(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: -)
فصل المقال في هدايا العمال القسم: مسائل فقهية
الكتاب: فصل المقال في هدايا العمال
المؤلف: تقي الدين علي بن عبد الكافي بن علي السبكي الشافعي (ت 756 هـ)
المحقق: أنور بن عوض بن صالح العنزي
أصل التحقيق: رسالة ماجستير - المعهد العالي للقضاء التابع لجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض
الناشر: دار أسفار - الكويت
الطبعة: الأولى، 1440 هـ - 2019 م
عدد الصفحات: 204
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 30 محرم 1447
ফাসলুল মাকাল ফি হাদায়াল উম্মাল বিভাগ: ফিকহি মাসায়েল
গ্রন্থ: ফাসলুল মাকাল ফি হাদায়াল উম্মাল
লেখক: তাকিউদ্দীন আলী বিন আব্দুল কাফি বিন আলী আস-সুবকি আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু ৭৫৬ হি.)
সম্পাদক: আনোয়ার বিন আওয়াদ বিন সালেহ আল-আনাজি
গবেষণার মূল উৎস: মাস্টার্স থিসিস - আল-মা'হাদ আল-আলি লিল-কাদা (উচ্চতর বিচার বিভাগীয় ইনস্টিটিউট), ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ
প্রকাশক: দার আসফার - কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪০ হি. - ২০১৯ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৩০ মুহাররাম ১৪৪৭
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
يسر «مشروع أسفار» أن يقدِّم للقارئ الكريم الإصدار السادس عشر من إصدارات المشروع؛ رسالة من رسائل التقي السبكي بعنوان: (فصل المقال في هدايا العمال).
وللسُّبْكي عناية ظاهرة في تصنيف الرسائل في الموضوعات المفردة، مع حسن العرض، وجودة الفقه، فمن تلك المسائل التي صنف فيها: حكم الهدايا التي تهدى للعمال، وهل يصح أن توصف بالحل أو الحرمة جملة، أو يكون الحكم فيها مفصلا لتعدد الأحوال؟، وكان باعثه في البحث كما ذكر في تقدمته: ما أدركه السبكي من وقوع اختلاف في الديار المصرية حول حكم المسألة، وتصنيف بعضهم فيها نصرة لما ذهب إليه، وصادف ذلك اشتغال السبكي بتفسير آية لها تعلق بالمسألة في أثناء درسه على البيضاوي.
وقسم السبكي كتابه على ثمانية فصول: الأحاديث الواردة في المسألة، حكم الهدية للقاضي عند الشافعية، وحكمها عند بقية المذاهب؛ كل مذهب في فصل مستقل، الفرق بين الهدية والرشوة، حكم قبول هدايا المشركين عند الشافعية، زبدة المسألة. وكان من جملة العلماء المستدرك عليهم: ابن الرفعة، إمام الشافعية، وشيخ المصنف.
وأصل هذا العمل: رسالة ماجستير من المعهد العالي للقضاء التابع لجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
‘আসফার প্রজেক্ট’ অত্যন্ত আনন্দের সাথে সম্মানিত পাঠকদের উদ্দেশ্যে এই প্রজেক্টের ষোড়শ প্রকাশনাটি উপস্থাপন করছে; এটি তাকিউদ্দীন আস-সুবকির একটি গবেষণাপত্র (রিসালা) যার শিরোনাম: ‘ফাসলুল মাকাল ফি হাদায়াল উম্মাল’।
সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর স্বতন্ত্র গবেষণাপত্র রচনায় আস-সুবকির বিশেষ পাণ্ডিত্য ও আগ্রহ সুস্পষ্ট, যা তার উপস্থাপনার চমৎকারিত্ব ও ফিকহি গভীরতার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তিনি যেসব বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন তার একটি হলো: কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে প্রদত্ত উপঢৌকনের বিধান। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো, এগুলোকে কি সামগ্রিকভাবে বৈধ (حلال) বা অবৈধ (حرام) হিসেবে আখ্যায়িত করা সঠিক হবে, নাকি পরিস্থিতির ভিন্নতা অনুযায়ী এর বিধান বিস্তারিত (مفصل) হবে? এই গবেষণার মূল কারণ হিসেবে তিনি তার ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, তৎকালীন মিশরীয় ভূখণ্ডে এই মাসআলার বিধান নিয়ে বিদ্যমান মতভেদ আস-সুবকি লক্ষ্য করেছিলেন এবং কেউ কেউ নিজের মতের সপক্ষে এ বিষয়ে স্বতন্ত্র পুস্তিকা রচনা করেছিলেন। সেই সময়েই ইমাম সুবকি বাইযাভীর কিতাব পাঠদানকালে এই মাসআলা সংশ্লিষ্ট একটি আয়াতের তাফসির নিয়ে কাজ করছিলেন।
সুবকি তার গ্রন্থটিকে আটটি পরিচ্ছেদে ভাগ করেছেন: এই বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ, শাফেয়ি মাজহাব অনুযায়ী বিচারকের জন্য উপঢৌকনের বিধান, এবং অন্যান্য মাজহাবের বিধানসমূহ (যেখানে প্রতিটি মাজহাবকে স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে), উপঢৌকন ও ঘুষের মধ্যকার পার্থক্য, শাফেয়ি মাজহাব মতে মুশরিকদের থেকে উপঢৌকন গ্রহণের বিধান এবং মাসআলার সারনির্যাস। যেসব আলেমদের মতের ওপর তিনি এখানে পর্যালোচনা (مستدرك) করেছেন, তাদের মধ্যে শাফেয়ি মাজহাবের ইমাম এবং লেখকের শিক্ষক ইবনুর রিফআ অন্যতম।
এই কাজের মূল ভিত্তি হলো রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ হায়ার জুডিশিয়াল ইনস্টিটিউটের একটি মাস্টার্স থিসিস।
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৬)
ونسأل الله أن يغفر لمؤلف الكتاب، ويتغمده بواسع رحمته، ويرفع درجته، وأن يجزي محقق الكتاب خير الجزاء، ويسبل عظيم فضله ووافر إحسانه وبركته على من تكفل بطباعة الكتاب وساهم في إخراجه بجهده أو ماله، وسلام على المرسلين، والحمد لله رب العالمين.
أسفار
لِنَشْرِ نَفِيسِ الكُتُبِ وَالرَّسَائِلِ العِلمِيَّةِ
دولة الكويت
আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কিতাবের লেখককে ক্ষমা করেন, তাঁকে তাঁর প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করেন এবং তাঁর মর্যাদা উচ্চ করেন। আর আল্লাহ যেন কিতাবটির গবেষক-সম্পাদককে সর্বোত্তম প্রতিদান প্রদান করেন এবং যিনি কিতাবটি মুদ্রণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং স্বীয় শ্রম বা অর্থের মাধ্যমে এটি প্রকাশে অবদান রেখেছেন, তাঁর ওপর তাঁর মহান অনুগ্রহ, প্রচুর অনুগ্রহ ও বরকত বর্ষণ করেন। রাসুলগণের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক এবং সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
আসফার
মূল্যবান গ্রন্থ ও জ্ঞানগর্ভ গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য
কুয়েত রাষ্ট্র
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৭)
المقدمة الحمد لله الذي وفق من شاء من عباده للفقه في الدين، ورفع منزلة أهل العلم درجات على سائر المؤمنين، وخصهم بأن يكونوا ورثة النبيين، ومشعلاً يُستضاء به بين العالمين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، ولي الصالحين، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، سيد المرسلين، وقدوة العالمين، صلى الله عليه، وعلى آله وصحبه، والتابعين، ومن تبعهم بإحسانٍ إلى يوم الدين. أما بعد:
فلا يخفى ما للفقه من منزلة عظيمة، وأهمية كبيرة، ورتبة جليلة؛ ذلك أن حاجة الناس إليه شديدة.
يقول الحجوي رحمه الله: «فالأمة الإسلامية لا حياة لها بدون الفقه، ولا رابطة ولا جامعة تجمعها سوى رابطة الفقه وعقائد الإسلام، ولا تتعصب لأي جنسية، فهي دائمة بدوام الفقه، مضمحلة باضمحلاله»
(1).
والحاجة إلى الفقه شاملة لجميع المسائل كلها، دقيقها وجليلها، لا سيما المسائل التي لها الأثر البالغ في واقع الناس وتعاملاتهم.
ومن هذه المسائل التي تضافرت الأدلة على بيان حكمها، وتجلية أمرها: مسألة هدايا العمال.
ومما يُبيِّن عظيم موقعها وجليل خطرها، أنَّ بعض أهل العلم وصَفَها بأنَّها
--------------------------------------------
উপস্থাপনাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা বা ফিকহ অর্জনের তাওফিক দান করেছেন এবং অন্যান্য মুমিনদের তুলনায় আলেমগণের মর্যাদাকে বহু স্তরে উন্নীত করেছেন। তিনি তাঁদেরকে নবীদের উত্তরাধিকারী এবং বিশ্ববাসীর জন্য হিদায়াতের আলোকবর্তিকা হওয়ার অনন্য বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক ও শরিকহীন, তিনি নেককারদের অভিভাবক। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, তিনি সকল রাসুলের সরদার এবং বিশ্ববাসীর জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ (التابعين) এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সবার ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:
দ্বীনের প্রজ্ঞা বা ফিকহ-এর সুমহান মর্যাদা, অত্যধিক গুরুত্ব এবং সুউচ্চ অবস্থানের বিষয়টি কারও অজানা নয়; কেননা মানুষের এর প্রতি মুখাপেক্ষিতা অত্যন্ত তীব্র।
আল-হাজভী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: «ইসলামী উম্মাহর ফিকহ ব্যতীত কোনো জীবন নেই। ফিকহ এবং ইসলামের আকিদাগত বন্ধন ব্যতীত এই উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ রাখার মতো অন্য কোনো বন্ধন বা ঐক্যসূত্র নেই। এই উম্মাহ কোনো জাতীয়তাবাদের প্রতি গোঁড়ামি করে না। ফিকহ যতদিন টিকে থাকবে, এই উম্মাহও ততদিন স্থায়ী হবে; আর ফিকহ বিলুপ্ত হলে উম্মাহও বিলীন হয়ে যাবে»
(১)।
ফিকহ-এর প্রয়োজনীয়তা ছোট-বড় সকল মাসআলার ক্ষেত্রেই ব্যাপক, বিশেষ করে সেইসব মাসআলা যেগুলোর মানুষের বাস্তব জীবন ও লেনদেনের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে।
তেমনই একটি মাসআলা, যার বিধান বর্ণনা এবং স্বরূপ উন্মোচনের পক্ষে অসংখ্য দলিল একত্রিত হয়েছে, তা হলো: শ্রমিক বা কর্মচারীদের উপহার প্রদানের মাসআলা।
এই বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং এর ঝুঁকি কত গভীর তা এই থেকে স্পষ্ট হয় যে, কোনো কোনো আলেম একে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৮)
هي أصل فساد العالم.
يقول ابن قيم الجوزية: «الوالي والقاضي والشافع ممنوع من قبول الهديَّة، وهو أصل فسادِ العالم، وإسناد الأمر إلى غير أهله، وتولية الخونة والضعفاء والعاجزين، وقد دخل بذلك من الفساد ما لا يُحصيه إلا الله؛ وما ذاك إلا لأنَّ قبول الهدية ممن لم تَجْرِ عادته بمهاداته ذريعة إلى قضاء حاجته، وحُبُّكَ الشيء يُعمي ويُصِمُّ، فيقوم عنده شهوة لقضاء حاجته مكافأة له مقرونة بشره وإغماض عن كونه لا يصلح»
(1).
ولهذا، كان أغلب كلام السادة الفقهاء والعلماء الأجلاء في مدوناتهم الفقهية منصبا على القضاة، ومتوجها إليهم، وإن كان الحكم لا ينحصر فيهم، إلا أنه في حقهم أغلظ وأخطر.
يقول الفقيه أبو الحسن الماوردي في حق قضاة الأحكام: «فالهدايا في حقهم أغلظ مأثما وأشدُّ تحريماً؛ لأنَّهم مندوبون لحفظ الحقوق على أهلها دون أخذها، يأمرون فيها بالمعروف وينهون فيها عن المنكر، وقد روى أبو هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «لعن الله الرَّاشِي والمرتشي في الحكم»
(2) فخص الحكم بالذكر؛ لاختصاصه بالتغليظ»
(3).
ويلتحق بهم عند عامة الفقهاء سائر أصحاب الولايات والأعمال والوظائف؛ فإنَّهم في حكمهم.
ولما كانت هذه المسألة بهذه المنزلة، خصها بعض الفقهاء بالتأليف،
--------------------------------------------
এটিই হলো জগতের বিপর্যয়ের মূল উৎস।
ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ বলেন: «শাসক, বিচারক এবং সুপারিশকারী—এদের জন্য হাদিয়া বা উপহার গ্রহণ করা নিষিদ্ধ; আর এটিই হলো জগতের বিপর্যয়ের মূল কারণ, অযোগ্য ব্যক্তির নিকট দায়িত্ব অর্পণ করা এবং বিশ্বাসঘাতক, দুর্বল (ضعيف) ও অক্ষম ব্যক্তিদের দায়িত্বে নিযুক্ত করা। এর মাধ্যমে যে পরিমাণ বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে তা আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ গণনা করতে পারবে না। এটি কেবল এ কারণে যে, যার সাথে আগে থেকে উপহার আদান-প্রদানের অভ্যাস ছিল না, তার কাছ থেকে উপহার গ্রহণ করা তার প্রয়োজন মিটিয়ে দেওয়ার একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। আর কোনো কিছুর প্রতি তোমার ভালোবাসা তোমাকে অন্ধ ও বধির করে দেয়। ফলে উপহারদাতার প্রয়োজন মিটিয়ে দেওয়ার জন্য তার মনে এক প্রকার লালসা জাগ্রত হয়, যা উপহারের বিনিময় হিসেবে কাজ করে; এর সাথে যুক্ত হয় লোভ এবং অযোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে উদাসীনতা»
(1)।
এই কারণে বিজ্ঞ ফকিহ ও মহান আলেমগণের ফিকহী গ্রন্থসমূহের অধিকাংশ আলোচনা বিচারকদের কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে এবং তাদের প্রতি নির্দেশিত হয়েছে, যদিও এই বিধান কেবল তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তবে তাদের ক্ষেত্রে এটি অধিক কঠোর ও আশঙ্কাজনক।
ফকিহ আবুল হাসান আল-মাওয়ার্দি বিচারকদের বিষয়ে বলেন: «তাদের ক্ষেত্রে উপহার গ্রহণ করা পাপের দিক থেকে অধিক গুরুতর এবং কঠোরভাবে নিষিদ্ধ; কারণ তারা মানুষের অধিকার সংরক্ষণের জন্য নিযুক্ত হয়েছেন, তা গ্রহণ করার জন্য নয়। তারা তাতে সৎ কাজের আদেশ দেন এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করেন। আবু হুরায়রা (রা.) নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «বিচারকার্যে ঘুষদাতা এবং ঘুষগ্রহীতার ওপর আল্লাহর অভিশাপ»
(2)। এখানে বিচারকার্যকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এর কঠোরতার কারণে»
(3)।
সাধারণ ফকিহগণের মতে অন্যান্য সকল প্রশাসক, দায়িত্বশীল এবং পদস্থ কর্মকর্তাগণও তাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন; কেননা তারা একই হুকুমের (حكم) আওতাভুক্ত।
যেহেতু এই বিষয়টি এই পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ, তাই কিছু ফকিহ এই বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৯)
ووسع القول فيها، ومن هؤلاء العلامة المتفنن تقي الدين علي بن عبد الكافي بن علي بن تمام السبكي (ت 756 هـ)، حيث ألف رسالة وسمها بـ: (فصل المقال في هدايا العمال) بين فيها حدود هذه المسألة وصورها، ووسع القول في بيان أحكامها وذكر الأدلة عليها.
وقد يسر الله ـ بحوله وقوته ـ أن حصلت على نسخة وحيدة نفيسة لهذه الرسالة، فقرأتها، وفحصتها، وتحققتها، ووجدتها سفرًا من أسفار الفقه العظيمة، وعُمدةً في بابها، ففرحت بذلك جدًّا، وسارعت باقتناء المخطوطة، وإعداد خطة بحثية لتحقيقها؛ ليكون هذا الكتاب موضوعًا للحصول على درجة الماجستير في الفقه المقارن من المعهد العالي للقضاء
(1)، وها أنا بحمد الله اليوم: أطوي مدة زمنية متواصلة قاربت السنة ونصفها، قضيتها في تحقيق هذا السفر الفريد، لأقدمه إلى ثلة من العلماء الفاحصين لتقويمه وتصويبه، وبعد ذلك إلى طبعه ونشره؛ لأشبع به نهم العلماء العارفين، والقضاة العادلين، وطلاب العلم المثابرين، ويأخذ هذا الكتاب موقعه في المكتبة الإسلامية بعد أن كان غائبًا عنها دهرا من الزمان.
أهمية الموضوع وأسباب اختياره:1 - جلالة مؤلف هذا الكتاب ومكانته العلمية، حيث إنه أحد المحققين الكبار، والأعلام البارزين في المذهب الشافعي، وهو من الذين اتسمت مؤلفاته
--------------------------------------------
তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন বহুমুখী প্রতিভাধর আলেম আল্লামা তাকিউদ্দীন আলী বিন আব্দুল কাফি বিন আলী বিন তামাম আস-সুবকি (মৃত্যু ৭৫৬ হিজরি)। তিনি একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন যার নামকরণ করেছেন: (ফসলুল মাকাল ফি হাদায়াল উম্মাল)। এতে তিনি এই বিষয়ের সীমা ও ধরণ বর্ণনা করেছেন এবং এর বিধানসমূহ ও দলীলসমূহ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন।
আল্লাহর সাহায্য ও শক্তিতে এটি সহজ হয়েছে যে, আমি এই পুস্তিকাটির একটি অনন্য ও মূল্যবান পাণ্ডুলিপি লাভ করেছি। অতঃপর আমি তা পাঠ করেছি, পরীক্ষা করেছি এবং সম্পাদনা (تحقيق) করেছি। আমি এটিকে ফিকহ শাস্ত্রের এক মহান গ্রন্থ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি নির্ভরযোগ্য মূলভিত্তি হিসেবে পেয়েছি। এতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হই এবং পাণ্ডুলিপিটি সংগ্রহ করে এর সম্পাদনার (تحقيق) জন্য একটি গবেষণা পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে ত্বরান্বিত হই; যাতে এই বইটি 'আল-মা’হাদ আল-আলি লিল কাদা' (উচ্চতর বিচার বিভাগীয় ইনস্টিটিউট) থেকে তুলনামূলক ফিকহ শাস্ত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের বিষয় হতে পারে
(1)। আজ আল্লাহর প্রশংসায় আমি প্রায় দেড় বছরের একটি নিরবচ্ছিন্ন সময় অতিবাহিত করার পর এই অনন্য গ্রন্থটির সম্পাদনার (تحقيق) কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি, যাতে এটি বিজ্ঞ আলেমদের একটি দলের সামনে তাঁদের মূল্যায়ন ও সংশোধনের জন্য পেশ করতে পারি। অতঃপর এটি মুদ্রণ ও প্রকাশের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে এর মাধ্যমে প্রাজ্ঞ আলেম, ন্যায়পরায়ণ বিচারক এবং ধৈর্যশীল জ্ঞানান্বেষীদের জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করা যায় এবং দীর্ঘকাল অনুপস্থিত থাকার পর বইটি ইসলামী লাইব্রেরিতে তার যথাযোগ্য স্থান করে নিতে পারে।
বিষয়ের গুরুত্ব ও এটি নির্বাচনের কারণসমূহ:1 - এই গ্রন্থের লেখকের মর্যাদা ও তাঁর ইলমি অবস্থান; কেননা তিনি শাফেয়ী মাযহাবের অন্যতম বড় গবেষক (محقق) ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তিনি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত যাঁদের রচনাবলি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ১০)
بالتحقيق والتدقيق، واشتملت على بحوث نافعة وتحريرات بالغة؛ فثناء العلماء عليه وشهرة ذلك غني عن البيان.
2 - ما لهذا الكتاب من أهمية بالغة؛ حيث إن له صلة مباشرة بباب القضاء خصوصاً ـ والقضاء باب من أبواب الفقه - حيث حرّر فيه المؤلّف مسائل عدَّةً تهم القضاة؛ كمسألة حكم الهدية، والفرق بينها وبين الرشوة، وأيضًا مسألة قبول هدايا المشركين، ومسألة الرشوة هل تُرَدُّ لبيت المال أم لصاحبها؟ إلى غير ذلك من المسائل.
ويزيد هذا العلق النفيس نفاسةً، أن مؤلّفه ممَّن وَلِيَ القضاء، وعاناه زمنًا، وعايشه دهرًا، مما أكسبه خبرةً بمسائله ومعرفةً بقضاياه.
3 - كونه اشتمل على ذكر الخلاف العالي بين المذاهب الفقهية، فلا يأتي على مسألة إلا ويذكر الخلاف فيها، فهو قد اعتنى فيه بذكر الخلافيات، فهو يذكر الخلاف داخل المذهب الشافعي حسب اختلاف طرق أتباع الإمام الشافعي في حكاية المذهب المعتمد فيذكر طريقة العراقيين من أصحاب الإمام الشافعي رحمه الله؛ كأبي الطيب، والبَنْدَنِيجي، وابن الصباغ. ويضاف إلى هذا كله، ذكر أقوال المذاهب الأخرى، بل ومن شدة استقصائه رحمه الله في دراسة مسائل هذا الكتاب أن يذكر ما وجده في المسألة محل البحث حتى وإن كانت احتمالاً في مذهب آخر غير مذهب الشافعي، كما هو الحال في نقولاته غير القليلة عن موفق الدين ابن قدامة في عددٍ من المسائل، كاحتمال فقهي على مذهب أحمد في المسألة محل البحث.
4 - ظهور براعة مؤلّفه في تقرير الأشبه بمذهب الإمام فيما لا نص فيه، أو حصل التعارض فيه بين نصوصه.
গবেষণা (تحقيق) ও সূক্ষ্ম পর্যালোচনার (تدقيق) মাধ্যমে এতে বহুবিধ উপকারী আলোচনা ও গভীর বিশ্লেষণ (تحريرات) সন্নিবেশিত হয়েছে; ফলে গ্রন্থটির প্রতি উলামায়ে কেরামের ভূয়সী প্রশংসা এবং এর সুখ্যাতি সর্বজনবিদিত।
2 - এই গ্রন্থটির গুরুত্ব অপরিসীম; যেহেতু বিচারব্যবস্থা বা কাজা (قضاء) অধ্যায়ের সাথে এর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে—আর কাজা হলো ফিকহ শাস্ত্রের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—যেখানে লেখক বিচারকদের জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু মাসআলা বিশেষভাবে বিশ্লেষণ করেছেন; যেমন উপহারের বিধান, উপহার ও ঘুষের মধ্যে পার্থক্য, এছাড়াও মুশরিকদের নিকট থেকে উপহার গ্রহণের মাসআলা এবং ঘুষের অর্থ কি বাইতুল মালে জমা দিতে হবে নাকি এর প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে? এ জাতীয় অন্যান্য আরও মাসআলাসমূহ।
এই মূল্যবান রত্নটি আরও মহিমান্বিত হয়েছে একারণে যে, এর লেখক স্বয়ং বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দীর্ঘকাল এই পেশায় নিয়োজিত থেকে এর বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, যা তাঁকে এ সংশ্লিষ্ট মাসআলা ও বিচারিক বিষয়াবলি সম্পর্কে প্রাজ্ঞতা ও গভীর অভিজ্ঞতা দান করেছে।
3 - এতে বিভিন্ন ফিকহী মাযহাবের মধ্যকার উচ্চতর মতভেদসমূহ (الخلاف العالي) আলোচিত হয়েছে। লেখক এখানে প্রতিটি মাসআলা বর্ণনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মতভেদগুলো উল্লেখ করেছেন। তিনি এখানে ফিকহী মতপার্থক্য বা খিলাফিয়াতের বিষয়ে সবিশেষ যত্ন নিয়েছেন। ইমাম শাফেঈর অনুসারীদের মাযহাবের নির্ভরযোগ্য মত (المعتمد) বর্ণনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদ্ধতি বা ধারা (طرق) অনুযায়ী তিনি শাফেঈ মাযহাবের অভ্যন্তরীণ মতভেদগুলোও উল্লেখ করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি ইমাম শাফেঈর (রাহিমাহুল্লাহ) অনুসারী ইরাকি ঘরানার আলেমদের পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন; যেমন আবু তাইয়িব, বান্দানিজি এবং ইবনুস সাব্বাগ। এসবের পাশাপাশি তিনি অন্যান্য মাযহাবের বক্তব্যসমূহও উল্লেখ করেছেন। এমনকি এই গ্রন্থের মাসআলাসমূহ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তাঁর বিস্তারিত অনুসন্ধান (استقصاء) এতটাই গভীর ছিল যে, আলোচ্য বিষয়ে তিনি যা পেয়েছেন তাই উল্লেখ করেছেন, এমনকি যদি তা শাফেঈ মাযহাব ব্যতিরেকে অন্য মাযহাবের কোনো সম্ভাবনা (احتمال) হিসেবেও হয়ে থাকে। যেমনটি লক্ষ্য করা যায় বেশ কিছু মাসআলায় মুয়াফফাকুদ্দিন ইবনে কুদামার থেকে তাঁর উল্লেখযোগ্য উদ্ধৃতিগুলোর ক্ষেত্রে, যা আলোচ্য মাসআলায় ইমাম আহমদের মাযহাব অনুযায়ী একটি ফিকহী সম্ভাবনা (احتمال) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
4 - যে সকল বিষয়ে ইমামের কোনো স্পষ্ট বক্তব্য (نص) নেই অথবা যেক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্যসমূহের মধ্যে বৈপরীত্য (تعارض) পরিলক্ষিত হয়েছে, সেখানে মাযহাবের সবচেয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ (الأشبه) বিষয়টি নির্ধারণে লেখকের পাণ্ডিত্য ও পারদর্শিতা প্রস্ফুটিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ১১)
5 - عنايته رحمه الله في هذا الكتاب بالأثر والرأي معا.
6 - اشتمال هذا الكتاب على نُقول كثيرة عن عدد من أهل العلم.
7 - احتواؤه على نصوص من كتب تعد في عداد المفقود؛ حيث لا أثر لها، ولا خبر عنها، مما يزيد هذا الكتاب قيمةً وأهمية مما سيأتي الإشارة إليه في موضعه.
8 - التعرف على بعض كتب المصنف التي لا تزال مفقودة، وأشار إليها في كتابه هذا ومن ذلك: تفسيره الموسوم بـ «الدر النظيم في تفسير القرآن الكريم».
9 - أن هذا الكتاب على أهميته، لا يزال مخطوطاً ولم يحقق قبل ذلك، مما قوى الرغبة في خدمته الخدمة اللائقة به.
وبعد هذا كله أقول: لقد علم الله ـ وكفى به سبحانه شهيدا ــ ما بذلت في هذا السفر من العناية والاهتمام، واستفراغ الوسع لإخراجه بما يليق بمكانة مصنفه، ووفق ما يريده، فقد لزمت هذا الكتاب ما يقارب السنة، وجعلت له سنام وقتي، أحرر لفظه، وأخدم نصه، وأحليه بكلام أهل العلم ليزيد رونقه، ويسفر وجهه، ويكون تحفة لقارئه، فيعم به النفع، ويحصل به المقصود.
ويعلم كل من له عناية بفن التحقيق، أن التحقيق على نسخة واحدة صعب جدا وشاق، بل الجهد فيه يربو على ما لو كان للمخطوط أكثر من نسخة، وهذا المعنى وجدته نصب عيني في عملي هذا، حيث أنه كانت تعترضني بعض الكلمات، ويشكل عليَّ رسمها، أو تكون غير واضحة، أو واضحة ولكن غير مفهومة المعنى، وليس أمامي خيار إلا بالرجوع إلى الكتب التي تكون مظنة
5 - এই গ্রন্থে তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) আসার (أثر) এবং রায় (رأي) উভয়ের প্রতি বিশেষ যত্নশীলতা।
6 - এই কিতাবটিতে অসংখ্য আলেমদের থেকে প্রচুর উদ্ধৃতির সমাবেশ।
7 - এই গ্রন্থে এমন কিছু হারানো (مفقود) হিসেবে বিবেচিত কিতাবের মূল পাঠ (نصوص) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেগুলোর বর্তমানে কোনো চিহ্ন বা খবর পাওয়া যায় না। এটি এই কিতাবের মান ও গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার প্রতি যথাস্থানে ইঙ্গিত প্রদান করা হবে।
8 - গ্রন্থকারের এমন কিছু কিতাব সম্পর্কে পরিচিতি লাভ করা যা এখনো হারানো (مفقود) রয়ে গেছে এবং তিনি তাঁর এই কিতাবে সেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন; তন্মধ্যে রয়েছে: তাঁর তাফসির যা ‘আদ-দুররুন নাজিম ফি তাফসিরিল কুরআনিল কারিম’ নামে অভিহিত।
9 - এই কিতাবটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এখনো পাণ্ডুলিপি (مخطوط) আকারে রয়ে গেছে এবং ইতিপূর্বে এর কোনো সম্পাদনা (تحقيق) করা হয়নি; যা এর যথাযথ খিদমত করার প্রবল আকাঙ্ক্ষাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
এই সবের পর আমি বলব: আল্লাহ জানেন—এবং সাক্ষী হিসেবে তিনিই যথেষ্ট—এই বিশাল গ্রন্থটির প্রতি আমি কতটা যত্ন ও মনোযোগ ব্যয় করেছি এবং এর গ্রন্থকারের উচ্চ মর্যাদা ও তাঁর আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এটি প্রকাশের জন্য সাধ্যের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আমি প্রায় এক বছর এই কিতাবটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলাম এবং আমার সময়ের শ্রেষ্ঠ অংশটি এর জন্য ব্যয় করেছি। আমি এর শব্দাবলি পরিমার্জন করেছি, এর মূল পাঠ (نص)-এর খিদমত করেছি এবং আলেমদের বক্তব্যের মাধ্যমে একে সুশোভিত করেছি যাতে এর সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়, এর স্বরূপ প্রকাশিত হয় এবং এটি পাঠকের কাছে একটি বিশেষ উপহার হিসেবে গণ্য হয়; ফলে এর মাধ্যমে উপকার ব্যাপকতা লাভ করে এবং মূল উদ্দেশ্য সাধিত হয়।
যারা সম্পাদনা (تحقيق) শিল্পের সাথে যুক্ত, তারা প্রত্যেকেই জানেন যে, একটি মাত্র পাণ্ডুলিপি (نسخة) থেকে সম্পাদনা (تحقيق) করা অত্যন্ত কঠিন ও শ্রমসাধ্য কাজ। বরং এক্ষেত্রে প্রচেষ্টার মাত্রা পাণ্ডুলিপির (مخطوط) একাধিক কপি (نسخة) থাকার চেয়েও অনেক বেশি হয়ে থাকে। এই বিষয়টি আমি আমার এই কাজে প্রত্যক্ষ করেছি। কখনো আমার সামনে এমন কিছু শব্দ আসত যার লিখনশৈলী বোঝা আমার জন্য দুঃসাধ্য ছিল, অথবা শব্দগুলো অস্পষ্ট ছিল; কিংবা স্পষ্ট হলেও তার অর্থ বোধগম্য ছিল না। এমতাবস্থায় সেই সব কিতাবের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া আমার কাছে আর কোনো বিকল্প ছিল না যেগুলোতে এর সমাধান পাওয়ার সম্ভাবনা (مظنة) রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ১২)
لاستفادة المؤلف منها، أو الكتب التي تنقل عنه.
وإني في ختام مقدمة هذا العمل وديباجته: أتقدم إلى الله العلي الكبير، صاحب الفضل والإحسان، واللطف والامتنان، والطول والإنعام، حامداً ومثنياً وشاكراً له ـ سبحانه ـ على ما تفضل به عليَّ من نعمة الإسلام والتوحيد، والتوفيق والهداية، لسلوك سبيل العلم الشرعي ودراسته، وسائر سوابغ نعمه، فلك الحمد يا رب أولاً وآخراً، وظاهراً وباطناً.
ثم الشكر المتجدد، والثناء المتدفق؛ لصاحبي الفضل والإحسان، والبر والحنان؛ نور الدنيا، وبهجة الحياة، من عُمِرَ قلبي بمحبتهما، ولهج لساني بالدعاء الخالص لهما: والدي الكريمين؛ فما زلت ببركة دعائهما أجني الخير والفلاح والتوفيق، فأسأل الله أن يضاعف لهما الأجر والثواب، وأن يحسن إليهما كما أحسنا إليَّ، وأن يمد في أعمارهما على عمل صالح، وخير وتوفيق، وأن يمتعهما بالصحة والسلامة والعافية. ولأبي ذي المقام الرفيع: شكر عاطر منفرد ومجتمع؛ على صبره ومصابرته، وتضحيته بأمور دنياه في سبيل تربية ولده، ودعمه وتشجيعه منذ الصغر على حفظ القرآن العظيم، وسلوك سبيل العلم الشرعي، تولّى الله عني مكافأته، وأعان على الخير نيته، وأصحب بقاءه عزا وسعادة، وبركة وتوفيقاً.
ثم الشكر لفضيلة شيخنا وأستاذنا الدكتور/ عبد الحميد بن عبد الله المجلي رئيس قسم السياسة الشرعية في المعهد العالي للقضاء، الذي له الجهد العظيم في إخراج هذا التحقيق إخراجاً متقناً وحرصه على ذلك؛ فجزاه الله عني خير الجزاء، وبارك الله في علمه وفي عمره، وجعله مباركاً أيما كان.
كما أشكر فضيلة شيخنا الدكتور/ عبد الملك بن مرشود العتيبي عضو
لاستفادة المؤلف منها، أو الكتب التي تنقل عنه.
যাতে লেখক তা থেকে উপকৃত হতে পারেন, অথবা যে কিতাবসমূহ তাঁর থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করে।
আমি এই কর্মের ভূমিকা ও প্রস্তাবনার সমাপ্তিলগ্নে: মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর দরবারে—যিনি অনুগ্রহ ও ইহসান, করুণা ও কৃতজ্ঞতা এবং দান ও নেয়ামতের অধিকারী—তাঁর প্রশংসা, গুণগান ও শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। তিনি আমাকে ইসলাম ও তাওহীদের নেয়ামত, এবং শরয়ি জ্ঞান অর্জন ও তা অধ্যয়নের পথে চলার তাওফিক ও হেদায়েত দান করে যে অনুগ্রহ করেছেন, সেজন্য আমি তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি। হে রব! আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা—শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে।
অতঃপর আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা ও অবিরাম প্রশংসা; সেই অনুগ্রহ ও ইহসান এবং পুণ্য ও মমতার অধিকারী ব্যক্তিত্বদ্বয়ের প্রতি; যাঁরা এই পৃথিবীর আলো ও জীবনের আনন্দ, যাঁদের ভালোবাসায় আমার হৃদয় সিক্ত এবং যাঁদের জন্য আমার জিহ্বা সর্বদা একনিষ্ঠ দোয়ায় রত—তাঁরা হলেন আমার সম্মানিত পিতামাতা। তাঁদের দোয়ার বরকতেই আমি কল্যাণ, সফলতা ও তাওফিক লাভ করে চলেছি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁদের প্রতিদান ও সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন, এবং তাঁরা যেভাবে আমার প্রতি ইহসান করেছেন, তিনি যেন তাঁদের প্রতিও তেমনি ইহসান করেন। আল্লাহ যেন নেক আমল, কল্যাণ ও তাওফিকের সাথে তাঁদের দীর্ঘায়ু দান করেন এবং তাঁদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দিয়ে ধন্য করেন। বিশেষভাবে আমার মহান মর্যদাবান পিতার প্রতি জানাই সুগন্ধিময় ও গভীর কৃতজ্ঞতা; তাঁর ধৈর্য, সহনশীলতা এবং নিজ সন্তানের লালন-পালনের পথে পার্থিব স্বার্থ বিসর্জন দেওয়ার জন্য। শৈশব থেকেই তিনি আমাকে কুরআনুল কারিম হিফজ করা এবং শরয়ি জ্ঞানার্জনের পথে চলার ব্যাপারে যে সমর্থন ও উৎসাহ প্রদান করেছেন, আল্লাহ যেন আমার পক্ষ থেকে তাঁকে এর যথাযথ প্রতিদান দান করেন, তাঁর সৎ উদ্দেশ্যকে কবুল করেন এবং তাঁর জীবনকে সম্মান, সুখ, বরকত ও সফলতায় ভূষিত করেন।
অতঃপর আমাদের শ্রদ্ধেয় শায়খ ও উস্তাদ ডক্টর আব্দুল হামিদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মুজলি-র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি আল-মাআহাদ আল-আলি লিল কদা-র সিয়াসাহ শারইয়াহ বিভাগের প্রধান। এই তাহকিক (تحقيق) কর্মটি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য প্রচেষ্টা ও গভীর একাগ্রতা ছিল। আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁর ইলম ও হায়াতে বরকত দান করুন এবং তিনি যেখানেই থাকুন তাঁকে বরকতময় করুন।
একইভাবে আমি আমাদের শ্রদ্ধেয় শায়খ ডক্টর আব্দুল মালিক বিন মারশুদ আল-উতাইবি-র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি সদস্য...
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
هيئة التدريس في جامعة الملك سعود، الذي كان سبباً في اقتناء هذا المخطوط وعلى متابعته وتشجيعي، فجزاه الله عني خيراً.
والشكر موصول إلى إخوتي الكرام الأعزاء، ولكل من أعان وسدد ونصح، فلهم مني جميعاً أطيب الشكر وأجزله وأوفره.
وأختم بما بدأت به حامداً ومصلياً، فالحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات، وصلى الله على نبينا محمد وآله.
কিং সাউদ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মণ্ডলীর সদস্য, যিনি এই পাণ্ডুলিপি (مخطوط) সংগ্রহের উপলক্ষ ছিলেন এবং এর নিয়মিত তদারকি ও আমাকে উৎসাহিত করেছেন, আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
আমার সম্মানীয় ও প্রিয় ভাইদের প্রতি এবং যারা সাহায্য করেছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন ও পরামর্শ দিয়েছেন তাদের প্রত্যেকের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি; তাঁদের সকলের প্রতি রইল আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক, অঢেল ও বিশেষ শুকরিয়া।
আমি যা দিয়ে শুরু করেছিলাম তা দিয়েই শেষ করছি—আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ পাঠের মাধ্যমে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক আমল পূর্ণতা লাভ করে, এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
القسم الدراسي
وفيه فصلان
الفصل الأول: التعريف بالمؤلّف.
الفصل الثاني: دراسة الكتاب.
গবেষণামূলক বিভাগ
এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের পরিচয়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থ পর্যালোচনা।
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الفصل الأول التعريف بالمؤلفوفيه ستة مطالب:
المطلب الأول: اسمه، ونسبه، وكنيته، ولقبه، ومولده.
المطلب الثاني: شيوخه، وتلاميذه الآخذون عنه.
المطلب الثالث: مكانته العلمية، وثناء العلماء عليه.
المطلب الرابع: عقيدته، ومذهبه الفقهي.
المطلب الخامس: آثاره العلمية.
المطلب السادس: وفاته.
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের পরিচিতিএতে ছয়টি অনুচ্ছেদ (مطالب) রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম (كنية), উপাধি এবং জন্ম।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ এবং তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জনকারী ছাত্রবৃন্দ।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা এবং তাঁর প্রতি আলেমদের প্রশংসা।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর আকিদা (عقيدة) এবং ফিকহি মাযহাব (مذهب)।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলমি রচনাবলী।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু।
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المطلب الأول: اسمه ونسبه، وكنيته، ولقبه، ومولدههو علي بن عبد الكافي بن علي بن تمام بن يوسف بن موسى بن تمام بن حامد بن يحيى بن عمر بن عثمان بن علي بن مسوار بن سوار بن سليم السبكي، هذا ما أثبته ولده تاج الدين في طبقاته
(1).
ويُنسب السبكي إلى قرية (سُبْك)، بضم السين وسكون الباء، إحدى قرى مصر بالمنوفية
(2).
يكنى بأبي الحسن، ويلقب بتقي الدين.
وأما مولده؛ فقد اتفقت كلمة المؤرخين على أن السبكي وُلِد بسبك، وكان ذلك في مستهل شهر صفر سنة ثلاث وثمانين وستمائة
(3)، وقد ذكر ولده تاج الدين أنه وُلِد في اليوم الثالث منه
(4).
المطلب الثاني: شيوخه، وتلاميذه الآخذون عنهأما شيوخ المصنف فمنهم: ابن الرفعة (ت 710) صاحب المطلب العالي وكفاية النبيه، وعبد المؤمن الدمياطي (ت 714) - وقد نقل عنهما في كتابنا هذا ــ،
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম, উপাধি এবং জন্মতিনি হলেন আলী ইবনে আব্দুল কাফি ইবনে আলী ইবনে তাম্মাম ইবনে ইউসুফ ইবনে মুসা ইবনে তাম্মাম ইবনে হামিদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উমর ইবনে উসমান ইবনে আলী ইবনে মিসওয়ার ইবনে সাওয়ার ইবনে সুলাইম আস-সুবকী। এটিই তাঁর সন্তান তাজউদ্দীন তাঁর তাবাকাত গ্রন্থে সাব্যস্ত করেছেন
(১)।
সুবকী শব্দটি মিশরের মানুফিয়া প্রদেশের 'সুবক' নামক একটি গ্রামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যেখানে সীন বর্ণে পেশ এবং বা বর্ণে সুকুন উচ্চারিত হয়
(২)।
তাঁর উপনাম আবুল হাসান এবং উপাধি তাকীউদ্দীন।
আর তাঁর জন্ম প্রসঙ্গে ঐতিহাসিকগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, সুবকী 'সুবক' গ্রামে সফর মাসের শুরুতে ৬৮৩ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন
(৩)। তাঁর সন্তান তাজউদ্দীন উল্লেখ করেছেন যে, তিনি উক্ত মাসের তিন তারিখে জন্মগ্রহণ করেন
(৪)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর শাইখগণ এবং তাঁর থেকে শিক্ষা গ্রহণকারী ছাত্রবৃন্দগ্রন্থকারের শাইখদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনুর রিফআহ (মৃত্যু ৭১০ হি.), যিনি আল-মাতলাব আল-আলি এবং কিফায়াতুন নাবিহ গ্রন্থের রচয়িতা; এবং আব্দুল মুমিন আদ-দিমইয়াতি (মৃত্যু ৭১৪ হি.)। আমাদের এই গ্রন্থে তাঁদের উভয়ের থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ২০)
وعلم الدين العراقي (ت 704) أخذ عنه التفسير، وعلاء الدين الباجي (ت 714) أخذ عنه الأصلين، وأبو حيان الأندلسي (ت 715)، وغيرهم.
وأما تلاميذه فمنهم: الصفدي (ت 764)، والعلائي (ت 761)، والإسنوي (ت 772)، والبرزالي (ت 739)، والذهبي (ت 748)، وابنه التاج (ت 771)، وغيرهم.
المطلب الثالث: مكانته العلمية وثناء العلماء عليهكان للسبكي مكانةٌ علمية بحيث كثرت كلماتُ الثناء عليه أثناء ترجمة العلماء له، وهذه طائفة من هذه الكلمات، قال ابنه تاج الدين: «وقد تولى بدمشق مع القضاء خطابة الجامع الأموي
… وقال لي شيخنا الذهبي حين ولي الخطابة: إنه ما صعد هذا المنبر بعد ابن عبد السلام، أعظم منه»
(1).
وقال أيضا: «ولقد سمعت صلاح الدين خليل كيكلدي العلائي يقول: الناس يقولون: ما جاء بعد الغزالي مثل السبكي، وعندي أنهم يظلمونه بهذا، وما هو عندي إلا مثل سفيان الثوري»
(2).
وقال الذهبي: «القاضي الإمام العلامة الفقيه المحدث الحافظ فخر العلماء، تقي الدين أبو الحسن السبكي، ثم المصري الشافعي .. كان صادقًا مثبتًا، خيرًا دينا متواضعاً، حسن السَّمْتِ، من أوعية العلم، يدري الفقه ويقرّره، وعِلْمَ الحديث ويُحرّره، والأصول ويُقرئها، والعربية ويحققها .. وصنف التصانيف المتقنة، وقد بقي في زمانه الملحوظ إليه بالتحقيق والفضل»
(3).
--------------------------------------------
আলম উদ্দিন আল-ইরাকি (মৃত্যু ৭০৪ হি.) তার নিকট থেকে তাফসির গ্রহণ করেছেন, আলা উদ্দিন আল-বাজি (মৃত্যু ৭১৪ হি.) তার নিকট থেকে উসুল (الأصول) দ্বয় গ্রহণ করেছেন এবং আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৭১৫ হি.) সহ অন্যান্যরা।
আর তার ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: আস-সাফাদি (মৃত্যু ৭৬৪ হি.), আল-আলাই (মৃত্যু ৭৬১ হি.), আল-ইসনাভি (মৃত্যু ৭৭২ হি.), আল-বিরজালি (মৃত্যু ৭৩৯ হি.), আয-যাহাবি (মৃত্যু ৭৪৮ হি.), তার পুত্র তাজ উদ্দিন (মৃত্যু ৭৭১ হি.) এবং অন্যান্যরা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তার ইলমি মর্যাদা এবং তার প্রশংসায় উলামায়ে কেরামের উক্তিআস-সুবকির এমন এক ইলমি মর্যাদা ছিল যে, আলেমগণ যখন তার জীবনী আলোচনা করেছেন, তখন তার প্রশংসায় অনেক বাক্য উল্লেখ করেছেন। নিচে এ জাতীয় কিছু বক্তব্যের সংকলন দেওয়া হলো। তার পুত্র তাজ উদ্দিন বলেন: «তিনি দামেস্কে বিচারক পদের পাশাপাশি উমাইয়া জামে মসজিদের খতিব পদের দায়িত্বও পালন করেছেন
… এবং আমাদের শায়খ আয-যাহাবি যখন তিনি খতিব হিসেবে নিযুক্ত হলেন তখন আমাকে বলেছিলেন: ইবনে আব্দুস সালামের পর এই মিম্বরে তার চেয়ে মহান আর কেউ আরোহণ করেননি»
(১)।
তিনি আরও বলেন: «আমি সালাহ উদ্দিন খলিল কাইকালদি আল-আলাইকে বলতে শুনেছি: মানুষ বলে থাকে, আল-গাজালির পর আস-সুবকির মতো আর কেউ আসেনি; কিন্তু আমার মতে তারা এ কথার মাধ্যমে তার প্রতি অবিচার করছে। তিনি আমার নিকট সুফিয়ান আস-সাওরির মতো ছিলেন»
(২)।
আয-যাহাবি বলেন: «তিনি হলেন বিচারপতি, ইমাম, আল্লামা, ফকিহ, মুহাদ্দিস (محدث), হাফিজ (حافظ), ওলামাদের গৌরব, তাকি উদ্দিন আবুল হাসান আস-সুবকি, অতঃপর মিসরি শাফেয়ি... তিনি ছিলেন সত্যবাদী (صادق), সুদৃঢ় (مثبت), নেককার, ধর্মপ্রাণ, বিনয়ী, সুন্দর স্বভাবের অধিকারী এবং ইলমের আধার। তিনি ফিকহ জানতেন ও তা বর্ণনা করতেন, ইলমে হাদিস (علم الحديث) এর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করতেন, উসুল (الأصول) পড়াতেন এবং আরবি ভাষার সুগভীর তত্ত্ব উদ্ঘাটন করতেন... তিনি অত্যন্ত সুনিপুণ গ্রন্থাবলী রচনা করেছেন এবং নিজ জামানায় তিনি ইলমি তাহকিক ও শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে সবার দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন»
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ২১)
وأما الحافظ أبو الحجاج المزي فلم يكتب لفظة شيخ الإسلام إلا له، وللشيخ تقي الدين ابن تيمية، وللشيخ شمس الدين بن أبي عمر
(1).
المطلب الرابع: عقيدته، ومذهبه الفقهي
عقيدته:كان أبو الحسن علي بن عبد الكافي السبكي على مذهب أبي الحسن الأشعري في مسائل أصول الدين، قال السيوطي - رحمه الله -: «ولما توفي المزي، عينت مشيخة دار الحديث الأشرفية الذهبي، فقيل: إن شرط واقفها أن يكون الشيخ أشعري العقيدة، والذهبي متكلم فيه فوليها السبكي»
(2).
مذهبه الفقهي:الإمام السبكي شافعي المذهب، بل إمام الشافعية في عصره، ويصفه ابنه في الطبقات بشافعي الزمان
(3).
المطلب الخامس: آثاره العلميةيعتبر الشيخ الإمام من أكثر العلماء الذين صنفوا الكتب في كثير من المجالات والفنون، وفي ذلك يقول ابنه تاج الدين: «اعلم أن باب مباحثه بحر
--------------------------------------------
পক্ষান্তরে হাফেজ (الحافظ) আবু হাজ্জাজ আল-মিযযি 'শায়খুল ইসলাম' উপাধিটি কেবল তাঁর জন্য, শায়খ তাকিউদ্দিন ইবনে তাইমিয়া এবং শায়খ শামসুদ্দিন ইবনে আবি উমর
(1) এর জন্যই ব্যবহার করেছেন।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর আকিদাহ ও ফিকহি মাযহাব
তাঁর আকিদাহ:আবু হাসান আলী বিন আব্দুল কাফি আস-সুবকি দ্বীনের মৌলিক বিষয়াবলির মাসআলাসমূহে আবু হাসান আল-আশআরির মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। সুয়ূতী (রহ.) বলেন: «যখন আল-মিযযি ইন্তেকাল করেন, তখন দারুল হাদিস আল-اشরাফিয়ার প্রধান পদের জন্য আয-যাহাবিকে মনোনীত করা হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল যে, এর ওয়াকফকারীর শর্ত হলো শায়খকে আশআরি আকিদাহর অধিকারী হতে হবে, অথচ আয-যাহাবি ছিলেন সমালোচিত (متكلم فيه), ফলে আস-সুবকিকে সেই পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়»
(2).
তাঁর ফিকহি মাযহাব:ইমাম আস-সুবকি শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, বরং তিনি তাঁর যুগের শাফেয়ীদের ইমাম ছিলেন। তাঁর পুত্র 'তাবাকাত' গ্রন্থে তাঁকে 'যুগের শাফেয়ী' হিসেবে বর্ণনা করেছেন
(3).
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি রচনাবলিশায়খ ইমামকে সেই সকল আলেমদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয় যারা অনেক ক্ষেত্র ও শিল্পকলায় সর্বাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে তাঁর পুত্র তাজউদ্দিন বলেন: «জেনে রেখো যে, তাঁর গবেষণার দিগন্ত এক সুবিশাল সমুদ্র...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ২২)
لا ساحل له، ولقد سمعت بعض الفضلاء يقول: أنا أعتقد أن كلَّ بحث يقع اليوم على وجه الأرض فهو له، أو مُستمَدٌّ من كلامه وتقريراته التي طبقت طبق الأرض»
(1).
ويقول أيضا: «ومما أعتقد به عظمة الشيخ الإمام رحمه الله أن عامة تصانيفه اللطاف في مسائل نادرة الوقوع، مولدة الاستخراج لم يسبق فيها للسابقين كلام، وإن تكلّم في آية أو حديث أو مسألة سبق إلى الكلام فيها، اقتصر على ذكر ما عنده ممّا استخرجته فكرته السليمة، ووقعت عليه أعماله القويمة، غير جامع كلمات السابقين»
(2).
وقال السيوطي: «وصنّف نحو مائة وخمسين كتابًا مطولاً ومختصرًا، والمختصر منها لا بدّ وأن يشتمل على ما لا يوجد في غيره، من تحقيق وتحرير لقاعدة واستنباط دقيق»
(3).
فمن تلك المؤلفات ما هو مطبوع ومنها ما هو مخطوط أو مفقود، وسأقتصر على ذكر ما علمته مطبوعا
(4):
* الإبهاج في شرح المنهاج، كتب فيه جزءًا حتى مقدمة الواجب وأتمّه ولده التاج السبكي، طبع بدار البحوث الإسلامية وإحياء التراث سنة 1424 هـ، 2004 م.
* التمهيد في ما يجب التحديد، نشره صلاح الدين المنجد، دمشق، مطبعة الشرقي، عام 1370 هـ، 1951 م.
--------------------------------------------
(তার জ্ঞানের) কোনো সীমা নেই। আমি কোনো কোনো গুণী ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি: ‘আমি বিশ্বাস করি যে, বর্তমানে পৃথিবীর বুকে যত গবেষণা হচ্ছে, তা হয় তার নিজের, অথবা তার কথা ও গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত থেকে সংগৃহীত—যা পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে’
(1)।
তিনি আরও বলেন: ‘শাইখ আল-ইমাম (রহিমাহুল্লাহ)-এর মহত্ত্ব সম্পর্কে আমার একটি বিশ্বাস এই যে, তার সুক্ষ্ম রচনার অধিকাংশ এমন সব বিরল মাসআলা (مسألة) এবং এমন নতুন উদ্ভাবনী গবেষণালব্ধ তথ্য নিয়ে রচিত, যে বিষয়ে পূর্ববর্তীদের কোনো কথা ছিল না। আর তিনি যদি কোনো আয়াত, হাদিস বা এমন কোনো মাসআলা (مسألة) নিয়ে আলোচনা করতেন যে বিষয়ে ইতিপূর্বে আলোচনা হয়েছে, তবে তিনি কেবল নিজের সেই চিন্তাগুলোই ব্যক্ত করতেন যা তার স্বচ্ছ মেধা থেকে উদ্ভূত এবং তার সুদৃঢ় গবেষণালব্ধ ফল; তিনি কেবল পূর্ববর্তীদের কথার সংগ্রাহক ছিলেন না’
(2)।
সুয়ূতী বলেন: ‘তিনি ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় দেড়শটি কিতাব রচনা করেছেন। তার সংক্ষিপ্ত গ্রন্থগুলোরও বৈশিষ্ট্য হলো, সেগুলোতে অবশ্যই এমন কিছু বিদ্যমান যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না—চাই তা সূক্ষ্ম গবেষণা (تحقيق) হোক, কোনো মূলনীতির বিশ্লেষণ (تحرير) হোক কিংবা গভীর আহরণ (استنباط) হোক’
(3)।
এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে কিছু মুদ্রিত (مطبوع) হয়েছে এবং কিছু পাণ্ডুলিপি (مخطوط) আকারে আছে অথবা হারিয়ে (مفقود) গেছে। আমি কেবল সেই গ্রন্থগুলো উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব যা মুদ্রিত (مطبوع) অবস্থায় পাওয়ার কথা আমার জানা আছে
(4):
* আল-ইবহাঝ ফি শারহিল মিনহাজ: তিনি এতে ‘মুকাদ্দিমাতুল ওয়াজিব’ পর্যন্ত একটি অংশ লিখেছিলেন এবং তার পুত্র তাজ আল-সুবকী এটি সম্পন্ন করেন। এটি ১৪২৪ হিজরি, ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে দারুল বুহুস আল-ইসলামিয়া ওয়া ইহয়াউত তুরাস থেকে মুদ্রিত হয়েছে।
* আত-তামহিদ ফি মা ইয়াজিবুত তাহদিদ: এটি সালাহুদ্দিন আল-মুনজিদ সম্পাদনা করেছেন, দামেস্ক, মাতবাআতুশ শারকি, ১৩৭০ হিজরি, ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
• رسالة في رفع اليدين في الصلاة، طبعت ضمن كتاب «مجموعة الرسائل المنيرية» طبع في بيروت، إدارة الطباعة المنيرية، 1970 م، ص 353.
• شفاء السقام في زيارة خير الأنام، طبع في حيدر آباد، عام 1315 هـ.
• فتاوى السبكي، طبعت في القاهرة، مكتبة القدسي 1937 م.
• السيف الصقيل في الرد على ابن زفيل، القاهرة، مطبعة السعادة 1937 م.
• تكملة «المجموع شرح المهذب» قال ولده في الطبقات 10/ 307: «بنى على النووي رحمه الله من باب الربا، ووصل إلى أثناء التفليس، في خمس مجلدات»، حققه وعلق عليه وأكمله بعد نقصانه محمد نجيب المطيعي، نشرته: مكتبة الإرشاد، جدة - المملكة العربية السعودية.
• العلم المنشور في إثبات الشهور، طبعته مكتبة الشافعي في الرياض، الطبعة الثانية 1410 هـ.
• معنى قول المطلبي إذا صح الحديث فهو مذهبي، طبع ضمن الرسائل المنيرية ص 98.
• إن مدرك الركوع ليس بمدرك الركعة على الصحيح، مطبوع مع كتاب: جزء القراءة خلف الإمام للإمام البخاري، حققه فضل الرحمن الثوري، نشرته المكتبة السلفية بباكستان، لاهور سنة 1400 هـ، 1980 م.
• الابتهاج شرح المنهاج، حقق في رسائل علمية بجامعة أم القرى.
• إبراز الحكم من حديث «رفع القلم»، حققه كيلاني محمد خليفة، ونشرته دار البشائر الإسلامية، بيروت سنة 1412 هـ، 1992 م.
• أحاديث رفع اليدين، مطبوع ضمن مجموعة الرسائل المنيرية، دار
• সালাতে হাত উঠানো (রফউল ইয়াদাইন) বিষয়ক পুস্তিকা, এটি ‘মাজমুআতুর রাসায়িল আল-মুনিরিয়্যাহ’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়ে বৈরুতের মুনিরিয়্যাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে, পৃষ্ঠা ৩৫৩।
• শিফাউস সিকাম ফি জিয়ারতি খাইরিল আনাম, এটি ১৩১৫ হিজরি সনে হায়দ্রাবাদ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
• ফাতাওয়া আস-সুবকি, এটি ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে কায়রোর মাকতাবাতুল কুদসি থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
• আস-সাইফুল সাকিল ফির রাদ্দি আলা ইবনু জাফিল, কায়রো, মাতবাআতুস সাআদাহ, ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ।
• ‘আল-মাজমু’ শারহুল মুহাজ্জাব’-এর পরিশিষ্ট (তাকমিলাহ)। তার পুত্র ‘আত-তাবাকাত’-এ (১০/৩০৭) বলেন: “তিনি ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ)-এর রিব (সুদ) অধ্যায় থেকে কাজ শুরু করেছিলেন এবং দেউলিয়া হওয়ার অধ্যায়ের মধ্যভাগ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন, যা মোট পাঁচ খণ্ডে সমাপ্ত।” এটি সম্পাদনা করেছেন, টীকা লিখেছেন এবং অসম্পূর্ণ অংশ পূর্ণ করেছেন মুহাম্মদ নাজিব আল-মুতিয়ি। এটি মাকতাবাতুল ইরশাদ, জেদ্দা - সৌদি আরব থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
• আল-ইলামুল মানশুর ফি ইসবাতিশ শুহুর, এটি রিয়াদের মাকতাবাতুশ শাফিঈ থেকে ১৪১০ হিজরিতে দ্বিতীয় সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে।
• আল-মুত্তালিবি (ইমাম শাফিঈ)-এর উক্তি ‘যখন হাদিস সহিহ (صحيح) হবে সেটিই আমার মাযহাব’-এর তাৎপর্য; এটি মাজমুআতুর রাসায়িল আল-মুনিরিয়্যাহ-এর পৃষ্ঠা ৯৮-এ মুদ্রিত হয়েছে।
• ‘রুকু পাওয়া ব্যক্তি রাকাত পাবে না’—সঠিক (الصحيح) মতানুযায়ী লিখিত এই পুস্তিকাটি ইমাম বুখারি রচিত ‘জুযউল কিরাত খালফাল ইমাম’ বইটির সাথে মুদ্রিত হয়েছে। এটি সম্পাদনা করেছেন ফজলুর রহমান আস-সাওরি এবং পাকিস্তানের লাহোরের মাকতাবাতুস সালাফিয়্যাহ থেকে ১৪০০ হিজরি/১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে।
• আল-ইবতিহাজ শারহুল মিনহাজ, এটি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপত্র হিসেবে সম্পাদিত হয়েছে।
• ‘কলম উঠিয়ে নেওয়া’ সংক্রান্ত হাদিস থেকে বিধি-বিধান বের করা (ইবরাযুল হুকম), এটি কাইলানি মুহাম্মদ খলিফা সম্পাদনা করেছেন এবং বৈরুতের দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ থেকে ১৪১২ হিজরি/১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে।
• সালাতে হাত উঠানো (রফউল ইয়াদাইন) সম্পর্কিত হাদিসসমূহ, এটি মাজমুআতুর রাসায়িল আল-মুনিরিয়্যাহ-এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত হয়েছে, দার...
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
إحياء التراث العربي، بيروت.
• أحكام كل وما عليه تدل، مطبوع بذيل تلقيح المفهوم في تخصيص صيغ العموم، للحافظ العلائي.
• الاعتبار ببقاء الجنة والنار، حققه: طه الدسوقي حبيشي في القاهرة سنة 1987 م.
بيان حكم الربط في اعتراض الشرط على الشرط، حققته: نورة أمين البساطي من جامعة أم القرى، سنة 1414 هـ.
• الرفدة في معنى وحده، حققه: الدكتور عبد الكريم الزبيدي، نشرته دار البلاغة سنة 1409 هـ، 1988 م.
• السيف المسلول على من سب الرسول، نشرته دار الفتح، عمان - الأردن، سنة 1421 هـ، 2000 م، بتحقيق: إياد أحمد الغوج.
• القول الموعب في القضاء بالموجب، حققه الدكتور علي القصير، ونشره في مجلة البحوث الفقهية المعاصرة في عدد: 64، سنة 1425 هـ.
• المسائل الحلبية، طبعت باسم: قضاء الأرب في أسئلة حلب، حققه: محمد عالم عبد المجيد الأفغاني، نشرته المكتبة التجارية بمكة المكرمة سنة 1409 هـ.
• السهم الصائب في قبض دين الغائب، طبع بتحقيق الدكتور: خالد بن محمد العروسي ضمن بحوث مجلة أم القرى العدد الخامس والعشرين (ص 647 - 1016) 1423 هـ.
• ورد العلل في فهم العلل، حققه الدكتور: علي بن صالح المحمادي،
ইহয়াউত তুরাস আল-আরাবি, বৈরুত।
• আহকামু কুল্লি ওয়া মা আলাইহি তাদুল্লু (সার্বিক বিধান (حكم) ও এর নির্দেশক বিষয়সমূহ), এটি হাফেজ আল-আলাই রচিত ‘তালকিহুল মাফহুম ফি তাখসিস সিয়াগিল উমুম’ গ্রন্থের পরিশিষ্টে মুদ্রিত হয়েছে।
• আল-ইতিবার বি বকাউল জান্নাহ ওয়ান নার, এটি ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে কায়রোতে তাহা আদ-দেসুকি হুবাইশি সম্পাদনা করেছেন।
বায়ানু হুকমির রবাত ফি ইতিরাদিল শারতি আলাশ শারত (শর্তের ওপর শর্তারোপের ক্ষেত্রে সংযুক্তকরণের বিধান (حكم) বর্ণনা), এটি ১৪১৪ হিজরিতে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নূরা আমিন আল-বাসাতি সম্পাদনা করেছেন।
• আল-রিফদাহ ফি মানা ওয়াহদাহু, এটি ডক্টর আব্দুল কারিম আল-জুবাইদি সম্পাদনা করেছেন এবং দারুল বালাগাহ ১৪০৯ হিজরি, ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশ করেছে।
• আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল, এটি ইয়াদ আহমদ আল-গুজ-এর সম্পাদনায় ১৪২১ হিজরি, ২০০০ খ্রিস্টাব্দে জর্ডানের আম্মান থেকে দারুল ফাতহ প্রকাশ করেছে।
• আল-কাওলুল মুআব ফিল কাজা বিল মুজাব, এটি ডক্টর আলী আল-কুসাইর সম্পাদনা করেছেন এবং ১৪২৫ হিজরিতে সমকালীন ফিকহী গবেষণা সাময়িকীর ৬৪তম সংখ্যায় এটি প্রকাশিত হয়েছে।
• আল-মাসাইলুল হালাবিয়্যাহ, এটি ‘কাজাউল আরাবি ফি আসইলাতি হালাব’ নামে মুদ্রিত হয়েছে, যা মুহাম্মদ আলম আব্দুল মাজিদ আল-আফগানি সম্পাদনা করেছেন এবং ১৪০৯ হিজরিতে মক্কা মুকাররমার আল-মাকতাবাতুত তিজারিয়াহ প্রকাশ করেছে।
• আস-সাহমুস সাইব ফি কবজি দাইনিল গায়িব, এটি ডক্টর খালিদ বিন মুহাম্মদ আল-আরুসির সম্পাদনায় ১৪২৩ হিজরিতে উম্মুল কুরা সাময়িকীর ২৫তম সংখ্যায় (পৃষ্ঠা ৬৪৭ - ১০১৬) গবেষণাপত্র হিসেবে মুদ্রিত হয়েছে।
• ওয়ারদুল ইলাল ফি ফাহমিল ইলাল (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) অনুধাবনের ক্ষেত্রে), এটি ডক্টর আলী বিন সালিহ আল-মাহমাদি সম্পাদনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
جامعة أم القرى.
* كتاب بر الوالدين، طبعت بدار البشائر الإسلامية، تحقيق: نظام محمد صالح يعقوبي.
* نصيحة القضاة، ضمن كتاب معيد النعم ومبيد النقم، ص 50، نقلها التاج من خطه صلى الله عليه وسلم.
المطلب السادس: وفاتهابتدأ الضعف به في ذي القعدة سنة 755 هـ، واستمر عليلا، إلا أنه لم يُحَمَّ قطُّ.
واستمر بدمشق عليلا، فأناب ولده تاج الدين على قضاء الشام بدلا عنه، ثم انتقل إلى الديار المصرية، حيث كان يذكر أنه لا يموت إلا بها، فاستمر عليلا أياما يسيرة، ثم توفي ليلة الاثنين المسفرة عن ثالث جمادى الآخرة سنة 756 هـ، بظاهر القاهرة، ودفن بباب النصر، تغمده الله برحمته ورضوانه، وأسكنه فسيح جناته، وأجمع من شهد جنازته أنه لم ير جنازة أكثر جمعاً منها
(1).
--------------------------------------------
উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়।
* কিতাব বিররুল ওয়ালিদাইন, দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়া থেকে মুদ্রিত, সম্পাদনা: নিযাম মুহাম্মদ সালেহ ইয়াকুবি।
* নাসিহাতুল কুদাত, মুয়ীদুন নিআম ওয়া মুবীদুন নিকাম গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত, পৃষ্ঠা ৫০, এটি আত-তাজ তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) স্বহস্তলিখন থেকে নকল করেছেন।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর ইন্তেকাল৭৫৫ হিজরি সালের জিলকদ মাসে তাঁর মধ্যে শারীরিক দুর্বলতা (الضعف) শুরু হয় এবং তিনি অসুস্থ থাকেন, তবে তিনি কখনোই জ্বরাক্রান্ত হননি।
তিনি দামেস্কে অসুস্থ অবস্থায় অবস্থান করতে থাকেন এবং তাঁর পরিবর্তে তাঁর পুত্র তাজউদ্দীনকে শামের বিচারকার্যের স্থলাভিষিক্ত করেন। এরপর তিনি মিশর অভিমুখে যাত্রা করেন, কারণ তিনি বলতেন যে তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করবেন। সেখানে তিনি অল্প কয়েক দিন অসুস্থ থাকার পর ৭৫৬ হিজরি সালের ৩রা জমাদিউল আখিরাত সোমবার দিবাগত রাতে কায়রোর উপকণ্ঠে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে বাবুন নাসর-এ দাফন করা হয়। আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমত ও সন্তুষ্টি দ্বারা আবৃত করুন এবং তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ত স্থানে জান্নাতবাসী করুন। তাঁর জানাজায় উপস্থিত সকলে এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, তাঁরা এর চেয়ে বড় জানাজা আর কখনও দেখেননি।
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الفصل الثاني دراسة الكتابوفيه ثمانية مطالب:
* المطلب الأول: إثبات اسم الكتاب.
* المطلب الثاني: توثيق نسبة الكتاب لمصنفه.
* المطلب الثالث: التعريف بالكتاب، وبيان السبب الباعث على تأليفه.
* المطلب الرابع: منهج المصنف في الكتاب.
* المطلب الخامس: مصادر المؤلف في الكتاب.
* المطلب السادس: محاسن الكتاب.
* المطلب السابع: المآخذ على الكتاب.
* المطلب الثامن: وصف النسخة الخطية للكتاب.
দ্বিতীয় অধ্যায়: গ্রন্থ পর্যালোচনাএতে আটটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
* প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের নাম সুনিশ্চিতকরণ।
* দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থকারের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (توثيق)।
* তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের পরিচিতি এবং এটি রচনার পেছনের কারণ বর্ণনা।
* চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থে গ্রন্থকারের অনুসৃত পদ্ধতি (منهج)।
* পঞ্চম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থে গ্রন্থকারের তথ্যসূত্রসমূহ।
* ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের বৈশিষ্ট্যসমূহ।
* সপ্তম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের সমালোচনা বা সীমাবদ্ধতাসমূহ (المآخذ)।
* অষ্টম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের পাণ্ডুলিপির বিবরণ।
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المطلب الأول: إثبات اسم الكتابسُمي هذا الكتاب بـ «فصل المقال في هدايا العمال» وهذه التسمية يمكن إثباتها بما يأتي:
1 ـ أن المؤلف نفسه قد نص على اسم هذا الكتاب في مقدمته، حيث قال: «وبقي في نفسي ما لم يحتمله التفسير، فأحببت أن أبينه فأفردت هذه الكراسة وجعلتها مسألة مستقلة سميتها «فصل المقال في هدايا العمال» وهو مرتب على فصول»
(1).
2 ـ أن علماء الشافعية رحمه الله ذكروا اسم هذا الكتاب كما هو مثبت على طرة المخطوط، ومن هؤلاء:
أ ـ أن ابنه التاج نسبه إليه فإنه لما ذكر محاسن أبيه في كتابه «معيد النعم ومبيد النقم» عدَّ منها تأليفه هذا الكتاب، وامتدحه وأطراه، فقال: «ومن محاسن الشيخ الإمام رحمه الله تعالى، كتاب «فصل المقال في هدايا العمال»؛ اشتمل على فوائد نفيسة، فلينظره من شاء»
(2).
ب - أن ابنه التاج ذكره عندما عدَّد مصنَّفاتِ والده فنَصَّ عليه وسمَّاه: «فصل المقال في هدايا العمال» كما هو مثبت على طرة المخطوط، وأشار إلى مختصره أيضاً
(3)، وهو مطبوع ضمن فتاوى السبكي 1/ 203 وما بعدها،
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের নামকরণের সপ্রমাণকরণএই গ্রন্থটিকে «ফাসলুল মাকাল ফি হাদায়াল উম্মাল» নামে নামকরণ করা হয়েছে এবং এই নামকরণটি নিম্নোক্ত দলিলসমূহের ভিত্তিতে সাব্যস্ত করা সম্ভব:
১ — স্বয়ং গ্রন্থকার নিজেই তার ভূমিকার মধ্যে এই কিতাবের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: «আমার অন্তরে এমন কিছু বিষয় অবশিষ্ট ছিল যা তাফসিরের আলোচনায় স্থান দেওয়া সম্ভব ছিল না। তাই আমি তা বর্ণনা করার ইচ্ছা পোষণ করলাম এবং এই ক্ষুদ্র পুস্তিকাটি পৃথকভাবে সংকলন করলাম। আমি একে একটি স্বতন্ত্র মাসআলা হিসেবে নির্ধারণ করেছি এবং এর নামকরণ করেছি «ফাসলুল মাকাল ফি হাদায়াল উম্মাল»; আর এটি বিভিন্ন পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত»
(১)।
২ — শাফেয়ি আলিমগণ (রাহিমাহুল্লাহ) এই কিতাবের নাম এভাবেই উল্লেখ করেছেন, যেমনটি পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে সাব্যস্ত রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন:
ক — তার পুত্র তাজ (তাজুদ্দিন) গ্রন্থটিকে তার পিতার দিকে সম্বন্ধিত করেছেন। তিনি যখন তার «মুয়িদুল নিআম ওয়া মুবিদুল নিকাম» গ্রন্থে তার পিতার অনন্য গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, তখন সেখানে তার এই গ্রন্থ সংকলনের কথা উল্লেখ করেছেন এবং এর উচ্চ প্রশংসা ও গুণকীর্তন করে বলেছেন: «শেখ ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর শ্রেষ্ঠ কীর্তিসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো কিতাব «ফাসলুল মাকাল ফি হাদায়াল উম্মাল»; এটি অত্যন্ত মূল্যবান অনেক ফায়দা বা তাত্ত্বিক নির্যাস সমৃদ্ধ, সুতরাং যে চায় সে যেন এটি অধ্যয়ন করে»
(২)।
খ — তার পুত্র তাজ তার পিতার রচনাবলির তালিকা প্রদানের সময় এই কিতাবটি সম্পর্কে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন: «ফাসলুল মাকাল ফি হাদায়াল উম্মাল», যা পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদপৃষ্ঠায় সাব্যস্ত হয়েছে। তদুপরি তিনি এর সারসংক্ষেপের (مختصر) দিকেও ইঙ্গিত করেছেন
(৩), যা ফাতাওয়া আস-সুবকি-এর ১/ ২০৩ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে মুদ্রিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وتوجد نسخة منه في المكتبة المركزية بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية برقم (4870/ 1 ف).
ج ـ جلال الدين السيوطي؛ حيث ذكر أن للسبكي مصنفات جليلةً، فنص عليه، وسماه «فصل المقال في هدايا العمال»
(1).
المطلب الثاني: توثيق نسبة الكتاب لمصنفه رحمه الله-
مما لا شك فيه ثبوت نسبة كتاب «فصل المقال في هدايا العمال» لمؤلفه:
أبي الحسن علي السبكي رحمه الله.
وهذا الأمر مقطوع به دون تطرق احتمال أو شك؛ وذلك للأمور الآتية:
1 - أن المصنف نفسه ـ أعني التقي السبكي ـ أشار في كتابه هذا إلى تفسير له موسوم بـ «الدر النظيم في تفسير القرآن الكريم» حيث قال في أول رسالته هذه: «والآن عن لي أن أكتب شيئاً في ذلك، والحامل على ذلك أنني لما وصلت في التفسير إلى قوله تعالى: {أَمْ تَسْئَلُهُمْ أَجْرًا فَهُمْ مِنْ مَّغْرَمٍ مُّثْقَلُونَ}، إلخ
(2). مما يدل على أن هذا الكتاب هو أحد مؤلفاته».
2 - أن المصنف نفسه أشار إلى مختصره، في فتاواه، وبالمقارنة بين المختصر وبين الأصل، ظهر أنه مطابق لألفاظه ومضمونه وفكرته، فجاء في المختصر: «وبعد: فهذا مختصر من كتابي فصل المقال في هدايا العمال، مرتب على فصلين: الفصل الأول»
(3).
--------------------------------------------
ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যার নম্বর (৪৮৭০/ ১ ফ)।
গ — জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী; যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে আস-সুবকীর অনেক মহান রচনা রয়েছে, তিনি এটি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন «ফাসলুল মাকাল ফি হাদায়াল উম্মাল»
(১)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থকারের (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) প্রতি বইটির সম্বন্ধের (نسبة) প্রামাণিকতা (توثيق)-
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, «ফাসলুল মাকাল ফি হাদায়াল উম্মাল» গ্রন্থটি এর লেখকের প্রতি সম্বন্ধিত হওয়া প্রমাণিত (ثبوت):
আবুল হাসান আলী আস-সুবকী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)।
এবং বিষয়টি কোনো প্রকার সম্ভাবনা বা সন্দেহ ব্যতিরেকে নিশ্চিত; আর তা নিম্নোক্ত কারণসমূহের ভিত্তিতে:
১ - স্বয়ং গ্রন্থকার (مصنف) — অর্থাৎ তাকিউদ্দীন আস-সুবকী — তার এই বইটিতে তার «আদ-দুররুন নাজিম ফি তাফসিরিল কুরআনিল কারিম» নামক একটি তাফসিরের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। যেখানে তিনি তার এই রিসালার (رسالة) শুরুতে বলেছেন: «এখন আমার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে এই বিষয়ে কিছু লিখব, আর এর পেছনের কারণ হলো আমি যখন তাফসিরের মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীতে পৌঁছেছি: {আপনি কি তাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাচ্ছেন যে তারা ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে পড়ছে?}, ইত্যাদি
(২)। যা প্রমাণ করে যে এই বইটি তার অন্যতম রচনা (مؤلفات)»।
২ - স্বয়ং গ্রন্থকার (مصنف) তার ফতোয়াগ্রন্থে এর সংক্ষিপ্তসার (مختصر)-এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং সংক্ষিপ্তসার (مختصر) ও মূল (أصل) গ্রন্থের মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে এটি শব্দাবলি, বিষয়বস্তু ও চিন্তাধারার সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। সংক্ষিপ্তসারটিতে এসেছে: «অতঃপর: এটি আমার বই ফাসলুল মাকাল ফি হাদায়াল উম্মাল-এর একটি সংক্ষিপ্তসার (مختصر), যা দুটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত: প্রথম অধ্যায়»
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وإذا طابقت بين هذا الكلام في مختصره وبين الكلام في الأصل، تجد بينهما تطابقا بينا
(1).
3 ـ أن مضمون ما في هذه الرسالة من فتاوى وتقريرات، موافق تماما لما في كتبه، ورسائله الأخرى من فتاوى وتقريرات، فعلى سبيل المثال: في فتوى له في «قضاء الأرب في أسئلة حلب» أجاب فيها بجواب قال فيه: «والهدية يقصد بها التودد والميل، ووجه المهدى إليه، والميل هو المحذور في القاضي فافترقا»
(2).
وبمقابلة هذه الفتوى والتقرير بما في رسالته هذه نجد أن بينهما تطابقا وتوافقا، ويظهر ذلك بالرجوع إلى كلامه في الفرق بين الهدية والصدقة في رسالته هذه
(3) ـ محل التحقيق والدراسة ـ.
4 ـ أن عدداً من الفقهاء نقلوا عنه فتاوى له ـ اشتمل عليها هذا الكتاب ــ، ومنهم:
* ابن حجر الهيتمي في كتابه: (تحفة المحتاج)، في موضعين الموضع الأول، حيث قال: «وبحث التاج السبكي أن خِلَعَ الملوك؛ أي: التي من أموالهم كما هو ظاهر، ليست كالهدية، بشرط اعتيادها لمثله، وأن لا يتغير بها قلبه عن التصميم على الحق، وسائر العُمَّال مثله في نحو الهدية، لكنه أغلظ، هذا ما أفتى به جمع واعتمده السبكي»
(4). وبتدقيقنا لهذا النص الذي نقله الهيثمي مع كتابنا هذا نجد أنه مطابق لما نقل، وهو موجود فيه
(5).
الموضع الثاني، قال فيه أيضا: «وقول البدر بن جماعة بالحل لهم ضعيف
--------------------------------------------
وإذا طابقت بين هذا الكلام في مختصره وبين الكلام في الأصل، تجد بينهما تطابقا بينا
(1).
৩ ـ এই পুস্তিকায় বিদ্যমান ফতোয়া ও সিদ্ধান্তসমূহের বিষয়বস্তু তাঁর অন্যান্য কিতাব ও পত্রাবলিতে বর্ণিত ফতোয়া ও সিদ্ধান্তের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ: 'কাদাউল আরাব ফি আসইলাতি হালাব' গ্রন্থে প্রদত্ত একটি ফতোয়ায় তিনি উত্তর দিতে গিয়ে বলেন: "উপহারের মাধ্যমে মূলত ভালোবাসা ও হৃদ্যতা সৃষ্টি এবং যাকে উপহার দেওয়া হচ্ছে তার সন্তুষ্টি অর্জন উদ্দেশ্য হয়ে থাকে; আর বিচারকের ক্ষেত্রে এই হৃদ্যতা বা পক্ষপাতের সৃষ্টি হওয়াই হলো আশঙ্কার বিষয়, ফলে এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে"
(2).
এই ফতোয়া ও সিদ্ধান্তের সাথে বর্তমান পুস্তিকার বক্তব্যের তুলনা করলে আমরা উভয়ের মধ্যে অভিন্নতা ও সামঞ্জস্য খুঁজে পাই। বর্তমান এই পুস্তিকাটি—যা তাহকিক ও পর্যালোচনার বিষয়বস্তু—তাতে উপহার ও সদকার পার্থক্যের ব্যাপারে তাঁর বক্তব্যের দিকে দৃষ্টিপাত করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে
(3)।
৪ ـ বেশ কয়েকজন ফকিহ তাঁর থেকে এমন সব ফতোয়া বর্ণনা করেছেন যা এই কিতাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
* ইবনে হাজার আল-হাইতামি তাঁর 'তুহফাতুল মুহতাজ' কিতাবের দুইটি স্থানে তা উল্লেখ করেছেন। প্রথম স্থানটি হলো যেখানে তিনি বলেছেন: "তাজ আল-সুবকি এই মর্মে আলোচনা করেছেন যে, বাদশাহদের পক্ষ থেকে প্রদত্ত খেলাত (সম্মানসূচক পোশাক)—অর্থাৎ যা স্পষ্টতই তাঁদের নিজস্ব সম্পদ থেকে দেওয়া হয়—তা সাধারণ উপহারের মতো নয়; শর্ত হলো তাঁর মতো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এমনটি গ্রহণ করার রেওয়াজ থাকতে হবে এবং এর ফলে সত্যের ওপর অবিচল থাকার ক্ষেত্রে তাঁর অন্তরে কোনো পরিবর্তন আসা চলবে না। অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও উপহারের বিষয়টি অনুরূপ, তবে এটি আরও কঠোর। একদল আলিম এই ফতোয়া দিয়েছেন এবং সুবকি একে নির্ভরযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন"
(4)। হাইতামি কর্তৃক উদ্ধৃত এই পাঠটি বর্তমান কিতাবের সাথে সূক্ষ্মভাবে মিলিয়ে দেখার পর আমরা দেখতে পেয়েছি যে, তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা পুরোপুরি মিলে যায় এবং তা এই কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে
(5)।
দ্বিতীয় স্থানটি হলো যেখানে তিনি আরও বলেছেন: "তাদের জন্য এটি বৈধ হওয়ার ব্যাপারে বদর ইবনুল জামাআহ-র অভিমতটি দুর্বল (ضعيف)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
جدا مصادم للحديث المشهور «هدايا العمال غلول» ولما سأل السبكي شيخه ابن الرفعة عن هذا التخالف فأجابه بأنهم إن كافئوا عليها ولو بدجاجة لم يحرم قال: أتوهم أن الحامل له على هذا الجواب عدم موافقته للطائفتين، أو عدم إتقانه للمسألة والله يغفر لنا وله. اهـ.»
(1) وبتدقيقنا لهذا النص الذي نقله الهيثمي مع كتابنا هذا نجد أنه مطابق لما نقل، وهو موجود فيه
(2).
* وكذا عبد الحميد الشرواني في حاشيته، حيث قال: «قوله: بل احترز به عما ينقل للرشوة
… إلخ، للسبكي أن يلتزم كون ذلك من الهدية. غاية الأمر أنه هدية ورشوة، ويدل عليه خبر «هدايا العُمَّال غُلول» ونحوه فسماها هدايا، والأصل الحقيقة، ويدخل على ما قاله السبكي ما إذا لم يكن مع قَصْدِ شيءٍ مطلقا، فإن الظاهر أنه من الهدية، فليتأمل»
(3).
* وكذا محمد بن محمد بن الحسيني، الشهير بالمرتضى الزبيدي، حيث نقل عنه في «إتحاف السادة المتقين» نصا عزاه لرسالته هذه، فقال: «قال التقى السبكي في فصل المقال
… »
(4). وبالمقارنة بين هذا النص الذي نقله الزبيدي مع كتابنا هذا نجد بينهما تطابقا
(5).
وكل ما سبق يصح نسبة هذا الكتاب إليه، ويثبت به كونه أحد تآليفه، وهي أمور كافيه إن شاء الله في القطع بأن فصل المقال، كتاب فقهي الإمام شافعي، مارس القضاء وخبره، وعرف مسائله ودرى أحواله، هو الإمام التقي السبكي رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى.
--------------------------------------------
এটি অত্যন্ত সাংঘর্ষিক সেই প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিসের সাথে— “কর্মকর্তাদের জন্য উপহার হলো আত্মসাৎ”। যখন আস-সুবকি তার শায়খ ইবনুর রিফআহ-কে এই বৈপরীত্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তিনি উত্তর দিলেন যে, তারা যদি এর বিনিময়ে কোনো প্রতিদান দেয়, এমনকি একটি মুরগিও হয়, তবে তা হারাম হবে না। তিনি বলেন: আমি ধারণা করি যে, তাকে এই উত্তরের দিকে ধাবিত করার কারণ ছিল উভয় দলের সাথে একমত না হওয়া অথবা বিষয়টি সম্পর্কে তার পূর্ণ দক্ষতা না থাকা। আল্লাহ আমাদের ও তাকে ক্ষমা করুন। সমাপ্ত।
(১) আল-হাইতামি যে পাঠটি উদ্ধৃত করেছেন তা আমাদের এই পাণ্ডুলিপির সাথে গভীরভাবে পর্যালোচনা করে আমরা দেখতে পেয়েছি যে, এটি উদ্ধৃত পাঠের সাথে হুবহু মিলে যায় এবং এটি এতে বিদ্যমান রয়েছে
(২).
* অনুরূপভাবে আব্দুল হামিদ আশ-শারওয়ানি তার হাশিয়াতে বলেছেন: “তার বক্তব্য: বরং তিনি এর মাধ্যমে যা উৎকোচ হিসেবে নেওয়া হয় তা থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছেন... ইত্যাদি; আস-সুবকির জন্য এটি আবশ্যক যে তিনি একে উপহার হিসেবে গণ্য করবেন। চূড়ান্ত কথা হলো, এটি উপহার এবং উৎকোচ উভয়ই, আর এর প্রমাণ হলো সেই বর্ণনা (خبر) ‘কর্মকর্তাদের জন্য উপহার হলো আত্মসাৎ’ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বর্ণনা; এখানে একে উপহার নামে অভিহিত করা হয়েছে এবং মূল অর্থই এখানে উদ্দেশ্য। আস-সুবকি যা বলেছেন তাতে তা-ও অন্তর্ভুক্ত হবে যখন কোনো কিছু প্রাপ্তির উদ্দেশ্য একেবারেই থাকবে না, কারণ বাহ্যত তা উপহার হিসেবেই গণ্য হবে; বিষয়টি অনুধাবনযোগ্য”
(৩).
* অনুরূপভাবে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইনি, যিনি আল-মুরতাদা আজ-জাবিদি নামে প্রসিদ্ধ, তিনি তার ‘ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন’ গ্রন্থে একটি পাঠ উদ্ধৃত করেছেন এবং তা তার এই পুস্তিকাটির দিকে নিসবত করেছেন। তিনি বলেছেন: “তাকি আস-সুবকি ফাসলুল মাকাল-এ বলেছেন...”
(৪)। আজ-জাবিদি কর্তৃক উদ্ধৃত এই পাঠের সাথে আমাদের বর্তমান বইটির তুলনা করে আমরা উভয়ের মধ্যে হুবহু মিল খুঁজে পেয়েছি
(৫).
উপরের সব কিছু থেকে এই কিতাবটি তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা সঠিক প্রমাণিত হয় এবং এটি যে তার অন্যতম রচনা তাও সুনিশ্চিত হয়। ইনশাআল্লাহ এটি নিশ্চিতভাবে বলার জন্য যথেষ্ট যে, ফাসলুল মাকাল হলো একজন শাফেয়ি ইমামের ফিকহ শাস্ত্রীয় গ্রন্থ, যিনি বিচারকার্য পরিচালনা করেছেন এবং তাতে অভিজ্ঞ ছিলেন, এর মাসআলাসমূহ সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন এবং এর অবস্থা সম্পর্কে অবগত ছিলেন; আর তিনি হলেন ইমাম তাকি আস-সুবকি (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
المطلب الثالث: التعريف بالكتاب، وبيان السبب الباعث على تأليفهمن المسائل المشهورة، والأبحاث المتداولة، والفروع المعروفة: هدايا العمال وما يتعلق بها من مسائل.
وللعلماء فيها مذاهب متسعة، وأقوال كثيرة؛ ولهذا وقع بينهم كلام طويل فيها، وتنازعوا في حكمها، ولهم تفصيلات وتفريعات.
وبسبب هدايا أُهديت من الولاة المعروفين والأمراء المشتهرين، وقع الكلام في حكمها في بعض البلاد والديار؛ كبلاد مصر وديارها.
وكان تقي الدين أبو الحسن السبكي آنذاك قاضيًا من قضاة الشام البارزين، ممن يعاني القضاء، ويتولى أمره، ويبحث شؤونه، ويتتبع مسائله، ويتقصى أخباره، وبلغه الكلام الواقع فيها، والتنازع الحاصل فيها؛ مما جعله يكتب رسالة في هذا الباب، ويوضح فيها الصواب، ويفصل الخطاب، قال في مقدمتها: «فإني كنت في الشام في سنة سبع وسبعمئة في رحلتي إليها، ووقع في الديار المصرية في ذلك الوقت الكلام في هدايا العمال وحكمها في مذاهب العلماء المعوّل عليها، بسبب هدايا أهديت إلى بيبرس وسَلَّار ونحوهما من أمراء الأمة، وهل توصف بالحِلّ أو الحُرمة؟ فأفتاهم عز الدين عبد العزيز بن عبد الجليل النَّمْراوي الشافعي بتحريمها، ووافقه الشيخ شمس الدين محمد بن يوسف بن هبة الجوزي الخطيب، ونجم الدين الحسين بن علي بن سيد الكل الأسواني، متمسكين بالحديث المشهور: «هدايا العُمَّال غُلُولٌ»
(1)، وبقول الفقهاء في القاضي: ولا يقبل الهدية ممن لم يكن له عادة بالهدية، وأفتاهم بدر الدين بن جماعة قاضي الشافعية بإباحتها، وأنكر القول بالتحريم، وعمل في
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থ পরিচিতি এবং এটি রচনার পেছনের কারণ বর্ণনাসুপ্রসিদ্ধ মাসয়ালাসমূহ, প্রচলিত গবেষণা ও সুপরিচিত আনুষঙ্গিক বিষয়াবলির মধ্যে অন্যতম হলো: কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপহার এবং এ সংক্রান্ত বিষয়াদি।
এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে বিস্তৃত মাজহাব (مذاهب) ও বহুবিধ মত রয়েছে; যার ফলে তাঁদের মধ্যে এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা সংঘটিত হয়েছে এবং তাঁরা এর বিধান (حكم) নিয়ে মতবিরোধ করেছেন। এ নিয়ে তাঁদের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও শাখা-প্রশাখা রয়েছে।
সুপরিচিত গভর্নর ও খ্যাতনামা আমির (أمراء) দের পক্ষ থেকে দেওয়া কিছু উপহারের কারণে মিসরসহ কিছু জনপদে এর বিধান (حكم) নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়।
তৎকালীন সময়ে তাকিউদ্দিন আবুল হাসান আস-সুবকি ছিলেন শামের একজন বিশিষ্ট বিচারক (قاضي)। তিনি বিচারকার্যে নিয়োজিত ছিলেন, এর দায়িত্ব পালন করতেন এবং এর নানা দিক ও বিষয়াদি নিয়ে গবেষণা ও সংবাদ অনুসন্ধান করতেন। এ সংক্রান্ত আলোচনা ও মতপার্থক্য তাঁর নিকট পৌঁছালে তিনি এ বিষয়ে একটি পুস্তিকা (رسالة) রচনা করেন, যাতে তিনি সঠিক বিষয়টি স্পষ্ট করেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। তিনি এর ভূমিকা (مقدمة)-য় বলেন: «আমি ৭০৭ হিজরি সনে শাম সফরকালে সেখানে অবস্থান করছিলাম। সেই সময়ে মিসরীয় ভূখণ্ডে নির্ভরযোগ্য আলেমদের মাজহাব (مذاهب) সমূহে কর্মচারীদের উপহার এবং এর বিধান (حكم) নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছিল। এর কারণ ছিল বাইবার্স, সালার ও তাঁদের ন্যায় উম্মাহর কতিপয় আমির (أمراء) দের নিকট প্রেরিত উপহারসমূহ। প্রশ্ন ছিল— সেগুলোকে কি বৈধতা (حل) নাকি নিষিদ্ধতা (حرمة) দ্বারা বিশেষিত করা হবে? অতঃপর ইজ্জুদ্দিন আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল জলীল আন-নামরাওয়ি আশ-শাফিয়ি এগুলো নিষিদ্ধ হওয়ার ফতোয়া (فتوى) প্রদান করেন। তাঁর সাথে একমত পোষণ করেন শেখ শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন হিবাতুল জাওজি আল-খতিব এবং নাজমুদ্দিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন সাইয়্যিদিল কুল আল-আসওয়ানি। তাঁরা তাঁদের মতের সপক্ষে সুপ্রসিদ্ধ এই হাদিসটি অবলম্বন করেন: «কর্মকর্তাদের উপহার হলো আত্মসাৎ (غلول)», এবং বিচারক (قاضي) সম্পর্কে ফকিহ (فقهاء) গণের এই বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে যে: «যিনি ইতিপূর্বে উপহার দিতে অভ্যস্ত ছিলেন না, বিচারক তাঁর নিকট থেকে উপহার গ্রহণ করবেন না।» অন্যদিকে শাফিয়ি মাজহাবের বিচারক (قاضي) বদরুদ্দিন ইবনে জামাআহ এগুলোর বৈধতার ফতোয়া (فتوى) দেন এবং নিষিদ্ধ হওয়ার মতটিকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
ذلك تصنيفا لطيفًا، ووقفت عليه.
ولما قدمت من الشام وبلغني ذلك، وإنكار القاضي بدر الدين على النمراوي في فتواه بذلك، سألت عن ابن الرّفْعة: ما كان جوابه في ذلك؟ فقال: إنه سأل المهدى إليهم: هل تثيبون عليها؟ فقالوا: نعم، فقال لهم: هذه هبة ثواب، وليس من الهدايا المحرَّمة، فقالوا: ما هو الثواب؟ فقلت: ولو دجاجة.
هذا ما اتفق في ذلك، وما برحت أستنكر القول بالإباحة، وقول ابن الرفعة أيضًا، وأتوهم أن الحامل له على ذلك قصده عدم موافقة الطائفتين ـ والله يغفر لنا وله ـ أو عدم إتقان المسألة»
(1).
فوسع السبكي القول فيها، وبيَّنها بيانا شافيًا، وأفرد لها كراسةً، وجعلها مستقلة، وسماها:
«فصل المقال في هدايا العمال».
ورتبها على فصول مفصلة:
فجعل الفصل الأول فيما ورد من الأحاديث في ذلك.
وكان ينقل الأحاديث مسندة منه إلى من أخرجها، ثم يبين درجتها صحةً وضعفاً.
ومجموع ما ذكره من الأحاديث في هذا الكتاب على هذا النحو تسعة أحاديث، واحد منها في الرشوة، والبقية في التجارة.
ثم الفصل الثاني: في حكم الهدية.
وذكر فيه المؤلِّف ما قيل في الهدية إلى القاضي، ونقل كلام أصحابه
--------------------------------------------
সেটি ছিল একটি চমৎকার সংকলন, এবং আমি তা অধ্যয়ন করেছি।
যখন আমি শাম থেকে ফিরে এলাম এবং এ বিষয়টি আমার কাছে পৌঁছাল, আর আন-নামরাউয়ীর ফতোয়ার ওপর বিচারক বদরুদ্দীনের আপত্তির কথা জানতে পারলাম, তখন আমি ইবনুর রিফআহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম: এ বিষয়ে তাঁর উত্তর কী ছিল? তখন বলা হলো: তিনি উপহার প্রদানকারীদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন: তোমরা কি এর বিনিময়ে কোনো প্রতিদান দাও? তারা বলল: হ্যাঁ। তিনি তাদের বললেন: এটি হলো প্রতিদানমূলক দান, এটি নিষিদ্ধ উপহারের অন্তর্ভুক্ত নয়। তারা জিজ্ঞাসা করল: সেই প্রতিদান কী? আমি বললাম: এমনকি তা একটি মুরগি হলেও।
এ বিষয়টি এভাবেই ঘটেছিল। আমি সর্বদা এর বৈধতা (إباحة) সংক্রান্ত মতটিকে এবং ইবনুর রিফআহর বক্তব্যকেও প্রত্যাখ্যান করে আসছি। আমার ধারণা যে, তাঁকে যা এ কাজে প্ররোচিত করেছিল তা হলো উভয় পক্ষের সাথে একমত না হওয়ার ইচ্ছা —আল্লাহ আমাদের এবং তাঁকে ক্ষমা করুন— অথবা বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুধাবন না করা।
(১)।
অতঃপর সুবকী এ বিষয়ে আলোচনা বিস্তারিত করেছেন এবং এর একটি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি এর জন্য একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা রচনা করেছেন এবং একে একটি স্বাধীন রূপ দিয়েছেন, আর এর নামকরণ করেছেন:
«ফাসলুল মাকাল ফি হাদায়াল উম্মাল»।
তিনি একে কতগুলো বিস্তারিত পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছেন:
প্রথম পরিচ্ছেদটি তিনি এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহের জন্য নির্ধারণ করেছেন।
তিনি হাদিসসমূহ তাঁর নিজের থেকে শুরু করে হাদিস সংকলনকারী পর্যন্ত সূত্রবদ্ধ (مسندة) হিসেবে উদ্ধৃত করতেন, অতঃপর সেগুলোর নির্ভরযোগ্যতা (صحة) ও দুর্বলতা (ضعفاً) এর মান বর্ণনা করতেন।
এই বইটিতে তিনি এ পদ্ধতিতে মোট নয়টি হাদিস উল্লেখ করেছেন, যার একটি হলো ঘুষ সংক্রান্ত এবং বাকিগুলো ব্যবসা সংক্রান্ত।
অতঃপর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উপহারের বিধান প্রসঙ্গে।
এতে লেখক বিচারককে উপহার প্রদানের বিষয়ে যা বলা হয়েছে তা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর মাযহাবের অনুসারীদের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الشافعية مع الحُجَج، والتعليق على ذلك. وقد أطال في ذلك، وأكثر من النقل عنهم.
ثم عقب ذلك بفصل ثالث: فرق فيه بين الرشوة والهدية، فذكر فيه كلام الناس، وجمع، ووفق، ونبه إلى عدم الاختلاف فيه.
وقد بسط الكلام في هذا الموضع؛ فبين معنى الهدية، ووجه استحبابها، ثم عرَّف بالرشوة، وشرح معناها، ثم نقل كلام العلماء في التفريق بينهما، وحقق في ذلك.
ثم بعد أن فَرَغَ منه رجع إلى نقل كلام بقية الفقهاء في حكم الهدايا، وعقد لذلك فصلاً رابعاً.
وعقد بعده فصلا خامسًا فيما قاله أصحابه في قبول هدايا المشركين. ثم عقد فصلا سادساً لما قالته المالكية في ذلك؛ نقل فيه عن أئمتهم وفقهائهم أقوالهم في هذه المسألة، وحكاها عنهم من كتبهم ومدوناتهم. ثم جعل لما ذكره الحنابلة وغيرهم فيها فصلا سابعاً.
ثم ألحق بالفصول السابقة فصلا فيه زبدة القول وخلاصة الكلام وحاصل ما قيل.
المطلب الرابع: منهج المصنف في الكتابسار الإمام التقي السبكي رحمه الله في كتابه هذا على منهج واضح، وطريقة سديدة، وسنة رشيدة، هي من أحسن المناهج، وأوضحها، وأسدها، وأرشدها. وتتمثل هذه الطريقة في العرض والمنهج المتبع منه رحمه الله في هذا الكتاب
শাফেয়ী মাযহাবের মতামত প্রমাণাদিসহ উল্লেখ এবং সেগুলোর ওপর আলোচনা করেছেন। তিনি এ ক্ষেত্রে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং তাদের থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।
এরপর তিনি একটি তৃতীয় পরিচ্ছেদ যুক্ত করেছেন: যেখানে তিনি ঘুষ (رشوة) এবং উপহারের (هدية) মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন। এতে তিনি আলিমদের মতামত উল্লেখ করেছেন, সেগুলো একত্রিত করেছেন এবং সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছেন। এছাড়াও তিনি এ বিষয়ে কোনো মতভেদ না থাকার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
তিনি এই স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন; উপহারের (هدية) অর্থ এবং এর মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার দিকটি বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি ঘুষের (رشوة) সংজ্ঞা দিয়েছেন এবং এর অর্থ ব্যাখ্যা করেছেন। অতঃপর তিনি উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে ওলামায়ে কিরামের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন এবং এ বিষয়ে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ (تحقيق) করেছেন।
এরপর যখন তিনি এ কাজ সমাপ্ত করলেন, তখন উপহারের (هدية) বিধান সম্পর্কে অবশিষ্ট ফকিহগণের বক্তব্য উদ্ধৃত করার দিকে ফিরে আসলেন এবং এজন্য একটি চতুর্থ পরিচ্ছেদ বিন্যস্ত করলেন।
এরপর তিনি মুশরিকদের উপহার (هدية) কবুল করার বিষয়ে তাঁর মাযহাবের অনুসারীরা যা বলেছেন, তা নিয়ে একটি পঞ্চম পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন। অতঃপর মালিকী মাযহাব এ বিষয়ে যা বলেছে তার জন্য একটি ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করেছেন; সেখানে তিনি তাদের ইমাম ও ফকিহদের থেকে এই মাসআলায় তাদের বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করেছেন এবং তাদের গ্রন্থ ও সংকলনসমূহ থেকে তা বর্ণনা করেছেন। তারপর হাম্বলী মাযহাব এবং অন্যান্যদের মতামতের জন্য একটি সপ্তম পরিচ্ছেদ নির্দিষ্ট করেছেন।
পরিশেষে তিনি পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদগুলোর সাথে এমন একটি পরিচ্ছেদ যুক্ত করেছেন, যাতে রয়েছে আলোচনার নির্যাস, সারকথা এবং যা কিছু বলা হয়েছে তার সংক্ষিপ্ত নির্যাস।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: গ্রন্থে গ্রন্থকারের অনুসৃত পদ্ধতিইমাম তাকীউদ্দীন আস-সুবকী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর এই গ্রন্থে একটি সুস্পষ্ট পদ্ধতি, সঠিক পন্থা এবং সুন্দর নীতি অনুসরণ করেছেন, যা সর্বোত্তম, স্পষ্টতম, সঠিকতম এবং হিদায়াতপূর্ণ পদ্ধতিগুলোর অন্তর্ভুক্ত। তাঁর এই উপস্থাপনা কৌশল এবং এই গ্রন্থে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতিটি নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
في المعالم الآتية:
أولا: أنه يقدّم ما عنده في المسألة، ثم يذكر كلام الناس فيها، ويجمع بين الكلام، وينبه إلى عدم الاختلاف فيه، ثم يقول فيه قولاً مختصرًا، ثم يبسط الكلام فيه.
ثانيًا: النقل عن العلماء من كتبهم الأصيلة، ومدوناتهم المعتمدة في كل مذهب؛ فيحرر أقوالهم منها؛ ففي كل قول ينقله عن مذهب معين ينقله من الكتاب الذي يحرّر رأي المذهب؛ مما يدل على عناية شديدة ومعرفة تامة بكتب المذاهب الفقهية وأئمتها.
ثالثا: نقله الأقوال من المدونات الفقهية بنصها؛ فإذا نقل قولاً من كتاب فقهي بَيَّنَ نوع نقله له؛ فيذكر هل نقله نصا أو بمعناه؛ مما يدل ـــ أيضا ـ على أمانته فيما ينقل وتَحَرِّيه فيما يكتب، مثال ذلك: أنه لما نقل عن أبي الحسن الجوري في شرحه لمختصر المزني بنصه قال: «وقال أبو الحسن الجوري في شرحه لـ «مختصر المزني» في باب المواهب الذي يلي باب الإقرار» باب كامل من كلام ابن سريج، وها أنا أنقله بنصه، قال: «باب الهدايا
… إلخ»
(1).
رابعا: ذكره للأحاديث بأسانيدها إلى مصنفيها؛ بحيث لا يذكر حديثًا في كتابه إلا ويُسنده إلى الكتب المصنفة، والمدونات الحديثية من طريقه.
خامسا: الدقة في الرواية والأمانة في النقل، كما في بعض الأحاديث التي أوردها، فإنه بين ما كان منها طريق تحمله إجازة وما كان طريق تحمله سماعا
(2).
سادسا: الاختصار في ألفاظ الأداء، كما هي عادة المصنفين من
--------------------------------------------
নিম্নে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে:
প্রথমত: তিনি কোনো বিষয়ে নিজের কাছে যা আছে তা পেশ করেন, এরপর সে বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য উল্লেখ করেন এবং বক্তব্যগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন, আর তাতে যে কোনো মতভেদ নেই সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অতঃপর তিনি সে বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন এবং সবশেষে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন।
দ্বিতীয়ত: আলেমদের মূল গ্রন্থসমূহ এবং প্রত্যেক মাযহাবের নির্ভরযোগ্য সংকলন থেকে উদ্ধৃতি প্রদান; তিনি সেগুলো থেকে তাঁদের বক্তব্যসমূহ যাচাই করেন। কোনো নির্দিষ্ট মাযহাব থেকে তিনি যে বক্তব্যই উদ্ধৃত করেন, সেটি এমন কিতাব থেকে গ্রহণ করেন যা সংশ্লিষ্ট মাযহাবের মতামত প্রামাণিকভাবে নির্ধারণ করে; যা ফিকহি মাযহাবসমূহের কিতাব এবং তাঁদের ইমামদের সম্পর্কে তাঁর গভীর যত্ন ও পূর্ণ জ্ঞানের পরিচয় দেয়।
তৃতীয়ত: ফিকহি সংকলনগুলো থেকে হুবহু শব্দে উক্তি উদ্ধৃত করা; যখন তিনি কোনো ফিকহ শাস্ত্রীয় কিতাব থেকে কোনো উক্তি উদ্ধৃত করেন, তখন তাঁর উদ্ধৃতি প্রদানের ধরন স্পষ্ট করেন। অর্থাৎ তিনি কি তা হুবহু শব্দে (نصا) উদ্ধৃত করেছেন নাকি মর্মগতভাবে (بمعناه) বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেন; যা তাঁর উদ্ধৃতি প্রদানের আমানতদারি এবং তাঁর লেখনীর সূক্ষ্ম অনুসন্ধানেরও প্রমাণ দেয়। উদাহরণস্বরূপ: তিনি যখন আবুল হাসান আল-জুরি থেকে তাঁর মুখতাসার আল-মুজানি-র ব্যাখ্যাগ্রন্থে হুবহু শব্দে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, তখন বলেছেন: "আবুল হাসান আল-জুরি তাঁর মুখতাসার আল-মুজানি-র ব্যাখ্যাগ্রন্থে 'বাবুল ইকরার' এর পরবর্তী 'বাবুল মাওয়াহিব' অধ্যায়ে ইবনুস সুরাইজ-এর বক্তব্য থেকে একটি পূর্ণ অধ্যায় উল্লেখ করেছেন, আর আমি তা এখানে হুবহু উদ্ধৃত করছি। তিনি বলেছেন: 'বাবুল হাদায়া'
… ইত্যাদি"
(১)।
চতুর্থত: হাদিসসমূহকে তাঁদের মূল সংকলক পর্যন্ত সনদের (أسانيد) সাথে উল্লেখ করা; ফলে তিনি তাঁর কিতাবে কোনো হাদিস উল্লেখ করলে তা মূল সংকলিত কিতাব এবং হাদিস সংকলনসমূহের দিকে তাঁর নিজস্ব সূত্রের মাধ্যমে সনদযুক্ত করেন (يسنده)।
পঞ্চমত: বর্ণনা (رواية) করার ক্ষেত্রে সূক্ষ্মতা এবং উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে আমানতদারি রক্ষা করা, যেমনটি তাঁর বর্ণিত কিছু হাদিসের ক্ষেত্রে দেখা যায়। তিনি হাদিস গ্রহণের পদ্ধতির ক্ষেত্রে কোনটি ইজাজাত (إجازة) এর মাধ্যমে এবং কোনটি শ্রবণ (سماع) এর মাধ্যমে প্রাপ্ত তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন
(২)।
ষষ্ঠত: আদায়ের শব্দাবলির (ألفاظ الأداء) ক্ষেত্রে সংক্ষেপণ করা, যেমনটি লেখকগণের চিরাচরিত অভ্যাস...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
المحدثين، فنجد أنه في حكاية الطريق الموصل للمتن يختصر ألفاظ الأداء؛ فبدل أن يقول: حدثنا، يكتفي باختصارها: «ثنا»، وكذا يقول في أخبرنا: «أبنا»؛ فيحذف الخاء والراء
(1).
سابعا: الحكم على الأحاديث ونقد السند، فلا يكتفي بإيراد الأحاديث دون حكم عليها؛ بل يبين ما فيها من صحة وضعف، وقبول ورد.
فمثلا: في حديث «لعنة الله على الراشي والمرتشي» حكم على إسناده ورجاله؛ فقال: «إسناده جيدٌ، كلهم من رجال الصحيح، إلا الحارث خال ابن أبي ذئب؛ فإنه روى له الأربعة، وليس فيه قدح
(2)».
ثامنا: النقل عن العلماء في تفسير الأحاديث وتأويلها؛ فإنه ـ أيضاً ـ لا يكتفي كما سبق، بإيراد الأحاديث والحكم عليها فحسب، وإنَّما نقل كلام العلماء في معناها وتفسيرهم لها. كما في نقله كلام ابن عبد البر في تأويل الحديث التاسع
(3).
تاسعا: الاعتذار للأئمة، وحمل كلامهم على المحامل الحسنة. كما في استنكاره لقول ابن الرّفعة وفتواه في إباحة الهدية؛ حيث اعتذر له بأن الحامل له على ذلك قصده عدم موافقة الطائفتين أو عدم إتقان المسألة، والدعاء له بالمغفرة
(4).
وكما في اعتذاره للحنفية والشافعية في قولهم بأنه إذا لم يكن للقاضي شيء من بيت المال، فله أن يأخذ عشر ما يتولاه من أموال اليتامى والوقوف
--------------------------------------------
মুহাদ্দিসগণের ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই যে, মূল পাঠ বা মতন (متن) পর্যন্ত পৌঁছানোর সূত্রটি বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি বর্ণনাসূচক শব্দাবলি (ألفاظ الأداء) সংক্ষেপ করেন; যেমন 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' (حدثنا) বলার পরিবর্তে তিনি কেবল এর সংক্ষিপ্ত রূপ: 'সানা' (ثنا) ব্যবহার করেন। একইভাবে 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرنا) এর ক্ষেত্রে তিনি 'আবানা' (أبنا) বলেন; যেখানে তিনি 'খা' এবং 'রা' বর্ণ দুটি বিলুপ্ত করেন
(1).
সপ্তম: হাদিসসমূহের ওপর হুকুম (حكم) প্রদান এবং সনদের (سند) সমালোচনা (نقد)। তিনি কেবল হাদিস উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হন না; বরং সেগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতা (ضعف), এবং গ্রহণযোগ্যতা (قبول) ও বর্জনযোগ্যতা (رد) স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন।
উদাহরণস্বরূপ: "ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতার ওপর আল্লাহর অভিশাপ" শীর্ষক হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি এর সনদ (إسناد) ও বর্ণনাকারীদের (رجال) ওপর হুকুম প্রদান করেছেন; তিনি বলেছেন: "এর সনদটি (إسناد) উত্তম (جيد), এর সকল বর্ণনাকারীই সহিহ (صحيح) গ্রন্থের বর্ণনাকারী, কেবল ইবনে আবু জিব-এর মামা আল-হারিস ব্যতীত; কেননা চার সুনান গ্রন্থকারগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর ব্যাপারে কোনো সমালোচনা (قدح) নেই
(2)"।
অষ্টম: হাদিসের ব্যাখ্যা ও মর্মোদ্ধারে আলেমদের থেকে উদ্ধৃতি প্রদান; তিনি পূর্বের মতোই কেবল হাদিস উল্লেখ ও হুকুম প্রদান করেই ক্ষান্ত হন না, বরং সেগুলোর অর্থ ও ব্যাখ্যায় আলেমদের বক্তব্যও উদ্ধৃত করেন। যেমন নবম হাদিসের মর্মোদ্ধারে ইবনে আব্দুল বার-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে দেখা যায়
(3)।
নবম: ইমামগণের পক্ষ থেকে ওজর পেশ করা এবং তাঁদের বক্তব্যকে ইতিবাচক অর্থে গ্রহণ করা। যেমন ইবনুর রিফ'আহ-এর বক্তব্য এবং উপহার বৈধ হওয়ার ব্যাপারে তাঁর ফতোয়ার প্রতি অসম্মতি জানানোর ক্ষেত্রে; যেখানে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে ওজর পেশ করেছেন যে, তাঁকে এই ফতোয়া প্রদানে উদ্বুদ্ধকারী বিষয়টি ছিল সম্ভবত দুই পক্ষের মতের সাথে ভিন্নমত পোষণ করা অথবা মাসআলাটির ওপর পূর্ণ বুৎপত্তি না থাকা। পাশাপাশি তিনি তাঁর জন্য ক্ষমার দোয়াও করেছেন
(4)।
এবং যেমনটি তিনি হানাফি ও শাফিঈদের পক্ষ থেকে ওজর পেশ করেছেন তাঁদের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে যে, বিচারকের জন্য যদি বায়তুল মাল থেকে কোনো বরাদ্দ না থাকে, তবে তিনি ইয়াতীমদের সম্পদ ও ওয়াকফকৃত সম্পত্তি থেকে যেগুলোর দায়িত্ব তিনি পালন করেন তার দশ শতাংশ গ্রহণ করতে পারবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাসলুল মাক্বাল ফি হাদায়াল উম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
للضرورة. حيث قال معتذرا لهم: «غفر الله لهم إن كانوا قالوا هذا الكلام في واقعة خاصة في بلد اشتدت فيه ضرورة القاضي، ولم يوجد غيره، وكان عُشْرُ ما يتولاه قَدْرَ أُجرةِ عمله، فيُحتمل»
(1).
المطلب الخامس: مصادر المؤلف في الكتاباستقى المؤلف كتابه هذا من مصادر عدة، من أهمها
(2):
1 - الأحكام السلطانية، للماوردي.
2 - الإحياء، للغزالي.
3 - أدب القاضي، لابن القاص.
4 - أدب القضاة، للقفال الكبير.
5 - الاستيعاب، لابن عبد البر.
6 - الإفصاح، لأبي علي الطبري.
7 - الأم، للشافعي.
8 - الانتصار، لابن أبي عصرون.
9 - بحر المذهب، لأبي المحاسن الروياني.
10 - البسيط، للواحدي.
11 - البيان، للعمراني.
--------------------------------------------
প্রয়োজনের খাতিরে। যেখানে তিনি তাদের পক্ষ থেকে ওজর পেশ করে বলেন: «আল্লাহ তাদের ক্ষমা করুন যদি তারা এই কথাটি এমন কোনো বিশেষ ঘটনার ক্ষেত্রে বলে থাকেন যা এমন কোনো জনপদে ঘটেছে যেখানে বিচারকের প্রয়োজনীয়তা তীব্র ছিল এবং তিনি ছাড়া অন্য কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না, আর তিনি যা তদারকি করতেন তার দশমাংশ ছিল তার কাজের পারিশ্রমিক সমপরিমাণ, তবে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে (يُحتمل)»
(১).
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থে লেখকের উৎসসমূহলেখক তাঁর এই গ্রন্থটি বেশ কিছু উৎস থেকে সংগ্রহ করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো
(২):
১ - আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, মাওয়ার্দি-কৃত।
২ - আল-ইহয়া, গাজালি-কৃত।
৩ - আদাবুল কাজি, ইবনুল কাস-কৃত।
৪ - আদাবুল কুদাত, আল-কাফফাল আল-কাবির-কৃত।
৫ - আল-ইসতিয়াব, ইবনে আবদুল বার-কৃত।
৬ - আল-ইফসাহ, আবু আলি আত-তবারি-কৃত।
৭ - আল-উম্ম, শাফিয়ি-কৃত।
৮ - আল-ইনতিসার, ইবনে আবি আসরুন-কৃত।
৯ - বাহরুল মাজহাব, আবুল মাহাসিন আর-রুয়ানি-কৃত।
১০ - আল-বাসিত, ওয়াহিদি-কৃত।
১১ - আল-বায়ান, আল-ইমরানি-কৃত।
--------------------------------------------