(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: -)
البدعة وأثرها القسم: كتب عامة
الكتاب: البدعة وأثرها السيء في الأمة
المؤلف: سليم الهلالي
الناشر: المكتبة الإسلامية، عَمان - الأردن
الطبعة: الأولى، 1414 هـ
عدد الصفحات: 53
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو الحجة 1446
বিদআত (بدعة) ও এর প্রভাব বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: বিদআত (بدعة) এবং উম্মাহর ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব
লেখক: সলিম আল-হিলালি
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ، আম্মান - জর্ডান
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৪ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ জিলহজ ১৪৪৬
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ৩)
المقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
أما بعد: فإن أحسن الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
لقد تنبه الذين أوتوا العلم من المسلمين على خطورة البدع منذ فجر الإسلام؛ فأفردوها بالتصنيف في مؤلفات جليلة ذات قيمة علمية عظيمة، لا يعرفها إلا من غاص في أحشائها، وسبر غورها، فذاق نسغها، واستنبط علومها، وأجراها أنهارا يرتوي من سلسبيلها النمير، ومعينها الذي لا ينضب إخوان رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ولقد استخرت الله في كتابة رسالة صغيرة الحجم، كبيرة الفائدة بإذن الله، وسيجدها طالب العلم الشرعي إن شاء الله لبابا في موضوعها، وعنوانا في بابها، وشذورا يلتقطها بيسر، ونقاط اتفاق يجتمع عليها المؤمنون العاملون الصادقون المخلصون الذين لا يقدمون بين يدي الله ورسوله؛ فتقوى أواصر مودتهم، وتتوثق عرى دعوتهم، وسميتها «البدعة وأثرها السييء في الأمة» لتكون عونا لهم على فهم النصوص القرآنية، والأحاديث النبوية الصحيحة الواردة في ذم البدع والنهي عنها، ومدخلا للمطولات في هذا الموضوع
ভূমিকাপরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহের মন্দ পরিণাম থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
অতঃপর: নিশ্চয়ই সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত (بدعة), প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
ইসলামের ঊষালগ্ন থেকেই ইলমপ্রাপ্ত মুসলিমগণ বিদআতের (بدعة) ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন; ফলে তাঁরা অত্যন্ত মূল্যবান ও মহান জ্ঞানতাত্ত্বিক মর্যাদাসম্পন্ন কিতাবসমূহ রচনার মাধ্যমে এ বিষয়টিকে স্বতন্ত্রভাবে তুলে ধরেছেন। এর প্রকৃত গুরুত্ব কেবল সেই ব্যক্তিই উপলব্ধি করতে পারে, যে এর গভীরে অবগাহন করেছে, এর গভীরতা পরিমাপ করেছে, এর নির্যাস আস্বাদন করেছে এবং এর থেকে বিভিন্ন উলুম বা জ্ঞানসমূহ আহরণ করে তা ঝরনার মতো প্রবাহিত করেছে—যা থেকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ভাইয়েরা তৃষ্ণা নিবারণ করেন।
আমি আকারে ছোট কিন্তু ইনশাআল্লাহ অত্যন্ত উপকারী একটি পুস্তিকা রচনার বিষয়ে আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি। শরয়ি জ্ঞানের শিক্ষার্থীরা ইনশাআল্লাহ একে এই বিষয়ের সারবস্তু, একটি আদর্শ দিকনির্দেশনা এবং অনায়াসে সংগ্রহযোগ্য মণি-মুক্তা হিসেবে পাবে। এটি হবে এমন এক ঐকমত্যের বিন্দু যেখানে একনিষ্ঠ, আমলকারী ও সত্যনিষ্ঠ মুমিনগণ একত্রিত হবেন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের আগে নিজেদের কোনো সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দেন না। ফলে তাদের পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বন্ধন সুদৃঢ় হবে এবং তাদের দাওয়াতের ভিত্তি মজবুত হবে। আমি এই পুস্তিকার নামকরণ করেছি «উম্মাহর মধ্যে বিদআত (بدعة) এবং এর নেতিবাচক প্রভাব», যাতে এটি কুরআনের আয়াত এবং বিদআতের (بدعة) নিন্দায় ও তা থেকে নিষেধ করার ব্যাপারে বর্ণিত সহিহ (صحيحة) হাদিসসমূহ বুঝতে সহায়ক হয় এবং এ বিষয়ের ওপর বিস্তারিত গ্রন্থাদি অধ্যয়নের একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে।
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ৪)
«كالاعتصام» لأبي إسحاق الشاطبي، «والبدع والحوادث» لأبي بكر الطرطوشي، و «اقتضاء الصراط المستقيم مخالفة أصحاب الجحيم» لشيخ الإسلام أبي العباس تقي الدين أحمد بن تيمية، و «البدع والنهي عنها» لابن وضاح القرطبي، و «الباعث على إنكار البدع والحوادث» لأبي شامة رحمهم الله جميعا وألحقنا بهم في عليين مع الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين وحسن أولئك رفيقا.
وكتبه الفقير إلى ألطاف مولاه القدير طالب العلم الشرعي أبو أسامة سليم الهلالي الأردن - عمان البلقاء غرة ذي الحجة 1403 هـ
যেমন আবু ইসহাক আশ-শাতিবি প্রণীত ‘আল-ইতিসাম’, আবু বকর আত-তোরতুশি প্রণীত ‘আল-বিদা ওয়াল-হাওয়াদ্দিস’, শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস তাকিউদ্দিন আহমাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ প্রণীত ‘ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম মুখালাফাতু আসহাবিল জাহিম’, ইবনে ওয়াদদাহ আল-কুরতুবি প্রণীত ‘আল-বিদা ওয়ান-নাহয়ু আনহা’ এবং আবু শামাহ প্রণীত ‘আল-বায়িস আলা ইনকারিল বিদা ওয়াল-হাওয়াদ্দিস’—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন এবং আমাদের তাঁদের সাথে ইল্লিয়্যিনে ঐসব ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করুন যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন; অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং নেককারগণ, আর সঙ্গী হিসেবে তাঁরা কতই না চমৎকার।
এটি লিখেছেন তাঁর পরাক্রমশালী প্রতিপালকের দয়ার ভিখারি, শরয়ি ইলম অন্বেষণকারী আবু উসামাহ সালিম আল-হিলালি, জর্ডান - আম্মান, আল-বালকা, ১লা জিলহজ, ১৪০৩ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ৫)
تعريف البدعة1 - البدعة لغة لها معنيان:
أحدهما: الشيء المخترع على غير مثال سابق، ومنه قول العزيز الحميد: {قل ما كنت بدعا من الرسل}
(1).
أي ما كنت أول المرسلين فقد أرسل قبلي رسل كثير، وجئت على فترة منهم، ويقال لمن أتى بأمر لم يسبقه إليه أحد: أبدع وابتدع وتبدع: أي أتى ببدعة، ومنه قول الله تعالى: {ورهبانية ابتدعوها}
(2)، وبديع السماوات والأرض صفة من صفات الله تبارك وتعالى الإبداعه إياها وإحداثه لها لا عن مثال سابق لقوله تعالى: {بديع السماوات والأرض}
(3).
الثاني: التعب والكلال، يقال: أبدعت الإبل إذا بركت في الطريق من هزال أو داء أو كلال، وقد لا يكون الإبداع إلا بظلع، يقال أبدعت به راحلته إذا ظلعت.
(4)2 - إلا أن المعنى الثاني يعود إلى الأول، لأن معنى أبدعت الراحلة بدأبها التعب بعد أن لم يكن بها، وقد أشار ابن منظور إلى هذا المعنى فقال في «لسان العرب» (8/ 8): «كأنه جعل انقطاعها عما كانت مستمرة عليه من
--------------------------------------------
বিদআতের (البدعة) সংজ্ঞা১ - আভিধানিক দিক থেকে বিদআতের (البدعة) দুটি অর্থ রয়েছে:
প্রথমটি: কোনো পূর্ব নমুনা ছাড়াই উদ্ভাবিত বিষয়। এ প্রসঙ্গে মহান পরাক্রমশালী ও প্রশংসিত আল্লাহর বাণী: {বলুন, আমি রাসুলদের মধ্যে কোনো অভিনব (بدعا) নই}
(১)।
অর্থাৎ, আমি প্রথম কোনো রাসুল নই, বরং আমার পূর্বে অনেক রাসুল প্রেরিত হয়েছেন এবং আমি তাঁদের দীর্ঘ বিরতির পর আগমন করেছি। যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করে যা তার পূর্বে কেউ করেনি, তার সম্পর্কে বলা হয়: তিনি ‘আবদাআ’ (أبدع), ‘ইবতাদাআ’ (ابتدع) এবং ‘তাবাদ্দাআ’ (تبدع); অর্থাৎ তিনি নতুন কোনো বিষয়ের বা বিদআতের (بدعة) অবতারণা করেছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং বৈরাগ্যবাদ—যা তারা নিজেরাই উদ্ভাবন (ابتدعوها) করেছিল}
(২)। আর ‘আসমান ও জমিনের অনন্য স্রষ্টা’ (بديع) মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার অন্যতম একটি গুণ; কারণ তিনি কোনো পূর্ব নমুনা ছাড়াই এগুলো সৃষ্টি ও অস্তিত্ব দান করেছেন। মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি আসমান ও জমিনের অনন্য স্রষ্টা (بديع)}
(৩)।
দ্বিতীয়টি: ক্লান্তি ও অবসাদ। বলা হয়: উটগুলো ‘ক্লান্ত হয়ে পড়েছে’ (أبدعت), যখন সেগুলো অতিশয় দুর্বলতা, রোগ বা অবসাদের কারণে পথিমধ্যে বসে পড়ে। অনেক সময় খুঁড়িয়ে চলা ব্যতীত এই ক্লান্তি বা ‘ইবদা’ (إبداع) প্রকাশ পায় না। বলা হয়: ‘তার বাহনটি তাকে বিপদে ফেলেছে’ (أبدعت), যখন সেটি খুঁড়িয়ে চলতে শুরু করে।
(৪)২ - তবে দ্বিতীয় অর্থটি প্রথম অর্থের দিকেই ফিরে যায়। কারণ বাহন ক্লান্ত হওয়ার অর্থ হলো তার মাঝে নতুন করে এমন ক্লান্তির উদ্ভব হওয়া যা ইতিপূর্বে ছিল না। ইবন মানজুর ‘লিসানুল আরব’ (৮/৮) গ্রন্থে এই অর্থের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন: “যেন তিনি সেটির নিরবচ্ছিন্ন অবস্থা থেকে বিচ্যুত হওয়াকে...”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ৬)
عادة السير إبداعا أي إنشاء أمر خارج عما اعتيد منها؛ ومنه الحديث: كيف أصنع بما أبدع علي منها؟»
(5). وكذلك ابن الأثير في «النهاية في غريب الحديث والأثر» (1/ 107).
3 - مما سبق يتبين أن البدعة اسم هيئة من الابتداع، وهي كل ما أحدث على غير مثال سابق، وهي تطلق في عالم الشر والخير
(6)، وأكثر ما تستعمل عرفا في الذم
(7).
4 - اختلف العلماء في تحديد معنى البدعة شرعا، فمنهم من جعلها في مقابل السنة، ومنهم من جعلها عامة تشمل كل ما أحدث بعد عصر الرسول صلى الله عليه وسلم سواء كان محمودا أم مذموما، ولعل أحسنها وأوضحها وأجمعها وأقومها: الطريقة المخترعة في الدين تضاهي الشريعة، يقصد بها التقرب إلى الله، ولم يقم على صحتها دليل شرعي صحيح أصلا أو وصفا
(8).
قلت: بقصد التقرب إلى الله خرجت البدع الدنيوية كالسيارات، والبارود، والطائرات، وتصنيف الكتب وأشباه ذلك، فكلها وسائل مشروعة لأنها تؤدي إلى ما هو مشروع بالنص، وهي التي تقبل التقسيم إلى الأحكام الخمسة، لا البدعة الدينية، وهذا كما يقال: «ما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب»، وليس كما قال العز بن عبد السلام في تقسيم البدع الدينية إلى خمسة أقسام
(9).
* * *
--------------------------------------------
গমনরীতিতে নতুনত্ব আনা, অর্থাৎ প্রচলিত বিষয়ের বাইরে কোনো কিছু উদ্ভাবন করা; এ থেকেই হাদিসটি এসেছে: "আমার সওয়ারিটি যখন চলার শক্তি হারিয়ে ফেলে (أبدع), তখন আমি কী করব?"
(5)। একইভাবে ইবনুল আসির তাঁর «আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার» গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন (১/ ১০৭)।
3 - পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, বিদআত (بدعة) হলো উদ্ভাবনের (ابتداع) একটি রূপবাচক বিশেষ্য। এটি এমন প্রত্যেক বিষয় যা কোনো পূর্ব উদাহরণ ছাড়াই নতুনভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে। এটি ভালো ও মন্দ উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়
(6), তবে প্রচলিত ব্যবহারে এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিন্দনীয় (ذم) অর্থে ব্যবহৃত হয়
(7)।
4 - শরয়ি দৃষ্টিতে বিদআতের (بدعة) সংজ্ঞা নির্ধারণে আলিমগণ মতভেদ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ একে সুন্নাহর (سنة) বিপরীতে রেখেছেন, আবার কেউ একে ব্যাপক অর্থ দান করেছেন যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগের পরে উদ্ভাবিত প্রশংসনীয় বা নিন্দনীয় সকল নতুন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। সম্ভবত এর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম, স্পষ্ট, ব্যাপক ও সঠিক সংজ্ঞা হলো: দ্বীনের মধ্যে উদ্ভাবিত এমন একটি পদ্ধতি যা শরয়ি পদ্ধতির সাদৃশ্যপূর্ণ, যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন উদ্দেশ্য হয়, অথচ যার মূল বা গুণগত প্রকৃতির সপক্ষে কোনো সহিহ (صحيح) শরয়ি প্রমাণ নেই
(8)।
আমি বলছি: 'আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্য' কথাটির মাধ্যমে দুনিয়াবি নতুন বিষয়সমূহ যেমন- গাড়ি, বারুদ, বিমান, গ্রন্থ বিন্যাস এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো বিদআতের সংজ্ঞা থেকে বের হয়ে যায়। কারণ এগুলো সবই বৈধ মাধ্যম যেহেতু এগুলো টেক্সট বা নস দ্বারা প্রমাণিত শরয়ি বিষয়ের দিকে নিয়ে যায়। আর এই বিষয়গুলোকেই শরয়ি পাঁচটি বিধানের আওতায় আনা সম্ভব, ধর্মীয় বিদআতের (بدعة) ক্ষেত্রে নয়। এটি যেমন বলা হয়: "ওয়াজিব (واجب) যা ছাড়া পূর্ণ হয় না, তাও ওয়াজিব (واجب)"। বিষয়টি এমন নয় যেমনটি ইজ্জুদ্দীন ইবনে আবদুস সালাম ধর্মীয় বিদআতকে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করার ক্ষেত্রে বলেছেন
(9)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ৭)
من استحسن فقد شرع1 - تقسيم البدع إلى حسنة وقبيحة أو محمودة ومذمومة، تقسيم لا مستند له في الشرع، وكيف يكون له أصل وهو ينافي صريح القرآن وصحيح الأحاديث؟! وهاك البيان على وجه التفصيل:
(أ) اعلم أرشدك الله أن من أصول الدين الواجب اعتقادها، ولا يصح إيمان المرء دونها، أن الإسلام دين أتقن الله بناءه وأكمله، فمجال الناس التطبيق والتنفيذ (السمع والطاعة) وهذا أمر أدلته ظاهرة. قال اللطيف الخبير {اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعمتي ورضيت لكم الإسلام دينا}
(10).
(ب) وكان لزاما على المبعوث رحمة للعالمين صلى الله عليه وسلم أن يقوم بحق الرسالة، فيبلغ الإسلام غير منقوص، ولقد فعل صلى الله عليه وسلم وإلا فما بلغ رسالته - وحاشاه - فما انتقل إلى جوار ربه راضيا مرضيا إلا والدين كامل لا يحتاج إلى زيادة، شهد الله له بذلك والمؤمنون، وكفى بالله شهيدا
(11).
قال صلى الله عليه وسلم: «ما تركت شيئا مما أمركم الله به إلا وقد أمرتكم به، ولا شيئا مما نهاكم عنه إلا وقد نهيتكم عنه»
(12).
--------------------------------------------
যে ব্যক্তি ইস্তিহসান (استحسن) করল, সে যেন নতুন শরিয়ত প্রণয়ন করল1 - বিদআত (بدعة)-কে হাসানাহ (حسنة) (উত্তম) ও কাবিহাহ (قبيحة) (মন্দ) কিংবা প্রশংসনীয় (محمودة) ও নিন্দনীয় (مذمومة) ভাগে বিভক্ত করা এমন একটি বিভাজন যার শরিয়তে কোনো ভিত্তি (مستند) নেই। কীভাবে এর কোনো ভিত্তি থাকতে পারে যেখানে এটি কুরআনের সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহের পরিপন্থী?! নিচে এর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:
(অ) জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন—দীনের অন্যতম মূলনীতি (أصول الدين) যা বিশ্বাস করা ওয়াজিব (واجب) এবং যা ছাড়া কোনো ব্যক্তির ইমান (إيمان) সঠিক হয় না তা হলো: ইসলাম এমন এক দীন যার ইমারত আল্লাহ সুনিপুণভাবে তৈরি করেছেন এবং তাকে পূর্ণতা দান করেছেন। সুতরাং মানুষের ক্ষেত্র হলো কেবল এর প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন (শোনা ও আনুগত্য করা)। এটি এমন একটি বিষয় যার দলিলসমূহ সুস্পষ্ট। লতিফ ও খাবির (আল্লাহ) বলেছেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন হিসেবে মনোনীত করলাম}
(১০)।
(আ) আর জগতসমূহের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্য এটি আবশ্যক ছিল যে, তিনি রিসালাতের হক আদায় করবেন এবং ইসলামকে কোনো প্রকার ঘাটতি ছাড়াই পৌঁছে দেবেন। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা করেছেন, নতুবা তিনি তাঁর রিসালাত পৌঁছাতেন না—যা তাঁর ক্ষেত্রে অসম্ভব—ফলে তিনি তাঁর রবের সান্নিধ্যে সন্তুষ্টচিত্তে ও সন্তোষভাজন অবস্থায় ফিরে যাওয়ার পূর্বেই দীন পূর্ণাঙ্গ হয়ে গিয়েছিল যা কোনো বৃদ্ধির মুখাপেক্ষী ছিল না। আল্লাহ এবং মুমিনগণ এর সাক্ষ্য দিয়েছেন, আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট
(১১)।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ তোমাদেরকে যা কিছু আদেশ করেছেন তার মধ্য থেকে আমি এমন কিছু বাদ রাখিনি যা তোমাদের আদেশ করিনি। আর যা কিছু তিনি তোমাদের নিষেধ করেছেন তার মধ্য থেকে আমি এমন কিছু বাদ রাখিনি যা তোমাদের নিষেধ করিনি»
(১২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقال صلى الله عليه وسلم: «إني قد تركتكم على مثل البيضاء، ليلها كنهارها، لا يزيغ عنها بعدي إلا هالك»
(13).
(ت) وهذا أمر شهد به أعداء الإسلام رغم أنوفهم فلم يستطيعوا كتمان إعجابهم ودهشتهم من هذا النظام الرباني الشامل الكامل الذي لم يدع صغيرة ولا كبيرة في كتاب الحياة إلا أحصاها، وعلمها للمسلم من يوم مولده إلى وضعه في لحده، فقالت يهود لسلمان رضي الله عنه: «لقد علمكم نبيكم صلى الله عليه وسلم كل شيء حتى الخراءة» فقال: «أجل نهانا أن نستقبل القبلة بغائط أو بول وأن نستنجي باليمين وأن نستنجي بأقل من ثلاثة أحجار أو أن نستنجي برجيع أو بعظم»
(14).
(ث) إن التشريع حق لرب العالمين، وليس من حق البشر، ولئن جازت الزيادة في الإسلام جاز النقص، لذلك نهى صلى الله عليه وسلم عن الزيادة في الدين: «إذا حدثتكم حديثا، فلا تزيدن علي»
(15)، والله در القائل:
بدين المسلمين، إن جاز زيد
… فجاز النقص أيضا أن يكونا
كفى ذا القول قبحا يا خليلي
… ولا يرضاه إلا الجاهلونا
فإذا كان الأمر كذلك فالمبتدع إنما محصول قوله بلسان حاله أو مقاله أن الشريعة لم تتم، وأنه بقي منها أشياء يجب أو يستحب استدراكها، لأنه لو كان معتقدا لكمالها وتمامها من كل وجه لم يبتدع ولا استدرك عليها، وقائل هذا
--------------------------------------------
এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে এক শুভ্র উজ্জ্বল দ্বীনের ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাতও দিনের মতো (উজ্জ্বল)। আমার পরে ধ্বংসপ্রাপ্ত ছাড়া আর কেউ এ থেকে বিচ্যুত হবে না»
(১৩).
(ত) এটি এমন এক বিষয় যা ইসলামের শত্রুরাও অনিচ্ছাসত্ত্বেও স্বীকার করেছে। তারা এই রব্বানি ও পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার প্রতি তাদের মুগ্ধতা ও বিস্ময় গোপন রাখতে পারেনি, যা জীবন-বিধানের ছোট-বড় কোনো কিছুই গণনা করা থেকে বাদ দেয়নি; বরং একজন মুসলিমকে তার জন্মের দিন থেকে কবরে রাখা পর্যন্ত সব কিছুই শিক্ষা দিয়েছে। জনৈক ইহুদি সালমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলেছিল: «তোমাদের নবী তো তোমাদের সব কিছুই শিখিয়েছেন, এমনকি শৌচকার্যও!» তিনি বললেন: «হ্যাঁ, তিনি আমাদের পায়খানা বা প্রস্রাবের সময় কিবলার দিকে মুখ করতে নিষেধ করেছেন, ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য করতে নিষেধ করেছেন, তিনটি পাথরের কম দিয়ে কুলুখ নিতে নিষেধ করেছেন এবং গোবর বা হাড় দিয়ে শৌচকার্য করতে নিষেধ করেছেন»
(১৪).
(থ) নিশ্চয়ই বিধান প্রণয়ন রাব্বুল আলামীনের অধিকার, কোনো মানুষের অধিকার নয়। ইসলামে যদি কোনো কিছু বৃদ্ধি করা বৈধ হতো, তবে হ্রাস করাও বৈধ হতো। তাই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু বৃদ্ধির ব্যাপারে নিষেধ করেছেন: «আমি যখন তোমাদের কোনো হাদিস বর্ণনা করি, তখন তাতে আমার ওপর কোনো কিছু বাড়িয়ে বলো না»
(১৫)। আর আল্লাহ সেই কবির প্রতি রহম করুন যিনি বলেছেন:
মুসলিমদের দ্বীনে যদি আধিক্য বৈধ হয়
… তবে হ্রাস হওয়াও সম্ভবপর হয়ে দাঁড়ায়
হে বন্ধু! এই কথাটি মন্দ হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট
… আর মূর্খরা ছাড়া কেউ এতে সন্তুষ্ট হতে পারে না
বিষয়টি যখন এমনই, তখন বিদআতকারীর কথার সারমর্ম—চাই তা তার অবস্থা বা উচ্চারিত কথা দ্বারা হোক—এই যে, শরিয়ত এখনো পূর্ণ হয়নি এবং শরিয়তের এমন কিছু বিষয় অবশিষ্ট আছে যা পূরণ করা ওয়াজিব বা মুস্তাহাব। কারণ সে যদি সব দিক থেকে শরিয়তের পূর্ণতা ও সমাপ্তিতে বিশ্বাসী হতো, তবে সে কোনো বিদআত করত না বা তাতে কোনো সংযোজন করত না। আর এই কথা যে বলে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ৯)
ضال عن الصراط المستقيم لا خلاف فيه بين أهل السنة.
(ج) إن المبتدع نصب نفسه مضاهيا للشارع الحكيم، لأن الشارع وضع الشرائع وألزم الخلق الجري على سنتها، وصار هو المنفرد بذلك لأنه حكم بين العباد فيما كانوا فيه يختلفون.
ولو كان التشريع من مدركات الخلق لم تتنزل الشرائع ولم تبعث الرسل، وهذا الذي ابتدع في دين الله قد صير نفسه ندا لله حيث شرع مع الشارع، وفتح للاختلاف بابا، ورد قصد الشارع في الانفراد بالتشريع.
وقد فهم السلف الصالح هذا فقال الشافعي رحمه الله: «من استحسن فقد شرع»، وهذا الإمام أحمد رحمه الله يقول: «أصول السنة عندنا التمسك بما كان عليه أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، والاقتداء بهم وترك البدع، وكل بدعة ضلالة»، ومن قبلهما إمام دار الهجرة إمام علم وهدى قال: «من ابتدع في الإسلام بدعة يراها حسنة فقد زعم أن محمدا خان الرسالة، لأن الله يقول: {اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعمتي ورضيت لكم الإسلام دينا} فما لم يكن يومئذ دينا لا يكون اليوم دينا».
2 - واستحق محسنو البدع هذا الحكم الشنيع، الذي مقره سقر وبئس المستقر، لأنهم أحدثوا فيما جرت سنته، وكفوا مؤنته، وردوا حكم الله، لأن السنة إنما سنها من قد عرف ما في خلافها من الخطل والزلل، ولم يرض لنفسه بما رضي به السلف الصالح لأنفسهم، فإنهم على علم وقفوا، وببصر ثاقب قد كفوا، وهم على كشف الأمور أقوى، وبفضل كانوا أحرى، فقد تكلموا منه بما يكفي، ووضعوا منه ما يشفي، وكانت سبيلهم بيضاء ناصع لونها تسر السالكين.
সরল পথ থেকে বিচ্যুত (ضال) হওয়ার ব্যাপারে আহলে সুন্নাহর মাঝে কোনো মতভেদ নেই।
(গ) নিশ্চয়ই বিদআতকারী (المبتدع) নিজেকে প্রজ্ঞাময় শরীয়তদাতার (الشارع) প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে; কারণ শরীয়তদাতা বিধানসমূহ প্রণয়ন করেছেন এবং সৃষ্টির ওপর তাঁর সুন্নাহর অনুসারী হওয়া আবশ্যক করেছেন। আর তিনি এতে একক অবস্থানে রয়েছেন, কারণ বান্দারা যেসব বিষয়ে মতভেদ করত, তিনি সেগুলোর মাঝে ফয়সালাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
আর যদি শরীয়ত প্রণয়ন (التشريع) মানুষের বোধগম্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে শরীয়তসমূহ নাজিল হতো না এবং রাসুলগণকেও প্রেরণ করা হতো না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন (ابتدع) করল, সে মূলত নিজেকে আল্লাহর সমকক্ষ হিসেবে দাঁড় করাল; যেহেতু সে শরীয়তদাতার পাশাপাশি বিধান প্রণয়ন করল, মতভেদের একটি দরজা খুলে দিল এবং শরীয়ত প্রণয়নের ক্ষেত্রে শরীয়তদাতার একক কর্তৃত্বের উদ্দেশ্যকে প্রত্যাখ্যান করল।
সালাফে সালেহীন (السلف الصالح) বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন। তাই ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো কিছুকে স্বীয় মতে উত্তম জ্ঞান (استحسن) করল, সে মূলত শরীয়ত প্রবর্তন করল।" আর ইমাম আহমাদ (রহ.) বলেন: "আমাদের নিকট সুন্নাহর মূলনীতি (أصول السنة) হলো সেই বিষয়ের ওপর অটল থাকা যার ওপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ ছিলেন, তাঁদের অনুসরণ করা এবং বিদআতসমূহ (البدع) বর্জন করা; আর প্রত্যেক বিদআতই (بدعة) পথভ্রষ্টতা (ضلالة)।" তাঁদের উভয়ের পূর্বে হিজরতের আবাসস্থলের ইমাম (ইমাম মালিক), যিনি জ্ঞান ও হেদায়েতের ইমাম, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে কোনো নতুন বিষয় উদ্ভাবন (ابتدع) করল এবং সেটাকে উত্তম মনে করল, সে মূলত দাবি করল যে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর রেসালাতের (الرسالة) দায়িত্বে খেয়ানত করেছেন। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম}। অতএব, সেদিন যা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত ছিল না, আজ তা দ্বীন হতে পারে না।"
২ - যারা বিদআতকে উত্তম সাব্যস্তকারী (محسنو البدع), তারা এই ভয়াবহ হুকুমের যোগ্য হয়েছে, যার ঠিকানা হলো জাহান্নাম এবং তা অত্যন্ত নিকৃষ্ট আবাসস্থল। কারণ তারা সেই বিষয়ে নতুনের উদ্ভাবন (أحدثوا) ঘটিয়েছে যার সুন্নাহর ধারা সুপ্রতিষ্ঠিত এবং যার প্রয়োজনীয়তা পূর্ণ হয়ে গেছে। তারা আল্লাহর হুকুমকে প্রত্যাখ্যান করেছে; কারণ সুন্নাহ কেবল তিনিই প্রবর্তন করেছেন যিনি এর বিপরীত চললে কী ধরণের ভুল ও বিচ্যুতি ঘটে তা জানেন। অথচ সে (বিদআতকারী) নিজের জন্য সেই বিষয়টিতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি যাতে সালাফে সালেহীন (السلف الصالح) সন্তুষ্ট ছিলেন। কেননা তাঁরা জ্ঞানের ওপর অটল ছিলেন এবং তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে (অপ্রয়োজনীয় বিষয় হতে) নিবৃত্ত থেকেছেন। তাঁরা বিষয়াবলি উন্মোচনে অধিক শক্তিশালী এবং মর্যাদার বিষয়ে অধিক অগ্রগণ্য ছিলেন। তাঁরা সেই বিষয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা করেছেন এবং যা নিরাময় স্বরূপ এমন সমাধান প্রদান করেছেন। তাঁদের পথ ছিল উজ্জ্বল ও শুভ্র যা পথচারীদের আনন্দিত করে।
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ১০)
3 - وإنما أتي المبتدع من باب التحسين والتقبيح العقلي، والحقيقة أن العقل غير مستقل ألبتة، ولا ينبني على غير أصل، وإنما ينبني على أصل متقدم على الإطلاق، ففي الأمور الشرعية لا يستقل بإدراكها دون الوحي، وفي الأمور الدنيوية لا بد من معلومات سابقة وقد بسطت هذا المعنى في كتابي «القرآن يتحدى».
* * *
3 - মূলত বিদআতি (مبتدع) ব্যক্তি বুদ্ধিভিত্তিক ভালো-মন্দ নির্ধারণের (التحسين والتقبيح العقلي) পথ দিয়েই বিভ্রান্ত হয়েছে। আর প্রকৃত সত্য হলো, বিবেক-বুদ্ধি কোনোভাবেই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় এবং তা কোনো মূলভিত্তি (أصل) ছাড়া গড়ে ওঠে না। বরং এটি সর্বদা একটি পূর্ববর্তী মূলভিত্তির ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে। অতএব, শরিয়ত সম্পর্কিত (شرعي) বিষয়াবলি ওহি (وحي) ব্যতিরেকে অনুধাবন করতে বুদ্ধি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় এবং পার্থিব বিষয়াবলির ক্ষেত্রেও পূর্বলব্ধ তথ্যের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। আমি আমার ‘আল-কুরআন ইয়াতাহাদ্দা’ নামক গ্রন্থে এই বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছি।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ১১)
كل بدعة ضلالة1 - اعلم أيها السالك سنن الهدى أن البدع كلها ضلالات، للأحاديث الصريحة الفصيحة الصحيحة الآتية:
عن العرباض بن سارية رضي الله عنه قال: «صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الغداة، ثم أقبل علينا بوجهه فوعظنا موعظة بليغة ذرفت منها الأعين، ووجلت منها القلوب، فقال رجل: يا رسول الله كأن هذه موعظة مودع! فقال: اتقوا الله وعليكم بالسمع والطاعة وإن عبدا حبشيا، وإنه من يعش منكم بعدي فسيرى اختلافا كثيرا، فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين، عضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور، فإن كل بدعة ضلالة»
(16).
عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يخطب الناس فيحمد الله ويثني عليه بما هو أهله ثم يقول: «من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وخير الحديث كتاب الله عز وجل، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة»
(17).
عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لكل
--------------------------------------------
প্রত্যেক বিদআতই পথভ্রষ্টতা১ - হে হিদায়াতের পথ অনুসারিগণ! জেনে রাখুন যে, সকল বিদআতই পথভ্রষ্টতা। এর সপক্ষে নিম্নোক্ত সুস্পষ্ট, প্রাঞ্জল ও সহিহ (صحيحة) হাদিসসমূহ বর্ণিত রয়েছে:
ইরবাদ ইবনে সারিয়াহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের ভোরের সালাত পড়ালেন, এরপর আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসলেন এবং আমাদের অত্যন্ত মর্মস্পর্শী এক নসিহত করলেন। এতে চোখগুলো অশ্রুসজল হলো এবং অন্তরগুলো প্রকম্পিত হলো। তখন এক ব্যক্তি আরজ করলেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ! মনে হচ্ছে এটি যেন বিদায়কালীন নসিহত! তিনি বললেন: আমি তোমাদের আল্লাহকে ভয় করার এবং (নেতার আদেশ) শ্রবণ ও আনুগত্য করার নির্দেশ দিচ্ছি, যদিও সে একজন হাবশী দাস হয়। আর তোমাদের মধ্যে যারা আমার পর জীবিত থাকবে, তারা অচিরেই অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাত এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে। একে তোমরা দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরে থাকবে। আর তোমরা দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবিত বিষয়াবলি থেকে বেঁচে থাকবে, কারণ প্রত্যেক বিদআতই পথভ্রষ্টতা»
(১৬).
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষের সামনে খুতবা দিতেন, আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা ও স্তুতি বর্ণনা করতেন এবং এরপর বলতেন: «আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। সর্বোত্তম বাণী হলো মহান আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মাঝে) নবউদ্ভাবিত বিষয়াবলি, এবং প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত»
(১৭).
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «প্রত্যেক
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
عمل شرة، ولكل شرة فترة، فمن كانت فترته إلى سنتي فقد اهتدى، ومن كانت فترته إلى غير ذلك هلك
(18).
عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من أحدث في أمرنا ما ليس منه فهو رد»
(19) وفي رواية: «من عمل عملا ليس عليه أمرنا فهو رد»
(20).
2 - لفظ: «كل بدعة ضلالة» الوارد في حديثي العرباض بن سارية وجابر بن عبد الله للعموم لأن كل من صيغ العموم ولا مخصص له، قال الحافظ في فتح الباري (13/ 254): «وهذه الجملة قاعدة شرعية كلية بمفهومها ومنطوقها، أما بمنطوقها فكأن يقال: حكم كذا بدعة، وكل بدعة ضلالة. فلا تكون من الشرع لأن الشرع كله هدى، فإن ثبت أن الحكم المذكور بدعة، صحت المقدمتان، وانتجتا المطلوب» أما حديثا عبد الله بن عمرو وعائشة فمن جوامع الكلم، وهما ميزان للأعمال الظاهرة، فلا يقبل عمل المسلم إلا بشرطين:
أحدهما: أن يكون العمل خالصا لله خلاص الذهب الإبريز، لقوله: {فمن كان يرجو لقاء ربه فليعمل عملا صالحا ولا يشرك بعبادة ربه أحدا}
(21).
--------------------------------------------
প্রতিটি আমলের জন্য একটি উদ্যম থাকে, আর প্রতিটি উদ্যমের জন্য একটি ক্লান্তি থাকে। সুতরাং যার ক্লান্তি আমার সুন্নাতের দিকে হয়, সে সঠিক পথ প্রাপ্ত (اهتدى) হলো; আর যার ক্লান্তি অন্য কিছুর দিকে হয়, সে ধ্বংস হলো
(১৮)।
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত (رد)"
(১৯)। অন্য এক বর্ণনা (رواية)-এ রয়েছে: "যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত (رد)"
(২০)।
২ - শব্দমালা: "প্রত্যেক বিদআত (بدعة) পথভ্রষ্টতা (ضلالة)" যা ইরবায ইবনে সারিয়াহ ও জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর বর্ণিত হাদিস দুটিতে এসেছে, তা ব্যাপকতা (للعموم) বুঝানোর জন্য; কারণ "প্রত্যেক (كل)" শব্দটি ব্যাপকতার শব্দাবলির (صيغ العموم) অন্তর্ভুক্ত এবং এর কোনো সীমাবদ্ধকারী (مخصص) নেই। হাফেজ (ইবনে হাজার) ফাতহুল বারীতে (১৩/ ২৫৪) বলেন: "এই বাক্যটি এর মর্মার্থ (مفهوم) ও শাব্দিক অর্থ (منطوق) উভয় দিক থেকেই একটি সামগ্রিক (كلية) শারঈ মূলনীতি (قاعدة شرعية)। আর শাব্দিক অর্থের (منطوق) দিক থেকে বিষয়টি এমন: অমুক বিধান (حكم) হলো বিদআত (بدعة), আর প্রত্যেক বিদআত (بدعة) হলো পথভ্রষ্টতা (ضلالة)। সুতরাং তা শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত হবে না, কারণ শরীয়ত পুরোটাই হেদায়াত। যদি প্রমাণিত হয় যে উল্লিখিত বিধানটি বিদআত (بدعة), তবে উভয় প্রাঙ্গবাক্য (المقدمتان) সঠিক প্রমাণিত হলো এবং তা কাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত (المطلوب) প্রদান করল।" পক্ষান্তরে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর এবং আয়েশার হাদিস দুটি ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাক্য (جوامع الكلم) সম্বলিত, আর এই দুটি হলো বাহ্যিক আমলসমূহ পরিমাপের মানদণ্ড (ميزان)। সুতরাং কোনো মুসলিমের আমল দুটি শর্ত ব্যতীত কবুল করা হবে না:
তন্মধ্যে একটি হলো: আমলটি খাঁটি সোনার মতো একমাত্র আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ (خالصا) হতে হবে, মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {অতএব যে তার পালনকর্তার সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার পালনকর্তার ইবাদতে কাউকে শরিক না করে}
(২১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الثاني: أن يكون موافقا للسنة، وهذا واضح جلي في حديث عائشة رضي الله عنها، ولأهل العلم فيه قولان أهونهما شر، وأحلاهما مر، فأما الأول: فهو ما تقدم آنفا فيكون العمل مردودا على صاحبه فلا يقيم له الله وزنا بل يجعله الله هباء منثورا، وأما الثاني: قد يكون المقصود أن المبتدع رد أمر الله لأنه نصب نفسه مضاهيا لأحكم الحاكمين؛ فشرع في الدين ما لم يأذن به الله، وقد تقدم تفصيل هذا الوجه آنفا.
3 - مما تقدم ظهر لذي حجر أن القول بالبدعة الحسنة والسيئة قسمة ضيزى، بل هو في نفسه بدعة ضلالة، ومن شر أنواع البدع، لأن الأدلة جاءت عامة مطلقة على كثرتها لم يقع فيها استثناء ألبتة، ومن المقرر في علم الأصول أن كل قاعدة شرعية كلية، أو دليل شرعي كلي إذا تكرر في مواضع كثيرة، وأتى بها شواهد على معان أصولية أو فرعية، ولم يقترن بها تقييد ولا تخصيص مع تكررها وإعادة تقررها، فذلك دليل على بقائها على مقتضى لفظها من العموم كقوله تعالى: {ولا تزر وازرة وزر أخرى} فإن هذه الجملة وردت في عدة آيات من سورة الأنعام والإسراء والزمر.
* * *
দ্বিতীয়ত: আমলটি সুন্নাহর (السنة) অনুকূলে হতে হবে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট। এ প্রসঙ্গে আলেমগণের দুটি অভিমত রয়েছে, যার মধ্যে সহজতরটিও মন্দ এবং মিষ্টতরটিও তিক্ত। প্রথমত: যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে, তাতে আমলটি আমলকারীর ওপরই প্রত্যাখ্যাত (مردود) হবে। ফলে আল্লাহ এর কোনো ওজন বা গুরুত্ব দেবেন না, বরং তিনি একে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করবেন। দ্বিতীয়ত: এর উদ্দেশ্য হতে পারে যে, বিদআতকারী আল্লাহর নির্দেশকে প্রত্যাখ্যান করেছে; কারণ সে নিজেকে শ্রেষ্ঠ বিচারকের সমকক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। ফলে সে দ্বীনের মধ্যে এমন বিধান প্রবর্তন করেছে যার অনুমতি আল্লাহ প্রদান করেননি। এ বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা আগেই গত হয়েছে।
৩ - উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, বিদআতকে উত্তম বিদআত (بدعة حسنة) ও মন্দ বিদআত (بدعة سيئة) হিসেবে ভাগ করা একটি অন্যায্য বণ্টন। বরং এটি স্বয়ং একটি ভ্রান্ত বিদআত (بدعة ضلالة) এবং বিদআতের নিকৃষ্টতম প্রকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কারণ এ সংক্রান্ত দলীলসমূহ প্রচুর হওয়া সত্ত্বেও সেগুলো ব্যাপক (عام) ও শর্তহীন (مطلق) হিসেবে এসেছে এবং এগুলোতে বিন্দুমাত্র কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি। উসুলশাস্ত্রে (علم الأصول) এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, প্রতিটি সামগ্রিক শরয়ি মূলনীতি (قاعدة شرعية كلية) বা সামগ্রিক শরয়ি দলীল যখন বিভিন্ন স্থানে বারবার উল্লিখিত হয় এবং যখন সেগুলো মৌলিক বা শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত বিষয়ের সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়, অথচ বারবার উল্লেখ ও পুনরাবৃত্তি সত্ত্বেও তার সাথে কোনো সীমাবদ্ধতা (تقييد) বা বিশেষীকরণ (تخصيص) যুক্ত না হয়, তবে তা এই বিষয়ের দলীল যে এটি তার শব্দের দাবি অনুযায়ী ব্যাপকতা (عموم) হিসেবেই বহাল থাকবে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "কেউ অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না।" এই বাক্যটি সূরা আল-আনআম, আল-ইসরা এবং আয-যুমার-এর বেশ কয়েকটি আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
كل بدعة ضلالة وإن رآها الناس حسنة1 - اتفق أهل العلم من الصحابة والتابعين ومن يليهم من أئمة المسلمين المشهود لهم بالخير في قرون الخير على ذم البدع وتقبيحها، والهروب منها وعمن اتسم بشيء منها، ولم يقع في ذلك منهم تردد ولا توقف وإليك أقوالهم المسندة الصحيحة، وصورا من أفعالهم الحية الصريحة.
2 - لو أخذنا أمثلة من طبقة الصحابة لوجدنا ما يأتي لقلب المسلم المتبع بالثلج، ويبطل رأي المبتدع بالفلج، وهاك من الحقائق حتى يأتيك البلج.
قال عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: «اتبعوا ولا تبتدعوا فقد كفيتم»
(22) قال عبد الله بن عمر رضي الله عنه: «كل بدعة ضلالة، وإن رآها الناس حسنة»
(23).
ولو نظرنا إلى أفعالهم لرأيناها موافقة لأقوالهم: «كنا نجلس على باب عبد الله بن مسعود قبل صلاة الغداة، فإذا خرج مشينا معه إلى المسجد، فجاءنا أبو موسى الأشعري، فقال: أخرج إليكم أبو عبد الرحمن بعد؟ قلنا: لا فجلس معنا حتى خرج، فلما خرج قمنا إليه جميعا، فقال له أبو موسى: يا
--------------------------------------------
প্রত্যেক বিদআত (بدعة)-ই পথভ্রষ্টতা (ضلالة), যদিও মানুষ তাকে উত্তম মনে করে1 - সাহাবী (صحابة), তাবেয়ী (تابعين) এবং তাঁদের পরবর্তী যুগের মুসলিম ইমামগণ—যাঁদের কল্যাণের সাক্ষ্য স্বর্ণযুগগুলোতে দেওয়া হয়েছে—তাঁরা বিদআত (بدعة)-এর নিন্দা ও একে নিকৃষ্ট সাব্যস্ত করার ব্যাপারে এবং বিদআত ও বিদআতিদের থেকে দূরে থাকার বিষয়ে একমত হয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো দ্বিধা বা সংশয় পরিলক্ষিত হয়নি। নিচে তাঁদের সহিহ (صحيح) সনদ (إسناد) সম্বলিত বাণী এবং তাঁদের কর্মজীবনের কিছু বাস্তব ও স্পষ্ট দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা হলো।
2 - আমরা যদি সাহাবী (صحابة)-দের স্তর থেকে কিছু উদাহরণ গ্রহণ করি, তবে আমরা এমন কিছু দেখতে পাব যা একজন অনুসরণকারী মুমিনের অন্তরকে প্রশান্ত করবে এবং বিদআতি (مبتدع)-দের যুক্তিকে খণ্ডন করবে। সত্য স্পষ্টভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এই ধ্রুব সত্যগুলো লক্ষ্য করুন।
আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) বলেছেন: «তোমরা অনুসরণ করো এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন (بدعة) করো না, কারণ তোমাদের জন্য (দীন) যথেষ্ট করা হয়েছে»
(22)। আবদুল্লাহ বিন উমর (রা.) বলেছেন: «প্রত্যেক বিদআত (بدعة)-ই পথভ্রষ্টতা (ضلالة), যদিও মানুষ তাকে উত্তম মনে করে»
(23)।
আমরা যদি তাঁদের কর্মপদ্ধতির দিকে তাকাই, তবে দেখব যে তা তাঁদের বাণীর সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ: «আমরা ফজর সালাতের আগে আবদুল্লাহ বিন মাসউদের দরজায় বসে থাকতাম। তিনি যখন বের হতেন, আমরা তাঁর সাথে মসজিদের দিকে যেতাম। একদিন আবু মুসা আল-াশআরী আমাদের কাছে আসলেন এবং বললেন: আবু আবদুর রহমান কি তোমাদের কাছে বের হয়েছেন? আমরা বললাম: না। তখন তিনি আমাদের সাথে বসলেন যতক্ষণ না তিনি বের হলেন। যখন তিনি বের হলেন, আমরা সবাই তাঁর দিকে এগিয়ে গেলাম। তখন আবু মুসা তাঁকে বললেন: হে...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أبا عبد الرحمن إني رأيت في المسجد آنفا أمرا أنكرته، ولم أر والحمد لله إلا خيرا، قال: فما هو؟ فقال: إن عشت فستراه، قال: رأيت في المسجد قوما حلقا جلوسا ينتظرون الصلاة في كل حلقة رجل وفي أيديهم حصا فيقول: كبروا مائة؛ فيكبرون مائة، فيقول: هللوا مائة؛ فيهللون مائة، ويقول: سبحوا مائة؛ فيسبحون مائة، قال: فماذا قلت لهم؟ قال: ما قلت لهم شيئا انتظار رأيك أو انتظار أمرك، قال: أفلا أمرتهم أن يعدوا سيئاتهم، وضمنت لهم أن لا يضيع من حسناتهم، ثم مضى ومضينا معه، حتى أتى حلقه من تلك الحلق فوقف عليهم، فقال: ما هذا الذي أراكم تصنعون؟! قالوا: يا أبا عبد الرحمن حصا نعد به التكبير والتهليل والتسبيح، قال: فعدوا سيئاتكم فأنا ضامن أن لا يضيع من حسناتكم شيء، ويحكم يا أمة محمد ما أسرع هلكتكم، هؤلاء صحابة نبيكم صلى الله عليه وسلم متوافرون، وهذه ثيابه لم تبل، وآنيته لم تكسر، والذي نفسي بيده انكم لعلى ملة أهدى من ملة محمد أو مفتتحو باب ضلالة، قالوا والله يا أبا عبد الرحمن ما أردنا إلا الخير، قال: وكم من مريد للخير لن يصيبه، إن رسول الله صلى الله عليه وسلم حدثنا: {أن قوما يقرءون القرآن لا يجاوز تراقيهم} وايم الله ما أدري لعل أكثرهم منكم، ثم تولى عنهم، فقال عمرو ابن سلمة: رأينا عامة أولئك الحلق يطاعنونا يوم النهروان مع الخوارج
(24) قلت هذا الأثر العظيم تضمن أصولا عظيمة لا يعلمها إلا المتبعون الذين لا يقدمون بين يدي الله ورسوله، وقولهم سمعنا وأطعنا.
(أ) الذي شرع الغاية لم ينس الوسيلة، عندما شرع الله الذكر لم ينس
--------------------------------------------
হে আবু আবদুর রহমান! আমি মাত্রই মসজিদে এমন একটি বিষয় দেখলাম যা আমি অপছন্দ করেছি, তবে আলহামদুলিল্লাহ আমি সেখানে কল্যাণ ছাড়া অন্য কিছু দেখিনি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: সেটি কী? তিনি বললেন: আপনি বেঁচে থাকলে শীঘ্রই তা দেখতে পাবেন। তিনি বললেন: আমি মসজিদে একদল লোককে চক্রাকারে বসে সালাতের প্রতীক্ষা করতে দেখলাম। প্রতিটি চক্রে একজন লোক রয়েছেন এবং তাদের হাতে রয়েছে কঙ্কড়। সেই ব্যক্তিটি বলছেন: একশ বার তাকবির পাঠ করো; তখন তারা একশ বার তাকবির পাঠ করছে। তিনি বলছেন: একশ বার তাহলিল পাঠ করো; তখন তারা একশ বার তাহলিল পাঠ করছে। আর তিনি বলছেন: একশ বার তাসবিহ পাঠ করো; তখন তারা একশ বার তাসবিহ পাঠ করছে। তিনি (ইবনে মাসউদ) বললেন: তবে তুমি তাদের কী বললে? তিনি উত্তর দিলেন: আপনার সুচিন্তিত মতামত বা আদেশের প্রতীক্ষায় আমি তাদের কিছুই বলিনি। তিনি বললেন: তুমি কেন তাদের নিজেদের পাপসমূহ গণনা করার নির্দেশ দিলে না এবং তাদের এই নিশ্চয়তা দিলে না যে তাদের নেক আমলের কিছুই বৃথা যাবে না? অতঃপর তিনি অগ্রসর হলেন এবং আমরাও তাঁর সাথে চললাম, শেষপর্যন্ত তিনি সেই চক্রগুলোর একটির কাছে এসে উপস্থিত হলেন এবং তাদের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন: আমি তোমাদের একি করতে দেখছি?! তারা বলল: হে আবু আবদুর রহমান! এগুলো কঙ্কড়, এর মাধ্যমে আমরা তাকবির, তাহলিল ও তাসবিহ গণনা করছি। তিনি বললেন: বরং তোমরা তোমাদের পাপসমূহ গণনা করো, আমি জিম্মাদার হচ্ছি যে তোমাদের নেক আমল থেকে কিছুই নষ্ট হবে না। তোমাদের জন্য আফসোস হে মুহাম্মাদ (সা.)-এর উম্মত! তোমাদের ধ্বংস কতই না নিকটবর্তী! তোমাদের নবীর সাহাবীগণ এখনও বিপুল সংখ্যায় বিদ্যমান, তাঁর ব্যবহৃত কাপড় এখনও জীর্ণ হয়নি এবং তাঁর পাত্রসমূহ এখনও ভাঙেনি। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, নিশ্চয়ই তোমরা এমন এক মিল্লাতের (আদর্শের) ওপর আছো যা মুহাম্মাদ (সা.)-এর মিল্লাত অপেক্ষা অধিক হিদায়াতপূর্ণ, অথবা তোমরা ভ্রষ্টতার (ضلالة) দ্বার উন্মোচনকারী। তারা বলল: আল্লাহর কসম, হে আবু আবদুর রহমান! আমরা কেবল কল্যাণই চেয়েছি। তিনি বললেন: কল্যাণকামী কত লোকই তো আছে যারা কখনোই তা লাভ করতে পারে না। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন যে: {এমন এক কওমের আবির্ভাব ঘটবে যারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না}। আল্লাহর কসম, আমি জানি না, সম্ভবত তাদের অধিকাংশ তোমাদের মধ্য থেকেই হবে। এরপর তিনি তাদের থেকে ফিরে এলেন। আমর ইবনে সালামাহ বলেন: আমরা সেই চক্রগুলোর অধিকাংশ লোককেই নাহরাওয়ানের যুদ্ধে খারেজিদের (الخوارج) সাথে আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে দেখেছি
(24) আমি বলছি, এই মহান বর্ণনাটি (أثر) এমন কিছু মহান মূলনীতি (أصول) ধারণ করে আছে যা কেবল সেই অনুসারীরাই জানেন যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সিদ্ধান্তের আগে নিজের মতকে প্রাধান্য দেন না এবং যাদের কথা হলো: 'আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম'।
(ক) যিনি উদ্দেশ্য বিধিবদ্ধ করেছেন তিনি মাধ্যমকেও ভুলে যাননি, যখন আল্লাহ জিকির বিধিবদ্ধ করেছেন তখন তিনি ভুলে যাননি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وسيلته، فقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعقد التسبيح بيمينه، ويقول إنهن مستنطقات.
(ب) البدعة الإضافية ضلالة، وهي التي تستند إلى دليل من جهة الأصل، وغير مستندة من جهة الكيف والصفة، فسميت إضافية لأنها لم تخلص لأحد الطرفين: المخالفة الصريحة أو الموافقة الصحيحة.
فهؤلاء القوم لم يقولوا كفرا، ولم يفعلوا نكرا بل كانوا يذكرون الله وهو أمر مشروع بالنص، إلا أنهم خالفوا الكيفية والصفة التي سنها محمد صلى الله عليه وسلم، فأنكر الصحابة عليهم وأمروهم أن يعدوا سيئاتهم.
(ت) الله سبحانه وتعالى لا يعبد إلا بما شرع لا بالأهواء والعوائد والبدع.
(ث) البدعة تميت السنة، فهؤلاء النفر من المبتدعين اخترعوا صفة للذكر لم تؤثر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فأماتوا هدى محمد صلى الله عليه وسلم، وهذا أصل فهمه السلف الصالحون وعلموا يقينا أن البدعة والسنة لا تجتمعان، قال التابعي الجليل حسان بن عطية رحمه الله: «ما ابتدع قوم بدعة في دينهم، إلا نزع من سنتهم مثلها»
(25).
(ج) البدعة سبب الهلاك، لأنها تقود إلى ترك السنة، وفي ذلك ضلال بعيد، قال الصحابي عبد الله بن مسعود رضي الله عنه «ولو تركتم سنة نبيكم لضللتم»
(26)، وإذا ضلت الأمة هلكت لذلك قال عبد الله بن مسعود.
--------------------------------------------
তাঁর মাধ্যম। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ডান হাতের আঙুলে তসবিহ গণনা করতেন এবং বলতেন যে, এগুলিকে কিয়ামতের দিন বাকশক্তি দান করা হবে (অর্থাৎ এগুলি সাক্ষ্য দেবে)।
(খ) অতিরিক্ত বিদআত (البدعة الإضافية) হলো পথভ্রষ্টতা (ضلالة); এটি এমন বিষয় যা মূলভিত্তির দিক থেকে দলিলের ওপর নির্ভরশীল হলেও পদ্ধতি এবং বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে দলিলের ওপর নির্ভরশীল নয়। একে অতিরিক্ত (ইদাফিয়্যাহ) নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি দুই প্রান্তের কোনো একটির জন্য একনিষ্ঠ নয়: না এটি স্পষ্ট বিরোধিতা, না এটি সঠিক অনুসরণ।
এই লোকেরা কুফরি কোনো কথা বলেনি এবং কোনো গর্হিত কাজও করেনি, বরং তারা আল্লাহর জিকির করছিল যা দলিলের (نص) মাধ্যমে শরয়ি অনুমোদিত (مشروع) একটি বিষয়। কিন্তু তারা সেই পদ্ধতি ও বৈশিষ্ট্যের বিরোধিতা করেছিল যা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রবর্তন করেছিলেন। ফলে সাহাবীগণ তাদের এই কাজের প্রতিবাদ করেন এবং তাদের নিজেদের গুনাহগুলো গণনা করার নির্দেশ দেন।
(গ) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ইবাদত কেবল সেভাবেই করতে হবে যা তিনি শরয়ি বিধান (شرع) হিসেবে দিয়েছেন; প্রবৃত্তি, প্রচলিত অভ্যাস কিংবা বিদআতের মাধ্যমে নয়।
(ঘ) বিদআত সুন্নাহকে (السنة) মৃত করে দেয়। এই একদল বিদআতকারী জিকিরের এমন এক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিল যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়নি, ফলে তারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শকে মৃত করে দিয়েছিল। এটি এমন একটি মূলনীতি যা পুণ্যবান পূর্বসূরিগণ (السلف الصالحون) অনুধাবন করেছিলেন এবং তারা দৃঢ়ভাবে জানতেন যে, বিদআত এবং সুন্নাহ (السنة) একত্রে জমা হতে পারে না। প্রখ্যাত তাবেয়ি (تابعي) হাসসান বিন আতিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যখনই কোনো জাতি তাদের দ্বীনের মধ্যে কোনো বিদআতের উদ্ভাবন করে, তখনই তাদের থেকে তার সমপরিমাণ সুন্নাহ (السنة) ছিনিয়ে নেওয়া হয়।"
(২৫)(ঙ) বিদআত হলো ধ্বংসের কারণ, কেননা এটি সুন্নাহ (السنة) বর্জনের দিকে ধাবিত করে, আর তাতে রয়েছে চরম পথভ্রষ্টতা। সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "যদি তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাহ (السنة) বর্জন করো, তবে তোমরা অবশ্যই পথভ্রষ্ট হবে।" আর যখন উম্মাহ পথভ্রষ্ট হয় তখন তারা ধ্বংস হয়ে যায়, একারণেই আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ এ কথা বলেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
لتلك الحلق: «يا أمة محمد ما أسرع هلكتكم»، وفهم هذا الصحابي له اعتبار خاص يظهر من سياق الأثر، فأبو موسى الأشعري رضي الله عنه لم ينكر عليهم انتظار رأي أو أمر عبد الله بن مسعود، وهذا الموقف ليس محاباة أو مجاملة لابن أم عبد بل رضي أبو موسى لنفسه ما ارتضاه رسول الله صلى الله عليه وسلم لنفسه ولأمته فقال صلى الله عليه وسلم: «رضيت لأمتي ما رضي لها ابن أم عبد»
(27).
(حـ) البدعة بريد الكفر، لأن المبتدع نصب نفسه مشرعا ولله ندا، فاستدرك على أحكم الحاكمين، وظن أنه على ملة اهدى من ملة محمد صلى الله عليه وسلم.
(خـ) البدع تفتح باب الخلاف على مصراعيه، وهو باب ضلالة، ومن سن في الإسلام سنة سيئة فعليه وزرها ووزر من عمل بها إلى يوم القيامة لا ينقص من أوزارهم شيء، لأن الدال على الشر كفاعله.
(د) التقليل من شأن البدع يقود إلى الفسوق والعصيان، ألم تر أن هؤلاء النفر أصبحوا في صفوف الخوارج يوم النهروان يقاتلون الصحابة رضي الله عنهم بقيادة أمير المؤمنين على رضي الله عنه الذي استأصل شأفتهم في ذلك اليوم المشهود.
قال أحد علماء المسلمين الأوائل هو حسن بن علي البربهاري من أصحاب إمام أهل السنة أحمد بن حنبل رحمهما الله: «واحذر صغار المحدثات، فإن صغار البدع تعود حتى تصير كبارا، وكذلك كل بدعة أحدثت في هذه الأمة، كان أولها صغيرا، يشبه الحق فاغتر بذلك من دخل فيها، ثم لم يستطع المخرج منها، فعظمت، وصارت دينا يدان به، فخالف الصراط
--------------------------------------------
সেই হালকাগুলোর (বৈঠক) উদ্দেশ্যে তিনি বললেন: «হে মুহাম্মদের উম্মত, তোমাদের ধ্বংস কতই না দ্রুত নিকটবর্তী», এবং এই সাহাবীর উপলব্ধির একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে যা বর্ণনার (أثر) প্রেক্ষাপট থেকে স্পষ্ট হয়। আবু মুসা আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের মতামত বা নির্দেশের অপেক্ষা করার বিষয়টিকে তাদের জন্য অস্বীকার করেননি। এই অবস্থানটি ইবনে উম্মে আবদের প্রতি কোনো পক্ষপাতিত্ব বা তোষামোদ ছিল না, বরং আবু মুসা নিজের জন্য তা-ই পছন্দ করেছিলেন যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের এবং তাঁর উম্মতের জন্য পছন্দ করেছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন: «আমি আমার উম্মতের জন্য তা-ই পছন্দ করি যা ইবনে উম্মে আবদ তাদের জন্য পছন্দ করেন»
(27).
(হ) বিদআত (بدعة) হলো কুফরের (كفر) বার্তাবাহক, কারণ বিদআতী (مبتدع) নিজেকে শরীয়ত প্রণেতা (مشرع) এবং আল্লাহর সমকক্ষ (ند) হিসেবে দাঁড় করায়। ফলে সে শ্রেষ্ঠ বিচারকের (أحكم الحاكمين) সিদ্ধান্তের ওপর সংশোধনী আনে এবং মনে করে যে সে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মিল্লাতের (ملة) চেয়েও অধিক সঠিক কোনো আদর্শের ওপর রয়েছে।
(খ) বিদআত (بدعة) মতভেদের দ্বার পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেয় এবং এটি পথভ্রষ্টতার (ضلالة) পথ। যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ রীতির (سنة سيئة) প্রচলন করবে, তার ওপর সেই কাজের পাপ (وزر) এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা এটি অনুসরণ করে আমল করবে তাদের পাপও বর্তাবে, অথচ তাদের পাপ থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। কারণ মন্দের দিকে আহ্বানকারী মন্দের কর্তার ন্যায়।
(দ) বিদআতের (بدعة) গুরুত্ব কমিয়ে দেখা পাপাচার (فسوق) ও অবধ্যতার (عصيان) দিকে ধাবিত করে। আপনি কি দেখেননি যে, এই লোকগুলোই নাহরাওয়ানের যুদ্ধের দিন খারেজিদের (خوارج) কাতারে শামিল হয়েছিল এবং আমীরুল মুমিনীন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে থাকা সাহাবীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল, যিনি সেই ঐতিহাসিক দিনে তাদের সমূলে উৎপাটন করেছিলেন?
মুসলিমদের প্রাথমিক যুগের একজন আলিম, যিনি আহলে সুন্নাতের ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, সেই হাসান বিন আলী আল-বারবাহারি বলেন: «তোমরা ক্ষুদ্র নব-উদ্ভাবিত বিষয়গুলো (محدثات) থেকে সতর্ক থাকো, কেননা ক্ষুদ্র বিদআত (بدعة) বৃদ্ধি পেতে পেতে বড় বিদআতে পরিণত হয়। একইভাবে এই উম্মতের মধ্যে যে বিদআতই (بدعة) উদ্ভাবিত হয়েছে, তার শুরুটা ছিল ক্ষুদ্র এবং যা সত্যের সদৃশ ছিল; ফলে যারা এতে প্রবেশ করেছিল তারা প্রতারিত হয়েছিল। এরপর তারা আর তা থেকে বের হতে পারেনি, ফলে তা প্রকট আকার ধারণ করে এবং এমন এক দ্বীনে পরিণত হয় যার অনুসরণ করা হতে থাকে, ফলে তা সরল পথ (الصراط) থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المستقيم، فخرج من الإسلام، فانظر رحمك كل من سمعت كلامه من أهل زمانك خاصة، فلا تعجلن، ولا تدخلن في شيء منه حتى تسأل وتنظر: هل تكلم فيه أحد من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، أو أحد من العلماء؟ فإن أصبت فيه أثرا عنهم؛ فتمسك به، ولا تجاوزه لشيء، ولا تختر شيئا فتسقط في النار»
(28).
(ذ) إنما الأعمال الصالحة بالنيات الصالحة، والنية الحسنة لا تجعل الباطل حقا، لأن النية وحدها لا تكفي لتصحيح الفعل فلا بد أن ينضم إليها التقيد بالشرع
(29).
(ر) زيادة الخير ليست خيرا، لأن الزيادة في الخير شر، وهذا أمر مشاهد في كل شيء، فإن الأمر إذا زاد عن حده انقلب إلى ضده، فالشجاعة إذا زادت أصبحت تهورا، وإذا نقصت صارت جبنا، والكرم إذا زاد عن حدوده أضحى إسرافا وتبذيرا، وإذا قل أمسى بخلا وتقتيرا، إذن فخير الأمور أوساطها.
وعبد الله بن مسعود ليس بدعا من الصحابة المنكرين للبدع فهذا عبد الله ابن عمر رضي الله عنه كان من أشد الصحابة إنكارا للبدع وهجرا للمبتدعين فقد سمع رجلا عطس فقال: الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله، فقال له: ما هكذا علمنا رسول الله صلى الله عليه وسلم بل قال: إذا عطس أحدكم فليحمد الله، ولم يقل: وليصل على رسول الله
(30).
--------------------------------------------
সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। সুতরাং আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন, আপনি আপনার সমসাময়িক বিশেষ করে যাদের কথাই শুনবেন না কেন, তাতে তাড়াহুড়ো করবেন না এবং তার কোনো কিছুতেই প্রবেশ করবেন না যতক্ষণ না আপনি জিজ্ঞাসা করেন এবং দেখেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো সাহাবী কি এই বিষয়ে কোনো কথা বলেছেন অথবা আলেমদের কেউ কি বলেছেন? যদি আপনি তাদের পক্ষ থেকে কোনো বর্ণনা (أثر) খুঁজে পান, তবে তা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরুন এবং অন্য কিছুর জন্য তা অতিক্রম করবেন না। নিজের পক্ষ থেকে কোনো কিছু পছন্দ করবেন না, অন্যথায় আপনি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবেন।
(28)(যাল) সৎ নিয়তের মাধ্যমেই কেবল সৎ কর্ম সম্পাদিত হয়। ভালো নিয়ত কোনো বাতিলকে সত্যে পরিণত করে না; কারণ কেবল নিয়ত কোনো কাজকে শুদ্ধ করার জন্য যথেষ্ট নয়, বরং এর সাথে শরিয়তের অনুসরণ যুক্ত হওয়া অপরিহার্য।
(29)(রা) কল্যাণের ক্ষেত্রে সীমাতিরিক্ততা কল্যাণ নয়, কারণ কল্যাণের মধ্যে বাড়াবাড়ি হলো অকল্যাণ। এটি প্রতিটি বিষয়েই পরিলক্ষিত হয়। কোনো বিষয় যখন তার সীমা অতিক্রম করে, তখন তা তার বিপরীতে রূপান্তরিত হয়। সাহসিকতা যখন বৃদ্ধি পায় তখন তা হঠকারিতায় পরিণত হয়, আর যখন কমে যায় তখন তা ভীরুতায় রূপ নেয়। উদারতা যখন সীমা ছাড়িয়ে যায় তখন তা অপচয় ও অপব্যয় হয়ে দাঁড়ায়, আর যখন কমে যায় তখন তা কার্পণ্য ও সংকীর্ণতায় পর্যবসিত হয়। সুতরাং সকল বিষয়ের মধ্যে মধ্যপন্থা অবলম্বন করাই সর্বোত্তম।
আর আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বিদআত প্রত্যাখ্যানকারী সাহাবীদের মধ্যে ব্যতিক্রম কেউ ছিলেন না। এই যে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু, তিনিও বিদআত প্রত্যাখ্যান এবং বিদআতী (مبتدع) ব্যক্তিদের বর্জনের ক্ষেত্রে সাহাবীদের মধ্যে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। তিনি এক ব্যক্তিকে হাঁচি দেওয়ার পর বলতে শুনলেন: 'আলহামদুলিল্লাহ ওয়াস-সালাতু ওয়াস-সালামু আলা রাসূলিল্লাহ'। তখন তিনি তাকে বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এভাবে শেখাননি; বরং তিনি বলেছেন: 'তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেয় সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে'। তিনি এ কথা বলেননি যে, 'রাসূলুল্লাহর ওপর দরুদ পাঠ করবে'।
(30)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وعن سالم قال: «إني لجالس مع ابن عمر رضي الله عنه في المسجد إذ جاءه رجل من أهل الشام فسأله عن التمتع بالعمرة إلى الحج؟ فقال ابن عمر: حسن جميل، فقال: فإن أباك كان ينهى عن ذلك؟ فقال: ويلك فإن كان أبي قد نهى عن ذلك وقد فعله رسول الله صلى الله عليه وسلم وأمر به، فبقول أبي تأخذ أم بأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم؟! قال: بأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: فقم عني»
(31) قلت: هذه الآثار تضمنت فوائد طيبة:
(أ) رد الصحابة على كل من خالف السنة الصحيحة وربما اغلظوا في الرد، حتى لو على آبائهم وأبنائهم وعلمائهم.
(ب) البدعة التركية ضلالة، وهي أعمال قام الدليل عليها إلا إنه تقصد تركها تدينا أو شبه تدين كالمتصوفه عندما تركوا الزواج فاختصوا، ويدل على ضلالها من كتاب الله قوله تعالى: {يا أيها الذين آمنوا لا تحرموا طيبات ما أحل الله لكم، ولا تعتدوا إن الله لا يحب المعتدين، وكلوا مما رزقكم الله حلالا طيبا واتقوا الله الذي أنتم به مؤمنون}
(32). وهذه الآية تدور حول معنى واحد هو تحريم ما أحل الله من الطيبات تدينا، والله نهى عن ذلك وجعله اعتداء، لأنه اعتداء على حق الله في التفرد بالتشريع والله لا يحب المعتدين، ثم قرر الإباحة تقريرا زائدا على ما قرر بقوله {وكلوا مما رزقكم الله حلالا طيبا} ثم أمرهم بالتقوى، وذلك مشعر بأن تحريم ما أحل الله على أي شكل خارج درجة التقوى، لذلك قال الرسول للرهط الثلاثة الذين جاءوا إلى بيوت النبي
--------------------------------------------
সালেম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি মসজিদে ইবনে উমর (রা.)-এর সাথে বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় সিরিয়াবাসীদের মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তি তাঁর নিকট এলেন এবং হজের সাথে ওমরাহর তামাত্তু (تمتع) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। ইবনে উমর বললেন: এটি অতি উত্তম ও সুন্দর কাজ। লোকটি বলল: আপনার পিতা তো এটি করতে নিষেধ করতেন? তিনি বললেন: তোমার সর্বনাশ হোক! আমার পিতা যদি এ থেকে নিষেধ করে থাকেন আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা সম্পাদন করে থাকেন এবং এর নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তবে তুমি কি আমার পিতার কথা গ্রহণ করবে নাকি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশ? লোকটি বলল: বরং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশ। তখন তিনি বললেন: তবে আমার নিকট থেকে উঠে যাও।"
(৩১) আমি বলি: এই বর্ণনাগুলো (آثار) কিছু চমৎকার শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করে:
(ক) সহীহ সুন্নাহর (السنة الصحيحة) বিরুদ্ধাচরণকারী প্রত্যেকের প্রতিবাদ করা সাহাবায়ে কেরামের নীতি ছিল এবং তারা প্রতিবাদের ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করতেন, এমনকি তা যদি তাদের পিতা, সন্তান বা আলেমদের বিরুদ্ধেও হতো।
(খ) বর্জনমূলক বিদআত (البدعة التركية) একটি ভ্রষ্টতা (ضلالة); আর এটি এমন আমল যার স্বপক্ষে দলিল বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও ইবাদত হিসেবে বা ইবাদত সদৃশ মনে করে তা বর্জন করা হয়; যেমন সূফীরা যখন বিবাহ বর্জন করত এবং খাসি হয়ে যেত। আল্লাহর কিতাব থেকে এর ভ্রষ্টতার (ضلالة) প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, আল্লাহ তোমাদের জন্য যে সব পবিত্র বস্তু হালাল করেছেন সেগুলোকে তোমরা হারাম করো না এবং সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না। আর আল্লাহ তোমাদেরকে যে হালাল ও পবিত্র রিজিক দিয়েছেন তা থেকে আহার করো এবং আল্লাহকে ভয় করো যার ওপর তোমরা বিশ্বাসী}
(৩২)। এই আয়াতটি একটি মূল অর্থের ওপর আবর্তিত হয়েছে, তা হলো ইবাদত মনে করে আল্লাহর হালালকৃত পবিত্র বস্তুসমূহকে হারাম করা। আল্লাহ তাআলা তা করতে নিষেধ করেছেন এবং একে সীমালঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করেছেন; কারণ এটি বিধান প্রণয়নের একক অধিকারে আল্লাহর হকের ওপর সীমালঙ্ঘন করার শামিল, আর আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না। অতঃপর তিনি "আল্লাহ তোমাদেরকে যে হালাল ও পবিত্র রিজিক দিয়েছেন তা থেকে আহার করো" বাণীর মাধ্যমে এই বৈধতার বিষয়টি পূর্বাপেক্ষা অধিক জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারপর তিনি তাঁদেরকে তাকওয়া অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন, যা এই মর্মে ইঙ্গিত প্রদান করে যে, আল্লাহর হালালকৃত বিষয়কে যেকোনো প্রকারে হারাম করা তাকওয়ার স্তরের বহির্ভূত। এজন্যই রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই তিন ব্যক্তিকে বলেছিলেন যারা নবীর ঘরসমূহে এসেছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ২০)
يسألون عن عبادته صلى الله عليه وسلم وتقالوها «
… . أما إن أعلمكم بالله، واتقاكم الله أنا»
(33).
3 - وإذا كان الصحابة رضي الله عنهم قد تركوا لنا مثل تلك الكلمات البصيرة التي تنفذ بنورها إلى القلوب فتحييها، فإن رجالا من بعدهم أصابوا مواقع الحق ببصائرهم ما أصابوا فتركوا كلمات تكاد تكون هي كلمات الصحابة وما ذلك إلا لأنهم ترسموا خطى الصحابة، واقتفوا آثارهم حذو القذة بالقذة وفيهم يصح أن نقول: وكلهم للحق ملتمس.
وقد تقدمت أقوالهم ونضيف هنا صورا من مواقفهم المضيئة بنور الحق، فهذا الإمام مالك رحمه الله أتاه رجل فقال: يا أبا عبد الله من أين أحرم؟ قال: من ذي الحليفة، من حيث أحرم رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: إني أريد أن أحرم من المسجد من عند القبر، قال: لا تفعل فإني أخشى عليك الفتنة، فقال: وأي فتنة في هذه؟ إنما هي أميال أزيدها، قال: وأي فتنة أعظم من أن ترى أنك سبقت فضيلة قصر عنها رسول الله صلى الله عليه وسلم؟! إني سمعت الله يقول: {فليحذر الذين يخالفون عن أمره أن تصيبهم فتنة أو يصيبهم عذاب أليم}
(34).
--------------------------------------------
তারা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিলেন এবং সেটিকে সামান্য মনে করছিলেন «
… । জেনে রেখো, আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহ সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত এবং তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে সর্বাধিক ভয় করি। »
(৩৩).
৩ - সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যদি আমাদের জন্য এমন অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ বাণীসমূহ রেখে গিয়ে থাকেন যা তার নূর দিয়ে হৃদয়ে প্রবেশ করে তাকে পুনর্জীবিত করে, তবে তাঁদের পরবর্তী একদল মানুষও তাঁদের অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে হকের সঠিক স্থানে পৌঁছেছেন এবং এমন সব বাণী রেখে গেছেন যা প্রায় সাহাবায়ে কেরামের বাণীর মতোই। আর তা কেবল এ কারণেই হয়েছে যে, তাঁরা সাহাবায়ে কেরামের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন এবং তাঁদের প্রতিটি চিহ্নকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করেছেন। তাঁদের সম্পর্কে আমরা যথার্থই বলতে পারি: তাঁরা প্রত্যেকেই হকের অন্বেষণকারী।
তাঁদের বক্তব্যসমূহ পূর্বেই অতিবাহিত হয়েছে এবং আমরা এখানে সত্যের আলোয় উদ্ভাসিত তাঁদের অবস্থানের কিছু চিত্র যোগ করছি। যেমন এই ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ), তাঁর কাছে এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করল: হে আবু আব্দুল্লাহ, আমি কোথা থেকে ইহরাম বাঁধব? তিনি বললেন: যুল-হুলাইফা থেকে, যেখান থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইহরাম বেঁধেছিলেন। লোকটি বলল: আমি মসজিদ থেকে, কবরের পাশ থেকে ইহরাম বাঁধতে চাই। তিনি বললেন: এমনটি করো না, কারণ আমি তোমার ওপর ফিতনার আশঙ্কা করছি। সে বলল: এতে ফিতনার কী আছে? এটি তো কেবল কয়েক মাইল যা আমি বাড়িয়ে দিচ্ছি। তিনি বললেন: এর চেয়ে বড় ফিতনা আর কী হতে পারে যে, তুমি মনে করছ তুমি এমন এক ফযিলত অর্জন করে ফেলেছ যা থেকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পিছিয়ে ছিলেন?! আমি আল্লাহকে বলতে শুনেছি: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আযাব আপতিত হবে}।
(৩৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ২১)
الرد على محسني البدععرضت لمحسني البدع شبه دعتهم للتمسك بتقسيمهم المزعوم الموهوم، إلا إنها عند تدبرها وبيان وجه الحق فيها لا تزيدهم إلا ضغثا على إبالة.
1 - «ما رآه المسلمون حسنا فهو عند الله حسن، وما رآه المسلمون سيئا فهو عند الله سيء».هذا الحديث لا يصح مرفوعا بل من كلام ابن مسعود رضي الله عنه، قال العجلوني في «كشف الخفاء» (2/ 263) نقلا عن الحافظ ابن عبد الهادي: «إسناده ساقط والأصح وقفه على ابن مسعود»، وقال السخاوي في «المقاصد الحسنة»: «هو موقوف حسن»، وقال العلامة الألباني في «سلسلة الأحاديث الضعيفة» (2/ 17): «لا أصل له مرفوعا وإنما ورد موقوفا على ابن مسعود»، وعليه فالحديث لا يصح مرفوعا فلا يجوز أن يحتج به في معارضة الأحاديث القاطعة في أن كل بدعة ضلالة.
وعلى افتراض صحة الحديث مرفوعا فإن (أل) في كلمة المسلمون، إن كان للاستغراق، أي كل المسلمين فإجماع، والإجماع حجة لا ريب فيه، والإجماع الأصولي المعتبر هو إجماع أهل العلم في عصر، وليس من شك أن المقلدين ليسوا من أهل العلم
(35). وإن كان للجنس فيستحسن بعض المسلمين هذا الأمر، ويستقبحه آخرون، كما هو الحال في أكثر البدع، وذلك
--------------------------------------------
বিদআতকে যারা উত্তম সাব্যস্ত করে তাদের খণ্ডনবিদআতকে যারা উত্তম বলে সাব্যস্ত করেন, তাদের সামনে এমন কিছু সংশয় উপস্থিত হয়েছে যা তাদেরকে তাদের সেই কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন শ্রেণীবিভাগের ওপর অটল থাকতে প্ররোচিত করেছে। তবে গভীরভাবে চিন্তা করলে এবং সত্য বিষয়টি স্পষ্ট হলে দেখা যায় যে, এগুলো তাদের জটিলতা বাড়িয়ে দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করে না।
১ - "মুসলমানগণ যা উত্তম বলে মনে করেন, তা আল্লাহর নিকটও উত্তম। আর মুসলমানগণ যা মন্দ মনে করেন, তা আল্লাহর নিকটও মন্দ।"এই হাদিসটি মরফু (مرفوع) হিসেবে বিশুদ্ধ (صحيح) নয়, বরং এটি ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য। আজলুনি 'কাশফুল খাফা' গ্রন্থে (২/২৬৩) হাফেজ ইবনে আব্দুল হাদি থেকে বর্ণনা করে বলেন: "এর সনদ অকেজো (ساقط) এবং সঠিক কথা হলো এটি ইবনে মাসউদের ওপর মাওকুফ (موقوف) বা তার নিজস্ব উক্তি।" সাখাবি 'আল-মাকাসিদুল হাসানাহ' গ্রন্থে বলেন: "এটি একটি হাসান (حسن) পর্যায়ের মাওকুফ (موقوف) বর্ণনা।" আল্লামা আলবানি 'সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দাইফাহ' গ্রন্থে (২/১৭) বলেন: "মরফু (مرفوع) হিসেবে এর কোনো ভিত্তি (لا أصل له) নেই, বরং এটি কেবল ইবনে মাসউদের ওপর মাওকুফ (موقوف) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।" সুতরাং হাদিসটি মরফু (مرفوع) হিসেবে বিশুদ্ধ (صحيح) নয়, তাই 'প্রতিটি বিদআতই গোমরাহি'—এই মর্মে বর্ণিত অকাট্য হাদিসসমূহের বিপরীতে এটিকে দলিল (حجة) হিসেবে পেশ করা বৈধ নয়।
আর যদি তর্কের খাতিরে হাদিসটিকে মরফু (مرفوع) হিসেবে বিশুদ্ধ (صحيح) ধরেও নেওয়া হয়, তবে 'আল-মুসলিমুন' শব্দে বিদ্যমান 'আলিফ-লাম' (أل) যদি ব্যাপকতা (استغراق) বুঝানোর জন্য হয়, অর্থাৎ সকল মুসলমান—তবে তা হবে ইজমা (إجماع)। আর ইজমা (إجماع) যে একটি দলিল (حجة) সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। উসুলশাস্ত্রবিদদের নিকট গ্রহণযোগ্য ইজমা (إجماع) হলো কোনো এক যুগের আলেমদের ঐক্যমত। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অন্ধ অনুসারীরা আলেমদের অন্তর্ভুক্ত নন
(৩৫)। আর যদি এটি কেবল জাতি বা শ্রেণী বুঝানোর জন্য হয়, তবে কিছু মুসলমান একটি বিষয়কে ভালো মনে করেন এবং অন্যান্যেরা তাকে মন্দ মনে করেন; যেমনটি অধিকাংশ বিদআতের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। وذلك
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ২২)
لاختلاف العقول والأهواء والآراء، وعليه سقط الاحتجاج بهذا الأثر.
واعلم أخا الإيمان أرشدك الله أن (أل) هنا للعهد، وعليه فالمراد بهذا الأثر إجماع الصحابة واتفاقهم على أمر كما يدل عليه السياق: «
… ثم نظر في قلوب العباد بعد قلب محمد صلى الله عليه وسلم فوجد قلوب أصحابه خير قلوب العباد، فجعلهم وزراء نبيه، يقاتلون على دينه فما رأى المسلمون حسنا فهو عند الله حسن، وما رأوا سيئا فهو عند الله سيء» أخرجه أحمد (1/ 379)، والطيالسي في «مسنده» ص 23، والخطيب في «الفقيه والمتفقه» (1/ 166) وروى الحاكم الجملة الأخيرة وزاد: «وقد رأى الصحابة جميعا أن يستخلفوا أبا بكر رضي الله عنه»، وهذه الجملة الأخيرة بيان للمراد فقد استدل عبد الله بن مسعود على استخلاف أبي بكر بإجماع الصحابة.
ويزيد الأمر وضوحا أن ابن مسعود من أشد الصحابة إنكارا للبدع، وهجرا لأصحابها وقد تقدم بعض أقواله وأفعاله، فتدبر.
2 - «نعمت البدعة هذه»شاع بين المتأخرين الاستدلال بقول عمر: «نعمت البدعة هذه» فخصصوا به عموم قوله صلى الله عليه وسلم: «كل بدعة ضلالة»، وهو احتجاج مردود لأن صلاة القيام مشروعة بنص حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه: «أن النبي صلى الله عليه وسلم لما أحيا بالناس ليلة في رمضان صلى ثماني ركعات وأوتر
(36)، وصلاتها جماعة مشروعة أيضا لأن الرسول صلى الله عليه وسلم صلاها بالصحابة
--------------------------------------------
বুদ্ধি-বিবেচনা, প্রবৃত্তি এবং মতামতের ভিন্নতার কারণে; আর সে কারণেই এই বর্ণনা (أثر) দ্বারা দলিল পেশ করার যোগ্যতা রহিত হয়েছে।
হে ঈমানদার ভ্রাতা! আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন, জেনে রাখুন যে এখানে (আল) শব্দটি ‘আহদ’ (العهد) বা নির্দিষ্টকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে এই বর্ণনা (أثر) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কোনো বিষয়ে সাহাবীগণের ঐকমত্য (إجماع) ও একমত হওয়া, যা প্রেক্ষাপট থেকেও স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়: « ... অতঃপর তিনি (আল্লাহ) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হৃদয়ের পর বান্দাদের হৃদয়ের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং সাহাবীগণের হৃদয়কে বান্দাদের হৃদয়ের মধ্যে সর্বোত্তম হিসেবে পেলেন। তাই তিনি তাঁদেরকে তাঁর নবীর উজির বা সহযোগী বানালেন, যাঁরা তাঁর দ্বীনের জন্য লড়াই করেন। সুতরাং মুসলমানগণ যা ভালো মনে করেন, তা আল্লাহর কাছেও ভালো; আর তাঁরা যা মন্দ মনে করেন, তা আল্লাহর কাছেও মন্দ।» এটি আহমাদ (১/৩৭৯), তায়ালিসি তাঁর মুসনাদ-এ (পৃ. ২৩) এবং খতিব আল-ফাকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ (১/১৬৬) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। হাকেম শেষ বাক্যটি বর্ণনা করেছেন এবং এতে অতিরিক্ত যোগ করেছেন: «আর সাহাবীগণ সবাই আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে খলিফা নির্বাচিত করার ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন»; এই শেষ বাক্যটি মূল উদ্দেশ্যের ব্যাখ্যা প্রদান করে, কারণ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ সাহাবীগণের ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা আবু বকরের খিলাফতের পক্ষে দলিল পেশ করেছেন।
বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যে, ইবনে মাসউদ ছিলেন সাহাবীগণের মধ্যে বিদআত (بدعة) প্রত্যাখ্যান এবং বিদআতীদের বর্জনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠোর। তাঁর কিছু বক্তব্য ও কর্ম ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে, অতএব বিষয়টি অনুধাবন করুন।
২ - «এটি কতই না উত্তম বিদআত»পরবর্তী যুগের লোকদের মাঝে উমরের উক্তি—«এটি কতই না উত্তম বিদআত (بدعة)»—দ্বারা দলিল পেশ করার প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে; তারা এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাধারণ বাণী—«প্রত্যেক বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة)»—কে সুনির্দিষ্ট বা সীমিত (تخصيص) করতে চান। কিন্তু এই দলিলটি প্রত্যাখ্যাত (مردود), কারণ কিয়ামুল লাইল বা সালাতুত তারাবিহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের পাঠ (نص) দ্বারাই বিধিবদ্ধ (مشروع)। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রমজানে এক রাতে লোকদের নিয়ে কিয়াম করলেন, তখন তিনি আট রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং বিতর পড়লেন
(৩৬); আর এটি জামাতের সাথে আদায় করাও বিধিবদ্ধ (مشروع), কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের সাথে এটি আদায় করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ثلاث ليال، وإنما ترك ذلك مخافة أن تفرض عليهم والدليل حديث عائشة رضي الله عنها الذي أخرجه الشيخان في «صحيحيهما» وفيه: «ولكن خشيت أن تفرض عليكم فتعجزوا عنها»، فلما انقطع الوحي أمن ما خاف منه الرسول صلى الله عليه وسلم، لأن العلة تدور مع المعلول وجودا وعدما، فبقيت السنة للجماعة لزوال العارض، ثم جاء عمر رضي الله عنه وأمر بصلاتها إحدى عشرة ركعة وفقا للسنة، فأحيا السنة
(37).
فإذا علمت رحمك الله ما تقدم فمفهوم البدعة الشرعية لا ينطبق على فعل عمر، وإنما أراد رضي الله عنه بقوله البدعة اللغوية، فالبدعة في الشرع لا تستخدم إلا في موضع الذم بخلاف اللغة فإن كل ما أحدث على غير مثال سابق بدعة سواء كان محمودا أو مذموما وقد تقدم بسط هذا المعنى.
قال العلامة ابن تيمية رحمه الله: «وأما قول عمر نعمت البدعة هذه، فأكثر المحتجين بهذا لو أردنا أن نثبت بقول عمر الذي لم يخالف فيه لقالوا قول الصاحب ليس بحجة فلا يعتقده إذا خالف الحديث، فعلى التقديرين: لا يصح معارضة الحديث بقول الصاحب، نعم يجوز تخصيص عموم الحديث بقول الصاحب الذي لم يخالف على إحدى الروايتين، فيفيدهم هذا حسن تلك البدعة أما غيرها فلا، ثم نقول أكثر ما في هذه تسمية عمر تلك بدعة، مع حسنها، وهذه تسمية لغوية لا تسمية شرعية، وذلك لأن البدع في اللغة تعم
--------------------------------------------
তিন রাত, আর তিনি তা করা ছেড়ে দিয়েছিলেন শুধুমাত্র এই ভয়ে যে পাছে তা তাদের ওপর আবশ্যিক (فرض) করে দেওয়া হয়। এর প্রমাণ হলো আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিস যা দুই শাইখ তাঁদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: “কিন্তু আমি ভয় পেয়েছিলাম যে তা তোমাদের ওপর আবশ্যিক (فرض) করে দেওয়া হবে এবং তোমরা তা পালনে অক্ষম হয়ে পড়বে।” অতঃপর যখন ওহি (وحي) আসা বন্ধ হয়ে গেল, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) যা নিয়ে ভয় পেয়েছিলেন তা থেকে নিরাপত্তা অর্জিত হলো। কারণ, কারণ (علة) এবং কার্য (معلول) অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের দিক থেকে একে অপরের সাথে আবর্তিত হয়। সুতরাং প্রতিবন্ধকতা (عارض) অপসারিত হওয়ায় জামাতের (جমাعة) জন্য সুন্নাহটি (سنة) বহাল থাকল। এরপর উমর (রা.) আসলেন এবং তিনি সুন্নাহর (سنة) সাথে সংগতি রেখে তা এগারো রাকাত পড়ার নির্দেশ দিলেন, ফলে তিনি সুন্নাহকে (سنة) পুনর্জীবিত করলেন।
(৩৭)হে পাঠক, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, আপনি যদি পূর্বোক্ত বিষয়টি অবগত হয়ে থাকেন তবে স্পষ্ট হয় যে, শরিয়তগত বিদআতের (بدعة شرعية) সংজ্ঞা উমর (রা.)-এর কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বরং তিনি তাঁর উক্তির মাধ্যমে ভাষাগত বিদআত (بدعة لغوية) উদ্দেশ্য করেছেন। কেননা শরিয়তের পরিভাষায় বিদআত (بدعة) শব্দটি কেবল নিন্দা (ذم) জ্ঞাপক অর্থেই ব্যবহৃত হয়, যা ভাষাগত ব্যবহারের বিপরীত; কারণ পূর্বের কোনো নমুনা ছাড়াই যা কিছু নতুন উদ্ভাবিত হয়, তাই ভাষাগতভাবে বিদআত (بدعة), চাই তা প্রশংসনীয় (محمود) হোক কিংবা নিন্দনীয় (مذমوم)। ইতিপূর্বে এ বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা অতিবাহিত হয়েছে।
আল্লামা ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন: “উমর (রা.)-এর উক্তি ‘এটি কতই না চমৎকার বিদআত (بدعة)’, এর মাধ্যমে যারা দলিল পেশ করেন তাদের অধিকাংশের অবস্থা এমন যে, আমরা যদি উমর (রা.)-এর এমন কোনো উক্তি দ্বারা কোনো বিধান প্রমাণ করতে চাই যেক্ষেত্রে কেউ তাঁর বিরোধিতা করেনি, তবে তারা বলতেন: ‘সাহাবীর বক্তব্য (قول الصاحب) দলিল (حجة) নয়’। সুতরাং হাদিসের বিরোধী হলে তারা তা বিশ্বাস করেন না। তাই উভয় বিবেচনাতেই: সাহাবীর বক্তব্য (قول الصاحب) দ্বারা হাদিসের বিরোধিতা করা সঠিক নয়। হ্যাঁ, দুই বর্ণনার একটি অনুযায়ী এমন সাহাবীর বক্তব্য (قول الصاحب) দ্বারা হাদিসের ব্যাপকতাকে (عموم) বিশেষায়িত (تخصيص) করা জায়েজ যার কেউ বিরোধিতা করেনি। সুতরাং এটি কেবল সেই বিদআতের (بدعة) উত্তম হওয়ার পক্ষেই তাদের উপকারে আসবে, অন্যগুলোর ক্ষেত্রে নয়। এরপর আমরা বলি, উমর (রা.)-এর এই বক্তব্যে বড় জোর যা পাওয়া যায় তা হলো তিনি সেই কাজটিকে এর উত্তম হওয়া সত্ত্বেও বিদআত (بدعة) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর এটি একটি ভাষাগত নামকরণ, শরিয়তগত নামকরণ নয়। কারণ অভিধানে বিদআত (بدعة) শব্দটি সাধারণ অর্থ প্রকাশ করে...”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
كل ما فعل ابتداء على غير مثال سابق، أما البدعة الشرعية فكل ما لا يدل عليه دليل شرعي، فإذا كان نص رسول الله صلى الله عليه وسلم قد دل على استحباب فعل أو إيجابه بعد موته أو دل عليه مطلقا، ولم يعمل إلا بعد موته، ككتاب الصدقة الذي أخرجه أبو بكر رضي الله عنه، فإذا عمل أحد ذلك العمل بعد موته صح أن يسمى بدعة في اللغة لأنه عمل مبتدأ، كما أن نص الدين الذي جاء به النبي صلى الله عليه وسلم يسمى بدعة ويسمى محدثا في اللغة
(38)، ثم العمل الذي يدل عليه الكتاب والسنة ليس بدعة في الشريعة، وإن سمي بدعة في اللغة، فلفظ البدعة في اللغة أعم من لفظ البدعة في الشريعة، وقد علم أن قول النبي صلى الله عليه وسلم: «كل بدعة ضلالة» لم يرد به كل عمل مبتدأ، وإنما أراد من الأعمال التي لم يشرعها هو صلى الله عليه وسلم
(39) اه مختصرا.
3 - «من سن في الإسلام سنة حسنة»وقبل تفنيد زعم المبتدعين الذين اتخذوا من هذا الحديث حجة في تحسين البدع نسوق الحديث بتمامه.
عن جرير بن عبد الله قال: كنا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم في صدر النهار
(40) قال: فجاءه قوم حفاة عراة مجتابي النمار
(41)، أو العباء، متقلدى السيوف، عامتهم من مضر، بل كلهم من مضر، فتمعر
(42) وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم لما رأى
--------------------------------------------
যা কিছু পূর্বের কোনো দৃষ্টান্ত ব্যতিরেকে প্রথমবারের মতো করা হয় (তা-ই আভিধানিক বিদআত), পক্ষান্তরে শরয়ি বিদআত (بدعة شرعية) হলো এমন প্রত্যেক বিষয় যার সপক্ষে কোনো শরয়ি দলিল (دليل شرعي) নেই। সুতরাং যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো নস (نص) তাঁর ইন্তেকালের পর কোনো কাজ মুস্তাহাব (مستحب) হওয়া বা ওয়াজিব (واجب) হওয়ার নির্দেশ দেয় কিংবা সাধারণভাবে সেটির প্রতি ইঙ্গিত করে, কিন্তু সেটি তাঁর ইন্তেকালের পরেই কেবল বাস্তবায়িত হয়—যেমন সদকা সংক্রান্ত সেই লিখিত বিধান যা আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু বের করেছিলেন—এমতাবস্থায় যদি কেউ তাঁর ইন্তেকালের পর সেই কাজটি সম্পাদন করে, তবে আভিধানিক অর্থে সেটিকে বিদআত (بدعة) বলা সঠিক হবে; কারণ তা একটি নবসূচিত কাজ। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দ্বীনি নস (نص) নিয়ে এসেছেন, তাকেও আভিধানিক অর্থে বিদআত (بدعة) এবং নতুন (محدث) বলা হয়
(৩৮)। অতঃপর যে কাজের সপক্ষে কুরআন ও সুন্নাহর দলিল রয়েছে, তা শরয়ি পরিভাষায় বিদআত (بدعة) নয়, যদিও আভিধানিক অর্থে তাকে বিদআত (بدعة) বলা হয়। কেননা আভিধানিক বিদআত শব্দটি শরয়ি বিদআতের চেয়ে অধিক ব্যাপক। আর এটি সুবিদিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «প্রত্যেক বিদআত-ই ভ্রষ্টতা (ضلالة)» দ্বারা প্রতিটি নবসূচিত কাজ উদ্দেশ্য নয়, বরং তিনি কেবল সেই কাজগুলোই বুঝিয়েছেন যা তিনি নিজে শরয়ি হিসেবে প্রবর্তন করেননি
(৩৯)—সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
৩ - «যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম পদ্ধতি (سنة حسنة) প্রবর্তন করবে...»বিদআতী (مبتدع) সম্প্রদায়ের সেই দাবি খণ্ডন করার পূর্বে, যারা এই হাদিসটিকে বিদআতকে উত্তম সাব্যস্ত করার দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছে, আমরা পূর্ণ হাদিসটি পেশ করছি।
জারীর ইবনে আবদুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা দিনের শুরুর ভাগে
(৪০) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলাম। তিনি বলেন: তখন তাঁর নিকট একদল লোক এল যারা ছিল নগ্নপদ, বিবস্ত্র এবং পশমি চাদর
(৪১) অথবা জুব্বা পরিহিত, তাদের গলায় তলোয়ার ঝুলানো ছিল। তাদের অধিকাংশ ছিল মুযার গোত্রের, বরং তারা সবাই ছিল মুযার গোত্রের। তাদের (করুণ দশা) দেখে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা মোবারক বিবর্ণ
(৪২) হয়ে গেল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بهم من الفاقة، فدخل ثم خرج، فأمر بلالا فأذن وأقام فصلى، ثم خطب فقال: {يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة
… } الآية، والآية التي في الحشر: {يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله ولتنظر نفس ما قدمت لغد} تصدق رجل من ديناره، من درهمه، من ثوبه، من صاع بره، من صاع تمره، حتى قال: «ولو بشق تمرة»، قال: فجاء رجل من الأنصار بصرة كادت كفه تعجز عنها بل قد عجزت، قال: ثم تتابع الناس حتى رأيت كومين من طعام وثياب حتى رأيت وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم يتهلل كأنه مذهبة
(43)، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من سن في الإسلام
(44) سنة حسنة فله أجرها وأجر من عمل بها بعده، من غير أن ينقص من أجورهم شيء، ومن سن في الإسلام سنة سيئة كان عليه وزرها، ووزر من عمل بها من بعده من غير أن ينقص من أوزارهم شيء»
(45)إن مثل من نظر إلى هذا الحديث دون مناسبته التي أوردناها كمثل من قرأ قوله تعالى: {ويل للمصلين} ولم يكمل ما بعدها حتى يتم معناها، لأنه يكون بفعله هذا عكس الحقائق وقلب الموازين، فإن الله لم يتوعد المصلين كيف وهو أمر بإقامة الصلاة؟! لكنه توعد صنفا من المصلين وهم الذين وصفهم: {الذين هم عن صلاتهم ساهون، الذين هم يراءون ويمنعون الماعون}، أو كمن قرأ: {ولا تقربوا الصلاة} ولم يتم الآية حيث يتضح المعنى والمراد وهو قوله تعالى: {وأنتم سكارى} من هذه الأمثلة وغيرها في الكتاب والسنة كثير نشأت فكرة السياق والسباق في أصول الفقه
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে বিদ্যমান তীব্র অভাব-অনটনের কারণে (রাসূলুল্লাহ সা. বিচলিত হলেন), অতঃপর তিনি ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং পুনরায় বেরিয়ে আসলেন। এরপর তিনি বিলালকে নির্দেশ দিলেন, ফলে তিনি আযান দিলেন এবং ইকামাত দিলেন। তখন তিনি সালাত আদায় করলেন এবং খুতবাহ প্রদানকালে বললেন: {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন...} আয়াতের শেষ পর্যন্ত। আর সূরা হাশরের ঐ আয়াতটি পাঠ করলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো; আর প্রত্যেকের উচিত চিন্তা করে দেখা যে, সে আগামীকালের জন্য কী অগ্রিম পাঠিয়েছে}। তখন জনৈক ব্যক্তি তার দীনার থেকে, কেউ দিরহাম থেকে, কেউ তার পোশাক থেকে, কেউ এক সা’ গম থেকে এবং কেউ এক সা’ খেজুর থেকে সদকা করল। এমনকি তিনি বললেন: "যদি তা একটি খেজুরের অর্ধাংশ দিয়ে হলেও হয়"। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আনসারদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি একটি থলে নিয়ে আসলেন যা তার হাতের তালু বহন করতে প্রায় অক্ষম ছিল, বরং তিনি তা বহনে অক্ষমই হয়ে পড়েছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর মানুষ ধারাবাহিকভাবে সদকা নিয়ে আসতে থাকল, এমনকি আমি খাদ্য ও পোশাকের দুটি বিশাল স্তূপ দেখতে পেলাম। তখন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র চেহারা মুবারক আনন্দের আতিশয্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখলাম, যেন তা স্বর্ণমণ্ডিত রৌপ্য
(43)। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "যে ব্যক্তি ইসলামে
(44) কোনো উত্তম পদ্ধতি প্রবর্তন করল, তার জন্য এর প্রতিদান রয়েছে এবং যারা তার পরে সে অনুযায়ী আমল করবে তাদের সওয়াবও সে পাবে, তবে তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ পদ্ধতি প্রবর্তন করল, তার ওপর এর পাপ বর্তাবে এবং যারা তার পরে সে অনুযায়ী আমল করবে তাদের পাপের বোঝাও তার ওপর পড়বে, তবে তাদের পাপ থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না"
(45)নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি এই হাদিসের প্রেক্ষাপটটি বিবেচনা না করে এর প্রতি দৃষ্টিপাত করে যা আমরা এখানে উল্লেখ করেছি, তার উদাহরণ ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে মহান আল্লাহর বাণী: {ধ্বংস ঐ সকল মুসল্লিদের জন্য} পাঠ করল কিন্তু এর পরবর্তী অংশ সম্পূর্ণ করল না যাতে অর্থ পূর্ণতা পায়। কারণ, সে তার এই কাজের মাধ্যমে প্রকৃত সত্যকে উল্টে দিল এবং মানদণ্ডকে বিপর্যস্ত করল। কেননা আল্লাহ তো সাধারণ মুসল্লিদের সতর্ক করেননি—তিনি কীভাবে তা করবেন যখন তিনি নিজেই সালাত কায়েমের নির্দেশ দিয়েছেন?! বরং তিনি মুসল্লিদের একটি বিশেষ শ্রেণিকে সতর্ক করেছেন যাদের বৈশিষ্ট্য তিনি বর্ণনা করেছেন এভাবে: {যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন, যারা লোক দেখানো কাজ করে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস দানে বিরত থাকে}। অথবা ঐ ব্যক্তির মতো যে পাঠ করল: {তোমরা সালাতের নিকটবর্তী হয়ো না} এবং আয়াতটি সম্পূর্ণ করল না যেখানে প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যখন তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকো}। এই উদাহরণগুলো এবং কুরআন ও সুন্নাহর এ জাতীয় আরও অনেক উদাহরণ থেকেই ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতিতে প্রসঙ্গ ও পূর্বাপর প্রসঙ্গের ধারণার উদ্ভব হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
إن سياق الحديث يدحض تفسيره الذي شاع عند المبتدعين: «من ابتدع في الإسلام بدعة حسنة» فخصصوا عموم قوله صلى الله عليه وسلم: «كل بدعة ضلالة»، ويدل على أن تفسيرهم هراء وإفك مبين فهو بالرد قمين، فإن كل ما فعله الأنصاري إنما هو ابتداؤه الصدقة في تلك الحادثة، والصدقة مشروعة من قبل بالنص، أفترون هذا الصحابي أتى ببدعة حسنة؟! وتلاه الرسول صلى الله عليه وسلم في القصة نفسها، وعليه فالسنة الحسنة هي إحياء أمر مشروع لم يعهد العمل بين الناس لتركهم السنن، ففي عصرنا الحاضر لو أن إنسانا أحيا سنة مهجورة يقال: أتى بسنة حسنة، ولا يقال أتى ببدعة حسنة، إذن فالسنة الحسنة هي ما كان أصله مشروعا بنص صحيح وترك الناس العمل به ثم جاء من يجدده بين الناس ومثال ذلك ما فعله عمر رضي الله عنه عندما أحيا سنة صلاة التراويح جماعة إحدى عشرة ركعة، وفي السنوات الأخيرة كان الناس عندنا في بلاد الشام لا يصلون صلاة العيدين إلا في المساجد ظنا منهم أنها السنة فظهر في هذه البلاد من حمل لواء السنة فنبه الناس أن السنة أن تصلى صلاة العيدين في المصلى، وكذلك أطبق السواد الأعظم في هذه الديار على الاعتقاد أن صلاة التراويح عشرون ركعة فنبهوا إلى السنة الصحيحة التي فعلها رسول الله صلى الله عليه وسلم وتبعه الصحابة رضوان الله عليهم، فأمثال هؤلاء من الدعاة يقال سنوا في الإسلام سنة حسنة.
ومن السنن المهجورة التي تنتظر من يعيدها الى حيز التنفيذ فترى النور في دنيا المسلمين شريعة الله التي أقصاها الطواغيت عن سدة الحكم، واستبدلوها بنفايات موائد الغرب، وحثالة أفكار المشركين، وجعلوها مهيمنة على كل صغيرة وكبيرة في حياة الفرد والمجتمع، فلو أن حاكما أنقذ البشرية من هذه الحمأة الوبيئة التي أركست فيها، وخلصها من هذه الأحكام الدنيئة، وجعل
হাদিসের প্রেক্ষাপট বিদআতপন্থীদের (مبتدعين) মাঝে প্রচলিত সেই ব্যাখ্যাকে খণ্ডন করে, যা হলো: "যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম নবপ্রথা (بدعة حسنة) প্রবর্তন করল..." এর মাধ্যমে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাধারণ বাণী—"প্রত্যেক নবপ্রথাই (بدعة) পথভ্রষ্টতা (ضلالة)"—এর ব্যাপকতাকে সংকুচিত করতে চায়। এটি নির্দেশ করে যে, তাদের এই ব্যাখ্যা অসার ও সুস্পষ্ট মিথ্যাচার এবং তা প্রত্যাখ্যানের দাবি রাখে। কারণ সেই আনসারি সাহাবী যা করেছিলেন, তা ছিল কেবল সেই নির্দিষ্ট ঘটনায় দান-সদকা শুরু করা; অথচ দান-সদকা তো পূর্ব থেকেই নস (نص) দ্বারা বিধিবদ্ধ ছিল। আপনারা কি মনে করেন এই সাহাবী কোনো উত্তম নবপ্রথা (بدعة حسنة) নিয়ে এসেছিলেন? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই একই ঘটনায় তাঁর অনুসরণ করেছিলেন। সুতরাং উত্তম সুন্নাহ (سنة حسنة) বলতে এমন কোনো বিধিবদ্ধ বিষয়কে পুনরুজ্জীবিত করা বোঝায়, যা সুন্নাহ বর্জনের কারণে মানুষের মাঝে প্রচলিত ছিল না। বর্তমান যুগে যদি কেউ কোনো পরিত্যক্ত সুন্নাহ (سنة مهجورة) পুনরুজ্জীবিত করে, তবে বলা হয়: তিনি একটি উত্তম সুন্নাহ (سنة حسنة) নিয়ে এসেছেন; তাকে ‘উত্তম নবপ্রথা (بدعة حسنة) নিয়ে এসেছেন’ বলা হয় না। অতএব, উত্তম সুন্নাহ (سنة حسنة) হলো এমন কাজ যার মূল ভিত্তি সহিহ (صحيহ) নস (نص) দ্বারা প্রমাণিত এবং মানুষ তা আমল করা ছেড়ে দিয়েছিল, অতঃপর কেউ এসে তা মানুষের মাঝে পুনরায় চালু করল। এর উদাহরণ হলো উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সেই কাজ, যখন তিনি জামাতের সাথে এগারো রাকাত তারাবিহর নামাজের সুন্নাহ পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমাদের শাম দেশে মানুষের ধারণা ছিল যে, দুই ঈদের নামাজ মসজিদে পড়াটাই সুন্নাহ, তাই তারা কেবল মসজিদেই তা আদায় করত। অতঃপর এই জনপদে এমন দাঈদের আবির্ভাব ঘটে যারা সুন্নাহর ঝাণ্ডা তুলে ধরেন এবং মানুষকে সচেতন করেন যে, সুন্নাহ হলো দুই ঈদের নামাজ ঈদগাহে পড়া। একইভাবে এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করত যে, তারাবিহর নামাজ বিশ রাকাত; অতঃপর তাদের সেই সহিহ (صحيح) সুন্নাহর প্রতি সচেতন করা হয় যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন করেছিলেন এবং সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম তাঁর অনুসরণ করেছিলেন। এ ধরনের দাঈদের সম্পর্কেই বলা হয় যে, তারা ইসলামে উত্তম সুন্নাহ (سنة حسنة) প্রবর্তন করেছেন।
আর সেইসব পরিত্যক্ত সুন্নাহসমূহের (سنن مهجورة) অন্তর্ভুক্ত—যা কার্যকর হওয়ার এবং মুসলিম সমাজে পুনরায় আলো ছড়ানোর অপেক্ষায় রয়েছে—হলো আল্লাহর শরিয়ত, যাকে তাগুতরা ক্ষমতার মসনদ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। তারা এর পরিবর্তে পাশ্চাত্যের দস্তরখানের উচ্ছিষ্ট এবং মুশরিকদের চিন্তাধারার আবর্জনা গ্রহণ করেছে এবং সেগুলোকে ব্যক্তি ও সমাজের প্রতিটি ছোট-বড় বিষয়ের ওপর কর্তৃত্বশীল করে তুলেছে। এমতাবস্থায় কোনো শাসক যদি মানবতাকে এই সংক্রামক পঙ্কিলতা থেকে রক্ষা করেন যাতে তারা নিমজ্জিত হয়েছে এবং এই নিকৃষ্ট বিধানগুলো থেকে মুক্তি দিয়ে...
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
شريعة الله آمرة ناهية في شؤون عباد الله، يقال سن في الإسلام سنة حسنة فإذا اقتدى به جماهير الحكام فإنه له أجرهم من غير أن ينقص من أجورهم شيء، فاهتبلوها فرصة يا حكام المسلمين، وكذلك فإن محمد علي باشا عندما استورد قوانين فرنسا وترجمها له رفاعة طهطاوي وطبقها على مصر ثم حذا الحكام حذوه فإنه سن في الإسلام سنة سيئة.
4 - قال تعالى: {ورهبانية ابتدعوها ما كتبناها عليهم إلا ابتغاء رضوان الله فما رعوها حق رعايتها فأتينا الذين آمنوا منهم أجرهم وكثير منهم فاسقون}(46).
وليس في هذه الآية دليل على استحسان البدع من كل الوجوه المحتملة، إذا كان قوله تعالى: {إلا ابتغاء رضوان الله} يرجع إلى قوله تعالى: {ابتدعوها} فمعناه أن الله لم يكتبها عليهم إلا أنهم ابتدعوها بقصد التقرب إلى الله وفي هذا ذم لها لأن الله لم يفرضها عليهم، ويزداد التقبيح أنهم مع اختراعهم لها لم يرعوها حق رعايتها وقصروا فيها ألزموا أنفسهم به وهذا ضرب من التقبيح والتشنيع المضاعف.
وإذا كان راجعا إلى قوله {ما كتبناها} فمعناه أنهم ألزموا انفسهم بابتداعها فكتبها الله عليهم أي أصبحت دينا مشروعا من لدن أحكم الحاكمين، وهذا ضرب من التقرير وقد حدث مثله في ديننا فكان الرسول يقر أصحابه على أقوال وأفعال يأتون بها لم تكن مشروعة من قبل وبتقريره لها تصبح شرعا يعبد الله به وأمثلة ذلك في السنة كثير، أما بعد موت الرسول صلى الله عليه وسلم فإن
--------------------------------------------
আল্লাহর শরিয়ত আল্লাহর বান্দাদের কার্যাবলিতে আদেশ ও নিষেধ প্রদানকারী। বলা হয়ে থাকে যে, ইসলামে কোনো উত্তম পদ্ধতি (سنة حسنة) প্রবর্তন করে এবং শাসকরা যদি তার অনুসরণ করে, তবে সে তাদের সমান সওয়াব পাবে এবং তাদের সওয়াব থেকে কিছুই কমানো হবে না। হে মুসলিম শাসকরা, এই সুযোগটি গ্রহণ করুন। একইভাবে, মুহাম্মদ আলী পাশা যখন ফ্রান্সের আইন আমদানি করেন এবং রিফায়া তাহতাউয়ি তা অনুবাদ করেন এবং মিশরে প্রয়োগ করেন, এরপর অন্যান্য শাসকরা তাকে অনুসরণ করেন, তখন তিনি ইসলামে একটি মন্দ পদ্ধতি (سنة سيئة) প্রবর্তন করেছেন।
৪ - মহান আল্লাহ বলেন: {আর তারা বৈরাগ্যবাদ (رهبانية) উদ্ভাবন (ابتدعوها) করেছিল, যা আমি তাদের ওপর ফরজ করিনি; কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তারা তা করেছিল। অতঃপর তারা তা যথাযথভাবে পালন করেনি। সুতরাং তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছিল আমি তাদের পুরস্কার দান করেছি এবং তাদের অধিকাংশই ছিল পাপাচারী (فاسقون)}(৪৬)।
এই আয়াতে সম্ভাব্য সকল দিক থেকে বিদআত বা নব উদ্ভাবনসমূহকে (بدع) ভালো মনে করার (استحسان) কোনো দলিল নেই। যদি মহান আল্লাহর বাণী: {কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে} তাঁর বাণী: {তারা তা উদ্ভাবন করেছিল}-এর সাথে সম্পর্কিত হয়, তবে এর অর্থ হলো আল্লাহ এটি তাদের ওপর ফরজ করেননি, বরং তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এটি উদ্ভাবন (ابتدعوها) করেছিল। এতে মূলত এর নিন্দা প্রকাশ পেয়েছে কারণ আল্লাহ এটি তাদের ওপর ফরজ করেননি। আরও নিন্দনীয় বিষয় হলো যে, তারা এটি উদ্ভাবন করার পর তা যথাযথভাবে পালন করেনি এবং যে কাজের দায়ভার তারা নিজেদের ওপর নিয়েছিল তাতে তারা অবহেলা করেছে। এটি এক প্রকার দ্বিগুণ নিন্দা ও তিরস্কার।
আর যদি এটি {আমি তাদের ওপর তা লিখিনি/ফরজ করিনি} বাণীর সাথে সম্পর্কিত হয়, তবে এর অর্থ হলো তারা এটি উদ্ভাবন করে নিজেদের ওপর আবশ্যক করে নিয়েছিল, ফলে আল্লাহ তা তাদের ওপর ফরজ করে দেন, অর্থাৎ তা আহকামুল হাকিমিনের পক্ষ থেকে একটি বিধিবদ্ধ (مشروع) দ্বীন হিসেবে পরিগণিত হয়। এটি এক প্রকারের সমর্থন (تقرير)। আমাদের ধর্মেও এর অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের এমন কিছু কথা ও কাজের ওপর সমর্থন (يقر) প্রদান করতেন যা আগে বিধিবদ্ধ (مشروعة) ছিল না। তাঁর সমর্থনের (بتقريره) মাধ্যমে তা শরিয়ত (شرعا) হিসেবে গণ্য হতো যার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা হয় এবং সুন্নাহর মধ্যে এর উদাহরণ অনেক। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الشرع لم يعد بحاجة إلى زيادة لأن الله أتمه وأكمله، ولم يترك الرسول شيئا مما يقربنا من الجنة إلا وقد أمرنا به، ولم يدع أمرا يقربنا من النار إلا وقد نهانا عنه صلى الله عليه وسلم.
وجملة القول أن هذه الآية من شرع ما قبلنا، والراجح في علم الأصول أنه ليس شرعا لنا لأدلة كثيرة منها قوله صلى الله عليه وسلم: «أعطيت خمسا لم يعطهن أحد من الأنبياء قبلي .. (فذكرها وآخرها) وكان النبي يبعث إلى قومه خاصة، وبعثت إلى الناس عامة»
(47).
وهذا دليل على أن شرائع الأنبياء السابقين خاصة بأقوامهم، لذلك فالإسلام بعقائده وعباداته وأحكامه وشرائعه شرع تام غير محتاج إلى غيره بل جعله الله مهيمنا ناسخا لغيره من الرسالات السابقة بحيث يجب على المسلم أن لا يرجع إلا إليه، فهو الشريعة التي حفظ الله أصولها وفروعها، وارتضاها لعباده من كل بني آدم إلى أن يرث الأرض ومن عليها، وكيف يكون ما عليه المغضوب عليهم والضالون شرعا لنا وهو باطل وضلال وشرك وكفر وفساد وغير صالح إلا ما جاء في القرآن والسنة الصحيحة؟!
ثم إن من معاني هذه القاعدة أن شرعنا محتاج إلى تكميل بما عند أهل الكتاب ما لم يأت فيه ما يخالفه، كيف يستقيم أمر هذه القاعدة والنصوص صريحة الأمر في مخالفة أهل الكتاب في كل صغيرة وكبيرة؟! والمتدبر لكتاب الله وسنة نبيه الصحيحة وهدى السلف الصالح يجد في كل ذلك ما يقيم سدا منيعا بين المسلمين وأهل الكتاب، ويدفع المسلم أن يفر سراعا مبعدا عن هؤلاء.
--------------------------------------------
শরিয়তের আর কোনো বৃদ্ধির প্রয়োজন নেই, কারণ আল্লাহ একে পূর্ণতা দান করেছেন এবং পরিপূর্ণ করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জান্নাতের নিকটবর্তী করে এমন কোনো বিষয়ই বাদ দেননি যার আদেশ তিনি আমাদের দেননি এবং জাহান্নামের নিকটবর্তী করে এমন কোনো বিষয় তিনি ত্যাগ করেননি যা থেকে তিনি আমাদের নিষেধ করেননি।
মোদ্দাকথা হলো, এই আয়াতটি আমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত। উসুল (الأصول) শাস্ত্রের প্রাধান্যপ্রাপ্ত (الراجح) মত হলো, এটি আমাদের জন্য শরিয়ত হিসেবে গণ্য নয়। এর পেছনে অনেক প্রমাণ রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে যা আমার পূর্বে কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি... (অতঃপর তিনি সেগুলো উল্লেখ করেন এবং সবশেষে বলেন) নবীগণ বিশেষভাবে তাঁদের নিজ নিজ কওমের নিকট প্রেরিত হতেন, আর আমি সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত হয়েছি।"
(47).
এটি একটি প্রমাণ যে পূর্ববর্তী নবীদের শরিয়তগুলো তাঁদের নিজ নিজ জাতির জন্য সুনির্দিষ্ট ছিল। অতএব, ইসলাম তার আকিদা, ইবাদত, বিধিবিধান ও শরিয়তসহ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শরিয়ত, যা অন্য কিছুর মুখাপেক্ষী নয়। বরং আল্লাহ একে পূর্ববর্তী সকল রিসালাতের ওপর তদারককারী এবং রহিতকারী (ناسخ) করেছেন, যাতে একজন মুসলিমের জন্য একমাত্র এর দিকেই ফিরে আসা ওয়াজিব হয়। এটিই সেই শরিয়ত যার মূলনীতি (أصول) এবং শাখা-প্রশাখা (فروع) আল্লাহ নিজেই সংরক্ষণ করেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত বনী আদমের মধ্য থেকে তাঁর বান্দাদের জন্য এটিকেই মনোনীত করেছেন। যাদের ওপর আল্লাহর গজব নাজিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট, তাদের পথ কীভাবে আমাদের জন্য শরিয়ত হতে পারে, যখন কি না তা বাতিল, ভ্রষ্টতা, শিরক, কুফর এবং ফাসাদ হিসেবে গণ্য? কুরআন এবং সহিহ (صحيحة) সুন্নাহতে যা এসেছে তা ব্যতীত অন্য কোনো কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়।
তদুপরি, এই নীতিমালা (قاعدة)-এর একটি অর্থ দাঁড়ায় যে আমাদের শরিয়ত আহলে কিতাবদের কাছে যা আছে তার মাধ্যমে পূর্ণতা লাভের মুখাপেক্ষী, যতক্ষণ না তাতে কোনো বিরোধপূর্ণ বিষয় পরিলক্ষিত হয়। এই নীতিমালার (قاعدة) দাবি কীভাবে সঠিক হতে পারে যখন ছোট-বড় প্রতিটি বিষয়ে আহলে কিতাবদের বিরোধিতা করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট টেক্সট বা বর্ণনা (نصوص) বিদ্যমান রয়েছে? যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব, তাঁর নবীর সহিহ (صحيحة) সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের (السلف الصالح) হেদায়েত নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবেন, তিনি এই সবকিছুর মধ্যেই মুসলিম এবং আহলে কিতাবদের মাঝে একটি সুউচ্চ প্রাচীর খুঁজে পাবেন, যা একজন মুসলিমকে তাদের থেকে দ্রুত দূরত্ব বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
لقد أصل الشارع الحكيم بذلك أصلا خطيرا، وهو تعمد مخالفة أهل الكتاب والأمم الأخرى، حتى تتحقق ميزة الأمة بالمنهج والأفعال المستقلة، وحتى لا تختلط أفعال الأمة وعباداتها بأفعال الأمم الأخرى، وقد وضح شيخ الإسلام هذا الأصل توضيحا لم أر مثله في كتابه القيم «اقتضاء الصراط المستقيم مخالفة أصحاب الجحيم» ص (11 - 31)، وبين فساد هذه القاعدة: «شرع ما قبلنا شرع لنا» وأيده الشاطبي في الاعتصام (1/ 332) حيث قال: «فيبقى ما كان شرعا لغيرنا منفيا عن شرعنا كما تقرر في علم الأصول»
قلت هذا كلام الإمام الشاطبي، رحمهما الله، وهو يلتقي مع كلام شيخ الإسلام، ومن الغرائب أن هذا مشرقي وذاك مغربي، جمع بينهما على بعد الدار، المنهج العلمي الصحيح، والحرص على تصفية الإسلام من كل شائبة علقت بمنهله الصافي في عصور الفساد والانحطاط.
ومن شاء المزيد فعليه بالمطولات من كتب الأصول وخاصة التي لم يقلد أصحابها كالإحكام في أصول الأحكام لابن حزم رحمه الله (5/ 160 - 187).
وهب صواب قول من قال: «شريعة من قبلنا شريعة لنا
… » فذلك مشروط بشرطين:
أحدهما: أن يثبت أن ذلك شرع ارتضاه الله لهم بنقل موثوق.
الثاني: أن لا يكون في شرعنا بيان خاص لذلك.
প্রজ্ঞাবান শরীয়ত প্রণেতা এর মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি (أصل) প্রতিষ্ঠা করেছেন; আর তা হলো আহলে কিতাব ও অন্যান্য উম্মতদের সচেতনভাবে বিরোধিতা করা, যাতে স্বতন্ত্র মানহাজ (منهج) ও কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে উম্মাহর বিশেষ বৈশিষ্ট্য সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং যাতে উম্মাহর কার্যাবলি ও ইবাদতসমূহ অন্য জাতিগোষ্ঠীর কাজের সাথে মিশে না যায়। শাইখুল ইসলাম তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ ‘ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম মুখালাফাতু আসহাবিল জাহিম’-এর ১১-৩১ পৃষ্ঠায় এই মূলনীতিটি এমন স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যার দৃষ্টান্ত আমি দেখিনি। তিনি ‘পূর্ববর্তীদের শরীয়ত আমাদের জন্যও শরীয়ত’—এই নিয়মের (قاعدة) অসারতা বর্ণনা করেছেন এবং আল-শাতিবি ‘আল-ইতিসাম’ গ্রন্থে (১/৩৩২) একে সমর্থন করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: ‘সুবিবেচিত মূলনীতি বিজ্ঞানের (علم الأصول) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অন্যের জন্য যা শরীয়ত ছিল তা আমাদের শরীয়ত থেকে নাকচ হয়ে যায়।’
আমি বলছি, এটি ইমাম শাতিবির বক্তব্য—আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন—এবং তাঁর এই কথা শাইখুল ইসলামের বক্তব্যের সাথে মিলে যায়। বিস্ময়কর বিষয় হলো, একজন প্রাচ্যদেশীয় আর অন্যজন পাশ্চাত্যদেশীয় হওয়া সত্ত্বেও আবাসের দূরত্ব ঘুচিয়ে দিয়ে তাঁদের দুজনকে ঐক্যবদ্ধ করেছে সঠিক ইলমি মানহাজ (المنهج العلمي) এবং ফিতনা ও অবক্ষয়ের যুগে ইসলামের স্বচ্ছ ঝর্ণাধারা থেকে এর গায়ে লেগে থাকা যাবতীয় পঙ্কিলতা দূর করে একে পরিশুদ্ধ করার ঐকান্তিক আগ্রহ।
যারা এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চান, তারা যেন উসুল (أصول) শাস্ত্রের বিশদ গ্রন্থগুলোর সাহায্য নেন, বিশেষ করে যাদের লেখকগণ অন্ধ অনুকরণ করেননি, যেমন ইবনে হাজম (রহ.)-এর ‘আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম’ (৫/ ১৬০-১৮৭)।
যদি তর্কের খাতিরে যারা বলেন ‘আমাদের পূর্ববর্তীদের শরীয়ত আমাদের জন্যও শরীয়ত
… ’ তাদের কথা সঠিক বলেও ধরে নেওয়া হয়, তবুও তা দুটি শর্তের (شرط) ওপর নির্ভরশীল:
প্রথমটি: নির্ভরযোগ্য (موثوق) বর্ণনার মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হতে হবে যে, আল্লাহ তাআলা সেই বিধানটি তাদের জন্য পছন্দ করেছিলেন।
দ্বিতীয়টি: আমাদের শরীয়তের মধ্যে উক্ত বিষয়ে কোনো বিশেষ বর্ণনা (بيان) থাকতে পারবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وعليه فالآية لا حجة فيها لمحسني البدع، لأن الإسلام بين أن كل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
5 - العرفالمخصص هو الأدلة من كتاب أو سنة أو إجماع نصا واستنباطا، وأما عادة بعض البلاد أو أكثرها، وقول كثير من العلماء أو العباد، أو أكثرهم ونحو ذلك فليس مما يصلح أن يكون معارضا لكلام الرسول صلى الله عليه وسلم.
ومن اعتقد أن أكثر هذه العادات المخالفة مجمع عليها بناء على أن الأمة أقرتها ولم تنكرها كسنة الجمعة القبلية
(48) والموالد
(49) والتمذهب
(50) فهو مخطئ في هذا الاعتقاد، فإنه لم يزل ولا يزال في كل وقت من ينكرها، وإذا كان أكثر العلماء لم يعتمدوا على عمل أهل المدينة وإجماعهم في عصر مالك، بل رأوا السنة حجة عليهم كما هي حجة على غيرهم، مع ما أوتوه من الإيمان والعلم، فكيف يعتمد على عادات العامة وعرفهم الفاسد أو من قيدته العامة، أو قوم مترئسون بالجهالة لم يرسخوا في العلم، ولا يعدون من أولي الأمر، ولعلهم لم يتم إيمانهم بالله ورسوله. والله در القائل:
الحر من خرق العادات منتهجا
… نهج الصواب ولو ضد الجماعات
ومن إذا خذل الناس الحقيقة عن
… جهل أقام لها في الناس رايات
ولم يخف في اتباع الحق لائمة
… ولو أتته بحد المشرفيات
--------------------------------------------
وعليه فالآية لا حجة فيها لمحسني البدع، لأن الإسلام بين أن كل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار。
৫ - প্রথা (العرف)সুনির্দিষ্টকারী (المخصص) হলো কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ (سنة) অথবা ঐকমত্যের (إجماع) অকাট্য বর্ণনা ও গবেষণা-লব্ধ দলিল (حجة)। আর কোনো কোনো অঞ্চলের বা অধিকাংশ অঞ্চলের প্রচলিত অভ্যাস, এবং অনেক আলেম বা ইবাদতগুজার ব্যক্তিদের কথা অথবা তাদের অধিকাংশের অভিমত ও অনুরূপ বিষয়সমূহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর মোকাবিলায় দলিল (حجة) হওয়ার যোগ্য নয়।
আর যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, এই শরীয়ত বিরোধী অধিকাংশ অভ্যাসগুলোর ওপর ঐকমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এই যুক্তিতে যে উম্মাহ এগুলোকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং প্রতিবাদ করেনি—যেমন জুমার পূর্ববর্তী সুন্নত
(৪৮), মিলাদ মাহফিল
(৪৯) এবং মাযহাব অনুসরণ
(৫০); সে তার এই বিশ্বাসে ভুল পথে রয়েছে। কারণ প্রতিটি যুগে এমন একদল লোক ছিলেন এবং থাকবেন যারা এসবের প্রতিবাদ করেছেন। আর যখন অধিকাংশ আলেম ইমাম মালিকের যুগে মদীনার অধিবাসীদের আমল (عمل أهل المدينة) ও তাদের ঐকমত্যের (إجماع) ওপর নির্ভর করেননি, বরং তাঁরা সুন্নাহকে (سنة) তাদের বিরুদ্ধে দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য করেছেন—যেমনটি তা অন্যদের ক্ষেত্রে দলিল—তাদের ঈমান ও ইলমের উচ্চ মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও; তবে সাধারণ মানুষের অভ্যাস ও তাদের কলুষিত প্রথা (العرف) অথবা সাধারণ মানুষের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া কিংবা মূর্খতার মাধ্যমে নেতৃত্ব দানকারী এমন সম্প্রদায় যারা ইলমের গভীরে প্রবেশ করেনি এবং যাদেরকে উলুল আমর (কর্তৃত্বশীল) হিসেবে গণ্য করা হয় না, তাদের ওপর কীভাবে নির্ভর করা যেতে পারে? সম্ভবত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি তাদের ঈমানও পূর্ণাঙ্গ নয়। আল্লাহ সেই কবির প্রতি রহম করুন যিনি বলেছেন:
সেই ব্যক্তিই স্বাধীন যে সত্য পথ অনুসরণের মাধ্যমে প্রচলিত প্রথাকে ভেঙে দেয়, যদিও তা দলমতের (الجماعات) বিরুদ্ধে যায়।
আর যখন মানুষ অজ্ঞতাবশত সত্যকে পরিত্যাগ করে, তখন সে মানুষের মধ্যে সত্যের ঝাণ্ডা সমুন্নত রাখে।
এবং সত্য অনুসরণের ক্ষেত্রে সে কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করে না, যদিও তা তার গর্দানে তলোয়ারের ধারালো আঘাত নিয়ে আসে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বিদআতু ওয়া আসারুহা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
واعلم أخي بارك الله فيك أن الحق لا يعرف بكثرة الأصابع المرفوعة أو الضجيج الإعلامي بل إن على الحق نورا يتلألأ ولو كان في الحياة وحيدا منفردا، ولقد جاءت كلمات السلف الصالح تترى تؤيد هذا المعنى.
قال عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: «الجماعة ما وافق الحق وإن كنت وحدك»
(51). قال القاضي عياض رحمه الله: «عليك بطريق الحق، ولا تستوحش لقلة السالكين، وإياك وطريق الباطل، ولا تغتر بكثرة الهالكين»
(52). وهذه الأقوال مأخوذة من وصف الرسول صلى الله عليه وسلم للثلة المؤمنة التي تعض على سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالنواجذ عندما يفسد السواد الأعظم، فتتمسك هذه القلة بالصراط المستقيم ولا تكترث بمخالفة الناكبين عنه له، فإنهم هم الأقلون قدرا، وإن كانوا الأكثرين عددا.
قال صلى الله عليه وسلم: «إن الإسلام بدأ غريبا، وسيعود غريبا كما بدأ، فطوبى للغرباء. قيل: من هم يا رسول الله؟ قال: الذين يصلحون إذا فسد الناس»
(53).
وهؤلاء الغرباء الذين يصلحون إذا فسد الناس قليلون لتمسكهم بالسنن ومحاربتهم للبدع.
قال صلى الله عليه وسلم: «طوبى للغرباء، أناس صالحون في أناس سوء كثير، من يعصيهم أكثر ممن يطيعهم»
(54).
--------------------------------------------
হে আমার ভাই—আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন—জেনে রাখুন যে, সত্যকে উত্তোলিত আঙ্গুলের আধিক্য বা প্রচারমাধ্যমের কোলাহল দ্বারা চেনা যায় না; বরং সত্যের ওপর এমন এক জ্যোতি থাকে যা ঝিকমিক করে, যদিও তা পার্থিব জীবনে একাকী ও নিঃসঙ্গ হয়। সালাফে সালেহীনদের বাণীসমূহও ধারাবাহিকভাবে এই অর্থকেই সমর্থন করে এসেছে।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: «জামাআত হলো তা-ই যা সত্যের অনুকূল হয়, যদিও আপনি একাকী হন»
(৫১)। কাযী আইয়ায (রহ.) বলেন: «আপনার জন্য সত্যের পথ অবলম্বন করা আবশ্যক, পথিকের স্বল্পতার কারণে একাকীত্ব বোধ করবেন না; আর সাবধান! বাতিলের পথ পরিহার করুন এবং ধ্বংসপ্রাপ্তদের আধিক্য দেখে প্রতারিত হবেন না»
(৫২)। আর এই বাণীসমূহ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সেই মুমিন দলের বর্ণনার নির্যাস থেকে গৃহীত হয়েছে, যারা বিশাল জনসমষ্টির পথভ্রষ্টতার সময় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহকে মাড়ির দাঁত দিয়ে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরে থাকেন। ফলে এই স্বল্পসংখ্যক লোক সিরাতুল মুস্তাকিমের ওপর অবিচল থাকেন এবং এ থেকে বিচ্যুতদের বিরোধিতার পরোয়া করেন না; প্রকৃতপক্ষে তারাই মর্যাদার দিক থেকে শ্রেষ্ঠ অল্পসংখ্যক, যদিও তারা সংখ্যার দিক থেকে অত্যধিক।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «নিশ্চয়ই ইসলাম অপরিচিত অবস্থায় শুরু হয়েছে এবং অচিরেই তা যেভাবে শুরু হয়েছিল তেমনি অপরিচিত অবস্থায় ফিরে যাবে। সুতরাং অপরিচিতদের (غرباء) জন্য সুসংবাদ। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: যারা মানুষের পথভ্রষ্টতার সময় সংস্কার সাধন করে»
(৫৩)।
আর এই অপরিচিত (غرباء) ব্যক্তিরা—যারা মানুষের পথভ্রষ্টতার সময় সংস্কার করেন—তারা সংখ্যায় খুবই নগণ্য; কেননা তারা সুন্নাহসমূহকে আঁকড়ে ধরেন এবং বিদআতের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «অপরিচিতদের (غرباء) জন্য সুসংবাদ; তারা অনেক মন্দ লোকের মাঝে একদল সৎ ব্যক্তি, যারা তাদের অবাধ্যতা করবে তারা তাদের অনুগতদের তুলনায় সংখ্যায় অনেক বেশি»
(৫৪)।
--------------------------------------------