(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: -)
فقه الصيام ومستجداته المعاصرة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: فقه الصيام ومستجداته المعاصرة
(المقاصد، التأصيل الكلي والجزئي، الدلالة والتفريع، البناء الفقهي المتقدم والمعاصر)
المؤلف: أ. د. فضل بن عبد الله مراد
الناشر: دار ابن كثير، دمشق - سوريا
الطبعة: الأولى، 1446 هـ - 2025 م
عدد الصفحات: 566
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 5 ذو القعدة 1446
সিয়ামের ফিকহ ও এর সমসাময়িক বিষয়াবলি বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: সিয়ামের ফিকহ ও এর সমসাময়িক বিষয়াবলি
(মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ)، সামগ্রিক ও আংশিক মূলনীতি নির্ধারণ، তাৎপর্য ও শাখা বিন্যাস، ধ্রুপদী ও সমসাময়িক ফিকহী কাঠামো)
লেখক: প্রফেসর ড. ফাদল বিন আব্দুল্লাহ মুরাদ
প্রকাশক: দার ইবনে কাসীর، দামেস্ক - সিরিয়া
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪৬ হিজরী - ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬৬
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৫ জিলকদ ১৪৪৬
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
كلمات عن مشروع فقه العصر
وموسوعة معالم الاجتهاد في فقه العصر
الحمد لله رب العالمين بما يليق به من المحامد، عدد ما يحب أن يحمد سبحانه وتعالى الرحمن الرحيم، مالك يوم الدين، حمدًا لا ينقطع لا دنيا ولا أخرى، نحمدك، ونستعينك، ونستهديك، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، والصلاة والسلام على الرسول الكريم أفضل صلاة وسلام ما دامت السموات والأرض.
اللهم اغفر لنا ولوالدينا ومشايخنا وذرياتنا ولمن له حق علينا والمسلمين أجمعين.
أما بعد:
فهذا جزء من موسوعة معالم الاجتهاد في فقه العصر.
التي هي معلم من معالم مشروعنا التجديدي الذي أسسناه مشروع: فقه العصر.
وهذ المشروع من أهم أهدافه التجديد في تقديم فقه الكتاب والسنة ومشروع الإسلام للعالم، بمعالمه وأصوله التي تجري فيه جريان الحياة في الجسد.
الرحمة العالمية والعدل والإحسان، لا البغي والفحشاء والمنكر.
الحكمة والموعظة الحسنة في الخطاب والدعوة.
التيسير لا التعسير في الفتوى والتسهيل، لا التساهل.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ফিকহে আসর (যুগের ফিকহ) প্রকল্প সম্পর্কে কিছু কথা
এবং ফিকহে আসরে ইজতিহাদের রূপরেখা বিষয়ক বিশ্বকোষ
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যা তাঁর মহিমা অনুযায়ী যথাযথ; তাঁর প্রশংসিত হওয়ার পছন্দনীয় সংখ্যার সমপরিমাণ। তিনি পবিত্র, মহান, পরম করুণাময়, অতি দয়ালু, বিচার দিবসের মালিক। এমন প্রশংসা যা দুনিয়া বা আখেরাতে কখনও বিচ্ছিন্ন হবে না। আমরা আপনার প্রশংসা করি, আপনার কাছেই সাহায্য চাই, আপনার কাছেই হিদায়াত কামনা করি এবং আমাদের নফসের অনিষ্ট ও আমাদের আমলের মন্দসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সম্মানিত রাসূলের ওপর—সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম, যতক্ষণ আসমান ও জমিন বিদ্যমান থাকবে।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের, আমাদের পিতা-মাতাকে, আমাদের শায়খদের, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে, আমাদের ওপর যাদের অধিকার রয়েছে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করে দিন।
অত:পর:
এটি ‘ফিকহে আসরে ইজতিহাদের রূপরেখা’ বিশ্বকোষের একটি অংশ।
যা আমাদের প্রতিষ্ঠিত সংস্কারমূলক প্রকল্প ‘ফিকহে আসর’ প্রকল্পের অন্যতম একটি নিদর্শন।
এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো কুরআন ও সুন্নাহর ফিকহ এবং ইসলামের রূপরেখাকে বিশ্বের সামনে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা; এর এমন সব নিদর্শন ও মূলনীতির মাধ্যমে যা ইসলামের ভেতরে শরীরের রক্তসঞ্চালনের মতো প্রবহমান।
বিশ্বজনীন রহমত, ন্যায়বিচার ও ইহসান; সীমালঙ্ঘন, অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ নয়।
ভাষণ ও দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমত ও উত্তম উপদেশ।
ফতোয়া ও সহজীকরণের ক্ষেত্রে সহজ করা, কঠিন করা নয়; এবং সহজসাধ্য করা, শিথিলতা প্রদর্শন নয়।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
التعاون على البر والتقوى، لا على الإثم والعدوان.
التعارف الإنساني والكرامة، لا التقاطع والفتنة.
وقد أطلقت هذا المشروع رسميًا عام 2012 م، وإن كنت أعلنت عنه قبل ذلك.
وأسست قبل ذلك مؤسسة العصر خدمة لهذا المشروع.
وموسوعة معالم الاجتهاد في فقه العصر تأتي ضمن هذا المشروع وتشمل عموم الحياة الإنسانية.
وهي تفصيل وتأصيل وتنزيل، بعد أن قدمنا فقه العصر في متن فقه خلاصي معلل مدلل في كتاب: (المقدمة في فقه العصر) التي حوت خمسة وعشرين بابًا جديدًا.
هي:
الفقه الوظيفي، الفقه الطبي، فقه الدعوة، فقه الأقليات، فقه الدولة، فقه المال العام، فقه السمع والطاعة، فقه المؤسسة العسكرية والأمنية، فقه المؤسسة التعليمية والتربوية، فقه المجتمع المدني والقبيلة، فقه البيئة والصحة العامة، فقه المرور والسير، فقه السياحة، فقه الشباب، فقه اللهو والترفيه، فقه الإعلام، فقه الفن، فقه التكنولوجيا، فقه الطفل والولد، فقه المرأة، فقه حقوق الإنسان، فقه اليتيم، فقه الجهاد، فقه الأموال والاقتصاد المعاصر، لوحات من فقه النفس والحياة ..
أما موسوعة معالم الاجتهاد في فقه العصر:
أولا: موسوعة معالم الاجتهاد في فقه العصر، التعريف:موسوعة معالم الاجتهاد في فقه العصر عمل فقهي وفكري تجديدي فريد، وموسوعي يدرس قضايا الحياة المعاصرة في مختلف الأبواب، ويسبر مفرداتها ويؤسس لها قواعد وأصول وضوابط وفروع نابعة من الشريعة.
পুণ্য ও তাকওয়ার ওপর সহযোগিতা, পাপ ও শত্রুতার ওপর নয়।
মানবীয় পরিচিতি ও মর্যাদা, বিচ্ছিন্নতা ও ফিতনা নয়।
আমি ২০১২ সালে এই প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছি, যদিও আমি এর আগে এটি ঘোষণা করেছিলাম।
আর এর আগে আমি এই প্রকল্পের সেবায় 'মুয়াসসাসাতুল আসর' (আল-আসর প্রতিষ্ঠান) প্রতিষ্ঠা করেছি।
আর সমসাময়িক ফিকহের ক্ষেত্রে 'মাআলিমুল ইজতিহাদ' বিশ্বকোষটি এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি সামগ্রিক মানবজীবনকে পরিবেষ্টন করে।
এটি একটি বিস্তারিত বর্ণনা, মূলনীতি নির্ধারণ এবং প্রয়োগিক রূপ; যা আমরা সমসাময়িক ফিকহকে একটি যৌক্তিক ও দালিলিক সারসংক্ষেপ হিসেবে 'আল-মুকাদ্দিমা ফি ফিকহিল আসর' (সমসাময়িক ফিকহের ভূমিকা) নামক গ্রন্থে পেশ করার পর প্রস্তুত করেছি, যে গ্রন্থটি পঁচিশটি নতুন অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সেগুলো হলো:
পেশাগত ফিকহ, চিকিৎসা ফিকহ, দাওয়াহ ফিকহ, সংখ্যালঘু ফিকহ, রাষ্ট্রীয় ফিকহ, জনসম্পদ ফিকহ, শ্রবণ ও আনুগত্যের ফিকহ, সামরিক ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ফিকহ, শিক্ষা ও লালন-পালন বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের ফিকহ, সুশীল সমাজ ও গোত্রীয় ফিকহ, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ফিকহ, ট্রাফিক ও যাতায়াত ফিকহ, পর্যটন ফিকহ, যুবকেন্দ্রিক ফিকহ, বিনোদন ও আমোদ-প্রমোদের ফিকহ, গণমাধ্যম ফিকহ, শিল্পকলা ফিকহ, প্রযুক্তি ফিকহ, শিশু ও সন্তান ফিকহ, নারী ফিকহ, মানবাধিকার ফিকহ, এতিম ফিকহ, জিহাদ ফিকহ, সমসাময়িক সম্পদ ও অর্থনীতি ফিকহ, মনস্তত্ত্ব ও জীবন ফিকহের কিছু চিত্র...
আর সমসাময়িক ফিকহে মাআলিমুল ইজতিহাদ বিশ্বকোষ প্রসঙ্গে:
প্রথমত: সমসাময়িক ফিকহে মাআলিমুল ইজতিহাদ বিশ্বকোষ, পরিচিতি:সমসাময়িক ফিকহে মাআলিমুল ইজতিহাদ বিশ্বকোষ হলো একটি অনন্য সংস্কারমূলক ফিকহী ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ এবং একটি বিশ্বকোষীয় প্রচেষ্টা, যা বিভিন্ন অধ্যায়ে সমসাময়িক জীবনের সমস্যাবলি নিয়ে আলোচনা করে, এর খুঁটিনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে এবং এর জন্য শরীয়ত থেকে উৎসারিত নীতিমালা, মূলনীতি, বিধিবিধান ও শাখা-প্রশাখা প্রতিষ্ঠা করে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
تنطلق من الكليات إلى الكليات.
ومن الكليات إلى الجزئيات.
ومن الجزئيات إلى الكليات.
ومن الجزئيات إلى الجزئيات.
ثانيا: لماذا موسوعة معالم الاجتهاد في فقه العصر؟في حياتنا المعاصرة برزت تحديات كبرى أمام المنظومة الفقهية والفكرية في التشريع الإسلامي، تشكلت بصور متعددة من خلال تساؤلات واستفهامات عن إمكانية الشريعة وواقعيتها ومدى مرونتها أمام الحوادث المستجدة في عصرنا.
وظهر من خلال ذلك تحديات تتمثل في التشكيك فيها، وصولا إلى محاولة هدم أصولها وثوابتها، وظهور موجات الإلحاد، ومنظومة الشهوات والشبهات.
والشريعة الإسلامية لا تتعامل مع ردود الأفعال كمنهجية بل كجزء من المنهجية فقط وفي أمور محددة.
لأن منهجيتها بنائية شاملة لكل شؤن الحياة فهي تبني الحياة بمنهج متكامل لا بمجرد ردود عن إثارات وشبهات هنا أو هناك.
ومن هنا انطلقت موسوعة معالم الاجتهاد في فقه العصر لتبني فقه حياة معاصرة من خلال الأصول الكبرى من كتاب وسنة وما عاد إليهما من إجماع وقياس قام على تعليل الشريعة ومقاصدها وقواعدها ومصالحها الكبرى.
وفي نفس الوقت تجيب عن تساؤلات الحياة المعاصرة وإشكالاتها وتتعامل مع التحديات الكبرى المعاصرة التي تواجه الفقه الإسلامي
এটি সামগ্রিক মূলনীতি থেকে সামগ্রিক মূলনীতির দিকে ধাবিত হয়।
এবং সামগ্রিক মূলনীতি থেকে বিশেষ বিষয়াবলির দিকে।
এবং বিশেষ বিষয়াবলি থেকে সামগ্রিক মূলনীতির দিকে।
এবং বিশেষ বিষয়াবলি থেকে বিশেষ বিষয়াবলির দিকে।
দ্বিতীয়ত: সমকালীন ফিকহে ‘মাআলিমুল ইজতিহাদ’ (ইজতিহাদের দিকনির্দেশনা) বিশ্বকোষ কেন?আমাদের সমসাময়িক জীবনে ইসলামী আইনের ফিকহী ও চিন্তাগত কাঠামোর সামনে বড় বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে; যা আমাদের যুগে উদ্ভূত ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে শরীয়তের সম্ভাবনা, বাস্তবতা এবং এর নমনীয়তার মাত্রা সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসার মাধ্যমে বহুবিধ রূপ পরিগ্রহ করেছে।
এর মাধ্যমে সংশয় সৃষ্টির মতো চ্যালেঞ্জগুলো সামনে এসেছে, যা শেষ পর্যন্ত এর মূলনীতি ও অকাট্য বিষয়গুলোকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা এবং নাস্তিকতার জোয়ার ও প্রবৃত্তি ও সন্দেহের জাল বিস্তারের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইসলামী শরীয়ত কেবল প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে কাজ করাকে একটি পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করে না, বরং এটিকে কেবল নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে পদ্ধতির অংশ হিসেবে গণ্য করে।
কারণ এর কর্মপদ্ধতি হলো জীবনের প্রতিটি বিষয়ের জন্য গঠনমূলক ও ব্যাপক; এটি কেবল এখানে-সেখানে সৃষ্টি করা উত্তেজনা বা সন্দেহের জবাব দেওয়ার মাধ্যমে নয়, বরং এক পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থার মাধ্যমে জীবন গঠন করে।
আর এখান থেকেই ‘সমকালীন ফিকহে মাআলিমুল ইজতিহাদ’ বিশ্বকোষটির যাত্রা শুরু হয়েছে, যাতে কুরআন ও সুন্নাহর বৃহৎ মূলনীতি এবং এ দুটির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত ইজমা ও কিয়াসের আলোকে এক সমকালীন জীবন-ফিকহ গড়ে তোলা যায়, যা শরীয়তের কারণ-বিশ্লেষণ, উদ্দেশ্য, নীতিমালা ও বৃহত্তর স্বার্থের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
একই সঙ্গে এটি সমকালীন জীবনের প্রশ্ন ও সমস্যাবলির উত্তর দেয় এবং ইসলামী ফিকহের সামনে আসা বড় বড় সমকালীন চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা করে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وتدرسها وتبين أحكامها بما يقدم للعالم رؤية الإسلام لأكبر قضايا العصر وأبرزها التي أشكلت على المجتمع العالمي والإنساني والعلمي والفكري.
كمجال الفقه الإنساني والحقوقي والمجتمعي وفقه المرأة والطفولة والأسرة، وفقه الشرائح الضعيفة وحقوق الإنسان وأسواق المال وتعقيداتها، والدولة والعلاقات الدولية والأممية سلمًا وحربًا.
وفقه الأركان الكبرى بدءا بالرسالة ومرتكزاتها وموقفها من قضيا الفكر والتكفير والتعايش والدعوة والإيمان.
والفقه المهني وحقوقه ومسائله ونظرة الإسلام إليه في مختلف حقول المهنة والعمل وغير ذلك.
ثالثا: أهداف الموسوعة.1_ تقديم منهج الإسلام العظيم إلى الأمة والعالم في صورة تلامس الواقع والحياة والإنسان في منظومة تشريعية مرتبطة بمهمة الاستخلاف الرباني للإنسان؛ لعمارة الأرض وعبادته وحده، وتواجه بذلك تحديات العصر الفكرية والمعرفية وتجيب عن تساؤلاته وشبهاته.
2_ دراسة قضايا الحياة المعاصرة من خلال تأسيس منهجية تأصيلية جديدة مبتكرة للفقه الإسلامي، تنطلق من التأصيل الكلي والجزئي إلى التنزيل، من الكليات في الكتاب والسنة إلى الجزئيات، ومن الجزئيات إلى الكليات، من الواقع إلى النص، ومن النص إلى الواقع.
3_ إعادة النظر الفقهي تأصيلًا إلى أصوله الكبرى من الكتاب، والسنة والإجماع، والقياس الصحيح، والمقاصد، والمصالح والقواعد الكبرى. وتنزيلًا إلى محددات دقيقة تعطي التصور الكامل للواقع المعاصرة.
4_ بناء العقلية الفقهية الاجتهادية القادرة على النظر والاستدلال في الفقه المتقدم والمعاصر.
5_ الكشف عن منهجية فقهاء الصحابة والتابعين والأئمة الأربعة
এবং এগুলো অধ্যয়ন করে এবং এগুলোর বিধানসমূহ এমনভাবে বর্ণনা করে যা বিশ্বের কাছে সমসাময়িক যুগের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে, যা বিশ্ব সমাজ, মানবতা, বিজ্ঞান ও চিন্তাধারার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করেছে।
যেমন মানবিক, আইনি ও সামাজিক ফিকহ এবং নারী, শিশু ও পরিবার সংক্রান্ত ফিকহ; আর দুর্বল শ্রেণির ফিকহ, মানবাধিকার, অর্থবাজার ও এর জটিলতা এবং রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ফিকহ—শান্তি ও যুদ্ধ উভয় অবস্থায়।
এবং প্রধান স্তম্ভসমূহের ফিকহ, যা রিসালাত ও এর ভিত্তি থেকে শুরু করে চিন্তাধারার বিষয়সমূহ, তাকফির (কাফির সাব্যস্ত করা), সহাবস্থান, দাওয়াত ও ঈমানের প্রতি এর অবস্থান পর্যন্ত বিস্তৃত।
আর পেশাগত ফিকহ, এর অধিকার ও মাসআলাসমূহ এবং পেশা ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।
তৃতীয়ত: বিশ্বকোষের লক্ষ্যসমূহ।১_ উম্মাহ ও বিশ্বের কাছে ইসলামের মহান আদর্শকে এমন এক রূপে উপস্থাপন করা যা বাস্তব জীবন ও মানুষের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এটি এমন এক বিধিবদ্ধ ব্যবস্থার অংশ যা পৃথিবীতে মানুষের খিলাফতের মহান দায়িত্বের সাথে যুক্ত; যেন পৃথিবী আবাদ করা যায় এবং কেবল আল্লাহর ইবাদত করা যায়। এর মাধ্যমে সমকালীন যুগের বুদ্ধিবৃত্তিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা করা হবে এবং এর প্রশ্ন ও সংশয়সমূহের উত্তর প্রদান করা হবে।
২_ ইসলামী ফিকহের একটি নতুন ও উদ্ভাবনী মূলনীতিভিত্তিক পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমকালীন জীবনের সমস্যাসমূহ অধ্যয়ন করা। এই পদ্ধতিটি সামগ্রিক ও আংশিক মূলনীতি থেকে বাস্তব প্রয়োগের দিকে অগ্রসর হবে; কিতাব ও সুন্নাহর মৌলিক নীতিমালা থেকে শুরু করে শাখা-প্রশাখা পর্যন্ত, শাখা-প্রশাখা থেকে মৌলিক নীতিমালা পর্যন্ত, বাস্তব প্রেক্ষাপট থেকে মূল পাঠ (নস) পর্যন্ত এবং মূল পাঠ (নস) থেকে বাস্তব প্রেক্ষাপট পর্যন্ত।
৩_ ফিকহি দৃষ্টিভঙ্গিকে মূলনীতিগতভাবে কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা, সঠিক কিয়াস, মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ), মাসালিহ (জনকল্যাণ) এবং প্রধান মূলনীতিসমূহের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া। এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে একে এমন সূক্ষ্ম মানদণ্ডের অধীনে আনা যা সমসাময়িক বাস্তবতার পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রদান করে।
৪_ এমন ইজতিহাদভিত্তিক ফিকহি মানসিকতা তৈরি করা যা প্রাচীন ও সমসাময়িক ফিকহের ক্ষেত্রে গভীর পর্যবেক্ষণ ও দলিল উপস্থাপনে সক্ষম।
৫_ সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ি এবং চার ইমামের ফিকহি কর্মপদ্ধতি উন্মোচন করা।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
والظاهرية والفقهاء المجتهدين دراسة وتحليلًا بعيدًا عن التعصب والجمود. لإعادة استثمار هذه المنهجية في النظر الفقهي المعاصر في مستجدات حياتنا، فنكون قد استفدنا من هذه المنهجية الاجتهادية ومنتوج المنهجية بدلًا من أخذ إنتاجهم جاهزًا في كل المسائل على الإطلاق، لمعالجة الواقع به بدون النظر إلى السياق الزماني والواقعي والأصول التي انطلقوا منها. وتجيب بذلك عن تساؤلات كثيرة تتعلق بتعليل ما ذهبوا إليه وكيف ذهبوا.
رابعا: أقسام الموسوعة ومفرداتها الكلية.موسوعة معالم الاجتهاد في فقه العصر هي المرحلة الثانية في خطة مشروع فقه العصر التجديدي، التي تفصل المسائل وتعيد بناءها وفق منهجية علمية فقهية دقيقة وتربط الفقه المتقدم والمعاصر بالأصول في لوحة فقهية معرفية زاهية.
وتم تقسيمها إلى إحدى عشر قسمًا، تتكتل فيها جميع الأبواب موزعة كالتالي:
وسأذكرها بشكل كلي.
القسم الأول: خارطة النظر الفقهي تأصيلًا وتنزيلًاوتشمل الأصول الحاكمة للتأصيل الفقهي المتقدم والمعاصر من قواعد التأصيل الكلي، والأسئلة التأصيلية الخمسة؛ لتحقيق النظر في كل مسألة، والمحددات العشرة الضابطة لفقه واقع النازلة وأسس النظر في فقه العصر القائم على أصول وتقعيدات وقصود.
ومنها القواعد الأم للفقه الإسلامي وتفعليها المعاصر.
والمقاصد وأثرها في المستجدات الفقهية.
والكتل الأصولية الفاعلة في الاستنباط وغير ذلك.
এবং জাহেরি ও মুজতাহিদ ফকিহগণকে সংকীর্ণতা ও স্থবিরতা মুক্ত হয়ে অধ্যয়ন ও বিশ্লেষণ করা। আমাদের জীবনের নতুন উদ্ভূত বিষয়গুলোতে সমকালীন ফিকহি দৃষ্টিভঙ্গিতে এই পদ্ধতিকে পুনরায় কাজে লাগানোর জন্য, যাতে আমরা এই ইজতিহাদি পদ্ধতি এবং সেই পদ্ধতির ফলাফল থেকে উপকৃত হতে পারি; সকল বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্তগুলোকে সরাসরি গ্রহণ করে সময় ও বাস্তব প্রেক্ষাপট এবং যে মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে তারা এগিয়েছিলেন তা বিবেচনা না করেই বাস্তবতাকে মোকাবিলা করার পরিবর্তে। এর মাধ্যমে তাদের গৃহীত মতের কারণ ও প্রক্রিয়া সংক্রান্ত অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে।
চতুর্থ: বিশ্বকোষের বিভাগসমূহ এবং এর সামগ্রিক পরিভাষাসমূহ।‘মাআলিমুল ইজতিহাদ ফি ফিকহিল আসর’ (সমকালীন ফিকহে ইজতিহাদের দিগন্ত) বিশ্বকোষটি হলো আধুনিক সমকালীন ফিকহ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়, যা মাসআলাগুলোকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে এবং একটি সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক ফিকহি পদ্ধতির আলোকে সেগুলোকে পুনরায় বিন্যস্ত করে এবং পূর্ববর্তী ও সমকালীন ফিকহকে মূলনীতির সাথে একটি উজ্জ্বল ফিকহি জ্ঞানতাত্ত্বিক কাঠামোতে আবদ্ধ করে।
একে এগারোটি বিভাগে বিভক্ত করা হয়েছে, যেখানে সমস্ত অধ্যায় নিম্নোক্তভাবে বিন্যস্ত হয়েছে:
আমি সেগুলো সামগ্রিকভাবে উল্লেখ করছি।
প্রথম বিভাগ: তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ফিকহি দৃষ্টিভঙ্গির রূপরেখাএর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে পূর্ববর্তী ও সমকালীন ফিকহি তাত্ত্বিক ভিত্তি নির্মাণের নিয়ন্ত্রক মূলনীতিসমূহ যা সামগ্রিক তাত্ত্বিক নিয়ম থেকে গৃহীত, এবং প্রতিটি মাসআলায় গভীর দৃষ্টি দেওয়ার জন্য পাঁচটি তাত্ত্বিক প্রশ্ন; উদ্ভূত নতুন পরিস্থিতির ফিকহকে নিয়ন্ত্রণের দশটি নির্ধারক এবং মূলনীতি, নিয়মাবলী ও উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত সমকালীন ফিকহ পর্যালোচনার ভিত্তি।
এর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ফিকহের মৌলিক নিয়মসমূহ এবং সেগুলোর সমকালীন প্রয়োগ।
এবং মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ) ও ফিকহি নতুন উদ্ভূত বিষয়গুলোতে এর প্রভাব।
এবং বিধান আহরণ প্রক্রিয়ায় কার্যকর উসূলি কাঠামোসমূহ ও অন্যান্য।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
القسم الثاني: الأركان الكبرى ونوازلها المعاصرة.ويشمل هذا القسم:
الإيمان: أصوله وتأصيله وبناؤه وإشكاليات العصر وكيفية معالجاتها. الإلحاد، التشكيك بالثوابت، محاربة الحديث، التكفير والردة، الأديان والعلاقة بينها. وأهم الفرق المعاصرة والأفكار والأيدولوجيات، الحاكمية. الشبهات والشهوات.
الصلاة ووسائلها: الأصول، المقاصد، الفروع، مستجدات العصر.
الزكاة: مقاصدها، أصولها، قواعدها، فروعها، تنزيلها المعاصر.
الصيام: التأصيل الكلي والجزئي، المقاصد والأسرار، والأهداف، كيفية بناء فقه العصر.
الحج: الأهداف، والمقاصد، التأصيل الكلي، والفروع، والمستجدات المعاصرة في ضوء ذلك.
القسم الثالث: فقه الحاجيات الأساسية والتحسينات الحياتية.ويشمل:
فقه الغذاء الحلال والأمن الغذائي والمائي.
فقه الزينة واللباس والجمال.
فقه اللهو والترفيه.
فقه السياحة والسفر.
القسم الرابع: فقه المرأة والأسرة والطفولة.ويشمل ما يتعلق بالأسرة، والمرأة، والطفولة، والأبناء.
দ্বিতীয় বিভাগ: প্রধান রুকনসমূহ এবং এ সংক্রান্ত সমসাময়িক বিষয়াবলি।এই বিভাগটি অন্তর্ভুক্ত করে:
ঈমান: এর মূলনীতি, মৌলিক ভিত্তি এবং কাঠামো নির্মাণ, বর্তমান যুগের সমস্যাবলি ও তা সমাধানের পদ্ধতি। নাস্তিক্যবাদ, প্রতিষ্ঠিত সত্যগুলোর ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টি, হাদীস অস্বীকার বা বিরোধিতা, তাকফির ও ধর্মত্যাগ, বিভিন্ন ধর্ম এবং তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক। সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ ফেরকা বা উপদলসমূহ, চিন্তাধারা ও মতাদর্শসমূহ, হাকিমিয়্যাহ (আল্লাহর সার্বভৌমত্ব)। সংশয় এবং কুপ্রবৃত্তি।
সালাত এবং এর মাধ্যমসমূহ: মূলনীতি, উদ্দেশ্যসমূহ, শাখাগত মাসআলাসমূহ এবং বর্তমান যুগের নতুন উদ্ভূত বিষয়াবলি।
জাকাত: এর উদ্দেশ্যসমূহ, মূলনীতি, নিয়মাবলি, শাখাগত মাসআলাসমূহ এবং সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে এর প্রয়োগ।
সিয়াম: সামষ্টিক ও আংশিক মূলনীতি নির্ধারণ, উদ্দেশ্য ও রহস্যসমূহ এবং লক্ষ্যসমূহ, বর্তমান যুগের উপযোগী ফিকহ তৈরির পদ্ধতি।
হজ: লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ, সামষ্টিক মূলনীতি নির্ধারণ, শাখাগত মাসআলাসমূহ এবং এর আলোকে সমসাময়িক নতুন উদ্ভূত বিষয়াবলি।
তৃতীয় বিভাগ: মৌলিক প্রয়োজনীয়তা এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন সংক্রান্ত ফিকহ।এর অন্তর্ভুক্ত:
হালাল খাদ্য এবং খাদ্য ও পানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত ফিকহ।
সাজসজ্জা, পোশাক এবং সৌন্দর্য সংক্রান্ত ফিকহ।
ক্রীড়া ও বিনোদন সংক্রান্ত ফিকহ।
পর্যটন ও সফর সংক্রান্ত ফিকহ।
চতুর্থ বিভাগ: নারী, পরিবার এবং শিশু সংক্রান্ত ফিকহ।এতে পরিবার, নারী, শৈশব এবং সন্তান-সন্ততি সংক্রান্ত বিষয়াবলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
القسم الخامس: فقه المجتمع المدني والقبلي والإنسانيويشمل:
الفقه الإنساني ومهمات الاستخلاف وقوانين الاستخلاف، والسنن الإلهية في الحياة.
فقه البيئة والسكن والعمارة والحضارة الإنسانية.
المجتمع والقبلية، والأصل الإنساني الواحد والأنساب والشعوب.
الطبقية المجتمعية، والموازين النسبية والقبلية والمهنية.
الحقوق المجتمعية، والأواصر القربى والرحم والشبكة المجتمعية في القرآن والسنة.
العلاقات الأممية والإنسانية، والتعايش المجتمعي بين البشرية.
فقه الشباب.
فقه اليتيم والشرائح الضعيفة.
الفقه الإنساني وحقوق الإنسان مقارنًا بقانون حقوق الإنسان.
القسم السادس: فقه الدعوة وأصولها من الكتاب، والسنة ووسائلها.ويشمل فقه الدعوة والجماعات الدعوية والطرق المسلكية والخلاف وآدابه
القسم السابع: فقه المجتمعات المسلمة في الغرب.ولم أُسَمِّهِ الأقليات؛ فهي تسمية تحجم من أهل الإسلام.
القسم الثامن: الفقه المهني والتكنولوجي.ويشمل:
فقه الصحة والطب.
الفقه الوظيفي.
পঞ্চম বিভাগ: নাগরিক, গোত্রীয় ও মানবিক সমাজতত্ত্বএতে রয়েছে:
মানবিক ফিকহ, খিলাফতের (প্রতিনিধিত্বের) দায়িত্বসমূহ, খিলাফতের আইনসমূহ এবং জীবনের ঐশী বিধানসমূহ।
পরিবেশ, আবাসন, স্থাপত্য ও মানব সভ্যতার ফিকহ।
সমাজ ও গোত্রপ্রথা, অভিন্ন মানবীয় মূল উৎস, বংশলতিকা এবং জাতিসমূহ।
সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস এবং বংশীয়, গোত্রীয় ও পেশাগত মানদণ্ডসমূহ।
সামাজিক অধিকারসমূহ এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আত্মীয়তার বন্ধন ও সামাজিক কাঠামো।
আন্তর্জাতিক ও মানবিক সম্পর্ক এবং মানবজাতির মধ্যে সামাজিক সহাবস্থান।
যুবকদের ফিকহ।
এতিম ও সমাজের দুর্বল শ্রেণির ফিকহ।
মানবিক ফিকহ এবং প্রচলিত মানবাধিকার আইনের তুলনামূলক পর্যালোচনায় মানবাধিকার।
ষষ্ঠ বিভাগ: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে দাওয়াতের ফিকহ, এর মূলনীতি ও মাধ্যমসমূহ।এতে দাওয়াতের ফিকহ, দাওয়াতি জামাতসমূহ, আধ্যাত্মিক পথসমূহ এবং মতভেদ ও এর শিষ্টাচার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সপ্তম বিভাগ: পাশ্চাত্যের মুসলিম সমাজসমূহের ফিকহ।আমি একে ‘সংখ্যালঘু’ নামকরণ করিনি; কারণ এই পরিভাষাটি ইসলামের অনুসারীদের মর্যাদাকে সংকুচিত করে।
অষ্টম বিভাগ: পেশাগত ও প্রযুক্তিগত ফিকহ।এতে রয়েছে:
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত ফিকহ।
পেশা বা কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ফিকহ।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
فقه الإعلام.
فقه الفنون.
فقه التكنولوجيا.
القسم التاسع: فقه الأموال والاقتصادويشمل:
القوانين الستة الكبرى لضبط باب الأموال.
الأموال العالمية الخمسة وأحكامها، نقد، وسهم، وعين، وحق، ومنفعة.
النظام المالي، كنظام الاستثمار والسوق والتملك، ونظام الحفظ والتوثيق .. وغير ذلك ..
القسم العاشر: فقه الدولة.ويشمل: التأصيل، المقاصد القواعد، أسس الحكم، ماهية الدولة، الحاكم، ومؤسسات الدولة وسياساتها التعددية، المؤسسة الشوروية.
فقه المؤسسة الأمنية والعسكرية والجهاد والمقاومة.
فقه العلاقات الدولية، فقه الحقوق والحريات، فقه السمع والطاعة.
فقه المؤسسة القضائية.
فقه الجرائم والعقوبات.
فقه المال العام.
فقه التربية والتعليم.
فقه المرور والسير.
القسم الحادي عشر: فقه الأخلاق والآداب.ويمكن أن ندمج بعض الأقسام، أو نفصل بعضها إن اقتضى الأمر.
গণমাধ্যম সংক্রান্ত ফিকহ।
চারুকলা সংক্রান্ত ফিকহ।
প্রযুক্তি সংক্রান্ত ফিকহ।
নবম বিভাগ: সম্পদ ও অর্থনীতি সংক্রান্ত ফিকহএটি অন্তর্ভুক্ত করে:
সম্পদ নিয়ন্ত্রণের বড় ছয়টি নীতিমালা।
পাঁচ প্রকার বৈশ্বিক সম্পদ ও সেগুলোর বিধান: নগদ অর্থ, শেয়ার, বস্তুগত সম্পদ, অধিকার এবং উপযোগ।
আর্থিক ব্যবস্থা, যেমন বিনিয়োগ, বাজার ও মালিকানা ব্যবস্থা, এবং সংরক্ষণ ও প্রামাণ্যকরণ ব্যবস্থা... এবং আরও অন্যান্য...
দশম বিভাগ: রাষ্ট্র সংক্রান্ত ফিকহ।এটি অন্তর্ভুক্ত করে: মূলনীতি নির্ধারণ, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও মূলসূত্রসমূহ, শাসনের ভিত্তি, রাষ্ট্রের স্বরূপ, শাসক, এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ ও এর বহুত্ববাদী রাজনীতি, শুরা (পরামর্শ) ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান।
নিরাপত্তা ও সামরিক প্রতিষ্ঠান এবং জিহাদ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত ফিকহ।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সংক্রান্ত ফিকহ, অধিকার ও স্বাধীনতা সংক্রান্ত ফিকহ, আনুগত্য ও নির্দেশ পালন সংক্রান্ত ফিকহ।
বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত ফিকহ।
অপরাধ ও দণ্ডবিধি সংক্রান্ত ফিকহ।
সরকারি বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংক্রান্ত ফিকহ।
লালন-পালন ও শিক্ষা সংক্রান্ত ফিকহ।
ট্রাফিক ও যাতায়াত সংক্রান্ত ফিকহ।
একাদশ বিভাগ: চরিত্র ও শিষ্টাচার সংক্রান্ত ফিকহ।প্রয়োজন সাপেক্ষে আমরা কিছু বিভাগকে একত্রিত করতে পারি, অথবা কিছু বিভাগকে পৃথক করতে পারি।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ونحن نعمل في هذه الموسوعة منذ زمن، مع الشغل الوظيفي، وعدم التفرغ لمثل هذا العمل سوى في العطل السنوي.
ولولا عون الله وتوفيقه ما صنعنا شيئًا، وأسأل من الله أن يمن عليَّ بتمام هذا المشروع، ويقر عيني برؤيته، وينفع به الإسلام، ويجري علي أجره بلا انقطاع في الدنيا والآخرة.
وأسأل الله أن يخلص لنا العمل والنية إنه اللطيف الرحمن الرحيم، وأن يتجاوز عن الخطأ والزلل ويغفر الذنوب إنه كان غفارًا.
আমরা দীর্ঘ সময় ধরে এই বিশ্বকোষটির ওপর কাজ করছি, পাশাপাশি আমাদের পেশাগত দায়িত্বও রয়েছে এবং বার্ষিক ছুটি ব্যতীত এ কাজের জন্য পূর্ণ অবসর পাওয়া সম্ভব হয়নি।
আর আল্লাহর সাহায্য ও তাওফিক না থাকলে আমরা কিছুই সম্পাদন করতে পারতাম না। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই প্রকল্পটি সমাপ্ত করার মাধ্যমে আমার ওপর অনুগ্রহ করেন, এর সমাপ্তি দেখে আমার চক্ষু শীতল করেন, এর দ্বারা ইসলামের কল্যাণ সাধন করেন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে এর প্রতিদান যেন আমার জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে জারি রাখেন।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের কর্ম ও নিয়তকে একনিষ্ঠ করেন; নিশ্চয়ই তিনি সূক্ষ্মদর্শী, পরম দাতা ও পরম করুণাময়। তিনি যেন আমাদের ভুল ও পদস্খলন ক্ষমা করেন এবং পাপসমূহ মার্জনা করেন; নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
فقه الصيام
المقاصد، التأصيل الكلي والجزئي، الدلالة والتفريع، البناء الفقهي المتقدم والمعاصر.
الصيام فرض وركن من أركان الإسلام، دل عليه الكتاب والسنة، وأجمع على ذلك أهل الإسلام.
قال تعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ} [البقرة (178)].
ومن السنة ما رويناه في صحيح البخاري: حدثنا عبيد الله بن موسى قال: أخبرنا حنظلة بن أبي سفيان: عن عكرمة بن خالد، عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: {بني الإسلام على خمس: شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، والحج، وصوم رمضان}
(1).
وأحكامه مبينة بنصوص القرآن والسنة، وما هو راجع إليهما من إجماع، وعلل، ومقاصد، وقواعد، وله أحكام مستجدة معاصرة تؤخذ من تلك الأصول.
وسنبين كيفية استنباط ذلك كله، ومأخذ مسائل العصر من هذه المعالم الدليلية من دلالة ومعنى ومقاصد.
ونكشف مناهج الفقهاء في التعامل مع النصوص، ومعانيها، وأبعادها؛
--------------------------------------------
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
সিয়ামের ফিকহ
মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ), সামষ্টিক ও আংশিক মূলনীতি নির্ধারণ, ভাষাগত নির্দেশ ও শাখা-প্রশাখা বিন্যাস, ধ্রুপদী ও সমকালীন ফিকহী কাঠামো।
সিয়াম একটি ফরজ বিধান এবং ইসলামের রুকনসমূহের অন্যতম একটি রুকন, যা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত এবং ইসলামের অনুসারীগণ এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে} [আল-বাকারা (১৭৮)]।
সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হলো যা আমরা সহীহ বুখারীতে বর্ণনা করেছি: উবায়দুল্লাহ বিন মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হানজালা বিন আবি সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: ইকরিমা বিন খালিদ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: {ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, হজ করা এবং রমজানের সিয়াম পালন করা}
(১)।
এর বিধানসমূহ কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্য (নস) এবং এ দুটির দিকে প্রত্যাবর্তনকারী ইজমা (ঐক্যমত), ইল্লত (কার্যকারণ), মাকাসিদ (উদ্দেশ্য) ও কাওয়াইদ (মূলনীতি) দ্বারা সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত। এর আধুনিক ও সমকালীন কতিপয় বিধানও রয়েছে যা উক্ত মূল উৎসগুলো থেকে গ্রহণ করা হয়।
আমরা এই সবকিছুর ইস্তিম্বাত (বিধান আহরণ) পদ্ধতি এবং এই দালিলিক নিদর্শনসমূহ থেকে ভাষাগত নির্দেশ, অর্থ ও উদ্দেশ্যের আলোকে সমকালীন মাসআলাসমূহের উৎসসমূহ বর্ণনা করব।
আমরা নস (পাঠ), এর অর্থ ও ব্যাপ্তির ক্ষেত্রে ফকীহগণের অনুসৃত কর্মপন্থা উন্মোচন করব;
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ليكون دربة للناظر وتنمية لمهارات الاستنباط وتكوينًا للملكة الفقهية الاجتهادية.
وعلى هذا فالكلام على الصيام سينتظم في فصول:
• الفصل الأول: مقاصد الصيام وتأصيله الكلي وكيفية بناء أحكامه.
• الفصل الثاني: في الشروط والأركان وما يتعلق بها من الأصول والتفريع المتقدم والمعاصر.
• الفصل الثالث: في المبطلات وتأصيلها وبيان منهجية المذاهب في استنباطها وتقسيمها إلى ثلاث مراتب دلالية.
• الفصل الرابع: المفطرات المعاصرة من الصورة إلى الحكم.
• الفصل الخامس: زكاة الفطر ومستجداتها.
• الفصل السادس: في أحكام متعلقة بشهر رمضان وما يتعلق بها من المسائل المعاصرة (زكاة الفطر _ القيام والتراويح _ الاعتكاف _ ليلة القدر_ وغير ذلك).
যাতে এটি অধ্যয়নকারীর জন্য অনুশীলনী, ইস্তিনবাত বা মাসআলা উদ্ভাবনের দক্ষতার উন্নয়ন এবং ফিকহি ইজতিহাদী প্রতিভা গঠনের মাধ্যম হয়।
এর ওপর ভিত্তি করে সিয়াম সংক্রান্ত আলোচনা নিম্নলিখিত পরিচ্ছেদসমূহে বিন্যস্ত হবে:
• প্রথম পরিচ্ছেদ: সিয়ামের মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ), এর সামগ্রিক তাত্ত্বিক ভিত্তি এবং এর বিধিবিধান নির্মাণের পদ্ধতি।
• দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শর্ত ও রুকনসমূহ এবং এ সংক্রান্ত মূলনীতি ও প্রাচীন এবং সমসাময়িক শাখা-প্রশাখা।
• তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ ও সেগুলোর তাত্ত্বিক ভিত্তি এবং সেগুলো উদ্ভাবনে মাযহাবসমূহের কর্মপদ্ধতির বর্ণনা এবং সেগুলোকে তিনটি অর্থগত স্তরে বিন্যাস।
• চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সমসাময়িক রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ: চিত্রায়ন থেকে বিধান পর্যন্ত।
• পঞ্চম পরিচ্ছেদ: জাকাতুল ফিতর এবং এ সংক্রান্ত নতুন উদ্ভূত বিষয়াদি।
• ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: রমজান মাস সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি এবং এ সংক্রান্ত সমসাময়িক মাসায়েল (জাকাতুল ফিতর, কিয়াম ও তারাবিহ, ইতিকাফ, লাইলাতুল কদর এবং অন্যান্য)।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الفصل الأولمقاصد الصيام وتأصيله الكلي وكيفية بناء أحكامهوفيه مبحثان:
المبحث الأول: في المقاصد المتعلقة بالصيام.
المبحث الثاني: التأصيل الكلي لفقه الصيام وكيفية بنائه.
প্রথম পরিচ্ছেদসিয়ামের উদ্দেশ্যসমূহ, এর সামগ্রিক মূলনীতি নির্ধারণ এবং এর বিধানসমূহ গঠনের পদ্ধতিএবং এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: সিয়াম সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্যসমূহ প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সিয়ামের ফিকহের সামগ্রিক মূলনীতি নির্ধারণ এবং তা গঠনের পদ্ধতি প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الأول: في المقاصد المتعلقة بالصيامالكشف عن مقاصد التشريع في التكاليف الشرعية يعتبر روح التشريع، وسرُّهُ، والغاية من وضعه.
وهذه المقاصد ليست كالنظر الفقهي الفروعي الذي يتعلق بتحرير المصححات، والمبطلات ظاهرًا، بغض النظر عن الجانب الجزائي، والقبول عند الله سبحانه وتعالى والمقاصد التي قصد الشرع وضع هذه التكاليف لأجلها.
فالمقاصد تخدم تصحيح العمل، وتقويمه، ظاهرًا وباطنًا، وقبوله عند الله -سبحانه-، وتخدم العلل، والغايات الكبرى التي لأجلها وضع التشريع.
والمقصود الأكبر من جميع العبادات تحقيق العبادة لله وحده بما شرع، قال تعالى عن علة الخلق {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات (56)].
وهذه العبادة العظيمة لها مقاصد وضعها الشرع لا بد من بيانها في مطلع الكلام على فقه الصيام؛ لأن المقاصد كاشفة عن مراد الله ورسوله من هذه العبادة العظيمة.
وفهم مراد الله في العبادة يثمر السير على تلك المقاصد لتحقيق رضاه سبحانه.
وبالتتبع لنصوص الكتاب، والسنة وعللهما، يمكن أن نقسم هذه المقاصد إلى ثلاثة أنواع:
1 - مقاصد الشرع في الصيام من جهة الدلالة.
2 - مقاصد الشرع في الصيام من جهة الكيفية والماهية.
প্রথম পরিচ্ছেদ: সিয়াম সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্যসমূহ প্রসঙ্গেশরয়ী বিধানসমূহের (তাকালীফ শারইয়্যাহ) ক্ষেত্রে শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ (মাকাসিদ) উন্মোচন করাকে শরীয়তের প্রাণ, এর রহস্য এবং এটি প্রবর্তনের মূল লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করা হয়।
আর এই উদ্দেশ্যসমূহ কেবল সেই ফিকহী শাখা-প্রশাখার দৃষ্টিভঙ্গির মতো নয় যা পরকালীন প্রতিদান, মহান আল্লাহর নিকট কবুলিয়াত এবং শরীয়ত যে উদ্দেশ্যে এই বিধানগুলো প্রবর্তন করেছে তা বিবেচনা না করে কেবল বাহ্যিকভাবে আমল শুদ্ধকারী বা বাতিলকারী বিষয়গুলো পর্যালোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট।
মূলত মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যসমূহ বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে আমলকে সংশোধন ও সুসংহত করতে এবং মহান আল্লাহর নিকট তা কবুল হতে সাহায্য করে। এছাড়া তা সেই গূঢ় কারণ ও সুমহান লক্ষ্যসমূহ পূরণে সহায়ক হয় যার ভিত্তিতে শরীয়ত প্রবর্তিত হয়েছে।
সকল ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য হলো শরীয়ত নির্দেশিত পন্থায় একমাত্র আল্লাহর ইবাদত বাস্তবায়ন করা। সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: "আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।" [আয-যারিয়াত: ৫৬]।
এই মহান ইবাদতের কিছু সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে যা শরীয়ত নির্ধারণ করেছে, সিয়ামের ফিকহ আলোচনার শুরুতে সেগুলো বর্ণনা করা আবশ্যক; কারণ এই উদ্দেশ্যসমূহ এই মহান ইবাদত সম্পর্কে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অভিপ্রায় উন্মোচন করে।
ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর অভিপ্রায় অনুধাবন করা ওই উদ্দেশ্যগুলোর পথে চলার ফল প্রদান করে, যা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সহায়ক হয়।
কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্য এবং সেগুলোর গূঢ় কারণসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা এই উদ্দেশ্যগুলোকে তিনটি প্রকারে বিভক্ত করতে পারি:
১ - নির্দেশনার (দালালাত) দিক থেকে সিয়ামের ক্ষেত্রে শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ।
২ - পদ্ধতি ও স্বরূপের দিক থেকে সিয়ামের ক্ষেত্রে শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
3 - مقاصد الشرع في الصيام من جهة الغايات والأهداف والأسرار.
أما
النوع الأول: فراجع إلى خطاب التكليف الذي نزل في هذه العبادة، ودلالاته المفهومة من اللسان العربي ..فالشرع إنما وضع الشريعة؛ للإفهام بلسان عربي مبين، فهذه الدلالات اللسانية مقصودة شرعًا.
لذلك تؤخذ الأحكام من هذه الدلالات مباشرة.
(1)ومن خلال هذه الدلالات وسياقاتها، يتبين أن الشرع قصد إفهامنا أن هذا شرط، وهذا ركن، وهذا مبطل، وهذه رخصة.
لأن الركن والشرط ما أدى تركه إلى عدم وجود الكيفية الشرعية للعبادة التي هي ماهيتها، وهذا مؤد إلى بطلان العبادة.
ودلالة النص الشرعي على ذلك يكون بجعل العبادة مركبة من هذه الأمور.
ففي الصوم قال سبحانه: -بعد إباحة الجماع والأكل والشرب إلى الفجر- {ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ} [البقرة (181)] فعلمنا أن الصيام المأمور به هو: الامتناع عن هذه الثلاثة الأشياء. وأن هذا مقصود الشرع بلفظ الصوم.
إذا فما هي دلالة الأكل والشرب والرفث في اللسان العربي الذي وضعت الشريعة به
كما دلت السنة على بطلان صوم الحائض والنفساء، فدل على أنه مانع صحة يجب خلو العبادة الشرعية منه، وعلى هذا بقية الدلالات.
كما أن اللفظ المحتمل لمعنيين مقصود وضعه هكذا؛ لينزله الفقيه على واقعه المعين وفق دلالة وينزله آخر في واقع آخر، وفقه الدلالة الأخرى.
--------------------------------------------
৩ - লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং রহস্যের দিক থেকে সিয়ামের ক্ষেত্রে শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ।
প্রথম
প্রকারের ক্ষেত্রে: এটি এই ইবাদতের বিষয়ে অবতীর্ণ হওয়া বিধানমূলক সম্বোধন এবং আরবি ভাষা থেকে প্রাপ্ত এর বোধগম্য নির্দেশনাগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তিত..নিশ্চয়ই শরীয়ত প্রণেতা সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় বোধগম্য করার জন্য শরীয়ত প্রণয়ন করেছেন; অতএব এই ভাষাগত নির্দেশনাগুলো শরীয়তের দৃষ্টিতে কাঙ্ক্ষিত।
সেই কারণে সরাসরি এই নির্দেশনাগুলো থেকেই বিধানসমূহ গ্রহণ করা হয়।
(১)আর এই নির্দেশনা এবং সেগুলোর প্রসঙ্গের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, শরীয়ত আমাদের এটি বোঝাতে চেয়েছে যে এটি শর্ত, এটি রুকন, এটি বাতিলকারী বিষয় এবং এটি একটি শিথিলতা।
কারণ রুকন এবং শর্ত হলো এমন বিষয়, যা বর্জন করলে ইবাদতের সেই শরয়ী রূপ বিদ্যমান থাকে না যা তার মূল সত্তা, আর এটি ইবাদত বাতিল হওয়ার দিকে নিয়ে যায়।
আর এ বিষয়ের ওপর শরয়ী ভাষ্যের নির্দেশনা এই যে, ইবাদতকে এই বিষয়গুলোর সমন্বয়ে গঠিত করা হয়েছে।
সিয়ামের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ বলেছেন -ফজর পর্যন্ত স্ত্রী সহবাস, পান ও আহারকে বৈধ করার পর- {অতঃপর তোমরা রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো} [আল-বাকারা (১৮১)]; ফলে আমরা জানতে পারলাম যে, নির্দেশিত সিয়াম হলো: এই তিনটি বিষয় থেকে বিরত থাকা। আর 'সাওম' শব্দ দ্বারা শরীয়তের উদ্দেশ্য মূলত এটাই।
অতএব, যে আরবি ভাষায় শরীয়ত প্রণীত হয়েছে, তাতে আহার, পান এবং স্ত্রী সহবাসের অর্থের তাৎপর্য কী?
যেমন সুন্নাহ ঋতুবতী ও নিফাসগ্রস্ত নারীর সিয়াম বাতিল হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করেছে, যা নির্দেশ করে যে এটি বিশুদ্ধতার একটি প্রতিবন্ধক যা থেকে শরয়ী ইবাদতটি মুক্ত থাকা আবশ্যক, আর অন্যান্য নির্দেশনাগুলোও অনুরূপ।
তদ্রূপ যে শব্দ দুটি অর্থের সম্ভাবনা রাখে, সেটিকে এভাবেই রাখা উদ্দেশ্য; যাতে একজন ফকিহ একটি নির্দিষ্ট বাস্তবতায় একটি নির্দেশনা অনুযায়ী তা প্রয়োগ করতে পারেন এবং অন্যজন অন্য বাস্তবতায় অন্য নির্দেশনার আলোকে তা প্রয়োগ করতে পারেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
فكل لفظة وتركيب وسياق وضعه الله في كتابه بحكمة بالغة؛ للإفهام بما تقتضيه لغة العرب ولسانها.
لذلك فالمفطرات من جماع وأكل وشرب، قصد الشرع إفهامها بما يدل عليه اللسان.
وقصد إفهامنا بما نستطيع من تصور لمنافذ المفطرات من البدن.
وعلى هذا تنبني أمور:
1 - أن الألفاظ التي في آيات الصوم وأحاديثه تعتبر مناطات وعلل للأحكام وفق قانون اللغة، فالصوم، والإطاقة، وشهود الشهر، والمرض، والسفر، وتوجه الخطاب إلى المؤمنين، والرفث ليلة الصيام، والأكل، والشرب، وتبين الفجر، وقوة الخطاب عمومًا وخصوصًا، ونصًا، وظهورًا، وإطلاقًا، وتقييدًا، ومفهومًا. كل هذه الألفاظ يجب أن تؤخذ من دلالة لسان العرب.
2 - لما كان الصحابة هم أهل السان وجب النظر إلى تعاملهم مع هذه المفاهيم، وتطبيقهم لها بين يدي النبي صلى الله عليه وسلم وبعده.
3 - ملاحظة منهجية الفقهاء بعد الصحابة، سواء التابعون أو المذاهب الخمسة في التعامل مع النص وتنزيله، وهل هذه المنهجية من دلالة اللغة، أم القياس، أم الإجماع، أم من الدلالة العرفية؟.
4 - وضع التصور لمحل المفطرات من الجوف، والدماغ، والمنافذ العلوية، والسفلية التي تكلم عنها فقهاء المذاهب الخمسة في سياق زمن كان هذا هو تكليفهم المطلوب؛ لأن هذا هو ما في وسعهم من التصور في دخول الغذاء إلى البدن. ووجود تصور جديد في عصرنا متزامن مع التطور العلمي هو تكليفنا في هذا العصر، وليس عليهم تبعات الاجتهاد المعاصر المبني على ذلك فهم مصيبون، وما قام به النظر الفقهي المعاصر المبني على اختلاف التصور جذريا صواب.
আল্লাহ তাঁর কিতাবে প্রতিটি শব্দ, বাক্যগঠন ও প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন সুগভীর প্রজ্ঞার সাথে; যাতে তা আরবদের ভাষা ও বাকভঙ্গি যা দাবি করে, সে অনুযায়ী বোধগম্য হয়।
তাই সহবাস, পান ওাহারের মতো রোজা ভঙ্গের বিষয়গুলো সম্পর্কে শরিয়ত সেভাবেই বুঝাতে চেয়েছে, ভাষা যা নির্দেশ করে।
আর শরীরের যে সকল পথ দিয়ে রোজা ভঙ্গের উপকরণ প্রবেশ করে, সেগুলোর সম্পর্কে আমাদের যতটুকু ধারণা করা সম্ভব, সে অনুযায়ী আমাদের বুঝানোই উদ্দেশ্য।
এর ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি বিষয় সুপ্রতিষ্ঠিত হয়:
১ - রোজার আয়াত ও হাদিসসমূহে ব্যবহৃত শব্দাবলি ভাষাগত নিয়ম অনুযায়ী বিধানের ভিত্তি ও কারণ হিসেবে গণ্য। সুতরাং রোজা, সামর্থ্য রাখা, মাস উপস্থিত হওয়া, অসুস্থতা, সফর, মুমিনদের প্রতি সম্বোধন, রোজার রাতে সহবাস, পানাহার, ফজর স্পষ্ট হওয়া এবং সাধারণভাবে ও বিশেষভাবে ভাষ্যের শক্তিমত্তা, অকাট্য পাঠ, প্রকাশ্য অর্থ, শর্তহীনতা, শর্তযুক্ত হওয়া ও মর্মার্থ—এই সকল শব্দ অবশ্যই আরবি ভাষার ভাষ্যগত নির্দেশনা থেকে গ্রহণ করতে হবে।
২ - যেহেতু সাহাবীগণ ছিলেন ভাষার মূল ধারক-বাহক, তাই এই সকল ধারণার ক্ষেত্রে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতিতে ও তাঁর পরবর্তী সময়ে তাঁদের প্রয়োগ পদ্ধতির দিকে দৃষ্টি দেওয়া আবশ্যক।
৩ - সাহাবীদের পরবর্তী ফকিহগণ—তাঁরা তাবেয়ী হোন কিংবা পাঁচ মাজহাবের ইমামগণ—মূল পাঠের বিশ্লেষণ ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন তা পর্যবেক্ষণ করা; এবং সেই পদ্ধতি কি ভাষাগত নির্দেশনা থেকে নেওয়া হয়েছে, নাকি অনুমান (কিয়াস), ঐক্যমত (ইজমা) অথবা প্রথাগত নির্দেশনা থেকে এসেছে, তা খতিয়ে দেখা।
৪ - উদর, মস্তিষ্ক এবং শরীরের উপরিভাগ ও নিম্নভাগের প্রবেশপথসমূহ—যা রোজা ভঙ্গের স্থান হিসেবে বিবেচিত—সেগুলো সম্পর্কে একটি ধারণা গঠন করা, যা নিয়ে পাঁচ মাজহাবের ফকিহগণ তাঁদের সময়ের প্রেক্ষাপটে আলোচনা করেছেন। তখন এটিই ছিল তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব; কারণ শরীরে খাদ্য প্রবেশের ব্যাপারে তাঁদের সাধ্যানুযায়ী ধারণা ছিল ততটুকুই। আর আমাদের যুগে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি নতুন ধারণা লাভ করা আমাদের এই সময়ের দায়িত্ব। এর ওপর ভিত্তি করে সমসাময়িক ইজতিহাদের কোনো দায়ভার তাঁদের ওপর বর্তাবে না, কারণ তাঁরা সঠিক ছিলেন; আবার ধারণার মৌলিক পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে বর্তমান ফকিহগণের গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তও সঠিক।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وباعث الفقهاء هو تحقيق مقصود الشرع في الكيفية لهذه العبادة فكان تحديد محل الإفطار جزء من هذه الماهية الضرورية.
وعلى ما تقدم:
فمن ألحق بالجماع مثلًا الإنزال بنظر أو تفكر لم يلحقه من دلالة اللغة الظاهرة؛ لأن الجماع معروف ما هو، ولم يلحقه بدلالة لفظ الرفث في الآية الشامل للجماع ومقدماته؛ لأن الإنزال بنظر أو تفكر غير ذلك، وإنما ألحقه بالمقاصد التي تدل عليها هذه اللفظة.
لأن من أنزل المني بشهوة عمدًا بفكر أو بنظر، أو مس عضوه، خالف مقصود الشرع من ترك الشهوة.
لأن النهي عن الرفث إلى النساء يشمل من حيث اللفظ الجماع ومقدماته، لولا أن السنة خصت القبلة ونحوها فبقي الجماع بالإجماع. فما حكم من أنزل بغير جماع عمدًا؟
هنا يأتي دور المقاصد في تحديد الحكم.
لأن المقصد من النهي عن الرفث هو ترك الشهوة المتعلقة بالزوجة، سوى ما رخص من القبلة ونحوها، فمن أنزل بشهوة عمدًا فقد خالف مقصود التشريع.
وعلى هذا بنى الفقهاء فتاواهم. وخالف ابن حزم؛ لأنه رأى أن الإنزال بملاعبة الزوجة، أو النظر إليها مباح؛ لأن النهي عن الجماع فقط.
ووردت السنة باستثناء القبلة ونحوها، فكان ما ترتب على هذا الاستثناء مباح. هذا حاصل كلامه فلم يلاحظ المقصود.
وهذا المقصود منصوص عليه في الحديث: {يترك طعامه وشرابه من أجلى}
(1).
والخلاف في فهم مقصود الشرع ليس جديدًا، أو بدعًا من القول؛ بل
--------------------------------------------
ফকিহগণের অনুপ্রেরণা হলো এই ইবাদতের পদ্ধতির ক্ষেত্রে শরীয়তের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা, ফলে ইফতারের সময় নির্ধারণ করা এই অপরিহার্য প্রকৃতির অংশ ছিল।
আর যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তার ভিত্তিতে:
সুতরাং কেউ যদি উদাহরণস্বরূপ যৌন মিলনের সাথে দৃষ্টিপাত বা চিন্তার মাধ্যমে বীর্যপাতকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে সে তা ভাষার প্রকাশ্য অর্থ থেকে অন্তর্ভুক্ত করেনি; কারণ মিলন কী তা সুপরিচিত। আর সে একে আয়াতের 'রাফাস' (কামভাবাপন্ন আচরণ) শব্দের অর্থ থেকেও অন্তর্ভুক্ত করেনি যা মিলন ও তার পূর্ববর্তী কাজগুলোকে শামিল করে; কারণ দৃষ্টি বা চিন্তার মাধ্যমে বীর্যপাত এর থেকে ভিন্ন। বরং সে একে সেই উদ্দেশ্যসমূহের ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে যা এই শব্দটি নির্দেশ করে।
কেননা যে ব্যক্তি চিন্তা বা দৃষ্টির মাধ্যমে, অথবা নিজের অঙ্গ স্পর্শ করার মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে কামোত্তজনাসহ বীর্যপাত ঘটায়, সে কামপ্রবৃত্তি বর্জনের বিষয়ে শরীয়তের উদ্দেশ্যের বিরোধিতা করল।
কারণ স্ত্রীদের সাথে কামভাবাপন্ন আচরণের নিষেধাজ্ঞা শব্দের দিক থেকে যৌন মিলন ও তার পূর্ববর্তী কাজগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে, যদি না সুন্নাহ চুম্বান ও এই জাতীয় কাজগুলোকে আলাদা করত, ফলে ঐকমত্যের ভিত্তিতে কেবল মিলনই অবশিষ্ট থাকত। তাহলে যে ব্যক্তি মিলন ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত ঘটালো তার বিধান কী?
এখানেই বিধান নির্ধারণে উদ্দেশ্যসমূহের (মাকাসিদ) ভূমিকা আসে।
কারণ কামভাবাপন্ন আচরণের নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো স্ত্রীর সাথে সংশ্লিষ্ট কামপ্রবৃত্তি বর্জন করা, চুম্বান ও এই জাতীয় যে বিষয়গুলোতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে সেগুলো ব্যতীত। সুতরাং যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কামোত্তেজনাসহ বীর্যপাত ঘটাল, সে শরীয়ত প্রবর্তনের উদ্দেশ্যের খেলাফ করল।
আর এর ওপর ভিত্তি করেই ফকিহগণ তাদের ফতোয়া প্রদান করেছেন। ইবনে হাজম এর বিরোধিতা করেছেন; কারণ তিনি মনে করতেন যে স্ত্রীর সাথে খেলাধুলা করা বা তার দিকে তাকানোর মাধ্যমে বীর্যপাত হওয়া বৈধ; কারণ নিষেধাজ্ঞা কেবল যৌন মিলনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ।
আর সুন্নাহতে চুম্বান ও এই জাতীয় বিষয়গুলোকে ব্যতিক্রম হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, তাই এই ব্যতিক্রমের ফলে যা ঘটে তা বৈধ। এটিই তার বক্তব্যের সারমর্ম, তবে তিনি শরীয়তের উদ্দেশ্য লক্ষ্য করেননি।
আর এই উদ্দেশ্যটি হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে: {সে আমার সন্তুষ্টির জন্য তার খাদ্য ও পানীয় বর্জন করে}
(১)।
আর শরীয়তের উদ্দেশ্য বোঝার ক্ষেত্রে মতভেদ নতুন কিছু নয় বা কোনো অভিনব কথা নয়; বরং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
حصل بين الصحابة خلاف في بني قريظة حين قال لهم النبي صلى الله عليه وسلم: {من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فلا يصلين العصر إلا في بني قريظة}
(1).
ففهم أناس ظاهر اللفظ، وفهم أناس أن المراد من اللفظ هو السياق الذي لأجله قيل فيه، وهو أن المقصود هو الإسراع فلم يخطئ هؤلاء ولا هؤلاء.
ودلالة السياق والحال أسلوب في اللسان العربي.
لذلك كان نزول الآيات في سياق معين يفسر بعض فقه النص التزيلي لا أنه لا تفسير له إلا من خلال سياق النزول، فالعبرة بعموم اللفظ لا بخصوص السبب.
والصحابة العرب الأقحاح لما سمعوا الآيات {كُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ} [البقرة (181)]، فهموا الأكل والشرب المعروف، وكل ما أكل وشرب على وجه العادة، أو الندرة، ولو كان ورق شجر، أو ثمرة نادرة، يشمله عموم هذا النص.
فكل سائل مشروب مقصود في اللفظة ولو سمًا، وكل أكل مقصود في اللفظة ولو ورق شجر، وقد أكل الصحابة ورق الشجر في بعض الغزوات.
ولم يفهموا أن قوله تعالى: {كُلُوا وَاشْرَبُوا} [البقرة (181)] أي كلوا الطعام، والشراب، والحصى، والحديد، والتراب {ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ} [البقرة (181)] عن الأكل من طعام، وشراب، وحصى، وخشب، وحديد، وطعنة نافذة إلى الجوف، وإدخال قسطرة في إحليل.
فهذا خارج عن مقصود اللفظ العربي ووضعه للإفهام، لا من دلالة لفظية، ولا سياقية، ولا مفهوم، ولا منطوق، ولا تضمن، ولا مطابقة، ولا التزام، ولا عموم، ولا نص، ولا ظهور، ولا اشتراك، ولا ترادف.
--------------------------------------------
বনু কুরাইজা সংক্রান্ত বিষয়ে সাহাবীগণের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছিল যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: {যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন বনু কুরাইজায় না পৌঁছে আসরের সালাত আদায় না করে}
(১)।
তখন কিছু লোক শব্দের বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করেছিলেন, আবার কিছু লোক বুঝেছিলেন যে, এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য হলো সেই প্রেক্ষাপট যার জন্য এটি বলা হয়েছে, আর তা হলো দ্রুত পৌঁছানো। ফলে এদের কাউকেই ভুল বলা হয়নি।
আর প্রেক্ষাপট ও অবস্থার নির্দেশনা আরবি ভাষার একটি অন্যতম পদ্ধতি।
এই কারণেই বিশেষ কোনো প্রেক্ষাপটে আয়াত নাজিল হওয়া অবতীর্ণ পাঠের ফিকহের কিয়দংশ ব্যাখ্যা করে; তবে এমন নয় যে অবতরণের প্রেক্ষাপট ছাড়া এর আর কোনো ব্যাখ্যা নেই। কেননা মূল ধর্তব্য হলো শব্দের ব্যাপকতা, বিশেষ কোনো কারণ নয়।
বিশুদ্ধ আরবিভাষী সাহাবীগণ যখন এই আয়াত শুনলেন {তোমরা আহার করো ও পান করো যতক্ষণ না তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট হয়} [আল-বাকারাহ (১৮১)], তখন তাঁরা এর দ্বারা পরিচিত আহার ও পান করাকেই বুঝেছিলেন। আর অভ্যাসগতভাবে বা বিরলভাবে যা কিছু আহার বা পান করা হয়—তা গাছের পাতা হোক বা কোনো বিরল ফল হোক—এই পাঠের ব্যাপকতা তার অন্তর্ভুক্ত।
সুতরাং প্রতিটি তরল পানীয়ই এই শব্দের মাধ্যমে উদ্দিষ্ট, এমনকি তা বিষ হলেও। আর প্রতিটি আহার্যই এই শব্দের মাধ্যমে উদ্দিষ্ট, এমনকি তা গাছের পাতা হলেও। সাহাবীগণ কোনো কোনো যুদ্ধে গাছের পাতাও খেয়েছিলেন।
তাঁরা মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা আহার করো ও পান করো} [আল-বাকারাহ (১৮১)] থেকে এটা বোঝেননি যে, এর অর্থ খাদ্য, পানীয়, পাথরকুচি, লোহা ও মাটি খাওয়া। আবার {অতঃপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো} [আল-বাকারাহ (১৮১)] থেকে এটা বোঝেননি যে খাদ্য, পানীয়, পাথরকুচি, কাঠ, লোহা, শরীরের গভীরে পৌঁছানো জখম কিংবা মূত্রনালিতে ক্যাথেটার প্রবেশ করানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
কারণ এগুলো আরবি শব্দের উদ্দেশ্য এবং তা বোঝানোর জন্য এর প্রয়োগের বহির্ভূত। এটি শাব্দিক নির্দেশনা, প্রেক্ষাপট, মাফহুম (উহ্য অর্থ), মানতুক (ব্যক্ত অর্থ), তাদাম্মুন (অন্তর্ভুক্তি), মুতবাকাহ (পূর্ণ সামঞ্জস্য), ইলতিজাম (অপরিহার্যতা), উমুম (ব্যাপকতা), নস (সুস্পষ্ট পাঠ), জুহুর (বাহ্যিকতা), ইশতিরাক (সংশ্লিষ্টতা) কিংবা তারাদুফ (সমার্থকতা)—কোনোটি দ্বারাই প্রমাণিত নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والدليل على ذلك أمران:
الأول: ما اتفقت عليه القواميس العربية في تحديد الأكل والشرب.
ولم ينص قاموس حرفا واحدا أن الطعنة النافذة أو إدخال الاصبع في قبل أو دبر أو شم البخور يشمله معنى الأكل والشرب.
الثاني: لم ينقل عن أحد من الصحابة قول ذلك، ولا الإفتاء به وهم أهل اللغة. وما ظهر هذا إلا بعد جيل الصحابة والتابعين، وقد تتبعت هذا طويلا من زمن الصحابة فمن بعدهم لأرى تطور الفتوى وتوسعها في المفطرات فما وقفت في عصرهم على ذلك كما سيأتي. إذن فلم تثبت النصوص ذلك، ولا دلالاتها، ولا الإجماع، ولا عمل الصحابة، ولم يبق سوى القياس.
والقياس هنا من النوع الخفي، ومنه خفي موغل في الخفاء، فقياس البخور على الأكل والشرب غريب جدًا، وقياس دخان القدر، وقياس من وضع على رأسه الحناء فوجد طعمه في حلقه.
ومن القياس الخفي من بلع حديدًا أو حصاة أفطر.
ومنه قياس الكحل على الأكل والشرب؛ ولضعفه وخفائه اختلف فيه بعد زمن الصحابة والتابعين، ومقصودنا هنا التمثيل لا تحقيق الأقوال، فإن لها فصولًا مستقلة ستأتي
(1)، وسنبين هناك النقول من الصحابة إلى التابعين إلى المذاهب الخمسة وغيرها.
--------------------------------------------
এর স্বপক্ষে প্রমাণ দুটি:
প্রথমত: পান ও আহারের সংজ্ঞায় আরবি অভিধানসমূহ যা একমত পোষণ করেছে।
কোনো অভিধান একটি অক্ষরও উল্লেখ করেনি যে, শরীরের গভীর ক্ষত দিয়ে কোনো কিছু প্রবেশ করানো, অথবা যৌনাঙ্গে বা মলদ্বারে আঙুল প্রবেশ করানো, কিংবা ধূপের ধোঁয়া শোঁকা আহার ও পান করার অর্থের অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয়ত: সাহাবায়ে কেরামের কারো কাছ থেকে এমন কথা বর্ণিত হয়নি এবং তারা এমন ফতোয়াও দেননি, অথচ তারা ছিলেন ভাষার পণ্ডিত। এসব বিষয় সাহাবী এবং তাবিঈদের প্রজন্মের পরেই প্রকাশ পেয়েছে। আমি সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময় পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে এটি পর্যবেক্ষণ করেছি, যাতে রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলোতে ফতোয়ার বিবর্তন ও প্রসারের গতিধারা দেখা যায়। আমি তাদের যুগে এমন কিছু পাইনি যেমনটি সামনে আসবে। অতএব, নস (ধর্মীয় পাঠ), এর দালিলিক ইঙ্গিত, ইজমা (ঐক্যমত্য) অথবা সাহাবীদের আমল দ্বারা এটি প্রমাণিত নয়; এখন কেবল কিয়াস (অনুমানলব্ধ তুলনা) ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকল না।
আর এখানকার কিয়াস বা তুলনা হলো 'খাফী' বা অস্পষ্ট প্রকারের; আর এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা অত্যন্ত অস্পষ্ট ও সূক্ষ্ম। তাই পান ও আহারের ওপর ধূপের ধোঁয়ার কিয়াস করা অত্যন্ত অদ্ভুত বিষয়, একইভাবে হাড়িপাতিলের ধোঁয়া এবং যে ব্যক্তি মাথায় মেহেদি লাগানোর ফলে তার স্বাদ গলায় অনুভব করে, তাদের ক্ষেত্রেও একই কথা।
অস্পষ্ট কিয়াসের মধ্যে এটিও অন্তর্ভুক্ত যে, কেউ লোহা বা পাথর গিলে ফেললে তার রোজা ভেঙে যাবে।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো পান ও আহারের সাথে সুরমার কিয়াস করা। এর দুর্বলতা ও অস্পষ্টতার কারণে সাহাবী ও তাবিঈদের যুগের পর এ নিয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য এখানে কেবল উদাহরণ পেশ করা, মতামতের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা নয়। কেননা এগুলোর জন্য স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ সামনে আসবে
(১), এবং আমরা সেখানে সাহাবী থেকে তাবিঈ হয়ে পাঁচ মাজহাব ও অন্যদের উদ্ধৃতিসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
لذلك حصل الإجماع على الإفطار بكل مأكول أو مشروب له مدخل في التغذية؛ لأن مبناه وفق قصد الشرع في وضع اللغة العربية أداة للإفهام.
واختلف في غيره؛ لأن مبناه على معان يمكن أن تلحق بالأكل والشرب، بوجوه خفية غير ظاهرة، فوجه إلحاق الحصاة والحديد _إن قلنا أن ذلك_ كونه إن دخل إلى الجوف قيل أكل ترابًا وأكل حديدة وسلمنا ذلك.
لكن هل يقال أكل أو شرب بخورًا أو غبارًا؟ أو أكل أو شرب طعنة بسكين في جوفه.
أو أكل أو شرب أصبعه حيث أدخلها في دبره أو إحليله. فالإشكال باق على كل وجه.
وقد اختلفوا في تحرير الاستدلال فمنهم من قال: «والصيام هو الإمساك عن كل شيء»
(1)، فأرجع القول إلى معنى الصوم لغة، ولا يساعده ذلك لا لغة ولا عرفًا ولا شرعًا.
فإن الصوم الشرعي ليس الإمساك عن كل شيء؛ لأنه يجوز له كل شيء من كلام، وعمل، وبيع، وشراء، ولا يحرم عليه سوى الأكل والشرب، والجماع، فيكون: {ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ} [البقرة (181)] راجع إليها وهو محل النزاع.
ومنهم من استدل بعموم الأكل والشرب.
قال ابن قدامة: «ولعل من يذهب إلى ذلك يحتج بأن الكتاب، والسنة إنما حرما الأكل والشرب، فما عداهما يبقى على أصل الإباحة. ولنا دلالة
--------------------------------------------
এজন্য পুষ্টি প্রদানকারী সকল খাদ্য ও পানীয়র মাধ্যমে রোজা ভঙ্গের বিষয়ে ঐক্যমত্য (ইজমা) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; কারণ এর ভিত্তি হলো আরবি ভাষাকে বুঝার মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণের ক্ষেত্রে শরীয়তের উদ্দেশ্য।
তবে এছাড়া অন্য সবকিছুর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে; কারণ এর ভিত্তি এমন কিছু অর্থের ওপর যা পানাহার হিসেবে গণ্য হওয়া সম্ভব, যদিও তা অস্পষ্ট ও অপ্রকাশ্য পদ্ধতিতে হয়। তাই কঙ্কর বা লোহাকে এর অন্তর্ভুক্ত করার যুক্তি হলো—যদি আমরা বলি—যেহেতু এগুলো পেটে প্রবেশ করলে বলা হয় ‘সে মাটি খেয়েছে’ বা ‘সে লোহা খেয়েছে’, আর আমরা তা মেনে নিই।
কিন্তু কেউ কি বলে যে, সে সুগন্ধি ধোঁয়া বা ধূলিকণা খেয়েছে বা পান করেছে? অথবা পেটে ছুরিকাঘাতের ফলে সে খেয়েছে বা পান করেছে?
অথবা সে কি নিজের আঙ্গুল খেয়েছে বা পান করেছে যখন সে তা মলদ্বারে বা প্রস্রাবের পথে প্রবেশ করিয়েছে? সুতরাং প্রতিটি দিক থেকেই জটিলতা রয়ে যায়।
আর দলিলের বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও তারা মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: «সিয়াম হলো সব কিছু থেকে বিরত থাকা»
(১), ফলে তিনি এই বক্তব্যকে সিয়ামের আভিধানিক অর্থের দিকে ফিরিয়ে নিয়েছেন। অথচ ভাষা, প্রথা বা শরীয়ত—কোনোটিই তাকে সমর্থন করে না।
কেননা শরয়ী সিয়াম সবকিছু থেকে বিরত থাকা নয়; কারণ রোজা পালনকারীর জন্য কথা বলা, কাজ করা এবং ক্রয়-বিক্রয় সবকিছু বৈধ। তার জন্য কেবল পানাহার ও সহবাস হারাম করা হয়েছে। সুতরাং: {অতঃপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো} [আল-বাকারা (১৮১)] আয়াতটি এগুলোর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে, যা বিতর্কের মূল বিষয়।
আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ পানাহারের ব্যাপকতার মাধ্যমে দলিল দিয়েছেন।
ইবনে কুদামাহ বলেছেন: «সম্ভবত যারা এই মত পোষণ করেন তারা এই যুক্তি দেন যে, কুরআন ও সুন্নাহ কেবল পানাহারকেই হারাম করেছে, সুতরাং এই দুটি ব্যতীত অন্য সব কিছু মূল বৈধতার ওপরই বহাল থাকবে। আর আমাদের দলিল হলো...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الكتاب، والسنة على تحريم الأكل والشرب على العموم، فيدخل فيه محل النزاع»
(1).
وهذا يشمل كل أكل وشرب ويرد عليه أن الكحل والطعنة وإدخال الأصبع وإدخال أنبوب في الإحليل لا يسمى أكلًا ولا شربًا.
وإن قلنا إنه القياس والعلة؛ لأنها عين دخلت الحلق والبطن قيل إن القياس هذا خفي غير مسلم لذلك اختلف في تنزيله فالحنفية لا يفطرون بما دخل ولم يتحلل ولم يستقر والمالكية لا يفطرون بما دخل من دبر وهو صلب لم يتحلل واختلفوا في الإفطار بغير المغذي في المذهب.
والظاهرية لا يفطرون بأي شيء من هذا وابن تيمية كذلك
(2).
وثم خلاف شديد في تحرير هذا القياس؛ لخفائه، لذلك كان القول بعدم حجية هذا النوع من القياس قوي.
والحاصل من هذا أن الشريعة قصدت في وضع التشريع الإفهام بما يدل عليه لسان العرب، ولم تقصد التوسع، فكل توسع في المفطرات خرج عن قانون اللغة وعن المقصود الشرعي علمنا أنه ضعيف.
النوع الثاني: مقاصد الشرع في فعل العبادة من جهة الكيفية والماهية وما يتعلق بها من النظر والتفريع.نتكلم هنا عن مقاصد الشرع في فعل العبادة بكيفية معينة وهو متعلق بماهية العبادة التي قصد الشرع أن تقام بهذه الكيفية.
فالكيفية مقصودة للشرع؛ ومن خلالها يتم تحقيق الأمر الذي هو التعبد
--------------------------------------------
কিতাব এবং সুন্নাহ সাধারণভাবে পানাহার হারাম হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে, সুতরাং বিরোধপূর্ণ বিষয়টিও এর অন্তর্ভুক্ত হবে।
(১).
আর এটি প্রতিটি পানাহারকে শামিল করে; তবে এর বিপরীতে আপত্তিতে বলা হয় যে, সুরমা লাগানো, জখম হওয়া, আঙুল প্রবেশ করানো এবং মূত্রনালিতে নল প্রবেশ করানোকে পানাহার বলা হয় না।
যদি আমরা বলি যে এটি কিয়াস এবং ইল্লত (কারণ); যেহেতু এটি এমন বস্তু যা গলা এবং পেটে প্রবেশ করেছে, তবে বলা হয় যে এই কিয়াসটি অস্পষ্ট ও অবিসংবাদিত নয়। এই কারণেই এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। হানাফীগণ এমন বস্তু দ্বারা রোজা নষ্ট হওয়ার ফতোয়া দেন না যা প্রবেশ করেছে কিন্তু হজম হয়নি এবং স্থিতু হয়নি। আর মালিকীগণ মলদ্বার দিয়ে প্রবেশকৃত কঠিন বস্তু যা হজম হয়নি তার দ্বারা রোজা নষ্ট হওয়ার কথা বলেন না। এছাড়া পুষ্টিহীন বস্তুর মাধ্যমে রোজা ভঙ্গের বিষয়ে মাযহাবের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
যাহেরীগণ এর কোনো কিছু দিয়েই রোজা ভঙ্গ হওয়ার কথা বলেন না এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ-ও একই মত পোষণ করেন।
(২).
আর এই কিয়াসটি নিরূপণ করার ক্ষেত্রে তীব্র মতভেদ রয়েছে এর অস্পষ্টতার কারণে; ফলে এই ধরনের কিয়াস দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য না হওয়ার মতটি শক্তিশালী।
এর সারকথা হলো, শরিয়ত বিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে আরবি ভাষা যা নির্দেশ করে তার মাধ্যমে বোধগম্যতা প্রদানের উদ্দেশ্য গ্রহণ করেছে, আর অতিবিস্তার বা প্রসারণ উদ্দেশ্য ছিল না। সুতরাং রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে যেকোনো অতিবিস্তার যা ভাষার নিয়ম এবং শরিয়তের উদ্দেশ্য বহির্ভূত, তা যে দুর্বল তা আমরা জানি।
দ্বিতীয় প্রকার: পদ্ধতি ও সত্তার দিক থেকে ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে শরিয়তের মাকাসিদ এবং এ সংক্রান্ত গবেষণা ও শাখা-প্রশাখা।আমরা এখানে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে শরিয়তের মাকাসিদ নিয়ে আলোচনা করব, যা ইবাদতের সেই মৌলিক সত্তার সাথে সম্পর্কিত যা শরিয়ত এই নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে পালন করার উদ্দেশ্য গ্রহণ করেছে।
সুতরাং পদ্ধতিটি শরিয়তের নিকট উদ্দেশ্যমূলক; আর এর মাধ্যমেই ইবাদত তথা দাসত্বের বিষয়টি বাস্তবায়িত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
لله بهذه الكيفية المعينة، ولو لم تكن الكيفية والماهية العبادية مقصودة، لكان لكل شخص أن يصلي، ويصوم، ويحج، ويبيع بما يرى من كيفية وماهية.
ومقصده الأعظم في العبادة تحقيق العبودية بكيفية مخصوصة في الصيام وهي ترك الشهوة البطنية والفرجية في نهار رمضان. والعبودية مصرحة في الآية: {لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [البقرة (178)]، وترك المأكول والمشروب وشهوة الفرج مصرح به في النص القرآني، وجاء النص النبوي يؤكد ذلك، وهو ما رويناه من طريق البخاري قال: حدثنا عبد الله بن مسلمة، عن مالك، عن أبي الزناد، عن الأعرج، عن أبي هريرة رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: {الصيام جنة، فلا يرفث ولا يجهل، وإن امرؤ قاتله أو شاتمه، فليقل إني صائم مرتين والذي نفسي بيده، لخلوف فم الصائم أطيب عند الله تعالى من ريح المسك، يترك طعامه وشرابه وشهوته من أجلي، الصيام لي وأنا أجزي به، والحسنة بعشر أمثالها}
(1).
وهذا المقصد المحدد مقصد عبادي محض تتعلق به ماهية الصيام، فمن خرمه بشيء من الشهوة البطنية، أو الفرجية فقد بطل عمله.
وما يحقق المقصد هو ترك تناول الطعام والشراب بكل أنواعه معتادا أو غير معتاد، غذاء أم دواء. كما سيأتي تحقيقه.
وهذا المعنى المقاصدي هو الذي يحقق مقصود الشرع من الصيام ويحقق ما يبطله مما لا يبطله.
ولما كانت الشريعة طالبة لمقاصدها على وجه الكمال مهما استطاع المكلف. رام الفقهاء من المذاهب تحقيق هذا المقصد على كماله ولعل هذا ما يفسر لنا التوسع الكبير في القول بالمفطرات.
--------------------------------------------
আল্লাহর জন্য এই নির্দিষ্ট পদ্ধতির মাধ্যমে। আর যদি ইবাদতের পদ্ধতি ও স্বরূপ উদ্দেশ্য না হতো, তবে প্রতিটি ব্যক্তির জন্য নিজের ইচ্ছামত পদ্ধতি ও স্বরূপে সালাত আদায় করা, সিয়াম পালন করা, হজ করা এবং কেনা-বেচা করা সম্ভব হতো।
ইবাদতের ক্ষেত্রে এর মহান উদ্দেশ্য হলো সিয়ামের একটি বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে দাসত্ব অর্জন করা, আর তা হলো রমজানের দিনে উদর ও যৌন কামনা বর্জন করা। এই দাসত্বের কথা আয়াতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে: {যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো} [আল-বাকারা (১৭৮)]। আহার, পানীয় এবং যৌন আকাঙ্ক্ষা বর্জনের কথা কুরআনের পাঠে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে এবং নববী বর্ণনাও এটি নিশ্চিত করেছে। ইমাম বুখারি থেকে আমরা যা বর্ণনা করেছি তা হলো: তিনি বলেন, আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা বর্ণনা করেছেন মালিক থেকে, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: {সিয়াম একটি ঢাল, সুতরাং সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং মূর্খের ন্যায় আচরণ না করে। যদি কোনো ব্যক্তি তার সাথে লড়াই বা গালিগালাজ করে, তবে সে যেন দুবার বলে, 'আমি সিয়াম পালনকারী'। আর যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ, সিয়াম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহ তাআলার নিকট মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধযুক্ত। সে আমার জন্য তার খাদ্য, পানীয় ও প্রবৃত্তি ত্যাগ করে। সিয়াম আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব, আর প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব দশ গুণ।}
(১)।
আর এই সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যটি একটি বিশুদ্ধ ইবাদতগত উদ্দেশ্য যার সাথে সিয়ামের স্বরূপ জড়িত। সুতরাং যে ব্যক্তি উদর বা যৌন কামনার কোনো কিছুর মাধ্যমে একে ক্ষুন্ন করল, তার আমল বাতিল হয়ে গেল।
আর যা এই উদ্দেশ্য পূরণ করে তা হলো সর্বপ্রকার খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ বর্জন করা, তা সাধারণ হোক বা অসাধারণ, পুষ্টি হোক বা ঔষধ। এর বিশদ বিবরণ সামনে আসবে।
এই উদ্দেশ্যমূলক অর্থই সিয়ামের ক্ষেত্রে শরীয়তের উদ্দেশ্য পূরণ করে এবং কী সিয়াম ভঙ্গ করে আর কী করে না তা নির্ধারণ করে।
যেহেতু শরীয়ত তার উদ্দেশ্যসমূহকে পূর্ণাঙ্গরূপে দাবি করে যতক্ষণ মুকাল্লাফ সক্ষম হয়, তাই বিভিন্ন মাযহাবের ফকীহগণ এই উদ্দেশ্যটিকে তার পূর্ণতায় বাস্তবায়নের সংকল্প করেছেন। সম্ভবত এটাই আমাদের কাছে সিয়াম ভঙ্গকারী বিষয়গুলোর বর্ণনায় ব্যাপক বিস্তৃতির ব্যাখ্যা দেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وهناك سبب جوهري آخر لهذا التوسع، هو التصور الحقيقي للمنافذ الموصلة إلى محل الإفطار في البدن وهو الجهاز الهضمي.
وللأمانة العلمية، وبعد التتبع التام لأسرار التعليل الفقهي الحامل لهم على ذلك، تبين لي أن تصورهم في هذه المنافذ وأنها توصل إلى المعدة له الأثر الكبير في بناء الفقه في هذا الباب.
فهذه المنافذ ما دامت توصل إلى المعدة فستؤثر على مقصد الشرع من منع دخول كل مأكول أو مشروب إليها.
وهذا يحتاج فقط إلى تصحيح تصوري بوسائل الطب الحديث.
ولكن الذي خرج عن مقصد الشرع في ترك الشهوة البطنية والفرجية ما قيل في بعض الأعيان المفطرة، فمن أكل زجاجا أو بلع حجارة فهو مفطر.
لأن العلة هي دخول عين جوفًا، ثم طردوا الباب حفاظًا على العلة، لأن العلل يجب أن تكون مطردة فكان من أدخل في إحليله أو دبره ولو أصبعه فهو مفطر، والتي تركب اللولب الرحمي المنظم للحمل مفطرة، مع أنه لا تعلق لذلك بأكل ولا شرب ولا معناه لا لغة ولا عرفًا، ولا مناسبة بين العلة وبين الحكم.
فأصبح الحفاظ على العلة بابًا للتضييق على المكلف، وخرجت في بعض الفروع عن مقصود الشرع في التعبد بترك الشهوة البطنية والفرجية.
وتحصيل العلة الأصولية في المفطرات:
- منه ما هو من تحقيق المناط وهذا النوع لا خلاف فيه لأنه مجرد تنزيل اسم الأكل والشرب والمفطرات على الحالة المعينة.
- ونوع آخر هو تنقيح المناط ويحصل في تطبيقه اختلاف في النتيجة فبعضهم يرى العلة كذا وبعضهم يراها كذا. كما في على كفارة من جامع في رمضان؛ حيث ذهب البعض إلى أن العلة الجماع في نهار رمضان، والبعض إلى أن العلة انتهاك رمضان بتعمد الإفطار في الجملة.
এই বিস্তৃতির আরেকটি মৌলিক কারণ হলো শরীরে ইফতারের (রোজা ভঙ্গের) স্থানে পৌঁছানোর পথগুলো সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা, আর তা হলো পরিপাকতন্ত্র।
বৈজ্ঞানিক সততার খাতিরে এবং তাদের এই অবস্থানে উপনীত হওয়ার পেছনে ফিকহি কারণসমূহ (তালিলে ফিকহি) পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণের পর আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই পথগুলো এবং এগুলো পাকস্থলীতে পৌঁছায়—এই ধারণাটি এ অধ্যায়ে ফিকহ নির্মাণে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
সুতরাং এই পথগুলো যতক্ষণ পাকস্থলীতে পৌঁছাবে, ততক্ষণ এগুলো শরিয়তের সেই উদ্দেশ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে যা হলো সেখানে যেকোনো খাদ্য বা পানীয় প্রবেশে বাধা দেওয়া।
আর এর জন্য আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের মাধ্যমে কেবল ধারণাগত সংশোধনের প্রয়োজন।
তবে উদর ও লজ্জাস্থানের প্রবৃত্তি বর্জনের ক্ষেত্রে শরিয়তের উদ্দেশ্য থেকে যা বিচ্যুত হয়েছে তা হলো রোজা ভঙ্গকারী কিছু বস্তু সম্পর্কে যা বলা হয়েছে; যেমন—কেউ যদি কাঁচ খায় বা পাথর গিলে ফেলে, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে।
কারণ এর ইল্লত (কারণ) হলো শরীরের অভ্যন্তরে কোনো বস্তু প্রবেশ করা। অতঃপর তারা এই ইল্লতকে বজায় রাখার জন্য এই নীতিকে সর্বত্র প্রয়োগ করেছেন, কারণ ইল্লতকে অবশ্যই ধারাবাহিক হতে হয়। ফলে যে ব্যক্তি তার মূত্রনালী বা মলদ্বারে এমনকি নিজের আঙুলও প্রবেশ করায়, তার রোজা ভেঙে যাবে। একইভাবে যে নারী গর্ভনিরোধক জরায়ু কুণ্ডলী স্থাপন করে, তার রোজা ভেঙে যাবে; যদিও পানাহার বা তার অর্থের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই—না আভিধানিক দিক থেকে, না প্রচলিত প্রথার দিক থেকে। এমনকি এই ইল্লত ও হুকুমের মাঝে কোনো সামঞ্জস্য নেই।
ফলে ইল্লত রক্ষা করার বিষয়টি মুকাল্লাফের (বিধান পালনকারীর) জন্য সংকীর্ণতার পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং কিছু শাখাগত মাসআলায় তা উদর ও লজ্জাস্থানের প্রবৃত্তি বর্জনের মাধ্যমে ইবাদত করার শরয়ী উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে উসুলি ইল্লত নিরূপণ নিম্নরূপ:
- এর মধ্যে কিছু 'তাহকিকুল মানাত' (ভিত্তি নিশ্চিতকরণ) এর অন্তর্ভুক্ত, আর এই প্রকারে কোনো মতভেদ নেই; কারণ এটি কেবল নির্দিষ্ট অবস্থার ওপর পানাহার ও রোজা ভঙ্গকারী শব্দগুলোর প্রয়োগ মাত্র।
- অন্য প্রকারটি হলো 'তানকিহুল মানাত' (ভিত্তি পরিশোধন), এবং এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে ফলাফলে মতপার্থক্য দেখা দেয়। ফলে কেউ কারণটিকে এভাবে দেখেন, আবার কেউ অন্যভাবে। যেমন—রমজানে সহবাসকারীর ওপর কাফফারা ওয়াজিব হওয়ার মাসআলায়; যেখানে কেউ কেউ মনে করেন যে কারণটি হলো রমজানের দিনে সহবাস করা, আবার কেউ কেউ মনে করেন যে কারণটি হলো সামগ্রিকভাবে ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গ করে রমজানের পবিত্রতা লঙ্ঘন করা।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
- ونوع ثالث تحصيل العلة بطريق استنباط المناط وهو اجتهاد الفقيه في إيجاد معنى مناسب يظن أنه العلة بقوانين معينة في الأصول مختلف في كثير منها في نوع استنباط المناط.
ولو أعمل في باب الصيام تحصيل العلة من النوع الثالث بالاستنباط مع ملاحظة النظر المقصدي؛ لأدى إلى الوصول إلى تعليل مناسب فيكون قويًا في التعليل.
ولأدى إلى حذف كثير من هذه المفطرات وجعل العلة محددة متماشية مع المقصد.
كما أن علة الجوفية والعينية من أجناس العلل وهم يقولون فيها قولًا عظيمًا في الأصول،
فصارت العلة غير متماسكة من جهات عديدة منها:
- أنها مستنبطة وهذه المرتبة يحصل فيها خلاف كثير في تحصيل العلة.
- ومنها أنها غير مناسبة في كثير من الصور.
- ومنها أنها جنس علة في جنس حكم، وهو نوع بعيد في التعليل. فالعين الداخلة جنس علة شاملة لكل شيء من الأعيان، والجوف جنس شمل كل جوف فصارت العلة كل عين تدخل الجوف.
وهذا جنس واسع في جنس الحكم وهو الإفطار. لأنه شامل للإفطار بجماع أو أكل وشرب أو حجامة. وتعليل الجنس في الجنس من نوع المناسب وهو مع كلام فيه، يشترط له المناسبة وهي غير موجودة في كثير من الصور، فما هي المناسبة في القول بأن البخور يفطر الصائم، وما هي المناسبة في أن إدخال اللولب للمرأة يفطر صومها.
لهذا ومن خلال هذا المقصد العظيم نستطيع أن نجزم بتحديد مفسدات الصيام التي تعود بالإبطال على هذا المقصد، وهو عبادة الله بترك الشهوة البطنية والفرجية.
তৃতীয় প্রকার হলো 'ইসতিনবাতুল মানাত' (নিমিত্ত উদ্ঘাটন) পদ্ধতিতে ইল্লত বা কারণ আহরণ করা। এটি হলো উসুলের সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতির আলোকে একজন ফকীহের এমন একটি উপযুক্ত অর্থ খুঁজে বের করার ইজতিহাদ, যা ইল্লত বলে ধারণা করা হয়। এর অনেকগুলো পদ্ধতি 'ইসতিনবাতুল মানাত'-এর ক্ষেত্রে বিতর্কিত।
রোজা বা সিয়ামের অধ্যায়ে যদি মাকাসিদ বা শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ বিবেচনায় রেখে এই তৃতীয় প্রকার তথা ইসতিনবাতের মাধ্যমে ইল্লত আহরণের পদ্ধতি প্রয়োগ করা হতো, তবে তা একটি উপযুক্ত কারণ দর্শানোর দিকে নিয়ে যেত, যা ইল্লত হিসেবে শক্তিশালী হতো।
এবং এর ফলে রোজা ভঙ্গকারী অনেক বিষয় বাদ পড়ে যেত এবং ইল্লত বা কারণটি মাকাসিদের সাথে সংগতিপূর্ণ একটি সুনির্দিষ্ট রূপ পেত।
একইভাবে 'জাওফিয়্যাহ' (শরীরের ভেতরে পৌঁছানো) এবং 'আইনিয়্যাহ' (বস্তুগত হওয়া) হলো সাধারণ শ্রেণির ইল্লত, যেগুলোর ব্যাপারে উসুলবিদগণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন।
ফলে এই ইল্লতটি বিভিন্ন দিক থেকে অসংলগ্ন হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- এটি ইসতিনবাতকৃত বা উদ্ঘাটিত, আর ইল্লত আহরণের এই স্তরে প্রচুর মতভেদ বিদ্যমান।
- এর মধ্যে এটিও রয়েছে যে, এটি অনেক ক্ষেত্রে উপযুক্ত নয়।
- আরেকটি কারণ হলো এটি বিধানের একটি সাধারণ প্রকারের ক্ষেত্রে কারণের একটি সাধারণ প্রকার, যা কারণ দর্শানোর ক্ষেত্রে একটি দূরবর্তী পদ্ধতি। সুতরাং ভেতরে প্রবেশকারী বস্তু হলো একটি সাধারণ কারণ যা সকল বস্তুগত বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, আর 'জাওফ' (পেট বা শরীরের অভ্যন্তর) হলো একটি সাধারণ বিষয় যা শরীরের প্রতিটি ফাঁপা অংশকে শামিল করে। ফলে ইল্লতটি দাঁড়ায়- 'পেটে প্রবেশকারী প্রতিটি বস্তু'।
এটি রোজা ভঙ্গের মতো সাধারণ বিধানের ক্ষেত্রে একটি ব্যাপক বিস্তৃত শ্রেণি। কারণ এটি সহবাস, পানাহার বা হিজামার মাধ্যমে রোজা ভঙ্গ হওয়াকেও অন্তর্ভুক্ত করে। সাধারণ শ্রেণির ক্ষেত্রে সাধারণ কারণ দর্শানো এক প্রকারের 'মুনাসিব' (উপযুক্ততা), তবে এতে বিতর্ক রয়েছে। এর জন্য শর্ত হলো উপযুক্ততা থাকা, যা অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত। যেমন, আগরবাতির ধোঁয়া গ্রহণ করলে রোজা ভেঙে যায়- এই কথার মধ্যে উপযুক্ততা কোথায়? কিংবা নারীর জরায়ুতে লুপ প্রবেশ করালে রোজা ভেঙে যাবে- এর মধ্যেই বা উপযুক্ততা কী?
এই কারণে এবং এই মহান উদ্দেশ্যের আলোকে আমরা রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলোকে সুনিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করতে পারি যা এই মূল উদ্দেশ্যকে বাতিল করে দেয়; আর সেই উদ্দেশ্যটি হলো উদর ও যৌন প্রবৃত্তি ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ونقول مطمئنين بإخراج الفروع والصور الغريبة التي ابتعدت عن المقصد بل خرجت عنه وأخلت به وأخلت بمقصد التيسير إلى التعسير والمشقة.
وقد بلغت المفطرات عند بعض المذاهب ستين نوعًا لا يقدر عموم المكلفين على فهمها ولا حفظها ولا التوقي منها.
ولو طبقنا هذه المفطرات جميعًا على كل فرد لما خلا فرد من شيء منها، وانظر فقط إلى شريحة المرضى، فقطرة العين وقطرة الأذن تكفي لإبطال صوم ملايين على هذه الفتوى.
أما مسألة من بلع الحصاة أو أكل زجاجًا فهي خارجة أصلًا عن العادة البشرية؛ لأن من فعلها عمدًا فهو إما مريض نفسي، أو مجنون، وهذا لا تكليف عليه. ولا تكاد تجد في العالم مسلمًا يفعل ذلك، إلا إن بلع حصاة خطأ فهذا عفو.
فكيف يجعل مناطًا للحكم وهو منعدم في هذه الدائرة، والشريعة جارية مجاري العادات، ومبنية على ذلك.
فإدراك مقصد الشريعة في الصيام بكيفية معينة وهي التعبد بترك الشهوة البطنية والفرجية نهار رمضان. يفتح لنا معيارًا محددًا للفتوى خاصة المعاصرة.
وقد أحسنت المجامع الفقهية أيما إحسان في قرارها في المفطرات وهو متسق مع مقاصد الشرع في الصيام وخادم له يدور مع معاني النصوص وتعليل الأحكام.
النوع الثالث: مقاصد الشرع في الصيام من جهة الغايات والأهداف والأسرار وما يتعلق بها من الفقه:وهي تنقسم قسمين: مقاصد أصلية، ومقاصد متممة.
ف
القسم الأول: هو مقصد التقوى وهو منصوص عليه صراحة في آية الصيام. فبلوغ درجة التقوى هدف أكبر
আর আমরা নিশ্চিন্ত চিত্তে এই কথাটি বলছি যে, সেই সকল শাখাগত বিষয় ও বিচিত্র মাসআলাগুলোকে বর্জন করার মাধ্যমে যা মূল মাকসাদ বা উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরে গিয়েছে, বরং তা থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তা ক্ষুণ্ন করেছে; এমনকি তা সহজকরণের উদ্দেশ্যকে কঠিন ও কষ্টের বিষয়ে পরিণত করার মাধ্যমে ব্যাহত করেছে।
কোনো কোনো মাজহাবে রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ ষাটটি প্রকার পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা সাধারণ মুকাল্লাফদের পক্ষে বোঝা, মুখস্থ রাখা বা তা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।
আমরা যদি এই রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলোর সবকটি প্রতিটি ব্যক্তির ওপর প্রয়োগ করি, তবে কোনো ব্যক্তিই এর কোনোটি থেকে মুক্ত থাকতে পারবে না। কেবল অসুস্থ ব্যক্তিদের শ্রেণির দিকেই তাকিয়ে দেখুন; এই ফতোয়া অনুযায়ী চোখের ড্রপ এবং কানের ড্রপই লক্ষ লক্ষ মানুষের রোজা বাতিলের জন্য যথেষ্ট হবে।
আর পাথর গিলে ফেলা বা কাঁচ খাওয়ার মাসআলাটি মূলত মানুষের স্বভাবজাত অভ্যাসের পরিপন্থী; কারণ কেউ যদি তা ইচ্ছাকৃতভাবে করে, তবে সে হয় মানসিক রোগী, নতুবা পাগল; আর তাদের ওপর কোনো শরয়ি বিধান নেই। সমগ্র পৃথিবীতে আপনি এমন কোনো মুসলিম খুঁজে পাবেন না যে এমন কাজ করে, যদি না ভুলবশত কোনো পাথর গিলে ফেলে, তবে তা ক্ষমার যোগ্য।
সুতরাং একে কীভাবে বিধানের ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা যায়, যেখানে এই পরিমণ্ডলে এর কোনো অস্তিত্বই নেই? অথচ শরিয়ত স্বাভাবিক অভ্যাসের ধারা অনুযায়ী চলমান এবং তার ওপরই প্রতিষ্ঠিত।
সুতরাং একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে রোজা পালনের ক্ষেত্রে শরিয়তের উদ্দেশ্য উপলব্ধি করা—যা হলো রমজানের দিনে উদর ও যৌন প্রবৃত্তি বর্জনের মাধ্যমে ইবাদত করা—তা আমাদের জন্য ফতোয়ার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে সমসাময়িক ফতোয়ার ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড উন্মোচন করে দেয়।
ফিকহ একাডেমিগুলো রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের ব্যাপারে তাদের সিদ্ধান্তে অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করেছে, যা রোজার ক্ষেত্রে শরিয়তের উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ এবং এর সহায়ক; যা মূল পাঠের অর্থ এবং বিধানের যৌক্তিক ব্যাখ্যার সাথে আবর্তিত হয়।
তৃতীয় প্রকার: লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, রহস্য এবং এ সংক্রান্ত ফিকহ শাস্ত্রের দিক থেকে রোজার ক্ষেত্রে শরিয়তের উদ্দেশ্যসমূহ:আর এটি দুই ভাগে বিভক্ত: মৌলিক উদ্দেশ্যসমূহ এবং পরিপূরক উদ্দেশ্যসমূহ।
প্রথম অংশ: এটি হলো তাকওয়ার উদ্দেশ্য যা রোজার আয়াতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং তাকওয়ার স্তরে পৌঁছানোই একটি বড় লক্ষ্য।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
من أهداف الصيام؛ لأنها تحقق المقصود الأعظم من الخلق المنصوص عليه في قوله تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56].
والتقوى هي رأس العبادة، ويمكن تعريفها أنها: القيام بأوامر الله بحذافيرها، واجتناب ما حرم بحذافيره، والتورع عن الشبهات.
ولأجل تحقيقها شرع في الصيام شرائع وتكاليف من التزمها رُجِيَ له أن يبلغ هذا المنزلة العظيمة. وعلقت بالرجاء لذلك: {لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [البقرة: 183]
فمنها ترك اللغو والرفت والجهل وعموم صيانة اللسان والجوارح وقد دلت عليه النصوص البينة الثابتة من السنة فمنها ما رويناه من طريق البخاري: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: {الصِّيَامُ جُنَّةٌ فَلَا يَرْفُثْ وَلَا يَجْهَلْ، وَإِنِ امْرُؤٌ قَاتَلَهُ أَوْ شَاتَمَهُ فَلْيَقُلْ: إِنِّي صَائِمٌ مَرَّتَيْنِ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى مِنْ رِيحِ المِسْكِ، يَتْرُكُ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ وَشَهْوَتَهُ مِنْ أَجْلِي الصِّيَامُ لِي، وَأَنَا أَجْزِي بِهِ وَالحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا}
(1).
وهذا الحديث تعلقت به أحكام عديدة في هذا الباب فمنها:
1 - أن الصيام ستر ومانع لصاحبه من الآثام والذنوب ومن النار وقد صرحت روايات عديدة أنه جنة من النار
(2).
2 - وفيه تحريم الرفث على الصائم وهو الجماع في الأصل ويشمل مقدماته، لكن ثبت أنه صلى الله عليه وسلم كان يقبل ويباشر وهو صائم، وكان أملككم لإربه، وسيأتي في محله ويدخل في الرفث الكلام الفاحش
(3)، فلا يجوز للصائم ذلك.
--------------------------------------------
এটি সিয়ামের অন্যতম লক্ষ্য; কারণ এটি সৃষ্টির সেই মহান উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করে যা আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।" [আয-যারিয়াত: ৫৬]।
আর তাকওয়া হলো ইবাদতের মূল। একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায় যে: আল্লাহর আদেশসমূহ পুরোপুরি পালন করা, তাঁর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে পুরোপুরি বেঁচে থাকা এবং সন্দেহজনক বিষয়গুলো থেকে পরহেজ করা।
আর তাকওয়া অর্জনের জন্যই সিয়ামের ক্ষেত্রে এমন কিছু বিধান ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পালনকারীর জন্য এই মহান স্তরে পৌঁছানোর আশা করা যায়। এ কারণেই বিষয়টিকে আশার সাথে যুক্ত করা হয়েছে: "যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।" [আল-বাকারা: ১৮৩]
এর মধ্যে রয়েছে অনর্থক কথা, অশালীন কাজ ও মূর্খতা পরিহার করা এবং সামগ্রিকভাবে জবান ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে হেফাজত করা। সুন্নাহর সুস্পষ্ট ও অকাট্য দলীলসমূহ এর প্রমাণ দেয়। এর মধ্যে একটি হলো যা আমরা বুখারীর সূত্রে বর্ণনা করেছি: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক থেকে, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সিয়াম হলো ঢাল। অতএব সিয়াম পালনকারী যেন অশালীন কথা না বলে এবং মূর্খতাসুলভ আচরণ না করে। যদি কোনো ব্যক্তি তার সাথে ঝগড়া করে বা তাকে গালি দেয়, তবে সে যেন দুবার বলে—আমি সিয়াম পালন করছি। সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, সিয়াম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহ তাআলার নিকট কস্তুরীর ঘ্রাণের চেয়েও বেশি সুগন্ধিময়। (আল্লাহ বলেন:) সে আমার জন্যই তার পানাহার ও কামবাসনা ত্যাগ করে। সিয়াম আমারই জন্য, আর আমিই এর প্রতিদান দেব। আর প্রতিটি নেক কাজের বিনিময় দশ গুণ প্রদান করা হয়।"
(১)।
এই হাদিসের সাথে এই অধ্যায়ের অনেকগুলো বিধান জড়িত, যার মধ্যে কয়েকটি হলো:
১ - সিয়াম হলো তার পালনকারীর জন্য পাপরাশি ও গুনাহ এবং জাহান্নাম থেকে সুরক্ষা ও প্রতিবন্ধক। অনেক বর্ণনায় স্পষ্টভাবে এসেছে যে, এটি জাহান্নাম থেকে রক্ষাকারী ঢাল
(২)।
২ - এতে সিয়াম পালনকারীর জন্য অশালীন কাজ (রাফাস) হারাম হওয়ার প্রমাণ রয়েছে। মূলত 'রাফাস' বলতে সহবাস বোঝায় এবং এটি সহবাসের প্রাথমিক কাজগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে। তবে এটি প্রমাণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সিয়াম পালন অবস্থায় চুমু খেতেন এবং স্পর্শ করতেন, আর তিনি তোমাদের মধ্যে নিজের কামপ্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশি সক্ষম ছিলেন—যা যথাস্থানে আলোচিত হবে। এছাড়া অশ্লীল কথাবার্তাও 'রাফাস'-এর অন্তর্ভুক্ত
(৩), তাই সিয়াম পালনকারীর জন্য তা বৈধ নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
3 - وفيه منع الصائم من الجهل، وأفعال الجهال، من صياح، وسفه.
4 - وفيه تحريم المقاتلة والمشاتمة حال الصوم، ومعنى المقاتلة يطلق على اللعن وقد يراد حقيقتها، فعلى الصائم أن يقول له مرتين أني صائم حتى ينزجر.
5 - وفيه اختصاص ثواب الصيام من دون العبادات أن الله خبأ أجرها فقال: {الصيام لي وأنا أجزي به}
(1)، أي لما فيه من الإخلاص والبعد عن الرياء، فهو عبادة شخصية سرية لا يطلع عليها إلا الله، فمن صبر وصام وأخلص نال هذه المنزلة.
6 - وفيه أن من مقاصد الصيام الكف عن الشهوات، والمقصود الجماع وشهوة النساء، ويدخل فيه الشهوات الأخرى، فإن الصوم يمنعه من الانتصار لنفسه ورد من سابه ويمنعه مما يشتهي من مأكل ومشرب.
7 - وفيه أن خُلوف (بضم الخاء) فم الصائم -وهي رائحته الناتجة عن الصيام- أطيب عند الله من ريح المسك، وهذا مطلق فيشمل في الدنيا والآخرة، وقد دلت على ذلك أحاديث صحيحة
(2).
والحاصل أن الصيام يضبط الشخص ويهذب شهواته بتركها وبترك الرفث من القول المتعلق بالشهوات، وأصلح له خلقه فأمره بترك الجهل وأخلاق الجهال، وعلمه ضبط نفسه والتحكم في غضبه، فأمره أن يقول: (إني صائم) لمن شاتمه وسبه.
هذا مع ترك شهوة البطن والفرج ومع تمكن الإخلاص من الصيام.
لهذا فهو مدرسة عظيمة للسير إلى الله والترقي في درجاته.
وثم مصفوفة تكليفية من قيام، وتراويح، وتلاوة للقرآن، وصدقات،
--------------------------------------------
৩ - এতে রোজাদারকে মূর্খতা এবং চিৎকার-চেঁচামেচি ও নির্বুদ্ধিতার মতো মূর্খজনোচিত কাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
৪ - এতে রোজা অবস্থায় লড়াই ও গালিগালাজ করা হারাম করা হয়েছে। লড়াই শব্দ দ্বারা অভিশাপ দেওয়াও বুঝানো হয়, আবার কখনো এর প্রকৃত অর্থও (শারীরিক লড়াই) উদ্দেশ্য হতে পারে। সুতরাং রোজাদার ব্যক্তিকে (গালিদাতার উদ্দেশ্যে) দুইবার বলতে হবে যে, 'আমি রোজাদার', যাতে সে নিবৃত্ত হয়।
৫ - এতে অন্যান্য ইবাদতের বিপরীতে রোজার সওয়াবের বিশেষত্বের কথা বলা হয়েছে যে, আল্লাহ এর প্রতিদান গোপন রেখেছেন। তিনি বলেছেন: "রোজা আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব"
(১); অর্থাৎ এতে ইখলাস বা নিষ্ঠা থাকে এবং তা লোকদেখানো আমল থেকে মুক্ত থাকে। এটি একটি ব্যক্তিগত গোপন ইবাদত যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ অবগত হন না। সুতরাং যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করবে, রোজা রাখবে এবং নিষ্ঠাবান হবে, সে এই মর্যাদা লাভ করবে।
৬ - এতে বর্ণিত হয়েছে যে, রোজার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রাখা। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সহবাস ও নারীদের প্রতি লালসা। এর মধ্যে অন্যান্য কামনাবাসনাও অন্তর্ভুক্ত। কেননা রোজা তাকে নিজের পক্ষ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ ও গালিদাতার পাল্টা জবাব দেওয়া থেকে বিরত রাখে এবং পানাহারসহ যা কিছু সে কামনা করে তা থেকে তাকে বাধা দেয়।
৭ - এতে বর্ণিত হয়েছে যে, রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ—যা রোজার কারণে সৃষ্টি হয়—আল্লাহর নিকট মিসকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধযুক্ত। এটি সাধারণ অর্থবোধক, তাই দুনিয়া ও আখেরাত উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। সহীহ হাদিসসমূহ এই কথার ওপর প্রমাণ বহন করে
(২)।
সারকথা হলো, রোজা মানুষকে সুশৃঙ্খল করে এবং কামভাব ও কুপ্রবৃত্তি সংশ্লিষ্ট অশ্লীল কথাবার্তা ত্যাগের মাধ্যমে তার প্রবৃত্তিকে মার্জিত করে। এটি তার চরিত্র সংশোধন করে, ফলে তাকে মূর্খতা ও মূর্খদের স্বভাব ত্যাগের নির্দেশ দেয়। তাকে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ক্রোধ দমনের শিক্ষা দেয়, ফলে যে তাকে গালি দেয় বা মন্দ কথা বলে, তাকে "আমি রোজাদার" বলার নির্দেশ দেয়।
এর সাথে পেট ও লজ্জাস্থানের চাহিদা বর্জন এবং রোজায় নিষ্ঠা সুদৃঢ় হয়। একারণেই এটি আল্লাহর পথে চলা এবং তাঁর সান্নিধ্যের উচ্চস্তরে আরোহণের এক মহান বিদ্যাপীঠ।
আর সেখানে কিয়াম (রাতের নামাজ), তারাবিহ, কুরআন তিলাওয়াত ও সদকার মতো ইবাদতের একটি সুবিন্যস্ত ধারা রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وصلاة، وزكاة الفطرة، والترغيب الشديد في إفطار الصائم، كل هذه تشكل مطلوبات وسيلية لخدمة المقصد الكبير للصيام، وهو تحقيق التقوى.
وإنما نص الله تعالى عليها هدفًا ومقصدًا للصيام بالنص لا بمجرد الاستنباط الفقهي؛ حتى يلاحظها المكلف في سائر صيامه تدريبًا له على استغراق أوقاته في لزومها.
وبما أنها مقصد منصوص فعلى الفقيه أن يلاحظها في فتاواه في مسائل الصيام، فلا يخرج المكلف إلى التساهل؛ بل يفتيه في هذا الباب بما يحقق مقصد التقوى.
والمقاصد المنصوصة هاديات للفقيه، وضابطات لمنهجيته في الفتوى في باب معين وفي كل باب، وانظر إلى باب الأموال وقوله تعالى: {كَي لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَا ءِ مِنْكُمْ} [الحشر: 7]
فإن هذا المقصد يجب تحقيقه في منازل الفتوى في باب الأموال.
والمقصود في باب الأسرة حماية المجتمع، ونظافته، وعفته، وحماية عرضه، ونسله ووجوده، وهكذا في كل باب. فالنص على المقصود هاد للمكلف وللمفتي.
القسم الثاني: المقاصد المتممة لمقصد التقوى:
1 - مقصد تقويم أخلاق النفس وتهذيبها وتعليمها الصبر والضبط.وهذا المقصد مفهوم من النصوص التي كسرت الشهوة الانتقامية والغضبية، فحرمت رد المشاتمة والمقاتلة بنص صريح: {وإن امرؤ قاتله أو شاتمه فليقل إني صائم مرتين}
(1).
--------------------------------------------
এবং সালাত, ফিতরা জাকাত এবং রোযাদারকে ইফতার করানোর প্রতি তীব্র উৎসাহ প্রদান—এই সব কিছুই সিয়ামের বৃহৎ উদ্দেশ্য তথা তাকওয়া অর্জনের সেবায় সহায়ক প্রয়োজনীয় উপকরণ হিসেবে গণ্য।
আল্লাহ তাআলা সিয়ামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে একে (তাকওয়াকে) কেবল ফিকহী ইস্তিম্বাত (গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত) হিসেবে নয়, বরং সরাসরি নসের (দলিল) মাধ্যমে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন; যাতে মুকাল্লাফ (বিধান পালনে আদিষ্ট ব্যক্তি) তার পূর্ণ সিয়াম পালনের সময় একে লক্ষ্য রাখে এবং নিজের পুরো সময়কে এর সান্নিধ্যে অতিবাহিত করার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে।
যেহেতু এটি একটি সরাসরি বর্ণিত (মানসূস) উদ্দেশ্য, তাই একজন ফকীহর উচিত সিয়ামের মাসআলাসমূহে ফতোয়া প্রদানের সময় এর প্রতি লক্ষ্য রাখা, যাতে মুকাল্লাফ ব্যক্তি শিথিলতার দিকে ধাবিত না হয়; বরং তিনি এই অধ্যায়ে এমন ফতোয়া দেবেন যা তাকওয়ার উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করে।
আর সরাসরি বর্ণিত উদ্দেশ্যসমূহ ফকীহর জন্য পথপ্রদর্শক এবং কোনো নির্দিষ্ট অধ্যায়ে বা প্রতিটি অধ্যায়ে ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতিকে নিয়ন্ত্রণকারী। আপনি অর্থ-সম্পদ সংক্রান্ত অধ্যায়ের দিকে তাকান এবং মহান আল্লাহর বাণী লক্ষ্য করুন: {যাতে তা (সম্পদ) তোমাদের মধ্যকার ধনীদের মধ্যেই কেবল আবর্তিত না হয়} [আল-হাশর: ৭]
অর্থ-সম্পদ সংক্রান্ত অধ্যায়ে ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে এই উদ্দেশ্যটি অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।
আর পরিবার সংক্রান্ত অধ্যায়ের উদ্দেশ্য হলো সমাজকে রক্ষা করা, তার পরিচ্ছন্নতা, পবিত্রতা, সম্মান-মর্যাদা রক্ষা করা এবং তার বংশধারা ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা; আর এভাবেই প্রতিটি অধ্যায়ে (নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে)। সুতরাং উদ্দেশ্যের ওপর সরাসরি দলিল থাকা মুকাল্লাফ এবং মুফতী উভয়ের জন্যই পথপ্রদর্শক।
দ্বিতীয় বিভাগ: তাকওয়ার উদ্দেশ্যকে পূর্ণতা দানকারী উদ্দেশ্যসমূহ:
১ - নফসের চরিত্র সংশোধন ও পরিশুদ্ধ করা এবং একে ধৈর্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণ শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্য।আর এই উদ্দেশ্যটি এমন সব দলিল থেকে অনুধাবন করা যায় যা প্রতিশোধমূলক প্রবৃত্তি ও ক্রোধকে দমন করে। ফলে সরাসরি নসের মাধ্যমে গালিগালাজ ও ঝগড়া-বিবাদের পাল্টা জবাব দেওয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে: {যদি কোনো ব্যক্তি তার সাথে বিবাদে লিপ্ত হয় অথবা তাকে গালি দেয়, তবে সে যেন দুইবার বলে, আমি রোযাদার}
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
ومنعت النفس من أخلاق الجاهلين وكلامهم فقال {فلا يرفث ولا يجهل}
(1).
والمقصود من هذا يصب في إطار مقصد كبير من مقاصد البعثة {إنما بعثت لأتمم مكارم الأخلاق}
(2).
وبالتتبع تبين لي أن تكليفات الشرع إما تقويمية، أو تتميم، أو إنشاء، أو إلغاء، فكل الشريعة لا تخرج عن هذا.
ففي الأخلاق جاء ليتممها.
ومن تقويمه للعوج ما كان قد دخل على بعض أنواع التدين من عوج لذلك نص في الحديث على: {وتقيم الملة العوجاء}
(3).
أما الإنشاء فهي أحكام جديدة وتشريعات مستجدة، سواء كان في باب الواجب، أو الحرام، أو غيره.
أما الإلغاء فهو إلغاء الشيء من أصله، كهدمه للشرك، والربا، وكثير من الأمور الجاهلية المنحرفة.
--------------------------------------------
এবং প্রবৃত্তিকে জাহেলদের স্বভাব ও কথাবার্তা থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তাই তিনি বলেছেন: {সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং মূর্খের ন্যায় আচরণ না করে}
(১).
আর এর উদ্দেশ্য নবুওয়াতের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত, যা হলো: {আমি কেবল উত্তম চারিত্রিক গুণাবলি পূর্ণতা দানের জন্যই প্রেরিত হয়েছি}
(২).
পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, শরীয়তের বিধিবিধানগুলো হয় সংস্কারমূলক, অথবা পূর্ণতাদানকারী, অথবা প্রবর্তনমূলক, অথবা বিলোপকারী; সমগ্র শরীয়ত এর বাইরে নয়।
সুতরাং চরিত্রের ক্ষেত্রে তিনি তা পূর্ণ করতে এসেছেন।
আর বক্রতা সংশোধনের ক্ষেত্রে, দ্বীনদারীর কিছু পদ্ধতিতে যে বক্রতা প্রবেশ করেছিল তিনি তা সংশোধন করেছেন, তাই হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: {এবং এর মাধ্যমে তিনি বক্র মিল্লাতকে (ধর্মকে) সোজা করবেন}
(৩).
প্রবর্তন হলো নতুন হুকুম ও বিধানসমূহ, চাই তা ওয়াজিব, হারাম বা অন্য কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে হোক।
আর বিলোপ সাধন হলো কোনো বিষয়কে তার মূল থেকে মিটিয়ে দেওয়া, যেমন শিরক, সুদ এবং জাহেলিয়াতের বহু ভ্রান্ত বিষয় নির্মূল করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুস সিয়াম ওয়া মুস্তাজাদাতুহু আল মুয়াসিরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وقد يقال: بأي ميزان جعلت القسم الثاني متمما.
وجوابه: إن منهجية التشريع في القرآن في العبادات أن كل ما شرع لها من تكليف أمرا ونهيا، فهو داخل في ماهيتها، محقق لها، لا تقوم إلا به هذا الأصل إلا أن يرد صارف.
فعلمنا أن الصيام كف عن الطعام والشراب والجماع، لأن الأمر والنهي انصب عليه، وبهذا تبين أن الشرع قصد التعبد بترك شهوتي البطن والفرج في نهار رمضان.
كما أنه نص على أن الغاية والمقصد الأكبر للصوم هو تحقيق التقوى.
وسائر ما تعلق بالصيام من أمر ونهي أخلاقي وغيره راجع إلى تحقيق التقوى فهو المقصد الغائي الأكبر وسواه متمم له.
وقد ذهب أبو محمد ابن حزم إلى بطلان الصيام بالمعاصي وجعلها داخلة في الماهية، مستدلًا بما في صحيح البخاري، قال: حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: {مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ، فَلَيْسَ لِلهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ}
(1).
2 - مقصد تلاوة القرآن وتدبره.{شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيَ أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ
بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} [البقرة (179)].
يستدل بهذه الآية على أن نزول القرآن كان في شهر رمضان وجاء هذا المعنى في آيات أخرى، في قوله تعالى: {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ} [الدخان (3)]
--------------------------------------------
বলা হতে পারে: কোন মাপকাঠিতে আপনি দ্বিতীয় অংশকে পরিপূরক হিসেবে নির্ধারণ করেছেন?
এর উত্তর হলো: ইবাদতের ক্ষেত্রে কুরআনের বিধানিক পদ্ধতি হলো, এর জন্য আদেশ ও নিষেধের যেসব দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে, তা তার মূল সত্তার অন্তর্ভুক্ত এবং তাকে বাস্তবায়নকারী; কোনো পরিবর্তনকারী দলিল না থাকা পর্যন্ত এই মূলনীতি ব্যতীত ইবাদত প্রতিষ্ঠিত হয় না।
ফলে আমরা জানলাম যে, সিয়াম হলো পানাহার ও যৌনমিলন থেকে বিরত থাকা, কারণ আদেশ ও নিষেধ এর ওপরই নিপতিত হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, শরীয়ত রমজানের দিনে পেট ও লজ্জাস্থানের প্রবৃত্তি ত্যাগের মাধ্যমে ইবাদতের সংকল্প করেছে।
যেমনটি এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রোযার চূড়ান্ত লক্ষ্য ও মহত্তম উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা।
আর সিয়ামের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নৈতিক আদেশ-নিষেধ ও অন্যান্য বিষয়সমূহ তাকওয়া অর্জনের দিকেই ফিরে যায়; সুতরাং এটাই হলো চূড়ান্ত মহত্তম উদ্দেশ্য এবং অন্য সবকিছু এর পরিপূরক।
আবু মুহাম্মদ ইবনে হাযম পাপকাজের কারণে সিয়াম বাতিল হয়ে যাওয়ার মত পোষণ করেছেন এবং একে সিয়ামের মূল সত্তার অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি সহীহ বুখারীর একটি বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আদম ইবনে আবি ইয়াস বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট ইবনে আবি যিব বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: {যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও সে অনুযায়ী কাজ করা বর্জন করে না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।}
(১)।
২ - কুরআন তিলাওয়াত ও তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণার উদ্দেশ্য।{রমজান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হেদায়াতস্বরূপ এবং হেদায়াত ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যের সুস্পষ্ট নিদর্শনস্বরূপ। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে, সে যেন তাতে রোযা রাখে। আর যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান এবং তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না; আর যেন তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করো এবং আল্লাহ তোমাদের যে হিদায়াত দিয়েছেন সেজন্য তাঁর মহিমা ঘোষণা করো এবং যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।} [আল-বাকারাহ (১৭৯)]।
এই আয়াতের মাধ্যমে দলিল পেশ করা হয় যে, কুরআন নাযিল রমজান মাসে হয়েছিল এবং এই একই অর্থ অন্যান্য আয়াতেও এসেছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি এটি এক বরকতময় রাতে নাযিল করেছি।} [আদ-দুখান (৩)]
--------------------------------------------