(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: -)
صفحات مضيئة من حياة عبد الله القصير   (خالد آل فطيح)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: صفحات مضيئة من حياة العالم الرباني عبد الله بن صالح القُصَيِّر (رحمه الله)

المؤلف: خالد بن مسعود بن صالح آل فطيح

(باحث دكتوراه بقسم الشريعة والدراسات الإسلامية)

تقديم: الشيخ محمد بن حسن آل الشيخ

(عضو هيئة كبار العلماء وعضو اللجنة الدائمة للإفتاء)

الطبعة: الأولى، 1446 هـ - 2025 م

عدد الصفحات: 129

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 ذو الحجة 1446

আব্দুল্লাহ আল-কুসাইর-এর জীবন থেকে কিছু আলোকিত পাতা   (খালিদ আল-ফুতাইহ)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: রব্বানি আলেম আব্দুল্লাহ বিন সালেহ আল-কুসাইর (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন)-এর জীবন থেকে কিছু আলোকিত পাতা

লেখক: খালিদ বিন মাসউদ বিন সালেহ আল-ফুতাইহ

(শরিয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা বিভাগের পিএইচডি গবেষক)

উপস্থাপনা: শায়খ মুহাম্মদ বিন হাসান আল-শেখ

(সিনিয়র উলামা পরিষদের সদস্য এবং ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য)

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪৬ হিজরি - ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৯

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৯ যিলহজ ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المُقَدِّمَةُ

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد للَّه ربِّ العالمين، والصَّلاة والسَّلام على نبيِّنا مُحمَّدٍ، وعلى آله وصَحبه أجمعين.

أمَّا بعد:

فقد أمر اللَّه عز وجل رسولَه صلى الله عليه وسلم بأنْ يُخبِر أمَّتَه عن فضائل عباده المرسلين، وأنبيائه العابدين، وأَولى مَنْ يُقتدى به نبيُّنا مُحمَّد صلى الله عليه وسلم، وقد اقتفى الصَّحابة والتَّابعون وسَلَفُ الأُمَّة أثرَ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، فدَوَّن العلماء سِيرهم ومناقبهم؛ لِشَحْذِ الهِمَم، والتَّخلُّق بأخلاقهم وسَمْتِهم؛ وكان تدوينهم لها على مناهج متنوِّعة، فمنهم مَنْ تَرْجَم لعامَّة العُلماءِ والأعلام؛ ومنهم مَنْ أفرد تَرْجَمةً لعالِمِ بعَيْنِه؛ وعلى هذا النَّهج تَرْجَمْتُ لشيخي تَرْجَمةً مُفرَدةً مُفَصَّلةً، تعود بك للزَّمن الأوَّل، يظهر فيها الصِّدقُ والوفاء، والبَذْلُ والجِدُّ، وقبل ذلك التَّوفيقُ والاصطفاء، في كتاب سمَّيته: "صَفَحَاتٌ مُضِيْئَةٌ مِنْ حَيَاةِ العَالِمِ الرَّبَانِيِّ عَبْدِ اللهِ بْنِ صَالِحٍ القُّصَيِّرِ: دُرُوسٌ وَمَوَاقِفُ وَفَوَائِدُ" فدَوَّنت فيه مسيرته العِلميَّة والدعويَّة مِنْ نشأته إلى وفاته؛ ذكرتُ خلالها بعض أعماله العظيمة التي انتفع بها المسلمون، مع بيان جوانبَ من حياته، مصحوبةً بسَرْد أحداث له ومواقف نافعة، كما ذكرتُ فيها علاقتي بفضيلته، وغير ذلك من الأحداث المهمة في حياته.
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সাহাবীর ওপর।

অতপর:

আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তিনি তাঁর উম্মতকে আল্লাহর প্রেরিত রাসূলগণ ও ইবাদতগুজার নবীগণের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অবহিত করেন। আর অনুসরণের ক্ষেত্রে আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই সর্বাপেক্ষা যোগ্য। সাহাবীগণ, তাবিঈগণ এবং এই উম্মতের পূর্বসূরিগণ (সালাফ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। ফলে উলামায়ে কেরাম তাঁদের জীবনী ও গুণাবলি লিপিবদ্ধ করেছেন—যাতে হিম্মত জাগ্রত হয় এবং তাঁদের চরিত্র ও স্বভাব নিজেদের মধ্যে ধারণ করা যায়। তাঁদের এই লিপিবদ্ধ করার পদ্ধতি ছিল বৈচিত্র্যময়; তাঁদের মধ্যে কেউ সাধারণ উলামা ও মনীষীদের জীবনী রচনা করেছেন, আবার কেউ কোনো নির্দিষ্ট একজন আলেমের একক জীবনী লিখেছেন। এই পথ অনুসরণ করেই আমি আমার শাইখের জন্য একটি পৃথক ও বিস্তারিত জীবনী রচনা করেছি, যা আপনাকে পূর্ববর্তী সোনালী যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। এতে ফুটে উঠেছে সততা ও বিশ্বস্ততা, আত্মত্যাগ ও কঠোর প্রচেষ্টা, আর এই সবকিছুর আগে আল্লাহর তাওফিক ও চয়ন। আমি এই কিতাবটির নামকরণ করেছি: "রাব্বানী আলেম আব্দুল্লাহ বিন সালিহ আল-কুসাইয়ির-এর জীবন থেকে উজ্জ্বল কিছু পাতা: শিক্ষা, ঘটনাবলি ও উপকারিতা"। এতে আমি তাঁর শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর ইলমী ও দাওয়াতী পথচলা লিপিবদ্ধ করেছি। এর মাঝে আমি তাঁর এমন কিছু মহান কাজ উল্লেখ করেছি যা দ্বারা মুসলিমরা উপকৃত হয়েছে, সাথে সাথে তাঁর জীবনের বিভিন্ন দিক বর্ণনা করেছি এবং তাঁর জীবনের নানাবিধ ঘটনা ও শিক্ষণীয় অবস্থানের বিবরণ দিয়েছি। এছাড়াও এতে শাইখের সাথে আমার সম্পর্ক এবং তাঁর জীবনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ৬)
حيثُ إنَّ هذه الترجمةَ عن عَلَمٍ من العلماء الربانيين، تحلت فيه أخلاق أهل العلم ولاحت على ملامحه سمات العلماء، فهو رجلٌ متضلعٌ من العلم الشرعي، جمع بين العلم والحلم والصبر والعفة والرفق، كريمٌ متواضعٌ، يحمل في قلبه رحمةً بطلابه وغيرة على التوحيد والسنة، فهو رحيمٌ بالخلق، جريءٌ في قول الحق، متأدبٌ مع العلماء والحكام، ويبغض دعاة الباطل.

وكان- رحمه الله حريصاً على أمن بلاد التوحيد بلاد الحرمين الشريفين - المملكة العربية السعودية -، ويغار على الإسلام وأهله في كل مكان، يُحب العلماء الكبار ويقتدي بهم، وهو حسنُ العلاقة صادق الولاء مع ولاة الأمر، كثير الدعاء لهم، مخلصٌ لربه، مشتغلٌ بذكره، والدعوة إلى الله تجري في عروقه، نحسبه كذلك، ولا نزكي على الله أحدا.

وكان الشيخ رحمه الله يحرص على الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، ويحرص على النصح وفق الهدي النبوي. لا يعرف الكذب ويستقبح الغيبة والنميمة.

له عنايةٌ بتعليم التوحيد والسنة ومنهج السلف، شغوفٌ بالتاريخ، موسوعةٌ في العلم والمعرفة، يحب السلف الصالح وأهل السنة ويُكثر الحديث عنهم وعن فضائلهم، يبغض النفاق والمنافقين والمبتدعة. وفيٌّ مع شيوخه وأهله وأصحابه، بارٌّ بوالديه وإخوانه وأعمامه، لا يملّ من طلب العلم ليلًا ونهارًا، كثير القراءة والاطلاع. يعنى بحقوق المسلمين عملًا ووصيةً، تقيٌّ حكيمٌ سديد الرأي والمشورة، قد أُوتي عقلًا راجحًا، وكان تاركًا ما لا يعنيه، منشغلًا بالعبادة، كقيام الليل وصيام التطوع وكثرة تلاوة كتاب الله، تظهر عليه آثار الخشوع والوقار في صلاته.

يحب الشفاعة، ويسعى في قضاء حوائج الآخرين، كريمٌ في استجابة الدعوة، محسِنٌ إلى الجار، حريصٌ على تفقد الأصدقاء والتلاميذ، لا يقابل
যেহেতু এই জীবনীটি রব্বানী আলিমদের মধ্য থেকে একজন প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বের সম্পর্কে, যাঁর মধ্যে আলিমদের আখলাক ফুটে উঠেছে এবং যাঁর অবয়বে আলিমদের বৈশিষ্ট্যসমূহ স্পষ্ট হয়েছে; তিনি শরয়ী জ্ঞানে সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী একজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ইলম, সহনশীলতা, ধৈর্য, চারিত্রিক পবিত্রতা ও কোমলতার সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন দাতা ও বিনয়ী, তাঁর হৃদয়ে ছাত্রদের প্রতি মমতা এবং তাওহীদ ও সুন্নাহর প্রতি একনিষ্ঠতা বিদ্যমান ছিল। তিনি সৃষ্টির প্রতি দয়ালু, সত্য কথা বলতে সাহসী, আলিম ও শাসকদের সাথে শিষ্টাচার বজায় রাখতেন এবং বাতিলের প্রবক্তাদের ঘৃণা করতেন।

তিনি—আল্লাহ তাঁকে রহম করুন—তাওহীদের দেশ, হারামাইন শরীফাইনের দেশ তথা সৌদি আরব সাম্রাজ্যের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন। তিনি সর্বত্র ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য একনিষ্ঠ আবেগ পোষণ করতেন। তিনি বিজ্ঞ আলিমদের ভালোবাসতেন এবং তাঁদের অনুসরণ করতেন। শাসকবর্গের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক ও একনিষ্ঠ আনুগত্য ছিল এবং তিনি তাঁদের জন্য প্রচুর দুআ করতেন। তিনি তাঁর রবের প্রতি মুখলিস ও তাঁর যিকিরে মগ্ন থাকতেন। আল্লাহর পথে দাওয়াত তাঁর রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবাহিত হতো; আমরা তাঁর সম্পর্কে এমনটাই মনে করি, আর আমরা আল্লাহর সামনে কাউকে পবিত্র বলে ঘোষণা করি না।

শায়খ রহিমাহুল্লাহ সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলেন এবং নববী নির্দেশনার আলোকে নসিহত করতে আগ্রহী ছিলেন। তিনি মিথ্যা জানতেন না এবং গীবত ও চোগলখোরিকে অত্যন্ত জঘন্য মনে করতেন।

তাওহীদ, সুন্নাহ এবং সালাফদের মানহাজ শিক্ষাদানে তাঁর বিশেষ মনোযোগ ছিল। তিনি ইতিহাসের প্রতি অনুরাগী এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের এক জীবন্ত বিশ্বকোষ ছিলেন। তিনি সালাফে সালেহীন ও আহলে সুন্নাহকে ভালোবাসতেন এবং তাঁদের সম্পর্কে ও তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রচুর আলোচনা করতেন। তিনি নিফাক, মুনাফিক ও বিদআতীদের ঘৃণা করতেন। তিনি তাঁর উস্তাদ, পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি অত্যন্ত অনুগত ছিলেন এবং পিতামাতা, ভাই ও চাচাদের প্রতি সদাচারী ছিলেন। দিন-রাত ইলম অর্জনে তিনি কখনও ক্লান্ত হতেন না এবং প্রচুর পড়াশোনা ও গবেষণায় মগ্ন থাকতেন। তিনি কর্ম ও উপদেশের মাধ্যমে মুসলিমদের অধিকারের প্রতি যত্নবান হতেন। তিনি ছিলেন মুত্তাকী, প্রজ্ঞাবান এবং সঠিক মত ও পরামর্শ প্রদানকারী। তাঁকে এক প্রখর মেধা প্রদান করা হয়েছিল। তিনি অনর্থক বিষয় বর্জন করতেন এবং ইবাদতে মশগুল থাকতেন, যেমন—রাত জেগে সালাত আদায়, নফল রোজা এবং আল্লাহর কিতাব প্রচুর তিলাওয়াত করা। তাঁর সালাতে খুশু-খুযু ও গাম্ভীর্যের ছাপ পরিলক্ষিত হতো।

তিনি সুপারিশ করতে পছন্দ করতেন এবং অন্যদের প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট থাকতেন। দাওয়াত কবুল করার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত উদার ছিলেন, প্রতিবেশীর প্রতি সদাচারী ছিলেন এবং বন্ধু ও ছাত্রদের খোঁজখবর নিতে সর্বদা সচেষ্ট থাকতেন। তিনি মন্দ আচরণের মোকাবিলা মন্দ দিয়ে করতেন না...
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ৭)
السيئة بمثلها، بل يدفع بالتي هي أحسن، ويدعُ أمور الفتوى في النوازل والمستجدات لكبار العلماء، يسألهم فيما يشكل عليه، ويحذّر من الفتن والمشاركة فيها، إنه نموذجٌ للعالم الرباني الذي يعيش للعلم والعمل، ويكون عونًا للمسلمين، وداعمًا لأهل السنة، ومشعلاً للهداية في كل مكان.

هذا وأسأل اللَّه أنْ ينفع بهذه الترجمة، وأنْ يغفر للشيخ ويرحمه، وأنْ بجمعنا به في الفردوس الأعلى من الجنّة بغير حساب، وأن يخلف على الأمة بخير، إنَّ ربي جواد كريم، وأشكر بعد شكر الله كل من ساهم في إخراج هذه الترجمة، وصلَّى اللَّه وسلَّم على نبيّنا مُحمَّدٍ، وعلى آله وصَحبه أجمعين.

 

خالد بن مسعود بن صالح آل فطيح

باحث دكتوراه بقسم الشريعة والدراسات الإسلامية

غفر الله له ولوالديه ومشايخه والمسلمين

للتواصل لإرسال ملاحظاتكم واقتراحاتكم وإضافاتكم

الإيميل: abwb 44662@gmail.com

الجوال واتساب: 0509072162

الواتساب لمن هو خارج المملكة: 00966509072162
মন্দের প্রত্যুত্তরে মন্দ দেন না, বরং যা উত্তম তা দিয়ে প্রতিহত করেন। তিনি সমসাময়িক সংকট ও নতুন উদ্ভূত বিষয়াবলীতে ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব বড় আলেমদের ওপর ছেড়ে দেন, যা তাঁর নিকট অস্পষ্ট মনে হয় সে বিষয়ে তাঁদের নিকট জিজ্ঞাসা করেন এবং ফিতনা ও তাতে অংশগ্রহণ করা থেকে সতর্ক করেন। তিনি হলেন রব্বানী আলেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যিনি ইলম ও আমলের জন্য বেঁচে থাকেন, মুসলিমদের জন্য সাহায্যকারী এবং আহলুস সুন্নাহর একনিষ্ঠ সমর্থক হন এবং প্রতিটি স্থানে হেদায়েতের মশাল হয়ে আলো ছড়ান।

পরিশেষে আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই জীবনীর মাধ্যমে উপকৃত করেন, শাইখকে ক্ষমা করেন ও তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন, এবং আমাদের সকলকে তাঁর সাথে হিসাব ছাড়াই জান্নাতুল ফিরদাউসের সুউচ্চ মাকামে একত্রিত করেন। আল্লাহ যেন এই উম্মতকে উত্তম বিকল্প দান করেন; নিশ্চয়ই আমার রব মহানুভব ও পরম দয়ালু। আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের পর আমি তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই যাঁরা এই জীবনীটি প্রকাশে অবদান রেখেছেন। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

 

খালিদ বিন মাসউদ বিন সালিহ আল-ফুতাইহ

শরীয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা বিভাগের পিএইচডি গবেষক

আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে, তাঁর উস্তাদদের এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন

আপনাদের পর্যবেক্ষণ, পরামর্শ এবং সংযোজন পাঠানোর জন্য যোগাযোগের মাধ্যম

ইমেইল: abwb 44662@gmail.com

মোবাইল হোয়াটসঅ্যাপ: ০৫০৯০৭২১৬২

সৌদি আরবের বাহির থেকে হোয়াটসঅ্যাপ: ০০৯৬৬৫০৯০৭২১৬২
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ৯)
الحمد لله وحده.

أما بعد: فإلى من يهمه الأمر:

السلام عليكم ورحمة الله تعالى وبركاته.

ثم إن الأخ: خالد بن مسعود بن صالح آل فطيح من طلبة العلم الحريصين على الاستفادة والإفادة، وتحري منهاج السلف الصالح في التعلم والتعليم والدعوة أحسبه كذلك ولا أزكي على الله تعالى أحداً؛ فآمل ممن يطلع عليه احتساب المثوبة من الله تعالى في إعانته على الخير، وتسهيل مهمته، وأسأل الله تعالى أن يرزق الجميع العلم النافع والعمل الصالح، وأن يجعلهم من هداة الخلق وأنصار الحق، آمين.

ولطلبه كتبت له هذه الأحرف، وصلى الله عليه وسلم وبارك على نبينا محمد وآله وصحبه.

 

قاله وكتبه الفقير إلى عفو ربه

عبد الله بن صالح القصير

20/ 12/ 1444 هـ
সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য।

অতঃপর: সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি:

আপনাদের ওপর মহান আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।

অতঃপর, নিশ্চয়ই ভাই খালিদ বিন মাসউদ বিন সালিহ আল-ফুতাইহ ইলমের সেই তালিবে ইলমদের অন্তর্ভুক্ত যারা জ্ঞান অর্জন ও প্রসারে অত্যন্ত আগ্রহী এবং শিক্ষা, শিক্ষাদান ও দাওয়াতের ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের মানহাজ অনুসরণে সচেষ্ট; আমি তাকে এমনই মনে করি এবং আল্লাহর নিকট কাউকে পবিত্র ঘোষণা করি না। অতএব, আমি আশা করি যে ব্যক্তিই এই পত্রটি অবগত হবেন, তিনি তাকে কল্যাণের কাজে সহায়তা করে এবং তার দায়িত্ব সহজ করে দিয়ে মহান আল্লাহর নিকট প্রতিদানের আশা করবেন। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি সকলকে উপকারী ইলম এবং সৎ আমল দান করেন এবং তাদের সৃষ্টির পথপ্রদর্শক ও সত্যের সাহায্যকারী হিসেবে কবুল করেন। আমীন।

তার অনুরোধেই আমি তাকে এই কথাগুলো লিখে দিলাম। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।

 

এটি বলেছেন ও লিখেছেন তাঁর রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী

আবদুল্লাহ বিন সালিহ আল-কুসাইর

২০/ ১২/ ১৪৪৪ হিজরি
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌تقديم معالي الشيخ محمد بن حسن آل الشيخ

الحمد للّه حمدًا كثيرًا طيّبًا مباركاً فيه، وأشهد أن لا إله إلا اللّه وحده لا شريك له، وأشهد أن محمّداً عبده ورسوله، صلوات ربّي وسلامه عليه وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:

فإنّ ممَا يحتاج إليه طالب العلم في مسيرته العلمية قراءة سير علماء أهل السّنّة والجماعة من المتقدّمين ومن تبعهم بإحسان من المتأخرين؛ فإنّ فيها الخير الكثير، والأثر الحسن على النفس، وشحذ الهمّة لطلب العلم، ومن أحسن ما أُلّف في ذلك عند الأولين "مقدّمة الجرح والتعديل" لابن أبي حاتم رحمه الله فقد ترجم لأئمة مشهورين بتراجم يحسن بطالب العلم الاطلاع عليها ليتعرّف على أئمة السّنّة وما كانوا عليه من العلم، والزهد، والورع، وغيرها من الأوصاف الحميدة.

وقد سار أهل العلم في هذا العصر على ما كان عليه الأولون، من كتابة سير علماء عصرهم؛ ليستفيد منها طلاب العلم، ومن هذا المنطلق قام الأخ الفاضل الشيخ/ خالد بن مسعود آل فطيح وفقه اللّه بكتابة ترجمة مختصرة لفضيلة الشيخ عبد اللّه بن صالح القصير رحمه الله رحمة واسعة - فدوّن مسيرته العلمية والدعوية وغيرها، فكان كتابًا حافلا بالأخبار الدّالّة على أن فضيلة الشيخ عبد اللّه القصير رحمه الله كان مدرسة في الأخلاق والتواضع والزّهد في الدّنيا، والابتعاد عن الشهرة، وكان ذا همّة عالية في الدعوة إلى التوحيد والسّنّة.
মহামান্য শাইখ মুহাম্মদ বিন হাসান আল শাইখের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, প্রচুর পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর আমার রবের দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:

একজন ইলম অন্বেষণকারীর (তালিবুল ইলম) তার জ্ঞানার্জনের সফরে যে বিষয়গুলো প্রয়োজন, তার মধ্যে অন্যতম হলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পূর্বসূরী ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী উত্তরসূরী আলেমদের জীবনী পাঠ করা। কেননা এতে রয়েছে প্রভুত কল্যাণ, অন্তরের ওপর উত্তম প্রভাব এবং ইলম অর্জনের সংকল্পকে শাণিত করার উপকরণ। এই বিষয়ে পূর্ববর্তীদের মধ্যে রচিত সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর অন্যতম হলো ইবনে আবি হাতিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর "মুকাদ্দিমাতুল জারহি ওয়াত তা'দিল"। তিনি এতে প্রখ্যাত ইমামদের এমন সব জীবনী বর্ণনা করেছেন যা পাঠ করা একজন জ্ঞানান্বেষীর জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর, যাতে সে সুন্নাহর ইমামগণ সম্পর্কে এবং তাঁদের জ্ঞান, দুনিয়াবিমুখতা, পরহেজগারি ও অন্যান্য প্রশংসনীয় গুণাবলি সম্পর্কে জানতে পারে।

বর্তমান যুগের আলেমগণও পূর্বসূরীদের পথ অনুসরণ করে তাঁদের সমসাময়িক আলেমদের জীবনী লিপিবদ্ধ করেছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা তা থেকে উপকৃত হতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় শ্রদ্ধেয় ভাই শাইখ খালিদ বিন মাসউদ আল-ফুতাইহ (আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন) ফযীলাতুশ শাইখ আবদুল্লাহ বিন সালেহ আল-কুসাইর (আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন)-এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী রচনা করেছেন। তিনি এতে তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক ও দাওয়াতি সফর এবং অন্যান্য বিষয় লিপিবদ্ধ করেছেন। এটি এমন একটি গ্রন্থ যা এমন সব তথ্যে পরিপূর্ণ যা প্রমাণ করে যে, ফযীলাতুশ শাইখ আবদুল্লাহ আল-কুসাইর (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন চরিত্র, বিনয়, দুনিয়াবিমুখতা এবং খ্যাতি থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রে একটি জীবন্ত পাঠশালা। তদুপরি তাওহিদ ও সুন্নাহর দাওয়াতের ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত উচ্চ সংকল্পের অধিকারী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ১২)
فجزا اللّه الشيخ/ خالد آل فطيح خير الجزاء على هذه الترجمة الطيّبة، وجعل ذلك في موازين حسناته، ونفع اللّه بها طلاب العلم، وجزا اللّه فضيلة الشيخ عبد اللّه بن صالح القصير خير الجزاء على ما بذل من جهد في الدعوة إلى اللّه خلال خمسين عامًا، ونفع اللّه بعلمه، وغفر له وأسكنه الفردوس الأعلى من الجنّة. والحمد لله ربّ العالمين، وصلّى اللّه وسلّم على نبيّنا محمّد، وعلى آله وصحبه أجمعين.

 

محمد بن حسن بن عبد الرحمن آل الشيخ

عضو هيئة كبار العلماء عضو اللجنة الدائمة للفتوى
আল্লাহ শায়খ খালিদ আল-ফুতাইহকে এই উত্তম অনুবাদের জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং একে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় শামিল করুন। আল্লাহ এর মাধ্যমে ইলম অন্বেষণকারীদের উপকৃত করুন। আর আল্লাহ সম্মানিত শায়খ আব্দুল্লাহ বিন সালিহ আল-কুসাইরকে আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে বিগত পঞ্চাশ বছর যাবত তাঁর ব্যয়িত প্রচেষ্টার জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আল্লাহ তাঁর ইলম দ্বারা উপকৃত করুন, তাঁকে ক্ষমা করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ স্তরে তাঁকে স্থান দান করুন। সকল প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর।

 

মুহাম্মাদ বিন হাসান বিন আব্দুর রহমান আল-শায়খ

সদস্য, উচ্চতর উলামা পরিষদ এবং সদস্য, ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌اسمُه، ونسبُه، ومولدُه، ودراسته

هو: الشيخ العلَّامة القدوة عبد الله بن صالح بن محمد بن أحمد القصير، من فخذ العمارات، من قبيلة "عنزة" من ربيعة؛ أحد القبائل العدنانية.

ولد سنة ألف وثلاث مئة وسبعين (25/ 8/ 1370 هـ) في قرية "الشقة العليا" القريبة من بريدة بمنطقة القصيم، وعاش فيها إلى بداية مرحلة الثانوية.

حيث درس الشيخ المرحلة الابتدائية في قريته "بالشقة العليا"، ثم درس المرحلة المتوسطة في المعهد العلمي ببريدة، ثم درس المرحلة الثانوية في المعهد العلمي "بالرياض"، ومن العلماء الذين كان يتردد عليهم في طريقه للمعهد الشيخ عبد الله بن حميد، والشيخ حمود التويجري رحمهم الله.

ثم أكمل الدراسة الجامعية الأكاديمية بكلية الشريعة في جامعة الإمام بالرياض، حيث تخرج فيها عام (1396/ 1397 هـ)، ثم أكمل مرحلة الماجستير بقسم التفسير بجامعة الإمام، وكان المشرف على رسالته عضو هيئة كبار العلماء وعضو اللجنة الدائمة للإفتاء العلامة عبد الله ابن غديان رحمه الله.
তাঁর নাম, বংশপরিচয়, জন্ম এবং শিক্ষা

তিনি হলেন: শায়খ, আল্লামা এবং আদর্শ ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ ইবনে সালেহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-কুসাইর। তিনি আদনানি গোত্রসমূহের অন্যতম রাবিআহ গোত্রের 'আনাজাহ' বংশের আল-আমারাত শাখার অন্তর্ভুক্ত।

তিনি তেরোশ সত্তর হিজরিতে (২৫/০৮/১৩৭০ হি.) কাসিম অঞ্চলের বুরাইদাহর নিকটবর্তী 'আশ-শুক্কাহ আল-উলইয়া' গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং মাধ্যমিক স্তরের শুরু পর্যন্ত সেখানেই বসবাস করেন।

শায়খ তাঁর নিজ গ্রাম 'আশ-শুক্কাহ আল-উলইয়া'তে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর বুরাইদাহর মা'হাদ আল-ইলমিতে মাধ্যমিক (মধ্যবর্তী) স্তর এবং রিয়াদের মা'হাদ আল-ইলমিতে উচ্চ-মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। মাদরাসায় যাতায়াতের পথে তিনি নিয়মিত যে সকল আলেমদের সান্নিধ্যে যেতেন, তাঁদের মধ্যে শায়খ আবদুল্লাহ বিন হুমাইদ এবং শায়খ হামুদ আত-তুওয়াইজারি (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) অন্যতম।

অতঃপর তিনি রিয়াদের ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ অনুষদ থেকে তাঁর একাডেমিক স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং সেখান থেকে (১৩৯৬/১৩৯৭ হি.) সালে গ্র্যাজুয়েশন লাভ করেন। এরপর তিনি ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তাফসির বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তাঁর গবেষণাপত্রের (থিসিস) তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন 'হাইআতু কিবারিল উলামা' (উচ্চ উলামা পরিষদ) এবং ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য আল্লামা আবদুল্লাহ ইবনে গুদাইয়ান (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)।
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌شُيوخُه الذين تلقى عنهم العلم

أخذ الشيخ العلم عن علماء عصره، وجَدَّ وثابر في التلقي عنهم؛ ومن أبرز أولئك:

 

‌‌1) سماحة الإمام الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز رحمه الله: مفتي عام المملكة العربية السعودية.

حيث قال عنه الشيخ رحمه الله في لقاء إذاعي: "في عام سبعة وتسعين (1397 هـ)، انتقلت من جامعة الإمام محمد وظيفيًا إلى رئاسة البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد في إدارة الدعوة، ويسر الله لي اللقاءات معه في محيط العمل، وكان يكون فيه اجتماعات في البيت واستفدت منه حقيقة في توجيهاته في العمل، وفي الدعوة خاصة سواء فيما يتعلق بإدارة مركز الدعوة بالرياض، أو فيما يتعلق بالدعوة عامة أو بما يتعلق بالعلم، شعرت منه بحنان الوالد، وشفقة الأب، مع ما كان يحضني عليه من القيام بواجب الدعوة، وكان يتفقدني وإذا خفي عليه صوتي أو انقطعت عنه مدة سأل عني وعاتبني، فكان نِعم الموجهُ، وقد استفدت ولله الحمد من دروسه في الجامع الكبير بالرياض ومن القراءة عليه فوائد كثيرة وقيدت فوائد كثيرة ولله الحمد، وتأثرت به في جوانب كثيرة ومهمة"(1).

--------------------------------------------

(1) لقاء إذاعي مع د. محمد المشوح بعنوان: في مواكب الدعوة في السيرة الذاتية للشيخ.
তাঁর শিক্ষকগণ যাঁদের নিকট থেকে তিনি জ্ঞান অর্জন করেছেন

শায়খ তাঁর সমকালীন আলেমদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন এবং তাঁদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণে কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্য ধারণ করেছেন; তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন:

 

‌১) মহামান্য ইমাম শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ (রাহিমাহুল্লাহ): সৌদি আরব রাজ্যের গ্র্যান্ড মুফতি।

শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) একটি রেডিও সাক্ষাৎকারে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "১৩৯৭ হিজরি সালে, আমি কর্মসংস্থানগতভাবে ইমাম মুহাম্মদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ফতোয়া, দাওয়াত ও ইরশাদ’ প্রেসিডেন্সির দাওয়াত বিভাগে স্থানান্তরিত হই। আল্লাহ তাআলা কর্মপরিবেশে তাঁর সাথে আমার সাক্ষাতের বিষয়টি সহজ করে দিয়েছিলেন। তখন তাঁর বাড়িতেও বিভিন্ন সভা অনুষ্ঠিত হতো এবং আমি প্রকৃতপক্ষে কর্মক্ষেত্রে তাঁর দিকনির্দেশনা থেকে উপকৃত হয়েছি। বিশেষ করে দাওয়াতের ক্ষেত্রে, চাই তা রিয়াদ দাওয়াত সেন্টার পরিচালনা সংশ্লিষ্ট হোক, অথবা সাধারণ দাওয়াত কিংবা ইলম সংশ্লিষ্ট বিষয় হোক। আমি তাঁর মধ্যে পিতৃসুলভ মমতা ও স্নেহ অনুভব করতাম। তিনি আমাকে দাওয়াতের আবশ্যিক দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করতেন এবং সর্বদা আমার খোঁজ-খবর নিতেন। যদি কখনও আমার কণ্ঠস্বর তাঁর নিকট অনুপস্থিত থাকত কিংবা দীর্ঘ সময় আমি তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতাম, তবে তিনি আমার ব্যাপারে খোঁজ নিতেন এবং মৃদু অনুযোগ করতেন। তিনি ছিলেন এক অনন্য পথপ্রদর্শক। আলহামদুলিল্লাহ, আমি রিয়াদের জামে আল-কাবিরে তাঁর দারসসমূহ থেকে এবং তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণের মাধ্যমে প্রভূত ইলমি ফায়দা হাসিল করেছি এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লিপিবদ্ধ করে রেখেছি। তাঁর দ্বারা আমি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রভাবিত হয়েছি।"(১).

--------------------------------------------

(১) ডক্টর মুহাম্মদ আল-মুশাউয়াহ-এর সাথে রেডিও সাক্ষাৎকার, শিরোনাম: শায়খের জীবনচরিতে দাওয়াতের কাফেলা।
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌2) معالي الشيخ العلامة صالح بن فوزان الفوزان -حفظه الله- عضو هيئة كبار العلماء وعضو اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء.

حيث قال عنه: "هو شيخي الأول في الرياض، وقد نفعني الله عز وجل بتوجيهاته؛ لأنه ذو عقل راجح، وأدب جم، وخُلُق عظيم، وكان يوجه لما ينبغي من مثلي، وقد استفدت منه ولله الحمد من توجيهاته أكثر مما استفدت من القراءة عليه، توجيهاته الخصوصية في المناسبات وفي المسجد وفي المنزل، وقرأت عليه من -فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية- في درس خاص"(1).

 

‌‌3) فضيلة الشيخ: صالح بن أحمد الخريصي رحمه الله رئيس محاكم القصيم سابقاً.

حيث قال عنه في لقاء إذاعي: "كان مثالاً للزهد، والعبادة، والكرم، والغيرة، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، والنصح لأئمة المسلمين وعامتهم، وكان كثير الذكر وتلاوة القرآن والوعظ في المجالس لا يفتر أبداً إما في ذكر لله عز وجل، أو في تذكير بحقه على عباده ونصح للناس فيما ينفعهم في أمر آخرتهم"(2).

 

‌‌4) فضيلة الشيخ صالح بن إبراهيم البليهي رحمه الله-.

حيث قال عنه: "هو أكثر من تأثرت به في القصيم، فكان ذا عقل راجح، وفقه غزير، وخلق حسن، وكان يكن لي المودة والنصح؛ حتى إني إذا قدمت القصيم من الرياض وكانت عنده ندوة مع الشيخ عبد الرحمن الجطيلي، يجعلانها محاضرة لي ويحضران في المسجد ويحصل تعليق وإجابة على الأسئلة، وكان محبًا للدعوة، ويخرج إلى القُرى ويخطب في المساجد أو يذكر

--------------------------------------------

(1) لقاء إذاعي مع د. محمد المشوح بعنوان: في مواكب الدعوة في السيرة الذاتية للشيخ.

(2) لقاء إذاعي مع د. محمد المشوح بعنوان: في مواكب الدعوة في السيرة الذاتية للشيخ.
২) মাননীয় শাইখ আল্লামা সালিহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান -আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন- বড় আলিমদের পরিষদের সদস্য এবং ফাতাওয়া ও ইলমি গবেষণার স্থায়ী কমিটির সদস্য।

যেখানে তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি রিয়াদে আমার প্রথম উস্তাদ ছিলেন এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর দিকনির্দেশনার মাধ্যমে আমাকে উপকৃত করেছেন; কারণ তিনি ছিলেন প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন, অত্যন্ত শিষ্টাচারী এবং মহান চরিত্রের অধিকারী। তিনি আমার মতো ব্যক্তিদের জন্য যা করা উচিত সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিতেন। আল্লাহর প্রশংসা যে, তাঁর কাছে পাঠ করার চেয়ে তাঁর দিকনির্দেশনাগুলো থেকে আমি বেশি উপকৃত হয়েছি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, মসজিদে এবং বাড়িতে তাঁর বিশেষ দিকনির্দেশনাগুলো আমাকে ঋদ্ধ করেছে। আমি একটি বিশেষ পাঠে তাঁর কাছে 'শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর ফাতাওয়া' থেকে পাঠ করেছি"(১).

 

‌৩) ফযীলাতুশ শাইখ সালিহ বিন আহমাদ আল-খুরায়সী -আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন- কাসিম আদালতের প্রাক্তন প্রধান।

যেখানে তিনি একটি রেডিও সাক্ষাৎকারে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখতা, ইবাদত, উদারতা, আত্মমর্যাদাবোধ, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ এবং মুসলিমদের নেতা ও সাধারণ জনগণের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি প্রচুর যিকর, কুরআন তিলাওয়াত এবং মজলিসে নসীহত করতেন; তিনি কখনও ক্লান্ত হতেন না—হয় আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র যিকরে মগ্ন থাকতেন, অথবা বান্দার ওপর আল্লাহর হক সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিতেন এবং মানুষের আখেরাতের উপকারে আসে এমন বিষয়ে নসীহত করতেন"(২).

 

‌৪) ফযীলাতুশ শাইখ সালিহ বিন ইব্রাহীম আল-বুলায়হী -আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন-.

যেখানে তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "কাসিমে আমি যাঁদের দ্বারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছি, তিনি তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ছিলেন প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন, গভীর ফিকহী জ্ঞানের অধিকারী এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী। তিনি আমার প্রতি সৌহার্দ্য ও শুভকামনা পোষণ করতেন; এমনকি আমি যখন রিয়াদ থেকে কাসিমে আসতাম এবং শাইখ আব্দুর রহমান আল-জুতায়লীর সাথে তাঁর কোনো আলোচনা সভা থাকত, তখন তাঁরা সেটিকে আমার জন্য একটি বক্তৃতার আসর বানিয়ে দিতেন এবং মসজিদে উপস্থিত হতেন। সেখানে আলোচনা ও প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হতো। তিনি দাওয়াতের কাজ অত্যন্ত ভালোবাসতেন, গ্রামগুলোতে যেতেন এবং মসজিদে খুতবা দিতেন বা নসীহত করতেন

--------------------------------------------

(১) ড. মুহাম্মদ আল-মুশাওয়িহ-এর সাথে রেডিও সাক্ষাৎকার, শিরোনাম: শাইখের জীবনীতে দাওয়াতের কাফেলায়।

(২) ড. মুহাম্মদ আল-মুশাওয়িহ-এর সাথে রেডিও সাক্ষাৎকার, শিরোনাম: শাইখের জীবনীতে দাওয়াতের কাফেলায়।
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ১৬)
بعد صلاة الجمعة، وكذلك كان يجلس بعد صلاة الجمعة مع الناس في المسجد أو عند أحد من أهل القرية أو الهجرة، وكان واسع الصدر، صاحب حلم وعلم، ويوجه الناس بما يقتضيه المقام رحمة الله عليه فكان هذا أول شخصية أثرت في نفسي تأثيرًا بالغًا ولا أزال أجد أثر تربيته وعنايته"(1).

 

‌‌5) فضيلة الشيخ صالح السكيتي رحمه الله-.

حيث قال عنه: "كان يدرسنا الحديث في السنوات الأولى في المعهد، وكان ذا غيرة صادقة، وأسلوب في التعامل مع الشباب الصغار فيمازحهم في أول الدرس، ثم يأخذ بهم في الجد، ويوجههم إلى معالي الأمور، يوجههم إلى ما ينبغي أن يكون في همتهم من جهة دين الله عز وجل وتلقي العلم عن علم السلف الصالح"(2).

 

‌‌6) فضيلة الشيخ علي بن سليمان الضالع رحمه الله-.

حيث قال عنه: "كان يدرسنا التفسير، وكان يعتني بالطلبة عناية خصوصية، وكان كثير التأثر والبكاء إذا قرأ الآيات وشرع في تفسيرها، وكان يحضنا على العلم النافع وعلى العمل الصالح يذكرنا بهدي السلف رحمة الله عليهم"(3).

 

‌‌7) فضيلة الشيخ صالح الأطرم رحمه الله-.

حيث قال عنه: " كان يوجهني ويرشدني إلى ما ينبغي، وكنت أعرض عليه بعض المسائل الفقهية، وقرأت عليه بعض الشيء من الزاد"(4)، أي: زاد المستقنع.

--------------------------------------------

(1) لقاء إذاعي مع د. محمد المشوح بعنوان: في مواكب الدعوة في السيرة الذاتية للشيخ.

(2) لقاء إذاعي مع د. محمد المشوح بعنوان: في مواكب الدعوة في السيرة الذاتية للشيخ.

(3) لقاء إذاعي مع د. محمد المشوح بعنوان: في مواكب الدعوة في السيرة الذاتية للشيخ.

(4) لقاء إذاعي مع د. محمد المشوح بعنوان: في مواكب الدعوة في السيرة الذاتية للشيخ.
জুমুআর সালাতের পর; একইভাবে তিনি জুমুআর সালাতের পর মসজিদে বা গ্রামের অথবা হিজরত অঞ্চলের লোকদের কারও কাছে মানুষের সাথে বসতেন। তিনি ছিলেন প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী, ধৈর্যশীল ও জ্ঞানী। তিনি পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী মানুষকে দিকনির্দেশনা দিতেন, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। তিনিই ছিলেন প্রথম ব্যক্তিত্ব যিনি আমার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিলেন এবং আমি আজও তাঁর লালন-পালন ও যত্নের প্রভাব অনুভব করি"(১).

 

‌‌৫) ফযীলাতুশ শাইখ সালিহ আস-সুকাইতি রহিমাহুল্লাহ-.

যেখানে তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "তিনি ইনস্টিটিউটের প্রথম বছরগুলোতে আমাদের হাদীস পড়াতেন। তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ আত্মমর্যাদাবোধের অধিকারী এবং তরুণদের সাথে তাঁর আচরণের ধরন ছিল এমন যে, পাঠের শুরুতে তিনি তাদের সাথে কৌতুক করতেন, তারপর তাদের গুরুত্বের দিকে নিয়ে আসতেন। তিনি তাদের উচ্চতর বিষয়ের দিকে পরিচালিত করতেন এবং মহান আল্লাহর দ্বীন ও সালাফ আস-সালিহীনের ইলম থেকে জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে তাদের আকাঙ্ক্ষা যেমন হওয়া উচিত, সেই দিকে তাদের নির্দেশনা দিতেন"(২).

 

‌‌৬) ফযীলাতুশ শাইখ আলী বিন সুলাইমান আদ-দালি' রহিমাহুল্লাহ-.

যেখানে তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "তিনি আমাদের তাফসীর পড়াতেন এবং ছাত্রদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন। যখন তিনি আয়াত তিলাওয়াত করতেন এবং তার ব্যাখ্যা শুরু করতেন, তখন তিনি অত্যন্ত প্রভাবিত হতেন ও কাঁদতেন। তিনি আমাদের উপকারী ইলম অর্জন ও নেক আমল করার প্রতি উৎসাহিত করতেন এবং আমাদের সালাফদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন"(৩).

 

‌‌৭) ফযীলাতুশ শাইখ সালিহ আল-আতরাম রহিমাহুল্লাহ-.

যেখানে তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "তিনি আমাকে যা উচিত সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা ও উপদেশ দিতেন। আমি তাঁর কাছে কিছু ফিকহী মাসআলা পেশ করতাম এবং তাঁর কাছে 'যাদ' এর কিছু অংশ পড়েছি"(৪), অর্থাৎ: যাদুল মুস্তাকনি'।

--------------------------------------------

(১) ড. মুহাম্মদ আল-মুশাওয়াহর সাথে একটি রেডিও সাক্ষাৎকার, শিরোনাম: শাইখের জীবনীতে দাওয়াহর কাফেলাসমূহে।

(২) ড. মুহাম্মদ আল-মুশাওয়াহর সাথে একটি রেডিও সাক্ষাৎকার, শিরোনাম: শাইখের জীবনীতে দাওয়াহর কাফেলাসমূহে।

(৩) ড. মুহাম্মদ আল-মুশাওয়াহর সাথে একটি রেডিও সাক্ষাৎকার, শিরোনাম: শাইখের জীবনীতে দাওয়াহর কাফেলাসমূহে।

(৪) ড. মুহাম্মদ আল-মুশাওয়াহর সাথে একটি রেডিও সাক্ষাৎকার, শিরোনাম: শাইখের জীবনীতে দাওয়াহর কাফেলাসমূহে।
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌عبادته

علماء الأُمَّة الرَّبَّانيُّون يجمعون بين العِلم والعَمَل، وهي سُنّة توارثها العلماء قرناً بعد قرنٍ، وقد انتظم الشيخ رحمه الله مع أولئك الرّكب، ويتبيّن هذا بالآتي:

1 - كان محافظاً على إخلاصه لله، يخشى ممَّا يُكَدِّره برياء أو سُمعة، فكان لا يُحِبُّ الظّهور، أو إبراز أعماله، ومن ذلك أنَّه في إحدى المناسبات التي حضرها الشيخ بحضور الأمير نايف رحمه الله كان الشيخ عبد الله واقفًا بينما مرَّ الأمير نايف بجواره أحد الوزراء، فالتفت الأمير نايف إلى الوزير وأشار بيده نحو الشيخ عبد الله القصير رحمه الله قائلاً: "هذا هو الفارس المجهول"(1).

2 - كان كثير الخشية للَّه، جاعلاً ربَّه نُصْبَ عَيْنَيه، نحسبه كذلك، ولا نزكي على الله أحدا.

3 - كان حريصاً على التَّأسِي بالنّبيِّ صلى الله عليه وسلم، وصحابتِه، وسَلَفِ هذه الأمَّة، وكان يقول: "السواك سنة، قليل من يفعله، أين التأسي؟! ".

4 - كان حافظاً لكتاب اللَّه كثير التّلاوة له في سَفَرِه وحَضَرِه، حتى إنه كان له مصحفٌ خاصٌّ به لأكثر من 30 سنة يرافقه.

5 - كان كثير الذكر لله تعالى، حيثُ كان يمكث في مصلاه بعد صلاة الفجر إلى بعد الشروق يذكر الله، وبعد الظهر نحو نصف ساعة، وبعد العصر

--------------------------------------------

(1) ينظر: الشيخ عبد الله القصير كما عرفته في حلقة باليوتيوب، د. إبراهيم المطلق.
তাঁর ইবাদত

উম্মতের রব্বানী আলেমগণ ইলম (জ্ঞান) ও আমলের (কর্ম) সমন্বয় করেন। এটি একটি সুন্নাহ যা আলেমগণ প্রজন্মের পর প্রজন্ম উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছেন। শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) সেই কাফেলারই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং নিচের বিষয়গুলো থেকে তা স্পষ্ট হয়:

১ - তিনি আল্লাহর প্রতি তাঁর ইখলাস (একনিষ্ঠতা) রক্ষায় সচেষ্ট ছিলেন; রিয়া (লোক দেখানো) বা সুমআ (যশলিপ্সা) যা ইখলাসকে কলুষিত করে, সে বিষয়ে তিনি ভীত থাকতেন। তিনি জনসম্মুখে আসা বা নিজের আমলগুলো প্রকাশ করা পছন্দ করতেন না। এর একটি উদাহরণ হলো, শাইখ উপস্থিত ছিলেন এমন একটি অনুষ্ঠানে আমির নায়েফ (রহিমাহুল্লাহ)-এর উপস্থিতিতে শাইখ আবদুল্লাহ দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন আমির নায়েফ একজন মন্ত্রীর সাথে তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমির নায়েফ সেই মন্ত্রীর দিকে ফিরে শাইখ আবদুল্লাহ আল-কুসাইর (রহিমাহুল্লাহ)-এর দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন: "ইনিই হলেন সেই অজ্ঞাত বীর"(১)।

২ - তিনি আল্লাহকে অত্যন্ত ভয় করতেন এবং সর্বদা স্বীয় রবকে নিজের দৃষ্টির সামনে রাখতেন। আমরা তাঁকে তেমনই মনে করি এবং আল্লাহর সমীপে কাউকে পবিত্র ঘোষণা করি না।

৩ - তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর সাহাবীগণ এবং এই উম্মতের সালাফদের অনুসরণে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তিনি বলতেন: "মিসওয়াক করা সুন্নাত, অথচ খুব কম লোকই এটি পালন করে। অনুসরণ কোথায়?!"।

৪ - তিনি আল্লাহর কিতাবের হাফেজ ছিলেন এবং সফরে ও আবাসস্থলে তা প্রচুর তিলাওয়াত করতেন। এমনকি তাঁর একটি নিজস্ব মুসহাফ (কুরআনের কপি) ছিল যা ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁর সঙ্গী ছিল।

৫ - তিনি আল্লাহ তাআলার প্রচুর যিকির করতেন। তিনি ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত তাঁর নামাজের স্থানে বসে আল্লাহর যিকির করতেন, জোহরের পর প্রায় আধা ঘণ্টা এবং আসরের পর...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইউটিউবে 'শাইখ আবদুল্লাহ আল-কুসাইর যেমনটা আমি তাঁকে চিনেছি' শীর্ষক পর্ব, ড. ইবরাহীম আল-মুতলাক।
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ১৮)
نحو ساعة مع درسه رياض الصالحين، وبعد العشاء نحو نصف ساعة؛ يجلس كل هذه الأوقات في مصلاه يذكر الله، بل حتى في طريقه للبيت، أذكر أني أتيت لأسأله ذات مره في طريقه للبيت، فقال لي: " عندي ورد من الذكر في طريقي للبيت".

6 - كان كثير المكث في المسجد، خاصةً بعد الصلوات، فإما أن تجده ذاكرًا لله، أو تاليًا كتاب الله، أو في إلقاء دروس علمية، أو ناصحًا، واعظًا، أو موجهًا، أو في لقاء مع طلاب علم أو زوار سائلين، فلو قسمت يومه لوجدته غالبه بالمسجد، وذات مرة قال له أحد أقاربه: يا شيخ نود منك الخروج معنا للربيع، أي: النزهة: فقال: "ربيعي بالمسجد" أي: راحتي وأنسي بالمسجد.

7 - كان آخر مَنْ يخرج من المسجد، حيثُ إنه يجلس في مصلاه يذكر الله كثيرًا، فسألته ذات يوم عن سبب الإطالة في جلوسه، فذكر أن المسلم يدعو لنفسه، وأهله، وولاة أمره، والمسلمين، فكأن الشيخ يدعو لنفسه ولهم بعد الإتيان بالأذكار.

8 - كان كثيرَ العبادة؛ حيثُ كان يأتي لصلاة الفجر، وبعد الصَّلاة يجلس في مُصَلّاه يذكر الله كثيراً إلى قبل طلوع الشمس، ثم يقرأ عليه طلاب العلم في كتب العلم إلى نحو الساعة السابعة، ثمَّ يُصَلِّي أربع ركعات من الضحى، ثم لا يقوم من مصلاه الذي صلى فيه الضحى حتى يقول: "اللهم اغفر لي، اللهم تب علي، إنك أنت التواب الغفور" مئة مرة (100).

9 - لا يَدَع قيام اللّيل ومن ذلك أنه إذا انتهى من صلاة العشاء صلى بعدها ست ركعات، راتبة العشاء، وأربع ركعات من قيام الليل يستعين بها في باقي الليل، كان يسمي الركعتين بعد راتبة العشاء: "عربون قيام الليل،
রিয়াদুস সালিহীন-এর দরসের জন্য প্রায় এক ঘণ্টা এবং এশার সালাতের পর প্রায় আধা ঘণ্টা; এই পুরো সময়টুকু তিনি তাঁর জায়নামাজে বসে আল্লাহর যিকিরে মগ্ন থাকতেন, এমনকি বাড়িতে যাওয়ার পথেও। আমার মনে আছে একবার আমি তাঁকে কোনো এক বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার জন্য বাড়িতে যাওয়ার পথে তাঁর কাছে এলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: "বাড়িতে যাওয়ার পথে আমার যিকিরের একটি নির্দিষ্ট আমল রয়েছে।"

৬ - তিনি মসজিদে প্রচুর সময় অবস্থান করতেন, বিশেষ করে সালাতসমূহের পর। হয় আপনি তাঁকে আল্লাহর যিকিরে মগ্ন পাবেন, নতুবা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াতরত অবস্থায়, অথবা ইলমি দরস প্রদানরত অবস্থায়, কিংবা নসিহতকারী, ওয়ায়েজ ও দিকনির্দেশক হিসেবে, অথবা তালিবে ইলম কিংবা প্রশ্নকারী দর্শনার্থীদের সাথে সাক্ষাতকালে। আপনি যদি তাঁর দিনকে ভাগ করেন, তবে দেখবেন তাঁর দিনের অধিকাংশ সময় মসজিদেই কাটত। একবার তাঁর এক নিকটাত্মীয় তাঁকে বললেন: হে শাইখ, আমরা চাই আপনি আমাদের সাথে বসন্তকালীন ভ্রমণে বের হন। তখন তিনি বললেন: "আমার বসন্ত তো মসজিদেই।" অর্থাৎ তাঁর প্রশান্তি ও আনন্দ মসজিদেই নিহিত ছিল।

৭ - তিনি মসজিদ থেকে সবশেষে বের হতেন, কারণ তিনি তাঁর জায়নামাজে বসে দীর্ঘক্ষণ আল্লাহর যিকির করতেন। একদিন আমি তাঁকে তাঁর এই দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি উল্লেখ করলেন যে, একজন মুসলিম নিজের জন্য, তার পরিবার-পরিজনের জন্য, তার শাসকবর্গের জন্য এবং সকল মুসলিমের জন্য দোয়া করবে। সুতরাং শাইখ যেন যিকিরসমূহ শেষ করার পর নিজের জন্য এবং তাদের জন্য দোয়া করতেন।

৮ - তিনি প্রচুর ইবাদত করতেন; তিনি ফজরের সালাতের জন্য আসতেন এবং সালাতের পর সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত স্বীয় জায়নামাজে বসে প্রচুর আল্লাহর যিকির করতেন। এরপর তালিবে ইলমগণ তাঁর কাছে ইলমি কিতাবসমূহ থেকে প্রায় সকাল সাতটা পর্যন্ত পাঠ করত। অতঃপর তিনি চাশতের চার রাকাত সালাত আদায় করতেন। এরপর তিনি যে জায়গায় চাশতের সালাত আদায় করেছেন, সেখান থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত উঠতেন না যতক্ষণ না তিনি একশত (১০০) বার বলতেন: "হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন; হে আল্লাহ, আমার তাওবা কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি তাওবা কবুলকারী ও পরম ক্ষমাশীল।"

৯ - তিনি কিয়ামুল লাইল (রাতের সালাত) ত্যাগ করতেন না। এর একটি দৃষ্টান্ত হলো, যখন তিনি এশার সালাত শেষ করতেন, তখন এরপর ছয় রাকাত সালাত আদায় করতেন—এশার সুন্নতে রাতেবা এবং কিয়ামুল লাইলের চার রাকাত, যা দিয়ে তিনি রাতের অবশিষ্টাংশে শক্তি সঞ্চয় করতেন। তিনি এশার সুন্নতে রাতেবার পরবর্তী দুই রাকাতকে বলতেন: "কিয়ামুল লাইলের অগ্রিম বায়না।"
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ১৯)
إذا صليتها تحرك في نفسك الصلاة في باقي الليل".

10 - كان الشيخ معروفاً بأنه لا يفارق السواك في الصلاة والوضوء والعمل والدروس، وكان يقول لماذا تتركون سنة السواك، والسواك بريال؟!
"যখন আপনি এটি আদায় করবেন, তখন তা আপনার মনে রাতের অবশিষ্টাংশে সালাত আদায়ের প্রেরণা জাগ্রত করবে।"

১০ - শায়খ এ বিষয়ে সুপরিচিত ছিলেন যে, তিনি সালাত, ওজু, কাজ এবং দরসের সময় মেসওয়াক হাতছাড়া করতেন না। তিনি বলতেন, "আপনারা কেন মেসওয়াকের সুন্নাত বর্জন করেন, অথচ একটি মেসওয়াক তো মাত্র এক রিয়াল!"
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌أخلاقه

كان رحمه الله مُتَّبِعاً للكتاب والسُّنَّة، سائراً في ذلك على هَدْي السَّلَف، وكان هذا ظاهراً عليه في أخلاقه، وسَمْتِه، ووَقَاره، وسلوكه، ومعاملته مع ربِّه ومع النَّاس، ويتبيّن هذا بما يأتي:

1 - نُصحُه للمسلمين في معتقدهم وأخلاقهم، فكان كثيراً ما يقول في دروسه، ومحاضراته، وكلماته: "وصيتي لنفسي، وللمسلمين".

2 - كان يُحِبُّ العلماء الربانيين، والدعاة الصَّالحين ولو كانوا من الأبعدين، ويُبغِض المبتدعة، والفساق العاصين ولو كانوا من الأقربين.

3 - كان يغار على التوحيد أن يُمسَ بالقول أو الفعل، ومن ذلك أن الشيخ كان في مجلس الملك عبد الله رحمه الله في الديوان الملكي، فقام أحد الشعراء فألقى قصيدة ذكر فيها بيتاً فيه وصف لا يقال لبشر؛ وإنما يختص بالله عز وجل، حيث قال: يا خادم البيتين، يا سيد الأسياد.

فما كان من الشيخ عبد الله إلا أن قام واقفاً بعد الانتهاء من القصيدة، وكان على يمين الملك عبد الله في الزاوية اليمنى، وصحح البيت تصحيحاً سليماً وألقاه على الملك عبد الله بصوت جهوري يسمعه الجميع، وتلقى الملك عبد الله رحمه الله هذا التصحيح بالقبول(1).

4 - كان بارّاً بوالِدَيْه، لا يدع زيارتهما، ومن ذلك أنه كان يسافر لوالده -حفظه الله- في القصيم غالباً بعد صلاة الجمعة.

--------------------------------------------

(1) ينظر: الشيخ عبد الله القصير كما عرفته في حلقة باليوتيوب، د. إبراهيم المطلق.
তাঁর চরিত্রাবলি

তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) কিতাব ও সুন্নাহর অনুসারী ছিলেন এবং এ ক্ষেত্রে সালাফদের আদর্শের ওপর পরিচালিত হতেন। তাঁর চরিত্র, গাম্ভীর্য, মর্যাদা, আচরণ এবং তাঁর রবের সাথে ও মানুষের সাথে তাঁর লেনদেনে এটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠত। নিচের বিষয়গুলোর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়:

১ - মুসলমানদের আকীদা ও চরিত্রের বিষয়ে তাঁর নসিহত প্রদান; তিনি তাঁর পাঠদান, লেকচার এবং আলোচনায় প্রায়শই বলতেন: "আমার নিজের প্রতি এবং মুসলমানদের প্রতি আমার অসিয়ত।"

২ - তিনি রব্বানী আলেমদের এবং নেককার দাঈদের ভালোবাসতেন, যদিও তারা দূরসম্পর্কের কেউ হতেন। আর তিনি বিদআতি এবং পাপাচারী অবাধ্যদের ঘৃণা করতেন, যদিও তারা তাঁর নিকটাত্মীয় হতেন।

৩ - তাওহীদের ওপর কোনো কথা বা কাজের মাধ্যমে আঘাত আসুক—এ ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন ছিলেন। এর একটি উদাহরণ হলো, শেখ যখন রাজকীয় দিওয়ানে বাদশাহ আব্দুল্লাহর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) মজলিসে উপস্থিত ছিলেন, তখন একজন কবি দাঁড়িয়ে একটি কবিতা আবৃত্তি করেন। তাতে তিনি এমন একটি পঙ্ক্তি উল্লেখ করেন যাতে এমন এক গুণ বর্ণনা করা হয়েছিল যা কোনো মানুষের জন্য বলা চলে না; বরং তা কেবল মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। কবি বলেছিলেন: "হে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, হে সকল সরদারদের সরদার (সাইয়িদুল আসইয়াদ)।"

কবিতা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই শেখ আব্দুল্লাহ দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি তখন বাদশাহ আব্দুল্লাহর ডান পাশের কোণায় বসা ছিলেন। তিনি পঙ্ক্তিটি সঠিকভাবে সংশোধন করে দিলেন এবং উচ্চস্বরে বাদশাহ আব্দুল্লাহর সামনে তা পাঠ করলেন যা সবাই শুনতে পেল। বাদশাহ আব্দুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) এই সংশোধনটি সানন্দে গ্রহণ করে নিলেন(১)।

৪ - তিনি তাঁর পিতামাতার প্রতি অত্যন্ত অনুগত ছিলেন, তাঁদের সাথে দেখা করা কখনও বাদ দিতেন না। এর উদাহরণ হলো, তিনি প্রায়ই জুমার সালাতের পর কাসিমে অবস্থানরত তাঁর পিতার (আল্লাহ তাঁকে হিফজ করুন) সাথে দেখা করতে সফর করতেন।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: ইউটিউব প্রোগ্রাম 'শেখ আব্দুল্লাহ আল-কুসাইর: যেমন আমি তাঁকে চিনেছি', ড. ইব্রাহিম আল-মুতলাক।
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ২১)
5 - كان واصلاً لرَحِمِه؛ يحضر بعض مناسباتهم.

6 - كان كثيرَ الصَّدَقة والبَذْلِ للفقراء والمحتاجين.

7 - كان متزهداً في الدنيا، متوجهاً نحو الآخرة، فلم يسعَ يوماً وراء الشهرة أو المناصب، حدثني قائلاً: إنه عُرض عليه منصب الإفتاء ثلاث مرات، فاعتذر في كل مرة، وكذلك رفض العديد من المناصب الأخرى، إذ كان بعيداً عن المناصب وأي سبيل يوصل إليها، داعياً الله أن يجنبهُ إياها:

أ- فقد عُرضت عليه رئاسة هيئة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر بالرياض من قِبَل خادم الحرمين الشريفين - الملك سلمان بن عبد العزيز - حينما كان أميراً لها، لكنه اعتذر.

ب- كما رُشح للقضاء من قبل الشيخ عبد الله بن حميد رحمه الله، فاعتذر أيضاً.

ج- ورُشح لوكالة وزارة الشؤون الإسلامية واعتذر كذلك.

د- وكذلك رُشح لعضوية الإفتاء من قبل سماحة المفتي، حيث سعى سماحة المفتي جاهداً لإقناعه، ولكن الشيخ عبد الله كرر الاعتذار(1).

8 - كان لا يُحب الشهرة، ومن ذلك أنه لا يحب كثرة الحضور لدروسه، حتى إني آتيته يوماً بعد إقامة بعض دروسه، وكان الحضور كثيراً، فهنأته بكثرة الحضور، فقال: "والله أنا ما أحب الكثرة".

9 - كان صادقَ الحديث، لا يُعرَف أنَّه كَذَبَ كَذْبة قط.

10 - كان عَفَّ اللِّسان؛ لا يُعرَف أنَّه اغتاب أحداً.

--------------------------------------------

(1) ينظر: الشيخ عبد الله القصير كما عرفته في حلقة باليوتيوب، د. إبراهيم المطلق.
5 - তিনি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী ছিলেন; তিনি তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতেন।

6 - তিনি প্রচুর দান-সদকা করতেন এবং দরিদ্র ও অভাবীদের জন্য অকাতরে ব্যয় করতেন।

7 - তিনি দুনিয়াবিমুখ ও আখিরাতমুখী ছিলেন। তিনি কখনো খ্যাতি বা পদের পেছনে ছুটতেন না। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে, তাকে তিনবার ইফতা (ফতোয়া প্রদান) পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু প্রতিবারই তিনি ক্ষমা চেয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। একইভাবে তিনি আরও অনেক পদ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন; কারণ তিনি পদ-পদবি এবং সেখানে পৌঁছানোর সব পথ থেকে দূরে থাকতেন এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন যেন তিনি তাকে এসব থেকে বাঁচিয়ে রাখেন:

ক- খাদেমুল হারামাইন শরীফাইন - বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ - যখন রিয়াদের আমির ছিলেন, তখন তার পক্ষ থেকে তাকে রিয়াদের 'হাইআতু আমরিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার' (সদাচারের আদেশ ও অসদাচারের নিষেধ সংস্থা)-এর প্রধানের পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি বিনয়ের সাথে তা প্রত্যাখ্যান করেন।

খ- শেখ আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ (রাহিমাহুল্লাহ) তাকে বিচারক পদের জন্য মনোনীত করেছিলেন, তিনি সেটিও প্রত্যাখ্যান করেন।

গ- তাকে ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আন্ডার-সেক্রেটারি পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল এবং তিনি সেটিও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

ঘ- মহামান্য মুফতি তাকে ইফতার সদস্য পদের জন্য মনোনীত করেছিলেন এবং তাকে রাজি করাতে যথেষ্ট চেষ্টাও করেছিলেন, কিন্তু শেখ আব্দুল্লাহ আবারও বিনয়ের সাথে তা প্রত্যাখ্যান করেন(১)।

8 - তিনি খ্যাতি পছন্দ করতেন না। এর একটি দৃষ্টান্ত হলো, তিনি তার দরসে (পাঠদানে) মানুষের অতিরিক্ত ভিড় অপছন্দ করতেন। এমনকি একদিন তার কিছু দরস শেষ হওয়ার পর আমি তার কাছে এসেছিলাম এবং সেখানে উপস্থিত লোকসংখ্যা অনেক বেশি ছিল। আমি যখন তাকে অনেক মানুষের উপস্থিতির জন্য অভিনন্দন জানালাম, তখন তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি ভিড় পছন্দ করি না।"

9 - তিনি সত্যবাদী ছিলেন; তিনি কখনো একটি মিথ্যা কথা বলেছেন বলেও জানা যায় না।

10 - তিনি সংযতভাষী ছিলেন; তিনি কখনো কারো গিবত (পরনিন্দা) করেছেন বলেও জানা যায় না।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: ইউটিউবের একটি পর্বে 'শেখ আব্দুল্লাহ আল-কুসাইর যেমনটি আমি তাকে চিনেছি', ড. ইব্রাহিম আল-মুতলাক।
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ২২)
11 - كان شديدَ الوَرَع، لا ينشغل بما لا يعنيه.

12 - كان شديدَ التَّواضع مع النَّاس.

13 - عُرِفَ بالوفاء وردّ الجميل لأهله.

14 - كان حريصًا على الكَسْبِ الحلال، بعيدًا عن المشتبهات فَضْلاً عن المُحَرَّمات.
১১ - তিনি অত্যন্ত পরহেজগার ছিলেন, যা তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন বিষয়ে তিনি লিপ্ত হতেন না।

১২ - তিনি মানুষের সাথে অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন।

১৩ - তিনি বিশ্বস্ততা এবং উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য সুপরিচিত ছিলেন।

১৪ - তিনি হালাল উপার্জনের বিষয়ে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন এবং হারামের তো প্রশ্নই আসে না, বরং সন্দেহজনক বিষয়সমূহ থেকেও দূরে থাকতেন।
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌صفاته

كان يتحلى بصفات خُلُقيَّة حميدة، ومِنْ ذلك:

1 - حبُّه للعِلْم -طلباً، وقراءةً، وتأليفاً، وشرحاً، وإلقاءً، ودلالة عليه-؛ حيثُ كان يقرأُ عليه كل يوم قبل شروق الشمس، وكل يوم عصراً يشرح كتاب رياض الصالحين، وكان له دروس مسائية في كتاب التوحيد وغيره، نحو ساعتين.

2 - شديدُ الصَّبر في طَلَبِ العِلم ونَشْرِه -جمعاً وتأليفاً-؛ حيث إن له أكثر من ثلاثين (30) مؤلفاً من مؤلفاته، وله أكثر من ثلاث مئة (300) مقال محرر.

3 - كان حريصاً على تطبيق السنة، ومن ذلك أنه كان لا يأتي للصلاة إلا والسواك في فيه، حيث كان يقول: "أتعمد أدخل وأنا أستاك ليُقتدى بي، قليل من يأتي بهذه السنة، مع أنه بريال وريالين"، وذات مرة: نزل المطر فأنزل الشيخ شماغه، وكشف رأسه وبدأ يدعو.

4 - كان يعكف على القراءة السَّاعات الطِّوال، حدَّثني أنه كان يقرأ في شبابه نحو خمس عشرة (15) ساعة.

5 - تَعلُوه الهيبة والوَقَار، وعليه سَمْتُ العلماء.

6 - كان مُتَعَفِّفاً عمَّا في أيدي النَّاس؛ بعيداً عما لا حاجة له به، من ذلك أني أعطيته يوماً قارورة ماء من المسجد فقال: "هذه للمحتاجين، وأنا أشرب من البيت".
তাঁর গুণাবলি

তিনি প্রশংসনীয় চারিত্রিক গুণাবলিতে ভূষিত ছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো:

1 - ইলমের প্রতি তাঁর ভালোবাসা—অন্বেষণ, পঠন, রচনা, ব্যাখ্যা, পাঠদান ও এর প্রতি দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রে—; যেখানে প্রতিদিন সূর্যোদয়ের আগে তাঁর নিকট পাঠ করা হতো এবং প্রতিদিন আসরের সময় তিনি 'রিয়াদুস সালেহীন' গ্রন্থের ব্যাখ্যা করতেন। এছাড়াও 'কিতাবুত তাওহীদ' ও অন্যান্য গ্রন্থের ওপর তাঁর সান্ধ্যকালীন দরস ছিল, যা প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী হতো।

2 - ইলম অর্জন ও তা প্রচারের ক্ষেত্রে—সংগ্রহ ও রচনার কাজে—তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল ছিলেন; তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ত্রিশটিরও (৩০) বেশি এবং তাঁর তিনশটিরও (৩০০) অধিক সম্পাদিত নিবন্ধ রয়েছে।

3 - তিনি সুন্নাহর অনুসরণে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন। এর একটি উদাহরণ হলো, তিনি মুখে মেসওয়াক করা অবস্থায় ব্যতীত নামাজের জন্য আসতেন না। তিনি বলতেন: "আমি উদ্দেশ্যমূলকভাবেই মেসওয়াক করতে করতে প্রবেশ করি যাতে আমাকে অনুসরণ করা হয়। খুব অল্প মানুষই এই সুন্নাহ পালন করে, অথচ এর দাম মাত্র এক বা দুই রিয়াল।" একবার বৃষ্টি নামলে শায়খ তাঁর শিমগ (মাথার কাপড়) সরিয়ে নিলেন এবং মাথা উন্মুক্ত করে দোয়া করতে শুরু করলেন।

4 - তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অধ্যয়নে মগ্ন থাকতেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে, যৌবনকালে তিনি প্রায় পনেরো (১৫) ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন।

5 - তাঁর মধ্যে গাম্ভীর্য ও মর্যাদা বিরাজ করত এবং তাঁর মাঝে আলেমদের চালচলন ও বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠত।

6 - মানুষের হাতে থাকা ধন-সম্পদের ব্যাপারে তিনি নির্লোভ ছিলেন; নিজের প্রয়োজন নেই এমন বিষয় থেকে তিনি দূরে থাকতেন। এর একটি উদাহরণ হলো, একদিন আমি তাঁকে মসজিদ থেকে একটি পানির বোতল দিয়েছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন: "এটি অভাবীদের জন্য, আমি বাড়ি থেকেই পানি পান করি।"
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ২৪)
7 - دَمِثُ الخُلُق، متأثّرٌ بأخلاق كبار العلماء.

8 - كثيرُ الصَّمْتِ، ينتقي في حديثه أطايب القول.

9 - جميلُ العِشْرة، كثيرُ الابتسامة، بشوشٌ لطيفٌ.

10 - حَسَن المعاملة؛ لا يُؤذي أحداً بقولٍ أو فعل.

11 - واسع الحلْم؛ لا يُعرَف عنه الغضب، إلا إذا انتهكت محارم الله.

12 - كان حيياً وقوراً، تَعْلُوه الهيبة والوَقَار، وعليه سَمْتُ العلماء، محبوباً عندهم، قال لي الشيخ: صالح العصيمي ذات مرة عنه: "والله إني أحبه في الله، وأحثُ طلابي عليه".

13 - كان قليلَ النَّوم، فاغتنَمَ حياته بالعبادة والعِلم.

14 - كان يستمع لمَن يُسدِي له نُصحاً أو إشارةً له بخير.

15 - كان لا يترك لبس المشلح -أي: البشت- في جميع الصلوات، والمناسبات.

16 - كان يمنع ما يُشغله عن طاعة ربه، ومن ذلك الجوال؛ حيثُ إنه عند وصوله إلى المسجد يخرج جواله من جيبه ويضعه خلف الكنب قبل دخوله، إذ كان يكره الدخول بالجوال إلى المسجد، لم يكن يهتم بالجوال نهائياً إلا للضرورة، وقد قال لي مرة: "إنه لأكثر من 30 سنة وجواله على الصامت".

17 - كان الشيخ يتمتع بهمة عالية منذ صغره، ومما يدل على ذلك موقف حصل بيننا؛ إذ كنا عائدين من المسجد إلى منزله، فقلت له: "شيخنا، لقد أكرمك الله بانتشار دروسك ومقاطعك في شتى بقاع الأرض، فكيف ترى ذلك؟ " فأجابني: "كنت وأنا صغير أرعى الغنم، وأحدث
7 - তিনি ছিলেন অমায়িক চরিত্রের অধিকারী এবং বরেণ্য আলেমদের আখলাক ও চরিত্রের দ্বারা প্রভাবিত।

8 - তিনি অধিক নীরবতা অবলম্বন করতেন এবং কথা বলার সময় অত্যন্ত চমৎকার ও মার্জিত শব্দ চয়ন করতেন।

9 - তিনি ছিলেন উত্তম সঙ্গদানকারী, সদা হাস্যোজ্জ্বল, প্রফুল্লচিত্ত ও নম্র স্বভাবের।

10 - তিনি ছিলেন সদাচারী; কথা বা কাজের মাধ্যমে তিনি কাউকে কষ্ট দিতেন না।

11 - তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল; আল্লাহর নির্ধারিত সীমালঙ্ঘন হওয়া ব্যতীত তাঁকে কখনো রাগান্বিত হতে দেখা যেত না।

12 - তিনি ছিলেন লজ্জাশীল ও গাম্ভীর্যপূর্ণ, তাঁর অবয়বে প্রভাব ও গাম্ভীর্য ফুটে উঠত এবং তাঁর মাঝে আলেমদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান ছিল। তিনি তাঁদের নিকট অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। শায়খ সালিহ আল-উসাইমি একবার তাঁর সম্পর্কে আমাকে বলেছিলেন: "আল্লাহর শপথ! আমি তাঁকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসি এবং আমার ছাত্রদের তাঁর সান্নিধ্যে যেতে উৎসাহিত করি।"

13 - তিনি খুব অল্প ঘুমাতেন, ফলে ইবাদত ও ইলম অর্জনের মাধ্যমে তিনি নিজ জীবনের সদ্ব্যবহার করেছেন।

14 - কেউ তাঁকে কোনো উপদেশ দিলে বা কল্যাণের দিকে ইঙ্গিত করলে তিনি তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শুনতেন।

15 - তিনি সমস্ত সালাত ও অনুষ্ঠানাদিতে মিশলাহ—অর্থাৎ বিশত (আরবীয় ঐতিহ্যবাহী চাদর)—পরিধান করা বর্জন করতেন না।

16 - তিনি তাঁর রবের আনুগত্য থেকে বিমুখকারী বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকতেন, যার মধ্যে মোবাইল ফোন অন্যতম; কেননা তিনি মসজিদে পৌঁছানোর পর ভেতরে প্রবেশের পূর্বেই পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে সোফার পেছনে রেখে দিতেন। যেহেতু তিনি মোবাইল ফোন নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করা অপছন্দ করতেন, তাই অতি প্রয়োজন ছাড়া তিনি মোবাইলের প্রতি মোটেও ভ্রুক্ষেপ করতেন না। একবার তিনি আমাকে বলেছিলেন: "৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমার মোবাইল সাইলেন্ট মোডে রয়েছে।"

17 - শায়খ শৈশব থেকেই সুউচ্চ হিম্মত বা সংকল্পের অধিকারী ছিলেন। এর প্রমাণস্বরূপ আমাদের মাঝে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা যায়; একদা আমরা মসজিদ থেকে তাঁর বাড়ির দিকে ফিরছিলাম, তখন আমি তাঁকে বললাম: "হে আমাদের শায়খ! আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর আনাচে-কানাচে আপনার দরস ও ভিডিও ক্লিপগুলো ছড়িয়ে দিয়ে আপনাকে সম্মানিত করেছেন, এ বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?" জবাবে তিনি আমাকে বললেন: "আমি যখন ছোট ছিলাম তখন ভেড়া চরাতাম এবং কথা বলতাম..."
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ২৫)
نفسي بأنني سأخطب في المسجد الأقصى وسيسمعني العالم كله، ولله الحمد، الآن أتحدث من مسجدي ويصل صوتي إلى كل مكان".

18 - كان الشيخ يحترم كبار السن، فكان ينهض ليسلم عليهم تقديرًا لهم؛ حتى إنه ذات مرة سلَّمَ على أحد كبار السن وقبّل رأسه.

19 - كان يُحب الشفاعة وخاصةً لتلاميذه، ومن ذلك أنه شفع لأحد طلابه مرتين:

الأولى: حضر فيها بنفسه رحمه الله عند بعض المسؤولين.

والثانية: شفاعة مكتوبة، كتبها إلى أحد الأمراء من آل سعود -حفظهم الله تعالى ووفقهم-(1).

20 - كان حريصاً على الدعوة إلى الله ليل نهار، مع اقتناصه للمناسبة، حيث قال لي الشيخ عبد الله العنقري عنه: "رجلٌ يحمل هم الدعوة، والدعوة تأكل وتشرب معه".

21 - كان الشيخ رحمه الله غيوراً على محارم الله وعلى أن تدخل البدع في دين الله، وكان ذلك يظهر في ملامح وجهه وكان كثيراً ما يعنى بشعيرة الأمر والنهي عن المنكر.

22 - كان الشيخ رحمه الله يمتثل هدي السلف الصالح في النصيحة لأولي الأمر، ولم يعرف عنه طيلة حياته النصيحة العلنية عبر وسائل وقنوات الإعلام ومنابر الجمعة وحتى في مسيرته الدعوية.

23 - كان الشيخ رحمه الله يمتثل نصوص الوحيين في الأمر بحمد الله تعالى والثناء عليه بكثرة حمد الله تعالى والثناء عليه وتمجيده وشكره في كل

--------------------------------------------

(1) ذكرها الشيخ أبو الحسن الروقي العتيبي وهو من أقدم طلابه من الدعاة في مملكة البحرين.
নিজের মনে মনে (এই আকাঙ্ক্ষা ছিল) যে আমি মসজিদে আকসায় খুতবা দেব এবং সারা বিশ্ব আমাকে শুনবে। আল্লাহর প্রশংসা, এখন আমি আমার মসজিদ থেকেই কথা বলছি এবং আমার আওয়াজ সব জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে।

১৮ - শায়খ বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করতেন, তাই তিনি তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে তাঁদের সালাম দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াতেন; এমনকি একবার তিনি এক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে সালাম করেন এবং তাঁর মাথায় চুম্বন করেন।

১৯ - তিনি সুপারিশ করতে পছন্দ করতেন, বিশেষ করে তাঁর ছাত্রদের জন্য। এর মধ্যে একটি হলো, তিনি তাঁর এক ছাত্রের জন্য দুবার সুপারিশ করেছিলেন:

প্রথমবার: যেখানে তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) নিজে কিছু দায়িত্বশীল কর্মকর্তার নিকট উপস্থিত হয়েছিলেন।

দ্বিতীয়বার: লিখিত সুপারিশ, যা তিনি আল-সাউদ পরিবারের একজন আমীরের নিকট লিখেছিলেন—আল্লাহ তাআলা তাঁদের হেফাযত করুন এবং তাঁদের তাওফীক দান করুন—(১)।

২০ - তিনি দিন-রাত আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং যথাযথ সুযোগের সদ্ব্যবহার করতেন। শায়খ আবদুল্লাহ আল-আনকারি তাঁর সম্পর্কে আমাকে বলেছিলেন: "এমন একজন ব্যক্তি যিনি দাওয়াতের চিন্তা লালন করেন, এবং দাওয়াত তাঁর সাথে খাওয়া-দাওয়া করে (অর্থাৎ তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ)।"

২১ - শায়খ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ লংঘিত হওয়ার ব্যাপারে এবং আল্লাহর দ্বীনে বিদআত প্রবেশ করার ব্যাপারে অত্যন্ত আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন ছিলেন। এটি তাঁর চেহারার অভিব্যক্তিতে প্রকাশ পেত এবং তিনি সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের বিধানের প্রতি অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন।

২২ - শায়খ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) শাসকবর্গকে উপদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের আদর্শ অনুসরণ করতেন। তাঁর পুরো জীবনে সংবাদ মাধ্যম, মিডিয়া চ্যানেল, জুমার মিম্বর বা তাঁর দাওয়াহ কর্মকাণ্ডের কোনো পর্যায়েই প্রকাশ্যে উপদেশ দেওয়ার কথা জানা যায়নি।

২৩ - শায়খ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও গুণকীর্তন করার নির্দশন সম্বলিত ওহীর (কুরআন ও সুন্নাহ) ভাষ্যসমূহ মেনে চলতেন। তিনি প্রতিটি অবস্থায় আল্লাহ তাআলার প্রচুর প্রশংসা, গুণগান, মহিমা বর্ণনা এবং শুকরিয়া আদায় করতেন।

--------------------------------------------

(১) এটি শায়খ আবু হাসান আল-রুকি আল-উতাইবি উল্লেখ করেছেন, যিনি বাহরাইন রাজ্যের দায়ীদের মধ্যে তাঁর অন্যতম প্রাচীন ছাত্র।
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقت ومناسبة، وكان يزيد في تكرار الحمد والشكر والثناء على الله بشكل لافت للنظر عند تناول وجبات الطعام لدرجة أنك تكاد تجزم أنه يحمد الله مع كل لقمة طعام يرفعها لفيه، وربما تأثر به بعض مجالسيه وأهله وطلابه واستفادوا منه في هذه الصفة الحميدة(1).

--------------------------------------------

(1) نقل آخر ثلاث فوائد د. إبراهيم المطلق.
সময় ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী; আর তিনি আহার গ্রহণের সময় লক্ষণীয়ভাবে আল্লাহর প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা ও স্তুতির পুনরাবৃত্তি বাড়িয়ে দিতেন, এমনকি আপনি প্রায় নিশ্চিতভাবে মনে করবেন যে তিনি তাঁর মুখে তোলা প্রতিটি লোকমার সাথেই আল্লাহর প্রশংসা করছেন। সম্ভবত তাঁর মজলিসের কিছু সাথী, তাঁর পরিবার ও ছাত্ররা তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং এই প্রশংসনীয় গুণটি থেকে উপকৃত হয়েছিলেন(১)।

--------------------------------------------

(১) শেষ তিনটি ফায়দা ড. ইব্রাহিম আল-মুতলাক বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌علاقتي بالشيخ رحمه الله-

كنت من أقرب الناس للشيخ رحمه الله في آخر ثلاث سنوات، وكان يأنس بي كثيراً، ويثق بي؛ ويتبين ذلك بما يأتي:

1 - بدأت علاقتي بالشيخ منذ عشر سنوات عام 1435 هـ، حيث إني أذكر أول لقاء لي به، قلت أود القراءة عليك شيخنا، فقال: "اذهب إلى الشيخ عبد العزيز الراجحي"، وهذا من تواضعه.

2 - بعد ذلك حضرت بعض دروسه، وخطبه، ومن ذلك: شرح كتاب التوحيد، وبلوغ المرام، والأربعين النووية، ورياض الصالحين، ولم يكملها الشيخ، وبعض القراءة المفتوحة صباح السبت، فانتفعت بها انتفاعاً كثيراً، وكنت فرحاً بالتحاقي بدروسه.

3 - كنت آخر سنتين أحضر خُطب الجمعة للشيخ رحمه الله، حُيث لم أتخلف عن خُطبه إلا نادراً، حتى كنت كلما كلمني أحد لأنوب عنه الجمعة، اعتذر لالتزامي مع الشيخ، حيث كنا نحضر الخطبة، ثم بعدما يصلي الشيخ أربع ركعات، نجلس مع الشيخ "لقاء مفتوح" نحو نصف ساعة، تدار فيه الأسئلة، وأحياناً الشيخ يوجه بأمر ما، ونحو وذلك، ولله الحمد، اللقاءات مسجلة.

4 - كان يُكلِّفني بالذهاب لبعض المشايخ، والتواصل معهم في بعض الأمور.

5 - كان يأنس بي كثيراً؛ حتى إنه من كثرة قدومي عليه، يقول ملاطفاً لي متبسماً بعض الألفاظ العامية اللطيفة.
শাইখের (রহিমাহুল্লাহ) সাথে আমার সম্পর্ক-

বিগত তিন বছরে আমি শাইখের (রহিমাহুল্লাহ) নিকটতম ব্যক্তিদের একজন ছিলাম। তিনি আমার সাথে খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন এবং আমাকে বিশ্বাস করতেন; যা নিচের বিষয়গুলো দ্বারা স্পষ্ট হয়:

১ - শাইখের সাথে আমার সম্পর্ক দশ বছর আগে ১৪৩৫ হিজরি থেকে শুরু হয়। আমি তাঁর সাথে আমার প্রথম সাক্ষাতের কথা স্মরণ করছি, আমি বলেছিলাম: "হে আমাদের শাইখ, আমি আপনার কাছে পাঠ গ্রহণ করতে চাই।" তিনি বললেন: "শাইখ আব্দুল আজিজ আল-রাজহির কাছে যাও।" আর এটি ছিল তাঁর বিনয়।

২ - এরপর আমি তাঁর কিছু দরস ও খুতবায় উপস্থিত হয়েছি। যার মধ্যে ছিল: কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যা, বুলুগুল মারাম, আরবাঈন নববী এবং রিয়াদুস সালিহীন—যা শাইখ সম্পন্ন করেননি; এছাড়াও শনিবার সকালে কিছু উন্মুক্ত পাঠদান ছিল। আমি তা থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি এবং তাঁর দরসসমূহে যুক্ত হতে পেরে আনন্দিত ছিলাম।

৩ - শেষ দুই বছর আমি শাইখের (রহিমাহুল্লাহ) জুমার খুতবায় উপস্থিত থাকতাম। খুব কমই আমি তাঁর খুতবায় অনুপস্থিত থেকেছি। এমনকি যখনই কেউ আমাকে তাঁর পরিবর্তে জুমার দায়িত্ব পালনের জন্য বলতেন, আমি শাইখের সাথে প্রতিশ্রুতির কারণে অপারগতা প্রকাশ করতাম। সেখানে আমরা খুতবায় উপস্থিত থাকতাম, তারপর শাইখ চার রাকাত সালাত আদায়ের পর আমরা শাইখের সাথে প্রায় আধা ঘণ্টা "উন্মুক্ত বৈঠকে" বসতাম। সেখানে প্রশ্নোত্তর চলত এবং কখনও কখনও শাইখ কোনো বিষয়ে নির্দেশনা দিতেন ইত্যাদি। আল্লাহর শুকরিয়া, বৈঠকগুলো রেকর্ড করা আছে।

৪ - তিনি আমাকে কিছু শাইখের কাছে যাওয়ার এবং কিছু বিষয়ে তাঁদের সাথে যোগাযোগ করার দায়িত্ব দিতেন।

৫ - তিনি আমার সান্নিধ্যে খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন; এমনকি আমার বারবার তাঁর কাছে আসার কারণে তিনি মুচকি হেসে স্নেহভরে আমার প্রতি কিছু চমৎকার আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহার করতেন।
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ২৮)
6 - كنت كثير الملازمة له في آخر حياته، خاصةً عصر الخميس، ويوم الجمعة، وأحياناً السبت، حتى قال لي ذات يوم: " أنت من الملازمين لي"، وحتى إنه قبل وفاته بتسعة أشهر كتبَ لي تزكية رحمه الله.

7 - ألقيت أمام شيخنا في مسجده جامع فهد الدخيل -ثلاث كلمات لجماعة المسجد بحضوره- بعد الإذن منه، عَلقَ على واحدةٍ منها، وكما أني ألقيت أمام شيخه شيخنا العلامة صالح الفوزان كلمة في مسجده، وذلك اقتداءً بشيخنا العلامة القصير؛ حيثُ أنه كان يقول إني ألقي أمام العلماء ليصوبوني.

8 - كان يخُصني بأشياء، ويثق بي؛ حتى قال لي مرات: "أنا أخصك بأشياء"، وحتى أنه أحياناً يقول لي: "تعال لي في غرفة الإمام أبيك(1) "، ثم يتحدث معي عن موضوع معين.

9 - كان كثيراً في جلوسي معه، إذا قدمت عليه، يسألني عن أحوال المشايخ، يقول: "وش أخبار سماحة المفتي؟ وش أخبار الفوزان؟ "، وغيرهم من العلماء والمشايخ، ويقول لي: "ما الجديد؟ " ويقول: "وش عندك من الأخبار المبشرات؟ "، وكنت إذا بشرته بانتشار الدروس، والمقاطع، والصوتيات، يفرح كثيراً.

10 - كان ناصحاً مُرشداً لي، ومن نصائحه لي: أن قال لي: " اسأل ربك من قلبك بتضرع أن يجعلك للمتقين إماماً"، وكان ينصحني بالتقوى، وقيام شيء من الليل، والضحى، وكثرة الذكر، والحرص على طلب العلم، ونشره خاصة بوسائل التواصل، وغيرها كثير.

--------------------------------------------

(1) يعني: أريدك.
6 - আমি তাঁর জীবনের শেষ সময়ে তাঁর সান্নিধ্যে অনেক বেশি থাকতাম, বিশেষ করে বৃহস্পতিবার আসরের পর, জুমুআর দিন এবং কখনো কখনো শনিবার। এমনকি একদিন তিনি আমাকে বলেছিলেন: "তুমি আমার দীর্ঘদিনের সঙ্গীদের একজন।" এমনকি তাঁর ইন্তেকালের নয় মাস আগে তিনি আমার জন্য একটি প্রশংসাপত্র লিখেছিলেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

7 - আমি আমাদের শাইখের অনুমতি নিয়ে তাঁর উপস্থিতিতে তাঁর মসজিদে (জামে ফাহাদ আদ-দাখীল) মুসল্লিদের সামনে তিনবার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়েছি। তিনি সেগুলোর একটির ওপর মন্তব্য করেছিলেন। যেমনটি আমি তাঁর শাইখ, আমাদের শাইখ আল্লামা সালিহ আল-ফাউযানের সামনে তাঁর মসজিদে একটি বক্তব্য দিয়েছি। এটি আমি আমাদের শাইখ আল্লামা আল-কুসাইরের অনুসরণ করে করেছি; কারণ তিনি বলতেন যে, আমি আলেমদের সামনে বক্তব্য দিই যেন তাঁরা আমাকে সংশোধন করে দেন।

8 - তিনি আমাকে কিছু বিষয়ে বিশেষভাবে গণ্য করতেন এবং আমার ওপর আস্থা রাখতেন; এমনকি তিনি আমাকে কয়েকবার বলেছিলেন: "আমি তোমাকে কিছু বিষয়ে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করি।" এমনকি কখনো কখনো তিনি আমাকে বলতেন: "ইমামের কামরায় আমার কাছে এসো, হে আমার পুত্র(১)," এরপর তিনি আমার সাথে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে কথা বলতেন।

9 - আমি যখন তাঁর কাছে যেতাম, তখন তাঁর সাথে বসার সময় তিনি প্রায়ই আমাকে মাশায়েখদের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। তিনি বলতেন: "মাননীয় মুফতি সাহেবের খবর কী? ফাউযানের খবর কী?" এবং অন্যান্য আলেম ও মাশায়েখদের কথা। তিনি আমাকে বলতেন: "নতুন কী খবর?" এবং বলতেন: "তোমার কাছে সুসংবাদবাহী কী খবর আছে?" আমি যখন তাঁকে বিভিন্ন দরস, ভিডিও ক্লিপ এবং অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ার সুসংবাদ দিতাম, তখন তিনি খুব খুশি হতেন।

10 - তিনি আমার জন্য একজন হিতাকাঙ্ক্ষী ও পথপ্রদর্শক ছিলেন। আমার প্রতি তাঁর উপদেশগুলোর মধ্যে একটি ছিল যে, তিনি আমাকে বলেছিলেন: "তোমার রবের কাছে অন্তর থেকে রোনাজারি করে প্রার্থনা করো যেন তিনি তোমাকে মুত্তাকীদের ইমাম বানান।" তিনি আমাকে তাকওয়া, রাতের কিছু অংশে সালাত আদায় (কিয়ামুল লাইল), চাশতের সালাত (দুহা), অধিক পরিমাণে যিকর এবং ইলম অর্জনে ও তা প্রচারে—বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে—সচেষ্ট থাকার নসিহত করতেন, এছাড়াও আরও অনেক নসিহত করতেন।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: আমি তোমাকে চাই।
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌مؤلفات الشيخ رحمه الله-

تميّزت مؤلفات الشيخ بالاستدلال بالكتاب والسنة وأقوال السلف، وتمتاز عباراتها بالسهولة والوضوح، مما يجعلها مناسبة لطلاب العلم والعامة على حدٍ سواء، وتنبض بالنصح والشفقة، ومن بين تلك المؤلفات القيّمة:

 

‌‌مؤلفاته في العقيدة:

1) الفوائد السنية على العقيدة الواسطية.

2) المستفاد على لمعة الاعتقاد.

3) الإصابة في حقوق وفضائل الصحابة، وكتاب الولاية العامة.

4) بيان أركان الإيمان، وهذا الكتاب نال استحسان سماحة المفتي بعد أن قرأه، حيث تواصل المفتي مع الشيخ قائلًا: "لقد استفدت من كتابك فائدة ثمينة في باب القضاء والقدر"، وأضاف: "لم أقرأ ما هو أوضح أو أسهل منه"، حيث أن أصل هذا الكتاب كان مستفاداً من رسالة الشيخ في الماجستير؛ كما أخبرني بذلك.

5) المفيد على كتاب التوحيد.

وهو من أفضل كتبه، حيث قال لي الشيخ أ. د: صالح سندي عنه: "من أفضل شروح التوحيد، وليته يطبع، ويباع بالمكاتب، ويُوزع على مكاتب الجاليات"(1)، وأذكر أنه طُبع منه خمسة الآف (5000) نسخة، وتم توزيعها جميعها.

--------------------------------------------

(1) كان هذا في مسجد الخيف بمنى مكة، في حج عام 1444 هـ.
শাইখের (রাহিমাহুল্লাহ) রচনাবলি-

শাইখের রচনাবলি কুরআন, সুন্নাহ এবং সালাফদের বাণীর মাধ্যমে দলিল উপস্থাপনের দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এর ভাষা সহজবোধ্য ও স্পষ্ট, যা একে ইলম অন্বেষী এবং সাধারণ মানুষ—উভয়ের জন্যই সমানভাবে উপযোগী করে তুলেছে। এই রচনাগুলো নসিহত ও মমতায় পরিপূর্ণ। সেই মূল্যবান রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:

 

আকিদাহ বিষয়ক তাঁর রচনাবলি:

১) আল-ফাওয়াইদ আস-সানিয়্যাহ আলাল আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ।

২) আল-মুস্তাফাদ আলা লুমআতিল ইতিদাক।

৩) আল-ইসাবাহ ফি হুকুক ওয়া ফাদায়িলিস সাহাবাহ, এবং কিতাবুল উইলায়াহ আল-আম্মাহ।

৪) বায়ানু আরকানিল ইমান; এই বইটি পড়ার পর মহামান্য মুফতি সাহেব এর প্রশংসা করেন। মুফতি সাহেব শাইখের সাথে যোগাযোগ করে বলেছিলেন: "আমি আপনার কিতাব থেকে কাজা ও কদর (তাকদির) অধ্যায়ে অত্যন্ত মূল্যবান ফায়দা পেয়েছি।" তিনি আরও যোগ করেন: "আমি এর চেয়ে স্পষ্ট বা সহজ আর কিছু পড়িনি।" এই বইটির মূল ভিত্তি ছিল শাইখের মাস্টার্স থিসিস থেকে সংগৃহীত; যেমনটি তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন।

৫) আল-মুফিদ আলা কিতাবিত তাওহিদ।

এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কিতাব। প্রফেসর ড. সালিহ সিন্দি এই কিতাবটি সম্পর্কে আমাকে বলেছিলেন: "এটি কিতাবুত তাওহিদের অন্যতম সেরা ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এটি যদি ছাপা হতো, লাইব্রেরিগুলোতে বিক্রি করা হতো এবং প্রবাসী সেবা কেন্দ্রগুলোতে বিতরণ করা হতো (তবে কতই না ভালো হতো)!"(১) আমার মনে আছে যে, এর পাঁচ হাজার (৫০০০) কপি ছাপা হয়েছিল এবং তার সবগুলোই বিতরণ করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) এটি মক্কার মিনায় অবস্থিত মাসজিদুল খাইফে ১৪৪৪ হিজরির হজের সময় ঘটেছিল।
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ৩০)
6) إفادة المسؤول على ثلاثة الأصول.

7) التعليقات على كشف الشبهات.

8) كشف شبهات المخالفين في توحيد الأنبياء والمرسلين.

كان الشيخ حريصًا على نشر هذا الكتاب، وقد أوصاني بنشره عبر وسائل التواصل الاجتماعي.

 

‌‌مؤلفاته في أركان الإسلام:

1) الإشارات إلى جملة من حكم وأحكام وفوائد تتعلق بفريضة الزكاة.

2) تذكرة الصوام بشيء من أحكام الصيام والقيام.

3) زاد الحجاج والمعتمرين من فقه وآداب ذينك النسكين.

4) الهدية المرضية بشأن الأضحية.

 

‌‌مؤلفاته الأخرى:

1) تذكرة أولي الغِيَر بشأن شعيرة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.

وقد أعطى شيخنا هذا الكتاب لخادم الحرمين الشريفين حينما كان أميراً للرياض، وبعد أيام قليلة جدًا اتصل به الملك وشكره على الكتاب وأخبره أنه قرأه، وأثنى عليه كثيرًا(1).

2) تبصرة الهداة بشأن الدعوة والدعاة، وهذا الكتاب كان بطلب من الشيخ العلامة عبد الله ابن غديان عندما تقدم الشيخ عبد الله القصير للتقاعد المبكر قال: "تريد تتقاعد وأنت لم تكتب شيئاً في الدعوة ولك تجربة في الدعوة إلى الله"، قال شيخنا: "فكنت أحذف وأضيف حتى خرج

--------------------------------------------

(1) ينظر: الشيخ عبد الله القصير كما عرفته في حلقة باليوتيوب، د. إبراهيم المطلق.
৬) সালাসাাতুল উসুল (তিনটি মূলনীতি) বিষয়ক জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের সমাধান।

৭) কাশফুশ শুবুহাত (সংশয় নিরসন)-এর ওপর টীকা ও মন্তব্যসমূহ।

৮) নবী ও রাসুলগণের তাওহীদের বিষয়ে বিরোধীদের সংশয় নিরসন।

শায়খ এই বইটি প্রচারের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং তিনি আমাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটি প্রচারের অসিয়ত করেছিলেন।

 

‌‌ইসলামের রোকনসমূহ (স্তম্ভসমূহ) বিষয়ে তাঁর রচনাবলি:

১) যাকাতের ফরয বিধান সংশ্লিষ্ট হিকমত, আহকাম ও ফায়দা সংক্রান্ত ইঙ্গিতসমূহ।

২) সিয়াম ও কিয়ামের (রাতের সালাত) কিছু বিধান সম্পর্কে রোজা পালনকারীদের জন্য স্মারক।

৩) হাজ্ব ও উমরাহ পালনকারীদের পাথেয়: এই দুই ইবাদতের ফিকহ ও আদব।

৪) কুরবানী বিষয়ে পছন্দনীয় উপহার।

 

‌‌তাঁর অন্যান্য রচনাবলি:

১) সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধের মহান বিধান সম্পর্কে ঈমানি আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্নদের জন্য স্মারক।

আমাদের শায়খ এই বইটি খাদেমুল হারামাইন শরীফাইনকে উপহার দিয়েছিলেন যখন তিনি রিয়াদের আমীর ছিলেন। এর কয়েক দিন পরই বাদশাহ তাঁর সাথে যোগাযোগ করেন এবং বইটির জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান। তিনি জানান যে তিনি এটি পাঠ করেছেন এবং এর ভূয়সী প্রশংসা করেন(১)।

২) দাওয়াত ও দাঈদের বিষয়ে পথপ্রদর্শকদের অন্তর্দৃষ্টি। এই বইটি আল্লামা শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে গুদাইয়ানের অনুরোধে রচিত হয়েছিল। যখন শায়খ আব্দুল্লাহ আল-কুসাইর আগাম অবসরের আবেদন পেশ করেন, তখন তিনি (ইবনে গুদাইয়ান) বলেছিলেন: "আপনি কি অবসরে যেতে চাচ্ছেন অথচ আপনি দাওয়াতের বিষয়ে কিছুই লিখেননি? অথচ আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে আপনার বিশাল অভিজ্ঞতা রয়েছে।" আমাদের শায়খ বলেন: "আমি এতে বিভিন্ন অংশ বর্জন এবং সংযোজন করতে থাকি যতক্ষণ না এটি প্রকাশিত হয়েছে..."

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: ইউটিউব ভিডিও 'শায়খ আব্দুল্লাহ আল-কুসাইর যেমনটি আমি তাঁকে চিনেছি', ড. ইবরাহীম আল-মুতলাক।
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ৩১)
كتابي (تبصرة الهداة بشأن الدعوة والدعاة) وكانت الحاجة إليه ماسة في الجانب التطبيقي والسلوكي".

3) الذكرى بخطر الربا.

4) شهادة الزور وخطرها.

5) تذكرة الناس بشأن اللباس.

6) ديوان خطب باسم " اللمع من خُطب الجمع " في ثلاث مجلدات.

7) المأثورات من الأدعية والأذكار في الصلوات.

8) الإرشادات المهمة لعامة الأمة.

وغيرها من الكتب والبحوث والرسائل الأخرى في موضوعات متعددة.
আমার গ্রন্থ (দাওয়াহ ও দায়ীগণের বিষয়ে পথপ্রদর্শকদের অন্তর্দৃষ্টি), যার ব্যবহারিক ও আচরণগত দিকের প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম।

৩) সুদের ভয়াবহতা সম্পর্কে স্মারক।

৪) মিথ্যা সাক্ষ্য ও তার ভয়াবহতা।

৫) পোশাক-পরিচ্ছদ সংক্রান্ত বিষয়ে মানুষকে উপদেশ।

৬) তিন খণ্ডে "জুমআর খুতবাসমূহের দ্যুতি" নামক খুতবা সংকলন।

৭) সালাতে পঠিতব্য মাসনুন দোয়া ও যিকরসমূহ।

৮) সাধারণ উম্মাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাসমূহ।

এবং বিভিন্ন বিষয়ে আরও অনেক গ্রন্থ, গবেষণা ও পত্রাবলী।
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌تلاميذه

كرَّس الشيخ رحمه الله حياته في طلب العلم والتعليم والتدريس والدعوة إلى الله والتأليف، وتتلمذ على يديه خلال أكثر من خمسين (50) عامًا أفواجٌ من طلاب العلم، وقد أصبح العديد من تلاميذه قضاةً ومدرسين وخطباء ودعاة ووعاظًا. وقد شهد الشيخ إقبال طلاب العلم من مختلف بلدان العالم، كالسعودية والكويت والإمارات وعمان والبحرين واليمن والجزائر ومصر والهند وروسيا وغيرها. وكنتُ قد شهدتُ في آخر عشر سنوات توافد هؤلاء الطلاب عليه، حيث يذهب البعض ويأتي آخرون، ومن طلابه البارزين:

1. الشيخ الفقيه حمد بن عبد الله الحمد؛ حيثُ قرأ على الشيخ عند قدومه حائل، وكذلك قرأ عليه في بيته عام 1414 هـ، وكذلك حضر دروسه عام 1406 هـ في الملز كما أخبرني بذلك.

2. الشيخ فهد بن مقعد العتيبي؛ حيثُ أنه قد قرأ على الشيخ كتباً كثيرة في سنوات طويلة من عام 1421 هـ.

3. الشيخ د. عمر بن عبد الرحمن العمر؛ وقد علق الشيخ على كتابه: "دين الإسلام: سؤال وجواب".

4. الشيخ د. محمد بن سرار اليامي؛ حيث أنه قرأ على الشيخ كتباً كثيرة.

5. الشيخ أبو الحسن الروقي العتيبي؛ وهو الآن داعية بمملكة البحرين.

6. الشيخ د. أحمد بن محمد النفيعي -رئيس قسم العقيدة بجامعة الإمام-؛ قرأ عليه كتباً كثيرة في عدة سنوات.
তাঁর ছাত্রগণ

শায়খ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) তাঁর জীবন ইলম অর্জন, শিক্ষা দান, অধ্যাপনা, আল্লাহর পথে দাওয়াত ও গ্রন্থ রচনায় উৎসর্গ করেছিলেন। পঞ্চাশ (৫০) বছরেরও বেশি সময় ধরে একদল জ্ঞানান্বেষী তাঁর সান্নিধ্যে থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তাঁর বহু ছাত্র বর্তমানে বিচারক, শিক্ষক, খতিব, দাঈ এবং ওয়ায়েজ (উপদেশদাতা) হিসেবে নিয়োজিত আছেন। শায়খ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, যেমন: সৌদি আরব, কুয়েত, আমিরাত, ওমান, বাহরাইন, ইয়েমেন, আলজেরিয়া, মিশর, ভারত, রাশিয়া এবং অন্যান্য দেশ থেকে জ্ঞানান্বেষীদের আগমনের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। আমি শেষ দশ বছরে তাঁর কাছে এই ছাত্রদের আসা-যাওয়া প্রত্যক্ষ করেছি, যেখানে কেউ বিদায় নিচ্ছিলেন আবার অন্য কেউ আসছিলেন। তাঁর বিশিষ্ট ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন:

১. শায়খ আল-ফকিহ হামাদ বিন আবদুল্লাহ আল-হামাদ; তিনি শায়খ যখন হাইল-এ আসতেন তখন তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করতেন, এবং ১৪১৪ হিজরি সনে তাঁর বাড়িতেও পাঠ গ্রহণ করেছেন। অনুরূপভাবে তিনি আমাকে যেমনটি জানিয়েছেন, ১৪০৬ হিজরি সনে আল-মালায-এ শায়খের দরসেও উপস্থিত থাকতেন।

২. শায়খ ফাহাদ বিন মাকআদ আল-উতাইবি; তিনি ১৪২১ হিজরি সন থেকে দীর্ঘ বছর ধরে শায়খের কাছে অনেক কিতাব পাঠ করেছেন।

৩. শায়খ ড. উমর বিন আবদুর রহমান আল-উমর; তাঁর রচিত "দীনে ইসলাম: প্রশ্ন ও উত্তর" কিতাবটির ওপর শায়খ টীকা লিখেছেন।

৪. শায়খ ড. মুহাম্মদ বিন সাররার আল-ইয়ামী; তিনি শায়খের কাছে বহু কিতাব পাঠ করেছেন।

৫. শায়খ আবুল হাসান আল-রুকী আল-উতাইবি; তিনি বর্তমানে বাহরাইন রাজ্যে একজন দাঈ হিসেবে কর্মরত আছেন।

৬. শায়খ ড. আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-নুফাইয়ি —ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আকিদাহ বিভাগের প্রধান—; তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে তাঁর কাছে বহু কিতাব পাঠ করেছেন।
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ৩৩)
7. الشيخ د. عبد الرحمن الشمري -رئيس قسم الدعوة بجامعة الإمام-؛ من أكثر من لازم الشيخ لأكثر من 13 سنة، منها تسع سنوات مؤذناً لمسجده، وله الفضل بعد الله في نشر علم الشيخ.

وليُعلم أن طلاب الشيخ كثير، حيثُ كان الشيخ رحمه الله يُدرِّس لأكثر من خمسين (50) سنة؛ وإنما أردنا هنا ذكرَ بعض طلابه.
৭. শায়খ ড. আব্দুর রহমান আল-শামমারী -ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ বিভাগের প্রধান-; তিনি সেই ব্যক্তিদের অন্যতম যারা ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে শায়খের সান্নিধ্যে ছিলেন, যার মধ্যে নয় বছর তাঁর মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আল্লাহর পর শায়খের ইলম বা জ্ঞান প্রসারে তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে।

এটি জেনে রাখা আবশ্যক যে শায়খের ছাত্র সংখ্যা অনেক, যেহেতু শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) পঞ্চাশ (৫০) বছরেরও অধিক সময় ধরে পাঠদান করেছেন; আমরা এখানে কেবল তাঁর কয়েকজন ছাত্রের কথা উল্লেখ করতে চেয়েছি।
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌كلام الشيخ عبد الله رحمه الله عن شيخه ابن باز رحمه الله وقصيدته فيه

كان سماحة الشيخ ابن باز رحمه الله كالأب الحنون للشيخ عبد الله، فقد كانت له مكانة خاصة عنده؛ إذ كان يسأل عنه، ويتفقد أحواله، ويكلفه ببعض المهام. ويُعد الشيخ ابن باز من أكثر الشخصيات التي تأثّر بها الشيخ عبد الله. وقد وصفه الشيخ عبد الله، لما رأى فيه من علم وزهد وعبادة وخلق كريم، بصفات عديدة في لقاء إذاعي، حيث قال عنه: " هو أمة في الصبر والدأب، ومواصلة العمل النافع الذي ينفع دين الله وعباده في العاجل والآجل بلا كلل ولا ملل، كان آية من آيات الله في هذا الجانب.

كان يحفظ الوقت فيما ينفع حتى إنه إذا كان فيه اجتماع عنده في البيت أو في المكتب ثم احتاج الأمر إلى إحضار شيء من الأوراق أو التقويم أو غير ذلك يستفيد من هذا الوقت ريثما يُحضر المطلوب فيقول: هات الكتاب الفلاني، افتح الحديث الفلاني الصفحة الفلانية الجزء الفلاني، اقرأ كذا، ثم يُقرأ عليه ويستمع، ثم يقول: افتح الكتاب الفلاني. وهكذا كان ما يترك شيئًا من الوقت دون أن يستفيد منه.

كان كثيرًا اللهج بذكر الله عز وجل، وهذا من أسباب نجاحه وتوفيقه وعون الله له؛ لأن الذكر من أعظم ما يستعان به على المهمات العظيمة.

كان محبًا للعلم والسلف الصالح، فكان لا يمل من ذكر أخبارهم وسيرهم، يضرب الأمثلة بهم دائمًا، ولا سيما خواص أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم.
শায়খ আব্দুল্লাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর তাঁর উস্তাদ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে বক্তব্য এবং তাঁকে নিয়ে রচিত তাঁর কবিতা

মহামান্য শায়খ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) শায়খ আব্দুল্লাহর নিকট একজন স্নেহময় পিতার ন্যায় ছিলেন। তাঁর নিকট শায়খ আব্দুল্লাহর এক বিশেষ মর্যাদা ছিল; তিনি তাঁর খোঁজখবর নিতেন, তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতেন এবং তাঁকে বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব দিতেন। শায়খ আব্দুল্লাহ যাদের দ্বারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছিলেন, শায়খ ইবনে বায তাঁদের মধ্যে অন্যতম। শায়খ আব্দুল্লাহ তাঁর মাঝে বিদ্যমান ইলম, যুহদ (দুনিয়ামুখিতা), ইবাদত এবং উন্নত চরিত্র প্রত্যক্ষ করে একটি রেডিও সাক্ষাৎকারে তাঁকে বিভিন্ন বিশেষণে বিশেষিত করেছেন। সেখানে তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "তিনি ধৈর্য ও নিষ্ঠার ক্ষেত্রে একাই একটি উম্মত। আল্লাহর দ্বীন ও তাঁর বান্দাদের ইহকাল ও পরকালে উপকারে আসে এমন কল্যাণকর কাজ ক্লান্তি ও বিরক্তিহীনভাবে নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে এক অনন্য নিদর্শন ছিলেন।"

তিনি উপকারী কাজে সময়ের এমনভাবে হিফাযত করতেন যে, তাঁর বাড়িতে বা অফিসে কোনো বৈঠক চলাকালে যদি কোনো কাগজপত্র বা ক্যালেন্ডার অথবা অন্য কিছু নিয়ে আসার প্রয়োজন হতো, তবে সেই প্রয়োজনীয় জিনিসটি নিয়ে আসার মধ্যবর্তী সময়টুকুকেও তিনি কাজে লাগাতেন। এমতাবস্থায় তিনি বলতেন: "অমুক বইটি আনো, অমুক খণ্ডের অমুক পৃষ্ঠার অমুক হাদীসটি বের করো এবং পাঠ করো।" এরপর তা তাঁকে পড়ে শোনানো হতো এবং তিনি তা শুনতেন। এরপর তিনি বলতেন: "অমুক বইটি খোলো।" এভাবেই তিনি সময়ের সামান্যতম অংশকেও কাজে লাগানো ছাড়া অতিবাহিত করতেন না।

তিনি সর্বদা মহান আল্লাহর যিকিরে মগ্ন থাকতেন। আর এটিই ছিল তাঁর সফলতা, তাওফীক এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য লাভের অন্যতম কারণ। কেননা মহান দায়িত্বসমূহ আঞ্জাম দেওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর যিকির হলো অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।

তিনি ইলম এবং সালাফে সালেহীনদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তিনি তাঁদের জীবনের ঘটনাবলি এবং জীবনী আলোচনা করতে কখনো ক্লান্তিবোধ করতেন না। তিনি সর্বদা তাঁদের উদাহরণ পেশ করতেন, বিশেষ করে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিশিষ্ট সাহাবীগণের উদাহরণ।
(খণ্ড: ১) সাফাহাতুম মুদিআতুন মিন হায়াতি আব্দুল্লাহ আল-কাসীর (পৃষ্ঠা: ৩৫)
كان حسن الخلق، يتحمل جفاء الناس وتقصيرهم ولا يقابل المسيء بالإساءة بل يقابله بالإحسان، بالصفح والإحسان والعفو، ويعامله بما يقتضيه الشرع لا بما بلغه عنه، إلا إذا كان على معصية لله تعالى أو في أمر يقدح في الإسلام؛ فإن الشيخ ينبهه ويذكره ويخوفه بالله عز وجل فيما بينه وبينه، أما إذا كان في أمور دنيوية أو فيما يتعلق بشخص الشيخ أو غير ذلك فكأن شيئاً لم يكن، فكان آية من آيات الله في الحلم وحسن المعاملة وبذل المعروف لمن أساء إليه. وعدد من الناس الذين أساؤا إليه وجفوا في حقه وتوفوا قبله خلفهم بأهلهم بخير، واساهم عند مصابهم وتفقد حالهم، إذا كان على المتوفى ديون أو كان على أهله أجرة للمنزل ونحو ذلك، فكان يبذل ما يستطيع في ذلك ويعدهم خيرًا ويتلطف لهم، يشعرهم بأنه معهم ويقول: إذا كان لكم أي حاجة فأخبروني.

كذلك كان يهمه أمر الإسلام ليل نهار، فكان يتتبع الأخبار عن أحوال المسلمين والعالم الإسلامي والحوادث التي تحدث فيه، والنتائج التي تصل إليها، ويهمه ذلك ويتضرع إلى الله عز وجل أن يعلي دينه وينصر كلمته، ويعز عباده وهكذا.

كذلك كانت الدعوة إلى الله عز وجل تجري في شرايينه فكان يهمه أمر الدعوة، يبذل في سبيله ما استطاع من وقت ومال وجاه ونصح ودفاعًا عن الدعاة وغير ذلك، فكانت له المواقف المشهورة العظيمة"(1).

--------------------------------------------

(1) لقاء إذاعي مع د. محمد المشوح بعنوان: في مواكب الدعوة في السيرة الذاتية للشيخ.
তিনি ছিলেন উত্তম চরিত্রের অধিকারী, মানুষের রুক্ষতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি সহ্য করতেন এবং মন্দের মোকাবিলা মন্দ দিয়ে করতেন না, বরং ইহসান তথা সদাচার, ক্ষমা ও মার্জনা দ্বারা তা প্রতিহত করতেন। তিনি মানুষের সাথে শরীয়তের দাবি অনুযায়ী আচরণ করতেন, তাদের সম্পর্কে তাঁর কাছে যা পৌঁছাত সেই অনুযায়ী নয়। তবে বিষয়টি যদি মহান আল্লাহর নাফরমানি বা ইসলামের অবমাননাকর কোনো বিষয় হতো, তবে শাইখ তাকে সতর্ক করতেন, নসিহত করতেন এবং নির্জনে তাকে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার ভয় দেখাতেন। কিন্তু বিষয়টি যদি পার্থিব কোনো বিষয় হতো কিংবা শাইখের ব্যক্তিগত সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট হতো, তবে তিনি এমন ভাব করতেন যেন কিছুই ঘটেনি। তিনি সহিষ্ণুতা, সদ্ব্যবহার এবং মন্দের বদলায় কল্যাণ সাধনের ক্ষেত্রে আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে এক অনন্য নিদর্শন ছিলেন। বেশ কিছু মানুষ যারা তাঁর প্রতি দুর্ব্যবহার করেছিল এবং তাঁর অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছিল অথচ তাঁর আগেই মৃত্যুবরণ করেছিল, তিনি তাদের পরিবারের দেখাশোনা করেছেন। তাদের বিপদে তিনি সান্ত্বনা দিতেন এবং তাদের খোঁজখবর নিতেন; যদি মৃত ব্যক্তির কোনো ঋণ থাকত কিংবা তাঁর পরিবারের যদি ঘরের ভাড়া বা এজাতীয় কোনো বকেয়া থাকত, তবে তিনি সাধ্যমতো তাতে ব্যয় করতেন, তাদের কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিতেন এবং তাদের প্রতি সদয় হতেন। তিনি তাদের এমনভাবে আশ্বস্ত করতেন যেন তিনি তাদের পাশেই আছেন এবং বলতেন: "তোমাদের কোনো প্রয়োজন হলে আমাকে জানাবে।"

অনুরূপভাবে, দিন-রাত ইসলামের বিষয়াদি তাঁকে ভাবিত করত। তিনি মুসলিম উম্মাহ ও মুসলিম বিশ্বের অবস্থা এবং সেখানে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি ও তার ফলাফলগুলোর সংবাদ অনুসরণ করতেন। বিষয়টি তাঁকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করত এবং তিনি মহান আল্লাহর কাছে বিনম্র প্রার্থনা করতেন যেন তিনি তাঁর দ্বীনকে সমুন্নত করেন, তাঁর বাণীকে বিজয়ী করেন এবং তাঁর বান্দাদের সম্মানিত করেন।

একইভাবে, মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদানের বিষয়টি তাঁর শিরা-উপশিরায় প্রবাহিত হতো। দাওয়াতের বিষয়টি তাঁকে সর্বদা ভাবাত। তিনি এর পথে সাধ্যমতো সময়, অর্থ, মর্যাদা, সদুপদেশ এবং দাঈদের পক্ষাবলম্বনসহ সবকিছু ব্যয় করতেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর সুপ্রসিদ্ধ ও মহান বহু অবস্থান রয়েছে।(১).

--------------------------------------------

(১) ড. মুহাম্মদ আল-মাশওয়াহর সাথে একটি রেডিও সাক্ষাৎকার, শিরোনাম: শাইখের জীবনীতে দাওয়াতের কাফেলা।