(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: -)
سبط ابن الجوزي المؤرخ الواعظ القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: سبط ابن الجوزي (المؤرخ الواعظ) في مرآة الزمان
(5811 هـ = 1185 م - 654 هـ = 1257 م)
المؤلف: إبراهيم الزيبق
الناشر: دار البشائر، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1438 هـ - 2017 م
عدد الصفحات: 292
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ذو الحجة 1446
সিবত ইবনুল জাওজি: ঐতিহাসিক ও ওয়ায়েজ বিভাগ: জীবনী ও তবাকাত
গ্রন্থ: মিরআতুয যামান-এ সিবত ইবনুল জাওজি (ঐতিহাসিক ও ওয়ায়েজ)
(৫৮১১ হিজরি = ১১৮৫ খ্রিস্টাব্দ - ৬৫৪ হিজরি = ১২৫৭ খ্রিস্টাব্দ)
লেখক: ইব্রাহিম আল-যাইবায়ক
প্রকাশক: দারুল বাশায়েব, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৮ হিজরি - ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯২
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২ জিলহজ ১৪৪৬
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ٦)
«هل وضعت التواريخ إلا لتميز بين الصحيح والسقيم، والسالم والسليم؟ فلله در التاريخ».
سبط ابن الجوزي
«সঠিক ও ত্রুটিপূর্ণ এবং অক্ষত ও নির্ভুলের মাঝে পার্থক্য করার জন্যই কি ইতিহাস বা তারিখসমূহ নির্ধারিত হয়েছে? ইতিহাসের কৃতিত্ব কতই না চমৎকার!»
সিবত ইবনুল জাওযী
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ٧)
مقدمةحين عشت، فيما غبر من سنين، مع مؤلفات أبي شامة التاريخية، تحقيقا وتعليقا، ثم أفردت دراسة عن حياته وآثاره، لم يكن يخطر في بالي آنئذ أنني سأعيش مع معاصره سبط ابن الجوزي، إلى أن عرضت علي مخطوطات كتابه «مرآة الزمان»، لأرى فيها رأيي. وقد اكتشفت يومئذ، بلذة ممزوجة بألم، وأنا أستعرض نسخها وأقابلها، أن ما بين أيدينا من هذا السفر العظيم هو مختصرات له؛ أتمها مختصر قطب الدين اليونيني؛ بل إنه لم يقتصر على اختصاره، فأضاف إليه إضافات يسيرة في بعض المواضع، وقد خفي ذلك على من وقف على الكتاب قبلي من باحثين ومحققين. ومن ثم تطلعت إلى تحمل عبء تحقيقه، ولأمر ما حيل بيني وبين ما أملت، فاخترت تحقيق الأجزاء الثلاثة الأخيرة منه؛ لأنها في أحداثها وتراجمها تتوافق مع العصر نفسه الذي كنت وما زلت دائم الانشغال به، وأعني به عصر الزنكيين، ومن بعدهم الأيوبيين في مصر والشام.
وكعادتي كنت أدون ما يعن لي من ملاحظات في أثناء التحقيق، للاستفادة منها في التقديم له، وعقد ترجمة لمصنفه؛ وما كان يخطر في بالي وقتئذ أنني سأصرف حتى عن تحقيق رغبتي هذه أيضا لأمر لا أعلمه، فطويت آسفا ما كتبت، وأودعته درج أوراقي.
وتعاقبت السنون، ونشر الكتاب، وقرأت أخيرا مقدمة تحقيقه، وترجمة مؤلفه، ولم يك أتيح لي الاطلاع عليها من قبل؛ فإذا هي مقدمة لا تصف الكتاب حق وصفه، ولا تنصف مؤلفه بترجمة وافية له، بله ما وقع فيها من أخطاء وعثرات.
উপস্থাপনাবিগত বছরগুলোতে আমি যখন আবু শামার ঐতিহাসিক রচনাবলি নিয়ে কাজ করছিলাম—সেগুলোর সম্পাদনা ও টীকা প্রদানের মাধ্যমে—এবং পরবর্তীতে তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি স্বতন্ত্র গবেষণা প্রস্তুত করেছিলাম, তখন আমার মনেও আসেনি যে আমি তাঁর সমসাময়িক সিবত ইবনুল জাওযীর সাথেও সময় অতিবাহিত করব; যতক্ষণ না তাঁর ‘মিরআতুয যামান’ গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিগুলো আমার সামনে উপস্থাপিত হলো যাতে আমি সে সম্পর্কে আমার মতামত ব্যক্ত করতে পারি। সে সময় আমি আনন্দের সাথে মিশ্রিত বেদনার সাথে আবিষ্কার করলাম—যখন আমি এর কপিগুলো পর্যালোচনা ও মোকাবিলা করছিলাম—যে, এই মহান গ্রন্থের যা আমাদের হাতে রয়েছে তা মূলত এর সংক্ষিপ্তসার; যার মধ্যে কুতুবুদ্দীন আল-ইউনীনীর সংক্ষিপ্তকরণটি পূর্ণাঙ্গ। বরং তিনি কেবল সংক্ষেপেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং কিছু স্থানে সামান্য সংযোজনও করেছেন। বিষয়টি আমার পূর্ববর্তী গবেষক ও সম্পাদকদের দৃষ্টিগোচর হয়নি। এর ফলে আমি এটি সম্পাদনার ভার বহনের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করি। কিন্তু কোনো এক কারণে আমার প্রত্যাশা পূরণে বাধা সৃষ্টি হয়। তাই আমি এর শেষ তিনটি খণ্ড সম্পাদনার সিদ্ধান্ত নেই; কারণ এর ঘটনাবলি ও জীবনীগুলো সেই যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে যুগে আমি সর্বদা ব্যস্ত ছিলাম এবং এখনও আছি। আমি এর দ্বারা যঙ্গী বংশের শাসনকাল এবং পরবর্তীতে মিশর ও শামের আইয়ুবী আমলকে বোঝাচ্ছি।
আমার অভ্যাস অনুযায়ী, সম্পাদনার সময় আমি আমার মনে আসা পর্যবেক্ষণগুলো লিখে রাখতাম যাতে সেগুলো গ্রন্থের মুখবন্ধে এবং লেখকের জীবনী রচনায় ব্যবহার করতে পারি। তখন আমার কল্পনায়ও ছিল না যে, কোনো এক অজ্ঞাত কারণে আমি আমার এই ইচ্ছা পূরণ থেকেও বঞ্চিত হব। ফলে আক্ষেপের সাথে আমি আমার লেখাগুলো গুটিয়ে ফেলি এবং তা আমার কাগজপত্রের ড্রয়ারে রেখে দেই।
বছরের পর বছর অতিক্রান্ত হলো এবং বইটি প্রকাশিত হলো। অবশেষে আমি এর সম্পাদিত সংস্করণের মুখবন্ধ এবং লেখকের জীবনী পড়ার সুযোগ পেলাম, যা আগে আমার দেখার সুযোগ হয়নি। আমি দেখলাম যে, এটি এমন এক মুখবন্ধ যা গ্রন্থটির যথার্থ বর্ণনা দিতে পারেনি এবং লেখকের পূর্ণাঙ্গ জীবনী উল্লেখ করে তাঁর প্রতি সুবিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে; এর মধ্যে বিদ্যমান ভুলভ্রান্তি ও বিচ্যুতি তো আছেই।
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ٨)
وانتابني يومذاك إحساس مؤلم واخز حقا، فالمقدمة هي أول ما يطالعه القارئ من الكتاب، وهي صاحبة الانطباع الأول عنه، إن حسنا وإن شيئا. وتلك المقدمة جاءت باضطرابها وأوهامها تسعى بين يدي القارئ، وتلقف تلك الجهود الكبيرة التي بذلت في تحقيقه. ووجدتني أفكر من جديد بالملاحظات التي أودعتها درج أوراقي وكدت أنساها؛ فمن حق القارئ علي أن أنشرها بين يديه، ولا سيما أنني أحد المشاركين بتحقيق الكتاب.
ثم إن لسبط ابن الجوزي علي حقا لا بد أن أؤديه، ولئن حالت حوائل دون كتابتي عنه فيما سلف، إن أمورا عديدة تدفعني إليها الآن؛ فقد صحبته سنين مع كلماته، باح لي فيها ببعض خفايا حياته، كان قد طواها بين سطور كتابه، فرأيتني كالمرغم على البوح بها للقارئ، وهل التاريخ إلا بوح الإنسان للإنسان على اختلاف الأزمنة والأعصار؟
ومن ثم، فإن جل اعتمادي - فيما أسوق من أخباره على ما أورده منثورا في تضاعيف كتابه، كلما عنت له مناسبة تدعوه إلى ذكرها. وأخشى ما أخشاه أن يكون قطب الدين اليونيني قد زهد في بعضها، فأسقطها في اختصاره.
وما أغراني بالكتابة عنه كذلك: أن من سبقني بالترجمة له وذلك في مقدمات تحقيقهم لبعض كتبه، ومنهم علماء أجلاء قد وقعوا في أوهام وأغاليط؛ فاختزلوا بعض وقائعها، ووضعوها في غير مواضعها، ولم يقفوا على بعضها الآخر، منساقين من ثم إلى تحليلات تفتقر إلى الدقة العلمية والاستنباط السليم. وربما وقعوا فيما وقعوا فيه لافتقارهم إلى كتابه «المرآة» تاما بين أيديهم، فغابت بذلك معالم أساسية من سيرته. ولم ألتزم بالتنبيه على أوهامهم، وهي غير قليلة، تاركا أمر التهدي إليها لمن أراد من الباحثين والقراء الراغبين.
ثم إن سبط ابن الجوزي عاش هو والمؤرخ أبو شامة في عصر واحد، وفي مدينة واحدة؛ هي مدينتي الحبيبة دمشق.
ঐ দিন আমার মনে একটি সত্যিই কষ্টদায়ক ও বিঁধতে থাকা অনুভূতি জেগেছিল। কারণ ভূমিকা হলো এমন একটি বিষয় যা পাঠক বইটির মধ্যে সর্বপ্রথম পাঠ করে এবং এটিই বই সম্পর্কে প্রথম ভালো বা মন্দ ধারণা তৈরি করে। আর সেই ভূমিকাটি তার বিশৃঙ্খলা ও ভুলভ্রান্তি নিয়ে পাঠকের সামনে উপস্থিত হয়েছিল এবং গ্রন্থটি সম্পাদনায় নিয়োজিত সেই বিশাল শ্রমকে গ্রাস করে নিচ্ছিল। আমি পুনরায় সেই নোটগুলো নিয়ে ভাবতে শুরু করলাম যা আমি আমার কাগজের ড্রয়ারে রেখে দিয়েছিলাম এবং প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। পাঠকের এটি আমার কাছে প্রাপ্য যে আমি তা তাদের সামনে প্রকাশ করি, বিশেষ করে যেহেতু আমি এই গ্রন্থটি সম্পাদনার অন্যতম একজন অংশগ্রহণকারী।
তদুপরি সিবত ইবনুল জাওযীর প্রতি আমার একটি হক বা পাওনা রয়েছে যা অবশ্যই আমাকে আদায় করতে হবে। যদিও অতীতে বিভিন্ন বাধা তাঁর সম্পর্কে আমার লেখায় অন্তরায় হয়েছিল, তবুও বর্তমানে অনেকগুলো বিষয় আমাকে সেদিকে ধাবিত করছে। আমি দীর্ঘ বছর তাঁর বাণীর সাথে অতিবাহিত করেছি, যেখানে তিনি তাঁর জীবনের কিছু গোপন রহস্য আমার কাছে ব্যক্ত করেছেন, যা তিনি তাঁর বইয়ের লাইনের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে রেখেছিলেন। তাই আমি নিজেকে পাঠকের কাছে তা প্রকাশ করতে বাধ্য বলে মনে করলাম। আর ইতিহাস কি মানুষের প্রতি মানুষের মনের কথা ব্যক্ত করা ছাড়া আর কিছু, যা যুগ ও কালের আবর্তনে বয়ে চলে?
ফলে, তাঁর সম্পর্কে আমি যা বর্ণনা করছি তার প্রধান ভিত্তি হলো তাঁর গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বর্ণনাগুলো, যখনই কোনো উপলক্ষ তাঁকে তা উল্লেখ করতে প্ররোচিত করেছে। আমি সবচেয়ে বেশি যা আশঙ্কা করছি তা হলো কুতুবুদ্দীন আল-ইউনীনী হয়ত এর কিছু বিষয়ের প্রতি অনাগ্রহ দেখিয়েছেন এবং তাঁর সংক্ষিপ্তকরণে সেগুলো বাদ দিয়ে গেছেন।
তাঁর সম্পর্কে লিখতে আমাকে যা প্রলুব্ধ করেছে তা হলো: আমার পূর্বে যারা তাঁর জীবনী লিখেছেন—তাঁদের সম্পাদিত কিছু বইয়ের ভূমিকায়—যাঁদের মধ্যে প্রথিতযশা আলেমগণও রয়েছেন, তাঁরা কিছু ভ্রম ও ভুলের শিকার হয়েছেন। তাঁরা কিছু ঘটনাকে সংক্ষেপ করেছেন, সেগুলোকে ভুল স্থানে স্থাপন করেছেন এবং অন্য কিছু ঘটনার হদিস পাননি। ফলে তাঁরা এমন সব বিশ্লেষণের দিকে ধাবিত হয়েছেন যাতে বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতা এবং সঠিক গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের অভাব ছিল। সম্ভবত তাঁরা এই ভুলের শিকার হয়েছেন কারণ তাঁদের হাতে তাঁর গ্রন্থ «আল-মিরআত» পূর্ণাঙ্গভাবে ছিল না, ফলে তাঁর জীবনীর মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলো আড়ালে রয়ে গেছে। আমি তাঁদের সেই ভুলগুলো—যা সংখ্যায় কম নয়—চিহ্নিত করার দায়ভার গ্রহণ করিনি, বরং আগ্রহী গবেষক ও পাঠকদের জন্য তা খুঁজে বের করার বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছি।
তদুপরি, সিবত ইবনুল জাওযী এবং ঐতিহাসিক আবু শামাহ একই যুগে এবং একই শহরে বাস করতেন; আর তা হলো আমার প্রিয় শহর দামেস্ক।
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ٩)
ومع أن حب التاريخ والاشتغال به جمع بينهما، فقد فرقت بينهما المشارب، فلم يتعارفا. وبينما اكتفى أبو شامة في عزلته - وهو العالم بالقراءات والفقه - بالانكباب على التاريخ جمعا وتدوينا ومشاهدة، ألقى سبط ابن الجوزي نفسه في عبابه، مشاركا بأحداثه، مصاحبا لملوك عصره.
فهما حقا شخصيتان متباينتان، تمثلان منهجين مختلفين في رؤية التاريخ وتدوينه:
أبو شامة ذلك المؤرخ العالم المجتنب للسلطان، والفاضح لفساد عصره ومفسديه، فهو يدون التاريخ من موقف المصلح، ويسعى جاهدا أن يتثبت مما يكتب، مؤملا أن يساعد في التغيير نحو الأفضل.
وسبط ابن الجوزي ذلك المؤرخ الواعظ، المخالط للسلاطين، والمغتبط بصحبتهم على إنكاره لبعض أفعالهم، فهو أخباري يدون التاريخ للتاريخ فحسب، وككثير من الوعاظ تعوزه الدقة أحيانا فيما يورده، مع ولعه بالمبالغة والغرائب.
فمن دواعي الإنصاف للبحث العلمي أن نجلي صورة سبط ابن الجوزي، وننظر إلى عصره بعينيه، كما جلونا صورة أبي شامة من قبل، حتى تكتمل النظرتان، وهو أمر يستحق منا عناء البحث والاستقصاء، وأملي أن يستحق القراءة أيضا.
وختاما: الله تعالى أسأل أن يعصم قلمي من الخطأ والخطل، وفهمي من الزيغ والزلل، إنه أكرم مسؤول، وأعظم مأمول صلى الله عليه وسلم.
دمشق في 20 المحرم الحرام 1438 هـ / 21 تشرين الأول 2016 م
إبراهيم الربيق
যদিও ইতিহাসের প্রতি ভালোবাসা এবং এর চর্চা তাঁদের উভয়কে একত্রিত করেছিল, তবে তাঁদের রুচি ও স্বভাবের ভিন্নতা তাঁদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছিল, ফলে তাঁদের মধ্যে জানাশোনা হয়নি। আবু শামাহ —যিনি কিরাআত ও ফিকহ শাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন— যখন নিভৃতবাসে থেকে ইতিহাস সংগ্রহ, সংকলন ও পর্যবেক্ষণে নিমগ্ন থাকাকেই যথেষ্ট মনে করেছিলেন, তখন সিবত ইবনুল জাওযী নিজেকে ইতিহাসের উত্তাল স্রোতে সঁপে দিয়েছিলেন, এর ঘটনাবলিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং নিজ যুগের রাজন্যবর্গের সঙ্গী হয়েছিলেন।
সুতরাং তাঁরা প্রকৃতপক্ষে দুটি স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব, যাঁরা ইতিহাস দর্শন ও তা লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন পদ্ধতির প্রতিনিধিত্ব করেন:
আবু শামাহ হলেন সেই আলিম ঐতিহাসিক, যিনি সুলতানদের এড়িয়ে চলতেন এবং তাঁর যুগের দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচন করতেন। তিনি একজন সংস্কারকের অবস্থান থেকে ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেন এবং যা লিখছেন তা যাচাই-বাছাই করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন, এই আশায় যে এটি ইতিবাচক পরিবর্তনে সহায়ক হবে।
আর সিবত ইবনুল জাওযী হলেন সেই ওয়ায়েজ ঐতিহাসিক, যিনি সুলতানদের সাথে মেলামেশা করতেন এবং তাঁদের কিছু কর্মের প্রতিবাদ করা সত্ত্বেও তাঁদের সাহচর্যে তৃপ্তিবোধ করতেন। তিনি কেবল ইতিহাসের খাতিরেই ইতিহাস লিপিবদ্ধকারী একজন বর্ণনাকারী; অনেক ওয়ায়েজের মতো তাঁর বর্ণনায় কখনো কখনো নির্ভুলতার অভাব পরিলক্ষিত হয়, পাশাপাশি অতিরঞ্জন ও অদ্ভুত বিষয়ের প্রতি তাঁর বিশেষ ঝোঁক ছিল।
বৈজ্ঞানিক গবেষণার ইনসাফের দাবি হলো আমরা যেন সিবত ইবনুল জাওযীর চিত্রটি স্পষ্ট করি এবং তাঁর চোখ দিয়ে তাঁর যুগকে দেখি, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে আবু শামাহর চিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছি, যাতে উভয় দৃষ্টিভঙ্গি পূর্ণতা পায়। এটি এমন একটি বিষয় যা আমাদের পক্ষ থেকে গবেষণা ও অনুসন্ধানের পরিশ্রমের দাবি রাখে এবং আমার আশা যে এটি পাঠ করার যোগ্যও হবে।
পরিশেষে: আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার কলমকে ভুল ও অসারতা থেকে এবং আমার বুঝকে বিচ্যুতি ও পদস্খলন থেকে রক্ষা করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ যাঞ্চাস্থল এবং মহান আশা-ভরসার আধার। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
দামেশক, ২০ মুহাররমুল হারাম ১৪৩৮ হিজরী / ২১ অক্টোবর ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ
ইব্রাহিম আল-রুবাইক
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ١١)
في طفولته وصباه- 1 -
هو: يوسف بن حسام الدين قزأغلي بن عبد الله، شمس الدين، أبو المظفر، التركي، العوني، الهبيري، البغدادي ثم الدمشقي، والحنبلي ثم الحنفي، سبط الإمام العالم المحدث الواعظ جمال الدين أبي الفرج عبد الرحمن بن علي بن محمد ابن الجوزي
(1).
--------------------------------------------
তাঁর শৈশব ও কৈশোরকালে- ১ -
তিনি হলেন: ইউসুফ ইবনে হুসামুদ্দিন কজআগলি ইবনে আব্দুল্লাহ, শামসুদ্দিন, আবুল মুজাফফর, তুর্কি, আউনী, হাবীরী, বাগদাদী অতঃপর দামেস্কী, এবং হাম্বলী অতঃপর হানাফী; ইমাম, আলেম, মুহাদ্দিস ও ওয়ায়েজ জামালুদ্দিন আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল জাওযীর দৌহিত্র (সিবত)
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
ولا نعرف إلا القليل عن والديه.
فأبوه: حسام الدين قزأغلي من مماليك الوزير عون الدين يحيى بن محمد ابن هبيرة
(1)، وكان عنده بمنزلة الولد، فأعتقه
(2). وبعد وفاته تدرجت الأحوال به حتى صار من أعوان صاحب المخزن ظهير الدين أبي بكر ابن العطار
(3).
وأما والدته، فهي: رابعة بنت الشيخ عبد الرحمن ابن الجوزي
(4)، ولا نعرف شيئا عن أمها وأسرتها إلا خالها خاصبك، وكان من ملازمي مجلس الشيخ عبد القادر الجيلي، ويوحي اسمه أنه من أصول تركية
(5).
وكانت رابعة على شيء من العلم كسائر أخواتها
(6)، فقد سمعت الحديث من أبيها ومن معظم مشايخه. وأول أزواجها أبو الفتح بن رشيد الطبري، زفت إليه في المحرم سنة 572 هـ/ تموز 1176 م، ولم يطل عمره معها، فلما تأيمت بوفاته خطبها حسام الدين من أبيها، فزوجها له
(7) ربما وفاء لمودة كانت له للوزير
(8) وأولدها يوسف في رجب سنة 581 هـ/
--------------------------------------------
আমরা তাঁর পিতা-মাতা সম্পর্কে খুব সামান্যই জানি।
তাঁর পিতা হলেন: হুসামুদ্দিন কিযউগলি, যিনি উজির আওনুদ্দিন ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হুবায়রার
(১) মামলুকদের (ক্রীতদাস) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি তাঁর কাছে সন্তানের মর্যাদায় ছিলেন, ফলে তিনি তাঁকে মুক্ত করে দেন
(২)। তাঁর মৃত্যুর পর পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত সাহিবুল মাখজান জহিরুদ্দিন আবু বকর ইবনুল আত্তারের
(৩) একজন সহযোগীতে পরিণত হন।
আর তাঁর মাতা হলেন: রাবেয়া বিনতে শায়খ আবদুর রহমান ইবনুল জাওজি
(৪)। তাঁর মা ও পরিবার সম্পর্কে আমরা বিশেষ কিছু জানি না, কেবল তাঁর মামা খসবিক সম্পর্কে জানা যায়। তিনি শায়খ আবদুল কাদির জিলানির মজলিসের নিয়মিত উপস্থিতদের একজন ছিলেন এবং তাঁর নাম ইঙ্গিত দেয় যে তিনি তুর্কি বংশোদ্ভূত
(৫)।
রাবেয়া তাঁর অন্যান্য বোনদের মতোই কিছু ইলম বা জ্ঞান অর্জন করেছিলেন
(৬); তিনি তাঁর পিতা এবং পিতার অধিকাংশ শায়খদের থেকে হাদিস শ্রবণ করেছিলেন। তাঁর প্রথম স্বামী ছিলেন আবুল ফাতহ বিন রশিদ তাবারী, ৫৭২ হিজরির মহরম মাসে / ১১৭৬ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে তাঁর সাথে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁর সাথে তাঁর দাম্পত্য জীবন দীর্ঘ হয়নি। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি যখন বিধবা হন, তখন হুসামুদ্দিন তাঁর পিতার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেন। সম্ভবত উজিরের প্রতি তাঁর যে হৃদ্যতা ছিল, তার প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি (ইবনুল জাওজি) তাঁর সাথে বিয়ে দেন
(৭) এবং ৫৮১ হিজরির রজব মাসে ইউসুফ তাঁর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
تشرين الأول 1185 م
(1).
ولعله ابنهما الوحيد، فإنه لم يحدثنا من بعد عن إخوة له أو أخوات.
--------------------------------------------
অক্টোবর ১১৮৫ খ্রিস্টাব্দ
(১)।
সম্ভবত তিনি তাদের একমাত্র সন্তান ছিলেন, কেননা তিনি পরবর্তীকালে তার কোনো ভাই বা বোন সম্পর্কে আমাদের কিছু জানাননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
ولما ترعرع يوسف اجتذبه جده إليه، فأقرأه وتفقه عليه، وأسمعه الكثير من مروياته، ومن غيره من العلماء
(1).
وكان يوسف يقيم وقتذاك في الحربية
(2)؛ محلة الحنابلة غربي بغداد
(3)، في دار مجاورة لقبر زاهدها الورع علي بن عمر المعروف بابن القزويني (المتوفى سنة 442 هـ/ 1051 م)، فكان يقف على قبره، ويرى بركة زيارته
(4).
ويختلف إلى حلقات شيوخها
(5):
فقرأ القرآن على شيخ القراء
(6) ريحان بن تيكان بن موسك - وكان قد ختم ألوفا من الطلبة -، وسمع منه الحديث
(7).
وسمع كذلك من: عبد الله بن أبي بكر بن أحمد بن طليب - ويعرف بابن السندان، وكان شيخا صالحا ثقة
(8) -، والواعظ عمر بن علي الحربي
(9)، والزاهد العابد أبي العباس أحمد بن سلمان الحربي - وكان جاره، ويصلي خلفه في المسجد
(10)، والشيخ عبد الرحمن بن أبي حامد ابن عصية الحربي
(11)، والشيخ يوسف بن يعقوب الحربي
(12)،
--------------------------------------------
যখন ইউসুফ বড় হলেন, তার দাদা তাকে নিজের কাছে টেনে নিলেন, এরপর তাকে পাঠ দান করলেন এবং ফিকহ শেখালেন। তিনি তাকে নিজের বর্ণিত হাদীসসমূহ এবং অন্যান্য আলেমদের থেকে প্রাপ্ত অনেক বর্ণনা শ্রবণ করালেন
(১).
ইউসুফ সে সময় হারবিয়াতে বসবাস করতেন
(২); যা ছিল বাগদাদের পশ্চিমে হাম্বলিদের এলাকা
(৩)। তিনি সেখানকার পরহেজগার জাহিদ আলী বিন উমর—যিনি ইবনুল কাযভিনী নামে পরিচিত (মৃত্যু ৪৪২ হি./ ১০৫১ খ্রি.)—তার কবরের নিকটবর্তী একটি বাড়িতে থাকতেন। তিনি তার কবরের পাশে দাঁড়াতেন এবং তার জিয়ারতের বরকত প্রত্যক্ষ করতেন
(৪).
তিনি সেখানকার শায়েখদের ইলমি মজলিসগুলোতে যাতায়াত করতেন
(৫):
তিনি শায়খুল কুররা
(৬) রায়হান বিন তীকান বিন মুসিকের নিকট কুরআন পাঠ করেন—যিনি হাজার হাজার ছাত্রকে খতম করিয়েছিলেন—এবং তার থেকে হাদীস শ্রবণ করেন
(৭).
তিনি আরও শ্রবণ করেছেন: আবদুল্লাহ বিন আবি বকর বিন আহমদ বিন তুলাইব—যিনি ইবনুস সানদান নামে পরিচিত এবং তিনি একজন সৎ ও নির্ভরযোগ্য শায়েখ ছিলেন
(৮)—এর থেকে; এবং ওয়ায়েজ উমর বিন আলী আল-হারবী
(৯); এবং জাহিদ ও আবেদ আবু আব্বাস আহমদ বিন সালমান আল-হারবী—যিনি তার প্রতিবেশী ছিলেন এবং তিনি মসজিদে তার পিছনে সালাত আদায় করতেন
(১০); এবং শায়খ আবদুর রহমান বিন আবি হামিদ ইবনে উসাইয়াহ আল-হারবী
(১১); এবং শায়খ ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-হারবী
(১২),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
وعبد الملك بن مظفر أبي غالب الحربي
(1)، وعبد العزيز بن محمود البزاز - المعروف بابن الأخضر
(2)، وعبد الوهاب بن علي بن علي الصوفي - المعروف بابن سكينة
(3)، وخاله أبي القاسم علي بن أبي الفرج
(4)، وزوج خالته أبي الفتح عبد الوهاب بن بزغش المقرئ
(5)، وعبد العزيز بن دلف
(6)، وأبي الحسن علي بن يحيى بن بركة القطان - وكان متكبرا جدا، كما وصفه
(7)، والنجيب عبد المجيب بن أبي القاسم عبد الله بن
--------------------------------------------
এবং আবদুল মালিক ইবনে মুজাফফর আবি গালিব আল-হারবি
(১), এবং আবদুল আজিজ ইবনে মাহমুদ আল-বাজ্জাজ — যিনি ইবনুল আখদার নামে পরিচিত
(২), এবং আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আলি ইবনে আলি আস-সুফি — যিনি ইবনে সাকিনাহ্ নামে পরিচিত
(৩), এবং তাঁর মামা আবুল কাসিম আলি ইবনে আবিল ফারাজ
(৪), এবং তাঁর খালার স্বামী আবুল ফাতহ আবদুল ওয়াহহাব ইবনে বাজগাশ আল-মুকরি
(৫), এবং আবদুল আজিজ ইবনে দালাফ
(৬), এবং আবুল হাসান আলি ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে বারাকাহ্ আল-কাত্তান — তিনি অত্যন্ত অহংকারী ছিলেন, যেমনটি তিনি তাকে বর্ণনা করেছেন
(৭), এবং আন-নাজিব আবদুল মুজিব ইবনে আবুল কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
زهير
(1)، وأبي طاهر إبراهيم بن أحمد بن محمد بن حمدية العكبري
(2)، والمسند المعمر أبي القاسم ذاكر بن كامل الخفاف
(3).
وحصل إجازة من: محمد بن محمد بن حامد المعروف بالعماد الكاتب الأصفهاني
(4)، وعلي بن هبة الله بن مسعود البغدادي البزاز
(5)، وعبد الله بن منصور بن عمران الباقلاوي المقرئ
(6)، وخطيب دمشق عبد الملك بن زيد الدولعي
(7).
ويتردد إلى مجالس جده أبي الفرج، وهناك كان يلتقي بعض زائريه، منهم: الحسين بن أحمد الخياري، وكان حفظة للحكايات والأشعار والملح، فكان يوسف يستمع إلى حكاياته التي يحكيها لجده، وبقي عالقا في ذاكرته بعضها، فأثبتها من بعد في «تاريخه»
(8)--------------------------------------------
জুহাইর
(১), এবং আবু তাহের ইব্রাহিম ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হামদিয়া আল-উকবারী
(২), এবং দীর্ঘজীবী মুসনিদ আবুল কাসিম জাকির ইবনে কামিল আল-খাফফাফ
(৩)।
তিনি ইজাজত (অনুমতি) লাভ করেছেন: মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হামিদ, যিনি আল-ইমাদ আল-কাতিব আল-আসফাহানি
(৪) নামে পরিচিত, আলী ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে মাসউদ আল-বাগদাদী আল-বাযযাঝ
(৫), আবদুল্লাহ ইবনে মনসুর ইবনে ইমরান আল-বাক্বিলাওয়ী আল-মুক্বরি
(৬), এবং দামেস্কের খতিব আবদুল মালিক ইবনে যাইদ আদ-দাউলা’ঈ
(৭) থেকে।
তিনি তার দাদা আবু আল-ফারাজের মজলিসে যাতায়াত করতেন এবং সেখানে তিনি তার কিছু দর্শনার্থীর সাথে সাক্ষাত করতেন, যাদের মধ্যে ছিলেন: আল-হুসাইন ইবনে আহমদ আল-খায়ারি। তিনি কিচ্ছা-কাহিনী, কবিতা এবং সরস কথা মুখস্থ রাখতেন। ইউসুফ তার কাহিনীগুলো শুনতেন যা তিনি তার দাদাকে শোনাতেন এবং এর কিছু অংশ তার স্মৃতিতে গেঁথে থাকত, যা পরবর্তীতে তিনি তার «তারিখ» (ইতিহাস গ্রন্থ)-এ উল্লেখ করেছেন
(৮)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
وفي الصيف يستروح من شدة حر بغداد في مقابر الإمام أحمد ابن حنبل، وكان يأوي إليها في ذلك الوقت رجل قادم من بلخ اسمه محمد، يكن من الحر في القباب ويصوم الدهر، ويتقوت بالخبازى، ولا يكلم أحدا من خلق الله، فأحبه الصبي يوسف وأنس به، وكان يعتقده من الأبدال، وبقي هذا الشيخ مقيما في المقابر حتى سنة 596 هـ/ 1200 م، ثم غاب عن عينيه بعد ذلك
(1).
ويبدو أن وعيه تفتح أول ما تفتح على أخبار شخصيتين عظيمتين لم يدركهما، أولاهما: الشيخ الإمام العالم عبد القادر الجيلي (المتوفى سنة 561 هـ/ 1166 م)
(2)، فقد أدرك جماعة من مشايخه يحكون جملة من كراماته الظاهرة، منهم خاصبك؛ خاله لأمه، ورجل صالح من أهل الحربية يقال له مظفر
(3). وثانيتهما: الوزير عون الدين يحيى بن محمد بن هبيرة (المتوفى سنة 560 هـ/ 1165 م)، فقد سمع من مشايخه عنه حكايات عجيبة، أثبت بعضها فيما بعد في «تاريخه»
(4).
وكان يتشوف على حداثة سنه إلى رؤية كبار عصره، فقد رأى القاضي عبد الرحمن بن الحسين بن عبد الله؛ الملقب لذكائه وفطنته بالقاضي شريح. وبقيت صورته عالقة في ذاكرته، فهو من ألطف العالم وأذكاهم. وكان هذا القاضي قد أمضى سني حياته الأخيرة منسيا في سجنه حتى وفاته سنة 603 هـ/ 1206 م، فكتب عنه فيما بعد يقول: «كان فاضلا، مترسلا، بليغا جوادا، سمحا، حسن الصورة، فصيح اللسان متواضعا، يصلح للوزارة .. ورسائله مدونة في مجلدين»
(5).
ولم يكن يفوته ما يقع في بغداد من أحداث؛ فحين قتل طغريل شاه؛ آخر سلاطين السلاجقة، ودخلوا برأسه مرفوعا على خشبة إلى بغداد في
--------------------------------------------
এবং গ্রীষ্মকালে তিনি বাগদাদের প্রচণ্ড উত্তাপ থেকে রক্ষা পেতে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের কবরস্থানে বিশ্রাম নিতেন। সেই সময়ে সেখানে বলখ থেকে আসা মুহাম্মাদ নামক এক ব্যক্তি আশ্রয় নিতেন, যিনি গম্বুজগুলোর নিচে তাপ থেকে আত্মরক্ষা করতেন এবং সর্বদা রোজা রাখতেন। তিনি 'খুব্বাযা' (এক প্রকার শাক) খেয়ে জীবনধারণ করতেন এবং আল্লাহর কোনো সৃষ্টির সাথে কথা বলতেন না। বালক ইউসুফ তাকে ভালোবাসতেন এবং তার প্রতি অনুরাগী হয়ে উঠেছিলেন; তিনি তাকে 'আবদাল'দের (আল্লাহর বিশেষ ওলি) অন্তর্ভুক্ত মনে করতেন। এই শায়খ ৫৯৬ হিজরি/ ১২০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সেই কবরস্থানে অবস্থান করেছিলেন, এরপর তিনি তার দৃষ্টির আড়ালে চলে যান
(১)।
প্রতীয়মান হয় যে, তার চেতনা সর্বপ্রথম এমন দুইজন মহান ব্যক্তিত্বের খবরের মাধ্যমে জাগ্রত হয়েছিল যাদের তিনি পাননি। তাদের প্রথমজন হলেন: শায়খ ইমাম আলিম আব্দুল কাদির জিলি (মৃত্যু ৫৬১ হিজরি/ ১১৬৬ খ্রিস্টাব্দ)
(২); তিনি তার একদল উস্তাদকে তার প্রকাশ্য কারামতসমূহ বর্ণনা করতে শুনেছেন, যাদের মধ্যে তার মামা খাসবক এবং হারবিয়্যাহর অধিবাসী মুজাফফর নামক এক নেককার ব্যক্তিও ছিলেন
(৩)। দ্বিতীয়জন হলেন: উজির আওনউদ্দীন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মাদ বিন হুবাইরা (মৃত্যু ৫৬০ হিজরি/ ১১৬৫ খ্রিস্টাব্দ); তিনি তার উস্তাদদের নিকট থেকে তার সম্পর্কে চমৎকার সব কাহিনী শুনেছিলেন, যার কিছু অংশ পরবর্তীতে তিনি তার ‘তারিখ’ (ইতিহাস) গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন
(৪)।
তিনি অল্প বয়সেই তার সমসাময়িক বড় বড় ব্যক্তিত্বদের দেখার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন। তিনি কাজী আব্দুর রহমান বিন আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহকে দেখেছিলেন, যিনি তার প্রজ্ঞা ও মেধার কারণে 'কাজী শুরাইহ' উপাধিতে ভূষিত ছিলেন। তার স্মৃতিতে সেই অবয়ব গেঁথে ছিল; তিনি ছিলেন পৃথিবীর অন্যতম বিনয়ী ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি। এই কাজী তার জীবনের শেষ বছরগুলো বিস্মৃত অবস্থায় কারাবন্দী হিসেবে অতিবাহিত করেছিলেন এবং ৬০৩ হিজরি/ ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে তিনি তার সম্পর্কে লিখেছেন: “তিনি ছিলেন গুণী, পত্র রচনায় পারদর্শী, বাগ্মী, দানশীল, সহনশীল, সুদর্শন, সুবক্তা ও বিনয়ী; তিনি উজির হওয়ার যোগ্য ছিলেন.. এবং তার পত্রাবলী দুই খণ্ডে সংকলিত রয়েছে”
(৫)।
বাগদাদে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনাও তার নজর এড়াত না; যখন সেলজুকদের শেষ সুলতান তুঘরিল শাহ নিহত হলেন এবং কাঠের মাথায় বিদ্ধ অবস্থায় তার মস্তক বাগদাদে নিয়ে আসা হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
جمادى الأولى سنة 590 هـ/ 1194 م، كان الصبي يوسف يتطاول بين الجموع التي احتشدت لرؤيته، ويحد النظر إليه بعينين شع فيهما بريق الفضول، فيكتشف أن الموت لم يغير من محاسن وجهه، فيصفه لنا من بعد بقوله: «كان من أحسن الناس صورة، ووجهه كأنه القمر، وأثر النشابة في عينه، وعلى خده ضربة»
(1).
وبعيدا عن تلك الصورة المحزنة شهد في ذلك العام نفسه مجلس الواعظ الكبير شهاب الدين عمر بن محمد السهروردي، وهو يعظ برباط درب المقبرة، ومنبره طين، وعلى رأسه مئزر صوف
(2).
* * *
ولم تمض الحياة بالصبي يوسف على هناءتها، فبعد أشهر قلائل من تلك السنة، وكان قد بلغ التاسعة من عمره، وقعت لجده الأثير لديه محنة قاسية انتزعته منه. فقد سيق الشيخ أبو الفرج ابن الجوزي، أمام ناظريه - وهو في نحو الثمانين من عمره - إلى واسط، وأقام في دار بدرب الديوان، وفرضت عليه هناك إقامة جبرية، ووكل حارس على بابه
(3).
وسبب محنته هذه عداوة قديمة كانت بين الوزير عبيد الله بن يونس، وأولاد الشيخ عبد القادر الجيلي
(4)، أجج نارها كبس الوزير ابن يونس بيت حفيده عبد السلام بن عبد الوهاب بن عبد القادر، وكانت عنده كتب كثيرة من كتب الفلاسفة والمنطق والسحر، وهي محظورة في ذلك العصر، فحكم بإحراقها. وكان الشيخ أبو الفرج ابن الجوزي ممن أفتى بذلك، فأحرقت سنة 585 هـ/ 1189 م على مرأى من الناس ومسمع. فأسرها عبد السلام في نفسه. ثم إن ابن يونس نكاية بعبد السلام ولى ابن الجوزي مدرسة الشيخ عبد القادر
(5).
--------------------------------------------
জুমাদাল উলা ৫৯০ হিজরি/ ১১৯৪ খ্রিষ্টাব্দ; বালক ইউসুফ তাঁকে দেখার জন্য সমবেত হওয়া ভিড়ের মধ্যে উঁকি দিচ্ছিল এবং কৌতূহলের উজ্জ্বল আভা মেশানো চোখে তাঁর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিল। সে দেখতে পেল যে, মৃত্যু তাঁর চেহারার লাবণ্যে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে সে আমাদের কাছে তাঁর বর্ণনা দিয়ে বলে: “তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সুন্দরতম অবয়বের অধিকারী, তাঁর চেহারা যেন চাঁদ, তাঁর চোখে তীরের জখমের চিহ্ন ছিল এবং তাঁর গালে ছিল একটি আঘাতের দাগ।”
(১)সেই দুঃখজনক চিত্রের বাইরে, সে একই বছরে প্রখ্যাত ওয়ায়েজ শিহাবুদ্দিন উমর বিন মুহাম্মদ আস-সুহরাওয়ার্দীর মজলিস প্রত্যক্ষ করেছিল, যখন তিনি ‘দারবুল মাকবারা’র রিবাত বা খানকায় ওয়াজ করছিলেন; তাঁর মিম্বরটি ছিল মাটির এবং মাথায় ছিল পশমি চাদর।
(২)* * *
বালক ইউসুফের জীবন সাবলীল গতিতে চলেনি; সেই বছরের মাত্র কয়েক মাস পর, যখন তাঁর বয়স নয় বছর পূর্ণ হয়েছে, তখন তাঁর অত্যন্ত প্রিয় দাদার ওপর এক কঠিন পরীক্ষা নেমে আসে যা তাঁকে তাঁর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। শেখ আবু আল-ফারাজ ইবনুল জাওযীকে তাঁর চোখের সামনেই—যখন তাঁর বয়স প্রায় আশি বছর—ওয়াসিত নগরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁকে ‘দারবুদ দিওয়ান’-এর একটি বাড়িতে রাখা হয়। সেখানে তাঁর ওপর গৃহবন্দিত্ব আরোপ করা হয় এবং তাঁর দরজায় একজন প্রহরী নিযুক্ত করা হয়।
(৩)তাঁর এই বিপদের কারণ ছিল উজির উবায়দুল্লাহ ইবনে ইউনুস এবং শেখ আব্দুল কাদির জিলানীর সন্তানদের মধ্যকার এক পুরনো শত্রুতা।
(৪) উজির ইবনে ইউনুস কর্তৃক তাঁর (আব্দুল কাদিরের) নাতি আব্দুস সালাম ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আব্দুল কাদিরের বাড়িতে তল্লাশি চালানো সেই শত্রুতায় নতুন করে ইন্ধন জোগায়। তাঁর কাছে দর্শন, যুক্তিবিদ্যা ও জাদুবিদ্যার প্রচুর বই পাওয়া গিয়েছিল, যা সেই যুগে নিষিদ্ধ ছিল; ফলে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। শেখ আবু আল-ফারাজ ইবনুল জাওযী সেই ফতোয়া প্রদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যার প্রেক্ষিতে ৫৮৫ হিজরি/ ১১৮৯ খ্রিষ্টাব্দে জনসমক্ষে সেগুলো ভস্মীভূত করা হয়। আব্দুস সালাম বিষয়টি মনে পুষে রেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ইবনে ইউনুস আব্দুস সালামকে জব্দ করার উদ্দেশ্যে ইবনুল জাওযীকে শেখ আব্দুল কাদিরের মাদরাসার দায়িত্ব প্রদান করেন।
(৫)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
فلما ولي الوزارة محمد بن علي بن أحمد ابن القصاب في شعبان سنة 590 هـ/ 1194 م
(1)، قبض على ابن يونس وكانت بينهما عداوة وراح يتتبع أصحابه، فقال له عبد السلام: أين أنت من ابن الجوزي؟ هو كان من أكابر أصحاب ابن يونس، وأعطاه مدرسة جدي، وأحرق كتبي بمشورته. فكتب ابن القصاب إلى الخليفة الناصر لدين الله، وساعده على ذلك جماعة، ولبسوا عليه الأمر، فأمر بتسليمه إلى عبد السلام
(2).
ولعل الخليفة كان مضطغنا كذلك على أبي الفرج لما أورده في تاريخه «درة الإكليل»، الذي ذيل فيه على تاريخه «المنتظم»
(3)، فرآها فرصة لاعتقاله.
وتركت هذه الحادثة آثارا لا تمحى في ذاكرة الصبي، طفت فيما بعد على قلمه، فكتب يقول: «كان جدي يسكن بباب الأزج في دار بنفشا
(4)، وكان الزمان صيفا، وهو جالس في السرداب يكتب، وأنا صبي صغير، وإذا بعبد السلام قد هجم عليه في السرداب، وأسمعه غليظ الكلام، وختم على كتبه وداره، وشتت عياله، وجرى عليهم ما لم يجر على أقل الناس. فلما كان أول الليل حملوا جدي إلى سفينة، فأنزلوه فيها، ونزل معه عبد السلام لا غير، وعلى جدي غلالة بغير سراويل، وعلى رأسه تخفيفة، وحدروه إلى واسط، واستوفى منه الكلام، وجدي لا يجيبه»
(5)--------------------------------------------
৫৯০ হিজরীর শাবান মাসে (১১৯৪ খ্রিষ্টাব্দ) যখন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আহমদ ইবনুল কাসসাব উজির নিযুক্ত হন
(১), তখন তিনি ইবনু ইউনুসকে গ্রেফতার করেন। তাঁদের মধ্যে শত্রুতা ছিল এবং তিনি তার সঙ্গীদেরও পিছু নিতে শুরু করেন। তখন আবদুস সালাম তাকে বললেন: "ইবনুল জাওযীর ব্যাপারে আপনার অবস্থান কী? তিনি তো ইবনু ইউনুসের প্রধান সঙ্গীদের একজন ছিলেন, তিনি তাকে আমার দাদার মাদ্রাসা দিয়েছিলেন এবং তার পরামর্শেই আমার কিতাবগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল।" ফলে ইবনুল কাসসাব খলিফা আন-নাসির লি-দীনিল্লাহর নিকট চিঠি লিখলেন এবং একদল লোক এ বিষয়ে তাকে প্ররোচিত করল ও খলিফার কাছে বিষয়টি বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করল। অতঃপর খলিফা তাকে আবদুস সালামের হাতে সোপর্দ করার নির্দেশ দিলেন
(২)।
সম্ভবত খলিফাও আবুল ফরাজের (ইবনুল জাওযী) প্রতি মনে ক্ষোভ পোষণ করতেন তার ইতিহাস গ্রন্থ 'দুররাতুল ইকলীল'-এ যা তিনি উল্লেখ করেছেন তার কারণে। এটি ছিল তার 'আল-মুনতাজাম' নামক ইতিহাস গ্রন্থের পরিশিষ্ট
(৩)। ফলে খলিফা একে তাকে গ্রেফতার করার একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন।
এই ঘটনাটি বালকের স্মৃতিতে এক অমলিন দাগ কেটে গিয়েছিল, যা পরবর্তীকালে তার লেখনীতে ফুটে ওঠে। তিনি লিখেছেন: "আমার দাদা বাবুল আজাজের বনাফশা নামক বাড়িতে থাকতেন
(৪)। সময়টি ছিল গ্রীষ্মকাল, তিনি সারদাবে (ভূগর্ভস্থ কক্ষ) বসে লিখছিলেন আর আমি ছিলাম ছোট বালক। হঠাৎ আবদুস সালাম সেই সারদাবে তাঁর ওপর চড়াও হলেন এবং তাঁর সাথে অত্যন্ত কর্কশ ভাষায় কথা বললেন। তিনি তাঁর কিতাব ও বাড়ির ওপর সিলগালা করে দিলেন এবং তাঁর পরিবার-পরিজনকে ছিন্নভিন্ন করে দিলেন। তাঁদের ওপর এমন বিপর্যয় নেমে এল যা অতি নগণ্য মানুষের ওপরও ঘটে না। রাতের শুরুতেই তাঁরা আমার দাদাকে একটি নৌকায় তুলে নিলেন এবং সেখানে তাঁকে নামিয়ে দিলেন। আবদুস সালাম ছাড়া আর কেউ তাঁর সাথে ছিল না। আমার দাদার পরিধানে তখন পায়জামা ছাড়া কেবল একটি পাতলা আলখাল্লা ছিল এবং মাথায় ছিল একটি হালকা কাপড়। তাঁরা তাঁকে ওয়াসিত নগরের দিকে নিয়ে চললেন। পথে সে (আবদুস সালাম) তাঁকে অনেক কটু কথা বলতে থাকে, কিন্তু আমার দাদা তাকে কোনো উত্তর দিচ্ছিলেন না"
(৫)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وفي تلك الدار في واسط أقام الشيخ أبو الفرج ابن الجوزي وحيدا مع شيخوخته، ليس له من معين عليها، فكان يخدم نفسه، ويغسل ثوبه، ويطبخ ويستقي الماء من البئر
(1). وتلقى ذلك كله بالصبر والحمد والشكر
(2).
* * *
في غيبة جده القسرية راح يوسف يكمل وحده ما بدأه، فتابع اختلافه إلى حلقات العلم، فقرأ النحو والأدب على الوجيه المبارك بن المبارك الواسطي
(3)، وعبد الله بن الحسين أبي البقاء العكبري
(4)، وسمع الحديث من مسند العصر الشيخ الجليل عبد المنعم بن عبد الوهاب ابن كليب الحراني - وكان قد انتهى إليه علو الإسناد
(5) -، والمحدث أبي القاسم يحيى بن أسعد ابن بوش
(6)، والمسند عمر بن محمد بن معمر المؤدب الدارقزي - المعروف بابن طبرزد
(7) -، وهبة الله بن الحسن بن المظفر الهمذاني
(8)، وحمزة بن علي بن حمزة - المعروف بابن القبيطي
(9) -، والمسند المعمر أبي طاهر المبارك بن المبارك ابن المعطوش
--------------------------------------------
ওয়াসিতের সেই গৃহে শাইখ আবুল ফারাজ ইবনুল জাওজি বার্ধক্যজনিত অবস্থায় একাকী অবস্থান করছিলেন, তাকে সাহায্য করার মতো কেউ ছিল না। তিনি নিজেই নিজের কাজ করতেন, নিজের পোশাক ধৌত করতেন, রান্না করতেন এবং কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করতেন
(১)। তিনি এই সমস্ত পরিস্থিতি ধৈর্য, প্রশংসা এবং কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করেছিলেন
(২)।
* * *
তার দাদার বাধ্যতামূলক অনুপস্থিতিতে ইউসুফ একাই তার শুরু করা কাজগুলো সম্পন্ন করতে থাকেন। তিনি ইলমি মজলিসগুলোতে যাতায়াত অব্যাহত রাখেন। তিনি ব্যাকরণ (নাহু) এবং সাহিত্য (আদব) পাঠ করেন আল-ওয়াজিহ আল-মুবারক ইবনুল মুবারক আল-ওয়াসিতি
(৩) এবং আবদুল্লাহ ইবনুল হুসাইন আবুল বাকা আল-উকবারি
(৪)-র নিকট। এবং তিনি সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ বর্ণনাকারী (মুসনিদু আসর) মহান শাইখ আবদুল মুনইম ইবনে আবদুল ওয়াহহাব ইবনে কুলাইব আল-হাররানি—যার নিকট সর্বোচ্চ মানের সনদ (উলুউ আল-ইসনাদ) গিয়ে পৌঁছেছিল
(৫)—মুহাদ্দিস আবুল কাসিম ইয়াহইয়া ইবনে আসআদ ইবনে বুশ
(৬), আল-মুসনিদ উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মামার আল-মুয়াদ্দিব আদ-দারাকাজি—যিনি ইবনে তাবারজাদ নামে পরিচিত
(৭)—হিবাতুল্লাহ ইবনুল হাসান ইবনুল মুজাফফর আল-হামাদানি
(৮), হামজা ইবনে আলী ইবনে হামজা—যিনি ইবনুল কুবাইতি নামে পরিচিত
(৯)—এবং প্রবীণ মুসনিদ আবু তাহির আল-মুবারক ইবনুল মুবারক ইবনুল মাউতুশ-এর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
الحريمي
(1)، وأبي القاسم عبد الله بن علي بن النفيس الأنباري
(2). وقرأ على علي بن أحمد بن سعيد بن الدباس أبي الحسن المقرئ
(3).
وأجاز له شعره نقيب الطالبيين بالبصرة يحيى بن محمد أبو جعفر العلوي، وكان قد قدم بغداد، ومدح الخليفة الناصر لدين الله بقصائد، وكان رقيق الشعر، مليح النظم
(4). وحصل إجازة كذلك من قاضي تكريت يحيى بن القاسم بن المفرج التكريتي
(5).
ولا ندري مع من رحل - وهو في نحو الحادية عشرة من عمره - إلى همذان، ليسمع من مسندها الجليل أبي الغنائم شيرويه بن الشيخ الأجل المحدث شهردار أبي منصور الحافظ
(6).
وفي بغداد ينازعه الحنين إلى جده، فيختلف إلى مجالس وعظ أصدقاء جده: الشيخ عبد المنعم بن علي بن الصيقل الحراني بمسجد باب المشرعة
(7)، والشيخ محمد بن سعد الله بن نصر الدجاجي برباط الأخلاطية
(8)، والشيخ الزاهد محمود بن عثمان بن مكارم النعال، وكان
--------------------------------------------
হারীমি
(১) এবং আবুল কাসেম আবদুল্লাহ বিন আলী বিন আন-নাফিস আল-আনবারি
(২)। তিনি আলী বিন আহমদ বিন সাইদ বিন আদ-দাব্বাস আবুল হাসান আল-মুকরি-এর নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন
(৩)।
বসরার তালিবী বংশোদ্ভূতদের প্রধান (নাকীব) ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ আবু জাফর আল-আলাওয়ী তার কবিতার অনুমতি (ইজাযাহ) প্রদান করেছিলেন; তিনি বাগদাদে আগমন করেছিলেন এবং খলিফা আন-নাসির লি-দিনিল্লাহর প্রশংসায় কাসিদা রচনা করেছিলেন। তিনি ছিলেন কোমল কবিতা ও চমৎকার ছন্দশৈলীর অধিকারী
(৪)। তিকরীতের বিচারক (কাজী) ইয়াহইয়া বিন আল-কাসেম বিন আল-মুফাররাজ আত-তিকরিতীর নিকট থেকেও তিনি একইভাবে ইজাযাহ লাভ করেন
(৫)।
আমরা জানি না যে, তিনি কার সাথে হামাদানে সফর করেছিলেন - তখন তার বয়স ছিল প্রায় এগারো বছর - যাতে তিনি সেখানকার মহান মুসনিদ আবুল গানায়েম শিরওয়াইহ বিন শায়খ আল-আজাল মুহাদ্দিস শাহরদার আবু মনসুর আল-হাফিযের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করতে পারেন
(৬)।
বাগদাদে তার দাদার প্রতি অনুরাগ তাকে ব্যাকুল করে তুলত, তাই তিনি তার দাদার বন্ধুদের ওয়াজ মজলিসে যাতায়াত করতেন: যেমন বাব আল-মাশরাআ মসজিদের শায়খ আবদুল মুনয়িম বিন আলী বিন আস-সাইকাল আল-হাররানী
(৭), রাবাত আল-আখলাতিয়াহ-র শায়খ মুহাম্মদ বিন সাদুল্লাহ বিন নাসর আদ-দাজাজি
(৮) এবং যাহিদ শায়খ মাহমুদ বিন উসমান বিন মাকারিম আন-নিআল; এবং তিনি ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
يزوره في رباطه بباب الأزج. وكان شيخا مهيبا لطيفا، كيسا باشا، مبتسما، يصوم الدهر، ويختم القرآن كل يوم وليلة، ولا يأكل إلا من غزل عمته. وفي رباطه يتعرف سبط ابن الجوزي إلى أهل العلم من المقادسة نزلاء صالحية دمشق، فقد كانوا يأوون إليه، وكان الشيخ محمود يؤثرهم على غيرهم
(1).
وطالما حدثه شيخه عبد الكريم عن عمه الشيخ الزاهد الحنبلي حسن بن مسلم بن أبي الحسن، فيسعى سبط ابن الجوزي إلى زيارته في زاويته بالفارسية؛ وهي قرية بنهر عيسى.
وكان الشيخ حسن قد قضى من عمره أربعين سنة لا يكلم أحدا من الناس، فهو صائم الدهر، وقائم الليل، يقرأ كل يوم وليلة ختمة. فيحكي له جماعة من مشايخ القرية أن السباع تنام طوال الليل حول زاويته، ولا تتعرض لأحد، وأن فقيرا نام في الزاوية في ليلة باردة، فاحتلم، فنزل إلى النهر ليغتسل، فجاء السبع، فنام على جبته، فكاد الفقير يموت من البرد والخوف، فخرج الشيخ حسن، وجاء إلى السبع، وضربه بكمه، وقال: يا مبارك، قد قلنا لك: لا تتعرض لضيفنا، فقام السبع يهرول
(2).
ولم يكن ليخفف من مس فقده لجده ما يقع أحيانا في بغداد من مشاهد ساخرة، ولعل أشهرها ما وقع سنة 593 هـ/ 1197 م حين قدم إليها من القدس الأمير حسام الدين أبو الهيجاء السمين، منتميا للخليفة الناصر لدين الله، ومفارقا لملوك بني أيوب، يومئذ خرج جميع أهل بغداد للقائه، وفيهم الفتى سبط ابن الجوزي. كان رأس أبي الهيجاء صغيرا وبطنه كبيرا جدا، فكان يندلق على رقبة البغلة التي يركبها. وحين مر بالحربية رآه رجل كواز، فعمل من ساعته كوزا من طين على هيئته، وسبقه فعلقه في السوق، فلما اجتاز به أبو الهيجاء ضحك، ثم عمل بعد ذلك أهل بغداد كيزانا على صورته، وسموها أبا الهيجاء السمين
(3).
--------------------------------------------
তিনি তাকে বাবুয আযাজ-এর রিবাত বা খানকায় গিয়ে দেখতে যেতেন। তিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী, নম্র, বুদ্ধিমান, হাসিখুশি ও সদা হাস্যময় শায়খ। তিনি সারা বছর রোজা রাখতেন এবং প্রতি দিন ও রাতে একবার কোরআন খতম করতেন। তিনি তাঁর ফুফুর সুতা কাটার উপার্জন ছাড়া কিছুই খেতেন না। তাঁর এই রিবাত বা খানকাতেই সিবত ইবনুল জাওযী দামেস্কের সালিহিয়্যায় বসবাসরত মাকদিসী আলেমদের সাথে পরিচিত হন; তাঁরা তাঁর কাছে আশ্রয় নিতেন এবং শায়খ মাহমুদ অন্যদের তুলনায় তাঁদেরকে বেশি প্রাধান্য দিতেন।
(১)তাঁর উস্তাদ আবদুল করীম প্রায়ই তাঁকে তাঁর চাচা, যাহেদ ও হাম্বলী শায়খ হাসান ইবনে মুসলিম ইবনে আবিল হাসান সম্পর্কে বলতেন। তাই সিবত ইবনুল জাওযী 'ফারিসিয়া' নামক স্থানে তাঁর যাবিয়া বা ইবাদতখানায় তাঁর সাথে দেখা করতে যেতেন; এটি নহরে ঈসা-র তীরে অবস্থিত একটি গ্রাম।
শায়খ হাসান তাঁর জীবনের চল্লিশটি বছর এমনভাবে অতিবাহিত করেছিলেন যে, তিনি কারো সাথে কথা বলতেন না। তিনি আজীবন রোজা রাখতেন এবং সারা রাত ইবাদতে মগ্ন থাকতেন; প্রতি দিন ও রাতে একবার খতম পড়তেন। গ্রামের একদল শায়খ তাঁর কাছে বর্ণনা করেন যে, বন্য হিংস্র প্রাণীরা সারা রাত তাঁর যাবিয়ার চারপাশ ঘিরে ঘুমিয়ে থাকতো এবং কারো কোনো ক্ষতি করতো না। একদা এক শীতের রাতে এক ফকীর সেই যাবিয়ার মধ্যে ঘুমিয়েছিলেন, তারপর তাঁর স্বপ্নদোষ হলো। তিনি গোসল করার জন্য নদীর পাড়ে নামলেন। তখন একটি হিংস্র প্রাণী এসে তাঁর জুব্বার ওপর শুয়ে পড়লো। ফকীরটি শীত ও ভয়ে প্রায় মরণাপন্ন অবস্থায় পৌঁছালেন। তখন শায়খ হাসান বেরিয়ে এলেন এবং প্রাণীটির কাছে গিয়ে তাঁর আস্তিন দিয়ে সেটিকে আঘাত করলেন এবং বললেন: হে বরকতময়, আমরা তো তোমাকে বলেছিলাম আমাদের মেহমানকে বিরক্ত না করতে! তখন প্রাণীটি দ্রুত দৌড়ে চলে গেল।
(২)তাঁর দাদার বিয়োগব্যথা প্রশমিত করার জন্য বাগদাদে মাঝে মাঝে ঘটা হাস্যকর ঘটনাগুলো যথেষ্ট ছিল না। সম্ভবত এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিল ৫৯৩ হিজরি/১১৯৭ খ্রিস্টাব্দের ঘটনা, যখন খলিফা আন-নাসির লি-দীনিল্লাহর অনুগত হয়ে এবং আইয়ুবী রাজাদের সঙ্গ ত্যাগ করে কুদস থেকে আমীর হুসামুদ্দীন আবু আল-হায়জা আস-সামীন সেখানে আগমন করেন। সেদিন বাগদাদের সমস্ত মানুষ তাঁর সাথে দেখা করতে বেরিয়েছিল, যাদের মধ্যে যুবক সিবত ইবনুল জাওযীও ছিলেন। আবু আল-হায়জার মাথা ছিল ছোট এবং পেট ছিল অত্যন্ত বিশাল, যা তাঁর আরোহণ করা খচ্চরের ঘাড়ের ওপর ঝুলে থাকতো। তিনি যখন হারবিয়্যা এলাকা অতিক্রম করছিলেন, তখন এক কুমোর তাঁকে দেখে তৎক্ষণাৎ তাঁর আকৃতিতে মাটির একটি পাত্র তৈরি করল এবং তাঁর পৌঁছানোর আগেই সেটি বাজারে ঝুলিয়ে দিল। আবু আল-হায়জা যখন সেটির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তিনি হাসলেন। এরপর বাগদাদবাসী তাঁর আকৃতিতে অনেক পাত্র তৈরি করে এবং সেগুলোর নাম দেয় 'আবু আল-হায়জা আস-সামীন' (মোটা আবু আল-হায়জা)।
(৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
وكادت السنة الخامسة على حبس جده تطوى، وهو في محبسه بواسطة، لم يدخل خلالها حماما قط، ولا قرأ سورة يوسف في ختمته للقرآن التي كان يختمها كل يوم، حزنا على ولده يوسف؛ سمي سبطه
(1).
حتى كان يوم وقف فيه للخليفة الناصر لدين الله - وهو في بستان يتنزه - هذا الابن البار محيي الدين يوسف، وبيده قصة يذكر فيها ما نال أباه وأهله من الضر، فرق له الخليفة، وأمر بالإفراج عن أبيه. فرجع الشيخ أبو الفرج ابن الجوزي إلى بغداد في شعبان سنة 595 هـ/ حزيران 1199 م، فخلع عليه، وأعيد إلى مجلس وعظه عند تربة أم الخليفة.
وفي أول مجالسه للوعظ بعد انقطاعه الطويل عنها تمثل ببيت الشريف الرضي:
إن كان لي ذنب ولم آته
… فاستأنف العفو وهب ما مضى
(2)وعاود سبط ابن الجوزي بنشاط الجذلان حضور مجالس وعظ جده
(3)، وهو الحامل للوائه في عصره
(4)، ينهل منه طريقته وأسلوبه فيما كان يسمى السجع الوعظي
(5)، وكان لجده فيه ملكة قوية
(6)، مع ما أوتي
--------------------------------------------
তাঁর দাদার কারাবাসের পঞ্চম বছর প্রায় সমাপ্ত হতে চলেছিল, তিনি ওয়াসিত নামক স্থানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি একবারের জন্যও গোসলখানায় প্রবেশ করেননি এবং প্রতিদিন কুরআন খতম করা সত্ত্বেও তাঁর পুত্র ইউসুফের শোকে—যার নামে তাঁর দৌহিত্রের
(১) নামকরণ হয়েছিল—কুরআন তিলাওয়াতের সময় সূরা ইউসুফ পাঠ করেননি।
অবশেষে একদিন এই পুণ্যবান পুত্র মুহিউদ্দীন ইউসুফ খলীফা নাসীর লি-দীনিল্লাহর সামনে উপস্থিত হলেন—যখন খলীফা একটি বাগানে প্রমোদভ্রমণে ছিলেন—এবং তাঁর হাতে ছিল একটি লিখিত আরজি, যাতে তাঁর পিতা ও পরিবারের ওপর আপতিত দুঃখ-কষ্টের কথা বর্ণিত ছিল। খলীফা তাঁর প্রতি সদয় হলেন এবং তাঁর পিতাকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দিলেন। অতঃপর শায়খ আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী ৫৯৫ হিজরীর শাবান মাসে (জুন ১১৯৯ খ্রিষ্টাব্দ) বাগদাদে ফিরে আসেন। তাঁকে সম্মানসূচক পোশাক প্রদান করা হয় এবং খলীফার মাতার সমাধিস্থলের নিকটবর্তী তাঁর পূর্বের ওয়াযের মজলিসে তাঁকে পুনরায় বহাল করা হয়।
দীর্ঘ বিরতির পর তাঁর প্রথম ওয়াযের মজলিসে তিনি শরীফ আর-রাজীর একটি কাব্য পঙক্তি আবৃত্তি করেন:
যদি আমার এমন কোনো অপরাধ থাকে যা আমি করিনি
… তবে নতুন করে ক্ষমা করুন এবং যা গত হয়েছে তা মার্জনা করুন
(২)সিবত ইবনুল জাওযী অত্যন্ত উৎফুল্ল চিত্তে পুনরায় তাঁর দাদার ওয়াযের মজলিসে উপস্থিত হতে শুরু করেন
(৩), তিনি ছিলেন তাঁর যুগে তাঁর আদর্শের পতাকাবাহী
(৪)। তিনি তাঁর থেকে সেই পদ্ধতি ও শৈলী আহরণ করতেন যাকে 'উপদেশমূলক অনুপ্রাস'
(৫) বলা হতো। এই শিল্পে তাঁর দাদার এক শক্তিশালী ব্যুৎপত্তি ছিল
(৬), সাথে যা তাঁকে প্রদান করা হয়েছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
من طيب الصوت، وحسن الحديث، ومعرفة فنونه، ورشاقة عبارته، ولطف شمائله
(1)، وتمثل سبطه ذلك تمام التمثيل. وخبر وقع كلامه في النفوس، فمما سمع من أقواله في مواعظه: «من قنع طاب عيشه، ومن طمع طال طيشه * الطاعة تبسط اللسان، والمعاصي تذل الإنسان»
(2)، وسمعه مرة يقول على المنبر: «كتبت بأصبعي هاتين ألفي مجلدة، وتاب على يدي مئة ألف، وأسلم على يدي عشرون ألف يهودي ونصراني»
(3). وسمعه مرة ينشد في مدح الإمام الشافعي:
من أراد الهدى بقول ابن إدري س
… هداه وأين كالشافعي
وشفاء العي السؤال وأنى
… بإمام سواه كشاف عي
(4)ولعل مديح جده هذا للإمام الشافعي أثار فضوله، فسأله ذات يوم: يا سيدي، لم وقع بعض المحدثين في أبي حنيفة، رحمة الله عليه؟ فأجابه جده: لأنه أخذ بالقياس. فبادره السبط بقوله: غيره من الأئمة قد أخذ بالقياس! فرد عليه الجد: ولكن هو أكثر قياسا منهم. فلم يقنع السبط بالجواب، ورد قائلا: هلا وقعوا في أولئك بقدر ما أخذوا من القياس؟ فسكت الشيخ أبو الفرج وكأنه انقطع عن الجواب
(5). ولا شك أنه كان مسرورا بما ظهر من بديهة سبطه في الحوار على حداثة سنه.
* * *
ومع حضور سبط ابن الجوزي مجالس جده، وما كان يسمعه من شيوخه من الحديث والحكايات، كانت ثقته بنفسه تترسخ، حتى إذا آنس فيها القدرة على أن يجلس كجده لوعظ الناس، وربما بتشجيع منه، عقد أول مجلس له سنة 596 هـ/ 1200 م، وهو في نحو الخامسة عشرة، عند قبر الإمام أحمد ابن حنبل. ويبدو أن مجالسه التي تتالت بعد وجدت قبولا من
--------------------------------------------
সুকণ্ঠ, উত্তম বাকভঙ্গি, বর্ণনার শিল্পরীতিতে ব্যুৎপত্তি, চমৎকার অভিব্যক্তি এবং তাঁর অমায়িক স্বভাবের কারণে; এবং তাঁর নাতি (সিবত) এই গুণাবলির পূর্ণ প্রতিফলন ঘটিয়েছিলেন। মানুষের অন্তরে তাঁর বাণীর প্রভাব ছিল সুবিদিত। তাঁর ওয়ায-নসীহতের মাঝে শ্রুত কিছু কথা হলো: «যে অল্পে তুষ্ট থাকে, তার জীবন সুখময় হয়; আর যার লোভ থাকে, তার অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হয়। আনুগত্য জিহ্বাকে সাবলীল করে, আর পাপ মানুষকে হীন করে»। তাঁকে একবার মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শোনা গেছে: «আমি আমার এই দুই আঙুলে দুই হাজার খণ্ড লিখেছি, আমার হাতে এক লক্ষ মানুষ তওবা করেছে এবং আমার হাতে বিশ হাজার ইহুদি ও খ্রিস্টান ইসলাম গ্রহণ করেছে»। তাঁকে একবার ইমাম শাফিঈর প্রশংসায় এই কবিতা আবৃত্তি করতে শোনা গেছে:
যে ব্যক্তি ইবনে ইদ্রিসের বাণীর মাধ্যমে হেদায়েত চায়
… সে তা পাবে; শাফিঈর মতো আর কে আছে?
অজ্ঞতার আরোগ্য হলো প্রশ্ন করা; আর তাঁর মতো
… এমন ইমাম আর কোথায়, যিনি সব অজ্ঞতা দূর করে দেন?
সম্ভবত ইমাম শাফিঈর প্রতি তাঁর দাদার এই প্রশংসা নাতির মনে কৌতূহল জাগিয়েছিল। তাই একদিন তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে আমার সাইয়্যিদ, কেন কিছু মুহাদ্দিস আবু হানিফা (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর সমালোচনা করেছেন? তাঁর দাদা উত্তর দিলেন: কারণ তিনি কিয়াস (যৌক্তিক অনুমান) গ্রহণ করেছিলেন। নাতি সাথে সাথে বললেন: অন্য ইমামগণও তো কিয়াস গ্রহণ করেছেন! দাদা প্রত্যুত্তরে বললেন: কিন্তু তিনি তাঁদের চেয়ে বেশি কিয়াস ব্যবহার করেছেন। নাতি এই জবাবে সন্তুষ্ট হলেন না এবং পাল্টা প্রশ্ন করলেন: তবে তাঁরা কিয়াসের পরিমাপ অনুযায়ী তাঁদের কেন সমালোচনা করলেন না? এতে শেখ আবু আল-ফারাজ চুপ হয়ে গেলেন, যেন তাঁর কাছে আর কোনো উত্তর ছিল না। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অল্প বয়সেই নাতির সংলাপে এমন প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব প্রকাশ পাওয়ায় তিনি আনন্দিত হয়েছিলেন।
* * *
সিবত ইবনুল জাওযী তাঁর দাদার মজলিসে উপস্থিত থাকতেন এবং তাঁর শিক্ষকদের কাছ থেকে যেসব হাদিস ও কাহিনী শুনতেন, তার মাধ্যমে তাঁর আত্মবিশ্বাস সুদৃঢ় হতে থাকে। এমনকি যখন তিনি নিজের মধ্যে তাঁর দাদার মতো মানুষের মাঝে ওয়ায করার সামর্থ্য অনুভব করলেন—সম্ভবত তাঁর উৎসাহেই—তখন ৫৯৬ হিজরি / ১২০০ খ্রিস্টাব্দে তিনি তাঁর প্রথম মজলিস আয়োজন করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র পনেরো বছর এবং এটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের কবরের পাশে। মনে হয় এর পরবর্তী মজলিসগুলোও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
أهل بغداد، فوصفها على أسلوبه في السجع بقوله: «فكان يجتمع فيها خلق عظيم، ويهب على تلك المجالس من القبول نسيم، وتعرف فيها نضرة النعيم، ويصحبها كل بارد من الطيب وكل تكريم، وسلام قولا من رب رحيم»
(1).
وفي تلك السنة سمع من جده كتابه «الثبات عند الممات»
(2)، و «جزء ابن الغطريف»، وكان جده قد انفرد بروايته، وهو جزء مشهور بين المحدثين
(3). وربما في نحو تلك الأيام سمع منه «مشيخته»
(4).
وفي مجلس من مجالس وعظه سمعه ينشد بيتين، تركا في قلبه أثرا لا يمحى، وكان جده قد ذكرهما من قبل في كتابه «التبصرة»، وهما:
أهوى عليا وإيمان محبته
… كم مشرك دمه من سيفه وكفا
إن كنت ويحك لم تسمع فضائله
… فاسمع مناقبه من «هل أتى» وكفى
(5)وفي تلك السنة كذلك ابتدأ سبط ابن الجوزي بسماع «مسند الإمام أحمد ابن حنبل» على شيخه عبد الله
(6) بن أحمد بن أبي المجد، بروايته له عن أبي القاسم بن الحصين
(7)، وبقراءة عز الدين محمد بن الحافظ عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي
(8)، وكان عز الدين أحسن الناس قراءة وأسرعها
(9). وكان يحضر معه مجالس السماع أخوه جمال الدين
--------------------------------------------
বাগদাদবাসী, তিনি তার ছন্দবদ্ধ গদ্য শৈলীতে এর বর্ণনা দিয়ে বলেন: «সেখানে এক বিশাল জনসমাবেশ ঘটত, সেই মজলিসগুলোতে কবুলিয়তের স্নিগ্ধ বাতাস বইত, সেখানে নিয়ামতের সজীবতা চেনা যেত, এবং এর সাথে প্রতিটি শীতল সুঘ্রাণ ও প্রতিটি সম্মাননা যুক্ত থাকত, আর দয়াময় রবের পক্ষ থেকে বলা হবে সালাম»
(১)।
উক্ত বছরে তিনি তার দাদার কাছ থেকে তাঁর রচিত কিতাব «আস-সাবাতু ইনদাল মামাত» (মৃত্যুকালে অবিচলতা)
(২) এবং «জুযউ ইবনিল গাতরিফ» শ্রবণ করেন। তাঁর দাদা এটি বর্ণনায় অনন্য ছিলেন এবং এটি মুহাদ্দিসগণের মাঝে একটি প্রসিদ্ধ সংকলন বা জুয
(৩)। সম্ভবত সেই দিনগুলোর কাছাকাছি সময়ে তিনি তাঁর কাছ থেকে তাঁর «মাশইয়াখাহ» (শিক্ষক তালিকা)
(৪) শ্রবণ করেছিলেন।
তাঁর (দাদার) ওয়াজ মাহফিলগুলোর একটিতে তিনি তাঁকে দুটি কাব্য পঙক্তি আবৃত্তি করতে শোনেন, যা তাঁর অন্তরে এক অমলিন প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর দাদা ইতিপূর্বে তাঁর «আত-তাবসিরাহ» কিতাবে এই দুটি উল্লেখ করেছিলেন। পঙক্তি দুটি হলো:
আমি আলীকে ভালোবাসি এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসাই ঈমান
… কত মুশরিকের রক্ত তাঁর তরবারি দ্বারা ঝরানো হয়েছে এবং তা-ই যথেষ্ট ছিল।
আফসোস তোমার প্রতি! যদি তুমি তাঁর ফজিলতসমূহ না শুনে থাকো
… তবে «হাল আতা» (সূরা দাহর) থেকে তাঁর গুণাবলি শোনো, আর এটিই যথেষ্ট
(৫)উক্ত বছরেই সিবত ইবনুল জাওজি তাঁর শায়খ আবদুল্লাহ
(৬) ইবনে আহমাদ ইবনে আবিল মাজদের নিকট «মুসনাদে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল» শ্রবণ শুরু করেন, যা তিনি (শায়খ) আবুল কাসিম ইবনুল হুসাইনের
(৭) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এটি পাঠ করছিলেন হাফেজ আব্দুল গনি ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসীর
(৮) পুত্র ইজ্জুদ্দীন মুহাম্মদ। ইজ্জুদ্দীন ছিলেন পাঠে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ও দ্রুতগতির
(৯)। শ্রবণ মজলিসগুলোতে তাঁর সাথে তাঁর ভাই জামালুদ্দীন উপস্থিত থাকতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
عبد الله
(1)، ولعل صلة سبط ابن الجوزي بهذين الأخوين هي التي قادته فيما بعد إلى صالحية دمشق حيث كان يقيم المقادسة
(2).
ومع سماعه «المسند» لم يغفل سماع الشعر، فكان يلتقي الشاعر المهذب أبا الدر الرومي، الساكن في المدرسة النظامية، وكان من المتعاطفين مع محنة جده
(3)، فينشده من أشعاره
(4)، ويحدثه من أخباره
(5)، وكان لأبي الدر شهرة في ذلك العصر
(6).
وكان شيخه عبد الوهاب بن علي بن علي الصوفي، المعروف بابن سكينة، صديقا لجده أبي الفرج، ملازما لمجالسه ويزوره، فسأله أبو الفرج ذات يوم بعد عودته من واسط أن يلبس ابنه محيي الدين يوسف خرقة التصوف، فألبسه إياها
(7)، وألبسها كذلك - ربما في اليوم نفسه لسبطه شمس الدين يوسف
(8).
ولم تطل الحياة بالشيخ أبي الفرج ابن الجوزي بعد الإفراج عنه، فكان آخر مجالسه للوعظ يوم السبت 7 رمضان سنة 597 هـ/ 11 حزيران 1201 م، وقد أنشد فيه أبياتا عذبة
(9)، لعله نظمها أيام حبسه في واسط
(10)، قال فيها:
الله أسأل أن يطول مدتي
… وأنال بالإنعام ما في نيتي
لي همة في العلم ما من مثلها
… وهي التي جنت النحول هي التي
خلقت من القلق العظيم إلى المنى
… دعيت إلى نيل الكمال فلبت
--------------------------------------------
আবদুল্লাহ
(১), সম্ভবত এই দুই ভাইয়ের সাথে সিবত ইবনুল জাওযীর সম্পর্কই তাঁকে পরবর্তীতে দামেস্কের সালিহিয়াতে নিয়ে গিয়েছিল যেখানে মাকদিসীগণ বসবাস করতেন
(২)।
‘আল-মুসনাদ’ শ্রবণের পাশাপাশি তিনি কবিতা শ্রবণেও অবহেলা করেননি। তিনি মাদরাসা নিজামিয়ায় বসবাসকারী মার্জিত কবি আবু আদ-দুরর আর-রুমীর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, যিনি তাঁর দাদার বিপদের সময় সহানুভূতিশীলদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন
(৩)। তিনি তাঁকে নিজের কবিতা শোনাতেন
(৪) এবং তাঁকে নিজের জীবনের সংবাদ বর্ণনা করতেন
(৫)। সেই যুগে আবু আদ-দুররের বিশেষ খ্যাতি ছিল
(৬)।
তাঁর শায়খ আবদুল ওয়াহহাব বিন আলী বিন আলী আস-সূফী, যিনি ইবনে সাকীনা নামে পরিচিত ছিলেন, তিনি তাঁর দাদা আবু আল-ফারাজের বন্ধু ছিলেন এবং তাঁর মজলিসে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন ও তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন। ওয়াসিত থেকে ফিরে আসার পর একদিন আবু আল-ফারাজ তাঁকে অনুরোধ করেন যেন তিনি তাঁর ছেলে মুহিউদ্দীন ইউসুফকে তাসাউউফের খিরকা পরিয়ে দেন; তখন তিনি তাকে তা পরিয়ে দেন
(৭)। সম্ভবত একই দিনে তিনি তাঁর দৌহিত্র শামসুদ্দীন ইউসুফকেও তা পরিয়েছিলেন
(৮)।
কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর শায়খ আবু আল-ফারাজ ইবনুল জাওযী বেশিদিন জীবিত ছিলেন না। তাঁর শেষ ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল শনিবার, ৭ রমজান ৫৯৭ হিজরী/ ১১ জুন ১২০১ খ্রিস্টাব্দে। সেখানে তিনি অত্যন্ত সুমধুর কিছু কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন
(৯), যা সম্ভবত তিনি ওয়াসিতে বন্দী থাকাকালীন সময়ে রচনা করেছিলেন
(১০)। তিনি সেখানে বলেছিলেন:
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার হায়ু দীর্ঘ করেন
… এবং তাঁর অনুগ্রহে লাভ করি যা আমার নিয়তে আছে।
জ্ঞানের প্রতি আমার এমন হিম্মত রয়েছে যার কোনো তুলনা নেই
… আর এটিই সেই জিনিস যা কৃশতা ডেকে এনেছে, এটিই সেই।
প্রবল ব্যাকুলতা থেকে আকাঙ্ক্ষার দিকে আমি সৃজিত হয়েছি
… পূর্ণতা অর্জনের ডাক এলে আমি তাতে সাড়া দিয়েছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
كم كان لي من مجلس لو شبهت حالاته لتشبهت بالجنة فما إن نزل عن المنبر حتى أقعده مرض الشيخوخة، وتوفي ليلة الجمعة بين العشاءين في داره بقطفتا
(1)؛ بالجانب الغربي من بغداد
(2)، وله نحو سبع وثمانين سنة
(3).
ووقف سبطه في عزائه، يتكلم عن حياته ومناقبه، وعينه تفيض بالدمع على فراقه
(4). ولحبه ووفائه له أفرد من بعد ترجمة ضافية له في كتابه «مرآة الزمان»
(5).
* * *
ويبدو أن سبط ابن الجوزي قد أصاب منزلة في بغداد على صغر سنه، فحين توفيت زمرد خاتون - والدة الخليفة الناصر لدين الله في جمادى الأولى سنة 599 هـ/ 1203 م، وكانت امرأة صالحة، كثيرة المعروف والصدقات - كان هو أحد المتكلمين في عزائها. وقد اتفق يوم وفاتها نزول الثلج، وزيادة دجلة زيادة عظيمة، فتكدر نهر عيسى، وتربتها قريبة منه، فأنشد أبياتا، منها:
شابت ليوم وفاتها لمم الثرى
… حزنا وجاد لها الندى ببهائه
فلنهر عيسى بعد أنس وحشة
… وبمائه كدر بعيد صفائه
قامت قيامته فأضحى زائدا
… ينمي وذلك مؤذن ببكائه
--------------------------------------------
আমার কতই না মজলিস ছিল যেগুলোর অবস্থাকে যদি তুলনা করতাম তবে জান্নাতের সাথেই তুলনা করতাম। মিম্বর থেকে নামার পরপরই বার্ধক্যজনিত রোগ তাঁকে শয্যাশায়ী করে দেয়, এবং তিনি শুক্রবার রাতে মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে বাগদাদের পশ্চিম তীরের কতফতায়
(১) অবস্থিত নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন; তাঁর বয়স তখন প্রায় সাতাশি বছর
(৩)।
তাঁর শোকসভায় তাঁর দৌহিত্র দাঁড়িয়ে তাঁর জীবন ও গুণাবলী সম্পর্কে আলোচনা করেন, আর তাঁর বিচ্ছেদে দৌহিত্রের চোখ থেকে অশ্রু ঝরছিল
(৪)। তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যের কারণে তিনি পরবর্তীতে তাঁর ‘মিরআতুয যামান’ গ্রন্থে তাঁর একটি বিস্তারিত জীবনী অধ্যায় যুক্ত করেন
(৫)।
* * *
প্রতীয়মান হয় যে, সিবত ইবনুল জাওযী অল্প বয়সেই বাগদাদে উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন। যখন খলিফা আন-নাসির লি-দীনিল্লাহর মাতা যুমুররুদ খাতুন—যিনি ছিলেন একজন নেককার নারী এবং প্রচুর জনহিতকর ও দানশীলতার কাজ করতেন—৫৯৯ হিজরির জমাদিউল উলা/১২০৩ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তিনি তাঁর শোকসভার অন্যতম বক্তা ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর দিন কাকতালীয়ভাবে তুষারপাত হয় এবং দজলা নদীর পানি প্রচণ্ড বৃদ্ধি পায়, ফলে ঈসা নদী ঘোলাটে হয়ে পড়ে; আর তাঁর কবর ছিল এই নদীর নিকটেই। এ উপলক্ষে তিনি কিছু পঙ্ক্তি আবৃত্তি করেন, যার মধ্যে রয়েছে:
মাটির কেশরাজি তাঁর মৃত্যু দিবসে সাদা হয়ে গেছে … শোকের আতিশয্যে, আর শিশির তার সৌন্দর্যে তাঁকে সিক্ত করেছে
ঈসা নদী সখ্যের পর নির্জনতায় আচ্ছন্ন হয়েছে … স্বচ্ছতার পর তার পানি আজ কলুষিত
তাঁর কিয়ামত ঘটে গেছে তাই নদীটি আজ উত্তাল হয়ে উঠেছে … সে বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর এটিই তাঁর কান্নার পূর্বাভাস
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
وخلع الخليفة بعد شهر من وفاتها على الأعيان، ومن لم يخلع عليه أعطاه مالا، ولا شك أن سبط ابن الجوزي قد أصاب يومذاك من خلع الخليفة أو ماله
(1).
بيد أن الحياة في بغداد لم تصف له بعد وفاة جده الأثير لديه، والحاني عليه. ولعل مما زاد من ضيقه ما كان يعصف بأسرة الشيخ أبي الفرج من مناكفات وعداوات بين خاليه: محيي الدين يوسف؛ صاحب الخلق الحميد، والبار بأبيه في حياته وبعد مماته
(2)، وخاله أبي القاسم علي؛ الشديد المناوأة لأبيه في حياته.
وما كان أبو الفرج، وهو الواعظ الكبير، ليترك ابنه عليا على جهالاته، فكان لا يني يردد على مسامعه نصائحه، مرشدا له إلى نهج الصواب، وهل غير العلم والعمل به يفضي إليه؟ ولذلك ألف له كتابه «لفتة الكبد إلى نصيحة الولد»، راسما له طريق النجاة والرفعة في الدنيا والآخرة، ومؤملا ألا يخيب ظنه فيما رجاه منه، سائلا الله له أن يوفقه للعلم والعمل معا
(3).
وأصم علي سمعه عن نصائح أبيه وإرشاداته، واستمر سادرا في غيه، يوالي من يعاديه
(4)، ثم صرح بعداوته له زمن حبسه بواسط، فأظهر مصنفاته، وباعها بثمن بخس بيع العبيد، ولم يكتف بذلك، بل صادق أعداءه
(5)، ولا سيما عبد السلام حفيد الشيخ عبد القادر، الذي كان سبب محنته
(6). وقد جمع بينهما عدم الورع
(7)؛ فهجره أبوه ساخطا عليه، ومات.
--------------------------------------------
তাঁর মৃত্যুর এক মাস পর খলিফা গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সম্মানসূচক পোশাক প্রদান করেন, আর যাকে পোশাক দেওয়া হয়নি তাকে তিনি অর্থ প্রদান করেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সিবত ইবনুল জাওযী সেদিন খলিফার পক্ষ থেকে সম্মানসূচক পোশাক অথবা অর্থ লাভ করেছিলেন
(১)।
তবে তাঁর প্রিয় ও স্নেহশীল দাদার মৃত্যুর পর বাগদাদের জীবন তাঁর জন্য সুখকর ছিল না। সম্ভবত শাইখ আবুল ফারাজের পরিবারে তাঁর দুই মামার মধ্যকার বিবাদ ও শত্রুতা তাঁর কষ্টের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল: মুহিউদ্দীন ইউসুফ; যিনি ছিলেন প্রশংসনীয় চরিত্রের অধিকারী এবং তাঁর পিতার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর তাঁর প্রতি অত্যন্ত অনুগত
(২), এবং তাঁর অপর মামা আবুল কাসিম আলী; যিনি তাঁর পিতার জীবদ্দশায় তাঁর তীব্র বিরোধী ছিলেন।
আবুল ফারাজ একজন প্রখ্যাত ওয়ায়েজ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর পুত্র আলীকে তাঁর অজ্ঞতার ওপর ছেড়ে দিতে পারতেন না। তাই তিনি অবিরত তাঁর কানে উপদেশবাণী শোনাতেন এবং তাঁকে সঠিক পথের দিশা দিতেন; আর ইলম এবং সে অনুযায়ী আমল করা ছাড়া কিইবা সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে? এজন্যই তিনি তাঁর জন্য 'লাফতাতুল কাবাদি ইলা নাসিহাতিল ওয়ালাদ' নামক গ্রন্থটি রচনা করেন, যেখানে তিনি তাঁর জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে মুক্তি ও উচ্চমর্যাদার পথ এঁকে দিয়েছেন। তিনি আশা করেছিলেন যে তাঁর পুত্র তাঁর প্রত্যাশা পূরণ করবে এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন যেন তিনি তাঁকে ইলম ও আমল উভয়টির তাওফীক দান করেন
(৩)।
কিন্তু আলী তাঁর পিতার উপদেশ ও নির্দেশনার প্রতি কর্ণপাত করেননি এবং নিজ বিভ্রান্তিতেই নিমজ্জিত থাকেন। তিনি পিতার শত্রুদের সাথে মিত্রতা বজায় রাখতেন
(৪)। এরপর ওয়াসিতে তাঁর কারাবাসের সময় তিনি পিতার প্রতি সরাসরি শত্রুতা প্রকাশ করেন এবং তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ বের করে নগণ্য মূল্যে দাসের মতো বিক্রি করে দেন। তিনি কেবল এতেই ক্ষান্ত হননি, বরং তাঁর পিতার শত্রুদের সাথে বন্ধুত্ব করেন
(৫), বিশেষ করে শাইখ আব্দুল কাদিরের পৌত্র আব্দুস সালামের সাথে, যিনি তাঁর বিপদের কারণ ছিলেন
(৬)। মূলত তাকওয়া ও পরহেজগারির অভাবই তাঁদের দুজনকে একত্রিত করেছিল
(৭); ফলে তাঁর পিতা রাগান্বিত হয়ে তাঁকে ত্যাগ করেন এবং এই অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
وهو غير راض عنه
(1). فلم يشهد علي وفاته
(2)، وحين ذهبوا بجنازته إلى تحت تربة أم الخليفة مكان جلوسه، صلى عليه علي اتفاقا؛ لأن الأعيان لم يقدروا على الوصول إليه
(3).
وبعيد وفاة أبيه تمادى علي في استهتاره، وسولت له نفسه إفساد ابن أخته يوسف، فدعاه ذات يوم إلى زيارة صديقه عبد السلام، قائلا له: لي صديق يشتهي أن يراك، ولم يعرفه من هو، ولندع سبط ابن الجوزي يحدثنا عما رآه في زيارته تلك، قال: «فمشيت معه، فأدخلني إلى دار شممت من دهليزها رائحة الخمر، ودخلنا، فإذا الركن عبد السلام جالس، وعنده صبيان مردان، وهو في حالة قبيحة، فلم أقعد، فصاح خالي والركن، فلم ألتفت، فتبعني خالي، وقال: خجلتني من الرجل. فقلت له: لا جزاك الله خيرا. وأسمعته غليظ الكلام»
(4).
هذه الحادثة وأمثالها ربما عززت لديه الرغبة في مغادرة بغداد، في رحلة لطلب العلم، وليمتحن قدرته في الوعظ فيما يمر به من بلاد، بعد أن نجح في الوعظ في بغداد.
وما ندري هل كان والداه على قيد الحياة قبيل مغادرته بغداد؟ فسبط ابن الجوزي لم يعد يحدثنا عنهما أبدا، إلا تلك الإشارة اليتيمة إلى والده، حين روى عنه حادثة تتعلق بصاحب المخزن ونائب الوزارة ظهير الدين أبي بكر ابن العطار
(5)، وإلى والدته حين حدثته عما سمعته من جده أبي الفرج قبيل وفاته
(6).
* * *
--------------------------------------------
এবং তিনি তার ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন না
(১)। ফলে আলী তার মৃত্যুতে উপস্থিত থাকতে পারেননি
(২), আর যখন তারা তার জানাজা খলিফার মাতার সমাধির নিচে তার বসার স্থানে নিয়ে গেল, তখন আলী সেখানে ঘটনাক্রমে জানাজা পড়লেন; কারণ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তার কাছে পৌঁছাতে সক্ষম ছিলেন না
(৩)।
তার পিতার মৃত্যুর কিছুদিন পরেই আলী তার বেপরোয়া আচরণে সীমা ছাড়িয়ে যান এবং তার কুপ্রবৃত্তি তাকে তার ভাগ্নে ইউসুফকে পথভ্রষ্ট করতে প্ররোচিত করে। তাই একদিন তিনি তাকে তার বন্ধু আবদুস সালামের সাথে দেখা করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে বললেন: "আমার এক বন্ধু আছে যে তোমাকে দেখার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে," কিন্তু তিনি কে তা তাকে জানাননি। আসুন আমরা সিবত ইবনুল জাওযীকে সেই সাক্ষাতের সময় তিনি যা দেখেছিলেন তা বর্ণনা করতে দিই। তিনি বলেন: «আমি তার সাথে হাঁটলাম, তিনি আমাকে এমন এক বাড়িতে নিয়ে গেলেন যার বারান্দা থেকেই আমি মদের গন্ধ পাচ্ছিলাম। আমরা প্রবেশ করলাম, সেখানে রুকন আবদুস সালাম বসা ছিলেন এবং তার কাছে অল্পবয়সী কিশোররা ছিল। তিনি তখন অত্যন্ত কদর্য অবস্থায় ছিলেন। আমি সেখানে বসলাম না, আমার মামা এবং রুকন চিৎকার করে ডাকলেন, কিন্তু আমি ভ্রুক্ষেপ করলাম না। মামা আমার পিছু পিছু আসলেন এবং বললেন: তুমি লোকটির কাছে আমাকে লজ্জিত করলে। আমি তাকে বললাম: আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান না দিন। আর আমি তাকে অত্যন্ত কঠোর কথা শোনালাম»
(৪)।
এই ঘটনা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো সম্ভবত তার মধ্যে ইলম অন্বেষণের সফরে বাগদাদ ত্যাগ করার আকাঙ্ক্ষাকে জোরদার করেছিল। এছাড়া তিনি যেসব দেশ অতিক্রম করবেন সেখানেও নিজের ওয়ায বা উপদেশের দক্ষতা পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন, যেহেতু তিনি বাগদাদে ওয়াযের ক্ষেত্রে সফল হয়েছিলেন।
আমরা জানি না বাগদাদ ছাড়ার আগ মুহূর্তে তার পিতামাতা জীবিত ছিলেন কি না? কারণ সিবত ইবনুল জাওযী তাদের সম্পর্কে আর কিছুই বলেননি, কেবল তার পিতা সম্পর্কে সেই একমাত্র ইঙ্গিতটি ছাড়া, যখন তিনি তার কাছ থেকে ভাণ্ডারের অধিকর্তা ও উপ-মন্ত্রী জহিরুদ্দিন আবু বকর ইবনুল আত্তার সংক্রান্ত একটি ঘটনা বর্ণনা করেছিলেন
(৫); আর তার মাতা সম্পর্কে ইঙ্গিতটি ছিল তখন, যখন তিনি তাকে শুনিয়েছিলেন যা তিনি তার দাদা আবুল ফরাজের মৃত্যুর পূর্বে তার নিকট থেকে শুনেছিলেন
(৬)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
رحلته في طلب العلم من بغداد إلى دمشق- 1 -
فما إن انقضت ثلاث سنوات على وفاة جده الشيخ أبي الفرج ابن الجوزي، وقد بلغ التاسعة عشرة من عمره، حتى شرع في رحلته الأولى لطلب العلم، ولقاء الشيوخ.
فخرج من بغداد في أول سنة 600 هـ/ 1203 م
(1)، تسبقه شهرة جده، متجها شمالا.
فمر على أوانا؛ قرية بالدجيل، فزار رباط زاهدها الشيخ القدوة العارف محمد بن أبي المعالي بن قائد
(2)، وكان قد استشهد غيلة سنة 584 هـ/ 1188 م، فشاهد دمه بعد انقضاء تلك السنين، وهو ما يزال طريا، على جلد غزال كان يجلس عليه
(3).
ثم اجتاز بدقوقا
(4)، وهي مدينة صغيرة بين بغداد وإربل
(5)، فالتقى خطيبها، وكان يقال له الحجة، فسمع منه الحديث، ثم عقد بها مجالس للوعظ. ولم يطل مقامه فيها، فتابع طريقه إلى إربل، واجتمع فيها بشيخ كيس ظريف يقال له محيي الدين الشاتاني، وكان حافظا للشعر، فأنشد له مقطعات مما يحفظ
(6). وسمع من أعيانها عن مآثر حاكمها مظفر الدين
--------------------------------------------
ইলম অন্বেষণে বাগদাদ থেকে দামেস্কে তাঁর সফর- ১ -
তাঁর দাদা শায়খ আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযীর মৃত্যুর তিন বছর অতিবাহিত হতে না হতেই, যখন তাঁর বয়স উনিশ বছর, তিনি ইলম অন্বেষণ এবং মাশায়েখদের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রথম সফর শুরু করেন।
তিনি উত্তর দিকে মুখ করে ৬০০ হিজরি/১২০৩ খ্রিস্টাব্দের শুরুতে বাগদাদ ত্যাগ করেন; তাঁর দাদার সুখ্যাতি তাঁর আগেই সেখানে পৌঁছে গিয়েছিল।
তিনি দুজাইলের একটি গ্রাম 'আওয়ানা' অতিক্রম করেন। সেখানে তিনি প্রখ্যাত সাধক ও আদর্শ শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আবিল মা'আলী ইবনে কায়েদ-এর খানকাহ যিয়ারত করেন। উল্লেখ্য যে, ৫৮৪ হিজরি/১১৮৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি গুপ্তহত্যার শিকার হয়ে শহীদ হয়েছিলেন। দীর্ঘ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও তিনি তাঁর রক্ত একটি হরিণের চামড়ার ওপর তাজা অবস্থায় দেখতে পান, যার ওপর তিনি বসতেন।
এরপর তিনি বাগদাদ ও ইরবিলের মধ্যবর্তী একটি ছোট শহর 'দাকুকা' অতিক্রম করেন। সেখানে তিনি সেখানকার খতীবের সাথে দেখা করেন, যাঁকে 'আল-হুজ্জাহ' বলা হতো। তিনি তাঁর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন এবং সেখানে ওয়াজের মজলিস পরিচালনা করেন। সেখানে তিনি দীর্ঘকাল অবস্থান করেননি, বরং ইরবিলের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখেন। সেখানে তিনি মহিউদ্দিন শাতানী নামক একজন বুদ্ধিমান ও মার্জিত শায়খের সাথে মিলিত হন, যিনি কাব্য মুখস্থ রাখতেন। তিনি তাঁর মুখস্থ থেকে কিছু পঙ্ক্তি তাঁকে শোনান। তিনি ইরবিলের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে এর শাসক মুজাফফরুদ্দীনের কীর্তিগাঁথা সম্পর্কে অবগত হন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
كوكبري، وما ينفقه من أموال جزيلة على فك الأسارى والخانكات ودار المضيف، وغيرها من أبواب البر، وعلى إقامة المولد النبوي الشريف في كل عام، وكان له به احتفال كبير
(1)، وكذلك عقد فيها مجالس للوعظ.
ثم قدم الموصل، وأدرك بها جماعة من مشايخ الإسلام، وحملة من حديث المصطفى عليه السلام، منهم شيخها المحدث أبو طاهر أحمد بن عبد الله بن أحمد الطوسي، فسمع منه الأحاديث النقورية
(2)، وهي الأجزاء الحديثية التي تفرد بها مسند العراق أبو الحسين أحمد بن محمد بن أحمد ابن النقور (المتوفى سنة 470 هـ/ 1078 م)، وأسانيدها من أعلى الأسانيد
(3).
ومنهم أخوه خطيب الموصل أبو القاسم عبد المحسن بن عبد الله بن أحمد الطوسي
(4)، ومما قرأ عليه كتاب «اعتلال القلوب» لأبي بكر محمد بن جعفر الخرائطي
(5).
وسمع كذلك من الشيخ أبي القاسم بن مسلم الصفار الموصلي
(6). وحدثه أبو بكر القديمي، وإسماعيل الشعار حكاية جرت لشيخهما الزاهد أبي أحمد الحداد مع صاحب الموصل سيف الدين غازي بن مودود بن زنكي (المتوفى سنة 576 هـ/ 1180 م)
(7).
وعقد بها مجالس للوعظ، ويبدو أن شهرته سبقته إليها، فحصل له بها القبول التام، إذ كان الناس ينامون ليلة المجلس في الجامع من كثرة الزحام
(8).
--------------------------------------------
কুকবুরি, এবং বন্দি মুক্তি, খানকাহ, মেহমানখানা ও অন্যান্য নেক কাজে তিনি যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতেন, এবং প্রতি বছর মিলাদুন্নবী পালনের জন্য তিনি যে আয়োজন করতেন; সেখানে তার বিশাল এক অনুষ্ঠান হতো
(১)। একইভাবে তিনি সেখানে ওয়াযের মজলিসও কায়েম করেন।
অতঃপর তিনি মোসেলে আগমন করেন এবং সেখানে একদল শাইখুল ইসলাম ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের বাহকগণের সাক্ষাৎ লাভ করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সেই শহরের শাইখ মুহাদ্দিস আবু তাহের আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আত-তুসি। তিনি তার নিকট থেকে ‘আন-নুকুরিয়্যাহ’ হাদিসসমূহ শ্রবণ করেন
(২); এগুলো হলো হাদিসের সেই অংশগুলো যা ইরাকের মুসনিদ আবুল হুসাইন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুন নুকুর (মৃত্যু ৪৭০ হিজরি/ ১০৭৮ খ্রিস্টাব্দ) এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদসমূহ সর্বোচ্চ পর্যায়ের সনদের অন্তর্ভুক্ত
(৩)।
তাদের মধ্যে আরও ছিলেন তার ভাই মোসেলের খতিব আবুল কাসিম আব্দুল মুহসিন ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আত-তুসি
(৪)। তিনি তার নিকট আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-খারাইতি রচিত ‘ইতলালুল কুলুব’ কিতাবটি পাঠ করেন
(৫)।
একইভাবে তিনি শাইখ আবুল কাসিম ইবনে মুসলিম আস-সাফফার আল-মওসিলির নিকট থেকেও শ্রবণ করেন
(৬)। আবু বকর আল-কুদাইমি এবং ইসমাইল আশ-শাআর তাকে তাদের ওস্তাদ যাহেদ আবু আহমদ আল-হাদ্দাদের একটি ঘটনা বর্ণনা করেন, যা মোসেলের অধিপতি সাইফউদ্দিন গাজী ইবনে মওদুদ ইবনে জাঙ্গি (মৃত্যু ৫৭৬ হিজরি/ ১১৮০ খ্রিস্টাব্দ)-এর সাথে ঘটেছিল
(৭)।
তিনি সেখানে ওয়াযের মজলিস কায়েম করেন। প্রতীয়মান হয় যে, তার খ্যাতি তার আগেই সেখানে পৌঁছে গিয়েছিল, ফলে তিনি সেখানে পূর্ণ গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেন। কেননা মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের কারণে তারা মজলিসের রাতে জামে মসজিদে রাত কাটাতেন
(৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
ثم غادرها إلى حران، فسمع من شيوخها: يحيى بن أبي الفتح بن الطباخ الضرير
(1)، وموفق الدين حمد بن أحمد الحراني، المعروف بابن صديق
(2)، وأبي محمد عبد القادر بن عبد الله الرهاوي
(3)، وخطيبها البارع وواعظها فخر الدين محمد بن أبي القاسم الخضر ابن تيمية
(4)، وحضر خطبه في جامعها، وسمعه مرة ينشد يوم الجمعة بعد الصلاة على المنبر:
أحبابنا قد نذرت مقلتي
… ما تلتقي بالنوم أو نلتقي
رفقا بقلب مغرم واعطفوا
… على سقام الجسد المعرق
كم تمطلوني بليالي اللقا
… قد ذهب العمر ولم نلتق
(5)وكعادته في كل بلد ينزل فيه، عقد سبط ابن الجوزي بها مجالس للوعظ
(6). ويبدو أنه لم يجد ترحيبا من فخر الدين ابن تيمية، فكتب عنه في «مرآته»: «كان ضنينا بحران متى نبغ فيها أحد لا يزال وراءه حتى يخرجه منها، ويبعده عنها»
(7).
ومن ثم شد الرحال إلى حلب
(8)، ضيفا على أتابكها شهاب الدين طغريل؛ عتيق صاحبها الملك الظاهر غازي بن السلطان صلاح الدين. وكان شهاب الدين صالحا عفيفا، زاهدا عابدا. فأنزله في الخانقاه التي
--------------------------------------------
তারপর তিনি সেখান থেকে হাররানের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং সেখানকার শায়খদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন: ইয়াহইয়া বিন আবিল ফাতহ বিন আত-তাব্বাখ আদ-দারীর
(১), মুওয়াফফাকুদ্দীন হামাদ বিন আহমদ আল-হাররানী, যিনি ইবনু সিদ্দিক
(২) নামে পরিচিত, আবু মুহাম্মদ আব্দুল কাদির বিন আব্দুল্লাহ আল-রাহাবী
(৩) এবং সেখানকার অত্যন্ত দক্ষ খতিব ও ওয়ায়েজ ফাখরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আবিল কাসিম আল-খিজির ইবনু তাইমিয়া
(৪)। তিনি হাররানের জামে মসজিদে তার খুতবাগুলোতে উপস্থিত হতেন এবং একবার জুমার দিন নামাজের পর তাকে মিম্বারের উপর এই কবিতা আবৃত্তি করতে শুনেছেন:
হে আমাদের প্রিয়জনেরা, আমার নয়ন যুগল মানত করেছে... হয় তারা ঘুমের সাথে মিলিত হবে না, নতুবা আমরা মিলিত হব।
এই অনুরাগী হৃদয়ের প্রতি সদয় হোন এবং মমতা প্রদর্শন করুন... এই ঘর্মাক্ত রুগ্ন দেহের প্রতি।
সাক্ষাতের রজনীগুলো নিয়ে তোমরা কত আর টালবাহানা করবে... জীবন তো ফুরিয়ে গেল অথচ আমাদের দেখা হলো না।
(৫)আর প্রতিটি শহরে অবস্থানকালে তার চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী, সিবত ইবনুল জাওজি সেখানে ওয়াজের মজলিস কায়েম করেন
(৬)। প্রতীয়মান হয় যে, তিনি ফাখরুদ্দীন ইবনু তাইমিয়ার নিকট থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পাননি, তাই তিনি তার 'মিরআত' গ্রন্থে তার সম্পর্কে লিখেছেন: "হাররানের ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত সংকীর্ণমনা ছিলেন; যখনই সেখানে কেউ বিকশিত হতো, তিনি তার পিছু ছাড়তেন না যতক্ষণ না তাকে সেখান থেকে বের করে দিতেন এবং তাকে তা থেকে দূরে সরিয়ে দিতেন"
(৭)।
অতঃপর তিনি সুলতান সালাহুদ্দীনের পুত্র মালিকুজ জাহির গাজীর মুক্তদাস ও তার স্থলাভিষিক্ত শিহাবুদ্দীন তুঘরিলের মেহমান হয়ে আলেপ্পোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন
(৮)। শিহাবুদ্দীন ছিলেন একজন নেককার, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, দুনিয়াবিমুখ ও ইবাদতগুজার ব্যক্তি। তিনি তাকে সেই খানকাহতে অবস্থান করান যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
بناها بظاهر حلب على باب الأربعين عند القناة، واحتفاء به كان يبيت دائما عنده
(1).
ومدة إقامته بحلب انتسجت صداقة بينه وبين أمير من كبار أمرائها، وهو سيف الدين علي بن سليمان بن جندر، وكان كثير الخير والصدقات الدارة، والبر الوافر، مع ميل إلى أهل العلم، وله الغزوات المشهورة، فصار الأمير يقوم على خدمته فيها
(2).
وقد سمع سبط ابن الجوزي من مشايخها، منهم كبير الحنفية
(3) افتخار الدين عبد المطلب بن الفضل الهاشمي البلخي، وله شرح على «الجامع الكبير» للإمام محمد بن الحسن الشيباني
(4)، وكان يدرس بالمدرسة النورية الحلاوية
(5)، فسمع منه «شمائل النبي صلى الله عليه وسلم»
(6)، وسمع «أسباب النزول» من شيخها عبد الرحمن بن عبد الله بن علوان ابن الأستاذ
(7)- 2 -
ثم يمم وجهه شطر دمشق، فنزل بصالحيتها في سفح جبل قاسيون عند المقادسة
(8)، وكان له بهم معرفة وأنس، فقد تعرف إلى بعضهم في رباط الشيخ محمود بن عثمان النعال في بغداد
(9). وله صحبة مع عز الدين محمد، وجمال الدين عبد الله ابني الحافظ عبد الغني المقدسي، أيام
--------------------------------------------
তিনি এটি আলেপ্পোর শহরতলিতে 'বাবুল আরবাঈন'-এ নহরের কাছে নির্মাণ করেছিলেন এবং তাঁকে সম্মান জানিয়ে তিনি সর্বদা তাঁর কাছেই রাত কাটাতেন
(১)。
আলেপ্পোতে অবস্থানকালে সেখানকার অন্যতম প্রধান আমির সাইফউদ্দিন আলী বিন সুলাইমান বিন জানদারের সাথে তাঁর সখ্যতা গড়ে ওঠে। সেই আমির ছিলেন অত্যন্ত দানশীল, অঢেল সদকাকারী এবং অত্যন্ত পুণ্যবান ব্যক্তি। পাশাপাশি আলেমদের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ ছিল। তাঁর অনেক সুপ্রসিদ্ধ যুদ্ধাভিযান রয়েছে; ফলে সেই আমির সেখানে তাঁর খিদমতে নিয়োজিত থাকতেন
(২)。
আর সবত ইবনুল জাওযী সেখানকার শাইখদের নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হানাফী মাযহাবের প্রবীণ আলেম
(৩) ইফতিখারুদ্দিন আব্দুল মুত্তালিব বিন ফাদল আল-হাশেমি আল-বালখি। ইমাম মুহাম্মদ বিন হাসান আল-শায়বানীর ‘আল-জামেউল কাবীর’ গ্রন্থের ওপর তাঁর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে
(৪)। তিনি নুরিয়া হালাবিয়া মাদরাসায় পাঠদান করতেন
(৫)। তাঁর নিকট থেকে তিনি ‘শামায়েলুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ শ্রবণ করেন
(৬)। এছাড়া তিনি সেখানকার শাইখ আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন আলওয়ান ইবনুল উস্তাদ-এর নিকট থেকে ‘আসবাবুন নুযূল’ শ্রবণ করেন
(৭)- ২ -
এরপর তিনি দামেস্কের পানে যাত্রা করেন এবং কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে সালিহিয়া এলাকায় মাকদিসিদের নিকট অবতরণ করেন
(৮)। তাঁদের সাথে তাঁর পূর্বপরিচয় ও হৃদ্যতা ছিল; কারণ বাগদাদে শাইখ মাহমুদ বিন উসমান আন-নাআল-এর রিবাত-এ থাকাকালীন তিনি তাঁদের কয়েকজনের সাথে পরিচিত হয়েছিলেন
(৯)। হাফেজ আব্দুল গনী আল-মাকদিসীর দুই পুত্র ইযযুদ্দিন মুহাম্মদ এবং জামালুদ্দিন আব্দুল্লাহর সাথে তাঁর সাহচর্য ছিল সেই দিনগুলোতে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
سماعه «مسند الإمام أحمد ابن حنبل»
(1).
وقد راقته صحبة شيخ المقادسة وكبيرهم أبي عمر محمد بن أحمد ابن قدامة، وأخيه الموفق عبد الله، ونسيبهما العماد إبراهيم
(2).
وكان أبو عمر وقتذاك في الثانية والسبعين من عمره، صبيح الوجه، كث اللحية، نحيفا، أبيض أزرق العينين
(3). وكان قد حضر فيما مضى غزوات صلاح الدين يوسف بن أيوب ضد الصليبيين، هو وأخوه الموفق، وشهدا معركة حطين، وفتح بيت المقدس
(4)، ثم آثر أبو عمر الاشتغال بالعبادة عن الرواية
(5).
في تلك الأيام كان منهمكا في إتمام بناء جامع الحنابلة بجبل قاسيون الذي شرع فيه قبل سنتين. وقد أعانه عليه من ماله أبو داود محاسن، وهو رجل فامي من قاسيون
(6)؛ يبيع الفواكه المجففة
(7)، فوضع أساسه، وأنفق عليه ما كان يملكه حتى بلغ قامة. ثم بلغ مظفر الدين بن زين الدين - صاحب إربل - تعذر إكماله، فبعث إلى أبي عمر مالا فتممه، ووقف عليه وقفا
(8).
وأعجب سبط ابن الجوزي بحال أبي عمر ومقاله أيما إعجاب، فوصفه لنا فيما بعد أبدع وصف، متتبعا حركاته وسكناته على مدار أيامه، فقال:
«كان معتدل القامة، حسن الوجه، عليه أنوار العبادة، لا يزال مبتسما، نحيل الجسم من كثرة الصيام والقيام. وكان يصوم الدهر إلا من
--------------------------------------------
তাঁর «মুসনাদে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল» শ্রবণ
(১)।
মাকদিসিদের শায়খ ও তাঁদের অগ্রজ আবু উমর মুহাম্মদ বিন আহমাদ ইবনে কুদামা, তাঁর ভাই মুয়াফফাক আবদুল্লাহ এবং তাঁদের আত্মীয় ইমাদ ইব্রাহিমের সান্নিধ্য তাঁকে মুগ্ধ করেছিল
(২)।
সেই সময় আবু উমর ছিলেন বাহাত্তর বছর বয়সের, তাঁর চেহারা ছিল উজ্জ্বল, দাড়ি ছিল ঘন, শরীর ছিল কৃশ এবং তিনি ছিলেন ফর্সা ও নীল চক্ষুবিশিষ্ট
(৩)। তিনি এবং তাঁর ভাই মুয়াফফাক অতীতে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে সালাহউদ্দীন ইউসুফ ইবনে আইয়ুবের যুদ্ধগুলোতে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁরা হাত্তিনের যুদ্ধ ও বায়তুল মাকদিস বিজয়ের সাক্ষী হয়েছিলেন
(৪)। পরবর্তীতে আবু উমর হাদিস বর্ণনার চেয়ে ইবাদতে মগ্ন থাকাকেই প্রাধান্য দেন
(৫)।
সেই দিনগুলোতে তিনি কাসিউন পাহাড়ে 'জামে আল-হানাবিলা' (হাম্বলি জামে মসজিদ) এর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করতে নিমগ্ন ছিলেন, যার কাজ দুই বছর আগে শুরু হয়েছিল। এই কাজে আবু দাউদ মাহাসিন তাঁর নিজস্ব সম্পদ দিয়ে তাঁকে সহায়তা করেছিলেন, যিনি ছিলেন কাসিউনের একজন শুকনো ফল বিক্রেতা
(৬); তিনি শুকনো ফল বিক্রি করতেন
(৭)। তিনি এর ভিত্তি স্থাপন করেন এবং তাঁর মালিকানাধীন যা কিছু ছিল তা এতে ব্যয় করেন যতক্ষণ না এটি এক পুরুষ উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছায়। এরপর ইরবিলের অধিপতি মুজাফফরুদ্দীন বিন জাইনুদ্দীনের নিকট খবর পৌঁছায় যে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, তখন তিনি আবু উমরের নিকট অর্থ পাঠান এবং তিনি এটি সম্পন্ন করেন ও এর জন্য একটি ওয়াকফ প্রতিষ্ঠা করেন
(৮)।
সিবত ইবনুল জাওযি আবু উমরের অবস্থা ও কথাবার্তায় অত্যন্ত মুগ্ধ হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি তাঁর দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি নড়াচড়া ও স্থিরতা অনুসরণ করে আমাদের কাছে চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন:<
«তিনি ছিলেন মাঝারি গড়নের, সুন্দর চেহারার অধিকারী, তাঁর ওপর ইবাদতের নূর উদ্ভাসিত ছিল, তিনি সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল থাকতেন, অতিরিক্ত রোজা ও দীর্ঘ কিয়ামের (রাত্রিকালীন নামাজ) কারণে তাঁর শরীর ছিল শীর্ণ। তিনি সারা বছর রোজা রাখতেন কেবল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিবতুবনুল জাওযী আল-মুয়াররিখুল ওয়ায়িজ
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
عذر، ويقوم الليل من صغره، وما كان يفطر إلا في يوم عيد، ويحافظ على الصلوات الخمس في الجماعات، ويخرج من ثلث الليل الأخير إلى المسجد في الظلمة، فيصلي إلى الفجر، ويقرأ في كل يوم سبعا من القرآن بين الظهر والعصر، ويقرأ بعد العشاء الآخرة آيات الحرس ويس والواقعة وتبارك و {قل هو الله أحد} والمعوذتين. وإذا ارتفعت الشمس لفن الناس القرآن إلى وقت الضحى، ثم يقوم فيصلي الضحى ثماني ركعات، ويقرأ {قل هو الله أحد} ألف مرة.
ويزور المقابر بعد العصر في كل جمعة، ويصعد يوم الإثنين والخميس إلى مغارة الدم ماشيا بالقبقاب، فيصلي فيها ما بين الظهر والعصر. وإذا نزل جمع الشيخ من الجبل، وربطه بحبل، وحمله إلى بيوت الأرامل واليتامى. ويحمل في الليل إليهم الدراهم والدقيق ولا يعرفونه. ولا ينام إلا على طهارة، ومتى فتح له بشيء من الدنيا آثر به أقاربه وغيرهم. ويتصدق بثيابه، وربما خرج الشتاء وعلى جسده جبة بغير ثوب. ويبقى مدة طويلة بغير سراويل، وعمامته قطعة من بطانة، فإن احتاج أحد إلى خرقة أو مات صغير يحتاج إلى كفن، قطع له منها قطعة.
وكان ينام على الحصير، ويأكل خبز الشعير، وثوبه خام إلى أنصاف ساقيه. وما نهر أحدا، ولا أوجع قلب أحد، وكان يقول: أنا زاهد، ولكن في الحرام»
(1).
وما كان يرد أحدا في شفاعة إلى من كان، ولجلالة منزلته لم تكن ترد شفاعته. وقد حضره مرة سبط ابن الجوزي في بدايات تعرفه إليه، وهو يكتب ورقة إلى الملك المعظم عيسى بن العادل، فكتب فيها: إلى الولد الملك المعظم. فقال له: كيف تكتب هذا والملك المعظم على الحقيقة هو الله تعالى! فتبسم أبو عمر، ورمى له الورقة، وقال له: تأملها؛ وإذا به
--------------------------------------------
ওযর (এর কারণে), আর তিনি শৈশব থেকেই তাহাজ্জুদ আদায় করতেন এবং ঈদের দিন ছাড়া কখনও রোজা ভঙ্গ করতেন না। তিনি জামাতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের হেফাযত করতেন এবং রাতের শেষ তৃতীয়াংশে অন্ধকারের মধ্যে মসজিদের দিকে বের হতেন, তারপর ফজর পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন। প্রতিদিন যোহর ও আসরের মাঝে তিনি কুরআনের এক-সপ্তমাংশ তিলাওয়াত করতেন। এশার সালাতের পর তিনি আয়াতুল হারাস, সূরা ইয়াসিন, সূরা ওয়াকিয়াহ, সূরা তাবারক এবং ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ ও মুআউওয়াযাতাইন পাঠ করতেন। যখন সূর্য উপরে উঠত, তিনি চাশতের সময় পর্যন্ত মানুষকে কুরআন তিলাওয়াত করাতেন, এরপর দাঁড়িয়ে চাশতের আট রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং তাতে এক হাজার বার ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করতেন।
তিনি প্রতি জুমুয়াবার আসরের পর কবর যিয়ারত করতেন এবং সোমবার ও বৃহস্পতিবার কাঠের জুতো পরে পায়ে হেঁটে ‘মাগারাতুদ দাম’-এ আরোহণ করতেন। সেখানে তিনি যোহর ও আসরের মাঝে সালাত আদায় করতেন। যখন পাহাড় থেকে নামতেন, শেখ পাহাড় থেকে কাঠ সংগ্রহ করতেন এবং তা দড়ি দিয়ে বেঁধে বহন করে বিধবা ও এতিমদের বাড়িতে নিয়ে যেতেন। রাতের বেলা তিনি তাদের কাছে দিরহাম ও আটা নিয়ে যেতেন অথচ তারা তাকে চিনতে পারত না। তিনি পবিত্রতা ছাড়া ঘুমাতেন না। যখনই দুনিয়ার কোনো কিছু তার হস্তগত হতো, তিনি তার আত্মীয়-স্বজন ও অন্যদের তা দিয়ে অগ্রাধিকার দিতেন। তিনি তার কাপড় সদকা করে দিতেন; অনেক সময় শীতকালে তার গায়ে জুব্বা ছাড়া কোনো জামা থাকত না। তিনি দীর্ঘ সময় পায়জামা ছাড়াই কাটাতেন এবং তার পাগড়ি ছিল এক টুকরো আস্তরের কাপড়। যদি কারো কোনো কাপড়ের টুকরোর প্রয়োজন হতো কিংবা কোনো শিশু মারা যেত যার কাফনের প্রয়োজন হতো, তিনি তা থেকে এক টুকরো কেটে দিতেন।
তিনি চাটাইয়ের ওপর ঘুমাতেন এবং যবের রুটি খেতেন। তার কাপড় ছিল মোটা এবং তা পায়ের অর্ধেক নলা পর্যন্ত থাকত। তিনি কাউকে ধমক দিতেন না এবং কারো হৃদয়ে ব্যথা দিতেন না। তিনি বলতেন: "আমি একজন যাহিদ (সংসারত্যাগী), তবে তা হারামের ব্যাপারে"
(১)।
তিনি কারো জন্য সুপারিশ করার ক্ষেত্রে কাউকে ফিরিয়ে দিতেন না এবং তার সুউচ্চ মর্যাদার কারণে তার সুপারিশও প্রত্যাখ্যান করা হতো না। সিবত ইবনুল জাওযি তার সাথে পরিচিত হওয়ার শুরুর দিকে একবার তার নিকট উপস্থিত হয়েছিলেন, তখন তিনি মালিকুল মুআযযাম ঈসা বিন আল-আদিলের কাছে একটি চিরকুট লিখছিলেন। তাতে তিনি লিখেছিলেন: "সন্তান মালিকুল মুআযযাম-এর প্রতি"। তখন তিনি (সিবত) তাকে বললেন: "আপনি এটি কীভাবে লিখছেন? অথচ প্রকৃতপক্ষে মালিকুল মুআযযাম (মহান সম্রাট) তো কেবল মহান আল্লাহ!" তখন আবু উমর মুচকি হাসলেন এবং চিরকুটটি তার দিকে ছুড়ে দিয়ে বললেন: "এটি ভালো করে দেখ"; তখন হঠাৎ তিনি দেখলেন
--------------------------------------------