(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: -)
تقريب الأسانيد وترتيب المسانيد القسم: كتب السنة
الكتاب: تقريب الأسانيد وترتيب المسانيد
المؤلف: زين الدين أبو الفضل عبد الرحيم بن الحسين العراقي (725 - 806 هـ)
حققه وعلق عليه: محمد بركات
(يطبع محققا عن نسختين خطيتين)
الناشر: دار اللباب للدراسات وتحقيق التراث، إسطنبول - تركيا
الطبعة: الأولى، 1438 هـ - 2017 م
عدد الصفحات: 298
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 ذو الحجة 1446
তাকরীবুল আসানিদ ওয়া তারতীবুল মাসানিদ বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: তাকরীবুল আসানিদ ওয়া তারতীবুল মাসানিদ
লেখক: যয়নুদ্দীন আবুল ফজল আবদুর রাহিম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকি (৭২৫ - ৮০৬ হিজরি)
তাহকীক ও টীকা প্রদান: মুহাম্মদ বারাকাত
(দুটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সম্পাদিত হয়ে মুদ্রিত)
প্রকাশক: দার আল-লুবাব লিদ-দিরাসাত ওয়া তাহকীকিত তুরাস, ইস্তাম্বুল - তুরস্ক
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৮ হিজরি - ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯৮
[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ যিলহজ ১৪৪৬
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة التحقيقالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد خاتم النبيين، وعلى آله وصحبه أجمعين.
وبعد: فقد احتلت السنة النبوية المرتبة الثانية بعد القرآن الكريم في التعبد بأحكامها وحفظ حدودها، قال الله تعالى: {وما آتاكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا} [الحشر: 7]، واشتغل الناس بحفظها وروايتها وفهمها ودرايتها، وكثرت التصانيف فيها، باختلاف مقاصد الناس وحاجاتهم، وتعددت أنواعها، وعرف منها كتب أحاديث الأحكام التي أفرد فيها العلماء أحاديث الأحكام الفقهية، مرتبة على أبواب الفقه، محذوفة الأسانيد، مخرجة منسوبة إلى مصادرها الأصلية.
وكتاب «تقريب الأسانيد وترتيب المسانيد» للحافظ زين الدين العراقي، واحد من تلك الكتب التي جمع فيه أحاديث الأحكام، في طريقة مبتكرة جديدة، هي متصلة الأسانيد، صحيحة في أعلى درجات الصحة، ومرتبة على أبواب الفقه، ومع ذلك مختصر في غاية الاختصار، سهل الحفظ والمذاكرة لطالب العلم، يغنيه عن حمل الأسفار في الأسفار.
ويعد هذا الكتاب خدمة قام بها الحافظ في باب تقريب السنة وتسهيلها لطالب العلم الذي اقتصر على سماع المرويات وفاته حفظ الحديث بالأسانيد
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
গবেষণা-সম্পাদনার ভূমিকাসকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা নবীগণের সমাপ্তি মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর।
অতঃপর: সুন্নাহ নববীর বিধানাবলি পালন এবং এর সীমানা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআনের পর এটি দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে আছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [আল-হাশর: ৭]। মানুষ এটি মুখস্থকরণ, বর্ণনা এবং এর সম্যক উপলব্ধি ও গবেষণায় ব্যাপৃত রয়েছে এবং মানুষের উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনের ভিন্নতা অনুযায়ী এতে প্রচুর গ্রন্থ রচিত হয়েছে। এর প্রকারভেদ বহুবিধ, এবং এর মধ্যে ‘আহকামুল হাদিস’ (বিধান সম্পর্কিত হাদিস) গ্রন্থসমূহ সুপরিচিত, যেখানে আলিমগণ ফিকহী বিধান সম্পর্কিত হাদিসগুলোকে পৃথকভাবে সংকলন করেছেন। এগুলো ফিকহের অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত, সনদসমূহ বিলুপ্ত এবং হাদিসগুলোকে তাদের মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।
হাফেজ জয়নুদ্দীন আল-ইরাকীর ‘তাক্বরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ’ গ্রন্থটি সেই সকল বইয়ের অন্যতম যাতে তিনি বিধান সম্পর্কিত হাদিসগুলোকে একটি নতুন ও উদ্ভাবনী পদ্ধতিতে সংকলন করেছেন। এর সনদসমূহ নিরবচ্ছিন্ন এবং তা বিশুদ্ধতার সর্বোচ্চ স্তরে উত্তীর্ণ, পাশাপাশি ফিকহের অধ্যায় অনুসারে সাজানো। তা সত্ত্বেও এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, যা একজন ইলম অন্বেষীর জন্য মুখস্থ করা ও মুজাকারা (চর্চা) করা সহজ এবং তাকে সফরের সময় বড় বড় কিতাব বহন করার কষ্ট থেকে মুক্তি দেয়।
এই গ্রন্থটি সুন্নাহকে সহজবোধ্য করার এবং ইলম অন্বেষীর জন্য তা সহজ করার ক্ষেত্রে হাফেজের পক্ষ থেকে সম্পাদিত একটি সেবা হিসেবে গণ্য হয়, বিশেষ করে সেই শিক্ষার্থীর জন্য যে কেবল বর্ণনা শোনার ওপর সীমাবদ্ধ ছিল কিন্তু সনদসহ হাদিস মুখস্থ করার সুযোগ হারিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ٦)
المتصلة، جمعه لابنه أبي زرعة ولي الدين أحمد، وأسمعه إياه، وحفظه، واقتدى الناس به، فأخذوا بالاشتغال به سماعا وحفظا وفهما.
وجدير بطلبة العلم في يومنا هذا الاقتداء بمن سلف، فيأخذون الحديث كأخذهم، ويشتغلون اشتغالهم، إذ ليس بعد التسهيل والتيسير عذر.
والكتاب على أهميته وكثرة فوائده ومنافعه، غاب عن كثير من المتعلمين والمعلمين، وخاصة المختصين في علم الحديث النبوي، مع أنه عظيم الفائدة فيه صنعة حديثية مبتكرة في ترتيب الأسانيد مع المتون في اختصار، وكذلك للمشتغلين في الفقه، فكم يقرب الأسانيد مع المتون، ويدل على اختلاف الألفاظ مع صحة الإسناد.
واليوم يحمد الله ننشر هذا الكتاب بحلته الجديدة، بعد أن سهل الله لنا أصولا خطية جيدة ونفيسة في غاية النفاسة، الأول منها تاريخه متقدم، قبل وفاة المصنف (776 هـ)، سمع على مصنفه الحافظ زين الدين العراقي، وبقراءة ابنه أبي زرعة ولي الدين، وبحضور جماعة من الأفاضل، منهم الحافظ نور الدين الهيثمي، وفي آخره خط المؤلف يبين هذا السماع. وفي سنة (881 هـ) قوبل على نسختين أخريين: الأولى بخط الحافظ البوصيري تلميذ المصنف، والأخرى عليها خطه، وقرئ أيضا، وفي أثناء القراءة كان يرجع إلى نسخة الحافظ ابن حجر العسقلاني.
وأما الثاني منها فهو أصل جيد قوبل وقرئ على ولد المصنف أبي زرعة أحمد ابن العراقي وعليه خطه.
সংযুক্ত, যা তিনি তার পুত্র আবু জুরআ ওয়ালিউদ্দীন আহমদের জন্য সংগ্রহ করেছেন এবং তাকে তা শ্রবণ করিয়েছেন, আর তিনি তা মুখস্থ করেছেন। মানুষ তাকে অনুসরণ করেছে এবং তারা শ্রবণ, মুখস্থ ও বুঝার মাধ্যমে এটি চর্চায় আত্মনিয়োগ করেছে।
বর্তমান সময়ের জ্ঞানপিপাসুদের জন্য পূর্বসূরীদের অনুসরণ করা সমীচীন, যাতে তারা তাদের মতোই হাদিস গ্রহণ করে এবং তাদের মতোই গবেষণায় লিপ্ত হয়; কেননা বিষয়বস্তু সহজ ও সুগম করার পর আর কোনো অজুহাত অবশিষ্ট থাকে না।
বইটির গুরুত্ব এবং প্রচুর উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও এটি অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের দৃষ্টির অগোচরে রয়ে গেছে, বিশেষ করে যারা ইলমে হাদিসে বিশেষজ্ঞ তাদের কাছেও। অথচ এটি অত্যন্ত ফায়দাজনক, এতে সংক্ষেপে মূলপাঠের সাথে সনদ বিন্যাসের ক্ষেত্রে এক উদ্ভাবনী হাদিসতাত্ত্বিক শৈলী রয়েছে। তেমনিভাবে ফিকহ শাস্ত্রবিদদের জন্যও এটি সমান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি মূলপাঠের সাথে সনদকে অত্যন্ত নিকটবর্তী করে এবং সনদের বিশুদ্ধতা অক্ষুণ্ণ রেখে শব্দের ভিন্নতার প্রতি নির্দেশ করে।
আজ আল্লাহর শুকরিয়া যে আমরা এই বইটি নতুন আঙ্গিকে প্রকাশ করছি, আল্লাহ আমাদের জন্য কিছু উৎকৃষ্ট ও অত্যন্ত মূল্যবান পাণ্ডুলিপি সহজলভ্য করার পর। তার মধ্যে প্রথমটির ইতিহাস প্রাচীন, যা লেখকের মৃত্যুর (৭৭৬ হিজরি) পূর্বের। এটি এর লেখক হাফেজ যয়নুদ্দীন ইরাকির নিকট শ্রবণ করা হয়েছে, তাঁর পুত্র আবু জুরআ ওয়ালিউদ্দীনের পাঠের মাধ্যমে এবং একদল গুণী ব্যক্তির উপস্থিতিতে, যাঁদের মধ্যে হাফেজ নূরুদ্দীন হাইসামি অন্যতম। এর শেষে লেখকের স্বহস্তে লিখিত বর্ণনা রয়েছে যা এই শ্রবণের প্রমাণ দেয়। এবং ৮৮১ হিজরিতে এটি আরও দুটি পাণ্ডুলিপির সাথে যাচাই করা হয়েছে: প্রথমটি লেখকের ছাত্র হাফেজ বুসায়রির হস্তলিখিত এবং অপরটিতেও তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে এবং সেটিও পাঠ করা হয়েছে। পাঠ চলাকালীন হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানির পাণ্ডুলিপির সহায়তা নেয়া হয়েছে।
আর দ্বিতীয়টি হলো একটি উন্নত মূল পাণ্ডুলিপি যা লেখকের পুত্র আবু জুরআ আহমদ ইবনুল ইরাকির কাছে পাঠ ও যাচাই করা হয়েছে এবং এতে তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ٧)
ولذلك كان حقا علينا إعادة نشره وخدمته خدمة تليق به وتخلصه من الأوهام التي وقعت في الطبعات السابقة.
وأخيرا لا أنسى أن أشكر دار اللباب، التي ساهمت في إخراج هذا الكتاب، وتأمين أصوله الخطية، وأخص بالشكر الأستاذ محمد خلوف العبد الله، حيث أعان على نشر هذا الكتاب.
ربنا تقبل منا إنك أنت السميع العليم، واغفر لنا ما وقع من خلل أو سهو أو تقصير، وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
محمد بركات
اسطنبول
5/ 12/ 2016 م
* * *
তাই একে পুনরায় প্রকাশ করা এবং এর এমন উচ্চমানের খিদমত আঞ্জাম দেওয়া আমাদের জন্য আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছিল যা এর উপযুক্ত হয় এবং একে পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোতে সংঘটিত ভুলভ্রান্তি থেকে মুক্ত করে।
পরিশেষে, আমি 'দারুল লুবাব'-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলছি না, যারা এই কিতাবটি প্রকাশে এবং এর মূল পাণ্ডুলিপিগুলো নিশ্চিত করতে অবদান রেখেছে। বিশেষভাবে আমি উস্তাদ মুহাম্মদ খালুফ আল-আবদুল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, কারণ তিনি এই কিতাবটি প্রকাশে সহায়তা করেছেন।
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। আমাদের থেকে ঘটে যাওয়া কোনো বিচ্যুতি, ভুল বা ত্রুটি ক্ষমা করে দিন। আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
মুহাম্মদ বারাকাত
ইস্তাম্বুল
৫/ ১২/ ২০১৬ খ্রি.
* * *
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ٩)
ترجمة المصنف الحافظ العراقي (725 - 806 هـ)في عهد دولة المماليك، وفي أزهى مراحلها، في مصر التي تنعم بالأمن والأمان مع أختيها الشام والحجاز، وتزدهر فيها العلوم وتزخر، عاش الحافظ العراقي، الذي ترك أبوه العراق إذ كانت تعاني من ويلات الحرب والفتن، وانعدام الأمان، وارتحل إلى مصر، وفيها ولد له الحافظ العراقي ونهل من علومها، حتى غدا محدث مصر وحافظها وأستاذها ومعلمها.
*
اسمه ونسبه:والحافظ: هو عبد الرحيم بن الحسين بن عبد الرحمن بن أبي بكر بن إبراهيم، زين الدين، أبو الفضل الكردي الأصل، الرازناني، المهراني، المصري، الشافعي، المعروف ب «العراقي».
والعراقي: نسبة إلى العراق عراق العرب، وهو القطر الأعم.
والكردي: نسبة إلى أصله.
والرازناني: نسبة إلى بلدة «رازان» من أعمال أربيل شمال العراق موطن الأكراد. والمهراني: نسبة إلى منشية المهراني على شاطئ النيل قريبا من القاهرة، وهو المكان الذي تحول إليه والد العراقي لما دخل مصر.
গ্রন্থকার হাফেজ ইরাকী (৭২৫ - ৮০৬ হিজরি)-এর জীবনীমামলুক সালতানাতের যুগে, যখন তা উন্নতির চরম শিখরে ছিল, মিশর যখন তার দুই সহোদরা সিরিয়া ও হিজাজের সাথে নিরাপত্তা ও শান্তিতে নিমগ্ন ছিল এবং সেখানে জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রস্ফুটিত ও সমৃদ্ধ হচ্ছিল, তখন হাফেজ ইরাকী সেখানে অতিবাহিত করেন। তাঁর পিতা ইরাক ত্যাগ করেছিলেন কারণ তখন তা যুদ্ধ-বিগ্রহ, ফিতনা এবং নিরাপত্তার চরম অভাবে ভুগছিল। তিনি মিশরে হিজরত করেন এবং সেখানেই হাফেজ ইরাকী জন্মগ্রহণ করেন ও সেখানকার জ্ঞানসমুদ্র থেকে জ্ঞান আহরণ করেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত তিনি মিশরের মুহাদ্দিস, হাফেজ, উস্তাদ ও শিক্ষকরূপে খ্যাতি লাভ করেন।
*
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:হাফেজ (ইরাকী) হলেন: আব্দুর রাহীম বিন হুসাইন বিন আব্দুর রহমান বিন আবি বকর বিন ইবরাহীম, যাইনুদ্দীন, আবুল ফজল, যিনি মূলত কুর্দি বংশোদ্ভূত, রাযনানি, মেহরানি, মিশরীয়, শাফেয়ী এবং 'ইরাকী' নামে সুপরিচিত।
'ইরাকী' শব্দটি ইরাকের (ইরাকে আরব) সাথে সম্পর্কিত, যা একটি সুপরিচিত অঞ্চল।
'কুর্দি' শব্দটি তাঁর মূল বংশের সাথে সম্পর্কিত।
'রাযনানি' শব্দটি উত্তর ইরাকের কুর্দিদের আবাসস্থল আরবেলের অধীনস্থ 'রাযান' নামক শহরের সাথে সম্পর্কিত। আর 'মেহরানি' শব্দটি কায়রোর নিকটবর্তী নীল নদের তীরে অবস্থিত 'মানশিয়াতুল মেহরানি'র সাথে সম্পর্কিত, এটি সেই স্থান যেখানে হাফেজ ইরাকীর পিতা মিশরে আসার পর বসতি স্থাপন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
*
ولادته: وفي منشية المهراني على شاطئ النيل الموطن الجديد، التقى والد العراقي الشيخ تقي الدين محمد بن جعفر بن محمد بن عبد الرحيم القناوي، ولا زمه، وتزوج هناك، ورزقه الله مولودا، بشره به شيخه تقي الدين، وسماه: عبد الرحيم، على اسم جد الشيخ تقي الدين، وذلك في جمادى الأولى سنة (725 هـ)، ولقي هذا المولود حفاوة وعناية منه.
*
نشأته العلمية، ورحلاته:حفظ العراقي القرآن الكريم، وله من العمر ثمان سنين، وسمع الحديث صغيرا، ففي سنة (737) أسمعه أبوه من الأمير سنجر الجاولي، والقاضي تقي الدين الإثنائي المالكي وغيرهما من أصحاب المجالس الشهيرة، وكذلك أسمعه من ابن شاهد الجيش وابن عبد الهادي وابن المحب الدقاق.
وحفظ «التنبيه» في الفقه الشافعي، وأكثر كتاب «الحاوي»، كما حفظ كتاب «الإلمام في أحاديث الأحكام» لابن دقيق العيد.
وكان أول شيء اشتغل به القراءات والعربية، فقرأ على ناصر الدين محمد ابن أبي الحسن بن عبد الملك بن سمعون أحد القدماء، وبرهان الدين بن لاجين الرشيدي، وأحمد بن يوسف السمين الحلبي، والسراج عمر الدمنهوري. ومع ذلك لم يتيسر له إكمال القراءات السبع إلا على التقي الواسطي بمكة في أخريات أيامه.
وأخذ الفقه الشافعي: عن ابن عدلان، ولازم العماد محمد بن إسحاق البلبيسي وجمال الدين الأسنوي.
وأخذ أصول الفقه: عن الشمس ابن اللبان، وجمال الدين الأسنوي، وتقدم في
তাঁর জন্ম: নীল নদের তীরের নতুন আবাসস্থল মানশিয়াতুল মাহারানিতে ইরাকির পিতা শায়খ তাকিউদ্দীন মুহাম্মদ ইবন জাফর ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহিম আল-কিনাওয়ির সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর সান্নিধ্যে থাকেন। তিনি সেখানে বিবাহ করেন এবং আল্লাহ তাঁকে একটি সন্তান দান করেন। তাঁর শায়খ তাকিউদ্দীন তাঁকে সেই সন্তানের সুসংবাদ দেন এবং শায়খ তাকিউদ্দীনের দাদার নামানুসারে তাঁর নাম রাখেন: আবদুর রহিম। এটি ছিল ৭২৫ হিজরি সালের জমাদিউল উলা মাসে। এই নবজাতক তাঁর পক্ষ থেকে বিশেষ সমাদর ও যত্ন লাভ করেন।
তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক বিকাশ ও সফরসমূহ:ইরাকি আট বছর বয়সে পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেন এবং অল্প বয়সেই হাদিস শ্রবণ করেন। ৭৩৭ হিজরি সালে তাঁর পিতা তাঁকে আমির সানজার আল-জাওলি, কাজি তাকিউদ্দীন আল-ইসনাই আল-মালিকি এবং প্রসিদ্ধ মজলিসসমূহের অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের নিকট হাদিস শ্রবণ করান। একইভাবে তিনি তাঁকে ইবন শাহিদ আল-জাইশ, ইবন আবদিল হাদি এবং ইবনুল মুহিব্ব আদ-দাক্কাকের নিকটও হাদিস শ্রবণ করান।
তিনি শাফেয়ী ফিকহের 'আত-তানবিহ' এবং 'আল-হাউই' কিতাবের অধিকাংশ মুখস্থ করেন। তদ্রূপ তিনি ইবন দাক্বিক আল-ঈদের 'আল-ইলমাম ফি আহাদিসিল আহকাম' গ্রন্থটিও মুখস্থ করেন।
তিনি সর্বপ্রথম যে বিষয়গুলো নিয়ে ব্যস্ত হন তা ছিল কিরাত ও আরবি ভাষা। তিনি প্রাচীন পণ্ডিতদের অন্যতম নাসিরুদ্দীন মুহাম্মদ ইবন আবিল হাসান ইবন আবদিল মালিক ইবন সামউন, বুরহানুদ্দীন ইবন লাজিন আল-রশিদি, আহমদ ইবন ইউসুফ আস-সামিন আল-হালাবি এবং সিরাজ উমর আদ-দামানহুরির নিকট পাঠ গ্রহণ করেন। তা সত্ত্বেও তাঁর জীবনের শেষ দিকে মক্কায় তাকিউদ্দীন আল-ওয়াসিতির নিকট ব্যতীত তাঁর পক্ষে সাবআ কিরাত (সাত কিরাত) সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি ইবন আদলানের নিকট থেকে শাফেয়ী ফিকহ গ্রহণ করেন এবং ইমাদুদ্দীন মুহাম্মদ ইবন ইসহাক আল-বিলবিসি ও জামালুদ্দীন আল-আসনউয়ির সান্নিধ্যে থাকেন।
তিনি শামস ইবনুল লাব্বান ও জামালুদ্দীন আল-আসনউয়ির নিকট উসুলুল ফিকহ গ্রহণ করেন এবং এতে অগ্রসর হন।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ١١)
الفقه والأصول، بحيث كان الأسنوي يثني على فهمه، ويستحسن كلامه في الأصول، ويصغي لمباحثه فيه، ويقول: إن ذهنه صحيح لا يقبل الخطأ.
وأما اشتغاله في الحديث فقد كانت له فيه قصة: وذلك أن شيخه القاضي عز الدين ابن جماعة لما رآه منهمكا في علم القراءات، أشار عليه بالإقبال على علم الحديث، وقال له: إنه علم كثير التعب، قليل الجدوى، وأنت متوقد الذهن، فاصرف همتك إلى الحديث.
وكان هذا في سنة (742 هـ)، فأخذ بنصيحة شيخه ابن جماعة، وأقبل على علم الحديث فأخذ الحديث بالقاهرة، وكان أول من بدأ بالقراءة عليه: الشهاب أحمد ابن البابا، فحفظ عليه كتاب «الإلمام» لابن دقيق العيد.
ثم أخذ علم الحديث عن الحافظ علاء الدين ابن التركماني الحنفي، وبه تخرج، وعليه انتفع، وسمع منه «صحيح البخاري».
وقرأ على عبد الرحيم بن عبد الله ابن شاهد الجيش، سمع منه «صحيح البخاري».
وسمع من ابن عبد الهادي «صحيح مسلم».
وقرأ على أبي الفتح محمد بن محمد الميدومي جملة من الكتب، منها «سنن أبي داود وهو أعلى شيوخه إسنادا، ومن طريقه يروي أسانيد تقريب الأسانيد».
وسمع من أبي القاسم ابن سيد الناس.
وناصر الدين محمد بن إسماعيل ابن الملوك.
و محمد بن علي بن عبد العزيز القطرواني، سمع منه «سيرة ابن هشام».
ফিকহ এবং উসুল (মূলনীতিশাস্ত্র), এমনভাবে যে আল-আসনাবী তাঁর সমঝদারির প্রশংসা করতেন, উসুল শাস্ত্রে তাঁর বক্তব্য পছন্দ করতেন এবং এই বিষয়ে তাঁর গবেষণার দিকে মনোযোগ দিতেন এবং বলতেন: তাঁর মেধা স্বচ্ছ, যা ভুল গ্রহণ করে না।
আর হাদিস শাস্ত্রে তাঁর আত্মনিয়োগের একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে: তা হলো, তাঁর শায়খ কাযী ইজ্জুদ্দিন ইবনু জামাআহ যখন তাঁকে কিরাত শাস্ত্রে মগ্ন থাকতে দেখলেন, তখন তাঁকে হাদিস শাস্ত্রের দিকে মনোনিবেশ করার পরামর্শ দিলেন এবং তাঁকে বললেন: এটি এমন এক বিদ্যা যাতে পরিশ্রম অনেক কিন্তু সুফল কম; আর তুমি প্রখর মেধার অধিকারী, তাই তোমার মনোযোগ হাদিসের দিকে নিবিষ্ট করো।
এটি ছিল ৭৪২ হিজরি সালের ঘটনা। অতঃপর তিনি তাঁর শায়খ ইবনু জামাআহর উপদেশ গ্রহণ করলেন এবং হাদিস শাস্ত্রের দিকে মনোনিবেশ করলেন। তিনি কায়রোতে হাদিস গ্রহণ করেন। তিনি যাঁর কাছে প্রথম পাঠ শুরু করেছিলেন, তিনি হলেন শিহাব আহমাদ ইবনুল বাবা; তাঁর নিকট তিনি ইবনু দাকীকুল ঈদের ‘আল-ইলমাম’ কিতাবটি মুখস্থ করেন।
এরপর তিনি হাফেজ আলাউদ্দিন ইবনু তুর্কমানী আল-হানাফীর কাছ থেকে হাদিস শাস্ত্র গ্রহণ করেন। তাঁর মাধ্যমেই তিনি ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন এবং তাঁর দ্বারা উপকৃত হন এবং তাঁর নিকট থেকে ‘সহিহুল বুখারী’ শ্রবণ করেন।
এবং তিনি আবদুর রহীম বিন আব্দুল্লাহ ইবনু শাহিদিল জাইশের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন, যাঁর নিকট থেকে তিনি ‘সহিহুল বুখারী’ শ্রবণ করেন।
এবং ইবনু আব্দুল হাদীর নিকট থেকে ‘সহিহ মুসলিম’ শ্রবণ করেন।
তিনি আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-মাইদুমীর নিকট একগুচ্ছ কিতাব পাঠ করেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘সুনানু আবি দাউদ’। তিনি ছিলেন তাঁর শায়খদের মধ্যে সনদের দিক থেকে সর্বোচ্চ এবং তাঁর মাধ্যমেই তিনি ‘তাক্বরীবুল আসানিদ’-এর সনদসমূহ বর্ণনা করেন।
এবং আবুল কাসিম ইবনু সাইয়্যিদুন নাস-এর নিকট শ্রবণ করেন।
এবং নাসিরুদ্দিন মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল ইবনুল মুলুকের নিকট শ্রবণ করেন।
এবং মুহাম্মদ বিন আলী বিন আব্দুল আজিজ আল-ক্বাতরাওয়ানীর নিকট, যাঁর নিকট থেকে তিনি ‘সীরাতু ইবনু হিশাম’ শ্রবণ করেন।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
ومحمد بن عبد الله بن أبي البركات النعماني.
ومحمد بن أبي القاسم بن إسماعيل الفارقي.
والقاضي فخر الدين بن مسكين.
ومن أبي الحرم محمد بن محمد القلانسي، سمع منه «جامع الترمذي»، و «سنن ابن ماجه» و «موطأ مالك» برواية أبي مصعب الزهري، و «المعجم الصغير» للطبراني. ومن أبي الحسن علي بن أحمد العرضي، سمع منه «جامع الترمذي» و «سنن أبي داود»، و «مسند أحمد».
ومن مظفر الدين محمد بن محمد ابن العطار، سمع منه «جامع الترمذي».
ثم ارتحل في طلب الحديث رحلات عديدة، إلى بلاد الشام والحجاز وغيرهما:
1 - ففي سنة (754 هـ) كانت رحلته الأولى إلى الشام، والتقى هناك بقاضي الشام وعالمها شيخ الإسلام تقي الدين السبكي، وأخذ عنه علم الحديث، فذكره في درسه معظما له، ونوه بذكره، ووصفه بالمعرفة والإتقان والفهم، ومن تعظيمه له أنه لما قدم القاهرة في سنة (756 هـ) أراد أهل الحديث السماع عليه فامتنع من ذلك، وقال: لا أسمع إلا بحضوره، وكان غائبا في الإسكندرية.
والتقى أيضا بالحافظ المفسر إسماعيل بن كثير الدمشقي، وأخذ عنه.
والتقى في بيت المقدس بالحافظ صلاح الدين العلائي، وأخذ عنه.
وسمع من محمد بن إسماعيل ابن الخباز بدمشق، سمع منه «صحيح مسلم» و «مسند أحمد»، وكتاب «الشمائل».
2 - وفي سنة (755 هـ) كانت رحلته إلى بلاد الحجاز، حيث جاور بمكة
এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল বারাকাত আল-নুমানি।
এবং মুহাম্মদ বিন আবিল কাসেম বিন ইসমাইল আল-ফারিকি।
এবং কাজি ফখরুদ্দীন বিন মিসকিন।
এবং আবুল হারাম মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-কালানিসি থেকে; তিনি তার নিকট 'জামে তিরমিযি', 'সুনানে ইবনে মাজাহ', আবু মুসআব আল-যুহরির বর্ণনায় 'মুওয়াত্তায়ে মালিক' এবং তাবারানির 'আল-মু'জামুস সাগির' শ্রবণ করেছেন। এবং আবুল হাসান আলি বিন আহমদ আল-আরযি থেকে; তিনি তার নিকট 'জামে তিরমিযি', 'সুনানে আবু দাউদ' এবং 'মুসনাদে আহমাদ' শ্রবণ করেছেন।
এবং মুযাফফরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ ইবনুল আত্তার থেকে; তিনি তার নিকট 'জামে তিরমিযি' শ্রবণ করেছেন।
অতঃপর তিনি হাদিস অন্বেষণে সিরিয়া, হিজাজ ও অন্যান্য অঞ্চলে বহুবার সফর করেন:
১ - অতঃপর ৭৫৪ হিজরি সালে শামে তার প্রথম সফর সংঘটিত হয়। সেখানে তিনি শামের কাজি ও সেখানকার বিদগ্ধ আলেম শায়খুল ইসলাম তাকীউদ্দীন আস-সুবকির সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তার নিকট থেকে ইলমে হাদিস গ্রহণ করেন। সুবকি তার পাঠে তাকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে স্মরণ করতেন এবং তার প্রশংসা করতেন; তাকে প্রজ্ঞা, পাণ্ডিত্য ও প্রখর বুঝ-জ্ঞানের বিশেষণে বিশেষায়িত করতেন। তার প্রতি সুবকির অতিশয় সম্মানের একটি নিদর্শন হলো, যখন তিনি ৭৫৬ হিজরিতে কায়রোতে আসলেন এবং হাদিস বিশারদগণ তার থেকে হাদিস শ্রবণ করতে চাইলেন, তখন তিনি তা করতে অস্বীকৃতি জানালেন এবং বললেন: "আমি তার উপস্থিতি ব্যতীত পাঠ করাব না।" অথচ তখন তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় অনুপস্থিত ছিলেন।
তিনি হাফেজ ও মুফাসসির ইসমাইল বিন কাসির আদ-দামেশকির সাথেও সাক্ষাৎ করেন এবং তার নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন।
তিনি বাইতুল মাকদিসে হাফেজ সালাহুদ্দীন আল-আলাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তার নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন।
তিনি দামেশকে মুহাম্মদ বিন ইসমাইল ইবনুল খাব্বাজের নিকট 'সহিহ মুসলিম', 'মুসনাদে আহমাদ' এবং 'আশ-শামায়েল' গ্রন্থ শ্রবণ করেন।
২ - এবং ৭৫৫ হিজরি সালে হিজাজ ভূখণ্ডে তার সফর হয়, সেখানে তিনি মক্কায় অবস্থান করেন।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
والمدينة مدة، وسمع هناك من الحافظ العلائي ولا زمه وكان مجاورا، كما سمع من العفيف المطري في المدينة المنورة.
3 - وفي سنة (756 هـ) ارتحل إلى الإسكندرية، وسمع من محمد بن محمد بن أبي الليث، ومن محمد بن أحمد ابن البوري، سمع منه «جامع الترمذي».
4 - وفي سنة (758 هـ) كانت رحلته الثانية إلى دمشق.
5 - وفي سنة (759 هـ) كانت رحلته الثالثة إلى بلاد الشام، وكانت رحلة واسعة، طاف فيها جميع البلاد التي فيها رواية، حتى وصل إلى حلب وسمع فيها، وكان عزمه أن يتوجه إلى بغداد والعراق موطن آبائه، لكن منعه انعدام الأمن فيها آنذاك.
فسمع في غزة من محمد بن سالم بن عبد الناصر.
وفي بيت المقدس سمع من الحافظ صلاح الدين العلائي، فانتفع به ولا زمه، ومن قاسم بن سليمان الأذرعي.
وفي نابلس سمع من محمد بن عثمان بن عبد الرحمن بن نعمة، وإبراهيم بن عبد الله الزيباوي سمع منه «سنن ابن ماجه».
وفي بعلبك سمع من عبد القادر بن علي بن السبع البعلبكي.
وفي طرابلس الشام سمع من قاضيها محمد بن أبي بكر بن عياش الخابوري. وفي حمص سمع من قطب الدين محمد بن عبد المحسن السبكي الشافعي، وعمر بن أحمد النقبي، وسمع من أحمد بن عبد الرحمن المرداوي. وسمع من محمد بن إسماعيل الحموي، سمع منه من أول «السنن الكبرى» للبيهقي إلى كتاب الإيلاء.
...এবং মদিনায় কিছুকাল অবস্থান করেন, সেখানে তিনি হাফিজ আল-আলাই এর নিকট (হাদীস) শ্রবণ করেন ও তাঁর সান্নিধ্যে থাকেন এবং সেখানে অবস্থানকারী হিসেবে ছিলেন, যেমনটি তিনি মদিনা মুনাওয়ারায় আফিফ আল-মাতারি এর নিকট শ্রবণ করেছিলেন।
৩ - এবং ৭৫৬ হিজরী সনে তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় সফর করেন এবং মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবিল লাইস ও মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আল-বুরি এর নিকট শ্রবণ করেন; তাঁর নিকট থেকে তিনি ‘জামি আত-তিরমিযী’ শ্রবণ করেন।
৪ - এবং ৭৫৮ হিজরী সনে দামেস্কে তাঁর দ্বিতীয় সফর অনুষ্ঠিত হয়।
৫ - এবং ৭৫৯ হিজরী সনে সিরিয়া অঞ্চলে তাঁর তৃতীয় সফর ছিল, এবং এটি ছিল একটি বিস্তৃত সফর। তিনি সেখানে হাদীস বর্ণনার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সকল শহর পরিভ্রমণ করেন, এমনকি তিনি হালাব পর্যন্ত পৌঁছেন এবং সেখানে শ্রবণ করেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল তাঁর পূর্বপুরুষদের আবাসভূমি বাগদাদ ও ইরাকের দিকে যাত্রা করার, কিন্তু তৎকালীন সেখানে নিরাপত্তার অভাব তাঁকে তা থেকে বিরত রাখে।
অতঃপর তিনি গাজ্জায় মুহাম্মাদ ইবন সালিম ইবন আবদুন নাসির এর নিকট শ্রবণ করেন।
এবং বাইতুল মুকাদ্দাসে তিনি হাফিজ সালাহুদ্দীন আল-আলাই এর নিকট শ্রবণ করেন ও তাঁর দ্বারা উপকৃত হন এবং তাঁর সান্নিধ্যে থাকেন, এবং কাসিম ইবন সুলায়মান আল-আজরয়ি এর নিকটও শ্রবণ করেন।
এবং নাবলুসে তিনি মুহাম্মাদ ইবন উসমান ইবন আবদুর রহমান ইবন নি'মাহ এবং ইবরাহীম ইবন আব্দুল্লাহ আজ-যিবায়ি এর নিকট শ্রবণ করেন, যাঁর নিকট তিনি ‘সুনান ইবন মাজাহ’ শ্রবণ করেছিলেন।
এবং বালবাক্কে তিনি আব্দুল কাদির ইবন আলী ইবন আস-সাব' আল-বালবাক্কি এর নিকট শ্রবণ করেন।
এবং সিরিয়ার ত্রিপোলিতে তিনি সেখানকার বিচারক মুহাম্মাদ ইবন আবি বকর ইবন আইয়াশ আল-খাবুরি এর নিকট শ্রবণ করেন। এবং হিমসে তিনি কুতুবুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল মুহসিন আস-সুবকি আশ-শাফিয়ি ও উমর ইবন আহমাদ আন-নাকবি এর নিকট শ্রবণ করেন এবং আহমাদ ইবন আবদুর রহমান আল-মারদাউয়ি এর নিকটও শ্রবণ করেন। এবং তিনি মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল আল-হামাউয়ি এর নিকট শ্রবণ করেন; তাঁর নিকট তিনি বাইহাক্বীর ‘আস-সুনান আল-কুবরা’ এর শুরু থেকে ‘কিতাবুল ঈলা’ পর্যন্ত শ্রবণ করেন।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
ثم أتمه على ست العرب بنت محمد بن الفخر علي ابن البخاري.
وسمع من عبد الله بن محمد بن إبراهيم المقدسي ابن قيم الضيائية، سمع منه «مسند العدني» و «فوائد تمام الرازي»، وسمع من أبي بكر بن عبد العزيز بن أحمد بن رمضان، ومن محمد بن محمد بن عبد الغني الحراني.
وسمع من يحيى بن عبد الله بن مروان الفارقي.
وفي حماة سمع من قاضيها عبد الرحيم بن إبراهيم البارزي، وعبد الله بن داود السلمي.
وفي حلب سمع من القاضي جمال الدين إبراهيم بن الشهاب محمود، وسليمان ابن إبراهيم بن المطوع، وعبد الله بن محمد بن المهندس، وآخرين.
وفي صفد سمع من عمر بن حمزة بن يونس، ومن المسندة ست الفقهاء بنت أحمد بن محمد العباسي.
وفي الخليل سمع من خليل بن عيسى القيمري.
6 - وفي سنة (763 هـ) رحل إلى الحجاز، وسمع من الحافظ تقي الدين ابن رافع.
7 - وفي سنة (765 هـ) رحل إلى الشام الرحلة الرابعة، وكانت بصحبة أولاده، منهم ولده أبو زرعة أحمد، وكان عمره ثلاث سنين، فأسمعهم وسمع من رجال كثيرين.
8 - وفي سنة (769 هـ) رحل إلى مكة رحلته الثانية، وفيها التقى شيخ قراء مصر تقي الدين الواسطي، وكان مجاورا، فأتم عليه القراءات السبع.
এরপর তিনি এটি মুহাম্মদ বিন আল-ফাখর আলি ইবনুল বুখারির কন্যা সিত্তুল আরবের নিকট সমাপ্ত করেন।
আর তিনি ইবনুল কাইয়্যিম আদ-দিয়াইয়্যাহ নামে পরিচিত আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-মাকদিসির নিকট শ্রবণ করেছেন, তাঁর নিকট তিনি ‘মুসনাদুল আদানি’ এবং ‘ফাওয়াইদু তামাম আর-রাজি’ শ্রবণ করেন। তিনি আবু বকর বিন আবদুল আজিজ বিন আহমদ বিন রমজান এবং মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল গনি আল-হাররানির নিকট থেকেও শ্রবণ করেছেন।
এবং তিনি ইয়াহিয়া বিন আবদুল্লাহ বিন মারওয়ান আল-ফারিকির নিকট শ্রবণ করেছেন।
হামাহ শহরে তিনি সেখানকার বিচারক আবদুর রহিম বিন ইব্রাহিম আল-বারজি এবং আবদুল্লাহ বিন দাউদ আস-সুলামির নিকট শ্রবণ করেছেন।
আলেপ্পোতে তিনি বিচারক জামালুদ্দিন ইব্রাহিম বিন আশ-শিহাব মাহমুদ, সুলাইমান ইবন ইব্রাহিম ইবনুল মুতাউয়ি, আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুহান্দিস এবং অন্যদের নিকট শ্রবণ করেছেন।
সাফাদে তিনি ওমর বিন হামজাহ বিন ইউনুস এবং মুসনিদাহ সিত্তুল ফুকাহাহ বিনতে আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আব্বাসির নিকট শ্রবণ করেছেন।
আল-খলিলে তিনি খলিল বিন ঈসা আল-কাইমারির নিকট শ্রবণ করেছেন।
৬ - আর ৭৬৩ হিজরি সালে তিনি হিজাজে সফর করেন এবং হাফিজ তাকিউদ্দিন ইবনে রাফির নিকট শ্রবণ করেন।
৭ - আর ৭৬৫ হিজরি সালে তিনি সিরিয়ায় তাঁর চতুর্থ সফর করেন, যা ছিল তাঁর সন্তানদের সাহচর্যে; তাদের মধ্যে তাঁর পুত্র আবু জুরআহ আহমদ ছিলেন, যার বয়স তখন তিন বছর ছিল। তিনি তাঁদের শ্রবণ করান এবং অনেক ব্যক্তিত্বের নিকট থেকে শ্রবণ করেন।
৮ - আর ৭৬৯ হিজরি সালে তিনি মক্কায় তাঁর দ্বিতীয় সফর করেন, সেখানে তিনি মিশরের ক্বারিদের প্রধান তাকিউদ্দিন আল-ওয়াসিতির সাথে সাক্ষাৎ করেন, যিনি তখন সেখানে অবস্থান করছিলেন; অতঃপর তিনি তাঁর কাছে সাত কিরাত সমাপ্ত করেন।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
9 - وفي سنة (776 هـ) رحل إلى مكة رحلته الثالثة، وفيها سمع منه ابنه أبو زرعة وغيره كتاب «تقريب الأسانيد»، و «ألفية الحديث» كما جاء في خاتمة النسخة (ل) عندنا، وهي بخط الحافظ العراقي، وكانت هذه الرحلة بصحبة رفيقه وتلميذه الحافظ نور الدين الهيثمي.
10 هذا وقد هم الحافظ العراقي بالرحلة إلى تونس لسماع «الموطأ» برواية يحيى بن يحيي من خطيب الزيتونة بها، فلم يتفق له ذلك.
* المناصب الدينية التي تولاها:
هذا وقد تولى الحافظ العراقي مناصب دينية عدة، منها: القضاء، والخطابة، والإقامة، والتدريس، في المدارس وفي المساجد، وعقد مجالس للإسماع والإملاء.
ففي سنة (769 هـ) تولى التدريس في المدرسة الكاملية بالقاهرة، وهي مدرسة مخصصة للحديث، يتولى مشيختها من كان أعلى مرتبة في الحديث، وبقي شيخا لها إلى سنة (788 هـ) حيث أسند له قضاء المدينة المنورة.
- وفي سنة (788 هـ) تولى القضاء بالمدينة النبوية وخطابتها وإمامتها، بعد ولاية محب الدين النويري حيث انتقل إلى قضاء مكة، فقام الحافظ العراقي بأعمال الخطابة والإمامة والتدريس والتحديث بالروضة الشريفة، وأملى هناك «الأربعين العشارية»، وبقي في قضاء المدينة إلى شوال سنة (791 هـ).
- وفي سنة (793 هـ) تولى التدريس في المدرسة الظاهرية البيبرسية في مصر، واستقر بها حتى وفاته.
كما أنه درس الفقهاء في المدرسة الفاضلية، وفي المدرسة القراسنقورية بالقاهرة.
৯ - ৭৭৬ হিজরি সনে তিনি মক্কায় তাঁর তৃতীয় সফরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। সেখানে তাঁর থেকে তাঁর পুত্র আবু জুরআ এবং অন্যান্যরা 'তাক্বরিবুল আসানিদ' এবং 'আলফিয়্যাতুল হাদিস' গ্রন্থ দুটি শ্রবণ করেন, যেমনটি আমাদের কাছে সংরক্ষিত (লাম) পাণ্ডুলিপির শেষে উল্লেখ রয়েছে; যা হাফেজ ইরাকির স্বহস্তে লিখিত। এই সফরটি তাঁর সফরসঙ্গী ও ছাত্র হাফেজ নূরুদ্দিন আল-হাইসামির সাথে ছিল।
১০. হাফেজ ইরাকি তিউনিসিয়ার জাইতুনা মসজিদের খতিবের নিকট থেকে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়ার বর্ণনায় 'মুয়াত্তা' শ্রবণের উদ্দেশ্যে সেখানে যাওয়ার সংকল্প করেছিলেন, কিন্তু তা তাঁর ভাগ্যে জোটেনি।
* তাঁর অলংকৃত ধর্মীয় পদসমূহ:
হাফেজ ইরাকি বেশ কিছু ধর্মীয় পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে: বিচারক (কাজি), খতিব, ইমাম ও শিক্ষকের দায়িত্ব। তিনি বিভিন্ন মাদরাসা ও মসজিদে পাঠদান করতেন এবং হাদিস শ্রবণ ও শ্রুতিলিখন (ইমলা) মজলিসের আয়োজন করতেন।
৭৬৯ হিজরি সনে তিনি কায়রোর আল-মাদরাসাতুল কামিলিয়্যায় শিক্ষকতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এটি হাদিস শাস্ত্রের জন্য নিবেদিত একটি মাদরাসা ছিল, যার শাইখ হিসেবে কেবল হাদিস শাস্ত্রের সর্বোচ্চ মর্যাদাবান ব্যক্তিকেই নিয়োগ দেয়া হতো। তিনি ৭৮৮ হিজরি পর্যন্ত এর শাইখ পদে বহাল ছিলেন এবং এরপর তাঁকে মদিনা মুনাওয়ারার কাজির দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
- ৭৮৮ হিজরি সনে মুহিব্বুদ্দিন আন-নুওয়াইরি মক্কার কাজি হিসেবে স্থানান্তরিত হওয়ার পর তিনি মদিনা নববীর বিচারক, খতিব এবং ইমামের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। হাফেজ ইরাকি সেখানে রওজা শরিফে খুতবা দান, ইমামতি, পাঠদান এবং হাদিস বর্ণনা করার কাজ সম্পাদন করেন এবং সেখানে তিনি 'আল-আরবাউন আল-উশারিয়্যাহ' শ্রুতিলিখন করান। তিনি ৭৯১ হিজরি সনের শাওয়াল মাস পর্যন্ত মদিনার বিচারক পদে আসীন ছিলেন।
- ৭৯৩ হিজরি সনে তিনি মিশরের আল-মাদরাসাতুজ জহিরিয়্যাহ আল-বাইবারসিয়্যাহ-তে শিক্ষকতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন।
এছাড়া তিনি কায়রোর আল-মাদরাসাতুল ফাদিলিয়্যাহ এবং আল-মাদরাসাতুল কারাসুনকুরিয়্যাহ-তে ফকিহদের পাঠদান করেন।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
- ودرس أيضا في جامع طولون في القاهرة.
- وفي سنة (795 هـ) شرع الحافظ العراقي في الإملاء في جامع القلعة بالقاهرة، حيث أملى الكثير من تصانيفه، وأسمع «صحيح البخاري»، و «جامع الترمذي» ولم يكن له اشتغال بعد عودته من الحجاز سوى الإسماع والتدريس والإفادة والتصنيف، بل جميع أوقاته لا يصرفها إلا في الاشتغال بالعلوم.
تصانيفه:لقد تصدى العراقي للتصنيف كما اشتغل بالتدريس، واشتهر بالتصانيف الحديثية، وتنوعت، ونال التخريج فيها الدرجة الأولى، وكان في هذه التصانيف الشروح الحديثية، والأجزاء الحديثية، والمستخرجات، والمشيخات، وتراجم الرجال وأسماؤهم، والجرح والتعديل.
كما أنه صنف في الفقه وأصوله، والسيرة النبوية، والغريب، وغير ذلك من الرسائل المتنوعة المواضيع.
فمن كتب التخاريج:
- فهرست مرويات البياني.
- مشيخة ناصر الدين التونسي.
- مشيخة عبد الرحمن بن القاري.
- ذيل مشيخة القلانسي، تخريج ابن رافع.
- أربعون تساعية، للميدومي.
- أربعون عشارية، لنفسه.
- أربعون بلدانية، أنتخبها من «صحيح ابن حبان».
- তিনি কায়রোর ইবনে তুলুন মসজিদেও পাঠদান করেছেন।
- এবং ৭৯৫ হিজরি সনে হাফেজ ইরাকি কায়রোর কেল্লা মসজিদে (জামে আল-কালআ) শ্রুতিলিখন (ইমলা) শুরু করেন, যেখানে তিনি তাঁর অনেক রচনা শ্রুতিলিখন করিয়েছেন এবং ‘সহিহ আল-বুখারি’ ও ‘জামে আত-তিরমিজি’ পাঠ করে শুনিয়েছেন। হিজাজ থেকে ফিরে আসার পর হাদিস শ্রবণ করানো, পাঠদান, জ্ঞানদান ও গ্রন্থ রচনা ব্যতিরেকে তাঁর অন্য কোনো ব্যস্ততা ছিল না; বরং তাঁর পুরো সময়টিই তিনি ইলমি চর্চার মাঝেই অতিবাহিত করতেন।
তাঁর রচনাবলি:ইরাকি পাঠদানের পাশাপাশি গ্রন্থ রচনাতেও মনোনিবেশ করেন এবং তাঁর হাদিস বিষয়ক রচনাবলির জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তাঁর এই কাজগুলো ছিল বহুমুখী, যার মধ্যে ‘তাখরিজ’ (হাদিসের উৎস নির্ণয়) এর ক্ষেত্রে তিনি প্রথম সারির মর্যাদা লাভ করেন। এই রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত ছিল হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, হাদিসের খণ্ডাংশ (আজযা), মুস্তাখরাজাত, মাশয়াখাত (শিক্ষকদের তালিকা), বর্ণনাকারীদের জীবনী ও নাম এবং জারহ ও তাদিল (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই)।
অনুরূপভাবে তিনি ফিকহ ও উসুলুল ফিকহ, সীরাতুন্নবী, আল-গারিব (দুর্লভ শব্দতত্ত্ব) এবং আরও বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বিবিধ গবেষণাপত্র রচনা করেছেন।
তাখরিজ গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- আল-বায়ানির বর্ণিত হাদিসের তালিকা।
- নাসিরুদ্দিন আত-তুনিসির শিক্ষকদের তালিকা।
- আবদুর রহমান ইবনে আল-কারির শিক্ষকদের তালিকা।
- কালানিসির শিক্ষকদের তালিকার পরিশিষ্ট, যা ইবনে রাফির কৃত তাখরিজ।
- আল-মাইদুমির চল্লিশটি নবম স্তরের সুউচ্চ সূত্রের হাদিস।
- তাঁর নিজের সংকলিত চল্লিশটি দশম স্তরের সুউচ্চ সূত্রের হাদিস।
- ‘সহিহ ইবনে হিব্বান’ থেকে নির্বাচিত চল্লিশটি দেশের অধিবাসী থেকে বর্ণিত হাদিস।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
- تخريج الإحياء الكبير، وسماه: إخبار الأحياء بأخبار الإحياء، وقد أكمل مسودته، ثم بيض نحو نصفه ولم يكمله.
- الكشف المبين عن تخريج إحياء علوم الدين، وهو التخريج المتوسط، كتب منه يسيرا وحدث ببعضه.
- المغني عن حمل الأسفار في الأسفار في تخريج ما في الإحياء من الأخبار، وهو التخريج الصغير للإحياء، وقد اشتهر وسارت به الركبان إلى البلدان.
- تخريج الأربعين النووية.
- تخريج أحاديث المنهاج للبيضاوي.
- الأحاديث المخرجة في الصحيحين التي تكلم فيها بضعف وانقطاع، ولم يبيضه.
- المستخرج على المستدرك، ولم يتمه.
- أطراف صحيح ابن حبان، ولم يتمه.
- تقريب الأسانيد وترتيب المسانيد، في الأحكام، وهو كتابنا.
ومن تصانيفه في مصطلح الحديث:
- التبصرة والتذكرة، وهي ألفية الحديث، نظم فيها «مقدمة ابن الصلاح» وشرحها بشرح مطول ولم يتمه.
- شرح التبصرة والتذكرة، وهو شرح الألفية المتوسط النائع بين الناس.
- نظم الاقتراح، نظم فيه «الاقتراح في الاصطلاح» لابن دقيق العيد، في (427) بيتا.
- التقييد والإيضاح لما أطلق وأعلق من كتاب ابن الصلاح.
- ইহয়াউল উলুমের বড় তাখরিজ, যার নামকরণ করেছেন: 'ইখবারুল আহইয়া বি-আখবারিল ইহয়া', তিনি এর খসড়া সম্পন্ন করেছেন, এরপর এর প্রায় অর্ধেক পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেছেন কিন্তু তা পূর্ণ করতে পারেননি।
- আল-কাশফুল মুবিন আন তাখরিজি ইহয়া উলুমিদ্দীন, এটি হলো মাঝারি মানের তাখরিজ, এর সামান্য অংশ তিনি লিখেছেন এবং কিছু অংশ বর্ণনা করেছেন।
- আল-মুগনি আন হামিল আসফার ফিল আসফার ফি তাখরিজি মা ফিল ইহয়া মিনাল আখবার, এটি ইহয়া-এর ছোট তাখরিজ, যা ব্যাপক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং দেশ-বিদেশে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে।
- আরবাঈন নববীর তাখরিজ।
- বাইযাবির আল-মিনহাজের হাদিসসমূহের তাখরিজ।
- সহিহায়নের (বুখারি ও মুসলিম) সেইসব বর্ণিত হাদিস যেগুলোর দুর্বলতা ও বিচ্ছিন্নতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, তিনি এর চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেননি।
- আল-মুসতাখরাজ আলাল মুসতাদরাক, তিনি এটি সম্পন্ন করতে পারেননি।
- আতরাফুন সহিহ ইবনে হিব্বান, তিনি এটি সম্পন্ন করতে পারেননি।
- তাকরীবুল আসানিদ ওয়া তারতিবুল মাসানিদ, আহকাম বিষয়ক, যা আমাদের এই কিতাব।
হাদিসশাস্ত্রের পরিভাষা (উসুলুল হাদিস) বিষয়ে তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
- আত-তাবসিরা ওয়াত তাযকিরা, এটি মূলত আলফিয়াতুল হাদিস, এতে তিনি 'মুকাদিমা ইবনুস সালাহ' কাব্যরূপে সংকলন করেছেন এবং এর একটি দীর্ঘ ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছিলেন যা তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি।
- শারহুত তাবসিরা ওয়াত তাযকিরা, এটি আলফিয়ার মধ্যম মানের ব্যাখ্যাগ্রন্থ যা মানুষের মধ্যে বহুল প্রচলিত।
- নাযমুল ইকতিরাহ, এতে তিনি ইবনু দাকীকুল ঈদের 'আল-ইকতিরাহ ফিল ইসতিলাহ' ৪২৭টি পঙ্ক্তিতে কাব্যবদ্ধ করেছেন।
- আত-তাকয়িদ ওয়াল ঈযাহ লিমা উতলিকা ওয়া উ'লিকা মিন কিতাব ইবনিস সালাহ।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
ومن تصانيفه في شروح الحديث:
- تكملة شرح جامع الترمذي، أكمل به شرح ابن سيد الناس، كتب فيه تسع مجلدات، ولم يكمله.
- طرح التشريب في شرح التقريب، شرح به «تقريب الأسانيد» ولم يكمله، فأتمه ولده أبو زرعة أحمد ولي الدين.
ومن تصانيفه في الرجال والجرح والتعديل:
- ترتيب من له ذكر تجريح أو تعديل في «بيان الوهم والإيهام» لابن القطان، على حروف المعجم.
- ذيل ميزان الاعتدال للذهبي.
- رجال سنن الدار قطني سوى ما في التهذيب.
- رجال صحيح ابن حبان سوى ما في التهذيب.
- ذيل على ذيل العبر.
- ذيل أحمد بن أيبك الدمياطي على وفيات النقلة.
- الإنصاف، في المراسيل.
ومن تصانيفه في الفقه وأصوله:
- تتمات المبهمات، وهو كتاب استدرك فيه على «المهمات» للأسنوي.
- تكملة شرح المهذب للنووي، بناه على كتابة شيخه الشبكي.
- النجم الوهاج في نظم المنهاج، نظم به «المنهاج» للبيضاوي في أصول الفقه.
হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থের ক্ষেত্রে তার রচনার অন্তর্ভুক্ত হলো:
- তাকমিলাতু শারহি জামি’ আত-তিরমিজি; এর মাধ্যমে তিনি ইবনে সাইয়্যিদুন নাস-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থকে পূর্ণতা দিয়েছেন, এতে তিনি নয়টি খণ্ড লিখেছেন, তবে এটি সম্পন্ন করতে পারেননি।
- তারহুত তাশরিবি ফি শারহিত তাকরিব; এর মাধ্যমে তিনি ‘তাকরিবুল আসানিদ’ এর ব্যাখ্যা করেছেন এবং এটি সম্পন্ন করতে পারেননি, ফলে তার পুত্র আবু জুরআ আহমদ ওয়ালীউদ্দীন এটি পূর্ণ করেছেন।
রিজাল (বর্ণনাকারী) এবং জারহ ও তা’দিল (সমালোচনা ও যাচাই-বাছাই) শাস্ত্রে তার রচনার অন্তর্ভুক্ত হলো:
- ইবনুল কাত্তান রচিত ‘বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহহাম’ গ্রন্থে যাদের জারহ (ত্রুটি) বা তা’দিল (নির্ভরযোগ্যতা)-এর উল্লেখ রয়েছে, তাদের বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যাস।
- যাহাবীর ‘মিজানুল ইতিদাল’-এর জাইল (পরিশিষ্ট)।
- ‘আত-তাহজীব’ গ্রন্থে নেই এমন সুনানে দারা কুতনীর বর্ণনাকারীগণ।
- ‘আত-তাহজীব’ গ্রন্থে নেই এমন সহীহ ইবনে হিব্বানের বর্ণনাকারীগণ।
- ‘জাইলুল ইবার’-এর ওপর পরিশিষ্ট।
- আহমদ বিন আইবাক আদ-দামইয়াতীর ‘ওয়াফায়াতুন নাকলাহ’-এর ওপর পরিশিষ্ট।
- আল-ইনসাফ; মুরসাল হাদিস প্রসঙ্গে।
ফিকহ (ইসলামি আইন) এবং উসূলুল ফিকহ (আইনতত্ত্ব) শাস্ত্রে তার রচনার অন্তর্ভুক্ত হলো:
- তাতাম্মাতুল মুবহামাত; এটি এমন একটি গ্রন্থ যেখানে তিনি আল-আসনাবীর ‘আল-মুহিম্মাত’-এর ওপর পরিপূরক আলোচনা করেছেন।
- ইমাম নববীর ‘শারহুল মুহাজ্জাব’-এর পরিশিষ্ট; এটি তিনি তার উস্তাদ আশ-শাবাকীর পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে রচনা করেছেন।
- আন-নাজমুল ওয়াহহাজ ফি নাজমি আল-মিনহাজ; এর মাধ্যমে তিনি উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রে বায়দাভীর ‘আল-মিনহাজ’ গ্রন্থটিকে কাব্যরূপ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
ومن تصانيفه في السيرة النبوية وغيرها:
- الدرر السنية في نظم السيرة الزكية، في ألف بيت.
- منظومة في غريب القرآن، في ألف بيت.
- الباعث على الخلاص من حوادث القصاص.
- تفضيل زمزم على كل ماء قليل زمزم.
- مسألة الشرب قائما.
- محجة القرب إلى محبة العرب.
وغير ذلك من رسائل متعددة في مواضيع مختلفة.
تلامذته:إن من آثار الحافظ رحمه الله تعالى ما ترك من تلامدة تخرجوا به وانتفعوا من علمه، وهو شيخ الحديث بالديار المصرية.
وكان من أشهرهم:
1 - ولده أبو زرعة أحمد بن عبد الرحيم، ولي الدين، ويعرف ب «ابن العراقي»، والمتوفى سنة (826 هـ).
وقد اعتنى به والده وأسمعه الحديث مبكرا، وصنف له كتاب «تقريب الأسانيد» وأسمعه إياه في مكة سنة (776 هـ)، وقد ترجم له والده في مقدمة كتابه «طرح التثريب».
2 - الحافظ نور الدين علي بن أبي بكر بن سليمان، أبو الحسن الهيثمي، المتوفى سنة (807 هـ) وكان رفيقه وتلميذه، قال الحافظ ابن حجر في «إنباء
সীরাতে নববী ও অন্যান্য বিষয়ে তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
- আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফি নাযমিস সীরাতিয যাকিয়্যাহ, এক হাজার পঙ্ক্তির কাব্যগ্রন্থ।
- মানযুমা ফি গারিবিল কুরআন, এক হাজার পঙ্ক্তির কাব্যগ্রন্থ।
- আল-বাইস আলাল খালাস মিন হাওয়াদিসিল কুসসাস।
- তাফযীলু যামযাম আলা কুল্লি মা-ইন কলীল যামযাম।
- মাসআলাতুশ শুরবি কায়িমাহ (দাঁড়িয়ে পান করার মাসআলা)।
- মাহাজ্জাতুল কুরব ইলা মাহাব্বাতিল আরব।
এ ছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর আরও বহু পুস্তিকা রয়েছে।
তাঁর ছাত্রগণ:হাফিয (রহিমাহুল্লাহ)-এর শ্রেষ্ঠ কীর্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তাঁর রেখে যাওয়া ছাত্রগণ, যারা তাঁর কাছে শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন এবং তাঁর জ্ঞান থেকে উপকৃত হয়েছেন। তিনি ছিলেন মিসরীয় ভূখণ্ডের শায়খুল হাদীস।
তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ছিলেন:
১ - তাঁর পুত্র আবু যুরআহ আহমদ ইবনে আবদুর রহীম, ওলীউদ্দীন, যিনি ‘ইবনুল ইরাকী’ নামে পরিচিত, মৃত্যু: ৮২৬ হিজরি।
তাঁর পিতা তাঁর প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন এবং শৈশবেই তাঁকে হাদীস শ্রবণ করিয়েছিলেন। তিনি তাঁর জন্য ‘তাকরীবুল আসানীদ’ গ্রন্থটি রচনা করেন এবং ৭৭৬ হিজরিতে মক্কায় তাঁকে তা শ্রবণ করান। তাঁর পিতা তাঁর নিজ গ্রন্থ ‘তারহুত তাসরীব’-এর ভূমিকায় তাঁর জীবনবৃত্তান্ত বর্ণনা করেছেন।
২ - হাফিয নূরুদ্দীন আলী ইবনে আবু বকর ইবনে সুলাইমান, আবুল হাসান আল-হাইসামি, মৃত্যু: ৮০৭ হিজরি। তিনি তাঁর সঙ্গী ও ছাত্র ছিলেন। হাফিয ইবনে হাজার ‘ইনবা’ গ্রন্থে বলেন-
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
الغمر» (2/ 276): وعليه تخرج غالب أهل عصره، ومن أخصهم به صهره شيخنا نور الدين الهيثمي، وهو الذي دربه وعلمه كيفية التخريج والتصنيف، وهو الذي يعمل له خطب كتبه ويسميها له، وصار الهيثمي لشدة ممارسته أكثر استحضارا للمتون من شيخه، حتى يظن من لا خبرة له أنه أحفظ منه، وليس كذلك لأن الحفظ المعرفة. اهـ.
- الحافظ أحمد بن علي بن محمد ابن حجر العسقلاني، المتوفى سنة (852 هـ).
قال الحافظ ابن حجر في «إنباء الغمر» (2/ 277): لازمت شيخنا عشر سنين، تخللها في أثنائها رحلاتي إلى الشام وغيرها، قرأت عليه كثيرا من المسانيد والأجزاء، وبحثت عليه شرحه على منظومته وغير ذلك، وشهد لي بالحفظ في كثير من المواطن، وكتب لي خطه بذلك مرارا، وسئل عند موته عمن بقي بعده من الحفاظ، فبدأ بي، وثنى بولده، وثلث بالشيخ نور الدين، وكان سبب ذلك ما أشرت إليه من أكثرية الممارسة، لأن ولده تشاغل بفنون غير الحديث، والشيخ نور الدين كان يدري فيه فنا واحدا. سأله عن ذلك القاضي كمال الدين ابن العديم، ثم سأله الشيخ نور الدين الرشيدي، على ما أخبرني بذلك.
- البرهان إبراهيم بن محمد بن خليل الحلبي، سبط ابن العجمي، المتوفى سنة (841 هـ)، قال ابن حجر: وكان لازمه نحوا من عشر سنين.
- الحافظ تقي الدين محمد بن أحمد الفاسي المالكي، عالم البلاد الحجازية، المتوفى سنة (832 هـ)، قال في «ذيل التقييد» له (2/ 106): أخذت عنه الكثير بقراءتي وسماعا. اهـ.
'ইনবাউল গুমর' (২/ ২৭৬): তাঁর নিকট তাঁর যুগের অধিকাংশ মানুষই শিক্ষা লাভ করেছেন। তাঁর সাথে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্যতম হলেন তাঁর জামাতা আমাদের শায়খ নূরুদ্দীন আল-হাইসামি। তিনিই তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং হাদিস চয়ন (তাখরিজ) ও সংকলনের পদ্ধতি শিখিয়েছেন। তিনিই তাঁর কিতাবগুলোর ভূমিকা লিখে দিতেন এবং সেগুলোর নামকরণ করতেন। নিরন্তর অনুশীলনের কারণে আল-হাইসামি তাঁর শায়খের চেয়ে হাদিসের মূল পাঠের (মতন) উপস্থিত স্মৃতির ক্ষেত্রে অধিক দক্ষ হয়ে ওঠেন, এমনকি যার অভিজ্ঞতা নেই সে মনে করবে যে তিনি তাঁর চেয়ে বড় হাফেজ। তবে বিষয়টি এমন নয়, কারণ প্রকৃত হেফজ হলো গভীর মারেফাত বা জ্ঞান। সমাপ্ত।
- হাফেজ আহমদ বিন আলি বিন মুহাম্মদ ইবনে হাজার আল-আসকালানি, মৃত্যু: ৮৫২ হিজরি।
হাফেজ ইবনে হাজার 'ইনবাউল গুমর' (২/ ২৭৭) গ্রন্থে বলেন: আমি দশ বছর আমাদের শায়খের সান্নিধ্যে ছিলাম, যার মাঝে সিরিয়া ও অন্যান্য স্থানে আমার সফরগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আমি তাঁর নিকট অনেক মুসনাদ গ্রন্থ ও হাদিসের ক্ষুদ্র সংকলন (আজজা) পাঠ করেছি। আমি তাঁর কাব্যগ্রন্থের ওপর তাঁর কৃত ব্যাখ্যা এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে তাঁর সাথে আলোচনা ও গবেষণা করেছি। তিনি বহু স্থানে আমার মুখস্থ শক্তির (হেফজ) সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং বারবার নিজ হাতে আমার জন্য তা লিখে দিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর সময় তাঁর পরে হাফেজদের মধ্যে কে অবশিষ্ট আছেন সে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি আমাকে দিয়ে শুরু করেন, দ্বিতীয়ত তাঁর ছেলের নাম বলেন এবং তৃতীয়ত শায়খ নূরুদ্দীনের নাম বলেন। এর কারণ ছিল যা আমি ইতঃপূর্বে অধিক অনুশীলনের বিষয়ে ইঙ্গিত করেছি। কেননা তাঁর ছেলে হাদিস ছাড়া অন্যান্য বিদ্যায় মগ্ন ছিলেন, আর শায়খ নূরুদ্দীন কেবল একটি শাস্ত্রেই অভিজ্ঞ ছিলেন। কাজি কামালুদ্দীন ইবনুল আদিম এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তারপর শায়খ নূরুদ্দীন আর-রশিদি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যেমনটি তিনি আমাকে জানিয়েছেন।
- আল-বুরহান ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন খলিল আল-হালাবি, সিবত ইবনুল আজমি, মৃত্যু: ৮৪১ হিজরি। ইবনে হাজার বলেন: তিনি প্রায় দশ বছর তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন।
- হাফেজ তাকিউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-ফাসি আল-মালিকি, হিজাজ অঞ্চলের আলেম, মৃত্যু: ৮৩২ হিজরি। তিনি তাঁর 'যাইলুত তাকিদ' (২/ ১০৬) গ্রন্থে বলেন: আমি পাঠের মাধ্যমে এবং শ্রবণের মাধ্যমে তাঁর থেকে অনেক কিছু গ্রহণ করেছি। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
- الحافظ شهاب الدين أحمد بن أبي بكر بن إسماعيل البوصيري المتوفى (840 هـ)، قال ابن حجر: لازم شيخنا العراقي على كبر، فسمع منه الكثير. اه. وله من التصانيف «مصباح الزجاجة في زوائد سنن ابن ماجه»، و «إتحاف المهرة الخيرة بزوائد المسانيد العشرة».
- جمال الدين محمد بن عبد الله بن ظهيرة (817 هـ). قال ابن حجر في «الإنباء» (8/ 8): لازم شيخنا العراقي في الحديث. وابنته جويرية، المتوفاة سنة (863 هـ). وابنته زينب، المتوفاة سنة (865 هـ).
- وشهاب الدين الكلوتاتي، صهره زوج ابنته جويرية، المتوفى سنة (835 هـ). وأحمد بن يعقوب بن أحمد، صهره زوج ابنته زينب، المتوفى سنة (856 هـ).
*
صفاته:قال ابن قاضي شهبة: كان معتدل القامة، إلى الطول أقرب، كن اللحية، يصدع بكلامه أرباب الشوكة، لا يهاب سلطانا فضلا عن غيره.
وقال التقي الفاسي: كان كثير الفضائل والمحاسن، متواضعا ظريفا.
وقال ابن حجر: كان كثير الحياء والعلم والتواضع، محافظا على الطهارة، نقي العرض، وافر الجلالة والمهابة على طريق السلف، غالب أوقاته في تصنيف أو إسماع، مع الدين والأوراد، وإدامة الصوم وقيام الليل، كريم الأخلاق، حسن الشرف والأدب والشكل، ظاهر الوضاءة، كأن وجهه مصباح، ومن رآه عرف أنه رجل صالح.
- হাফেজ শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন আবি বকর বিন ইসমাইল আল-বুসিরি (মৃত্যু: ৮৪০ হিজরি)। ইবনে হাজার বলেন: তিনি বয়সের শেষ দিকে আমাদের শায়খ আল-ইরাকির সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তার কাছ থেকে অনেক (হাদিস) শুনেছেন। সমাপ্ত। তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে ‘মিসবাহুজ জুজাজাহ ফি যাওয়ায়েদ সুনান ইবনে মাজাহ’ এবং ‘ইতহাফুল মাহারা আল-খায়রা বি-যাওয়ায়েদ আল-মাসানিদ আল-আশারা’।
- জামালুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন জুহাইরা (৮১৭ হিজরি)। ইবনে হাজার ‘আল-ইনবা’ (৮/৮) গ্রন্থে বলেন: তিনি হাদিস শাস্ত্রে আমাদের শায়খ আল-ইরাকির সান্নিধ্য অবলম্বন করেছিলেন। এবং তার কন্যা জুওয়াইরিয়াহ, যিনি ৮৬৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। এবং তার কন্যা যায়নাব, যিনি ৮৬৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
- এবং শিহাবুদ্দিন আল-কালুতাতাতি, তিনি তার জামাতা এবং কন্যা জুওয়াইরিয়াহর স্বামী ছিলেন, যিনি ৮৩৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। এবং আহমদ বিন ইয়াকুব বিন আহমদ, তিনি তার জামাতা এবং কন্যা যায়নাবের স্বামী ছিলেন, যিনি ৮৫৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
*
তার বৈশিষ্ট্যসমূহ:ইবনে কাজি শুহবাহ বলেন: তিনি মাঝারি গড়নের ছিলেন, যা লম্বা হওয়ার কাছাকাছি ছিল। তিনি ঘন দাড়ির অধিকারী ছিলেন। তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সামনে দ্ব্যর্থহীনভাবে সত্য কথা বলতেন। তিনি সুলতানকেও ভয় পেতেন না, অন্যদের তো প্রশ্নই আসে না।
তাকি আল-ফাসি বলেন: তিনি বহু গুণ ও সৌন্দর্যের অধিকারী ছিলেন এবং অত্যন্ত বিনয়ী ও সুরুচিসম্পন্ন ছিলেন।
ইবনে হাজার বলেন: তিনি অত্যন্ত লাজুক, জ্ঞান ও বিনয়ের অধিকারী ছিলেন। তিনি সর্বদা পবিত্রতা রক্ষা করতেন। তিনি ছিলেন নিষ্কলঙ্ক চরিত্রের অধিকারী এবং সালাফদের অনুসৃত পথে পূর্ণ মর্যাদা ও গাম্ভীর্যের অধিকারী ছিলেন। তার অধিকাংশ সময় অতিবাহিত হতো গ্রন্থ রচনা অথবা হাদিস শ্রবণের মাধ্যমে। সেই সাথে দ্বীনদারি, দৈনন্দিন জিকির-আজকার, নিয়মিত রোজা রাখা এবং রাত জেগে ইবাদতে তিনি মগ্ন থাকতেন। তিনি ছিলেন মহান চরিত্রের অধিকারী এবং চমৎকার আভিজাত্য, আদব ও অবয়বের অধিকারী। তার চেহারা ছিল অত্যন্ত দীপ্তিময়, যেন প্রদীপ সদৃশ। যে কেউ তাকে দেখত, সে বুঝতে পারত যে তিনি একজন সৎকর্মশীল ব্যক্তি।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وقال مرة: كان منور الشيبة، جميل الصورة، كثير الوقار، نزر الكلام، طارحا للتكلف، ضيق العيش، شديد التوفي في الطهارة، لا يعتمد إلا على نفسه أو على الهيثمي، وكان رفيقه وصهره، لطيف المزاج، سليم الصدر، كثير الحياء، قل أن يواجه أحدا بما يكرهه ولو آذاه، متواضعا، منجمعا، حسن النادرة والفكاهة.
وقال أيضا: لازمته مدة، فلم أره ترك قيام الليل، بل صار له كالمألوف، وإذا صلى الصبح استمر غالبا في مجلسه، مستقبل القبلة تاليا ذاكرا إلى أن تطلع الشمس، ويتطوع بصيام ثلاثة أيام في كل شهر، وستة شوال، كثير التلاوة إذا ركب.
وقال ابن فهد: كان شديد التواضع، لا يرى له على أحد فضلا، حكيما واسع الصدر، طويل الروح، لا يغضب إلا لأمر عظيم ويزول في الحال، ليس عنده عقد ولا غش ولا حسد لأحد، لا تأخذه في الله لومة لائم، إذا قام في أمر لا يرده عنه أحد، لا يهاب سلطانا ولا أميرا في قول الحق.
*
ثناء الناس عليه:لقد أكثر الشيوخ الذين عاصروا العراقي من الثناء عليه بالمعرفة والعلم، كالسبكي والعلائي وابن جماعة وابن كثير والأسنائي.
فقد وصفه الشيخ جمال الدين الأسنائي ب: (صاحبنا حافظ الوقت)، ونقل عنه في كتابه «المهمات»، وترجمه في طبقات الشافعية»، ولم يذكر سواه من الأحياء.
وكذلك صرح ابن كثير باستفادته منه تخريج شيء وقف على المحدثين. وامتنع الشبكي حين قدومه القاهرة من التحديث إلى حين حضور العراقي.
এবং তিনি একবার বলেছিলেন: তিনি ছিলেন উজ্জ্বল শশ্রুমণ্ডিত, সুন্দর অবয়বের অধিকারী, অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ, অল্পভাষী, লৌকিকতা বর্জনকারী, অনাড়ম্বর জীবনযাপনে অভ্যস্ত এবং পবিত্রতার বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক। তিনি নিজের অথবা আল-হাইসামি ব্যতীত অন্য কারো ওপর নির্ভর করতেন না, আর আল-হাইসামি ছিলেন তাঁর সফরসঙ্গী ও জামাতা। তিনি কোমল মেজাজের অধিকারী, কলুষমুক্ত অন্তরের অধিকারী ও অত্যন্ত লাজুক ছিলেন। কেউ তাঁকে কষ্ট দিলেও তিনি তাকে অপছন্দনীয় কথার মাধ্যমে সরাসরি মোকাবিলা করতেন না। তিনি ছিলেন বিনয়ী, নির্জনতাপ্রিয় এবং চমৎকার কৌতুক ও হাস্যরসের অধিকারী।
তিনি আরও বলেন: আমি দীর্ঘ সময় তাঁর সান্নিধ্যে ছিলাম, আমি তাঁকে কখনো তাহাজ্জুদের নামাজ (কিয়ামুল লাইল) ত্যাগ করতে দেখিনি, বরং এটি তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। যখন তিনি ফজরের নামাজ আদায় করতেন, অধিকাংশ সময় নিজের জায়নামাজে কিবলামুখী হয়ে বসে থাকতেন এবং সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত তিলাওয়াত ও জিকিরে মগ্ন থাকতেন। তিনি প্রতি মাসে তিনটি নফল রোজা এবং শাওয়ালের ছয়টি রোজা পালন করতেন। সওয়ারিতে আরোহণ অবস্থায় তিনি প্রচুর তিলাওয়াত করতেন।
ইবনে ফাহাদ বলেন: তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, কারো ওপর নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দেখাতেন না। তিনি ছিলেন প্রজ্ঞাবান, প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী ও ধৈর্যশীল। অত্যন্ত গুরুতর বিষয় ছাড়া তিনি রাগান্বিত হতেন না এবং সেই রাগও দ্রুত প্রশমিত হয়ে যেত। তাঁর মাঝে কারো প্রতি কোনো বিদ্বেষ, প্রতারণা বা হিংসা ছিল না। আল্লাহর পথে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে পরোয়া করতেন না। যখন তিনি কোনো কাজে সংকল্পবদ্ধ হতেন, কেউ তাঁকে তা থেকে নিবৃত্ত করতে পারত না। সত্য কথা বলার ক্ষেত্রে তিনি কোনো সুলতান বা আমিরকে ভয় করতেন না।
*
তাঁর সম্পর্কে মানুষের প্রশংসা:আল-ইরাকির সমসাময়িক শায়খগণ তাঁর জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, যেমন আস-সুবকি, আল-আলাই, ইবনে জামাআহ, ইবনে কাসির এবং আল-আসনাবি।
শায়খ জামালুদ্দিন আল-আসনাবি তাঁকে ‘আমাদের সাথী, এই সময়ের হাফেজ’ (হাফেজুল ওয়াক্ত) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর ‘আল-মুহিম্মাত’ গ্রন্থে তাঁর থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং ‘তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ’ গ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন; অথচ তিনি জীবিতদের মধ্যে একমাত্র তাঁর জীবনীই সেখানে উল্লেখ করেছিলেন।
একইভাবে ইবনে কাসিরও স্পষ্ট করে বলেছেন যে, মুহাদ্দিসদের কাছে অস্পষ্ট ছিল এমন কিছু বিষয়ের তাখরিজের (হাদিসের উৎস নির্ণয়) ক্ষেত্রে তিনি তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন। আর আস-সুবকি যখন কায়রোতে আসতেন, আল-ইরাকির উপস্থিতি ছাড়া হাদিস বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকতেন।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
وقال القاضي عز الدين ابن جماعة: كل من يدعي الحديث في الديار المصرية سواه فهو مدع، وكان يراجعه فيما يهمه ويشكل عليه، ومصنفه في تخريج أحاديث الرافعي مشحون في حواشيه بخطه: يسأل من الشيخ عبد الرحيم عنه.
وقال الحافظ تقي الدين ابن رافع وهو بمكة وقد مر به الشيخ عبد الرحيم: ما في القاهرة محدث إلا هذا والقاضي عز الدين ابن جماعة، فلما بلغه وفاة القاضي عز الدين وهو بدمشق، قال: ما بقي الآن بالقاهرة محدث إلا الشيخ زين الدين العراقي. وأما تلامذته فقد أثنوا عليه بالعلم والمعرفة:
قال ابن حجر في «معجمه»: اشتغل بالعلوم، وأحب الحديث، لكن لم يكن له من يخرجه عن طريق أهل الإسناد، وكان قد لهج بتخريج «الإحياء» وله من العمر نحو العشرين.
وقال أيضا في «إنباء الغمر»: صار المنظور إليه في هذا الفن .. ، ولم نر في هذا الفن أتقن منه، وعليه يخرج غالب أهل عصره، ومن أخصهم به شيخنا صهره الهيتمي.
وقال أيضا: لم أر أعلم بصناعة الحديث منه، و به تخرجت، وقد أخبرني أنه عمل تخريج أحاديث البيضاوي بين الظهر والعصر.
وقال أيضا: وكان عالما بالنحو واللغة والغريب والقراآت والحديث والفقه وأصوله، غير أنه غلب عليه فن الحديث فاشتهر به، وانفرد بالمعرفة فيه مع العلو.
وقال أيضا: وذهنه في غاية الصحة، ونقله نقر في حجر.
وقال: وكان كثير الكتب والأجزاء، لم أر عند أحد بالقاهرة أكثر من كتبه وأجزائه.
কাজি ইজ্জুদ্দিন ইবনে জামাআহ বলেন: মিসর ভূখণ্ডে তিনি ব্যতীত হাদীস শাস্ত্রের পারদর্শী হওয়ার দাবিদার প্রত্যেকেই ভুয়া। তিনি গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয়ে তাঁর শরণাপন্ন হতেন। রাফেঈর হাদীসসমূহের তাখরিজ বিষয়ক তাঁর গ্রন্থের টীকাসমূহ তাঁর (কাজি ইজ্জুদ্দিনের) স্বহস্তে লিখিত এই কথায় পরিপূর্ণ যে: এই বিষয়ে শাইখ আবদুর রহীমকে জিজ্ঞাসা করা হোক।
হাফেজ তাকিউদ্দীন ইবনে রাফে মক্কায় থাকা অবস্থায় শাইখ আবদুর রহীম তাঁর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলেছিলেন: কায়রোতে এই ব্যক্তি এবং কাজি ইজ্জুদ্দিন ইবনে জামাআহ ছাড়া আর কোনো মুহাদ্দিস নেই। এরপর যখন তিনি দামেস্কে থাকা অবস্থায় কাজি ইজ্জুদ্দিনের মৃত্যুর সংবাদ পেলেন, তখন বললেন: এখন কায়রোতে শাইখ যাইনুদ্দীন ইরাকি ছাড়া আর কোনো মুহাদ্দিস অবশিষ্ট নেই। আর তাঁর ছাত্ররা তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রশংসা করেছেন:
ইবনে হাজার তাঁর 'মুজাম' গ্রন্থে বলেন: তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় আত্মনিয়োগ করেন এবং হাদীস শাস্ত্রকে ভালোবাসেন, তবে এমন কেউ ছিল না যে তাঁকে ইসনাদ বিশেষজ্ঞদের পদ্ধতিতে পরিচালিত করবে। মাত্র বিশ বছর বয়সেই তিনি 'এহয়াউ উলুমিদ্দীন'-এর হাদীসসমূহের তাখরিজের কাজে নিমগ্ন হয়ে পড়েন।
তিনি আরও 'ইনবাউল গুমর' গ্রন্থে বলেন: তিনি এই বিদ্যায় প্রধান ব্যক্তিতে পরিণত হন... এবং এই বিদ্যায় আমরা তাঁর চেয়ে বেশি দক্ষ কাউকে দেখিনি। তাঁর কাছেই তাঁর যুগের অধিকাংশ লোক শিক্ষা গ্রহণ করেছে, যাদের মধ্যে তাঁর বিশেষ ছাত্র হলেন আমাদের শাইখ ও তাঁর জামাতা হাইতামী।
তিনি আরও বলেন: আমি হাদীস শাস্ত্রের কারিগরি জ্ঞানে তাঁর চেয়ে অধিক অভিজ্ঞ কাউকে দেখিনি, এবং তাঁর কাছেই আমি শিক্ষা লাভ করেছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি জোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে বায়জাবীর হাদীসসমূহের তাখরিজের কাজ সম্পন্ন করেছেন।
তিনি আরও বলেন: তিনি নাহু (ব্যাকরণ), লুগাত (ভাষা), গারিব (অপ্রচলিত শব্দ), কিরাত, হাদীস, ফিকহ ও উসূলে ফিকহ শাস্ত্রে পণ্ডিত ছিলেন। তবে হাদীস শাস্ত্রই তাঁর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছিল এবং এই শাস্ত্রেই তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন। উচ্চ পর্যায়ের সনদের সাথে এই শাস্ত্রের জ্ঞানে তিনি অনন্য ছিলেন।
তিনি আরও বলেন: তাঁর মেধা ছিল অত্যন্ত প্রখর এবং তাঁর উদ্ধৃতি ছিল পাথরে খোদাই করার মতো সুদৃঢ়।
তিনি বলেন: তাঁর কাছে প্রচুর পরিমাণে কিতাব ও আজজা (পুস্তিকা) ছিল; কায়রোতে আমি আর কারো কাছে তাঁর চেয়ে বেশি কিতাব ও আজজা দেখিনি।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وقال التقي الفاسي في «ذيل التقييد»: كان حافظا متقنا، عارفا بفنون الحديث والفقه والعربية وغير ذلك
… ومسموعاته وشيوخه في غاية الكثرة، وأخذ عنه علماء الديار المصرية وغيرهم، وأثنوا على فضائله.
وقال ابن فهد في «لحظ الألحاظ»: العلامة الحجة الحبر الناقد، عمدة
الأنام، حافظ الإسلام، فريد دهره ووحيد عصره، من فاق بالحفظ والإتقان في زمانه، وشهد له بالتفرد في فنه أئمة عصره وأوانه.
*
وفاته:قال تقي الدين الفاسي: أقام - بعد انصرافه من المدينة المنورة - بالقاهرة مشتغلا بالتصنيف والإفادة والإسماع حتى مضى لسبيله محمودا.
وكانت وفاته رحمه الله ليلة الأربعاء في الثامن من شعبان سنة ست وثمان مئة (806 هـ) بالقاهرة، وذلك عقب خروجه من الحمام، وكانت جنازته مشهودة، وقدم للصلاة عليه الشيخ شهاب الدين الذهبي، ودفن بتربة آل العراقي خارج باب البرقية، ومات وله إحدى وثمانون سنة ونيفا
(1).
* * *
--------------------------------------------
তাকি আল-ফাসি ‘যাইলুত তাকিয়িদ’-এ বলেছেন: তিনি ছিলেন একজন সুনিপুণ হাফেজ, হাদিসের বিভিন্ন শাখা, ফিকহ, আরবি ভাষা এবং অন্যান্য বিষয়ে বিজ্ঞ
… তাঁর শ্রুত বিষয়াদি এবং উস্তাদগণের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত বেশি, এবং মিশরের আলেমগণ ও অন্যরা তাঁর থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রশংসা করেছেন।
ইবনু ফাহাদ ‘লাহযুল আলহায’-এ বলেছেন: আল্লামা, হুজ্জাত (প্রমাণ), বিজ্ঞ সমালোচক, সৃষ্টির নির্ভরস্থল, ইসলামের হাফেজ, তাঁর সময়ের অদ্বিতীয় ও অনন্য ব্যক্তিত্ব, যিনি মুখস্থ ও নিখুঁতকরণের ক্ষেত্রে নিজ যুগের সকলকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর সময় ও কালের ইমামগণ তাঁর শাস্ত্রীয় অনন্যতার সাক্ষ্য দিয়েছেন।
*
তাঁর মৃত্যু:তাকীউদ্দীন আল-ফাসি বলেছেন: মদিনা মুনাওয়ারা থেকে ফিরে আসার পর তিনি কায়রোতে অবস্থান করেন এবং সেখানে গ্রন্থ রচনা, শিক্ষা দান ও হাদিস পাঠে মশগুল থাকেন, পরিশেষে তিনি প্রশংসিত অবস্থায় ইহলোক ত্যাগ করেন।
তাঁর মৃত্যু (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) হয়েছিল ৮০৬ হিজরি সনের ৮ই শাবান বুধবার রাতে কায়রোতে, আর তা ছিল গোসলখানা থেকে বের হওয়ার পরপরই। তাঁর জানাজায় বিশাল জনসমাগম হয়েছিল, এবং জানাজার সালাত পড়ানোর জন্য শায়খ শিহাবুদ্দীন আদ-দাহাবিকে ইমাম হিসেবে সামনে দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে বাবুল বারকিয়্যাহর বাইরে আল-ইরাকি বংশোদ্ভূতদের কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল একাশি বছরের কিছু বেশি
(১)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
التعريف بالكتاب«تقريب الأسانيد وترتيب المسانيد» هي التسمية التي أطلقها المصنف على كتابه في أصله الأول، ثم بدا للمصنف أن يختصره، فاختصره بنحو النصف فيما قال صاحب «لحظ الألحاظ» (1/ 150)، وقد أطلق عليه التسمية نفسها، وأصبح المختصر يعرف ب «الأحكام الصغرى»، والأول عرف ب «الأحكام الكبرى»، هكذا فرق بينهما المصنف في شرحه «طرح التثريب»، وكذلك ولده أبو زرعة كما أكمله.
ثم إن المصنف شرح على الأحكام الصغرى لا «الكبرى»، وأورد في شرحه في ثناياه ما جاء من زيادات الكبرى، وهذه الزيادات هي مزيد تخريج أو إشارة إلى اختلاف ألفاظ في «الصحيحين» وغيرهما.
وأما موضوع الكتاب: فهو أحاديث الأحكام، مع جملة من أحاديث في أبواب الأدب والاستئذان والاعتقاد، جعلها في آخره، كعادة العلماء الذين يصنفون في أحاديث الأحكام، يلحقون في آخره جملة من الأحاديث من أبواب متفرقة غير فقهية.
وكان هدف الحافظ العراقي في تصنيفه هذا هو:
1 - جمع مختصر في الحديث.
2 - متصل الأسانيد بالأئمة الأعلام.
3 - وأسانيده متصفة بما قيل: إنه أصح الأسانيد مطلقا أو مقيدا.
গ্রন্থ পরিচিতি«তাকরীবুল আসানিদ ওয়া তারতীবুল মাসানিদ» হলো সেই নাম যা গ্রন্থকার তাঁর কিতাবের মূল পাণ্ডুলিপির ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছিলেন। এরপর গ্রন্থকারের নিকট এটি সংক্ষেপ করার প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ পায়, ফলে তিনি এটি প্রায় অর্ধেক পরিমাণ সংক্ষেপ করেন, যেমনটি «লাহযুল আলহায» (১/ ১৫০) গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন। তিনি একে একই নাম প্রদান করেছিলেন, তবে সংক্ষিপ্ত রূপটি «আল-আহকামুস সুগরা» নামে পরিচিতি পায় এবং মূল গ্রন্থটি «আল-আহকামুল কুবরা» নামে পরিচিত হয়। গ্রন্থকার তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ «তারহুত তাসরীব»-এ উভয়ের মধ্যে এভাবেই পার্থক্য করেছেন এবং তাঁর পুত্র আবু যুরআহ-ও গ্রন্থটির পরিশিষ্ট সম্পন্ন করার সময় একই পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন।
অতঃপর গ্রন্থকার «আল-আহকামুস সুগরা»-এর ওপর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, «কুবরা»-এর ওপর নয়। তিনি তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থের ভেতরে «কুবরা»-তে থাকা অতিরিক্ত অংশগুলোও উল্লেখ করেছেন। এই অতিরিক্ত অংশগুলো মূলত অধিকতর তাখরীজ (উৎস বর্ণনা) অথবা «সহীহাইন» (বুখারী ও মুসলিম) ও অন্যান্য কিতাবের শব্দের ভিন্নতার প্রতি ইঙ্গিত মাত্র।
আর কিতাবটির বিষয়বস্তু হলো: আহকাম বা বিধিবিধান বিষয়ক হাদিসসমূহ। এর সাথে সাথে শিষ্টাচার, অনুমতি গ্রহণ ও আকিদা অধ্যায়ের বেশ কিছু হাদিস তিনি কিতাবের শেষে যুক্ত করেছেন, যেমনটি আহকাম বিষয়ক হাদিসের কিতাব রচনাকারী আলেমগণের রীতি—তাঁরা কিতাবের শেষে ফিকহ বহির্ভূত বিভিন্ন অধ্যায়ের একগুচ্ছ হাদিস যুক্ত করে থাকেন।
এই কিতাবটি সংকলনে হাফেজ ইরাকীর লক্ষ্য ছিল:
1 - হাদিস শাস্ত্রের একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন তৈরি করা।
2 - প্রখ্যাত ইমামগণের সাথে যার সনদসমূহ নিরবচ্ছিন্নভাবে যুক্ত।
3 - এবং এর সনদসমূহ এমন বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত যেগুলোকে সাধারণভাবে বা বিশেষ অর্থে ‘সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ’ বলা হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
ودواعي هذا الجمع عند المصنف تنحصر في:
1 - أنه يقبح بطالب الحديث بل بطالب العلم أن لا يحفظ بإسناده عدة من الأخبار متصلة إلى الأئمة.
2 - وأنه لا يتخلص من الحرج بنقل ما ليست له به رواية إلا بحفظ الحديث بأسانيده، وبين المصنف في «طرح التثريب» (1/ 17) أن ذلك غير سائغ بإجماع أهل الدراية، وحكى في ذلك الإجماع، ينقله عن أبي بكر محمد بن خير الأموي الإشبيلي، قال: لا يصح لمسلم أن يقول: قال رسول الله كذا حتى يكون عنده ذلك القول مرويا ولو على أقل وجوه الروايات، لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من كذب علي متعمدا فليتبوأ مقعده من النار» اهـ.
وهذا هو مذهب الحافظ العراقي في هذه المسألة.
3 - وأن حفظ الأسانيد في هذه الأعصار فيه صعوبة لطولها ولقصر أسانيد المتقدمين.
* وقد وضع الحافظ لتحقيق الجمع المختصر خطة مبتكرة في جمعه واختصاره وترتيبه هي:
1 جمع الأحاديث في تراجم محصورة فيما عد من أصح الأسانيد.
2 - مصدر هذه الأحاديث «موطأ مالك» برواية أبي مصعب الزهري، و «مسند أحمد بن حنبل».
3 - وعدد التراجم بأسانيدها ستة عشرة ترجمة، أربعة من «الموطأ» واثنا عشر من «المسند»، فالتي في «موطأ مالك»:
গ্রন্থকারের নিকট এই সংকলনের কারণসমূহ নিম্নরূপ:
১ - হাদীসের ছাত্র, বরং জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য এটি অত্যন্ত অশোভন যে, সে ইমামগণ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন সনদে বেশ কিছু হাদীস মুখস্থ রাখবে না।
২ - যে বর্ণনা তার নিকট নেই, তা বর্ণনা করার দায়বদ্ধতা বা সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয় হাদীসসমূহ সনদের সাথে মুখস্থ করা ছাড়া। গ্রন্থকার ‘তরহুত তাসরিব’ (১/১৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, বিজ্ঞজনদের (আহলুদ দিরায়া) ঐকমত্য অনুযায়ী এটি জায়েজ নয়। তিনি এ ব্যাপারে ইজমা বা ঐকমত্যের কথা আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল খাইর আল-উমাভী আল-ইশবিলী থেকে উদ্ধৃত করে বলেছেন: কোনো মুসলিমের জন্য এটি বলা সমীচীন নয় যে, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ বলেছেন’, যতক্ষণ না সেই উক্তিটি তার কাছে কোনো এক সূত্রে বর্ণিত থাকে—তা বর্ণনার সর্বনিম্ন স্তরের হলেও। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে মিথ্যা বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়।"
আর এই মাসআলায় এটিই হাফেজ ইরাকী রহ.-এর মাযহাব বা অভিমত।
৩ - বর্তমান যুগে সনদসমূহ দীর্ঘ হওয়ার কারণে তা মুখস্থ করা অত্যন্ত কঠিন, অথচ পূর্ববর্তী ইমামগণের নিকট সনদ ছিল সংক্ষিপ্ত।
* এই সংক্ষিপ্ত সংকলনটি সম্পন্ন করার জন্য হাফেজ এর সংগ্রহ, সংক্ষিপ্তকরণ এবং বিন্যাসের ক্ষেত্রে একটি উদ্ভাবনী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, যা হলো:
১. বিশুদ্ধতম সনদ হিসেবে গণ্য সনদসমূহের মধ্য থেকে সীমিত সংখ্যক শিরোনামের অধীনে হাদীসগুলো সংকলন করা।
২ - এই হাদীসগুলোর উৎস হলো আবু মুসআব আজ-জুহরীর বর্ণনায় ‘মুয়াত্তা মালেক’ এবং ‘মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বল’।
৩ - সনদসহ শিরোনামগুলোর মোট সংখ্যা হলো ষোলটি; যার মধ্যে চারটি ‘মুয়াত্তা’ থেকে এবং বারোটি ‘মুসনাদ’ থেকে। ‘মুয়াত্তা মালেক’-এর শিরোনামগুলো হলো:
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
1 - عن نافع عن ابن عمر.
2 - عن أبي الزناد، عن الأعرج، عن أبي هريرة.
3 عن الزهري، عن أنس.
4 عن عبد الرحمن بن القاسم، عن أبيه، عن عائشة.
* والتي في «مسند أحمد» عن:
5 - عبد الرزاق، عن معمر، عن الزهري، عن سالم بن عبد الله، عن أبيه، عن عمر.
6 - سفيان بن عيينة، عن الزهري، عن سالم، عن أبيه.
7 - يزيد بن هارون، عن هشام، عن محمد بن سيرين، عن عبيدة، عن علي ابن أبي طالب.
8 - أبو معاوية، عن الأعمش، عن إبراهيم، عن علقمة، عن عبد الله بن مسعود.
9 - عبد الرزاق، عن معمر، عن همام، عن أبي هريرة.
10 - سفيان بن عيينة، عن الزهري، عن سعيد بن المسيب، عن أبي هريرة.
11 حسن بن موسى، عن شيبان بن عبد الرحمن، عن يحيى بن أبي كثير، عن أبي سلمة، عن أبي هريرة.
12 - سفيان، عن عمرو، عن جابر.
13 - زيد بن الحباب، عن حسين بن واقد، عن عبد الله بن بريدة، عن بريدة.
14 - حجاج بن محمد، عن ليث بن سعد، عن يزيد بن أبي حبيب، عن أبي الخير، عن عقبة بن عامر.
১ - নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে।
২ - আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ’রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে।
৩ যুহরী থেকে, তিনি আনাস থেকে।
৪ আবদুর রহমান ইবনুল কাসিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়িশা থেকে।
* আর যা «মুসনাদে আহমাদ»-এ বর্ণিত হয়েছে:... থেকে:
৫ - আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালেম ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উমর থেকে।
৬ - সুফিয়ান ইবনে উইয়ায়না থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালেম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে।
৭ - ইয়াযীদ ইবনে হারুন থেকে, তিনি হিশাম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সীরীন থেকে, তিনি উবাইদাহ থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব থেকে।
৮ - আবু মুয়াবিয়া থেকে, তিনি আল-আ’মাশ থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি আলক্বামাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে।
৯ - আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তিনি হাম্মাম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে।
১০ - সুফিয়ান ইবনে উইয়ায়না থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে।
১১ হাসান ইবনে মুসা থেকে, তিনি শায়বান ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে।
১২ - সুফিয়ান থেকে, তিনি আমর থেকে, তিনি জাবির থেকে।
১৩ - যায়েদ ইবনুল হুবাব থেকে, তিনি হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি বুরাইদাহ থেকে।
১৪ - হাজ্জাজ ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি লাইস ইবনে সাদ থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে আবি হাবীব থেকে, তিনি আবুল খায়ের থেকে, তিনি উকবাহ ইবনে আমির থেকে।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
15 - عبد الرزاق، عن معمر، عن الزهري، عن عروة، عن عائشة.
16 - يحيى بن سعيد، عن عبيد الله، عن القاسم، عن عائشة.
1 - وجعل المصنف هذه الأسانيد بهذه التراجم متصلة الإسناد، حيث ذكر إسناده المتصل إلى «الموطأ» و «مسند أحمد».
2 - ورتب هذه التراجم على أبواب الفقه كما هي كتب أحاديث الأحكام، لسهولة ذلك.
* وهاهنا يظهر لنا سبب تسمية هذا الكتاب «تقريب الأسانيد وترتيب المسانيد»، قال المصنف في «طرح التثريب» (1/ 22): المناسبة بين الكتاب وهذه التسمية، أن الأسانيد الطوال قربت بكونها جمعت في تراجم محصورة، فصارت قريبة التناول، وأن الأحاديث المرتبة على التراجم جرت العادة بأن توضع على الحروف في تراجم الرجال فرتبت هذه على أبواب الفقه مع كونها على التراجم.
* كما أنه يظهر لنا وجه الاختصار في هذا الكتاب، حيث لم يدخل الأسانيد مع كل حديث، بل أورد الشيوخ والرجال في المقدمة، قال المصنف في «طرح التثريب» (1/ 16): ولم أر إدخاله - يعني ابنه - في رجال الكتاب لصغر سنه عن الشيوخ، فرأيت أن أذكره هنا - يعني في المقدمة - وأبين وقوع أحاديث الكتاب له عالية، لاحتمال أن يطول عمره فيحدث به.
* وبذلك يتحقق ما أراده المصنف بقوله في هذا المختصر أنه يغني عن حمل الأسفار في الأسفار، وعن مراجعة الأصول عند المذاكرة والاستحضار.
১৫ - আব্দুর রাজ্জাক, মা‘মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়িশা থেকে।
১৬ - ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি কাসিম থেকে, তিনি আয়িশা থেকে।
১ - গ্রন্থকার এই জীবনীগুলোর মাধ্যমে এই সনদগুলোকে নিরবচ্ছিন্ন সনদে পরিণত করেছেন, যেখানে তিনি ‘মুয়াত্তা’ এবং ‘মুসনাদে আহমাদ’ পর্যন্ত তার নিরবচ্ছিন্ন সনদ উল্লেখ করেছেন।
২ - তিনি এই জীবনীগুলোকে ফিকহী অধ্যায় অনুসারে সাজিয়েছেন, যেমনটি আহকামের হাদীস গ্রন্থগুলোতে করা হয়, যাতে তা সহজবোধ্য হয়।
* আর এখানেই আমাদের কাছে এই কিতাবটির ‘তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ’ নামকরণের কারণ স্পষ্ট হয়। গ্রন্থকার ‘তারহুত তাসরীব’ (১/ ২২) গ্রন্থে বলেছেন: এই গ্রন্থ ও নামকরণের মধ্যে সামঞ্জস্য হলো, দীর্ঘ সনদগুলোকে নির্দিষ্ট জীবনীসমূহে একত্রিত করার মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, ফলে তা সহজসাধ্য হয়েছে। আর জীবনী অনুসারে বিন্যস্ত হাদীসগুলো সাধারণত বর্ণনাকারীদের নামের বর্ণানুক্রমিক ক্রমে সাজানো হয়, কিন্তু এখানে জীবনীভিত্তিক হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোকে ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।
* তেমনিভাবে এই গ্রন্থে সংক্ষিপ্তকরণের পদ্ধতিটিও আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়, কারণ তিনি প্রতিটি হাদীসের সাথে সনদ উল্লেখ করেননি, বরং শিক্ষক ও বর্ণনাকারীদের নাম ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। গ্রন্থকার ‘তারহুত তাসরীব’ (১/ ১৬) গ্রন্থে বলেছেন: আমি তাকে (অর্থাৎ তার পুত্রকে) কিতাবের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা সমীচীন মনে করিনি, কারণ শিক্ষকদের তুলনায় তার বয়স অনেক কম ছিল। তাই আমি তাকে এখানে (অর্থাৎ ভূমিকায়) উল্লেখ করা এবং এই কিতাবের হাদীসগুলো তার উচ্চ সনদে প্রাপ্তি সাব্যস্ত করা যথাযথ মনে করেছি, যাতে তার দীর্ঘায়ু লাভের সম্ভাবনা থাকে এবং তিনি তা বর্ণনা করতে পারেন।
* এর মাধ্যমে গ্রন্থকারের সেই উদ্দেশ্যই পূর্ণ হয়েছে যা তিনি এই সংক্ষিপ্তসার সম্পর্কে বলেছিলেন যে, এটি ভ্রমণের সময় ভারী কিতাব বহনের কষ্ট দূর করবে এবং জ্ঞানচর্চা ও মুখস্থ করার সময় মূল কিতাবগুলো দেখার প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্তি দেবে।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
* وأما خطة المصنف في تخريج هذه الأحاديث:
فله في ذلك طريقان:
1 - تخريج الأحاديث بالرواية بإسناده في التراجم الستة عشرة من كتابي «الموطأ» و «المسند».
2 - تخريج الأحاديث بالعزو إلى المصادر الحديثية، وطريقتها فيها كما بين في مقدمته:
أ - إن كان الحديث في «الصحيحين» لم يعزه لأحد، فالسكوت عنه يدل على ذلك.
ب - وإن كان في أحد «الصحيحين» اقتصر في العزو إليه.
ج - وإن لم يكن في أحدهما، عزاه إلى من خرجه من أصحاب السنن الأربعة وغيرهم ممن التزم الصحة كابن حبان والحاكم، أو غيرها وهي كثيرة.
د - وإن كان في هذه المصادر المعزو إليها زيادة أشار إليها إن دلت على حكم.
هـ - ويشير إلى زيادات من مصادر أخرى:
فإن كانت الزيادة من حديث ذلك الصحابي لم يذكر اسم الصحابي، بل يقول مثلا: ولأبي داود كذا، وإن كانت الزيادة من حديث غير الصحابي المذكور أولا، قال: ولفلان من حديث فلان كذا.
* ومن طريقته في إيراد الأحاديث:
1 - إذا اجتمع حديثان فأكثر تحت ترجمة واحدة، مثل: «عن نافع عن ابن عمر»، ألا يكرر هذه الترجمة في الحديث الثاني، بل يكتفي بقوله: (وعنه). ما لم يحصل اشتباه فيكرر تلك الترجمة.
* আর এই হাদিসসমূহ তাখরিজ করার ক্ষেত্রে গ্রন্থকারের কর্মপদ্ধতি নিম্নরূপ:
এক্ষেত্রে তাঁর দুটি পদ্ধতি রয়েছে:
১ - 'আল-মুওয়াত্তা' ও 'আল-মুসনাদ' গ্রন্থদ্বয় হতে ১৬টি পরিচ্ছেদে স্বীয় সনদে বর্ণনার মাধ্যমে হাদিসসমূহের তাখরিজ করা।
২ - হাদিসের মূল উৎসসমূহের উদ্ধৃতি প্রদানের মাধ্যমে হাদিসের তাখরিজ করা, আর এর পদ্ধতি তিনি তাঁর ভূমিকায় যেভাবে বর্ণনা করেছেন:
ক - যদি হাদিসটি 'সহিহাইন' (বুখারি ও মুসলিম)-এ থাকে, তবে তিনি তা কারো দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেননি; সুতরাং এ ব্যাপারে তাঁর নীরবতা একথাই নির্দেশ করে।
খ - আর যদি তা 'সহিহাইন'-এর কোনো একটিতে থাকে, তবে তিনি কেবল সেটিরই উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
গ - আর যদি তা কোনোটিতেই না থাকে, তবে তিনি সেটিকে 'সুনান' চতুষ্টয় এবং অন্যান্য যারা সহিহ হওয়ার শর্তারোপ করেছেন যেমন ইবনে হিব্বান ও হাকিম, অথবা এ জাতীয় অন্যান্য (যা সংখ্যায় অনেক) কিতাব থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।
ঘ - আর যদি এই উদ্ধৃত উৎসসমূহে কোনো অতিরিক্ত অংশ থাকে যা কোনো বিধান নির্দেশ করে, তবে তিনি সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন।
ঙ - এবং তিনি অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত অতিরিক্ত অংশসমূহ নির্দেশ করেন:
যদি অতিরিক্ত অংশটি সেই একই সাহাবির হাদিস থেকে হয়, তবে তিনি সাহাবির নাম উল্লেখ করেন না, বরং বলেন: যেমন, 'আবু দাউদ-এ এরূপ রয়েছে'। আর যদি অতিরিক্ত অংশটি পূর্বে উল্লিখিত সাহাবি ব্যতীত অন্য কোনো সাহাবির হাদিস থেকে হয়, তবে তিনি বলেন: 'অমুক গ্রন্থে অমুক সাহাবির হাদিসে এরূপ রয়েছে'।
* হাদিসসমূহ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁর অন্যতম পদ্ধতি হলো:
১ - যখন একটি শিরোনামের অধীনে দুই বা ততোধিক হাদিস একত্রিত হয়, যেমন: 'নাফে হতে, তিনি ইবনে উমর হতে বর্ণনা করেছেন', তখন তিনি দ্বিতীয় হাদিসের ক্ষেত্রে এই শিরোনামটি পুনরায় উল্লেখ করেন না, বরং কেবল বলেন: (এবং তাঁর থেকে বর্ণিত)। যতক্ষণ না কোনো প্রকার অস্পষ্টতা তৈরির সম্ভাবনা থাকে, অন্যথায় তিনি সেই শিরোনামটি পুনরায় উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
2 - وعند عزو الحديث لمن خرجه، إنما يريد (أصل الحديث)، لا لفظه بعينه، وإنما يجري على قاعدة المستخرجات، حيث يلاحظ صاحب الاستخراج أصل الحديث، لا يلتفت إلى مطابقة لفظ الأصل، فربما أورده المستخرج بزيادة أو بنقصان أو غير ذلك. والمصنف عند عزوه الأحاديث لم يحدد أن لفظ هذه الرواية يوافق أحد المصادر، بل هو على قاعدة المستخرجات في ذلك.
* لكن يبقى أمر وهو أن المصنف لما اختار أن تكون أحاديث الكتاب فيما عد من أصح الأسانيد، فهو حكم عليها وبيان لدرجتها، وكذلك ما عزاه إلى الصحيحين أو إلى أحدهما، فهو حكم عليها وتأكيد لصحتها، وحتى التي عزاها إلى السنن الأربعة وغيرها، فهو حكم عليها باعتبار أنه عد من أصح الأسانيد.
لكن هذه الزيادات التي يزيدها من مصادر أخرى، وليست هي في الصحيحين أو أحدهما، ما حكمها؟ وهل تكلف المصنف الحكم عليها وبيان درجتها؟
إن المستقرئ للكتاب يرى أن المصنف ربما عزا إلى أحد السنن وبين درجة الحديث، كأن يقول: وإسناده حسن، مثلا، أو يصححه، أو ينقل حكمه عن أحد الأئمة المعتبرين كالحاكم والنسائي والبيهقي ويسكت عنه، وأحيانا ينقل عنه ويرد عليه، كما فعل ذلك عند رده على ابن حزم والطحاوي.
* وأخيرا بعد بيان منهج المصنف وطريقته وشرطه في هذا الكتاب، فهل وفى المصنف بما رسمه من منهج؟
سيرى القارئ من خلال النظر في التعليقات على هذا الكتاب ما يدل على مدى التزامه بذلك.
২ - আর যখন হাদিসটিকে এর সংকলনকারীর দিকে সম্বন্ধ করা হয়, তখন তিনি কেবল (হাদিসের মূল অংশ) উদ্দেশ্য করেন, এর সুনির্দিষ্ট শব্দাবলি নয়। বরং এটি মুস্তাখরাজাত-এর নীতি অনুযায়ী চলে, যেখানে মুস্তাখরাজ-প্রণেতা হাদিসের মূলের দিকে লক্ষ্য রাখেন, মূল শব্দের হুবহু মিলের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করেন না। ফলে মুস্তাখরাজ-প্রণেতা হয়তো তাতে কিছু বৃদ্ধি বা হ্রাস বা অন্য কিছু সহ উল্লেখ করেন। আর গ্রন্থকার যখন হাদিসগুলো সম্বন্ধ করেন, তখন তিনি এটি নির্দিষ্ট করেন না যে এই বর্ণনার শব্দাবলি কোনো একটি উৎসের সাথে হুবহু মিলে যাবে, বরং এ ক্ষেত্রে তিনি মুস্তাখরাজাত-এর নীতি অনুসরণ করেন।
* তবে একটি বিষয় থেকে যায়, তা হলো গ্রন্থকার যখন কিতাবের হাদিসগুলোকে সবচেয়ে সহিহ সনদগুলোর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে নির্বাচন করেছেন, তখন এটি মূলত সেগুলোর ওপর তাঁর পক্ষ থেকে হুকুম এবং সেগুলোর মান বর্ণনা। একইভাবে তিনি যা সহিহাইন বা তার কোনো একটির দিকে সম্বন্ধ করেছেন, তাও সেগুলোর ওপর তাঁর হুকুম এবং সেগুলোর বিশুদ্ধতার নিশ্চিতকরণ। এমনকি তিনি যা সুনান আরবায়াহ (চার সুনান) বা অন্য কিতাবের দিকে সম্বন্ধ করেছেন, সেগুলোকেও তিনি সবচেয়ে সহিহ সনদ হিসেবে গণ্য করার কারণে সেগুলোর ওপর হুকুম হিসেবে বিবেচিত হবে।
কিন্তু তিনি অন্যান্য উৎস থেকে যে অতিরিক্ত অংশগুলো বৃদ্ধি করেন, যা সহিহাইন বা তার কোনোটিতে নেই, সেগুলোর হুকুম কী? আর গ্রন্থকার কি সেগুলোর ওপর হুকুম প্রদান এবং সেগুলোর মান বর্ণনার দায়ভার গ্রহণ করেছেন?
নিশ্চয়ই কিতাবটি গভীরভাবে পাঠকারী দেখতে পাবেন যে, গ্রন্থকার হয়তো কোনো একটি সুনান গ্রন্থের দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং হাদিসের মান বর্ণনা করেছেন, যেমন তিনি বলেন: "আর এর সনদ হাসান", উদাহরণস্বরূপ, অথবা তিনি একে সহিহ বলেন, কিংবা তিনি কোনো নির্ভরযোগ্য ইমাম যেমন হাকেম, নাসাঈ এবং বায়হাকি থেকে এর হুকুম বর্ণনা করে নীরব থাকেন। আবার কখনো কখনো তিনি তাঁদের থেকে বর্ণনা করেন এবং তা খণ্ডন করেন, যেমনটি তিনি ইবনে হাজম এবং তহাবিকে খণ্ডন করার সময় করেছেন।
* পরিশেষে, এই কিতাবে গ্রন্থকারের মানহাজ, পদ্ধতি এবং শর্তাবলি বর্ণনার পর প্রশ্ন হলো—গ্রন্থকার কি তাঁর অঙ্কিত মানহাজ পূর্ণাঙ্গভাবে পালন করেছেন?
পাঠক এই কিতাবের টীকাগুলোর দিকে দৃষ্টি দিলেই তা কতটা পালন করা হয়েছে সে সম্পর্কে প্রমাণ দেখতে পাবেন।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
وأبو زرعة ولد المصنف في «طرح التثريب» انتقد المصنف في عدد من المواضع أشرنا إليها في التعليقات.
من هذه الانتقادات ما اختاره المصنف من أحاديث في صدر الترجمة هي ليست مما عد من أصح الأسانيد، فمثلا: أورد حديثا عن الزهري أو غيره عن عروة عن عائشة، وهذا الشك لا ينطبق عليه شرط الصحة أصلا، وقد نبه على ذلك أبو زرعة رحمه الله.
ومنها ما اشترطه المصنف في تخريج الحديث أنه إذا سكت عن الحديث ولم يعزه لأحد فهو في الصحيحين، وقد فاته ذلك في مواضع عدة، نبه على بعضها أبو زرعة رحمه الله، وأشرنا إلى ذلك في التعليقات في عدة مواضع، وربما لم نشر إلى ذلك، واكتفينا بالعزو في الحاشية، فما عزونه إلى أحد الصحيحين وحقه أن يكون فيهما، اكتفينا بذلك المصدر الذي فيه، بعد البحث ومراجعة «تحفة الأشراف».
* * *
আবু যুরআ, যিনি গ্রন্থকারের পুত্র, 'ত্বরহুত তাসরীব' গ্রন্থে বেশ কিছু স্থানে গ্রন্থকারের সমালোচনা করেছেন, যা আমরা টীকাগুলোতে উল্লেখ করেছি।
এসব সমালোচনার মধ্যে একটি হলো—গ্রন্থকার পরিচ্ছেদের শুরুতে এমন কিছু হাদিস নির্বাচন করেছেন যেগুলো বিশুদ্ধতম সনদগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়। উদাহরণস্বরূপ: তিনি যুহরি বা অন্য কারও সূত্রে উরওয়াহ হতে, তিনি আয়েশা হতে বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন; অথচ এই ধরনের সন্দেহপূর্ণ বর্ণনা মূলত সহিহ হওয়ার শর্তের অনুকূল নয়। আবু যুরআ (রহ.) এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
আরেকটি বিষয় হলো—গ্রন্থকার হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে এই শর্ত আরোপ করেছিলেন যে, যদি তিনি কোনো হাদিস সম্পর্কে নীরব থাকেন এবং সেটি কারও দিকে সম্বন্ধ না করেন, তবে সেটি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ রয়েছে বলে গণ্য হবে। কিন্তু বেশ কিছু স্থানে তিনি এটি বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। আবু যুরআ (রহ.) এর কোনো কোনোটির ব্যাপারে সতর্ক করেছেন এবং আমরাও বেশ কিছু স্থানে টীকাগুলোতে তা নির্দেশ করেছি। অনেক সময় হয়তো আমরা তা উল্লেখ করিনি বরং পাদটীকায় উদ্ধৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছি। সুতরাং আমরা যা সহিহাইন-এর কোনো একটির দিকে সম্বন্ধ করেছি অথচ সেটি উভয় গ্রন্থেই থাকা বাঞ্ছনীয় ছিল, সেক্ষেত্রে আমরা অনুসন্ধান এবং 'তুহফাতুল আশরাফ' পর্যালোচনার পর সেই মূল উৎসটির উদ্ধৃতি দিয়েই যথেষ্ট মনে করেছি।
* * *
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
وصف النسخ الخطية المعتمدة في التحقيقاعتمدت في تحقيق هذا الكتاب على نسختين: الأولى قرئت على المصنف الزين العراقي بقراءة ولده أبي زرعة، وفي آخرها سماع بخطه، والثانية: قرئت على ولد المصنف أبي زرعة أحمد ابن العراقي، وقوبلت على أصل المؤلف، وعليها خط ابن العراقي. وهذا وصف لتلك النسختين:
- النسخة الأولى: وهي نسخة مكتبة (لالالي)، المحفوظة في المكتبة السليمانية في إسطنبول، تحت الرقم (424)، قد رمزت لها ب (ل)، وعدد أوراقها (104) ورقة، وفي كل ورقة لوحتان؛ وفي كل لوحة (15) سطرا، وفي كل سطر (11) كلمة تقريبا، وخطها جميل، مضبوط بالشكل، كتب على الغلاف «تقريب الأسانيد» تأليف الشيخ عبد الرحيم العراقي، في آخرها خط المؤلف، واسم ناسخها: عبد الرحمن بن يوسف بن عثمان المدعو بشرف الأتراري، وكان تاريخ نسخها في السادس من جمادى الأولى سنة (776 هـ)، وكان ذلك برباط السدرة بجوار المسجد الحرام، بلزق باب بني شيبة، بمكة المكرمة، كما ذكر ناسخها.
فهي نسخة قديمة، تاريخها بعد سنة من انتهاء المصنف من تأليفها سنة (775 هـ).
وقد قرئت هذه النسخة على المصنف الزين العراقي بالمسجد الحرام تجاه الكعبة المعظمة في مجالس كان آخرها في الثامن والعشرين من شوال سنة (776 هـ).
তাহকীকে (সম্পাদনায়) নির্ভরকৃত পাণ্ডুলিপিগুলোর বর্ণনাএই কিতাবটির তাহকীক বা সম্পাদনায় আমি দুইটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি: প্রথমটি গ্রন্থকার যাইনুল ইরাকীর সামনে তাঁর পুত্র আবু যুরআ’র কিরাআতের মাধ্যমে পাঠ করা হয়েছে এবং এর শেষে তাঁর স্বহস্তে লিখিত শ্রবণলিপি রয়েছে। দ্বিতীয়টি: এটি গ্রন্থকারের পুত্র আবু যুরআ আহমাদ ইবনুল ইরাকীর সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং লেখকের মূল পাণ্ডুলিপির সাথে এটি মিলিয়ে দেখা হয়েছে, আর এর ওপর ইবনুল ইরাকীর দস্তখত রয়েছে। নিচে এই পাণ্ডুলিপি দুটির বর্ণনা দেওয়া হলো:
- প্রথম পাণ্ডুলিপি: এটি হলো (লালালি) লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি, যা ইস্তাম্বুলের সুলাইমানিয়া লাইব্রেরিতে (৪২৪) নম্বরাধীনে সংরক্ষিত আছে। আমি এটিকে (ল) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি। এর পত্রসংখ্যা (১০৪) টি এবং প্রতি পত্রে দুইটি করে পৃষ্ঠা রয়েছে; প্রতিটি পৃষ্ঠায় (১৫)টি করে লাইন এবং প্রতি লাইনে প্রায় (১১)টি করে শব্দ রয়েছে। এর হস্তাক্ষর সুন্দর ও নুকতা-হরকতসহ সুশৃঙ্খল। এর প্রচ্ছদে লেখা আছে শেখ আব্দুর রহিম আল-ইরাকী রচিত ‘তাকরীবুল আসানীদ’। এর শেষে গ্রন্থকারের স্বাক্ষর রয়েছে এবং এর লিপিকারের নাম: আব্দুর রহমান বিন ইউসুফ বিন উসমান, যিনি শরফ আল-আতরারি নামে পরিচিত। এটি প্রতিলিপি করার তারিখ ছিল ৭৭৬ হিজরি সনের ৬ই জুমাদাল উলা। লিপিকারের বর্ণনা অনুযায়ী, এটি মক্কা মুকাররামায় মাসজিদুল হারামের পাশে বনু শাইবা দরজার সংলগ্ন রিবাতুস সিদরাতে সম্পন্ন হয়েছে।
সুতরাং এটি একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, যার তারিখ হলো গ্রন্থকার কর্তৃক এটি রচনা শেষ করার (৭৭৫ হিজরি) এক বছর পরের।
এই পাণ্ডুলিপিটি মাসজিদুল হারামে সম্মানিত কাবার সামনে বিভিন্ন মজলিসে গ্রন্থকার যাইনুল ইরাকীর সামনে পাঠ করা হয়েছে, যার সর্বশেষ মজলিসটি ছিল ৭৭৬ হিজরি সনের ২৮শে শাওয়াল তারিখে।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
وقد سمع هذه النسخة جماعة من الأفاضل منها صاحب هذه النسخة الفقيه شرف الدين أويس بن عبد الله بن صلوة الجبرتي الزيلعي، سمع جميع الكتاب، وذلك بقراءة ولد المصنف العراقي أبي زرعة أحمد العراقي، وكانت قراءة بحث ونظر وتأمل، كما ذكر المصنف في السماع آخر هذه النسخة، لكن فات أبا زرعة سماع أوله حتى كتاب الصلاة.
ويظهر أثر هذه القراءة في ضبط النسخة بالشكل ضبطا يزيل الإشكال ويرفع الإلباس، كما يظهر في هوامش النسخة عبارات تدل على تلك القراءات، مثل: (لعله قال الله) في الورقة (95) أو قوله: (لعله رفعه). أو كتب فوق بعض الكلمات: (كذا)، أو استدراك نقص، أو بيان بعض الكلمات في الهامش للتوضيح، أو كلمة (بلغ).
هذا وقد وقع لهذه النسخة مقابلة أخرى وقراءة متأخرة عن الأولى حيث قوبلت هذه النسخة في مدينة مصر بجامع القلعة، فقد جاء في الورقة (113) في آخرها بقلم آخر مختلف عن قلم الناسخ ما يفيد أنها: قوبلت بجامع القلعة سنة (881 هـ) على نسختين: إحداها بخط الحافظ أبي بكر أحمد بن أبي بكر بن إسماعيل البوصيري (ت: 840 هـ) وهو أحد تلامذة المصنف العراقي، والثانية عليها خط البوصيري. وقال الكاتب بالمقابلة والإجازة مع الأخ في الله تعالى مجد الدين إسماعيل القلعي أعزه الله. اه.
هذا ولم أقف على اسم الكاتب ولا على ترجمة مجد الدين المذكور، إلا أن في هوامش هذا الكتاب بنفس القلم حواش في مواضع متفرقة فيها تعليقات وبعض الشروح لألفاظ الكتاب، كما أن فيها ذكر فروق مع «صحيح البخاري» و «صحيح مسلم»، وهذا يدل على أن الكاتب قد قابل الكتاب على نسختين وقرأها قراءة تأمل
একদল গুণীজন এই পাণ্ডুলিপিটি শ্রবণ করেছেন, যাদের মধ্যে এই পাণ্ডুলিপির অধিকারী ফকীহ শরফুদ্দীন উওয়াইস বিন আব্দুল্লাহ বিন সালাওয়াহ আল-জাবারতি আল-যাইলায়ী অন্যতম। তিনি গ্রন্থকারের পুত্র ইরাকী আবু যুরআ আহমাদ আল-ইরাকীর পাঠের মাধ্যমে সম্পূর্ণ গ্রন্থটি শ্রবণ করেছেন। এটি ছিল তাত্ত্বিক ও গভীর চিন্তাপ্রসূত পাঠ, যেমনটি গ্রন্থকার এই পাণ্ডুলিপির শেষে শ্রবণ সংক্রান্ত বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন। তবে আবু যুরআ-এর পাঠের শুরুর অংশ অর্থাৎ সালাত (নামায) অধ্যায় পর্যন্ত শ্রবণ করা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিল।
এই পাঠের প্রভাব পাণ্ডুলিপির স্বরচিহ্ন বিন্যাসের ক্ষেত্রে স্পষ্ট হয়, যা অস্পষ্টতা দূর করে এবং সংশয় নিরসন করে। একইভাবে পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকাগুলোতে এমন কিছু বাক্য দেখা যায় যা সেই পাঠগুলোর ইঙ্গিত দেয়, যেমন: (সম্ভবত তিনি ‘আল্লাহ’ বলেছেন) পৃষ্ঠা (৯৫)-এ অথবা তার উক্তি: (সম্ভবত তিনি এটিকে মারফূ করেছেন)। অথবা কিছু শব্দের উপরে লেখা হয়েছে: (অনুরূপ), কিংবা কোনো ত্রুটির সংশোধনী, অথবা পার্শ্বটীকায় স্পষ্টীকরণের জন্য কিছু শব্দের ব্যাখ্যা, অথবা ‘পৌঁছেছে’ শব্দটি।
এছাড়া এই পাণ্ডুলিপিটির জন্য প্রথম পাঠের পরবর্তী সময়ে আরেকটি তুলনা ও পাঠ সম্পন্ন হয়েছিল। এই পাণ্ডুলিপিটি মিসর শহরের ক্বালআ মসজিদে তুলনা করা হয়েছিল। পৃষ্ঠা (১১৩)-এর শেষে লিপিকারের হাতের লেখা থেকে ভিন্ন অন্য এক হাতের লেখায় এমন তথ্য পাওয়া যায় যা নির্দেশ করে যে: এটি ৮৮১ হিজরি সনে ক্বালআ মসজিদে দুটি পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি ছিল হাফিয আবু বকর আহমাদ বিন আবু বকর বিন ইসমাঈল আল-বুসিরি (মৃত্যু: ৮৪০ হি.)-এর হস্তাক্ষরে লিখিত, যিনি গ্রন্থকার ইরাকীর অন্যতম ছাত্র ছিলেন। দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিটিতেও আল-বুসিরি-এর হস্তাক্ষর ছিল। লেখক এই তুলনা এবং অনুমোদনের বিষয়ে আল্লাহর পথে ভ্রাতা মাজদুদ্দীন ইসমাঈল আল-ক্বালয়ী (আল্লাহ তাকে সম্মানিত করুন)-এর কথা উল্লেখ করেছেন। সমাপ্ত।
আমি এই লিপিকারের নাম বা উল্লিখিত মাজদুদ্দীনের জীবনী সম্পর্কে জানতে পারিনি। তবে এই গ্রন্থের পার্শ্বটীকায় একই কলমে বিভিন্ন স্থানে কিছু টীকা ও গ্রন্থের শব্দের কিছু ব্যাখ্যা রয়েছে। এছাড়া এতে সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের সাথে পাঠগত পার্থক্যসমূহ উল্লিখিত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, লিপিকার গ্রন্থটিকে দুটি পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়েছেন এবং গভীর মনোযোগের সাথে এটি পাঠ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল আসানীদ ওয়া তারতীবুল মাসানীদ
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
وبحث ونظر، ويدل عليه ما قام به من مراجعات، ففي الورقة (57) حيث جاء في هامشها عبارة: «في نسخة ابن حجر رحمه الله: يعني يقول الله» فكأن الكاتب قد رجع إلى نسخة الحافظ ابن حجر رحمه الله في البحث والمراجعة.
- النسخة الثانية: وهي نسخة من محفوظات المكتبة الظاهرية بدمشق، تحت الرقم (1037)، أصلها من محفوظات المكتبة العمرية، وقد رمزت لها ب (ظ).
وعدد أوراقها (72) ورقة، في كل ورقة لوحتان، وفي كل لوحة (18) سطر، وفي كل سطر (12) كلمة، وجاءت الورقات ما بين (7 - 9) و (10) بخط مغاير. واسم ناسخها: محمد بن محمد بن محمد العباسي المعروف بالخطيب.
وخطها مقروء صغير الحجم، مضبوطة بالشكل، ومقابلة بالأصل، فقد جاء في هوامش النسخة أن الناسخ العباسي سمعها وقابلها بالأصل على ولد المصنف أحمد ابن العراقي، وأنها قرئت في مجالس عدة، يظهر ذلك في هوامش النسخة، فمرة كتب: «بلغ الشيخ
… العباسي سماعا ومقابلة، كتبه أحمد ابن العراقي»، ومرات: «بلغ سماعا ومقابلة، كتبه أحمد ابن العراقي»، ومرة: «ثم بلغ سماعا ومقابلة بالأصل، كتبه أحمد ابن العراقي».
وجاء اسم الكتاب كما يظهر على صفحة الغلاف: «مختصر في الحديث». كما أنه جاء في الورقة الأخيرة بعد انتهاء الكتاب طلب الناسخ الإجازة، وهو بنفس القلم الذي كتب به ولد المصنف أحمد ابن العراقي في هوامش النسخة، حيث طلب ناسخها محمد بن محمد بن محمد العباسي الإجازة من شيخ الإسلام - يعني العراقي
و من المشايخ ممن يضع خطه، ما يجوز لهما وعنهم روايته، فجاء الجواب بالإجازة، الأولى من الشيخ أبي هريرة عبد الرحمن بن محمد بن علي بن عبد الواحد الشهير
এবং অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণ। এটি তার সম্পাদিত পর্যালোচনার দ্বারা প্রমাণিত হয়; যেমন (৫৭) নং পৃষ্ঠায় তার পার্শ্বটীকায় এই কথাটি এসেছে: "ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ)-এর পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: অর্থাৎ আল্লাহ বলেন।" এতে মনে হয় যে লেখক অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ)-এর পাণ্ডুলিপির সহায়তা নিয়েছেন।
- দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি: এটি দামেস্কের মাকতাবাতুজ জাহিরিয়াহ-এর সংরক্ষিত সংগ্রহশালা থেকে প্রাপ্ত একটি অনুলিপি, যার নম্বর (১০৩৭)। এর মূল উৎস হলো মাকতাবাতুল উমরিয়াহ-এর সংগ্রহশালা, এবং আমি এটিকে (ظ) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
এর পাতা সংখ্যা (৭২) টি, প্রতি পাতায় দুটি পৃষ্ঠা, এবং প্রতি পৃষ্ঠায় (১৮) টি লাইন এবং প্রতি লাইনে (১২) টি শব্দ রয়েছে। (৭ - ৯) এবং (১০) নং পাতাগুলো ভিন্ন হাতের লেখায় পাওয়া গেছে। এর লিপিকারের নাম: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-আব্বাসি, যিনি আল-খাতিব নামে পরিচিত।
এর হাতের লেখা পড়ার যোগ্য এবং আকারে ছোট, হরকত দিয়ে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে এবং মূল পাণ্ডুলিপির সাথে এটি যাচাই করা হয়েছে। এই পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় উল্লেখ রয়েছে যে, লিপিকার আব্বাসি এটি গ্রন্থকারের পুত্র আহমদ ইবনুল ইরাকির উপস্থিতিতে শুনেছেন এবং মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়েছেন। এটি বিভিন্ন মজলিসে পাঠ করা হয়েছিল, যা পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় প্রকাশ পায়। একবার লেখা হয়েছে: "শায়খ
... আব্বাসি শ্রবণ এবং যাচাইয়ের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন, এটি আহমদ ইবনুল ইরাকি লিখেছেন।" আবার কয়েকবার লেখা হয়েছে: "শ্রবণ ও যাচাইয়ের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে, এটি আহমদ ইবনুল ইরাকি লিখেছেন।" এবং একবার লেখা হয়েছে: "অতঃপর মূল কপির সাথে শ্রবণ ও যাচাইয়ের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে, এটি আহমদ ইবনুল ইরাকি লিখেছেন।"
প্রচ্ছদ পৃষ্ঠায় বইটির নাম এই রূপে এসেছে: "মুখতাসার ফিল হাদিস"। এছাড়াও বইটির শেষে শেষ পাতায় লিপিকারের ইজাজত (অনুমতি) প্রার্থনা লক্ষ্য করা যায়। এটি সেই একই কলমে লেখা হয়েছে যা দিয়ে গ্রন্থকারের পুত্র আহমদ ইবনুল ইরাকি পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় লিখেছিলেন। সেখানে লিপিকার মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-আব্বাসি শায়খুল ইসলাম—অর্থাৎ ইরাকি—এর কাছে ইজাজত চেয়েছিলেন।
এবং সেসব শায়খদের কাছ থেকেও যারা তাদের স্বাক্ষর প্রদান করেন, যা তাদের থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে তাদের জন্য অনুমোদিত। অতঃপর ইজাজত প্রদানের মাধ্যমে উত্তর এসেছে, প্রথমটি শায়খ আবু হুরায়রা আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবদুল ওয়াহিদ আল-শাহিরের পক্ষ থেকে।