(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: -)
جزء المناديلي   (أبو القاسم المناديلي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: جزء المناديلي

[مطبوع ضمن «مصنفات طراد الزينبي، وأجزاء أخرى»]

المحقق: نبيل سعد الدين جرَّار

الناشر: أروقة للدراسات والنشر، الأردن - عمان

الطبعة: الأولى،1440 هـ - 2019 م

عدد الصفحات: 39

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 14 شعبان 1445

জুয আল-মুনাদিলি   (আবু আল-কাসিম আল-মুনাদিলি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: জুয আল-মুনাদিলি

[«তিরদ আল-যাইনাবির রচনাবলি, এবং অন্যান্য অংশ» এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত]

মুহাক্কিক (সম্পাদক): নাবিল সাদ আল-দিন জাররার

প্রকাশক: আরওয়িকাহ ফর স্টাডিজ অ্যান্ড পাবলিশিং, জর্ডান - আম্মান

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪০ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৪ শা'বান ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৪৯)
‌‌أبو القاسمِ المَناديليُّ وأجزاؤُهُ

إبراهيمُ بنُ محمدِ بنِ أحمدَ أبو القاسمِ البصريُّ المَناديليُّ المُقرئُ المُعدلُ.

سمعَ مِن أحمدَ بنِ يعقوبَ المُعدلِ سَنةَ سبعٍ وتسعينَ وثلاثِمئةٍ، ومِن القاضي أبي عمرَ الهاشميِّ، وعليِّ بنَ أحمدَ بنِ غسانَ الحافظِ، وطائفةٍ.

وعنه الغِطْريفُ بنُ عبدِ اللهِ، ومحمدُ بنُ أبي نصرٍ الأُشنانيُّ شيخُ السِّلَفيِّ، وغيرُ واحدٍ.

حدَّثَ سَنةَ سِتٍّ وسِتينَ بالبصرةِ، وَقعَ لنا مِن حَديثِه جُزآن(1).

هذا ما ذكَرَه الذَّهبيُّ في وَفيات (461 - 470 هـ) مِن «تاريخ الإسلام» (10/ 302)، وهو كُلُّ ما وَقفتُ عليه مِن تَرجمةٍ لأبي القاسمِ المَناديليِّ.

هذا وقَد يَسَّر اللهُ لي الوقوفَ على جُزأينِ مِن حَديثِه:

- الأولُ مِن روايةِ الغِطريفِ عنه.

- والثاني مِن روايةِ الأُشنانيِّ.

--------------------------------------------

(1) هذا ما وقع للإمام الذهبي من حديث المناديلي، ولا يمنع هذا أن يكون له غيرها، فقد قال السلفي في ترجمة شيخه أبي سعيد الرياحي من «معجم السفر» (1/ 13): أبو سعيد الرياحي هذا ثقة، وقد أخرج إلي أجزاء عن أبي الحسن بن نوح وأبي القاسم المناديلي وأبي محمد بن أبي الحسن، فانتخبت منها فوائد وقرأتها عليه .. .

আবু আল-কাসিম আল-মানাদিলি এবং তাঁর সংকলনসমূহ

ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আবু আল-কাসিম আল-বাসরি আল-মানাদিলি, যিনি আল-মুকরি (কুরআন পাঠ বিশেষজ্ঞ) এবং আল-মুয়াদদিল (ন্যায়নিষ্ঠ বর্ণনাকারী) হিসেবে পরিচিত।

তিনি ৩৯৭ হিজরি সনে আহমাদ ইবনে ইয়াকুব আল-মুয়াদদিল, কাযী আবু উমর আল-হাশেমি, হাফিজ আলী ইবনে আহমাদ ইবনে গাসসান এবং একদল মুহাদ্দিসের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।

তাঁর থেকে আল-গিতরিফ ইবনে আব্দুল্লাহ, আস-সিলাফির উস্তাদ মুহাম্মদ ইবনে আবু নাসর আল-উশনানি এবং আরও অনেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

তিনি ৪৬৬ হিজরি সনে বসরায় হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর হাদিস সংকলনের মধ্য থেকে দুইটি খণ্ড আমাদের হস্তগত হয়েছে।

ইমাম আয-যাহাবি তাঁর ‘তারিখুল ইসলাম’ (১০/৩০২) গ্রন্থের ৪৬১-৪৭০ হিজরির মৃত্যুসংবাদ অংশে এই তথ্যগুলো উল্লেখ করেছেন। আবু আল-কাসিম আল-মানাদিলির জীবনী সম্পর্কে আমি এটুকুই অবগত হতে পেরেছি।

আল্লাহর অনুগ্রহে আমি তাঁর বর্ণিত হাদিসের দুইটি খণ্ড দেখার সুযোগ লাভ করেছি:

- প্রথমটি তাঁর থেকে আল-গিতরিফের বর্ণনায়।

- এবং দ্বিতীয়টি আল-উশনানির বর্ণনায়।

--------------------------------------------

(১) এটিই ইমাম আয-যাহাবির নিকট আল-মানাদিলির হাদিস থেকে পৌঁছেছে; তবে এটি তাঁর অন্য কোনো সংকলন থাকার সম্ভাবনাকে নাকচ করে না। কেননা আস-সিলাফি তাঁর উস্তাদ আবু সাঈদ আর-রিয়াহির জীবনীতে ‘মু’জামুস সাফার’ (১/১৩) গ্রন্থে বলেছেন: এই আবু সাঈদ আর-রিয়াহি একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। তিনি আমার সামনে আবুল হাসান ইবনে নূহ, আবু আল-কাসিম আল-মানাদিলি এবং আবু মুহাম্মদ ইবনে আবুল হাসানের কিছু হাদিস সংকলন (জুয) উপস্থাপন করেছিলেন; আমি সেগুলো থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ নির্বাচন করেছিলাম এবং তাঁর নিকট পাঠ করেছিলাম...।

(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৫০)
*‌‌ جزءُ أبي القاسمِ المَناديليِّ روايةُ الغِطْريفِ عنه:

«جزءٌ مُخَرَّجٌ مِن أُصولِ الشيخِ أبي القاسمِ إبراهيمَ بنِ محمدٍ المَناديليِّ وفي آخِرِه حديثٌ طويلٌ في فضلِ الخُلفاءِ الأربعةِ الرَّاشِدينَ»

هذا ما جاءَ في ورقةِ العنوانِ [46] مِن مَجموعِ جامعةِ الإمامِ المُتقدِّمِ ذِكرُه (ص 226)، وينتهي القسمُ الأولُ مِن الجُزءِ في الورقةِ [55]، يَليه حديثُ جابرِ بنِ سُمرةَ المشارُ إليه، ويَنتهي في الوجهِ الأولِ مِن الورقةِ [58].

* وهذِه النُّسخةُ هي بخطِّ يوسفَ بنِ شاهينَ سِبطِ الحافظِ ابنِ حَجرٍ العَسقلانيِّ.

* بإجازتِه مِن أمِّ عبدِ اللهِ عائشةِ بنتِ إبراهيمَ بنِ خليلِ بنِ الشَّرائحيِّ(1).

* بروايتِها عن ابنِ الحَبَّالِ يوسفَ بنِ عبدِ اللهِ بنِ عليِّ بنِ حاتمٍ جمالِ الدِّينِ أبي المَحاسنِ البَعليِّ(2).

* عن عبدِ الخالقِ بنِ عبدِ السلامِ بنِ سعيدِ بنِ عُلوانَ، تاجِ الدِّينِ أبي محمدٍ البَعلبكيِّ القاضي الأديبِ(3).

* عن الإمامِ تقيِّ الدِّينِ أبي الحسنِ عليِّ بنِ أحمدَ بنِ إبراهيمَ بنِ أحمدَ بنِ واصلٍ البصريِّ(4).

--------------------------------------------

(1) سمعت الكثير بدمشق والقاهرة وبعلبك، وحدثت بالكثير وسمع منها الأئمة. توفيت سنة (842 هـ). «الضوء اللامع» (12/ 73).

(2) حدث وتفرد ورحل إليه. مات سنة (778 هـ). انظر «ذيل التقييد» (6/ 234)، و «الدرر الكامنة» (2/ 321).

(3) قال الذهبي: وهو من جلة شيوخي علماً وديناً وصلاحاً وعلو إسناد وتواضعاً وأدباً ومروءة. توفي سنة (696 هـ). «تاريخ الإسلام» (15/ 840).

(4) لم أجد له ترجمة، وفي ترجمة عبد الخالق ذكروا أنه يروي عن التقي أبي أحمد علي بن أحمد بن واصل البصري.

আবু আল-কাসিম আল-মানাদিলির জুয, তাঁর থেকে আল-গিতরিফের বর্ণনা:

«শাইখ আবু আল-কাসিম ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ আল-মানাদিলির মূল পাণ্ডুলিপি থেকে সংকলিত একটি জুয এবং এর শেষে চারজন খুলাফায়ে রাশিদীনের ফযীলত সম্পর্কে একটি দীর্ঘ হাদিস রয়েছে»

পূর্বে উল্লিখিত ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহের ৪৬ নম্বর শিরোনাম পাতায় (পৃষ্ঠা ২২৬) এটিই এসেছে। জুযের প্রথম অংশ ৫৫ নম্বর পাতায় শেষ হয়েছে, এরপর জাবির ইবনে সামুরার সেই নির্দেশিত হাদিসটি রয়েছে এবং সেটি ৫৮ নম্বর পাতার প্রথম পৃষ্ঠায় শেষ হয়েছে।

* এই কপিটি হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানির দৌহিত্র ইউসুফ ইবনে শাহীনের হস্তলিপি।

* এটি উম্মু আব্দুল্লাহ আয়েশা বিনতে ইবরাহিম ইবনে খলিল ইবনে আশ-শারাইহির পক্ষ থেকে তাঁর প্রাপ্ত ইজাযত অনুযায়ী(১)।

* যা তিনি বর্ণনা করেছেন জামালুদ্দিন আবু আল-মাহাসিন আল-বালি ইউসুফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আলি ইবনে হাতিম ইবনুল হাব্বাল থেকে(২)।

* তিনি বর্ণনা করেছেন বিচারক ও সাহিত্যিক তাজউদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল খালিক ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে সাঈদ ইবনে উলওয়ান আল-বালবাকি থেকে(৩)।

* তিনি বর্ণনা করেছেন ইমাম তাকিউদ্দীন আবুল হাসান আলি ইবনে আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আহমাদ ইবনে ওয়াসিল আল-বসরি থেকে(৪)।

--------------------------------------------

(১) তিনি দামেস্ক, কায়রো এবং বালবাকে অনেক হাদিস শুনেছেন এবং অনেক বর্ণনা করেছেন। বড় বড় ইমামগণ তাঁর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি ৮৪২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। «আদ-দাও আল-লামি» (১২/৭৩)।

(২) তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন, এক্ষেত্রে তিনি একক ছিলেন এবং তাঁর কাছে (হাদিসের জন্য) ভ্রমণ করা হতো। তিনি ৭৭৮ হিজরিতে মারা যান। দেখুন: «যাইলুত তাকয়িদ» (৬/২৩৪) এবং «আদ-দুরা আল-কামিনাহ» (২/৩২১)।

(৩) ইমাম আয-যাহাবি বলেছেন: জ্ঞান, ধর্মপরায়ণতা, সততা, সুউচ্চ ইসনাদ, বিনয়, শিষ্টাচার এবং ব্যক্তিত্বের দিক থেকে তিনি আমার শ্রেষ্ঠ শাইখদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ৬৯৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। «তারিখুল ইসলাম» (১৫/৮৪০)।

(৪) আমি তাঁর কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি, তবে আব্দুল খালিকের জীবনীতে তারা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাকি আবু আহমাদ আলি ইবনে আহমাদ ইবনে ওয়াসিল আল-বসরি থেকে বর্ণনা করেছেন।

(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৫১)
* عن المباركِ بنِ محمدِ بنِ المباركِ أبي جعفرٍ الكَتانيِّ البصريِّ الشافعيِّ(1).

* عن الغِطْريفِ بنِ عبدِ اللهِ بنِ الحسينِ أبي جعفرٍ السَّعيدانيِّ(2).

* عن المَناديليِّ.

* وعلى النُّسخةِ سَماعانِ بخطِّ وقراءةِ أحمدَ بنِ محمدٍ المُظَفريِّ(3).

الأولُ في ورقةِ العنوانِ على أبي المَحاسنِ الكِرْمانيِّ(4)، بروايتِه للجُزءِ مِن طريقِ كُلٍّ مِن: الجَمالِ الشَّرائحيِّ(5)، وأُختَيه عائشةَ وأي مَلك(6)، وأبي حامدِ بنِ ظَهيرةَ(7)، وعليِّ بنِ إسماعيلَ بن بَرْدِس(8)، خَمستُهم عن ابنِ الحَبَّالِ.

--------------------------------------------

(1) ترجمه الذهبي في وفيات (572 هـ) من «تاريخ الإسلام» (12/ 517).

(2) لم أجد له ترجمة، وإنما له ذكر في ترجمة المبارك وترجمة المناديلي.

(3) وُلد سنة (879 هـ) وله همة ورغبة في الاشتغال. قاله السخاوي في «الضوء اللامع» (7/ 76).

(4) يوسف بن يحيى بن محمد القاهري الشافعي. له ترجمة في «الضوء اللامع» (10/ 337).

(5) عبد الله بن ابراهيم بن خليل أبو محمد الدمشقي، محدث الشام. توفي سنة (820 هـ). انظر «الضوء اللامع» (5/ 3).

(6) حدثت مع أخيها وبمفردها، سمع منها الفضلاء. توفيت سنة (815 هـ). انظر «الضوء اللامع» (12/ 11).

(7) محمد بن عبد الله بن ظهيرة المكي الشافعي قاضي مكة ومفتيها. توفي سنة (817 هـ). انظر «ذيل التقييد» (1/ 137).

(8) كنَرْجِس: علي بن إسماعيل بن محمد بن بردس الحنبلي. توفي سنة (846 هـ). انظر «الضوء اللامع» (5/ 194).

* আল-মুবারক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-মুবারক আবু জাফর আল-কাতানি আল-বাসরি আশ-শাফিয়ি থেকে বর্ণিত(১)।

* আল-গিতরিফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হুসাইন আবু জাফর আস-সাইদানি থেকে বর্ণিত(২)।

* আল-মানাদিলি থেকে বর্ণিত।

* এবং পাণ্ডুলিপিটিতে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুজাফফারির হস্তাক্ষরে ও তাঁর পাঠে দুটি শ্রবণলিপি (সামা) লিপিবদ্ধ আছে(৩)।

প্রথমটি প্রচ্ছদ পৃষ্ঠায় আবু আল-মাহাসিন আল-কিরমানির(৪) সামনে পাঠ করা হয়েছে, উক্ত খণ্ডটি তিনি যাদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন তারা হলেন: আল-জামাল আশ-শারাইহি(৫), তাঁর দুই বোন আয়েশা ও আই মালিক(৬), আবু হামিদ ইবনে জাহিরা(৭) এবং আলি ইবনে ইসমাইল ইবনে বারদিস(৮); তাঁরা পাঁচজনই ইবনুল হাব্বাল থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আয-যাহাবি ‘তারিখুল ইসলাম’ (১২/৫১৭) গ্রন্থের (৫৭২ হিজরি) মৃত্যুসংবাদের অধ্যায়ে তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন।

(২) আমি তাঁর কোনো পৃথক জীবনী খুঁজে পাইনি, তবে আল-মুবারক এবং আল-মানাদিলির জীবনীতে তাঁর উল্লেখ পাওয়া যায়।

(৩) তিনি ৮৭৯ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইলমি চর্চায় তাঁর প্রবল আগ্রহ ও ঐকান্তিক ইচ্ছা ছিল। আস-সাখাভি ‘আদ-দাও আল-লামি’ (৭/৭৬) গ্রন্থে এ কথা বলেছেন।

(৪) ইউসুফ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ আল-কাহিরি আশ-শাফিয়ি। ‘আদ-দাও আল-লামি’ (১০/৩৩৭) গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে।

(৫) আব্দুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম ইবনে খলিল আবু মুহাম্মদ আদ-দিমাশকি, শামের মুহাদ্দিস। তিনি ৮২০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: ‘আদ-দাও আল-লামি’ (৫/৩)।

(৬) তিনি তাঁর ভাইয়ের সাথে এবং একাকীও বর্ণনা করেছেন, গুণী ব্যক্তিবর্গ তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি ৮১৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: ‘আদ-দাও আল-লামি’ (১২/১১)।

(৭) মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাহিরা আল-মাক্কি আশ-শাফিয়ি, মক্কার কাজি ও মুফতি। তিনি ৮১৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: ‘যাইল আত-তাকয়িদ’ (১/১৩৭)।

(৮) ‘নারজিস’-এর ওজনে (উচ্চারণ): আলি ইবনে ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বারদিস আল-হাম্বলি। তিনি ৮৪৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: ‘আদ-দাও আল-লামি’ (৫/১৯৪)।

(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৫২)
والسماعُ الثاني في جانبِ الوَرقةِ الأخيرةِ مِن الجُزءِ على الجَمالِ القَلْقَشنديِّ، بروايتِه عن الجَمالِ الشَّرائحيِّ وأُختِه عائشةَ سَنةَ (912 هـ).

* وهَذا الجُزءُ لعلَّه أشهرُ أجزاءِ المَناديليِّ والمَقصود عندَ الإطلاقِ: «جزء أبي القاسم المناديلي»، فقَد تفرَّدَ بأحاديثَ عُرفَت به، تأتي (10) (18) (41)، ووَرَدَ ذِكرُه في بعضِ كُتبِ التَّراجمِ مِن طريقِ ابنِ الحَبَّالِ وابنِ واصلٍ:

* ذكَرَه البرزاليُّ في «المقتفي» (2/ 332): جزءاً مِن حَديثِ أبي القاسمِ إبراهيمَ بنِ محمدٍ المَناديليِّ.

* والفاسيُّ في «ذيل التقييد» (2/ 322): جزء أبي القاسمِ المَناديليَّ.

* والحافظُ ابنُ حجرٍ في «إنباء الغمر» (2/ 443): جزء المَناديليِّ.

* والسَّخاويُّ في «الضوء اللامع» في تَرجمةِ محمدِ بنِ عبدِ الرحمنِ بنِ يوسفَ بن سَحْلولٍ (8/ 46): جزء المَناديليِّ.

وفي تَرجمةِ أي مَلَك بنتِ الشَّرائحيِّ (12/ 11): جزء المَناديليِّ مع ما بآخِرِه.

وفي تَرجمةِ عائشةَ بنتِ الشَّرائحيِّ (12/ 73): جزء المَناديليِّ وما بآخِرِه.

* وابنُ طُولونَ في «الفهرست الأوسط» (4/ 306): جزء مِن حديثِ أبي القاسمِ إبراهيمَ بنِ محمدٍ المَناديليِّ مع ما في آخِرِه مِن حديثِ جابرِ بنِ سَمرةَ(1).

--------------------------------------------

(1) ثم ذكر إسناده إلى عائشة بنت الشرائحي راوية هذه النسخة بإسنادها إلى الغطريف، ثم ذكر إسناداً آخر من طريقين عن السلفي: أخبرنا أبو الصدق أبو بكر بن محمد الإسناني، قالا [قلتُ: يعني الغطريف وأبو بكر هذا]: أخبرنا أبو القاسم إبراهيم بن محمد المناديلي به فذكره.

كذا وقع فيه، ومقتضى هذا أن يكون هذا الجزء مروياً من هذين الطريقين عن المناديلي، وأخشى أن يكون الجزء المروي من طريق السلفي هو الجزء التالي، وهو أحد الأجزاء الواقعة ضمن «السفينة الجرائدية الكبرى» المروية من طريق محمد بن يعقوب الجرائدي، عن سبط السلفي، عنه، وهو أحد إسنادي ابن طولون إلى السلفي. والله أعلم.

ثم يُنظر فيما وقع في المطبوع «أبو الصدق أبو بكر بن محمد الإسناني» هل فيه تصحيف، فقد تقدم في الرواة عن المناديلي: «ومحمد بن أبي نصر الأشناني شيخ السلفي». والله أعلم.

দ্বিতীয় শ্রবণলিপিটি পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার এক পার্শ্বে জামাল আল-কালকাশান্দির নিকট সম্পন্ন হয়েছে, যা তিনি জামাল আশ-শারায়িহি এবং তাঁর বোন আয়েশার সূত্রে ৯১২ হিজরি সনে বর্ণনা করেছেন।

* আর এই জুজ (পুস্তিকা) সম্ভবত আল-মানাদিলির সংকলনসমূহের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ এবং সাধারণভাবে 'আবু আল-কাসিম আল-মানাদিলির জুজ' বলতে এটিকেই বোঝানো হয়। এতে এমন কিছু একক হাদিস রয়েছে যা তাঁর মাধ্যমেই পরিচিতি লাভ করেছে, যা (১০), (১৮) ও (৪১) নম্বর ক্রমে সামনে আসবে। বিভিন্ন জীবনীগ্রন্থসমূহে ইবনুল হাব্বাল ও ইবনু ওয়াসিলের সূত্রে এর উল্লেখ পাওয়া যায়:

* আল-বারজালি তাঁর 'আল-মুকতাফি' (২/৩৩২) গ্রন্থে একে 'আবু আল-কাসিম ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ আল-মানাদিলির হাদিসের একটি অংশ' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

* আল-ফাসি তাঁর 'যাইলুত তাকিয়িদ' (২/৩২২) গ্রন্থে একে 'আবু আল-কাসিম আল-মানাদিলির জুজ' বলেছেন।

* হাফেজ ইবনু হাজার 'ইনবাউল গুমর' (২/৪৪৩) গ্রন্থে একে 'মানাদিলির জুজ' হিসেবে অভিহিত করেছেন।

* আস-সাখাভি 'আদ-দউউল লামি' গ্রন্থে মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন ইউসুফ বিন সাহলুলের জীবনীতে (৮/৪৬) একে 'মানাদিলির জুজ' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আই মালাক বিনতে আশ-শারায়িহির জীবনীতে (১২/১১) একে 'মানাদিলির জুজ ও এর শেষাংশ' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এবং আয়েশা বিনতে আশ-শারায়িহির জীবনীতে (১২/৭৩) 'মানাদিলির জুজ ও এর শেষাংশ' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

* ইবনু তুলুন তাঁর 'আল-ফিহরিসতুল আওসাত' (৪/৩০৬) গ্রন্থে একে 'আবু আল-কাসিম ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ আল-মানাদিলির হাদিসের অংশ এবং এর শেষে থাকা জাবির বিন সামুরার হাদিস' হিসেবে উল্লেখ করেছেন(১)।

--------------------------------------------

(১) অতঃপর তিনি এই পাণ্ডুলিপির বর্ণনাকারী আয়েশা বিনতে আশ-শারায়িহির সূত্রে আল-গুতরিফ পর্যন্ত তাঁর সনদ উল্লেখ করেন। এরপর আস-সিলাফির সূত্রে দুটি ধারায় অপর একটি সনদ উল্লেখ করেন: আবু আস-সিদক আবু বকর বিন মুহাম্মাদ আল-িসনানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন [আমি বলছি: অর্থাৎ আল-গুতরিফ এবং এই আবু বকর]: আবু আল-কাসিম ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ আল-মানাদিলি আমাদের এটি জানিয়েছেন—অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন।

গ্রন্থে বিষয়টি এভাবেই এসেছে, আর এর দাবি হলো এই জুজটি আল-মানাদিলির নিকট থেকে এই দুটি ধারায় বর্ণিত। তবে আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে, আস-সিলাফির সূত্রে বর্ণিত জুজটি সম্ভবত পরবর্তী জুজটি হবে, যা মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আল-জারায়িদি—আস-সিলাফির নাতি—তাঁর সূত্রে বর্ণিত 'আস-সাফিনা আল-জারায়িদিয়্যাহ আল-কুবরা'-এর অন্তর্ভুক্ত অংশগুলোর একটি। আর এটি আস-সিলাফি পর্যন্ত ইবনু তুলুনের দুটি সনদের একটি। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

অতঃপর মুদ্রিত কপিতে বর্ণিত 'আবু আস-সিদক আবু বকর বিন মুহাম্মাদ আল-িসনানি' নামটির ব্যাপারে লক্ষ্য করা প্রয়োজন যে এতে কোনো করণিক ভুল (তাসহিফ) হয়েছে কি না; কারণ আল-মানাদিলির বর্ণনাকারীদের মধ্যে ইতিপূর্বে 'মুহাম্মাদ বিন আবি নাসর আল-উশনানি, যিনি আস-সিলাফির উস্তাদ'—এর নাম অতিক্রান্ত হয়েছে। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৫৩)
*‌‌ الجُزءُ الثاني:

«مِن أحاديثِ أبي القاسمِ إبراهيمَ بنِ محمدٍ المَناديليِّ»

هَذا ما جاءَ بعدَ البسملةِ في بدايةِ الجُزءِ المَسطورِ في الأوراقِ [104 - 106] مِن المجموعِ (1148) مِن مجاميعِ الظاهريةِ(1).

وهو جُزءٌ صغيرٌ يقعُ ضِمنَ أجزاءٍ أُخرى صغيرةٍ بخطِّ ناسخٍ واحدٍ، كُلُّها مِن روايةِ السِّلَفيِّ عن شُيوخِهِ.

والناظرُ في أسماءِ هذِه الأجزاءِ يَستحضرُ «السفينة الجرائدية الكبرى»، ذكَرَها الحافظُ ابنُ حجرٍ في «المعجم المفهرس» (1064)، و «المجمع المؤسس» (1/ 290 - 291)، وقالَ في الموضعِ الأولِ: «السفينة الجرائدية الكبرى»، وهي سبعةُ أجزاءٍ حَديثيةٍ مِن روايةِ السِّلَفيِّ عن شُيوخِهِ، أخبرنا بها أبو العباسِ أحمدُ بنُ أبي بكرِ بنِ العزِّ إجازةً مُكاتَبةً: أنبأنا محمدُ بنُ

--------------------------------------------

(1) وفي السماع في آخر الجزء: بلغ السماع لما فيه من حديث أبي القاسم المناديلي. . . . .

‌ দ্বিতীয় খণ্ড:

«আবু আল-কাসিম ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আল-মানাদিলির হাদিসসমূহ থেকে»

জাহিরিয়া পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের (১১৪৮) নং সংকলনের [১০৪ - ১০৬] পাতায় লিখিত খণ্ডটির শুরুতে বিসমিল্লাহর পর যা এসেছে তা নিম্নরূপ(১)।

এটি একটি ছোট অংশ যা একই লিপিকারের হাতের লেখায় অন্য আরও কিছু ছোট অংশের অন্তর্ভুক্ত, যার সবগুলোই আল-সিলাফি তাঁর শিক্ষকদের কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন।

এই অংশগুলোর নামের দিকে তাকালে «আস-সাফিনা আল-জারাঈদিইয়াহ আল-কুবরা»-র কথা স্মরণে আসে; হাফেজ ইবনে হাজার এটি «আল-মু'জাম আল-মুফাহরাস» (১০৬৪) এবং «আল-মুজাম আল-মুয়াসসিস» (১/ ২৯০-২৯১)-এ উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রথম স্থানে বলেছেন: «আস-সাফিনা আল-জারাঈদিইয়াহ আল-কুবরা», যা হাদিসের সাতটি খণ্ড নিয়ে গঠিত এবং এটি আল-সিলাফি তাঁর শিক্ষকদের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। আমাদের কাছে এই সংবাদ পৌঁছে দিয়েছেন আবুল আব্বাস আহমদ বিন আবু বকর বিন আল-ইজ্জ ইজাজাহ ও লিখিত পত্রের মাধ্যমে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন...

--------------------------------------------

(১) এবং খণ্ডের শেষে শ্রবণের নোটে (সামা) রয়েছে: আবু আল-কাসিম আল-মানাদিলির হাদিস যা এখানে রয়েছে তার শ্রবণ সম্পন্ন হয়েছে। . . . .

(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৫৪)
يعقوبَ الجَرائديُّ سماعاً: أنبأنا أبو القاسمِ عبدُ الرحمنِ بنُ مكيٍّ سِبطُ السِّلَفيِّ: أنبأنا السِّلَفيُّ .. ..

ثم ذَكرَ شُيوخَ السِّلَفيِّ في هذِه الأجزاءِ السَّبعةِ، وسِتةٌ مِنها ضِمنَ هذه الأجزاءِ على اختلافِ التَّرتيبِ، جُزؤُنا هذا هو الثالثُ مِن هذه السَّفينةِ، قالَ الحافظُ: «قالَ(1): وأخبرنا محمدُ بنُ نصرٍ(2): أنبأنا أبو القاسمِ إبراهيمُ بنُ محمدٍ المَناديليُّ بالثالثِ».

وهو إسنادُ هذِه النُّسخةِ، فهي مِن روايةِ السِّلَفيِّ، عن أبي بكرٍ محمدِ بنِ أبي نصرٍ الأُشنانيِّ(3)، عن المَناديليِّ.

وفي آخِرِها سماعٌ على السِّلَفيِّ بخطِّ كاتبِ الجُزءِ عبدِ الرحمنِ بنِ مروانَ الطبيبِ سَنةَ (574 هـ).

--------------------------------------------

(1) يعني السلفي.

(2) كذا في المطبوع، وهو: محمد بن أبي نصر.

(3) لم أجد له ترجمة، وتقدم ذكر الذهبي له في الرواة عن المناديلي. والله أعلم.

ইয়াকুব আল-জারায়িদি শ্রবণের মাধ্যমে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আবদুর রহমান ইবনে মাক্কি, যিনি আস-সিলাফির দৌহিত্র: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আস-সিলাফি...

এরপর তিনি এই সাতটি খণ্ডের মধ্যে আস-সিলাফির উস্তাদদের কথা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে ছয়টি খণ্ড এই অংশগুলোর অন্তর্ভুক্ত, তবে এগুলোর বিন্যাস ভিন্ন। আমাদের এই অংশটি এই সংকলনের (সাফিনা) তৃতীয় খণ্ড। হাফিজ বলেছেন: «তিনি (সিলাফি) বলেছেন(১): আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে নাসর(২): আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-মানাদিলি তৃতীয় খণ্ডের মাধ্যমে»।

আর এটিই এই পাণ্ডুলিপির সনদ, যা আস-সিলাফির বর্ণনা থেকে, তিনি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবি নাসর আল-উশনানি(৩) থেকে এবং তিনি আল-মানাদিলি থেকে বর্ণনা করেছেন।

এর শেষভাগে আস-সিলাফির নিকট শ্রবণের একটি নোট রয়েছে যা এই খণ্ডের লেখক আবদুর রহমান ইবনে মারওয়ান আত-তাবিবের হস্তাক্ষরে (৫৭৪ হিজরি) সনে লিখিত।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ আস-সিলাফি।

(২) মুদ্রিত কপিতে এমনই আছে, আর তিনি হলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবি নাসর।

(৩) আমি তাঁর কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি, তবে আল-মানাদিলি থেকে বর্ণনাকারীদের তালিকায় আয-যাহাবি ইতিপূর্বে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৫৫)
جزءٌ مُخَرَّجٌ مِن أُصولِ الشيخِ

أبي القاسمِ إبراهيمَ بنِ محمدٍ المَناديليِّ

وفي آخِرِه حديثٌ طويلٌ في فضلِ الخُلفاءِ الأربعةِ الرَّاشِدينَ

روايةُ أبي جعفرٍ الغِطْريفِ بنِ عَبدِ اللهِ بنِ الحسينِ السعيدانيَّ عنه

روايةُ الإمامِ أبي جعفرٍ المباركِ بنِ محمدِ بنِ المباركِ عنه

روايةُ الإمامِ تقيِّ الدِّينِ عليِّ بنِ أحمدَ بنِ واصلٍ

البصريِّ عنه

روايةُ القاضي تاجِ الدِّينِ عبدِ الخالقِ بنِ عبدِ السلام

بنِ سعيدِ بنِ عُلوانَ عنه

روايةُ المُعمَّرِ أبي المَحاسنِ يوسفَ بنِ عبدِ اللهِ بنِ عليِّ

بنِ الحَبَّالِ عنه

روايةُ أمِّ عبدِ اللهِ عائشةَ بنتِ خليلِ بنِ إبراهيمَ

الشَّرائحيِّ عنه

روايةُ أبي المَحاسنِ يوسفَ بنِ شاهينَ سِبطِ ابنِ حَجرٍ العَسقلانيِّ عَنها إجازةً
শায়খের মূল পাণ্ডুলিপি হতে সংকলিত একটি অংশ

আবু আল-কাসিম ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ আল-মানাদিলি

এবং এর শেষে চার খলিফায়ে রাশেদীনের ফযীলত সম্পর্কে একটি দীর্ঘ হাদীস রয়েছে

তাঁর থেকে আবু জাফর আল-গিতরীফ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাইন আস-সাইদানী এর বর্ণনা

তাঁর থেকে ইমাম আবু জাফর আল-মুবারক বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুবারক এর বর্ণনা

ইমাম তাকিউদ্দিন আলী বিন আহমদ বিন ওয়াসিল

আল-বসরী হতে তাঁর বর্ণনা

কাযী তাজউদ্দিন আব্দুল খালেক বিন আব্দুস সালাম

বিন সাঈদ বিন উলওয়ান হতে তাঁর বর্ণনা

দীর্ঘায়ু লাভকারী আবু আল-মাহাসিন ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী

বিন আল-হাব্বাল হতে তাঁর বর্ণনা

উম্মে আব্দুল্লাহ আয়েশা বিনতে খলীল বিন ইবরাহীম

আশ-শারাইহি হতে তাঁর বর্ণনা

ইজাযত (অনুমতি) সূত্রে তাঁর থেকে ইবনে হাজার আল-আসকালানীর দৌহিত্র আবু আল-মাহাসিন ইউসুফ বিন শাহীন এর বর্ণনা
(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৫৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

ربِّ أعِنْ

أخبرتنا المُسنِدةُ أمُّ عبدِ اللهِ عائشةُ بنتُ إبراهيمَ بنِ خليلِ بنِ الشَّرائحيِّ إجازةً مُكاتبَةً غيرَ مرَّةٍ مِن دمشقَ: أخبرنا المسنِدُ المُعمَّرُ الرُّحْلةُ الجَمالُ أبو المَحاسنِ يوسفُ بنُ عبدِ اللهِ بنِ عليِّ بنِ حاتمِ بنِ الحَبالِ سماعاً: أخبرنا الإمامُ القاضي تاجُ الدِّينِ عبدُ الخالقِ بنُ عبدِ السلامِ بنِ سعيدِ بنِ عُلوانَ: أخبرنا الإمامُ تَقيُّ الدِّينِ أبو الحسنِ(1) عليُّ بنُ أحمدَ بنِ إبراهيمَ بنِ أحمدَ بنِ واصلٍ البصريُّ: حدثنا الإمامُ أبو جعفرٍ المباركُ بنُ محمدِ بنِ المباركِ الكَتانيُّ: حدثنا الإمامُ أبو جعفرٍ الغِطْريفُ بنُ عبدِ اللهِ بنِ الحسينِ السَّعيدانيُّ مِن لفظِهِ: حدثنا أبو القاسمِ إبراهيمُ بنُ محمدِ بنِ أحمدَ المَناديليُّ قالَ:

 

500 - (1) حدثنا القاضي أبو الحسينِ عليُّ بنُ أحمدَ بنِ غسانَ: حدثنا أبو الحارثِ السِّيرافيُّ: حدثنا إبراهيمُ بنُ مَردويه السِّيرافيُّ: حدثنا بُندارٌ: حدثنا محمدُ بنُ جعفرٍ: حدثنا شعبةُ: سمعتُ جَبرَ(2) بنَ حَبيبٍ، عن أمِّ كُلثومٍ ابنةِ أبي بكرٍ، عن عائشةَ قالتْ:

إنَّ أبا بكرٍ الصديقَ رضي الله عنه دَخلَ على رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فكلَّمَه في شيءٍ

--------------------------------------------

(1) كذا في الأصل، وفي ترجمة عبد الخالق بن عبد السلام أنه يروي عن أبي أحمد علي بن واصل، ولم أهتد إلى ترجمته كما تقدم. والله أعلم.

(2) تحرف في الأصل إلى: جبير. والمثبت من كتب الرواية والتراجم.
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে রব, সাহায্য করুন।

মুসনিদাহ উম্মু আব্দুল্লাহ আয়েশা বিনতে ইবরাহিম বিন খলিল বিন আশ-শরাইহি দামেস্ক থেকে একাধিকবার লিখিত অনুমতি (ইজাজত) প্রদানের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুসনিদ, দীর্ঘজীবী ও বিশ্বভ্রমণকারী জামাল আবুল মাহাসিন ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন হাতিম বিন আল-হাব্বাল সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: ইমাম কাযী তাজউদ্দীন আব্দুল খালিক বিন আব্দুস সালাম বিন সাঈদ বিন উলওয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: ইমাম তাকিউদ্দীন আবুল হাসান(১) আলী বিন আহমদ বিন ইবরাহিম বিন আহমদ বিন ওয়াসিল আল-বসরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: ইমাম আবু জাফর আল-মুবারক বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুবারক আল-কাত্তানি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন: ইমাম আবু জাফর আল-গিতরিফ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাইন আস-সাইদানি তাঁর নিজ মুখে উচ্চারণের মাধ্যমে আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন: আবুল কাসিম ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মানাদিলি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন:

 

৫০০ - (১) কাযী আবুল হুসাইন আলী বিন আহমদ বিন গাসসান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন: আবু আল-হারিস আস-সিরাফি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন: ইবরাহিম বিন মারদুইয়াহ আস-সিরাফি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন: বুন্দার আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন: মুহাম্মদ বিন জাফর আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন: শু'বাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন: আমি জাবর(২) বিন হাবিব থেকে শুনেছি, তিনি আবু বকরের কন্যা উম্মু কুলসুম থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

নিশ্চয়ই আবু বকর সিদ্দিক (রা.) আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশ করলেন এবং কোনো একটি বিষয়ে তাঁর সাথে কথা বললেন...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই রয়েছে। আব্দুল খালিক বিন আব্দুস সালামের জীবনীতে উল্লেখ আছে যে, তিনি আবু আহমদ আলী বিন ওয়াসিল থেকে বর্ণনা করেছেন; তবে তাঁর (আলী বিন ওয়াসিল) জীবনী সম্পর্কে ইতিপূর্বে যা আলোচিত হয়েছে তার অতিরিক্ত কিছু আমি জানতে পারিনি। আল্লাহই ভালো জানেন।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এটি 'জুবাইর' হিসেবে বিকৃত হয়েছে। এখানে রিওয়ায়াত ও জীবনী গ্রন্থসমূহ থেকে সঠিকটি (জাবর) স্থির করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৫৮)
يُخفِيه عن عائشةَ رضي الله عنها، وعائشةُ تُصلِّي قالَ لها النبيُّ صلى الله عليه وسلم: «يا عائشةُ عَليكِ بالكَواملِ» أو كلمةً أُخرى، فلمَّا انصرفَتْ عائشةُ رضي الله عنها سألَتْه عن ذلكَ، فقالَ لها: «قُولي: اللهمَّ إنِّي أسألُكَ مِن الخيرِ كُلِّه عاجِلِه وآجِلِه ما عَلمتُ مِنه وما لم أَعلمْ، / وأعوذُ بِكَ مِن الشرِّ كُلِّه عاجِلِه وآجِلِه ما عَلمتُ مِنه وما لم أَعلمْ، وأسألُكَ الجَنةَ وما قَرَّبَ إليها مِن قولٍ أو عملٍ، وأعوذُ بكَ مِن النارِ وما قَرَّبَ إليها مِن قولٍ أو عملٍ، وأسألُكَ مِن خيرِ ما سألَكَ عَبدُكَ ورسولُكَ محمدٌ صلى الله عليه وسلم، وأعوذُ بكَ مِن شرِّ ما استعاذَ به عبدُكَ ورسولُكَ محمدٌ صلى الله عليه وسلم، وأسألُكَ ما قَضيتَ لي مِن أمرٍ تَجعل عاقِبتَه رَشَداً»(1).

 

501 - (2) حدثنا أبو طاهرٍ أحمدُ بنُ محمدِ بنِ أبي مسلمٍ: حدثنا أحمدُ بنُ سلمانَ: حدثنا الحارثُ بنُ محمدٍ: حدثنا العباسُ: حدثنا مباركٌ: حدثنا الحسنُ بنُ أبي الحسنِ قالَ:

خَطبَ عُتبةُ بنُ غَزوانَ رضي الله عنه -وكانَ أولَ أميرٍ خَطبَ على منبرِ البصرةِ- فقالَ: ألا إنَّ الدُّنيا قَد أدبرَتْ وولَّتْ حَذَّاءَ وآذنَتْ بصَرْمٍ، ألا وإنَّه لم يبقَ مِنها إلا صُبَابةٌ كصُبَابةِ الإناءِ يصُبُّه أهلُها، ألا وإنَّكم مُنتقِلونَ مِنها إلى غيرِها فانتَقلوا بخيرِ ما بحَضرَتِكم، ولقد رأيتُني سابعَ سَبعةٍ مع رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وما لَنا طعامٌ إلا ورقُ الشَّجرِ حتى قَرِحَتْ أشْداقُنا، غيرَ أنِّي التَقطتُّ بُردةً فشَققتُها بَيني وبينَ سعدِ بنِ مالكٍ، فما بقيَ مِن أولئكَ الرَّهطِ السَّبعةِ إلا أميرُ مصرَ، ألا وإنِّي أعوذُ باللهِ أن أكونَ في نَفسي عَظيماً وفي أعينِ الناسِ صغيراً،

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد 6/ 146 (25137) عن محمد بن جعفر غندر به.

وانظر فيه تمام تخريجه والاختلاف في إسناده، وانظر أيضاً: «علل الدالرقطني» (3596)، و «الصحيحة» (1542).
তিনি তা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে গোপন রাখতেন, এমতাবস্থায় আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সালাত আদায় করছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন: «হে আয়েশা, তুমি পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক অর্থবোধক দুআগুলো আঁকড়ে ধরো» অথবা তিনি অন্য কোনো শব্দ বললেন। যখন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সালাত শেষ করলেন, তখন তিনি এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন: «তুমি বলো: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে সকল কল্যাণ প্রার্থনা করছি—তা নিকটবর্তী হোক কিংবা দূরবর্তী, যা আমি জানি আর যা আমি জানি না; / আর আমি আপনার নিকট সকল অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি—তা নিকটবর্তী হোক কিংবা দূরবর্তী, যা আমি জানি আর যা আমি জানি না। আমি আপনার নিকট জান্নাত এবং জান্নাতের নিকটবর্তীকারী কথা ও কাজের তাওফীক প্রার্থনা করছি। আর আমি আপনার নিকট জাহান্নাম এবং জাহান্নামের নিকটবর্তীকারী কথা ও কাজ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আপনার নিকট ঐ কল্যাণ প্রার্থনা করছি যা আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনার নিকট প্রার্থনা করেছেন। আর আমি আপনার নিকট ঐ অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি যা থেকে আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। আর আপনি আমার জন্য যে ফয়সালা নির্ধারণ করেছেন, তার পরিণাম যেন সঠিক ও কল্যাণকর করেন»(১).

 

৫০১ - (২) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু তাহের আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি মুসলিম: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে সালমান: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হারিস ইবনে মুহাম্মদ: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-আব্বাস: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুবারক: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে আবুল হাসান, তিনি বলেন:

উতবাহ ইবনে গাযওয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ভাষণ দিলেন—তিনিই ছিলেন প্রথম আমীর যিনি বসরার মিম্বরে ভাষণ দিয়েছিলেন—তিনি বললেন: জেনে রাখো, নিশ্চয়ই দুনিয়া পিঠ দেখিয়ে দ্রুত প্রস্থান করছে এবং এর সমাপ্তির ঘোষণা দিচ্ছে। জেনে রাখো, এতে অবশিষ্ট নেই পাত্রের তলানিতে লেগে থাকা যৎসামান্য পানির মতো ছাড়া, যা তার মালিকরা ঢেলে নেয়। জেনে রাখো, তোমরা এই জগত থেকে অন্য জগতে স্থানান্তরিত হতে যাচ্ছ, সুতরাং তোমাদের কাছে উপস্থিত থাকা সর্বোত্তম পাথেয় নিয়ে প্রস্থান করো। আমি নিজেকে দেখেছি যে আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে থাকা সাতজনের সপ্তম ব্যক্তি ছিলাম। আমাদের কাছে গাছের পাতা ছাড়া কোনো খাদ্য ছিল না, এমনকি (তা চিবানোর কারণে) আমাদের গালের কষগুলো ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। তদুপরি আমি একটি চাদর পেয়েছিলাম, যা আমি আমার ও সা’দ ইবনে মালিকের মাঝে ছিঁড়ে দুই ভাগে ভাগ করে নিয়েছিলাম। আজ সেই সাতজনের দলের প্রত্যেকেই একেকটি অঞ্চলের আমীর বা শাসক হয়েছেন। জেনে রাখো, আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি যে, আমি নিজের কাছে বড় হই আর মানুষের চোখে ক্ষুদ্র বা তুচ্ছ হয়ে থাকি।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ ৬/১৪৬ (২৫১৩৭), মুহাম্মদ ইবনে জাফর গুন্দার-এর সূত্রে।

এর পূর্ণ তাখরীজ ও এর সনদের মতভেদ সেখানে দেখুন। আরও দেখুন: ‘ইলালুদ দারা কুতনী’ (৩৫৯৬), এবং ‘আস-সাহীহাহ’ (১৫৪২)।
(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৫৯)
أولا أخبرُكم بالعَجبِ كُلِّ العَجبِ! إنَّ الحَجرَ ليُلقَى مِن شَفيرِ جهنمَ فَما يَبلغُ قَعرَها مَسيرةَ سبعينَ عاماً، ولتُملَأَنَّ، أولا أخبرُكم بالعَجبِ كُلِّ العَجبِ! إنَّ ما بينَ / مِصراعَي بابِ الجَنةِ لَمَسيرةُ أربعينَ عاماً، ليأتيَنَّ عليه يومُ القيامةِ وهو كَظيظٌ، ألَا وسيكونُ(1) الأمراءُ بَعدي.

قالَ حسنٌ: فبَلوناهم فوَجَدْناهم أنتنَ مِن خَنافسَ(2).

 

502 - (3) حدثنا أبو عمرَ محمدُ بنُ عبدِ الرحمنِ بنِ أشافيا(3): حدثنا أحمدُ بنُ هشامٍ: حدثنا إبراهيمُ بنُ مهديٍّ الأُبليُّ: حدثنا كاملُ بنُ طلحةَ: حدثنا عبَّادُ بنُ عبدِ الصمدِ: حدثنا أنسٌ يَعني ابنَ مالكٍ رضي الله عنه قالَ:

قالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَن بلَغَه عن اللهِ عز وجل فَضيلةٌ فعَملَ بتلكَ الفَضيلةِ رَجاءَ ذلكَ الثوابِ أُعطيَ أجرَ ذلكَ وإِن لم يكُنْ كذلكَ»(4).

 

503 - (4) حدثنا أبو عمرَ محمدُ بنُ عبدِ الرحمنِ بنِ أشافيا: حدثنا

--------------------------------------------

(1) هكذا قرأتها في الأصل، ولعل الصواب: وسَتبلُونَ.

(2) أخرجه ابن أبي الدنيا في «ذم الدنيا» (105)، والطبراني 17/ (284)، والخطيب (1/ 496 - 497) من طريق الحسن البصري بنحوه، ولم يسق الطبراني لفظه.

وهو عند مسلم (2967) من وجه آخر عن عتبة بن غزوان بنحوه.

(3) كذا في الأصل في هذا الموضع والذي بعده، وفي ترجمة شيخه أحمد بن هشام أبي بكر الحصري في «تاريخ بغداد» (6/ 437) «تاريخ الإسلام» (7/ 745) -ومواضع أخرى قليلة-: بن أشتافنا. والله أعلم.

(4) أخرجه ابن شاهين في «مذاهب أهل السنة» (73)، وأبو القاسم السمرقندي في «ما قرب سنده» (7)، وأبو الفرج الثقفي في «عروس الأجزاء» (37)، وعبد الرزاق الكيلاني في «الأربعين الكيلانية» (2)، وابن الدبيثي في «ذيل تاريخ بغداد» (3/ 448) من طريق كامل الجحدري به.

وقال الألباني في «الضعيفة» (452): موضوع.
আমি কি তোমাদেরকে পরম বিস্ময়কর সংবাদ দেব না? জাহান্নামের কিনারা থেকে একটি পাথর নিক্ষেপ করা হলে সত্তর বছরেও তা এর তলদেশে পৌঁছাবে না, অথচ তা অবশ্যই পূর্ণ করা হবে। আমি কি তোমাদেরকে পরম বিস্ময়কর সংবাদ দেব না? জান্নাতের দরজার দুই পাল্লার মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো চল্লিশ বছরের পথ, কিয়ামতের দিন এমন এক সময় আসবে যখন তা ভিড়ে ঠাসা থাকবে। সাবধান, শীঘ্রই আমার পরে আমীরগণ (শাসক) আসবে।(১)

হাসান বলেন: আমরা তাদের পরীক্ষা করেছি এবং তাদেরকে গুবরে পোকার চেয়েও দুর্গন্ধযুক্ত পেয়েছি।(২)

 

৫০২ - (৩) আবু উমর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আশাফিয়া(৩) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আহমাদ ইবনে হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: ইব্রাহিম ইবনে মাহদি আল-উবুল্লি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: কামিল ইবনে তালহা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আব্বাদ ইবনে আব্দুস সামাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আনাস অর্থাৎ ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে যার কাছে কোনো নেক আমলের ফযীলতের কথা পৌঁছেছে এবং সে সেই সওয়াবের আশায় সেই ফযীলতপূর্ণ আমলটি করেছে, তাকে সেই প্রতিদান দেওয়া হবে, যদিও বিষয়টি বাস্তবে তেমন না হয়।»(৪)

 

৫০৩ - (৪) আবু উমর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আশাফিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে আমি এভাবেই পড়েছি, সম্ভবত সঠিক পাঠ হবে: "আর তোমরা তাদের পরীক্ষা করবে।"

(২) এটি বর্ণনা করেছেন ইবন আবুদ দুনিয়া 'যাম্মুদ দুনিয়া' (১০৫) গ্রন্থে, তাবারানি ১৭/ (২৮৪) এবং খতিব (১/ ৪৯৬ - ৪৯৭) হাসান বসরীর সূত্রে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন, তবে তাবারানি এর শব্দসমূহ উল্লেখ করেননি। এটি মুসলিম (২৯৬৭) গ্রন্থে অন্য সূত্রে উতবাহ ইবনে গাজওয়ানের মাধ্যমে অনুরূপভাবে বর্ণিত হয়েছে।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে এই স্থানে এবং এর পরের স্থানে এভাবেই রয়েছে। তবে তাঁর উস্তাদ আহমাদ ইবনে হিশাম আবু বকর আল-হুসরীর জীবনীতে 'তারিখে বাগদাদ' (৬/ ৪৩৭) ও 'তারিখে ইসলাম' (৭/ ৭৪৫) -এবং আরও কিছু অল্প স্থানে- 'ইবনে আশতাফনা' এসেছে। আল্লাহই ভালো জানেন।

(৪) এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে শাহীন 'মাযাহিবু আহলিস সুন্নাহ' (৭৩) গ্রন্থে, আবুল কাসিম সামারকান্দি 'মা কুরুবা সানাদুহু' (৭) গ্রন্থে, আবু আল-ফারাজ আস-সাকাফি 'আরূসুল আজযা' (৩৭) গ্রন্থে, আব্দুর রাজ্জাক আল-কিলানি 'আল-আরবাঈন আল-কিলানিয়্যাহ' (২) গ্রন্থে এবং ইবনুদ দুবাইসি 'যাইলু তারিখে বাগদাদ' (৩/ ৪৪৮) গ্রন্থে কামিল আল-জাহদারির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। আলবানি 'আদ-দঈফাহ' (৪৫২) গ্রন্থে বলেছেন: এটি জাল (মাওজু)।
(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৬০)
أحمدُ بنُ إسحاقَ بنِ مِنجابٍ(1): حدثنا عبدُ الرحمنِ بنُ محمدِ بنِ (مالكٍ؟)(2) الكاتبُ: حدثنا إسحاقُ بنُ موسى: حدثنا الوليدُ بنُ مسلمٍ: حدثنا الحكمُ بنُ مصعبٍ القرشيُّ، عن محمدِ بنِ عليِّ بنِ عبدِ اللهِ بنِ العباسِ، عن أبيه، عن جدِّه ابنِ عباسٍ قالَ:

قالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَن أكثَرَ الاستغفارَ جَعلَ اللهُ عز وجل له مِن كُلِّ هَمٍّ فَرجاً، ومِن كُلِّ ضِيقٍ مَخرجاً، ورزَقَه مِن حيثُ لا يَحتسبُ»(3).

 

504 - (5) حدثنا محمدُ بنُ عبدِ الرحمنِ: حدثنا إبراهيمُ بنُ عليٍّ الهُجَيميُّ: حدثنا أبو قِلابة الرَّقَاشيُّ: حدثنا وهبُ بنُ جريرٍ: حدثنا شعبةُ، عن عاصمِ بنِ عُبيدِ اللهِ، عن عبدِ اللهِ بنِ عامرِ بنِ ربيعةَ، عن أبيه قالَ:

قالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «ما مِن عَبدٍ يُصلِّي عليَّ صلاةً إلا صلَّتْ عَليه الملائكةُ ما صلَّى، فليُقِلَّ عبدٌ أو لِيُكثِرْ»(4).

--------------------------------------------

(1) كذا في الأصل، ولعل الصواب: «بن نيخاب» وهو أحمد بن إسحاق بن نيخاب أبو الحسن الطيبي. والله أعلم.

(2) هذا ما ظهر لي أنه الأقرب لما في الأصل، ولعله: «هلال» وهو عبد الرحمن بن محمد بن عبد الرحمن بن هلال الكاتب، يروي عن إسحاق بن موسى الأنصاري. والله أعلم.

(3) أخرجه أبو داود (1518)، والنسائي في «الكبرى» (10217)، وابن ماجه (3819)، وأحمد (1/ 248)، والطبراني (10665)، والحاكم (4/ 262)، والبيهقي (3/ 351) من طريق الوليد بن مسلم به. وعند ابن ماجه: عن محمد بن علي عن ابن عباس، ليس فيه عن أبيه.

وقال الألباني في «الضعيفة» (705): وسنده ضعيف، الحكم بن مصعب مجهول كما قال الحافظ في «التقريب».

(4) أخرجه ابن ماجه (907)، والطيالسي (1238)، وابن أبي شيبة (8696)، وأحمد (3/ 445، 446)، وعبد بن حميد (317)، وأبو يعلى (7196)، والبيهقي في «الشعب» (1457)، والضياء في «المختارة» (216) (217) (218) من طريق شعبة به. وحسنه الألباني.
আহমদ বিন ইসহাক বিন মিনজাব(১): আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন (মালিক?)(২) আল-কাতিব: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন মুসা: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-হাকাম বিন মুসআব আল-কুরাশি, তিনি মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবদুল্লাহ বিন আব্বাস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করবে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তার প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির পথ করে দেবেন, প্রতিটি সংকীর্ণতা থেকে বের হওয়ার পথ করে দেবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারেনি»(৩)।

 

৫০৪ - (৫) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন আলী আল-হুজাইমি: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু কিলাবাহ আর-রাকাশি: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ওয়াহাব বিন জারীর: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শুবা, তিনি আসিম বিন উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমির বিন রাবিয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো বান্দা যখনই আমার ওপর দরূদ পাঠ করে, ফেরেশতারা তার ওপর ততক্ষণ রহমত বর্ষণ করতে থাকে যতক্ষণ সে দরূদ পাঠ করতে থাকে। এখন বান্দা চাইলে দরূদ কম পাঠ করুক অথবা বেশি পাঠ করুক»(৪)।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে সম্ভবত সঠিক হলো: «বিন নিখাব», আর তিনি হলেন আহমদ বিন ইসহাক বিন নিখাব আবুল হাসান আল-তিবি। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে যা আছে তার কাছাকাছি এটিই আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, আর সম্ভবত তা হলো: «হিলাল», অর্থাৎ আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন হিলাল আল-কাতিব, তিনি ইসহাক বিন মুসা আল-আনসারী থেকে বর্ণনা করেন। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (১৫১৮), আন-নাসায়ী 'আল-কুবরা' গ্রন্থে (১০২১৭), ইবনে মাজাহ (৩৮১৯), আহমদ (১/২৪৮), আত-তাবারানী (১০৬৬৫), আল-হাকিম (৪/২৬২), আল-বায়হাকী (৩/৩৫১) আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিমের সূত্রের মাধ্যমে। ইবনে মাজাহ-এর বর্ণনায় রয়েছে: মুহাম্মদ বিন আলী থেকে ইবনে আব্বাসের সূত্রে, তাতে «তাঁর পিতা থেকে» অংশটি নেই।

আর আলবানী 'আদ-দায়ীফাহ' গ্রন্থে (৭০৫) বলেছেন: এর সনদ দুর্বল, আল-হাকাম বিন মুসআব একজন অপরিচিত বর্ণনাকারী, যেমনটি হাফিজ 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে বলেছেন।

(৪) এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজাহ (৯০৭), আত-তায়ালিসি (১২৩৮), ইবনে আবি শায়বাহ (৮৬৯৬), আহমদ (৩/৪৪৫, ৪৪৬), আবদ বিন হুমাইদ (৩১৭), আবু ইয়ালা (৭১৯৬), আল-বায়হাকী 'আশ-শুআব' গ্রন্থে (১৪৫৭), এবং আদ-দিয়া 'আল-মুখতারাহ' গ্রন্থে (২১৬) (২১৭) (২১৮) শুবার সূত্রের মাধ্যমে। আলবানী একে হাসান বলেছেন।
(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৬১)
505 - (6) حدثنا محمدُ بنُ عبدِ الرحمنِ: حدثنا إبراهيمُ بنُ عليٍّ: حدثنا أبو قِلابةَ: حدثنا أبو نُعيمٍ: حدثنا / يونسُ بنُ أبي إسحاقَ، عن بُريدِ بنِ أبي مريمَ، عن أنسِ بنِ مالكٍ رضي الله عنه قالَ:

قالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «ما مِن عَبدٍ يُصلِّي عليَّ صلاةً إلا صلَّى اللهُ عز وجل عَليه عشراً، ولا يُسلِّمُ عليَّ إلا سَلَّمَ اللهُ عز وجل عَليه عشراً»(1).

 

506 - (7) حدثنا طلحةُ بنُ إبراهيمَ: حدثنا أحمدُ بنُ عُبيدِ اللهِ: حدثنا أبو بكرٍ الفِريابيُّ: حدثنا قُتيبةُ: حدثنا ابنُ لَهيعةَ، عن أبي يونسَ، عن أبي هريرةَ رضي الله عنه قالَ: قالَت الملائكةُ: يا ربِّ، إنَّ عبدَكَ يُريدُ أَن يَعملَ سيئةً، فيقولُ: ارْقُبوا، فإنْ عمِلَها فاكتُبوها عليه، وإنْ هو تركَها فاكتُبوها له حسنةً، فإنَّما تركَها مِن خَشيَتي(2).

 

507 - (8) حدثنا طلحةُ بنُ إبراهيمَ: حدثنا أحمدُ بنُ عُبيدِ اللهِ: حدثنا

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في «الأدب المفرد» (643)، والنسائي (1297)، وأحمد (3/ 102، 261)، وابن حبان (904)، والحاكم (1/ 550)، والبيهقي في «الشعب» (1455)، والضياء في «المختارة» (1564) (1565) (1566) (1568) (1569) من طريق يونس بن أبي إسحاق بلفظ: «من صلى علي صلاة واحدة صلى الله عليه عشر صلوات، وحطت عنه عشر خطيئات، ورفعت له عشر درجات».

وصححه الحاكم والألباني.

(2) موقوف هنا. ومرفوعاً أخرجه ابن أبي زمنين في «أصول السنة» (74) من طريق ابن لهيعة.

وللحديث طرق وروايات عن أبي هريرة مرفوعاً، تقدم أحدها (131).
৫০৫ - (৬) আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট ইবরাহিম ইবনে আলী বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট আবু কিলাবাহ বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট আবু নুয়াইম বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট ইউনুস ইবনে আবি ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বুরাইদ ইবনে আবি মারইয়াম থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «কোন বান্দা যখন আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন; আর কেউ যখন আমাকে সালাম দেয়, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তার ওপর দশবার সালাম প্রদান করেন»(১)।

 

৫০৬ - (৭) আমাদের নিকট তালহা ইবনে ইবরাহিম বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে উবাইদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট আবু বকর আল-ফিরইয়াবি বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট কুতাইবাহ বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট ইবনে লাহিয়াহ বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইউনুস থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ফেরেশতারা বললেন: হে প্রতিপালক, আপনার এই বান্দা একটি মন্দ কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করছে। তখন তিনি (আল্লাহ) বলেন: তোমরা তাকে পর্যবেক্ষণ করো, সে যদি তা করে তবে তা তার আমলনামায় লিখে রাখো। আর যদি সে তা ছেড়ে দেয়, তবে তার জন্য তা একটি নেকি হিসেবে লিখে রাখো; কেননা সে কেবল আমার ভয়েই তা পরিত্যাগ করেছে(২)।

 

৫০৭ - (৮) আমাদের নিকট তালহা ইবনে ইবরাহিম বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে উবাইদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট

--------------------------------------------

(১) বুখারি এটি ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’ (৬৪৩), নাসাঈ (১২৯৭), আহমাদ (৩/ ১০২, ২৬১), ইবনে হিব্বান (৯০৪), হাকেম (১/ ৫৫০), বাইহাকি ‘আশ-শুয়াব’ (১৪৫৫) এবং দিয়া ‘আল-মুখতারাহ’ (১৫৬৪, ১৫৬৫, ১৫৬৬, ১৫৬৮, ১৫৬৯) গ্রন্থে ইউনুস ইবনে আবি ইসহাকের সূত্রে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন, তার দশটি পাপ মিটিয়ে দেবেন এবং তার মর্যাদা দশ ধাপ বৃদ্ধি করবেন»।

হাকেম এবং আলবানী একে সহিহ বলেছেন।

(২) এখানে এটি মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত। আর মারফু হিসেবে ইবনে আবি যামানিন ‘উসুলুস সুন্নাহ’ (৭৪) গ্রন্থে ইবনে লাহিয়াহ-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

আবু হুরাইরাহ থেকে মারফু হিসেবে এই হাদিসের আরও অনেক সূত্র ও বর্ণনা রয়েছে, যার একটি পূর্বে (১৩১ নং-এ) অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৬২)
جعفرُ بنُ محمدٍ: حدثنا إبراهيمُ بنُ العلاءِ: حدثنا إسماعيلُ بنُ عيَّاشٍ، عن عاصمِ بنِ رجاءِ بنِ حَيوةَ، عن عُروةَ بنِ رُويمٍ، عن القاسمِ، عن أبي أُمامةَ الباهليِّ رضي الله عنه،

عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم قالَ: «إنَّ صاحبَ الشِّمالِ ليَرفعُ القلمَ سِتَّ ساعاتٍ عن المُسيءِ المُخفِي(1)، فإنْ ندمَ واستَغفرَ اللهَ عز وجل أَلقاها، وإلا كَتبَ واحدةً»(2).

 

508 - (9) حدثنا طلحةُ بنُ إبراهيمَ: حدثنا أحمدُ بنُ محمدِ بنِ بشرٍ(3): حدثني بشيرُ بنُ عيسى: حدثنا تَميمُ بنُ بُهلولٍ: حدثنا محمدُ بنُ حُميدٍ: حدثنا جريرٌ، عن مغيرةَ، عن أمِّ موسى قالتْ: قالَ عليُّ بنُ أبي طالبٍ رِضوانُ اللهِ تعالى عليه: لو كانَت المرأةُ خَليفةً أو يَصلحُ أَن تكونَ خَليفةً لَكانَ يَصلحُ أَن تكونَ عائشةُ / بنتُ أبي بكرٍ رضي الله عنها خَليفةً(4).

--------------------------------------------

(1) كذا في الأصل، ولعله تحرف عن «المخطئ». كما في المصادر: «عن العبد المسلم المخطئ المسيء» وَ «عن العبد المسلم المخطئ».

(2) أخرجه الطبراني (7765)، وأبو نعيم في «الحلية» (6/ 124)، والبيهقي في «الشعب» (6650) من طريق إسماعيل بن عياش به.

وحسنه الألباني في «الصحيحة» (1209).

(3) كذا في الأصل، وفي «جامع الآثار»: «بن بشير بن عيسى: حدثني جدي بشير بن عيسى». ولم أجد لهما ترجمة.

(4) ذكره ابن ناصر الدين في «جامع الآثار في مولد المختار» (7/ 78) فقال: ورويناه من طريق أحمد بن محمد بن بشير بن عيسى .. .

وكان قد أشار قبله إلى ما أخرجه اللالكائي في «أصول السنة» (2761) عن الليث بن سعد، أن علي بن أبي طالب ذكر عائشة فقال: لو كانت امرأة تكون خليفة لكانت عائشة خليفة.
জাফর বিন মুহাম্মদ: আমাদের নিকট ইবরাহিম বিন আল-আলা বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট ইসমাঈল বিন আইয়্যাশ বর্ণনা করেছেন, আসিম বিন রাজা বিন হাইওয়াহ থেকে, উরওয়াহ বিন রুওয়াইম থেকে, আল-কাসিম থেকে, আবু উমামাহ আল-বাহিলি রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে,

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই বাম পাশের (ফেরেশতা) পাপাচারী গোপনকারী(১) বান্দার থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত কলম উঠিয়ে রাখেন; যদি সে অনুতপ্ত হয় এবং মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে তিনি তা ফেলে দেন, অন্যথায় একটি (গুনাহ) লিপিবদ্ধ করেন»(২)।

 

৫০৮ - (৯) আমাদের নিকট তালহা বিন ইবরাহিম বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন বিশর(৩) বর্ণনা করেছেন: বশির বিন ঈসা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট তামীম বিন বুহলুল বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন হুমাইদ বর্ণনা করেছেন: জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুগিরা থেকে, উম্মে মুসা থেকে, তিনি বলেন: আলী বিন আবি তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: যদি কোনো নারী খলিফা হতো অথবা কোনো নারীর খলিফা হওয়া সমীচীন হতো, তবে আয়েশা বিনতে আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহা খলিফা হওয়ার যোগ্য হতেন(৪)।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, সম্ভবত এটি ‘ভুলকারী’ শব্দ থেকে বিকৃত হয়েছে। যেমনটি অন্যান্য উৎসগুলোতে রয়েছে: «ভুলকারী ও পাপাচারী মুসলিম বান্দার থেকে» এবং «ভুলকারী মুসলিম বান্দার থেকে»।

(২) এটি তাবারানি (৭৭৬৫), আবু নুআইম ‘আল-হিলয়াহ’ (৬/১২৪) গ্রন্থে এবং বায়হাকি ‘আশ-শুআব’ (৬৬৫০) গ্রন্থে ইসমাঈল বিন আইয়্যাশের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

আর আলবানী একে ‘আস-সহীহাহ’ (১২০৯) গ্রন্থে হাসান বলেছেন।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, আর ‘জামি’উল আসার’ গ্রন্থে রয়েছে: ‘বিন বশির বিন ঈসা: আমার দাদা বশির বিন ঈসা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন’। আমি তাদের কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি।

(৪) ইবনুন নাসিরুদ্দিন ‘জামি’উল আসার ফি মাওলিদিল মুখতার’ (৭/৭৮) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করে বলেছেন: আমরা এটি আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন বশির বিন ঈসার সূত্রে বর্ণনা করেছি...।

তিনি এর আগে লালাকাঈর ‘উসুলুস সুন্নাহ’ (২৭৬১) গ্রন্থে লাইস বিন সা’দ থেকে বর্ণিত বর্ণনার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যে, আলী বিন আবি তালিব আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: যদি কোনো নারী খলিফা হতে পারত তবে আয়েশা খলিফা হতেন।
(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৬৩)
509 - (10) حدثنا أبو الحسينِ بنُ غسانَ: قالَ سليمانُ بنُ أحمدَ: حدثنا المِقدامُ بنُ داودَ: حدثنا أسدُ بنُ موسى: حدثنا بكرُ بنُ خُنيسٍ، عن شعيبٍ(1) الإسكافِ، عن سعيدِ بنِ المَرزُبانِ، عن الأصبغِ بنِ نُباتةَ قالَ:

أبصرَ عليُّ بنُ أبي طالبٍ رضي الله عنه ناساً صَلُّوا صلاةَ الضُّحى حينَ بزغَت الشمسُ فقالَ: تخَيَّروا صلاةَ الأوَّابينَ، قَالوا: وما صلاةُ الأوَّابينَ؟ قالَ: صلاةُ الأوَّابينَ ركعَتانِ، وصلاةُ المُسبِّحينَ أربعةٌ، وصلاةُ الخاشِعينَ سِتٌّ، وصلاةُ الفتحِ ثمانُ رَكعاتٍ صلَّاها رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يومَ فتحِ مكةَ، وصَلَّتها(2) مريمُ بنتُ عمرانَ ثِنتي عشرةَ ركعةً، مَن صلَّاها في يومٍ بَنى اللهُ تعالى له بَيتاً في الجَنةِ(3).

 

510 - (11) حدثنا القاضي أبو الحسينِ عليُّ بنُ أحمدَ بنِ غسانَ: حدثنا إبراهيمُ بنُ عليٍّ الهُجَيميُّ: حدثنا إبراهيمُ بنُ فهدٍ: حدثنا مسلمُ بنُ إبراهيمَ: حدثنا القاسمُ بنُ الفضلِ: حدثنا النضرُ بنُ شَيبانَ قالَ: لَقيتُ أبا سلمةَ بنَ عبدِ الرحمنِ فقُلتُ له: حدِّثني حَديثاً سمعتَه مِن أبيكَ سمِعَه أبوكَ مِن

--------------------------------------------

(1) كذا وقع هنا، ويأتي (521): سعيد. ولم أعرفه، إلا أن يكون تحرف عن «سعد الإسكاف»، وهو مذكور في الرواة عن الأصبغ بن نباتة وهو هنا يروي عنه بواسطة. والله أعلم.

(2) في الأصل: «وصلاها مريمُ» كذا بضم «مريمُ». وفي «كنز العمال»: وصلاة مريم ابنة عمران ثنتا عشرة ركعة.

ويأتي (521): وصلاة مريم بنت عمران ثنتي عشرة ركعة.

(3) نسبه في «كنز العمال» (23437) لهذا الجزء. وسيتكرر بنفس الإسناد (521).

وإسناده مسلسل بالضعفاء والمتروكين. الأصبغ بن نباتة متروك. والراوي عنه سعيد بن المرزبان أبو سعد البقال ضعيف. والإسكاف إن كان سعد بن طريف فهو متروك. وبكر بن خنيس ضعيف. والمقدام بن داود الرعيني تكلموا فيه.
৫০৯ - (১০) আবু আল-হুসাইন বিন গাসসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: সুলাইমান বিন আহমাদ বলেছেন: আল-মিকদাম বিন দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আসাদ বিন মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: বাকর বিন খুনায়স আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুআইব আল-ইসকাফ থেকে, তিনি সাঈদ বিন আল-মারযুবান থেকে, তিনি আল-আসবাগ বিন নুবাতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আলী বিন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু কিছু লোককে সূর্য উদিত হওয়ার সময় চাশতের নামাজ পড়তে দেখলেন। তখন তিনি বললেন: তোমরা ‘আউয়াবীন’-দের নামাজ বেছে নাও। তারা বলল: আউয়াবীনদের নামাজ কী? তিনি বললেন: আউয়াবীনদের নামাজ দুই রাকাত, মুসাব্বিহীনদের নামাজ চার রাকাত, খাশিয়ীনদের নামাজ ছয় রাকাত এবং বিজয়ের নামাজ আট রাকাত যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন আদায় করেছিলেন। আর মারইয়াম বিনতে ইমরান বারো রাকাত নামাজ পড়েছিলেন; যে ব্যক্তি দিনে তা আদায় করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।

 

৫১০ - (১১) কাজী আবু আল-হুসাইন আলী বিন আহমাদ বিন গাসসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: ইব্রাহিম বিন আলী আল-হুজাইমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: ইব্রাহিম বিন ফাহদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: মুসলিম বিন ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আল-কাসিম বিন আল-ফাদল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আন-নাদর বিন শায়বান বলেছেন: আমি আবু সালামা বিন আব্দুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাকে বললাম: আমাকে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করুন যা আপনি আপনার পিতার নিকট শুনেছেন এবং আপনার পিতা শুনেছেন...

--------------------------------------------

(১) এখানে এভাবেই এসেছে, সামনে (৫২১) নং বর্ণনায় আসবে: সাঈদ। আমি তাকে চিনতে পারিনি, তবে সম্ভবত এটি ‘সা’দ আল-ইসকাফ’ থেকে বিকৃত হয়েছে, যিনি আল-আসবাগ বিন নুবাতা থেকে বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং এখানে তিনি তার থেকে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বর্ণনা করছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে: ‘মরিয়ম নামাজ পড়েছেন’ এভাবে ‘মরিয়ম’ শব্দটি পেশ যোগে এসেছে। আর ‘কানযুল উম্মাল’ গ্রন্থে রয়েছে: মারইয়াম বিনতে ইমরানের নামাজ বারো রাকাত।

সামনে (৫২১) নং-এ আসবে: মারইয়াম বিনতে ইমরানের নামাজ বারো রাকাত।

(৩) ‘কানযুল উম্মাল’ (২৩৪৩৭) গ্রন্থে এই অংশের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। একই সনদসহ এটি পুনরায় আসবে (৫২১) নং-এ।

এর সনদ দুর্বল ও বর্জনীয় বর্ণনাকারীদের দ্বারা গঠিত। আল-আসবাগ বিন নুবাতা বর্জনীয় (মাতরুক)। তার থেকে বর্ণনাকারী সাঈদ বিন আল-মারযুবান আবু সা’দ আল-বাক্কাল দুর্বল। আল-ইসকাফ যদি সা’দ বিন তারিফ হন তবে তিনি বর্জনীয়। বাকর বিন খুনায়স দুর্বল। আল-মিকদাম বিন দাউদ আল-রুআইনি সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণ বিরূপ মন্তব্য করেছেন।
(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৬৪)
رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قالَ: فقالَ: أَبي -يَعني عبدَ الرحمنِ بنَ عوفٍ رضي الله عنه قالَ:

قالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «إنَّ اللهَ تعالى فَرضَ عَليكم صيامَ رمضانَ، وسَننتُ عَليكم قيامَهُ، فمَن صامَهُ وقامَهُ إيماناً واحتساباً غَفرَ اللهُ له ما تقدَّمَ مِن ذَنبِه»(1).

 

511 - (12) / حدثنا القاضي أبو الحسينِ عليُّ بنُ أحمدَ بنِ غسانَ: حدثنا محمدُ بنُ بكرِ بنِ عبدِ الرزاقِ: حدثنا أبو داودَ السِّجستانيُّ: حدثنا عبدُ اللهِ بنُ مَسلمةَ: حدثنا عبدُ العزيزِ يَعني الدَّرَاوَرْديَّ، عن عَمرو، عن سعيدٍ المَقبريِّ، عن أبي هريرةَ رضي الله عنه قالَ:

قالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «رُبَّ قائمٍ حَظُّه مِن قيامِهِ السَّهرُ، ورُبَّ صائمٍ حَظُّه مِن صيامِهِ الجوعُ والعَطشُ»(2).

 

512 - (13) حدثنا القاضي أبو الحسينِ بنُ غسانَ: حدثنا محمدُ بنُ

--------------------------------------------

(1) أخرجه النسائي (2208) (2209) (2210)، وابن ماجه (1328)، وأحمد (1/ 191، 194)، وابن خزيمة (2201)، وأبويعلى (863) (864) (865)، والبيهقي في «الشعب» (3342) (3343) من طريق النضر بن شيبان به.

وقال النسائي: هذا خطأ، والصواب: أبوسلمة عن أبي هريرة.

وانظر «علل الدارقطني» (565) (1731).

(2) أخرجه النسائي في «الكبرى» (3237)، وابن ماجه (1690)، وأحمد (2/ 441)، والدارمي (2762)، وابن حبان (3481)، والبيهقي (4/ 270) من طريق سعيد المقبري به. وقال الألباني: حسن صحيح.

وقيل فيه: عن أبي سعيد المقبري عن أبي هريرة، انظر تخريجه في «مسند أحمد» 2/ 373 (8856).
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণিত, তিনি বললেন: আমার পিতা - অর্থাৎ আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন:

আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তোমাদের ওপর রমজানের রোজা ফরজ করেছেন, আর আমি তোমাদের জন্য এর কিয়ামকে (রাতের ইবাদত) সুন্নত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি ইমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রোজা রাখবে এবং কিয়াম করবে, আল্লাহ তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন»(১).

 

৫১১ - (১২) / আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাজি আবুল হুসাইন আলী ইবনে আহমদ ইবনে গাসসান: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বকর ইবনে আবদুর রাজ্জাক: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল আজিজ অর্থাৎ আদ-দারওয়ারদি, তিনি আমর থেকে, তিনি সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «অনেক কিয়ামকারী এমন আছে যাদের কিয়াম হতে প্রাপ্তি কেবল বিনিদ্র রজনী কাটানো, এবং অনেক রোজাদার এমন আছে যাদের রোজা হতে প্রাপ্তি কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা»(২).

 

৫১২ - (১৩) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাজি আবুল হুসাইন ইবনে গাসসান: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে...

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আন-নাসাঈ (২২০৮) (২২০৯) (২২১০), ইবনে মাজাহ (১৩২৮), আহমাদ (১/১৯১, ১৯৪), ইবনে খুজাইমাহ (২২০১), আবু ইয়ালা (৮৬৩) (৮৬৪) (৮৬৫), এবং আল-বায়হাকি ‘আশ-শুআব’-এ (৩৩৪২) (৩৩৪৩) নাদর ইবনে শায়বানের সূত্রে।

আন-নাসাঈ বলেন: এটি ভুল, আর সঠিক হলো: আবু সালামাহ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর দেখুন ‘ইলাল আদ-দারাকুতনি’ (৫৬৫) (১৭৩১)।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন আন-নাসাঈ ‘আল-কুবরা’-তে (৩২৩৭), ইবনে মাজাহ (১৬৯০), আহমাদ (২/৪৪১), আদ-দারিমি (২৭৬২), ইবনে হিব্বান (৩৪৮১), এবং আল-বায়হাকি (৪/২৭০) সাঈদ আল-মাকবুরির সূত্রে। আলবানি বলেন: হাসান সহিহ।

আর এতে বলা হয়েছে: আবু সাঈদ আল-মাকবুরি আবু হুরায়রা থেকে, এর তাখরিজ দেখুন ‘মুসনাদ আহমাদ’ ২/৩৭৩ (৮৮৫৬)-তে।
(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৬৫)
بكرٍ: حدثنا أبو داودَ: حدثنا مُسددٌ(1): حدثنا حمادٌ وهو ابنُ زيدٍ، عن عطاءِ بنِ السائبِ قالَ: كانَ أصحابُنا يَقولونَ: أهونُ الصيامِ تَركُ الطعامِ والشرابِ.

 

513 - (14) حدثنا أبو الحسينِ بنُ غسانَ: حدثنا محمدُ بنُ بكرٍ: حدثنا أبو داودَ: حدثنا أحمدُ بنُ يونسَ: حدثنا ابنُ أبي ذئبٍ، عن المَقبريِّ، عن أبي هريرةَ(2) رضي الله عنه قالَ:

قالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَن لم يَدعْ قَولَ الزُّورِ والعملَ به فليسَ للهِ عز وجل حاجةٌ أن يَدعَ طعامَهُ وشَرابَهُ».

قالَ أحمدُ بنُ يونسَ: فَهمتُ إسنادَهُ ورأيتُ ابنَ أبي ذئبٍ(3)، وأفهَمَني الحديثَ رَجلٌ كانَ عِندَه إلى جنبٍ نراهُ ابنَ أخيهِ.

 

514 - (15) حدثنا أبو محمدٍ الحسينُ بنُ جعفرٍ الخُدريُّ: حدثنا أحمدُ بنُ عُبيدٍ الصَّفارُ: حدثنا عُبيدُ بنُ عبدِ الواحدِ: حدثنا ابنُ أبي مريمَ: حدثنا عثمانُ وأنسُ بنُ عياضٍ قالا: حدثنا الحارثُ بنُ عبدِ الرحمنِ، عن عطاءِ بنِ يسارٍ(4)، عن أبي هريرةَ رضي الله عنه،

--------------------------------------------

(1) وهو في «مسنده» كما في «المطالب» (1018).

(2) كذا في الأصل، عن المقبري عن أبي هريرة ليس فيه (عن أبيه)، وهو وإن كان أحدَ الوجوه التي يروى بها هذا الحديث -كما ذكره الدارقطني في «علله» (2073) -، لكن المصنف يرويه هنا من طريق أبي داود، وهو في «سننه» (2362) وفيه: عن المقبري عن أبيه عن أبي هريرة.

وكذلك أخرجه البخاري (1903) من طريق أحمد بن يونس، و (6057) من طريق آدم بن أبي إياس، كلاهما عن ابن أبي ذئب به.

(3) كذا في الأصل، وعند أبي داود وغيره: فهمت إسناده من ابن أبي ذئب.

(4) كذا في الأصل، وسعيد بن أبي مريم يرويه بهذا الإسناد عن عطاء بن ميناء، أفاده الخطيب في «المتفق والمفترق» ثم أسنده من طريق عبيد بن عبد الواحد وغيره عنه (1/ 87 - 88). وكذلك أخرجه قوام السنة في «الترغيب والترهيب» (1774) من طريق يعقوب بن حميد، عن أنس بن عياض.

وأخرجه ابن خزيمة (1996)، والحاكم (1/ 430 - 431)، والخطيب (1/ 87)، والبيهقي (4/ 270) من طريق أنس بن عياض، عن الحارث بن عبد الرحمن بن أبي ذباب، عن عمه، عن أبي هريرة.

ثم قال الخطيب: ولعل الحديث عند الحارث عن عمه وعن عطاء بن ميناء، جميعاً عن أبي هريرة، فيصح القولان معاً. والله أعلم.
বকর থেকে বর্ণিত: আবু দাউদ আমাদের জানিয়েছেন: মুসাদ্দাদ(১) আমাদের জানিয়েছেন: হাম্মাদ, যিনি ইবনে যাইদ, তিনি আতা ইবনে সাইব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের সাথীরা বলতেন: রোজা রাখার সবচেয়ে সহজ বিষয় হলো পানাহার বর্জন করা।

 

৫১৩ - (১৪) আবুল হুসাইন ইবনে গাসসান আমাদের জানিয়েছেন: মুহাম্মাদ ইবনে বকর আমাদের জানিয়েছেন: আবু দাউদ আমাদের জানিয়েছেন: আহমাদ ইবনে ইউনুস আমাদের জানিয়েছেন: ইবনে আবি যি'ব আমাদের জানিয়েছেন, তিনি মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরাইরা(২) রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা এবং সে অনুযায়ী কাজ করা বর্জন করে না, তার পানাহার বর্জন করাতে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।»

আহমাদ ইবনে ইউনুস বলেন: আমি এর সনদ বুঝতে পেরেছি এবং ইবনে আবি যি'বকে(৩) দেখেছি, আর তার পাশে বসা এক ব্যক্তি আমাকে হাদিসটি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, যাকে আমরা তার ভাতিজা মনে করতাম।

 

৫১৪ - (১৫) আবু মুহাম্মাদ আল-হুসাইন ইবনে জাফর আল-খুদরি আমাদের জানিয়েছেন: আহমাদ ইবনে উবাইদ আস-সাফফার আমাদের জানিয়েছেন: উবাইদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের জানিয়েছেন: ইবনে আবি মারইয়াম আমাদের জানিয়েছেন: উসমান ও আনাস ইবনে ইয়াদ বলেছেন: আল-হারিস ইবনে আব্দুর রহমান আমাদের জানিয়েছেন, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার(৪) থেকে, তিনি আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন,

--------------------------------------------

(১) এটি তার «মুসনাদ»-এ রয়েছে যেমনটি «আল-মাতালিব» (১০১৮) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

(২) মূলে এভাবেই আছে, মাকবুরি থেকে আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, এতে (তার পিতা থেকে) কথাটি নেই। যদিও এটি এই হাদিসটি বর্ণিত হওয়ার একটি সূত্র—যেমনটি দারাকুতনি তার «ইলাল» (২০৭৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—তবে গ্রন্থকার এটি এখানে আবু দাউদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যা তার «সুনান» (২৩৬২) গ্রন্থে রয়েছে এবং সেখানে বর্ণিত হয়েছে: মাকবুরি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেন।

অনুরূপভাবে বুখারি এটি আহমাদ ইবনে ইউনুসের সূত্রে (১৯০৩) এবং আদম ইবনে আবি ইয়াসের সূত্রে (৬০৫৭) বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ই ইবনে আবি যি'ব থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) মূলে এভাবেই আছে, আর আবু দাউদ ও অন্যদের বর্ণনায় রয়েছে: আমি ইবনে আবি যি'ব থেকে এর সনদটি বুঝতে পেরেছি।

(৪) মূলে এভাবেই আছে, তবে সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম এই সনদে আতা ইবনে মিনা থেকে বর্ণনা করেন, খতিব এটি «আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক» গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং উবাইদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ও অন্যদের সূত্রে তার থেকে এটি বর্ণনা করেছেন (১/ ৮৭ - ৮৮)। অনুরূপভাবে কাওয়ামুস সুন্নাহ এটি «আত-তারগিব ওয়াত তারহিব» (১৭৭৪) গ্রন্থে ইয়াকুব ইবনে হুমাইদ-এর সূত্রে আনাস ইবনে ইয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে খুযাইমা (১৯৯৬), হাকিম (১/ ৪৩০ - ৪৩১), খতিব (১/ ৮৭), এবং বায়হাকি (৪/ ২৭০) এটি আনাস ইবনে ইয়াদ-এর সূত্রে, তিনি আল-হারিস ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবি জুবাব থেকে, তিনি তার চাচা থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেছেন।

অতঃপর খতিব বলেন: সম্ভবত আল-হারিসের নিকট হাদিসটি তার চাচা এবং আতা ইবনে মিনা—উভয় থেকেই ছিল, যারা উভয়ই আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেছেন, তাই উভয় বক্তব্যই সঠিক হতে পারে। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৬৬)
/ عن رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قالَ: «ليسَ الصيامُ مِن الأكلِ والشُّربِ، إنَّما الصيامُ مِن اللغوِ والرَّفثِ».

 

515 - (16) حدثنا أبو الحسينِ بنُ غسانَ: حدثنا محمدُ بنُ عبدِ اللهِ الشافعيُّ: حدثنا محمدُ بنُ غالبٍ: حدثنا موسى بنُ إسماعيلَ: حدثنا ثوابُ بنُ حجيلٍ، عن ثابتٍ، عن أنسٍ رضي الله عنه قالَ:

قالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «أولُ ما يُفقَدُ مِن دِينِكم الأمانةُ، وآخِرُ ما تَفقِدونَ الصلاةُ».

قالَ: رأيت(1) وقَد يكونُ الرَّجلُ يُصلِّي ويصومُ ولو اؤتُمنَ على الأمانةِ ما أدَّاها(2).

--------------------------------------------

(1) كذا في الأصل، ولعله تحرف عن «ثابت» كما في مصادر التخريج.

(2) أخرجه البخاري في «التاريخ الكبير» (2/ 158)، والخرائطي في «مكارم الأخلاق» (171)، وتمام في «فوائده» (191)، والقضاعي في «الشهاب» (216) (217)، والضياء في «المختارة» (1583) من طريق موسى بن إسماعيل به.

وقال الألباني في «الصحيحة» (1739): وهذا إسناد حسن في الشواهد رجاله ثقات غير ثواب هذا .. .. والحديث صحيح على كل حال، فإن له شواهد كثيرة .. .
/ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: «রোজা কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়, বরং রোজা হলো অনর্থক কথা ও অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকা।»

 

৫১৫ - (১৬) আবুল হুসাইন বিন গাসসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আশ-শাফিঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ বিন গালিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: মুসা বিন ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: সাওয়াব বিন হুজাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাবিত থেকে, তিনি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের দ্বীনের মধ্য থেকে সর্বপ্রথম যা হারিয়ে যাবে তা হলো আমানতদারি, আর সর্বশেষ যা হারাবে তা হলো সালাত।»

তিনি বলেন: আমি দেখেছি(১) যে, কখনো কোনো ব্যক্তি সালাত আদায় করে এবং রোজা রাখে, কিন্তু তাকে কোনো আমানত প্রদান করা হলে সে তা আদায় করে না(২)।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, সম্ভবত তা 'তাখরিজ'-এর উৎসসমূহের মতো «সাবিত» শব্দ থেকে বিকৃত হয়ে এমন হয়েছে।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি «আত-তারিখুল কাবীর» (২/ ১৫৮) গ্রন্থে, আল-খারাইতি «মাকারিমুল আখলাক» (১৭১) গ্রন্থে, তাম্মাম তার «ফাওয়াইদ» (১৯১) গ্রন্থে, আল-কুদায়ি «আশ-শিহাব» (২১৬) (২১৭) গ্রন্থে এবং আদ-দিয়া «আল-মুখতারা» (১৫৮৩) গ্রন্থে মুসা বিন ইসমাইলের সূত্রে।

আলবানী «আস-সহীহা» (১৭৩৯) গ্রন্থে বলেছেন: এটি সমর্থক বর্ণনার ক্ষেত্রে হাসান সনদ, এর বর্ণনাকারীগণ এই সাওয়াব ব্যতীত নির্ভরযোগ্য.. .. এবং হাদিসটি সর্বাবস্থায় সহিহ, কেননা এর অনেক সমর্থক বর্ণনা রয়েছে.. ।
(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৬৭)
516 - (17) حدثنا أبو طاهرٍ أحمدُ بنُ محمدِ بنِ أبي مسلمٍ: أخبرنا أحمدُ بنُ سلمانَ: حدثنا محمدُ بنُ عبدِ اللهِ: حدثنا محمدُ بنُ العلاءِ: حدثنا مصعبٌ، عن بكرِ بنِ محمدٍ(1)، عن هلالِ بنِ خَبابٍ، عن عكرمةَ، عن ابنِ عباسٍ رضي الله عنهما قالَ:

خَرجَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ذاتَ يومٍ في يدِهِ قطعةٌ مِن ذَهبٍ قالَ: «ما كانَ محمدٌ قائلاً لربِّه عز وجل لو ماتَ وهذِه عندَه» ثم قسَمَها قبلَ أنْ يقومَ، ثم قالَ: «ما يسُرُّني أنَّ لآلِ محمدٍ هذا الجبلَ -وأشارَ بيدِهِ إلى جبلٍ- وأنِّي مِتُّ وتَركتُ مِنه دينارَينِ».

قالَ ابنُ عباسٍ رضي الله عنهما: فقُبضَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يومَ قُبضَ ولم يدَعْ ديناراً ولا دِرهماً ولا أمَةً، وتَركَ دِرعَه مَرهونةً بثلاثينَ صاعاً مِن شعيرٍ، كانَ يأكُلُ مِنه ويُطعمُ به عيالَهُ عندَ رَجلٍ مِن اليهودِ(2).

 

517 - (18) / حدثنا أبو الحسينِ محمدُ بنُ عمرَ الذهبيُّ: حدثنا محمدُ بنُ عبدِ الرزاقِ: حدثنا أبو داودَ: حدثنا أحمدُ بنُ سعيدٍ: حدثنا ابنُ

--------------------------------------------

(1) كذا في الأصل، ولم أميزه، وعند الطبري من طريق مصعب بن المقدام: (عن بكر بن خنيس، عن أبي محمد، عن هلال بن خباب) وأبو محمد هذا لم أميزه أيضاً. والله أعلم.

(2) أخرجه الطبري في «تهذيب الآثار» (مسند ابن عباس- 1/ 239) من طريق هلال بن خباب، والطبراني (11697)، وأبو نعيم في «الحلية» (8/ 127) من طريق حصين بن عبد الرحمن، كلاهما عن عكرمة به.

وأخرجه أحمد (1/ 300، 301)، وعبد بن حميد (596)، والبزار (3682 - زوائده)، وأبو يعلى (2984)، والطبري (1/ 238)، والطبراني (11899) (11901)، والضياء في «المختارة» (316) (317) (318) من طريق عكرمة به مختصراً دون طرفه الأول: «ما كان محمد قائلاً .. ».
৫১৬ - (১৭) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু তাহির আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি মুসলিম: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে সালমান: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল আলা: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুসআব, বকর ইবনে মুহাম্মদ(১) থেকে, তিনি হিলাল ইবনে খাব্বাব থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন, তাঁর হাতে এক টুকরো সোনা ছিল। তিনি বললেন: «মুহাম্মদ তাঁর মহান রব্বকে কী বলতেন, যদি তিনি মারা যেতেন আর এটি তাঁর নিকট থাকত?» অতঃপর তিনি বসার স্থান থেকে ওঠার আগেই তা বিলিয়ে দিলেন। তারপর বললেন: «মুহাম্মদের পরিবারের জন্য এই পাহাড়টি (সোনা) হয়ে যাওয়া আমাকে আনন্দিত করত না -এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে একটি পাহাড়ের দিকে ইশারা করলেন- আর আমি এমন অবস্থায় মারা যেতাম যে আমি তা থেকে দুটি দিনার রেখে গেছি।»

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেদিন ইন্তেকাল করলেন, সেদিন তিনি কোনো দিনার, দিরহাম কিংবা কোনো দাসী রেখে যাননি। তিনি তাঁর বর্মটি এক ইহুদি ব্যক্তির নিকট ত্রিশ সা' যবের বিনিময়ে বন্ধক রেখে গিয়েছিলেন, যা থেকে তিনি নিজে খেতেন এবং তাঁর পরিবারকে খাওয়াতেন(২)।

 

৫১৭ - (১৮) / আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-জাহাবি: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রাজ্জাক: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে সাঈদ: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে...

--------------------------------------------

(১) মূল কপিতে এভাবেই আছে, আমি একে শনাক্ত করতে পারিনি। তাবারির নিকট মুসআব ইবনুল মিকদাম-এর সূত্রে রয়েছে: (বকর ইবনে খুনাইস থেকে, তিনি আবু মুহাম্মদ থেকে, তিনি হিলাল ইবনে খাব্বাব থেকে)। আর এই আবু মুহাম্মদকেও আমি শনাক্ত করতে পারিনি। আল্লাহই ভালো জানেন।

(২) এটি তাবারী 'তাহজিবুল আসার' (মুসনাদে ইবনে আব্বাস- ১/ ২৩৯) গ্রন্থে হিলাল ইবনে খাব্বাবের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া তাবারানি (১১৬৯৭), এবং আবু নুআইম 'আল-হিলয়াহ' (৮/ ১২৭) গ্রন্থে হুসাইন ইবনে আবদুর রহমানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়েই ইকরিমাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং এটি আহমাদ (১/ ৩০০, ৩০১), আবদ ইবনে হুমাইদ (৫৯৬), বাজজার (৩৬৮২ - যাওয়ায়েদ), আবু ইয়ালা (২৯৮৪), তাবারী (১/ ২৩৮), তাবারানি (১১৮৯৯) (১১৯০১), এবং আল-জিয়া 'আল-মুখতারা' (৩১৬) (৩১৭) (৩১৮) গ্রন্থে ইকরিমাহ-এর সূত্রে প্রথম অংশ «মুহাম্মদ কী বলতেন...» ব্যতিরেকে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৬৮)
وهبٍ: أخبرني حفصُ بنُ مَيسرةَ، عن موسى بنِ عقبةَ، عن عطاءِ بنِ أبي مروانَ، عن أبيه قالَ:

إنَّ كعباً رضي الله عنه حَلفَ له بالذي فَرَقَ البحرَ لِموسى عليه السلام أنَّ في التَّوريةِ(1) ثلاثةَ أملاكٍ أُمِروا إذا قالَ أحدٌ مِن العبادِ راهِباً أو راغِباً: بسمِ اللهِ، قالَ له: هُديتَ، ثُم يقولُ: تَوكلتُ على اللهِ، قالَ الثاني: كُفيتَ، ثُم يقولُ: لا حَولَ ولا قوةَ إلا باللهِ، قالَ الثالثُ: حُفظتَ.

ثُم إنَّ كعباً رضي الله عنه حَلفَ له بالذي فَرَقَ البحرَ لِموسى عليه السلام أنَّ في التَّوريةِ أنَّ الربَّ عز وجل يَستَجيبُ للعبدِ عندَ نُزولِ القَطرِ، ويَستَجيبُ له عندَ السَّحرِ [وعندَ](2) السجودِ وعندَ الفِطْرِ، وفي السَّحرِ تُفتحُ أبوابُ السماءِ لِكلِّ داعٍ راغبٍ أو راهبٍ.

وقالَ: إنَّ كعباً رضي الله عنه حَلفَ له بالذي فَرَقَ البحرَ لِموسى عليه السلام أنَّ في التَّوريةِ عَبداً مِن عبادِ اللهِ أن يقولَ وهو مُخلصٌ: يا فارجَ الهَمِّ، ويا كاشفَ الغَمِّ، ومُجيبَ دَعوةِ المُضطرِّ، يا رحمنَ الدُّنيا والآخرةِ، ارحَمْني رحمةً تُغنيني بها عن وَجهِ مَن سواكَ، واقضِي عَني دَيني، واكبِتْ عَدوُّي، إلا لقيَ ذلكَ كُلَّه(3).

 

518 - (19) حدثنا أبو الحسينِ الذهبيُّ قالَ: سمعتُ عبدَ الجبارِ بنَ شِيرانَ / يقولُ: سمعتُ سهلَ بنَ عبدِ اللهِ رضي الله عنه يقولُ: مَن صلَّى ركعتَينِ

--------------------------------------------

(1) كذا في الأصل مكتوبة على الإمالة، انظر «الحجة للقراء السبعة» (3/ 10) وغيره.

(2) ساقطة من الأصل واستدركتها من «المجالس».

(3) ذكره ابن ناصر الدين في «مجالس في تفسير لقد من الله» (ص 199 - 200) من هذا الجزء بإسناده.
ওহাব থেকে বর্ণিত: হাফস ইবনে মাইসারা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মুসা ইবনে উকবা থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি মারওয়ান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:

নিশ্চয়ই কাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর নিকট সেই সত্তার শপথ করে বলেছেন যিনি মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য সমুদ্রকে বিদীর্ণ করেছিলেন যে, তাওরাতে(১) [উল্লেখিত হয়েছে] তিন জন ফেরেশতাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যখন বান্দাদের মধ্য হতে কেউ ভয়ে কিংবা আশায় ‘বিসমিল্লাহ’ (আল্লাহর নামে শুরু করছি) বলে, তখন এক ফেরেশতা তাকে বলে: ‘তুমি হিদায়াতপ্রাপ্ত হলে’। এরপর যখন সে বলে ‘তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ’ (আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম), তখন দ্বিতীয়জন বলে: ‘তোমার জন্য যথেষ্ট হয়েছে’। এরপর যখন সে বলে ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ (আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই), তখন তৃতীয়জন বলে: ‘তোমাকে রক্ষা করা হলো’।

অতপর কাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর নিকট সেই সত্তার শপথ করে বলেছেন যিনি মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য সমুদ্রকে বিদীর্ণ করেছিলেন যে, তাওরাতে [উল্লেখিত হয়েছে] নিশ্চয়ই রব ‘আযযা ওয়া জাল্লা’ বান্দার দুআ কবুল করেন বৃষ্টি বর্ষণের সময়, শেষ রাতে, [এবং](২) সিজদাবনত অবস্থায় ও ইফতারের সময়। আর শেষ রাতে আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় প্রত্যেক আশাবাদী কিংবা ভীত প্রার্থনাকারীর জন্য।

এবং তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই কাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর নিকট সেই সত্তার শপথ করে বলেছেন যিনি মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য সমুদ্রকে বিদীর্ণ করেছিলেন যে, তাওরাতে [রয়েছে] আল্লাহর বান্দাদের মধ্য হতে কোনো বান্দা যদি একনিষ্ঠভাবে বলে: ‘হে দুশ্চিন্তা দূরকারী, হে দুঃখ মোচনকারী, হে বিপদগ্রস্তের দুআ কবুলকারী, হে দুনিয়া ও আখিরাতের পরম করুণাময়! আমাকে এমন রহমত দান করুন যা আমাকে আপনি ছাড়া অন্য কারো মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়, আর আমার পক্ষ থেকে আমার ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমার শত্রুকে লাঞ্ছিত করুন’, তবে সে অবশ্যই এ সবগুলোরই দেখা পাবে(৩)।

 

৫১৮ - (১৯) আবুল হুসাইন আয-যাহাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল জাব্বার ইবনে শিরানকে বলতে শুনেছি: আমি সাহল ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি দুই রাকাত সালাত আদায় করবে...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে শব্দটি এভাবেই ইমালা (তির্যক উচ্চারণ) সহকারে লিখিত হয়েছে, দেখুন ‘আল-হুজ্জাতু লিল-কুররাউস সাবআ’ (৩/১০) এবং অন্যান্য।

(২) এটি মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে, যা আমি ‘আল-মাজালিস’ থেকে সংযোজন করেছি।

(৩) ইবনে নাসিরুদ্দিন তাঁর ‘মাজালিস ফি তাফসির লাকাদ মান্নাল্লাহু’ (পৃষ্ঠা ১৯৯-২০০) গ্রন্থে এই খণ্ড থেকে তাঁর নিজস্ব সনদে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৬৯)
ودَعا بتفسيرِ {كهيعص} فقالَ: يا كافي يا هادِي يا يقينُ يا عالمُ يا صادقُ، ثم سألَ حاجةً مِن أمرِ الدُّنيا والآخرةِ أعطاهُ اللهُ تبارك وتعالى ما سألَ.

 

519 - (20) حدثنا أبو محمدٍ الحسينُ بنُ أحمدَ بنِ (يسارٍ؟): حدثنا محمدُ بنُ أحمدَ بنِ خالدٍ: حدثنا موسى بنُ عُبيدةَ، عن عبدِ اللهِ بنِ عُبيدةَ، عن عمارِ بنِ ياسرٍ رضي الله عنه قالَ:

قالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «الحَلالُ بيِّنٌ والحرامُ بيِّنٌ، وبينَهما مُشبَّهاتٌ، فمَن توقَّاهنَّ كانَ أوفَى لدِينِه، ومَن واقعَهُنَّ يوشِكُ أَن يواقِعَ الكبائرَ، كالراتِعِ إلى جانبِ الحِمى يوشِكُ أَن يُواقِعَهُ، ولكُلِّ ملِكٍ حِمىً، وحِمى اللهِ عز وجل حُدودُهُ»(1).

 

520 - (21) حدثنا القاضي أبو الحسينِ عليُّ بنُ أحمدَ بنِ غسانَ: حدثنا أبي: حدثنا عليُّ بنُ محمدٍ الخطيبُ: حدثنا محمدُ بنُ عبدةَ: حدثنا ابنُ عُليةَ: أخبرنا داودُ بنُ أبي هندٍ: حدثني النعمانُ بنُ سالمٍ، عن عَمرو بنِ أوسٍ قالَ: قالَ لي عَنبسةُ بنُ أبي سفيانَ: ألا أُحدِّثكم حديثاً حدَّثتناه أمُّ حَبيبةَ رضي الله عنها؟ قُلتُ: بَلى، قالَ:

--------------------------------------------

(1) أخرجه إسحاق بن راهويه في «مسنده» (المطالب- 1420)، وأبو يعلى (1653)، والطبراني في «الأوسط» (1735)، وأبو نعيم في «الحلية» (9/ 236) من طريق موسى بن عبيدة الربذي على اختلاف عليه، فقيل كما هنا، وقيل: (عن عبد الله بن عبيدة وغيره عن عمار)، وقيل: (عن سعد بن إبراهيم عمن أخبره عن عمار بن ياسر).

وقال البوصيري في «الإتحاف» (2771): هذا إسناده ضعيف، لضعف موسى بن عبيدة. وقال الحافظ: هذا إسناد ضعيف، له شاهد في الصحيح من حديث النعمان بشير رضي الله عنه. وانظر «الصحيحة» (3361).
এবং তিনি {কাফ-হা-ইয়া-আইন-সাদ}-এর তাফসিরের মাধ্যমে দোয়া করলেন এবং বললেন: হে পর্যাপ্তকারী, হে পথপ্রদর্শক, হে নিশ্চিত বিশ্বাসযোগ্য সত্তা, হে সর্বজ্ঞ, হে সত্যবাদী। অতঃপর তিনি দুনিয়া ও আখিরাতের কোনো প্রয়োজনের জন্য প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাকে তা দান করেন।

 

৫১৯ - (২০) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন ইবনে আহমদ ইবনে (ইয়াসার?): আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে খালিদ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে উবায়দাহ, আবদুল্লাহ ইবনে উবায়দাহ থেকে, আম্মার ইবনে ইয়াসির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট, আর এই উভয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহযুক্ত বিষয়াদি। সুতরাং যে ব্যক্তি সেগুলো থেকে বেঁচে থাকল, সে তার দ্বীনকে অধিকতর রক্ষা করল। আর যে ব্যক্তি সেগুলোতে লিপ্ত হলো, অচিরেই সে কবিরা গুনাহে লিপ্ত হবে। যেমন কোনো রাখাল সংরক্ষিত চারণভূমির পাশে পশু চরায়, যা অচিরেই তার ভেতরে ঢুকে পড়ার উপক্রম হয়। জেনে রেখো, প্রত্যেক বাদশাহর একটি সংরক্ষিত এলাকা থাকে, আর মহান আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হলো তাঁর নিষিদ্ধ সীমাসমূহ»(১).

 

৫২০ - (২১) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিচারক আবু আল-হুসাইন আলি ইবনে আহমদ ইবনে গাসসান: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলি ইবনে মুহাম্মদ আল-খাতিব: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদাহ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে উলাইয়্যাহ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দাউদ ইবনে আবি হিন্দ: নুমান ইবনে সালিম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে আউস থেকে, তিনি বলেন: আনবাসা ইবনে আবি সুফিয়ান আমাকে বললেন: আমি কি তোমাদের এমন একটি হাদিস শোনাব না যা আমাদের উম্মে হাবিবা রাদিয়াল্লাহু আনহা শুনিয়েছেন? আমি বললাম: অবশ্যই। তিনি বললেন:

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ তাঁর «মুসনাদ» (আল-মাতালিব- ১৪২০), আবু ইয়ালা (১৬৫৩), তাবারানি «আল-আওসাত» (১৭৩৫) এবং আবু নুয়াইম «আল-হিলয়াহ» (৯/ ২৩৬) গ্রন্থে মুসা ইবনে উবায়দাহ আর-রাবাজি-এর সূত্রে যাতে কিছু মতভেদ রয়েছে; কেউ এখানে উল্লিখিত হওয়ার ন্যায় বর্ণনা করেছেন, আবার কেউ বলেছেন: (আবদুল্লাহ ইবনে উবায়দাহ ও অন্য সূত্রে আম্মার থেকে), আবার কেউ বলেছেন: (সা’দ ইবনে ইবরাহিম থেকে, তিনি এমন একজনের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যিনি তাকে আম্মার ইবনে ইয়াসির থেকে সংবাদ দিয়েছেন)।

বুসিরি «আল-ইতিহাফ» (২৭৭১) গ্রন্থে বলেন: এর সনদ দুর্বল, মুসা ইবনে উবায়দাহ-এর দুর্বলতার কারণে। হাফিজ বলেন: এই সনদটি দুর্বল, তবে সহিহ গ্রন্থে নুমান ইবনে বাশির রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস থেকে এর সাক্ষ্য বিদ্যমান রয়েছে। দেখুন «আস-সহিহাহ» (৩৩৬১)।
(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৭০)
حدَّثتْنا أنَّ رسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قالَ: «مَن صلَّى في يومٍ ثِنتَي عشرةَ سجدةً تطوُّعاً بَنى اللهُ عز وجل له بهنَّ بيتاً في الجَنةِ».

قالتْ أمُّ حَبيبةَ رضي الله عنها: ما تَركتُهنَّ منذُ سمعتُهنَّ مِن رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم. وقالَ عَنبسةُ: ما تَركتُهنَّ منذُ سمعتُهنَّ / مِن أمِّ حَبيبةَ. وقالَ عَمرو: ما تَركتُهنَّ منذُ سمعتُهنَّ مِن عَنبسةَ. وقالَ النعمانُ: ما تَركتُهنَّ منذُ سمعتُهنَّ مِن عَمرو. وقالَ داودُ: أمَّا نحنُ فَقد نُصلِّي ونَتركُ(1).

 

521 - (22) حدثنا القاضي أبو الحسينِ بنُ غسانَ: حدثنا سليمانُ بنُ أحمدَ الطبرانيُّ: حدثنا المقدامُ بنُ داودَ: حدثنا أسدُ بنُ موسى: حدثنا بكرُ بنُ خُنيسٍ، عن سعيدٍ(2) الإسكافِ، عن سعيدِ بنِ المَرْزُبانِ، عن الأصبغِ بنِ نُباتةَ قالَ:

أبصَرَ عليُّ بنُ أبي طالبٍ رضي الله عنه ناساً صَلُّوا صلاةَ الضُّحى حينَ بزَغَت الشمسُ، فقالَ: تَخيَّروا صلاةَ الأوَّابينَ، قَالوا: وما صلاةُ الأوَّابينَ؟ قالَ: صلاةُ الأوَّابينَ ركعَتانِ، وصلاةُ المُسبِّحينَ أربعٌ، وصلاةُ الخاشِعينَ سِتٌّ، وصلاةُ الفتحِ ثمانُ ركعاتٍ صلاةُ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم يومَ فتحِ مكةَ، وصلاةُ مريمَ بنتُ عمرانَ ثِنتَي عشرةَ ركعةً، مَن صلَّاها في يومٍ بَنى اللهُ تعالى له بَيتاً في الجَنةِ(3).

 

522 - (23) حدثنا القاضي أبو الحسينِ بنُ غسانَ: حدثنا محمدُ بنُ

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم (728) من طريق داود بن أبي هند به، ليس فيه قول داود في آخره: أما نحن .. .

وهو عند أبي يعلى (7124)، وابن خزيمة (1187) من طريق ابن علية.

(2) كذا وقع هنا، وتقدم (509): «شعيب» مع التعليق عليه.

(3) تقدم بسنده ومتنه (509).
তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি দিনে বারো রাকাত নফল সালাত আদায় করবে, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তার বিনিময়ে জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করবেন।»

উম্মে হাবীবা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: আমি যখন থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট থেকে এটি শুনেছি, তখন থেকে তা কখনো ত্যাগ করিনি। আমবাসা বলেন: আমি যখন থেকে উম্মে হাবীবার নিকট থেকে এটি শুনেছি, তখন থেকে তা কখনো ত্যাগ করিনি। আমর বলেন: আমি যখন থেকে আমবাসার নিকট থেকে এটি শুনেছি, তখন থেকে তা কখনো ত্যাগ করিনি। নুমান বলেন: আমি যখন থেকে আমরের নিকট থেকে এটি শুনেছি, তখন থেকে তা কখনো ত্যাগ করিনি। দাউদ বলেন: আর আমরা তো কখনো আদায় করি, আবার কখনো ছেড়ে দেই(১)।

 

৫২১ - (২২) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাজী আবু আল-হুসাইন ইবনে গাসসান: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে আহমদ আত-তাবারানি: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মিকদাম ইবনে দাউদ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসাদ ইবনে মুসা: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বকর ইবনে খুনাইস, সাঈদ(২) আল-ইস্কাফ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আল-মারযুবান থেকে, তিনি আসবাগ ইবনে নুবাতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কিছু লোককে সূর্য উদিত হওয়ার সময় চাশতের সালাত আদায় করতে দেখলেন। তখন তিনি বললেন: তোমরা আওয়াবিন (প্রত্যাবর্তনকারীদের) সালাতকে প্রাধান্য দাও। তারা জিজ্ঞেস করলেন: আওয়াবিনের সালাত কী? তিনি বললেন: আওয়াবিনের সালাত দুই রাকাত, মুসাব্বিহিনের (তাসবিহ পাঠকারীদের) সালাত চার রাকাত, খাশেয়িনের (বিনীতদের) সালাত ছয় রাকাত, আর ফাতহ বা বিজয়ের সালাত আট রাকাত যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা বিজয়ের দিন আদায় করেছিলেন এবং মারইয়াম বিনতে ইমরানের সালাত বারো রাকাত; যে ব্যক্তি দিনে তা আদায় করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন(৩)।

 

৫২২ - (২৩) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাজী আবু আল-হুসাইন ইবনে গাসসান: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম (৭২৮) দাউদ ইবনে আবি হিন্দের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে সেখানে শেষে দাউদের এই উক্তি: "আর আমরা তো..." নেই। এটি আবু ইয়ালা (৭১২৪) এবং ইবনে খুযাইমা (১১৮৭) ইবনে উলাইয়্যাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

ওয়াহু ইনদা আবি ইয়ালা (৭১২৪), ওয়াবনি খুযাইমা (১১৮৭) মিন ত্বরিকি ইবনিল উলাইয়্যাহ।

(২) এখানে এভাবেই এসেছে, এবং পূর্বে (৫০৯) নং-এ টীকা সহ "শুআইব" অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৩) ইতিপূর্বে এর সনদ ও মূলপাঠ (৫০৯) নং-এ অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৭১)
بكرِ بنِ عبدِ الرزاقِ: حدثنا أحمدُ بنُ محمدٍ العطارُ: حدثنا عبدُ الكريمِ بنُ موسى الضريرُ: حدثنا الحسينُ بنُ حمادٍ الكوفيُّ: حدثنا أبو مَعشرٍ، عن سعيدِ بنِ أبي سعيدٍ، عن أبي هريرةَ رضي الله عنه قالَ:

قالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم في قولِهِ تعالى: {وَكَانَ تَحْتَهُ كَنزٌ لَّهُمَا} [الكهف: 82] قالَ: «لَوحٌ مِن ذَهبٍ فيه مَكتوبٌ: الذي قَضى فيما قَضى وسَطرَ فيما مَضى / فقالَ: إنِّي باعثٌ في الأُميِّينَ رَسولاً مِنهم يَتلوا عَليهم آياتي ويَدلُّهم على طريقِ الحكمةِ، ليس بالفَظِّ ولا بالغَليظِ ولا سَخَّابٍ في الأسواقِ، ولا يَجزي بالسيئةِ السيئةَ ولكنْ يَعفو ويصفحُ، أُمتُه الحَمَّادونَ، يَحمَدونَ اللهَ عز وجل على كُلِّ هُبوطٍ وصُعودٍ ونُشوزٍ»(1).

 

523 - (24) حدثنا القاضي أبو الحسينِ بنُ غسانَ: حدثنا محمدُ بنُ الحسينِ بنِ الفرجِ: حدثنا الحارثُ بنُ محمدٍ: حدثنا عبدُ الوهابِ بنُ عطاءٍ: حدثنا ابنُ جُريجٍ: أخبرني يونسُ بنُ يوسفَ(2)، عن سليمانَ بنِ يسارٍ قالَ: تفرَّقَ الناسُ عن أبي هريرةَ رضي الله عنه، فقالَ له ناتلٌ أخو أهلِ الشامِ: يا أبا هريرةَ، حدِّثنا حديثاً سمعتَه مِن رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قالَ:

سمعتُ رسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يقولُ: «أولُ الناسِ يُقضَى فيه يومَ القيامةِ ثلاثةٌ: رَجلٌ استُشهدَ فأُتيَ به، فعرَّفَه نِعمتَه فعَرَفَها فقالَ: ما عَملتَ فيها؟ قالَ: قاتلتُ في سبيلِكَ حتى استُشهدتُّ، قالَ: كَذبتَ، إنَّما أردتَّ أنْ يُقالَ فلانٌ جريءٌ،

--------------------------------------------

(1) ذكره ابن ناصر الدين في «جامع الآثار» (1/ 225) من رواية الحسين بن حماد الكوفي .. فذكره، ولم يذكر مخرجه، ثم أتبعه بأقوال الأئمة في تضعيف أبي معشر نجيح السندي.

قلتُ: والراويان قبله لم أتبينهما. والله أعلم.

(2) هي في الأصل أقرب إلى: «سيف» والمثبت من كتب الرواية.
বকর বিন আবদুর রাজ্জাক: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-আত্তার: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল কারীম বিন মুসা আদ-দারীর: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন বিন হাম্মাদ আল-কুফী: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মা'শার, সাঈদ বিন আবু সাঈদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বলেছেন: {এবং তার নিচে ছিল তাদের জন্য এক গুপ্তধন} [সূরা কাহাফ: ৮২]। তিনি বলেন: «এটি ছিল স্বর্ণের একটি ফলক, যাতে লেখা ছিল: তিনিই সেই সত্তা যিনি যা ফয়সালা করার তা করেছেন এবং যা অতিবাহিত হয়েছে তা লিপিবদ্ধ করেছেন। এরপর তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আমি নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করব, যিনি তাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ পাঠ করবেন এবং তাদের হিকমতের পথ দেখাবেন। তিনি রূঢ় স্বভাবের নন, কঠোর হৃদয় নন এবং বাজারে উচ্চৈঃস্বরে শোরগোলকারী নন। তিনি মন্দের বদলে মন্দ করেন না, বরং ক্ষমা ও মার্জনা করেন। তাঁর উম্মত হবে অধিক প্রশংসাকারী, যারা প্রতিটি অবনতি, আরোহণ এবং উচ্চ ভূমিতে মহান আল্লাহর প্রশংসা করবে।»(১)।

 

৫২৩ - (২৪) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাযী আবু আল-হুসাইন বিন গাসসান: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন বিন আল-ফারজ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হারিস বিন মুহাম্মাদ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আতা: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন জুরায়জ: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস বিন ইউসুফ(২), সুলাইমান বিন ইয়াসার থেকে। তিনি বলেন: মানুষজন আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর নিকট থেকে চলে গেলে শামের অধিবাসীদের ভাই নাতিল তাঁকে বললেন: হে আবু হুরায়রা, আপনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছেন এমন একটি হাদিস আমাদের বর্ণনা করুন। তিনি বললেন:

আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাদের বিচার করা হবে তারা হলো তিন ব্যক্তি: এক ব্যক্তি যাকে শহীদ করা হয়েছিল। তাকে (আল্লাহর সামনে) আনা হবে, এরপর আল্লাহ তাকে প্রদত্ত তাঁর নেয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন এবং সে তা চিনতে পারবে। আল্লাহ জিজ্ঞাসা করবেন: তুমি এই নেয়ামতসমূহ দিয়ে কী আমল করেছ? সে বলবে: আমি আপনার পথে যুদ্ধ করেছি যতক্ষণ না আমাকে শহীদ করা হয়েছে। আল্লাহ বলবেন: তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তুমি যুদ্ধ করেছিলে যাতে বলা হয় অমুক ব্যক্তি অনেক সাহসী।»

--------------------------------------------

(১) ইবনু নাসিরুদ্দীন এটি 'জামেউল আসার' (১/২২৫) গ্রন্থে হুসাইন বিন হাম্মাদ আল-কুফী এর বর্ণনা থেকে উল্লেখ করেছেন... এরপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন কিন্তু এর উৎস বর্ণনা করেননি। অতঃপর তিনি আবু মা'শার নাজীহ আস-সিন্দী-কে দুর্বল প্রতিপন্ন করার বিষয়ে ইমামগণের উক্তিগুলো উল্লেখ করেছেন।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এর পূর্বের দুইজন বর্ণনাকারীকে আমি চিহ্নিত করতে পারিনি। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

(২) এটি মূল পাণ্ডুলিপিতে 'সাইফ' শব্দের কাছাকাছি ছিল, তবে বর্ণনামূলক গ্রন্থসমূহ থেকে যা প্রমাণিত তা এখানে সাব্যস্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৭২)
فقَد قيلَ، فأُتيَ به فأُمرَ به فسُحبَ على وجهِهِ حتى أُلقيَ في النارِ، ورَجلٌ تعلَّمَ العلمَ وقَرأَ القرآنَ، فأُتيَ به فعَرَّفَه نِعمتَه فعَرَفَها، فقالَ: ما عَملت فيها؟ قالَ: تعلَّمتُ العلمَ وقَرأتُ القرآنَ وعلَّمتُه، قالَ: كَذبتَ، إنَّما أردتَّ أَن يُقالَ فلانٌ عالمٌ وفلانٌ قارئٌ، وقَد قيلَ، فأُمرَ به فسُحبَ على وجهِهِ حتى أُلقيَ في / النارِ، ورَجلٌ آتاهُ اللهُ تعالى مِن أنواعِ المالِ، فأُتيَ به فعَرَّفَه نِعمتَه فعَرَفَها، فقالَ: ما عَملتَ فيها؟ قالَ: ما تَركتُ مِن شيءٍ تُحبُّ أَن يُنفَقَ فيه إلا أَنفقتُهُ فيه، قالَ: كَذبتَ، إنَّما أردتَّ أَن يُقالَ فلانٌ جوادٌ، فَقد قيلَ، فأُمرَ به فسُحبَ على وجهِهِ حتى أُلقيَ في النارِ»(1).

 

524 - (25) حدثنا القاضي أبو عمرَ القاسمُ بنُ جعفرِ بنِ عبدِ الواحدِ: حدثنا محمدُ بنُ أحمدَ الأثرمُ: حدثنا أحمدُ بنُ يحيى بنِ مالكٍ: حدثنا يزيدُ بنُ هارونَ: أخبرنا سليمانُ التَّيميُّ: حدثنا أنسُ بنُ مالكٍ رضي الله عنه، عن بعضِ أصحابِ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم،

أنَّ رسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ليلةَ أُسريَ به مَرَّ على موسى عليه الصلاة والسلام وهو قائمٌ يُصلِّي في قبرِهِ(2).

 

525 - (26) حدثنا القاضي أبو الحسينِ عليُّ بنُ أحمدَ بنِ غسانَ: حدثنا (جعفر محمد)(3) بن محمدٍ المقرئُ: حدثنا جعفرُ بنُ محمدٍ الفِريابيُّ:

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم (1905) من طريق ابن جريج به.

(2) أخرجه النسائي (1636) (1637)، وأحمد (5/ 59، 362، 365)، وأبو يعلى (4067) من طريق سليمان التيمي به.

وهو عند مسلم (2375) وغيره من طريق سليمان التيمي، عن أنس، عن النبي ^.

(3) كذا في الأصل، ولعل الصواب: (أبو جعفر محمد) وفي طبقته: أبو جعفر محمد بن محمد المقرئ البغدادي، مترجم في «تاريخ الإسلام» (8/ 172) وغيره. والله أعلم.
(তা-ই) বলা হয়েছে, তারপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে তার চেহারার ওপর (উপুড় করে) টেনে নিয়ে যাওয়া হবে যতক্ষণ না তাকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করা হয়। আর এক ব্যক্তি যে ইলম অর্জন করেছে এবং কুরআন পাঠ করেছে, তাকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে তাঁর নেয়ামতসমূহ জানানো হবে এবং সে তা চিনতে পারবে (স্বীকার করবে)। তিনি বলবেন: তুমি এতে কী আমল করেছ? সে বলবে: আমি ইলম অর্জন করেছি এবং কুরআন পাঠ করেছি ও তা শিক্ষা দিয়েছি। তিনি বলবেন: তুমি মিথ্যা বলেছ, বরং তুমি চেয়েছিলে যেন বলা হয় অমুক ব্যক্তি একজন আলেম এবং অমুক ব্যক্তি একজন ক্বারী, আর তা বলা হয়েছে। এরপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে তার চেহারার ওপর টেনে নিয়ে যাওয়া হবে যতক্ষণ না তাকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করা হয়। আর এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন প্রকার সম্পদ দান করেছেন, তাকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে তাঁর নেয়ামতসমূহ জানানো হবে এবং সে তা চিনতে পারবে। তিনি বলবেন: তুমি এতে কী আমল করেছ? সে বলবে: আপনি যেখানে ব্যয় করা পছন্দ করেন এমন কোনো পথ আমি বাদ দিইনি যাতে আমি ব্যয় করিনি। তিনি বলবেন: তুমি মিথ্যা বলেছ, বরং তুমি চেয়েছিলে যেন বলা হয় অমুক ব্যক্তি একজন দানশীল, আর তা বলা হয়েছে। এরপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে তার চেহারার ওপর টেনে নিয়ে যাওয়া হবে যতক্ষণ না তাকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করা হয়।(১).

 

৫২৪ - (২৫) বিচারক আবু উমর আল-কাসিম ইবনে জাফর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-আছরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: সুলায়মান আত-তাইমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন,

যে রাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নৈশ ভ্রমণ (ইসরা) করানো হয়েছিল, তিনি মূসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন যখন তিনি তাঁর কবরে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন(২).

 

৫২৫ - (২৬) বিচারক আবু আল-হুসাইন আলী ইবনে আহমদ ইবনে গাসসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: (জাফর মুহাম্মদ)(৩) ইবনে মুহাম্মদ আল-মুকরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন:

--------------------------------------------

(১) মুসলিম (১৯০৫) একে ইবনে জুরাইজের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

(২) নাসাঈ (১৬৩৬) (১৬৩৭), আহমদ (৫/৫৯, ৩৬২, ৩৬৫) এবং আবু ইয়ালা (৪০৬৭) সুলায়মান আত-তাইমির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

এটি ইমাম মুসলিম (২৩৭৫) ও অন্যান্যদের নিকট সুলায়মান আত-তাইমি-এর সূত্রে, আনাস থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই রয়েছে, সম্ভবত সঠিকটি হবে: (আবু জাফর মুহাম্মদ); আর তাঁর স্তরে রয়েছেন: আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুকরি আল-বাগদাদি, যাঁর জীবনী ‘তারিখে ইসলাম’ (৮/১৭২) ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৭৩)
حدثنا حكيمُ بنُ سيفٍ: حدثنا عُبيدُ اللهِ بنُ عَمرو الرقيُّ، عن زيدِ بنِ أبي أُنيسةَ، عن عبدِ اللهِ بنِ عبدِ الرحمنِ، عن عبدِ الرحمنِ بنِ غَنمٍ(1)، عن أبي ذرٍّ رضي الله عنه قالَ:

قالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَن قالَ دُبرَ صلاةِ الفجرِ وهو ثانٍ رِجلَه قبلَ أَن يتكلَّمَ: لا إلهَ إلا اللهُ وحدَهُ لا شَريكَ له، له المُلكُ وله الحمدُ، يُحيي ويُميتُ، بيدِه الخيرُ وهو على كُلِّ شيءٍ قديرٌ، عشرَ مراتٍ كتبَ اللهُ عز وجل له بكُلِّ واحدةٍ قالَها عِتقَ رَقبةٍ، وكانَ يومَه ذلكَ في حِرزٍ مِن كُلِّ مَكروهٍ وحُرِسَ / مِن الشيطانِ، ولم يَنبغي لذَنبٍ أَن يُدرِكَه في ذلكَ اليومِ إلا الشركَ باللهِ تبارك وتعالى».

 

526 - (27) حدثنا القاضي أبو الحسينِ بنُ غسانَ: حدثنا عليُّ بنُ حُميدٍ الواسطيُّ: حدثنا محمدُ بنُ يونسَ: حدثنا عبدُ اللهِ بنُ عبدِ الوهابِ: حدثنا عليُّ بنُ أبي طالبٍ(2) اللَّهبيُّ، عن جعفرِ بنِ محمدٍ، عن أبيه، عن عليِّ

--------------------------------------------

(1) كذا هو في الأصل من رواية عبد الله بن عبد الرحمن بن أبي حسين عن عبد الرحمن بن غنم، ليس بينهما شهرَ بن حوشب، وقد أخرجه النسائي في «الكبرى» (9878)، والبزار (4050)، والدارقطني في «علله» (6/ 248 - 249)، وابن حجر في «نتائج الأفكار» (2/ 321) من طريق عبيد الله بن عمرو الرقي، عن زيد بن أبي أنيسة، عن ابن أبي حسين، عن شهر بن حوشب، عن ابن غنم به.

وكذلك أخرجه الترمذي (3474) من طريق عبيد الله الرقي لكن لم يذكر ابن أبي حسين في إسناده.

وقيل فيه غير ذلك، انظر «علل الدارقطني» (966) (1109)، و «مسند أحمد» 4/ 227 (17990).

(2) كذا في الأصل، وأغلب الظن أنه تحرف عن «علي بن أبي علي اللهبي» فالحديث معروف به. والله أعلم.
হাকিম ইবনে সাইফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: উবায়দুল্লাহ ইবনে আমর আর-রাক্কি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি যায়িদ ইবনে আবি উনাইসাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে গানম থেকে(১), তিনি আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি ফজরের সালাতের পর কথা বলার আগে পা ভাঁজ করা অবস্থায় থাকা অবস্থায় দশবার বলবে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই, তিনি জীবিত করেন ও মৃত্যু দান করেন, তাঁর হাতেই সকল কল্যাণ এবং তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান; আল্লাহ তাআলা তার জন্য প্রতিটি পাঠের বিনিময়ে একটি গোলাম মুক্ত করার সওয়াব লিখে দেবেন, সেদিন তিনি প্রতিটি অপছন্দনীয় বিষয় থেকে হিফাযতে থাকবেন এবং শয়তান থেকে সুরক্ষিত থাকবেন। আর শিরক ব্যতীত অন্য কোনো গুনাহের জন্য তাকে পাকড়াও করা সেই দিনে সমীচীন হবে না»।

 

৫২৬ - (২৭) কাযী আবুল হুসাইন ইবনে গাসসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আলী ইবনে হুমায়দ আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আলী ইবনে আবি তালিব(২) আল-লাহাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি জাফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলী থেকে...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবি হুসাইন-এর বর্ণনায় আব্দুর রহমান ইবনে গানম থেকে এভাবেই রয়েছে, তাঁদের উভয়ের মাঝে শাহর ইবনে হাওশাব নেই। নাসায়ি এটি তাঁর «আল-কুবরা» (৯৮৭৮), বাযযার (৪০৫০), দারাকুতনি তাঁর «ইলাল» (৬/ ২৪৮ - ২৪৯) এবং ইবনে হাজার «নাতাইজুল আফকার» (২/ ৩২১) গ্রন্থে উবায়দুল্লাহ ইবনে আমর আর-রাক্কি-এর সূত্রে, তিনি যায়িদ ইবনে আবি উনাইসাহ থেকে, তিনি ইবনে আবি হুসাইন থেকে, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি ইবনে গানম থেকে—এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে তিরমিযি (৩৪৭৪) উবায়দুল্লাহ আর-রাক্কি-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি তাঁর সনদে ইবনে আবি হুসাইনকে উল্লেখ করেননি। এ বিষয়ে আরও ভিন্ন মত রয়েছে, দেখুন: «ইলালুল দারাকুতনি» (৯৬৬) (১১০৯) এবং «মুসনাদে আহমাদ» ৪/ ২২৭ (১৭৯৯০)।

(২) মূলে এভাবেই আছে, তবে প্রবল ধারণা হলো যে এটি «আলী ইবনে আবি আলী আল-লাহাবি» থেকে বিকৃত বা পরিবর্তিত হয়েছে, কারণ হাদিসটি তাঁর মাধ্যমেই পরিচিত। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৭৪)
بنِ أبي طالبٍ رضي الله عنه قالَ:

قالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «إنَّ هذِه الدُّنيا مُرتحلةٌ وذاهِبةٌ، وإنَّ الآخرةَ مُرتحِلةٌ قادِمةٌ، ولكُلِّ واحدٍ مِنهما بَنونُ، فكُونوا مِن أبناءِ الآخرةِ ولا تَكونوا مِن أبناءِ الدُّنيا، فإنَّكم اليومَ في دارِ عملٍ ولا حسابَ، وأنتُم غداً في دارِ حسابٍ ولا عملَ»(1).

 

527 - (28) حدثنا القاضي أبو الحسينِ بنُ غسانَ: حدثنا عليُّ بنُ حُميدٍ: حدثنا محمدُ بنُ يونسَ: حدثنا مسلمُ بنُ إبراهيمَ: حدثنا هشامُ(2) بنُ يحيى: حدثنا معاويةُ بنُ قُرةَ، عن أبي عثمانَ النَّهديِّ، عن سلمانَ الفارسيِّ رضي الله عنه قالَ: ثلاثٌ أعجَبنَني حتى أضحَكنَني: مُؤملُ دُنيا والموتُ يَطلبُه، وغافلٌ وليسَ بمَغفولٍ عنه، وضاحكٌ لا يَدري أساخِطٌ عليه ربُّه أم راضي، وثلاثٌ أحزَنَّني حتى أبكينَني: فِراقُ محمدٍ والأحبَّةِ -أو قالَ: فِراقُ محمدٍ وحزبِه-، وهَولُ المَطلَعِ، والوقوفُ بينَ يدَي اللهِ عز وجل لا يَدري أيُؤمَرُ به

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو بكر الشافعي في «مجلسين من أماليه» (6 - مخطوط) -ومن طريقه ابن حجر في «تغليق التعليق» (5/ 159 - 160) -، والبيهقي في «الشعب» (10131) من طريق عبد الله بن عبد الوهاب الحجبي بزيادة فيه.

وقال الحافظ: فيه ضعف وانقطاع، والصواب الموقوف، والله أعلم.

وكان قبله قد ذكر الموقوف –الذي علقه البخاري في «صحيحه» - والخلاف في إسناده، فانظره.

وكذلك فعل الألباني في «الضعيفة» (2177) وقال: وبالجملة فالحديث لا يصح لا مرفوعاً ولا موقوفاً.

(2) كذا في الأصل، ولم أميزه، وأخشى أن يكون تحرف عن «حماد» وهو حماد بن يحيى الأبح، يروي هذا الأثر عن معاوية بن قرة، وذُكر في الرواة عنه مسلمُ بن إبراهيم. والله أعلم.
আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই এই দুনিয়া প্রস্থান করছে এবং চলে যাচ্ছে, আর নিশ্চয়ই আখেরাত প্রস্থান করে এগিয়ে আসছে। এদের প্রত্যেকেরই সন্তান (অনুসারী) রয়েছে। সুতরাং তোমরা আখেরাতের সন্তান হও, দুনিয়ার সন্তান হয়ো না। কেননা তোমরা আজ আমলের জগতে আছ যেখানে কোনো হিসাব নেই, আর আগামীকাল তোমরা হিসাবের জগতে থাকবে যেখানে কোনো আমল নেই»(১)।

 

৫২৭ - (২৮) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাজী আবু আল-হুসাইন ইবনে গাসসান: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে হুমাইদ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইউনুস: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসলিম ইবনে ইবরাহিম: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম(২) ইবনে ইয়াহইয়া: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ, আবু উসমান আল-নাহদি হতে, তিনি সালমান আল-ফারিসি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তিনটি বিষয় আমাকে আশ্চর্যান্বিত করেছে এমনকি আমাকে হাসিয়েছে: দুনিয়ার প্রত্যাশী অথচ মৃত্যু তাকে খুঁজছে, এমন গাফেল বা উদাসীন ব্যক্তি যার সম্পর্কে উদাসীনতা অবলম্বন করা হচ্ছে না (অর্থাৎ তার প্রতিটি কাজ লিপিবদ্ধ হচ্ছে), এবং এমন হাস্যকারী ব্যক্তি যে জানে না তার রব তার ওপর অসন্তুষ্ট নাকি সন্তুষ্ট। আর তিনটি বিষয় আমাকে ব্যথিত করেছে এমনকি আমাকে কাঁদিয়েছে: মুহাম্মাদ এবং তাঁর প্রিয়জনদের সাথে বিচ্ছেদ—অথবা তিনি বলেছেন: মুহাম্মাদ এবং তাঁর দলের সাথে বিচ্ছেদ—, মৃত্যু মুহূর্তের বিভীষিকা, এবং মহান আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হওয়া যখন সে জানে না তাকে কী আদেশ দেওয়া হবে (জান্নাত না জাহান্নামের দিকে)।

--------------------------------------------

(১) এটি আবু বকর আল-শাফিঈ তার ‘মাজলিসাইনি মিন আমালিহি’ (৬ - পাণ্ডুলিপি) গ্রন্থে এবং তাঁর সূত্রে ইবনে হাজার ‘তাগলিকুত তালিকে’ (৫/ ১৫৯ - ১৬০) ও আল-বায়হাকি ‘শুআবুল ঈমানে’ (১০১৩১) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আল-হাজাবি-এর সূত্রে বর্ধিত অংশসহ বর্ণনা করেছেন।

হাফিজ বলেন: এতে দুর্বলতা এবং সূত্রবিচ্ছিন্নতা রয়েছে, আর সঠিক হলো এটি মাওকুফ (সাহাবীর উক্তি)। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর আগে তিনি মাওকুফ বর্ণনাটি উল্লেখ করেছিলেন—যা ইমাম বুখারি তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে মুয়াল্লাক হিসেবে বর্ণনা করেছেন—এবং এর সনদের মতভেদ আলোচনা করেছেন, তা দেখে নিন।

অনুরূপভাবে আলবানী ‘আদ-দাঈফাহ’ (২১৭৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: মোদ্দাকথা হলো হাদিসটি মারফু (রাসূলের উক্তি) বা মাওকুফ কোনোভাবেই বিশুদ্ধ নয়।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এমনই রয়েছে, আমি একে সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে পারিনি। আমার আশঙ্কা এটি ‘হাম্মাদ’ থেকে বিকৃত হয়ে থাকতে পারে, আর তিনি হলেন হাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-আবাহ; তিনি এই আছরটি মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ থেকে বর্ণনা করেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে মুসলিম ইবনে ইবরাহিমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৭৫)
إلى جَنةٍ أو إلى نارٍ(1).

 

528 - (29) حدثنا أبو عبدِ اللهِ محمدُ بنُ الحسينِ الحاسبُ: حدثنا محمدُ بنُ المُعلَّى: حدثنا أبو بكرِ / بنُ دُريدٍ: حدثنا السكنُ بنُ سعيدٍ: حدثنا العباسُ بنُ الحسينِ، عن المَرزبانِ بنِ فهدٍ قالَ:

دَخلتُ على عَمرو بنِ العاصِ رضي الله عنهما وقَد احتُضرَ ودَخلَ عليه عبدُ اللهِ ابنُه فقالَ: يا عبدَ اللهِ، خُذ ذلكَ الصُّندوقَ، فقالَ له: لا حاجةَ لي فيه(2)، فقالَ عَمرو: ليتَه مَملوءاً بَعراً. وقالَ: فقلتُ: يا أبا عبدَ اللهِ إنَّكَ كنتَ تقولُ: أشتَهي أنْ أرَى رَجلاً عاقلاً يَموتُ فأسأَلَه كيفَ تَجدُ وكيفَ تَجدُكَ، قالَ: أجدُ السماءَ ظَهرَت على الأرضِ وأنا بينَهما، وأراني كأنَّما أتنفَّسُ مِن خرقِ(3) إبرةٍ، ثُم قالَ: اللهمَّ خُذ مِني حتى تَرضى، ثم رَفعَ يدَه فقالَ: اللهمَّ أمرتَ فعَصَينا، ونَهيتَ فرَكبْنا، ولا بريءٌ فأَعتذرُ، ولا قويٌّ فأنتصرُ، ولكنْ لا إلهَ إلا اللهُ، ثلاثاً، ثم فاظَ(4).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البيهقي في «الشعب» (10169)، وابن عساكر (21/ 444) من طريق حماد بن يحيى الأبح، عن معاوية بن قرة، عن سلمان الفارسي به، ليس في إسناده أبو عثمان النهدي.

وأخرجه ابن أبي الدنيا في «قصر الأمل» (29) من طريق سليمان التيمي، عن أبي عثمان النهدي، عن سلمان به.

وأخرجه الشجري في «أماليه» (2385)، وابن عساكر (21/ 444 - 445) من وجوه أخر عن سلمان الفارسي.

(2) زاد في «الكامل»: قال إنه مملوء مالاً، قال: لا حاجة لي به .. .

(3) كذا في الأصل، وفي «الكامل» -وكذا كتب اللغة والغريب-: خُرْت. وقال: يعني من ثقب إبرة.

(4) قال في «الكامل»: وقوله: «فاظ» أي مات .. .. ولا يقال: بالضاد إلا للإناء.

والأثر فلم أقف من هذا الوجه، وفي إسناده غير واحد لم أجد لهم ترجمة.

وقال المبرد في «الكامل» (1/ 212 - 213): وحدثني العباس بن الفرج الرياشي في إسناد ذكره آخره ابن عباس قال: دخلت على عمرو بن العاص وقد احتضر .. .. .. فذكره بنحوه. ثم قال: وقد روينا هذا الخبر من غير ناحية الرياشي بأتم من هذا، ولكن اقتصرنا على هذا لثقة إسناده.

وانظر بعض فقراته بأسانيد أخر في «تاريخ ابن عساكر» (46/ 191 - 192).
জান্নাতের দিকে অথবা আগুনের দিকে(১)।

 

৫২৮ - (২৯) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-হাসিব: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আল-মুয়াল্লা: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন দুরাইদ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আস-সাকান বিন সাঈদ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আব্বাস বিন আল-হুসাইন, আল-মারজুবান বিন ফাহদ থেকে, তিনি বলেন:

আমি আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট প্রবেশ করলাম যখন তিনি মৃত্যুশয্যায় ছিলেন। তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ তাঁর নিকট প্রবেশ করলে তিনি বললেন: হে আবদুল্লাহ, ঐ সিন্দুকটি গ্রহণ করো। তিনি বললেন: এতে আমার কোনো প্রয়োজন নেই(২)। তখন আমর বললেন: হায়, যদি এটি গোবর দ্বারা পূর্ণ থাকতো! তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি বললাম: হে আবু আবদুল্লাহ, আপনি তো বলতেন: আমি কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে মৃত্যু বরণ করতে দেখতে আগ্রহী হতাম যাতে তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারি যে আপনি কী অনুভব করছেন এবং আপনাকে কেমন দেখছেন? তিনি বললেন: আমি দেখতে পাচ্ছি আকাশ যেন যমিনের ওপর ভেঙে পড়েছে এবং আমি তাদের মাঝখানে রয়েছি। আর আমি মনে করছি যেন আমি একটি সুঁইয়ের ছিদ্র দিয়ে শ্বাস নিচ্ছি(৩)। অতঃপর তিনি বললেন: হে আল্লাহ, আপনি আমার থেকে গ্রহণ করুন যতক্ষণ না আপনি সন্তুষ্ট হন। এরপর তিনি তাঁর হাত তুললেন এবং বললেন: হে আল্লাহ, আপনি আদেশ করেছেন কিন্তু আমরা অবাধ্য হয়েছি, আর আপনি নিষেধ করেছেন কিন্তু আমরা তা লঙ্ঘন করেছি। আমি নির্দোষ নই যে ওজর পেশ করব, আর আমি শক্তিশালীও নই যে বিজয় লাভ করব, তবে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) - তিনবার বললেন, তারপর তিনি প্রাণ ত্যাগ করলেন(৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-বাইহাকী 'আশ-শুআব' গ্রন্থে (১০১৬৯) এবং ইবনে আসাকির (২১/৪৪৪) হাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আল-আবাহ-এর সূত্র ধরে মুয়াবিয়া বিন কুররা থেকে, তিনি সালমান আল-ফারসি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, এর সনদে আবু উসমান আন-নাহদি নেই।

ইবনে আবিদ দুনিয়া 'কাসরুল আমাল' গ্রন্থে (২৯) সুলায়মান আত-তাইমি থেকে, তিনি আবু উসমান আন-নাহদি থেকে, তিনি সালমান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আশ-শাজারি তার 'আমালি' গ্রন্থে (২৩৮৫) এবং ইবনে আসাকির (২১/৪৪৪-৪৪৫) সালমান আল-ফারসি থেকে অন্যান্য সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) 'আল-কামিল' গ্রন্থে বর্ধিত অংশ রয়েছে: তিনি বললেন যে এটি অর্থ দ্বারা পূর্ণ, তিনি বললেন: আমার এতে কোনো প্রয়োজন নেই...।

(৩) মূলে এভাবেই আছে, তবে 'আল-কামিল' এবং ভাষা ও দুর্লভ শব্দের কিতাবসমূহে 'খুরত' শব্দ এসেছে। তিনি বলেছেন: এর অর্থ সুঁইয়ের ছিদ্র।

(৪) 'আল-কামিল' গ্রন্থে বলা হয়েছে: তাঁর কথা 'ফাযা' অর্থ মারা যাওয়া... আর 'দাদ' দিয়ে এই শব্দটি কেবল পাত্রের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।

এই বর্ণনাটি আমি এই সূত্র থেকে পাইনি, আর এর সনদে এমন একাধিক ব্যক্তি রয়েছেন যাদের জীবনী আমি খুঁজে পাইনি।

আল-মুবররাদ 'আল-কামিল' গ্রন্থে (১/২১২-২১৩) বলেছেন: আল-আব্বাস বিন আল-ফারজ আর-রিয়াশি আমার নিকট এমন একটি সনদে বর্ণনা করেছেন যার শেষে ইবনে আব্বাস রয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আমর ইবনুল আস-এর নিকট প্রবেশ করলাম যখন তিনি মৃত্যুশয্যায় ছিলেন... অতঃপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। তারপর তিনি বলেন: আমরা এই সংবাদটি রিয়াশির সূত্র ছাড়াও অন্য পথ থেকে এর চেয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছি, কিন্তু সনদের নির্ভরযোগ্যতার কারণে আমরা এর ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি।

ইবনে আসাকিরের 'তারিখে' (৪৬/১৯১-১৯২) অন্যান্য সনদে এর কিছু অংশ দেখুন।
(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৭৬)
529 - (30) حدثنا أبو العلاءِ محمدُ بنُ يوسفَ بنِ جهام(1): حدثنا أبو سعيدٍ الفَسويُّ: حدثنا حمادُ بنُ شاكرٍ ومحمدُ بنُ يوسفَ قالا: حدثنا محمدُ بنُ إسماعيلَ: حدثنا عبدُ اللهِ بنُ مَسلمةَ، عن مالكٍ، عن سليمانَ(2)، عن أبي صالحٍ السَّمانِ، عن أبي هريرةَ رضي الله عنه قالَ:

إنَّ رسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم(3): «بينَما رَجلٌ بِطريقٍ اشتَدَّ عليه العَطشُ، فوَجدَ بِئراً فنَزلَ فيها فشَربَ ثم خَرجَ، فإذا كلبٌ يَتلهثُ يأكُلُ الثَّرى مِن العَطشِ، فقالَ الرَّجلُ: قَد بَلغَ هذا الكلبُ مِن العَطشِ الذي بلغَ بي، فنَزلَ البئرَ فمَلأَ خُفَّه ماءً فسقَى الكلبَ، فشكَرَ اللهُ عز وجل فغَفرَ له». قَالوا: يا رسولَ اللهِ / وإنَّ لنا في البهائمِ لأَجراً؟ فقالَ: «في كُلِّ ذاتِ كبدٍ رَطبةٍ أجرٌ».

 

530 - (31) حدثنا أبو الحسينِ عليُّ بنُ أحمدَ بنِ غسانَ: حدثنا محمدُ بنُ عليِّ بنِ حُبيشٍ: حدثنا محمدُ بنُ عبدِ اللهِ الحَضرميُّ: حدثنا

--------------------------------------------

(1) كذا في الأصل، وفي طبقته في بعض الأسانيد: أبو العلاء محمد بن يوسف بن حكام. والله أعلم.

(2) كذا في الأصل، وأغلب الظن أنه تحرف عن «سمي» فكذلك هو في «صحيح البخاري» (2466)، و «الموطأ» (2/ 929). والمصنف يرويه من طريقهما. والله أعلم.

(3) كذا في الأصل، والصواب: «إن رسول الله صلى الله عليه وسلم [قال]»، أو تكون «إن» تحرفت عن «قال». والله أعلم.
৫২৯ - (৩০) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল আলা মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে জিহাম(১): আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ আল-ফাসাওয়ী: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে শাকির এবং মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা, মালিক থেকে, সুলাইমান(২) থেকে, আবু সালিহ আস-সাম্মান থেকে, আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম(৩): «এক ব্যক্তি পথ চলছিলেন, তাঁর ভীষণ তৃষ্ণা পেল। তিনি একটি কূপ পেলেন এবং তাতে নেমে পানি পান করলেন। এরপর তিনি বেরিয়ে এসে দেখলেন একটি কুকুর হাঁপাচ্ছে এবং তৃষ্ণার চোটে ভিজা মাটি চাটছে। লোকটি মনে মনে বললেন: এই কুকুরটি তৃষ্ণার সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে পর্যায়ে আমি পৌঁছেছিলাম। সুতরাং তিনি কূপে নামলেন এবং তাঁর মোজা পানিতে পূর্ণ করলেন, অতঃপর কুকুরটিকে পানি পান করালেন। ফলে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হলেন (তাঁর আমল কবুল করলেন) এবং তাকে ক্ষমা করে দিলেন। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! চতুষ্পদ জন্তুর ক্ষেত্রেও কি আমাদের জন্য সওয়াব রয়েছে? তিনি বললেন: প্রত্যেক সজীব প্রাণের (আর্দ্র কলিজা বিশিষ্ট) মধ্যেই সওয়াব রয়েছে»।

 

৫৩০ - (৩১) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল হুসাইন আলী ইবনে আহমদ ইবনে গাসসান: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুবাইশ: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাদরামি: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে তাঁর সমসাময়িক বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে কিছু সনদে রয়েছে: আবুল আলা মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে হাক্কাম। আল্লাহই ভালো জানেন।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে প্রবল ধারণা যে এটি «সুমাইয়ি» শব্দ থেকে বিকৃত হয়ে গেছে, কারণ «সহীহ বুখারী» (২৪৬৬) এবং «মুয়াত্তা» (২/৯২৯)-তে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। আর গ্রন্থকার তাঁদের সূত্রেই এটি বর্ণনা করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে সঠিক হলো: «নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম [বলেছেন]», অথবা «ইন্না» (নিশ্চয়ই) শব্দটি «কালা» (বলেছেন) থেকে বিকৃত হয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৭৭)
محمدُ بنُ عبدِ اللهِ بنِ نُميرٍ: حدثنا خالدُ بنُ مَخلدٍ، عن حمزةَ الزَّياتِ، عن الأعمشِ، عن مصعبِ بنِ سعدٍ، عن أبيه قالَ:

قالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «فَضلُ العِلمِ أحبُّ إليَّ مِن فَضلِ العبادةِ، وخيرُ دِينِكم الوَرعُ»(1).

 

531 - (32) حدثنا القاضي أبو عمرَ القاسمُ بنُ جعفرِ بنِ عبدِ الواحدِ: حدثنا عليُّ بنُ إسحاقَ المادَرَائيُّ: حدثنا عباسُ بنُ محمدٍ الدُّوريُّ: حدثنا عبدُ اللهِ بنُ يزيدَ: حدثنا حَيوةُ، عن بكرِ بنِ عَمرو، عن عبدِ اللهِ بنِ هُبيرةَ، عن أبي تَميمٍ الجَيشانيِّ، عن عمرَ بنِ الخطابِ رضي الله عنه قالَ:

سمعتُ رسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يقولُ: «لو أنَّكم تَوكَّلونَ على اللهِ تَعالى حَقَّ تَوكُّلِه لرَزَقكم كما يَرزقُ الطيرَ تَغدو خِماصاً وتَروحُ بِطاناً»(2).

 

532 - (33) حدثنا القاضي أبو عمرَ بنُ عبدِ الواحدِ: حدثنا الحسينُ بنُ محمدِ بنِ عثمانَ: حدثنا محمدٌ: حدثنا أبو حذيفةَ: حدثنا إبراهيمُ بنُ

--------------------------------------------

(1) أخرجه الشاشي في «مسنده» (75)، والحاكم (1/ 92)، والبيهقي في «الآداب» (830)، وفي «الزهد» (821)، والضياء في «المختارة» (1068) من طريق خالد بن مخلد به.

واختلف فيه على الأعمش على وجوه ذكرها الدارقطني في «علله» (591) (1935) ثم قال: وليس يثبت من هذه الأسانيد شيء، وإنما يروى هذا عن مطرف بن عبد الله بن الشخير من قوله.

(2) أخرجه الترمذي (2344)، وابن ماجه (4164)، والنسائي في «الكبرى» (11805)، وأحمد (1/ 30، 52)، وابن حبان (730)، والحاكم (4/ 318)، والبيهقي في «الشعب» (1139)، والضياء في «المختارة» (228) من طريق عبد الله بن هبيرة به.

وقال الترمذي: حسن صحيح. وصححه الحاكم، والألباني في «الصحيحة» (311).
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুমাইর: খালিদ বিন মাখলাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হামযাহ আল-যাইয়াত থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি মুসআব বিন সাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন:

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «ইবাদতের শ্রেষ্ঠত্বের চেয়ে ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব আমার নিকট অধিক প্রিয়, আর তোমাদের দ্বীনের সর্বোত্তম বিষয় হলো ওয়ারা (পরহেযগারী)»(১)।

 

৫৩১ - (৩২) আমাদের নিকট কাজী আবু উমর আল-কাসিম বিন জাফর বিন আব্দুল ওয়াহিদ বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট আলী বিন ইসহাক আল-মাদারাঈ বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট আব্বাস বিন মুহাম্মাদ আদ-দুরী বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন ইয়াযীদ বর্ণনা করেছেন: হাইওয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বকর বিন আমর থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন হুবাইরা থেকে, তিনি আবু তামীম আল-জাইশানী থেকে, তিনি উমর বিন আল-খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন:

আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «যদি তোমরা আল্লাহর ওপর সঠিক ও যথাযথভাবে ভরসা করতে, তবে তিনি তোমাদের এমনভাবে রিযিক দান করতেন যেমন তিনি পাখিকে রিযিক দান করেন; তারা সকালে ক্ষুধার্ত অবস্থায় বের হয় এবং সন্ধ্যায় তৃপ্ত হয়ে ফিরে আসে»(২)।

 

৫৩২ - (৩৩) আমাদের নিকট কাজী আবু উমর বিন আব্দুল ওয়াহিদ বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট আল-হুসাইন বিন মুহাম্মাদ বিন উসমান বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট আবু হুযাইফা বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট ইব্রাহীম বিন...

--------------------------------------------

(১) এটি আশ-শাশী তাঁর «মুসনাদ» (৭৫), আল-হাকিম (১/ ৯২), আল-বাইহাকী «আল-আদাব» (৮৩০) এবং «আয-যুহদ» (৮২১)-এ এবং আদ-দিয়া «আল-মুখতারা» (১০৬৮)-এ খালিদ বিন মাখলাদ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

আমাশ-এর সূত্রে এর বর্ণনার ধরনে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে যা আদ-দারাকুতনী তাঁর «আল-ইলাল» (৫৯১) (১৯৩৫)-এ উল্লেখ করেছেন এবং এরপর বলেছেন: এই সনদগুলোর কোনটিই সাব্যস্ত নয়, বরং এটি মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ বিন আশ-শিখখীর-এর উক্তি হিসেবে বর্ণিত।

(২) এটি আত-তিরমিযী (২৩৪৪), ইবনে মাজাহ (৪১৬৪), আন-নাসায়ী «আল-কুবরা» (১১৮০৫), আহমাদ (১/ ৩০, ৫২), ইবনে হিব্বান (৭৩০), আল-হাকিম (৪/ ৩১৮), আল-বাইহাকী «আশ-শুআব» (১১৩৯) এবং আদ-দিয়া «আল-মুখতারা» (২২৮)-এ আব্দুল্লাহ বিন হুবাইরা-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম তিরমিযী বলেছেন: হাসান সহীহ। আল-হাকিম একে সহীহ বলেছেন এবং আলবানী «আস-সহীহা» (৩১১)-তে একে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) জুজউল মুনাদীলী (পৃষ্ঠা: ৪৭৮)
طَهمانَ، عن إبراهيمَ الهَجريِّ، عن ابنِ أبي أَوفَى قالَ:

صلَّيتُ مع رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم على جنازةٍ فكبَّرَ أربعاً(1).

 

533 - (34) حدثنا أبو عمرَ بنُ عبدِ الواحدِ: حدثنا أحمدُ بنُ عُبيدٍ الصَّفارُ: حدثنا ابنُ مِلْحانَ: حدثنا ابنُ بُكيرٍ: حدثنا ليثٌ، عن ابنِ الهادِ، عن محمدِ بنِ إبراهيمَ، عن عيسى بنِ طلحةَ،/ عن أبي هريرةَ رضي الله عنه،

أنَّه سمعَ رسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يقولُ: «إنَّ العبدَ ليتكلَّمُ بالكلمةِ يزِلُّ بها في النارِ أبعَدَ ما بينَ المَشرقِ والمَغربِ»(2).

 

534 - (35) حدثنا القاضي أبو الحسينِ بنُ غسانَ: حدثنا إبراهيمُ بنُ عليٍّ الهُجيميُّ: حدثنا محمدُ بنُ الحسينِ بنِ أبي الحسينِ(3): حدثنا الحسنُ بنُ الربيعِ: حدثنا أبو بكرِ بنُ عياشٍ، عن عاصمٍ وهو الأحولُ، عن أنسِ بنِ مالكٍ رضي الله عنه قالَ:

قالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «ألا أُنبئُكم بما يَرفعُ الدَّرجاتِ: انتظارُ الصلاةِ بعدَ الصلاةِ، ونقلُ الأقدامِ إلى الجُمعاتِ، وإسباغُ الوُضوءِ في السَّبَراتِ(4)».

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن ماجه (1503)، وأحمد (4/ 356، 383)، والحميدي (735)، والبزار (3355)، والحاكم (1/ 359 - 360)، والبيهقي (4/ 36، 42 - 43) من طريق إبراهيم الهجري بنحوه وفيه قصة.

(2) أخرجه البخاري (6477)، ومسلم (2988) من طريق يزيد بن الهاد به.

(3) هذا هو الأقرب لما في الأصل، وفي طبقته مترجَم في «الثقات» (9/ 136)، وقد رواه ابن البختري عن محمد بن الحسين بن أبي الحنين الحنيني عن الحسن بن الربيع. والله أعلم.

(4) في الهامش: جمع سبرة وهي شدة البرد.

والحديث أخرجه البزار (263 - زوائده)، وابن البختري في «أماليه» (112)، وقوام السنة في «الترغيب والترهيب» (908) من طريق أبي بكر بن عياش به.

وقال الدارقطني في «علله» (2489): وعاصم لم يسمع من أنس شيئاً، والحديث مرسل.

وقال في «المجمع» (1/ 237) وعاصم بن بهدلة لم يسمع من أنس، وبقية رجاله ثقات.

وله طرق بنحوه عن أنس وشواهد انظرها في «الصحيحة» (1802).
তাহমান বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম আল-হাজরী থেকে, তিনি ইবনে আবী আওফা থেকে, তিনি বলেন:

আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে এক জানাযার সালাত আদায় করেছি, সেখানে তিনি চারবার তাকবীর দিয়েছেন(১)।

 

৫৩৩ - (৩৪) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ওমর বিন আব্দুল ওয়াহিদ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন উবাইদ আস-সাফফার: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে মিলহান: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে বুকাইর: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস, ইবনে আল-হাদ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম থেকে, তিনি ঈসা বিন তালহা থেকে, আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে,

তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: «নিশ্চয়ই বান্দা এমন কথা বলে ফেলে যার কারণে সে জাহান্নামের অতলে এমন দূরত্বে নিক্ষিপ্ত হয়, যা পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্বের চেয়েও বেশি»(২)।

 

৫৩৪ - (৩৫) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ক্বাদী আবু আল-হুসাইন বিন গাসসান: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম বিন আলী আল-হুজাইমী: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন বিন আবী আল-হুসাইন(৩): আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন আর-রাবী: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আইয়াশ, আসিম—যিনি আল-আহওয়াল—থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমি কি তোমাদের এমন কিছু জানাব না যা মর্যাদা বৃদ্ধি করে? এক সালাতের পর অন্য সালাতের জন্য অপেক্ষা করা, জুমুআর দিকে পদযাত্রা করা এবং তীব্র শীতেও পরিপূর্ণভাবে উযূ সম্পন্ন করা»(৪)।

--------------------------------------------

(১) এটি ইবনে মাজাহ (১৫০৩), আহমাদ (৪/ ৩৫৬, ৩৮৩), আল-হুমাইদী (৭৩৫), আল-বাযযার (৩৩৫৫), আল-হাকিম (১/ ৩৫৯-৩৬০) এবং আল-বাইহাকী (৪/ ৩৬, ৪২-৪৩) ইবরাহীম আল-হাজরীর সূত্র ধরে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং এতে একটি কাহিনী রয়েছে।

(২) এটি আল-বুখারী (৬৪৭৭) এবং মুসলিম (২৯৮৮) ইয়াযীদ বিন আল-হাদ-এর সূত্র ধরে বর্ণনা করেছেন।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে যা আছে তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে নির্ভুল পাঠ, এবং তার সমসাময়িক স্তরের বর্ণনাকারীদের জীবনী ‘আত-সিকাত’ (৯/ ১৩৬) গ্রন্থে রয়েছে। ইবনুল বাখতারী এটি মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন বিন আবী আল-হুনাইন আল-হুনাইনীর সূত্রে আল-হাসান বিন আর-রাবী থেকে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

(৪) পার্শ্বটীকায় রয়েছে: ‘সাবারাত’ হলো ‘সাবরাহ’-এর বহুবচন, যার অর্থ তীব্র শীত।

হাদীসটি আল-বাযযার (২৬৩ - যাওয়াইদ), ইবনুল বাখতারী তার ‘আমালি’ (১১২) গ্রন্থে এবং ক্বাওয়ামুস সুন্নাহ ‘আত-তারগীব ওয়াত তারহীব’ (৯০৮) গ্রন্থে আবু বকর বিন আইয়াশ-এর সূত্র ধরে বর্ণনা করেছেন।

আদ-দারাকুতনী তার ‘ইলাল’ (২৪৮৯) গ্রন্থে বলেছেন: আসিম আনাস থেকে সরাসরি কিছুই শোনেননি, তাই হাদীসটি মুরসাল।

‘আল-মাজমা’ (১/ ২৩৭) গ্রন্থে বলা হয়েছে: আসিম বিন বাহদালা আনাস থেকে শোনেননি, তবে বর্ণনাকারী দলের বাকি সবাই নির্ভরযোগ্য (সিক্বাহ)।

আনাস থেকে এর অনুরূপ আরও অনেক সূত্র ও সমর্থক বর্ণনা রয়েছে, সেগুলো ‘আস-সাহীহা’ (১৮০২) গ্রন্থে দেখুন।