(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: -)
القواعد الأم للفقه القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: القواعد الأم للفقه
(وأثرها في الصناعة الفقهية المتقدمة والمعاصرة)
دراسة تأصيلية تنزيلية لإعادة تفعيلها في واقعنا الفقهي المعاصر
موسوعة معالم الاجتهاد في فقه العصر
المؤلف: أ. د. فضل بن عبد الله مراد
الناشر: دار ابن كثير، دمشق - سوريا
الطبعة: الأولى، 1446 هـ - 2025 م
عدد الصفحات: 789
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 5 ذو القعدة 1446
ফিকহের মূলনীতিসমূহ বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহি মূলনীতিসমূহ
গ্রন্থ: ফিকহের মূলনীতিসমূহ
(এবং প্রাচীন ও সমসাময়িক ফিকহি শিল্পের ওপর এর প্রভাব)
আমাদের সমসাময়িক ফিকহি বাস্তবতায় একে পুনরায় সক্রিয় করার লক্ষ্যে একটি তাত্ত্বিক ও প্রয়োগমূলক অধ্যয়ন
আধুনিক ফিকহের ইজতিহাদের দিকনির্দেশিকা বিশ্বকোষ
লেখক: প্রফেসর ডক্টর ফজল বিন আবদুল্লাহ মুরাদ
প্রকাশক: দার ইবনে কাসির, দামেস্ক - সিরিয়া
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪৬ হিজরি - ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৮৯
[গ্রন্থটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৫ জিলকদ ১৪৪৬
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه أجمعين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، أما بعد:
فإن علم القواعد الفقهية الكلية الراجعة إلى الكتاب، والسنة، والإجماع، من أهم ما يحتاجه الفقيه خاصة في عصرنا؛ لأنها قوانين كلية كبرى، تضبط للفقيه ما يحتاجه من المسائل المتناثرة، والفروع المتكاثرة، والمستجدات المعاصرة.
وقد ألف الناس كثيرًا في هذا الفن منذ النشأة الأولى إلى الأخرى، ولكني لم أرَ كتابًا من كتب القواعد الفقهية اهتم بتفعيل هذا العلم في واقع حياتنا المعاصرة، في كافة الأبواب الفقهية، والقواعد الفقهية المتفق عليها.
فكلهم جعل أرضيته التنزيلية الواقع عند فقهائنا المتقدمين، واقتصر عليه.
وهي على براعتها وجمالها وأهميتها لا يستفيد منها الباحث المعاصر، في واقعه التنزيلي المستجد، فيظل متصلًا بالقواعد، منفصلًا عن الواقع المعاصر.
فكان لا بد من التشمير لهذه المهمة، وهي ضمن مشروعنا التجديدي -فقه العصر- وحلقة من حلقاته، ومن موسوعته معالم الاجتهاد في فقه العصر.
فتتبعت كتب النوازل المعاصرة، والفتاوى، والقرارات المجامعية، والرسائل الجامعية، والأبحاث العلمية، ومواقع الفتوى على الويب، بل وفيديوهات متعلقة بالموضوع.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী সামগ্রিক ফিকহি মূলনীতিসমূহের জ্ঞান সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যার প্রয়োজন একজন ফকিহর বিশেষ করে আমাদের যুগে অনেক বেশি; কারণ এগুলো হচ্ছে বিশদ সামগ্রিক আইন, যা ফকিহর জন্য বিক্ষিপ্ত মাসআলাসমূহ, ক্রমবর্ধমান শাখা-প্রশাখা এবং সমকালীন নতুন উদ্ভূত বিষয়াবলিকে সুসংবদ্ধ করে দেয়।
মানুষ এই শাস্ত্রের সূচনা লগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত এতে অনেক কিতাব রচনা করেছেন, কিন্তু আমি ফিকহি মূলনীতির কিতাবসমূহের মধ্যে এমন কোনো কিতাব দেখিনি যা ফিকহের সকল অধ্যায়ে এবং সর্বসম্মত ফিকহি মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রে আমাদের সমকালীন জীবনের বাস্তবতায় এই জ্ঞানকে প্রয়োগ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে।
বরং তাদের সকলেই আমাদের পূর্ববর্তী ফকিহগণের বাস্তবতাকে তাদের প্রয়োগের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন।
তা সত্ত্বেও সেগুলোর দক্ষতা, সৌন্দর্য এবং গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও একজন সমকালীন গবেষক তার নতুন উদ্ভূত বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে তা থেকে উপকৃত হতে পারেন না। ফলে তিনি মূলনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও সমকালীন বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে যান।
তাই এই কাজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল, যা আমাদের সংস্কারমূলক প্রকল্প -যুগের ফিকহ- এর অন্তর্ভুক্ত এবং তার অন্যতম একটি পর্যায়, যা 'যুগের ফিকহে ইজতিহাদের নিদর্শনাবলি' নামক বিশ্বকোষের অংশ।
অতঃপর আমি সমকালীন উদ্ভূত ঘটনাবলির কিতাবসমূহ, ফতোয়া, ফিকহ একাডেমির সিদ্ধান্তসমূহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপত্রসমূহ, বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধসমূহ, ইন্টারনেটের ফতোয়া বিষয়ক ওয়েবসাইটসমূহ, এমনকি এই বিষয়ক ভিডিওগুলোও অনুসন্ধান করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
إضافة إلى ما في ذهني من المستجدات الفقهية المعاصرة، وما في كتبي وأبحاثي.
فأخذت في جمعها في ملف مستقل، وجعلت لكل قاعدة موضعًا مفردًا، أذكر تحتها ما ظفرت به من الفروع الفقهية المعاصرة؛ ليسهل علي الرجوع إليها وأخذها لوضعها في محلها من هذا الكتاب.
ولم أُخلِ الكتاب عن الفروع الفقهية المتقدمة التي يذكرها فقهاؤنا، بل بدأت بذكرها؛ حتى يجتمع في الكتاب محاسن ما تقدم، مع ما في عصرنا من المسائل.
وجعلت الكتاب على القواعد الست الكبرى التي أجمع عليها أهل الإسلام، ثم أدرجت القواعد التي تندرج في نفس السياق والموضوع مما هي كالمقيدة، أو الموضحة، أو المفرعة.
وقد حرصت على أن تكون القواعد التي اشتمل عليها كتابي هذا مما لها دليل من الكتاب، أو السنة، أو الإجماع، أو ما اتفقت عليها كلمة المذاهب الأربعة، وإن اختلفوا في تنزيلها.
وجمعت من الفروع المعاصرة ما تقر به أعين العلماء، وطلاب العلم، وذكرتها في مبحث مستقل في كل قاعدة.
ومن قرأ هذا الكتاب، وأتقنه، وعرف ما فيه، فقد حصل القواعد الأم في الفقه الإسلامي، التي عليها البناء في جميع المذاهب، ويحتاجها كل ناظر.
بل من قرأه واطلع على ما فيه من الفروع المعاصرة، التي بنيت على القواعد، وفهمها، وفقهها تصورا وتأصيلًا وتنزيلا، فقد حصل من مسائل فقه العصر الجم الغفير مما تفرقت في الكتب والموسوعات والأبحاث والرسائل.
وأسأل الله الذي استوى على العرش أن يجعله خالصًا لوجهه، نافعًا
সমসাময়িক ফিকহী নবউদ্ভাবিত বিষয়গুলো নিয়ে আমার মনে যা রয়েছে এবং আমার বই ও গবেষণাপত্রগুলোতে যা রয়েছে, তার সাথে যোগ করে (আমি এটি শুরু করেছি)।
তাই আমি সেগুলো একটি স্বতন্ত্র ফাইলে জমা করতে শুরু করি এবং প্রতিটি মূলনীতির জন্য একটি পৃথক স্থান নির্ধারণ করি, যার অধীনে আমি সমসাময়িক ফিকহী শাখা-প্রশাখাগুলো উল্লেখ করি যা আমি অর্জন করতে পেরেছি; যাতে আমার জন্য এগুলোর দিকে ফিরে আসা এবং এই বইয়ের যথাস্থানে সেগুলো স্থাপন করা সহজ হয়।
আমি এই কিতাবকে আমাদের ফকীহগণ কর্তৃক উল্লিখিত পূর্ববর্তী ফিকহী শাখা-প্রশাখাগুলো থেকেও মুক্ত রাখিনি, বরং সেগুলো দিয়েই শুরু করেছি; যাতে এই কিতাবে পূর্ববর্তীদের সৌন্দর্যের সাথে আমাদের যুগের মাসআলাগুলোর সমন্বয় ঘটে।
আমি কিতাবটিকে সেই ছয়টি প্রধান মূলনীতির ভিত্তিতে সাজিয়েছি যেগুলোর ওপর আহলে ইসলাম ঐক্যমত পোষণ করেছেন, এরপর আমি সেই একই প্রেক্ষাপট ও বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত এমন সব মূলনীতি যুক্ত করেছি যেগুলো সীমাবদ্ধকারী, স্পষ্টকারী বা শাখাগত।
আর আমি এই বিষয়ে সচেষ্ট ছিলাম যেন আমার এই কিতাবে অন্তর্ভুক্ত মূলনীতিগুলো এমন হয় যেগুলোর স্বপক্ষে কুরআন, সুন্নাহ বা ইজমা থেকে দলিল রয়েছে, অথবা চার মাজহাবের ইমামগণ যেগুলোর ওপর একমত হয়েছেন, যদিও সেগুলোর প্রয়োগের ক্ষেত্রে তারা মতভেদ করেছেন।
আর আমি সমসাময়িক শাখা-প্রশাখাগুলোর মধ্য থেকে এমন সব বিষয় জমা করেছি যা আলেম ও ইলম অন্বেষণকারীদের চক্ষু শীতল করবে, এবং প্রতিটি মূলনীতির অধীনে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে আমি সেগুলো উল্লেখ করেছি।
আর যে ব্যক্তি এই কিতাবটি পড়বে, এটিতে পারদর্শিতা অর্জন করবে এবং এর বিষয়বস্তু জানবে, সে ইসলামী ফিকহশাস্ত্রের সেই মৌলিক নীতিমালাগুলো অর্জন করবে, যেগুলোর ওপর সমস্ত মাজহাবের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত এবং প্রতিটি গবেষকের জন্য যা প্রয়োজন।
বরং যে ব্যক্তি এটি পড়বে এবং এতে বিদ্যমান সমসাময়িক শাখা-প্রশাখাগুলো সম্পর্কে অবগত হবে, যা মূলনীতিসমূহের ওপর ভিত্তি করে রচিত এবং যা সে ধারণা লাভ, মূলনীতি নির্ধারণ ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনুধাবন করবে ও বুঝবে, তবে সে বর্তমান যুগের ফিকহী মাসআলাগুলোর এক বিশাল ভাণ্ডার অর্জন করবে, যা বিভিন্ন বই, বিশ্বকোষ, গবেষণা এবং প্রবন্ধসমূহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
আর আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, যিনি আরশের উপর উঠেছেন, তিনি যেন একে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং উপকারী করেন।
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
للأمة إلى يوم الدين، وأن يجعله -تعالى- من العمل الصالح، والصدقة الجارية بعد الموت. ونعوذ بالله من حظوظ النفس وشهواتها ونزغات الشياطين.
وهو حسبنا ونعم الوكيل.
أ. د. فضل مراد
কিয়ামত দিবস পর্যন্ত উম্মাহর জন্য; এবং আল্লাহ তাআলা যেন একে নেক আমল ও মৃত্যুর পর সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করেন। আমরা নফসের কামনা-বাসনা ও কুপ্রবৃত্তি এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
অধ্যাপক ড. ফজল মুরাদ
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الفصل التمهيدي: في الماهيات والاستدلالأول ما نتكلم عنه مما يتعلق بالفن هو: تعريف القاعدة الفقهية، والضابط الفقهي، والقاعدة الأصولية، ثم نبين الاستدلال بها، فهذان مبحثان:
• المبحث الأول: التعريفات.
• المبحث الثاني: الاحتجاج بالقواعد الفقهية وبيان بطلان النقل عن الجويني، وابن دقيق العيد، وابن نجيم، في القول بعدم الاستدلال بالقواعد الفقهية الكلية.
প্রারম্ভিক অধ্যায়: স্বকীয়তা ও প্রমাণ উপস্থাপন প্রসঙ্গেএই শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট যে বিষয়টি নিয়ে আমরা সর্বপ্রথম আলোচনা করব তা হলো: ফিকহী মূলনীতি (কায়েদা ফিকহিয়্যাহ), ফিকহী বিধান (দাবিত ফিকহী) এবং উসূলী মূলনীতির (কায়েদা উসূলিয়্যাহ) সংজ্ঞা; অতঃপর এগুলোর মাধ্যমে দলীল পেশ করার পদ্ধতি বর্ণনা করব। সুতরাং এগুলো হলো দুটি পরিচ্ছেদ:
• প্রথম পরিচ্ছেদ: সংজ্ঞাসমূহ।
• দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ফিকহী মূলনীতিমালার মাধ্যমে দলীল প্রদান এবং ইমাম জুওয়াইনী, ইবনু দাকীকিল ঈদ ও ইবনু নুজাইম থেকে বর্ণিত সেই বক্তব্যের অসারতা বর্ণনা করা, যাতে ব্যাপকভিত্তিক ফিকহী মূলনীতিমালার মাধ্যমে দলীল প্রদানের অসম্ভাব্যতা উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
المبحث الأول: التعريفات
1 - تعريف القاعدة الفقهية:القاعدة لغة: الأساس، حسيًا كقواعد البيت، أو معنويًا كقواعد الدين أي دعائمه
(1). قال تعالى: {وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنْ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ} [البقرة: 127].
واصطلاحًا: حكم كلي ينطبق على جزيئات كثيرة من أبواب متعددة تفهم أحكامها منها
(2).
ومعنى حكم كلي: أنه لا يختص بمسألة بعينها، بل يدخل تحته مسائل كثيرة من الفقه.
ومعنى جزئيات كثيرة: أي مسائل وفروع فقهية، ومعنى من أبواب متعددة أي: كباب الصلاة، وباب الصوم، وباب الحج، والبيوع، والنكاح، وغير ذلك، فلا تختص بباب معين.
ومعنى تفهم أحكامها منها: أي تفهم أحكام هذه المسائل الفقهية في الأبواب المتعددة من خلال هذه القاعدة الفقهية التي تندرج تحتها.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: সংজ্ঞাসমূহ১ - ফিকহী মূলনীতির (আল-কায়েদা আল-ফিকহিয়্যাহ) সংজ্ঞা:আভিধানিক অর্থে কায়েদা হলো: ভিত্তি; চাই তা দৃশ্যমান বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হোক যেমন ঘরের ভিত্তি, অথবা ভাবার্থমূলক হোক যেমন দ্বীনের ভিত্তি অর্থাৎ তার স্তম্ভসমূহ
(১)। মহান আল্লাহ বলেন: "আর স্মরণ করুন, যখন ইবরাহিম ও ইসমাইল ঘরের (কাবা) ভিত্তিগুলো উত্তোলন করছিলেন।" [সূরা আল-বাকারা: ১২৭]।
পারিভাষিক অর্থে: এটি এমন একটি সামগ্রিক বিধান যা বিভিন্ন অধ্যায়ের অনেকগুলো আংশিক বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয় এবং যা থেকে সেই বিষয়গুলোর বিধান অনুধাবন করা যায়
(২)।
'সামগ্রিক বিধান' এর অর্থ হলো: এটি কোনো নির্দিষ্ট মাসআলার সাথে খাস বা সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর অধীনে ফিকহের অনেক মাসআলা অন্তর্ভুক্ত হয়।
'অনেকগুলো আংশিক বিষয়' এর অর্থ হলো: ফিকহী মাসআলা ও শাখাসমূহ। আর 'বিভিন্ন অধ্যায় থেকে' এর অর্থ হলো: যেমন সালাত অধ্যায়, সিয়াম অধ্যায়, হজ অধ্যায়, ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ এবং এ জাতীয় অন্যান্য অধ্যায়। অর্থাৎ এটি কোনো নির্দিষ্ট অধ্যায়ের সাথে সীমাবদ্ধ নয়।
'যা থেকে সেই বিষয়গুলোর বিধান অনুধাবন করা যায়' এর অর্থ হলো: বিভিন্ন অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত এই ফিকহী মাসআলাগুলোর বিধান এই ফিকহী মূলনীতির মাধ্যমে বোঝা যায় যার অধীনে এগুলো দাখিল হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
مثال ذلك: قاعدة المشقة تجلب التيسير، فهذه القاعدة عبارة عن حكم كلي يندرج تحته كثير من المسائل من مختلف الأبواب الفقهية.
فمن باب الصلاة: من شق عليه أن يقوم في الصلاة للمرض جاز له أن يقعد تيسيرا عليه، لأن المشقة إذا حصلت على المكلف خفف الشرع عنه ولحقته التيسيرات، وهذا معنى المشقة تجلب التيسير.
وهذه القاعدة تدخل في باب الصوم لذلك رخص الشرع للمريض أن يفطر ثم يقضي بعد ذلك.
وتدخل في باب الحج فمن أصابه أذى في رأسه جاز له أن يحلق وعليه الفدية؛ لقوله تعالى: {فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا، أو بِهِ أَذًى مِنْ رَأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ، أو صَدَقَةٍ، أو نُسُكٍ} [البقرة: 196].
وتدخل هذه القاعدة في كثير من الأبواب كما سيأتي شرحها في محلها.
فتبين من هذا أن القاعدة الفقهية، حكم كلي يندرج تحته كثير من المسائل والفروع من أبواب متعددة.
2 - الضابط الفقهي:وهو أخص من القاعدة الكلية؛ لأن القاعدة تضبط أحكامًا كثيرة من أبواب مختلفة بخلاف الضابط لأن "القاعدة تجمع فروعًا من أبواب شتى، والضابط من باب واحد"
(1).
وبعض الفقهاء يطلق على القاعدة ضابطا وعلى الضابط قاعدة والأمر واسع
(2).
--------------------------------------------
উদাহরণস্বরূপ: ‘কষ্ট সহজীকরণ বয়ে আনে’ নীতিটি; এই নীতিটি হলো একটি সামগ্রিক বিধান যার অধীনে বিভিন্ন ফিকহী অধ্যায়ের অনেক মাসয়ালা অন্তর্ভুক্ত হয়।
সালাতের অধ্যায় থেকে: অসুস্থতার কারণে যার জন্য সালাতে দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টকর হয়, তার জন্য বিষয়টি সহজ করার লক্ষ্যে বসে সালাত আদায় করা বৈধ। কারণ যখনই মুকাল্লাফের (শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) ওপর কষ্ট আপতিত হয়, শরীয়ত তার জন্য তা সহজ করে দেয় এবং তার ক্ষেত্রে সহজীকরণ প্রযোজ্য হয়। এটাই ‘কষ্ট সহজীকরণ বয়ে আনে’ নীতির অর্থ।
এই নীতিটি সিয়াম বা রোজার অধ্যায়েও কার্যকর হয়, এজন্য শরীয়ত অসুস্থ ব্যক্তিকে রোজা না রাখার অনুমতি দিয়েছে এবং পরবর্তীতে তা কাযা করার নির্দেশ দিয়েছে।
এটি হজ্জের অধ্যায়েও অন্তর্ভুক্ত হয়; সুতরাং যার মাথায় কোনো রোগ বা কষ্টদায়ক বিষয় পরিলক্ষিত হয়, তার জন্য মাথা মুণ্ডন করা বৈধ এবং তার ওপর ফিদইয়া আবশ্যক; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ অথবা যার মাথায় কোনো কষ্টদায়ক ব্যাধি থাকে, তবে সে সিয়াম কিংবা সাদাকা অথবা কুরবানির মাধ্যমে ফিদইয়া দেবে} [আল-বাকারা: ১৯৬]।
এই নীতিটি আরও অনেক অধ্যায়ে প্রযোজ্য হয়, যেমনটি সামনে যথাস্থানে এর ব্যাখ্যা আসবে।
এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, ফিকহী নীতি হলো একটি সামগ্রিক বিধান যার অধীনে বিভিন্ন অধ্যায় থেকে অনেক মাসয়ালা এবং শাখা-প্রশাখা অন্তর্ভুক্ত হয়।
২ - আল-দাবিত আল-ফিকহী (ফিকহী বিধায়ক):এটি সামগ্রিক নীতির (কায়েদাহ কুল্লিয়্যাহ) চেয়েও অধিক নির্দিষ্ট; কারণ নীতি বা কায়েদাহ বিভিন্ন অধ্যায়ের অনেক বিধানকে সুশৃঙ্খল করে, যা দাবিত-এর ক্ষেত্রে ভিন্ন। কারণ "কায়েদাহ বিভিন্ন অধ্যায়ের শাখা-প্রশাখাগুলোকে একত্রিত করে, আর দাবিত শুধু একটি অধ্যায় থেকে।"
(১)।
কোনো কোনো ফকীহ কায়েদাহ-কে দাবিত এবং দাবিত-কে কায়েদাহ হিসেবে অভিহিত করেন এবং এ বিষয়টি প্রশস্ত।
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
مثال الضابط:
1 - ما جاز بيعه جاز رهنه
(1).
فهذا ضابط؛ لأنه اختص بضبط باب الرهن فقط.
وقد يكون الضابط في فرع معين، أو مسألة معينة مثل:
2 - المباشر ضامن، وإن لم يتعمد
(2).
فهذا ضابط لمسألة المباشرة والمتسبب في ضمان ما أتلف.
فلو أن شخصا رمى صيدًا فأصاب رجلًا، فإنه ضامن، وإن لم يتعمد
(3).
وسائق السيارة ضامن لما يرتكبه بسيارته من حادث مروري؛ لأنه مباشر كان متعمدًا أم لا.
3 - القواعد الأصولية:هي قواعد حاكمة تضبط كيفية استخراج الأحكام من الكتاب، والسنة، والإجماع، والقياس.
--------------------------------------------
মূলনীতির উদাহরণ:
১ - যা বিক্রয় করা বৈধ, তা বন্ধক রাখা বৈধ
(১)।
এটি একটি মূলনীতি (দাবিত); কারণ এটি শুধুমাত্র বন্ধক অধ্যায়কে সুসংহত করার সাথে নির্দিষ্ট।
কখনো কখনো মূলনীতি কোনো নির্দিষ্ট শাখা বা নির্দিষ্ট মাসআলার ক্ষেত্রেও হতে পারে, যেমন:
২ - প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিসাধনকারী ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য, যদিও সে তা ইচ্ছাকৃতভাবে না করে থাকে
(২)।
এটি প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা এবং কোনো কিছু নষ্ট করার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার বিষয়ের একটি মূলনীতি।
যদি কোনো ব্যক্তি শিকারের উদ্দেশ্যে তীর ছোঁড়ে এবং তা কোনো মানুষকে আঘাত করে, তবে সে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হবে, যদিও সে তা ইচ্ছাকৃতভাবে করেনি
(৩)।
গাড়ির চালক তার গাড়ির মাধ্যমে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী হবে; কারণ সে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত, চাই সে ইচ্ছাকৃতভাবে করুক বা না করুক।
৩ - উসুলি নীতিসমূহ:এগুলো হলো এমন মৌলিক নীতি যা কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ইজমা এবং কিয়াস থেকে শরয়ি বিধান আহরণের পদ্ধতিকে নিয়ন্ত্রণ ও সুশৃঙ্খল করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وهي أدلة الفقه الإجمالية، وطرق الاستفادة منها، ومباحثها الدلالية راجعة إلى فقه اللسان.
كما أنها تدور حول استنباط الأحكام من ألفاظ الشارع.
أما القواعد الفقهية فهي نفسها أحكام كلية جاهزة، مثل: اليقين لا يزول بالشك، والأمور بمقاصدها.
فهذه أحكام كلية أخذت من الكتاب، والسنة، والإجماع، لكنها كالقانون الذي يضبط مسائل كثيرة.
ومنها القواعد ما هو مأخوذ من استقراء الفروع الفقهية.
وهي أقل درجة من السابقة في الاحتجاج.
ويمكن أن نفرق بين القواعد الفقهية، والأصولية، كذلك بأن القاعدة الأصولية بها تستنبط الفروع الفقهية.
أما القواعد الفقهية فاستنبطت من الفروع الفقهية. فهي عكس إن كانت من نوع استقراء الفروع.
أما إن كانت من القواعد الفقهية التي مستندها الكتاب، والسنة، والإجماع فبها تستنبط الفروع الفقهية كالقواعد الأصولية. إلا أن الفرق أن الأصولية غالبا من جهة اللسان، والفقهية من جهة التنزيل للكلي على الجزئي.
فالقاعدة الكلية الأمور بمقاصدها تنزل على جزئيات الفروع.
এটি হলো ফিকহের সামগ্রিক দলিলসমূহ, সেগুলো থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতিসমূহ এবং এর অর্থগত আলোচনা যা ভাষাতাত্ত্বিক ফিকহের (ফিকহুল লিসান) দিকে প্রত্যাবর্তিত।
তেমনিভাবে এটি বিধাতার (শারেই) শব্দাবলি থেকে বিধান উদ্ঘাটন বা আহরণের বিষয়ে আবর্তিত হয়।
পক্ষান্তরে ফিকহি মূলনীতিসমূহ (আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ) হলো স্বয়ং কিছু প্রস্তুত সামগ্রিক বিধান, যেমন: ‘নিশ্চয়তা সন্দেহের মাধ্যমে দূরীভূত হয় না’ এবং ‘কাজসমূহ তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল’।
এগুলো হলো সামগ্রিক বিধান যা কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং ইজমা থেকে গৃহীত হয়েছে, তবে এগুলো এমন আইনের মতো যা অনেক মাসআলাকে সুশৃঙ্খল করে।
এগুলোর মধ্যে এমন কিছু মূলনীতিও রয়েছে যা ফিকহের শাখা-প্রশাখার (ফুরু’) বিশ্লেষণের মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে।
আর এগুলো দলিল হিসেবে পেশ করার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীগুলোর তুলনায় নিম্নস্তরের।
এবং আমরা ফিকহি ও উসুলি মূলনীতির মধ্যে এভাবেও পার্থক্য করতে পারি যে, উসুলি মূলনীতির মাধ্যমে ফিকহের শাখা-প্রশাখা আহরণ করা হয়।
পক্ষান্তরে ফিকহি মূলনীতিসমূহ ফিকহের শাখা-প্রশাখা থেকেই আহরিত। সুতরাং যদি সেগুলো শাখা-প্রশাখার বিশ্লেষণের মাধ্যমে হয়ে থাকে, তবে তা (উসুলি মূলনীতির) বিপরীত।
কিন্তু যদি সেগুলো এমন ফিকহি মূলনীতি হয় যার ভিত্তি হলো কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমা, তবে তার মাধ্যমেও উসুলি মূলনীতির ন্যায় ফিকহের শাখা-প্রশাখা আহরণ করা হয়। তবে পার্থক্য এই যে, উসুলি মূলনীতিগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভাষাতাত্ত্বিক দিক থেকে হয়ে থাকে, আর ফিকহি মূলনীতিগুলো সামগ্রিক বিষয়কে বিশেষের ওপর প্রয়োগ করার দিক থেকে হয়ে থাকে।
সুতরাং ‘কাজসমূহ তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল’—এই সামগ্রিক মূলনীতিটি ফিকহের খুঁটিনাটি শাখা-প্রশাখাগুলোর ওপর প্রয়োগ করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الثاني: الاحتجاج بالقواعد الفقهية وبيان بطلان النقل عن الجويني وابن دقيق العيد وابن نجيم في القول بعدم الاستدلال بالقواعد الفقهية الكلية
القواعد الفقهية ثلاثة أنواع:الأول: متفق عليه بين عموم المذاهب والفقهاء.
الثاني: ما هو متفق عليه عند الجمهور.
الثالث: ما هو خاص بمذهب معين.
ف
النوع الأول وهو المتفق عليه هو الذي دلت عليه نصوص الشرع في الكتاب والسنة.أو دل عليه الإجماع، أو استقرأ العلماء نصوص الشرع، فوجدوا من خلال هذا الاستقراء مراعاة الشرع لقاعدة معينة فهذه لا يختلف فيها العلماء في أنها دليل يحتج به في مسائل الفقه.
لأن مستندها الكتاب والسنة، أو الإجماع، أو استقراء نصوص الكتاب والسنة.
ومن زعم أن هذا النوع فيه خلاف في الاستدلال به فهو مخطئ لأن الاستدلال بها إنما هو استدلال بالكتاب، والسنة، والإجماع فكيف يقال إنها خلافية ..
وقد حرصت كل الحرص أن يكون ما في هذا الكتاب من هذا النوع.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ফিকহী মূলনীতিসমূহকে দলিল হিসেবে গ্রহণ এবং ফিকহী মূলনীতি দ্বারা দলিল গ্রহণ না করার বিষয়ে জুওয়াইনী, ইবনে দাকীকুল ঈদ এবং ইবনে নুজাইম থেকে বর্ণিত উদ্ধৃতিসমূহের অসারতা বর্ণনাফিকহী মূলনীতিসমূহ তিন প্রকার:প্রথম প্রকার: যা সাধারণ মাযহাবসমূহ এবং ফকীহগণের নিকট সর্বসম্মত।
দ্বিতীয় প্রকার: যা জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের নিকট সর্বসম্মত।
তৃতীয় প্রকার: যা কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের জন্য বিশেষায়িত।
সুতরাং
প্রথম প্রকার, যা সর্বসম্মত, তা হলো যা কিতাব ও সুন্নাহর শারঈ নসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত।অথবা যা ইজমা দ্বারা প্রমাণিত, অথবা আলেমগণ শারঈ নসসমূহ নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান (ইস্তিকরা) করেছেন এবং এই অনুসন্ধানের মাধ্যমে দেখতে পেয়েছেন যে শরীয়ত কোনো নির্দিষ্ট মূলনীতিকে গ্রাহ্য করেছে; সুতরাং ফিকহী মাসআলাসমূহে এগুলো যে দলিল হিসেবে গণ্য হওয়ার ক্ষেত্রে আলেমদের মাঝে কোনো মতভেদ নেই।
কেননা এর ভিত্তি হলো কুরআন ও সুন্নাহ, অথবা ইজমা, অথবা কুরআন ও সুন্নাহর নসসমূহের অনুসন্ধান।
আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে এই প্রকারটি দলিল হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে, সে ভুল করছে। কারণ এগুলো দ্বারা দলিল গ্রহণ করা মানেই হলো কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমা দ্বারা দলিল গ্রহণ করা; সুতরাং একে কীভাবে মতভেদপূর্ণ বলা যেতে পারে?
আর আমি এই কিতাবে যা কিছু রয়েছে তা যেন এই প্রকারেরই অন্তর্ভুক্ত হয়, সে ব্যাপারে পূর্ণ সচেষ্ট হয়েছি।
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فكنت لا أضع قاعدة حتى أبحث عن دليلها من الكتاب، أو السنة، أو الإجماع.
وما اتفقت عليه المذاهب الأربعة فهو لا يخرج عن النوع، وكذلك ما اتفقت عليه، ولو اختلفت في تنزيله في بعض الصور.
فإذا اتفق على مبدأ القاعدة، فلا يهم التطبيقات فلكل مدرسة فقهية، ومذهب تطبيقاته، ولذلك أذكر التطبيقات من مختلف المذاهب.
فإن اختلفوا في أصل القاعدة لا أذكرها إلا لفائدة، كقاعدة العبرة في العقود بالمعاني.
أما
النوع الثاني: وهو ما كان عند الجمهور، وكذلك
النوع الثالث: وهو ما كان في مذهب معين، فهذان ينظر إن دل عليهما دليل فهو حجة وكان من النوع الأول.
وإن كان عن استقراء فقهي لفروع الفقهاء فهذا يستأنس به؛ لأن الاستقراء للفروع الاجتهادية، ولو كان تامًا لا يشكل قاعدة كلية مقطوعًا بكونها حجة دليلية؛ لأن الفروع نفسها ليست حجة.
وإنما هي اجتهادات فقهية مأخوذة بواسطة النظر، والاستدلال في مصادر الأدلة بأنواع الدلالات البينة والخفية. فينصب عمل الفقيه للوصول إلى الحكم على مقاربة فقهية تعتبر عنده وفي نظره الأقرب إلى معاني الكتاب، والسنة، والإجماع، أو المصلحة، أو فتوى الصحابي، أو الذرائع، أو الاستحسان، أو العمل، وهذا النوع لا تكاد تجد فيه اتفاقًا بين المذاهب الأربعة فضلًا عن الإجماع الكلي عليها فهي فروع خلافية ليست حجة عند المذهب الآخر فكيف تصير حجة ودليلًا، وهي نفسها بهذه المنزلة.
وغالب هذه القواعد والضوابط تكون قواعد داخلية في المذهب
সুতরাং আমি কোনো মূলনীতি নির্ধারণ করতাম না যতক্ষণ না আমি কিতাব, সুন্নাহ অথবা ইজমা থেকে তার দলীল অনুসন্ধান করতাম।
আর চার মাযহাব যে বিষয়ে একমত হয়েছে তা এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, অনুরূপভাবে সেই বিষয়গুলোও যাতে তারা একমত হয়েছে, যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার প্রয়োগ নিয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
অতএব যখন মূলনীতির ভিত্তির ওপর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তার প্রয়োগগুলো আর গুরুত্বপূর্ণ থাকে না; কারণ প্রতিটি ফিকহি ঘরানা ও মাযহাবের নিজস্ব প্রয়োগ পদ্ধতি রয়েছে, আর এই কারণেই আমি বিভিন্ন মাযহাব থেকে প্রয়োগগুলো উল্লেখ করছি।
যদি তারা মূলনীতির উৎস নিয়ে মতভেদ করেন তবে বিশেষ উপকার ছাড়া আমি তা উল্লেখ করি না, যেমন চুক্তির ক্ষেত্রে শব্দের পরিবর্তে অর্থের বিবেচনার মূলনীতিটি।
পক্ষান্তরে
দ্বিতীয় প্রকার: যা জমহুর (অধিকাংশ) আলিমের নিকট স্বীকৃত, এবং একইভাবে
তৃতীয় প্রকার: যা কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত, এই দুই প্রকারের ক্ষেত্রে দেখতে হবে যে, যদি এগুলোর সপক্ষে কোনো দলীল পাওয়া যায় তবে তা হুজ্জাত (প্রমাণ) হিসেবে গণ্য হবে এবং তা প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে।
আর যদি তা ফকীহগণের শাখা মাসআলাসমূহের ফিকহি পর্যালোচনার (ইস্তিকরা) ভিত্তিতে হয়, তবে তা থেকে কেবল সমর্থন গ্রহণ করা যায়; কারণ ইজতিহাদী শাখা মাসআলাসমূহের পর্যালোচনা—তা পূর্ণাঙ্গ হলেও—এমন কোনো সার্বজনীন মূলনীতি গঠন করে না যা অকাট্যভাবে দলীলগত প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে; কারণ শাখা মাসআলাগুলো নিজেই তো স্বতন্ত্র হুজ্জাত নয়।
বরং এগুলো হলো গবেষণালব্ধ এমন ফিকহি ইজতিহাদ, যা দলীলের উৎসসমূহ থেকে গভীর পর্যবেক্ষণ এবং স্পষ্ট ও অস্পষ্ট বিভিন্ন প্রকারের অর্থবোধকতার মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে। সুতরাং একজন ফকীহ কোনো হুকুম বা সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য এমন এক ফিকহি দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নিবিষ্ট হন, যা তার নিকট এবং তার দৃষ্টিতে কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা, জনকল্যাণ, সাহাবীর ফতোয়া, মাধ্যমসমূহ (জারায়ি), ইসতিহসান কিংবা আমলের উদ্দেশ্যের সবচেয়ে কাছাকাছি মনে হয়। আর এই প্রকারের ক্ষেত্রে আপনি চার মাযহাবের মধ্যে খুব কমই ঐকমত্য পাবেন, এগুলোর ওপর সার্বিক ইজমা তো দূরের কথা। মূলত এগুলো হলো মতভেদপূর্ণ শাখা মাসআলা যা অন্য মাযহাবের নিকট হুজ্জাত নয়; সুতরাং এগুলো কীভাবে হুজ্জাত ও দলীল হতে পারে যখন সেগুলোর মর্যাদা নিজেই এই পর্যায়ের?
আর এই ধরনের অধিকাংশ কায়দা এবং দাতিব সংশ্লিষ্ট মাযহাবের অভ্যন্তরীণ মূলনীতি হিসেবেই গণ্য হয়।
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الواحد، وليست محل اتفاق بين المذاهب الفقهية. ويتفقه عليها طلبة المذهب؛ لضبط المذهب لا لكونها حجة.
هذا هو تحقيق القول في الاحتجاج بالقواعد الفقهية.
وبهذا تعلم أن من ذكر الخلاف في مسألة الاحتجاج بالقواعد الفقهية، وعمم ذلك على جميع الأنواع فهو مخطئ، وقد اشتهر أن في الاستدلال بها ثلاثة أقوال:
الأول: أنها تعتبر دليلًا.
الثاني: المنع.
الثالث: التفصيل وهو ما كان من القواعد الإجماعية المستندة للأدلة من الكتاب، والسنة، فهو حجة يستدل بها، وإلا فلا.
فالقول بالمنع منسوب إلى ابن نجيم، والجويني، وابن دقيق العيد، والمجلة العدلية.
1 - أما ابن نجيم فيسوقون قوله:
إنه لا يجوز الفتوى بما تقتضيه القواعد والضوابط؛ لأنها ليست كلية، بل أغلبية، وهذا فيه أمران:
الأول: أن ابن نجيم لم يذكر القواعد، بل الضوابط فقط، فإضافة كلمة القواعد تدليس وخطأ فادح على ابن نجيم.
وإليك نص قوله كما نقله عنه الحموي: ومن ثم صرح المصنف في الفوائد الزينية بأنه لا يجوز الفتوى بما تقتضيه الضوابط؛ لأنها ليست كلية، بل أغلبية خصوصًا، وهي لم تثبت عن الإمام، بل استخرجها المشايخ من كلامه
(1).
--------------------------------------------
একক, এবং এটি ফিকহী মাযহাবগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের বিষয় নয়। মাযহাবের ছাত্ররা এটি নিয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করে মাযহাবের বিষয়াদি আয়ত্ত করার জন্য, এটি দলিল হওয়ার জন্য নয়।
ফিকহী মূলনীতিগুলোকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করার বিষয়ে এটিই হলো চূড়ান্ত বিশ্লেষণ।
এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারলেন যে, যারা ফিকহী মূলনীতি দলিল হিসেবে ব্যবহারের মাসআলায় মতভেদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং তা সকল প্রকারের ক্ষেত্রে সাধারণীকরণ করেছেন, তারা ভুল করেছেন। এটি দ্বারা দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে তিনটি মত প্রসিদ্ধ রয়েছে:
প্রথম: এগুলো দলিল হিসেবে গণ্য হবে।
দ্বিতীয়: নিষেধ।
তৃতীয়: বিস্তারিত ব্যাখ্যা। তা হলো—যেসব মূলনীতি কিতাব ও সুন্নাহর দলিলের ওপর ভিত্তি করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সাব্যস্ত, তা দলিল (হুজ্জাত) হিসেবে গ্রহণ করা যাবে, অন্যথায় নয়।
সুতরাং দলিল হিসেবে ব্যবহারের নিষেধের বিষয়টি ইবনে নুজাইম, জুওয়াইনি, ইবনে দাকিকুল ঈদ এবং মাজাল্লাতুল আদলিয়্যাহ-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়।
১ - ইবনে নুজাইমের ব্যাপারে তারা তাঁর নিম্নোক্ত বক্তব্যটি উপস্থাপন করেন:
নিশ্চয়ই কাওয়াইদ (মূলনীতি) এবং দাওয়া বিত (উপ-নীতি) যা দাবি করে সে অনুযায়ী ফতোয়া দেওয়া জায়েজ নয়; কারণ সেগুলো সার্বিক নয়, বরং অধিকাংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর এই বক্তব্যের মধ্যে দুটি বিষয় রয়েছে:
প্রথমত: ইবনে নুজাইম মূলনীতির (কাওয়াইদ) কথা উল্লেখ করেননি, বরং তিনি কেবল উপ-নীতির (দাওয়া বিত) কথা বলেছেন। সুতরাং 'কাওয়াইদ' শব্দটি যোগ করা ইবনে নুজাইমের প্রতি একটি প্রতারণা এবং মারাত্মক ভুল।
তাঁর বক্তব্যের মূল পাঠ আপনার সামনে পেশ করা হলো যা হামাউয়ি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: "এ কারণেই লেখক আল-ফাওয়ায়েদ আয-যাইনিয়্যাহ গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, দাওয়া বিত (উপ-নীতি) যা দাবি করে সে অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান জায়েজ নয়; কারণ সেগুলো সার্বিক নয় বরং বিশেষভাবে অধিকাংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, এবং এগুলো ইমাম থেকে প্রমাণিত নয়, বরং মাশায়েখগণ তাঁর কথা থেকে এগুলো আহরণ করেছেন"
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وبهذا يعلم ما تتابع عليه بعض الباحثين في عصرنا من الخطأ.
الثاني: أن ابن نجيم نفسه يرى أن القواعد الفقهية حجة، بل هي أصول الفقه، وكلامه السابق إنما هو عن الضوابط، وهذا نص كلامه، وهو يتكلم عن القواعد الكلية الأول: معرفة القواعد التي ترد إليها وفرعوا الأحكام عليها، وهي أصول الفقه في الحقيقة، وبها يرتقي الفقيه إلى درجة الاجتهاد ولو في الفتوى
(1).
قال الحموي معلقا عليه: وهي أصول الفقه في الحقيقة: أي كأصول الفقه، وإلا فليست أصول الفقه؛ فضلًا عن أن يكون ذلك على سبيل الحقيقة فتأمل.
وكلام الحموي ليس فيه تعقب على الاحتجاج بالقواعد الكلية الفقهية، بل هو يبين الفرق بينها وبين أصول الفقه الاصطلاحي، ومقصود ابن نجيم أعم حيث إن أصول الفقه هو ما يبنى عليه الفقه فجعل القواعد الكلية هي أصول الفقه في الحقيقة لبناء الفقه عليها.
وبهذا يتبين الخطأ في النقل عن ابن نجيم والحموي، وتحريف كلامهما من بعض المعاصرين.
وسبب ذلك هو عدم الرجوع إلى الأصول فيتتابع الخطأ.
أو فهم للكلام على غير حقيقته بدون قراءته من أصله وفي سياقه.
أو ترسخ مفهوم معين في الذهن يحمل عليه كلام إمام كما أول كلام بن دقيق العيد الصريح في قواعد الأصول بجعل معناها قواعد الفقه كما سيأتي.
--------------------------------------------
এর মাধ্যমেই আমাদের যুগের কিছু গবেষকের ভুলের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে জানা যায়।
দ্বিতীয়ত: ইবনে নুজাইম নিজেই মনে করেন যে ফিকহি মূলনীতিসমূহ (কাওয়াইদ ফিকহিয়্যাহ) একটি দলিল, বরং তা ফিকহের মূলভিত্তি (উসূলে ফিকহ)। আর তার পূর্বোক্ত কথাগুলো মূলত ফিকহের আংশিক নিয়মাবলী (দাওয়াবিত) সম্পর্কে ছিল। এটিই তার বক্তব্যের মূল পাঠ, তিনি এখানে ব্যাপক মূলনীতিসমূহ নিয়ে আলোচনা করছেন, প্রথমত: সেই মূলনীতিগুলো জানা যেগুলোর দিকে বিষয়গুলোকে ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং ফকিহগণ যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে বিধানের শাখা-প্রশাখা বের করেন। আর এগুলোই প্রকৃতপক্ষে ফিকহের মূলভিত্তি (উসূলে ফিকহ)। এর মাধ্যমেই একজন ফকিহ ইজতিহাদের স্তরে উন্নীত হন, এমনকি ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রেও।
(১)আল-হামাভি এর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: "আর এগুলোই প্রকৃতপক্ষে উসূলে ফিকহ: অর্থাৎ উসূলে ফিকহের মতো। অন্যথায় এগুলো তো (পারিভাষিক) উসূলে ফিকহ নয়; এমনকি তা আক্ষরিকভাবেও নয়। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন।"
আর আল-হামাভির কথার মধ্যে ব্যাপক ফিকহি মূলনীতিগুলো দিয়ে দলিল পেশ করার বিরোধিতা করা হয়নি, বরং তিনি এগুলো এবং পারিভাষিক উসূলে ফিকহের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন। ইবনে নুজাইমের উদ্দেশ্য ছিল আরও ব্যাপক, কেননা উসূলে ফিকহ হলো এমন বিষয় যার ওপর ফিকহ বা আইনতত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই তিনি ব্যাপক মূলনীতিসমূহকে প্রকৃতপক্ষে উসূলে ফিকহ হিসেবে গণ্য করেছেন, কারণ সেগুলোর ওপর ফিকহ নির্মিত হয়।
এর মাধ্যমেই ইবনে নুজাইম ও আল-হামাভি থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের ভুল এবং বর্তমানকালের কিছু লোক কর্তৃক তাদের বক্তব্যের বিকৃতি করার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
আর এর কারণ হলো মূল উৎসগুলোর দিকে ফিরে না আসা, যার ফলে ভুলের সিলসিলা চলতে থাকে।
অথবা কোনো কথাকে তার মূল উৎস থেকে এবং তার প্রেক্ষাপটে না পড়ে তার প্রকৃত অর্থের বাইরে বুঝা।
অথবা মনে কোনো নির্দিষ্ট ধারণা বদ্ধমূল হয়ে থাকা যার ওপর ভিত্তি করে কোনো ইমামের কথাকে ব্যাখ্যা করা হয়; যেমন উসূলে ফিকহের মূলনীতি বিষয়ে ইবনে দাকীক আল-ঈদের স্পষ্ট বক্তব্যকে অপব্যাখ্যা করে ফিকহি মূলনীতি অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে, যা সামনে আলোচনা করা হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
2 - ما نقل عن الجويني من عدم الاستدلال بالقواعد وبيان خطأ ذلك.
نقل بعض المعاصرين أن الجويني لا يقول بالاستدلال بالقواعد الفقهية الكلية.
وهذا ليس بصواب؛ لأن كلامه في مرحلة خلو الزمان عن التفاصيل والفروع، فإذا خلا الزمان عن الفروع فلا يعتمد إلا على المقطوعات. والقاعدتان مظنونتان فلا يستدل بها عند خلو الزمان لعدم القطعية فيهما.
وهذا نص كلامه: "وأنا الآن أضرب من قاعدة الشرع مثلين يقضي الفطن العجب منهما، وغرضي بإيرادهما تنبيه القرائح لدرك المسلك الذي مهدته في الزمان الخالي، ولست أقصد الاستدلال بهما، فإن الزمان إذا فرض خاليا عن التفاريع والتفاصيل، لم يستند أهل الزمان إلا إلى مقطوع به، فالذي أذكره من أساليب الكلام في تفاصيل الظنون.
فالمثلان: أحدهما في الإباحة، والثاني في براءة الذمة"
(1).
فتنزيل كلامه على نفي الاستدلال بالقواعد الفقهية وتعميمه خطأ محض لوجهين.
الأول: أنه يتكلم عن آخر الزمان لا عن كل الزمان حيث فرض ارتفاع تفاصيل الشرائع فهي فرضية استثنائية.
الثاني: أنه قرر لذلك قاعدة، وهي لا يستدل إلا بمقطوع، وهذه القواعد مظنونة.
وهذا دليل واضح أن القواعد الفقهية يستدل بها في الأحوال العادية للإجماع على الاستدلال بالظني.
--------------------------------------------
২ - আল-জুওয়াইনী থেকে মূলনীতি (ক্বাওয়াইদ) দ্বারা দলিল গ্রহণ না করার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে এবং সেই দাবির ভুল হওয়ার বর্ণনা।
বর্তমান সময়ের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, আল-জুওয়াইনী সামগ্রিক ফিকহি মূলনীতিসমূহ (আল-কাওয়ায়িদুল ফিকহিয়্যাহ আল-কুল্লিয়্যাহ) দ্বারা দলিল প্রদানের প্রবক্তা নন।
আর এটি সঠিক নয়; কারণ তাঁর বক্তব্যটি এমন এক পর্যায় নিয়ে যখন সময় বিস্তারিত বিষয় এবং শাখা-উপশাখা (ফুরু) থেকে শূন্য হয়ে পড়বে। সুতরাং যখন সময় শাখা-উপশাখা বর্জিত হবে, তখন নিশ্চিত বিষয়সমূহ (মাকতুআত) ছাড়া অন্য কিছুর ওপর নির্ভর করা যাবে না। আর উক্ত দুটি মূলনীতি ধারণাপ্রসূত (যান্নি), তাই সময় (শাখা জ্ঞান) শূন্য হওয়ার অবস্থায় এগুলোর দ্বারা দলিল পেশ করা যাবে না, যেহেতু এগুলোর মধ্যে নিশ্চিত হওয়ার (কাতইয়্যাহ) বৈশিষ্ট্য অনুপস্থিত।
আর এটিই তাঁর মূল বক্তব্য: "আমি এখন শরীয়তের মূলনীতি থেকে দুটি উদাহরণ দিচ্ছি যা দেখে বুদ্ধিমান ব্যক্তি আশ্চর্য হবেন। এগুলো উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো মেধাগুলোকে জাগ্রত করা যাতে আমি শূন্য সময়ের জন্য যে পথটি সুগম করেছি তা অনুধাবন করা যায়। আমি এই দুটির মাধ্যমে দলিল পেশ করার উদ্দেশ্য রাখছি না; কারণ সময় যদি শাখা-প্রশাখা ও বিস্তারিত জ্ঞান থেকে শূন্য বলে ধরে নেওয়া হয়, তবে সেই সময়ের মানুষ কেবল নিশ্চিত বিষয়ের ওপরই নির্ভর করবে। সুতরাং আমি ধারণাপ্রসূত বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনার ক্ষেত্রে আলোচনার যে শৈলীগুলো উল্লেখ করছি..."
উদাহরণ দুটি হলো: প্রথমটি বৈধতা (ইবাহাত) সংক্রান্ত, এবং দ্বিতীয়টি দায়মুক্তি (বারাআতুয যিম্মাহ) সংক্রান্ত।
(১)সুতরাং তাঁর বক্তব্যকে ফিকহি মূলনীতি দ্বারা দলিল প্রদানের অস্বীকৃতি হিসেবে প্রয়োগ করা এবং একে সাধারণীকরণ করা দুই কারণে স্পষ্ট ভুল।
প্রথমত: তিনি শেষ জামানা সম্পর্কে কথা বলছেন, সর্বকালের জন্য নয়, যেখানে শরীয়তের বিস্তারিত বিধানগুলো উঠে যাওয়ার বিষয়টি কল্পনা করা হয়েছে; সুতরাং এটি একটি ব্যতিক্রমী কাল্পনিক অবস্থা।
দ্বিতীয়ত: তিনি সেই অবস্থার জন্য একটি মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন যে, নিশ্চিত বিষয় ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে দলিল দেওয়া যাবে না; আর এই মূলনীতিগুলো হলো ধারণাপ্রসূত।
এটি একটি স্পষ্ট প্রমাণ যে, স্বাভাবিক অবস্থায় ফিকহি মূলনীতিগুলো দ্বারা দলিল পেশ করা যায়, কারণ ধারণাপ্রসূত দলিলের (যান্নি) মাধ্যমে দলিল গ্রহণের ব্যাপারে ইজমা বা ঐকমত্য রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ولا أدري كيف جازف من نقل المنع عن الجويني مستندًا إلى هذا الكلام وكيف فهمه.
3 - بيان خطأ ما نقل عن ابن دقيق العيد.
وثم نقل عن ابن دقيق العيد تمسك به من نسب إليه القول بعدم الاستدلال بالقواعد، قال ابن فرحون: كان رحمه الله يستنبط أحكام الفروع من قواعد أصول الفقه. وعلى هذا مشى في التنبيه، وهي طريقة نبه ابن دقيق العيد على أنها غير مخلصة، إذ الفروع لا يطرد تخريجها على القواعد الأصولية
(1).
هذا هو النص الذي اتكأ عليه بعض المعاصرين فزعموا أن ابن دقيق العيد يقول بعدم الاستدلال بالقواعد الفقهية وليت بعضهم سكت إلى هنا، بل زاد محرفا كلام ابن دقيق العيد أن مراد كلامه بالقواعد الأصولية إنما هو القواعد الفقهية؛ لأنه كان يطلق على القواعد الفقهية قواعد أصولية، وهذا في الحقيقة اضطرني إلى الرجوع إلى كتاب ابن بشير السابق وتصفحه ولم أجد ما زعموه، بل المقصود بالقواعد الأصولية علم أصول الفقه لأن ابن بشير كان يستنبط بعض فروع المذهب من خلال القواعد الأصولية الخلافية، وهذا هو محل نقد ابن دقيق العيد له، ولا يقصد القواعد الفقهية لا من قريب، ولا من بعيد. وإليك بعض القواعد الأصولية التي تتبعها محقق الكتاب.
قال: ويمكن تلخيص كلام ابن دقيق العيد والتنبكتي في أن فروع ومسائل المذهب لا تجري جميعها على القواعد الأصولية، ولا يطرد تخريجها عليها، وابن بشير جعل القواعد مطردة، ولم يراع المستثنيات
(2).
--------------------------------------------
আল-জুওয়াইনী থেকে যিনি নিষেধাজ্ঞার কথা বর্ণনা করেছেন, তিনি এই বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে কীভাবে এমন ঝুঁকি নিলেন এবং এটি কীভাবে বুঝলেন, তা আমি জানি না।
৩ - ইবনে দাকীক আল-ঈদ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার ভুল স্পষ্টীকরণ।
ইবনে দাকীক আল-ঈদ থেকে একটি বর্ণনা রয়েছে, যা তারা আঁকড়ে ধরেছে যারা তাঁর প্রতি উসূলী কায়েদার মাধ্যমে দলিল পেশ না করার মতটি আরোপ করেছে। ইবনে ফারহুন বলেন: তিনি (রহিমাহুল্লাহ) উসূলুল ফিকহের নীতিমালা থেকে ফروع বা শাখাগত মাসআলার বিধান উদ্ভাবন করতেন। 'আত-তানবীহ' গ্রন্থে তিনি এই পথেই চলেছেন, যা এমন একটি পদ্ধতি যেটির ব্যাপারে ইবনে দাকীক আল-ঈদ সতর্ক করেছেন যে এটি ত্রুটিমুক্ত নয়; কারণ উসূলী নীতিমালার ওপর শাখাগত মাসআলাসমূহের প্রয়োগ সর্বদা একরকম বা ধারাবাহিক হয় না
(১)।
এটিই সেই পাঠ্য যার ওপর কিছু সমসাময়িক লেখক নির্ভর করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, ইবনে দাকীক আল-ঈদ ফিকহি কায়েদা বা নীতিমালার মাধ্যমে দলিল উপস্থাপনের বিপক্ষে। তাদের কেউ কেউ যদি এখানেই থেমে যেত! বরং তারা ইবনে দাকীক আল-ঈদের বক্তব্যকে বিকৃত করে আরও দাবি করেছে যে, তার কথায় 'উসূলী কায়েদা' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো 'ফিকহি কায়েদা'; কারণ তিনি ফিকহি কায়েদাকে উসূলী কায়েদা হিসেবে অভিহিত করতেন। আর এটিই প্রকৃতপক্ষে আমাকে ইবনে বশীরের পূর্বোক্ত কিতাবটির দিকে ফিরে যেতে এবং তা অনুসন্ধান করতে বাধ্য করেছে। সেখানে আমি তাদের দাবিকৃত বিষয়টি খুঁজে পাইনি। বরং উসূলী কায়েদা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উসূলুল ফিকহ শাস্ত্র; কেননা ইবনে বশীর মাযহাবের কিছু শাখাগত মাসআলা মতপার্থক্যপূর্ণ উসূলী নীতিমালার মাধ্যমে উদ্ভাবন করতেন। আর এটিই ছিল তাঁর ওপর ইবনে দাকীক আল-ঈদের সমালোচনার ক্ষেত্র; এখানে ফিকহি কায়েদা কোনোভাবেই উদ্দেশ্য নয়। কিতাবটির মুহাক্কিক যে সকল উসূলী নীতিমালা অনুসরণ করেছেন, তার কিছু নিচে দেওয়া হলো।
তিনি বলেন: ইবনে দাকীক আল-ঈদ এবং তিমবুকতির বক্তব্যকে এভাবে সারসংক্ষেপ করা যেতে পারে যে, মাযহাবের সমস্ত শাখা ও মাসআলা উসূলী নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে চলে না এবং সেগুলোর প্রয়োগও ধারাবাহিকভাবে হয় না। কিন্তু ইবনে বশীর এই নীতিমালাগুলোকে সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করে দিয়েছেন এবং ব্যতিক্রমী বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখেননি
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقد نقل المحقق مواضع كثيرة من استدلال ابن بشير بالقواعد الأصولية.
وبين بعد أن ساق كلام ابن دقيق العيد أن ابن بشير استعمل قواعد الأصول بكثرة في تخريج المذهب فانتقد لذلك
(1)، فقال: ومن كثرة استعماله للقواعد الأصولية واعتماده عليها، أصبح محط انتقاد بعض العلماء. قال ابن فرحون: "وكان رحمه الله يستنبط أحكام الفروع من قواعد أصول الفقه. وعلى هذا مشى في التنبيه، وهي طريقة نبه ابن دقيق العيد على أنها غير مخلصة، إذ الفروع لا يطرد تخريجها على القواعد الأصولية".
ومن النماذج على ذلك:
النموذج الأول: قال أثناء حديثه عن حكم المولاة في الوضوء: "
…--------------------------------------------
মুহাক্কিক (গবেষক) ইবনে বাশির কর্তৃক উসুলী মূলনীতিমালার মাধ্যমে দলীল প্রদানের বহু স্থান উদ্ধৃত করেছেন।
তিনি ইবনু দাকীক আল-ঈদের বক্তব্য উদ্ধৃত করার পর বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে বাশির মাযহাবের মাসআলা উদ্ভাবনে (তাখরীজ) উসুলের মূলনীতিসমূহ অধিকমাত্রায় ব্যবহার করেছেন, যার ফলে তিনি সমালোচিতও হয়েছেন
(১)। অতঃপর তিনি বলেন: উসুলী মূলনীতিসমূহের অত্যধিক ব্যবহার এবং সেগুলোর ওপর নির্ভর করার কারণে তিনি কতিপয় আলিমের সমালোচনার পাত্র হয়েছেন। ইবনে ফারহুন বলেন: "তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ফিকহী মূলনীতি (উসুল আল-ফিকহ) থেকে শাখা-প্রশাখার (ফুরু') বিধানসমূহ উদ্ভাবন করতেন। তিনি 'আত-তানবীহ' গ্রন্থে এই পদ্ধতিই অনুসরণ করেছেন। এটি এমন একটি পদ্ধতি যার ব্যাপারে ইবনু দাকীক আল-ঈদ সতর্ক করেছেন যে এটি ত্রুটিমুক্ত নয়; কারণ শাখা-প্রশাখার মাসআলাগুলোর সমাধান সর্বদা উসুলী মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে ধারাবাহিকভাবে বের করা সম্ভব হয় না।"
এর কিছু উদাহরণ হলো:
প্রথম উদাহরণ: ওযুতে 'মুওয়ালাত' (ধারাবাহিকতা) এর বিধান সম্পর্কে আলোচনার সময় তিনি বলেন: "
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وسبب الخلاف بين الوجوب والسقوط مبني على خلاف الأصوليين في الأمر هل يقتضي الفور، أو للمكلف التراخي؛ فإن قلنا إنه يقتضي الفور وجبت الموالاة، وإن قلنا إنه يقتضي التراخي لم تجب. وكذلك أيضًا وضوؤه صلى الله عليه وسلم ثم قال: «هذا وضوء لا يقبل الله الصلاة إلا به».
يتضح في هذا النص أنه وظف القواعد الأصولية، وطبقها على الحديث مباشرة، وأجرى حكم ترتيب أفعال الوضوء على حكم موالاة الأفعال، ولم يعتمد على نصوص المذهب النموذج الثاني قال ابن بشير: "ولا خلاف أن الخطبة إذا اشتملت على حمد الله تعالى: [والثناء عليه] والصلاة على نبيه عليه السلام وشيء من الوعظ ومن تلاوة القرآن أنها مجزية، ولا يوجد في المذهب نص على اشتراط خطبتين حتى لا يجوز دونهما. وحكى أبو الحسن اللخمي في ذلك قولين، وهذا لو ساعدته الروايات لكان له وجه، لأن الرسول عليه السلام خطب خطبتين، فيجري على ما قدمناه من الالتفات إلى أفعاله، وإن أتى منها بما لا بال له، مثل أن يقول الحمد لله وشبهَه. فهل يجزي؟ قولان. والرجوع في ذلك إلى لسان العرب، ولا شك أن مثل هذا المقدار لا يسمى خطبة
… ".
يتضح من هذا النص أنه استدل على وجوب الخطبة من فعل الرسول صلى الله عليه وسلم على الرغم من وجود النص في المذهب واحتكم إلى أهل اللسان ولم يحتكم إلى نصوص المذهب
(1).
أما القواعد الفقهية المذهبية: فقد استعملها في مواضع، وهذا النوع خلافي بحت ولم يقل أحد من أهل العلم أنها حجة فضلا أن يجري فيها الخلاف في الاحتجاج وعدمه.
--------------------------------------------
ওয়াজিব হওয়া এবং বিলুপ্ত হওয়ার মধ্যকার মতভেদের কারণটি উসূলবিদদের সেই মতভেদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে যে, কোনো নির্দেশ কি অবিলম্বে কার্যকর হওয়া দাবি করে, নাকি আদিষ্ট ব্যক্তির জন্য তা বিলম্ব করার সুযোগ থাকে। যদি আমরা বলি যে এটি অবিলম্বে সম্পাদন করা দাবি করে, তবে কাজের ধারাবাহিকতা (মুওয়ালাত) বজায় রাখা ওয়াজিব হবে। আর যদি আমরা বলি যে এটি বিলম্ব করা অনুমোদন করে, তবে তা ওয়াজিব হবে না। তদ্রূপ আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওজু এবং এরপর তাঁর এই বাণী: "এটি এমন এক ওজু, যা ব্যতীত আল্লাহ কোনো সালাত কবুল করেন না।"
এই পাঠ্য থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, তিনি উসূলি নীতিগুলো নিয়োগ করেছেন এবং সেগুলো সরাসরি হাদিসের ওপর প্রয়োগ করেছেন। তিনি ওজুর কাজগুলোর বিন্যাসের বিধানকে কাজের ধারাবাহিকতার বিধানের ওপর প্রয়োগ করেছেন এবং মাযহাবের পাঠ্যসমূহের (নুসুস) ওপর নির্ভর করেননি। দ্বিতীয় উদাহরণ; ইবনে বাশির বলেছেন: "এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, খুতবা যদি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা, তাঁর গুণগান, তাঁর নবীর (আলাইহিস সালাম) ওপর দরুদ এবং সামান্য নসিহত ও কুরআন তিলাওয়াত অন্তর্ভুক্ত করে, তবে তা যথেষ্ট হবে। মাযহাবে দুটি খুতবা শর্ত হওয়ার ব্যাপারে এমন কোনো স্পষ্ট বক্তব্য নেই যে, তা ব্যতীত খুতবা জায়েজ হবে না। আবুল হাসান আল-লাখমি এই বিষয়ে দুটি মত বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাগুলো যদি একে সমর্থন করত তবে এর একটি দিক থাকত; কারণ রাসুল (আলাইহিস সালাম) দুটি খুতবা প্রদান করেছেন। ফলে এটি আমাদের পূর্বে বর্ণিত তাঁর কার্যাবলীর প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করার নিয়মের ওপর পরিচালিত হবে। তবে যদি কেউ এমন কিছু নিয়ে আসে যার বিশেষ কোনো গুরুত্ব নেই, যেমন শুধু 'আলহামদুলিল্লাহ' বা এই জাতীয় কিছু বলা, তবে কি তা যথেষ্ট হবে? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। এক্ষেত্রে ফয়সালা আরব্য ভাষার রীতির ওপর নির্ভরশীল। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই সামান্য পরিমাণকে 'খুতবা' বলা হয় না
… "।
এই পাঠ্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, তিনি মাযহাবের বক্তব্য বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্ম থেকে খুতবা ওয়াজিব হওয়ার দলিল গ্রহণ করেছেন এবং তিনি ভাষাবিদদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করেছেন, মাযহাবের বক্তব্যের ওপর নয়
(১)।
আর মাযহাবি ফিকহি নীতিমালাসমূহের বিষয় হলো: তিনি সেগুলো কিছু কিছু স্থানে ব্যবহার করেছেন। এই বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে মতভেদপূর্ণ। আলেমদের কেউই একে অকাট্য দলিল হিসেবে গণ্য করেননি, বরং এটি দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য কি না তা নিয়েই মতভেদ রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
قال المحقق: ومعظم القواعد التي وظفها ابن بشير في كتابه هي قواعد وأحكام كلية خلافية، كانت مثار نقاش وجدال بين الفقهاء ونتج عن الخلاف فيها خلاف في فروع أخص منها. ولعل لهذا ما يبرره، إذ الكتاب قصد به حكاية الخلاف داخل المذهب، فناسب هذا التعامل مع هذا النوع من القواعد الفقهية
(1).
فتبين من هذا أن كلام ابن دقيق العيد هو في القواعد الأصولية التي كان يستثمرها ابن بشير، ولا يقصد القواعد الفقهية.
4 - خطأ النقل عن مؤلفي المجلة العدلية أن القواعد يستأنس بها، ولا يستدل.
جاء في المجلة: «وتلك القواعد مسلمة معتبرة في الكتب الفقهية تتخذ أدلة لإثبات المسائل وتفهمها في بادئ الأمر فذكرها يوجب الاستئناس بالمسائل ويكون وسيلة لتقررها في الأذهان»
(2).
فكلام المجلة هنا أن هذه قواعد تتخذ أدلة لإثبات المسائل
…--------------------------------------------
মুহাক্কিক (গবেষক) বলেছেন: ইবনে বশীর তাঁর কিতাবে যে অধিকাংশ কায়দা (মূলনীতি) প্রয়োগ করেছেন, সেগুলো হলো ইখতিলাফপূর্ণ (মতভেদপূর্ণ) কুল্লী (সামষ্টিক) কায়দা ও আহকাম। ফকিহদের মধ্যে এগুলো নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কের যথেষ্ট সুযোগ ছিল এবং এগুলোর মতভেদের ফলে আরও বিশেষ ফিকহি শাখা-প্রশাখায় মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভবত এর যৌক্তিক কারণ রয়েছে, যেহেতু এই কিতাবের উদ্দেশ্য হলো মাযহাবের অভ্যন্তরীণ মতভেদ বর্ণনা করা, তাই এই ধরনের ফিকহি কায়দাগুলোর সাথে এই রূপ আচরণই সঙ্গতিপূর্ণ
(১)।
এর থেকে স্পষ্ট হয় যে, ইবনে দাকীক আল-ঈদের বক্তব্য মূলত সেই উসূলি কায়দাগুলো (মূলনীতিমালা) সম্পর্কে যা ইবনে বশীর ব্যবহার করতেন, তিনি ফিকহি কায়দাগুলো উদ্দেশ্য করেননি।
৪ - মাজাল্লাতুল আদলিয়ার লেখকদের থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে এই ভুলটি করা হয় যে, কায়দাগুলো দ্বারা কেবল সাহচর্য বা ধারণা গ্রহণ করা হয়, দলিল হিসেবে পেশ করা হয় না।
মাজাল্লায় এসেছে: «আর সেই কায়দাগুলো ফিকহি কিতাবসমূহে স্বীকৃত ও নির্ভরযোগ্য, যা মাসআলাগুলো প্রমাণ করার এবং প্রাথমিকভাবে সেগুলো বোঝার দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হয়। সুতরাং এগুলোর উল্লেখ মাসআলাগুলোর সাথে মানসিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে এবং অন্তরে সেগুলো বদ্ধমূল হওয়ার মাধ্যম হয়»
(২)।
এখানে মাজাল্লার বক্তব্য হলো যে, এই কায়দাগুলোকে মাসআলা প্রমাণের দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হয়
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ولهذا الأهمية والاعتبار فسيذكرونها في بداية الكتاب قبل ذكر المسائل الفروعية لماذا
… وهنا مربط الفرس الذي أوقع البعض في الوهم لأنهم حين يبدؤون بها قبل الفروع يكون قارئ الفروع مستأنسا بهذه الفروع لأنها مبنية على قواعد فقهية غير منكر لها. فالاستئناس هو بالمسائل لبنائها على القواعد لا الاستئناس بالقواعد. فعجب أن يفهم كلامهم أنه يعني عدم الاستدلال بالقواعد، بل إنما هي للاستئناس، وهذا من خلط الكلام وتناقض الفهم.
لأنه صار كلامهم في أوله الذي هو نص على أنها أدلة ينقضه آخره.
فأخذ بعض الباحثين بهذه الكلمة وتركوا النص الصريح في بداية الكلام .. والله المستعان.
وبهذا يتبين أن نقل القول بعدم الاستدلال بالقواعد الفقهية الكلية المبنية على الكتاب، والسنة، والإجماع عن الحموي وابن نجيم والجويني وابن دقيق العيد ومجلة الأحكام.
قول لا حقيقة له.
لوحة:
الْفِقْهُ مَبْنِيٌّ عَلَى قَوَاعِدِ
… خَمْسٍ هِيَ الأُمُورُ بِالْمَقَاصِدِ
وَبَعْدَهَا الْيَقِينُ لَا يُزَالُ
… بِالشَّكِّ فَاسْتَمِعْ لِمَا يُقَالُ
وَتَجْلِبُ الْمَشَقَّةُ التَّيْسِيرَا
… ثَالِثُهَا فَكُنْ بِهَا خَبِيرَا
رَابِعُهَا فِيمَا يُقَالُ الضَّرَرُ
… يُزَالُ قَوْلًا لَيْسَ فِيهِ غَرَرُ
خَامِسُهَا الْعَادَةُ قُلْ مُحَكَّمَهْ
… فَهَذِهِ الْخَمْسُ جَمِيعًا مُحْكَمَهْ
بَلْ بَعْضُهُمْ قَدْ رَجَعَ الْفِقْهَ إلى
… قَاعِدَةٍ وَاحِدَةٍ مُكَمِّلَا
وَهْيَ اعْتِبَارُ الْجَلْبِ لِلْمَصَالِحِ
… وَالدَّرْءِ لِلْمَفَاسِدِ الْقَبَائِحِ
بَلْ قَالَ قَدْ يَرْجِعُ كُلُّهُ إلى
… أَوَّلِ جُزْئَيْ هَذِهِ وَقُبِلَا
এই গুরুত্ব ও বিবেচনার কারণেই তাঁরা শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত মাসআলা বর্ণনার পূর্বে কিতাবের শুরুতে এটি উল্লেখ করেন। কেন?
… আর এখানেই সেই মূল রহস্য নিহিত যা কাউকে কাউকে বিভ্রান্তিতে ফেলেছে। কারণ, যখন তাঁরা শাখা-প্রশাখার পূর্বে এগুলো দিয়ে শুরু করেন, তখন শাখা-প্রশাখার পাঠক এই শাখাগুলোর সাথে পরিচিত হতে পারেন, যেহেতু এগুলো এমন সব ফিকহী মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত যা অনস্বীকার্য। সুতরাং মাসআলাগুলোর সাথে পরিচিতি ঘটে সেগুলো মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে রচিত হওয়ার কারণে, মূলনীতির সাথে পরিচিতি নয়। এটি আশ্চর্যের বিষয় যে, তাঁদের বক্তব্য থেকে এমনটি বোঝা হয়েছে যে মূলনীতিগুলো দলীল হিসেবে ব্যবহারযোগ্য নয় বরং তা কেবল পরিচিতির জন্য। আর এটি হলো কথার সংমিশ্রণ ও বোধশক্তির বৈপরীত্য।
কারণ এতে তাঁদের বক্তব্যের প্রথমাংশ, যা এগুলোকে দলীল হিসেবে গণ্য করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করে, তা শেষাংশ দ্বারা বাতিল হয়ে যায়।
ফলে কিছু গবেষক এই কথাটি গ্রহণ করেছেন এবং আলোচনার শুরুতে থাকা সুস্পষ্ট বক্তব্যটি বর্জন করেছেন। আর আল্লাহর নিকটই সাহায্য চাওয়া হয়।
এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত সর্বজনীন ফিকহী মূলনীতিসমূহ দলীল হিসেবে গ্রহণ না করার যে মতটি আল-হামাভী, ইবনে নুজাইম, জুওয়াইনী, ইবনে দাকীক আল-ঈদ এবং মাজাল্লাতুল আহকাম থেকে বর্ণিত হয়—
তা এমন একটি উক্তি যার কোনো ভিত্তি নেই।
কবিতা বা পঙক্তি:
ফিকহ পাঁচটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত
… তা হলো কার্যাবলি তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিচার্য।
এরপর হলো নিশ্চিত বিশ্বাস সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না
… সুতরাং যা বলা হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শোনো।
আর কাঠিন্য সহজতাকে নিয়ে আসে
… এটি তৃতীয় মূলনীতি, সুতরাং এ বিষয়ে বিজ্ঞ হও।
চতুর্থত যা বলা হয় তা হলো ক্ষতি
… দূরীভূত করতে হবে, এমন কথা যাতে কোনো ধোঁকা নেই।
পঞ্চমত প্রথাকে মীমাংসাকারী ধরো
… এই পাঁচটিই সুদৃঢ় মূলনীতি।
বরং তাঁদের কেউ কেউ সম্পূর্ণ ফিকহকে ফিরিয়ে এনেছেন
… একটি পূর্ণাঙ্গ মূলনীতির দিকে।
আর তা হলো কল্যাণ অর্জন করা
… এবং অনিষ্ট ও মন্দকে প্রতিহত করা।
বরং কেউ বলেছেন এই সব কিছুই ফিরে যায়
… এর প্রথম অংশের দিকে এবং তা গৃহীত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
لوحة:
«حق على طالب التحقيق ومن يتشوق إلى المقام الأعلى في التصور والتصديق أن يحكم قواعد الأحكام ليرجع إليها عند الغموض وينهض بعبء الاجتهاد أتم نهوض ثم يؤكدها بالاستكثار من حفظ الفروع؛ لترسخ في الذهن مثمرة عليه بفوائد غير مقطوع فضلها، ولا ممنوع.
أما استخراج القوى وبذل المجهود في الاقتصار على حفظ الفروع من غير معرفة أصولها ونظم الجزئيات بدون فهم مأخذها، فلا يرضاه لنفسه ذو نفس أبية، ولا حامله من أهل العلم بالكلية.
قال إمام الحرمين في كتاب المدارك: "الوجه لكل متخذ للإقلال بأعباء الشريعة معه أن يجعل الإحاطة بالأصول سوقه الألذ وبنص مسائل الفقه عليها نص من يحاول بإيرادها تهذيب الأصول، ولا ينزف حمام ذهنه في وضع الوقائع مع العلم بأنها لا تنحصر على الذهول عن الأصول" انتهى.
وإن تعارض الأمران وقصر وقت طالب العلم عن الجميع بينهما -لضيق، أو غيره من آفات الزمان- فالرأي لذي الذهن الصحيح الاقتصار على حفظ القواعد وفهم المآخذ»
(1)--------------------------------------------
لوحة:
«প্রকৃত সত্য অনুসন্ধানকারী এবং যিনি কল্পনা ও সত্যায়নের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাতে আগ্রহী, তাঁর জন্য অপরিহার্য হলো বিধানের মূলনীতিসমূহকে সুদৃঢ় করা, যেন অস্পষ্টতার সময় সেগুলোর দিকে ফিরে আসা যায় এবং ইজতিহাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয়। অতঃপর ফুরু বা শাখা-প্রশাখা অধিক পরিমাণে মুখস্থ করার মাধ্যমে সেগুলোকে আরও শক্তিশালী করা; যাতে তা হৃদয়ে বদ্ধমূল হয়ে এমন ফল প্রদান করে যার উপকারিতা বিচ্ছিন্ন বা রুদ্ধ হয় না।
আর মূলশক্তি বা উৎস সম্পর্কে না জেনে কেবল ফুরু বা শাখা-প্রশাখা মুখস্থ করার পেছনে শ্রম ব্যয় করা এবং উৎসের সম্যক উপলব্ধি ব্যতিরেকে আংশিক বিষয়গুলো সাজানো—এমন কাজ কোনো আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি নিজের জন্য পছন্দ করেন না এবং কোনো প্রকৃত আলেমও তা পুরোপুরি গ্রহণ করেন না।
ইমামুল হারামাইন 'আল-মাদারিক' গ্রন্থে বলেছেন: "শরীয়তের সুমহান দায়িত্ব পালনকারীর জন্য উচিত হলো উসুল বা মূলনীতিসমূহের ওপর পূর্ণ দখল অর্জন করাকে তার সবচেয়ে তৃপ্তিদায়ক লক্ষ্য বানানো। আর ফিকহী মাসআলাগুলোকে উসুলের ওপর এমনভাবে সাজানো যেমনটি কেউ উসুলকে পরিমার্জিত করার জন্য করে থাকে। নিত্যনতুন ঘটনাবলী লিপিবদ্ধ করার পেছনে নিজের মেধা নিংড়ে দেওয়া উচিত নয়—এটা জেনেও যে ঘটনাবলী অগণিত—যদি তা উসুল বা মূলনীতি থেকে বিমুখ করে দেয়।" সমাপ্ত।
আর যদি উভয় বিষয়ের (উসুল ও ফুরু) মাঝে দ্বন্দ্ব দেখা দেয় এবং সময়ের সংকীর্ণতা বা যুগের অন্যান্য সমস্যার কারণে তালিবে ইলমের পক্ষে উভয়টি সমন্বয় করা সম্ভব না হয়, তবে সুস্থ বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তির জন্য অভিমত হলো কাওয়ায়েদ বা মূলনীতি মুখস্থ করা এবং উৎসের উপলব্ধির ওপরই সীমাবদ্ধ থাকা।»
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
لوحة:
خريطة كلية لما يتضمنه الكتاب من القواعد الكبرى وما يتعلق بها من القواعد
القواعد الست الكبرى التي تبنى عليها الشريعة:والقواعد المتعلقة بها.
•
القاعدة الأولى: الأعمال بالنيات والأمور بمقاصدها•
القواعد المتعقلة بها:1 - العبرة في العقود بالمعاني.
2 - مقاصد اللفظ على نية اللافظ.
3 - كل حيلة أدت إلى الحرام فهي حرام.
4 - التصرفات دليل المقاصد الباطنة.
5 - المقاصد المشروعة لا تسوغ الوسائل المحظورة.
6 - قصدت الشريعة إخراج المكلف عن مقاصد الأهواء.
7 - الصريح لا يحتاج إلى النية والكناية لا تلزم إلا بالنية.
•
القاعدة الثانية: الشريعة مبنية على جلب المصالح ودرء المفاسد•
القواعد المتفرعة عنها والمتعلقة بها1 - اتباع المصالح يبنى على ضوابط الشرع ومراسمه.
2 - الشريعة تعتبر المصالح الحالية والمآلية.
ছক:
কিতাবটিতে অন্তর্ভুক্ত প্রধান মূলনীতিসমূহ এবং এ সংক্রান্ত নিয়মাবলির একটি সামগ্রিক রূপরেখা।
শরীয়ত যে ছয়টি প্রধান মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত:এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট মূলনীতিসমূহ।
•
প্রথম মূলনীতি: আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং কার্যাবলি তার উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে বিবেচ্য•
এর সাথে সংশ্লিষ্ট মূলনীতিসমূহ:১ - চুক্তির ক্ষেত্রে তার অন্তর্নিহিত অর্থের গুরুত্বই বিবেচ্য।
২ - শব্দের উদ্দেশ্য বক্তার নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।
৩ - যে কোনো কৌশল যা হারামের দিকে নিয়ে যায়, তা হারাম।
৪ - বাহ্যিক আচরণসমূহ অভ্যন্তরীণ উদ্দেশ্যের প্রমাণ।
৫ - শরীয়তসম্মত উদ্দেশ্য কোনো নিষিদ্ধ উপায়কে বৈধ করে না।
৬ - শরীয়তের লক্ষ্য হলো মুকাল্লাফকে (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) প্রবৃত্তির তাড়না থেকে মুক্ত করা।
৭ - স্পষ্ট উক্তির ক্ষেত্রে নিয়তের প্রয়োজন নেই, তবে রূপক বা ইশারাধর্মী উক্তির ক্ষেত্রে নিয়ত ছাড়া বিধান কার্যকর হয় না।
•
দ্বিতীয় মূলনীতি: শরীয়ত কল্যাণ অর্জন এবং অকল্যাণ দূর করার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত•
এ থেকে উদ্ভূত এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট মূলনীতিসমূহ:১ - জনকল্যাণ অনুসরণ করা শরীয়তের নীতিমালা ও বিধিনিষেধের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে।
২ - শরীয়ত বর্তমান এবং পরিণামগত উভয় প্রকার কল্যাণকেই বিবেচনা করে।
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
3 - المعتبر في المصالح والمفاسد الغلبة، ولا عبرة بالمقابل المغلوب.
4 - كل مصلحة دنيوية ناقضت مصالح الآخرة فهي باطلة.
5 - تصرف الإمام منوط بالمصلحة.
6 - حكم الحاكم يرفع الخلاف.
7 - إذا تزاحمت المصالح قدم أعلاها.
8 - إذا تزاحمت المفاسد دفع أعلاها.
9 - درء المفاسد مقدم على جلب المصالح.
10 - الوسائل لها أحكام المقاصد.
قواعد فرعية حاكمة للموازنات المصلحية حال التعارض1 - إذا تعارضت المصالح قدم أعلاها.
2 - كل مصلحة دنيوية ناقضت مصالح الآخرة فهي باطلة.
3 - كل مصلحة ناقضت النص فهي باطلة.
4 - الجمع بين المصلحتين أولى من إبطال أحدهما.
5 - الضرورات مقدمة على الحاجات والحاجات مقدمة على التتمات والتكملات.
6 - المكمل للضروري مقدم على الحاجي.
7 - إذا تعارض المكمل مع ما كمله سقط المكمل.
8 - إذا تساوت المصالح في الحكم والرتبة قدم أعظمها نوعا.
9 - إذا اتحد نوع المصلحة والمفسدة كان التفاوت بالقلة والكثرة.
10 - المصلحة العامة مقدمة على المصلحة الخاصة.
11 - ترتب المصالح بحسب الأحكام الخمسة عند التعارض.
3 - কল্যাণ ও অকল্যাণের ক্ষেত্রে প্রাধান্যই বিচার্য, আর যা পরাজিত বা গৌণ তা বিবেচনাযোগ্য নয়।
4 - প্রতিটি পার্থিব কল্যাণ যা পরকালীন কল্যাণের পরিপন্থী, তা বাতিল।
5 - শাসকের সিদ্ধান্ত জনকল্যাণের সাথে সম্পৃক্ত।
6 - শাসকের ফয়সালা বিরোধ মিটিয়ে দেয়।
7 - যখন একাধিক কল্যাণ পরস্পর বিরোধী হয়, তখন উচ্চতরটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
8 - যখন একাধিক অকল্যাণ পরস্পর বিরোধী হয়, তখন বৃহত্তর অকল্যাণটিকে প্রতিহত করা হবে।
9 - অকল্যাণ প্রতিহত করা কল্যাণ অর্জনের চেয়ে অগ্রাধিকারযোগ্য।
10 - উপায়ের বিধান লক্ষ্যের বিধানের অনুরূপ হবে।
বিরোধের সময় কল্যাণের তুলনামূলক ভারসাম্যতা নিয়ন্ত্রণকারী উপ-নীতিমালা1 - যখন কল্যাণসমূহের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, তখন উচ্চতরটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
2 - প্রতিটি পার্থিব কল্যাণ যা পরকালীন কল্যাণের পরিপন্থী, তা বাতিল।
3 - প্রতিটি কল্যাণ যা অকাট্য দলিলের (নস) পরিপন্থী, তা বাতিল।
4 - দুটি কল্যাণের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা তাদের কোনো একটিকে বাতিল করার চেয়ে উত্তম।
5 - আবশ্যিক বিষয়সমূহ (যরুরত) প্রয়োজনীয় বিষয়ের (হাজাত) ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য, আর প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ পরিপূরক ও অলংকরণমূলক বিষয়ের ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য।
6 - আবশ্যিক বিষয়ের পরিপূরক প্রয়োজনীয় বিষয়ের ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য।
7 - যখন পরিপূরক বিষয়টি মূল বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তখন পরিপূরকটি বাতিল হয়ে যায়।
8 - যখন কল্যাণসমূহ বিধান ও মর্যাদার দিক থেকে সমান হয়, তখন প্রকারগত দিক থেকে যেটি মহত্তর সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
9 - যখন কল্যাণ ও অকল্যাণের প্রকার এক হয়ে যায়, তখন স্বল্পতা ও আধিক্যের ভিত্তিতে পার্থক্য নির্ণীত হবে।
10 - জনকল্যাণ ব্যক্তিগত কল্যাণের ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য।
11 - বিরোধের ক্ষেত্রে পাঁচটি শরয়ি বিধানের ভিত্তিতে কল্যাণসমূহকে বিন্যস্ত করা হবে।
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
12 - النفع المتعدي أفضل من القاصر.
13 - كل مصلحتين متساويتين يتعذر الجمع بينهما يخير بينهما.
•
القاعدة الثالثة: لا ضرر، ولا ضرار•
القواعد المتعلقة بها1 - الضرر لا يزال بمثله.
2 - الضرر لا يكون قديما.
3 - يتحمل الضرر الخاص لدفع العام.
4 - الضرر الأشد يزال بالأخف.
5 - يختار أهون الشرين.
6 - الضرورات تبيح المحظورات.
7 - الضرورات تقدر بقدرها.
•
القاعدة الرابعة: الشريعة مبنية على التيسير• القواعد المتعلقة بها:
• المشقة تجلب التيسير
1 - التكليف إنما يكون على الوسع.
2 - ما عمت بليته خفت قضيته.
3 - الجهل والخطأ والنسيان والإكراه عفو.
4 - الميسور لا يسقط بالمعسور.
5 - الظن الغالب ينزل منزلة اليقين.
6 - قاعدة تتبع الرخص والتلفيق.
7 - لا إنكار في مسائل الخلاف.
১২ - পরোপকারী ফায়দা বা উপকার সীমাবদ্ধ উপকারের চেয়ে উত্তম।
১৩ - যখন দুটি সমান কল্যাণকর বিষয়কে একত্রে অর্জন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন সে দুটির মধ্য থেকে যেকোনো একটিকে বেছে নেয়ার সুযোগ থাকে।
•
তৃতীয় মূলনীতি: ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না•
এর সাথে সংশ্লিষ্ট উপ-নীতিমালা১ - ক্ষতিকে অনুরূপ ক্ষতি দ্বারা দূর করা যাবে না।
২ - ক্ষতি প্রাচীন হতে পারে না (অর্থাৎ প্রাচীন ক্ষতিকেও বৈধ মনে করা যাবে না)।
৩ - সামষ্টিক ক্ষতি দূর করার স্বার্থে ব্যক্তিগত বা বিশেষ ক্ষতি মেনে নেয়া হবে।
৪ - অধিকতর গুরুতর ক্ষতিকে অপেক্ষাকৃত লঘু ক্ষতি দ্বারা নিরসন করা হবে।
৫ - দুটি মন্দের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম মন্দটি বেছে নেয়া হবে।
৬ - চরম প্রয়োজনীয়তা নিষিদ্ধ বিষয়সমূহকে বৈধ করে।
৭ - চরম প্রয়োজনীয়তার বিধান প্রয়োজনের মাত্রা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
•
চতুর্থ মূলনীতি: শরীয়ত সহজীকরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত• এর সাথে সংশ্লিষ্ট উপ-নীতিমালা:
• কষ্ট সহজীকরণকে অনিবার্য করে
১ - কোনো বিধান কেবল সামর্থ্য অনুযায়ী অর্পণ করা হয়।
২ - যে বিপদ বা সমস্যা ব্যাপক রূপ ধারণ করে, তার বিধান সহজ করে দেয়া হয়।
৩ - অজ্ঞতা, ভুল, বিস্মৃতি এবং বাধ্যবাধকতা ক্ষমাযোগ্য।
৪ - সহজসাধ্য বিষয় কঠিন বিষয়ের কারণে রহিত হয়ে যায় না।
৫ - প্রবল ধারণা নিশ্চিত বিশ্বাসের স্থলাভিষিক্ত হয়।
৬ - সহজ সুযোগ বা রুখসত অন্বেষণ এবং (মাযহাবের) সংমিশ্রণ সংক্রান্ত মূলনীতি।
৭ - মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়সমূহে কোনো আপত্তি বা প্রতিবাদ নেই।
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
8 - الكتاب كالخطاب.
9 - الإشارة المعهودة للأخرس كالبيان.
10 - العبرة للغالب الشائع لا للنادر
•
القاعدة الخامسة: اليقين لا يزول بالشك•
القواعد المتعلقة بها:1 - الأصل براءة الذمة.
2 - الأصل بقاء ما كان على ما كان.
3 - الأصل في الصفات العارضة العدم.
4 - الأصل في الأبضاع التحريم.
5 - الأصل في الأعيان الطهارة.
6 - الأصل في الكلام الحقيقة.
7 - إعمال الكلام أولى من إهماله.
8 - لا عبرة بالظن البين خطأه.
9 - لا عبرة بالتوهم.
10 - لا ينسب إلى ساكت قول.
11 - العبرة للغالب الشائع لا للنادر.
12 - الأصل في الأشياء الإباحة.
•
القاعدة السادسة: العادة محكمة• القواعد المتعلقة بها:
1 - الممتنع عادة كالممتنع حقيقة.
2 - استعمال الناس حجة.
৮ - লিখিত বক্তব্য মৌখিক সম্বোধনের সমতুল্য।
৯ - বাকপ্রতিবন্ধীর পরিচিত ইশারা সুস্পষ্ট বর্ণনার সমতুল্য।
১০ - প্রচলিত ও ব্যাপ্ত বিষয়ই ধর্তব্য, দুর্লভ বিষয় নয়।
•
পঞ্চম মূলনীতি: নিশ্চিত বিশ্বাস সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না।•
এর সাথে সংশ্লিষ্ট মূলনীতিসমূহ:১ - মূলত মানুষ দায়মুক্ত।
২ - কোনো বিষয় অতীতে যে অবস্থায় ছিল, তা সেই অবস্থায় বহাল থাকাই মূল নীতি।
৩ - আকস্মিক গুণাবলির ক্ষেত্রে অনুপস্থিতিই মূল নীতি।
৪ - যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো নিষিদ্ধতা।
৫ - বস্তুনিচয়ের ক্ষেত্রে পবিত্রতা হওয়াই মূল নীতি।
৬ - শব্দের ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করাই মূল ভিত্তি।
৭ - কথাকে কার্যকর করা তা পরিত্যাগ করার চেয়ে অধিক উত্তম।
৮ - যে ধারণার ভুল হওয়া স্পষ্ট হয়েছে তার কোনো ধর্তব্য নেই।
৯ - অলীক ভাবনার কোনো ধর্তব্য নেই।
১০ - নীরব ব্যক্তির প্রতি কোনো বক্তব্য আরোপ করা যায় না।
১১ - প্রচলিত ও ব্যাপ্ত বিষয়ই ধর্তব্য, দুর্লভ বিষয় নয়।
১২ - সকল বস্তুর ক্ষেত্রে বৈধতা হওয়াই মূল নীতি।
•
ষষ্ঠ মূলনীতি: প্রথা বা অভ্যাস ফয়সালাকারী হিসেবে গণ্য।• সংশ্লিষ্ট মূলনীতিসমূহ:
১ - অভ্যাসগতভাবে অসম্ভব বিষয় বাস্তবে অসম্ভব বিষয়ের মতোই।
২ - মানুষের ব্যবহারিক রীতি একটি প্রমাণ।
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
3 - التعيين بالعرف كالتعيين بالنص.
4 - إنما تُعتبر العادة إذا اطردت أو غَلَبت
5 - الحقيقة تترك بدلالة العادة.
6 - المعروف عرفا كالمشروط شرطا.
7 - المعروف بين التجار كالمشروط.
8 - الكتاب كالخطاب.
9 - الإشارة المعهودة للأخرس كالبيان.
10 - لا ينكر تغير الفتوى بتغير الزمن.
11 - قواعد التابع تابع.
3 - প্রচলিত প্রথা বা উরফের মাধ্যমে নির্ধারণ করা দালিলিক বর্ণনা বা নস দ্বারা নির্ধারণ করার মতোই।
4 - প্রথা তখনই গ্রহণযোগ্য হবে যখন তা অবিচ্ছিন্নভাবে চলে আসবে অথবা তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রচলিত হবে।
5 - প্রথার নির্দেশনার ভিত্তিতে শব্দের আক্ষরিক অর্থ বর্জন করা হয়।
6 - প্রথাগতভাবে যা সুপরিচিত, তা চুক্তিতে শর্তারোপ করার মতোই।
7 - ব্যবসায়ীদের মাঝে যা সুপরিচিত, তা চুক্তিতে শর্তারোপ করার মতোই।
8 - লিখিত বিষয় সরাসরি সম্বোধনের মতোই।
9 - বাকশক্তিহীন ব্যক্তির সুপরিচিত ইশারা স্পষ্ট বর্ণনার মতোই।
10 - সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে ফতোয়ার পরিবর্তন হওয়া অনস্বীকার্য।
11 - অনুগামী বা অধীনস্থ বিষয় মূলের অনুসারী হওয়ার মূলনীতিসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الباب الأولالقاعدة الكلية الكبرى: الأمور بمقاصدها ولا عمل إلا بنيةوما يتعلق بها من القواعد والتنزيل المتقدم والمعاصرالفصل الأول: الأمور بمقاصدها ولا عمل إلا بنية، التصور والتأصيل والأثر الفقهي المتقدم والمعاصر.
الفصل الثاني: القواعد المتعلقة بقاعدة الأمور بمقاصدها.
প্রথম অধ্যায়সর্ববৃহৎ সামগ্রিক মূলনীতি: সকল বিষয় তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল এবং নিয়ত ব্যতীত কোনো আমল নেইএবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট নিয়মাবলি এবং প্রাচীন ও সমকালীন প্রয়োগপ্রথম পরিচ্ছেদ: সকল বিষয় তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল এবং নিয়ত ব্যতীত কোনো আমল নেই; এর ধারণা, মূল ভিত্তি নির্ধারণ এবং প্রাচীন ও সমকালীন ফিকহি প্রভাব।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ‘সকল বিষয় তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল’ এই মূলনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নিয়মাবলি।
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الفصل الأول: الأمور بمقاصدها ولا عمل إلا بنية، التصور والتأصيل والأثر الفقهي المتقدم والمعاصروسينتظم الكلام على القاعدة في مبحثين:
• المبحث الأول: سؤال التصور والتأصيل والأحكام.
• المبحث الثاني: أثر القاعدة في فقه العصر.
প্রথম পরিচ্ছেদ: কার্যাবলি তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিবেচিত হয় এবং নিয়ত ছাড়া কোনো আমল নেই; ধারণা, মূলনীতি নির্ধারণ এবং প্রাচীন ও সমকালীন ফিকহী প্রভাবএই নীতিমালার আলোচনা দুটি অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত হবে:
• প্রথম অনুচ্ছেদ: ধারণা, মূলনীতি নির্ধারণ এবং বিধান সংক্রান্ত প্রশ্নাবলি।
• দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: বর্তমান যুগের ফিকহশাস্ত্রে এই নীতিমালার প্রভাব।
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
المبحث الأول: سؤال التصور والتأصيل والإثمارهذه القاعدة من أهم القواعد الفقهية، وهي مأخوذة من حديث إنما الأعمال بالنيات، ومن كثير من النصوص من القرآن والسنة، كقوله تعالى: {وَمَا أُمِرُوا إِلاَّ لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ} [البينة: 5].
ويعبر عنها بقولهم: الأمور بمقاصدها، ولا عمل إلا بنية، واللفظ النبوي أصل القاعدة.
قال السبكي: "وأرشق وأحسن من هذه العبارة: قول من أوتي جوامع الكلم صلى الله عليه وسلم «إنما الأعمال بالنيات»
(1)، والكلام على هذا المبحث سنجعله في المطالب التالية:
المطلب الأول: معنى القاعدةالأمور جمع أمر وتطلق على القول وعلى الشأن ويفرق بينهما بالجمع فيقال للشأن أمور وللقول أوامر
(2)، والمقصود به هنا: ما يصدر
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: ধারণা, মূলনীতি নির্ধারণ এবং অর্জিত ফলাফল সংক্রান্ত অনুসন্ধানএই মূলনীতিটি ফিকহ শাস্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিসমূহের অন্যতম। এটি 'নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল'—এই হাদিস এবং কুরআন ও সুন্নাহর অসংখ্য পাঠ (নস) থেকে গৃহীত হয়েছে। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁরই প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে।" [আল-বায়্যিনাহ: ৫]।
একে ব্যক্ত করা হয় পণ্ডিতগণের এই উক্তির মাধ্যমে: 'কাজসমূহ তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল', এবং 'নিয়ত ছাড়া কোনো আমল নেই'। নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ব্যবহৃত শব্দই মূলত এই মূলনীতির ভিত্তি।
আস-সুবকি বলেন: "এই অভিব্যক্তির চেয়েও অধিক প্রাঞ্জল ও সুন্দর হলো সেই ব্যক্তির উক্তি যাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ (জাওয়ামিউল কালিম) প্রদান করা হয়েছে, তিনি হলেন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম): 'নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল'
(১)। এই পরিচ্ছেদের আলোচনা আমরা পরবর্তী অনুচ্ছেদসমূহে বিন্যস্ত করব:
প্রথম অনুচ্ছেদ: মূলনীতির অর্থ'আল-উমুর' শব্দটি 'আমর' শব্দের বহুবচন। এটি কোনো উক্তি বা কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। বহুবচনের মাধ্যমে এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করা হয়; বিষয়ের ক্ষেত্রে বহুবচন হিসেবে বলা হয় 'উমুর' আর উক্তি বা নির্দেশের ক্ষেত্রে বলা হয় 'আওয়ামির'
(২)। এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: যা নির্গত হয় বা প্রকাশ পায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
من المكلف من أقوال، وأفعال، ومنه قوله تعالى: {وَمَا أَمْرُ فِرْعَوْنَ بِرَشِيدٍ} [هود: 97] أي: شأنه كله من أقواله وأفعاله.
والمقاصد لغة: جمع قصد، وهي النيات والأرادات الباعثة على الأقوال والأفعال والتصرفات قال الخليل: "النِّيّة: ما ينوي الإنسان بقلبه من خَيْرٍ، أو شرٍّ .. والنَّوَى والنية: واحد، وهي: النِّية، مخففة، ومعناها: القصد. والنَّوى: الوجه الذي يقصده
(1) ".
والنيّات جمع نية -بكسر النون وتشديد الياء التحتانية على المشهور- وفي بعض اللغات بتخفيفها
(2).
والنية في الاصطلاح: الإرادة المتوجهة نحو الفعل ابتغاء مرضاة الله تعالى، وهذا للبيضاوي نقله عنه جمع
(3).
وذكر غيره أن النية والقصد والإرادة والعزم بمعنى
(4).
قال الفاداني: ولكن إذا حققنا النظر بينهما تفرقة قريبة، فالنية عبارة عن تمييز الأغراض بعضها عن بعض، والقصد جمع الهمة نحو الغرض المطلوب، والعزم يقوي القصد وينشطه، والإرادة تصرف الموانع المثبطة لانتهاض القدرة، وتتوجه نحوها
(5).
قلت: الفرق الذي أورده فيه نظر، فهذا المراتب واحدة فإن المصلي لفرض الظهر مثلا تتصل نيته بالعمل مباشرة وهكذا من صام وزكى وحج فالنية أول العمل إلا الصوم تيسيرا فأين هذه المراتب لذلك أجمع
--------------------------------------------
একজন মুকাল্লাফের (শরিয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) কথা ও কাজসমূহ। আর এ থেকে মহান আল্লাহর বাণী: "আর ফেরাউনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না" [হুদ: ৯৭] অর্থাৎ: তার সকল কথা ও কাজের সামগ্রিক অবস্থা।
মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ) শাব্দিকভাবে: কাসদ-এর বহুবচন। আর এগুলো হলো এমন সব নিয়্যত ও ইচ্ছা যা কথা, কাজ ও আচরণের চালিকাশক্তি। খলিল বলেন: "নিয়্যত হলো: মানুষ তার অন্তরে ভালো বা মন্দের যে ইচ্ছা পোষণ করে... 'নাওয়া' ও 'নিয়্যাহ' উভয়ই এক, আর তা হলো 'নিয়্যাহ', তাশদীদ ছাড়া (সংক্ষিপ্ত রূপ), এর অর্থ: উদ্দেশ্য। আর নাওয়া হলো: যে লক্ষ্যের দিকে কেউ ধাবিত হয়
(১)।"
আর নিয়্যাত শব্দটি নিয়্যাহ-এর বহুবচন—বিখ্যাত মতানুসারে নূন অক্ষরে কাসরা এবং নিচের ইয়া অক্ষরে তাশদীদ সহকারে—আর কিছু উপভাষায় তাশদীদ ছাড়াও এটি উচ্চারিত হয়
(২)।
পারিভাষিক অর্থে নিয়্যত হলো: মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কোনো কাজের দিকে ধাবিত হওয়া ইচ্ছা। এটি ইমাম বায়যাবীর সংজ্ঞা, যা একদল আলেম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন
(৩)।
অন্যগণ উল্লেখ করেছেন যে, নিয়্যত, কাসদ (উদ্দেশ্য), ইরাদাহ (ইচ্ছা) এবং আযম (সংকল্প) সমার্থবোধক
(৪)।
আল-ফাদানী বলেন: তবে আমরা যদি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি তবে এগুলোর মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। নিয়্যত হলো বিভিন্ন উদ্দেশ্যকে একটি থেকে অন্যটি পৃথক করা। কাসদ বা উদ্দেশ্য হলো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করা। আযম বা সংকল্প কাসদকে শক্তিশালী ও উদ্দীপ্ত করে। আর ইরাদাহ বা ইচ্ছা সামর্থ্য প্রয়োগে বাধাদানকারী অন্তরায়গুলোকে দূর করে এবং সেই লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হয়
(৫)।
আমি বলি: তিনি যে পার্থক্য উল্লেখ করেছেন তাতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, কারণ এই স্তরগুলো অভিন্ন। কেননা উদাহরণস্বরূপ, জোহরের ফরয সালাত আদায়কারীর নিয়্যত সরাসরি আমলের সাথে যুক্ত থাকে। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি রোজা রাখে, যাকাত দেয় এবং হজ করে, তাদের ক্ষেত্রেও আমলের শুরুতেই নিয়্যত থাকে—তবে রোজার ক্ষেত্রে সহজীকরণের লক্ষ্যে (আগে নিয়্যত করার) সুযোগ রয়েছে। সুতরাং সেই স্তরগুলো কোথায়? এই কারণে সর্বসম্মতভাবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল কাওয়ায়িদুল উম্মু লিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
الفقهاء على قولهم: الأمور بمقاصدها
(1)، أي: بنياتها، فالقصد والنية واحد، والتفريق بينهما خلاف هذا الاتفاق، وخلاف صريح اللغة.
ولكن قد يقال إن هذه المراتب تصلح في العاديات الحياتية.
ومعنى القاعدة: أن الأحكام الشرعية على ما يصدر من المكلف من تصرفات قولية، أو فعلية مبنية على نية المكلف ومقصده، وهدفه، فمن أمسك زوجته وكان مقصده الإضرار بها، لم يحل له ذلك؛ لقوله تعالى: {وَلَا تُمْسِكُوهُنَّ ضِرَارًا لِتَعْتَدُوا} [البقرة: 231]
(2).
المطلب الثاني: أهمية القاعدة وتأصيلهاهذه القاعدة من أهم قواعد الشريعة على الإطلاق؛ ولأهميتها العظيمة فإنه يتعلق بها صلاح العمل، وفساده، وصحته، وبطلانه، وقبوله عند الله، ورده، وهي مأخوذة من نصوص الكتاب، والسنة الدالة على أنه لا عمل إلا بنية، فمن ذلك:
قوله تعالى: {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ} [البينة: 5]، فدلت الآية أن العبادة بأنواعها شرطها النية.
والحديث المتفق عليه: {إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى، فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله، فهجرته إلى الله ورسوله، ومن
--------------------------------------------
ফকিহগণ তাদের এই বক্তব্যের ওপর একমত যে: কার্যাবলি তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল
(১), অর্থাৎ: নিয়ত বা সংকল্পের ওপর। সুতরাং উদ্দেশ্য ও নিয়ত অভিন্ন, আর এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করা এই ঐকমত্যের পরিপন্থী এবং ভাষার সুস্পষ্ট ব্যবহারের বিরোধী।
তবে বলা যেতে পারে যে, এই স্তরগুলো জীবনের সাধারণ বিষয়াবলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
মূলনীতিটির অর্থ হলো: মুকাল্লাফ (শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তি) থেকে যা কিছু কথা বা কাজ প্রকাশ পায়, তার শরয়ি বিধানসমূহ সেই ব্যক্তির নিয়ত, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। সুতরাং কেউ যদি তার স্ত্রীকে আটকে রাখে এবং তার উদ্দেশ্য হয় তাকে কষ্ট দেওয়া, তবে তা তার জন্য হালাল হবে না; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা তাদেরকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে আটকে রেখো না যাতে তোমরা সীমালঙ্ঘন করো} [আল-বাকারাহ: ২৩১]
(২)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মূলনীতিটির গুরুত্ব ও এর উৎসএই মূলনীতিটি সামগ্রিকভাবে শরিয়তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিগুলোর অন্যতম; এর বিশাল গুরুত্বের কারণে আমলের বিশুদ্ধতা ও কলুষতা, সঠিকতা ও বাতিল হওয়া এবং আল্লাহর কাছে তার কবুল হওয়া বা প্রত্যাখ্যাত হওয়া এর সাথেই সম্পৃক্ত। এটি কুরআন ও সুন্নাহর সেই সব নস (পাঠ) থেকে গৃহীত যা প্রমাণ করে যে, নিয়ত ছাড়া কোনো আমল নেই। তার মধ্যে রয়েছে:
আল্লাহ তাআলার বাণী: {তাদেরকে কেবল এ নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁর প্রতি আনুগত্যকে একনিষ্ঠ রেখে এবং নামাজ কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে। আর এটিই সঠিক দ্বীন} [আল-বাইয়্যিনাহ: ৫]। এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, সকল প্রকার ইবাদতের শর্ত হলো নিয়ত।
এবং মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত) হাদিস: {নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করবে তাই সে পাবে। সুতরাং যার হিজরত হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার...
--------------------------------------------