(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: -)
أحكام الطلاق (الطلاق السني والطلاق البدعي) القسم: مسائل فقهية
الكتاب: أحكام الطلاق (الطلاق السني والطلاق البدعي)
المؤلف: أبو عبد الرحمن أحمد بن عبد الرحمن الزومان
الناشر: دار الصميعي للنشر والتوزيع، الرياض - السعودية
الطبعة: الأولى، 1440 هـ - 2019 م
عدد الصفحات: 787
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو الحجة 1446
তালাকের বিধানাবলী (সুন্নী তালাক ও বিদা'য়ী তালাক) বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: তালাকের বিধানাবলী (সুন্নী তালাক ও বিদা'য়ী তালাক)
লেখক: আবু আবদুর রহমান আহমাদ বিন আবদুর রহমান আল-জুমান
প্রকাশক: দারুস সুমাইয়ি পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন، রিয়াদ - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪০ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৮৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ জিলহজ ১৪৪৬
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةمسائل الطلاق من المسائل التي تمس الحاجة إليها فيحتاجها المفتي والقاضي وأستاذ الجامعة ولا يتيسر لكل أحد أن يبحث كل مسألة تمر به فربما اعتمد على قول أحد أئمة الهدى من علماء الأمة العاملين وربما هذا الإمام اعتمد على قول إمام سبقه فتابعه على قوله ولم يرجع إلى مصادر الأدلة التي استدل بها هذا العالم فيتوارد القول المرجوح فاستعنت الله في بحث أهم مسائل الطلاق التي دونها محدثو الأمة وفقهاؤها في كتبهم وألحق بها نظيرها مما استجد من مسائل الطلاق ومنهجي في البحث:
1 - أذكر الأقوال التي وقفت عليها لأهل العلم من أهل السنة في المسألة ويندر أن أجمع بين القولين المتقاربين.
2 - الحديث إذا كان في الصحيحين أو أحدهما اكتفي بالعزو إليهما ولا أتكلم عليه إلا إذا وجد كلام لأهل العلم المتقدمين في الحديث فأذكره واعتمد ما ترجح لي من كلام أهل العلم.
3 - إذا كان الحديث ليس في الصحيحين أبذل وسعي في تتبع طرقه وشواهده
لا سيما إذا كان الحديث ضعيفًا ليتبين ثبوت الحديث أو ليظهر أنَّ الوارد في الباب لا يصح مستعينًا برأي المحدثين ممن ألفوا في العلل والتخريج وأحاديث الأحكام والشروح.
4 - إذا كان للحديث إسناد عالٍ وهو موجود عند المصنف أكتفي به ولا أذكر - غالبًا - الإسناد النازل إذا كان بنفس الإسناد سواء رواه المصنف المتأخر عن نفس صاحب الكتاب - كرواية البيهقي عن أبي داود الطيالسي وأبي داود السجستاني - أو عن غيره وإذا لم يكن موجودًا في الكتاب المطبوع أذكره ولو كان نازلًا كرواية المروزي عن إسحاق بن راهويه ورواية الطبراني وابن حزم عن عبد الرزاق.
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাতালাকের মাসআলাসমূহ এমন বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত যার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। মুফতি, বিচারক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের এর প্রয়োজন হয়। আর প্রত্যেকের পক্ষে তার সামনে আসা প্রতিটি মাসআলা নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করা সহজসাধ্য নয়। ফলে কখনো তিনি উম্মতের আমলকারী আলেমগণের মধ্য থেকে হেদায়েতের কোনো ইমামের মতের ওপর নির্ভর করেন। আবার হয়তো সেই ইমাম তাঁর পূর্ববর্তী কোনো ইমামের মতের ওপর নির্ভর করে তাঁর অনুসরণ করেছেন এবং সেই আলেম যে দলিলসমূহের উৎস থেকে প্রমাণ গ্রহণ করেছেন, সেগুলোর প্রতি প্রত্যাবর্তন করেননি। ফলে মারজুহ (দুর্বল) অভিমতটিই পর্যায়ক্রমে চলে আসে। তাই আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য চেয়ে তালাকের সেই গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাসমূহ নিয়ে গবেষণায় প্রবৃত্ত হয়েছি, যা উম্মতের মুহাদ্দিস ও ফকিহগণ তাঁদের কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তালাকের নতুন উদ্ভূত অনুরূপ মাসআলাগুলোকেও এর সাথে যুক্ত করেছি। গবেষণায় আমার কর্মপদ্ধতি হলো:
১ - মাসআলাটি নিয়ে আহলুস সুন্নাহর আলেমগণের যে সকল অভিমত আমি অবগত হয়েছি, তা উল্লেখ করব। তবে কাছাকাছি দুটি অভিমতকে খুব কমই একত্রে উল্লেখ করব।
২ - হাদিসটি যদি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) বা তার কোনো একটিতে থাকে, তবে কেবল সেদিকেই সম্বন্ধ করব এবং সে বিষয়ে কোনো আলোচনা করব না; যদি না পূর্ববর্তী আলেমগণের পক্ষ থেকে হাদিসটির ব্যাপারে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে আমি তা উল্লেখ করব এবং আলেমগণের বক্তব্যের মধ্য থেকে যা আমার কাছে অগ্রগণ্য মনে হবে, তার ওপর নির্ভর করব।
৩ - হাদিসটি যদি সহিহাইন-এর অন্তর্ভুক্ত না হয়, তবে আমি এর বিভিন্ন সূত্র ও সাক্ষী অনুসন্ধানে যথাসাধ্য চেষ্টা করব—বিশেষ করে যদি হাদিসটি দুর্বল হয়—যাতে হাদিসটির সাব্যস্ত হওয়া স্পষ্ট হয় অথবা এটি প্রকাশিত হয় যে, এ বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তা সহিহ নয়। এক্ষেত্রে আমি ইল্লাত (ত্রুটি), তাখরিজ, আহকাম বিষয়ক হাদিস ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের রচয়িতা মুহাদ্দিসগণের মতামতের সাহায্য নেব।
৪ - হাদিসের যদি কোনো উচ্চতর সনদ থাকে এবং তা মূল গ্রন্থকারের কাছে বিদ্যমান থাকে, তবে আমি সেটিকেই যথেষ্ট মনে করব। সাধারণত আমি নিম্নতর সনদ উল্লেখ করব না যদি তা একই সনদভুক্ত হয়; চাই পরবর্তী গ্রন্থকার তা মূল কিতাবের লেখকের নিকট থেকে বর্ণনা করে থাকেন—যেমন আবু দাউদ তায়ালিসি ও আবু দাউদ সাজিস্তানি থেকে বায়হাকির বর্ণনা—অথবা অন্য কারো কাছ থেকে। তবে সেটি যদি মুদ্রিত কিতাবে না পাওয়া যায়, তবে তা নিম্নতর সনদ হওয়া সত্ত্বেও আমি তা উল্লেখ করব, যেমন ইসহাক বিন রাহওয়াই থেকে মারওয়াযির বর্ণনা এবং আব্দুর রাজ্জাক থেকে তাবারানি ও ইবনে হাজমের বর্ণনা।
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ৬)
5 - بذلت وسعي في تتبع الآثار الواردة عن الصحابة رضي الله عنهم ومن أتى بعدهم في الكتب المسندة المطبوعة والحكم عليها وحينما ينسب قول لأحد السلف ولم أجده مسندًا أذكر من نسبه إليه.
6 - إذا كان الحديث أو الأثر جاء عن جمع أو له عدة طرق أبدأ بأصحها ثم الأصح.
7 - أخرج الأحاديث والآثار في موضع واحد وأحيل عليها إذا وردت بعد ذلك إلا إذا كان في الصحيحين أو أحدهما فأعيد ذكر رقم الحديث تيسيرًا على القارئ.
8 - الحكم على الرجال أنقله من كتب الجرح والتعديل المطبوعة ولا أعزو إليها.
9 - أذكر أقوال الصحابة رضي الله عنهم من الأدلة والخلاف في حجية قول الصحابي من المسائل المشهورة.
10 - الإجماع أحيانًا أنقله نصًّا وغالبًا أكتفي بالعزو وإن كان الإجماع غير محفوظ أناقشه. وإن كنت لم أقف على خلاف في المسألة ولم أقف على من نصَّ على الإجماع أشير لذلك.
11 - لا أعيد ما سبق بحثه في مؤلفاتي من مسائل وأحاديث وآثار فأعزو إليها وأحيانًا أذكر خلاصة البحث والحكم.
12 - أذكر تعريف المسألة لغة وشرعًا وتارة تعريف المسألة عند فقهاء المذاهب الأربعة وغيرهم وأذكر التعريف الذي ترجح لي.
13 - أذكر في أول الباب مسائل الباب على الإجمال.
14 - أقدم تمهيدًا لبعض الفصول أذكر فيه تقاسيم المسألة المبحوثة.
15 - أعتمد أقوال الأئمة الأربعة من كتب أتباعهم المطبوعة وأذكر - غالبًا - أربعة مصادر لكل مذهب وأذكر أكثر من ذلك إذا كان الحكم ليس نصًّا في مسألة البحث.
৫ - আমি সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং তাঁদের পরবর্তীগণের থেকে বর্ণিত আসারসমূহ মুদ্রিত মুসনাদ গ্রন্থসমূহ হতে অনুসন্ধান করতে এবং সেগুলোর মান নির্ণয় করতে আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। যখন কোনো কথা সালাফগণের কারো দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে অথচ আমি তা সনদসহ পাইনি, তখন আমি উল্লেখ করেছি কে তা তাঁর দিকে সম্বন্ধ করেছেন।
৬ - যদি হাদিস বা আসার কোনো জামাত থেকে বর্ণিত হয় অথবা সেটির একাধিক সূত্র থাকে, তবে আমি সবচেয়ে বিশুদ্ধটি দিয়ে শুরু করেছি, অতঃপর ক্রমান্বয়ে পরবর্তী বিশুদ্ধগুলো।
৭ - আমি হাদিস ও আসারসমূহকে এক স্থানে সংকলিত করেছি এবং পরবর্তীতে সেগুলো আসলে পূর্বের স্থানের হাওয়ালা প্রদান করেছি; তবে যদি তা সহীহাইন বা তার কোনো একটিতে থাকে, তবে পাঠকের সুবিধার্থে আমি হাদিস নম্বরটি পুনরায় উল্লেখ করেছি।
৮ - বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আমি মুদ্রিত ‘জারহ ও তাদীল’ বিষয়ক গ্রন্থসমূহ থেকে উদ্ধৃত করেছি এবং সেগুলোর আলাদা কোনো সূত্র উল্লেখ করিনি।
৯ - আমি সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) উক্তিগুলো দলিল হিসেবে উল্লেখ করেছি। সাহাবীর কথা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার বিষয়টি একটি প্রসিদ্ধ মতভেদপূর্ণ মাসআলা।
১০ - ইজমা কখনও কখনও আমি মূল পাঠসহ উল্লেখ করেছি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেবল হাওয়ালা দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছি। যদি ইজমাটি সংরক্ষিত বা সুপ্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে আমি তা নিয়ে আলোচনা করেছি। আর যদি কোনো মাসআলায় আমি কোনো মতভেদও না পাই আবার কারো ইজমার সুস্পষ্ট বর্ণনাও না পাই, তবে আমি সেদিকে ইঙ্গিত করেছি।
১১ - আমার পূর্বের কিতাবগুলোতে যেসব মাসআলা, হাদিস ও আসার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, আমি সেগুলোর পুনরাবৃত্তি করিনি; বরং সেগুলোর দিকে নির্দেশ করেছি। তবে কখনও কখনও আলোচনার সারসংক্ষেপ ও সিদ্ধান্তটি উল্লেখ করেছি।
১২ - আমি মাসআলার আভিধানিক ও শরয়ি সংজ্ঞা উল্লেখ করেছি। আবার কখনও চার মাযহাবের ফকীহগণ ও অন্যদের প্রদানকৃত সংজ্ঞা উল্লেখ করার পাশাপাশি আমার নিকট যেটি অগ্রগণ্য মনে হয়েছে তা উল্লেখ করেছি।
১৩ - আমি অধ্যায়ের শুরুতে উক্ত অধ্যায়ের মাসআলাগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি।
১৪ - আমি কোনো কোনো পরিচ্ছেদের পূর্বে ভূমিকা প্রদান করেছি যাতে আলোচ্য মাসআলার প্রকারভেদসমূহ উল্লেখ করেছি।
১৫ - আমি চার ইমামের বক্তব্যসমূহ তাঁদের অনুসারীদের মুদ্রিত গ্রন্থসমূহ হতে গ্রহণ করেছি এবং সাধারণত প্রতিটি মাযহাবের জন্য চারটি করে উৎস উল্লেখ করেছি। আর যদি বিষয়টি আলোচ্য মাসআলায় সুস্পষ্ট বর্ণনা আকারে না থাকে, তবে আমি তার চেয়েও অধিক উৎস উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ৭)
16 - أحرص على ذكر رأي من اشتهر بالعلم من المتقدمين والمتأخرين كابن حزم وشيخ الإسلام ابن تيمية وابن القيم والشيخ عبد العزيز بن باز وشيخنا محمد العثيمين إذا وقفت لهم على نص صريح في المسألة.
17 - أقدم من تقدمت وفاته حين العزو إلى الكتب وربما قدمت المتأخر على المتقدم أحيانًا لسبب كأن يكون المتأخر نص على المسألة بخلاف المتقدم فيفهم من كلامه.
18 - إذا لم أجد نصًّا أو استنباطًا في مذهب أحد الأئمة الأربعة على المسألة التي أبحثها - بعد بذل الوسع والتواصل مع الفقهاء المعاصرين - غالبًا أُخرِّج قولًا في المذهب إذا ظهر لي الأمر وإلا ذكرت أنَّي لم أقف على قول لهم.
19 - أذكر كل الأدلة التي أقف عليها من الكتاب والسنة وأقوال الصحابة رضي الله عنهم والإجماع والنظر ولو كثرت وأناقشها.
20 - أحيانًا يذكر بعض أهل العلم ما يدل عليه الدليل ولم يذكر لفظه فأذكر لفظ الدليل وأعزو له في وجه الاستدلال.
21 - إذا كانت أدلة مسألة من المسائل نفس أدلة مسألة أخرى تقدم بحثها لا أعيد ذكر الأدلة وأحيل عليها.
22 - أعزو - إلا ما يفوتني نسيانًا - لوجه الاستدلال لبعض الكتب ولا أذكر كل من استدل بالدليل وإن لم أعزو فالأصل أنَّه اجتهاد مني وأناقش وجه الاستدلال إلا إذا كانت دلالته ظاهره أو الرد عليه متكلفًا فلا أذكره.
23 - أبين حال الاشتباه مؤلف المرجع الذي أحلت عليه فمثلًا إذا كان العزو لفتح الباري لابن رجب أذكره وإذا كان العزو لفتح القدير في غير مذهب الأحناف أقول لابن الهمام ومثله العزو للكافي لابن عبد البر وابن قدامة.
16 - আমি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের মধ্যে যারা ইলমের জন্য প্রসিদ্ধ, যেমন ইবনে হাজম, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল কাইয়্যিম, শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ এবং আমাদের শাইখ মুহাম্মদ আল-উসাইমীন-এর মত উল্লেখ করার ব্যাপারে সচেষ্ট থেকেছি, যখনই আমি সংশ্লিষ্ট মাসআলায় তাদের কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পেয়েছি।
17 - কিতাবের উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে আমি সাধারণত তাদের আগে রাখি যাদের মৃত্যু আগে হয়েছে। তবে কখনো কখনো কোনো বিশেষ কারণে আমি পরের কাউকে আগের জনের ওপর অগ্রাধিকার দিই, যেমন পরের জনের বক্তব্য মাসআলাটির ওপর সুস্পষ্ট পাঠ্য (নস) হিসেবে থাকে, অথচ আগের জনের ক্ষেত্রে তা কেবল তার কথা থেকে বুঝে নিতে হয়।
18 - আমি যে মাসআলাটি নিয়ে গবেষণা করছি, তাতে যদি চার ইমামের কোনো মাজহাবে সুস্পষ্ট বক্তব্য বা মাসআলা বের করার মতো কোনো ইঙ্গিত না পাই—সাধ্যমতো চেষ্টা এবং সমসাময়িক ফকিহদের সাথে যোগাযোগের পর—তবে বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট হলে প্রায়শই সেই মাজহাবের মূলনীতির আলোকে একটি অভিমত বের করার (তাখরিজ) চেষ্টা করি, অন্যথায় উল্লেখ করে দিই যে আমি তাদের কোনো অভিমত খুঁজে পাইনি।
19 - আমি কুরআন, সুন্নাহ, সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর বক্তব্য, ইজমা এবং যুক্তিনির্ভর (কিয়াস) যেসব দলিল পাই, তা সংখ্যায় অনেক হলেও সব উল্লেখ করি এবং সেগুলো নিয়ে আলোচনা করি।
20 - মাঝে মাঝে কোনো কোনো আলেম এমন কিছু উল্লেখ করেন যা দলিলের অর্থের দিকে ইঙ্গিত করে কিন্তু দলিলের শব্দগুলো উল্লেখ করেন না; সেক্ষেত্রে আমি দলিলের শব্দগুলো উল্লেখ করি এবং দলিল পেশের পদ্ধতির (ইস্তিদলাল) ক্ষেত্রে তার দিকে সম্বন্ধ করি।
21 - যদি কোনো একটি মাসআলার দলিল অন্য কোনো ইতিপূর্বে আলোচিত মাসআলার দলিলের অনুরূপ হয়, তবে আমি সেই দলিলগুলো পুনরায় উল্লেখ করি না, বরং আগেরটির দিকে ইঙ্গিত করি।
22 - আমি—অনিচ্ছাকৃত ভুল ব্যতিরেকে—দলিল পেশের পদ্ধতির (ইস্তিদলাল) ক্ষেত্রে কিছু কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়ে থাকি, তবে যারা এই দলিলটি ব্যবহার করেছেন তাদের সবার নাম উল্লেখ করি না। আর যদি আমি কোনো উদ্ধৃতি না দিই, তবে বুঝতে হবে তা আমার নিজস্ব ইজতিহাদ। আমি দলিলের প্রয়োগপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করি, তবে যদি এর অর্থ অতি স্পষ্ট হয় অথবা এর খণ্ডন যদি কৃত্রিম বা কষ্টসাধ্য (তাকাল্লুফ) হয়, তবে তা উল্লেখ করি না।
23 - অস্পষ্টতার ক্ষেত্রে আমি রেফারেন্সের লেখককে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করি। উদাহরণস্বরূপ, যদি 'ফাতহুল বারী'র উদ্ধৃতি ইবনে রজবের কিতাব থেকে হয় তবে আমি তা উল্লেখ করি। যদি হানাফি মাজহাবের বাইরের প্রসঙ্গের ক্ষেত্রে 'ফাতহুল কাদির'-এর উদ্ধৃতি দেওয়া হয় তবে আমি ইবনুল হুমাম-এর নাম উল্লেখ করি। অনুরূপভাবে ইবনে আব্দুল বার এবং ইবনে কুদামাহ-এর লেখা 'আল-কাফি'র উদ্ধৃতির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম অনুসরণ করি।
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ৮)
24 - أجتهد في ذكر الأدلة التي تصلح أن يستدل بها للمسألة وإن لم أقف على ذكر الفقهاء لها في المسألة المبحوثة.
25 - أذكر في آخر كل مسألة ما ترجح لي وغالبًا أجعل القول الراجح آخر الأقوال.
26 - أبين الغريب معزوًا لمصادره غالبًا.
27 - المسائل التي لا وجود لها في زماننا لا أتطرق لها وما أتطرق له منها أذكره على سبيل الإجمال من غير تفصيل كأحكام طلاق العبيد.
28 - قسمت الكتاب إلى أبواب والباب إلى فصول.
29 - يوجد للطلاق مصادر هامة لكنَّها لم تطبع ككتاب الطلاق لأبي عبيد القاسم
ابن سلَّام فلعله يتيسر لي الإطلاع عليها مطبوعة أو مخطوطة.
وهذا الجزء في الطلاق السني والطلاق البدعي هو أول مشروعي في بحث مسائل الطلاق أسأل عز وجل الإعانة وإكمال ما أردت وإن لم يتيسر لي الإكمال أرجو من الله أن ييسر من يكمل هذا المشروع.
وجزى الله خيرًا وبارك في كل من كان له دور في هذا الكتاب من إخوتي ممن راجع أو ناقش أو أسهم في الطباعة وأخص بالذكر أخي الشيخ سليمان بن صالح الربيعان المشرف على الطباعة.
وكتبه
أبو عبد الرحمن أحمد بن عبد الرحمن الزومان
27/ 5/ 1435
القصيم/ بريدة
0505154265
ahmedalzoman@gmail.com
২৪ - আমি সেই সকল দলীল উল্লেখ করার চেষ্টা করি যা সংশ্লিষ্ট মাসআলার জন্য প্রযোজ্য হতে পারে, যদিও আমি আলোচিত মাসআলাটির ক্ষেত্রে ফকীহগণের পক্ষ থেকে সেগুলো উদ্ধৃত করার বিষয়টি দেখতে পাইনি।
২৫ - আমি প্রতিটি মাসআলার শেষে আমার নিকট যেটি অগ্রগণ্য মনে হয়েছে তা উল্লেখ করি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমি রাজীহ বা অগ্রগণ্য মতটিকে বক্তব্যের শেষে স্থান দেই।
২৬ - আমি কঠিন ও অপরিচিত শব্দসমূহ ব্যাখ্যা করি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেগুলোকে মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধ করি।
২৭ - আমাদের বর্তমান যুগে যেসব মাসআলার কোনো অস্তিত্ব নেই আমি সেগুলো আলোচনা করিনি। আর এ জাতীয় যে বিষয়গুলো আমি উল্লেখ করেছি, তা বিস্তারিত বর্ণনা ছাড়াই সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি, যেমন দাসদের তালাকের বিধানসমূহ।
২৮ - আমি কিতাবটিকে বিভিন্ন অধ্যায়ে এবং অধ্যায়গুলোকে বিভিন্ন পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি।
২৯ - তালাক বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উৎস রয়েছে কিন্তু সেগুলো এখনও মুদ্রিত হয়নি, যেমন আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম-এর 'কিতাবুত তালাক'। সম্ভবত ভবিষ্যতে মুদ্রিত বা পাণ্ডুলিপি আকারে সেগুলো দেখার সুযোগ আমার জন্য সহজ হবে।
সুন্নাহসম্মত তালাক এবং বিদআতী তালাক সংক্রান্ত এই অংশটি তালাকের মাসআলাসমূহ নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে আমার প্রথম প্রকল্প। আমি মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য এবং যা শুরু করেছি তা পূর্ণ করার তাওফীক কামনা করছি। যদি আমার পক্ষে তা পূর্ণ করা সম্ভব না হয়, তবে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি তিনি এমন কাউকে সহজ করে দেবেন যে এই প্রকল্পটি সম্পন্ন করবে।
আল্লাহ সেই সকল ভাইদের উত্তম প্রতিদান দিন এবং বরকত দান করুন যারা এই কিতাবটি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন—চাই তা পর্যালোচনা, আলোচনা কিংবা মুদ্রণে সহযোগিতার মাধ্যমে হোক। আমি বিশেষভাবে আমার ভাই শায়খ সুলাইমান বিন সালেহ আল-রাবিআনের কথা উল্লেখ করছি যিনি মুদ্রণ কার্যের তত্ত্বাবধান করেছেন।
লিখেছেন
আবু আব্দুর রহমান আহমদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুমান
২৭/ ০৫/ ১৪৩৫
আল-কাসিম/ বুরাইদাহ
০৫০৫১৫৪২৬৫
ahmedalzoman@gmail.com
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ৯)
خطورة الفتوى في الطلاقعظمُ القول على الله بغير علم بالحكم أو الفتوى لا يخفى على أحد فتواترت النصوص بذمه ووعيد فاعله فهو افتيات على الخالق تبارك وتعالى: [أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ] (الشورى: 21) ونسبة ما لم يشرعه الله إلى حكمه وشرعه كذب عليه [وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلَالٌ وَهَذَا حَرَامٌ لِتَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ] (النحل: 116) وفاعل ذلك متعرض للعقوبة وإن كان جاهلًا فعن بريدة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الْقُضَاةُ ثَلاثَةٌ: وَاحِدٌ فِي الْجَنَّةِ، وَاثْنَانِ فِي النَّارِ، فَأَمَّا الَّذِي فِي الْجَنَّةِ: فَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ فَقَضَى بِهِ، وَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ فَجَارَ فِي الْحُكْمِ فَهُوَ فِي النَّارِ، وَرَجُلٌ قَضَى لِلنَّاسِ عَلَى جَهْلٍ فَهُوَ فِي النَّارِ»
(1) ويكون الخطأ أعظم إذا كان الأمر يتعلق بالفروج فقد اشترط الشارع لعقدها وحلِّها شروطًا لم يشترطها لغيرها من العقود ورتب العقوبة الدنيوية والأخروية على من انحرف من الزوجين عن ما شرعه الله ومن قدح في الزوجين بغير بينة شرعية ولا زال من السلف والخلف من يتحرج في الخوض في أحكام الطلاق قال صالح بن الإمام أحمد: كان سفيان إذا سئل عن شيء من الحيض أو المناسك يقول لا حرج لا حرج وإذا سئل عن شيء من الطلاق يقول من يحسن هذا من يحسن هذا
(2) ولابن عيينة أسوة في بعض أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فعن معاوية بن أبي عياش الأنصاري أنَّه كان جالسًا مع عبد الله بن الزبير- رضي الله عنهما وعاصم بن عمر بن الخطاب، قال فجاءهما محمد بن إياس بن البكير فقال: إنَّ رجلًا من أهل البادية طلق امرأته ثلاثًا قبل أن يدخل بها، فماذا تريان؟ فقال عبد الله بن الزبير رضي الله عنهما «إنَّ هذا الأمر ما لنا فيه قول، فاذهب إلى عبد الله بن عباس وأبي هريرة رضي الله عنهما فإنِّي تركتهما عند عائشة رضي الله عنهما،
--------------------------------------------
তালাকের ক্ষেত্রে ফতোয়া প্রদানের ভয়াবহতাবিধান বা ফতোয়া সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহর নামে কোনো কথা বলার ভয়াবহতা কারো কাছে গোপন নয়। একে নিন্দা জানিয়ে এবং এর কর্তাকে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়ে অসংখ্য বর্ণনা ধারাবাহিকভাবে এসেছে। এটি মূলত স্রষ্টা তাবারাকা ওয়া তায়ালার ওপর সীমালঙ্ঘন করার শামিল: [নাকি তাদের এমন কিছু শরিক আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান প্রবর্তন করেছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?] (আশ-শুরা: ২১)। আল্লাহ যা বিধান করেননি তাকে তাঁর হুকুম ও শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত করা মূলত তাঁর ওপর মিথ্যাচার: [আর তোমাদের জিহ্বা মিথ্যা বর্ণনা করে বলে তোমরা আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করার জন্য বলবে না যে, 'এটি হালাল এবং এটি হারাম'।] (আন-নাহল: ১১৬)। আর এমনটি যে করবে সে শাস্তির যোগ্য হবে, যদিও সে অজ্ঞ হয়। বুরাইদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «বিচারক তিন প্রকার: একজন জান্নাতে এবং দুইজন জাহান্নামে। যে জান্নাতে সে হলো সেই ব্যক্তি যে সত্যকে চিনেছে এবং সে অনুযায়ী বিচার করেছে। আর যে ব্যক্তি সত্যকে জেনেও বিচারে জুলুম করেছে সে জাহান্নামে। আর যে ব্যক্তি অজ্ঞতা সত্ত্বেও মানুষের মাঝে বিচার করেছে সেও জাহান্নামে।»
(১) আর ভুলটি যদি দাম্পত্য সম্পর্কের সাথে সংশ্লিষ্ট হয় তবে তা আরও গুরুতর হয়ে দাঁড়ায়। কেননা শরিয়তপ্রণেতা বিবাহের বন্ধন স্থাপন ও তা ছিন্ন করার জন্য এমন সব শর্তারোপ করেছেন যা অন্য কোনো চুক্তির ক্ষেত্রে করেননি। আর দম্পতিদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রবর্তিত বিধান থেকে বিচ্যুত হবে অথবা যে ব্যক্তি কোনো শরয়ী প্রমাণ ছাড়াই দম্পতির ওপর অপবাদ আরোপ করবে, তার জন্য তিনি ইহকাল ও পরকালের শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন। সালাফ এবং খালাফদের (পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেম) মাঝে সর্বদা এমন ব্যক্তিবর্গ ছিলেন যারা তালাকের মাসআলা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় প্রবৃত্ত হতে চরম সতর্কতা অবলম্বন করতেন। ইমাম আহমদের পুত্র সালিহ বলেন: সুফিয়ানকে যখন ঋতুস্রাব (হায়েয) বা হজের কার্যাবলী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো তখন তিনি বলতেন, 'এতে কোনো অসুবিধা নেই, কোনো অসুবিধা নেই'। কিন্তু যখন তালাক সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করা হতো তখন তিনি বলতেন, 'এই বিষয়ে কে পারদর্শী? এই বিষয়ে কে পারদর্শী?'
(২) ইবনে উইয়াইনাহর জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সাহাবীর মাঝে অনুসরণযোগ্য আদর্শ রয়েছে। মুয়াবিয়া ইবনে আবি আইয়াশ আল-আনসারী থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল জুবাইর এবং আসিম ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুমের সাথে বসে ছিলেন। এমন সময় মুহাম্মদ ইবনে ইয়াস ইবনুল বুকাইর এসে বললেন: এক গ্রাম্য ব্যক্তি তার স্ত্রীকে সহবাসের পূর্বেই তিন তালাক দিয়ে দিয়েছে, এ বিষয়ে আপনাদের অভিমত কী? তখন আবদুল্লাহ ইবনুল জুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বললেন, 'এই বিষয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। তুমি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস এবং আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমার কাছে যাও, কেননা আমি তাদের আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট রেখে এসেছি।'
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ১০)
فسلهما ثم ائتنا فأخبرنا»، فذهب فسألهما، فقال ابن عباس لأبي هريرة رضي الله عنهما: «أفته
يا أبا هريرة فقد جاءتك معضلة»، فقال أبو هريرة رضي الله عنه: «الواحدة تبينها، والثلاثة تحرمها، حتى تنكح زوجًا غيره وقال ابن عباس رضي الله عنهما مثل ذلك»
(1).
وقال شيخنا محمد العثيمين: ليحذر الكاتب والمؤلف من التقصير في طلب الأدلة وتمحيصها والتسرع إلى القول بلا علم فيكون ممن قال الله فيهم:] فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا لِيُضِلَّ النَّاسَ بِغَيْرِ عِلْمٍ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ [(الأنعام: 144).
أو يجمع بين التقصير في طلب الدليل والتكذيب بما قام عليه الدليل فيكون منه شر على شر ويدخل في قوله - تعالى -:] فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ كَذَبَ عَلَى اللَّهِ وَكَذَّبَ بِالصِّدْقِ إِذْ جَاءَهُ أَلَيْسَ فِي جَهَنَّمَ مَثْوًى لِلْكَافِرِينَ [(الزمر: 32)
(2).
فلا بد من بذل الوسع في البحث قبل الفتوى أو الحكم وسعة علم العالم ليست مسوغة لترك التدقيق في قوله فهو كغيره ليس معصومًا فسيمر بنا أنَّ المدخول بها إذا طلقها زوجها ثلاثًا مفرقة تبين بذلك بإجماع أهل العلم والخلاف متأخر
(3).
وكذلك الرجوع إلى المصادر التي نقل منها العالم فقد يكون خطأ في النقل أو اختصار في رواية يترتب عليه تغير الحكم كالرواية عن ابن عمر رضي الله عنهما «لا يُعْتَد لذلك» يستدل بها من يرى عدم وقوع طلاق الحائض والصحيح أنَّ اسم الإشارة عائد على الحيضة فلا تحسب من العدة وليس إلى عدم الاعتداد بالطلقة في الحيض كما بينته رواية «لا يُعْتَد بتلك الحيضة»
(4).
--------------------------------------------
«তুমি তাদের দুজনকে জিজ্ঞেস করো, তারপর আমাদের কাছে এসে জানাও», তিনি গেলেন এবং তাদের দুজনকে জিজ্ঞেস করলেন। ইবনে আব্বাস আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বললেন: «হে আবু হুরায়রা, তাকে ফতোয়া দিন, আপনার কাছে একটি জটিল সমস্যা এসেছে», তখন আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: «এক তালাক তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, আর তিন তালাক তাকে হারাম করে দেয়, যতক্ষণ না সে অন্য কোনো স্বামীকে বিয়ে করে। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-ও অনুরূপ কথা বললেন»
(১).
আমাদের শাইখ মুহাম্মাদ আল-উসাইমীন বলেছেন: লেখক ও গ্রন্থকারের উচিত দলীল অনুসন্ধান ও তা যাচাই-বাছাই করতে অবহেলা করা এবং জ্ঞান ছাড়াই কোনো কথা বলার তাড়াহুড়ো করা থেকে সতর্ক থাকা। নতুবা সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: [সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে, যে মানুষকে জ্ঞান ছাড়াই বিভ্রান্ত করার জন্য আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে? নিশ্চয়ই আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না] (আল-আনআম: ১৪৪)।
অথবা সে দলীল অনুসন্ধানে অবহেলা এবং যার ওপর দলীল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাকে অস্বীকার করা—উভয়ের সম্মিলন ঘটাবে, ফলে তার পক্ষ থেকে অকল্যাণের ওপর অকল্যাণ সৃষ্টি হবে এবং সে আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হবে: [তার চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর ওপর মিথ্যাারোপ করে এবং সত্য আসার পর তাকে অস্বীকার করে? কাফিরদের আশ্রয়স্থল কি জাহান্নামে নয়?] (আয-যুমার: ৩২)
(২).
সুতরাং ফতোয়া বা বিচার প্রদানের পূর্বে গবেষণায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করা অপরিহার্য। একজন আলিমের ইলমের বিশালতা তার কথার সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই পরিত্যাগ করার পক্ষে কোনো অজুহাত হতে পারে না। কারণ তিনিও অন্যদের মতো মাসূম (ভুলত্রুটিমুক্ত) নন। আমাদের সামনে আলোচিত হবে যে, বাসর রাত অতিবাহিত হয়েছে এমন স্ত্রীকে যদি তার স্বামী পৃথক পৃথকভাবে তিন তালাক দেয়, তবে আলিমদের ঐকমত্যে (ইজমা) এর মাধ্যমে সে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে; এ বিষয়ে মতভেদ পরবর্তীকালের
(৩).
অনুরূপভাবে, আলিম যে উৎস থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন সেখানেও প্রত্যাবর্তন করা প্রয়োজন। কারণ উদ্ধৃতিতে ভুল থাকতে পারে অথবা কোনো বর্ণনায় সংক্ষিপ্তকরণের কারণে হুকুম পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে। যেমন ইবনে উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত বর্ণনা: «এর কোনো হিসাব নেওয়া হবে না», এর মাধ্যমে তারা দলীল পেশ করেন যারা মনে করেন যে ঋতুকালীন তালাক পতিত হয় না। অথচ সঠিক কথা হলো, এই ইশারাটি (সেটি) দ্বারা ঋতুস্রাবকে বোঝানো হয়েছে, অর্থাৎ এটি ইদ্দতের মধ্যে গণনা করা হবে না। ঋতুকালীন তালাক গণনা না হওয়া এর উদ্দেশ্য নয়, যেমনটি অন্য বর্ণনা স্পষ্ট করেছে: «সেই ঋতুস্রাবকে গণনা করা হবে না»
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ১১)
وليس الحرص على عدم تشتت الأسر ولم شمل الأولاد يبيح اختيار قول يعتقد الشخص أنَّه مرجوح فالمفتي والقاضي عملها التبليغ عن الله لا التشريع فلسنا أرحم بالخلق من خالقهم.
والاختيار من الأقوال تشهيًا خلاف أمر الله عز وجل] فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا [(النساء: 59) وهذا محل إجماع قال سليمان التيمي لو أخذت برخصة كل عالم اجتمع فيك الشر كله. قال ابن عبد البر معقبًا على قوله. هذا إجماع لا أعلم فيه خلافًا
(1).
وقال ابن حجر الهيتمي: في زوائد الروضة لا يجوز للمفتي والعامل أن يفتي أو يعمل بما شاء من القولين أو الوجهين من غير نظر قال وهذا لا خلاف فيه وسبقه إلى حكاية الإجماع فيهما ابن الصلاح والباجي من المالكية
(2).
فالواجب هو حمل الناس على الحق والبحث عن مخرج لأخطائهم لا يعالج الخطأ بل يزيده ففي حديث البراء بن عازب رضي الله عنه قال: «مر على النبي صلى الله عليه وسلم بيهودي مُحَمَّمًا مجلودًا فدعاهم صلى الله عليه وسلم فقال: هَكَذَا تَجِدُونَ حَدَّ الزَّانِي فِي كِتَابِكُمْ قَالُوا نَعَمْ فَدَعَا رَجُلًا مِنْ عُلَمَائِهِمْ فَقَالَ أَنْشُدُكَ بِاللهِ الَّذِي أَنْزَلَ التَّوْرَاةَ عَلَى مُوسَى أَهَكَذَا تَجِدُونَ حَدَّ الزَّانِي فِي كِتَابِكُمْ قَالَ لَا وَلَوْلَا أَنَّكَ نَشَدْتَنِي بِهَذَا لَمْ أُخْبِرْكَ نَجِدُهُ الرَّجْمَ وَلَكِنَّهُ كَثُرَ فِي أَشْرَافِنَا فَكُنَّا إِذَا أَخَذْنَا الشَّرِيفَ تَرَكْنَاهُ وَإِذَا أَخَذْنَا الضَّعِيفَ أَقَمْنَا عَلَيْهِ الْحَدَّ قُلْنَا تَعَالَوْا فَلْنَجْتَمِعْ عَلَى شَيْءٍ نُقِيمُهُ عَلَى الشَّرِيفِ وَالْوَضِيعِ فَجَعَلْنَا التَّحْمِيمَ وَالْجَلْدَ مَكَانَ الرَّجْمِ»
(3) ولا زال الفجور فيهم في ازدياد.
--------------------------------------------
পরিবারগুলোর বিচ্ছিন্নতা রোধ এবং সন্তানদের একত্রিত করার আকাঙ্ক্ষা এমন কোনো মত গ্রহণের অনুমতি দেয় না যেটিকে ব্যক্তি দুর্বল (মারজুহ) মনে করে। কেননা মুফতি ও বিচারকের কাজ হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে পৌঁছে দেওয়া, আইন প্রণয়ন করা নয়। আর আমরা সৃষ্টির প্রতি তাদের স্রষ্টার চেয়ে বেশি দয়ালু নই।
প্রবৃত্তি অনুযায়ী মত নির্বাচন করা মহান আল্লাহ তাআলার নির্দেশের পরিপন্থী: [অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই কল্যাণকর এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর] (আন-নিসা: ৫৯)। এটি একটি ঐকমত্যপূর্ণ (ইজমা) বিষয়। সুলাইমান আত-তাইমি বলেন, ‘যদি তুমি প্রত্যেক আলেমের দেওয়া ছাড় (রুখসত) গ্রহণ করো, তবে তোমার মধ্যে সমস্ত মন্দ একত্রিত হবে।’ ইবনে আব্দুল বার তার এই কথার ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ‘এটি একটি ইজমা, যাতে আমার জানামতে কোনো মতপার্থক্য নেই’
(১)。
ইবনে হাজার আল-হাইতামি ‘যাওয়ায়েদুর রওজা’ গ্রন্থে বলেন: ‘গবেষণা ও বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়া মুফতি বা আমলকারীর জন্য দুটি মত বা দুই দিকের যে কোনোটি বেছে নিয়ে ফতোয়া দেওয়া বা আমল করা জায়েজ নয়।’ তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো মতপার্থক্য নেই।’ ইবনুস সালাহ এবং মালেকি মাজহাবের আল-বাজি এ বিষয়ে ইজমা বর্ণনায় তার অগ্রগামী ছিলেন
(২)。
সুতরাং ওয়াজিব হলো মানুষকে হকের ওপর পরিচালিত করা। মানুষের ভুলত্রুটির জন্য কোনো উপায় (মাখরাজ) খুঁজে বেড়ানো ভুল সংশোধন করে না, বরং তা বাড়িয়ে দেয়। বারা ইবনে আজেব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে মুখ কালো করা ও বেত্রাঘাত করা এক ইহুদিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন: “তোমাদের কিতাবে কি ব্যভিচারীর দণ্ডবিধি এভাবেই পাও?” তারা বলল, “হ্যাঁ”। অতঃপর তিনি তাদের একজন আলেমকে ডেকে বললেন: “আমি তোমাকে সেই আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি যিনি মুসার ওপর তাওরাত নাজিল করেছেন, তোমাদের কিতাবে কি ব্যভিচারীর দণ্ডবিধি এভাবেই পাও?” সে বলল, “না, আপনি যদি আমাকে এই কসম না দিতেন তবে আমি আপনাকে জানাতাম না। আমরা তাতে ‘রজম’ (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) পাই। কিন্তু আমাদের অভিজাতদের মধ্যে এটি বেড়ে গিয়েছিল, ফলে যখন আমরা কোনো অভিজাত ব্যক্তিকে ধরতাম তখন তাকে ছেড়ে দিতাম, আর যখন কোনো দুর্বল ব্যক্তিকে ধরতাম তখন তার ওপর দণ্ডবিধি কার্যকর করতাম। তখন আমরা বললাম, ‘এসো, আমরা এমন একটি বিষয়ের ওপর একমত হই যা অভিজাত ও সাধারণ সবার ওপর কার্যকর করব।’ অতঃপর আমরা ‘রজম’-এর পরিবর্তে মুখ কালো করা ও বেত্রাঘাতকে নির্ধারণ করলাম”’
(৩)। আর তাদের মধ্যে পাপাচার ক্রমাগত বেড়েই চলছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ১২)
وكذلك يجب التثبت في وقوع الطلاق فلا يحرم فرج إلا بدليل ظاهر فلا احتياط في مسألة الطلاق فتحريم المرأة على زوجها تحلل لغيره.
قال الجويني: من أعظم الأصول المعتبرة ألا نوقع الطلاق إلا على استيقان، أو ظهور يلي الاستيقان
(1).
* * *
--------------------------------------------
এবং অনুরূপভাবে তালাক কার্যকর হওয়ার বিষয়ে সুনিশ্চিত হওয়া আবশ্যক, কেননা স্পষ্ট দলিল ব্যতীত কোনো লজ্জাস্থানকে হারাম গণ্য করা যাবে না। সুতরাং তালাকের মাসআলায় (সন্দেহবশত) আগাম সতর্কতামূলক কোনো অবস্থান গ্রহণ করা যাবে না; কারণ স্ত্রীর ওপর স্বামীর জন্য তাকে হারাম ঘোষণা করা মানেই অন্যের জন্য তাকে হালাল সাব্যস্ত করা।
জুওয়াইনী বলেন: অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য মূলনীতি হলো আমরা পূর্ণ নিশ্চয়তা অথবা নিশ্চয়তার নিকটবর্তী স্পষ্ট অবস্থা ছাড়া তালাক কার্যকর করব না
(১)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تمهيدمسائل الطلاق تتعلق بلفظ الطلاق والمطلق والمطلقة والولاية ووقت الطلاق وعقد النكاح المراد حله بالطلاق:
الأول: لفظ الطلاق: ويتعلق به مسائل:
الأولى: أن يصدر لفظ من المطلق.
الثانية: أن لا يصدر لفظ من المطلق.
الثالثة: أن يُسْمِع المطلق لفظ الطلاق.
الرابعة: أن لا يُسْمِع المطلق لفظ الطلاق.
الخامسة: أن يكون الطلاق كتابة من الزوج.
السادسة: أن يكون الطلاق كتابة من غير الزوج.
السابعة: أن يكون الزوج قادرًا على الكلام.
الثامنة: أن يكون الزوج غير قادر على الكلام.
التاسعة: أن تبقى كتابة الطلاق حتى تصل الزوجة.
العاشرة: أن تُمْحَى الكتابةُ قبل أن تصل الزوجة.
الحادية عشر: أن تكون الكتابة بالوسائل المعروفة (التقليدية).
الثانية عشر: أن تكون الكتابة بما استجد من وسائل الاتصال الحديثة.
الثالثة عشر: أن يكون الطلاق بلفظ صريح.
الرابعة عشر: أن يكون الطلاق بكناية الطلاق.
الخامسة عشر: أن يكون الطلاق بلفظ يعرف الزوج معناه.
ভূমিকাতালাকের মাসআলাসমূহ তালাকের শব্দ, তালাক প্রদানকারী, তালাকপ্রাপ্তা নারী, অভিভাবকত্ব, তালাকের সময় এবং সেই নিকাহ চুক্তির সাথে সম্পর্কিত যা তালাকের মাধ্যমে ছিন্ন করার উদ্দেশ্য নেওয়া হয়:
প্রথম: তালাকের শব্দ: এর সাথে সংশ্লিষ্ট মাসআলাসমূহ হলো:
প্রথম: তালাক প্রদানকারীর পক্ষ থেকে তালাকের শব্দ উচ্চারিত হওয়া।
দ্বিতীয়: তালাক প্রদানকারীর পক্ষ থেকে কোনো শব্দ উচ্চারিত না হওয়া।
তৃতীয়: তালাক প্রদানকারী কর্তৃক তালাকের শব্দ শ্রবণ করানো।
চতুর্থ: তালাক প্রদানকারী কর্তৃক তালাকের শব্দ শ্রবণ না করানো।
পঞ্চম: তালাক স্বামীর পক্ষ থেকে লিখিত আকারে হওয়া।
ষষ্ঠ: তালাক স্বামী ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে লিখিত আকারে হওয়া।
সপ্তম: স্বামী কথা বলতে সক্ষম হওয়া।
অষ্টম: স্বামী কথা বলতে সক্ষম না হওয়া।
নবম: স্ত্রীর নিকট পৌঁছানো পর্যন্ত তালাকের লেখাটি বিদ্যমান থাকা।
দশম: স্ত্রীর নিকট পৌঁছানোর পূর্বেই লেখাটি মুছে যাওয়া।
একাদশ: প্রচলিত (ঐতিহ্যগত) মাধ্যমে লেখা হওয়া।
দ্বাদশ: আধুনিক যোগাযোগের নতুন কোনো মাধ্যমে লেখা হওয়া।
ত্রয়োদশ: তালাক স্পষ্ট (সারিহ) শব্দের মাধ্যমে হওয়া।
চতুর্দশ: তালাক রূপক বা অস্পষ্ট (কিনায়া) শব্দের মাধ্যমে হওয়া।
পঞ্চদশ: তালাক এমন শব্দের মাধ্যমে হওয়া যার অর্থ স্বামী জানে।
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ১৪)
السادسة عشر: أن يكون الطلاق بلفظ لا يعرف الزوج معناه.
السابعة عشر: أن يأتي بلفظ الطلاق على وفق كلام العرب.
الثامنة عشرة: أن يأتي بلفظ الطلاق على خلاف كلام العرب لحنًا أو تصحيفًا.
التاسعة عشرة: أن يطلق طلقة واحدة.
العشرون: أن يطلق أكثر من طلقة.
الحادي والعشرون: أن يطلق بعض طلقة.
الثاني: المطلق: ويتعلق به مسائل:
الأولى: أن يكون مكلفًا.
الثانية: أن يكون غير مكلف.
الثالثة: أن يكون مختارًا.
الرابعة: أن يكون غير مختار.
الخامسة: أن يعذر بعدم اختياره.
السادسة: أن لا يعذر بعدم اختياره.
السابعة: أن يكون مسلمًا.
الثامنة: أن يكون غير مسلم.
التاسعة: أن يكون اختلاف الدين حين عقد النكاح.
العاشرة: أن يكون اختلاف الدين طرأ بعد النكاح.
الحادية عشر: أن ينوي الطلاق.
ষোড়শ: তালাক এমন শব্দে হওয়া যার অর্থ স্বামী জানে না।
সপ্তদশ: তালাকের শব্দ আরবের প্রচলিত ভাষাগত রীতি অনুযায়ী হওয়া।
অষ্টাদশ: ব্যাকরণগত ভুল বা বিকৃতির মাধ্যমে আরবের প্রচলিত ভাষাগত রীতির পরিপন্থী শব্দে তালাক দেওয়া।
উনবিংশ: এক তালাক দেওয়া।
বিংশ: একের অধিক তালাক দেওয়া।
একবিংশ: তালাকের অংশবিশেষ প্রদান করা।
দ্বিতীয়: তালাকদাতা: আর এ সম্পর্কিত মাসআলাসমূহ:
প্রথম: সে মুকাল্লাফ (শরয়ী বিধান পালনে দায়বদ্ধ) হওয়া।
দ্বিতীয়: সে মুকাল্লাফ না হওয়া।
তৃতীয়: সে স্বেচ্ছায় তালাক প্রদানকারী হওয়া।
চতুর্থ: সে স্বেচ্ছায় তালাক প্রদানকারী না হওয়া (অর্থাৎ বাধ্য হওয়া)।
পঞ্চম: স্বেচ্ছায় না হওয়ার কারণে তাকে ওজরগ্রস্ত হিসেবে গণ্য করা।
ষষ্ঠ: স্বেচ্ছায় না হওয়ার কারণে তাকে ওজরগ্রস্ত হিসেবে গণ্য না করা।
সপ্তম: সে মুসলিম হওয়া।
অষ্টম: সে অমুসলিম হওয়া।
নবম: নিকাহ বা বিবাহের চুক্তির সময় ধর্মের ভিন্নতা থাকা।
দশম: বিবাহের পর ধর্মের ভিন্নতা সৃষ্টি হওয়া।
একাদশ: তালাকের নিয়ত করা।
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الثانية عشر: أن لا ينوي الطلاق.
الثالثة عشر: أن يعذر بعدم نية الطلاق.
الرابعة عشر: أن لا يعذر بعدم نية الطلاق.
الثالث: المطلقة: ويتعلق بها مسائل:
الأولى: أن تكون زوجة.
الثانية: أن تكون غير زوجة.
الثالثة: أن يقع الطلاق على كل الزوجة.
الرابعة: أن يقع الطلاق على بعض الزوجة.
الخامسة: أن تبين الزوجة بهذا الطلاق.
السادسة: أن لا تبين الزوجة بهذا الطلاق.
السابعة: أن يكون بطلب الزوجة.
الثامنة: أن يكون بغير طلبها.
التاسعة: أن تدفع عوضًا للزوج.
العاشرة: أن لا تدفع عوضًا للزوج.
الرابع: الولاية: ويتعلق بها مسائل:
الأولى: أن يكون الطلاق من الزوج.
الثانية: أن يكون الطلاق من غير الزوج.
الثالثة: أن يكون لغير الزوج ولاية.
الرابعة: أن لا يكون لغير الزوج ولاية.
দ্বাদশ: তালাকের নিয়ত না করা।
ত্রয়োদশ: তালাকের নিয়ত না করার কারণে ওজর বা অব্যাহতি প্রাপ্ত হওয়া।
চতুর্দশ: তালাকের নিয়ত না করার কারণে ওজর বা অব্যাহতি প্রাপ্ত না হওয়া।
তৃতীয়: তালাকপ্রাপ্তা: এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি:
প্রথম: স্ত্রী হওয়া।
দ্বিতীয়: স্ত্রী ব্যতীত অন্য কেউ হওয়া।
তৃতীয়: তালাক পুরো স্ত্রীর ওপর পতিত হওয়া।
চতুর্থ: তালাক স্ত্রীর কোনো অংশের ওপর পতিত হওয়া।
পঞ্চম: এই তালাকের মাধ্যমে স্ত্রী বিচ্ছিন্ন (বায়েন) হয়ে যাওয়া।
ষষ্ঠ: এই তালাকের মাধ্যমে স্ত্রী বিচ্ছিন্ন না হওয়া।
সপ্তম: স্ত্রীর আবেদনের প্রেক্ষিতে তালাক হওয়া।
অষ্টম: তার আবেদন ব্যতীত তালাক হওয়া।
নবম: স্বামীকে বিনিময় প্রদান করা।
দশম: স্বামীকে বিনিময় প্রদান না করা।
চতুর্থ: কর্তৃত্ব (বিলায়াত): এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি:
প্রথম: তালাক স্বামীর পক্ষ থেকে হওয়া।
দ্বিতীয়: তালাক স্বামী ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে হওয়া।
তৃতীয়: স্বামী ব্যতীত অন্য কারও কর্তৃত্ব থাকা।
চতুর্থ: স্বামী ব্যতীত অন্য কারও কর্তৃত্ব না থাকা।
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الخامس: الوقت: ويتعلق به مسائل:
الأولى: أن يكون الطلاق وقت السنة.
الثانية: أن يكون الطلاق وقت البدعة.
الثالثة: أن لا يكون للطلاق سنة ولا بدعة.
السادس: عقد النكاح: ويتعلق به مسائل:
الأولى: أن يكون النكاح الذي أعقبه الطلاق صحيحًا.
الثانية: أن يكون النكاح الذي أعقبه الطلاق غير صحيح.
وتحت كل مسألة من المسائل السابقة عدة مسائل يتم بحثها في هذا الجزء وفي غيره من الأجزاء إن شاء الله.
* * *
পঞ্চম: সময়: এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে কিছু মাসআলা:
প্রথম: তালাকটি সুন্নাহসম্মত সময়ে হওয়া।
দ্বিতীয়: তালাকটি বিদআতসম্মত সময়ে হওয়া।
তৃতীয়: তালাকটির জন্য সুন্নাহ বা বিদআত কোনোটিরই সংশ্লিষ্টতা না থাকা।
ষষ্ঠ: বিয়ের আকদ: এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে কিছু মাসআলা:
প্রথম: যে বিয়ের পর তালাক প্রদান করা হয়েছে তা সহীহ বা বৈধ হওয়া।
দ্বিতীয়: যে বিয়ের পর তালাক প্রদান করা হয়েছে তা সহীহ না হওয়া।
পূর্বোক্ত মাসআলাগুলোর প্রত্যেকটির অধীনে এমন অনেক মাসআলা রয়েছে যা এই খণ্ডে এবং অন্যান্য খণ্ডসমূহে আলোচনা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
* * *
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الباب الأولتعريف الطلاق• تعريف الطلاق في اللغة.
• تعريف الطلاق عند الأحناف.
• تعريف الطلاق عند المالكية.
• تعريف الطلاق عند الشافعية.
• تعريف الطلاق عند الحنابلة.
• التعريف المختار للطلاق.
প্রথম পরিচ্ছেদতালাকের সংজ্ঞা• আভিধানিক অর্থে তালাকের সংজ্ঞা।
• হানাফীদের নিকট তালাকের সংজ্ঞা।
• মালেকীদের নিকট তালাকের সংজ্ঞা।
• শাফেয়ীদের নিকট তালাকের সংজ্ঞা।
• হাম্বলীদের নিকট তালাকের সংজ্ঞা।
• তালাকের নির্বাচিত সংজ্ঞা।
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الفصل الأولتعريف الطلاق في اللغةالطلاق مصدر طلُقت بالضم وطلَقت بالفتح ويقال طلق تطليقًا وطلاقًا كما يقال سلم تسليمًا وسلامًا وكلم تكليمًا وكلامًا وسرح تسريحًا وسراحًا.
فالطلاق مصدر طلقت المرأة بانت من زوجها والتَّطْلِيقُ التخلية والإِرسال وحلُّ العقد ويقال امرأَة طالِق بغير هاء كما يقال امرأة حائض وأَما قول الأَعشى أَيا جارَتا بِيِني فإِنَّك طالِقَة فإِنَّ الليث قال أَراد طالِقة غدًا وقال غيره قال طالِقة على الفعل لأَنَّها يقال لها قد طَلَقَت فبني النعت على الفعل
(1).
* * *
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদআভিধানিক অর্থে তালাকের সংজ্ঞাতালাক শব্দটি ত্বলুক্বাত (লাম বর্ণে পেশ যোগে) এবং ত্বলাক্বাত (লাম বর্ণে জবর যোগে) ক্রিয়ার মাসদার (ক্রিয়ামূল)। আর বলা হয় ত্বাল্লাক্বা তাত্বলীক্বান ও ত্বলাক্বান, যেমন বলা হয় সাল্লামা তাসলীমান ও সালামান, কাল্লামা তাকলীমান ও কালামান এবং সাররাহা তাসরীহান ও সারাহান।
সুতরাং তালাক হলো ত্বলাক্বাতিল মারআতু (স্ত্রী তার স্বামী থেকে বিচ্ছিন্ন হলো) বাক্যের মাসদার। আর তাত্বলীক অর্থ হলো মুক্ত করা, ছেড়ে দেওয়া এবং চুক্তির বন্ধন খুলে ফেলা। স্ত্রীকে ‘হা’ (তা-য়ে মারবুতাহ) বর্ণ যোগ করা ছাড়াই ‘ত্বালিক্ব’ বলা হয়, যেমন নারীকে ‘হায়েজ’ (ঋতুবতী) বলা হয়। তবে আল-আ’শার উক্তি—“হে আমার প্রতিবেশিনী, তুমি পৃথক হয়ে যাও, কেননা তুমি তালাকপ্রাপ্তা (ত্বালিক্বাহ্)”—প্রসঙ্গে আল-লাইস বলেন যে, তিনি এর দ্বারা ‘আগামীকাল তালাকপ্রাপ্তা’ হওয়া বুঝিয়েছেন। অন্যরা বলেন, তিনি ‘ত্বালিক্বাহ্’ শব্দটি ক্রিয়ার ভিত্তিতে ব্যবহার করেছেন, কারণ তার সম্পর্কে বলা হয় ‘ক্বাদ ত্বলাক্বাত’ (সে অবশ্যই তালাকপ্রাপ্তা হয়েছে), ফলে বিশেষণটিকে ক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে গঠন করা হয়েছে
(১)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ২০)
الفصل الثانيتعريف الطلاق عند الأحنافللطلاق عند الأحناف عدة تعاريف منها
(1):
التعريف الأول: إزالة حل المحلية في النوعين أو ما يقوم مقام اللفظ:شرح التعريف: (الإزالة) الرفع (حل المحلية) المراد به كون المرأة تحل لزوجها من الوطء ونحوه (في النوعين) الطلاق البائن والرجعي باللفظ الصريح أو الكناية
(أو ما يقوم مقام اللفظ) كالكتابة.
نقد التعريف: التعريف ليس جامعًا فالطلاق يرفع كل أحكام النكاح وليس الحل فقط.
التعريف الثاني: رفع القيد الثابث شرعًا بالنكاح:شرح التعريف: (رفع القيد) تغييره والمراد بالقيد عند الأحناف
(2) صيرورة المرأة ممنوعة من الخروج والبروز. (الثابت شرعًا) خرج به القيد الحسي وخرج (بالنكاح) العتق.
نقد التعريف: هذا التعريف ليس جامعًا فالطلاق يرفع الحقوق التي للمرأة والحقوق التي عليها ولا يدخل في التعريف الطلاق الرجعي فالمطلقة طلاقًا رجعيًا
ما دامت في العدة لا يتغير حكمها بالطلاق فلها ما للزوجات من حقوق. ولا مانعًا فيدخل في التعريف الفرقة بغير الطلاق كالفسخ والخلع.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদহানাফী মাযহাবে তালাকের সংজ্ঞাহানাফী ফকীহদের নিকট তালাকের বেশ কিছু সংজ্ঞা রয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি হলো
(১):
প্রথম সংজ্ঞা: দুই প্রকারের ক্ষেত্রে হালাল হওয়ার যোগ্যতা অপসারিত করা অথবা শব্দের স্থলাভিষিক্ত কোনো কিছুর মাধ্যমে (তালাক প্রদান):সংজ্ঞার ব্যাখ্যা: (অপসারণ) উঠিয়ে দেওয়া। (হালাল হওয়ার যোগ্যতা) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো স্ত্রী তার স্বামীর জন্য সহবাস ও অনুরূপ কার্যাবলীর ক্ষেত্রে হালাল হওয়া। (দুই প্রকারের ক্ষেত্রে) তথা সুস্পষ্ট শব্দ বা রূপক শব্দের মাধ্যমে তালাক-ই-বায়েন ও তালাক-ই-রজঈ।
(অথবা শব্দের স্থলাভিষিক্ত কোনো কিছু) যেমন লিখিত রূপ।
সংজ্ঞার সমালোচনা: সংজ্ঞাটি 'জামে' (সার্বিক) নয়; কেননা তালাক বিবাহের সকল বিধানকে উঠিয়ে দেয়, শুধু হালাল হওয়ার বিষয়টি নয়।
দ্বিতীয় সংজ্ঞা: বিবাহের মাধ্যমে শরয়িভাবে প্রতিষ্ঠিত আবদ্ধতা উঠিয়ে দেওয়া:সংজ্ঞার ব্যাখ্যা: (আবদ্ধতা উঠিয়ে দেওয়া) তা পরিবর্তন করা। হানাফীদের নিকট 'আবদ্ধতা'
(২) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মহিলার বাইরে বের হওয়া এবং জনসমক্ষে আসা থেকে নিষিদ্ধ হওয়া। (শরয়িভাবে প্রতিষ্ঠিত) কথাটি বলার মাধ্যমে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য আবদ্ধতা সংজ্ঞার বাইরে চলে গেছে এবং (বিবাহের মাধ্যমে) কথাটি বলার মাধ্যমে দাসমুক্তি সংজ্ঞার বাইরে চলে গেছে।
সংজ্ঞার সমালোচনা: এই সংজ্ঞাটি 'জামে' (সার্বিক) নয়; কেননা তালাক নারীর প্রাপ্য অধিকারসমূহ এবং তার ওপর অর্পিত দায়িত্বসমূহকেও উঠিয়ে দেয়। আবার এই সংজ্ঞায় তালাক-ই-রজঈ অন্তর্ভুক্ত হয় না; কারণ রজঈ তালাকপ্রাপ্তা নারী যতক্ষণ ইদ্দতের মধ্যে থাকে, তালাকের কারণে তার বিধানে কোনো পরিবর্তন আসে না এবং একজন স্ত্রীর প্রাপ্য অধিকারসমূহ তার জন্য বহাল থাকে। তদুপরি এটি 'মানে' (অন্যের অনুপ্রবেশ রোধকারী) নয়; ফলে তালাক ব্যতীত অন্যান্য বিচ্ছেদ যেমন 'ফাসখ' ও 'খোলা'ও এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ২১)
التعريف الثالث: رفع قيد النكاح حالًا أو مآلًا بلفظ مخصوص:شرح التعريف: (حالًا) الطلاق البائن (مآلًا) الطلاق الرجعي (بلفظ مخصوص) من صريح الطلاق وكنياته.
نقد التعريف: هذا التعريف ليس جامعًا ولا مانعًا مثل التعريف الثاني.
والطلاق ليس مختصًا باللفظ فيقع الطلاق بالكتابة والإشارة.
التعريف الرابع: حكم شرعي يرفع القيد للنكاح بألفاظ مخصوصة:شرح التعريف: كالذي قبله.
نقد التعريف: كالذي قبله.
التعريف الخامس: رفع قيد النكاح من أهله في محله:شرح التعريف: (من أهله في محله) هذا من شروط الطلاق ولا تدخل الشروط في التعريف.
نقد التعريف: ليس جامعًا ولا مانعًا مثل التعريف الثاني.
التعريف السادس: عبارة عن المعنى الموضوع لحل عقدة النكاح:شرح التعريف: (عبارة عن المعنى) حقيقة الطلاق الشرعي هو الحدث الذي هو مدلول المصدر لا نفس اللفظ (لحل عقدة النكاح) رفعه بعد انعقاده.
نقد التعريف: الطلاق هو اللفظ وما ينتج عن اللفظ من أحكام اللفظ ويدخل في التعريف أنواع الفسوخ فليس الطلاق مختصًا بحل عقدة النكاح فليس مانعًا
ولا جامعًا.
তৃতীয় সংজ্ঞা: বিশেষ শব্দের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে বা পরিণামে বিবাহের বন্ধন তুলে দেওয়া:সংজ্ঞার ব্যাখ্যা: (তাৎক্ষণিকভাবে) এর দ্বারা বায়েন তালাক উদ্দেশ্য। (পরিণামে) এর দ্বারা রাজয়ী তালাক উদ্দেশ্য। (বিশেষ শব্দের মাধ্যমে) এর দ্বারা তালাকের স্পষ্ট ও রূপক শব্দসমূহ উদ্দেশ্য।
সংজ্ঞার সমালোচনা: এই সংজ্ঞাটিও দ্বিতীয় সংজ্ঞার মতো 'জামে' (পূর্ণাঙ্গ) বা 'মানে' (অন্যান্য বিষয় বর্জনকারী) নয়।
আর তালাক কেবল শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং লিখনী ও ইশারার মাধ্যমেও তালাক পতিত হয়।
চতুর্থ সংজ্ঞা: এটি এমন একটি শরয়ী বিধান যা বিশেষ শব্দাবলির মাধ্যমে বিবাহের বন্ধন ছিন্ন করে:সংজ্ঞার ব্যাখ্যা: পূর্ববর্তী সংজ্ঞার ন্যায়।
সংজ্ঞার সমালোচনা: পূর্ববর্তী সংজ্ঞার ন্যায়।
পঞ্চম সংজ্ঞা: যোগ্য ব্যক্তির পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট স্থানে বিবাহের বন্ধন তুলে দেওয়া:সংজ্ঞার ব্যাখ্যা: (যোগ্য ব্যক্তির পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট স্থানে) এটি তালাকের শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত, আর শর্তাবলি সংজ্ঞার সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত হয় না।
সংজ্ঞার সমালোচনা: এটি দ্বিতীয় সংজ্ঞার মতো 'জামে' বা 'মানে' নয়।
ষষ্ঠ সংজ্ঞা: বিবাহের চুক্তি ছিন্ন করার জন্য নির্ধারিত অর্থকে ব্যক্ত করা:সংজ্ঞার ব্যাখ্যা: (অর্থকে ব্যক্ত করা) শরয়ী তালাকের প্রকৃত রূপ হলো সেই ঘটনা যা ক্রিয়ামূলের অর্থ নির্দেশ করে, স্বয়ং শব্দটি নয়। (বিবাহের চুক্তি ছিন্ন করা) চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর তা তুলে দেওয়া।
সংজ্ঞার সমালোচনা: তালাক হলো শব্দ এবং শব্দ থেকে নির্গত বিধানসমূহ। এই সংজ্ঞায় বিভিন্ন প্রকারের চুক্তি বিলুপ্তি (ফাসখ) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, ফলে তালাক কেবল বিবাহের বন্ধন ছিন্ন করার সাথে সুনির্দিষ্ট থাকে না; তাই এটি 'মানে' বা 'জামে' নয়।
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ২২)
التعريف السابع: رفع عقد النكاح بلفظ مخصوص ولو مآلًا:شرح التعريف: (رفع عقد النكاح) تغيير الحكم بعد الطلاق من حقوق وواجبات ومباحات (بلفظ مخصوص) من صريح الطلاق وكناياته فتخرج الفرقة بغير الطلاق. ولا يدخل فيه الطلاق بالكتابة والإشارة (ولو مآلًا) يدخل فيه الطلاق الرجعي ورفعه في الحال يدخل فيه الطلاق البائن.
نقد التعريف: هذا التعريف ليس جامعًا فلا يدخل فيه الطلاق بالكتابة والإشارة ولا مانعًا فيدخل فيه الخلع وهو ليس طلاقًا عند الأحناف.
* * *
সপ্তম সংজ্ঞা: বিশেষ শব্দের মাধ্যমে বিবাহের চুক্তি বাতিল করা, যদিও তা পরিণামে ঘটে:সংজ্ঞার ব্যাখ্যা: (বিবাহের চুক্তি বাতিল করা) তালাকের পর অধিকার, কর্তব্য এবং বৈধতা সংক্রান্ত বিধানের পরিবর্তন। (বিশেষ শব্দের মাধ্যমে) তালাকের স্পষ্ট এবং রূপক শব্দাবলির মাধ্যমে; ফলে তালাক ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে বিচ্ছেদ এর বহির্ভূত হয়ে যায়। আর এর মধ্যে লেখা এবং ইশারার মাধ্যমে তালাক অন্তর্ভুক্ত হয় না। (যদিও তা পরিণামে ঘটে) এর মাধ্যমে রাজঈ তালাক অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হওয়ার মাধ্যমে বায়েন তালাক অন্তর্ভুক্ত হয়।
সংজ্ঞার সমালোচনা: এই সংজ্ঞাটি ‘জামে’ (ব্যাপক) নয়, কারণ এতে লেখা এবং ইশারার মাধ্যমে তালাক অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এটি ‘মানে’ (ব্যাবর্তক) নয়, কারণ এতে খুলউ অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, অথচ হানাফীদের মতে তা তালাক নয়।
* * *
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الفصل الثالثتعريف الطلاق عند المالكيةللطلاق عند المالكية عدة تعاريف
(1):
التعريف الأول: حل العصمة المنعقدة بين الأزواج بألفاظ مخصوصة:شرح التعريف: (حل العصمة المنعقدة) بالإيجاب والقبول يتم عقد النكاح وبالطلاق ينحل العقد (بين الأزواج) يخرج بيع الأمة (بألفاظ مخصوصة) من صريح الطلاق وكنايته.
نقد التعريف: يرد عليه عدم دخول الطلاق الرجعي والطلاق بالكتابة والإشارة والطلاق بالفعل إذا دل العرف عليه.
التعريف الثاني: إزالة عصمة الزوجة بصريح لفظ أو كناية ظاهرة أو بلفظ ما مع نية:شرح التعريف: (بصريح لفظ) وهو ما فيه لفظ الطلاق كأنت طالق (أو كناية ظاهرة) وهي التي جرت العادة الطلاق بها كقوله أنت بائن (أو بلفظ ما) عدا الصريح والكناية كاسقني ماءً (مع نية) يقع الطلاق.
نقد التعريف: يرد عليه ما ورد على التعريف السابق. وأدخل في التعريف الأحكام في قوله (مع نية) وهذا ممنوع.
--------------------------------------------
তৃতীয় অধ্যায়মালিকি মাজহাবে তালাকের সংজ্ঞামালিকি মাজহাবে তালাকের বেশ কয়েকটি সংজ্ঞা রয়েছে
(১):
প্রথম সংজ্ঞা: বিশেষ শব্দমালার মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিদ্যমান বৈবাহিক বন্ধন ছিন্ন করা:সংজ্ঞার ব্যাখ্যা: (বিদ্যমান বৈবাহিক বন্ধন ছিন্ন করা) ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ)-এর মাধ্যমে বিবাহের চুক্তি সম্পন্ন হয় এবং তালাকের মাধ্যমে সেই চুক্তি ছিন্ন হয়। (স্বামী-স্ত্রীর মাঝে) এটি দাসী বিক্রয়কে সংজ্ঞার বাইরে রাখে। (বিশেষ শব্দমালার মাধ্যমে) এটি তালাকের স্পষ্ট ও রূপক শব্দগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে।
সংজ্ঞার সমালোচনা: এই সংজ্ঞার ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে যে, এতে তালাক-ই-রাজয়ী (প্রত্যাবর্তনযোগ্য তালাক), লিখিত তালাক, ইশারা এবং যদি প্রচলিত প্রথা কোনো কাজের মাধ্যমে তালাক নির্দেশ করে, তবে সেই তালাক অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
দ্বিতীয় সংজ্ঞা: স্পষ্ট শব্দ, অথবা সুস্পষ্ট রূপক শব্দ, অথবা নিয়তসহ যেকোনো শব্দের মাধ্যমে স্ত্রীর বৈবাহিক বন্ধন দূর করা:সংজ্ঞার ব্যাখ্যা: (স্পষ্ট শব্দ দ্বারা) অর্থাৎ যাতে তালাকের শব্দ বিদ্যমান থাকে, যেমন: 'তুমি তালাকপ্রাপ্তা'। (অথবা সুস্পষ্ট রূপক শব্দ) এটি এমন শব্দ যা তালাকের জন্য ব্যবহৃত হওয়া প্রচলিত, যেমন: 'তুমি বিচ্ছিন্ন'। (অথবা যেকোনো শব্দ দ্বারা) স্পষ্ট ও রূপক শব্দের বাইরে অন্য কোনো শব্দ, যেমন: 'আমাকে পানি পান করাও', যার সাথে (নিয়ত থাকলে) তালাক পতিত হয়।
সংজ্ঞার সমালোচনা: পূর্ববর্তী সংজ্ঞার ওপর যা আপত্তি ছিল, এখানেও তা প্রযোজ্য। এছাড়া লেখক (নিয়তসহ) কথাটি বলে সংজ্ঞার ভেতরে বিধান (আহকাম) অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা সংজ্ঞার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ২৪)
التعريف الثالث: صفة حكمية ترفع حلية متعة الزوج بزوجته، موجبًا تكررها مرتين للحر ومرة لذي رق حرمتها عليه قبل زوج:شرح التعريف: (صفة حكمية) فالطلاق معنوي وليس حسيًا (ترفع) تزيل أثره من (حلية) أخرج الظهار (متعة الزوج بزوجته) والطلاق البائن يرفع الحلية والواجبات والمباحات ولا يرفعه في المطلقة طلاقًا رجعيًا ما دامت في العدة. وبزوجته يخرج بيع الأمة (موجبًا تكررها مرتين للحر ومرة لذي رق حرمتها عليه قبل زوج) ذكر التكرر ليخرج حرمة المرأة على زوجها بغير الطلاق كالإحرام فموجب تكرر الصفة حرمة الزوجة على زوجها قبل زوج وذلك من خاصية الطلاق ويعترض عليه بوقوع الطلاق البائن ثلاثًا بلفظ واحد.
نقد التعريف: يرد عليه ما يرد على التعريفين السابقين.
التعريف الرابع: حل عقد النكاح:
شرح التعريف: (حل عقد) رفع حكمه (النكاح) يخرج العتق.
نقد التعريف: يرد عليه أنَّ حل عقد النكاح ليس خاصًا بالطلاق. ويرد عليه أيضًا ما ورد على التعاريف السابقة.
* * *
তৃতীয় সংজ্ঞা: একটি হুকমী বা আইনি বৈশিষ্ট্য যা স্ত্রীর সাথে স্বামীর উপভোগের বৈধতাকে উঠিয়ে দেয়; স্বাধীন ব্যক্তির ক্ষেত্রে দুবার এবং দাসের ক্ষেত্রে একবার এই ক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি অন্য কারো সাথে বিয়ের আগে তাকে স্বামীর জন্য হারাম করে দেয়।সংজ্ঞার ব্যাখ্যা: (আইনি বৈশিষ্ট্য) কারণ তালাক একটি অর্থগত বিষয়, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বা বস্তুগত বিষয় নয়। (উঠিয়ে দেয়) অর্থাৎ এর প্রভাব বা (বৈধতা) দূর করে দেয়; এর মাধ্যমে 'জিহার'কে বাদ দেওয়া হয়েছে। (স্ত্রীর সাথে স্বামীর উপভোগ) তালাক-ই-বাইন বৈধতা, কর্তব্যসমূহ এবং অনুমোদিত বিষয়সমূহ উঠিয়ে দেয়। তবে তালাক-ই-রাজয়ীপ্রাপ্তা নারীর ক্ষেত্রে ইদ্দত চলাকালীন এই বৈধতা উঠে যায় না। 'স্ত্রীর সাথে' বলার মাধ্যমে দাসী বিক্রয়কে সংজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। (স্বাধীন ব্যক্তির ক্ষেত্রে দুবার এবং দাসের ক্ষেত্রে একবার এই ক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি অন্য কারো সাথে বিয়ের আগে তাকে স্বামীর জন্য হারাম করে দেয়) পুনরাবৃত্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে তালাক ব্যতীত অন্য কোনো কারণে স্ত্রীর হারাম হওয়াকে বাদ দেওয়ার জন্য, যেমন ইহরামের অবস্থা। কারণ এই গুণের পুনরাবৃত্তির আবশ্যিক ফল হলো অন্য কারও সাথে বিয়ে হওয়ার আগে স্ত্রীর স্বামীর জন্য হারাম হওয়া, যা তালাকের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। তবে এর ওপর আপত্তি তোলা হয় এই বলে যে, এক শব্দেই তিন তালাক প্রদানের মাধ্যমে তালাক-ই-বাইন সম্পন্ন হতে পারে।
সংজ্ঞার সমালোচনা: পূর্ববর্তী দুটি সংজ্ঞার ক্ষেত্রে যেসব আপত্তি ছিল, এখানেও সেগুলো প্রযোজ্য।
চতুর্থ সংজ্ঞা: বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করা।
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা: (বন্ধন ছিন্ন করা) অর্থাৎ এর বিধান উঠিয়ে দেওয়া। (বিবাহ) বলার মাধ্যমে দাসমুক্তিকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
সংজ্ঞার সমালোচনা: এর ওপর আপত্তি হলো এই যে, বিবাহ বন্ধন ছিন্ন হওয়া কেবল তালাকের সাথেই সুনির্দিষ্ট নয়। এছাড়া পূর্ববর্তী সংজ্ঞাগুলোর ক্ষেত্রে যেসব আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলো এখানেও প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الفصل الرابعتعريف الطلاق عند الشافعيةللطلاق عند الشافعية عدة تعاريف منها
(1):
التعريف الأول: حل عقد النكاح بلفظ الطلاق ونحوه:شرح التعريف: (بلفظ الطلاق ونحوه) من الألفاظ الصريحة والكنايات.
نقد التعريف: يرد عليه عدم دخول الطلاق بالكتابة والإشارة. والطلاق الرجعي لا ينحل إلا إذا انقضت العدة. ويدخل في التعريف الخلع وليس طلاقًا عند الشافعية فالتعريف غير جامع ولا مانع.
التعريف الثاني: حل عقد النكاح باللفظ الآتي:شرح التعريف: تقدم.
نقد التعريف: يرد عليه ما يرد على التعريف الأول. (باللفظ الآتي) الإحالة غير معروفة في التعاريف.
التعريف الثالث: تصرف مملوك للزوج يحدثه بلا سبب فيقطع النكاح:شرح التعريف: (تصرف مملوك) يخرج غير المملوك كالردة (للزوج يحدثه) يرد عليه تطليق ولي غير المكلف وتطليق القاضي (بلا سبب) يخرج ما له سبب كاللعان (فيقطع النكاح).
نقد التعريف: يرد عليه ما ورد على ما سبقه.
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদশাফিয়ী মাযহাব অনুযায়ী তালাকের সংজ্ঞাশাফিয়ী মাযহাবে তালাকের বেশ কিছু সংজ্ঞা রয়েছে, তন্মধ্যে অন্যতম হলো
(১):
প্রথম সংজ্ঞা: তালাক শব্দ বা তদ্রূপ অন্য কোনো শব্দের মাধ্যমে বিবাহের বন্ধন ছিন্ন করা:সংজ্ঞার ব্যাখ্যা: (তালাক শব্দ বা তদ্রূপ অন্য কোনো শব্দের মাধ্যমে) অর্থাৎ স্পষ্ট এবং রূপক শব্দসমূহ হতে।
সংজ্ঞার সমালোচনা: এর ওপর আপত্তি এই যে, এতে লিখন এবং ইশারার মাধ্যমে তালাক প্রদান অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এছাড়া রাজঈ তালাক ইদ্দত শেষ হওয়ার আগে ছিন্ন হয় না। আর এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় ‘খুলা’, অথচ শাফিয়ীগণের নিকট এটি তালাক নয়। সুতরাং সংজ্ঞাটি ‘জামে’ (ব্যাপক) এবং ‘মানি’ (বারণকারী) নয়।
দ্বিতীয় সংজ্ঞা: পরবর্তী শব্দের মাধ্যমে বিবাহের বন্ধন ছিন্ন করা:সংজ্ঞার ব্যাখ্যা: পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
সংজ্ঞার সমালোচনা: এর ওপরও প্রথম সংজ্ঞার ক্ষেত্রে যা আপত্তিকর ছিল তা-ই বর্তায়। (পরবর্তী শব্দের মাধ্যমে) সংজ্ঞার ক্ষেত্রে এরূপ উদ্ধৃতি দেয়া অজ্ঞাত বা অপরিচিত পদ্ধতি।
তৃতীয় সংজ্ঞা: স্বামীর মালিকানাধীন এমন এক অধিকার যা সে কোনো কারণ ছাড়াই প্রয়োগ করে এবং যা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটায়:সংজ্ঞার ব্যাখ্যা: (মালিকানাধীন অধিকার) এর মাধ্যমে যা মালিকানাধীন নয় তা বাদ পড়ে যায়, যেমন ধর্মত্যাগ (রিদ্দাহ)। (স্বামী যা ঘটায়) এর ওপর আপত্তি এই যে, এতে অপ্রাপ্তবয়স্ক বা অক্ষম ব্যক্তির অভিভাবকের তালাক এবং বিচারকের তালাক অন্তর্ভুক্ত হয় না। (কোনো কারণ ছাড়া) এর মাধ্যমে কারণযুক্ত বিচ্ছেদ বাদ পড়ে যায়, যেমন লিয়ান। (যা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটায়)।
সংজ্ঞার সমালোচনা: এর ওপরও পূর্বের সংজ্ঞাগুলোর মতো একই আপত্তিসমূহ বর্তায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ২৬)
التعريف الرابع: حل عقدة التزويج:شرح التعريف: تقدم.
نقد التعريف: يرد عليه ما يرد على التعريف الأول وحل عقد النكاح يكون بالطلاق وبغيره كالخلع.
* * *
চতুর্থ সংজ্ঞা: বিবাহ-বন্ধন মোচন:সংজ্ঞার ব্যাখ্যা: ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
সংজ্ঞার সমালোচনা: প্রথম সংজ্ঞার ক্ষেত্রে যে সকল আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে, এই সংজ্ঞার ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হবে। আর বিবাহ-বন্ধন ছিন্ন হওয়া তালাকের মাধ্যমেও হয় এবং তালাক ব্যতীত অন্যান্য উপায়েও হয়, যেমন: খুলা।
* * *
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الفصل الخامستعريف الطلاق عند الحنابلةللطلاق عند الحنابلة عدة تعاريف منها
(1):
التعريف الأول: حل قيد النكاح أو بعضه بوقوع ما يملكه من عدد الطلقات أو بعضها:شرح التعريف: (حل قيد) رفع حكمه (النكاح) البائن (أو بعضه) الرجعي (عدد الطلقات) يخرج حل عقد النكاح بغير الطلاق.
نقد التعريف: قوله: (بوقوع ما يملكه) هذا من الشرط والشروط لا مدخل لها في التعريف. وقوله (من عدد الطلقات أو بعضها) يغني عنه أول التعريف.
التعريف الثاني: حل قيد النكاح:شرح التعريف: تقدم.
نقد التعريف: غير جامع فلا يدخل فيه الطلاق الرجعي وليس مانعًا فتدخل فيه الفرقة بغير الطلاق كالفسوخ.
التعريف الثالث: تحريم بعد تحليل:شرح التعريف: (تحريم) الزوجة بعد حلها.
نقد التعريف: غير جامع فالطلاق فيه تحريم وإسقاط حقوق وغير مانع فتدخل فيه الفرقة بغير الطلاق كالفسخ واللعان والخلع والتحريم العارض كالإحرام.
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদহাম্বলী মাযহাবে তালাকের সংজ্ঞাহাম্বলী ফকীহগণের নিকট তালাকের বেশ কিছু সংজ্ঞা রয়েছে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো
(১):
প্রথম সংজ্ঞা: বিবাহের বন্ধন পূর্ণাঙ্গভাবে বা আংশিকভাবে ছিন্ন করা, যা তার মালিকানাধীন তালাকের সংখ্যা বা তার একাংশের প্রয়োগের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়:সংজ্ঞার ব্যাখ্যা: (বন্ধন ছিন্ন করা) এর বিধান তুলে নেওয়া; (বিবাহ) যা 'বাইন' বা চূড়ান্ত বিচ্ছেদের মাধ্যমে হয়; (অথবা আংশিক) যা 'রাজয়ি' বা প্রত্যাহারযোগ্য তালাকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; (তালাকের সংখ্যা) এর মাধ্যমে তালাক ব্যতীত অন্য উপায়ে বিবাহ চুক্তি অবসানকে সংজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।
সংজ্ঞার সমালোচনা: তাঁর উক্তি: (যা সে মালিকানা রাখে তার প্রয়োগের মাধ্যমে) এটি একটি শর্ত, আর শর্তাবলি সংজ্ঞার মূল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হয় না। আর তাঁর উক্তি (তালাকের সংখ্যা বা তার একাংশ থেকে) এর প্রয়োজনীয়তা সংজ্ঞার প্রথমাংশ দ্বারাই পূর্ণ হয়ে যায়।
দ্বিতীয় সংজ্ঞা: বিবাহের বন্ধন ছিন্ন করা:সংজ্ঞার ব্যাখ্যা: ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
সংজ্ঞার সমালোচনা: এটি 'জামে' (ব্যাপক) নয়, ফলে এতে রাজয়ি তালাক অন্তর্ভুক্ত হয় না; এবং এটি 'মানে' (বারণকারী) নয়, ফলে এতে তালাক ব্যতীত অন্যান্য বিচ্ছেদ যেমন 'ফাসখ' (বিবাহ রদ) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
তৃতীয় সংজ্ঞা: হালাল বা বৈধ হওয়ার পর পুনরায় হারাম বা নিষিদ্ধ হওয়া:সংজ্ঞার ব্যাখ্যা: (হারাম হওয়া) স্ত্রীকে বৈধ করার পর পুনরায় তাকে নিষিদ্ধ করা।
সংজ্ঞার সমালোচনা: এটি 'জামে' নয়, কারণ তালাকের মধ্যে নিষিদ্ধ হওয়া ছাড়াও অধিকার রহিত হওয়ার বিষয় রয়েছে। এবং এটি 'মানে'ও নয়, ফলে তালাক ব্যতীত অন্যান্য বিচ্ছেদ যেমন—ফাসখ, লিআন, খুলা এবং ইহরামের মতো সাময়িক নিষেধাজ্ঞাও এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الفصل السادسالتعريف المختار للطلاقمن خلال ما تقدم يمكن أن يعرف الطلاق بأحد التعريفات الآتية:
الأول: رفع عقد النكاح بشيء مخصوص حالًا أو مآلًا من غير عوض:
شرح التعريف: (رفع عقد) إزالته بعد وقوعه فيخرج الطلاق قبل النكاح (النكاح) تخرج بقية العقود (بشيء) يدخل فيه الطلاق باللفظ والكتابة والإشارة (مخصوص) من صريح الطلاق وكنايته (حالًا) للطلاق البائن (مآلًا) للطلاق الرجعي بعد انقضاء العدة من غير مراجعة وتخرج الفسوخ فهي حالة (من غير عوض) يخرج الخلع - على القول الصحيح أنَّه فسخ وليس بطلاق - و كذلك بقية الفسوخ التي من غير عوض.
التعريف الثاني: حل عقد النكاح أو بعضه بشيء مخصوص من غير عوض.
التعريف الثالث: حل العصمة المنعقدة بين الأزواج حالًا أو مآلًا بأشياء مخصوصة من غير عوض.
* * *
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদতালাকের মনোনীত সংজ্ঞাপূর্বালোচনার প্রেক্ষিতে তালাককে নিম্নোক্ত সংজ্ঞাসমূহের যেকোনো একটির মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে:
প্রথম: বিনিময় ব্যতীত নির্দিষ্ট কিছুর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বা পরিণামে বিবাহের চুক্তি রহিত করা।
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা: (চুক্তি রহিত করা) তা সংঘটিত হওয়ার পর তা বাতিল করা। ফলে বিবাহের পূর্বের তালাক এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। (বিবাহ) অন্যান্য সকল চুক্তি এর বহির্ভূত হবে। (কিছুর মাধ্যমে) এর অন্তর্ভুক্ত হলো শব্দ, লিখন এবং ইশারার মাধ্যমে তালাক। (নির্দিষ্ট) তালাকের স্পষ্ট এবং রূপক শব্দাবলী। (তাৎক্ষণিক) বাঈন তালাকের ক্ষেত্রে। (পরিণামে) ইদ্দত শেষ হওয়ার পর রাজয়ী তালাকের ক্ষেত্রে, যদি ফিরিয়ে নেওয়া না হয়। আর বিবাহ বিচ্ছেদগুলো (ফাসখ) এর বহির্ভূত হবে, কারণ সেগুলো তাৎক্ষণিক। (বিনিময় ব্যতীত) এর মাধ্যমে ‘খুলা’ বহির্ভূত হবে—সঠিক মতানুসারে এটি একটি ফাসখ (চুক্তি রদ), তালাক নয়—তেমনিভাবে বিনিময়হীন অন্যান্য বিবাহ বিচ্ছেদগুলোও এর বহির্ভূত হবে।
দ্বিতীয় সংজ্ঞা: বিনিময় ব্যতীত নির্দিষ্ট কিছুর মাধ্যমে বিবাহের চুক্তি অথবা এর অংশবিশেষের অবসান ঘটানো।
তৃতীয় সংজ্ঞা: বিনিময় ব্যতীত নির্দিষ্ট বিষয়াবলীর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বা পরিণামে দম্পতিদের মধ্যে সম্পাদিত বৈবাহিক বন্ধন ছিন্ন করা।
* * *
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الباب الثانيفرقة الزوج زوجته
দ্বিতীয় অধ্যায়স্বামী কর্তৃক তার স্ত্রীর বিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ৩১)
تمهيدالطلاق يتعلق به أمران:
الأول: حكم الطلاق وهذا من خطاب التكليف.
الثاني: وقوع الطلاق وعدم وقوعه وهذا من خطاب الوضع.
تعريف خطاب التكليف: مقتضى خطاب الشرع
(1).
تعريف خطاب الوضع: جعل الشيء سببًا أو شرطًا أو مانعًا
(2).
اجتماع خطابي التكليف والوضع في الطلاق:قال القرافي: قد يجتمع خطاب الوضع وخطاب التكليف
… مثال اجتماعهما في شيء واحد فالزانا والسرقة والعقود، فإنَّها أسباب تعلق بها التحريم أو الوجوب أو الإباحة في العقود، وهي أسباب العقوبات وانتقال الأملاك، وكذلك الوضوء والستارة شرطان فهما خطاب وضع، وواجبان فهما خطاب تكليف، والزواج واجب أو مندوب أو مباح، وهو سبب الإباحة، والطلاق كذلك وهو سبب تحريم
… فاجتمع الأمران
(3).
وقال الزركشي: الطلاق مما اجتمع فيه الخطابان، لأنَّه إمَّا مباح أو مكروه، وهو منصوب سببًا للتحريم، فيكون من خطاب الوضع
(4).
--------------------------------------------
ভূমিকাতালাকের সাথে দুটি বিষয় সংশ্লিষ্ট:
প্রথম: তালাকের বিধান, আর এটি খিতাবে তকলীফের অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয়: তালাক কার্যকর হওয়া বা না হওয়া, আর এটি খিতাবে ওয়াদইয়ের অন্তর্ভুক্ত।
খিতাবে তকলীফের সংজ্ঞা: শরীয়তের সম্বোধনের দাবি।
(১)খিতাবে ওয়াদইয়ের সংজ্ঞা: কোনো কিছুকে কারণ, শর্ত অথবা প্রতিবন্ধক সাব্যস্ত করা।
(২)
তালাকের ক্ষেত্রে খিতাবে তকলীফ এবং খিতাবে ওয়াদইয়ের সংমিশ্রণ:কারাফী বলেন: খিতাবে ওয়াদই এবং খিতাবে তকলীফ কখনো কখনো একত্রিত হয়... কোনো একটি বিষয়ে এই দুটির একত্রিত হওয়ার উদাহরণ হলো ব্যভিচার, চুরি এবং বিভিন্ন চুক্তি; কেননা এগুলো এমন সব কারণ যার সাথে হারাম হওয়া, ওয়াজিব হওয়া অথবা চুক্তির ক্ষেত্রে মুবাহ হওয়া সংশ্লিষ্ট। আর এগুলো শাস্তির কারণ এবং মালিকানা হস্তান্তরের মাধ্যম। অনুরূপভাবে অজু এবং সতর ঢাকা দুটি শর্ত, ফলে এগুলো খিতাবে ওয়াদই; আবার এগুলো ওয়াজিব, তাই এগুলো খিতাবে তকলীফ। আর বিবাহ ওয়াজিব, মানদুব অথবা মুবাহ; আর এটি (হালাল হওয়ার) কারণ। তালাকও অনুরূপ, এটি হারাম হওয়ার কারণ... সুতরাং এখানে উভয় বিষয় একত্রিত হয়েছে।
(৩)যারকাশী বলেন: তালাক এমন একটি বিষয় যাতে উভয় প্রকার সম্বোধন একত্রিত হয়েছে। কেননা এটি হয় মুবাহ অথবা মাকরূহ; আবার এটি হারাম হওয়ার কারণ হিসেবে নির্ধারিত, ফলে এটি খিতাবে ওয়াদইয়ের অন্তর্ভুক্ত।
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ৩২)
والفرقة بين الزوجين بطلاق أو غيره تجري فيها الأحكام التكليفية الخمسة فتكون مباحة ومكروهة ومحرمة ومستحبة وواجبة وما يترتب على الفرقة كوجوب النفقة أو عدمها والتوارث أو عدمه من خطاب الوضع.
وفي هذا الباب الكلام على بعض أحكام فرقة الزوج زوجته:
• الطلاق المباح.
• الطلاق المحرم.
• الطلاق الواجب.
• الطلاق المندوب.
• الطلاق المكروه.
ووضع المسائل تحت أحد أنواع الطلاق على حسب ما أدى إليه اجتهادي في هذه المسائل وإلا الخلاف في أكثر المسائل الآتية مشهور.
* * *
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তালাক বা অন্য কোনো উপায়ে বিচ্ছেদ ঘটার ক্ষেত্রে পাঁচটি বিধান কার্যকর হয়। ফলে তা বৈধ, অপছন্দনীয়, নিষিদ্ধ, মুস্তাহাব এবং ওয়াজিব হতে পারে। বিচ্ছেদের ফলে যা কিছু অবধারিত হয়—যেমন ভরণপোষণ আবশ্যক হওয়া বা না হওয়া এবং উত্তরাধিকার সাব্যস্ত হওয়া বা না হওয়া—তা খিতাব আল-ওয়াদের (বিবৃতিমূলক বিধান) অন্তর্ভুক্ত।
এই পরিচ্ছেদে স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদের কিছু বিধান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে:
• বৈধ তালাক।
• নিষিদ্ধ তালাক।
• ওয়াজিব তালাক।
• মুস্তাহাব তালাক।
• অপছন্দনীয় তালাক।
তালাকের বিভিন্ন প্রকারের অধীনে এই মাসআলাগুলোর বিন্যাস আমার ব্যক্তিগত ইজতিহাদ অনুযায়ী করা হয়েছে; অন্যথায় পরবর্তী অধিকাংশ মাসআলাতেই আলিমদের মধ্যকার মতভেদ অত্যন্ত প্রসিদ্ধ।
* * *
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الفصل الأولالطلاق المباح• الطلاق للحاجة.
• طلاق المرأة قبل أن تستوفي قسمها.
الطلاق للحاجةالطلاق له حالان إذا طلق الرجل امرأته فلا يخلو الأمر من حالين أن يكون الطلاق لحاجة أو لغير حاجة ففي هذا الفصل الكلام على الطلاق للحاجة ويأتي الكلام على الطلاق لغير حاجة في الطلاق المحرم.
طلاق الرجل امرأته للحاجة مباح في الأصل ودل على إباحته الكتاب والسنة وأجمع أهل العلم على إباحة الطلاق للحاجة
(1) والنظر يقتضي جوازه فإذا ساءت الحال بين الزوجين فبقاء النكاح مفسدة على الزوج بلزوم النفقة ونحوها وبقاء المرأة مع سوء العشرة ضرر عليها فشرع الطلاق لدفع الضرر:
من الحاجة المبيحة للطلاق:
1 - عدم ميل الزوج إلى المرأة (2):
الدليل الأول: قوله - تعالى -: [وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদবৈধ তালাক• প্রয়োজনে তালাক প্রদান।
• স্ত্রীর নির্ধারিত পালা পূর্ণ হওয়ার পূর্বে তাকে তালাক প্রদান।
প্রয়োজনে তালাক প্রদানতালাকের দুটি অবস্থা রয়েছে; যখন কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দেয়, তখন বিষয়টি দুটি অবস্থার বাইরে নয়: হয় তালাকটি কোনো প্রয়োজনে হবে অথবা প্রয়োজন ছাড়া হবে। এই পরিচ্ছেদে প্রয়োজনে তালাক প্রদান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, আর প্রয়োজন ব্যতীত তালাক প্রদানের আলোচনা নিষিদ্ধ তালাকের অধ্যায়ে আসবে।
প্রয়োজনের খাতিরে কোনো ব্যক্তির তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়া মূলত বৈধ। এর বৈধতার প্রমাণ কুরআন, সুন্নাহ এবং আলেমগণের ঐকমত্য (ইজমা) দ্বারা সাব্যস্ত। আলেমগণ প্রয়োজনে তালাক দেওয়ার বৈধতার ব্যাপারে একমত হয়েছেন
(১) এবং যুক্তিও এর বৈধতাকে দাবি করে। কেননা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যখন পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তখন বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা স্বামীর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় ভরণপোষণ ও অন্যান্য দায়-দায়িত্ব পালনের আবশ্যকতা থাকার কারণে; তেমনি খারাপ আচরণের সাথে স্ত্রীর অবস্থান করাও তার জন্য ক্ষতিকর। তাই ক্ষতি দূর করার জন্য তালাককে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।
তালাক বৈধ হওয়ার মতো প্রয়োজনীয় কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে:
১ - স্ত্রীর প্রতি স্বামীর আসক্তি বা ঝোঁক না থাকা (২):
প্রথম দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: [আর তোমরা কখনোই স্ত্রীদের মধ্যে ইনসাফ করতে সক্ষম হবে না, যদিও তোমরা প্রবল আকাঙ্ক্ষা করো...]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
فَلَا تَمِيلُوا كُلَّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَالْمُعَلَّقَةِ وَإِنْ تُصْلِحُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا (129) وَإِنْ يَتَفَرَّقَا يُغْنِ اللَّهُ كُلًّا مِنْ سَعَتِهِ] (النساء: 129 - 130).
وجه الاستدلال: ذكر الله ميل الرجل لإحدى زوجتيه وأرشد إلى الإصلاح وذلك بالتنازل عن بعض الحقوق ووعد الزوجين إن افترقا بطلاق أو غيره أن يغني كل واحد منهما بزوج أو غيره فدل على إباحة الفرقة للحاجة.
الدليل الثاني: عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: جاءت امرأة ثابت بن قيس بن شماس رضي الله عنهما إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقالت: يا رسول الله مَا أَنْقِمُ عَلَى ثَابِتٍ فِي دِينٍ وَلَا خُلُقٍ إِلَّا أَنِّي أَخَافُ الْكُفْرَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَتَرُدِّينَ عَلَيْهِ حَدِيقَتَهُ؟ فَقَالَتْ نَعَمْ فَرَدَّتْ عَلَيْهِ وَأَمَرَهُ فَفَارَقَهَا»
(1).
وجه الاستدلال: أمر النبي صلى الله عليه وسلم ثابت بن قيس أن يفارق امرأته رضي الله عنهما لخشيتها عدم القيام بحقوقه وعدم الميل القلبي سبب في تقصير الزوج في حقوق زوجته الواجبة.
ولطلاق النبي صلى الله عليه وسلم حفصة رضي الله عنها لعدم ميله لها ويأتي
(2).
2 - كبر المرأة أو كونه لا يشتهيها ولا ترضى بإسقاط حقها: فعن عائشة رضي الله عنها في هذه الآية [وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْ بَعْلِهَا نُشُوزًا أَوْ إِعْرَاضًا] (النساء: 128)، قالت: الرَّجُلُ تَكُونُ عِنْدَهُ الْمَرْأَةُ لَيْسَ بِمُسْتَكْثِرٍ مِنْهَا يُرِيدُ أَنْ يُفَارِقَهَا فَتَقُولُ أَجْعَلُكَ مِنْ شَأْنِي فِي حِلٍّ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فِي ذَلِكَ»
(3).
--------------------------------------------
অতএব তোমরা একজনের দিকে পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না এবং অন্যজনকে ঝুলন্ত অবস্থায় রেখো না। আর যদি তোমরা সংশোধন করে নাও এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (১২৯) আর যদি তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাঁর প্রাচুর্য থেকে প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করে দেবেন। (আন-নিসা: ১২৯ - ১৩০)।
দলিলের ধরন: আল্লাহ কোনো এক স্ত্রীর দিকে পুরুষের ঝুঁকে পড়ার কথা উল্লেখ করেছেন এবং কিছু অধিকার ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছেন। আর তিনি স্বামী-স্ত্রীকে ওয়াদা করেছেন যে, যদি তারা তালাক বা অন্য কোনোভাবে পৃথক হয়ে যায়, তবে তিনি তাদের প্রত্যেককে নতুন জীবনসঙ্গী বা অন্য কিছুর মাধ্যমে অভাবমুক্ত করে দেবেন। এটি প্রয়োজনের তাগিদে বিচ্ছেদ বৈধ হওয়ার প্রমাণ বহন করে।
দ্বিতীয় দলিল: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ছাবিত বিন কাইস বিন শাম্মাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্ত্রী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি ছাবিতের দ্বীনদারী বা চরিত্রের ওপর কোনো দোষারোপ করছি না, কিন্তু আমি কুফরির (অকৃতজ্ঞতার) ভয় করছি। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: ‘তুমি কি তাকে তার বাগানটি ফিরিয়ে দেবে?’ তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ’। অতঃপর তিনি সেটি তাকে ফিরিয়ে দিলেন এবং তিনি (নবীজি) তাকে নির্দেশ দিলেন, ফলে তিনি তাকে পৃথক করে দিলেন।
(১).
দলিলের ধরন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছাবিত বিন কাইসকে তার স্ত্রীকে পৃথক করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন; কারণ স্ত্রী তাঁর অধিকার আদায়ে সক্ষম না হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন। আর হৃদয়ের টান না থাকা স্ত্রীর ওয়াজিব হক আদায়ে স্বামীর অবহেলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক হাফসা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে তালাক প্রদান করাও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল কারণ তাঁর প্রতি নবীজির মনের টান ছিল না, যা সামনে আলোচিত হবে।
(২).
২ - নারীর বার্ধক্য অথবা স্বামীর তাকে পছন্দ না হওয়া এবং তার (স্ত্রীর) নিজ অধিকার ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়া: আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে এই আয়াতের [আর যদি কোনো নারী তার স্বামীর পক্ষ থেকে দুর্ব্যবহার বা উপেক্ষার আশঙ্কা করে] (আন-নিসা: ১২৮) ব্যাখ্যায় বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: কোনো পুরুষের নিকট এমন এক নারী থাকে যাকে সে আর অধিককাল রাখতে চায় না বরং তাকে পৃথক করে দিতে চায়; তখন স্ত্রী বলে, ‘আমি আমার অধিকারের ব্যাপারে তোমাকে দায়মুক্ত করে দিচ্ছি’। তখন এই বিষয়ে এই আয়াতটি নাযিল হয়।
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুত তালাক (আত-তালাকুস সুন্নী ওয়াত-তালাকুল বিদয়ী)
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وإذا رضيت ببقائها من غير وطء ولا قسم فيكره طلاقها إذا كان لا يتضرر الزوج ببقائها
(1).
3 - إذا كانت المرأة مفرطة في حق زوجها: يباح طلاقها وإمساكها مستحب
(2).
الدليل الأول: قوله - تعالى -: [وَلَا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلَا السَّيِّئَةُ ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ] (فصلت: 34).
وجه الاستدلال: أفاد عموم الآية استحباب مقابلة تفريط الزوجة في حقوق زوجها بالإحسان والصبر لا بالطلاق.
الدليل الثاني: عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول صلى الله عليه وسلم: «لَا يَفْرَكْ مُؤْمِنٌ مُؤْمِنَةً إِنْ كَرِهَ مِنْهَا خُلُقًا رَضِيَ مِنْهَا آخَرَ»
(3).
وجه الاستدلال: يستحب إبقاؤها والنظر إلى الجوانب الحسنة فيها والتغاضي عن الجوانب السيئة.
الدليل الثالث: قال المرداوي: المباح يكون عند الحاجة إليه لسوء خلق المرأة أو لسوء عشرتها وكذا للتضرر منها من غير حصول الغرض بها فيباح الطلاق في هذه الحالة من غير خلاف أعلمه
(4).
* * *
--------------------------------------------
এবং যদি স্ত্রী সহবাস এবং পালার অধিকার ছাড়াই অবস্থান করতে সম্মত হয়, তবে তাকে তালাক দেওয়া অপছন্দনীয় (মাকরুহ), যদি তার অবস্থানে স্বামীর কোনো ক্ষতি না হয়
(১).
৩ - যদি স্ত্রী তার স্বামীর হকের ব্যাপারে অবহেলাকারী হয়: তাকে তালাক দেওয়া বৈধ (মুবাহ), তবে তাকে বিবাহ বন্ধনে রেখে দেওয়া মুস্তাহাব
(২).
প্রথম দলিল: আল্লাহ তাআলার বাণী: [সৎকাজ ও মন্দকাজ সমান হতে পারে না। আপনি মন্দকে প্রতিহত করুন উৎকৃষ্টতর পন্থায়] (ফুসসিলাত: ৩৪)।
দলিল গ্রহণের পদ্ধতি: আয়াতের ব্যাপকতা একথাই নির্দেশ করে যে, স্বামীর হকের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অবহেলাকে সদাচার ও ধৈর্যের মাধ্যমে মোকাবেলা করা মুস্তাহাব, তালাকের মাধ্যমে নয়।
দ্বিতীয় দলিল: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো মুমিন পুরুষ যেন কোনো মুমিন নারীকে (স্ত্রীকে) ঘৃণা না করে; যদি সে তার কোনো একটি স্বভাব অপছন্দ করে, তবে তার অন্য কোনো স্বভাবের কারণে সে সন্তুষ্ট হবে»
(৩).
দলিল গ্রহণের পদ্ধতি: তাকে বিবাহ বন্ধনে রেখে দেওয়া, তার ভালো দিকগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করা এবং মন্দ দিকগুলো এড়িয়ে যাওয়া মুস্তাহাব।
তৃতীয় দলিল: আল-মারদাভী বলেন: তালাক বৈধ (মুবাহ) হয় যখন স্ত্রীর দুশ্চরিত্র বা তার সাথে মন্দ আচরণের কারণে তালাকের প্রয়োজন দেখা দেয়; একইভাবে যখন স্ত্রীর মাধ্যমে উদ্দেশ্য হাসিল না হয়ে বরং স্বামী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমতাবস্থায় তালাক দেওয়া আমার জানা মতে কোনো মতভেদ ছাড়াই বৈধ
(৪).
* * *
--------------------------------------------