(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: -)
تغير الأجل وأثره في الديون   (مرضي العنزي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: تغير الأجل وأثره في الديون

المؤلف: مرضي بن مشوح العنزي

(الأستاذ المشارك في الفقه المقارن بجامعة الحدود الشمالية)

أصل الكتاب: رسالة ماجستير، كلية الشريعة والدراسات الإسلامية بجامعة القصيم، 1432 هـ

الناشر: دار الحضارة للنشر والتوزيع، الرياض - السعودية

الطبعة: الثانية، 1443 هـ - 2022 م

عدد الصفحات: 227

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 شعبان 1445

ঋণের সময়সীমার পরিবর্তন এবং ঋণের ওপর এর প্রভাব   (মরদি আল-আনাজি)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


বই: ঋণের সময়সীমার পরিবর্তন এবং ঋণের ওপর এর প্রভাব

লেখক: মরদি বিন মাশওয়াহ আল-আনাজি

(নর্দার্ন বর্ডার ইউনিভার্সিটির তুলনামূলক ফিকহ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক)

মূল গ্রন্থ: মাস্টার্স থিসিস, আল-কাসিম ইউনিভার্সিটির শরীয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদ, ১৪৩২ হিজরি

প্রকাশক: দার আল-হাদারাহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৪৩ হিজরি - ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৭

[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ শাবান ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

أصل هذا الكتاب رسالة ماجستير تخصص فقه مقارن تقدم بها الباحث إلى قسم الفقه في كلية الشريعة والدراسات الإسلامية بجامعة القصيم، وأُجيزت بتقدير امتياز مع مرتبة الشرف الأولى في 25/ 2/ 1432 هـ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

এই গ্রন্থটি মূলত তুলনামূলক ফিকহ বিশেষজ্ঞতার অধীনে একটি মাস্টার্স অভিসন্দর্ভ, যা গবেষক আল-কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদের ফিকহ বিভাগে পেশ করেছিলেন এবং এটি ২৫/২/১৪৩২ হিজরি তারিখে প্রথম শ্রেণীর সম্মানসহ চমৎকার গ্রেডে অনুমোদিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمدٍ، وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:

فإن الإنسان في هذه الحياة يحتاج إلى غيره، كما يحتاج غيرُه إليه، وهذا أمر طبيعي في جميع الحاجيات، وخاصة حاجته إلى غيره في التعاملات المالية، وقد يترتب على تعامله مع غيره أن يكون إما دائناً وإما مديناً، والدَيّن إما حال وإما مؤجل، وقد تعرض بعض الأسباب على الدين المؤجل فتغيّر أجله إما تقديمًا وإما تأخيرًا، وقد يُحدث هذا التغيّر أثرًا في الدين؛ لذا أحببت البحث في "تغيّر الأجل وأثره في الديون" لما له من أهمية للمؤسسات المالية، والبنوك، والأفراد، والله ولي التوفيق.

 

‌‌أهمية الموضوع:

تبدو أهمية البحث في موضوع "تغيّر الأجل وأثره في الديون" عندما ننظر إلى حاجة المؤسسات المالية، والبنوك، والأفراد إلى معرفة الأحكام التي تترتب على تغيّر الأجل في الديون، والتي يؤدي الإخلال بمعرفتها إلى الوقوع بمحرمات من أخطرها ربا الجاهلية.
ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

নিশ্চয়ই মানুষ এই জীবনে অন্যের মুখাপেক্ষী, যেমন অন্যরাও তার মুখাপেক্ষী। এটি জীবনের সকল প্রয়োজনীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে একটি স্বাভাবিক নিয়ম, বিশেষ করে আর্থিক লেনদেনে অন্যের প্রতি মুখাপেক্ষিতা। অন্যের সাথে লেনদেনের ফলে মানুষ হয় পাওনাদার হয় অথবা ঋণগ্রহীতা। আর ঋণ হয় তাৎক্ষণিক (حال) অথবা মেয়াদী (مؤجل)। মেয়াদী ঋণের ক্ষেত্রে অনেক সময় এমন কিছু কারণ ঘটে যার ফলে মেয়াদের পরিবর্তন হয়—হয়তো তা এগিয়ে আসে অথবা পিছিয়ে যায়। মেয়াদের এই পরিবর্তন ঋণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আমি "মেয়াদের পরিবর্তন ও ঋণের ওপর এর প্রভাব" বিষয়ে গবেষণা করা পছন্দ করেছি; কারণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক এবং ব্যক্তিবর্গের নিকট এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আল্লাহই তাওফিক দানকারী।

 

‌‌বিষয়ের গুরুত্ব:

"মেয়াদের পরিবর্তন ও ঋণের ওপর এর প্রভাব" বিষয়ক গবেষণার গুরুত্ব তখনই স্পষ্ট হয় যখন আমরা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক এবং ব্যক্তিবর্গের সেই বিধিবিধানসমূহ জানার প্রয়োজনীয়তার দিকে লক্ষ্য করি যা ঋণের মেয়াদের পরিবর্তনের ফলে উদ্ভূত হয়। এসব বিধিবিধান সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকলে বিভিন্ন হারামে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো জাহেলি যুগের সুদ (ربا الجاهلية)।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌أسباب اختيار الموضوع:

من أهم الأسباب الداعية لاختيار هذه الدراسة:

1 - الحاجة الماسة للمؤسسات المالية، والبنوك، والأفراد إلى معرفة الأحكام المتعلقة بمسائل البحث.

2 - خطورة الإخلال في هذه المسائل؛ لما يترتب عليه من الوقوع في الربا المحرم.

3 - ظهور مسائل جديدة مرتبطة بتغير الأجل في الديون توجب بحثها بحثاً دقيقاً؛ لأهميتها القصوى.

4 - رغبتي الشديدة في معرفة أحكام هذه المسائل، والإسهام حسب القدرة والجهد في تزويد المكتبة الفقهية برسالة علمية متواضعة في هذا الموضوع.

5 - عدم وجود رسالة أكاديمية تشتمل على جميع هذه المسائل حسب اطلاعي.

 

‌‌الدراسات السابقة:

لم أجد -حسب اطلاعي- من أفرد مسائل "تغيّر الأجل وأثره في الديون" برسالة أكاديمية مستقلة، وقد بذلت جهداً غير قليل لمعرفة ذلك، حيث تضمن جهد بحثي عن هذا الموضوع عدة جهات علمية متخصصة، منها: مركز الملك فيصل، ومكتبة الملك فهد الوطنية، والمعهد العالي للقضاء فلم أظفر بشيء من ذلك، غير أن هناك بحثاً قد مسّ الموضوع في بعض جوانبه وهو بحث بعنوان "الزمن في الديون" للباحث الدكتور/ سعد بن تركي الخثلان، والبحث يتكون من اثنتين وخمسين صفحة، ويشتمل على خمسة مباحث وخاتمة، وهي:

المبحث الأول: الزيادة المرتبطة بالزمن في الدين والفرق بينها وبين الزيادة في البيع المؤجل.
‌বিষয়বস্তু নির্বাচনের কারণসমূহ:

এই গবেষণাটি নির্বাচনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

1 - আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক এবং ব্যক্তিবর্গের জন্য এই গবেষণার মাসআলা বা বিষয়বস্তু সংক্রান্ত বিধানগুলো জানার তীব্র প্রয়োজনীয়তা।

2 - এই বিষয়গুলোতে ত্রুটি করার ভয়াবহতা; কারণ এর ফলে নিষিদ্ধ সুদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

3 - ঋণের মেয়াদের পরিবর্তনের সাথে সংশ্লিষ্ট নতুন নতুন বিষয়ের উদ্ভব, যা এর অত্যধিক গুরুত্বের কারণে নিবিড়ভাবে গবেষণার দাবি রাখে।

4 - এই মাসআলাগুলোর বিধান জানার ব্যাপারে আমার প্রবল আগ্রহ এবং ফিকহশাস্ত্রের পাঠাগারে এই বিষয়ে একটি পরিমিত গবেষণাপত্র উপস্থাপনের মাধ্যমে নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখা।

5 - আমার জানামতে, এই সমস্ত মাসআলাকে অন্তর্ভুক্ত করে এমন কোনো স্বতন্ত্র একাডেমিক থিসিস বা গবেষণাপত্র নেই।

 

‌‌পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:

আমার জানামতে, আমি কাউকে পাইনি যিনি "মেয়াদ পরিবর্তন এবং ঋণের ওপর এর প্রভাব" সংক্রান্ত মাসআলাগুলোকে একটি স্বতন্ত্র একাডেমিক গবেষণাপত্রে এককভাবে আলোচনা করেছেন। আমি বিষয়টি জানার জন্য যথেষ্ট প্রচেষ্টা চালিয়েছি। আমার অনুসন্ধানের প্রচেষ্টায় বেশ কিছু বিশেষায়িত বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মধ্যে রয়েছে: কিং ফয়সাল সেন্টার, কিং ফাহাদ জাতীয় গ্রন্থাগার এবং উচ্চ বিচার বিভাগীয় ইনস্টিটিউট; কিন্তু আমি এ সংক্রান্ত তেমন কিছু পাইনি। তবে একটি গবেষণা রয়েছে যা এই বিষয়ের কিছু দিক স্পর্শ করেছে, যার শিরোনাম হলো গবেষক ডক্টর সা’দ বিন তুর্কি আল-খাসলান রচিত "ঋণের ক্ষেত্রে সময়" (আয-যামান ফিদ-দিইউন)। গবেষণাটি বাহান্ন পৃষ্ঠা বিশিষ্ট এবং এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ ও একটি উপসংহার রয়েছে। সেগুলো হলো:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ঋণের সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত পরিমাণ এবং বাকিতে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিমাণের মধ্যে পার্থক্য।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ৭)
المبحث الثاني: التعويض عن ضرر المماطلة.

المبحث الثالث: المصالحة عن الدين المؤجل ببعضه حالاً.

المبحث الرابع: اشتراط حلول بقية الأقساط عند التأخر في أدائها.

المبحث الخامس: أثر وفاة المدين على حلول الدين.

والبحث عبارة عن بحث ترقية لم يتوسع فيه الباحث، وقد ذكر أنه لم يستقص جميع جوانب البحث ولكنْ أبرزَ أهم جوانبه، لعله يكون نواة لبحوث ورسائل علمية، حيث قال: "فموضوع هذا البحث كبير ومهم جداً، ولا أزعم أنني قد استقصيتُ جميع جوانبه لكن حسبي أني أبرزت أهم جوانبه، ولعل ما كتبت يكون نواة لبحوث ورسائل علمية خاصة أن بعض مباحثه تصلح لأن تكون وحدها عنواناً لرسالة علمية"(1).

وقد كان؛ فهذا البحث هو النواة لهذه الرسالة فقد أخذت جميع مباحث هذا البحث وأضفت عليها العديد من المسائل التي لم يتطرق لها الباحث مع التوسع في ذكر الأقوال والأدلة والمناقشة، والله الموفق.

 

‌‌منهج البحث:

سرت في هذا البحث وفق منهج علمي دقيق، يتمثل في الآتي:

1 - قسّمت موضوعات البحث إلى فصول، تكوّن كل فصل من عدة مباحث، واشتمل كل مبحث على عدة مطالب، ويشتمل المطلب أحياناً على عدة مسائل.

2 - رجعت في جمع المادة العلمية إلى أمهات المراجع في التفسير،

--------------------------------------------

(1) الزمن في الديون، للخثلان ص 3، على الرابط. www.saadalkthlan.net
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثاني): টালবাহানা (المماطلة)-জনিত ক্ষতির ক্ষতিপূরণ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثالث): বাকিতে ধার্য করা ঋণের (الدين المؤجل) একাংশ নগদে পরিশোধের মাধ্যমে সমঝোতা করা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ (المبحث الرابع): কিস্তি আদায়ে বিলম্বের সময় অবশিষ্ট কিস্তিগুলো তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য (حلول) হওয়ার শর্তারোপ করা।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ (المبحث الخامس): ঋণের তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্যতার (حلول) ওপর ঋণগ্রহীতার মৃত্যুর প্রভাব।

এই গবেষণাটি মূলত পদোন্নতি সংক্রান্ত একটি গবেষণা, যাতে গবেষক বিস্তারিত আলোচনা করেননি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এই গবেষণার সকল দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেননি, তবে এর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন; যাতে সম্ভবত এটি গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক থিসিসসমূহের (رسائل علمية) জন্য একটি ভিত্তি (نواة) হতে পারে। যেমনটি তিনি বলেছেন: "এই গবেষণার বিষয়টি বিশাল এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি দাবি করি না যে আমি এর সকল দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেছি, তবে আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে আমি এর প্রধান দিকগুলো তুলে ধরেছি। আশা করা যায় আমার এই লেখাটি বিভিন্ন গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক থিসিসের (رسائل علمية) ভিত্তি (نواة) হবে, বিশেষ করে এর কিছু পরিচ্ছেদ (مباحث) এককভাবে কোনো থিসিসের শিরোনাম হওয়ার উপযুক্ত।"(১)।

আর তা-ই হয়েছে; এই গবেষণাটিই বর্তমান থিসিসের ভিত্তি (النواة)। আমি উক্ত গবেষণার সকল পরিচ্ছেদ (مباحث) গ্রহণ করেছি এবং এমন অনেক মাসআলা (مسائل) এতে যোগ করেছি যা ওই গবেষক আলোচনা করেননি। সেই সাথে বিভিন্ন মতামত (الأقوال), দলীলসমূহ (الأدلة) এবং পর্যালোচনার (المناقشة) ক্ষেত্রে বিস্তারিত আলোকপাত করেছি। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।

 

‌‌গবেষণা পদ্ধতি (منهج البحث):

আমি এই গবেষণায় একটি নিখুঁত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি (منهج علمي) অনুসরণ করেছি, যা নিম্নরূপ:

১ - আমি গবেষণার বিষয়বস্তুগুলোকে কয়েকটি অধ্যায়ে (فصول) বিভক্ত করেছি। প্রতিটি অধ্যায় বেশ কিছু পরিচ্ছেদ (مباحث) নিয়ে গঠিত। প্রতিটি পরিচ্ছেদে কয়েকটি অনুচ্ছেদ (مطالب) রয়েছে এবং প্রতিটি অনুচ্ছেদে কখনও কখনও একাধিক মাসআলা (مسائل) আলোচিত হয়েছে।

২ - বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমি তাফসীর শাস্ত্রের মৌলিক উৎসগ্রন্থগুলোর (أمهات المراجع) শরণাপন্ন হয়েছি।

--------------------------------------------

(১) আয-যামান ফিদ দুয়ুন, লেখক: আল-খাসলান, পৃষ্ঠা ৩, এই লিঙ্কে: www.saadalkthlan.net
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ৮)
والحديث، والأصول، والقواعد الفقهية، والفقه، واللغة، وإلى الأبحاث والمقالات في المجلات المتخصصة، وقرارات المجامع الفقهية، وغيرها من المراجع مما هو موجود في قائمة مراجع الرسالة.

3 - اقتصرت في البحث على المذاهب الفقهية الأربعة المعتبرة، مع المذهب الظاهري إلا إذا لم أجد لهم قولاً في المسألة.

4 - إذا كانت المسألة من المسائل المجمع عليها أذكر حكمها بدليلها، ثم أردف بذكر بعض قرارات المجامع والهيئات الفقهية إن وجِد مع توثيق ذلك من مظانه المعتبرة.

5 - إذا كانت المسألة من مسائل الخلاف أذكر الأقوال الواردة في المسألة مع قائليها، وبعد كل قول أذكر من قال به، ثم أوثّق الأقوال من كتب المذهب نفسه، مع ذكر قرارات المجامع والهيئات الفقهية في الحاشية عند كتب القول الذي أيده القرار.

6 - بعد ذلك أنتقل إلى إيراد الأدلة النقلية والعقلية لكل قول، ووجه الدلالة من كل دليل، مبتدئاً بأدلة القول الأول، ثم الثاني، وهكذا، كما أذكر ما يرد عليها من مناقشات، وما يجاب على المناقشة، فإن كانت المناقشة، أو الإجابة مني قلت: يناقش، و يجاب، وإن كانت من غيري قلت: نوقش، وأجيب.

7 - بعد عرض الأدلة والمناقشة والإجابات عليها، أبين القول الراجح حسب ما ظهر لي، مع ذكر سبب الترجيح.

8 - أقوم بعزو الآيات في الهامش إلى مواضعها من القرآن الكريم بذكر اسم السورة، ورقم الآية.

9 - أقوم بتخريج الأحاديث والآثار التي أوردها، فإن كانت في الصحيحين
এবং হাদিস, উসুল (الأصول), ফিকহী মূলনীতি (القواعد الفقهية), ফিকহ, ভাষা এবং বিশেষায়িত সাময়িকীসমূহের গবেষণা ও প্রবন্ধসমূহ, ফিকহ একাডেমিগুলোর সিদ্ধান্তসমূহ এবং গবেষণাপত্রের তথ্যসূত্র তালিকায় বিদ্যমান অন্যান্য উৎসসমূহের প্রতি (নির্দেশ করা হয়েছে)।

3 - গবেষণায় আমি চারটি নির্ভরযোগ্য ফিকহী মাজহাবের (المذاهب الفقهية) মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি, সাথে জাহেরি মাজহাবকেও অন্তর্ভুক্ত করেছি, যদি না আমি উক্ত মাসআলায় তাদের কোনো বক্তব্য খুঁজে পাই।

4 - যদি মাসআলাটি সর্বসম্মত (المجمع عليها) বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে আমি এর দলিলসহ বিধান উল্লেখ করি। এরপর ফিকহ একাডেমি ও সংস্থাগুলোর কিছু সিদ্ধান্ত থাকলে তা উল্লেখ করি এবং নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তার উদ্ধৃতি প্রদান করি।

5 - যদি মাসআলাটি মতভেদপূর্ণ (مسائل الخلاف) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে আমি মাসআলাটি সম্পর্কে বর্ণিত মতামতগুলো তাদের প্রবক্তাসহ উল্লেখ করি। প্রতিটি মতামতের পর যারা তা পোষণ করেছেন তাদের নাম উল্লেখ করি, তারপর সংশ্লিষ্ট মাজহাবের মূল কিতাবসমূহ থেকে মতামতগুলোর উদ্ধৃতি প্রদান করি। সেই সাথে পাদটীকায় ফিকহ একাডেমি ও সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্তসমূহ সেই মতামতের অধীনে উল্লেখ করি যা তারা সমর্থন করেছে।

6 - এরপর আমি প্রতিটি মতামতের জন্য বর্ণনাভিত্তিক দলিলসমূহ (الأدلة النقلية) ও যুক্তিনির্ভর দলিলসমূহ (الأدلة العقلية) এবং প্রতিটি দলিলের প্রামাণিক দিক (وجه الدلالة) উপস্থাপনে প্রবৃত্ত হই। এক্ষেত্রে প্রথম মতামতের দলিল দিয়ে শুরু করি, তারপর দ্বিতীয় মতামত এবং একইভাবে চলতে থাকে। পাশাপাশি সেগুলোর ওপর উপস্থাপিত পর্যালোচনা (مناقشات) এবং পর্যালোচনার উত্তরসমূহ উল্লেখ করি। যদি পর্যালোচনা বা উত্তরটি আমার পক্ষ থেকে হয়, তবে আমি বলি: 'পর্যালোচনা করা যেতে পারে' (يناقش) এবং 'উত্তর দেওয়া যেতে পারে' (يجاب)। আর যদি তা অন্য কারো পক্ষ থেকে হয়, তবে বলি: 'পর্যালোচনা করা হয়েছে' (نوقش) এবং 'উত্তর দেওয়া হয়েছে' (أجيب)।

7 - দলিলসমূহ, পর্যালোচনা এবং সেগুলোর উত্তর উপস্থাপনের পর, আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয় সে অনুযায়ী অগ্রগণ্য মত (القول الراجح) বর্ণনা করি এবং অগ্রগণ্য হওয়ার কারণ (سبب الترجيح) উল্লেখ করি।

8 - আমি পাদটীকায় কুরআনের আয়াতগুলোকে সূরা এবং আয়াত নম্বর উল্লেখের মাধ্যমে আল-কুরআনের মূল স্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট করি।

9 - আমি উল্লেখিত হাদিস এবং আসারগুলোর (الآثار) সূত্রায়ন বা তাখরিজ (تخريج) করি; যদি সেগুলো সহীহাইন-এ থাকে...
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ৯)
أو أحدهما أكتفي بذكر المصدر الذي ورد فيه الحديث، مع ذكر اسم الكتاب، والباب، ثم رقم الحديث.

10 - إذا لم تكن الأحاديث أو الآثار التي أوردها في الصحيحين فإني أخرجها من مصادرها الأصلية، مع ذكر اسم الكتاب، والباب، ثم رقم الحديث إن وجد، ثم أكتب النتيجة التي توصلت لها في درجة هذا الحديث أو الأثر دون توسع مؤيدًا هذه النتيجة بكلام أئمة الحديث.

11 - أحرص على توثيق المعاني من معاجم اللغة المعتمدة، وتكون الإحالة عليها بالجزء، والصفحة، والفصل، والباب، والمادة.

12 - أبيّن في الحاشية معاني الألفاظ الغريبة الواردة في متن الرسالة، ومراجع هذه المعاني التي اعتمدت عليها.

13 - حرصت قدر الإمكان على العناية بقواعد اللغة العربية، والإملاء، وعلامات الترقيم، ومنها علامات التنصيص للآيات الكريمة، وللأحاديث الشريفة، وللآثار، ولأقوال العلماء، وتمييز العلامات أو الأقواس، فيكون لكل منها علامته الخاصة.

14 - وزيادة في التوثيق قمت بالتنصيص بين قوسين مضاعفين " " لكل نص أنقله من مرجعه، وأجعل رقماً على آخر النص، وأهمش عليه بذكر اسم الكتاب، ورقم الجزء، والصفحة، وإذا تصرفت في النقل، أو ذكرته بالمعنى فإني لا أضع قوسين، وأجعل رقماً على آخر الكلام، وأهمش عليه بقولي: انظر، ثم اذكر اسم الكتاب، والجزء، والصفحة.

15 - ترجمت للأعلام بالقدر الذي يُعرِّف بهم ماعدا الصحابة، والأئمة الأربعة؛ لغناهم عن التعريف، وما عدا المعاصرين؛ جريًا على العادة.
অথবা তাদের কোনো একটিতে থাকলে, আমি কেবল সেই মূল উৎসের উল্লেখ করেছি যেখানে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে; সাথে গ্রন্থের নাম, অধ্যায় এবং হাদিস নম্বর উল্লেখ করেছি।

১০ - যদি হাদিসসমূহ বা আসার (الآثار) যা আমি উল্লেখ করেছি তা সহীহাইন-এ না থাকে, তবে আমি সেগুলো তাদের মূল উৎস থেকে উদ্ধৃত করেছি; সাথে গ্রন্থের নাম, অধ্যায় এবং হাদিস নম্বর (যদি থাকে) উল্লেখ করেছি। এরপর অতিবিস্তার না করে উক্ত হাদিস বা আসারের (الأثر) স্তরের (درجة) ব্যাপারে আমি যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি তা লিখেছি এবং হাদিস শাস্ত্রের ইমামগণের বক্তব্যের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্তকে শক্তিশালী করেছি।

১১ - আমি নির্ভরযোগ্য ভাষাতাত্ত্বিক অভিধানসমূহ থেকে অর্থসমূহের প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হয়েছি। এগুলোর ক্ষেত্রে খণ্ড, পৃষ্ঠা, পরিচ্ছেদ, অধ্যায় এবং মূল শব্দমূল উল্লেখ করে উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে।

১২ - আমি পাদটীকায় গবেষণাপত্রের মূল পাঠে (متن) আসা দুর্বোধ্য শব্দাবলির (الألفاظ الغريبة) অর্থ এবং সেসব অর্থের ক্ষেত্রে আমি যেসব সূত্রের ওপর নির্ভর করেছি তা বর্ণনা করেছি।

১৩ - আমি যথাসম্ভব আরবি ভাষার ব্যাকরণ, বানানরীতি এবং যতিচিহ্নের প্রতি যত্নবান হতে সচেষ্ট হয়েছি; যার মধ্যে রয়েছে সম্মানীত আয়াতসমূহ, মহিমান্বিত হাদিসসমূহ, আসার (الآثار) এবং উলামায়ে কেরামের বাণীর জন্য উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহার করা এবং বিভিন্ন চিহ্ন বা বন্ধনীকে পৃথক করা, যাতে প্রত্যেকটির জন্য নিজস্ব চিহ্ন থাকে।

১৪ - প্রামাণ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে, আমি মূল উৎস থেকে উদ্ধৃত প্রতিটি পাঠের জন্য ডাবল কোটেশন " " ব্যবহার করেছি এবং পাঠের শেষে একটি নম্বর দিয়েছি। অতঃপর পাদটীকায় গ্রন্থের নাম, খণ্ড সংখ্যা এবং পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি। আর যদি আমি উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন করি অথবা মর্মার্থ (بالمعنى) অনুযায়ী বর্ণনা করি, তবে আমি কোনো উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহার করিনি; বরং বক্তব্যের শেষে একটি নম্বর দিয়ে পাদটীকায় "দেখুন" লিখে গ্রন্থের নাম, খণ্ড এবং পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি।

১৫ - আমি বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবনী (ترجمة) এমনভাবে বর্ণনা করেছি যা তাঁদের পরিচয় প্রদানের জন্য যথেষ্ট, তবে সাহাবী (الصحابة) এবং চার ইমাম ব্যতীত; কারণ তাঁরা পরিচয়ের মুখাপেক্ষী নন। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সমসাময়িক ব্যক্তিদের জীবনীও বাদ দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ১০)
16 - ختمت الرسالة بخاتمة لخصت فيها أهم النتائج التي توصلت إليها.

17 - ذيّلت الرسالة بالفهارس الفنية المتعارف عليها.

 

‌‌خطة البحث:

تتكون خطة البحث من: مقدمة، وتمهيد، وتسعة فصول، وخاتمة، وفهارس، وهي كالتالي:

المقدمة: وفيها بيان أهمية الموضوع، وأسباب اختياره، والدراسات السابقة، ومنهج البحث، وخطة البحث.

التمهيد: وفيه تعريف بمصطلحات البحث، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: تعريف الأجل.

المطلب الثاني: تعريف الدين.

الفصل الأول: في تغير الأجل بسبب الفلس، وفيه مبحثان، هما:

المبحث الأول: حلول الأجل بسبب الحجر للإفلاس.

المبحث الثاني: تأخير الأجل على المدين المفلس مقابل زيادة الدين.

الفصل الثاني: في تغير الأجل بسبب المماطلة، وفيه مبحثان، هما:

المبحث الأول: حكم المماطلة.

المبحث الثاني: في عقوبة المماطل المالية.

الفصل الثالث: في تغير الأجل بسبب رغبة المدين في تمديد الأجل (جدولة الدين).
১৬ - আমি একটি উপসংহারের মাধ্যমে গবেষণাপত্রটি সমাপ্ত করেছি, যাতে আমি প্রাপ্ত প্রধান ফলাফলগুলো সংক্ষেপ করেছি।

১৭ - গবেষণাপত্রটির শেষে আমি প্রচলিত নির্ঘণ্টসমূহ যুক্ত করেছি।

 

‌‌গবেষণার পরিকল্পনা:

গবেষণার পরিকল্পনাটি একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, নয়টি অধ্যায়, একটি উপসংহার এবং নির্ঘণ্টসমূহের সমন্বয়ে গঠিত, যা নিম্নরূপ:

ভূমিকা: এতে বিষয়ের গুরুত্ব, এটি নির্বাচনের কারণসমূহ, পূর্ববর্তী অধ্যয়নসমূহ, গবেষণার পদ্ধতি এবং গবেষণার পরিকল্পনা বর্ণনা করা হয়েছে।

উপক্রমণিকা: এতে গবেষণার পরিভাষাসমূহের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে এবং এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সময়ের (আজাল) সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ঋণের (দাইন) সংজ্ঞা।

প্রথম অধ্যায়: দেউলিয়া হওয়ার কারণে সময়সীমা পরিবর্তন প্রসঙ্গে। এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে, সেগুলো হলো:

প্রথম পরিচ্ছেদ: দেউলিয়াত্বের কারণে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ফলে পাওনা আদায়ের সময় উপস্থিত হওয়া।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ঋণ বৃদ্ধির বিনিময়ে দেউলিয়া খাতকের জন্য সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া।

দ্বিতীয় অধ্যায়: টালবাহানা করার কারণে সময়সীমা পরিবর্তন প্রসঙ্গে। এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে, সেগুলো হলো:

প্রথম পরিচ্ছেদ: টালবাহানা করার বিধান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: টালবাহানাকারীর আর্থিক দণ্ড প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অধ্যায়: সময়সীমা বৃদ্ধির ব্যাপারে ঋণী ব্যক্তির আগ্রহের কারণে সময়সীমা পরিবর্তন প্রসঙ্গে (ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ)।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الرابع: في تغير الأجل بسبب الإخلال في تسليم المستصنع في محله، وفيه مبحثان، هما:

المبحث الأول: حكم الاستصناع.

المبحث الثاني: حكم الشرط الجزائي لتغير الأجل بسبب التأخير في تسليم المستصنع.

الفصل الخامس: في تغير الأجل بسبب انقطاع المسلم فيه، وفيه ثلاثة مباحث، هي:

المبحث الأول: حكم السلم.

المبحث الثاني: حكم السلم المقسط.

المبحث الثالث: حكم تمديد الأجل بسبب انقطاع المسلم فيه.

الفصل السادس: في تغير الأجل بالمصالحة على الوضع مقابل التعجيل (ضع وتعجل) وفيه أربعة مباحث، هي:

المبحث الأول: حكم إسقاط بعض الدين الحال دون شرط.

المبحث الثاني: حكم إسقاط بعض الدين الحال بالشرط.

المبحث الثالث: حكم إسقاط بعض الدين المؤجل وتعجيله، دون شرط.

المبحث الرابع: حكم إسقاط بعض الدين المؤجل بشرط تعجيل الأجل.

الفصل السابع: في تغير الأجل بإسقاط الأقساط الأخيرة، وفيه ثلاثة مباحث، هي:

المبحث الأول: حكم بيع الأقساط.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: যথাস্থানে ফরমায়েশি পণ্য (المستصنع) হস্তান্তরে ত্রুটির কারণে সময়সীমা (الأجل) পরিবর্তনের বর্ণনায়; এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে, যথা:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইসতিসনা (الاستصناع)-এর বিধান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ফরমায়েশি পণ্য (المستصنع) হস্তান্তরে বিলম্বের কারণে সময়সীমা (الأجل) পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে দণ্ডমূলক শর্তের (الشرط الجزائي) বিধান।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সালামের পণ্য (المسلم فيه) দুষ্প্রাপ্য হওয়ার কারণে সময়সীমা (الأجل) পরিবর্তনের বর্ণনায়; এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে, যথা:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সালাম (السلم)-এর বিধান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কিস্তিতে সালাম (السلم المقسط)-এর বিধান।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সালামের পণ্য (المسلم فيه) দুষ্প্রাপ্য হওয়ার কারণে সময়সীমা (الأجل) বৃদ্ধির বিধান।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: দ্রুত পরিশোধের বিনিময়ে মওকুফের (ضع وتعجل) মাধ্যমে আপসের ভিত্তিতে সময়সীমা (الأجل) পরিবর্তনের বর্ণনায়; এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে, যথা:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কোনো শর্ত ছাড়া নগদ বা তাৎক্ষণিক প্রদেয় (الحال) ঋণের একাংশ মওকুফের বিধান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শর্তসাপেক্ষে নগদ বা তাৎক্ষণিক প্রদেয় (الحال) ঋণের একাংশ মওকুফের বিধান।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শর্ত ছাড়া বাকিতে প্রদেয় (المؤجل) ঋণের একাংশ মওকুফ এবং তা দ্রুত পরিশোধের বিধান।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সময়সীমা এগিয়ে নিয়ে আসার (দ্রুত পরিশোধের) শর্তে বাকিতে প্রদেয় (المؤجل) ঋণের একাংশ মওকুফের বিধান।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: শেষ কিস্তিগুলো মওকুফের মাধ্যমে সময়সীমা (الأجل) পরিবর্তনের বর্ণনায়; এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে, যথা:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কিস্তিতে বিক্রয়ের (بيع الأقساط) বিধান।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ১২)
المبحث الثاني: حكم إسقاط الأقساط الأخيرة مقابل انتظام المدين بالتسديد دون شرط.

المبحث الثالث: حكم إسقاط الأقساط الأخيرة بشرط انتظام المدين بالتسديد.

الفصل الثامن: في تغير الأجل باشتراط حلول بقية الأقساط عند التأخر في أداء بعضها، وفيه مبحثان، هما:

المبحث الأول: حكم اشتراط حلول بقية الأقساط إذا كان المتأخر معسراً عاجزاً.

المبحث الثاني: حكم اشتراط حلول بقية الأقساط إذا كان المتأخر موسراً ملياً.

الفصل التاسع: في تغير الأجل بسبب الوفاة قبل حلول الدين، وفيه مبحثان، هما:

المبحث الأول: تغير الأجل بسبب وفاة الدائن وأثرها في حلول الدين.

المبحث الثاني: تغير الأجل بسبب وفاة المدين وأثرها في حلول الدين.

الخاتمة: وفيها أهم النتائج. ثم الفهارس المتعارف عليها.

وبعد، فإني أحمد الله على آلائه، ونعمائه، وفضائله، التي تترى، والتي لا يحصيها العد، ومنها أن يسر لي سبيل العلم الشرعي، أسأل الله أن يهديني فيه سواء السبيل، وأن يبارك لي فيه.

ثم أشكر والديَّ على ما قدماه لي من دعم مادي ومعنوي خلال دراستي كلها، أسأل الله أن يرضى عنهما ويرضيهما.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কোনো শর্ত ছাড়াই ঋণগ্রহীতা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলে শেষদিকের কিস্তিগুলো মওকুফ করার বিধান।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ঋণগ্রহীতা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধের শর্তে শেষদিকের কিস্তিগুলো মওকুফ করার বিধান।

অষ্টম অধ্যায়: কিস্তি আদায়ে বিলম্বের কারণে অবশিষ্ট কিস্তিগুলো তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য হওয়ার শর্তারোপের মাধ্যমে ঋণের মেয়াদ পরিবর্তন প্রসঙ্গে। এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কিস্তি আদায়ে বিলম্বকারী ব্যক্তি অসচ্ছল ও অক্ষম হলে অবশিষ্ট কিস্তিগুলো তাৎক্ষণিক আদায়ের শর্তারোপ করার বিধান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কিস্তি আদায়ে বিলম্বকারী ব্যক্তি সচ্ছল ও সামর্থ্যবান হলে অবশিষ্ট কিস্তিগুলো তাৎক্ষণিক আদায়ের শর্তারোপ করার বিধান।

নবম অধ্যায়: ঋণ পরিশোধের সময় হওয়ার পূর্বে মৃত্যুর কারণে ঋণের মেয়াদ পরিবর্তন প্রসঙ্গে। এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: পাওনাদারের মৃত্যুর কারণে ঋণের মেয়াদ পরিবর্তন এবং ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এর প্রভাব।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ঋণগ্রহীতার মৃত্যুর কারণে ঋণের মেয়াদ পরিবর্তন এবং ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এর প্রভাব।

উপসংহার: এতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ। অতঃপর প্রচলিত নির্ঘণ্টসমূহ।

পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি তাঁর সেই সব অফুরন্ত দান, অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য, যা নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ষিত হয় এবং যা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। তাঁর অন্যতম অনুগ্রহ হলো—তিনি আমার জন্য শরয়ি ইলম অর্জনের পথ সহজ করে দিয়েছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং আমার এই কাজে বরকত দান করেন।

অতঃপর আমি আমার পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার সমগ্র শিক্ষাজীবনে তাঁদের আর্থিক ও মানসিক সহযোগিতার জন্য। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তাঁদেরকেও সন্তুষ্ট করেন।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ১৩)
كما أشكر زوجي أم أنس على وقوفها جانبي فترة كتابة هذه الرسالة وتشجيعها المستمر، أعانها الله على مرضاته.

ثم أتقدم بالشكر الجزيل لفضيلة الدكتور/ عبد الله بن حمد السكاكر، فقد تعرفت عليه في سني الدراسة الجامعية، فكان ذا خلق عال، وتواضع جم، وكان نعم الموجه، والمربي، وقد كنت أتصل به كثيرًا أثناء إعداد هذه الرسالة وأستشيره فيما يواجهني من صعوبات، فأجد رحابة الصدر، وحسن الاستقبال، وبذل ما عنده من وقت وعلم(1)، فأفدت من توجيهاته القيمة، وملاحظاته السديدة، فالله أسأل أن ينفع به المسلمين، وأن يبارك في عمره، ووقته، وولده، وماله، إن ربي سميع الدعاء.

كما أشكر كل من قدم لي معروفاً من توجيه، أو نصح، أو رأي، أو دعوة في ظهر الغيب، أو غير ذلك، فجزاهم الله خيراً.

وفي الختام فقد بذلت جهدي، وهو جهد المقل، "ويأبى الله العصمة لكتاب غير كتابه، والمنصف من اغتفر قليل خطأ المرء في كثير صوابه"(2).

وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

كتبه:

د. مرضي بن مشوح العنزي

إيميل/ Murdi 100@hotmail.com

جوال/ 00966503380332

--------------------------------------------

(1) لم يكن الدكتور السكاكر مشرفاً على رسالتي إلّا أن جميع اتصالاتي ومشاوراتي كانت له، وكان مسانداً لي من بداية كتابة خطة الرسالة إلى الانتهاء من المناقشة، رضي الله عنه.

(2) القواعد في الفقه، لابن رجب، ص 31.
আমি আমার স্ত্রী উম্মু আনাসকেও ধন্যবাদ জানাই এই গবেষণাপত্র (رسالة) রচনার সময় আমার পাশে থাকার জন্য এবং তাঁর ক্রমাগত উৎসাহ প্রদানের জন্য। আল্লাহ তাঁকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে সাহায্য করুন।

অতঃপর আমি শ্রদ্ধেয় ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আস-সাকাকির-এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নকালে আমি তাঁর সাথে পরিচিত হয়েছিলাম; তিনি ছিলেন উচ্চ চারিত্রিক মাধুর্য ও অগাধ বিনয়সম্পন্ন একজন ব্যক্তি। তিনি ছিলেন একজন অতি উত্তম পথপ্রদর্শক ও মেন্টর (مربي)। এই গবেষণাপত্র (رسالة) তৈরির সময় আমি প্রায়শই তাঁর সাথে যোগাযোগ করতাম এবং আমি যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতাম সে বিষয়ে তাঁর পরামর্শ নিতাম। আমি তাঁকে পেয়েছি অত্যন্ত উদারমনা এবং সহৃদয় অভ্যর্থনাকারী হিসেবে, যিনি তাঁর সময় ও জ্ঞান(১) অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মূল্যবান দিকনির্দেশনা এবং সঠিক পর্যবেক্ষণ থেকে আমি উপকৃত হয়েছি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন মুসলিমদের তাঁর মাধ্যমে উপকৃত করেন এবং তাঁর হায়াত, সময়, সন্তান ও সম্পদে বরকত দান করেন। নিশ্চয়ই আমার রব প্রার্থনা কবুলকারী।

এছাড়া যারা আমাকে দিকনির্দেশনা, উপদেশ, মতামত কিংবা অগোচরে দোয়ার মাধ্যমে বা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করেছেন, আমি তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন।

পরিশেষে, আমি আমার সাধ্যমতো প্রচেষ্টা চালিয়েছি, যদিও তা সামান্য। "আল্লাহ তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবের জন্য নির্ভুলতা (عصمة) বজায় রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। আর ইনসাফপূর্ণ ব্যক্তি তো তিনিই, যিনি কোনো মানুষের অধিক সঠিক কাজের মাঝে তার সামান্য ভুলকে ক্ষমা করে দেন"(২)।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

লেখক:

ড. মারদি বিন মাশওয়াহ আল-আনযি

ইমেইল/ Murdi 100@hotmail.com

মোবাইল/ 00966503380332

--------------------------------------------

(১) ডক্টর সাকাকির আমার গবেষণাপত্র (رسالة)-এর তত্ত্বাবধায়ক (مشرف) ছিলেন না, তবে আমার সকল যোগাযোগ ও পরামর্শ তাঁর সাথেই ছিল। গবেষণাপত্রের পরিকল্পনা বা প্রস্তাবনা (خطة) তৈরি থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা বা মৌখিক পরীক্ষা (مناقشة) শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি আমার সহযোগী ছিলেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

(২) আল-কাওয়াইদ ফিল ফিকহ, ইবনে রাজাব, পৃ. ৩১।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌التمهيد

وفيه مطلبان، هما:

المطلب الأول: تعريف الأجل.

المطلب الثاني: تعريف الدين.
উপক্রমণিকা

এতে দু’টি পরিচ্ছেদ রয়েছে, যথা:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আজাল (নির্ধারিত সময়সীমা)-এর সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দাইন (ঋণ)-এর সংজ্ঞা।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المطلب الأول: تعريف الأجل

تعريف الأجل في اللغة: الأجل في اللغة مدة الشيء، وغايته، ووقته الذي يحل فيه(1)، قال ابن منظور(2): "الأجل غاية الوقت في الموت وحلول الدين ونحوه والأجل مدة الشيء"(3).

وتعريف الأجل في الاصطلاح لا يخرج عن التعريف اللغوي؛ لذا لم يصطلح الفقهاء المتقدمون على تعريف له اكتفاءً بمعناه اللغوي، وقد عرفه أحد الباحثين بأنه "مدة مستقبلية محققة الوقوع، يضاف تنفيذ أمر ما إلى انقضائها، أو يتوقف التنفيذ بمداها"(4)، وعند التأمل في هذا التعريف نجد أنه لا يخرج عن التعريف اللغوي.

--------------------------------------------

(1) انظر: معجم مقاييس اللغة، لابن فارس 1/ 64، كتاب الهمزة، باب الهمزة والجيم وما يثلثهما، مادة أجل، لسان العرب، لابن منظور 1/ 79، باب الهمزة، مادة أجل، القاموس المحيط، للفيروز أبادي 2/ 1271، باب اللام، فصل الهمزة، مادة أجل.

(2) هو محمد بن مكرم بن على، أبو الفضل، جمال الدين ابن منظور الأنصاري الأفريقى، أحد أئمة اللغة، ولد بمصر سنة 630، وخدم في ديوان الإنشاء بالقاهرة. ثم ولي القضاء في طرابلس. وعاد إلى مصر، ترك بخطه نحو خمسمائة مجلد، من أشهر مؤلفاته لسان العرب توفى بمصر سنة 711 هـ. انظر: شذرات الذهب، للعكري 6/ 26، فوات الوفيات، للكتبي 4/ 39، الأعلام، للزركلي 7/ 108.

(3) لسان العرب، لابن منظور 1/ 79.

(4) نظرية الأجل في الالتزام، لعبد الناصر العطار، ص 47، 67.
‌প্রথম পরিচ্ছেদ: আজালের (أجل) সংজ্ঞা

আভিধানিক (لغة) অর্থে আজালের (أجل) সংজ্ঞা: আভিধানিক পরিভাষায় আজাল (أجل) হলো কোনো বিষয়ের সময়কাল, তার পরিসমাপ্তি এবং তা পূর্ণ হওয়ার নির্ধারিত সময়। ইবন মনজুর বলেন: "আজাল (أجل) হলো মৃত্যু, ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হওয়া এবং অনুরূপ বিষয়ের সময়ের শেষ সীমা; আর আজাল (أجل) হলো কোনো বিষয়ের সময়কাল।"

পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে আজালের (أجل) সংজ্ঞা আভিধানিক সংজ্ঞার বাইরে নয়; তাই পূর্ববর্তী ফকিহগণ (فقهاء) আভিধানিক অর্থেই তুষ্ট থেকে এর কোনো পৃথক পারিভাষিক সংজ্ঞা প্রদান করেননি। একজন গবেষক এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন যে, এটি হলো "ভবিষ্যতে সংঘটিত হওয়া নিশ্চিত এমন একটি সময়কাল, যার অতিবাহিত হওয়ার ওপর কোনো বিষয়ের বাস্তবায়ন নির্ভর করে, অথবা সেই সময়সীমা পর্যন্ত বাস্তবায়ন স্থগিত থাকে।" এই সংজ্ঞাটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায় যে, এটি আভিধানিক সংজ্ঞারই অনুরূপ।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: ইবন ফারিস রচিত মু'জাম মাকায়িসুল লুগাহ, ১/৬৪, কিতাবুল হামজাহ, বাবু হামজাহ ওয়াল জিম ওয়ামা ইয়াসলুসাহুমা, শব্দমূল: أجل; ইবন মনজুর রচিত লিসানুল আরব, ১/৭৯, বাবুল হামজাহ, শব্দমূল: أجل; ফিরোজাবাদী রচিত আল-কামুস আল-মুহিত, ২/১২৭১, বাবুল লাম, ফাসলুল হামজাহ, শব্দমূল: أجل।

(২) তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন মুকররাম বিন আলী, আবুল ফজল, জামালুদ্দিন ইবন মনজুর আল-আনসারি আল-আফ্রিকি। তিনি ভাষাবিজ্ঞানের অন্যতম ইমাম। হিজরি ৬৩০ সনে মিশরে জন্মগ্রহণ করেন এবং কায়রোর দিওয়ান আল-ইনশাতে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি ত্রিপোলিতে বিচারপতির (قاضي) দায়িত্ব পালন করেন। মিশরে ফিরে আসেন এবং স্বহস্তে প্রায় পাঁচশ খণ্ড গ্রন্থ রচনা করেন। তার অন্যতম বিখ্যাত গ্রন্থ হলো লিসানুল আরব। হিজরি ৭১১ সনে মিশরে মৃত্যুবরণ করেন। দ্রষ্টব্য: আল-আকরি রচিত শাযারাতুয যাহাব, ৬/২৬; আল-কুতুবি রচিত ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত, ৪/৩৯; যিরিকলি রচিত আল-আ'লাম, ৭/১০৮।

(৩) লিসানুল আরব, ইবন মনজুর, ১/৭৯।

(৪) আবদুন নাসির আল-আত্তার রচিত নজরিয়াতুল আজাল ফিল ইলতিযাম, পৃ. ৪৭, ৬৭।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌المطلب الثاني: تعريف الدَين

الدَين في اللغة: يطلق على الذل والانقياد(1)، قال ابن فارس(2): "الدال والياء والنون أصل واحد إليه يرجع فروعه كلها، وهو جنس من الانقياد والذل … ومن هذا الباب الدين يقال: داينت فلاناً إذا عاملته ديناً إما أخذاً أو إعطاء"(3)، ويطلق الدين في اللغة: على كل ما ليس حاضراً(4)، قال ابن منظور: "والدين: واحد الديون معروف. وكل شيء غير حاضر دين والجمع أدين مثل أعين و ديون"(5).

--------------------------------------------

(1) انظر: تاج العروس، للزبيدي 35/ 54، باب النون، فصل الدال، مادة د ي ن، لسان العرب، لابن منظور 4/ 459، باب الدال، مادة دين، معجم مقاييس اللغة، لابن فارس 2/ 319، كتاب الدال، باب الدال والياء وما يثلثهما، مادة دين.

(2) هو أحمد بن فارس بن زكريا القزويني أبو الحسين، العلامة اللغوي، من أئمة اللغة والأدب، ولد سنة 329 هـ، أصله من قزوين وأقام بهمذان وانتقل إلى الري، أخذ عن والده فقه الشافعي، له تصانيف من أشهرها: معجم مقاييس اللغة، توفي بالري سنة 395 هـ. انظر: سير أعلام النبلاء، للذهبي 17/ 103، الأعلام، للزركلي 1/ 193، شذرات الذهب، للعكري 3/ 132

(3) معجم مقاييس اللغة، لابن فارس 2/ 319 - 320، كتاب الدال، باب الدال والياء وما يثلثهما، مادة دين.

(4) انظر: تاج العروس، للزبيدي 35/ 50، باب النون، فصل الدال، مادة د ي ن، لسان العرب، لابن منظور 4/ 459، باب الدال، مادة دين، القاموس المحيط، للفيروز أبادي 2/ 1396، باب النون، فصل الدال، مادة دين، المخصص، لابن سيدة، 3/ 441.

(5) لسان العرب، لابن منظور 4/ 459، باب الدال، مادة دين
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ঋণের সংজ্ঞা

আভিধানিক অর্থে ঋণ (দাইন): এটি হীনতা এবং আনুগত্য অর্থে ব্যবহৃত হয়।(১) ইবনে ফারিস(২) বলেন: "দাল, ইয়া এবং নূন একটি মূল ভিত্তি, যার দিকে এর সকল শাখা ফিরে যায়; আর এটি আনুগত্য ও হীনতারই একটি প্রকার … আর এই মূল থেকেই ‘দ্বীন’ (আনুগত্য/ঋণ) শব্দটি এসেছে; বলা হয়: ‘আমি অমুকের সাথে ঋণের লেনদেন করেছি’ যখন আপনি তার সাথে ঋণের ভিত্তিতে কারবার করেন, তা গ্রহণ করার মাধ্যমে হোক বা প্রদানের মাধ্যমে।"(৩) আভিধানিক অর্থে ঋণ শব্দটি এমন প্রতিটি বিষয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যা বর্তমানে উপস্থিত নেই।(৪) ইবন মানজুর বলেন: "আর ‘আদ-দাইন’ (ঋণ) এর একবচন ‘দুয়ুন’ যা সুপরিচিত। প্রতিটি বস্তু যা বর্তমানে উপস্থিত নেই তা-ই ঋণ; এর বহুবচন হলো ‘আদয়ুন’ যেমন ‘আ’ইউন’ এবং ‘দুয়ুন’।"(৫)

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: তাজুল আরুস, জুবাইদি কৃত ৩৫/৫৪, বাবুন নূন, ফাসলুদ দাল, মাদ্দাহ: দ ই ন; লিসানুল আরব, ইবন মানজুর কৃত ৪/৪৫৯, বাবুদ দাল, মাদ্দাহ: দাইন; মু’জামু মাকায়িসিল লুগাহ, ইবনে ফারিস কৃত ২/৩১৯, কিতাবুদ দাল, বাবুদ দাল ওয়াল ইয়া ওয়া মা ইয়াসলুসাহুমা, মাদ্দাহ: দাইন।

(২) তিনি হলেন আহমদ বিন ফারিস বিন জাকারিয়া আল-কাজউইনি আবুল হুসাইন, প্রাজ্ঞ ভাষাবিদ, ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম ইমাম (إمام)। তিনি ৩২৯ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আদি নিবাস ছিল কাজউইন এবং তিনি হামাদানে বসবাস করতেন, পরবর্তীতে রাই শহরে স্থানান্তরিত হন। তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে শাফেয়ী ফিকহ শিক্ষা করেন। তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে যার মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ হলো: মু’জামু মাকায়িসিল লুগাহ। তিনি ৩৯৫ হিজরি সনে রাই শহরে ইন্তেকাল করেন। দ্রষ্টব্য: সিয়ারু আলামিন নুবালা, জাহাবি কৃত ১৭/১০৩; আল-আলাম, জিরিকলি কৃত ১/১৯৩; শাজারাতুজ জাহাব, আকরি কৃত ৩/১৩২।

(৩) মু’জামু মাকায়িসিল লুগাহ, ইবনে ফারিস কৃত ২/৩১৯ - ৩২০, কিতাবুদ দাল, বাবুদ দাল ওয়াল ইয়া ওয়া মা ইয়াসলুসাহুমা, মাদ্দাহ: দাইন।

(৪) দ্রষ্টব্য: তাজুল আরুস, জুবাইদি কৃত ৩৫/৫০, বাবুন নূন, ফাসলুদ দাল, মাদ্দাহ: দ ই ন; লিসানুল আরব, ইবন মানজুর কৃত ৪/৪৫৯, বাবুদ দাল, মাদ্দাহ: দাইন; আল-কামুস আল-মুহিত, ফিরোজাবাদি কৃত ২/১৩৯৬, বাবুন নূন, ফাসলুদ দাল, মাদ্দাহ: দাইন; আল-মুখাসসাস, ইবনে সিদাহ কৃত ৩/৪৪১।

(৫) লিসানুল আরব, ইবন মানজুর কৃত ৪/৪৫৯, বাবুদ দাল, মাদ্দাহ: দাইন।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ১৯)
والدَين في الاصطلاح: يطلق على معنى عام، ومعنى خاص؛ فالمعنى العام: هو كل حق واجب الأداء متعلق بالذمة، سواء كان لله، أو للآدميين، وسواء كانت حقوقاً مالية أو غير مالية(1).

والمعنى الخاص: وهو المال الثابت في الذمة(2).

--------------------------------------------

(1) انظر: حاشية ابن عابدين 6/ 760، المنتقى، للباجي 2/ 270، نهاية المحتاج، للرملي 1/ 243، الإنصاف، للمرداوي 3/ 36، المحلى، لابن حزم 5/ 43، شرح التلويح، للتفتازاني 2/ 139.

(2) انظر: المنتقى، للباجي 2/ 11، مغني المحتاج، للشربيني 6/ 220، المغني، لابن قدامة 4/ 205، معجم المصطلحات المالية والاقتصادية، لنزيه حماد، ص 208
পরিভাষায় 'দাইন' (ঋণ) শব্দটি সাধারণ এবং বিশেষ—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়; সাধারণ অর্থে: এটি হলো দায়বদ্ধতার (الذمة) সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি আদায়যোগ্য হক বা অধিকার, চাই তা আল্লাহর জন্য হোক অথবা মানুষের জন্য এবং তা আর্থিক হোক কিংবা অনার্থিক হোক(১).

আর বিশেষ অর্থে: এটি হলো দায়বদ্ধতায় (الذمة) সাব্যস্ত হওয়া সম্পদ(২).

--------------------------------------------

(১) দেখুন: হাশিয়া ইবনে আবিদিন ৬/ ৭৬০, আল-মুনতাকা লিল বাজি ২/ ২৭০, নিহায়াতুল মুহতাজ লির রামলি ১/ ২৪৩, আল-ইনসাফ লিল মারদাউয়ি ৩/ ৩৬, আল-মুহাল্লা লি ইবনে হাজম ৫/ ৪৩, শারহুত তালউইহ লিত তাফতাযানী ২/ ১৩৯।

(২) দেখুন: আল-মুনতাকা লিল বাজি ২/ ১১, মুগনী আল-মুহতাজ লিশ শিরবিনী ৬/ ২২০, আল-মুগনী লি ইবনে কুদামা ৪/ ২০৫, মুজাম আল-মুসতালাহাত আল-মালিয়্যাহ ওয়াল ইক্তিসাদিয়্যাহ লিনাজিহ হাম্মাদ, পৃ. ২০৮
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الفصل الأول

في تغير الأجل بسبب الفلس

وفيه مبحثان، هما:

المبحث الأول: حلول الأجل بسبب الحجر للإفلاس.

المبحث الثاني: تأخير الأجل على المدين المفلس مقابل زيادة الدين.
‌‌প্রথম অধ্যায়

দেউলিয়া হওয়ার (فلس) কারণে মেয়াদের (أجل) পরিবর্তন প্রসঙ্গে

এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে, সেগুলো হলো:

প্রথম পরিচ্ছেদ: দেউলিয়া হওয়ার (إفلاس) কারণে আইনি নিষেধাজ্ঞা (حجر) আরোপের ফলে মেয়াদের পূর্ণতা (حلول الأجل)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ঋণ বৃদ্ধির বিনিময়ে দেউলিয়া ঋণগ্রহীতার ঋণের মেয়াদ বিলম্বিত (تأخير الأجل) করা।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المبحث الأول: حلول الأجل بسبب الحجر للإفلاس

الفَلَس في اللغة يطلق على الخلو من الشيء والتجرد منه، والمفلس هو الرجل الذي لم يبقَ له مال(1)، قال ابن منظور: "أفلس الرجل إذا لم يبقَ له مال يراد به أنه صار إلى حال يقال فيها ليس معه فِلْس"(2).

والمفلس في الاصطلاح لا يخرج عن التعريف الذي ذكره ابن منظور، وقد عرفه ابن قدامة(3) بأنه: "الذي لا مال له ولا ما يدفع به حاجته"(4).

وقد اختلف الفقهاء في حكم حلول الأجل بسبب الحجر للإفلاس على قولين:

القول الأول: أن الأجل لا يحل بسبب الحجر للإفلاس.

--------------------------------------------

(1) انظر: معجم مقاييس اللغة، لابن فارس 4/ 451 كتاب الفاء، فصل الفاء واللام وما يثلثهما، مادة فلس، لسان العرب، لابن منظور 10/ 318، باب الفاء، مادة فلس، القاموس المحيط، للفيروزأبادي 1/ 772 باب السين، الفاء، مادة فلس.

(2) لسان العرب، لابن منظور 10/ 318.

(3) هو موفق الدين أبو محمد عبد الله بن أحمد بن محمد بن قدامة المقدسي، من أئمة الحنابلة، ولد عام 541 هـ، حفظ القرآن وهوصغير، وانتهت إليه معرفة فروع المذهب وأصوله، ومن مصنفاته: "المغني"، و"روضة الناظر"، توفي عام 620 هـ. انظر: ذيل طبقات الحنابلة، لابن رجب 3/ 281، سير أعلام النبلاء، للذهبي 22/ 166.

(4) المغني، لابن قدامة 4/ 265
‌প্রথম পরিচ্ছেদ: দেউলিয়াত্ব জনিত বিধি-নিষেধ আরোপের কারণে ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হওয়া

আভিধানিক অর্থে দেউলিয়াত্ব বলতে কোনো কিছু থেকে শূন্য হওয়া বা তা থেকে মুক্ত হওয়াকে বোঝায়। আর দেউলিয়া হলো সেই ব্যক্তি যার কোনো সম্পদ অবশিষ্ট নেই(১)। ইবনে মনজুর বলেন: "ব্যক্তি দেউলিয়া হয়েছে তখন বলা হয় যখন তার কোনো সম্পদ অবশিষ্ট থাকে না; এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সে এমন এক অবস্থায় উপনীত হয়েছে যেক্ষেত্রে বলা হয় যে তার নিকট কোনো পয়সা নেই"(২)।

পারিভাষিক অর্থে 'দেউলিয়া' শব্দের সংজ্ঞা ইবনে মনজুর কর্তৃক বর্ণিত আভিধানিক সংজ্ঞার বাইরে নয়। ইবনে কুদামা(৩) এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: "যার কোনো সম্পদ নেই এবং যার নিকট তার প্রয়োজন পূরণ করার মতোও কিছু নেই"(৪)।

দেউলিয়া হওয়ার কারণে বিধি-নিষেধ আরোপের ফলে ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার বিধানের ক্ষেত্রে ফকিহগণ দুটি মতে মতভেদ করেছেন:

প্রথম মত: দেউলিয়াত্ব জনিত বিধি-নিষেধ আরোপের ফলে ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হবে না।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে ফারিসের মু'জামু মাকায়িসিল লুগাহ ৪/ ৪৫১, কিতাবুল ফা, ফাসলুল ফা ওয়াল লাম ওয়া মা ইয়াসলুসুহুমা, শব্দমূল: ফালাসা; ইবনে মনজুরের লিসানুল আরব ১০/ ৩১৮, বাবুল ফা, শব্দমূল: ফালাসা; ফিরোযাবাদীর আল-কামুসুল মুহিত ১/ ৭৭২, বাবুস সিন, আল-ফা, শব্দমূল: ফালাসা।

(২) লিসানুল আরব, ইবনে মনজুর ১০/ ৩১৮।

(৩) তিনি হলেন মুওয়াফফাকুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি। তিনি হাম্বলি ইমামগণের (أئمة) অন্যতম। তিনি ৫৪১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শৈশবেই কুরআন হিফজ করেন। মাযহাবের শাখা-প্রশাখা ও মূলনীতিসমূহ (أصول) সংক্রান্ত জ্ঞান তার মাধ্যমেই পূর্ণতা লাভ করে। তার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে: 'আল-মুগনি' এবং 'রাওদাতুন নাজির'। তিনি ৬২০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। দেখুন: ইবনে রাজাবের জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ ৩/ ২৮১; আয-যাহাবীর সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ২২/ ১৬৬।

(৪) আল-মুগনি, ইবনে কুদামা ৪/ ২৬৫।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ২৪)
وهو مذهب الحنفية(1)، والشافعية(2)، والحنابلة(3)، وقول عند المالكية(4).

القول الثاني: أن الأجل يحل بسبب الحجر للإفلاس.

وهو مذهب المالكية(5)، وقول عند الشافعية(6)، ورواية عند الحنابلة(7).

أدلة القول الأول:

الدليل الأول: أن الحجر على المدين المفلس لا يوجب الذي له من دين على غيره، فكذلك لا يوجب حلول ما عليه(8).

الدليل الثاني: أن الحجر على المفلس إنما كان بالديون الحالة دون الديون المؤجلة؛ لأنه لو كانت ديونه مؤجلة لم يجز الحجر عليه بها، والمفلس إنما يجب صرف ماله فيمن كان الحجر عليه من أجله(9).

--------------------------------------------

(1) انظر: حاشية ابن عابدين 6/ 147، مختصر الطحاوي ص 96، الأشباه والنظائر، لابن نجيم ص 392.

(2) انظر: الأم، للشافعي 3/ 217، الحاوي، للماوردي 6/ 323، أسنى المطالب، للأنصاري 2/ 183.

(3) انظر: المغني، لابن قدامة 4/ 281، الإنصاف، للمرداوي 5/ 302، شرح منتهى الإرادات، للبهوتي 2/ 168

(4) انظر: حاشية العدوي 5/ 266، مواهب الجليل، للحطاب 5/ 39.

(5) انظر: المدونة، للإمام مالك 4/ 83، التاج والإكليل، للمواق 6/ 600، مواهب الجليل، للحطاب 5/ 5

(6) انظر: مغني المحتاج، للشربيني 3/ 97، الحاوي، للماوردي 6/ 323.

(7) انظر: المبدع، لابن مفلح 4/ 206، الإنصاف، للمرداوي 5/ 302.

(8) انظر: المغني، لابن قدامة 4/ 281

(9) انظر: الحاوي، للماوردي 6/ 323.
এটি হানাফি মাজহাব(১), শাফেয়ি মাজহাব(২), হাম্বলি মাজহাব(৩) এবং মালিকি মাজহাবের একটি অভিমত(৪)।

দ্বিতীয় অভিমত: দেউলিয়া হওয়ার কারণে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হলে ঋণের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে (অর্থাৎ তা তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য হবে)।

এটি মালিকি মাজহাব(৫), শাফেয়ি মাজহাবের একটি অভিমত(৬) এবং হাম্বলি মাজহাবের একটি বর্ণনা(৭)।

প্রথম অভিমতের দলীলসমূহ:

প্রথম দলীল: দেউলিয়া ঋণগ্রহীতার ওপর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হলে অন্যের কাছে তার পাওনা ঋণের মেয়াদ যেমন শেষ হয়ে যায় না, তেমনি তার নিজের ওপর থাকা ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়াও তা আবশ্যক করে না(৮)।

দ্বিতীয় দলীল: দেউলিয়া ব্যক্তির ওপর সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক ঋণের কারণেই হয়, মেয়াদী ঋণের কারণে নয়; কারণ তার ঋণগুলো যদি মেয়াদী হতো, তবে সেগুলোর কারণে তার ওপর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা বৈধ হতো না। আর দেউলিয়া ব্যক্তির সম্পদ শুধুমাত্র তাদের জন্যই ব্যয় করা আবশ্যক যাদের পাওনা ঋণের কারণে তার ওপর এই বাজেয়াপ্তকরণ আরোপ করা হয়েছে(৯)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: হাশিয়া ইবনে আবিদিন ৬/ ১৪৭, মুখতাসার আত-তহাবি পৃষ্ঠা ৯৬, আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর, ইবনে নুজাইম পৃষ্ঠা ৩৯২।

(২) দেখুন: আল-উম্ম, শাফেয়ি ৩/ ২১৭, আল-হাবি, মাওয়ারদি ৬/ ৩২৩, আসনা আল-মাতালিব, আনসারি ২/ ১৮৩।

(৩) দেখুন: আল-মুগনি, ইবনে কুদামা ৪/ ২৮১, আল-ইনসাফ, মারদাওয়ি ৫/ ৩০২, শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, বাহুতি ২/ ১৬৮

(৪) দেখুন: হাশিয়া আল-আদাউয়ি ৫/ ২৬৬, মাওয়াহিবুল জালিল, হাত্তাব ৫/ ৩৯।

(৫) দেখুন: আল-মুদাওয়ানা, ইমাম মালিক ৪/ ৮৩, আত-তাজ ওয়াল ইকলিল, মাওয়াক ৬/ ৬০০, মাওয়াহিবুল জালিল, হাত্তাব ৫/ ৫

(৬) দেখুন: মুগনি আল-মুহতাজ, শারবিনি ৩/ ৯৭, আল-হাবি, মাওয়ারদি ৬/ ৩২৩।

(৭) দেখুন: আল-মুবদি, ইবনে মুফলিহ ৪/ ২০৬, আল-ইনসাফ, মারদাওয়ি ৫/ ৩০২।

(৮) দেখুন: আল-মুগনি, ইবনে কুদামা ৪/ ২৮১

(৯) দেখুন: আল-হাবি, মাওয়ারদি ৬/ ৩২৩।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ২৫)
الدليل الثالث: أن الأجل حق للمفلس، يمكنه من تحصيل الدين بالاكتساب أو غيره فلا يسقط بإفلاسه كسائر حقوقه(1).

الدليل الرابع: أنه دين مؤجل على حي، فلا يحل قبل أجله، كغير المفلس(2).

الدليل الخامس: أن العلماء أجمعوا على أن ما كان من دين للمفلس إلى أجل، فإنه لأجله، قال ابن المنذر(3): "وأجمعوا أن ما كان من دين للمفلس إلى أجل، أن ذلك إلى أجله، لا يحل بإفلاسه"(4).

يناقش: بعدم ثبوت هذا الإجماع؛ لوجود الخلاف فيه.

دليل القول الثاني: القياس على الميت، بجامع خراب الذمة في كليهما، فكما أن ذمة الميت خربت بموته؛ كذلك ذمة المفلس خربت بإفلاسه؛ لأنه يمنع من التصرف في ماله، فإذا خربت ذمته وجب حلول ديونه المؤجلة(5).

نوقش: بأنه لا يسلَّم سقوط الأجل بالموت، ولو سلّمنا بحلول الأجل بالموت، فإن قياس المفلس على الميت قياس مع الفارق، فذمة المفلس باقية لم تخرب وهي صالحة للتكسب، والتملك، بخلاف الميت(6).

--------------------------------------------

(1) انظر: المغني، لابن قدامة 4/ 281، المبدع، لابن مفلح 4/ 206، شرح منتهى الإرادات، للبهوتي 2/ 168.

(2) انظر: المغني، لابن قدامة 4/ 281

(3) هو محمد بن إبراهيم بن المنذر النيسابوري، ولد سنة 242 هـ، من كبار الفقهاء المجتهدين، وهو في عداد فقهاء الشافعية، إلا أنه لم يكن مقلدا لأحد، قال النووي عنه: " وله اختيار فلا يتقيد في الاختيار بمذهب بعينه، بل يدور مع ظهور الدليل"، من تصانيفه: " الأوسط في السنن والإجماع والاختلاف"، و"الإشراف على مذاهب أهل العلم"، و" الإجماع". انظر: طبقات الشافعية الكبرى للسبكي 3/ 102، سير أعلام النبلاء، للذهبي 14/ 490 - 491.

(4) الإجماع، لابن المنذر ص 143.

(5) انظر: مواهب الجليل، للحطاب 5/ 5، شرح مختصر خليل، للخرشي 5/ 266.

(6) انظر: الحاوي، للماوردي 6/ 323، المغني، لابن قدامة 4/ 281، المبدع، لابن مفلح 4/ 206
তৃতীয় দলীল (الدليل): ঋণের মেয়াদ (الأجل) দেউলিয়া ব্যক্তির (المفلس) একটি অধিকার, যা তাকে উপার্জন বা অন্য কোনো উপায়ে ঋণ পরিশোধে সক্ষম করে তোলে; সুতরাং তার অন্যান্য অধিকারের ন্যায় দেউলিয়া হওয়ার কারণে এটি রহিত হবে না(১).

চতুর্থ দলীল (الدليل): এটি একজন জীবিত ব্যক্তির ওপর ধার্যকৃত মেয়াদী ঋণ, তাই মেয়াদের পূর্বে তা আদায়যোগ্য (حلول) হবে না, যেমনটি দেউলিয়া নয় এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে(২).

পঞ্চম দলীল (الدليل): ওলামায়ে কেরাম এই মর্মে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, দেউলিয়া ব্যক্তির যে ঋণ নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ধার্য করা হয়েছে, তা তার নির্ধারিত মেয়াদেই বহাল থাকবে। ইবনুল মুনযির(৩) বলেছেন: "তারা ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, দেউলিয়া ব্যক্তির যে ঋণ নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য রয়েছে, তা তার নির্ধারিত মেয়াদের জন্যই বহাল থাকবে; দেউলিয়া হওয়ার কারণে তা আদায়যোগ্য (حلول) হয়ে যাবে না"(৪).

পর্যালোচনা: এই ঐকমত্য (إجماع) সাব্যস্ত (ثبوت) নয়; কারণ এ বিষয়ে মতভেদ (خلاف) বিদ্যমান।

দ্বিতীয় মতের দলীল: মৃত ব্যক্তির সাথে তুলনা বা কিয়াস (قياس), যেহেতু উভয়ের ক্ষেত্রেই দায়বদ্ধতা (জিম্মা) বিনষ্ট হওয়ার বিষয়টি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। সুতরাং মৃত ব্যক্তির দায়বদ্ধতা যেমন তার মৃত্যুর ফলে বিনষ্ট হয়ে যায়; তেমনি দেউলিয়া ব্যক্তির দায়বদ্ধতা তার দেউলিয়া হওয়ার মাধ্যমে বিনষ্ট হয়ে যায়; কারণ তাকে তার ধন-সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করা হয়। ফলে যখন তার দায়বদ্ধতা বিনষ্ট হয়ে যায়, তখন তার মেয়াদী ঋণগুলো আদায়যোগ্য (حلول) হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে(৫).

পর্যালোচনা: মৃত্যুর মাধ্যমে ঋণের মেয়াদ (الأجل) রহিত হওয়ার বিষয়টি স্বীকৃত নয়। আর যদি মৃত্যুর মাধ্যমে ঋণ আদায়যোগ্য (حلول) হওয়ার বিষয়টি মেনেও নেওয়া হয়, তবুও দেউলিয়া ব্যক্তিকে মৃত ব্যক্তির ওপর কিয়াস (قياس) করা একটি ত্রুটিপূর্ণ তুলনা (قياس مع الفارق); কারণ দেউলিয়া ব্যক্তির দায়বদ্ধতা অবশিষ্ট থাকে, তা বিনষ্ট হয় না এবং সে উপার্জন ও মালিকানা অর্জনে সক্ষম, যা মৃত ব্যক্তির বিপরীত(৬).

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে কুদামাহ রচিত আল-মুগনি ৪/২৮১, ইবনে মুফলিহ রচিত আল-মুবদি ৪/২০৬, আল-বাহুতি রচিত শারহু মুনতাহাল ইরাদাত ২/১৬৮।

(২) দেখুন: ইবনে কুদামাহ রচিত আল-মুগনি ৪/২৮১।

(৩) তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম বিন আল-মুনযির আল-নিশাপুরী, যিনি ২৪২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বড় মাপের মুজতাহিদ (مجتهد) ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত এবং শাফেয়ি ফকিহদের কাতারে গণ্য হন, তবে তিনি কারো অন্ধ অনুসারী (مقلد) ছিলেন না। ইমাম নববী তার সম্পর্কে বলেছেন: "তার নিজস্ব পছন্দ বা ইজতিহাদ (اختيار) রয়েছে, তাই তিনি ইজতিহাদের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট মাজহাবের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকতেন না; বরং দলীল (الدليل) যেখানে স্পষ্ট হতো তিনি সেদিকেই ধাবিত হতেন।" তার রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: 'আল-আওসাত ফিল সুনান ওয়াল ইজমা ওয়াল ইখতিলাফ', 'আল-ইশরাফ আলা মাযাহিব আহলিল ইলম' এবং 'আল-ইজমা'। দেখুন: সুবকি রচিত তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ আল-কুবরা ৩/১০২, যাহাবি রচিত সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৪/৪৯০-৪৯১।

(৪) আল-ইজমা, ইবনুল মুনযির, পৃষ্ঠা ১৪৩।

(৫) দেখুন: আল-হাত্তাব রচিত মাওয়াহিবুল জলিল ৫/৫, আল-খারশি রচিত শারহু মুখতাসার খলিল ৫/২৬৬।

(৬) দেখুন: আল-মাওয়ার্দি রচিত আল-হাবি ৬/৩২৩, ইবনে কুদামাহ রচিত আল-মুগনি ৪/২৮১, ইবনে মুফলিহ রচিত আল-মুবদি ৪/২০৬।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ২৬)
الترجيح: يظهر لي والله أعلم أن الراجح هو القول الأول، القائل بأن الأجل لا يسقط بسبب الحجر للإفلاس؛ وذلك لقوة أدلته، مقابل ضعف دليل القول الثاني، ولأن الفلس سبب لتأجيل الديون الحالة، فكيف تحل به الديون المؤجلة؟!
প্রাধান্য প্রদান (الترجيح): আমার নিকট প্রতীয়মান হয় এবং আল্লাহই ভালো জানেন যে, অধিকতর গ্রহণযোগ্য (الراجح) হলো প্রথম অভিমতটি, যা বলছে যে—দেউলিয়া হওয়ার কারণে সম্পদ হস্তক্ষেপে নিষেধাজ্ঞার ফলে ঋণের মেয়াদ বিলুপ্ত হয় না। এর কারণ হলো এর সপক্ষীয় দলীলসমূহের শক্তিশালী হওয়া এবং দ্বিতীয় অভিমতের দলীলটির দুর্বলতা (ضعف)। তাছাড়া, দেউলিয়া হওয়া যেখানে তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য ঋণকে বিলম্বিত করার কারণ হতে পারে, সেখানে বিলম্বিত ঋণ কীভাবে এর দ্বারা তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য হয়ে যাবে?!
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المبحث الثاني: تأخير الأجل على المدين المفلس مقابل زيادة الدين (1).

اجمع العلماء على أنه لا يجوز تأخير الأجل على المدين المفلس مقابل زيادة الدين، وأن هذا هو الربا الذي كان يتعامل به أهل الجاهلية(2)، واستدلوا على ذلك بالأدلة التالية:

الدليل الأول: الآيات الكثيرة الدالة على تحريم الربا ومنها:

قول الله تعالى: {الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبا وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبا فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ 275 يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ}(3)

وقول الله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ 278 فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ}(4)

--------------------------------------------

(1) صورة المسألة: أن يأتي المدين المفلس إلى الدائن وقت حلول الأجل فيقول: أجلني أزيدك، أو يأتي الدائن إلى المدين المفلس عند حلول الأجل فيقول: إما أن تقضي، وإما أن تربي.

(2) انظر: الإجماع، لابن المنذر، ص 136، أحكام القرآن، للجصاص 2/ 186، المبسوط، للسرخسي 12/ 109، بداية المجتهد، لابن رشد 2/ 128، الكافي، لابن عبد البر 2/ 633، الأم، للشافعي 3/ 15، المجموع، للنووي 9/ 487، المغني، لابن قدامة 4/ 25، مجموع الفتاوى، لابن تيمية 28/ 74، المحلى، لابن حزم 7/ 402.

(3) سورة البقرة، الآيتان 275 - 276

(4) سورة البقرة، الآيتان 278 - 279
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির বিনিময়ে দেউলিয়া (مفلس) ঋণগ্রহীতার ঋণের মেয়াদ পিছিয়ে দেওয়া (১).

আলেমগণ এই মর্মে ঐক্যমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির বিনিময়ে দেউলিয়া (مفلس) ঋণগ্রহীতার ঋণের মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া জায়েজ নেই। আর এটিই সেই সুদ (ربا) যা জাহেলি যুগের লোকেরা লেনদেন করত(২)। তাঁরা এর সপক্ষে নিম্নোক্ত দলিলসমূহ পেশ করেছেন:

প্রথম দলিল: সুদের (ربا) নিষিদ্ধতা নির্দেশকারী অসংখ্য আয়াত, যার মধ্যে অন্যতম হলো:

মহান আল্লাহর বাণী: {যারা সুদ (ربا) খায়, তারা (কিয়ামতের দিন) সে ব্যক্তির ন্যায় ছাড়া দাঁড়াবে না যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে দেয়। এটি এই কারণে যে, তারা বলত: ক্রয়-বিক্রয় তো সুদের (ربا) মতোই। অথচ আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয় হালাল করেছেন এবং সুদ (ربا) হারাম করেছেন। সুতরাং যার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, তবে অতীতে যা হয়েছে তা তারই; আর তার বিষয়টি আল্লাহর নিকট সোপর্দ। আর যারা পুনরায় (সুদ গ্রহণ) করবে, তারা অগ্নির অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ সুদকে (ربا) ধ্বংস করেন এবং দান-সদাকাহকে বৃদ্ধি করেন। আর আল্লাহ কোনো অকৃতজ্ঞ পাপিষ্ঠকে পছন্দ করেন না।}(৩)

মহান আল্লাহর বাণী: {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের (ربا) যা বকেয়া আছে তা বর্জন করো, যদি তোমরা মুমিন হও। কিন্তু যদি তোমরা তা না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও।}(৪)

--------------------------------------------

(১) মাসআলাটির ধরণ: ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার সময় দেউলিয়া (مفلس) ঋণগ্রহীতা পাওনাদারের নিকট এসে বলবে: ‘আমাকে সময় দিন, আমি ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেব’; অথবা ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার সময় পাওনাদার দেউলিয়া (مفلس) ঋণগ্রহীতার নিকট এসে বলবে: ‘হয় তুমি ঋণ পরিশোধ করো, অন্যথায় সুদ (ربا) বৃদ্ধি করো’।

(২) দেখুন: ইবনে মুনযির রচিত আল-ইজমা, পৃ. ১৩৬; জাসসাস রচিত আহকামুল কুরআন ২/১৮৬; সারাখসি রচিত আল-মাবসুত ১২/১০৯; ইবনে রুশদ রচিত বিদায়াতুল মুজতাহিদ ২/১২৮; ইবনে আবদিল বার রচিত আল-কাফি ২/৬৩৩; শাফেয়ি রচিত আল-উম্ম ৩/১৫; নববী রচিত আল-মাজমু ৯/৪৮৭; ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি ৪/২৫; ইবনে তাইমিয়াহ রচিত মাজমু আল-ফাতাওয়া ২৮/৭৪; ইবনে হাযম রচিত আল-মুহাল্লা ৭/৪০২।

(৩) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৭৫-২৭৬

(৪) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৭৮-২৭৯
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقول الله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبا أَضْعَافًا مُضَاعَفَةً وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ}(1).

وجه الدلالة من الآيات: أن الآيات نصت على تحريم الربا، وأن الله توعد من فعله بعد علمه بالتحريم بعذاب النار، وأن آكل الربا مخالف لأمر الله، محارب لله ورسوله صلى الله عليه وسلم، وزيادة الدين على المدين المفلس مقابل التأخير في الأجل هو الربا كما كان يقول أهل الجاهلية للمدين إذا حل أجل الدين: إما أن تقضي وإما أن تربي، فإن قضاه وإلا زاده في المدة وزاده الآخر في القدر(2).

الدليل الثاني: قول الله تعالى: {وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ}(3)

وجه الدلالة من الآية: أن الله بيّن أن الدائن لا يستحق على مدينه إلا رأس ماله، وأن أخذ الزيادة في الدين على المدين المفلس مقابل تأخير الأجل ظلمٌ للمدين، وكما أن المدين يجب عليه أن يؤدي ما أخذ كاملًا، وأن نقْصَه من رأس المال يُعد ظلمًا، فكذلك أخذ الزيادة عليه يُعد ظلمًا له(4).

الدليل الثالث: قول الله تعالى: {وَإِنْ كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَى مَيْسَرَةٍ وَأَنْ تَصَدَّقُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ}(5)

وجه الدلالة من الآية: أن الله سبحانه وتعالى أمر إذا حل أجل الدين ولم يكن عند المدين المعسر ما يؤدي أنه يُنظر إلى الميسرة(6)، وأمرُ الله يجب امتثاله، فالمدين المفلس يجب إنظاره، ولا يجوز الزيادة عليه بمعاملة ولا غيرها(7).

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران، الآية 130

(2) انظر: تفسير القرآن العظيم، لابن كثير 2/ 117، الكافي، لابن عبد البر 2/ 633.

(3) سورة البقرة، الآية 279.

(4) انظر: جامع البيان في تأويل القرآن، للطبري 6/ 28.

(5) سورة البقرة، آية 280.

(6) انظر: الجامع لأحكام القرآن، للقرطبي 3/ 356.

(7) انظر: مجموع الفتاوى، لابن تيمية 28/ 74.
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।}(1).

আয়াতসমূহ থেকে দলিল নির্দেশনার দিক: আয়াতসমূহ সুদের নিষিদ্ধতার ওপর সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছে এবং আল্লাহ তাআলা হারাম হওয়ার বিষয়টি জানার পর যে ব্যক্তি তা করবে, তাকে জাহান্নামের আগুনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আর সুদখোর আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধাচরণকারী এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী। সময় বৃদ্ধির বিনিময়ে নিঃস্ব ঋণগ্রহীতার ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া মূলত সুদ, যেমনটি জাহেলি যুগের লোকেরা ঋণগ্রহীতাকে ঋণের মেয়াদ শেষ হলে বলত: হয় তুমি ঋণ শোধ করো, নতুবা সুদ বাড়াও। যদি সে শোধ করত তবে তো ভালো, অন্যথায় সে মেয়াদের সময় বাড়িয়ে দিত এবং অপরজন ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিত।(2).

দ্বিতীয় দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি তোমরা তওবা করো, তবে তোমাদের জন্য তোমাদের মূলধন। তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমাদের ওপরও জুলুম করা হবে না।}(3)

আয়াত থেকে দলিল নির্দেশনার দিক: আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করেছেন যে, পাওনাদার তার ঋণগ্রহীতার কাছে কেবল মূলধন পাওয়ারই হকদার। মেয়াদের বিলম্বের বিনিময়ে নিঃস্ব ঋণগ্রহীতার ঋণের ওপর অতিরিক্ত গ্রহণ করা ঋণগ্রহীতার প্রতি জুলুম। আর ঋণগ্রহীতার জন্য যেমন সে যা গ্রহণ করেছে তা পূর্ণরূপে পরিশোধ করা ওয়াজিব এবং মূলধন থেকে কমিয়ে দেওয়া জুলুম হিসেবে গণ্য, তেমনি তার ওপর অতিরিক্ত গ্রহণ করাও তার প্রতি জুলুম হিসেবে গণ্য।(4).

তৃতীয় দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি সে (ঋণগ্রহীতা) অসচ্ছল হয়, তবে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত তাকে অবকাশ দাও। আর যদি তোমরা সদকা করো তবে তা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।}(5)

আয়াত থেকে দলিল নির্দেশনার দিক: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন যে, যখন ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হবে কিন্তু অসচ্ছল ঋণগ্রহীতার কাছে পরিশোধ করার মতো কিছু না থাকবে, তখন তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত অবকাশ দিতে হবে(6)। আর আল্লাহর আদেশ পালন করা ওয়াজিব। সুতরাং নিঃস্ব ঋণগ্রহীতাকে অবকাশ দেওয়া আবশ্যক এবং কোনো লেনদেন বা অন্য কিছুর মাধ্যমে তার ওপর ঋণের পরিমাণ বাড়ানো জায়েজ নয়।(7).

--------------------------------------------

(1) সূরা আল-ইমরান, আয়াত ১৩০।

(2) দেখুন: তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, ইবনে কাসির ২/১১৭; আল-কাফি, ইবনে আবদিল বার ২/৬৩৩।

(3) সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৭৯।

(4) দেখুন: জামিউল বয়ান ফি তাউয়িলিল কুরআন, তাবারী ৬/২৮।

(5) সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৮০।

(6) দেখুন: আল-জামিউ লি আহকামিল কুরআন, কুরতুবী ৩/৩৫৬।

(7) দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়্যাহ ২৮/৭৪।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ২৯)
الدليل الرابع: عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اجْتَنِبُوا السَّبْعَ المُوبِقَاتِ»، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا هُنَّ؟ قَالَ: «الشِّرْكُ بِاللَّهِ، وَالسِّحْرُ، وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالحَقِّ، وَأَكْلُ الرِّبَا، وَأَكْلُ مَالِ اليَتِيمِ، وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ، وَقَذْفُ المُحْصَنَاتِ المُؤْمِنَاتِ الغَافِلَاتِ»(1).

وجه الدلالة من الحديث: أن الحديث دلَّ على تحريم الربا ووجوب الابتعاد عنه؛ لأنه من الموبقات التي عدها رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإلزام المدين المفلس بدفع زيادة مقابل التأخير في الأجل أخذ للربا المحرم.

الدليل الخامس: عن جابر رضي الله عنه قال: «لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم آكِلَ الرِّبَا، وَمُؤْكِلَهُ، وَكَاتِبَهُ، وَشَاهِدَيْهِ»(2).

وجه الدلالة من الحديث: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لعنَ آكل الربا، وموكله، وكاتبه، وشاهديه، وهذا يدل على تحريم أكل الربا والمعاونة عليه؛ لأن اللعن لا يكون إلا على شيء محرم، ومن ألزم المدين المفلس بدفع زيادة مقابل التأخير في السداد يكون داخلاً في اللعن الوارد على لسان الرسول الله صلى الله عليه وسلم.

الدليل السادس: عن جابر رضي الله عنه في قصة حجة الوداع أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «وَرِبَا الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ، وَأَوَّلُ رِبًا أَضَعُ رِبَانَا رِبَا عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، فَإِنَّهُ مَوْضُوعٌ كُلُّهُ»(3).

وجه الدلالة من الحديث: أن في وضع النبي صلى الله عليه وسلم لربا الجاهلية دلالة على تحريمه ومنعه، ولو لم يكن حرامًا لما وضعه ولما حرَم عمَّه منه، وأخذ زيادة

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري، كتاب الوصايا، باب قول الله تعالى: {إنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا}، برقم 2766، واللفظ له، ومسلم، كتاب الإيمان، باب بيان الكبائر وأكبرها، برقم 89.

(2) رواه مسلم، كتاب المساقاة، باب لعن آكل الربا وموكله برقم 1598.

(3) رواه مسلم، كتاب الحج، باب حج النبي _ صلى الله عليه وسلم _، برقم 1218.
চতুর্থ দলিল: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন: «তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বেঁচে থাকো», সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী কী? তিনি বললেন: «আল্লাহর সাথে শিরক করা, জাদু, আল্লাহ যা হারাম করেছেন এমন প্রাণকে ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া হত্যা করা, সুদ খাওয়া, এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা এবং সতী-সাধ্বী মুমিন উদাসীন নারীদের প্রতি অপবাদ প্রদান করা»(১).

হাদিস থেকে প্রমাণের ধরন: এই হাদিস সুদের হারামের ওপর এবং তা থেকে দূরে থাকার আবশ্যকতা নির্দেশ করে; কারণ এটি সেই ধ্বংসাত্মক কাজের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহর রাসূল (সা.) গণনা করেছেন। আর নিঃস্ব ঋণগ্রহীতাকে সময় বৃদ্ধির বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ প্রদানে বাধ্য করা মূলত হারাম সুদেরই অন্তর্ভুক্ত।

পঞ্চম দলিল: জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আল্লাহর রাসূল (সা.) সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং তার সাক্ষীদ্বয়কে লানত করেছেন»(২).

হাদিস থেকে প্রমাণের ধরন: আল্লাহর রাসূল (সা.) সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং তার সাক্ষীদ্বয়কে লানত করেছেন; এটি সুদ খাওয়া এবং তাতে সহযোগিতা করা হারাম হওয়ার ওপর প্রমাণ করে। কারণ লানত কেবল কোনো হারাম বিষয়ের ওপরই হয়ে থাকে। আর যে ব্যক্তি নিঃস্ব ঋণগ্রহীতাকে পরিশোধে বিলম্বের বিনিময়ে অতিরিক্ত প্রদানে বাধ্য করে, সে আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর পবিত্র জবানে বর্ণিত লানতের অন্তর্ভুক্ত হবে।

ষষ্ঠ দলিল: বিদায় হজের বর্ণনায় জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন: «জাহেলি আমলের সুদ রহিত করা হলো, আর আমাদের সুদের মধ্যে প্রথম যে সুদ আমি রহিত করছি তা হলো আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিবের সুদ, নিশ্চয়ই এর সবটুকুই রহিত করা হলো»(৩).

হাদিস থেকে প্রমাণের ধরন: নবী (সা.) কর্তৃক জাহেলি আমলের সুদ রহিত করা এটি হারাম ও নিষিদ্ধ হওয়ার প্রমাণ। যদি এটি হারাম না হতো, তবে তিনি তা রহিত করতেন না এবং তার চাচাকে তা থেকে বঞ্চিত করতেন না, এবং অতিরিক্ত গ্রহণ...

--------------------------------------------

(১) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন, অসিয়ত অধ্যায়, আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় যারা এতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা তাদের পেটে কেবল আগুনই ভরে এবং অচিরেই তারা প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে} অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ২৭৬৬, শব্দাবলী তার; এবং মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, কাবিরা গুনাহ ও তার মধ্যে বড়গুলোর বর্ণনা অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৮৯।

(২) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন, মুসাকাত অধ্যায়, সুদখোর ও সুদদাতার ওপর লানত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ১৫৯৮।

(৩) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন, হজ অধ্যায়, নবী (সা.)-এর হজ অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ১২১৮।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ৩০)
على المدين المفلس مقابل تأخير الأجل محرم؛ لأنه من ربا الجاهلية الذي وضعه النبي صلى الله عليه وسلم.

الدليل السابع: أن العلماء أجمعوا على تحريم الربا، ومن الربا أخذ الزيادة على المدين المفلس مقابل تأخير الأجل، قال ابن المنذر: "وأجمعوا على أن المسلف إذا شرط عُشر السلف هدية، أو زيادة فأسلف على ذلك، أن أخذه الزيادة ربا"(1)، وقال ابن تيمية(2): "أصل الربا في الجاهلية: أن الرجل يكون له على الرجل المال المؤجل فإذا حل الأجل قال له: أتقضي؟ أم تربي؟ فإن وفاه وإلا زاد هذا في الأجل وزاد هذا في المال فيتضاعف المال، والأصل واحد، وهذا الربا حرام بإجماع المسلمين. "(3).

ومما تقدم يتبين أن أخذ الزيادة على المدين المفلس مقابل تأخير الأجل محرم بالكتاب، والسنة، والإجماع.

وقد صدر بذلك عدد من القرارات من المجامع، والهيئات العلمية، منها:

1 - أنه جاء في قرار مجمع الفقه الإسلامي الدولي المنبثق عن منظمة المؤتمر الإسلامي رقم (53/ 2/ 6)، بشأن بيع التقسيط: "إذا تأخر المشتري المدين في دفع الأقساط عن الموعد المحدد، فلا يجوز إلزامه أي زيادة على الدين بشرط سابق، أو بدون شرط؛ لأن ذلك ربا محرم"(4).

--------------------------------------------

(1) الإجماع، لابن المنذر، ص 136.

(2) هو تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن تيمية الحراني، ولد سنة 661 هـ، تفقه على المذهب الحنبلي، ثم أصبح من العلماء المجتهدين، له الكثير من التصانيف مجموعة في فتاويه، جمعها عبد الرحمن ابن قاسم، وغيرها، وتوفي بسجن القلعة بدمشق سنة 728 هـ. انظر: البداية والنهاية، لابن كثير 14/ 132، ذيل طبقات الحنابلة، لابن رجب 4/ 386، الأعلام، للزركلي 1/ 144.

(3) مجموع الفتاوى، لابن تيمية 29/ 418.

(4) مجلة مجمع الفقه الإسلامي بجدة، العدد السادس 1/ 447، القرار رقم 53/ 2/ 6.
নিঃস্ব ঋণগ্রহীতার ওপর মেয়াদ বিলম্বিত করার বিনিময়ে অতিরিক্ত গ্রহণ করা নিষিদ্ধ (محرم); কারণ এটি জাহেলিয়াতের সুদ (ربا)-এর অন্তর্ভুক্ত যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রহিত করেছেন।

সপ্তম দলিল: উলামায়ে কেরাম সুদ (ربا) হারাম হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন। আর নিঃস্ব ঋণগ্রহীতার ওপর মেয়াদ বিলম্বিত করার বিনিময়ে অতিরিক্ত গ্রহণ করা সুদের অন্তর্ভুক্ত। ইবনুল মুনজির বলেন: "তারা ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, ঋণদাতা যদি ঋণের এক-দশমাংশ উপহার হিসেবে বা অতিরিক্ত হিসেবে শর্তারোপ করে এবং সেই ভিত্তিতে ঋণ প্রদান করে, তবে তার সেই অতিরিক্ত গ্রহণ করা সুদ (ربا) হিসেবে গণ্য হবে।"(১) আর ইবনে তাইমিয়্যাহ(২) বলেন: "জাহেলিয়াত যুগে সুদের মূল ভিত্তি ছিল: এক ব্যক্তির কাছে অন্য ব্যক্তির নির্দিষ্ট মেয়াদে পাওনা থাকত। যখন মেয়াদ পূর্ণ হতো, তখন পাওনাদার তাকে বলত: তুমি কি ঋণ পরিশোধ করবে নাকি বৃদ্ধি (ربا) করবে? যদি সে পরিশোধ করত তবে ভালো, অন্যথায় পাওনাদার মেয়াদ বাড়িয়ে দিত এবং ঋণগ্রহীতা ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিত। ফলে সম্পদ চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পেত, অথচ মূলধন একই থাকত। আর এই সুদ (ربا) মুসলিমদের ঐকমত্য (إجماع) অনুযায়ী হারাম।"(৩)।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, নিঃস্ব ঋণগ্রহীতার ওপর মেয়াদ বিলম্বিত করার বিনিময়ে অতিরিক্ত গ্রহণ করা কুরআন, সুন্নাহ (سنة) এবং ঐকমত্য (إجماع) অনুযায়ী নিষিদ্ধ (محرم)।

ইতিমধ্যেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বৈজ্ঞানিক একাডেমি থেকে এ বিষয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - ওআইসি (OIC)-র অন্তর্ভুক্ত আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমির ৫৩/২/৬ নম্বর সিদ্ধান্তে কিস্তিতে বিক্রয় প্রসঙ্গে বলা হয়েছে: "যদি ঋণগ্রহীতা ক্রেতা নির্ধারিত সময়ে কিস্তি পরিশোধে বিলম্ব করে, তবে পূর্বশর্ত অনুযায়ী বা শর্তহীনভাবে ঋণের ওপর কোনো অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি আরোপ করা জায়েজ নেই; কারণ তা নিষিদ্ধ (محرم) সুদ (ربا) হিসেবে গণ্য।"(৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-ইজমা, ইবনুল মুনজির, পৃষ্ঠা ১৩৬।

(২) তিনি হলেন তাকীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম বিন তাইমিয়্যাহ হাররানী। তিনি ৬৬১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাম্বলি মাজহাব অনুযায়ী ফিকহ শিক্ষা করেন এবং পরবর্তীতে মুজতাহিদ (مجتهد) আলেমদের অন্তর্ভুক্ত হন। তার অনেক রচনা রয়েছে যা 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (সংকলক: আব্দুর রহমান ইবনে কাসিম) ও অন্যান্য গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। তিনি ৭২৮ হিজরিতে দামেস্কের قلعة (কারা-দুর্গে) মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসির ১৪/১৩২; জাইলো তাবাকাতিল হানাবিলাহ, ইবনে রজব ৪/৩৮৬; আল-আলাম, জিরিকলি ১/১৪৪।

(৩) মাজমুউল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়্যাহ ২৯/৪১৮।

(৪) মাজাল্লাতু মাজমাউল ফিকহিল ইসলামি জেদ্দা, সংখ্যা ৬, ১/৪৪৭, সিদ্ধান্ত নম্বর ৫৩/২/৬।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ৩১)
2 - وجاء في قراره أيضاً رقم (3/ 12) بشأن الشرط الجزائي: "رابعاً: يجوز أن يشترط الشرط الجزائي في جميع العقود المالية ما عدا العقود التي يكون الالتزام الأصلي فيها ديناً، فإن هذا من الربا الصريح"(1).

3 - وجاء في معيار المدين المماطل المقر من المجلس الشرعي لهيئة المحاسبة والمراجعة للمؤسسات المالية الإسلامية ما يلي: "لا يجوز اشتراط التعويض المالي نقدًا، أو عينًا، وهو ما يسمى بالشرط الجزائي على المدين إذا تأخر عن سداد الدين، سواء نُصَ على مقدار التعويض أم لم يُنص، وسواء كان التعويض عن الكسب الفائت (الفرصة الضائعة) أم عن تغير قيمة العملة"(2).

4 - وجاء في قرار المجمع الفقهي، التابع لرابطة العالم الإسلامي: "إن الدائن إذا شرط على المدين، أو فرض عليه، أن يدفع له مبلغاً من المال غرامة مالية جزائية محددة، أو نسبة معينة إذا تأخر عن السداد في الموعد المحدد بينهما، فهو شرط، أو فرض باطل، ولا يجب الوفاء به، بل ولا يحل، سواء كان الشارط هو المصرف، أو غيره؛ لأن هذا بعينه، هو ربا الجاهلية الذي نزل القرآن بتحريمه"(3).

--------------------------------------------

(1) مجلة مجمع الفقه الإسلامي بجدة، العدد الثاني عشر 2/ 306، القرار رقم 3/ 12.

(2) المعايير الشرعية لهيئة المحاسبة والمراجعة للمؤسسات المالية الإسلامية، ص 34.

(3) مجلة المجمع الفقهي الإسلامي، السنة الثامنة، العدد العاشر، ص 314.
2 - জরিমানা শর্ত (পেনাল্টি ক্লজ) সংক্রান্ত (৩/ ১২) নং সিদ্ধান্তে আরও বলা হয়েছে: "চতুর্থত: সকল আর্থিক চুক্তিতে জরিমানা শর্তারোপ করা বৈধ, তবে এমন চুক্তিসমূহ ব্যতীত যেখানে মূল বাধ্যবাধকতা হলো ঋণ। কেননা এটি স্পষ্ট সুদের অন্তর্ভুক্ত"(১).

3 - ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনসমূহের অ্যাকাউন্টিং ও অডিটিং অর্গানাইজেশন (AAOIFI)-এর শরীয়াহ কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদিত 'টালবাহানাকারী ঋণগ্রহীতা' মানদণ্ডে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে: "ঋণ পরিশোধে বিলম্বের কারণে ঋণগ্রহীতার ওপর নগদ বা পণ্য আকারে কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ শর্ত করা বৈধ নয়, যাকে জরিমানা শর্ত বলা হয়; ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারিত হোক বা না হোক, এবং এই ক্ষতিপূরণ হারানো মুনাফা (সুযোগ হারানো) বা মুদ্রার মান পরিবর্তনের বিপরীতে হোক না কেন"(২).

4 - মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ (রাবেতাতুল আলম আল-ইসলামী)-এর ফিকহ একাডেমির সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে: "যদি পাওনাদার ঋণগ্রহীতার ওপর এই শর্তারোপ করে বা তার ওপর চাপিয়ে দেয় যে, নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে বিলম্ব করলে তাকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা বা একটি নির্দিষ্ট হারে অর্থ প্রদান করতে হবে, তবে তা একটি বাতিল শর্ত বা বাধ্যবাধকতা এবং এটি পূরণ করা আবশ্যক নয়, বরং এটি বৈধও নয়; চাই শর্তারোপকারী ব্যাংক হোক বা অন্য কেউ। কারণ এটি হুবহু জাহেলিয়াত আমলের সুদ, যা নিষিদ্ধ করে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে"(৩).

--------------------------------------------

(১) মাজাল্লাতু মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী, জিদ্দাহ, ১২তম সংখ্যা ২/ ৩০৬, সিদ্ধান্ত নং ৩/ ১২।

(২) শরীয়াহ স্ট্যান্ডার্ডস, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস, পৃষ্ঠা ৩৪।

(৩) মাজাল্লাতুল মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী, ৮ম বর্ষ, ১০ম সংখ্যা, পৃষ্ঠা ৩১৪।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌الفصل الثاني

في تغير الأجل بسبب المماطلة

وفيه مبحثان، هما:

المبحث الأول: حكم المماطلة.

المبحث الثاني: في عقوبة المماطل المالية.
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

গড়িমসির কারণে মেয়াদের পরিবর্তন প্রসঙ্গে

এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে, যথা:

প্রথম অনুচ্ছেদ: গড়িমসির বিধান।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: গড়িমসিকারীর আর্থিক দণ্ড প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌المبحث الأول: حكم المماطلة

تعريف المماطلة لغة: تطلق المماطلة في اللغة على مدّ الشيء وإطالته(1)، قال ابن فارس: "الميم والطاء واللام أصل صحيح يدل على مد للشيء وإطالته، ومطلت الحديدة أمطلها مطلًا مددتها"(2)، وقال ابن منظور: "والمطلُ في الحق والدين مأخوذ منه وهو تطويل العدة التي يضربها الغريم للطالب"(3).

والمماطلة اصطلاحاً: هي تأخير ما استحق أداؤه بغيرِ عذرٍ من قادرٍ على الأداء(4)، ومن هذه التعريف يتبين أن العاجز عن الأداء لا يُعد مماطلًا؛ لأنه معذور، قال ابن حجر(5): "يحرُم على الغني القادر أن يمطل بالدين بعد

--------------------------------------------

(1) انظر: معجم مقاييس اللغة، لابن فارس 5/ 331، كتاب الميم، فصل الميم والطاء وما يثلثهما، مادة مطل، لسان العرب، لابن منظور 13/ 134 باب الميم، مادة مطل، القاموس المحيط، للفيروز أبادي 2/ 1396، باب اللام، فصل الميم، مادة مطل، تاج اللغة، للجوهري 1/ 168، باب اللام، فصل الميم، مادة مطل.

(2) معجم مقاييس اللغة، لابن فارس 5/ 331، كتاب الميم، فصل الميم والطاء وما يثلثهما، مادة مطل.

(3) لسان العرب، لابن منظور 13/ 134 باب الميم، مادة مطل.

(4) انظر: حاشية الدسوقي 4/ 181، فتح الباري، لابن حجر 4/ 586، سبل السلام، للصنعاني 5/ 158.

(5) هو أحمد بن علي بن محمد العسقلاني الشافعي ويُعرف بابن حجر، ولد في 773 هـ في مصر، وحفظ القرآن وهو ابن تسع، شرح صحيح البخاري وسماه فتح الباري، لم يؤلف أحد مثله حتى أنه يقال" لا هجرة بعد الفتح" وله كثير من المصنفات توفي رحمه الله سنة 852 هـ. انظر: الضوء اللامع لأهل القرن التاسع، للسخاوي 2/ 36، البدر الطالع، للشوكاني 1/ 87.
‌প্রথম পরিচ্ছেদ: গড়িমসির (মুমাতালাহ) বিধান

গড়িমসির (মুমাতালাহ) শাব্দিক সংজ্ঞা: আভিধানিক অর্থে গড়িমসি (মুমাতালাহ) বলতে কোনো বস্তুকে দীর্ঘায়িত করা বা টেনে লম্বা করাকে বোঝায়(১)। ইবনে ফারিস বলেন: "মিম, ত- এবং লাম বর্ণত্রয় একটি সঠিক (صحيح) মূল উৎস যা কোনো বস্তুকে দীর্ঘায়িত করা ও টেনে লম্বা করাকে নির্দেশ করে। (আরবি ভাষায় বলা হয়) আমি লোহাকে দীর্ঘায়িত করলাম, এর অর্থ হলো আমি একে টেনে লম্বা করলাম"(২)। ইবনে মানজুর বলেন: "পাওনা এবং ঋণের ক্ষেত্রে গড়িমসি (মাত্তল) শব্দটি এখান থেকেই গৃহীত। এর অর্থ হলো পাওনাদারের জন্য ঋণদাতা কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমাকে দীর্ঘায়িত করা"(৩)।

পারিভাষিক অর্থে গড়িমসি (মুমাতালাহ): কোনো সামর্থ্যবান ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোনো ওজর ব্যতিরেকেই প্রদেয় পাওনা পরিশোধে বিলম্ব করা(৪)। এই সংজ্ঞা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, পরিশোধে অক্ষম ব্যক্তিকে গড়িমসিমান (মুমাতিল) হিসেবে গণ্য করা হবে না; কারণ তিনি ওজরগ্রস্ত। ইবনে হাজার(৫) বলেন: "ঋণ পরিশোধে সক্ষম ধনীর জন্য পাওনা পরিশোধে গড়িমসি করা হারাম...

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: ইবনে ফারিসের মুজাম মাকায়িস আল-লুগাহ ৫/৩৩১, কিতাবুল মিম, ফাসলুল মিম ওয়াত ত- ওয়া মা ইউসাল্লাসুহুমা, মাদ্দাহ: মাত্তল; ইবনে মানজুরের লিসানুল আরব ১৩/১৩৪, বাবুল মিম, মাদ্দাহ: মাত্তল; আল-ফিরোজাবাদীর আল-কামুস আল-মুহিত ২/১৩৯৬, বাবুল লাম, ফাসলুল মিম, মাদ্দাহ: মাত্তল; আল-জওহরীর তাজুল লুগাহ ১/১৬৮, বাবুল লাম, ফাসলুল মিম, মাদ্দাহ: মাত্তল।

(২) ইবনে ফারিসের মুজাম মাকায়িস আল-লুগাহ ৫/৩৩১, কিতাবুল মিম, ফাসলুল মিম ওয়াত ত- ওয়া মা ইউসাল্লাসুহুমা, মাদ্দাহ: মাত্তল।

(৩) ইবনে মানজুরের লিসানুল আরব ১৩/১৩৪, বাবুল মিম, মাদ্দাহ: মাত্তল।

(৪) দ্রষ্টব্য: হাশিয়াতুদ দিসুকি ৪/১৮১; ইবনে হাজারের ফাতহুল বারি ৪/৫৮৬; আস-সান'আনির সুবুলুস সালাম ৫/১৫৮।

(৫) তিনি হলেন আহমদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-আসকালানি আশ-শাফিয়ি, যিনি ইবনে হাজার নামে পরিচিত। তিনি ৭৭৩ হিজরিতে মিশরে জন্মগ্রহণ করেন এবং নয় বছর বয়সে কুরআন হিফজ করেন। তিনি সহিহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন এবং এর নামকরণ করেন ফাতহুল বারি। তাঁর মতো কেউ কিতাব রচনা করতে পারেননি, এমনকি বলা হয়ে থাকে যে "ফাতহুল বারির (ফাতহ) পর আর কোনো হিজরত নেই"। তাঁর অসংখ্য রচনা রয়েছে। তিনি রাহিমাহুল্লাহ ৮৫২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। দ্রষ্টব্য: আস-সাখাওয়ির আদ-দাওউল লামি লি আহলিল কারনিত তাসি ২/৩৬; আশ-শাওকানির আল-বাদরুত তালি ১/৮৭।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ৩৬)
استحقاقه بخلاف العاجز"(1)، والمطلُ ليس خاصًا بالدَين، بل كل من تأخر عن أداء ما لزمه من حق بغير عذر، قال ابن الملقن(2): "يدخل في مطل الغني كل من عليه حق وهو قادر على القيام به، كالزوجين فيما يتعلق بكل منهما من الحق الذي عليه، وكذا الأصول، والفروع، والسادة، والمماليك، والحاكم، والناظر، وغير ذلك"(3).

وقد أجمع العلماء على أن المماطلة حرام(4)، واستدلوا على ذلك بالأدلة التالية:

الدليل الأول: قول الله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا}(5)

وجه الدلالة من الآية: أن الله سبحانه وتعالى أمر بأداء الأمانات إلى أهلها، والديون من الأمانات التي أمر الله بأدائها، والمماطلة في أدائها مخالفة لأمر الله تعالى.

الدليل الثاني: عن أبى هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «مَطْلُ الْغَنِيِّ ظُلْمٌ»(6).

--------------------------------------------

(1) فتح الباري، لابن حجر 4/ 587.

(2) هو عمر بن علي بن أحمد الأَنْصَارِي الشافعيّ، المعروف بابن الملقن، من أكابر العلماء بالحديث والفقه وتاريخ الرجال، ولد سنة 723 هـ، وله كثير من المصنفات، منها "إكمال تهذيب الكمال في أسماء الرجال"، و"التذكرة في علوم الحديث"، و"الإعلام بفوائد عمدة الأحكام"، توفي رحمه الله سنة 804 هـ. انظر: طبقات الشافعية، لابن قاضي شهبة 4/ 43، الأعلام، للزركلي 7/ 57.

(3) الإعلام بفوائد عمدة الأحكام، لابن الملقن 7/ 374.

(4) انظر: مراتب الإجماع، لابن حزم، ص 98، أحكام القرآن، للجصاص 2/ 195، بدائع الصنائع، للكاساني 7/ 173، حاشية الدسوقي 4/ 181، التمهيد، لابن عبد البر 18/ 286، الزواجر عن اقتراف الكبائر، لابن حجر 1/ 414 - 415، أسنى المطالب، للأنصاري 2/ 186، المغني، لابن قدامة 4/ 292، كشاف القناع، للبهوتي 3/ 418، مجموع الفتاوى، لابن تيمية 28/ 229. المحلى، لابن حزم 6/ 467.

(5) سورة النساء، الآية 58.

(6) رواه البخاري، كتاب الحوالات، باب الحوالة وهل يرجع في الحوالة، برقم 2287، ومسلم، كتاب المساقاة، باب تحريم مطل الغنى وصحة الحوالة واستحباب قبولها إذا أحيل على مَلِيٍّ، برقم 1564، واللفظ له.
"অক্ষম ব্যক্তির বিপরীতে তার প্রাপ্য অধিকার"(১), আর টালবাহানা কেবল ঋণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নয়, বরং কোনো ওজর ছাড়া যার ওপর কোনো হক বা অধিকার অর্পিত হয়েছে তা আদায়ে বিলম্বকারী প্রত্যেক ব্যক্তিই এর অন্তর্ভুক্ত। ইবনুল মুলাক্কিন(২) বলেছেন: "ধনী ব্যক্তির টালবাহানার অন্তর্ভুক্ত এমন প্রত্যেক ব্যক্তি যার ওপর কোনো হক রয়েছে এবং সে তা পালনে সক্ষম। যেমন স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকারের ক্ষেত্রে, অনুরূপভাবে মূল বংশধর (উসুল), শাখা বংশধর (ফুরু), মনিব, দাস, শাসক, তত্ত্বাবধায়ক এবং অন্যান্যদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।"(৩).

ওলামায়ে কেরাম ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন যে, টালবাহানা করা হারাম(৪), এবং তারা এর সপক্ষে নিম্নোক্ত দলীলসমূহ পেশ করেছেন:

প্রথম দলীল: আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও}(৫)

আয়ত থেকে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি: মহান আল্লাহ আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, আর ঋণসমূহ সেই আমানতের অন্তর্ভুক্ত যা আদায়ের নির্দেশ আল্লাহ দিয়েছেন। সুতরাং ঋণ আদায়ে টালবাহানা করা আল্লাহ তাআলার নির্দেশের পরিপন্থী।

দ্বিতীয় দলীল: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «ধনীর টালবাহানা করা জুলুম»(৬)।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার ৪/ ৫৮৭।

(২) তিনি হলেন ওমর ইবনে আলী ইবনে আহমদ আল-আনসারী আশ-শাফেয়ী, যিনি ইবনুল মুলাক্কিন নামে পরিচিত। তিনি হাদিস, ফিকহ এবং বর্ণনাকারীদের (رجال) ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন। তিনি ৭২৩ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার অনেকগুলো গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে "ইকমালু তাহযিবিল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল", "আত-তাযকিরাহ ফী উলুমিল হাদিস (হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) নিয়মাবলি)", এবং "আল-ইলাম বি ফাওয়াইদি উমদাতিল আহকাম" অন্যতম। তিনি ৮০৪ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (রহিমাহুল্লাহ)। দেখুন: তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ, ইবনে ক্বাযী শুহবাহ ৪/ ৪৩; আল-আলাম, যিরিকলী ৭/ ৫৭।

(৩) আল-ইলাম বি ফাওয়াইদি উমদাতিল আহকাম, ইবনুল মুলাক্কিন ৭/ ৩৭৪।

(৪) দেখুন: মারাতীবুল ইজমা, ইবনে হাজম, পৃ. ৯৮; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/ ১৯৫; বাদায়েউস সানায়ে, কাসানী ৭/ ১৭৩; হাশিয়াতুদ দিসুকী ৪/ ১৮১; আত-তামহীদ, ইবনে আব্দুল বার ১৮/ ২৮৬; আয-যাওয়াযির আন ইকতরাফিল কাবায়ের, ইবনে হাজার ১/ ৪১৪ - ৪১৫; আসলাল মাতালিব, আনসারী ২/ ১৮৬; আল-মুগনী, ইবনে কুদামাহ ৪/ ২৯২; কাশশাফুল কিনা, বাহুতী ৩/ ৪১৮; মাজমুউল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়্যাহ ২৮/ ২২৯; আল-মুহাল্লা, ইবনে হাজম ৬/ ৪৬৭।

(৫) সূরা আন-নিসা, আয়াত ৫৮।

(৬) বুখারি বর্ণনা করেছেন, হাওয়ালাত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: হাওয়ালা এবং হাওয়ালা কি ফেরতযোগ্য, হাদিস নম্বর ২২৮৭; এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন, মুসাক্বাত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: ধনীর টালবাহানা হারাম হওয়া এবং হাওয়ালার সঠিকতা ও সচ্ছল ব্যক্তির ওপর হাওয়ালা করা হলে তা গ্রহণ করা মুস্তাহাব, হাদিস নম্বর ১৫৬৪; আর শব্দগুলো মুসলিমের।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وجه الدلالة من الحديث: أن النبي صلى الله عليه وسلم نصَّ على أن المماطلة ظلم، والظلم محرم؛ قال صلى الله عليه وسلم فِيمَا يرويه عَنِ اللهِ تبارك وتعالى أَنَّهُ قَالَ: «يَا عِبَادِي إِنِّي حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَى نَفْسِي، وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا، فَلَا تَظَالَمُوا»(1)، وقد أتى الوعيد الشديد للظالمين(2)؛ قال الله تعالى: {وَقَدْ خَابَ مَنْ حَمَلَ ظُلْمًا}(3).

الدليل الثالث: عن الشريد بن سويد رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لَيُّ الْوَاجِدِ يُحِلُّ عِرْضَهُ وَعُقُوبَتَهُ»(4).

وجه الدلالة من الحديث: أن الحديث دلَّ على حِلّ عِرض المماطل الغني القادر على الوفاء، وعقوبته، وهما محرمان لا يحلان إلا بارتكاب محرم أكبر منهما، وهو هنا المطل(5).

الدليل الرابع: عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ أَخَذَ أَمْوَالَ النَّاسِ يُرِيدُ أَدَاءَهَا أَدَّى اللَّهُ عَنْهُ، وَمَنْ أَخَذَ يُرِيدُ إِتْلَافَهَا أَتْلَفَهُ اللَّهُ»(6).

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم، كتاب البر والصلة، باب تحريم الظلم، برقم 2577.

(2) انظر: التمهيد، لابن عبد البر 18/ 286، الجامع لأحكام القرآن، للقرطبي 6/ 2، مجموع الفتاوى، لابن تيمية 35/ 402.

(3) سورة طه، جزء من الآية 111.

(4) رواه البخاري معلقًا بصيغة التمريض في كتاب "في الاستقراض وأداء الديون والحجر والتفليس"، باب: لصاحب الحق مقال، وأبو داود، كتاب الأقضية، باب في الحبس في الدين وغيره، برقم 3628، والنسائي، كتاب البيوع، باب مطل الغني، برقم 6288، وابن ماجة، كتاب الصدقات، باب الحبس في الدين والملازمة، برقم 2427، وأحمد، حديث الشريد بن سويد الثقفي، برقم 17945. والحديث ضعيف؛ فهو من طريق محمد بن عبد الله بن ميمون بن مسيكة، عن عمرو بن الشريد عن أبيه الشريد بن سويد الثقفي، ومحمد بن عبد الله بن ميمون بن مسيكه مجهول الحال. قال بن المديني: "مجهول لم يروِ عنه غير وبرة". انظر: الجرح والتعديل، لابن أبي حاتم 8/ 80، تهذيب التهذيب، لابن حجر 9/ 281.

(5) انظر: التمهيد، لابن عبد البر 18/ 286، المغني، لابن قدامة 4/ 292.

(6) رواه البخاري، كتاب في الاستقراض وأداء الديون والحجر والتفليس، باب من أخذ أموال الناس يريد أداءها أو إتلافها، برقم 2387.
হাদিস থেকে দলিলের দিক হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা হলো জুলুম, আর জুলুম হারাম; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা থেকে বর্ণনা করে বলেন যে তিনি বলেছেন: «হে আমার বান্দারা! আমি জুলুমকে নিজের ওপর হারাম করেছি এবং একে তোমাদের মধ্যেও হারাম সাব্যস্ত করেছি, সুতরাং তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না»(১)। আর জালেমদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে(২); আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আর সেই ব্যক্তিই ব্যর্থ হয়েছে, যে জুলুম বহন করেছে}(৩)।

তৃতীয় দলিল: শারীদ ইবনে সুওয়াইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «সামর্থ্যবান ব্যক্তির গড়িমসি তার সম্মানহানি ও তাকে শাস্তি দেওয়া বৈধ করে দেয়»(৪)।

হাদিস থেকে দলিলের দিক হলো: হাদিসটি সম্পদশালী ও ঋণ পরিশোধে সক্ষম ব্যক্তির গড়িমসির কারণে তার সম্মানহানি ও শাস্তিকে বৈধ হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে। এই দুটি বিষয় মূলত হারাম, যা তার চেয়ে বড় কোনো হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া ছাড়া বৈধ হয় না; আর তা হলো এখানে ঋণ পরিশোধে গড়িমসি(৫)।

চতুর্থ দলিল: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ পরিশোধের নিয়তে গ্রহণ করে, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করে দেন। আর যে তা আত্মসাৎ করার নিয়তে গ্রহণ করে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেন»(৬)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ, জুলুম হারাম হওয়া সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ২৫৭৭।

(২) দেখুন: ইবনে আব্দুল বার রচিত আত-তামহিদ ১৮/২৮৬, কুরতুবি রচিত আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন ৬/২, ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত মাজমু আল-ফাতাওয়া ৩৫/৪০২।

(৩) সূরা ত্বহা, আয়াত ১১১-এর অংশ।

(৪) বুখারি এটি বিচ্ছিন্ন-সূত্র (معلقا) হিসেবে এবং দুর্বলতা নির্দেশক শব্দে (بصيغة التمريض) বর্ণনা করেছেন 'ঋণ গ্রহণ, ঋণ পরিশোধ, নিষেধাজ্ঞা ও দেউলিয়া হওয়া' অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: পাওনাদারের কথা বলার অধিকার রয়েছে; আবু দাউদ, কিতাবুল আকদিয়াহ, অনুচ্ছেদ: ঋণের কারণে বন্দি রাখা, হাদিস নম্বর ৩৬২৮; নাসায়ি, কিতাবুল বুয়ু, সামর্থ্যবানের গড়িমসি অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৬২৮৮; ইবনে মাজাহ, কিতাবুস সাদাকাত, অনুচ্ছেদ: ঋণের কারণে বন্দি রাখা ও সাথে থাকা, হাদিস নম্বর ২৪২৭; এবং আহমাদ, শারীদ ইবনে সুওয়াইদ আস-সাকাফি বর্ণিত হাদিস, হাদিস নম্বর ১৭৯৪৫। হাদিসটি দুর্বল (ضعيف); এটি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাইমুন ইবনে মুসাইকাহ-এর সূত্রে, আমর ইবনে শারীদ থেকে, তার পিতা শারীদ ইবনে সুওয়াইদ আস-সাকাফি থেকে বর্ণিত। আর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাইমুন ইবনে মুসাইকাহ হলেন অবস্থা অজ্ঞাত (مجهول الحال)। ইবনুল মাদিনি বলেছেন: "অজ্ঞাত (مجهول), ওয়াবরা ব্যতীত তার থেকে কেউ বর্ণনা করেননি।" দেখুন: ইবনে আবি হাতিম রচিত আল-জারহ ওয়াত তাদিল ৮/৮০, ইবনে হাজার রচিত তাহজিবুত তাহজিব ৯/২৮১।

(৫) দেখুন: ইবনে আব্দুল বার রচিত আত-তামহিদ ১৮/২৮৬, ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি ৪/২৯২।

(৬) বুখারি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল ইসতিকরাদ ওয়া আদাইদ দুয়ুন ওয়াল হাজর ওয়াত তাফলিস, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ পরিশোধের বা আত্মসাতের নিয়তে গ্রহণ করে, হাদিস নম্বর ২৩৮৭।
(খণ্ড: ১) তাগায়ুরুল আজাল ওয়া আসারুহু ফিদ দুয়ূন (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وجه الدلالة من الحديث: أن النبي صلى الله عليه وسلم توعد من أخذ أموال الناس يريد المماطلة بها، وعدم أدائها، بأن يتلفه الله عز وجل(1)، وهذا دليل على ارتكابه لفعل محرم.

الدليل الخامس: أن العلماء أجمعوا على أن المماطلة من المحرمات، قال ابن حزم(2): "وأجمعوا على أن كل من لزمه حق في ماله، أو في ذمته لأحد، ففرض عليه أداء الحق لمن هو له عليه إذا أمكنه ذلك"(3)، وقال: "فإن كان الطالب محقاً، فحرام على المطلوب بلا خلاف من أحد من أهل الإسلام أن يمنعه حقه، أو يمطله، وهو قادر على إنصافه "(4).

والمماطلة من كبائر الذنوب، والأدلة على ذلك:

الدليل الأول: عن الشريد بن سويد رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لَيُّ الْوَاجِدِ يُحِلُّ عِرْضَهُ وَعُقُوبَتَهُ»(5).

وجه الدلالة من الحديث: أن النبي صلى الله عليه وسلم أحلَّ غيبة المدين المماطل،

--------------------------------------------

(1) قال ابن حجر في الفتح 5/ 68 - 69: "ظاهرُه أن الإتلاف يقع له في الدنيا، وذلك في معاشه أو في نفسه وهو علم من أعلام النبوة لما نراه بالمشاهدة ممن يتعاطى شيئًا من الأمرين وقيل المراد بالإتلاف: عذاب الآخرة".

(2) هو علي بن أحمد بن سعيد بن حزم الظاهري، ولد سنة 384 هـ، وكانت له الوزارة وتدبير المملكة، فانصرف عنها إلى التأليف والعلم، كان حافظًا يستنبط الأحكام من الكتاب والسنة على طريقة أهل الظاهر، بعيدًا عن المصانعة حتى شُبه لسانه بسيف الحجاج، من مصنفاته: "الإحكام في أصول الأحكام"، و"المحلى في شرح المجلى بالحجج والآثار"، طاردَه الملوك حتى توفي مبعدًا عن بلده سنة 456 هـ. انظر: سير أعلام النبلاء، للذهبي 18/ 184، البداية والنهاية، لابن كثير 15/ 795.

(3) مراتب الإجماع، لابن حزم ص 98.

(4) المحلى، لابن حزم 6/ 467.

(5) سبق تخريجه
হাদিস থেকে প্রমাণের দিকটি হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই ব্যক্তিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে মানুষের সম্পদ এই উদ্দেশ্যে গ্রহণ করে যে সে তা নিয়ে টালবাহানা করবে এবং তা পরিশোধ করবে না; আল্লাহ তাআলা তাকে ধ্বংস করে দেবেন(1), আর এটি তার একটি হারাম (নিষিদ্ধ) কাজে লিপ্ত হওয়ার প্রমাণ।

পঞ্চম দলিল: ওলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন যে, পাওনা পরিশোধে টালবাহানা করা হারাম কাজগুলোর অন্তর্ভুক্ত। ইবনে হাজম(2) বলেছেন: "তারা ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন যে, যার ওপর তার সম্পদে বা তার জিম্মায় কারো কোনো হক সাব্যস্ত হয়, তবে তার জন্য পাওনাদারের সেই হক আদায় করা ফরজ (فرض), যদি তা করা তার পক্ষে সম্ভব হয়"(3), এবং তিনি বলেছেন: "যদি দাবিদার সত্যবাদী হয়, তবে ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে কারো কোনো দ্বিমত ছাড়াই এটি হারাম যে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পাওনাদারকে তার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা বা টালবাহানা করা"(4)।

আর টালবাহানা করা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত, এর দলিলসমূহ হলো:

প্রথম দলিল: আশ-শারীদ ইবনে সুওয়াইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সামর্থ্যবান ব্যক্তির টালবাহানা তার সম্মানহানি ও শাস্তিকে বৈধ করে দেয়»(5)।

হাদিস থেকে প্রমাণের দিকটি হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) টালবাহানাকারী ঋণী ব্যক্তির গীবত করাকে বৈধ করেছেন।

--------------------------------------------

(1) ফাতহুল বারীতে (৫/৬৮-৬৯) ইবনে হাজার বলেন: "এর প্রকাশ্য অর্থ হলো এই ধ্বংস তার দুনিয়াতে ঘটবে, অর্থাৎ তার জীবনযাত্রায় অথবা তার নিজের ওপর। এটি নবুওয়তের অন্যতম নিদর্শন, কারণ আমরা যারা এই দুই প্রকারের (হক নষ্ট করা) কোনোটিতে লিপ্ত হয়, বাস্তবে তাদের ক্ষেত্রে তা প্রত্যক্ষ করি। আবার কারো মতে 'ধ্বংস' দ্বারা পরকালের আজাবকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে।"

(2) তিনি হলেন আলী ইবনে আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাজম আল-জাহেরি, তিনি ৩৮৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মন্ত্রিত্ব ও রাজ্য পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, পরবর্তীতে তিনি তা থেকে বিমুখ হয়ে গ্রন্থ রচনা ও জ্ঞানচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি একজন হাফিজ (حافظ) ছিলেন, যিনি জাহেরি পদ্ধতিতে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে বিধিবিধান ইস্তিম্বাত (استنباط) করতেন। তিনি সত্য প্রকাশে এতটাই স্পষ্টভাষী ছিলেন যে, তার জিহ্বাকে হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের তরবারির সাথে তুলনা করা হতো। তার উল্লেখযোগ্য রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: 'আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম' এবং 'আল-মুহাল্লা ফি শারহিল মুজাল্লা বিল হুজাজি ওয়াল আসার'। রাজা-বাদশাহরা তাকে তাড়া করে ফিরত, শেষ পর্যন্ত তিনি নিজ দেশ থেকে নির্বাসিত অবস্থায় ৪৫৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: যাহাবীর 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' ১৮/১৮৪, ইবনে কাসীরের 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' ১৫/৭৯৫।

(3) মারাতীবুল ইজমা, ইবনে হাজম, পৃষ্ঠা ৯৮।

(4) আল-মুহাল্লা, ইবনে হাজম ৬/৪৬৭।

(5) এর তখরিজ (تخريج) ইতিপূর্বে করা হয়েছে।