(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: -)
الدرة في الحج والعمرة   (يحيى الحجوري)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الدرة في الحج والعمرة

المؤلف: أبو عبد الرحمن يحيى بن علي الحجوري

الناشر: دار كنوز الإسلام - اليمن

الطبعة: الأولى، 1446 هـ

عدد الصفحات: 608

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 ذو الحجة 1446

আদ-দুররাহ ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ   (ইয়াহইয়া আল-হাজুরি)

বিভাগ: ফিকহী মাসায়েল


বই: আদ-দুররাহ ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (হজ ও উমরার মুক্তো)

লেখক: আবু আবদুর রহমান ইয়াহইয়া বিন আলী আল-হাজুরি

প্রকাশক: দার কুনুযুল ইসলাম - ইয়ামেন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪৬ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬০৮

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৯ যিলহজ ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مُقَدِّمَة

الحمد لَّله، الَّذِي أطْعم من الطَّعَام، وَسَقَى من الشَّرَاب، وكسا من العُرِيّ، وَهَدَى من الضَّلَالَة، وبَصَّر من الْعَمى، وَفَضَّل على كثير ممن خلق تَفْضِيلًا، الْحَمد لله رب الْعَالمين، والصلاة والسلام على نبيه ورسوله الأمين.

أمَّا بَعْد:

 

فقد يسر الله عز وجل لي بعض البحوث في الحج منها: «تنوير الحوالك في أحكام المناسك»، و «إتحاف الكرام بأجوبة أحكام الزكاة والحج والصيام»، وكان منها في الحج جزء طيب ضمن شرحي على «منتقى ابن الجارود».

وقصدت إفراد هذا الجزء لرغبة بعض إخواني حفظهم الله، أن يُجمع في ذلك ما يسهل تناوله، ويرجى النفع به - إن شاء الله تعالى - فكان هذا، أسأل الله جَلَّ وَعَلَا أن ينفعني به، وإخواني المسلمين.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আহার করিয়েছেন, পানীয় পান করিয়েছেন, নগ্নতা থেকে বস্ত্র দান করেছেন, পথভ্রষ্টতা থেকে হিদায়াত দিয়েছেন, অন্ধত্ব থেকে দৃষ্টি দান করেছেন এবং তাঁর বহু সৃষ্টির ওপর বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বিশ্বস্ত নবী ও রাসূলের ওপর।

অতঃপর:

 

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল হজ্জ সংক্রান্ত কিছু গবেষণামূলক কাজ আমার জন্য সহজ করে দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে: ‘তানভীরুল হাওয়ালেক ফী আহকামিল মানাসিক’ (হজ্জের বিধানাবলীতে অন্ধকারের আলোকবর্তিকা), এবং ‘ইতহাফুল কিরাম বি-আজউইবাতি আহকামিজ যাকাত ওয়াল হাজ্জি ওয়াস সিয়াম’ (যাকাত, হজ্জ ও সিয়ামের বিধানাবলীর উত্তরে সম্মানিতদের উপঢৌকন)। এছাড়াও হজ্জের ওপর একটি উত্তম অংশ আমার ‘মুনতাকা ইবনে আল-জারুদ’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আমি এই অংশটিকে স্বতন্ত্র করার ইচ্ছা করেছি আমার কিছু ভাইয়ের—আল্লাহ তাদের হিফাযত করুন—আগ্রহের কারণে, যেন এমন কিছু একত্রিত করা যায় যা গ্রহণ করা সহজ এবং যার মাধ্যমে উপকারের আশা করা যায়—ইনশাআল্লাহ তাআলা। ফলত এটি সম্পন্ন হলো। আমি আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর দ্বারা আমাকে এবং আমার মুসলিম ভাইদের উপকৃত করেন।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وقد رأيت أن أجعل في أوله نبذة: عن أحكام وآداب قبل الدخول في الحج والعمرة، ويليها نبذة عن فضل بيت الله الحرام وعظمته، وبعض أحكامه، فإنَّ كل وافد إليه بحاجة إلى معرفة ذلك، وبالله التوفيق.

كتبه

أبو عبد الرحمن يحيى بن علي الحجوري

25/ شوال/ 1445 هـ
আমি এর শুরুতে হজ ও ওমরাহ পালনে প্রবেশের পূর্ববর্তী বিধানাবলী ও আদবসমূহ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা রাখা সমীচীন মনে করেছি; এবং এর পরপরই আল্লাহর পবিত্র ঘরের ফজিলত ও মহিমা এবং এর কিছু বিধান সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা থাকবে। কেননা, সেখানে আগমনকারী প্রত্যেকেরই এই বিষয়ে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। আর আল্লাহর নিকটই তাওফিক প্রার্থনা করি।

এটি লিখেছেন

আবু আবদুর রহমান ইয়াহইয়া বিন আলী আল-হাজুরী

২৫ শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌[1]- أحكام وآداب قبل الدخول في الحج والعمرة

‌‌1 - تصحيح النية وإخلاص العبادة لله عز وجل:

قال تعالى: {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ} [البينة: 5]، وقال عز وجل: {قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (162)} [الأنعام: 162]، وقال رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ، وَإِنَّمَا لِامْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ»(1).

قال الحافظ ابن رجب في «جامع العلوم والحكم» (1/ 61): وَهَذَا الْحَدِيثُ أَحَدُ الْأَحَادِيثِ الَّتِي يَدُورُ الدِّينُ عَلَيْهَا، فَرُوِيَ عَنِ الشَّافِعِيِّ أَنَّهُ قَالَ: هَذَا الْحَدِيثُ ثُلُثُ الْعِلْمِ، وَيَدْخُلُ فِي سَبْعِينَ بَابًا مِنَ الْفِقْهِ.

وَعَنِ الْإِمَامِ أَحْمَدَ قَالَ: أُصُولُ الْإِسْلَامِ عَلَى ثَلَاثَةِ أَحَادِيثَ: حَدِيثُ عُمَرَ: «إِنَّمَا

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري (1)، ومسلم (1907)، عن عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ رضي الله عنه.
‌[১]- হজ ও উমরাহ শুরু করার পূর্ববর্তী বিধান ও আদবসমূহ

‌‌১ - নিয়ত বিশুদ্ধ করা এবং মহান আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা:

মহান আল্লাহ বলেন: {আর তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই প্রদান করা হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁরই প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে} [সূরা আল-বাইয়্যিনাহ: ৫], এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: {বলুন, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার ইবাদত (হজ ও কোরবানি), আমার জীবন ও আমার মরণ জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য (১৬২)} [সূরা আল-আন‘আম: ১৬২]। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিয়ে করার জন্য হবে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে»(১).

হাফেজ ইবনে রাজাব 'জামি'উল উলূম ওয়াল হিকাম' (১/৬১) গ্রন্থে বলেন: এই হাদিসটি সেই সকল হাদিসের অন্যতম যার ওপর দ্বীন আবর্তিত হয়। ইমাম শাফেয়ী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: এই হাদিসটি ইলমের এক-তৃতীয়াংশ এবং এটি ফিকহের সত্তরটি অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হয়।

এবং ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইসলামের মূল ভিত্তি তিনটি হাদিসের ওপর প্রতিষ্ঠিত: উমর বর্ণিত হাদিস: «নিশ্চয়ই

--------------------------------------------

(১) এটি ইমাম বুখারী (১) ও ইমাম মুসলিম (১৯০৭) উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ»، وَحَدِيثُ عَائِشَةَ: «مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ» متفق عليه، وَحَدِيثُ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ: «الْحَلَالُ بَيِّنٌ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ» متفق عليه. اهـ.

وقال صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللهَ لَا يَقْبَلُ مِنْ الْعَمَلِ إِلَّا مَا كَانَ لَهُ خَالِصًا وَابْتُغِيَ بِهِ وَجْهُهُ»(1).

قال المنذري رحمه الله في «الترغيب والترهيب» رقم (9): رَوَاهُ أَبُو دَاوُد، وَالنَّسَائِيّ، بِإِسْنَاد جيد. اهـ.

وقال الألباني رحمه الله عند هذا الحديث في «الصحيحة» رقم (52): فهذا الحديث وغيره يدل على أن المؤمن لا يقبل منه عمله إذا لم يقصد به وجه الله عز وجل، وفي ذلك يقول تعالى: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا (110)} [الكهف: 110]، فإذا كان هذا شأن المؤمن فماذا يكون حال الكافر بربه إذا لم يخلص له في عمله؟ الجواب في قول الله تبارك وتعالى: {وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُورًا (23)} [الفرقان: 23]. اهـ.

وعَنْ جُنْدُبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ سَمَّعَ سَمَّعَ اللهُ بِهِ وَمَنْ يُرَائِي يُرَائِي اللهُ بِهِ»(2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه النسائي (3140)، وهو حديث حسن، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ رضي الله عنه.

(2) رواه البخاري (6499)، ومسلم (2987).
"আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল", আয়েশার বর্ণিত হাদীস: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মাঝে এমন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত" এটি সর্বসম্মত, এবং নুমান ইবনে বশীরের বর্ণিত হাদীস: "হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট" এটি সর্বসম্মত। সমাপ্ত।

এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমলের মধ্যে কেবল সেটিই কবুল করেন যা একমাত্র তাঁরই জন্য একনিষ্ঠভাবে এবং তাঁর চেহারার প্রত্যাশায় করা হয়েছে"(১)।

মুনজিরী (রহিমাহুল্লাহ) ‘আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব’ এর (৯) নম্বরে বলেছেন: এটি আবু দাউদ এবং নাসায়ী উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত।

এবং আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) এই হাদীসের আলোচনায় ‘আস-সহীহা’ এর (৫২) নম্বরে বলেছেন: এই হাদীস এবং অন্যান্য হাদীস একথার প্রমাণ দেয় যে, মুমিন ব্যক্তির আমল তার থেকে কবুল হবে না যদি সে এর মাধ্যমে আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা-র চেহারা উদ্দেশ্য না করে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব যে ব্যক্তি তার রবের সাথে সাক্ষাতের আশা করে, সে যেন সৎকাজ করে এবং তার রবের ইবাদতে অন্য কাউকে শরীক না করে (১১০)} [কাহফ: ১১০]। সুতরাং এটি যদি মুমিনের অবস্থা হয়, তবে যে ব্যক্তি তার রবের সাথে কুফরী করে তার আমলের অবস্থা কী হবে যখন সে তাতে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হবে না? এর উত্তর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার এই বাণীতে রয়েছে: {আর আমি তাদের কৃতকর্মের দিকে মনোনিবেশ করব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব (২৩)} [ফুরকান: ২৩]। সমাপ্ত।

এবং জুনদুব ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মানুষকে শোনানোর জন্য কাজ করবে আল্লাহ তাকে শুনিয়ে দেবেন, আর যে লোক দেখানোর জন্য কাজ করবে আল্লাহ তাকে দেখিয়ে দেবেন"(২)।

--------------------------------------------

(১) নাসায়ী (৩১৪০) এটি বর্ণনা করেছেন, এটি একটি হাসান হাদীস, যা আবু উমামা আল-বাহিলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।

(২) এটি বুখারী (৬৪৯৯) এবং মুসলিম (২৯৮৭) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
قال النووي رحمه الله في «شرح مسلم»: قَالَ الْعُلَمَاءُ: مَعْنَاهُ: مَنْ رَايَا بِعَمَلِهِ وَسَمَّعَهُ النَّاسَ لِيُكْرِمُوهُ وَيُعَظِّمُوهُ وَيَعْتَقِدُوا خَيْرَهُ(1) سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ النَّاسَ وَفَضَحَهُ.

وَقِيلَ: أَرَاهُ اللَّهُ ثَوَابَ ذَلِكَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يُعْطِيهِ إِيَّاهُ لِيَكُونَ حَسْرَةً عَلَيْهِ.

وَقِيلَ: مَعْنَاهُ مَنْ أَرَادَ بِعَمَلِهِ النَّاسَ أَسْمَعَهُ اللَّهُ النَّاسَ وَكَانَ ذَلِكَ حَظَّهُ مِنْهُ. اهـ.

وعنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: قَالَ اللهُ تبارك وتعالى: «أَنَا أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ، مَنْ عَمِلَ عَمَلًا أَشْرَكَ فِيهِ مَعِي غَيْرِي تَرَكْتُهُ وَشِرْكَهُ»(2).

قال القرطبي رحمه الله في «المفهم» (6/ 615): الإشراك في العبادة، وهو الرياء، وهو أن يفعل شيئا من العبادات التي أمر الله تعالى بفعلها له لغير الله، وهذا هو الذي سيق الحديث لبيان تحريمه، وأنه مبطل للأعمال، لهذا أشار بقوله: من عمل عملًا أشرك معي فيه غيري، تركته وشريكه وهذا هو المسمى بالرياء، وهو على الجملة مبطل للأعمال، وضده الإخلاص، وهو من شرط صحَّة العبادات، والقرب. اهـ.

--------------------------------------------

(1) هذا تعريف الرياء، أن يعمل العبد العمل ليراه الناس فيحمدوه على ذلك، ويُكرموه، ويُعظموه، ويعتقدوا خيره، أما إن عمل العمل لله عز وجل، وقصده أن يراه الناس فيتعلموا منه، فهذا عمل صالح، وليس برياء؛ لحديث أنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صلى على المنبر ليراه الناس، وَقَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّمَا صَنَعْتُ هَذَا لِتَأْتَمُّوا وَلِتَعَلَّمُوا صَلَاتِي»، أخرجه البخاري (917)، ومسلم (544)، والتعليم بالفعل أدلته كثيرة غير هذا.

(2) أخرجه مسلم (2985).
ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) 'শারহু মুসলিম'-এ বলেছেন: আলেমগণ বলেছেন: এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি তার আমল লোকদেখানো হিসেবে প্রদর্শন করে এবং মানুষকে শোনায় যাতে তারা তাকে সম্মান করে, মর্যাদা দেয় এবং তাকে নেককার বলে বিশ্বাস করে(১) কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার সেই লোকদেখানো বিষয়টি মানুষের সামনে প্রকাশ করে দেবেন এবং তাকে লজ্জিত করবেন।

আর বলা হয়েছে: আল্লাহ তাকে সেই আমলের সওয়াব দেখাবেন কিন্তু তাকে তা প্রদান করবেন না, যাতে এটি তার জন্য আক্ষেপের কারণ হয়।

অন্য মতে: এর অর্থ হলো যে ব্যক্তি তার আমলের মাধ্যমে মানুষকে উদ্দেশ্য করে, আল্লাহ তাকে মানুষের নিকট প্রচার করে দেন (অর্থাৎ লোকমুখে প্রসিদ্ধি দেন) এবং এটাই হয় তার সেই আমল থেকে প্রাপ্ত একমাত্র অংশ। সমাপ্ত।

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: «আমি শরিকদের শিরক থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী। যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করে যাতে সে আমার সাথে অন্যকে শরিক করে, আমি তাকে এবং তার শিরককে বর্জন করি»(২)।

ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) 'আল-মুফহিম' গ্রন্থে (৬/৬১৫) বলেছেন: ইবাদতে শরিক করা হলো রিয়া (লোকদেখানো আমল), আর তা হলো আল্লাহ তাআলা তাঁর সন্তুষ্টির জন্য যে ইবাদতসমূহ করার নির্দেশ দিয়েছেন, তার কোনোটি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে করা। আর এই হাদিসটি এর হারাম হওয়া এবং এটি যে আমল বিনষ্টকারী, তা বর্ণনা করার উদ্দেশ্যেই বর্ণিত হয়েছে। এজন্যই তিনি তাঁর বাণীর মাধ্যমে এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন: 'যে ব্যক্তি এমন আমল করবে যাতে সে আমার সাথে অন্য কাউকে শরিক করবে, আমি তাকে এবং তার শরিককে বর্জন করি'। আর একেই রিয়া বলা হয়, যা সামগ্রিকভাবে আমলসমূহ বাতিলকারী; এর বিপরীত হলো ইখলাস (একনিষ্ঠতা), যা ইবাদত ও নৈকট্য কবুল হওয়ার অন্যতম শর্ত। সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) এটি রিয়ার সংজ্ঞা; তা হলো বান্দা আমল করবে যাতে মানুষ তা দেখে এবং এজন্য তার প্রশংসা করে, তাকে সম্মান করে, শ্রদ্ধা করে এবং তাকে সৎকর্মশীল মনে করে। পক্ষান্তরে, যদি সে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমল করে এবং তার উদ্দেশ্য হয় মানুষ তা দেখে শিক্ষা গ্রহণ করবে, তবে তা নেক আমল এবং এটি রিয়া নয়; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বরের ওপর সালাত আদায় করেছিলেন যাতে মানুষ তাঁকে দেখতে পায় এবং তিনি বলেছিলেন: «হে লোকসকল, আমি কেবল একারণেই এটি করেছি যেন তোমরা আমাকে অনুসরণ করতে পারো এবং আমার সালাত শিক্ষা করতে পারো», এটি বুখারী (৯১৭) ও মুসলিম (৫৪৪) বর্ণনা করেছেন। কর্মের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদানের আরও বহু দলীল এটি ছাড়াও বিদ্যমান।

(২) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২৯৮৫)।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الرياء ثلاثة أنواع:

قال ابن رجب في «جامع العلوم والحكم» (1/ 79):

وَاعْلَمْ أَنَّ الْعَمَلَ لِغَيْرِ اللَّهِ أَقْسَامٌ:

1 - فَتَارَةً يَكُونُ رِيَاءً مَحْضًا، بِحَيْثُ لَا يُرَادُ بِهِ سِوَى مُرَاآتِ الْمَخْلُوقِينَ لِغَرَضٍ دُنْيَوِيٍّ، كَحَالِ الْمُنَافِقِينَ فِي صَلَاتِهِمْ، كَمَا قَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَإِذَا قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ قَامُوا كُسَالَى يُرَاءُونَ النَّاسَ وَلَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلَّا قَلِيلًا (142)} [النساء: 142]، وقال تعالى: {فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ (4) الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ (5) الَّذِينَ هُمْ يُرَاءُونَ (6)} [الماعون: 4 - 6]، وَكَذَلِكَ وَصَفَ اللَّهُ تَعَالَى الْكَفَّارَ بِالرِّيَاءِ فِي قَوْلِهِ: {وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ خَرَجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ بَطَرًا وَرِئَاءَ النَّاسِ} [الأنفال: 47].

وَهَذَا الرِّيَاءُ الْمَحْضُ لَا يَكَادُ يَصْدُرُ مِنْ مُؤْمِنٍ فِي فَرْضِ الصَّلَاةِ وَالصِّيَامِ، وَقَدْ يَصْدُرُ فِي الصَّدَقَةِ الْوَاجِبَةِ أَوِ الْحَجِّ، وَغَيْرِهِمَا مِنَ الْأَعْمَالِ الظَّاهِرَةِ، أَوِ الَّتِي يَتَعَدَّى نَفْعُهَا، فَإِنَّ الْإِخْلَاصَ فِيهَا عَزِيزٌ، وَهَذَا الْعَمَلُ لَا يَشُكُّ مُسْلِمٌ أَنَّهُ حَابِطٌ وَأَنَّ صَاحِبَهُ يَسْتَحِقُّ الْمَقْتَ مِنَ اللَّهِ وَالْعُقُوبَةَ.

2 - وَتَارَةً يَكُونُ الْعَمَلُ لِلَّهِ، وَيُشَارِكُهُ الرِّيَاءُ، فَإِنْ شَارَكَهُ مِنْ أَصْلِهِ فَالنُّصُوصُ الصَّحِيحَةُ تَدُلُّ عَلَى بُطْلَانِهِ وَحُبُوطِهِ، واستدل بهذا الحديث.

3 - وَأَمَّا إِنْ كَانَ أَصْلُ الْعَمَلِ لِلَّهِ، ثُمَّ طَرَأَتْ عَلَيْهِ نِيَّةُ الرِّيَاءِ، فَإِنْ كَانَ خَاطِرًا
রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদত তিন প্রকার:

ইবনে রজব ‘জামেউল উলূম ওয়াল হিকাম’ (১/ ৭৯)-এ বলেছেন:

জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্যের উদ্দেশ্যে আমল করা কয়েক প্রকার:

১ - কখনো এটি হয় নিছক রিয়া (লোক দেখানো), যেখানে কোনো পার্থিব উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য মানুষের কাছে প্রদর্শন ছাড়া অন্য কিছু উদ্দেশ্য থাকে না। যেমনটি ছিল মুনাফিকদের সালাতের অবস্থা। মহান আল্লাহ যেমনটি বলেছেন: “আর যখন তারা সালাতে দাঁড়ায়, অলসভাবে দাঁড়ায়, তারা মানুষকে দেখায় এবং তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে।” [নিসা: ১৪২]। তিনি আরও বলেন: “অতএব দুর্ভোগ সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য, যারা তাদের সালাত সম্বন্ধে উদাসীন, যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে।” [মাউন: ৪-৬]। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহ কাফেরদের লোক দেখানোর গুণের বর্ণনা দিয়ে বলেন: “আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা গর্বভরে ও লোক দেখানোর জন্য নিজেদের ঘর থেকে বের হয়েছে।” [আনফাল: ৪৭]।

আর এই নিছক রিয়া কোনো মুমিনের পক্ষ থেকে ফরয সালাত এবং সিয়ামের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রকাশ পায় না। তবে ওয়াজিব সদকা (যাকাত) বা হজ এবং অন্যান্য প্রকাশ্য আমল কিংবা যেসব আমলের উপকারিতা অন্যের নিকট পৌঁছায়, সেক্ষেত্রে এমনটি হতে পারে। কেননা এসব ক্ষেত্রে ইখলাস বা একনিষ্ঠতা বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন। আর এই জাতীয় আমল যে বাতিল এবং এর কর্তা আল্লাহর নিকট ঘৃণা ও শাস্তির যোগ্য, এ ব্যাপারে কোনো মুসলিমের সন্দেহ নেই।

২ - আবার কখনো আমল আল্লাহর জন্যই হয়, কিন্তু তাতে রিয়ার সংমিশ্রণ ঘটে। যদি আমলের শুরু থেকেই রিয়ার সংমিশ্রণ থাকে, তবে সহীহ দলীলসমূহ সেই আমল বাতিল ও অসার হওয়ার ওপরই প্রমাণ পেশ করে। আর এই হাদীসটি দ্বারা এই বিষয়টিই দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

৩ - আর যদি আমলের মূল ভিত্তি আল্লাহর জন্য হয়, অতঃপর তাতে রিয়ার নিয়ত পরবর্তীতে আপতিত হয়; তবে তা যদি কেবল মনের কল্পনা বা কুমন্ত্রণা হয়...
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
وَدَفَعَهُ، فَلَا يَضُرُّهُ بِغَيْرِ خِلَافٍ، وَإِنِ اسْتَرْسَلَ مَعَهُ، فَهَلْ يُحْبَطُ بِهِ عَمَلُهُ أَمْ لَا يَضُرُّهُ ذَلِكَ وَيُجَازَى عَلَى أَصْلِ نِيَّتِهِ؟ فِي ذَلِكَ اخْتِلَافٌ بَيْنَ الْعُلَمَاءِ مِنَ السَّلَفِ قَدْ حَكَاهُ الْإِمَامُ أَحْمَدُ، وَابْنُ جَرِيرٍ الطَّبَرِيُّ، وَرَجَّحَا أَنَّ عَمَلَهُ لَا يَبْطُلُ بِذَلِكَ، وَأَنَّهُ يُجَازَى بِنِيَّتِهِ الْأُولَى وَهُوَ مَرْوِيٌّ عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، وَغَيْرِهِ.

وَيُسْتَدَلُّ لِهَذَا الْقَوْلِ بِمَا خَرَّجَهُ أَبُو دَاوُدَ فِي «مَرَاسِيلِهِ» عَنْ عَطَاءٍ الْخُرَاسَانِيِّ أَنَّ رَجُلًا قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ بَنِي سَلَمَةَ كُلَّهُمْ يُقَاتِلُ، فَمِنْهُمْ مَنْ يُقَاتِلُ لِلدُّنْيَا، وَمِنْهُمْ مَنْ يُقَاتِلُ نَجْدَةً، وَمِنْهُمْ مَنْ يُقَاتِلُ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ، فَأَيُّهُمُ الشَّهِيدُ؟ قَالَ: «كُلُّهُمْ إِذَا كَانَ أَصْلُ أَمْرِهِ أَنْ تَكُونَ كَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا».

وَذَكَرَ ابْنُ جَرِيرٍ أَنَّ هَذَا الِاخْتِلَافَ إِنَّمَا هُوَ فِي عَمَلٍ يَرْتَبِطُ آخِرُهُ بِأَوَّلِهِ، كَالصَّلَاةِ، وَالصِّيَامِ، وَالْحَجِّ، فَأَمَّا مَا لَا ارْتِبَاطَ فِيهِ كَالْقِرَاءَةِ، وَالذِّكْرِ، وَإِنْفَاقِ الْمَالِ، وَنَشْرِ الْعِلْمِ، فَإِنَّهُ يَنْقَطِعُ بِنِيَّةِ الرِّيَاءِ الطَّارِئَةِ عَلَيْهِ، وَيَحْتَاجُ إِلَى تَجْدِيدِ نِيَّةٍ. فَأَمَّا إِذَا عَمِلَ الْعَمَلَ لِلَّهِ خَالِصًا، ثُمَّ أَلْقَى اللَّهُ لَهُ الثَّنَاءَ الْحَسَنَ فِي قُلُوبِ الْمُؤْمِنِينَ بِذَلِكَ، فَفَرِحَ بِفَضْلِ اللَّهِ وَرَحْمَتِهِ، وَاسْتَبْشَرَ بِذَلِكَ، لَمْ يَضُرَّهُ ذَلِكَ. اهـ.

 

‌‌2 - التَّوبة:

قال ابن القيم رحمه الله في «مدارج السالكين» (1/ 196): وَمَنْزِلُ التَّوْبَةِ أَوَّلُ الْمَنَازِلِ، وَأَوْسَطُهَا، وَآخِرُهَا، فَلَا يُفَارِقُهُ الْعَبْدُ وَلَا يَزَالُ فِيهِ إِلَى الْمَمَاتِ، وَإِنِ ارْتَحَلَ إِلَى مَنْزِلٍ آخَرَ ارْتَحَلَ بِهِ، فَالتَّوْبَةُ هِيَ بِدَايَةُ الْعَبْدِ وَنِهَايَتُهُ، وَحَاجَتُهُ إِلَيْهَا فِي النِّهَايَةِ
এবং সে তা প্রতিহত করে, তবে এতে কোনো মতভেদ ছাড়াই তার কোনো ক্ষতি হবে না। আর যদি সে তাতে গা ভাসিয়ে দেয়, তবে কি এতে তার আমল নষ্ট হয়ে যাবে, নাকি তা তার কোনো ক্ষতি করবে না এবং সে তার মূল নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান পাবে? এ বিষয়ে সালাফদের আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে যা ইমাম আহমাদ এবং ইবনে জারির আত-তবারি বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়েই এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, এতে তার আমল বাতিল হবে না এবং সে তার প্রথম নিয়ত অনুযায়ীই প্রতিদান পাবে। আর এটি হাসান আল-বাসরি এবং অন্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে।

এই মতের সপক্ষে দলিল হিসেবে আবু দাউদ তাঁর ‘মারাসিল’ গ্রন্থে আতা আল-খুরাসানি থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা পেশ করা হয় যে, এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল, বনু সালামার সবাই লড়াই করে; তাদের মধ্যে কেউ দুনিয়ার জন্য লড়াই করে, কেউ বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য লড়াই করে, আবার কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে লড়াই করে। তাহলে তাদের মধ্যে শহীদ কে? তিনি বললেন: “তারা সবাই (শহীদ), যদি তার কাজের মূল ভিত্তি হয় আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করা।”

ইবনে জারির উল্লেখ করেছেন যে, এই মতভেদ কেবল সেই আমলের ক্ষেত্রে যার শেষাংশ প্রথমাংশের সাথে যুক্ত, যেমন সালাত, সিয়াম এবং হজ। আর যে আমলের ক্ষেত্রে এমন কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, যেমন তিলাওয়াত, জিকর, সম্পদ ব্যয় এবং ইলম প্রচার করা; সে ক্ষেত্রে হঠাৎ উদিত হওয়া লোকদেখানোর নিয়ত (রিয়া) দ্বারা আমলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং নিয়ত নবায়ন করার প্রয়োজন পড়ে। আর যদি সে আমলটি একমাত্র আল্লাহর জন্য করে, এরপর আল্লাহ তার প্রতি মুমিনদের অন্তরে উত্তম প্রশংসা ঢেলে দেন এবং সে আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে খুশি হয় ও এতে সুসংবাদ অনুভব করে, তবে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না। (সমাপ্ত)

 

‌‌২ - তাওবা:

ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) ‘মাদারিজুস সালিকিন’ (১/১৯৬) গ্রন্থে বলেছেন: তাওবার স্তর হলো প্রথম, মধ্যম এবং শেষ স্তর। বান্দা এটি ছেড়ে যায় না এবং মৃত্যু পর্যন্ত সর্বদা এতেই অবস্থান করে। সে যদি অন্য কোনো স্তরে স্থানান্তরিত হয়, তবে তাওবাকে সাথে নিয়েই স্থানান্তরিত হয়। সুতরাং তাওবাই হলো বান্দার শুরু এবং শেষ। শেষ পর্যায়েও এর প্রতি তার মুখাপেক্ষিতা...
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
ضَرُورِيَّةٌ، كَمَا أَنَّ حَاجَتَهُ إِلَيْهَا فِي الْبِدَايَةِ كَذَلِكَ. اهـ.

قال النووي في «رياض الصالحين» باب (2): وَقَدْ تَظَاهَرَتْ دَلائِلُ الكتَابِ والسُّنَّةِ، وإجْمَاعِ الأُمَّةِ عَلَى وُجوبِ التَّوبةِ. اهـ.

قال شيخ الإسلام رحمه الله في «الاستقامة» (1/ 463): التَّوْبَة هِيَ جماع الرُّجُوع من السَّيِّئَات إِلَى الْحَسَنَات. اهـ.

وشروطها ستة:

1 - الإخلاص لله: قال الله عز وجل: {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ} [البينة: 5]، وقال تعالى: {قُلْ إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ (11)} [الزمر: 11]، وقال النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى»(1)، وعنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: قَالَ اللهُ تبارك وتعالى: «أَنَا أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ، مَنْ عَمِلَ عَمَلًا أَشْرَكَ فِيهِ مَعِي غَيْرِي تَرَكْتُهُ وَشِرْكَهُ»(2).

2 - والندم على فعل الذنب: قال الله عز وجل: {وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (1)، ومسلم (1907)، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه.

(2) أخرجه مسلم (2985).
এটি অপরিহার্য, যেমন শুরুতে এটির প্রতি তার প্রয়োজনীয়তা ছিল। ইতি।

ইমাম নববী ‘রিয়াদুস সালেহীন’-এর ২য় অধ্যায়ে বলেন: তাওবা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং উম্মতের ইজমা বা ঐকমত্যের দলীলসমূহ সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান। ইতি।

শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) ‘আল-ইস্তিকামাহ’ (১/৪৬৩)-এ বলেছেন: তাওবা হলো মন্দ কাজ থেকে ভালো কাজের দিকে প্রত্যাবর্তনের সমষ্টি। ইতি।

আর এর শর্তসমূহ হলো ছয়টি:

১ - আল্লাহর জন্য ইখলাস (একনিষ্ঠতা): আল্লাহ তাআলা বলেন: {তাদেরকে কেবল এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁর প্রতি আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে} [বাইয়্যিনাহ: ৫], এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, আমি আল্লাহর ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি তাঁর প্রতি আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে (১১)} [যুমার: ১১], এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যা সে নিয়ত করেছে"(১), আর আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন: "আমি অংশীদারিত্ব (শিরক) থেকে অংশীদারদের তুলনায় অধিক মুখাপেক্ষীহীন। যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করে যাতে আমার সাথে অন্য কাউকে শরিক করে, আমি তাকে ও তার শিরককে বর্জন করি"(২)।

২ - পাপ কাজের জন্য অনুতপ্ত হওয়া: আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, আর আল্লাহ ছাড়া কে পাপ ক্ষমা করবে...}

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী (১) এবং মুসলিম (১৯০৭), উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম (২৯৮৫)।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
اللَّهُ} [آل عمران: 135]، وقال تعالى: {قَالَ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَغَفَرَ لَهُ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ (16)} [القصص: 16]، وقال تعالى: {فَنَادَى فِي الظُّلُمَاتِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ (87)} [الأنبياء: 87]، وقال الله تعالى مخبرًا عن ملكة سبأ: {قَالَتْ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (44)} [النمل: 44]، وعن عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «النَّدَمُ تَوْبَةٌ»(1)، وعَنْ بُرَيْدَةَ رضي الله عنه، قَالَ: جَاءَ مَاعِزُ بْنُ مَالِكٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، طَهِّرْنِي، فَقَالَ: «وَيْحَكَ، ارْجِعْ فَاسْتَغْفِرِ اللهَ وَتُبْ إِلَيْهِ»، … وفيه: فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لَقَدْ تَابَ تَوْبَةً لَوْ قُسِمَتْ بَيْنَ أُمَّةٍ لَوَسِعَتْهُمْ».

3 - والإقلاع عن الذنب: قال الله عز وجل: {قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ يَنْتَهُوا يُغْفَرْ لَهُمْ مَا قَدْ سَلَفَ} [الأنفال: 38]، وقال سبحانه وتعالى: {وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا (68) يُضَاعَفْ لَهُ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِ مُهَانًا (69) إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا (70)} [الفرقان: 68 - 70]، وقال

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد رقم (4012)، وهو حديث صحيح.
আল্লাহ} [আলে ইমরান: ১৩৫], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {সে বলল, হে আমার রব! নিশ্চয় আমি নিজের ওপর জুলুম করেছি, সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। অতঃপর তিনি তাকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (১৬)} [আল-কাসাস: ১৬], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর সে অন্ধকারের মধ্যে থেকে আহ্বান করল যে, আপনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, আপনি পবিত্র-মহান। নিশ্চয় আমি জালেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম (৮৭)} [আল-আম্বিয়া: ৮৭], এবং আল্লাহ তাআলা সাবার রানি সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেন: {সে বলল, হে আমার রব! নিশ্চয় আমি নিজের ওপর জুলুম করেছি এবং আমি সুলাইমানের সাথে বিশ্বজগতের রব আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করলাম (৪৪)} [আন-নামল: ৪৪], এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «অনুতাপই হলো তাওবা»(১), এবং বুরাইদাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মায়েজ ইবনে মালিক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে পবিত্র করুন। তিনি বললেন: «আফসোস তোমার জন্য! ফিরে যাও এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো ও তাঁর কাছে তাওবা করো», ... এবং এতে আছে: অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «সে এমন এক তাওবা করেছে যে, যদি তা কোনো উম্মতের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হতো, তবে তা তাদের সকলের জন্য যথেষ্ট হতো»।

৩ - এবং গুনাহ ত্যাগ করা: আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: {যারা কুফরি করেছে তাদের বলে দাও, যদি তারা বিরত হয়, তবে অতীতে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা তাদের জন্য ক্ষমা করে দেওয়া হবে} [আল-আনফাল: ৩৮], এবং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহকে ডাকে না, আর আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন তাকে সংগত কারণ ছাড়া হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। আর যে ব্যক্তি তা করবে সে শাস্তির সম্মুখীন হবে (৬৮) কিয়ামতের দিন তার আযাব দ্বিগুণ করা হবে এবং সে সেখানে লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরস্থায়ী হবে (৬৯) তবে তারা ব্যতীত যারা তাওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে; আল্লাহ তাদের পাপসমূহকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (৭০)} [আল-ফুরকান: ৬৮ - ৭০], এবং তিনি বলেন

--------------------------------------------

(১) এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন, নম্বর (৪০১২), এবং এটি একটি সহিহ হাদিস।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
تعالى: {وَمَنْ لَمْ يَتُبْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ (11)} [الحجرات: 11]، وقال الله تعالى مخبرًا عن ملكة سبأ: {قَالَتْ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (44)} [النمل: 44]، وعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا أَذْنَبَ كَانَتْ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ فِي قَلْبِهِ، فَإِنْ تَابَ وَنَزَعَ وَاسْتَغْفَرَ، صُقِلَ قَلْبُهُ، وَإِنْ زَادَ زَادَتْ، حَتَّى يَعْلُوَ قَلْبَهُ ذَاكَ الرَّانُ الَّذِي ذَكَرَ اللهُ عز وجل فِي الْقُرْآنِ: {كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ (14)} [المطففين: 14]»، وعَنْ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ رضي الله عنه، قَالَ: فَلَمَّا جَعَلَ اللهُ الْإِسْلَامَ فِي قَلْبِي أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ: ابْسُطْ يَمِينَكَ فَلْأُبَايِعْكَ، فَبَسَطَ يَمِينَهُ …(1).

4 - والعزم على أن لا يعود إلى الذنب: قال تعالى: {وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ (135) أُولَئِكَ جَزَاؤُهُمْ مَغْفِرَةٌ مِنْ رَبِّهِمْ} [آل عمران: 135 - 136]، وقال سبحانه: {إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا (70) وَمَنْ تَابَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَإِنَّهُ يَتُوبُ إِلَى اللَّهِ مَتَابًا (71)} [الفرقان: 70 - 71]، وعَنْ أَبِي شَهْمٍ رضي الله عنه، قَالَ: كُنْتُ بِالْمَدِينَةِ فَمَرَّتْ بِي جَارِيَةٌ

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم (121).
মহান আল্লাহ বলেন: {আর যারা তওবা করে না, তারাই যালিম (অবিচারী)। (১১)} [আল-হুজুরাত: ১১], এবং মহান আল্লাহ সাবার রাণী সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেন: {সে বলল, হে আমার পালনকর্তা! আমি তো নিজের প্রতি জুলুম করেছি। আমি সুলায়মানের সাথে বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করলাম। (৪৪)} [আন-নামল: ৪৪], এবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই মুমিন যখন কোনো গুনাহ করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। অতঃপর সে যদি তওবা করে, তা থেকে বিরত থাকে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে তার অন্তর পরিষ্কার হয়ে যায়। আর যদি সে গুনাহ বাড়িয়ে দেয়, তবে সেই দাগও বাড়তে থাকে, এমনকি তা তার পুরো অন্তরকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। এটিই সেই 'রান' (মরিচা), যার কথা মহান আল্লাহ কুরআনে উল্লেখ করেছেন: {কখনো নয়, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের অন্তরে মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে। (১৪)} [আল-মুতাফফিফিন: ১৪]», এবং আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যখন আল্লাহ আমার অন্তরে ইসলামের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি করলেন, তখন আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আসলাম এবং বললাম: আপনার ডান হাত প্রসারিত করুন যাতে আমি আপনার কাছে বায়আত হতে পারি। তখন তিনি তাঁর ডান হাত প্রসারিত করলেন ...(১).

৪ - পুনরায় গুনাহে লিপ্ত না হওয়ার সংকল্প করা: মহান আল্লাহ বলেন: {আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আল্লাহ ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার আর কে আছে? এবং তারা যা করে ফেলেছে তাতে জেনেশুনে অটল থাকে না। (১৩৫) এরাই তারা, যাদের প্রতিদান হলো তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে ক্ষমা।} [আলে ইমরান: ১৩৫ - ১৩৬], এবং তিনি পবিত্র সত্তা বলেন: {তবে যারা তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গুনাহগুলোকে নেকিতে পরিণত করে দেবেন। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (৭০) আর যে ব্যক্তি তওবা করে এবং সৎকাজ করে, সে তো সত্যিকার অর্থেই আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। (৭১)} [আল-ফুরকান: ৭০ - ৭১], এবং আবু শাহম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি মদিনায় ছিলাম, তখন আমার পাশ দিয়ে একজন দাসী অতিক্রম করল...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১২১)।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
فَأَخَذْتُ بِكَشْحِهَا فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ يُبَايِعُ النَّاسَ، فَقَالَ: «أَلَسْتَ صَاحِبَ الْجَبِيذَةَ»، فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ: لَا أَعُودُ فَبَايِعْنِي(1).

وأخرجه أحمد(2)، وفي لفظ له، قال: فَأَتَى النَّاسُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُبَايِعُونَهُ، فَأَتَيْتُهُ فَبَسَطْتُ يَدِي لِأُبَايِعَهُ، فَقَبَضَ يَدَهُ، وَقَالَ: «أَمَا إِنَّكَ صَاحِبُ الْجُبَيْذَةِ، أَمْسِ»، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، بَايِعْنِي فَوَاللَّهِ لَا أَعُودُ أَبَدًا، قَالَ: «فَنَعَمْ إِذًا».

5 - وأن تكون في وقت قبولها: قال الله تعالى: {إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِنْ قَرِيبٍ فَأُولَئِكَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا (17) وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمْ كُفَّارٌ أُولَئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا (18)} [النساء: 17 - 18]، وقال تعالى: {حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُونِ (99) لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ كَلَّا إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا وَمِنْ وَرَائِهِمْ بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ (100)} [المؤمنون: 99 - 100]، وقال سبحانه: {يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لَا

--------------------------------------------

(1) تفرد به النسائي من بين أصحاب «الكتب الستة».

(2) في «المسند» (5/ 294)، وهو في «صحيح المفاريد» رقم (207).
আমি তার পার্শ্বদেশ ধরলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলাম, এমতাবস্থায় তিনি মানুষের নিকট থেকে বাইয়াত গ্রহণ করছিলেন। তিনি বললেন: «তুমি কি সেই জাবিজাহর মালিক নও?», আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আর এমন করব না, তাই আমার থেকে বাইয়াত গ্রহণ করুন।(১).

এবং আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন(২), এবং তাঁর একটি শব্দে রয়েছে, তিনি বলেন: মানুষ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাঁর কাছে বাইয়াত হওয়ার জন্য আসল। তখন আমি তাঁর কাছে আসলাম এবং বাইয়াত হওয়ার জন্য আমার হাত বাড়িয়ে দিলাম। তখন তিনি তাঁর হাত গুটিয়ে নিলেন এবং বললেন: «সাবধান, তুমিই তো সেই জুবাইজাহর মালিক, থামো», তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমার থেকে বাইয়াত গ্রহণ করুন, আল্লাহর শপথ আমি আর কখনও এমন করব না। তিনি বললেন: «তাহলে ঠিক আছে।»

৫ - এবং তা কবুল হওয়ার সময়ের মধ্যে হতে হবে: আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করেন যারা মূর্খতাবশত মন্দ কাজ করে, অতঃপর শীঘ্রই তওবা করে। তাদেরই আল্লাহ তওবা কবুল করেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (১৭) আর তওবা তাদের জন্য নয় যারা মন্দ কাজ করতে থাকে, অবশেষে যখন তাদের কারও নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন সে বলে: আমি এখন তওবা করছি। আর তাদের জন্যও নয় যারা কাফির অবস্থায় মারা যায়। তাদের জন্য আমি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। (১৮)} [নিসা: ১৭ - ১৮], এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু আসে, তখন সে বলে: হে আমার রব! আমাকে পুনরায় পাঠিয়ে দিন। (৯৯) যাতে আমি নেক আমল করতে পারি যা আমি ছেড়ে এসেছি। কখনই নয়, এটি তো কেবল তার একটি কথা যা সে বলছে। আর তাদের সামনে রয়েছে বরজখ পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত। (১০০)} [মুমিনুন: ৯৯ - ১০০], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {যেদিন তোমার রবের পক্ষ থেকে কিছু নিদর্শন আসবে...

--------------------------------------------

(১) 'কুতুবে সিত্তাহ' এর লেখকদের মধ্যে কেবল নাসায়ী এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

(২) 'আল-মুসনাদ' (৫/ ২৯৪), এবং এটি 'সহীহুল মুফারীদ' নং (২০৭) এ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا} [الأنعام: 158].

وعَنْ أَبِي مُوسَى رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِنَّ اللهَ عز وجل يَبْسُطُ يَدَهُ بِاللَّيْلِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ النَّهَارِ، وَيَبْسُطُ يَدَهُ بِالنَّهَارِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ اللَّيْلِ، حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا»(1).

6 - وإذا تعلقت بحق آدمي يشترط التحلل من صاحب ذلك الحق، ورد المظالم إلى أهلها، قال سبحانه: {إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالْإِفْكِ عُصْبَةٌ مِنْكُمْ لَا تَحْسَبُوهُ شَرًّا لَكُمْ بَلْ هُوَ خَيْرٌ لَكُمْ لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ مَا اكْتَسَبَ مِنَ الْإِثْمِ وَالَّذِي تَوَلَّى كِبْرَهُ مِنْهُمْ لَهُ عَذَابٌ عَظِيمٌ (11)} [النور: 11]، إلى قوله: {يَعِظُكُمُ اللَّهُ أَنْ تَعُودُوا لِمِثْلِهِ أَبَدًا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ (17)} [النور: 17]، وقال تعالى: {وَمَنْ يَكْسِبْ خَطِيئَةً أَوْ إِثْمًا ثُمَّ يَرْمِ بِهِ بَرِيئًا فَقَدِ احْتَمَلَ بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا (112)} [النساء: 112]، وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِنْ قَوْمٍ عَسَى أَنْ يَكُونُوا خَيْرًا مِنْهُمْ وَلَا نِسَاءٌ مِنْ نِسَاءٍ عَسَى أَنْ يَكُنَّ خَيْرًا مِنْهُنَّ وَلَا تَلْمِزُوا أَنْفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْإِيمَانِ وَمَنْ لَمْ يَتُبْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ (11)} [الحجرات: 11].

وعَنْ أَبِي بَكْرَةَ رضي الله عنه، أنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قال: «إِنَّ دِمَاءَكُمْ، وَأَمْوَالَكُمْ،

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم (2759).
...কোনো ব্যক্তির ঈমান তার উপকারে আসবে না, যে ব্যক্তি আগে ঈমান আনেনি অথবা যে ব্যক্তি তার ঈমানের মাধ্যমে কোনো কল্যাণ অর্জন করেনি।} [আল-আনআম: ১৫৮]।

আবু মুসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা রাতে আল্লাহর হাত প্রসারিত করেন যাতে দিনের অপরাধী তওবা করে, এবং দিনে আল্লাহর হাত প্রসারিত করেন যাতে রাতের অপরাধী তওবা করে; যতক্ষণ না পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হয়»(১).

৬ - আর যদি তওবা কোনো আদম সন্তানের হকের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে শর্ত হলো সেই হকের মালিকের থেকে দায়মুক্ত হওয়া এবং হকদারদের কাছে তাদের পাওনা ফিরিয়ে দেওয়া। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই যারা এই অপবাদ রটনা করেছে তারা তোমাদেরই একটি দল; একে তোমরা তোমাদের জন্য ক্ষতিকর মনে করো না, বরং এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। তাদের প্রত্যেকের জন্য রয়েছে তাদের কৃত পাপের ফল এবং তাদের মধ্যে যে এ ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছে, তার জন্য রয়েছে মহাশাস্তি। (১১)} [আন-নূর: ১১], তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {আল্লাহ তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন যে, যদি তোমরা মুমিন হও তবে কখনও যেন পুনরায় এরূপ আচরণ না করো। (১৭)} [আন-নূর: ১৭]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর যে ব্যক্তি কোনো ভুল বা পাপ করে, অতঃপর তা কোনো নির্দোষ ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেয়, সে তো এক বড় মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে। (১১২)} [আন-নিসা: ১১২]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {হে মুমিনগণ, কোনো কওম যেন অন্য কোনো কওমকে উপহাস না করে, হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম। আর নারীরা যেন অন্য নারীদের উপহাস না করে, হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম। তোমরা একে অপরকে বিদ্রুপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ উপনামে ডেকো না। ঈমান আনার পর মন্দ নামে ডাকা হলো ফাসেকী। আর যারা তওবা করে না তারাই তো জালেম। (১১)} [আল-হুজুরাত: ১১]।

আবু বাকরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত এবং তোমাদের ধন-সম্পদ...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (২৭৫৯)।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وَأَعْرَاضَكُمْ، بَيْنَكُمْ حَرَامٌ، كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا، فِي شَهْرِكُمْ هَذَا، فِي بَلَدِكُمْ هَذَا، لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الغَائِبَ»(1)، وعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «اتَّقُوا الظُّلْمَ، فَإِنَّ الظُّلْمَ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»(2)، وعَنْ أَبِي ذَرٍّ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فِيمَا رَوَى عَنِ اللهِ تبارك وتعالى أَنَّهُ قَالَ: «يَا عِبَادِي إِنِّي حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَى نَفْسِي، وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا، فَلَا تَظَالَمُوا»(3)، وعَنْ أَبِي ذَرٍّ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فِيمَا رَوَى عَنِ اللهِ تبارك وتعالى أَنَّهُ قَالَ: «يَا عِبَادِي إِنِّي حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَى نَفْسِي، وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا، فَلَا تَظَالَمُوا»(4)، وعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ كَانَتْ لَهُ مَظْلَمَةٌ لِأَخِيهِ مِنْ عِرْضِهِ أَوْ شَيْءٍ، فَلْيَتَحَلَّلْهُ مِنْهُ اليَوْمَ، قَبْلَ أَنْ لَا يَكُونَ دِينَارٌ وَلَا دِرْهَمٌ»(5)، وعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لَتُؤَدُّنَّ الْحُقُوقَ إِلَى أَهْلِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، حَتَّى يُقَادَ لِلشَّاةِ الْجَلْحَاءِ، مِنَ الشَّاةِ الْقَرْنَاءِ»(6)، وعَنْ أُسَامَةَ بْنِ شَرِيكٍ رضي الله عنه، أنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «يَا عِبَادَ اللَّهِ وَضَعَ اللَّهُ الْحَرَجَ، إِلَّا امْرَءًا

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (67)، ومسلم (1679).

(2) أخرجه البخاري (2447)، ومسلم (2578).

(3) أخرجه مسلم (2577).

(4) أخرجه مسلم (2577).

(5) أخرجه البخاري (2449).

(6) أخرجه مسلم (2582).
এবং তোমাদের মান-সম্মান তোমাদের পরস্পরের জন্য হারাম, যেমন হারাম তোমাদের আজকের এই দিনটি, তোমাদের এই মাসটি এবং তোমাদের এই শহরটি। উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট এটি পৌঁছে দেয়»(১), আর আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা জুলুম হতে বেঁচে থাকো, কারণ কিয়ামতের দিন জুলুম হবে ঘনীভূত অন্ধকার»(২), আর আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বরকতময় ও সুউচ্চ রব থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: «হে আমার বান্দাগণ! আমি জুলুমকে নিজের জন্য হারাম করেছি এবং তোমাদের মাঝেও তা হারাম করে দিয়েছি, সুতরাং তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না»(৩), আর আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বরকতময় ও সুউচ্চ রব থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: «হে আমার বান্দাগণ! আমি জুলুমকে নিজের জন্য হারাম করেছি এবং তোমাদের মাঝেও তা হারাম করে দিয়েছি, সুতরাং তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না»(৪), আর আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তির ওপর তার ভাইয়ের সম্মানহানি বা অন্য কোনো বিষয়ের জুলুমের দায় রয়েছে, সে যেন আজই তার নিকট থেকে মাফ করিয়ে নেয়, সেই দিন আসার আগে যেদিন কোনো দিনার বা দিরহাম থাকবে না»(৫), আর আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কিয়ামতের দিন অবশ্যই হকদারদের নিকট তাদের হক ফিরিয়ে দেওয়া হবে, এমনকি শিংহীন ছাগলের জন্য শিংযুক্ত ছাগল থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করা হবে»(৬), আর উসামা ইবনে শারীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «হে আল্লাহর বান্দাগণ! আল্লাহ তাআলা কাঠিন্য বা গুনাহ তুলে নিয়েছেন, কিন্তু সেই ব্যক্তি ব্যতীত...

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারী (৬৭) ও মুসলিম (১৬৭৯) বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি বুখারী (২৪৪৭) ও মুসলিম (২৫৭৮) বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি মুসলিম (২৫৭৭) বর্ণনা করেছেন।

(৪) এটি মুসলিম (২৫৭৭) বর্ণনা করেছেন।

(৫) এটি বুখারী (২৪৪৯) বর্ণনা করেছেন।

(৬) এটি মুসলিম (২৫৮২) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
اقترضَ امْرَءًا ظُلْمًا فَذَاكَ الَّذِي حَرِجَ وَهَلَكَ»(1).

فيجب على المسلم أن يبادر بالتوبة النَّصوح، وإذا كان بينه وبين أحدٍ مظلمة فليتحلل منها في الدُّنيا، قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، كما في حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: «مَنْ كَانَتْ لَهُ مَظْلَمَةٌ لِأَخِيهِ مِنْ عِرْضِهِ أَوْ شَيْءٍ فَلْيَتَحَلَّلْهُ مِنْهُ الْيَوْمَ قَبْلَ أَنْ لَا يَكُونَ دِينَارٌ وَلَا دِرْهَمْ؛ إِنْ كَانَ لَهُ عَمَلٌ صَالِحٌ أُخِذَ مِنْهُ بِقَدْرِ مَظْلَمَتِهِ وَإِنْ لَمْ تَكُنْ لَهُ حَسَنَاتٌ أُخِذَ مِنْ سَيِّئَاتِ صَاحِبِهِ فَحُمِلَ عَلَيْهِ»(2).

والتوبة مطلوبة من المؤمنين، قال تعالى: {وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ (31)} [النور: 31]، وقال تعالى: {وَمَنْ لَمْ يَتُبْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ (11)} [الحجرات: 11]، وتوبة الأنبياء لرفع درجاتهم، كما قال ابن تيمية في «جامع الرسائل» (1/ 269)، فإن الله تعالى يحب التوبة ويفرح بها ويحب التوابين.

من عمل معصية لم يتب منها لا يرجع من حجه كيوم ولدته أمه

قال النووي في «رياض الصالحين» (33): قَالَ العلماءُ: التَّوْبَةُ وَاجبَةٌ مِنْ كُلِّ ذَنْب … وإنْ كَانَتِ المَعْصِيةُ تَتَعَلقُ بآدَمِيٍّ فَشرطُهَا: أنْ يَبْرَأ مِنْ حَقّ صَاحِبِها، فَإِنْ

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في «الأدب المفرد» (291)، وهو صحيح.

(2) أخرجه البخاري (2449).
"যে ব্যক্তি জুলুমের মাধ্যমে কারো মানহানি করে, সেই ব্যক্তিই সংকটে নিপতিত হলো এবং ধ্বংস হলো"(১).

সুতরাং একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো একনিষ্ঠ তাওবায় (তওবায়ে নাসুহ) দ্রুত ধাবিত হওয়া। আর যদি তার ও অন্য কারো মাঝে কোনো জুলুম বা পাওনা থেকে থাকে, তবে সে যেন দুনিয়াতেই তা থেকে দায়মুক্ত হয়ে নেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যেমনটি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: «যার কাছে তার ভাইয়ের মান-সম্মান বা অন্য কোনো বিষয় সংক্রান্ত জুলুমের পাওনা থাকে, সে যেন আজই (দুনিয়াতে) তা থেকে দায়মুক্ত হয়ে নেয়—সেদিন আসার আগে যেদিন কোনো দিনার বা দিরহাম থাকবে না। যদি তার কোনো নেক আমল থাকে, তবে তার জুলুমের পরিমাণ অনুযায়ী তা থেকে নিয়ে নেওয়া হবে; আর যদি তার কোনো নেকি না থাকে, তবে তার পাওনাদারের গুনাহসমূহ থেকে নিয়ে তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে»(২).

আর মুমিনদের জন্য তাওবা করা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা সকলে আল্লাহর নিকট তাওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার (৩১)} [আন-নূর: ৩১]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর যারা তাওবা করে না, তারাই হলো জালেম (১১)} [আল-হুজুরাত: ১১]। আর নবীদের তাওবা হলো তাদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য, যেমনটি ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর «জামেউর রাসাইল» (১/ ২৬৯) গ্রন্থে বলেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাওবা পছন্দ করেন, এতে আনন্দিত হন এবং তাওবাকারীদের ভালোবাসেন।

যে ব্যক্তি কোনো গুনাহ করে তা থেকে তাওবা করেনি, সে তার হজ থেকে সেদিনের মতো (নিষ্পাপ হয়ে) ফিরবে না যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল

ইমাম নববী তাঁর «রিয়াদুস সালেহীন» (৩৩) গ্রন্থে বলেছেন: ওলামায়ে কেরাম বলেছেন: প্রত্যেক গুনাহ থেকে তাওবা করা ওয়াজিব … আর গুনাহটি যদি কোনো মানুষের হকের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে সে ক্ষেত্রে তাওবার শর্ত হলো: ওই ব্যক্তির পাওনা বা হক থেকে দায়মুক্ত হওয়া। সুতরাং...

--------------------------------------------

(১) বুখারী এটি «আল-আদাবুল মুফরাদ» (২৯১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এটি সহীহ।

(২) বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন (২৪৪৯)।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
كَانَتْ مالًا أَوْ نَحْوَهُ رَدَّهُ إِلَيْه، وإنْ كَانَتْ حَدَّ قَذْفٍ ونَحْوَهُ مَكَّنَهُ مِنْهُ أَوْ طَلَبَ عَفْوَهُ، وإنْ كَانْت غِيبَةً استَحَلَّهُ مِنْهَا.

ويجِبُ أنْ يَتُوبَ مِنْ جميعِ الذُّنُوبِ، فَإِنْ تَابَ مِنْ بَعْضِها صَحَّتْ تَوْبَتُهُ عِنْدَ أهْلِ الحَقِّ مِنْ ذلِكَ الذَّنْبِ، وبَقِيَ عَلَيهِ البَاقي. وَقَدْ تَظَاهَرَتْ دَلائِلُ الكتَابِ، والسُّنَّةِ، وإجْمَاعِ الأُمَّةِ عَلَى وُجوبِ التَّوبةِ:

قَالَ الله تَعَالَى: {وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ (31)} [النور: 31]، وَقالَ تَعَالَى: {وَأَنِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ} [هود: 3]، وَقالَ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَصُوحًا} [التحريم: 8]، وعَنْ أبي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قالَ: سمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «واللَّه إِنِّي لأَسْتَغْفرُ الله، وَأَتُوبُ إِليْه، في اليَوْمِ، أَكثر مِنْ سَبْعِين مرَّةً»(1)، رواه البخاري، وعن الأَغَرِّ بْن يَسار المُزنِيِّ رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يَا أَيُّها النَّاس تُوبُوا إِلى اللَّهِ واسْتغْفرُوهُ فإِني أَتوبُ في اليَوْمِ مائة مَرَّة»(2)، رواه مسلم، وعنْ أبي حَمْزَةَ أَنَس بنِ مَالِكٍ الأَنْصَارِيِّ - خَادِمِ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم، رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «للَّهُ أَفْرحُ بتْوبةِ عَبْدِهِ مِنْ أَحَدِكُمْ سقطَ عَلَى بعِيرِهِ وقد أَضلَّهُ في أَرضٍ فَلاةٍ»، متفقٌ

--------------------------------------------

(1) رقم: (6307).

(2) رقم: (2702).
যদি তা সম্পদ বা এই জাতীয় কিছু হয় তবে তা তার নিকট ফিরিয়ে দিবে, আর যদি তা অপবাদের দণ্ড বা এই জাতীয় কিছু হয় তবে তাকে তার সুযোগ দিবে অথবা তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আর যদি তা গীবত (পরনিন্দা) হয় তবে তার নিকট থেকে তা মার্জনা করিয়ে নিবে।

আর সকল গুনাহ থেকে তওবা করা ওয়াজিব, যদি কেউ কিছু গুনাহ থেকে তওবা করে তবে সত্যপন্থীদের নিকট ঐ গুনাহ থেকে তার তওবা শুদ্ধ হবে এবং বাকি গুনাহগুলো তার জিম্মায় থেকে যাবে। কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মাহর ইজমা (ঐক্যমত) তওবা ওয়াজিব হওয়ার স্বপক্ষে ঐক্যবদ্ধ দলিল প্রদান করেছে:

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর কাছে তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো (৩১)} [আন-নূর: ৩১], এবং আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁর দিকেই ফিরে এসো (তওবা করো)} [হুদ: ৩], এবং আল্লাহ তায়ালা বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর নিকট খাঁটি তওবা করো} [আত-তাহরীম: ৮], আর আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই আমি দিনে সত্তরবারেরও বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট তওবা করি»(১), বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন। আর আগার বিন ইয়াসার আল-মুযানী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «হে লোকসকল! তোমরা আল্লাহর নিকট তওবা করো এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো; কারণ আমি দিনে একশত বার তওবা করি»(২), মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেবক আবু হামযা আনাস বিন মালিক আল-আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ তাঁর বান্দার তওবায় তোমাদের সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি আনন্দিত হন, যে জনমানবহীন মরু প্রান্তরে তার হারানো উটটি ফিরে পেয়েছে», মুত্তাফাকুন আলাইহি।

--------------------------------------------

(১) নম্বর: (৬৩০৭)।

(২) নম্বর: (২৭০২)।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
عليه(1)، وفي رواية لمُسْلمٍ(2): «للَّهُ أَشدُّ فَرَحًا بِتَوْبةِ عَبْدِهِ حِين يتُوبُ إِلْيهِ مِنْ أَحَدِكُمْ كَانَ عَلَى راحِلَتِهِ بِأَرْضٍ فلاةٍ، فانْفلتتْ مِنْهُ وعلَيْها طعامُهُ وشرَابُهُ فأَيِسَ مِنْهَا، فأَتَى شَجَرةً فاضْطَجَعَ في ظِلِّهَا، وقد أَيِسَ مِنْ رَاحِلتِهِ، فَبَيْنما هوَ كَذَلِكَ إِذْ هُوَ بِها قَائِمة عِنْدَهُ، فَأَخذ بِخطامِهَا ثُمَّ قَالَ مِنْ شِدَّةِ الفَرحِ: اللَّهُمَّ أَنت عبْدِي وأَنا ربُّكَ، أَخْطَأَ مِنْ شِدَّةِ الفرح» … الخ. اهـ.

وقال البيهقي في «شعب الإيمان» عند حديث (6659): عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه، فِي قَوْلِهِ عز وجل: {إِلَّا اللَّمَمَ} [النجم: 32]، قَالَ: زِنَا الْعَيْنِ النَّظَرُ، وَزِنَا الشَّفَتَيْنِ التَّقْبِيلُ، وَزِنَا الْيَدَيْنِ الْبَطْشُ، وَزِنَا الرِّجْلَيْنِ الْمَشْيُ، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرَجُ أَوْ يُكَذِّبُهُ، فَإِنْ صَدَّقَهُ بِفَرْجِهِ كَانَ زَانِيًا، وَإِلَّا فَهُوَ اللَّمَمُ.

قال البيهقي: قَالَ الْحَلِيمِيُّ رحمه الله: فَثَبَتَ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وجُوبُ التَّوْبَةِ إِلَى اللهِ عَلَى كُلِّ مُذْنِبٍ، وَإِسْرَاعُ الْقَلْبِ وَالْإِنَابَةِ، وَأَنَّ اللهَ تبارك وتعالى يَقْبَلُ التَّوْبَةَ مِنْ عَبْدِهِ وَلَا يَرُدُّهَا عَلَيْهِ، وَالتَّوْبَةُ هِيَ الرَّجْعَةُ. وَمَعْنَى تَابَ إِلَى اللهِ تَعَالَى: أَيْ رَجَعَ إِلَى اللهِ، فَتَرَكَ نُزُوَعَهُ عَنِ الْعِصْيَانِ، وَعَوْدَةٌ إِلَى الطَّاعَةِ رَجْعَةٌ، وَعَبَّرَ عَنْهَا بِالتَّوْبَةِ.

--------------------------------------------

(1) البخاري (6309)، ومسلم (2675).

(2) رقم: (2747).
তাঁর ওপর(১), এবং মুসলিমের এক বর্ণনায়(২) রয়েছে: «আল্লাহ তাঁর বান্দার তাওবায় ঐ ব্যক্তির চেয়েও অধিক খুশি হন, যে তার বাহনের ওপর এক মরুপ্রান্তরে ছিল, অতঃপর সেটি তার কাছ থেকে পালিয়ে গেল আর তার ওপরই ছিল তার খাদ্য ও পানীয়। সে তা থেকে নিরাশ হয়ে পড়ল এবং একটি গাছের কাছে এসে তার ছায়ায় শুয়ে পড়ল। সে তার বাহন সম্পর্কে নিরাশ হয়ে গিয়েছিল, এমতাবস্থায় হঠাৎ সে সেটিকে তার কাছে দণ্ডায়মান দেখতে পেল। সে সেটির লাগাম ধরল এবং আনন্দের আতিশয্যে বলে উঠল: হে আল্লাহ! আপনি আমার বান্দা আর আমি আপনার রব। সে আনন্দের আতিশয্যে ভুল করে ফেলেছিল» … প্রভূতি। সমাপ্ত।

এবং বায়হাকী ‘শুয়াবুল ঈমান’-এ ৬৬৫৯ নম্বর হাদীসের অধীনে বলেছেন: ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে মহান আল্লাহর বাণী— {সামান্য অপরাধ ব্যতীত} [নাজম: ৩২] প্রসঙ্গে বর্ণিত, তিনি বলেন: চোখের যিনা হলো তাকানো, দুই ঠোঁটের যিনা হলো চুম্বন করা, দুই হাতের যিনা হলো ধরা বা আঘাত করা, এবং দুই পায়ের যিনা হলো হেঁটে যাওয়া। যৌনাঙ্গ একে সত্য সাব্যস্ত করে অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। যদি সে তার যৌনাঙ্গ দ্বারা তা সত্য (বাস্তবায়ন) করে তবে সে যিনাকারী হিসেবে গণ্য হবে, অন্যথায় তা সামান্য অপরাধ (লামাম)।

বায়হাকী বলেন: হালীমী (রহ.) বলেছেন: কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে প্রত্যেক পাপীর জন্য আল্লাহর নিকট তাওবা করা এবং অন্তরের দ্রুত প্রত্যাবর্তন ও অনুশোচনা করা ওয়াজিব হওয়া সাব্যস্ত হয়েছে। আর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাঁর বান্দার তাওবা কবুল করেন এবং তা প্রত্যাখ্যান করেন না। তাওবা মানে হলো ফিরে আসা। আল্লাহ তায়ালার নিকট তাওবা করার অর্থ হলো: আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, অর্থাৎ পাপকাজ থেকে নিবৃত্ত হওয়া; আর আনুগত্যের দিকে ফিরে আসা হলো এক প্রকার প্রত্যাবর্তন, যাকে তাওবা শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) বুখারী (৬৩০৯), এবং মুসলিম (২৬৭৫)।

(২) নম্বর: (২৭৪৭)।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
قَالَ: وَحَدُّ التَّوْبَةِ الْقِطَعُ لِلْمَعْصِيَةِ فِي الْحَالِ إِنْ كَانَتْ دَائِمَةً، وَالنَّدَمُ عَلَى مَا سَلَفَ مِنْهَا، وَالْعَزْمُ عَلَى تَرْكِ الْعُودِ، ثُمَّ إِنْ كَانَ الذَّنْبُ تَرْكَ صَلَاةٍ فَإِنَّ التَّوْبَةَ لَا تَصِحُّ حَتَّى يَنْضَمَّ إِلَى النَّدَمِ قَضَاءُ مَا فَاتَ مِنْهَا، وَهَكَذَا إِنْ كَانَ تَرَكَ صَوْمًا، أَوْ تَفْرِيطًا فِي زَكَاةٍ، إِنْ كَانَ الرَّجُلُ مُثْرِيًا، وَإِنْ كَانَ ذَلِكَ قَتْلَ نَفْسٍ بِغَيْرِ حَقٍّ فَإِنْ تَمَكَّنَ مِنَ الْقِصَاصِ إِنْ كَانَ عَلَيْهِ وَكَانَ مَطْلُوبًا بِهِ، فَإِنْ عُفِيَ عَنْهُ بِمَالٍ وَكَانَ وَاجِدًا لَهُ فَإِنَّهُ يُؤَدِّي مَا عَلَيْهِ، وَإِنْ كَانَ قَذْفًا يُوجِبُ الْحَدَّ فَأَنْ يَبْذُلَ ظَهْرَهُ لِلْحَدِّ إِنْ كَانَ مَطْلُوبًا بِهِ، فَإِنْ عُفِيَ عَنْهُ كَفَاهُ النَّدَمُ وَالْعَزْمُ عَلَى تَرْكِ الْعُودِ بِإِخْلَاصٍ.

وَإِنْ كَانَ حَدًّا مِنْ حُدُودِ اللهِ تَعَالَى فَإِذَا تَابَ إِلَى اللهِ تَعَالَى بِالتَّنَدُّمِ الصَّحِيحِ قَبْلَ أَنْ يُرْفَعَ إِلَى الْإِمَامِ سَقَطَ عَنْهُ الْحَدُّ، وَإِنْ رُفِعَ إِلَى الْإِمَامِ ثُمَّ قَالَ: قَدْ تُبْتُ لَمْ يَسْقُطْ عَنْهُ الْحَدُّ، وَبَسَطَ الْكَلَامَ فِيهِ، قُلْتُ: وَهُوَ مَنْصُوصٌ عَلَيْهِ فِي الْمُحَارِبِينَ.

وَقَدْ عَلَّقَ الشَّافِعِيُّ رحمه الله الْقَوْلَ فِيهِ فِي غَيْرِ الْمُحَارِبِينَ؛ لِأَنَّ اللهَ تَعَالَى إِنَّمَا ذَكَرَ الِاسْتِثْنَاءَ بِالتَّوْبَةِ فِي الْمُحَارِبِينَ دُونَ غَيْرِهِمْ. اهـ.

قال شيخ الإسلام رحمه الله: وَمَنْ اعْتَقَدَ أَنَّ الْحَجَّ يُسْقِطُ مَا عَلَيْهِ مِنْ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ فَإِنَّهُ يُسْتَتَابُ بَعْدَ تَعْرِيفِهِ إنْ كَانَ جَاهِلًا، فَإِنْ تَابَ وَإِلَّا قُتِلَ، وَلَا يَسْقُطُ حَقُّ الْآدَمِيِّ مِنْ مَالٍ أَوْ عَرَضٍ أَوْ دَمٍ بِالْحَجِّ إجْمَاعًا. اهـ كما في «مجموع الفتاوى» (18/ 341)، و «اختيارات البعلي» (174).
তিনি বলেন: তওবার সংজ্ঞা হলো গুনাহটি চলমান থাকলে তৎক্ষণাৎ তা পরিত্যাগ করা, অতীতের গুনাহের জন্য লজ্জিত হওয়া এবং পুনরায় তা না করার দৃঢ় সংকল্প করা। তারপর যদি গুনাহটি সালাত ত্যাগ করা হয়, তবে অনুশোচনার সাথে না পড়া সালাতগুলোর কাজা আদায় করা না পর্যন্ত তওবা শুদ্ধ হবে না। একইভাবে সওম (রোজা) ত্যাগ করলে বা জাকাত আদায়ে অবহেলা করলে—যদি ব্যক্তিটি সম্পদশালী হয়ে থাকে। আর যদি তা অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করার অপরাধ হয়, তবে যদি সে কিসাস (প্রতিশোধ) গ্রহণের সুযোগ করে দেয়—যদি তার ওপর কিসাস আবশ্যক হয় এবং তার কাছে তা দাবি করা হয়। আর যদি মালের (রক্তপণ) বিনিময়ে তাকে ক্ষমা করা হয় এবং তা দেওয়ার সামর্থ্য তার থাকে, তবে সে তার ওপর যা আবশ্যক তা আদায় করবে। আর যদি এমন অপবাদ (কাযফ) হয় যার জন্য দণ্ড (হদ্দ) আবশ্যক হয়, তবে সে দণ্ড ভোগের জন্য নিজের পিঠ পেশ করবে যদি তার কাছে তা দাবি করা হয়। আর যদি তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, তবে একনিষ্ঠভাবে অনুতপ্ত হওয়া এবং পুনরায় তা না করার সংকল্প করাই তার জন্য যথেষ্ট হবে।

আর যদি তা আল্লাহ তাআলার কোনো দণ্ডবিধির (হদ্দ) অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে ইমামের (শাসকের) নিকট বিচার পেশ করার পূর্বে সহিহ অনুশোচনার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে তওবা করলে তার ওপর থেকে হদ্দ রহিত হয়ে যাবে। কিন্তু যদি ইমামের কাছে বিচার পেশ করার পর সে বলে: 'আমি তওবা করেছি', তবে তার ওপর থেকে হদ্দ রহিত হবে না। তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। আমি বলছি: এটি ডাকাতদের (মুহারিবিন) ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

ইমাম শাফেয়ি (রাহিমাহুল্লাহ) ডাকাত ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে এই বিষয়ে মতদান স্থগিত রেখেছেন; কারণ আল্লাহ তাআলা কেবল ডাকাতদের ক্ষেত্রেই তওবার মাধ্যমে (দণ্ড থেকে) ব্যতিক্রম হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, অন্যদের ক্ষেত্রে নয়। সমাপ্ত।

শাইখুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে হজ করলে তার জিম্মায় থাকা সালাত ও জাকাতের আবশ্যকতা রহিত হয়ে যাবে, তবে সে অজ্ঞ হলে তাকে বিষয়টি জানানোর পর তওবা করতে বলা হবে। যদি সে তওবা করে তবে ভালো, অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে। আর হজের মাধ্যমে মানুষের হক—চাই তা সম্পদ, সম্মান বা রক্ত সংক্রান্ত হোক না কেন—রহিত হয় না বলে সর্বসম্মত ঐক্যমত (ইজমা) রয়েছে। সমাপ্ত। যেমনটি 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (১৮/৩৪১) এবং 'ইখতিয়ারাতুল বাল্লী' (১৭৪) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
فإذا اقترن الحج بتوبة نصوح مشتملة على شروطها الستة، هدمت جميع ذنوبه الصغائر والكبائر، وإن لم يقترن بتوبة هدمت جميع ذنوبه التي تاب منها مع حجه ولم تهدم حقوق العباد إلا بالتوبة منها، وهي رد المظالم، والتحلل من المظلوم.

 

‌‌3 - تعلم كيفية أداء الحج والعمرة:

قال ابن عبد البر رحمه الله في «جامع بيان العلم وفضله» (1/ 23): بَابُ قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: «طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ»، - ثم ذكر الحديث من طرق، وقال (1/ 53) -: الْحَدِيثَ فِي وُجُوبُ طَلَبُ الْعِلْمُ فِي أَسَانِيدِهِ مَقَالٌ لِأَهْلِ الْعِلْمِ بِالنَّقْلِ؛ وَلَكِنَّ مَعْنَاهُ صَحِيحٌ عِنْدَهُمْ. اهـ.

قُلْتُ: والحديث ثابت بطرقه وأصوله، وممن صححه العلامة الألباني رحمه الله في «صحيح الجامع» (3913)، ومعناه: أنَّ طلب علم ما يؤدي به المكلف عبادة ربه عز وجل على الوجه الصحيح فريضة على كل مسلم ذكرًا أو أنثى، جنيًّا أو إنسيًّا، قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ (56)} [الذاريات: 56].

ومن بابه في الصلاة ما أخرجه البخاري في «صحيحه»(1)، من حديث مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ رضي الله عنه، أنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قال: «صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي»، والمُسِيءُ فِي

--------------------------------------------

(1) رقم: (631).
অতএব যদি হজ তার ছয়টি শর্ত সংবলিত তাওবায়ে নাসুহা বা খাঁটি তাওবার সাথে সম্পৃক্ত হয়, তবে তা তার ছোট-বড় সকল গুনাহ মিটিয়ে দেয়। আর যদি তা তাওবার সাথে সম্পৃক্ত না হয়, তবে হজের মাধ্যমে কেবল সেই সকল গুনাহ মিটবে যা থেকে সে তাওবা করেছে। কিন্তু বান্দার হক কেবল তা থেকে তাওবা করার মাধ্যমেই মিটবে, আর তা হলো জুলুমের প্রতিকার করা এবং মজলুমের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া।

 

‌‌৩ - হজ ও উমরা পালনের পদ্ধতি শিক্ষা করা:

ইবন আব্দুল বার (রাহিমাহুল্লাহ) তার ‘জামেউ বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি’ (১/ ২৩) গ্রন্থে বলেছেন: পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: ‘ইলম অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ’, - অতঃপর তিনি বিভিন্ন সূত্রে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন (১/ ৫৩) -: ইলম অন্বেষণের আবশ্যকতা বিষয়ক এই হাদিসটির সনদসমূহ নিয়ে বর্ণনাবিদ আলিমদের মাঝে সমালোচনা রয়েছে; তবে এর অর্থ তাদের কাছে সহিহ বা সঠিক। (এখানেই তাঁর কথা শেষ)।

আমি (লেখক) বলছি: হাদিসটি তার বিভিন্ন সূত্র ও মূলপাঠের মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং আল্লামা আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ) ‘সহিহুল জামে’ (৩৯১৩) গ্রন্থে এটিকে সহিহ বলেছেন। এর অর্থ হলো: কোনো মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তি যার মাধ্যমে তার মহান রবের ইবাদত সঠিক পদ্ধতিতে আদায় করবে, সেই ইলম অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ, চাই সে পুরুষ হোক বা নারী, জিন হোক বা মানুষ। মহান আল্লাহ বলেন: {আমি জিন এবং মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি (৫৬)} [আয-যারিয়াত: ৫৬]।

সালাতের ক্ষেত্রে এই বিষয়ক হাদিস হলো ইমাম বুখারি তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে(১) মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ», আর সালাতে ভুলকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে...

--------------------------------------------

(১) নম্বর: (৬৩১)।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
صَلَاتِهِ لما صلى على غير هدي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قال له رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «ارْجِعْ فَصَلِّ، فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ» ثَلَاثًا(1).

ومن بابه في الحج ما أخرجه مسلم في «صحيحه»(2)، من حديث جَابِرٍ رضي الله عنه قال، رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَرْمِي عَلَى رَاحِلَتِهِ يَوْمَ النَّحْرِ، وَيَقُولُ: «لِتَأْخُذُوا مَنَاسِكَكُمْ، فَإِنِّي لَا أَدْرِي لَعَلِّي لَا أَحُجُّ بَعْدَ حَجَّتِي هَذِهِ».

والعبادة إذا قامت على غير ما جاء به رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم محدثة، مردودة، سواء في الحج والعمرة، أو غيرهما من العبادات؛ لحديث عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ»(3).

وفي لفظ لمسلم: «مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ».

قال النووي: وَهَذَا الْحَدِيثُ قَاعِدَةٌ عَظِيمَةٌ مِنْ قَوَاعِدِ الْإِسْلَامِ، وَهُوَ مِنْ جَوَامِعِ كَلِمِهِ صلى الله عليه وسلم؛ فَإِنَّهُ صَرِيحٌ فِي رَدِّ كُلِّ الْبِدَعِ وَالْمُخْتَرَعَاتِ، وَفِي الرِّوَايَةِ الثَّانِيَةِ زِيَادَةٌ وَهِيَ، أَنَّهُ قَدْ يُعَانِدُ بَعْضُ الْفَاعِلِينَ فِي بِدْعَةٍ سَبَقَ إِلَيْهَا، فَإِذَا احْتُجَّ عَلَيْهِ بِالرِّوَايَةِ الْأُولَى يَقُولُ: أَنَا مَا أَحْدَثْتُ شَيْئًا، فَيُحْتَجُّ عَلَيْهِ بِالثَّانِيَةِ الَّتِي فِيهَا التَّصْرِيحُ بِرَدِّ كُلِّ

--------------------------------------------

(1) والحديث في البخاري (757)، ومسلم (757).

(2) رقم (1297).

(3) رواه البخاري (2697)، ومسلم (1718).
তার সালাতের বিষয়ে; যখন সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশিত পদ্ধতির বাইরে সালাত আদায় করল, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: «ফিরে যাও এবং সালাত আদায় করো, কারণ তুমি সালাত আদায় করোনি» এ কথা তিনি তিনবার বললেন(১)।

আর হজ্জের ক্ষেত্রে এই প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হলো যা মুসলিম তাঁর «সহীহ» গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন(২), জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুরবানির দিন তাঁর সওয়ারির ওপর পাথর নিক্ষেপ করতে দেখেছি এবং তিনি বলছিলেন: «তোমরা তোমাদের হজ্জের নিয়ম-কানুন শিখে নাও, কারণ আমি জানি না সম্ভবত আমার এই হজ্জের পর আমি আর হজ্জ করতে পারব না»।

আর ইবাদত যদি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনীত পদ্ধতির বাইরে সম্পাদিত হয়, তবে তা নব-আবিষ্কৃত এবং প্রত্যাখ্যাত; চাই তা হজ্জ ও ওমরাহ হোক, কিংবা অন্য কোনো ইবাদত। কেননা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে এমন কিছু নতুন উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত»(৩)।

আর মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় শব্দগুলো হলো: «যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যাতে আমাদের নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত»।

ইমাম নববী বলেন: এই হাদিসটি ইসলামের অন্যতম একটি মহান মূলনীতি এবং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণীর অন্তর্ভুক্ত। কারণ এটি সকল বিদআত ও নব-উদ্ভাবিত বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট। দ্বিতীয় বর্ণনায় একটি অতিরিক্ত বিষয় রয়েছে, তা হলো— হয়তো কোনো আমলকারী পূর্ব থেকে চলে আসা কোনো বিদআতের ওপর অটল থাকতে চায়; এমতাবস্থায় যখন তার বিরুদ্ধে প্রথম বর্ণনাটি দলিল হিসেবে পেশ করা হয়, তখন সে বলে: আমি তো নতুন কিছু উদ্ভাবন করিনি। তখন তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বর্ণনাটি দলিল হিসেবে পেশ করা হবে, যাতে সুস্পষ্টভাবে প্রতিটি বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করার কথা রয়েছে...

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি বুখারি (৭৫৭) ও মুসলিম (৭৫৭)-এ রয়েছে।

(২) নম্বর (১২৯৭)।

(৩) বুখারি (২৬৯৭) ও মুসলিম (১৭১৮) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الْمُحْدَثَاتِ سَوَاءٌ أَحْدَثَهَا الْفَاعِلُ أَوْ سُبِقَ بِإِحْدَاثِهَا. اهـ.

وما أحسن ما قاله ابن القيم رحمه الله في «مفتاح دار السعادة» (1/ 442): في حديث: «طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ»، قال: وهذا وإن كان في سنده حفصُ بن سليمان، وقد ضُعِّف، فمعناه صحيح؛ فإنَّ الإيمان فرضٌ على كلِّ واحد، وهو ماهيَّةٌ مركَّبةٌ من علمٍ وعمل، فلا يتصوَّرُ وجودُ الإيمان إلا بالعلم والعمل.

ثمَّ شرائعُ الإسلام واجبةٌ على كلِّ مسلم، ولا يمكنُ أداؤها إلا بعد معرفتها والعلم بها، واللهُ تعالى أخرجَ عبادَه من بطون أمَّهاتهم لا يعلمون شيئًا، فطلبُ العلم فريضةٌ على كلِّ مسلم. وهل تمكنُ عبادةُ الله التي هي حقُّه على العباد كلِّهم إلا بالعلم؟! وهل يُنالُ العلمُ إلا بطلبه. اهـ.

 

‌‌4 - أن تكون نفقة الحج من المال الحلال ولا يسأل الناس أموالهم:

قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنْفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ وَلَا تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ مِنْهُ تُنْفِقُونَ وَلَسْتُمْ بِآخِذِيهِ إِلَّا أَنْ تُغْمِضُوا فِيهِ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ حَمِيدٌ (267)} [البقرة: 267]، وقال النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللهَ طَيِّبُ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا»(1).

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم (1015).
উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, চাই কর্তা তা উদ্ভাবন করুক কিংবা তার উদ্ভাবনের দ্বারা পূর্বেই অতিক্রান্ত হোক। সমাপ্ত।

ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘মিফতাহু দারিস সাআদাহ’ (১/৪৪২) গ্রন্থে কতই না চমৎকার বলেছেন: একটি হাদিসের আলোচনায়: ‘ইলম অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ’, তিনি বলেন: এটি যদিও এর সনদে হাফস ইবনে সুলাইমান রয়েছে এবং তাকে দুর্বল বলা হয়েছে, তবে এর অর্থ সঠিক; কেননা ঈমান প্রত্যেকের ওপর ফরজ, আর এটি জ্ঞান ও কর্মের সমন্বয়ে গঠিত একটি সত্তা, তাই জ্ঞান ও কর্ম ব্যতীত ঈমানের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না।

অতঃপর ইসলামের বিধিবিধানগুলো প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব, আর সেগুলো সম্পর্কে জানা এবং ইলম অর্জন করা ছাড়া তা আদায় করা সম্ভব নয়। আর মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে তাদের মায়েদের গর্ভ থেকে এমন অবস্থায় বের করেছেন যে তারা কিছুই জানত না। অতএব ইলম অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ। আর আল্লাহর ইবাদত যা সকল বান্দার ওপর তাঁর প্রাপ্য অধিকার, তা কি ইলম ছাড়া সম্ভব?! আর ইলম কি অন্বেষণ করা ছাড়া অর্জিত হয়? সমাপ্ত।

 

‌‌৪ - হজের ব্যয় নির্বাহ হালাল সম্পদ থেকে হওয়া এবং মানুষের নিকট সম্পদ প্রার্থনা না করা:

মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা যা উপার্জন করেছ এবং আমি তোমাদের জন্য ভূমি থেকে যা উৎপন্ন করেছি তা থেকে উৎকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করো। তোমরা ব্যয় করার জন্য নিকৃষ্ট বস্তু বেছে নিও না, অথচ তোমরা নিজেরা তা গ্রহণ করতে চাইবে না যদি না তোমরা তাতে চোখ বন্ধ করে থাকো। আর জেনে রেখো যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবমুক্ত ও প্রশংসিত (২৬৭)} [আল-বাকারা: ২৬৭], এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করেন না।"(১).

--------------------------------------------

(১) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত (১০১৫)।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌والحاج من مال حرام فاسق في حجه، والله تعالى يقول: {فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ} [البقرة: 197]، والفاسق في حجه حتى وإن صح حجه لا يرجع كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّه؛ لحديث: «مَنْ حَجَّ لِلَّهِ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ»(1)، وقال الله تعالى: {وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى} [البقرة: 197].

وعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: «كَانَ أَهْلُ الْيَمَنِ يَحُجُّونَ وَلَا يَتَزَوَّدُونَ، وَيَقُولُونَ: نَحْنُ الْمُتَوَكِّلُونَ، فَإِذَا قَدِمُوا مَكَّةَ سَأَلُوا النَّاسَ، فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى: {وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى} [البقرة: 197]»(2).

عن أبي عَبْدِ الرحمن عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الْأَشْجَعِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، تِسْعَةً أَوْ ثَمَانِيَةً أَوْ سَبْعَةً، فَقَالَ: «أَلَا تُبَايِعُونَ رَسُولَ اللهِ؟» وَكُنَّا حَدِيثَ عَهْدٍ بِبَيْعَةٍ، فَقُلْنَا: قَدْ بَايَعْنَاكَ يَا رَسُولَ اللهِ، ثُمَّ قَالَ: «أَلَا تُبَايِعُونَ رَسُولَ اللهِ؟» فَقُلْنَا: قَدْ بَايَعْنَاكَ يَا رَسُولَ اللهِ، ثُمَّ قَالَ: «أَلَا تُبَايِعُونَ رَسُولَ اللهِ؟» قَالَ: فَبَسَطْنَا أَيْدِيَنَا، وَقُلْنَا: قَدْ بَايَعْنَاكَ يَا رَسُولَ اللهِ، فَعَلَامَ نُبَايِعُكَ؟ قَالَ: «عَلَى أَنْ تَعْبُدُوا اللهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَالصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ، وَتُطِيعُوا - وَأَسَرَّ كَلِمَةً خَفِيَّةً - وَلَا تَسْأَلُوا النَّاسَ شَيْئًا»، فَلَقَدْ رَأَيْتُ بَعْضَ أُولَئِكَ النَّفَرِ يَسْقُطُ سَوْطُ أَحَدِهِمْ،

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (1521)، ومسلم (1350).

(2) أخرجه البخاري (1523).
হারাম সম্পদ ব্যয় করে হজ পালনকারী ব্যক্তি তার হজের ক্ষেত্রে পাপাচারী, এবং মহান আল্লাহ বলেন: {হজের সময় কোনো অশ্লীল কাজ, পাপাচার ও ঝগড়া-বিবাদ নেই} [আল-বাকারা: ১৯৭], আর যে ব্যক্তি হজের সময় পাপাচার করবে, তার হজ সঠিক হলেও সে সেদিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসবে না যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল; কারণ হাদিসে এসেছে: «যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হজ করল এবং কোনো অশ্লীল কাজ ও পাপাচার করল না, সে সেদিনের মতো ফিরে আসবে যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল»(১), এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা পাথেয় সংগ্রহ করো, আর নিশ্চয়ই তাকওয়াই সর্বোত্তম পাথেয়} [আল-বাকারা: ১৯৭]।

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «ইয়ামেনবাসীরা হজ করত অথচ কোনো পাথেয় সাথে নিত না এবং তারা বলত: আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করি। অতঃপর তারা যখন মক্কায় আসত, তখন মানুষের কাছে সাহায্য চাইত। ফলে মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করেন: {তোমরা পাথেয় সংগ্রহ করো, আর নিশ্চয়ই তাকওয়াই সর্বোত্তম পাথেয়} [আল-বাকারা: ১৯৭]»(২)।

আবু আবদুর রহমান আউফ ইবনে মালিক আল-আশজায়ী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নয়জন, আটজন অথবা সাতজন ছিলাম। তখন তিনি বললেন: «তোমরা কি রাসূলুল্লাহর নিকট বায়আত গ্রহণ করবে না?» আমরা ইতিপূর্বেই বায়আত গ্রহণ করেছিলাম, তাই আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো আপনার নিকট বায়আত গ্রহণ করেছি। এরপর তিনি পুনরায় বললেন: «তোমরা কি রাসূলুল্লাহর নিকট বায়আত গ্রহণ করবে না?» আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো আপনার নিকট বায়আত গ্রহণ করেছি। এরপর তিনি আবারও বললেন: «তোমরা কি রাসূলুল্লাহর নিকট বায়আত গ্রহণ করবে না?» বর্ণনাকারী বলেন: তখন আমরা আমাদের হাত প্রসারিত করলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার নিকট বায়আত গ্রহণ করলাম, তবে আমরা কীসের ওপর আপনার নিকট বায়আত গ্রহণ করব? তিনি বললেন: «এই শর্তে যে, তোমরা কেবল আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবে, আনুগত্য করবে —এবং তিনি নিচু স্বরে একটি কথা বললেন— আর মানুষের কাছে কোনো কিছু চাইবে না», আমি সেই দলের কিছু লোককে দেখেছি যাদের একজনের চাবুক পড়ে যেত,

--------------------------------------------

(১) বুখারি (১৫২১) এবং মুসলিম (১৩৫০) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

(২) বুখারি (১৫২৩) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
فَمَا يَسْأَلُ أَحَدًا يُنَاوِلُهُ إِيَّاهُ(1).

عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لَا تَزَالُ الْمَسْأَلَةُ بِأَحَدِكُمْ حَتَّى يَلْقَى اللهَ، وَلَيْسَ فِي وَجْهِهِ مُزْعَةُ لَحْمٍ»(2).

وعنه، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ، وَهُوَ يَذْكُرُ الصَّدَقَةَ وَالتَّعَفُّفَ عَنِ الْمَسْأَلَةِ: «الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى، وَالْيَدُ الْعُلْيَا الْمُنْفِقَةُ، وَالسُّفْلَى السَّائِلَةُ»(3).

وعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ سَأَلَ النَّاسَ أَمْوَالَهُمْ تَكَثُّرًا، فَإِنَّمَا يَسْأَلُ جَمْرًا فَلْيَسْتَقِلَّ أَوْ لِيَسْتَكْثِرْ»(4).

وعَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ المَسْأَلَةَ كَدٌّ يَكُدُّ بِهَا الرَّجُلُ وَجْهَهُ، إِلَّا أَنْ يَسْأَلَ الرَّجُلُ سُلْطَانًا، أَوْ فِي أَمْرٍ لَا بُدَّ مِنْهُ»(5).

وعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ نَزَلَتْ بِهِ

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم (1038).

(2) أخرجه البخاري (1474)، ومسلم (1040).

(3) متفق عليه، البخاري (1429)، ومسلم (1033).

(4) أخرجه مسلم (1041).

(5) أخرجه الترمذي (681)، وقال: حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ، وهو كما قال: حديث صحيح.
ফলে তিনি কারও কাছে এমন কিছু চাইতেন না যা সে তাকে হাতে তুলে দেবে(১).

ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে কেউ সর্বদা মানুষের কাছে যাচনা করতে থাকে, যতক্ষণ না সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে তার চেহারায় এক টুকরো মাংসও অবশিষ্ট থাকবে না»(২).

তাঁর থেকেই বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বরে থাকা অবস্থায় সদকা এবং যাচনা থেকে বিরত থাকা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: «উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম। আর উপরের হাত হলো দানকারীর হাত এবং নিচের হাত হলো যাচনাকারীর হাত»(৩).

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে মানুষের কাছে সম্পদ চায়, সে মূলত আগুনের অঙ্গার চায়। এখন সে চাইলে অল্প গ্রহণ করুক অথবা অধিক»(৪).

সামুরা বিন জুনদুব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই যাচনা করা হলো এক প্রকার ক্ষত স্বরূপ, যার মাধ্যমে মানুষ তার নিজ চেহারাকে ক্ষতবিক্ষত করে। তবে কেউ যদি শাসকের কাছে চায় অথবা এমন কোনো বিষয়ে চায় যা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই (তবে তা ভিন্ন)»(৫).

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যার ওপর আপতিত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম (১০৩৮) কর্তৃক বর্ণিত।

(২) বুখারী (১৪৭৪) ও মুসলিম (১০৪০) কর্তৃক বর্ণিত।

(৩) মুত্তাফাকুন আলাইহি, বুখারী (১৪২৯) ও মুসলিম (১০৩৩)।

(৪) মুসলিম (১০৪১) কর্তৃক বর্ণিত।

(৫) তিরমিযী (৬৮১) কর্তৃক বর্ণিত এবং তিনি বলেছেন: এটি একটি হাসান সহীহ হাদিস। আর বিষয়টি তেমনই; এটি একটি সহীহ হাদিস।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
فَاقَةٌ فَأَنْزَلَهَا بِالنَّاسِ لَمْ تُسَدَّ فَاقَتُهُ، وَمَنْ نَزَلَتْ بِهِ فَاقَةٌ فَأَنْزَلَهَا بِاللَّهِ، فَيُوشِكُ اللَّهُ لَهُ بِرِزْقٍ عَاجِلٍ أَوْ آجِلٍ»(1)، وقال الترمذي: حَدِيثٌ حَسَنٌ.

قُلْتُ: وهو كما قال الترمذي: حَدِيثٌ حَسَنٌ، أخرجه أحمد (3869)، وهو في «الصحيحة» (2787) للألباني رحمه الله.

وعَنْ ثَوْبَانَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ يَكْفُلُ لِي أَنْ لَا يَسْأَلَ النَّاسَ شَيْئًا، وَأَتَكَفَّلُ لَهُ بِالْجَنَّةِ؟»، فَقَالَ ثَوْبَانُ: أَنَا، فَكَانَ لَا يَسْأَلُ أَحَدًا شَيْئًا(2).

وعَنْ قَبِيصَةَ بْنِ مُخَارِقٍ الْهِلَالِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: تَحَمَّلْتُ حَمَالَةً، فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَسْأَلُهُ فِيهَا، فَقَالَ: «أَقِمْ حَتَّى تَأْتِيَنَا الصَّدَقَةُ، فَنَأْمُرَ لَكَ بِهَا»، قَالَ: ثُمَّ قَالَ: «يَا قَبِيصَةُ إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لَا تَحِلُّ إِلَّا لِأَحَدِ ثَلَاثَةٍ رَجُلٍ، تَحَمَّلَ حَمَالَةً، فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَهَا، ثُمَّ يُمْسِكُ، وَرَجُلٌ أَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ اجْتَاحَتْ مَالَهُ، فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ - أَوْ قَالَ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ - وَرَجُلٌ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ حَتَّى يَقُومَ ثَلَاثَةٌ مِنْ ذَوِي الْحِجَا مِنْ قَوْمِهِ: لَقَدْ أَصَابَتْ فُلَانًا فَاقَةٌ، فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ - أَوْ قَالَ: سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ - فَمَا سِوَاهُنَّ مِنَ الْمَسْأَلَةِ يَا

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود (1645)، والترمذي (2326).

(2) أخرجه أبو داود (1643)، وغيره، وهو حديث صحيح مخرج في «الصحيح المسند» لشيخنا رحمه الله رقم (1/ 159).
অভাব দেখা দিল, অতঃপর সে তা মানুষের কাছে পেশ করল, তবে তার অভাব মোচন হবে না। আর যার অভাব দেখা দিল এবং সে তা আল্লাহর নিকট পেশ করল, তবে শীঘ্রই আল্লাহ তাকে দ্রুত অথবা বিলম্বে রিযিক দান করবেন।"(১) আর তিরমিযী বলেছেন: হাদিসটি হাসান।

আমি বলছি: ইমাম তিরমিযী যেমনটি বলেছেন এটি তেমনি একটি হাসান হাদিস। আহমাদ (৩৮৬৯) এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ‘আস-সহীহাহ’ (২৭৮৭) গ্রন্থে রয়েছে।

আর সাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কে আমাকে এই নিশ্চয়তা দিবে যে সে মানুষের কাছে কিছু যাচনা করবে না, আর আমি তার জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হব?", তখন সাওবান বললেন: আমি। এরপর থেকে তিনি কারো কাছে কিছু চাইতেন না।(২)

আর কাবীসাহ ইবনু মুখারিক আল-হিলালী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি একটি আর্থিক দায়ভার (বিবাদ মিমাংসার জন্য) গ্রহণ করেছিলাম। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট সে বিষয়ে যাচনা করতে আসলাম। তিনি বললেন: "তুমি অপেক্ষা করো যতক্ষণ না আমাদের নিকট সদাকার মাল আসে, তখন আমরা তোমার জন্য তার নির্দেশ দেব", তিনি বলেন: এরপর তিনি বললেন: "হে কাবীসাহ! নিশ্চয়ই যাচনা করা তিন শ্রেণীর ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো জন্য বৈধ নয়: ওই ব্যক্তি যে (বিবাদ মিমাংসার জন্য) আর্থিক দায়ভার বা ঋণের বোঝা গ্রহণ করেছে, তার জন্য যাচনা করা বৈধ যতক্ষণ না সে তা সংগ্রহ করতে পারে, এরপর সে বিরত থাকবে। আর ওই ব্যক্তি যাকে কোনো দুর্যোগ আক্রান্ত করেছে যা তার সম্পদ বিনাশ করে দিয়েছে, তার জন্য যাচনা করা বৈধ যতক্ষণ না সে জীবন ধারণের ন্যূনতম উপকরণ পায় - অথবা তিনি বলেছেন: জীবন নির্বাহের পাথেয় পায়। আর ওই ব্যক্তি যে অভাবগ্রস্ত হয়েছে এমনকি তার সম্প্রদায়ের তিনজন বিবেকবান লোক দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দেয় যে: অমুক ব্যক্তি অভাবগ্রস্ত হয়েছে; তবে তার জন্য যাচনা করা বৈধ যতক্ষণ না সে জীবন ধারণের উপকরণ পায় - অথবা তিনি বলেছেন: জীবন নির্বাহের পাথেয় পায়। হে কাবীসাহ! এগুলি ব্যতীত অন্য যাচনা হলো হে...

--------------------------------------------

(১) আবূ দাউদ (১৬৪৫) এবং তিরমিযী (২৩২৬) এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) আবূ দাউদ (১৬৪৩) এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। এটি একটি সহীহ হাদিস যা আমাদের শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ‘আস-সহীহুল মুসনাদ’ (১/১৫৯) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
قَبِيصَةُ سُحْتًا يَأْكُلُهَا صَاحِبُهَا سُحْتًا»(1).

قال النووي في «شرح مسلم»، -كتاب الزكاة، تحت بَابِ النَّهْيِ عَنِ الْمَسْأَلَةِ-:

مَقْصُودُ الْبَابِ، وَأَحَادِيثِهِ النَّهْيُ عَنِ السُّؤَالِ، وَاتَّفَقَ الْعُلَمَاءُ عَلَيْهِ إِذَا لَمْ تَكُنْ ضَرُورَةٌ وَاخْتَلَفَ أَصْحَابُنَا فِي مَسْأَلَةِ الْقَادِرِ عَلَى الْكَسْبِ عَلَى وَجْهَيْنِ أَصَحُّهُمَا: أَنَّهَا حَرَامٌ لِظَاهِرِ الْأَحَادِيثِ، وَالثَّانِي: حَلَالٌ مَعَ الْكَرَاهَةِ بِثَلَاثِ شُرُوطٍ أَنْ لَا يُذِلَّ نَفْسَهُ، وَلَا يُلِحَّ فِي السُّؤَالِ، وَلَا يُؤْذِيَ المسؤول، فَإِنْ فُقِدَ أَحَدُ هَذِهِ الشُّرُوطِ فَهِيَ حَرَامٌ بِالِاتِّفَاقِ. اهـ.

 

قُلْتُ: الصواب أنَّ‌‌ المسألة حرام على غير المضطر كما في حديث قبيصة رضي الله عنه، والسائل مذل لنفسه، كما في ألفاظ هذه الأحاديث في قوله: «كَدٌّ يَكُدُّ بِهَا الرَّجُلُ وَجْهَهُ»، وقوله: «وَالْيَدُ السُّفْلَى السَّائِلَةُ»، وغيرها.

قال القرطبي رحمه الله في «المفهم» (3/ 86): وأخذه صلى الله عليه وسلم على أصحابه في البيعة: (ألا يسألوا أحدًا شيئًا)، حَملٌ منه على مكارم الأخلاق، والترفع عن تحمّل مِنَن الخلق وتعليم الصبر على مضض الحاجات، والاستغناء عن الناس، وعزّة النفوس. ولما أخذهم بذلك التزموه في جميع الأشياء، وفي كل الأحوال، حتى فيما

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم (1044).
হে ক্বাবীসা, এটি হলো অবৈধ সম্পদ, যা এর ভক্ষণকারী অবৈধ হিসেবেই ভক্ষণ করে।(১)

ইমাম নববী ‘শারহু মুসলিম’-এ (যাকাত অধ্যায়, ‘যাচনা করা নিষিদ্ধ’ পরিচ্ছেদের অধীনে) বলেছেন:

এই পরিচ্ছেদ এবং এর অন্তর্ভুক্ত হাদীসগুলোর উদ্দেশ্য হলো যাচনা করা বা সাহায্য চাওয়া থেকে বারণ করা। বিশেষ প্রয়োজন না থাকলে যাচনা করা নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আর উপার্জন করতে সক্ষম ব্যক্তির যাচনা করার ব্যাপারে আমাদের (শাফেয়ী) সাথীদের মাঝে দুটি মত রয়েছে। এর মধ্যে বিশুদ্ধতম হলো: হাদীসসমূহের বাহ্যিক বা প্রকাশ্য অর্থের কারণে তা হারাম। দ্বিতীয় মতটি হলো: তিনটি শর্ত সাপেক্ষে অপছন্দনীয় (মাকরুহ) হওয়া সত্ত্বেও তা বৈধ। শর্তগুলো হলো: সে নিজেকে লাঞ্ছিত করবে না, চাওয়ার ক্ষেত্রে পিড়াপিড়ি করবে না এবং যার কাছে চাওয়া হচ্ছে তাকে কষ্ট দেবে না। যদি এই শর্তগুলোর কোনো একটিও অনুপস্থিত থাকে, তবে সর্বসম্মতভাবে তা হারাম। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

 

আমি বলছি: সঠিক কথা হলো, অপরিহার্য প্রয়োজন ছাড়া যাচনা করা হারাম যেমনটি ক্বাবীসা (রা.)-এর হাদীসে এসেছে। আর যাঞ্চাকারী ব্যক্তি মূলত নিজেকে লাঞ্ছিত করে, যেমনটি এসব হাদীসের শব্দাবলীতে এসেছে; তাঁর বাণী: “এটি একটি আঁচড়, যার দ্বারা ব্যক্তি তার চেহারাকে ক্ষতবিক্ষত করে” এবং তাঁর বাণী: “নিচের হাত হলো যাচনাপ্রকারীর হাত” এবং অন্যান্য বর্ণনা।

ইমাম কুরতুবী (রহ.) ‘আল-মুফহিম’ (৩/৮৬) গ্রন্থে বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীগণের নিকট থেকে বাইআত বা অঙ্গীকার গ্রহণের সময় এই শর্ত নিতেন যে, ‘তারা যেন মানুষের কাছে কোনো কিছু না চায়’। এর মাধ্যমে তিনি তাঁদেরকে উচ্চতর চারিত্রিক গুণাবলীতে ভূষিত করার, সৃষ্টির অনুগ্রহের বোঝা বহন করা থেকে ঊর্ধ্বে রাখার, অভাবের তিক্ততায় ধৈর্য ধারণের শিক্ষা প্রদান, মানুষের থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া এবং আত্মমর্যাদাবোধ সৃষ্টির প্রয়াস চালিয়েছেন। যখন তিনি তাঁদের নিকট থেকে এই অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন, তখন তাঁরা সকল বিষয়ে এবং সর্বাবস্থায় এর ওপর অটল ছিলেন, এমনকি...

--------------------------------------------

(১) এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১০৪৪)।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
لا تلحق فيه مِنَّة، طردًا للباب، وحسمًا للذرائع. اهـ.

وقد عُدَّ سؤال الناس أموالهم لغير ضرورة من الكبائر:

قال العلامة ابن حجر الهيتمي في كتابه «الزواجر عن اقتراف الكبائر» (1/ 304):

الْكَبِيرَةُ الثَّانِيَةُ وَالثَّلَاثُونَ بَعْدَ الْمِائَةِ سُؤَالُ الْغَنِيِّ التَّصَدُّقَ عَلَيْهِ: سُؤَالُ الْغَنِيِّ بِمَالٍ أَوْ كَسْبِ التَّصَدُّقِ عَلَيْهِ طَمَعًا وَتَكَثُّرًا. اهـ.

وذكر الأدلة على ذلك.

وقال العلامة ابن عثيمين في «شرح رياض الصالحين» باب (57)، تحت حديث (537)، «مَنْ سَأَلَ النَّاسَ أَمْوَالَهُمْ تَكَثُّرًا، فَإِنَّمَا يَسْأَلُ جَمْرَ جَهَنَّمَ»: هذا دليلٌ على أن سؤال الناس بلا حاجة من كبائر الذنوب. اهـ.

قُلْتُ: الحاجة بابها واسع؛ ولكن حديث قَبِيصَةَ: «إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لَا تَحِلُّ إِلَّا لِأَحَدِ ثَلَاثَةٍ … »، وحديث سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ المذكورن في الباب، وفيه: «أَوْ فِي أَمْرٍ لَا بُدَّ مِنْهُ»، يدلان على أنَّ المسألة لا تحل إلا عند الضرورة.

 

‌‌5 - اصطحاب الرفقة الصالحة والحذر من رفقه أهل الأهواء في السفر وغيره:

قال تعالى: {وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا (28)} [الكهف: 28].
এতে যেন কোনো অনুগ্রহের রেশ না থাকে, যাতে বিষয়টি সুসংহত হয় এবং অশুভের পথ রুদ্ধ করা যায়। সমাপ্ত।

আর কোনো জরুরি প্রয়োজন ছাড়াই মানুষের কাছে সম্পদ প্রার্থনা করাকে কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়েছে:

আল্লামা ইবনে হাজার আল-হাইতামি তাঁর গ্রন্থ ‘আয-যাওয়াযির আন ইক্কতিরাফিল কাবায়ির’ (১/৩০৪)-এ বলেন:

একশ বত্রিশতম কবিরা গুনাহ হলো সচ্ছল ব্যক্তির নিজের জন্য সদকা প্রার্থনা করা: অর্থাৎ সম্পদ বা উপার্জনের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অধিক সম্পদের লোভে বা সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে মানুষের কাছে সদকা চাওয়া। সমাপ্ত।

তিনি এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন প্রমাণাদি উল্লেখ করেছেন।

আল্লামা ইবনে উসাইমিন ‘শারহু রিয়াদুস সালিহীন’-এর ৫৭ নম্বর অধ্যায়ে ৫৩৭ নম্বর হাদিসের আলোচনায়—"যে ব্যক্তি সম্পদ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে মানুষের কাছে সম্পদ প্রার্থনা করে, সে তো মূলত জাহান্নামের অঙ্গারই প্রার্থনা করে"—বলেছেন: এটি এর প্রমাণ যে, প্রয়োজন ছাড়া মানুষের কাছে হাত পাতা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। সমাপ্ত।

আমি বলছি: প্রয়োজনের পরিধি বেশ প্রশস্ত; তবে কাবিছাহ্ বর্ণিত হাদিস: “তিন প্রকার ব্যক্তি ছাড়া অন্যের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করা বৈধ নয় ... ” এবং এই অধ্যায়ে বর্ণিত সামুরাহ ইবনে জুনদুবের হাদিস, যাতে রয়েছে: “অথবা এমন কোনো প্রয়োজনে যাতে না চাইলেই নয়”, এই হাদিসদ্বয় প্রমাণ করে যে, একান্ত নিরুপায় হওয়া ছাড়া সাহায্য চাওয়া বৈধ নয়।

 

‌‌৫ - সৎ সঙ্গ গ্রহণ করা এবং সফর বা অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রবৃত্তি পূজারীদের সঙ্গ থেকে সতর্ক থাকা:

মহান আল্লাহ বলেন: {আর আপনি নিজেকে তাদের সঙ্গে ধৈর্যশীল রাখুন যারা তাদের রবকে সকাল ও সন্ধ্যায় ডাকে, তারা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের শোভাবর্ধন কামনায় তাদের থেকে আপনার দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। আর আপনি তার আনুগত্য করবেন না যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ সীমা লঙ্ঘন করেছে (২৮)} [সুরা কাহাফ: ২৮]।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَثَلُ الجَلِيسِ الصَّالِحِ وَالسَّوْءِ، كَحَامِلِ المِسْكِ وَنَافِخِ الكِيرِ، فَحَامِلُ المِسْكِ: إِمَّا أَنْ يُحْذِيَكَ، وَإِمَّا أَنْ تَبْتَاعَ مِنْهُ، وَإِمَّا أَنْ تَجِدَ مِنْهُ رِيحًا طَيِّبَةً، وَنَافِخُ الكِيرِ: إِمَّا أَنْ يُحْرِقَ ثِيَابَكَ، وَإِمَّا أَنْ تَجِدَ رِيحًا خَبِيثَةً»(1)، وعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «الرَّجُلُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ، فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَالِلُ»(2).

وعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ»(3)، وفي حديث صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ المُرَادِيِّ رضي الله عنه(4)، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «المَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ يَوْمَ القِيَامَةِ».

عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها، قَالَتْ: تَلَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: {هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (5534)، ومسلم (2628).

(2) أخرجه أَبُو داود (4833)، والترمذي (2378)، وأحمد (8417)، وهو حديث صحيح.

(3) أخرجه البخاري (6168)، ومسلم (2640).

(4) عند الترمذي (3535)، وأحمد (18019)، وهو مخرج في «الصحيح المسند» لشيخنا رحمه الله رقم (505).
আবু মূসা আল-আশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ হলো মিশক (কস্তুরী) বহনকারী এবং কামারের হাপর ফুঁকদানকারীর মতো। মিশক বহনকারী হয়তো তোমাকে কিছু দান করবে, অথবা তুমি তার কাছ থেকে কিছু ক্রয় করবে, অথবা অন্তত তার কাছ থেকে সুঘ্রাণ পাবে। আর কামারের হাপর ফুঁকদানকারী হয়তো তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে, অথবা তুমি তার কাছ থেকে দুর্গন্ধ পাবে»(১)। আর আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «মানুষ তার বন্ধুর আদর্শের অনুসারী হয়; তাই তোমাদের প্রত্যেকের লক্ষ্য করা উচিত সে কার সাথে বন্ধুত্ব করছে»(২)।

আর আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «ব্যক্তি তারই সাথে থাকবে যাকে সে ভালোবাসে»(৩)। আর সাফওয়ান ইবনে আসসাল আল-মুরাদী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসে বর্ণিত আছে(৪), নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কিয়ামতের দিন ব্যক্তি তারই সাথে থাকবে যাকে সে ভালোবাসে»।

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: {তিনিই সেই সত্তা যিনি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন, যার কিছু আয়াত মুহকাম (সুস্পষ্ট), সেগুলো কিতাবের মূল ভিত্তি; আর অন্যগুলো মুতাশাবিহ (অস্পষ্টার্থ)। অতঃপর যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে মুতাশাবিহ আয়াতগুলোর অনুসরণ করে। অথচ আল্লাহ ছাড়া এর প্রকৃত ব্যাখ্যা কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা বলে, "আমরা এতে ঈমান এনেছি, সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে"। আর বুদ্ধিমানরা ছাড়া কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না...}

--------------------------------------------

(১) বুখারী (৫৫৩৪) ও মুসলিম (২৬২৮) এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) আবু দাউদ (৪৮৩৩), তিরমিযী (২৩৭৮) ও আহমাদ (৮৪১৭) এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি সহীহ হাদীস।

(৩) বুখারী (৬১৬৮) ও মুসলিম (২৬৪০) এটি বর্ণনা করেছেন।

(৪) তিরমিযী (৩৫৩৫) ও আহমাদ (১৮০১৯)-এর নিকট বর্ণিত এবং এটি আমাদের শাইখের (রাহিমাহুল্লাহ) ‘আস-সহীহ আল-মুসনাদ’ গ্রন্থের ৫০৫ নং হাদীসে উদ্ধৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
الْأَلْبَابِ (7)} [آل عمران: 7]، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا رَأَيْتُمُ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ، فَأُولَئِكَ الَّذِينَ سَمَّى اللهُ فَاحْذَرُوهُمْ»(1).

وعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ سَمِعَ بِالدَّجَّالِ فَلْيَنْأَ مِنْهُ؛ مَنْ سَمِعَ بِالدَّجَالِ، فَلْيَنْأً مِنْهُ مَنْ سَمِعَ بِالدَّجَالِ، فَلْيَنْأً مِنْهُ، فَإِنَّ الرَّجُلَ يَأْتِيهِ وَهُوَ يَحْسِبُ أَنَّهُ مُؤْمِنٌ، فَلَا يَزَالُ بِهِ لِمَا مَعَهُ مِنَ الشُّبَهِ حَتَّى يَتَّبِعَهُ»(2).

 

‌‌وأهل الباطل ابتلوا بالجدل

كما في حديث أَبِي أُمَامَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا ضَلَّ قَوْمٌ بَعْدَ هُدًى كَانُوا عَلَيْهِ إِلَّا أُوتُوا الْجَدَلَ، ثُمَّ قَرَأَ: {مَا ضَرَبُوهُ لَكَ إِلَّا جَدَلًا بَلْ هُمْ قَوْمٌ خَصِمُونَ (58)} [الزخرف: 58]»(3).

 

‌‌بُعد السلف رحمهم الله وتحذيرهم عن الجدال مع أهل الأهواء في الحج وغيره

صح في «مقدمة الدارمي» (400)، قال: وكَانَ مُسْلِمُ بْنُ يَسَارٍ، يَقُولُ: إِيَّاكُمْ

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (4547)، ومسلم (2665).

(2) أخرجه أبو داود (4319)، وأحمد (4/ 431)، وهو صحيح، وخرجه شيخنا رحمه الله في «الصحيح المسند» رقم (1019).

(3) أخرجه الترمذي (3250)، وابن ماجه (48)، وأحمد (22204)، من طريق أَبِي غَالِبٍ حَزَوَّرٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ به، وهذا سند حسن مخرج في «الصحيح المسند» لشيخنا رحمه الله (479).
বিবেকবানগণ (৭)} [আল ইমরান: ৭], তিনি (আয়েশা রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা যখন তাদের দেখবে যারা এর (কুরআনের) অস্পষ্ট আয়াতগুলোর অনুসরণ করে, তখন জেনে রেখো এরাই তারা যাদের নাম আল্লাহ উল্লেখ করেছেন; সুতরাং তোমরা তাদের থেকে সতর্ক থাকো»(১).

এবং ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি দাজ্জালের আগমনের কথা শুনবে, সে যেন তার থেকে দূরে থাকে; যে ব্যক্তি দাজ্জালের কথা শুনবে, সে যেন তার থেকে দূরে থাকে; যে ব্যক্তি দাজ্জালের কথা শুনবে, সে যেন তার থেকে দূরে থাকে। কেননা একজন লোক তার নিকট আসবে এই ধারণা নিয়ে যে সে একজন মুমিন, অতঃপর সে তার সাথে থাকা সংশয়গুলোর কারণে তার অনুসরণ করতে শুরু করবে»(২).

 

‌‌বাতিলপন্থীরা বিতর্কের মাধ্যমে পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছে

যেমনটি আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো জাতি হেদায়েতের ওপর থাকার পর পথভ্রষ্ট হয়নি, যতক্ষণ না তারা বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে। এরপর তিনি পাঠ করলেন: {তারা কেবল বিতর্কের উদ্দেশ্যেই আপনার কাছে এ কথা বলে; বরং তারা তো এক ঝগড়াটে সম্প্রদায় (৫৮)} [আয-যুখরুফ: ৫৮]»(৩).

 

‌‌সালাফগণ (রহিমাহুমুল্লাহ)-এর প্রবৃত্তিপূজারীদের সাথে বিতর্ক থেকে দূরে থাকা এবং হজ্জ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে এ বিষয়ে তাদের সতর্কবাণী

‘মুকাদ্দিমায়ে দারেমী’ (৪০০)-তে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: মুসলিম ইবনে ইয়াসার বলতেন: তোমরা সাবধান থাকো...

--------------------------------------------

(১) বুখারী (৪৫৪৭) ও মুসলিম (২৬৬৫) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

(২) আবু দাউদ (৪৩১৯) ও আহমাদ (৪/ ৪৩১) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি সহীহ। আমাদের শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) এটি ‘আস-সহীহুল মুসনাদ’ এর ১০১৯ নম্বরে সংকলন করেছেন।

(৩) তিরমিযী (৩২৫০), ইবনে মাজাহ (৪৮) ও আহমাদ (২২২০৪) আবু গালিব হাযাওয়ারের সূত্রে আবু উমামাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এই সনদটি হাসান এবং এটি আমাদের শাইখের (রহিমাহুল্লাহ) ‘আস-সহীহুল মুসনাদ’ (৪৭৯) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وَالْمِرَاءَ، فَإِنَّهَا سَاعَةُ جَهْلِ الْعَالِمِ، وَبِهَا يَبْتَغِي الشَّيْطَانُ زَلَّتَهُ.

وصح في «مقدمة الدارمي» (395)، قال: إنَّ أَبا قِلَابَةَ رحمه الله كان يقول: لَا تُجَالِسُوا أَهْلَ الْأَهْوَاءِ وَلَا تُجَادِلُوهُمْ، فَإِنِّي لَا آمَنُ أَنْ يَغْمِسُوكُمْ فِي ضَلَالَتِهِمْ، أَوْ يَلْبِسُوا عَلَيْكُمْ مَا كُنْتُمْ تَعْرِفُونَ.

وصح عند الدارمي (312)، و «الشريعة» للآجري (116): قال عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ: مَنْ جَعَلَ دِينَهُ غَرَضًا لِلْخُصُومَاتِ، أَكْثَرَ التَّنَقُّلَ.

وثبت في «الشريعة» للآجري (118): عَنْ هِشَامٍ يَعْنِي: ابْنَ حَسَّانَ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى الْحَسَنِ فَقَالَ: يَا أَبَا سَعِيدٍ، تَعَالَ حَتَّى أُخَاصِمَكَ فِي الدِّينِ، فَقَالَ الْحَسَنُ: أَمَّا أَنَا فَقَدْ أَبْصَرْتُ دِينِي، فَإِنْ كُنْتَ أَضْلَلْتَ دِينَكَ فَالْتَمِسْهُ.

وصح في «مقدمة الدارمي» (411) بتحقيقي، و «الشريعة» للآجري (121): عَنْ أَسْمَاءَ بْنِ عُبَيْدٍ، قَالَ: دَخَلَ رَجُلَانِ مِنْ أَصْحَابِ الْأَهْوَاءِ عَلَى ابْنِ سِيرِينَ فَقَالَا: يَا أَبَا بَكْرٍ نُحَدِّثُكَ بِحَدِيثٍ؟ قَالَ: لَا، قَالَا: فَنَقْرَأُ عَلَيْكَ آيَةً مِنْ كِتَابِ اللَّهِ؟ قَالَ: لَا، لِتَقُومَانِ عَنِّي أَوْ لَأَقُومَنَّ، قَالَ: فَخَرَجَا، فَقَالَ: بَعْضُ الْقَوْمِ: يَا أَبَا بَكْرٍ، وَمَا كَانَ عَلَيْكَ أَنْ يَقْرَآ عَلَيْكَ آيَةً مِنْ كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى؟ قَالَ: إِنِّي خَشِيتُ أَنْ يَقْرَآ عَلَيَّ آيَةً فَيُحَرِّفَانِهَا، فَيَقِرُّ ذَلِكَ فِي قَلْبِي.

وصح في «الشريعة» للآجري (128): عن مُحَمَّدِ بْنِ وَاسِعٍ، قَالَ: رَأَيْتُ
এবং ঝগড়া-বিবাদ; কেননা এটি হলো কোনো জ্ঞানীর মূর্খতার সময়, আর এর মাধ্যমেই শয়তান তার পদস্খলন কামনা করে।

‘মুকাদ্দিমাতুদ দারেমী’ (৩৯৫) গ্রন্থে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আবু কিলাবাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলতেন: তোমরা প্রবৃত্তিপূজারীদের সাথে বসো না এবং তাদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়ো না; কেননা আমি আশঙ্কা করি যে, তারা তোমাদেরকে তাদের ভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত করে ফেলবে অথবা তোমরা যা (সত্য হিসেবে) জানো সে ব্যাপারে তোমাদের সংশয়ে ফেলে দিবে।

দারেমী (৩১২) এবং আজুররীর ‘আশ-শারীআহ’ (১১৬) গ্রন্থে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে: উমর ইবনে আব্দুল আযীয বলেন: যে ব্যক্তি নিজের দ্বীনকে বিতর্কের লক্ষ্যবস্তু বানায়, সে অধিক হারে (মতামত) পরিবর্তন করে।

আজুররীর ‘আশ-শারীআহ’ (১১৮) গ্রন্থে সাব্যস্ত হয়েছে: হিশাম অর্থাৎ ইবনে হাসসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি হাসান (বসরী)-এর কাছে এসে বলল: হে আবু সাঈদ, আসুন আপনার সাথে দ্বীন নিয়ে বিতর্ক করি। হাসান বললেন: আমি তো আমার দ্বীন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করেছি; তুমি যদি তোমার দ্বীন হারিয়ে থাকো তবে তা খুঁজে নাও।

আমার তাহকীকসহ ‘মুকাদ্দিমাতুদ দারেমী’ (৪১১) এবং আজুররীর ‘আশ-শারীআহ’ (১২১) গ্রন্থে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে: আসমা ইবনে উবাইদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনে সীরীনের কাছে প্রবৃত্তিপূজারীদের মধ্য থেকে দুইজন লোক আসলো এবং বলল: হে আবু বকর, আমরা কি আপনাকে একটি হাদীস শোনাব? তিনি বললেন: না। তারা বলল: তবে কি আপনাকে আল্লাহর কিতাব থেকে একটি আয়াত পড়ে শোনাব? তিনি বললেন: না; হয় তোমরা আমার কাছ থেকে উঠে যাও, নয়তো আমিই উঠে চলে যাব। বর্ণনাকারী বলেন: তারপর তারা বেরিয়ে গেল। উপস্থিত লোকদের কেউ কেউ বলল: হে আবু বকর, তারা আপনাকে আল্লাহর কিতাব থেকে একটি আয়াত পড়ে শোনালে আপনার কী এমন ক্ষতি হতো? তিনি বললেন: আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে, তারা হয়তো আমার কাছে কোনো আয়াত পাঠ করবে এবং তা বিকৃত করবে, আর সেই বিকৃতি আমার অন্তরে গেঁথে যাবে।

আজুররীর ‘আশ-শারীআহ’ (১২৮) গ্রন্থে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে: মুহাম্মদ ইবনে ওয়াসি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি দেখেছি...
(খণ্ড: ১) আদ্-দুররাতু ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
صَفْوَانَ بْنَ مُحْرِزٍ وَأَشَارَ بِيَدِهِ إِلَى نَاحِيَةٍ مِنَ الْمَسْجِدِ، وَشَبَبَةُ قَرِيبٌ مِنْهُ، يَتَجَادَلُونَ، فَرَأَيْتُهُ يَنْفُضُ ثَوْبَهُ وَقَامَ وَقَالَ: إِنَّمَا أَنْتُمْ جَرَبٌ إِنَّمَا أَنْتُمْ جَرَبٌ.

وصح في «الشريعة» للآجري (133): عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، قَالَ: لَا تُجَالِسْ أَهْلَ الْأَهْوَاءِ، فَإِنَّ مُجَالَسَتَهُمْ مَمْرَضَةٌ لِلْقُلُوبِ.

 

‌‌6 - استحباب الخروج يوم الخميس لمن تيسر له ذلك:

عَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، كَانَ يَقُولُ: «لَقَلَّمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْرُجُ، إِذَا خَرَجَ فِي سَفَرٍ إِلَّا يَوْمَ الخَمِيسِ»(1).

قُلْتُ: أما خروجه لحجة الوداع فالصحيح أنَّه خرج يوم السبت.

قوله: «لَقَلَّمَا كَانَ يَخْرُجُ، إِذَا خَرَجَ فِي سَفَرٍ إِلَّا يَوْمَ الخَمِيسِ»، وفيه أنَّ خروجه للأسفار يوم الخميس في الغالب، وأنه في بعض الأسفار خرج من المدينة في غير الخميس، ومنها خروجه لحجة الوداع، الصحيح أنه يوم السبت بعد صلاة الظهر ونبَّه الإمام ابن القيم رحمه الله على عدة أوهام حصلت في خروجه هذا، في «زاد المعاد» (2/ 276) - منبهًا على جملة أوهام، ومنها هذا -، قال:

• فَمِنْهَا: وَهْمٌ لأبي محمد بن حزم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ حَيْثُ قَالَ: إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (2949).
সাফওয়ান ইবনে মুহরিজ, এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে মসজিদের একটি কোণের দিকে ইশারা করলেন, সে সময় কিছু যুবক তাঁর নিকটবর্তী ছিল যারা বিতর্কে লিপ্ত ছিল। অতঃপর আমি তাকে (সাফওয়ানকে) দেখলাম তিনি তাঁর কাপড় ঝাড়ছেন এবং দাঁড়িয়ে বললেন: "তোমরা তো কেবল চর্মরোগ স্বরূপ, তোমরা তো কেবল চর্মরোগ স্বরূপ।"

এবং আজুররির 'আশ-শরীয়াহ' (১৩৩) গ্রন্থে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে: ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "তোমরা প্রবৃত্তি পূজারীদের সাথে বসো না, কেননা তাদের সাথে বসা অন্তরকে অসুস্থ করে দেয়।"

 

‌‌৬ - যার জন্য সম্ভব হয় তার জন্য বৃহস্পতিবার সফরে বের হওয়া মুস্তাহাব:

কাব ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুব কমই বৃহস্পতিবার ব্যতীত অন্য কোনো দিনে সফরের উদ্দেশ্যে বের হতেন"(১).

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: বিদায় হজের জন্য তাঁর বের হওয়ার ব্যাপারে সঠিক কথা হলো তিনি শনিবার বের হয়েছিলেন।

তাঁর উক্তি: "খুব কমই তিনি বৃহস্পতিবার ব্যতীত অন্য কোনো দিনে সফরের উদ্দেশ্যে বের হতেন", এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর অধিকাংশ সফর ছিল বৃহস্পতিবার। আর তিনি কিছু সফরে বৃহস্পতিবার ব্যতীত অন্য দিনেও মদিনা থেকে বের হয়েছিলেন, যার মধ্যে বিদায় হজের সফর অন্যতম। সঠিক মত হলো এটি ছিল যোহরের সালাতের পর শনিবার। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর এই বের হওয়া সম্পর্কে সৃষ্ট বেশ কিছু বিভ্রান্তির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন 'যাদুল মা'আদ' (২/২৭৬) গ্রন্থে - একগুচ্ছ বিভ্রান্তি সম্পর্কে সতর্ক করতে গিয়ে, যার মধ্যে এটিও একটি - তিনি বলেন:

• তার মধ্যে রয়েছে: বিদায় হজ সম্পর্কে আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজমের একটি বিভ্রান্তি, যেখানে তিনি বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)...

--------------------------------------------

(১) বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন (২৯৪৯)।