(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مشارق الأنوار النبوية من صحاح الأخبار المصطفوية القسم: كتب السنة
الكتاب: مشارق الأنوار النبوية من صحاح الأخبار المصطفوية
المؤلف: رضي الدين الصغاني أبو الفضائل الحسن بن محمد بن الحسن الصغاني الحنفي (577 - 650 هـ)
المحقق: توفيق محمود تكلة
(يطبع محققا على أربع نسخ خطية)
الناشر: دار اللباب للدراسات وتحقيق الترات
الطبعة: الطبعة: الأولى، 1439 هـ -2018 م
عدد الصفحات: 485
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 ذو الحجة 1446
মুশারিকুল আনওয়ারিন নাবাওয়িয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাওয়িয়্যাহ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: মুশারিকুল আনওয়ারিন নাবাওয়িয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাওয়িয়্যাহ
লেখক: রদ্বিউদ্দীন আস-সাগানি আবুল ফাদায়েল হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন হাসান আস-সাগানি আল-হানাফি (৫৭৭ - ৬৫০ হিজরি)
সম্পাদক: তাওফিক মাহমুদ তিকলাহ
(চারটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সম্পাদিত ও মুদ্রিত)
প্রকাশক: দারুল লুবাব লিদ দিরাসাত ওয়া তাহকিকিত তুরাস
সংস্করণ: সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৯ হিজরি -২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮৫
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৪ যুল হিজ্জাহ ১৪৪৬
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
كلمة شكرأبدأ بالشكر لصاحب الشكر والحمد، أهل الثناء والمجد، فأشكره على سابغ نعمه وعظيم آلائه، ووافر مننه على أن وفقنا لدين الإسلام، وأكرمنا بخدمة دينه وشريعته الغراء.
وأثني بالشكر لنبينا محمد صلى الله عليه وسلم الذي تركنا على المحجة البيضاء ليلها كنهارها، نور الوجود، ومعدن الجود.
وأثلث بالشكر لمن رباني وأمدني بعطائه والدي: محمود محمد حسن تكلة، ووالدتي: فاطمة توفيق تكلة، أطال الله علي ظلهم، وحباهم من خيره ما يسرهم.
ثم شيوخي الكرام وأسرتي: أزواجي وأولادي، وإخوتي، وأصدقائي، وأحبابي، وفريق عملي، الذين هم في الحقيقة جند من جنود خدمة الكتاب والسنة، ولولا عملهم لما أثمر عملنا شيئا.
أسأل الله العظيم رب العرش العظيم أن يثيب الكل ويعطيهم من الأجر مثل ما يستحقون وزيادة، ويتقبل منا ومنهم هذه الأعمال، ويبارك فيها ويجعلها مقبولة في قلوب المؤمنين.
কৃতজ্ঞতা প্রকাশআমি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসার মালিক, প্রশংসা ও মহিমার যোগ্য সত্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের মাধ্যমে শুরু করছি। তাঁর অগণিত নেয়ামত, মহান অনুগ্রহ এবং অফুরন্ত দান-দক্ষিণার জন্য আমি তাঁর শোকর করছি যে, তিনি আমাদের ইসলাম ধর্মের তাওফীক দিয়েছেন এবং তাঁর দ্বীন ও উজ্জ্বল শরীয়তের খেদমত করার মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত করেছেন।
দ্বিতীয়ত, আমি আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা পেশ করছি, যিনি আমাদের এমন এক স্বচ্ছ শুভ্র পথের ওপর রেখে গেছেন যার রাত দিনের মতোই উজ্জ্বল; যিনি অস্তিত্বের নূর এবং দানশীলতার আধার।
তৃতীয়ত, আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি যারা আমাকে লালন-পালন করেছেন এবং নিজেদের ত্যাগের মাধ্যমে আমাকে সমৃদ্ধ করেছেন—আমার পিতা: মাহমুদ মুহাম্মদ হাসান তাকলা, এবং আমার মাতা: ফাতেমা তাওফীক তাকলা। আল্লাহ তাআলা তাঁদের ছায়া আমার ওপর দীর্ঘায়িত করুন এবং তাঁদের তাঁর এমন কল্যাণ দান করুন যা তাঁদের আনন্দিত করবে।
এরপর আমার সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ ও আমার পরিবার: আমার স্ত্রীগণ, সন্তানসন্ততি, ভাইগণ, বন্ধু-বান্ধব, প্রিয়জন এবং আমার কর্মীবৃন্দ—যারা মূলত কিতাব ও সুন্নাহর খেদমতে নিয়োজিত একেকজন সৈনিক। তাঁদের পরিশ্রম না থাকলে আমাদের কাজ কোনো সুফল বয়ে আনত না।
আমি মহান আরশের রব মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি সকলকে প্রতিদান দেন এবং তাঁদের প্রাপ্য অনুযায়ী ও তার চেয়েও বেশি পুরস্কার দান করেন। তিনি আমাদের ও তাঁদের পক্ষ থেকে এই আমলগুলো কবুল করুন, এতে বরকত দান করুন এবং মুমিনদের অন্তরে একে গ্রহণযোগ্য করে দিন।
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
وأختم شكري لصاحب الفضيلة أخي العزيز وصديقي الغالي الشيخ المحقق: محمد خلوف العبد الله، صاحب دار اللباب، الذي أسأل الله أن يجعل إليها مقصد الألباب.
فللجميع مني حفظ الود والوفاء، وجميل الذكر والدعاء.
والحمد لله في البدء والختام.
* * *
পরিশেষে আমি আমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি ফযীলাতুশ শাইখ, আমার প্রিয় ভ্রাতা এবং পরম বন্ধু, গবেষক শাইখ মুহাম্মাদ খালূফ আল-আবদুল্লাহর প্রতি, যিনি দারুল লুবাব-এর স্বত্বাধিকারী; আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই প্রতিষ্ঠানকে জ্ঞানীদের গন্তব্যস্থলে পরিণত করেন।
তাঁদের সকলের প্রতি রইল আমার আন্তরিক ভালোবাসা ও আনুগত্য, এবং উত্তম স্মরণ ও দোয়া।
আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য শুরুতে এবং শেষে।
* * *
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المحققحمدا لله على ما أولى من سوابغ نعمه المتواترة، وشكرا لما أسدى من آلائه الباطنة والظاهرة، وصلاة وسلاما على سيدنا محمد المؤيد بالآيات والمعجزات الباهرة، المختص بجوامع الكلم وبدائع الحكم الجمة المتكاثرة، وعلى آله وصحبه وتابعيهم بإحسان في الدنيا والآخرة.
أما بعد:
فإن أحسن الحديث كتاب الله العظيم، وخير الهدي هدي محمد عليه أفضل الصلاة وأشرف التسليم، ولقد وفق الله - وله الحمد - في كل عصر طائفة يتفقهون في الدين، ويقتفون آثار سيد المرسلين، بيد أنهم الآن أقل من القليل لا يكادون يوجدون، ولكن لا يزالون كذلك خلفا عن سلف، وجيلا بعد جيل، وحينا بعد حين، كما أخبر به الصادق المصدوق الذي لا ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى، فقال صلى الله وسلم عليه وزاده فضلا وشرفا لديه: «لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق، حتى يأتي أمر الله وهم ظاهرون». وهذا علم من أعلام نبوته الظاهرة الباقية إلى أن يرث الله الأرض ومن عليها، وهو خير الوارثين
(1).
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
মুহাক্কিকের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তিনি যে সকল অবারিত ও ধারাবাহিক নি’মাতরাজি দান করেছেন সেজন্য। এবং কৃতজ্ঞতা তাঁর সেই সকল গোপন ও প্রকাশ্য নি’মতের জন্য যা তিনি প্রদান করেছেন। আর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যাকে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি ও দেদীপ্যমান মুজিযাসমূহ দ্বারা শক্তিশালী করা হয়েছে; যিনি সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণী (জাওয়ামিউল কালিম) এবং অসংখ্য চমৎকার হিকমত বা প্রজ্ঞার অধিকারী। আর তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং ইহকাল ও পরকালে ইহসানের সাথে তাদের অনুসারীদের ওপরও দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর সুমহান কিতাব, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ, যাঁর ওপর বর্ষিত হোক সর্বোত্তম সালাত ও সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সালাম। আর আল্লাহ তাআলা—সকল প্রশংসা তাঁরই—প্রত্যেক যুগে এমন এক দলকে তাওফীক দিয়েছেন যারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করেন এবং রাসূলগণের সর্দারের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। তবে তারা বর্তমানে সংখ্যার দিক থেকে অত্যল্প, যাদের প্রায় খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর। কিন্তু তারা একইভাবে পূর্বসূরীদের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এবং যুগে যুগে বিদ্যমান থাকবেন; যেমনটি সংবাদ দিয়েছেন সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ (রাসূল), যিনি নিজ খেয়ালখুশি মতো কথা বলেন না; বরং তা কেবল প্রত্যাদেশ (অহি) যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন এবং তাঁর নিকট তাঁর মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি করুন—: «আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, এমনকি আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) আসা পর্যন্ত তারা বিজয়ী অবস্থাতেই থাকবে»। আর এটি তাঁর সুস্পষ্ট নবুওয়াতের অন্যতম নিদর্শন যা অবশিষ্ট থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহ যমীন ও এর ওপর যা কিছু আছে তার উত্তরাধিকারী হন, আর তিনিই শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
ومن ثم انتهج هذا المنهج الأبهج الأقوم من اصطفاه الله من عباده المؤمنين كالخلفاء الراشدين والصحابة والتابعين والعلماء العاملين، ومن خلفهم ممن ينشر الدين القويم، ويثبت الله به الحجة والمحجة على العالمين، ومنهم عالمنا الجليل الحسن بن محمد بن الحسن الصغاني، الذي أفنى عمره، بل أحياه في إحياء حديث سيد المرسلين ونشر سنته بين العالمين، والذب عنها وبيانها بيانا واضحا لا يحوطه لبس ولا شبهة.
وفيما سيأتي ترجمة لهذا الإمام الفذ ولكتابه الماتع: «مشارق الأنوار».
* * *
অতঃপর, আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের মধ্য থেকে যাদের মনোনীত করেছেন, যেমন খোলাফায়ে রাশেদীন, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন এবং আমলকারী উলামায়ে কেরাম, তাঁরা এই আনন্দময় ও সুদৃঢ় পথ অবলম্বন করেছেন। আর তাঁদের পরবর্তী সময়ে যাঁরা এই সঠিক দ্বীন প্রচার করেন এবং আল্লাহ যাঁদের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর নিকট প্রমাণ ও সুস্পষ্ট পথ সুপ্রতিষ্ঠিত করেন, তাঁরাও এই পথ অনুসরণ করেছেন। তাঁদেরই অন্তর্ভুক্ত হলেন আমাদের মহান আলিম হাসান বিন মুহাম্মদ বিন হাসান আস-সাগানি, যিনি তাঁর জীবনকে অতিবাহিত করেছেন, বরং রাসূলগণের সরদারের হাদীস পুনরুজ্জীবিতকরণ এবং বিশ্ববাসীর মধ্যে তাঁর সুন্নাহ প্রচারের মাধ্যমে জীবনকে সার্থক করেছেন। তিনি সুন্নাহর প্রতিরক্ষা করেছেন এবং এর এমন এক সুস্পষ্ট বর্ণনা প্রদান করেছেন যাতে কোনো প্রকার অস্পষ্টতা বা সংশয় নেই।
পরবর্তী অংশে এই অনন্য ইমাম এবং তাঁর মনোজ্ঞ গ্রন্থ: ‘মাশারিগুল আনওয়ার’-এর জীবনী ও পরিচিতি পেশ করা হচ্ছে।
* * *
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
القسم الأول ترجمة الإمام الصغاني (1)
اسمه ونسبه:هو الشيخ الإمام العلامة المحدث إمام اللغة، رضي الدين أبو الفضائل الحسن بن
--------------------------------------------
প্রথম অংশ: ইমাম সঘানির জীবনী (১)
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন শাইখ, ইমাম, আল্লামা, মুহাদ্দিস ও ভাষাবিজ্ঞানের ইমাম, রাযিয়্যুদ্দীন আবুল ফাদায়িল আল-হাসান বিন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
محمد بن الحسن بن حيدر بن علي بن إسماعيل القرشي العدوي العمري الصغاني - أو الصاغاني - الأصل، الهندي اللهوري المولد، البغدادي الوفاة، المكي المدفن، الفقيه الحنفي.
مولده ونشأته:ولد الإمام الصغاني رحمه الله بلاهور في الهند يوم الخميس عاشر صفر، سنة (577 هـ) في أيام خسروملك بن خسروشاه الغزنوي.
نشأ رحمه الله بغزنة في كنف أسرة ذات ثقافة ودين، كان أبوه عالما فاضلا، ووجه إليه اهتمامه وتربيته، فنمى فيه حب اللغة وآدابها، والحديث وأصوله، والفقه وفروعه، وأخذ العلم كذلك عن علماء غزنة ومكة وبغداد واليمن في رحلاته التي قام بها طلبا للعلم، حتى برع واشتهر بجميع العلوم وخاصة اللغة والحديث وصار مقصدا لطلبة العلم وأهله رحمه الله.
رحلاته العلمية:رحل الإمام رحمه الله إلى أماكن كثيرة، منها: مكة وعدن والهند وبغداد واليمن، وسمع بهما على العلماء والمحدثين.
وعن رحلته وأسفاره يتحدث العلماء:
قال ابن أنجب وياقوت: سافر إلى اليمن، ودخل الحجاز، وحج وجاور، وعاد إلى عدن، ونفق له بها سوق، ومالوا إليه واعتقدوا فيه، وقرؤوا عليه، وانتفعوا به.
وقال أبو المحاسن جمال الدين: ونشأ بغزنة ودخل بغداد فسمع الكثير في عدة بلاد ورحل، وكان إليه المنتهى في علم العربية واللغة.
মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান বিন হায়দার বিন আলী বিন ইসমাঈল আল-কুরাশী আল-আদাবী আল-উমারী আল-সগানী —অথবা আল-সাঘানী— বংশগতভাবে, ভারতের লাহোরে জন্মসূত্রে, বাগদাদে মৃত্যুসূত্রে, মক্কায় কবরসূত্রে, হানাফী ফকীহ।
তাঁর জন্ম ও লালন-পালন:ইমাম সগানী (রহিমাহুল্লাহ) ৫ ৭৭ হিজরীর ১০ই সফর বৃহস্পতিবার গজনভী শাসক খসরু মালিক বিন খসরু শাহ-এর আমলে ভারতের লাহোরে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) একটি সংস্কৃতিবান ও ধার্মিক পরিবারের তত্ত্বাবধানে গজনায় বেড়ে ওঠেন। তাঁর পিতা ছিলেন একজন গুণী আলেম, যিনি তাঁর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেন ও তাঁকে লালন-পালন করেন। ফলে তাঁর মধ্যে ভাষা ও সাহিত্য, হাদীস ও উসূলে হাদীস এবং ফিকহ ও এর শাখা-প্রশাখার প্রতি ভালোবাসা গড়ে ওঠে। জ্ঞান অন্বেষণের উদ্দেশ্যে তাঁর সফরের সময় তিনি গজনা, মক্কা, বাগদাদ এবং ইয়ামেনের আলেমদের কাছ থেকেও জ্ঞান অর্জন করেন। পরিশেষে তিনি সমস্ত বিদ্যায়, বিশেষ করে ভাষা ও হাদীস শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং খ্যাতি লাভ করেন। ফলে তিনি শিক্ষার্থীদের এবং জ্ঞানপিপাসুদের গন্তব্যস্থলে পরিণত হন (রহিমাহুল্লাহ)।
তাঁর ইলমী সফরসমূহ:ইমাম (রহিমাহুল্লাহ) মক্কা, এডেন, ভারত, বাগদাদ ও ইয়ামেনসহ বহু স্থানে ভ্রমণ করেছেন এবং সেখানে আলেম ও মুহাদ্দিসদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন।
তাঁর সফর ও পর্যটন সম্পর্কে আলেমগণ বলেন:
ইবনে আনজাব ও ইয়াকুত বলেন: তিনি ইয়ামেন সফর করেছেন, হিজাজে প্রবেশ করেছেন, হজ সম্পন্ন করেছেন ও সেখানে অবস্থান করেছেন এবং পুনরায় এডেনে ফিরে আসেন। সেখানে তাঁর বেশ সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে, মানুষ তাঁর প্রতি অনুরাগী হয় এবং তাঁর ওপর আস্থা পোষণ করে। তারা তাঁর নিকট পড়াশোনা করে এবং তাঁর মাধ্যমে উপকৃত হয়।
আবু আল-মাহাসিন জামালুদ্দীন বলেন: তিনি গজনায় বেড়ে ওঠেন এবং বাগদাদে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন দেশে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেন ও সফর করেন। আরবি ও ভাষাবিজ্ঞানে তিনি ছিলেন চূড়ান্ত পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
وقال غيره: جاور بمكة سنين كثيرة، وكان يكتب في خطه الملتجئ إلى حرم الله تعالى، واقتدى به في كتابه ذلك شيخنا اللغوي مجد الدين الشيرازي.
وفي رحلته إلى مكة سمع من: أبي الفتوح نصر بن الحصري «صحيح البخاري» و «مسند الشافعي».
وفي بغداد سمع من: سعيد بن محمد بن الرزاز، وسمع «صحيح البخاري» على أبي سعد ثابت بن مشرف، وكذلك قرأه على عبد العزيز بن أحمد بن مسعود الناقد كلاهما عن أبي الوقت السجزي.
وبعدن سمع من: إبراهيم بن أحمد بن عبد الله بن محمد القريظي.
وبالهند سمع من: سعد الدين خلف بن محمد بن إبراهيم بن يعقوب الكردري الحسنابادي، والنظام محمد بن الحسن بن أسعد المرغيناني.
وقال اللكنوي: ورحل إلى غزنة يدرس ويفيد بها، ثم دخل العراق وأخذ عن علمائها واستجاز عن جمع كثير من العلماء، ثم رحل إلى مكة، فحج وأقام بها مدة، وسمع الحديث بها وببلدة عدن، ثم رجع إلى بغداد سنة (615 هـ) في أيام الناصر لدين الله الخليفة العباسي، فطلبه وخلع عليه، وأرسله بالرسالة الشريفة إلى صاحب الهند شمس الدين، فبقي بها مدة ثم خرج من الهند سنة (624 هـ) فحج ودخل اليمن، ثم عاد إلى بغداد ثم أعيد إلى الهند رسولا من حضرة المستنصر بالله العباسي إلى رضية ملكة الهند، ورجع إلى بغداد سنة (637 هـ).
وكما كان يستفيد من رحلاته كذلك كان يفيد كما ذكر ابن أنجب وياقوت عن إقبال أهل اليمن عليه.
অন্য একজন বলেছেন: তিনি মক্কায় দীর্ঘ বছর অবস্থান করেছেন। তিনি তার হস্তাক্ষরে 'আল্লাহ তাআলার হারামের আশ্রয়প্রার্থী' লিখতেন। তার এই লিখনশৈলীতে আমাদের উস্তাদ ভাষাবিদ মাজদুদ্দীন আশ-শিরাজি তাকে অনুসরণ করেছেন।
মক্কা ভ্রমণের সময় তিনি আবুল ফুতুহ নাসর বিন আল-হুসরি-এর নিকট ‘সহিহুল বুখারি’ এবং ‘মুসনাদে শাফিঈ’ শ্রবণ করেছেন।
বাগদাদে তিনি সাঈদ বিন মুহাম্মদ বিন আর-রাজজাজ-এর নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন। তিনি আবু সাদ সাবিত বিন মুশাররাফ-এর নিকট ‘সহিহুল বুখারি’ শ্রবণ করেন। একইভাবে তিনি এটি আব্দুল আজিজ বিন আহমাদ বিন মাসউদ আন-নাক্বিদ-এর নিকট পাঠ করেন, তারা উভয়েই আবু আল-ওয়াকত আস-সিজজি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
আদেন শহরে তিনি ইবরাহিম বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইজি-এর নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন।
ভারতে তিনি সা’দুদ্দীন খালাফ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন ইয়াকুব আল-কারদারি আল-হাসানাবাদি এবং নিজাম মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আস’আদ আল-মারগিনানি-এর নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন।
আল-লাখনবি বলেন: তিনি গজনীতে সফর করেন এবং সেখানে পাঠদান ও জ্ঞান বিতরণ করেন। এরপর তিনি ইরাকে প্রবেশ করেন এবং সেখানকার আলেমদের থেকে ইলম অর্জন করেন এবং বহু আলেমের নিকট থেকে ইজাজত গ্রহণ করেন। এরপর তিনি মক্কায় সফর করেন এবং হজ পালন করে সেখানে কিছুদিন অবস্থান করেন। সেখানে এবং আদেন শহরে তিনি হাদীস শ্রবণ করেন। অতঃপর তিনি ৬১৫ হিজরিতে আব্বাসীয় খলিফা আন-নাসির লি-দীনিল্লাহর আমলে বাগদাদে ফিরে আসেন। খলিফা তাকে তলব করেন এবং সম্মানসূচক পোশাক পরিধান করান। অতঃপর তাকে রাজকীয় পত্রসহ ভারতের অধিপতি শামসুদ্দীনের নিকট পাঠান। সেখানে তিনি দীর্ঘকাল অবস্থান করেন এবং ৬২৪ হিজরিতে ভারত ত্যাগ করেন। এরপর তিনি পুনরায় হজ করেন এবং ইয়ামেনে প্রবেশ করেন। পুনরায় বাগদাদে ফিরে আসেন। অতঃপর তাকে আব্বাসীয় খলিফা আল-মুস্তানসির বিল্লাহর পক্ষ থেকে ভারতের সম্রাজ্ঞী রাজিয়ার নিকট দূত হিসেবে পুনরায় ভারতে পাঠানো হয়। অবশেষে তিনি ৬৩৭ হিজরিতে বাগদাদে ফিরে আসেন।
তিনি যেভাবে তার সফরগুলো থেকে উপকৃত হতেন, তেমনিভাবে অন্যদেরও উপকৃত করতেন, যেমনটি ইবনুল আনজাব এবং ইয়াকুত ইয়ামেনবাসীদের তার প্রতি অনুরাগী হওয়া সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وكان يقرأ عليه بعدن «معالم السنن» للخطابي، وكان معجبا بهذا الكتاب وبكلام مصنفه، ويقول: إن الخطابي جمع لهذا الكتاب جراميزه
(1).
وكان يقول لأصحابه: احفظوا «غريب أبي عبيد» القاسم بن سلام فمن حفظه ملك ألف دينار، فإني حفظته فملكتها، وأشرت على بعض أصحابي بحفظه فحفظه وملكها.
ثناء العلماء عليه:قال الحافظ الدمياطي: كان شيخا صالحا، صدوقا، صموتا عن فضول الكلام، إماما في اللغة والفقه والحديث.
وقال عنه العلامة ابن الملك صاحب «المبارق شرح المشارق»: كان إماما دينا وعالما متقنا.
وقال ابن أنجب: قرأت عليه المقامات الحريرية حفظا وغيرها، وكان خيرا، حسن الطريقة، جميل الأمر، ظاهر النسك، وقورا.
قال ياقوت الحموي: كان الغالب عليه علم اللغة والأحاديث النبوية، وصنف كتابا في اللغة سماه: «مجمع البحرين» جمع له فيه ما لم يجمع لأحد من أهل هذا العلم، وله من الفضائل ما شاع وذاع.
وقال ابن الفوطي - وكان ممن قرأ عليه الأدب -: كان شيخ وقته ومقدم أهل زمانه في علم اللغة وفن الأدب، مع معرفته بعلم الحديث والفقه على مذهب الإمام أبي حنيفة رحمه الله، وكان عابدا زاهدا كثير الصمت.
--------------------------------------------
আদনে তার কাছে খাত্তাবীর «মাআলিমুস সুনান» পড়া হতো। তিনি এই কিতাব এবং এর লেখকের বক্তব্যের প্রতি মুগ্ধ ছিলেন এবং বলতেন: খাত্তাবী এই কিতাবটির জন্য নিজের সর্বস্ব নিয়োগ করেছেন
(১)।
তিনি তার সঙ্গীদের বলতেন: তোমরা আবু উবাইদ কাসেম বিন সালামের «গারীব» মুখস্থ করো। যে এটি মুখস্থ করবে সে এক হাজার দীনারের মালিক হবে। কারণ আমি এটি মুখস্থ করেছিলাম এবং এর মালিক হয়েছিলাম। আমি আমার কয়েকজন সঙ্গীকে এটি মুখস্থ করার পরামর্শ দিয়েছিলাম, তারা তা মুখস্থ করেছে এবং এর মালিক হয়েছে।
তার সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা:হাফেজ দিমইয়াতি বলেন: তিনি ছিলেন একজন নেককার শায়খ, সত্যবাদী, অনর্থক কথা থেকে বিমুখ এবং ভাষা, ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্রে একজন ইমাম।
‘আল-মাবারিক শারহুল মাশারিক’ গ্রন্থের লেখক আল্লামা ইবনুল মালিক তার সম্পর্কে বলেন: তিনি ছিলেন একজন দ্বীনদার ইমাম এবং সুদক্ষ আলিম।
ইবনে আনজাব বলেন: আমি তার কাছে মুখস্থভাবে «মাকামাতে হারীরী» ও অন্যান্য কিতাব পড়েছি। তিনি ছিলেন কল্যাণময় ব্যক্তি, উত্তম পদ্ধতির অনুসারী, সুন্দর স্বভাবসম্পন্ন, একনিষ্ঠ ইবাদতগুজার এবং গাম্ভীর্যপূর্ণ।
ইয়াকুত আল-হামাবী বলেন: তার ওপর ভাষাবিজ্ঞান ও হাদিসে নববীর আধিপত্য ছিল প্রবল। তিনি ভাষা বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করেন যার নাম দিয়েছেন: «মাজমাউল বাহরাইন», এতে তিনি এমন কিছু একত্রিত করেছেন যা এই শাস্ত্রের অন্য কোনো পণ্ডিতের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তার বহু গুণের কথা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।
ইবনুল ফুতী বলেন—যিনি তার কাছে সাহিত্য পড়েছিলেন—: তিনি ছিলেন তার সময়ের শ্রেষ্ঠ শায়খ এবং ভাষাবিজ্ঞান ও সাহিত্য শিল্পে নিজ যুগের অগ্রগণ্য ব্যক্তি। এর পাশাপাশি তিনি ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মাযহাব অনুযায়ী হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রে অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি ছিলেন ইবাদতগুজার, দুনিয়াবিমুখ এবং অধিক মৌনতা অবলম্বনকারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
وقد رثاه حين حمل إلى مكة ليدفن فيها:
أقول والشمل في ذيل النوى عثرا
… يوم الوداع ودمع العين قد كثرا
أبا الفضائل قد زودتني أسفا
… أضعاف ما زدت قدري في الورى أثرا
قد كنت تودع سمعي الدر منتظما
… فخذه من جفن عيني الآن منتشرا
وقال جمال الدين يوسف بن تغري بردي: المحدث الفقيه الحنفي اللغوي الإمام صاحب التصانيف، وكان إليه المنتهى في علم العربية واللغة.
وقال ابن قطلوبغا: كان إماما في كل فن.
وقال الذهبي: الشيخ، الإمام، العلامة، المحدث، إمام اللغة، الفقيه، صاحب التصانيف، كان إليه المنتهى في اللسان العربي.
وقال السيوطي وغيره: كان إليه المنتهى في اللغة.
وقال الكفوي: الشيخ الإمام العالم الرباني، والعارف بالأحكام والمعاني، كان فقيها محدثا، وله مشاركة في غير العلوم.
وقال ابن العماد الحنبلي: كان إليه المنتهى في معرفة اللغة، وله مصنفات كبار في ذلك، وله بصر في الفقه مع الدين والأمانة.
وقال البلكرامي: مولانا الحسن الصغاني اللاهوري رحمه الله بشر ملكي، وعنصر فلكي، من العلماء الربانيين، والكملآء النورانيين.
وقال الشيخ عبد الحي اللكنوي: كان شيخا صالحا، صموتا عن فضول الكلام، فقيها، محدثا، لغويا، ذا مشاركة تامة في العلوم.
وقال: سمع الحديث بمكة وعدن والهند من شيوخ كثيرين وأدرك الكبار،
যখন তাকে দাফন করার জন্য মক্কায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তিনি তাঁর শোকগাঁথা পাঠ করেন:
আমি বলছি, যখন বিচ্ছেদের আঁচলে মিলন হোঁচট খেয়েছে
… বিদায়ের দিনে আর চোখের অশ্রু হয়েছে অঝোর।
হে গুণের আধার! আপনি আমাকে এমন শোকাতুর করেছেন
… যা সৃষ্টিজগতের মাঝে আমার মর্যাদায় আপনার রাখা প্রভাবের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি।
আপনি আমার কানে সুশৃঙ্খল মুক্তোর মালা গেঁথে দিতেন
… এখন সেই মুক্তোগুলো আমার চোখের পাতা থেকে ছড়িয়ে পড়া অবস্থায় গ্রহণ করুন।
জামাল উদ্দিন ইউসুফ বিন তাগরি বারদি বলেন: তিনি মুহাদ্দিস, ফকিহ, হানাফি, ভাষাবিদ, ইমাম এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা ছিলেন। আরবি সাহিত্য ও ভাষাবিজ্ঞানে তিনিই ছিলেন চূড়ান্ত মানদণ্ড।
ইবনে কুতলুবুগা বলেন: তিনি প্রতিটি শাস্ত্রে ইমাম ছিলেন।
আয-যাহাবি বলেন: শাইখ, ইমাম, আল্লামা, মুহাদ্দিস, ভাষাতত্ত্বের ইমাম, ফকিহ, বহু গ্রন্থের প্রণেতা; আরবি ভাষার জ্ঞানে তিনিই ছিলেন চূড়ান্ত শিখর।
আস-সুয়ূতি ও অন্যান্যরা বলেন: ভাষাতত্ত্বে তিনিই ছিলেন চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ।
আল-কাফাবি বলেন: শাইখ, ইমাম, রাব্বানি আলেম এবং বিধিবিধান ও অর্থতত্ত্বের গভীর জ্ঞানের অধিকারী। তিনি ফকিহ ও মুহাদ্দিস ছিলেন এবং অন্যান্য বিজ্ঞানসমূহেও তাঁর বিশেষ পাণ্ডিত্য ছিল।
ইবনে আল-ইমাদ আল-হাম্বালি বলেন: ভাষাজ্ঞানে তিনি সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিলেন, এ বিষয়ে তাঁর বৃহৎ সংকলনসমূহ রয়েছে। দ্বীনদারি ও আমানতদারির পাশাপাশি ফিকহ শাস্ত্রেও তাঁর গভীর অন্তর্দৃষ্টি ছিল।
আল-বিলগ্রামি বলেন: আমাদের মাওলানা হাসান আস-সাগানি আল-লাহোরি (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন ফেরেশতাসুলভ মানব, এক মহাজাগতিক সত্তা; তিনি রাব্বানি আলেম ও নূরানি কামেল পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
শাইখ আব্দুল হাই আল-লাখনবি বলেন: তিনি একজন নেককার শাইখ ছিলেন, অনর্থক কথা থেকে সর্বদা নীরব থাকতেন। তিনি ছিলেন ফকিহ, মুহাদ্দিস, ভাষাবিদ এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে তাঁর পূর্ণ দখল ছিল।
তিনি আরও বলেন: তিনি মক্কা, এডেন ও ভারতে অসংখ্য শাইখের নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং বড় বড় মনিষীদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
وجمع وصنف، ووثق وضعف، وسارت بتصانيفه الركبان، وخضع لعلمه علماء الزمان.
وقال أبو محمد الطيب: كان إماما كبيرا، عالما عاملا بارعا، فاضلا متفننا كاملا، عارفا بالنحو واللغة، والتفسير والحديث والفقه على مذهب الإمام أبي حنيفة.
شيوخه:شيوخ الإمام الصغاني كثيرون، منهم:
1 - أبوه: محمد بن الحسن الصغاني.
2 - أبو حفص عمر بن علي بن أبي بكر بن عبد الجليل الفرغاني المرغيناني أخذ عنه الفقه الحنفي.
3 - أبو منصور سعيد بن محمد بن عمر المعروف ب: ابن الرزاز، المفتي البغدادي، أخذ عنه الحديث في بغداد.
4 - الإمام الحافظ شيخ القراء برهان الدين أبو الفتوح نصر بن أبي الفرج محمد بن علي البغدادي، نزيل مكة، أخذ عنه الحديث.
5 - أبو عبد الله محمد بن أحمد بن سليمان بن بطال الإمام المشهور ب: بطال الركبي، نسبة إلى قبيلة كبيرة يقال لهم: الركب، يسكنون اليمن.
6 - القاضي إبراهيم بن أحمد بن سالم القريظي، سمع منه الحديث.
7 - القاضي سعد الدين بن خلف بن محمد الكردري الحسنابادي.
8 - الشيخ أبو سعد ثابت بن مشرف، أخذ عنه الحديث.
9 - الشيخ المحدث عبد العزيز بن أحمد بن مسعود الناقد، أخذ عنه الحديث.
তিনি (উপাদান) সংগ্রহ করেছেন ও সংকলন করেছেন, নির্ভরযোগ্য বর্ণনা করেছেন ও দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি দেশ-বিদেশে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং সমকালীন আলিমগণ তাঁর ইলমের কাছে মস্তক অবনত করেছেন।
আবু মুহাম্মদ আত-তৈয়িব বলেন: তিনি ছিলেন একজন মহান ইমাম, আমলকারী ও দক্ষ আলিম, শ্রেষ্ঠ ও পূর্ণাঙ্গ পণ্ডিত। তিনি ইমাম আবু হানিফার মাযহাব অনুযায়ী নাহু, লুগাত, তাফসির, হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ ছিলেন।
তাঁর শিক্ষকগণ:ইমাম সাগানীর শিক্ষকগণ সংখ্যায় অনেক, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - তাঁর পিতা: মুহাম্মদ বিন হাসান আল-সাগানী।
২ - আবু হাফস উমর বিন আলী বিন আবু বকর বিন আব্দুল জলীল আল-ফারগানী আল-মারগীনানী; তাঁর নিকট থেকে তিনি হানাফী ফিকহ গ্রহণ করেছেন।
৩ - আবু মনসুর সাঈদ বিন মুহাম্মদ বিন উমর, যিনি ইবনুর রাযযায নামে প্রসিদ্ধ, বাগদাদের মুফতি; বাগদাদে তাঁর নিকট থেকে তিনি হাদিস গ্রহণ করেছেন।
৪ - ইমাম হাফিজ শায়খুল কুররা বুরহানুদ্দীন আবুল ফুতুহ নাসর বিন আবুল ফারাজ মুহাম্মদ বিন আলী আল-বাগদাদী, যিনি মক্কায় অবস্থান করতেন; তাঁর নিকট থেকে তিনি হাদিস গ্রহণ করেছেন।
৫ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন সুলাইমান বিন বাত্তাল, তিনি বাত্তাল আল-রুকবী নামে খ্যাত ইমাম; এটি একটি বড় গোত্রের সম্বন্ধ, যাদেরকে 'রুকব' বলা হয় এবং তারা ইয়ামেনে বসবাস করে।
৬ - কাযী ইব্রাহিম বিন আহমদ বিন সালিম আল-কুরাইযী; তাঁর থেকে তিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন।
৭ - কাযী সাদউদ্দীন বিন খালাফ বিন মুহাম্মদ আল-কারদারী আল-হাসনাবাদী।
৮ - শায়খ আবু সাদ সাবিত বিন মুশাররাফ; তাঁর নিকট থেকে তিনি হাদিস গ্রহণ করেছেন।
৯ - শায়খ মুহাদ্দিস আব্দুল আজিজ বিন আহমদ বিন মাসউদ আন-নাক্বিদ; তাঁর নিকট থেকে তিনি হাদিস গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
تلامذته:تقدم معنا أن الإمام الصغاني كان كثير الرحلة، يفيد ويستفيد، سمع وأسمع ونشر علمه في بغداد والهند والسند واليمن، فلاشك بوجود الكثير من تلامذته ذكر بعضهم، ومن جهل أو خفي عنا أكثر، وممن ذكر:
1 - أكثرهم تلقيا عنه وأشهرهم علما وفضلا الحافظ الدمياطي، شيخ الحافظ الذهبي.
2 - ابنه أبو السعادات محمد بن الحسن بن محمد بن حيدر بن إسماعيل، أخذ عن أبيه وانتفع به.
3 - وزير المستعصم: عز الدين أبو الفضل محمد بن الوزير مؤيد الدين محمد ابن العلقمي.
4 - القاضي سليمان بن حمزة.
5 - محمد بن عمر بن محمد بن أبي بكر بن عبد الواسع بن علي بن أبي القاسم الهروي العجمي أبو عبد الله الصالحي، يعرف ب «محمود الأعسر».
6 - الأديب موفق الدين عبد القاهر بن محمد بن علي بن عبد الله بن عبد العزيز الفوطي البغدادي.
7 - أبو الربيع سليمان بن الفقيه بطال محمد بن أحمد بن محمد بن سليمان بن بطال الركبي.
8 - برهان الدين محمود بن أسعد البلخي.
9 - محمد بن حسن بن علي التميمي الفارسي.
তাঁর ছাত্রগণ:আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, ইমাম সাগানি প্রচুর ভ্রমণকারী ছিলেন, তিনি জ্ঞান দান করতেন এবং অর্জন করতেন। তিনি বাগদাদ, ভারত, সিন্ধু ও ইয়ামানে হাদিস শ্রবণ করেছেন ও শুনিয়েছেন এবং তাঁর ইলম প্রচার করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তাঁর অসংখ্য ছাত্র রয়েছে যাদের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, আর যাদের সম্পর্কে আমরা জানি না বা আমাদের নিকট অজ্ঞাত তাঁদের সংখ্যাই অধিক। যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - তাঁর নিকট থেকে সর্বাধিক জ্ঞান অর্জনকারী এবং জ্ঞান ও মর্যাদায় সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলেন হাফিজ দুমাইয়াতি, যিনি হাফিজ যাহাবির উস্তাদ।
২ - তাঁর পুত্র আবু আল-সাআদাত মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন হায়দার বিন ইসমাইল; তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন এবং তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন।
৩ - মুসতাসিম-এর উজির: ইযযুদ্দিন আবু আল-ফাদল মুহাম্মদ বিন আল-ওয়াজির মুআইয়াদুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনুল আলকামি।
৪ - কাজি সুলাইমান বিন হামযাহ।
৫ - মুহাম্মদ বিন উমর বিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আব্দুল ওয়াসি বিন আলি বিন আবিল কাসিম আল-হারাউই আল-আজামি আবু আব্দুল্লাহ আস-সালিহি, যিনি ‘মাহমুদ আল-আসার’ নামে পরিচিত।
৬ - সাহিত্যিক মুওয়াফফাকুদ্দিন আব্দুল কাহির বিন মুহাম্মদ বিন আলি বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল-ফুতি আল-বাগদাদি।
৭ - আবু আল-রাবি সুলাইমান বিন আল-ফকিহ বাত্তাল মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন বাত্তাল আর-রুকাবি।
৮ - বুরহানুদ্দিন মাহমুদ বিন আসআদ আল-বালখি।
৯ - মুহাম্মদ বিন হাসান বিন আলি আত-তামিমি আল-ফারিসি।
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
10 - صالح بن عبد الله بن علي بن صالح الكوفي، ابن الصباغ، الحنفي النحوي، يلقب: محيي الدين، وهو خاتمة أصحابه.
مصنفاته:كان الإمام من المكثرين في التأليف، فصنف كتبا قيمة ماتعة في الحديث واللغة والفقه وغير ذلك، ولعلي أشير إلى بعض منها تدليلا على علمه ومشاركته في فنون عدة رحمه الله وأجزل له المثوبة وتقبلها منه.
فمن مؤلفاته في الحديث:
- مشارق الأنوار النبوية في صحاح الأخبار المصطفوية. وهو كتابنا هذا الذي أسأل الله أن يتقبل منا خدمته ويجعله حجة لنا بين يديه.
- مصباح الدجى من صحاح حديث المصطفى.
- الشمس المنيرة من الصحاح المأثورة.
- كشف الحجاب عن أحاديث الشهاب: وهو ترتيب وتبويب لكتاب «شهاب الأخبار في الحكم والأمثال والآداب» للقضاعي.
- ضوء الشهاب ويتعلق بكتاب الشهاب القضاعي.
- الدر الملتقط في تبيين الغلط، ذكر فيه ما جاء في كتاب الشهاب والنجم للأقليشي.
- الأحاديث الموضوعة: رسالة صغيرة.
قال الإمام السخاوي: ذكر - أي: الصغاني - فيها أحاديث من الشهاب للقضاعي والنجم للأقليشي وغيرهما، كأربعين لابن ودعان، والوصية لعلي
১০ - সালিহ বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন সালিহ আল-কুফি, ইবনুস সাব্বাগ, আল-হানাফি আন-নাহবি, উপাধি: মুহিউদ্দীন; তিনি তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি।
তাঁর রচনাবলী:ইমাম অত্যন্ত উর্বর লেখনীর অধিকারী ছিলেন। তিনি হাদিস, ভাষা, ফিকহ এবং অন্যান্য বিষয়ে বহু মূল্যবান ও জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে তাঁর পারদর্শিতার নিদর্শন হিসেবে আমি এখানে তাঁর কিছু গ্রন্থের উল্লেখ করছি। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর এই কর্ম কবুল করুন।
হাদিস শাস্ত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি হলো:
- মাশারিকুল আনওয়ারিন নাবাবিয়্যাহ ফি সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ। এটিই আমাদের বর্তমান আলোচ্য গ্রন্থ, যার খিদমত কবুল করার জন্য এবং একে মহান আল্লাহর দরবারে আমাদের স্বপক্ষে দলিল হিসেবে গ্রহণ করার জন্য আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি।
- মিসবাহুদ দুজা মিন সিহাহি হাদিসিল মুসতাফা।
- আশ-শামসুল মুনিরাহ মিনাস সিহাহিল মাসুরাহ।
- কাশফুল হিজাব আন আহাদিসিশ শিহাব: এটি কুদাই-এর রচিত «শিহাবুল আখবার ফিল হিকামি ওয়াল আমসালি ওয়াল আদাব» নামক গ্রন্থের বিন্যাস ও অধ্যায় বিন্যাস।
- দাউশ শিহাব: এটি কুদাই-এর শিহাব গ্রন্থের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি রচনা।
- আদ-দুররুল মুলতাকাত ফি তাবয়ীনিল গালাত: এতে তিনি শিহাব এবং আকলিশি-র নাজম গ্রন্থে উল্লিখিত ভুলত্রুটিগুলো বর্ণনা করেছেন।
- আল-আহাদিসুল মাউদুয়াহ: এটি একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকা।
ইমাম সাখাভি বলেন: তিনি—অর্থাৎ সাগানি—তাতে কুদাই-এর শিহাব, আকলিশি-র নাজম এবং এ জাতীয় অন্যান্য গ্রন্থ থেকে কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন, যেমন ইবনে ওয়াদানের «আরবাইন» এবং আলীর প্রতি উপদেশবাণী।
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
ابن أبي طالب، وخطبة الوداع، وأحاديث أبي الدنيا الأشج، ونعيم بن سالم، ودينار الحبشي، وأبي هدبة إبراهيم بن هدبة، وفيها الكثير أيضا من الصحيح والحسن، وما فيه ضعف يسير.
- رسالة في الأحاديث الواردة في صدر التفسير في فضائل القرآن وغيرها.
- شرح الجامع الصحيح للبخاري، وهو مختصر في مجلد واحد.
- أسامي شيوخ البخاري.
- كتاب الضعفاء والمتروكين من رواة الحديث.
ومن مؤلفاته في الفقه:
- كتاب الأحكام في فقه الحنفية.
- كتاب الفرائض.
- مناسك الحج وختمها بقوله شعرا:
شوقي إلى الكعبة الغراء قد زادا
… فاستحمل القلص الوخادة الزادا
أراقك الحنظل العامي منتجعا
… وغيرك انتجع السعدان وازدادا
اتبعت سرحك حتى لص عن كثب
… نياقها زحا والصعب منقادا
فاقطع علائق ما تحويه من نشب
… واستودع الله أموالا وأولادا
وأما في علوم القرآن:
- كتاب التجويد.
- نظم عدد آي القرآن.
ইবনে আবি তালিব, বিদায় হজ্বের ভাষণ, আবু দুনিয়া আল-আশাজ-এর হাদিসসমূহ, নুয়াইম ইবনে সালিম, দিনার আল-হাবাশি এবং আবু হুদবা ইবরাহিম ইবনে হুদবা; এগুলোর মধ্যে অনেক সহিহ ও হাসান হাদিস রয়েছে এবং কিছু সামান্য দুর্বল হাদিসও রয়েছে।
- কুরআনের ফযিলত ও অন্যান্য বিষয়ে তাফসিরের শুরুতে বর্ণিত হাদিসসমূহ সংক্রান্ত একটি রিসালাহ।
- বুখারীর আল-জামি আল-সহিহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা এক খণ্ডে সমাপ্ত একটি সংক্ষিপ্তসার।
- ইমাম বুখারীর উস্তাদগণের নামসমূহ।
- হাদিস বর্ণনাকারীদের মধ্যে দুর্বল ও বর্জনীয়দের পরিচয় সম্বলিত কিতাব।
ফিকহ শাস্ত্রে তার রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
- হানাফি ফিকহ শাস্ত্রের বিধি-বিধান সংক্রান্ত কিতাব।
- উত্তরাধিকার আইন (ফারায়েজ) সংক্রান্ত কিতাব।
- হজ্বের নিয়মাবলী এবং তিনি এটি নিম্নোক্ত কাব্যিক পঙক্তি দ্বারা সমাপ্ত করেছেন:
উজ্জ্বল কাবার প্রতি আমার ব্যাকুলতা বৃদ্ধি পেয়েছে
… তাই দ্রুতগামী উটগুলো পাথেয় বহন করছে
সাধারণ বুনো তরমুজ তোমাকে চারণভূমি হিসেবে তৃপ্ত করেছে
… অথচ অন্যেরা 'সাদান' ঘাস অন্বেষণ করেছে এবং সমৃদ্ধ হয়েছে
আমি তোমার পশুপালের অনুসারী হয়েছি যতক্ষণ না নিকট থেকে
… উটগুলো চালিত হয়েছে এবং অবাধ্যগুলো অনুগত হয়েছে
সুতরাং তোমার অর্জিত স্থাবর সম্পদের মোহ ছিন্ন করো
… আর আল্লাহর কাছে তোমার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি সপে দাও
আর কুরআনুল কারিমের জ্ঞানসমূহের ক্ষেত্রে:
- তাজবিদ সংক্রান্ত কিতাব।
- কুরআনের আয়াত সংখ্যার কাব্যিক বর্ণনা।
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
وفي التاريخ والوفيات:
- در السحابة في بيان مواضيع وفيات الصحابة.
- شرح در السحابة في بيان مواضع وفيات الصحابة.
- كتاب الوفيات، ثم اختصره.
وأما في اللغة:
- فمن أهمها وأعظمها: العباب الزاخر واللباب الفاخر، لكن وافته المنية قبل إتمامه.
- التكملة والذيل والصلة، جمع فيه ما أهمله الجوهري وبلغت مراجعه ألف كتاب من غريب القرآن والحديث واللغة والنحو والصرف.
- مجمع البحرين، جمع فيه بين «الصحاح» للجوهري وكتابه «ذيل الصحاح».
- حاشية ذيل الصحاح في اللغة.
- الشوارد في اللغة، ويسمى: النوارد في اللغة.
- شرح أبيات المفصل.
- كتاب الأفعال.
- نقعة الصديان فيما جاء على وزن فعلان.
- كتاب الافتعال.
- أسماء الأسد.
- كتاب أسامي الذئب وكناه.
ইতিহাস ও জীবনী বিষয়ক গ্রন্থাবলি:
- দুররুস সাহাবাহ ফি বায়ানি মাওয়াদি'ই ওয়াফায়াতিল সাহাবাহ।
- শারহু দুররিল সাহাবাহ ফি বায়ানি মাওয়াদি'ই ওয়াফায়াতিল সাহাবাহ।
- কিতাবুল ওয়াফায়াত, অতঃপর তিনি তা সংক্ষেপ করেছেন।
আর ভাষাতত্ত্বের ক্ষেত্রে:
- এগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ হলো: আল-উবাবুজ জাখির ওয়াল লুবাবুল ফাখির, তবে এটি সম্পন্ন করার পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হয়।
- আত-তাকমিলাতু ওয়াজ জাইলু ওয়াস সিলাহ, এতে তিনি জাওহারী যা পরিত্যাগ করেছিলেন তা সংকলন করেছেন এবং এর তথ্যসূত্রসমূহ আল-কুরআনের বিরল শব্দ, হাদিস, ভাষা, নাহু ও সারফ বিষয়ক এক হাজার গ্রন্থে পৌঁছেছে।
- মাজমাউল বাহরাইন, এতে তিনি জাওহারীর «আস-সিহাহ» এবং তাঁর নিজের গ্রন্থ «জাইলুস সিহাহ»-এর সমন্বয় করেছেন।
- হাশিয়াতু জাইলিল সিহাহ ফিল লুগাহ।
- আশ-শাওয়ারিদ ফিল লুগাহ, একে আল-নাওয়াদির ফিল লুগাহ-ও বলা হয়।
- শারহু আবয়াতিল মুফাসসাল।
- কিতাবুল আফ'আল।
- নাক'আতুস সাদিইয়ান ফীমা জাআ আলা ওয়াযনি ফালান।
- কিতাবুল ইফতি'আল।
- আসমাউল আসাদ।
- কিতাবু আসামিদ জিব ওয়া কুনাহু।
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
- كتاب الأضداد.
- كتاب التراكيب.
- كتاب خلق الإنسان.
- كتاب في التصريف.
- كتاب العروض.
وفي علوم أخرى:
- درجات العلم والعلماء.
- كتاب السالكين.
وفاته:انتقل الإمام رحمه الله إلى جوار ربه ليلة الجمعة (19) من شعبان سنة (650 هـ) ببغداد، بعد أن صلى الصبح، ووصى بأن يغسله شيخ كان عنده، وأن يحمل جنازته أولاده، وتجعل جنازته في قبلة جامع الحريم، إلى أن تصلى الجمعة، ثم يصلي ولده الأكبر، وتورد قبل رفعه مرثية من نظمه عملها قبل موته، فأوردها ابنه بعد أن صلى عليه، فلما تمم إيرادها، رفع وأعيد إلى داره فدفن فيها، ولما توجه الحاج في السنة المذكورة حمل معهم ودفن بالمعلاة بمكة.
قال العلامة تقي الدين السبكي: حكى لي الشيخ شرف الدين الدمياطي أن الصاغاني كان معه ولد، وقد حكم فيه بموته في وقت، وكان يترقب ذلك الوقت، فحضر ذلك اليوم وهو معافى قائم ليس به علة، فعمل لأصحابه
- কিতাবুল আজদাদ।
- কিতাবুত তারাকিব।
- কিতাব খালকিল ইনসান।
- ইলমুত তাসরিফ বিষয়ক একটি কিতাব।
- কিতাবুল আরুজ।
এবং অন্যান্য বিদ্যায়:
- দারাজাতুল ইলম ওয়াল উলামা।
- কিতাবুস সালিকিন।
তাঁর মৃত্যু:ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ) বাগদাদে ৬৫০ হিজরি সনের ১৯ শাবান জুমুআর রাতে তাঁর রবের সান্নিধ্যে চলে যান। তিনি ফজরের সালাত আদায়ের পর অসিয়ত করেছিলেন যে, তাঁর নিকট অবস্থানরত জনৈক শাইখ যেন তাঁকে গোসল দেন, তাঁর সন্তানরা যেন তাঁর জানাজা বহন করেন এবং জুমুআর সালাত আদায় পর্যন্ত যেন তাঁর জানাজা জামেউল হারিমের কিবলার দিকে রাখা হয়। এরপর তাঁর বড় ছেলে জানাজার সালাত পড়াবেন এবং জানাজা ওঠানোর পূর্বে তাঁর স্বরচিত একটি শোকগাথা পাঠ করা হবে যা তিনি মৃত্যুর পূর্বে লিখেছিলেন। তাঁর ছেলে জানাজা পড়ার পর সেটি পাঠ করেন। যখন পাঠ সম্পন্ন হলো, তখন জানাজা ওঠানো হলো এবং তাঁকে তাঁর বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে সেখানে দাফন করা হলো। উক্ত বছরে হাজিরা যখন রওয়ানা হলেন, তখন তাঁকে তাঁদের সাথে বহন করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মক্কার মুয়াল্লায় দাফন করা হয়।
আল্লামা তাকিউদ্দীন আস-সুবকি বলেন: শাইখ শারাফুদ্দীন আদ-দামইয়াতি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আস-সাগানির একটি পুত্র ছিল। তিনি একটি নির্দিষ্ট সময়ে নিজের মৃত্যুর পূর্বাভাস দিয়েছিলেন এবং সেই সময়ের প্রতীক্ষায় ছিলেন। এরপর সেই দিনটি উপস্থিত হলো অথচ তিনি তখন সম্পূর্ণ সুস্থ ও দণ্ডায়মান ছিলেন, তাঁর কোনো অসুস্থতা ছিল না। এমতাবস্থায় তিনি তাঁর সঙ্গীদের জন্য (আয়োজন) করলেন...
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وتلامذته طعاما شكران ذلك، وفارقناه، وعديت الشط فلقيني من أخبرني بموته، فقلت له: الساعة فارقته، فقال: والساعة وقع الحمام بخبر موته فجأة.
دفن رحمه الله بداره بالحريم الظاهري، ثم نقل إلى مكة ودفن بها، وكان أوصى بذلك، وجعل لمن يحمله ويدفنه بمكة خمسين دينارا، فحمل ودفن قريبا من الفضيل بن عياض رحمه الله تعالى.
* * *
...এবং তাঁর ছাত্ররা তার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আহারের ব্যবস্থা করলেন। আমরা তাঁর নিকট থেকে বিদায় নিলাম। আমি যখন নদীর তীর অতিক্রম করলাম, তখন এমন এক ব্যক্তির সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো যে আমাকে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ প্রদান করল। আমি তাকে বললাম: এই মাত্র আমি তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এসেছি। সে বলল: আর এই মাত্রই তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর খবর হাম্মামে এসে পৌঁছেছে।
আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁকে হারিম আল-জাহিরিতে তাঁর নিজ বাসভবনে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে মক্কায় স্থানান্তরিত করা হয় এবং সেখানেই দাফন করা হয়। তিনি এ বিষয়ে অসিয়ত করে গিয়েছিলেন এবং যে ব্যক্তি তাঁকে বহন করে মক্কায় নিয়ে গিয়ে দাফন করবে, তার জন্য তিনি পঞ্চাশ দিনার নির্ধারিত করে দিয়েছিলেন। অতঃপর তাঁকে বহন করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ফুদাইল ইবনে ইয়াজ (আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর কবরের সন্নিকটে দাফন করা হয়।
* * *
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
القسم الثاني الكلام على كتاب «مشارق الأنوار»
تسمية الكتاب:هو - كما جاء في جل الأصول، وكما ذكره أصحاب الفهارس والمعاجم والمصنفات: «مشارق الأنوار النبوية من صحاح الأخبار المصطفوية»، وجاء في بعض الأصول: «المصطفية»
(1)، وفي بعضها مختصرا: «مشارق الأنوار».
قال ابن ملك في «مبارق الأزهار» في شرح المقدمة: كذا صودف في النسخ المصححة [أي: المصطفوية] وفي بعضها: «المصطفية» هذا هو الصواب؛ لأن الألف إذا وقعت خامسة تعين حذفها في النسبة فقول العامة: مصطفوي، خطأ، والصواب: مصطفي، كذا في «شرح الشافية».
ثبوت الكتاب للمؤلف:
لاشك بثبوت الكتاب لمؤلفه وشهرته عنه كما ثبت في أصول الكتاب ومقدمته، وكما عزاه إليه كل من ترجم له أو للكتاب
(2)، وكذلك اهتم به كثير من العلماء وتلقوه بالقبول، فمنهم من شرحه، ومنهم من اختصره، ومنهم من درسه، ومنهم من حشى عليه أو على أحد شروحه، وسيأتي ذكر ذلك إن شاء الله تعالى.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অংশ: «মাশারিকুল আনওয়ার» গ্রন্থ সম্পর্কিত আলোচনাগ্রন্থটির নামকরণ:এটি—যেমনটি অধিকাংশ পাণ্ডুলিপিতে এসেছে এবং গ্রন্থপঞ্জি, অভিধান ও সংকলন প্রণেতাগণ উল্লেখ করেছেন: «মাশারিকুল আনওয়ারিন নাবাবিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুস্তাফাউইয়্যাহ»। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে এসেছে: «আল-মুস্তাফিয়্যাহ»
(১), এবং কোনো কোনোটিতে সংক্ষেপে: «মাশারিকুল আনওয়ার»।
ইবনে মালাক তাঁর ‘মুবারাকুল আযহার’ নামক গ্রন্থের ভূমিকার ব্যাখ্যায় বলেছেন: বিশুদ্ধ পাণ্ডুলিপিগুলোতে এমনটিই পাওয়া গেছে [অর্থাৎ: আল-মুস্তাফাউইয়্যাহ], আর কোনো কোনোটিতে রয়েছে: «আল-মুস্তাফিয়্যাহ»। এটিই সঠিক; কারণ আলিফ যখন পঞ্চম স্থানে আসে, তখন নিসবতের (সম্বন্ধযুক্ত শব্দের) ক্ষেত্রে তা বিলুপ্ত করা আবশ্যক হয়। সুতরাং সাধারণ মানুষের কথা: ‘মুস্তাফাউইয়্যাহ’ ভুল, আর সঠিক হলো: ‘মুস্তাফিয়্যাহ’। ‘শারহুশ শাফিয়া’ গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।
লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের প্রামাণ্যতা:
লেখকের প্রতি এই কিতাবটির সম্বন্ধের বিষয়টি প্রমাণিত এবং তাঁর পক্ষ থেকে এর প্রসিদ্ধি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, যেমনটি কিতাবের মূল পাণ্ডুলিপি ও এর ভূমিকায় প্রমাণিত হয়েছে। তদুপরি যারা লেখকের জীবনী বা গ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা করেছেন, তাঁরা সকলেই এটি তাঁর দিকেই সম্বন্ধ করেছেন
(২)। একইভাবে অনেক আলেম এটি নিয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন এবং তা সাদরে গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ এর ব্যাখ্যা লিখেছেন, কেউ একে সংক্ষিপ্ত করেছেন, কেউ এটি পাঠদান করেছেন, আবার কেউ এর ওপর অথবা এর কোনো একটি ব্যাখ্যার ওপর টীকা লিখেছেন। ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে এ সম্পর্কে আলোচনা আসবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
سبب تأليف الكتاب:يظهر ذلك جليا في سياق المقدمة حيث ذكر المؤلف سبب ذلك فقال: هذه رباع الحديث ممحلة معطلة، ومن أحيا أرضا ميتة فهي له، وكأني إذا جعلتها طريقي، وعززت على المصاحبة إليها رفيقي، ووجدت مرادها معاد الذتاب العادية، وصحاصحها أماكن متعادية، تتجاوب الأصداء في أرجائها، وتتناوب العوافي إلى مائها، وتخطب على منابرها الأبوام، بعد ما هدرت بها شقاشق الأقوام، قد ألحمت الجنائب ما أسدت بها الشمائل، وامتدت إليها أيدي الأسحار والأصائل، علاني البكاء، وعراني النحيب، إذ ليس لها داع ولا مجيب.
ولعمري إن هذه لمخائل انقضاض جدرانه، وانقياض حيطانه، وانطماس هذا الأثر الدال على العين، وانبعاج كظائم سخن العين.
وكان قد يستناخ بعرصتها ولا منيخ، وينشد بعقوتها ولا مصيح، عفت الديار محلها فمقامها اللهم إلا قمامها وهامها.
وإن عصرنا هذا والله المستعان عليه، والمشتكى من أهله إليه، نحريرهم في الحديث من حفظ كتاب القضاعي أو كتبه، ويقابهم من اختصر (النجم) وانتخبه، فإن انضم إليهما «الخطب الأربعون» التي زيفها النقاد أجمعون، فذلك أمثلهم طريقة وأعلمهم في الحقيقة، فإن اشرابت همته إلى (خطبة الوداع) تسمى بالواعظ الناصح، وتلقب بالداع الواع، قد خبطوا خبط عشواء، وحملوا على يابس السيساء، ولولا تجلي الغاب من أسامة أبي الشبلين لما ضبح به ثعالة أبو الحصين ارتدى برداء الردى من كان ينضح عن حمى الحديث، وابتلي ببلاء البلى من كان يغيث أهليه أو يغيث.
গ্রন্থ রচনার কারণ:এটি মুখবন্ধের প্রেক্ষাপটে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যেখানে লেখক এর কারণ উল্লেখ করে বলেছেন: হাদিসের এই চত্বরগুলো অনাবৃষ্টিতে ঊষর ও পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। আর যে ব্যক্তি কোনো মৃত ভূমিকে পুনরুজ্জীবিত করে, তা তারই হয়। আমি যখন এটিকে আমার পথ বানালাম এবং এর পানে আমার সঙ্গীকে উৎসাহিত করলাম, তখন আমি এর লক্ষ্যস্থলগুলোকে হিংস্র নেকড়েদের বিচরণস্থল হিসেবে পেলাম এবং এর প্রান্তরগুলোকে বৈরী স্থানে পরিণত হতে দেখলাম। এর দিগন্তজুড়ে প্রতিধ্বনিগুলো একে অপরের উত্তর দিচ্ছে, আর পথিকরা পর্যায়ক্রমে এর পানির দিকে আসছে। এর মিম্বরগুলোতে পেঁচারা খুতবা দিচ্ছে, অথচ একসময় সেখানে মানুষের বাগ্মিতার গুঞ্জন ধ্বনিত হতো। উত্তর বায়ু যা বুনেছিল, দক্ষিণ বায়ু তা ছিঁড়ে ফেলেছে এবং ভোর ও সন্ধ্যার হাত এর দিকে প্রসারিত হয়েছে। ফলে কান্না আমাকে আচ্ছন্ন করল এবং দীর্ঘশ্বাস আমাকে কাবু করল, কারণ এর কোনো আহ্বানকারী নেই এবং কোনো উত্তরদাতাও নেই।
আমার জীবনের শপথ! এগুলো তো এর দেয়ালগুলো ধসে পড়ার, এর প্রাচীরগুলো ভেঙে পড়ার, মূল বিষয়ের ওপর নির্দেশকারী চিহ্ণগুলো মুছে যাওয়ার এবং যন্ত্রণাকাতর চোখের অশ্রুর উৎসগুলো উপচে পড়ার লক্ষণ।
এর চত্বরে উট বসানো যেত কিন্তু এখন আর কোনো উট চালক নেই; এর প্রাঙ্গণে আহ্বান জানানো হতো কিন্তু এখন আর কোনো উচ্চকণ্ঠ নেই। জনপদগুলো বিলীন হয়ে গেছে, তার সাময়িক ও স্থায়ী আবাসগুলোও মিটে গেছে—হে আল্লাহ! কেবল তার জঞ্জাল আর পেঁচাই অবশিষ্ট আছে।
আমাদের এই যুগ—যার বিষয়ে আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয় এবং যার অধিবাসীদের বিষয়ে তাঁর কাছেই অভিযোগ পেশ করা হয়—তাদের মধ্যে হাদিস শাস্ত্রে সুপণ্ডিত তিনি, যিনি কুদায়ীর কিতাব বা তার রচনাসমূহ মুখস্থ করেছেন। আর তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সেই ব্যক্তি, যে ‘আন-নাজম’ সংক্ষেপ করেছে এবং তা থেকে নির্বাচন করেছে। যদি এর সাথে ‘চল্লিশ খুতবা’ যুক্ত হয় যা সমস্ত সমালোচকগণই ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন, তবে সেই ব্যক্তিই তাদের মাঝে উত্তম পথের অধিকারী এবং প্রকৃতপক্ষে তাদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী! এরপর যদি তার হিম্মত ‘বিদায় হজের ভাষণ’ পর্যন্ত পৌঁছায়, তবে তাকে ‘নসিহতকারী ওয়ায়েজ’ বলা হয় এবং ‘সতর্ককারী আহ্বানকারী’ উপাধি দেওয়া হয়। তারা অন্ধকারে লক্ষ্যহীনভাবে হাতড়িয়ে বেড়াচ্ছে এবং জীর্ণ পিঠের ওপর সওয়ার হয়েছে। যদি বন জঙ্গল থেকে দুই শাবকের পিতা সিংহ প্রকাশিত না হতো, তবে খ্যাঁকশিয়াল তার ওপর গর্জন করত না। যারা হাদিসের সীমানা রক্ষা করত তারা ধ্বংসের চাদর পরিধান করেছে, আর যারা এর ধারক-বাহকদের সাহায্য করত তারা জীর্ণ হওয়ার মুসিবতে নিপতিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
وهذه بئة مضرور، ونفثة مصدور، ولما توجني الله تعالى، ودوجني بتاج «مصباح الدجى من صحاح حديث المصطفى»، ودواج «الشمس المنيرة من الصحاح المأثورة» وانثال الناس إلى الاشتغال بهما جدا لا هوادة فيه، واستيضاح كل حديث منهما، واستكشاف معانيه رأيت أن اتباع الحسنة الحسنة، وإجرار حصان الخير رسنه في العمر الذي سنة منه سنه، أحصن ما انصرفت إليه أعنة الهمم الشوارع العوالي، وأحسن ما انحرفت إليه أسنة الصمم الشوارع.
منهج الصغاني في كتابه:لم يرتب الصغاني كتابه على أبواب الفقه، كما في «الصحيحين» بأن يجعل أحاديث كل موضوع أو باب في مكان واحد، مثل: أحاديث الصلاة، الزكاة، الصيام، وهكذا؛ بل رتبه ترتيبا لفظيا على طريقة المعجم، وقد ذكر ترتيبه الشارح ابن ملك في كتابه «مبارق الأزهار» فقال:
رتب الشيخ هذا الكتاب بترتيب أنيق، وانتخبه بتهذيب ذليق
(1)، فأريد أن أذكر كيفية ترتيبه، وفصول الأبواب تيسيرا لطالبيه، وصونا من الإتعاب:
الباب الأول:
مرتب على فصلين، الفصل الأول: ابتداؤه بمن الموصولة أو الشرطية.
والثاني: ابتداؤه بمن الاستفهامية.
الباب الثاني: رتبه على عشرة فصول:
(1) فيما جاء أوله كلمة أن. (2) كلمة أني. (3) كلمة أنا. (4) كلمة أنه.
--------------------------------------------
এটি এক ক্ষতিগ্রস্তের বিলাপ এবং বক্ষ-পীড়িতের দীর্ঘশ্বাস। যখন আল্লাহ তাআলা আমাকে ‘মিসবাহুদ দুজা মিন সিহাহি হাদিসিল মুস্তাফা’ এবং ‘আশ-শামসুল মুনিরাহ মিনাস সিহাহিল মাসুরাহ’ নামক মুকুটে ভূষিত করলেন এবং মানুষ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ও ক্লান্তিহীনভাবে এ দুটি গ্রন্থের চর্চায় আত্মনিয়োগ করল এবং এর প্রতিটি হাদিস স্পষ্টভাবে বুঝতে ও তার অর্থসমূহ উদঘাটনে সচেষ্ট হলো, তখন আমি দেখলাম যে একটি নেক কাজের পর আরেকটি নেক কাজ করা এবং জীবনের এই পর্যায়ে কল্যাণের অশ্বকে তার গন্তব্যের দিকে ধাবিত করা হলো সেই শ্রেষ্ঠ বিষয় যার দিকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংকল্পসমূহের লাগাম ফেরানো যায় এবং যার দিকে তীক্ষ্ণ মেধার লক্ষ্যসমূহ ধাবিত হয়।
নিজ গ্রন্থে সাগানীর অনুসৃত পদ্ধতি:সাগানী তার গ্রন্থটি ফিকহী অধ্যায় অনুসারে সাজাননি, যেমনটি ‘সহীহাইন’-এ করা হয়েছে যে, প্রতিটি বিষয় বা অধ্যায়ের হাদিসগুলোকে এক স্থানে রাখা হয়, যেমন: সালাত, জাকাত, সিয়াম ইত্যাদির হাদিসসমূহ; বরং তিনি একে শব্দক্রম অনুযায়ী অভিধানের পদ্ধতিতে সাজিয়েছেন। ব্যাখ্যাকার ইবনুল মালিক তার ‘মাবারিকুল আজহার’ গ্রন্থে এই বিন্যাসের পদ্ধতি উল্লেখ করে বলেছেন:
শায়খ এই গ্রন্থটিকে চমৎকার বিন্যাসে সুসজ্জিত করেছেন এবং সাবলীল পরিমার্জনায় একে নির্বাচন করেছেন। তাই আমি এর অন্বেষণকারীদের সুবিধার্থে এবং কষ্ট লাঘবের জন্য এর বিন্যাস পদ্ধতি ও অধ্যায়গুলোর পরিচ্ছেদসমূহ উল্লেখ করতে চাই:
প্রথম অধ্যায়:
এটি দুটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত। প্রথম পরিচ্ছেদ: যার শুরু ‘মান’ (যিনি/যে) নামক মৌসুল বা শর্তবাচক অব্যয় দিয়ে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যার শুরু ‘মান’ (কে?) নামক প্রশ্নবোধক অব্যয় দিয়ে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: তিনি একে দশটি পরিচ্ছেদে সাজিয়েছেন:
(১) যার শুরুতে ‘আন্না’ শব্দ এসেছে। (২) ‘আন্নী’ শব্দ। (৩) ‘আনা’ শব্দ। (৪) ‘আন্নাহু’ শব্দ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
(5) كلمة أنهم. (6) كلمة أنها. (7) كلمة أنك. (8) كلمة أنكم. (9) كلمة إنكن.
(10) كلمة إنما.
الباب الثالث: فيما جاء أوله حرف لا.
الباب الرابع: رتبه على فصلين:
الأول: فيما جاء أوله كلمة إذا.
الثاني: كلمة إذ.
الباب الخامس:
رتبه على فصلين، الفصل الأول مرتب على خمسة أنواع: (1) فيما جاء أوله ما النافية. (2) ما الاستفهامية. (3) ما الخبرية. (4) ما الشرطية. (5) ما بين.
الفصل الثاني مرتب على أربعة أنواع: (1) فيما جاء أوله حرف (يا) والمنادى كنى الذكور أو أسماؤهم. (2) حرف (يا) والمنادى مضاف إلى القبيلة. (3) أجناس شتى. (4) حرف (يا) والمنادى كنى الإناث أو أسماؤهن.
الباب السادس:
رتبه على اثني عشر فصلا:
(1) فيما جاء أوله ليس. (2) نعم وبئس. (3) بينا وبينما. (4) قوله: لعن الله (5) كلمة لو. (6) كلمة لولا. (7) كلمة إن الشرطية. (8) كلمة خير. (9) أفعل التفضيل.
(10) كلمة كل. (11) كلمة قد. (12) كلمة لقد.
الباب السابع:
رتبه على سبعة عشر فصلا:
(৫) ‘আন্নাহুম’ শব্দ। (৬) ‘আন্নাহা’ শব্দ। (৭) ‘আন্নাকা’ শব্দ। (৮) ‘আন্নাকুম’ শব্দ। (৯) ‘ইন্নাকুন্না’ শব্দ।
(১০) ‘ইন্নামা’ শব্দ।
তৃতীয় অধ্যায়: যা ‘লা’ বর্ণ দিয়ে শুরু হয়েছে সেই প্রসঙ্গে।
চতুর্থ অধ্যায়: একে দুটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করা হয়েছে:
প্রথম: যা ‘ইযা’ শব্দ দিয়ে শুরু হয়েছে সেই প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয়: ‘ইয’ শব্দ।
পঞ্চম অধ্যায়:
একে দুটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করা হয়েছে, প্রথম পরিচ্ছেদটি পাঁচটি প্রকারে বিভক্ত: (১) যা না-বোধক ‘মা’ দিয়ে শুরু হয়েছে। (২) প্রশ্নবোধক ‘মা’। (৩) বর্ণনামূলক ‘মা’। (৪) শর্তবাচক ‘মা’। (৫) ‘মা বাইনা’ শব্দ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি চারটি প্রকারে বিভক্ত: (১) যা ‘ইয়া’ অব্যয় দিয়ে শুরু হয়েছে এবং সম্বোধিত ব্যক্তি (মুনাদা) হলো পুরুষদের উপনাম বা তাদের নাম। (২) ‘ইয়া’ অব্যয় এবং সম্বোধিত ব্যক্তি যখন গোত্রের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়। (৩) বিবিধ প্রকার। (৪) ‘ইয়া’ অব্যয় এবং সম্বোধিত ব্যক্তি হলো নারীদের উপনাম বা তাদের নাম।
ষষ্ঠ অধ্যায়:
একে বারোটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করা হয়েছে:
(১) যা ‘লাইসা’ দিয়ে শুরু হয়েছে। (২) ‘নি’মা’ এবং ‘বি’সা’। (৩) ‘বাইনা’ এবং ‘বাইনামা’। (৪) তাঁর উক্তি: ‘আল্লাহ লানত করেছেন’। (৫) ‘লাও’ শব্দ। (৬) ‘লাওলা’ শব্দ। (৭) শর্তবাচক ‘ইন’ শব্দ। (৮) ‘খাইর’ শব্দ। (৯) আধিক্যবোধক বিশেষণ (আফআলুত তাফযীল)।
(১০) ‘কুল্লু’ শব্দ। (১১) ‘ক্বাদ’ শব্দ। (১২) ‘লাক্বাদ’ শব্দ।
সপ্তম অধ্যায়:
একে সতেরোটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করা হয়েছে:
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
(1) فيما جاء أوله مبتدأ معرف باللام. (2) كلمة أيما. (3) كلمة أيكم. (4) كلمة أي مضاف إلى مظهر. (5) همزة الاستفهام. (6) كلمة ألا. (7) كلمة ألم. (8) كلمة أفلا. (9) كلمة أليس وأو بفتح الواو. (10) كلمة أما المخففة. (11) كلمة مثل بفتح الثاء. (12) كلمة إياكم. (13) كلمة أنا المخففة للمتكلم. (14) اسم الفعل. (15) كلمة لك. (16) كلمة لم الجازمة. (17) كلمة أما المشددة.
الباب الثامن:
رتبه على ستة فصول:
(1) فيما جاء أوله العدد. (2) واو القسم التي بعدها الذي. (3) كلمة قسم بعدها الله. (4) الفعل المستقبل. (5) المضارع المعلوم. (6) المضارع المجهول.
الباب التاسع:
رتبه على خمسة فصول:
(1) فيما جاء أوله الفعل الماضي. (2) الماضي المجهول. (3) المتكلم الماضي. (4) كلمة هل. (5) فعل الأمر.
الباب العاشر: رتبه على فصلين:
(1) فيما جاء أوله بلام الابتداء. (2) في أنواع شتى.
الباب الحادي عشر: في الكلمات القدسية.
الباب الثاني عشر: في جوامع الأدعية.
وترتيبه في جمع الأبواب: أن الحديثين إذا اشتركا في الكلمة التي يبتدأ بها فقط، يكون أول حروف كلمة بعدها في الحديث الثاني مما يجيء مؤخرا في
(১) যার শুরুতে 'লাম' (আলিফ-লাম) দ্বারা নির্দিষ্ট মুবতাদা এসেছে। (২) 'আইয়ুমা' শব্দটি। (৩) 'আইয়ুকুম' শব্দটি। (৪) প্রকাশ্য বিশেষ্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত 'আইয়ু' শব্দটি। (৫) প্রশ্নবোধক হামজা। (৬) 'আলা' শব্দটি। (৭) 'আলাম' শব্দটি। (৮) 'আফালা' শব্দটি। (৯) 'আলাইসা' এবং ফাতহাহযুক্ত 'ওয়াও' বিশিষ্ট 'আ-ওয়া' শব্দটি। (১০) তাশদীদহীন 'আমা' শব্দটি। (১১) 'সা' বর্ণের ওপর ফাতহাহসহ 'মিসলু' শব্দটি। (১২) 'ইয়্যাকুম' শব্দটি। (১৩) বক্তার জন্য ব্যবহৃত 'আনা' শব্দটি। (১৪) ক্রিয়ামূলক বিশেষ্য (ইসমুল ফিল)। (১৫) 'লাকা' শব্দটি। (১৬) জাজেম 'লাম' শব্দটি। (১৭) তাশদীদযুক্ত 'আম্মা' শব্দটি।
অষ্টম অধ্যায়:
তিনি একে ছয়টি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছেন:
(১) যার শুরুতে সংখ্যা এসেছে। (২) শপথের 'ওয়াও' যার পরে 'আল্লাযি' এসেছে। (৩) 'কাসাম' শব্দ যার পরে 'আল্লাহ' এসেছে। (৪) ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া। (৫) মুজারি মারুফ (সক্রিয় বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া)। (৬) মুজারি মাজহুল (নিষ্ক্রিয় বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া)।
নবম অধ্যায়:
তিনি একে পাঁচটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছেন:
(১) যার শুরুতে অতীতকালীন ক্রিয়া এসেছে। (২) অতীতকালীন মাজহুল (নিষ্ক্রিয়) ক্রিয়া। (৩) অতীতকালীন মুতাকাল্লিম (উত্তম পুরুষ)। (৪) 'হাল' শব্দটি। (৫) আমর (আদেশবাচক) ক্রিয়া।
দশম অধ্যায়: তিনি একে দুইটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছেন:
(১) যার শুরুতে প্রারম্ভিক 'লাম' এসেছে। (২) বিবিধ প্রকার প্রসঙ্গে।
একাদশ অধ্যায়: হাদিসে কুদসি প্রসঙ্গে।
দ্বাদশ অধ্যায়: ব্যাপক অর্থবোধক দোয়াসমূহ প্রসঙ্গে।
অধ্যায়গুলো বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে তার পদ্ধতি হলো: যদি দুটি হাদিস কেবল প্রারম্ভিক শব্দের ক্ষেত্রে অভিন্ন হয়, তবে পরবর্তী শব্দের প্রথম বর্ণটি বর্ণানুক্রমিকভাবে যেটি পরে আসে সেটি অনুযায়ী দ্বিতীয় হাদিসটি বিন্যস্ত হবে...
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
حروف التهجي من أول حروف كلمة بعدها في الحديث السابق كقوله: «من بنى» وقوله: «من تاب».
وإن اشتركا في الحرف الأول يراعى الترتيب في الحرف الثاني من الكلمة كقوله: «من تعار» وقوله: «من توضأ».
وإن اشتركا في الحرفين يراعى في الثالث كقوله: «من تردى»، وقوله: «من ترك». وعلى هذا.
وإن اشتركا في الكلمتين يراعى بعدهما كقوله: «من جهز جيش العسرة».
وقوله: «من جهز غازيا».
وكذا إن اشتركا في الكلمات كقوله: «من رآني في المنام فسيراني». وقوله: «من رآني في المنام فقد رآني» وهذا الترتيب دليل على رسوخ الشيخ في هذا الفن، ووفور سعيه في سير السنن، وخليق له أن يحيي رباعه، وفي جمع الجمان يمد باعه، شكر الله مساعيه، وجعل الفردوس مراعيه.
ومن نهج الصغاني:
أنه اعتمد في كتابه كما نص في المقدمة على الرموز فرمز للبخاري (خ) ولمسلم (م) وللمتفق عليه (ق) فيورد الرمز بداية، فإذا كان اختلاف في اللفظ عن الشهاب أو الأقليشي أشار إليهما.
ثم يسوق اسم الراوي للحديث فقط دون سنده قصدا للتخفيف وتحقيق الفائدة منه، فإذا ساق أكثر من حديث لنفس الصحابي بشكل متتالي ذكره في الأول وأسقطه في التالي غالبا.
বর্ণানুক্রমিক বিন্যাস করা হয়েছে পূর্ববর্তী হাদিসের পরের শব্দের প্রথম অক্ষরের ভিত্তিতে, যেমন তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি নির্মাণ করল" এবং তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি তাওবা করল"।
যদি প্রথম অক্ষরে মিল থাকে, তবে শব্দের দ্বিতীয় অক্ষরের বিন্যাস বিবেচনা করা হয়, যেমন তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি জাগ্রত হলো" এবং তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি ওযু করল"।
যদি প্রথম দুই অক্ষরে মিল থাকে, তবে তৃতীয় অক্ষরের ক্ষেত্রে তা বিবেচনা করা হয়, যেমন তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি নিজেকে নিচে ফেলে দিল" এবং তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি বর্জন করল"। এভাবে পরবর্তী শব্দগুলোর ক্ষেত্রেও।
যদি প্রথম দুটি শব্দে মিল থাকে, তবে তার পরবর্তী শব্দ বিবেচনা করা হয়, যেমন তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি অভাবের সৈন্যবাহিনীকে সজ্জিত করল"।
এবং তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি কোনো যোদ্ধাকে সজ্জিত করল"।
একইভাবে যদি একাধিক শব্দে মিল থাকে, যেমন তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখল, সে শীঘ্রই আমাকে দেখবে" এবং তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখল, সে আমাকেই দেখল"। এই বিন্যাস এই শিল্পে শাইখের গভীর পাণ্ডিত্য এবং সুন্নাহর পথে তাঁর ব্যাপক প্রচেষ্টার প্রমাণ বহন করে। তিনি তাঁর জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রকে পুনর্জীবিত করার যোগ্য এবং মুক্তো সদৃশ জ্ঞানের ভাণ্ডার সংগ্রহে পারদর্শী। আল্লাহ তাঁর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসকে তাঁর চারণভূমি (বাসস্থান) করুন।
সাগানি-এর অনুসৃত পদ্ধতি হলো:
তিনি তাঁর কিতাবে প্রতীকের ওপর নির্ভর করেছেন, যেমনটি তিনি ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। তিনি বুখারির জন্য (খ), মুসলিমের জন্য (ম) এবং মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত) এর জন্য (ক্বাফ) প্রতীক ব্যবহার করেছেন। তিনি শুরুতে এই প্রতীক উল্লেখ করেন; এরপর যদি আশ-শিহাব বা আল-উক্বলীশির শব্দের বর্ণনায় কোনো ভিন্নতা থাকে, তবে তিনি তা নির্দেশ করেন।
এরপর তিনি সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে এবং এর মাধ্যমে উপকার অর্জনের লক্ষ্যে হাদিসের সনদ ছাড়াই কেবল বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করেন। যদি তিনি একই সাহাবির একাধিক হাদিস ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেন, তবে প্রথমটিতে তাঁর নাম উল্লেখ করেন এবং সাধারণত পরবর্তীগুলোতে তা উল্লেখ করেন না।
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
ثم يسوق نص الحديث منسقا منمقا مختصرا سهلا، وكم كنت أعيش معه أياما جميلة لطيفة، وكأني أذكر به «رياض الصالحين» للإمام النووي رحمه الله وتقبل من الجميع.
- اكتفى الصغاني رحمه الله بالأحاديث القولية من «الصحيحين»، فلا يورد الأحاديث الفعلية ولا التقريرية.
- يورد أصول الحديث، فلا يورد المتابعات والشواهد، ويكتفي بلفظ أحد الصحيحين عن الآخر مع نسبته إليهما.
- يقطع الحديث ويورده في أماكن متعددة من الكتاب حسب ترتيب سياقه.
- يذكر سبب ورود الحديث أحيانا، أو من قيل فيه الحديث، أو المكان الذي قيل فيه الحديث، أو يعلق بعبارات موجزة مبينا ما أبهم في سياق اللفظ المختار.
عدد أحاديثه:
أما في عملي وترقيمي فالعدد: (2272) حديثا، وأما على قول الشارح الكازروني فهو: (2246) حديثا، وقيل: (2269) حديثا، والأمر سهل فالاختلاف يرجع إلى عد الروايات استقلالا أو دمجها مع ما قبلها.
* * *
مدح الكتاب وثناء أهل العلم عليه:كتاب «مشارق الأنوار» قيم ولطيف شيق وأنيق، مرتب بترتيب بديع، وتنسيق متين، تلقاه العلماء بالقبول وتحدثوا عن منزلته بين الكتب المنثورة
এরপর তিনি হাদিসের মূল পাঠকে সুবিন্যস্ত, সুশোভিত, সংক্ষিপ্ত ও সহজভাবে উপস্থাপন করেন। আমি এর সাথে কত সুন্দর ও চমৎকার দিন অতিবাহিত করেছি! মনে হচ্ছিল যেন এটি আমাকে ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ‘রিয়াদুস সালেহীন’-এর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে; আল্লাহ তাঁর এবং সকলের আমল কবুল করুন।
- ইমাম সাগানী (রাহিমাহুল্লাহ) ‘সহীহাইন’ (বুখারী ও মুসলিম) থেকে কেবল মৌখিক (কাউলি) হাদিসগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন; তিনি কর্মগত (ফিয়লি) বা সমর্থনমূলক (তাকরিরি) হাদিসগুলো উল্লেখ করেননি।
- তিনি হাদিসের মূল পাঠসমূহ উল্লেখ করেন, কোনো অনুগামী (মুতাবায়াত) বা সমর্থক (শাওয়াহিদ) বর্ণনা উল্লেখ করেন না। তিনি কেবল কোনো একটি কিতাবের শব্দ উল্লেখ করে তা উভয়ের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার মাধ্যমেই যথেষ্ট মনে করেন।
- তিনি হাদিসকে খণ্ডিত করেন এবং প্রসঙ্গের ক্রমানুসারে কিতাবের বিভিন্ন স্থানে তা উল্লেখ করেন।
- তিনি কখনো হাদিস অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট, বা যাদের সম্পর্কে হাদিসটি বলা হয়েছে, অথবা যে স্থানে হাদিসটি বলা হয়েছে তা উল্লেখ করেন। অথবা নির্বাচিত শব্দের প্রেক্ষাপটে কোনো অস্পষ্টতা থাকলে তা স্পষ্ট করার জন্য সংক্ষিপ্ত মন্তব্য প্রদান করেন।
হাদিস সংখ্যা:
আমার কাজ ও সংখ্যাায়নের ক্ষেত্রে হাদিস সংখ্যা হলো: (২২৭২)টি। আর ব্যাখ্যাকার কাজরুনীর মতে তা হলো: (২২৪৬)টি। আবার কেউ বলেছেন: (২২৬৯)টি। বিষয়টি সহজ, কারণ এই মতভেদটি মূলত বর্ণনাগুলোকে স্বতন্ত্রভাবে গণনা করা বা পূর্ববর্তী বর্ণনার সাথে একীভূত করার কারণে সৃষ্টি হয়েছে।
* * *
গ্রন্থটির প্রশংসা এবং আলেমগণের মূল্যায়ন:‘মাশারিকুল আনওয়ার’ গ্রন্থটি অত্যন্ত মূল্যবান, চমৎকার, আকর্ষণীয় এবং পরিপাটি। এটি এক অপূর্ব বিন্যাস ও সুদৃঢ় সমন্বয়ে সজ্জিত। আলেম সমাজ একে কবুলিয়াতের সাথে গ্রহণ করেছেন এবং প্রচলিত গ্রন্থরাজির মাঝে এর সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
والأجزاء المسطورة وانهالوا عليه مدحا وإكبارا، وفخرا وثناء، وقبل أن أسوق بعضا منها أنقل عبارة المؤلف نفسه وتقييمه لكتابه وبيان منزلته وأهميته حيث قال في المقدمة:
وهذا الكتاب حجة بيني وبين الله تعالى في الصحة والرصانة والإتقان والمتانة، وهو أنيسي مدة حياتي في الدنيا، وشفيعي المشفع إن شاء الله في العقبى، وكفى بالله الذي هو عاضد من وضع لتعالي جده صفيحة خده، وعاضد من وضع لتعس جده في تعدي حده، عالما بما عانيت في تأليفه وترتيبه، وقاسيت في تصنيفه وتهذيبه
… وما يعقل شرف هذا الكتاب وقدره إلا ذو بصارة وبصيرة من العالمين.
أما أهل العلم فقالوا:
قال الشارح أكمل الدين البابرتي وتبعه الأرزنجاني: والله در المؤلف رحمه الله في سلوكه هذا الترتيب الغريب والنمط العجيب، الدال على كماله ورسوخه في هذا الفن شكر الله مساعيه.
قال العلامة ابن الملك في شرحه للكتاب: ومما صنف فيه من الكتب الفاخرة والزبر الوافرة كتاب: «مشارق الأنوار في صحاح الأخبار» فإنه مرتب بالتراتيب البديعة، ومنكب في الأساليب البريعة
(1)، ومقصور على محض الفوائد، ومحذوف عنه ما هو كالزوائد، ولهذا قد صار في الاشتهار كالشمس في رابعة من النهار.
وقال: رتب الشيخ هذا الكتاب بترتيب أنيق وانتخبه بتهذيب ذليق.
--------------------------------------------
এবং লিখিত অংশসমূহ; তারা এর ওপর প্রশংসা, মহিমা, গৌরব ও স্তুতির বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন। এগুলোর কিছু অংশ উপস্থাপন করার পূর্বে আমি খোদ লেখকের বক্তব্য, তাঁর কিতাব সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন এবং এর মর্যাদা ও গুরুত্বের বর্ণনা তুলে ধরছি, যেখানে তিনি মুখবন্ধে বলেছেন:
এবং এই কিতাবটি বিশুদ্ধতা, সুদৃঢ়তা, নিখুঁততা ও মজবুতির বিষয়ে আমার ও মহান আল্লাহর মাঝে একটি দলিল। এটি দুনিয়ার জীবনে আমার সঙ্গী এবং আখেরাতে ইনশাআল্লাহ কবুলযোগ্য সুপারিশকারী। সেই আল্লাহই যথেষ্ট, যিনি সাহায্যকারী তাঁর জন্য যে তাঁর মহিমার সামনে নিজের গালকে বিনত করে, এবং তিনি সাহায্যকারী তাঁর জন্য যে আপন দুর্ভাগ্যের কারণে সীমালঙ্ঘন করে; আমি এর সংকলন ও বিন্যাসে যে পরিশ্রম করেছি এবং এর শ্রেণিবিন্যাস ও পরিমার্জনে যে কষ্ট সহ্য করেছি, সে সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত
… আলেমদের মধ্যে প্রজ্ঞা ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ এই কিতাবের মর্যাদা ও গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবে না।
আর ইলম অন্বেষণকারীগণ (উলামায়ে কেরাম) বলেছেন:
ব্যাখ্যাকার আকমালুদ্দীন আল-বাবরতী এবং তাঁর অনুসরণে আল-আরজানজানী বলেছেন: লেখকের প্রতি আল্লাহর বিশেষ রহমত বর্ষিত হোক এই অনন্য বিন্যাস ও বিস্ময়কর পদ্ধতি অবলম্বনের জন্য, যা এই বিদ্যায় তাঁর পূর্ণতা ও সুগভীর পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয়; আল্লাহ তাঁর প্রচেষ্টাসমূহ কবুল করুন।
আল্লামা ইবনুল মালেক এই কিতাবের ব্যাখ্যায় বলেছেন: এই বিষয়ে রচিত চমৎকার কিতাব ও সমৃদ্ধ রচনাবলির মধ্যে একটি হলো: «মাশারেকুল আনওয়ার ফি সিহাহিল আখবার» কিতাবটি। এটি অপূর্ব বিন্যাসে বিন্যস্ত এবং শ্রেষ্ঠ শৈলীসমূহে সমৃদ্ধ, কেবল বিশুদ্ধ উপকারের ওপর সীমাবদ্ধ এবং এতে যা কিছু অতিরিক্ত তা বর্জন করা হয়েছে; আর একারণেই এটি মধ্যগগনের সূর্যের মতো সুপ্রসিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেছেন: শায়খ এই কিতাবটিকে চমৎকার সুশৃঙ্খল বিন্যাসে সজ্জিত করেছেন এবং অত্যন্ত সাবলীল পরিমার্জনের মাধ্যমে এটি নির্বাচন করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
وقال عنه الشيخ خرم علي: لا يعرف قيمة هذا الكتاب وميزاته إلا العلماء المهرة.
وقال عنه الفيروزآبادي صاحب «القاموس المحيط»:
كتاب رضي الدين بحر غطمطم
… جواهره الزهراء جلت عن الثمن
مشارق فيها للأماني شوارق
… سرين كسير الشمس في رينة الزمن
فإني بصرف العمر نحو اقترانه
… ففيها المعاني والفصاحة واللسن
صغانة أطيار الغصون ترنحت
… بمدح الصغاني المتقن الفاضل الحسن
خدمة العلماء للكتاب:نال كتاب «مشارق الأنوار» منزلة عند العلماء، واهتماما من جهابذتهم، فعكفوا على قراءته، وتدريسه، وشرحه، وترتيبه، واختصاره، وفهرسته، وترجمته إلى لغات أخرى.
أما شروحه فمنها:
1 - «تحفة الأبرار في شرح مشارق الأنوار» للشيخ محمد بن محمد بن محمود بن أحمد البابرتي، الرومي، الحنفي أكمل الدين (ت: 786 هـ)، صاحب كتاب: «العناية شرح الهداية» وهو من أهم شروحه، وهو قيد التحقيق ولعله يطبع قريبا إن شاء الله.
2 - «شوارق الأسرار العلية في شرح مشارق الأنوار النبوية» شرح العلامة الفيروز آبادي (ت: 871 هـ).
«كشف المشارق» شرح الشيخ خضر بن محمود بن عمر المرزيفوني الرومي المعروف بخير الدين العطوفي (ت: 948 هـ) وقد وقعت على نسخة
শেখ খুররম আলী এই কিতাব সম্পর্কে বলেছেন: দক্ষ আলেমগণ ব্যতীত আর কেউ এই কিতাবের মূল্য এবং এর বিশেষত্ব সম্পর্কে অবগত হতে পারে না।
‘আল-কামুস আল-মুহিত’ গ্রন্থের রচয়িতা আল-ফাইরুজাবাদি এই কিতাব সম্পর্কে বলেছেন:
রাযি উদ্দিনের এই কিতাব এক সুবিশাল উত্তাল সমুদ্র
… এর উজ্জ্বল মুক্তোগুলো মূল্যের ঊর্ধ্বে
‘মাশারিক’ এমন এক গ্রন্থ যাতে আকাঙ্ক্ষাগুলো উদিত হয়
… যা কালের আবর্তে সূর্যের গতির ন্যায় প্রবহমান
আমি এই কিতাবের সান্নিধ্যেই জীবন অতিবাহিত করছি
… কারণ এতে নিহিত রয়েছে গূঢ় অর্থ, প্রাঞ্জলতা ও বাগ্মিতা
গাছের ডালের পাখিরা গুঞ্জন তুলে আন্দোলিত হয়
… পারদর্শী, গুণী ও উত্তম ব্যক্তিত্ব আল-সাগানির প্রশংসায়
গ্রন্থটির প্রতি আলেমগণের খিদমত:‘মাশারিকুল আনওয়ার’ কিতাবটি আলেমদের নিকট উচ্চ মর্যাদা এবং বিদগ্ধ পণ্ডিতদের বিশেষ মনোযোগ লাভ করেছে। ফলে তাঁরা এটি পাঠ, পাঠদান, ব্যাখ্যা প্রদান, বিন্যাসকরণ, সংক্ষিপ্তকরণ, সূচিপত্র প্রণয়ন এবং অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করার কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন।
এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১ - শেখ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন আহমদ আল-বাবরতি, আল-রুমি, আল-হানাফি আকমালুদ্দিন (মৃত্যু: ৭৮৬ হিজরি) রচিত ‘তুহফাতুল আবরার ফি শারহি মাশারিকিল আনওয়ার’। তিনি ‘আল-ইনায়াহ শারহুল হিদায়াহ’ কিতাবটিরও লেখক। এটি এই কিতাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা বর্তমানে সম্পাদনাধীন রয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ অচিরেই মুদ্রিত হবে।
২ - আল্লামা ফাইরুজাবাদি (মৃত্যু: ৮৭১ হিজরি) রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘শাওয়ারিকুল আসরার আল-আলিয়্যাহ ফি শারহি মাশারিকিল আনওয়ার আল-নাবাবিয়্যাহ’।
শেখ খিজির বিন মাহমুদ বিন উমর আল-মারযিফুনি আল-রুমি, যিনি খাইরুদ্দিন আল-আতুফি (মৃত্যু: ৯৪৮ হিজরি) নামে পরিচিত, তাঁর রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘কাশফুল মাশারিক’। আমি এর একটি পাণ্ডুলিপির সন্ধান পেয়েছি।
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
منه كما هي مفهرسة في مكتبة ولي الدين وعندما بدأت بتنضيده اكتشفت أنه «حدائق الأزهار» للأرزنجاني.
4 - «المطالع المصطفوية» شرح الشيخ عفيف الدين سعيد بن محمد بن مسعود الكازروني (ت: 785 هـ)
(1).
5 - «مبارق الأزهار شرح مشارق الأنوار» للعلامة عبد اللطيف بن عبد العزيز، ابن ملك (ت: 801 هـ) وهو قيد التحقيق إن شاء الله تعالى.
وعلى هذا الشرح حاشية «صوائب الأفكار» للشيخ إبراهيم بن أحمد المعيد، وأخرى لمحمد بن أحمد الأزنيقي.
ورتبه الشيخ إبراهيم بن مصطفى (ت: 1014 هـ) على فصول وأبواب ك «المصابيح»، وسماه: «أنوار البوارق في ترتيب شرح المشارق» وقد حصلت على مخطوطة لهذا الشرح والله الحمد.
6 - شرحه المولى، شمس الدين أحمد بن سليمان المعروف بابن كمال باشا (ت 940 هـ). ولم يشتهر شرحه. ولعل في نسبة هذا إلى ابن كمال باشا وهم، والله أعلم.
7 - «حدائق الأزهار شرح مشارق الأنوار» شرح الشيخ وجيه الدين عمر بن عبد المحسن اللخمي الأرزنجاني الحنفي، وقد فرغ منه (871 هـ). وهو قيد التحقيق إن شاء الله تعالى.
8 - وشرحه شمس الدين، ابن الصائغ: محمد بن عبد الرحمن الزمردي، الحنفي (ت 776 هـ).
--------------------------------------------
এর থেকে যেমনটি ওয়ালিউদ্দিন লাইব্রেরিতে তালিকাভুক্ত রয়েছে এবং যখন আমি এটি বিন্যস্ত করতে শুরু করি তখন আবিষ্কার করলাম যে এটি আরজানজানীর ‘হাদাইকুল আজহার’।
৪ - শায়খ আফিফ উদ্দিন সাঈদ বিন মুহাম্মদ বিন মাসউদ আল-কাযরুনী (মৃত্যু: ৭৮৫ হি.)-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আল-মাতালিউল মুসতাফাওইয়্যাহ’
(১)।
৫ - আল্লামা আব্দুল লতিফ বিন আব্দুল আজিজ ইবনে মালাক (মৃত্যু: ৮০১ হি.) রচিত ‘মুবারাকুল আজহার শারহু মাশারিকিল আনওয়ার’। এটি বর্তমানে সম্পাদনাধীন রয়েছে, ইনশাআল্লাহ তাআলা।
এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপর শায়খ ইব্রাহিম বিন আহমদ আল-মুইদ-এর টীকাগ্রন্থ ‘সওয়াইবুল আফকার’ এবং মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আযনিকীর অপর একটি টীকাগ্রন্থ রয়েছে।
শায়খ ইব্রাহিম বিন মুস্তাফা (মৃত্যু: ১০১৪ হি.) এটিকে ‘আল-মাসাবীহ’-এর মতো বিভিন্ন পরিচ্ছেদ ও অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন: ‘আনোয়ারুল বাওয়ারিক ফি তারতীবি শারহিল মাশারিক’। আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির একটি পাণ্ডুলিপি হস্তগত করেছি, আল্লাহর প্রশংসা।
৬ - এটি ব্যাখ্যা করেছেন মাওলা শামস উদ্দিন আহমদ বিন সুলাইমান, যিনি ইবনে কামাল পাশা (মৃত্যু: ৯৪০ হি.) নামে পরিচিত। তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি তেমন প্রসিদ্ধি লাভ করেনি। সম্ভবত ইবনে কামাল পাশার প্রতি এর সম্বন্ধযুক্ত হওয়াটি একটি বিভ্রম, আল্লাহই ভালো জানেন।
৭ - শায়খ ওয়াজিহ উদ্দিন উমর বিন আব্দুল মুহসিন আল-লাখমী আল-আরজানজানী আল-হানাফী রচিত ‘হাদাইকুল আজহার শারহু মাশারিকিল আনওয়ার’। তিনি এটি ৮৭১ হিজরিতে সমাপ্ত করেছেন। এটি বর্তমানে সম্পাদনাধীন রয়েছে, ইনশাআল্লাহ তাআলা।
৮ - এটি ব্যাখ্যা করেছেন শামস উদ্দিন ইবনুস সাইগ: মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-যুমরুদী আল-হানাফী (মৃত্যু: ৭৭৬ হি.)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
9 - وشرحه الشيخ محمد بن مصلح الدين القوجوي، المعروف بشيخ زاده المحشي (ت 951 هـ) وقد حصلت على مخطوطة لهذه الحاشية والحمد لله.
10 - وشرحه جلال الدين التباني (ت: 793 هـ) ولم يكمله.
11 - وشرحه الشيخ وحيد الدين.
12 - وشرحه علاء الدين يحيى بن عبد اللطيف الطاوسي القزويني، بشرحين كبيرا وصغيرا.
13 - وللمولى: عبد الله، الشهير: بطورسون زاده (ت: 1019 هـ)، شرح مئة حديث من المشارق سماه: «تحفة حسناء».
14 - ضياء الدين علي بن محمود الكرماني الشافعي (كان حيا 830 هـ)، وسماه: «ضياء المشارق
(1) الجدير بالوضع على المفارق».
15 - شمس الدين العطائي.
اختصره:
- الشيخ محمد بن محمد الأسدي، المقدسي الدمشقي الشافعي (ت: 808ھ)، وسماه: «دقائق الآثار في مختصر مشارق الأنوار».
- وعلى المشارق حاشية للشيخ قاسم بن قطلوبغا، الحنفي (ت: 879ھ)
- ورتبه الشيخ علي بن الحسن على الأبواب والفصول، وسماه: «مبارق الأزهر» ثم رتب كذلك شرح ابن ملك.
--------------------------------------------
9 - এবং এটি ব্যাখ্যা করেছেন শায়খ মুহাম্মদ বিন মুসলিহ উদ্দিন আল-কুজুয়ি, যিনি শায়খ জাদাহ আল-মুহাশি (মৃত্যু ৯৫১ হিজরি) নামে পরিচিত; আলহামদুলিল্লাহ, আমি এই টীকাটির (হাশিয়া) একটি পাণ্ডুলিপি অর্জন করেছি।
10 - এবং এটি ব্যাখ্যা করেছেন জালাল উদ্দিন আত-তাব্বানি (মৃত্যু: ৭৯৩ হিজরি), তবে তিনি এটি সমাপ্ত করেননি।
11 - এবং এটি ব্যাখ্যা করেছেন শায়খ ওয়াহিদ উদ্দিন।
12 - এবং এটি ব্যাখ্যা করেছেন আলাউদ্দিন ইয়াহিয়া বিন আব্দুল লতিফ আত-তাউসি আল-কাজুইনি, বড় এবং ছোট—এই দুই ব্যাখ্যাগ্রন্থের মাধ্যমে।
13 - এবং মাওলা আব্দুল্লাহর জন্য, যিনি তুর্সুন জাদাহ (মৃত্যু: ১০১৯ হিজরি) নামে প্রসিদ্ধ, মাশারিক থেকে একশত হাদিসের একটি ব্যাখ্যা রয়েছে, যার নাম তিনি রেখেছেন: "তুহফাতুন হাসনা"।
14 - জিয়াউদ্দিন আলী বিন মাহমুদ আল-কিরমানি আশ-শাফিঈ (তিনি ৮৩০ হিজরিতে জীবিত ছিলেন), এবং তিনি এর নাম রেখেছেন: "জিয়াউল মাশারিক আল-জাদির বিল ওয়াদয়ি আলাল মাফারিক"।
15 - শামসুদ্দিন আল-আতাঈ।
এটি সংক্ষেপ করেছেন:
- শায়খ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-আসাদি, আল-মাকদিসি আদ-দিমাশকি আশ-শাফিঈ (মৃত্যু: ৮০৮ হিজরি), এবং তিনি এর নাম রেখেছেন: "দাকায়িকুল আসার ফি মুখতাসার মাশারিকিল আনওয়ার"।
- এবং মাশারিকের ওপর শায়খ কাসেম বিন কুতলুবুগা আল-হানাফি (মৃত্যু: ৮৭৯ হিজরি)-এর একটি টীকা (হাশিয়া) রয়েছে।
- এবং শায়খ আলী বিন হাসান এটি অধ্যায় ও পরিচ্ছেদ অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন এবং এর নাম রেখেছেন: "মাবারিকুল আজহার"; এরপর তিনি একইভাবে ইবনুল মালিকের ব্যাখ্যাগ্রন্থটিও বিন্যস্ত করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
ورتبه الشيخ عبد الغفور بن محمد بن عبد الله الغزنوي وسماه: «مشكاة الأنوار لتسهيل مشارق الأنوار» رتبه على الترتيب الفقهي.
- وضع الشيخ المولوي إلهي بخش سنة (1279 هـ) فهرسا على «المشارق» وخرج أحاديثه وسماه: «تبصرة الأبصار في تخريج الآثار».
- وترجمه الإمام المحدث أبو محمد سليمان عمر بن الصلاح البخاري إلى اللغة الفارسية وعلق عليه باللغة العربية.
-و ترجمه الشيخ خرم علي البلهوري إلى اللغة الأردية، وسماه: «تحفة الأخيار في ترجمة مشارق الأنوار» وشرحه.
* * *
শেখ আব্দুল গফুর বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-গজনভী একে বিন্যস্ত করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন: «মেশকাতুল আনওয়ার লি-তাসহিল মাশারিকিল আনওয়ার»; তিনি একে ফিকহী ক্রমবিন্যাস অনুযায়ী সাজিয়েছেন।
- শেখ মৌলভী ইলাহী বখশ (১২৭৯ হিজরি) সনে «মাশারিক»-এর একটি নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করেন এবং এর হাদিসসমূহের তাখরিজ করেন; তিনি এর নাম দিয়েছেন: «তাবসিরাতুল আবসার ফি তাখরিজিল আসার»।
- ইমাম মুহাদ্দিস আবু মুহাম্মদ সুলায়মান উমর বিন আস-সালাহ আল-বুখারী একে ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেছেন এবং আরবি ভাষায় এর ওপর টীকা লিখেছেন।
- এবং শেখ খুররম আলী আল-বিলহুরি একে উর্দু ভাষায় অনুবাদ করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন: «তুহফাতুল আখইয়ার ফি তারজামাহ মাশারিকিল আনওয়ার» এবং এর ব্যাখ্যা করেছেন।
* * *
(খণ্ড: ১)
মাশারিকুল আনওয়ারিন নববিয়্যাহ মিন সিহাহিল আখবারিল মুসতাফাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
عملي في الكتاب:1 - بعد البحث عن مخطوطات الكتاب في الشبكة العنكبوتية، وعند المهتمين بهذا الشأن، وجدت للكتاب ست نسخ، اخترت منها أربعة، واستأنست بالباقي.
نسخت الكتاب من مخطوطة جعلتها أصلا، ثم قابلته على نسختي فرع: (ق، هـ)، ولما وجدت الفروق قليلة وكثير منها لا يلتفت إليه، ارتأيت أن أثبت في النص الصواب من النسخ الثلاث وأجعل الخطأ أو غير المعتمد في الحاشية؛ ليقرأ القارئ النص سليما خاليا من أي علة.
واستفدت من النسخة الرابعة وهي (ع) من هوامشها وتعليقاتها الثمينة.
وقد كنت قابلت الكتاب قبل طباعته بسنوات عدة وهي النسخ التي استطعت الوصول إليها حينئذ، ثم بعد ذلك حصلت على نسخ أخرى أكثر وضوحا ونفاسة من المكاتب التركية ونسخها المميزة، وقمت باستقراء عدد منهم على النص فلم أجد ما يستدعي مني إعادة شيء منها، وفيما قوبل غنية عنهم إن شاء الله تعالى، فله الحمد والمنة.
مع استفادتي كذلك من أصول الشروح التي حققتها على الكتاب وهي:
1 - «مبارق الأزهار» لابن الملك.
2 - «تحفة الأخيار» للبابرتي الحنفي.
3 - «حدائق الأزهار» للأزرنجاني، وقد شارفت على الانتهاء منهم الله الفضل والمنة.
কিতাব সম্পাদনায় আমার পদ্ধতি:১ - ইন্টারনেটে এবং এই বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিকট কিতাবটির পাণ্ডুলিপি অনুসন্ধানের পর, আমি এর ছয়টি পাণ্ডুলিপি পেয়েছি। সেখান থেকে আমি চারটি বেছে নিয়েছি এবং বাকিগুলো থেকে সহায়তা নিয়েছি।
আমি একটি পাণ্ডুলিপিকে মূল (আসল) ধরে কিতাবটি প্রতিলিপি করেছি, অতঃপর অন্য দুটি গৌণ পাণ্ডুলিপি: (ক্বাফ, হা) এর সাথে তা মিলিয়ে দেখেছি। যখন দেখলাম যে পার্থক্য খুবই সামান্য এবং এর অনেকগুলোই গুরুত্বহীন, তখন আমি তিনটি পাণ্ডুলিপি থেকে সঠিক পাঠটি মূল পাঠে সংকলন করার এবং ভুল বা অনির্ভরযোগ্য পাঠটি টীকায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি; যাতে পাঠক কোনো ত্রুটিমুক্ত ও নির্ভুল পাঠ পড়তে পারেন।
আমি চতুর্থ পাণ্ডুলিপি—যা (আইন)—তার পার্শ্বটীকা ও মূল্যবান মন্তব্যগুলো থেকে উপকৃত হয়েছি।
মুদ্রণের কয়েক বছর আগেই আমি কিতাবটি তখন পর্যন্ত প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখেছিলাম। এরপর আমি তুরস্কের লাইব্রেরিগুলো থেকে আরও স্পষ্ট এবং মূল্যবান কিছু অনন্য পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেছি। আমি সেগুলোর মধ্য থেকে বেশ কিছু মূল পাঠের সাথে মিলিয়ে দেখেছি এবং এমন কিছু পাইনি যা আমাকে কোনো কিছু পুনরায় সংশোধন করতে উদ্বুদ্ধ করে। ইতিপূর্বে যা মিলিয়ে দেখা হয়েছে তা-ই যথেষ্ট বলে বিবেচিত হবে, ইনশাআল্লাহ। সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই প্রাপ্য।
সেই সাথে আমি কিতাবটির উপর আমার সম্পাদিত মূল ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো থেকেও উপকৃত হয়েছি, সেগুলো হলো:
১ - ইবনে মালেকের ‘মাবারিকুল আযহার’।
২ - বাবরতী হানাফীর ‘তুহফাতুল আখইয়ার’।
৩ - আজরিনজানীর ‘হাদাইকুল আযহার’; এটি সম্পাদনার কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। সকল শ্রেষ্ঠত্ব ও অনুগ্রহ আল্লাহর।