(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الرسالة الندية في القواعد الفقهية القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: الرسالة الندية في القواعد الفقهية
المؤلف: أبو سلسبيل عبد الفتاح بن محمد مصيلحي
تقديم: الشيخ مصطفى بن العدوي، الشيخ عبد المنجي سيد أمين
الناشر: مكتبة العلوم والحكم - الشرقية، مصر
الطبعة: الثالثة، 1439 هـ - 2018 م
عدد الصفحات: 154
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 رجب 1445
ফিকহী মূলনীতিমালার ক্ষেত্রে আর-রিসালাহ আন-নাদিয়্যাহ বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিমালা
গ্রন্থ: ফিকহী মূলনীতিমালার ক্ষেত্রে আর-রিসালাহ আন-নাদিয়্যাহ
লেখক: আবু সালসাবীল আবদ আল-ফাত্তাহ বিন মুহাম্মদ মুসাইলহি
উপস্থাপনায়: শায়খ মুস্তফা বিন আল-আদাওয়ী، শায়খ আবদ আল-মুনজি সায়্যিদ আমিন
প্রকাশক: মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম - শারকিয়া، মিশর
সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪৩৯ হিজরী - ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ রজব ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة فضيلة الشيخ/ مصطفى العدوي (حفظه الله)
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديم
الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وبعد
فهذا كتاب "الرسالة النديَّة في القواعد الفقهيَّة"، أعده أخي في الله فضيلة الشيخ/ عبد الفتاح مصيلحي حفظه الله.
وقد راجعتُ الكتاب من الناحية الحديثية فألفيتُهُ إلى حدٍّ كبير قد تحرَّى صحة الأحاديث المستدل بها.
وأورد كمًّا كبيرًا من الفوائد في كتابه هذا.
فاللهَ أسأل أن يزيده توفيقًا وأن ينفع به وبكتابه الإسلام والمسلمين.
وأن يعينه على مواصلة رسالته العلمية والدعوية.
وصلِّ اللهم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
كتبه
أبوعبد الله
مصطفى بن العدوي
শ্রদ্ধেয় শায়খ মুস্তফা আল-আদাভীর ভূমিকা (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
উপস্থাপনা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর
এটি হচ্ছে ‘আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ’ নামক কিতাব, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমার দ্বীনি ভাই শ্রদ্ধেয় শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ মুসাইলহী (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) প্রস্তুত করেছেন।
আমি হাদীসশাস্ত্রের দিক থেকে কিতাবটি পর্যালোচনা করেছি এবং দেখতে পেয়েছি যে, লেখক এতে দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হাদীসসমূহের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অনেকখানি সতর্কতা অবলম্বন করেছেন।
তিনি তাঁর এই কিতাবে প্রচুর পরিমাণে ইলমী ফায়দা ও উপকারিতা উল্লেখ করেছেন।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁকে আরও তাওফীক দান করেন এবং তাঁর ও তাঁর কিতাবের মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করেন।
এবং তাঁকে তাঁর ইলমী ও দাওয়াহ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সাহায্য করেন।
হে আল্লাহ! আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
লিখেছেন
আবু আব্দুল্লাহ
মুস্তফা ইবনুল আদাভী
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
مقدمة فضيلة الشيخ/ عبد المنجي سيد أمين (حفظه الله)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده، وبعد:
إنَّ المنهج الإسلامي في التفكير والنظر والتقعيد والتأصيل منهج واقعي جاد، لا يسمح لأصحابه بذل الجهد لمجرد جمع الثقافة وإنما البذل والعطاء ليصبح واقعًا إسلاميًّا حيًّا ومتحركًا، تراه العيون، وتلمسه الأيدي، وتلحظ آثارَه العقولُ.
هي محاولات لصناعة الإنسان الصالح العابد من خلال هذا البذل.
وإني لأحسب شيخنا الكريم فضيلة الشيخ/ عبد الفتاح محمد مصيلحي قد منَّ الله تعالى عليه بقلم سطَّر به هذا السفر النفيس، وبلسان قد أبلى به بلاء حسنًا في الدعوة إلى الله تعالى، وخلق رفيع يعرفه كل من اقترب منه وهذا جماع أمر الداعية إلى الله تعالى - أحسبه كذلك ولا أزكيه على الله سبحانه -.
وهذا الكتاب المبارك - الرِّسالة النَّديَّة في القواعد الفقهيَّة - وفق الله تعالى فيه فضيلة الشيخ إلى منهج واضح يتميز بالسهولة والشمول مع الإفصاح والإيضاح وذكر الدليل مقرونًا بالأمثلة التطبيقية، وقد سُررتُ كثيرًا بهذا المزج الرائع بين البيان، ودقة التأصيل، وسهولة العرض، وجمال الترتيب، والحس الأصولي الرائق، ووددتُ لو أنَّ دائرة الانتفاع بفضيلة الشيخ اتَّسعت.
أسأل الله تعالى أن يبارك في عمره وجهده وبذله، وأن يجعل هذا نورًا يمشي به في الناس وعلى الصراط يوم القيامة، وأن ينفع بعلمه ما بقيت السماوات والأرض، والله من وراء القصد.
كتبه
فقير عفو ربه
عبد المنجي بن سيد آل أمين
الجمعة 7 من ربيع أول 1437 هـ
الموافق 18/ 12/ 2015 م
সম্মানিত শায়খ আব্দুল মুনজি সাইয়্যেদ আমিন (আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন)-এর ভূমিকা পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যার পরে আর কোনো নবী নেই। অতঃপর:
নিশ্চয়ই চিন্তা-ভাবনা, পর্যবেক্ষণ এবং মূলনীতি ও ভিত্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে ইসলামি পদ্ধতি হলো একটি বাস্তবমুখী ও সুদৃঢ় পদ্ধতি। এটি এর অনুসারীদের কেবল জ্ঞান অর্জনের জন্য শ্রম ব্যয় করতে দেয় না, বরং এই শ্রম ও ত্যাগকে একটি জীবন্ত ও গতিশীল ইসলামি বাস্তবতায় রূপান্তর করার আহ্বান জানায়, যা চাক্ষুষ দেখা যায়, হাত দিয়ে অনুভব করা যায় এবং যার প্রভাব বুদ্ধি দিয়ে উপলব্ধি করা যায়।
এই ত্যাগের মাধ্যমে একজন সৎ ও ইবাদতগুজার মানুষ গড়ে তোলার এটি একটি প্রচেষ্টা।
আমি আমাদের সম্মানীয় শায়খ, মহৎ ব্যক্তিত্ব শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ মুহাম্মাদ মুসাইলিহি সম্পর্কে ধারণা পোষণ করি যে, আল্লাহ তাআলা তাঁকে এমন একটি কলম দান করেছেন যার মাধ্যমে তিনি এই মূল্যবান গ্রন্থটি রচনা করেছেন, এবং এমন এক জিহ্বা দান করেছেন যার মাধ্যমে তিনি আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজে সর্বোত্তম শ্রম দিয়েছেন। সেইসাথে তাঁকে দান করেছেন এমন এক মহান চরিত্র যা তাঁর সান্নিধ্যে আসা সকলেই জানেন। আর আল্লাহর দিকে দাওয়াত দানকারীর জন্য এটিই হলো মূল পাথেয়—আমি তাঁর সম্পর্কে এমন ধারণাই পোষণ করি এবং আল্লাহর সামনে কারো পবিত্রতার নিশ্চয়তা দিচ্ছি না।
এই বরকতময় কিতাব—আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ—এ আল্লাহ তাআলা শায়খকে একটি সুস্পষ্ট মানহাজ অনুসরণের তাওফিক দান করেছেন, যা সহজবোধ্যতা ও ব্যাপকতার পাশাপাশি প্রাঞ্জলতা, স্পষ্টতা এবং উদাহরণসহ দলিল বর্ণনার কারণে অনন্য। আমি বর্ণনাশৈলীর চমৎকারিত্ব, নিখুঁত মৌলিকত্ব, উপস্থাপনার সহজতা, বিন্যাসের সৌন্দর্য এবং গভীর উসূলি প্রজ্ঞার এই অপূর্ব সমন্বয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি। আমার একান্ত ইচ্ছা যদি শায়খের মাধ্যমে উপকারের এই পরিধি আরও বিস্তৃত হতো।
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর হায়াত, প্রচেষ্টা ও শ্রমে বরকত দান করেন এবং এটিকে এমন একটি নূর বানিয়ে দেন যা নিয়ে তিনি মানুষের মাঝে এবং কিয়ামতের দিন পুলসিরাতের ওপর বিচরণ করবেন। আসমান ও জমিন যতদিন বিদ্যমান থাকবে, ততদিন যেন মানুষ তাঁর ইলম দ্বারা উপকৃত হতে থাকে। আল্লাহই একমাত্র লক্ষ্যস্থল।
এটি লিখেছেন
তাঁর রবের ক্ষমার ভিখারি
আব্দুল মুনজি ইবনে সাইয়্যেদ আল আমিন
শুক্রবার, ৭ই রবিউল আউয়াল ১৪৩৭ হিজরী
মোতাবেক ১৮/১২/২০১৫ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة المؤلفالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للعالمين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنَّ محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم، فهو القائل " من يرد الله به خيرًا يفقهه في الدين "
(1) فبين أنَّ الفقه والفهم دليل إرادة الخير بالعبد.
والعلم والفقه بحرٌ لا ساحل له، فلا يستطيع المجتهد أن يُرسِي سفنه على نهاية شاطئه، ويعجز عن الغوص في أعماقه لإخراج كل دُرَرِهِ ولآلِئِهِ، فمهما أخذ العالِمُ من معين العلم فإنما أوتي من العلم القليل؛ تصديقًا لقوله تعالى {وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا (85)} [الإسراء: 85].
ولمَّا كان علم الفقه من أوسع هذه العلوم وأشملها كان لزامًا على علماء الفقه وأربابه أن يضعوا القواعد والأصول التي تضبط مسائل علم الفقه، وتلم شمله، وتجمع شوارده، فوضع العلماء قواعد علم أصول الفقه التي تُمكِّن الفقيه من استخراج المسائل الفقهيَّة على أساس سليم، ثم وضعوا القواعد الفقهيَّة التي تجمع الأحكام المتشابهة وتضبط نظمها، وما كل ذلك إلا لأهمية هذا العلم وعظم شأنه وعلو قدره.
وما أجمل ما وصف به العلامة السيوطي علم الفقه وقواعده فقال رحمه الله:
"فعلم الفقه بحوره زاخرة، ورياضه ناضرة، ونجومه زاهرة، وأصوله ثابتة مقررة، وفروعه ثابتة محررة، لا يفنى بكثرة الإنفاق كنزُه، ولا يبلى على طول الزمان عزُّه، أهله قوَّام الدين وقوامه، وبهم ائتلافه وانتظامه، هم ورثة الأنبياء، وبهم يُستضاء في
--------------------------------------------
লেখকের ভূমিকাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে পাঠানো হয়েছে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তিনিই বলেছেন, "আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা বা গভীর জ্ঞান দান করেন।"
(১) এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ফিকহ ও গভীর অনুধাবন হলো বান্দার প্রতি মঙ্গল কামনার প্রমাণ।
জ্ঞান ও ফিকহ হলো এক কূলহীন সমুদ্র। কোনো মুজতাহিদ এর তীরের শেষ প্রান্তে তার জাহাজ ভেড়াতে সক্ষম নন এবং এর গভীর থেকে সমস্ত মণি-মুক্তা ও রত্ন আহরণ করতেও অক্ষম। একজন আলেম জ্ঞানের উৎস থেকে যতটুকুও গ্রহণ করুন না কেন, তাকে সামান্য জ্ঞানই দেওয়া হয়েছে; মহান আল্লাহর বাণীর সত্যতা স্বরূপ: "তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে (৮৫)" [আল-ইসরা: ৮৫]।
ফিকহ শাস্ত্র যেহেতু এই জ্ঞানসমূহের মধ্যে অধিক প্রশস্ত ও ব্যাপক ছিল, তাই ফিকহ শাস্ত্রের আলেম ও বিশেষজ্ঞদের জন্য এমন কিছু মূলনীতি (কাওয়াইদ) এবং নীতিমালা (উসুল) প্রণয়ন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে যা ফিকহ শাস্ত্রের মাসআলাগুলোকে সুশৃঙ্খল করবে, এর বিষয়বস্তুকে একত্রিত করবে এবং এর বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে বিন্যস্ত করবে। তাই আলেমগণ উসুলে ফিকহ-এর মূলনীতিসমূহ প্রণয়ন করেছেন, যা একজন ফকিহকে সঠিক ভিত্তির ওপর ফিকহি মাসআলা উদ্ভাবন করতে সক্ষম করে তোলে। এরপর তাঁরা ফিকহি কাওয়াইদ প্রণয়ন করেছেন যা সদৃশ বিধানগুলোকে একত্রিত করে এবং সেগুলোর বিন্যাসকে সুসংহত করে। আর এ সবকিছুই করা হয়েছে এই শাস্ত্রের গুরুত্ব, মহিমা এবং শ্রেষ্ঠত্বের কারণে।
আল্লামা সুয়ূতী ফিকহ শাস্ত্র ও এর মূলনীতিসমূহের কী চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন! তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
"ফিকহ শাস্ত্রের সমুদ্রসমূহ উত্তাল, এর উদ্যানসমূহ সজীব, এর নক্ষত্রসমূহ উজ্জ্বল, এর মূলভিত্তি সুদৃঢ় ও প্রতিষ্ঠিত এবং এর শাখাসমূহ অকাট্য ও সুবিন্যস্ত। অধিক ব্যয়ে এর ভাণ্ডার শেষ হয় না এবং কালের পরিক্রমায় এর মর্যাদা মলিন হয় না। ফিকহবিদগণ হলেন দ্বীনের ধারক ও বাহক এবং দ্বীনের স্তম্ভ; তাঁদের মাধ্যমেই দ্বীনের ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে। তাঁরা নবীদের উত্তরাধিকারী এবং তাঁদের মাধ্যমেই আলো পাওয়া যায়..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الدهماء، ويُهتدى كنجوم السماء، ............... ، وهم الملوك. لا. بل الملوك تحت أقدامهم، وفي تصاريف أقوالهم وأقلامهم، وهم الذين إذا التحمت الحرب أرز الإيمان إلى أعلامهم، وهم القوم كل القوم إذا افتخر كل قبيل بأقوامهم.
بيض الوجوه كريمةٌ أحسابُهُم
… شُمُّ الأُنوف من الطراز الأول
ولقد نوعوا هذا الفقه فنونًا وأنواعًا، وتطاولوا في استنباطه يدًا وباعًا، وكان من أجلِّ أنواعه معرفةُ نظائر الفروع وأشباهِها، وضم المفردات إلى أخواتها وأشكالها، ولعمري إنَّ هذا الفن لايُدرك بالتمني، ولا يُنال بسوف ولعلَّ ولو أنِّي، ولا يبلغه إلا من كشف عن ساعد الجد وشمَّر، واعتزل أهله وشد المئزر، وخاض البحار وخالط العَجَاجَ (الغبار والدخان)، ولازم الترداد إلى الأبواب في الليل الداج (الليل الذي عمت فيه الظلمة)
(1).
وأبدع في ذلك أيضًا تاج الدين السبكي أيما إبداع حيث قال:
"فإنَّ العلوم وإن كانت تتعاظم شرَفًا، ................. ، فلا مرية في أنَّ الفقه واسطة عقدها ورابطة حلها وعقدها، وخالصة الرابح من نقدها، به يعرف الحلال والحرام، ويدين الخواص والعوام، ويتبين مصابيح الهدى من ظلام الضلال وضلال الظلام، قطب الشريعة وأساسها، وقلب الحقيقة التي إذا صلح صلحت ورأسها، وأهله سرات الأرض الذين لولاهم لفسدت بسيادة جهَّالها وضلت أناسها، ........ ، إن أهم ماعني به الفقيه، وجعله المدرس دأبه الذي يعيده ويبديه، وشوقه الذي يلقنه ويلقيه القيام بالقواعد، وتبيين مسالك الأنظار ومدارك المعاقد، وكيف ائتلاف النظائر، واختلاف المآخذ واجتماع الشوارد "
(2).
ولمَّا كان هذا العلم عظيم الفضل رفيع القدر أحببتُ أن يكون لي فيه سهم ونصيب، فكتبتُ هذه النبذة الموجزة، وسميتُها "الرِّسالة النَّديَّة في القواعد
--------------------------------------------
সাধারণ মানুষ, এবং আকাশের নক্ষত্রের মতো তারা পথপ্রদর্শক, ............... , এবং তাঁরাই সম্রাট। না, বরং সম্রাটগণ তাঁদের পদতলে এবং তাঁদের কথা ও কলমের বিচরণক্ষেত্রের অধীন। তাঁরাই সেই ব্যক্তি যাঁদের পতাকাতলে ঈমান আশ্রয় নেয় যখন যুদ্ধ তীব্রতর হয়। তাঁরাই সেই জাতি, প্রকৃত জাতি, যখন প্রতিটি গোত্র তাদের লোকদের নিয়ে গর্ব করে।
উজ্জ্বল মুখমণ্ডল, তাঁদের বংশমর্যাদা অত্যন্ত সম্মানিত... উন্নত নাসা (মর্যাদাসম্পন্ন), তাঁরা প্রথম সারির শ্রেষ্ঠ মানের মানুষ।
তাঁরা এই ফিকহকে বিভিন্ন শাখা ও প্রকারে বিন্যস্ত করেছেন এবং এর মাসআলা উদ্ভাবনে অসামান্য দক্ষতা ও পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রকার ছিল ফিকহের শাখা-প্রশাখার সাদৃশ্য ও তুল্য বিষয়গুলো জানা এবং একক মাসআলাগুলোকে সেগুলোর সমজাতীয় ও অনুরূপ মাসআলার সাথে যুক্ত করা। আমার জীবনের শপথ! এই শিল্প কেবল কামনার দ্বারা অর্জিত হয় না, আর না তা 'হয়ে যাবে', 'হয়তো' বা 'যদি আমি পারতাম'—এমন আশার দ্বারা লাভ করা যায়। এতে কেবল সেই ব্যক্তিই পৌঁছাতে পারে যে কঠোর পরিশ্রমের জন্য প্রস্তুত হয়েছে এবং সঙ্কল্প করেছে, পরিবার থেকে নির্জনতা অবলম্বন করেছে এবং কটিদেশ মজবুত করে বেঁধেছে, সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছে এবং যুদ্ধের ধূলিকণা ও ধোঁয়ায় নিজেকে লিপ্ত করেছে, এবং ঘুটঘুট অন্ধকার রাতে (যে রাতে অন্ধকার ছেয়ে যায়) দ্বারে দ্বারে বারবার ধরণা দেওয়া অব্যাহত রেখেছে
(১)।
তাজউদ্দীন আস-সুবকীও এই বিষয়ে চমৎকার নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন যখন তিনি বলেছেন:
"নিশ্চয়ই জ্ঞানসমূহ মর্যাদার দিক থেকে যতই মহান হোক না কেন, ................. , এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ফিকহ হলো সেগুলোর মধ্যমণি এবং সেগুলোর সবকিছুর সমাধান ও সিদ্ধান্তের মূলসূত্র, আর তা হলো সঠিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অর্জিত খাঁটি মুনাফা। এর মাধ্যমেই হালাল ও হারাম চেনা যায়, এর মাধ্যমেই বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ আনুগত্য করে, এবং এর মাধ্যমেই হেদায়েতের প্রদীপগুলো গোমরাহির অন্ধকার ও অন্ধকারের গোমরাহি থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এটি শরীয়তের কেন্দ্রবিন্দু ও ভিত্তি, এবং হাকীকতের হৃৎপিণ্ড যা সঠিক থাকলে সবকিছু সঠিক থাকে এবং এটি তার মস্তকস্বরূপ। ফিকহবিদগণ হলেন জমিনের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ, তাঁরা না থাকলে মূর্খদের নেতৃত্বে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেত এবং মানুষ পথভ্রষ্ট হতো। ........ একজন ফকিহ সবচেয়ে বেশি যা নিয়ে গুরুত্ব দেন এবং একজন শিক্ষক যেটিকে তাঁর অভ্যাসে পরিণত করেন—যা তিনি বারবার আলোচনা করেন ও প্রকাশ করেন এবং যার প্রতি আগ্রহ নিয়ে তিনি পাঠদান ও উপদেশ প্রদান করেন—তা হলো মূলনীতিগুলো (কাওয়াইদ) প্রতিষ্ঠা করা, গবেষণার পথসমূহ ও প্রমাণের উৎসগুলো স্পষ্ট করা, কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ মাসআলাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যায় এবং উৎসের ভিন্নতা ও বিচ্ছিন্ন বিষয়গুলোর একত্রীকরণ কীভাবে হয় তা ব্যাখ্যা করা।"
(২)।
যেহেতু এই ইলম অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ ও উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, তাই আমি চেয়েছি এতে আমারও যেন একটি অংশ ও হিসসা থাকে। ফলে আমি এই সংক্ষিপ্ত পুস্তিকাটি লিখেছি এবং এর নামকরণ করেছি "আর-রিসালাহ আন-নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الفقهيَّة"؛ إذ هي ورقات مختصرة في ظلِّ أسفار كبار، وإضاءة مصباح في ضوء الشمس والنهار، وقطرات ندى في وسط مياه الأمطار، اعتنيت فيها بتأصيل قواعدها، وبيان أدلتها، وسهولة عبارتها، وكثرة أمثلتها، مبينًا بذلك أنَّ القواعد الفقهية والقواعد الأصولية كأخوين شقيقين قد خرجا من مشكاة واحدة، ولأنَّ تقسيم العلوم يُسهِّل على طالب العلم تصور العلم، ولم شارده ووارده؛ قسمتها إلى خمسة مباحث: "المبحث الأول" ذكرت فيه المبادئ العشرة لعلم القواعد الفقهيَّة، "المبحث الثاني" ذكرت فيه بعض المقدمات الهامة، "المبحث الثالث" بينت فيه القاعدة العامة والهامة وهي قاعدة "الدين مبني على جلب المصالح ودرء المفاسد" وهي التي ترجع إليها كل القواعد، " المبحث الرابع" ذكرت فيه القواعد الخمس الكبرى التي يرجع إليها كثير من القواعد الفرعية، " المبحث الخامس" ذكرت فيه بعض القواعد المتفرقة، واخترت من بينها أكثر القواعد استخدامًا في علم الفقه والفروع.
وختمتُ الكتاب بقاعدة فقهيَّة أصوليَّة ألَا وهي قاعدة "العفو عن الخطأ والنسيان والإكراه"؛ وذلك رجاء أن يعفو ربنا عنَّا عمَّا وقع في الكتاب من الخطأ والزلل الذي لا مفرَّ منه، وطمعًا أن تكون هذه الورقات سببًا لعفو الله عنَّا عمَّا بَدَر منَّا من الذنوب والخطايا والآثام، إنه عفُوُّ كريم، غفور حليم.
أسأل الله التوفيق والسداد في القول والعمل، وأن يكتب لهذا العمل ولكل أعمالنا القبول وأن ينفع به في الدنيا، وفي الآخرة " يوم لا ينفع مال ولا بنون إلا من أتى الله بقلب سليم".
وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا محمد، وعلى آله، وأصحابه، والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.
كتبه
أبوسلسبيل
عبد الفتاح بن محمد مصيلحي
ফিকহী মূলনীতি"; কারণ এটি বিশাল গ্রন্থরাজির ছায়াতলে সংক্ষিপ্ত কিছু পৃষ্ঠা মাত্র, সূর্য ও দিনের আলোর উপস্থিতিতে প্রদীপের আলোকচ্ছটা এবং বৃষ্টির পানির মাঝে শিশির বিন্দুর মতো। আমি এতে এর মূলনীতিসমূহ সুদৃঢ় করতে, সেগুলোর দলিলসমূহ স্পষ্ট করতে, এর ভাষা সহজ করতে এবং প্রচুর উদাহরণ প্রদান করতে সচেষ্ট হয়েছি। এর মাধ্যমে আমি এটি স্পষ্ট করতে চেয়েছি যে, ফিকহী মূলনীতি এবং উসূলী মূলনীতি হলো আপন সহোদর ভাইয়ের মতো, যারা একই উৎস থেকে নির্গত হয়েছে। যেহেতু জ্ঞানকে বিভিন্ন ভাগে বিন্যস্ত করা তালিবে ইলমের জন্য সেই শাস্ত্রকে অনুধাবন করা এবং এর বিষয়বস্তুসমূহ আয়ত্ত করা সহজতর করে দেয়, তাই আমি একে পাঁচটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি: "প্রথম পরিচ্ছেদ": এতে আমি ফিকহী মূলনীতি শাস্ত্রের দশটি প্রাথমিক বিষয় উল্লেখ করেছি। "দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ": এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা উল্লেখ করেছি। "তৃতীয় পরিচ্ছেদ": এতে আমি একটি সাধারণ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি বর্ণনা করেছি, আর তা হলো—"দীন মূলত কল্যাণ অর্জন এবং অকল্যাণ দূর করার ওপর প্রতিষ্ঠিত", আর এটিই সেই মূলনীতি যার দিকে অন্য সকল মূলনীতি প্রত্যাবর্তন করে। "চতুর্থ পরিচ্ছেদ": এতে আমি পাঁচটি প্রধান মূলনীতি উল্লেখ করেছি, যেগুলোর দিকে অসংখ্য উপ-মূলনীতি ফিরে যায়। "পঞ্চম পরিচ্ছেদ": এতে আমি কিছু বিবিধ মূলনীতি উল্লেখ করেছি এবং সেগুলোর মধ্য থেকে ফিকহ শাস্ত্র ও তার শাখা-প্রশাখাগুলোতে সর্বাধিক ব্যবহৃত মূলনীতিগুলো নির্বাচন করেছি।
এবং আমি বইটি একটি ফিকহী ও উসূলী মূলনীতি দ্বারা সমাপ্ত করেছি, আর তা হলো—"ভুল, বিস্মৃতি এবং জবরদস্তির ক্ষমা পাওয়ার মূলনীতি"; আর এটি এই আশায় যে, আমাদের রব যেন আমাদের এই কিতাবে ঘটে যাওয়া অনিবার্য ভুল-ত্রুটি ও স্খলনসমূহ ক্ষমা করে দেন। আর এই প্রত্যাশায় যে, এই সামান্য পৃষ্ঠাগুলো যেন আমাদের দ্বারা সংঘটিত গুনাহ ও পাপরাশি থেকে আল্লাহর পক্ষ হতে ক্ষমা লাভের উসিলা হয়; নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, মহানুভব, অতিশয় মার্জনাকারী ও সহনশীল।
আমি আল্লাহর নিকট কথা ও কাজে তাওফীক এবং সঠিকতা প্রার্থনা করছি। তিনি যেন এই কাজটিকে এবং আমাদের সকল আমলকে কবুলিয়াত দান করেন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে এর দ্বারা উপকৃত করেন, "যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সে ব্যতীত যে আল্লাহর নিকট বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে।"
আর আল্লাহ তাআলা দরুদ, সালাম ও বরকত নাযিল করুন আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন—সবার ওপর।
লিখেছেন
আবু সালসাবীল
আব্দুল ফাত্তাহ বিন মুহাম্মদ মুসাইলিহী
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
المبحث الأولالمبادئ العشرة للقواعد الفقهيَّةيقول الصبَّان رحمه الله:
إنَّ مبادئ كل فن عشرة
… الحد والموضوع ثم الثمرة
وفضله ونسبة والواضع
… والاسم الاستمداد حكم الشارع
فمسائل والبعض بالبعض اكتفى
… ومن درى الجميع حاز الشرفا
الحد: هو الذي يبين حقيقة الشيء.
•
حد علم القواعد الفقهيَّة:أولًا باعتبار مفرديه:
القواعد: لغةً: جمع قاعدة وتأتي بمعنى الأساس، وقد يكون ذلك الأساس حسيًّا كقوله تعالى {وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ (127)} [البقرة: 127]، وقوله تعالى {قَدْ مَكَرَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَأَتَى اللَّهُ بُنْيَانَهُمْ مِنَ الْقَوَاعِدِ فَخَرَّ عَلَيْهِمُ السَّقْفُ مِنْ فَوْقِهِمْ وَأَتَاهُمُ الْعَذَابُ مِنْ حَيْثُ لَا يَشْعُرُونَ (26)} [النحل: 26]، وقد يكون معنويًّا كقواعد الدين أي دعائمه.
اصطلاحًا: القاعدة هي قضية كلية منطبقة على جميع جزئياتها
(1).
مثل قول النحاة: الفاعل مرفوع، وقول الأصوليين: النهي يقتضي التحريم ما لم يأت صارف يصرفه.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদফিকহি মূলনীতিসমূহের দশটি মৌলিক ভিত্তিআস-সাব্বান (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
নিশ্চয়ই প্রতিটি শাস্ত্রের ভিত্তি দশটি
… সংজ্ঞা, আলোচ্য বিষয় এবং ফলাফল
তার মর্যাদা, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং প্রণেতা
… নাম, উৎস এবং শরয়ি বিধান
অতঃপর মাসআলাসমূহ; কেউ কেউ আংশিক জেনেই ক্ষান্ত হয়
… আর যে সবগুলি জানল সে পূর্ণ মর্যাদা লাভ করল
সংজ্ঞা: যা কোনো বিষয়ের প্রকৃত স্বরূপ বা হাকিকত বর্ণনা করে।
•
ফিকহি মূলনীতি শাস্ত্রের সংজ্ঞা:প্রথমত, এর শব্দদ্বয়ের একক বিশ্লেষণের বিচারে:
কাওয়াইদ: শাব্দিক অর্থে: এটি ‘কায়িদাহ’ শব্দের বহুবচন এবং এটি ভিত্তি বা মূল অর্থে ব্যবহৃত হয়। এই ভিত্তি কখনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বা বস্তুগত হতে পারে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন ইব্রাহিম ও ইসমাইল কাবাগৃহের ভিত্তিগুলো উত্তোলন করছিল, (তখন তারা বলছিল) হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (১২৭)} [আল-বাকারা: ১২৭], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই তাদের পূর্ববর্তীরা ষড়যন্ত্র করেছিল, অতঃপর আল্লাহ তাদের ইমারতগুলোর ভিত্তিমূলে আঘাত করলেন, ফলে ছাদ তাদের ওপর উপর থেকে ধসে পড়ল এবং তাদের নিকট আজাব এমনভাবে আসল যা তারা অনুভবও করতে পারেনি। (২৬)} [আন-নাহল: ২৬]। আবার এই ভিত্তি কখনো ভাবগত বা বিমূর্ত হতে পারে, যেমন দ্বীনের মূলনীতিসমূহ অর্থাৎ তার স্তম্ভসমূহ।
পারিভাষিক অর্থে: কায়িদাহ বা মূলনীতি হলো এমন একটি সামগ্রিক বিষয় যা তার অধীনে থাকা সকল খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয়
(১)।
যেমন ব্যাকরণবিদদের উক্তি: কর্তা সর্বদা পেশযুক্ত (মারফু) হয়; এবং উসুলবিদদের উক্তি: নিষেধাজ্ঞা হারাম হওয়াকে আবশ্যক করে যতক্ষণ না এমন কোনো প্রমাণ আসে যা একে অন্য অর্থে সরিয়ে নেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الفقه: لغة: الفهم قال تعالى {فَمَالِ هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًا (78)} [النساء: 78] أي يفهمون حديثًا.
اصطلاحًا: معرفة الأحكام الشرعية العملية المكتسبة من أدلتها التفصيلية.
تعريف القواعد الفقهيَّة باعتبارها لقبًا:القواعد الفقهيَّة: هي حكم أكثري ينطبق على أكثر جزئياته ليُعرف أحكامها منه.
• الموضوع: الأحكام الفقهيَّة المتشابهة.
• الثمرة: لعلم القواعد الفقهيَّة كثير من الفوائد لخصها القرافي رحمه الله في قوله " وهذه القواعد مهمة في الفقه، عظيمة النفع، وبقدر الإحاطة بها يعظُمُ قدر الفقيه ويَشرُفُ، ويظهر رونق الفقه ويُعرَفُ، وتتضح مناهج الفتوى وتُكشَفُ، فيها تنافس العلماء، وتفاضل الفضلاء "
(1).
ومن
ثمرات علم القواعد الفقهيَّة:1 - تيسير الفقه: حيث يكفي مؤونة حفظ الفروع والجزئيات.
2 - يساعد على ضبط كثير من المسائل.
3 - يربط الأحكام المبعثرة.
4 - يربي الملكة الفقهيَّة عند الباحث أو الدارس.
5 - يساعد على التعمق في دراسة الفقه.
6 - يساعد الفقيه على إدراك مقاصد الشريعة.
7 - يجنب الفقيه التناقض والاضطراب.
8 - يمكن الفقيه من التوصل إلى معرفة الأحكام المستحدثة. وغير ذلك من الفوائد.
--------------------------------------------
ফিকহ: শাব্দিক অর্থ: অনুধাবন করা। মহান আল্লাহ বলেন, {অতঃপর এই সম্প্রদায়ের কী হয়েছে যে, তারা কোনো কথা বুঝতে পারছে না (৭৮)} [আন-নিসা: ৭৮] অর্থাৎ কোনো কথা অনুধাবন করতে পারছে না।
পারিভাষিক অর্থ: বিস্তারিত দলিল-প্রমাণাদি থেকে আহরিত আমল সংক্রান্ত শরয়ী বিধানাবলির জ্ঞান।
একটি পারিভাষিক নাম হিসেবে ফিকহি মূলনীতিসমূহের সংজ্ঞা:ফিকহি মূলনীতিসমূহ: এটি এমন এক অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান যা এর অধিকাংশ শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, যাতে তা থেকে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর বিধান জানা যায়।
• বিষয়বস্তু: সদৃশ ফিকহি বিধানসমূহ।
• ফলশ্রুতি: ফিকহি মূলনীতি শাস্ত্রের অনেক উপকারিতা রয়েছে যা আল-কারাফি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর এই বাণীতে সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন, "এই মূলনীতিগুলো ফিকহ শাস্ত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অত্যন্ত ফলদায়ক। এগুলোর ওপর গভীর জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে একজন ফকিহর মর্যাদা বৃদ্ধি পায় ও তিনি সম্মানিত হন। ফিকহ শাস্ত্রের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে এবং তা সুপরিচিত হয়। ফতোয়া প্রদানের পদ্ধতিগুলো স্পষ্ট ও উন্মোচিত হয়। এগুলো নিয়েই আলিমগণ প্রতিযোগিতা করেন এবং শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন"
(১)।
ফিকহি
মূলনীতি শাস্ত্রের আরও কিছু ফলশ্রুতি হলো:১ - ফিকহ শাস্ত্রকে সহজসাধ্য করা: কারণ এটি শাখা-প্রশাখা ও খুঁটিনাটি বিষয়গুলো মুখস্থ করার কষ্ট লাঘব করে।
২ - অনেক মাসআলাকে সুসংহত করতে সাহায্য করে।
৩ - বিক্ষিপ্ত বিধানগুলোর মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে।
৪ - গবেষক বা শিক্ষার্থীর মধ্যে ফিকহি দক্ষতা তৈরি করে।
৫ - ফিকহ অধ্যয়নে গভীরতা অর্জনে সহায়তা করে।
৬ - ফকিহকে শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ অনুধাবনে সহায়তা করে।
৭ - ফকিহকে স্ববিরোধিতা ও বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে রাখে।
৮ - ফকিহকে আধুনিক ও উদ্ভূত মাসআলাসমূহের বিধান জানতে সক্ষম করে। এছাড়াও আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
• فضله: يتناسب فضل العلم مع ثمرته، ولما كان ارتباط القواعد الفقهيَّة بالفقه والأحكام
، كان علمًا عالي الشأن عظيم النفع؛ إذ الفقه أفضل مايتعلمه الإنسان ويُعَلِّمه بعد علم التوحيد، فهو كما قال القرافي رحمه الله " فإنَّ الفقه عماد الحق، ونظام الخلق، ووسيلة السعادة الأبدية، ولباب الرسالة المحمديَّة، من تحلى بلباسه فقد ساد، ومن بالغ في ضبط معالمه فقد شاد "
(1).
• نسبتة: هو علم من العلوم الشرعية المتعلقة بالأحكام الفقهية.
• الواضع: هذه القواعد كانت مقررة في الكتاب والسنة، ووُضِعتْ لها أصولٌ ومعالمُ وضوابطُ، ومن ذلك قوله الله تعالى {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ
كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا (29)} [النساء: 29]، وقال تعالى {وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ وَأَحْسِنُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ (195)} [البقرة: 195]، وقال تعالى {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} [الحج: 78].
عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى، فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله فهجرته إلى الله ورسوله، ومن كانت هجرته لدنيا يصيبها، أو امرأة يتزوجها، فهجرته إلى ما هاجر إليه"
(2)، وقال صلى الله عليه وسلم " لا ضرر ولا ضرار "
(3)، وقال صلى الله عليه وسلم: «إذا شك أحدكم في صلاته، فلم يدر كم صلى ثلاثًا أم أربعًا، فليطرح الشك وليبن على ما استيقن، ثم يسجد
--------------------------------------------
• এর ফজিলত: ইলমের ফজিলত বা শ্রেষ্ঠত্ব তার ফলাফলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেহেতু ফিকহি মূলনীতিসমূহের সম্পর্ক ফিকহ এবং বিধিবিধানের সাথে,
তাই এটি অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাপূর্ণ ও মহা-উপকারী একটি ইলম। কেননা তাওহীদের ইলমের পর মানুষের শেখা এবং শেখানোর জন্য ফিকহ হলো সর্বশ্রেষ্ঠ বিষয়। ইমাম আল-কারাফি (রহিমাহুল্লাহ) যেমনটি বলেছেন: "নিশ্চয়ই ফিকহ হলো হকের স্তম্ভ, সৃষ্টির সুশৃঙ্খল ধারা, অনন্ত সুখের মাধ্যম এবং মুহাম্মাদি রিসালাতের সারকথা। যে ব্যক্তি এর পোশাকে সজ্জিত হয়েছে সে নেতৃত্ব লাভ করেছে, আর যে এর সীমানাগুলো আয়ত্ত করতে চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালিয়েছে সে সুদৃঢ় হয়েছে।"
(১)।
• এর সম্বন্ধ: এটি ফিকহি বিধিবিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট শরয়ি ইলমসমূহের একটি ইলম।
• প্রবর্তক: এই মূলনীতিসমূহ কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা নির্ধারিত ছিল এবং এগুলোর জন্য মূল ভিত্তি, নিদর্শন ও নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না; তবে তোমাদের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ব্যবসা হলে ভিন্ন কথা। আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ
তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। (২৯)} [নিসা: ২৯], এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমরা নিজ হাতে নিজেদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না এবং সৎকাজ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন। (১৯৫)} [বাকারা: ১৯৫], এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তিনি দীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি} [হাজ্জ: ৭৮]।
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করবে। অতএব যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে হবে অথবা কোনো নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যে উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে"
(২), এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির বিনিময়ে ক্ষতি করা যাবে না"
(৩), এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তার সালাতে সন্দেহে পতিত হয় এবং সে তিন রাকাত পড়েছে না চার রাকাত পড়েছে তা বুঝতে না পারে, তবে সে যেন সন্দেহ বর্জন করে এবং যা নিশ্চিত তার ওপর ভিত্তি করে সালাত সম্পন্ন করে, অতঃপর সে যেন সিজদা দেয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
سجدتين قبل أن يسلم، فإن كان صلى خمسًا شفعن له صلاته، وإن كان صلى إتمامًا لأربع كانتا ترغيمًا للشيطان»
(1)، وبهذا تكون قد وضعت أصولها في الكتاب والسنة.
لكنها لم تكن مدونة، وأول من دونها وصاغها هو " أبو طاهر محمد الدباس " قاضي الشام، حيث جمع قواعد المذهب الحنفي في سبع عشرة قاعدة، ثم تبعه الكرخي فجمعها في سبع وثلاثين قاعدة، ثم تبعهما العلماء.
حكى القاضي أبو سعيد الهروي أنَّ بعض أئمة الحنفية علم أنَّ أبا طاهر الدباس جمع مذهب أبي حنيفة في سبع عشرة قاعدة، فسافر إليه، وكان أبو طاهر ضريرًا، وكان يكرر هذه القواعد بمسجده بعد أن يخرج الناس، فالتف الهروي بحصير وخرج الناس، وبدأ أبوطاهر يسرد تلك القواعد فسرد منها سبعًا، فحصلت للهروي سُعلة، فأحس به أبوطاهر، فضربه وأخرجه من المسجد، فرجع الهروي إلى أصحابه، وتلا عليهم تلك القواعد
(2).
• الاسم: علم القواعد الفقهيَّة، أو علم الأشباه والنظائر.
• الاستمداد: يُستمد من الكتاب والسنة كما سبق، ومن آثار السلف كقول عمر رضي الله عنه " مقاطع الحقوق عند الشروط "
(3).
• حكم الشارع: فرض كفاية إذا قام به البعض الكافي سقط عن الباقين، لكنه بالنسبة للفقيه والمجتهد فرض عين؛ إذ به تضبط المسائل ويجمع شواردها.
• مسائله: الطرق والضوابط الكلية التي تضبط الفروع والجزئيات المتشابهة، والتي تمكن الفقيه من تخريج المسائل الفقهية في الأبواب المختلفة.
--------------------------------------------
সালাম ফেরানোর পূর্বে দুইটি সিজদাহ (করবে); যদি সে পাঁচ রাকাত সালাত আদায় করে থাকে, তবে এই সিজদাহদ্বয় তার সালাতকে জোড় করে দেবে, আর যদি সে পূর্ণ চার রাকাত আদায় পূর্ণ করার জন্য তা করে থাকে, তবে তা শয়তানের জন্য অবমাননাকর হবে»
(১), এবং এভাবেই কিতাব ও সুন্নাহর মধ্যে এর মূলনীতিসমূহ স্থাপিত হয়েছে।
কিন্তু এগুলো সংকলিত ছিল না। সর্বপ্রথম যিনি এগুলো সংকলন ও সুবিন্যস্ত করেছেন তিনি হলেন সিরিয়ার বিচারক (কাযী) "আবু তাহের মুহাম্মদ আদ-দাব্বাস"। তিনি হানাফী মাযহাবের মূলনীতিসমূহকে সতেরোটি নীতিতে একত্রিত করেন। এরপর আল-কারখী তাঁর অনুসরণ করেন এবং তিনি সেগুলোকে সাইত্রিশটি নীতিতে সংকলিত করেন, পরবর্তীতে অন্যান্য আলেমগণ তাঁদের অনুসরণ করেন।
কাযী আবু সাঈদ আল-হারাউয়ী বর্ণনা করেছেন যে, হানাফী মাযহাবের জনৈক ইমাম জানতে পারলেন যে আবু তাহের আদ-দাব্বাস আবু হানীফার মাযহাবকে সতেরোটি মূলনীতিতে সংকলন করেছেন। ফলে তিনি তাঁর কাছে সফর করেন। আবু তাহের দৃষ্টিহীন ছিলেন এবং মানুষ চলে যাওয়ার পর তাঁর মসজিদে এই নীতিগুলো পুনরাবৃত্তি করতেন। আল-হারাউয়ী একটি চাটাই দিয়ে নিজেকে মুড়িয়ে লুকিয়ে রইলেন এবং মানুষজন চলে গেল। এরপর আবু তাহের সেই নীতিগুলো ধারাবাহিকভাবে পাঠ করতে শুরু করলেন এবং সাতটি বর্ণনা করলেন। তখন আল-হারাউয়ীর কাশি আসল, ফলে আবু তাহের তাঁর উপস্থিতি টের পেলেন। তিনি তাকে প্রহার করলেন এবং মসজিদ থেকে বের করে দিলেন। এরপর আল-হারাউয়ী তাঁর সঙ্গীদের কাছে ফিরে গেলেন এবং তাঁদের নিকট সেই নীতিগুলো বর্ণনা করলেন
(২)।
• নাম: ইলমুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (ফিকহী মূলনীতি বিষয়ক জ্ঞান), অথবা ইলমুল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির।
• উৎস: এটি ইতিপূর্বে উল্লিখিত কুরআন ও সুন্নাহ থেকে গৃহীত এবং সালাফদের আসার (বর্ণনা) থেকে, যেমন ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি: "শর্তের নিকটই অধিকারসমূহ নির্ধারিত হয়"
(৩)।
• শরয়ী বিধান: এটি ফরযে কিফায়াহ; যদি পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক এটি পালন করে তবে বাকিদের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায়। কিন্তু ফকীহ ও মুজতাহিদের ক্ষেত্রে এটি ফরযে আইন; কারণ এর মাধ্যমে মাসআলাসমূহ সুশৃঙ্খল করা হয় এবং এর বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করা হয়।
• এর বিষয়বস্তু: সেই সকল পদ্ধতি ও সামগ্রিক নীতিমালা যা সমজাতীয় শাখা ও খুটিনাটি বিষয়গুলোকে সুশৃঙ্খল করে এবং যা ফকীহকে বিভিন্ন অধ্যায়ের ফিকহী মাসআলাসমূহ উদ্ভাবনে সক্ষম করে তোলে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
المبحث الثاني: مقدمات هامةويشتمل على:
- المقدمة الأولى: ارتباط القواعد الفقهيَّة بغيرها من العلوم.
- المقدمة الثانية: الفرق بين القواعد الفقهيَّة والقواعد الأصوليَّة.
- المقدمة الثالثة: الفرق بين القاعدة الفقهيَّة والضابط الفقهي.
- المقدمة الرابعة: الفرق بين القواعد الفقهيَّة والفروق الفقهيَّة.
- المقدمة الخامسة: الفرق بين القاعدة الفقهيَّة والنظريَّة الفقهيَّة
- المقدمة السادسة: أقسام القواعد الفقهيَّة.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গুরুত্বপূর্ণ উপক্রমণিকাএটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
- প্রথম উপক্রমণিকা: অন্যান্য শাস্ত্রের সাথে ফিকহি মূলনীতিসমূহের সম্পর্ক।
- দ্বিতীয় উপক্রমণিকা: ফিকহি মূলনীতি এবং উসুলি মূলনীতির মধ্যে পার্থক্য।
- তৃতীয় উপক্রমণিকা: ফিকহি মূলনীতি এবং ফিকহি উপ-মূলনীতির মধ্যে পার্থক্য।
- চতুর্থ উপক্রমণিকা: ফিকহি মূলনীতি এবং ফিকহি প্রভেদসমূহের মধ্যে পার্থক্য।
- পঞ্চম উপক্রমণিকা: ফিকহি মূলনীতি এবং ফিকহি তত্ত্বের মধ্যে পার্থক্য
- ষষ্ঠ উপক্রমণিকা: ফিকহি মূলনীতিসমূহের প্রকারভেদ।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المقدمة الأولى ارتباط القواعد الفقهيَّة بغيرها من العلومإنَّ علوم الشريعة الغراء مرتبطة مع بعضها البعض؛ إذ أنها خرجت من مشكاة واحدة، ومصدرها الذي تُتلقى منه مصدر واحد، ومعينها الذي تُستقى منه معين واحد، لكن هناك ثلاثة علوم مرتبطة مع بعضها البعض ارتباطًا وثيقًا وهي (علم أصول الفقه - علم الفقه - علم القواعد الفقهيَّة)
- أصول الفقه: القواعد التي تُستخرج من الأدلة للوصول بها إلى الأحكام العملية.
- الفقه: الأحكام العملية التي يستخرجها الفقيه بالاستعانة بقواعد أصول الفقه.
- ومن ثَمَّ يُوجد أحكامٌ متشابهه في الأبواب المختلفة، فتُجمع هذه الأحكام المتشابهة في قواعد تُسمى " القواعد الفقهيَّة ".
- فالقواعد الأصوليَّة: مستخرجة من الأدلة.
- القواعد الفقهيَّة: مستخرجة من الأحكام المتشابهة.
مثال: القيام في الصلاة ركن قال تعالى {حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ (238)} [البقرة: 238]، لكن من لم يستطع القيام صلى قاعدًا، وصلاته صحيحه.
وصيام رمضان فرض يجب أداؤه، لكن من لم يستطع الصيام أفطر وعليه القضاء أو الفدية قال تعالى {أَيَّامًا مَعْدُودَاتٍ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ
প্রথম ভূমিকা: অন্যান্য বিজ্ঞানের সাথে ফিকহী মূলনীতিসমূহের সম্পর্কনিশ্চয়ই গৌরবময় শরীয়তের জ্ঞানসমূহ একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত; কেননা এগুলো একই উৎস থেকে নির্গত হয়েছে, এগুলোর গ্রহণের উৎস এক এবং এগুলোর আহরণের ঝর্ণাধারাও এক। তবে এমন তিনটি শাস্ত্র রয়েছে যা একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত, সেগুলো হলো (উসূলে ফিকহ - ফিকহ শাস্ত্র - ফিকহী মূলনীতি শাস্ত্র)
- উসূলে ফিকহ: সেই সকল মূলনীতি যা দলীলসমূহ থেকে ব্যবহারিক বিধানাবলীতে পৌঁছানোর জন্য আহরণ করা হয়।
- ফিকহ: সেই সকল ব্যবহারিক বিধান যা একজন ফকীহ উসূলে ফিকহের মূলনীতিসমূহের সাহায্যে আহরণ করেন।
- অতঃপর বিভিন্ন অধ্যায়ে এমন কিছু সদৃশ বিধান পাওয়া যায়, এই সদৃশ বিধানগুলোকে কতগুলো মূলনীতিতে একত্রিত করা হয় যেগুলোকে "ফিকহী মূলনীতি" বলা হয়।
- সুতরাং উসূলী মূলনীতিসমূহ: দলীলসমূহ থেকে আহরিত।
- ফিকহী মূলনীতিসমূহ: সদৃশ বিধানসমূহ থেকে আহরিত।
উদাহরণ: সালাতে দণ্ডায়মান হওয়া একটি রুকন। আল্লাহ তাআলা বলেন, {তোমরা সালাতসমূহের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী সালাতের এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে অনুগত হয়ে দণ্ডায়মান হও (২৩৮)} [আল-বাকারা: ২৩৮]। কিন্তু যে ব্যক্তি দণ্ডায়মান হতে সক্ষম নয়, সে বসে সালাত আদায় করবে এবং তার সালাত সঠিক হবে।
আর রমজানের সিয়াম পালন করা ফরজ যা আদায় করা ওয়াজিব। কিন্তু যে ব্যক্তি সিয়াম পালনে সক্ষম নয়, সে সিয়াম ভঙ্গ করবে এবং তার ওপর কাজা অথবা ফিদয়া আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা বলেন, {নির্ধারিত কয়েক দিন; তবে তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আর যাদের জন্য তা অত্যন্ত কষ্টকর, তাদের ওপর কর্তব্য ফিদয়া—একজন মিসকিনকে অন্নদান করা। অতঃপর যে ব্যক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো কল্যাণকর কাজ করবে, তা তার জন্য কল্যাণকর।}
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
لَهُ وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ (184)} [البقرة: 184].
وكذلك الوضوء شرط لصحة الصلاة، لكن من لم يجد الماء جاز له التيمم وقام التراب مقام الماء.
فالصلاة قاعدًا لمن لم يستطع القيام يسر، والإفطار لمن لا يستطيع الصيام يسر، والتيمم لمن لم يجد الماء يسر، فهذه صور مختلفة في أبواب مختلفة، لكنها اجتمعت في أنَّ كلًّا منها جُلب له اليسر بسبب المشقة.
فلما نُظر في عامة الأحكام المتشابهة وُجد أنه عند كل مشقة يوجد تيسير، فوضعت لذلك قاعدة (المشقة تجلب التيسير)، وهكذا.
...এবং তোমাদের রোজা রাখা তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে (১৮৪)} [আল-বাকারা: ১৮৪]।
অনুরূপভাবে ওযু সালাত বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য একটি শর্ত, কিন্তু যে ব্যক্তি পানি পায় না তার জন্য তায়াম্মুম করা বৈধ এবং মাটি পানির স্থলাভিষিক্ত হয়।
সুতরাং যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ে অক্ষম তার জন্য বসে সালাত আদায় করা সহজতা, যে সিয়াম পালনে অক্ষম তার জন্য রোজা না রাখা সহজতা এবং যে পানি পায় না তার জন্য তায়াম্মুম করা সহজতা। এগুলো বিভিন্ন অধ্যায়ের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টান্ত, কিন্তু এগুলো এই বিষয়ে একীভূত যে, কষ্টের কারণে এগুলোর প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে সহজতা আনয়ন করা হয়েছে।
যখন সমজাতীয় সাধারণ বিধানসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করা হলো, তখন দেখা গেল যে প্রত্যেক কষ্টের ক্ষেত্রেই সহজতা বিদ্যমান। তাই এর জন্য একটি মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়েছে (কষ্ট সহজতাকে আনয়ন করে), এবং এভাবেই।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المقدمة الثانية الفرق بين القواعد الأصوليَّة والقواعد الفقهيَّةالقواعد الأصوليَّة والقواعد الفقهيَّة يخدم بعضها بعضًا، ويدل بعضها على بعض، ويشد بعضها من أزر بعض، بل لقرب بعضها من بعض قد تُوجد بعض القواعد متداخلة بين القواعد الفقهيَّة والقواعد الأصوليَّة، ولكنها تختلف باختلاف النظر إليها فقط، فإذا نُظر إليها باعتبارها دليلًا شرعيًّا كانت قاعدة أصوليَّة، وإذا نُظر إليها باعتبارها فعلًا للمكلف كانت قاعدة فقهيَّة، فإذا قيل كل مباح يؤدي إلى الحرام فهو حرام سدًّا للذريعة كانت قاعدة فقهيَّة، وإذا قيل ما لم يتم ترك الحرام إلا بتركه فتركه واجب كانت قاعدة أصوليَّة.
ولكنها مع ذلك يوجد بينها بعض الفروق منها:
1 - القواعد الأصوليَّة هي أدلة عامة، أما القواعد الفقهيَّة هي أحكام متشابهة.
2 - القواعد الأصوليَّة تضبط الاستنباط للفقيه، أما القاعدة الفقهيَّة هي قاعدة كلية جزئياتها بعض مسائل الفقه.
3 - القواعد الأصوليَّة تنطبق على جميع الجزئيات، أما القواعد الفقهيَّة فهي تشمل أغلب الجزئيات لا كلها.
4 - القواعد الأصوليَّة موجودة قبل الفروع، أما القواعد الفقهيَّة موجودة بعدها.
5 - القواعد الأصوليَّة لا بد معها من الدليل لإخراج الحكم، فهو لها كالمقدمة، مثل قاعدة "الأمر يقتضي الوجوب" لا بد معها من دليل لإخراج حكم الصلاة مثلًا، ألا وهو قوله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ (43)} [البقرة: 43]،
দ্বিতীয় ভূমিকা: উসুলি মূলনীতি ও ফিকহি মূলনীতির মধ্যে পার্থক্যউসুলি মূলনীতি এবং ফিকহি মূলনীতি একে অপরের পরিপূরক, একটি অপরটির নির্দেশক এবং একে অপরকে শক্তিশালী করে। বরং একে অপরের কাছাকাছি হওয়ার কারণে ফিকহি মূলনীতি ও উসুলি মূলনীতির মধ্যে কিছু মূলনীতি পরস্পর প্রবিষ্ট থাকতে পারে, তবে কেবল দেখার দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এগুলোর মধ্যে পার্থক্য হয়। সুতরাং যদি সেটিকে শরয়ি দলিল হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে তা একটি উসুলি মূলনীতি; আর যদি সেটিকে মুকাল্লাফের (শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে তা একটি ফিকহি মূলনীতি। যেমন যদি বলা হয়— "হারামের দিকে ধাবিত করে এমন প্রতিটি বৈধ কাজই অনিষ্টের পথ বন্ধ করার নীতি অনুযায়ী হারাম", তবে এটি একটি ফিকহি মূলনীতি। আর যদি বলা হয়— "যা ছাড়া হারাম বর্জন করা সম্ভব নয়, তা বর্জন করা ওয়াজিব", তবে এটি একটি উসুলি মূলনীতি।
এতদসত্ত্বেও এগুলোর মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি হলো:
১ - উসুলি মূলনীতিসমূহ হলো সাধারণ দলিল, আর ফিকহি মূলনীতিসমূহ হলো সদৃশ বিধানসমূহ।
২ - উসুলি মূলনীতি ফকিহর ইস্তিম্বাত বা বিধান আহরণ প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল করে, আর ফিকহি মূলনীতি হলো এমন একটি সামগ্রিক নিয়ম যার খুটিনাটি বিষয়গুলো হলো ফিকহের কিছু মাসআলা।
৩ - উসুলি মূলনীতিসমূহ সমস্ত খুটিনাটি বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয়, কিন্তু ফিকহি মূলনীতিসমূহ অধিকাংশ খুটিনাটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, সবগুলোকে নয়।
৪ - উসুলি মূলনীতিসমূহ শাখা-প্রশাখার (ফুরু) পূর্বে বিদ্যমান থাকে, পক্ষান্তরে ফিকহি মূলনীতিসমূহ শাখা-প্রশাখার পরে সংকলিত হয়।
৫ - উসুলি মূলনীতি থেকে বিধান বের করার জন্য অবশ্যই দলিলের প্রয়োজন হয়, এটি তার জন্য একটি ভূমিকার মতো। যেমন "নির্দেশ (আমর) ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে" এই মূলনীতিটি থেকে সালাতের বিধান বের করার জন্য একটি নির্দিষ্ট দলিলের প্রয়োজন, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু করো (৪৩)} [বাকারা: ৪৩],
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
بخلاف القاعدة الفقهيَّة فإنها يستخرج بها الحكم مباشرة مثل قاعدة "الضرر يُزال"، فأينما وجد الضرر فإنه يزال، وذلك بالنظر للقاعدة مباشرة.
6 - القواعد الأصوليَّة هي التي يتوصل بها المجتهد إلى الأحكام، أما القواعد الفقهيَّة هي الضوابط الكلية للفقه التي توصل إليها المجتهد.
7 - القواعد الأصولية موضوعها الدليل الشرعي، أما القواعد الفقهية موضوعها أفعال المكلفين.
পক্ষান্তরে ফিকহি মূলনীতির ক্ষেত্রে এর মাধ্যমে সরাসরি বিধান আহরণ করা হয়, যেমন "ক্ষতি দূরীভূত করতে হবে" মূলনীতিটি। সুতরাং যেখানেই ক্ষতি পাওয়া যাবে, সরাসরি এই মূলনীতির দিকে লক্ষ্য রেখে তা দূর করা হবে।
৬ - উসুলি মূলনীতিসমূহ হলো এমন মাধ্যম যার দ্বারা মুজতাহিদ বিধানসমূহে উপনীত হন। পক্ষান্তরে ফিকহি মূলনীতিসমূহ হলো ফিকহের সেই সামগ্রিক নীতিমালা যেগুলোতে মুজতাহিদ উপনীত হয়েছেন।
৭ - উসুলি মূলনীতির আলোচ্য বিষয় হলো শারয়ী দলিল, আর ফিকহি মূলনীতির আলোচ্য বিষয় হলো মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কার্যাবলি।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المقدمة الثالثة الفرق بين القاعدة الفقهيَّة والضابط الفقهي- القاعدة الفقهيَّة تعمل في عامة الأبواب مثل قاعدة "العادة محكَّمة"، فإنها تعمل في عامة الأبواب إذا توفرت فيها شروط العمل بالعادة والعرف.
- الضابط الفقهي يخص بابًا واحدًا مثل "كل ماء لم يتغير أحد أوصافه فهو طهور"، فهذا ضابط فقهي يعمل في باب المياه.
তৃতীয় ভূমিকা: ফিকহি কায়েদা (মূলনীতি) এবং ফিকহি জাবিত (উপ-নীতি)-এর মধ্যে পার্থক্য- ফিকহি কায়েদা সাধারণত সকল অধ্যায়ে কার্যকর হয়, যেমন: "প্রথা প্রামাণ্য হিসেবে গণ্য" নামক কায়েদাটি। এটি প্রায় সকল অধ্যায়ে কার্যকর হয় যদি তাতে প্রথা ও রীতি অনুযায়ী আমল করার শর্তাবলি বিদ্যমান থাকে।
- ফিকহি জাবিত একটি মাত্র নির্দিষ্ট অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে, যেমন: "এমন প্রত্যেক পানি যার কোনো গুণাগুণ পরিবর্তিত হয়নি তা পবিত্র"। এটি একটি ফিকহি জাবিত যা কেবল পানি সংক্রান্ত অধ্যায়ে কার্যকর হয়।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المقدمة الرابعة الفرق بين القواعد الفقهية والفروق الفقهيةالقواعد الفقهية كما سبق تبحث في الأحكام المتشابهة.
أما الفروق الفقهية تبحث في أوجه الاختلاف بين المسائل والأحكام المتشابة، فأحدهما يبحث في وجه الشبه، والآخر يبحث في وجه الاختلاف.
إذًا فالفروق الفقهية تبحث في الأحكام المتشابهة والمتفقة في الصورة والظاهر، والمختلفة والمفترقة في العلل والأحكام.
من أمثلة الفروق الفقهية:
قولهم إذا طُرِح في الماء تراب فغيَّر لونه أو طعمه أو ريحه لم يسلبه التطهير، ولو وُضِع فيه طاهر غير التراب كالعطر والصابون فغيَّر أحد أوصافه سلبه التطهير.
والفرق بينهما أنَّ التراب يشارك الماء في جواز التطهر به بخلاف الصابون والزعفران لا يجوزالتطهر بهما.
ومن الفروق الفقهية:
الفرق بين المفتي والقاضي فهما يتفقان في جواز الفتوى والحكم، لكن الفرق بينهما أنَّ حكم المفتي مُعلِمٌ، أما حكم القاضي فهو مُلزِمٌ.
ومن هذه الفروق أيضًا:
الفرق بين الخمس الفواسق وشوك الحرم فهما يتشابهان في أنَّ كلًّا منهما مؤذٍ،
চতুর্থ ভূমিকা: ফিকহী কাওয়াইদ ও ফিকহী ফুরুক-এর মধ্যে পার্থক্যফিকহী কাওয়াইদ (আইনগত মূলনীতি) যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে, সদৃশ বিধানসমূহ নিয়ে আলোচনা করে।
পক্ষান্তরে ফিকহী ফুরুক (আইনগত পার্থক্য) সদৃশ মাসআলা ও বিধানসমূহের মধ্যকার পার্থক্যের দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করে। সুতরাং এদের একটি সাদৃশ্যের দিক নিয়ে আলোচনা করে, আর অন্যটি পার্থক্যের দিক নিয়ে আলোচনা করে।
অতএব, ফিকহী ফুরুক এমন সব বিধান নিয়ে আলোচনা করে যা বাহ্যিক রূপ ও দৃশ্যপটে সদৃশ ও একরূপ, কিন্তু কারণ (ইল্লত) ও হুকুমের ক্ষেত্রে ভিন্ন ও পৃথক।
ফিকহী ফুরুক-এর কিছু উদাহরণ:
ফকিহগণের বক্তব্য: যদি পানিতে মাটি নিক্ষেপ করা হয় এবং তা পানির রঙ, স্বাদ বা ঘ্রাণ পরিবর্তন করে দেয়, তবে তা পানির পবিত্র করার ক্ষমতা (তাতহীর) ছিনিয়ে নেয় না। কিন্তু যদি পানিতে মাটি ছাড়া অন্য কোনো পবিত্র বস্তু যেমন সুগন্ধি বা সাবান মেশানো হয় এবং তা পানির কোনো একটি বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে দেয়, তবে তা তার পবিত্র করার ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়।
এই দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো, পবিত্রতা অর্জনের বৈধতার ক্ষেত্রে মাটি পানির সাথে অংশীদার, পক্ষান্তরে সাবান ও জাফরান দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ নয়।
ফিকহী ফুরুক-এর আরও উদাহরণ:
মুফতি ও কাজীর (বিচারক) মধ্যে পার্থক্য: ফতোয়া প্রদান ও ফয়সালা দেওয়ার বৈধতার ক্ষেত্রে তারা উভয়ই সদৃশ, কিন্তু তাদের মধ্যে পার্থক্য হলো মুফতির সিদ্ধান্ত কেবল জ্ঞাপনকারী (তথ্যপ্রদানকারী), পক্ষান্তরে কাজীর ফয়সালা হলো বাধ্যতামূলক।
এই পার্থক্যগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে:
পাঁচটি অনিষ্টকারী প্রাণী এবং হারামের কাঁটার মধ্যে পার্থক্য: এই উভয়টি এই দিক থেকে সদৃশ যে এদের প্রতিটিই কষ্টদায়ক,
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فمن لم ينظر للفروق بينهما جعل حكمهما واحدًا كعطاء رحمه الله تعالى، ومن نظر في الفروق في أوصافها وعللها جعل الحكم مختلف، حيث إنَّ الخمس الفواسق مؤذية بطبعها مع التعدي، بخلاف شوك الحرم فإنه قاصر غير متعدٍّ، وهذا من الفروق بينهما.
ومن ذلك أيضًا:
إذا ادعى المرتهن تلف الرهن لا يُقبل قوله، ولو ادعى المؤتمَن تلف الأمانة قُبل قوله، والفرق بينهما أنَّ الأمين مؤتمن ولا ضمان على مؤتمن، وهذا الوصف غير متحقق في المرتهن.
وكذلك فالمؤتمن حفظ الأمانة لمصلحة غيره، بخلاف المرتهن إنما حفظها لحق نفسه فافترقا.
অতএব যে ব্যক্তি এই দুইয়ের মধ্যবর্তী পার্থক্যসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করেননি, তিনি আতা (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা)-এর ন্যায় উভয়ের বিধানকে অভিন্ন গণ্য করেছেন। আর যিনি এগুলোর বৈশিষ্ট্য ও কারণসমূহের (ইল্লাত) পার্থক্যের প্রতি লক্ষ্য করেছেন, তিনি বিধানকে ভিন্ন সাব্যস্ত করেছেন। কেননা পাঁচটি ফাসিক (ক্ষতিকারক) প্রাণী স্বভাবগতভাবেই ক্ষতিকারক ও আক্রমণাত্মক; পক্ষান্তরে হারামের কাঁটা সীমাবদ্ধ, তা আক্রমণাত্মক নয়। এটিই উভয়ের মধ্যকার অন্যতম পার্থক্য।
অনুরূপ আরও উদাহরণ হলো:
যদি বন্ধকগ্রহীতা বন্ধকী বস্তু ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দাবি করে, তবে তার কথা গ্রহণ করা হবে না; কিন্তু আমানতদার ব্যক্তি যদি আমানতকৃত বস্তু ধ্বংস হওয়ার দাবি করে, তবে তার কথা গ্রহণ করা হবে। উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো, আমানতদার হলেন বিশ্বস্ত আমানত রক্ষাকারী আর আমানত রক্ষাকারীর ওপর কোনো দায় বা জরিমানা নেই। এই বৈশিষ্ট্যটি বন্ধকগ্রহীতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান নেই।
তদ্রূপ আমানতদার আমানত হেফাযত করেন অন্যের কল্যাণে; পক্ষান্তরে বন্ধকগ্রহীতা তা হেফাযত করেন মূলত নিজের হকের স্বার্থে। ফলে উভয়ের বিষয়টি পৃথক হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
المقدمة الخامسة الفرق بين القاعدة الفقهية والنظرية الفقهيةالقاعدة الفقهية: هي التي تتضمن أحكامًا في ذاتها، وهذه الأحكام تنطبق على كل الفروع المندرجة تحتها.
فقاعدة "الضرر يُزال" تتضمن حكمًا، وهو أنَّ الضرر لابد أن يُزال، فكل مسألة وفرع يُوجد به ضرر ينبغي للعبد إزالة هذا الضرر.
وقاعدة "اليقين لا يزول بالشك": فهذا حكم تتضمنه القاعدة في كل فروعها وصورها، فكل يقين لا يزول ولا يتغير إلا بيقين مثله، ولا يتغير بالشك.
فمن تيقن الوضوء ثم شك في نقض وضوئه فلا يزول يقينه ويبقى متوضئًا، ومن ادَّعى على شخص حقًّا وليس معه بينة، فأحدث بذلك شكًّا في ذمته فالأصل براءة الذمة ولا يزول هذا اليقين بالشك فتبقى ذمته بريئة، وهكذا.
فالقاعدة الفقهية في هذا الباب أشبه بالحكم العام في علم أصول الفقه، فهو حكم يشمل كل أفراد العموم.
النظرية الفقهية: ليست حكمًا فقهيًّا إنما هي موضوع فقهي، أو موضوع مشتمل على مسائل وقضايا فقهية. فالنظرية الفقهية أعم من القاعدة الفقهية؛ إذ أنَّ النظرية الفقهية قد يندرج تحتها أكثر من قاعدة فقهية.
পঞ্চম ভূমিকা: ফিকহি মূলনীতি ও ফিকহি তত্ত্বের মধ্যে পার্থক্যফিকহি মূলনীতি: এটি এমন বিষয় যা আপন সত্তাগতভাবে বিধানসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এই বিধানসমূহ এর অধীনে বিন্যস্ত সকল শাখার (ফুরু) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।
"ক্ষতি দূর করতে হবে" - এই মূলনীতিটি একটি বিধানকে ধারণ করে, আর তা হলো ক্ষতি অবশ্যই দূরীভূত করতে হবে। সুতরাং প্রতিটি মাসআলা ও শাখা যেখানেই ক্ষতি বিদ্যমান থাকবে, সেখানে বান্দার জন্য সেই ক্ষতি দূর করা আবশ্যক।
"নিশ্চয়তা সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না" - এটি এমন একটি বিধান যা এই মূলনীতিটি তার সকল শাখা ও অবস্থায় ধারণ করে। সুতরাং প্রতিটি নিশ্চিত বিষয় তার সমপর্যায়ের নিশ্চিত বিষয় ব্যতীত অপসারিত বা পরিবর্তিত হয় না এবং এটি সন্দেহের দ্বারাও পরিবর্তিত হয় না।
যেকোনো ব্যক্তি যদি ওযুর ব্যাপারে নিশ্চিত থাকে এবং এরপর ওযু ভঙ্গের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে, তবে তার নিশ্চিত অবস্থা দূরীভূত হবে না এবং সে ওযু অবস্থাতেই গণ্য হবে। আবার যে ব্যক্তি কারো কাছে কোনো পাওনার দাবি করে অথচ তার কাছে কোনো প্রমাণ নেই, যার ফলে তার জিম্মাদারি বা দায়বদ্ধতার বিষয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়, এমতাবস্থায় মূল বিধান হলো দায়মুক্ত থাকা। এই নিশ্চিত অবস্থাটি সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হবে না, ফলে তার জিম্মা দায়মুক্তই থাকবে; এভাবেই অন্যান্য বিষয়গুলো।
অতএব, এই ক্ষেত্রে ফিকহি মূলনীতি উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের সাধারণ বিধানের (হুকুম আম) সদৃশ, যা উমুম বা ব্যাপকতার অন্তর্ভুক্ত সকল বিষয়কে শামিল করে।
ফিকহি তত্ত্ব: এটি কোনো ফিকহি বিধান নয় বরং এটি একটি ফিকহি বিষয়, অথবা এমন একটি বিষয় যা বিভিন্ন ফিকহি মাসআলা ও বিষয়াবলীকে অন্তর্ভুক্ত করে। ফিকহি তত্ত্ব ফিকহি মূলনীতির চেয়ে অধিক ব্যাপক; কারণ একটি ফিকহি তত্ত্বের অধীনে একাধিক ফিকহি মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
فإن قلنا "نظرية العقد" فهذه نظرية فقهية لا تشتمل على أحكام وإنما تشتمل على مسائل مرتبطة بالعقد، وعليه فبيان هذه المسائل قد يحتاج لأكثر من قاعدة فقهية.
لكن إن قلنا "العبرة في العقود المقاصد لا المعاني " فهذه قاعدة فقهية تشتمل حكمًا معينًا هو أنَّ العبرة بالنيات والمقاصد لا باللفظ.
وإن قلنا" العادة مُحكَّمة " فهذه قاعدة فقهية لأنها تشتمل حُكمًا، وهو أنَّ العادة يثبت بها أحكامٌ كما تثبت بالنص بشروط بابها.
وإن قلنا "نظرية العرف" فهذه نظرية فقهية لا تشتمل على أحكام، وإنما تشتمل على مسائل مرتبطة بالعرف، وقد يكون لكل مسألة حكمها، وقد يندرج تحتها أكثر من قاعدة، منها قاعدة العادة محكَّمة، وقاعدة المعروف عرفا كالمشروط شرطًا، وغيرها من القواعد.
আমরা যদি "চুক্তি তত্ত্ব" বলি, তবে এটি একটি ফিকহি তত্ত্ব যা কোনো সরাসরি বিধান অন্তর্ভুক্ত করে না, বরং চুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মাসআলা অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে, এই মাসআলাগুলোর বর্ণনার জন্য একাধিক ফিকহি মূলনীতির প্রয়োজন হতে পারে।
কিন্তু যদি আমরা বলি "চুক্তির ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যই বিবেচ্য, শব্দ নয়", তবে এটি একটি ফিকহি মূলনীতি যা একটি নির্দিষ্ট বিধান অন্তর্ভুক্ত করে; আর তা হলো—মূল বিবেচ্য বিষয় হলো নিয়ত ও উদ্দেশ্য, কেবল শব্দ নয়।
আর আমরা যদি বলি "প্রথা বিচারক হিসেবে গণ্য", তবে এটি একটি ফিকহি মূলনীতি কারণ এটি একটি বিধানকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর তা হলো—সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের শর্তসাপেক্ষে দলিলের মাধ্যমে যেভাবে বিধান সাব্যস্ত হয়, তেমনি প্রথার মাধ্যমেও বিধান সাব্যস্ত হয়ে থাকে।
আর আমরা যদি বলি "প্রথা তত্ত্ব", তবে এটি একটি ফিকহি তত্ত্ব যা সরাসরি কোনো বিধান অন্তর্ভুক্ত করে না, বরং প্রথা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মাসআলা অন্তর্ভুক্ত করে। প্রতিটি মাসআলার আলাদা বিধান থাকতে পারে এবং এর অধীনে একাধিক মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যেমন: "প্রথা বিচারক হিসেবে গণ্য" মূলনীতিটি এবং "প্রথাগতভাবে যা সুপরিচিত তা শর্তারোপ করার মতোই গণ্য" মূলনীতিটিসহ অন্যান্য আরও মূলনীতি।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
المقدمة السادسة أقسام القواعد الفقهيَّةتنقسم القواعد الفقهيَّة باعتبار الأصالة والتبعيَّة إلى:
- قواعد أصلية: وهي التي لا يؤول معناها إلى أكبر منها.
مثل: القاعدة العامة ألا وهي قاعدة "الدين مبني على جلب المصالح ودرء المفاسد"، فهي قاعدة أصلية عامة ترجع إليها القواعد، ولا يؤول معناها إلى غيرها؛ إذ هي أعم القواعد وأوسعها، ويليها القواعد الخمس الكبرى كقاعدة " الأمور بمقاصدها" فإنها يرجع إليها كثير من القواعد، ولا يؤول معناها إلى ما هو أكبر منها عدا قاعدة "المصالح والمفاسد"؛ إذ أنها قاعدة يرجع إليها كل أحكام الدين عامها وخاصها.
- قواعد فرعية: وهي القواعد التابعة لقاعدة أكبر منها، وتكون متفرعة منها.
كقاعدة " تداخل الأعمال " التي بنيت على قاعدة " الأمور بمقاصدها "، وقاعدة " الضرورات تبيح المحظورات " المتفرعة من قاعدة " الضرر يُزال"، وقاعدة "المعروف عرفًا كالمشروط شرطًا" المتفرعة من قاعدة "العادة محكَّمة".
ষষ্ঠ ভূমিকা: ফিকহী মূলনীতিসমূহের প্রকারভেদমৌলিকতা এবং অনুগামিতার বিচারে ফিকহী মূলনীতিসমূহকে নিম্নোক্ত ভাগে ভাগ করা যায়:
- মৌলিক মূলনীতিসমূহ: এগুলো এমন মূলনীতি যেগুলোর অর্থ এর চেয়ে বড় অন্য কোনো মূলনীতির দিকে পর্যবসিত হয় না।
যেমন: সাধারণ মূলনীতি, আর তা হলো "দ্বীন জনকল্যাণ সাধন এবং অকল্যাণ প্রতিরোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত"; এটি একটি সাধারণ মৌলিক মূলনীতি যেদিকে অন্যান্য মূলনীতিসমূহ ফিরে আসে, কিন্তু এর অর্থ অন্য কিছুর দিকে ফিরে যায় না। কেননা এটিই সবচেয়ে সাধারণ ও ব্যাপক মূলনীতি। এর পরেই রয়েছে পাঁচটি প্রধান মূলনীতি, যেমন "কার্যাবলি তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল" মূলনীতিটি। এর দিকে অনেক মূলনীতি ফিরে আসে এবং "কল্যাণ ও অকল্যাণ" মূলনীতিটি ব্যতীত এর চেয়ে বড় অন্য কোনো মূলনীতির দিকে এর অর্থ পর্যবসিত হয় না; কেননা এটি এমন একটি মূলনীতি যার দিকে দ্বীনের সাধারণ ও বিশেষ সকল বিধান ফিরে আসে।
- শাখা মূলনীতিসমূহ: এগুলো এমন মূলনীতি যা এর চেয়ে বড় কোনো মূলনীতির অনুগামী এবং তা থেকে উৎসারিত।
যেমন: "কাজের পারস্পরিক সংমিশ্রণ" মূলনীতিটি, যা "কার্যাবলি তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল" মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে গঠিত। আর "প্রয়োজন নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে" মূলনীতিটি "ক্ষতি দূর করতে হবে" মূলনীতি থেকে উৎসারিত। এবং "প্রথাগতভাবে পরিচিত বিষয়টি শর্তারোপিত বিষয়ের মতো" মূলনীতিটি "রীতি বা অভ্যাস বিচারকের ভূমিকা রাখে" মূলনীতি থেকে উৎসারিত।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المبحث الثالث :
ويشتمل على:
- القاعدة العامة: الدين مبني على تحصيل المصالح، ودفع المفاسد.
- قاعدة فرعية منها: وهي قاعدة التزاحم:
- تزاحم المصالح.
- تزاحم المفاسد.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ :
এবং এটি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
- সাধারণ মূলনীতি: দ্বীন কল্যাণ অর্জন এবং অকল্যাণ প্রতিহত করার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- এর থেকে উদ্ভূত একটি উপ-মূলনীতি: আর তা হলো ‘তাজাহুম’ (পরস্পর সংঘাত) এর মূলনীতি:
- কল্যাণসমূহের পরস্পর সংঘাত।
- অকল্যাণসমূহের পরস্পর সংঘাত।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
القاعدة العامة الدين مبني على تحصيل المصالح ودفع المفاسدالدين مبني على جلب المصالح للناس في دينهم ودنياهم، ودفع المفاسد عنهم، ولا توجد مصلحة إلا وهي تتوافق مع النص، ولا يوجد مفسدة أو مضرة إلا وهي تعارض النصوص وتخالفها.
وقاعدة جلب المصالح ودرء المفاسد تتوافق تمام الموافقة مع مقاصد الشريعة الإسلامية؛ إذ أنَّ للشريعة الإسلامية مقاصد عامة ومقاصد خاصة، فالمقاصد العامة هي تحقيق مصالح الخلق جميعًا في الدنيا والآخرة، والمقاصد الخاصة هي الأهداف التي تسعى الشريعة إلى تحقيقها في مجالات خاصة كمجالات السياسة والاقتصاد والاجتماع وبناء الأسرة وتقويم السلوك، وغير ذلك من المجالات الخاصة التي تراعيها الشريعة الإسلامية، فعُلم أنَّ كل مقاصد الشريعة تدور حول جلب المصالح ودرء المفاسد.
ولأهمية هذه القاعدة أرجَعَ العزُّ بن عبد السلام الفقهَ كله إلى اعتبار المصالح ودرء المفاسد
(1)، وفي هذا يقول الشاطبي "الأحكام الشرعية إنما شُرعت لجلب المصالح أو درء المفاسد"
(2).
ويقول شيخ الإسلام ابن تيمية "والقول الجامع أنَّ الشريعة لا تهمل مصلحة قط"
(3).
--------------------------------------------
সাধারণ নীতি: দ্বীন গড়ে উঠেছে কল্যাণ অর্জন এবং অকল্যাণ দূর করার ওপরদ্বীন মানুষের দ্বীনি ও পার্থিব কল্যাণ বয়ে আনা এবং তাদের থেকে অকল্যাণ বা অনিষ্ট দূর করার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এমন কোনো কল্যাণ নেই যা দলিলের (নস) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এবং এমন কোনো অকল্যাণ বা ক্ষতি নেই যা দলিলের পরিপন্থী বা বিরোধী নয়।
কল্যাণ আনয়ন এবং অকল্যাণ প্রতিরোধের এই নীতি ইসলামী শরীয়াহর উদ্দেশ্যসমূহের (মাকাসিদুশ শরীয়াহ) সাথে পূর্ণাঙ্গভাবে সংগতিপূর্ণ; কেননা ইসলামী শরীয়াহর সাধারণ এবং বিশেষ কিছু উদ্দেশ্য রয়েছে। সাধারণ উদ্দেশ্য হলো দুনিয়া ও আখিরাতে সকল সৃষ্টির কল্যাণ নিশ্চিত করা। আর বিশেষ উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট লক্ষ্যসমূহ যা শরীয়াহ বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে অর্জন করতে চায়, যেমন রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, পরিবার গঠন এবং আচরণের সংশোধন, এছাড়াও অন্যান্য বিশেষ ক্ষেত্রসমূহ যা ইসলামী শরীয়াহ বিবেচনা করে থাকে। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, শরীয়াহর সকল উদ্দেশ্যই কল্যাণ আনয়ন এবং অকল্যাণ প্রতিরোধের চারপাশেই আবর্তিত হয়।
এই নীতির গুরুত্বের কারণে ইযযুদ্দীন ইবনে আবদুস সালাম সমগ্র ফিকহ শাস্ত্রকে কল্যাণ বিবেচনা এবং অকল্যাণ প্রতিরোধের নিরিখে ব্যাখ্যা করেছেন। এ প্রসঙ্গে শাতেবী বলেন, "শরয়ী বিধানসমূহ কেবল কল্যাণ আনয়ন অথবা অকল্যাণ প্রতিরোধের জন্যই বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।"
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন, "সারকথা হলো, শরীয়াহ কোনো কল্যাণকেই কখনো অবহেলা করে না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ويقول الإمام عبد المؤمن بن عبد الحق الحنبلي" إنَّ الشريعة ما وُضعت إلا لتحقيق مصالح العباد في الدارين "
(1).
• ملحوظة هامة:
إن قاعدة المصالح والمفاسد وضبطها وبيانها لا تخضع لأهواء الناس ورغباتهم، وليس الضابط لها اختلاف آراء الناس، وتباين وجهات نظرهم، إنما الضابط لها هو ما وضع من أصول وقواعد وضوابط في الشريعة المحكمة؛ لذا أرجئ تقديم المصالح أو المفاسد والحكم عليها لأهل العلم الأثبات، الذين يستمدون هذه الأحكام من ضوابط الشريعة وقواعدها لا من أهواء الناس ومصالحهم الخاصة.
ومصالح الناس من حيث الأهمية تنقسم إلى ثلاثة أقسام:
أولًا: الضروريات:وهي ما لا يستغني عنه الناس بحال من الأحوال كالكليات الخمس وهي:
1 - حفظ الدين:وهذه هي الضرورة العظمى التي لأجلها خلق الله الخلق وأرسل الرسل وأنزل الكتب، وهي التي لأجلها ابتلى الله أحب الخلق إليه وهم أنبياؤه ورسله، وشرَّع سبحانه شرائع خاصة لحماية هذا الدين وحفظه منها:
- شرع الله الجهاد على أحبابه وإن أدى ذلك إلى اصطفاء بعضهم واتخاذهم شهداء.
- ومنها: شرع قتل المرتد رجلًا كان أو امرأة.
--------------------------------------------
এবং ইমাম আব্দুল মুমিন বিন আব্দুল হক আল-হাম্বলী বলেন, "শরিয়ত কেবল ইহকাল ও পরকালে বান্দাদের কল্যাণসমূহ সাধনের জন্যই প্রণীত হয়েছে"
(১)।
• গুরুত্বপূর্ণ নোট:
নিশ্চয়ই কল্যাণ (মাসালিহ) ও অকল্যাণ (মাফাসিদ)-এর মূলনীতি এবং এর নিয়ন্ত্রণ ও ব্যাখ্যা মানুষের প্রবৃত্তি বা আকাঙ্ক্ষার অধীন নয়। মানুষের মতভিন্নতা বা তাদের দৃষ্টিভঙ্গির বৈচিত্র্য এর নিয়ন্ত্রক নয়। বরং এর নিয়ন্ত্রক হলো সুদৃঢ় শরিয়তে প্রতিষ্ঠিত উসুল (মূলনীতি), কাওয়ায়েদ (বিধি) এবং জওয়াবিত (নিয়ামকসমূহ)। অতএব, কল্যাণ বা অকল্যাণকে অগ্রাধিকার প্রদান এবং সে বিষয়ে ফয়সালার ভার নির্ভরযোগ্য আলেমদের কাছেই ন্যস্ত করা হয়েছে; যারা এসব বিধান শরিয়তের নিয়ম ও মূলনীতি থেকে আহরণ করেন, মানুষের প্রবৃত্তি বা ব্যক্তিগত স্বার্থ থেকে নয়।
গুরুত্বের দিক থেকে মানুষের কল্যাণসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত:
প্রথমত: আবশ্যকীয় বিষয়সমূহ (আদ-দারুরিয়্যাত):এগুলো এমন বিষয় যা থেকে মানুষ কোনো অবস্থাতেই অমুখাপেক্ষী হতে পারে না, যেমন পাঁচটি মৌলিক বিষয় (আল-কুল্লিয়্যাত আল-খামস), আর সেগুলো হলো:
১ - দ্বীন রক্ষা করা:আর এটিই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ আবশ্যকতা যার জন্য আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন, রাসূলদের পাঠিয়েছেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন। এরই জন্য আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিত্বদের অর্থাৎ তাঁর নবী ও রাসূলদের পরীক্ষা করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই দ্বীনকে সুরক্ষা ও হেফাজত করার জন্য বিশেষ বিধানসমূহ বিধিবদ্ধ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
- আল্লাহ তাঁর প্রিয়জনদের ওপর জিহাদ বিধিবদ্ধ করেছেন, যদিও তা তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে বাছাই করে নেওয়া এবং তাদের শহীদ হিসেবে গ্রহণ করার দিকে নিয়ে যায়।
- এর অন্তর্ভুক্ত হলো: মুরতাদকে (ইসলাম ত্যাগকারী) হত্যা করার বিধান প্রণয়ন, সে পুরুষ হোক বা নারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
- ومنها: نهى صلى الله عليه وسلم أن يقيم أحد في بلاد الكفر بغير حاجة حفاظًا على دينه فقال صلى الله عليه وسلم " أنا بريء من كل مسلم يقيم بين أظهر المشركين"
(1).
- ومنها: نهى ربنا تبارك وتعالى عن الجلوس مع الذين يخوضون في آيات الله؛ إذ أنَّ المخالطة مؤثرة على العبد في دينه ودنياه، فقال تعالى {وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ وَإِمَّا يُنْسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَى مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ (68)} [الأنعام: 68].
- ومنها: توعد الله تعالى من يفتن المؤمنين والمؤمنات في دينهم بالعذاب الأليم، فقال تعالى {إِنَّ الَّذِينَ فَتَنُوا الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَتُوبُوا فَلَهُمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ وَلَهُمْ عَذَابُ الْحَرِيقِ (10)} [البروج: 10].
- ومنها: وعد الله تعالى من صبر وتمسك بدينه، مع شدة الفتن والابتلاء بأن آتاهم الله ثواب الدنيا وحسن ثواب الآخرة، فجمعوا خيري الدنيا والآخرة، فقال تعالى {وَكَأَيِّنْ مِنْ نَبِيٍّ قَاتَلَ مَعَهُ رِبِّيُّونَ كَثِيرٌ فَمَا وَهَنُوا لِمَا أَصَابَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَا ضَعُفُوا وَمَا اسْتَكَانُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الصَّابِرِينَ (146) وَمَا كَانَ قَوْلَهُمْ إِلَّا أَنْ قَالُوا رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ (147) فَآتَاهُمُ اللَّهُ ثَوَابَ الدُّنْيَا وَحُسْنَ ثَوَابِ الْآخِرَةِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ (148)} [آل عمران: 146 - 148].
- ومنها: أنَّ الله تعالى لما علم أنَّ هذا الدين لا يقوم إلا إذا تكفل به أناس يحمون حماه، ويقضون الأوقات والأعمار والأموال من أجل الحفاظ على هذا الدين، حث الناس على ذلك وأعظم أجر من يفعل ذلك، فرفع الله مكانتهم، وقرن شهادتهم بشهادته، وجعلهم ورثةً لأنبيائه، ووعدهم على ما فعلوه الحسنى وزيادة، بل وأمر الناس جميعًا ملوكًا وعبيدًا أن يرجعوا إليهم في أمور دينهم، ولا يصدروا إلا عن إرشاداتهم، فقال تعالى {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ (7)} [الأنبياء: 7].
--------------------------------------------
- এর মধ্যে রয়েছে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বীন রক্ষার খাতিরে কোনো প্রয়োজন ছাড়া কুফরি রাষ্ট্রে অবস্থান করতে নিষেধ করেছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমি প্রত্যেক সেই মুসলিম থেকে দায়মুক্ত, যে মুশরিকদের মাঝে বসবাস করে।"
(১).
- এর মধ্যে রয়েছে: আমাদের বরকতময় ও সুউচ্চ রব আল্লাহ তাদের সাথে বসতে নিষেধ করেছেন যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে অনর্থক বিতর্কে বা উপহাসে লিপ্ত হয়; কেননা মেলামেশা বান্দার দ্বীন ও দুনিয়ার ওপর প্রভাব ফেলে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "আর যখন আপনি তাদেরকে দেখেন যারা আমার আয়াতসমূহ নিয়ে উপহাস বা অনর্থক আলোচনায় লিপ্ত হয়, তখন আপনি তাদের থেকে বিমুখ থাকুন যতক্ষণ না তারা অন্য কোনো আলোচনায় লিপ্ত হয়। আর শয়তান যদি আপনাকে ভুলিয়ে দেয়, তবে স্মরণ হওয়ার পর আপনি জালিম সম্প্রদায়ের সাথে বসবেন না।" [আল-আনআম: ৬৮]।
- এর মধ্যে রয়েছে: আল্লাহ তাআলা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে তাদের দ্বীন নিয়ে ফিতনায় ফেলার কারণে যন্ত্রণাদায়ক আজাবের ভয় দেখিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, "নিশ্চয় যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে ফিতনায় ফেলেছে (নির্যাতন করেছে), অতঃপর তাওবা করেনি, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আজাব এবং তাদের জন্য রয়েছে দহন যন্ত্রণা।" [আল-বুরূজ: ১০]।
- এর মধ্যে রয়েছে: আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তিকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে কঠিন ফিতনা ও পরীক্ষার সময়ে সবর করে এবং দ্বীনকে আঁকড়ে ধরে থাকে, আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়ার সওয়াব এবং আখেরাতের উত্তম সওয়াব দান করবেন। ফলে তারা দুনিয়া ও আখেরাতের উভয় কল্যাণ অর্জন করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, "আর কত নবী ছিলেন যাদের সাথে বহু আল্লাহওয়ালা লোক যুদ্ধ করেছেন; আল্লাহর পথে তাদের ওপর যা আপতিত হয়েছিল তাতে তারা হীনবল হননি, দুর্বল হননি এবং দমে যাননি। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন। তাদের কথা শুধু এই ছিল যে, তারা বলেছিল: হে আমাদের রব! আমাদের পাপসমূহ এবং আমাদের কাজে আমাদের বাড়াবাড়ি ক্ষমা করুন, আমাদের পা স্থির রাখুন এবং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়ার সওয়াব এবং আখেরাতের উত্তম সওয়াব দান করলেন। আর আল্লাহ মুহসিনদের (সদাচারীদের) ভালোবাসেন।" [আল-ইমরান: ১৪৬ - ১৪৮]।
- এর মধ্যে রয়েছে: আল্লাহ তাআলা যখন জানলেন যে, এই দ্বীন ততক্ষণ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না যতক্ষণ না একদল লোক এর হিফাজতের দায়িত্ব গ্রহণ করে, যারা এই দ্বীনকে রক্ষা করার জন্য তাদের সময়, জীবন ও সম্পদ ব্যয় করবে; তখন তিনি মানুষকে এর প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং যারা তা করে তাদের জন্য মহান প্রতিদান রেখেছেন। আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করেছেন এবং তাদের সাক্ষ্যকে তাঁর নিজের সাক্ষ্যের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন, তাদেরকে তাঁর নবীদের উত্তরাধিকারী বানিয়েছেন এবং তাদের কর্মের বিনিময়ে জান্নাত ও অতিরিক্ত নেয়ামতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এমনকি তিনি রাজা-প্রজা নির্বিশেষে সকল মানুষকে দ্বীনি বিষয়ে তাদের দিকেই ফিরে আসতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাদের দিকনির্দেশনা ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নিতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "সুতরাং তোমরা জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো যদি তোমরা না জানো।" [আল-আম্বিয়া: ৭]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
- ومنها: نهى أن يتكلم أحد في هذا الدين إلا بعلم، فقال تعالى {وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا (36)} [الإسراء: 36].
- وبكل هذه التشريعات وغيرها يحفظ الله تعالى هذا الدين، لذا قال تعالى {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ (9)} [الحجر: 9].
2 - حفظ النفس:النفس من الضروريات الهامة التي عني الشرع بها عناية عظيمة؛ لذا شرع الله لها شرائع خاصة تحمي هذه الضرورة وتدفع عنها:
- منها: شرَّع الله القصاص لمن قتل نفسَ معصومٍ متعمدًا بغير حق إلا أن يعفو أصحاب الحق وأولياء القتيل.
- ومنها: جعل الله الدية على من قتل مسلمًا خطأً؛ وذلك لعظم حرمة دم المسلم حتى في الخطأ.
- ومنها: أحل الله ما حرمه إن كان ذلك سيحفظ للناس حياتهم، فأباح أكل الميتة للمضطر، وأباح شرب الخمر للمضطر.
- ومنها: أجاز الله للمضطر الذي يخاف على نفسه من القتل أن يقول كلمة الكفر إن كان ذلك سيحفظ له حياته، لكن بشرط أن يكون هذا " وقلبه مطمئن بالإيمان ".
- ومما يبين عظم حفظ النفس في الشريعة أن أذن الله لمن يُعتدَى عليه أن يدفع عن نفسه، وإن أدى ذلك إلى الموت، بل بين صلى الله عليه وسلم أنه إن مات فهو شهيد، فقال صلى الله عليه وسلم "من قُتل دون دمه فهو شهيد"
(1).
وغير ذلك من الأمور التي شرعها الله تعالى لحفظ النفس.
--------------------------------------------
- এবং এর মধ্যে রয়েছে: জ্ঞান ছাড়া এই দ্বীন সম্পর্কে কোনো কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: "যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার পেছনে পোড়ো না; নিশ্চয়ই কান, চোখ এবং হৃদয়—এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কে (কিয়ামতের দিন) জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।" [আল-ইসরা: ৩৬]।
- এই সমস্ত বিধান এবং অন্যান্য কিছুর মাধ্যমে মহান আল্লাহ এই দ্বীনকে রক্ষা করেন, তাই মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আমিই উপদেশ (কুরআন) নাযিল করেছি এবং অবশ্যই আমিই তার সংরক্ষণকারী।" [আল-হিজর: ৯]।
২ - জীবন রক্ষা:জীবন বা প্রাণ হলো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবশ্যিক বিষয় (জরুরিয়্যাত), যার প্রতি শরীয়ত ব্যাপক গুরুত্বারোপ করেছে। এজন্য মহান আল্লাহ একে রক্ষা করতে এবং বিপদ থেকে বাঁচাতে বিশেষ বিধিবিধান প্রণয়ন করেছেন:
- তন্মধ্যে রয়েছে: কোনো নিরাপদ ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার দায়ে মহান আল্লাহ কিসাস (প্রতিশোধ) গ্রহণ করাকে বিধিবদ্ধ করেছেন, যদি না পাওনাদারগণ এবং নিহতের অভিভাবকগণ ক্ষমা করে দেন।
- তন্মধ্যে রয়েছে: ভুলবশত কোনো মুসলিমকে হত্যাকারীর ওপর আল্লাহ দিয়াত (রক্তপণ) নির্ধারণ করেছেন; আর এটি করা হয়েছে ভুলবশত হত্যার ক্ষেত্রেও একজন মুসলিমের জীবনের পবিত্রতা ও গুরুত্বের কারণে।
- তন্মধ্যে রয়েছে: জীবন রক্ষার খাতিরে আল্লাহ অনেক হারাম বিষয়কেও হালাল করে দিয়েছেন। ফলে নিরুপায় ব্যক্তির জন্য মৃত পশু খাওয়া বৈধ করেছেন এবং নিরুপায় ব্যক্তির জন্য মদ পান করা বৈধ করেছেন।
- তন্মধ্যে রয়েছে: কোনো নিরুপায় ব্যক্তি যে নিজের প্রাণনাশের আশঙ্কা করে, তাকে আল্লাহ কুফরী বাক্য উচ্চারণ করার অনুমতি দিয়েছেন যদি তা তার জীবন রক্ষা করে; তবে শর্ত হলো— "তার অন্তর যেন ঈমানের ওপর অটল থাকে"।
- শরীয়তে জীবন রক্ষার গুরুত্ব কতখানি তা ফুটে ওঠে এই বিষয় থেকে যে, আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিজের জীবন রক্ষার জন্য প্রতিরোধ করার অনুমতি আল্লাহ দিয়েছেন, যদিও তা মৃত্যুর কারণ হয়। বরং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বর্ণনা করেছেন যে, সে যদি মারা যায় তবে সে শহীদ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার রক্ত (জীবন) রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ"
(১)।
এ ছাড়া আরও অনেক বিষয় রয়েছে যা মহান আল্লাহ জীবন রক্ষার জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
3 - حفظ العقل:العقل هو مناط التكليف وهو الذي يُميَّز به الإنسان عن كثير من المخلوقات، وبه كرمه الله
تعالى، وأكرمه بتشريعاته بعد أن عرضها على السماوات والأرض والجبال فأبين أن يحملنها وأشفقن منها وحملها الإنسان، وجعل ربنا تبارك وتعالى تشريعات خاصة لتربية هذا العقل وتنميته وبيان أهميته وضرورة حفظه، منها:
- ومنها: أمر الله تعالى بإعمال العقل بالتفكر في مخلوقات الله تعالى ليستدل بها على قدرة الله تعالى وعظمته، فقال {أَفَلَمْ يَنْظُرُوا إِلَى السَّمَاءِ فَوْقَهُمْ كَيْفَ بَنَيْنَاهَا وَزَيَّنَّاهَا وَمَا لَهَا مِنْ فُرُوجٍ (6)} [ق: 6].
- ومنها: أنه أمر بإعمال العقل في آيات الله تعالى بالتدبر والتفكر، وألَّا يخروا عليها صُمًّا وعميانًا، فقال تعالى {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا (82)} [النساء: 82]، وقال مادحًا لأناس {وَالَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ لَمْ يَخِرُّوا عَلَيْهَا صُمًّا وَعُمْيَانًا (73)} [الفرقان: 73].
- ومنها: أن جعل الله تعالى الانتفاع بالآيات والدلائل لمن يعمل عقله دون غيرهم، فقال تعالى {وَفِي الْأَرْضِ قِطَعٌ مُتَجَاوِرَاتٌ وَجَنَّاتٌ مِنْ أَعْنَابٍ وَزَرْعٌ وَنَخِيلٌ صِنْوَانٌ وَغَيْرُ صِنْوَانٍ يُسْقَى بِمَاءٍ وَاحِدٍ وَنُفَضِّلُ بَعْضَهَا عَلَى بَعْضٍ فِي الْأُكُلِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ
يَعْقِلُونَ (4)} [الرعد: 4].
- ومنها: رفع الله تعالى التكليف عمن فقد عقله، وجعله غير مؤاخذ بما يفعل أو يقول؛ إذ العقل مناط التكليف.
- ومنها: تحريم شرب الخمر؛ لأنها تغيب العقل.
- ومنها: أنَّ الله تعالى منع العبد أن يقف بين يديه وهو سكران؛ إذ أنه لما غاب العقل حرمه الله شرف الوقوف بين يديه.
- ومنها: أن جعل الله دية العقل دية كاملة، وكأنَّ من جنى على عقل إنسان
৩ - বুদ্ধিবৃত্তির সুরক্ষা:বুদ্ধিবৃত্তি হলো শারয়ী বিধান অর্পিত হওয়ার মূল ভিত্তি। এর মাধ্যমেই মানুষকে অনেক সৃষ্টিজীব থেকে পৃথক করা হয় এবং এর দ্বারাই আল্লাহ তাআলা তাকে সম্মানিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাকে আপন বিধানাবলীর মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, যা তিনি আসমান, জমিন ও পাহাড়ের কাছে পেশ করেছিলেন। কিন্তু তারা তা বহন করতে অস্বীকার করল এবং এতে শঙ্কিত হলো, আর মানুষ তা বহন করল। এবং আমাদের বরকতময় ও সুউচ্চ রব এই বুদ্ধিবৃত্তির লালন ও বিকাশ এবং এর গুরুত্ব ও তা সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার জন্য বিশেষ বিধানাবলী নির্ধারণ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
- এর মধ্যে রয়েছে: আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টিজগত নিয়ে চিন্তার মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিকে কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে এর মাধ্যমে আল্লাহর কুদরত ও মহত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বলেছেন, {তবে কি তারা তাদের উপরের আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে না যে, আমি কীভাবে তা নির্মাণ করেছি এবং সুশোভিত করেছি? আর তাতে কোনো ফাটল নেই (৬)} [ক্বাফ: ৬]।
- এর মধ্যে রয়েছে: তিনি আল্লাহর আয়াতসমূহে গভীর চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিকে কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা তাতে অন্ধ ও বধির হয়ে পড়ে না থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে অবশ্যই তারা তাতে অনেক বৈপরীত্য পেত (৮২)} [নিসা: ৮২]। এছাড়া তিনি কিছু মানুষের প্রশংসা করে বলেছেন, {এবং তারা এমন লোক যে, যখন তাদের রবের আয়াতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, তখন তারা তাতে অন্ধ ও বধির হয়ে লুটিয়ে পড়ে না (৭৩)} [ফুরকান: ৭৩]।
- এর মধ্যে রয়েছে: আল্লাহ তাআলা আয়াত ও নিদর্শনসমূহ থেকে উপকৃত হওয়ার বিষয়টি কেবল তাদের জন্যই নির্ধারিত করেছেন যারা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে কাজে লাগায়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, {এবং জমিনে রয়েছে পরস্পর সংলগ্ন ভূখণ্ড এবং আঙ্গুর বাগান, শস্যক্ষেত্র ও খেজুর গাছ—যার কোনোটি একই মূল থেকে উৎপন্ন আর কোনোটি ভিন্ন ভিন্ন মূল থেকে, যা একই পানিতে সিঞ্চিত হয়। আর আমি ফলমূলের স্বাদে সেগুলোর একটিকে অন্যটির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই এতে বুদ্ধিবান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনসমূহ রয়েছে (৪)} [রা'দ: ৪]।
- এর মধ্যে রয়েছে: যে ব্যক্তি তার বুদ্ধিবৃত্তি হারিয়ে ফেলেছে, আল্লাহ তাআলা তার ওপর থেকে শারয়ী দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন এবং সে যা বলে বা করে তার জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হবে না; কারণ বুদ্ধিবৃত্তিই হলো শারয়ী দায়িত্ব অর্পিত হওয়ার মূল ভিত্তি।
- এর মধ্যে রয়েছে: মদ পান হারাম করা; কারণ তা বুদ্ধিবৃত্তিকে বিলুপ্ত বা আচ্ছন্ন করে দেয়।
- এর মধ্যে রয়েছে: আল্লাহ তাআলা বান্দাকে মাতাল অবস্থায় তাঁর সামনে দাঁড়াতে নিষেধ করেছেন; কারণ যখন তার বুদ্ধিবৃত্তি লোপ পায়, তখন আল্লাহ তাকে তাঁর সামনে দাঁড়ানোর সম্মান থেকে বঞ্চিত করেন।
- এর মধ্যে রয়েছে: আল্লাহ বুদ্ধিবৃত্তির (নষ্ট করার) জন্য পূর্ণ দিয়াত (রক্তপণ) নির্ধারণ করেছেন, যেন কেউ যদি কোনো মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির ওপর অপরাধ করে...
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فكأنما جنى على بدنه كله وقتله، وقد نقل ابن المنذر الإجماع على ذلك
(1)، ولا غرو فإنَّ الدية تكون كاملة لمن جنى على يدي غيره، أو عينيه، فمن باب أولى تكون في الجناية على العقل؛ إذ هو أعظم مكانة وأعلى قدرًا.
- ومنها: أن جعل الله تعالى أولي العقول الصحيحة السليمة ينالون شرف الوقوف خلف الإمام، وإن كان هذا الإمام هو النبي صلى الله عليه وسلم حيث قال صلى الله عليه وسلم " ليلني منكم أولوا الأحلام والنُّهى "
(2)، والنُّهى هي العقول وسميت بذلك؛ لأنها تنهى صاحبها عن الوقوع في المهالك.
- ومنها: أنه ربى العقل على النظر واتباع البرهان ونبذ التقليد الذي لا يقوم على الدليل كما في قوله تعالى {أَمِ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ آلِهَةً قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ هَذَا ذِكْرُ مَنْ مَعِيَ وَذِكْرُ مَنْ قَبْلِي بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ الْحَقَّ فَهُمْ مُعْرِضُونَ (24)} [الأنبياء: 24]، وقال تعالى {وَمَنْ يَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ لَا بُرْهَانَ لَهُ بِهِ فَإِنَّمَا حِسَابُهُ عِنْدَ رَبِّهِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْكَافِرُونَ (117)} [المؤمنون: 117].
- ومنها: أنه دعا إلى تنمية العقل ماديًّا ومعنويًّا: ماديًّا بالأكل والغذاء بغير إسراف ولا تبذير، فقال تعالى {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ (31)} [الأعراف: 31]، ومع أنَّ التغذية المرادة للشرع أصالة هي التغذية المعنوية، لكن التغذية المادية مرتبطة بالتغذية المعنوية؛ ولذا كُره للقاضي أن يقضي وهو جائع، وأُمر بتقديم الطعام على الصلاة إذا حضرا معًا.
أما تنميته معنويًّا: فبالإرشاد إلى طلب العلم؛ إذ أنه أساس الإيمان، وكلما ازداد العبد علمًا ازداد إيمانًا وخشية قال تعالى {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ (28)} [فاطر: 28]، وقال تعالى {وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا (114)} [طه: 114]، وجعَل تعلُّمَ العلم واجبًا على كل مسلم، فعن أنس بن مالك قال: قال
--------------------------------------------
যেন সে তার পুরো শরীরের উপর অপরাধ করেছে এবং তাকে হত্যা করেছে। ইবনুল মুনযির এ বিষয়ে ইজমা (ঐক্যমত) বর্ণনা করেছেন
(১), আর এতে কোনো বিস্ময় নেই; কারণ যে ব্যক্তি অন্যের দুই হাত বা দুই চোখের ক্ষতি করে তাকে পূর্ণ দিয়াত (রক্তপণ) প্রদান করতে হয়। সুতরাং আকল বা বিবেকের ক্ষতির ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রযোজ্য হওয়ার দাবি রাখে; যেহেতু এর মর্যাদা ও গুরুত্ব অনেক বেশি।
- এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: আল্লাহ তাআলা সুস্থ ও সঠিক বিবেকের অধিকারীদের ইমামের পেছনে দাঁড়ানোর মর্যাদা দান করেছেন, এমনকি সেই ইমাম যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও হন। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমাদের মধ্য থেকে যারা বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞাবান তারা যেন আমার কাছাকাছি থাকে।"
(২) 'নোহা' বলতে বিবেককে বোঝানো হয়েছে এবং একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ এটি তার অধিকারীকে ধ্বংসের পথে পতিত হওয়া থেকে বাধা প্রদান করে।
- এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: এটি বিবেককে গভীর পর্যবেক্ষণ, প্রমাণের অনুসরণ এবং প্রমাণহীন অন্ধ অনুকরণের বর্জনের ওপর গড়ে তুলেছে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তারা কি তাঁর পরিবর্তে অন্য ইলাহ গ্রহণ করেছে? বলুন, তোমরা তোমাদের প্রমাণ পেশ করো। এটি আমার সাথে যারা আছে তাদের উপদেশ এবং আমার পূর্ববর্তীদের উপদেশ। বরং তাদের অধিকাংশ সত্য জানে না, ফলে তারা বিমুখ। (২৪)} [আল-আম্বিয়া: ২৪]। এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহকে ডাকে যার কোনো প্রমাণ তার কাছে নেই, তার হিসাব তো তার রবের নিকট রয়েছে। নিশ্চয় কাফিররা সফলকাম হবে না। (১১৭)} [আল-মুমিনুন: ১১৭]।
- এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: এটি বস্তুতান্ত্রিক ও আধ্যাত্মিক উভয় দিক থেকে বিবেকের বিকাশের আহ্বান জানিয়েছে: বস্তুতান্ত্রিকভাবে আহার ও পুষ্টির মাধ্যমে, অপব্যয় ও অপচয় না করে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা খাও ও পান করো এবং অপচয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না। (৩১)} [আল-আরাফ: ৩১]। যদিও শরীয়তের মূল উদ্দেশ্য হলো আধ্যাত্মিক পুষ্টি, কিন্তু বস্তুতান্ত্রিক পুষ্টি আধ্যাত্মিক পুষ্টির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত; এ কারণেই বিচারকের জন্য ক্ষুধার্ত অবস্থায় বিচারকার্য পরিচালনা করা অপছন্দনীয় করা হয়েছে এবং খাবার ও নামাজ একসাথে উপস্থিত হলে খাবারকে আগে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আর আধ্যাত্মিক বিকাশ হলো: জ্ঞান অর্জনের দিকনির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে; যেহেতু এটিই ঈমানের ভিত্তি। বান্দা যতই জ্ঞান অর্জন করবে, তার ঈমান ও আল্লাহর ভয় ততই বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয় আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল। (২৮)} [ফাতির: ২৮]। এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং বলুন, হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন। (১১৪)} [ত্বহা: ১১৪]। আর তিনি জ্ঞান অর্জন করাকে প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ করেছেন। আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
رسول الله صلى الله عليه وسلم " طلب العلم فريضة على كل مسلم "
(1).
- ومنها: أنه فتح للعقل باب الاجتهاد، والبحث عن المسائل المستحدثة التي لم يرد فيها نص؛ لذا قال تعالى {وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ} [النساء: 83]، وغير ذلك من التشريعات التي شرعها الله تعالى لحفظ العقل وبيان أهميته.
4 - حفظ العرض:إنَّ حفظ العرض من المقاصد العظيمة للشرع المطهر؛ إذ أنَّ المساس بالعرض يسبب نشر الفواحش في المجتمع، وانتشار العداوة والبغضاء بين أفراده، وذهاب الألفة والمودة التي يتميز بها المجتمع المسلم عن غيره من المجتمعات.
لذا راعى الشرع ذلك في أحكام كثيرة منها:
- أنه أمر بالدفاع عن الأعراض، وإن أدى ذلك إلى الموت، بل رغب في الدفاع عن الأعراض بذكر أجر من يموت وهو يدافع عنها، فقال صلى الله عليه وسلم"من قُتل دون أهله فهو شهيد
"
(2).
- ومنها: أنه نهى وحذر من كل ما يخل بالحفاظ على الأعراض، وما يؤدي لاختلاط الأنساب، فنهى عن الزنا وجعل حده من أكبر الحدود وأكثرها زجرًا، فجعل أخفها للبكر جلد مائة وتغريب عام، وجعل أغلظها للثيب بالموت أبشع ميتة
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ইলম অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ।"
(১).
- এর মধ্যে রয়েছে: এটি বুদ্ধিবৃত্তির জন্য ইজতিহাদের দ্বার উন্মোচন করেছে এবং সেইসব নতুন উদ্ভূত মাসআলা নিয়ে গবেষণার সুযোগ করে দিয়েছে যার কোনো সরাসরি অহি-র পাঠ (নস) নেই। এজন্যই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তারা যদি তা রাসূল এবং তাদের উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীল ব্যক্তিবর্গের) কাছে পেশ করত, তবে তাদের মধ্যে যারা তা উদ্ভাবন করে তারা অবশ্যই তা জানতে পারত} [আন-নিসা: ৮৩]। এছাড়া আকল বা বুদ্ধিবৃত্তির সুরক্ষা এবং এর গুরুত্ব বর্ণনার জন্য আল্লাহ তাআলা আরও অনেক বিধান প্রবর্তন করেছেন।
৪ - মান-সম্মান ও বংশমর্যাদা সুরক্ষা:নিশ্চয়ই পবিত্র শরীয়তের অন্যতম মহান মাকসাদ (উদ্দেশ্য) হলো মান-সম্মান ও বংশমর্যাদা সুরক্ষা করা। কারণ, মান-সম্মানে আঘাত হানা সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়া, লোকজনের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষের বিস্তার ঘটা এবং সেই সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য নষ্ট হওয়ার কারণ হয়, যা দ্বারা মুসলিম সমাজ অন্যান্য সমাজ থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য লাভ করে।
তাই শরীয়ত অনেক বিধানের মাধ্যমে এর প্রতি লক্ষ্য রেখেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- এটি মান-সম্মান ও পরিবারের মর্যাদা রক্ষার নির্দেশ দিয়েছে, যদিও তা মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। বরং মান-সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তার সওয়াবের কথা উল্লেখ করে এটি রক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার পরিবার বা নিজ আপনজনদের (সম্মান) রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়, সে শহীদ।
"
(২).
- এর মধ্যে রয়েছে: এটি মান-সম্মান রক্ষার পরিপন্থী এবং বংশপরিচয়ে সংমিশ্রণ ঘটায় এমন সব কাজ থেকে নিষেধ ও সতর্ক করেছে। তাই ব্যভিচারকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এর জন্য শরীয়তের অন্যতম কঠোর ও ভীতিপ্রদ দণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। অবিবাহিত ব্যক্তির জন্য এর নূন্যতম শাস্তি হলো একশত বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন, আর বিবাহিত ব্যক্তির জন্য এর কঠোরতম শাস্তি হিসেবে নিকৃষ্টতম পন্থায় মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুন নাদিয়্যাহ ফিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ألا وهو الرجم بالحجارة.
- ومنها: تشريع حد القذف، وعظَّم الله فيه فجعله ثمانين جلدة؛ إذ اتهام أعراض المسلمين بغير حق، أو بالشك، أو حتى بعلم نفسه واثنين معه، كل ذلك جعله الشرع قذفًا يحد عليه صاحبه؛ إذ أنَّ تلويث الأعراض بالكلام فيها أمر عظيم عند الله حتى وإن كان بحق.
بل من رأى يقينًا مع وجود ثلاثة معه واكتمال حد الشهادة لم يوجب الله عليه أن يخبر بذلك؛ بل إنَّ الستر أولى للمذنب وللشاهد وللمجتمع.
- ومنها: أن حرَّم مجرد النظر للنساء؛ إذ أنه باب الفواحش والآثام.
- ومنها: أنه حرَّم الخلوة بالأجنبية؛ لأنَّه ما اجتمع رجل وامرأة إلا كان الشيطان ثالثهما.
- ومنها: تحريم مصافحة النساء؛ إذ اللمس أعظم أثرًا وجُرمًا من النظر، بل إنه من لوازمه.
- ومنها: أن جعل أصل قرار المرأة في بيتها وعدم الاختلاط بالرجال، فقال تعالى {وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى} [الأحزاب: 33].
- ومنها: أنه منع من كل ما يثير العواطف ويحرك الوجدان لأي منهما نحو الآخر - بخلاف الزوج ونحوه -، ولو كان بالحُداء المباح، فعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: كان للنبي صلى الله عليه وسلم حادٍ يقال له أنجشة، وكان حسن الصوت، فقال له النبي صلى الله عليه و سلم " رويدك يا أنجشة لا تكسر القوارير ". قال قتادة: يعني ضعفة النساء
(1).
وغير ذلك من التشريعات والأحكام التي ترعى الأعراض وتراعيها، وتحفظ
--------------------------------------------
তা হলো পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা (রজম)।
- আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো: অপবাদের দণ্ড (হাদ্দু কযফ) প্রবর্তন করা, এবং আল্লাহ একে অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন এবং এর শাস্তি আশিটি দোররা নির্ধারণ করেছেন; কারণ মুসলিমদের ইজ্জত-সম্মান নিয়ে অন্যায়ভাবে বা সন্দেহের বশবর্তী হয়ে অথবা এমনকি নিজের জ্ঞান ও সাথে আরও দুইজন সাক্ষী থাকা সত্ত্বেও অভিযোগ করাকে শরিয়ত অপবাদ হিসেবে গণ্য করেছে যার জন্য সেই ব্যক্তিকে শাস্তি প্রদান করা হবে; কেননা মানুষের সম্মানকে কথা বলার মাধ্যমে কলঙ্কিত করা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত গুরুতর বিষয়, যদিও তা সত্য হয়।
বরং কেউ যদি নিশ্চিতভাবেও দেখে এবং তার সাথে আরও তিনজন সাক্ষী থাকে এবং সাক্ষ্য প্রদানের শর্ত পূর্ণ হয়, তবুও আল্লাহ তা প্রকাশ করা তার ওপর আবশ্যক করেননি; বরং অপরাধী, সাক্ষী এবং সমাজের জন্য বিষয়টি গোপন রাখাই অধিকতর উত্তম।
- আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো: নারীদের দিকে তাকানো হারাম করা; কেননা তা অশ্লীলতা ও পাপের দরজা।
- আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো: কোনো বেগানা (অপরিচিত) নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান করা হারাম করা; কারণ যখনই কোনো পুরুষ ও নারী নির্জনে একত্রিত হয়, শয়তান তাদের তৃতীয় জন হিসেবে উপস্থিত থাকে।
- আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো: নারীদের সাথে করমর্দন করা হারাম করা; কেননা স্পর্শ করা দেখার চেয়েও অধিক প্রভাব বিস্তারকারী ও বড় অপরাধ, বরং এটি তার একটি আবশ্যিক অনুষঙ্গ।
- আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো: নারীর মূল অবস্থান তার ঘরে নির্ধারণ করা এবং পুরুষদের সাথে মেলামেশা না করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করো এবং প্রাচীন জাহেলিয়াতের যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়িয়ো না" [আল-আহযাব: ৩৩]।
- আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো: তিনি এমন সবকিছু থেকে নিষেধ করেছেন যা আবেগ সৃষ্টি করে এবং একে অপরের প্রতি অনুভূতি জাগ্রত করে—স্বামী বা অনুরূপ ক্ষেত্র ব্যতীত—চাই তা বৈধ ছন্দময় গীত (হুদা) হলেও। আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন উট চালক ছিল যাকে আনজাশাহ বলা হতো। তার কণ্ঠস্বর ছিল অত্যন্ত সুমধুর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "হে আনজাশাহ! তুমি ধীরস্থির হও, কাঁচের পাত্রগুলো ভেঙো না।" কাতাদাহ বলেন: অর্থাৎ তিনি দুর্বল নারীদের কথা বুঝিয়েছেন।
(১)এ ছাড়া আরও অনেক বিধান ও বিধানাবলি রয়েছে যা মানুষের সম্মান ও মর্যাদাকে গুরুত্ব দেয়, তার প্রতি লক্ষ্য রাখে এবং তা সংরক্ষণ করে।
--------------------------------------------