(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: -)
المنتخب من حديث شيوخ بغداد   (أبو حيان الأندلسي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: المنتخب من حديث شيوخ بغداد

للإمام الحافظ العلاء محمود بن أبي بكر الفرضي البخاري (ت 700 هـ)

تخريج: جمال الدين ابن الظاهري (ت 696 هـ)

انتخاب: أبي حيان الأندلسي (ت 745 هـ)

تحقيق ودراسة: رياض حسين عبد اللطيف الطائي

الناشر: دار النوادر، دمشق - سوريا

الطبعة: الأولى، 1433 هـ - 2012 م

عدد الصفحات: 263

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ذو الحجة 1446

বাগদাদের শাইখদের হাদিস থেকে নির্বাচিত   (আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: বাগদাদের শাইখদের হাদিস থেকে নির্বাচিত

ইমাম আল-হাফিজ আল-আলা মাহমুদ বিন আবি বকর আল-ফারদি আল-বুখারি (মৃত্যু ৭০০ হিজরি) কর্তৃক লিখিত

তাখরিজ: জামাল উদ্দিন ইবনুজ জহিরি (মৃত্যু ৬৯৬ হিজরি)

নির্বাচন: আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৭৪৫ হিজরি)

তাহকিক ও গবেষণা: রিয়াদ হোসেন আব্দুল লতিফ আল-তাই

প্রকাশক: দারুন নাওয়াদির, দামেস্ক - সিরিয়া

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৩ হিজরি - ২০১২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২ জিলহজ ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌مقدمة التحقيق

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا. من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

اللهم صل على محمد وعلى آل محمد، وبارك على محمد وعلى آل محمد، كما صليت وباركت على إبراهيم وآل إبراهيم إنك حميد مجيد.

أما بعد:

فإن الكلام عن هذا الكتاب يعني الكلام عن بغداد. . . نشأتي، وسني حياتي، وأهلي وأحبتي ممن هم اليوم على ظاهر الأرض أو واراهم ترابها.

عن حياتي في مساجدها، ومدارسها، وشوارعها، وأزقتها. . .

أحن إلى تلك البلاد وأهلها … كأني أسير في السلاسل راهن
সম্পাদনা ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর বরকত নাজিল করুন, যেমনটি আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারবর্গের ওপর রহমত ও বরকত নাজিল করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অতি মহিমান্বিত।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই এই কিতাবটি সম্পর্কে কথা বলার অর্থ হলো বাগদাদ সম্পর্কে কথা বলা... আমার বেড়ে ওঠা, আমার জীবনের বছরগুলো, আমার পরিবার ও প্রিয়জনদের সম্পর্কে আলোচনা করা—যারা আজ পৃথিবীর বুকে বেঁচে আছেন অথবা যাদেরকে মাটি আজ আড়াল করে নিয়েছে।

সেখানকার মসজিদসমূহ, মাদরাসাসমূহ, রাস্তাঘাট এবং অলিগলিগুলোতে কাটানো আমার জীবন সম্পর্কে...

আমি সেই ভূখণ্ড ও তার অধিবাসীদের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠি … যেন আমি শিকলে আবদ্ধ এক বন্দি।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٦)
بلاد بها أهلي ولهوي ومولدي … جرت لي طيور السعد فيها الأيامن

إذا برقت نحو «البلاد» غمامة … دعا الشوق مني برقها المتيامن

وما إن خرجنا رغبة عن بلادنا … ولكنه ما قدر الله كائن

نعم، هي بغداد «أم الدنيا وسيدة البلاد»(1)، تلك المدينة الناعمة الدافئة التي امتحنت منذ نشأتها الأولى بالجمال والغنى والعافية، والتي ما برحت أنموذجا دائما للعبرة عما تعانيه الثقافة من هجمات جاهلية؛ تروم طمس كل نور تشعه أمثال هذه المنارات العظيمة.

وقد كانت هذه المدينة الراسخة القدم في العراقة، الثابتة الأصل في الحضارة، تنفض وعثاء الزيف عن مرآتها كلما عكرت صفوها النائبات، لتنهض كالشمس كرة بعد كرة، فتكون - كما اختار الله تعالى لها ولأخواتها من حواضر العالم الإسلامي - قبلة لرواد المعرفة وحجاج العلم.

وقد ننسى - وللأسف - هذه الروح الصامدة الصامتة التي تتمتع بها بلدان العالم الإسلامي عموما، وحواضره مراكز العلم والمعرفة خصوصا، تلك الروح التي جعلت من هذه الحواضر مضغة عصية على المضغ بين فكي المحن على شراسة تكالبها عليها؛ ننسى هذا في مقابل ما تركز عليه من حلكة الظلام الزائف الذي تزوره في عيوننا غيمة رعناء، تهب تارة من الشرق - كما حل ببغداد قديما - أو سحابة خاوية تتمطى على حدود آفاقنا من الغرب - كما حل ببغداد حديثا - ويأبى الحق إلا

--------------------------------------------

(1) وصفها بذلك ياقوت في «معجم البلدان» 1/ 456.

এমন এক দেশ যেখানে আমার পরিবার, আমার আনন্দ এবং আমার জন্মস্থান … যেখানে সৌভাগ্যের পাখিরা আমার কল্যাণে শুভ লক্ষণ নিয়ে উড়ে এসেছিল।

যখনই ‘দেশের’ দিকে কোনো মেঘ চমকায় … তখন তার দক্ষিণ প্রান্তের বিদ্যুৎ আমার মনে ব্যাকুলতা জাগিয়ে তোলে।

আমরা আমাদের ভূখণ্ড থেকে স্বেচ্ছায় বের হইনি … বরং আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন তা-ই সংঘটিত হয়।

হ্যাঁ, এটি বাগদাদ ‘বিশ্বের জননী ও শহরসমূহের নেত্রী’(১), সেই কোমল ও উষ্ণ শহরটি যা তার সূচনালগ্ন থেকেই সৌন্দর্য, প্রাচুর্য ও সমৃদ্ধি দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছে। এটি জাহেলী আক্রমণসমূহের ফলে সংস্কৃতির যে দুর্গতি হয়, তার এক চিরন্তন দৃষ্টান্ত হয়ে আছে; যে আক্রমণগুলো এই মহান আলোকবর্তিকাগুলো থেকে বিচ্ছুরিত প্রতিটি আলোকে নিভিয়ে দিতে চায়।

আভিজাত্যে সুদৃঢ় এবং সভ্যতায় সুপ্রতিষ্ঠিত এই শহরটি তার স্বচ্ছ দর্পন থেকে মিথ্যার ধুলিকণা ঝেড়ে ফেলত যখনই কোনো বিপদ-আপদ তার শান্তিকে বিঘ্নিত করত, যাতে সে সূর্যের মতো বারবার উদিত হতে পারে। ফলে সে পরিণত হয়—যেমনটি আল্লাহ তাআলা তার এবং ইসলামী বিশ্বের অন্যান্য প্রধান শহরগুলোর জন্য পছন্দ করেছেন—জ্ঞানের অভিযাত্রী ও ইলমের সত্যান্বেষীদের কিবলা বা মিলনস্থলে।

দুর্ভাগ্যবশত, আমরা হয়তো সেই অবিচল ও নিভৃত প্রাণশক্তির কথা ভুলে যাই যা সাধারণত ইসলামী বিশ্বের দেশগুলো এবং বিশেষভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের কেন্দ্রসমূহ ধারণ করে থাকে। সেই প্রাণশক্তি যা এই শহরগুলোকে চরম প্রতিকূলতার মাঝেও এক অপরাজেয় সত্তায় পরিণত করেছে, যদিও বিপদসমূহ অত্যন্ত হিংস্রভাবে তাদের ওপর চড়াও হয়েছিল। আমরা এটি ভুলে যাই সেই কৃত্রিম অন্ধকারের বিপরীতে যা আমাদের চোখে একটি নির্বোধ মেঘমালা তৈরি করে; যা কখনও পূর্ব দিক থেকে ধেয়ে আসে—যেমনটি অতীতে বাগদাদের ক্ষেত্রে ঘটেছিল—অথবা কোনো অসার মেঘমালা যা পশ্চিম থেকে আমাদের দিগন্তের সীমানায় বিস্তৃতি লাভ করে—যেমনটি বর্তমানে বাগদাদের ওপর আপতিত হয়েছে। আর সত্য কেবল একথাই প্রতিষ্ঠিত করতে চায় যে...

--------------------------------------------

(১) ইয়াকুত ‘মুজামুল বুলদান’ ১/৪৫৬ গ্রন্থে তাকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٧)
أن يتم نوره.

أقول هذا لما درج عليه الكتاب المعاصرون من الوقوف عند حادثة سقوط بغداد جريحة - ولا أقول صريعة كما يزعمون! - بيد مغول الشرق سنة (656 هـ)، وكأن هذه الحادثة كانت نهاية مجد هذه المدينة المتينة وآخر شوط في سعيها إلى الخلود، غاضين الطرف عن نهضتها التي كانت بعد تلك الحادثة بسنوات قلائل، حيث عادت إليها بهجة العلم ورونق المدارس ونضرة المجالس، وعاد طلاب العلم إلى قصدها فوجا بعد فوج؛ مدركين أنها إن كانت قد سلبت أبهة الملك ورفعة السلطان؛ فإنها لم تفقد - البتة - عزة الدين وهيبة العلم.

وبعد … فلا مفر من البشرى، فعند مطالعتي لمخطوطة هذا الكتاب ترسخ التفاؤل في ضميري بأن تعود بغداد - بعد أن التهمها اليوم «مغول الغرب» ونهشوا ثوبها - كما كانت؛ مروج حضارة، ورياض مجد، وجنة علم. وهذا العهد بها؛ سرعة النهوض بعد الكبوات، وتدارك الخطى بعد العثرات، وعمارة العلم بعد النائبات.

وبالله تعالى الأمل أن يردها إلينا وأن يردنا إليها، {والله غالب على أمره} [يوسف: 1/ 21].

وقد يجمع الله الشتيتين بعدما … يظنان كل الظن أن لا تلاقيا

من أجل ذلك عزمت على تحقيق هذا الكتاب رغبة مني في خدمة مدينتي الحبيبة، التي طالما جمعتني فيها هموم وهمم شاطرني حملها
...তাঁর নূরকে পূর্ণ করবেন।

সমকালীন লেখকদের অনুসৃত রীতির প্রেক্ষিতে আমি একথা বলছি, কারণ তারা হিজরি ৬৫৬ সনে পূর্বের মোঙ্গলদের হাতে বাগদাদের আহত অবস্থায় পতনের ঘটনার কাছেই থমকে যান - আমি একে 'নিহত' হওয়া বলব না যেমনটি তারা দাবি করেন! - যেন এই সুদৃঢ় নগরীর গৌরবের সমাপ্তি এবং অমরত্বের পথে তার প্রচেষ্টার এটিই ছিল শেষ ধাপ। তারা এর সেই পুনর্জাগরণের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন না, যা সেই ঘটনার মাত্র কয়েক বছর পরেই সংঘটিত হয়েছিল; যখন সেখানে ইলমের দ্যুতি, মাদরাসাগুলোর জৌলুস এবং মজলিসসমূহের সজীবতা পুনরায় ফিরে এসেছিল। ইলম অন্বেষণকারীরা দলে দলে পুনরায় এর অভিমুখে যাত্রা করেছিল; তারা উপলব্ধি করেছিল যে, যদিও এই নগরীর রাজকীয় প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং সুলতানি উচ্চমর্যাদা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তবুও তা দীনের মর্যাদা এবং ইলমের গাম্ভীর্যকে বিন্দুমাত্র হারায়নি।

অতঃপর … সুসংবাদ প্রদান ব্যতিরেকে কোনো গত্যন্তর নেই। এই কিতাবটির পাণ্ডুলিপি পাঠ করার সময় আমার অন্তরে এই সুসংবাদটি বদ্ধমূল হয়েছে যে, বাগদাদ - বর্তমানে 'পশ্চিমের মোঙ্গলরা' একে গ্রাস করার এবং এর আব্রু লুণ্ঠন করার পর - আবারও আগের মতো ফিরে আসবে; সভ্যতার চারণভূমি, গৌরবের উদ্যান এবং ইলমের জান্নাত হিসেবে। আর এটাই তার চিরাচরিত স্বভাব; হোঁচট খাওয়ার পর দ্রুত উঠে দাঁড়ানো, পদস্খলনের পর পদক্ষেপ সংশোধন করা এবং বিপর্যয়ের পর ইলমের আবাদ করা।

আর মহান আল্লাহর কাছেই এই প্রত্যাশা যে, তিনি একে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেবেন এবং আমাদেরও এর কাছে ফিরিয়ে দেবেন। {আর আল্লাহ তাঁর কাজে বিজয়ী} [ইউসুফ: ২১]।

আর আল্লাহ হয়তো দুই বিচ্ছিন্ন সত্তাকে একত্রিত করবেন এমন এক সময়, যখন … তারা পূর্ণ ধারণা করেছিল যে আর কখনও সাক্ষাৎ হবে না।

সেই লক্ষ্যেই আমি আমার প্রিয় নগরীর খিদমত করার বাসনায় এই কিতাবটির তাহকিকের সংকল্প করেছি, যে নগরীতে দীর্ঘকাল ধরে আমি এমন সব উদ্বেগ ও সংকল্পের মুখোমুখি হয়েছি যার বোঝা বহনে অন্যরাও আমার অংশীদার ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٨)
بعض من طلبة العلم ورواده في خدمة بغداد من خلال تحقيق ودراسة ما يتعلق بها من مصنفات ومؤلفات.

وها هو كتاب «المنتخب من حديث شيوخ بغداد» في سلسلة هذه ثاني حلقاتها، بعد تحقيقي لكتاب «المشيخة البغدادية» للرشيد ابن مسلمة رحمه الله أقدمه للمكتبة العربية والإسلامية، عسى أن أكون موفقا في إخراجه بهذه الصورة.

وقبل أن أفارق قلمي؛ أرى أن من واجبي الأدبي والأخلاقي أن أعطف بكلامي؛ منوها ومذكرا بما قام به الأخ الوفي والشيخ الألمعي محمد بسام حجازي من جهد في إعانتي على مقابلة الكتاب ومراجعته وتقويم ما ند لي من عبارات وكلمات، وما قدمه لي من نصح يدل على كريم جنابه ونبيل أخلاقه.

والحمد لله أولا وآخرا، ظاهرا وباطنا.

وكتبه

رياض حسين الطائي البغدادي

حلب الشهباء

بعد عصر يوم الأربعاء

22 رجب 1430
বাগদাদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি ও গ্রন্থাবলী সম্পাদনা ও গবেষণার মাধ্যমে কিছু ইলম অন্বেষী ও গবেষক এই শহরের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।

আর এই যে «আল-মুনতাখাব মিন হাদিসি শুয়ুখি বাগদাদ» গ্রন্থটি এই ধারার দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে উপস্থিত। এর আগে আমি আর-রশিদ ইবনে মাসলামাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) রচিত «আল-মাশইয়াহাতুল বাগদাদিয়্যাহ» গ্রন্থটি সম্পাদনা সম্পন্ন করার পর এটি আরবি ও ইসলামি লাইব্রেরির সামনে পেশ করছি, এই আশায় যে আমি একে এই রূপে প্রকাশ করতে সফল হয়েছি।

লেখনী থামানোর পূর্বে আমি আমার সাহিত্যিক ও নৈতিক দায়িত্ব মনে করছি যে, অনুগত ভাই ও মেধাবী শায়খ মুহাম্মদ বাসসাম হিজাজির প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করি এবং তাঁকে কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করি। তিনি গ্রন্থটির পাঠ মিলিয়ে দেখা, পর্যালোচনা এবং আমার অলক্ষ্যে থেকে যাওয়া বাক্য ও শব্দগুলো সংশোধনে আমাকে যে সহায়তা করেছেন এবং যে উপদেশ প্রদান করেছেন, তা তাঁর মহানুভবতা ও মহৎ চরিত্রের পরিচায়ক।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে।

লিখেছেন

রিয়াদ হুসাইন আত-তাঈ আল-বাগদাদি

হালাব আশ-শাহবা

বুধবার আসরের পর

২২ রজব ১৪৩০ হিজরি
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌الفصل الأول دراسة الكتاب

*‌‌ أولا - الحالة السياسية والعلمية:

شهد العالم الإسلامي عامة والعراق خاصة فاجعة لم يعرف التاريخ البشري لها مثيلا، بل لم يصب الإسلام وأهله بمثلها قط، (حديث يأكل الأحاديث، وخبر يطوي الأخبار، وتاريخ ينسي التواريخ، ونازلة تصغر كل نازلة، وفادحة تطبق الأرض، وتملؤها ما بين الطول والعرض)(1).

ففي شهر صفر من سنة 656 هـ(2)، اكتسح التتار بجيوشهم الكافرة الفاجرة أرض العراق، واستولوا على عاصمة الخلافة العباسية بغداد،

--------------------------------------------

(1) تاريخ الخلفاء للسيوطي ص 467، و «سمط النجوم العوالي» 3/ 522.

(2) دخل المغول بغداد في 7 صفر تحديدا. انظر: «محنة الإسلام الكبرى أو: زوال الخلافة العباسية من بغداد على أيدي المغول». تأليف: د. مصطفى طه بدر ص 177.

ومن عجائب تقدير الله تعالى أن كان دخول جيوش الكفر والضلال الأمريكية ببغداد في 7 صفر من عام 1424 هـ، وهو الموافق ليوم 9/ 4/ 2003 م!! فلله الأمر من قبل ومن بعد.

প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের পর্যালোচনা

*‌প্রথমত - রাজনৈতিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা:

সামগ্রিকভাবে মুসলিম বিশ্ব এবং বিশেষভাবে ইরাক এমন এক বিপর্যয়ের সাক্ষী হয়েছে যার নজির মানব ইতিহাসে নেই; বরং ইসলাম ও মুসলিমরা কখনোই এর মতো কোনো বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়নি, (এটি এমন এক আলোচনা যা অন্য সকল আলোচনাকে গ্রাস করে নেয়, এমন এক সংবাদ যা অন্য সকল সংবাদকে সংকুচিত করে ফেলে, এমন এক ইতিহাস যা সকল ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেয়, এমন এক দুর্যোগ যার নিকট অন্য সকল দুর্যোগ তুচ্ছ হয়ে যায় এবং এমন এক মহাবিপদ যা পৃথিবীকে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং এর দৈর্ঘ্য-প্রস্থকে পূর্ণ করে দেয়)(১)।

৬৫৬ হিজরি সালের সফর মাসে(২), তাতাররা তাদের কাফের ও পাপাচারী বাহিনী নিয়ে ইরাক ভূখণ্ডে আগ্রাসন চালায় এবং আব্বাসীয় খিলাফতের রাজধানী বাগদাদ দখল করে নেয়।

--------------------------------------------

(১) সুয়ূতী রচিত 'তারিখুল খুলাফা', পৃষ্ঠা ৪৬৭ এবং 'সিমতুন নুজুমিল আওয়ালি' ৩/৫২২।

(২) মঙ্গোলরা সুনির্দিষ্টভাবে ৭ই সফর বাগদাদে প্রবেশ করে। দেখুন: ড. মুস্তাফা ত্বহা বদর রচিত 'মিহনাতুল ইসলামিল কুবরা' অথবা 'মঙ্গোলদের হাতে বাগদাদ থেকে আব্বাসীয় খিলাফতের অবসান', পৃষ্ঠা ১৭৭।

আর মহান আল্লাহর তকদীরের এক বিস্ময়কর ব্যাপার এই যে, বাগদাদে আমেরিকার কুফর ও গোমরাহী বাহিনীর প্রবেশও ঘটেছিল ১৪২৪ হিজরি সালের ৭ই সফর, যা ৯/৪/২০০৩ খ্রিস্টাব্দ তারিখের সাথে মিলে যায়!! সকল বিষয়ের ফয়সালা আদি ও অন্তে কেবল আল্লাহর জন্যই।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ١٠)
أعانهم على ذلك خيانة، وحقد دفين، مع ضعف في أواصر الأمة، وسوء تدبير ولاتها، واضمحلال أسباب التمكين فيها: {ذلك بأن الله لم يك مغيرا نعمة أنعمها على قوم حتى يغيروا ما بأنفسهم وأن الله سميع عليم} [الأنفال: 53].

دخل التتار العراق، وقتلوا الخليفة المستعصم بالله رحمه الله وجميع من معه من مساعديه وقواده، وقتلوا كثيرا من العلماء والقضاة والأعيان، ودمروا المساجد والمدارس والبيوت، ووضعوا السيف في الناس.

قال ابن كثير، وهو يصف ما فعله المغول في بغداد: قتلوا جميع من قدروا عليه من الرجال والنساء والولدان والمشايخ والكهول والشبان(1)، ودخل كثير من الناس في الآبار، وأماكن الحشوش، وقني الوسخ، وكمنوا كذلك أياما لا يظهرون.

وكان الفئام من الناس يجتمعون إلى الخانات ويغلقون عليهم الأبواب فتفتحها التتار إما بالكسر وإما بالنار، ثم يدخلون عليهم فيهربون منهم إلى أعالي المكان فيقتلونهم في الأسطحة، حتى تجري الميازيب من الدماء في الأزقة، فإنا لله وإنا إليه راجعون.

--------------------------------------------

(1) قال الذهبي في (تاريخ الإسلام) (14/ 73 - بشار): واستمر القتل والسبي في بغداد بضعا وثلاثين يوما، ولم ينج إلا من اختفى. فبلغنا أن هولاكو أمر - بعد ذلك بعد القتلى فبلغوا ألف ألف وثمانمئة ألف وكسر. والأصح أنهم بلغوا ثمانمئة ألف. ثم نودي - بعد ذلك - بالأمان، وظهر من كان قد تخبأ وهم قليل من كثير.

বিশ্বাসঘাতকতা, প্রোথিত বিদ্বেষ, জাতির বন্ধনসমূহের দুর্বলতা, এর শাসকদের অব্যবস্থাপনা এবং এতে ক্ষমতায়নের উপকরণসমূহের বিলুপ্তি তাদের এই কাজে সহায়তা করেছিল: {তা এজন্য যে, আল্লাহ কোনো জাতিকে যে নেয়ামত দান করেন, তা ততক্ষণ পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} [আল-আনফাল: ৫৩]।

তাতাররা ইরাকে প্রবেশ করে এবং খলিফা আল-মুস্তাসিম বিল্লাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ও তাঁর সাথে থাকা তাঁর সকল সহকারী ও সেনাপতিদের হত্যা করে। তারা বহু আলেম, বিচারক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হত্যা করে এবং মসজিদ, মাদরাসা ও ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দেয় এবং মানুষের ওপর তলোয়ার চালায়।

ইবনে কাসীর বাগদাদে মঙ্গোলরা যা করেছিল তার বর্ণনা দিয়ে বলেন: তারা যাদেরই কবজায় পেয়েছে—পুরুষ, নারী, শিশু, বৃদ্ধ, প্রৌঢ় ও যুবক—তাদের সকলকে হত্যা করেছে(১)। অনেক মানুষ কূয়োর ভেতর, শৌচাগারের জায়গাগুলোতে এবং ময়লা নির্গমনের নর্দমায় ঢুকে পড়েছিল এবং তারা বেশ কয়েকদিন এভাবে আত্মগোপন করে রইল, তারা প্রকাশ্যে আসেনি।

বিপুল সংখ্যক মানুষ সরাইখানাগুলোতে একত্রিত হতো এবং নিজেদের ওপর দরজা বন্ধ করে দিত, কিন্তু তাতাররা সেগুলো হয় ভেঙে অথবা আগুন জ্বালিয়ে খুলে ফেলত। এরপর তারা তাদের ওপর চড়াও হতো, আর তারা পালিয়ে ওপরের দিকে যেত, তখন তারা তাদের ছাদের ওপর হত্যা করত, এমনকি অলিগলিতে রক্তের নালা প্রবাহিত হতে লাগল। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।

--------------------------------------------

(১) আয-যাহাবী (তারিখে ইসলাম)-এ (১৪/ ৭৩ - বাশার) বলেন: বাগদাদে হত্যাযজ্ঞ ও বন্দি করার প্রক্রিয়া তিরিশ দিনের কিছু বেশি সময় ধরে চলেছিল এবং যারা আত্মগোপন করেছিল তারা ছাড়া কেউ রক্ষা পায়নি। আমাদের কাছে এই তথ্য পৌঁছেছে যে, এরপর হালাকু খান নিহতদের গণনা করার নির্দেশ দেয় এবং তাদের সংখ্যা আঠারো লক্ষ ও কিছু বেশি হয়। তবে সঠিকতর মত হলো তারা আট লক্ষে পৌঁছেছিল। এরপর অভয় প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং যারা লুকিয়ে ছিল তারা আত্মপ্রকাশ করে, তবে তারা ছিল বহু মানুষের বিপরীতে সামান্য কজন।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ١١)
وكذلك في المساجد والجوامع والربط، ولم ينج منهم أحد سوى أهل الذمة من اليهود والنصارى، ومن التجأ إليهم، وإلى دار الوزير ابن العلقمي الرافضي(1)، وطائفة من التجار أخذوا لهم أمانا، بذلوا عليه أموالا جزيلة حتى سلموا وسلمت أموالهم.

وعادت بغداد بعدما كانت أنس المدن كلها كأنها خراب ليس فيها أحد إلا القليل من الناس، وهم في خوف وجوع وذلة وقلة(2).

وقال السبكي: هذه بغداد لم تكن دار كفر قط جرى عليها هذا الذي لم يقع منذ قامت الدنيا مثله وقتل الخليفة، وإن كان وقع في الدنيا أعظم منه إلا أنه أضيف له هوان الدين والبلاء الذي لم يختص بل عم سائر المسلمين. وهذا أمر قدره الله تعالى، فثبط له عزم هذا الخليفة ليقضي الله ما قدره(3).

--------------------------------------------

(1) قال السبكي في «الطبقات» 8/ 273 - 274: وأما الوزير فإنه لم يحصل على ما أمل، وصار عندهم أخس من الذباب وندم حيث لا ينفعه الندم. ويحكى أنه طلب منه يوما شعيرا فركب الفرس بنفسه ومضى ليحصله لهم، وهذا يشتمه، وهذا يأخذ بيده، وهذا يصفعه، بعد أن كانت السلاطين تأتي فتقبل عتبة داره، والعساكر تمشي في خدمته حيث سار من ليله ونهاره، وأن امرأة رأته من طاق، فقالت له: يا ابن العلقمي! هكذا كنت تركب في أيام أمير المؤمنين؟! فخجل وسكت، وقد مات غبنا بعد أشهر يسيرة، ومضى إلى دار مقبره ووجد ما عمل حاضرا. اهـ.

(2) «البداية والنهاية» 17/ 359 - 360.

(3) «طبقات الشافعية» 8/ 272.

একইভাবে মসজিদ, জামে মসজিদ এবং খানকাহগুলোতেও (হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়)। ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মতো জিম্মি এবং যারা তাদের কাছে বা রাফেজি উজির ইবনে আল-আলকামির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল(১), তারা ছাড়া কেউ রক্ষা পায়নি। এছাড়া কিছু ব্যবসায়ীও প্রচুর অর্থ প্রদানের বিনিময়ে নিরাপত্তা লাভ করেছিল, ফলে তারা এবং তাদের সম্পদ রক্ষা পায়।

একসময় সমস্ত শহরের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণবন্ত ও মনোরম থাকা বাগদাদ এমনভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলো যে, সেখানে মুষ্টিমেয় কয়েকজন মানুষ ছাড়া কেউ অবশিষ্ট ছিল না। আর তারাও ছিল আতঙ্ক, ক্ষুধা, লাঞ্ছনা ও চরম অভাবের মধ্যে(২)।

আল-সুবকি বলেন: “বাগদাদ কখনো কুফরির ভূখণ্ড ছিল না, অথচ এর ওপর দিয়ে এমন বিপর্যয় বয়ে গেছে যার নজির পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে আর ঘটেনি। খলিফাকে হত্যা করা হয়েছে। যদিও পৃথিবীতে এর চেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটেছে, তবুও এখানে যুক্ত হয়েছিল দ্বীনের অবমাননা এবং এমন এক মুসিবত যা শুধু নির্দিষ্ট কারো ওপর নয় বরং সকল মুসলিমের ওপর আপতিত হয়েছিল। এটি এমন এক বিষয় যা মহান আল্লাহ নির্ধারণ করেছিলেন, তাই তিনি এই খলিফার মনোবলকে শিথিল করে দিয়েছিলেন যাতে আল্লাহ তাঁর পূর্বনির্ধারিত ফয়সালা বাস্তবায়ন করেন(৩)।”

--------------------------------------------

(১) আল-সুবকি «আত-তবাকাত» গ্রন্থে (৮/২৭৩-২৭৪) বলেছেন: “আর উজিরের কথা বলতে গেলে, তিনি যা আশা করেছিলেন তা পাননি। তাদের (মঙ্গোলদের) কাছে তিনি মাছির চেয়েও অধম হয়ে পড়েছিলেন এবং এমন সময় অনুতপ্ত হয়েছিলেন যখন অনুতাপ কোনো কাজে আসে না। বর্ণিত আছে যে, একদিন তাঁর কাছে যব চাওয়া হয়েছিল, তখন তিনি নিজেই ঘোড়ায় চড়ে তা সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন; পথে কেউ তাঁকে গালি দিচ্ছিল, কেউ তাঁর হাত ধরে টানছিল, আবার কেউ তাঁকে চড় মারছিল। অথচ ইতিপূর্বে সুলতানরা এসে তাঁর গৃহের চৌকাঠ চুম্বন করতেন এবং দিন-রাত সর্বদা সৈন্যরা তাঁর খিদমতে চলত। এক মহিলা তাঁর ঘরের জানালা দিয়ে উজিরকে দেখে বললেন: ‘হে ইবনে আল-আলকামি! আমিরুল মুমিনীনের আমলে কি আপনি এভাবেই চড়তেন?’ এতে তিনি লজ্জিত হলেন ও চুপ করে রইলেন। কয়েক মাস পর তিনি অত্যন্ত মনোবেদনা নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর কবরে চলে যান। তিনি যা করেছিলেন তা সেখানে উপস্থিত পেলেন।” সমাপ্ত।

(২) «আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া» ১৭/৩৫৯-৩৬০।

(৩) «তবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ» ৮/২৭২।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ١٢)
وسقطت بغداد عاصمة الخلافة العباسية، ودمرت معالمها الحضارية وصروحها العلمية، وخضعت لحكم المغول الإلخانيين لغاية عام (737 هـ).

ثم إن هولاكو أمر - قبل أن يغادر بغداد بإصلاح بعض المباني العامة، فأعيد بناء دار الخلافة وجامعها، كما أعيدت المدارس والربط، وبدأت الحياة في بغداد تدب شيئا فشيئا.

وكان أن أسندت ولاية بغداد والعراق سنة (657 هـ) إلى صاحب الديوان علاء الدين عطا ملك الجويني(1)، وقد كان عادلا حسن السيرة فاضلا، له إحسان إلى العلماء والفضلاء، فصرف همه إلى تعمير ما خربه المغول، وأعاد إلى بغداد عمارتها، وأزال عن أهلها ما نالهم، ووجدوا

--------------------------------------------

(1) عطا ملك بن محمد بن محمد، الأجل، علاء الدين الجويني، صاحب الديوان. كان ذا كرم وسؤدد وخبرة بالأمور وعدل ورفق بالرعية وعمارة البلاد، وكان له نظر في العلوم العقلية والأدبية. وبالغ بعض الناس فقال: كانت بغداد أيام الصاحب علاء الدين أجود ما كانت أيام الخليفة! توفي سنة (681 هـ).

ترجمته في: «تلخيص مجمع الآداب» 2/ 1034، و «تاريخ الإسلام» للذهبي 15/ 453، والسير - الجزء المفقود (17/ 353: التوفيقية)، والوافي بالوفيات للصفدي 20/ 84، و «فوات الوفيات» لابن شاكر الكتبي 2/ 452، و «تاريخ العراق بين احتلالين» للأستاذ المحامي عباس العزاوي رحمه الله 1/ 309. وقد أفرده بالترجمة: الدكتور محمد السعيد جمال الدين في كتابه «علاء الدين عطا ملك الجويني حاكم العراق بعد انقضاء الخلافة العباسية في بغداد».

আব্বাসীয় খিলাফতের রাজধানী বাগদাদের পতন ঘটে, এর সভ্যতার নিদর্শনসমূহ ও ইলমী সৌধগুলো ধ্বংস করা হয় এবং এটি (৭৩৭ হিজরি) সাল পর্যন্ত ইলখানি মোঙ্গলদের শাসনাধীন থাকে।

অতঃপর হালাকু খান বাগদাদ ত্যাগ করার পূর্বে কিছু জনকল্যাণমূলক ভবন মেরামতের নির্দেশ দেন, ফলে দারুল খিলাফত ও এর জামে মসজিদ পুনর্নির্মিত হয়। একইভাবে মাদ্রাসা ও খানকাহগুলোও পুনর্নির্মিত হয় এবং বাগদাদে ধীরে ধীরে প্রাণের স্পন্দন ফিরতে শুরু করে।

আর (৬৫৭ হিজরি) সালে বাগদাদ ও ইরাকের শাসনভার 'সাহিবুদ্দিওয়ান' আলাউদ্দীন আতা মালিক আল-জুওয়ায়নী(১)-এর নিকট অর্পণ করা হয়। তিনি ন্যায়পরায়ণ, সচ্চরিত্রবান ও গুণী ব্যক্তি ছিলেন; উলামা ও গুণীজনদের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ ছিল। তিনি মোঙ্গলদের ধ্বংসলীলা পুনর্নির্মাণে পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করেন এবং বাগদাদকে তার পূর্বের সমৃদ্ধিতে ফিরিয়ে আনেন। তিনি নগরবাসীর দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করেন এবং তারা খুঁজে পায়...

--------------------------------------------

(১) আতা মালিক বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ, আল-আজাল্ল, আলাউদ্দীন আল-জুওয়ায়নী, সাহিবুদ্দিওয়ান। তিনি ছিলেন দানশীলতা, নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার অধিকারী এবং প্রজাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও ন্যায়পরায়ণ ও দেশ গড়ার কারিগর। যৌক্তিক বিজ্ঞান এবং সাহিত্যের ওপর তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ছিল। কেউ কেউ অতিশয়োক্তি করে বলেন যে: সাহিব আলাউদ্দীনের সময়ে বাগদাদ খলীফাদের আমলের চেয়েও বেশি সমৃদ্ধ ছিল! তিনি (৬৮১ হিজরি) সালে ইন্তেকাল করেন।

তাঁর জীবনী দেখুন: ‘তালখিস মাজমাউল আদাব’ ২/ ১০৩৪, যাহাবীর ‘তারিখুল ইসলাম’ ১৫/ ৪৫৩, আস-সিয়ার - হারানো খণ্ড (১৭/ ৩৫৩: তাওফিকিয়্যাহ), সাফাদীর ‘আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত’ ২০/ ৮৪, ইবনে শাকির আল-কুতুবীর ‘ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত’ ২/ ৪৫২ এবং আইনজীবী আব্বাস আল-আযযাবী (রহিমাহুল্লাহ)-এর ‘তারিখুল ইরাক বাইনা ইহতিলালান’ ১/ ৩০৯। ডক্টর মুহাম্মাদ আল-সাঈদ জামালুদ্দীন তাঁর সম্পর্কে একটি স্বতন্ত্র জীবনীগ্রন্থ লিখেছেন: ‘আলাউদ্দীন আতা মালিক আল-জুওয়ায়নী হাকিমুল ইরাক বা’দা ইনকিদাইল খিলাফাতিল আব্বাসিয়্যাহ ফি বাগদাদ’।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ١٣)
به راحة، فرممت في عهده المدارس كالمستنصرية والنظامية، بل إنه كان يحضر بعض الدروس فيها، وأعيد بناء مئذنة جامع الخليفة، وأمر ببناء الربط، وأعيدت عمارة مسناة جامع قمرية بالجانب الغربي، وأكملت عمارة الشيخ معروف الكرخي، وغير ذلك.

وقد بقيت بغداد خاضعة لحكم المغول الإلخانيين لغاية عام (737 هـ).

وفي ظل ما وقع لبغداد من مآس وفتن، انعكس ذلك على الحالة العلمية لبغداد، فبعد أن كانت حاضرة العلم والمعرفة، وقبلة المحدثين والفقهاء والعلماء؛ نالها ما نالها من الخراب والدمار والقتل والتهجير.

إلا أنها سرعان ما نهضت من كبوتها، ونفضت غبار الفتنة التي غشيتها، فعمرت المساجد والمدارس، وعاد النشاط العلمي إلى كثير من صروحها العلمية. بل عاد كثير من علمائها إلى مزاولة التدريس في دور القرآن والحديث.

ولعل الناظر في حال شيوخ كتابنا هذه يتلمس هذا الواقع الطيب، فقد عاشوا - كلهم أو جلهم - هذه الحقبة من تاريخ بغداد والعراق، وكان منهم الفقيه والمحدث والأديب، وغير ذلك، مما جعل إماما كالحافظ أبي العلاء البخاري الفرضي يرحل إلى بغداد، ويسمع من علمائها، ويذكرهم في «مشيخته»، التي صنع منها الإمام أبو حيان الأندلسي هذا المنتخب، وما ذاك إلا لما تتمتع به هذه المدينة المعطاء من مزية يخصها العلماء بالذكر والتصنيف والتأليف.
তাঁদের শাসনামলে স্বস্তি ফিরে আসে এবং তাঁর যুগে মুসতানসিরিয়া ও নিজামিয়ার মতো মাদরাসাগুলো সংস্কার করা হয়, এমনকি তিনি সেখানে আয়োজিত কিছু পাঠদানে উপস্থিত থাকতেন। খলিফার মসজিদের মিনার পুনর্নির্মিত হয়, তিনি রিবাত (খানকাহ) নির্মাণের নির্দেশ দেন এবং পশ্চিম প্রান্তের কামারিয়া মসজিদের সুরক্ষা প্রাচীর সংস্কার করা হয় এবং শেখ মারুফ কারখীর মাজারের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়, ইত্যাদি।

বাগদাদ ৭৩৭ হিজরি পর্যন্ত ইলখানি মঙ্গোলদের শাসনাধীন ছিল।

বাগদাদে ঘটে যাওয়া বিপর্যয় ও ফিতনার প্রভাবে সেখানকার ইলমি বা জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থার ওপরও এর প্রতিফলন ঘটে। ইলম ও মা’রিফাতের কেন্দ্র এবং মুহাদ্দিস, ফকিহ ও ওলামায়ে কেরামের প্রধান গন্তব্য হওয়ার পর এটি ধ্বংসযজ্ঞ, বিনাশ, হত্যাকাণ্ড ও দেশান্তরের শিকার হয়।

তবে অচিরেই তা তার বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠে এবং তাকে আচ্ছন্ন করে রাখা ফিতনার ধুলো ঝেড়ে ফেলে। ফলে মসজিদ ও মাদরাসাগুলো আবাদ হয় এবং তার বহু ইলমি স্থাপনায় শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। বরং তাঁদের অনেক আলেম পুনরায় দারুল কুরআন ও দারুল হাদিসগুলোতে পাঠদানে ফিরে আসেন।

সম্ভবত আমাদের এই গ্রন্থের শায়খদের অবস্থা পর্যালোচনাকারী ব্যক্তি এই সুন্দর বাস্তবতা অনুভব করতে পারবেন। কারণ তাঁরা সবাই—অথবা তাঁদের অধিকাংশ—বাগদাদ ও ইরাকের ইতিহাসের এই কালখণ্ডে জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ফকিহ, মুহাদ্দিস ও সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গ ছিলেন। একারণেই হাফেজ আবু আল-আলা আল-বুখারি আল-ফারাদির মতো ইমাম বাগদাদে সফর করেন এবং সেখানকার ওলামায়ে কেরামের নিকট থেকে ইলম হাসিল করেন এবং তাঁর ‘মাশইয়াখাহ’ গ্রন্থে তাঁদের কথা উল্লেখ করেন, যা থেকে ইমাম আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি এই ‘মুনতাখাব’ (সংকলন) প্রস্তুত করেছেন। আর তা কেবল এই দানশীল নগরীর সেই বিশেষত্বের কারণে, যাকে ওলামায়ে কেরাম তাঁদের বর্ণনা, শ্রেণিবিন্যাস ও গ্রন্থ রচনায় বিশেষভাবে স্থান দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ١٤)
*‌‌ ثانيا - ترجمة الحافظ أبي العلاء الفرضي (1):

-‌‌ اسمه ونسبه:

هو شمس الدين، أبو العلاء، محمود بن أبي بكر بن أبي العلاء بن علي بن أبي العلاء البخاري، الكلاباذي، الحنفي، الصوفي، الإمام، الحافظ، المحدث، الفرضي.

 

-‌‌ مولده، ونشأته، وطلبه العلم:

ولد الحافظ أبو العلاء الفرضي ليلة الأربعاء مستهل جمادى

--------------------------------------------

(1) ترجمته في: «المقتفي» للبرزالي 3/ 129 (278)، و «معجم الشيوخ» للذهبي 2/ 338 (915)، و «المعجم المختص» ص 278 (357)، و «تاريخ الإسلام» (15/ 961: بشار، و 52/ 490: تدمري) (وفيات سنة 700)، و «المعين في طبقات المحدثين» ص 224 (2318)، و «العبر» 5/ 412، و «تذكرة الحفاظ» 4/ 1502، و «السير - الجزء المفقود» (17/ 120: التوفيقية)، و «أعيان العصر وأعوان النصر» للصفدي 5/ 365 (1836)، و «الجواهر المضية لابن أبي الوفاء 3/ 453 (1637)، و «مرآة الجنان» لليافعي 4/ 176، و «التبيان لبديعة البيان» لابن ناصر الدين 3/ 1451 (1191)، و «توضيح المشتبه» له 6/ 229، و «منتخب المختار» للفاسي (182)، و «الدرر الكامنة» 4/ 342 (931)، و «عقد الجمان» 4/ 147، و «تاج التراجم» ص 286 (272)، و «السلوك» 2/ 343، و «المنهل الصافي»، ومختصره «الدليل الشافي» 2/ 721 (2463)، و «النجوم الزاهرة» 8/ 157، و «شذرات الذهب» 7/ 798، و «الطبقات السنية»، و «الفوائد البهية» للكنوي ص 345 (458)، و «كشف الظنون» 2/ 1249، 1735، و «إيضاح المكنون» 1/ 417 و 2/ 185، 486، و «هدية العارفين» 2/ 406، و «الأعلام» للزركلي 7/ 166، و «معجم المؤلفين» لكحالة 3/ 801 (16553).

দ্বিতীয় - হাফিজ আবুল আলা আল-ফারাদীর জীবনী(১):

-‌তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন শামসুদ্দীন, আবুল আলা, মাহমুদ ইবনে আবু বকর ইবনে আবুল আলা ইবনে আলী ইবনে আবুল আলা আল-বুখারী, আল-কালাবাদি, আল-হানাফি, আস-সুফি, ইমাম, হাফিজ, মুহাদ্দিস, আল-ফারাদী।

 

-‌তাঁর জন্ম, লালন-পালন ও জ্ঞান অন্বেষণ:

হাফিজ আবুল আলা আল-ফারাদী জুমাদাল মাসের শুরুতে বুধবার রাতে জন্মগ্রহণ করেন

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী রয়েছে: আল-বারযালীর «আল-মুক্তাফী» ৩/ ১২৯ (২৭৮), আয-যাহাবীর «মু'জামুশ শুয়ূখ» ২/ ৩৩৮ (৯১৫), «আল-মু'জামুল মুখতাস» পৃষ্ঠা ২৭৮ (৩৫৭), «তারীখুল ইসলাম» (১৫/ ৯৬১: বাশার সংস্করণ, এবং ৫২/ ৪৯০: তাদমুরী সংস্করণ) (৭০০ হিজরীর মৃত্যু তালিকায়), «আল-মু'ঈন ফী তাবাকাতিল মুহাদ্দিসীন» পৃষ্ঠা ২২৪ (২৩১৮), «আল-ইবার» ৫/ ৪১২, «তাযকিরাতুল হুফফায» ৪/ ১৫০২, «আস-সিয়ার - হারানো অংশ» (১৭/ ১২০: আত-তাওফিকিয়্যাহ সংস্করণ), আস-সাফাদীর «আ'ইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর» ৫/ ৩৬৫ (১৮৩৬), ইবনু আবিল ওয়াফার «আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ» ৩/ ৪৫৩ (১৬৩৭), আল-ইয়াফিয়ীর «মিরআতুল জিনান» ৪/ ১৭৬, ইবনু নাসিরুদ্দীনের «আত-তিবইয়ান লি-বাদীআতিল বায়ান» ৩/ ১৪৫১ (১১৯১), তাঁর রচিত «তাওদীহুল মুশতাবিহ» ৬/ ২২৯, আল-ফাসীর «মুনতাখাবুল মুখতার» (১৮২), «আদ-দুরারুল কামিনাহ» ৪/ ৩৪২ (৯৩১), «ইকদুল জুমান» ৪/ ১৪৭, «তাজুত তারাজিম» পৃষ্ঠা ২৮৬ (২৭২), «আস-সুলূক» ২/ ৩৪৩, «আল-মানহালুস সাফী» এবং এর সংক্ষিপ্তসার «আদ-দালীলুশ শাফী» ২/ ৭২১ (২৪৬৩), «আন-নুজুমুয যাহিরাহ» ৮/ ১৫৭, «শাযারাতুয যাহাব» ৭/ ৭৯৮, «আত-তাবাকাতুস সানিইয়াহ», কানভীর «আল-ফাওয়ায়িদুল বাহিয়্যাহ» পৃষ্ঠা ৩৪৫ (৪৫৮), «কাশফুয যুনুন» ২/ ১২৪৯, ১৭৩৫, «ঈদ্বাহুল মাকনুন» ১/ ৪১৭ ও ২/ ১৮৫, ৪৮৬, «হাদিয়াতুল আরিফীন» ২/ ৪০৬, আয-যিরিকলীর «আল-আ'লাম» ৭/ ১৬৬ এবং কাহহালার «মু'জামুল মুয়াল্লিফীন» ৩/ ৮০১ (১৬৫৫৩)।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ١٥)
الآخرة، عام 644 هـ(1)، بمحلة كلاباذ بخارى.

وتفقه بها، وسمع بها بعد سنة 670 هـ وما حولها الحديث من أبي بكر بن محمد بن أحمد التوبني، وأبي الفضل محمد بن أحمد بن نصر الحارثي، وأبي نصر أحمد بن محمد بن أبي بكر المعصفر، وهم من أصحاب أبي رشيد الغزال، ثم دخل بغداد سنة بضع وسبعين، فسمع بها من محمد بن يعقوب بن الدينة وآخرين، وأقام بها مدة يسمع ويصنف ويكتب، وسمع بالموصل من الموفق الكواشي أحمد بن يوسف بن الحسن المفسر، وسمع بمرو، وأبيورد، وهوامند من بلاد خوارزم، وسرخس، والدامغان، وبماردين ودنيسر، ثم دخل دمشق سنة 684 هـ فسمع بها من ابن شيبان، وابن البخاري، وابن مؤمن، وابن العماد، وزينب بنت مكي، ثم دخل مصر سنة 687 هـ فسمع بها من خطيب المزة، وغازي الحلاوي، وابن حمدان، والأبرقوهي، والبرجي.

وحج سنة 697 هـ.

وقد كان واسع الرحلة، بلغ عدد شيوخه بالسماع سبعمئة وخمسين شيخا.

 

-‌‌ صفاته الخلقية والخلقية:

كان رحمه الله أشقر، ربع القامة، وافر اللحية، كبير الهامة،

--------------------------------------------

(1) أما ابن أبي الوفاء القرشي فجعل ولادته سنة (649 هـ)، وهو وهم بلا شك، إلا أن يكون تصحيفا من الناسخ أو المحقق.

জমাদিউল আখিরাহ, ৬৪৪ হিজরি(১) সালে বুখারার কালাবাদ মহল্লায়।

সেখানে তিনি ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং ৬৭০ হিজরি ও তার পরবর্তী সময়ে আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আত-তাউবানি, আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন নাসর আল-হারিসি এবং আবু নাসর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর আল-মুয়াসফার-এর নিকট হাদিস শ্রবণ করেন। তাঁরা আবু রাশিদ আল-গাজ্জালের শিষ্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এরপর তিনি সত্তর হিজরির পরবর্তী কয়েক বছরের মাথায় বাগদাদে প্রবেশ করেন এবং সেখানে মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব বিন আদ-দিনাহ ও অন্যান্যদের নিকট হাদিস শ্রবণ করেন। সেখানে তিনি এক সময় অবস্থান করে হাদিস শ্রবণ, গ্রন্থ সংকলন ও রচনা করেন। তিনি মোসেলে মুয়াফ্ফাক আল-কাওয়াশি আহমদ বিন ইউসুফ বিন হাসান মুফাসসিরের নিকট শ্রবণ করেন। তিনি মার্ভ, আবিওয়ার্দ, খাওয়ারিজম অঞ্চলের হুয়ামান্দ, সারাখস, দামগান, মারদিন ও দুনাইসারেও হাদিস শ্রবণ করেন। অতঃপর ৬৮৪ হিজরিতে দামেস্কে প্রবেশ করেন এবং সেখানে ইবনে শায়বান, ইবনুল বুখারি, ইবনে মুমিন, ইবনুল ইমাদ এবং জয়নাব বিনতে মক্কির নিকট শ্রবণ করেন। এরপর ৬৮৭ হিজরিতে মিশরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে খাতিবে মাজ্জাহ, গাজি আল-হালাওয়ি, ইবনে হামদান, আল-আবরকুহি এবং আল-বুরজির নিকট শ্রবণ করেন।

তিনি ৬৯৭ হিজরিতে হজ পালন করেন।

তিনি ব্যাপক সফরকারী ছিলেন, তাঁর শ্রবণকৃত শায়খদের সংখ্যা সাতশত পঞ্চাশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

 

-‌‌ তাঁর শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ:

তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) গৌরবর্ণের, মাঝারি উচ্চতার, ঘন দাড়ি এবং বড় মাথার অধিকারী ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আবিল ওয়াফা আল-কুরাশি তাঁর জন্মসাল (৬৪৯ হিজরি) উল্লেখ করেছেন, যা নিঃসন্দেহে একটি ভুল। হতে পারে এটি অনুলিপিকারক বা সম্পাদকের পক্ষ থেকে সংঘটিত কোনো লিখনপ্রমাদ।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ١٦)
منعجم اللسان، كثير التودد، حسن الأخلاق، حسن الديانة والمعتقد، نزها ورعا متحريا، كثير المعارف، حسن العشرة، كثير الإفادة(1)، محبا للطلبة، جم الفضائل. وكان من أعيان صوفية الخانقاه السميساطية(2).

وكان له خط مليح. وكان لا يمس الأجزاء إلا على طهارة.

ومن جميل المواقف التي حفظها لنا صاحبه الإمام أبو حيان منتخب هذا الكتاب - ما ذكره غير واحد من المؤرخين عنه، قال: قدم علينا الشيخ المحدث أبو العلاء محمد بن أبي بكر البخاري الفرضي بالقاهرة في طلب الحديث، وكان رجلا حسنا طيب الأخلاق لطيف المزاج، فكنا نسايره في طلب الحديث، فإذا رأى صورة حسنة قال: هذا حديث على شرط البخاري! فنظمت هذه الأبيات:

--------------------------------------------

(1) ومن إفادته للطلبة أنه كان يسعى في تحصيل الإجازات لهم من قبل من يلقى من المشايخ، كما يظهر في هذا المنتخب. ويبدو أن هذا الأمر كان دأبه مع كثير من الطلبة. قال ابن الفوطي في ترجمة فخر الدين أبي محمد إبراهيم بن خليل المارديني 3/ 59: كتب لنا الإجازة بجميع مسموعاته ورواياته بسعي رفيقنا الإمام شمس الدين الفرضي البخاري سنة أربع وثمانين وستمئة.

(2) الخانقاه: فارسي معرب، وتعني: دار الصوفية.

والخانقاه السميساطية: أشهر خوانق دمشق، تنسب إلى واقفها أبي القاسم علي بن محمد بن يحيى السلمي السميساطي، المتوفى سنة (453 هـ). وعرفت أيضا بالخانقاه الشميصاتية. وهي تقع إلى يمين الخارج من باب الجامع الأموي الشمالي، ولا يزال بناؤها قائما إلى اليوم، وتشغله مدرسة شرعية. «خطط دمشق» لأكرم العلبي ص 398، و «معجم دمشق التاريخي» للدكتور قتيبة الشهابي 1/ 248.

অনারবভাষী, অত্যন্ত অমায়িক, উত্তম চরিত্রের অধিকারী, দীনদারি ও আকিদায় নিষ্ঠাবান, নিষ্কলুষ, পরহেজগার ও সত্যানুসন্ধানী ছিলেন। তিনি ছিলেন বহু শাস্ত্রের অধিকারী, সজ্জন, অত্যন্ত উপকারী(১), ছাত্রবৎসল এবং বহু গুণের আধার। তিনি সুমাইসাতিয়্যাহ খানকাহের(২) বিশিষ্ট সুফিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

তাঁর হস্তলিপি অত্যন্ত চমৎকার ছিল। পবিত্রতা (অজু) ব্যতীত তিনি কিতাবের খণ্ডসমূহ স্পর্শ করতেন না।

তাঁর সম্পর্কে ঐতিহাসিকগণের একাধিক বর্ণনায় বর্ণিত একটি চমৎকার ঘটনা এই কিতাবের সংকলক তাঁর সহচর ইমাম আবু হাইয়ান আমাদের জন্য সংরক্ষণ করেছেন। তিনি বলেন: শায়খ মুহাদ্দিস আবুল আলা মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আল-বুখারি আল-ফারাযি হাদিস অন্বেষণের উদ্দেশ্যে কায়রোতে আমাদের নিকট আগমন করেন। তিনি অত্যন্ত সজ্জন, সদাচারী ও কোমল মেজাজের মানুষ ছিলেন। হাদিস অন্বেষণের পথে আমরা তাঁর সঙ্গী হতাম। যখনই তিনি কোনো সুন্দর অবয়ব দেখতেন, বলতেন: "এটি ইমাম বুখারির শর্তানুযায়ী একটি হাদিস!" তখন আমি এই পঙক্তিগুলো রচনা করি:

--------------------------------------------

(১) শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর উপকারের একটি দিক ছিল এই যে, তিনি যাদের সাথেই সাক্ষাৎ করতেন সেই শায়খদের নিকট থেকে ছাত্রদের জন্য ইজাজত সংগ্রহ করার চেষ্টা করতেন, যেমনটি এই সংকলনে প্রকাশ পায়। প্রতীয়মান হয় যে, এটি অনেক শিক্ষার্থীর সাথেই তাঁর নিয়মিত অভ্যাস ছিল। ইবনে আল-ফুওয়াতি ‘ফখরুদ্দিন আবু মুহাম্মদ ইবরাহিম ইবনে খলিল আল-মারদিনি’-এর জীবনীতে (৩/৫৯) বলেন: আমাদের সাথী ইমাম শামসুদ্দিন আল-ফারাযি আল-বুখারির প্রচেষ্টায় ৬৮৪ হিজরি সনে তিনি তাঁর সমস্ত শ্রুত ও বর্ণিত বিষয়ের ইজাজত আমাদের লিখে দিয়েছিলেন।

(২) খানকাহ: এটি একটি আরবিকৃত ফারসি শব্দ, যার অর্থ সুফিদের আবাসস্থল।

সুমাইসাতিয়্যাহ খানকাহ: এটি দামেস্কের প্রসিদ্ধ খানকাহসমূহের অন্যতম, যা এর ওয়াকিফ আবুল কাসিম আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আস-সুলামি আস-সুমাইসাতির (মৃত্যু: ৪৫৩ হিজরি) নামে পরিচিত। এটি শামিসাতিয়্যাহ খানকাহ নামেও পরিচিত ছিল। এটি উমাইয়া জামে মসজিদের উত্তর দিকের দরজা দিয়ে বের হওয়ার সময় ডান দিকে অবস্থিত। এর স্থাপনা আজও বিদ্যমান এবং সেখানে একটি শারয়ি মাদ্রাসা পরিচালিত হচ্ছে। আকরাম আল-উলাবি রচিত ‘খিতাতু দামিশক’, পৃষ্ঠা ৩৯৮; এবং ডক্টর কুতাইবা আশ-শিহাবি রচিত ‘মুজামু দামিশক আত-তারিখি’, ১/২৪৮।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ١٧)
بدا كهلال الأفق وقت طلوعه … ومال كغصن الخيزران المنعم

غزال رحيم الدل وافى مواصلا … موافقة منه على رغم لومي

مليح غريب الحسن أصبح معلما … بحمرة خد بالمحاسن معلم

وقالوا: على شرط البخاري قد أتى … فقلت على شرط البخاري ومسلم

قال: فقال لي: يا مولانا أنا البخاري فمن مسلم؟ قلت له: أنت البخاري وأنا مسلم.

 

-‌‌ شيوخه:

كان الإمام الحافظ أبو العلاء الفرضي مكثرا واسع الرحلة، بلغ عدد شيوخه بالسماع (750) شيخا. فمن العسير جدا الوقوف على جميع شيوخه أو أكثرهم دون النظر في «معجمه» الذي صنعه لنفسه رحمه الله، والذي يعد كتابنا هذا منتخبا منه، لذا فأنا ذاكر شطرا ممن وقفت عليه من شيوخه، غير من تقدم ذكره قبل، ليكون ذلك دليلا إلى غيرهم، والله الموفق.

- إبراهيم بن إسحاق بن إبراهيم، الشيخ الإمام العلامة أبو إسحاق الطرزي الدامغاني الحنفي(1).

- أحمد بن إسحاق بن محمد بن المؤيد بن علي، الهمذاني الأصل الأبرقوهي، شهاب الدين أبو المعالي(2).

--------------------------------------------

(1) توفي سنة (682 هـ). «الجواهر المضية في طبقات الحنفية» 1/ 70 (7).

(2) توفي سنة (701 هـ). «الوافي بالوفيات» 6/ 151 (368).

তিনি দিগন্তের উদিত নবচন্দ্রের ন্যায় দৃশ্যমান হলেন … এবং সুদৃশ্য বাঁশঝাড়ের শাখার ন্যায় নুয়ে পড়লেন।

মনোহর ভঙ্গিমার এক হরিণসদৃশ রূপবান ক্রমাগত সাক্ষাত দিতে এলেন … আমার ভর্ৎসনা সত্ত্বেও তাঁর সম্মতিক্রমে।

এক অপূর্ব ও বিরল রূপবান ব্যক্তি চিহ্নিত হলেন … সৌন্দর্যে মণ্ডিত গালের লালিমা দ্বারা সুশোভিত হয়ে।

তারা বলল: তিনি বুখারীর শর্ত অনুযায়ী এসেছেন … আমি বললাম: বরং বুখারী ও মুসলিম উভয়ের শর্ত অনুযায়ী।

তিনি বললেন: তিনি আমাকে বললেন: হে আমাদের মাওলানা, আমি হলাম বুখারী, তাহলে মুসলিম কে? আমি তাকে বললাম: আপনি হলেন বুখারী আর আমি হলাম মুসলিম।

 

-‌‌ তাঁর শিক্ষকগণ:

ইমাম হাফিজ আবু আল-আলা আল-ফারদি প্রচুর হাদীস সংগ্রহকারী ও ব্যাপক ভ্রমণকারী ছিলেন। শ্রবণ (সামা‘) সূত্রে তাঁর শিক্ষকদের সংখ্যা (৭৫০) জনে পৌঁছেছিল। তাঁর নিজের সংকলিত ‘মুজাম’ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) পর্যালোচনা করা ব্যতীত তাঁর সকল বা অধিকাংশ শিক্ষক সম্পর্কে অবগত হওয়া অত্যন্ত দুরূহ, যা থেকে আমাদের এই গ্রন্থটি চয়ন করা হয়েছে। অতএব, ইতিপূর্বে যাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তারা ব্যতীত আমি তাঁর আরও কিছু উস্তাদের কথা উল্লেখ করছি যাদের সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি, যাতে তা অন্যদের জন্য নিদর্শন হিসেবে কাজ করে। আর আল্লাহই তাওফীক দানকারী।

- ইবরাহীম ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহীম, শায়খ ইমাম আল্লামা আবু ইসহাক আত-তারযি আদ-দামিগানি আল-হানাফি(১)।

- আহমদ ইবনে ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুয়াইয়াদ ইবনে আলী, আদি নিবাস হামাদান ও আল-আবরকুহি, শিহাবুদ্দীন আবুল মাআলি(২)।

--------------------------------------------

(১) তিনি ৬৮২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। ‘আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ ফি তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ’ ১/৭০ (৭)।

(২) তিনি ৭০১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। ‘আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত’ ৬/১৫১ (৩৬৮)।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ١٨)
- أحمد بن يحيى بن محمد بن سالم بن يوسف العسقلاني، المعروف بابن الغافقي الحنفي(1).

- أحمد بن يوسف بن حسن بن رافع بن حسين بن سودان الشيباني، الشافعي، الكواشي(2).

- إسحاق بن يحيى بن إسحاق بن إبراهيم بن إسماعيل الآمدي، عفيف الدين أبو محمد الحنفي الصالحي(3).

- الحسين بن إياز، جمال الدين النحوي(4).

- عبد الجبار بن عبد الخالق بن محمد بن أبي نصر بن عبد الباقي ابن عكبر، الإمام الواعظ العلامة، جلال الدين، أبو محمد البغدادي، أحد المشاهير(5).

- عبد الدائم بن محمود بن مودود بن محمود بن بلدجي، الإمام أبو الحسن الموصلي، المحدث الحنفي(6).

- عبد العزيز بن عمر بن أبي بكر بن موسى بن أبي الفضل بن أحمد

--------------------------------------------

(1) توفي سنة (707 هـ). «الدرر الكامنة» 1/ 334 (830).

(2) توفي سنة (680 هـ). «تاريخ الإسلام» 15/ 385.

(3) توفي سنة (715 هـ). «الدرر الكامنة» 1/ 358 (894).

(4) توفي سنة (681 هـ). «تاريخ الإسلام» 15/ 448 (وفيات 681 - 690).

(5) توفي سنة (681 هـ). «الوافي بالوفيات» 18/ 29 (6599).

(6) توفي سنة (680 هـ). «تاريخ الإسلام» 15/ 392.

- আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সালিম ইবনে ইউসুফ আল-আসকালানি, যিনি ইবনুল গাফিকি আল-হানাফি নামে পরিচিত(১).

- আহমাদ ইবনে ইউসুফ ইবনে হাসান ইবনে রাফি ইবনে হুসাইন ইবনে সুদান আশ-শাইবানি, আশ-শাফিয়ি, আল-কাওয়াশি(২).

- ইসহাক ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে ইসমাইল আল-আমিদি, আফিফ উদ্দিন আবু মুহাম্মাদ আল-হানাফি আস-সালিহি(৩).

- আল-হুসাইন ইবনে ইয়াজ, জামাল উদ্দিন আন-নাহবি(৪).

- আব্দুল জাব্বার ইবনে আব্দুল খালিক ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবি নাসর ইবনে আব্দুল বাকি ইবনে আকবার, ইমাম, ওয়ায়েজ, আল্লামা, জালাল উদ্দিন, আবু মুহাম্মাদ আল-বাগদাদি, অন্যতম প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব(৫).

- আব্দুল দায়িম ইবনে মাহমুদ ইবনে মাওদুদ ইবনে মাহমুদ ইবনে বালদাজি, ইমাম আবুল হাসান আল-মাওসিলি, মুহাদ্দিস আল-হানাফি(৬).

- আব্দুল আজিজ ইবনে উমর ইবনে আবি বকর ইবনে মুসা ইবনে আবিল ফজল ইবনে আহমাদ

--------------------------------------------

(১) ৭০৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। «আদ-দুরারুল কামিনাহ» ১/ ৩৩৪ (৮৩০)।

(২) ৬৮০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। «তারিখুল ইসলাম» ১৫/ ৩৮৫।

(৩) ৭১৫ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। «আদ-দুরারুল কামিনাহ» ১/ ৩৫৮ (৮৯৪)।

(৪) ৬৮১ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। «তারিখুল ইসলাম» ১৫/ ৪৪৮ (মৃত্যু ৬৮১ - ৬৯০)।

(৫) ৬৮১ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। «আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত» ১৮/ ২৯ (৬৫৯৯)।

(৬) ৬৮০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। «তারিখুল ইসলাম» ১৫/ ৩৯২।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ١٩)
ابن عباس ابن لطيف الأزدي الغساني سبط غازي الحموي(1).

- عبد المحسن بن سليمان بن عبد الكريم، عرف بابن السلم(2).

- عطية بن إبراهيم بن عبد الرحمن. الشيخ سديد الدين، أبو الماضي اللخمي، الإسكندراني، المالكي(3).

- علي بن أحمد بن عبد المحسن الحسيني الغرافي(4).

- محمد بن أحمد بن عمر. العلامة جلال الدين العيدي، البخاري، الحنفي(5).

- محمد بن إسماعيل بن عبد الوهاب بن محمد بن عطية بن المسلم ابن رجا التنوخي المالكي، جمال الدين شرف القضاة، أبو عبد الله ابن المكين أبي الطاهر الإسكندراني(6).

- ابن دقيق العيد، محمد بن علي بن وهب بن مطيع بن أبي الطاعة المنفلوطي الأصل المصري القوصي المنشأ المالكي ثم الشافعي(7).

- محمد بن عمر بن علي بن محمد بن يحيى بن مسلم الشحري

--------------------------------------------

(1) توفي سنة (720 هـ). «الدرر الكامنة» 2/ 378 (2442).

(2) توفي سنة (686 هـ). «توضيح المشتبه» 5/ 146، و «تبصير المنتبه» 2/ 688.

(3) توفي بعد سنة (688 هـ). «تاريخ الإسلام» 15/ 612.

(4) توفي سنة (704 هـ). «الدرر الكامنة» 17/ 3 (31).

(5) توفي سنة (668 هـ). «تاريخ الإسلام» 15/ 158.

(6) توفي سنة (707 هـ). «الدرر الكامنة» 3/ 388 (1026).

(7) توفي سنة (702 هـ). «الدرر الكامنة» 4/ 91 (256).

ইবনে আব্বাস ইবনে লতিফ আল-আজদি আল-গাসসানি সিবত গাজি আল-হামাউই(১).

- আব্দুল মুহসিন বিন সুলাইমান বিন আব্দুল কারিম, তিনি ইবনুস সালাম নামে পরিচিত(২).

- আতিয়্যাহ বিন ইবরাহিম বিন আব্দুর রহমান। শায়খ সাদিদ উদ্দিন, আবুল মাদি আল-লাখমি, আল-ইসকান্দারানি, আল-মালিকি(৩).

- আলি বিন আহমাদ বিন আব্দুল মুহসিন আল-হুসাইনি আল-গারাফি(৪).

- মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন উমর। আল্লামা জালাল উদ্দিন আল-আইদি, আল-বুখারি, আল-হানাফি(৫).

- মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন মুহাম্মাদ বিন আতিয়্যাহ বিন আল-মুসলিম ইবনে রাজা আল-তানুখি আল-মালিকি, জামাল উদ্দিন শারাফুল কুদাত, আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল মাকিন আবু তাহির আল-ইসকান্দারানি(৬).

- ইবনে দাকিকুল ঈদ, মুহাম্মাদ বিন আলি বিন ওয়াহাব বিন মুতি বিন আবিত তাহা আল-মানফালুতি আল-আসলি আল-মিসরি আল-কুসি আল-মানশা আল-মালিকি অতপর আল-শাফিয়ি(৭).

- মুহাম্মাদ বিন উমর বিন আলি বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন মুসলিম আল-শাহরি

--------------------------------------------

(১) মৃত্যু (৭২০ হিজরি)। «আদ-দুরারুল কামিনাহ» ২/৩৭৮ (২৪৪২)।

(২) মৃত্যু (৬৮৬ হিজরি)। «তাওদিহুল মুশতাবিহ» ৫/১৪৬, এবং «তাবসিরুল মুনতাব্বিহ» ২/৬৮৮।

(৩) মৃত্যু ৬৮৮ হিজরির পর। «তারিখুল ইসলাম» ১৫/৬১২।

(৪) মৃত্যু (৭০৪ হিজরি)। «আদ-দুরারুল কামিনাহ» ১৭/৩ (৩১)।

(৫) মৃত্যু (৬৬৮ হিজরি)। «তারিখুল ইসলাম» ১৫/১৫৮।

(৬) মৃত্যু (৭০৭ হিজরি)। «আদ-দুরারুল কামিনাহ» ৩/৩৮৮ (১০২৬)।

(৭) মৃত্যু (৭০২ হিজরি)। «আদ-দুরারুল কামিনাহ» ৪/৯১ (২৫৬)।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
اليمني، أبو عبد الله ابن الأصفر(1).

- أبو الفضل، محمد بن محمد بن نصر، ابن القلانسي، البخاري، الحنفي، العلامة حافظ الدين، شيخ بخارى(2).

- تاج الدين محمد بن محمد الزندني، العلامة مقرئ ما وراء النهر(3).

- يوسف بن بدران بن بدر الحجبي المقدسي، تقي الدين، أبو يعقوب الشامي، نزيل بلبيس(4).

- يونس بن إبراهيم بن عبد القوي بن قاسم بن داود، فتح الدين الكناني العسقلاني، أبو النون الدبابيسي، مسند الديار المصرية(5).

- أبو بكر بن عمر بن علي بن سالم. الإمام، العلامة، رضي الدين القسنطيني، الشافعي، النحوي(6).

- أبو بكر بن محمد بن أحمد بن جعفر بن محمد بن العباس النسفي التوبني، نزيل بخارى(7).

--------------------------------------------

(1) توفي بعد سنة (680 هـ). «توضيح المشتبه» 5/ 62، و «تبصير المنتبه» 2/ 728.

(2) توفي سنة (693 هـ). «تاريخ الإسلام» 15/ 763.

(3) أخذ عنه الفرضي وعظمه. «توضيح المشتبه» 4/ 126، و «تبصير المنتبه» 2/ 667.

(4) توفي سنة (709 هـ). «الدرر الكامنة» 4/ 451 (1248).

(5) توفي سنة (729 هـ). «الدرر الكامنة» 4/ 484 (1331).

(6) توفي سنة (695 هـ). «الوافي بالوفيات» 10/ 151 (2394).

(7) توفي سنة (686 هـ). «توضيح المشتبه» 1/ 664، و «تبصير المنتبه» 1/ 186.

ইয়ামানি, আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল আসফার(১).

- আবু আল-ফজল, মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন নাসর, ইবনুল কালানিসি, আল-বুখারি, আল-হানাফি, আল্লামা হাফিজুদ্দিন, বুখারার শাইখ(২).

- তাজ উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আয-যানদানি, মা ওয়ারাউন নাহরের আল্লামা মুকরি(৩).

- ইউসুফ বিন বাদরান বিন বদর আল-হাজাবি আল-মাকদিসি, তাকি উদ্দিন, আবু ইয়াকুব আশ-শামি, বিলবাইসের বাসিন্দা(৪).

- ইউনুস বিন ইবরাহিম বিন আব্দুল কাভি বিন কাসিম বিন দাউদ, ফাতহ উদ্দিন আল-কিনানি আল-আসকালানি, আবু আন-নুন আদ-দাবাবিসি, মিশরীয় অঞ্চলের মুসনিদ(৫).

- আবু বকর বিন উমর বিন আলি বিন সালিম। ইমাম, আল্লামা, রাজি উদ্দিন আল-কুসান্তিনি, আশ-শাফিয়ি, নাহুবিদ(৬).

- আবু বকর বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন জাফর বিন মুহাম্মাদ বিন আল-আব্বাস আন-নাসাফি আত-তাওবানি, বুখারার বাসিন্দা(৭).

--------------------------------------------

(১) ৬৮০ হিজরির পর মৃত্যুবরণ করেন। «তাউদিহুল মুশতাবিহ» ৫/৬২, এবং «তাবসিরুল মুনতাবিহ» ২/৭২৮।

(২) ৬৯৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। «তারিখুল ইসলাম» ১৫/৭৬৩।

(৩) আল-ফারাদি তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তাঁকে সম্মান জানিয়েছেন। «তাউদিহুল মুশতাবিহ» ৪/১২৬, এবং «তাবসিরুল মুনতাবিহ» ২/৬৬৭।

(৪) ৭০৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। «আদ-দুরারুল কামিনাহ» ৪/৪৫১ (১২৪৮)।

(৫) ৭২৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। «আদ-দুরারুল কামিনাহ» ৪/৪৮৪ (১৩৩১)।

(৬) ৬৯৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। «আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত» ১০/১৫১ (২৩৯৪)।

(৭) ৬৮৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। «তাউদিহুল মুশতাবিহ» ১/৬৬৪, এবং «তাবসিরুল মুনতাবিহ» ১/১৮৬।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٢١)
-‌‌ تلاميذه:

كان الإمام أبو العلاء الفرضي، محدثا حافظا فقيها فرضيا بارعا في الفرائض، وله في ذلك تصانيف، كما أنه كان حسن العشرة، كثير الإفادة، محبا للطلبة، جم الفضائل، مما حدا بكثير من طلبة العلم والعلماء والأئمة إلى الرواية عنه والتتلمذ على يديه، خاصة وأنه كانت له حلقة في تعليم الفرائض، وله أصحاب يشتغلون عليه فيها.

غير أنه مات كهلا لم يبلغ الستين عاما، ومع ذلك فقد روى عنه أئمة كبار، كالإمام الحافظ شمس الدين الذهبي، والإمام الحافظ علم الدين البرزالي، والحافظ ابن رافع السلامي، والإمام الحافظ الكبير أبي الحجاج المزي، والإمام أبي حيان الأندلسي النحوي، والقطب الحلبي، وابن سيد الناس، وعبد المؤمن بن عبد الحق صفي الدين البغدادي الحنبلي، والمجد الصيرفي، وعثمان بن بلبان المقاتلي، وعلي بن سنجر البغدادي تاج الدين الحنفي، وأبي عبد الله محمد بن إبراهيم ابن المهندس، وغيرهم كثير.

 

-‌‌ ثناء العلماء عليه:

جمع الحافظ أبو العلاء الفرضي بين الإمامة في العلم، ودمائة الأخلاق، وحسن الديانة والمعتقد، مما ترك أثر ذلك في ثناء كل من ترجم له.

وصفه ابن الفوطي بالإمام، وكان يقول عنه: رفيقنا وشيخنا.

وقال البرزالي: الشيخ الإمام، المحدث … كان رجلا فاضلا
-‌‌ তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

ইমাম আবু আল-আলা আল-ফারদি ছিলেন একজন মুহাদ্দিস, হাফিজ, ফকিহ এবং ফারাইদ শাস্ত্রে (উত্তরাধিকার আইন) অত্যন্ত পারদর্শী। এই বিষয়ে তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থও রয়েছে। এছাড়াও তিনি ছিলেন সচ্চরিত্রবান, অত্যন্ত জনহিতৈষী, ছাত্রদের প্রতি স্নেহশীল এবং বহু গুণের অধিকারী। এই সকল বৈশিষ্ট্যের কারণেই বহু ইলম অন্বেষণকারী, আলিম এবং ইমামগণ তাঁর নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করতে এবং তাঁর নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হতেন। বিশেষ করে ফারাইদ শাস্ত্রের পাঠদানের জন্য তাঁর একটি স্বতন্ত্র মজলিস বা শিক্ষা-বলয় ছিল, যেখানে তাঁর একদল ছাত্র তাঁর নিকট শিক্ষা অর্জনে লিপ্ত থাকতেন।

তবে তিনি প্রৌঢ়াবস্থায় ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর বয়স ষাট বছর পূর্ণ হয়নি। তা সত্ত্বেও বড় বড় ইমামগণ তাঁর নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, যেমন— ইমাম হাফিজ শামসুদ্দিন আয-যাহাবি, ইমাম হাফিজ আলম উদ্দিন আল-বিরজালি, হাফিজ ইবনে রাফে আস-সালামি, প্রখ্যাত ইমাম হাফিজ আবু আল-হাজ্জাজ আল-মিযযি, নাহুবিদ ইমাম আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি, কুতুব আল-হালাবি, ইবনে সাইয়্যিদুন নাস, আব্দুল মুমিন ইবনে আব্দুল হক সফিউদ্দিন আল-বাগদাদি আল-হানবালি, আল-মাজদ আস-সাইরাফি, উসমান ইবনে বালবান আল-মুকাতিলি, আলী ইবনে সাঞ্জার আল-বাগদাদি তাজ উদ্দিন আল-হানাফি, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনুল মুহান্দিস এবং আরও অনেকে।

 

-‌‌ তাঁর সম্পর্কে উলামায়ে কিরামের প্রশংসা:

হাফিজ আবু আল-আলা আল-ফারদি ইলমি ইমামতের পাশাপাশি শিষ্টাচার, সুন্দর দ্বীনদারিতা এবং বিশুদ্ধ আকিদার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। তাঁর জীবনী যারা রচনা করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রশংসাবাণীতে এর প্রতিফলন দেখা যায়।

ইবনে আল-ফুওয়াতি তাঁকে 'ইমাম' হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তাঁর সম্পর্কে বলতেন: "তিনি আমাদের সঙ্গী এবং আমাদের শায়খ।"

আল-বিরজালি বলেছেন: "শায়খ, ইমাম, মুহাদ্দিস … তিনি ছিলেন একজন গুণী ও মহৎ ব্যক্তি।"
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
في علم الفرائض، له فيه عدة مصنفات، وكان محدثا متقنا، ضابطا، محترزا، صالحا، خيرا.

ووصفه أبو حيان في هذا «المنتخب» بالحافظ الرحال.

وقال الحافظ الذهبي: الإمام الفرضي، المحدث الحافظ المتفنن، الثقة الصالح، كان رأسا في الفرائض، عارفا بمذهب أبي حنيفة.

وقال - أيضا: وكان دينا، نزها ورعا متحريا، متقنا، كثير المعارف، حسن العشرة، كثير الإفادة، محبا للطلبة.

وقال في موضع آخر مثلما تقدم، ثم قال: انتفعت بصحبته.

وقال ابن رافع: كان إماما فقيها، دينا، خيرا، بارعا في الفرائض.

وقال الصفدي: كتب الكثير بخطه المليح الحلو، وصنف في الفرائض تصانيف، وكان فيها بارعا، له أصحاب يشتغلون عليه فيها، وكان دينا نزها ورعا متحريا.

وقال ابن أبي الوفاء القرشي: له المصنفات الفائقة في الفرائض وغيرها، وكان محدثا متقنا، فاضلا حسن الأخلاق.

وقال العيني: الشيخ الإمام العالم العلامة، أحد السادات الحنفية.

 

-‌‌ مؤلفاته:

1 - تلقيح الأفهام في شرح مسائل ذوي الأرحام. (مخطوط).

2 - حل الفرائض.
মিরাস শাস্ত্রে তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে। তিনি একজন সুনিপুণ মুহাদ্দিস, নির্ভুল বর্ণনাকারী, সতর্ক, নেককার এবং কল্যাণময় ব্যক্তি ছিলেন।

আবু হাইয়ান এই 'আল-মুন্তাখাব'-এ তাঁকে 'পর্যটক হাফিজ' (হাদিস বিশারদ) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

হাফিজ আয-যাহাবি বলেছেন: তিনি ছিলেন ইমাম, মিরাস শাস্ত্রবিদ, বহুমুখী প্রতিভাধর মুহাদ্দিস হাফিজ, নির্ভরযোগ্য ও নেককার। তিনি মিরাস শাস্ত্রে অগ্রগণ্য এবং আবু হানিফার মাযহাব সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন।

তিনি আরও বলেছেন: তিনি ছিলেন ধর্মপ্রাণ, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, পরহেজগার, সতর্ক, দক্ষ, অগাধ জ্ঞানের অধিকারী, সদালাপী, অত্যন্ত উপকারী এবং ছাত্রদের প্রতি স্নেহশীল।

তিনি অন্য এক স্থানে পূর্বের ন্যায় বর্ণনা করার পর বলেছেন: আমি তাঁর সাহচর্য থেকে উপকৃত হয়েছি।

ইবনে রাফে বলেছেন: তিনি ছিলেন একজন ইমাম, ফকিহ, ধর্মপ্রাণ, সৎ এবং মিরাস শাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী।

আস-সাফাদি বলেছেন: তিনি তাঁর চমৎকার ও সুন্দর হস্তাক্ষরে প্রচুর লিখেছেন এবং মিরাস শাস্ত্রে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি এই শাস্ত্রে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন, তাঁর কাছে শিক্ষার্থীরা এই শাস্ত্র পাঠ করত। তিনি ছিলেন ধর্মপ্রাণ, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, পরহেজগার ও সতর্ক।

ইবনে আবিল ওয়াফা আল-কুরাশি বলেছেন: মিরাস শাস্ত্র ও অন্যান্য বিষয়ে তাঁর চমৎকার সব গ্রন্থ রয়েছে। তিনি একজন সুনিপুণ মুহাদ্দিস, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন।

আল-আইনি বলেছেন: তিনি শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম এবং হানাফি মাযহাবের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

 

-‌‌ তাঁর রচনাবলি:

১ - তালকিহুল আফহাম ফি শারহি মাসায়িলি যাউইল আরহাম। (পাণ্ডুলিপি)।

২ - হাল্লুল ফারা'ইদ।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
3 - شيوخ بغداد. وهو أصل هذا المنتخب، ولعله جزء من مسودة معجم شيوخه، والله أعلم.

4 - ضوء السراج. شرح فيه السراجية في الفرائض. قال ابن رافع: وهو كثير الفوائد. (مخطوط، وله عدة نسخ خطية).

5 - مشتبه النسبة. كتاب كبير في الأنساب. نقل منه الحفاظ، كالذهبي، وابن ناصر الدين، وابن حجر.

6 - معجم شيوخه. لم يبيضه. وقد نقل منه غير واحد، كالذهبي(1)، وابن الفوطي(2)، وغيرهما.

7 - المنهاج المنتخب من ضوء السراج. (مخطوط).

 

-‌‌ وفاته:

بعد رحلة واسعة وتطواف في حمل العلم الشريف ونشره، وبعد عودته من الحج سنة 697 هـ رجع إلى دمشق، فلما انقضت أيام التتار سافر من دمشق خوفا من الغلاء إلى ماردين، فأقام بها أشهرا، وتوفي في أوائل ربيع الأول(3) سنة 700 هـ عن ست وخمسين سنة، رحمه الله تعالى ورضي عنه.

--------------------------------------------

(1) قال في ترجمته من «تاريخ الإسلام» (15/ 961: بشار): سود معجما لنفسه، استفدنا منه.

(2) انظر: «تلخيص مجمع الآداب» 3/ 362.

(3) أما الصفدي فذكر وفاته في أواخر شهر ربيع الأول.

৩ - বাগদাদের শাইখগণ। এটিই বর্তমান নির্বাচিত সংকলনটির মূল উৎস, এবং সম্ভবত এটি তাঁর শাইখগণের জীবনীর অভিধানের (মু'জাম) পাণ্ডুলিপির একটি অংশ। আল্লাহই ভালো জানেন।

৪ - দাওউস সিরাজ। এতে তিনি উত্তরাধিকার আইনের ওপর রচিত 'আস-সিরাজিয়্যাহ' গ্রন্থের ব্যাখ্যা করেছেন। ইবনে রাফে বলেন: এটি অত্যন্ত উপকারী। (পাণ্ডুলিপি আকারে বিদ্যমান, এবং এর একাধিক লিখিত অনুলিপি রয়েছে)।

৫ - মুশতাবিহুন নিসবাহ। বংশবিদ্যার ওপর এটি একটি বৃহৎ গ্রন্থ। হাফেজগণ এখান থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যেমন আয-যাহাবি, ইবনে নাসিরুদ্দিন এবং ইবনে হাজার।

৬ - মু'জামু শুয়ুখিহি (তাঁর শাইখগণের অভিধান)। তিনি এটি চূড়ান্তভাবে পরিষ্কার করে লিখে যেতে পারেননি। তবে একাধিক ব্যক্তি এখান থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যেমন আয-যাহাবি(১), ইবনুল ফুওয়াতি(২) এবং অন্যান্যগণ।

৭ - আল-মিনহাজুল মুনতাখাব মিন দাওইস সিরাজ। (পাণ্ডুলিপি)।

 

-‌‌ তাঁর মৃত্যু:

সম্মানিত ইলম অর্জন ও তা প্রচারের উদ্দেশ্যে এক সুদীর্ঘ সফর ও পরিভ্রমণ শেষে এবং ৬৯৭ হিজরি সালে হজ থেকে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি দামেস্কে ফিরে আসেন। অতঃপর তাতারীদের ফেতনার দিনগুলো শেষ হলে তিনি দুর্মূল্যের ভয়ে দামেস্ক থেকে মারদিন অভিমুখে যাত্রা করেন এবং সেখানে কয়েক মাস অবস্থান করেন। তিনি ৭০০ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল(৩) মাসের শুরুতে ছাপ্পান্ন বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

--------------------------------------------

(১) তিনি 'তারিখুল ইসলাম' গ্রন্থে (১৫/৯৬১: বাশার সংস্করণ) তাঁর জীবনীতে বলেছেন: তিনি নিজের জন্য একটি জীবনী-অভিধান সংকলন করেছিলেন, যা থেকে আমরা উপকৃত হয়েছি।

(২) দেখুন: 'তালখিসু মাজমাউল আদাব' ৩/৩৬২।

(৩) পক্ষান্তরে আস-সাফাদি তাঁর মৃত্যু রবিউল আউয়াল মাসের শেষে বলে উল্লেখ করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
‌‌ثالثا ترجمة الإمام أبي حيان الأندلسي (1):

-‌‌ اسمه ونسبه:

هو أثير الدين، أبو حيان، محمد بن يوسف بن علي بن يوسف

--------------------------------------------

(1) ترجمته في: «معرفة القراء الكبار» 2/ 723 (689)، و «المعجم المختص» ص 267 (344)، و «البدر السافر للأدفوي، والوافي بالوفيات» 5/ 175 (2347)، و «نكت الهميان»، و «أعيان العصر وأعوان النصر» 5/ 325 (1831)، و «الوفيات» لابن رافع 1/ 482 (399)، و «طبقات الشافعية» للسبكي 9/ 276 (1336)، و «طبقات الشافعية» للإسنوي 1/ 218 (414)، و «مستفاد الرحلة والاغتراب» ص 140 - 142، و «برنامج الوادشي آشي» ص 74، و «ذيل العبر» للحسيني ص 243، و «ذيل تذكرة الحفاظ» له ص 23، و «المنتقى من معجم شيوخ الشهاب ابن رجب» ص 42 (41)، و «البلغة» للفيروز أبادي ص 184 (292)، و «فوات الوفيات» 4/ 71 (506)، و «عيون التواريخ» لابن شاكر الكتبي، و «البداية والنهاية» 18/ 473، و «الكتيبة الكامنة» لابن الخطيب ص 81 (23)، و «الإحاطة في أخبار غرناطة» 3/ 43، و «تاج المفرق في حلية أهل المشرق»، و «تاريخ أبي الفداء» 3/ 272، و «عقود الجمان» للزركشي (ق 315/ أ - 316/ ب)، و «تذكرة النبيه في أيام المنصور وبنيه» لابن حبيب 3/ 68، و «درة الأسلاك في دولة الأتراك» له ص 345، و «توضيح المشتبه» لابن ناصر الدين 2/ 149 - 150، و «الرد الوافر» له ص 62 - 63 (27)، و «طبقات المفسرين» للداودي 2/ 286 (608)، و «غاية النهاية في طبقات القراء» 2/ 285 (3555)، و «ذيل التقييد» للفاسي 1/ 480 (565)، و «الأول من إيضاح بغية أهل البصارة في ذيل الإشارة» له (ق 24/ أ - 27/ ب)، و «نفح الطيب» 2/ 535 - 584 (216)، و «تاريخ ابن قاضي شهبة» 2/ 1/ 439، و «طبقات الشافعية» له 3/ 88 (626)، و «طبقات اللغويين والنحاة» له، و «الدرر الكامنة» 4/ 302 (832)، و «النجوم الزاهرة» =

তৃতীয়ত: ইমাম আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসির জীবনী(১):

-‌‌ তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন আসিরুদ্দিন, আবু হাইয়ান, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী রয়েছে: ‘মা’রিফাতুল কুররাউল কিবার’ ২/ ৭২৩ (৬৮৯), ‘আল-মু’জামুল মুখতাস’ পৃষ্ঠা ২৬৭ (৩৪৪), আদ-ফুউয়ি প্রণীত ‘আল-বদরুস সাফির’, ‘আল-ওয়াফি বিল ওয়াফাইয়াত’ ৫/ ১৭৫ (২৩৪৭), ‘নুখাতুল হিমইয়ান’, ‘আ’ইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুস নাসর’ ৫/ ৩২৫ (১৮৩১), ইবনে রাফে’র ‘আল-ওয়াফাইয়াত’ ১/ ৪৮২ (৩৯৯), সুবকির ‘তাবাকাতুশ শাফি’ইয়াহ’ ৯/ ২৭৬ (১৩৩৬), আসনাউয়ির ‘তাবাকাতুশ শাফি’ইয়াহ’ ১/ ২১৮ (৪১৪), ‘মুস্তাফাদুল রিহলাহ ওয়াল ইখতিরাব’ পৃষ্ঠা ১৪০ - ১৪২, ‘বারনামাজুল ওয়াদিশি আশি’ পৃষ্ঠা ৭৪, হুসাইনির ‘যাইলুল ইবার’ পৃষ্ঠা ২৪৩, তাঁরই ‘যাইলু তাযকিরাতিল হুফফাজ’ পৃষ্ঠা ২৩, ‘আল-মুনতাকা মিন মু’জামি শুয়ুখিশ শিহাব ইবনে রজব’ পৃষ্ঠা ৪২ (৪১), ফিরোজাবাদীর ‘আল-বুলগাহ’ পৃষ্ঠা ১৮৪ (২৯২), ‘ফাওয়াতুল ওয়াফাইয়াত’ ৪/ ৭১ (৫০৬), ইবনে শাকির আল-কুতুবীর ‘উয়ুনুত তাওয়ারিখ’, ‘আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ’ ১৮/ ৪৭৩, ইবনুল খাতিবের ‘আল-কাতিবাতুল কামিনাহ’ পৃষ্ঠা ৮১ (২৩), ‘আল-ইহাতা ফি আখবারি গারনাতাহ’ ৩/ ৪৩, ‘তাজুল মাফরিক ফি হিলয়াতি আহলিল মাশরিক’, ‘তারিখু আবিল ফিদা’ ৩/ ২৭২, যারকাশির ‘উকুদুল জুমান’ (পত্র ৩১৫/ক - ৩১৬/খ), ইবনে হাবিবের ‘তাযকিরাতুন নাবিহ ফি আইয়ামিল মানসুর ওয়া বানিহি’ ৩/ ৬৮, তাঁরই ‘দুররাতুল আসলাক ফি দাওলাতিল আতরাক’ পৃষ্ঠা ৩৪৫, ইবনে নাসিরুদ্দিনের ‘তাওদিহুল মুশতাবিহ’ ২/ ১৪৯ - ১৫০, তাঁরই ‘আর-রাদ্দুল ওয়াফির’ পৃষ্ঠা ৬২ - ৬৩ (২৭), দাউদীর ‘তাবাকাতুল মুফাসসিরিন’ ২/ ২৮৬ (৬০৮), ‘গায়াতুন নিহায়াহ ফি তাবাকাতিল কুররা’ ২/ ২৮৫ (৩৫৫৫), ফাসীর ‘যাইলুত তাকিদ’ ১/ ৪৮০ (৫৬৫), তাঁরই ‘আল-আউয়ালু মিন ইদাহি বুগয়াতি আহলিল বাসারাহ ফি যাইলি আল-ইশারাহ’ (পত্র ২৪/ক - ২৭/খ), ‘নাফহুত তীব’ ২/ ৫৩৫ - ৫৮৪ (২১৬), ‘তারিখু ইবনি কাজি শুহবাহ’ ২/ ১/ ৪৩৯, তাঁরই ‘তাবাকাতুশ শাফি’ইয়াহ’ ৩/ ৮৮ (৬২৬), তাঁরই ‘তাবাকাতুল লুগাউয়্যিন ওয়ান নুহাত’, ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ ৪/ ৩০২ (৮৩২), ‘আন-নুজুমুয যাহিরাহ’ =

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
ابن حيان الأندلسي، الغرناطي، النفزي(1)، الجياني(2)، والحياني(3)، الأثري(4)، الإمام النحوي، اللغوي، المفسر، المحدث، المقرئ،

--------------------------------------------

= 10/ 91، و «المنهل الصافي»، ومختصره «الدليل الشافي» 2/ 715 (2445)، والثاني من «رونق الألفاظ بمعجم الحفاظ» ليوسف بن شاهين (ق 136/ ب)، و «بغية الوعاة» للسيوطي 1/ 280 (516)، و «حسن المحاضرة» 1/ 534 (18)، و «وجيز الكلام في الذيل على دول الإسلام» للسخاوي 1/ 8 (2)، و «السلوك» للمقريزي 3/ 423، والمقفى الكبير له 7/ 503 (3600)، و «شذرات الذهب» 8/ 251، وتاريخ ابن الوردي» 2/ 328، و «درة الحجال» 2/ 122، و «نيل الأمل في ذيل الدول» لابن شاهين 1/ 95 (20)، و «البدر الطالع» 2/ 288، و «كشف الظنون» 1/ 5، 6، 49، 61، 153، 226، 238، 239، 362، 393، 405، 688، 717، 918 و 2/ 962، 1028، 1108، 1152، 1189، 1194، 1539، 1561، 1580، 1591، 1611، 1678، 1805، 1818، 1864، 1875، 1876، 1910، 1958، 1983، 1986، 1993، 1994، و «إيضاح المكنون» 1/ 24، 101، 122، 583 و 2/ 199، 446، 624، 655، 657، 671، 677، 682، و «هدية العارفين» 2/ 152، و «فهرس الفهارس» 1/ 155 (45)، و «الرسالة المستطرفة» ص 100، و «الأعلام» للزركلي 7/ 152، و «معجم المؤلفين» لكحالة 3/ 784 (16473)، و «أبو حيان النحوي» للدكتورة خديجة الحديثي، وانظر: مقدمة «ديوانه»، للدكتور أحمد مطلوب، والدكتورة خديجة الحديثي.

(1) نسبة إلى «نفزة»؛ قبيلة من البربر. وقيل: نفزة.

(2) نسبة إلى «جيان»؛ مدينة معروفة في الأندلس.

(3) نسبة إلى جد أبيه؛ حيان.

(4) نسبة إلى الأثر. فقد كان الإمام أبو حيان الأندلسي من أهل الحديث والأثر، =

ইবনে হাইয়ান আল-আন্দালুসি, আল-গারনাতি, আন-নাফজি(১), আল-জায়ইয়ানি(২), আল-হায়ইয়ানি(৩), আল-আসারি(৪), ইমাম, ব্যাকরণবিদ, ভাষাবিদ, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ক্বারি,

--------------------------------------------

= ১০/ ৯১, এবং ‘আল-মানহালুস সাফি’, এবং এর সংক্ষিপ্তসার ‘আদ-দালিলুশ শাফি’ ২/ ৭১৫ (২৪৪৫), এবং ইউসুফ বিন শাহীন রচিত ‘রাওনাকুল আলফাজ বি-মু'জামিল হুফফাজ’ থেকে দ্বিতীয়টি (পত্র ১৩৬/ খ), এবং সুয়ুতির ‘বুগইয়াতুল উয়াত’ ১/ ২৮০ (৫১৬), এবং ‘হুসনুল মুহাদারা’ ১/ ৫৩৪ (১৮), এবং সাখাভির ‘ওয়াজিজুল কালাম ফিজ জাইল আলা দুওয়ালিল ইসলাম’ ১/ ৮ (২), এবং মাকরিজির ‘আস-সুলুক’ ৩/ ৪২৩, এবং তার ‘আল-মুক্বাফফাল কবির’ ৭/ ৫০৩ (৩৬০০), এবং ‘শাযারাতুজ জাহাব’ ৮/ ২৫১, এবং ইবনুল ওয়ার্দির ‘তারিখ’ ২/ ৩২৮, এবং ‘দুররাতুল হিজাল’ ২/ ১২২, এবং ইবনে শাহীনের ‘নাইলুল আমাল ফিজ জাইলিদ দুওয়াল’ ১/ ৯৫ (২০), এবং ‘আল-বাদরুত তালি’ ২/ ২৮৮, এবং ‘কাশফুজ জুনুন’ ১/ ৫, ৬, ৪৯, ৬১, ১৫৩, ২২৬, ২৩৮, ২৩৯, ৩৬২, ৩৯৩, ৪০৫, ৬৮৮, ৭১৭, ৯১৮ এবং ২/ ৯৬২, ১০২৮, ১১০৮, ১১৫২, ১১৮৯, ১১৯৪, ১৫৩৯, ১৫৬১, ১৫৮০, ১৫৯১, ১৬১১, ১৬৭৮, ১৮০৫, ১৮১৮, ১৮৬৪, ১৮৭৫, ১৮৭৬, ১৯১০, ১৯৫৮, ১৯৮৩, ১৯৮৬, ১৯৯৩, ১৯৯৪, এবং ‘ইদাহুল মাকনুন’ ১/ ২৪, ১০১, ১২২, ৫৮৩ এবং ২/ ১৯৯, ৪৪৬, ৬২৪, ৬৫৫, ৬৫৭, ৬৭১, ৬৭৭, ৬৮২, এবং ‘হাদিয়াতুল আরিফিন’ ২/ ১৫২, এবং ‘ফিহরিসুল ফাহারিস’ ১/ ১৫৫ (৪৫), এবং ‘আর-রিসালাতুল মুস্তাতরাফা’ পৃষ্ঠা ১০০, এবং যিরিকলির ‘আল-আ'লাম’ ৭/ ১৫২, এবং কাহহালার ‘মু'জামুল মুয়াল্লিফিন’ ৩/ ৭৮৪ (১৬৪৭৩), এবং ডক্টর খাদিজা আল-হাদিসির ‘আবু হাইয়ান আন-নাহবি’, এবং দেখুন: ডক্টর আহমদ মাতলুব ও ডক্টর খাদিজা আল-হাদিসি কর্তৃক সম্পাদিত তার ‘দিওয়ান’-এর ভূমিকা।

(১) ‘নাফজা’-এর প্রতি সম্পৃক্ত; যা বার্বারদের একটি গোত্র। বলা হয়: নাফযাহ।

(২) ‘জায়ইয়ান’-এর প্রতি সম্পৃক্ত; যা আন্দালুসের একটি সুপরিচিত শহর।

(৩) তার বাবার দাদা হাইয়ানের প্রতি সম্পৃক্ত।

(৪) আসারের (ঐতিহ্য) প্রতি সম্পৃক্ত। কেননা ইমাম আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি আহলুল হাদিস ও আসারের অনুসারী ছিলেন, =

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
المؤرخ، الأديب، ذو الفنون، صاحب التصانيف البديعة.

 

-‌‌ مولده، ونشأته، وطلبه العلم:

ولد بمطخشارش؛ موضع بغرناطة، في أخريات شوال عام 654 هـ.

ونشأ بغرناطة، فكان أول طلبه أن قرأ لعاصم في المكتب في حدود سنة 668 هـ، ثم شرع في الطلب بالمغرب سنة 670 هـ، وقرأ القراءات والنحو واللغة، فأتقن ذلك، وجال في بلاد المغرب، آخذا عن علمائها، ثم جاب البلاد في طلب العلم، فسمع الكثير، حتى نيف شيوخه على الخمسمئة.

سمع بغرناطة: الأستاذ أبا جعفر بن الزبير - خاتمة نحاة المغرب -، وأبا جعفر بن بشير، وأبا جعفر بن الطباع، وأبا علي بن أبي الأحوص، وغيرهم.

وبمالقة: أبا عبد الله محمد بن عباس القرطبي.

وببجاية: أبا عبد الله محمد بن صالح الكناني.

وبتونس: أبا محمد عبد الله بن هارون، وغيره.

وبالإسكندرية: عبد الوهاب بن حسن بن الفرات، ومحمد بن الدهان، وعبد الله بن أحمد بن فارس.

--------------------------------------------

= مجانبا لعلم الكلام ذاما له، وقد وصفه بالأثري جماعة، منهم: صاحبه ابن جابر الوادي آشي، وغيره. وقال الزركشي في «النكت على مقدمة ابن الصلاح» 1/ 45: كان من أئمة هذا الشأن رواية ودراية.

ঐতিহাসিক, সাহিত্যিক, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এবং চমৎকার সব গ্রন্থাবলীর প্রণেতা।

 

-‌‌ তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং ইলম অর্জন:

তিনি গ্রানাডার মাতখাশারশ নামক স্থানে ৬৫৪ হিজরির শাওয়াল মাসের শেষ দিকে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি গ্রানাডাতেই বড় হন। তাঁর শিক্ষা অর্জনের সূচনা হয় ৬৬৮ হিজরির দিকে মক্তবে আসিমের কিরাআত পাঠের মাধ্যমে। এরপর ৬৭০ হিজরিতে তিনি মাগরিবে শিক্ষা অর্জন শুরু করেন এবং কিরাআত, নাহু (ব্যাকরণ) ও ভাষা শিক্ষা করে তাতে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি মাগরিবের বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করে সেখানকার আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। অতঃপর ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি দেশ-বিদেশ সফর করেন এবং বিপুল সংখ্যক হাদীস শ্রবণ করেন, এমনকি তাঁর উস্তাদদের সংখ্যা পাঁচশ ছাড়িয়ে যায়।

তিনি গ্রানাডায় যাঁদের নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন: উস্তাদ আবু জাফর বিন যুবায়ের—যিনি ছিলেন মাগরিবের শেষ নাহুবিদ—, আবু জাফর বিন বাশির, আবু জাফর বিন তিব্বা', আবু আলী বিন আবিল আহওয়াস এবং আরও অনেকে।

মালাগাতে: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্বাস আল-কুরতুবি।

বিজায়ায়: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-কিনানি।

তিউনিসে: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন হারুন এবং আরও অনেকে।

আলেকজান্দ্রিয়ায়: আব্দুল ওয়াহাব বিন হাসান বিন ফুরাত, মুহাম্মদ বিন দাহহান এবং আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন ফারিস।

--------------------------------------------

= তিনি ইলমুল কালাম থেকে দূরে থাকতেন এবং এর নিন্দা করতেন। একদল আলেম তাঁকে 'আসারি' হিসেবে অভিহিত করেছেন, যাদের মধ্যে তাঁর সাথী ইবনে জাবির আল-ওয়াদি আশি এবং অন্যরা রয়েছেন। যারকাশি 'আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ' গ্রন্থে (১/৪৫) বলেছেন: তিনি বর্ণনা ও শাস্ত্রীয় জ্ঞান উভয় দিক থেকেই এই শাস্ত্রের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
وبمكة: أبا الحسن علي بن صالح الحسيني، ويوسف بن إسحاق الطبري.

وبمصر: عبد العزيز بن الصيقل الحراني، وابن خطيب المزة، وغازي الحلاوي، وخلقا.

ولازم الحافظ الدمياطي فأكثر عنه.

وكان تاريخ دخوله مصر سنة 679 هـ، فلازم الشيخ الإمام بهاء الدين ابن النحاس - شيخ النحاة بمصر - وأخذ عنه كتب الأدب، فلما مات ابن النحاس صار المنظور إليه في علم العربية، فقرأ الناس عليه طبقة بعد طبقة، وتخرج به جمع كثير من الأئمة، وصنف التصانيف الحسنة البديعة التي تربو على السبعين مصنفا في فنون العلم.

 

-‌‌ صفاته الخلقية والخلقية:

- كان رحمه الله شيخا طوالا، حسن العمة، مليح الوجه، ظاهر اللون مشربا بحمرة، منور الشيبة، كبير اللحية، مسترسل الشعر فيها، لم تكن كثة. عبارته فصيحة بلغة الأندلس، يعقد القاف قريبا من الكاف على أنه لا ينطق بها في القرآن إلا فصيحة. ثم إنه أضر قبل موته بقليل.

وكان فيه رحمه الله خشوع، يبكي إذا سمع القرآن، ويجري دمعه عند سماع الأشعار الغزلية.

قال الأدفوي: قال لي: إذا قرأت أشعار العشق أميل إليها، وكذلك أشعار الشجاعة تستميلني، وغيرها، إلا أشعار الكرم ما تؤثر في. اهـ.
মক্কায়: আবুল হাসান আলী বিন সালিহ আল-হুসাইনী এবং ইউসুফ বিন ইসহাক আত-তাবারী।

মিশরে: আব্দুল আযীয বিন আস-সাইকাল আল-হাররানী, ইবনে খাতেব আল-মিযযাহ, গাজী আল-হালাওয়ী এবং আরও অনেকে।

তিনি হাফিজ আদ-দিমইয়াতীর সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁর কাছ থেকে প্রচুর ইলম অর্জন করেছেন।

তাঁর মিশরে প্রবেশের তারিখ ছিল ৬৭৯ হিজরী। সেখানে তিনি শায়খ ইমাম বাহাউদ্দীন ইবনুন নাহহাস —যিনি মিশরের ব্যাকরণবিদদের প্রধান ছিলেন— তাঁর সান্নিধ্য গ্রহণ করেন এবং তাঁর কাছ থেকে সাহিত্যের কিতাবাদি লাভ করেন। ইবনুন নাহহাসের মৃত্যুর পর তিনি আরবী ভাষাতত্ত্বে সকলের দৃষ্টির কেন্দ্রে পরিণত হন। ফলে স্তরে স্তরে মানুষ তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করতে শুরু করে এবং তাঁর মাধ্যমে বহুসংখ্যক ইমাম ও পণ্ডিত তৈরি হন। তিনি জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় সত্তরটিরও বেশি চমৎকার ও অনবদ্য গ্রন্থ রচনা করেন যা সমকালীন জ্ঞানচর্চায় অনন্য।

 

-‌‌ তাঁর দৈহিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ:

- আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি দীর্ঘদেহী শায়খ ছিলেন, তাঁর পাগড়ি পরিধান ছিল সুন্দর, মুখমণ্ডল ছিল লাবণ্যময়, গায়ের রং ছিল উজ্জ্বল ও রক্তিম আভা মিশ্রিত, তাঁর সাদা দাড়ি ছিল দীপ্তিময়। তাঁর দাড়ি ছিল দীর্ঘ ও সুবিন্যস্ত চুলবিশিষ্ট, যা খুব ঘন বা জটপাকানো ছিল না। তাঁর বর্ণনাভঙ্গি ছিল আন্দালুসীয় ভাষায় সাবলীল। তিনি 'ক্বাফ' অক্ষরটিকে 'কাফ'-এর কাছাকাছি উচ্চারণ করতেন, যদিও কুরআনের ক্ষেত্রে তিনি তা কেবল বিশুদ্ধভাবেই উচ্চারণ করতেন। এরপর মৃত্যুর কিছুকাল আগে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান।

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁর মধ্যে বিনয় ও খোদাভীতি ছিল; তিনি কুরআন শুনলে কাঁদতেন এবং প্রেমের কবিতা শুনলে তাঁর অশ্রু প্রবাহিত হতো।

আল-উদফুওয়ী বলেন: তিনি আমাকে বলেছেন: 'যখন আমি প্রেমের কবিতা পড়ি তখন আমি সেদিকে ঝুঁকে পড়ি, একইভাবে বীরত্বগাথার কবিতাগুলোও আমাকে আকৃষ্ট করে এবং অন্যান্য কবিতাও; কেবল দানশীলতা বিষয়ক কবিতাগুলো আমার ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলে না।' সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
قلت: إلا أنه كانت تعتريه حدة على المخالف، وربما انقلبت محبته لمن خالفه عداوة وبغضا وحطا لقدر مخالفه. ولعل ذلك كان من الأسباب التي دعته إلى الهجرة من غرناطة، فقد حملته حدة الشبيبة على التعرض للأستاذ أبي جعفر بن الطباع، وقد وقعت بينه وبين أستاذه أبي جعفر بن الزبير وقعة، فنال منه، وتصدى لتأليف في الرد عليه وتكذيب روايته، فرفع أمره إلى السلطان، فأمر بإحضاره وتنكيله، فاختفى، ثم ركب البحر ولحق بالمشرق.

وكذا ما وقع بينه وبين الإمام ابن تيمية من بعد مدحه والثناء عليه شعرا ونثرا، وتعرضه للإمام تقي الدين ابن دقيق العيد كذلك. وقد قيل: إنه كان يغض من ألفية ابن مالك.

ثم إن بعض من ترجم له وصفه بالبخل، وأنه كان يفتخر به كما يفتخر غيره بالكرم!.

وعندي أن ذلك لا يعدو أن يكون حرصا وحزما بسبب ما عاناه من صعاب الحياة وشدة الاغتراب، وبنحو ذلك أجاب تلميذه الصفدي، فقال: «والذي أراه فيه أنه طال عمره وتغرب، وورد البلاد، ولا شيء معه، وتعب حتى حصل المناصب تعبا كثيرا، وكان قد جرب الناس، وحلب أشطر الدهر، ومرت به حوادث، فاستعمل الحزم».

ومع كل ذلك فقد كان كثير الضحك والانبساط، بعيدا عن الانقباض، جيد الكلام، حسن اللقاء، جميل المؤانسة، مقبلا على الطلبة الأذكياء، وعنده تعظيم لهم، ثبتا صدوقا، حجة رحمه الله
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তবে তার মধ্যে বিরোধীদের প্রতি এক প্রকার কঠোরতা ছিল। অনেক সময় তার সাথে ভিন্নমত পোষণকারীর প্রতি তার ভালোবাসা শত্রুতা, ঘৃণা ও সেই ব্যক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার পর্যায়ে রূপ নিত। সম্ভবত এটাই ছিল তার গ্রানাডা থেকে হিজরত করার অন্যতম কারণ। তার যৌবনের তেজ তাকে উস্তাদ আবু জাফর বিন তাব্বা-এর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হতে প্ররোচিত করেছিল। এছাড়া তার ও তার উস্তাদ আবু জাফর বিন যুবাইরের মাঝেও একটি ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে তিনি উস্তাদের সমালোচনা করেন এবং তার প্রত্যুত্তরে ও তার বর্ণনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য একটি গ্রন্থ রচনায় প্রবৃত্ত হন। ফলে বিষয়টি সুলতানের নিকট উত্থাপিত হলে সুলতান তাকে হাজির করে শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। তখন তিনি আত্মগোপন করেন এবং পরবর্তীতে সমুদ্রপথে পাড়ি জমিয়ে প্রাচ্যে চলে যান।

অনুরূপভাবে ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহর সাথেও তার এমন আচরণ ঘটেছিল, যদিও শুরুতে তিনি ইবনে তাইমিয়্যাহর প্রশংসা করে গদ্য ও পদ্য লিখেছিলেন। ইমাম তাকিউদ্দিন ইবনে দাকীকুল ঈদ-এর সাথেও তার একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। আরও বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহকে অবজ্ঞা করতেন।

উপরন্তু, তার জীবনীকারদের মধ্যে কেউ কেউ তাকে কৃপণ বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে, অন্যেরা যেভাবে দানশীলতা নিয়ে গর্ব করে, তিনি নাকি সেভাবে কৃপণতা নিয়ে গর্ব করতেন!

আমার মতে, এটি আসলে জীবনের কঠিন সংগ্রাম এবং প্রবাস জীবনের চরম দুঃখ-কষ্ট সহ্য করার ফলে সৃষ্ট এক প্রকার সতর্কতা ও দৃঢ়তা ছাড়া আর কিছুই নয়। তার ছাত্র আল-সাফাদীও অনেকটা অনুরূপ উত্তর দিয়ে বলেছেন: «তার সম্পর্কে আমার অভিমত হলো, তিনি দীর্ঘজীবী হয়েছিলেন এবং প্রবাসী ছিলেন। যখন তিনি বিভিন্ন দেশে যেতেন, তখন তার কাছে কিছুই ছিল না। অনেক পরিশ্রম করে তিনি উচ্চ পদমর্যাদা অর্জন করেছিলেন। তিনি মানুষকে চিনেছিলেন এবং যুগের চড়াই-উতরাই প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তার জীবনে অনেক ঘটনা ঘটেছিল, তাই তিনি দৃঢ়তার পথ অবলম্বন করেছিলেন»।

এতদসত্ত্বেও তিনি প্রচুর হাসিখুশি ও প্রাণোচ্ছল ছিলেন। তিনি বিমর্ষতা বা সঙ্কীর্ণতা থেকে দূরে থাকতেন। তার কথাবার্তা ছিল চমৎকার, সাক্ষাত ছিল আনন্দদায়ক এবং সহচর্য ছিল মনোমুগ্ধকর। মেধাবী ছাত্রদের প্রতি তিনি ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক এবং তাদের যথেষ্ট সম্মান করতেন। তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, সত্যবাদী এবং একজন প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব। আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
تعالى ورضي عنه ..

وكان رحمه الله يقول الشعر ويكثر منه، وله في ذلك شعر كثير حسن، ولكثرته وصف بالإجادة وضدها، وقد مدح بشعره الإمام الشافعي، والإمام البخاري، وغيرهما من أئمة الفقه والحديث واللغة.

ومن جميل ما استحسنته من شعره قوله:

عداتي لهم فضل علي ومنة … فلا أذهب الرحمن عني الأعاديا

هم بحثوا عن زلتي فاجتنبتها … وهم نافسوني فاكتسبت المعاليا

وقوله:

يظن الغمر أن الكتب تجدي … أخاذهن لإدراك العلوم

وما يدري الجهول بأن فيها … غوامض حيرت عقل الفهيم

إذا رمت العلوم بغير شيخ … ضللت عن الصراط المستقيم

وتلتبس الأمور عليك حتى … صير أضل من توما الحكيم

 

-‌‌ مذهبه واعتقاده:

كان رحمه الله تعالى - ظاهريا له اشتغال في مذهب الظاهرية ومصنفات الإمام ابن حزم، من ذلك أنه اختصر كتابه «المحلى» ووسمه ب «الأنور الأجلى في اختصار المحلى».

ثم لما دخل مصر رأى مذهب أهل الظاهر مهجورا فانتمى إلى مذهب الشافعية فحصله حتى أتقنه، واختصر «منهاج النووي» في كتاب
সুউচ্চ এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন...

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) কবিতা আবৃত্তি করতেন এবং প্রচুর পরিমাণে তা রচনা করতেন। এ বিষয়ে তাঁর অনেক সুন্দর সুন্দর কবিতা রয়েছে। অধিক কবিতা রচনার কারণে তাঁর কবিতাকে উচ্চমানের এবং সাধারণ মানের—উভয় গুণেই বিশেষিত করা হয়েছে। তিনি তাঁর কবিতার মাধ্যমে ইমাম শাফিঈ, ইমাম বুখারী এবং ফিকহ, হাদিস ও ভাষাতত্ত্বের অন্যান্য ইমামগণের প্রশংসা করেছেন।

তাঁর কবিতার মধ্যে আমার নিকট যা অতি চমৎকার মনে হয়েছে তা হলো তাঁর এই উক্তি:

আমার শত্রুদের আমার প্রতি রয়েছে অনুগ্রহ ও অবদান … তাই রহমান যেন আমার থেকে শত্রুদের দূর না করেন।

তারা আমার ভুল-ত্রুটি অনুসন্ধান করেছে, ফলে আমি তা থেকে বেঁচে থেকেছি … আর তারা আমার সাথে প্রতিযোগিতা করেছে, ফলে আমি উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছি।

এবং তাঁর উক্তি:

অনভিজ্ঞ ব্যক্তি মনে করে যে, কেবল কিতাব সংগ্রহ করাই … জ্ঞান অর্জনের জন্য যথেষ্ট।

কিন্তু মূর্খ জানে না যে, তার মধ্যে এমন সব জটিল বিষয় রয়েছে … যা বিচক্ষণ ব্যক্তির বুদ্ধিকেও বিভ্রান্ত করে দেয়।

যদি তুমি উস্তাদ ব্যতীত জ্ঞান অন্বেষণ করতে চাও … তবে তুমি সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়বে।

আর তোমার কাছে বিষয়গুলো এমনভাবে গুলিয়ে যাবে যে … তুমি ‘হাকিম তুমা’র চেয়েও অধিক পথভ্রষ্ট হয়ে পড়বে।

 

-‌‌ তাঁর মাযহাব ও আকিদা:

তিনি (রহিমাহুল্লাহু তাআলা) জাহেরি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং জাহেরি মাযহাব ও ইমাম ইবনে হাজমের কিতাবাদি নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। এর একটি নিদর্শন হলো, তিনি তাঁর ‘আল-মুহাল্লা’ কিতাবটি সংক্ষেপ করেছেন এবং তার নামকরণ করেছেন ‘আল-আনোয়ারুল আজলা ফি ইখতিসারিল মুহাল্লা’।

অতঃপর যখন তিনি মিসরে প্রবেশ করলেন, তখন জাহেরি মাযহাবকে পরিত্যক্ত দেখতে পেলেন। ফলে তিনি শাফিঈ মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত হলেন এবং তা পূর্ণরূপে আয়ত্ত করলেন। তিনি ইমাম নববীর ‘মিনহাজ’ কিতাবটিও সংক্ষেপ করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
سماه: «الوهاج في اختصار المنهاج».

غير أن بعض من ترجم له قال: إنه لم يزل ظاهريا وأنه كان يتظاهر بالشافعية، ويقول: محال أن يرجع عن مذهب الظاهر من علق بذهنه.

فالله أعلم بالحال.

أما في الأصول فقد كان رحمه الله سنيا أثريا، يبغض علم الكلام والمنطق والفلسفة، سالم العقيدة من البدع الفلسفية والاعتزال، وتفسيره «البحر المحيط» يدل على ذلك، فإنه يغلب عليه السلامة كما قال بعض أهل العلم - غير أنه كثيرا ما ينحو منحى التأويل وربما التفويض في باب الصفات.

وقد ذكر أبو حيان نفسه سببا قوى عزمه على الرحلة عن غرناطة، فقد ذكر السيوطي في «بغية الوعاة» أنه رأى في كتاب «النضار» لأبي حيان أن بعض العلماء بالمنطق والفلسفة والرياضي والطبيعي قال للسلطان:

إني كبرت، وأخاف أن أموت، فأرى أن ترتب لي طلبة أعلمهم هذه العلوم لينفعوا السلطان من بعدي. فأشير إلى أن يكون أبو حيان من أولئك ويرتب له راتب جيد وكسا وإحسان، فتمنع ورحل مخافة أن يكره على ذلك.

وكان رحمه الله تعالى - شديدا على الصوفية الغلاة، حتى اشتهر عنه تكفير بعضهم كابن عربي وأضرابه، قال رحمه الله في تفسير قوله سبحانه: {لقد كفر الذين قالوا إن الله هو المسيح ابن مريم} [المائدة: 17]: «ومن بعض اعتقادات النصارى استنبط من تستر
তিনি এর নাম রেখেছেন: «আল-ওয়াহহাজ ফি ইখতিসার আল-মিনহাজ»।

তবে তাঁর জীবনীকারদের কেউ কেউ বলেছেন: তিনি আমৃত্যু যাহেরি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং শাফেয়ি মাযহাবের অনুসারী হওয়ার প্রকাশ করতেন। তিনি বলতেন: যার মনে যাহেরি মাযহাব গেঁথে গেছে, তার পক্ষে সেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব।

প্রকৃত অবস্থা আল্লাহই ভালো জানেন।

আকিদাগত বিষয়ে (উসুল) তিনি—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—সুন্নি আসারি ছিলেন। তিনি ইলমুল কালাম (তর্কশাস্ত্র), যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনকে ঘৃণা করতেন। তাঁর আকিদা দার্শনিক বিদআত ও মুতাযিলা মতবাদ থেকে মুক্ত ছিল। তাঁর তাফসির «আল-বাহরুল মুহিত» এর প্রমাণ দেয়। কিছু আলেম যেমনটি বলেছেন, এটি সাধারণত ভ্রান্তিমুক্ত, যদিও তিনি সিফাত (আল্লাহর গুণাবলী) সংক্রান্ত বিষয়ে প্রায়শই তাবিল (ব্যাখ্যা) এবং কখনো কখনো তাফউইয (আল্লাহর ওপর অর্পণ) করার প্রবণতা দেখিয়েছেন।

আবু হাইয়ান নিজেই গ্রানাডা থেকে হিজরত করার সংকল্প দৃঢ় হওয়ার একটি কারণ উল্লেখ করেছেন। সুয়ুতি «বুগয়াতুল উআত» গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আবু হাইয়ানের «আন-নুদার» গ্রন্থে দেখেছেন যে—যুক্তিবিদ্যা, দর্শন, গণিত ও পদার্থবিদ্যার কোনো এক পন্ডিত সুলতানকে বলেছিলেন:

"আমার বয়স হয়েছে, আমি মারা যাওয়ার ভয় করছি। তাই আমি মনে করি, আপনি আমার জন্য কিছু ছাত্রের ব্যবস্থা করুন যাতে আমি তাদের এই বিজ্ঞানগুলো শেখাতে পারি, যেন তারা আপনার পরে সুলতানের উপকারে আসতে পারে।" তখন পরামর্শ দেওয়া হলো যে আবু হাইয়ান যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত হন এবং তার জন্য ভালো বেতন, পোশাক ও উপঢৌকনের ব্যবস্থা করা হোক। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন এবং তাকে বাধ্য করা হতে পারে এই ভয়ে দেশত্যাগ করলেন।

তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—চরমপন্থী সুফিদের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন, এমনকি ইবনে আরাবি ও তার সমমনাদের কাউকে কাউকে কাফির বলার বিষয়টি তাঁর সম্পর্কে প্রসিদ্ধ। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {নিশ্চয় তারা কাফির যারা বলে যে, মারইয়াম-পুত্র মসীহ-ই আল্লাহ} [আল-মায়িদাহ: ১৭] এর তাফসিরে তিনি—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—বলেছেন: «খ্রিস্টানদের কতিপয় বিশ্বাস থেকেই তারা ধারণা গ্রহণ করেছে যারা ছদ্মবেশ ধারণ করে...
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٣١)
بالإسلام ظاهرا وانتمى إلى الصوفية حلول الله تعالى في الصور الجميلة، ومن ذهب من ملاحدتهم إلى القول بالاتحاد والوحدة؛ كالحلاج، والشوذي، وابن أحلى، وابن العربي المقيم - كان - بدمشق، وابن الفارض، وأتباع هؤلاء كابن سبعين، والتستري تلميذه، وابن مطرف المقيم بمرسية، والصفار المقتول بغرناطة، وابن اللباج، وأبو الحسن المقيم - كان - بلورقة.

وممن رأيناه يرمى بهذا المذهب الملعون: العفيف التلمساني، وله في ذلك أشعار كثيرة، وابن عياش المالقي الأسود الأقطع المقيم - كان - بدمشق، وعبد الواحد بن المؤخر المقيم - كان - بصعيد مصر، والأيكي العجمي الذي كان تولى المشيخة بخانقاه سعيد السعداء بالقاهرة من ديار مصر، وأبو يعقوب بن مبشر تلميذ التستري المقيم - كان - بحارة زويلة.

وإنما سردت أسماء هؤلاء نصحا لدين الله - يعلم الله ذلك - وشفقة على ضعفاء المسلمين، وليحذروا فهم شر من الفلاسفة الذين يكذبون الله تعالى ورسله، ويقولون بقدم العالم، وينكرون البعث. وقد أولع جهلة ممن ينتمي للتصوف بتعظيم هؤلاء وادعائهم أنهم صفوة الله وأولياؤه، والرد على النصارى والحلولية والقائلين بالوحدة هو من علم أصول الدين»(1).

--------------------------------------------

(1) «تفسير البحر المحيط» 3/ 464 - 465.

যারা বাহ্যিকভাবে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত এবং সুফিবাদের সাথে সম্পৃক্ত, তাদের মধ্যে আল্লাহ তাআলার সুন্দর আকৃতিতে অনুপ্রবেশের (হুলুল) ধারণা রয়েছে। আর তাদের মধ্যকার নাস্তিকরা যারা সংমিশ্রণ (ইত্তিহাদ) ও অদ্বৈতবাদের (ওয়াহদাতুল উজুদ) মতবাদের দিকে গিয়েছে; যেমন— আল-হাল্লাজ, আশ-শুজি, ইবনুল আহলা, দামেস্কে বসবাসরত ইবনুল আরাবি, ইবনুল ফারিদ এবং এদের অনুসারীবৃন্দ যেমন— ইবনু সাবঈন, তার ছাত্র আত-তুসতারি, মুরসিয়ায় বসবাসরত ইবনু মুতাররিফ, গ্রানাডায় নিহত আস-সাফফার, ইবনুল লাব্বাজ এবং লোরকায় বসবাসরত আবুল হাসান।

আর যাদের আমরা এই অভিশপ্ত মতবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত হতে দেখেছি তারা হলেন: আল-আফিফ আত-তিলিমসানি—যার এই বিষয়ে অনেক কবিতা রয়েছে; দামেস্কে বসবাসরত কালো ও হাতকাটা ইবনু আয়্যাশ আল-মালাকি; মিশরের উচ্চাঞ্চলে (সাঈদ) বসবাসরত আব্দুল ওয়াহিদ বিন আল-মুআখখার; মিশরের কায়রোর সাঈদ আস-সুআদা খানকাহর শায়খ হিসেবে দায়িত্বরত আল-আইকি আল-আজমি এবং জুওয়াইলা মহল্লায় বসবাসরত আত-তুসতারির ছাত্র আবু ইয়াকুব বিন মুবাশশির।

আমি কেবল আল্লাহর দ্বীনের প্রতি শুভকামনা বশত—আল্লাহ তা জানেন—এবং দুর্বল মুসলিমদের প্রতি মমতাবোধ থেকে এই নামগুলো তালিকাভুক্ত করেছি, যেন তারা সতর্ক থাকে। কারণ তারা ওইসব দার্শনিকদের চেয়েও নিকৃষ্ট যারা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলগণকে অস্বীকার করে, জগতকে অনাদি বলে দাবি করে এবং পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে। সুফিবাদের সাথে সম্পৃক্ত কিছু মূর্খ লোক এদের অতিমূল্যায়ন এবং এরা আল্লাহর মনোনীত ও ওলী বলে দাবি করার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে। প্রকৃতপক্ষে খ্রিস্টান, অনুপ্রবেশবাদী (হুলুলি) এবং অদ্বৈতবাদীদের খণ্ডন করা ইলমুল উসুলুদ দীনের (ধর্মতত্ত্বের) অন্তর্ভুক্ত।(১).

--------------------------------------------

(১) ‘তাফসিরুল বাহরুল মুহিত’ ৩/ ৪৬৪ - ৪৬৫।

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
وقال في موضع آخر: «قواعد الشريعة مقررة أن السر فيما لم يفترض من أعمال البر أعظم أجرا من الجهر». قال الحسن: «أدركنا أقواما ما كان على الأرض عمل يقدرون أن يكون سرا فيكون جهرا أبدا، ولقد كان المسلمون يجتهدون في الدعاء ولا يسمع لهم صوت إن هو إلا الهمس بينهم وبين ربهم. انتهى. ولو عاش الحسن إلى هذا الزمان العجيب الذي ظهر فيه ناس يتسمون بالمشايخ يلبسون ثياب شهرة عند العامة بالصلاح، ويتركون الاكتساب، ويرتبون لهم أذكارا لم ترد في الشريعة يجهرون بها في المساجد ويجمعون لهم خداما يجلبون الناس إليهم لاستخدامهم ونتش أموالهم ويذيعون عنهم كرامات ويرون لهم منامات يدونونها في أسفار، ويحضون على ترك العلم والاشتغال بالسنة، ويرون الوصول إلى الله بأمور يقررونها من خلوات وأذكار لم يأت بها كتاب منزل ولا نبي مرسل، ويتعاظمون على الناس بالانفراد على سجادة، ونصب أيديهم للتقبيل، وقلة الكلام، وإطراق الرؤوس، وتعيين خادم يقول: الشيخ مشغول في الخلوة … رسم الشيخ … قال الشيخ … رأى الشيخ … الشيخ نظر إليك … الشيخ كان البارحة يذكرك … إلى نحو من هذه الألفاظ التي يخشون بها على العامة، ويجلبون بها عقول الجهلة، هذا إن سلم الشيخ وخادمه من الاعتقاد الذي غلب الآن على متصوفة هذا الزمان من القول بالحلول أو القول بالوحدة، فإذ ذاك يكون منسلحا عن شريعة الإسلام بالكلية.
তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: "শরীয়তের মূলনীতিসমূহ এটি সাব্যস্ত করে যে, নেক আমলের মধ্যে যা ফরজ নয়, তা প্রকাশ্যে করার চেয়ে গোপনে করাতে প্রতিদান বা সওয়াব অনেক বেশি।" হাসান (বসরী রহ.) বলেন: "আমরা এমন এক কওমকে (সম্প্রদায়কে) পেয়েছি, যাদের নিকট যমীনে এমন কোনো আমল ছিল না যা তারা গোপন করতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও কখনও প্রকাশ্যে করতেন। আর মুসলিমরা দোয়ায় অত্যন্ত পরিশ্রম করতেন অথচ তাদের কোনো শব্দ শোনা যেত না; তা ছিল কেবল তাদের ও তাদের রবের মধ্যকার ফিসফিসানি মাত্র।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। হাসান যদি এই অদ্ভুত যুগ পর্যন্ত বেঁচে থাকতেন, যেখানে এমন সব লোকের আবির্ভাব ঘটেছে যারা নিজেদেরকে শায়খ বলে পরিচয় দেয়, সাধারণ মানুষের কাছে নেককার হিসেবে জাহির করার জন্য প্রসিদ্ধির পোশাক পরে, উপার্জন ত্যাগ করে, এবং নিজেদের জন্য এমন সব জিকির উদ্ভাবন করে যা শরীয়তে আসেনি—যা তারা মসজিদে উচ্চস্বরে পাঠ করে। তারা নিজেদের জন্য খাদেম সংগ্রহ করে যারা মানুষকে তাদের সেবা করার জন্য এবং তাদের অর্থকড়ি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য টেনে আনে। তারা তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কারামতের কথা প্রচার করে এবং তাদের জন্য বিভিন্ন স্বপ্ন বর্ণনা করে যা তারা বড় বড় কিতাবে লিপিবদ্ধ করে। তারা ইলম (জ্ঞান) অর্জন ও সুন্নাহর চর্চা ত্যাগ করতে প্ররোচিত করে। তারা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উপায় মনে করে এমন সব বিষয়কে যা তারা নিজেরাই নির্ধারণ করেছে—যেমন নির্জনবাস ও এমন সব জিকির যা কোনো অবতীর্ণ কিতাব বা প্রেরিত নবী নিয়ে আসেননি। তারা জায়নামাজে একাকী বসে মানুষের ওপর বড়ত্ব প্রকাশ করে, চুমু খাওয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়, অল্প কথা বলে, মাথা নিচু করে থাকে এবং এমন খাদেম নিয়োগ করে যে বলে: শায়খ নির্জনবাসে ব্যস্ত আছেন … শায়খের রীতি … শায়খ বলেছেন … শায়খ দেখেছেন … শায়খ আপনার দিকে তাকিয়েছেন … শায়খ গতরাতে আপনার কথা স্মরণ করছিলেন … এই জাতীয় সব শব্দের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষের ওপর নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে এবং মূর্খদের বিবেক হরণ করে। এটি তো তখন, যদি সেই শায়খ ও তার খাদেম বর্তমান যুগের সুফীদের মধ্যে প্রবল হওয়া ভ্রান্ত আকিদা—যেমন 'হুলুল' (সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টিতে প্রবেশ করা) বা 'ওয়াহদাতুল উজুদ' (অস্তিত্বের একত্ববাদ)—থেকে মুক্ত থাকে। আর যদি তারা এসবে লিপ্ত হয়, তবে সে ইসলামি শরীয়ত থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্যুত হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাখাব মিন হাদীছি শুয়ূখি বাগদাদ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
والتعجب لمثل هؤلاء كيف ترتب لهم الرواتب، وتبنى لهم الربط وتوقف عليها الأوقاف، ويخدمهم الناس في عروهم عن سائر الفضائل، ولكن الناس أقرب إلى أشباههم منهم إلى غير أشباههم. وقد أطلنا في هذا رجاء أن يقف عليه مسلم فينتفع به»(1).

وكان لا يثق في كثير ممن يدعي الصلاح من المتصوفة ونحوهم، ممن كان فيه انحراف عن كتاب الله وهدي نبيه صلى الله عليه وسلم، حتى قال:

حلبت الدهر أشطره زمانا … وأغناني العيان عن السؤال

فما أبصرت من خل وفي … ولا ألفيت مشكور الخلال

ذئاب في ثياب قد تبدت … لرائيها بأشكال الرجال

فمن يك يدعي منهم صلاحا … فزنديق تغلغل في الضلال

ترى الجهال تتبعه وترضى … مشاركة بأهل أو بمال

فينهب مالهم ويصيب منهم … نساءهم بمقبوح الفعال

وتأخذ حاله زورا فيرمي … عمامته ويهرب في الرمال

ويجرون التيوس وراء رجس … تقرمط في العقيدة والمقال

وقد حفظ لنا بعض من ترجم له وصية جامعة نافعة تبين سلامة منهج الإمام أبي حيان، واستقامة دينه وخلقه - رحمه الله تعالى -، فقد نقل عنه أنه قال في وصيته لأهله: ينبغي أن يترك الإنسان الكلام

--------------------------------------------

(1) «تفسير البحر المحيط» 4/ 312 - 313.

আর এই ধরনের লোকেদের ক্ষেত্রে বিস্ময় জাগে যে, কীভাবে তাদের জন্য নিয়মিত ভাতা নির্ধারিত হয়, তাদের জন্য সুফি-আশ্রম (রিবাত) নির্মাণ করা হয় এবং সেগুলোতে ওয়াকফ বরাদ্দ দেওয়া হয়, আর যাবতীয় গুণাবলী থেকে রিক্ত হওয়া সত্ত্বেও মানুষ তাদের সেবা করে; কিন্তু মানুষ অন্যদের তুলনায় নিজ সদৃশ ব্যক্তিদেরই বেশি নিকটবর্তী মনে করে। আমরা এই আলোচনা দীর্ঘ করলাম এই আশায় যে, যেন কোনো মুসলিম এটি অবগত হতে পারে এবং এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে।»(১).

আর তিনি সেই সমস্ত সুফি ও তাদের সমমনাদের অধিকাংশকেই বিশ্বাস করতেন না যারা নেককার হওয়ার দাবি করত, অথচ যাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিদায়াত থেকে বিচ্যুতি বিদ্যমান ছিল, এমনকি তিনি বলেন:

আমি দীর্ঘকাল ধরে সময়ের নানা অবস্থা পরখ করেছি … আর চাক্ষুষ দর্শন আমাকে অন্যের কাছে জিজ্ঞাসা করা থেকে অমুখাপেক্ষী করেছে

ফলে আমি কোনো বিশ্বস্ত বন্ধু দেখতে পাইনি … আর না পেয়েছি প্রশংসনীয় চরিত্রের কাউকে

তারা পোশাকের আবরণে নেকড়ে, যারা প্রকাশ পেয়েছে … দর্শকদের সামনে মানুষের আকৃতিতে

সুতরাং তাদের মধ্যে যে কেউ নেককার হওয়ার দাবি করে … সে তো পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত এক জিন্দিক (ধর্মদ্রোহী)

তুমি দেখবে মূর্খরা তার অনুসরণ করছে এবং সন্তুষ্ট চিত্তে … পরিবার বা সম্পদ দিয়ে অংশীদার হচ্ছে

অতঃপর সে তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করে এবং লিপ্ত হয় … তাদের নারীদের সাথে জঘন্য কর্মে

আর সে প্রতারণামূলকভাবে ভাবাবেশ (হাল) ধারণ করে, অতঃপর ছুড়ে ফেলে … তার পাগড়ি এবং মরুভূমির বালিতে পালিয়ে যায়

আর তারা পাঠাদের টেনে নিয়ে যায় এমন এক অপবিত্র ব্যক্তির পেছনে … যে আকিদা ও বক্তব্যের মধ্যে গূঢ় বিকৃতি ঘটায়

যাঁরা তাঁর জীবনী লিখেছেন, তাঁদের কেউ কেউ আমাদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও উপকারী অসিয়তনামা সংরক্ষণ করেছেন, যা ইমাম আবু হাইয়ানের মানহাজের বিশুদ্ধতা এবং তাঁর দীন ও চরিত্রের সুদৃঢ়তা প্রকাশ করে—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—। তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি অসিয়তে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছিলেন: মানুষের উচিত কথা বলা বর্জন করা

--------------------------------------------

(১) «তাফসিরুল বাহরিল মুহিত» ৪/ ৩১২ - ৩১৩।