(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: -)
المختصر في أصول الفقه القسم: أصول الفقه
الكتاب: المختصر في أصول الفقه
المؤلف: عبد الفتاح بن محمد بن مصيلحي
الناشر: مكتبة العلوم والحكم - الشرقية، مصر
الطبعة: الأولى، 1442 هـ - 2020 م
عدد الصفحات: 50
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 رجب 1445
আল-মুখতাসার ফি উসুলুল ফিকহ বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
গ্রন্থ: আল-মুখতাসার ফি উসুলুল ফিকহ
লেখক: আবদ আল-ফাত্তাহ বিন মুহাম্মদ বিন মুসাইলহি
প্রকাশক: মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম - আশ-শারকিয়া, মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪২ হিজরি - ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ রজব ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله صلى الله عليه وسلم
فهذا مختصر في علم أصول الفقه، جمعت فيه مسائله وقواعده؛ تقريبًا وتسهيلًا لهذا العلم المبارك، واختصارًا لأهم مسائله، فمن ضعفت همته، وخارت قوته قد يكتفي به، ومن علت همته، وقويت عزيمته قد ينطلق منه إن شاء الله تعالى.
ولا يفوتني الشكر لأخي في الله / إبراهيم زكريا على ما قدم من جهد ونصح فيه، فجزاه الله خيرًا.
واللهَ أسأل أن يجعله خالصًا لوجهه، وأن ينفع به، ويكتب له القبول.
وصلى الله على محمد وعلى آله وصحبه.
كتبه
عبد الفتاح بن محمد بن مصيلحي
ভূমিকা (مقدمة)পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রাসূলের ওপর দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।
এটি ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত সার (مختصر); এতে আমি সংশ্লিষ্ট মাসআলাসমূহ (مسائل) এবং নীতিমালাগুলো (قواعد) সংকলন করেছি, যাতে এই বরকতময় জ্ঞানকে নিকটতর ও সহজতর করা যায় এবং এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা যায়। ফলে যার আকাঙ্ক্ষা দুর্বল এবং শক্তি ক্ষীণ, সে হয়তো এতেই তুষ্ট থাকবে; আর যার আকাঙ্ক্ষা সুউচ্চ এবং সংকল্প সুদৃঢ়, সে ইনশাআল্লাহ এখান থেকেই জ্ঞানসফরের সূচনা করতে পারবে।
আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে আমার দ্বীনি ভাই ইব্রাহিম জাকারিয়া এই কাজে যে শ্রম ও নসিহত প্রদান করেছেন, সেজন্য আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি; আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে কেবলমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, এর মাধ্যমে উম্মাহর উপকার করেন এবং একে গ্রহণযোগ্য হিসেবে লিপিবদ্ধ করেন।
আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর।
লিখেছেন
আবদুল ফাত্তাহ বিন মুহাম্মদ বিন মুসাইলিহি
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
مبادئ مهمة لعلم أصول الفقه
* الأول: الحد أي التعريف:
الأصولُ: جمعُ أصلٍ، وهو لُغةً: الأساس.
واصطلاحًا: يُطلقُ الأصلُ على أمورٍ، منها: الدليل، والقاعدة، وغير ذلك.
الفقهُ لغةً: الفهم.
واصطلاحًا: معرفة الأحكام الشرعية العملية المكتسبة من الأدلة التفصيلية.
* ثانيًا: تعريف أصول الفقه باعتباره لقبًا لهذا العلم:
هو العلم بالقواعد التي يتوصل بها إلى استنباط الأحكام الشرعية العملية من أدلتها التفصيلية.
* الثاني: الموضوع:
الأدلة الإجمالية، وكيفية الاستفادة منها، وبيان حال المستفيد، وقيل بيان طرق الاستنباط.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিসমূহ
* প্রথম: সংজ্ঞা (الحد) অর্থাৎ পরিচয়:
উসুল (الأصول): এটি আসল (أصل) শব্দের বহুবচন, যার আভিধানিক অর্থ: ভিত্তি (الأساس)।
পারিভাষিক অর্থ: 'আসল' শব্দটি কয়েকটি বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে: দলিল (الدليل), মূলনীতি (القاعدة) এবং এছাড়া অন্যান্য।
ফিকহ (الفقه) আভিধানিক অর্থ: অনুধাবন (الفهم)।
পারিভাষিক অর্থ: বিস্তারিত দলিলসমূহ (الأدلة التفصيلية) থেকে অর্জিত শরীয়তের আমলযোগ্য বিধানাবলির জ্ঞান।
* দ্বিতীয়ত: শাস্ত্রীয় নাম হিসেবে উসুলুল ফিকহ-এর সংজ্ঞা:
এটি হচ্ছে এমন কতগুলো মূলনীতি (القواعد) বিষয়ক জ্ঞান, যার মাধ্যমে বিস্তারিত দলিলসমূহ (الأدلة التفصيلية) থেকে শরীয়তের আমলযোগ্য বিধানাবলি আহরণ (استنباط) করার সক্ষমতা অর্জিত হয়।
* দ্বিতীয়: আলোচ্য বিষয় (الموضوع):
সামগ্রিক দলিলসমূহ (الأدلة الإجمالية), সেগুলো থেকে উপকৃত হওয়ার পদ্ধতি এবং ফায়দা গ্রহণকারীর (মুজতাহিদ) অবস্থা বর্ণনা করা; আর বলা হয়ে থাকে যে, এটি হচ্ছে আহরণ বা গবেষণার পদ্ধতিসমূহ (طرق الاستنباط) বর্ণনা করার নাম।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
* الثالث: الثمرة، وهى الفائدة:
1 - معرفة مراد الله ومراد رسوله صلى الله عليه وسلم من الكتاب والسنة.
2 - التمكن من حصول قدرة يستطيع بها استخراج الأحكام الشرعية من أدلتها على أسس سليمة.
3 - يثبت أن أحكام الإسلام صالحة لكل زمان ومكان.
4 - يمكن من تعليم الأحكام وبيانها أحسن بيان.
* الرابع: الواضع:
علم أصول الفقه كان موجودًا في زمن النبي صلى الله عليه وسلم وصحابته، لكنَّ أوَّل من جمعه في كتاب مستقل هو الإمام الشافعي رحمه الله وذلك في كتابه (الرسالة).
* الخامس: الاستمداد:
يُستمَد علم أصول الفقه من الكتاب والسنة، وما يرجع إليهما.
* السادس: حكم تعلمه:
فرض كفاية.
* السابع: مسائله:
هي تدوين المسالك التي يلتزمها المجتهد، ويسترشد بها، ويجتهد على ضوئها.
* তৃতীয়: ফল, তথা উপকারিতা:
1 - কিতাব ও সুন্নাহ থেকে মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশ্য অবগত হওয়া।
2 - সঠিক ভিত্তির ওপর দালিলিক প্রমাণাদি থেকে শরীয়তের বিধান (الأحكام الشرعية) আহরণ করার সক্ষমতা অর্জন করা।
3 - এটি প্রমাণ করে যে, ইসলামের বিধানসমূহ (أحكام) সকল কাল ও স্থানের জন্য উপযোগী।
4 - বিধানসমূহ (الأحكام) শিক্ষা দান এবং সর্বোত্তম উপায়ে সেগুলো বর্ণনা করতে সক্ষম করে তোলে।
* চতুর্থ: প্রবর্তক (الواضع):
উসূলে ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্রটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের যুগে বিদ্যমান ছিল, তবে সর্বপ্রথম একে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলন করেন ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ); আর তা হলো তাঁর আর-রিসালা গ্রন্থে।
* পঞ্চম: আহরণ বা উৎস (الاستمداد):
উসূলে ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্র কিতাব ও সুন্নাহ এবং যা এই দুইটির দিকে প্রত্যাবর্তন করে তা থেকে আহরণ করা হয়।
* ষষ্ঠ: এটি শেখার বিধান (حكم):
ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)।
* সপ্তম: এর বিষয়বস্তুসমূহ (مسائل):
এটি হলো সেই সব কর্মপন্থা বা পদ্ধতির লিপিবদ্ধকরণ যা মুজতাহিদ (المجتهد) অনুসরণ করেন, যা থেকে তিনি দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন এবং যার আলোকে তিনি গবেষণা বা ইজতিহাদ (اجتهاد) করেন।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৬)

|
৩০৫১. আসিম বিন বাহদালাহ, তিনি ইবনে আবি আল-নাজুদ আল-আসাদি আল-কুফি নামেও পরিচিত। তিনি একজন প্রসিদ্ধ ক্বারী এবং সত্যবাদী (صدوق), তবে বর্ণনার ক্ষেত্রে তার কিছু ভ্রম রয়েছে (له أوهام)। তিনি চতুর্থ স্তরের অন্তর্ভুক্ত এবং ১২৭ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
৩০৫২. আসিম বিন সুফিয়ান বিন আব্দুল্লাহ আল-সাকাফি। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত।
৩০৫৩. আসিম বিন সুলাইমান আল-আহওয়াল, আবু আব্দুর রহমান আল-বসরি। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও হাফিজ ছিলেন। তিনি চতুর্থ স্তরের অন্তর্ভুক্ত এবং ১৪২ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
৩০৫৪. আসিম বিন দামরাহ আস-সালুলি, আবু ইসমাইল আল-কুফি। তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে তার হাদিসে কিছু দুর্বলতা রয়েছে। তিনি দ্বিতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত এবং ৭৪ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
৩০৫৫. আসিম বিন আব্দুল্লাহ বিন আমির বিন রবিআহ আল-আনজি। তিনি দুর্বল (ضعيف) এবং চতুর্থ স্তরের অন্তর্ভুক্ত।
৩০৫৬. আসিম বিন আদি বিন আবদ আল-আশহাল আল-আনসারি। তিনি একজন সাহাবী (صحابي) এবং ১১৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
৩০৫৭. আসিম বিন আলী বিন আসিম আল-ওয়াসিতি। তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে ইমাম ইবনে মাইন তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন। তিনি দশম স্তরের অন্তর্ভুক্ত এবং ২২১ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
৩০৫৮. আসিম বিন উমর বিন কাতাদাহ বিন আল-নুমান আল-আনসারি। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং ইতিহাস ও সীরাত শাস্ত্রে অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি চতুর্থ স্তরের অন্তর্ভুক্ত এবং ১২০ হিজরীতে বা তার কিছু পরে মৃত্যুবরণ করেন।
৩০৫৯. আসিম বিন উমর বিন আল-খাত্তাব আল-আদাওয়ি। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং দ্বিতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত। তিনি ৭০ হিজরীর দিকে মৃত্যুবরণ করেন।
৩০৬০. আসিম বিন কুলাইব বিন শিহাব আল-জারমি। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং পঞ্চম স্তরের অন্তর্ভুক্ত।
৩০৬১. আসিম বিন লাকিত বিন সাবরাহ আল-উকাইলি। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত।
৩০৬২. আসিম আল-আনাজি, তিনি মূলত আসিম বিন আব্দুল্লাহ (পূর্বোক্ত বর্ণনাকারী ৩০৫৫)।
৩০৬৩. আসিম বিন আবিল আল-নাজুদ, তিনি মূলত আসিম বিন বাহদালাহ (পূর্বোক্ত বর্ণনাকারী ৩০৫১)।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الأحكام الشرعيةالأحكام: جمع حُكم، وهو لغةً: القضاء.
واصطلاحًا: خطاب الشرع المتعلق بأفعال المكلفين من طلب، أو تخيير، أو وضع.
وتنقسم الأحكام الشرعية إلى قسمين: تكليفية، ووضعية.
*
النوع الأول: الحكم التكليفي:التكليف هو طلب ما فيه مشقة.
والحكم التكليفي هو خطاب اللَّه تعالى المتعلق بفعل المكلف طلبًا أو تخييرًا، ويشمل الأحكام الخمسة، وهي الإيجاب والندب والإباحة والكراهة والتحريم.
*
المطلب الأول: الواجب.
الضابط الأول: تعريف الواجب:لغة: الثابت اللازم، وقيل: الساقط اللازم.
وفي الاصطلاح:
هو ما طلب الشرع فعله من المكلف طلبًا جازمًا، ويثاب فاعله امتثالًا، وتاركه مطلقًا متوعد بالعقاب.
শরয়ি বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية)আহকাম (الأحكام) হলো হুকুম (حكم)-এর বহুবচন। আভিধানিক অর্থে এর অর্থ হলো: বিচার বা ফয়সালা (القضاء)।
পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحًا): মুকাল্লাফ তথা শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (المكلفين) কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট শরয়ি সম্বোধন বা বাণী (خطاب الشرع), যা কোনো কিছু করার দাবি (طلب), ইখতিয়ার প্রদান (تخيير) অথবা কোনো অবস্থা নির্ধারণ (وضع)-এর সাথে সম্পৃক্ত।
শরয়ি বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية) দুই ভাগে বিভক্ত: তাকলিফি (تكليفية) এবং ওয়াদয়ি (وضعية)।
*
প্রথম প্রকার: আল-হুকুম আত-তাকলিফি (الحكم التكليفي):তাকলিফ (التكليف) হলো শ্রমসাধ্য কোনো বিষয়ের দাবি জানানো।
আল-হুকুম আত-তাকলিফি (الحكم التكليفي) হলো দাবি (طلبًا) অথবা ইখতিয়ার প্রদানের (تخييرًا) মাধ্যমে মুকাল্লাফের (المكلف) আমল বা কর্ম বিষয়ক মহান আল্লাহর বাণী। এটি পাঁচটি বিধানকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর সেগুলো হলো: ইজাব বা আবশ্যকতা (الإيجاب), নাদব বা পছন্দনীয়তা (الندب), ইবাহাত বা বৈধতা (الإباحة), কারাহাত বা অপছন্দনীয়তা (الكراهة) এবং তাহরিম বা নিষিদ্ধতা (التحريم)।
*
প্রথম পরিচ্ছেদ: ওয়াজিব (الواجب)।
প্রথম মূলনীতি: ওয়াজিব (الواجب)-এর সংজ্ঞা:আভিধানিক অর্থে: স্থির ও অপরিহার্য (الثابت اللازم), আবার বলা হয়েছে: অবধারিতভাবে যা পতিত হয় (الساقط اللازم)।
পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحًا):
তা হলো এমন কাজ যা শরয়ি বিধানদাতা মুকাল্লাফ (المكلف) ব্যক্তির নিকট থেকে সুদৃঢ়ভাবে (طلبًا جازمًا) দাবি করেছেন। এর সম্পাদনকারী আনুগত্য প্রদর্শনের (امتثالًا) মাধ্যমে সওয়াব লাভ করে এবং এর বর্জনকারী নিঃশর্তভাবে (مطلقًا) শাস্তির হুমকিতে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الضابط الثاني: قواعد الواجب:1 - ما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب.
2 - ما لا يتم الوجوب إلا به فليس بواجب.
3 - إذا تزاحمت الواجبات قدم الأعلى منها.
4 - إذا تزاحم الواجب مع السنة قدم الواجب.
تنبيه: الواجب منه معين ومخير، وعيني وكفائي، ومضيق وموسع.
*
المطلب الثاني: المندوب:
الضابط الأول: تعريف المندوب:لغة: المدعو إليه والمستحب، والندب: الدعاء إلى أمر مهم.
وفي الاصطلاح:
هو ما طلب الشرع فعله طلبًا غير جازم، ويثاب فاعله امتثالًا، وتاركه غير معاقب.
দ্বিতীয় মূলনীতি (الضابط الثاني): ওয়াজিবের (الواجب) বিধিমালা:1 - যা ব্যতীত ওয়াজিব (الواجب) পূর্ণ হয় না, তা-ও ওয়াজিব (واجب)।
2 - যা ব্যতীত ওয়াজিব হওয়া (الوجوب) সম্পন্ন হয় না, তা ওয়াজিব (واجب) নয়।
3 - যখন একাধিক ওয়াজিবের (الواجبات) মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হয়, তখন তার মধ্যে উচ্চতরটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
4 - যখন ওয়াজিব (الواجب) এবং সুন্নাহর (السنة) মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হয়, তখন ওয়াজিবকে (الواجب) অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সতর্কবার্তা (تنبيه): ওয়াজিব (الواجب) কখনো নির্দিষ্ট (معين) ও ঐচ্ছিক (مخير), কখনো ব্যক্তিগত (عيني) ও সামষ্টিক (كفائي), এবং কখনো সংকীর্ণ (مضيق) ও প্রশস্ত (موسع) হয়ে থাকে।
*
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المطلب الثاني): মানদুব (المندوب):
প্রথম মূলনীতি (الضابط الأول): মানদুবের (المندوب) সংজ্ঞা:শাব্দিক অর্থে (لغة): যার প্রতি আহ্বান করা হয়েছে এবং যা পছন্দনীয় (المستحب); আর 'নদব' (الندب) অর্থ হলো কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি আহ্বান করা।
পারিভাষিক অর্থে (في الاصطلاح):
এটি এমন বিষয় যা পালন করার জন্য শরিয়ত অটল নয় এমন (غير جازم) তলব বা নির্দেশ প্রদান করেছে; এর সম্পাদনকারী আনুগত্যের (امتثالًا) উদ্দেশ্যে পালন করলে সওয়াবপ্রাপ্ত হবে এবং বর্জনকারী শাস্তিযোগ্য হবে না।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الضابط الثاني: قواعد المندوب:1 - ما لا يتم المندوب إلا به فهو مندوب.
2 - المندوب لا يلزم بالشروع فيه إلا في الحج والعمرة.
3 - المندوب ليس جنسًا واحدًا بالنسبة لكل الناس.
4 - المندوب مأمور به على أنه مطلق الأمر، وليس على أنه الأمر المطلق.
5 - المندُوباتُ ليست على درجَةٍ واحدَةٍ من جهةِ النَّدبِ إليهَا، منها سُنَّةٌ مُؤكَّدةٌ، وسُنَّةٌ غيرُ مؤكَّدةٍ، وفضيلةٌ وأدَبٌ.
*
المطلب الثالث: الحرام:
الضابط الأول: تعريف الحرام:لُغةً: المنعُ، والمُحرَّمُ: الممنوعُ منه، وهوَ ضدُّ الحلالِ.
وفي الاصطلاح:
ما طلَبَ الشَّرِعُ تركه على وجهِ الحَتْمِ والإلزامِ، ويثاب تاركه امتثالًا، وفاعله متوعد بالعقاب.
الضابط الثاني: قواعد المحرم:1 - إذا تزاحمت المحرمات التزم الأدنى منها.
2 - ما لا يتم ترك الحرام إلا بتركه فتركه واجب.
3 - ما كان وسيلة للمحرم فهو محرم.
দ্বিতীয় মূলনীতি: পছন্দনীয় (مندوب) বিষয়ের নিয়মাবলী:1 - যা ব্যতীত কোনো পছন্দনীয় (مندوب) কাজ সম্পন্ন হয় না, তা-ও পছন্দনীয় (مندوب) হিসেবে গণ্য।
2 - কোনো পছন্দনীয় (مندوب) কাজ শুরু করার মাধ্যমে তা আবশ্যক হয় না, তবে হজ ও উমরার বিষয়টি ব্যতিক্রম।
3 - পছন্দনীয় (مندوب) বিষয়সমূহ সকল মানুষের ক্ষেত্রে এক প্রকারের নয়।
4 - পছন্দনীয় (مندوب) কাজ আদিষ্ট হওয়ার বিষয়টি সাধারণ নির্দেশ (مطلق الأمر) হিসেবে গণ্য, চূড়ান্ত নির্দেশ (الأمر المطلق) হিসেবে নয়।
5 - পছন্দনীয় (مندوب) কাজসমূহ গুরুত্বের দিক থেকে এক পর্যায়ের নয়; বরং এর মধ্যে রয়েছে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ (سنة مؤكدة), সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদাহ (سنة غير مؤكدة), ফযিলত এবং আদব।
*
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: নিষিদ্ধ (حرام):
প্রথম মূলনীতি: নিষিদ্ধ (حرام)-এর সংজ্ঞা:আভিধানিক অর্থ: বারণ বা বাধা প্রদান করা। আর 'মুহাররাম' হলো যাকে বারণ করা হয়েছে, এটি বৈধ (حلال)-এর বিপরীত।
পারিভাষিক সংজ্ঞা:
শরিয়ত যা বর্জন করার জন্য চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলকভাবে দাবি জানিয়েছে; যার বর্জনকারী আনুগত্যের কারণে সওয়াব লাভ করবে এবং সম্পাদনকারী শাস্তির হুমকির সম্মুখীন হবে।
দ্বিতীয় মূলনীতি: নিষিদ্ধ (حرام) বিষয়ের নিয়মাবলী:1 - যখন একাধিক নিষিদ্ধ (حرام) বিষয় একত্রিত হয়, তখন অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকরটি গ্রহণ করা হয়।
2 - যা বর্জন করা ব্যতীত কোনো নিষিদ্ধ (حرام) কাজ বর্জন করা সম্ভব নয়, তা বর্জন করাও আবশ্যক (واجب)।
3 - যা নিষিদ্ধ (حرام) কাজের মাধ্যম হয়, তা-ও নিষিদ্ধ (حرام) হিসেবে গণ্য।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
*
المطلب الرابع: المكروه.
الضابط الأول: تعريف المكروه:المكروه لغة: المبغوض.
وفي الاصطلاح:
هو ما طلب الشرع تركه طلبًا غير جازم، ويثاب تاركه امتثالًا، ولا يعاقب فاعله.
الضابط الثاني: مسائل تتعلق بالمكروه:1 - قد يطلق المكروه على الحرام.
2 - لا فرق بين الحرام والمكروه كراهة تحريم عند الجمهور.
3 - المكروه منهي عنه حقيقة؛ لأن لفظ النهي يطلق على ما نهي عنه لحرمته، ويطلق على ما نهي عنه لكراهته، ولا فرق بينهما في الاستعمال إلا في العقاب على فعل الحرام، دون المكروه.
4 - النهى يصرف بالقول والفعل.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: অপছন্দনীয় (المكروه)।
প্রথম মূলনীতি: অপছন্দনীয় (المكروه)-এর সংজ্ঞা:শাব্দিক অর্থে অপছন্দনীয় (المكروه): যা ঘৃণিত।
পারিভাষিক পরিভাষায়:
এটি এমন বিষয় যা শরিয়ত অনিরবচ্ছিন্নভাবে বর্জন করার দাবি জানিয়েছে; যা আল্লাহর নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে বর্জন করলে সওয়াব পাওয়া যায়, কিন্তু তা সম্পাদনকারী শাস্তিযোগ্য হয় না।
দ্বিতীয় মূলনীতি: অপছন্দনীয় (المكروه) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ:১ - কখনো কখনো নিষিদ্ধ (الحرام) অর্থেও অপছন্দনীয় (المكروه) শব্দটি ব্যবহৃত হতে পারে।
২ - জমহুর (الجمهور) আলেমদের মতে নিষিদ্ধ (الحرام) এবং তাহরিমি অপছন্দনীয় (كراهة تحريم)-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
৩ - অপছন্দনীয় (المكروه) প্রকৃতপক্ষে নিষেধ (النهي)-এর অন্তর্ভুক্ত; কারণ নিষেধ (النهي) শব্দটি যেমন হারামের কারণে নিষিদ্ধ বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তেমনি অপছন্দনীয় হওয়ার কারণে নিষিদ্ধ বিষয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। ব্যবহারিক ক্ষেত্রে এ দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য কেবল নিষিদ্ধ (الحرام) কাজ করার কারণে শাস্তির বিধানের ক্ষেত্রে, যা অপছন্দনীয় (المكروه) কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
৪ - নিষেধ (النهي) কথা বা কাজের মাধ্যমে (তার প্রকৃত অর্থ থেকে) অন্য অর্থে পরিবর্তিত হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
*
المطلب الخامس: المباح.
الضابط الأول: تعريف المباح:المباح لغة: المأذون فيه والمعلن.
وفي الاصطلاح:
هو ما لا أمر فيه ولا نهي، ولا يثاب عليه فاعله، ولا يعاقب تاركه لذاته.
الضابط الثاني: قواعد المباح:1 - الإباحة مُنْصَبَّةٌ على الجزئيات لا على الكليات.
2 - الأصل في الأشياء الإباحة إذا انعدم الدليل.
3 - انقلاب المباح مستحبًا أو واجبًا أو محرمًا أو مكروهًا باختلاف النية والأحوال.
3 - الإباحة إما شرعية أو عقلية.
* **
شروط التكليف
الضابط الأول: شروط معلقة بالفاعل:وهي: العقل، البلوغ، فهم الخطاب، القصد، الاختيار.
الضابط الثاني: شروط التكليف المتعلقة بالفعل:وهي: العلم، القدرة والاستطاعة، أن يكون الفعل معدومًا.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বৈধ (المباح)।
প্রথম মূলনীতি: মুবাহ-এর সংজ্ঞা:আভিধানিকভাবে মুবাহ হলো: যা অনুমতিপ্রাপ্ত এবং যা প্রকাশ করা হয়েছে।
এবং পারিভাষিক অর্থে:
এটি এমন বিষয় যাতে কোনো আদেশ নেই এবং নিষেধও নেই; এটি সম্পাদনকারী সওয়াব পায় না এবং বর্জনকারী তার সত্তাগত কারণে শাস্তিপ্রাপ্ত হয় না।
দ্বিতীয় মূলনীতি: মুবাহ-এর কানুনসমূহ:১ - বৈধতা (الإباحة) আংশিক বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য, সামগ্রিক বিষয়ের ওপর নয়।
২ - দলিলের অনুপস্থিতিতে বস্তুর মূল বিধান হলো বৈধতা (الإباحة)।
৩ - নিয়ত এবং অবস্থার ভিন্নতার প্রেক্ষিতে মুবাহ বিষয়টি পছন্দনীয় (مستحبًا), আবশ্যক (واجبًا), নিষিদ্ধ (محرمًا) অথবা অপছন্দনীয় (مكروهًا)-এ রূপান্তরিত হয়।
৩ - বৈধতা (الإباحة) হয় শরয়ি (شرعية) হবে অথবা বুদ্ধিভিত্তিক (عقلية) হবে।
* **
বিধান আরোপ (التكليف)-এর শর্তাবলি
প্রথম মূলনীতি: ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট শর্তাবলি:সেগুলো হলো: বুদ্ধি (العقل), প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া (البلوغ), সম্বোধন বুঝতে পারা, সংকল্প এবং ঐচ্ছিকতা।
দ্বিতীয় মূলনীতি: কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধান আরোপ (التكليف)-এর শর্তাবলি:সেগুলো হলো: জ্ঞান, ক্ষমতা ও সামর্থ্য এবং কাজটি ইতঃপূর্বে অস্তিত্বহীন হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
النوع الثاني: الأحكام الوضعيةالأحكام الوضعية: هي ما وضعه الشرع من أمارات، لثبوت أو انتفاء، أو نفوذ أو إلغاء.
والبحثُ فيه يعودُ إلى أنواعٍ ثلاثةٍ:
السَّبب، والشَّرط، والمانع، ووجودُ كلٍّ منها أو تخلُّفُه (عدَمُ وجودِهِ) يتفرَّعُ عنه صحّةُ العملِ أو فسادُهُ.
فهذه خمسةُ أقسامٍ:
السَّببُ، الشَّرطُ، المانعُ، الصِّحَّةُ، البُطلانُ (أو الفَساد)، وهذا بيانُهَا:
*
المطلب الأول: السَّببُ.لُغَةً: كُلُّ شيءٍ يُتوصلُ بهِ إلى غيرِهِ.
اصطلاحًا: ما يلزم من وجوده الوجود، ويلزم من عدمه العدم.
تنبيه: قيل إنَّ السبب هو العلة، وقيل بينهما فرق، فإذا كانَ الوصفُ معقولَ المعنى يُدرِكُ العقلُ مناسبَتَهُ للحُكمِ سُمِّي ب (العلَّة) كما يُسمَّى ب (السَّبب).
وإذا كانَ الوصفُ غيرَ معقولِ المعنى، بأنْ خفِيَ علَى العقلِ أنْ يُدرِكَ مُناسبَتَهُ للحُكمِ، فيُقتصرُ على تسميتهِ (سببًا)، ولا يُسمَّى (علَّةً).
দ্বিতীয় প্রকার: অর্পিত বিধান (الأحكام الوضعية)অর্পিত বিধান (الأحكام الوضعية): এগুলো হলো শরিয়ত নির্ধারিত এমন কিছু নিদর্শন, যা কোনো বিধানের সাব্যস্ত হওয়া বা না হওয়া, অথবা তা কার্যকর হওয়া বা বাতিল হওয়ার নির্দেশক।
এ সংক্রান্ত আলোচনা তিনটি প্রকারের অন্তর্ভুক্ত:
কারণ (السبب), শর্ত (الشرط) এবং প্রতিবন্ধক (المانع)। এগুলোর অস্তিত্ব বা অনুপস্থিতির (অস্তিত্বহীনতা) ওপর আমলের শুদ্ধতা (الصحة) বা অসারতা (الفساد) নির্ভর করে।
সুতরাং এগুলো মোট পাঁচটি প্রকার:
কারণ (السبب), শর্ত (الشرط), প্রতিবন্ধক (المانع), শুদ্ধতা (الصحة) এবং বাতিল (البطلان) বা অকার্যকর (الفساد)। নিচে এগুলোর বর্ণনা দেওয়া হলো:
*
প্রথম পরিচ্ছেদ: কারণ (السبب)।আভিধানিক অর্থ: এমন প্রতিটি বস্তু যার মাধ্যমে অন্য কোনো বস্তুর কাছে পৌঁছানো যায়।
পারিভাষিক অর্থ: যার অস্তিত্ব বিধানের অস্তিত্বকে অপরিহার্য করে এবং যার অনুপস্থিতি বিধানের অনুপস্থিতিকে অপরিহার্য করে।
সতর্কবার্তা: বলা হয়ে থাকে যে, 'সাবাব' বা কারণই হলো 'ইল্লত' বা কার্যকর কারণ (العلة)। আবার কারো মতে এ দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যদি কোনো গুণের তাৎপর্য বুদ্ধিগ্রাহ্য হয় এবং বুদ্ধি যদি বিধানের সাথে তার সঙ্গতি উপলব্ধি করতে পারে, তবে তাকে কার্যকর কারণ (العلة) বলা হয়, যেমন তাকে কারণ (السبب) বলা হয়ে থাকে।
আর যদি গুণটির তাৎপর্য বুদ্ধিগ্রাহ্য না হয়, অর্থাৎ বিধানের সাথে তার সঙ্গতি উপলব্ধি করা যদি বুদ্ধির অগম্য হয়, তবে তাকে কেবল কারণ (السبب) হিসেবেই অভিহিত করা হয়, তাকে কার্যকর কারণ (العلة) বলা হয় না।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
*
المطلب الثاني: الشَّرط.لغة: العلامة.
اصطلاحًا: هو ما يلزم من عدمه العدم، ولا يلزم من وجوده الوجود.
الفرق بين الشَّرط والرُّكن:
يشتركُ الشَّرطُ والركن في أنَّ كُلًّا منهما يتوقَّفُ عليهِ وجودُ الشَّيءِ، لكنْ يُلاحظُ الفرقُ بينهمَا في أنَّ: الشَّرطَ خارجٌ عن ماهية الشيء ليس جُزءًا منه، والرُّكنَ جزءٌ من الماهية.
أنواع الشرط الشرعي:
شرط الصحة، شرط الوجوب، شرط القبول.
فائدة: الشرط لا يعمل إلا متقدمًا، إلا شرط القبول؛ فإنه قد يعمل متقدمًا ومتأخرًا.
*
المطلب الثالث: المانع.لغة: الحائل بين شيئين.
واصطلاحًا: ما يلزم من وجوده العدم، ولا يلزم من عدمه وجود ولا عدم.
المانع باعتبار تأثيره في الحكم ثلاثة أنواع:
1 - مانع من الابتداء دون الدوام.
2 - مانع من الدوام دون الابتداء.
3 - مانع من الدوام والابتداء.
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শর্ত (الشَّرط)।শাব্দিক অর্থ: চিহ্ন (العلامة)।
পারিভাষিক অর্থ: যার অনুপস্থিতিতে (কোনো বিষয়ের) অনুপস্থিতি আবশ্যক হয়, কিন্তু যার উপস্থিতিতে অস্তিত্ব থাকা বা না থাকা কোনটিই আবশ্যক হয় না।
শর্ত (الشَّرط) এবং রোকন (الرُّكن)-এর মধ্যে পার্থক্য:
শর্ত এবং রোকন উভয়েই এই বিষয়ে এক যে, কোনো বিষয়ের অস্তিত্ব এই দুটির ওপর নির্ভর করে; কিন্তু তাদের মধ্যে যে পার্থক্যটি লক্ষ্য করা যায় তা হলো: শর্ত (الشَّرط) বস্তুর মূল সত্তার (ماهية) বহির্ভূত বিষয়, তা সত্তার অংশ নয়। আর রোকন (الرُّكن) মূল সত্তারই অংশ।
শারঈ শর্তের প্রকারভেদ:
বিশুদ্ধতার শর্ত (شرط الصحة), ওয়াজিব হওয়ার শর্ত (شرط الوجوب), কবুল বা গ্রহণের শর্ত (شرط القبول)।
জ্ঞাতব্য: শর্ত (الشَّرط) কেবল অগ্রবর্তী (متقدم) হিসেবেই কার্যকর হয়, তবে কবুল হওয়ার শর্ত (شرط القبول) এর ব্যতিক্রম; কেননা এটি অগ্রবর্তী এবং পরবর্তী (متأخر) উভয় অবস্থায় কার্যকর হতে পারে।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: প্রতিবন্ধক (المانع)।শাব্দিক অর্থ: দুই বস্তুর মধ্যবর্তী অন্তরায় (الحائل)।
পারিভাষিক অর্থ: যার উপস্থিতিতে অনুপস্থিতি আবশ্যক হয়, কিন্তু যার অনুপস্থিতিতে উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি কোনটিই আবশ্যক হয় না।
বিধানের ওপর প্রভাবের বিচারে প্রতিবন্ধক (المانع) তিন প্রকার:
১ - এমন প্রতিবন্ধক যা শুরু করার ক্ষেত্রে বাধা দেয়, স্থায়িত্বের (الدوام) ক্ষেত্রে নয়।
২ - এমন প্রতিবন্ধক যা স্থায়িত্বের (الدوام) ক্ষেত্রে বাধা দেয়, শুরু করার ক্ষেত্রে নয়।
৩ - এমন প্রতিবন্ধক যা স্থায়িত্ব (الدوام) এবং শুরু করা উভয় ক্ষেত্রেই বাধা দেয়।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
تنبيه: قد يجتمع في الأمر الواحد أن يكون سببًا وشرطًا ومانعًا.
*
المطلب الرابع: الصحة والبطلان.المقصود بهما:
أفعال المكلَّفين إذا استوفتْ شروطُها، وانتفتْ موانِعُها، ووقعتْ على أسبابهَا؛ فقد حكمَ الشَّرعُ بأنَّها صحيحةٌ، وإذا اختلَّ ذلك أو بعضُهُ؛ فقد حكمَ الشَّرعُ بأنَّها باطلةٌ.
*
المطلب الخامس: الصَّحيحُ.لغة: السليم من المرض.
واصطلاحًا: ما ترتب آثار فعله عليه عبادة كان أم عقدًا.
فائدة: يكون الشيء صحيحًا إذا تمت أركانه وشروطه، و انتفت موانعه.
تنبيه: لا تلازم بين الصحة والثواب.
*
المطلب السادس: الباطِلُ.لغة: الذاهب ضياعًا وخسرانًا.
واصطلاحًا: ما لا يترتب آثار فعله عليه عبادة كان أم عقدًا.
فائدة: الباطل والفاسد بمعني واحد عند الجمهور إلا في الحج والنكاح فقد فرق بعضهم.
সতর্কবার্তা: কোনো একটি বিষয়ের মধ্যে একই সাথে কারণ (سبب), শর্ত (شرط) এবং প্রতিবন্ধক (مانع) হওয়ার বিষয়টি একত্রিত হতে পারে।
*
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শুদ্ধতা (صحة) এবং বাতিল হওয়া (بطلان)।এ দুটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো:
মুকাল্লাফ বা শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তিদের কার্যাবলি যখন তার শর্তসমূহ (شروط) পূরণ করে, প্রতিবন্ধকসমূহ (موانع) দূরীভূত হয় এবং তার কারণসমূহের (أسباب) ওপর ভিত্তি করে সংঘটিত হয়; তখন শরিয়ত সেটিকে সঠিক (صحيح) বলে গণ্য করে। আর যখন এগুলোর কোনো একটি বা অংশবিশেষের অভাব ঘটে, তখন শরিয়ত সেটিকে বাতিল (باطل) হিসেবে গণ্য করে।
*
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সঠিক (صحيح)।শাব্দিক অর্থ: রোগ থেকে মুক্ত।
পারিভাষিক অর্থ: যার কাজের প্রভাব বা ফলাফল তার ওপর কার্যকর হয়, তা ইবাদত হোক কিংবা কোনো চুক্তি হোক।
জ্ঞাতব্য: কোনো বিষয় তখন সঠিক (صحيح) হয় যখন তার রুকনসমূহ (أركان) এবং শর্তসমূহ (شروط) পূর্ণ হয় এবং প্রতিবন্ধকসমূহ (موانع) অপসারিত হয়।
সতর্কবার্তা: শুদ্ধতা (صحة) এবং সওয়াব বা পুণ্যের মধ্যে কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই।
*
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: বাতিল (باطل)।শাব্দিক অর্থ: যা নিরর্থক ও ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে হারিয়ে যায়।
পারিভাষিক অর্থ: যার কাজের প্রভাব বা ফলাফল তার ওপর কার্যকর হয় না, তা ইবাদত হোক কিংবা কোনো চুক্তি হোক।
জ্ঞাতব্য: জুমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মতে বাতিল (باطل) এবং ফাসিদ (فاسد) একই অর্থবোধক; তবে হজ এবং বিবাহের ক্ষেত্রে কেউ কেউ পার্থক্য করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
*
المطلب السابع: العزيمة.لغة: هو القصد المؤكد.
واصطلاحًا: هي الحكم الثابت بدليل شرعي خالٍ عن معارضة راجحة.
*
المطلب الثامن: الرخصة.لغةً: هي اليُسرُ والسهولَةُ.
واصطلاحًا: هي تخفيف الحكم الأصلي دون إبطال العمل به، ولو أبطلته لصار نسخًا.
تنبيهات:
1 - العزيمة سميت عزيمة بالنسبة للرخصة ليس في ذاتها.
2 - الفرق بين الرخصة والاضطرار، أن الرخصة تُفعل مع القدرة على فعل العزيمة، وإن كان مع المشقة.
3 - الضرورة: هي التي توجد حيث يمكن فعل الحكم المخفف، ولا يمكن فعل الحكم المثقل.
*
সপ্তম পরিচ্ছেদ: আযিমাহ (العزيمة)।শাব্দিক অর্থ: এটি হলো সুদৃঢ় সংকল্প।
পারিভাষিক অর্থ: এটি এমন বিধান যা কোনো প্রবল বিরোধপূর্ণ প্রমাণ ছাড়াই শরয়ি দলিলের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে।
*
অষ্টম পরিচ্ছেদ: রুখসাহ (الرخصة)।শাব্দিক অর্থ: এটি হলো সহজতা ও সাবলীলতা।
পারিভাষিক অর্থ: এটি হলো মূল বিধানের কার্যকারিতা বাতিল না করেই তা সহজ করা; যদি এর মাধ্যমে বিধানটি বাতিল হয়ে যেত, তবে তা রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য হতো।
সতর্কতাসমূহ:
1 - আযিমাহ (العزيمة)-কে আযিমাহ নামকরণ করা হয়েছে রুখসাহ (الرخصة)-এর বিপরীতে, তার নিজস্ব সত্তার কারণে নয়।
2 - রুখসাহ (الرخصة) এবং নিরুপায় অবস্থার (الاضطرار) মধ্যে পার্থক্য হলো, আযিমাহ (العزيمة) পালন করার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও রুখসাহ (الرخصة) গ্রহণ করা যায়, যদিও তা কষ্টসাধ্য হয়।
3 - প্রয়োজনীয়তা (الضرورة): এটি এমন অবস্থা যা সেখানে বিদ্যমান থাকে যেখানে সহজকৃত বিধানটি পালন করা সম্ভব হয়, কিন্তু কঠোর বিধানটি পালন করা সম্ভব হয় না।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
تنبيه: يتَّصلُ بالحُكمِ الوَضْعِيِّ مسمَّياتٌ شرعيَّةٌ هي أوصَافٌ للعبادَةِ باعتبارِ الوقتِ الَّذي تُؤَدَّى فيهِ، وهي:
1 - الأَداء: هو تحصيل العمل في الوقت المقدر له مرة على وجهه الشرعي.
2 - التعجيل: هو تحصيل العمل قبل الوقت المقدر له مرة واحدة لدليل شرعي.
3 - القضاء: هو تحصيل العمل بعد الوقت المقدر له مرة واحدة لدليل شرعي.
4 - الإعادة: هي تحصيل العمل في الوقت المقدر له مرة ثانية لدليل شرعي.
* * *
সতর্কবার্তা: আল-হুকুম আল-ওয়াদঈ (الحُكمِ الوَضْعِيِّ)-এর সাথে এমন কিছু শরয়ি পরিভাষা সংশ্লিষ্ট রয়েছে যা ইবাদত আদায়ের সময়ের বিবেচনায় সেগুলোর বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য। সেগুলো হলো:
1 - আদায় (الأداء): শরয়ি তরিকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একবার আমল সম্পাদন করা।
2 - তাজিল (التعجيل): শরয়ি দলিলের ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের পূর্বে একবার আমল সম্পাদন করা।
3 - কাজা (القضاء): শরয়ি দলিলের ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের পরে একবার আমল সম্পাদন করা।
4 - ইয়াদাহ (الإعادة): শরয়ি দলিলের ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দ্বিতীয়বার আমল সম্পাদন করা।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أدلة الأحكامالدليل لغة: هو المرشد إلى المطلوب.
واصطلاحًا: هو ما يمكن التوصل بصحيح النظر فيه إلى مطلوب خبري.
الدليل الأول: الكتاب الكريم
الضابط الأول: تعريف الكتاب:الكتاب لغة: يطلق على المكتوب وعلى الكتابة.
واصطلاحًا: هو كلام الله تعالى المُنَزَّل على محمَّد صلى الله عليه وسلم، باللفظ العربي، المنقول إلينا بالتواتر، المكتوب في المصاحف، المتعبد بتلاوته، المبدوء بسورة الفاتحة، المختوم بسورة الناس.
الضابط الثاني: وجوه إعجاز القرآن الكريم:1 - اتساق ألفاظه وعباراته ومعانيه وأحكامه.
2 - الإعجاز العلمي وموافقة العلم الصحيح لما ورد فيه.
বিধানের প্রমাণাদি (أدلة الأحكام)প্রমাণ (الدليل) শাব্দিক অর্থে (لغة): যা কাঙ্ক্ষিত বস্তুর দিকে পথপ্রদর্শক।
পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحًا): যার ওপর সঠিক চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে কোনো সংবাদমূলক কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে পৌঁছানো সম্ভব।
প্রথম প্রমাণ (الدليل الأول): মহাগ্রন্থ (الكتاب الكريم)
প্রথম মূলনীতি (الضابط الأول): কিতাবের সংজ্ঞা:কিতাব (الكتاب) শাব্দিক অর্থে (لغة): এটি লিখিত বস্তু এবং লিখন পদ্ধতির ওপর প্রয়োগ করা হয়।
পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحًا): এটি আল্লাহ তাআলার সেই বাণী যা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ, যা আরবি শব্দে গঠিত, যা আমাদের কাছে নিরবচ্ছিন্ন গণবর্ণনার (التواتر) মাধ্যমে পৌঁছেছে, যা মাসহাফসমূহে লিপিবদ্ধ, যার তিলাওয়াত করা ইবাদত হিসেবে গণ্য, যা সূরা আল-ফাতিহা দিয়ে শুরু এবং সূরা আন-নাস দিয়ে শেষ হয়েছে।
দ্বিতীয় মূলনীতি (الضابط الثاني): পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকসমূহ:১ - এর শব্দাবলি, বাক্যাংশ, অর্থ এবং বিধানের মধ্যে সামঞ্জস্যতা।
২ - বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (الإعجاز العلمي) এবং এতে যা বর্ণিত হয়েছে তার সাথে সঠিক বিজ্ঞানের সামঞ্জস্যতা।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
3 - إخباره عن وقائع لا يعلمها إلا علام الغيوب.
4 - فصاحة ألفاظه وبلاغة عباراته وقوة تأثيره.
5 - ما تضمنه القرآن الكريم من الأحكام الشرعية التي أقامت شريعة الله في الأرض.
فائدة: يحمل المتشابه علي المحكم، ويرجع في المنسوخ إلى حكم الناسخ.
فائدة: القراءات الشاذة ليست قرآنًا، ولكن تصح تفسيرًا.
* * *
৩ - অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা (علام الغيوب) ব্যতীত অন্য কেউ জানে না এমন সব ঘটনা সম্পর্কে এর সংবাদ প্রদান।
৪ - এর শব্দাবলির প্রাঞ্জলতা (فصاحة), বাক্যরীতির অলঙ্কারপূর্ণতা (بلاغة) এবং এর প্রভাব বিস্তারের শক্তি।
৫ - পবিত্র কুরআন এমন সব শরয়ি বিধান (الأحكام الشرعية) অন্তর্ভুক্ত করেছে যা জমিনে আল্লাহর বিধানকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।
ফায়দা: অস্পষ্ট অর্থবোধক (المتشابه) আয়াতসমূহকে সুস্পষ্ট অর্থবোধক (المحكم) আয়াতের আলোকে ব্যাখ্যা করা হবে এবং রহিত (المنسوخ) বিষয়ের ক্ষেত্রে রহিতকারী (الناسخ) বিধানের দিকে প্রত্যাবর্তন করা হবে।
ফায়দা: শায বা বিরল কিরাতসমূহ (القراءات الشاذة) কুরআন হিসেবে গণ্য নয়, তবে তা ব্যাখ্যা (تفسير) হিসেবে গ্রহণ করা শুদ্ধ।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الدليل الثاني: السنة النبوية
الضابط الأول: تعريف السنة:لغة: هي الطريقة والسيرة.
واصطلاحًا: ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قولٍ أو فعلٍ أو تقريرٍ.
والسنة حجة يجب قَبولها والعمل بها، كما يجب قَبول القرآن والعمل به.
والسنة توافق القرآن، وتفصل وتبين مجمله، وتخصص عمومه، وتقيد مطلقه، وتضيف حكمًا جديدًا.
تنبيه: ما فعله النبي صلى الله عليه وسلم على سبيل التشريع وليس خاصًّا به فالمشروع فعله، وما تركه رسول الله صلى الله عليه وسلم مع وجود المقتضي وانتفاء المانع فالمشروع تركه.
فائدة: الحديث الصحيح حجة في العقائد والأحكام وإن لم يكن متواترًا.
দ্বিতীয় দলিল: নবীর সুন্নাহ (سنة)
প্রথম মূলনীতি: সুন্নাহর (سنة) সংজ্ঞা:আভিধানিক অর্থ: এটি হলো পদ্ধতি ও জীবনচরিত।
পারিভাষিক অর্থ: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে—তা কথা (قول), কাজ (فعل) কিংবা মৌন সম্মতি (تقرير) যাই হোক না কেন।
সুন্নাহ (سنة) হলো একটি দলিল (حجة), যা গ্রহণ করা এবং সেই অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক, যেমনটি কুরআন গ্রহণ করা এবং তদানুযায়ী আমল করা আবশ্যক।
সুন্নাহ (سنة) কুরআনের অনুকূল হয়, এর সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়ের বিশদ বিবরণ ও ব্যাখ্যা প্রদান করে, এর সাধারণ (عام) বিষয়কে বিশেষায়িত (تخصيص) করে, এর নিঃশর্ত (مطلق) বিষয়কে শর্তযুক্ত (تقييد) করে এবং নতুন কোনো বিধান সংযোজন করে।
সতর্কবাণী: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শরিয়ত প্রবর্তনের উদ্দেশ্যে যা করেছেন এবং যা কেবল তাঁর জন্য নির্দিষ্ট নয়, তা পালন করাই বিধেয়। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কাজের প্রেক্ষাপট বিদ্যমান থাকা এবং কোনো বাধা না থাকা সত্ত্বেও যা বর্জন করেছেন, তা বর্জন করাই বিধেয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সহিহ (صحيح) হাদিস আকিদা ও আহকামের ক্ষেত্রে দলিল (حجة), যদিও তা মুতাওয়াতির (متواتر) না হয়।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الضابط الثاني: تعريف الحديث الصحيح:هو ما اتصل سنده، برواية العدل الضابط، عن مثله إلي منتهاه، من غير شذوذ، ولا علة.
الضابط الثالث: تعريف الحديث الحسن:هو الحديث الصحيح إلا أنَّ فيه راويًا قد خف ضبطه.
الضابط الرابع: تعريف الحديث الضعيف:هو ما لم تتوافر فيه شروط الصحة أوالحسن.
দ্বিতীয় মূলনীতি (الضابط): সহিহ (الصحيح) হাদিসের সংজ্ঞা:এটি এমন হাদিস যার সনদ (سند) নিরবচ্ছিন্ন (متصل), যা একজন ন্যায়পরায়ণ (العدل) ও প্রখর সংরক্ষণ ক্ষমতা সম্পন্ন (الضابط) বর্ণনাকারী তার অনুরূপ বর্ণনাকারীর নিকট থেকে এর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন, এবং যা বিচ্যুতি (شذوذ) ও সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) থেকে মুক্ত।
তৃতীয় মূলনীতি (الضابط): হাসান (الحسن) হাদিসের সংজ্ঞা:এটি হলো সেই সহিহ হাদিস যার কোনো বর্ণনাকারীর সংরক্ষণ ক্ষমতার (ضبط) মধ্যে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে।
চতুর্থ মূলনীতি (الضابط): জয়িফ (الضعيف) হাদিসের সংজ্ঞা:এটি এমন হাদিস যাতে সহিহ বা হাসান হাদিসের শর্তাবলি বিদ্যমান নেই।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الدليل الثالث: الإجماعالضابط الأول:
تعريف الإجماع:لغة: العزم والاتفاق.
واصطلاحًا: اتِّفاقُ مجتهدِي أُمَّةِ محمَّدٍ صلى الله عليه وسلم بعد وفاتِه في عصرٍ من العصُورِ على حكمٍ شرعيٍّ.
تنبيه: الإجماع في عصر من العصور يُلزَم به كل من أتى بعده، ولا يشترط فيه انقراض العصر على الصحيح.
فائدة: الإجماع ممكن في عصر الصحابة متعذر بعدهم.
فائدة: لابد للإجماع من مستند ودليل، لكن لا يلزم إبراز الدليل طالما أن الإجماع صحيح.
فائدة: الإجماع القطعي حجة عند الجميع، أما السكوتي أو الظني فحجة عند بعضهم.
مسألة: اتفاق الخلفاء الأربعة ليس إجماعًا، وكذلك اتفاق الأئمة الأربعة ليس إجماعًا، واتفاق أهل المدينة ليس إجماعًا أيضًا.
مسألة: إذا اختُلِف في مسألة علي قولين لم يجز إحداث قول ثالث.
তৃতীয় দলিল: ইজমা (إجماع)প্রথম মূলনীতি:
ইজমার (إجماع) সংজ্ঞা:শাব্দিক অর্থ: দৃঢ় সংকল্প এবং ঐক্যমত (اتفاق)।
পারিভাষিক অর্থ: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর কোনো এক যুগের তাঁর উম্মতের মুজতাহিদগণের (مجتهدين) কোনো শরয়ি বিধানের ওপর একমত হওয়া।
সতর্কতা: কোনো এক যুগের ইজমা (إجماع) পরবর্তী সকলের জন্য অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক, আর বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে ইজমার ক্ষেত্রে ওই যুগ শেষ হওয়া শর্ত নয়।
জ্ঞাতব্য: সাহাবায়ে কেরামের যুগে ইজমা (إجماع) সম্ভব ছিল, কিন্তু তাঁদের পরবর্তী সময়ে এটি দুঃসাধ্য।
জ্ঞাতব্য: ইজমার (إجماع) জন্য অবশ্যই একটি ভিত্তি ও দলিল থাকতে হবে, তবে যতক্ষণ পর্যন্ত ইজমা সঠিক (صحيح) সাব্যস্ত হবে ততক্ষণ দলিল প্রকাশ করা জরুরি নয়।
জ্ঞাতব্য: অকাট্য (قطعي) ইজমা সকলের নিকট দলিল (حجة), তবে মৌন (سكوتي) অথবা ধারণাপ্রসূত (ظني) ইজমা কারো কারো নিকট দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য।
মাসআলা: চার খলিফার ঐক্যমত ইজমা (إجماع) নয়, অনুরূপভাবে চার ইমামের ঐক্যমতও ইজমা (إجماع) নয় এবং মদিনাবাসীদের ঐক্যমতও ইজমা (إجماع) নয়।
মাসআলা: যদি কোনো বিষয়ে দুটি মতের সৃষ্টি হয়, তবে তৃতীয় কোনো মতের উদ্ভাবন করা জায়েজ নেই।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الدليل الرابع: القياس
الضابط الأول: تعريف القياس:لغة: التقدير والمساواة.
واصطلاحًا: إلحاق فرع بأصل في حكم لعلَّة جامعة بينهما.
الضابط الثاني: أركان القياس:1 - أصل مقاس عليه.
2 - حكم ثابت للأصل.
3 - فرع يراد إلحاقه بالأصل.
4 - علة تجمع بين الأصل والفرع.
الضابط الثالث: شروط القياس:1 - أن لا يصادم دليلًا أقوى منه.
2 - أن يكون حكم الأصل ثابتًا بنص أو بإجماع.
3 - أن يكون لحكم الأصل علة معلومة؛ ليمكن الجمع بين الأصل والفرع فيها.
চতুর্থ দলিল: কিয়াস (القياس)
প্রথম মূলনীতি: কিয়াসের (القياس) সংজ্ঞা:শাব্দিক অর্থ: পরিমাপ করা (التقدير) এবং সমতা বিধান করা (المساواة)।
পারিভাষিক অর্থ: কোনো অভিন্ন কারণের (علة) ভিত্তিতে বিধানের (حكم) ক্ষেত্রে শাখাকে (فرع) মূলের (أصل) সাথে সংযুক্ত করা।
দ্বিতীয় মূলনীতি: কিয়াসের (القياس) রুকনসমূহ (أركان):1 - মূল (أصل), যার ওপর কিয়াস করা হয়।
2 - মূলের জন্য সাব্যস্ত বিধান (حكم)।
3 - শাখা (فرع), যাকে মূলের সাথে সংযুক্ত করার ইচ্ছা করা হয়েছে।
4 - কারণ (علة), যা মূল ও শাখার মধ্যে সমন্বয় ঘটায়।
তৃতীয় মূলনীতি: কিয়াসের (القياس) শর্তাবলি (شروط):1 - এটি অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী কোনো দলিলের (دليل) সাথে সাংঘর্ষিক না হওয়া।
2 - মূলের বিধানটি (حكم) অকাট্য প্রমাণ (نص) অথবা ঐক্যমত্যের (إجماع) ভিত্তিতে সাব্যস্ত হওয়া।
3 - মূলের বিধানের (حكم) জন্য একটি জ্ঞাত কারণ (علة) থাকতে হবে; যাতে তার মাধ্যমে মূল ও শাখার মধ্যে সমন্বয় সাধন করা সম্ভব হয়।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
4 - أن تكون العلة وصفًا ظاهرًا منضبطًا مشتملة على معنى مناسب للحكم.
5 - أن تكون العلة موجودة في الفرع كوجودها في الأصل.
والقياس منه الجلي ومنه الخفي، وينقسم إلى: قياس العلة، وقياس الدلالة، وقياس الشبه، وقياس العكس.
فائدة: القياس لا يثبت حكمًا جديدًا، وإنما يكشف عن حكم قديم.
فائدة: الحكم يدور مع علته وجودًا وعدمًا.
تنبيه: العلة إنما هي لإلحاق غير المنصوص عليه بالمنصوص عليه لا لإخراج المنصوص.
* * *
৪ - কার্যকর কারণ (العلة) যেন এমন একটি প্রকাশ্য ও সুসংহত বৈশিষ্ট্য হয় যা বিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে।
৫ - কার্যকর কারণটি (العلة) যেন শাখা বিষয়ের (الفرع) মধ্যে ঠিক সেভাবে বিদ্যমান থাকে যেমনটি তা মূল বিষয়ের (الأصل) মধ্যে বিদ্যমান।
কিয়াস (القياس) এর মধ্যে কোনটি সুস্পষ্ট (الجلي) এবং কোনটি অস্পষ্ট (الخفي); আর এটি কিয়াসুল ইল্লাহ (قياس العلة), কিয়াসুদ দালালাহ (قياس الدلالة), ki কিয়াসুশ শিবহ (قياس الشبه) এবং কিয়াসুল আকস (قياس العكس)-এ বিভক্ত।
উপকারিতা: কিয়াস (القياس) নতুন কোনো বিধান (الحكم) সাব্যস্ত করে না, বরং এটি কেবল একটি পুরাতন বা বিদ্যমান বিধানকে উন্মোচিত করে।
উপকারিতা: বিধান (الحكم) তার কার্যকর কারণের (العلة) অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের সাথে আবর্তিত হয়।
সতর্কতা: কার্যকর কারণ (العلة) মূলত নস বা সুস্পষ্ট ভাষ্যবিহীন বিষয়কে (غير المنصوص عليه) নস বা সুস্পষ্ট ভাষ্যযুক্ত বিষয়ের (المنصوص عليه) সাথে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য, নসযুক্ত বিষয়কে বাদ দেওয়ার জন্য নয়।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الدليل الخامس: قول الصحابي
الضابط الأول: تعريف الصحابي:هو من لقي النبي صلى الله عليه وسلم مؤمنًا به ومات على ذلك.
الضابط الثاني: قول الصحابي الذى حصل عليه الاتفاق أو لم يعلم له مخالف حجة لأنه إجماع سكوتي.
الضابط الثالث: قول الصحابي الذى لا مجال للاجتهاد فيه حجة؛ لأنَّ له حكم الرفع.
الضابط الرابع: قول الصحابي الذى ورد عن اجتهاد ووجد له مخالف من الصحابة؛ فقوله ليس حجة على غيره من الصحابة.أما التابعون: فالمجتهد منهم يلزمه اجتهاد نفسه، ولا يلزم بقول صحابي.
الضابط الخامس: قول الصحابي لا يخصص النص إلا إذا كان له حكم الرفع.
الضابط السادس: تفسير الصحابة للنُّصوصِ من الكتابِ والسُّنَّة من جهةِ ما تدلُّ عليه ألفاظُها في استعمالِ اللِّسانِ حُجَّةٌ.
পঞ্চম দলিল: সাহাবির (صحابي) বক্তব্যপ্রথম মূলনীতি: সাহাবির (صحابي) সংজ্ঞা:তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যিনি ঈমান অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং সেই ঈমানের ওপরই মৃত্যুবরণ করেছেন।
দ্বিতীয় মূলনীতি: সাহাবির (صحابي) সেই বক্তব্য যার ওপর ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অথবা যার কোনো বিরোধী জানা নেই, তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য; কারণ এটি মৌন সম্মতি (إجماع سكوتي)।তৃতীয় মূলনীতি: সাহাবির (صحابي) সেই বক্তব্য যাতে ইজতিহাদের (اجتهاد) কোনো অবকাশ নেই, তা দলিল (حجة); কারণ তা মারফু’র বিধান (حكم الرفع) সংবলিত।চতুর্থ মূলনীতি: সাহাবির (صحابي) সেই বক্তব্য যা ইজতিহাদের (اجتهاد) মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে এবং সাহাবিদের মধ্যে তার বিপরীতে ভিন্ন মত পাওয়া যায়; তবে তার সেই বক্তব্য অন্য সাহাবিদের ওপর দলিল (حجة) নয়।তাবেয়ীদের (التابعون) ক্ষেত্রে: তাদের মধ্য থেকে যিনি মুজতাহিদ (مجتهد), তাকে নিজের ইজতিহাদ (اجتهاد) অনুসরণ করতে হবে এবং তিনি সাহাবির (صحابي) বক্তব্য মানতে বাধ্য নন।
পঞ্চম মূলনীতি: সাহাবির (صحابي) বক্তব্য কোনো নস বা মূল পাঠকে (النص) বিশেষিত (تخصيص) করে না, যতক্ষণ না তা মারফু’র বিধান (حكم الرفع) সংবলিত হয়।ষষ্ঠ মূলনীতি: কিতাব ও সুন্নাহর নসসমূহের (النصوص) ব্যাখ্যা, ভাষাগত ব্যবহারের ক্ষেত্রে শব্দগুলো যা নির্দেশ করে সেদিক থেকে সাহাবিদের (الصحابة) ব্যাখ্যা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الدليل السادس: الاستصحابالضابط الأول:
تعريف الاستصحاب:لغة: هو طلب المصاحبة واستمرارها.
واصطلاحًا: هو الحكم بثبوت أمر في الزمان الثاني، بناءً على ثبوته في الزمان الأول؛ لفقدان ما يصلح للتغيير.
تنبيهات:
- الاستصحاب لا يثبت حكمًا جديدًا، ولكن يثبت استمرار الحكم الثابت في الزمان الأول.
- الاستصحاب قد يكون للإباحة، وقد يكون للمنع، وذلك بحسب الأصل؛ فقد يكون الأصل الإباحة، وقد يكون الأصل المنع.
- على الفقيه أن يستصحب الأصل في الأحكام حتى يثبت ناقل صحيح.
- النافي للحكم يلزمه الدليل ويطالب به؛ لأن نفي الحكم دعوى، والدعوى لا تثبت إلا بدليل.
ষষ্ঠ দলীল: ইস্তিসহাব (الاستصحاب)প্রথম মূলনীতি:
ইস্তিসহাব (الاستصحاب)-এর সংজ্ঞা:শাব্দিক অর্থ: সাহচর্য কামনা করা এবং তা অব্যাহত রাখা।
পারিভাষিক অর্থ: কোনো বিষয় প্রথম সময়ে সাব্যস্ত থাকার ভিত্তিতে দ্বিতীয় সময়েও তা সাব্যস্ত থাকার নির্দেশ প্রদান করা; যেহেতু সেখানে পরিবর্তনকারী কোনো বিষয়ের অভাব রয়েছে।
সতর্কতা:
- ইস্তিসহাব (الاستصحاب) কোনো নতুন বিধান সাব্যস্ত করে না, বরং প্রথম সময়ে সাব্যস্ত থাকা বিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
- ইস্তিসহাব (الاستصحاب) কখনো বৈধতা (الإباحة)-এর জন্য হতে পারে, আবার কখনো নিষিদ্ধতা (المنع)-এর জন্য হতে পারে। আর তা মূল অবস্থার (الأصل) ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে; কেননা মূল অবস্থা কখনো বৈধতা (الإباحة) হতে পারে, আবার কখনো নিষিদ্ধতা (المنع) হতে পারে।
- ফকিহ (الفقيه)-এর জন্য আবশ্যক হলো বিধানসমূহের ক্ষেত্রে মূল অবস্থাকে ইস্তিসহাব (الاستصحاب) করা, যতক্ষণ না কোনো সহিহ (صحيح) পরিবর্তনকারী প্রমাণ সাব্যস্ত হয়।
- কোনো বিধান অস্বীকারকারীর জন্য দলীল (الدليل) উপস্থাপন করা আবশ্যক এবং তার নিকট তা দাবি করা হবে; কারণ কোনো বিধান অস্বীকার করাও একটি দাবি (دعوى), আর দাবি দলীল (الدليل) ব্যতীত সাব্যস্ত হয় না।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الدليل السابع: شرع من قبلنا
الضابط الأول: المراد بشرع من قبلنا:هو ما نقل إلينا من أحكام تلك الشرائع التي كانت الأمم السابقة قد كلفت بها على أنها شرع لله تعالى.
وخلاصة القول فيه أنَّ له صورًا:
الصورة الأولى: يكون فيها شرعًا لنا بالإجماع، وهو ما أقره شرعنا.
الصورة الثانية: لا يكون شرعًا لنا بالإجماع: وذلك في حالتين:
الحال الأولى: شرع من قبلنا الذى لم يثبت بشرعنا.
الحال الثانية: شرع من قبلنا الذى ثبت بشرعنا، وثبت نسخه في شرعنا.
الصورة الثالثة: ثبت بشرعنا، ولم يرد نص من الشرع بالاعتبار أو النسخ: فالصحيح أنه شرع لنا.
সপ্তম প্রমাণ (الدليل): পূর্ববর্তীদের শরিয়ত (شرع من قبلنا)প্রথম মূলনীতি (الضابط): পূর্ববর্তীদের শরিয়ত বলতে যা বোঝায়:এটি হলো সেই সকল বিধান (أحكام) যা আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে পূর্ববর্তী উম্মতগণকে এই মর্মে আদিষ্ট করা হয়েছিল যে, তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত শরিয়ত।
সারকথা হলো, এর কয়েকটি ধরণ রয়েছে:
প্রথম ধরণ: যা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (الإجماع) অনুযায়ী আমাদের জন্য শরিয়ত হিসেবে গণ্য; আর তা হলো যা আমাদের শরিয়ত অনুমোদন করেছে।
দ্বিতীয় ধরণ: যা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (الإجماع) অনুযায়ী আমাদের জন্য শরিয়ত হিসেবে গণ্য নয়; এটি দুটি অবস্থায় হতে পারে:
প্রথম অবস্থা: পূর্ববর্তীদের সেই শরিয়ত যা আমাদের শরিয়তের মাধ্যমে প্রমাণিত নয়।
দ্বিতীয় অবস্থা: পূর্ববর্তীদের সেই শরিয়ত যা আমাদের শরিয়তের মাধ্যমে প্রমাণিত, তবে আমাদের শরিয়তে তা রহিত (نسخ) হওয়াও প্রমাণিত।
তৃতীয় ধরণ: যা আমাদের শরিয়তের মাধ্যমে প্রমাণিত, কিন্তু সেটি গ্রহণ করা বা রহিত (نسخ) করার ব্যাপারে শরিয়তের কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) বর্ণিত হয়নি: এ ক্ষেত্রে সঠিক মত (الصحيح) হলো, এটি আমাদের জন্য শরিয়ত হিসেবে গণ্য।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الدليل الثامن: المصالح المرسلة
الضابط الأول: تعريف المصالح المرسلة:المصلحة لغة: هي المنفعة، والمرسلة: أي المطلقة.
واصطلاحًا: هي المصلحة التي لم ينص الشرع على حكم لتحقيقها، ولم يدل دليل شرعي على اعتبارها أو إلغائها.
الضابط الثاني: شروط الاحتجاج بالمصالح المرسلة:1 - أن تكون مصلحة حقيقية، ولا عبرة للمصالح الظاهرية أو الوهمية.
2 - أن تكون مصلحة عامة لمجموع الأمة، أو للأكثرية الغالبة، ولا عبرة للمصالح الشخصية والفردية.
3 - أن لا تعارض الأحكام المبنية على المصلحة حكمًا شرعيًّا ثابتًا بالنص أو الإجماع.
أنواع المصالح ثلاثة: مصالح معتبرة، ومصالح ملغاة، مصالح مرسلة.
ملحوظة: لا يوجد مصلحة حقيقية إلا وهى تتوافق مع النص.
অষ্টম দলিল: মাসালিহ মুরসালাহ (المصالح المرسلة)
প্রথম মূলনীতি: মাসালিহ মুরসালাহ (المصالح المرسلة)-এর সংজ্ঞা:আভিধানিক অর্থে মাসলাহাত হলো: উপকারিতা (المنفعة), আর মুরসালাহ হলো: অবারিত বা সাধারণ (المطلقة)।
পারিভাষিক অর্থে: এটি এমন জনকল্যাণ যার বাস্তবায়নে শরিয়ত কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নির্ধারণ করেনি এবং যার গ্রহণযোগ্যতা (اعتبار) বা বর্জনীয়তা (إلغاء) সম্পর্কে কোনো শরিয়তি দলিল বিদ্যমান নেই।
দ্বিতীয় মূলনীতি: মাসালিহ মুরসালাহ (المصالح المرسلة) দ্বারা দলিল পেশ করার শর্তাবলি:1 - কল্যাণটি প্রকৃত হতে হবে; বাহ্যিক বা কাল্পনিক কোনো কল্যাণের গ্রহণযোগ্যতা (اعتبار) নেই।
2 - কল্যাণটি সমগ্র উম্মাহর জন্য অথবা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য সাধারণ (عامة) কল্যাণ হতে হবে; ব্যক্তিগত বা একক স্বার্থের কোনো গ্রহণযোগ্যতা (اعتبار) নেই।
3 - জনকল্যাণের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত বিধানগুলো যেন অকাট্য দলিল (نص) বা ঐক্যমতের (إجماع) মাধ্যমে প্রমাণিত কোনো শরিয়তি বিধানের পরিপন্থি না হয়।
জনকল্যাণ (মাসালিহ) তিন প্রকার: গ্রহণযোগ্য কল্যাণ (مصالح معتبرة), বর্জনীয় কল্যাণ (مصالح ملغاة) এবং মাসালিহ মুরসালাহ (مصالح مرسلة)।
দ্রষ্টব্য: অকাট্য দলিলের (نص) সাথে সংগতিপূর্ণ নয় এমন কোনো প্রকৃত কল্যাণ থাকতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الدليل التاسع: سد الذرائع
الضابط الأول: تعريف الذريعة:الذريعة لغة: الوسيلة.
واصطلاحًا: هي ما ظاهره مباح ويتوصل به إلى محرم.
الضابط الثاني: أنواع الوسائل المؤدية إلى المفاسد:1 - ما كان فاسدًا محرمًا بذاته ويؤدى للضرر؛ فلا خلاف في منعه.
2 - ما كان مباحًا في ذاته، وكان إفضاؤه إلى المفسدة نادرًا، وتكون مصلحته راجحة؛ فهذا لا يمنع منه.
3 - ما كان مباحًا في ذاته، وكان إفضاؤه إلى المفسدة كثيرًا، أي أنَّ مفسدته أرجح من مصلحته؛ فتمنع الوسيلة من باب سد الذرائع.
4 - ما يؤدى للمفسدة لاستعمال المكلف له في غير ما وضع له؛ فهذا يمنع قطعًا في حق هذا المكلف.
নবম দলিল: অনিষ্টের পথ রুদ্ধ করা (سد الذرائع)
প্রথম নীতিমালা: যারীআহ (الذريعة)-এর সংজ্ঞা:আভিধানিক অর্থে ‘যারীআহ’ হলো: মাধ্যম বা উপায় (الوسيلة)।
পরিভাষায়: এটি এমন বিষয় যা বাহ্যিকভাবে বৈধ (مباح), কিন্তু এর মাধ্যমে কোনো নিষিদ্ধ (محرم) বিষয়ে উপনীত হওয়া যায়।
দ্বিতীয় নীতিমালা: অনিষ্টের (المفاسد) দিকে ধাবিতকারী মাধ্যমগুলোর প্রকারভেদ:১ - যা স্বত্বগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ ও নিষিদ্ধ (محرم) এবং ক্ষতির দিকে ধাবিত করে; এটি নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই।
২ - যা স্বত্বগতভাবে বৈধ (مباح) এবং অনিষ্টের (المفسدة) দিকে এর ধাবিত হওয়া বিরল, আর এর কল্যাণই (مصلحة) প্রবল; এটি নিষিদ্ধ করা হবে না।
৩ - যা স্বত্বগতভাবে বৈধ (مباح) এবং অনিষ্টের (المفسدة) দিকে এর ধাবিত হওয়া অধিকতর, অর্থাৎ যার অনিষ্ট (مفسدة) তার কল্যাণের (مصلحة) চেয়ে বেশি প্রবল; এমতাবস্থায় ‘অনিষ্টের পথ রুদ্ধ করা’ (سد الذرائع)-এর নীতি অনুযায়ী সেই মাধ্যমটি নিষিদ্ধ হবে।
৪ - যা অনিষ্টের (المفسدة) দিকে ধাবিত করে এই কারণে যে, শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি (المكلف) একে তার নির্ধারিত উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করে; তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি নিশ্চিতভাবে নিষিদ্ধ।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الدليل العاشر: العرف
الضابط الأول: تعريف العرف:هو ما ألفه المجتمع من أمور الدنيا، من غير حظر من الشرع، سواء كان قولًا أو فعلًا أو تركًا.
الضابط الثاني: العرف يكون حجة بشروط:1 - ألا يخالف دليلًا.
2 - أن يكون العرف عامًّا أو غالبًا.
3 - أن يكون مطَّردًا أو أكثريًّا.
4 - ألا يكون معارَضًا بعرف آخر.
5 - أن يفضي إلى مصلحة ولا يفضي إلى مفسدة.
6 - أن يكون العرف موجودًا عند إنشاء التصرف.
দশম দলিল: প্রথা (العرف)প্রথম মূলনীতি: প্রথার (العرف) সংজ্ঞা:এটি হলো পার্থিব বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত এমন বিষয় যাতে সমাজ অভ্যস্ত হয়েছে এবং শরীয়তের পক্ষ থেকে যাতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই; চাই তা মৌখিক (قولًا), ব্যবহারিক (فعلًا) কিংবা বর্জনমূলক (تركًا) হোক।
দ্বিতীয় মূলনীতি: প্রথা (العرف) দলিল (حجة) হওয়ার শর্তাবলি:১ - তা যেন কোনো দলিলের (دليلًا) পরিপন্থী না হয়।
২ - প্রথাটি যেন ব্যাপক (عامًّا) বা অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রচলিত (غالبًا) হয়।
৩ - তা যেন ধারাবাহিক (مطَّردًا) বা অধিকাংশ ক্ষেত্রে (أكثريًّا) বিদ্যমান থাকে।
৪ - তা যেন অন্য কোনো প্রথার (عرف) মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ না হয়।
৫ - তা যেন জনকল্যাণের (مصلحة) দিকে ধাবিত করে এবং কোনো বিপর্যয়ের (مفسدة) দিকে ধাবিত না করে।
৬ - কোনো কার্যাবলি সম্পাদনের সময় প্রথাটি (العرف) বিদ্যমান থাকতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
طرق الاستنباط*
الأمر والنهى.
الضابط الأول: تعريف الأمر:لغة: يأتي بمعنى الشأن، والقضاء، والطلب.
واصطلاحًا: طلب الفعل على جهة الاستعلاء.
*
ضوابط في الأمر:1 - الأمر له صيغ معينة يعرف من خلالها كفعل الأمر، والفعل المضارع المقترن ب (لام الأمر).
2 - صيغةُ الأمرِ المطلقة -المجرَّدة عن القرائنِ- تقتضي الوجوب، ولا يصارُ إلى سواه إلَّا بقرينةٍ.
3 - صيغةُ الأمرِ تقتضي الفورية، وتخرج عن الفورية إلى التراخي بدليلٍ.
4 - صيغة الأمر لا تقتضي التكرار إلا بدليل.
মাসআলা উদ্ঘাটনের পদ্ধতিসমূহ*
আদেশ (امر) ও নিষেধ (نهي)।
প্রথম মূলনীতি (ضابط): আদেশের (امر) সংজ্ঞা:আভিধানিক অর্থ: এটি বিষয়, ফয়সালা এবং প্রার্থনা অর্থে ব্যবহৃত হয়।
পারিভাষিক অর্থ: শ্রেষ্ঠত্ব বা উচ্চমর্যাদার সাথে কোনো কাজ করার দাবি করা।
*
আদেশ (امر) সংক্রান্ত কিছু নীতিমালা:১ - আদেশের (امر) সুনির্দিষ্ট কিছু রূপ (صيغ) রয়েছে যার মাধ্যমে তা চেনা যায়; যেমন: আদেশসূচক ক্রিয়া (فعل الأمر), এবং ‘লামে আমর’ (لام الأمر) যুক্ত বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل المضارع)।
২ - শর্তহীন আদেশের রূপ (صيغة الأمر المطلقة) —যা আনুষঙ্গিক প্রমাণাদি (قرائن) হতে মুক্ত— তা কোনো কাজ আবশ্যক (وجوب) হওয়ার দাবি রাখে; এবং কোনো বিশেষ প্রমাণ (قرينة) ব্যতীত একে অন্য কোনো অর্থে গ্রহণ করা যাবে না।
৩ - আদেশের রূপ (صيغة الأمر) অবিলম্বে বা দ্রুততার সাথে (فورية) আমল করার দাবি রাখে; এবং কোনো দলিলের (دليل) ভিত্তিতেই কেবল দ্রুততা (فورية) থেকে বিলম্বে (تراخي) আমল করার দিকে যাওয়া যেতে পারে।
৪ - আদেশের রূপ (صيغة الأمر) কোনো দলিলের (دليل) উপস্থিতি ব্যতীত পুনরাবৃত্তি (تكرار) করার দাবি রাখে না।
(খণ্ড: ১)
আল মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
5 - الأمرُ إذا ورَدَ بعدَ النَّهيِ رجعَ بالمأمُورِ به إلى حالِه قبلَ النَّهيِ.
6 - إذا ورد الأمر مقيدًا بوقت، أو صفة، أو شرط، أو عدد، فإن دلالته تتحدد بهذا القيد.
7 - يخرج الأمر عن الوجوب إلى أمور منها: الندب، الإباحة، التهديد، الإرشاد، وغير ذلك.
8 - ما لا يتم المأمور إلا به فهو مأمور به.
الضابط الثاني: تعريف النهي:
لغةً: المنعُ.
واصطلاحًا: هو طلب الكف على جهة الاستعلاء.
ضوابط في النهي:1 - النهي له صيغ معينة يعرف من خلالها كالمضارع المقترن ب (لا) الناهية.
2 - صيغة النهي المطلقة تقتضي التَّحريم، ولا يصارُ إلى سواه إلَّا بقرينةٍ.
3 - صيغة النهى تقتضى الفورية.
4 - صيغة النهى تقتضى التكرار.
5 - النهى يقتضى الفساد والإثم، إذا كان النهى عن ذات الشيء.
5 - নিষেধাজ্ঞার পর যদি কোনো আদেশ আসে, তবে তা আদিষ্ট বিষয়টিকে নিষেধাজ্ঞার পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
6 - আদেশ যদি সময়, বৈশিষ্ট্য, শর্ত বা সংখ্যার সাথে সীমাবদ্ধ হয়ে আসে, তবে তার অর্থ সেই সীমাবদ্ধতা দ্বারা নির্ধারিত হবে।
7 - আদেশ কখনও কখনও আবশ্যিকতা (وجوب) থেকে বের হয়ে অন্যান্য অর্থ প্রকাশ করে, যেমন: পছন্দনীয় (الندب), বৈধতা (الإباحة), ধমক (التهديد), নির্দেশনা (الإرشاد) ইত্যাদি।
8 - যা ব্যতীত আদিষ্ট বিষয়টি পূর্ণ হয় না, সেটিও আদেশের অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয় মূলনীতি: নিষেধাজ্ঞা (النهي)-এর সংজ্ঞা:
শাব্দিক অর্থ: বিরত রাখা।
পারিভাষিক অর্থ: শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তিতে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকার দাবি করা।
নিষেধাজ্ঞা (النهي) সংক্রান্ত মূলনীতিসমূহ:1 - নিষেধাজ্ঞার নির্দিষ্ট কিছু শব্দরূপ রয়েছে যার মাধ্যমে এটি চেনা যায়, যেমন নিষেধসূচক 'না' (لا الناهية) অব্যয় যুক্ত বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কালবাচক ক্রিয়া।
2 - নিষেধাজ্ঞার সাধারণ শব্দরূপ হারাম (التحريم) হওয়াকে আবশ্যক করে এবং কোনো প্রমাণ (قرينة) ব্যতীত এর অন্য কোনো অর্থ গ্রহণ করা যাবে না।
3 - নিষেধাজ্ঞার শব্দরূপ অবিলম্বে তা বর্জন করাকে আবশ্যক করে।
4 - নিষেধাজ্ঞার শব্দরূপ স্থায়ীভাবে বা বারবার বর্জন করাকে আবশ্যক করে।
5 - যদি নিষেধাজ্ঞাটি কোনো বিষয়ের মূল সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে তা উক্ত বিষয়টি বাতিল (الفساد) হওয়া এবং পাপ (الإثم) হওয়াকে আবশ্যক করে।