقد قال عنه ابن معين والنسائي "ليس به بأس" وأبو حاتم "صدوق ثقة" والحاكم "أن الأئمة المتقدمين شهدوا له بالصدق والإتقان" وروى عنه الثقات الأثبات منهم شعبة والثوري (تهذيب التهذيب 12/ 82) وقال الذهبي "يزيد بن عبد الرحمن أبو خالد الدالاني مشهور حسن الحديث" (المغني في الضعفاء رقم 7122).
إطلاق الصحابي "غير سنة" على الطلاق:وقول عمران رضي الله عنه "لغير سنة" هو الطلاق البدعي وذلك أن نفس الصحابي قال مرةً "طلقَ في بدعة" (مصنف عبد الرزاق 6/ 136 رقم 10257) فيكون طلاق السائل بدعياً وعليه فطلاقه مردود لقوله صلى الله عليه وسلم "من فعل في أمرنا ما لا يجوز فهو رد" (مسند أبي داود الطيالسي 3/ 43 رقم 1525 والإبانة الكبرى 1/ 311 رقم 147) والذي "لا يجوز" هنا هو عدم الإشهاد لقول الصحابي "ولا تعد" الذي يفيد النهي كما جاء في أمره "وأشهد على طلاقها وعلى رجعتها ولا تعد" (سنن أبي داود 2/ 257 رقم 2186). فُعلم أن الطلاق إما سني وإيما بدعي كما صرح عمران "طلقَ في بدعةٍ" وهو الذي يكون فيه الندم قطعاً. ودليل ذلك ما قاله علي رضي الله عنه "ما طلق رجل طلاق
তিনি উত্তম পর্যায়ের হাদিস বর্ণনাকারী (حسن الحديث); ইবনে মাঈন ও নাসায়ী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, "তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (ليس به بأس)" এবং আবু হাতিম বলেছেন, "তিনি সত্যবাদী (صدوق) ও নির্ভরযোগ্য (ثقة)"। আল-হাকিম বলেছেন, "নিশ্চয়ই পূর্ববর্তী ইমামগণ তাঁর সত্যবাদিতা (بالصدق) ও নিপুণতার (الإتقان) সাক্ষ্য দিয়েছেন।" তাঁর থেকে নির্ভরযোগ্য (الثقات) ও সুদৃঢ় (الأثبات) বর্ণনাকারীগণ হাদিস বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে শু'বাহ ও সাওরী অন্যতম (তাহযিবুত তাহযিব ১২/ ৮২)। আয-যাহাবী বলেছেন, "ইয়াযিদ বিন আব্দুর রহমান আবু খালিদ আদ-দালানী প্রসিদ্ধ (مشهور) এবং উত্তম পর্যায়ের হাদিস বর্ণনাকারী (حسن الحديث)" (আল-মুগনী ফিজ-যুয়াফা নং ৭১২২)।
তালাকের ক্ষেত্রে সাহাবীর "সুন্নাহ বহির্ভূত (غير سنة)" পরিভাষা ব্যবহার:ইমরান (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর উক্তি "সুন্নাহ বহির্ভূত (لغير سنة)" বলতে বিদআতি তালাক (الطلاق البدعي)-কে বোঝানো হয়েছে। কেননা, এই সাহাবী নিজেই একবার বলেছেন, "বিদআতি (بدعة) পন্থায় তালাক দিয়েছে" (মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক ৬/ ১৩৬ নং ১০২৫৭)। ফলে প্রশ্নকারীর তালাক বিদআতি (بدعياً) হিসেবে গণ্য হবে এবং সেই অনুযায়ী তার তালাক প্রত্যাখ্যাত (مردود)। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের ব্যাপারে এমন কোনো কাজ করল যা অনুমোদিত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত (رد)" (মুসনাদ আবি দাউদ আত-তায়ালিসি ৩/ ৪৩ নং ১৫২৫ এবং আল-ইবানাহ আল-কুবরা ১/ ৩১১ নং ১৪৭)। এখানে যা "অনুমোদিত নয়" তা হলো সাক্ষী না রাখা; কেননা সাহাবীর উক্তি "আর এমনটি করো না (ولا تعد)" দ্বারা নিষেধাজ্ঞা (النهي) প্রকাশ পায়, যেমনটি তাঁর এই নির্দেশে এসেছে— "তার তালাক ও প্রত্যাবর্তনের সময় সাক্ষী রাখো এবং পুনরায় এমন করো না" (সুনানে আবি দাউদ ২/ ২৫৭ নং ২১৮৬)। এ থেকে জানা গেল যে, তালাক হয় সুন্নাহসম্মত (سني) অথবা বিদআতি (بدعي) হবে, যেমনটি ইমরান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন: "বিদআতি (بدعة) পন্থায় তালাক দিয়েছে", আর এমন তালাকের ক্ষেত্রেই নিশ্চিতভাবে অনুশোচনা তৈরি হয়। এর দলিল হলো আলী (রাযিআল্লাহু আনহু) যা বলেছেন, "কোনো ব্যক্তি যদি তালাক দেয়...
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২২)
السنة فيندم أبداً" (السنن الكبرى 7/ 542 رقم 14917 والأحاديث المختارة 2/ 248 رقم 625).
الإشهاد شرط لصحة الطلاق:ويؤيد أن الإشهاد شرطٌ عند القيام بالطلاق أمران:
الأمر الأول: إبطالُ الصحابي طلاق السائل لعدم الإشهاد وكذلك الرجعة بدون شهود بقوله "طلقَ في غير عدة" (السنن الكبرى للبيهقي 7/ 611 رقم 15189) لأن الطلاق الصحيح يُعتدُ له لقوله تعالى "فطلقوهن لعدتهن" (الطلاق: 1). فلو كان الصحابي يرى وقوع طلاق السائل بدون الحاجة للإشهاد لما احتاج أن يقول "طلقتَ في غير عدة" أو لقالَ "طلقتَ في عدة" أو نحوه لقوله تعالى "فطلقوهن لعدتهن" ولكنه لم يره صحيحاً فقال "طلقتَ في غير عدة" وقد كانت أول تطليقة له (المعجم الكبير 18/ 130 رقم 271 وأحكام القران 2/ 328 رقم 1807)، قال الحافظ أبو الفضل عياض بن موسى "قول عمران بن حصين: طلقَ في غير عدة" معناه أنه لما لم يشهد عند طلاقه لم يحسب له تلك الأيام من العدة ولا تعتد بها" (التنبيهات المستنبطة على الكتب المدونة والمختلطة 2/ 705). ويؤكد ما تقدم هنا هو ما قاله عمران "راجعَ في غير عدة"
সুন্নাহর পরিপন্থী কাজ করার ফলে সে চিরকাল অনুতপ্ত হবে" (সুনানুল কুবরা ৭/ ৫৪২ নং ১৪৯১৭ এবং আল-আহাদিসুল মুখতারাহ ২/ ২৪৮ নং ৬২৫)।
তালাক বিশুদ্ধ (صحة) হওয়ার জন্য সাক্ষী রাখা একটি শর্ত (شرط):তালাক প্রদানের সময় সাক্ষী রাখা যে একটি শর্ত (شرط), তা দুটি বিষয় দ্বারা সমর্থিত হয়:
প্রথম বিষয়: সাক্ষী না রাখার কারণে সাহাবী কর্তৃক প্রশ্নকারীর তালাককে বাতিল গণ্য করা এবং একইভাবে সাক্ষী ব্যতীত রাজআত (رجعة) করাকে বাতিল গণ্য করা; তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে: "তুমি ইদ্দত (عدة) বহির্ভূত অবস্থায় তালাক দিয়েছ" (বায়হাকীর সুনানুল কুবরা ৭/ ৬১১ নং ১৫১৮৯)। কারণ সঠিক (صحيح) তালাক ইদ্দতের (عدة) জন্য গণনা করা হয়, মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "সুতরাং তোমরা যখন স্ত্রীদের তালাক দাও, তখন তাদের ইদ্দতের (عدة) প্রতি লক্ষ্য রেখে তালাক দাও" (আত-তালাক: ১)। সুতরাং যদি সাহাবী সাক্ষী রাখার প্রয়োজন ছাড়াই প্রশ্নকারীর তালাক কার্যকর (وقوع) হওয়া বৈধ মনে করতেন, তবে তাঁর "তুমি ইদ্দত (عدة) বহির্ভূত অবস্থায় তালাক দিয়েছ" বলার প্রয়োজন হতো না; অথবা তিনি বলতেন, "তুমি ইদ্দতের (عدة) মধ্যে তালাক দিয়েছ" বা অনুরূপ কিছু। কিন্তু তিনি সেটাকে সঠিক (صحيح) মনে করেননি, তাই বলেছেন "তুমি ইদ্দত (عدة) বহির্ভূত অবস্থায় তালাক দিয়েছ", অথচ সেটি ছিল তার প্রথম তালাক (আল-মু'জামুল কাবীর ১৮/ ১৩০ নং ২৭১ এবং আহকামুল কুরআন ২/ ৩২৮ নং ১৮০৭)। হাফিজ আবুল ফজল ইয়াজ ইবনে মুসা বলেন, "ইমরান ইবনে হুসাইনের উক্তি: 'সে ইদ্দত (عدة) বহির্ভূত অবস্থায় তালাক দিয়েছে' এর অর্থ হলো, যেহেতু সে তালাকের সময় সাক্ষী রাখেনি, তাই সেই দিনগুলো তার জন্য ইদ্দত (عدة) হিসেবে গণ্য হবে না এবং সেগুলোর মাধ্যমে ইদ্দত (عدة) পালন সম্পন্ন হবে না" (আত-তানবিহাতুল মুস্তানবাতাহ আলাল কুতুবিল মুদাওওয়ানাহ ওয়াল মুখতালিাতাহ ২/ ৭০৫)। এখানে যা বর্ণিত হয়েছে, তাকে ইমরানের এই উক্তিটি আরও সুদৃঢ় করে: "সে ইদ্দত (عدة) বহির্ভূত অবস্থায় রাজআত (رجعة) করেছে"।
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
(المعجم الكبير 18/ 182 رقم 423) فيمن راجعَ ولم يشهدْ. فلو كانت مراجعته صحيحةً بدون إشهاد عند المراجعة لما احتاج أن يقول "راجعَ في غير عدة" أو لقالَ "راجعَ في عدة" أو نحوه لقوله تعالى "فإذا بلغن أجلهن فأمسكوهن بمعروف أو فارقوهن بمعروف" ولقول ابن عباس أيضاً "إن أراد مراجعتها قبل أن تنقضي عدتها
… الأثر" فالمراجعة لا تكون إلا في عدةٍ ولكنه لم يرى مراجعته صحيحاً فقال "راجعَ في غير عدة". فجاء جوابه موافقاً بقوله "أشهد على طلاقها وعلى رجعتها ولا تعد" (سنن أبي داود 2/ 257 رقم 2186)،
والأمر الثاني: استخدام عمران رضي الله عنه "إن" الشرطية وأيضاً إبطاله الطلاق في مكانٍ واحدٍ في قوله "إن طلق في غير عدة وراجع في غير سنة فليشهد الآن" (السنن الكبرى للبيهقي 7/ 611 رقم 15189). فقوله "إن" هو "إن" الشرطية وقوله "طلق في غيرة عدة" هو إبطالٌ لطلاقه معاً في مكانٍ واحدٍ فجاء جوابه "فليشهد الآن" والذي يلزم منه إعادة الطلاق مع الأتيان بالإشهاد عند الطلاق وكذلك عند المراجعة كما جاء موضحاً في قوله "فأشهد على طلاقها وعلى رجعتها ولا تعد" (سنن أبي داود 2/ 257 رقم 2186). ونظيره قول
(আল-মু'জাম আল-কাবীর ১৮/ ১৮২, নম্বর ৪২৩) সেই ব্যক্তি সম্পর্কে যে (স্ত্রীকে) পুনরায় ফিরিয়ে নিয়েছে কিন্তু সাক্ষী রাখেনি। যদি ফিরিয়ে নেওয়ার সময় সাক্ষী প্রদান ব্যতিরেকেই তার এই ফিরিয়ে নেওয়া বিশুদ্ধ (صحيحة) হতো, তবে "ইদ্দত বহির্ভূত অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়েছে" বলার প্রয়োজন হতো না অথবা তিনি বলতেন "ইদ্দত চলাকালীন ফিরিয়ে নিয়েছে" বা অনুরূপ কিছু। কেননা মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তারা যখন তাদের ইদ্দতকালে পৌঁছাবে, তখন তোমরা হয় তাদেরকে যথাযথভাবে রেখে দাও অথবা যথাযথভাবে তাদের সাথে বিচ্ছেদ করো।" এবং ইবনে আব্বাসেরও উক্তি রয়েছে: "যদি তিনি তার ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে তাকে ফিরিয়ে নিতে চান
… বর্ণনা (الأثر)"। মূলত ইদ্দত চলাকালীন সময় ব্যতিরেকে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু তিনি তার ফিরিয়ে নেওয়াকে বিশুদ্ধ (صحيح) মনে করেননি বলেই বলেছিলেন "সে ইদ্দত বহির্ভূত অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়েছে"। ফলে তার উত্তরটি এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে এসেছে এভাবে যে, "তার তালাক ও তার ফিরিয়ে নেওয়ার ওপর সাক্ষী রাখো এবং পুনরায় এমন করো না" (সুনানে আবু দাউদ ২/ ২৫৭, নম্বর ২১৮৬),
এবং দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: ইমরান (রা.) কর্তৃক শর্তবাচক "ইন" (যদি) এর ব্যবহার এবং একই সাথে এক স্থানে তালাককে বাতিল ঘোষণা করা; তিনি বলেছেন, "যদি ইদ্দত বহির্ভূত অবস্থায় তালাক দেয় এবং সুন্নাহ বহির্ভূতভাবে ফিরিয়ে নেয়, তবে সে যেন এখন সাক্ষী রাখে" (আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ৭/ ৬১১, নম্বর ১৫১৮৯)। এখানে তার ব্যবহৃত "ইন" শব্দটি হলো শর্তবাচক "ইন" এবং তার উক্তি "ইদ্দত বহির্ভূত অবস্থায় তালাক দিয়েছে" দ্বারা একই সাথে তার তালাক বাতিল হওয়া বুঝানো হয়েছে। তাই তার উত্তর এসেছে "সে যেন এখন সাক্ষী রাখে", যা থেকে তালাকের সময় সাক্ষী রাখার পাশাপাশি পুনরায় তালাক দেওয়া এবং ফিরিয়ে নেওয়ার সময়ও সাক্ষী রাখা আবশ্যক হয়। যেমনটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে তার এই উক্তিতে: "তার তালাক ও তার ফিরিয়ে নেওয়ার ওপর সাক্ষী রাখো এবং পুনরায় এমন করো না" (সুনানে আবু দাউদ ২/ ২৫৭, নম্বর ২১৮৬)। এবং এর অনুরূপ হলো...
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
النبي صلى الله عليه وسلم للمسيء صلاته " أعد صلاتك فإنك لم تصل"، فقال: يا رسول الله، كيف أصنع؟ فقال "إذا استقبلت القبلة فكبر
… " (صحيح ابن حبان 2/ 75 رقم 948) على الرغم من أن الرجل قد صلى لقول راوي الحديث - رفاعة رضي الله عنه "جاء رجل ورسول الله صلى الله عليه وسلم في المسجد فصلى قريباً منه
… الحديث". فعُلم أن لا تصح صلاة إلا بتكبيرة الإحرام. فإن صلى بدون التكبير عند استقبال القبلة فيلزم منه إعادة الصلاة مع الأتيان بالتكبير عند استقبال القبلة لقوله صلى الله عليه وسلم "أعد صلاتك فإنك لم تصلي" وأيضاً "إذا استقبلت القبلة فكبر". وكذلك الإشهاد عند الطلاق لقول الصحابي "إن طلق في غير عدة وراجع في غير سنة فليشهد الآن" (السنن الكبرى للبيهقي 7/ 611 رقم 15189). فعُلم من قوله إنه لا يصح طلاق إلا بإشهاد. فلزمَ منه إعادة الطلاق مع الأتيان بالإشهاد عند الطلاق لقوله رضي الله عنه "طلقت لغير سنة" و"طلق في بدعة" و"راجع في غير عدة" و"فليشهد الآن" و"أشهد على طلاقها وعلى رجعتها ولا تعد".
وأيضاً إن كان النكاح لا يصح إلا بالإشهاد عند القيام بالنكاح لقوله صلى الله عليه وسلم "لا نكاح إلا بولي وشاهدي عدل" (التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان 6/ 198 رقم 4063، قال الألباني عنه حسن
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাতে ভুলকারী ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, "তোমার সালাত পুনরায় আদায় করো, কেননা তুমি সালাত আদায় করোনি", তখন সে আরজ করল: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কীভাবে করব? তিনি বললেন, "যখন তুমি কিবলার অভিমুখী হবে তখন তাকবির বলবে
… " (সহীহ ইবনে হিব্বান ২/ ৭৫, নম্বর ৯৪৮)। যদিও সেই ব্যক্তিটি ইতিমধ্যে সালাত আদায় করেছিল, যেমনটি হাদিসের বর্ণনাকারী রিফায়াহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন— "একজন লোক এলো যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে ছিলেন, অতঃপর সে তাঁর নিকটেই সালাত আদায় করল
… হাদিস"। এর দ্বারা জানা গেল যে, তাকবীরে তাহরিমা (تكبيرة الإحرام) ব্যতীত সালাত শুদ্ধ (صحيح) হয় না। যদি কেউ কিবলার অভিমুখী হওয়ার সময় তাকবির প্রদান করা ছাড়াই সালাত আদায় করে, তবে কিবলার অভিমুখী হওয়ার সাথে তাকবির প্রদানের মাধ্যমে তার ওপর সালাত পুনরায় আদায় করা আবশ্যক (واجب) হয়ে পড়ে; যেহেতু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন "তোমার সালাত পুনরায় আদায় করো, কেননা তুমি সালাত আদায় করোনি" এবং আরও বলেছেন "যখন কিবলার অভিমুখী হবে তখন তাকবির বলবে"। তদ্রূপ তালাকের সময় সাক্ষী রাখার বিষয়টিও, সাহাবীর এই উক্তির কারণে— "যদি সে ইদ্দত ব্যতীত অন্য সময়ে তালাক দেয় এবং সুন্নাহ বহির্ভূতভাবে রাজআত (প্রত্যাবর্তন) করে, তবে সে যেন এখন সাক্ষী রাখে" (আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ৭/ ৬১১, নম্বর ১৫১৮৯)। তাঁর এই বক্তব্য থেকে জানা গেল যে, সাক্ষী রাখা ব্যতীত তালাক শুদ্ধ (صحيح) হয় না। ফলে তালাকের সময় সাক্ষী প্রদানসহ পুনরায় তালাক প্রদান করা আবশ্যক (واجب) হয়ে পড়ে; কেননা তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন "তুমি সুন্নাহ বহির্ভূত তালাক দিয়েছ" এবং "বিদআতি (بدعة) পন্থায় তালাক দিয়েছ" এবং "ইদ্দত ব্যতীত রাজআত করেছ" এবং "এখন সাক্ষী রাখো" এবং "তার তালাক ও রাজআতের ওপর সাক্ষী রাখো এবং এর পুনরাবৃত্তি করো না।"
অনুরূপভাবে, বিবাহের কাজ সম্পন্ন করার সময় সাক্ষী রাখা ব্যতীত যেমন বিবাহ শুদ্ধ (صحيح) হয় না, যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন— "অভিভাবক (ولي) এবং দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) সাক্ষী ব্যতীত কোনো বিবাহ নেই" (আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনে হিব্বান ৬/ ১৯৮, নম্বর ৪০৬৩, আলবানী একে হাসান (حسن) বলেছেন)।
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
صحيح) فكذلك الإشهاد عند الطلاق فالطلاق والرجعة ألصق بالنكاح لقوله صلى الله عليه وسلم "ثلاث جدهن جد وهزلهن جد: النكاح والطلاق والرجعة" (سنن أبي داود 2/ 255 رقم 2194) والحديث حسن لغيره وإن كان إسناده ضعيفاً لضعف عبد الرحمن بن حبيب فقد توبع بألفاظ مقاربة من قبل أبي حنيفة "عن عطاء عن يوسف بن ماهك عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ثلاثة جدهن وهزلهن جد: الطلاق والنكاح والرجعة" (مسند أبو حنيفة - رواية الحصكفي - كتاب الطلاق رقم 1). بل إن الطلاق والرجعة أولى وأقوى لقوله صلى الله عليه وسلم "ما بال أقوام يلعبون بحدود الله طلقتك راجعتك طلقتك راجعتك" (السنن الكبرى للبيهقي 7/ 528 رقم 14898) والله يقول "ومن يعص الله ورسوله ويتعد حدوده يدخله نارا خالدا فيها وله عذاب مهين" (النساء: 14) ودليل معصية السائل هنا قول الصحابي "ليستغفر الله" (مصنف عبد الرزاق 6/ 135 رقم 10255) وعليه فلا يقع طلاقٌ إلا مع وجود شرط الإشهاد لقوله صلى الله عليه وسلم "لا طلاق فيما لا يملك" (سنن ابن ماجه 3/ 202 رقم 2047) فلا بد من القيام بالطلاق والإشهاد معاً لأنه لا يملك الطلاق من دون شهود كما لا يملك الطلاق قبل النكاح أو الطلاق في طهر
বিশুদ্ধ (صحيح)) তদ্রূপ তালাকের সময় সাক্ষী রাখাও; কেননা তালাক ও প্রত্যাবর্তনের (রুজু) বিষয়টি বিবাহের সাথে অধিকতর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। এর কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "তিনটি বিষয় এমন যা গুরুত্বের সাথে করাও গুরুতর এবং তামাশা করে করাও গুরুতর: বিবাহ, তালাক এবং প্রত্যাবর্তন।" (সুনান আবি দাউদ ২/ ২৫৫, নম্বর ২১৯৪)। হাদিসটি অন্যদের মাধ্যমে উন্নত (حسن لغيره), যদিও আবদুর রহমান ইবনে হাবিবের দুর্বলতার কারণে এর বর্ণনাপরম্পরা (إسناد) দুর্বল (ضعيف)। তবে ইমাম আবু হানিফার পক্ষ থেকে প্রায় অনুরূপ শব্দে এর সমর্থনকারী বর্ণনা (توبع) পাওয়া গেছে: "আতা থেকে, তিনি ইউসুফ ইবনে মাহেক থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তিনটি বিষয় যা গুরুত্বের সাথে করাও গুরুতর এবং ঠাট্টা হিসেবে করাও গুরুতর: তালাক, বিবাহ এবং প্রত্যাবর্তন।" (মুসনাদ আবু হানিফা - হাসকাফি বর্ণনা - কিতাবুত তালাক নম্বর ১)। বরং তালাক ও প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি আরও অগ্রগণ্য এবং শক্তিশালী; কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "লোকদের কী হলো যে তারা আল্লাহর বিধান নিয়ে খেলা করে (এবং বলে): আমি তোমাকে তালাক দিলাম, আমি তোমাকে ফিরিয়ে নিলাম, আমি তোমাকে তালাক দিলাম, আমি তোমাকে ফিরিয়ে নিলাম।" (আস-সুনানুল কুবরা লিল-বায়হাকি ৭/ ৫২৮, নম্বর ১৪৮৯৮)। আর আল্লাহ তাআলা বলেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয় এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন, সেখানে সে চিরকাল থাকবে এবং তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।" (আন-নিসা: ১৪)। এখানে প্রশ্নকারীর অবাধ্যতার প্রমাণ হলো সাহাবীর এই উক্তি: "সে যেন আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে।" (মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক ৬/ ১৩৫, নম্বর ১০২৫৫)। এর ভিত্তিতে, সাক্ষী রাখার শর্ত পূরণ হওয়া ব্যতীত তালাক কার্যকর হবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মানুষ যার মালিক নয়, তাতে কোনো তালাক নেই।" (সুনান ইবনে মাজাহ ৩/ ২০২, নম্বর ২০৪৭)। অতএব, তালাক প্রদান এবং সাক্ষী রাখা—উভয়টি একসাথেই সম্পন্ন করা জরুরি। কারণ সাক্ষী ব্যতীত কেউ তালাকের অধিকার রাখে না, যেমন বিবাহের পূর্বে কেউ তালাকের অধিকার রাখে না অথবা তুহরের (পবিত্রতা) অবস্থায় (শর্তহীন) তালাকের অধিকার রাখে না।
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
جامعها فيه. ولا يجزئه أن يأتي بشرط الإشهاد لاحقاً من دون القيام بالطلاق معاً لقوله صلى الله عليه وسلم "من طلق ما لا يملك فلا طلاق له" (المستدرك على الصحيحين 4/ 333 رقم 8722) وعليه فلا بد من وجود الشرط لوقوع الطلاق. ويعضده فتوى علي رضي الله عنه الذي أخرجه سعيد بن منصور بسند حسن في سننه (1/ 290 رقم 1025) وقال: نا هشيم أنا مبارك بن فضالة قال: سمعت الحسن يحدث عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه أنه سئل عن رجل قال: إن تزوجت فلانة فهي طالق فقال: ليس بشيء، لا طلاق إلا بعد ملك" وهو صحيح فلا يملك الطلاق قبل النكاح لقوله صلى الله عليه وسلم "لا طلاق إلا من بعد نكاح" (سنن سعيد بن منصور 1/ 291 رقم 1027). قال ابن القيم في إثبات عدم وقوع طلاق الحائض "إنما يقع من الطلاق ما ملكه الله للمطلق ولهذا لا يقع به الرابعة لأنه لم يملكها إياه ومن المعلوم أنه لم يملكه الطلاق المحرم ولا أذن له فيه فلا يصح ولا يقع" (زاد المعاد 5/ 320).
معنى حرف الجر "على" في قوليه "أشهد على ما صنعت" و"أشهد على طلاقها وعلى رجعتها ولا تعد":
তিনি সেই অবস্থায় তার সাথে সহবাস করেন। তালাক প্রদানের কাজ সম্পন্ন না করে কেবল পরবর্তীতে সাক্ষ্য প্রদানের শর্ত পূরণ করা তার জন্য যথেষ্ট হবে না; কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কিছুর তালাক প্রদান করে যা তার মালিকানাধীন নয়, তার কোনো তালাক নেই" (আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাইন ৪/৩৩৩, নম্বর ৮৭২২)। অতএব, তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য শর্ত বিদ্যমান থাকা আবশ্যক। একে আলী (রা.)-এর ফতোয়া শক্তিশালী করে যা সাঈদ ইবনে মানসুর তাঁর সুনানে হাসান (حسن) সনদে (১/২৯০, নম্বর ১০২৫) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হুশায়ম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মুবারক ইবনে ফাদালাহ, তিনি বলেন: আমি হাসানকে আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তাঁকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে বলেছিল: "আমি যদি অমুক নারীকে বিবাহ করি তবে সে তালাকপ্রাপ্তা।" তিনি উত্তরে বললেন: "এটি কিছুই নয়; মালিকানা লাভের আগে কোনো তালাক নেই।" আর এটি সহিহ (صحيح)। সুতরাং বিবাহের আগে তালাক প্রদানের মালিকানা সাব্যস্ত হয় না; কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "বিবাহের পর ব্যতীত কোনো তালাক নেই" (সুনানে সাঈদ ইবনে মানসুর ১/২৯১, নম্বর ১০২৭)। ইবনুল কায়্যিম ঋতুবতী নারীর তালাক কার্যকর না হওয়ার সপক্ষে প্রমাণস্বরূপ বলেছেন: "তালাক কেবল তখনই কার্যকর হয় যখন আল্লাহ তালাক প্রদানকারীকে সেই তালাকের মালিকানা দান করেন। একারণেই চতুর্থ তালাক কার্যকর হয় না, কারণ তিনি তাকে সেই মালিকানা দেননি। আর এটি সুপরিচিত যে, তিনি তাকে হারাম তালাকের মালিকানা দেননি এবং তাকে এর অনুমতিও দেননি, ফলে তা শুদ্ধ (صحيح) হবে না এবং কার্যকরও হবে না" (যাদুল মাআদ ৫/৩২০)।
তাঁর উক্তিদ্বয় "তুমি যা করেছ তার ওপর সাক্ষ্য রাখো" এবং "তার তালাক ও তার প্রত্যাবর্তন (رجعة)-এর ওপর সাক্ষ্য রাখো এবং পুনরায় এমন করো না"-তে অব্যয় (حرف جر) "আলা" (على)-এর অর্থ:
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ففي أمره بالإشهاد، جاء الحرف "على" بمعنى "من أجل" طلاقه البدعي ومرةً بمعنى "عند" الطلاق والمراجعة:
فـ "على" في قوله رضي الله عنه "أشهد على ما صنعت" (سنن سعيد بن منصور 1/ 355 رقم 1323) ليس لها معنى سوى التعليل بمعنى "من أجل" ما صنع من الطلاق البدعي لأن الصحابي قد بدأَ بذم طلاقه بدون إشهاد "بئس ما صنعَ" وبدعه "طلقت في بدعة" وأبطلَ طلاقه ومراجعته "طلق في غيرة عدة" و"راجع في غير عدة" وأمره بإعادة الطلاق والمراجعة كلاهما مع الإشهاد "فليشهد على طلاقه وعلى مراجعته وليستغفر الله" وعلى الحال "فليشهد الآن" وأن لا يعود له "ولا تعد". ونظيره قوله تعالى "ولتكبروا الله على ما هداكم" (البقرة: 185).
وعليه فـ "على" في قوله "أشهد على طلاقها وعلى رجعتها ولا تعد" (سنن أبي داود 2/ 257 رقم 2186) ليس لها معنى هنا سوى "عند" لاشتراطه رضي الله عنه الإشهاد لصحة الطلاق باستخدامه "إن" الشرطية وإبطاله الطلاق معاً في قوله "إن طلق في غير عدة وراجع في غير سنة فليشهد الآن" (السنن الكبرى للبيهقي 7/ 611 رقم 15189). ودليل ذلك قوله "ولا تعد" نهي عن ما وقع منه عندما
সাক্ষী রাখার নির্দেশের ক্ষেত্রে, 'আলা' অব্যয়টি তাঁর বিদআতি তালাক (الطلاق البدعي) প্রদানের 'কারণে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং কখনো তালাক ও প্রত্যাবর্তনের 'সময়' অর্থে এসেছে:
সুতরাং তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উক্তি "তুমি যা করেছ তার ওপর সাক্ষী রাখো" (সুনানে সাঈদ ইবনে মানসুর ১/৩৫৫, নম্বর ১৩২৩)-এ 'আলা' শব্দটির কারণ দর্শানো অর্থাৎ তার কৃত বিদআতি তালাক (الطلاق البدعي)-এর 'কারণে' ব্যতীত অন্য কোনো অর্থ নেই। কেননা সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সাক্ষী ব্যতীত তালাক প্রদানকে "সে যা করেছে তা অত্যন্ত মন্দ" বলে নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন এবং একে বিদআত (بدعة) হিসেবে গণ্য করে বলেছেন "তুমি বিদআতি (بدعي) পন্থায় তালাক দিয়েছ"। তিনি তার তালাক ও প্রত্যাবর্তনকে বাতিল (إبطال) গণ্য করে বলেছেন "সে ইদ্দত বহির্ভূত অবস্থায় তালাক দিয়েছে" এবং "সে ইদ্দত বহির্ভূত অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করেছে"। তিনি তাকে সাক্ষীসহ তালাক ও প্রত্যাবর্তন—উভয়টিই পুনরায় সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন "সে যেন তার তালাক ও প্রত্যাবর্তনের ওপর সাক্ষী রাখে এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে" এবং বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে বলেছেন "সে যেন এখনই সাক্ষী রাখে" এবং পুনরায় এমনটা না করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন "আর পুনরায় এমন করো না।" এর সমার্থক হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর যেন তোমরা আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো এজন্য যে, তিনি তোমাদের হিদায়াত দিয়েছেন" (আল-বাকারা: ১৮৫)।
তদনুসারে, তাঁর উক্তি "তার তালাক ও প্রত্যাবর্তনের ওপর সাক্ষী রাখো এবং পুনরায় এমন করো না" (সুনানে আবু দাউদ ২/২৫৭, নম্বর ২১৮৬)-এ 'আলা' শব্দের এখানে 'সময়' বা 'কালীন' ব্যতীত অন্য কোনো অর্থ নেই। কারণ তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তালাকের বিশুদ্ধতার (صحة) জন্য সাক্ষী রাখাকে শর্ত করেছেন শর্তসূচক 'ইন' ব্যবহারের মাধ্যমে এবং একই সাথে তালাক বাতিল (إبطال) করার বিষয়ে তাঁর উক্তি হলো: "যদি কেউ ইদ্দত ব্যতিরেকে তালাক দেয় এবং সুন্নাহ বহির্ভূতভাবে প্রত্যাবর্তন করে, তবে সে যেন এখনই সাক্ষী রাখে" (আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ৭/৬১১, নম্বর ১৫১৮৯)। এর প্রমাণ হলো তাঁর উক্তি "পুনরায় এমন করো না", যা তাঁর পক্ষ থেকে যা সংঘটিত হয়েছিল সে সম্পর্কে একটি নিষেধ, যখন
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
"لم يشهد على طلاقها ولا على رجعتها" فجاء جواب الصحابي "أشهد على طلاقها وعلى رجعتها ولا تعد" (سنن أبي داود 2/ 257 رقم 2186). ويشهد لذلك قول الصحابي مرةً "فليشهد على طلاقه وعلى مراجعته وليستغفر الله" (مصنف عبد الرزاق 6/ 135 رقم 10255) فأمره رضي الله عنه له "ليستغفر الله" فيه دليل أن عدم الإشهاد عند الطلاق والمراجعة فيه معصيةٌ ومخالفةٌ لشرع الله فأمره بالاستغفار عليه ولو كان أمراً غير مخالف لما أمره بالاستغفار. ويعضده تفسير ابن عباس رضي الله عنه في قوله تعالى "أشهدوا ذوي عدل منكم: عند الطلاق وعند المراجعة". ونظير ذلك من الكتاب قوله تعالى "وأتى المال على حبه" (البقرة: 177).
فوائد:الأولى: لو كان الطلاق وقع مع نقصانه للإشهاد لكتفى الصحابي بأمره بالإتيان بالإشهاد من دون الحاجة أن ينص أن طلاقه بدعياً في قوله "طلقت في بدعة" (المعجم الكبير 18/ 181 رقم 419) فكان طلاقه بدعياً مردوداً لقوله صلى الله عليه وسلم "من فعل في أمرنا هذا ما لا يجوز فهو رد" (مسند أبي داود الطيالسي 3/ 43 رقم 1525) ولما أمره "ليستغفر الله" (مصنف عبد الرزاق 6/ 135 رقم 10255).
"সে তার তালাক কিংবা তার রাজআতের (প্রত্যাবর্তনের) ওপর সাক্ষী রাখেনি।" সাহাবীর উত্তর এল, "তুমি তার তালাক ও রাজআতের ওপর সাক্ষী রাখো এবং এর পুনরাবৃত্তি করো না" (সুনানে আবু দাউদ ২/ ২৫৭, নম্বর ২১৮৬)। জনৈক সাহাবীর অপর এক বক্তব্য এর সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়: "সে যেন তার তালাক ও রাজআতের ওপর সাক্ষী রাখে এবং আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করে" (মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক ৬/ ১৩৫, নম্বর ১০২৫৫)। সুতরাং তার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) "সে যেন ইস্তিগফার করে" এই নির্দেশটি প্রমাণ করে যে, তালাক ও রাজআতের সময় সাক্ষী না রাখা একটি গুনাহ এবং আল্লাহর শরীয়তের পরিপন্থী কাজ। সে কারণেই তিনি তাকে এর জন্য ইস্তিগফার করার নির্দেশ দিয়েছেন; যদি বিষয়টি শরীয়ত বিরোধী না হতো, তবে তিনি তাকে ইস্তিগফার করতে বলতেন না। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর তাফসিরও একে শক্তিশালী করে, যেখানে তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যা দিয়েছেন: "তোমাদের মধ্য থেকে দুজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখো: তালাক ও রাজআতের সময়।" পবিত্র কুরআনে এর সদৃশ দৃষ্টান্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর সে সম্পদের প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বেও তা দান করে" (আল-বাকারাহ: ১৭৭)।
শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ:প্রথমত: যদি সাক্ষীর অনুপস্থিতি সত্ত্বেও তালাকটি কার্যকর হয়ে যেত, তবে সাহাবী তাকে কেবল সাক্ষী রাখার আদেশ দিয়েই ক্ষান্ত হতেন; তার তালাককে বিদআতি (بدعي) বলে অভিহিত করার প্রয়োজন হতো না, যেমনটি তিনি বলেছিলেন: "তুমি বিদআতি (بدعي) পদ্ধতিতে তালাক দিয়েছ" (আল-মুজামুল কাবীর ১৮/ ১৮১, নম্বর ৪১৯)। সুতরাং তার তালাকটি ছিল বিদআতি (بدعي) এবং প্রত্যাখ্যাত (مردود); যেহেতু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই (শরীয়তের) বিষয়ে এমন কিছু করবে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত (مردود)" (মুসনাদে আবু দাউদ তায়ালিসি ৩/ ৪৩, নম্বর ১৫২৫)। আর একারণেই তিনি তাকে "আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার" নির্দেশ দিয়েছিলেন (মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক ৬/ ১৩৫, নম্বর ১০২৫৫)।
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والثانية: ما جاء في سؤال السائل في سنن أبي داود وابن ماجه أنه "يطلق امرأته ثم يقعَ بها ولم يشهدْ" فيه فائدة تدفعُ تصورُ من ظنَ أن السائل كان طلقها وهي حائض أو في طهر جامعها فيه. وهذا تصور لا يتأتى وقد جاء السؤال مقيداً بلفظ "طلق ولم يشهد وراجع ولم يشهد" في الروايات الصريحة الصحيحة في مصنف عبد الرزاق والمعجم الكبير والسنن الكبرى للبيهقي وغيرهم فوجب حمل الأثر على ظاهره. ولو كان كما زعموا لبينَ الصحابي للسائل بشكل لا يدع مجال لشك بأن عليه تطليقها في طهر لم يجامعها فيه كما فعل النبي صلى الله عليه وسلم مع ابن عمر لما طلقَ زوجته وهي حائض. ولما جاء أمر الصحابي محصوراً في الإشهاد على الطلاق. وكذلك من ظنَ أن مراجعته كانت بعد انتهاء العدة في قوله "راجع في غير عدة" (المعجم الكبير 18/ 182 رقم 423) فهو ظن متوهم فلو كان كذلك لبينَ الصحابي له أنها لا تحل له إلا بفعل ما يلزمه من العقد الجديد. ولما جاء أيضاً أمر الصحابي محصوراً في الإشهاد على المراجعة كما جاء جوابه "أشهد على طلاقها وعلى رجعتها" (سنن أبي داود 2/ 257 رقم 2186).
দ্বিতীয়ত: সুনানে আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ-এ প্রশ্নকারীর প্রশ্নে যা বর্ণিত হয়েছে যে, "সে তার স্ত্রীকে তালাক দেয়, অতঃপর তার সাথে মিলিত হয় অথচ কোনো সাক্ষী রাখেনি"—এতে এমন একটি তাত্ত্বিক উপকারিতা রয়েছে যা ঐ ব্যক্তির ধারণাকে নাকচ করে দেয় যে মনে করে প্রশ্নকারী তাকে ঋতুবতী অবস্থায় অথবা এমন পবিত্র অবস্থায় তালাক দিয়েছিল যাতে সে তার সাথে সহবাস করেছিল। আর এই ধারণাটি সঙ্গত নয়, কারণ মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, আল-মু'জামুল কাবির এবং বায়হাকির আস-সুনানুল কুবরা ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত সুস্পষ্ট ও বিশুদ্ধ (صحيحة) বর্ণনা (روايات) সমূহে প্রশ্নটি "তালাক দিয়েছে কিন্তু সাক্ষী রাখেনি এবং ফিরিয়ে নিয়েছে কিন্তু সাক্ষী রাখেনি" এই শব্দে সুনির্দিষ্টভাবে এসেছে। সুতরাং এই বর্ণনাটিকে (أثر) তার প্রকাশ্য অর্থের ওপর প্রয়োগ করা আবশ্যক। যদি বিষয়টি তেমনই হতো যা তারা দাবি করেছে, তবে সাহাবী (রা.) প্রশ্নকারীর নিকট বিষয়টি এমনভাবে স্পষ্ট করে দিতেন যা কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখত না যে, তার জন্য করণীয় ছিল স্ত্রীকে এমন এক পবিত্রতায় তালাক দেওয়া যাতে সে তার সাথে সহবাস করেনি; যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইবনে উমরের (রা.) সাথে করেছিলেন যখন তিনি তার স্ত্রীকে ঋতুবতী অবস্থায় তালাক দিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় সাহাবীর নির্দেশ কেবল তালাকের ক্ষেত্রে সাক্ষী রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত না। তদ্রূপ, যারা মনে করেন যে তার ফিরিয়ে নেওয়া (রুজু) ইদ্দত শেষ হওয়ার পরে হয়েছিল—যেমনটি "ইদ্দত অতিক্রান্ত হওয়ার পর ফিরিয়ে নিয়েছে" (আল-মু'জামুল কাবির ১৮/১৮২, নং ৪২৩) উক্তির ক্ষেত্রে ধারণা করা হয়—তা একটি ভ্রান্ত ধারণা। কারণ যদি বিষয়টি তেমনই হতো, তবে সাহাবী তার নিকট স্পষ্ট করে দিতেন যে, প্রয়োজনীয় নতুন বিবাহ বন্ধন ব্যতীত সে তার জন্য বৈধ হবে না। আর তখন সাহাবীর নির্দেশ কেবল ফিরিয়ে নেওয়ার ওপর সাক্ষী রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত না, যেমনটি তাঁর উত্তরে এসেছে: "তার তালাকের ওপর এবং তার ফিরিয়ে নেওয়ার ওপর সাক্ষী রাখো" (সুনানে আবু দাউদ ২/২৫৭, নং ২১৮৬)।
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
4) صنيع علي بن أبي طالب رضي الله عنه:
فقد أخرج ابن أبي شيبة فقال: نا عبدة بن سليمان عن سعيد عن قتادة عن خلاس "أن رجلاً طلق امرأته وأشهد رجلين في السر وقال: اكتما علي فكتما عليه حتى انقضت العدة فارتفعا إلى علي فاتهم الشاهدين وجلدهما ولم يجعل له عليها رجعة" (مصنف ابن أبي شيبة 10/ 424 رقم 20117).
وهذا أثر صحيح. وإن كان قتادة ثقة مشهور بالتدليس فقد أخرج أصحاب الصحاح مرويات قتادة المعنعنة عن خلاس (صحيح مسلم 2/ 32 رقم 439 وابن خزيمة 3/ 25 رقم 1555 والحاكم في المستدرك على الصحيحين 1/ 408 رقم 1014) فقد كان ملازماً لخلاس لقول شعبة "رأيت قتادة عند خلاس بن عمرو" (العلل ومعرفة الرجال لأحمد بن حنبل - رواية ابنه عبد الله رقم 4680) فكان يحيى بن سعيد "لا يحدث عن قتادة عن خلاس عن علي شيئا يعني كأنه لم يسمع منه، وكان يحدث عن قتادة عن خلاس عن غيره عن عمار" (الضعفاء الكبير رقم 449) فأثبت يحيى رواية قتادة عن خلاس في الحالتين. وإن كان سماع خلاس من علي متكلم فيه إلا أن هذه القصة التي رواها خلاس لفعل علي رضي الله عنه قد أدرك خلاس
৪) আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর আমল:
ইবনে আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদাহ ইবনে সুলাইমান সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি খিলাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিল এবং গোপনে দুজনকে সাক্ষী রাখল। সে বলল: তোমরা বিষয়টি আমার পক্ষ থেকে গোপন রাখো। ফলে তারা ইদ্দত শেষ হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি গোপন রাখল। এরপর তারা আলীর কাছে বিষয়টি উত্থাপন করলে তিনি সাক্ষীদ্বয়কে অভিযুক্ত করলেন এবং তাদের চাবুকপেটা করলেন। আর তিনি ওই ব্যক্তির জন্য তার স্ত্রীর ওপর প্রত্যাবর্তনের কোনো সুযোগ রাখলেন না।" (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ ১০/ ৪২৪, নম্বর ২০১১৭)।
এটি একটি সহিহ (صحيহ) আসার (أثر)। যদিও কাতাদাহ একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং তাদলিসের (تدليس) জন্য প্রসিদ্ধ, তবুও সিহাহ গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ খিলাস থেকে কাতাদাহর মুআনআন (معنعنة) বর্ণনাসমূহ (مرويات) গ্রহণ করেছেন (সহিহ মুসলিম ২/ ৩২, নম্বর ৪৩৯; ইবনে খুজাইমাহ ৩/ ২৫, নম্বর ১৫৫৫ এবং হাকেম আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন ১/ ৪০৮, নম্বর ১০১৪)। কেননা তিনি খিলাসের সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন, শু'বাহর এই উক্তির কারণে যে: "আমি কাতাদাহকে খিলাস ইবনে আমরের নিকট দেখেছি" (আহমদ ইবনে হাম্বলের আল-ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল - তার পুত্র আবদুল্লাহর বর্ণনা, নম্বর ৪৬৮০)। ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ "আলী থেকে খিলাস ও কাতাদাহর সূত্রে কোনো কিছুই বর্ণনা করতেন না—অর্থাৎ মনে হয় তিনি তা তাঁর থেকে শোনেননি; কিন্তু তিনি খিলাস ও কাতাদাহর সূত্রে অন্যদের থেকে আম্মার সম্পর্কে বর্ণনা করতেন" (আদ-দুয়াফা আল-কাবীর, নম্বর ৪৪৯)। সুতরাং ইয়াহইয়া উভয় ক্ষেত্রেই খিলাস থেকে কাতাদাহর বর্ণনাকে (رواية) সাব্যস্ত করেছেন। যদিও আলী (রা.) থেকে খিলাসের শ্রবণের (سماع) বিষয়টি বিতর্কিত (متكلم فيه), তবুও খিলাস কর্তৃক বর্ণিত আলী (রা.)-এর আমল সংক্রান্ত এই ঘটনাটি খিলাস প্রত্যক্ষ করেছেন
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وقوعها فقد "كان من شُرط علي" (أحوال الرجال 188) وقد سبر ابن عدي حديثه وقال "لم أر بعامة حديثه بأسا" (الكامل في ضعفاء الرجال رقم 617).
فعدم جعل علي رضي الله عنه للزوج عليها رجعة هو إقرار من علي على الإشهاد في الطلاق من جهة. ومن جهة أخرى فجلد علي للشاهدين لكتمهما الشهادة هو أيضاً دليل على أن الإشهاد شرط للطلاق فلو لم يكن شرطاً لما غلظ رضي الله عنه في العقوبة وجلدهما كما أمر تعالى لمن يقذف المحصنات ولم يأتي بأربعة شهود فأمر بجلده ثمانين جلدة وبمنع قبول شهادته (النور: 4) فتغليظ العقوبة بالجلد دليل أن الإشهاد بأربعةٍ شرط لتحقق صحة دعوى الزنا وإلا أستحق المدعي الجلد إذا أتى بثلاث شهود فقط. وهذان الفعلان من علي رضي الله عنه سنة فوجب التمسك بها لقول علي "جلد النبي صلى الله عليه وسلم أربعين وجلد أبو بكر أربعين وعمر ثمانين وكل سنة" (سنن أبي داود 6/ 528) يؤكده قول النبي صلى الله عليه وسلم "فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين فتمسكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ" (صحيح مسلم 5/ 126).
তার সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে তিনি "আলী (রা.)-এর নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন" (আহওয়ালুর রিজাল ১৮৮)। ইবনে আদী তার বর্ণিত হাদিসগুলো নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করেছেন এবং বলেছেন, "আমি তার সাধারণ হাদিসসমূহে কোনো সমস্যা (بأسا) দেখিনি" (আল-কামিল ফি দুয়াফাউর রিজাল, নং ৬১৭)।
সুতরাং আলী (রা.) কর্তৃক স্ত্রীর ওপর স্বামীর পুনরায় অধিকার (رجعة) ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ না দেওয়া একদিকে তালাকের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য রাখার (الإشهاد) বিষয়ে আলী (রা.)-এর পক্ষ থেকে একটি স্বীকৃতি। অন্যদিকে, দুই জন সাক্ষী কর্তৃক সাক্ষ্য গোপন করার কারণে আলী (রা.)-এর পক্ষ থেকে তাদের দোররা মারাও এই প্রমাণ বহন করে যে, তালাকের জন্য সাক্ষ্য রাখা একটি শর্ত (شرط)। যদি এটি শর্ত (شرط) না হতো, তবে তিনি (রা.) শাস্তির ক্ষেত্রে এমন কঠোরতা প্রদর্শন করতেন না। তিনি তাদের সেভাবেই দোররা মেরেছেন, যেভাবে মহান আল্লাহ সতী-সাধ্বী নারীদের অপবাদ প্রদানকারী (قذف المحصنات)—যারা চারজন সাক্ষী উপস্থিত করতে পারেনি—তাদের আশিটি দোররা মারার এবং তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ না করার নির্দেশ দিয়েছেন (আন-নূর: ৪)। সুতরাং দোররা মারার মাধ্যমে শাস্তির এই কঠোরতা প্রমাণ করে যে, ব্যভিচারের দাবির সত্যতা প্রমাণের জন্য চারজন সাক্ষীর উপস্থিতি একটি শর্ত (شرط); অন্যথায় দাবিদার যদি মাত্র তিনজন সাক্ষীও উপস্থিত করে, তবে সে দোররা পাওয়ার যোগ্য হবে। আলী (রা.)-এর এই দুটি কাজ সুন্নাহ (سنة), তাই এটি আঁকড়ে ধরা আবশ্যক। কারণ আলী (রা.) বলেছেন, "নবী (সা.) চল্লিশটি দোররা মেরেছেন, আবু বকর (রা.) চল্লিশটি এবং ওমর (রা.) আশিটি দোররা মেরেছেন; আর এর প্রতিটিই সুন্নাহ (سنة)" (সুনানে আবি দাউদ ৬/৫২৮)। নবী (সা.)-এর এই বাণী একে আরও সুদৃঢ় করে: "তোমরা আমার সুন্নাহ (سنة) এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের (الخلفاء الراشدين المهديين) সুন্নাহ (سنة) অনুসরণ করো; তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং চোয়ালের দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখো" (সহিহ মুসলিম ৫/১২৬)।
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أقوال الموقعين للطلاق بدون إشهاد:فهذا الفريق وهم الجمهور استدلوا بأحاديث صحيحة، ولكن غير صريحة:
أ) قالوا: ليس هناك دليل على أن الإشهاد شرط.* الرد: هذا القول غير صحيح فقد بينَ الصحابي أن الإشهاد لازم لتحقق الطلاق عندما استخدم رضي الله عنه "إن" الشرطية في قوله "إن طلق في غير عدة وراجع في غير سنة" (فعل الشرط) فجاء جواب الشرط "فليشهد الآن" (السنن الكبرى للبيهقي 7/ 611 رقم 15189) وهو أمر يدخل في عموم قوله "أشهد على طلاقها وعلى رجعتها ولا تعد" في سنن أبي داود (2/ 257 رقم 2186)،
ب) قالوا: إن جل فتاوى الصحابة هي على ترك السؤال عن الإشهاد.* الرد: وهذا الكلام ليس عليه نص صريح صحيح من الكتاب
সাক্ষী রাখা ব্যতীত তালাক কার্যকর হওয়ার প্রবক্তাদের বক্তব্য:এই পক্ষ, যারা জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ), তারা সহিহ (صحيحة) তবে দ্ব্যর্থহীন নয় এমন হাদিসসমূহ দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:
ক) তারা বলেন: সাক্ষী রাখা যে শর্ত (شرط), সে বিষয়ে কোনো দলিল নেই।* উত্তর: এই কথাটি সঠিক নয়; কারণ সাহাবি স্পষ্ট করেছেন যে, তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য সাক্ষী রাখা আবশ্যক। তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন তার বক্তব্যে "ইন" (যদি) শর্তবাচক অব্যয় ব্যবহার করেছেন "যদি সে ইদ্দত ব্যতীত তালাক দেয় এবং সুন্নাহ পরিপন্থীভাবে রাজআত (প্রত্যাবর্তন) করে" (শর্তের ক্রিয়া), তখন এর উত্তরে (শর্তের জবাব) এসেছে "তবে সে যেন এখন সাক্ষী রাখে" (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি ৭/৬১১, নম্বর ১৫১৮৯)। আর এটি সুনানে আবু দাউদের (২/২৫৭, নম্বর ২১৮৬) "তুমি তার তালাক ও তার রাজআতের ওপর সাক্ষী রাখো এবং পুনরায় এমন করো না" এই সাধারণ নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত।
খ) তারা বলেন: সাহাবিদের অধিকাংশ ফতোয়া সাক্ষী রাখা সম্পর্কে প্রশ্ন না করার ওপর ভিত্তি করে।* উত্তর: এই কথাটির স্বপক্ষে কিতাব (কুরআন) থেকে কোনো স্পষ্ট ও সহিহ (صحيح) বর্ণনা নেই।
(খণ্ড: ১)
তাকিদুল ওয়াসাক্ব ফি ইশতিরাতিল ইশহাদি ইনদাত ত্বালাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أو السنة أو الصحابة يدل أنهم تركوه. وهذا القول قد جاء بطريق المفهوم ولا يجوز تقديم المفهوم على المنطوق الصريح من الكتاب وصنيع علي وقول ابن عباس وعمران رضي الله عنهم الذي له حكم الرفع. إذ لم ينكر أحد من الصحابة قولهما. ولم يخالفا نصاً صريحاً صحيحاً من كتاب الله أو سنة رسوله صلى الله عليه وسلم أو صحابي. قال الطحاوي "وقد قال بذلك عمران بن حصين ولا نعلم له من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم في ذلك مخالفاً وقد قال بهذا القول غير واحد من التابعين" (أحكام القران 2/ 329 رقم 1807).
ت) قالوا: لم يؤثر عن النبي صلى الله عليه وسلم أو الصحابة اشتراط الشهادة لصحة الطلاق أو الرجعة مع كثرة وقوعها منهم. ففي صحيح البخاري في تطليق ابن عمر رضي الله عنه قال "حسبت تطليقة" ولم يسأل أشهد أو ما أشهد؟ (4/ 1864 رقم 4625). وقد أمره النبي صلى الله عليه وسلم بمراجعتها ولم يأمره بالإشهاد على الرجعة ولو كان شرطا لأمره به.
* الرد: فعدم النص على شيء معين في حديثٍ ما لا يعني عدم وقوعه. فلا يجوز تقديم المفهوم على المنطوق الصريح الصحيح. وللتقعيد: فكل ما ذكر في حديث ما فهو دليل على لزومه ما جاء فيه وأما ما لم يذكر فيه فإن دلت الأدلة الأخرى على الوجوب أو الركنية
...অথবা সুন্নাহ অথবা সাহাবায়ে কিরামের (আচার-আচরণ) প্রমাণ দেয় যে তারা তা বর্জন করেছেন। আর এই বক্তব্যটি পরোক্ষ অর্থবোধক (المفهوم) পদ্ধতিতে এসেছে; কিতাবুল্লাহর সুস্পষ্ট ভাষ্য (المنطوق الصريح), আলীর (রা.) কর্ম এবং ইবনে আব্বাস ও ইমরান (রা.)-এর বক্তব্যের উপর—যাদের বক্তব্যের মারফু পর্যায়ের বিধান (حكم الرفع) রয়েছে—এই পরোক্ষ অর্থবোধক (المفهوم) বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া বৈধ নয়। যেহেতু সাহাবায়ে কিরামের মধ্য হতে কেউ তাদের দুজনের বক্তব্যকে অস্বীকার করেননি এবং তারা কিতাবুল্লাহর কোনো সুস্পষ্ট সহিহ (صحيح) পাঠ্য বা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ কিংবা কোনো সাহাবীর বক্তব্যের বিরোধিতা করেননি। ইমাম তহাবী বলেন, "ইমরান ইবনুল হুসাইন (রা.) এই মত পোষণ করেছেন এবং আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে এ বিষয়ে তার কোনো বিরোধীর কথা জানি না। আর অনেক তাবেয়ীও এই মত ব্যক্ত করেছেন" (আহকামুল কুরআন ২/৩২৯, নম্বর ১৮০৭)।
ত) তারা বলেন: তালাক বা রাজআ (ফিরিয়ে আনা) বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য সাক্ষী রাখার শর্তারোপের বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা সাহাবায়ে কিরাম থেকে বর্ণিত হয়নি, যদিও তাদের মাঝে এর বহু ঘটনা ঘটেছে। এমতাবস্থায় সহিহ বুখারীতে ইবনে উমর (রা.)-এর তালাকের বর্ণনায় এসেছে, "তা এক তালাক হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল" এবং তিনি (নবীজী) জিজ্ঞাসা করেননি যে, "তুমি কি সাক্ষী রেখেছ নাকি রাখনি?" (৪/১৮৬৪, নম্বর ৪৬২৫)। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে রাজআ করার আদেশ দিয়েছিলেন কিন্তু রাজআর সময় সাক্ষী রাখার নির্দেশ দেননি; যদি তা শর্ত হতো তবে তিনি অবশ্যই তাকে এর আদেশ দিতেন।
* উত্তর: কোনো একটি হাদিসে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের উল্লেখ না থাকা মানেই এই নয় যে তা ঘটেনি। সুতরাং সুস্পষ্ট সহিহ (صحيح) ভাষ্যের (المنطوق) ওপর পরোক্ষ অর্থবোধক (المفهوم) বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া বৈধ নয়। আর মূলনীতি স্থিরকরণার্থে বলা যায়: কোনো একটি হাদিসে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তা তাতে বর্ণিত বিধানের আবশ্যকতা নির্দেশ করে; কিন্তু যা তাতে উল্লেখ করা হয়নি—সেটির ক্ষেত্রে যদি অন্যান্য দলিল দ্বারা ওয়াজিব (الوجوب) হওয়া বা রুকন (الركنية) হওয়া প্রমাণিত হয় (তবে তা পালনীয় হবে)।