(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: -)
الذهب المسبوك في وعظ الملوك   (أبو عبد الله الحميدي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الذهب المسبوك في وعظ الملوك

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن أبي نصر الحَمِيدي (ت 488 هـ)

حققه: أبو عبد الرحمن بن عقيل الظاهري - د عبد الحليم عويس

الناشر: عالم الكتب، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1402 هـ - 1982 م

عدد الصفحات: 236

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 1 ذو القعدة 1446

আয-যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়া’যিল মুলুক   (আবু আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদী)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আয-যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়া’যিল মুলুক (বাদশাহদের উপদেশে ঢালাইকৃত স্বর্ণ)

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি নাসর আল-হুমাইদী (মৃত্যু ৪৮৮ হিজরী)

সম্পাদনা: আবু আব্দুর রহমান বিন আকীল আয-যাহিরী - ড. আব্দুল হালীম উওয়াইস

প্রকাশনী: আলমুল কুতুব, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০২ হিজরী - ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১ যুল কা'দাহ ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌استفتاح المحققين وإهداؤهما

الحمد لله رب العالمين وسلام على عباده المرسلين.

إلى كل من ولي من أمور المسلمين شيئا نقدم هذا الكتاب.

والله نرجو أن يعم بنفعه وأن يجعل ثواب نفعه لمؤلفه ومحققيه والمتعظ به والله المستعان.

 

المحققان
গবেষকদের প্রারম্ভিক কথা এবং তাদের উৎসর্গ

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য এবং তাঁর প্রেরিত বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।

মুসলমানদের যে কোনো বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রত্যেকের নিকট আমরা এই বইটি নিবেদন করছি।

আমরা আল্লাহর নিকট আশা করি যে, এর উপকারিতা যেন ব্যাপক হয় এবং তিনি যেন এর উপকারের সওয়াব এর লেখক, এর গবেষকবৃন্দ এবং যারা এর মাধ্যমে উপদেশ গ্রহণ করবে তাদের জন্য নির্ধারিত করেন; আর আল্লাহই একমাত্র সাহায্যস্থল।

 

গবেষকদ্বয়
(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌مقدمة المحققين

طبع من أعمال أبي عبد الله الحميدي رحمه الله كتاب جذوة المقتبس بتحقيق محمد بن تاويت الطنجي.

ثم أغير على هذه الطبعة سنة 1966 فنشرت عن الدار المصرية للتأليف والترجمة نشرة ممسوخة مصحوبة بالجحدان حيث لم يذكروا طبعة الطنجي وتحقيقه.

وبعد ذلك طبع له في بيروت كتابا التذكرة وموازنة الأعمال بتحقيق أبي عبد الرحمن بن عقيل.

وهذا هو الكتاب الرابع (الذهب المسبوك في وعظ الملوك) عرفنا به خلال حديثنا عن مؤلفات الحميدي.

وآثرنا أن نقدم للكتاب بتعريف متبسط للحميدي والله المستعان.

 

د. عبد الحليم عويس

أبو عبد الرحمن بن عقيل الظاهري.
গবেষকদ্বয়ের ভূমিকা

আবু আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর রচনাবলীর মধ্য থেকে মুহাম্মাদ ইবনে তাউয়ীত আত-তাঞ্জি-এর সম্পাদনায় 'জাযওয়াতুল মুকতাবিস' গ্রন্থটি মুদ্রিত হয়েছে।

অতঃপর ১৯৬৬ সালে এই সংস্করণটির ওপর হস্তক্ষেপ করা হয় এবং 'আদ-দারুল মিসরিয়্যাহ লিত-তালিফ ওয়াত-তারজামাহ' থেকে একটি বিকৃত সংস্করণ প্রকাশিত হয়, যা ছিল অকৃতজ্ঞতাপূর্ণ; কেননা তারা সেখানে আত-তাঞ্জি-এর সংস্করণ ও তাঁর সম্পাদনার কোনো উল্লেখ করেনি।

এরপর বৈরুত থেকে আবু আব্দুর রহমান বিন আকীল-এর সম্পাদনায় তাঁর আরও দুটি গ্রন্থ 'আত-তাযকিরাহ' এবং 'মুওয়াযানাতুল আমাল' মুদ্রিত হয়।

আর এটি হলো চতুর্থ গ্রন্থ (আয-যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়া'যিল মুলুক), আল-হুমাইদী-এর রচনাবলী সম্পর্কে আলোচনার সময় আমরা যার সাথে পরিচিত হয়েছি।

আমরা এই গ্রন্থটির শুরুতে আল-হুমাইদী সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি পেশ করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি, আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

 

ড. আব্দুল হালীম উওয়াইস

আবু আব্দুর রহমান বিন আকীল আয-যাহিরী।
(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌التعريف بالحميدي

1 - مصادر الإفادة عنه.

2 - تاريخ حياته.

3 - مؤلفاته.

4 - شيء من شعره.

5 - مشروع لفهرسته ومعجم شيوخه.
আল-হুমায়দী-র পরিচিতি

১ - তাঁর সম্পর্কে তথ্যের উৎসসমূহ।

২ - তাঁর জীবনচরিত।

৩ - তাঁর রচনাবলি।

৪ - তাঁর কবিতার কিয়দংশ।

৫ - তাঁর গ্রন্থতালিকা এবং শিক্ষকদের অভিধান বিষয়ক প্রকল্প।
(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌1 - مصادر الإفادة عن الحميدي
১ - আল-হুমাইদি থেকে তথ্য লাভের উৎসসমূহ
(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ١٥)
من مصادر الإفادة عن الحميدي بعد وفاته:

1 - الإلماع إلى معرفة أصول الرواية وتقييد السماع.

للقاضي عياض بن موسى اليحصبي [479 - 544] بتحقيق السيد أحمد صقر.

الطبعة الأولى عام 1389 هـ ط م السنة المحمدية.

2 - ثبت القاضي عياض.

نسخة دار الكتب المصرية 418 مصطلح.

3 - تاريخ دمشق للأرمنازي [- 509 هـ].

هذا المصدر مفقود حفظ لنا ابن عساكر ما قاله عن الحميدي(1).

4 - الأنساب للسمعاني [562 هـ] مادة ميرقي.

(طبعة ذكرى جب)(2).

5 - تاريخ مدينة دمشق لابن عساكر [- 571 هـ].(3)

مخطوطة أحمد الثالث ج 11 ورقة 24 ب 25 أهـ.

6 - فهرسة أبي بكر محمد بن خير [502 - 575 هـ].

الطبعة الثانية عام 1382 هـ.

--------------------------------------------

(1) أعلام التاريخ للمنجد 2/ 46.

(2) المصدر السابق.

(3) المصدر السابق.

আল-হুমায়দী-র মৃত্যুর পর তাঁর সম্পর্কে তথ্যের উৎসসমূহ:

১ - আল-ইলমা ইলা মারিফাত উসুল আল-রিওয়ায়াহ ওয়া তাকিদ আল-সামা।

কাযী ইয়াদ বিন মুসা আল-ইয়াহসুবি [৪৭৯ - ৫৪৪] কর্তৃক রচিত, সাইয়্যিদ আহমদ সাকার-এর সম্পাদনায়।

প্রথম সংস্করণ, ১৩৮৯ হিজরি, সুন্নাহ মুহাম্মাদিয়া প্রেস।

২ - সাবাত আল-কাযী ইয়াদ।

দারুল কুতুব আল-মিসরিয়া-র পাণ্ডুলিপি ৪১৮ মুসতালাহ।

৩ - আল-আরমানাজি [- ৫০৯ হিজরি] রচিত তারিখ দিমাস্ক।

এই উৎসটি বর্তমানে বিলুপ্ত; ইবনে আসাকির আল-হুমায়দী সম্পর্কে আল-আরমানাজি যা বলেছেন তা আমাদের জন্য সংরক্ষণ করেছেন(১)।

৪ - আল-সামআনি [৫৬২ হিজরি] রচিত আল-আনসাব, 'মায়রাকি' অংশ।

(গিব মেমোরিয়াল সংস্করণ)(২)।

৫ - ইবনে আসাকির [- ৫৭১ হিজরি] রচিত তারিখ মদিনাত দিমাস্ক।(৩)

আহমদ আস-সালিস পাণ্ডুলিপি, খণ্ড ১১, পত্র ২৪ খ - ২৫ ক।

৬ - আবু বকর মুহাম্মদ বিন খায়র [৫০২ - ৫৭৫ হিজরি]-এর ফাহরাসাহ।

দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৩৮২ হিজরি।

--------------------------------------------

(১) আল-মুনাজ্জিদ রচিত আলাম আল-তারিখ ২/ ৪৬।

(২) পূর্বোক্ত উৎস।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস।

(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ١٦)
7 - سؤالات الحافظ السلفي [475 - 576 هـ].

الخميس الحوزي عن جماعة من أهل واسط.

تحقيق مطاع الطرابيشي.

ط م الحجاز بدمشق عام 1396 هـ.

8 - الصلة لأبي القاسم خلف بن عبد الملك بن بشكوال

[494 - 578 هـ] نشر السيد عزت العطار الحسيني عام 1374 هـ.

9 - المسهب في أخبار أهل المغرب للحجاري [- 584 هـ].

مفقود حفظ لنا المقري بعض ما قاله(4).

10 - المنتظم لابن الجوزي [- 597 هـ] 9/ 96.

ط حيدر آباد(5).

11 - بغية الملتمس للضبي [- 599 هـ] طبعة مدريد ص 113

والطبعة الجديدة ص 123 - 124.

12 - تحرير المقال في موازنة الأعمال وحكم غير المكلفين في العقبى والمال للقاضي أبي طالب عقيل بن عطية القضاعي المالكي

[- 608 هـ] مصورة عن مخطوطة الرباط.

13 - المعجب في تلخيص أخبار المغرب لعبد الواحد المراكشي [انتهى من إملائه عام 621 هـ].

ط م الاستقامة بالقاهرة. الطبعة الأولى عام 1368 هـ.

14 - التكملة لكتاب الصلة لابن الأبار [- 659 هـ].

--------------------------------------------

(4) المصدر السابق ص 46.

(5) المصدر السابق ص 46.

7 - হাফিজ আস-সালাফি-এর প্রশ্নসমূহ [৪৭৫ - ৫৭৬ হিজরি]।

ওয়াসিতবাসীদের এক জামাত থেকে আল-খামিস আল-হাওযি।

মুতা' আত-তারাবিশি-এর তাহকিক (সম্পাদনা)।

দামেস্কের আল-হিজাজ প্রকাশনী হতে ১৩৯৬ হিজরিতে মুদ্রিত।

8 - আবুল কাসিম খালাফ বিন আব্দুল মালিক বিন বাশকুয়াল-এর আস-সিলাহ

[৪৯৪ - ৫৭৮ হিজরি] সাইয়্যেদ ইজ্জত আল-আত্তার আল-হুসাইনি কর্তৃক ১৩৭৪ হিজরিতে প্রকাশিত।

9 - আল-হিজারি-এর আল-মুসহিব ফি আখবার আহলিল মাগরিব [- ৫৮৪ হিজরি]।

এটি নিখোঁজ; আল-মাক্কারি এর কিছু অংশ আমাদের জন্য সংরক্ষণ করেছেন(৪)।

10 - ইবনুল জাওযি-এর আল-মুনতাযাম [- ৫৯৭ হিজরি] ৯/ ৯৬।

হায়দ্রাবাদ সংস্করণ(৫)।

11 - আদ-দাব্বি-এর বুগইয়াতুল মুলতামিস [- ৫৯৯ হিজরি] মাদ্রিদ সংস্করণ পৃষ্ঠা ১১৩

এবং নতুন সংস্করণ পৃষ্ঠা ১২৩ - ১২৪।

12 - কাজি আবু তালিব আকিল বিন আতিয়্যাহ আল-কুদায়ি আল-মালিকি-এর তাহরিরুল মাকাল ফি মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গইরিল মুকাল্লাফিন ফিল উকবা ওয়াল মাল

[- ৬০৮ হিজরি] রাবাত পাণ্ডুলিপি থেকে ছায়ালিপি।

13 - আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাররাকুশি-এর আল-মু'জিব ফি তালখিস আখবারিল মাগরিব [৬২১ হিজরিতে এর শ্রুতলিখন সমাপ্ত হয়েছে]।

কায়রোর আল-ইস্তিকামাহ প্রকাশনী হতে মুদ্রিত। প্রথম সংস্করণ ১৩৬৮ হিজরি।

14 - ইবনুল আব্বার-এর আত-তাকমিলা লি কিতাবিস সিলাহ [- ৬৫৯ হিজরি]।

--------------------------------------------

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৪৬।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৪৬।

(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ١٧)
ط م السعادة بمصر عام 1375 هـ.

15 - معجم الأدباء لياقوت الحموي [626 هـ] 7/ 58 - 60.

طم هندية بالموسكي بمصر عام 1925 م [مصور].

16 - الكامل لابن الأثير [630 هـ] في أحداث سنة 488/ هـ 10/ 254 ولا جديد سوى قوله:

إنه وقف كتبه فانتفع بها الناس.

17 - اللباب لابن الأثير 3/ 282 ولا جديد سوى وهم في تاريخ وفاته ناقشناه.

18 - ذيل تاريخ مدينة السلام بغداد.

لأبي عبد الله محمد بن سعيد المعروف بابن الدبيثي [637] الورقة 29(6)

19 - وفيات الأعيان لابن خلكان [608 - 681 هـ] ط دار الثقافة ببيروت تحقيق الدكتور إحسان عباس.

20 - المختصر في أخبار البشر لأبي الفداء [- 732] لا جديد فيه سوى إفادة عن أحد مؤلفاته.

21 - البدر السافر لجعفر الأدفوي [748 هـ] ورقة 146 بفاتح رقم 4201(7).

22 - تذكرة الحفاظ للذهبي [748 هـ].

تصوير دار إحياء التراث العربي ببيروت لطبعة حيدر آباد.

--------------------------------------------

(6) عزا إليه الدكتور إحسان عباس فيما ألحقه بوفيات ابن خلكان 7/ 330 وليس عندي من المطبوع الذي حققه بشار عواد معروف سوى الجزء الأول والثاني ولم يترجم له فيهما.

(7) أحال إليه الدكتور إحسان في ملحقه بوفيات الأعيان لابن خلكان 7/ 330 ..

সাআদাহ প্রেস, মিশর, ১৩৭৫ হিজরি।

১৫ - ইয়াকুত আল-হামাভির [৬২৬ হি.] মুজামুল উদাবা, ৭/ ৫৮ - ৬০।

মিশরের মুসকির হিন্দিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত, ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দ [ফটোকপি]।

১৬ - ইবনুল আসিরের [৬৩০ হি.] আল-কামিল, ৪৮৮ হিজরির ঘটনাবলির অধীনে, ১০/ ২৫৪; এতে নিচের কথাটি ছাড়া নতুন কোনো তথ্য নেই:

তিনি তাঁর কিতাবসমূহ ওয়াকফ করেছিলেন, ফলে মানুষ সেগুলো থেকে উপকৃত হয়েছে।

১৭ - ইবনুল আসিরের আল-লুবাব, ৩/ ২৮২; এতে তাঁর মৃত্যু তারিখ নিয়ে একটি ভ্রম ছাড়া নতুন কিছু নেই, যা আমরা আলোচনা করেছি।

১৮ - জাইলু তারিখি মাদিনাতিস সালাম বাগদাদ।

আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সাঈদ, যিনি ইবনুুদ দুবাইসি [৬৩৭] নামে পরিচিত, পৃষ্ঠা ২৯(৬)

১৯ - ইবনে খাল্লিকানের [৬০৮ - ৬৮১ হি.] ওফায়াতুল আইয়ান, বৈরুতের দারুস সাকাফাহ সংস্করণ, ডক্টর ইহসান আব্বাসের সম্পাদনা।

২০ - আবুল ফিদার [- ৭৩২] আল-মুখতাসার ফি আখবারিল বাশার, এতে তাঁর একটি গ্রন্থ সম্পর্কে তথ্য ছাড়া নতুন কিছু নেই।

২১ - জাফর আল-আদফুয়ির [৭৪৮ হি.] আল-বাদরুস সাফির, ফাতিহ পাণ্ডুলিপি নং ৪২০১, পৃষ্ঠা ১৪৬(৭)।

২২ - আয-যাহাবির [৭৪৮ হি.] তাযকিরাতুল হুফফাজ।

হায়দ্রাবাদ সংস্করণের ছায়া-মুদ্রণ, দারু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত।

--------------------------------------------

(৬) ডক্টর ইহসান আব্বাস ইবনে খাল্লিকানের ওফায়াতুল আইয়ানের পরিশিষ্টে (৭/ ৩৩০) এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন। বাশার আওয়াদ মারুফের সম্পাদিত মুদ্রিত কপিগুলোর মধ্যে আমার নিকট কেবল প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড আছে, যাতে তাঁর জীবনী আলোচনা করা হয়নি।

(৭) ডক্টর ইহসান ইবনে খাল্লিকানের ওফায়াতুল আইয়ানের পরিশিষ্টে (৭/ ৩৩০) এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ١٨)
23 - المغرب في حلى المغرب لابن سعيد [- هـ] ط دار المعارف بمصر - الطبعة الثانية 2/ 467 - 468 ولا جديد فيه.

24 - تاريخ الإسلام للذهبي.

مخطوطة أحمد الثالث ورقة 70 ب ج 12 رقم (2917)(8).

25 - سير النبلاء للذهبي.

مخطوطة أحمد الثالث ورقة 26/ ب ج 12 رقم (2910)(9).

26 - العبر للذهبي.

مخطوطة باريس ورقة 29 أ ج 2 رقم 1585(10).

27 - الوافي بالوفيات للصفدي [- 764 هـ]

ط بفيسبادن عام 1381 هـ باعتناء هلموت ريتر.

28 - عيون التواريخ لابن شاكر [- 764 هـ]

مخطوطة دار الكتب المصرية 1497 تاريخ ورقة 9 من ج 13(11). 29 - مرآة الجنان لليافعي [- 768 هـ]

3/ 149 لا جديد فيه إلا أنه أثنى عليه وقال: ظاهري المذهب.

30 - البداية والنهاية لابن كثير [- 774 هـ]

12/ 153 لا جديد سوى قوله: كتب مصنفات ابن حزم والخطيب، وأنه قد جاوز التسعين.

--------------------------------------------

(8) أعلام التاريخ للمنجد ص 47.

(9) المصدر السابق.

(10) المصدر السابق.

(11) أعلام التاريخ للمنجد 2/ 48.

২৩ - ইবনে সাঈদের আল-মাগরিব ফি হুলা আল-মাগরিব [- হিজরী] কায়রোর দার আল-মাআরিফ সংস্করণ - দ্বিতীয় মুদ্রণ ২/ ৪৬৭ - ৪৬৮ এবং এতে নতুন কিছু নেই।

২৪ - আয-যাহাবির তারিখুল ইসলাম।

আহমদ আস-সালিছ পাণ্ডুলিপি, পত্র ৭০ খ, ১২ খণ্ড, নং (২৯১৭)(৮)।

২৫ - আয-যাহাবির সিয়ারুন নুবালা।

আহমদ আস-সালিছ পাণ্ডুলিপি, পত্র ২৬/ খ, ১২ খণ্ড, নং (২৯১০)(৯)।

২৬ - আয-যাহাবির আল-ইবার।

প্যারিস পাণ্ডুলিপি, পত্র ২৯ ক, ২ খণ্ড, নং ১৫৮৫(১০)।

২৭ - আস-সাফাদির আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত [- ৭৬৪ হিজরী]

১৩৮১ হিজরীতে হেলমুট রিটারের তত্ত্বাবধানে উইসবাডেন থেকে প্রকাশিত।

২৮ - ইবনে শাকিরের উয়ুনুত তাওয়ারিখ [- ৭৬৪ হিজরী]

দার আল-কুতুব আল-মিসরিয়ার পাণ্ডুলিপি ১৪৯৭ ইতিহাস, ১৩ খণ্ডের ৯ নং পৃষ্ঠা(১১)। ২৯ - আল-ইয়াফিয়ির মিরআতুল জানান [- ৭৬৮ হিজরী]

৩/ ১৪৯ এতে নতুন কিছু নেই, তবে তিনি তার প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন: তিনি জাহেরি মাজহাবের অনুসারী ছিলেন।

৩০ - ইবনে কাসিরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া [- ৭৭৪ হিজরী]

১২/ ১৫৩ এতে কেবল তার এই উক্তিটি ছাড়া নতুন কিছু নেই যে: তিনি ইবনে হাজম ও আল-খাতিবের গ্রন্থাবলি লিখেছিলেন এবং তিনি নব্বই বছর বয়স অতিক্রম করেছিলেন।

--------------------------------------------

(৮) আল-মুনজিদের আলামুত তারিখ, পৃষ্ঠা ৪৭।

(৯) পূর্বোক্ত উৎস।

(১০) পূর্বোক্ত উৎস।

(১১) আল-মুনজিদের আলামুত তারিখ ২/ ৪৮।

(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ١٩)
31 النجوم الزاهرة لابن تغري بردي [- 874 هـ]

5/ 156 لا جديد سوى قوله: حمل عن ابن حزم أكثر كتبه وأنه ولد قبيل الأربع مئة.

32 نفح الطيب للمقري [- 1041 هـ]

ط دار صادر ببيروت عام 1388 هـ بتحقيق الدكتور إحسان عباس.

33 شذرات الذهب لابن العماد [- 1089 هـ]

3/ 392 قال توفي عن نحو 70 سنة.

ط المكتب التجاري ببيروت.

34 التاج المكلل لصديق حسن خان [1248 - 1307 هـ]

ط المطبعة الهندية العربية عام 1382 هـ ص 114 - 116 لا جديد فيه.

ومن مصادر الإفادة عنه فهرسة الرصاع ص 208 ومسالك الأبصار 3 ورقة 332 والقول السديد ورقة 46 وصلة الخلف للروداني ومفتاح السعادة 1/ 13 وظهر الإسلام 3/ 279 وكشف الظنون، وإيضاح المكنون، وأسماء الرجال للطيبي والأعلام للزركلي، ومعجم المؤلفين لكحالة، والتبيان لابن ناصر، وبيان الوهم والإيهام للقطان، وكتاب بالنثيا، وبحث لأحد الأسبانيين ألقي في ذكرى ابن حزم، وبحث للدكتور محسن جمال الدين نشر بمجلة الآداب عدد 10 عام 1967 م ولأحمد تيمور مقالة عن تفسير الغريب نشرت بمجلة المجمع العلمي بدمشق.

وكتب عنه أستاذنا الدكتور صلاح الدين المنجد دراسة ضافية في كتابه أعلام التاريخ.
৩১ ইবনে তাগরিবিরদি (মৃত্যু ৮৭৪ হিজরি) রচিত আন-নুজুম আয-যাহিরা

৫/ ১৫৬: তাঁর এই উক্তি ছাড়া নতুন কিছু নেই যে: তিনি ইবনে হাজমের নিকট থেকে তাঁর অধিকাংশ কিতাব গ্রহণ করেছেন এবং তিনি চারশ হিজরির কিছুকাল পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছেন।

৩২ আল-মাক্কারি (মৃত্যু ১০৪১ হিজরি) রচিত নাফহুত তীব

বৈরুতের দার সাদির থেকে ১৩৮৮ হিজরিতে ডক্টর ইহসান আব্বাসের সম্পাদনায় প্রকাশিত।

৩৩ ইবনুল ইমাদ (মৃত্যু ১০৮৯ হিজরি) রচিত শাযারাতুয যাহাব

৩/ ৩৯২: তিনি বলেন, তিনি আনুমানিক ৭০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন।

বৈরুতের আল-মাকতাবাতুত তিজারিয়া থেকে প্রকাশিত।

৩৪ সিদ্দিক হাসান খান (১২৪৮ - ১৩০৭ হিজরি) রচিত আত-তাজুল মুকাল্লাল

১৩৮২ হিজরিতে আল-মাতবাআতুল হিন্দিয়া আল-আরাবিয়া থেকে প্রকাশিত, পৃষ্ঠা ১১৪ - ১১৬, এতে নতুন কিছু নেই।

এবং তাঁর সম্পর্কে তথ্যের অন্যান্য উৎসের মধ্যে রয়েছে রাসসার ফাহরাসা পৃষ্ঠা ২০৮, মাসালিকুল আবসার ৩য় খণ্ড ৩৩২তম পত্র, আল-কাউলুস সাদীদ ৪৬তম পত্র, রুদানি রচিত সিলাতুল খালাফ, মিফতাহুস সাআদা ১/ ১৩, জুহুরুল ইসলাম ৩/ ২৭৯, কাশফুজ জুনুন, ইদাহুল মাকনুন, তিবি রচিত আসমাউর রিজাল, যিরিকলি রচিত আল-আলাম, কাহহালা রচিত মুজামুল মুআল্লিফীন, ইবনে নাসির রচিত আত-তিবইয়ান, কাত্তান রচিত বায়ানুল ওয়াহম ওয়াল ইহহাম, প্যালেনসিয়ার বই, ইবনে হাজমের স্মরণে জনৈক স্প্যানিশ গবেষকের পঠিত একটি গবেষণা প্রবন্ধ, ডক্টর মুহসিন জামালুদ্দিনের একটি গবেষণা প্রবন্ধ যা ১৯৬৭ সালের আদাব সাময়িকীর ১০ম সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে এবং আহমাদ তাইমুরের 'তাফসিরুল গারিব' বিষয়ক একটি প্রবন্ধ যা দামেস্কের মাজমাউল ইলমি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

এবং আমাদের উস্তাদ ডক্টর সালাহুদ্দিন আল-মুনজিদ তাঁর 'আলামুত তারিখ' গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে একটি বিস্তৃত অধ্যয়ন রচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌2 - تاريخ حياته
২ - তাঁর জীবন ইতিহাস
(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ٢٣)
والده أبو نصر فتوح بن عبد الله بن فتوح بن حميد الأزدي قرطبي رصافي المولد ميورقي السكنى سمع من أبي القاسم أصبغ بن راشد هو وابنه أبو عبد الله(1).

وساق ياقوت نسبه إلى عبد الله بن حميد بن يصل(2).

وأبو عبد الله محمد بن فتوح من أهل جزيرة ميورقة وأصله من قرطبة من ربض الرصافة(3).

نقل عنه الذهبي قوله: ولدت قبل سنة 421 هـ(4).

وذكر ابن كثير أن الحميدي جاوز التسعين.

وقال معاصره ابن تغري بردي ولد قبيل 400 هـ.

وقال ابن العماد توفي عن نحو سبعين عاما.

قلنا أما كلام ابن كثير فعن طبعة البداية والنهاية وهي كثيرة التصحيف والتحريف لهذا يحتمل أحد أمور ثلاثة:

أولها: أن تكون التسعون غير محرفة وعلى هذا يكون ولد عام 398 هـ إلا أن هذا ينافي ما قاله الحميدي نفسه أنه عام 425 يحمل

--------------------------------------------

(1) الذيل والتكملة س هـ ق 2 ص 535.

(2) وفيات الأعيان 4/ 282 وراجع الصلة 2/ 530 ومعجم الأدباء 7/ 58.

(3) الصلة 2/ 530.

(4) تذكرة الحفاظ 4/ 1218 وانظر معجم الأدباء 7/ 58 وقال محققا المعجب ص 28 (حاشية) ولد سنة 420 هـ ورأيت محقق سؤالات السلفي يحدد مولده بعام 418 هـ كما في ص 101 حاشية.

তাঁর পিতা আবু নাসর ফুতুহ বিন আব্দুল্লাহ বিন ফুতুহ বিন হুমাইদ আল-আযদি ছিলেন কর্ডোভান, রুসাফাতে জন্মগ্রহণকারী এবং মায়োর্কাতে বসবাসকারী। তিনি এবং তাঁর পুত্র আবু আব্দুল্লাহ, আবু আল-কাসিম আসবাগ বিন রাশিদের নিকট থেকে (হাদিস) শ্রবণ করেছেন(১)।

ইয়াকুত তাঁর বংশপরম্পরা আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ বিন ইয়াসাল পর্যন্ত নিয়ে গেছেন(২)।

এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ফুতুহ মায়োর্কা দ্বীপের অধিবাসী ছিলেন এবং তাঁর আদি নিবাস ছিল কর্ডোভার রুসাফা উপশহরে(৩)।

আয-যাহাবি তাঁর থেকে এই উক্তিটি বর্ণনা করেছেন: "আমি ৪২১ হিজরির পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছি"(৪)।

ইবনে কাসির উল্লেখ করেছেন যে আল-হুমাইদি নব্বই বছর অতিক্রম করেছিলেন।

তাঁর সমসাময়িক ইবনে তাগরি বারদি বলেছেন যে তিনি ৪০০ হিজরির কিছুকাল পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছেন।

ইবনে আল-ইমাদ বলেছেন যে তিনি প্রায় সত্তর বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

আমরা বলি, ইবনে কাসিরের বক্তব্যটি 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া'-এর মুদ্রণ থেকে নেওয়া হয়েছে, যা প্রচুর পরিমাণে লিখনগত ভুল ও বিকৃতিতে পূর্ণ; এই কারণে তিনটি বিষয়ের একটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে:

প্রথমত: 'নব্বই' শব্দটি বিকৃত না হওয়া, আর সেই অনুযায়ী তাঁর জন্ম ৩৯৮ হিজরিতে হওয়া; তবে এটি আল-হুমাইদির নিজের বক্তব্যের পরিপন্থী যে তিনি ৪২৫ হিজরিতে বহন করছেন...

--------------------------------------------

(১) আয-যাইল ওয়াত তাকমিলা, খণ্ড ৫, অংশ ২, পৃষ্ঠা ৫৩৫।

(২) ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৪/২৮২ এবং দেখুন আস-সিলাহ ২/৫৩০ এবং মুজামুল উদাবা ৭/৫৮।

(৩) আস-সিলাহ ২/৫৩০।

(৪) তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/১২১৮ এবং দেখুন মুজামুল উদাবা ৭/৫৮; 'আল-মু'জিব' গ্রন্থের মুহাক্কিকদ্বয় ২৮ পৃষ্ঠায় (পাদটীকা) বলেছেন যে তিনি ৪২০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং আমি দেখেছি 'সুয়ালাতুস সালাফি'-এর মুহাক্কিক তাঁর জন্ম ৪১৮ হিজরি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন যেমনটি ১০১ পৃষ্ঠার পাদটীকায় রয়েছে।

(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ٢٤)
للسماع فمن كان عمره سبعة وعشرين عاما كيف يحمل.

وثانيها: أن تكون التسعون محرفة عن ستين فيكون ولد عام 428 هـ وهذا غير صحيح لأنه حمل للسماع عام 425 هـ ولأن الحميدي روي نقط العروس لابن حزم فذكر أنه سمعه بعد 420 هـ.

وثالثها: أن تكون التسعون محرفة عن السبعين فيكون مولده عام 418 هـ وهذا هو الأقرب ويؤيده نص ابن العماد ونصوص المؤرخين أنه ولد قبيل 420 هـ.

أما نص ابن تغردي بردي فيؤيد رواية أن عمره تسعون وقد بينا بطلان هذا الرأي.

وقال محمد بن طرخان: سمعت الحميدي يقول كنت أحمل للسماع على الكتف سنة 425 فأول ما سمعت من الفقيه أصبغ بن راشد وكنت أفهم ما يقرأ عليه وكان تفقه على أبي محمد بن أبي زيد.

أصل أبي من قرطبة من محلة تعرف بالرصافة فسكن جزيرة ميورقة فولدت فيها(5).

ومن هذا النص نعلم أن الذي تفقه بابن أبي زيد هو أصبغ بن راشد بيد أن ياقوتا اقتضب هذا النص على عجل فقال: إن الحميدي تفقه بابن أبي زيد وروى عنه رسالته ومختصر المدونة(6) والواقع أن الحميدي لم يدرك ابن أبي زيد.

قال الحميدي نفسه عن أصبغ بن راشد سمعنا منه وأخبرنا بالرسالة

--------------------------------------------

(5) تذكرة الحفاظ 4/ 1218 - 1219.

(6) معجم الأدباء 7/ 58.

শ্রবণ করার জন্য; যার বয়স সাতাশ বছর, তাকে কীভাবে বহন করা হবে?

দ্বিতীয়ত: নব্বই শব্দটি ষাট শব্দের বিকৃত রূপ হতে পারে, সে হিসেবে তার জন্ম ৪২৮ হিজরিতে হয়। কিন্তু এটি সঠিক নয়, কারণ তাকে ৪২৫ হিজরিতে শ্রবণের জন্য বহন করা হয়েছিল এবং হুমাইদী ইবনে হাজমের 'নুকাতুল আরুস' বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি তা ৪২০ হিজরির পরে শুনেছেন।

তৃতীয়ত: নব্বই শব্দটি সত্তর শব্দের বিকৃত রূপ হতে পারে, সে হিসেবে তার জন্ম ৪১৮ হিজরিতে হয়। এটিই অধিকতর সঠিক এবং ইবনুল ইমাদ ও ঐতিহাসিকগণের বক্তব্য এটিকে সমর্থন করে যে, তিনি ৪২০ হিজরির কিছুকাল পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছেন।

আর ইবনে তাগরি বারদীর বক্তব্য এই বর্ণনাকে সমর্থন করে যে তার বয়স নব্বই বছর ছিল, তবে আমরা এই মতের অসারতা স্পষ্ট করেছি।

মুহাম্মদ বিন তারখান বলেন: আমি হুমাইদীকে বলতে শুনেছি, ৪২৫ সালে আমাকে শ্রবণের জন্য কাঁধে করে বহন করা হতো। আমি প্রথম যা শুনেছি তা ফকীহ আসবাগ বিন রাশিদের নিকট থেকে এবং তার সামনে যা পাঠ করা হতো আমি তা বুঝতে পারতাম। তিনি আবু মুহাম্মদ বিন আবি যাইদের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছিলেন।

আমার পিতার আদি নিবাস ছিল কর্ডোবার রুসাফা নামক মহল্লায়। পরবর্তীতে তিনি মায়োরকা দ্বীপে বসতি স্থাপন করেন এবং সেখানেই আমার জন্ম হয়(৫)।

এই পাঠ থেকে আমরা জানতে পারি যে, ইবনে আবি যাইদের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছিলেন আসবাগ বিন রাশিদ। তবে ইয়াকুত আল-হামাভী তাড়াহুড়ো করে এই পাঠের সংক্ষিপ্তসার করতে গিয়ে বলেছেন: হুমাইদী ইবনে আবি যাইদের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন এবং তার নিকট থেকে তার রিসালাহ ও মুখতাসারুল মুদাওয়ানাহ বর্ণনা করেছেন। অথচ বাস্তবতা হলো, হুমাইদী ইবনে আবি যাইদের সাক্ষাৎ পাননি।

হুমাইদী স্বয়ং আসবাগ বিন রাশিদ সম্পর্কে বলেন, আমরা তার নিকট শুনেছি এবং তিনি আমাদের রিসালাহ সম্পর্কে অবহিত করেছেন।

--------------------------------------------

(৫) তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/ ১২১৮ - ১২১৯।

(৬) মু'জামুল উদাবা ৭/ ৫৮।

(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ٢٥)
والمختصر لابن أبي زيد عنه وهو أول من سمعت منه سنة 425 هـ أو نحوها(7).

وأبرز أعمال الحميدي التي وصلت إلينا إنما هي في التاريخ والحديث ولكن بعضهم وصفه بالفقيه(8).

وقال ابن خلكان:

أخبرني بعض أرباب التاريخ أنه رأى في بعض التواريخ أن نسبة الحميدي إلى حميد بن عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه.

وهو ليس بصحيح لأن أبا عبد الله أزدي النسب وعبد الرحمن قرشي زهري فكيف يجتمعان؟!(9).

وقال أبو علي الصدفي:

كان يدلني على الشيوخ وكان متقللا من الدنيا يمونه ابن رئيس الرؤساء ثم جرت لي معه قصص أوجبت انقطاعي عنه وكان يبيت عند ابن رئيس الرؤساء كل ليلة.

وحدثني أبو بكر بن الخاضبة أنه ما سمع يذكر الدنيا قط(10).

وقال أبو طالب: كان على سنن أهل العلم في الإنصاف(11).

وقال الذهبي: كان صاحب حديث كما ينبغي علما وعملا وكان ظاهريا ويسر ذلك بعض الإسرار(12).

--------------------------------------------

(7) الجذوة ص 174.

(8) فهرسة ابن خير ص 400 والبغية للضبي ص 123.

(9) وفيات الأعيان 4/ 284.

(10) تذكرة الحفاظ 4/ 1220.

(11) تحرير المقال ورقة 2/ أ.

(12) تذكرة الحفاظ 4/ 1221.

এবং তাঁর নিকট থেকে ইবনে আবি যায়দ-এর মুখতাসার; আর তিনি হলেন প্রথম ব্যক্তি যাঁর নিকট থেকে আমি ৪২৫ হিজরি বা তার কাছাকাছি সময়ে শুনেছিলাম(৭)।

আল-হুমায়দির যে কাজগুলো আমাদের নিকট পৌঁছেছে তার মধ্যে প্রধান হলো ইতিহাস ও হাদিস বিষয়ক, তবে কেউ কেউ তাঁকে ফকিহ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন(৮)।

ইবনে খাল্লিকান বলেন:

ইতিহাসের কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি কোনো কোনো ইতিহাস গ্রন্থে দেখেছেন আল-হুমায়দির বংশধারা হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর দিকে সম্পৃক্ত।

আর এটি সঠিক নয়, কারণ আবু আব্দুল্লাহ আযদি বংশোদ্ভূত এবং আব্দুর রহমান হলেন কুরাশি যুহরি, সুতরাং এ দুজন কীভাবে একত্রিত হবেন?!(৯)।

আবু আলী আস-সাদাফি বলেন:

তিনি আমাকে শায়খদের সন্ধান দিতেন এবং তিনি দুনিয়াবিমুখ ছিলেন। রাইসুল রুয়াসা-এর পুত্র তাঁর ভরণপোষণ করতেন। অতঃপর তাঁর সাথে আমার এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা তাঁর থেকে আমার সম্পর্ক ছিন্ন করা আবশ্যক করে দেয়; তিনি প্রতি রাতে রাইসুল রুয়াসা-এর পুত্রের নিকট রাত্রিযাপন করতেন।

আবু বকর ইবনুল খাদিবা আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁকে কখনো দুনিয়ার আলোচনা করতে শোনেননি(১০)।

আবু তালিব বলেন: তিনি ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে আহলে ইলমদের পন্থার উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন(১১)।

আয-যাহাবি বলেন: তিনি ইলম ও আমল উভয় দিক থেকেই যথাযথভাবে হাদিস বিশারদ ছিলেন এবং তিনি যাহেরি মাজহাবের অনুসারী ছিলেন এবং তা কিছুটা গোপন রাখতেন(১২)।

--------------------------------------------

(৭) আল-জাযওয়া, পৃষ্ঠা ১৭৪।

(৮) ফাহরাসাতু ইবনে খাইর, পৃষ্ঠা ৪০০ এবং আদ-দাব্বি প্রণীত আল-বুগইয়া, পৃষ্ঠা ১২৩।

(৯) ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৪/২৮৪।

(১০) তাযকিরাতুল হুফফায ৪/১২২০।

(১১) তাহরিরুল মাকাল, পত্র ২/ক।

(১২) তাযকিরাতুল হুফফায ৪/১২২১।

(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ٢٦)
وقال يحيى بن البناء: كان الحميدي من اجتهاده ينسخ بالليل في الحر فكان يجلس في إجانة ماء يتبرد به(13).

وقال المقري: روى عن الخطيب أكثر مصنفاته.

أقام بواسط مدة بعد خروجه من بغداد ثم عاد إلى بغداد واستوطنها وكتب بها كثيرا من الحديث والأدب وسائر الفنون وصنف مصنفات كثيرة وعلق فوائد وخرج تخاريج للخطيب وغيره وروى عنه أبو بكر الخطيب أكثر مصنفاته وابن ماكولا(14).

قال الحميدي: ما راجعت الخطيب في شيء إلا وأحالني على الكتاب حتى أكشفه وما راجعت ابن ماكولا إلا وأجابني حفظا كأنه يقرأ من كتاب(15).

وقال الذهبي: لم يزل يسمع ويكثر ويجد حتى كتب عن أصحاب الجوهري وابن المذهب(16).

وقال الحجاري في المسهب: إنه طرق ميورقة بعدما كانت عطلا من هذا الشأن وترك لها فخرا تباري به خواص البلدان(17). وهو من علماء أئمة الحديث ولازم أبا محمد بن حزم في الأندلس واستفاد منه(18).

وقال الحسين بن محمد بن خسرو:

--------------------------------------------

(13) تذكرة الحفاظ 4/ 1219.

(14) نفح الطيب 2/ 113.

(15) مجلة الآداب عدد 10 عام 1967 ص 188 عن شذرات الذهب ج 4 حوادث سنة 487.

(16) تذكرة الحفاظ 4/ 1218.

(17) ذكر محقق النفح أستاذنا الدكتور إحسان عباس أنه في نسخة: أظهر العلم في طرق ميورقة بعدما كانت عطلا.

(18) نفح الطيب 2/ 114.

ইয়াহইয়া ইবনুল বান্না বলেছেন: হুমাইদী তাঁর কঠোর জ্ঞানসাধনার কারণে গরমের সময় রাতে পাণ্ডুলিপি নকল করার কাজ করতেন, তখন তিনি নিজেকে শীতল করার জন্য পানির একটি বড় পাত্রে বসতেন(১৩)।

মুকরি বলেছেন: তিনি খতীবের নিকট থেকে তাঁর অধিকাংশ গ্রন্থ বর্ণনা করেছেন।

বাগদাদ থেকে বের হওয়ার পর তিনি ওয়াসিতে কিছুকাল অবস্থান করেন, অতঃপর বাগদাদে ফিরে আসেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি সেখানে হাদিস, সাহিত্য এবং অন্যান্য শাস্ত্রের ওপর প্রচুর লিখেছেন, অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন, টীকা সংযোজন করেছেন এবং খতীব ও অন্যদের জন্য হাদিসের উৎস নির্ঘণ্ট (তাখরিজ) তৈরি করেছেন। আবু বকর খতীব এবং ইবনে মাকুলা তাঁর কাছ থেকে তাঁর অধিকাংশ গ্রন্থ বর্ণনা করেছেন(১৪)।

হুমাইদী বলেছেন: আমি কোনো বিষয়ে খতীবের শরণাপন্ন হলে তিনি আমাকে মূল বই দেখার নির্দেশ দিতেন যাতে আমি নিজেই তা খুঁজে বের করি, কিন্তু যখনই আমি ইবনে মাকুলার শরণাপন্ন হয়েছি, তিনি আমাকে মুখস্থ উত্তর দিতেন, যেন তিনি বই দেখে পড়ছেন(১৫)।

যাহাবী বলেছেন: তিনি নিরন্তর হাদিস শুনেছেন, প্রচুর সংগ্রহ করেছেন এবং কঠোর পরিশ্রম করেছেন, এমনকি তিনি জওহারী এবং ইবনুল মাযহাবের শিষ্যদের থেকেও হাদিস লিখেছেন(১৬)।

হাজারী 'আল-মুসহিব' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি মায়োরকায় এমন সময় পদার্পণ করেন যখন তা এ বিদ্যা থেকে শূন্য ছিল, এবং তিনি সেখানে এমন এক গৌরব রেখে গেছেন যা দিয়ে শহরটি অন্য সব বিশেষ শহরগুলোর সাথে পাল্লা দেয়(১৭)। তিনি হাদিসের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং আন্দালুসে আবু মুহাম্মদ ইবনে হাযমের সান্নিধ্যে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন ও তাঁর থেকে উপকৃত হন(১৮)।

হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খুসরাউ বলেছেন:

--------------------------------------------

(১৩) তযকিরাতুল হুফফায ৪/১২১৯।

(১৪) নাফহুত তীব ২/১১৩।

(১৫) মাজাল্লাতুল আদাব, সংখ্যা ১০, ১৯৬৭ সাল, পৃষ্ঠা ১৮৮; শাযারাতুয যাহাব, খণ্ড ৪, ৪৮৭ হিজরীর ঘটনাবলি থেকে সংগৃহীত।

(১৬) তযকিরাতুল হুফফায ৪/১২১৮।

(১৭) নাফহ-এর মুহাক্কিক আমাদের উস্তাদ ডক্টর ইহসান আব্বাস উল্লেখ করেছেন যে, একটি পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: মায়োরকার পথে পথে তিনি ইলম প্রকাশ করেন যখন তা শূন্য ছিল।

(১৮) নাফহুত তীব ২/১১৪।

(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ٢٧)
جاء أبو بكر بن ميمون فدق على الحميدي وظن أنه قد أذن له فدخل عليه فوجده مكشوف الفخذ فبكى الحميدي وقال:

والله لقد نظرت إلى موضع لم ينظره أحد منذ عقلت(19).

وقال القاضي عياض: سمع بميورقة من أبي محمد بن حزم قديما وكان يتعصب له ويميل إلى قوله وكان قد أصابته فيه فتنة ولما شدد على ابن حزم خرج الحميدي إلى المشرق(20).

وقال السلفي:

سألت أبا عامر العبدري عن الحميدي فقال: لا يرى قط مثله، وعن مثله لا يسأل. جمع بين الفقه والحديث والأدب ورأى علماء الأندلس، وكان حافظا(21).

وقال الحميدي نفسه: صيرني الشهاب [يعني شهاب الدين القضاعي] شهابا وهو كان يقصد في سماعه كثيرا(22).

وقال ابن خلكان كانت له نغمة حسنة في قراءة الحديث(23).

وكان الحميدي قد رحل من الأندلس سنة 448 هـ(24)، فحج وسمع بأفريقية ومصر كثيرا وسمع بالشام والعراق واستوطن بغداد(25).

قدم واسطا وأقام بها مدة حتى نسخ الكامل للمبرد وقرأه على أبي

--------------------------------------------

(19) تذكرة الحفاظ 4/ 1219.

(20) تذكرة الحفاظ 4/ 1220.

(21) تذكرة الحفاظ 4/ 1219.

(22) تذكرة الحفاظ 4/ 1219.

(23) وفيان الأعيان 4/ 282.

(24) جذوة المقتبس ص 312 و 139 و 369 و 271.

(25) الصلة 2/ 530 وتذكرة الحفاظ 4/ 1218.

আবু বকর বিন মাইমুন এলেন এবং আল-হুমাইদীর দরজায় করাঘাত করলেন। তিনি মনে করলেন যে তাকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাই তিনি তার কাছে প্রবেশ করলেন। তিনি তাকে উরু অনাবৃত অবস্থায় পেলেন। তখন আল-হুমাইদী কেঁদে ফেললেন এবং বললেন:

আল্লাহর কসম, আপনি এমন একটি স্থানের দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন যার দিকে আমার বোধোদয় হওয়ার পর থেকে আর কেউ তাকায়নি(১৯)।

কাযী ইয়াদ বলেন: তিনি অনেক আগে মায়ুরকাতে আবু মুহাম্মাদ বিন হাজম থেকে (হাদিস) শুনেছেন এবং তিনি তার প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন ও তার মতের অনুসারী ছিলেন। এই কারণে তিনি বিপদেও পড়েছিলেন। যখন ইবনে হাজমের ওপর কড়াকড়ি করা হলো, তখন আল-হুমাইদী প্রাচ্যের দিকে বেরিয়ে গেলেন(২০)।

আস-সালাফি বলেন:

আমি আবু আমির আল-আবদারিকে আল-হুমাইদী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেন: তার মতো কাউকে কখনো দেখা যায়নি, এবং তার মতো ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয় না। তিনি ফিকহ, হাদিস ও সাহিত্যের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন এবং আন্দালুসের আলেমদের দেখেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন হাফেজ (হাদিস বিশারদ)(২১)।

আল-হুমাইদী নিজে বলেন: আশ-শিহাব [অর্থাৎ শিহাব উদ্দিন আল-কুদায়ী] আমাকে একটি উল্কাসদৃশ (উজ্জ্বল নক্ষত্র) বানিয়ে দিয়েছেন। তিনি তার শ্রবণে (হাদিস শ্রবণে) অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন(২২)।

ইবনে খাল্লিকান বলেন: হাদিস পাঠের ক্ষেত্রে তার কণ্ঠস্বর অত্যন্ত সুন্দর ছিল(২৩)।

আল-হুমাইদী ৪৪৮ হিজরিতে আন্দালুস থেকে সফর করেছিলেন(২৪)। অতঃপর তিনি হজ করেন এবং আফ্রিকা ও মিশরে প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি সিরিয়া ও ইরাকেও (হাদিস) শ্রবণ করেন এবং বাগদাদে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন(২৫)।

তিনি ওয়াসিতে আসেন এবং সেখানে কিছুকাল অবস্থান করেন যতক্ষণ না তিনি আল-মুবররাদের 'আল-কামিল' গ্রন্থটি অনুলিপি করেন এবং তা পাঠ করেন আবু...

--------------------------------------------

(১৯) তাযকিরাতুল হুফফায ৪/১২১৯।

(২০) তাযকিরাতুল হুফফায ৪/১২২০।

(২১) তাযকিরাতুল হুফফায ৪/১২১৯।

(২২) তাযকিরাতুল হুফফায ৪/১২১৯।

(২৩) ওফায়াতুল আইয়ান ৪/২৮২।

(২৪) জাদওয়াতুল মুকতাবিস পৃ. ৩১২, ১৩৯, ৩৬৯ এবং ২৭১।

(২৫) আস-সিলাহ ২/৫৩০ এবং তাযকিরাতুল হুফফায ৪/১২১৮।

(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ٢٨)
غالب وأصعد إلى بغداد(26) وقارن أبو طالب بينه وبين ابن حزم فقال: ابن حزم من أهل النظر في الجملة.

أما الحميدي فإنما هو من أصحاب الحديث وإن كان من أهل التحذق فيهم(27).

وقال ياقوت: وقال بعض أكابر عصره ممن لقي الأئمة:

لم تر عيناي مثل أبي عبد الله الحميدي في فضله ونبله ونزاهته وغزارة علمه وحرصه على نشر العلم وبثه في أهله وكان ورعا ثقة إماما في علم الحديث وعلله ومعرفة متونه ورواته محققا في علم الأصول على مذهب أصحاب الحديث متبحرا في علم الأدب والعربية(28).

ونقل الذهبي هذا النص بلفظ مقارب عن يحيى بن إبراهيم السلماسي عن أبيه وزاد بأنه فصيح العبارة متبحر في الترسل(29).

ولم يقطع الحميدي صلته بالأندلس فكثيرا ما تجد في عباراته المتكررة كقوله (فيما بلغني) ما يدل على أنه يتلقط أخبار معاصريه الأندلسيين من أفواه العائدين من الأندلس.

بل ذكر ابن القطان في كتاب بيان الوهم والإيهام أن الحميدي يكاتب ابن حزم من العراق.

وعندما ختم كتابه الجذوة قال: هذا الذي حضرنا من المعنى المقصود قد جمعناه بعون الله عز وجل لمقتبسيه أيام كوننا بالعراق والوعد باق علينا

--------------------------------------------

(26) سؤالات السلفي ص 101 - 102.

(27) تحرير المقال ورقة 23.

(28) معجم الأدباء 7/ 59.

(29) تذكرة الحفاظ 4/ 1219.

গালিব এবং তিনি বাগদাদে আরোহণ করলেন(২৬) এবং আবু তালিব তাঁর ও ইবনে হাজমের মাঝে তুলনা করে বললেন: ইবনে হাজম সামগ্রিকভাবে তাত্ত্বিক গবেষণার অনুসারীদের (আহলুন নাজার) অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে হুমায়দী হলেন হাদীস বিশারদদের (আসহাবুল হাদীস) অন্তর্ভুক্ত, যদিও তিনি তাদের মধ্যে অত্যন্ত পারদর্শী ও কুশলী ছিলেন(২৭)।

ইয়াকুত বলেন: তাঁর সমসাময়িক কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি, যারা ইমামগণের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন, তারা বলেছেন:

আমার দুই চোখ আবু আব্দুল্লাহ আল-হুমায়দীর মতো শ্রেষ্ঠত্ব, মহানুভবতা, চারিত্রিক নির্মলতা, জ্ঞানের প্রাচুর্য এবং জ্ঞান প্রচার ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে তা ছড়িয়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষায় অন্য কাউকে দেখেনি। তিনি ছিলেন পরহেজগার, নির্ভরযোগ্য এবং হাদীস শাস্ত্র, তার সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (ইল্লাল), মতন (মূল পাঠ) ও রাবীদের (বর্ণনাকারী) পরিচিতি লাভের ক্ষেত্রে একজন ইমাম। তিনি আসহাবুল হাদীসের মানহাজ অনুযায়ী উসুল শাস্ত্রে গভীর গবেষক এবং সাহিত্য ও আরবি ভাষাতত্ত্বে সুপণ্ডিত ছিলেন(২৮)।

আয-যাহাবী এই বর্ণনাটি ইয়াহইয়া ইবনে ইবরাহীম আস-সালমাসীর বরাতে তাঁর পিতার নিকট থেকে কাছাকাছি শব্দে বর্ণনা করেছেন এবং আরও যোগ করেছেন যে, তিনি সাবলীল বাকভঙ্গি সম্পন্ন এবং পত্রবিনিময় ও গদ্য সাহিত্যে সুপণ্ডিত ছিলেন(২৯)।

আল-হুমায়দী আন্দালুসের সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন করেননি। তাঁর বারবার ব্যবহৃত বিভিন্ন বাক্যাংশ যেমন—(আমার কাছে যা পৌঁছেছে)—থেকে প্রায়শই লক্ষ্য করা যায় যে, তিনি আন্দালুস থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের মুখ থেকে তাঁর আন্দালুসী সমসাময়িকদের সংবাদ সংগ্রহ করতেন।

বরং ইবনুল কাত্তান তাঁর 'বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহহাম' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আল-হুমায়দী ইরাক থেকে ইবনে হাজমের সাথে পত্রালাপ করতেন।

যখন তিনি তাঁর 'আল-জাজওয়া' গ্রন্থটি সমাপ্ত করেন, তখন বলেন: কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের যা কিছু আমাদের নিকট উপস্থিত হয়েছে, তা আমরা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সাহায্যে তাঁর জ্ঞানান্বেষীদের জন্য ইরাকে অবস্থানকালে সংগ্রহ করেছি, আর আমাদের প্রতিশ্রুতির অবশিষ্টাংশ এখনও আমাদের জিম্মায় রয়েছে।

--------------------------------------------

(২৬) আস-সিলাফীর প্রশ্নাবলী, পৃষ্ঠা ১০১ - ১০২।

(২৭) তাহরীরুল মাকাল, পত্র ২৩।

(২৮) মু'জামুল উদাবা ৭/ ৫৯।

(২৯) তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/ ১২১৯।

(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ٢٩)
إن أمهلنا إلى سلوك تلك الآفاق. ا هـ.

فهذا تشوق منه للأندلس وعقد للنية على العودة.

وقبل خروجه من الأندلس كانت له رحلات داخل الأندلس حسب إشارات وجدتها بالجذوة منها قوله:

لقيته ببلنسية بعيد 440 هـ(30) وبشاطبة(31) في مجلس أبي محمد بن حزم(32) وشاهدته بالمرية في حدود 440(33) ولقيته بقرطبة(34).

وخرج الحميدي من الأندلس وعمره ثلاثون عاما لا أعرف من تتلمذ له في الأندلس وإنما كان معاصروه من علماء الأندلس مشايخ وأقرانا فإن وجدت رواية عنه فهي من باب رواية الأقران.

أما رواية ابن حزم لكتاب الحميدي في الموازنة فهي من باب رواية الشيخ عن تلميذه على سبيل الإعجاب والاستزادة.

ومنذ رحل عن الأندلس كان يأخذ ويؤخذ عنه وإنما كان الأخذ عنه على سبيل التتلمذ وقت إقامته واستقراره في بغداد.

والحميدي محظي -كما قال الدكتور المنجد- بكثرة شيوخه من أفذاذ العلماء.

قال ابن بشكوال:

وتوفي أبو عبد الله الحميدي ببغداد سنة 488 هـ.

--------------------------------------------

(30) الجذوة ص 327.

(31) الجذوة ص 393.

(32) الجذوة ص 394.

(33) الجذوة ص 302.

(34) الجذوة ص 280.

যদ্যপি আমাদের সেসব দিগন্ত অভিমুখে সফরের অবকাশ দেওয়া হয়। (সমাপ্ত)।

এটি আন্দালুসের প্রতি তাঁর প্রবল আকাঙ্ক্ষা এবং পুনরায় ফিরে যাওয়ার সংকল্পের বহিঃপ্রকাশ।

আর আন্দালুস ত্যাগের পূর্বে আন্দালুসের অভ্যন্তরে তাঁর বেশ কিছু সফর ছিল, যা 'আল-জাযওয়াহ' গ্রন্থে আমার পাওয়া কিছু ইঙ্গিত অনুযায়ী। যেমন তাঁর উক্তি:

আমি তাঁর সাথে ৪৪০ হিজরীর সামান্য পরে বালানসিয়াতে(৩০) এবং শাতিবাতে(৩১) আবু মুহাম্মাদ ইবনে হাযমের মজলিসে(৩২) সাক্ষাৎ করেছি। আমি তাঁকে ৪৪০ হিজরীর কাছাকাছি সময়ে আল-মারিয়্যাতে দেখেছি(৩৩) এবং কুরতুবাতে(৩৪) তাঁর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে।

হুমাইদী ত্রিশ বছর বয়সে আন্দালুস ত্যাগ করেন। আন্দালুসে তাঁর নিকট কারা ছাত্রত্ব গ্রহণ করেছিলেন তা আমার জানা নেই; বরং আন্দালুসের যেসব আলিম তাঁর সমসাময়িক ছিলেন, তাঁরা ছিলেন হয় তাঁর শিক্ষক অথবা সমবয়সী। সুতরাং যদি তাঁর থেকে কোনো বর্ণনা পাওয়া যায়, তবে তা সমসাময়িকদের একে অপরের থেকে বর্ণিত বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত হবে।

আর 'আল-মুওয়াযানাহ' কিতাবে হুমাইদী থেকে ইবনে হাযমের বর্ণনা করার বিষয়টি হলো ছাত্রের প্রতি মুগ্ধতা ও জ্ঞান বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে শিক্ষকের তাঁর ছাত্র থেকে বর্ণনা করার পর্যায়ভুক্ত।

আন্দালুস ত্যাগের পর থেকেই তিনি যেমন জ্ঞান অর্জন করেছেন, তেমনি তাঁর থেকেও জ্ঞান অর্জিত হয়েছে। তবে তাঁর নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের বিষয়টি ছিল মূলত বাগদাদে তাঁর অবস্থান ও স্থায়ী বসবাসের সময়কালে।

হুমাইদী ছিলেন সৌভাগ্যবান—যেমনটি ডক্টর আল-মুনজিদ বলেছেন—বরণ্যে আলিমদের মধ্য থেকে তাঁর অসংখ্য উস্তাদের সাহচর্য লাভের কারণে।

ইবনে বাশকুওয়াল বলেন:

আবু আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদী ৪৮৮ হিজরীতে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন।

--------------------------------------------

(৩০) আল-জাযওয়াহ, পৃষ্ঠা ৩২৭।

(৩১) আল-জাযওয়াহ, পৃষ্ঠা ৩৯৩।

(৩২) আল-জাযওয়াহ, পৃষ্ঠা ৩৯৪।

(৩৩) আল-জাযওয়াহ, পৃষ্ঠা ৩০২।

(৩৪) আল-জাযওয়াহ, পৃষ্ঠা ২৮০।

(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ٣٠)
أخبرني بذلك ابن سرحان.

وزاد غيره في ذي الحجة من العام(35) وقال ياقوت: توفي ببغداد ليلة الثلاثاء سابع عشر ذي الحجة سنة 488 هـ(36) ونقله ابن خلكان عن الذيل للسمعاني(37) وابن سرحان يذكر أنه دخل بغداد في مهل محرم عام 488 هـ ولقي الحميدي في منتصف محرم، وأنه مات بعد أشهر ثلاثة أو أربعة(38).

وعلى هذا يكون توفي في منتصف ربيع الأول أو ربيع الثاني عام 488.

وقال ابن الأثير: توفي في صفر سنة 491 هـ(39).

قال ابن خلكان معلقا على نص ابن الأثير:

هكذا وجدته في المختصر الذي اختصره أبو الحسن علي بن الأثير الجزري، وكشفت عنه عدة نسخ فوجدته على هذه الصورة، لأني توهمت الغلط في نسختي ولم أقدر على مراجعة الأصل الذي لابن السمعاني الذي هذا المختصر منه، لأنه لا يوجد في هذه البلاد.

ثم إن ابن خلكان راجع الذيل للسمعاني ورأى فيه أن الحميدي نقل إلى قبر آخر عام 491 هـ فعلم أن الغلط وقع من ابن الأثير في المختصر(40).

--------------------------------------------

(35) الصلة 2/ 530.

(36) معجم الأدباء 3/ 59.

(37) وفيات الأعيان 4/ 283.

(38) فهرسة ابن خير ص 122.

(39) اللباب 3/ 282.

(40) وفيات الأعيان 4/ 283 - 284.

ইবনে সুরহান আমাকে এই সংবাদ জানিয়েছেন।

এবং অন্যরা উক্ত বছরের জিলহজ মাসে হওয়ার কথা যোগ করেছেন(৩৫) এবং ইয়াকুত বলেছেন: তিনি ৪৮৮ হিজরি সনের ১৭ই জিলহজ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন(৩৬) এবং ইবনে খাল্লিকান এটি সামআনীর 'আয-যাইল' থেকে উদ্ধৃত করেছেন(৩৭)। আর ইবনে সুরহান উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ৪৮৮ হিজরি সনের মহররমের শুরুতে বাগদাদে প্রবেশ করেন এবং মহররমের মাঝামাঝি সময়ে হুমায়দীর সাথে সাক্ষাৎ করেন, আর তিনি এর তিন বা চার মাস পরে মৃত্যুবরণ করেন(৩৮)।

আর এই অনুযায়ী, তাঁর মৃত্যু ৪৮৮ হিজরির রবিউল আউয়াল অথবা রবিউস সানি মাসের মাঝামাঝি সময়ে হয়েছে।

এবং ইবনে আল-আসির বলেছেন: তিনি ৪৯১ হিজরি সনের সফর মাসে মৃত্যুবরণ করেন(৩৯)।

ইবনে খাল্লিকান ইবনে আল-আসিরের বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন:

আমি আবুল হাসান আলী ইবনে আল-আসির আল-জাযারীর করা সংক্ষিপ্তসারে (মুখতাসার) এভাবেই পেয়েছি। আমি এর বেশ কয়েকটি পাণ্ডুলিপি যাচাই করেছি এবং সেগুলোতে এভাবেই দেখতে পেয়েছি। কারণ আমি আমার পাণ্ডুলিপিতে ভুলের আশঙ্কা করেছিলাম এবং ইবনে সামআনীর সেই মূল গ্রন্থের সাথে মিলিয়ে দেখার সামর্থ্য রাখিনি যেখান থেকে এই সংক্ষিপ্তসারটি তৈরি করা হয়েছে, কারণ সেই গ্রন্থটি এই অঞ্চলে পাওয়া যায় না।

পরবর্তীতে ইবনে খাল্লিকান সামআনীর 'আয-যাইল' পর্যালোচনা করেন এবং তাতে দেখতে পান যে, ৪৯১ হিজরি সনে হুমায়দীকে অন্য একটি কবরে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। ফলে তিনি বুঝতে পারেন যে, ইবনে আল-আসির তাঁর সংক্ষিপ্তসারে ভুল করেছেন(৪০)।

--------------------------------------------

(৩৫) আস-সিলাহ ২/ ৫৩০।

(৩৬) মুজামুল উদাবা ৩/ ৫৯।

(৩৭) ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৪/ ২৮৩।

(৩৮) ফাহরাসাত ইবনে খায়ের পৃষ্ঠা ১২২।

(৩৯) আল-লুবাব ৩/ ২৮২।

(৪০) ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৪/ ২৮৩ - ২৮৪।

(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ٣١)
وعن دفنه رحمه الله ثم نقله من قبره إلى مكان آخر قال ياقوت:

وكان أوصى مظفرا ابن رئيس الرؤساء أن يدفنه عند قبر بشر الحافي فخالف وصيته ودفنه في مقبرة باب البزر.

فلما مضت مدة رآه مظفر في النوم يعاتبه على مخالفته فنقل في صفر سنة 491 هـ إلى مقبرة باب حرب ودفن عند قبر بشر ووجد كفنه حين نقل وبدنه طريا تفوح منه رائحة الطيب(41)، ونقل ابن خلكان عن الذيل للسمعاني أنه دفن من الغد في مقبرة باب أبرز بالقرب من قبر الشيخ أبي إسحاق الشيرازي وصلى عليه أبو بكر محمد بن أحمد بن الحسين الشاشي الفقيه في جامع القصر ثم نقل بعد ذلك في صفر سنة 491 هـ إلى مقبرة باب حرب(42).

ونقل الدكتور محسن جمال الدين عن الدكتور مصطفى جواد أن باب أبرز ومقبرته في محلة (الفضل) اليوم ببغداد(43).

--------------------------------------------

(41) معجم الأدباء 3/ 59 - 60 وتذكرة الحفاظ 4/ 1221 عن ابن عساكر.

(42) وفيات الأعيان 4/ 283 - 284.

(43) مجلة الآداب عدد 10 عام 1967 ص 180

তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) দাফন এবং পরবর্তীতে তাঁর কবর থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরের বিষয়ে ইয়াকুত বলেন:

তিনি মুজাফফর ইবনে রাইসুল রুআসা-কে ওসিয়ত করেছিলেন যেন তাঁকে বিশর আল-হাফীর কবরের পাশে দাফন করা হয়। কিন্তু তিনি তাঁর ওসিয়ত লঙ্ঘন করেন এবং তাঁকে ‘বাবুল বাজার’ কবরস্থানে দাফন করেন।

যখন কিছুকাল অতিবাহিত হলো, তখন মুজাফফর তাঁকে স্বপ্নে দেখলেন যে তিনি ওসিয়ত লঙ্ঘনের কারণে তাঁকে তিরস্কার করছেন। ফলে ৪৯১ হিজরীর সফর মাসে তাঁকে ‘বাবুল হারব’ কবরস্থানে স্থানান্তর করা হয় এবং বিশরের কবরের পাশে দাফন করা হয়। স্থানান্তরের সময় তাঁর কাফন এবং শরীর সতেজ পাওয়া গিয়েছিল এবং তা থেকে সুগন্ধি নির্গত হচ্ছিল(৪১)। ইবনে খাল্লিকান আস-সামআনী-র ‘আয-যাইল’ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে পরবর্তী দিন ‘বাবুল আবরাজ’ কবরস্থানে শায়খ আবু ইসহাক আশ-শিরাজীর কবরের নিকটে দাফন করা হয়েছিল। ফকিহ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আল-হুসাইন আশ-শাশী ‘জামেউল কাসর’-এ তাঁর জানাযা পড়ান। এরপর ৪৯১ হিজরীর সফর মাসে তাঁকে ‘বাবুল হারব’ কবরস্থানে স্থানান্তর করা হয়(৪২)।

ডক্টর মুহসিন জামালুদ্দিন ডক্টর মুস্তফা জাওয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ‘বাবুল আবরাজ’ এবং এর কবরস্থানটি বর্তমানে বাগদাদের ‘আল-ফাদল’ মহল্লায় অবস্থিত(৪৩)।

--------------------------------------------

(৪১) মুজামুল উদাবা ৩/ ৫৯ - ৬০ এবং তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/ ১২২১, ইবনে আসাকির থেকে।

(৪২) ওফায়াতুল আইয়ান ৪/ ২৮৩ - ২৮৪।

(৪৩) মাজাল্লাতুল আদাব, সংখ্যা ১০, ১৯৬৭ সাল, পৃষ্ঠা ১৮০।

(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ٣٣)
‌‌3 - مؤلفات الحميدي
৩ - আল-হুমাইদীর রচনাবলী
(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ٣٥)
1 - الجمع بين الصحيحين:

رواه ابن خير بإسناده(1) وقال ابن بشكوال: ولأبي عبد الله هذا كتاب حسن جمع فيه بين صحيحي البخاري ومسلم أخذه الناس عنه(2).

ويستفاد من نص لابن طرخان أن الجمع بين الصحيحين وتفسير غريبهما من آخر مؤلفاته، فقد قال عن كتاب أراد الحميدي أن يؤلفه عن وفيات الشيوخ: فشغله عنه الصحيحان إلى أن مات رحمه الله(3) ألفه ببغداد(4). وسماه محمد بن علي السنوسي المغربي في ثبته: (مختصر الصحيحين بالجمع بينهما).

فلعله بهذا يروي أحد مختصرات الجمع بين الصحيحين وقد شرح الجمع بين الصحيحين أبو علي الحسن بن الخطير الحنفي (598 هـ)(5) واختصره محمد الرومي بن بقق بن مصطفى الحنفي وذكر أنه قرأ الجمع بين الصحيحين على عبد الرحيم الباجريقي الشافعي (699 هـ) واختصره عز الدين أبو محمد عبد العزيز بن رضوان بن عبد الحق الحنبلي وسماه (مطلع النيرين في الجمع بين الصحيحين)(6).

--------------------------------------------

(1) فهرسة ابن خير ص 122.

(2) الصلة 2/ 531.

(3) الصلة 2/ 531.

(4) تحرير المقال ورقة 2/ ب.

(5) حسن المحاضرة 1/ 314.

(6) عن الجمع وما حوله راجع المنتخب من مكتبة عارف حكمت لكحالة ص 258 رقم 129 ونوادر ششن 1/ 440.

ومخطوطات الموصل ص 194 وبروكلمان 6/ 105. ومن الجمع نسخة كاملة بجستربتي.

১ - আল-জামউ বাইনাস সাহিহাইন (সহিহ বুখারি ও মুসলিমের সমন্বয়):

ইবনে খায়ের এটি তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন(১) এবং ইবনে বাশকুওয়াল বলেন: আবু আব্দুল্লাহর একটি চমৎকার কিতাব রয়েছে, যাতে তিনি বুখারি ও মুসলিমের সহিহাইনদ্বয়ের সমন্বয় ঘটিয়েছেন, যা মানুষ তাঁর থেকে গ্রহণ করেছে(২)।

ইবনে তারখানের একটি উদ্ধৃতি থেকে জানা যায় যে, 'আল-জামউ বাইনাস সাহিহাইন' এবং সেগুলোর কঠিন শব্দসমূহের ব্যাখ্যা (তাফসিরু গারিবিহিমা) তাঁর শেষদিকের রচনাবলি। তিনি আল-হুমাইদি কর্তৃক শায়খদের মৃত্যু সম্পর্কে সংকলন করতে চাওয়া একটি কিতাব প্রসঙ্গে বলেছেন: সহিহাইনদ্বয়ের কাজ তাঁকে সেই কাজ থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ব্যস্ত রেখেছিল—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন(৩)—তিনি এটি বাগদাদে রচনা করেন(৪)। মুহাম্মদ বিন আলি আস-সানুসি আল-মাগরিবি তাঁর ‘সাবাত’-এ এর নামকরণ করেছেন: (মুখতাসারুস সাহিহাইন বিল জাময়ি বাইনাহিমা)।

সম্ভবত তিনি এর মাধ্যমে 'আল-জামউ বাইনাস সাহিহাইন'-এর কোনো একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ বর্ণনা করেছেন। আবু আলি হাসান বিন আল-খাতির আল-হানাফি (৫৯৮ হিজরি) 'আল-জামউ বাইনাস সাহিহাইন'-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন(৫) এবং মুহাম্মদ আর-রুমি বিন বাকাক বিন মুস্তফা আল-হানাফি এটি সংক্ষিপ্ত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আব্দুর রহিম আল-বাজুরিকি আশ-শাফিয়ি (৬৯৯ হিজরি)-এর নিকট 'আল-জামউ বাইনাস সাহিহাইন' পাঠ করেছেন। এছাড়া ইজ্জুদ্দিন আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ বিন রিদওয়ান বিন আব্দুল হক আল-হাম্বলি এটি সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন (মাতলাউন নাইরাইন ফি আল-জাময়ি বাইনাস সাহিহাইন)(৬)।

--------------------------------------------

(১) ফিহরিস্তু ইবনু খায়ের, পৃষ্ঠা ১২২।

(২) আস-সিলাহ ২/ ৫৩১।

(৩) আস-সিলাহ ২/ ৫৩১।

(৪) তাহরিরুল মাকাল, পত্র ২/ খ।

(৫) হুসনুল মুহাদারা ১/ ৩১৪।

(৬) 'আল-জামউ' এবং এর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দেখুন: আরিফ হিকমত লাইব্রেরির আল-মুনতাখাব (কাহহালা কৃত) পৃষ্ঠা ২৫৮, নম্বর ১২৯ এবং নাওয়াদিরু শাশান ১/ ৪৪০।

এবং মুসুলের পাণ্ডুলিপিসমূহ পৃষ্ঠা ১৯৪ এবং ব্রোকেলম্যান ৬/ ১০৫। 'আল-জামউ'-এর একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি চেস্টার বিটি-তে সংরক্ষিত আছে।

(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ٣٦)
وممن كتب في الجمع بين الصحيحين أبو عبد الله محمد بن حسين الأنصاري الأندلسي الظاهري (456 - 532 هـ)(7).

وأبو محمد عبد الحق الأشبيلي (ابن الخراط).

وأبو بكر محمد بن عبد الله الجوزقي ومنه نسخة بالخزانة العامة بالرباط.

والهيثمي صاحب مجمع الزوائد ومنه نسخة بمكتبة الحرم المكي.

وأجل هذه الكتب خطرا كتاب الشيخ أبي محمد عبد الحق العمري الهاشمي رحمه الله والد الشيخ أبي تراب الظاهري وتقوم الآن الرئاسة العامة للإفتاء والدعوة والإرشاد والبحوث العلمية بطبعه.

2 - تفسير غريب ما في الصحيحين البخاري ومسلم:

نوه به عيسى إسكندر المعلوف ضمن نفائس الخزانة التيمورية(8).

3 - التذكرة:

حققه أبو عبد الرحمن بن عقيل ونشر في بيروت عن نسخة خطية ضمن مجموع بدار الكتب المصرية برقم (1558/ حديث) يحمل اسم الفوائد لأبي القاسم بن مندة وإنما المجموع بخط سبط ابن حجر جمعه لنفسه يحتوي على ستة وأربعين كتابا من ضمنها فوائد ابن مندة.

كتب الحميدي كتابه هذا تذكرة لصاحبه أبي محمد الحسن بن محمد بن حبيب(9).

--------------------------------------------

(7) الصلة 2/ 551.

(8) مجلة المجمع العلمي العربي بدمشق م 3 ربيع الأول سنة 1342 هـ ص 340. وانظر فهرس المخطوطات المصورة لفؤاد سيد ص 361 وبروكلمان 6/ 105.

(9) برنامج ابن جابر ص 294 ونقل عنه الدبيئي في ذيل تاريخ مدينة السلام 2/ 72 - 73.

এবং যারা সহীহাইন (দুই সহীহ) একত্র করে লিখেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন আল-আনসারি আল-আন্দালুসি আজ-জাহিরি (৪৫৬ - ৫৩২ হিজরি)(৭)।

এবং আবু মুহাম্মদ আব্দুল হক আল-ইশবিলি (ইবনুল খাররাত)।

এবং আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-জাওযাকি, এর একটি পাণ্ডুলিপি রিবাতের আল-খিজানাতুল আম্মায় সংরক্ষিত রয়েছে।

এবং আল-হাইসামি, যিনি 'মাজমাউয যাওয়াইদ' গ্রন্থের রচয়িতা; এর একটি পাণ্ডুলিপি মক্কাতুল মুকাররমার হারম শরীফের লাইব্রেরিতে রয়েছে।

আর এই কিতাবগুলোর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো শায়খ আবু মুহাম্মদ আব্দুল হক আল-উমরি আল-হাশেমি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব, যিনি শায়খ আবু তুরাব আজ-জাহিরির পিতা। বর্তমানে রিয়াসাতুল আম্মাহ লিল ইফতা ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ ওয়াল বুহুসিল ইলমিয়্যাহ এটি মুদ্রণের কাজ করছে।

২ - সহীহ বুখারি ও সহীহ মুসলিমের 'গারিব' (দুর্লভ শব্দাবলি)-এর তাফসির:

ঈসা ইসকান্দার আল-মালুফ 'নাফায়িসুল খিজানাতিত তাইমুরিয়্যাহ' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে এর কথা উল্লেখ করেছেন(৮)।

৩ - আত-তাযকিরাহ:

এটি আবু আব্দুর রহমান বিন আকিল সম্পাদনা করেছেন এবং বৈরুতে একটি পাণ্ডুলিপি থেকে প্রকাশিত হয়েছে। পাণ্ডুলিপিটি মিসরের 'দারুল কুতুব'-এ একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত (নম্বর ১৫৫৮/হাদিস), যা আবু কাসিম ইবনে মানদাহ-র 'আল-ফাওয়াইদ' নামে পরিচিত। তবে মূলত এই সংকলনটি সিবত ইবনে হাজার নিজ হাতে নিজের জন্য তৈরি করেছিলেন, যাতে ছেচল্লিশটি কিতাব রয়েছে এবং তার মধ্যে ইবনে মানদাহ-র 'ফাওয়াইদ'ও অন্তর্ভুক্ত।

আল-হুমাইদি তার এই কিতাবটি তার বন্ধু আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাবিবের স্মারক হিসেবে লিখেছেন(৯)।

--------------------------------------------

(৭) আস-সিলাহ ২/৫৫১।

(৮) দামেস্কের 'মাজাল্লাতুল মাজমাউল ইলমি আল-আরাবি', খণ্ড ৩, রবিউল আউয়াল, ১৩৪২ হিজরি, পৃষ্ঠা ৩৪০। আরও দেখুন: ফুয়াদ সাইয়্যিদের 'ফিহরিসুল মাখতুতাতিল মুসাওয়ারাহ', পৃষ্ঠা ৩৬১ এবং ব্রোকলম্যান ৬/১০৫।

(৯) বারনামাজ ইবনে জাবির, পৃষ্ঠা ২৯৪; এবং আদ-দুবাইসি এটি 'যাইলু তারিখি মদিনাতুস সালাম' গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন, ২/৭২-৭৩।

(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ٣٧)
4 - مراتب الجزاء يوم القيامة على ما جاءت به نصوص القرآن والسنن الثابتة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

طبع في بيروت بتحقيق أبي عبد الرحمن بن عقيل الظاهري، وقد استخرج نصه كاملا من كتاب (تحرير المقال في موازنة الأعمال وحكم غير المكلفين في العقبي والمال) للقاضي أبي طالب عقيل بن عطية القضاعي المالكي [- 608 هـ] رحمه الله تعالى، وهو نسخة خطية بالخزانة الملكية بالرباط صورها معهد المخطوطات بمصر.

وكتاب تحرير المقال رد على كتاب الحميدي، ورد على شيخه أبي محمد ابن حزم يقع في 156 ورقة أي 312 صفحة، وكل صفحة 23 سطرا بمقاس 5/ 20 × 27 سم والعنوان الذي أثبتناه لهذا الكتاب ورد نصا في برنامج أبي محمد بن حزم كما نقله عنه أبو طالب.

قال ابن حزم: كتاب جمعه صاحبنا أبو عبد الله محمد بن أبي نصر الحميدي في مراتب الجزاء يوم القيامة على ما جاءت به نصوص القرآن والسنن الثابتة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

دقق فيه وقرطس ما شاء.

أخذته عنه لإحسانه فيه وجودة نظره في تقسيمه.

يكون بضع عشرة ورقة صغارا.

قال الحميدي في مقدمة هذا الكتاب:(10).

الحمد لله على ما وهب من فضله، … وخص من جميل صنعه وطوله، وصلى الله على محمد عبده ورسوله، وسلم تسليما.

--------------------------------------------

(10) مراتب الجزاء ص 19 - 20.

৪ - কুরআন ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সাব্যস্তকৃত সুন্নাহর ভাষ্য অনুযায়ী কিয়ামতের দিনের প্রতিদানের স্তরসমূহ।

এটি আবু আব্দুর রহমান বিন আকিল আজ-জাহিরির সম্পাদনায় বৈরুতে মুদ্রিত হয়েছে। এর পূর্ণাঙ্গ পাঠ কাজী আবু তালিব আকিল বিন আতিয়্যাহ আল-কুদায়ি আল-মালিকি (মৃত্যু ৬০৮ হিজরি) রহিমাহুল্লাহু তায়ালার ‘তাহরিরুল মাকাল ফি মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গাইরিল মুকাল্লাফিনা ফিল উকবা ওয়াল মাল’ গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। এটি রাবাতের রাজকীয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি, যা মিশরের পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউট কর্তৃক অনুলিপি করা হয়েছে।

আর তাহরিরুল মাকাল গ্রন্থটি আল-হুমাইদির কিতাবের প্রত্যুত্তর এবং তাঁর শাইখ আবু মুহাম্মাদ ইবনে হাজমের খণ্ডন। এটি ১৫৬টি পত্রে বা ৩১২ পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত। প্রতি পৃষ্ঠায় ২৩টি লাইন রয়েছে এবং এর আকার ২০.৫ × ২৭ সেন্টিমিটার। এই বইটির জন্য আমরা যে শিরোনামটি নির্ধারণ করেছি, তা আবু মুহাম্মাদ ইবনে হাজমের ‘বারনামাজ’-এ হুবহু এসেছে, যেমনটি তাঁর থেকে আবু তালিব বর্ণনা করেছেন।

ইবনে হাজম বলেন: এটি এমন একটি কিতাব যা আমাদের সাথী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবি নাসর আল-হুমাইদি কুরআন ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সাব্যস্তকৃত সুন্নাহর ভাষ্য অনুযায়ী কিয়ামতের দিনের প্রতিদানের স্তরসমূহ বিষয়ে সংকলন করেছেন।

তিনি এতে সূক্ষ্ম অনুসন্ধান চালিয়েছেন এবং লক্ষ্যভেদ করেছেন।

এতে তাঁর নিপুণতা এবং এর বিন্যাসে তাঁর উৎকৃষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আমি তাঁর নিকট থেকে এটি গ্রহণ করেছি।

এটি আকারে ছোট দশের অধিক কিছু পৃষ্ঠার মতো।

আল-হুমাইদি এই কিতাবের ভূমিকায় বলেছেন:(১০)।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তিনি তাঁর অনুগ্রহ থেকে যা দান করেছেন তার জন্য... এবং তাঁর সুন্দর সৃষ্টি ও মহানুভবতার মাধ্যমে যা বিশিষ্ট করেছেন। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের ওপর।

--------------------------------------------

(১০) মারাতিবুল জাযা, পৃষ্ঠা ১৯ - ২০।

(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ٣٨)
أما بعد، قسم الله لك من الخير أكمله قسما، وأوفره نصيبا، وزادك من آلائه، وأوتر عليك من نعمائه، فإنك أشرت إلي فيما جرى في مجلس شيخنا أبي محمد يعني ابن حزم - أدام الله توفيقه - من مسألة «الموازنة وتقسيم طباق أهلها»، ورغبت أن أقيدها لك بدقتها، وأثبتها بحقائقها وكثرة أقسامها، لنبو أكثر الأفهام عنها، دون تغيير، ولا إثبات.

وأنا إن شاء الله - واقف عندما أشرت به، وآخذ فيما رغبت فيه، مستوعبا لكل ما توجبه القسمة، وتقتضيه الرتبة: مما تنتج لي، وظهر إلي بعد حسبما أفهمنيه الله تعالى، وأقدرني عليه، وإن كان أصله ما نبه عليه شيخنا أبو محمد -أعزه الله- في ذلك المجلس، فلا غرو، فالكلمة الواحدة تقتضي معاني كثيرة، والجنس المفرد: يعم أنواعا عظيمة، والأصل الواحد ينتج فروعا جمة، وستقف - في كل ذلك على البرهان فيه على نحو ما التزمناه: عقدا، وقولا، والله -تعالى- الحمد: بدءا، وعودا وبه عز وجل نستعين لا إله إلا هو. ا. هـ.

وهذا حين نأخذ في سبيل ذلك، ونبين حقيقة مذهبنا فيه، وظهور برهاننا له -إن شاء الله- فنقول -وبالله التوفيق.

إذن هذا الكتاب في أصله من تقرير ابن حزم.

ويرى أبو طالب أن الحميدي أصابته غفلة في هذا الكتاب، وكذلك أصابت الغفلة أبا محمد بن حزم في استحسانه له وتصويبه لتقاسيمه.

وما ذاك منه إلا لأن كثيرا من مضمنه فهو مذهبه فغاب عنه ما وراء ذلك مما لو أمعن النظر فيه لم يخف عليه(11).

وقال:

ولغيبة مواضع الانتقاد فيه عن أبي محمد وموافقته له فيما وافقه فيه

--------------------------------------------

(11) تحرير المقال ورقة 2 ب.

অতঃপর, আল্লাহ আপনার জন্য কল্যাণের পূর্ণতম অংশ এবং সর্বোত্তম ভাগ্য নির্ধারণ করুন, আপনার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ বৃদ্ধি করুন এবং আপনার ওপর তাঁর নিআমতসমূহ নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ষণ করুন। আপনি আমাদের শাইখ আবু মুহাম্মাদ—অর্থাৎ ইবনে হাজম (আল্লাহ তাঁর তাওফিক অব্যাহত রাখুন)—এর মজলিসে আলোচিত ‘ভারসাম্য রক্ষা এবং এর উপযুক্তদের স্তর বিন্যাস’ সংক্রান্ত যে মাসআলাটির প্রতি আমাকে ইঙ্গিত করেছিলেন, এবং আপনি চেয়েছিলেন যে আমি যেন তা আপনার জন্য সূক্ষ্মতার সাথে লিখে রাখি এবং এর হাকিকত ও বহুবিধ বিভাগসহ তা সাব্যস্ত করি—যেহেতু অধিকাংশের বোধগম্যতা এর থেকে দূরে থাকে—কোনো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন ছাড়াই।

আর আমি ইনশাআল্লাহ—আপনার ইঙ্গিত অনুযায়ী অটল থাকব এবং আপনার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি গ্রহণ করব। আমি এমন সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করব যা এই বিভাজনের জন্য আবশ্যক এবং স্তরবিন্যাসের দাবি রাখে; যা আল্লাহ তাআলা আমাকে যা বুঝিয়েছেন এবং সামর্থ্য দিয়েছেন সে অনুযায়ী আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে এবং আমি যা ফলাফল হিসেবে পেয়েছি। যদিও এর মূল ভিত্তি সেই মজলিসে আমাদের শাইখ আবু মুহাম্মাদ (আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করুন) যা নির্দেশ করেছিলেন তা-ই, তবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ একটি শব্দ বহুবিধ অর্থ নির্দেশ করে, একটি একক শ্রেণি অনেকগুলো প্রকারকে শামিল করে এবং একটি মূল থেকে অসংখ্য শাখা জন্ম নেয়। আপনি শীঘ্রই এই সবকিছুর প্রমাণ লাভ করবেন যেভাবে আমরা অঙ্গীকার করেছি: বিশ্বাস ও কথায়। শুরুতে এবং শেষে সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলারই প্রাপ্য; আর আমরা তাঁর কাছেই সাহায্য চাই, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। সমাপ্ত।

এখন আমরা সেই পথে অগ্রসর হচ্ছি এবং এই বিষয়ে আমাদের মাযহাবের হাকিকত ও আমাদের প্রমাণের স্পষ্টতা বর্ণনা করছি—ইনশাআল্লাহ। সুতরাং আমরা বলছি—আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।

সুতরাং এই বইটি মূলত ইবনে হাজমের আলোচনার অন্তর্ভুক্ত।

আবু তালিবের মতে, হুমাইদি এই কিতাবটিতে অসতর্কতার শিকার হয়েছেন এবং একইভাবে আবু মুহাম্মাদ ইবনে হাজমও এই কিতাবটির প্রশংসা করতে গিয়ে এবং এর বিভাজনগুলোকে সঠিক বলে গণ্য করতে গিয়ে অসতর্কতার পরিচয় দিয়েছেন।

এটি কেবল একারণে হয়েছে যে, এর অনেক বিষয়বস্তুই ছিল তাঁর মাযহাবের অনুসারী, ফলে এর বাইরের বিষয়গুলো তাঁর দৃষ্টির আড়ালে রয়ে গেছে। তিনি যদি গভীরভাবে লক্ষ্য করতেন তবে তা তাঁর কাছে অস্পষ্ট থাকত না(১১)।

তিনি বলেন:

আবু মুহাম্মাদের নিকট এই কিতাবের সমালোচনার জায়গাগুলো গোপন থাকা এবং তিনি যেসব বিষয়ে তার সাথে একমত হয়েছেন তাতে তার সমর্থনের কারণে

--------------------------------------------

(১১) তাহরিরুল মাকাল, পত্র ২ খ।

(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ٣٩)
استحسن كتابه ورواه عنه(12).

ويرى أبو طالب أن الحميدي وإن لم يتخلص في موازنته لم يسبق إليها(13).

وقال: ولو سلم من الانتقاد لكان مع صغر حجمه كتابا نبيلا(14).

وقال: ألم ابن حزم في الفصل بأشياء مما ذكرها الحميدي، ولكن الحميدي زاد عليها بالتتبع لها بإضافة ما يشاكلها حتى استحقها على ابن حزم(15) قلنا: وألم ابن حزم بشيء من هذا في المحلى والأصول والفروع وفي فتواه عن أهل الشقاء ضمن أسئلة وجهت إليه ضمن مخطوطة شهيد علي التي نشر الدكتور إحسان عباس بعضها في مجموعتين بعنوان رسائل ابن حزم.

إلا أن عمدة الحميدي هنا رسالة لابن حزم بعنوان (مراتب أهل الحقائق في دار القرار وهي ثلاث ورقات كتبها الحميدي من تقرير شيخه ابن حزم توجد بإحدى مكتبات تركيا، وهي بنصها موجودة بكاملها في رسالة ابن حزم التلخيص لوجوه التخليص(16).

قال أبو عبد الرحمن وقد ألف الحميدي هذه الرسالة في صلف الشباب، وقبل أن ينضج علمه، ويتخصص في الحديث، وكان ذلك في عنفوان إعجابه بشيخه - وشيخنا - الإمام ابن حزم، ولهذا كان أسلوبه نسخة من أسلوب ابن حزم، وهكذا كان جدله، وتأصيله، وتفريعه.

--------------------------------------------

(12) المصدر السابق ورقة 156 ب و 38/ ب.

(13) المصدر السابق ورقة 156.

(14) المصدر السابق ورقة 156.

(15) المصدر السابق ورقة 156.

(16) الرد على ابن النغريلة ورسائل أخرى ص 150 - 160.

তিনি তাঁর গ্রন্থটিকে পছন্দ করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে এটি বর্ণনা করেছেন(১২)।

আবু তালিব মনে করেন যে, আল-হুমাইদী যদিও তাঁর তুলনামূলক আলোচনায় পূর্ণতা অর্জন করতে পারেননি, তবুও তাঁর পূর্বে কেউ এই পথে অগ্রসর হতে পারেনি(১৩)।

তিনি বলেন: যদি এটি সমালোচনা থেকে মুক্ত থাকত, তবে ছোট আকার হওয়া সত্ত্বেও এটি একটি মহৎ গ্রন্থ হতো(১৪)।

তিনি বলেন: ইবনে হাজম ‘আল-ফাসল’ গ্রন্থে আল-হুমাইদী কর্তৃক উল্লিখিত কিছু বিষয়ের অবতারণা করেছেন, কিন্তু আল-হুমাইদী সেগুলোর নিবিড় অনুসন্ধানের মাধ্যমে এবং সদৃশ বিষয়াদি যোগ করে সেগুলোকে আরও বর্ধিত করেছেন, এমনকি তিনি এই বিষয়ে ইবনে হাজমের উপরেও কৃতিত্বের দাবিদার হয়েছেন(১৫)। আমরা বলি: ইবনে হাজম ‘আল-মুহাল্লা’, ‘আল-উসুল ওয়াল ফুরু’ এবং ‘আহলুশ শাক্বা’ (দুর্ভাগা সম্প্রদায়) সম্পর্কিত তাঁর ফতোয়ায় এ জাতীয় কিছু বিষয়ের অবতারণা করেছেন; যা তাঁর নিকট প্রেরিত কিছু প্রশ্নের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং ‘শহীদ আলী’ পাণ্ডুলিপিতে সংরক্ষিত আছে, যার কিছু অংশ ডক্টর ইহসান আব্বাস ‘রাসাইলু ইবনি হাজম’ শিরোনামে দুই খণ্ডে প্রকাশ করেছেন।

তবে এখানে আল-হুমাইদীর মূল ভিত্তি হলো ইবনে হাজমের একটি রিসালা (পুস্তিকা), যার শিরোনাম ‘মারাতীবু আহলিল হাক্বাইক্ব ফী দারিল ক্বারার’। এটি তিন পৃষ্ঠার একটি রিসালা যা আল-হুমাইদী তাঁর শাইখ ইবনে হাজমের পাঠ থেকে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। এটি তুরস্কের একটি লাইব্রেরিতে বিদ্যমান এবং এর মূল পাঠটি সম্পূর্ণভাবে ইবনে হাজমের ‘আত-তালখীস লি-উজুহিত তাখলীস’ রিসালায় পাওয়া যায়(১৬)।

আবু আব্দুর রহমান বলেন, আল-হুমাইদী এই রিসালাটি তাঁর যৌবনের চপলতায় এবং তাঁর জ্ঞান পরিপক্ক হওয়ার ও হাদিস শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ হওয়ার পূর্বে রচনা করেছিলেন। এটি ছিল তাঁর উস্তাদ - এবং আমাদের উস্তাদ - ইমাম ইবনে হাজমের প্রতি তাঁর মুগ্ধতার চরম শিখরে থাকাকালীন সময়ের কথা। এই কারণেই তাঁর লিখনশৈলী ছিল ইবনে হাজমের লিখনশৈলীর হুবহু অনুলিপি; আর তাঁর বিতর্ক পদ্ধতি, মূলনীতি নির্ধারণ এবং তার শাখা-প্রশাখা বিন্যাসের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই ছিল।

--------------------------------------------

(১২) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১৫৬ খ এবং ৩৮/খ।

(১৩) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১৫৬।

(১৪) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১৫৬।

(১৫) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১৫৬।

(১৬) আর-রাদ্দু আলা ইবনিন নাগরিলা ওয়া রাসাইল উখরা, পৃষ্ঠা ১৫০ - ১৬০।

(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ٤٠)
ستجد في رسالة الحميدي: هذه العبارات: "جنس نوع فروع جمة البرهان ما ينتجه البرهان ضرورة ولا بد ارتفاع النقيض من المحال يقينا فلم يبق لا يصح أصلا إذ لا شك وإذ ذلك كذلك ثم نظرنا صرف الآية عن ظاهرها، ومقتضى لفظها بالدعوى - ضرورة المشاهدة إلخ وهذه هي عبارات أبي محمد التي ألفتها أسماعنا، وإنها لتهزنا كما يهزنا الشعر العاطفي!!

ذكر الحميدي: أن ولد آدم عليه السلام ثلاث طبقات:

1 - المقربون، وهم النبيون والشهداء فقط، ويتميزون بأن أرواحهم في الجنة منذ خروجها من أجسامهم في الدنيا.

2 - أصحاب اليمين، أو الميمنة، وهم جميع المؤمنين: محسنهم، ومسيئهم ويتميزون: بأنهم ليسوا الآن في الجنة.

3 - أصحاب الشمال، وهم الكفار.

وقد جعل الحميدي أصحاب هذه الطبقة قبل أصحاب اليمين - في سياق كلامه، لأن أصحاب اليمين يتفرعون إلى أقسام كثيرة، فأراد أن يجعلهم في النهاية [راجع ورقة 17/ ب].

ويعترض أبو طالب على ذلك بما يلي:

1 - أن كتاب الحميدي عن مراتب الجزاء يوم القيامة عموما، فتعم «الجن» لأنهم مكلفون، فلم لم يذكرهم؟.

2 - أن تقسيم الحميدي خاص بالمكلفين من بني آدم، وعموم الموازنة يتناول أهل الفترة، ومن لم تبلغه الدعوة والمجانين، وأطفال المؤمنين، وأطفال الكفار، فلم لم يذكرهم؟.
আপনি আল-হুমাইদির রিসালায় (পুস্তিকায়) এই অভিব্যক্তিগুলো পাবেন: "শ্রেণি, প্রকার, অজস্র শাখা, দলিল, দলিলের অর্জিত ফল, আবশ্যকতা, বৈপরীত্যের নিরসন নিশ্চিতভাবেই অসম্ভব, তাই আর অবশিষ্ট নেই, এটি মূলত সঠিক নয় যেহেতু কোনো সন্দেহ নেই, এবং যেহেতু বিষয়টি এমনই, অতঃপর আমরা আয়াতটিকে তার প্রকাশ্য অর্থ থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এবং দাবির প্রেক্ষিতে শব্দের দাবি অনুযায়ী - পর্যবেক্ষণের আবশ্যকতা ইত্যাদি বিবেচনা করলাম।" আর এগুলো হলো আবু মুহাম্মাদের (ইবনে হাজম) সেই অভিব্যক্তি যা আমাদের কর্ণে সুপরিচিত হয়ে উঠেছে, আর তা আমাদের আন্দোলিত করে ঠিক যেমন আবেগীয় কবিতা আমাদের আন্দোলিত করে!!

হুমাইদি উল্লেখ করেছেন: আদম আলাইহিস সালামের সন্তানরা তিন স্তরের:

১ - মুকাররাবুন (নৈকট্যপ্রাপ্তগণ), তারা হলেন কেবল নবীগণ এবং শহীদগণ; তারা এই বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র যে, দুনিয়াতে তাদের দেহ থেকে প্রাণ বিয়োগের পর থেকেই তাদের রূহসমূহ জান্নাতে অবস্থান করে।

২ - আসহাবুল ইয়ামিন বা দক্ষিণপার্শ্বের লোকজন, তারা হলেন সমস্ত মুমিন: তাদের মধ্যে নেককার হোক বা গুনাহগার; তারা এই বৈশিষ্ট্যে বিশিষ্ট যে: তারা বর্তমানে জান্নাতে নেই।

৩ - আসহাবুল শিমাল বা বামপার্শ্বের লোকজন, তারা হলেন কাফিররা।

হুমাইদি তাঁর আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই স্তরের লোকদের আসহাবুল ইয়ামিনের আগে রেখেছেন, কারণ আসহাবুল ইয়ামিন অনেকগুলো ভাগে বিভক্ত, তাই তিনি চেয়েছেন তাদের শেষে আলোচনা করতে [দেখুন পৃষ্ঠা ১৭/ খ]।

আবু তালিব এর ওপর নিম্নোক্ত আপত্তিগুলো তুলেছেন:

১ - হুমাইদির বইটি সাধারণভাবে কিয়ামতের দিনের প্রতিদানের স্তরসমূহ সম্পর্কে, যা 'জিন'দেরও অন্তর্ভুক্ত করে যেহেতু তারা শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ (মুকাল্লাফ), তবে কেন তিনি তাদের উল্লেখ করেননি?

২ - হুমাইদির বিভাজনটি বনী আদমের মধ্য থেকে শুধু শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধদের জন্য নির্দিষ্ট, অথচ বিচার প্রক্রিয়ার ব্যাপকতা আহলে ফাতরাত (অন্ধকার যুগের মানুষ), যাদের কাছে দাওয়াত পৌঁছেনি, পাগল, মুমিনদের শিশুসন্তান এবং কাফিরদের শিশুসন্তানদেরও অন্তর্ভুক্ত করে; তবে কেন তিনি তাদের উল্লেখ করেননি?
(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ٤١)
وهؤلاء، مع الجن؛ أفرد لهم أبو طالب الجزء الثاني من كتابه، وتطرق إلى أحكام العرب وأحوالهم في جاهليتهم.

3 - معتمد الحميدي في التفريق بين المقربين وأصحاب اليمين: أن المقربين في الجنة - من الآن - بخلاف غيرهم.

أ- لأن حجته حديث ابن مسعود - في صحيح مسلم - وهو موقوف.

ب- وعلى فرض أنه مرفوع فلا يدل على دوامهم في الجنة في الدنيا، إذ نص الحديث: «أن أرواحهم في جوف طير خضر لها قناديل معلقة بالعرش تسرح في الجنة حيث شاءت إلى تلك القناديل»

ج- ثم إن الحديث في «الشهداء» ولا يدل على الرسل والأنبياء: إلا بقياس الأولوية.

د- حديث الإسراء لا يدل على أنهم في الجنة - من الآن إلا على مذهب الحميدي: أن الجنة هي السموات.

وقد أبطل هذا المذهب بأدلة جبارة، وإلزامات لا مخلص منها.

4 - أنه حصر المقربين في النبيين والشهداء فقط، مع أنه يشمل غيرهم، وعلى سبيل المثال: «الصديقون» فهم أفضل من الشهداء غير الصديقين وأبو بكر الصديق رضي الله عنه أفضل من جميع شهداء الصحابة رضي الله عنهم.

5 - القسمة الصحيحة هكذا:

المكلفون من بني آدم: قسمان:

1 - أصحاب اليمين.

2 - أصحاب الشمال.
এবং এরা, জিনদের সাথে; আবু তালিব তাঁর গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডটি তাদের জন্য পৃথক করেছেন এবং তাদের জাহেলিয়াত যুগের আরবের বিধান ও অবস্থাসমূহ আলোচনা করেছেন।

৩ - মুকাররাবীন (নৈকট্যপ্রাপ্তগণ) এবং আসহাবুল ইয়ামীন (ডানদিকের দল)-এর মধ্যে পার্থক্যের ক্ষেত্রে আল-হুমাইদীর নির্ভরযোগ্য মত হলো: মুকাররাবীনগণ বর্তমানেই জান্নাতে আছেন—অন্যদের বিপরীতে।

ক- কারণ তাঁর প্রমাণ হলো ইবনে মাসউদের হাদীস—যা সহীহ মুসলিমে রয়েছে—এবং এটি মাওকুফ।

খ- এবং যদি ধরে নেওয়া হয় যে এটি মারফু, তবুও এটি দুনিয়ার জীবনে তাদের জান্নাতে স্থায়ীভাবে অবস্থানের ওপর প্রমাণ বহন করে না। কেননা হাদীসের পাঠ হলো: «তাদের আত্মাসমূহ সবুজ পাখির উদরে থাকে, তাদের জন্য আরশের সাথে ঝুলন্ত প্রদীপমালা রয়েছে, তারা জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা বিচরণ করে এবং এরপর সেই প্রদীপমালার দিকে ফিরে আসে»

গ- অধিকন্তু, হাদীসটি «শহীদদের» ব্যাপারে। এটি রাসূল এবং নবীদের ওপর প্রমাণ বহন করে না; কেবল শ্রেষ্ঠত্বের অগ্রাধিকারের অনুমানের (কিয়াসে আওলাবিয়াহ) ভিত্তিতে তা সম্ভব।

ঘ- ইসরা-র হাদীসটি বর্তমানেই তাদের জান্নাতে থাকার ওপর প্রমাণ বহন করে না—কেবল হুমাইদীর মাযহাব অনুযায়ী: যে জান্নাতই হলো আসমানসমূহ।

আর শক্তিশালী দলীল এবং অকাট্য বাধ্যবাধকতার দ্বারা এই মাযহাবকে বাতিল করা হয়েছে যা থেকে নিষ্কৃতির কোনো উপায় নেই।

৪ - তিনি মুকাররাবীনদের কেবল নবী এবং শহীদদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন, অথচ এটি অন্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করে। উদাহরণস্বরূপ: «সিদ্দীকীন»; তারা সেই শহীদদের চেয়েও উত্তম যারা সিদ্দীক নন। আর আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু সকল শহীদ সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের চেয়ে উত্তম।

৫ - সঠিক বিভাজন নিম্নরূপ:

বনী আদমের মধ্য থেকে শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তিরা: দুই প্রকার:

১ - আসহাবুল ইয়ামীন (ডানদিকের দল)।

২ - আসহাবুল শিমাল (বামদিকের দল)।
(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ٤٢)
وأصحاب اليمين قسمان:

أ - مقربون.

ب - غير مقربين.

وليس هذا التمايز من ناحية الأسبقية إلى دخول الجنة في الدنيا. بل ذلك عن حالهم يوم القيامة: كما هو سياق سورة الواقعة.

6 - أطال الرد على الحميدي في تقسيم الموازنة بين: قليل الخير قليل الشر مع كثير الخير كثير الشر، وقليل الخير .. إلى آخر تقسيماته.

ونحن نقول:

هذه التقسيمات محض الرأي الذي لا ينسجم مع أصول الظاهر، لأنه لم يوجبه نص صريح ولا دليل منتج، ولا ضرورة عقل. إنما الموازنة - كما جاء النص -:

أ بين الفرد وعمله.

ب - وبين الفرد والفرد في المظالم.

7 - وينحو أبو طالب في جدله منحى إلزام المخالف على أصل مذهبه، فهو:

أ- يحاسب الحميدي على قصر المقربين على الأنبياء والشهداء، مع أنه لم يشر في ذلك إلى توقيف، ولم يسبقه إلى ذلك غير ابن حزم.

ب - ويبقى دلالة الآية: {ولا تحسبن الذين قتلوا} الآية على دخول الجنة، ويقف عند دلالة يرزقون ومحتملاتها.

ج - وينفي دلالة حديث ابن مسعود على الدوام.
আসহাবুল ইয়ামীন বা ডানদিকের দল দুই প্রকার:

ক - নৈকট্যপ্রাপ্ত।

খ - নৈকট্যপ্রাপ্ত নয় এমন।

আর এই পার্থক্য পার্থিব জীবনে জান্নাতে প্রবেশের অগ্রগণ্যতার দিক থেকে নয়। বরং এটি কিয়ামত দিবসে তাদের অবস্থা সংক্রান্ত: যেমনটি সূরা আল-ওয়াক্বিআহ-এর প্রেক্ষাপট থেকে বোঝা যায়।

৬ - তিনি আল-হুমায়দী এর সেই তুলনামূলক বিভাজনের দীর্ঘ খণ্ডন করেছেন যাতে ছিল: অল্প পুণ্য ও অল্প পাপ বনাম অধিক পুণ্য ও অধিক পাপ, এবং অল্প পুণ্য .. ইত্যাদি তাঁর বিভাজনের শেষ পর্যন্ত।

এবং আমরা বলি:

এই বিভাজনগুলো নিছক এমন অভিমত যা যাহিরী মূলনীতির সাথে সংগতিপূর্ণ নয়, কারণ কোনো সুস্পষ্ট বর্ণনা, কার্যকর দলিল কিংবা বুদ্ধিগত অনিবার্যতা একে আবশ্যক করেনি। প্রকৃতপক্ষে ভারসাম্য বা তুলনা কেবল সেভাবেই হবে যেভাবে বর্ণনায় এসেছে:

ক - ব্যক্তি এবং তার আমলের মধ্যে।

খ - এবং অন্যায়ের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি ও অন্য ব্যক্তির মধ্যে।

৭ - আবু তালিব তাঁর তর্কে প্রতিপক্ষকে তার নিজের মাযহাবের মূলনীতির ভিত্তিতে নিরুত্তর করার পথ অবলম্বন করেন, ফলে তিনি:

ক- আল-হুমায়দীকে পাকড়াও করেন ‘নৈকট্যপ্রাপ্ত’ শ্রেণিকে কেবল নবী ও শহীদদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার কারণে, যদিও তিনি এ ক্ষেত্রে কোনো অকাট্য দলিলের ইঙ্গিত দেননি এবং ইবন হাজম ব্যতীত অন্য কেউ এই ক্ষেত্রে তাঁর আগে এই কথা বলেননি।

খ - আর জান্নাতে প্রবেশের বিষয়ে আয়াতের প্রমাণ: {আর যারা নিহত হয়েছে তাদের তুমি মনে করো না...} আয়াতটিকে বহাল রাখেন এবং ‘রিযিকপ্রাপ্ত হওয়া’ শব্দটির অর্থ ও এর সম্ভাব্য ব্যঞ্জনার ওপর স্থির থাকেন।

গ - এবং স্থায়িত্বের ব্যাপারে ইবন মাসউদের হাদীসের প্রমাণকে নাকচ করেন।
(খণ্ড: ১) আয যাহাবুল মাসবুক ফী ওয়াজিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ٤٣)
د- ويشير إلى أنه موقوف(17).

5 - قصيدة في الرد على من عاب الحديث وأهله - يتبعها خبر.

ذكرها ابن خير بإسناده وسنورد منها شواهد في الكلام عن شعر الحميدي إن شاء الله.

وتوجد منها نسخة بخزانة جوتا برقم 2/ 613(18).

6 - تسهيل السبيل إلى علم الترسيل(19) أو ترسل مخاطبات الأصدقاء(20) أو مخاطبات الأصدقاء في المكاتبات واللقاء(21) أو أدب الأصدقاء(22). ويظهر من سياق ياقوت والصفدي أن هذه العناوين مسمى لكتابين.

ويترجح لنا أنها مسمى لكتاب واحد لأن هذه العناوين دالة على مسمى كتاب واحد ويبعد أن يتفرغ الحميدي المحدث لكتابين في موضوع الإنشاء.

والمخطوط في دار الكتب بالقاهرة بعنوان (تسهيل السبيل إلى تعلم الترسل بتمثيل المماثلات وتصنيف المخاطبات) ألفه سنة 454 هـ وعلى النسخة خط الحافظ السلفي وعلماء آخرين(23).

واستبعد المقدم لكتاب جذوة المقتبس نسبة هذه النسخة للحميدي ولم

--------------------------------------------

(17) مراتب الجزاء ص 12 وص 14 - 17.

(18) فهرسة ابن خير ص 400 وبروكلمان 6/ 106.

(19) معجم الأدباء 7/ 60.

(20) الوافي 4/ 317.

(21) معجم الأدباء 7/ 60.

(22) الوافي 4/ 318.

(23) فهرس المخطوطات المصورة لسيد 1/ 438 رقم 39.

ঘ- এবং তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে এটি মাওকুফ(১৭)।

৫ - হাদীস এবং হাদীসপন্থীদের যারা নিন্দা করে তাদের খণ্ডনে রচিত একটি কাসিদা - যার পরে একটি বিবরণ রয়েছে।

ইবনে খাইর এটি তাঁর সনদসহ উল্লেখ করেছেন এবং ইনশাআল্লাহ আল-হুমাইদীর কবিতা নিয়ে আলোচনার সময় আমরা এ থেকে কিছু উদাহরণ পেশ করব।

গোথা লাইব্রেরিতে ২/৬১৩ নম্বরে এর একটি পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান রয়েছে(১৮)।

৬ - তাসহীনুস সাবীল ইলা ইলমিত তারসীল(১৯) অথবা তারসুলু মুখাতাবাতিল আসদিকা(২০) অথবা মুখাতাবাতুল আসদিকা ফিল মুকাতাবাতি ওয়াল লিকা(২১) অথবা আদাবুল আসদিকা(২২)। ইয়াকুত এবং আস-সাফাদীর আলোচনার প্রেক্ষাপট থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এই শিরোনামগুলো দুটি ভিন্ন বইয়ের নাম।

আমাদের কাছে এটিই অধিক যুক্তিযুক্ত মনে হয় যে এগুলো একটি বইয়েরই নাম, কারণ এই শিরোনামগুলো একটি বইয়েরই পরিচয় দেয় এবং মুহাদ্দিস আল-হুমাইদী ইনশা (রচনাশৈলী) বিষয়ে দুটি ভিন্ন বইয়ের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করবেন—এটি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

কায়রোর দারুল কুতুব-এ 'তাসহীনুস সাবীল ইলা তাআল্লুমিত তারসুল বি-তামসিলিল মুমাসিলাত ওয়া তাসনীফিল মুখাতাবাত' শিরোনামে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে, যা তিনি ৪৫৪ হিজরিতে রচনা করেছেন। পাণ্ডুলিপিটির ওপর হাফেজ আস-সালাফী এবং অন্যান্য আলেমদের হস্তাক্ষর রয়েছে(২৩)।

জাদওয়াতুল মুকতাবিস গ্রন্থের ভূমিকা লেখক এই পাণ্ডুলিপিটিকে আল-হুমাইদীর প্রতি সম্পৃক্ত করার বিষয়টি অসম্ভব মনে করেছেন এবং তিনি...

--------------------------------------------

(১৭) মারাতীবুল জাজা, পৃ. ১২ এবং পৃ. ১৪ - ১৭।

(১৮) ফাহরাসাতু ইবনি খাইর, পৃ. ৪০০ এবং ব্রোকলম্যান ৬/ ১০৬।

(১৯) মুজামুল উদাবা ৭/ ৬০।

(২০) আল-ওয়াফী ৪/ ৩১৭।

(২১) মুজামুল উদাবা ৭/ ৬০।

(২২) আল-ওয়াফী ৪/ ৩১৮।

(২৩) ফুয়াদ সাইয়্যেদ সংকলিত ফাহরাসুল মাখতুতাতিল মুসাওওয়ারা ১/ ৪৩৮, নম্বর ৩৯।