(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: -)
تراجم الأوائل والخلفاء (الأعلام الصغرى)   (خير الدين الزركلي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: تراجم الأوائل والخلفاء (الأعلام الصغرى)

[اسم الكتاب من اختيار المحقق]

المؤلف: خير الدين الزركلي

راجعه وقدم له: د. محمد سلمان

الناشر: الهيئة المصرية العامة للكتاب، القاهرة - مصر

عام النشر: 2014 م

عدد الصفحات: 237

تنبيه: المخطوط كاملا (بخط المؤلف) مصور في آخر النسخة المطبوعة، ويقول المؤلف (صـ 241) «لم أضع لهذا الكتاب اسما ولا مقدمة، ولا أكملته. وأظنني كتبته حوالي سنة 1928 أيام وضعت «معجم ما ليس في المعاجم» لقصاصات الصحف».

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو الحجة 1446

প্রথম যুগের ব্যক্তিবর্গ ও খলিফাদের জীবনী (আল-আ'লাম আস-সুগরা)   (খাইরুদ্দিন আজ-জিরিকলি)

বিভাগ: জীবনী ও শ্রেণিবিভাগ


গ্রন্থ: প্রথম যুগের ব্যক্তিবর্গ ও খলিফাদের জীবনী (আল-আ'লাম আস-সুগরা)

[গ্রন্থের নাম সম্পাদকের নির্বাচনকৃত]

লেখক: খাইরুদ্দিন আজ-জিরিকলি

পর্যালোচনা ও ভূমিকা: ড. মুহাম্মদ সালমান

প্রকাশক: আল-হায়আহ আল-মিসরিয়্যাহ আল-আম্মাহ লিল-কিতাব (মিশরীয় সাধারণ গ্রন্থ সংস্থা), কায়রো - মিশর

প্রকাশের বছর: ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ২৩৭

সতর্কবার্তা: সম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপিটি (লেখকের স্বহস্তে লিখিত) মুদ্রিত কপির শেষে চিত্রিত করা হয়েছে, এবং লেখক বলেন (পৃষ্ঠা ২৪১) «আমি এই গ্রন্থের কোনো নাম দেইনি, কোনো ভূমিকাও লিখিনি এবং এটি সম্পন্নও করিনি. আমার ধারণা, আমি এটি ১৯২৮ সালের দিকে লিখেছিলাম, যখন আমি সংবাদপত্রের সংবাদের কাগজের টুকরোগুলোর জন্য «মু'জাম মা লাইসা ফিল মা'আজিম» রচনা করছিলাম.»

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ জিলহজ ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌تقديم

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام علي الهادي الأمين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه ومن تبع هداه إلى يوم الدين وبعد.

فهذا كتاب جديد للإمام خير الدين الزركلي، نقدمه للقارئ العربي للمرة الأولى بعد ما ظل حبيس الأدراج لسنوات طويلة.

خير الدين بن محمود بن محمد بن علي بن فارس الزرقي (الأزرقي) المعروف فيما بعد بالزركلي (بكسر الزاي والراء) الدمشقي، وأصل نسبه (الزركلي) هو: الزرقلي، نسبة إلى قبيلة كردية زعيمها حسن الأزرقي حاكم ولاية ماردين ولما كانت نسبة الأعلام عند الأتراك في الأسماء هي (لي) فقد عرفت القبيلة بالزرقلية أو الزركلية.

ولد ليلة 9 من ذي الحجة 1310 هـ (25 يونية 1893 م) في بيروت، وكانت لوالده تجارة فيها، وهو وأمه دمشقيان.

ونشأ بدمشق، فتعلم في إحدى مدارسها الأهلية. وأخذ عن علمائها، على الطريقة القديمة، واتفق أن رأى أحد الصبيان المجاورين لبيته وهو متأبط كتابا صغيرا حسن التجليد، وتبرق ورقته الأولى جدة وحسنا فاندفع إلى سؤاله عنه، وكان مولعا بقراءة القصص كقصة عنترة وبني هلال وأشتات من تلك الأساطير، فلما رأى الكتاب يتأبطه الصغير، وسأله عن اسمه أجابه بكل كبرياء وعجب: هذا كتاب علم .. وبعد جهد بذله الزركلي عرف أنه كتاب (الآجرومية) في النحو فأحدث في نفسه هوى جديدا، فأقبل على دراسة النحو واللغة والأدب، ثم مال إلى التاريخ فقرأ جانبا من تاريخ الإسلام، وقليلا من التاريخ العام واتسع نطاق الميل، فدرس العروض والمعاني والبيان والفقه والتوحيد، وأولع بكتب
ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সত্যপথ প্রদর্শনকারী বিশ্বস্ত ব্যক্তিত্ব, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হেদায়েতের অনুসরণ করবেন তাদের ওপর। এরপর:

এটি ইমাম খাইরুদ্দিন আল-জিরিকলির একটি নতুন বই, যা দীর্ঘ বছর যাবৎ পাণ্ডুলিপি আকারে অপ্রকাশিত থাকার পর প্রথমবারের মতো আমরা আরব পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করছি।

খাইরুদ্দিন বিন মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন ফারিস আল-জুরকি (আল-আজরুকি), যিনি পরবর্তীতে দামেশকি জিরিকলি (যায় এবং রা বর্ণে যের যোগে) নামে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর বংশীয় উপাধি (জিরিকলি)-এর মূল হলো: জুরকালি, যা মূলত একটি কুর্দি গোত্রের সাথে সম্পৃক্ত যার নেতা ছিলেন মারদিন প্রদেশের শাসক হাসান আল-আজরুকি। তুর্কিদের নামকরণের পদ্ধতিতে নামের শেষে (লি) যুক্ত করার প্রচলন থাকায় এই গোত্রটি জুরকালিয়া বা জিরিকলিয়া নামে পরিচিত হয়।

তিনি ১৩১০ হিজরির ৯ই জিলহজ রাতে (২৫ জুন ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দ) বৈরুতে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানে তাঁর পিতার ব্যবসা ছিল, তবে তাঁর পিতা ও মাতা উভয়ই ছিলেন দামেশকবাসী।

তিনি দামেশকে বেড়ে ওঠেন এবং সেখানকার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি প্রাচীন পদ্ধতিতে সেখানকার আলেমদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। ঘটনাক্রমে তিনি তাঁর বাড়ির প্রতিবেশী এক বালককে বগলে একটি সুন্দর বাঁধানো ছোট বই নিয়ে যেতে দেখেন, যার প্রথম পাতাটি নতুনত্ব ও সৌন্দর্যে উজ্জ্বল ছিল। তিনি তাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে উদ্বুদ্ধ হলেন। তিনি তখন আনতারা ও বনু হিলালের কাহিনীর মতো বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী পড়তে আগ্রহী ছিলেন। যখন তিনি বালকটির বগলে বইটিকে দেখলেন এবং তাকে সেটির নাম জিজ্ঞেস করলেন, বালকটি অত্যন্ত গর্ব ও বিস্ময়ের সাথে উত্তর দিল: এটি ইলমের কিতাব... অনেক প্রচেষ্টার পর জিরিকলি জানতে পারলেন যে এটি নাহু শাস্ত্রের বই (আল-আজুরুমিয়্যাহ)। এটি তাঁর মনে এক নতুন আগ্রহের সৃষ্টি করল। এরপর তিনি নাহু, ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যয়নে মনোনিবেশ করলেন। পরে ইতিহাসের দিকে ঝুঁকলেন এবং ইসলামের ইতিহাসের কিছু অংশ ও সাধারণ ইতিহাসের কিছু অংশ পাঠ করলেন। তাঁর এই আগ্রহের পরিধি আরও বিস্তৃত হলো; তিনি আরূজ (ছন্দতত্ত্ব), মাআনি, বায়ান (অলংকারশাস্ত্র), ফিকহ ও তাওহীদ অধ্যয়ন করলেন এবং কিতাবসমূহের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়লেন।
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ৮)
الأدب، ونظم الأبيات من الشعر، في صباه، وأدى امتحان «القسم العلمي» في المدرسة الهاشمية. ودرس فيها.

وأصدر مجلة «الأصمعي» أسبوعية، فصادرتها الحكومة العثمانية، لصورة كتبت أنها صورة «الخليفة العربي» المأمون.

وذهب إلى بيروت، فانقطع إلى الكلية العلمانية (لاييك) تلميذا في دراساتها الفرنسية، ثم أستاذا للتاريخ والأدب العربي فيها.

ورجع، في أوائل الحرب العالمية الأولى، إلى دمشق. وأصدر بها، بعد الحرب (1918) جريدة «لسان العرب» يومية، مع أحد الأصدقاء. وأقفلت؛ فشارك في إصدار «المفيدة» يومية أيضا. وهيأ للطبع مجموعة من شعره أطلق عليها «عبث الشباب» فالتهمتها النار، وأكلت أصولها!

وعلى إثر وقعة «ميسلون»، في صباح اليوم الذي كان الفرنسيون يدخلون به دمشق (1920) غادر إلى فلسطين، فمصر، فالحجاز. وصدر حكم الفرنسيين (غيابيا) بإعدامه، وحجز أملاكه.

وفي سنة 1921 تجنس بالجنسية العربية في الحجاز. وانتدبه الملك حسين ابن علي، لمساعدة ابنه «الأمير عبد الله»، وهو في طريقه إلى شرقي الأردن، فمهد السبيل لدخول عبد الله وإنشاء الحكومة الأولى في عمان. وسمي في تلك الحكومة مفتشا عاما للمعارف، فرئيسا لديوان رئاسة الحكومة.

وفي خلال ذلك أبلغت حكومة «الجمهورية الفرنسية» بيته في دمشق، أنها قررت وقف تنفيذ حكمها عليه، فكانت فرصة له لزيارة دمشق، والعودة منها بعائلته إلى العاصمة الأردنية.

وقصد مصر، فأنشأ «المطبعة العربية» في القاهرة (أواخر 1923) وطبع فيها بعض كتبه، ونشر كتبا أخرى.

وثارت سورية على الاحتلال الفرنسي (1925)، فأذاع الفرنسيون حكما ثانيا (غيابيا أيضا) بإعدامه!
সাহিত্য এবং শৈশবকালে কাব্যচর্চা করেছেন এবং হাশেমিয়া মাদরাসায় ‘বিজ্ঞান বিভাগ’-এর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সেখানে অধ্যয়ন করেছেন।

তিনি ‘আল-আসমায়ী’ নামক একটি সাপ্তাহিক সাময়িকী প্রকাশ করেন, যা উসমানীয় সরকার বাজেয়াপ্ত করে; কারণ সেখানে একটি ছবি ছিল যাতে লেখা ছিল এটি ‘আরব খলিফা’ আল-মামুনের ছবি।

তিনি বৈরুতে গমন করেন এবং সেখানে সেক্যুলার কলেজে (লাইক) ফরাসি ভাষার ছাত্র হিসেবে এবং পরবর্তীতে সেখানে ইতিহাস ও আরবি সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে আত্মনিয়োগ করেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে তিনি দামেস্কে প্রত্যাবর্তন করেন। যুদ্ধের পর (১৯১৮) তিনি এক বন্ধুর সাথে মিলে ‘লিসানুল আরব’ নামক একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। সেটি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি ‘আল-মুফিদা’ নামক আরেকটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশেও শরিক হন। তিনি তার কাব্যগ্রন্থ ‘আবাসুশ শাবাব’ মুদ্রণের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন, কিন্তু অগ্নিকাণ্ডে তার মূল পাণ্ডুলিপিগুলো ভস্মীভূত হয়ে যায়।

‘মাইসালুন’ যুদ্ধের পর, যেদিন সকালে ফরাসীরা দামেস্কে প্রবেশ করছিল (১৯২০), তিনি ফিলিস্তিন, তারপর মিশর এবং পরিশেষে হিজাজে চলে যান। ফরাসীরা তার অনুপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ জারি করে।

১৯২১ সালে তিনি হিজাজে আরব নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। বাদশাহ হুসাইন ইবনে আলী তাকে তার পুত্র ‘আমির আবদুল্লাহর’ সহযোগিতায় নিযুক্ত করেন, যখন তিনি পূর্ব জর্ডানের পথে ছিলেন। ফলে তিনি আবদুল্লাহর প্রবেশের পথ সুগম করেন এবং আম্মানে প্রথম সরকার প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সরকারে তিনি শিক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শক এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন।

এই সময়ের মধ্যে ‘ফরাসি প্রজাতন্ত্র’ সরকার দামেস্কে তার বাড়িতে বার্তা পাঠায় যে, তারা তার উপর থেকে দণ্ডাদেশ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি তার জন্য দামেস্ক সফর এবং সেখান থেকে তার পরিবারকে জর্ডানের রাজধানীতে ফিরিয়ে আনার একটি সুযোগ এনে দেয়।

তিনি মিশরের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং কায়রোতে (১৯২৩ সালের শেষভাগে) ‘আল-মাতবাআহ আল-আরাবিয়্যাহ’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে তার কিছু কিতাব মুদ্রণ ও অন্যান্য গ্রন্থ প্রকাশ করেন।

১৯২৫ সালে সিরিয়া ফরাসি দখলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে ফরাসীরা দ্বিতীয়বারের মতো তার বিরুদ্ধে (অনুপস্থিতিতেই) মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে!
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ৯)
وساءت صحته في عمله بالمطبعة، فباعها (سنة 1927).

واستجم ثلاث سنوات، زار خلالها الحجاز، مدعوا، بعد أن تسلم آل سعود مقاليد الحكم فيه.

وذهب إلى القدس (1930) فأصدر، مع زميلين، جريدة «الحياة» يومية.

وعطلتها الحكومة الإنجليزية. فاتفق مع آخرين على إصدار جريدة يومية أخرى في «يافا» وأعد لها مطبعة، وأصدر العدد الأول منها.

وأبلغه صاحب السمو الملكي الأمير فيصل آل سعود، تعيينه (1934) مستشارا للوكالة (ثم المفوضية العربية السعودية بمصر؛ فترك الجريدة لمن والى إصدارها، وتحول إلى القاهرة.

ومثل حكومة السعودية، في عدة مؤتمرات دولية. وشارك في مؤتمرات أدبية واجتماعية.

وانتدب (1946) لإدارة وزارة الخارجية بجدة. وصدر مرسوم ملكي بأن يتناوب مع صديقه الشيخ يوسف ياسين - وزير الخارجية بالنيابة - العمل في الوزارة وفي جامعة الدول العربية، معا.

وسمي (1951) وزيرا مفوضا ومندوبا دائما لدى الجامعة، فشعر بالاستقرار بمصر.

وعين (1957) سفيرا ومندوبا ممتازا - حسب التعبير الرسمي - في المغرب، حيث آل إليه عمادة السلك السياسي في المغرب، فقام بها مدة ثلاث سنوات.

ومرض سنة (1963) ودعي إلى الرياض، فمنح إجازة للراحة والتداوي، غير محدودة. واختار الإقامة في بيروت، فعكف على إنجاز كتاب كان قد بدأ بوضعه في سيرة عاهل الجزيرة الأول «الملك عبد العزيز آل سعود» وهيأه للطبع سنة 1970.

وكان المجمع العلمي العربي بدمشق، قد تفضل عام 1930) فضمه إلى
ছাপাখানায় কাজ করার ফলে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে, তাই তিনি ১৯২৭ সালে সেটি বিক্রি করে দেন।

তিনি তিন বছর বিশ্রাম গ্রহণ করেন, যে সময়ে তিনি আমন্ত্রিত হয়ে হিজাজ সফর করেন; তখন আল-সৌদ পরিবার সেখানে ক্ষমতার বাগডোর গ্রহণ করেছিল।

তিনি ১৯৩০ সালে কুদস গমন করেন এবং দুইজন সহকর্মীর সাথে মিলে 'আল-হায়াত' নামক একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।

ব্রিটিশ সরকার তা বন্ধ করে দেয়। এরপর তিনি অন্যদের সাথে 'ইয়াফা' শহর থেকে আরেকটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশের বিষয়ে একমত হন, এর জন্য একটি ছাপাখানা প্রস্তুত করেন এবং তার প্রথম সংখ্যা প্রকাশ করেন।

রাজকীয় উচ্চপদস্থ প্রিন্স ফয়সাল আল-সৌদ তাঁকে ১৯৩৪ সালে (সৌদি) এজেন্সির (যা পরবর্তীতে মিশরে সৌদি আরবীয় মিশনে রূপান্তরিত হয়) উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর নিয়োগের কথা জানান; ফলে তিনি পত্রিকাটি যারা এটি প্রকাশ অব্যাহত রেখেছিলেন তাঁদের হাতে ন্যস্ত করেন এবং কায়রোতে চলে যান।

তিনি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সৌদি সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং বিভিন্ন সাহিত্যিক ও সামাজিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

তিনি ১৯৪৬ সালে জেদ্দায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিচালনার জন্য নিযুক্ত হন। একটি রাজকীয় ফরমান জারি করা হয় যে, তিনি তাঁর বন্ধু শেখ ইউসুফ ইয়াসিন—যিনি ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন—এর সাথে পর্যায়ক্রমে মন্ত্রণালয়ে এবং আরব লীগে একযোগে দায়িত্ব পালন করবেন।

১৯৫১ সালে তিনি পূর্ণক্ষমতাপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও আরব লীগে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হন, ফলে তিনি মিশরে স্থিতিশীলতা অনুভব করেন।

১৯৫৭ সালে তিনি মরক্কোতে রাষ্ট্রদূত ও 'বিশিষ্ট প্রতিনিধি' —সরকারি পরিভাষা অনুযায়ী— হিসেবে নিযুক্ত হন, সেখানে তিনি মরক্কোর কূটনৈতিক কোরের ডিন (প্রধান) পদের মর্যাদা লাভ করেন এবং তিন বছর এই দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬৩ সালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁকে রিয়াদে আমন্ত্রণ জানানো হয়, সেখানে তাঁকে বিশ্রাম ও চিকিৎসার জন্য অনির্দিষ্টকালের ছুটি প্রদান করা হয়। তিনি বৈরুতে বসবাস করা বেছে নেন এবং জাযিরাতুল আরবের প্রথম সম্রাট 'বাদশাহ আব্দুল আজিজ আল-সৌদ'-এর জীবনী সম্পর্কে যে বইটি লেখা শুরু করেছিলেন, তা সম্পন্ন করতে মনোনিবেশ করেন এবং ১৯৭০ সালে তা মুদ্রণের জন্য প্রস্তুত করেন।

দামেস্কের আরবি একাডেমি ১৯৩০ সালে অনুগ্রহপূর্বক তাঁকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল...
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ১০)
أعضائه. وكذلك مجمع اللغة العربية بمصر (1946) والمجمع العلمي العراقي في بغداد (سنة 1960).

وقام برحلات إلى الخارج أفادته:

الأولى: إلى إنجلترا (1946) ومنها إلى فرنسا، ممثلا للحكومة في اجتماعات المؤتمر الطبي الدولي، بباريس.

والثانية: إلى الولايات المتحدة الأمريكية (1947) بمهمة رسمية، غير سياسية، أمضى فيها سبعة أشهر بين كاليفورنيا وواشنطن ونيويورك وغيرها.

وحضر في خلالها بعض اجتماعات هيأة الأمم المتحدة.

والثالثة: إلى أثينا العاصمة اليونانية (1945) بصفة وزير مفوض ومندوب فوق العادة وجعل طريق عودته منها إلى استانبول لزيارة بعض مكتباتها، وإلى حلب، فبيروت، فالقاهرة.

والرابعة إلى تونس (1955) مندوبا لحضور مؤتمر أقامه الحزب الدستوري فيها وعاد منها مارا بإيطاليا، حيث تيسر له في خلال شهرين الطواف في أهم مكتباتها.

 

‌‌أما ما نشر من كتبه، فهو:

1 - ما رأيت وما سمعت. وهو رحلته الأولى من دمشق إلى فلسطين، فمصر، فالحجاز، طبع سنة 1923.

2 - عامان في عمان. من مذكراته عن عامين في مدينة عمان، عاصمة الأردن. طبع الجزء الأول منه سنة 1925.

3 - الجزء الأول من «ديوانه» الشعري. وفيه بعض ما نظم إلى سنة صدوره (1925). ثم نشر ديوانه بعد وفاته بتقديم الأستاذ سليم الزركلي.

4 - الأعلام. الطبعة الأولى في ثلاثة أجزاء (سنة 1927).

5 - الأعلام. الطبعة الثانية، في عشرة مجلدات. ووصل عدد طبعاته نحو عشر طبعات.
এর সদস্য। একইভাবে মিশরের আরবি ভাষা একাডেমি (১৯৪৬) এবং বাগদাদের ইরাকি বৈজ্ঞানিক একাডেমি (১৯৬০ সাল)।

তিনি বিদেশ সফর করেছেন যা তাঁকে ঋদ্ধ করেছে:

প্রথম: ইংল্যান্ডে (১৯৪৬) এবং সেখান থেকে ফ্রান্সে, প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সম্মেলনে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে।

দ্বিতীয়: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (১৯৪৭) একটি সরকারি ও অ-রাজনৈতিক মিশনে, যেখানে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক এবং অন্যান্য স্থানে সাত মাস অতিবাহিত করেন।

এই সময়ে তিনি জাতিসংঘের কিছু অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।

তৃতীয়: গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে (১৯৪৫) পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন মন্ত্রী এবং বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে। তিনি প্রত্যাবর্তনের পথে ইস্তাম্বুলের কিছু লাইব্রেরি পরিদর্শনের জন্য সেখানে যান এবং এরপর আলেপ্পো, বৈরুত ও কায়রো হয়ে ফিরে আসেন।

চতুর্থ: তিউনিসিয়ায় (১৯৫৫) সেখানে কনস্টিটিউশনাল পার্টি আয়োজিত একটি সম্মেলনে প্রতিনিধি হিসেবে। তিনি ইতালি হয়ে ফিরে আসেন, যেখানে তিনি দুই মাস অবস্থানকালে সেখানকার গুরুত্বপূর্ণ লাইব্রেরিগুলো পরিদর্শনের সুযোগ পান।

 

‌‌তাঁর প্রকাশিত বইগুলোর বিবরণ নিম্নরূপ:

১ - যা দেখেছি ও যা শুনেছি। এটি দামেস্ক থেকে ফিলিস্তিন, মিশর ও হিজাজ পর্যন্ত তাঁর প্রথম সফরের বিবরণ, যা ১৯২৩ সালে মুদ্রিত হয়।

২ - আম্মানে দুই বছর। জর্ডানের রাজধানী আম্মান শহরে তাঁর কাটানো দুই বছরের স্মৃতিচারণ। এর প্রথম খণ্ড ১৯২৫ সালে মুদ্রিত হয়।

৩ - তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘দিওয়ান’-এর প্রথম খণ্ড। এতে তাঁর প্রকাশের বছর (১৯২৫) পর্যন্ত রচিত কিছু কবিতা রয়েছে। পরবর্তীতে অধ্যাপক সালিম আল-জিরিকলির উপক্রমণিকা সহ তাঁর পূর্ণাঙ্গ দিওয়ানটি তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।

৪ - আল-আলাম। তিন খণ্ডে প্রথম সংস্করণ (১৯২৭ সাল)।

৫ - আল-আলাম। দশ খণ্ডে দ্বিতীয় সংস্করণ। এর সংস্করণ সংখ্যা প্রায় দশটি পর্যন্ত পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ১১)
6 - ماجدولين والشاعر. قصة شعرية صغيرة.

7 - شبه الجزيرة في عهد الملك عبد العزيز.

أصيب أوائل عام 1976، وهو في بيروت، بدوار وغيبوبة، نقل على أثرهما إلى مستشفى الجامعة الأمريكية ببيروت والأحداث فيها ملتهبة، فظل غائبا عن الوعي خمسة أيام متواصلات، وفي اليوم السادس أفاق وكان أول ما طلب فنجانا من القهوة، ثم غاب صوته وأخذ يطلب حاجاته كتابة، حتى أجريت له عدة عمليات، زرعت في إحداها بطارية في جوار قلبه. فأخذ يسترد بعد ذلك عافيته شيئا فشيئا.

ولما أصبح قادرا على المشي نصحه أطباؤه بمغادرة المستشفى.

وفي شهر سبتمبر 1976 قدم إلى دمشق فمكث أياما في ضيافة ابن عمه الشاعر سليم الزركلي، ثم قصد مصيف بلودان.

وفي أواخر سبتمبر سافر إلى القاهرة؛ حيث ولده الدكتور غيث وبنتان له.

أدخل بعيد هبوطه القاهرة مستشفى في المعادي، وسرعان ما أخذت صحته في التحسن لكنها عادت فساءت مرة أخرى فنقل إلى مستشفى في الزمالك، وهناك ساءت أكثر وتدهورت سريعا، إلى أن فاضت روحه إلى بارئها في الثالث من ذي الحجة 1396 هـ الموافق 25 نوفمبر 1976 في إحدى مستشفيات حي الزمالك بمدينة القاهرة.

لقد طوى الموت العلم الذي خلد الأعلام، وهيهات أن تجود بمثله الأيام.

 

‌‌الزركلي شاعرا:

الزركلي شاعر أصيل، تعلق بعمود الشعر العربي، والتزمه، وصاغ من الموشحات على منوال الأندلسيين.

شعره يتصف بمتانة التعبير، ودقة التصوير، وحسن الديباجة وروعة الموسيقا في حب الوطن والحنين إليه وفي وصف جمال الطبيعة وفي تصوير مآسي شعبه
৬ - মাজদোলিন ও কবি। একটি ছোট কাব্যিক গল্প।

৭ - বাদশাহ আবদুল আজিজের শাসনামলে আরব উপদ্বীপ।

১৯৭৬ সালের শুরুর দিকে বৈরুতে অবস্থানকালে তিনি মাথা ঘোরা ও অচেতনতায় আক্রান্ত হন। এর ফলে তাকে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যখন সেখানকার পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত। তিনি টানা পাঁচ দিন সংজ্ঞাহীন ছিলেন। ষষ্ঠ দিনে তিনি জ্ঞান ফিরে পান এবং প্রথম যা চেয়েছিলেন তা হলো এক কাপ কফি। এরপর তার কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে যায় এবং তিনি লিখে নিজের প্রয়োজনগুলো জানাতে শুরু করেন। এরপর তার বেশ কয়েকটি অস্ত্রোপচার করা হয়, যার একটিতে তার হৃদযন্ত্রের পাশে একটি ব্যাটারি স্থাপন করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে তিনি সুস্থ হতে থাকেন।

যখন তিনি হাঁটাচলা করতে সক্ষম হলেন, চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতাল ত্যাগ করার পরামর্শ দেন।

১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি দামেস্কে আসেন এবং তার চাচাতো ভাই কবি সেলিম আল-জিরিকলির আতিথেয়তায় কয়েক দিন অবস্থান করেন। এরপর তিনি ব্লুদান নামক গ্রীষ্মকালীন অবকাশ যাপন কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তিনি কায়রো ভ্রমণ করেন; যেখানে তার পুত্র ডক্টর গাইস এবং তার দুই কন্যা অবস্থান করছিলেন।

কায়রো পৌঁছানোর পরপরই তাকে আল-মাদি এলাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দ্রুতই তার স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে শুরু করে, কিন্তু পুনরায় অবনতি ঘটে। ফলে তাকে জামালিক এলাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং দ্রুত স্বাস্থ্যের অবনতি হতে থাকে, অবশেষে ১৩৯৬ হিজরির ৩ জিলহজ মোতাবেক ১৯৭৬ সালের ২৫ নভেম্বর কায়রো শহরের জামালিক এলাকার একটি হাসপাতালে তার আত্মা তার স্রষ্টার সান্নিধ্যে চলে যায়।

মৃত্যু এমন এক মনীষীকে কেড়ে নিয়েছে যিনি মনীষীদের অমর করে রেখেছিলেন, আর কালপরিক্রমায় তার মতো কাউকে খুঁজে পাওয়া সুদূরপরাহত।

 

‌‌কবি হিসেবে আল-জিরিকলি:

আল-জিরিকলি ছিলেন একজন মৌলিক কবি। তিনি ধ্রুপদী আরবি কবিতার কাঠামোর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন। তিনি আন্দালুসীয়দের আদলে মুওয়াশশাহাত রচনা করেন।

তার কবিতা অভিব্যক্তির দৃঢ়তা, নিখুঁত চিত্রায়ন, চমৎকার রচনাশৈলী এবং দেশপ্রেম ও দেশের প্রতি আকুলতা, প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনা এবং তার জাতির দুঃখ-দুর্দশার চিত্রায়নে অপূর্ব সংগীতময়তার জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ১২)
ووصف معاناتهم في ظل الاحتلال وفي رثاء عظماء الأمة ومشهوريها.

وهو واحد من الشعراء الذين أعادوا للشعر العربي روعته وعظمته وجلال هيبته وخلصوه من التكلف والصنعة، الأمر الذي جعل الشيخ محمد الخضر حسين شيخ الجامع الأزهر يقول عنه: «من أدباء دمشق الشاعر المجيد السيد خير الدين الزركلي .. رأيته ينحو في شعره فلسفة المعري».

وقال عنه دكتور شكري فيصل أن الزركلي «أحيا بشعره أمة»، وقال أيضا: «شعر الزركلي نمط رفيع البيان، ورائع التصوير، ونير الأداء لم يبق من القادرين عليه إلا القلة».

وكان شعره أيقونة الثورة السورية .. فتغنت الآلاف بشعره، وهو يقول:

يا راقدا في الشام … يسقيك غاديها

قد خلت الآجام … من رابض فيها

توالت الآلام … وانقض مزجيها

هل ترجع الأيام … بيضا لياليها؟!

ويضم ديوان الزركلي، والذي طبع بعد موته نحو أربع مئة وثماني قصائد تترواح بين البيت المفرد والأربعين بيتا، أكثره في القضايا الوطنية، وغابت المرأة عن ديوانه (إلا قليلا) .. وقارئ ديوان الزركلي يجد أن أغلب شعره كتب ما بين عامي 1919، وعام 1939 ويجده أنه كتب في أماكن متفرقة كثيرة كدمشق وعمان وبيروت والطائف والقاهرة وجده والقدس …

وقد أرخ الزركلي لبعض قصائده، فقد أرخ لنحو (324) قصيدة ولم يؤرخ للباقي .. وقد وجدت بعضا من القصائد التي لم تنشر بالديوان وآمل أن يتيسر لي نشره كاملا مضافا إليه مسرحيته الشعرية المخطوطة «وفاء العرب».
এবং তিনি দখলদারিত্বের অধীনে তাদের দুঃখ-দুর্দশার বর্ণনা দিয়েছেন এবং উম্মাহর মহান ও প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের স্মরণে শোকগাথা রচনা করেছেন।

তিনি সেই সকল কবিদের একজন যারা আরবি কবিতার চমৎকারিত্ব, মহিমা এবং গাম্ভীর্য ফিরিয়ে এনেছেন এবং তাকে কৃত্রিমতা ও অলঙ্করণ থেকে মুক্ত করেছেন। এই বিষয়টিই আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শাইখ মুহাম্মাদ আল-খিদর হুসাইন-কে তাঁর সম্পর্কে বলতে উদ্বুদ্ধ করেছে: «দামেস্কের সাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম হলেন শ্রেষ্ঠ কবি সাইয়্যেদ খাইরুদ্দিন আল-যিরিকলি... আমি দেখেছি যে তিনি তাঁর কবিতায় আল-মা'আররি-র দর্শনের দিকে ঝুঁকেছেন।»

ডক্টর শুকরি ফয়সাল তাঁর সম্পর্কে বলেছেন যে, যিরিকলি «তাঁর কবিতার মাধ্যমে একটি উম্মাহকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন», তিনি আরও বলেছেন: «যিরিকলির কবিতা অত্যন্ত উঁচুমানের বাগ্মিতা, চমৎকার চিত্রকল্প এবং উজ্জ্বল শৈলীর নিদর্শন, যা বর্তমানে খুব কম লোকই আয়ত্ত করতে সক্ষম।»

তাঁর কবিতা ছিল সিরীয় বিপ্লবের প্রতীক... হাজার হাজার মানুষ তাঁর কবিতা আবৃত্তি করত, যেখানে তিনি বলেছিলেন:

হে শাম দেশে চিরনিদ্রায় শায়িত ব্যক্তি … ভোরের মেঘ তোমাকে সিক্ত করুক

বন জঙ্গল আজ জনশূন্য … যেখানে একদা সিংহরা অবস্থান করত

একের পর এক কষ্ট দানা বেঁধেছে … আর এর সঞ্চয়কারীগণ চলে গেছে

দিনগুলো কি ফিরে আসবে … যার রাতগুলো ছিল শুভ্র ও উজ্জ্বল?!

যিরিকলির কাব্যগ্রন্থটি (দীওয়ান), যা তাঁর মৃত্যুর পর মুদ্রিত হয়, তাতে প্রায় চারশ আটটি কবিতা রয়েছে। এগুলোর দৈর্ঘ্য একক চরণ থেকে শুরু করে চল্লিশ চরণ পর্যন্ত। এর অধিকাংশ বিষয়বস্তু হলো জাতীয় ইস্যু, এবং তাঁর কাব্যগ্রন্থে নারীর উপস্থিতি নেই বললেই চলে (সামান্য ছাড়া)। যিরিকলির কাব্যগ্রন্থ পাঠকারী লক্ষ্য করবেন যে, তাঁর অধিকাংশ কবিতা ১৯১৯ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে রচিত এবং তিনি এগুলো দামেস্ক, আম্মান, বৈরুত, তায়েফ, কায়রো, জেদ্দা এবং কুদসের মতো বিভিন্ন স্থানে বসে লিখেছেন …

যিরিকলি তাঁর কিছু কবিতার রচনার তারিখ উল্লেখ করেছেন; তিনি প্রায় (৩২৪)টি কবিতার তারিখ দিলেও বাকিগুলোর দেননি। আমি এমন কিছু কবিতাও খুঁজে পেয়েছি যা তাঁর কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়নি। আমি আশা করি এটি পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ করার সুযোগ পাব, যার সাথে তাঁর কাব্যিক নাটকের পাণ্ডুলিপি «ওয়াফাউল আরব» (আরবদের বিশ্বস্ততা)-ও যুক্ত থাকবে।
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌كتابه الأعلام:

لعل هذا الكتاب هو واحد من أشهر كتب التراجم ومن أنفسها، جمع فيه الزركلي نحو خمس عشرة ألف ترجمة من العصر الجاهلي حتى عام 1395 هـ (1975 م)، وقد أصاب به الرجل شهرة عظيمة وأصبح من خلاله صاحب مدرسة مستقلة في فن التراجم.

صنفه الرجل في نحو خمسين عاما، وكان «الأعلام» شغله الشاغل وعمله فيه مستمرا ما امتدت به الحياة، وود لو استطاع أن يعمل فيه وهو في المستشفى ورهن مبضع الجراح .. وبلغ من حرصه على استمرار «الأعلام» أن رصد مبلغا من المال أودعه البنك العربي باسم المجمع العلمي بدمشق مع وصية بها للمجمع بمتابعة العمل فيه بعد وفاته .. حتى أنه قال: «لو أحرق الأعلام لألقيت بنفسي في البحر أسنا عليه» كما ذكر زكريا زعيتر.

الأعلام .. صنعه الزركلي كلمة كلمة وتعهده بالعناية والتوسعة وسد الثغرات ويسهر الليل ويلحق به النهار بين أكوام الفهارس ومجموعة المصورات إلى أن استوى على سوقه.

طريقته في ترتيب التراجم أن يرتبها ترتيب المعجم، فآمنة قبل إبراهيم لوجود ألفين في بدء (آمنة)، وأحمد قبل إدريس … غير أنه لم يعتمد سوى الأول والثاني، فكل (محمد علي) عنده في نسق واحد، ولكنه يرتب بينهم بحسب الوفاة معتمدا على التاريخ الهجري.

وعندما يذكر العلم يذكره بشهرته أو لقبه في بابه من حروف المعجم، ثم يحيل على الاسم الذي تجيء الترجمة تحته، ففى البحث عن (الطبري) يأتي به في حرف (ط/ ب/ ر) وهو ترتيبه بحسب الشهرة، ثم يحيل إلى الترجمة في موضوعها فيكتب (=) ويعني انظر: محمد بن جرير 310 هـ والرقم الذي يلي الاسم هو تاريخ الوفاة بالهجري.

وتبدأ الترجمة بشهرة المترجم عنوانا لها، محددا تاريخ الولادة والوفاة
তাঁর 'আল-আ'লাম' গ্রন্থ:

সম্ভবত এই বইটি জীবনীগ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ এবং মূল্যবান একটি। এতে যিরিকলী জাহেলি যুগ থেকে শুরু করে ১৩৯৫ হিজরী (১৯৭৫ খ্রি.) পর্যন্ত প্রায় পনেরো হাজার জীবনী সংকলন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছেন এবং জীবনী রচনার শিল্পে একটি স্বতন্ত্র ধারার প্রবর্তক হয়ে উঠেছেন।

তিনি প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে এটি সংকলন করেছেন এবং 'আল-আ'লাম' ছিল তাঁর প্রধান ধ্যান-জ্ঞান; সারা জীবন তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে এতে কাজ করে গেছেন। এমনকি তিনি চেয়েছিলেন যদি হাসপাতালে শল্যবিদের ছুরির নিচে থাকাকালীনও এতে কাজ করা সম্ভব হতো। 'আল-আ'লাম'-এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ব্যাপারে তাঁর আগ্রহ এতটাই তীব্র ছিল যে, তিনি একটি নির্দিষ্ট অংকের অর্থ আরব ব্যাংকে দামেস্কের 'মাজমাউল ইলমি'র (একাডেমি অব সায়েন্সেস) নামে জমা রেখেছিলেন এবং এই অসিয়ত করেছিলেন যেন তাঁর মৃত্যুর পর একাডেমি এর কাজ অব্যাহত রাখে। এমনকি যাকারিয়া জুয়াইতার যেমনটি উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছিলেন: "যদি 'আল-আ'লাম' পুড়িয়ে ফেলা হতো, তবে এর শোকে আমি নিজেকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করতাম।"

'আল-আ'লাম'... যিরিকলী এটি শব্দে শব্দে তৈরি করেছেন এবং অত্যন্ত যত্ন, পরিবর্ধন ও ত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে এর রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন। তিনি নির্ঘণ্টের স্তূপ এবং পাণ্ডুলিপির ছবির সংগ্রহ নিয়ে দিন-রাত এক করে পরিশ্রম করেছেন, যতক্ষণ না এটি পূর্ণতা পেয়ে নিজের কাণ্ডের ওপর উঠেছে।

জীবনীগুলো বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি হলো অভিধানের ক্রম অনুসরণ করা। ফলে 'আমিনাহ' নামটি 'ইবরাহিম'-এর আগে আসবে, কারণ 'আমিনাহ'র শুরুতে দুটি আলিফ রয়েছে; এবং 'আহমাদ' আসবে 'ইদরিস'-এর আগে … তবে তিনি কেবল প্রথম ও দ্বিতীয় অক্ষরের ওপর নির্ভর করেননি; বরং তাঁর নিকট সকল 'মুহাম্মাদ আলী' একই ক্রমানুসারে থাকে, কিন্তু তিনি হিজরী সনের ওপর ভিত্তি করে তাদের মৃত্যুর তারিখ অনুযায়ী সাজান।

যখন তিনি কোনো ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, তখন বর্ণানুক্রমিক পরিচ্ছেদে তাঁর খ্যাতি বা উপাধি অনুযায়ী উল্লেখ করেন এবং এরপর সেই নামের দিকে ইঙ্গিত করেন যার অধীনে পূর্ণ জীবনীটি বর্ণিত হয়েছে। যেমন (আত-তাবারী) খুঁজতে গেলে তা (ত/ ব/ র) বর্ণের ক্রমে পাওয়া যাবে, যা তাঁর খ্যাতি অনুযায়ী সাজানো। এরপর তিনি মূল জীবনীর বিষয়ের দিকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং (=) চিহ্ন লেখেন, যার অর্থ হলো: দেখুন- মুহাম্মাদ বিন জারীর ৩১০ হিজরী। নামের পরের সংখ্যাটি হলো হিজরী সনে মৃত্যুর তারিখ।

জীবনীটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির খ্যাতিকে শিরোনাম হিসেবে দিয়ে শুরু হয় এবং এতে জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া থাকে।
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ১৪)
بالهجري وما يقابلها بالتاريخ الميلادي، ثم يذكر الاسم كاملا ويثبت لقبه وكنيته ونسبته من الأعم إلى الأخص (الأنصاري الخزرجي) مثلا، ثم يذكر المدينة التي ينسب إليها صاحب الترجمة والفرقة التي ينتمي إليها، ثم حرفته، ثم نشأته وتعلمه والمجال الذي تخصص فيه وأهم الأعمال التي تولاها ويبين منزلته، ثم أهم مؤلفاته، ويحيل إلى المصادر والمراجع موضحا الخلافات بين المصادر ومصححا لبعض أوهام القدامى ومشيرا إلى المطبوع منها والمخطوط.

 

‌‌الأعلام الصغرى:

لهذا الكتاب قصة طريفة .. فقد تلقيت دعوة كريمة من ابنته السيدة (حياة الزركلي) وقد اصطحبني في تلك الدعوة الأستاذ مصطفى موسى المحقق التراثي المعروف، ولأننا لا نعرف الطريق إليها فكان لزاما علينا أن يصحبنا إليها ابنها المهندس محمود عبد العاطي وكان موعد لقائنا مغرب الخميس 26/ 11/ 2013 م، بالقرب من ميدان الدقي لننطلق لمقابلة السيدة الفاضلة .. ولكن الطريف أن المهندس ليس خبيرا بدروب القاهرة وشوارعها الأمر الذي جعله يصطحب حرمه المصون السيدة صافيناز الجمال فهي الخبيرة بتلك الدروب .. وبالفعل كان لقاؤنا على الموعد .. انطلقت السيارة تطوي الأرض طيا في طريقها للمعادي يصطحبنا في المسير نيل مصر العظيم .. وعندما وصلنا كانت السيدة «حياة» في استقبالنا بحفاوة بالغة هي سيدة طويلة ممشوقة القوام .. نحيلة الجسم .. بيضاء .. عليها آثار السنين من خلال بعض تجاعيد الزمن .. تحتفظ بذاكرتها عن والدها وأخباره وأحبابه وحياته .. وقصت علينا قصصا عن كتبه ورحلاته وحبه للعلم .. ثم قدمت لنا حقيبة سوداء كبيرة مملوءة بالأوراق والملفات تولى أ/ مصطفى موسى مهمة فتح الأوراق وتقديمها لنا .. فتجد - مثلا - مخطوطا لمسرحية شعرية ومخطوطا لمقال لم ينشر .. وصورة دراسة مقدمة الدورية ما، وصور لشهادات تقدير مقدمة من المملكة المغربية … . وفي مظروف أبيض صغير كانت تلك المفاجأة - مخطوط كامل بخط صغير

-
হিজরি সনের সাথে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঈসায়ী তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর পূর্ণ নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং তার উপাধি, কুনিয়াত ও বংশধারা সাধারণ থেকে বিশেষের ক্রমানুসারে (যেমন: আল-আনসারী আল-খাজরাজী) সাব্যস্ত করা হয়েছে। অতঃপর সেই শহরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যার সাথে জীবনীগ্রন্থের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি সম্পৃক্ত এবং তিনি যে মতাদর্শের অন্তর্ভুক্ত তার কথা বলা হয়েছে। এরপর তার পেশা, তারপর তার বেড়ে ওঠা ও শিক্ষা এবং যে বিষয়ে তিনি বিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং যে প্রধান দায়িত্বগুলো তিনি পালন করেছেন তা উল্লেখ করে তার মর্যাদা স্পষ্ট করা হয়েছে। এরপর তার প্রধান রচনাবলি এবং উৎস ও তথ্যসূত্রগুলোর দিকে নির্দেশ করা হয়েছে, সেই সাথে উৎসগুলোর মধ্যকার মতভেদ স্পষ্ট করা হয়েছে এবং পূর্ববর্তীদের কিছু ভুলভ্রান্তি সংশোধন করে সেগুলোর মধ্যে কোনটি মুদ্রিত এবং কোনটি পাণ্ডুলিপি তা নির্দেশ করা হয়েছে।

 

‌‌আল-আ’লাম আস-সুগরা:

এই বইটির একটি চমৎকার গল্প রয়েছে.. আমি তার কন্যা মহীয়সী নারী (হায়াত আয-যিরিকলী)-এর পক্ষ থেকে একটি সদয় আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। বিশিষ্ট ঐতিহ্য গবেষক উস্তাদ মোস্তফা মুসা সেই আমন্ত্রণে আমার সাথে ছিলেন। যেহেতু আমাদের সেখানে যাওয়ার পথ জানা ছিল না, তাই তার ছেলে প্রকৌশলী মাহমুদ আবদ আল-আতি-কে আমাদের সাথে নেওয়া আবশ্যক ছিল। আমাদের সাক্ষাতের সময় ছিল ২৬/১১/২০১৩ খ্রিস্টাব্দ বৃহস্পতিবার মাগরিবের সময়, দুক্কি স্কোয়ারের কাছাকাছি। সেখান থেকে আমরা সেই মহীয়সী নারীর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, প্রকৌশলী সাহেব কায়রোর গলি ও রাস্তাঘাট সম্পর্কে তেমন অভিজ্ঞ ছিলেন না, যার ফলে তিনি তার সম্মানিত স্ত্রী মিসেস সাফিনাজ আল-জামালকেও সাথে নিয়েছিলেন, কারণ তিনি ওইসব গলি ও রাস্তা সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন। যথাসময়েই আমাদের সাক্ষাৎ হলো.. গাড়িটি মাআদির পথে দ্রুতগতিতে চলতে শুরু করল, আমাদের যাত্রাপথে সঙ্গ দিচ্ছিল মিশরের মহান নীল নদ। যখন আমরা পৌঁছালাম, তখন মিসেস ‘হায়াত’ আমাদের অত্যন্ত উষ্ণতার সাথে অভ্যর্থনা জানালেন। তিনি একজন দীর্ঘদেহী, সুশ্রী ও ক্ষীণকায় নারী। তিনি ফর্সা বর্ণের ছিলেন এবং তার চেহারায় বার্ধক্যের কিছু ভাঁজ স্পষ্ট ছিল। তিনি তার পিতার স্মৃতি, তার সংবাদ, প্রিয়জন এবং জীবন সম্পর্কে অমলিন স্মৃতি ধরে রেখেছেন। তিনি আমাদের কাছে তার পিতার বইপত্র, সফর এবং ইলমের প্রতি অনুরাগের গল্প শোনালেন। এরপর তিনি আমাদের সামনে একটি বড় কালো ব্যাগ রাখলেন যা কাগজপত্র ও ফাইলে পূর্ণ ছিল। উস্তাদ মোস্তফা মুসা সেই কাগজগুলো খোলা এবং আমাদের সামনে উপস্থাপনের দায়িত্ব নিলেন। সেখানে পাওয়া গেল—উদাহরণস্বরূপ—একটি কাব্যিক নাটকের পাণ্ডুলিপি, একটি অপ্রকাশিত নিবন্ধের পাণ্ডুলিপি, কোনো একটি সাময়িকীর জন্য প্রস্তুতকৃত গবেষণাপত্রের কপি এবং মরক্কো রাজ্য থেকে প্রদত্ত সম্মাননা সনদের কপি … । আর একটি ছোট সাদা খামের ভেতরে ছিল সেই চমক—ছোট অক্ষরে লেখা একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি।

-
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ১৫)
وجميل ومقروء، على صفحته الأولى أشار الزركلي أنه كتاب لم يكتب له مقدمة ولم يختر له اسما، ولم يكمله، ويظن أنه كتبه عام 1928!!

أخذتنا الأوراق الكثيرة للنظر فيها ومعرفة ما يصلح للنشر وما يمكننا تقديمه .. بينما أخذت حرم المهندس محمود عبد العاطي جانبا ومعها المخطوط الصغير .. تقرأ فيه باهتمام بالغ - فهي متخصصة في التاريخ والآثار ولأن الزركلي لم يختر له اسما .. فكانت دعابتها أنه (الكتاب الأمور)، وتتعالى - ضحكاتنا لهذه التسمية الطريفة …

أخذت «المخطوط» وبعض أوراقه، وودعنا السيدة «حياة» لتكون رحلة العودة .. لم أنم في تلك الليلة بضيفي الجديد في غرفتي .. كتاب جديد .. لم يذكره كل من كتب عن الزركلي .. بل لم يذكره الرجل عندما ترجم لنفسه .. مبكرا استيقظت صباح الجمعة لأقرأ في تلك الدرة النادرة .. ولأول مرة أعرف قلة صبري .. فلم احتمل ليوم الأحد فأمسكت بهاتفي واتصلت بالأستاذ الدكتور أحمد مجاهد رئيس مجلس إدارة الهيئة وأخبرته بالموضوع والذي رحب بنشره وأحسست أنه يشاطرني فرحتي بهذا الكتاب النادر والمجهول .. مر يوم الجمعة ببطء ثم تلاه السبت ببطء أشد، ويوم الأحد مبكرا ذهبت إلى الهيئة ويبدأ نقاشنا حول كيفية الطبع .. هل نكتبه على الكمبيوتر أم نصوره بخط الرجل ليكون تحفة فريدة .. وبعد التجارب والنقاشات العديدة من فريق عمل متكامل استقر الرأي على كتابته بالكمبيوتر، ثم نصوره وليكون الكتاب بصورتيه الجديدة والمخطوطة في غلاف واحد، وأرسلنا الكتاب لقسم «الإسكانر» لتصويره على الكمبيوتر .. ولعمري إنني انظر إليه بعد تسليمه لهم تماما كرضيع حرم من صدر أمه لتوه!!

خصصت موظفا خاصا لهذا الكتاب ليأتيني بأخباره يوميا .. لا عمل له إلا مراعاته والحفاظ عليه وطمأنتي عليه من وقت إلى آخر ويعود به آمنا إلى ليستقر .. يوميا .. بأحضاني.!!

أخيرا هذا كتاب أطلقت عليه «تراجم الأوائل والخلفاء - الأعلام الصغرى»
এবং সুন্দর ও পাঠযোগ্য, এর প্রথম পৃষ্ঠায় আল-যিরিকলি ইঙ্গিত করেছেন যে এটি এমন একটি বই যার কোনো ভূমিকা তিনি লেখেননি এবং এর কোনো নামও তিনি নির্বাচন করেননি, এমনকি তিনি এটি সমাপ্তও করেননি; ধারণা করা হয় যে তিনি এটি ১৯২৮ সালে লিখেছিলেন!!

বিপুল সংখ্যক পাণ্ডুলিপি আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল সেগুলোর ওপর নজর দিতে এবং কোনটি প্রকাশের যোগ্য আর আমরা কী উপস্থাপন করতে পারি তা জানতে... অন্যদিকে প্রকৌশলী মাহমুদ আব্দুল আতির স্ত্রী একপাশে সরে গিয়ে ছোট পাণ্ডুলিপিটি হাতে নিলেন... তিনি অত্যন্ত নিবিষ্ট হয়ে সেটি পড়ছিলেন—কারণ তিনি ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের বিশেষজ্ঞ ছিলেন। যেহেতু আল-যিরিকলি এর কোনো নাম পছন্দ করেননি, তাই তিনি কৌতুক করে একে "আদুরে বই" বলে অভিহিত করেছিলেন, আর এই চমৎকার নামকরণে আমাদের হাসির রোল উঠল …

আমি পাণ্ডুলিপিটি এবং এর কিছু পাতা নিলাম এবং আমরা মিসেস 'হায়াত'কে বিদায় জানিয়ে ফেরার যাত্রা শুরু করলাম... সেই রাতে আমার কক্ষে এই নতুন অতিথিকে নিয়ে আমি ঘুমাতে পারিনি... একটি নতুন বই... আল-যিরিকলি সম্পর্কে যারা লিখেছেন তাদের কেউই এর কথা উল্লেখ করেননি... এমনকি লেখক নিজেও যখন নিজের জীবনী লিখেছেন তখন এটি উল্লেখ করেননি... শুক্রবার সকালে খুব ভোরে আমি সেই বিরল রত্নটি পড়ার জন্য জেগে উঠলাম... আর প্রথমবারের মতো আমি নিজের অধৈর্যতা সম্পর্কে জানতে পারলাম... আমি রবিবার পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে পারলাম না, তাই ফোন হাতে নিয়ে কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক ডক্টর আহমদ মুজাহিদের সাথে যোগাযোগ করলাম এবং তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তিনি এর প্রকাশনাকে স্বাগত জানালেন এবং আমি অনুভব করলাম যে তিনি এই বিরল ও অজ্ঞাত বইটি নিয়ে আমার আনন্দের অংশীদার হচ্ছেন... শুক্রবার খুব ধীরগতিতে কাটল, এরপর শনিবার আরও মন্থরভাবে অতিবাহিত হলো। রবিবার খুব সকালে আমি কর্তৃপক্ষের দপ্তরে গেলাম এবং এটি কীভাবে মুদ্রিত হবে তা নিয়ে আমাদের আলোচনা শুরু হলো... আমরা কি এটি কম্পিউটারে কম্পোজ করব নাকি লেখকের হস্তাক্ষরেই ছবি তুলে ছাপাব যাতে এটি একটি অনন্য স্মারক হয়ে থাকে... একটি সমন্বিত কর্মীবাহিনীর ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আলোচনার পর কম্পিউটারে কম্পোজ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো, এরপর এর আলোকচিত্র নেওয়া হবে যাতে বইটি তার আধুনিক রূপ ও মূল পাণ্ডুলিপির রূপ—উভয়টিসহ একই মলাটে থাকে। আমরা বইটি স্ক্যানার বিভাগে পাঠালাম কম্পিউটারে ছবি তোলার জন্য... আমার জীবনের কসম! তাদের হাতে এটি সোপর্দ করার পর আমার মনে হচ্ছিল যেন একটি দুগ্ধপোষ্য শিশুকে এইমাত্র তার মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে!!

আমি এই বইটির জন্য একজন বিশেষ কর্মচারী নির্দিষ্ট করে দিলাম যাতে সে প্রতিদিন আমাকে এর খবর জানায়... এর যত্ন নেওয়া এবং একে সংরক্ষণ করা ছাড়া তার আর কোনো কাজ ছিল না, সে সময় সময় আমাকে আশ্বস্ত করত এবং এটি প্রতিদিন নিরাপদে ফিরে এসে আমার সান্নিধ্যে থাকত।!!

অবশেষে এটি এমন একটি বই যার নাম আমি রেখেছি "পূর্বসূরি ও খলিফাদের জীবনী - ক্ষুদ্র আল-আ'লাম"।
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ১৬)
تيمنا بكتاب «الأعلام»، ذلك الكتاب، الذي ملأ الدنيا وشغل الناس وخلد ذكرهم.

والكتاب صغير الحجم لا يتعدى المائتين من الصفحات، وهو أيضا في مجال التراجم، ولكن أي تراجم التي أفرد لها الزركلي كتابه الصغير؟!

يبدأ الكتاب بترجمة ليست وجيزة للنبي صلى الله عليه وسلم اسمه وحياته وزواجه وغزواته وبعض أقواله … ثم ينتقل إلى تراجم «بيت النبوة» أجداده بدءا من عدنان وحتى عبد الله بن عبد المطلب مرورا بمضر وكعب بن لؤي وقصي وعبد مناف وهاشم بن عبد مناف وعبد المطلب … ثم ينتقل الزركلي مترجما لأسرة بني هاشم وفيها ترجمة أبي طالب وحمزة والعباس والحسن بن علي والإمام الحسين ثم ترجمة الأئمة الاثنى عشرية، وتضم ترجمة زين العابدين بن علي والإمام الباقر ثم جعفر الصادق وموسى الكاظم ثم علي الرضى … ثم ينتهي بالإمام المهدي، ثم ينتقل الزركلي مترجما لملوك الجاهلية بدءا من حموربي وقحطان ويعرب وسبأ وحمير وتبع وعمرو بن لحي وحذيمة الوضاح وكليب … .. فإذا ما انتهى إلى قيس بن زهير. فيبدأ بابا جديدا - في تراجمه لتكون تراجم الخلفاء الراشدين بأبي بكر وعمر وعثمان وعلي ثم يبدأ بتراجم الخلفاء بني أمية، فإذا ما انتهى منهم فتكون تراجم الخلفاء العباسيين، ومنها إلى خلفاء المسلمين في الأندلس. المتأمل بين تراجمه في كتابنا وردت - بعضها - مفصلة وقد يروي بعضا من سيرته وأشعاره ولذا قد تمتد الترجمة لصفحة أو اثنتين وقد تزيد أحيانا، وقد تقصر فتصل لثلث الصفحة.

وعلى هذا فإن هذه التراجم - بمادتها - غير موجودة بكتاب الأعلام وإن ورد أصحاب التراجم بالأعلام.

وإذا كان كتاب «الأعلام» ضم نحو خمس عشرة ألف ترجمة، وأورد صورا لبعض من ترجم لهم كما أورد خطوطا لبعض منهم ممن تيسر له في العهود القريبة. فإن كتابنا هذا ضم ما يقرب من مائة وخمسين ترجمة.
'আল-আলাম' গ্রন্থের বরকত কামনায়, সেই গ্রন্থটি—যা বিশ্বজুড়ে ব্যপৃতি লাভ করেছে, মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং তাদের স্মৃতিকে অমর করে রেখেছে।

গ্রন্থটি আকারে ক্ষুদ্র, যা দুইশত পৃষ্ঠার অধিক নয়। এটিও জীবনী বিষয়ক গ্রন্থ, কিন্তু কোন সে সব জীবনী যার জন্য জিরিকলি তাঁর এই ক্ষুদ্র গ্রন্থটি উৎসর্গ করেছেন?!

গ্রন্থটি শুরু হয়েছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একটি বিস্তারিত জীবনী দিয়ে; যেখানে তাঁর নাম, জীবন, বিবাহ, যুদ্ধসমূহ এবং তাঁর কিছু বাণী স্থান পেয়েছে … এরপর এটি 'বায়তুন নুবুওয়াত' বা নবুওয়াতের বংশধরদের জীবনীতে প্রবেশ করেছে—আদনান থেকে শুরু করে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব পর্যন্ত তাঁর পূর্বপুরুষদের বিবরণ, যার মধ্যে মুযার, কাব ইবনে লুআই, কুসাই, আব্দ মানাফ, হাশিম ইবনে আব্দ মানাফ এবং আব্দুল মুত্তালিব অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন … এরপর জিরিকলি বনী হাশিম বংশের জীবনী আলোচনা করেছেন, যেখানে আবু তালিব, হামজা, আব্বাস, হাসান ইবনে আলী এবং ইমাম হুসাইনের জীবনী রয়েছে। এরপর বারো ইমামের জীবনী আলোচিত হয়েছে, যার মধ্যে জয়নুল আবেদিন ইবনে আলী, ইমাম বাকির, অতঃপর জাফর সাদিক, মুসা কাজিম, এরপর আলী রিযা … এবং সবশেষে ইমাম মাহদী পর্যন্ত আলোচনা স্থান পেয়েছে। এরপর জিরিকলি জাহেলী যুগের রাজাদের জীবনী বর্ণনা করেছেন—হামুরাবি, কাহতান, ইয়ারুব, সাবা, হিমইয়ার, তুব্বা, আমর ইবনে লুহাই, জাযিমা আল-ওয়াদ্বাহ এবং কুলাইব থেকে শুরু করে … .. অতঃপর যখন তিনি কায়েস ইবনে জুহাইর পর্যন্ত আলোচনা সমাপ্ত করেন, তখন তিনি তাঁর জীবনী সংকলনে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করেন খুলাফায়ে রাশেদীনের জীবনী দিয়ে—আবু বকর, উমর, উসমান এবং আলীর আলোচনার মাধ্যমে। এরপর তিনি উমাইয়া খলিফাদের জীবনী শুরু করেছেন; তাদের আলোচনা শেষ করে আব্বাসীয় খলিফাদের এবং সেখান থেকে আন্দালুসের মুসলিম খলিফাদের জীবনী বর্ণনা করেছেন। আমাদের এই গ্রন্থে আলোচিত জীবনীগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যে, এগুলোর কোনোটি কোনোটি বিস্তারিত এবং সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জীবন-বৃত্তান্ত ও কবিতা উদ্ধৃত করা হয়েছে। তাই কোনো কোনো জীবনী এক বা দুই পৃষ্ঠা এবং কখনো কখনো তার চেয়েও দীর্ঘ হয়েছে, আবার কোনোটি সংক্ষিপ্ত হয়ে এক-তৃতীয়াংশ পৃষ্ঠায় এসে ঠেকেছে।

সেই হিসেবে, এই জীবনীগুলো—তাদের বিষয়বস্তুর দিক থেকে—'আল-আলাম' গ্রন্থে বিদ্যমান নেই, যদিও সেই ব্যক্তিত্বদের নাম 'আল-আলাম' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

যেখানে 'আল-আলাম' গ্রন্থটিতে প্রায় পনের হাজার জীবনী স্থান পেয়েছে এবং তিনি যাদের জীবনী লিখেছেন তাদের কয়েকজনের ছবি ও নিকট অতীতের ব্যক্তিত্বদের হাতের লেখা সংযোজন করেছেন; সেখানে আমাদের এই গ্রন্থটিতে প্রায় একশত পঞ্চাশটি জীবনী সংকলিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ১৭)
وإذا كان الزركلي في كتابه «الأعلام»، بدأ مبوبا ومرتبا الأعلام حسب الترتيب الألفبائي .. فإن ترتيبه هنا في الأعلام الصغرى ترتيبا زمنيا عدا ترجمة النبي صلى الله عليه وسلم التي تصدرت الكتاب.

وإذا كان الزركلي لم يختر له اسما ولم يكتب له مقدمة كما نص بخطه .. فكان حريا بنا أن نكتب له مقدمة نعرف فيها بالزركلي وكتابه هذا ومنهجه ومصادره والفرق بينه وبين كتابه الكبير «الأعلام»، ثم كان لزاما علينا أن نعطيه - أي الكتاب - عنوانا، ولذا كان العنوان الأقرب إلينا وإلى روح الزركلي «تراجم الأوائل والخلفاء - الأعلام الصغرى».

يبدأ الزركلي ترجمته باسم الشهرة للمترجم أو اسمه الحقيقي إذا كان المترجم له مشهور به .. فنجد تراجم - مثلا - بالأسماء الحقيقية وعبد مناف، ولهاشم ابن عبد مناف، وعبد المطلب بن هاشم وعبد الله بن عبد المطلب، والحسن ابن علي، والحسين بن علي … . وقد تجد ترجمة بأسماء الشهرة دون الاسم الحقيقي، فنجد ترجمة لجذيمة الوضاح، وتبع، حتى ما وصلنا للعباسيين فتجد تراجم أبو العباس السفاح، والراضي بالله، والمقتدر بالله … ثم ينتقل الزركلي بعد الاسم المترجم له بذكر سنة الميلاد وكذا سنة الوفاة على أرجح الأقوال.

ثم تبدأ الترجمة ولكن يلاحظ أن تراجمه في صدر الكتاب (بيت النبوة والأئمة الاثنى عشرية والملوك والأمراء، والخلفاء الراشدين)، كان الزركلي يبدأ الترجمة مباشرة، باسم المترجم له وميلاده ونشأته … . ولكن مع خلفاء بني أمية وبني العباس والأندلسيين كان حريصا أن يصدر الترجمة بعدة سطور عن شخصية المترجم له، يدرك القارئ منها أهمية تلك الشخصية وقوتها أو ضعفها .. انظر - مثلا - ترجمة (سليمان عبد الملك) يقول: «لم يكن صاحب هذه الترجمة من أولئك الرجال الذين حالفهم التوفيق فشادوا وسادوا، ولكنه قصرت مدته، وحاول القيام بعمل عظيم فلم يفلح، وكان الناس قد استبشروا بتوليه بعد أخيه … … ».
যিরিকলী যদি তাঁর 'আল-আলাম' গ্রন্থে ব্যক্তিবর্গের জীবনী বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে সাজিয়ে শুরু করে থাকেন... তবে এখানে 'আল-আলাম আস-সুগরা' গ্রন্থে তাঁর বিন্যাস হলো কালানুক্রমিক, কেবল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনী ব্যতীত যা গ্রন্থের শুরুতে স্থান পেয়েছে।

যেহেতু যিরিকলী তাঁর স্বহস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিতে এর জন্য কোনো নাম নির্বাচন করেননি এবং কোনো ভূমিকাও লেখেননি... তাই আমাদের জন্য এটি সমীচীন ছিল যে আমরা এর একটি ভূমিকা লিখি, যেখানে আমরা যিরিকলী, তাঁর এই গ্রন্থ, তাঁর কর্মপদ্ধতি, তাঁর উৎসসমূহ এবং তাঁর বৃহৎ গ্রন্থ 'আল-আলাম'-এর সাথে এর পার্থক্যের পরিচয় তুলে ধরি। অতঃপর আমাদের জন্য এই গ্রন্থের একটি শিরোনাম দেওয়া অপরিহার্য ছিল। তাই আমাদের কাছে এবং যিরিকলীর চিন্তাধারার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিকটতর শিরোনামটি হলো: ‘তরাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা - আল-আলাম আস-সুগরা’।

যিরিকলী তাঁর জীবনী আলোচনা শুরু করেন ব্যক্তির প্রসিদ্ধ নাম অথবা তাঁর প্রকৃত নাম দিয়ে, যদি তিনি সেই নামে পরিচিত হয়ে থাকেন... উদাহরণস্বরূপ আমরা প্রকৃত নামে কিছু জীবনী পাই যেমন: আবদে মানাফ, হাশিম ইবনে আবদে মানাফ, আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিম, আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব, হাসান ইবনে আলী এবং হুসাইন বিন আলী …। আবার আপনি প্রকৃত নামের পরিবর্তে কেবল প্রসিদ্ধ নামেও জীবনী পেতে পারেন, যেমন: জাযীমা আল-ওয়াদদাহ এবং তুব্বা। এমনকি আমরা যখন আব্বাসীয়দের পর্যন্ত পৌঁছাই, তখন আবুল আব্বাস আস-সাফফাহ, আর-রাদি বিল্লাহ এবং আল-মুকতাদির বিল্লাহর জীবনী দেখতে পাই …। এরপর যিরিকলী জীবনীপ্রাপ্ত ব্যক্তির নামের পর সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী জন্ম ও মৃত্যু সাল উল্লেখ করেছেন।

এরপর মূল জীবনী শুরু হয়। তবে লক্ষ্যণীয় যে, গ্রন্থের শুরুর দিকের জীবনীগুলোতে (নবী পরিবার, বারো ইমাম, রাজা-বাদশা, আমির এবং খুলাফায়ে রাশিদিন), যিরিকলী সরাসরি জীবনীপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম, জন্ম ও বেড়ে ওঠার বিবরণ দিয়ে শুরু করতেন …। কিন্তু উমাইয়া, আব্বাসীয় এবং আন্দালুসীয় খলিফাদের ক্ষেত্রে তিনি জীবনীর শুরুতে ওই ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে কয়েকটি বাক্য লিখতে সচেষ্ট ছিলেন, যার মাধ্যমে পাঠক সেই চরিত্রের গুরুত্ব, সবলতা বা দুর্বলতা উপলব্ধি করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ (সুলাইমান ইবনে আবদুল মালিক)-এর জীবনী দেখুন, তিনি বলেন: «এই জীবনীর অধিকারী ব্যক্তি সেই সকল পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না যাদের ভাগ্য সহায় হয়েছিল ফলে তারা সুউচ্চ মর্যাদা ও কর্তৃত্ব লাভ করেছিলেন। বরং তাঁর সময়কাল ছিল সংক্ষিপ্ত, তিনি মহান কিছু করার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু সফল হননি; অথচ তাঁর ভাইয়ের পর তাঁর ক্ষমতা গ্রহণে মানুষ আনন্দিত হয়েছিল … … »।
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ১৮)
كما كان الرجل حريصا على ذكر خاتمة للترجمة يضمنها مدة تولية الخلافة بالسنين والشهور وأحيانا الأيام، وذكر عدد أولاده ومكان دفنه.

- حرص الزركلي أن يذكر مصادره في كتابه - على الرغم من تصريحه المباشر على أنه سيذكرهم بقائمة في نهاية الكتاب، ولكنه لم يفعل - وقد أحصيت عدد المصادر التي ذكرها في ثنايا التراجم فتعدت السنين مصدرا، ما بين مصادر تختص بالتاريخ العربي والإسلامي في الشرق كتاريخ الشام لابن عساكر، وتاريخ بغداد والمعارف لابن قتيبة، والأغاني للأصفهاني، وبين كتب تضم التاريخ المغربي والأندلسي كنفح الطيب للمقري، والبيان المغرب لابن عذارى المراكشي أو المعجب في تلخيص أخبار المغرب، كما اعتمد على كتب تاريخيه عامة كالكامل في التاريخ لابن الأثير وتاريخ الطبري، وتاريخ ابن الوردي .. كما اعتمد على كتب الأنساب ككتاب .. «سبائك الذهب» للقلقشندي، وكذا نجد كتب التراجم، فتجد وفيات الأعيان لابن خلكان، وشذرات الذهب لابن العماد، وتاريخ النحاة للسيوطي .. لم يتوقف الزركلي على الكتب العربية فتعداها إلى كتب مترجمة ككتاب «السياسة الإسلامية» لماربين، وتاريخ الجاهلية لدى برسفال كما اعتمد على العديد من الدوريات كمجلة لغة العرب، ومجلة الشرق.

- وكما كان الرجل حريصا على ذكر المصادر والمراجع .. كان - أيضا - حريصا على ذكر خلافات المؤرخين، ولكنه عند الخلاف يتجاذب الزركلي جانبان ..

الأول منهما .. أنه يذكر الخلاف فقط كما في ترجمة (الحسين بن علي)، قال: وبعد قتال عنيف نشب بين الفريقين، أصيب الحسين بجراح شديدة، فسقط عن فرسه، فقتلوه، قيل قاتله سنان بن أنس النخعي، وقيل: الشمر بن ذي الجوشن، وأرسل رأسه ونساؤه وذراريه إلى يزيد … . واختلفوا في الموضع الذي دفن رأس الحسين فيه، فقائل في الشام، وقائل بل دفن مع الجثة في كربلاء وقائل غير ذلك فقد ذكر الزركلي الخلاف ولم يبد رأيا فيه.
যেমন তিনি জীবনী পর্যালোচনার শেষে একটি উপসংহার যুক্ত করতে আগ্রহী ছিলেন, যেখানে তিনি খেলাফতের সময়কাল বছর, মাস এবং কখনো দিনের হিসেবে উল্লেখ করতেন এবং তাঁর সন্তানদের সংখ্যা ও দাফন করার স্থান বর্ণনা করতেন।

- জিরিকলি তাঁর বইয়ে তাঁর উৎসসমূহ উল্লেখ করতে আগ্রহী ছিলেন—যদিও তিনি সরাসরি ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি বইয়ের শেষে একটি তালিকায় সেগুলো উল্লেখ করবেন, তবে তিনি তা করেননি—আমি জীবনীর ভাঁজে ভাঁজে তিনি যে উৎসগুলো উল্লেখ করেছেন তা গণনা করেছি, যা শত শত উৎস ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রাচ্যের আরবি ও ইসলামি ইতিহাস সংশ্লিষ্ট উৎস যেমন ইবনে আসাকিরের শামের ইতিহাস, ইবনে কুতায়বার বাগদাদের ইতিহাস ও আল-মাআরিফ এবং আসফাহানির আল-আগানি রয়েছে। আবার মাগরিব ও আন্দালুসের ইতিহাস সম্বলিত গ্রন্থ যেমন মাক্কারির নাফহুত তিব, ইবনে আজারি আল-মাররাকুশির আল-বায়ানুল মুগরিব অথবা আল-মুজাব ফি তালখিসি আখবারিল মাগরিবও রয়েছে। এছাড়াও তিনি সাধারণ ইতিহাস গ্রন্থ যেমন ইবনুল আসিরের আল-কামিল ফিত তারিখ, তাবারির ইতিহাস এবং ইবনুল ওয়ারদির ইতিহাসের ওপর নির্ভর করেছেন। অনুরূপভাবে তিনি বংশলতিকার গ্রন্থ যেমন কালকাশান্দির সাবায়িকুজ জাহাব এবং জীবনীর গ্রন্থ যেমন ইবনে খাল্লিকানের ওয়াফায়াতুল আইয়ান, ইবনুল ইমাদের শাজারাতুজ জাহাব ও সুয়ুতির ব্যাকরণবিদদের ইতিহাস ব্যবহার করেছেন। জিরিকলি কেবল আরবি গ্রন্থেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং মারবিনের ইসলামি রাজনীতি ও পার্সিভালের জাহিলিয়াতের ইতিহাসের মতো অনূদিত গ্রন্থের দিকেও অগ্রসর হয়েছেন। এছাড়া তিনি লুগাতুল আরব ও আশ-শারক ম্যাগাজিনের মতো অনেক সাময়িকীর ওপরও নির্ভর করেছেন।

- যেমন তিনি উৎস ও তথ্যসূত্র উল্লেখ করতে আগ্রহী ছিলেন, তেমনি তিনি ইতিহাসবিদদের মতভেদগুলো উল্লেখ করতেও আগ্রহী ছিলেন; তবে মতভেদের ক্ষেত্রে জিরিকলি দুটি দিক অনুসরণ করতেন।

তার মধ্যে প্রথমটি হলো—তিনি কেবল মতভেদটি উল্লেখ করতেন, যেমন (হুসাইন ইবনে আলি)-এর জীবনীতে তিনি বলেছেন: “উভয় পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড যুদ্ধের পর হুসাইন মারাত্মকভাবে আহত হন, ফলে তিনি ঘোড়া থেকে পড়ে যান এবং তারা তাঁকে হত্যা করে। বলা হয় যে, তাঁর হত্যাকারী ছিলেন সিনান ইবনে আনাস আন-নাখয়ি, আবার কেউ বলেন শিমর বিন জিল জাওশান। তাঁর মস্তক এবং তাঁর পরিবারের নারী ও সন্তানদের ইয়াজিদের কাছে পাঠানো হয় …।” হুসাইনের মস্তক কোথায় দাফন করা হয়েছে তা নিয়ে তারা মতভেদ করেছেন; কেউ বলেছেন শামে, কেউ বলেছেন বরং কারবালায় শরীরের সাথেই দাফন করা হয়েছে এবং কেউ অন্য কিছু বলেছেন। জিরিকলি এখানে কেবল মতভেদটিই উল্লেখ করেছেন এবং এ বিষয়ে কোনো মতামত ব্যক্ত করেননি।
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ১৯)
والثاني: نرى الزركلي يدخل طرفا في الخلافات ويرجح رأيا أو يصوب تاريخا أو موقفا كما في ترجمة (علي الرضى) فيقول: « … وفي سبائك الذهب للقلقشندي أن وفاته كانت سنة 230 هـ والصحيح ما ذكرته [203 هـ] واعتمده ابن خلكان وأكثر المؤرخين».

والزركلي لم ينقل فقط، ولكنه حاضر في كتابه له آراؤه، ففي ترجمة (جعفر الصادق) يقول: «والشيعة تذكر أن لجعفر كتابا يدعونه (الجفر) ذكر فيه كل ما يحتاجون إلى علمه إلى يوم القيامة. وهذا الوصف باطل» .. كما أنه لم يقر للفيلسوف الألماني ماربين في كتابه «السياسة الإسلامية» بشأن الحسين (انظر: ترجمة الحسين بن علي) ولذلك نرى للزركلي آراء كثيرة، فله رأي في البدع والأوهام والخرافات (انظر: ترجمة علي الخالص) ورأي عن أهل السنة والشيعة (انظر: ترجمة: المعتصم بالله).

كما نجد له رأيا أدبيا ونقديا، ففي ترجمة (سليمان بن الحكم الأندلسي) وقد أورد أبياتا شعرية ثم قال: «وهذه القصيدة إنما نظمها المستعين معارضا الأبيات التي عملها العباس بن الأحنف على لسان هارون الرشيد، وأورد منها أبياتا ثم قال .. وهذه القطعة أرشق وأعذب … ».

- والكتاب على الرغم من صغر حجمه فإنه يضم الكثير من اللقطات، فتجد لقطات لغوية (ترجمة حمير/ تبع/ الضيزن السليحي/ الناصر)، ففي ترجمة حمير - مثلا - يتعرض للغة اليمن التي تختلف عن لغة العرب الحجازيين، فيتكلم عن (الوتم) وهو إبدال السين تاء فيقول: النات بدلا من الناس، وكذلك عن (الشنشنة) وهي إبدال الكاف شيئا، وإبدال لام التعريف ميما، وقد ورد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم تكلم بتلك اللغة، حيث قال: «ليس من امبر امصيام في امسفر»، ويقصد: «ليس من البر الصيام في السفر … » إلخ.

كما نراه يعدد أسماء الأصنام عند العرب، وما تعبده القبائل منها (ترجمة عمرو بن لحي).

- اعتمد الزركلي على بعض كتب ليست لدينا تلك النسخ التي اعتمد عليها
দ্বিতীয়ত: আমরা দেখছি আল-জিরিকলি মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোতে অংশগ্রহণ করছেন এবং কোনো একটি মতকে প্রাধান্য দিচ্ছেন অথবা কোনো তারিখ বা অবস্থানকে সংশোধন করছেন, যেমনটি (আলি আর-রিদা)-এর জীবনীতে দেখা যায়। তিনি বলেন: « … আর কালকাশান্দির ‘সাবায়িকুজ জাহাব’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, তার মৃত্যু হয়েছিল ২৩০ হিজরিতে, তবে সঠিক হলো যা আমি উল্লেখ করেছি [২০৩ হিজরি], এবং এটিই ইবনে খাল্লিকান ও অধিকাংশ ইতিহাসবিদ গ্রহণ করেছেন।»।

আল-জিরিকলি কেবল বর্ণনা করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তার কিতাবে তার নিজস্ব মতামতও বিদ্যমান রয়েছে। যেমন (জাফর আস-সাদিক)-এর জীবনীতে তিনি বলেন: «শিয়াগণ উল্লেখ করে যে, জাফরের একটি কিতাব রয়েছে যাকে তারা (আল-জাফর) বলে ডাকে, যাতে কিয়ামত পর্যন্ত তাদের যা কিছু জানার প্রয়োজন তার সবই উল্লেখ করা হয়েছে। আর এই বর্ণনাটি বাতিল বা ভিত্তিহীন»। তেমনিভাবে তিনি জার্মান দার্শনিক মারবিনের ‘আস-সিয়াসা আল-ইসলামিয়া’ কিতাবের হুসাইন সংক্রান্ত তথ্যের সাথে একমত হননি (দেখুন: হুসাইন ইবনে আলির জীবনী)। এ কারণেই আমরা আল-জিরিকলির অনেক ব্যক্তিগত মতামত দেখতে পাই। বিদআত, অলীক কল্পনা ও কুসংস্কার সম্পর্কে তার মতামত রয়েছে (দেখুন: আলি আল-খালিসের জীবনী), এবং আহলে সুন্নাত ও শিয়া সম্পর্কেও তার মতামত রয়েছে (দেখুন: আল-মুতাসিম বিল্লাহর জীবনী)।

তেমনিভাবে আমরা তার সাহিত্যিক ও সমালোচনামূলক মতামতও খুঁজে পাই। যেমন (সুলায়মান বিন আল-হাকাম আল-আন্দালুসি)-এর জীবনীতে তিনি কিছু কাব্য পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করার পর বলেন: «এই কাসিদাটি আল-মুসতাইন মূলত আব্বাস বিন আল-আহনাফের রচিত সেই কবিতাগুলোর পাল্টা জবাবে লিখেছেন যা তিনি হারুনুর রশিদের জবানে তৈরি করেছিলেন।» এরপর তিনি সেখান থেকে কিছু পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, «... আর এই অংশটি আরও বেশি মার্জিত ও মধুর … »।

- কিতাবটি আকারে ছোট হওয়া সত্ত্বেও এতে অনেক মূল্যবান তথ্য সংকলিত হয়েছে। এতে আপনি ভাষাতাত্ত্বিক অনেক তথ্য খুঁজে পাবেন (হিমইয়ার/তুব্বা/আয-যয়যান আস-সালিহি/আন-নাসির-এর জীবনী)। উদাহরণস্বরূপ, হিমইয়ার-এর জীবনীতে তিনি ইয়ামেনি ভাষা নিয়ে আলোচনা করেছেন যা হিজাজি আরবদের ভাষা থেকে ভিন্ন। তিনি (আল-ওয়াতম) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যা হলো ‘সীন’ (س) বর্ণকে ‘তা’ (ت) বর্ণ দ্বারা পরিবর্তন করা; যেমন তিনি ‘আন-নাস’ (الناس)-এর পরিবর্তে ‘আন-নাত’ (النات) বলেন। একইভাবে তিনি (আশ-শানশানা) সম্পর্কে বলেছেন, যা হলো ‘কাফ’ (ك) বর্ণকে ‘শীন’ (ش) বর্ণ দ্বারা পরিবর্তন করা, এবং নির্দিষ্টকারী ‘লাম’ (ال)-কে ‘মীম’ (م) বর্ণ দ্বারা পরিবর্তন করা। বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ভাষায় কথা বলেছিলেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন: «লাইসা মিন আম-বিররি আম-সিয়ামু ফি আম-সাফারি», যার অর্থ: «সফরের অবস্থায় রোজা রাখা পুণ্যের কাজ নয় … » ইত্যাদি।

আমরা তাকে আরবদের মূর্তিসমূহের নাম এবং কোন গোত্র কোন মূর্তির উপাসনা করত তাও গণনা করতে দেখি (আমর ইবনে লুহাই-এর জীবনী)।

- আল-জিরিকলি এমন কিছু কিতাবের ওপর নির্ভর করেছেন যেগুলোর পাণ্ডুলিপি বর্তমানে আমাদের কাছে নেই।
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ২০)
ففي (ترجمة علي الهادي) أورد أبياتا شعرية، وذكر أن الأبيات أكثر من ذلك في كتاب «الكنز المدفون» ولكن بالرجوع للكنز المدفون لم نر الأبيات على ما ذكره الزركلي، وعلى هذا فقد اعتمد الرجل على نسخة للكنز ليست بين أيدينا الآن .. وفي هذا السياق ذكر الزركلي كتابا له تحت عنوان «الصيب المنثال في شرح أرجوزة الأمثال»، كما أشار إليه في ترجمة (كليب) وأسأل الله أن نعثر عليه في قابل الأيام، ليعد إضافة حقيقية لتراث الرجل الأدبي والثقافي.

- في ثنايا بعض الترجمات ينوه الرجل إلى أن هناك تراجم للشعراء والقواد وغيرهم، ففي ترجمة (كليب) - مثلا - أشار إلى أنه سيترجم للمهلهل في (ديوان الشعراء)، وكذلك في ترجمة (عمرو بن هند) ذكر أنه سيترجم لعبيد بن الأبرص … إلخ مما يؤكد أن الرجل بدأ كتابه بطموحات كبيرة وآمال عريضة ثم عدل عنها، وهو ما أشار إليه في نهاية الكتاب، وربما وجد في كتابه «الأعلام» غنى عن هذه التراجم فتوقف عند هذا الحد.

- وأخيرا إليك عزيزي القارئ، هذا الكتاب الصغير حجما، الكبير مقاما، الكثير علما فهو بحق موسوعة أدبية جامعة به الأنساب والشعر، والحكم والتاريخ، والمعارك والفتوحات، والأقوال والنوادر …

وبعد .. فهذه نسخة خطية واحدة .. اجتهدت لضبطها ما استطعت ولم أتدخل في النص إلا نادرا وقد وضعته بين معقوفتين [] لنبين للقارئ أن ما بينهما ليس للزركلي. فإن باءت اجتهاداتي بالفلاح فمن الله وحده، وإن كانت الأخرى فمني التقصير وللقارئ، الاعتذار، والله أسأل التوفيق والسداد، إنه نعم المولى ونعم النصير، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

 

د. محمد علوان سالمان

القاهرة في مساء الإثنين

12 من ربيع الأول 1435 هـ

13 من يناير 2014 م
(আলী আল-হাদী এর জীবনীতে) তিনি কিছু কাব্যগ্রন্থের পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে ‘আল-কানয আল-মাদফুন’ গ্রন্থে পঙ্ক্তিগুলো এর চেয়েও বেশি রয়েছে। কিন্তু ‘আল-কানয আল-মাদফুন’ গ্রন্থটি পরীক্ষা করে আমরা পঙ্ক্তিগুলো যিরিকলি যেমনটি উল্লেখ করেছেন তেমনটি পাইনি। এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, লেখক ‘কানয’ এর এমন একটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছিলেন যা বর্তমানে আমাদের কাছে নেই। এই প্রেক্ষাপটে যিরিকলি তাঁর একটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন যার শিরোনাম ‘আস-সাইব আল-মানসাল ফি শারহি আরজুযাতিল আমসাল’, যেমনটি তিনি (কুলাইব)-এর জীবনীতেও ইঙ্গিত করেছেন। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন আমরা অদূর ভবিষ্যতে এটি খুঁজে পাই, যাতে তা লেখকের সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে একটি প্রকৃত সংযোজন হিসেবে গণ্য হয়।

- কিছু জীবনীর অভ্যন্তরে লেখক উল্লেখ করেছেন যে সেখানে কবি, সেনাপতি এবং অন্যদের জীবনী রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, (কুলাইব)-এর জীবনীতে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি ‘দীওয়ানুশ শুআরা’-তে মুহালহাল-এর জীবনী উল্লেখ করবেন। একইভাবে, (আমর বিন হিন্দ)-এর জীবনীতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি উবাইদ বিন আল-আবরাসের জীবনী লিখবেন … ইত্যাদি। যা নিশ্চিত করে যে লেখক বড় উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ব্যাপক আশা নিয়ে তাঁর গ্রন্থটি শুরু করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তা থেকে সরে আসেন। তিনি নিজেই গ্রন্থের শেষে এ বিষয়টি নির্দেশ করেছেন। সম্ভবত তিনি তাঁর ‘আল-আ’লাম’ গ্রন্থে এই জীবনীগুলোর পর্যাপ্ততা খুঁজে পেয়েছেন, তাই এই সীমানাতেই থেমে গেছেন।

- পরিশেষে প্রিয় পাঠক, আপনার সামনে এই ক্ষুদ্র আকৃতির কিন্তু উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ও বিপুল জ্ঞানসমৃদ্ধ গ্রন্থটি পেশ করছি। এটি প্রকৃতপক্ষে একটি সংকলিত সাহিত্য বিশ্বকোষ, যাতে রয়েছে বংশলতিকা, কবিতা, প্রজ্ঞা ও ইতিহাস, যুদ্ধ ও বিজয় এবং বিভিন্ন উক্তি ও দুর্লভ ঘটনাবলি …

অতঃপর কথা হলো.. এটি একটিমাত্র পাণ্ডুলিপি.. আমি সাধ্যমতো এটি সম্পাদনা করার চেষ্টা করেছি এবং মূল পাঠ্যে খুব কমই হস্তক্ষেপ করেছি। যেখানেই হস্তক্ষেপ করেছি তা তৃতীয় বন্ধনী []-এর মধ্যে রেখেছি যাতে পাঠকের কাছে স্পষ্ট হয় যে এর মধ্যকার অংশটুকু যিরিকলির নয়। যদি আমার এই প্রচেষ্টা সফল হয় তবে তা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর যদি অন্য কিছু হয় তবে তা আমার ত্রুটি এবং আমি পাঠকের কাছে ক্ষমা প্রার্থী। আমি আল্লাহর কাছে তাওফিক ও সঠিক পথনির্দেশনা প্রার্থনা করছি, নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী। আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

ড. মুহাম্মদ আলওয়ান সালমান

কায়রো, সোমবার সন্ধ্যা

১২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৫ হিজরি

১৩ জানুয়ারি ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ২১)
«لم أضع لهذا الكتاب اسما، ولا مقدمة، ولا أكملته .. وأظني كتبته حوالي سنة 1928 م أيام وضعت «معجم ما ليس في المعاجم» لقصاصات الصحف».

خير الدين
«আমি এই গ্রন্থের জন্য কোনো নাম কিংবা ভূমিকা নির্ধারণ করিনি, এবং আমি এটি সমাপ্তও করিনি.. আমার ধারণা, আমি এটি ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দের দিকে লিখেছিলাম যখন আমি সংবাদপত্রের কর্তিতাংশসমূহের ভিত্তিতে ‘মু‘জাম মা লাইসা ফিল মা‘আজিম’ (অভিধানে যা নেই তার অভিধান) সংকলন করছিলাম।»

খায়রুদ্দিন
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌بيت النبوة

‌‌إيضاح

تحت لواء عنوان «بيت النبوة»؛ كل من انعقد نسبه بنسب النبي القرشي (عليه أفضل الصلاة والتسليم)؛ ممن تقدمه من عهد عدنان، أو من تأخر عنه إلى هذا الزمان، وذلك أمر يطول على مثل هذا المصنف، وأحر به أن يكون في تأليف ينفرد له، أما ما عولت على الاكتفاء به في هذا الباب فهو أنني سأفتتحه بذكر خلاصة ترجمة الرسول الأعظم، ثم ألحقها بأخبار أشهر رجال نسبه الشريف، ثم بالكلام على أنبه أعمامه ذكرا وأرفعهم قدرا وأختمه بالسبطين الأكملين (رضوان الله عليهما)، وبقية الأئمة الاثنى عشر وأما أشباههم [ … ](1) الفضيلتين: الارتباط بالنسب النبوي الأغر، والنبوغ؛ كالعلم والرياسة والشجاعة وأمثالها: مما أفردت لكل منه فصلا أشبعت الكلام فيه على ما أردت الإتيان عليه، فيلتمسهم طالب الوقوف على أخبارهم وآثارهم في مظانهم من فصول الكتاب.

الله أسأل تسديد خطاي إلى واضح السبيل

--------------------------------------------

(1) سقط بالأصل ..
নবুওয়াত পরিবার

‌স্পষ্টীকরণ

‘নবুওয়াত পরিবার’ শিরোনামের অধীনে এমন প্রত্যেক ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত, যার বংশীয় ধারা কুরাইশী নবী (তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর বংশের সাথে সংযুক্ত; চাই তারা আদনানের যুগ থেকে তাঁর পূর্ববর্তী সময়ের হোক কিংবা বর্তমান সময় পর্যন্ত তাঁর পরবর্তী সময়ের হোক। আর এ বিষয়টি এই ধরনের একটি গ্রন্থের জন্য অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে, বরং এর জন্য স্বতন্ত্র একটি সংকলন হওয়াই অধিক বাঞ্ছনীয়। তবে এই অধ্যায়ে আমি যেটুকুর ওপর নির্ভর করেছি তা হলো, মহান রাসূলের জীবনীর একটি সংক্ষিপ্ত সারমর্ম আলোচনার মাধ্যমে আমি এটি শুরু করব, এরপর তাঁর সম্মানিত বংশের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের সংবাদ যুক্ত করব, এরপর তাঁর চাচাদের মধ্যে যাদের নাম সর্বাধিক আলোচিত এবং যারা মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ তাদের প্রসঙ্গে আলোচনা করব এবং পূর্ণতাপ্রাপ্ত দুই নাতি (তাঁদের উভয়ের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক) ও বারো ইমামের অবশিষ্টগণ এবং তাঁদের ন্যায় ব্যক্তিদের বর্ণনার মাধ্যমে এটি সমাপ্ত করব [ … ](1) যারা এই দুই শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী: উজ্জ্বল নবুওয়াতী বংশের সাথে সম্পৃক্ততা এবং প্রতিভা; যেমন জ্ঞান, নেতৃত্ব, সাহসিকতা ও এই জাতীয় গুণাবলি: যার প্রতিটির জন্য আমি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ নির্দিষ্ট করেছি এবং আমি যা উপস্থাপন করতে চেয়েছি সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সুতরাং যারা তাঁদের সংবাদ এবং কীর্তিসমূহ জানতে আগ্রহী, তারা কিতাবটির সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছেদসমূহে তা তালাশ করবেন।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার পদক্ষেপসমূহকে স্পষ্ট ও সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন।

--------------------------------------------

(1) মূল পাণ্ডুলিপিতে বাদ পড়েছে..
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌محمد رسول (الله)

ولد سنة 571 م - 53 ق. هـ

وهاجر سنة 622 م - 1 هـ، وتوفي سنة [11 هـ]

بينما العرب في ليلة ليلاء، من جاهلية عمياء، يأكل قويهم ضعيفهم، ويفضل غويهم شريفهم، وأنصاب الفتنة منصوبة، سيوف مسلولة، وأرواح مبذولة، ولا رادع، ولا حكم ولا مسيطر، وهم إلى الفناء أقرب منهم إلى [ … ] (1)، بعيدون عن فضائل العلم والمدنية، لا هم لهم إلا القتال والنزال، على كثرة ما فيهم من ذوي العقول الرجيحة، والألسنة الفصيحة، وما في أخلاقهم من الألفة، والنجدة، والإباء، والغيرة، وما في أجسامهم من القوة والمتانة والصلابة، وما في عشائرهم من التضامن والتراص، لولا إحن وأحقاد، تتوارثها الأحفاد، عن الآباء، عن الأجداد؛ رأت في قلوبهم مكانا خاليا فتحكمت، فشغلتهم عن مجاراة غيرهم من [ … ] (2) الفرس والروم في حلبة الحضارة والعمران، والعلم والعرفان [ … ] (3)، أراد الله بهم الخير؛ فأرسل لهم من أنفسهم هاديا حكيما مرشدا، ضم كلمتهم ووحد جمعهم، وأمات كامن أضغانهم، وأسس فيهم بنيانا لا يتهدم، وأودع في أدمغتهم نورا لا تطفئه العصور والدهور، ذلك هو: النبي الأعظم: محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي بن كلاب بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب بن فهر بن مالك بن النضر بن كنانة بن خزيمة ابن مدركة بن إلياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان، وإلى هنا ينتهي نسبه الشريف وما وراء ذلك فالخلاف فيه كثير. ولد صلى الله عليه وسلم بمكة، ومات أبوه بعد مولده بشهور، فكفله جده عبد المطلب، وماتت أمه آمنة بنت وهب وعمره ست

--------------------------------------------

(1 - 3) كلمة غير واضحة بالأصل.
মুহাম্মাদ (আল্লাহর) রাসূল

জন্ম ৫৭১ খ্রিষ্টাব্দ - ৫৩ হিজরি পূর্ব

এবং হিজরত করেছেন ৬২২ খ্রিষ্টাব্দ - ১ হিজরিতে, এবং ইন্তেকাল করেছেন [১১ হিজরিতে]

যখন আরবরা ঘোর জাহেলিয়াতের এক অন্ধকারাচ্ছন্ন রজনীতে নিমজ্জিত ছিল, যেখানে তাদের শক্তিশালীরা দুর্বলের ধন গ্রাস করত এবং তাদের পথভ্রষ্টরা গুণীজনদের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। ফিতনার নিশানগুলো উত্তোলিত ছিল, তরবারিগুলো ছিল কোষমুক্ত, প্রাণ ছিল উৎসর্গীকৃত; সেখানে কোনো বাধা দানকারী ছিল না, ছিল না কোনো বিচারক বা নিয়ন্ত্রণকারী। তারা [ … ] (১) অপেক্ষা ধ্বংসের অনেক বেশি নিকটবর্তী ছিল। তারা জ্ঞান ও সভ্যতার উৎকর্ষতা থেকে বহুদূরে অবস্থান করছিল। যুদ্ধ-বিগ্রহ আর লড়াই ছাড়া তাদের আর কোনো লক্ষ্য ছিল না, যদিও তাদের মধ্যে প্রখর বুদ্ধিমান ও প্রাঞ্জলভাষী মানুষের প্রাচুর্য ছিল। তাদের চরিত্রে সৌহার্দ্য, বীরত্ব, আত্মমর্যাদা ও আত্মসম্মানবোধ বিদ্যমান ছিল এবং তাদের শারীরিক গঠন ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী, মজবুত ও দৃঢ়। তাদের গোত্রগুলোর মধ্যে ছিল সুদৃঢ় সংহতি ও একতা; যদি না সেখানে হিংসা ও বিদ্বেষ থাকত, যা উত্তরসূরিরা তাদের পিতৃপুরুষ ও পিতামহদের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছিল। সেই বিদ্বেষ তাদের হৃদয়ে এক শূন্যস্থান খুঁজে পেয়েছিল এবং সেখানে নিজ আধিপত্য বিস্তার করেছিল। ফলে এটি তাদেরকে সভ্যতা, নগরায়ণ, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ময়দানে [ … ] (২) পারস্য ও রোমকদের সাথে প্রতিযোগিতা করা থেকে বিমুখ করে রেখেছিল [ … ] (৩)। আল্লাহ তাদের কল্যাণ চাইলেন; তাই তাদের মধ্য থেকেই তাদের নিকট এক প্রজ্ঞাবান ও সঠিক পথপ্রদর্শককে পাঠালেন, যিনি তাদের বিচ্ছিন্নতাকে দূর করে একতাবদ্ধ করলেন এবং তাদের দীর্ঘদিনের সুপ্ত বিবাদগুলো মিটিয়ে দিলেন। তিনি তাদের মাঝে এমন এক সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করলেন যা কখনো ধসে পড়বে না এবং তাদের মস্তিস্কে এমন এক নূর সঞ্চার করলেন যা কাল ও যুগের আবর্তনেও নির্বাপিত হবে না। তিনি হলেন: মহানবী: মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আব্দে মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুআই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে নাদর ইবনে কিনানাহ ইবনে খুযাইমাহ ইবনে মুদরিকা ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুযার ইবনে নিযার ইবনে মাদ ইবনে আদনান। এখানেই তাঁর সম্মানিত বংশপরম্পরা সমাপ্ত হয়েছে এবং এর পরবর্তী অংশ নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের কয়েক মাস পরই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন, ফলে তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিব তাঁর লালন-পালনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তাঁর বয়স যখন ছয় বছর তখন তাঁর মা আমিনা বিনতে ওয়াহাব ইন্তেকাল করেন।

--------------------------------------------

(১ - ৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে শব্দটি অস্পষ্ট।
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ২৫)
سنوات، ثم مات جده وله من العمر ثمانية أعوام، فأتم تربيته عمه أبو طالب، فنشأ معروفا بالشجاعة والهمة والأمانة والصدق والأخلاق الفاضلة والعقل وقوة الإدراك، ولقبه قومه بالأمين.

ولما بلغ الخامسة والعشرين زوجه عمه بخديجة بنت خويلد القرشية الأسدية، وكانت قد أرسلته بتجارة إلى الشام فأفلح وربح، وفي العام الأربعين من مولده بعثه الله إلى الناس مبشرا ونذيرا؛ فجعل يدعوهم ويرشدهم خفية مدة ثلاث سنين، ثم أعلن الدعوة وكان قد آمن به جماعة من أهله وذوي قرباه، فهزأت به قريش وآذته، فصبر، وأقام بمكة مدة مات في أثنائها عمه وأكبر عاصم له من أعدائه أبو طالب بن عبد المطلب، وأسلم في أواخرها عمه حمزة بن عبد المطلب نجدة لابن أخيه ونصرة له، وأسلم عمر بن الخطاب، وكثر عدد نصرائه وفيهم ابن عمه علي بن أبي طالب، ومولاه زيد بن حارثة، وصديقه أبو بكر، وصاحبه عثمان بن عفان، والزبير بن العوام، وعبد الرحمن بن عوف، وسعد بن أبي وقاص، وطلحة بن عبيد الله. فرأى النبي صلى الله عليه وسلم أن يأذن لمن ليس له عشيرة تحميه من شر قريش بالهجرة إلى أرض الحبشة، فهاجر جماعة من أصحابه، ثم أسلم ستة من الأوس والخزرج من سكان المدينة، وذهبوا إليها فنشروا الإسلام في أبنائها، فجاءه منها اثنا عشر من الأنصار فآمنوا به فبعث معهم مصعب ابن عمير بن هاشم بن عبد مناف ليعلمهم شرائع الإسلام والقرآن، فلم يمض غير قليل حتى لم تبق دار في المدينة من دور الأنصار إلا وبها مسلمون إلا دار بني أمية بن زيد. ثم ذهب إلى مكة جماعة منهم فعرضوا على النبي وأصحابه الهجرة إليهم والإقامة في يثرب وهي المدينة المنورة، وعاهدوه على أن يدافعوا عنه، فاستوثق منهم، وأمر أصحابه بالخروج من مكة ثم لحقهم، وبلغ قريشا خبر رحلته فقصدوه ليقتلوه فحماه الله منهم، ودخل المدينة مهاجرا بعد إقامته بمكة ثلاثة عشر عاما.
বছরগুলো অতিবাহিত হলো, অতঃপর তাঁর আট বছর বয়সে তাঁর দাদা ইন্তেকাল করেন। এরপর তাঁর চাচা আবু তালিব তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব সম্পন্ন করেন। তিনি সাহসিকতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, আমানতদারি, সত্যবাদিতা, উত্তম চরিত্র, প্রজ্ঞা এবং প্রখর ধীশক্তির জন্য সুপরিচিত হয়ে বেড়ে ওঠেন এবং তাঁর কওম তাঁকে 'আল-আমিন' (বিশ্বস্ত) উপাধিতে ভূষিত করে।

যখন তিনি পঁচিশ বছর বয়সে পদার্পণ করলেন, তখন তাঁর চাচা কুরাইশ বংশীয় আসাদ গোত্রের খুওয়াইলিদ-কন্যা খাদিজার সাথে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন করেন। খাদিজা তাঁকে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে শামে প্রেরণ করেছিলেন এবং সেখানে তিনি সফল ও লাভবান হন। তাঁর জন্মের চল্লিশতম বছরে আল্লাহ তাঁকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে মানবজাতির নিকট প্রেরণ করেন। তিনি দীর্ঘ তিন বছর গোপনে মানুষকে দাওয়াত প্রদান ও সঠিক পথপ্রদর্শন করতে থাকেন। অতঃপর তিনি প্রকাশ্যে দাওয়াতের ঘোষণা দেন। তাঁর পরিবারের একদল সদস্য ও নিকটাত্মীয়রা তাঁর প্রতি ঈমান আনেন। কুরাইশরা তাঁকে উপহাস করে এবং কষ্ট দেয়, কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেন। তিনি মক্কায় অবস্থানকালেই তাঁর চাচা এবং শত্রুদের হাত থেকে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ রক্ষক আবু তালিব ইবনে আব্দুল মুত্তালিব মৃত্যুবরণ করেন। সেই সময়ের শেষভাগে তাঁর চাচা হামজা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব তাঁর ভাতিজার সাহায্য ও সমর্থনের লক্ষ্যে ইসলাম গ্রহণ করেন। এছাড়া ওমর ইবনুল খাত্তাবও ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর সমর্থকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তাঁর চাচাতো ভাই আলী ইবনে আবু তালিব, তাঁর মুক্তদাস জায়েদ বিন হারিসা, তাঁর অকৃত্রিম বন্ধু আবু বকর, তাঁর সাথী ওসমান বিন আফফান, যুবাইর বিন আওয়াম, আব্দুর রহমান বিন আউফ, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস এবং তালহা বিন উবাইদুল্লাহ। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লক্ষ্য করলেন যে, কুরাইশদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করার মতো যাদের কোনো গোত্রীয় শক্তি নেই, তাঁদের আবিসিনিয়া (হাবশা) হিজরত করার অনুমতি দেওয়া প্রয়োজন। ফলে তাঁর একদল সাহাবী সেখানে হিজরত করেন। পরবর্তীতে মদিনার অধিবাসী আউস ও খাজরাজ গোত্রের ছয়জন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁরা মদিনায় ফিরে গিয়ে তাঁদের সন্তানদের মাঝে ইসলাম প্রচার করেন। অতঃপর মদিনা থেকে বারোজন আনসার তাঁর নিকট এসে ঈমান আনেন। তিনি তাঁদের সাথে মুসআব ইবনে উমাইর ইবনে হাশিম ইবনে আবদে মানাফকে প্রেরণ করেন, যাতে তিনি তাঁদের ইসলামের বিধিবিধান ও কুরআন শিক্ষা দিতে পারেন। অল্প কিছুকাল অতিবাহিত হতেই মদিনার আনসারদের প্রতিটি ঘরেই মুসলমান দেখা গেল, কেবল বনী উমাইয়া ইবনে জায়েদ গোত্র ব্যতীত। এরপর তাঁদের একটি দল মক্কায় এসে নবী ও তাঁর সাহাবীদের ইয়াসরিবে (যা মদিনা মুনাওয়ারা) হিজরত ও সেখানে বসবাসের প্রস্তাব দেন। তাঁরা তাঁকে রক্ষা করার অঙ্গীকার করেন। তিনি তাঁদের নিকট থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেন এবং সাহাবীদের মক্কা ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে পরবর্তীতে নিজেও তাঁদের সাথে যোগ দেন। কুরাইশরা তাঁর যাত্রার সংবাদ পেয়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে অন্বেষণ করে, কিন্তু আল্লাহ তাঁদের হাত থেকে তাঁকে রক্ষা করেন। মক্কায় তেরো বছর অবস্থানের পর তিনি মুহাজির হিসেবে মদিনায় প্রবেশ করেন।
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ২৬)
ومن سنة دخوله المدينة يبتدئ التاريخ الهجري. وكانت الدعوة الإسلامية لا تخرج عن حد الدليل والبرهان، ولكنه لما اطمأن في المدينة وعلم أن أعداءه غير تاركيه بل لابد لهم من قصده ومحاولة إيذائه، رأى أن السيف لا يدفعه إلا السيف؛ فأمر المسلمين بإعداد القوة ومحاربة خصومهم وبغاة الشر بهم. فحدثت مناوشات يسيرة ثم عظم أمرها.

فلما كانت السنة الثانية من الهجرة في شهر رمضان كانت غزوة بدر الكبرى. وفي هذه السنة كانت غزوة بني قينقاع، والكذر والسويق. وفي السنة الثالثة كانت غزوة أحد، وغزوة حمراء الأسد، وفي الرابعة غزوة الرجيع، وغزوة ذات الرقاع، وغزوة بدر الثانية. وفي السنة الخامسة كانت غزوة الخندق، وغزوة بني قريظة، وفي السادسة غزوة بني لحيان، وغزوة ذي قرد، وغزوة بني المصطلق، وفيها بعث رسول الله الرسل إلى كسرى وقيصر والنجاشي وغيرهم من عظماء الملوك كالمقوقس بمصر، والحارث الغساني بالشام. وفي السنة السابعة من هجرته كانت غزوة خيبر. وفي الثامنة غزوة ذات السلاسل، وغزوة مؤتة، وفيها فتح المسلمون مكة المكرمة، وكانت غزوة هوازن بحنين. وفي التاسعة غزوة تبوك، وغزوة طيئ … وكل هذه الغزوات كانت حروبا بين المسلمين وعرب الحجاز، وأكثرها تم به النصر للمسلمين، حتى ارتفع شأنهم، وطأطأت لهم العرب رؤوسها؛ فدخلوا في الدين أفواجا، وأرسلت القبائل وفود الطاعة.

ولم يتوفه الله إلا بعد أن فتحت له بلاد الحجاز واليمن وجميع جزيرة العرب وما داني ذلك من الشام والعراق، وحبي له من أخماسها وصدقاتها وجزيتها ما لا يجبى للملوك إلا بعضه، وهاداه جماعة من ملوك الأقاليم فلم يستأثر بشيء مما ورد عليه ولا أمسك منه درهما بل صرفه على مصارفه وأغنى به غيره وقوى به المسلمين.

وكان صلى الله عليه وسلم شجاعا مقداما، خطيبا، أوتي جوامع الكلم، متصفا بصفات
মদীনায় তাঁর আগমনের বছর থেকেই হিজরি সন শুরু হয়। ইসলামি দাওয়াত তখন পর্যন্ত দলিল ও প্রমাণের গণ্ডির বাইরে ছিল না। তবে যখন তিনি মদীনায় থিতু হলেন এবং জানতে পারলেন যে, শত্রুরা তাঁকে রেহাই দেবে না, বরং তারা অবশ্যই তাঁকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে এবং কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করবে, তখন তিনি উপলব্ধি করলেন যে তলোয়ারকে তলোয়ার ছাড়া প্রতিহত করা সম্ভব নয়। ফলে তিনি মুসলমানদের শক্তি সঞ্চয় করার এবং তাদের প্রতিপক্ষ ও অনিষ্টকামীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দিলেন। এরপর কিছু ছোটখাটো সংঘর্ষ ঘটে এবং পরবর্তীকালে তা বিশাল আকার ধারণ করে।

হিজরি দ্বিতীয় বর্ষের রমজান মাসে বদরের মহাযুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই বছরেই বনু কাইনুকা, আল-কুদর এবং আস-সাওয়িক যুদ্ধগুলো সংঘটিত হয়। তৃতীয় হিজরিতে ওহুদ এবং হামরাউল আসাদ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। চতুর্থ হিজরিতে আর-রাজি, জাতুর রিকা এবং দ্বিতীয় বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। পঞ্চম হিজরিতে খন্দক ও বনু কুরাইজা যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ষষ্ঠ হিজরিতে বনু লিহয়ান, জি-কারাদ এবং বনু মুসতালিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই বছরেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসরা, কায়সার, নাজাসি এবং মিশরের মুকাউকিস ও শামের হারিস গাসসানির মতো অন্যান্য মহান সম্রাটদের কাছে দূত প্রেরণ করেন। হিজরতের সপ্তম বর্ষে খায়বার যুদ্ধ সংঘটিত হয়। অষ্টম হিজরিতে জাতুস সালাসি এবং মুতা যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই বছরেই মুসলমানগণ মক্কা মুকাররমা বিজয় করেন এবং হুনাইনে হাওয়াজিন যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবম হিজরিতে তাবুক যুদ্ধ এবং তাই যুদ্ধ সংঘটিত হয় … এই সমস্ত যুদ্ধই ছিল মুসলমান এবং হিজাজের আরবদের মধ্যে। এগুলোর অধিকাংশতেই মুসলমানরা বিজয় লাভ করেন, যার ফলে তাদের মর্যাদা সুউচ্চ হয় এবং আরব জাতি তাদের সামনে মস্তক অবনত করে। ফলে তারা দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে থাকে এবং বিভিন্ন গোত্র আনুগত্যের বার্তা নিয়ে প্রতিনিধি দল পাঠাতে থাকে।

আল্লাহ তাআলা তাঁর মৃত্যু দেননি যতক্ষণ না তাঁর হাতে হিজাজ, ইয়েমেন, সমগ্র আরব উপদ্বীপ এবং সিরিয়া ও ইরাকের নিকটবর্তী অঞ্চলসমূহ বিজয় হয়েছে। গণিমতের এক-পঞ্চমাংশ, সদকা এবং জিজিয়া বাবদ তাঁর নিকট যা সংগৃহীত হতো, তার সামান্য অংশই কোনো রাজাদের জন্য সংগৃহীত হতো। বিভিন্ন অঞ্চলের রাজাগণ তাঁকে উপহার পাঠাতেন। যা কিছুই তাঁর নিকট আসত, তিনি তার কিছুই নিজের জন্য রাখতেন না এবং একটি দিরহামও জমিয়ে রাখতেন না; বরং তিনি তা তার নির্দিষ্ট ব্যয়ের খাতে খরচ করতেন, এর মাধ্যমে অন্যদের অভাব দূর করতেন এবং মুসলমানদের শক্তিশালী করতেন।

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত সাহসী ও অগ্রণী ছিলেন, বাগ্মী ছিলেন, তাঁকে জাওয়ামিউল কালিম (অল্প কথায় ব্যাপক অর্থ প্রকাশের ক্ষমতা) দান করা হয়েছিল এবং তিনি নানাবিধ মহৎ গুণে গুণান্বিত ছিলেন—
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ২৭)
الكمال، قال أنس بن مالك: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم: أشجع الناس وأسمح الناس، وأحسن الناس، وقع في المدينة فزع فركب فرسا عريا، فسبق الناس إليه وهو يقول: أيها الناس لم تراعوا لم تراعوا.

وقال علي بن أبي طالب رضي الله عنه: كنا إذا اشتد البأس اتقينا برسول الله صلى الله عليه وسلم؛ فكان أقربنا إلى العدو.

ودونت كلماته من بعده. قال صلى الله عليه وسلم: «أوتيت جوامع الكلم واختصر لي الكلام اختصارا».

 

‌‌وهذه نبذة من أقواله في الاجتماع والسياسة والأخلاق:

- «آية المنافق ثلاث: إذا حدث كذب، وإذا وعد أخلف، وإذا ائتمن خان».

- «أحب الجهاد إلى الله: كلمة حق تقال لإمام جائر».

- «أحبب حبيبك هونا ما، عسى أن يكون بغيضك يوما ما، وابغض بغيضك هونا ما عسى أن يكون حبيبك يوما ما».

- «اطلبوا الحوائج بعزة الأنفس؛ فإن الأمور تجري بالمقادير».

- «أمسك عليك بعض مالك فهو خير لك».

- «ألا أدلكم على أشدكم؟ أملككم لنفسه عند الغضب».

- «الاقتصاد نصف العيش، وحسن الخلق نصف الدين».

- «الجنة تحت أقدام الأمهات».

- «الجنة تحت ظلال السيوف».

- «الحزم سوء الظن».

- «المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده».

- «خير الناس أنفعهم للناس».
পূর্ণতা, আনাস বিন মালিক (রা.) বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সাহসী, সর্বাধিক দানশীল এবং সর্বাধিক সুন্দর। মদিনায় একবার ভীতি ও আতঙ্কের সঞ্চার হলো, তখন তিনি একটি জিনহীন ঘোড়ায় আরোহণ করলেন এবং সবার আগে সেই ভীতিকর স্থানে পৌঁছে গেলেন। তিনি বলছিলেন: হে লোকসকল! তোমরা ভীত হয়ো না, তোমরা ভীত হয়ো না।

আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) বলেন: যখন যুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করত, আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে আত্মরক্ষা করতাম; তিনি আমাদের মধ্যে শত্রুর সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকতেন।

তাঁর তিরোধানের পর তাঁর বাণীসমূহ সংকলিত হয়েছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমাকে ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাক্য দান করা হয়েছে এবং আমার জন্য কথাকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করে দেওয়া হয়েছে।"

 

‌‌সামাজিক জীবন, রাজনীতি এবং চরিত্র সম্পর্কে তাঁর কতিপয় বাণীর সংক্ষিপ্তসার এখানে দেওয়া হলো:

- "মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি: যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় তখন খেয়ানত করে।"

- "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় জিহাদ হলো: অত্যাচারী শাসকের সামনে সত্য কথা বলা।"

- "তোমার বন্ধুকে পরিমিতভাবে ভালোবাসো, কারণ হতে পারে সে কোনো একদিন তোমার শত্রু হয়ে যাবে। আর তোমার শত্রুকেও পরিমিতভাবে ঘৃণা করো, কারণ হতে পারে সে কোনো একদিন তোমার বন্ধু হয়ে যাবে।"

- "আত্মসম্মান বজায় রেখে নিজেদের প্রয়োজন পূরণ করতে চাও; কেননা সমস্ত বিষয়ই তাকদির অনুযায়ী পরিচালিত হয়।"

- "তোমার সম্পদের কিছু অংশ নিজের কাছে জমা রাখো, তা তোমার জন্য কল্যাণকর।"

- "আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি সম্পর্কে জানাব না? সে-ই, যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।"

- "মিতব্যয়িতা হলো জীবনযাত্রার অর্ধেক, আর উত্তম চরিত্র হলো দ্বীনের অর্ধেক।"

- "মায়ের পায়ের নিচে জান্নাত।"

- "তলোয়ারের ছায়াতলে জান্নাত।"

- "সতর্কতা হলো (ক্ষতি বা প্রতারণার বিষয়ে) সংশয় পোষণ করা।"

- "প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।"

- "মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।"
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ২৮)
- «دعوا الحسناء العاقر، وتزوجوا السوداء الولود، فإني أكاثر بكم الأمم يوم القيامة».

- «الرمي خير ما لهوتم به».

- «زر غبا تزدد حبا».

- «الصبر عند الصدمة الأولى».

- «عرامة الصبي في صغره زيادة في عقله في كبره».

- «ليس المؤمن بالذي يشبع وجاره جائع إلى جنبه».

- «من استعمل رجلا من عصابة وفيهم من هو أرضى الله منه فقد خان الله ورسوله والمؤمنين».

- «من مشى مع ظالم ليعينه وهو يعلم أنه ظالم فقد خرج من الإسلام».

- «المستشار مؤتمن فإذا استشير فليشر بما هو صانع لنفسه».

 

‌‌ومما أثبته رجال الحديث وثقاة الرواة من نعوته وأوصافه (صلى الله عليه وسلم -):

كان إذا خطب احمرت عيناه وعلا صوته، واشتد غضبه كأنه منذر جيش.

وكان إذا خطب في الحرب خطب على قوس وإذا خطب في الجمعة خطب على عصا.

كان طويل الصمت قليل الضحك، وإذا تكلم تبسم.

كان يجلس على الأرض ويأكل على الأرض ويجيب دعوة المملوك على خبز الشعير.

كان يخيط ثوبه ويخصف نعله ويجالس المساكين.

كان إذا مشى لم يلتفت، وإذا التفت التفت جميعا، يتكفأ في مشيه كأنما ينحط من صبب(1).

--------------------------------------------

(1) يتكفأ: يتمايل إلى الأمام. صبب أي منحدر من الأرض. انظر: مشكاة المصابيح: 2/ 434.
- «তোমরা বন্ধ্যা সুন্দরী রমণীকে বর্জন করো এবং অধিক সন্তানবতী কালো রমণীকে বিবাহ করো; কেননা আমি কিয়ামতের দিন তোমাদের আধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতদের সামনে গর্ব করব।»

- «তীর নিক্ষেপ তোমাদের সর্বোত্তম বিনোদন।»

- «মাঝে মাঝে সাক্ষাৎ করো, এতে ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে।»

- «ধৈর্য হলো বিপদের প্রথম আঘাতে।»

- «শৈশবে শিশুর চঞ্চলতা বড় হওয়ার পর তার বুদ্ধিমত্তার আধিক্যের প্রমাণ।»

- «সেই ব্যক্তি মুমিন নয় যে নিজে পেটভরে খায় অথচ তার পাশে তার প্রতিবেশী অভুক্ত থাকে।»

- «যে ব্যক্তি কোনো দল থেকে কাউকে কোনো পদে নিয়োগ দান করল অথচ তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি বর্তমান যে আল্লাহর নিকট তার চেয়ে অধিক পছন্দনীয়, তবে সে আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদের সাথে খেয়ানত করল।»

- «যে ব্যক্তি কোনো জালেমকে সাহায্য করার জন্য তার সাথে চলে অথচ সে জানে যে লোকটি জালেম, তবে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেল।»

- «যার নিকট পরামর্শ চাওয়া হয় সে আমানতদার; সুতরাং যখন তার নিকট পরামর্শ চাওয়া হয়, সে যেন তেমনই পরামর্শ দেয় যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।»

 

‌‌হাদীস বিশারদগণ এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে যা সাব্যস্ত করেছেন তার মধ্য থেকে কিছু: :

তিনি যখন খুতবা দিতেন তখন তাঁর চক্ষুদ্বয় লাল হয়ে যেত, তাঁর কণ্ঠস্বর উচ্চ হতো এবং তাঁর ক্রোধ তীব্র হতো; মনে হতো যেন তিনি কোনো বাহিনীকে (শত্রু সম্পর্কে) সতর্ক করছেন।

তিনি যখন যুদ্ধক্ষেত্রে খুতবা দিতেন তখন ধনুকের ওপর ভর দিয়ে খুতবা দিতেন এবং যখন জুমার খুতবা দিতেন তখন লাঠির ওপর ভর দিয়ে খুতবা দিতেন।

তিনি দীর্ঘ সময় নীরব থাকতেন, অল্প হাসতেন এবং কথা বলার সময় মুচকি হাসতেন।

তিনি মাটির ওপর বসতেন, মাটির ওপর আহার করতেন এবং যবের রুটির বিনিময়ে হলেও দাসের দাওয়াত কবুল করতেন।

তিনি নিজের কাপড় সেলাই করতেন, নিজের জুতো মেরামত করতেন এবং অভাবী মিসকীনদের সাথে বসতেন।

তিনি যখন পথ চলতেন তখন (এদিক-সেদিক) তাকাতেন না, আর যখন ফিরে তাকাতেন তখন পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরে তাকাতেন। তিনি হাঁটার সময় সামনের দিকে ঝুঁকে চলতেন, মনে হতো যেন তিনি কোনো ঢালু জায়গা থেকে নিচে নামছেন।(১).

--------------------------------------------

(১) সামনের দিকে ঝুঁকে চলা। সাবাব অর্থাৎ ভূমির ঢালু স্থান। দেখুন: মিশকাতুল মাসাবিহ: ২/ ৪৩৪।
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ২৯)
كان إذا ضحك وضع يده على فيه.

كان إذا اهتم أكثر من مس لحيته.

كان إذا أراد غزوة ورى بغيرها، وهو القائل: الحرب خدعة.

كان أشد حياء من العذراء في خدرها.

كان ضخم الرأس واليدين والقدمين، ليس بالطويل ولا القصير، سبط الشعر.

كان فيه دعابة قليلة، وإذا مزح غض بصره.

كان في كلامه ترتيل و ترسل

كان لونه أسمر، وخلقته تامة، عيناه سوداوان، وفي خديه حمرة.

كان متواضعا في غير مذلة.

كان يأخذ المسك فيمسح به رأسه ولحيته.

كان يرسل شعره إلى أنصاف أذنيه.

كان يلبس قلنسوة بيضاء.

وكتب الحديث مفعمة بدرر ألفاظه مشحونة بمحاسن أوصافه، وأما معجزاته فحسبنا منها المعجزة الخالدة التي هي القرآن الكريم المبكم بفصاحته بلغاء الجاهلية المحير بأحكامه حكماء الناس أجمعين، وهو الذي أجمع عقلاء الأسم كافة على أنه أفضل الكتب السماوية وأجدرها بالبقاء وأصلحها للبشر وأنفعها للناس، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم كثير الزوجات، قال ابن الكلبي النسابة: تزوج النبي خمس عشرة امرأة، دخل بثلاث عشرة منهن، وجمع بين إحدى عشرة، وتوفي وعنده تسع نسوة، وولد له سبعة أولاد: ثلاثة ذكور، وأربع بنات. فأما الذكور؛ فالقاسم - وبه كان يكنى -، وعبد الله، وإبراهيم، وكلهم ماتوا صغارا لم يتجاوز أحدهم السنتين. وأما البنات فزينب، ورقية، وأم كلثوم، وفاطمة. وكلهن عشن حتى كبرن وتزوجن، ولم يكن لرسول الله صلى الله عليه وسلم نسل
যখন তিনি হাসতেন তখন তাঁর হাত মুখের উপর রাখতেন।

যখন তিনি কোনো বিষয়ে চিন্তিত হতেন তখন অধিক পরিমাণে দাড়ি স্পর্শ করতেন।

যখন তিনি কোনো যুদ্ধের সংকল্প করতেন তখন অন্য কোনো যুদ্ধের নাম নিয়ে তা গোপন রাখতেন; এবং তিনিই বলতেন: যুদ্ধ হলো এক প্রকার কৌশল।

তিনি পর্দার আড়ালে থাকা কুমারী মেয়ের চেয়েও অধিক লাজুক ছিলেন।

তিনি বড় মস্তক, বড় হাত এবং বড় পা বিশিষ্ট ছিলেন; তিনি অতি দীর্ঘাকৃতি কিংবা অতি খর্বাকৃতি ছিলেন না; তাঁর চুল ছিল সোজা।

তাঁর মধ্যে সামান্য কৌতুকপ্রিয়তা ছিল, এবং যখন তিনি কৌতুক করতেন তখন স্বীয় দৃষ্টি অবনমিত রাখতেন।

তাঁর কথা বলার ধরণ ছিল ধীরস্থির এবং সুবিন্যস্ত।

তাঁর গায়ের রং ছিল উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ, তাঁর দৈহিক গঠন ছিল নিখুঁত, তাঁর চোখ দুটি ছিল গাঢ় কালো এবং তাঁর দুই কপালে আরক্তিম আভা ছিল।

তিনি হীনম্মন্যতাহীন বিনয়ী ছিলেন।

তিনি কস্তুরী গ্রহণ করতেন এবং তা তাঁর মাথায় ও দাড়িতে মাখতেন।

তিনি তাঁর চুল কানের লতির মধ্যভাগ পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখতেন।

তিনি সাদা টুপি পরিধান করতেন।

আর হাদিসের কিতাবসমূহ তাঁর মনিমুক্তাসম বাণীতে পরিপূর্ণ এবং তাঁর সুন্দর গুণাবলীর বর্ণনায় সমৃদ্ধ। আর তাঁর মুজিজাসমূহ থেকে আমাদের জন্য সেই চিরন্তন মুজিজাই যথেষ্ট যা হলো কুরআনুল কারীম, যা স্বীয় অলঙ্কারপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে জাহেলি যুগের বাগ্মীদের নির্বাক করে দিয়েছে এবং স্বীয় বিধানমালার মাধ্যমে সমগ্র মানবজাতির প্রজ্ঞাবানদের কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দিয়েছে। এটি এমন এক কিতাব, যার ব্যাপারে বিশ্বের সকল বুদ্ধিমান ব্যক্তি ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, এটি আসমানি কিতাবসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, স্থায়িত্বের বিচারে সর্বাধিক উপযুক্ত, মানবজাতির জন্য সবচেয়ে উপযোগী এবং মানুষের জন্য সবচেয়ে কল্যাণকর। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণীর সংখ্যা অধিক ছিল। বংশবিদ ইবনে কালবী বলেন: নবী পনেরো জন নারীকে বিবাহ করেছিলেন, তেরো জনের সাথে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেছেন, একসাথে এগারো জনের সাথে সংসার করেছেন এবং যখন তিনি ইন্তেকাল করেন তখন তাঁর নয়জন স্ত্রী জীবিত ছিলেন। তাঁর সাতটি সন্তান জন্ম নিয়েছিল: তিনটি পুত্র এবং চারটি কন্যা। পুত্ররা হলেন: কাসিম—তাঁর নামানুসারেই নবীর উপনাম রাখা হয়েছিল—, আবদুল্লাহ এবং ইবরাহিম। তাঁরা সকলেই শৈশবে মারা যান এবং তাঁদের কেউই দুই বছর বয়স অতিক্রম করেননি। আর কন্যারা হলেন যয়নব, রুকাইয়া, উম্মে কুলসুম এবং ফাতিমা। তাঁরা সকলেই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত জীবিত ছিলেন এবং তাঁদের বিবাহ হয়েছিল। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো (পুরুষ) বংশধারা ছিল না।
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ৩০)
إلا من ابنته فاطمة، تزوجها ابن عمه علي بن أبي طالب، فولدت له الحسن والحسين، وإليهما نسبة كل منتسب إلى النبي المصطفى (صلوات الله عليه)، وولد لها ولد ثالث سمته محسنا، مات صغيرا، وكان لرسول الله كتاب يستعين بهم؛ لأنه لم يتعلم الكتابة، منهم: عثمان بن عفان، وعلي بن أبي طالب، وزيد ابن ثابت، ومعاوية بن أبي سفيان، وكان له سيافون يضربون الأعناق بين يديه، وحراس اتخذهم حتى نزل قوله تعالى: {والله يعصمك من الناس} (المائدة: 67)، فتركهم، ومؤذنون، ورسل، وشعراء، وخطباء، وخدم، وخيل، وبغال، وابل، وحماران، وسلاح كثير من سيوف ودروع وقسي ورماح وحراب وخوذة ومجن. وفي آخر سنة من حياته الشريفة حج حجة الوداع وخطب فيها فأبان للناس ما لهم وما عليهم وهي من أطول خطبه وأكثر من استيعابا لأمور الدين والدنيا. وفي المدينة المنورة بدأ به ألم في آخر صفر، وحم واشتد به الصداع فتوفي يوم الاثنين ثاني عشر ربيع الأول. وفي مثل هذا اليوم كان مولده، فدفن في مرقده الشريف في المدينة المنورة، بعد أن أسس للناس مدينة أشرقت شمسها اليوم في جميع أقطار الأرض ودينا يعتنقه نيف ومئتا مليون من البشر، صلى الله تعالى عليه وسلم تسليما كثيرا.

* * *
কেবল তাঁর কন্যা ফাতিমা ব্যতীত; তাঁর চাচাতো ভাই আলী বিন আবি তালিব তাঁকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভে হাসান ও হুসাইন জন্মগ্রহণ করেন। মনোনীত নবী (আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রত্যেক বংশধরের বংশধারা তাঁদের দিকেই পর্যবসিত হয়। ফাতিমার গর্ভে তাঁর তৃতীয় এক পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিল যার নাম তিনি মুহসিন রেখেছিলেন, কিন্তু সে শৈশবেই মারা যায়। রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কয়েকজন লেখক ছিলেন যাদের তিনি সহায়তা নিতেন, কারণ তিনি লিখতে জানতেন না। তাঁদের মধ্যে ছিলেন: উসমান বিন আফফান, আলী বিন আবি তালিব, যায়েদ ইবনে সাবিত এবং মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান। তাঁর সাথে এমন কিছু তরবারীধারী জল্লাদ থাকত যারা তাঁর সম্মুখে (দণ্ডপ্রাপ্তদের) গর্দান উচ্ছেদ করত। এছাড়া তাঁর দেহরক্ষীও ছিল, যতক্ষণ না মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হয়: "আর আল্লাহ আপনাকে মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন" (সূরা আল-মায়িদাহ: ৬৭); এরপর তিনি তাঁদের রাখা পরিহার করেন। তাঁর আরও ছিল মুয়াজ্জিনগণ, দূতগণ, কবিগণ, বাগ্মীগণ, সেবকগণ, এবং ঘোড়া, খচ্চর, উট, দুটি গাধা এবং তলোয়ার, বর্ম, ধনুক, বল্লম, বর্শা, শিরস্ত্রাণ ও ঢালের মতো প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র। তাঁর পবিত্র জীবনের শেষ বছরে তিনি বিদায় হজ সম্পাদন করেন এবং তাতে খুতবা প্রদান করেন। সেখানে তিনি মানুষের অধিকার ও কর্তব্যসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন। এটি ছিল তাঁর দীর্ঘতম খুতবাগুলোর অন্যতম এবং দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়াবলীতে সর্বাধিক ব্যাপক। মদিনা মুনাওয়ারায় সফর মাসের শেষ দিকে তাঁর রোগ যাতনা শুরু হয়; তিনি জ্বরাক্রান্ত হন এবং তাঁর মাথাব্যথা তীব্রতর হয়। অতঃপর তিনি রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখ সোমবার ইন্তেকাল করেন। এই দিনেই তাঁর জন্ম হয়েছিল। অতঃপর তাঁকে মদিনা মুনাওয়ারায় তাঁর পবিত্র সমাধিস্থলে দাফন করা হয়; এর আগে তিনি মানবজাতির জন্য এমন এক সভ্যতা প্রতিষ্ঠা করেন যার সূর্য আজ পৃথিবীর সকল প্রান্তে উদ্ভাসিত এবং এমন এক ধর্ম রেখে গেছেন যা বিশ কোটিরও অধিক মানুষ অনুসরণ করছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর অজস্র ধারায় দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌عدنان

كان في نحو سنة 1100 قبل الهجرة

كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا انتسب فبلغ عدنان يمسك ويقول: كذب النسابون. فلا يتجاوزه، وإجماع المؤرخين ورجال الأنساب على أن عدنان من أبناء إسماعيل ابن إبراهيم عليهما السلام، والذي اعتمده القلقشندي في نسبته إلى إسماعيل أن عدنان ابن أد بن أدد الهميسع بن سلامان بن نبت بن حمل بن قيدار بن إسماعيل عليه السلام، وإسماعيل يبتدئ به القسم الثالث من أقسام العرب في جاهليتهم، وذلك أن المؤرخين يسمون الجيل الأول من أجيال العرب «العرب العاربة» وهم الذين انقطعت أخبارهم وبادت آثارهم، وربما سموهم العرب البائدة، ومنهم قبائل عاد وثمود وطسم وجديس وجرهم الأولى. والجيل الثاني يبتدئ بقحطان وسموه «العرب المتعربة» يذهبون إلى أن قحطان وابنه يعرب أخذا العربية عمن تقدمهم وسيأتي الكلام على قحطان وبنيه. والجيل الثالث «العرب المستعربة» ويبدأ بإسماعيل عليه السلام وسموهم مستعربين لأن إسماعيل لم يكن عربيا، وإنما هاجر ومعه أمه هاجر من الشام إلى الحجاز، وكان الحجاز وتهامة حينئذ مقر العمالقة، فأصابت سكان اليمن مجاعة نشأت عن قحط أصاب بلادهم فأقبلوا مهاجرين نحو تهامة يطلبون الماء والمرعى، فاجتمع بهم إسماعيل وأمه فأقبلا معهم، واحتلوا أسفل مكة، ثم حاربوا العمالقة سكان الحجاز فأهلكوا أكثرهم، وأقام اليمانيون المهاجرون في ربوع الحجاز وتهامة وفيهم بقية من جرهم الثانية (وهم من العرب المتعربة) فنشأ إسماعيل فيهم وتعلم منهم اللغة العربية، وكان يتكلم بالعبرانية، وزوجوه من بناتهم فخرج فيهم نسله وكان من أحفاده عدنان المترجم وإليه ينسب الجم الغفير من عرب الحجاز: وذلك أنه ولد له معد وولد لمعد نزار، ومن نزار ربيعة ومضر: وهذان هما اللذان كثرت بطونهما.
আদনান

তিনি হিজরতের প্রায় ১১০০ বছর পূর্বে বিদ্যমান ছিলেন

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নিজের বংশধারা বর্ণনা করতেন এবং আদনান পর্যন্ত পৌঁছাতেন, তখন তিনি থেমে যেতেন এবং বলতেন: "বংশলতিকাবিদগণ মিথ্যা বলেছেন।" সুতরাং তিনি এর ঊর্ধ্বে যেতেন না। ঐতিহাসিক এবং বংশলতিকাবিদগণের মধ্যে এ বিষয়ে ঐক্যমত্য রয়েছে যে, আদনান হলেন ইবরাহিম আলাইহিস সালামের পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালামের বংশধরদের অন্তর্ভুক্ত। আল-কালকাশান্দি ইসমাইল আলাইহিস সালামের সাথে আদনানের বংশীয় সম্পর্কের বিষয়ে যা নির্ভরযোগ্য মনে করেছেন তা হলো: আদনান বিন আদ বিন আদাদ আল-হামায়সা বিন সালামমান বিন নাবত বিন হামাল বিন কাইদার বিন ইসমাইল আলাইহিস সালাম। আর ইসমাইল আলাইহিস সালামের মাধ্যমেই জাহেলি যুগের আরবদের তিনটি বিভাগের তৃতীয় বিভাগটি শুরু হয়। কারণ ঐতিহাসিকগণ আরবদের প্রথম প্রজন্মকে «আরব আরেবা» নামে অভিহিত করেন; যাদের সংবাদ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং যাদের চিহ্নসমূহ বিলীন হয়ে গেছে। সম্ভবত তারা তাদেরকে আরব বায়েদাহ (বিলুপ্ত আরব) বলেও ডাকতেন। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলো আদ, সামুদ, তাসম, জাদিস এবং প্রথম জুরহুম গোত্রসমূহ। আর দ্বিতীয় প্রজন্মটি শুরু হয় কাহতান থেকে এবং তারা একে «আরব মুতাআররেবা» বলে অভিহিত করেন। তারা এই মত পোষণ করেন যে, কাহতান এবং তার পুত্র ইয়ারুব তাদের পূর্ববর্তীদের থেকে আরবি ভাষা গ্রহণ করেছিলেন। অচিরেই কাহতান এবং তার সন্তানদের সম্পর্কে আলোচনা আসবে। আর তৃতীয় প্রজন্ম হলো «আরব মুসতা'রেবা», যা ইসমাইল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে শুরু হয়। তারা তাদেরকে মুসতা'রেবীন বা আরব হওয়া জনগোষ্ঠী বলেছেন কারণ ইসমাইল মূলত আরব ছিলেন না; বরং তিনি এবং তার সাথে তার মা হাজেরা শাম থেকে হিজাযে হিজরত করেছিলেন। সে সময় হিজায এবং তিহামা ছিল আমালিকা সম্প্রদায়ের আবাসস্থল। অতঃপর ইয়ামেনের অধিবাসীরা তাদের দেশে দেখা দেওয়া দুর্ভিক্ষের কারণে অনাহারে পতিত হয় এবং তারা পানি ও চারণভূমির সন্ধানে তিহামার দিকে হিজরত করে চলে আসে। তখন ইসমাইল ও তার মায়ের সাথে তাদের সাক্ষাৎ হয় এবং তারা তাদের সাথে সেখানে বসবাস করতে শুরু করে। তারা মক্কার নিচু অংশে বসতি স্থাপন করে। এরপর তারা হিজাযের অধিবাসী আমালিকাদের সাথে যুদ্ধ করে তাদের অধিকাংশকে ধ্বংস করে দেয়। অতঃপর হিজরতকারী ইয়ামেনিরা হিজায ও তিহামার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বসবাস শুরু করে এবং তাদের মধ্যে দ্বিতীয় জুরহুমের (যারা আরব মুতাআররেবার অন্তর্ভুক্ত) অবশিষ্টাংশও ছিল। ফলে ইসমাইল তাদের মধ্যেই বেড়ে ওঠেন এবং তাদের নিকট থেকেই আরবি ভাষা শেখেন, যদিও তিনি ইবরানি ভাষায় কথা বলতেন। তারা তাদের কন্যাদের সাথে তার বিবাহ দেয় এবং তাদের মধ্যেই তার বংশধারা বিস্তার লাভ করে। এই জীবনীতে আলোচিত আদনান ছিলেন তারই বংশধরদের একজন এবং হিজাযের আরবদের এক বিশাল গোষ্ঠীর বংশীয় সম্বন্ধ তার দিকেই করা হয়। তার কারণ হলো, তার ঘরে মা'আদ জন্মগ্রহণ করেন এবং মা'আদের ঘরে নিযার জন্মগ্রহণ করেন। আর নিযার থেকে রাবিয়াহ ও মুদার জন্মগ্রহণ করে: আর এই দুজনেই হলেন তারা, যাদের থেকে বহু শাখা-প্রশাখা ও বংশধারা বৃদ্ধি পেয়েছে।
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ৩২)
فكان من ربيعة قبائل كثيرة لها شهرة وذكر في تاريخ العرب إذ كانوا يناصون مضر في الشرف والرفعة، ومنهم كان أكثر الخوارج في الإسلام، ومنهم بنو أسد وبنو عبد القيس، وعنزة وبكر وتغلب ووائل والأراقم والدول وغيرهم مما بسطه علماء الأنساب - انظر أنساب العرب للقلقشندي.

وتشعبت قبائل مضر إلى شعبتين قيس بن عيلان بن مضر، وبطون إلياس ابن مضر. فمن بني قيس بن عيلان بنو غطفان، وبنو سليم بن منصور، ومن غطفان بغيض بن ريث، وعبس وذبيان ابنا بغيض، وما يتفرع منهما، ومن سليم ابن منصور بن بهتة وبنو هوازن.

وإما إلياس: فكان من بنيه تميم بن مر، وهذيل بن مدركة، وبنو أسد ابن خزيمة وبطون كنانة بن خزيمة، ومن كنانة قريش وهم أولاد فهر ابن مالك ابن النضر بن كنانة.

وانقسمت قريش، فكان منها جمح وسهم ابنا هصيص بن كعب، وعدي بن كعب، ومخزوم بن يقظة بن مرة، وتيم بن مرة، وزهرة بن كلاب، وعبد الدار ابن قصي، وأسد بن عبد العزي بن قصي، وعبد مناف بن قصي، وكان من عبد مناف أربع فصائل: عبد شمس، ونوفل، والمطلب، وهاشم. وبيت هاشم هو الذي كان منه سيدنا محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم. ومنه العباسيون أولاد عباس بن عبد المطلب. ومن بني عبد شمس بن عبد مناف بنو أمية الخلفاء.

هذه خلاصة موجزة عن بعض بطون عدنان وقبائلها الذين انتشروا في أنحاء الحجاز وتهامة ونجد والعراق، ثم اليمن، ونحن وإن أطلنا في إيرادها، ولكن البحث يضطرنا إلى ذكر أكثر مما ذكرنا. والله بخليقته أعلم.
রাবিআ গোত্র থেকে বহু গোত্র সৃষ্টি হয়েছিল যাদের আরব ইতিহাসে খ্যাতি ও পরিচিতি রয়েছে, কারণ তারা মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে মুদার গোত্রের সমকক্ষ ছিল। ইসলামে খারেজীদের অধিকাংশ ছিল তাদের মধ্য থেকে। তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল বনু আসাদ, বনু আবদ আল-কায়েস, আনাজাহ, বাকর, তাগলিব, ওয়ায়িল, আল-আরাকিম, আদ-দুওয়াল এবং অন্যান্যরা, যাদের বংশবৃত্তান্ত বিষদভাবে বর্ণনা করেছেন বংশবিদগণ - দেখুন কালকাশান্দীর আনসাবুল আরব।

মুদার গোত্রসমূহ দুটি শাখায় বিভক্ত হয়েছিল: কায়স ইবনে আয়লান ইবনে মুদার এবং ইলিয়াস ইবনে মুদারের শাখাগুলো। কায়স ইবনে আয়লানের বংশধরদের মধ্যে রয়েছে বনু গাতাফান এবং বনু সুলাইম ইবনে মানসুর। গাতাফান থেকে বাগীদ ইবনে রাইস এবং বাগীদের দুই পুত্র আবস ও যুবইয়ান এবং তাদের থেকে যা কিছু শাখা নির্গত হয়েছে। সুলাইম ইবনে মানসুর থেকে বনু বাহতাহ এবং বনু হাওয়াযিন।

আর ইলিয়াস: তার বংশধরদের মধ্যে ছিল তামীম ইবনে মুরর, হুযাইল ইবনে মুদরিকা, বনু আসাদ ইবনে খুযাইমাহ এবং কিনানা ইবনে খুযাইমাহর শাখাগুলো। কিনানা থেকে কুরাইশ বংশের উদ্ভব, যারা ফিহর ইবনে মালিক ইবনে নাদর ইবনে কিনানার সন্তান।

কুরাইশ বংশ বিভক্ত হয়েছিল, তাদের মধ্যে ছিল হুসাইস ইবনে কাবের দুই পুত্র জুমাহ ও সাহাম, আদী ইবনে কাব, মাখযূম ইবনে ইয়াকাজা ইবনে মুররাহ, তাইম ইবনে মুররাহ, যুহরাহ ইবনে কিলাব, আবদুদ দার ইবনে কুসাই, আসাদ ইবনে আবদিল উযযা ইবনে কুসাই এবং আবদে মানাফ ইবনে কুসাই। আবদে মানাফের চারটি শাখা ছিল: আবদে শামস, নাওফাল, মুত্তালিব এবং হাশিম। হাশিম বংশ থেকেই আমাদের নেতা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম আবির্ভূত হয়েছিলেন। এখান থেকেই আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান আব্বাসীয়দের ধারা চলে এসেছে। আর আবদে শামস ইবনে আবদে মানাফের বংশধর থেকে উমাইয়া খলিফাগণ এসেছেন।

আদনানের কিছু শাখা এবং তাদের গোত্রসমূহ সম্পর্কে এটি একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ, যারা হিজাজ, তিহামাহ, নজদ, ইরাক এবং পরবর্তীতে ইয়ামেনের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল। যদিও আমরা এটি বর্ণনায় দীর্ঘসূত্রতা করেছি, তবুও বিষয়টি আমাদের যতটুকু উল্লেখ করেছি তার চেয়েও বেশি উল্লেখ করতে বাধ্য করে। আর আল্লাহ তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত।
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌مضر

مات في نحو سنة 950 قبل الهجرة

مضر بن نزار بن معد بن عدنان: أحد سادات قريش، وبنوه كما في العبر: أهل الكثرة والغلبة بالحجاز من سائر بني عدنان. ولهم الرياسة بمكة والحرم. ومضر: أول من سن الحداء للإبل، وكان من أحسن الناس صوتا، وهو صاحب المثل السائر «بصبصن، إذ حدين بالأذناب»، قاله وكان في سفر فوقع فرضت يده فجعل يصيح من ألمه يا يداه! يا يداه! فأتته الإبل القريبة منه وكانت ترعى فلما صلح وركب حدا، فأعجبه ما رأى من الإبل فقال: بصبصن … إلخ، فذهبت مثلا. ومات بمكة.

كعب بن لؤي

 

‌‌مات في نحو سنة 300 - 400 قبل الهجرة

أبو هصيص كعب بن لؤي بن غالب بن فهر بن مالك بن النضر: قرشي من كبار سادات العرب في الجاهلية وله أعمال مشهورة وذكر في تاريخ الجاهليين معروف. قال القلقشندي: كان كعب عظيم القدر عند العرب فلما مات أرخوا بموته إلى عام الفيل (وهو عام مولد النبي صلى الله عليه وسلم)، ثم أرخوا بالفيل إلى أن ظهر الإسلام؛ فكانوا يؤرخون بالوقائع العظيمة إلى أن قر رأي عمر بن الخطاب رضي الله عنه على اتخاذ هجرة الرسول الأعظم تأريخا للمسلمين … وهو أي كعب أول من سن الاجتماع في الجمعة، وكانت العرب تسميه يوم العروبة. كانت قريش تجتمع إليه في هذا اليوم فيخطبهم ويعظهم، وقيل: كان يذكر لهم أنه سيكون من ولده نبي يبعثه الله. وهو الذي سمى يوم العروبة بيوم الجمعة. وقال ابن الأثير المؤرخ: كان كعب يخطب الناس أيام الحج. فهو من الخطباء الأمراء. وهو الأب الثامن للنبي الهاشمي المختار، وكانت إقامته بمكة وفيها مات.
মুদার

হিজরতের প্রায় ৯৫০ বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন

মুদার বিন নিযার বিন মা'আদ বিন আদনান: কুরাইশের অন্যতম নেতা। 'আল-ইবার' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, হিজাজ অঞ্চলে অন্যান্য আদনানি গোত্রগুলোর মধ্যে তার সন্তানরাই ছিল সর্বাধিক শক্তিশালী ও সংখ্যাগুরু। মক্কা ও হারাম শরীফের নেতৃত্ব ছিল তাদের অধিকারে। মুদারই সর্বপ্রথম উট চালনার বিশেষ সুর বা হিদা-র প্রচলন করেন। তিনি অত্যন্ত সুমিষ্ট কণ্ঠস্বরের অধিকারী ছিলেন। প্রখ্যাত প্রবাদ "যখন গান গাওয়া হলো তখন তারা লেজ নাড়ল" এর প্রবর্তক তিনি। ঘটনাটি ছিল এমন যে, এক সফরে পড়ে গিয়ে তার হাত ভেঙে যায়, তখন তিনি যন্ত্রণায় "হায় আমার হাত! হায় আমার হাত!" বলে চিৎকার করতে থাকেন। তার এই আওয়াজ শুনে নিকটস্থ বিচরণরত উটগুলো তার কাছে চলে আসে। পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে যখন তিনি সওয়ার হলেন এবং গান ধরলেন, তখন উটগুলোর অবস্থা দেখে তিনি অভিভূত হলেন এবং বললেন: "তারা লেজ নাড়ছে..." ইত্যাদি। যা পরবর্তীতে প্রবাদে পরিণত হয়। তিনি মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন।

কাব বিন লুআই

 

‌‌হিজরতের প্রায় ৩০০ - ৪০০ বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন

আবু হাসিস কাব বিন লুআই বিন গালিব বিন ফিহর বিন মালিক বিন নাদর: জাহিলিয়্যাত আমলের আরবের শ্রেষ্ঠ নেতাদের অন্যতম একজন কুরাইশি ব্যক্তিত্ব। তার কর্মসমূহ সুবিখ্যাত এবং জাহেলি যুগের ইতিহাসে তার পরিচিতি সুপ্রসিদ্ধ। কালকাশান্দি বলেন: আরবদের নিকট কাব অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। ফলে তার মৃত্যুর পর থেকে হস্তীবর্ষ (যে বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করেন) পর্যন্ত তার মৃত্যুর বছর দিয়েই আরবরা তারিখ গণনা করত। এরপর ইসলাম আসার আগ পর্যন্ত হস্তীবর্ষ দিয়ে তারিখ গণনা চলত। তারা বিভিন্ন বড় বড় ঘটনার মাধ্যমে তারিখ নির্ধারণ করত, যতক্ষণ না উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু মহান রাসূলের হিজরতকে মুসলমানদের জন্য তারিখ হিসেবে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেন। এই কাব-ই সর্বপ্রথম জুমার দিনে সমাবেশের প্রথা চালু করেন; আরবরা তখন দিনটিকে 'ইয়াওমুল আরুবা' বলত। এই দিনে কুরাইশরা তার কাছে সমবেত হতো এবং তিনি তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ ও নসিহত প্রদান করতেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি তাদের নিকট উল্লেখ করতেন যে তার বংশধরদের মধ্য থেকে এমন একজন নবী আসবেন যাকে আল্লাহ প্রেরণ করবেন। তিনিই মূলত 'ইয়াওমুল আরুবা'কে জুমার দিন হিসেবে নামকরণ করেন। ইতিহাসবিদ ইবনুল আসির বলেন: কাব হজের দিনগুলোতে মানুষের সামনে ভাষণ দিতেন। তিনি ছিলেন বাগ্মী ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি মনোনীত হাশেমি নবীর অষ্টম উর্ধ্বতন পুরুষ। তিনি মক্কায় বসবাস করতেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌قصي

مات في نحو سنة 200 قبل الهجرة

أبو المغيرة قصي، واسمه زيد، بن كلاب بن مرة بن كعب بن لؤي: كان سيد قريش ورئيسهم والمشار إليه منهم. مات أبوه وهو طفل صغير. فتزوج [ت] أمه، فاطمة بنت سعد، رجل من بني عذرة يدعى ربيعة بن حرام، وسار بها الشام فأخذت قصيا معها، فشب في حجر ربيعة، وسمي قصيا لبعده عن دار قومه، فكان قصي ينتمي إلى ربيعة إلى أن كبر فكان بينه وبين رجل من قضاعة شيء فعيره القضاعي بانتسابه لغير أبيه، فعاد إلى أمه فسألها فأخبرته، فلما كان الشهر الحرام خرج مع الحاج حتى قدم مكة فتعرف إلى قومه من قريش فعرفوه؛ فأقام بينهم وكثر ماله، وكان موصوفا بالدهاء والعقل ومعرفة الطرق الموصلة إلى السيادة والرياسة، فعظم شرفه، وولي الكعبة، ثم كانت له مع القبائل حروب ووقائع رفعت ذكره واضطرته أن يجمع قومه إلى مكة من الشعاب والأودية والجبال فسموه مجمعا. وملكوه عليهم فكان أول قرشي من ولد كعب بن لؤي أصاب ملكا أطاعه به قومه. وقسم مكة أرباعا و منازل بين قومه فبنوا بها المساكن، وكان إليه الحجابة والسقاية والرفادة والندوة واللواء فحاز شرف قريش كله. قال في كامل التواريخ: وتيمنت قريش بأمره ورأيه فكانت لا تعقد نكاحا إلا في داره ولا يتشاورون في أمر ينزل بهم إلا في داره، ولا يعقدون لواء للحرب إلا في داره يعقده بعض ولده، وكان أمره في قومه كالدين المتبع في حياته وبعد مماته.

وحفر بمكة بئرا سماها العجول وهي أول بئر حفرتها قريش بمكة، ولما كبر وبلغ سن الهرم جلس في دار الندوة، وهي دار في مكة كانت قريش تجتمع بها في قضاء أمورها، وجمع بنيه وكانوا قد شبوا وسادوا فرأى أكبرهم سنا أضعفهم شأنا، وهو ولده عبد الدار، فأشفق عليه فقال له: والله لألحقنك بهم، فأعطاه
কুসাই

তিনি হিজরতের প্রায় ২০০ বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন।

আবু আল-মুগীরা কুসাই, যাঁর নাম ছিল যায়েদ ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুআই: তিনি কুরাইশদের নেতা ও প্রধান এবং তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য ব্যক্তি ছিলেন। তিনি যখন ছোট শিশু তখন তাঁর পিতা মারা যান। এরপর তাঁর মা ফাতিমা বিনতে সাদ বনু উযরা গোত্রের রবীআ ইবনে হারাম নামক এক ব্যক্তিকে বিবাহ করেন। রবীআ তাঁকে সিরিয়ায় নিয়ে যান এবং মা কুসাইকেও সাথে নেন। ফলে কুসাই রবীআর আশ্রয়ে বেড়ে ওঠেন। নিজের কওমের ভূখণ্ড থেকে দূরে থাকার কারণে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল কুসাই। কুসাই বড় হওয়া পর্যন্ত নিজেকে রবীআর বংশধর মনে করতেন। একদা কুযাআ গোত্রের এক ব্যক্তির সাথে তাঁর বিরোধ সৃষ্টি হয়। তখন সেই কুযাঈ ব্যক্তি তাঁকে নিজের আসল পিতা ব্যতীত অন্যের বংশপরিচয় দেওয়ার জন্য ভর্ৎসনা করেন। তখন তিনি তাঁর মায়ের কাছে ফিরে গিয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে মা তাঁকে সত্য অবগত করেন। যখন হারাম মাস এলো, তিনি হাজীদের সাথে বেরিয়ে মক্কায় আগমন করলেন। সেখানে তিনি কুরাইশ বংশের নিজ কওমের লোকদের সাথে পরিচিত হলেন এবং তাঁরাও তাঁকে চিনে নিল। তিনি তাঁদের মাঝে বসবাস শুরু করলেন এবং তাঁর ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পেল। তিনি অত্যন্ত চতুরতা, বুদ্ধিমত্তা এবং নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব লাভের উপায়সমূহ সম্পর্কে পারদর্শী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। ফলে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি পেল এবং তিনি কাবার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব লাভ করেন। এরপর বিভিন্ন গোত্রের সাথে তাঁর যুদ্ধ ও সংঘাত সংঘটিত হয়, যা তাঁর সুখ্যাতি বৃদ্ধি করে। পরিস্থিতির প্রয়োজনে তিনি তাঁর নিজ কওমকে বিভিন্ন গিরিপথ, উপত্যকা ও পাহাড় থেকে একত্রিত করে মক্কায় নিয়ে আসেন, তাই তাঁরা তাঁকে ‘মুজাম্মি’ (একত্রকারী) উপাধিতে ভূষিত করেন। তাঁরা তাঁকে নিজেদের বাদশাহ হিসেবে গ্রহণ করেন। কাব ইবনে লুআই-এর সন্তানদের মধ্যে তিনিই ছিলেন প্রথম কুরাইশী যিনি রাজত্ব লাভ করেন এবং তাঁর কওম তাঁর আনুগত্য করে। তিনি মক্কাকে চার ভাগে এবং বিভিন্ন আবাসে তাঁর কওমের মাঝে বণ্টন করে দেন, ফলে তাঁরা সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেন। কাবা ঘরের চাবি রক্ষা (হিজাবা), হাজীদের পানি পান করানো (সিকাযা), আপ্যায়ন (রিফাদা), সভা পরিচালনা (নাদওয়া) এবং যুদ্ধের ঝাণ্ডা (লিওয়া) বহন করার দায়িত্ব তাঁরই ওপর ন্যস্ত ছিল। এভাবে তিনি কুরাইশদের সমস্ত সম্মান ও মর্যাদা নিজের অধিকারে নিয়ে আসেন। ‘কামিল ফিত-তারিখ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: কুরাইশরা তাঁর আদেশ ও মতামতের মাধ্যমে বরকত লাভ করত। তাঁর গৃহ ব্যতীত অন্য কোথাও কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান হতো না। কোনো বিষয়ে সমস্যা দেখা দিলে তাঁরা তাঁর গৃহেই পরামর্শ সভার আয়োজন করত। যুদ্ধের পতাকাও তাঁর গৃহেই বাঁধা হতো এবং তাঁর কোনো এক সন্তান তা বাঁধতেন। তাঁর জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর তাঁর আদেশ তাঁর কওমের নিকট অনুসৃত ধর্মের ন্যায় ছিল।

তিনি মক্কায় একটি কূপ খনন করেন এবং তার নাম দেন ‘আল-আজুল’। এটিই ছিল কুরাইশদের খননকৃত মক্কার প্রথম কূপ। যখন তিনি বৃদ্ধ হলেন এবং বার্ধক্যের শেষ সীমায় পৌঁছালেন, তখন তিনি ‘দারুন নাদওয়া’-তে অবস্থান করতেন। এটি ছিল মক্কার এমন একটি ঘর যেখানে কুরাইশরা তাদের যাবতীয় বিষয় ফয়সালা করার জন্য সমবেত হতো। তিনি তাঁর সন্তানদের একত্রিত করলেন—যাঁরা তখন যুবক এবং নেতৃত্বের অধিকারী হয়েছিলেন। তিনি দেখলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান আবদুদ দার মর্যাদার দিক থেকে অন্যদের চেয়ে দুর্বল। তখন তিনি তাঁর প্রতি মমতা অনুভব করলেন এবং বললেন: ‘আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই তোমাকে তাদের সমপর্যায়ে নিয়ে আসব।’ অতঃপর তিনি তাঁকে প্রদান করলেন
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ৩৫)
رئاسة دار الندوة، وحجابة الكعبة، واللواء - فكان يعقد لقريش ألويتهم في الحروب - والسقاية - فكان يسقي الحاج، والرفادة وهي سنة سنها قصي في قريش، وذلك أنهم كانوا يأتونه في كل موسم بشيء من أموالهم يصنع منه طعاما للحاج يأكله الفقراء.

قال ابن الأثير في كلامه على الرفادة وكان قصي قد قال لقومه إنكم جيران الله وأهل بيته، وإن الحاج ضيف الله وزوار بيته وهم أحق الضيف بالكرامة فاجعلوا لهم طعاما وشرابا أيام الحج ففعلوا فكانوا يخرجون من أموالهم فيصنع به الطعام أيام منى. قال وجرى الأمر على ذلك في الجاهلية والإسلام إلى الآن فهو الطعام الذي يصنعه الخلفاء كل عام بمنى.

ثم مات قصي بمكة فخلفه بالسيادة أبناؤه ودفن بالحجون فكانوا يزورون قبره ويعظمونه، وهو الأب الخامس من آباء النبي صلى الله عليه وسلم وفي جمعه القبائل يقول الشاعر:

أبوكم قصي كان يدعى مجمعا … به جمع الله القبائل من فهر

 

‌‌عبد مناف

مات في نحو سنة 135 قبل الهجرة

عبد مناف بن قصي بن كلاب بن مرة سيد من سادات الجاهلية كانت له الشوكة في قريش، ساد في أيام أبيه قصي وترأس بعد أبيه، وعبد مناف لقب له، وإنما اسمه المغيرة، ويكنى أيضا أبا عبد شمس، وكان يقال له القمر لجماله، وكانت أمه حين ولدته دفعته إلى مناف، وهو صنم بمكة تدينا فغلب عليه عبد مناف. وكان دون أبيه السالف ذكره بالحكمة والتدبير، فلم يحدث جديدا في قومه بعده، وانقادت له قريش لمكانة أبيه عندهم ولشدة تعلقهم به وحبهم له ولبنيه.
দারুন নদওয়ার সভাপতিত্ব, কাবার চাবি রক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং যুদ্ধের পতাকা প্রদান—তিনি কুরাইশদের যুদ্ধের জন্য পতাকা বেঁধে দিতেন—হাজীদের পানি পান করানো এবং রিফাদা; যা ছিল কুরাইশদের মাঝে কুসাই প্রবর্তিত একটি প্রথা। প্রথাটি ছিল এমন যে, প্রতি মৌসুমে কুরাইশরা তাদের সম্পদের একটি অংশ তাঁর কাছে নিয়ে আসত, যা দিয়ে তিনি হাজীদের জন্য খাবার প্রস্তুত করতেন এবং অভাবী হাজীরা তা আহার করত।

ইবনুল আসীর রিফাদা সম্পর্কে তাঁর বর্ণনায় বলেছেন যে, কুসাই তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেন: “তোমরা আল্লাহর প্রতিবেশী এবং তাঁর ঘরের অধিবাসী। আর হাজীরা আল্লাহর মেহমান এবং তাঁর ঘরের যিয়ারতকারী। সুতরাং তাঁরাই মেহমানদারির জন্য সর্বাধিক উপযুক্ত। অতএব তোমরা হজের দিনগুলোতে তাঁদের জন্য পানাহার ও খাবারের ব্যবস্থা করো।” তারা তাই করত এবং নিজেদের সম্পদ থেকে অর্থ ব্যয় করে মিনার দিনগুলোতে খাবার প্রস্তুত করত। তিনি আরও বলেন, জাহেলী যুগ ও ইসলামি যুগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত এ ধারা চলে আসছে। এটি সেই খাবার যা খলিফারা প্রতি বছর মিনায় প্রস্তুত করেন।

অতঃপর মক্কায় কুসাই ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর পরে তাঁর সন্তানেরা নেতৃত্বে স্থলাভিষিক্ত হন। তাঁকে হাজুনে দাফন করা হয়। লোকেরা তাঁর কবর যিয়ারত করত এবং তাঁকে শ্রদ্ধা জানাত। তিনি ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বপুরুষদের মধ্যে পঞ্চম পুরুষ। বিভিন্ন গোত্রকে একত্রিত করার কারণে কবি তাঁর সম্পর্কে বলেন:

তোমাদের পিতা কুসাইকে ‘মুজাম্মি’ (একত্রকারী) বলা হতো … তাঁর মাধ্যমেই আল্লাহ ফিহরের বংশোদ্ভূত গোত্রসমূহকে একত্রিত করেছিলেন।

 

‌‌আবদু মানাফ

হিজরতের প্রায় ১৩৫ বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন

আবদু মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররা ছিলেন জাহেলী যুগের অন্যতম সর্দার। কুরাইশদের মধ্যে তাঁর বিশেষ প্রভাব ও প্রতাপ ছিল। তিনি তাঁর পিতা কুসাইয়ের জীবদ্দশাতেই নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং পিতার পর প্রধান হন। ‘আবদু মানাফ’ ছিল তাঁর উপাধি, তাঁর প্রকৃত নাম ছিল মুগিরা। তাঁর উপনাম ছিল আবু আবদু শামস। তাঁর সৌন্দর্যের কারণে তাঁকে ‘আল-কামার’ (চাঁদ) বলা হতো। তাঁর জন্মের সময় তাঁর মা ধর্মীয় ভক্তির বশবর্তী হয়ে তাঁকে মক্কার ‘মানাফ’ নামক মূর্তির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছিলেন, যার ফলে ‘আবদু মানাফ’ নামটিই তাঁর ওপর জয়ী হয়ে যায়। প্রজ্ঞা ও প্রশাসনিক দক্ষতার ক্ষেত্রে তিনি তাঁর পূর্বোক্ত পিতার চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন, ফলে তিনি তাঁর কওমের মাঝে নতুন কোনো প্রথা প্রবর্তন করেননি। কুরাইশদের কাছে তাঁর পিতার উচ্চমর্যাদা এবং তাঁর প্রতি ও তাঁর সন্তানদের প্রতি তাদের গভীর আসক্তি ও ভালোবাসার কারণে তারা তাঁর আনুগত্য করত।
(খণ্ড: ১) তারাজিমুল আওয়াইল ওয়াল খুলাফা (আল-আলামুস সুগরা) (পৃষ্ঠা: ৩৬)
قال الجوهري: والنسبة إلى عبد مناف منافي. قال: والقياس عبدي، عدلوا عنه لإزالة اللبس.

وهو الأب الرابع لرسول الله صلى الله عليه وسلم، وفي آله يقول الشاعر:

قل للذي طلب السماحة والندى … هلا مررت بآل عبد مناف

الرائشون وليس يوجد رائش … والقائلون هلم للأضياف

 

‌‌هاشم بن عبد مناف

ولد سنة 102 ومات سنة 127 قبل الهجرة

هاشم بن عبد مناف بن قصي: أحد من انتهت إليهم سيادة قريش في الجاهلية، اسمه عمرو وكنيته أبو نضلة، ولقب هاشما لأنه أول من هشم الثريد لقومه بمكة، وذلك أنه كان أحد الأجواد الذين ضرب بهم المثل في الكرم والسخاء وللشعراء فيه قصائد وأبيات مأثورة.

واتفق أنه أصاب الناس محل فخرج هاشم إلى الشام فاشترى دقيقا وكعكا و قدم به مكة في الموسم فهشم الخبز والكعك ونحر الجزر وجعله ثريدا وأطعم الناس حتى أشبع الجياع فسمي هاشما. قال الشاعر:

عمرو العلا هشم الثريد لقومه … ورجال مكة مستون عجاف

وكان هاشم قد بلغ السيادة وهو صغير فعرف شأنه في حياة أبيه عبد مناف، ولما مات أبوه تولى سقاية الحاج ورفادته (وهي إطعام الفقراء من الحجاج كما قدمنا)، فحسده ابن أخ له اسمه أمية بن عبد شمس (وهو جد بني أمية ملوك
আল-জাওহারী বলেন: আবদে মানাফের সাথে সম্বন্ধযুক্ত পদ হলো 'মানাফী'। তিনি বলেন: ভাষাতাত্ত্বিক নিয়ম অনুযায়ী তা 'আবদী' হওয়া উচিত ছিল, তবে বিভ্রান্তি এড়াতে তাঁরা তা পরিবর্তন করেছেন।

আর তিনি হলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চতুর্থ ঊর্ধ্বতন পিতামহ। তাঁর বংশধরদের সম্পর্কে কবি বলেন:

তাকে বলো যে বদান্যতা ও দানশীলতা অন্বেষণ করে … তুমি কেন আবদে মানাফের বংশধরদের নিকট দিয়ে গেলে না?

তাঁরাই হলেন অভাব মোচনকারী যখন কোনো সাহায্যকারী ছিল না … এবং তাঁরাই অতিথিদের বলেন 'স্বাগতম এসো'।

 

‌‌হাশিম বিন আবদে মানাফ

১০২ হিজরি পূর্বাব্দে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২৭ হিজরি পূর্বাব্দে মৃত্যুবরণ করেন

হাশিম বিন আবদে মানাফ বিন কুসাই: জাহেলি যুগে কুরাইশদের নেতৃত্ব যাদের কাছে সমাপ্ত হয়েছিল তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম। তাঁর নাম ছিল আমর এবং তাঁর উপনাম ছিল আবু নাদলাহ। তাঁকে 'হাশিম' উপাধি দেওয়া হয়েছিল কারণ মক্কায় তাঁর সম্প্রদায়ের জন্য তিনিই সর্বপ্রথম সারিদ (ঝোল মিশ্রিত রুটি) তৈরির উদ্দেশ্যে রুটি গুঁড়ো করেছিলেন। মূলত তিনি ছিলেন সেই সকল দানশীল ব্যক্তিদের অন্যতম যাদের মহানুভবতা ও উদারতার উদাহরণ দেওয়া হতো এবং কবিদের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে অনেক প্রসিদ্ধ কাসিদা ও কবিতা প্রচলিত আছে।

ঘটনাচক্রে একদা মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়লে হাশিম সিরিয়ার দিকে বের হলেন এবং সেখান থেকে আটা ও শুকনো রুটি ক্রয় করে মৌসুমের সময় মক্কায় আসলেন। অতঃপর তিনি সেই রুটি ও পিঠা গুঁড়ো করলেন এবং উট জবাই করে তা দিয়ে সারিদ প্রস্তুত করলেন। তিনি মানুষকে তা খাওয়ালেন এমনকি ক্ষুধার্তদের পেট পূর্ণ করলেন। ফলে তাঁর নাম রাখা হয় হাশিম। কবি বলেন:

উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন আমর তাঁর কওমের জন্য সারিদ তৈরি করেছিলেন … যখন মক্কার পুরুষেরা ছিল দুর্ভিক্ষপীড়িত ও কৃশকায়।

হাশিম অল্প বয়সেই নেতৃত্ব লাভ করেছিলেন এবং তাঁর পিতা আবদে মানাফের জীবদ্দশাতেই তাঁর মর্যাদা স্বীকৃত হয়েছিল। যখন তাঁর পিতা মৃত্যুবরণ করেন, তখন তিনি হাজীদের পানি পান করানো ও মেহমানদারির (রিফাদা) দায়িত্ব গ্রহণ করেন (রিফাদা হলো হাজীদের মধ্যে যারা দরিদ্র তাদের অন্নদান করা, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি)। ফলে তাঁর এক ভ্রাতুষ্পুত্র উমাইয়্যা বিন আবদে শামস (যিনি উমাইয়্যা বংশীয় রাজাদের পিতামহ) তাঁকে হিংসা করতে শুরু করলেন।