(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: -)
التيسير والتبصير لما فات البخاري في العلل الكبير   (عبد الحكيم صالح)

القسم: العلل والسؤلات الحديثية


الكتاب: التيسير والتبصير لما فات البخاري في العلل الكبير

المؤلف: عبد الحكيم صالح اليزيدي اليافعي

الناشر: دار اللؤلؤة للنشر والتوزيع، المنصورة - مصر

الطبعة: الأولى، 1446 هـ - 2025 م

عدد الصفحات: 288

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 ذو الحجة 1446

আল-ইলাল আল-কাবীর গ্রন্থে ইমাম বুখারী যা বর্ণনা করতে সক্ষম হননি তার সহজীকরণ ও সুস্পষ্টকরণ   (আব্দুল হাকিম সালিহ)

বিভাগ: হাদিসের ইল্লত (নিগূঢ় ত্রুটি) ও জিজ্ঞাসাবাদ


বই: আল-ইলাল আল-কাবীর গ্রন্থে ইমাম বুখারী যা বর্ণনা করতে সক্ষম হননি তার সহজীকরণ ও সুস্পষ্টকরণ

লেখক: আব্দুল হাকিম সালিহ আল-ইয়াজিদি আল-ইয়াফেয়ি

প্রকাশক: দারুল লুলুআহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, মানসুরা - মিশর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪৬ হিজরি - ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৮

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৯ জিলহজ ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة:

الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه، وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليماً، أما بعد:

 

عزيزي القارئ كما تعلم فإنه لا غنى لأي مشتغل في الحكم على صحة الأحاديث من الرجوع إلى كتب علل الحديث وخصوصاً أقوال البخاري في العلل الموجودة في كتاب العلل الكبير لتلميذة أبي عيسى الترمذي فهذا الكتاب يتميز ببيان حكم كثير من الأحاديث من إمام المحدثين الإمام البخاري، مما يجعله مصدراً نفيساً في هذا المجال.

ولما كانت أعمال البشر لا تخلو من مقال لقول ابن عباس الذي رفعه "ليس أحد إلا يؤخذ من قوله ويدع غير النبي صلى الله عليه وسلم" (المعجم الكبير 11/ 339 رقم 11941) فكذلك أقوال وأحكام البخاري في العلل الكبير. إلا أن ذلك لا ينقص ذلك من قيمته ومكانته. فهكذا هم أهل العلم يتعقبون بعضهم بعضاً ويدورون مع الدليل شداً وجذباً.

وفي ضوء ما تقدم وبعد انتهائي من مراجعة أقوال الحافظ ابن حجر في
ভূমিকা:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীগণের উপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের উপর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। অতঃপর:

 

প্রিয় পাঠক, আপনি যেমনটি অবগত আছেন যে, হাদিসের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নিয়োজিত যে কারো জন্য হাদিসের ‘ইলাল’ (সূক্ষ্ম ত্রুটি) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের শরণাপন্ন হওয়া অপরিহার্য। বিশেষ করে তাঁর ছাত্র আবু ঈসা আত-তিরমিযীর ‘আল-ইলালুল কাবীর’ গ্রন্থে ইমাম বুখারীর যে বক্তব্যসমূহ রয়েছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এই গ্রন্থটি হাদিস বিশারদদের ইমাম, ইমাম বুখারীর পক্ষ থেকে বহু হাদিসের হুকুম বর্ণনার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, যা একে এই শাস্ত্রের একটি অমূল্য উৎসে পরিণত করেছে।

যেহেতু মানুষের কোনো কাজই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়, যেমনটি ইবনে আব্বাস থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত এমন কেউ নেই যার কথা গ্রহণ বা বর্জন করা হয় না" (আল-মু’জামুল কাবীর ১১/৩৩৯, হাদিস নং ১১৯৪১); ঠিক তেমনি ‘আল-ইলালুল কাবীর’ গ্রন্থে বুখারীর বক্তব্য ও সিদ্ধান্তসমূহও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে এটি সেই গ্রন্থের মান বা মর্যাদাকে বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ করে না। কেননা আলেমদের চিরাচরিত পদ্ধতিই হলো একে অপরের পর্যালোচনা করা এবং দলিলের আলোকে গঠনমূলক বিতর্কে লিপ্ত হওয়া।

উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এবং হাফেজ ইবনে হাজারের বক্তব্যসমূহ পর্যালোচনার সমাপ্তিতে...
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৬)
"تقريب التهذيب" والذي نتج عنه كتاب "تقريب التقريب" أو "تقريب تقريب التهذيب" وكتاب "التكميل على تحفة التحصيل"، شرعتُ في سبر ما فات البخاري في العلل الكبير مستعيناً بالله ثم بالرجوع إلى الأسانيد الصحيحة في بطون الكتب. وقد حرصتُ على المحافظة على نص العلل الكبير الموجود في المكتبة الشاملة (التي حققها صبحي السامرائي، أبو المعاطي النوري، محمود خليل الصعيدي ونشرها عالم الكتب مكتبة النهضة العربية - بيروت في 1409 هـ) مع تدوين ما فتح الله عليَ عند كل حديث فأبدأ بـ "قلت: " أي عبد الحكيم. ولبيان الإضافة العلمية أضفتُ عبارة "ولم يذكر ذلك صاحب التهذيب" أو "وعنه أيضاً" و"فائدة" وكذلك "فيه نظر" تأدباً مع الإمام الجبل البخاري. قاصداً فقط خدمة علم الرجال مع التأدب مع العلماء. هذا وقد أسميته "التيسير والتبصير لما فات البخاري في العلل الكبير" سائلاً المولى عز وجل القبول والتوفيق.

وإليك إيها القارئ ثلاث أمثلة، قال الترمذي:

41 - حدثنا هناد وأحمد بن منيع قالا: حدثنا أبو معاوية عن عاصم الأحول عن عيسى بن حطان عن مسلم بن سلام عن علي بن طلق، قال: أتى النبي صلى الله عليه وسلم أعرابي فقال: يا رسول الله الرجل منا يكون في الفلاة فتكون منه الرويحة ويكون في الماء قلة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا فسا أحدكم فليتوضأ ولا تأتوا النساء في أعجازهن فإن الله لا يستحي من الحق". سألت محمدا عن هذا الحديث فقال: علي بن طلق هذا أراه غير طلق بن علي ولا أعرف لعلي بن طلق إلا هذا الحديث وعيسى بن حطان الذي روى عنه هذا الحديث رجل مجهول،
"তাকরীবুত তাহযীব" এবং এর ফলে সংকলিত গ্রন্থ "তাকরীবুত তাকরীব" অথবা "তাকরীবু তাকরীবুত তাহযীব" এবং "আত-তাকমীল আলা তুহফাতিল তাহসীল" সম্পন্ন করার পর, আমি আল্লাহর সাহায্য নিয়ে এবং কিতাবসমূহের মূল উৎসগুলোতে সংরক্ষিত সহীহ সনদসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে ইমাম বুখারীর 'আল-ইলালুল কাবীর'-এ যা যা ছুটে গেছে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করতে শুরু করি। আমি আল-মাকতাবাতুশ শামিলাতে বিদ্যমান 'আল-ইলালুল কাবীর'-এর মূল পাঠটি (যা সুব্হী আস-সামাররাঈ, আবু আল-মা'আতী আন-নূরী এবং মাহমুদ খলীল আস-সাঈদী কর্তৃক সম্পাদিত এবং ১৪০৯ হিজরীতে বৈরুতের 'আলামুল কুতুব মাকতাবাতুন নাহদাতিল আরাবিয়্যাহ' থেকে প্রকাশিত) হুবহু বজায় রাখার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি। সেইসাথে প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে আল্লাহ আমার জন্য গবেষণার যে দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছেন তা আমি সেখানে লিপিবদ্ধ করেছি; আমি শুরু করেছি "আমি বলছি:" অর্থাৎ আব্দুল হাকিম এই কথাটি দিয়ে। ইলমী সংযোজনসমূহ স্পষ্ট করার জন্য আমি "তাহযীবের লেখক এটি উল্লেখ করেননি" অথবা "তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে" এবং "ফায়দা" (বিশেষ জ্ঞাতব্য), সেইসাথে পাহাড়সম ব্যক্তিত্ব ইমাম বুখারীর প্রতি আদব রক্ষা করে "এতে পর্যবেক্ষণ রয়েছে" বাক্যগুলো যোগ করেছি। আমার উদ্দেশ্য কেবল উলামাদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক ইলমুর রিজাল বা বর্ণনাকারী শাস্ত্রের সেবা করা। আমি এই গ্রন্থটির নামকরণ করেছি "আত-তাইসীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতা আল-বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর"। আমি মহান রব্বুল আলামীনের কাছে এর কবুলিয়াত ও তাওফীক প্রার্থনা করছি।

হে পাঠক, আপনার জন্য তিনটি উদাহরণ উপস্থাপন করছি, ইমাম তিরমিযী বলেছেন:

৪১ - হান্নাদ ও আহমাদ ইবনে মানী' আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবু মুআবিয়াহ আমাদের কাছে আসিম আল-আহওয়াল থেকে, তিনি ঈসা ইবনে হাত্তান থেকে, তিনি মুসলিম ইবনে সাল্লাম থেকে, তিনি আলী ইবনে তালক থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: জনৈক গ্রাম্য আরব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কোনো ব্যক্তি মরুভূমিতে থাকা অবস্থায় তার থেকে বায়ু নির্গত হয়, অথচ সেখানে পানির স্বল্পতা থাকে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "যখন তোমাদের কেউ বায়ু ত্যাগ করে, সে যেন ওযু করে নেয়। আর তোমরা স্ত্রীদের গুহ্যদ্বারে সঙ্গম করো না, কারণ আল্লাহ সত্য প্রকাশে লজ্জাবোধ করেন না।" আমি মুহাম্মাদকে (ইমাম বুখারী) এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আমার মতে এই আলী ইবনে তালক এবং তালক ইবনে আলী এক ব্যক্তি নন। আলী ইবনে তালকের এই একটি হাদিস ছাড়া আর কোনো হাদিস আমার জানা নেই। আর ঈসা ইবনে হাত্তান, যিনি তাঁর থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, তিনি একজন অপরিচিত ব্যক্তি।
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৭)
فقلت له: أتعرف هذا الحديث الذي روى علي بن طلق من حديث طلق بن علي؟ فقال: لا

قلت: وأما قول البخاري "عيسى بن حطان رجل مجهول" فيه نظر فعيسى بن حطان الرقاشي تابعي حسن الحديث فقد قال عنه العجلي "ثقة" (تاريخ الثقات رقم 1459) ولم يذكر ذلك صاحب تهذيب التهذيب. وإيضاً ذكره ابن حبان في الثقات وروى عنه جماعة منهم محمد بن جحادة وعاصم الأحول وزيد بن عياض (تهذيب التهذيب 8/ 207).

وفي حديث رقم 58، قال الترمذي:

58 - حدثنا قتيبة، حدثنا أبو عوانة، عن أبي يعفور، سألت أنس بن مالك، عن المسح على الخفين فقال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يمسح عليهما، سألت محمدا عن هذا الحديث فقال: أخطأ فيه قتيبة بن سعيد، والصحيح عن أنس موقوف، أبو يعفور اسمه واقد ولقبه وقدان

قلت (أي عبد الحكيم): وأما قول البخاري "أخطأ فيه قتيبة بن سعيد" فيه نظر فقد توبع قتيبة على هذا الإسناد من قبل نعيم بن هيصم فقد أخرجه الطبراني بسند قوي في المعجم الأوسط (8/ 259 رقم 8572) وقال: حدثنا معاذ قال: نا نعيم بن هيصم قال: نا أبو عوانة، عن أبي يعفور قال: سألت أنس بن مالك، عن المسح على الخفين، فقال "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يمسح عليهما". وأخرجه مرفوعاً ابن حبان في صحيحه (6/ 567 رقم 5830) والضياء في الأحاديث المختارة (7/ 258 رقم 2707).
আমি তাকে বললাম: আপনি কি এই হাদীসটি চেনেন যা আলী বিন তালক, তালক বিন আলীর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন: না।

আমি বললাম: আর বুখারীর উক্তি "ঈসা বিন হিত্তান একজন অপরিচিত ব্যক্তি" - এই বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। কারণ ঈসা বিন হিত্তান আল-রাকাশি একজন তাবিঈ এবং উত্তম হাদীস বর্ণনাকারী (হাসানুল হাদীস)। ইজলি তার সম্পর্কে বলেছেন "বিশ্বস্ত" (তারিখুস সিকাত নং ১৪৫৯), এবং তাহজিবুত তাহজিব-এর লেখক এটি উল্লেখ করেননি। এছাড়াও ইবনে হিব্বান তাকে আস-সিকাত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং একদল বর্ণনাকারী তার থেকে বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে মুহাম্মদ বিন জুহাদাহ, আসিম আল-আহওয়াল এবং যায়েদ বিন ইয়াদ অন্তর্ভুক্ত (তাহজিবুত তাহজিব ৮/ ২০৭)।

এবং ৫৮ নং হাদীসে তিরমিযী বলেছেন:

৫৮ - কুতাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আওয়ানা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়াফুর থেকে বর্ণিত, আমি আনাস বিন মালিককে চামড়ার মোজার (খুফ) উপর মাসেহ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই দুটির উপর মাসেহ করতেন। আমি মুহাম্মদ (বুখারী) কে এই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি বললেন: কুতাইবা বিন সাঈদ এতে ভুল করেছেন, আর আনাস থেকে সঠিকটি হলো মাওকুফ (সাহাবীর বক্তব্য) হিসেবে বর্ণিত হওয়া। আবু ইয়াফুরের নাম হলো ওয়াকিদ এবং তার উপাধি হলো ওয়াকদান।

আমি (অর্থাৎ আব্দুল হাকিম) বললাম: আর বুখারীর উক্তি "কুতাইবা বিন সাঈদ এতে ভুল করেছেন" - এই বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। কারণ নুআইম বিন হাইসাম এই সনদে কুতাইবার অনুসরণ (মুতাবায়াত) করেছেন। তাবারানি এটি আল-মু'জামুল আওসাত গ্রন্থে (৮/ ২৫৯ নং ৮৫৭২) শক্তিশালী সনদে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: মুয়াজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: নুআইম বিন হাইসাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু আওয়ানা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়াফুর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আনাস বিন মালিককে চামড়ার মোজার উপর মাসেহ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি বললেন "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই দুটির উপর মাসেহ করতেন"। আর ইবনে হিব্বান তার সহীহ গ্রন্থে (৬/ ৫৬৭ নং ৫৮৩০) এবং আদ-দিয়া আল-আহাদিসুল মুখতারা গ্রন্থে (৭/ ২৫৮ নং ২৭০৭) এটি মারফূ' (রাসূলের হাদীস) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৮)
وختام هذه الأمثلة حديث رقم 554، قال الترمذي:

554 - حدثنا ابن أبي عمر حدثنا سفيان حدثنا الزهري قال: أخبرني أبو بكر بن عبد الله بن عمر عن جده عبد الله بن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إذا أكل أحدكم فليأكل بيمينه» الحديث قال سفيان: فذكرت هذا الحديث لمعمر أريد أن أبلوه فأنظر كيف حفظه للحديث فقلت عمن سمعت من الزهري؟ فقال: عن سالم عن ابن عمر. فقلت: لا أخبرنيه الزهري عن أبي بكر بن عبد الله فقال معمر: إنما عرضناه عليه. قال أبو عيسى: كذا يقول ابن عيينة: عن أبي بكر بن عبد الله. وإنما هو أبو بكر بن عبيد الله بن عبد الله. سألت محمدا عن هذا الحديث فقال: روى مالك وعبيد الله بن عمر وابن عيينة عن الزهري عن أبي بكر وهو ابن عبيد الله بن عبد الله بن عمر عن ابن عمر. وروى عقيل ومعمر عن الزهري عن سالم عن أبيه وروى سفيان الثوري وابن وهب عن عمر بن محمد عن القاسم بن عبيد الله عن سالم عن ابن عمر هذا الحديث وزعموا أن القاسم بن عبيد الله كنيته أبو بكر فإن كان هذا صحيحا فإنه يصح حديث معمر وعقيل عن الزهري عن سالم عن أبيه. لأن أبا بكر بن عبيد الله بن عبد الله بن عمر لا يزعم في حديثه أنه سمع جده ابن عمر

قلت: قول البخاري "لأن أبا بكر بن عبيد الله بن عبد الله بن عمر لا يزعم في حديثه أنه سمع جده ابن عمر" فيه نظر فقد صرح أبو بكر بسماعه من جده ابن عمر فقد أخرج الحميدي بسند صحيح في مسنده (1/ 523 رقم 648) وقال: ثنا سفيان، قال: ثنا الزهري، قال: أخبرني أبو بكر بن عبيد الله بن عبد الله بن عمر، أنه سمع جده عبد الله بن عمر، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا أكل أحدكم
এই উদাহরণগুলোর সমাপ্তি হলো হাদিস নম্বর ৫৫৪, তিরমিজি বলেছেন:

৫৫৪ - ইবনে আবি উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জুহরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর আমাকে তাঁর দাদা আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন আহার করবে, সে যেন তার ডান হাত দিয়ে আহার করে» হাদিসটি। সুফিয়ান বলেন: আমি এই হাদিসটি মামারের কাছে উল্লেখ করলাম, আমি তাঁকে পরীক্ষা করতে চেয়েছিলাম এবং দেখতে চেয়েছিলাম তিনি হাদিসটি কীভাবে মুখস্থ রেখেছেন। তাই আমি বললাম: আপনি জুহরি থেকে কার মাধ্যমে এটি শুনেছেন? তিনি বললেন: সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে। তখন আমি বললাম: না, জুহরি আমাকে আবু বকর বিন আব্দুল্লাহর সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন। মামার বললেন: আমরা কেবল তাঁর (জুহরির) নিকট তা পেশ করেছিলাম। আবু ঈসা (তিরমিজি) বলেন: ইবনে উইয়ায়না এভাবেই বলেন: "আবু বকর বিন আব্দুল্লাহ থেকে।" কিন্তু মূলত তিনি হলেন আবু বকর বিন উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ। আমি মুহাম্মদকে (ইমাম বুখারি) এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: মালিক, উবাইদুল্লাহ বিন উমর এবং ইবনে উইয়ায়না জুহরি থেকে, তিনি আবু বকর থেকে বর্ণনা করেছেন—আর তিনি হলেন আবু বকর বিন উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর—তিনি ইবনে উমর থেকে। আর উকাইল ও মামার জুহরি থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং সুফিয়ান সাওরি ও ইবনে ওয়াহাব উমর বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি কাসিম বিন উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা দাবি করেছেন যে, কাসিম বিন উবাইদুল্লাহর উপনাম (কুনিয়াত) হলো আবু বকর। যদি এটি সঠিক হয়, তবে জুহরি থেকে সালিম ও তাঁর পিতার সূত্রে মামার ও উকাইলের বর্ণিত হাদিসটি সহিহ হবে। কারণ, আবু বকর বিন উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর তাঁর হাদিসে তাঁর দাদা ইবনে উমরের নিকট থেকে শোনার দাবি করেন না।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: বুখারির উক্তি "কেননা আবু বকর বিন উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর তাঁর হাদিসে তাঁর দাদা ইবনে উমরের নিকট থেকে শোনার দাবি করেন না"—তা পুনর্বিবেচনার অবকাশ রাখে। কারণ আবু বকর তাঁর দাদা ইবনে উমর থেকে শোনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আল-হুমায়দি তাঁর 'মুসনাদ'-এ (১/৫২৩, নম্বর ৬৪৮) সহিহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জুহরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর বিন উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর দাদা আব্দুল্লাহ বিন উমরকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন আহার করবে...»
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৯)
فليأكل بيمينه، وإذا شرب فليشرب بيمينه، فإن الشيطان يأكل بشماله ويشرب بشماله».

ولتسهيل الرجوع لهذه التعقبات فإني أرفق لكم هذا الجدول والذي يحتوي على أرقام الأحاديث التي وقفت عليها:

 

1، 2، 19، 28، 30، 32، 35، 41، 54، 58، 64، 72، 74، 76، 96، 143، 153، 159، 165، 166، 173، 175، 176، 179، 181، 190، 208، 214، 219، 228، 241، 259، 268، 274، 275، 294، 306، 309، 331، 345، 348، 351، 356، 357، 359، 361، 374، 394، 400، 412، 423، 442، 446، 450، 452، 455، 460، 463، 485، 512، 513، 522، 528، 532، 542، 554، 557، 562، 573، 600، 623، 644، 660، 661، 672، 674، 682، 700، 704، 707، 717

 

وفي الختام من كان عنده أي ملاحظة فلا يتردد بالتواصل معنا على:

هاتف: 97455557058+

البريد الإلكتروني:

123 takreeb@gmail.com

كتبه: عبد الحكيم صالح اليزيدي اليافعي

الدوحة - قطر

الكتاب في الجمعة، 28 رمضان 1446 هـ، الموافق 28 مارس 2025 م
সে যেন তার ডান হাত দিয়ে আহার করে, আর যখন পান করে তখন যেন তার ডান হাত দিয়েই পান করে; কেননা শয়তান বাম হাত দিয়ে আহার করে এবং বাম হাত দিয়ে পান করে।

এই পর্যালোচনাগুলোর প্রতি প্রত্যাবর্তন সহজ করার জন্য আমি আপনাদের জন্য এই সারণীটি সংযুক্ত করছি, যাতে আমার পর্যালোচিত হাদিসগুলোর নম্বরসমূহ রয়েছে:

 

১, ২, ১৯, ২৮, ৩০, ৩২, ৩৫, ৪১, ৫৪, ৫৮, ৬৪, ৭২, ৭৪, ৭৬, ৯৬, ১৪৩, ১৫৩, ১৫৯, ১৬৫, ১৬৬, ১৭৩, ১৭৫, ১৭৬, ১৭৯, ১৮১, ১৯০, ২০৮, ২১৪, ২১৯, ২২৮, ২৪১, ২৫৯, ২৬৮, ২৭৪, ২৭৫, ২৯৪, ৩০৬, ৩০৯, ৩৩১, ৩৪৫, ৩৪৮, ৩৫১, ৩৫৬, ৩৫৭, ৩৫৯, ৩৬১, ৩৭৪, ৩৯৪, ৪০০, ৪১২, ৪২৩, ৪৪২, ৪৪৬, ৪৫০, ৪৫২, ৪৫৫, ৪৬০, ৪৬৩, ৪৮৫, ৫১২, ৫১৩, ৫২২, ৫২৮, ৫৩২, ৫৪২, ৫৫৪, ৫৫৭, ৫৬২, ৫৭৩, ৬০০, ৬২৩, ৬৪৪, ৬৬০, ৬৬১, ৬৭২, ৬৭৪, ৬৮২, ৭০০, ৭০৪, ৭০৭, ৭১৭

 

পরিশেষে, যদি কারো কোনো মন্তব্য থাকে তবে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে দ্বিধা করবেন না এই ঠিকানায়:

ফোন: +৯৭৪৫৫৫৫৭০৫৮

ইমেইল:

123 takreeb@gmail.com

লিখেছেন: আব্দুল হাকিম সালেহ আল-ইয়াজিদি আল-ইয়াফেয়ী

দোহা - কাতার

পুস্তকটি সম্পন্ন হয়েছে শুক্রবার, ২৮ রমজান ১৪৪৬ হিজরি, মোতাবেক ২৮ মার্চ ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌باب ما جاء في فضل الطهور

1 - قال أبو عيسى الترمذي: سألت أبا عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري عن حديث مالك بن أنس عن زيد بن أسلم عن عطاء بن يسار عن عبد الله الصنابحي أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إذا توضأ العبد فتمضمض خرجت الخطايا من فيه» الحديث، فقال: مالك بن أنس وهم في هذا الحديث فقال: عبد الله الصنابحي، وهو أبو عبد الله الصنابحي واسمه عبد الرحمن بن عسيلة، ولم يسمع من النبي صلى الله عليه وسلم وهذا الحديث مرسل وعبد الرحمن هو الذي روى عن أبي بكر الصديق والصنابح بن الأعسر الأحمسي صاحب النبي صلى الله عليه وسلم، قال: قلت له: كم روى عن النبي صلى الله عليه وسلم؟ قال: حديثين حديثه عن النبي صلى الله عليه وسلم: «إني مكاثر بكم الأمم» وحديث آخر حديث الصدقة وليس هو عندي بصحيح رواه مجالد عن قيس عن الصنابح قال أبو عيسى: وإنما قال محمد: لا يصح حديث مجالد لأن إسماعيل بن أبي خالد رواه عن قيس أن النبي صلى الله عليه وسلم رأى في إبل الصدقة ناقة مسنة ولم يذكر عن الصنابح

قلت: قول البخاري "وهم مالك" لا يسلم به فقد توبع مالك على هذا الإسناد من قبل:

1. أبي غسان محمد بن طريف فقد أخرج البخاري في التاريخ الأوسط (1/ 166 رقم 762) وقال: قال عبد الله بن مسلمة عن مالك عن زيد عن عطاء بن يسار عن عبد الله الصنابحي عن النبي صلى الله عليه وسلم في الوضوء". ثم قال البخاري
পবিত্রতার ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার পরিচ্ছেদ

১ - আবু ঈসা আত-তিরমিযী বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল আল-বুখারীকে মালেক বিন আনাস-এর বর্ণিত হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, যা তিনি যায়েদ বিন আসলাম হতে, তিনি আতা বিন ইয়াসার হতে এবং তিনি আব্দুল্লাহ আস-সুনাবিহী হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন কোনো বান্দা ওযু করে এবং কুলি করে, তখন তার মুখ থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়..." (পুরো হাদীস)। তখন তিনি (বুখারী) বললেন: মালেক বিন আনাস এই হাদীসটির বর্ণনায় ভুল করেছেন। তিনি বলেছেন "আব্দুল্লাহ আস-সুনাবিহী", অথচ তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ আস-সুনাবিহী এবং তার নাম আব্দুর রহমান বিন উসাইলাহ; তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোনো হাদীস শোনেননি। এই হাদীসটি মুরসাল। আর এই আব্দুর রহমানই আবু বকর আস-সিদ্দীক থেকে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে আস-সুনাবিহ বিন আল-আসার আল-আহমাসী হলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবী। তিরমিযী বলেন: আমি তাকে (বুখারীকে) জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি (সাহাবী আস-সুনাবিহ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কয়টি হাদীস বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন: দুইটি হাদীস। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে তার বর্ণিত একটি হাদীস হলো: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে (অন্যান্য) উম্মতের সামনে গর্ব করব" এবং অন্যটি হলো সাদাকা বিষয়ক হাদীস, যা আমার নিকট সহীহ নয়; এটি মুজালিদ, কায়িস হতে এবং তিনি আস-সুনাবিহ হতে বর্ণনা করেছেন। আবু ঈসা বলেন: মুহাম্মদ (বুখারী) মূলত একারণেই মুজালিদ-এর হাদীসটিকে সহীহ বলেননি যে, ইসমাঈল বিন আবি খালিদ এটি কায়িস হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাকাতের উটের মধ্যে একটি বয়োবৃদ্ধ উটনী দেখেছিলেন এবং সেখানে তিনি আস-সুনাবিহ-এর কথা উল্লেখ করেননি।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: বুখারীর এই বক্তব্য যে "মালেক ভুল করেছেন" তা মেনে নেওয়া যায় না; কারণ এই সনদে ইতিপূর্বে নিম্নোক্ত ব্যক্তিগণ কর্তৃক মালেকের অনুসরণ (তাবে) করা হয়েছে:

১. আবু গাসসান মুহাম্মদ বিন তরীফ। বুখারী নিজেই এটি তার 'আত-তারীখ আল-আওসাত' (১/১৬৬ নং ৭৬২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "আব্দুল্লাহ বিন মাসলামাহ মালেক হতে, তিনি যায়েদ হতে, তিনি আতা বিন ইয়াসার হতে, তিনি আব্দুল্লাহ আস-সুনাবিহী হতে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে ওযু সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন।" অতঃপর বুখারী বললেন:
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১৩)
أيضاً (1/ 166 رقم 763): حدثني ابن أبي مريم عن أبي غسان عن زيد عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله". وكذلك قال البخاري في التاريخ الكبير "وتابعه ابن أبي مريم عن أبي غسان عن زيد" (6/ 411) والسهمي في تاريخ جرجان (صفحة: 92) وقال: حدثنا أبو بكر الإسماعيلي حدثنا أبو الحسن أحمد بن يوسف الجرجاني يعرف بالصابوني فقيه قاضي جرجان حدثنا عبد الله بن عبد الوهاب حدثنا سعيد بن أبي مريم حدثنا أبو غسان محمد بن مطرف عن زيد بن أسلم عن عطاء بن يسار عن عبد الله الصنابحي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم … الحديث" ورجال إسناده موثقون سوى قاضي جرجان أحمد بن يوسف فهو حسن الحديث فقد روى عنه الحافظان ابن عدي وأبو بكر الإسماعيلي (تاريخ جرجان: صفحة 92) وأورد أبو بكر أحمدَ بن يوسف في معجم شيوخه (1/ 382 رقم 53) وسكت عنه فهو محتج به عنده كما بين في مقدمة معجم شيوخه (1/ 309) ولم يرد فيه جرح،

2. وأيضاً محمد بن جعفر بن أبي كثير فيما أخرجه الواحدي بسند حسن في التفسير الوسيط (2/ 161) وقال: أخبرنا الأستاذ أبو طاهر الزيادي أخبرنا عمرو بن عبد الله البصري حدثنا أبو أحمد محمد بن عبد الوهاب أخبرنا خالد بن مخلد حدثنا محمد بن جعفر سمعت زيد بن أسلم قال: أخبرني عطاء بن يسار عن عبد الله الصنابحي قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم … الحديث"،

3. وأيضاً زهير بن محمد فقد أخرج ابن أبي خيثمة مختصراً بسند حسن في التاريخ الكبير - السفر الثاني (1/ 309 رقم 1156) وقال: حدثنا أبي قال حدثنا عامر عن زهير بن محمد عن زيد بن أسلم عن عطاء بن يسار عن عبد الله الصنابحي أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: من توضأ فاستنشق خرجت خطاياه من فيه وأنفه"،
আরও (১/ ১৬৬, নং ৭৬৩): ইবনে আবি মারইয়াম আবু গাসসান থেকে, তিনি যায়েদ থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। একইভাবে ইমাম বুখারি 'আত-তারিখুল কাবীর'-এ বলেছেন: "এবং ইবনে আবি মারইয়াম আবু গাসসান থেকে এবং তিনি যায়েদ থেকে তার অনুসরণ করেছেন" (৬/ ৪১১)। আস-সাহমি 'তারিখে জুরজান'-এ (পৃষ্ঠা: ৯২) বলেন: আবু বকর আল-ইসমাঈলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবুল হাসান আহমদ বিন ইউসুফ আল-জুরজানি—যিনি আস-সাবূনি নামে পরিচিত এবং জুরজানের ফকিহ ও কাজি (বিচারক)—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবদুল্লাহ বিন আবদুল ওয়াহহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সাঈদ বিন আবি মারইয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু গাসসান মুহাম্মদ বিন মুতাররিফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি যায়েদ বিন আসলাম থেকে, তিনি আতা বিন ইয়াসার থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন … (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)। এই সনদের বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য, কেবল জুরজানের কাজি আহমদ বিন ইউসুফ ব্যতীত; তিনি হাসান স্তরের হাদিস বর্ণনাকারী। হাফেজ ইবনে আদি এবং আবু বকর আল-ইসমাঈলি তার থেকে বর্ণনা করেছেন (তারিখে জুরজান: পৃষ্ঠা ৯২)। আবু বকর তার 'মু'জামু শুয়ুখ'-এ আহমদ বিন ইউসুফকে উল্লেখ করেছেন (১/ ৩৮২, নং ৫৩) এবং তার সম্পর্কে নীরব থেকেছেন, সুতরাং তিনি তার নিকট দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য যেমনটি তিনি তার 'মু'জামু শুয়ুখ'-এর ভূমিকায় (১/ ৩০৯) স্পষ্ট করেছেন, এবং তার ব্যাপারে কোনো সমালোচনা বর্ণিত হয়নি।

২. এবং মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আবি কাসির থেকেও বর্ণিত যা আল-ওয়াহিদি 'আত-তাফসিরুল ওয়াসিত'-এ (২/ ১৬১) হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: উস্তাদ আবু তাহির আজ-জিয়াদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমর বিন আবদুল্লাহ আল-বাসরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন খালিদ বিন মাখলাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ বিন জাফর আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি যায়েদ বিন আসলামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আতা বিন ইয়াসার আমাকে সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি … (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)।

৩. এবং জুহাইর বিন মুহাম্মদ থেকেও বর্ণিত। ইবনে আবি খাইসামা 'আত-তারিখুল কাবীর'—দ্বিতীয় খণ্ড (১/ ৩০৯, নং ১১৫৬)—এ হাসান সনদে সংক্ষিপ্তভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমির আমাদের নিকট জুহাইর বিন মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি যায়েদ বিন আসলাম থেকে, তিনি আতা বিন ইয়াসার থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি অজু করল এবং নাকে পানি দিয়ে ঝাড়ল, তার মুখ ও নাক থেকে তার গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়।"
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১৪)
كذا قال ابن خالد عن قيس: الصنابحي" وقال عطاء بن يسار: عبد الله الصنابحي".

وقلت: وأما قول البخاري "عبد الله الصنابحي وهو أبو عبد الله الصنابحي واسمه عبد الرحمن بن عسيلة ولم يسمع من النبي صلى الله عليه وسلم" فيه نظر فعبد الله الصنابحي صحابي فقد قال ابن معين "عبد الله الصنابحى يروى عنه المدنين له صحبة" و"عطاء بن يسار يروى عن عبد الله الصنابحي" (تاريخ ابن معين - رواية ابن محرز 2/ 153 والدوري 3/ 7 على التوالي) ويعضده ما أخرج أحمد بسند صحيح في مسنده (31/ 420 رقم 19070) وقال: حدثنا روح حدثنا مالك وزهير بن محمد قالا: حدثنا زيد بن أسلم عن عطاء بن يسار قال: سمعت عبد الله الصنابحي يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول … الحديث". وأما الاخر فقد قال الترمذي عنه "الصنابحي هذا الذي روى عن أبي بكر الصديق ليس له سماع من رسول الله صلى الله عليه وسلم واسمه عبد الرحمن بن عسيلة ويكنى: أبا عبد الله رحل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقبض النبي صلى الله عليه وسلم وهو في الطريق وقد روى عن النبي صلى الله عليه وسلم أحاديث" (جامع الترمذي 1/ 52 رقم 2) وأبو حاتم "لم تصح صحبته" (المراسيل 106/ 381) والعجلي "شامي ثقة تابعي من كبار التابعين" (تاريخ الثقات رقم 769) وأيضاً قال أحمد "ليست له صحبة" والبخاري "ولم يسمع من النبي صلى الله عليه وآله وسلم" (تهذيب التهذيب 6/ 91) والذهبي "أبو عبد الله عبد الرحمن بن عسيلة المرادي ثم الصنابحي" (سير أعلام النبلاء 4/ 483) وابن حجر "عبد الرحمن بن عسيلة كنيته أبو عبد الله لم يدرك النبي صلى الله عليه وسلم بل أرسل عنه وروى عن أبي بكر وغيره" (تهذيب التهذيب 6/ 229).
ইবনে খালিদ কাইস থেকে এভাবেই বলেছেন: "আস-সুনাবিহি"। আতা ইবনে ইয়াসার বলেছেন: "আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহি"৷

এবং আমি বলেছি: ইমাম বুখারীর উক্তি— "আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহি, আর তিনি হলেন আবু আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহি এবং তাঁর নাম আবদুর রহমান ইবনে আসিলাহ, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শোনেননি"—এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। কারণ আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহি একজন সাহাবী। ইবনে মাঈন বলেছেন, "আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহি থেকে মদিনাবাসীরা বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সাহাবিত্ব রয়েছে" এবং "আতা ইবনে ইয়াসার আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহি থেকে বর্ণনা করেছেন" (তারিখে ইবনে মাঈন - রেওয়ায়েত ইবনে মুহরিজ ২/ ১৫৩ এবং আদ-দাওরি ৩/ ৭ ধারাবাহিকভাবে)। এর সমর্থনে রয়েছে যা ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে (৩১/ ৪২০ নম্বর ১৯০৭০) সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: রূহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, মালিক এবং যুহাইর ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: যায়েদ ইবনে আসলাম আমাদের আতা ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি ... আল-হাদিস।" আর অপরজনের ব্যাপারে ইমাম তিরমিযী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, "এই আস-সুনাবিহি যিনি আবু বকর সিদ্দিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি শ্রবণ সাব্যস্ত নেই। তাঁর নাম আবদুর রহমান ইবনে আসিলাহ এবং তাঁর উপনাম হলো আবু আবদুল্লাহ। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে যাত্রা করেছিলেন, কিন্তু পথিমধ্যে থাকাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন। তবে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন" (জামে তিরমিযী ১/ ৫২ নম্বর ২)। আবু হাতিম বলেছেন, "তাঁর সাহাবিত্ব সহীহভাবে প্রমাণিত নয়" (আল-মারাসিল ১০৬/ ৩৮১)। আল-ইজলি বলেছেন, "তিনি একজন নির্ভরযোগ্য শামী তাবেয়ী, যিনি বড় তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত" (তারিখুস সিকাাত নম্বর ৭৬৯)। আরও ইমাম আহমদ বলেছেন, "তাঁর সাহাবিত্ব নেই", এবং ইমাম বুখারী বলেছেন, "তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি শোনেননি" (তাহযীবুত তাহযীব ৬/ ৯১)। আয-যাহাবী বলেছেন, "আবু আবদুল্লাহ আবদুর রহমান ইবনে আসিলাহ আল-মুরাদী অতঃপর আস-সুনাবিহি" (সিয়ারু আলামিন নুবালা ৪/ ৪৮৩)। ইবনে হাজার বলেছেন, "আবদুর রহমান ইবনে আসিলাহ, তাঁর উপনাম আবু আবদুল্লাহ, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাৎ পাননি, বরং তাঁর থেকে মুরসাল বর্ণনা করেছেন এবং আবু বকর ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন" (তাহযীবুত তাহযীব ৬/ ২২৯)।
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌مفتاح الصلاة الطهور

2 - قال أبو عيسى: سألت محمدا عن عبد الله بن محمد بن عقيل، قال: رأيت أحمد بن حنبل وإسحاق بن إبراهيم والحميدي يحتجون بحديثه وهو مقارب الحديث

قلت: عبد الله محمد بن عقيل صالح الحديث فقد قال ابن معين "لا يحتج بحديثه" وأحمد بن حنبل "منكر الحديث" ويعقوب بن شيبة "وابن عقيل صدوق وفي حديثه ضعف شديد جدا" وكان ابن عيينة "أربعة من قريش يترك حديثهم فذكره فيهم" وابن خزيمة "لا أحتج به لسوء حفظه" والعجلي "جائز الحديث" وابن عدي "يكتب حديثه" والخطيب "كان سيء الحفظ" (تهذيب التهذيب 6/ 14). وقال ابن عبد البر "هو أوثق من كل من تكلم فيه" وتعقبه ابن حجر في تهذيبه وقال "وهذا إفراط".

 

‌‌ما يقول إذا دخل الخلاء

3 - حدثنا محمد بن بشار حدثنا محمد بن جعفر وابن مهدي حدثنا شعبة عن قتادة عن النضر بن أنس عن زيد بن أرقم عن النبي صلى الله عليه وسلم قال "إن هذه الحشوش محتضرة فإذا دخل أحدكم الخلاء فليقل: اللهم إني أعوذ بك من الخبث والخبائث"، سألت محمدا عن هذا الحديث وقلت له: روى هشام الدستوائي مثل رواية سعيد بن أبي عروبة عن قتادة عن القاسم بن عوف الشيباني عن زيد بن أرقم أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن هذه الحشوش محتضرة ورواه معمر مثل ما روى شعبة عن قتادة عن النضر بن أنس عن زيد بن أرقم، قلت لمحمد:
নামাযের চাবিকাঠি হলো পবিত্রতা

২ - আবু ঈসা বলেন: আমি মুহাম্মদকে আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আকীল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি বললেন: আমি আহমাদ বিন হাম্বল, ইসহাক বিন ইব্রাহীম এবং হুমায়দীকে দেখেছি তারা তার হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেন এবং তার বর্ণিত হাদীসগুলো গ্রহণযোগ্যতার কাছাকাছি।

আমি বলছি: আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আকীল হাদীসের ক্ষেত্রে উত্তম, যদিও ইবনে মাঈন বলেছেন "তার হাদীস দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না" এবং আহমাদ বিন হাম্বল বলেছেন "তিনি মুনকারুল হাদীস" এবং ইয়াকুব বিন শাইবা বলেছেন "ইবনে আকীল সত্যবাদী কিন্তু তার হাদীসে অত্যন্ত প্রবল দুর্বলতা রয়েছে" এবং ইবনে উইয়াইনা কুরাইশ বংশের চারজন ব্যক্তি যাদের হাদীস ত্যাগ করা হয় তাদের মধ্যে তার নাম উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে খুজাইমা বলেছেন "তার মুখস্থ করার দুর্বলতার কারণে আমি তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করি না" এবং আজলী বলেছেন "তার হাদীস গ্রহণযোগ্য" এবং ইবনে আদী বলেছেন "তার হাদীস লিখে রাখা যায়" এবং আল-খাতিব বলেছেন "তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল ছিল" (তহজীবুত তহজীব ৬/ ১৪)। ইবনে আব্দুল বার বলেছেন "তিনি তার সম্পর্কে সমালোচনাকারীদের সবার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য" এবং ইবনে হাজার তার 'তহজীব' গ্রন্থে এর সমালোচনা করে বলেছেন "এটি একটি বাড়াবাড়ি।"

 

শৌচাগারে প্রবেশের সময় যা বলতে হয়

৩ - মুহাম্মদ বিন বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ বিন জাফর ও ইবনে মাহদী থেকে, তিনি শু’বা থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি নাজর বিন আনাস থেকে, তিনি যায়েদ বিন আরকাম থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই এই শৌচাগারগুলো (শয়তানদের দ্বারা) উপস্থিত থাকে, তাই তোমাদের কেউ যখন শৌচাগারে প্রবেশ করবে সে যেন বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট পুরুষ ও নারী শয়তানদের অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" আমি মুহাম্মদকে এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম এবং তাকে বললাম: হিশাম আদ-দাস্তুওয়ায়ী সাঈদ বিন আবি আরুবার বর্ণনার ন্যায় কাতাদাহ থেকে, তিনি কাসিম বিন আওফ আশ-শাইবানী থেকে এবং তিনি যায়েদ বিন আরকাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই শৌচাগারগুলো শয়তানদের উপস্থিত হওয়ার জায়গা।" আর মা’মার বর্ণনা করেছেন শু’বা যেভাবে কাতাদাহ থেকে, তিনি নাজর বিন আনাস থেকে এবং তিনি যায়েদ বিন আরকাম থেকে বর্ণনা করেছেন ঠিক সেভাবেই। আমি মুহাম্মদকে বললাম:
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১৬)
فأي الروايات عندك أصح؟ قال: لعل قتادة سمع منهما جميعا عن زيد بن أرقم ولم يقض في هذا بشيء

 

‌‌الرخصة في استقبال القبلة بغائط أو بول

4 - حدثنا قتيبة حدثنا ابن لهيعة عن أبي الزبير عن جابر عن أبي قتادة أنه رأى النبي صلى الله عليه وسلم يبول مستقبل القبلة.

 

5 - حدثنا محمد بن بشار حدثنا وهب بن جرير حدثنا أبي عن محمد بن إسحاق عن أبان بن صالح عن مجاهد عن جابر قال: نهى النبي صلى الله عليه وسلم أن نستقبل القبلة ببول فرأيته قبل أن يقبض بعام يستقبلها. سألت محمدا عن هذا الحديث، فقال: رواه غير واحد عن محمد بن إسحاق، قال أبو عيسى: والحديث الأول حديث جابر عن أبي قتادة ليس بمحفوظ

 

6 - حدثنا علي بن خشرم أخبرنا عيسى بن يونس عن أبي عبد الله عن خالد الحذاء عن عراك بن مالك عن عائشة قالت: ذكرت لرسول الله صلى الله عليه وسلم أن قوما يكرهون أن يستقبلوا القبلة بغائط أو بول فأمر بخلائه فاستقبل به القبلة" ورواه حماد بن سلمة عن خالد الحذاء عن خالد بن أبي الصلت قال: كنا عند عمر بن عبد العزيز فذكروا استقبال القبلة فقال عراك بن مالك: قالت عائشة ذكر عند النبي صلى الله عليه وسلم أن ناسا يكرهون أن يستقبلوا القبلة" الحديث فسألت محمدا عن هذا الحديث فقال: هذا حديث فيه اضطراب والصحيح عن عائشة قولها.

 

‌‌الرخصة في البول قائما

7 - حدثنا محمود بن غيلان حدثنا أبو داود أخبرنا شعبة عن عاصم ابن بهدلة قال: سمعت أبا وائل عن المغيرة بن شعبة أن النبي صلى الله عليه وسلم أتى سباطة قوم
আপনার কাছে কোন বর্ণনাটি অধিক সহীহ? তিনি বললেন: সম্ভবত কাতাদা তাদের উভয়ের থেকে যায়েদ ইবনে আরকাম এর সূত্রে শুনেছেন এবং তিনি এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।

 

‌‌মল বা মূত্রত্যাগের সময় কিবলামুখী হওয়ার অনুমতি

৪ - কুতাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইবনে লাহিয়াহ আমাদের নিকট আবুল জুবায়েরের সূত্রে, তিনি জাবিরের সূত্রে এবং তিনি আবু কাতাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিবলামুখী হয়ে প্রস্রাব করতে দেখেছেন।

 

৫ - মুহাম্মদ ইবনে বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াহাব ইবনে জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের সূত্রে, তিনি আবান ইবনে সালিহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে এবং তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্রাব করার সময় আমাদের কিবলামুখী হতে নিষেধ করেছেন, তবে তাঁর ওফাতের এক বছর আগে আমি তাঁকে কিবলামুখী হতে দেখেছি। আমি মুহাম্মদকে এই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: এটি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে একাধিক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন। আবু ঈসা বলেন: জাবিরের সূত্রে আবু কাতাদার প্রথম হাদীসটি সংরক্ষিত নয়।

 

৬ - আলী ইবনে খাশরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা ইবনে ইউনুস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহর সূত্রে, তিনি খালিদ আল-হাজ্জা থেকে, তিনি ইরাক ইবনে মালিক থেকে এবং তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উল্লেখ করা হলো যে, কিছু লোক মল বা মূত্রত্যাগের সময় কিবলামুখী হওয়া অপছন্দ করে। তখন তিনি তাঁর শৌচাগারটি (তৈরির) নির্দেশ দিলেন এবং তা কিবলামুখী করা হলো। হাম্মাদ ইবনে সালামাহ এটি খালিদ আল-হাজ্জা থেকে, তিনি খালিদ ইবনে আবিল সালত থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমরা উমর ইবনে আব্দুল আজিজের নিকট ছিলাম, তখন তারা কিবলামুখী হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন ইরাক ইবনে মালিক বললেন: আয়িশা (রা.) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উল্লেখ করা হয়েছে যে কিছু লোক কিবলামুখী হওয়া অপছন্দ করে... (হাদীসটি)। আমি মুহাম্মদকে এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: এই হাদীসটিতে ইজতিরাব (অসংগতি) রয়েছে এবং আয়িশার নিজস্ব উক্তিটিই সঠিক।

 

‌‌দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার অনুমতি

৭ - মাহমুদ ইবনে গাইলান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু’বা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আসিম ইবনে বাহদালার সূত্রে, তিনি বলেন: আমি আবু ওয়াইল থেকে এবং তিনি মুগীরা ইবনে শু'বা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সম্প্রদায়ের আবর্জনা ফেলার স্থানে আসলেন।
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১৭)
فبال قائما، قال شعبة: فلقيت منصورا فسألته فحدثني عن أبي وائل عن حذيفة، قال أبو عيسى: وروى حماد بن أبي سليمان عن أبي وائل عن المغيرة بن شعبة مثل رواية عاصم، والصحيح ما روى منصور والأعمش

 

‌‌في الاستتار عند الحاجة

8 - حدثنا قتيبة حدثنا عبد السلام بن حرب عن الأعمش عن أنس بن مالك قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا أراد الحاجة لم يرفع ثوبه حتى يدنو من الأرض، وقال وكيع: عن الأعمش قال: قال ابن عمر: كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا أراد الحاجة، وتابعه يحيى الحماني، فسألت محمدا عن هذا الحديث: أيهما أصح؟ فقال: كلاهما مرسل، ولم يقل: أيهما أصح

 

‌‌في الاستنجاء بالحجارة

9 - حدثنا هناد حدثنا عبدة عن هشام بن عروة عن عمرو بن خزيمة المدني عن عمارة بن خزيمة عن خزيمة بن ثابت قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «في الاستطابة ثلاثة أحجار ليس فيه رجيع». وقال وكيع: عن هشام عن أبي خزيمة عن عمارة بن خزيمة عن خزيمة بن ثابت عن النبي صلى الله عليه وسلم، وقال أبو معاوية: عن هشام بن عروة عن عبد الرحمن بن سعد عن عمرو بن خزيمة عن عمارة بن خزيمة عن خزيمة بن ثابت، وقال مالك بن أنس: عن هشام بن عروة عن أبيه عن النبي صلى الله عليه وسلم، فسألت محمدا عن هذا الحديث فقال: الصحيح ما روى عبدة ووكيع، وحديث مالك عن هشام بن عروة عن النبي صلى الله عليه وسلم صحيح أيضا، وأبو معاوية أخطأ في هذا الحديث إذ زاد عن عبد الرحمن بن سعد
তাই তিনি দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলেন। শু’বাহ বলেন: আমি মানসুরের সাথে দেখা করে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি হুযাইফাহ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করলেন। আবু ঈসা বলেন: হাম্মাদ বিন আবু সুলাইমান আবু ওয়াইল থেকে, তিনি মুগীরাহ বিন শু’বাহ থেকে আসিমের বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে মানসুর ও আল-আ’মাশ যা বর্ণনা করেছেন তা-ই সঠিক।

 

‌‌প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের সময় পর্দা করা প্রসঙ্গে

৮ - কুতাইবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুস সালাম বিন হারব আল-আ’মাশ থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রাকৃতিক প্রয়োজনে যেতেন, তখন মাটির নিকটবর্তী না হওয়া পর্যন্ত কাপড় তুলতেন না। ওয়াকী আল-আ’মাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে উমর বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রাকৃতিক প্রয়োজনে যেতেন... এবং ইয়াহইয়া আল-হিমানী তাঁর অনুসরণ করেছেন। আমি মুহাম্মাদকে এই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম: এ দুটির মধ্যে কোনটি বেশি সহীহ? তিনি বললেন: উভয়টিই মুরসাল; তিনি বলেননি কোনটি বেশি সহীহ।

 

‌‌পাথর দিয়ে ইসতিনজা করা প্রসঙ্গে

৯ - হান্নাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদাহ হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি আমর বিন খুযাইমাহ আল-মাদানী থেকে, তিনি উমারাহ বিন খুযাইমাহ থেকে, তিনি খুযাইমাহ বিন সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ইসতিনজার ক্ষেত্রে তিনটি পাথর ব্যবহার করতে হবে, যার মধ্যে গোবর থাকবে না»। ওয়াকী হিশাম থেকে, তিনি আবু খুযাইমাহ থেকে, তিনি উমারাহ বিন খুযাইমাহ থেকে, তিনি খুযাইমাহ বিন সাবিত থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু মুআবিয়াহ হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন সাদ থেকে, তিনি আমর বিন খুযাইমাহ থেকে, তিনি উমারাহ বিন খুযাইমাহ থেকে, তিনি খুযাইমাহ বিন সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন। মালিক বিন আনাস হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি মুহাম্মাদকে এই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আবদাহ এবং ওয়াকী যা বর্ণনা করেছেন তা-ই সহীহ। মালিকের হাদীসটি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাও সহীহ। আবু মুআবিয়াহ এই হাদীসে ভুল করেছেন, কেননা তিনি আবদুর রহমান বিন সাদের নাম বৃদ্ধি করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১৮)
10 - وسألت محمدا عن حديث خلاد بن السائب عن النبي صلى الله عليه وسلم في الاستنجاء فقال: لم أر أحدا رواه عن قتادة غير حماد بن الجعد وعبد الرحمن بن مهدي كان يتكلم في حماد بن الجعد

 

‌‌في الاستنجاء بالحجرين

11 - حدثنا قتيبة وهناد قالا: حدثنا وكيع عن إسرائيل عن أبي إسحاق عن أبي عبيدة عن عبد الله، قال: خرج النبي صلى الله عليه وسلم لحاجته فقال: «التمس لي ثلاثة أحجار» قال: فأتيته بحجرين وروثة، فأخذ الحجرين وألقى الروثة وقال: "إنها ركس"، وقال زهير: حدثنا أبو إسحاق قال: ليس أبو عبيدة ذكره ولكن عبد الرحمن بن الأسود عن أبيه قال: قال ابن مسعود: برز النبي صلى الله عليه وسلم للغائط، وقال زكريا بن أبي زائدة عن أبي إسحاق عن عبد الرحمن بن يزيد عن الأسود بن يزيد عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم، وقال معمر: عن أبي إسحاق عن علقمة عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم وتابعه عمار بن رزيق، فسألت محمدا عن هذا الحديث فقلت: أي الروايات عندك أصح في هذا الباب؟ فلم يقض فيه بشيء وكأنه رأى حديث زهير أصح ووضع حديث زهير في كتاب الجامع، وسألت عبد الله بن عبد الرحمن عن هذا فلم يقض فيه بشيء، قال أبو عيسى: رواية إسرائيل وقيس بن الربيع عن أبي إسحاق عن أبي عبيدة عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم في هذا هو عندي أشبه وأصح لأن إسرائيل أثبت في أبي إسحاق من هؤلاء وتابعه على ذلك قيس بن الربيع، وسمعت محمد بن المثنى يقول: سمعت عبد الرحمن بن مهدي يقول: ما فاتني الذي فاتني من حديث سفيان الثوري عن أبي إسحاق إلا لما اتكلت به على إسرائيل لأنه كان يأتي به أتم، قال أبو عيسى: وزهير في أبي
১০ - আমি মুহাম্মদকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত খাল্লাদ ইবন সাইবের ইস্তিনজা সংক্রান্ত হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: কাতাদাহ থেকে হাম্মাদ ইবন জা'দ ব্যতীত অন্য কাউকে আমি এটি বর্ণনা করতে দেখিনি। আর আবদুর রহমান ইবন মাহদী হাম্মাদ ইবন জা'দ সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করতেন।

 

‌‌দুটি পাথর দ্বারা ইস্তিনজা করার পরিচ্ছেদ

১১ - কুতায়বাহ ও হান্নাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: ওয়াকী’ আমাদের নিকট ইসরাঈলের সূত্রে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু উবায়দাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর প্রয়োজনে (শৌচকার্যে) বের হলেন এবং বললেন: "আমার জন্য তিনটি পাথর খুঁজে আনো।" তিনি (ইবন মাসউদ) বলেন: আমি তাঁর নিকট দুটি পাথর ও একটি গোবর নিয়ে এলাম। তিনি পাথর দুটি গ্রহণ করলেন এবং গোবরটি ফেলে দিলেন ও বললেন: "এটি অপবিত্র।" যুহায়র বলেছেন: আবু ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উবায়দাহ এটি উল্লেখ করেননি, বরং আবদুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবন মাসউদ বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মলত্যাগের জন্য বের হলেন। জাকারিয়া ইবন আবু যায়িদাহ আবু ইসহাকের সূত্রে, তিনি আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ থেকে, তিনি আসওয়াদ ইবন ইয়াযীদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। মা’মার আবু ইসহাকের সূত্রে, তিনি আলক্বামাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আম্মার ইবন রুজায়াক তাঁর অনুসরণ করেছেন। অতঃপর আমি মুহাম্মদকে এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম এবং বললাম: আপনার নিকট এই অধ্যায়ে কোন বর্ণনাটি অধিক সহীহ? তিনি এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেননি, তবে মনে হয় তিনি যুহায়রের বর্ণনাটিকে অধিক সহীহ মনে করতেন এবং তিনি যুহায়রের হাদীসটি তাঁর 'আল-জামি' গ্রন্থে স্থান দিয়েছেন। এবং আমি আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমানকেও এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনিও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি। আবু ঈসা বলেন: এই বিষয়ে ইসরাঈল ও কায়েস ইবনুর রাবী’র বর্ণনা—যা আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু উবায়দাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত—তা আমার নিকট অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সঠিক। কারণ ইসরাঈল আবু ইসহাকের বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁদের তুলনায় অধিক নির্ভরযোগ্য এবং কায়েস ইবনুর রাবী’ এ ব্যাপারে তাঁর অনুসরণ করেছেন। এবং আমি মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্নাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবদুর রহমান ইবন মাহদীকে বলতে শুনেছি: আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত সুফিয়ান সাওরী’র যে হাদীসগুলো আমার থেকে ছুটে গেছে, তা কেবল ইসরাঈলের ওপর নির্ভর করার কারণেই হয়েছে, কারণ তিনি এটি আরও পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করতেন। আবু ঈসা বলেন: আর আবু ইসহাকের বর্ণনার ক্ষেত্রে যুহায়র...
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১৯)
إسحاق ليس بذاك لأن سماعه من أبي إسحاق بأخرة وأبو إسحاق في آخر زمانه كان قد ساء حفظه، وسمعت أحمد بن الحسن يقول: سمعت أحمد بن حنبل يقول: إذا سمعت الحديث عن زائدة وزهير فلا تبالي أن لا تسمع من غيرهما إلا حديث أبي إسحاق.

 

‌‌كراهية البول في المغتسل

12 - حدثنا علي بن حجر أخبرنا ابن المبارك عن معمر عن أشعث عن الحسن عن عبد الله بن مغفل أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى أن يبول الرجل في مستحمه وقال: «إن عامة الوسواس منه» سألت محمدا عن هذا الحديث فقال: لا يعرف هذا الحديث إلا من هذا الوجه ويرون أن أشعث هذا هو ابن جابر الحداني وروى معمر فقال: عن أشعث بن عبد الله عن الحسن

 

‌‌في السواك

13 - حدثنا محمد بن العلاء حدثنا عبدة عن محمد بن عمرو عن أبي سلمة عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لولا أن أشق على المؤمنين لأمرتهم بالسواك عند كل صلاة»

 

14 - وقال محمد بن إسحاق عن محمد بن إبراهيم عن أبي سلمة عن زيد بن خالد الجهني قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لولا أن أشق على أمتي لأمرتهم بالسواك عند كل صلاة ولأخرت صلاة العشاء إلى ثلث الليل … » الحديث، فسألت محمدا عن هذا الحديث: أيهما أصح؟ فقال: حديث زيد بن خالد أصح، قال أبو عيسى: وحديث أبي سلمة عن أبي هريرة عندي هو صحيح
ইসহাক তেমন (নির্ভরযোগ্য) নন, কারণ আবু ইসহাক থেকে তার শ্রবণ ছিল শেষ বয়সে, আর আবু ইসহাক তার শেষ জীবনে স্মৃতিশক্তি হারিয়েছিলেন। এবং আমি আহমাদ ইবনুল হাসানকে বলতে শুনেছি: আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি: তুমি যদি যায়িদা এবং যুহাইর থেকে হাদিস শ্রবণ করো, তবে অন্য কারো থেকে তা না শুনলে পরোয়া করো না, তবে আবু ইসহাকের হাদিস ব্যতীত।

 

‌‌গোসলখানায় প্রস্রাব করার অপছন্দনীয়তা

১২ - আলী ইবনে হুজর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মামার থেকে, তিনি আশআছ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো ব্যক্তিকে তার গোসলের স্থানে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: «নিশ্চয়ই অধিকাংশ কুমন্ত্রণা এ থেকেই তৈরি হয়» আমি মুহাম্মদকে এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এই হাদিসটি এই সূত্র ব্যতিরেকে পরিচিত নয়। তারা মনে করেন যে, এই আশআছ হলেন ইবনে জাবির আল-হিদ্দানি। আর মামার বর্ণনা করে বলেছেন: আশআছ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে।

 

‌‌মিসওয়াক প্রসঙ্গে

১৩ - মুহাম্মদ ইবনুল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যদি আমি মুমিনদের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে অবশ্যই তাদের প্রত্যেক সালাতের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম»

 

১৪ - এবং মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যদি আমি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে অবশ্যই তাদের প্রত্যেক সালাতের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম এবং ইশার সালাতকে রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্বিত করতাম...» হাদিসটি। অতঃপর আমি মুহাম্মদকে এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম: এ দুটির মধ্যে কোনটি অধিক সহিহ? তিনি বললেন: যায়েদ ইবনে খালিদের হাদিসটি অধিক সহিহ। আবু ঈসা বলেন: আর আবু সালামাহ থেকে আবু হুরাইরার হাদিসটি আমার নিকট সহিহ।
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২০)
أيضا لأن هذا الحديث معروف من حديث أبي هريرة، وفي حديث أبي سلمة عن زيد بن خالد زيادة ما ليس في حديث أبي هريرة، وكلاهما عندي صحيح

 

‌‌ما جاء إذا استيقظ أحدكم من منامه فلا يغمس يده في الإناء حتى يغسلها

15 - حدثنا سفيان بن وكيع حدثنا عبد الله بن وهب عن يونس عن ابن شهاب عن سالم عن أبيه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا قمت من منامك فلا تضع يدك في الإناء حتى تفرغ عليه ثلاث مرات"، سألت محمدا عن هذا الحديث فقال: وهم فيه، إنما روى ابن وهب هذا عن جابر بن إسماعيل عن عقيل عن ابن شهاب عن سالم عن أبيه عن النبي صلى الله عليه وسلم

 

‌‌في التسمية عند الوضوء

16 - حدثنا نصر بن علي وبشر بن معاذ قالا: حدثنا بشر بن المفضل عن عبد الرحمن بن حرملة أبي حرملة عن أبي ثفال المري عن رباح بن عبد الرحمن بن أبي سفيان بن حويطب عن جدته عن أبيها قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لا وضوء لمن لم يذكر اسم الله عليه» فسألت محمدا عن هذا الحديث فقال: ليس في هذا الباب حديث أحسن عندي من هذا، ورباح بن عبد الرحمن بن أبي سفيان عن جدته عن أبيها أبوها سعيد بن زيد. قلت له: أبو ثفال المري ما اسمه؟ فلم يعرف اسمه وسألت الحسن بن علي الخلال فقال: اسمه ثمامة بن حصين، قال أبو عيسى رباح بن عبد الرحمن: هو أبو بكر بن حويطب فنسب إلى جده، وروى هذا الحديث وكيع عن حماد بن سلمة عن صدقة مولى
আরও কারণ এই হাদিসটি আবু হুরায়রার হাদিস হিসেবে পরিচিত, আর যায়েদ ইবনে খালিদ থেকে বর্ণিত আবু সালামার হাদিসে এমন কিছু বর্ধিত অংশ আছে যা আবু হুরায়রার হাদিসে নেই, এবং আমার কাছে উভয়টিই সহিহ।

 

‌‌তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে, তখন সে যেন পাত্রে হাত না ডুবায় যতক্ষণ না তা ধৌত করে—এ বিষয়ক অধ্যায়

১৫ - সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইউনুস থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সালেম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন তুমি তোমার ঘুম থেকে উঠবে, তখন পাত্রের উপর তিনবার পানি ঢালার আগে তোমার হাত তাতে রেখো না।" আমি মুহাম্মদকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এতে ভুল হয়েছে; মূলত ইবনে ওয়াহাব এটি জাবের ইবনে ইসমাইল থেকে, তিনি আকিল থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সালেম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌ওজুর শুরুতে আল্লাহর নাম নেওয়া (বিসমিল্লাহ বলা) প্রসঙ্গে

১৬ - নাসর ইবনে আলী এবং বিশর ইবনে মুয়ায আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: বিশর ইবনে মুফাদদাল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে হারমালা আবু হারমালা থেকে, তিনি আবু তুফাল আল-মুররি থেকে, তিনি রাবাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি সুফিয়ান ইবনে হুয়াইতিব থেকে, তিনি তাঁর দাদি থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "সেই ব্যক্তির ওজু (পূর্ণাঙ্গ) নেই যে তার ওপর আল্লাহর নাম নেয়নি।" আমি মুহাম্মদকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আমার কাছে এই অধ্যায়ে এর চেয়ে উত্তম কোনো হাদিস নেই। আর রাবাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি সুফিয়ান তাঁর দাদি থেকে এবং তাঁর দাদি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তাঁর পিতা হলেন সাঈদ ইবনে যায়েদ। আমি তাঁকে বললাম: আবু তুফাল আল-মুররির নাম কী? তিনি তাঁর নাম জানতে পারেননি। আর আমি হাসান ইবনে আলী আল-খাল্লালকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: তাঁর নাম সুমামা ইবনে হুসাইন। আবু ঈসা বলেন: রাবাহ ইবনে আবদুর রহমান হলেন মূলত আবু বকর ইবনে হুয়াইতিব, তাকে তার দাদার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। আর এই হাদিসটি ওয়াকি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে এবং তিনি সদকা মাওলা থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২১)
ابن الزبير عن أبي ثفال عن أبي بكر بن حويطب عن النبي صلى الله عليه وسلم، وهذا حديث مرسل

 

17 - حدثنا قتيبة حدثنا محمد بن موسى المخزومي عن يعقوب بن سلمة عن أبيه عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا وضوء لمن لم يذكر اسم الله عليه" فسألت محمدا عن هذا الحديث فقال: محمد بن موسى المخزومي لا بأس به مقارب الحديث، ويعقوب بن سلمة مدني لا يعرف له سماع من أبيه ولا يعرف لأبيه سماع من أبي هريرة، قال أبو عيسى: سمعت إسحاق بن منصور يقول: سمعت أحمد بن حنبل يقول: لا أعلم في هذا الباب حديثا له إسناد جيد

 

18 - حدثنا أحمد بن منيع حدثنا أبو أحمد الزبيري عن كثير بن زيد عن ربيح بن عبد الرحمن بن أبي سعيد عن أبيه عن أبي سعيد الخدري عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا وضوء لمن لم يذكر اسم الله عليه»، قال محمد:

 

‌‌في تخليل اللحية

19 - حدثنا يحيى بن موسى، حدثنا عبد الرزاق، عن إسرائيل، عن عامر بن شقيق، عن أبي وائل، عن عثمان، أن النبي صلى الله عليه وسلم خلل لحيته"، قال محمد: أصح شيء عندي في التخليل حديث عثمان، قلت: إنهم يتكلمون في هذا الحديث فقال: هو حسن

قلت: وأما كلام البخاري "أصح شيء عندي في التخليل حديث عثمان" فيه نظر لأمرين:

الأول: إسناد حديث عثمان هذا متكلم فيه كما قال الترمذي وعندما سُئل عنه ابن معين قال "ضعيف" (السفر الثالث لابن أبي خيثمة 3/ 187 رقم
ইবনুল জুবাইর আবু সুফাল থেকে, তিনি আবু বকর বিন হুয়াইতিব থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন; আর এটি একটি মুরসাল হাদীস।

 

১৭ - কুতাইবা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি মুহাম্মাদ বিন মুসা আল-মাখজুমি থেকে, তিনি ইয়াকুব বিন সালামা থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম উচ্চারণ করল না, তার ওযু হবে না।" আমি এই হাদীস সম্পর্কে মুহাম্মাদকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: মুহাম্মাদ বিন মুসা আল-মাখজুমি দোষণীয় নন, তার হাদীস গ্রহণযোগ্যতার নিকটবর্তী; কিন্তু ইয়াকুব বিন সালামা একজন মাদীনি রাবী, তার পিতার নিকট থেকে তার শ্রবণের বিষয়টি জানা যায় না এবং তার পিতারও আবু হুরায়রা থেকে শ্রবণের বিষয়টি জানা যায় না। আবু ঈসা বলেন: আমি ইসহাক বিন মানসুরকে বলতে শুনেছি যে, আমি আহমদ বিন হাম্বলকে বলতে শুনেছি: এই অধ্যায়ে এমন কোনো হাদীস আমার জানা নেই যার সনদ উত্তম।

 

১৮ - আহমদ বিন মানি' আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আবু আহমদ আজ-জুবাইরি থেকে, তিনি কাসীর বিন যাইদ থেকে, তিনি রাবীহ বিন আব্দুর রহমান বিন আবু সাঈদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম উচ্চারণ করল না, তার ওযু হবে না», মুহাম্মাদ বলেন:

 

‌‌দাড়ি খিলাল করা প্রসঙ্গে

১৯ - ইয়াহইয়া বিন মুসা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আব্দুর রাজ্জাক থেকে, তিনি ইসরাঈল থেকে, তিনি আমির বিন শাকিক থেকে, তিনি আবু ওয়ািল থেকে, তিনি উসমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দাড়ি খিলাল করেছেন।" মুহাম্মাদ বলেন: দাড়ি খিলাল করার ব্যাপারে আমার নিকট উসমানের হাদীসটি সবচেয়ে বিশুদ্ধ। আমি বললাম: তারা এই হাদীসটি নিয়ে কথা বলে (সমালোচনা করে)। তিনি বললেন: এটি হাসান (উত্তম)।

আমি বলছি: ইমাম বুখারীর এই কথা "দাড়ি খিলাল করার ব্যাপারে আমার নিকট উসমানের হাদীসটি সবচেয়ে বিশুদ্ধ"—এতে দুটি কারণে আপত্তির অবকাশ রয়েছে:

প্রথমত: উসমানের এই হাদীসের সনদটি সমালোচিত, যেমনটি তিরমিযী বলেছেন। আর যখন ইবনে মাঈনকে এটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন "এটি দুর্বল" (ইবনে আবি খাইসামার আস-সাফারুস সালিস ৩/১৮৭, নং...
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২২)
4416) وتعقب الذهبيُ الحاكم في قوله "هذا إسناد صحيح، قد احتجا بجميع رواته غير عامر بن شقيق، ولا أعلم في عامر بن شقيق طعنا بوجه من الوجوه" (المستدرك 1/ 249 رقم 527) فقال الذهبي "ضعفه ابن معين وله شاهد صحيح" وأبو حاتم "ليس بقوي" (الجرح والتعديل 6/ 322) وتكلم فيه أحمد بن حنبل (العلل ومعرفة الرجال رواية المروذي وغيره: صفحة 78) ولخص حاله ابن حجر وقال "لين الحديث" (تقريب التهذيب رقم 3093). ويدل على أنه متكلم فيه أن الترمذي وهو تلميذ البخاري لم يحسنه لذاته، بل قال "هذا حديث حسن صحيح" (جامع الترمذي 1/ 46 رقم 31)،

والثاني: جاء هذا الحديث بإسناد حسن من حديث عائشة وهو أصح من حديث عثمان هذا من جهة الإسناد ولكون عائشة من أهل بيته صلى الله عليه وسلم فقد أخرجه القاسم بن سلام بسند حسن في الطهور (348/ 314) وقال: ثنا حجاج عن شعبة عن عمر بن أبي وهب الخزاعي عن موسى بن ثروان العجلي عن طلحة بن عبيد الله بن كريز الخزاعي عن عائشة قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا توضأ خلل لحيته". وأيضاً أخرجه الحاكم بسند حسن في المستدرك (1/ 250 رقم 531) وقال: فحدثناه أبو بكر محمد بن داود بن سليمان ثنا محمد بن أيوب ثنا هلال بن فياض ثنا عمر بن أبي وهب عن موسى بن ثروان عن طلحة بن عبيد الله بن كريز عن عائشة رضي الله عنها قالت به" ثم قال الحاكم "وهذا شاهد صحيح في مسح باطن الأذنين" وقال ابن حجر عنه "وأما حديث عائشة: فرواه أحمد من رواية طلحة بن عبد الله بن كريز عنها. وإسناده حسن" (التلخيص الحبير 1/ 150).
৪৪১৬) আয-যাহাবি হাকিমের এই উক্তির ওপর পর্যালোচনা করেছেন যে, "এটি একটি সহিহ সনদ, তিনি আমের বিন শাকিক ব্যতীত এর সকল বর্ণনাকারীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন, এবং আমের বিন শাকিকের ব্যাপারে আমি কোনো প্রকার আপত্তি জানি না" (আল-মুস্তাদরাক ১/ ২৪৯, নম্বর ৫২৭)। অতঃপর যাহাবি বলেন, "ইবনে মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন এবং এর একটি সহিহ শাহেদ (সমর্থনমূলক বর্ণনা) রয়েছে।" এবং আবু হাতিম বলেন, "তিনি শক্তিশালী নন" (আল-জারহ ওয়াত তাদিল ৬/ ৩২২)। আহমদ ইবনে হাম্বলও তার সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন (আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল, মাররুজি ও অন্যদের বর্ণনা: পৃষ্ঠা ৭৮)। ইবনে হাজার তার অবস্থা সংক্ষেপে বর্ণনা করে বলেছেন, "তিনি হাদিস বর্ণনায় শিথিল" (তাকরিবুত তাহজিব, নম্বর ৩০৯৩)। তিনি যে সমালোচিত—তার একটি প্রমাণ হলো বুখারির ছাত্র তিরমিজি একে সরাসরি হাসান বলেননি, বরং বলেছেন "এটি একটি হাসান সহিহ হাদিস" (জামে তিরমিজি ১/ ৪৬, নম্বর ৩১),

দ্বিতীয়ত: এই হাদিসটি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বর্ণনা থেকে হাসান সনদে বর্ণিত হয়েছে, যা সনদের দিক থেকে উসমানের এই হাদিসের চেয়ে অধিক সহিহ। এছাড়া আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিবারভুক্ত। কাসেম বিন সাল্লাম 'আত-তুহুর' গ্রন্থে (৩৪৮/ ৩১৪) একটি হাসান সনদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাজ্জাজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শুবা থেকে, তিনি ওমর বিন আবি ওয়াহাব আল-খুজায়ি থেকে, তিনি মুসা বিন সারওয়ান আল-ইজলি থেকে, তিনি তালহা বিন উবায়দুল্লাহ বিন কারিজ আল-খুজায়ি থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অজু করতেন, তখন তাঁর দাড়ি খিলাল করতেন।" এছাড়াও হাকিম 'আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থে (১/ ২৫০, নম্বর ৫৩১) একটি হাসান সনদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আমাদের কাছে আবু বকর মুহাম্মদ বিন দাউদ বিন সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ বিন আইয়ুব থেকে, তিনি হিলাল বিন ফায়াজ থেকে, তিনি ওমর বিন আবি ওয়াহাব থেকে, তিনি মুসা বিন সারওয়ান থেকে, তিনি তালহা বিন উবায়দুল্লাহ বিন কারিজ থেকে, তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। অতঃপর হাকিম বলেন, "আর এটি কানের ভেতরের অংশ মাসেহ করার ক্ষেত্রে একটি সহিহ শাহেদ।" ইবনে হাজার এর ব্যাপারে বলেছেন, "আর আয়েশার হাদিসটি আহমদ তালহা বিন আব্দুল্লাহ বিন কারিজের সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ হাসান" (আত-তালখিসুল হাবির ১/ ১৫০)।
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২৩)
20 - حدثنا هناد حدثنا محمد بن عبيد عن واصل بن السائب عن أبي سورة عن أبي أيوب، أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا توضأ تمضمض ومس لحيته بالماء من تحتها سألت محمدا عن هذا الحديث فقال: هذا لا شيء، فقلت: أبو سورة ما اسمه؟ فقال: لا أدري ما يصنع به؟ عنده مناكير ولا يعرف له سماع من أبي أيوب، وقال أحمد: قال سفيان بن عيينة: لم يسمع عبد الكريم من حسان بن بلال حديث التخليل

 

‌‌في تخليل الأصابع

21 - حدثنا إبراهيم بن سعيد، حدثنا سعد بن عبد الحميد بن جعفر، عن ابن أبي الزناد، عن موسى بن عقبة، عن صالح مولى التوأمة، عن ابن عباس، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا قمت إلى الصلاة فأسبغ الوضوء واجعل الماء بين أصابع يديك ورجليك». سألت محمدا عن هذا الحديث فقال: هو حديث حسن، وموسى بن عقبة سمع من صالح مولى التوأمة قديما وكان أحمد يقول: من سمع من صالح قديما فسماعه حسن، ومن سمع منه أخيرا فكأنه يضعف سماعه، قال محمد: وابن أبي ذئب سماعه منه أخيرا، ويروي عنه مناكير

 

‌‌ما جاء: ويل للأعقاب من النار

22 - حدثنا ابن أبي عمر، حدثنا سفيان، عن ابن عجلان، عن سعيد المقبري، عن أبي سلمة بن عبد الرحمن، أن عبد الرحمن توضأ عند عائشة، فقالت: يا عبد الرحمن أسبغ الوضوء، فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ويل للأعقاب من النار».
২০ - হান্নাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি ওয়াসিল ইবনে সাইব থেকে, তিনি আবু সূরাহ থেকে, তিনি আবু আইয়ুব থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ওযু করতেন তখন তিনি কুলি করতেন এবং দাড়ির নিচ দিয়ে পানি দিয়ে তা মাসেহ (খিলাল) করতেন। আমি মুহাম্মাদকে এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এটি কিছুই নয় (অগ্রহণযোগ্য)। আমি বললাম: আবু সূরার নাম কী? তিনি বললেন: আমি জানি না তাকে নিয়ে কী করা যায়? তার কাছে অনেক প্রত্যাখ্যাত (মুনকার) হাদিস রয়েছে এবং আবু আইয়ুব থেকে তার হাদিস শোনার বিষয়টি প্রমাণিত নয়। আহমদ বলেন: সুফিয়ান ইবনে উয়ায়না বলেছেন: আব্দুল কারীম হাসান ইবনে বিলাল থেকে খিলাল সংক্রান্ত হাদিসটি শোনেননি।

 

আঙুলের খিলাল করা প্রসঙ্গে

২১ - ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সাদ ইবনে আব্দুল হামিদ ইবনে জাফর থেকে, তিনি ইবনে আবিয যিনাদ থেকে, তিনি মুসা ইবনে উকবা থেকে, তিনি তাওয়ামার মুক্তদাস সলিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন তুমি নামাজের জন্য দাঁড়াবে, তখন পূর্ণাঙ্গভাবে ওযু করো এবং তোমার দুই হাত ও দুই পায়ের আঙুলের মাঝে পানি পৌঁছে দাও (খিলাল করো)।” আমি মুহাম্মাদকে এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এটি একটি হাসান (উত্তম) হাদিস। মুসা ইবনে উকবা সলিহ মাওলা আত-তাওয়ামা থেকে অনেক আগে শুনেছেন। আর আহমদ বলতেন: যে ব্যক্তি সলিহ থেকে আগে শুনেছেন তার শোনা হাসান, আর যে ব্যক্তি তার থেকে শেষ বয়সে শুনেছেন তার শোনা দুর্বল বলে গণ্য। মুহাম্মাদ বলেন: ইবনে আবি যিব তার থেকে শেষ বয়সে শুনেছেন এবং তিনি তার থেকে অনেক প্রত্যাখ্যাত (মুনকার) হাদিস বর্ণনা করেন।

 

যা বর্ণিত হয়েছে: জাহান্নামের আগুনের কারণে গোড়ালিগুলোর জন্য দুর্ভোগ

২২ - ইবনে আবি উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি ইবনে আজলান থেকে, তিনি সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন যে, আব্দুর রহমান আয়েশা (রাযি.)-এর নিকট ওযু করলেন। তখন তিনি বললেন: হে আব্দুর রহমান, পূর্ণাঙ্গভাবে ওযু করো, কারণ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “জাহান্নামের আগুনের কারণে গোড়ালিগুলোর জন্য দুর্ভোগ।”
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২৪)
23 - حدثنا أبو الوليد الدمشقي حدثنا الوليد بن مسلم عن الأوزاعي عن يحيى بن أبي كثير عن سالم مولى دوس أنه سمع عائشة تقول لعبد الرحمن نحوه.

 

24 - وقال أيوب بن عتبة، عن يحيى بن أبي كثير، عن أبي سلمة، عن معيقيب، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه، فسألت محمدا عن هذا الحديث، فقال: حديث أبي سلمة، عن عائشة حديث حسن، وحديث سالم مولى دوس عن عائشة حديث حسن، وحديث أبي سلمة عن معيقيب ليس بشيء، كان أيوب لا يعرف صحيح حديثه من سقيمه، فلا أحدث عنه، وضعف أيوب بن عتبة جدا. قال محمد: وحديث أبي عبد الله الأشعري: «ويل للأعقاب من النار» هو حديث حسن

 

‌‌في الوضوء ثلاثا ثلاثا".

25 - حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا عثمان بن عمر، قال: حدثنا فليح بن سليمان، عن سعيد بن الحارث، عن خارجة بن زيد بن ثابت، عن زيد بن ثابت، أن عثمان، توضأ ثلاثا ثلاثا وقال: هكذا رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم توضأ، سألت محمدا عن هذا الحديث فقال: هو حديث حسن قال أبو عيسى: هو غريب من هذا الوجه

 

‌‌في الوضوء مرة ومرتين وثلاثا

26 - حدثنا إسماعيل بن موسى الفزاري، حدثنا شريك، عن ثابت بن أبي صفية وهو أبو حمزة الثمالي قال: قلت لأبي جعفر: حدثك جابر، أن النبي صلى الله عليه وسلم توضأ مرة مرة، ومرتين مرتين، وثلاثا ثلاثا؟ قال: نعم"، وقال وكيع: مرة مرة
২৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-ওয়ালিদ আদ-দিমাশকী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম, তিনি আওযাঈ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি দাউস গোত্রের মুক্তদাস সালিম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আয়িশাকে আবদুর রহমানের উদ্দেশ্যে অনুরূপ বলতে শুনেছেন।

 

২৪ - এবং আইয়ুব ইবনে উতবা ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি মুআইকিব থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আমি এই হাদিসটি সম্পর্কে মুহাম্মদকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: আয়িশা থেকে বর্ণিত আবু সালামাহর হাদিসটি হাসান, এবং আয়িশা থেকে বর্ণিত দাউস গোত্রের মুক্তদাস সালিমের হাদিসটিও হাসান। তবে মুআইকিব থেকে বর্ণিত আবু সালামাহর হাদিসটি কোনো নির্ভরযোগ্য বিষয় নয়; আইয়ুব তার বর্ণিত হাদিসের মধ্য থেকে সহিহ এবং দুর্বল হাদিসের পার্থক্য করতে পারতেন না, তাই আমি তার থেকে হাদিস বর্ণনা করি না। আর আইয়ুব ইবনে উতবাকে অত্যন্ত দুর্বল সাব্যস্ত করা হয়েছে। মুহাম্মদ বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আল-আশআরী বর্ণিত হাদিস—"পায়ের গোড়ালিগুলোর জন্য আগুনের শাস্তি রয়েছে"—হাসান হাদিস।

 

‌‌তিনবার করে ওজু করা প্রসঙ্গে।

২৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-মুসান্না, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে উমর, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফালিহ ইবনে সুলাইমান, তিনি সাঈদ ইবনে আল-হারিস থেকে, তিনি খারিজা ইবনে যায়েদ ইবনে সাবিত থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা করেন যে, উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তিনবার করে ওজু করেছেন এবং বললেন: আমি রাসূলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এভাবেই ওজু করতে দেখেছি। আমি এই হাদিসটি সম্পর্কে মুহাম্মদকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: এটি হাসান হাদিস। আবু ঈসা বলেন: এই সনদে হাদিসটি গরিব।

 

‌‌একবার, দুইবার এবং তিনবার ওজু করা প্রসঙ্গে

২৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে মুসা আল-ফাযারী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শারীক, সাবিত ইবনে আবি সাফিয়্যা থেকে—যিনি আবু হামজা আস-সুমালী—তিনি বলেন: আমি আবু জাফরকে বললাম: জাবির কি আপনাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একবার একবার করে, দুইবার দুইবার করে এবং তিনবার তিনবার করে ওজু করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। এবং ওয়াকি' বলেছেন: একবার একবার করে।
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২৫)
فقط. فسألت محمدا عن هذا الحديث فقال: الصحيح ما رواه وكيع عن أبي حمزة. وحديث شريك ليس بصحيح، قال محمد: وحديث أبي رافع في هذا الباب فيه اضطراب

 

‌‌في النضح بعد الوضوء

27 - قال أبو عيسى: سألت محمدا عن حديث، منصور، عن مجاهد، عن الحكم بن سفيان أو أبي الحكم أو سفيان بن الحكم أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا توضأ وفرغ من وضوئه أخذ كفا من ماء فرشه تحته، فقال: الصحيح ما روى شعبة ووهيب وقالا: عن أبيه، وربما قال ابن عيينة في هذا الحديث: عن أبيه، وقال شعبة عن الحكم أو أبي الحكم، عن أبيه، قال محمد: وقال بعض ولد الحكم بن سفيان: إن الحكم لم يدرك النبي صلى الله عليه وسلم ولم يره

 

‌‌في إسباغ الوضوء

28 - حدثنا قتيبة حدثنا وكيع عن سفيان عن أبي جهضم عن عبيد الله بن عبد الله بن عباس عن ابن عباس قال: أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم بإسباغ الوضوء، سألت محمدا عن هذا الحديث فقال: حديث سفيان الثوري وهم وهم فيه سفيان، فقال: عن عبيد الله بن عبد الله بن عباس، والصحيح عبد الله بن عبيد الله بن عباس

قلت: قول البخاري "حديث سفيان الثوري وهم وهم فيه سفيان" في قوله "عن عبيد الله بن عبد الله بن عباس" فيه نظر فقد توبع الثوري على هذا القول من قبل:
কেবল। এরপর আমি এই হাদীসটি সম্পর্কে মুহাম্মদকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: সহীহ হলো সেটি যা ওয়াকী আবু হামযাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর শরীকের হাদীসটি সহীহ নয়। মুহাম্মদ বললেন: এই অনুচ্ছেদে আবু রাফে-এর হাদীসে ইযতিরাব (অসংগতি) রয়েছে।

 

‌‌ওযুর পর পানি ছিটানো প্রসঙ্গে

২৭ - আবু ঈসা বলেন: আমি মুহাম্মদকে মানসুর কর্তৃক বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, যা তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি হাকাম ইবনে সুফিয়ান অথবা আবু হাকাম অথবা সুফিয়ান ইবনে হাকাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ওযু করতেন এবং ওযু শেষ করতেন, তখন এক আঁজলা পানি নিয়ে তা তাঁর লজ্জাস্থানের কাপড়ে ছিটিয়ে দিতেন। তিনি (ইমাম বুখারী) বললেন: সহীহ হলো যা শু'বাহ ও ওুহাইব বর্ণনা করেছেন এবং তারা বলেছেন: তাঁর পিতা থেকে। আর কখনও ইবনে উয়াইনা এই হাদীসে বলেছেন: তাঁর পিতা থেকে। শু'বাহ হাকাম অথবা আবু হাকাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ বলেন: হাকাম ইবনে সুফিয়ানের বংশধরদের কেউ কেউ বলেছেন যে, হাকাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাননি এবং তাঁকে দেখেননি।

 

‌‌ওযু পরিপূর্ণ করা প্রসঙ্গে

২৮ - কুতাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু জাহযাম থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ওযু পরিপূর্ণ করার আদেশ দিয়েছেন। আমি মুহাম্মদকে এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেন: সুফিয়ান আস-সাওরীর হাদীসে একটি ভ্রম (ওয়াহম) ঘটেছে যা সুফিয়ান করেছেন। তিনি বলেছেন: উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে, অথচ সহীহ হলো আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্বাস।

আমি বলছি: ইমাম বুখারীর বক্তব্য "সুফিয়ান আস-সাওরীর হাদীসে ভ্রম ঘটেছে" এই বিষয়ে যে তিনি "উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস" বলেছেন, এটি বিবেচনার অবকাশ রাখে। কারণ সাওরীকে এই বর্ণনায় অন্যরাও অনুসরণ করেছেন:
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২৬)
أ. حماد بن زيد وأخوه سعيد بن زيد فقد أخرج الطحاوي بسند صحيح في شرح معاني الاثار (2/ 4 رقم 2956 و 2957) وقال: حدثنا ربيع المؤذن قال: ثنا أسد قال: ثنا سعيد وحماد ابنا زيد عن أبي جهضم موسى بن سالم عن عبيد الله بن عبد الله بن عباس رضي الله عنهم، قال: دخلنا على ابن عباس رضي الله عنهما فقال … الحديث". ثم قال الطحاوي: حدثنا أحمد بن داود قال: ثنا سليمان بن حرب قال: ثنا حماد بن زيد عن أبي جهضم فذكر بإسناده مثله"،

ب. وحماد بن سلمة فقد أخرج أبو داود الطيالسي بسند صحيح في مسنده (4/ 330 رقم 2723) وقال: حدثنا حماد بن سلمة عن أبي جهضم موسى بن سالم عن عبيد الله بن عبد الله بن عباس عن أبيه … الحديث"،

ت. ومرجئ بن رجاء فقد أخرج الطحاوي بسند حسن في شرح مشكل الأثار (1/ 211 رقم 229) وقال: إبراهيم بن أبي داود حدثنا أبو عمر الحوضي حدثنا مرجى بن رجاء حدثنا أبو جهضم حدثني عبيد الله بن عبد الله عن ابن عباس … الحديث". وهذا إسناده رجاله ثقات وإن تُكلم في مرجئ فهو حسن الحديث فقد قال عنه يعقوب بن سفيان "لا بأس به" (المعرفة والتاريخ 2/ 120) وابن معين "ليس به بأس" (رواية الدوري رقم 3266) ولم يذكر ذلك صاحب تهذيب التهذيب. وأيضاً قال أبو زرعة والدارقطني "ثقة" وروى عنه الثقات الأثبات منهم حفص بن عمر الأزدي وهاشم بن القاسم أبو النضر (تهذيب التهذيب 10/ 83). وأخرج له أبو عوانة في مستخرجه (2/ 473) وابن خزيمة في صحيحه (2/ 342 رقم 1429). واختلفت أقوال ابن معين فيه بين توثيق وتضعيف فالقول لأبي زرعة والفسوي. وأما قول ابن عدي في كامله (1929) "له أحاديث وفى بعضها ما لا يتابع عليه" فقد وثق. وبتتبع أسانيد
ক. হাম্মাদ ইবনে যায়েদ এবং তার ভাই সাঈদ ইবনে যায়েদ। ইমাম তাহাবী শারহু মা'আনিল আসার গ্রন্থে (২/ ৪ নং ২৯৫৬ ও ২৯৫৭) সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "রবীউল মুয়াযযিন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যায়েদের দুই পুত্র সাঈদ ও হাম্মাদ আবু জাহদাম মূসা ইবনে সালিম থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তিনি বললেন ... হাদীসটি।" অতঃপর তাহাবী বলেন: "আহমাদ ইবনে দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে যায়েদ আবু জাহদাম থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি তার সনদে অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।"

খ. এবং হাম্মাদ ইবনে সালামাহ। আবু দাউদ তায়ালিসী তার মুসনাদ গ্রন্থে (৪/ ৩৩০ নং ২৭২৩) সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট আবু জাহদাম মূসা ইবনে সালিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন ... হাদীসটি।"

গ. এবং মুরজী ইবনে রাজা। ইমাম তাহাবী শারহু মুশকিলিল আসার গ্রন্থে (১/ ২১১ নং ২২৯) হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "ইব্রাহীম ইবনে আবি দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উমর আল-হাওযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুরজী ইবনে রাজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু জাহদাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ... হাদীসটি।" আর এটি এমন একটি সনদ যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), যদিও মুরজী সম্পর্কে কিছু কথা রয়েছে তবুও তিনি হাদীস বর্ণনায় হাসান স্তরের। ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান তার সম্পর্কে বলেছেন "তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই" (আল-মা'রিফাতু ওয়াত তারিখ ২/ ১২০) এবং ইবনে মাঈন বলেছেন "তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই" (রিওয়ায়াতুদ দাউরী নং ৩২৬৬), তবে তাহযীবুত তাহযীবের লেখক এটি উল্লেখ করেননি। এছাড়াও আবু যুরআহ এবং দারাকুতনী তাকে "নির্ভরযোগ্য" (সিকাহ) বলেছেন এবং হাফস ইবনে উমর আল-আযদি ও হাশিম ইবনে আল-কাসিম আবু আন-নাদরের মতো নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারীগণ তার থেকে বর্ণনা করেছেন (তাহযীবুত তাহযীব ১০/ ৮৩)। আবু আওয়ানা তার মুস্তাখরাজ গ্রন্থে (২/ ৪৭৩) এবং ইবনে খুযাইমা তার সহীহ গ্রন্থে (২/ ৩৪২ নং ১৪২৯) তার হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার ব্যাপারে ইবনে মাঈনের উক্তি নির্ভরযোগ্য বলা এবং দুর্বল বলার মাঝে ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে, এমতাবস্থায় আবু যুরআহ এবং আল-ফাসভীর বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য হবে। আর ইবনে আদি তার আল-কামিল গ্রন্থে (১৯২৯) যা বলেছেন যে, "তার কিছু হাদীস রয়েছে যার কোনো কোনোটিতে তাকে অনুসরণ করা হয় না", তিনি নির্ভরযোগ্য হিসেবেই বিবেচিত। আর সনদগুলো অনুসরণের মাধ্যমে...
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২৭)
حديثه في الكامل في ضعفاء الرجال (1929) وغيره فقد أكثر مرجى عن جمع من الضعفاء: محمد بن عبيد العرزمي وأبو سعيد البقال ومحمد بن الزبير الحنظلي.

 

‌‌الوضوء لكل صلاة

29 - حدثنا محمد بن حميد الرازي حدثنا سلمة بن الفضل عن محمد بن إسحاق عن حميد عن أنس بن مالك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يتوضأ لكل صلاة، فقلت لأنس: فكيف تصنعون أنتم؟ فقال: نتوضأ وضوءا واحدا. سألت محمدا عن هذا الحديث فقال: لا أدري ما سلمة هذا كان إسحاق يتكلم فيه ما أروي عنه. ولم يعرف محمد هذا من حديث حميد. ورأيت محمدا يثني على الإفريقي خيرا ويقوي أمره، يعني: عبد الرحمن بن زياد

 

‌‌في وضوء الرجل والمرأة من إناء واحد

30 - حدثنا محمد بن بشار حدثنا يحيى بن سعيد عن أسامة بن زيد عن سالم بن خربوذ أبي النعمان عن أم صبية قالت: ربما اختلفت يدي ويد رسول الله صلى الله عليه وسلم في الوضوء من إناء واحد. وهكذا روى أبو أسامة وغير واحد عن أسامة بن زيد، وقال وكيع: عن أسامة بن زيد عن النعمان بن خربوذ قال: سمعت أم صبية: ربما اختلفت يدي، فسألت محمدا عن هذا الحديث فقال: وهم وكيع، والصحيح عن أسامة بن زيد عن سالم بن خربوذ أبي النعمان، قلت لمحمد: روى هذا الحديث قبيصة عن سفيان عن أسامة فقال: عن أم صفية فقال: أخطأ فيه قبيصة حدثنا محمد بن يوسف عن سفيان، وقال: أم صبية قال محمد: وهي خولة بنت قيس
আল-কামিল ফি দুয়াফা ইর-রিজাল (১৯২৯) এবং অন্যান্য গ্রন্থে তার বর্ণনা রয়েছে। মুরজি দুর্বল বর্ণনাকারীদের একটি দল থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন, যেমন: মুহাম্মদ ইবন উবাইদ আল-আরজামি, আবু সাঈদ আল-বাক্কাল এবং মুহাম্মদ ইবনুল জুবাইর আল-হানজালি।

 

‌‌প্রত্যেক সালাতের জন্য অজু করা

২৯ - মুহাম্মদ ইবন হুমাইদ আর-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালামাহ ইবনুল ফাদল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন ইসহাক থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতিটি সালাতের জন্য অজু করতেন। আমি আনাসকে জিজ্ঞেস করলাম: তবে আপনারা কী করতেন? তিনি বললেন: আমরা একটি অজু দিয়েই (একাধিক সালাত) আদায় করতাম। আমি মুহাম্মদকে (ইমাম বুখারি) এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: আমি জানি না এই সালামাহ কে, ইসহাক তার সমালোচনা করতেন, আমি তার থেকে বর্ণনা করি না। মুহাম্মদ হুমাইদের এই হাদিসটি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। আমি মুহাম্মদকে আল-ইফ্রিকি অর্থাৎ আব্দুর রহমান ইবন জিয়াদ সম্পর্কে ইতিবাচক প্রশংসা করতে এবং তার বিষয়টিকে শক্তিশালী হিসেবে গণ্য করতে দেখেছি।

 

‌‌একই পাত্র থেকে নারী ও পুরুষের অজু করা প্রসঙ্গে

৩০ - মুহাম্মদ ইবন বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসামাহ ইবন যাইদ থেকে, তিনি সালিম ইবন খারবুজ আবুন নুমান থেকে, তিনি উম্মু সাবিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: অজু করার সময় একই পাত্রে আমার হাত এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাত বারবার যাতায়াত করত। আবু উসামাহ এবং আরও অনেকে উসামাহ ইবন যাইদ থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। ওয়াকি উসামাহ ইবন যাইদ থেকে, তিনি নুমান ইবন খারবুজ থেকে বর্ণনা করে বলেছেন: আমি উম্মু সাবিয়্যাহকে বলতে শুনেছি: আমার হাত বারবার (পাত্রে) যাতায়াত করত। আমি মুহাম্মদকে এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: ওয়াকি ভুল করেছেন, সঠিক হলো উসামাহ ইবন যাইদ থেকে, তিনি সালিম ইবন খারবুজ আবুন নুমান থেকে। আমি মুহাম্মদকে বললাম: কাবিসাহ এই হাদিসটি সুফিয়ান থেকে, তিনি উসামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে ‘উম্মু সাফিয়্যাহ’ বলেছেন। তিনি বললেন: কাবিসাহ এতে ভুল করেছেন; মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ আমাদের নিকট সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ‘উম্মু সাবিয়্যাহ’ বলেছেন। মুহাম্মদ বলেন: তিনি হলেন খাওলা বিনতে কাইস।
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২৮)
قلت: قول البخاري "وهم وكيع" في قوله "عن النعمان بن خربوذ" والذي وافق أبو حاتم البخاري (علل ابن أبي حاتم 1/ 634 رقم 161) لا يسلم به لأن الحفاظ رووه عن أسامة بن زيد واضطرب أسامة في اسم سالم وعليه فالحمل على أسامة بن زيد الليثي أولى فهو صدوق يهم (تقريب التهذيب رقم 317) فلا يتأتى أن الحفاظ أخطأوا مع من تابعهم بينما أصاب أسامة بن زيد وحده وهو دونهم في الحفظ بلا شك. فالحمل على أسامة أولى. ويعضده أن مرةً قال أسامة: سالم بن خربوذ. رواه يحيى القطان عن أسامة بن زيد عن سالم بن خربوذ (العلل الكبير رقم 30) وقال البخاري رواه أبو أسامة وغيره عن أسامة. ومرةً قال أسامة: عن سالم بن النعمان. رواه عيسى بن يونس وابن وهب وقبيصة بن عقبة عن أسامة عن سالم بن النعمان. فقد أخرج الطبراني بسند صحيح في المعجم الكبير (4/ 235 رقم 596) وقال: حدثنا علي بن عبد العزيز ثنا ابن الأصبهاني ثنا عيسى بن يونس عن أسامة بن زيد، ح، وحدثنا إسماعيل بن الحسن الخفاف المصري ثنا أحمد بن صالح ثنا ابن وهب أخبرني أسامة بن زيد عن سالم بن النعمان عن أم صبية الجهنية قالت … الحديث" وأيضاً أخرج الطبراني بسند حسن في المعجم الطبراني (24/ 263 رقم 599) وقال: حدثنا حفص بن عمر بن الصباح الرقي ثنا قبيصة بن عقبة ثنا سفيان عن أسامة بن زيد عن سالم بن النعمان عن امرأة من جهينة يقال لها أم صبية … الحديث"، قال أبو زرعة "الصحيح حديث ابن وهب. وسالم ابن النعمان" (علل ابن أبي حاتم 1/ 634 رقم 161) بينما خالفه البخاري في التاريخ الكبير (5/ 149) فقال "سالم بن سرج ويقال ابن خربوذ أبو النعمان. وقال بعضهم ابن النعمان ولم يصح".
আমি বলি: ইমাম বুখারীর বক্তব্য "ওয়াকী ভুল করেছেন" তাঁর এই কথার ক্ষেত্রে যে "নুমান ইবনে খারবুজ থেকে বর্ণিত", এবং যে ব্যাপারে আবু হাতিম ইমাম বুখারীর সাথে একমত হয়েছেন (ইলাল ইবনে আবি হাতিম ১/৬৩৪, নং ১৬১), তা মেনে নেওয়া যায় না। কারণ হাফেজগণ এটি উসামা ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং উসামা 'সালিম' এর নামের ব্যাপারে বিভ্রান্তিতে (ইদতিরাব) ছিলেন। এমতাবস্থায়, এর দায়ভার উসামা ইবনে যায়েদ আল-লাইসীর ওপর চাপানোই অধিকতর যুক্তিসঙ্গত, কারণ তিনি সত্যবাদী হলেও ভুল করতেন (তাকরীবুত তাহযীব নং ৩১৭)। সুতরাং এটা সম্ভব নয় যে, হাফেজগণ এবং তাঁদের অনুসারীরা ভুল করেছেন, আর কেবল উসামা ইবনে যায়েদ একাই সঠিক ছিলেন, অথচ তিনি মুখস্থ শক্তির দিক থেকে নিঃসন্দেহে তাঁদের চেয়ে নিম্নস্তরের। তাই দায়ভার উসামার ওপর চাপানোই উত্তম। এর স্বপক্ষে প্রমাণ এই যে, উসামা একবার বলেছেন: সালিম ইবনে খারবুজ। ইয়াহইয়া আল-কাত্তান উসামা ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি সালিম ইবনে খারবুজ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন (আল-ইলাল আল-কাবীর নং ৩০)। ইমাম বুখারী বলেছেন যে, আবু উসামা এবং অন্যরা উসামা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আবার অন্য সময় উসামা বলেছেন: সালিম ইবনে নুমান থেকে। ঈসা ইবনে ইউনুস, ইবনে ওয়াহাব এবং কাবিাসা ইবনে উকবা উসামা থেকে, তিনি সালিম ইবনে নুমান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তাবারানী আল-মুজাম আল-কাবীর গ্রন্থে (৪/২৩৫, নং ৫৯৬) একটি সহীহ সনদে এটি উদ্ধৃত করেছেন এবং বলেছেন: "আমাদের নিকট আলী ইবনে আব্দুল আজীজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমাদের নিকট ইবনুল আসবাহানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমাদের নিকট ঈসা ইবনে ইউনুস উসামা ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণনা করেছেন, (হ), এবং আমাদের নিকট ইসমাইল ইবনে হাসান আল-খাফফাফ আল-মিসরী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমাদের নিকট আহমদ ইবনে সালেহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমাদের নিকট ইবনে ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমাকে উসামা ইবনে যায়েদ সালিম ইবনে নুমান থেকে এবং তিনি উম্মু সবিয়্যাহ আল-জুহানিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন ... হাদীসটি।" এছাড়াও তাবারানী আল-মুজাম আল-তাবারানী গ্রন্থে (২৪/২৬৩, নং ৫৯৯) একটি হাসান সনদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "আমাদের নিকট হাফস ইবনে ওমর ইবনে সাবাহ আল-রাক্কী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমাদের নিকট কাবিাসা ইবনে উকবা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমাদের নিকট সুফিয়ান উসামা ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি সালিম ইবনে নুমান থেকে, তিনি জুহাইনা গোত্রের একজন নারী থেকে যাকে উম্মু সবিয়্যাহ বলা হয় ... হাদীসটি।" আবু যুরআ বলেছেন, "ইবনে ওয়াহাবের হাদীসটিই সঠিক এবং সেটি হলো সালিম ইবনে নুমান" (ইলাল ইবনে আবি হাতিম ১/৬৩৪, নং ১৬১)। অন্যদিকে ইমাম বুখারী আত-তারীখ আল-কাবীর গ্রন্থে (৫/১৪৯) এর বিরোধিতা করে বলেছেন, "তিনি হলেন সালিম ইবনে সারজ, তাকে ইবনে খারবুজ আবু নুমানও বলা হয়। কেউ কেউ তাকে ইবনে নুমান বলেছেন, তবে তা সঠিক নয়।"
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২৯)
31 - حدثنا محمد بن إسماعيل، حدثنا ابن أبي أويس، قال: حدثني خارجة بن الحارث بن رافع بن مكيث الجهني، عن سالم بن سرج، مولى أم صبية ابنة قيس وهي خولة وهي جدة خارجة بن الحارث أنه سمعها تقول: "اختلفت يدي ويد رسول الله صلى الله عليه وسلم في إناء واحد"

 

‌‌كراهية فضل طهور المرأة

32 - حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا وكيع، عن سفيان، عن سليمان التيمي، عن أبي حاجب، عن رجل من بني غفار قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن فضل طهور المرأة أو قال: سؤرها. ورواه شعبة، عن عاصم الأحول، عن أبي حاجب، عن الحكم الغفاري، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه. سألت محمدا عن هذا الحديث، فقال: ليس بصحيح، وحديث عبد الله بن سرجس في هذا الباب هو موقوف ومن رفعه فهو خطأ

قلت: قول البخاري "ليس بصحيح" فيه نظر لأمور:

الأول: أبو حاجب هو سوادة بن عاصم العنزي (المحلى بالآثار 1/ 204) وهو ثقة فقد قال عنه النسائي وابن معين "ثقة" (تهذيب الكمال رقم 2635) وابن شاهين "ثقة" (تاريخ أسماء الثقات رقم 501) والذهبي "ثقة" (الكاشف رقم 2189). وأما قول ابن حبان في الثقات "ربما أخطأ" فدال على قلة خطأه وقد وثقه النسائي وابن معين مطلقاً،

والثاني: جاء التصريح بسماع عاصم من أبي حاجب فقد أخرجه تلميذه الترمذي بسند صحيح في جامعه (1/ 93 رقم 64) وقال: حدثنا محمد بن بشار ومحمود بن غيلان قالا: حدثنا أبو داود عن شعبة عن عاصم قال: سمعت أبا
৩১ - মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবন আবি উওয়াইস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খারিজা ইবনুল হারিস ইবনে রাফি ইবনে মাকিস আল-জুহানি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সালিম ইবনে সারজ থেকে, যিনি কায়সের কন্যা উম্মু সাবিয়্যার (তিনিই খাওলা এবং খারিজা ইবনুল হারিসের দাদী) মুক্তদাস ছিলেন, তিনি তাঁকে বলতে শুনেছেন: "একটি পাত্রের মধ্যে আমার হাত ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাত আসা-যাওয়া করছিল (অর্থাৎ তাঁরা একই পাত্র থেকে একত্রে উযু করছিলেন)।"

 

‌‌নারীর উযুর অবশিষ্ট পানি ব্যবহারের অপছন্দনীয়তা

৩২ - মাহমুদ ইবনে গায়লান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ওয়াকি সুফিয়ান থেকে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি সুলাইমান আত-তাইমি থেকে, তিনি আবু হাজিব থেকে, তিনি বনু গিফারের এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীর উযুর অবশিষ্ট পানি অথবা তিনি বলেছেন: তার উচ্ছিষ্ট পানি (ব্যবহার করতে) নিষেধ করেছেন। শুবা আসিম আল-আহওয়াল থেকে, তিনি আবু হাজিব থেকে, তিনি হাকাম আল-গিফারি থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আমি (ইমাম তিরমিযী) মুহাম্মদকে (ইমাম বুখারী) এই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি বললেন: এটি সহীহ নয়। আর এই অধ্যায়ে আবদুল্লাহ ইবনে সারজিসের হাদীসটি মাওকুফ; যারা একে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন তারা ভুল করেছেন।

আমি (লেখক) বলছি: বুখারীর উক্তি "এটি সহীহ নয়"-এর মধ্যে কয়েকটি কারণে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে:

প্রথমত: আবু হাজিব হলেন সাওয়াদা ইবনে আসিম আল-আনাযী (আল-মুহাল্লা বিল আসার ১/২০৪) এবং তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)। কারণ নাসাঈ এবং ইবনে মাঈন তাঁর সম্পর্কে বলেছেন "সিকাহ" (তাহযীবুল কামাল নং ২৬৩৫), ইবনে শাহীন বলেছেন "সিকাহ" (তারিখু আসমাইস সিকাত নং ৫০১) এবং যাহাবী বলেছেন "সিকাহ" (আল-কাশিফ নং ২১৮৯)। আর ইবনে হিব্বানের 'আস-সিকাত' গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে উক্তি "কখনও কখনও ভুল করতেন" মূলত তাঁর ভুলের স্বল্পতাকেই নির্দেশ করে, অথচ নাসাঈ ও ইবনে মাঈন তাঁকে নিঃশর্তভাবে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

দ্বিতীয়ত: আবু হাজিব থেকে আসিমের শ্রবণের (সামা') সুস্পষ্ট বর্ণনা এসেছে। তাঁর ছাত্র তিরমিযী তাঁর 'জামি' গ্রন্থে (১/৯৩ নং ৬৪) সহীহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে বাশশার ও মাহমুদ ইবনে গায়লান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবু দাউদ আমাদের নিকট শুবা থেকে, তিনি আসিম থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (আসিম) বলেছেন: আমি আবু (হাজিব থেকে) শুনেছি।
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৩০)
حاجب يحدث عن الحكم بن عمرو الغفاري "أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى أن يتوضأ الرجل بفضل طهور المرأة - أو قال: بسؤرها". ثم قال الترمذي "هذا حديث حسن وأبو حاجب اسمه سوادة بن عاصم وقال محمد بن بشار في حديثه "نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يتوضأ الرجل بفضل طهور المرأة"، ولم يشك فيه محمد بن بشار". وكذلك أخرجه ابن حبان في صحيحه (4/ 71 رقم 1260) وقال: أخبرنا علي بن أحمد بن بسطام، بالبصرة، قال: حدثنا عمرو بن علي بن بحر، قال: حدثنا أبو داود، قال: حدثنا شعبة، عن عاصم الأحول، قال: سمعت أبا حاجب، يحدث عن الحكم بن عمرو الغفاري؛ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى أن يتوضأ الرجل بفضل وضوء المرأة"،

والثالث: أيضاً جاء التصريح بسماع أبي حاجب من الصحابي فقد أخرج الطوسي بسند صحيح في مختصر الأحكام (1/ 247 رقم 53) وقال: أحمد بن المقدام قال نا المعتمر بن سليمان عن أبيه عن أبي حاجب أنه سمع رجلا من غفار من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أنه نهى أن يتوضأ الرجل بفضل طهور المرأة". ثم قال الطوسي "هذا حديث حسن"،

والرابع: توبع عاصم الأحول من قبل سليمان التيمي فيما أخرج الترمذي بسند صحيح في جامعه (1/ 92 رقم 63) وقال: حدثنا محمود بن غيلان قال: حدثنا وكيع عن سفيان عن سليمان التيمي عن أبي حاجب عن رجل من بني غفار … الحديث". وكلاهما ثقتان: سليمان التيمي وعاصم الأحول.

 

‌‌في ماء البحر أنه طهور

33 - قال أبو عيسى: سألت محمدا عن حديث مالك، عن صفوان بن سليم، عن سعيد بن سلمة، من آل بني الأزرق أن المغيرة بن أبي بردة أخبره أنه
হাজিব হাকাম ইবনে আমর আল-গিফারি থেকে বর্ণনা করেন যে, "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুরুষকে মহিলার পবিত্রতা অর্জনের পর অবশিষ্ট পানি দিয়ে ওজু করতে নিষেধ করেছেন - অথবা তিনি বলেছেন: তার উচ্ছিষ্ট পানি দিয়ে।" অতঃপর তিরমিযী বলেন, "এই হাদিসটি হাসান এবং আবু হাজিবের নাম সুওয়াদা ইবনে আসিম। মুহাম্মদ ইবনে বাশশার তার বর্ণিত হাদিসে বলেছেন, 'রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুরুষকে মহিলার পবিত্রতা অর্জনের পর অবশিষ্ট পানি দিয়ে ওজু করতে নিষেধ করেছেন', এবং মুহাম্মদ ইবনে বাশশার এতে কোনো সন্দেহ করেননি।" অনুরূপভাবে ইবনে হিব্বান এটি তার সহীহ গ্রন্থে (৪/৭১, নম্বর ১২৬০) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আহমদ ইবনে বাসতাম, বসরায়, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে আলী ইবনে বাহর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, আসিম আল-আহওয়াল থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু হাজিবকে হাকাম ইবনে আমর আল-গিফারি থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুরুষকে মহিলার ওজুর অবশিষ্ট পানি দিয়ে ওজু করতে নিষেধ করেছেন।

এবং তৃতীয়ত: সাহাবী থেকে আবু হাজিবের সরাসরি শ্রবণ করার স্পষ্ট বর্ণনাও এসেছে। তূসী তার মুখতাসার আল-আহকাম গ্রন্থে (১/২৪৭, নম্বর ৫৩) সহীহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আহমদ ইবনে আল-মিকদাম বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুতামির ইবনে সুলাইমান, তার পিতা থেকে, তিনি আবু হাজিব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্য থেকে গিফার গোত্রের এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছেন যে, তিনি (নবীজী) পুরুষকে মহিলার পবিত্রতা অর্জনের অবশিষ্ট পানি দিয়ে ওজু করতে নিষেধ করেছেন। অতঃপর তূসী বলেন, "এই হাদিসটি হাসান।"

চতুর্থত: আসিম আল-আহওয়ালের অনুগামী (মুতাবায়াত) হয়েছেন সুলাইমান আত-তাইমী, যেমনটি তিরমিযী তার জামে গ্রন্থে (১/৯২, নম্বর ৬৩) সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মাহমুদ ইবনে গায়লান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ওয়াকি, সুফিয়ান থেকে, তিনি সুলাইমান আত-তাইমী থেকে, তিনি আবু হাজিব থেকে, তিনি বনী গিফার গোত্রের এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন … হাদিস। আর তাঁরা উভয়েই নির্ভরযোগ্য: সুলাইমান আত-তাইমী এবং আসিম আল-আহওয়াল।

 

‌‌সমুদ্রের পানি পবিত্র হওয়ার প্রসঙ্গে

৩৩ - আবু ঈসা বলেন: আমি মুহাম্মদকে মালিকের বর্ণিত হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, যা তিনি সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে সালামা থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি বনী আল-আযরাক বংশের লোক, যে মুগিরা ইবনে আবি বুরদাহ তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি-
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৩১)
سمع أبا هريرة يقول: سأل رجل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله إنا نركب البحر. الحديث، فقال: هو حديث صحيح، قلت: هشيم يقول في هذا الحديث: المغيرة بن أبي برزة، قال: وهم فيه إنما هو المغيرة بن أبي بردة وهشيم ربما يهم في الإسناد وهو في المقطعات أحفظ، قال محمد: سمعت عبد الله بن أبي شيبة يقول: سألت يحيى بن سعيد القطان من أحفظ من رأيت؟ قال: سفيان الثوري ثم شعبة ثم هشيم. قال محمد: وقال علي: رأيت يحيى بن سعيد وعبد الرحمن بن مهدي يسألان محمد بن عيسى بن الطباع عن حديث هشيم

 

34 - وسألت محمدا عن حديث ابن الفراسي في ماء البحر فقال: هو مرسل، ابن الفراسي لم يدرك النبي صلى الله عليه وسلم، والفراسي له صحبة.

 

35 - وسألت محمدا عن حديث أحمد بن حنبل عن ابن أبي الزناد قال: أخبرني إسحاق بن حازم عن ابن مقسم عن جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال في البحر: «هو الطهور ماؤه الحل ميته» فقال: لا أعرفه إلا من حديث أبي القاسم بن أبي الزناد، قلت: رواه غير أحمد بن حنبل؟ قال: نعم"

 

‌‌التشديد في البول

36 - سألت محمدا عن حديث مجاهد، عن طاووس عن ابن عباس مر رسول الله صلى الله عليه وسلم على قبرين، فقال: الأعمش يقول: عن مجاهد عن طاووس عن ابن عباس، ومنصور يقول: عن مجاهد عن ابن عباس ولا يذكر فيه: عن طاووس، قلت: أيهما أصح؟ قال: حديث الأعمش.

 

37 - قلت له فحديث أبي عوانة عن الأعمش، عن أبي صالح، عن أبي هريرة في هذا، كيف هو؟ قال: هذا حديث صحيح، وهذا غير ذاك الحديث
তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন: এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা সমুদ্রে ভ্রমণ করি। (সম্পূর্ণ) হাদীসটি। এরপর তিনি বললেন: এটি একটি সহীহ হাদীস। আমি বললাম: হুশাইম এই হাদীসে বলেন: 'মুগীরা ইবনে আবি বারযাহ'। তিনি (মুহাম্মাদ) বললেন: তিনি এতে ভুল করেছেন, আসলে তিনি হলেন মুগীরা ইবনে আবি বুরদাহ। হুশাইম মাঝে মাঝে সনদে ভুল করতেন, তবে তিনি মাকতুআত (তাবেয়ীদের কথা) বর্ণনায় অধিক প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন। মুহাম্মাদ বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আবি শায়বাকে বলতে শুনেছি: আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তানকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার দেখা সবচেয়ে বেশি মুখস্থকারী কে? তিনি বললেন: সুফিয়ান আস-সাওরী, তারপর শু'বাহ, তারপর হুশাইম। মুহাম্মাদ বলেন: আলী বলেছেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ এবং আবদুর রহমান ইবনে মাহদীকে মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ইবনে আত-তাব্বা'কে হুশাইমের হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে দেখেছি।

 

৩৪ - এবং আমি মুহাম্মাদকে সমুদ্রের পানি সম্পর্কে ইবনুল ফারাসীর হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: এটি মুরসাল; ইবনুল ফারাসী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাৎ পাননি, আর আল-ফারাসীর সাহচর্য ছিল।

 

৩৫ - এবং আমি মুহাম্মাদকে আহমাদ ইবনে হাম্বলের বর্ণিত ইবনে আবিয যিনাদ থেকে প্রাপ্ত হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি (ইবনে আবিয যিনাদ) বলেন: আমাকে ইসহাক ইবনে হাযিম সংবাদ দিয়েছেন ইবনে মিকসাম থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সমুদ্র সম্পর্কে বলেছেন: «এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত (প্রাণী) হালাল»। তিনি (মুহাম্মাদ) বললেন: আমি এটি আবুল কাসিম ইবনে আবিয যিনাদের হাদীস ব্যতীত অন্য কোনোভাবে জানি না। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: আহমাদ ইবনে হাম্বল ছাড়া অন্য কেউ কি এটি বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ।

 

‌‌পেশাবের ব্যাপারে কঠোরতা

৩৬ - আমি মুহাম্মাদকে মুজাহিদ থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন: আমাশ বলেন: মুজাহিদ থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে। আর মানসুর বলেন: মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, এবং এতে তিনি তাউসের নাম উল্লেখ করেননি। আমি বললাম: এই দুটির মধ্যে কোনটি অধিক সঠিক? তিনি বললেন: আমাশের হাদীসটি।

 

৩৭ - আমি তাকে বললাম: এই বিষয়ে আবু আওয়ানার বর্ণিত আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদীসটি কেমন? তিনি বললেন: এটি একটি সহীহ হাদীস, আর এটি ওই হাদীসটি থেকে পৃথক।
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌في نضح بول الغلام قبل أن يطعم

38 - حدثنا محمد بن بشار حدثنا معاذ بن هشام قال: حدثني أبي عن قتادة عن أبي حرب بن أبي الأسود عن أبيه عن علي بن أبي طالب أن نبي الله صلى الله عليه وسلم قال في بول الغلام الرضيع: "ينضح بول الغلام ويغسل بول الجارية"، قال قتادة: وهذا إذا لم يطعما، سألت محمدا عن هذا الحديث فقال: شعبة لا يرفعه، وهشام الدستوائي حافظ، ورواه يحيى القطان عن ابن أبي عروبة عن قتادة فلم يرفعه

 

‌‌باب في بول ما يؤكل لحمه

39 - حدثنا الفضل بن سهل الأعرج البغدادي قال: حدثنا يحيى بن غيلان حدثنا يزيد بن زريع عن سليمان التيمي عن أنس بن مالك أن النبي صلى الله عليه وسلم إنما سمل أعينهم لأنهم سملوا أعين الرعاة". سألت محمدا عن هذا الحديث فلم يعرفه، قال أبو عيسى: ولا أعلم أن أحدا ذكر هذا الحرف إلا هو".

 

‌‌في الوضوء من الريح

40 - حدثنا قتيبة وهناد قالا: حدثنا وكيع عن عبد الملك بن مسلم عن أبيه عن علي، قال: جاء أعرابي إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله إنا نكون بالبادية فتكون من أحدنا الرويحة، فقال: «إن الله لا يستحي من الحق إذا فسا أحدكم فليتوضأ ولا تأتوا النساء في أعجازهن». سألت محمدا عن هذا الحديث فقال: لا أعرف لعلي بن طلق عن النبي صلى الله عليه وسلم غير هذا الحديث وهو عندي غير طلق بن علي ولا يعرف هذا من حديث طلق بن علي
‌‌শিশু পুত্র আহার গ্রহণ করার পূর্বে তার প্রস্রাবের ওপর পানি ছিটিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে

৩৮ - মুহাম্মদ ইবন বাশার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুআয ইবন হিশাম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার পিতা কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু হারব ইবন আবুল আসওয়াদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলী ইবন আবু তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুগ্ধপোষ্য পুত্র শিশুর প্রস্রাব সম্পর্কে বলেছেন: "পুত্র শিশুর প্রস্রাবের ওপর পানি ছিটিয়ে দিতে হবে এবং কন্যা শিশুর প্রস্রাব ধৌত করতে হবে।" কাতাদাহ বলেন: এটি ততক্ষণ পর্যন্ত যখন তারা (শক্ত) খাবার গ্রহণ না করে। আমি মুহাম্মদকে এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: শু'বাহ এটিকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেননি, তবে হিশাম আদ-দাস্তাওয়ায়ী একজন হাফিয, এবং ইয়াহইয়া আল-কাত্তান এটি ইবন আবু আরুবাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন কিন্তু মারফু হিসেবে বর্ণনা করেননি।

 

‌‌যে প্রাণীর গোশত খাওয়া যায় তার প্রস্রাব সম্পর্কিত অধ্যায়

৩৯ - ফযল ইবন সাহল আল-আরাজ আল-বাগদাদী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইয়াহইয়া ইবন গায়লান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াযীদ ইবন যুরায় থেকে, তিনি সুলায়মান আত-তায়মী থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের চোখ উপড়ে ফেলেছিলেন কারণ তারা রাখালদের চোখ উপড়ে ফেলেছিল। আমি মুহাম্মদকে এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি এটি চিনতে পারেননি। আবু ঈসা বলেন: আমি জানি না যে তিনি ছাড়া অন্য কেউ এই শব্দে এটি উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌বায়ু নির্গত হওয়ার কারণে উযু করা প্রসঙ্গে

৪০ - কুতায়বাহ ও হান্নাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তারা বলেন ওয়াকী' আব্দুল মালিক ইবন মুসলিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক গ্রাম্য ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা মরুভূমিতে বসবাস করি, আমাদের কারো থেকে সামান্য বায়ু নির্গত হয়। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্য প্রকাশে লজ্জাবোধ করেন না; তোমাদের কেউ যখন শব্দহীন বায়ু ত্যাগ করে তখন সে যেন উযু করে। আর তোমরা স্ত্রীদের মলদ্বারে সঙ্গম করো না।" আমি মুহাম্মদকে এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত আলী ইবন তালক-এর এই একটি মাত্র হাদীসই আমি জানি। আমার নিকট তিনি তালক ইবন আলী থেকে ভিন্ন ব্যক্তি এবং তালক ইবন আলীর হাদীস সমূহে এই বর্ণনাটি পরিচিত নয়।
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৩৩)
41 - حدثنا هناد وأحمد بن منيع قالا: حدثنا أبو معاوية عن عاصم الأحول عن عيسى بن حطان عن مسلم بن سلام عن علي بن طلق، قال: أتى النبي صلى الله عليه وسلم أعرابي فقال: يا رسول الله الرجل منا يكون في الفلاة فتكون منه الرويحة ويكون في الماء قلة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا فسا أحدكم فليتوضأ ولا تأتوا النساء في أعجازهن فإن الله لا يستحي من الحق". سألت محمدا عن هذا الحديث فقال: علي بن طلق هذا أراه غير طلق بن علي ولا أعرف لعلي بن طلق إلا هذا الحديث وعيسى بن حطان الذي روى عنه هذا الحديث رجل مجهول، فقلت له: أتعرف هذا الحديث الذي روى علي بن طلق من حديث طلق بن علي؟ فقال: لا

قلت: وأما قول البخاري "عيسى بن حطان رجل مجهول" فيه نظر فعيسى بن حطان الرقاشي تابعي حسن الحديث فقد قال عنه العجلي "ثقة" (تاريخ الثقات رقم 1459) ولم يذكر ذلك صاحب تهذيب التهذيب. وإيضاً ذكره ابن حبان في الثقات وروى عنه جماعة منهم محمد بن جحادة وعاصم الأحول وزيد بن عياض (تهذيب التهذيب 8/ 207).

 

42 - حدثنا عبد الله بن أبي زياد حدثنا يعقوب بن إبراهيم بن سعد قال: حدثنا أبي عن ابن إسحاق عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة قالت: جاءت سلمى امرأة أبي رافع إلى النبي صلى الله عليه وسلم تستعديه على أبي رافع فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يا أبا رافع ما لك ولها؟ " قال: يا رسول الله إنها لتؤذيني فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "بم آذيته؟ " قالت: يا رسول الله إنما قلت: إن النبي صلى الله عليه وسلم أمر المسلمين إذا خرج من أحدهم الريح أن يتوضأ للصلاة فقام يضربني فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول "إنها
41 - হান্নাদ ও আহমাদ ইবনে মানি' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবু মুআবিয়া আসিম আল-আহওয়াল থেকে, তিনি ঈসা ইবনে হিত্তান থেকে, তিনি মুসলিম ইবনে সাল্লাম থেকে, তিনি আলী ইবনে তালক থেকে বর্ণনা করেছেন। আলী ইবনে তালক বলেন: এক গ্রাম্য ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কোনো ব্যক্তি যখন মরুভূমিতে থাকে এবং তার থেকে সামান্য বায়ু নির্গত হয় অথচ পানির স্বল্পতা থাকে (তখন সে কী করবে?)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "যখন তোমাদের কেউ শব্দহীন বায়ু ত্যাগ করবে তখন সে যেন ওযু করে নেয়। আর তোমরা নারীদের পশ্চাৎপথে তাদের নিকট যেও না, কেননা আল্লাহ সত্য প্রকাশে লজ্জাবোধ করেন না।" আমি মুহাম্মাদ (ইমাম বুখারী)-কে এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এই আলী ইবনে তালককে আমি তালক ইবনে আলী ছাড়া অন্য কেউ মনে করি না। আর আলী ইবনে তালকের এই একটি হাদীস ছাড়া আমি অন্য কিছু জানি না। আর ঈসা ইবনে হিত্তান, যিনি তাঁর থেকে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, তিনি একজন অপরিচিত ব্যক্তি। আমি তাঁকে বললাম: আপনি কি আলী ইবনে তালকের বর্ণিত এই হাদীসটিকে তালক ইবনে আলীর হাদীস হিসেবে চেনেন? তিনি বললেন: না।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: বুখারীর উক্তি "ঈসা ইবনে হিত্তান একজন অপরিচিত ব্যক্তি" এ বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। কারণ ঈসা ইবনে হিত্তান আল-রাকাশী একজন তাবিঈ এবং তাঁর বর্ণিত হাদীস উত্তম (হাসান)। আল-ইজলী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন "তিনি নির্ভরযোগ্য" (তারীখুছ ছিকাত, নম্বর ১৪৫৯), তবে 'তাহযীবুত তাহযীব' এর লেখক এটি উল্লেখ করেননি। এছাড়াও ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্যদের তালিকায় (আস-সিকাত) উল্লেখ করেছেন এবং একদল বর্ণনাকারী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে মুহাম্মাদ ইবনে জুহাদাহ, আসিম আল-আহওয়াল এবং যায়েদ ইবনে ইয়াদ রয়েছেন (তাহযীবুত তাহযীব ৮/২০৭)।

 

42 - আবদুল্লাহ ইবনে আবু যিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম ইবনে সা'দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবু রাফে'-এর স্ত্রী সালমা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন আবু রাফে'-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে আবু রাফে'! তোমার ও তার মাঝে কী হয়েছে?" তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! সে আমাকে কষ্ট দেয়।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তুমি তাকে কী দিয়ে কষ্ট দিলে?" সে (সালমা) বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি কেবল বলেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের নির্দেশ দিয়েছেন যে যখন কারো বায়ু নির্গত হবে তখন সে যেন সালাতের জন্য ওযু করে। এতে সে আমাকে প্রহার করতে শুরু করল।" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে লাগলেন: "নিশ্চয়ই সে..."
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৩৪)
لم تأمرك إلا بخير"، قال: فسألت محمدا عن هذا الحديث فقال: هذا حديث محمد بن إسحاق عن هشام بن عروة. وسألت أبا زرعة فقال: مثله

 

‌‌في الوضوء من النوم

43 - حدثنا هناد حدثنا عبد السلام بن حرب عن أبي خالد الدالاني عن قتادة عن أبي العالية عن ابن عباس أنه رأى النبي صلى الله عليه وسلم نام وهو ساجد حتى غط أو نفخ ثم قام يصلي، قلت: يا رسول الله إنك قد نمت قال: «إن الوضوء لا يجب إلا على من نام مضطجعا فإنه إذا نام استرخت مفاصله» سألت محمدا عن هذا الحديث فقال: هذا لا شيء رواه سعيد بن أبي عروبة عن قتادة عن ابن عباس قوله: ولم يذكر فيه أبا العالية ولا أعرف لأبي خالد الدالاني سماعا من قتادة قلت: أبو خالد كيف هو؟ قال: صدوق وإنما يهم في الشيء قال محمد: وعبد السلام بن حرب صدوق،

 

44 - حدثنا محمود بن غيلان حدثنا علي بن الحسن عن أبي حمزة عن الأعمش عن إبراهيم عن علقمة عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم كان ينام حتى ينفخ ثم يقوم فيصلي ولا يتوضأ"

 

45 - وقال وكيع عن الأعمش عن إبراهيم عن الأسود عن عائشة عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله سألت محمدا عن هذا الحديث فقلت: أي الروايتين أصح؟ فقال: يحتمل عنهما جميعا ولا أعلم أحدا من أصحاب الأعمش قال: عن إبراهيم عن الأسود عن عائشة إلا وكيعا، وسألت عبد الله بن عبد الرحمن فقال: حديث الأعمش عن إبراهيم عن علقمة عن عبد الله أصح.
"তোমাকে কেবল কল্যাণেরই আদেশ করেছে," তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন: "এটি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে মুহাম্মদ বিন ইসহাকের বর্ণিত হাদিস।" এবং আমি আবু যুরআহকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি অনুরূপ বললেন।

 

‌‌ঘুমের কারণে অযু প্রসঙ্গে

৪৩ - হান্নাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুস সালাম বিন হারব থেকে, তিনি আবু খালিদ আদ-দালানি থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আবুল আলিয়াহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সিজদাবনত অবস্থায় ঘুমাতে দেখেছেন, এমনকি তিনি নাক ডাকছিলেন বা জোরে শ্বাস নিচ্ছিলেন, এরপর তিনি উঠে নামাজ পড়তে লাগলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি তো ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তিনি বললেন: "অযু কেবল তার ওপর ওয়াজিব যে শুয়ে ঘুমায়, কেননা যখন সে ঘুমায় তখন তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জোড়াগুলো শিথিল হয়ে যায়।" আমি মুহাম্মদকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: "এটি ভিত্তিহীন।" সাঈদ বিন আবি আরুবাহ এটি কাতাদাহ থেকে ইবনে আব্বাসের উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এতে আবুল আলিয়াহর নাম উল্লেখ করেননি। আর আবু খালিদ আদ-দালানির কাতাদাহ থেকে সরাসরি শ্রবণের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি বললাম: আবু খালিদ কেমন? তিনি বললেন: "তিনি সত্যবাদী, তবে কোনো কোনো বিষয়ে ভ্রম করেন।" মুহাম্মদ বললেন: "আবদুস সালাম বিন হারব সত্যবাদী।"

 

৪৪ - মাহমুদ বিন গাইলান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আলী বিন হাসান থেকে, তিনি আবু হামজাহ থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমাতেন এমনকি জোরে শ্বাস নিতেন, এরপর তিনি উঠে নামাজ পড়তেন এবং অযু করতেন না।"

 

৪৫ - এবং ওয়াকি আমাশ থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আসওয়াদ থেকে এবং তিনি আয়িশা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আমি মুহাম্মদকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম এবং বললাম: "উভয় বর্ণনার মধ্যে কোনটি অধিক বিশুদ্ধ?" তিনি বললেন: "উভয়টিই তার থেকে বর্ণিত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তবে আমাশের সঙ্গীদের মধ্যে ওয়াকি ব্যতীত আর কাউকে আমি ইব্রাহিম থেকে আসওয়াদ থেকে আয়িশা সূত্রে বর্ণনা করতে জানি না।" আমি আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "আমাশ থেকে ইব্রাহিম থেকে আলকামা থেকে আবদুল্লাহর হাদিসটি অধিক বিশুদ্ধ।"
(খণ্ড: ১) আত-তায়সীর ওয়াত-তাবসীর লিমা ফাতাল বুখারী ফিল ইলালিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌في الوضوء من لحوم الإبل

46 - حدثنا هناد حدثنا أبو معاوية عن الأعمش عن عبد الله بن عبد الله عن عبد الرحمن بن أبي ليلى عن البراء بن عازب، قال: سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الوضوء من لحوم الإبل فقال: "توضئوا منها" وسئل عن لحوم الغنم فقال: "لا توضئوا منها" الحديث،

 

47 - قال أبو عيسى: وروى الحجاج بن أرطاة عن عبد الله بن عبد الله الرازي هذا الحديث فقال: عن عبد الرحمن بن أبي ليلى عن أسيد بن حضير، وحديث الأعمش عن عبد الله بن عبد الله عن عبد الرحمن بن أبي ليلى عن البراء أصح، وقال حماد بن سلمة عن حجاج عن عبد الله بن عبد الرحمن بن أبي ليلى عن أبيه عن أسيد بن حضير فخالف حماد بن سلمة أصحاب الحجاج وأخطأ فيه،

 

48 - وروى عبيدة الضبي هذا الحديث عن عبد الله بن عبد الله عن عبد الرحمن بن أبي ليلى عن ذي الغرة عن النبي صلى الله عليه وسلم، وذو الغرة لا يدرى من هو، وحديث الأعمش أصح. حدثنا إسحاق بن منصور حدثنا إسحاق بن إبراهيم قال: قد صح في هذا الباب حديثان عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: حديث البراء وحديث جابر بن سمرة،

 

49 - قال أبو عيسى: أخطأ شعبة في حديث سماك عن جعفر بن أبي ثور عن جابر بن سمرة عن النبي صلى الله عليه وسلم في الوضوء من لحوم الإبل فقال: عن سماك عن أبي ثور، وجعفر بن أبي ثور رجل مشهور روى عنه سماك بن حرب
উটের গোশত খাওয়ার ফলে ওযু করার বিষয়ে

৪৬ - হান্নাদ আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু মুয়াবিয়া থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আবি লায়লা থেকে, তিনি বারা বিন আযিব থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে উটের গোশত খাওয়ার পর ওযু করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: "তা খাওয়ার ফলে ওযু কর।" আর ভেড়া-ছাগলের গোশত সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "তা খাওয়ার ফলে ওযু করার প্রয়োজন নেই।" (হাদীসের অবশিষ্টাংশ),

 

৪৭ - আবু ঈসা বলেন: হাজ্জাজ বিন আরতাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ আর-রাযী থেকে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: আবদুর রহমান বিন আবি লায়লা থেকে, তিনি উসাইদ বিন হুযাইর থেকে। তবে আমাশ বর্ণিত আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আবি লায়লা থেকে, তিনি বারা থেকে বর্ণিত হাদীসটিই অধিক সহীহ। হাম্মাদ বিন সালামাহ হাজ্জাজ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন আবি লায়লা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উসাইদ বিন হুযাইর থেকে বর্ণনা করেছেন। এক্ষেত্রে হাম্মাদ বিন সালামাহ হাজ্জাজের অন্যান্য অনুসারীদের বিপরীত বর্ণনা করেছেন এবং এতে তিনি ভুল করেছেন।

 

৪৮ - উবাইদাহ আদ-দাব্বী এই হাদীসটি আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আবি লায়লা থেকে, তিনি যু-আল-গুররাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। যু-আল-গুররাহ কে তা জানা যায় না। আমাশের হাদীসটিই অধিক সহীহ। ইসহাক বিন মানসুর আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসহাক বিন ইবরাহিম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: এই অধ্যায়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত দুটি হাদীস সহীহ বলে প্রমাণিত হয়েছে: বারা-এর হাদীস এবং জাবির বিন সামুরাহ-এর হাদীস।

 

৪৯ - আবু ঈসা বলেন: শু'বাহ উটের গোশত খাওয়ার পর ওযু সংক্রান্ত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস বর্ণনায় ভুল করেছেন যা সিমাক থেকে জাফর বিন আবু সাওর সূত্রে জাবির বিন সামুরাহ থেকে বর্ণিত। তিনি সিমাক থেকে আবু সাওর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। অথচ জাফর বিন আবু সাওর একজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তি, যাঁর থেকে সিমাক বিন হারব হাদীস বর্ণনা করেছেন।