(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: -)
تلقيح العقول في فضائل الرسول صلى الله عليه وسلم   (أبو عبد الله التميمي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: تلقيح العقول في فضائل الرسول صلى الله عليه وسلم

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن محمد التميمي البصري (ت أوائل ق 6 هـ)

تحقيق وتخريج: د طارق طاطمي

أصل التحقيق: أطروحة دكتوراة، جامعة ابن زهر

الناشر: (مركز الدراسات والأبحاث وإحياء التراث، الرباط - المغرب)، (مركز ابن القطان للدراسات والأبحاث في الحديث والسيرة، العرائش - المغرب)

الطبعة: الأولى، 1433 هـ - 2012 م

عدد الأجزاء: 2 (متلسلسة الترقيم)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 ذو الحجة 1446

রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মর্যাদা বর্ণনায় বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ   (আবু আব্দুল্লাহ আত-তামিমী)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


গ্রন্থ: রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মর্যাদা বর্ণনায় বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আত-তামিমী আল-বসরী (মৃত্যু ৬ষ্ঠ হিজরি শতাব্দীর শুরুর দিকে)

তাহকিক ও তাখরিজ: ড. তারিক তাতমি

তাহকিকের উৎস: ডক্টরাল থিসিস, ইবনে জোহর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশক: (সেন্টার ফর স্টাডিজ, রিসার্চ অ্যান্ড হেরিটেজ রিভাইভাল, রাবাত - মরক্কো), (ইবনে আল-কাত্তান সেন্টার ফর হাদিস অ্যান্ড সীরাহ স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ, লারাশ - মরক্কো)

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৩ হিজরি - ২০১২ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক নম্বরযুক্ত)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৪ যিলহজ্জ ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌تقديم

الحمد لله الذي فضل نبينا محمدا صلى الله عليه وسلم بأشرف الفضائل، وعصمه بمقام النبوة عن النقائص والرذائل، وجعله رحمة لعباده في الدنيا وفي الموقف الجلل، فكان قطب الأنبياء والمرسلين، وطراز أهل الله المقربين، صلى الله عليه وعلى آله الطيبين وأصحابه الأكرمين، صلاة وسلاما دائمين متلازمين إلى يوم الدين، أما بعد:

فلا جرم أن علم السير من أهم ما اهتم به الأئمة الأعلام، والمشايخ الموفقون الكرام، ولم تعمر مجالس الذكر بعد كتاب الله عز وجل بأحسن من أخبار رسول الله صلى الله عليه وسلم، لذلك شمر جلة من علماء الإسلام منذ القرن الهجري الأول إلى يومنا هذا لصوغ تأليف في هذا الفن، وإن فضل بعضها على بعض في الأكل؛ فإنها تسقى بماء واحد، ولن يزال مداد أقلام الراسخين الفضلاء من أعلام هذه الأمة يستدر للاستضاءة والإضاءة من خلال القبس من أنوار من قال الله عز وجل في حقه {إنا أرسلناك شاهدا ومبشرا ونذيرا * وداعيا إلى الله بإذنه، وسراجا منيرا} [الأحزاب: 45 - 46]، حيث أبدعت قرائحهم في تناول السيرة النبوية الشريفة، فمنهم من التزم ذكر أحداثها بالإسناد المتصل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم علا أم نزل، ومنهم من حذفه واقتصر على المراد، فوجدت بذلك دواوين عامة سردت مجمل الأحداث المتسلسلة المتصلة بحياة النبي صلى الله عليه وسلم من ولادته إلى وفاته، وأخرى خاصة متنوعة؛ اعتنت بذكر أوصافه صلى الله عليه وسلم الخلقية والخلقية، أو سردت فضائله صلى الله عليه وسلم، أو تتبعت دلائل نبوته صلى الله عليه وسلم، أو تناولت خصائصه الشريفة وحقوقه على الأمة صلى الله عليه وسلم.

وإن مقارنة أولية بين المثبت اسمه المعروف وسمه من مصادر السيرة النبوية، وبين الموجود رسمه المتاح جسمه، تظهر أن عددا غير قليل من نفائسها قد طواه النسيان، رغم مسيس الحاجة إليه، ولقد وفق الله عز وجل إلى الاهتداء إلى كتاب: «تلقيح العقول في فضائل الرسول صلى الله عليه وسلم»، الذي يعد أحد أنفس تلك المصادر؛ إذ هو
উপস্থাপন

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বোত্তম মর্যাদায় ভূষিত করেছেন এবং নবুওয়াতের উচ্চ মাকামের মাধ্যমে তাঁকে সকল ত্রুটি ও নীচতা থেকে রক্ষা করেছেন। তাঁকে দুনিয়া ও মহা হাশরের ময়দানে তাঁর বান্দাদের জন্য রহমত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি ছিলেন নবী ও রাসূলগণের মধ্যমণি এবং আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তদের আদর্শ। তাঁর ওপর, তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গের ওপর এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণের ওপর বিচার দিবস পর্যন্ত চিরন্তন ও অবিরাম রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:

নিঃসন্দেহে সীরাত শাস্ত্র হলো সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্যতম যার প্রতি প্রখ্যাত ইমামগণ এবং তাওফীকপ্রাপ্ত সম্মানিত শায়েখগণ বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। মহান আল্লাহর কিতাবের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনীর চেয়ে উত্তম আর কিছু দিয়ে জিকিরের মজলিসগুলো এমনভাবে আবাদ হয়নি। একারণে হিজরী প্রথম শতাব্দী থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ইসলামের শ্রেষ্ঠ ওলামায়ে কেরাম এই শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনার জন্য তৎপর হয়েছেন। যদিও স্বাদে ও ফলনে তাদের মাঝে তারতম্য রয়েছে, তবুও তারা একই উৎস থেকে সিক্ত। এই উম্মতের বিদগ্ধ ও বিজ্ঞ আলেমদের কলমের কালি সেই ব্যক্তির নূরের প্রদীপ থেকে আলো গ্রহণ ও বিতরণের জন্য অবিরাম ঝরতে থাকবে, যাঁর শানে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয় আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে। এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে।" [আল-আহযাব: ৪৫-৪৬]। যেখানে তাঁদের মেধা ও প্রতিভা পবিত্র সীরাতে নববী আলোচনায় চমৎকারিত্ব প্রদর্শন করেছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত উচ্চ বা নিম্ন স্তরের অবিচ্ছিন্ন সনদের মাধ্যমে ঘটনাবলি বর্ণনা করার বাধ্যবাধকতা রক্ষা করেছেন। আবার কেউ সনদ বাদ দিয়ে শুধুমাত্র মূল উদ্দেশ্যের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন। এর ফলে এমন সব সাধারণ গ্রন্থভাণ্ডার সংকলিত হয়েছে যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের সকল ধারাবাহিক ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। আবার অন্য কিছু বিবিধ বিশেষায়িত গ্রন্থ রচিত হয়েছে; যেগুলোতে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শারীরিক অবয়ব ও চারিত্রিক গুণাবলি বর্ণনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, অথবা তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করেছে, অথবা তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াতের প্রমাণাদি অনুসরণ করেছে, অথবা তাঁর সুমহান বৈশিষ্ট্য এবং উম্মতের ওপর তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকারসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছে।

সীরাতে নববীর সুপরিচিত উৎসগুলোর নামের তালিকা এবং বর্তমানে বিদ্যমান পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে প্রাথমিক তুলনা করলে দেখা যায় যে, প্রচুর প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অনেক মূল্যবান গ্রন্থ বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে গেছে। মহান আল্লাহ ‘তালকীহুল উকূল ফী ফাদায়িলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ নামক কিতাবটির সন্ধান পাওয়ার তাওফীক দিয়েছেন, যা ঐ সকল উৎসের মধ্যে অন্যতম মূল্যবান হিসেবে বিবেচিত; কারণ এটি...
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৮)
سفر فريد في بابه، وعلق نفيس في موضوعه، أبى واضعه الإمام المحدث أبو عبد الله محمد بن محمد بن محمد التميمي، إلا أن يلقح به العقول، ويشحذ به الأفكار، بذكر أغلب الأحاديث الواردة في فضائل رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإظهار ما اتصف به عليه الصلاة والسلام من المزايا الكريمة، والخصال الحميدة، وما استحقه من الدرجة العالية الرفيعة التي ميزه الله بها عن سائر الأنبياء والمرسلين.

ومياسم نفاسة هذا الكتاب شتى، منها انتماؤه لحقبة زمنية متقدمة امتازت بحسن التوصيف، وجودة الترصيف، ومنها جمعه بين حقلين معرفيين: علم الحديث الشريف والسيرة النبوية، ومنها أنه من أوائل ما أفرد فيه بالتصنيف، من الدواوين المسندة، موضوع الفضائل؛ إذ التزم مصنفه بإيراد الروايات بأسانيدها، ولا يخفى على أحد أهمية الإسناد، وضرورته في توثيق الأخبار، وبيان صحيحها من سقيمها، فلولاه لقال من شاء ما شاء، وقد بلغ مجموع أحاديث الكتاب قرابة الثمانين وخمسمائة حديث، موزعة على أربعة وثلاثين بابا، مما جعله مصدرا حديثيا خصبا معتمدا في توثيق أخبار فضائله صلى الله عليه وسلم.

ومن مزايا هذا الكتاب المبارك، أنه حفظ لنا جملة من الروايات عن أئمة أعلام، وعن دواوين يعز وجودها، وانفرد بإيراد جملة من المرويات المسندة التي لا نكاد نجدها في أي مصدر آخر سواه، بالإضافة إلى تفرده بذكر طائفة من شيوخ الرواية، وبالأخص شيوخ المصنف البصريين، وشيوخ شيوخه وغيرهم، ممن يندر وجود تراجمهم، أو حتى ذكرهم عرضا في أي مصدر من المصادر المتوفرة، كما أن من مزايا هذا الكتاب أنه يعرفنا بإمام كبير هو الإمام أبو عبد الله التميمي البصري المتوفى أوائل القرن السادس الهجري، فبالرغم من إغفال ذكره في كتب التراجم، لسبب لم ندركه بعد، فإن إفادات وإشارات متفرقة في بعض المصادر، تؤكد أن الرجل كان من كبار علماء البصرة، وأن كتابه الذي بين أيدينا من الكتب التي اشتهرت وسارت بها الركبان.
এটি স্বীয় ক্ষেত্রে এক অনন্য গ্রন্থ এবং তার বিষয়ে এক বহুমূল্য সম্পদ। এর রচয়িতা ইমাম মুহাদ্দিস আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আত-তামিমী এর মাধ্যমে মেধার বিকাশ ও চিন্তাকে শাণিত করতে চেয়েছেন। এতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত অধিকাংশ হাদিস উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর মহান বৈশিষ্ট্যসমূহ ও প্রশংসনীয় গুণাবলি ফুটিয়ে তুলেছেন। সেই সাথে তিনি তাঁর সেই উচ্চ মর্যাদার বিবরণ দিয়েছেন যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁকে অন্য সকল নবী ও রাসূলগণের ওপর বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন।

এই গ্রন্থের শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শনসমূহ বহুমুখী। এর মধ্যে অন্যতম হলো এটি এমন এক প্রাচীন যুগের সাথে সম্পৃক্ত যা চমৎকার বর্ণনাশৈলী ও উন্নত বিন্যাসের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। আরেকটি কারণ হলো এটি দুটি জ্ঞানশাখা—ইলমে হাদিস ও সিরাতে নববীকে একত্রিত করেছে। তদুপরি এটি ফজিলত বা গুণাবলি বিষয়ে সনদসহ সংকলিত প্রাথমিক গ্রন্থগুলোর অন্তর্ভুক্ত। কেননা এর সংকলক বর্ণনাগুলো সনদসহ উল্লেখ করার নীতি অবলম্বন করেছেন। আর সংবাদের প্রামাণিকতা যাচাই এবং সঠিক ও ত্রুটিযুক্ত বর্ণনার পার্থক্য নির্ণয়ে সনদের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা কারো কাছে অস্পষ্ট নয়। সনদ না থাকলে যে কেউ যা ইচ্ছা তা-ই বলত। কিতাবটিতে সর্বমোট হাদিস সংখ্যা প্রায় পাঁচশত আশিটি, যা চৌত্রিশটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফজিলত বিষয়ক তথ্যাদি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে একটি সমৃদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য হাদিস-উৎস।

এই বরকতময় কিতাবটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি আমাদের জন্য প্রখ্যাত ইমামদের থেকে একগুচ্ছ বর্ণনা এবং এমন সব সংকলন সংরক্ষণ করেছে যা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এটি এমন কিছু সনদযুক্ত বর্ণনা এককভাবে প্রদান করেছে যা অন্য কোনো উৎসে সচরাচর পাওয়া যায় না। এর পাশাপাশি এটি বর্ণনাকারীদের এমন একদল শায়খের কথা উল্লেখ করেছে—বিশেষ করে সংকলকের বসরার শায়খগণ এবং তাঁদের শায়খ ও অন্যান্যদের কথা—যাদের জীবনী বা এমনকি প্রাসঙ্গিক উল্লেখও বর্তমানে লভ্য অন্য কোনো উৎসে বিরল। এই কিতাবটির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, এটি আমাদের ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীর শুরুর দিকে ইন্তেকালকারী এক মহান ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আত-তামিমী আল-বসরীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। যদিও কোনো অজানা কারণে জীবনী বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে তাঁর উল্লেখ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, তবুও বিভিন্ন উৎসে ছড়িয়ে থাকা বিক্ষিপ্ত তথ্য ও ইঙ্গিতগুলো নিশ্চিত করে যে, এই ব্যক্তি বসরার বড় আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর এই কিতাবটি অত্যন্ত সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ ছিল।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৯)
وقد قضى الله عز وجل أن يمكث هذا العلق الثمين حبيس الخزائن دهرا طويلا قارب التسعة قرون، إلى أن أذن سبحانه بأن تقف عليه أيادي مغربية بخزانة الدولة ببرلين، فتحوز فضل دراسته وتحقيقه ونشره.

واعتبارا لقيمة الكتاب ونفاسته وكونه مصدرا من المصادر التراثية التي لا يمكن الاستغناء عنها، بادرت الرابطة المحمدية للعلماء إلى نشره بشراكة بين مركز الدراسات والأبحاث وإحياء التراث بالرباط، ومركز ابن القطان للدراسات والأبحاث في الحديث الشريف والسيرة العطرة بالعرائش.

ولا يفوتني في هذا التقديم أن أنوه بمحقق هذا الكتاب الأستاذ الدكتور طارق طاطمي -الباحث بمركز الدراسات والأبحاث وإحياء التراث- الذي بذل جهدا طيبا في خدمة الكتاب تحقيقا وتخريجا ودراسة، حيث أبدع حفظه الله في صنع ترجمة المصنف والعناية بضبط النص، والتعريف بالأعلام والرواة، وضبط أسمائهم وأنسابهم وكناهم وألقابهم، وتحديد الأماكن والبلدان، وتخريج الأحاديث النبوية تخريجا علميا وفق قواعد المحدثين واصطلاحاتهم المرعية، كما لم يفته ضبط ما أشكل من ألفاظ الحديث، وشرح ما وقع فيه من غريب اللغة، وتذييله الكتاب بفهارس متنوعة لهذا السفر الفريد.

فجزى الله خيرا الأستاذ الكريم على ما بذله من جهود في هذا الكتاب، وكذلك جميع من أسهم في إنجازه وإعداده للطبع، وجعل ثواب نشره في سجل حسنات راعي العلم والعلماء، مولانا أمير المؤمنين جلالة الملك محمد السادس نصره الله وأيده، وأعز أمره، وخلد بالأعمال الصالحة ذكره، والله الموفق والهادي إلى سواء السبيل.

 

أحمد عبادي

الأمين العام للرابطة المحمدية للعلماء
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ফয়সালা করেছিলেন যে, এই অমূল্য সম্পদটি দীর্ঘকাল ধরে গ্রন্থাগারের প্রকোষ্ঠে বন্দি হয়ে থাকবে, যা প্রায় নয় শতাব্দী পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। অবশেষে মহান আল্লাহ অনুমতি প্রদান করলেন যেন বার্লিনের রাষ্ট্রীয় গ্রন্থাগারে মরক্কান গবেষকদের হাত এর সন্ধান পায়। ফলে তারা এটি অধ্যয়ন, তাহকিক (সম্পাদনা) এবং প্রকাশের গৌরব অর্জন করে।

বইটির মূল্য ও মাহাত্ম্য বিবেচনা করে এবং এটি ঐতিহ্যবাহী এমন একটি উৎস যা উপেক্ষা করা অসম্ভব হওয়ার কারণে, 'রাবেতা আল-মুহাম্মাদিয়া লিল উলামা' এটি প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এটি রাবাতের 'সেন্টার ফর স্টাডিজ, রিসার্চ অ্যান্ড রিভাইভাল অফ হেরিটেজ' এবং লারাশের 'ইবনে আল-কাত্তান সেন্টার ফর স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ ইন হাদিসে শরিফ ও সুগন্ধি সিরাত'-এর যৌথ অংশীদারিত্বে প্রকাশিত হচ্ছে।

এই মুখবন্ধে আমি এই বইটির মুহাক্কিক প্রফেসর ডক্টর তারিক তাতমি—যিনি 'সেন্টার ফর স্টাডিজ, রিসার্চ অ্যান্ড রিভাইভাল অফ হেরিটেজ'-এর একজন গবেষক—তার প্রশংসা না করে পারছি না। তিনি বইটির তাহকিক, তাখরিজ এবং গবেষণায় অত্যন্ত চমৎকার শ্রম দিয়েছেন। আল্লাহ তাকে হেফাজত করুন; তিনি গ্রন্থকারের জীবনী রচনা এবং পাঠ্যলিপি নির্ভুলভাবে সম্পাদনায় মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। তিনি ব্যক্তিবর্গ ও বর্ণনাকারীদের পরিচয় তুলে ধরেছেন এবং তাদের নাম, বংশ পরিচয়, কুনিয়াত (উপনাম) ও উপাধিগুলো সূক্ষ্মভাবে যাচাই করেছেন। এছাড়া স্থান ও দেশসমূহের বর্ণনা সুনির্দিষ্ট করা এবং মুহাদ্দিসগণের প্রতিষ্ঠিত নীতি ও পরিভাষা অনুযায়ী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে হাদিসসমূহের তাখরিজ সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি হাদিসের কঠিন শব্দাবলির সঠিক উচ্চারণ নির্ধারণ, দুর্লভ শব্দগুলোর (গারিবুল লুগাহ) ব্যাখ্যা প্রদান এবং এই অনন্য গ্রন্থের জন্য বিভিন্ন ধরণের নির্ঘণ্ট (সূচিপত্র) সংযোজন করতেও তিনি ভুল করেননি।

অতএব আল্লাহ তাআলা এই সম্মানিত অধ্যাপককে এই কিতাবের পেছনে ব্যয় করা শ্রমের উত্তম প্রতিদান দান করুন। তেমনিভাবে যারা এটি সম্পন্ন করতে এবং মুদ্রণের জন্য প্রস্তুত করতে সহযোগিতা করেছেন তাদেরও উত্তম প্রতিদান দিন। এই গ্রন্থ প্রকাশের সওয়াব যেন ইলম ও উলামাদের পৃষ্ঠপোষক, আমাদের অভিভাবক আমিরুল মুমিনিন মহামান্য রাজা ষষ্ঠ মুহাম্মদ—আল্লাহ তাকে সাহায্য ও সমর্থন করুন, তার শাসনকে শক্তিশালী করুন এবং নেক আমলের মাধ্যমে তার নামকে স্মরণীয় করে রাখুন—তার আমলনামায় যুক্ত হয়। আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং সঠিক পথের দিশারী।

 

আহমদ আব্বাদি

মহাসচিব, রাবেতা আল-মুহাম্মাদিয়া লিল উলামা
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
كتاب تلقيح العقول في صفات الرسول صلى الله عليه وسلم

تأليف الإمام أبي عبد الله محمد بن محمد بن محمد التميمي رحمة الله عليه، رواية الإمام أبي منصور إسماعيل بن أبي تغلب بن الأغلاقي عنه، رواية الشيخ الأجل الإمام العالم الحافظ عفيف الدين أبي الفرج محمد بن عبد الرحمن بن أبي العز المقرئ الواسطي عنه، رواية أبي عبد الله محمد بن خالد بن عمار الحبلي، عن ابن أبي العز الواسطي.

سماع الإمام العالم أبي عبد الرحيم عسكر بن عبد الرحيم بن عسكر العدوي عليه.

سمع هذا الكتاب(1)، وهو كتاب تلقيح العقول في فضائل الرسول صلى الله عليه وسلم على الشيخ الإمام العالم الحافظ المحدث النبيه عفيف الدين بقية … أبي الفرج محمد بن عبد الرحمن بن أبي العز المقرئ الواسطي أعاد الله بركته بمدينة الموصل المحروسة و … الصاحب الوزير الصدر المنعم الكبير نفيس الدين سيد الوزراء أبي الفتح نصر ابن عيسى بن علي بن جزري أدام الله أيامه:

فسمعه هو وسمعه أولاده السادة الصدور الأجلاء جمال الدين إبراهيم، وتاج الدين محمد، وكمال الدين عبد الرحمن، وموفق الدين سليمان، ومجد الدين إسماعيل … الكبير معين؟ الدين أبي السعادات بن تنكز؟، والإمام فخر الدين … وذلك بقراءة الإمام العالم الفاضل … الأكرمين والعلماء … أبي سالم محمد بن طلحة بن محمد بن الحسن في مجالس آخرها تاسع عشر جمادى الأول سنة ست وست مئة.

--------------------------------------------

(1) يوجد محو وطمس في أماكن كثيرة من السماع، استدركتها بالرجوع إلى المصادر، أما الكلمات التي لم أستطع قراءتها فقد عبرت عنها بثلاث نقط، ووضعت علامة استفهام أمام الكلمات التي شككت في ضبطها.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলি প্রসঙ্গে তালকিহুল উকুল (বুদ্ধিবৃত্তির পরিচর্যা) গ্রন্থ

ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আত-তামিমি (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) কর্তৃক রচিত; তাঁর সূত্রে ইমাম আবু মানসুর ইসমাইল বিন আবি তাগলিব বিন আল-আগলাকির বর্ণনা; তাঁর সূত্রে মহান শাইখ, ইমাম, আলিম, হাফিজ, আফিফ উদ্দিন আবু আল-ফারাজ মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন আবিল ইজ্জ আল-মুকরি আল-ওয়াসিতির বর্ণনা; তাঁর সূত্রে আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন খালিদ বিন আম্মার আল-হাবলির বর্ণনা, যিনি ইবনে আবিল ইজ্জ আল-ওয়াসিতি থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম, আলিম আবু আবদুর রহিম আসকার বিন আবদুর রহিম বিন আসকার আল-আদাবির নিকট শ্রবণকৃত পাঠ (সামা)।

এই গ্রন্থটি শ্রবণ করা হয়েছে(১)—যা হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফজিলত প্রসঙ্গে তালকিহুল উকুল গ্রন্থ—শাইখ, ইমাম, আলিম, হাফিজ, প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিস আফিফ উদ্দিন বাকিয়্যা... আবু আল-ফারাজ মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন আবিল ইজ্জ আল-মুকরি আল-ওয়াসিতির নিকট (আল্লাহ সংরক্ষিত মসুল শহরে তাঁর বরকত পুনরায় ফিরিয়ে দিন) এবং... মহান দাতা ও উচ্চপদস্থ মন্ত্রী নাফিস উদ্দিন সাইয়্যিদুল উযারা আবু আল-ফারাজ নাসর ইবনে ঈসা বিন আলি বিন জাজারি (আল্লাহ তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন)-এর সান্নিধ্যে:

তিনি নিজে এটি শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর সন্তানগণও এটি শ্রবণ করেছেন, যারা হলেন সম্মানিত নেতৃবৃন্দ: জামাল উদ্দিন ইব্রাহিম, তাজ উদ্দিন মুহাম্মদ, কামাল উদ্দিন আবদুর রহমান, মুওয়াফফাক উদ্দিন সুলাইমান, মাজদ উদ্দিন ইসমাইল... মহান মুইন? উদ্দিন আবু আল-সা'আদাত বিন তানকিজ?, এবং ইমাম ফখর উদ্দিন... আর এটি সম্পন্ন হয়েছে ইমাম, আলিম, ফাদিল... অত্যন্ত সম্মানিত এবং উলামায়ে কিরাম... আবু সালিম মুহাম্মদ বিন তালহা বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসানের পাঠের মাধ্যমে, এমন মজলিসসমূহে যার সর্বশেষটি ছিল ৬০৬ হিজরির ১৯শে জমাদিউল আউয়াল তারিখে।

--------------------------------------------

(১) শ্রবণের বিবরণের (সামা) অনেক স্থানে লেখা মুছে যাওয়া ও অস্পষ্টতা রয়েছে, যা আমি বিভিন্ন উৎসের সহায়তায় পূরণ করেছি। আর যেসব শব্দ আমি পড়তে সক্ষম হইনি সেগুলোকে তিনটি বিন্দু দিয়ে প্রকাশ করেছি এবং যেসব শব্দের সঠিক পাঠে আমার সন্দেহ রয়েছে সেগুলোর সামনে প্রশ্নবোধক চিহ্ন বসিয়েছি।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
وصح ذلك لهم برواية الشيخ … أبي منصور ابن الأغلاقي عن مؤلفه المذكور.

وسمع جميعه معهم محمد بن طلحة … وأجاز لهم الشيخ رواية جميع ما يجوز له روايته … إجازة بلفظه بشرطه المعتبر وهو البراءة من التصحيف و …

1 - على الهامش الأيسر: نصر الله بن نصر الله يتوكل على الله.

2 - وعليه أيضا: نقله وقرأه محمد بن خالد بن عمار الحبلي.

3 - على الهامش الأيمن: الله حسبي من كتب أبي بكر ابن رستم الشرواني.
এবং এটি তাঁদের জন্য শাইখ … আবু মানসুর ইবনে আল-আগল্লাকির বর্ণনার মাধ্যমে তাঁর উল্লিখিত লেখকের সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে।

আর মুহাম্মদ বিন তালহা তাঁদের সাথে এর সম্পূর্ণটি শুনেছেন … এবং শাইখ তাঁর বর্ণিত সকল বিষয় বর্ণনা করার জন্য তাঁদেরকে তাঁর নিজ উচ্চারণে এবং নির্ভরযোগ্য শর্তানুসারে অনুমতি (ইজাযাহ) প্রদান করেছেন; আর সেই শর্তটি হলো ভুল পাঠ বা বিকৃতি (তাসহিফ) থেকে মুক্ত থাকা এবং …

১ - বাম পাশের পার্শ্বটীকায়: নাসরুল্লাহ বিন নাসরুল্লাহ আল্লাহর ওপর ভরসা করেন।

২ - এবং এর ওপরে আরও রয়েছে: এটি নকল করেছেন এবং পাঠ করেছেন মুহাম্মদ বিন খালিদ বিন আম্মার আল-হাবলি।

৩ - ডান পাশের পার্শ্বটীকায়: আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, এটি আবু বকর ইবনে রুস্তম আশ-শিরওয়ানির কিতাবসমূহ থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

أخبرنا الشيخ أبو الفرج محمد بن عبد الرحمن بن أبي العز الواسطي(1)، قراءة عليه بالموصل(2) ونحن نسمع، قال: أخبرنا الشيخ الإمام الصالح أبو منصور إسماعيل بن أبي تغلب ابن الأغلاقي رحمه الله، قراءة عليه ونحن نسمع في جمادى الأولى سنة ست وخمسين وخمس مائة، قال:

أخبرنا الشيخ الإمام أبو عبد الله محمد بن محمد بن محمد التميمي المصنف رحمه الله، قال:

الحمد لله مستخص الحمد لنفسه، ومستخلص الثناء لطهارة قدسه، ومستحق المدح لعز جلاله، ومستوجب الشكر لعموم إفضاله، وصلى الله على محمد خيرته من بريته، وأمينه على وحيه ورسالته، صلاة تبلغه بها أعلى الدرج والمنازل، وتنيله بها أقصى الرغائب والوسائل، وعلى آله وصحابته والتابعين له بإحسان من أمته.

أما بعد: فإن الله تبارك وتعالى خص نبينا محمدا صلى الله عليه وسلم من الآيات الباهرة، والمعجزات الظاهرة، وكرمه بطهارة الأعراق، وشرفه بما جبله عليه من مكارم الأخلاق، التي نقض بها عوائد الفطر، وباين لها جميع البشر من فروسيته، وشجاعته، وبأسه، ونجدته، وعزمه وهمته وعلمه، وحلمه، وزهده، وعبادته، وإجابة مسألته، ورضاه، وصبره، وحمده وشكره، وذكره، وتفكره، واعتباره، وتبصره، وخوفه، وخشوعه، وتواضعه، وخضوعه وكرم آبائه وجدوده، وسخائه، وجوده، وصمته وفصاحته وصدق لهجته، ورعايته للعهد، ووفائه بالوعد،

--------------------------------------------

(1) ترجمت هذا العلم والذي بعده بتفصيل في قسم الدراسة، فلينظر.

(2) الموصل: بالفتح وكسر الصاد: مدينة تقع في الجانب الغربي من نهر دجلة شمال العراق، كان اسمها خولان، وسميت بهذا الإسم؛ لأنها وصلت بين الفرات ودجلة، وهي مدينة عتيقة ضخمة عليها سوران وثيقان، وكانت من أجل مدن ديار ربيعة وقاعدتها، وما زالت عامرة إلى يومنا هذا، وهي مركز محافظة نينوى، وتعد ثاني مدينة في البلاد من حيث عدد السكان بعد بغداد. معجم البلدان: (5/ 223 - 224)، الروض المعطار: (563 - 564)، بلدان الخلافة الشرقية: (114 - 118).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

শায়খ আবুল ফারাজ মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবুল ইজ্জ আল-ওয়াসিতি(১) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন— যা মসুল শহরে(২) তাঁর উপস্থিতিতে পাঠ করা হয়েছিল এবং আমরা তা শ্রবণ করছিলাম— তিনি বলেন: সৎ ইমাম শায়খ আবু মানসুর ইসমাইল ইবনে আবি তাগলিব ইবনুল আগলাকি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন— যা ৫৫৬ হিজরি সনের জামাদিউল আউয়াল মাসে তাঁর উপস্থিতিতে পাঠ করা হয়েছিল এবং আমরা তা শ্রবণ করছিলাম— তিনি বলেন:

শায়খ ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আত-তামিমি আল-মুসান্নিফ (গ্রন্থকার) (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল প্রশংসা নিজের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, স্বীয় পবিত্র সত্তার জন্য স্তুতিকে বিশুদ্ধ করেছেন, আপন মর্যাদার মহিমার কারণে যিনি স্তুতির যোগ্য এবং তাঁর ব্যাপক অনুগ্রহের দরুন কৃতজ্ঞতা তাঁর প্রাপ্য। আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত ব্যক্তি এবং তাঁর ওহি ও রিসালাতের বিশ্বস্ত আমানতদার মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি— এমন দরুদ যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁকে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও স্থানে পৌঁছে দেবেন এবং তাঁর মাধ্যমে তাঁকে সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষিত বস্তু ও পরকালে সুপারিশের মাধ্যম দান করবেন। আরও দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং তাঁর উম্মতের মধ্য থেকে নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের প্রতি।

অতঃপর: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে অত্যুজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ এবং প্রকাশ্য মুজিযা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। তিনি তাঁকে পবিত্র বংশধারায় সম্মানিত করেছেন এবং তাঁকে উত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ওপর সৃষ্টি করে মর্যাদা দান করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি সৃষ্টিগত স্বভাবের প্রথা ভেঙে দিয়েছেন। তাঁর বীরত্ব, সাহসিকতা, পরাক্রম, অকুতোভয়তা, দৃঢ় সংকল্প, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, জ্ঞান, সহনশীলতা, দুনিয়াবিমুখতা, ইবাদত, তাঁর প্রার্থনা কবুল হওয়া, সন্তুষ্টি, ধৈর্য, প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা, জিকর, চিন্তা-ভাবনা, উপদেশ গ্রহণ, দূরদর্শিতা, ভয়, বিনয়, নম্রতা, আনুগত্য, তাঁর পূর্বপুরুষদের আভিজাত্য, উদারতা, দানশীলতা, নীরবতা, বাগ্মিতা, সত্যবাদিতা, অঙ্গীকার রক্ষা এবং প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করার মাধ্যমে তিনি তাঁকে সকল মানুষের থেকে স্বতন্ত্র করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আমি এই বিজ্ঞ ব্যক্তি এবং তাঁর পরবর্তী ব্যক্তির জীবনী বিস্তারিতভাবে গবেষণা অংশে বর্ণনা করেছি, অতএব সেখানে দেখা যেতে পারে।

(২) মসুল: ইরাকের উত্তরে দজলা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত একটি শহর। এর নাম ছিল খাওলান; এই নামে ডাকার কারণ হলো এটি ফুরাত ও দজলা নদীর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। এটি একটি প্রাচীন ও বিশাল শহর যার দুটি মজবুত প্রাচীর রয়েছে। এটি দিয়ারু রাবিয়া অঞ্চলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শহর এবং তার রাজধানী ছিল। এটি আজও আবাদ রয়েছে এবং এটি নিনাওয়া প্রদেশের কেন্দ্র। জনসংখ্যার দিক থেকে বাগদাদের পর এটি দেশটির দ্বিতীয় শহর। মুজামুল বুলদান (৫/২২৩-২২৪), আর-রাওদুল মিতার (৫৬৩-৫৬৪), দেশসমূহ ও প্রাচ্য খিলাফত (১১৪-১১৮)।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقلة تلونه(1)، ودوام طريقته وسنته، وإنصافه في معاملته، وتقواه، وأمانته، وشفقته ورفقه، وحسن خلقه وخلقه، وجده، ووقاره، وضياء أنواره، وحيائه، ولينه وثقته ويقينه وعفوه ورحمته وصفحه ورأفته، وقناعته، وتقلله، وصدق توكله، وما حباه من الحوض المورود، والمقام المحمود، واللواء، والكوثر، والشفاعة في المحشر، والقرآن والتلاوة، والتاج، والهراوة(2)، والسيف، والقضيب، والناقة والنجيب(3)، والاسم الحسن، والبراعة(4)، واللسن، والذكر الرفيع، والحمى المنيع، والفرع الباسق، والكتاب الناطق، والقضية، والأحكام، والحنيفية والإسلام والآيات المفصلات، والكلمات المنزلات ومكة المحرمة، والمشاهد المعظمة، والحرم والإحرام، وزمزم، والمقام، والمشعر الحرام والطعان والجلاد والجمعة، والجماعة، والسمع والطاعة، والصلاة المكتوبة، والزكاة المفروضة، والتهليل، والأذان، وشهر رمضان، والأمر بالمعروف والقربات، والنهي عن الفواحش والمنكرات، والغلظة على الكافرين، وخفض الجناح للمؤمنين، والتفضل على المسيئين، والمعرفة بالأقدار، والرهبة من الجبار، والسبق في الذكر، والتقدم في الأصفياء، والتأخر في البعث، والختمة للأنبياء، ما دل بمجموعه على إثبات نبوته، وصدق مقالته، وتفضيله على جميع الخلائق والأنام، وتمييزه على سائر ولد آدم عليه السلام، مفصل في كتابي هذا ما أذكر جملته من ذكر معجزاته، ودلائل نبوته

--------------------------------------------

(1) لا شك أن المؤلف رحمه الله يشير إلى معنى إيجابي في صفاته صلى الله عليه وسلم، مراعاة منه لمقام النبوة، فالظاهر والله أعلم، أنه يشير إلى صفة البشر والبشاشة التي كانت بادية على وجهه الشريف صلى الله عليه وسلم، وقلما تتغير هذه الصفة إلى نقيضها، كأن يتربد وجهه صلى الله عليه وسلم غضبا أو نحوه.

(2) الهراوة: بالكسر، العصا الضخمة، والجمع الهراوى بفتح الهاء والواو. المحكم والمحيط الأعظم: (4/ 415)، مختار الصحاح: (ص 289) هرو.

(3) النجيب: مفرد النجائب، يطلق في اللغة على الكريم الشديد، وعلى الفاضل من كل حيوان، وعلى خيار الإبل، وعلى الكريم من الخيل، وهو اسم لجمل النبي صلى الله عليه وسلم، وبه نعت بصاحب النجيب الأحمر العين: (6/ 152)، المحيط في اللغة: (7/ 131)، عيون الأثر: (2/ 389).

(4) البراعة: بفتح الموحدة، مصدر برع الرجل، فاق أقرانه وغلبهم علما وفهما وغيرهما. الحيوان للجاحظ: (1/ 366)، جمهرة اللغة: (1/ 316) برع.
এবং তাঁর অবিচলতা(১), তাঁর তরীকা ও সুন্নতের স্থায়িত্ব, তাঁর লেনদেনে ইনসাফ, তাঁর তাকওয়া, তাঁর আমানতদারি, তাঁর মমতা ও কোমলতা, তাঁর সুন্দর অবয়ব ও চরিত্র, তাঁর নিষ্ঠা, তাঁর গাম্ভীর্য, তাঁর নূরের উজ্জ্বলতা, তাঁর লজ্জা, তাঁর নম্রতা, তাঁর আত্মবিশ্বাস, তাঁর ইয়াকীন, তাঁর ক্ষমা, তাঁর দয়া, তাঁর মার্জনা, তাঁর করুণা, তাঁর অল্পে তুষ্টি, তাঁর মিতব্যয়িতা, তাঁর তাওয়াক্কুলের সততা; এবং আল্লাহ তাঁকে যা দান করেছেন: যেমন প্রশংসিত হাউজ (হাওজে কাউসার), মাকামে মাহমুদ, লিওয়া (পতাকা), কাউসার, হাশরের ময়দানে শাফায়াত, কুরআন ও তিলাওয়াত, মুকুট, লাঠি(২), তলোয়ার, রাজদণ্ড, উটনী ও অভিজাত বাহন(৩), সুন্দর নাম, শ্রেষ্ঠত্ব(৪), প্রাঞ্জল ভাষা, সুউচ্চ খ্যাতি, দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা, সুউচ্চ বংশমর্যাদা, কথা বলা কিতাব (কুরআন), মীমাংসা ও বিধিবিধান, মিল্লাতে হানিফী ও ইসলাম, বিস্তারিত আয়াতসমূহ, অবতীর্ণ কালামসমূহ, সম্মানিত মক্কা, মহিমান্বিত স্থানসমূহ, হারাম ও ইহরাম, যমযম ও মাকামে ইবরাহীম, মাশআরে হারাম, বর্শা ও তরবারির লড়াই, জুমুআ ও জামাত, শ্রবণ ও আনুগত্য, ফরয নামায, নির্ধারিত যাকাত, তাহলীল, আযান, রমযান মাস, সৎ কাজের আদেশ ও পুণ্যকর্মসমূহ, অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ, কাফেরদের প্রতি কঠোরতা, মুমিনদের প্রতি বিনয়, অপরাধীদের প্রতি অনুগ্রহ, তাকদীর সম্পর্কে অবগতি, মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর ভয়, যিকিরের ক্ষেত্রে অগ্রগামিতা, মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব, প্রেরণের দিক থেকে সবার শেষে হওয়া এবং নবীগণের পরিসমাপ্তি ঘটানো—এই সবকিছুর সমষ্টি তাঁর নবুওয়াতের প্রমাণ, তাঁর বাণীর সত্যতা, সমস্ত সৃষ্টিজগতের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব এবং আদমের সকল সন্তানের ওপর তাঁর অনন্য বৈশিষ্ট্যের পরিচয় দেয়; যার বিস্তারিত বিবরণ আমার এই কিতাবে তাঁর মুজিযা ও নবুওয়াতের নিদর্শনাবলীর আলোচনায় আসবে।

--------------------------------------------

(১) এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, লেখক—রাহিমাহুল্লাহ—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতের মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রেখে তাঁর গুণাবলীর একটি ইতিবাচক অর্থের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। প্রকাশ্যত—আল্লাহই ভালো জানেন—তিনি তাঁর পবিত্র চেহারা মুবারকের সেই প্রফুল্লতা ও হাস্যোজ্জ্বল অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা সর্বদা বজায় থাকত এবং খুব কমই এর বিপরীত অবস্থায় পরিবর্তিত হতো; যেমন রাগে তাঁর চেহারা মুবারক বিবর্ণ হওয়া বা এই জাতীয় কিছু।

(২) আল-হিরাওয়াহ: 'হা' বর্ণের নিচে কাসরা যোগে, এর অর্থ মোটা লাঠি। এর বহুবচন হলো 'আল-হিরাওয়া' (হা ও ওয়াও বর্ণের ওপর ফাতহা যোগে)। আল-মুহকাম ওয়াল মুহীতুল আযম: (৪/৪১৫), মুখতারুস সিহাহ: (পৃষ্ঠা ২৮৯) 'হ-র-ও' মূলধাতু।

(৩) আন-নাজীব: এটি 'নাজায়িব'-এর একবচন। আভিধানিক অর্থে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও অভিজাত ব্যক্তি, যেকোনো প্রাণীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ, উটের মধ্যে সর্বোত্তম এবং ঘোড়ার মধ্যে অভিজাত ঘোড়াকে বোঝায়। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উটেরও একটি নাম। আর তাঁকে 'লাল চোখের বাহনওয়ালা' হিসেবেও বিশেষিত করা হয়েছে। আল-আইন: (৬/১৫২), আল-মুহীত ফিল লুগাহ: (৭/১৩১), উয়ুনুল আসার: (২/৩৮৯)।

(৪) আল-বারাআহ: 'বা' বর্ণের ওপর ফাতহা যোগে, এটি 'বারাউর রাজুল' থেকে নির্গত মাসদার। এর অর্থ হলো জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিজের সমকক্ষদের ছাড়িয়ে যাওয়া ও তাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা। আল-হায়াওয়ান লিল জাহিয: (১/৩৬৬), জামহারাতুল লুগাহ: (১/৩১৬) 'ব-র-আই' মূলধাতু।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
وآياته، وكرم خلائقه وخلاله، وحسن مساعيه وأفعاله، وعز مناقبه، وعلو مراتبه، وارتفاع درجته، وعظيم منزلته، وجعلته على وجوه الدلائل مرتبا، وفي أجناسها منوعا، مبوبا.

وبالله أستعين وأسترشد، وعليه أتوكل وأعتمد، وإياه أسأل التوفيق للصواب، وإجزال الأجر والثواب، إنه أكرم مرجو، وأجود مدعو.
এবং তাঁর নিদর্শনসমূহ, তাঁর সৃষ্টির আভিজাত্য ও স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যসমূহ, তাঁর কর্মতৎপরতা ও কার্যাবলীর সৌন্দর্য, তাঁর গুণাবলির মর্যাদা, তাঁর সুউচ্চ স্তরসমূহ, তাঁর সুউন্নত মর্তবা এবং তাঁর মহান অবস্থান। আর আমি একে প্রমাণের বিভিন্ন দিক অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি এবং এর প্রকারভেদ অনুযায়ী বৈচিত্র্যময় ও অধ্যায়ভিত্তিক করেছি।

আর আল্লাহর নিকটই আমি সাহায্য ও সঠিক পথের দিশা প্রার্থনা করি, তাঁর ওপরই আমি ভরসা করি ও নির্ভর করি। আর সঠিক বিষয়ের তাওফীক এবং প্রতিদান ও সওয়াবের প্রাচুর্য তাঁর কাছেই যাচ্ঞা করি। নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম আশার স্থল এবং শ্রেষ্ঠতম আহূত সত্তা।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌1 - باب في معجزاته صلى الله عليه وسلم-

1 - قال الشيخ أبو عبد الله محمد بن محمد بن محمد التميمي: أخبرنا أبو القاسم عبد الملك بن علي الأنصاري، وأبو العز عبد الكريم بن [مرجح](1)، قالا: حدثنا القاضي أبو عمر ابن عبد الواحد الهاشمي(2)، قال: حدثنا الحسن بن محمد بن عثمان الفسوي، قال: حدثنا يعقوب بن سفيان، قال: حدثني محمد بن كثير، قال: حدثنا سليمان بن كثير، عن حصين، عن محمد بن جبير بن مطعم، عن أبيه، قال: انشق القمر على عهد النبي صلى الله عليه وسلم حتى صار فرقتين على هذا الجبل، وعلى هذا الجبل، فقالوا: سحرنا محمد، فقال بعضهم: لئن كان سحرنا محمد فإنه لا يستطيع أن يسحر الخلق كلهم(3).

 

2 - حدثنا أبو القاسم علي بن أحمد بن البسري ببغداد، قال: حدثنا أبو أحمد عبيد الله بن محمد بن أبي مسلم الفرضي، قال: حدثنا الحسين بن إسماعيل المحاملي، قال: حدثنا علي

--------------------------------------------

(1) في الأصل: «مربح»، والتصحيح من المصادر.

(2) هو أبو عمر القاسم بن جعفر بن عبد الواحد بن العباس الهاشمي العباسي البصري، ثقة أمين، وإليه انتهى علو الإسناد بالبصرة.

(3) أخرجه أحمد في المسند: (4/ 81/ ح 16796) عن محمد بن كثير، عن سليمان به، وأخرجه الترمذي في السنن: (5/ 398/ ح 3289) كتاب التفسير، باب ومن سورة القمر، وأبو بكر الدينوري في المجالسة وجواهر العلم: (447/ ح 2620)، والطبراني في المعجم الكبير: (2/ 132/ ح 1559)، والبيهقي في الدلائل: (2/ 268) جميعهم من طرق عن محمد بن كثير، عن سليمان به، وأخرجه البزار في المسند: (357/ 8/ ح 3435) من طريق حصين بن نمير عن حصين بن عبد الرحمن به، تابعه ابن فضيل كما أخرجه الطبري في تفسيره: (27/ 86)، وابن حبان في الصحيح: (14/ 422/ ح 6497) كلاهما بإسناده عن حصين بن عبد الرحمن به، وأخرجه الطبراني في المعجم الكبير: (2/ 132/ ح 1561) من طريق ابن فضيل عن حصين عن سالم بن أبي الجعد عن محمد بن جبير به، وأخرجه البزار في المسند: (8/ 3436/ 358)، والطبراني في المعجم الكبير: (2/ 132/ ح 1560)، والحاكم في المستدرك: (2/ 513/ 3760) وقال: «صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه»، والخطيب في تاريخ بغداد: (13/ 95) جميعهم من طرق عن حصين بن عبد الرحمان، عن جبير بن محمد، عن أبيه محمد به. وفي إسناد المصنف حصين بن عبد الرحمن السلمي، لم يسمع هذا الحديث من محمد بن جبير بن مطعم، بينهما جبير ابن محمد بن جبير، ووصله البزار والطبراني والحاكم وغيرهم. والحديث صحيح بطرقه، وله شواهد صحيحة في الباب من حديث ابن عمر، وأنس، وابن مسعود.
১ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুজিজাসমূহ (অলৌকিক ঘটনাবলী) সংক্রান্ত অধ্যায়-

১ - শাইখ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আত-তামিমি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসেম আব্দুল মালিক ইবনে আলি আল-আনসারি এবং আবু ইজ্জ আব্দুল করিম ইবনে [মুরজিহ্](১), তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন কাজি আবু ওমর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-হাশেমি(২), তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উসমান আল-ফাসাউই, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে কাসির, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে কাসির, হুসাইন হতে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতইম হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেল, এমনকি সেটি এই পাহাড়ের উপর এক ভাগ এবং ঐ পাহাড়ের উপর এক ভাগ হয়ে গিয়েছিল। তখন তারা বলল: মুহাম্মদ আমাদের ওপর জাদু করেছে। তখন তাদের মধ্য থেকে কেউ বলল: যদি মুহাম্মদ আমাদের ওপর জাদু করেও থাকে, তবে সে তো সমস্ত সৃষ্টিজগতকে জাদু করতে পারবে না(৩)।

 

২ - আমাদের নিকট বাগদাদে আবুল কাসেম আলি ইবনে আহমাদ ইবনুল বুসরি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আহমাদ উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি মুসলিম আল-ফারজি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হুসাইন ইবনে ইসমাইল আল-মাহামিলি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলি...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «মুরবিহ্», এবং সংশোধনটি অন্যান্য উৎস হতে গ্রহণ করা হয়েছে।

(২) তিনি হলেন আবু ওমর আল-কাসেম ইবনে জাফর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনুল আব্বাস আল-হাশেমি আল-আব্বাসি আল-বাসরি; তিনি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত, এবং বসরার উচ্চতর সনদ তাঁর নিকট গিয়ে সমাপ্ত হয়েছে।

(৩) এটি আহমাদ তাঁর মুসনাদে (৪/৮১/হাদিস ১৬৭৯৬) মুহাম্মদ ইবনে কাসির হতে এবং তিনি সুলাইমান হতে বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি তাঁর সুনানে (৫/৩৯৮/হাদিস ৩২৮৯) তাফসির অধ্যায়, সূরা ক্বামারের পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন। আবু বকর আদ-দিনাওয়ারি আল-মুজালাসা ওয়া জাওয়াহিরুল ইলম-এ (৪৪৭/হাদিস ২৬২০), তাবারানি আল-মুজামুল কাবিরে (২/১৩২/হাদিস ১৫৫৯) এবং বায়হাকি আদ-দালাইলে (২/২৬৮) বর্ণনা করেছেন; তাঁরা সকলেই মুহাম্মদ ইবনে কাসিরের বিভিন্ন সূত্রে সুলাইমান হতে এটি বর্ণনা করেছেন। বাজজার মুসনাদে (৮/৩৫৭/হাদিস ৩৪৩৫) হুসাইন ইবনে নুমাইরের সূত্রে হুসাইন ইবনে আব্দুর রহমান হতে বর্ণনা করেছেন। ইবনে ফুদাইল তাঁর অনুসরণ করেছেন যেমনটি তাবারানি তাঁর তাফসিরে (২৭/৮৬) এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সাহিহ্-তে (১৪/৪২২/হাদিস ৬৪৯৭) বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়েই তাঁদের সনদে হুসাইন ইবনে আব্দুর রহমান হতে বর্ণনা করেছেন। তাবারানি আল-মুজামুল কাবিরে (২/১৩২/হাদিস ১৫৬১) ইবনে ফুদাইলের সূত্রে হুসাইন হতে, তিনি সালিম ইবনে আবিল জাদ হতে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জুবায়ের হতে বর্ণনা করেছেন। বাজজার মুসনাদে (৮/৩৫৮/হাদিস ৩৪৩৬), তাবারানি আল-মুজামুল কাবিরে (২/১৩২/হাদিস ১৫৬০) এবং হাকেম আল-মুস্তাদরাকে (২/৫১৩/হাদিস ৩৭৬০) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: «এটি বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ্, যদিও তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি।» এবং খাতিব বাগদাদি তারিখে বাগদাদে (১৩/৯৫) বর্ণনা করেছেন; তাঁরা সকলেই হুসাইন ইবনে আব্দুর রহমানের বিভিন্ন সূত্রে জুবায়ের ইবনে মুহাম্মদ হতে এবং তিনি তাঁর পিতা মুহাম্মদ হতে বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থকারের সনদে হুসাইন ইবনে আব্দুর রহমান আস-সুলামি রয়েছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতইম হতে সরাসরি এই হাদিসটি শোনেননি, তাঁদের মাঝে জুবায়ের ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জুবায়ের রয়েছেন। বাজজার, তাবারানি, হাকেম এবং অন্যান্যরা একে সংযুক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন। হাদিসটি তার বিভিন্ন সূত্রের কারণে সহিহ্, এবং এই বিষয়ে ইবনে ওমর, আনাস ও ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হাদিসগুলো এর সহিহ্ সমর্থক বর্ণনা হিসেবে বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
ابن مسلم، قال: حدثنا سفيان، عن ابن أبي نجيح(1)، عن مجاهد، عن أبي معمر(2)، عن عبد الله(3)، قال: انشق القمر على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فرقتين، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «اشهدوا»(4).

 

3 - أخبرنا أبو الحسن محمد بن علي السيرافي، قال: حدثنا القاضي أبو عمر ابن عبد الواحد، قال: حدثنا الحسين بن يحيى بن عياش، قال: حدثنا علي بن مسلم، قال: حدثنا أبو داود الطيالسي الكبير، قال: أخبرنا شعبة، عن قتادة، سمع أنسا، قال: انشق القمر على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم(5).

--------------------------------------------

(1) هو أبو يسار عبد الله بن أبي نجيح يسار الثقفي المكي، الإمام الثقة المفسر، ثقة رمي بالقدر وربما دلس.

(2) في الأصل: «ابن معمر»، والتصحيح من الحاشية والمصادر، وهو أبو معمر عبد الله بن سخبرة الأزدي الكوفي، تابعي مشهور، ثقة.

(3) هو عبد الله بن مسعود رضي الله عنه.

(4) أخرجه عبد الرزاق في التفسير: (3/ 257)، ونعيم بن حماد في الفتن: (2/ 603/ 1683)، وأحمد في المسند: (1/ 377/ 3583 - 3584)، والبخاري في الصحيح: (3/ 1330/ 3437) كتاب المناقب، باب سؤال المشركين أن يريهم النبي صلى الله عليه وسلم آية فأراهم انشقاق القمر، ومسلم في الصحيح: (4/ 2158/ 2800) كتاب صفة القيامة والجنة والنار، باب انشقاق القمر، وسعدان بن نصر المخرمي في جزئه: (23/ ح 56)، والترمذي في السنن: (5/ 398/ 3287) كتاب التفسير، باب ومن سورة القمر، والنسائي في السنن الكبرى: (6/ 476/ ح 11553)، والطحاوي في شرح مشكل الآثار: (2/ 178)، والشاشي في المسند: (2/ 189/ 757)، والطحاوي في مشكل الآثار: (2/ 178)، واللالكائي في اعتقاد أهل السنة والجماعة: (4/ 793/ ح 1458)، والبيهقي في دلائل النبوة: (2/ 264)، جميعهم من طرق عن سفيان بن عيينة عن ابن أبي نجيح به، وأخرجه الصنعاني في التفسير: (3/ 257)، ومن طريقه البيهقي في الدلائل: (2/ 265) من طريق محمد بن مسلم عن ابن أبي نجيح به، وأخرجه نعيم بن حماد في الفتن: (2/ 604/ ح 1686)، وأحمد في المسند: (1/ 456/ 4360)، والبخاري في الصحيح: (3/ 1404 - 1405/ ح 3656 - 3658) القسامة في الجاهلية، باب انشقاق القمر، ومسلم في الصحيح: (4/ 2158/ ح 2800) كتاب صفة القيامة والجنة والنار، باب انشقاق القمر، والنسائي في السنن الكبرى: (6/ 476/ ح 11552)، والطبري في تفسيره: (27/ 85)، والطحاوي في شرح مشكل الآثار: (2/ 178 - 180)، والشاشي في المسند (2/ 188 - 189/ 754 - 756)، وابن حبان في الصحيح: (14/ 420/ ح 6495)، واللالكائي في اعتقاد أهل السنة: (4/ 794/ ح 1459)، والبيهقي في الدلائل: (2/ 265 - 266)، جميعهم من طرق عن أبي معمر عن ابن مسعود به. وإسناد المصنف صحيح.

(5) أخرجه أبو داود الطيالسي في المسند: (265/ ح 1960) عن شعبة عن قتادة به، ومن طريقه أخرجه أحمد في المسند: (3/ 275/ 13948)، و (3/ 278/ 13990)، ومسلم في الصحيح: (4/ 2159/ ح 2802) كتاب صفة القيامة والجنة والنار، باب انشقاق القمر، والطبري في تفسيره: =
ইবনে মুসলিম বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে আবি নাজিহ থেকে(১), তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আবু মা'মার থেকে(২), তিনি আবদুল্লাহ থেকে(৩) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে চাঁদ ফেটে দুই খণ্ড হয়ে গিয়েছিল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমরা সাক্ষী থাকো»(৪)।

 

৩ - আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন আলী আল-সিরাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: কাজী আবু উমর ইবনে আবদুল ওয়াহিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হুসাইন বিন ইয়াহইয়া বিন আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী বিন মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু দাউদ আল-তায়ালিসি আল-কাবীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাসকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল(৫)।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আবু ইয়াসার আবদুল্লাহ বিন আবি নাজিহ ইয়াসার আল-সাকাফি আল-মাক্কি, একজন নির্ভরযোগ্য ইমাম ও মুফাসসির। তিনি নির্ভরযোগ্য হলেও তাঁর ওপর কদরিয়া আকিদার অপবাদ দেওয়া হয়েছিল এবং সম্ভবত তিনি তাদলিস করতেন।

(২) মূল পাঠে রয়েছে: «ইবনে মা'মার», এবং টীকা ও অন্যান্য মূল উৎস থেকে এটি সংশোধন করা হয়েছে; তিনি হলেন আবু মা'মার আবদুল্লাহ বিন সাখবারাহ আল-আজদি আল-কুফি, একজন প্রসিদ্ধ তাবিঈ ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী।

(৩) তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

(৪) এটি বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক তাঁর তাফসিরে: (৩/ ২৫৭), নুআইম বিন হাম্মাদ 'আল-ফিতান' গ্রন্থে: (২/ ৬০৩/ ১৬৮৩), আহমাদ তাঁর মুসনাদে: (১/ ৩৭৭/ ৩৫৮৩ - ৩৫৮৪), বুখারী তাঁর সহিহ গ্রন্থে: (৩/ ১৩৩০/ ৩৪৩৭) কিতাবুল মানাকিব, পরিচ্ছেদ: মুশরিকদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কোনো নিদর্শন দেখানোর দাবি এবং তাদের চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া দেখানো; মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে: (৪/ ২১৫৮/ ২৮০০) কিতাবু সিফাতিল কিয়ামা ওয়াল জান্না ওয়ান নার, পরিচ্ছেদ: চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া; সা'দান বিন নাসর আল-মুখাররামী তাঁর জুজ-এ: (২৩/ হাদিস ৫৬), তিরমিজি তাঁর সুনান গ্রন্থে: (৫/ ৩৯৮/ ৩২৮৭) কিতাবুত তাফসির, পরিচ্ছেদ: সূরা আল-কামার থেকে; নাসাঈ তাঁর সুনানুল কুবরা গ্রন্থে: (৬/ ৪৭৬/ হাদিস ১১৫৫৩), তহাবী 'শারহু মুশকিলিল আছার' গ্রন্থে: (২/ ১৭৮), আল-শাশী তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে: (২/ ১৮৯/ ৭৫৭), তহাবী 'মুশকিলুল আছার' গ্রন্থে: (২/ ১৭৮), লালকাঈ 'ইতিহাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ' গ্রন্থে: (৪/ ৭৯৩/ হাদিস ১৪৫৮), এবং বাইহাকী 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' গ্রন্থে: (২/ ২৬৪); তাঁরা সকলেই সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ-এর সূত্র ধরে ইবনে আবি নাজিহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও সানআনী তাঁর তাফসিরে: (৩/ ২৫৭) এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সূত্র ধরে বাইহাকী 'দালাইল' গ্রন্থে: (২/ ২৬৫) মুহাম্মদ বিন মুসলিমের মাধ্যমে ইবনে আবি নাজিহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি আরও বর্ণনা করেছেন নুআইম বিন হাম্মাদ 'আল-ফিতান' গ্রন্থে: (২/ ৬০৪/ হাদিস ১৬৮৬), আহমাদ মুসনাদে: (১/ ৪৫৬/ ৪৩৬০), বুখারী সহিহ গ্রন্থে: (৩/ ১৪০৪ - ১৪০৫/ হাদিস ৩৬৫৬ - ৩৬৫৮) কিতাবুল কাসামাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ, পরিচ্ছেদ: চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া; মুসলিম সহিহ গ্রন্থে: (৪/ ২১৫৮/ হাদিস ২৮০০) কিতাবু সিফাতিল কিয়ামা ওয়াল জান্না ওয়ান নার, পরিচ্ছেদ: চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া; নাসাঈ সুনানুল কুবরা গ্রন্থে: (৬/ ৪৭৬/ হাদিস ১১৫৫২), তাবারী তাঁর তাফসিরে: (২৭/ ৮৫), তহাবী শারহু মুশকিলিল আছার গ্রন্থে: (২/ ১৭৮ - ১৮০), আল-শাশী মুসনাদ গ্রন্থে: (২/ ১৮৮ - ১৮৯/ ৭৫৪ - ৭৫৬), ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে: (১৪/ ৪২০/ হাদিস ৬৪৯৫), লালকাঈ ইতিহাদ আহলিস সুন্নাহ গ্রন্থে: (৪/ ৭৯৪/ হাদিস ১৪৫৯), এবং বাইহাকী দালাইল গ্রন্থে: (২/ ২৬৫ - ২৬৬); তাঁরা সকলেই আবু মা'মারের সূত্র ধরে ইবনে মাসউদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর গ্রন্থকারের বর্ণনা সূত্রটি সহিহ।

(৫) এটি আবু দাউদ আল-তায়ালিসি তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন: (২৬৫/ হাদিস ১৯৬০) শু'বাহ-এর সূত্র ধরে কাতাদাহ থেকে। তাঁর সূত্র ধরে আহমাদ মুসনাদে: (৩/ ২৭৫/ ১৩৯৪৮) এবং (৩/ ২৭৮/ ১৩৯৯০), এবং মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে: (৪/ ২১৫৯/ হাদিস ২৮০২) কিতাবু সিফাতিল কিয়ামা ওয়াল জান্না ওয়ান নার, পরিচ্ছেদ: চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া; এবং তাবারী তাঁর তাফসিরে এটি বর্ণনা করেছেন। =
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
4 - حدثنا محمد بن علي، قال: حدثنا القاضي أبو عمر، قال: حدثنا الحسين الضبي، قال: حدثنا علي بن مسلم، قال: حدثنا أبو داود، قال: حدثنا شعبة، قال: وأخبرني الأعمش(1): سمعت مجاهدا، عن ابن عمر رضي الله عنه قال: انشق القمر على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اشهدوا»(2).

 

5 - أخبرنا أبو عبد الله الحسين بن أحمد بن محمد بن طلحة ببغداد، قال: حدثنا علي بن محمد بن بشران، قال: حدثنا إسماعيل بن محمد الصفار، قال: حدثنا يحيى بن أبي طالب، قال: أخبرنا علي بن عاصم، وأخبرني مغيرة، عن مسلم بن صبيح، عن مسروق بن الأجدع، عن عبد الله بن مسعود، قال: انشق القمر ونحن بمكة مع النبي صلى الله عليه وسلم، فقال: كفار أهل مكة: سحر محمد القمر، فقيل لهم: إن محمدا لا يستطيع أن يسحر الأرض كلها، فسلوا من يقدم عليكم هل رأوا مثل ما رأيتم، فسألوا، فلم يقدم عليهم

--------------------------------------------

= (27/ 85) =، والبيهقي في دلائل النبوة: (2/ 264)، وأخرجه أحمد في المسند: (3/ 275/ ح 13947)، والبخاري في الصحيح: (4/ 1844/ ح 4587) كتاب التفسير، باب {وانشق القمر وإن يروا آية يعرضوا}، وأبو على في المسند: (5/ 306/ ح 2929) و (5/ 440/ ح 3141) و (6/ 22/ ح 3254)، واللالكائي في اعتقاد أهل السنة والجماعة: (4/ 795/ ح 1461) جميعهم من طرق عن شعبة عن قتادة به، وأخرجه الصنعاني في تفسيره: (3/ 257)، والبخاري في الصحيح: (4/ 1844/ ح 4587) كتاب التفسير، باب {وانشق القمر وإن يروا آية يعرضوا}، والنسائي في السنن الكبرى: (6/ 476/ ح 11554)، والحاكم في المستدرك: (2/ 513/ ح 3761)، جميعهم من طرق عن قتادة عن أنس به. وإسناد المصنف صحيح.

(1) هو أبو محمد سليمان بن مهران الأسدي الكاهلي الكوفي، المعروف بالأعمش، ثقة حافظ عارف بالقراءات، ورع لكنه يدلس.

(2) أخرجه الطيالسي في المسند: (257/ ح 1891)، وأخرجه الترمذي في السنن: (4/ 477/ ح 2182) كتاب الفتن، باب ما جاء في انشقاق القمر، وقال: هذا حديث حسن صحيح، واللالكائي في اعتقاد أهل السنة: (4/ 795 - 796/ ح 1464 - 1465) كلاهما من طرق عن أبي داود الطيالسي به، وأخرجه مسلم في الصحيح: (4/ 2159/ ح 2801) كتاب صفة القيامة والجنة والنار، باب انشقاق القمر، والطبري في التفسير: (27/ 85)، والطحاوي في مشكل الآثار: (2/ 179)، والطبراني في المعجم الكبير: (12/ 399/ ح 13473)، وابن حبان في الصحيح: (14/ 421/ ح 6496)، وأبو نعيم في الدلائل: (1/ 279/ ح 208)، وابن عساكر في تاريخ دمشق: (4/ 357 - 358) جميعهم من طرق عن شعبة عن الأعمش به. وإسناد المصنف صحيح.
৪ - মুহাম্মদ বিন আলী আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-কাজী আবু ওমর আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হুসাইন আদ-দাব্বী আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী বিন মুসলিম আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু দাউদ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বাহ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, এবং তিনি বলেন: আল-আ'মাশ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন(১): আমি মুজাহিদকে ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমরা সাক্ষী থাকো»(২)।

 

৫ - বাগদাদে আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন তালহা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী বিন মুহাম্মদ বিন বিশরান আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আস-সাফফার আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আবি তালিব আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী বিন আসিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, এবং মুগীরাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুসলিম বিন সুবাইহ থেকে, তিনি মাসরূক বিন আল-আজদা' থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মক্কায় ছিলাম তখন চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল। তখন মক্কাবাসী কাফিররা বলল: মুহাম্মদ চন্দ্রকে জাদু করেছে। তখন তাদের বলা হলো: মুহাম্মদ তো পুরো পৃথিবীকে জাদু করতে সক্ষম নয়, সুতরাং তোমাদের নিকট যারা আসে তাদের জিজ্ঞাসা করো যে তোমরা যা দেখেছ তারাও কি তেমনটি দেখেছে কি না। অতঃপর তারা জিজ্ঞাসা করল, কিন্তু তারা তাদের নিকট আসেনি...

--------------------------------------------

= (২৭/ ৮৫) =, এবং আল-বায়হাকী ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ গ্রন্থে: (২/ ২৬৪), এবং আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন ‘আল-মুসনাদ’ গ্রন্থে: (৩/ ২৭৫/ হা: ১৩৯৪৭), এবং বুখারী ‘আস-সহীহ’ গ্রন্থে: (৪/ ১৮৪৪/ হা: ৪৫৮৭) তাফসীর অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: {চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হয়েছে এবং তারা যদি কোনো নিদর্শন দেখে তবে মুখ ফিরিয়ে নেয়}, এবং আবু আলী ‘আল-মুসনাদ’ গ্রন্থে: (৫/ ৩০৬/ হা: ২৯২৯) এবং (৫/ ৪৪০/ হা: ৩১৪১) এবং (৬/ ২২/ হা: ৩২৫৪), এবং আল-লালকাঈ ‘ই'তিকাদ আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত’ গ্রন্থে: (৪/ ৭৯৫/ হা: ১৪৬১); তারা সকলেই শু'বাহর সূত্রে কাতাদাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এবং আস-সানআনী এটি তার তাফসীরে বর্ণনা করেছেন: (৩/ ২৫৭), বুখারী ‘আস-সহীহ’ গ্রন্থে: (৪/ ১৮৪৪/ হা: ৪৫৮৭) তাফসীর অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: {চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হয়েছে এবং তারা যদি কোনো নিদর্শন দেখে তবে মুখ ফিরিয়ে নেয়}, এবং নাসাঈ ‘আস-সুনান আল-কুবরা’ গ্রন্থে: (৬/ ৪৭৬/ হা: ১১৫৫৪), এবং হাকেম ‘আল-মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে: (২/ ৫১৩/ হা: ৩৭৬১); তারা সকলেই কাতাদাহর সূত্রে আনাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর গ্রন্থকারের সনদটি সহীহ।

(১) তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ সুলাইমান বিন মিহরান আল-আসাদী আল-কাহিলী আল-কূফী, যিনি আল-আ'মাশ নামে পরিচিত। তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), হাফিজ, কিরাআত বিশেষজ্ঞ এবং পরহেযগার, তবে তিনি তাদলীস করতেন।

(২) আত-তায়ালিসী এটি ‘আল-মুসনাদ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: (২৫৭/ হা: ১৮৯১), এবং তিরমিযী ‘আস-সুনান’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: (৪/ ৪৭৭/ হা: ২১৮২) ফিতনা অধ্যায়, চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া সম্পর্কে বর্ণিত অনুচ্ছেদ, এবং তিনি বলেছেন: এই হাদীসটি হাসান সহীহ। এবং আল-লালকাঈ ‘ই'তিকাদ আহলে সুন্নাহ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: (৪/ ৭৯৫ - ৭৯৬/ হা: ১৪৬৪ - ১৪৬৫); তারা উভয়ই আবু দাউদ আত-তায়ালিসীর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। এবং মুসলিম এটি ‘আস-সহীহ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: (৪/ ২১৫৯/ হা: ২৮০১) কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ অধ্যায়, চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া অনুচ্ছেদ। এবং তাবারী তাফসীর গ্রন্থে: (২৭/ ৮৫), এবং তহাবী ‘মুশকিলুল আসার’ গ্রন্থে: (২/ ১৭৯), এবং তাবারানী ‘আল-মু'জামুল কাবীর’ গ্রন্থে: (১২/ ৩৯৯/ হা: ১৩৪৭৩), এবং ইবনে হিব্বান ‘আস-সহীহ’ গ্রন্থে: (১৪/ ৪২১/ হা: ৬৪৯৬), এবং আবু নুআইম ‘আদ-দালাইল’ গ্রন্থে: (১/ ২৭৯/ হা: ২০৮), এবং ইবনে আসাকির ‘তারিখু দামেস্ক’ গ্রন্থে: (৪/ ৩৫৭ - ৩৫৮); তারা সকলেই শু'বাহর সূত্রে আল-আ'মাশ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর গ্রন্থকারের সনদটি সহীহ।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
أحد إلا قالوا: رأينا مثل الذي رأيتم(1).

 

6 - أخبرنا أبو القاسم علي بن أحمد البسري ببغداد، قال: أخبرنا أبو طاهر محمد بن عبد الرحمن المخلص، قال: حدثنا يحيى بن محمد بن صاعد، قال: حدثنا محمد بن عمرو ابن وليد الكندي، قال: حدثنا إسحاق بن منصور(2)، عن عبد الله بن عمرو بن مرة، عن أبيه، عن سالم بن أبي الجعد، عن جابر، قال: كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر فأصبحوا، فهاج الناس(3)، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما لكم»؟ قالوا: ليس مع أحد من القوم ماء إلا الذي في تورك، قال: فوضع يده في التور(4)، فقال: «توضئوا»، فجعل الماء يفور من بين أصابعه حتى توضثنا وسقينا، قلنا لجابر: كم أنتم؟ قال: لو كنا مائة ألف كفانا، قلنا: كم أنتم؟ قال: أربع عشر مائة، أو خمس عشرة مائة(5).

--------------------------------------------

(1) أخرجه الطيالسي في المسند: (38/ ح 295)، والبخاري في الصحيح: (3/ 1404/ ح 3656) معلقا في القسامة في الجاهلية، باب انشقاق القمر، والطبري في تفسيره: (27/ 85)، والطحاوي في شرح مشكل الآثار: (2/ 177)، والشاشي في المسند: (1/ 402/ ح 404)، وأبو بكر القطيعي في جزء الألف دينار: (109/ ح 174)، واللالكائي في اعتقاد أهل السنة: (4/ 794)، وأبو نعيم في الدلائل: (1/ 281/ ح 211 - 212)، والبيهقي في دلائل النبوة: (2/ 266)، وفي الاعتقاد: (269) جميعهم من طرق عن المغيرة بن مقسم عن مسلم بن صبيح به. وإسناد المصنف حسن. والحديث صحيح، له طرق وشواهد عديدة مستفيضة.

(2) هو أبو يعقوب إسحاق بن منصور بن بهرام الكوسج التميمي المروزي، ثقة ثبت، مات عام 251 هـ.

(3) هاج الناس: أي اختلطوا بعضهم في بعض مقبلين ومدبرين، وهاج الشيء: ثار المشقة أو ضرر، ومنه هيجان البحر، ويوم الهياج: يوم القتال. مشارق الأنوار: (1/ 390) مادة (موج)، لسان العرب: (2/ 394 - 395)، مختار الصحاح: (ص 293) مادة (هيج).

(4) التور: بفتح التاء: إناء صغير يشرب فيه ويتوضأ منه، وهو شبيه بالقدح يكون من حجارة أو نحاس. المغرب في ترتيب المعرب: (1/ 109) مادة (تور)، لسان العرب: مادة (تور)، تاج العروس: (10/ 297) مادة (تور).

(5) أخرجه أبو طاهر المخلص في المخلصيات: (2/ 140 - 141/ ح 1229) عن يحيى ابن صاعد عن محمد بن عمر الكندي به، وأخرجه قوام السنة في دلائل النبوة: (47 - 48) من طريق أبي نصر الزينبي عن أبي طاهر المخلص به، وأخرجه عبد بن حميد في المسند (336/ ح 1115)، والحطيب في الفصل للوصل المدرج (2/ 898) من طريق شعبة عن عمرو بن مرة عن سالم به، وأخرجه ابن أبي شيبة في المصنف: (7/ 386/ ح 36854)، وأحمد في المسند: (3/ 329/ ح 14562)، والبخاري في الصحيح: (3/ 1310/ ح 3383) كتاب المناقب، باب علامات النبوة في الإسلام، ومسلم في الصحيح: =
কেউ ছিল না যে বলেনি: আমরাও অনুরূপ দেখেছি যা আপনারা দেখেছেন(১)।

 

৬ - বাগদাদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসেম আলী বিন আহমদ আল-বুসরি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-মুখলিস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন সায়িদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আমর ইবনুল ওয়ালিদ আল-কিন্দী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন মানসুর(২), আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন মুররাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি সালিম বিন আবিল জাদ থেকে, তিনি জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা এক সফরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। তারা ভোরে উপনীত হলেন এবং মানুষ অস্থির হয়ে উঠল(৩)। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমাদের কী হয়েছে?» তারা বলল: কাফেলার কারো কাছে আপনার ছোট পাত্রে থাকা পানি ছাড়া আর কোনো পানি নেই। তিনি বলেন: তখন তিনি সেই ছোট পাত্রে নিজের হাত রাখলেন(৪), তারপর বললেন: «তোমরা অজু করো», তখন তাঁর আঙ্গুলগুলোর মাঝখান থেকে পানি উথলে উঠতে লাগল, এমনকি আমরা অজু করলাম এবং পানি পান করলাম। আমরা জাবিরকে জিজ্ঞেস করলাম: আপনারা কতজন ছিলেন? তিনি বললেন: যদি আমরা এক লক্ষও হতাম তবে তা আমাদের জন্য যথেষ্ট হতো। আমরা পুনরায় বললাম: আপনারা কতজন ছিলেন? তিনি বললেন: চৌদ্দশ অথবা পনেরোশ জন(৫)।

--------------------------------------------

(১) একে বর্ণনা করেছেন তায়ালিসি তাঁর আল-মুসনাদে: (৩৮/ হা ২৯৫), বুখারি তাঁর আস-সহিহ-তে: (৩/ ১৪০৪/ হা ৩৬৫৬) জাহেলিয়াত যুগের কাসামাহ অধ্যায়ে, চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া অনুচ্ছেদে মুয়াল্লাক হিসেবে, তাবারি তাঁর তাফসিরে: (২৭/ ৮৫), তহাবি শারহু মুশকিলিল আসারে: (২/ ১৭৭), শাশী আল-মুসনাদে: (১/ ৪০২/ হা ৪০৪), আবু বকর আল-কতিয়ি জুযউল আলফি দিনার-এ: (১০৯/ হা ১৭৪), লালকাঈ ইতিকাদ আহলিস সুন্নাহ-তে: (৪/ ৭৯৪), আবু নুয়াইম আদ-দালায়িলে: (১/ ২৮১/ হা ২১১ - ২১২), এবং বায়হাকি দালায়িলুন নুবুওয়াহ-তে: (২/ ২৬৬) ও আল-ইতিকাদ-এ: (২৬৯); তারা সকলেই মুগিরাহ বিন মিকসামের সূত্রে মুসলিম বিন সবিহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। লেখকের সনদটি হাসান। হাদিসটি সহিহ, এর অনেকগুলো সূত্র ও বহুসংখ্যক সমর্থক বর্ণনা রয়েছে।

(২) তিনি হলেন আবু ইয়াকুব ইসহাক বিন মানসুর বিন বাহরাম আল-কূসাজ আল-তামিমি আল-মারওয়াযি, নির্ভরযোগ্য এবং সুপ্রতিষ্ঠিত বর্ণনাকারী, তিনি ২৫১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

(৩) মানুষ অস্থির হয়ে উঠল: অর্থাৎ তারা সামনে-পেছনে আসার কারণে একে অপরের সাথে মিশে গেল। আর কোনো বস্তু 'হাজা' হওয়ার অর্থ হলো কষ্ট বা ক্ষতির ফলে আলোড়িত হওয়া, এর থেকেই সমুদ্রের উত্তাল হওয়া শব্দটি এসেছে। আর 'ইয়াওমুল হিয়াজ' হলো যুদ্ধের দিন। মাশারিকুল আনওয়ার: (১/ ৩৯০) 'মাওজ' শব্দমূল, লিসানুল আরব: (২/ ৩৯৪ - ৩৯৫), মুখতারুস সিহাহ: (পৃষ্ঠা ২৯৩) 'হাইজ' শব্দমূল।

(৪) আত-তাওর: 'তা' বর্ণে জবর সহকারে: একটি ছোট পাত্র যা থেকে পান করা হয় এবং অজু করা হয়। এটি পেয়ালার মতো, যা পাথর বা তামা দিয়ে তৈরি হয়। আল-মুগরিব ফি তারতিবিল মুগরিব: (১/ ১০৯) 'তাওর' শব্দমূল, লিসানুল আরব: 'তাওর' শব্দমূল, তাজুল আরুস: (১০/ ২৯৭) 'তাওর' শব্দমূল।

(৫) একে বর্ণনা করেছেন আবু তাহের আল-মুখলিস 'আল-মুখলিসিয়াত'-এ: (২/ ১৪০ - ১৪১/ হা ১২২৯) ইয়াহইয়া ইবনে সায়িদ সূত্রে মুহাম্মদ বিন আমর আল-কিন্দী থেকে। কাওয়ামুস সুন্নাহ একে বর্ণনা করেছেন দালায়িলুন নুবুওয়াহ-তে: (৪৭ - ৪৮) আবু নাসর আয-যাইনাবি সূত্রে আবু তাহের আল-মুখলিস থেকে। আব্দ বিন হুমাইদ আল-মুসনাদে: (৩৩৬/ হা ১১১৫), এবং খতিব 'আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদ্রাজ'-এ: (২/ ৮৯৮) শুবা সূত্রে আমর বিন মুররাহ থেকে সালিমের মাধ্যমে। ইবনে আবি শায়বাহ আল-মুসান্নাফ-এ: (৭/ ৩৮৬/ হা ৩৬৮৫৪), আহমদ আল-মুসনাদে: (৩/ ৩২৯/ হা ১৪৫৬২), বুখারি আস-সহিহ-তে: (৩/ ১৩১০/ হা ৩৩৮৩) মানাকিব অধ্যায়, ইসলামে নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহ অনুচ্ছেদ, এবং মুসলিম আস-সহিহ-তে: =
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩২)
7 - أخبرنا أبو الحسن محمد بن علي السيرافي، قال: حدثنا القاضي أبو عمر القاسم بن جعفر، قال: حدثنا عيسى بن إبراهيم بن دستكونا، قال: حدثنا أبو يوسف القلوسي(1)، قال: حدثنا الحسن بن عنبسة، قال: حدثنا عبيدة، عن الأسود بن قيس، عن نبيح بن عبد الله العنزي، عن جابر بن عبد الله، قال: كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر، فحضرت الصلاة، فجاء رجل بفضلة في إداوة، فصب في قدح، فتوضأ رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم إن القوم أتوا ببقية الماء، فقالوا: لو تمسحوا، فسمعهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «على رسلكم»، فضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده إلى القدح في جوف الماء، ثم قال: «أسبغوا الظهور»، قال جابر: والذي أذهب بصره لقد رأيت الماء يخرج من بين أصابع رسول الله صلى الله عليه وسلم، فما رفع يده حتى توضأوا أجمعون. قال الأسود: حسبته قال: مائتين أو أكثر(2).

 

8 - أخبرنا أبو القاسم علي بن أحمد البسري ببغداد، قال: أخبرنا عبيد الله بن محمد بن بطة إجازة، قال: حدثنا عبد الله بن محمد بن عبد العزيز البغوي، قال: حدثنا محمد بن عبد الملك بن أبي الشوارب، قال: حدثنا جعفر بن سليمان، قال: حدثنا الجعد أبو عثمان،

--------------------------------------------

= (3/ 1484/ ح 1856) كتاب الإمارة، باب استحباب مبايعة الإمام، وابن خزيمة في الصحيح: (1/ 65/ 125)، والدارمي في السنن: رقم (27)، وابن حبان في الصحيح: (14/ 480/ ح 6542)، والفريابي في الدلائل: (70)، والطبراني في المعجم الأوسط: (3/ 141/ ح 2732)، وأبو نعيم في الدلائل: (2/ 406 - 407/ ح 313 - 314)، والبيهقي في دلائل النبوة (4/ 116)، وقوام السنة في دلائل النبوة: (120 - 121)، وابن عساكر في تاريخ دمشق: (36/ 436) جميعهم من طرق عن سالم بن أبي الجعد عن جابر به. وإسناد المصنف حسن. والحديث صحيح، أخرجه البخاري في الصحيح: (3/ 1310/ ح 3383) كتاب المناقب، باب علامات النبوة في الإسلام، ومسلم في الصحيح: (3/ 1484/ ح 1856) كتاب الإمارة، باب استحباب مبايعة الإمام.

(1) هو أبو يوسف يعقوب بن إسحاق بن زياد البصري القلوسي، كان ثقة حافظا ضابطا.

(2) أخرجه أحمد في المسند: (3/ 357/ ح 14903)، وابن أبي شيبة في مصنفه: (6/ 316/ ح 31723)، وأبو بكر الفريابي في الدلائل: (69) جميعهم من طريق عبيدة عن الأسود بن قيس به، وأخرجه ابن خزيمة في الصحيح: (1/ 56/ ح 107) من طريق الحسن بن محمد عن عبيدة به، وأخرجه أحمد في المسند: (3/ 292/ ح 14147)، والدارمي في السنن: (1/ 27) باب ما أكرم الله النبي صلى الله عليه وسلم من تفجير الماء من بين أصابعه، برقم (26)، والبيهقي في دلائل النبوة: (4/ 117) من طرق عن أبي عوانة عن الأسود بن قيس به. وإسناد المصنف ضعيف، فيه الحسن بن عنبسة البصري الوراق وهو ضعيف وقد توبع. والحديث صحيح بطرقه.
৭ - আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আলী আস-সিরাফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট কাজী আবু উমর আল-কাসিম ইবনে জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ঈসা ইবনে ইব্রাহিম ইবনে দাস্তুকুনা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু ইউসুফ আল-কালুসী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-হাসান ইবনে আনবাসাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উবাইদাহ বর্ণনা করেছেন, আল-আসওয়াদ ইবনে কায়স থেকে, তিনি নুবাইহ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনাজী থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক সফরে ছিলাম। এরপর নামাজের সময় হলো। তখন এক ব্যক্তি চামড়ার পাত্রে অবশিষ্ট কিছু পানি নিয়ে এল। সে একটি পেয়ালায় পানি ঢালল। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অজু করলেন। এরপর লোকজন অবশিষ্ট পানির কাছে এল। তারা বলল: আমরা যদি মাসাহ (অল্প পানি দিয়ে মোছা) করতে পারতাম! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কথা শুনতে পেলেন এবং বললেন: «তোমরা স্থির হও (তাড়াহুড়ো করো না)»। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানির ভেতরে পেয়ালার মধ্যে তাঁর হাত রাখলেন। তারপর বললেন: «তোমরা পরিপূর্ণভাবে অঙ্গসমূহ ধৌত করো (অজু করো)»। জাবির বলেন: সেই সত্তার কসম, যিনি তাঁর (বর্ণনাকারীর) দৃষ্টিশক্তি হরণ করেছেন, আমি অবশ্যই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আঙুলসমূহের মাঝখান থেকে পানি বের হতে দেখেছি। তিনি তাঁর হাত উঠাননি যতক্ষণ না তারা সকলে অজু সম্পন্ন করলেন। আসওয়াদ বলেন: আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন: তারা দুইশ বা তার বেশি লোক ছিলেন।

 

৮ - বাগদাদে আবুল কাসিম আলী ইবনে আহমদ আল-বুসরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বাত্তাহ আমাদের ইজাজতসূত্রে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-বাগাবী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে আবিল শাওয়ারিব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট জাফর ইবনে সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-জাদ আবু উসমান বর্ণনা করেছেন,

--------------------------------------------

= (৩/ ১৪৮৪/ হা: ১৮৫৬) কিতাবুল ইমারাহ, ইমামের আনুগত্যের বয়াত মুস্তাহাব হওয়া সংক্রান্ত অধ্যায়। এবং ইবনে খুজাইমাহ তাঁর সহীহ গ্রন্থে: (১/ ৬৫/ ১২৫), আদ-দারিমি তাঁর সুনান গ্রন্থে: নং (২৭), ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে: (১৪/ ৪৮০/ হা: ৬৫৪২), আল-ফারিয়াবি ‘আদ-দালাইল’ গ্রন্থে: (৭০), তাবারানি ‘আল-মুজামুল আওসাত’ গ্রন্থে: (৩/ ১৪১/ হা: ২৭৩২), আবু নুয়াইম ‘আদ-দালাইল’ গ্রন্থে: (২/ ৪০৬ - ৪০৭/ হা: ৩১৩ - ৩১৪), আল-বাইহাকি ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ গ্রন্থে (৪/ ১১৬), কাওয়ামুস সুন্নাহ ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ গ্রন্থে: (১২০ - ১২১), এবং ইবনে আসাকির ‘তারিখে দামেশক’ গ্রন্থে: (৩৬/ ৪৩৬)। তারা সকলে সালিম ইবনে আবিল জাদ থেকে, তিনি জাবির থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থকারের সনদটি হাসান। হাদিসটি সহীহ। বুখারি তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন: (৩/ ১৩১০/ হা: ৩৩৮৩) কিতাবুল মানাকিবে, ইসলামে নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহ সংক্রান্ত অধ্যায়। এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে: (৩/ ১৪৮৪/ হা: ১৮৫৬) কিতাবুল ইমারাহ, ইমামের প্রতি আনুগত্যের বয়াত মুস্তাহাব হওয়া সংক্রান্ত অধ্যায়।

(১) তিনি হলেন আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে জিয়াদ আল-বসরী আল-কালুসী। তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), হাফেজ ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ছিলেন।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে: (৩/ ৩৫৭/ হা: ১৪৯০৩), ইবনে আবি শায়বাহ তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে: (৬/ ৩১৬/ হা: ৩১৭২৩), এবং আবু বকর আল-ফারিয়াবি ‘আদ-দালাইল’ গ্রন্থে: (৬৯)। তারা সকলেই উবাইদাহ থেকে আল-আসওয়াদ ইবনে কায়স সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনে খুজাইমাহ তাঁর সহীহ গ্রন্থে: (১/ ৫৬/ হা: ১০৭) আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ থেকে উবাইদাহ সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে: (৩/ ২৯২/ হা: ১৪১৪৭), আদ-দারিমি তাঁর সুনান গ্রন্থে: (১/ ২৭) অনুচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর আঙুলসমূহের মাঝখান থেকে পানি প্রবাহিত করার মাধ্যমে যে সম্মান দান করেছেন, নং (২৬), এবং আল-বাইহাকি ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ গ্রন্থে: (৪/ ১১৭) আবু আওয়ানাহ থেকে আল-আসওয়াদ ইবনে কায়স সূত্রে বিভিন্নভাবে। গ্রন্থকারের সনদটি দুর্বল, কারণ এতে আল-হাসান ইবনে আনবাসাহ আল-বসরী আল-ওয়াররাক রয়েছেন এবং তিনি দুর্বল। তবে এর অন্যান্য সমর্থনমূলক সূত্র রয়েছে। হাদিসটি এর বিভিন্ন সূত্রের কারণে সহীহ।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
عن أنس بن مالك، عن جابر بن عبد الله، قال: شكا الناس إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم العطش، قال: فدعا بعس(1) ودعا بماء، فصبه فيه، ثم وضع النبي صلى الله عليه وسلم يده في العس، وقال: «استقوا» فرأيت العيون تنبع من بين أصابع النبي صلى الله عليه وسلم.(2).

 

9 - أخبرنا أبو الفضل أحمد بن [الحسن](3) المعدل ببغداد، قال: حدثنا الحسين بن أحمد، والحسن بن الحسين، قالا: حدثنا أحمد بن يوسف، قال: حدثنا الحارث، قال: حدثنا أبو النضر(4)، قال: حدثنا سليمان، عن حميد، عن أنس، عن البراء، قال: كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فأتينا على ركي ذمة(5)، يعني قليلة الماء، قال: فنزل فيها ستة وأنا سادسهم ماحة(6)، قال: فأدليت إلينا دلو، قال: ورسول الله صلى الله عليه وسلم على الركي فجعلنا فيها نصفها، أو قراب ثلثيها، فرفعت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: فجئت بإنائي هل أجد شيئا أجعله في حلقي، فما وجدت، فرفعت الدلو إلى رسول الله

--------------------------------------------

(1) العس: القدح الكبير، يروي الثلاثة والأربعة من الرجال. غريب الحديث لابن قتيبة: (1/ 468)، غريب الحديث للحربي: (3/ 1070)، تهذيب اللغة: (1/ 63)، النهاية في غريب الأثر: (3/ 236) مادة (عسس).

(2) أخرجه البغوي في معجم الصحابة: (1/ 442 - 443)، ومن طريقه الآجري في الشريعة: (4/ 1572)، وأخرجه أبو نعيم في حلية الأولياء: (6/ 293)، وفي تاريخ أصبهان: (2/ 226)، والبيهقي في دلائل النبوة: (6/ 12) جميعهم من طرق عن ابن أبي الشوارب عن جعفر بن سليمان به، وأخرجه أحمد في المسند: (3/ 343/ ح 14738)، وأبو يعلى في المسند: (4/ 82/ 2107)، وأخرجه الدارمي في السنن: (1/ 27) باب ما أكرم الله النبي صلى الله عليه وسلم من تفجير الماء من بين أصابعه، برقم (28)، والطبراني في الأوسط: (7/ 60/ ح 6848) وقال: لم يرو هذا الحديث عن أنس عن جابر إلا بهذا الإسناد، تفرد به جعفر بن سليمان، وأبو نعيم في الحلية: (6/ 293) جميعهم من طرق عن جعفر بن سليمان عن أبي عثمان الجعد به. وإسناد المصنف حسن. والحديث له شواهد صحيحة في الباب من حديث أنس، والبراء بن عازب، وسلمة بن الأكوع، وابن عباس رضي الله عنهم أجمعين.

(3) في الأصل: «الحسين»، والتصحيح من المصادر.

(4) هو أبو النضر هاشم بن القاسم بن مسلم الليثي مولاهم الخراساني البغدادي، مشهور بكنيته، ولقبه قيصر، ثقة ثبت.

(5) ركا الأرض ركوا: أي حفرها، والركية كغنية أي البئر، جمعها ركي كعتي، ويضبط بالفتح، والمعنى بئر قليلة الماء. النهاية في غريب الأثر: (2/ 261) مادة (ركا)، لسان العرب: (14/ 333) مادة (ركا)، تاج العروس: (38/ 178) مادة (ركو).

(6) ماحة: جمع مائح، وهو الذي يدخل البئر ليغرف الماء في الدلو فيجذبها الذي على رأس البئر. الفائق: (2/ 15)، النهاية في غريب الحديث: (4/ 379) مادة (ميح).
আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণিত, জাবির বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি বলেন: লোকসকল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তৃষ্ণার অভিযোগ করল। তিনি বলেন: এরপর তিনি একটি বড় পেয়ালা(১) চাইলেন এবং পানি চাইলেন, অতঃপর তিনি তা তাতে ঢাললেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই বড় পেয়ালায় তাঁর হাত রাখলেন এবং বললেন: "তোমরা পানি পান করো।" তখন আমি দেখলাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আঙ্গুলসমূহের মাঝখান থেকে ঝরনা প্রবাহিত হচ্ছে।(২).

 

৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ফজল আহমাদ বিন [আল-হাসান] আল-মুয়াদ্দিল বাগদাদে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন বিন আহমাদ এবং আল-হাসান বিন আল-হুসাইন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন ইউসুফ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-হারিস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু নাজর(৪), তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুলাইমান, তিনি হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস থেকে, তিনি বারা (বিন আযিব) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম, অতঃপর আমরা একটি স্বল্প পানির কূপের(৫) কাছে আসলাম, অর্থাৎ যাতে পানি কম ছিল। তিনি বলেন: সেখানে ছয়জন নামলেন এবং আমি ছিলাম তাঁদের মধ্যে ষষ্ঠজন পানিনিষ্কাশনকারী(৬) হিসেবে। তিনি বলেন: আমাদের দিকে একটি বালতি ঝুলিয়ে দেওয়া হলো। তিনি বলেন: আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কূপের কিনারায় ছিলেন। আমরা সেটিতে অর্ধেক পরিমাণ অথবা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভর্তি করলাম, অতঃপর তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উঠানো হলো। তিনি বলেন: আমি আমার পাত্রটি নিয়ে আসলাম এই আশায় যে, আমি কি আমার গলায় দেওয়ার মতো কিছু পাব? কিন্তু আমি কিছুই পেলাম না। এরপর আমি বালতিটি রাসূলুল্লাহর দিকে উঠিয়ে দিলাম।

--------------------------------------------

(১) আল-আস: বড় পেয়ালা, যা তিন থেকে চারজন পুরুষকে তৃপ্ত করতে পারে। গরীবুল হাদীস, ইবনে কুতাইবা: (১/ ৪৬৮), গরীবুল হাদীস, হারবী: (৩/ ১০৭০), তাহযীবুল লুগাহ: (১/ ৬৩), আন-নিহায়াহ ফী গরীবিল আসার: (৩/ ২৩৬) অনুচ্ছেদ (আসাস)।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন বাগভী 'মু'জামুস সাহাবাহ' গ্রন্থে: (১/ ৪৪২ - ৪৪৩), এবং তাঁর সূত্রে আজুররী 'আশ-শারীআহ' গ্রন্থে: (৪/ ১৫৭২), আর আবু নুআইম 'হিলইয়াতুল আউলিয়া' গ্রন্থে: (৬/ ২৯৩) এবং 'তারিখ আসবাহান' গ্রন্থে: (২/ ২২৬), বাইহাকী 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' গ্রন্থে: (৬/ ১২); তাঁরা সকলেই ইবনু আবিল শাওয়ারিব-এর সূত্রে জাফর বিন সুলাইমান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আহমাদ এটি মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: (৩/ ৩৪৩/ হাদীস ১৪৭৩৮), আবু ইয়ালা মুসনাদ গ্রন্থে: (৪/ ৮২/ ২১০৭), এবং দারেমী এটি সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: (১/ ২৭) পরিচ্ছেদ: আল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর আঙ্গুলের মাঝখান থেকে পানি প্রবাহিত করে যা দিয়ে সম্মানিত করেছেন, হাদীস নং (২৮)। তাবারানী 'আল-আওসাত' গ্রন্থে: (৭/ ৬০/ হাদীস ৬৮৪৮) এবং বলেছেন: আনাস থেকে জাবির-এর মাধ্যমে এই হাদীসটি কেবল এই সনদেই বর্ণিত হয়েছে, এতে জাফর বিন সুলাইমান একক হয়ে গেছেন। আবু নুআইম এটি 'হিলইয়া' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: (৬/ ২৯৩); সকলেই জাফর বিন সুলাইমান-এর সূত্রে আবু উসমান আল-জাদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর গ্রন্থকারের সনদটি হাসান। এই পরিচ্ছেদে আনাস, বারা বিন আযিব, সালামাহ বিন আকওয়া এবং ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন) থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহে এর সহীহ সাক্ষী বা সমর্থনকারী বর্ণনা রয়েছে।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আল-হুসাইন", কিন্তু অন্যান্য উৎস হতে একে "আল-হাসান" হিসেবে সংশোধন করা হয়েছে।

(৪) তিনি হলেন আবু নাজর হাশিম বিন আল-কাসিম বিন মুসলিম আল-লাইসী, তাঁদের মুক্তদাস, খোরাসানী বাগদাদী। তিনি তাঁর কুনিয়াত বা উপনামেই বেশি পরিচিত এবং তাঁর উপাধি কায়সার; তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী।

(৫) 'রকা আল-আরদ রকাওয়ান' অর্থাৎ জমি খনন করা। আর 'আর-রাকিইয়্যাহ' হলো কূপ। এর বহুবচন হলো 'রকি' (রা-এর ওপর যবর দিয়েও পড়া যায়), এর অর্থ হলো স্বল্প পানির কূপ। আন-নিহায়াহ ফী গরীবিল আসার: (২/ ২৬১) অনুচ্ছেদ (রকা), লিসানুল আরব: (১৪/ ৩৩৩) অনুচ্ছেদ (রকা), তাজুল আরুস: (৩৮/ ১৭৮) অনুচ্ছেদ (রকু)।

(৬) মাহাহ: মাইহ্-এর বহুবচন। তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি কূপের ভেতরে নামেন যাতে বালতিতে করে পানি তুলে দিতে পারেন, আর যে ব্যক্তি কূপের পাড়ে থাকে সে বালতিটি টেনে তোলে। আল-ফাইক: (২/ ১৫), আন-নিহায়াহ ফী গরীবিল হাদীস: (৪/ ৩৭৯) অনুচ্ছেদ (মাইহ)।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩৪)
صلى الله عليه وسلم، فغمس يده فيها، فقال ما شاء أن يقول، وأعيدت إلينا الدلو بما فيها، قال: فلقد رأيت أحدنا أخرج بثوب خشية الغرق، قال: ثم ساحت(1) حتى جرت نهرا(2).

 

10 - أخبرنا أبو القاسم علي بن أحمد بن البسري ببغداد، قال: أخبرنا عبيد الله بن محمد ابن بطة إجازة، قال: حدثنا عبد الله بن محمد البغوي، قال: حدثنا شيبان، قال: حدثنا سعيد بن سليم الضي، عن أنس بن مالك: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم جهز جيشا إلى المشركين فيهم أبو بكر وعمر رضي الله عنهما، وأمرهما والناس كلهم، قال لهم: «جدوا في السير، فإن بينكم وبين المشركين ماء، فإن سبق المشركون إلى ذلك الماء شق على الناس، وعطشتم عطشا شديدا أنتم وركابكم ودوابكم»، وتخلف رسول الله صلى الله عليه وسلم في ثمانية نفر، وأنا معهم، فقال لأصحابه: «هل لكم أن نعرس(3) قليلا، ثم نلحق بالناس»، فقالوا: نعم يا رسول الله، فعرسوا جميعا، فما أيقظهم إلا حر الشمس، واستيقظ أصحابه، فقال لهم: «قوموا فاقضوا حاجتكم»، ففعلوا ثم رجعوا إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فقال لهم: «هل مع أحد منكم ماء»؟ فقال رجل منهم: يا رسول الله معي ميضأة(4)

--------------------------------------------

(1) ساحت: أي جرى ماؤها وفاضت. تهذيب اللغة: (5/ 112)، النهاية: (2/ 433) مادة (سيح).

(2) أخرجه الحارث في المسند (زوائد الهيثمي: 2/ 879/ ح 947)، وأحمد في المسند: (4/ 292/ ح 18607)، والروياني في المسند: (1/ 274 - 275/ ح 404) جميعهم من طرق عن أبي النضر هاشم بن القاسم عن سليمان بن المغيرة به، وأخرجه أحمد في المسند: (4/ 292، 297/ ح 18608، 18645)، وابن أبي عاصم في الآحاد والمثاني: (4/ 131/ ح 2109)، والفريابي في الدلائل: (26/ 60 - 61)، والطبراني في المعجم الكبير: (26/ 2/ ح 1177)، وقوام السنة في دلائل النبوة: (174 - 175/ ح 222) جميعهم من طرق عن سليمان بن المغيرة عن حميد به، وذكره الهيثمي في مجمع الزوائد: (8/ 300) وقال: رواه أحمد والطبراني ورجالهما رجال الصحيح، وقال ابن كثير في البداية والنهاية: (6/ 95) تفرد به الإمام أحمد وإسناده جيد قوي. وإسناد المصنف ضعيف، فيه الحسن بن الحسين بن دوما النعالي، اتهمه الخطيب بالتزوير وقد توبع. والحديث صحيح بطرقه، وله شواهد صحيحة في الباب.

(3) عرس من التعريس أي: النزول بالطريق أي وقت كان من ليل أو نهار للنوم وإراحة الإبل. جمهرة اللغة: (2/ 716) مادة (عرس)، مشارق الأنوار: (2/ 76 - 77) مادة (عرس).

(4) الميضأة: بكسر الميم وهمزة بعد الضاد: مطهرة كبيرة، أو الإناء الذي يتوضأ به كالركوة والإبريق ونحوهما. تهذيب اللغة: (12/ 70) مادة (وضأ)، المخصص: (4/ 55).
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তিনি তাতে তাঁর হাত ডুবালেন, অতঃপর আল্লাহ যা চাইলেন তিনি তা বললেন। এরপর বালতিটি যা ছিল তা-সহ আমাদের কাছে ফিরিয়ে আনা হলো। বর্ণনাকারী বলেন: আমি আমাদের একজনকে দেখলাম যে সে ডুবে যাওয়ার ভয়ে কাপড় গুটিয়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন: এরপর পানি উথলে উঠল এমনকি তা নহর বা নদীতে পরিণত হলো(১)(২)।

 

১০ - বাগদাদে আবুল কাসিম আলী বিন আহমদ বিন আল-বুসরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ওবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ ইবনে বাত্তাহ আমাদের ইজাযাহ সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: শায়বান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সাঈদ বিন সুলাইম আদ-দব্বী আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের বিরুদ্ধে একটি সেনাবাহিনী প্রস্তুত করলেন, যাদের মধ্যে আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) ছিলেন। তিনি তাদের দুজনকে এবং সমস্ত মানুষকে নির্দেশ দিয়ে বললেন: «তোমরা দ্রুত পথ চলো, কারণ তোমাদের ও মুশরিকদের মাঝে পানি রয়েছে। যদি মুশরিকরা সেই পানির কাছে আগে পৌঁছে যায়, তবে মানুষের জন্য কষ্টদায়ক হবে এবং তোমরা, তোমাদের আরোহীরা ও পশুরা চরম তৃষ্ণার্ত হবে।» রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আটজন লোকের সাথে পিছনে থেকে গেলেন এবং আমি তাদের সাথে ছিলাম। তিনি তাঁর সাথীদের বললেন: «তোমরা কি চাও যে আমরা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিই(৩), তারপর মানুষের সাথে মিলিত হই?» তারা বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তারা সবাই বিশ্রাম নিলেন, কিন্তু সূর্যের তাপ ছাড়া আর কিছুই তাদের জাগাতে পারল না। তাঁর সাথীরা জাগ্রত হলে তিনি তাদের বললেন: «উঠো এবং তোমাদের প্রয়োজন পূরণ করো (শৌচকার্য করো)», তারা তা করল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ফিরে এল। তিনি তাদের বললেন: «তোমাদের কারো কাছে কি পানি আছে?» তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমার কাছে একটি অজু করার পাত্র আছে(৪)

--------------------------------------------

(১) সাহাত: অর্থাৎ এর পানি প্রবাহিত হয়েছে এবং উপচে পড়েছে। তাহযীবুল লুগাহ: (৫/ ১১২), আন-নিহায়াহ: (২/ ৪৩৩) মূলশব্দ (সা-ইয়া-হা)।

(২) আল-হারিস এটি আল-মুসনাদে বর্ণনা করেছেন (যাওয়াইদুল হাইসামি: ২/ ৮৭৯/ হা ৯৪৭), এবং আহমদ আল-মুসনাদে: (৪/ ২৯২/ হা ১৮৬০৭), এবং আর-রুইয়ানি আল-মুসনাদে: (১/ ২৭৪ - ২৭৫/ হা ৪০৪) সকলেই আবু নাদর হাশিম বিন কাসিম থেকে সুলাইমান বিন মুগীরাহ সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। আহমদ এটি আল-মুসনাদে বর্ণনা করেছেন: (৪/ ২৯২, ২৯৭/ হা ১৮৬০৮, ১৮৬৪৫), ইবনে আবি আসিম আল-আহাদ ওয়াল মাসানি-তে: (৪/ ১৩১/ হা ২১০৯), আল-ফারিয়াবি আদ-দালাইল-এ: (২৬/ ৬০ - ৬১), আত-তাবারানি আল-মুজাম আল-কাবীর-এ: (২৬/ ২/ হা ১১৭৭), এবং কাওয়ামুস সুন্নাহ দালাইলুন নুবুওয়াহ-তে: (১৭৪ - ১৭৫/ হা ২২২) সকলেই সুলাইমান বিন মুগীরাহ থেকে হুমাইদ সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। হাইসামি এটি মাজমাউজ যাওয়াইদে: (৮/ ৩০০) উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আহমদ ও তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাদের বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী। ইবনে কাসির আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়াতে: (৬/ ৯৫) বলেছেন: ইমাম আহমদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ উত্তম ও শক্তিশালী। আর গ্রন্থকারের সনদটি দুর্বল, কারণ এতে হাসান বিন হুসাইন বিন দুমা আন-নাআলী রয়েছেন, খতীব তাকে জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন, তবে তার সমর্থনকারী বর্ণনা (মুতাবায়াত) পাওয়া যায়। হাদিসটি তার বিভিন্ন সূত্রের কারণে সহীহ এবং এ বিষয়ে এর আরও সহীহ সাক্ষী রয়েছে।

(৩) আররাস শব্দটি তা'রীস থেকে এসেছে, যার অর্থ: ঘুমানোর জন্য এবং উটকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য রাত বা দিনের যেকোনো সময়ে পথের ধারে অবস্থান করা। জামহারাতুল লুগাহ: (২/ ৭১৬) মূলশব্দ (আইন-রা-সিন), মাশারিকুল আনওয়ার: (২/ ৭৬ - ৭৭) মূলশব্দ (আইন-রা-সিন)।

(৪) আল-মিদ্বাআহ: মীম বর্ণে কাসরা এবং দ্বদ বর্ণের পর হামযাহ যোগে: এটি একটি বড় পবিত্রতার পাত্র, অথবা ওজু করার পাত্র যেমন পানির মশক, জগ বা এই জাতীয় কিছু। তাহযীবুল লুগাহ: (১২/ ৭০) মূলশব্দ (ওয়া-দ্বা-হামযাহ), আল-মুখাসসাস: (৪/ ৫৫)।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩৫)
فيها شيء من ماء، قال: «جيء بها»، فجاء بها، فأخذها رسول الله صلى الله عليه وسلم فمسحها بكفه، ودعا بالبركة، ثم قال لأصحابه: «تعالوا فتوضئوا»، فجاءوا، فجعل يصب عليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى توضئوا، وأذن رجل منهم، فأقام، فصلى بهم رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقال لصاحب الميضأة: «ازدهر بميضأتك، فسيكون لها نبأ»، فركب رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه قبل الناس، فقال لأصحابه: «ما ترون الناس فعلوا»؟ قالوا: الله ورسوله أعلم، فقال: «إن فيهم أبا بكر وعمر رضي الله عنهما وسيرشد الناس»، فقدموا وقد سبق المشركون إلى ذلك الماء، فشق على الناس، وعطشوا عطشا شديدا هم وركابهم ودوابهم، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أين صاحب الميضأة؟ فقال: ها أنا ذا يا رسول الله، قال: «جيء بميضاتك»، فجاء بها وفيها شيء من ماء، فقال لهم كلهم: «تعالوا واشربوا»، فجعل يصب عليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى شرب الناس كلهم، وسقوا دوابهم وركابهم، وملأوا كل إدارة وقربة ومزادة(1)، ثم نهض رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه إلى المشركين، فبعث الله ريحا فصرفت وجوه المشركين، فأنزل الله عز وجل نصره، وأمكن من أدبارهم، فقتلوا منهم مقتلة عظيمة، وأسروا أسارى كثيرة، واستاقوا أغناما كثيرة، فرجع رسول الله صلى الله عليه وسلم والناس وافرين صالحين(2).

 

11 - أخبرنا عبد الله بن الحسن الخراساني ببغداد، قال: حدثنا عبد الكريم بن هوازن،

--------------------------------------------

(1) المزادة: بفتح الميم، القربة، وقيل القربة الكبيرة التي تحمل على الدابة، وقيل المزادة والراوية سواء، وقيل: هو الذي زيد فيه بجلد ثالث بين الجلدين ليتسع. غريب الحديث لابن سلام: (1/ 244)، المخصص: (3/ 5)، مشارق الأنوار: (1/ 314) مادة (زيد).

(2) أخرجه الرازي في السداسيات: (ح 15) بإسناده عن ابن بطة العكبري عن البغوي به، وأخرجه البغوي في معجم الصحابة: (1/ 54 - 56)، ومن طريقه ابن عدي في الكامل: (3/ 402)، وأخرجه أبو يعلى في المسند: (7/ 4328/ ح 234)، ومن طريقه البيهقي في دلائل النبوة: (6/ 134)، وابن عدي في الكامل: (3/ 402) جميعهم من طرق عن شيبان بن فروخ عن سعيد بن سليم الضبي به. وإسناد المصنف ضعيف، لأجل الانقطاع، فسعيد بن سليم الضبي لم يسمع شيبان بن فروخ، وفيه أيضا أبو عثمان سعيد بن سليم الضبي البصري وهو ضعيف. وللحديث شاهد صحيح من حديث أبي قتادة، أخرجه مسلم في الصحيح: (1/ 427 - 428/ ح 681) كتاب الصلاة، باب قضاء الصلاة الفائتة واستحباب تعجيل قضائها.
সেটিতে সামান্য পানি ছিল। তিনি বললেন: «এটি নিয়ে এসো», অতঃপর তা আনা হলো। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা গ্রহণ করলেন এবং তাঁর হাতের তালু দিয়ে তা মুছে দিলেন ও বরকতের দোয়া করলেন। অতঃপর তিনি তাঁর সাহাবীদের বললেন: «এসো এবং অজু করো», তখন তারা এলেন এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের ওপর পানি ঢালতে থাকলেন যতক্ষণ না তারা অজু করলেন। তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি আজান দিলেন ও ইকামত দিলেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের নিয়ে নামাজ আদায় করলেন। তিনি অজু পাত্রের মালিককে বললেন: «তোমার অজু পাত্রটি যত্ন করে রাখো, অচিরেই এর একটি বিশেষ খবর তৈরি হবে»। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ অন্যান্য লোকদের আগেই সওয়ার হলেন। তিনি তাঁর সাহাবীদের বললেন: «তোমরা কী মনে করো লোকেরা কী করেছে?» তারা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) আছেন এবং তারা লোকদের সঠিক পথনির্দেশ দেবেন»। অতঃপর তারা এগিয়ে চললেন, কিন্তু মুশরিকরা সেই পানির নিকট আগে পৌঁছে গিয়েছিল। এতে মানুষের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ল এবং তারা ও তাদের সওয়ারি ও চতুষ্পদ প্রাণীরা প্রচণ্ড তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «অজু পাত্রের মালিক কোথায়?» সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমি এখানে। তিনি বললেন: «তোমার অজু পাত্রটি নিয়ে এসো»। সেটি আনা হলো এবং তাতে সামান্য পানি ছিল। তিনি তাদের সকলকে বললেন: «এসো এবং পান করো»। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের ওপর পানি ঢালতে থাকলেন যতক্ষণ না সকল মানুষ পান করল এবং তারা তাদের চতুষ্পদ প্রাণী ও সওয়ারিদের পান করাল। তারা প্রতিটি চামড়ার পাত্র, মশক এবং বড় মশক(১) পূর্ণ করল। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ মুশরিকদের দিকে অগ্রসর হলেন। আল্লাহ একটি বায়ু পাঠালেন যা মুশরিকদের চেহারা ফিরিয়ে দিল। আল্লাহ তাআলা তাঁর সাহায্য অবতীর্ণ করলেন এবং তাদের ওপর বিজয় দান করলেন। ফলে তারা তাদের অনেককে হত্যা করল, অনেককে বন্দী করল এবং প্রচুর ভেড়া-বকরি নিয়ে এল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও লোকজন নিরাপদে ও সুস্থ অবস্থায় ফিরে এলেন(২).

 

১১ - বাগদাদে আবদুল্লাহ ইবনুল হাসান আল-খোরাসানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল করীম ইবনে হাওয়াজিন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন,

--------------------------------------------

(১) আল-মাজাদা: 'মীম' বর্ণে জবরসহ, এর অর্থ চামড়ার মশক। বলা হয়েছে এটি বড় মশক যা পশুর ওপর বহন করা হয়। আরও বলা হয়েছে মাজাদা ও রাবিয়া একই অর্থবোধক। আবার বলা হয়েছে, এটি এমন পাত্র যাতে ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দুই চামড়ার মাঝখানে তৃতীয় একটি চামড়া যোগ করা হয়েছে। ইবনে সালামের 'গরীবুল হাদীস': (১/ ২৪৪), 'আল-মুখাসসিস': (৩/ ৫), 'মাশারিকুল আনওয়ার': (১/ ৩১৪), মূল শব্দ (যায়াদ)।

(২) এটি রাজি 'আস-সুদাসীইয়াত' গ্রন্থে (হাদিস নং ১৫) ইবনে বাত্তাহ আল-উকবারী সূত্রে আল-বাগাভী থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-বাগাভী এটি 'মু'জামুস সাহাবা' গ্রন্থে: (১/ ৫৪ - ৫৬) বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সূত্রে ইবনে আদি 'আল-কামিল' গ্রন্থে: (৩/ ৪০২)। আবু ইয়ালা এটি 'আল-মুসনাদ' গ্রন্থে: (৭/ ৪৩২৮/ হা. নং ২৩৪) বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সূত্রে বায়হাকী 'দালায়িলুন নুবুওয়াহ' গ্রন্থে: (৬/ ১৩৪)। ইবনে আদি 'আল-কামিল' গ্রন্থে: (৩/ ৪০২); তাঁরা সকলে শায়বান বিন ফাররুখ সূত্রে সাঈদ বিন সুলাইম আদ-দাব্বী থেকে বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থকারের সনদটি বিচ্ছন্নতার কারণে দুর্বল, কারণ সাঈদ বিন সুলাইম আদ-দাব্বী শায়বান বিন ফাররুখ থেকে শুনেননি। এতে আবু উসমান সাঈদ বিন সুলাইম আদ-দাব্বী আল-বসরীও রয়েছেন, যিনি দুর্বল। তবে আবু কাতাদা থেকে বর্ণিত হাদিসে এর একটি সহীহ সাক্ষী রয়েছে, যা মুসলিম 'আস-সহীহ' গ্রন্থে: (১/ ৪২৭ - ৪২৮/ হা. নং ৬৮১) 'নামাজ অধ্যায়', 'ছুটে যাওয়া নামাজের কাজা এবং দ্রুত তা আদায়ে মুস্তাহাব হওয়া' পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩৬)
قال: حدثنا أبو نعيم عبد الملك بن الحسين الأزهري، قال: حدثنا أبو عوانة الحافظ(1)، قال: حدثنا أحمد بن يوسف السلمي، قال: حدثنا النضر بن محمد، قال: حدثنا عكرمة بن عمار، قال: حدثنا إياس بن سلمة بن الأكوع، عن أبيه، قال: خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في غزوة، فأصابنا جهد حتى هممنا أن ننحر بعض ظهرنا، فأمر نبي الله صلى الله عليه وسلم، فجمعنا أزوادنا وبسطنا لها نطعا(2)، واجتمع زاد القوم على النطع، قال: فتطاولت لأحزره، فحزرته [كربضة](3) العنز، ونحن أربعة عشر مائة، قال: فأكلنا حتى شبعنا جميعا، ثم حشونا جربنا(4)، ثم قال نبي الله صلى الله عليه وسلم: «هل من وضوء»؟ فجاء رجل بإدارة فيها نقطة، فأفرغها في قدح، فتوضأنا كلنا ندغفقه دغفقة(5) أربع عشر مائة، قال: ثم جاء بعد ذلك ثمانية، فقالوا: هل من طهور؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «فرغ الطهور»(6).

--------------------------------------------

(1) هو أبو عوانة يعقوب بن إسحاق بن إبراهيم الإسفرايني النيسابوري الحافظ، صاحب المسند، من علماء الحديث وأثباتهم.

(2) النطع: يجمع على أنطاع، بكسر النون وفتحها: بساط يتخذ من الأديم. القاموس المحيط: (991)، تاج العروس: (22/ 261 - 262) مادة (نطع).

(3) في الأصل: «كمربظة»، والتصحيح من المصادر، والربضة بالضم والفتح والكسر: الجثة، ومعناه كجثته إذا ربض، أي ثنى قوائمه وبرك بالأرض. مشارق الأنوار: (1/ 279)، تاج العروس: (18/ 334) مادة (ربض).

(4) الجراب: وعاء من إهاب الشاة، وقيل هو المزود، لا يوعى فيه إلا يابس، وجمعه جرب. العين: (6/ 113)، تهذيب اللغة: (11/ 37) جرب.

(5) الدغفقة: هي الصب الشديد للماء، وفلان في عيش دغفق أي واسع. جمهرة اللغة: (2/ 1148)، مشارق الأنوار: (1/ 260) مادة (دغق)، غريب الحديث لابن الجوزي: (1/ 340).

(6) أخرجه مسلم في الصحيح: (3/ 1354 - 1355/ ح 1729) كتاب اللقطة، باب استحباب خلط الأزواد إذا قلت والمؤاساة فيها، وأبو عوانة في المسند: (4/ 200/ 6491) كلاهما عن أحمد بن يوسف السلمي عن النضر بن محمد به، وتابعه أحمد بن سلمة كما أخرجه البيهقي في الدلائل: (4/ 118 - 119) بإسناده عن أحمد بن يوسف به، وأخرجه السرقسطي في الدلائل في غريب الحديث: (1/ 200/ ح 101) بإسناده عن النضر بن محمد عن عكرمة بن عمار به، وأخرجه الروياني في المسند: (2/ 257 - 258/ ح 1161)، والطبراني في المعجم الكبير: (18/ 7/ ح 6244)، والبيهقي في الاعتقاد: (277) جميعهم من طرق عن عكرمة بن عمار عن إياس بن سلمة به. وإسناد المصنف صحيح. وحديث عكرمة ابن عمار العجلي صالح عن إياس بن سلمة، ومضطرب في غيره، لا سيما عن يحيى بن أبي كثير.
তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম আব্দুল মালিক বিন আল-হুসাইন আল-আজহারি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আওয়ানা আল-হাফিজ(১), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন ইউসুফ আস-সুলামি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আন-নাদর বিন মুহাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইকরামা বিন আম্মার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াস বিন সালামা বিন আল-আকওয়া, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক যুদ্ধে বের হলাম। আমাদের ওপর চরম সংকট নেমে এল, এমনকি আমরা আমাদের কিছু সওয়ারি পশু জবেহ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। তখন আল্লাহর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলেন, ফলে আমরা আমাদের পাথেয়গুলো সংগ্রহ করলাম এবং আমরা তার জন্য একটি চামড়ার দস্তরখান বিছিয়ে দিলাম(২)। চামড়ার দস্তরখানের ওপর লোকদের পাথেয় একত্রিত করা হলো। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি তা অনুমান করার জন্য মাথা উঁচু করে তাকালাম, আমি তা একটি বসা ছাগলের দেহের আকারের মতো(৩) অনুমান করলাম। অথচ আমরা সংখ্যায় চৌদ্দশ লোক ছিলাম। তিনি বলেন: আমরা সকলেই তৃপ্তিসহকারে আহার করলাম, অতঃপর আমরা আমাদের চামড়ার থলেগুলো(৪) পূর্ণ করলাম। তারপর আল্লাহর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «কারো কাছে কি ওযুর পানি আছে?» তখন এক ব্যক্তি একটি ছোট পাত্র নিয়ে আসল যাতে সামান্য পানি ছিল। তিনি তা একটি বড় পাত্রে ঢাললেন। আমরা চৌদ্দশ লোক সকলেই তার দ্বারা পর্যাপ্ত পরিমাণে ঢেলে(৫) ওযু করলাম। তিনি বলেন: এরপর আরও আটজন ব্যক্তি আসল এবং বলল: ওযুর পানি আছে কি? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «ওযুর পানি শেষ হয়ে গেছে»(৬)।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আবু আওয়ানা ইয়াকুব বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-ইসফরাইনি আন-নিশাপুরি আল-হাফিজ, মুসনাদ গ্রন্থের প্রণেতা এবং হাদিস বিশারদ ও নির্ভরযোগ্য আলেমদের অন্তর্ভুক্ত।

(২) আন-নাতু: এর বহুবচন হলো আনতা, নুন অক্ষরে কাসরা বা ফাতহা সহকারে: চামড়া দিয়ে তৈরি বিছানা বা দস্তরখান। আল-কামুস আল-মুহিত: (৯৯১), তাজুল আরুস: (২২/ ২৬১ - ২৬২), মূল শব্দ (নাতা)।

(৩) মূলে রয়েছে: «কামারবাত্বাহ», তবে সঠিক পাঠটি বিভিন্ন উৎস থেকে নেওয়া হয়েছে। আর-রাবাত্বাহ শব্দটি পেশ, জবর বা জের সহকারে হতে পারে: দেহ বা শরীর। এর অর্থ হলো পশু যখন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুটিয়ে মাটিতে বসে পড়ে তখন তার দেহের যে আকার হয়। মাশারিকুল আনোয়ার: (১/ ২৭৯), তাজুল আরুস: (১৮/ ৩৩৪), মূল শব্দ (রাবাদ)।

(৪) আল-জিরাব: ভেড়ার চামড়া দিয়ে তৈরি পাত্র। বলা হয়ে থাকে এটি পাথেয় রাখার থলে, যাতে কেবল শুষ্ক খাবার রাখা হয়; এর বহুবচন হলো জুরুব। আল-আইন: (৬/ ১১৩), তাহজিবুল লুগাহ: (১১/ ৩৭), মূল শব্দ (জারাব)।

(৫) আদ-দাগফাকাহ: এর অর্থ হলো পানি সজোরে ঢালা। বলা হয় অমুক ব্যক্তি প্রশস্ত (দাগফাক) জীবন যাপন করছে। জামহারাতুল লুগাহ: (২/ ১১৪৮), মাশারিকুল আনোয়ার: (১/ ২৬০), মূল শব্দ (দাগাক), ইবনুল জাওযি রচিত গারিবুল হাদিস: (১/ ৩৪০)।

(৬) ইমাম মুসলিম এটি তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: (৩/ ১৩৫৪ - ১৩৫৫/ হাদিস নং ১৭২৯), লুকুতা অধ্যায়, পাথেয় কমে গেলে তা একত্রে মিশিয়ে দেওয়া এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা প্রদর্শনের মুস্তাহাব হওয়া সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ। আবু আওয়ানা তার মুসনাদ গ্রন্থে: (৪/ ২০০/ হাদিস নং ৬৪৯১) উভয়ে আহমাদ বিন ইউসুফ আস-সুলামি থেকে এবং তিনি আন-নাদর বিন মুহাম্মাদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আহমাদ বিন সালামা তার অনুসরণ করেছেন যেমনটি বায়হাকি আদ-দালাইল গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: (৪/ ১১৮ - ১১৯) আহমাদ বিন ইউসুফ থেকে স্বীয় সনদে। আস-সারাকুস্তি আদ-দালাইল গ্রন্থের ‘গারিবুল হাদিস’ অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন: (১/ ২০০/ হাদিস নং ১০১) আন-নাদর বিন মুহাম্মাদ থেকে ইকরামা বিন আম্মার এর সনদে। আর-রুয়ানি তার মুসনাদ গ্রন্থে: (২/ ২৫৭ - ২৫৮/ হাদিস নং ১১৬১), আত-তাবারানি আল-মুজামুল কাবির গ্রন্থে: (১৮/ ৭/ হাদিস নং ৬২৪৪) এবং বায়হাকি আল-ইতিকাদ গ্রন্থে: (২৭৭) সকলেই বিভিন্ন সূত্রে ইকরামা বিন আম্মার থেকে তিনি ইয়াস বিন সালামা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থকারের সনদটি সহিহ। ইয়াস বিন সালামা থেকে ইকরামা বিন আম্মার আল-ইজলির হাদিস গ্রহণযোগ্য (সালেহ), তবে অন্যদের থেকে তার বর্ণনায় বিশৃঙ্খলা দেখা যায়, বিশেষ করে ইয়াহইয়া বিন আবু কাসির থেকে।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩৭)
12 - أخبرنا أبو عبد الله الحسين بن أحمد بن محمد بن طلحة ببغداد، قال: حدثنا علي بن محمد بن بشران، قال: حدثنا يحيى بن أبي طالب، قال: حدثنا علي بن عاصم، قال: حدثنا عبد الله بن عثمان بن خثيم، عن أبي الطفيل(1)، عن ابن عباس رضي الله عنه، قال: لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم مكة في صلح قريش، بلغ رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه أن أهل مكة يقولون: ما يتتابع أصحابه هزلا، فقام ناس من الأنصار، فقالوا يا رسول الله: ألا ننحر نواضحنا(2) فنأكل منها، ونحسو من المرق، وندخل على القوم غدا وبنا جمام(3)، قال: «لا إيتوني بفضل أزوادكم»، فبسط نطعا، فجعل الرجل يجيء بالصاع وبالمد، حتى حرز جميع ما في العسكر سبعا وعشرين صاعا، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «خذوا ولا تنهبوا»، فجعل الرجل يجيء بجرابه فيأخذ، ويشد فم قميصه، فيملأه حتى صدر أهل العسكر، قال: وقعدت قريش على باب الندوة ينظرون إليهم، فلما دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم اضطبع بثوبه(4)، وقال: «لا يرين القوم فيكم غميزة(5)»، فلما استلم الحجر، أخذ على باب المسجد ورمل(6)، ورمل أصحابه معه، فمروا بهم وهم يرملون، فلما انتهى إلى الركن اليماني وتوارى عنهم، مشى رسول الله صلى الله عليه وسلم ومشى أصحابه، حتى إذا استلم الحجر رمل ورمل أصحابه، حتى إذا أتى على الركن اليماني وتوارى عنهم، مشى رسول الله صلى الله عليه وسلم ومشى أصحابه، حتى إذا استلم الحجر فمروا بهم وهم

--------------------------------------------

(1) هو أبو الطفيل عامر بن واثلة بن عبد الله الليثي، صحابي، غلبت عليه كنيته.

(2) ناضح جمعها نواضح: وهي الإبل التي يستقى عليها. جمهرة اللغة: (1/ 548)، النهاية في غريب الأثر: (5/ 68) مادة (نضح).

(3) الجمام بالكسر: تطلق على الراحة وكثرة السماء، والمعنى أي ندخل على القوم وبنا راحة وشبع وري. العين: (6/ 28)، لسان العرب: (12/ 106) مادة (جمم).

(4) اضطبع بالثوب: إذا جعله تحت إبطه اليمين ويلقيه على عاتقه الأيسر، ويترك منكبه مكشوفا. الفائق: (2/ 327)، لسان العرب: (8/ 216) مادة (ضبع).

(5) غميزة: أي نقيصة أو عيب يشار بها إليهم، وجمعها غمائز. العين: (4/ 386)، تهذيب اللغة: (8/ 81) مادة (غمز).

(6) الرمل: وثب في المشي ليس بالشديد مع هزة المنكبين. مشارق الأنوار: (1/ 291) مادة (رمل)، تهذيب الأسماء واللغات: (3/ 120).
১২ - বাগদাদে আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে তালহা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে বিশরান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবু তালিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে খুসাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু তুফাইল(১) থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরাইশদের সাথে সন্ধির সময় মক্কায় আসলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে, মক্কাবাসী বলছে: তাঁর সাহাবীরা দুর্বলতার কারণে ধারাবাহিকভাবে চলতে পারছে না। তখন আনসারদের মধ্য থেকে কিছু লোক দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আমাদের পানি বহনকারী উটগুলো(২) যবেহ করব না? যাতে আমরা সেগুলো থেকে খেতে পারি, ঝোল পান করতে পারি এবং আগামীকাল লোকজনের সামনে এমন অবস্থায় উপস্থিত হতে পারি যে আমাদের মাঝে সজীবতা(৩) থাকে। তিনি বললেন: «না, বরং তোমাদের কাছে অতিরিক্ত যা পাথেয় আছে তা আমার কাছে নিয়ে এসো», এরপর তিনি একটি চামড়ার দস্তরখান বিছালেন। তখন একেকজন লোক এক সা' বা এক মুদ (খাদ্যশস্য) নিয়ে আসতে লাগল, এমনকি সেনাদলের কাছে থাকা সমস্ত খাদ্য একত্রিত করে দেখা গেল তা সাতাশ সা' হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «তোমরা গ্রহণ করো, তবে লুটতরাজ করো না», ফলে প্রত্যেকে তাদের থলে নিয়ে আসতে লাগল এবং নিতে লাগল, এমনকি কেউ তার জামার বুক বেঁধে তা পূর্ণ করে নিল, এভাবে পুরো সেনাদল তৃপ্ত হয়ে ফিরে গেল। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: কুরাইশরা দারুন নদওয়ার দরজায় বসে তাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রবেশ করলেন, তখন তিনি তাঁর চাদর দিয়ে ইযতিবা(৪) করলেন এবং বললেন: «এই লোকেরা যেন তোমাদের মধ্যে কোনো দুর্বলতা(৫) দেখতে না পায়»। যখন তিনি হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন, তখন তিনি মাসজিদের দরজার দিক দিয়ে পথ ধরলেন এবং রমল(৬) করলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর সাহাবীরাও রমল করলেন। তারা যখন তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন তখন তারা রমল করছিলেন। এরপর যখন তিনি রুকনে ইয়ামানি পর্যন্ত পৌঁছালেন এবং তাদের দৃষ্টির আড়ালে গেলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বাভাবিকভাবে হাঁটলেন এবং তাঁর সাহাবীরাও হাঁটলেন। পুনরায় যখন তিনি হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন, তখন তিনি রমল করলেন এবং তাঁর সাহাবীরাও রমল করলেন, এমনকি যখন তিনি রুকনে ইয়ামানি পর্যন্ত আসলেন এবং তাদের দৃষ্টির আড়ালে গেলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বাভাবিকভাবে হাঁটলেন এবং তাঁর সাহাবীরাও হাঁটলেন। পুনরায় যখন তিনি হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন তখন তারা তাদের সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিলেন এমন অবস্থায় যখন তারা...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আবু তুফাইল আমির ইবনে ওয়াসিলা ইবনে আবদুল্লাহ আল-লাইসি, তিনি একজন সাহাবী, তাঁর উপনামটিই তাঁর নামের ওপর অধিক পরিচিতি পেয়েছে।

(২) 'নাযিহ' এর বহুবচন হলো 'নাওয়াযিহ': এটি সেই উট যা দিয়ে পানি টানা হয়। জমহারাতুল লুগাহ: (১/ ৫৪৮), আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল আসার: (৫/ ৬৮), মূলশব্দ (নাযাহ)।

(৩) 'জিমাম' শব্দটি কাসরা (ই-কার) যোগে: এটি বিশ্রাম এবং প্রাচুর্য অর্থে ব্যবহৃত হয়। এখানে উদ্দেশ্য হলো— আমরা লোকজনের সামনে এমনভাবে প্রবেশ করব যেন আমাদের মধ্যে বিশ্রাম, তৃপ্তি এবং সজীবতা থাকে। আল-আইন: (৬/ ২৮), লিসানুল আরব: (১২/ ১০৬), মূলশব্দ (জামাম)।

(৪) পোশাকে 'ইযতিবা' করা: যখন চাদরটি ডান বগলের নিচ দিয়ে এনে বাম কাঁধের ওপর রাখা হয় এবং ডান কাঁধ উন্মুক্ত রাখা হয়। আল-ফাইক: (২/ ৩২৭), লিসানুল আরব: (৮/ ২১৬), মূলশব্দ (দাবা)।

(৫) 'গমিযাহ': অর্থাৎ কোনো ত্রুটি বা খুঁত যার মাধ্যমে তাদের দিকে ইঙ্গিত করা হয়। এর বহুবচন হলো 'গামায়েজ'। আল-আইন: (৪/ ৩৮৬), তাহযিবুল লুগাহ: (৮/ ৮১), মূলশব্দ (গামায)।

(৬) 'রমল': কাঁধ দুলিয়ে দ্রুত পদক্ষেপে চলা, তবে তা খুব দ্রুত দৌড়ানো নয়। মাশারিফুল আনোয়ার: (১/ ২৯১), মূলশব্দ (রমল), তাহযিবুল আসমা ওয়াল লুগাত: (৩/ ১২০)।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩৮)
يرملون، قال: انظروا كأنهم الغزلان، قال: ففعل رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك ثلاث مرات ومشى أربعا، فكانت سنة(1).

 

13 - أخبرنا أبو القاسم عبد الملك بن علي، قال: حدثنا عبد العزيز بن أحمد المتوثي، قال: حدثنا أحمد بن محمد الأسفاطي، قال: حدثنا الحسين الآدمي، قال: حدثنا أبو طالب زيد بن أخزم الطائي، قال: حدثنا وهب بن جرير، قال: حدثنا أبي(2)، قال: سمعت عمي جرير بن زيد، عن عمرو بن عبد الله بن أبي طلحة، عن أنس بن مالك، قال: قال أبو طلحة(3): رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يتقلب في المسجد ظهرا لبطن، وظننته جائعا، فأتيت أم سليم، فعجنت ثم خبزت قرصا، فقال أبو طلحة: يا أنس اذهب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فادعه، فأتيته وقد اجتمع إليه الناس، فقلت: إن أبا طلحة يدعوك، فقال للناس: «قوموا»، فأتيت أبا طلحة، فقلت: قد جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعه الناس، فاستقبله أبو طلحة، فقال: يا رسول الله إنما هو قرص، فدخل، وقال للناس: «مكانكم»، فجاء بالقرص فوضع في صحفة، ثم غمر كفه هكذا عليه، ثم جيء بشيء من سمن فصبه، ثم قال بيده هكذا، ثم قال: «يا أنس أدخل عشرة»، فدخل عشرة فأكلوا من بين أصابع رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى شبعوا، ثم قال: «أدخل عشرة»، فدخل عشرة فأكلوا من بين أصابع رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى شبع القوم جميعا، ثم أكل رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأبو طلحة وأنس وأم سليم

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد في المسند: (1/ 305/ ح 2783)، وأبو داود في السنن: (2/ 179/ ح 1889) كتاب الحج، باب الاضطباع في الطواف، وأبو عوانة في المسند: (2/ 367/ ح 3461)، وابن حبان في الصحيح: (14/ 466/ ح 6531)، والآجري في الشريعة: (4/ 1569 - 1570/ ح 1055)، والبيهقي في السنن الكبرى: (5/ 78/ ح 9031) جميعهم من طرق عن عبد الله بن عثمان عن أبي الطفيل به، وأخرجه أحمد في المسند: (1/ 299/ ح 2029)، وابن حبان في الصحيح: (9/ 119 - 120/ ح 3811) كلاهما من طرق عن أبي الطفيل به. وإسناد المصنف حسن. والحديث صحيح بطرقه. وجود الألباني إسناده في صحيح أبي داود: (6/ 140).

(2) هو أبو النضر جرير بن حازم بن زيد بن عبد الله الأزدي البصري، ثقة لكن في حديثه عن قتادة ضعف، وله أوهام.

(3) هو أبو طلحة زيد بن سهل بن الأسود بن حرام الأنصاري النجاري، مشهور بكنيته، من كبار الصحابة.
...তাঁরা রমল করছিলেন। তিনি বললেন: দেখ, তারা যেন হরিণশাবক। তিনি বলেন: অতপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি তিনবার করলেন এবং চারবার হাঁটলেন, ফলে এটি সুন্নাতে পরিণত হলো(১).

 

১৩ - আবু কাসিম আবদুল মালিক ইবনে আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল আজিজ ইবনে আহমাদ আল-মুতাওয়াসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-আসফাতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুসাইন আল-আদামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু তালিব যায়েদ ইবনে আখজাম আত-তাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াহাব ইবনে জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন(২), তিনি বলেন: আমি আমার চাচা জারীর ইবনে যায়েদকে আমর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু তালহা থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, আবু তালহা(৩) বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মসজিদে এপাশ-ওপাশ (পেট থেকে পিঠের দিকে) করতে দেখলাম এবং আমি ধারণা করলাম যে তিনি ক্ষুধার্ত। অতপর আমি উম্মে সুলাইমের কাছে আসলাম, তিনি আটা মাখলেন এবং একটি রুটি তৈরি করলেন। আবু তালহা বললেন: হে আনাস, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যাও এবং তাঁকে দাওয়াত দাও। আমি তাঁর কাছে আসলাম এবং তখন তাঁর কাছে অনেক লোক সমবেত ছিল। আমি বললাম: আবু তালহা আপনাকে ডাকছেন। তিনি লোকদের বললেন: «তোমরা ওঠো», আমি আবু তালহার কাছে ফিরে এসে বললাম: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে লোক নিয়ে এসেছেন। আবু তালহা তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, এটি তো মাত্র একটি রুটি। তিনি প্রবেশ করলেন এবং লোকদের বললেন: «তোমরা তোমাদের জায়গায় থাকো»। অতপর তিনি রুটিটি আনলেন এবং একটি পেয়ালায় রাখলেন। এরপর তিনি তাঁর হাতের তালু এভাবে তার উপর রাখলেন। অতপর সামান্য ঘি আনা হলো এবং তিনি তা ঢাললেন। তারপর তিনি তাঁর হাত দিয়ে এভাবে ইশারা করলেন। এরপর বললেন: «হে আনাস, দশজনকে ভেতরে পাঠাও»। দশজন ভেতরে প্রবেশ করল এবং তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আঙুলগুলোর মাঝখান থেকে আহার করল এমনকি তারা তৃপ্ত হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন: «দশজনকে ভেতরে পাঠাও»। দশজন ভেতরে প্রবেশ করল এবং তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আঙুলগুলোর মাঝখান থেকে আহার করল এমনকি সমস্ত লোক তৃপ্ত হয়ে গেল। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু তালহা, আনাস এবং উম্মে সুলাইম আহার করলেন।

--------------------------------------------

(১) আহমাদ মুসনাদে: (১/৩০৫/হা: ২৭৮৩), আবু দাউদ সুন্নানে: (২/১৭৯/হা: ১৮৮৯) হজ্জ অধ্যায়, তাওয়াফে ইযতিবা পরিচ্ছেদ, আবু আওয়ানা মুসনাদে: (২/৩৬৭/হা: ৩৪৬১), ইবনে হিব্বান সহীহতে: (১৪/৪৬৬/হা: ৬৫৩১), আল-আজুরি আশ-শারিয়াহতে: (৪/১৫৬৯ - ১৫৭০/হা: ১০৫৫), এবং আল-বায়হাকী আস-সুনানুল কুবরাতে: (৫/৭৮/হা: ৯০৩১) বর্ণনা করেছেন। তারা সবাই আবু তুফায়েল থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে উসমানের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। আহমাদ মুসনাদে: (১/২৯৯/হা: ২০২৯) এবং ইবনে হিব্বান সহীহতে: (৯/১১৯ - ১২০/হা: ৩৮১১) আবু তুফায়েল সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থকারের এই সনদটি হাসান এবং হাদীসটি এর বিভিন্ন সূত্রে সহীহ। আলবানী একে সহীহ আবু দাউদে: (৬/১৪০) জাইয়্যিদ (উত্তম) বলেছেন।

(২) তিনি হলেন আবু আন-নাজর জারীর ইবনে হাযিম ইবনে যায়েদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আযদি আল-বাসরি। তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), তবে কাতাদা থেকে বর্ণিত তাঁর হাদীসে দুর্বলতা রয়েছে এবং তাঁর কিছু ভ্রম রয়েছে।

(৩) তিনি হলেন আবু তালহা যায়েদ ইবনে সাহল ইবনে আসওয়াদ ইবনে হারাম আল-আনসারী আন-নাজ্জারি। তিনি তাঁর উপনামে সুপরিচিত এবং তিনি বড় মাপের সাহাবীদের অন্যতম।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩৯)
حتى شبعوا، ففضلت فضلة أهديناها للجيران(1).

 

14 - أخبرنا القاضي أبو منصور عبد الباقي بن محمد بن غالب العطار ببغداد، قال: حدثنا عبد الله بن محمد بن جعفر بن قيس، قال: حدثنا أبو العباس أحمد بن سعيد بن عقدة، قال: حدثنا الحسن بن علي بن عفان، قال: حدثنا أبو [أسامة](2)، قال: حدثني محمد بن عمرو، عن أبي سلمة(3): أن أبا طلحة صنع طعاما للنبي صلى الله عليه وسلم يتحفه به، فأرسل إليه أنس بن مالك، فجاء حتى دخل المسجد ورسول الله صلى الله عليه وسلم في أصحابه، فقال: «أدعانا أبوك»؟ قال: نعم، فقام وقاموا، قال أنس: فتقدمتهم، فأتيت أبا طلحة فأخبرته، فتلقاه بالباب، فقال: يا رسول الله إنما هو طعام أردنا أن

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في الصحيح: (3/ 1614/ ح 2040) كتاب الأشربة باب جواز استتباعه غيره إلى دار من يثق برضاه بذلك .. ، من طريق الحسن بن علي الحلواني عن وهب بن جرير به، وأخرجه الطبراني في المعجم الكبير: (25/ 109 - 110/ ح 278) من طريق أسامة بن زيد عن عمرو بن عبد الله بن أبي طلحة عن أنس به، وأخرجه مسلم في الصحيح: (3/ 1612 - 1613/ ح 2040) من طريق يعقوب بن عبد الله بن أبي طلحة، ويحيى بن عمارة، وسعد بن سعيد، وعبد الله بن عبد الله بن أبي طلحة، وعبد الرحمن ابن أبي ليلى، والنضر بن أنس جميعهم عن أنس به، وأخرجه مالك في الموطأ: (2/ 927/ ح 1657)، ومن طريقه عبد بن حميد في المسند (371/ ح 1238)، والبخاري في الصحيح: (3/ 1311/ ح 3385) كتاب المناقب، باب علامات النبوة في الإسلام، وحماد بن إسحاق في تركة النبي: (64 - 65)، والترمذي في السنن: (5/ 595/ ح 3630) كتاب المناقب، باب في آيات إثبات نبوة النبي صلى الله عليه وسلم، والنسائي في السنن الكبرى: (4/ 142/ ح 6617)، والفريابي في الدلائل: (36 - 37)، وابن حبان في الصحيح: (14/ 469 - 470/ (6534)، وأبو نعيم في الدلائل: (2/ 415/ ح 322)، والبيهقي في السنن الكبرى: (7/ 273/ ح 14370)، وفي الاعتقاد: (280)، والآجري في الشريعة: (4/ 1563 - 1564)، واللالكائي في اعتقاد أهل السنة: (4/ 805)، جميعهم من طريق إسحاق ابن عبد الله بن أبي طلحة عن أنس به، وأخرجه أحمد في المسند (3/ 218، 232/ 13452، 13307) من طريق سعد ابن سعيد وعبد الرحمن بن أبي ليلى ومحمد جميعهم عن أنس به. وإسناد المصنف صحيح بطرقه. له طرق عديدة عن أنس، منها طريق بكر بن عبد الله، وثابت البناني، وإسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة، ويحيى بن عمارة، وعبد الرحمن بن أبي ليلى، وربيعة بن أبي عبد الرحمن، وسعد بن سعيد، جميعهم عن أنس به، انظر مصنف ابن أبي شيبة: (6/ 313)، ومسند أبي يعلى: (7/ 170 - 174/ ح 4145، 4151)، ومسند أبي عوانة: (5/ 179 - 183/ ح 8312، 8318)، وسنن الدارمي: (1/ 34/ ح 43)، وودلائل الفريابي: (36 - 42)، والمعجم الكبير للطبراني: (25/ 108 - 114/ ح 278، 280)، والمعجم الأوسط: (6/ 307)، ودلائل البيهقي: (6/ 90).

(2) في الأصل: «أبو سلمة»، والصواب كما في مصادر ترجمته: أبو أسامة حماد بن أسامة بن زيد القرشي مولاهم الكوفي، مشهور بكنيته، ثقة ثبت ربما دلس، وكان بأخرة يحدث من كتب غيره.

(3) هو أبو سلمة بن عبد الرحمن بن عوف الزهري المدني، قيل اسمه عبد الله، وقيل إسماعيل، ثقة مكثر.
এমনকি তারা তৃপ্ত হয়ে আহার করল, এরপর কিছু খাবার অতিরিক্ত রয়ে গেল যা আমরা প্রতিবেশীদের উপহার হিসেবে পাঠিয়ে দিলাম(১)।

 

১৪ - বাগদাদে কাজী আবু মনসুর আব্দুল বাকী বিন মুহাম্মদ বিন গালিব আল-আত্তার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর বিন কায়স, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্বাস আহমাদ বিন সাঈদ বিন উকদাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান বিন আলী বিন আফফান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু [উসামাহ](২), তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন আমর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালামাহ(৩) থেকে: আবু তালহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য কিছু খাবার তৈরি করেছিলেন তাকে উপহার দেওয়ার জন্য, এরপর তিনি আনাস বিন মালিককে তার কাছে পাঠালেন। আনাস (রা.) এসে মসজিদে প্রবেশ করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদের সাথে ছিলেন। তিনি বললেন: «তোমার পিতা কি আমাদের দাওয়াত দিয়েছেন»? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন তিনি উঠলেন এবং সাহাবীগণও উঠলেন। আনাস বললেন: আমি তাদের আগে আগে চলে এলাম এবং আবু তালহাকে খবর দিলাম। তিনি দরজার কাছে এসে তাদের অভ্যর্থনা জানালেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, এটি সামান্য খাবার ছিল যা আমরা চেয়েছিলাম

--------------------------------------------

(১) মুসলিম এটি তার সহীহ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন: (৩/ ১৬১৪/ হা. ২০৪০), পানীয় অধ্যায়, যার সন্তুষ্টির ওপর আস্থা রাখা যায় তার ঘরে অন্যদের নিয়ে যাওয়ার বৈধতা পরিচ্ছেদ... হাসান বিন আলী আল-হুলওয়ানী সূত্রে ওয়াহাব বিন জারীর থেকে। তাবারানী এটি আল-মু'জামুল কাবীর-এ (২৫/ ১০৯ - ১১০/ হা. ২৭৮) উসামাহ বিন যায়েদ সূত্রে আমর বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু তালহা থেকে এবং তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন। মুসলিম এটি সহীহ গ্রন্থে (৩/ ১৬১২ - ১৬১৩/ হা. ২০৪০) ইয়াকুব বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু তালহা, ইয়াহইয়া বিন উমারা, সা'দ বিন সাঈদ, আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু তালহা, আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা এবং নাদর বিন আনাস—সবার সূত্রে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মালিক এটি মুওয়াত্তায় (২/ ৯২৭/ হা. ১৬৫৭) এবং তার সূত্রে আব্দ বিন হুমাইদ মুসনাদে (৩৭১/ হা. ১২৩৮), বুখারী সহীহ গ্রন্থে (৩/ ১৩১১/ হা. ৩৩৮৫) কিতাবুল মানাকিবে, ইসলামে নবুওয়াতের নিদর্শন পরিচ্ছেদ, হাম্মাদ বিন ইসহাক তারিকাতুন নবী-তে (৬৪ - ৬৫), তিরমিযী সুনানে (৫/ ৫৯৫/ হা. ৩৬৩০) কিতাবুল মানাকিবে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতের প্রমাণের নিদর্শনসমূহ পরিচ্ছেদ, নাসাঈ সুনানে কুবরা-তে (৪/ ১৪২/ হা. ৬৬১৭), ফিরইয়াবী দালাঈল গ্রন্থে (৩৬ - ৩৭), ইবনে হিব্বান সহীহ গ্রন্থে (১৪/ ৪৬৯ - ৪৭০/ ৬৫৩৪), আবু নুয়াইম দালাঈল গ্রন্থে (২/ ৪১৫/ হা. ৩২২), বায়হাকী সুনানে কুবরা-তে (৭/ ২৭৩/ হা. ১৪৩৭০) এবং আল-ই'তিকাদ গ্রন্থে (২৮০), আজুররী আশ-শারীয়াহ গ্রন্থে (৪/ ১৫৬৩ - ১৫৬৪), লালকাঈ ই'তিকাদ আহলে সুন্নাহ গ্রন্থে (৪/ ৮০৫)—তারা সবাই ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু তালহা সূত্রে আনাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আহমাদ এটি মুসনাদে (৩/ ২১৮, ২৩২/ ১৩৪৫২, ১৩৩০৭) সা'দ বিন সাঈদ, আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা এবং মুহাম্মাদ সবার সূত্রে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থকারের সনদটি এর বিভিন্ন সূত্রের কারণে সহীহ। আনাস থেকে এর অনেকগুলো সূত্র রয়েছে, যার মধ্যে বকর বিন আব্দুল্লাহ, সাবিত আল-বুনানী, ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু তালহা, ইয়াহইয়া বিন উমারা, আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা, রাবীয়া বিন আবি আব্দুর রহমান এবং সা'দ বিন সাঈদ—তারা সবাই আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন। দেখুন: মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবাহ (৬/ ৩১৩), মুসনাদে আবু ইয়ালা (৭/ ১৭০ - ১৭৪/ হা. ৪১৪৫, ৪১৫১), মুসনাদে আবু আওয়ানা (৫/ ১৭৯ - ১৮৩/ হা. ৮৩১২, ৮৩১৮), সুনানে দারেমী (১/ ৩৪/ হা. ৪৩), দালাঈলুল ফিরইয়াবী (৩৬ - ৪২), তাবারানীর মু'জামুল কাবীর (২৫/ ১০৮ - ১১৪/ হা. ২৭৮, ২৮০), আল-মু'জামুল আওসাত (৬/ ৩০৭), বায়হাকীর দালাঈলুন নুবুওয়াহ (৬/ ৯০)।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «আবু সালামাহ», তবে তার জীবনীগ্রন্থ অনুযায়ী সঠিক হলো: আবু উসামাহ হাম্মাদ বিন উসামাহ বিন যায়েদ আল-কুরাশী, তাদের মুক্তদাস এবং কুফার অধিবাসী। তিনি তার উপনামেই পরিচিত, তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ়, কখনো কখনো তাদলীস করতেন, এবং শেষ জীবনে অন্যের কিতাব থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন।

(৩) তিনি হলেন আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আউফ আল-যুহরী আল-মাদানী। বলা হয় তার নাম আব্দুল্লাহ, আবার বলা হয় ইসমাইল। তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও প্রচুর হাদীস বর্ণনাকারী।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৪০)
نتحفك به، فدعا به فوضع يده عليه، ودعا بالبركة، فقال: «أدخل عشرة عشرة»، حتى شبعوا كلهم، قال: ثم فضل لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل ما صنعنا له، أو أفضل(1).

 

15 - أخبرنا أبو القاسم علي بن أحمد البسري، قال: أخبرنا عبيد الله بن محمد بن بطة إجازة، قال: حدثنا عبد الله بن محمد البغوي، قال: حدثني جدي(2)، قال: حدثنا يزيد بن هارون، وحدثنا زياد بن أيوب، قال: حدثنا ابن أبي [غنية](3)، وحدثنا علي بن مسلم، قال: حدثنا ابن أبي زائدة(4)، ووكيع، وحدثنا داود بن رشيد، حدثنا مروان بن معاوية، وحدثنا أبو الأشعث(5)، حدثنا المعتمر، كلهم عن إسماعيل(6)، عن قيس(7)، أخبرني دكين بن سعيد المزني، قال: جئنا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم نسأله طعاما ونحن أربعمائة راكب، فقال لعمر رضي الله عنه: «اذهب فأعطهم»، قال عمر: والله ما هي إلا أصواع من تمر، والله ما أرى أن [يقيظ بني](8)، قال: «فاذهب فأعطهم»، قال: سمعا وطاعة، فانطلق بنا إلى علية(9) له، فأخرج مفتاحا من حجره، وفتح

--------------------------------------------

(1) أخرجه البزار في المسند: (12/ 320/ ح 6179) من طريق إبراهيم بن سعيد الجوهري عن أبي أسامة به، ومن طريقه ابن حزم في المحلى: (11/ 283). وإسناد المصنف ضعيف، فيه أبو العباس ابن عقدة الكوفي وهو ضعيف، وبقية رجاله ثقات. والحديث صحيح، له شاهد صحيح من حديث أنس كما تقدم في الباب (ح 13) وغيره.

(2) هو عبد العزيز بن المرزبان بن سابور البغوي.

(3) في الأصل: «ابن أبي عتبة»، والصواب كما في مصادر ترجمته: «ابن أبي غنية»: وهو يحيى بن عبد الملك بن حميد بن أبي غنية الخزاعي الكوفي، صدوق له أفراد.

(4) هو أبو يحيى زكرياء بن أبي زائدة خالد، ويقال هبيرة بن ميمون بن فيروز الهمداني الوادعي الكوفي، ثقة وكان يدلس.

(5) هو أبو الأشعث أحمد بن المقدام بن سليمان العجلي البصري، صدوق صاحب حديث، طعن أبو داود في مروءته.

(6) هو أبو عبد الله إسماعيل بن أبي خالد الأحمسي مولاهم البجلي، ثقة ثبت.

(7) هو أبو عبد الله قيس بن أبي حازم البجلي الكوفي، ثقة، مخضرم، ويقال له رؤية.

(8) في الأصل: «تقنطوني»، والتصحيح من المصادر، وفيها أيضا: «يقيظني»، والمعنى: أنه لا يكفيهم لقيظهم، والقيظ هو حمارة الصيف وزمان شدة الحر. العين: (5/ 200)، النهاية في غريب الأثر: (4/ 132).

(9) علية: بكسر العين، هي الغرفة، وتضبط أيضا: العلية على وزن حرية، والأولى أكثر في كلام العرب من الثانية، ومنه أصحاب عليين في الجنة، جاء مفسرا: أصحاب الغرف. العين: (2/ 246)، تهذيب اللغة: (3/ 119)، مشارق الأنوار: (2/ 84) مادة (علو).
আমরা যা দিয়ে আপনাকে আপ্যায়ন করতে পারি, এরপর তিনি তা চাইলেন এবং নিজের হাত সেটির ওপর রাখলেন ও বরকতের দোয়া করলেন। এরপর বললেন: «দশ জন দশ জন করে প্রবেশ করাও», যতক্ষণ না তারা সকলে তৃপ্ত হলেন। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য ততটুকুই অবশিষ্ট রাখলেন যা আমরা তাঁর জন্য তৈরি করেছিলাম, অথবা তার চেয়েও বেশি(১)।

 

১৫ - আবু আল-কাসিম আলী বিন আহমদ আল-বুসরি আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন বাত্তাহ আমাদের অনুমতিক্রমে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ি আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের জানিয়েছেন(২), তিনি বলেন: ইয়াযীদ বিন হারুন আমাদের জানিয়েছেন। এবং যিয়াদ বিন আইয়ুব আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবি [গুনিয়া](৩) আমাদের জানিয়েছেন। এবং আলী বিন মুসলিম আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবি জায়েদা(৪) এবং ওয়াকি আমাদের জানিয়েছেন। এবং দাউদ বিন রুশাইদ আমাদের জানিয়েছেন, মারওয়ান বিন মুয়াবিয়া আমাদের জানিয়েছেন। এবং আবু আল-আশআদ(৫) আমাদের জানিয়েছেন, আল-মু'তামির আমাদের জানিয়েছেন। তাঁরা সকলে ইসমাইলের(৬) সূত্রে, কাইসের(৭) সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দুকাইন বিন সাঈদ আল-মাযানি আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে খাবার চাইতে আসলাম এবং আমরা ছিলাম চারশ আরোহী। তখন তিনি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন: «যাও এবং তাদের দাও», উমর বললেন: আল্লাহর কসম, এগুলো কয়েক সা’ খেজুর ছাড়া আর কিছুই নয়। আল্লাহর কসম, আমি মনে করি না যে তা তাদের গ্রীষ্মকালীন অভাব মেটাতে পারবে(৮)। তিনি বললেন: «যাও এবং তাদের দাও», তিনি বললেন: শুনলাম ও মান্য করলাম। অতঃপর তিনি আমাদের নিয়ে তাঁর একটি ওপরের কক্ষের(৯) দিকে নিয়ে গেলেন, তারপর তিনি তাঁর কোমরবন্ধ থেকে একটি চাবি বের করলেন এবং খুললেন।

--------------------------------------------

(১) আল-বাজার এটি আল-মুসনাদে (১২/৩২০/ হা: ৬১৭৯) ইব্রাহিম বিন সাঈদ আল-জাওহারি-এর সূত্রে আবু উসামা থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং তাঁর সূত্র থেকে ইবনে হাজম আল-মুহাল্লায় (১১/২৮৩) এটি বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থকারের বর্ণনা সূত্রটি দুর্বল, এতে আবু আল-আব্বাস ইবনে উকদাহ আল-কুফি রয়েছেন এবং তিনি দুর্বল; তবে এর অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আর হাদিসটি সহিহ, আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে এর একটি সহিহ সাক্ষ্য রয়েছে যেমনটি পূর্বে এই অধ্যায়ে (হা: ১৩) ও অন্যান্য স্থানে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(২) তিনি হলেন আব্দুল আজিজ বিন আল-মারযুবান বিন সাবুর আল-বাগাওয়ি।

(৩) মূল পাঠে আছে: «ইবনে আবি উতবাহ», কিন্তু সঠিক হলো তাঁর জীবনীগ্রন্থের উৎস অনুসারে: «ইবনে আবি গুনিয়া»: তিনি হলেন ইয়াহইয়া বিন আব্দুল মালিক বিন হুমাইদ বিন আবি গুনিয়া আল-খুজায়ি আল-কুফি, তিনি সত্যবাদী তবে একক বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর থেকে ভুল হতে পারে।

(৪) তিনি হলেন আবু ইয়াহইয়া জাকারিয়া বিন আবি জায়েদা খালিদ, মতান্তরে হুবাইরা বিন মাইমুন বিন ফিরোজ আল-হামদানি আল-ওয়াদি’য়ি আল-কুফি, তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন তবে তিনি তাদলিস করতেন।

(৫) তিনি হলেন আবু আল-আশআদ আহমদ বিন আল-মিকদাম বিন সুলাইমান আল-ইজলি আল-বাসরি, তিনি সত্যবাদী এবং হাদিস সংগ্রাহক, তবে আবু দাউদ তাঁর ব্যক্তিত্ব নিয়ে সমালোচনা করেছেন।

(৬) তিনি হলেন আবু আবদুল্লাহ ইসমাইল বিন আবি খালিদ আল-আহমাসি তাঁদের মুক্তদাস আল-বাজালি, তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ়।

(৭) তিনি হলেন আবু আবদুল্লাহ কাইস বিন আবি হাজিম আল-বাজালি আল-কুফি, নির্ভরযোগ্য, মুখাদরাম (যিনি জাহিলিয়াত ও ইসলাম উভয় যুগ পেয়েছেন), বলা হয় যে তাঁর সাহচর্য লাভের সুযোগ হয়েছিল।

(৮) মূল পাঠে আছে: «তাকনাতুনি», সংশোধনটি অন্যান্য উৎস থেকে করা হয়েছে। সেখানে আরও রয়েছে: «ইয়াকিজানি», যার অর্থ: এটি তাদের গ্রীষ্মকালীন সময়ের জন্য পর্যাপ্ত হবে না। 'কাইজ' হলো গ্রীষ্মের মধ্যভাগ এবং প্রচণ্ড গরমের সময়। আল-আইন: (৫/২০০), আন-নিহায়া ফি গারিবিল আসার: (৪/১৩২)।

(৯) 'ইল্লিয়্যাহ' (علية): আইন বর্ণে কাসরা দিয়ে, যার অর্থ হলো কক্ষ। এটি 'হুররিয়্যাহ'-এর ওজনে 'উল্লিয়্যাহ' রূপেও পঠিত হয়। আরবদের কথায় দ্বিতীয়টির চেয়ে প্রথমটির ব্যবহার বেশি। জান্নাতের 'ইল্লিয়্যিন'বাসীদের কথা এখান থেকেই এসেছে, যার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: উচ্চ কক্ষের অধিবাসী। আল-আইন: (২/২৪৬), তাহজিবুল লুগাহ: (৩/১১৯), মাশারিকুল আনওয়ার: (২/৮৪) অনুচ্ছেদ (علو)।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৪১)
الباب، فإذا مثل الفصيل الرابض(1)، ثم قال لنا: خذوا، فأخذ كل واحد منا ما أحب أن يأخذ، فالتفت إليه وإني من آخر القوم مكانا لم نرزه(2) تمرة(3).

 

16 - أخبرنا أبو البركات أحمد بن عثمان بن نفيس بواسط(4)، قال: حدثنا علي بن محمد الصيدلاني، قال: حدثنا محمد بن محمد بن [المنتاب](5)، حدثنا علي بن عبد العزيز، قال:

--------------------------------------------

(1) الفصيل: ولد الناقة إذا فصل عن أمه، والرابض: البارك أو الجالس المقيم. أي أن حجم التمر بمقدار الفصيل الرابض. انظر لسان العرب: مادة (ربض)، مختار الصحاح: (211) مادة (فصل).

(2) لم نرزه: أي لم ننقصه ولم نأخذ منه. مشارق الأنوار: (1/ 288) مادة (رزا).

(3) أخرجه البغوي في معجم الصحابة: (290 - 291/ 2)، وأخرجه ابن حبان في الصحيح: (14/ 462/ ح 6528) كلاهما من طرق عن علي بن مسلم عن ابن أبي زائدة عن إسماعيل به، وأخرجه أحمد في المسند: (17612 - 17614/ 4/ 174)، والحلال في السنة (1/ 205/ ح 229)، وأبو نعيم في معرفة الصحابة: (2/ 1016)، جميعهم من طريق وكيع بن الجراح عن إسماعيل به، وأخرجه أبو نعيم في معرفة الصحابة: (2/ 1016) من طرق عن مروان بن معاوية، وعن معتمر بن سليمان كلاهما عن إسماعيل به، وأخرجه الأزدي في المخزون في علم الحديث: (86) بإسناده عن يزيد بن هارون عن إسماعيل به، وأخرجه أحمد في المسند: (17613 - 17615 - 17616/ 4/ 174)، وأبو داود في السنن: (4/ 360/ 5238) كتاب الأدب، باب في اتخاذ الغرف، وابن أبي عاصم في الآحاد والمثاني: (2/ 340 - 341)، والحميدي في المسند (2/ 395/ ح 893)، والطبراني في المعجم الكبير: (4207 - 4208 - 4209/ 228/ 4 - 229)، والحاكم في معرفة علوم الحديث: (158)، وأبو نعيم في الدلائل: (2/ 427/ ح 333)، وفي معرفة الصحابة: (2/ 1016)، وفي حلية الأولياء: (1/ 365)، والبيهقي في الدلائل: (366 - 367/ 5)، وقوام السنة في دلائل النبوة: (107) جميعهم من طرق عن إسماعيل بن أبي خالد عن قيس عن دكين بن سعيد به. وإسناد المصنف صحيح بطرقه. وله شواهد عديدة، منها حديث أبي النعمان المزني كما أخرجه ابن أبي شيبة في المسند: (2/ 337/ ح 836)، والبيهقي في الدلائل: (365 - 366/ 5) وغيرهما، وحديث سالم بن أبي الجعد عن النعمان بن مقرن كما أخرجه أحمد في المسند: (5/ 445/ ح 23797)، والبيهقي في الدلائل: (5/ 366) وغيرهما، وحديث قيس عن جرير كما أخرجه ابن عدي في الكامل: (6/ 254) في ترجمة محمد بن كثير المصيصي.

(4) واسط: مدينة على جانبي دجلة، كانت إحدى مدن العراق الكبرى قبل بناء بغداد، ابتناها الحجاج في أيام الخليفة عبد الملك الأموي عام 84 هـ/ 703 م، وسميت بواسط لتوسطها بين الكوفة والبصرة والأهواز، فهي تبعد مقدرا خمسين فرسخا عن كل من المواقع الثلاثة، أي ما يقارب 240 كلم، وظلت المدينة موضعا ذا شأن حتى في زمن المغول، إلى حدود المائة العاشرة للهجرة حيث استولى الحراب عليها بعد أن ابتعد مجرى نهر دجلة عنها، وعاصمة محافظة واسط حاليا هي مدينة الكوت، وتبعد عن بغداد التي تقع شمالها بحوالي 180 كلم. الروض المعطار: (599)، بلدان الخلافة الشرقية: (59 - 60).

(5) في الأصل: «المنتصاب»، والتصحيح من المصادر.
দরজা, তখন দেখা গেল তা যেন একটি বসে থাকা উটের বাচ্চার মত(১), তারপর তিনি আমাদের বললেন: তোমরা গ্রহণ করো। তখন আমাদের প্রত্যেকেই যা ইচ্ছা তা গ্রহণ করল। আমি তাদের সবার পেছনে থাকা সত্ত্বেও যখন সেটির দিকে তাকালাম, দেখলাম আমরা সেখান থেকে একটি খেজুরও কমাতে পারিনি(২) (৩)।

 

১৬ - আবু আল-বারাকাত আহমাদ ইবনে উসমান ইবনে নাফিস ওয়াসিত শহরে(৪) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে মুহাম্মাদ আস-সাইদালানি আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল [মুনতাব](৫) আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

--------------------------------------------

(১) আল-ফাসিল: উটের বাচ্চা যখন তার মা থেকে আলাদা হয়; আর আর-রাবিদ্ব: হাঁটু গেড়ে বসা বা অবস্থানকারী। অর্থাৎ খেজুরের স্তূপের আকার ছিল বসে থাকা উটের বাচ্চার সমান। দেখুন লিসানুল আরব: (রা-বা-দ্ব) মূলধাতু; মুখতারুস সিহাহ: (২১১) (ফা-সা-লা) মূলধাতু।

(২) আমরা তা কমাতে পারিনি: অর্থাৎ আমরা তা থেকে কিছুই কমাতে পারিনি এবং তা থেকে গ্রহণ করে শেষ করতে পারিনি। মাশারিকুল আনওয়ার: (১/ ২৮৮), (রা-যা-আ) মূলধাতু।

(৩) এটি বাগাভী 'মু'জাম আস-সাহাবা' (২/ ২৯০-২৯১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, এবং ইবনে হিব্বান তার 'সহীহ' (১৪/ ৪6২/ হা. ৬৫২৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়ে আলী ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি ইবনে আবি জায়দাহ থেকে, তিনি ইসমাঈল থেকে বর্ণনা করেছেন। আহমাদ এটি 'মুসনাদ' (৪/ ১৭৪/ ১৭৬১২-১৭৬১৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, আল-খাল্লাল 'আস-সুন্নাহ' (১/ ২০৫/ হা. ২২৯) গ্রন্থে, আবু নুআইম 'মা'রিফাত আস-সাহাবা' (২/ ১০১৬) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন; তারা সকলে ওয়াকি ইবনুল জাররাহ-এর সূত্রে ইসমাঈল থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু নুআইম 'মা'রিফাত আস-সাহাবা' (২/ ১০১৬) গ্রন্থে মারওয়ান ইবনে মুআবিয়া এবং মুতামির ইবনে সুলাইমান উভয় সূত্রে ইসমাঈল থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-আজদি 'আল-মাখযুন ফি ইলমিল হাদীস' (৮৬) গ্রন্থে ইয়াযিদ ইবনে হারুনের সূত্রে ইসমাঈল থেকে বর্ণনা করেছেন। আহমাদ 'মুসনাদ' (৪/ ১৭৪/ ১৭৬১৩-১৭৬১৫-১৭৬১৬) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ 'আস-সুনান' (৪/ ৩৬০/ ৫২৩৮) আদব অধ্যায়, কক্ষ নির্মাণ পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবি আসিম 'আল-আহাদ ওয়াল মাসানি' (২/ ৩৪০-৩৪১) গ্রন্থে, হুমাইদি 'মুসনাদ' (২/ ৩৯৫/ হা. ৮৯৩) গ্রন্থে, তাবারানি 'আল-মু'জাম আল-কাবীর' (৪/ ২২৮-২২৯/ ৪২০৭-৪২০৮-৪২০৯) গ্রন্থে, হাকীম 'মা'রিফাত উলূমিল হাদীস' (১৫৮) গ্রন্থে, আবু নুআইম 'আদ-দালাইল' (২/ ৪২৭/ হা. ৩৩৩) গ্রন্থে, 'মা'রিফাত আস-সাহাবা' (২/ ১০১৬) গ্রন্থে এবং 'হিলইয়াতুল আউলিয়া' (১/ ৩৬৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। বাইহাকী 'আদ-দালাইল' (৫/ ৩৬৬-৩৬৭) গ্রন্থে এবং কাওয়ামুস সুন্নাহ 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' (১০৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তারা সকলে ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি কাইস থেকে, তিনি দাকীন ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থকারের বর্ণনাটি তার বিভিন্ন সূত্রের কারণে সহীহ। এর অনেকগুলো সমর্থক বর্ণনা (শাওয়াহিদ) রয়েছে, যার মধ্যে আবু নুমান আল-মুজানির হাদীস রয়েছে যেমনটি ইবনে আবি শাইবা 'মুসনাদ' (২/ ৩৩৭/ হা. ৮৩৬) গ্রন্থে এবং বাইহাকী 'আদ-দালাইল' (৫/ ৩৬৫-৩৬৬) ইত্যাদিতে বর্ণনা করেছেন। আরও রয়েছে সালিম ইবনে আবিল জাদ থেকে নুমান ইবনে মুকাররিনের হাদীস যেমনটি আহমাদ 'মুসনাদ' (৫/ ৪৪৫/ হা. ২৩৭৯৭) গ্রন্থে এবং বাইহাকী 'আদ-দালাইল' (৫/ ৩৬৬) ইত্যাদিতে বর্ণনা করেছেন। কাইস থেকে জারীরের হাদীস যেমনটি ইবনে আদি 'আল-কামিল' (৬/ ২৫৪) গ্রন্থে মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর আল-মাসসীসীর জীবনীতে বর্ণনা করেছেন।

(৪) ওয়াসিত: দজলা নদীর দুই তীরে অবস্থিত একটি শহর, যা বাগদাদ নির্মাণের পূর্বে ইরাকের অন্যতম প্রধান শহর ছিল। উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিকের যুগে হজ্জাজ ইবনে ইউসুফ ৮৪ হিজরি/৭০৩ খ্রিস্টাব্দে এটি নির্মাণ করেন। কুফা, বসরা ও আহওয়াজের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত হওয়ায় একে ওয়াসিত (মধ্যবর্তী) নামকরণ করা হয়েছে। এটি এই তিনটি স্থান থেকেই প্রায় ৫০ ফারসাখ বা ২৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। মঙ্গোল শাসনামলেও শহরটির গুরুত্ব বজায় ছিল এবং হিজরি দশম শতাব্দী পর্যন্ত এর অস্তিত্ব ছিল। পরবর্তীতে দজলা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হলে তা পরিত্যক্ত হয়। বর্তমানে ওয়াসিত প্রদেশের রাজধানী হলো আল-কুত শহর, যা বাগদাদ থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। আর-রাওদুল মিতার: (৫৯৯), বুলদানুল খিলাফাহ আশ-শারকিয়্যাহ: (৫৯-৬০)।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে 'আল-মুনতাসাব' ছিল, অন্যান্য নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে এটি সংশোধন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৪২)
حدثنا أبو نعيم(1)، حدثنا [عمر](2) بن ذر، قال: حدثنا مجاهد، أن أبا هريرة كان يقول: والله الذي لا إله إلا هو إن كنت لأعتمد بكبدي على الأرض من الجوع، ولقد قعدت يوما على طريقهم الذي يخرجون منه، فمر بي أبو بكر رضي الله عنه، فسألته عن آية من كتاب الله تعالى، ما سألته إلا ليستتبعني، فمر ولم يفعل، ثم مر بي عمر رضوان الله عليه، فسألته عن آية من كتاب الله، ما سألته إلا ليستتبعني، فمر ولم يفعل، ثم مر بي أبو القاسم صلى الله عليه وسلم، فتبسم حين رآني، وعرف ما في نفسي، وما في وجهي، ثم قال: «أبا هريرة»! فقلت: لبيك يا رسول الله، قال: «الحق»، فاتبعته، فدخل واستأذن لي، فدخلت فوجدت لبنا في قدح، فقال: «من أين هذا»؟ قالوا: أهداه لك فلان أو فلانة، قال: «أبا هريرة»! قلت: يا رسول الله، قال: «الحق بأهل الصفة فادعهم لي»، قال: وأهل الصفة أضياف المسلمين، لا يأوون إلى أهل ولا إلى مال، إذا أتت الصدقة بعث بها إليهم، ولم يتناول منها شيئا، وإذا أتت هدية أرسل إليهم، فأصاب منها وأشركهم فيها، فساءني في ذلك، فقلت: وما هذا اللبن في أهل الصفة، كنت أحق أن أصيب من هذا اللبن شربة أتقوى بها وأنا الرسول، فإذا جاؤوا أمرني وكنت أنا أعطيهم، وما عسى أن يبلغني من هذا اللبن، ولم يكن بد من طاعة الله وطاعة رسوله صلى الله عليه وسلم، فأتيتهم فدعوتهم، فأقبلوا حتى استأذنوا، فأذن لهم، فأخذوا مجالسهم من البيت، ثم قال: «يا أبا هريرة؟ فقلت: لبيك يا رسول الله، قال: «خذ فأعطهم»، فأخذت القدح فجعلت أعطي الرجل فيشرب حتى يروي، ثم يرد القدح حتى انتهيت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد روي القوم كلهم، وأخذ القدح صلى الله عليه وسلم، ووضعه على يده ونظر إلي وتبسم، وقال: «يا أبا هريرة»، قلت: لبيك.

--------------------------------------------

(1) هو أبو نعيم الفضل بن دكين عمرو بن حماد بن زهير الكوفي التيمي مولاهم، الأحول، الملائي، مشهور بكنيته، ثقة ثبت.

(2) في الأصل: «عمرو»، والتصحيح من المصادر.
আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন(১), [উমর] বিন যার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুজাহিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবু হুরায়রা বলতেন: আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আমি ক্ষুধার তীব্রতায় আমার কলিজাকে মাটির সাথে চেপে রাখতাম। একদা আমি তাদের যাতায়াতের পথে বসে রইলাম। অতঃপর আবু বকর (রা.) আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, আমি তাকে আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আমি তাকে এই উদ্দেশ্যেই জিজ্ঞেস করেছিলাম যেন তিনি আমাকে তার সাথে নিয়ে যান (খাওয়ানোর জন্য)। কিন্তু তিনি চলে গেলেন এবং তা করলেন না। এরপর উমর (রা.) আমার পাশ দিয়ে গেলেন, আমি তাকেও আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তাকেও কেবল এই উদ্দেশ্যেই জিজ্ঞেস করেছিলাম যেন তিনি আমাকে তার সাথে নিয়ে যান। কিন্তু তিনিও চলে গেলেন এবং তেমনটি করলেন না। তারপর আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমাকে দেখে তিনি মুচকি হাসলেন এবং আমার মনের অবস্থা ও চেহারার ভাব বুঝতে পারলেন। অতঃপর তিনি বললেন: «হে আবু হুরায়রা!» আমি বললাম: লাব্বাইক (আমি উপস্থিত), হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: «আমার সাথে আসো», আমি তার অনুসরণ করলাম। তিনি (বাড়িতে) প্রবেশ করলেন এবং আমার জন্য অনুমতি চাইলেন। আমি ভেতরে প্রবেশ করে একটি পেয়ালায় দুধ দেখতে পেলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: «এই দুধ কোথা থেকে এসেছে?» তারা বললেন: অমুক ব্যক্তি বা অমুক মহিলা আপনার জন্য এটি উপহার পাঠিয়েছে। তিনি বললেন: «হে আবু হুরায়রা!» আমি বললাম: লাব্বাইক, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: «তুমি আহলুস সুফফার কাছে যাও এবং তাদেরকে আমার কাছে ডেকে আনো»। আবু হুরায়রা বলেন: আহলুস সুফফাগণ ছিলেন মুসলিমদের মেহমান। তারা কোনো পরিবার বা সম্পদের কাছে আশ্রয় নিতেন না। যখন কোনো সদকার মাল আসত, তিনি (রাসূল) তা তাদের নিকট পাঠিয়ে দিতেন এবং নিজে তা থেকে কিছুই গ্রহণ করতেন না। আর যখন কোনো উপহার আসত, তিনি তাদের নিকট লোক পাঠাতেন এবং নিজে তা থেকে গ্রহণ করতেন ও তাদেরকেও তাতে শরিক করতেন। বিষয়টি আমাকে কিছুটা বিচলিত করল। আমি মনে মনে বললাম: আহলুস সুফফার লোকসংখ্যার তুলনায় এই সামান্য দুধের কীইবা মূল্য! আমিই তো এই দুধ থেকে এক চুমুক পান করার বেশি হকদার ছিলাম, যা দিয়ে আমি শক্তি অর্জন করতে পারতাম। আর আমিই ছিলাম (তাদের ডাকার জন্য প্রেরিত) বার্তাবাহক। তারা যখন আসবে, তখন তিনি আমাকেই পরিবেশন করার আদেশ দেবেন। তখন আমার ভাগ্যে এই দুধ থেকে কতটুকুই বা অবশিষ্ট থাকবে? কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। তাই আমি তাদের নিকট গেলাম এবং তাদের ডেকে আনলাম। তারা আসলেন এবং অনুমতি প্রার্থনা করলে তাদেরকে অনুমতি দেওয়া হলো। তারা ঘরের ভেতর নিজ নিজ আসন গ্রহণ করলেন। এরপর তিনি বললেন: «হে আবু হুরায়রা!» আমি বললাম: লাব্বাইক, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: «নাও এবং তাদেরকে দাও»। আমি পেয়ালাটি নিলাম এবং একেকজন লোককে দিতে লাগলাম; সে তৃপ্ত হয়ে পান করত এবং পেয়ালাটি ফিরিয়ে দিত। এভাবে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছলাম এবং ততক্ষণে কওমের সকলেই তৃপ্ত হয়ে পান করে ফেলেছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পেয়ালাটি নিলেন এবং সেটি তাঁর হাতের উপর রাখলেন। অতঃপর তিনি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন এবং বললেন: «হে আবু হুরায়রা», আমি বললাম: লাব্বাইক।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আবু নুআইম আল-ফাযল বিন দুকাইন উমর বিন হাম্মাদ বিন যুহাইর আল-কুফি আত-তাইমি তাদের মাওলা, আল-আহওয়াল, আল-মুলায়ি। তিনি তার উপনামে অধিক প্রসিদ্ধ, তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুপ্রতিষ্ঠিত বর্ণনাকারী।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল: «আমর», এবং বিভিন্ন উৎসগ্রন্থ থেকে এটি সংশোধন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৪৩)
يا رسول الله، قال: «بقيت أنا وأنت»، قلت: صدقت يا رسول الله، قال: «فاقعد فاشرب»، فقعدت يعني: فشربت، قال: «اشرب»، فشربت، وقال: «اشرب»، فشربت، فما زال يقول: «اشرب» فأشرب حتى قلت: لا والذي بعثك بالحق ما أجد له مسلكا، قال: «فأرني القدح»، فحمد الله تعالى، وسمى وشرب الفضلة(1).

 

17 - أخبرنا القاضي أبو منصور محمد بن أحمد بن شكرويه بأصفهان(2)، قال: حدثنا إبراهيم بن عبد الله بن خرشيذ قوله، قال: حدثنا أحمد بن محمد بن سليم المخرمي، قال: حدثنا الزبير بن بكار، قال: حدثنا أبو غزية(3)، عن فليح بن سليمان، عن سهيل بن أبي صالح، عن أبيه(4)، عن أبي هريرة، قال: خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في بعض مغازيه فأرملوا، فجاءه ناس من أصحابه يستأذنونه في نحر إبلهم فأذن لهم، فجاءه عمر بن الخطاب رضي الله عنه، فقال: يا رسول الله إبلهم تحملهم وتبلغهم

--------------------------------------------

(1) أخرجه البيهقي في الدلائل: (6/ 101)، والسنن الكبرى: (2/ 446/ ح 4136) و (7/ 83/ ح 13262)، وشعب الإيمان: (7/ 283 - 284/ ح 10323)، أبو نعيم في الدلائل (2/ 422 - 423)، وفي الحلية: (1/ 377) كلاهما من طرق عن علي بن عبد العزيز عن أبي نعيم به، وأخرجه البخاري في الصحيح: (5/ 2370/ ح 6087) كتاب الرقاق، باب كيف كان عيش النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه وتخليهم عن الدنيا، عن أبي نعيم عن عمر بن ذر به، وأخرجه أحمد في المسند: (2/ 515/ ح 10680)، والترمذي في السنن: (4/ 648/ ح 2477) كتاب صفة القيامة والرقائق والورع، باب ما جاء في صفة أواني الحوض، وابن حبان في الصحيح: (14/ 471/ ح 6535)، السري في الزهد: (2/ 393 - 394/ ح 764)، والحاكم في المستدرك: (3/ 17/ ح 4291) وقال: صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه بهذه السياقة، وأبو الشيخ في أخلاق النبي (1/ 457/ ح 170)، والآجري في الشريعة: (4/ 1576/ ح 1061)، وابن عساكر في تاريخ دمشق: (67/ 319 - 321) جميعهم من طرق عن عمر بن ذر عن مجاهد عن أبي هريرة به. وإسناد المصنف صحيح بطرقه.

(2) أصفهان أو أصبهان: مدينة كبيرة من مدن بلاد فارس، تقوم على ضفاف نهر زندرود، ضبطها الحميري بكسر الأول، قيل: سميت بأصبهان بن نوح الذي بناها، وقيل هي بلسان فارسي تعني بلد الفرسان، وكانت منذ أقدم الأزمنة موضعا جليل القدر لعظم خيرات أراضيها ووفرة مياهها، وما زالت معالم مجدها التالد ظاهرة للعيان اليوم، وهي تقع على بعد 340 كلم جنوب طهران. الروض المعطار: (43)، بلدان الخلافة الشرقية: (238 - 242).

(3) هو أبو غزية محمد بن موسى بن مسكين الأنصاري، قاضي المدينة، عنده مناكير.

(4) هو أبو صالح ذكوان السمان الزيات المدني، ثقة ثبت.
হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন: «আমি এবং তুমি বাকি রয়েছি», আমি বললাম: আপনি সত্য বলেছেন হে আল্লাহর রাসুল, তিনি বললেন: «বসো এবং পান করো», ফলে আমি বসলাম অর্থাৎ: আমি পান করলাম, তিনি বললেন: «পান করো», আমি পান করলাম, তিনি আবারও বললেন: «পান করো», আমি পান করলাম, তিনি বারবার বলতে থাকলেন: «পান করো» আর আমি পান করতে থাকলাম, যতক্ষণ না আমি বললাম: না, সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি এর (পানের) আর কোনো পথ পাচ্ছি না, তিনি বললেন: «পেয়ালাটি আমাকে দেখাও», অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর প্রশংসা করলেন, বিসমিল্লাহ বললেন এবং অবশিষ্টটুকু পান করলেন(১).

 

১৭ - আমাদের জানিয়েছেন বিচারক আবু মনসুর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে শুকরুওয়াইহ আসফাহানে(২), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে খুরশিদ কাওলাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালিম আল-মাখরামি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুবায়ের ইবনে বাক্কার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু গাজিয়াহ(৩), তিনি ফুলাইহ ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে(৪), তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে তাঁর কোনো এক যুদ্ধে বের হলাম, অতঃপর মানুষের পাথেয় শেষ হয়ে গেল। তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে কিছু লোক তাঁর কাছে এসে তাদের উটগুলো জবেহ করার অনুমতি চাইল। তিনি তাদের অনুমতি দিলেন। এমতাবস্থায় ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! তাদের উটগুলো তো তাদের বহন করে এবং গন্তব্যে পৌঁছে দেয়...

--------------------------------------------

(১) আল-বায়হাকি এটি আদ-দালাইল (৬/১০১), আস-সুনান আল-কুবরা (২/৪৪৬/হাঃ ৪১৩৬) ও (৭/৮৩/হাঃ ১৩২৬২), শুআবুল ঈমান (৭/২৮৩-২৮৪/হাঃ ১০৩২৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আবু নুআইম আদ-দালাইল (২/৪২২-৪২৩) এবং আল-হিলইয়াহ (১/৩৭৭) গ্রন্থে উভয়ে আলী ইবনে আব্দুল আজিজ সূত্রে আবু নুআইম থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-বুখারি তাঁর সহিহ (৫/২৩৭০/হাঃ ৬০৮৭) গ্রন্থে কিতাবুর রিকাক, 'নবী (সা.) ও তাঁর সাহাবীদের জীবন কেমন ছিল এবং দুনিয়া বিমুখতা' অধ্যায়ে আবু নুআইম সূত্রে ওমর ইবনে যার থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদ (২/৫১৫/হাঃ ১০৬৮০) গ্রন্থে, আত-তিরমিজি তাঁর সুনান (৪/৬৪৮/হাঃ ২৪৭৭) গ্রন্থে কিয়ামতের বৈশিষ্ট্য ও রিকাক অধ্যায়ে, ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ (১৪/৪৭১/হাঃ ৬৫৩৫) গ্রন্থে, আস-সাররি 'আজ-জুহদ' (২/৩৯৩-৩৯৪/হাঃ ৭৬৪) গ্রন্থে এবং আল-হাকিম আল-মুস্তাদরাক (৩/১৭/হাঃ ৪২৯১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি বুখারি ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহিহ, তবে তাঁরা এই শব্দে বর্ণনা করেননি। আবুশ শায়খ 'আখলাকুন নবী' (১/৪৫৭/হাঃ ১৭০) গ্রন্থে, আল-আজুররি 'আশ-শরিয়াহ' (৪/১৫৭৬/হাঃ ১০৬১) গ্রন্থে এবং ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেশক' (৬৭/৩১৯-৩২১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তারা সবাই ওমর ইবনে যার থেকে মুজাহিদ সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থকারের সনদটি এর বিভিন্ন সূত্রসহ সহিহ।

(২) আসফাহান বা আসবাহান: পারস্যের একটি বড় শহর, যা জিন্দারুদ নদীর তীরে অবস্থিত। আল-হিমইয়ারি প্রথম বর্ণটিকে কাসরা (জের) দিয়ে পড়েছেন। বলা হয়: এর নামকরণ করা হয়েছে আসবাহান ইবনে নুহ-এর নামে, যিনি এটি নির্মাণ করেছিলেন। আবার বলা হয় যে, ফারসি ভাষায় এর অর্থ অশ্বারোহীদের শহর। প্রাচীনকাল থেকেই এর ভূমির উর্বরতা এবং পানির প্রাচুর্যের কারণে এটি একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ স্থান ছিল। আজও এর প্রাচীন গৌরবের নিদর্শনগুলো স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। এটি তেহরান থেকে ৩৪০ কিমি দক্ষিণে অবস্থিত। আর-রওদুল মিতার: (৪৩), বুলদানুল খিলাফাহ আশ-শারকিয়্যাহ: (২৩৮-২৪২)।

(৩) তিনি হলেন আবু গাজিয়াহ মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনে মিসকিন আল-আনসারী, মদিনার বিচারক, তাঁর বর্ণিত হাদিসে 'মুনকার' বর্ণনা রয়েছে।

(৪) তিনি হলেন আবু সালিহ যাকওয়ান আস-সাম্মান আজ-যায়্যাত আল-মাদানি, তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) এবং সুদৃঢ় (সাবত)।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৪৪)
عدوهم، بل ادعهم يا رسول الله بغيرات(1) الزاد، فجاء الناس بما بقي معهم، ثم دعا بالبركة، ثم دعا بأوعيتهم، فملثوا كل وعاء، وفضل فضل كثير، قال: فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم عند ذلك: «أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أني عبده ورسوله، من لقي الله بها غير شاك دخل الجنة»(2).

 

18 - أخبرنا أبو القاسم عبد العزيز بن علي الأنماطي، قال: حدثنا أبو طاهر محمد بن عبد الرحمن المخلص، قال: حدثنا عبد الله بن محمد البغوي، قال: حدثنا شيبان بن فروخ، قال: حدثنا مبارك بن فضالة، قال: حدثنا [الحسن](3)، عن أنس، قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يخطب يوم الجمعة إلى جنب خشبة مسندا ظهره إليها، فلما كثر الناس قال: «ابنوا لي منبرا»، فبنوا له منبرا له عتبتان، فلما قام على المنبر يخطب حنت الخشبة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال أنس: وأنا في المسجد، فسمعت الخشبة تحن حنين الواله(4)، فما زالت تحن حتى نزل إليها رسول الله صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

(1) غيرات بالضم وتشديد الموحدة المفتوحة، مفردها الغبر: وهو بقية كل شيء وآخره، والمعنى: ما تبقى من زاد القوم. لسان العرب: (3/ 5) مادة (غبر)، وتاج العروس: (13/ 187).

(2) أخرجه بإسناد المصنف قوام السنة في دلائل النبوة: (35 - 36/ ح) عن أبي منصور ابن شكرويه عن ابن خرشيد قوله به. ورواه الذهبي في تذكرة الحفاظ: (2/ 528) من طريق المحاملي عن الزبير بن بكار به، وأخرجه أحمد في المسند: (2/ 421/ ح 9447)، وابن منده في الإيمان: (1/ 227 - 228/ ح 89)، وابن عساكر في تاريخ دمشق: (52/ 49) جميعهم من طرق عن فليح بن سليمان عن سهيل به، وأخرجه ابن عساكر في تاريخ دمشق: (53/ 49) من طريق عبد العزيز بن أبي حازم عن سهيل بن أبي صالح به، وأخرجه أحمد في المسند: (3/ 11/ ح 11095)، ومسلم في الصحيح: (1/ 55 - 56/ 27) كتاب الإيمان، باب الدليل على أن من مات على التوحيد دخل الجنة قطعا، وأبو عوانة في المسند: (1/ 21/ ح 16)، وأبو يعلى في المسند: (2/ 412/ ح 1199)، والنسائي في السنن الكبرى: (5/ 245/ ح 8794)، وابن حبان في الصحيح: (14/ 464 - 465/ ح 6530)، والفريابي في الدلائل: (34 - 35/ 3 - 4)، وابن منده في الإيمان: (1/ 227 - 229/ 90) و (1/ 178/ ح 36)، وأبو نعيم في الدلائل: (2/ 418 - 419/ 325 - 326)، وفي حلية الأولياء: (5/ 28)، والبيهقي في الدلائل: (5/ 229 - 230) و (6/ 120) جميعهم من طرق عن أبي صالح عن أبي هريرة به. وإسناد المصنف ضعيف، فيه أبو غزية محمد بن موسى الأنصاري وهو ضعيف وقد توبع. والحديث صحيح بطرقه.

(3) في الأصل: «الحسين»، والصواب كما في مصادر ترجمته: الحسن بن يسار البصري الأنصاري مولاهم أبو سعيد، ثقة فقيه فاضل مشهور، وكان يرسل كثيرا ويدلس.

(4) الواله: اسم يطلق على الإبل والنساء الثكلى، أي التي فقدت ولدها فهي عجول في جيئتها وذهابها جزعا لفقده وحنينا إليه. تهذيب اللغة: (1/ 239)، لسان العرب: (11/ 427) مادة (عجل).
তাদের শত্রুদের, বরং হে আল্লাহর রাসূল! আপনি অবশিষ্ট পাথেয়সহ তাদের ডাকুন(১)। অতঃপর মানুষ তাদের সাথে যা অবশিষ্ট ছিল তা নিয়ে এলো। এরপর তিনি বরকতের জন্য দোয়া করলেন এবং তাদের পাত্রগুলো ডাকলেন। তারা প্রতিটি পাত্র পূর্ণ করল এবং প্রচুর পরিমাণে অতিরিক্ত থেকে গেল। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল। যে ব্যক্তি কোনো সন্দেহ পোষণ না করে এ সাক্ষ্যসহ আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে»(২)।

 

১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আব্দুল আজিজ ইবনে আলী আল-আনমাতি। তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু তাহির মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-মুখলিস। তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ী। তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন শাইবান ইবনে ফাররুখ। তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুবারক ইবনে ফাদালাহ। তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন [হাসান], তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমার দিন একটি কাঠের স্তম্ভের পাশে তাতে পিঠ হেলান দিয়ে খুতবা দিতেন। যখন মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেল, তখন তিনি বললেন: «আমার জন্য একটি মিম্বর তৈরি করো»। তারা তাঁর জন্য দুই ধাপবিশিষ্ট একটি মিম্বর তৈরি করল। যখন তিনি খুতবা দেওয়ার জন্য মিম্বরের উপর দাঁড়ালেন, তখন সেই কাঠের স্তম্ভটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিরহে কাঁদতে লাগল। আনাস (রা.) বলেন: আমি তখন মসজিদে ছিলাম। আমি কাঠের স্তম্ভটিকে সন্তানহারা উট বা নারীর ন্যায় ব্যাকুল হয়ে কাঁদতে শুনলাম(৪)। সেটি অনবরত কাঁদছিল যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেটির কাছে নেমে আসলেন।

--------------------------------------------

(১) 'গুবাইরাত' (গাইন বর্ণে পেশ এবং বা বর্ণে তাশদীদ ও জবরসহ), এর একবচন হলো 'আল-গুবর': যার অর্থ কোনো জিনিসের অবশিষ্টাংশ বা শেষ অংশ। এর অর্থ হলো: কাফেলার পাথেয় যা অবশিষ্ট ছিল। লিসানুল আরব: (৩/ ৫), 'গবর' অনুচ্ছেদ; তাজুল আরুস: (১৩/ ১৮৭)।

(২) গ্রন্থকার যে সূত্রে বর্ণনা করেছেন সেই একই সূত্রে কাওয়ামুস সুন্নাহ 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' গ্রন্থে (৩৫-৩৬/হা.) আবু মানসুর ইবনে শাকরুয়াহ থেকে, তিনি ইবনে খুরশিদ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম যাহাবী 'তাযকিরাতুল হুফফায' গ্রন্থে (২/৫২৮) আল-মুহামিলি-র সূত্রে যুবাইর ইবনে বাক্কার থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আহমাদ 'আল-মুসনাদ' গ্রন্থে (২/৪২১/হা. ৯৪৪৭), ইবনে মানদাহ 'আল-ঈমান' গ্রন্থে (১/২২৭-২২৮/হা. ৮৯) এবং ইবনে আসাকির 'তারীখে দামেস্ক' গ্রন্থে (৫২/৪৯) বর্ণনা করেছেন; তারা সবাই সুহাইল থেকে ফুলাইহ ইবনে সুলাইমানের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আসাকির 'তারীখে দামেস্ক' গ্রন্থে (৫৩/৪৯) আব্দুল আজিজ ইবনে আবি হাযিমের সূত্রে সুহাইল ইবনে আবি সালেহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আহমাদ 'আল-মুসনাদ' গ্রন্থে (৩/১১/হা. ১১০৯৫), মুসলিম তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে (১/৫৫-৫৬/২৭), ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে সে নিশ্চিতভাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে তার প্রমাণ; আবু আওয়ানাহ 'মুসনাদ' গ্রন্থে (১/২১/হা. ১৬), আবু ইয়ালা 'মুসনাদ' গ্রন্থে (২/৪১২/হা. ১১৯৯), নাসায়ী 'আস-সুনানুল কুবরা' গ্রন্থে (৫/২৪৫/হা. ৮৭৯৪), ইবনে হিব্বান 'সহীহ' গ্রন্থে (১৪/৪৬৪-৪৬৫/হা. ৬৫৩০), আল-ফিরইয়াবী 'আদ-দালাইল' গ্রন্থে (৩৪-৩৫/৩-৪), ইবনে মানদাহ 'আল-ঈমান' গ্রন্থে (১/২২৭-২২৯/৯০) ও (১/১৭৮/হা. ৩৬), আবু নুয়াইম 'আদ-দালাইল' গ্রন্থে (২/৪১৮-৪১৯/৩২৫-৩২৬) এবং 'হিলইয়াতুল আউলিয়া' গ্রন্থে (৫/২৮), বায়হাকী 'আদ-দালাইল' গ্রন্থে (৫/২২৯-২৩০) ও (৬/১২০) বর্ণনা করেছেন; তারা সবাই আবু সালেহর সূত্রে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থকারের বর্ণনাটির সনদ দুর্বল, এতে আবু গযিয়াহ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-আনসারী রয়েছেন যিনি দুর্বল, তবে তাঁর সমর্থিত বর্ণনা বিদ্যমান। হাদীসটি এর অন্যান্য সূত্রের মাধ্যমে সহীহ।

(৩) মূল কপিতে 'আল-হুসাইন' রয়েছে, তবে তাঁর জীবনীগ্রন্থসমূহের সূত্র অনুযায়ী সঠিক হলো: আল-হাসান ইবনে ইয়াসার আল-বসরী আল-আনসারী মাওলাহুম আবু সাঈদ। তিনি নির্ভরযোগ্য, ফকীহ, মর্যাদাবান ও প্রসিদ্ধ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি প্রচুর মুরসাল বর্ণনা করতেন এবং তাদলীস করতেন।

(৪) আল-ওয়ালিহ: এই নামটি এমন উট বা শোকাতুর মহিলার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যে তার সন্তান হারিয়েছে। ফলে সে সন্তানের বিচ্ছেদের যন্ত্রণায় এবং তার প্রতি মমতায় দিশেহারা হয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করে। তাহযীবুল লুগাহ: (১/২৩৯), লিসানুল আরব: (১১/৪২৭), 'আজল' অনুচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৪৫)
فاحتضنها، فسكنت. وكان [الحسن](1) إذا حدث بهذا الحديث بكي، ثم قال: يا عباد الله، الخشبة تحن إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم لمكانه من الله عز وجل، فأنتم أحق أن تشتاقوا إليه(2).

 

19 - أخبرنا أبو عمرو عثمان بن محمد المحمي بنيسابور(3)، قال: حدثنا الإمام أبو طاهر

--------------------------------------------

(1) في الأصل: «الحسين»، والتصحيح من المصادر.

(2) أخرجه أبو طاهرالمخلص في المخلصيات: (2/ 76 - 77/ ح 1057)، و (4/ 95 - 96/ ح 3052)، و (4/ 168/ ح 3176) عن البغوي عن شيبان بن فروخ به، وأخرجه قوام السنة في دلائل النبوة: (46 - 47/ ح 23)، وابن طاهر المقدسي في مسألة العلو والنزول: (77 - 78)، والذهبي في ميزان الاعتدال: (16/ 6) وفي سير أعلام النبلاء: (4/ 570) جميعهم من طرق عن أبي طاهر المخلص عن البغوي به، وأخرجه الآجري في الشريعة: (4/ 1584/ ح 1069) عن البغوي عن شيبان به، واللالكائي في اعتقاد أهل السنة: (4/ 799/ ح 1473) من طريق عيسى بن علي عن البغوي عن شيبان به، وأخرجه أبو الجعد في المسند: (466/ ح 3219)، وأبو يعلى في المسند: (5/ 142/ ح 2756) كلاهما عن شيبان بن فروخ عن مبارك بن فضالة به، ومن طريق أبي يعلى أخرجه ابن حبان في الصحيح: (14/ 436 - 437 ح 6507)، وتابعه أبو الحريش أحمد بن عيسى بن مخلد كما أخرجه أبو سعد الحركوشي في شرف المصطفى: (393/ 3) بإسناده عن شيبان بن فروخ به، وأخرجه أحمد في المسند: (3/ 226/ ح 3387)، وابن خزيمة في الصحيح: (3/ 139 - 140/ ح 2756)، والبزار في المسند: (13/ 207/ ح 6676)، والآجري في الشريعة: (4/ 1585/ ح 1070)، والبيهقي في الدلائل: (2/ 559)، والخطيب في تاريخ بغداد: (12/ 485)، وابن عبد البر في جامع بيان العلم: (2/ 197) جميعهم من طرق عن مبارك بن فضالة عن الحسن البصري به، وأخرجه الدارمي في السنن: (1/ 181 - 182/ ح 83)، والطبراني في الأوسط: (2/ 108/ ح 1408) كلاهما من طرق عن الحسن البصري عن أنس به، وأخرجه أحمد في المسند: (1/ 363/ ح 3431)، والدارمي في السنن: (1/ 183 - 184/ ح 40 - 42)، والطحاوي شرح مشكل الآثار: (10/ 379/ ح 4179) جميعهم من طرق عن أنس به. وإسناد المصنف حسن. والحديث صحيح بطرقه، وله شواهد عديدة في الصحيح وغيره، منها ما أخرجه البخاري في الصحيح: (3/ 1313/ ح 3390 - 3391 - 3392) كتاب المناقب، باب علامات النبوة في الإسلام، من حديث ابن عمر، وجابر رضي الله عنهما، وانظر دلائل النبوة للبيهقي: (2/ 555 - 563) من عدة شواهد معظمها من حديث جابر رضي الله عنه، وقال في آخرها: «هذه الأحاديث التي ذكرناها في أمر الحنانة كلها صحيحة، وأمر الحنانة من الأمور الظاهرة والأعلام النيرة التي أخذها الخلف عن السلف، ورواية الأحاديث فيه كالتكليف، والحمد لله على الإسلام والسنة وبه العياذ والعصمة».

(3) نيسابور: بفتح النون وسكون الياء وفتح السين المهملة، مدينة عامرة جليلة وقديمة البناء من بلاد خراسان، سميت بذلك نسبة إلى الملك سابور الساساني، وسميت في العهد الإسلامي أيضا أبرشهر وإيرانشهر ونشاوور، نسب إليها جماعة من أكابر الفضلاء، وظلت عامرة إلى أن خربها التتار عام 618 هـ، فلم يتركوا بها جدارا قائما، ثم صلح أمرها بعد ذلك وعمرت، وتقع اليوم في مقاطعة خراسان شمال شرق إيران على حدود روسيا وأفغانستان، وتبعد عن طهران بحوالي 920 كلم. الروض المعطار: (588)، بلدان الخلافة الشرقية: (424 - 429).
অতঃপর তিনি সেটিকে জড়িয়ে ধরলেন, ফলে সেটি শান্ত হলো। আর [হাসান](১) যখনই এই হাদিসটি বর্ণনা করতেন, তখন তিনি কাঁদতেন। তারপর বলতেন: হে আল্লাহর বান্দারা, আল্লাহর নিকট তাঁর উচ্চ মর্যাদার কারণে একটি সামান্য কাষ্ঠখণ্ড যদি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরহে ব্যাকুল হতে পারে, তবে তাঁর প্রতি ব্যাকুল হওয়ার জন্য তো তোমরাই বেশি হকদার।(২).

 

১৯ - নিশাপুরে আবু আমর উসমান ইবন মুহাম্মদ আল-মাহমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন(৩), তিনি বলেন: ইমাম আবু তাহের আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন...

--------------------------------------------

(১) মূল পান্ডুলিপিতে 'হুসাইন' রয়েছে, অন্যান্য উৎস থেকে এটি সংশোধন করা হয়েছে।

(২) আবু তাহের আল-মুখাল্লিস তাঁর 'আল-মুখাল্লিসিয়াত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: (২/ ৭৬ - ৭৭/ হা: ১০৫৭), এবং (৪/ ৯৫ - ৯৬/ হা: ৩০৫২), এবং (৪/ ১৬৮/ হা: ৩১৭৬), তিনি বাগাউয়ি থেকে, তিনি শায়বান ইবন ফাররুখ থেকে এই সূত্রে। কাওয়ামুস সুন্নাহ 'দালাাইলুন নুবুওয়াহ' গ্রন্থে: (৪৬ - ৪৭/ হা: ২৩), ইবন তাহের আল-মাকদিসি 'মাসআলাতুল উলুউ ওয়ান নুযুল' গ্রন্থে: (৭৭ - ৭৮), এবং আয-যাহাবি 'মীযানুল ইতিদাল' গ্রন্থে: (১৬/ ৬) ও 'সিয়ারু আ'লামিন নুবালা' গ্রন্থে: (৪/ ৫৭০) বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সবাই আবু তাহের আল-মুখাল্লিসের সূত্রে বাগাউয়ি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আল-আজুরি 'আশ-শরীয়াহ' গ্রন্থে: (৪/ ১৫৮৪/ হা: ১০৬৯) বাগাউয়ি থেকে শায়বান সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। আল-লালকায়ি 'ইতিদাদ আহলিস সুন্নাহ' গ্রন্থে: (৪/ ৭৯৯/ হা: ১৪৭৩) ঈসা ইবন আলীর সূত্রে বাগাউয়ি থেকে শায়বান মারফত বর্ণনা করেছেন। আবু ইয়ালা তাঁর 'আল-মুসনাদ' গ্রন্থে: (৫/ ১৪২/ হা: ২৭৫৬) শায়বান ইবন ফাররুখ থেকে মুবারক ইবন ফাদালা সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবু ইয়ালার সূত্র ধরে ইবন হিব্বান তাঁর 'আস-সহিহ' গ্রন্থে: (১৪/ ৪৩৬ - ৪৩৭/ হা: ৬৫০৭) এটি বর্ণনা করেছেন। আবু সাঈদ আল-হারকুশি 'শারাফুল মুস্তফা' গ্রন্থে: (৩৯৩/ ৩) শায়বান ইবন ফাররুখ সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ তাঁর 'আল-মুসনাদ' গ্রন্থে: (৩/ ২২৬/ হা: ৩৩৮৭), ইবন খুযাইমাহ তাঁর 'আস-সহিহ' গ্রন্থে: (৩/ ১৩৯ - ১৪০/ হা: ২৭৫৬), আল-বাযযার তাঁর 'আল-মুসনাদ' গ্রন্থে: (১৩/ ২০৭/ হা: ৬৬৭৬), আল-আজুরি 'আশ-শরীয়াহ' গ্রন্থে: (৪/ ১৫৮৫/ হা: ১০৭০), আল-বায়হাকি 'আদ-দালাাইল' গ্রন্থে: (২/ ৫৫৯), আল-খাতিব 'তারিখে বাগদাদ' গ্রন্থে: (১২/ ৪৮৫) এবং ইবন আব্দুল বার 'জামি বয়ানিল ইলম' গ্রন্থে: (২/ ১৯৭) বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সবাই মুবারক ইবন ফাদালা থেকে হাসান বসরীর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। আদ-দারিমী তাঁর 'আস-সুনান' গ্রন্থে: (১/ ১৮১ - ১৮২/ হা: ৮৩) এবং তাবারানি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে: (২/ ১০৮/ হা: ১৪০৮) হাসান বসরী থেকে আনাস (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ 'আল-মুসনাদ' গ্রন্থে: (১/ ৩৬৩/ হা: ৩৪৩১), আদ-দারিমী 'আস-সুনান' গ্রন্থে: (১/ ১৮৩ - ১৮৪/ হা: ৪০ - ৪২) এবং তাহাবি 'শারহু মুশকিলিল আসার' গ্রন্থে: (১০/ ৩৭৯/ হা: ৪১৭৯) আনাস (রা.) থেকে বিভিন্ন সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থকারের সনদটি হাসান। বিভিন্ন সূত্রের কারণে হাদিসটি সহিহ এবং সহিহ গ্রন্থাবলীতে এর অনেক সাক্ষী বর্ণনা (শাওয়াহিদ) রয়েছে। তন্মধ্যে ইমাম বুখারি তাঁর 'আস-সহিহ' গ্রন্থে: (৩/ ১৩১৩/ হা: ৩৩৯০ - ৩৩৯১ - ৩৩৯২) কিতাবুল মানাকিবের 'ইসলামে নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহ' অধ্যায়ে ইবন উমর ও জাবির (রা.) থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আল-বায়হাকির 'দালাাইলুন নুবুওয়াহ': (২/ ৫৫৫ - ৫৬৩) দ্রষ্টব্য, যেখানে জাবির (রা.)-এর সূত্রে অনেকগুলো বর্ণনা রয়েছে। পরিশেষে তিনি বলেন: "কাঠের খুঁটির ক্রন্দন (হান্নানা) বিষয়ে আমরা যে সব হাদিস উল্লেখ করেছি তার সবগুলোই সহিহ। হান্নানার ঘটনাটি সুপ্রসিদ্ধ বিষয় এবং নবুওয়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাদির অন্তর্ভুক্ত যা পরবর্তী প্রজন্ম পূর্ববর্তীদের থেকে গ্রহণ করেছে। এ সংক্রান্ত হাদিসগুলো বর্ণনা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ইসলাম ও সুন্নাহর উপর অটল রাখার জন্য আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁরই কাছে আশ্রয় ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।"

(৩) নিশাপুর: নু-এর ওপর জবর, ইয়া-এর ওপর সাকিন এবং সিন-এর ওপর জবর দিয়ে উচ্চারিত। এটি খুরাসান অঞ্চলের একটি সমৃদ্ধ, সুমহান ও প্রাচীন শহর। সাসানীয় রাজা শাপুরের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। ইসলামী যুগে একে আবরাশাহর, ইরানশাহর এবং নাশাভুর নামেও ডাকা হতো। এখান থেকে অনেক মহান মনীষী ও জ্ঞানীর জন্ম হয়েছে। ৬১৮ হিজরিতে তাতারীদের আক্রমণের ফলে এটি ধ্বংস হওয়ার আগ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল; তাতারীরা সেখানে কোনো দেয়ালও অক্ষত রাখেনি। পরবর্তীতে এটি পুনরায় সংস্কার ও জনপদে পরিণত হয়। বর্তমানে এটি ইরানের উত্তর-পূর্বে খুরাসান প্রদেশে রাশিয়া ও আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে অবস্থিত এবং তেহরান থেকে প্রায় ৯২০ কিলোমিটার দূরে। আল-রওদুল মিতার: (৫৮৮), বুলদানুল খিলাফাতিল শারকিয়্যাহ: (৪২৪ - ৪২৯)।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৪৬)
محمد بن محمد الزيادي، قال: أخبرنا حاجب بن أحمد الطوسي، قال: أخبرنا أبو عبد الرحمن المروزي عبد الله بن المبارك، قال: حدثنا مبارك بن فضالة، حدثني [الحسن](1)، عن أنس بن مالك: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يخطب يوم الجمعة، ويسند ظهره إلى خشبة، فلما كثر الناس قال: «ابنوا لي منبرا»، فبنوا له منبرا، إنما كانت عتبتين، فتحول من الخشبة إلى المنبر، قال: فحنت والله الخشبة حنين الواله، قال أنس: وأنا والله في المسجد أسمع ذلك، قال: فوالله فما زالت تحن حتى نزل النبي صلى الله عليه وسلم من المنبر فمشى إليها واحتضنها، فسكنت، فبكى الحسن، وقال: يا معشر المسلمين، الخشبة تحن إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم شوقا إليه، أفليس الرجال الذين يرجون لقاءه أحق أن يشتاقوا إليه(2).

 

20 - أخبرنا أبو القاسم الحسين بن محمد بن أبي عمر الهاشمي، وأبو الحسين محمد بن المؤمل الحنفي الشيخ الصالح، وأبو تمام محمد بن عقيل المقرئ، قالوا: حدثنا طلحة بن يوسف، قال: حدثنا أبو يعقوب النجيرمي(3)، قال: حدثنا إبراهيم بن عبد الله، قال: حدثنا إبراهيم بن حميد، قال: حدثنا حماد(4)، قال: حدثنا عمار بن أبي عمار، عن ابن عباس رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يخطب إلى جذع، فلما اتخذ المنبر حن الجذع، حتى أتاه النبي صلى الله عليه وسلم فالتزمه، فسكن، فقال: «لو لم ألتزمه لحن إلى يوم القيامة»(5).

--------------------------------------------

(1) في الأصل: «الحسين»، والتصحيح من المصادر.

(2) أخرجه البيهقي في الدلائل: (2/ 559) عن أبي طاهر الزيادي عن حاجب الطوسي به، وأخرجه الآجري في الشريعة: (4/ 1585 - 1586/ ح 1070) من طريق الحسين بن الحسن المروزي عن عبد الله بن المبارك عن مبارك بن فضالة به. وإسناد المصنف حسن. والحديث صحيح بشواهده، منها حديث ابن عباس وحديث أنس في الباب برقم (18).

(3) هو أبو يعقوب يوسف بن يعقوب النجيرمي البصري المحدث، المعروف بالسعتري، ثقة.

(4) هو أبو سلمة حماد بن سلمة بن دينار الجزاز البصري، ثقة عابد أثبت الناس في ثابت، تغير حفظه بأخرة.

(5) أخرجه ابن سعد في الطبقات الكبرى (1/ 252)، وأحمد في المسند: (1/ 249/ ح 2236)، و (1/ 266/ 2400)، و (1/ 363/ 3430 - 3432)، وعبد بن حميد في المسند: (396/ 1336)، والبزار في المسند: (13/ 355/ ح 6994)، والبخاري في التاريخ الكبير: (7/ 26/ ت 108)، وابن ماجه في السنن: (1/ 454 ح 1415) إقامة الصلاة، باب ما جاء في بدء شأن المنبر، والدارمي في =
মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-যিয়াদী বলেন: হাজিব বিন আহমাদ আত-তূসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আবদুর রহমান আল-মারওয়াযী আবদুল্লাহ বিন আল-মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুবারক বিন ফাযালা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, [আল-হাসান](১) আমাকে বর্ণনা করেছেন, আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিন খুতবা দিতেন এবং একটি কাঠের খুঁটিতে পিঠ হেলান দিতেন। যখন মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেল, তখন তিনি বললেন: «তোমরা আমার জন্য একটি মিম্বার তৈরি করো», তখন তারা তাঁর জন্য একটি মিম্বার তৈরি করে দিল, যা ছিল মাত্র দুটি সিঁড়ি বিশিষ্ট। অতঃপর তিনি সেই কাঠ থেকে মিম্বারের দিকে চলে গেলেন। তিনি (আনাস) বলেন: আল্লাহর কসম, সেই কাঠটি শোকার্ত মায়ের কান্নার মতো ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। আনাস বলেন: আল্লাহর কসম, আমি মসজিদে ছিলাম এবং সেই আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। তিনি বলেন: আল্লাহর কসম, সেটি অনবরত কাঁদছিল যতক্ষণ না নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বার থেকে নামলেন এবং তার কাছে গিয়ে সেটিকে জড়িয়ে ধরলেন, তখন সেটি শান্ত হলো। আল-হাসান কেঁদে ফেললেন এবং বললেন: হে মুসলিম সম্প্রদায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আকুল আকাঙ্ক্ষায় কাঠটি কেঁদে উঠল, তাহলে যারা তাঁর সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে, তাদের কি তাঁর প্রতি আরও বেশি ব্যাকুল হওয়া উচিত নয়?(২).

 

২০ - আবুল কাসিম আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আবি উমর আল-হাশিমী, আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আল-মুআম্মাল আল-হানাফী আশ-শাইখ আস-সালিহ এবং আবু তাম্মাম মুহাম্মদ বিন আকীল আল-মুকরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: তালহা বিন ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইয়াকুব আন-নুজাইরীমী(৩) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহীম বিন আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহীম বিন হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ(৪) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আম্মার বিন আবি আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গাছের গুঁড়ির দিকে মুখ করে খুতবা দিতেন। যখন মিম্বার গ্রহণ করা হলো, তখন সেই গুঁড়িটি কেঁদে উঠল, এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে এসে সেটিকে জড়িয়ে ধরলেন, তখন সেটি শান্ত হলো। তিনি বললেন: «যদি আমি একে জড়িয়ে না ধরতাম, তবে এটি কিয়ামত পর্যন্ত কাঁদতে থাকত»(৫).

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে রয়েছে: «আল-হুসাইন», আর সংশোধনটি করা হয়েছে বিভিন্ন উৎস থেকে।

(২) বাইহাকী তাঁর দালায়েল গ্রন্থে (২/ ৫৫৯) আবু তাহের আল-যিয়াদী থেকে, তিনি হাজিব আত-তূসী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আল-আজুরী তাঁর আশ-শরীয়াহ গ্রন্থে (৪/ ১৫৮৫ - ১৫৮৬/ হা: ১০৭০) আল-হুসাইন বিন আল-হাসান আল-মারওয়াযী সূত্রে আবদুল্লাহ বিন আল-মুবারক থেকে, তিনি মুবারক বিন ফাযালা থেকে বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থকারের বর্ণিত সনদটি হাসান। হাদীসটি এর অন্যান্য সমর্থক বর্ণনার মাধ্যমে সহীহ, যার মধ্যে ইবনে আব্বাস ও আনাস (রা.) এর হাদীস এই অধ্যায়ের ১৮ নং ক্রমিকে রয়েছে।

(৩) তিনি হলেন আবু ইয়াকুব ইউসুফ বিন ইয়াকুব আন-নুজাইরীমী আল-বসরী আল-মুহাদ্দিস, যিনি আস-সা'তারী নামে পরিচিত, নির্ভরযোগ্য।

(৪) তিনি হলেন আবু সালামা হাম্মাদ বিন সালামা বিন দীনার আল-জাযায আল-বসরী, নির্ভরযোগ্য, ইবাদতগুজার, সাবিত (বিন আসলাম আল-বুনানী) এর বর্ণনার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুদৃঢ়। শেষ জীবনে তাঁর মুখস্থ শক্তিতে কিছু পরিবর্তন এসেছিল।

(৫) ইবনে সাদ তাঁর আত-তাবাকাত আল-কুবরা (১/ ২৫২) গ্রন্থে, আহমাদ তাঁর আল-মুসনাদ (১/ ২৪৯/ হা: ২২৩৬), এবং (১/ ২৬৬/ ২৪০০), এবং (১/ ৩৬৩/ ৩৪৩৩ - ৩৪৩২) গ্রন্থে, আবদ বিন হুমাইদ তাঁর আল-মুসনাদ (৩৯৬/ ১৩৩৬) গ্রন্থে, আল-বাযযার তাঁর আল-মুসনাদ (১৩/ ৩৫৫/ হা: ৬৯৯৪) গ্রন্থে, বুখারী তাঁর আত-তারীখ আল-কাবীর (৭/ ২৬/ ত ১০৮) গ্রন্থে, ইবনে মাজাহ তাঁর আস-সুনান (১/ ৪৫৪ হা: ১৪১৫) ইকামাতুস সালাত অধ্যায়, মিম্বারের শুরুর বিষয় পরিচ্ছেদে এবং দারেমী তাঁর... গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৪৭)
21 - أخبرنا القاضي أبو منصور محمد بن أحمد بن شكرويه بإصفهان، قال: حدثنا إبراهيم بن عبد الله بن خرشيد قوله، قال: حدثنا أبو بكر عبد الله بن محمد بن زياد النيسابوري، قال: حدثنا جعفر بن محمد أبو الفضل الخفاف بأنطاكية(1)، قال: حدثنا حجاج(2)، قال: حدثنا المسعودي(3)، عن [يونس] بن خباب(4)، عن ابن يعلى(5) بن مرة الثقفي، عن [أبيه](6)، قال: شهدت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم مشاهد لم يشاهدها أحد كان معنا، خرجت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في بعض مغازيه، فأراد الحاجة فقال: «يا يعلى هل شيء يواريني»؟ فقلت: ما أرى إلا أشاءتين(7)، فإن اجتمعتا فلعلهما أن توارياك، قال: «يا يعلى قل لهما فليجتمعا بإذن الله»، فاجتمعتا، فقضى رسول

--------------------------------------------

= السنن: (31/ 1/ ح 39)، و (442/ 1/ ح 1563)، والطبراني في المعجم الكبير: (12/ 187/ ح 12841)، والطحاوي في شرح مشكل الآثار: (10/ 377/ 4177)، واللالكائي في اعتقاد أهل السنة: (2/ 181/ ح 123)، (4/ 798/ ح 1471)، والبيهقي في الدلائل: (2/ 558)، وقوام السنة في المحجة: وابن عساكر في تاريخ دمشق: (4/ 393) جميعهم من طرق عن حماد بن سلمة عن عمار به، وأخرجه ابن أبي شيبة في مصنفه: (6/ 319/ ح 31746)، وابن سعد في الطبقات: (1/ 188) كلاهما من طرق عن ابن عباس به. وإسناد المصنف صحيح بطرقه وشواهده، منها حديث أنس في الباب (ح 18 - 19).

(1) أنطاكية (Antioch of Pisidia): بالفتح ثم السكون والياء مخففة: مدينة عظيمة بالشام على ساحل البحر، قيل ليس في أرض الإسلام ولا أرض الروم مثلها، بناها الملك بطليموس الثاني اليوناني، وقيل نسبت إلى الذي بناها انطيخين، وهي اليوم تقع على الضفة اليسرى لنهر العاصي على بعد 30 كلم من البحر المتوسط، وهي مدينة تركية منذ 1939 م بعد أن كانت تابعة لسوريا. معجم البلدان: (1/ 266 - 268)، الروض المعطار: (38 - 39)، بلدان الخلافة الشرقية: (164 - 166).

(2) هو أبو محمد حجاج بن محمد المصيصي الأعور الترمذي، ثقة ثبت، اختلط في آخر عمره لما قدم بغداد قبل موته.

(3) هو عبد الرحمن بن عبد الله بن عتبة بن عبد الله بن مسعود الكوفي المسعودي، صدوق اختلط قبل موته، وضابطه: أن من سمع منه ببغداد فبعد الاختلاط.

(4) في الأصل: «يوسف بن خباب»، والصواب كما في مصادر ترجمته: يونس بن خباب الأسيدي مولاهم أبو حمزة الكوفي، صدوق يخطئ، ورمي بالرفض.

(5) في الأصل: «ابن أبي يعلى»، والصواب: «ابن يعلى» كما في مصادر ترجمته: عبد الله بن يعلى بن مرة الثقفي،

ضعفه غير واحد.

(6) طمس في الأصل، والمثبت من المصادر، وهو أبو المرازم يعلى بن مرة بن وهب بن جابر الثقفي ويقال العامري، اسم أمه سيابة وربما نسب إليها، صحابي.

(7) الأشاءتين: واحدها أشاة وهي النخل الصغار. غريب الحديث للخطابي: (1/ 125)، مشارق الأنوار: (1/ 49) مادة (أشا).
২১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজী আবু মনসুর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন শুকরুয়াইহ ইসফাহানে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন খুরশীদ কওলুহু, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন যিয়াদ আল-নিসাবুরী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আনতাকিয়ায় জাফর বিন মুহাম্মদ আবু আল-ফজল আল-খাফফাফ(১), তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ(২), তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-মাসউদী(৩), [ইউনুস] বিন খাব্বাব(৪) থেকে, তিনি ইবনে ইয়ালা(৫) বিন মুররাহ আল-সাকাফী থেকে, তিনি [তার পিতা](৬) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এমন কিছু দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছি যা আমাদের সাথে থাকা অন্য কেউ দেখেনি। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর কোনো এক যুদ্ধে বের হলাম, এরপর তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন এবং বললেন: «হে ইয়ালা, আমাকে আড়াল করার মতো কিছু কি আছে?» আমি বললাম: আমি দুটি ছোট খেজুর গাছ(৭) ছাড়া আর কিছু দেখছি না, যদি সেগুলো একত্রিত হতো তবে হয়তো আপনাকে আড়াল করতে পারতো। তিনি বললেন: «হে ইয়ালা, তুমি তাদেরকে বলো তারা যেন আল্লাহর অনুমতিক্রমে একত্রিত হয়», ফলে তারা একত্রিত হলো, অতঃপর আল্লাহর রাসূল তাঁর কাজ সম্পন্ন করলেন।

--------------------------------------------

= আস-সুনান: (৩১/ ১/ হা ৩৯), এবং (৪৪২/ ১/ হা ১৫৬৩), তাবারানী আল-মুজাম আল-কাবীর-এ: (১২/ ১৮৭/ হা ১২৮৪১), তাহাবী শরহু মুশকিলিল আসার-এ: (১০/ ৩৭৭/ ৪১৭৭), লালকায়ি এতেকাদু আহলিস সুন্নাহ-তে: (২/ ১৮১/ হা ১২৩), (৪/ ৭৯৮/ হা ১৪৭১), বায়হাকী আদ-দালায়িল-এ: (২/ ৫৫৮), কাওয়ামুস সুন্নাহ আল-মাহাজ্জাহ-তে: এবং ইবনে আসাকির তারিখু দিমাশক-এ: (৪/ ৩৯৩) তারা সবাই হাম্মাদ বিন সালামাহ’র সূত্রে আম্মার থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং ইবনে আবি শায়বাহ তার মুসান্নাফ-এ এটি বের করেছেন: (৬/ ৩১৯/ হা ৩১৭৪৬), এবং ইবনে সাদ আত-তাবাকাত-এ: (১/ ১৮৮) তারা উভয়ে ইবনে আব্বাস থেকে প্রাপ্ত সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। মুসান্নিফ বা গ্রন্থকারের সনদটি এর বিভিন্ন সূত্র ও সাক্ষ্য দ্বারা সহীহ, যার মধ্যে এই অধ্যায়ের আনাস বর্ণিত হাদীসটি অন্যতম (হা ১৮-১৯)।

(১) আনতাকিয়া (পিসিডিয়ার অ্যান্টিওক): শুরুতে ফাতহা, এরপর সুকুন এবং ইয়া বর্ণটি তাশদীদহীন: এটি সিরিয়ার একটি বিশাল শহর যা সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত, বলা হয় যে ইসলামি ভূখণ্ডে বা রোমকদের ভূমিতে এর মতো আর কিছু নেই, এটি গ্রীক রাজা দ্বিতীয় টলেমি নির্মাণ করেছিলেন, আবার বলা হয় যে এটি এর নির্মাতা আনতাখিন-এর নামানুসারে রাখা হয়েছে। বর্তমানে এটি ভূমধ্যসাগর থেকে ৩০ কিমি দূরে আসী নদীর বাম তীরে অবস্থিত, ১৯৩৯ সাল থেকে এটি একটি তুর্কি শহর, তার আগে এটি সিরিয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল। মুজামুল বুলদান: (১/ ২৬৬ - ২৬৮), আর-রওদুল মিতার: (৩৮ - ৩৯), বুলদানুল খিলাফাহ আল-শারকিয়্যাহ: (১৬৪ - ১৬৬)।

(২) তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ হাজ্জাজ বিন মুহাম্মদ আল-মিসসী আল-আওয়ার আত-তিরমিযী, নির্ভরযোগ্য ও দৃঢ়, তার শেষ বয়সে যখন মৃত্যুর আগে বাগদাদে আসেন তখন স্মৃতিবিভ্রম ঘটেছিল।

(৩) তিনি হলেন আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ আল-কুফী আল-মাসউদী, সত্যবাদী তবে মৃত্যুর আগে স্মৃতিবিভ্রম ঘটেছিল, আর এর মানদণ্ড হলো: যে ব্যক্তি বাগদাদে তার নিকট থেকে শুনেছেন তিনি স্মৃতিবিভ্রমের পরে শুনেছেন।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «ইউসুফ বিন খাব্বাব», আর সঠিক হলো যা তার জীবনীমূলক উৎসগুলোতে রয়েছে: ইউনুস বিন খাব্বাব আল-আসাদী তাদের মুক্তদাস আবু হামজা আল-কুফী, সত্যবাদী কিন্তু ভুল করেন, এবং তার বিরুদ্ধে রাফেযী হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «ইবনে আবি ইয়ালা», আর সঠিক হলো: «ইবনে ইয়ালা» যেমনটি তার জীবনীমূলক উৎসগুলোতে রয়েছে: আব্দুল্লাহ বিন ইয়ালা বিন মুররাহ আল-সাকাফী, একাধিক ব্যক্তি তাকে দুর্বল বলেছেন।

(৬) মূল পাণ্ডুলিপিতে লেখা অস্পষ্ট, যা বসানো হয়েছে তা বিভিন্ন উৎস থেকে নেওয়া, তিনি হলেন আবু আল-মারাজিম ইয়ালা বিন মুররাহ বিন ওয়াহাব বিন জাবির আল-সাকাফী, তাকে আমেরীও বলা হয়, তার মায়ের নাম সিয়াবাহ এবং কখনও তাকে মায়ের পরিচয়ে ডাকা হয়, তিনি একজন সাহাবী।

(৭) আল-আশা’আতাইন: এর একবচন হলো আশা’আহ, যার অর্থ ছোট খেজুর গাছ। গারীবুল হাদীস লিল খাত্তাবী: (১/ ১২৫), মাশারিকুল আনোয়ার: (১/ ৪৯) শব্দ (আশা)।
(খণ্ড: ১) তালকীহুল উকূল ফী ফাযাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৪৮)
الله صلى الله عليه وسلم حاجته، ثم قال: «يا يعلى، مرهما فليقصر كل واحدة منهما مكانها»، ثم سرنا فإذا امرأة قد عرضت لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت: يا رسول الله إن أبي يصاب، فأخذه النبي صلى الله عليه وسلم فتفل في فيه، فقال: «اخس عدو الله، أنا محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم». ثم سرنا، فلما رجعنا إذا هي تهدي لرسول الله صلى الله عليه وسلم وقالت: ما عرض له منذ فارقتنا، ثم سرنا حتى رجعنا إلى المدينة، فإذا عود(1) بارك عيناه تهملان، فقال: «من صاحب هذا العود»؟ قالوا: فلان: قال: «إنه ليخبرني أنه قد نضح لأهله منذ كذا وكذا، وقد أرادوا نحره»، فأرسل إلى صاحبه، فقال: «يعنيه»، فقال: بل هولك يا رسول الله، قال: «أبقه في إبلك، وأحسن إليه»(2).

 

22 - أخبرنا الحسين بن محمد، قال: حدثنا القاسم بن جعفر، قال: حدثنا أبو العباس الأثرم(3)، قال: حدثنا حميد(4)، قال: حدثنا معلى بن منصور، أخبرنا شبيب بن شيبة، حدثني بشر بن عاصم، عن غيلان بن سلمة الثقفي، قال: خرجنا مع نبي الله صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

(1) العود: الجمل الكبير المسن الذي فيه بقية قوة. تهذيب اللغة: (3/ 80)، النهاية في غريب الأثر: (3/ 317) مادة (عود).

(2) أخرجه قوام السنة في دلائل النبوة: (187 - 188/ ح 240) عن ابن شكرويه عن ابن خرشيذ قوله به، ورواه أبو حاتم الرازي في العلل: (2/ 395) عن المسعودي عن يونس بن خباب به، وأخرجه ابن إسحاق في سيرته: (5/ 257)، وابن سعد في الطبقات الكبرى: (1/ 170)، وأحمد في المسند: (4/ 172 - 173/ ح 17599 - 17560 - 17601 - 17603)، وعبد بن حميد في المسند: (154/ ح 405)، وابن السري في الزهد: (2/ 621/ ح 1338)، وابن أبي شيبة في المصنف: (5/ 491/ ح 23589)، وابن ماجه في السنن: (1/ 122/ ح 339) كتاب الطهارة، باب الارتياد للغائط والبول، وابن أبي عاصم في الآحاد والمثاني: (3/ 250 - 252/ ح 1611 - 1612 - 1613 - 1614)، والطبراني في المعجم الكبير: (22/ 261 - 265/ ح 679 - 672 - 680)، والحاكم في المستدرك: (2/ 674/ ح 4232)، وأبو نعيم في الدلائل: (2/ 283، 284/ ح 382 - 383)، (2/ 293، 294/ ح 391)، و (2/ 465/ ح 394)، والبيهقي في الدلائل: (6/ 20 - 24)، وقوام السنة في دلائل النبوة: (219/ ح 304)، و (158/ ح 184)، وابن عساكر في تاريخ دمشق: (4/ 366 - 369) جميعهم من طرق عن يعلى بن مرة به. وإسناد المصنف ضعيف، فيه عبد الله بن يعلى بن مرة وهو ضعيف وقد توبع. والحديث له طرق عديدة عن يعلى بن مرة يقوي بعضها بعضا. وله شاهد من حديث أنس وابن عمر رواهما الترمذي في الجامع.

(3) هو أبو العباس محمد بن أحمد بن حاد ابن الأثرم البغدادي البصري المقري، شيخ ثقة فاضل.

(4) هو أبو الحسن حميد بن الربيع بن حميد اللخمي الخزاز الكوفي، كان واسع الرواية إخباريا، تكلم فيه.
আল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রয়োজন পূর্ণ করলেন, তারপর বললেন: «হে ইয়ালা, তাদের উভয়কে নির্দেশ দাও যেন তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ স্থানে ফিরে যায়», তারপর আমরা চলতে লাগলাম। পথিমধ্যে এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে উপস্থিত হয়ে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা (মানসিক বা জিন দ্বারা) আক্রান্ত। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ধরলেন এবং তাঁর মুখে থুথু দিলেন, এরপর বললেন: «দূর হ আল্লাহর শত্রু, আমি মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম»। তারপর আমরা পথ চললাম। যখন আমরা ফিরে আসলাম, তখন সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উপহার প্রদান করল এবং বলল: আপনি আমাদের ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে তাঁর আর কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। তারপর আমরা চলতে চলতে মদীনায় ফিরে এলাম। সেখানে একটি বৃদ্ধ উট(১) হাঁটু গেড়ে বসে ছিল এবং তার দুই চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। তিনি বললেন: «এই উটের মালিক কে»? তারা বলল: অমুক ব্যক্তি। তিনি বললেন: «এটি আমাকে অভিযোগ করছে যে, সে তার মালিকের জন্য দীর্ঘকাল যাবত পরিশ্রম করেছে এবং এখন তারা তাকে জবাই করতে চায়», তারপর তিনি তার মালিকের কাছে লোক পাঠালেন এবং বললেন: «এটি আমার কাছে বিক্রি করো», সে বলল: বরং এটি আপনার জন্যই (উপহার), হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: «এটি তোমার উটগুলোর সাথেই রাখো এবং এর প্রতি সদয় আচরণ করো»(২)।

 

২২ - হুসাইন বিন মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: কাসিম বিন জাফর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আব্বাস আল-আছরাম(৩) আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হুমায়দ(৪) আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুআল্লা বিন মনসুর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, শাবীব বিন শায়বাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বিশর বিন আসিম আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, গায়লান বিন সালামাহ আস-সাকাফী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হলাম...

--------------------------------------------

(১) আল-আওদ: এমন বড় ও বৃদ্ধ উট যার মাঝে তখনও কিছু শক্তি অবশিষ্ট থাকে। তাহযীবুল লুগাহ: (৩/ ৮০), আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল আসার: (৩/ ৩১৭), ‘আওদ’ শব্দমূল।

(২) এটি কাওয়ামুস সুন্নাহ ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ গ্রন্থে (১৮৭ - ১৮৮/ হা. ২৪০) ইবনে শুকরুওয়াইহ থেকে ইবনে খুরশীদ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী ‘আল-ইলাল’ গ্রন্থে (২/ ৩৯৫) আল-মাসউদী থেকে ইউনুস বিন খাব্বাব-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনে ইসহাক তাঁর ‘সীরাত’ গ্রন্থে (৫/ ২৫৭), ইবনে সাদ ‘আত-তাবাকাতুল কুবরা’ গ্রন্থে (১/ ১৭০), আহমাদ ‘আল-মুসনাদ’ গ্রন্থে (৪/ ১৭২ - ১৭৩/ হা. ১৭৫৯৯ - ১৭৬০০ - ১৭৬০১ - ১৭৬০৩), আবদ বিন হুমায়দ ‘আল-মুসনাদ’ গ্রন্থে (১৫৪/ হা. ৪০৫), ইবনুস সারী ‘আয-যুহদ’ গ্রন্থে (২/ ৬২১/ হা. ১৩৩৮), ইবনে আবী শায়বাহ ‘আল-মুসান্নাফ’ গ্রন্থে (৫/ ৪৯১/ হা. ২৩৫৮৯), ইবনে মাজাহ ‘আস-সুনান’ গ্রন্থে (১/ ১২২/ হা. ৩৩৯) পবিত্রতা অধ্যায়, শৌচাগারের উদ্দেশ্যে স্থান অন্বেষণ পরিচ্ছেদ, ইবনে আবী আসিম ‘আল-আহাদ ওয়াল মাছানী’ গ্রন্থে (৩/ ২৫০ - ২৫২/ হা. ১৬১১ - ১৬১২ - ১৬১৩ - ১৬১৪), তাবারানী ‘আল-মুজামুল কাবীর’ গ্রন্থে (২২/ ২৬১ - ২৬৫/ হা. ৬৭৯ - ৬৭২ - ৬৮০), হাকেম ‘আল-মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে (২/ ৬৭৪/ হা. ৪২৩২), আবু নুআইম ‘আদ-দালাইল’ গ্রন্থে (২/ ২৮৩, ২৮৪/ হা. ৩৮২ - ৩৮৩), (২/ ২৯৩, ২৯৪/ হা. ৩৯১), এবং (২/ ৪৬৫/ হা. ৩৯৪), বায়হাকী ‘আদ-দালাইল’ গ্রন্থে (৬/ ২০ - ২৪), কাওয়ামুস সুন্নাহ ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ গ্রন্থে (২১৯/ হা. ৩০৪), ও (১৫৮/ হা. ১৮৪), ইবনে আসাকির ‘তারীখে দিমাশক’ গ্রন্থে (৪/ ৩৬৬ - ৩৬৯) - তাঁরা সকলে বিভিন্ন সূত্রে ইয়ালা বিন মুররাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থকারের সনদটি দুর্বল, এতে আব্দুল্লাহ বিন ইয়ালা বিন মুররাহ রয়েছেন যিনি একজন দুর্বল বর্ণনাকারী, তবে তাঁর অনুসরণকারী বর্ণনা রয়েছে। হাদীসটির ইয়ালা বিন মুররাহ থেকে অনেকগুলো সূত্র রয়েছে যা একে অপরকে শক্তিশালী করে। আনাস এবং ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদীসে এর সাক্ষ্য রয়েছে যা তিরমিযী ‘আল-জামি’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(৩) তিনি হলেন আবু আব্বাস মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন হাদ ইবনুল আছরাম আল-বাগদাদী আল-বাসরী আল-মুকরী, একজন নির্ভরযোগ্য ও মহৎ শায়খ।

(৪) তিনি হলেন আবুল হাসান হুমায়দ বিন আর-রাবী বিন হুমায়দ আল-লাখমী আল-খাযযায আল-কূফী, তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও ইতিহাসবেত্তা ছিলেন, তবে তাঁর ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে।