(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: -)
أبو شامة مؤرخ دمشق في عصر الأيوبيين   (إبراهيم الزيبق)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: أبو شامة مؤرخ دمشق في عصر الأيوبيين

(599 هـ = 1203 م - 665 هـ =1267 م)

دراسة تحليلية في سيرته وآثاره التاريخية

المؤلف: إبراهيم الزيبق

الناشر: (مؤسسة الرسالة، بيروت - لبنان)، (الدار العامرة، دمشق - سوريا)

الطبعة: الأولى، 1431 هـ - 2010 م

عدد الصفحات: 543

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ذو الحجة 1446

আবু শামা: আইয়ুবী যুগে দামেস্কের ইতিহাসবিদ   (ইব্রাহিম আল-যাইববাক)

বিভাগ: জীবনী এবং স্তরসমূহ


বই: আবু শামা: আইয়ুবী যুগে দামেস্কের ইতিহাসবিদ

(৫৯৯ হিজরি = ১২০৩ খ্রিস্টাব্দ - ৬৬৫ হিজরি = ১২৬৭ খ্রিস্টাব্দ)

তাঁর জীবনী এবং ঐতিহাসিক কর্মাবলির ওপর একটি বিশ্লেষণাত্মক গবেষণা

লেখক: ইব্রাহিম আল-যাইববাক

প্রকাশক: (মুআসসাসাতুর রিসালাহ، বৈরুত - লেবানন), (আদ-দারুল আমিরাহ، দামেস্ক - সিরিয়া)

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩১ হিজরি - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৪৩

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২ জিলহজ ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ٧)
«لا أظنني متشائما أو غاليا حين أقرر أن كتابة سيرة لأحد الأقدمين عندنا تعد أمرا معجزا … ».

 

إحسان عباس

«فن السيرة»
«আমি নিজেকে হতাশাবাদী বা অতিশয়োক্তিপূর্ণ মনে করি না যখন আমি এই অভিমত ব্যক্ত করি যে, আমাদের নিকট পূর্বসূরিদের কারো জীবনী রচনা করা একটি অসাধ্য ব্যাপার হিসেবে গণ্য হয় … »।

 

ইহসান আব্বাস

«জীবনী সাহিত্যকলা»
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ٩)
كثيرا ما كنت أفكر في أبي شامة، وأنا أحقق كتابه «الروضتين»، محاولا أن أتبين ملامح فكره وشخصيته من خلال ما كتب، شاعرا أن ما تقدمه لي كتب التراجم عنه إنما هي ملامح باهتة، علي أن أسعى لتوضيحها واكتمالها.

والقارئ لتراجم علمائنا في كتب الأقدمين يعجب حقا بوفرة ما كتب عنهم، غير أنه يفتقد في سطورهم تلك الكلمات النابضة التي تحس من خلالها بحياة المترجم، وهو يتقلب في مشاعره وأفكاره، وإذا ما وجدت أحيانا فهي كلمات متناثرة وسط سطور هامدة، على الباحث الصبور أن يلم شتاتها، عساه أن يعيد للصورة اكتمالها، وقد دبت فيها الحياة.

وكنت في غمرة بحثي عن أبي شامة قد وصلت إلى تحقيق كتابه الثاني «المذيل على الروضتين»، وهالني حقا ما وجدت، لقد رأيتني أعيش فيه مع أبي شامة، وقد أرخى لقلمه العنان أحيانا، وأرسله يصور حياته، وما كان يضطرب فيها من أشواق وآمال، وخيبات ونجاح، وأحزان وأفراح، وما أقلها، حتى إنه كان يتراءى لي أحيانا من خلال سطوره، وأحيانا أكاد أحس بمشاعره وهو يدون أخباره.

فأبو شامة هو من قلة قليلة من علمائنا ومؤرخينا الذين لم يمنعهم ورعهم وزهدهم من البوح لنا بسيرتهم الذاتية، وقد ضمنها كتابه «المذيل»، وهي على وجازتها تكشف لنا عن جوانب مهمة في حياته، حتى إنه يقص لنا فيها بعض أحلامه
আমি যখন তাঁর 'আর-রওদাতাইন' গ্রন্থটি সম্পাদনা করছিলাম, তখন আমি প্রায়শই আবু শামা সম্পর্কে চিন্তা করতাম। তাঁর লেখনীর মাধ্যমে তাঁর চিন্তা ও ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যগুলো অনুধাবনের চেষ্টা করতাম। আমার মনে হতো যে, জীবনচরিত বিষয়ক গ্রন্থগুলো তাঁর সম্পর্কে যা প্রদান করে তা মূলত অস্পষ্ট কিছু রেখামাত্র, যা স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ করার জন্য আমাকে সচেষ্ট হতে হবে।

প্রাচীন গ্রন্থাবলিতে আমাদের আলেমদের জীবনী পাঠকারী ব্যক্তি তাঁদের সম্পর্কে লিখিত তথ্যের প্রাচুর্য দেখে সত্যিই বিস্মিত হন। তবে তাঁদের সেই চরণে এমন স্পন্দনশীল শব্দের অভাব বোধ করেন যার মাধ্যমে সেই ব্যক্তির জীবন সম্পর্কে সম্যক অনুভূতি লাভ করা যায়, যখন তিনি তাঁর আবেগ ও চিন্তার দোলাচলে আবর্তিত হচ্ছিলেন। কখনও যদি তা পাওয়াও যায়, তবে তা প্রাণহীন পঙ্ক্তিগুলোর মাঝে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কিছু শব্দ মাত্র। একজন ধৈর্যশীল গবেষকের দায়িত্ব হলো সেই বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একত্রিত করা, যাতে তিনি সেই চিত্রটিকে পূর্ণতা দান করতে পারেন এবং তাতে প্রাণের সঞ্চার ঘটে।

আবু শামা সম্পর্কে আমার গবেষণার মগ্নতায় আমি তাঁর দ্বিতীয় গ্রন্থ 'আল-মুদাইয়িল আলা আর-রওদাতাইন'-এর সম্পাদনার পর্যায়ে উপনীত হই। সেখানে আমি যা পেয়েছি তাতে আমি সত্যিই অভিভূত হয়েছি। আমি নিজেকে আবু শামার সাথে সেই গ্রন্থে বসবাস করতে দেখেছি। তিনি সেখানে কখনও তাঁর কলমকে অবারিত ছেড়ে দিয়েছেন, যা তাঁর জীবনকে চিত্রায়িত করেছে; যেখানে তাঁর আকাঙ্ক্ষা ও আশা, ব্যর্থতা ও সফলতা, দুঃখ ও আনন্দের (যা খুবই কম ছিল) দোলাচল প্রস্ফুটিত হয়েছে। এমনকি তাঁর সেই পঙ্ক্তিগুলোর মাধ্যমে কখনও তাঁকে আমার সামনে দৃশ্যমান মনে হতো, আর কখনও তাঁর ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ করার সময় আমি যেন তাঁর অনুভূতিগুলো অনুভব করতে পারতাম।

আবু শামা আমাদের সেই স্বল্পসংখ্যক আলেম ও ঐতিহাসিকদের একজন, যাঁদের পরহেজগারি ও দুনিয়াবিমুখতা নিজেদের আত্মজীবনী আমাদের কাছে প্রকাশ করতে বাধা দেয়নি। তিনি তাঁর 'আল-মুদাইয়িল' গ্রন্থে তা অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো আমাদের সামনে উন্মোচিত করে, এমনকি তিনি সেখানে তাঁর কিছু স্বপ্নের কথাও বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ١٠)
التي رآها في منامه، أو رئيت له، فإذا أنت جمعت إليها ما نثره من أخباره كلما واتته المناسبة غدوت قريبا منه حقا قربا يتيح لك أن تطوي الزمن قرونا لتجلس بين يديه سامعا متأملا، وإن كان أحيانا يؤثر الصمت في بعض أخباره، فيتركك حائرا، تحاول اكتشاف ما أخفى، أو حل ما سكت عنه، ولا يسعفك بما يومئ إليك ببعضها بإشارة عابرة، إذ هي مجرد إشارة قد تقربك من الصواب، وقد تنأى بك عنه.

ومع إمعان النظر وإدمان القراءة بدأت تطفو من قاع الزمن شخصية أبي شامة أصيلة متفردة، وبشغف رحت أتتبع ملامحها، وفي سبيل الوصول إلى ملامح مكتملة قدر الإمكان نأيت بنفسي عن المنهج المتبع في كتابة التراجم عندنا، ذلك المنهج الذي يعمد إلى تقطيع أوصال المترجم، متحدثا عن عصره وحياته وثقافته، كلا على حدة، وكأنها أجزاء منفصلة، وسعيت إلى منهج متكامل يرينا الشخصية حية كما كانت في عصرها، وقد تلاحمت في كل واحد، نامية متطورة في زمانها الذي عاشته من طفولتها إلى شبابها وكهولتها، متواشجة مع أحداث عصرها، بقدر ما أسعفني التاريخ من أخباره، وبقدر ما أعان التحليل على فهمها، محاولا ما استطعت نقل التاريخ من خبر في صحيفة إلى واقع في الحياة.

وقد قسمت هذه الدراسة إلى قسمين: الأول في سيرته، والثاني في آثاره التاريخية، ثم أتبعته بسائر مؤلفاته في العلوم الأخرى، وبتلاميذه.

ولن أحدثك - أيها القارئ الكريم - عما وصلت إليه في هذه الدراسة، فدونك صفحاتها، غير أنك سترى من خلال ما كتبت أن أبا شامة لم يكن مؤرخا يرقب الحوادث من بعيد في برجه العاجي، ثم يدونها في هدوء، بل كان مؤرخا صاحب قضية، أبان عنها في مؤلفاته، ونافح عنها، ثم دفع حياته ثمنا لها.

دمشق في

10 جمادى الآخرة 1428 هـ/ 25 حزيران 2007 م

إبراهيم الزيبق
যে বিষয়গুলো তিনি স্বপ্নে দেখেছেন অথবা তাঁর জন্য দেখা হয়েছে, তার সঙ্গে যদি আপনি তাঁর ছড়িয়ে থাকা সেই সংবাদগুলোকে একত্রিত করেন যা তিনি সুযোগমতো বর্ণনা করেছেন, তবে আপনি প্রকৃতপক্ষে তাঁর এতটাই নিকটে পৌঁছে যাবেন যা আপনাকে শত বছরের সময়কে সংকুচিত করে তাঁর সম্মুখে বসে শোনা ও চিন্তা করার সুযোগ করে দেবে। যদিও কখনও কখনও তিনি তাঁর কিছু সংবাদের ক্ষেত্রে নীরব থাকাকেই প্রাধান্য দেন, যা আপনাকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয়; আপনি তখন তিনি যা গোপন করেছেন তা আবিষ্কার করতে অথবা যার ব্যাপারে তিনি নীরব থেকেছেন তার সমাধান খুঁজতে চেষ্টা করেন। তিনি তাঁর কিছু ইঙ্গিতের মাধ্যমে আপনাকে খুব একটা সাহায্য করেন না, কারণ তা কেবল একটি ক্ষণস্থায়ী সংকেত মাত্র, যা হয়তো আপনাকে সত্যের নিকটবর্তী করবে অথবা তা থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।

গভীর পর্যবেক্ষণ এবং অভিনিবিষ্ট পাঠের ফলে সময়ের অতল থেকে আবু শামার এক মৌলিক ও অনন্য ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠতে শুরু করে। আমি অত্যন্ত আগ্রহের সাথে তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো অনুসরণ করতে থাকি। যথাসম্ভব একটি পূর্ণাঙ্গ অবয়বে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে আমি আমাদের দেশে প্রচলিত জীবনী রচনার পদ্ধতি থেকে নিজেকে দূরে রেখেছি। সেই পদ্ধতি যা জীবনীকারকে খণ্ড-বিখণ্ড করে তাঁর যুগ, জীবন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে পৃথক পৃথকভাবে আলোচনা করে, যেন এগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো অংশ। আমি একটি সমন্বিত পদ্ধতির অন্বেষণ করেছি যা আমাদের সামনে এই ব্যক্তিত্বকে তাঁর সমসাময়িক যুগের মতোই জীবন্তভাবে উপস্থাপন করবে; যেখানে সবকিছু একসূত্রে গাঁথা এবং যা তাঁর শৈশব থেকে যৌবন ও বার্ধক্য পর্যন্ত সময়ের সাথে সাথে বিকশিত ও বিবর্তিত হয়েছে, যা তাঁর যুগের ঘটনাবলির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত—যতটুকু ইতিহাস আমাকে সংবাদ সরবরাহ করেছে এবং যতটুকু বিশ্লেষণ তা অনুধাবনে সহায়তা করেছে। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি ইতিহাসকে কাগজের সংবাদ থেকে জীবনের বাস্তবে রূপান্তর করতে।

আমি এই অধ্যয়নকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছি: প্রথমটি তাঁর জীবনচরিত এবং দ্বিতীয়টি তাঁর ঐতিহাসিক অবদান সম্পর্কে। এরপর অন্যান্য বিজ্ঞানে তাঁর অবশিষ্ট রচনাবলি এবং তাঁর ছাত্রদের বর্ণনা যুক্ত করেছি।

হে সম্মানিত পাঠক, এই গবেষণায় আমি কী সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি তা আমি আপনাকে বলব না, বরং এর পৃষ্ঠাগুলো আপনার সামনেই রয়েছে। তবে আপনি আমার লেখার মাধ্যমে দেখতে পাবেন যে, আবু শামা এমন কোনো ঐতিহাসিক ছিলেন না যিনি তাঁর গজদন্ত মিনার থেকে দূর থেকে ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণ করতেন এবং তারপর শান্তভাবে তা লিপিবদ্ধ করতেন। বরং তিনি ছিলেন এক সুনির্দিষ্ট আদর্শের অধিকারী ঐতিহাসিক, যা তিনি তাঁর গ্রন্থাবলিতে প্রকাশ করেছেন, তার স্বপক্ষে লড়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়ে তার মূল্য চুকিয়েছেন।

দামেস্ক

১০ জুমাদাল আখিরা ১৪২৮ হিজরি / ২৫ জুন ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

ইব্রাহিম আল-যাইবাক
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌سيرة حياته:
তাঁর জীবনচরিত:
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌ولادته وأسرته

أول ما يخبرنا به أبو شامة في سيرته أنه «عبد الرحمن بن إسماعيل بن إبراهيم بن عثمان بن أبي بكر بن إبراهيم بن محمد، المقدسي، الشافعي، عرف بأبي شامة؛ لأنه كان به شامة كبيرة فوق حاجبه الأيسر(1)، ويكنى أبا القاسم وأبا محمد(2).

وكانت ولادته ليلة الجمعة الثالث والعشرين من ربيع الآخر سنة (599 هـ/ 1203 م) برأس درب الفواخير بدمشق، داخل الباب الشرقي»(3).

كان محمد الذي ينتهي إليه النسب، وابنه إبراهيم، وحفيده أبو بكر من أهل بيت المقدس.

أما محمد فلم يقع لأبي شامة تعيينه على وجه اليقين، وإنما قال: «لعل محمدا الذي انتهى إليه النسب هو أبو بكر محمد بن أحمد بن أبي القاسم علي الطوسي، المقرئ الصوفي، إمام صخرة بيت المقدس»(4). وأشار إلى أن الحافظ أبا القاسم

--------------------------------------------

(1) وذكر ذلك في موضع آخر، فقال: عرف بأبي شامة بسبب أنه كان في وجهه منذ ولد شامة كبيرة بجبينه فوق حاجبه الأيسر. «المذيل على الروضتين»: 2/ 153.

(2) يبدو أنه كان يكنى أبا القاسم في مطلع حياته، حتى إذا ولد ابنه محمد، صار يكنى به.

(3) «المذيل على الروضتين»: 1/ 136.

(4) المصدر السالف.
তাঁর জন্ম ও পরিবার

আবু শামা তাঁর জীবনীতে আমাদের প্রথম যা জানান তা হলো যে তিনি হলেন «আবদুর রহমান বিন ইসমাইল বিন ইবরাহিম বিন উসমান বিন আবু বকর বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ, আল-মাকদিসি, আশ-শাফিয়ি; তিনি আবু শামা নামে পরিচিত ছিলেন, কারণ তাঁর বাম ভ্রুর উপরে একটি বড় তিল (শামা) ছিল(১), এবং তাঁর উপনাম ছিল আবুল কাসিম ও আবু মুহাম্মদ(২)।

এবং তাঁর জন্ম হয়েছিল ৫৯৯ হিজরি সালের (১২০৩ খ্রিস্টাব্দ) ২৩শে রবিউস সানি শুক্রবার রাতে দামেস্কের বাব আশ-শারকির (পূর্ব তোরণ) অভ্যন্তরে রাস দারব আল-ফাওয়াখিরে»(৩)।

বংশপরম্পরা যার নিকট গিয়ে শেষ হয়েছে সেই মুহাম্মদ, তাঁর পুত্র ইবরাহিম এবং তাঁর পৌত্র আবু বকর বাইতুল মাকদিসের অধিবাসী ছিলেন।

মুহাম্মদের ব্যাপারে আবু শামা নিশ্চিতভাবে নির্দিষ্ট করতে পারেননি, বরং তিনি বলেছেন: «সম্ভবত এই মুহাম্মদ, যার নিকট গিয়ে বংশধারা পৌঁছেছে, তিনি হলেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবুল কাসিম আলি আত-তুসি, আল-মুকরি আস-সুফি, বাইতুল মাকদিসের সাখরা-র ইমাম»(৪)। এবং তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে হাফেজ আবুল কাসিম

--------------------------------------------

(১) তিনি অন্য এক স্থানে এটি উল্লেখ করে বলেছেন: তাঁকে আবু শামা হিসেবে অভিহিত করার কারণ হলো, জন্মের পর থেকেই তাঁর চেহারার ললাটে বাম ভ্রুর উপরে একটি বড় তিল ছিল। «আল-মুদাইল আলা আর-রওদাতাইন»: ২/ ১৫৩।

(২) প্রতীয়মান হয় যে, জীবনের শুরুর দিকে তাঁর উপনাম ছিল আবুল কাসিম, অতঃপর যখন তাঁর পুত্র মুহাম্মদ জন্মগ্রহণ করেন, তখন তিনি তাঁর নামানুসারে (আবু মুহাম্মদ) উপনাম ধারণ করেন।

(৩) «আল-মুদাইল আলা আর-রওদাতাইন»: ১/ ১৩৬।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ١٤)
ابن عساكر ذكره في «تاريخ دمشق»، ونقل منه عن ابن الأكفاني قوله: «قتلته الفرنج - خذلهم الله - عند دخولهم بيت المقدس في شعبان سنة اثنتين وتسعين وأربع مئة»(1).

ولم يفصح أبو شامة عما دعاه إلى هذا الترجي، ربما هو قول كان قد سمعه في صغره، ولم يجد عنده من اليقين ما يجزم به، وبخاصة أن إبراهيم بن محمد؛ وهو الجد الأعلى لوالد أبي شامة كان من أعيان بيت المقدس، وقد سمع أبو شامة من والده خبر مقتله، فقال: «وكان والدي إسماعيل رحمه الله قد أخبرني أن جده الأعلى قتل مع من قتل من المقادسة عام دخول الفرنج بيت المقدس بالسيف، وهو عام اثنتين وتسعين وأربع مئة، وهو أحد الشهداء الذين رؤوسهم بالمغارة المقصودة بالزيارة في مقبرة ماملة بالقدس الشريف»(2).

وكان الصليبيون قد ارتكبوا مذبحة شنيعة حين استيلائهم على بيت المقدس، وصفها مؤرخهم، وكان أحد شهودها، بقوله: «فلما ولج حجاجنا المدينة جدوا في قتل الشرقيين ومطاردتهم حتى قبة عمر، حيث تجمعوا واستسلموا لرجالنا الذين أعملوا فيهم أفظع القتل طيلة اليوم بأكمله، حتى فاض المعبد كله بدمائهم …

وانطلق الصليبيون في جميع أنحاء المدينة يستولون على الذهب والفضة والجياد والبغال، كما أخذوا في نهب البيوت الممتلئة بالثروات، واشتد السرور برجالنا حتى بكوا من فرحتهم … وفي صباح اليوم التالي تسلق رجالنا سطح الهيكل، وهجموا على الشرقيين رجالا ونساء، واستلوا سيوفهم، وراحوا يعملون فيهم القتل … وما تأتى لأحد قط أن سمع أو رأى مذبحة كهذه المذبحة … »(3).

وبكاها مؤرخنا ابن الأثير بقوله: «وركب الناس السيف، ولبث الفرنج في البلدة أسبوعا يقتلون فيه المسلمين .. وقتل الفرنج بالمسجد الأقصى ما يزيد على

--------------------------------------------

(1) «المذيل»: 1/ 136، وانظر «تارخ دمشق» لابن عساكر (خ) س: 14/ 706.

(2) «المذيل»: 1/ 137.

(3) «أعمال الفرنجة»: 118 - 120، ترجمة د. حسن حبشي.
ইবনে আসাকির একে ‘তারিখে দিমাশক’-এ উল্লেখ করেছেন এবং তিনি সেখানে ইবনুল আকফানি থেকে তার এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন: “ফ্রাঙ্করা—আল্লাহ তাদের লাঞ্ছিত করুন—যখন চারশত বিরানব্বই হিজরি সালের শাবান মাসে বায়তুল মাকদিসে প্রবেশ করে, তখন তাকে হত্যা করেছিলো”(১)।

আবু শামাহ এই আশাবাদ ব্যক্ত করার কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। হতে পারে এটি এমন কোনো কথা যা তিনি শৈশবে শুনেছিলেন এবং এর সত্যতা সম্পর্কে তিনি এমন কোনো নিশ্চয়তা পাননি যা দিয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যায়। বিশেষত ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ; যিনি ছিলেন আবু শামাহর পিতার উর্ধ্বতন দাদা এবং বায়তুল মাকদিসের অন্যতম গণ্যমান্য ব্যক্তি। আবু শামাহ তার পিতার কাছ থেকে তার নিহত হওয়ার খবর শুনেছিলেন। তিনি বলেন: “আমার পিতা ইসমাইল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আমাকে জানিয়েছিলেন যে, চারশত বিরানব্বই হিজরি সালে ফ্রাঙ্করা যখন তলোয়ার নিয়ে বায়তুল মাকদিসে প্রবেশ করে, তখন বায়তুল মাকদিসের অন্যান্য নিহতদের সাথে তার উর্ধ্বতন দাদাও নিহত হন। তিনি ঐ সকল শহীদদের একজন যাদের মাথাগুলো কুদস শরীফের মামিলা কবরস্থানের জিয়ারতযোগ্য গুহায় রক্ষিত আছে”(২)।

ক্রুসেডাররা বায়তুল মাকদিস দখলের সময় এক ভয়াবহ গণহত্যা চালিয়েছিল। তাদেরই একজন ইতিহাসবিদ, যিনি সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন, তিনি এর বর্ণনা দিয়ে বলেন: “যখন আমাদের তীর্থযাত্রীরা শহরে প্রবেশ করলো, তারা প্রাচ্যবাসীদের হত্যা করতে এবং কুব্বাতু উমর পর্যন্ত তাদের তাড়া করতে উঠেপড়ে লাগলো। সেখানে তারা একত্রিত হয়ে আমাদের লোকদের কাছে আত্মসমর্পণ করলো। আমাদের লোকেরা পুরো দিন জুড়ে তাদের উপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালাল, এমনকি পুরো উপাসনালয় তাদের রক্তে প্লাবিত হয়ে গেল …

আর ক্রুসেডাররা শহরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে সোনা, রূপা, ঘোড়া ও খচ্চর হস্তগত করতে লাগলো। তেমনিভাবে তারা ধন-সম্পদে পূর্ণ ঘরবাড়িগুলো লুণ্ঠন করতে শুরু করলো। আমাদের লোকদের আনন্দ এতটাই তীব্র ছিল যে তারা খুশিতে কেঁদে ফেলেছিল … পরদিন সকালে আমাদের লোকেরা হাইকালের ছাদে আরোহণ করলো এবং প্রাচ্যবাসীদের নারী ও পুরুষদের ওপর আক্রমণ করলো। তারা তলোয়ার চালিয়ে তাদের হত্যা করতে লাগলো … এমন গণহত্যার কথা কেউ কখনো শোনেনি বা দেখেনি … ”(৩)।

আমাদের ইতিহাসবিদ ইবনুল আসির এই ঘটনার জন্য শোক প্রকাশ করে বলেন: “মানুষ তলোয়ারের মুখে পড়ল এবং ফ্রাঙ্করা শহরে এক সপ্তাহ অবস্থান করে মুসলিমদের হত্যা করতে থাকলো .. ফ্রাঙ্করা মসজিদে আকসায় হত্যা করেছিল এমন সংখ্যা যা ছাড়িয়ে গিয়েছিল

--------------------------------------------

(১) ‘আল-মুযায়্যাল’: ১/১৩৬; আরও দেখুন ইবনে আসাকিরের ‘তারিখে দিমাশক’ (পাণ্ডুলিপি) খণ্ড: ১৪/৭০৬।

(২) ‘আল-মুযায়্যাল’: ১/১৩৭।

(৩) ‘আ‘মালুল ফারাঞ্জাহ’: ১১৮-১২০, অনুবাদ: ড. হাসান হাবাশি।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ١٥)
سبعين ألفا، منهم جماعة كثيرة من أئمة المسلمين وعلمائهم وزهادهم ممن فارق الأوطان، وجاور بذلك الموضع الشريف»(1).

وكان ممن نجا من هذه المذبحة الشنيعة أبو بكر ولد إبراهيم، «فانتقل إلى دمشق، فأقام بها، وولد له ولدان: عثمان بن أبي بكر، وعبد الرحمن بن أبي بكر .. وكثر نسلهم بدمشق، ومسكنهم بنواحي الباب الشرقي»(2).

أما عبد الرحمن بن أبي بكر فقد علت سنه حتى قارب التسعين، وقد قضى حياته معلما في المكتب الذي بباب الجامع الشامي، قبالة خانقاه السميساطي، وكان يعرف بعبدان المعلم، ويبدو أن أبا شامة قد أدركه في أواخر حياته، وقبيل وفاته في ثالث رمضان سنة (605 هـ/ 1209 م) ودفن بباب الفراديس(3).

وأما أخوه عثمان بن أبي بكر، فلا نعلم عنه شيئا إلا ما وصفه به حفيده أبو القاسم - وهو عم أبي شامة - بالفقيه الإمام(4).

وقد ولد لعثمان ولد سماه إبراهيم، وهو جد أبي شامة الأدنى، وكذلك لا نعرف عنه شيئا إلا ما وصفه به ابنه أبو القاسم بالشيخ الإمام، وقد ذكر وفاته في السابع والعشرين من شعبان سنة (575 هـ/ 1180 م)، ودفن بباب الفراديس، قبالة تربة الصفي بن القابض، بينهما الطريق(5). وتوفيت زوجته وهي جدة أبي شامة بعده بعشر سنين، ودفنت باب شرقي(6).

وولد لإبراهيم ولدان، هما: أبو القاسم، وإسماعيل.

--------------------------------------------

(1) «الكامل»: 10/ 282 - 284.

(2) «المذيل»: 1/ 137.

(3) «المذيل»: 1/ 197.

(4) «المذيل»: 1/ 197.

(5) «المذيل»: 1/ 197 - 198.

(6) المصدر السالف.
সত্তর হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে মুসলিমদের ইমামগণ, তাঁদের উলামায়ে কেরাম এবং যাহিদদের (সংসারবিরাগী) এক বিশাল জামাত ছিল যারা স্বদেশ ত্যাগ করেছিলেন এবং এই সম্মানিত স্থানের প্রতিবেশী হয়েছিলেন।(১).

এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড থেকে যারা রক্ষা পেয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইব্রাহিমের পুত্র আবু বকর, «তিনি দামেস্কে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে বসবাস শুরু করেন। তাঁর দুই পুত্র সন্তান জন্ম নেয়: উসমান বিন আবু বকর এবং আব্দুর রহমান বিন আবু বকর... দামেস্কে তাঁদের বংশধারা বৃদ্ধি পায় এবং তাঁদের আবাসস্থল ছিল বাবুল শারকি (পূর্ব তোরণ) এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে»(২).

আব্দুর রহমান বিন আবু বকরের বয়স এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে তিনি নব্বই বছরের কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন। তিনি সিরীয় জামে মসজিদের ফটকে অবস্থিত মক্তবে শিক্ষক হিসেবে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন, যা খানকাহুস সামাইসাতির বিপরীতে ছিল। তিনি 'আবদান আল-মুয়াল্লিম' নামে পরিচিত ছিলেন। প্রতীয়মান হয় যে, আবু শামা তাঁকে তাঁর জীবনের শেষ প্রান্তে এবং তাঁর ইন্তেকালের অল্প কিছু দিন পূর্বে ৬০৫ হিজরীর ৩রা রমজান (১২০৯ খ্রিস্টাব্দ) তারিখে পেয়েছিলেন। তাঁকে বাবু আল-ফারাদিসে দাফন করা হয়(৩).

আর তাঁর ভাই উসমান বিন আবু বকর সম্পর্কে আমরা তেমন কিছুই জানি না, শুধু এইটুকুই জানি যা তাঁর পৌত্র আবুল কাসিম—যিনি আবু শামার চাচা—বর্ণনা করেছেন যে তিনি ছিলেন 'ফকিহ ইমাম' (বিজ্ঞ আইনবিদ ও ধর্মীয় নেতা)(৪).

উসমানের এক পুত্র জন্মগ্রহণ করেন যার নাম তিনি ইব্রাহিম রেখেছিলেন, তিনি ছিলেন আবু শামার নিকটতম দাদা। তাঁর সম্পর্কেও আমরা তেমন কিছুই জানি না কেবল তাঁর পুত্র আবুল কাসিম তাঁকে 'শায়খ ইমাম' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে তা ৫৭৫ হিজরীর ২৭শে শাবান (১১৮০ খ্রিস্টাব্দ) তারিখে সংঘটিত হয়েছিল। তাঁকে বাবু আল-ফারাদিসে আস-সাফি বিন আল-কাবিদের সমাধির বিপরীতে দাফন করা হয়, যে দুটির মাঝখানে একটি রাস্তা ছিল(৫)। তাঁর স্ত্রী—যিনি আবু শামার দাদি ছিলেন—তাঁর দশ বছর পর ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে বাব শারকিতে দাফন করা হয়(৬).

ইব্রাহিমের দুই পুত্র জন্মগ্রহণ করেন, তাঁরা হলেন: আবুল কাসিম এবং ইসমাইল।

--------------------------------------------

(১) «আল-কামিল»: ১০/ ২৮২ - ২৮৪।

(২) «আল-মুযায়্যাল»: ১/ ১৩৭।

(৩) «আল-মুযায়্যাল»: ১/ ১৯৭।

(৪) «আল-মুযায়্যাল»: ১/ ১৯৭।

(৫) «আল-মুযায়্যাল»: ১/ ১৯৭ - ১৯৮।

(৬) পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ١٦)
أما أبو القاسم فهو عم أبي شامة، وهو أكبر من إسماعيل، فقد كنيت أمه به(1)، ويبدو أنه قد شدا شيئا من العلم، فقد وصفه أبو شامة بالشيخ(2)، وكان له بعض التقييدات التاريخية التي تتعلق بالأسرة، استفاد منها أبو شامة في «مذيله»(3)، وقد توفي أبو القاسم في تاسع رمضان سنة (604 هـ/ 1208 م)، ودفن بالمقبرة التي بين الباب الشرقي وباب توما(4).

وأما إسماعيل، فهو والد أبي شامة، ولا نكاد نعرف عنه إلا ما أورده أبو شامة من أخباره، ويوحي بعضها بأنه لم يكن على صلة قريبة منه(5)، ربما لزواجه من امرأة أخرى غير أمه. ولم يكن له اعتناء بالعلم على تدينه، إذ يذكر أبو شامة أن والده حج أربع حجات في حياته، على مشقة الحج في ذلك الزمان، رافقه أبو شامة في حجته الأخيرة سنة(6) (621 هـ/ 1224) وربما أحب أبو شامة من بعد أن يرفع من ذكره حين ذكره فيمن حدثه عن خطيب دمشق عبد الملك بن زيد الدولعي المتوفى سنة(7) (598 هـ/ 1201 م)؛ إذ الرواية عن خطيب كبير يصعد كل جمعة منبر جامع دمشق لا تسلك صاحبها في عداد طلبة العلم ممن يختلف إلى الشيوخ للرواية عنهم، ويبدو أنه أصبح يكنى أبا عبد الرحمن بعد أن أصاب ابنه أبو شامة شيئا من الشهرة(8).

--------------------------------------------

(1) «المذيل»: 1/ 197.

(2) المذيل: 1/ 192.

(3) «المذيل»: 1/ 197، 2/ 48.

(4) «المذيل»: 1/ 192.

(5) «المذيل»: 1/ 137.

(6) حج والد أبي شامة في السنوات: 610 هـ، 616 هـ، 618 هـ، 621 هـ، انظر «المذيل»: 1/ 242، 320، 346، 374.

(7) «المذيل»: 1/ 120.

(8) «المذيل»: 1/ 147، وقد أشير إلى ذلك في مدح أبي شامة:

ووالده كالسيد السلمي خذ … بكنيته والشيخ في ورع الشبلي

والسلمي: هو أبو عبد الرحمن، صاحب كتاب «طبقات الصوفية».
আর আবুল কাসিম হলেন আবু শামা-র চাচা, এবং তিনি ইসমাইলের চেয়ে বড়। তার মা তাকে দিয়েই কুনিয়াত (উপনাম) গ্রহণ করেছিলেন(১)। প্রতীয়মান হয় যে, তিনি কিছুটা ইলম অর্জন করেছিলেন, কারণ আবু শামা তাঁকে 'শাইখ' হিসেবে অভিহিত করেছেন(২)। পরিবার সংক্রান্ত তাঁর কিছু ঐতিহাসিক টীকা ছিল, যা থেকে আবু শামা তাঁর ‘মুযায়্যাল’ গ্রন্থে উপকৃত হয়েছেন(৩)। আবুল কাসিম ৬০৪ হিজরি সালের (১২০৮ খ্রিস্টাব্দ) ৯ই রমজান ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে বাব শারকি ও বাব তুমা-র মধ্যবর্তী কবরস্থানে দাফন করা হয়(৪)।

আর ইসমাইল হলেন আবু শামা-র পিতা। আবু শামা তাঁর সম্পর্কে যে সংবাদ প্রদান করেছেন, তা ছাড়া আমরা তাঁর সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না। তাঁর কিছু বর্ণনা ইঙ্গিত দেয় যে, পিতার সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল না(৫), সম্ভবত তাঁর মায়ের পরিবর্তে অন্য একজন মহিলাকে বিবাহ করার কারণে। দ্বীনদার হওয়া সত্ত্বেও ইলমের প্রতি তাঁর তেমন মনোনিবেশ ছিল না। আবু শামা উল্লেখ করেছেন যে, সেই সময়ের হজের কষ্টকর সফর সত্ত্বেও তাঁর পিতা জীবনে চারবার হজ করেছেন। আবু শামা তাঁর শেষ হজে ৬২১ হিজরি (১২২৪ খ্রিস্টাব্দ) সালে তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন(৬)। হতে পারে আবু শামা পরবর্তীতে তাঁর পিতার সম্মান বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তাঁকে সেইসব ব্যক্তিদের কাতারে উল্লেখ করেছেন যারা দামেস্কের খতিব আব্দুল মালিক বিন যায়দ আদ-দাওলায়ি (মৃত্যু ৫৯৮ হিজরি/ ১২০১ খ্রিস্টাব্দ)(৭) থেকে বর্ণনা করেছেন। কেননা, প্রতি জুমায় দামেস্ক জামে মসজিদের মিম্বরে আরোহণকারী একজন বড় খতিবের নিকট থেকে বর্ণনা করা কোনো ব্যক্তিকে সেই ইলম অন্বেষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত করে না যারা শাইখদের কাছে যাতায়াত করে তাঁদের থেকে বর্ণনা গ্রহণ করতেন। প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর পুত্র আবু শামা কিছুটা প্রসিদ্ধি লাভ করার পর তিনি আবু আব্দুর রহমান উপনামে ভূষিত হন(৮)।

--------------------------------------------

(১) «আল-মুযায়্যাল»: ১/ ১৯৭।

(২) আল-মুযায়্যাল: ১/ ১৯২।

(৩) «আল-মুযায়্যাল»: ১/ ১৯৭, ২/ ৪৮।

(৪) «আল-মুযায়্যাল»: ১/ ১৯২।

(৫) «আল-মুযায়্যাল»: ১/ ১৩৭।

(৬) আবু শামা-র পিতা নিম্নোক্ত বছরগুলোতে হজ পালন করেন: ৬১০ হিজরি, ৬১৬ হিজরি, ৬১৮ হিজরি, ৬২১ হিজরি। দেখুন «আল-মুযায়্যাল»: ১/ ২৪২, ৩২০, ৩৪৬, ৩৭৪।

(৭) «আল-মুযায়্যাল»: ১/ ১২০।

(৮) «আল-মুযায়্যাল»: ১/ ১৪৭, এবং আবু শামা-র প্রশংসায় এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে:

আর তাঁর পিতা সায়্যিদ আস-সুলামির মতো, গ্রহণ করো … তাঁর উপনাম অনুযায়ী এবং শাইখ পরহেজগারিতে শিবলীর মতো।

আর আস-সুলামি হলেন: আবু আব্দুর রহমান, ‘তাবাকাতুস সুফিয়্যাহ’ গ্রন্থের লেখক।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ١٧)
وتوفي سنة (638 هـ/ 1240 م) ودفن على أبيه بمقبرة باب الفراديس(1).

أما والدة أبي شامة فيبدو أنه كان شديد التعلق بها، وهي التي كانت وراء طلبه للعلم(2)، وقد وصفها سنة وفاتها سنة (620 هـ/ 1223 م) بأنها كانت دينة صالحة، وتمنى، وهو يغالب حزنه عليها، أن يدفن عندها(3).

وقد أنجب والده إسماعيل من الذكور أربعة(4): أولهم: برهان الدين، أبو إسحاق إبراهيم، ولد ليلة الاثنين الخامس والعشرين من محرم سنة(5) (591 هـ/ 1195 م) فهو أسن من أبي شامة بنحو تسع سنين، وقد وصفه أبو شامة بأنه كان من الصالحين(6)، وهو أخ غير شقيق(7).

وثانيهم: مؤرخنا عبد الرحمن أبو شامة.

وثالثهم: أبو محمد، أمه مغربية، ولد سنة(8) (628 هـ/ 1231 م) وأشار أبو شامة إلى وفاته دون أن يحدد سنتها(9).

ورابعهم: عبد الحليم، شقيق أبي محمد، وقد ولد سنة(10) (632 هـ/ 1235)، ولم يذكر أبو شامة في «مذيله» إلا تاريخ ولادته، ثم تغيب عنا أخباره.

--------------------------------------------

(1) «المذيل»: 2/ 54.

(2) «المذيل»: 1/ 138 - 139، وانظر ص 21 - 22 من هذا الكتاب.

(3) «المذيل»: 1/ 355.

(4) لم يذكر أبو شامة أنه كان له أخوات أو شقيقات.

(5) «المذيل»: 1/ 137.

(6) «المذيل»: 1/ 140.

(7) سيتزوج أبو شامة من بعد ابنة خالة أخيه إبراهيم، وهي ست العرب، انظر «المذيل»: 2/ 221، 120، وانظر ص 152 من هذا الكتاب.

(8) «المذيل»: 2/ 23.

(9) «المذيل»: 2/ 190 في ترجمة خاله يحيى بن الوكيل المغربي.

(10) «المذيل»: 2/ 33.
তিনি ৬৩৮ হিজরি/ ১২৪০ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁকে তাঁর পিতার কবরের পাশেই বাবুুল ফারাদিস কবরস্থানে দাফন করা হয়(১)।

আবু শামার মায়ের ব্যাপারে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি (আবু শামা) তাঁর প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিলেন এবং তিনিই ছিলেন তাঁর জ্ঞান অন্বেষণের পেছনে মূল চালিকাশক্তি(২)। ৬২০ হিজরি/ ১২২৩ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যুর বছর আবু শামা তাঁকে একজন অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ ও নেককার নারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকাতুর অবস্থায় তিনি আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন যেন তাঁকে তাঁর পাশেই দাফন করা হয়(৩)।

তাঁর পিতা ইসমাইলের চারজন পুত্রসন্তান ছিল(৪): তাদের প্রথমজন: বুরহান উদ্দিন আবু ইসহাক ইব্রাহিম, তিনি ৫৯১ হিজরির ২৫শে মহরম সোমবার দিবাগত রাতে (১১৯৫ খ্রিস্টাব্দে) জন্মগ্রহণ করেন(৫); ফলে তিনি আবু শামার চেয়ে প্রায় নয় বছরের বড় ছিলেন। আবু শামা তাঁকে পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত বলে বর্ণনা করেছেন(৬) এবং তিনি ছিলেন তাঁর বিমাতা ভাই(৭)।

দ্বিতীয়জন হলেন আমাদের ইতিহাসবিদ আব্দুর রহমান আবু শামা।

তৃতীয়জন: আবু মুহাম্মদ, তাঁর মা ছিলেন মাগরিবি (মরক্কান), তিনি ৬২৮ হিজরি/ ১২৩১ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন(৮)। আবু শামা তাঁর মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেছেন, তবে মৃত্যুর সাল নির্দিষ্ট করেননি(৯)।

চতুর্থজন: আব্দুল হালিম, তিনি আবু মুহাম্মদের সহোদর ভাই। তিনি ৬৩২ হিজরি/ ১২৩৫ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন(১০)। আবু শামা তাঁর 'আল-মুদাইল' গ্রন্থে কেবল তাঁর জন্ম তারিখই উল্লেখ করেছেন, এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কোনো সংবাদ আমাদের কাছে নেই।

--------------------------------------------

(১) «আল-মুদাইল»: ২/ ৫৪।

(২) «আল-মুদাইল»: ১/ ১৩৮ - ১৩৯, এবং দেখুন এই গ্রন্থের পৃষ্ঠা ২১ - ২২।

(৩) «আল-মুদাইল»: ১/ ৩৫৫।

(৪) আবু শামা তাঁর কোনো বোন বা সহোদরা থাকার কথা উল্লেখ করেননি।

(৫) «আল-মুদাইল»: ১/ ১৩৭।

(৬) «আল-মুদাইল»: ১/ ১৪০।

(৭) পরবর্তীতে আবু শামা তাঁর ভাই ইব্রাহিমের খালাতো বোন সিত্তুল আরবকে বিবাহ করেন; দেখুন «আল-মুদাইল»: ২/ ২২১, ১২০ এবং দেখুন এই গ্রন্থের পৃষ্ঠা ১৫২।

(৮) «আল-মুদাইল»: ২/ ২৩।

(৯) «আল-মুদাইল»: ২/ ১৯০, তাঁর মামা ইয়াহইয়া ইবনুল ওয়াকিল আল-মাগরিবির জীবনী আলোচনায়।

(১০) «আল-মুদাইল»: ২/ ৩৩।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ١٨)
أما أخوه إبراهيم فقد ألمع أبو شامة إلى صلته به، وبخاصة في محنته التي ألمت به في أواخر حياته(1).

فأبو شامة ينتمي لأسرة كان لبعض أفرادها اشتغال بالعلم، إلا أنه لم ينبه فيها أحد، وأتساءل: من منهم حصل لأبي شامة إجازة من القاسم بن الحافظ ابن عساكر، وله من العمر نحو سنة(2)، ويبقى تساؤل دون جواب، وهو من المواضع التي آثر فيها أبو شامة الصمت.

--------------------------------------------

(1) «المذيل»: 2/ 211، 223.

(2) «المذيل»: 1/ 157.
তাঁর ভাই ইব্রাহিমের বিষয়ে আবু শামা তাঁর সাথে তাঁর সম্পর্কের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, বিশেষ করে তাঁর জীবনের শেষভাগে তাঁর ওপর আসা কঠিন পরীক্ষার বিষয়ে(১)।

আবু শামা এমন এক পরিবারের সদস্য ছিলেন যাদের কারো কারো জ্ঞানচর্চায় সম্পৃক্ততা ছিল, তবে তাঁদের মাঝে অন্য কেউ সুখ্যাতি লাভ করতে পারেননি। আমার প্রশ্ন জাগে: তাঁদের মধ্যে কে আবু শামার জন্য হাফিজ ইবনে আসাকিরের পুত্র আল-কাসিমের কাছ থেকে ইজাযত গ্রহণ করেছিলেন, যখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় এক বছর(২)? এটি একটি উত্তরহীন প্রশ্ন হিসেবেই রয়ে গেছে, এবং এটি এমন একটি বিষয় যেখানে আবু শামা নীরব থাকাকেই বেছে নিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) «আল-মুদাইয়িল»: ২/ ২১১, ২২৩।

(২) «আল-মুদাইয়িল»: ১/ ১৫৭।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ١٩)

আহলুস সুন্নাহর ইমামগণ মহান আল্লাহর এই বাণী: {রহমান আরশের উপর উঠেছেন} প্রসঙ্গে বলেছেন যে, তিনি আরশের উপর উঠেছেন। আর যে ব্যক্তি এর বিপরীত কিছু দাবি করবে সে হলো জাহমি।

আল্লাহর দুটি হাত রয়েছে, যেমনটি তিনি তাঁর বাণীতে বলেছেন: {যাকে আমি আমার দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি}। আমরা বলব "আল্লাহর হাত", যেমনটি তিনি তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন। আমরা এর কোনো অপব্যাখ্যা করব না এবং একে সৃষ্টির হাতের সাথে তুলনাও করব না।

অনুরূপভাবে হাদীসে আল্লাহর পা এর কথা এসেছে। আমরা বলব "আল্লাহর পা" বা "আল্লাহর কদম", যা তাঁর মহান শানের উপযোগী। আমরা এর কোনো অপব্যাখ্যা বা উদাহরণ পেশ করব না।

আল্লাহ তাআলা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন। এটি একটি বাস্তব অবতরণ যা তাঁর মহিমার যোগ্য, এর ধরন আমাদের অজানা।

কিয়ামতের দিন মুমিনগণ তাদের রবকে জান্নাতে চাক্ষুষ দেখবেন। যেমন হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের রবকে দেখবে যেমন তোমরা পূর্ণিমার চাঁদকে দেখ।" এই দেখা হবে কোনো প্রকার সংশয় বা ভিড় ছাড়াই।

আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে আমাদের আকিদা হলো—তিনি নিজের জন্য যে সকল গুণ সাব্যস্ত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন, আমরা সেগুলোর ওপর কোনো প্রকার বিকৃতি (তাহরিফ), অস্বীকার (তা’তিল), ধরন নির্ধারণ (তাকয়িফ) বা সাদৃশ্য প্রদান (তামসিল) ছাড়াই ঈমান রাখি।

(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌في المكتب

حين بلغ أبو شامة نحو الخامسة من عمره، أرسل على عادة الصبيان في ذلك العصر إلى المكتب لتلقي مبادئ القراءة والكتابة، وكان للمكتب سائق مكلف بأخذ الصبيان يوميا إلى المكتب وردهم إلى بيوتهم بعد انتهاء الدرس(1)؛ إذ كانت مكاتب تعليم الصبيان عند الباب الشمالي لجامع دمشق، وهو المعروف وقتئذ بباب الناطفانيين قبالة الخانقاه السميساطية، كان ثمة دهليز واسع يفضي إلى الباب، وقد انتصبت على جانبيه أعمدة رومانية هي من بقايا بنائه القديم، شأنه في ذلك شأن أبواب الجامع كلها، وعلى طول هذا الدهليز مصاطب مسيجة بالأعواد، كان يتخذ منها المعلمون مكاتب لتعليم الصبيان(2)، وربما رأى أبو شامة في إحداها عبدان المعلم، عم جده.

وذات صباح، راحت أمه - وقد أزف وقت ذهابه إلى المكتب - تقص على صغيرها - تشجيعا له - قصة الحلم الذي رأته، وهي حامل به، فقد رأت فيما يرى النائم أنها تؤذن في الجامع، وهي تقف في أعلى مكان من المئذنة عند هلالها، وحين قصت رؤياها في اليوم التالي لأحد معبري الأحلام بشرها بأنها ستلد غلاما

--------------------------------------------

(1) نهاية الرتبة: ص 104، و «الحياة العقلية في عصر الحروب الصليبية بمصر والشام»: ص 88.

(2) رحلة ابن جبير: ص 340.
মক্তবে

যখন আবু শামার বয়স প্রায় পাঁচ বছর হলো, তখন সে আমলের শিশুদের রীতি অনুযায়ী তাকে পড়া ও লেখার প্রাথমিক জ্ঞান অর্জনের জন্য মক্তবে পাঠানো হলো। মক্তবের একজন নির্দিষ্ট পথপ্রদর্শক বা চালক নিযুক্ত ছিলেন, যাঁর দায়িত্ব ছিল প্রতিদিন শিশুদের মক্তবে নিয়ে যাওয়া এবং পাঠ শেষে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া(১); কারণ শিশুদের শিক্ষার মক্তবগুলো ছিল দামেস্ক জামে মসজিদের উত্তর দ্বারের কাছে, যা তৎকালীন সময়ে সামিসাতিয়া খানকাহ-র বিপরীতে ‘বাবুন নাতিফানিয়্যিন’ নামে পরিচিত ছিল। সেখানে একটি প্রশস্ত অলিন্দ ছিল যা মূল দরজার দিকে গিয়ে ঠেকেছিল এবং তার দুই পাশে রোমান স্তম্ভসমূহ দাঁড়িয়ে ছিল, যা ছিল প্রাচীন নির্মাণের অবশিষ্টাংশ; মসজিদের সকল প্রবেশপথের বৈশিষ্ট্যই ছিল অনুরূপ। সেই অলিন্দের দৈর্ঘ্য বরাবর কাঠ দিয়ে ঘেরা কিছু মাচা ছিল, যেগুলোকে শিক্ষকরা শিশুদের পাঠদানের জন্য মক্তব হিসেবে ব্যবহার করতেন(২)। সম্ভবত আবু শামা সেগুলোরই কোনো একটিতে তার দাদার চাচা শিক্ষক আবদানকে দেখেছিলেন।

এক সকালে, যখন তার মক্তবে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে এল, তখন তার মা তাকে উৎসাহিত করার জন্য নিজের দেখা একটি স্বপ্নের কথা শোনালেন, যা তিনি তাকে গর্ভে ধারণ করার সময় দেখেছিলেন। তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন যে, তিনি জামে মসজিদে আযান দিচ্ছেন এবং তিনি মিনারের সর্বোচ্চ চূড়ায় অর্ধচন্দ্রের কাছে দাঁড়িয়ে আছেন। পরের দিন যখন তিনি জনৈক স্বপ্নবিশারদের কাছে এই স্বপ্ন বর্ণনা করলেন, তখন তিনি সুসংবাদ দিলেন যে, তিনি একটি পুত্রসন্তান প্রসব করবেন।

--------------------------------------------

(১) নিহায়াতুর রুতবাহ: পৃষ্ঠা ১০৪, এবং ‘আল-হায়াতুল আকলিয়্যাহ ফি আসরিল হুরুবিস সালিবিয়্যাহ বি-মিসরা ওয়াশ-শাম’: পৃষ্ঠা ৮৮।

(২) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের: পৃষ্ঠা ৩৪০।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ٢٢)
ينتشر ذكره في الأرض بالعلم والخير(1). وقد كتمت حلمها هذا في صدرها زمنا، وها هي تفضي به الآن إلى صغيرها، راسمة له من خلاله ملامح مستقبله.

ويترسخ هذا الحلم في عقل الصغير، فيسعى بما في قلبه من حب كبير لها كي يحقق حلمها، وينكب بشغف وحرص غير معهودين في الصغار على تعلم القراءة والكتابة، مما يثير عجب والده منه، وهو الغافل عنه، ولكن الأم العارفة بالسر تقص على زوجها قصة الحلم الذي رأته(2)، وكأنها - لإيمانها بتحققه تنفي به كل عجب.

وكان الصغير في غدوه ورواحه إلى المكتب تلتقط ذاكرته الغضة كل ما يراه ويسمعه، حتى تلك الأشعار التي كانت تغنى في الأسواق تعليقا على خبر، أو ذكرا لحادثة، وكان مما علق بذاكرته منها، تلك التي قيلت يوم دخل أسير فرنجي إلى جامع دمشق عند أذان الفجر سكران وبيده سيف قد شهره، وراح يهوي به على المصلين يمنة ويسرة، فقتل منهم رجلين أو ثلاثة، ووقعت بعض ضرباته في جانب المنبر، فأثرت فيه، واستيقظت دمشق على أخبار هذه الحادثة، ونظمت فيها أشعار منها:

مقصورة الخطيب طلب … والناس ولوا للهرب

في جانب المنبر ضرب … بالسيف حتى انكسر

وما كان لهذا الفرنجي المسعور أن ينجو من فعلته هذه، فقد شنق في آخر النهار بجسر اللبادين، ورآه الصغير متدليا من درابزين حافته الشرقية، وهو يمر بجيرون في طريقه نحو المكتب(3).

--------------------------------------------

(1) «المذيل»: 1/ 138 - 139.

(2) المصدر السالف.

(3) «المذيل»: 1/ 194.
জ্ঞান ও কল্যাণের মাধ্যমে পৃথিবীতে তাঁর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে(১)। তিনি দীর্ঘকাল ধরে তাঁর এই স্বপ্ন নিজের অন্তরে গোপন রেখেছিলেন এবং এখন তিনি তা তাঁর এই ছোট সন্তানের কাছে প্রকাশ করছেন, যার মাধ্যমে তিনি তার ভবিষ্যতের রূপরেখা অঙ্কন করছেন।

আর এই স্বপ্ন সেই বালকের মনে গেঁথে যায়, ফলে সে তার মায়ের প্রতি অন্তরের গভীর ভালোবাসা থেকে তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সচেষ্ট হয়। সে শৈশবে সাধারণত দেখা যায় না এমন আগ্রহ ও একাগ্রতার সাথে লেখা ও পড়া শিখতে মনোনিবেশ করে, যা তার পিতার মনে বিস্ময় জাগিয়ে তোলে—অথচ তিনি তার ব্যাপারে উদাসীন ছিলেন। কিন্তু রহস্য সম্পর্কে অবগত মা তাঁর স্বামীর কাছে তাঁর দেখা সেই স্বপ্নের কথা বর্ণনা করেন(২), যেন সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নের প্রতি তাঁর দৃঢ় বিশ্বাসের কারণে তিনি সমস্ত বিস্ময়কে নাকচ করে দিচ্ছেন।

মক্তবে যাতায়াতের পথে সেই বালকের সতেজ স্মৃতিশক্তি যা কিছু দেখত ও শুনত, তা-ই ধারণ করত; এমনকি বাজারের সেইসব কবিতাগুলোও, যা কোনো খবর বা ঘটনার বর্ণনায় গাওয়া হতো। তার স্মৃতিতে সংরক্ষিত তেমনই কিছু চরণ ছিল যা সেই দিনের ঘটনায় বলা হয়েছিল, যেদিন ফজর আযানের সময় একজন নেশাগ্রস্ত ফ্রঙ্ক (ইউরোপীয়) যুদ্ধবন্দী দামেস্কের জামে মসজিদে উন্মুক্ত তলোয়ার হাতে প্রবেশ করে। সে মুসল্লিদের ওপর ডানে ও বামে আঘাত করতে শুরু করে, যার ফলে তাদের মধ্যে দুই বা তিন জন নিহত হন। তার কিছু আঘাত মিম্বারের এক পাশে লাগে এবং তাতে চিহ্ন তৈরি হয়। দামেস্কবাসী এই ঘটনার সংবাদে জাগ্রত হয় এবং এই বিষয়ে অনেক কবিতা রচিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে:

খতিবের কক্ষ সে তালাশ করছিল … আর মানুষ পলায়ন করছিল

মিম্বারের পাশে সে আঘাত হেনেছিল … তলোয়ার দিয়ে যতক্ষণ না তা ভেঙে গিয়েছিল

এই উন্মত্ত ফ্রঙ্কের পক্ষে তার এই দুষ্কর্ম থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব ছিল না; দিনের শেষভাগে 'জাসরুল লাব্বাদিন'-এ তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। বালকটি তাকে সেতুর পূর্ব প্রান্তের রেলিং থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়, যখন সে মক্তবে যাওয়ার পথে 'জাইরুন' অতিক্রম করছিল(৩)।

--------------------------------------------

(১) «আল-মুযায়্যাল»: ১/ ১৩৮ - ১৩৯।

(২) পূর্বোক্ত উৎস।

(৩) «আল-মুযায়্যাল»: ১/ ১৯৪।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌أبو شامة حافظا للقرآن وجامعا لقراءاته

وتمضي الأيام بالصغير، وهو عاكف على لوحه في المكتب يثبت فيه ويمحو ما يكتب له من الأشعار، وما تخطه يده من حكم وأمثال، أما القرآن الكريم فكان يتلقنه في الجامع تلقينا، تنزيها عن ابتذال الصبيان له بالمحو والإثبات(1).

وكان لتلقين القرآن الكريم في جامع دمشق حلقات لا يخلو منها صباحا ولا مساء(2). منها حلقة في الجهة الشرقية منه، تعرف بالشبع الكبير(3)، كان يجتمع فيها القراء كل يوم عقب صلاة الفجر لقراءة سبع من القرآن، ليختموه في كل أسبوع مرة، وكان يجلس كل قارئ عقب الانتهاء من القراءة إلى سارية، فيتحلق الصبيان حوله ليلقنهم القرآن(4)، من هؤلاء القراء الشيخ شرف الدين يعيش، الذي كان أبو شامة ينضم إلى حلقته مع أترابه يقرأ عليه(5)، وكان قد حبب إليه حفظ الكتاب العزيز، فجعل ذلك من همته(6)، حتى إذا ما استتم الحادية عشرة من عمره كان قد

--------------------------------------------

(1) «رحلة ابن جبير»: ص 342.

(2) المصدر السالف.

(3) «المذيل»: 1/ 249.

(4) «رحلة ابن جبير»: ص 341.

(5) «المذيل»: 2/ 213.

(6) «المذيل»: 1/ 137.
আবু শামা কুরআন হিফজকারী এবং এর কিরাতসমূহ সংগ্রহকারী হিসেবে

দিনগুলি বালকের সাথে অতিবাহিত হতে থাকে, আর তিনি মক্তবে তাঁর তখতির (লিপিপট) উপর একাগ্রচিত্ত ছিলেন, যেখানে তিনি তাঁর জন্য লিখিত কবিতাগুলো লিখতেন ও মুছতেন এবং তাঁর হাত যা কিছু প্রজ্ঞা ও প্রবাদ থেকে অঙ্কন করত তা লিপিবদ্ধ করতেন। আর পবিত্র কুরআনের বিষয়টি ছিল এমন যে, তিনি তা মসজিদে মৌখিক পাঠের (তালকিন) মাধ্যমে গ্রহণ করতেন, যাতে শিশুরা লেখা ও মোছার মাধ্যমে একে অবমাননা করা থেকে একে পবিত্র রাখা যায়(১)।

দামেস্কের জামে মসজিদে পবিত্র কুরআন পাঠদানের এমন কিছু হালাকা (চক্র) ছিল যা সকাল কিংবা সন্ধ্যায় কখনোই খালি থাকত না(২)। এর মধ্যে একটি হালাকা ছিল মসজিদের পূর্ব দিকে, যা 'সাবউ কাবীর' নামে পরিচিত ছিল(৩); সেখানে কারীগণ প্রতিদিন ফজর নামাজের পর কুরআনের এক সপ্তমাংশ পড়ার জন্য একত্রিত হতেন, যাতে তাঁরা প্রতি সপ্তাহে একবার তা খতম করতে পারেন। কিরাত শেষ করার পর প্রত্যেক কারী একটি স্তম্ভের কাছে বসতেন এবং বালকরা তাঁর চারপাশে বৃত্তাকারে সমবেত হতো যাতে তিনি তাদের কুরআন পাঠদান করতে পারেন(৪)। এই কারীগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন শায়খ শরফুদ্দিন ইয়াইশ, যাঁর হালাকায় আবু শামা তাঁর সমবয়সীদের সাথে যোগ দিতেন এবং তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করতেন(৫)। মহান কিতাব হিফজ করা তাঁর নিকট প্রিয় করে দেওয়া হয়েছিল, তাই তিনি এটিকে নিজের উচ্চ সংকল্পের অন্তর্ভুক্ত করেন(৬); এমনকি যখন তিনি এগারো বছর বয়স পূর্ণ করেন, তখন তিনি...

--------------------------------------------

(১) «রিহলাতু ইবনে জুবায়ের»: পৃ. ৩৪২।

(২) পূর্বোক্ত উৎস।

(৩) «আল-মুজায়্যাল»: ১/ ২৪৯।

(৪) «রিহলাতু ইবনে জুবায়ের»: পৃ. ৩৪১।

(৫) «আল-মুজায়্যাল»: ২/ ২১৩।

(৬) «আল-মুজায়্যাল»: ১/ ১৩৭।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ٢٤)
أتمه حفظا، وفوجئ والده، وهو يسمع صغيره يقول له ذات يوم: قد ختمت القرآن حفظا(1).

في تلك الفترة كان قد انتقل إلى المدرسة الأمينية ليتابع دراسته فيها بعد المكتب، وقد اتخذ من إحدى غرفها سكنا له(2).

وتطلعت نفسه إلى جمع القراءات، فانتقل إلى حلقة الشيخ إبراهيم بن يوسف المعروف بالوجيه ابن البوني، وهو أحد المشايخ المعتبرين في الجامع، المشهورين بمعرفة القراءات، وقد بلغ من تمكنه منها أن كانت حلقته في مكان حلقة ابن طاوس(3)، إمام جامع دمشق ومقرئه في عصره(4)، فشرع أبو شامة في تلقي القراءات عليه، بادئا بحفظ قصيدة العلامة الشاطبي «حرز الأماني» في القراءات السبع، فأتم حفظ أبياتها التي بلغت نحو ألف ومئة وثلاثة وسبعين بيتا، فكانت أول مصنف وجيز يحفظه بعد حفظه للكتاب العزيز، قبل بلوغه الحلم(5)، وحين توفي شيخه إبراهيم سنة (612 هـ/ 1216 م) كان قد أتم عليه قراءة الجزء الأول من سورة البقرة(6).

فانتقل إلى حلقة الشيخ شرف الدين أبي منصور الضرير، وكان من المتصدرين في الجامع للإقراء، ويبدو أنه قد قرأ عليه القرآن بالروايات حتى أتمه(7)، وذلك قبل التحاقه بحلقة شيخ قراء عصره وأشهرهم علم الدين السخاوي.

--------------------------------------------

(1) «المذيل»: 1/ 137.

(2) «المذيل»: 1/ 175، 2/ 174، 198.

(3) «المذيل»: 1/ 260 - 261.

(4) ابن طاوس هو هبة الله بن عبد الله بن علي بن طاوس البغدادي، ثم الدمشقي، المتوفى سنة (536 هـ)، انظر ترجمته في «سير أعلام النبلاء»: 20/ 98.

(5) «إبراز المعاني»: 1/ 107.

(6) «المذيل»: 1/ 260 - 261، 2/ 147.

(7) «المذيل»: 1/ 226، 2/ 135، 174.
তিনি হিফজ (স্মৃতিস্থকরণ) সম্পন্ন করেন, আর তাঁর পিতা একদিন তাঁর ছোট সন্তানকে বলতে শুনে আশ্চর্যান্বিত হলেন: "আমি হিফজ করার মাধ্যমে কুরআন খতম করেছি"(১)।

সেই সময়ে মক্তবের পাঠ শেষ করার পর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি মাদরাসা আল-আমিনিয়্যাহ-তে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানকার একটি কক্ষকে নিজের বাসস্থান হিসেবে গ্রহণ করেন(২)।

তাঁর মন কিরাআতসমূহ (পঠনশৈলী) সংকলন করার দিকে ধাবিত হয়, ফলে তিনি শায়খ ইবরাহিম ইবনে ইউসুফের হালকায় স্থানান্তরিত হন, যিনি আল-ওয়াজিব ইবনুল বুনি নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন এই জামে মসজিদের অন্যতম নির্ভরযোগ্য এবং কিরাআত বিদ্যায় প্রসিদ্ধ শায়খ। এই বিদ্যায় তাঁর দক্ষতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তাঁর হালকাটি (শিক্ষাদান কেন্দ্র) ইবনে তাউসের হালকার স্থানেই বসত(৩), যিনি ছিলেন তৎকালীন সময়ে দামেস্কের জামে মসজিদের ইমাম এবং তাঁর যুগের প্রধান ক্বারী(৪)। অতঃপর আবু শামাহ তাঁর নিকট কিরাআতের তালিম নিতে শুরু করেন এবং সাবআ কিরাআতের (সাত কিরাআত) ওপর আল্লামা শাতিবীর কবিতা ‘হিরজুল আমানি’ মুখস্থ করার মাধ্যমে তা শুরু করেন। তিনি এর শ্লোকগুলো মুখস্থ করা সম্পন্ন করেন যার সংখ্যা ছিল প্রায় এক হাজার একশত তেহাত্তরটি। বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর পূর্বেই আল্লাহর সম্মানিত কিতাব (কুরআন) মুখস্থ করার পর এটিই ছিল তাঁর মুখস্থ করা প্রথম কোনো সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ(৫)। যখন তাঁর শায়খ ইবরাহিম ৬১২ হিজরি/১২১৬ খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি তাঁর কাছে সূরা বাকারার প্রথম অংশ পড়া সম্পন্ন করেছিলেন(৬)।

অতঃপর তিনি শায়খ শরফুদ্দিন আবু মনসুর আদ-দারিরের হালকায় স্থানান্তরিত হন। তিনি ছিলেন এই মসজিদে কিরাআত শিক্ষার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের একজন। প্রতীয়মান হয় যে, তিনি তাঁর কাছে বিভিন্ন রেওয়ায়াতসহ কুরআন পড়ে শেষ করেছিলেন(৭); আর এটি ছিল তাঁর যুগের প্রধান এবং প্রসিদ্ধতম ক্বারী ইলমুদ্দিন আস-সাখাভীর হালকায় যোগ দেওয়ার পূর্বের ঘটনা।

--------------------------------------------

(১) «আল-মুযাইল»: ১/ ১৩৭।

(২) «আল-মুযাইল»: ১/ ১৭৫, ২/ ১৭৪, ১৯৮।

(৩) «আল-মুযাইল»: ১/ ২৬০ - ২৬১।

(৪) ইবনে তাউস হলেন হিবাতুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আলি ইবনে তাউস আল-বাগদাদি, অতঃপর আদ-দিমাশকি, যিনি ৫৩৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী দেখুন «সিয়ারু আ’লামিন নুবালা»: ২০/ ৯৮ গ্রন্থে।

(৫) «ইবরাযুল মাআনি»: ১/ ১০৭।

(৬) «আল-মুযাইল»: ১/ ২৬০ - ২৬১, ২/ ১৪৭।

(৭) «আল-মুযাইল»: ১/ ২২৬, ২/ ১৩৫, ১৭৪।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ٢٥)
كان السخاوي، وهو من أصحاب الإمام الشاطبي، في السادسة والخمسين من عمره، وكانت حلقته بالجامع عند رأس يحيى بن زكريا عليه السلام(1)، وذات يوم من أيام شعبان سنة(2) (614 هـ/ 1217 م) جلس الفتى أبو شامة، وكان في نحو الخامسة عشرة من عمره إلى حلقته، وقد غصت بالطلاب، وبدأ يقرأ عليه القرآن بالروايات، فكان الدرس الأول للفتى النابه بين يدي شيخه الجليل، ولما انقضى حول على هذا اللقاء كانت زكاته إجازة الشيخ لفتاه في علم القراءات اعترافا بتمكنه فيه(3)، ولعله كان من أصغر تلاميذه سنا ينال هذه الإجازة.

وفي مجلس شيخه السخاوي يتعرف إلى الفقيه الشيخ عز الدين بن عبد السلام، وكان في نحو السادسة والثلاثين من عمره(4)، وربما نحو هذه الفترة يترك أبو شامة المدرسة الأمينية لينتقل منها إلى المدرسة العزيزية، وكان للفقيه عز الدين بن عبد السلام مجلس فيها(5)، فتتعمق علاقته به.

ولم يقنع أبو شامة بما حصله من علم القراءات، فقد وجد متسعا من وقته لسماع الحديث الشريف من شيوخه، وتحصيل الإجازات منهم، فسمع «صحيح البخاري» من الشيخ المسند داود بن أحمد بن ملاعب(6)، والشيخ أبي القاسم

--------------------------------------------

= وقد توفي سنة (631 هـ)، ولم يترجم له أبو شامة في وفياتها، ولعله سها عنه.

انظر ترجمته في «تاريخ الإسلام» للذهبي (وفيات سنة 631 هـ)، «الوافي بالوفيات»: 25/ 281، و «نكت الهميان»: ص 287.

(1) «غاية النهاية»: 1/ 569، قلت: وقد شاع أن رأس يحيى عليه السلام قد دفن في هذا الموضع، ولم أر من تثبت من ذلك.

(2) «المذيل»: 2/ 74.

(3) «معرفة القراء الكبار» للذهبي: 3/ 1334.

(4) «المذيل»: 1/ 299.

(5) «المذيل»: 2/ 223.

(6) «المذيل»: 1/ 320، 326، و «شرح الحديث المقتفى»: ص 56.
আস-সাখাওয়ী, যিনি ইমাম আশ-শাতিবীর অন্যতম সঙ্গী ছিলেন, তাঁর বয়স তখন ছিল ছাপ্পান্ন বছর। জামে মসজিদে ইয়াহইয়া বিন যাকারিয়া আলাইহিস সালাম-এর মাথার কাছে তাঁর পাঠচক্র বসত(১)। ৬১৪ হিজরি/ ১২১৭ খ্রিস্টাব্দ সালের শা'বান মাসের কোনো একদিন(২) কিশোর আবু শামাহ, যার বয়স তখন প্রায় পনেরো বছর, তাঁর পাঠচক্রে বসেন। সেটি তখন ছাত্রে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। তিনি তাঁর কাছে বিভিন্ন রেওয়ায়েতের মাধ্যমে কুরআন পাঠ শুরু করেন। এই মহান শায়খের সামনে মেধাবী কিশোরের এটিই ছিল প্রথম পাঠ। যখন এই সাক্ষাতের এক বছর অতিক্রান্ত হলো, তখন কিরাআত শাস্ত্রে কিশোরের পারদর্শিতার স্বীকৃতিস্বরূপ শায়খ তাকে যে ইজাজাহ প্রদান করেন তা যেন ছিল ওই বছরের যাকাত(৩)। সম্ভবত তিনি তাঁর ছাত্রদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন যিনি এই ইজাজাহ লাভ করেছিলেন।

তাঁর শায়খ আস-সাখাওয়ীর মজলিসেই তিনি ফকিহ শায়খ ইজ্জুদ্দিন বিন আব্দুস সালামের সাথে পরিচিত হন, যাঁর বয়স তখন ছিল প্রায় ছত্রিশ বছর(৪)। সম্ভবত এই সময়ের দিকেই আবু শামাহ আল-মাদরাসাতুল আমিনিয়্যাহ ছেড়ে আল-মাদরাসাতুল আজিজিয়্যাহতে চলে যান। সেখানে ফকিহ ইজ্জুদ্দিন বিন আব্দুস সালামের একটি মজলিস ছিল(৫), ফলে তাঁর সাথে তাঁর সম্পর্ক আরও গভীর হয়।

আবু শামাহ কিরাআত শাস্ত্রে যা অর্জন করেছিলেন তাতে তৃপ্ত হননি। তিনি তাঁর শায়খদের কাছ থেকে হাদিস শ্রবণ এবং তাঁদের কাছ থেকে ইজাজাহ অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করে নিয়েছিলেন। তিনি শায়খ আল-মুসনিদ দাউদ বিন আহমাদ বিন মুলায়িব(৬) এবং শায়খ আবুল কাসিম... এর কাছ থেকে «সহীহ আল-বুখারী» শ্রবণ করেন।

--------------------------------------------

= এবং তিনি (৬৩১ হিজরি) সালে ইন্তেকাল করেন। আবু শামাহ সেই বছরের মৃত্যুসংবাদে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেননি, সম্ভবত তিনি এটি ভুলে গিয়েছিলেন।

দ্রষ্টব্য: আয-যাহাবীর «তারিখুল ইসলাম»-এ তাঁর জীবনী (৬৩১ হিজরির মৃত্যুসংবাদ), «আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত»: ২৫/২৮১, এবং «নুকাতুল হিমইয়ান»: পৃষ্ঠা ২৮৭।

(১) «গায়াতুন নিহায়াহ»: ১/৫৬৯। আমি বলি: এটি প্রসিদ্ধ যে ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম-এর মস্তক এই স্থানে সমাহিত করা হয়েছে, তবে আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি এটি নিশ্চিত করেছেন।

(২) «আল-মুযাইয়্যাল»: ২/৭৪।

(৩) আয-যাহাবীর «মা’রিফাতুল কুররাউল কিবার»: ৩/১৩৩৪।

(৪) «আল-মুযাইয়্যাল»: ১/২৯৯।

(৫) «আল-মুযাইয়্যাল»: ২/২২৩।

(৬) «আল-মুযাইয়্যাল»: ১/৩২০, ৩২৬, এবং «শারহুল হাদিসিল মুকতাফা»: পৃষ্ঠা ৫৬।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ٢٦)
أحمد بن عبد الله بن عبد الصمد السلمي العطار(1)، وسمع طائفة من كتب الحديث من الشيخ أبي البركات زين الأمناء الحسن بن محمد بن الحسن بن عساكر(2)، وسمع من القاضي أبي المجد محمد بن الحسين القزويني كتاب «شرح السنة» للبغوي، وكان قد تفرد بروايته(3)، وأجازه مسند الشام في زمانه شمس الدين الحسين بن هبة الله بن صصرى، ولكنه لم يسمع منه(4)، ربما لأنه كان يأخذ أجرة على السماع(5)، وكذلك أجازه التقي بن باسويه(6)، وقد سمع منه كتاب «الاعتبار في بيان الناسخ والمنسوخ من الآثار للحازمي(7)، وأجازه القاضي شرف الدين إسماعيل بن إبراهيم بن أحمد الشيباني(8)، والشيخ العدل أبو علي الحسن بن يحيى بن صباح المصري، وقد سمع عليه أكثر «الخلعيات»(9).

وكان يختلف إلى حلقة الشيخ الفقيه كمال الدين أبي العباس أحمد بن كشاسب الدزماري، قارئا عليه الفقه الشافعي، وكان متضلعا من نقل وجوه المذهب، وفهم معانيه(10).

وهكذا كان الفتى أبو شامة يقضي سحابة نهاره في جامع دمشق متنقلا فيه من شيخ إلى شيخ، يقرأ ويسمع ويتأمل.

--------------------------------------------

(1) «معرفة القراء الكبار: 3/ 1334، وشرح الحديث المقتفى: ص 56.

(2) «المذيل»: 2/ 19.

(3) «المرشد الوجيز»: ص 66، وانظر ترجمته في «سير أعلام النبلاء»: 22/ 249 - 250.

(4) «المذيل»: 2/ 9.

(5) «سير أعلام النبلاء»: 22/ 282 - 284.

(6) «المذيل»: 2/ 34.

(7) كتاب البسملة»: ص 503.

(8) «المذيل»: 2/ 25.

(9) «المذيل»: 2/ 33 - 34.

(10) «المذيل»: 2/ 68.
আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুস সামাদ আস-সুলামী আল-আত্তার(১), তিনি শায়খ আবুল বারাকাত যাইনুল উমানা হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন হাসান বিন আসাকির(২)-এর নিকট হাদীসের বেশ কিছু কিতাব শ্রবণ করেছেন। এছাড়া তিনি কাযী আবুল মাজদ মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আল-কাযভীনীর নিকট আল-বাগাবীর ‘শারহুস সুন্নাহ’ কিতাবটি শ্রবণ করেছেন, তিনি (কাযী) এটি বর্ণনায় একক পারদর্শী ছিলেন(৩)। তাঁর সমসাময়িক শামের মুসনিদ শামসুদ্দীন হুসাইন বিন হিবাতুল্লাহ বিন সাসরা তাকে ইজাযাহ দিয়েছেন, তবে তিনি তার থেকে শ্রবণ করেননি(৪), সম্ভবত এই কারণে যে তিনি শ্রবণ করানোর জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করতেন(৫)। একইভাবে তাকী বিন বাসুওয়াইহ তাকে ইজাযাহ প্রদান করেছেন(৬), এবং তিনি তার নিকট আল-হাযিমী রচিত ‘আল-ইতিবার ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ মিনাল আসার’ কিতাবটি শ্রবণ করেছেন(৭)। তাকে আরও ইজাযাহ দিয়েছেন কাযী শারফুদ্দীন ইসমাঈল বিন ইব্রাহীম বিন আহমাদ আশ-শায়বানী(৮) এবং নির্ভরযোগ্য শায়খ আবু আলী হাসান বিন ইয়াহইয়া বিন সাবাহ আল-মিসরী, আর তিনি তার কাছে ‘আল-খুলাইয়াত’-এর অধিকাংশ শ্রবণ করেছেন(৯)।

তিনি ফকীহ শায়খ কামালুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন কুশাসিব আদ-দুযমারীর হালকায় যাতায়াত করতেন এবং সেখানে শাফিঈ ফিকহ পাঠ করতেন; তিনি মাযহাবের বিভিন্ন অভিমত বর্ণনা করতে এবং এর অর্থ অনুধাবনে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন(১০)।

এভাবেই যুবক আবু শামাহ দামেস্কের জামে মসজিদে দিনের পুরো সময়টা এক শায়খ থেকে অন্য শায়খের কাছে যাতায়াত করে কাটাতেন, তিনি পাঠ করতেন, শ্রবণ করতেন এবং চিন্তা-গবেষণা করতেন।

--------------------------------------------

(১) ‘মা’রিফাতুল কুররা আল-কিবার’: ৩/১৩৩৪, এবং ‘শারহুল হাদীস আল-মুকতাফা’: পৃ. ৫৬।

(২) ‘আল-মুযাইয়্যাল’: ২/১৯।

(৩) ‘আল-মুরশিদ আল-ওয়াজীয়’: পৃ. ৬৬, এবং দেখুন তাঁর জীবনী ‘সিয়ারু আ’লামিন নুবালা’: ২২/২৪৯-২৫০।

(৪) ‘আল-মুযাইয়্যাল’: ২/৯।

(৫) ‘সিয়ারু আ’লামিন নুবালা’: ২২/২৮২-২৮৪।

(৬) ‘আল-মুযাইয়্যাল’: ২/৩৪।

(৭) ‘কিতাবুল বাসমালাহ’: পৃ. ৫০৩।

(৮) ‘আল-মুযাইয়্যাল’: ২/২৫।

(৯) ‘আল-মুযাইয়্যাল’: ২/৩৩-৩৪।

(১০) ‘আল-মুযাইয়্যাল’: ২/৬৮।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌في رحاب جامع دمشق

وبريشة مرهفة، وبذاكرة لا تفوتها أدق التفاصيل، رسم لنا أبو شامة بكلمات حية صورة لجامع دمشق، ومن كان فيه من العلماء والزهاد في سني صباه.

ففي منارته الشرقية كان يسكن في إحدى غرفها الشيخ الزاهد عبد الرحمن اليمني، وقد لاحت في وجهه أنوار الخير، وهو أحد المشايخ الصداعين بالحق عند الملوك، وقد وقف مرة أمام السلطان العادل أبي بكر بن أيوب ينكر عليه تهاونه في حفظ الثغور حين هاجمها الفرنج(1).

وفي زاويته الغربية - حيث أقام ذات يوم الإمام الغزالي - كان يسكن الشيخ بيرم المارديني، وهو شيخ صالح، محب للعزلة والانفراد، صابر على الفقر والجوع، كثير الصيام والمجاهدة(2).

أما في مقصورة الخضر في الجهة الغربية منه، فقد كان يقف مصليا قبالة

--------------------------------------------

(1) «المذيل»: 1/ 359 - 360، 377.

وكان العادل قد عقد هدنة مع الصليبيين في (14) شعبان سنة 594 هـ/ 21 حزيران سنة 1198 م) تم الاتفاق فيها على أن يحوز الفرنج على جبيل وبيروت، وأن يقتسما مدينة صيدا، ومدة الهدنة خمس سنين وثمانية أشهر. انظر «المذيل»: 1/ 78، و تاريخ الحروب الصليبية لرنسمان: 3/ 180، وكتابي «ما بعد صلاح الدين».

(2) «المذيل»: 2/ 19 - 20.
দামেস্ক জামে মসজিদের প্রাঙ্গণে

একটি সংবেদনশীল তুলির আঁচড়ে এবং অতি সূক্ষ্ম বিশদও এড়িয়ে যায় না এমন এক স্মৃতির সাহায্যে, আবু শামা তাঁর শৈশবের বছরগুলোতে দামেস্ক জামে মসজিদে অবস্থানকারী আলিম ও দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তিবর্গের এবং মসজিদের একটি জীবন্ত চিত্র আমাদের সামনে অঙ্কন করেছেন।

এর পূর্ব মিনারের একটি কক্ষে দুনিয়াবিমুখ শাইখ আবদুর রহমান আল-ইয়ামানি বাস করতেন। তাঁর চেহারায় কল্যাণের নূর উদ্ভাসিত হতো। তিনি ছিলেন সেই সকল শাইখদের একজন যারা রাজাদের সামনে হক কথা স্পষ্টভাবে বলতেন। ফ্রাঙ্করা যখন সীমান্ত এলাকা আক্রমণ করেছিল, তখন তিনি একবার সুলতান আদিল আবু বকর বিন আইয়ুবের সামনে দাঁড়িয়ে সীমান্ত রক্ষায় সুলতানের শিথিলতার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন(১)।

এর পশ্চিম কোণে—যেখানে একসময় ইমাম গাযালী অবস্থান করেছিলেন—সেখানে শাইখ বায়রাম আল-মারদিনি বাস করতেন। তিনি ছিলেন একজন সৎকর্মশীল শাইখ, যিনি নির্জনতা ও একাকিত্ব পছন্দ করতেন, দারিদ্র্য ও ক্ষুধার ওপর ধৈর্যশীল ছিলেন এবং অত্যধিক রোজা রাখতেন ও মুজাহাদা করতেন(২)।

আর এর পশ্চিম দিকে অবস্থিত মাকসুরাতুল খিজর-এ তিনি নামাজের জন্য দাঁড়াতেন... এর বিপরীতে...

--------------------------------------------

(১) ‘আল-মুযাইল’: ১/ ৩৫৯-৩৬০, ৩৭৭।

সুলতান আদিল ১৪ শা’বান ৫৯৪ হিজরি/ ২১ জুন ১১৯৮ খ্রিস্টাব্দে ক্রুসেডারদের সাথে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছিলেন। এতে এই মর্মে সমঝোতা হয়েছিল যে, ফ্রাঙ্করা জুবাইল ও বৈরুত দখল করবে এবং তারা উভয়ে সায়দা শহরটি ভাগ করে নেবে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর আট মাস। দেখুন ‘আল-মুযাইল’: ১/ ৭৮, এবং রানসিম্যান রচিত ‘ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস’: ৩/ ১৮০, এবং আমার রচিত গ্রন্থ ‘সালাহুদ্দীনের পরবর্তীকাল’।

(২) ‘আল-মুযাইল’: ২/ ১৯-২০।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ٢٨)
محرابها مسند الشام وقاضي قضاتها جمال الدين أبو القاسم بن الحرستاني، وما إن ينفتل من صلاته حتى يجلس في سكون وهيبة، وقد التف حوله خلق عظيم لسماع الكتب عليه(1)، بينهم الفتى أبو شامة(2).

وفي حلقة الحنابلة، كان يتنقل بين العشاءين، قرب محرابها، شيخ الإسلام الإمام المجتهد موفق الدين ابن قدامة، وقد غطت رأسه عمامة صغيرة عتيقة، ولا يشغله عن صلاته أحد، حتى إن الملك العزيز بن العادل جاءه مرة يزوره في الجامع فصادفه يصلي، فجلس بالقرب منه إلى أن فرغ من صلاته، ثم اجتمع به، ولم يتجوز فيها، وكان الموفق إذا صلى العشاء الآخرة يمضي إلى منزله بدرب الدولعي، مصطحبا بعض طلبة العلم الفقراء، ليشاركوه طعام العشاء(3).

ويخلفه في الحلقة - حين كان يصعد في بعض الأيام إلى جامع الحنابلة بالجبل - علم الزهاد الشيخ الإمام العماد بن عبد الواحد المقدسي(4)، كان شيخا معتدل القامة، قد أسدل شعره إلى أذنيه، مليح الوجه، دائم الابتسام، حسن الصلاة، كثير السجود والدعاء، يقرئ القرآن والفقه في الحلقة دائما، ويجتمع إليه الطلبة كل ليلة بعد العشاء، فيحملهم إلى بيته، ويحضر لهم من الطعام ما تيسر(5).

أما أيام السبت - وكان يوم عطلة فإن الجامع يزدحم بالناس لحضور مجلس الواعظ الكبير، سبط ابن الجوزي، فكانت السجادات والحصر تبسط في كل المواضع ليلة السبت ويبيت الناس - وقد عزل الرجال عن النساء - يقرؤون القرآن بالشموع، فرحا بالمجلس، ومسابقة إلى الأماكن، وكان يحضر هذا المجلس

--------------------------------------------

(1) «المذيل»: 1/ 292.

(2) «خطبة الكتاب المؤمل»: ص 109

(3) «المذيل»: 1/ 370.

(4) المصدر السالف.

(5) «المذيل»: 1/ 287.
এর মিহরাবে ছিলেন সিরিয়ার মুসনাদ এবং সেখানকার প্রধান বিচারপতি জামালুদ্দিন আবুল কাসিম ইবনুল হারাসতানি। তিনি নামাজ শেষ করার সাথে সাথেই অত্যন্ত প্রশান্তি ও গাম্ভীর্যের সাথে বসতেন এবং তাঁর কাছে কিতাব শ্রবণের জন্য এক বিশাল জনতা তাঁকে ঘিরে ধরত(১), যাদের মধ্যে কিশোর আবু শামাহও ছিলেন(২)।

আর হাম্বলিদের হালাকায়, মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে এর মিহরাবের নিকট বিচরণ করতেন শাইখুল ইসলাম ইমাম মুজতাহিদ মুয়াফফাকুদ্দিন ইবনে কুদামা। তাঁর মস্তক একটি পুরনো ছোট পাগড়ি দ্বারা আবৃত থাকত। নামাজরত অবস্থায় কোনো কিছুই তাঁকে বিচলিত করতে পারত না। এমনকি একবার বাদশাহ আল-মালিক আল-আজিজ বিন আল-আদিল জামে মসজিদে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে এসে তাঁকে নামাজে রত পান, তখন তিনি তাঁর নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাশে বসে থাকেন। এরপর তিনি তাঁর সাথে কথা বলেন; কিন্তু ইমাম নামাজ সংক্ষিপ্ত করেননি। মুয়াফফাক যখন এশার নামাজ শেষ করতেন, তখন তিনি দারব আদ-দাওলায়িতে অবস্থিত তাঁর গৃহের পানে যাত্রা করতেন এবং তাঁর সাথে নিতেন কিছু অভাবী ইলম অন্বেষণকারীকে, যাতে তারা তাঁর সান্ধ্যকালীন আহারে শরিক হতে পারে(৩)।

আর যখন তিনি কোনো কোনো দিন পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত হাম্বলি জামে মসজিদে গমন করতেন, তখন হালাকায় তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতেন যাহিদদের শিরোমণি শায়খ ইমাম ইমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি(৪)। তিনি ছিলেন মধ্যমাকৃতির একজন শায়খ, তাঁর কেশরাজি কান পর্যন্ত প্রলম্বিত ছিল, তাঁর চেহারা ছিল অত্যন্ত সুন্দর এবং সর্বদা তিনি হাস্যোজ্জ্বল থাকতেন। তাঁর নামাজ ছিল অত্যন্ত চমৎকার, তিনি অধিক পরিমাণে সেজদা ও দোয়া করতেন। তিনি সর্বদা হালাকায় কুরআন ও ফিকহ পাঠ করাতেন। প্রতি রাতে এশার নামাজের পর শিক্ষার্থীরা তাঁর নিকট সমবেত হতো, তিনি তাদের নিজ গৃহে নিয়ে যেতেন এবং সাধ্যমতো খাদ্যের আয়োজন করতেন(৫)।

শনিবারের দিনগুলো—যা ছিল ছুটির দিন—জামে মসজিদ প্রখ্যাত ওয়ায়েজ সিবত ইবনুল জাওযীর মজলিসে উপস্থিত হওয়ার জন্য লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠত। শনিবারের রাতেই সকল স্থানে জায়নামাজ ও পাটি বিছানো হতো এবং লোকজন সেখানেই রাত্রিযাপন করত—যেখানে পুরুষদের থেকে নারীদের পৃথক রাখা হতো—তারা মজলিসের আনন্দে এবং অগ্রভাগে স্থান লাভের আশায় মোমবাতির আলোয় কুরআন তিলাওয়াত করত। এই মজলিসে উপস্থিত হতেন...

--------------------------------------------

(১) ‘আল-মুযায়্যাল’: ১/ ২৯২।

(২) ‘খুতবাতুল কিতাবিল মুআম্মিল’: পৃষ্ঠা ১০৯।

(৩) ‘আল-মুযায়্যাল’: ১/ ৩৭০।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস।

(৫) ‘আল-মুযায়্যাল’: ১/ ২৮৭।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ٢٩)
القضاة والأشراف، والعلماء والأعيان، وربما يبلغ جمع الناس في بعض الأوقات نحو عشرة آلاف وزيادة، وهذه المجالس كانت من محاسن الدنيا ولذاتها، لما أوتيه سبط ابن الجوزي من حسن الصورة، وأناقة الملبس، وطيب الصوت، ولطف الإشارات، وذلك الذكاء الوقاد في الإيرادات والجوابات، فكان لا يفارق أحد مجلسه إلا وشوقه يغالبه للمجلس التالي، وكان حديث دمشق، فما إن ينصرف الناس منه إلى فرجهم وبساتينهم حتى ينقضي يومهم بالتذاكر فيما وقع فيه من المحاسن، وإنشاد الأشعار، ويتحدثون عمن أسلم فيه أو تاب، ويوردون ما كان فيه من سؤال وجواب(1).

بيد أن أكثر ما كان يملأ قلب الفتى، ويملك عليه فكره شيخ الشافعية في عصره فخر الدين ابن عساكر، وهو يراه، وقد أقبل الناس عليه، مترددين إليه، يستفتونه في حاجاتهم، وكان يراه عصر كل يوم اثنين وخميس وقد خرج من غرفته الصغيرة قرب مقصورة الصحابة حيث يجلس تحت قبة النسر - وهو المكان الذي كان يجلس فيه عمه الحافظ أبو القاسم ابن عساكر - لسماع الحديث عليه، فكان الفتى أبو شامة يسارع إلى حلقته، يسمع عليه حديث المصطفى صلى الله عليه وسلم، من كتاب «دلائل النبوة» للبيهقي، ويرى دموعه، وهي تتقاطر على خديه شوقا وحبا للنبي صلى الله عليه وسلم كلما ذكر، فكان لا يمل من النظر إليه، وقد انجذب لحسن سمته ولطفه ونور وجهه، حتى إذا ما فرغ الشيخ من مجلس السماع، رجع إلى غرفته الصغيرة يخلو فيها للعبادة، ومطالعة الكتب والفتاوى(2)، فكان الفتى يستحسن طريقته، ويتمنى وقد خفق القلب بحبه أن يبلغ مرتبته في العلم ونشره له، وأن ينتفع الناس في المستقبل بفتاويه(3).

--------------------------------------------

(1) «المذيل»: 1/ 160 - 161.

(2) «المذيل»: 1/ 362.

(3) «المذيل»: 1/ 138.
বিচারকগণ, সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গ, উলামায়ে কেরাম এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকতেন। কখনো কখনো মানুষের জমায়েত দশ হাজার বা তারও বেশি ছাড়িয়ে যেত। এই মজলিসগুলো ছিল দুনিয়ার সৌন্দর্য ও আনন্দের অন্যতম নিদর্শন। কারণ সিবত ইবনুল জাওজিকে দান করা হয়েছিল সুন্দর অবয়ব, মার্জিত পোশাক, সুললিত কণ্ঠ এবং সূক্ষ্ম ইশারা-ভঙ্গি। সেই সাথে ছিল প্রশ্ন উত্থাপন ও উত্তর প্রদানে তার প্রখর মেধা। ফলে কেউ তার মজলিস ত্যাগ করার পর পরবর্তী মজলিসের প্রতি প্রবল আকুলতা বোধ করত না—এমন হতো না। এটি ছিল তৎকালীন দামেস্কের প্রধান আলোচনার বিষয়। মানুষ সেখান থেকে তাদের বিশ্রামের জায়গা বা বাগানে যাওয়ার পরও সারাদিন সেই মজলিসের সৌন্দর্য নিয়ে স্মৃতিচারণ এবং কবিতা পাঠের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করত। সেখানে কে ইসলাম গ্রহণ করেছে বা কে তওবা করেছে তা নিয়ে তারা কথা বলত এবং মজলিসে উত্থাপিত প্রশ্ন ও উত্তরগুলো বর্ণনা করত(১).

তবে যে বিষয়টি সেই কিশোরের হৃদয়কে সবচেয়ে বেশি পূর্ণ করে রাখত এবং তার চিন্তাজগতকে আচ্ছন্ন করে রাখত, তা ছিল তার যুগের শাফেয়ি মাযহাবের প্রধান শায়খ ফখরুদ্দিন ইবনে আসাকির। সে দেখত যে লোকেরা তার দিকে দলে দলে এগিয়ে আসছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় বিষয়ে ফতোয়া প্রার্থনা করছে। সে তাকে প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার আসরের সময় দেখত যে তিনি সাহাবীগণের মাকসুরার নিকটবর্তী তার ছোট কক্ষ থেকে বের হয়ে ‘কুব্বাতুন নাসর’-এর নিচে বসছেন। এটি সেই জায়গা যেখানে তার চাচা হাফেজ আবুল কাসিম ইবনে আসাকির হাদিস শোনানোর জন্য বসতেন। কিশোর আবু শামা দ্রুত তার সেই ইলমি হালকা বা মজলিসে ছুটে যেত এবং সেখানে বায়হাকির ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ গ্রন্থ থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিস শ্রবণ করত। সে দেখত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা আলোচনা করার সময় তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও আকুলতায় শায়খের চোখের পানি দুই গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে। ফলে শায়খের দিকে তাকিয়ে থাকতে তার কখনোই ক্লান্তি আসত না। সে তাঁর সুন্দর স্বভাব, নম্রতা ও নূরানি চেহারার প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিল। শায়খ হাদিস পাঠের মজলিস শেষ করে পুনরায় তার ছোট কক্ষে ফিরে যেতেন এবং ইবাদত, কিতাব অধ্যয়ন ও ফতোয়া প্রদানের কাজে নির্জনে মগ্ন হতেন(২)। কিশোর আবু শামা তাঁর এই জীবনপদ্ধতিকে অত্যন্ত পছন্দ করত এবং তাঁর প্রতি হৃদয়ের গভীর ভালোবাসা থেকে কামনা করত যেন সেও ইলম অর্জন ও তা প্রসারে শায়খের স্তরে পৌঁছাতে পারে এবং ভবিষ্যতে মানুষ তার ফতোয়া দ্বারা উপকৃত হয়(৩)।

--------------------------------------------

(১) «আল-মুজাইল»: ১/ ১৬০ - ১৬১।

(২) «আল-মুজাইল»: ১/ ৩৬২।

(৩) «আল-মুজাইল»: ১/ ১৩৮।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ٣٠)
ومما زاده حبا لشيخه فخر الدين وإعجابا به، ما رآه من ابتعاده عن أبواب السلطان، وامتناعه عن تولي القضاء حين أراده العادل عليه ورعا وزهدا، حتى إنه كاد يهاجر من بلده دمشق فرارا بدينه لولا مسارعة العادل في رده(1).

--------------------------------------------

(1) «المذيل»: 1/ 363 - 365.
এবং যা তাঁর শাইখ ফখর উদ্দিনের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও মুগ্ধতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল, তা ছিল সুলতানের সান্নিধ্য থেকে তাঁর দূরে থাকা এবং তাকওয়া ও দুনিয়াবিমুখতার কারণে বিচারপতির পদ গ্রহণ করতে তাঁর অস্বীকৃতি জানানো, যখন আল-আদিল তাঁকে তা অর্পণ করতে চেয়েছিলেন। এমনকি তিনি নিজের দ্বীন রক্ষার্থে তাঁর শহর দামেস্ক ত্যাগ করে হিজরত করার উপক্রম হয়েছিলেন, যদি না আল-আদিল তাঁকে ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতেন(১).

--------------------------------------------

(১) «আল-মুযায়্যাল»: ১/ ৩৬৩ - ৩৬৫।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌الخطر الصليبي

في غمرة انصراف أبي شامة لطلب العلم طرق دمشق خطر أفزعها(1)، ها هو ذا العادل بن أيوب الذي خرج من مصر ليحمي أطراف البلاد من الصليبيين الذين تجمعوا في عكا لمهاجمتها(2)، يتخلى لهم عن بيسان، ويصل هاربا إلى مرج الصفر، بل يكاد يدخل دمشق.

ويجفل أهل القرى من عقربا وحرستا وغيرها، وتغرق أرض داريا بالماء، وترتفع الأسعار، ويعزم الناس على النزوح من دمشق، ويرون ألا قوة إسلامية تحول بينهم وبين عدوهم، فيفزعون إلى جامعهم، وقد علا في أوقات الصلوات ضجيج بكائهم ودعائهم(3).

وتنزاح الغمة عن دمشق، وتتلقاها دمياط بعد نحو ستة أشهر، فيحاصرها الصليبيون(4)، ويضيقون الخناق عليها، ويتمكنون بعد حصارها نحوا من شهرين

--------------------------------------------

(1) كان ذلك في شعبان سنة (614 هـ/ 1217 م)، انظر «الكامل»: 12/ 321.

(2) عرفت هذه الحملة بالحملة الهنغارية، وهي طلائع الحملة الصليبية الخامسة التي استولت على دمياط، انظر «تاريخ الحروب الصليبية» لرنسيمان: 3/ 263 وما بعدها.

(3) «المذيل»: 1/ 283.

(4) نزل الصليبيون على دمياط يوم الثلاثاء (12) ربيع الأول سنة (615 هـ/ 1218 م)، انظر «وفيات الأعيان»: 6/ 258.
ক্রুসেডারদের হুমকি

আবু শামাহ যখন জ্ঞান অন্বেষণে নিমগ্ন ছিলেন, তখন দামেস্কে এমন এক বিপদ হানা দিল যা শহরটিকে আতঙ্কিত করে তুলল(১)। এই সেই আল-আদিল বিন আইয়ুব, যিনি মিশর থেকে বের হয়েছিলেন দেশের সীমান্ত এলাকাকে সেই ক্রুসেডারদের হাত থেকে রক্ষা করতে যারা আক্কায় আক্রমণ করার জন্য একত্রিত হয়েছিল(২); তিনি তাদের জন্য বায়সান ত্যাগ করেন এবং পলায়ন করে মারজ আল-সাফ্ফারে পৌঁছান, এমনকি তিনি প্রায় দামেস্কে প্রবেশ করার উপক্রম করেন।

আকরাবা, হারাসতা এবং অন্যান্য গ্রামের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, দারায়্যার ভূমি পানিতে প্লাবিত করা হয়, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায় এবং মানুষ দামেস্ক থেকে হিজরত করার সংকল্প করে। তারা দেখতে পায় যে, তাদের ও তাদের শত্রুর মাঝে প্রতিবন্ধক হওয়ার মতো কোনো ইসলামি শক্তি নেই। ফলে তারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে তাদের জামে মসজিদে ছুটে যায় এবং সালাতের সময়গুলোতে তাদের ক্রন্দন ও দোয়ার আওয়াজ উচ্চকিত হয়ে ওঠে(৩)।

দামেস্ক থেকে এই মেঘ কেটে যায় এবং প্রায় ছয় মাস পর তা দিময়াতকে গ্রাস করে। ক্রুসেডাররা শহরটি অবরোধ করে(৪) এবং এর চারপাশ দিয়ে ঘেরাও সংকীর্ণ করে ফেলে। প্রায় দুই মাস অবরোধ করার পর তারা শহরটি দখলে সক্ষম হয়

--------------------------------------------

(১) এটি ছিল ৬১৪ হিজরি/ ১২১৭ খ্রিস্টাব্দের শাবান মাসে, দেখুন «আল-কামিল»: ১২/ ৩২১।

(২) এই অভিযানটি হাঙ্গেরীয় অভিযান নামে পরিচিত ছিল, এটি ছিল পঞ্চম ক্রুসেডের অগ্রগামী দল যারা দিময়াত দখল করেছিল, দেখুন রুনসিম্যান রচিত «ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস»: ৩/ ২৬৩ এবং পরবর্তী অংশ।

(৩) «আল-মুদাইয়্যাল»: ১/ ২৮৩।

(৪) ক্রুসেডাররা ৬১৫ হিজরি/ ১২১৮ খ্রিস্টাব্দের ১২ই রবিউল আউয়াল মঙ্গলবার দিময়াতে অবতরণ করে, দেখুন «ওয়াফাইয়াতুল আ'ইয়ান»: ৬/ ২৫৮।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ٣٢)
ونصف من أخذ برج السلسلة(1)، وفي ذلك إيذان بسقوطها، ويصل ذلك النبأ إلى العادل، فيدق بيده على صدره حزنا، ويموت كمدا(2)، وتتألم دمشق لما حل بدمياط.

ويجلس الشيخ علم الدين السخاوي في حلقته بالجامع، والألم يعتصر قلبه، فهو يعرف هذا البرج وأهميته لدمياط، ويجلس إليه الشيخ عز الدين بن عبد السلام، والفتى أبو شامة، وبصوت حزين يصف لهما السخاوي ذلك البرج، وهو يضرب متحسرا يدا على يد قائلا: هو برج عال مبني في وسط النيل، دمياط عن شرقه، والجيزة عن غربه، وفي ناحيته سلسلتان تمتد إحداها على النيل إلى دمياط، والأخرى على النيل إلى الجيزة، فتمنع كل سلسلة عبور المراكب من ناحيتها … فهو قفل الديار المصرية(3).

وقد خلع القفل، وانكشفت دمياط، واستمات المسلمون في الدفاع عنها، وخوفا من أن يستغل الصليبيون هذا الحصار لمهاجمة القدس، قرر المعظم عيسى بن العادل هدم سور القدس وأبراجها لعجزه عن الدفاع عنها، وكانت القدس يومئذ على أتم حال من العمارة وكثرة السكان، وقد شرع في هدم السور في الفاتح من محرم سنة (616 هـ/ 1219 م)، ووقع في البلد ضجة كأن القيامة قد قامت، وخرج النساء المخدرات والبنات والشيوخ والعجائز والشبان والصبيان إلى الصخرة والأقصى خائفين غاضبين، فقطعوا شعورهم، ومزقوا ثيابهم، وولوا هاربين، تاركين أموالهم وأثقالهم، معتقدين أن الصليبيين من ورائهم، سيصبحونهم غدا، وامتلأت الطرقات بهم، بعضهم في طريقه إلى مصر، وبعضهم إلى الكرك،

--------------------------------------------

(1) استولى الصليبيون على برج السلسلة في آخر جمادى الأولى سنة (615 هـ/ 1218 م) انظر «المذيل»: 1/ 298.

(2) «المذيل»: 1/ 299، 305.

(3) «المذيل»: 1/ 299.
আমরা শিকল বুরুজ দখলকারীদের বিবরণ দিচ্ছি(১), আর এটি ছিল মূলত তার পতনেরই সংকেত। এই সংবাদ আদিলের নিকট পৌঁছালে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত হয়ে হাত দিয়ে নিজের বুকে আঘাত করতে থাকেন এবং তীব্র শোকে মৃত্যুবরণ করেন(২)। দামিয়েত্তার এই বিপর্যয়ে দামেস্ক ব্যথিত হয়ে ওঠে।

শাইখ আলমউদ্দীন আস-সাখাবি জামে মসজিদে নিজের হালকায় (পাঠচক্রে) বসলেন, আর ব্যথায় তার হৃদয় ভেঙে পড়ছিল। কারণ তিনি এই বুরুজ এবং দামিয়েত্তার জন্য এর গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তার নিকটে শাইখ ইযযুদ্দীন ইবনে আবদুস সালাম এবং তরুণ আবু শামাহ উপবিষ্ট ছিলেন। সাখাবি অত্যন্ত করুণ স্বরে তাদের নিকট সেই বুরুজের বর্ণনা দিচ্ছিলেন এবং আক্ষেপের সাথে এক হাতের ওপর অন্য হাত মেরে বলছিলেন: এটি নীল নদের মাঝখানে নির্মিত একটি সুউচ্চ বুরুজ। এর পূর্ব দিকে দামিয়েত্তা এবং পশ্চিম দিকে গিজা অবস্থিত। এর দুই পাশে দুটি শিকল রয়েছে, যার একটি নীল নদ বরাবর দামিয়েত্তা পর্যন্ত এবং অন্যটি নীল নদ বরাবর গিজা পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রতিটি শিকল স্ব স্ব দিক থেকে নৌযান চলাচলে বাধা প্রদান করে... মূলত এটি ছিল মিশরীয় ভূখণ্ডের চাবিকাঠি(৩)।

এখন সেই চাবিকাঠি খুলে গেছে এবং দামিয়েত্তা উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। মুসলমানরা এর প্রতিরক্ষায় জানপ্রাণ দিয়ে লড়েছিল। ক্রুসেডাররা এই অবরোধের সুযোগ নিয়ে জেরুজালেম আক্রমণ করতে পারে এই আশঙ্কায় আল-মুআযযাম ঈসা বিন আল-আদিল জেরুজালেমের প্রাচীর ও বুরুজগুলো ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, কারণ তিনি সেগুলো রক্ষা করতে অক্ষম ছিলেন। জেরুজালেম তখন স্থাপত্য ও জনবসতির দিক থেকে পূর্ণ অবস্থায় ছিল। ৬১৬ হিজরির ১লা মহররম (১২১৯ খ্রিষ্টাব্দ) প্রাচীর ধ্বংসের কাজ শুরু হয়। তখন শহরে এমন হাহাকার পড়ে গেল যেন কিয়ামত কায়েম হয়েছে। অন্দরমহলের নারী, কুমারী মেয়ে, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, যুবক এবং বালকরা ভীত ও ক্রুদ্ধ অবস্থায় সাখরা এবং আল-আকসার দিকে বেরিয়ে এল। তারা শোকে নিজেদের চুল কেটে ফেলল, কাপড় ছিঁড়ে ফেলল এবং তাদের ধন-সম্পদ ও আসবাবপত্র ফেলে রেখে পলায়ন করল। তারা মনে করছিল ক্রুসেডাররা তাদের পেছনেই আছে এবং পরদিন সকালেই তাদের আক্রমণ করবে। রাস্তাঘাট লোকে লোকারণ্য হয়ে গেল; তাদের কেউ মিশরের পথে, আবার কেউ কারাকের পথে রওনা হলো।

--------------------------------------------

(১) ক্রুসেডাররা ৬১৫ হিজরির জুমাদাল উলা মাসের শেষে শিকল বুরুজ দখল করে নেয়। দেখুন: 'আল-মুযায়্যাল': ১/ ২৯৮।

(২) 'আল-মুযায়্যাল': ১/ ২৯৯, ৩০৫।

(৩) 'আল-মুযায়্যাল': ১/ ২৯৯।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ٣٣)
وبعضهم إلى دمشق، وفي الطريق كانت البنات المخدرات يمزقن ثيابهن، ويربطنها على أرجلهن من الحفا، وقد مات خلق كثير من الجوع والعطش(1).

وفي جملة من كان في طريق دمشق منهم الشيخ تقي الدين عثمان بن عبد الرحمن ابن الصلاح، وكان يدرس بالمدرسة الصلاحية ببيت المقدس(2)، والشيخ تقي الدين خزعل بن عسكر، وكان متصدرا لإقراء القرآن العظيم في القدس كذلك(3). وحين وصلا إلى دمشق، نزل ابن الصلاح فيها بالمدرسة الرواحية(4)، ونزل تقي الدين خزعل في المدرسة العزيزية(5).

--------------------------------------------

(1) «المذيل»: 1/ 313.

(2) «طبقات علماء الحديث»: 4/ 215.

(3) «الوافي بالوفيات»: 13/ 310.

(4) «طبقات علماء الحديث»: 4/ 215، وفيات الأعيان: 3/ 244.

(5) «المذيل»: 1/ 389.
এবং তাদের কেউ কেউ দামেস্কের দিকে গমন করেন; পথিমধ্যে পর্দানশীন মেয়েরা খালি পায়ে হাঁটার কারণে তাদের কাপড় ছিঁড়ে পায়ে বাঁধছিল। আর ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় বিপুল সংখ্যক মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল(১)।

দামেস্কের পথে গমনকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন শায়খ তাকিউদ্দীন উসমান ইবনে আবদুর রহমান ইবনুস সালাহ, তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসের মাদরাসায়ে সালাহিয়্যায় দরস দান করতেন(২); এবং শায়খ তাকিউদ্দীন খুযআল ইবনে আসকার, তিনি একইভাবে কুদসে মহাগ্রন্থ কুরআন তিলাওয়াত ও শিক্ষা দেওয়ার প্রধান দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন(৩)। যখন তাঁরা দামেস্কে পৌঁছালেন, তখন ইবনুস সালাহ সেখানে মাদরাসায়ে রাওয়াহিয়্যায় অবস্থান নিলেন(৪) এবং তাকিউদ্দীন খুযআল মাদরাসায়ে আযিযিয়্যায় অবস্থান গ্রহণ করলেন(৫)।

--------------------------------------------

(১) «আল-মুযায়্যাল»: ১/ ৩১৩।

(২) «তাবাকাতু উলামাইল হাদীস»: ৪/ ২১৫।

(৩) «আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত»: ১৩/ ৩১০।

(৪) «তাবাকাতু উলামাইল হাদীস»: ৪/ ২১৫, ওফায়াতুল আ’ইয়ান: ৩/ ২৪৪।

(৫) «আল-মুযায়্যাল»: ১/ ৩৮৯।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ٣٥)
‌‌في حلقات شيوخه الكبار

كان الشيخ تقي الدين ابن الصلاح في نحو الثامنة والثلاثين من عمره(1)، وكان قد جال في بلاد خراسان، واستفاد من مشايخها، وعلق عنهم التعاليق المفيدة(2)، وهناك حصل علم الحديث(3)، حتى تميز فيه، وقد صنف فيه من بعد كتابا ذاع صيته في الآفاق، واقترن باسمه(4)، وكان على تفننه في علم الحديث متبحرا في الفقه، وملما بعلوم العربية، وقد أوتي جلالة ووقارا وهيبة وفصاحة(5)، وقد لازم أبو شامة دروسه في المدرسة الرواحية، ومنه استفاد علمي الحديث والفقه(6).

أما الشيخ تقي الدين خزعل، فهو من مصر، من أهل قرية شمالية تعرف بدار البقر(7)، كان قد رحل إلى بغداد، وقرأ فيها على كمال الدين أبي البركات الأنباري.

--------------------------------------------

(1) ولد سنة (577 هـ)، انظر «طبقات علماء الحديث»: 4/ 214.

(2) «طبقات الشافعية» للسبكي: 8/ 326.

(3) «وفيات الأعيان»: 3/ 244.

(4) هو كتاب «علوم الحديث» وقد اشتهر بمقدمة ابن الصلاح.

(5) «سير أعلام النبلاء»: 23/ 142.

(6) «المذيل»: 2/ 69.

(7) «إنباه الرواة»: 1/ 353، 354، وقد أساء القفطي القول فيه على عادته في أغلب تراجمه لمعاصريه.
তাঁর বড় শাইখদের মজলিসসমূহে

শাইখ তাকিউদ্দীন ইবনে আস-সালাহ তখন প্রায় আটত্রিশ বছর বয়সের ছিলেন(১)। তিনি খোরাসান অঞ্চল ভ্রমণ করেছিলেন এবং সেখানকার মাশায়েখদের থেকে উপকৃত হয়েছিলেন এবং তাঁদের নিকট থেকে উপকারী টীকা ও ব্যাখ্যাসমূহ লিপিবদ্ধ করেছিলেন(২)। সেখানেই তিনি ইলমে হাদিস অর্জন করেন(৩), এমনকি এই শাস্ত্রে অনন্য বৈশিষ্ট্য লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি এই বিষয়ে এমন একটি কিতাব সংকলন করেন যার খ্যাতি দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা তাঁর নামের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত হয়ে যায়(৪)। ইলমে হাদিসে পারদর্শিতার পাশাপাশি তিনি ফিকহ শাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন এবং আরবি ভাষার বিভিন্ন শাখায় গভীর জ্ঞান রাখতেন। তাঁকে দান করা হয়েছিল মর্যাদা, গাম্ভীর্য, প্রভাব ও বাগ্মিতা(৫)। আবু শামা মাদ্রাসা রাওয়াহিয়্যাহ-তে তাঁর পাঠদান ও দরসে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন এবং তাঁর নিকট থেকে হাদিস ও ফিকহ—এই উভয় শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেছিলেন(৬)।

আর শাইখ তাকিউদ্দীন খুযা'আল সম্পর্কে বলতে গেলে, তিনি ছিলেন মিসরের অধিবাসী, 'দারুল বাকার' নামে পরিচিত উত্তরের একটি গ্রামের লোক(৭)। তিনি বাগদাদে সফর করেছিলেন এবং সেখানে কামালুদ্দীন আবুল বারাকাত আল-আনবারীর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) তিনি ৫৭৭ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন, দেখুন ‘তাবাকাতু উলামাইল হাদিস’: ৪/ ২১৪।

(২) সুবকী রচিত ‘তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ’: ৮/ ৩২৬।

(৩) ‘ওয়াফায়াতুল আইয়ান’: ৩/ ২৪৪।

(৪) এটি হলো ‘উলূমুল হাদিস’ নামক কিতাব, যা ‘মুকাদ্দিমাহ ইবনে আস-সালাহ’ নামে সমধিক প্রসিদ্ধ।

(৫) ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’: ২৩/ ১৪২।

(৬) ‘আল-মুযাইয়্যাল’: ২/ ৬৯।

(৭) ‘ইনবাহুর রুওয়াত’: ১/ ৩৫৩, ৩৫৪। কিফতি তাঁর সমসাময়িকদের অধিকাংশের জীবনী রচনার ক্ষেত্রে তাঁর সাধারণ অভ্যাস অনুযায়ী তাঁর সম্পর্কেও কটু মন্তব্য করেছেন।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ٣٦)
أكثر تصانيفه(1)، وبرع في النحو وعلم العربية، حتى صار من أعلم الناس بكلام العرب(2)، وكانت عنده معرفة تامة بالقراءات(3)، فتصدر زمنا في بيت المقدس لإقراء القرآن العظيم، وإفادة علم العربية(4)، حتى كان يعرف بنحوي القدس(5).

لما قدم الشيخ تقي الدين خزعل دمشق - وكان في نحو السابعة والستين من عمره(6) - أنزل في المدرسة العزيزية، فكان يقرئ فيها، ويتولى عقود الأنكحة، وقد عين إماما في مشهد زين العابدين في جامع دمشق، وكان أبو شامة إذ ذاك يسكن في المدرسة العزيزية(7)، فانعقدت بين الشيخ والفتى صلة وثقى، زادها قوة ما رآه أبو شامة في شيخه من مروءة تامة في تعامله مع الناس، وبخاصة مع من يعقدون عقودهم أو يفسخونها، فقد كان لا يأخذ من فقيرهم، ولا يرد سائلا، ويتصدق بأكثر ما يأتيه، أما في حالات الطلاق، فكان لا يأخذ شيئا سواء كان الفاسخ فقيرا أو غنيا(8)، وهي عاطفة إنسانية تأبى أن تقتات من مآسي الآخرين.

وقد قرأ أبو شامة عليه فيما قرأ كتاب «الدروس في العروض» للناصح ابن الدهان(9)، وكتاب «الجمل في علم الجدل» للكمال الأنباري، وكان للشيخ

--------------------------------------------

(1) «التكملة» للمنذري: 3/ 184 - 185، وانظر ترجمة الأنباري في «سير أعلام النبلاء»: 21/ 113 - 115.

(2) «الوافي بالوفيات»: 13/ 310.

(3) «بغية الطلب»: 7/ 3241.

(4) «الوافي بالوفيات»: 13/ 310.

(5) «المذيل»: 1/ 389.

(6) «سير أعلام النبلاء»: 22/ 181.

(7) «المذيل»: 1/ 389.

(8) «المذيل»: 1/ 390.

(9) هو سعيد بن المبارك بن علي بن عبد الله، كان من أعيان النحاة المشهورين، توفي بالموصل سنة (569 هـ)، له ترجمة في «خريدة القصر» قسم شعراء العراق: مج 3/ 1/ ج/ 19 - 24، «وفيات الأعيان»: 2/ 382 - 385، «سير أعلام النبلاء»: 20/ 581.
তার অধিকতর রচনাবলি(১), এবং তিনি নাহু (ব্যাকরণ) ও আরবি বিদ্যায় পারদর্শিতা লাভ করেন, এমনকি তিনি আরবদের বাচনভঙ্গিতে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানীদের অন্তর্ভুক্ত হন(২)। ক্বিরাআতসমূহে তাঁর পূর্ণ জ্ঞান ছিল(৩), ফলে তিনি বায়তুল মাকদিসে দীর্ঘকাল মহান কুরআন পাঠদান এবং আরবি বিদ্যা উপকারের জন্য নিয়োজিত ছিলেন(৪), এমনকি তাকে জেরুসালেমের বৈয়াকরণ হিসেবে চেনা হতো(৫)।

যখন শায়খ তাকিউদ্দিন খুযাউল দামেস্কে আসলেন—তখন তাঁর বয়স ছিল সাতষট্টি বছরের মতো(৬)—তাকে আজিজিয়া মাদরাসায় রাখা হলো। তিনি সেখানে পাঠদান করতেন এবং বিবাহ বন্ধনের চুক্তিগুলো সম্পাদন করতেন। তাকে দামেস্ক জামে মসজিদের মাশহাদ যাইনুল আবিদিনে ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তখন আবু শামা আজিজিয়া মাদরাসায় বসবাস করতেন(৭), ফলে শায়খ এবং এই যুবকের মধ্যে এক দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আবু শামা তার শায়খের মধ্যে মানুষের সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে যে পূর্ণ মনুষ্যত্ব দেখেছিলেন, তা এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছিল; বিশেষ করে যারা তাদের বিবাহ বন্ধন সম্পাদন করত বা তা বিচ্ছেদ করত তাদের সাথে। তিনি তাদের দরিদ্রদের কাছ থেকে কিছু নিতেন না, কোনো যাঞ্চাকারীকে ফিরিয়ে দিতেন না এবং তার কাছে যা আসত তার অধিকাংশ দান করে দিতেন। আর তালাকের ক্ষেত্রে, বিচ্ছেদকারী দরিদ্র হোক বা ধনী, তিনি কিছুই নিতেন না(৮)। এটি ছিল এক মানবিক অনুভূতি যা অন্যের দুঃখ-দুর্দশা থেকে জীবিকা নির্বাহ করতে অস্বীকার করত।

আবু শামা তার কাছে যা যা পড়েছিলেন তার মধ্যে ছিল নাসিহ ইবনুদ দাহহান রচিত ‘আদ-দুরুস ফিল আরুজ’(৯) কিতাবটি এবং কামাল আল-আনবারী রচিত ‘আল-জুমাল ফি ইলমিল জাডাল’ কিতাবটি। আর শায়খের ছিল...

--------------------------------------------

(১) আল-মুনযিরি রচিত ‘আত-তাকমিলা’: ৩/ ১৮৪-১৮৫, এবং ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’-তে আল-আনবারীর জীবনী দেখুন: ২১/ ১১৩-১১৫।

(২) ‘আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত’: ১৩/ ৩১০।

(৩) ‘বুগইয়াতুত তালাব’: ৭/ ৩২৪১।

(৪) ‘আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত’: ১৩/ ৩১০।

(৫) ‘আল-মুযাইল’: ১/ ৩৮৯।

(৬) ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’: ২২/ ১৮১।

(৭) ‘আল-মুযাইল’: ১/ ৩৮৯।

(৮) ‘আল-মুযাইল’: ১/ ৩৯০।

(৯) তিনি হলেন সাঈদ ইবনুল মুবারক ইবনু আলী ইবনু আব্দুল্লাহ, তিনি প্রখ্যাত বৈয়াকরণদের একজন ছিলেন। তিনি ৫৬৯ হিজরিতে মসুলে মৃত্যুবরণ করেন। ‘খারিদাতুল কাসর’ ইরাকের কবিদের অংশ: খণ্ড ৩/ ১/ পৃষ্ঠা ১৯-২৪, ‘ওয়াফায়াতুল আ’ইয়ান’: ২/ ৩৮২-৩৮৫, ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’: ২০/ ৫৮১-এ তাঁর জীবনী রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ٣٧)
تقي الدين خزعل سماع لهما من مصنفيهما في رحلته إلى العراق(1).

ويبدو أن الشيخ تقي الدين خزعل قد خص فتاه أبا شامة باهتمامه - على ازدحام الطلبة عليه(2) - لما لمسه عنده من فهم ثاقب وقدرة على الحفظ، فرغب إليه ألا يصرف جل وقته في حفظ أقوال الفقهاء، بل راح يحثه على حفظ الحديث، والتفقه فيه، وبخاصة «صحيح مسلم»، وكان يقول له: «إنه أسهل من حفظ كتب الفقه وأنفع(3)». وكثيرا ما كان يوازن أمامه بين أقوال الفقهاء في المسألة باحثا فيها عن الدليل(4)، وهو بهذا كان يضع بين يدي الفتى أبي شامة منهجا في الفهم ينأى فيه بعقله عن ربقة التقليد، وقد وجد أبو شامة فيما بعد ثمرة أقوال شيخه، فكان يقول: «وصدق رحمه الله»(5).

أما في يوم الجمعة، فكان يصعد في ضحاه إلى جبل قاسيون، قاصدا شيخه موفق الدين ابن قدامة، فيدخل جامع الحنابلة، فيوافي الشيخ محمد بن خلف بن راجح المقدسي، وقد جلس على درج المنبر السفلي، وبيده كتاب من كتب الحديث، أو أخبار الصالحين يقرؤه على الناس إلى أن يؤذن المؤذن للجمعة(6)، فإذا ارتقى شيخه موفق الدين المنبر(7)، أنصت لخطبته، وهو يعظ الناس، ويذكرهم أيام الله.

--------------------------------------------

(1) «المذيل»: 1/ 389.

(2) «سير أعلام النبلاء»: 22/ 181، و «الوافي بالوفيات»: 13/ 310.

(3) «المذيل»: 1/ 390.

(4) المصدر السالف.

(5) «المذيل»: 1/ 390.

وكان من ثمرة هذا المنهج أن ألف أبو شامة من بعد كتبا ينعى فيها على التقليد والمقلدين، منها «خطبة الكتاب المؤمل للرد إلى الأمر الأول»، انظر ص 488 - 489 من هذا الكتاب.

(6) «المذيل»: 1/ 346 - 347.

(7) «المذيل»: 1/ 370.
তাকিউদ্দীন খুজাআলের ইরাক সফরের সময় তিনি এই দুইজনের গ্রন্থ তাঁদের রচয়িতাদের নিকট থেকেই শ্রবণ করেছেন(১)।

এবং প্রতীয়মান হয় যে, শায়খ তাকিউদ্দীন খুজাআল তাঁর ছাত্র আবু শামার প্রতি বিশেষ মনোযোগ নিবদ্ধ করেছিলেন - তাঁর নিকট ছাত্রদের প্রচণ্ড ভিড় থাকা সত্ত্বেও(২) - কারণ তিনি তাঁর মাঝে প্রখর প্রজ্ঞা ও মুখস্থ করার অসামান্য সক্ষমতা লক্ষ্য করেছিলেন। ফলে তিনি তাঁকে উপদেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি তাঁর সময়ের অধিকাংশ ফকীহগণের মতামত মুখস্থ করার পেছনে ব্যয় না করেন; বরং তিনি তাঁকে হাদীস মুখস্থ করতে এবং তাতে বুৎপত্তি অর্জন করতে উৎসাহিত করতেন, বিশেষ করে «সহীহ মুসলিম» এর প্রতি। তিনি তাঁকে বলতেন: “এটি ফিকহের কিতাব মুখস্থ করার চেয়ে সহজ এবং অধিকতর কল্যাণকর(৩)।” এবং প্রায়শই তিনি কোনো মাসআলায় ফকীহগণের মতামতের মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনা করতেন এবং তাতে দলীল অনুসন্ধান করতেন(৪)। এর মাধ্যমে তিনি তরুণ আবু শামার সামনে জ্ঞানার্জনের এমন এক মানহাজ বা পদ্ধতি উপস্থাপন করতেন, যা তাঁর মেধাকে তাকলীদের বন্ধন থেকে মুক্ত রাখত। আবু শামা পরবর্তীতে তাঁর শায়খের উপদেশের সুফল পেয়েছিলেন এবং বলতেন: “আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি সত্যই বলেছেন”(৫)।

আর জুমার দিনে তিনি চাশতের সময় জাবালে কাসিয়ুনে আরোহণ করতেন, তাঁর শায়খ মুওয়াফ্ফাকুদ্দীন ইবনে কুদামার সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে। তিনি জামে আল-হানাবিলাহ-তে প্রবেশ করতেন এবং শায়খ মুহাম্মদ বিন খালাফ বিন রাজেহ আল-মাকদিসীর সাক্ষাৎ পেতেন। তিনি মিম্বরের নিচের সিঁড়িতে বসে থাকতেন এবং তাঁর হাতে হাদীসের কোনো কিতাব অথবা নেককার বান্দাদের জীবনী থাকত, যা তিনি জুমার আযান পর্যন্ত মানুষের সামনে পাঠ করতেন(৬)। অতঃপর যখন তাঁর শায়খ মুওয়াফ্ফাকুদ্দীন মিম্বরে উঠতেন(৭), তখন তিনি নিবিষ্টচিত্তে তাঁর খুতবা শুনতেন; তিনি মানুষকে উপদেশ প্রদান করতেন এবং তাদেরকে আল্লাহর বিশেষ দিনসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন।

--------------------------------------------

(১) «আল-মুদাইয়িল»: ১/ ৩৮৯।

(২) «সিয়ারু আলামিন নুবালা»: ২২/ ১৮১ এবং «আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত»: ১৩/ ৩১০।

(৩) «আল-মুদাইয়িল»: ১/ ৩৯০।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস।

(৫) «আল-মুদাইয়িল»: ১/ ৩৯০।

এই পদ্ধতির সুফল ছিল এই যে, আবু শামা পরবর্তীতে এমন সব কিতাব রচনা করেছিলেন যেখানে তিনি তাকলীদ এবং মুকাল্লিদদের ত্রুটি তুলে ধরেছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে «খুতবাতুল কিতাবিল মুআম্মাল লির-রাদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল», দেখুন এই কিতাবের ৪৮৮ - ৪৮৯ পৃষ্ঠা।

(৬) «আল-মুদাইয়িল»: ১/ ৩৪৬ - ৩৪৭।

(৭) «আল-মুদাইয়িল»: ১/ ৩৭০।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ٣٨)
وعقب الصلاة كان يجلس إليه في حلقته مع طلبة العلم؛ ليسمع منه الحديث الشريف، وكان يقرأ عليه «مسند الإمام الشافعي» - وقد فات أبا شامة سماع ورقتين منه - وكتاب «النصيحة» لابن شاهين(1). وسمع عليه في الفقه كتابه «المغني»(2) الذي شرح فيه الموفق مختصر أبي القاسم الخرقي، وأجازه فيه(3)، وكان ممن يحضر هذه المجالس محمد بن محمود بن عبد المنعم المراتبي، وقد انعقدت بينه وبين أبي شامة صداقة متينة، وغدا المراتبي من بعد من كبار فقهاء الحنابلة بدمشق(4).

وفي طريق عودته كان يمر بجسر كحيل على نهر ثورا، قرب المدرسة الشبلية، ويتتبع ببصره التربة البدرية، حيث كان يسكن سبط ابن الجوزي، فيراه جالسا في شباكها، أو على الصفة الخارجة من النهر، ومعه كتاب يطالع فيه أو ينسخ منه(5).

وبعد سنين، وقد شارف أبو شامة على الستين، يستعيد ذكرى تلك الأيام، متحسرا على انقضائها، ومرددا بأسى: «فما أطيب ما كانت تلك الأيام، وما أرغد عيش تلك الأعوام»(6).

وستظل معرفته بسبط ابن الجوزي لا تتعدى هذه الرؤية عن بعد، حتى بعدما جمع بينهما حب التاريخ، والاشتغال فيه، ولعل ما باعده عنه ما كان يراه من قرب سبط ابن الجوزي من ملوك عصره، وصحبته لهم على خلاف ما كان عليه شيخاه الأثيران فخر الدين ابن عساكر وعلم الدين السخاوي.

--------------------------------------------

(1) «المذيل»: 1/ 368.

(2) «الباعث على إنكار البدع والحوادث»: ص 217.

(3) كتاب البسملة: ص 537، وقد قال فيه أبو شامة: «هو كتاب جليل، مشحون بالأدلة من الكتاب والسنة، على طوله وإحاطته بأكثر المسائل والنوازل، وليس للحنابلة كتاب فيما علمت أجل منه».

(4) «المذيل»: 2/ 80 - 81، و «ذيل طبقات الحنابلة» لابن رجب: 2/ 242.

(5) «المذيل»: 1/ 307.

(6) المصدر السالف.
নামাজের পর তিনি ইলম অন্বেষণকারীদের সাথে তাঁর মজলিসে বসতেন; যেন তাঁর কাছ থেকে হাদীসে শরীফ শুনতে পারেন। তিনি তাঁর কাছে 'মুসনাদ ইমাম শাফেঈ' পাঠ করতেন—যেটির দুই পৃষ্ঠা শোনা আবু শামার বাকি ছিল—এবং ইবনে শাহীন রচিত 'আন-নাসিহা' গ্রন্থটিও(১)। ফিকহ শাস্ত্রে তিনি তাঁর কাছে তাঁর 'আল-মুগনী'(২) গ্রন্থটি শুনেছিলেন, যাতে মুওয়াফফাক (ইবনে কুদামা) আবু আল-কাসেম আল-খিরাকীর মুখতাসারের ব্যাখ্যা করেছেন, এবং তিনি তাঁকে এতে ইজাযত প্রদান করেছিলেন(৩)। যারা এসকল মজলিসে উপস্থিত হতেন তাদের মধ্যে মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন আব্দুল মুনইম আল-মারাতীবী অন্যতম ছিলেন; তাঁর ও আবু শামার মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল এবং আল-মারাতীবী পরবর্তীতে দামেস্কের বড় হাম্বলী ফকীহদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন(৪)।

ফেরার পথে তিনি সাওরা নদীর উপরে অবস্থিত কাহিল সেতু দিয়ে যেতেন, যা শিবলিয়া মাদ্রাসার নিকটবর্তী ছিল। তিনি তাকিয়ে বাদরিয়া কবরের দিকটি খুঁজতেন, যেখানে সিবত ইবনে আল-জাওযী বসবাস করতেন। তিনি তাঁকে জানালার পাশে অথবা নদীর ধারের চাতালে বসে থাকতে দেখতেন, আর তাঁর সাথে থাকতো কোনো কিতাব যা তিনি অধ্যয়ন করতেন অথবা তা থেকে অনুলিপি করতেন(৫)।

কয়েক বছর পর, আবু শামা যখন ষাটের কাছাকাছি পৌঁছেছেন, তিনি সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতেন এবং সেই সময় ফুরিয়ে যাওয়ায় আক্ষেপ করে বিষাদভরে বলতেন: "সেই দিনগুলো কতই না চমৎকার ছিল, আর সেই বছরগুলোর জীবন কতই না স্বস্তিদায়ক ছিল"(৬)।

সিবত ইবনে আল-জাওযীর সাথে তাঁর পরিচয় এই দূর থেকে দেখা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল, এমনকি যখন ইতিহাসপ্রীতি ও ইতিহাস চর্চা তাদের একত্র করেছিল তখনও। সম্ভবত সিবত ইবনে আল-জাওযীর তৎকালীন রাজাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা এবং তাদের সান্নিধ্যে থাকাটাই তাঁকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল, যা তাঁর দুই প্রিয় শিক্ষক ফখরুল দ্বীন ইবনে আসাকির ও আলামুদ্দীন আস-সাখাওয়ীর স্বভাবের বিপরীত ছিল।

--------------------------------------------

(১) 'আল-মুযাইয়াল': ১/৩৬৮।

(২) 'আল-বা'ইস আলা ইনকারিল বিদা ওয়াল হাওয়াদিস': পৃ. ২১৭।

(৩) কিতাবুল বাসমালাহ: পৃ. ৫৩৭, এতে আবু শামা বলেছেন: "এটি একটি মহান কিতাব, যা কুরআন ও সুন্নাহর দলিলাদিতে পরিপূর্ণ; এর কলেবর এবং অধিকাংশ মাসআলা ও নতুন উদ্ভূত সমস্যার পরিব্যাপ্তি সত্ত্বেও। আমার জানামতে হাম্বলীদের নিকট এর চেয়ে বড় কোনো গ্রন্থ নেই।"

(৪) 'আল-মুযাইয়াল': ২/৮০-৮১, এবং ইবনে রজব লিখিত 'যাইল তাবাকাতিল হানাবিলাহ': ২/২৪২।

(৫) 'আল-মুযাইয়াল': ১/৩০৭।

(৬) পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) আবু শামাহ মুয়াররিখু দামেশক ফী আসরিল আইয়ুবিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ٣٩)
ولن ينسى أبو شامة ذهابه ذات يوم مع شيخه السخاوي إلى مقبرة باب الصغير لزيارة قبور بعض الصالحين، يومها وقف شيخه على قبر الفقيه الزاهد مودود الشاغوري، مترحما عليه، طالبا من فتاه أبي شامة قراءة الأبيات التي كتبت على شاهدة قبره، فينطلق صوت أبي شامة في قراءتها والشيخ يستحسنها:

كم ضم قبرك يا مودود من دين … ومن عفاف ومن بر ومن لين

ما كنت تقرب سلطانا لتخدمه … لكن غنيت بسلطان السلاطين(1)

وكان درسا من شيخه لن ينساه.

ولعل مما عزز لديه نفرة القرب من السلطان ما شهده من إهانة الملك المعظم عيسى بن العادل لقاضي قضاة دمشق أبي العباس الطاهر بن محيي الدين ابن الزكي، وذلك حين ضرب هذا القاضي جابي المدرسة العزيزية، حيث كان يسكن أبو شامة(2).

فقد ساءت المعظم من القاضي أمور كان يغلها في صدره، ويتغافل عنه، حتى أخطأ القاضي خطأ قد يغتفر من مثله بضربه الجابي، غير أن المعظم وجد في فعل القاضي سبيلا لإظهار ما في نفسه، فبعث إليه - وهو في مجلس الحكم في داره، وقد غص بالناس والشهود حضور - ببقجة فيها قباء وكلوتة - وهما لباس والي الشرطة - وأمره أن يلبسهما، ويحكم بين الناس، وذلك تحقيرا له، إذ هو زي شنيع في حق مثله، فلما نظر القاضي إلى القباء والكلوتة شحب وجهه، وعلاه الوجوم، غير أنه مد يده في خوف، ووضع القباء على كتفيه، ونزع عمامته، ووضع الكلوتة على رأسه، وحكم بين اثنين، ثم قام من مجلس الحكم، ودخل غرفته.

--------------------------------------------

(1) «المذيل»: 1/ 258.

(2) «المذيل»: 1/ 389.
আবু শামা কোনোদিন ভুলবেন না তাঁর শাইখ সাখাভীর সাথে একদিন বাবুস সাগির কবরস্থানে কতিপয় নেককার ব্যক্তির কবর জিয়ারত করতে যাওয়ার স্মৃতি। সেদিন তাঁর শাইখ ফকিহ জাহেদ মওদুদ আশ-শাগুরীর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর জন্য রহমতের দোয়া করলেন এবং তাঁর প্রিয় ছাত্র আবু শামাকে কবরের ফলকে উৎকীর্ণ পংক্তিগুলো পড়তে বললেন। আবু শামা সেগুলো পড়তে শুরু করলেন এবং শাইখ তা অত্যন্ত পছন্দ করলেন:

হে মওদুদ! তোমার কবর কতই না দ্বীনদারী … কতই না পবিত্রতা, পুণ্য ও নম্রতাকে নিজের ভেতর ধারণ করে রেখেছে।

তুমি কোনো সুলতানের খিদমত করার জন্য তার কাছে যাওনি … বরং তুমি সুলতানদের সুলতানের মাধ্যমেই ঐশ্বর্যশালী হয়েছিলে।(১)

এটি ছিল তাঁর শাইখের পক্ষ থেকে এমন এক শিক্ষা যা তিনি কখনো ভুলবেন না।

সুলতানের নিকটবর্তী হওয়ার ব্যাপারে তাঁর মনে যে বিতৃষ্ণা তৈরি হয়েছিল, তা সম্ভবত আরও প্রবল হয়েছিল দামেস্কের প্রধান বিচারপতি আবু আব্বাস তাহির বিন মুহিউদ্দীন ইবনুল জাকীর প্রতি বাদশাহ আল-মুয়াজ্জাম ঈসা বিন আদিলের অবমাননা প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে। ঘটনাটি ঘটেছিল তখন, যখন এই বিচারপতি আজিজিয়া মাদরাসার (যেখানে আবু শামা থাকতেন) এক তহশিলদারকে প্রহার করেছিলেন(২)।

আসলে বিচারপতির প্রতি আল-মুয়াজ্জামের মনে আগে থেকেই কিছু বিষয়ে ক্ষোভ জমা ছিল যা তিনি চেপে রাখতেন। অবশেষে বিচারপতি সেই তহশিলদারকে প্রহার করার মাধ্যমে এমন এক ভুল করে বসলেন যা তাঁর মতো ব্যক্তির ক্ষেত্রে ক্ষমাযোগ্য হতে পারত, কিন্তু আল-মুয়াজ্জাম বিচারপতির এই কাজের মধ্যে নিজের মনের ক্ষোভ প্রকাশের এক উপলক্ষ খুঁজে পেলেন। ফলে তিনি বিচারপতির কাছে—যখন তিনি তাঁর নিজ গৃহে বিচারকার্যে রত ছিলেন এবং সেখানে মানুষ ও সাক্ষীদের ভিড় উপচে পড়ছিল—একটি পুঁটলি পাঠালেন যাতে একটি কাবা ও একটি কালুতা (যা পুলিশ প্রধানের পোশাক) ছিল। বাদশাহ তাঁকে নির্দেশ দিলেন সেগুলো পরিধান করে মানুষের মাঝে বিচার করতে। এটি করা হয়েছিল তাঁকে অপমান করার জন্য, কারণ তাঁর মতো ব্যক্তির শানে এটি ছিল অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ পোশাক। বিচারপতি যখন কাবা ও কালুতার দিকে তাকালেন, তাঁর মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল এবং তিনি বিষণ্ণতায় আচ্ছন্ন হলেন। তবুও তিনি ভীত অবস্থায় হাত বাড়িয়ে কাবাটি নিজ কাঁধে রাখলেন, মাথার পাগড়ি খুলে ফেললেন এবং কালুতাটি মাথায় পরিধান করলেন। এরপর তিনি দু’জন মানুষের মাঝে বিচার করলেন এবং বিচারসভা শেষ করে নিজ কক্ষে প্রবেশ করলেন।

--------------------------------------------

(১) «আল-মুদাইয়্যাল»: ১/ ২৫৮।

(২) «আল-মুদাইয়্যাল»: ১/ ৩৮৯।