(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
التحفة البهية في شرح رسالة العبودية القسم: العقيدة
الكتاب: شرح رسالة العبودية لشيخ الإسلام ابن تيمية
تأليف: محمد بن خليفة التميمي
اعتنى به وأعده للنشر: عبد الجابر عبد العظيم بن محمد آل ماجد
الناشر: دار الأماجد للطباعة والنشر، الرياض - السعودية
الطبعة: الأولى، 1444 هـ - 2022 م
عدد الصفحات: 369
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 14 شعبان 1445
রিসালাতুল উবুদিয়্যাহর ব্যাখ্যায় উজ্জ্বল উপহার বিভাগ: আক্বিদাহ
কিতাব: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর রিসালাতুল উবুদিয়্যাহর ব্যাখ্যা
রচনা: মুহাম্মদ বিন খলিফা আত-তামিমি
সম্পাদনা ও প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করেছেন: আব্দুল জাবির আব্দুল আজিম বিন মুহাম্মদ আল মাজিদ
প্রকাশক: দারুল আমাজিদ লিত-তিবাআতি ওয়ান নাশর, রিয়াদ - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪৪ হিজরি - ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬৯
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৪ শাবান ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
[مقدمة المصنف]بسم الله الرحمن الرحيم، وبِه نستعين
إِنَّ الحَمد لله نحمدُه ونستعينه ونَسْتَغْفِرهُ، ونعوذ بِاللَّه من شُرُور أَنْفُسِنَا ومن سيئات أَعمالنَا؛ مَنْ يَهده اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ ومَن يُضلل فَلَا هادي لَهُ.
وأشْهد أَنَّ لَا إِلَه إِلَّا الله وحده لَا شريك لَهُ، وأشْهدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبده ورَسُوله.
أمَّا بعد: فقد سُئِلَ شيخُ الإسْلَام وعَلَم الأَعْلَام، نَاصِر السُّنَّة وقامع البِدْعَة؛ أَحْمد بن عبد الحَلِيم ابْن تَيْمِية رحمه الله عَنْ قَوْله عز وجل: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ} [البقرة: 21].
فَمَا العِبَادَة؟ ومَا فروعها؟ وهل مَجْمُوع الدَّين دَاخل فِيهَا أم لَا؟ ومَا حَقِيقَة العُبُودِيَّة؟ وهل هِيَ أَعلَى المقامات فِي الدُّنْيَا والآخِرَة، أم فَوْقهَا شَيْء من المقامات؟ وليبسط لنا القَوْلَ فِي ذَلِك.
فَأجَاب رحمه الله:
العِبَادَة: هِيَ اسْمٌ جَامعٌ لكلِّ مَا يُحِبهُ الله ويرضاه من الأَقْوال والأعمال البَاطِنَة والظَّاهِرَة.
فَالصَّلَاة والزَّكَاة والصِّيَام والحج وصِدق الحَدِيث وأَدَاء الأمَانَة وبرُّ الوالِدين وصِلَة الأَرْحَام والوفَاء بالعُهود والأَمر بِالمَعْرُوفِ والنَّهْي عَنْ المُنكر والجهَاد للكفَّار والمُنَافِقِينَ والإِحْسَان للجَار واليتيم والمسكين وابْن السَّبِيل والمملوك من الآدَمِيّين والبهائم، والدُّعَاء،
[লেখকের ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে, এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
অতঃপর: শাইখুল ইসলাম, প্রখ্যাত আলিম, সুন্নাহর সাহায্যকারী এবং বিদআতের মূলোৎপাটনকারী আহমদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে: {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো} [আল-বাকারাহ: ২১]।
ইবাদত কী? এর শাখা-প্রশাখাসমূহ কী কী? দ্বীনের পূর্ণাঙ্গ বিষয় কি এর অন্তর্ভুক্ত কি না? দাসত্বের (উবুদিয়্যাহ) হাকীকত কী? এটি কি দুনিয়া ও আখিরাতের সর্বোচ্চ মাকাম (স্তর), নাকি এর উপরে অন্য কোনো মাকাম রয়েছে? দয়া করে এ বিষয়ে আমাদের নিকট বিস্তারিত বর্ণনা করুন।
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) উত্তরে বললেন:
ইবাদত হলো এমন একটি ব্যাপক নাম যা আল্লাহ পছন্দ করেন এবং সন্তুষ্ট হন এমন সকল কথা ও কাজের (প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য) সমষ্টি।
সুতরাং সালাত, জাকাত, সিয়াম, হজ, সত্য কথা বলা, আমানত আদায় করা, পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, প্রতিশ্রুতি পূরণ করা, সৎকাজের আদেশ দেওয়া, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা, কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা, প্রতিবেশী, এতিম, মিসকিন, মুসাফির এবং মানুষের অধীনস্থ ব্যক্তি ও চতুষ্পদ প্রাণীর প্রতি ইহসান (সদাচরণ) করা এবং দোয়া করা;
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
والذِّكر، والقِرَاءَة، وأمثال ذَلِك من العِبَادَة لله.
الحمدُ لله وحده، والصَّلاةُ والسَّلامُ على مَنْ لا نَبِيَّ بعده، صَلَّى اللهُ عليه وعلى آلِه وصَحْبه وسَلَّم تسليمًا كثيرًا.ثم أمَّا بعد: فرسالةُ «العبودية» لشيخ الإسلام ابن تيمية هي إجابة عن سؤال وُجِّه إليه عن العبادة؟ وما فروعها؟ وهل يدخل فيها مضمون الدِّين أم لا؟ وما حقيقة العبودية؟ وهل هي أعلى المقامات في الدُّنيا والآخرة؟ أو فوقها شيء من المَقامات؟وقد بدأ شيخ الإسلام رحمه الله جواب عن هذا السؤال بتعريف جامع للعبادة فقال: «العِبادة: هي اسمٌ جامعٌ لكلِّ ما يُحِبُّه اللهُ ويَرضاه من الأعمال والأقوال الظاهرة والباطنة»، وتندرج تحت هذه العبارة جملة مسائل؛ نذكر منها: المسألة الأولى: تعريف العبادة لغة:العبادة في اللغة: مَصدر عَبَدَ.وفي «القاموس»: «العَبْدِيَّةُ والعُبودِيَّةُ والعُبودَةُ والعِبادَةُ: الطَّاعَةُ»(1).وفي «الصِّحاح»: «أصلُ العُبودية: الخُضوع والذُّل، والتَّعبيد: التَّذليل.يقال: طريق مُعَبَّد، والبَعير المُعبد: المَهنوء بالقَطْرَان المُذَلَّل.والعبادة: الطاعة، والتعبد: التَّنَسُّك».--------------------------------------------
এবং জিকির, তিলাওয়াত এবং আল্লাহর জন্য এই জাতীয় ইবাদতসমূহ।
সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যার পরে কোনো নবী নেই। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর অজস্র রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।অতঃপর: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর «উবুদিয়্যাহ» রিসালাটি (পুস্তিকা) হচ্ছে তাঁর কাছে করা একটি প্রশ্নের উত্তর, যা ইবাদত সম্পর্কে করা হয়েছিল। এর শাখা-প্রশাখা কী কী? দীনের সারমর্ম কি এর অন্তর্ভুক্ত কি না? উবুদিয়্যাহ বা দাসত্বের হাকিকত বা বাস্তবতা কী? দুনিয়া ও আখিরাতে এটিই কি সর্বোচ্চ মাকাম (স্তর)? নাকি এর উপরেও কোনো মাকাম রয়েছে?শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) এই প্রশ্নের উত্তর শুরু করেছেন ইবাদতের একটি পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞার মাধ্যমে। তিনি বলেছেন: «ইবাদত হলো এমন একটি সামগ্রিক নাম, যা আল্লাহ ভালোবাসেন এবং পছন্দ করেন এমন সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কথা ও কাজের সমষ্টি», এই সংজ্ঞার অধীনে বেশ কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়; যার মধ্য থেকে আমরা উল্লেখ করছি: প্রথম বিষয়: আভিধানিক অর্থে ইবাদতের সংজ্ঞা:অভিধানে ইবাদত শব্দটি ‘আবাদা’ এর মূলধাতু (মাসদার)।«আল-কামুস» গ্রন্থে আছে: «আবদিয়্যাহ, উবুদিয়্যাহ, উবুদাহ এবং ইবাদত হলো: আনুগত্য»(১)।«আস-সিহাহ» গ্রন্থে আছে: «উবুদিয়্যাহ-এর মূল অর্থ হলো: বিনয় ও হীনতা প্রকাশ করা, আর 'তাবিদ' মানে হলো বশীভূত বা সুগম করা।বলা হয়ে থাকে: ‘তরীকুন মুআববাদ’ (ব্যবহৃত বা সুগম পথ), এবং ‘আল-বাইরুল মুআববাদ’ বলতে সেই উটকে বোঝায় যাকে আলকাতরা মাখিয়ে অনুগত বা বশ করা হয়েছে।আর ইবাদত হলো আনুগত্য, এবং তায়াব্বুদ হলো ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন হওয়া»।--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
فتفترق المعاني بحسب الاشتقاق.
«وقوله تعالى: {فَادْخُلِي فِي عِبَادِي} [الفجر: 29]، أي: في حِزبي»
(1)، فأضاف إليها معنى جديدًا، وهو الولاء.
وفي «المخصص»: «أصل العبادة: التَّذليل، من قولهم: طريق مُعَبَّد، أي: مُذَلَّل بكثرة الوطءِ عليه
… ومنه أُخِذ (العبد) لِذِلَّتِه لمَولاه.
والعبادة والخضوع والتَّذَلُّل والاستكانة قَرائب في المعاني؛ يقال: تعَبَّد فلان لفلان: إذا تذلل له، وكل خضوع ليس فوقه خضوع فهو عبادة؛ طاعة كان للمعبود أو غيرَ طاعة، وكل طاعة لله على جهة الخُضوع والتَّذَلُّل فهي عبادة، والعبادة نوع من الخضوع، لا يَستحقه إلا الُمنعم بأعلى أجناس النِّعَم؛ كالحياة والفَهم والسَّمع والبَصر»
(2).
وفي «اللِّسان»: «أصل العبودية: الخضوع والتذلل
… ، وفي حديث أبي هريرة: «لا يَقل أحدكم لمملوكه: عَبدي وأَمَتي، وليقل: فتاي وفتاتي»
(3)؛ هذا على نفي الاستكبار عليهم، وأن يَنسب عبوديتهم إليه، فإنَّ المستحق لذلك الله تعالى، هو رب العباد كلهم والعبيد»
(4).
وجعل بعضهم العبادة لله، بخلاف العبودية وغيرها فهي تجعل لله وللمخلوقين.
قال الأزهري: «ولا يقال: عبد يَعبد عبادة، إلَّا لمن يعبد الله، ومَن عَبَدَ من دونه إلهًا فهو من الخاسرين، قال: وأمَّا عَبْدٌ خَدَمَ
--------------------------------------------
শব্দমূলের ব্যুৎপত্তি অনুযায়ী অর্থগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়।
«আর আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও} [আল-ফজর: ২৯], অর্থাৎ: আমার দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও»
(১), এভাবে এতে একটি নতুন অর্থ যুক্ত হয়েছে, আর তা হলো আনুগত্য।
«আল-মুখাস্সাস» গ্রন্থে রয়েছে: «ইবাদতের মূল অর্থ হলো: অনুগত করা, যেমন তাদের কথা: সুগম পথ, অর্থাৎ যা অতিরিক্ত পদদলিত হওয়ার কারণে নমনীয় ও মসৃণ হয়ে গেছে
… এবং এখান থেকেই (আবদ বা দাস) শব্দটি নেওয়া হয়েছে, তার মনিবের প্রতি তার হীনতা ও আনুগত্যের কারণে।
ইবাদত, নতিস্বীকার, দীনতা ও বিনয়—এগুলো অর্থগতভাবে কাছাকাছি; বলা হয়: অমুক ব্যক্তি অমুকের ইবাদত করেছে অর্থাৎ যখন সে তার সামনে নিজেকে হীন বা অনুগত করেছে। আর এমন প্রত্যেক নতিস্বীকার যার ঊর্ধ্বে আর কোনো নতিস্বীকার নেই, তাই হলো ইবাদত; চাই তা মাবুদের প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে হোক বা অন্য কোনোভাবে। আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের উদ্দেশ্যে কৃত প্রত্যেক বিনয় ও দীনতা প্রকাশই ইবাদত। আর ইবাদত হলো এক প্রকার নতিস্বীকার, যার যোগ্য একমাত্র তিনিই যিনি সর্বোত্তম পর্যায়ের নেয়ামতসমূহ দান করেছেন; যেমন জীবন, বোধশক্তি, শ্রবণশক্তি এবং দৃষ্টিশক্তি»
(২)।
«আল-লিসান» গ্রন্থে রয়েছে: «দাসত্বের মূল অর্থ হলো: বিনয় ও দীনতা
… , আর আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে আছে: «তোমাদের কেউ যেন তার অধীনস্থ দাসের ক্ষেত্রে 'আমার দাস' ও 'আমার দাসী' না বলে, বরং সে যেন বলে: 'আমার যুবক' ও 'আমার যুবতী'»
(৩); এটি করা হয়েছে তাদের ওপর অহংকার করাকে নাকচ করার জন্য এবং দাসত্বকে নিজের দিকে সম্বন্ধ করা থেকে বিরত থাকতে। কারণ এর প্রকৃত হকদার হলেন আল্লাহ তাআলা, তিনি সমস্ত বান্দা ও দাসদের প্রতিপালক»
(৪)।
কেউ কেউ ইবাদত শব্দটিকে আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, কিন্তু দাসত্ব ও অন্যান্য শব্দগুলো আল্লাহ ও সৃষ্টি উভয়ের জন্যই ব্যবহার করেছেন।
আল-আযহারি বলেছেন: «'দাস ইবাদত করছে' কথাটি কেবল আল্লাহর ইবাদতকারীর ক্ষেত্রেই বলা হয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্যের ইবাদত করে, সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরও বলেন: আর যে দাস সেবা করে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
مَولاه، فلا يُقال: عَبَدَه
… قال الليث: ويُقال للمشركين: هم عَبَدَة الطاغوت.
ويقال للمسلمين: عباد الله، يَعبدون الله
… ، والعابد: المُوحِّد»
(1).
وعلى هذا، فتعريف العبادة في لغة العرب: هو أن العبادة هي الذلُّ والخضوع المُستلزِم طاعة المَعبود أمرًا ونهيًا، ولذا سُمِّي الرقيق «عبدًا»؛ لأنَّه يَذِلُّ ويخضع لسيده أمرًا ونهيًا فيما يَختص بشئون الحياة.
فمدار كلمة (العبادة) - في اللغة- على التذلل والخضوع والاستكانة، وهي معان متقاربة، لكن هذه اللفظة لما استعملت في الشَّرع أُضيف إليها مع الخضوع كمال المحبة، فانتقلت إلى المعنى الشرعي بإضافة المحبة مع الخضوع. ولذلك لما عرَّفها ابنُ كثير رحمه الله قال: «العبادة في اللغة: مِنْ الذِّلَّة، يُقال: طريق مُعَبَّد، وبَعير مُعَبَّد، أي: مُذَلَّل. وفي الشرع: عِبارة عمَّا يَجمع كمال المحبة والخُضوع والخَوف»
(2)، فعند تعريفها في الشرع زاد فيها معنى آخر، وهو المحبة.
المسألة الثانية: استعمالات كلمة (عبد) في الشرع.استُعملت كلمة (عبد) في الشرع على عِدَّة أقسام:
القسم الأول: عبودية الرِّقِّ، كما جاء في قوله: {ضَرَبَ اللهُ مَثَلًا عَبْدًا مَمْلُوكًا لَا يَقْدِرُ عَلَى شَيْءٍ} [النحل: 75]، فالمراد بالعبد هنا: العَبد الرَّقيق المملوك؛ فتُطلق العبودية ويُراد بها عبودية الرِّقِّ.
القسم الثاني: العبودية العامَّة؛ حيث تُطلق العبودية ويُراد بها العبودية العامَّة؛ أي: عبودية الربوبية، كما في قوله: {إن كل من
--------------------------------------------
তার মুনিব বা অভিভাবক, তাই বলা হয় না: সে তাকে ইবাদত করেছে
… লাইস বলেন: আর মুশরিকদের সম্পর্কে বলা হয়: তারা তাগুতের পূজারি।
আর মুসলিমদের সম্পর্কে বলা হয়: আল্লাহর বান্দা, তারা আল্লাহর ইবাদত করে
… , আর ইবাদতকারী হলেন একেশ্বরবাদী»
(১)।
এই ভিত্তিতে, আরবি ভাষায় ইবাদতের সংজ্ঞা হলো: ইবাদত হলো এমন হীনতা ও বশ্যতা যা আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে মা'বুদ বা উপাস্যের আনুগত্যকে আবশ্যক করে। এই কারণেই দাসকে ‘আবদ’ বলা হয়; কারণ সে জীবনের বিষয়াদির ক্ষেত্রে আদেশ ও নিষেধ পালনে তার মুনিবের সামনে হীনতা ও বশ্যতা স্বীকার করে।
সুতরাং আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ‘ইবাদত’ শব্দের মূল ভিত্তি হলো বিনয়, বশ্যতা ও হীনতা, যা সমার্থবোধক শব্দ। কিন্তু এই শব্দটি যখন শরিয়তে ব্যবহৃত হলো, তখন বশ্যতার সাথে পূর্ণ ভালোবাসা যুক্ত করা হলো; ফলে ভালোবাসার সাথে বশ্যতা যোগ করার মাধ্যমে এটি শরয়ী অর্থে রূপান্তরিত হলো। এই কারণেই ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) যখন এর সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, তিনি বলেছেন: «অভিধানে ইবাদত শব্দটি ‘যিল্লাত’ (হীনতা) থেকে এসেছে। বলা হয়: ‘সুগম পথ’ এবং ‘পোষ মানা উট’, অর্থাৎ অনুগত করা হয়েছে এমন। আর শরিয়তে এটি এমন একটি পরিভাষা যা পূর্ণ ভালোবাসা, বশ্যতা ও ভয়কে একত্রিত করে»
(২)। সুতরাং শরয়ী সংজ্ঞায় এর সাথে অন্য একটি অর্থ বৃদ্ধি পেয়েছে, আর তা হলো ভালোবাসা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শরিয়তে ‘আবদ’ (দাস/বান্দা) শব্দের ব্যবহারসমূহ।শরিয়তে ‘আবদ’ শব্দটি কয়েকটি প্রকারে ব্যবহৃত হয়েছে:
প্রথম প্রকার: মালিকানাধীন দাসত্ব, যেমনটি আল্লাহর এই বাণীতে এসেছে: {আল্লাহ এক মালিকানাধীন দাসের উদাহরণ পেশ করছেন যে কোনো কিছুর ওপর ক্ষমতা রাখে না} [আন-নাহল: ৭৫]। এখানে ‘আবদ’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: মালিকানাধীন ক্রীতদাস; সুতরাং এখানে ‘উবুদিয়্যাহ’ বা দাসত্ব শব্দটি দ্বারা ক্রীতদাসত্ব বুঝানো হয়েছে।
দ্বিতীয় প্রকার: সাধারণ দাসত্ব; যেখানে দাসত্ব বলতে সাধারণ দাসত্ব বুঝানো হয়; অর্থাৎ রুবুবিয়্যাহ বা সৃষ্টিগত দাসত্ব, যেমনটি আল্লাহর বাণীতে এসেছে: {আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে এমন কেউ নেই যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
في السموات والأرض إلا آتي الرحمن عبدًا} [مريم: 93]، فالعبد هنا: عَبد القَهر والمُلك لله سبحانه وتعالى، وكلُّنا عبيدٌ لله عز وجل.
وعند جمع كلمة (عبد) يَظهر الفرق بين عبودية الربوبية لله عز وجل، وكذلك عبودية الرق، فتقول في جمعها: عَبيد، وأمَّا في عبودية الألوهية فتقول: عِباد، ولذلك قال تعالى: {وعباد الرحمن الذين يمشون على الأرض هونًا} [الفرقان: 63].
القسم الثالث: العبودية الخاصة، أي: عبودية التَّأَلُّه، كما في قوله تعالى: {واذكر عبدنا داود ذا الأيدي} [ص: 17]، {واذكر عبدنا أيوب} [ص: 41]، {سبحان الذي أسرى بعبده} [الإسراء: 1]، فهذه العبودية الخاصة.
القسم الرابع: عبودية الأشياء؛ كعبد الدنيا وشهواتها، وهو المذكور في قوله صلى الله عليه وسلم: «تَعِس عبدُ الدِّينار والدِّرهم، والقَطيفة، والخَمِيصة؛ إن أُعطي رَضِي، وإن لم يُعط لم يَرْضَ»
(1)، فهذا فِيمَن استعبدته الدنيا وملذَّاتها فأصبح لها عبدًا.
لذا يلزم التفريق في استعمالات هذه الكلمة، حتى يتضح المراد بها.
وهذه المعاني مما يجدر مَعرفتها والعناية بها؛ لأنها سترد خلال سياق هذه الرِّسالة المباركة.
المسألة الثالثة: تعريف العبادة شرعًا:مع اختلاف عبارات العلماء- رحمهم الله في تعريف العِبادة شرعًا إلا أنَّ الجميع يدور حول معنى واحد، والفرق بين تعريفاتهم
--------------------------------------------
{আসমানসমূহ ও জমিনে এমন কেউ নেই যে দয়াময় আল্লাহর কাছে বান্দা হিসেবে উপস্থিত হবে না} [মরিয়ম: ৯৩], এখানে 'বান্দা' বলতে উদ্দেশ্য হলো: মহান আল্লাহর দমন ও মালিকানাধীন বান্দা, আর আমরা সবাই মহান আল্লাহর দাস।
যখন 'আবদ' (বান্দা) শব্দটি বহুবচন করা হয়, তখন মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব) সংক্রান্ত দাসত্ব এবং সাধারণ গোলামির দাসত্বের মধ্যে পার্থক্য প্রকাশ পায়। সেক্ষেত্রে সাধারণ দাসত্বের বহুবচনে বলা হয়: 'আবীদ' (দাসকুল), আর উলুহিয়্যাত (উপাসনা) সংক্রান্ত দাসত্বের ক্ষেত্রে বলা হয়: 'ইবাদ' (বান্দাগণ)। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর দয়াময় আল্লাহর বান্দা তারাই, যারা জমিনে নম্রভাবে চলাফেরা করে} [ফুরকান: ৬৩]।
তৃতীয় প্রকার: বিশেষ দাসত্ব, অর্থাৎ ইবাদত ও উপাসনার দাসত্ব। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {স্মরণ করো আমাদের শক্তিশালী বান্দা দাউদকে} [সোয়াদ: ১৭], {স্মরণ করো আমাদের বান্দা আইয়ুবকে} [সোয়াদ: ৪১], {পবিত্র সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন} [ইসরা: ১]। এটিই হলো বিশেষ দাসত্ব।
চতুর্থ প্রকার: বস্তুসামগ্রীর দাসত্ব; যেমন দুনিয়া ও তার প্রবৃত্তির দাসত্ব। এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীতে উল্লেখ করা হয়েছে: "দিনার ও দিরহামের দাস এবং মখমল ও নকশা করা কালো চাদরের দাস ধ্বংস হোক; যদি তাকে প্রদান করা হয় তবে সে সন্তুষ্ট হয়, আর যদি না দেওয়া হয় তবে সে অসন্তুষ্ট হয়।"
(১) এটি ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাকে দুনিয়া ও তার ভোগবিলাস দাসে পরিণত করেছে এবং সে সেগুলোর গোলাম হয়ে গেছে।
তাই এই শব্দটির ব্যবহারের ক্ষেত্রে পার্থক্য করা আবশ্যক, যাতে এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট হয়।
আর এই অর্থগুলো জেনে রাখা এবং এগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করা জরুরি; কারণ এই বরকতময় পুস্তিকার আলোচনার প্রসঙ্গের মধ্যেই এগুলো আসবে।
তৃতীয় মাসআলা: শরিয়তের পরিভাষায় ইবাদতের সংজ্ঞা:শরয়ি পরিভাষায় ইবাদতের সংজ্ঞায় আলেমদের—আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন—উক্তিগুলো ভিন্ন ভিন্ন হলেও সবগুলোর মূলকথা একটি অর্থকেই কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। আর তাঁদের সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
إنما يقع في الشمول، وسنعرض بعضًا منها:
1 - قال الإمام القرطبيُّ رحمه الله: «العبادة: عبارة عن توحيده والتزام شرائع دينه، وأصل العبادة: الخضوع والتَّذَلُّل»
(1).
2 - وقال الإمام ابن كثير رحمه الله: «العبادة في الشرع: عِبارة عمَّا يَجمع كمال المحبة والخُضوع والخَوف»
(2)؛ وعليه فَمن اتصف بذلك فإنه يُطلق عليه أنَّه عابد لله عز وجل.
3 - وقال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله هنا: «العبادة: هي اسم جامعٌ لكلِّ ما يُحبه الله ويرضاه من الأقوال والأعمال الباطنة والظاهرة».
وعلى هذا يتضح أنَّ للعبادة تعريفين.
أحدهما: باعتبار العابد، وهو كمال الذُّلِّ مع كمال الحب لله عز وجل.
والآخر: باعتبار المُتَعَبَّد به، وهو ما يُحِبُّه الله ويرضاه من الأقوال والأعمال الباطنة والظاهرة؛ لكونه عز وجل شَرَعَه وعُمِل وَفْقَ مُراده.
وقول المصنف: «ومن ذلك: الصلاة، والزكاة والصيام والحج، وصدق الحديث وأداء الأمانة وبر الوالدين وصلة الأرحام والوفاء بالعهود والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والجهاد للكفار والمنافقين والإحسان للجار واليتيم والمسكين وابن السبيل والمملوك من الآدميين والبهائم، والدعاء، والذكر والقراءة، وأمثال ذلك
--------------------------------------------
মূলত এগুলো অন্তর্ভুক্তির মধ্যে পড়ে, এবং আমরা তার কিছু উপস্থাপন করব:
১ - ইমাম কুরতুবী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: «ইবাদত হলো: তাঁর তাওহীদ এবং তাঁর দ্বীনের শরীয়তসমূহকে আঁকড়ে ধরা; আর ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো: আনুগত্য ও বিনম্রতা»
(১)।
২ - ইমাম ইবনে কাসীর রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: «শরীয়তের পরিভাষায় ইবাদত: এমন একটি বিষয় যা পূর্ণ ভালোবাসা, বিনয় এবং ভয়কে একত্রিত করে»
(২); আর এর ওপর ভিত্তি করে, যে ব্যক্তি এই গুণাবলীতে গুণান্বিত হবে, তাকে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র ইবাদতকারী বা আবিদ হিসেবে অভিহিত করা হবে।
৩ - শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ এখানে বলেছেন: «ইবাদত: এটি এমন একটি সামগ্রিক নাম যা আল্লাহ ভালোবাসেন এবং পছন্দ করেন এমন সকল প্রকাশ্য ও গোপন কথা ও কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে»।
এর ওপর ভিত্তি করে এটি স্পষ্ট হয় যে, ইবাদতের দুটি সংজ্ঞা রয়েছে।
একটি: ইবাদতকারীর বিবেচনায়; আর তা হলো আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র প্রতি পূর্ণ ভালোবাসার সাথে পূর্ণ বিনয়।
অন্যটি: যে বিষয়ের মাধ্যমে ইবাদত করা হয় তার বিবেচনায়; আর তা হলো আল্লাহ যা ভালোবাসেন এবং পছন্দ করেন এমন সকল প্রকাশ্য ও গোপন কথা ও কাজ; কারণ আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তা বিধিবদ্ধ করেছেন এবং তাঁর উদ্দেশ্য অনুযায়ী তা পালন করা হয়।
আর গ্রন্থকারের কথা: «আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো: সালাত, জাকাত, সিয়াম ও হজ, সত্য কথা বলা, আমানত রক্ষা করা, পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা, কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা, প্রতিবেশী, এতিম, মিসকিন, মুসাফির এবং মানুষ ও পশুর মধ্য হতে নিজের মালিকানাধীনদের প্রতি ইহসান করা, এবং দোয়া, জিকির ও তিলাওয়াত, এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
من العبادة، وكذلك حبُّ الله ورسوله، وخشية الله والإنابة إليه، وإخلاص الدين له والصبر لحكمه، والشكر لنعمه، والرضا بقضائه، والتوكُّل عليه والرجاء لرحمته، والخوف من عذابه، وأمثال ذلك هي من العبادة لله».
المسألة الرابعة: شرح تعريف المصنف للعبادة شرعًا:عَرَّف المصنفُ العبادةَ فقال: «هي اسمٌ جامعٌ لكلِّ ما يُحبه الله ويرضاه».
فالعبادة اسم جنس؛ لذلك قال: (اسمٌ جامع).
وقوله: (لما يحبه الله ويرضاه): قيد للعبادة، وهو أن تكون ما يحبه الله ويرضاه، وهو كل ما أمر به؛ إمَّا أمر وجوب أو أمر استحباب، إذ الأوامر إمَّا فعلية وإمَّا تركية.
وهنا يجدر التنبيه إلى أمورٍ؛ وهي:
الأمر الأول: أنَّ جمهور الأُصوليين قَسَّموا الأحكام الشرعية التكليفية إلى خمسة، وهي:
1 الواجب وهو: ما يُثاب فاعله، ويُعاقب تاركه.
2 المستحب وهو: ما يثاب فاعله، ولا يعاقب تاركه.
3 المحرم وهو: ما يثاب تاركه ويعاقب فاعله.
4 المكروه وهو: ما يثاب تاركه ولا يعقب فاعله.
5 - المباح وهو: كل أمر لا يتعلق به شيء، إلا إذا تحولت هذه المباحات إلى طاعات بالنية الصَّالحة.
وقد زاد عليها إمامُ الحرمين الجويني (الصَّحيح والباطل).
وقد عرَّف الصَّحيح بقوله: ما يتعلق به النفوذ ويُعتد به.
ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত, আর তেমনিভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা, আল্লাহর ভয় এবং তাঁর অভিমুখী হওয়া, আল্লাহর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করা, তাঁর ফয়সালার প্রতি ধৈর্য ধারণ করা, তাঁর নিআমতসমূহের প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করা, তাঁর তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা, তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করা, তাঁর রহমতের আশা রাখা, তাঁর আযাবের ভয় করা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো আল্লাহর ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।
চতুর্থ মাসআলা: ইবাদত সম্পর্কে লেখকের শরয়ী সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:লেখক ইবাদতের সংজ্ঞা দিয়ে বলেছেন: «এটি একটি সামষ্টিক নাম এমন প্রত্যেক বিষয়ের জন্য যা আল্লাহ ভালোবাসেন এবং পছন্দ করেন।»
সুতরাং ইবাদত হলো একটি জাতিবাচক নাম; এই কারণেই তিনি বলেছেন: (সামষ্টিক নাম)।
আর তাঁর উক্তি: (যা আল্লাহ ভালোবাসেন এবং পছন্দ করেন): এটি ইবাদতের জন্য একটি শর্ত, আর তা হলো এটি এমন হতে হবে যা আল্লাহ ভালোবাসেন ও পছন্দ করেন, আর তা হলো সেই সব বিষয় যার তিনি আদেশ দিয়েছেন; চাই তা আবশ্যিক আদেশ হোক বা পছন্দনীয় আদেশ হোক, কারণ নির্দেশনাবলী হয় কোনো কাজ করার অথবা কোনো কাজ বর্জন করার।
এখানে কয়েকটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত; আর সেগুলো হলো:
প্রথম বিষয়: জমহুর উসূলে ফিকহবিদগণ শরয়ী বিধানসমূহকে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করেছেন, সেগুলো হলো:
১. ওয়াজিব: যার সম্পাদনকারী সওয়াব পায় এবং বর্জনকারী শাস্তি পায়।
২. মুস্তাহাব: যার সম্পাদনকারী সওয়াব পায় এবং বর্জনকারী শাস্তি পায় না।
৩. হারাম: যার বর্জনকারী সওয়াব পায় এবং সম্পাদনকারী শাস্তি পায়।
৪. মাকরূহ: যার বর্জনকারী সওয়াব পায় এবং সম্পাদনকারী শাস্তি পায় না।
৫ - মুবাহ: এটি হলো এমন প্রতিটি বিষয় যার সাথে কোনো কিছু সংশ্লিষ্ট নয়, তবে এই মুবাহ কাজগুলো যদি সৎ নিয়তের মাধ্যমে আনুগত্যের কাজে রূপান্তরিত হয় তবে ভিন্ন কথা।
ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনী এর সাথে আরও (সঠিক ও বাতিল) বৃদ্ধি করেছেন।
তিনি সঠিক-এর সংজ্ঞা দিয়ে বলেছেন: যার সাথে কার্যকর হওয়া সম্পৃক্ত এবং যা শরীয়তে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وأمَّا الباطل عنده فهو ما لا يتعلق به النفوذ ولا يعتد به
(1).
غير أنه في «البرهان» تَابَعَ جمهور الأُصوليين في أنَّ الأحكام الشرعية التكليفية خمسة
(2)، وكثير من الأصوليين يجعلون الصِّحَّة والبُطلان من أقسام الحُكم الوضعي
(3).
ورأي الجمهور هو الغالب في هذا التقسيم؛ يقول مجد الدين ابن تيمية في «المسودة»: «اتَّفق الفقهاء والمتكلمون على أنَّ أحكام الشرع تنقسم إلى: واجب، ومندوب، ومحرم، ومكروه، ومباح»
(4).
فهذه الأحكام التكليفية الخمسة تنطبق على الأمور الفِعلية والأمور التَّركية.
الأمر الثاني: أن الأعمال تنقسم إلى:
1 أعمال القلب.
2 أعمال اللسان.
3 أعمال الجوارح.
وأعمال القلب منها ما هو واجب؛ مثل: الإخلاص. ومنها ما هو محرم؛ مثل: الكِبر والحَسد. ومنها ما هو مُستحب. ومنها ما هو مَكروه. ومنها ما هو مباح.
وهكذا بالنسبة للسان. وكذلك بالنسبة للجوارح.
--------------------------------------------
আর তাঁর নিকট বাতিল হলো যা কার্যকর হওয়ার সাথে সম্পৃক্ত নয় এবং যা ধর্তব্য নয়
(১)।
তবে তিনি ‘আল-বুরহান’ গ্রন্থে অধিকাংশ উসুলবিদের অনুসরণ করেছেন এই বিষয়ে যে, শরয়ি বিধান (আহকাম তাকলিফিয়্যাহ) পাঁচটি
(২), আর অনেক উসুলবিদ বিশুদ্ধতা (সিহহাত) এবং বাতিল হওয়াকে হুকমে ওয়াদয়ি-র অন্তর্ভুক্ত করেছেন
(৩)।
এই বিভাজনে জমহুর বা সংখ্যাধিক্যের অভিমতটিই প্রবল; মাজদুদ্দিন ইবনে তাইমিয়্যাহ ‘আল-মুসাওয়াদ্দাহ’ গ্রন্থে বলেন: “ফকিহ এবং কালামশাস্ত্রবিদগণ এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, শরয়ি বিধানসমূহ: ওয়াজিব, মানদুব, হারাম, মাকরুহ এবং মুবাহ—এই ভাগে বিভক্ত”
(৪)।
সুতরাং এই পাঁচটি তাকলিফি বিধান করণীয় এবং বর্জনীয়—উভয় বিষয়ের ওপরই প্রযোজ্য হয়।
দ্বিতীয় বিষয়: আমল বা কর্মসমূহ বিভক্ত হয়:
১. অন্তরের আমল।
২. জিহ্বার আমল।
৩. অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল।
আর অন্তরের আমলের মধ্যে কিছু রয়েছে যা ওয়াজিব; যেমন: ইখলাস (নিষ্ঠা)। কিছু রয়েছে যা হারাম; যেমন: অহংকার ও হিংসা। কিছু মুস্তাহাব, কিছু মাকরুহ এবং কিছু মুবাহ।
জিহ্বার ক্ষেত্রেও অনুরূপ, এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষেত্রেও তদ্রূপ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فالعبودية شاملة لجميع البدن؛ ظاهره وباطنه، وكل جارحة من البدن مطالبة بعبودية الله عز وجل.
الأمر الثالث: حقيقة العبادة: هي كمال الذُّلِّ مع كمال المحبة لله عز وجل، ونهاية الخضوع والانقياد والاستسلام والتواضع والخوف والخشية والإنابة والرجاء والإذعان لله وحده لا شريكَ له في شيءٍ من ذلك البتة، إذ هو المستحقُّ للعبادة وحده دون ما سواه.
قال شيخُ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: «والعبادة تجمع كمال المحبة وكمال الذُّلِّ؛ فالعابد محبٌّ خاضع، بخلاف مَنْ يحب مَنْ لا يخضع له، بل يحبه ليتوسل به إلى محبوب آخر، وبخلاف مَنْ يخضع لمن لا يحبه كما يخضع للظالم؛ فإنَّ كلًّا مِنْ هذين ليس عبادة محضة»
(1).
وقال ابن القيم رحمه الله: «والعبودية مَدَارها على قاعدتين هما أصلها: حُبٌّ كاملٌ وذُلٌّ تامٌّ، ومنشأ هذين الأصلين
… هما مُشاهدة المِنَّة التي تُورث المحبة ومطالعة عيب النَّفس والعمل التي تورث الذل التَّام، وإذا كان العبد قد بَنى سلوكه إلى الله تعالى على هذين الأصلين لم يَظفر عدوه به إلا على غِرَّة وغِيلة، وما أسرع ما يُنعشه الله عز وجل ويجبره ويتداركه برحمته»
(2).
الأمر الرابع: مفهوم العبادة في الإسلام:
من خلال تعريف شيخ الإسلام للعبادة يظهر أن مفهوم العبادة أعم وأشمل من أن تَنحصر في عبادات ظاهرية فقط، وإن كانت جليلة عظيمة، بل مفهوم العبادة شامل لجميع الأقوال والأفعال التي يقوم بها العبد انطلاقًا من محبته ورجائه وخوفه من الله، وبشرط ان
--------------------------------------------
সুতরাং দাসত্ব সমগ্র দেহের জন্য ব্যাপক; তার প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য অংশ, এবং শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মহান আল্লাহর দাসত্ব করতে আদিষ্ট।
তৃতীয় বিষয়: ইবাদতের প্রকৃত স্বরূপ: এটি হলো মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভালোবাসার সাথে পূর্ণ হীনতা প্রকাশ করা, এবং একমাত্র আল্লাহর জন্য চূড়ান্ত বিনয়, আনুগত্য, আত্মসমর্পণ, নম্রতা, ভয়, ভীতি, প্রত্যাবর্তন, আশা ও বশ্যতা স্বীকার করা, যার কোনো অংশেই তাঁর কোনো শরিক নেই; কারণ তিনি ব্যতীত আর কেউ ইবাদতের যোগ্য নয়।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: «ইবাদত পূর্ণ ভালোবাসা ও পূর্ণ হীনতাকে একত্রিত করে; সুতরাং ইবাদতকারী হলো প্রেমময় ও বিনয়ী। এটি সেই ব্যক্তির বিপরীত যে এমন কাউকে ভালোবাসে যার সামনে সে বিনয় প্রকাশ করে না, বরং তাকে ভালোবাসে অন্য কোনো প্রিয় বস্তুর মাধ্যম হিসেবে। আবার এটি সেই ব্যক্তিরও বিপরীত যে এমন কারো সামনে বিনয় প্রকাশ করে যাকে সে ভালোবাসে না, যেমনটি জালেমের সামনে বিনয় প্রকাশ করা হয়; নিশ্চয়ই এই দুটির কোনোটিই বিশুদ্ধ ইবাদত নয়»
(১)।
ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: «দাসত্বের আবর্তন দুটি মূলনীতির ওপর যা এর মূল ভিত্তি: পূর্ণ ভালোবাসা এবং পূর্ণ হীনতা। আর এই দুটি মূলনীতির উৎস হলো … অনুগ্রহের পর্যবেক্ষণ যা ভালোবাসার জন্ম দেয় এবং নিজের নফস ও আমলের ত্রুটিসমূহ দেখা যা পূর্ণ হীনতার জন্ম দেয়। যখন কোনো বান্দা মহান আল্লাহর দিকে তার পথচলাকে এই দুটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলে, তখন তার শত্রু কেবল অসতর্ক অবস্থায় এবং গোপনে আক্রমণ করা ছাড়া তাকে পরাস্ত করতে পারে না। আর আল্লাহ কত দ্রুতই না তাকে পুনরুজ্জীবিত করেন, তার ক্ষতি পূরণ করে দেন এবং তাঁর রহমত দ্বারা তাকে উদ্ধার করেন»
(২)।
চতুর্থ বিষয়: ইসলামে ইবাদতের ধারণা:
শাইখুল ইসলামের ইবাদতের সংজ্ঞার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, ইবাদতের ধারণা শুধুমাত্র প্রকাশ্য ইবাদতসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার চেয়ে অনেক বেশি ব্যাপক ও বিস্তৃত, যদিও সেগুলো অনেক মহান ও মর্যাদাপূর্ণ। বরং ইবাদতের ধারণা সেই সমস্ত কথা ও কাজের জন্য ব্যাপক যা বান্দা আল্লাহর প্রতি তার ভালোবাসা, আশা ও ভয়ের ভিত্তিতে সম্পাদন করে, এবং শর্ত হলো যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
تكون وفق مراد الله، كما قال- جل وعلا- آمرًا نبيَّه صلى الله عليه وسلم أن يُقَرِّر هذا للناس، فقال: {قُلْ إِنَّ صَلَاتِي ونُسُكِي ومَحْيَاي: ومَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ العَالَمِينَ * لَا شَرِيكَ لَهُ وبِذَلِكَ أُمِرْتُ وأَنَا أَولُ المُسْلِمِينَ} [الأنعام: 162، 163].
بل إنَّ الإسلام قد أسبغ على جميع أعمال الإنسان صفة العبادة إذا قصد بهذه الأعمال وجه الله ومرضاته، وقام بها على الوجه المشروع الموافق للسنة، وكانت في سبيل تحقيق أهدافها المقصودة المشروعة؛ فالمزارع والصانع والتاجر وغيرهم من أصحاب الأعمال تُعتَبر أعمالهم عبادة إذا قَصَدَ بها كلٌّ منهم نفعَ عباد الله والاستغناء عن الحاجة إلى الناس وإعالة العيال؛ تحقيقًا لأمر الله سبحانه وتعالى
(1).
وعلى هذا فكلُّ ما أُمر به شرعًا؛ سواءً كان من الشعائر أو من سائر أحوال الناس وعاداتهم إذا ابتغى به فاعلُه الأجر من الله عز وجل فهو عبادة؛ سواء رتَّب الشارع عليه جزاءً مُحدَّدًا أو أتى الأمر به مُطلقًا دون تحديد جزاء، وهذا مِنْ فضل الله ورحمته بعباده؛ فمثال ما رُتِّب على فِعله جزاء ويحصل للمسلم هذا الجزاء إذا كان إنَّما فعله لله: ما روى أبو هريرة ? قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كُلُّ سُلَامَى من الناس عليه صدقة، كل يوم تطلع فيه الشمس تعدل بين اثنين صدقة، وتعين الرجل في دابته فتحمله عليها أو ترفع له عليها متاعه صدقة، والكلمة الطيبة صدقة، وبكل خطوة تَمشيها إلى الصلاة صدقة، وتميط الأذى عن الطريق صدقة»
(2).
فاشتمل الحديثُ على بعض الآداب، وجعل الشَّارع القيام بها عبادة يُثاب عليها المسلم إذا نَوى أنه إنما قام بها من أجل الله عز وجل.
--------------------------------------------
এটি আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী হবে, যেমনটি তিনি—প্রতাপান্বিত ও সুমহান—তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মানুষের সামনে এটি ঘোষণা করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {বলুন: ‘নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই প্রথম মুসলিম’} [আল-আনআম: ১৬২, ১৬৩]।
বরং ইসলাম মানুষের সকল কাজকেই ইবাদতের মর্যাদা দান করেছে যদি সে এই কাজগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর সন্তোষ কামনা করে এবং সুন্নাহর অনুসারী শরয়ী পদ্ধতিতে তা সম্পাদন করে, আর তা যদি তার উদ্দেশ্যমূলক শরয়ী লক্ষ্য অর্জনের পথে হয়; সুতরাং কৃষক, কারিগর, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য পেশাজীবীদের কাজও ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে যদি তাদের প্রত্যেকে এর মাধ্যমে আল্লাহর বান্দাদের উপকার করা, মানুষের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে বেঁচে থাকা এবং পরিবারের ভরণপোষণের নিয়ত করে; যা মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে হয়ে থাকে
(১)।
সেই হিসেবে শরিয়তে যা কিছুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; তা ধর্মীয় বিধিবিধান হোক বা মানুষের অন্যান্য অবস্থা ও অভ্যাস হোক, যদি এর সম্পাদনকারী এর মাধ্যমে পরাক্রমশালী ও মহান আল্লাহর কাছে প্রতিদান আশা করে, তবে তা ইবাদত; চাই শারী (বিধানদাতা) এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রতিদান নির্ধারণ করে থাকুক বা কোনো প্রতিদান নির্দিষ্ট না করে সাধারণভাবে এর নির্দেশ দিয়ে থাকুক। আর এটি বান্দাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও করুণা; এমন কাজের উদাহরণ যার ওপর প্রতিদান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং একজন মুসলিম সেই প্রতিদান লাভ করে যদি সে তা আল্লাহর জন্যই করে থাকে: যা আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মানুষের শরীরের প্রতিটি জোড়ের জন্য সদাকা দেওয়া আবশ্যক; প্রতিদিন যাতে সূর্য উদিত হয়, যদি দু’জনের মধ্যে ইনসাফ করো তবে তা সদাকা, যদি তুমি কোনো ব্যক্তিকে তার সওয়ারিতে আরোহণ করতে সাহায্য করো অথবা তার আসবাবপত্র তার ওপর তুলে দাও তবে তা সদাকা, উত্তম কথা সদাকা, সালাতের জন্য তোমার প্রতিটি পদক্ষেপ সদাকা এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া সদাকা»
(২)।
ফলে হাদিসটি কিছু আদব বা শিষ্টাচারকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং শারী এগুলো পালন করাকে ইবাদত হিসেবে গণ্য করেছেন যার ওপর মুসলিম ব্যক্তি সওয়াব পাবে, যদি সে এই নিয়ত করে যে সে তা কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
كما أن التحلِّي بالأخلاق يُعتبر عبادةً أيضًا؛ فعن أبي ذر ? قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تَحقرنَّ من المعروف شيئًا ولو أن تلقى أخاك بوجهٍ طلق»
(1).
ومثل ما أُمر به شرعًا ولم يُحدَّد على فعله جزاءً معينًا، ويعتبر القيام به عبادة إذا نُوي بها القربة لله ويؤجر عليها، إجابة دعوة المسلم، قال عليه الصلاة والسلام: «إذا دُعي أحدكم فَلْيُجِب، فإن كان صائمًا فَلْيُصَلِّ، وإن كان مُفطرًا فَلْيَطْعَم»
(2).
فمن كانت نيته في إجابة الدعوة امتثال أمر الرسول صلى الله عليه وسلم وإدخال السُّرور على أخيه المسلم كان فِعله عبادة، أمَّا مَنْ لم تكن له نية في إجابتها فلا يكون قد قام بعبادة.
وهذا ينطبق على كلِّ أمرٍ من شئون الحياة؛ من مأكلٍ ومشربٍ ومَنكحٍ، ونومٍ ويقظةٍ، وسَفرٍ وإقامة، وهكذا؛ فمَن نوى بكلِّ هذه وأمثالها وجه الله فهي عبادةٌ مأجورٌ عليها؛ فتتحول هذه العادات والملذات المباحات إلى طاعات وقربات؛ لذا قال صلى الله عليه وسلم: «وفي بُضع أحدكم صدقة». قالوا: يا رسول الله، أيأتي أحدُنا شهوته ويكون له فيها أجر؟ قال: «أرأيتم لو وضعها في حرام أكان عليه فيها وزر؟ فكذلك إذا وضعها في الحلال كان له أجر»
(3).
فباستغناء العبد واستعفافه بالحلال عن الحرام كان له في فعل الحلال المباح أجر؛ ترغيبًا في الحلال، وتنفيرًا من الحرام؛ فلا رهبانية في الإسلام وكذلك لا تفريط بفعل المحرم، وهذه هي
--------------------------------------------
তেমনিভাবে সচ্চরিত্রতা অবলম্বন করাকেও ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়; আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তুমি কোনো ভালো কাজকেই তুচ্ছ জ্ঞান করো না, এমনকি তোমার ভাইয়ের সাথে হাস্যোজ্জ্বল মুখে সাক্ষাৎ করাকেও»
(১).
আর শরিয়ত কর্তৃক নির্দেশিত এমন সব কাজের মতো যার জন্য কোনো নির্দিষ্ট প্রতিদান নির্ধারণ করা হয়নি, এবং যা সম্পাদন করা ইবাদত হিসেবে গণ্য হয় যদি এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়ত করা হয় এবং তার ওপর সওয়াব পাওয়া যায়, যেমন কোনো মুসলমানের দাওয়াত গ্রহণ করা। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: «তোমাদের কাউকে যখন দাওয়াত দেওয়া হয়, সে যেন তাতে সাড়া দেয়। যদি সে রোজা রাখা অবস্থায় থাকে, তবে সে যেন (দাওয়াতদাতার জন্য) দোয়া করে, আর যদি রোজা না থাকে, তবে যেন আহার করে»
(২).
সুতরাং যার দাওয়াত গ্রহণের নিয়ত হবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশ পালন করা এবং তার মুসলিম ভাইয়ের মনে আনন্দ দেওয়া, তার এই কাজটি ইবাদত হবে। পক্ষান্তরে, যার দাওয়াত গ্রহণের পেছনে এমন কোনো নিয়ত নেই, সে ইবাদত সম্পাদন করেছে বলে গণ্য হবে না।
আর এটি জীবনের প্রতিটি বিষয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য; যেমন আহার, পানীয়, বিবাহ, ঘুম ও জাগরণ, ভ্রমণ ও অবস্থান এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ। সুতরাং যে ব্যক্তি এই সব কিছু এবং এ জাতীয় কাজের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত করে, তবে তা ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে যার জন্য সে সওয়াব পাবে। ফলে এই অভ্যাস এবং বৈধ আনন্দগুলো আনুগত্য ও নৈকট্য লাভের উপায়ে পরিণত হয়। একারণেই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের প্রত্যেকের যৌন মিলনেও সদকা রয়েছে»। তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ কি তার কামনা পূরণ করবে এবং তাতেও কি তার জন্য সওয়াব থাকবে? তিনি বললেন: «তোমরা কি দেখেছ যে, যদি সে তা হারামে লিপ্ত করত, তবে কি তার ওপর গুনাহ হতো না? তেমনিভাবে যখন সে তা হালাল উপায়ে সম্পন্ন করে, তখন তার জন্য সওয়াব রয়েছে»
(৩).
সুতরাং বান্দার হারামের পরিবর্তে হালালের মাধ্যমে অমুখাপেক্ষিতা ও পবিত্রতা অর্জনের কারণে, সেই বৈধ হালাল কাজটি করার জন্য সে সওয়াব লাভ করে; যা হালালের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং হারামের প্রতি অনীহা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে। তাই ইসলামে কোনো বৈরাগ্যবাদ নেই এবং একইভাবে হারামে লিপ্ত হওয়ার মতো কোনো শিথিলতাও নেই। আর এটিই হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وسطية الإسلام؛ فلم يمنع النفس البشرية من غريزتها ولم يترك لها الحبل على الغارب، وإنما أعطاها ما تشتهي في سياج من الطهر والنقاء والعفاف والميثاق الغليظ.
فالعمل المباح يَنقلب إلى طاعة وقُربة إذا صاحبه نِيَّة طيبة؛ لذا قال معاذ بن جبل ? لأبي موسى الأشعري: كيف تقرأ القرآن؟ قال: قائمًا وقاعدًا وعلى راحلتي، وأتفوقه تفوقًا
(1). قال أبو موسى: فكيف تقرأ أنت يا معاذ؟ قال: أنام أول الليل؛ فأقومُ وقد قضيت جزئي من النَّوم، فأقرأ ما كَتَب الله لي؛ فأَحتسب نَومتي كما أحتسبُ قَوْمَتِي»
(2)؛ «فكأنَّ معاذَ بن جبل فَضَلَ عليه»
(3).
فكان ? يَحتسب الأجر في النوم كما يحتسبه في قيام الليل؛ لأنَّه أراد بالنَّوم التَّقَوِّي على العبادة والإعانة على الطَّاعة.
قال الحافظُ ابنُ حَجَر: «ومعناه: أنَّه يَطلب الثواب في الرَّاحة كما يَطلبه في التعب؛ لأنَّ الراحة إذا قُصد بها الإعانة على العبادة حَصلت الثواب»
(4).
وكلَّما كانت النية أشمل كان الأجر أعظم؛ لقول الرسول صلى الله عليه وسلم: «إنَّما الأعمال بالنيات، وإنَّما لكلِّ امرئٍ ما نَوَى
… » الحديث
(5).
قال عبد الله بن المبارك: «رُبَّ عمل صغير تعظمه النية، وربَّ
--------------------------------------------
ইসলামের মধ্যপন্থা; এটি মানবাত্মাকে তার সহজাত প্রবৃত্তি থেকে বঞ্চিত করেনি, আবার তাকে লাগামহীনভাবে ছেড়েও দেয়নি; বরং পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা, সতীত্ব এবং সুদৃঢ় অঙ্গীকারের বলয়ের মধ্যে থেকে যা সে আকাঙ্ক্ষা করে তা-ই তাকে দান করেছে।
অতএব, বৈধ কাজ ইবাদত ও নৈকট্যে রূপান্তরিত হয় যদি তার সাথে সৎ নিয়ত থাকে; এ কারণেই মুআজ বিন জাবাল (রা.) আবু মুসা আল-াশআরী (রা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন: আপনি কীভাবে কুরআন তিলাওয়াত করেন? তিনি বললেন: দাঁড়িয়ে, বসে এবং আমার সওয়ারিতে থাকা অবস্থায়; আর আমি তা বিরতি দিয়ে দিয়ে পাঠ করি
(১)। আবু মুসা বললেন: হে মুআজ, তবে আপনি কীভাবে তিলাওয়াত করেন? তিনি বললেন: আমি রাতের প্রথমাংশে ঘুমাই; এরপর যখন আমার ঘুমের অংশ পূর্ণ হয় তখন আমি দাঁড়াই এবং আল্লাহ আমার জন্য যা লিখে রেখেছেন তা পাঠ করি; আমি আমার ঘুমের বিনিময়ে সওয়াবের আশা করি ঠিক যেমন আমি আমার দাঁড়িয়ে ইবাদতের বিনিময়ে সওয়াবের আশা করি»
(২); «যেন মুআজ বিন জাবাল তার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করলেন»
(৩)।
তিনি (রা.) ঘুমের মধ্যেও নেকির আশা করতেন যেমনটি তিনি রাতের ইবাদতে (কিয়ামুল লাইলে) করতেন; কারণ তিনি ঘুমের মাধ্যমে ইবাদতের শক্তি অর্জন এবং আনুগত্যের কাজে সহায়তার সংকল্প করেছিলেন।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: «এর অর্থ হলো: তিনি বিশ্রামের মাধ্যমেও সওয়াব অন্বেষণ করেন যেমনটি তিনি পরিশ্রমের মাধ্যমে করেন; কারণ বিশ্রামের উদ্দেশ্য যদি ইবাদতে সহায়তা করা হয়, তবে সওয়াব অর্জিত হয়»
(৪)।
নিয়ত যত বেশি ব্যাপক হবে, প্রতিদানও তত মহান হবে; কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: «নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যা সে নিয়ত করেছে … » হাদিস
(৫)।
আবদুল্লাহ বিন মুবারক বলেন: «অনেক ছোট আমল রয়েছে যা নিয়তের কারণে বড় হয়ে যায়, আবার অনেক...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
عمل كبير تُصغِّره النية»
(1).
أمَّا مَنْ لم ينوِ شيئًا فأعماله عادية لا أجر فيها؛ لذا تَبَايَنَ الناسُ في ذلك تباينًا عظيمًا، فمِن الناس مَنْ كلُّ عاداته وأفعاله عبادة لله؛ لأنه- دائمًا- مُستحضرٌ لِنِيَّتِه، قاصد بعمله وجه الله، بينما بعض الناس قد تكون كلُّ عباداته حتى (الشَّعائر الظَّاهرة) أو بعضها عادات، وذلك لخلوِّ قلبه مِنْ نِيَّة التقرُّب إلى الله عز وجل.
الأمر الخامس: أن الأعمال تتفاوت في المرتبة والأفضلية:
فأعمال الطاعة تختلف محبة إلى الله وأجرًا، وكذلك المعاصي تتفاوت بغضًا إلى الله ووزرًا.
فالعبادات أنواع لها مميزات وخصائص تختلف بها عن غيرها؛ لمقاصد عظيمة؛ وحِكَم جليلة، تتجلى فيها عظمة هذه الشريعة، وكرم المُشَرِّع سبحانه وتعالى؛ وكما أنه سبحانه خلق المخلوقات وفَاضَلَ بينها بما يُحقق المصلحة العظيمة؛ قال تعالى: {واللَّهُ فَضَّلَ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ فِي الرِّزْقِ} [النحل: 71]- كذلك فَاضَلَ بين العبادات، وجعل مراتبها ودرجاتها مختلفة.
وقد وردت أدلة بَيِّنَّة في السنة النبوية تدل على تفاضل العبادات وتمايزها، ومن ذلك:
ما رواه معاذ بن جبل ? أن النبي صلى الله عليه وسلم قال له: «ألا أدلك على أبواب الخير؟ الصوم جُنَّة، والصَّدقة تطفئ الخطيئة كما يطفئ الماء النار، وصلاة الرجل من جوف الليل». قال: ثم تلا {تتجافى جنوبهم عن المضاجع} [السجدة: 16]، حتى بلغ {يعملون} [السجدة: 17]. ثم
--------------------------------------------
«একটি বিশাল কাজকে নিয়ত ছোট করে ফেলে»
(১)।
পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি কোনো নিয়ত করেনি, তার কাজগুলো সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয় যাতে কোনো প্রতিদান নেই। এ কারণে মানুষের মাঝে এক্ষেত্রে বিশাল পার্থক্য দেখা যায়; এমন কিছু মানুষ আছে যাদের প্রতিটি অভ্যাস এবং কাজই আল্লাহর ইবাদতে পরিণত হয়; কারণ তারা সর্বদা নিজেদের নিয়তকে জাগ্রত রাখে এবং তাদের কর্মের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে। অপরপক্ষে, কিছু মানুষের সমস্ত ইবাদত—এমনকি প্রকাশ্য ধর্মীয় নিদর্শনসমূহও—অথবা তার একাংশ নিছক অভ্যাসে পরিণত হতে পারে, কারণ তাদের অন্তর মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়ত থেকে শূন্য থাকে।
পঞ্চম বিষয়: আমল বা কার্যাবলি মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে:
সুতরাং আনুগত্যের কাজগুলো আল্লাহর নিকট প্রিয় হওয়ার ক্ষেত্রে এবং প্রতিদানের দিক থেকে ভিন্ন হয়। অনুরূপভাবে নাফরমানির কাজগুলো আল্লাহর নিকট ঘৃণা এবং গুনাহের দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার হয়।
ইবাদতসমূহ বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে যার বিশেষ গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে যার মাধ্যমে তা অন্যদের থেকে পৃথক হয়; এর পেছনে রয়েছে মহান উদ্দেশ্য এবং সুগভীর প্রজ্ঞা, যার মধ্যে এই শরীয়তের মহিমা এবং মহান বিধানদাতার (আল্লাহর) বদান্যতা প্রকাশ পায়। আর যেমনভাবে তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন এবং মহান কল্যাণ অর্জনের লক্ষ্যে তাদের একের ওপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন; আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আল্লাহ রিযিকের ক্ষেত্রে তোমাদের একজনকে অন্যজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন} [আন-নাহল: ৭১]—তেমনিভাবে তিনি ইবাদতসমূহের মধ্যেও শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্য করেছেন এবং সেগুলোর মর্যাদা ও স্তরকে ভিন্ন ভিন্ন করেছেন।
সুন্নাহে নববীতে এমন স্পষ্ট দলিলসমূহ বর্ণিত হয়েছে যা ইবাদতসমূহের শ্রেষ্ঠত্ব এবং তারতম্যের ওপর প্রমাণ বহন করে, এর মধ্যে রয়েছে:
মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: «আমি কি তোমাকে কল্যাণের দরজাসমূহ দেখিয়ে দেব না? রোজা হলো ঢালস্বরূপ, আর সদকা গুনাহকে এমনভাবে মিটিয়ে দেয় যেমনভাবে পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়, আর শেষ রাতে ব্যক্তির সালাত আদায় করা»। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন {তাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে আলাদা থাকে} [আস-সাজদাহ: ১৬] হতে {যা তারা আমল করত} [আস-সাজদাহ: ১৭] পর্যন্ত। এরপর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قال: «ألا أخبرك برأس الأمر كله وعموده، وذروة سنامه»؟ قلت: بلى يا رسول الله، قال: «رأس الأمر الإسلام، وعموده الصلاة، وذروة سنامه الجهاد»
(1).
وكما جاء في حديث أبي هريرة ? أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «الإيمان بِضع وسبعون- أو- بِضع وسِتُّون- شعبة، فأفضلها قول: لا إله إلا الله، وأدناها إماطة الأذى عن الطريق، والحياء شُعبة من الإيمان»
(2).
وعن أبي هريرة ? أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل: أيُّ العمل أفضل؟ فقال: «إيمان بالله ورسوله». قيل: ثم ماذا؟ قال: «الجهاد في سبيل الله». قيل: ثم ماذا؟ قال: «حَجٌّ مَبرور»
(3).
وعن ابن مسعود ?: أنَّ رجلًا سأل النبي صلى الله عليه وسلم: أيُّ الأعمال أفضل؟ قال: «الصلاة لوقتها، وبر الوالدين، ثم الجهاد في سبيل الله»
(4).
فهذه الأحاديث ونحوها تُدَلِّل على أن هناك تفاضلًا بين العبادات، وأن بعضها أفضل من بعض، ويظهر من خلال التأمل فيها- أنها أجوبة مختلفة لسؤال واحد، وقد أجاب العلماء على هذا الاستشكال بأجوبة، نختار منها قول الحافظ ابن حَجَر في «شرحه للجامع الصَّحيح» حيث قال: «ومحصل ما أجاب به العلماء عن هذا الحديث وغيره مما اختلفت فيه الأجوبة بأنه أفضل الأعمال.
--------------------------------------------
তিনি বললেন: «আমি কি তোমাকে সব বিষয়ের মূল, তার খুঁটি এবং তার সর্বোচ্চ শিখর সম্পর্কে সংবাদ দেব না?» আমি বললাম: হ্যাঁ হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: «সব বিষয়ের মূল হলো ইসলাম, তার খুঁটি হলো সালাত এবং তার সর্বোচ্চ শিখর হলো জিহাদ»
(১).
আর যেমনটি আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «ঈমানের সত্তরটিরও বেশি—অথবা—ষাটেরও বেশি শাখা রয়েছে। তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা, আর তার সর্বনিম্ন স্তর হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা»
(২).
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: «আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা»। জিজ্ঞাসা করা হলো: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: «আল্লাহর পথে জিহাদ করা»। জিজ্ঞাসা করা হলো: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: «মকবুল হজ»
(৩).
ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত: এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: «সময়মতো সালাত আদায় করা, পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করা, তারপর আল্লাহর পথে জিহাদ করা»
(৪).
এই হাদিসগুলো এবং এর অনুরূপ বর্ণনাগুলো একথাই প্রমাণ করে যে, ইবাদতসমূহের মধ্যে মর্যাদাগত তারতম্য রয়েছে এবং কোনোটি কোনোটির চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এগুলোর প্রতি গভীর চিন্তা করলে প্রতীয়মান হয় যে—এগুলো মূলত একটি প্রশ্নেরই ভিন্ন ভিন্ন উত্তর। আলেমগণ এই অস্পষ্টতা নিরসনে বেশ কিছু উত্তর দিয়েছেন, আমরা তন্মধ্যে হাফেজ ইবনে হাজার-এর বক্তব্যটি নির্বাচন করছি যা তিনি তাঁর «শারহুল জামিউস সহীহ» গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: «এই হাদিস এবং অন্যান্য হাদিস যেখানে সর্বোত্তম আমল সম্পর্কে বিভিন্ন উত্তর এসেছে, সে সম্পর্কে আলেমদের উত্তরের সারসংক্ষেপ হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
1 - أنَّ الجواب اختلف لاختلاف أحوال السائلين؛ بأنَّه أَعْلَم كلَّ قوم بما يحتاجون إليه، أو بما لهم فيه رغبة، أو بما هو لائق بهم.
2 - أو كان الاختلاف باختلاف الأوقات؛ بأن يكون العمل في ذلك الوقت أفضل منه في غيره، فقد كان الجهاد في ابتداء الإسلام أفضل الأعمال؛ لأنَّه الوسيلة إلى القيام بها، والتَّمَكُّن من أدائها، وقد تضافرت النصوص على أنَّ الصلاة أفضل من الصدقة، ومع ذلك ففي وقت مُواساة المضطر تكون الصدقة أفضل.
3 - أو أنَّ (أفضل) ليست على بابها، بل المراد بها الفضل المُطلق.
4 - أو المراد (مِنْ أفضل الأعمال)؛ فحُذفت «مِنْ»، وهي مرادة»
(1).
وقد ظهر هنا من أجوبة الحافظ ابن حجر بعض أوجه التفاضل بين العبادات؛ ومن ذلك:
1 - التفاضل بين العبادات وحصرها من حيث العبادة ومن حيث العابد:
فمن خلال ما تقدم تبين أن وجوه التفاضل بين العبادات يمكن حصرها في مسألتين أساسيتين، وهما:
المسألة الأولى: العبادة ذاتها.
والمسألة الثانية: العابد.
وتفصيل ذلك: أنَّ تفاضل العبادات ذاتها يكون من خلال وجوه
--------------------------------------------
১ - উত্তর ভিন্ন হয়েছে প্রশ্নকারীদের অবস্থার ভিন্নতার কারণে; কারণ তিনি প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাদের যা প্রয়োজন, অথবা তাদের যাতে আগ্রহ রয়েছে, অথবা যা তাদের জন্য উপযুক্ত তা অবহিত করেছেন।
২ - অথবা পার্থক্যটি ছিল সময়ের ভিন্নতার কারণে; এভাবে যে, কোনো আমল সেই বিশেষ সময়ে অন্য সময়ের চেয়ে উত্তম হতে পারে। যেমন ইসলামের প্রারম্ভে জিহাদ ছিল সর্বোত্তম আমল; কারণ এটি দ্বীন প্রতিষ্ঠা এবং তা পালনে সক্ষম হওয়ার মাধ্যম ছিল। অসংখ্য বর্ণনা একমত হয়েছে যে, সালাত সদকার চেয়ে উত্তম, তা সত্ত্বেও বিপদগ্রস্তের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের সময়ে সদকাই শ্রেষ্ঠ।
৩ - অথবা (সর্বোত্তম) শব্দটি তার আক্ষরিক ব্যাকরণিক অর্থে ব্যবহৃত হয়নি, বরং এর দ্বারা সাধারণ ফজিলত বা মাহাত্ম্য উদ্দেশ্য।
৪ - অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো (সর্বোত্তম আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত); এখানে ‘হতে’ (মিন) শব্দটি উহ্য রাখা হয়েছে, যা মূলত উদ্দেশ্য।»
(১)।
এখানে হাফিজ ইবনে হাজারের উত্তরসমূহ থেকে ইবাদতসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের কিছু দিক প্রকাশ পেয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে:
১ - ইবাদতসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের স্তরভেদ এবং ইবাদত ও ইবাদতকারীর দিক থেকে তা সীমিতকরণ:
পূর্বোক্ত আলোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ইবাদতসমূহের পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্বের দিকগুলোকে দুটি মৌলিক বিষয়ে সীমিত করা সম্ভব, আর তা হলো:
প্রথম বিষয়: স্বয়ং ইবাদত।
দ্বিতীয় বিষয়: ইবাদতকারী।
এর বিস্তারিত বিবরণ হলো: স্বয়ং ইবাদতসমূহের পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয় বিভিন্ন দিকের মাধ্যমে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
عدة:
أولًا: تفاضل العبادة من حيث الوجوب والاستحباب، كما في الحديث القدسي: «ما تَقَرَّب إليَّ عبدي بشيء أحبَّ مما افترضته عليه»
(1).
والحديث فيه دلالة واضحة على أن الفرائض أفضل الأعمال؛ لكونها أحب إلى الله، وقد ذكر الحافظ ابن حجر في «شرحه للصَّحيح» نقولًا للعلماء تبيّن فيها وجوه فضل الفرائض على النَّوافل، وخلاصته: أن الفرائض أمرها محتوم، أما النوافل فهي على سبيل الترغيب والاستحباب
(2).
ثانيًا: التفاضل من حيث التحديد الزماني، كما في الحديث: «إنَّ عُمرة في رمضان تَعدل حَجَّة معي»
(3)، قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: «فالحاصل أنَّه أعلمها أن العمرة في رمضان تَعدل الحَجَّة في الثواب، لا أنَّها تقوم مقامها في إسقاط الفرض؛ للإجماع على أن الاعتمار لا يُجزئ عن حج الفرض»
(4)، والحديث دليل على التفضيل في زمن خاص.
ومن ذلك تفاضل الصدقات، كما في الحديث: «أن رجلًا جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله، أيُّ الصدقة أعظم أجرًا؟ قال: «أن تَصَدَّق وأنت صحيح شحيحٌ تَخشى الفقر وتأمُل الغِنى، ولا تُمهل حتى إذا بلغت الحلقوم، قلت: لفلان كذا، ولفلان كذا، وقد
--------------------------------------------
বেশ কিছু:
প্রথমত: আবশ্যকতা এবং পছন্দনীয়তার দিক থেকে ইবাদতের শ্রেষ্ঠত্ব, যেমনটি হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত হয়েছে: "আমার বান্দা আমার নিকট এমন কোনো জিনিসের মাধ্যমে নৈকট্য লাভ করেনি, যা আমার কাছে তার ওপর আমার অর্পিত ফরজের চেয়ে বেশি প্রিয়"
(১)।
হাদিসটিতে স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, ফরজ আমলসমূহ সর্বোত্তম আমল; কারণ তা আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর ‘সহীহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে’ উলামায়ে কেরামের কিছু উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছেন যাতে নফলের ওপর ফরজের শ্রেষ্ঠত্বের দিকগুলো বর্ণিত হয়েছে। এর সারসংক্ষেপ হলো: ফরজের বিধান সুনিশ্চিত ও বাধ্যতামূলক, পক্ষান্তরে নফল হলো উৎসাহ প্রদান ও পছন্দনীয়তার স্তরের আমল
(২)।
দ্বিতীয়ত: সময়ের নির্দিষ্টতার দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্ব, যেমনটি হাদিসে এসেছে: "রমজানে ওমরাহ করা আমার সাথে হজ করার সমতুল্য"
(৩)। হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সারকথা হলো, তিনি তাকে জানিয়েছিলেন যে, রমজানে ওমরাহ সওয়াবের দিক থেকে হজের সমতুল্য, এর অর্থ এই নয় যে তা ফরজ হজের স্থলাভিষিক্ত হয়ে হজের আবশ্যকতাকে রহিত করে দেয়; কারণ এ বিষয়ে ইজমা রয়েছে যে, ওমরাহ পালন করলে ফরজ হজ আদায় হয় না"
(৪)। হাদিসটি বিশেষ সময়ের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ।
তেমনিভাবে সদকার পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব, যেমন হাদিসে এসেছে: "এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, কোন সদকার সওয়াব সবচেয়ে বেশি? তিনি বললেন: ‘তুমি এমন অবস্থায় সদকা করবে যখন তুমি সুস্থ ও সম্পদলোভী, তুমি অভাবের আশঙ্কা করছ এবং সচ্ছলতার আশা পোষণ করছ। আর তুমি বিলম্ব করো না যতক্ষণ না প্রাণ কণ্ঠাগত হয়, তখন তুমি বলো: অমুকের জন্য এতটুকু, অমুকের জন্য এতটুকু, অথচ..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
كان لفلان»
(1).
ثالثًا: تفاضلها من حيث التحديد المكاني، كما في الحديث: «صلاة في مسجدي هذا أفضل من ألف صلاة فيما سواه إلا المسجد الحرام»
(2).
ففي الحديث تصريح من النبي صلى الله عليه وسلم أنَّ الصلاة في هذين المكانين أفضل من الصلاة في غيرهما من المساجد، إلى غيرها من وجوه التفاضل في العبادات الأخرى.
ومن ذلك تفاضل الصَّلاة بحسب الاجتماع والانفراد، كما في الحديث: «صلاة الجماعة تفضل صلاة الفذِّ بسبع وعشرين درجة»
(3).
ومن ذلك التفاضل بحسب التفاوت في مقدار الخُطى إلى المساجد، كما في الحديث: «إنَّ أعظم الناس أجرًا أبعدهم إليها ممْشَى فأبعدهم»
(4).
والمسألة الثانية: التفاضل بين العبادات من حيث العابد:
من عظيم حكمة الله أن جعل أبواب الرزق متنوعة ومتعددة؛ لتكتمل للناس أمور معاشهم، إذ حاجات الناس متنوعة ومتعددة تتكامل بها دورة حياتهم، والنَّاس بين مَنْ يجيد مهنة أو عددًا من المهن تُدر عليه دخلًا يعيش من ورائه ويدخر منه بحسب ما يدر عليه من مال، وهذه الأمور يعرفها كل الناس، وهي من البديهيات لديهم. ولكن الذي قد لا يعرفه بعض الناس: أن هناك صورة مشابهة لهذه
--------------------------------------------
অমুকের জন্য তা ছিল»
(১).
তৃতীয়ত: নির্দিষ্ট স্থানের প্রেক্ষাপটে এগুলোর শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্য, যেমনটি হাদিসে এসেছে: «আমার এই মসজিদে সালাত আদায় করা অন্য সব মসজিদে এক হাজার সালাতের চেয়েও উত্তম, তবে মসজিদুল হারাম ব্যতীত»
(২).
এই হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে যে, এই দুই স্থানে সালাত আদায় করা অন্য যে কোনো মসজিদে সালাত আদায়ের চেয়ে উত্তম। এ ছাড়াও অন্যান্য ইবাদতের ক্ষেত্রে মর্যাদাগত পার্থক্যের আরও বিভিন্ন দিক রয়েছে।
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো জামাতে এবং একাকী সালাত আদায়ের প্রেক্ষাপটে সালাতের শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্য, যেমনটি হাদিসে এসেছে: «জামাতে সালাত আদায় করা একাকী সালাতের চেয়ে সাতাশ গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ»
(৩).
এর মধ্যে আরও অন্তর্ভুক্ত হলো মসজিদের দিকে পদযাত্রার দূরত্বের তারতম্য অনুযায়ী সওয়াবের পার্থক্য, যেমনটি হাদিসে এসেছে: «নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে সওয়াবের দিক থেকে সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ, যার যাতায়াতের পথ অধিক দূরবর্তী, এরপর যে অপেক্ষাকৃত বেশি দূর থেকে আসে»
(৪).
দ্বিতীয় বিষয়: ইবাদতকারীর প্রেক্ষাপটে ইবাদতসমূহের মাঝে মর্যাদাগত পার্থক্য:
আল্লাহর সুমহান হিকমতের অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, তিনি জীবিকার পথসমূহকে বৈচিত্র্যময় ও বহুবিধ করেছেন; যাতে মানুষের জীবনযাত্রার বিষয়গুলো পূর্ণতা পায়। যেহেতু মানুষের প্রয়োজনসমূহ বৈচিত্র্যময় ও বহুমুখী, যার মাধ্যমে তাদের জীবনচক্র পূর্ণতা লাভ করে। মানুষের মধ্যে কেউ একটি পেশায় পারদর্শী, আবার কেউ একাধিক পেশায় দক্ষ, যা তাকে এমন আয় প্রদান করে যা দিয়ে সে জীবন অতিবাহিত করে এবং নিজের উপার্জিত অর্থ থেকে সঞ্চয় করে। এই বিষয়গুলো সব মানুষই জানে এবং এগুলো তাদের কাছে স্বতঃসিদ্ধ। কিন্তু যে বিষয়টি হয়তো কিছু মানুষ জানে না তা হলো: এরই সদৃশ একটি চিত্র এখানেও বিদ্যমান রয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الصورة ولكن في أبواب الطاعات، ولعل قصة الإمام مالك مع العُمَري العابد تَصلح كمدخل يُقَرِّب تلك الصورة، فقد كتب عبد الله بن عبد العزيز العُمَري العابد إلى الإمام مالك يحضُّه على الانفراد والعمل، ويَرغب به عن الاجتماع إليه في العِلم؛ فكتب إليه مالك: «إنَّ الله عز وجل قَسم الأعمال كما قسم الأرزاق؛ فَرُبَّ رجل فُتح له في الصلاة ولم يفتح له في الصوم، وآخر فُتح له في الصدقة ولم يُفتح له في الصيام، وآخر فتح له في الجهاد ولم يفتح له في الصلاة. ونَشر العلم وتعليمه من أفضل أعمال البر وقد رضيتُ بما فَتح الله لي فيه من ذلك، وما أظن ما أنا فيه بدون ما أنت فيه، وأرجو أن يكون كِلانا على خير، ويجب على كلِّ واحدٍ مِنَّا أن يَرضى بما قُسِم له، والسَّلام»
(1).
فهذا الرد على اختصاره إلا أنه أشار إلى مسألة مهمة يجب على المسلم استيعابها، وهي أن العِباد في نوافل الطاعات يتفاوتون فيما يَفتح الله عليهم من تلك النوافل؛ فمِن الناس مَنْ تراه يُكثر من صيام التطوع في مقابل أن غيره لا يزيد على صوم الفريضة ولو صام يومًا تطوعًا لوجد مشقة كبيرة في ذلك، ومن الناس مَنْ يُكثر من نوافل الصلوات والأذكار، لكنه في باب الصدقة لا يزيد على أداء فريضة الزكاة، وهناك مَنْ تجده في الأخلاق لا يُجاريه أحد، لكنه في غير ذلك من النوافل لا يُرى له مزيد عمل، ومصداق ذلك في قول النبي صلى الله عليه وسلم: «اعملوا فكل مُيَسَّر لما خُلِق له»
(2)، وقد يفتح لبعض الناس أكثر من باب، وهناك مَنْ تتعدد عنده الأبواب المتنوعة
--------------------------------------------
দৃশ্যপটটি ইবাদত-আনুগত্যের অধ্যায়গুলোর সাথে সম্পর্কিত, আর সম্ভবত আবেদ উমারির সাথে ইমাম মালিকের ঘটনাটি সেই দৃশ্যপটটি নিকটবর্তী করার একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে উপযুক্ত হতে পারে। আবেদ আবদুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ উমারি ইমাম মালিকের নিকট নির্জনতা অবলম্বন ও আমল করার প্রতি উৎসাহিত করে এবং ইলম অর্জনের জন্য মানুষের সাথে সমবেত হওয়া থেকে বিমুখ হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে পত্র লিখেছিলেন; অতঃপর মালিক তাকে প্রতি উত্তরে লিখেছিলেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমলসমূহকে সেভাবেই বণ্টন করেছেন যেভাবে তিনি রিজিক বণ্টন করেছেন; সুতরাং এমন অনেক ব্যক্তি আছে যার জন্য নামাজের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে কিন্তু রোজার পথ উন্মুক্ত করা হয়নি, আবার অন্যের জন্য সদকার পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে কিন্তু রোজার পথ উন্মুক্ত করা হয়নি, আর অন্য কারো জন্য জিহাদের পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে কিন্তু নামাজের পথ উন্মুক্ত করা হয়নি। আর ইলম প্রচার ও শিক্ষা দেওয়া সর্বোত্তম নেক আমলগুলোর অন্তর্ভুক্ত, এবং আল্লাহ আমার জন্য এক্ষেত্রে যা উন্মুক্ত করেছেন তাতে আমি সন্তুষ্ট হয়েছি। আমি মনে করি না যে আমি যে অবস্থায় আছি তা আপনার অবস্থার চেয়ে নিম্নতর, এবং আমি আশা করি আমরা উভয়েই কল্যাণের ওপর আছি। আর আমাদের প্রত্যেকের উচিত তার জন্য যা নির্ধারিত করা হয়েছে তাতে সন্তুষ্ট থাকা। আস-সালাম (শান্তি বর্ষিত হোক)»
(১).
এই উত্তরটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছে যা একজন মুসলমানের উপলব্ধি করা আবশ্যক; আর তা হলো, নফল ইবাদত-আনুগত্যের ক্ষেত্রে বান্দারা আল্লাহ তাদের জন্য সেই নফলগুলোর মধ্য থেকে যা উন্মুক্ত করেন তাতে একে অপরের থেকে ভিন্ন হয়ে থাকেন; সুতরাং মানুষের মধ্যে কাউকে আপনি দেখবেন যে অধিক হারে নফল রোজা রাখছে, অথচ তার বিপরীতে অন্য কেউ ফরজ রোজার চেয়ে অতিরিক্ত কিছু করছে না, এমনকি সে যদি একদিন নফল রোজা রাখতে চায় তবে তাতে সে প্রচণ্ড কষ্ট অনুভব করে। আবার মানুষের মধ্যে কেউ নফল নামাজ ও জিকিরে আধিক্য ঘটায়, কিন্তু সদকার ক্ষেত্রে সে ফরজ জাকাত আদায়ের অতিরিক্ত কিছু করে না। আবার কাউকে পাবেন যার চরিত্রের শ্রেষ্ঠত্বে কেউ তার সমকক্ষ হতে পারে না, কিন্তু অন্যান্য নফল আমলের ক্ষেত্রে তার অতিরিক্ত কোনো কাজ দেখা যায় না। আর এর সত্যতা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীতে প্রমাণিত: «তোমরা আমল করতে থাকো, কেননা যার জন্য যা সৃষ্টি করা হয়েছে তার জন্য সেটি সহজসাধ্য করে দেওয়া হয়েছে»
(২), আর কারো কারো জন্য একাধিক পথ উন্মুক্ত হতে পারে, আবার কারো ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বহুবিধ পথ থাকতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
من الطاعات، ولو استعرضنا ما ورد في السُّنَّة النبوية في هذا الجانب لوجدنا أمثلة كثيرة تشير لذلك ومنها ما وقع لأبي بكر ? لما جاء من حديث أبي هريرة ? أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ أنفق زوجين في سبيل الله نودي من أبواب الجنة: يا عبد الله هذا خيرٌ؛ فمن كان من أهل الصلاة دُعي من باب الصلاة، ومن كان من أهل الجهاد دُعي من باب الجهاد، ومن كان من أهل الصيام دعي من باب الرَّيَّان، ومَن كان من أهل الصدقة دعي من باب الصدقة». فقال أبو بكر: بأبي أنت وأمي يا رسول الله! ما على من دُعي من تلك الأبواب من ضرورة؛ فهل يُدعى أحدٌ من تلك الأبواب كلها؟! قال: «نعم! وأرجو أن تكون منهم»
(1).
وكما أنَّ الناس في أبواب الرزق على ثلاثة أقسام؛ فمنهم مَنْ هو مرتفع الدَّخل، ومنهم مَنْ هو متوسط الدخل، ومنهم مَنْ هو منخفض الدخل- فكذلك الشأن في الطاعات، فالله عز وجل يقول: {ثُمَّ أَوْرَثْنَا الكِتَابَ الَّذِينَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ ومِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ ومِنْهُمْ سَابِقٌ بِالخَيْرَاتِ بِإِذْنِ اللَّهِ ذَلِكَ هُو الفَضْلُ الكَبِيرُ} [فاطر: 32].
ويجب على كلِّ إنسان أن ينظر في نفسه؛ ليعرف ما فُتح له من أبواب الطَّاعة؛ فيلزمه ويحافظ عليه ويزداد منه، وعليه ألَّا يشق على نفسه في ميادين ليست متوائمة مع ما خَصَّه الله به من خصال الخير، كما يجب عليه أن ينظر للغير بنظرةٍ من جنس نظرة الإمام مالك للعمري العابد؛ حيث قال له: «وأرجو أن يكون كِلانا على خير»، فالنظرة الإيجابية للناس مطلوبة باعتبار أن ما وُفِّقُوا له من الخير هو بابٌ فُتِح لهم من الله، يُرجى أن يكون سببًا لدخولهم الجَنَّة.
--------------------------------------------
আনুগত্যের কাজসমূহ থেকে; আর এই ক্ষেত্রে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহতে যা বর্ণিত হয়েছে আমরা যদি তা পর্যালোচনা করি তবে আমরা এমন অনেক উদাহরণ পাব যা এর প্রতি ইঙ্গিত করে। তার মধ্যে একটি হলো আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা যা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জোড়া জোড়া (কোনো বস্তু) ব্যয় করবে, তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে আহ্বান করা হবে: হে আল্লাহর বান্দা, এটিই কল্যাণকর; অতএব যে ব্যক্তি নামায আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে তাকে নামাযের দরজা থেকে ডাকা হবে, যে ব্যক্তি মুজাহিদ হবে তাকে জিহাদের দরজা থেকে ডাকা হবে, যে ব্যক্তি রোযাদার হবে তাকে রাইয়ান নামক দরজা থেকে ডাকা হবে এবং যে ব্যক্তি দানশীল হবে তাকে সদকার দরজা থেকে ডাকা হবে।» তখন আবু বকর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক! ঐ সকল দরজার যেকোনো একটি থেকে যাকে ডাকা হবে তার তো কোনো আবশ্যকতা বা বিশেষ সমস্যা নেই (অর্থাৎ একটি থেকে ডাকলেই সে সফল); তবে কি কাউকে এই সকল দরজা থেকেই আহ্বান করা হবে?! তিনি বললেন: «হ্যাঁ! এবং আমি আশা করি তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে»
(১).
আর মানুষ যেমন রিযিকের ক্ষেত্রে তিন শ্রেণীতে বিভক্ত—যাদের আয় উচ্চ, যাদের আয় মধ্যম এবং যাদের আয় নিম্ন—আনুগত্যের ক্ষেত্রেও বিষয়টি ঠিক তেমনই। মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর আমি কিতাবটির উত্তরাধিকারী করেছি আমার বান্দাদের মধ্যে তাদের, যাদের আমি মনোনীত করেছি; তবে তাদের মধ্যে কেউ নিজের প্রতি অন্যায়কারী, কেউ মধ্যমপন্থী এবং কেউ আল্লাহর অনুমতিক্রমে সৎকর্মে অগ্রগামী। এটাই হলো মহা অনুগ্রহ} [ফাতির: ৩২]।
প্রত্যেক মানুষের উচিত নিজের দিকে লক্ষ্য করা; যেন সে জানতে পারে আনুগত্যের কোন দরজাগুলো তার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে; যাতে সে তা আঁকড়ে ধরে, তা বজায় রাখে এবং তা আরও বৃদ্ধি করে। আর তার উচিত হবে না এমন সব ময়দানে নিজেকে কষ্টে ফেলা যা আল্লাহ তাকে যে বিশেষ ভালো গুণাবলী দান করেছেন তার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। অনুরূপভাবে তার উচিত অন্যের প্রতি এমন এক ইতিবাচক দৃষ্টিতে তাকানো যেমনটি ইমাম মালিক আবেদ আল-উমারীর প্রতি পোষণ করেছিলেন; যখন তিনি তাকে বলেছিলেন: «আমি আশা করি আমরা উভয়েই কল্যাণের ওপর রয়েছি»। সুতরাং মানুষের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা আবশ্যক এই বিবেচনায় যে, তারা যে কল্যাণের তাওফিক পেয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য খুলে দেওয়া একটি দরজা, যা তাদের জান্নাতে প্রবেশের কারণ হবে বলে আশা করা যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ووجود بعض جوانب التقصير في بعض النَّاس لا يَعني انعدام الخير لديهم بالكلية؛ فقد يكون لديهم جوانب خفية من الخير؛ ومن الشواهد على ذلك: ما جاء عن عمر بن الخطاب ? «أن رجلًا كان على عهد النبي صلى الله عليه وسلم، وكان اسمه عبد الله، وكان يُلَقَّب حمارًا، وكان يُضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكان النبي صلى الله عليه وسلم قد جلده في الشَّرَاب، فأتي به يومًا فأمر به فجلد، فقال رجل من القوم: اللهم الْعَنْهُ، ما أكثرَ ما يُؤتى به! فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «لا تلعنوه، فوالله ما علمتُ إنَّه يحب الله ورسوله»
(1).
فهذه القصة يُستفاد منها أن المتعين علينا أن لا نُقَيِّم الناس من منظور واحد، فكم نقع في مجالسنا في أعراض أناس وننتقص من تدينهم ونذمهم، وقد يكون لهم من الأعمال التي تُقَرِّبهم إلى الله ونحن لا نعلم، فواجب على الناس أن يكون لديهم فقه في هذه الجوانب؛ لأنَّها توجد لديهم بعض التوازن في نظرتهم ومعاملتهم لمن حولهم، فالنصوص الشرعية تؤكد على أن لكل شخص ما يناسبه من الطاعات، كما أنَّ لكل وقت ما يُناسبه من الطاعات، وهم في ذلك بين ظالم لنفسه ومقتصد وسابق بالخيرات، وما علينا إلا أن نذكر لكل شخص ما يُحمد له من خصال الخير، وأن ندعو لمن نرى عليه تقصيرًا بالصَّلاح والفلاح والتوفيق لما يحبه الله ويرضاه.
وفي مقابل تفاضل الطاعات جاءت أحاديث عديدة في السُّنَّة بَيَّنت أنَّ الذنوب- كذلك- أنواع ومراتب، فعن أبي بكرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أَلَا أُنبئكم بأكبر الكبائر؟». قلنا: بلى يا رسول الله. قال- ثلاثًا-: «الإشراك بالله، وعقوق الوالدين»، وكان متكئًا
--------------------------------------------
কিছু মানুষের মধ্যে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতির উপস্থিতি মানে এই নয় যে, তাদের মাঝে কল্যাণের ছিটেফোঁটাও নেই; বরং তাদের মাঝে কল্যাণের গোপন কোনো দিক থাকতে পারে। এর অন্যতম প্রমাণ হলো যা ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এক ব্যক্তি ছিল, যার নাম ছিল আবদুল্লাহ এবং তাকে ‘হিমার’ (গাধা) উপাধি দেওয়া হয়েছিল। সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাসাতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মদ্যপানের কারণে দণ্ড দিয়েছিলেন। একদিন তাকে পুনরায় (একই অপরাধে) আনা হলো এবং তাঁর নির্দেশে তাকে চাবুক মারা হলো। তখন উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহ, আপনি তাকে লানত বা অভিশাপ দিন! কতবার যে তাকে (এই অপরাধে) আনা হয়! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তোমরা তাকে অভিশাপ দিও না। আল্লাহর শপথ, আমি যতদূর জানি, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে”»
(১)।
এই ঘটনা থেকে শিক্ষণীয় হলো যে, আমাদের জন্য অপরিহার্য দায়িত্ব হলো মানুষকে কেবল একটি দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন না করা। আমরা আমাদের মজলিসগুলোতে কতই না মানুষের সম্মানহানি করি, তাদের ধার্মিকতা নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করি এবং তাদের নিন্দা করি; অথচ তাদের হয়তো এমন কিছু আমল রয়েছে যা তাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয় এবং আমরা তা জানি না। তাই মানুষের জন্য কর্তব্য হলো এই বিষয়গুলোতে সম্যক জ্ঞান রাখা; কারণ এটি তাদের চারপাশের মানুষদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণে ভারসাম্য তৈরি করবে। শরয়ি দলিলসমূহ এই কথার ওপর গুরুত্বারোপ করে যে, প্রতিটি ব্যক্তির জন্য ইবাদতের এমন কিছু ধরণ থাকে যা তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, ঠিক যেভাবে প্রতিটি সময়ের জন্য উপযুক্ত ইবাদত রয়েছে। আর তারা এ ক্ষেত্রে নিজের ওপর জুলুমকারী, মধ্যমপন্থী এবং নেক কাজে অগ্রগামী—এই তিন স্তরে বিভক্ত। আমাদের দায়িত্ব হলো প্রত্যেক ব্যক্তির প্রশংসনীয় গুণাবলি স্মরণ করা এবং যার মধ্যে ত্রুটি দেখি, তার সংশোধন, কল্যাণ ও আল্লাহ যা পছন্দ করেন ও যাতে সন্তুষ্ট হন সেই তাওফিকের জন্য দোয়া করা।
ইবাদতের মর্যাদাগত পার্থক্যের বিপরীতে সুন্নাহর বহু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, পাপসমূহও অনুরূপভাবে বিভিন্ন প্রকার ও স্তরের হয়ে থাকে। আবু বাকরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «“আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ সম্পর্কে সংবাদ দেব না?” আমরা বললাম: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তিনবার বললেন: “আল্লাহর সাথে শিরক করা এবং পিতামাতার অবাধ্য হওয়া।” তিনি তখন হেলান দিয়ে বসা ছিলেন...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فجلس، فقال: «أَلَا وقَول الزُّور وشهادة الزور، ألا وقول الزور وشهادة الزور»
(1)، وعن عبد الله بن مسعود ? قال: قلت يا رسول الله: أيُّ الذَّنب أعظم؟ قال: «أن تجعل لله ندًّا وهو خَلَقَكَ!». قلت: ثم أي؟ قال: «أن تقتل ولدك خشية أن يأكل معك». قال: ثم أي؟ قال: «أن تُزاني حليلةَ جارك»، وأنزل الله تصديق قول النبي صلى الله عليه وسلم: {والذين لا يدعون مع الله إلهًا آخر} [الفرقان: 68] الآية»
(2).
تفاوت أفهام الناس في أفضل العبادات وأنفعها، وأحقها بالإيثار والتخصص:
انقسم الناس في ذلك إلى أربعة أصناف:
الصنف الأول: يرون أنَّ أنفع العبادات وأفضلها هي أشقها على النفوس وأصعبها. وهؤلاء: هم أهل المجاهَدات والجَوْر على النفوس. قالوا: لأنه أبعد الأشياء عن هواها، وهذا هو حقيقة التعبد.
قالوا: والأجر على قدر المشقة، ورووا حديثًا لا أصل له: «أفضل الأعمال أحمزها»
(3)، أي: أصعبها وأشقها، وقالوا: وإنما تستقيم النفوس بذلك، إذ طبعها الكسل والمهانة، والإخلاد إلى الأرض، فلا تستقيم إلا بركوب الأهوال وتحمل المشاق.
الصنف الثاني: قالوا: أفضل العبادات التجرد والزهد في الدنيا، والتقلُّل منها غاية الإمكان، واطراح الاهتمام بها، وعدم الاكتراث بكلِّ ما هو منها.
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি বসলেন এবং বললেন: «সাবধান! মিথ্যা কথা এবং মিথ্যা সাক্ষ্যদান। সাবধান! মিথ্যা কথা এবং মিথ্যা সাক্ষ্যদান»
(১)। আর আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোন গুনাহ সবচেয়ে বড়? তিনি বললেন: «আল্লাহর সাথে কাউকে সমকক্ষ স্থির করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন!»। আমি বললাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: «তোমার সাথে আহার করবে এই আশঙ্কায় তোমার সন্তানকে হত্যা করা।» আমি বললাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: «তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা।» আর আল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার সমর্থনে নাযিল করেন: {আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকে না} [আল-ফুরকান: ৬৮] আয়াতটি
(২)।
সর্বোত্তম ও সবচাইতে উপকারী ইবাদত এবং যেটি অগ্রাধিকার ও বিশেষভাবে পালনের অধিক দাবিদার, সে বিষয়ে মানুষের বোধগম্যতার ভিন্নতা:
এ বিষয়ে মানুষ চার শ্রেণীতে বিভক্ত হয়েছে:
প্রথম শ্রেণী: তারা মনে করে যে, সবচাইতে উপকারী ও শ্রেষ্ঠ ইবাদত হলো সেটিই যা নফসের জন্য সবচাইতে কষ্টকর ও কঠিন। এরা হলো কৃচ্ছ্রসাধনকারী এবং নফসের ওপর কঠোরতাকারী সম্প্রদায়। তারা বলে: কারণ এটি প্রবৃত্তি থেকে সবচাইতে দূরবর্তী বিষয়, আর এটাই ইবাদতের প্রকৃত স্বরূপ।
তারা বলে: কষ্ট অনুযায়ী প্রতিদান পাওয়া যায়। তারা এমন একটি হাদীস বর্ণনা করে যার কোনো ভিত্তি নেই: «সর্বোত্তম আমল হলো যা সবচাইতে কষ্টসাধ্য»
(৩), অর্থাৎ: সবচাইতে কঠিন ও শ্রমসাধ্য। তারা বলে: এর মাধ্যমেই নফস সঠিক পথে থাকে, যেহেতু এর স্বভাব হলো অলসতা, হীনতা এবং পার্থিবতার দিকে ঝুঁকে থাকা; তাই বিপদসংকুল পথ পাড়ি দেওয়া এবং কষ্ট সহ্য করা ছাড়া এটি সোজা হয় না।
দ্বিতীয় শ্রেণী: তারা বলে: শ্রেষ্ঠ ইবাদত হলো দুনিয়া থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা ও দুনিয়াবিমুখ হওয়া, সাধ্যমতো দুনিয়ার ভোগবিলাস কমিয়ে আনা, পার্থিব বিষয়ের চিন্তা বর্জন করা এবং দুনিয়াবী কোনো কিছুর পরোয়া না করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ثم هؤلاء قسمان:
فعوامُّهم ظنُّوا أن هذا غاية، فشَمَّروا إليه وعملوا عليه، ودعوا الناس إليه، وقالوا: هو أفضل من درجة العِلم والعبادة، فرأوا الزهد في الدنيا غاية كل عبادة ورأسها.
وخواصُّهم رأوا هذا مقصودًا لغيره، وأن المقصود به عُكُوف القلب على الله، وجمع الهِمَّة عليه، وتفريغ القلب لِمَحَبَّته، والإنابة إليه، والتوكل عليه، والاشتغال بمرضاته، فرأوا أنَّ أفضل العبادات في الجمعيَّة على الله، ودَوَام ذِكره بالقلب واللسان، والاشتغال بمراقبته، دون كل ما فيه تفريق للقلب وتشتيت له.
ثم هؤلاء قسمان:
فالعارفون المُتَّبعون منهم إذا جاء الأمرُ والنهيُ بادروا إليه ولو فَرَّقهم وأذهب جَمعيتهم.
والمُنحرفون منهم يقولون: المقصود من العبادة جمعية القلب على الله، فإذا جاء ما يُفَرِّقه عن الله لم يُلتفت إليه، وربما يقول قائلهم:
يُطالَبُ بالأورادِ مَنْ كان غافلًا
… فكيف بقلبٍ كلُّ أوقاته وِرد
ثم هؤلاء- أيضًا- قسمان:
منهم مَنْ يترك الواجبات والفرائض لجمعيته.
ومنهم مَنْ يقوم بها، ويَترك السُّننَ والنوافلَ وتَعَلُّمَ العلم النافع لجمعيته.
الصنف الثالث: رأوا أن أنفع العبادات وأفضلها: ما كان فيه نَفع مُتَعَدٍّ، فرأوه أفضل مِنْ ذي النفع القاصر، فرأوا خِدمة الفقراء، والاشتغال بمصالح الناس وقضاء حوائجهم، ومساعدتهم بالمال والجاه والنَّفع أفضل؛ فتَصدوا له وعملوا عليه.
অতঃপর তারা দুই ভাগে বিভক্ত:
তাদের সাধারণ শ্রেণির লোকেরা মনে করেছে যে এটাই চূড়ান্ত লক্ষ্য, ফলে তারা এর জন্য সচেষ্ট হয়েছে এবং এর ওপর আমল করেছে, মানুষকে এর দিকে আহ্বান করেছে এবং বলেছে: এটি ইলম ও ইবাদতের স্তরের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। তারা দুনিয়াবিমুখতাকে সকল ইবাদতের লক্ষ্য ও মূল হিসেবে গণ্য করেছে।
আর তাদের বিশেষ শ্রেণির লোকেরা একে অন্য কোনো উদ্দেশ্যের মাধ্যম হিসেবে দেখেছে; তারা মনে করে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অন্তরকে আল্লাহর প্রতি নিবিষ্ট করা, সকল সংকল্পকে তাঁর ওপর একীভূত করা, তাঁর ভালোবাসার জন্য অন্তরকে রিক্ত করা, তাঁর অভিমুখী হওয়া, তাঁর ওপর ভরসা করা এবং তাঁর সন্তুষ্টির কাজে নিমগ্ন থাকা। তারা মনে করেছে যে, শ্রেষ্ঠ ইবাদত হলো আল্লাহর প্রতি হৃদয়ের একাগ্রতা বজায় রাখা, অন্তর ও জিহ্বার মাধ্যমে নিরন্তর তাঁর জিকির করা এবং তাঁর পর্যবেক্ষণে নিমগ্ন থাকা, এমন সবকিছু বর্জন করে যা অন্তরকে বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত করে দেয়।
এরপর তারাও দুই ভাগে বিভক্ত:
তাদের মধ্যে যারা অনুসরণকারী আরিফ, যখন আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ আসে, তারা তৎক্ষণাৎ তা পালনে অগ্রসর হন, যদিও তা তাদের একাগ্রতাকে বিচ্ছিন্ন করে এবং একমুখিতাকে দূর করে দেয়।
আর তাদের মধ্যে যারা পথভ্রষ্ট, তারা বলে: ইবাদতের উদ্দেশ্যই হলো আল্লাহর সাথে হৃদয়ের একাগ্রতা; সুতরাং যা তাকে আল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে, তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হবে না। সম্ভবত তাদের কেউ কেউ বলে থাকে:
যে গাফেল তাকেই ওজিফা পালনের তাগিদ দেওয়া হয়
… তবে এমন হৃদয়ের কী অবস্থা যার প্রতিটি মুহূর্তই ওজিফা?
এরপর তারাও আবার দুই ভাগে বিভক্ত:
তাদের মধ্যে কেউ কেউ স্বীয় একাগ্রতা রক্ষার খাতিরে ওয়াজিব ও ফরজসমূহ বর্জন করে।
আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ সেগুলো পালন করে, কিন্তু স্বীয় একাগ্রতার জন্য সুন্নাত, নফল এবং উপকারী ইলম অর্জন বর্জন করে।
তৃতীয় শ্রেণি: তারা মনে করে যে সবচেয়ে উপকারী ও শ্রেষ্ঠ ইবাদত হলো তা, যার উপকারিতা অন্যের নিকট পৌঁছায়। তারা একে ব্যক্তিগত পর্যায়ের উপকারসম্পন্ন ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে। তাই তারা দরিদ্রদের সেবা করা, মানুষের জনকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত থাকা, তাদের প্রয়োজন পূরণ করা এবং অর্থ, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও উপকারের মাধ্যমে তাদের সাহায্য করাকে শ্রেষ্ঠ মনে করে; ফলে তারা এর দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং এর ওপর আমল করেছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
واحتجوا بقول النبي صلى الله عليه وسلم «الخلقُ كلهم عِيالُ الله، وأحبهم إليه أنفعهم لعياله»
(1).
واحتجوا بأنَّ عملَ العابد قاصرٌ على نفسه، وعمل النَّفَّاع مُتَعَدٍّ إلى الغير، وأين أحدهما من الآخر؟
قالوا: ولهذا كان فَضل العالم على العابد كفضل القمر على سائر الكواكب.
قالوا: وقد قال رسولُ الله صلى الله عليه وسلم لعليِّ بن أبي طالب ?: «لِأَنْ يَهدي اللهُ بك رجلًا واحدًا خيرٌ لك من حُمر النَّعَم»
(2).
وهذا التفضيلُ إنَّما هو للنفع المُتعدِّي، واحتجوا بقوله صلى الله عليه وسلم «مَنْ دعا إلى هدى كان له مِنْ الأجر مثل أُجور من تَبِعه، لا يَنقص ذلك من أجورهم شيئًا»
(3)، واحتجوا بقوله صلى الله عليه وسلم: «إنَّ الله وملائكته وأهلَ السَّمَوات والأرضين- حتَّى النَّملة في جُحرها وحتى الحوت- لِيُصلون على مُعَلِّم الناسِ الخيرَ»
(4).
وبقوله صلى الله عليه وسلم: «إنَّ العالم ليستغفر له من في السماوات ومَن في الأرض، حتى الحيتان في البحر، والنَّملة في جحرها»
(5).
واحتجوا بأنَّ صاحب العبادة إذا مات انقطع عمله، وصاحب
--------------------------------------------
তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "সমস্ত সৃষ্টি আল্লাহর পরিবারভুক্ত, আর তাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় সেই যে তাঁর পরিবারের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।"
(১).
তারা আরও দলিল পেশ করেছেন যে, ইবাদতকারীর আমল কেবল নিজের মাঝেই সীমাবদ্ধ, পক্ষান্তরে পরোপকারীর আমল অন্যের মাঝে বিস্তৃত; এই দুটির মধ্যে কি কোনো তুলনা হয়?
তারা বলেন: এই কারণেই ইবাদতকারীর ওপর আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব সব নক্ষত্রের ওপর চাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের মতো।
তারা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-কে বলেছিলেন: "আল্লাহ যদি তোমার মাধ্যমে একজন মানুষকেও হেদায়েত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য লাল উটের মালিক হওয়ার চেয়েও উত্তম।"
(২).
এই শ্রেষ্ঠত্ব মূলত অন্যের উপকারের জন্যই। তারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "যে ব্যক্তি হেদায়েতের দিকে আহ্বান করে, সে তার অনুসারীদের সমান সওয়াব পাবে, এতে তাদের সওয়াবের কোনো কমতি হবে না"
(৩), এবং তারা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী দ্বারাও দলিল পেশ করেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ এবং আসমান ও জমিনের অধিবাসীরা—এমনকি গর্তের পিঁপড়া এবং মাছ পর্যন্ত—মানুষকে কল্যাণ শিক্ষাদানকারীর ওপর রহমত বর্ষণ করেন।"
(৪).
এবং সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী দ্বারা: "আলেমের জন্য আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি সমুদ্রের মাছ এবং গর্তের পিঁপড়াও।"
(৫).
তারা আরও দলিল পেশ করেছেন যে, ইবাদতকারী যখন মারা যায় তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, পক্ষান্তরে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
النفع لا ينقطع عمله، ما دام نفعُه الذي نُسب إليه.
واحتجوا بأنَّ الأنبياء إنَّما بُعثوا بالإحسان إلى الخَلْق وهدايتهم، ونفعهم في معاشهم ومعادهم- لم يُبعثوا بالخَلَوات والانقطاع عن الناس والترَهُّب، ولهذا أنكر النبي صلى الله عليه وسلم على أولئك النَّفر الذين هَمُّوا بالانقطاع للتعبد، وتَرك مخالطة الناس
(1)، ورأى هؤلاء التفرق في أمر الله، ونفع عباده، والإحسان إليهم، أفضل من الجمعية عليه بدون ذلك.
الصنف الرابع، قالوا: إن أفضل العبادة العمل على مرضاة الرب في كل وقت بما هو مُقتضى ذلك الوقت ووظيفته؛ فأفضلُ العبادات في وقت الجهادِ: الجهادُ، وإن آلَ إلى ترك الأوراد؛ مِنْ صلاة الليل وصيام النَّهار، بل ومِن ترك إتمام صلاة الفرض، كما في حالة الأمن.
والأفضل في وقت حضور الضيف- مثلًا-: القيام بحقِّه، والاشتغال به عن الوِرد المُستحب، وكذلك في أداء حقِّ الزوجة والأهل.
والأفضل في أوقات السَّحر: الاشتغال بالصَّلاة والقرآن والدُّعاء والذِّكر والاستغفار.
والأفضل في وقت استرشاد الطالب وتعليم الجاهل: الإقبال على تعليمه والاشتغال به.
--------------------------------------------
উপকার বা কল্যাণ যতক্ষণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে সম্পর্কিত থাকে, ততক্ষণ তার আমল বা প্রতিদান বিচ্ছিন্ন হয় না।
তারা দলিল হিসেবে পেশ করেন যে, নবিগণকে প্রেরণ করা হয়েছে সৃষ্টির প্রতি ইহসান বা সদাচরণ করা, তাদের হিদায়াত প্রদান করা এবং ইহকাল ও পরকালে তাদের উপকারের জন্য; তাঁদেরকে নির্জনতা অবলম্বন, মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা এবং বৈরাগ্যবাদের জন্য প্রেরণ করা হয়নি। এই কারণেই নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই একদল লোকের কঠোর সমালোচনা করেছেন যারা ইবাদতের উদ্দেশ্যে লোকালয় ত্যাগ করার ও মানুষের সাথে মেলামেশা বর্জন করার সংকল্প করেছিলেন
(১)। তারা মনে করেন যে, আল্লাহর নির্দেশে আত্মনিয়োগ করে তাঁর বান্দাদের উপকার ও তাদের প্রতি ইহসান করার নিমিত্তে মানুষের মাঝে বিচরণ করা, এসব ছাড়া কেবল আধ্যাত্মিক সংহতি বা নির্জনবাসের চেয়ে উত্তম।
চতুর্থ শ্রেণি: তারা বলেন যে, সর্বোত্তম ইবাদত হলো প্রতিটি সময়ে সেই কাজের মাধ্যমে রবের সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হওয়া, যা সেই সময়ের চাহিদা ও সেই সময়ের করণীয় কাজ। সুতরাং জিহাদের সময়ে সর্বোত্তম ইবাদত হলো জিহাদ করা, যদিও তার কারণে রাতের নামাজ ও দিনের রোজার মতো নিয়মিত অজিফাগুলো ত্যাগ করতে হয়; এমনকি নিরাপদ অবস্থার মতো ফরয নামাজ পূর্ণাঙ্গরূপে আদায় করা সম্ভব না হলেও (জিহাদই শ্রেষ্ঠ)।
আর উদাহরণস্বরূপ, মেহমান উপস্থিত থাকার সময় সর্বোত্তম কাজ হলো তার হক আদায় করা এবং নফল অজিফার পরিবর্তে তাকে সময় দেওয়া। একইভাবে স্ত্রী ও পরিবারের হক আদায়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
আর শেষ রাতের সময়গুলোতে সর্বোত্তম আমল হলো নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া, জিকির ও ইস্তিগফারে মশগুল থাকা।
আর কোনো শিক্ষার্থীর পথনির্দেশনা প্রদান বা কোনো অজ্ঞ ব্যক্তিকে শিক্ষা দেওয়ার সময় সর্বোত্তম আমল হলো তাকে শিক্ষা দেওয়ার দিকে মনোনিবেশ করা এবং এতেই ব্যস্ত থাকা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والأفضل في أوقات الأذان: تَرك ما هو فيه مِنْ وِرده، والاشتغال بإجابة المُؤَذِّن.
والأفضل في أوقات الصلوات الخَمس: الجِد والنُّصح في إيقاعها على أكمل الوجوه، والمبادرة إليها في أول الوقت، والخروج إلى الجامع، وإن بَعُد كان أفضل.
والأفضل في أوقات ضرورة المحتاج إلى المساعدة بالجاه، أو البدن، أو المال: الاشتغال بمساعدته، وإغاثة لَهْفَته، وإيثار ذلك على أورادك وخلوتك.
والأفضل في وقت قراءة القرآن: جمعيَّة القلب والهِمَّة على تدبره وتفهمه، حتى كأنَّ الله تعالى يخاطبك به، فتجمع قلبك على فهمه وتدبره، والعزم على تنفيذ أوامره أعظم من جمعية قلب مَنْ جاءه كتابٌ من السُّلطان على ذلك.
والأفضل في وقت الوقوف بعرفة: الاجتهاد في التَّضَرُّع والدُّعاء والذِّكر دون الصَّوم المُضعف عن ذلك.
والأفضل في أيام عَشر ذي الحِجَّة: الإكثار مِنْ التَّعبد، لا سِيَّما التكبير والتهليل والتحميد، فهو أفضل من الجهاد غير المُتعين.
والأفضل في العشر الأخير من رمضان: لُزوم المسجد فيه والخلوة والاعتكاف دون التصدي لمخالطة الناس والاشتغال بهم، حتى إنَّه أفضل من الإقبال على تعليمهم العِلم، وإقرائهم القرآن، عند كثيرٍ من العلماء.
والأفضل في وقت مرض أخيك المسلم- أو موته-: عِيادته، وحضور جنازته وتشييعه، وتقديم ذلك على خلوتك وجمعيتك.
والأفضل في وقت نُزول النَّوازل وأذى الناس لك: أداء واجب
আজানের সময়সমূহে সর্বোত্তম হলো: যে ওজিফায় (আমলে) রত আছে তা ত্যাগ করা এবং মুয়াজ্জিনের উত্তর দেওয়ার কাজে মশগুল হওয়া।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সমূহে সর্বোত্তম হলো: নামাজকে তার পরিপূর্ণ অবয়বে আদায়ের ক্ষেত্রে সচেষ্ট ও একনিষ্ঠ হওয়া, ওয়াক্তের শুরুতেই তা পালনে ত্বরান্বিত হওয়া এবং জামে মসজিদে গমন করা; আর দূরত্ব যত বেশি হবে তা তত বেশি উত্তম।
প্রভাব-প্রতিপত্তি, কায়িক শ্রম বা সম্পদের মাধ্যমে সাহায্যপ্রার্থীর সাহায্যের প্রয়োজনীয়তার মুহূর্তে সর্বোত্তম হলো: তাকে সাহায্য করার কাজে লিপ্ত হওয়া, তার আর্তনাদে সাড়া দেওয়া এবং একে নিজের ওজিফা ও নির্জন ইবাদতের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া।
কুরআন তিলাওয়াতের সময় সর্বোত্তম হলো: তা নিয়ে চিন্তা ও অনুধাবনে হৃদয়ের একাগ্রতা ও সংকল্পকে সমবেত করা, যেন মহান আল্লাহ এর মাধ্যমে আপনাকে সম্বোধন করছেন; ফলে আপনি আপনার অন্তরকে এর বুঝ ও গবেষণায় নিবিষ্ট করবেন। এর নির্দেশসমূহ বাস্তবায়নের সংকল্প করা সুলতানের পক্ষ থেকে কোনো পত্রপ্রাপ্ত ব্যক্তির একাগ্রতার চেয়েও মহত্তর হবে।
আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের সময় সর্বোত্তম হলো: রোনাজারি, দোয়া ও জিকিরে সর্বাত্মক চেষ্টা করা; এমন রোজা রাখা নয় যা এই কাজে দুর্বলতা সৃষ্টি করে।
জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনে সর্বোত্তম হলো: অধিক হারে ইবাদত করা, বিশেষ করে তাকবির, তাহলিল ও তাহমিদ পাঠ করা; যা ফরজে আইন নয় এমন জিহাদের চেয়েও উত্তম।
রমজানের শেষ দশকে সর্বোত্তম হলো: মসজিদে অবস্থান করা, নির্জনতা অবলম্বন ও ইতিকাফ করা; মানুষের সাথে মেলামেশা ও তাদের নিয়ে ব্যস্ত না হওয়া। এমনকি অনেক আলেমের মতে, এটি তাদের ইলম শিক্ষা দেওয়া এবং কুরআন পাঠ করানোর চেয়েও উত্তম।
আপনার মুসলিম ভাইয়ের অসুস্থতা বা মৃত্যুর সময়ে সর্বোত্তম হলো: তাকে দেখতে যাওয়া এবং তার জানাজা ও দাফনকার্যে অংশগ্রহণ করা; আপনার নির্জন ইবাদত ও আধ্যাত্মিক একাগ্রতার চেয়ে একে অগ্রাধিকার দেওয়া।
বিপদ-আপদ নাজিল হওয়া এবং মানুষের পক্ষ থেকে কষ্ট আসার সময়ে সর্বোত্তম হলো: ওয়াজিব আদায় করা।
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الصَّبر مع خُلطتك بهم، دون الهرب منهم، فإنَّ المؤمن الذي يُخالط الناس؛ ليصبر على أذاهم أفضل مِنْ الذي لا يخالطهم ولا يُؤذونه.
والأفضل خُلطتهم في الخير؛ فهي خير مِنْ اعتزالهم فيه، واعتزالهم في الشر، فهو أفضل مِنْ خلطتهم فيه، فإن علم أنه إذا خالطهم أزاله أو قَلَّلَه فخُلطتهم- حينئذٍ- أفضل من اعتزالهم.
فالأفضلُ في كل وقتٍ وحالٍ: إيثارُ مَرضاة الله في ذلك الوقت والحال، والاشتغال بواجب ذلك الوقت ووظيفته ومُقتضاه.
وهؤلاء هم أهل التعبُّد المُطلق، والأصناف قَبلهم أهل التعبد المُقَيَّد، فمتى خرج أحدهم عن النوع الذي تعلَّقَ به من العبادة وفارقه يَرى نفسه كأنه قد نقص وترك عبادته، فهو يَعبد الله على وجهٍ واحدٍ، وصاحب التعبد المطلق ليس له غرض في تعبدٍ بعينِه يُؤثره على غيره، بل غرضه تَتَبُّع مرضاة الله تعالى أين كانت؛ فمَدار تعبُّده عليها، فهو لا يزال متنقلًا في منازل العبودية، كلما رُفعت له مَنزلةٌ عَمِل على سيره إليها، واشتغل بها حتى تَلوح له منزلة أخرى، فهذا دأبُه في السير حتى ينتهي سيره، فإن رأيتَ العلماءَ رأيتَه معهم، وإن رأيتَ العُبَّاد رأيتَه معهم، وإن رأيتَ المجاهدين رأيتَه معهم، وإن رأيتَ الذَّاكرين رأيتَه معهم، وإن رأيتَ المُتَصَدِّقين المُحسنين رأيتَه معهم، وإن رأيتَ أربابَ الجمعيَّة وعُكُوف القلب على الله رأيتَه معهم، فهذا هو العبد المُطلق، الذي لم تَمْلكه الحدود، ولم تُقَيِّده القيود، ولم يَكن عملُه على مراد نفسِه وما فيه لِذَّتُها ورَاحتها من العبادات، بل هو على مرادِ ربِّه، ولو كانت راحة نفسه ولَذَّتها في سواه
(1).
--------------------------------------------
তাদের সাথে মেলামেশার ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করা এবং তাদের ছেড়ে পালিয়ে না যাওয়া। কেননা যে মুমিন মানুষের সাথে মেলামেশা করে এবং তাদের কষ্টদায়ক আচরণের ওপর ধৈর্য ধারণ করে, সে ঐ ব্যক্তির চেয়ে উত্তম যে তাদের সাথে মেলামেশা করে না এবং তারাও তাকে কষ্ট দেয় না।
আর কল্যাণের কাজে তাদের সাথে সম্পৃক্ত থাকাই উত্তম; কেননা কল্যাণের ক্ষেত্রে একাকী থাকার চেয়ে এটিই শ্রেয়। আর মন্দের ক্ষেত্রে তাদের থেকে পৃথক থাকাই উত্তম; এটি মন্দের মাঝে তাদের সাথে মিশে থাকার চেয়ে ভালো। তবে সে যদি জানে যে, তাদের সাথে মেলামেশা করলে সেই মন্দ দূর হবে অথবা হ্রাস পাবে, তবে সেক্ষেত্রে তাদের সাথে মেলামেশা করাই পৃথক থাকার চেয়ে উত্তম।
সুতরাং সর্বাবস্থায় এবং প্রতিক্ষণে যা শ্রেষ্ঠ তা হলো: সেই সময় ও অবস্থার প্রেক্ষিতে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ঐ সময়ের আবশ্যকীয় ইবাদত, দায়িত্ব ও চাহিদার কাজে লিপ্ত থাকা।
এরাই হলেন নিঃশর্ত ইবাদতকারী (আহলুত তাআব্বুদ আল-মুতলাক), আর এদের পূর্বোক্ত শ্রেণিগুলো হলো শর্তযুক্ত ইবাদতকারী (আহলুত তাআব্বুদ আল-মুকাইয়াদ)। তাদের কেউ যখন তার অভ্যস্ত ইবাদতের ধরণ থেকে বের হয়ে যায় বা তা ত্যাগ করে, তখন সে নিজেকে ত্রুটিপূর্ণ মনে করে এবং ভাবে যে সে তার ইবাদত ছেড়ে দিয়েছে। ফলে সে কেবল একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতেই আল্লাহর ইবাদত করে। কিন্তু নিঃশর্ত ইবাদতকারীর উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় যা সে অন্য সবকিছুর ওপর প্রাধান্য দেবে। বরং তার লক্ষ্য হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি যেখানেই থাকুক না কেন তা অনুসন্ধান করা; তার ইবাদত সেটিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। ফলে সে অবিরত দাসত্বের বিভিন্ন স্তরে বিচরণ করতে থাকে। যখনই তার সামনে কোনো উচ্চতর স্তর উন্মোচিত হয়, সে সেই অভিমুখে যাত্রা করে এবং তাতে আত্মনিয়োগ করে, যতক্ষণ না অন্য কোনো স্তরের ইঙ্গিত পায়। তার এই আধ্যাত্মিক যাত্রার সমাপ্তি পর্যন্ত এটাই তার নিয়মিত অভ্যাস। তাই আপনি যদি আলেমদের দেখেন, তবে তাকে তাদের সাথেই পাবেন। আপনি যদি ইবাদতকারীদের দেখেন, তবে তাকে তাদের সাথেই পাবেন। আপনি যদি মুজাহিদদের দেখেন, তবে তাকে তাদের মাঝেই পাবেন। আপনি যদি যিকিরকারীদের দেখেন, তাকে তাদের সাথেই পাবেন। আর আপনি যদি দানবীর ও সৎকর্মশীলদের দেখেন, তবে তাকে তাদের মাঝেই খুঁজে পাবেন। এমনকি আপনি যদি একাগ্রচিত্ত ও আল্লাহর প্রতি নিবিষ্ট হৃদয়ের অধিকারীদের দেখেন, তবে তাকে তাদের মাঝেই দেখতে পাবেন। তিনিই হলেন সেই ‘নিঃশর্ত বান্দা’, যাকে কোনো সীমারেখা আয়ত্ত করতে পারেনি এবং কোনো বাধ্যবাধকতা তাকে শৃঙ্খলিত করতে পারেনি। তার আমল নিজের নফসের ইচ্ছা কিংবা ইবাদতের মধ্যে নিজের স্বাদ ও আরাম খোঁজার জন্য নয়; বরং তার আমল হয় তার রবের ইচ্ছানুযায়ী, যদিও তার নফসের আরাম ও স্বাদ অন্য কিছুর মাঝে থেকে থাকে।
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وأمَّا قول المصنف رحمه الله: «مِنْ الأقوال والأعمال» - فكما تقدم من أنَّ العبادات متنوعة؛ منها عبادات بالقول وعبادات بالعمل، والقول إمَّا:
1 قول القلب.
2 وإمَّا قول اللِّسان.
فقول القلب مِنْ معانيه: العِلم، فإذا قال السلف مثلًا: «الإيمانُ قولٌ وعملٌ»، فهذا القول يشمل قولَ القلب الذي هو العِلم الذي هو التصديق.
فإذًا هذا العِلم بالنسبة للقلب قولٌ تعبُّديٌّ، فالله قد تعبَّدَنا به، فكلُّ ما نعلمه مِنْ أمور العلم النافع نحن نتعبد الله عز وجل به، فهذه عبودية وطاعة لله سبحانه وتعالى نقوم بها.
وقول اللِّسان: يُراد به النُّطق بالشَّهادتين عند العلماء، ويَخصونه بذلك.
والعمل إمَّا:
1 عمل القلب.
2 أو عمل اللسان.
3 أو عمل الجوارح.
أمَّا عمل اللِّسان فسائر الأذكار؛ مِنْ قراءة القرآن وغير ذلك مِنْ الأذكار الواردة في العبادات والأحوال والأزمنة المختلفة، ثم الأعمال.
وقول المصنف: «الأعمال الظَّاهرة والباطنة» - يشمل القول ويشمل العمل، فَمِنْ القول ما هو في الباطن، ومِن العمل ما هو
আর গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি: «কথামালা ও আমলসমূহ হতে» - ইতিপূর্বে যেমন আলোচিত হয়েছে যে, ইবাদতসমূহ বিভিন্ন প্রকারের; তন্মধ্যে কিছু কথার মাধ্যমে ইবাদত এবং কিছু আমলের মাধ্যমে ইবাদত। আর কথা হচ্ছে দুই প্রকার:
১. অন্তরের কথা।
২. অথবা জিহ্বার কথা।
অন্তরের কথার একটি অর্থ হলো: জ্ঞান (ইলম)। যেমন সালফগণ যখন বলেন: «ঈমান হলো কথা ও আমল», তখন এই 'কথা' অন্তরের কথাকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা হলো জ্ঞান তথা সত্যয়ন (তাসদিক)।
সুতরাং এই জ্ঞান অন্তরের ক্ষেত্রে একটি ইবাদতগত কথা; আল্লাহ আমাদেরকে এর মাধ্যমে ইবাদত করার বিধান দিয়েছেন। অতএব, উপকারী ইলমের যা কিছু আমরা জানি, তার মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর ইবাদত করি। এটি আল্লাহর প্রতি এক প্রকার দাসত্ব এবং আনুগত্য, যা আমরা সম্পাদন করি।
আর জিহ্বার কথা বলতে আলেমগণের নিকট শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্যবাণী) উচ্চারণ করাকে বোঝানো হয় এবং তাঁরা একে এর মাধ্যমেই নির্দিষ্ট করেন।
আর আমল হচ্ছে দুই প্রকার:
১. অন্তরের আমল।
২. অথবা জিহ্বার আমল।
৩. অথবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল।
জিহ্বার আমল হলো যাবতীয় জিকিরসমূহ; যেমন কুরআন তিলাওয়াত এবং অন্যান্য জিকির যা বিভিন্ন ইবাদত, অবস্থা ও সময়ের ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে। এরপর আমলসমূহ।
আর গ্রন্থকারের উক্তি: «প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য আমলসমূহ» - এটি কথা ও আমল উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। কেননা কিছু কথা রয়েছে যা অপ্রকাশ্য (বাতেন), আবার কিছু আমল রয়েছে যা...
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
في الباطن، وهكذا من القول ما هو في الظاهر، ومن العمل ما هو في الظاهر.
فالأعمال منها قلبيٌّ، ومن أعمال القلوب: الحُبُّ والخوف والرجاء والتوكل والإنابة والإخلاص، وهذه كلها أعمال قلبية باطنة، أي: في باطن الإنسان، والنبيُّ صلى الله عليه وسلم قد أشار بيده إلى صدره ثلاثًا، وقال: «التقوى هاهنا»
(1)، فهي إذًا عمل قلبي.
ثم أعمال الجوارح تنطبق على الحواس الخمس، وتنطبق- كذلك- على سائر أعضاء الإنسان.
فعلى الإنسان أن يَنتبه لهذه الأمور؛ فالصلاة- مثلًا- عبادة، وتتعلق بها أمور قلبية- أي: أمور باطنة- وأمور ظاهرة، ولأن الصلاة عمل فلا بد لها من نية، لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إنَّما الأعمال بالنيات»
(2)، والزكاة تفتقر إلى النية؛ فقد يُزكي الإنسان بنية خالصة، وقد يفعل ذلك رياء أو سُمعة أو غير ذلك، وكذلك الصيام والحج وصِدق الحديث، وأداء الأمانة وبِر الوالدين وصلة الأرحام، والوفاء بالعهود والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وجهاد الكفار والمنافقين، والإحسان للجار واليتيم والمسكين وابن السبيل، والمملوك من الآدميين والبهائم، وكذلك الدُّعاء والذِّكر والقراءة، وأمثال ذلك من العبادة.
ثم أشار المصنف إلى ما هو قَلبي مِنْ حُبِّ الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، وخشية الله والإنابة إليه، وإخلاص الدِّين له، والصبر لحكمه، والشكر لنعمه، والرِّضا بِقَدَرِه والتوكل عليه، والرجاء لرحمته،
--------------------------------------------
অন্তরে; এবং অনুরূপভাবে কথার কিছু অংশ প্রকাশ্য এবং কাজের কিছু অংশ প্রকাশ্য।
আমল বা কাজের মধ্যে কিছু রয়েছে কলবি বা অন্তরের। আর অন্তরের আমলসমূহ হলো: ভালোবাসা, ভয়, আশা, তাওয়াক্কুল (ভরসা), ইনাবাত (প্রত্যাবর্তন) এবং ইখলাস (একনিষ্ঠতা)। আর এই সবই হলো অভ্যন্তরীণ কলবি আমল, অর্থাৎ: মানুষের অন্তরের গভীরে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে তাঁর বুকের দিকে তিনবার ইশারা করেছেন এবং বলেছেন: «তাকওয়া এখানে»
(১); সুতরাং এটি একটি কলবি বা অন্তরের আমল।
অতঃপর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলসমূহ পঞ্চেন্দ্রিয়ের ওপর প্রযোজ্য হয় এবং অনুরূপভাবে মানুষের অন্যান্য সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপরও প্রযোজ্য হয়।
সুতরাং মানুষের উচিত এই বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা; উদাহরণস্বরূপ, সালাত একটি ইবাদত, এবং এর সাথে কলবি বা অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং বাহ্যিক বিষয় উভয়ই জড়িত। যেহেতু সালাত একটি আমল, তাই এর জন্য নিয়ত থাকা অপরিহার্য। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল»
(২); আর জাকাতও নিয়তের মুখাপেক্ষী; মানুষ কখনো বিশুদ্ধ নিয়তে জাকাত প্রদান করে, আবার কখনো তা লোকদেখানো বা সুখ্যাতির জন্য অথবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে করে থাকে। অনুরূপভাবে সিয়াম, হজ, সত্য কথা বলা, আমানত আদায় করা, পিতামাতার প্রতি সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ, কাফের ও মুনাফেকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা, প্রতিবেশী, এতিম, মিসকিন, মুসাফির এবং মানুষের মালিকানাধীন দাস ও পশুপাখির প্রতি দয়া বা ইহসান করা এবং একইভাবে দোয়া, জিকির, তিলাওয়াত এবং এই জাতীয় অন্যান্য ইবাদতসমূহ।
অতঃপর গ্রন্থকার সেইসব কলবি বা অন্তরের বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ভালোবাসা, আল্লাহকে ভয় করা, তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করা, তাঁর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করা, তাঁর ফয়সালার ওপর ধৈর্য ধারণ করা, তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা, তাঁর তাকদিরের ওপর সন্তুষ্ট থাকা, তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করা এবং তাঁর রহমতের আশা করার সাথে সম্পর্কিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহি রিসালাতিল উবূদিইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
والخوف من عذابه، وأمثال ذلك من العبادات.
ونحن نعلم أن من العبادات ما هي فرائض، ومنها ما هي نوافل، فقد تصلي فريضة وقد تصلي نافلة، وكذلك قد تُزَكِّي وقد تتصدق، وكذلك الصيام منه ما هو فريضة ومنه ما هو نافلة، والنوافل أمرها عظيم، إذ هي من جهة مُكَمِّلة للفرائض، ومِن جهة هي سبب في رفع درجات العبد.
* * *
এবং তাঁর আযাবের ভয়, আর এ জাতীয় অন্যান্য ইবাদতসমূহ।
আর আমরা জানি যে, ইবাদতসমূহের মধ্যে কিছু ফরয এবং কিছু নফল। আপনি যেমন ফরয সালাত আদায় করেন, তেমনি নফল সালাতও আদায় করেন। একইভাবে আপনি যাকাত প্রদান করেন এবং সদকাও করে থাকেন। ঠিক তেমনি সিয়ামের ক্ষেত্রেও কিছু ফরয এবং কিছু নফল রয়েছে। আর নফল ইবাদতসমূহের বিষয়টি অত্যন্ত মহত্ত্বপূর্ণ; কারণ তা একদিকে ফরয ইবাদতসমূহের পরিপূরক এবং অন্যদিকে তা বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ।
* * *