(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: -)
مجلسان من أمالي الجوهري_2 (الجوهري، أبو محمد)
القسم: كتب السنة
الكتاب: مجلسان من أمالي الجوهري
المؤلف: الحسن بن علي بن محمد، أبو محمد الجوهري (ت 454هـ)
الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية
الطبعة: الأولى، 2004
[الكتاب مخطوط]
عدد الصفحات: 24
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-জওহরীর আমালি থেকে দুটি মজলিস_২ (আল-জওহরী, আবু মুহাম্মদ)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: আল-জওহরীর আমালি থেকে দুটি মজলিস
লেখক: আল-হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ, আবু মুহাম্মদ আল-জওহরী (মৃত্যু ৪৫৪ হি.)
প্রকাশক: পাণ্ডুলিপিটি ইসলামি নেটওয়ার্ক (ইসলামওয়েব) ওয়েবসাইটের অধীনে ‘জাওয়ামেউল কালিম’ নামক ফ্রি প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে
সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪
[গ্রন্থটি একটি পাণ্ডুলিপি]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ١)
مَجْلِسَانِ مِنْ أَمَالِي الشَّيْخِ أَبِي مُحَمَّدٍ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الْجَوْهَرِيِّ.تَخْرِيجُ الشَّيْخِ أَبِي بَكرٍ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْخَطِيبِ.رِوَايَةُ الْقَاضِي أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَزَّازِ ، عَنْهُ.رِوَايَةُ الشَّيْخَيْنِ أَبِي الْحَسَن عَلِيِّ بْنِ الْمُبَارَكِ بْنِ أَحْمَدَ الْمُؤَذِّنِ، وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي حَامِدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُصَيَّةَ الْحَرْبِيِّ.بسم الله الرحمن الرحيم
শেখ আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান আল-জওহরীর আমালি (শ্রুতলিপি) থেকে সংকলিত দুটি মজলিস।শেখ আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত আল-খতীবের তাখরীজ (হাদীস চয়ন)।তাঁর নিকট থেকে কাজী আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাযযাযের বর্ণনা।দুই শেখ—আবু আল-হাসান আলী ইবনুল মুবারক ইবনে আহমদ আল-মুআযযিন এবং আব্দুর রহমান ইবনে আবি হামিদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে উসাইয়্যাহ আল-হারবীর বর্ণনা।পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ٢)
1 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ مُحَمَّدٍ الْبَزَّازُ، رحمه الله، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أنا الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْجَوْهَرِيُّ، إِمْلاءً مِنْ لَفْظِهِ، قَالَ: أنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ بْنِ مَالِكٍ الْقَطِيعِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: نا الْحُسَيْنُ بْنُ عَمْرِو بْنِ إِبْرَاهِيمَ ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: نا يَحْيَى بْنُ الْعَلاءِ، بِالْحِيرَةِ، عَنْ شُعَيْبِ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، رضي الله عنه، قَالَ: «نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ تُسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةُ بِالْغَائِطِ أَوْ بَوْلٍ، وَلَكِنْ يُشَرَّقُ أَوْ يُغَرَّبُ ، فَلَمَّا قَدِمْنَا الشَّامَ وَجَدْنَا مَرَاحِيضَ قَدْ صُنِعَتْ تُجَاهَ الْقِبْلَةِ فَنَزِيغُ عَنْهَا وَنَسْتَغْفِرُ اللَّهَ عز وجل»
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবন আব্দ আল-বাকী ইবন মুহাম্মাদ আল-বাযযায, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁর সম্মুখে পাঠ করা হয়েছে আর আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবন আলী ইবন মুহাম্মাদ আল-জাওহারী, তাঁর নিজ শব্দে শ্রুতলিপি অনুযায়ী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ ইবন জাফর ইবন হামদান ইবন মালিক আল-কাতিয়ী, তাঁর সম্মুখে পাঠ করা হয়েছে আর আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবন আমর ইবন ইব্রাহীম, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবন আল-আলা, হীরা নামক স্থানে, শুআইব ইবন খালিদ থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আতা ইবন ইয়াযীদ থেকে, তিনি আবু আইয়ূব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মলত্যাগ বা প্রস্রাবের সময় কিবলার দিকে মুখ করতে নিষেধ করেছেন, বরং তোমরা পূর্ব দিকে বা পশ্চিম দিকে মুখ ফেরাও», অতঃপর যখন আমরা শাম দেশে আসলাম, আমরা সেখানে কিবলার দিকে মুখ করে তৈরি করা শৌচাগারসমূহ দেখতে পেলাম। ফলে আমরা তা থেকে ঘুরে বসতাম এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতাম।
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ٣)
2 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ كَيْسَانَ النَّحْوِيُّ ، قَالَ: ثنا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ الْقَاضِي، قثنا ابْنُ أَبِي بَكْرٍ، قثنا عَلِيُّ بْنُ أَبِي سَارَّةَ، قَالَ: ثنا ثَابِتٌ ، عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، فِيمَا أَحْسَبُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " إِنَّ رَجُلا مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ يُشْرِفُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى أَهْلِ النَّارِ، فَيُنَادِيهِ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ النَّارِ، فَيَقُولُ: يَا فُلانُ هَلْ تَعْرِفُنِي؟ فَيَقُولُ: لا، وَاللَّهِ مَا أَعْرِفُكَ، مَنْ أَنْتَ؟ قَالَ: أنا الَّذِي مَرَرْتَ بِي فِي الدُّنْيَا فَاسْتَسْقَيْتَنِي شَرْبَةً مِنْ مَاءٍ فَسَقَيْتُكَ، فَاشْفَعْ لِي بِهَا عِنْدَ رَبِّكَ.قَالَ: فَدَخَلَ الرَّجُلُ عَلَى اللَّهِ عز وجل، فَقَالَ: أَيْ رَبِّ إِنِّي أَشْرَفْتُ عَلَى أَهْلِ النَّارِ، فَنَادَانِي رَجُلٌ مِنْ أَهْلِهَا، فَقَالَ: هَلْ تَعْرِفُنِي؟ فَقُلْتُ: لا وَاللَّهِ مَا أَعْرِفُكَ، مَنْ أَنْتَ؟ قَالَ: أَنَا الَّذِي مَرَرْتَ بِي فِي الدُّنْيَا فَاسْتَسْقَيْتَنِي شَرْبَةً مِنْ مَاءٍ فَسَقَيْتُكَ، فَاشْفَعْ لِي بِهَا عِنْدَ رَبِّكَ، فَشَفِّعْنِي ، فَشَفَّعَهُ اللَّهُ عز وجل ، فَأَمَرَ بِهِ فَأُخْرِجَ مِنَ النَّارِ "
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন কাইসান আন-নাহবী, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-কাজী, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবনু আবি বকর, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আলী বিন আবি সারাহ, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সাবিত, আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আমার ধারণা মতে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই জান্নাতবাসীদের একজন লোক কিয়ামত দিবসে জাহান্নামবাসীদের ওপর উঁকি দেবেন। তখন জাহান্নামবাসীদের এক ব্যক্তি তাকে ডেকে বলবে: হে অমুক, আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন? তখন তিনি বলবেন: না, আল্লাহর কসম, আমি আপনাকে চিনি না; আপনি কে? সে বলবে: আমি সেই ব্যক্তি যার পাশ দিয়ে আপনি দুনিয়াতে যাওয়ার সময় আমার কাছে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য পানি চেয়েছিলেন এবং আমি আপনাকে এক ঢোক পানি পান করিয়েছিলাম। সুতরাং সেই উসিলায় আপনার রবের নিকট আমার জন্য সুপারিশ করুন।তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বলেন: অতঃপর সেই লোক মহান আল্লাহর নিকট উপস্থিত হবেন এবং বলবেন: হে আমার প্রতিপালক! আমি জাহান্নামবাসীদের ওপর উঁকি দিয়েছিলাম, তখন তাদের একজন আমাকে ডেকে বলল: আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন? আমি বললাম: না, আল্লাহর কসম, আমি আপনাকে চিনি না; আপনি কে? সে বলল: আমি সেই লোক যার পাশ দিয়ে আপনি দুনিয়াতে যাওয়ার সময় আমার কাছে পানি চেয়েছিলেন এবং আমি আপনাকে এক ঢোক পানি পান করিয়েছিলাম, সুতরাং সেই উসিলায় আপনার রবের নিকট আমার জন্য সুপারিশ করুন। অতএব আপনি আমার সুপারিশ কবুল করুন। তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তার সুপারিশ কবুল করবেন এবং তার সম্পর্কে নির্দেশ দেবেন, ফলে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে।"
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ٤)
3 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَحْيَى الْعَطَشِيُّ، قثنا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ حَسَّانٍ الأَنْمَاطِيُّ، قثنا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدِ اللَّهِ الْوَرَّاقُ، قثنا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ رَوْحِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ رضي الله عنه، زَعَمَ أَنَّ أَبَاهُ سَمِعَهُ مِنْهُ، قَالَ: " ثَلاثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّيَ فِيهِنَّ أَوْ نَقْبُرَ فِيهِنَّ مَوْتَانَا: حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةً حَتَّى تَرْتَفِعَ، وَحِينَ تَضَيَّفُ لِلْغُرُوبِ حَتَّى تَغِيبَ، وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ ".قُلْتُ لِعُقْبَةَ: أَفَنَدْفِنُ بِاللَّيْلِ؟ قَالَ: نَعَمْ، أَوَلَيْسَ قَدْ دُفِنَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه بِاللَّيْلِ
৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইয়াহইয়া আল-আতাশি, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব বিন ইবরাহিম বিন হাসসান আল-আনমাতি, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আবু উবায়দুল্লাহ আল-ওয়াররাক, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ বিন যুরাই, তিনি রাওহ বিন আল-কাসিম থেকে, তিনি মুসা বিন আলী বিন রাবাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উকবা বিন আমির আল-জুহানি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি ধারণা করেন যে তাঁর পিতা এটি তাঁর থেকে শুনেছেন। তিনি (উকবা) বলেন: " তিনটি সময় এমন রয়েছে যে সময়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নামাজ পড়তে অথবা আমাদের মৃতদের দাফন করতে নিষেধ করতেন: যখন সূর্য প্রস্ফুটিত হয়ে উদিত হতে থাকে যতক্ষণ না তা উপরে উঠে, যখন সূর্য অস্ত যাওয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ে যতক্ষণ না তা ডুবে যায় এবং যখন ঠিক দ্বিপ্রহরের সময় সূর্য মধ্যাকাশে অবস্থান করে।"আমি উকবাকে জিজ্ঞেস করলাম: আমরা কি রাতে দাফন করতে পারব? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কি রাতে দাফন হননি?
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ٥)
4 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْحُرَقِيُّ، قثنا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْحُوتِيُّ، قثنا أَبُو شُرَيْحٍ الْحَوْتَكِيُّ مُحَمَّدُ بْنُ زَكَرِيَّا، قثنا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، قثنا سَعِيدُ بْنُ سَالِمٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي حُمَيْدٍ ، قَالَ: حَدَّثَنِي جَعْفَرُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَمِنَ النَّاسِ نَاسٌ مَفَاتِيحُ لِلْخَيْرِ مَغَالِيقُ لِلشَّرِّ ، وَمِنَ النَّاسِ مَفَاتِيحُ لِلشَّرِّ مَغَالِيقُ لِلْخَيْرِ ، فَطُوبَى لِعَبْدٍ جَعَلَ اللَّهُ مَفَاتِيحَ الْخَيْرِ عَلَى يَدَيْهِ، وَوَيْلٌ لِعَبْدٍ جَعَلَ اللَّهُ مَفَاتِيحَ الشَّرِّ عَلَى يَدَيْهِ»
৪ - আবুল কাসিম আব্দুল আজিজ বিন জাফর বিন মুহাম্মদ আল-হুরাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুসা বিন আব্দুল হামিদ আল-হুতি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু শুরাইহ আল-হাওতাকি মুহাম্মদ বিন জাকারিয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসাদ বিন মুসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ বিন সালিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আবি হুমাইদ থেকে, তিনি বলেন: জাফর বিন উবাইদুল্লাহ বিন আনাস বিন মালিক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আনাস বিন মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: «নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা কল্যাণের চাবিকাঠি ও মন্দের প্রতিবন্ধক, আর মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা মন্দের চাবিকাঠি ও কল্যাণের প্রতিবন্ধক। সুতরাং সেই বান্দার জন্য সুসংবাদ যার হাতে আল্লাহ কল্যাণের চাবিকাঠি অর্পণ করেছেন; এবং সেই বান্দার জন্য ধ্বংস, যার হাতে আল্লাহ মন্দের চাবিকাঠি অর্পণ করেছেন।’
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ٦)
5 - أنا أَبُو جَعْفَرٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ النَّاقِدُ، قثنا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ الصُّوفِيُّ، قثنا أَحْمَدُ بْنُ حَيَّانَ، قثنا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ أَبَانِ بْنِ إِسْحَاقَ ، شَيْخٍ مِنْ هَمْدَانَ، عَنِ الصَّبَّاحِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَدْ قَسَّمَ بَيْنَكُمْ أَخْلاقَكُمْ كَمَا قَسَّمَ بَيْنَكُمْ أَرْزَاقَكُمْ ، وَاللَّهُ يُؤْتِي الدُّنْيَا مَنْ يُحِبُّ وَمَنْ لا يُحِبُّ ، وَلا يُؤْتِي الدِّينَ إِلا مَنْ يُحِبُّ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لا يُسْلِمُ عَبْدٌ حَتَّى يُسْلِمَ قَلْبُهُ ، وَلا يُؤْمِنُ حَتَّى يَأْمَنَ جَارُهُ بَوَائِقَهُ» ، قُلْنَا: وَمَا بَوَائِقُهُ؟ قَالَ: «غَشْمُهُ ، وَظُلْمُهُ ، وَلا يَكْسِبُ مَالا حَرَامًا فَيُنْفِقُ مِنْهُ فَيُبَارَكُ وَلا يَتَصَدَّقُ بِهِ فَيُتَقَبَّلُ مِنْهُ، وَلا يَدَعُهُ خَلْفَ ظَهْرِهِ إِلا كَانَ زَادَهُ إِلَى النَّارِ، إِنَّ اللَّهَ لا يَمْحُو السَّيِّئَ بِالسَّيِّئِ وَلَكِنْ يَمْحُو السَّيِّئَ بِالْحَسَنِ، وَأَنَّ الْخَبِيثَ لا يَمْحُو الْخَبِيثَ»
৫ - আমি আবু জাফর উমর ইবন মুহাম্মদ ইবন আলী আন-নাকিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবন আল-হাসান ইবন আব্দুল জাব্বার আস-সুফি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবন হাইয়ান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবন ইউনুস, হামদানের একজন শায়খ আবান ইবন ইসহাক থেকে, তিনি আস-সাব্বাহ ইবন মুহাম্মদ থেকে, তিনি মুররাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমাদের মাঝে তোমাদের চরিত্রসমূহ বণ্টন করেছেন যেমনটি তিনি তোমাদের মাঝে তোমাদের রিযিকসমূহ বণ্টন করেছেন। আল্লাহ দুনিয়া তাকেও দান করেন যাকে তিনি ভালোবাসেন এবং তাকেও দান করেন যাকে তিনি ভালোবাসেন না, কিন্তু দ্বীন কেবল তাকেই দান করেন যাকে তিনি ভালোবাসেন। যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তাঁর শপথ, কোনো বান্দা ততক্ষণ আত্মসমর্পণকারী হয় না যতক্ষণ না তার অন্তর আত্মসমর্পণ করে, এবং সে ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হয় না যতক্ষণ না তার প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে», আমরা বললাম: তার অনিষ্ট কী? তিনি বললেন: «তার জবরদস্তি ও তার জুলুম। আর কোনো বান্দা হারাম সম্পদ উপার্জন করে তা থেকে ব্যয় করলে তাতে বরকত দেওয়া হয় না, এবং তা সাদাকা করলে তা কবুল করা হয় না, আর তা নিজের পেছনে রেখে (মারা) গেলে তা জাহান্নামে তার পাথেয় হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ মন্দের দ্বারা মন্দকে মিটিয়ে দেন না, বরং তিনি ভালোর দ্বারা মন্দকে মিটিয়ে দেন। নিশ্চয়ই অপবিত্র জিনিস অপবিত্র জিনিসকে মিটিয়ে দেয় না»
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ٧)
6 - أنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ لُؤْلُؤٍ الْوَرَّاقُ، قَالَ: أنا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُتَيْبٍ، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَرْزُوقٍ، قثنا يُوسُفُ بْنُ هَارُونَ الْعَبْدِيُّ، قثنا هِشَامُ بْنُ حَسَّانٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا أَبَا هُرَيْرَةَ ارْضَ بِقَسْمِ اللَّهِ تَكُنْ أَغْنَى النَّاسِ، وَكُنْ وَرِعًا تَكُنْ أَعْبَدَ النَّاسِ، وَأَحِبَّ لِلنَّاسِ مَا تُحِبُّ لِنَفْسِكَ تَكُنْ مُؤْمِنًا، وَأَحْسِنْ جِوَارَ مَنْ جَاوَرَكَ تَكُنْ مُسْلِمًا، وَإِيَّاكَ وَكَثْرَةَ الضَّحِكِ فَإِنَّهُ يُمِيتُ الْقَلْبَ، وَالْقَهْقَهَةُ مِنَ الشَّيْطَانِ، وَالتَّبَسُّمُ مِنَ اللَّهِ عز وجل»
৬ - আমি আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন লুলু আল-ওয়াররাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাফর বিন মুহাম্মদ বিন উতাইব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মারজুক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ বিন হারুন আল-আবদি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম বিন হাসসান, মুহাম্মদ বিন সিরিন থেকে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «হে আবু হুরায়রা! আল্লাহর নির্ধারিত বণ্টনে সন্তুষ্ট থাকো, তবেই তুমি মানুষের মাঝে সবচেয়ে ধনী হতে পারবে। পরহেজগার হও, তবেই তুমি মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি ইবাদতকারী হতে পারবে। আর মানুষের জন্য তা-ই পছন্দ করো যা তুমি পছন্দ করো নিজের জন্য, তবেই তুমি মুমিন হতে পারবে। তোমার প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করো, তবেই তুমি মুসলিম হতে পারবে। আর অধিক হাসাহাসি থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তা অন্তরকে মৃত করে দেয়। আর অট্টহাসি শয়তানের পক্ষ থেকে এবং মুচকি হাসি মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে»
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ٨)
7 - أنا أَبُو الْحُسَيْنِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَعْقُوبَ الْمُقْرِئُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ الْمَدَائِنِيُّ ، قثنا هَارُونُ بْنُ مُوسَى، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعَامِرِيِّ، أَنَّ سُفْيَانَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الثَّقَفِيَّ رضي الله عنه، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ حَدِّثْنِي بِأَمْرٍ أَعْتَصِمُ بِهِ، قَالَ: " قُلْ: رَبِّيَ اللَّهُ ، ثُمَّ اسْتَقِمْ.قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا تَخَافُ عَلَيَّ؟ قَالَ: فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِلِسَانِ نَفْسِهِ، ثُمَّ قَالَ: هَذَا "
৭ - আমি আবুল হুসাইন উবাইদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন ইয়াকুব আল-মুকরি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন ইসহাক আল-মাদায়িনি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারুন বিন মুসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন হারব, জুবাইদি হতে, তিনি যুহরি হতে, তিনি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-আমিরি হতে বর্ণনা করেন যে, সুফিয়ান বিন আব্দুল্লাহ আস-সাকাফি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি বিষয় বলুন যা আমি শক্তভাবে আঁকড়ে ধরব। তিনি বললেন: "বল: আমার রব আল্লাহ, অতঃপর অবিচল থাকো।"তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার ব্যাপারে কিসের ভয় করেন? তিনি বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের জিহ্বা ধরলেন এবং বললেন: "এটি"।
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ٩)
8 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى بْنِ إِسْحَاقَ الأَشَجُّ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ نُوحِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مَطَرٍ، قَالَ: ثنا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي الْعُطُوفِ الْجَرَّاحِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سُلَيْمَانَ مَوْلَى أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ رضي الله عنه، قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلِأَوْلادِنَا حَقٌّ كَحَقِّنَا عَلَيْهِمْ؟ قَالَ: «نَعَمْ، حَقُّ الْوَلَدِ عَلَى الْوَالِدِ أَنْ يُعَلِّمَهُ كِتَابَ اللَّهِ عز وجل وَالسِّبَاحَةَ وَالرَّمْيَ، وَأَنْ تُؤَدِّبَهُ صَبِيًّا»
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আবদুল্লাহ ইবনে মুসা ইবনে ইসহাক আল-আশাজ্জ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে নুহ ইবনে আবদুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে মাতার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসির ইবনে হিশাম, তিনি ঈসা ইবনে ইব্রাহিম থেকে, তিনি আবুল উতূফ আল-জাররাহ থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু রাফির মুক্তদাস সুলাইমান থেকে, তিনি আবু রাফি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের সন্তানদের কি আমাদের ওপর তেমন অধিকার আছে যেমন তাদের ওপর আমাদের অধিকার রয়েছে? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, পিতার ওপর সন্তানের অধিকার হলো তাকে মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর কিতাব, সাঁতার ও তীরন্দাজি শিক্ষা দেওয়া এবং তাকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়া শৈশবে»
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ١٠)
9 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الزُّهْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفِرْيَابِيُّ، قَالَ: ثنا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ أَبِي يُونُسَ، وَهُوَ سُلَيْمَانُ بْنُ جَبْرٍ مَوْلَى أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، كَانَ يَقُولُ: «وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ، فِتَنٌ كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ، يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا، يَبِيعُ دِينَهُ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا قَلِيلٍ، الْمُمْسِكُ مِنْهُمْ يَوْمَئِذٍ عَلَى دِينِهِ كَالْقَابِضِ عَلَى خَبَطِ الشَّوْكِ»
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফদল উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-যুহরী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন জাফর বিন মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন কুতায়বাহ বিন সাঈদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে লাহিয়াহ, আবু ইউনুস থেকে—আর তিনি হলেন আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুক্তদাস সুলাইমান বিন জাবর—আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন: «ধ্বংস আরবদের জন্য সেই অনিষ্টের কারণে যা নিকটবর্তী হয়েছে। ঘোর অন্ধকার রাতের টুকরোর ন্যায় ফিতনা আসবে, যাতে মানুষ সকালে মুমিন থাকবে এবং সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যাবে। সে বিক্রি করে দিবে তার দ্বীনকে দুনিয়ার সামান্য তুচ্ছ উপকরণের বিনিময়ে। সেদিন তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি নিজ দ্বীনের ওপর অটল থাকবে, সে কাঁটাযুক্ত ডাল হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরা ব্যক্তির ন্যায় হবে।»
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ١١)
10 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَاهَزْدَ الأَصْبَهَانِيُّ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ رَشِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي بُنَيٌّ لِأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ أَحْيَا سُنَّتِي فَقَدْ أَحَبَّنِي، وَمَنْ أَحَبَّنِي كَانَ مَعِيَ فِي الْجَنَّةِ
১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ ইবন মাহজাদ আল-আসফাহানি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল আজিজ, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবন রাশিদ, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ, আসিম ইবন সাঈদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন আনাস ইবন মালিকের এক পুত্র, তিনি তাঁর পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে পুনরুজ্জীবিত করল, সে মূলত আমাকেই ভালোবাসল; আর যে আমাকে ভালোবাসল, সে জান্নাতে আমার সাথেই থাকবে।
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ١٢)
11 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَحْمَدَ الْحَافِظُ، قَالَ: ثنا أَبُو ذَرٍّ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الْوَاسِطِيُّ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ خَلَفٍ الْعَطَّارُ، قَالَ: ثنا عَمْرُو بْنُ عَبْدِ الْغَفَّارِ، قَالَ: حَدَّثَنِي جَعْفَرٌ الأَحْمَرُ، وَيَزِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ سِيَاهٍ، وَهَاشِمُ بْنُ الْيَزِيدِ، وَنُصَيْرُ بْنُ أَبِي الأَشْعَثِ، كُلُّهُمْ عَنْ كَثِيرٍ النَّوَّاءِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُلَيْلٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيًّا، رضي الله عنه يَقُولُ: إِنَّ كُلَّ نَبِيٍّ أُعْطِيَ سَبْعَةَ نُجَبَاءَ، وَإِنَّ نَبِيَّكُمْ صلى الله عليه وسلم أُعْطِيَ أَرْبَعَةَ عَشَرَ: أَنَا، وَابْنَيَّ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ، وَحَمْزَةَ ، وَجَعْفَرًا، وَأَبَا بَكْرٍ، وَعُمَرَ، وَسَلْمَانَ، وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، وَبِلالا ، وَأَبَا ذَرٍّ، وَالْمِقْدَادَ، وحُذَيْفَةَ، وَعَمَّارًا، رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَأَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَعْقُوبَ الْمُقْرِئُ، قثنا عَبَّاسُ بْنُ أَحْمَدَ الْحَنْبَلِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ أَبِي شَحْمَةَ، قثنا دَهْثَمٌ يَعْنِيَ ابْنَ الْفَضْلِ، قثنا ضَمْرَةُ بْنُ رَبِيعَةَ، قثنا ابْنُ شَوْذَبٍ، عَنْ مَطَرٍ، عَنِ الْحَسَنِ ، فِي قَوْلِهِ عز وجل: {كَانُوا قَلِيلا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ {17} وَبِالأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ} [الذاريات: 17-18] .قَالَ: جَزَّءُوا اللَّيْلَ صَلاةً، وَكَانَ اسْتِغْفَارُهُمْ بِالسَّحَرِ
১১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে উমর ইবনে আহমদ আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু যর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আল-ওয়াসিতি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে খালাফ আল-আত্তার, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আমর ইবনে আব্দুল গাফফার, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর আল-আহমার, ইয়াযীদ ইবনে আব্দুল আযীয ইবনে সিয়াহ, হাশিম ইবনুল ইয়াযীদ এবং নুসাইর ইবনে আবু আল-আশআস; তারা সকলেই কাসীর আন-নাওয়া থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মুলাইল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই প্রত্যেক নবীকে সাতজন বিশিষ্ট সঙ্গী প্রদান করা হয়েছিল, আর তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রদান করা হয়েছে চৌদ্দজন: আমি, আমার দুই পুত্র হাসান এবং হুসাইন, হামযাহ, জাফর, আবু বকর, উমর, সালমান, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, বিলাল, আবু যর, মিকদাদ, হুযাইফা এবং আম্মার; আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।"আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন উবাইদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াকুব আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্বাস ইবনে আহমদ আল-হানবালী—যিনি ইবনে আবু শাহমাহ নামে পরিচিত, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন দাহসাম অর্থাৎ ইবনুল ফাযল, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন যামরাহ ইবনে রাবিআহ, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবনে শাওযাব, তিনি মাতার থেকে, তিনি হাসান থেকে মহান ও মহিয়ান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: {তারা রাতের সামান্য অংশই নিদ্রা যেত। এবং রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত।} [আয-যারিয়াত: ১৭-১৮]।তিনি বলেন: তারা রাতকে সালাতের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করতেন এবং শেষ রাতে তাদের কাজ ছিল আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা।
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ١٣)
12 - أَمْلَى الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الْجَوْهَرِيُّ، إِمْلاءً مِنْ لَفْظِهِ، قَالَ: أنبا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ بْنِ مَالِكٍ الْقَطِيعِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرُ بْنُ عَلِيٍّ، قثنا نُوحُ بْنُ قَيْسٍ، قثنا خَالِدُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَازِنٍ، أَنَّ رَجُلا سَأَلَ عَلِيًّا رضي الله عنه، فَقَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ انْعَتْ لَنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، صِفْهُ لَنَا.فَقَالَ: «كَانَ لَيْسَ بِالذَّاهِبِ طَوِيلا فَوْقَ الرَّبْعَةِ، إِذَا جَامَعَ الْقَوْمَ غَمَرَهُمْ، أَبْيَضَ شَدِيدَ الْوَضَحِ، ضَخْمَ الْهَامَةِ، أَغَرَّ ، أَبْلَجَ، هَدِبَ الأَشْفَارِ، شَثْنَ الْكَفَّيْنِ وَالْقَدَمَيْنِ، إِذَا مَشَى يَتَقَلَّعُ كَأَنَّمَا يَنْحَدِرُ فِي صَبَبٍ كَأَنَّ الْعَرَقَ فِي وَجْهِهِ اللُّؤْلُؤُ، لَمْ أَرَ قَبْلَهُ وَلا بَعْدَهُ مِثْلَهُ، بِأَبِي وَأُمِّي صلى الله عليه وسلم»
১২ - শায়খ আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-জওহারী মৌখিকভাবে শ্রুতিলিপি প্রদান করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান ইবনে মালিক আল-কাতিয়ী—তাঁর নিকট এটি পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম—তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর ইবনে আলী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নুহ ইবনে কায়স, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে খালিদ, ইউসুফ ইবনে মাজিন থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আমিরুল মুমিনীন! আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গুণাবলি বর্ণনা করুন, আমাদের নিকট তাঁর বিবরণ দিন।তিনি বললেন: «তিনি অত্যধিক দীর্ঘ ছিলেন না, বরং মাঝারি উচ্চতার চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ ছিলেন। যখন তিনি মানুষের সাথে একত্রে চলতেন, তখন তাঁর উচ্চতা তাঁদের ছাপিয়ে যেত। তিনি অত্যন্ত উজ্জ্বল শুভ্র বর্ণের ছিলেন, তাঁর মাথা ছিল বড় আকৃতির, কপাল ছিল প্রশস্ত ও জ্যোতির্ময়। তিনি ছিলেন পৃথক ভ্রু-বিশিষ্ট, তাঁর চোখের পাপড়ি ছিল দীর্ঘ, তাঁর হাতের তালু ও পায়ের পাতা ছিল মাংসল ও সুদৃঢ়। যখন তিনি হাঁটতেন, তখন অত্যন্ত শক্তিশালী কদমে হাঁটতেন যেন তিনি কোনো ঢালু জায়গা দিয়ে নিচের দিকে নামছেন। তাঁর চেহারার ঘাম যেন ছিল মুক্তার দানার মতো। আমি তাঁর পূর্বে কিংবা পরে তাঁর সদৃশ আর কাউকে দেখিনি। তাঁর চরণে আমার পিতা ও মাতা উৎসর্গিত হোন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।’»
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ١٤)
13 - أنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ كَيْسَانَ النَّحْوِيُّ، قثنا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوب الْقَاضِي، نا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ غِيَاثٍ، قثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي السَّلِيلِ، عَنْ مُجَيْبَةَ الْبَاهِلِيَّةِ، عَنِ ابْنِهَا أَوْ عَمِّهَا، رضي الله عنه، أَنَّهُ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ انْطَلَقَ فَعَادَ إِلَيْهِ بَعْدَ سَنَةٍ، وَقَدْ تَعَثَّرَتْ حَالُهُ وَهَيْئَتُهُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَا تَعْرِفُنِي.قَالَ: «وَمَنْ أَنْتَ؟» قَالَ: أَنَا الْبَاهِلِيُّ الَّذِي جِئْتُكَ عَامَ أَوَّلَ، قَالَ: «فَمَا غَيَّرَكَ وَقَدْ كُنْتَ حَسَنَ الْهَيْئَةِ؟» قَالَ: مَا أَكَلْتُ طَعَامًا مُنْذُ فَارَقْتُكَ إِلا بِلَيْلٍ.فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «عَذَّبْتَ نَفْسَكَ، صُمْ شَهْرَ الصَّبْرِ، وَمِنْ كُلِّ شَهْرٍ يَوْمًا» .قَالَ: زِدْنِي فَإِنِّي بِي قُوَّةٌ.قَالَ: «صُمْ ثَلاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ» .قَالَ: زِدْنِي فَإِنَّ بِي قُوَّةً، قَالَ: «صُمْ مِنَ الْحُرُمِ وَاتْرُكْ» .يَقُولُهَا ثَلاثًا
১৩ - আমি আবু হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন কায়সান আন-নাহবী, ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-কাজী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল ওয়াহিদ বিন গিয়াস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ আল-জুরাইরী থেকে, তিনি আবুস সালীল থেকে, তিনি মুজাইবাহ আল-বাহিলিয়্যাহ থেকে, তিনি তাঁর পুত্র বা চাচার সূত্রে বর্ণনা করেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসেছিলেন, এরপর তিনি চলে গেলেন এবং এক বছর পর পুনরায় তাঁর নিকট ফিরে আসলেন। তখন তাঁর অবস্থা ও বাহ্যিক অবয়ব জীর্ণশীর্ণ হয়ে পড়েছিল। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি কি আমাকে চিনতে পারছেন না?তিনি বললেন: «আর আপনি কে?» তিনি বললেন: আমি সেই বাহিলী ব্যক্তি যে গত বছর আপনার নিকট এসেছিল। তিনি বললেন: «কিসে তোমার এই পরিবর্তন ঘটালো, অথচ তুমি সুন্দর অবয়বের অধিকারী ছিলে?» তিনি বললেন: আমি আপনার নিকট থেকে বিদায় নেওয়ার পর থেকে কেবল রাত ছাড়া কোনো খাবার গ্রহণ করিনি।তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তুমি নিজেকে কষ্টে ফেলেছ; তুমি ধৈর্যের মাস (রমজান) রোজা রাখো এবং প্রতি মাসে একদিন রোজা রাখো।’তিনি বললেন: আমার জন্য আরও বাড়িয়ে দিন, কারণ আমার সামর্থ্য আছে।তিনি বললেন: «প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখো।’তিনি বললেন: আমার জন্য আরও বাড়িয়ে দিন, কারণ আমার সামর্থ্য আছে। তিনি বললেন: «সম্মানিত মাসগুলোতে রোজা রাখো এবং (মাঝে মাঝে) ছেড়ে দাও।’তিনি এ কথাটি তিনবার বললেন।
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ١٥)
14 - أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ النَّاقِدُ، قَالَ: ثنا قَاسِمُ بْنُ بَكْرٍ الْمُطَرِّزُ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ الْمُجَمِّعِ أَبُو الْمُنْذِرِ السَّكُونِيُّ، عَنْ يُونُسَ بْنِ حُبَابٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَنَّهُ كَان يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لا يَنْفَعُ، وَدُعَاءٍ لا يُسْمَعُ، وَقَلْبٍ لا يَخْشَعُ، وَنَفْسٍ لا تَشْبَعُ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَؤُلاءِ الأَرْبَعِ»
১৪ - আমাদিগকে সংবাদ প্রদান করেছেন আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আন-নাক্বিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন কাসিম ইবনে বকর আল-মুতররিজ, তিনি বলেন: আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ, তিনি বলেন: আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন আমর ইবনুল মুজাম্মি আবু আল-মুনজির আস-সাকুনি, তিনি ইউনুস ইবনে হুবাব হতে, তিনি তাউস হতে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলতেন: «হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি এমন জ্ঞান হতে যা কোনো উপকারে আসে না, এমন দোয়া হতে যা শোনা হয় না, এমন অন্তর হতে যা বিনীত হয় না এবং এমন আত্মা হতে যা তৃপ্ত হয় না। হে আল্লাহ! আমি এই চারটি বিষয় হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।»
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ١٦)
15 - أنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي عَزَّةَ الْعَطَّارُ، قثنا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ شُرَيْحٍ الْقَافْلائِيُّ، سَنَةَ أَرْبَعٍ وَثَلاثِ مِائَةٍ، قثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ يَحْيَى بْنِ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، قثنا أَبِي، عَنْ، أَبِيهِ، عَنْ، سَلَمَةَ، عَنْ، سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعَلِّمُنَا إِذَا أَصْبَحْنَا: «أَصْبَحْنَا عَلَى فِطْرَةِ الإِسْلامِ، وَكَلِمَةِ الإِخْلاصِ، وَسُنَّةِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، وَمِلَّةِ أَبِينَا إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا مُسْلِمًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ» .وَإِذَا أَمْسَيْنَا مِثْلَ ذَلِكَ
১৫ - আমি আবুল হাসান আলী বিন ইব্রাহীম বিন আহমাদ বিন আবি আযযাহ আল-আত্তার, আমাদের নিকট আলী বিন আল-হাসান বিন শুরাইহ আল-কাফলাই ৩০৪ হিজরি সনে বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইব্রাহীম বিন ইসমাঈল বিন ইয়াহইয়া বিন সালামাহ বিন কুহাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি সালামাহ থেকে, তিনি সাঈদ বিন আবদুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি উবাই বিন কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শিক্ষা দিতেন যখন আমরা সকালে উপনীত হই: «আমরা সকালে উপনীত হয়েছি ইসলামের ফিতরাত (প্রকৃতি), ইখলাসের কালিমা, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ এবং আমাদের পিতা ইব্রাহীমের মিল্লাতের ওপর, যিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।» এবং যখন আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হই তখনও অনুরূপ।
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ١٧)
16 - أنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي صَابِرٍ الْجَهْبَذُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبِرْتِيُّ، قَالَ: نا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ فُلَيْحٍ، قَالَ: نا الْمُعَافَى بْنُ عِمْرَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرٍ الأَسْلَمِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَفْتَحَ الصَّلاةَ قَالَ: «وَجَّهْتُ وَجْهِيَ إِلَى الَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيفًا مُسْلِمًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ، سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، تَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ، وَلا إِلَهَ غَيْرُكَ، إِنَّ صَلاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ»
১৬ - আমি আবু মুহাম্মদ আবদুল আজিজ ইবনুল হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি সাবির আল-জাহবাজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-আব্বাস ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-বিরতি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল ওয়াহহাব ইবনে ফুলায়হ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মু'আফা ইবনে ইমরান বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমির আল-আসলামি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, আর তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সালাত শুরু করতেন তখন বলতেন: «আমি একনিষ্ঠ মুসলিম হয়ে আমার চেহারাকে সেই সত্তার দিকে নিবিষ্ট করলাম যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। হে আল্লাহ! আপনি অতি পবিত্র এবং আপনার প্রশংসার সাথেই (আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি), আপনার নাম বরকতময় এবং আপনার মহিমা সুউচ্চ, আর আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার ইবাদত, আমার জীবন ও আমার মরণ জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই, আমি এরই নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছি এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।’»
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ١٨)
17 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ لُؤْلُؤٍ الْوَرَّاقُ، قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الشَّطَوِيُّ، قَالَ: نا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ فُلَيْحٍ ، قثنا الْيَسَعُ بْنُ طَلْحَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما، قَالَ: صَلَّى بِنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا رَفَعَ رَأْسَهُ فِي الرَّكْعَةِ، قَالَ: «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ» .قَالَ رَجُلٌ مِنْ خَلْفِهِ: رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ.فَلَمَّا انْصَرَفَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ ذَا الْمُتَكَلِّمُ آنِفًا» .ثَلاثَ مَرَّاتٍ قَالَهَا، فَقَالَ الرَّجُلُ: أَنَا يَا نَبِيَّ اللَّهِ ، قَالَ: «وَالَّذِي بَعَثَنِي بِالْحَقِّ لَقَدْ رَأَيْتُ بِضْعَةً وَثَلاثِينَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَهَا أَيُّهُمْ يَكْتُبُهَا لَكَ أَوْ يَرْفَعُهَا»
১৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে লু'লু' আল-ওয়াররাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আশ-শাতওয়ী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল ওয়াহহাব ইবনে ফুলাইহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ইয়াসা ইবনে তালহা, আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। যখন তিনি রাকাত হতে তাঁর মাথা উত্তোলন করলেন, তখন বললেন: «আল্লাহ সেই ব্যক্তির কথা শোনেন যে তাঁর প্রশংসা করে।»তাঁর পেছন থেকে এক ব্যক্তি বলল: হে আমাদের রব! আপনার জন্যই সকল প্রশংসা—অগণিত, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা।যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত শেষ করলেন, তিনি বললেন: «এইমাত্র কে কথা বলছিল?»তিনি এটি তিনবার বললেন। অতঃপর সেই ব্যক্তি বলল: আমি, হে আল্লাহর নবী। তিনি বললেন: «সেই সত্তার কসম যিনি আমাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি ত্রিশ জনেরও অধিক ফেরেশতাকে দেখেছি যারা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছিল যে, তাদের মধ্যে কে এটি আপনার জন্য লিপিবদ্ধ করবে অথবা কে এটি উপরে উঠিয়ে নিয়ে যাবে।’
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ١٩)
18 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُظَفَّرِ بْنِ مُوسَى الْحَافِظُ، قثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ، إِمْلاءً فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الأَوَّلِ سَنَةَ خَمْسٍ وَثَلاثِ مِائَةٍ، قَالَ: نا يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ الْحَرْبِيُّ، قَالَ: نا أَبُو الْمَلِيحِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ رضي الله عنه، وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ ، أَنَّهُ خَرَجَ زَائِرًا لِرَجُلٍ مِنْ إِخْوَانِهِ فَبَلَغَتْهُ شَكَاتُهُ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ، فَقَالَ: أَتَيْتُكَ زَائِرًا أَوْ عَائِدًا أَوْ مُبَشِّرًا، قَالَ: كَيْفَ جَمَعْتَ هَذَا كُلَّهُ؟ قَالَ: خَرَجْتُ وَأَنَا أُرِيدُ زِيَارَتَكَ، فَبَلَغَتْنِي شَكَاتُكَ، فَكَانَتْ عِيَادَةً وَزِيَارَةً، وَأُبَشِّرُكَ بِمَا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا سَبَقَتْ لِلْعَبْدِ مِنَ اللَّهِ مَنْزِلَةٌ لَمْ يَنَلْهَا بِعَمَلِهِ، ابْتَلاهُ فِي جَسَدِهِ أَوْ فِي مَالِهِ أَوْ وَلَدِهِ، ثُمَّ يَصْبِرُ حَتَّى تَبْلُغَهُ الْمَنْزِلَةُ الَّتِي سَبَقَتْ لَهُ مِنْهُ»
১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আল-মুজাফ্ফার বিন মুসা আল-হাফিজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন আল-হাসান বিন আব্দুল জাব্বার, ৩০৫ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসে শ্রুতিলিখনের (ইমলা) মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন উসমান আল-হারবি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-মালিহ, মুহাম্মদ বিন খালিদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেন—যিনি রাসূলুল্লাহর সাহচর্যে ধন্য হয়েছিলেন—যে, তিনি তাঁর এক দ্বীনি ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করার উদ্দেশ্যে বের হলেন, অতঃপর তাঁর অসুস্থতার সংবাদ পেলেন। তিনি তাঁর নিকট প্রবেশ করে বললেন: আমি আপনার নিকট সাক্ষাৎপ্রার্থী, রোগশয্যায় পরিচর্যাকারী এবং সুসংবাদদাতা হিসেবে এসেছি। তিনি (অসুস্থ ব্যক্তি) বললেন: আপনি এই সবগুলোকে কীভাবে একত্র করলেন? তিনি বললেন: আমি আপনার সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলাম, অতঃপর আপনার অসুস্থতার সংবাদ পেলাম, ফলে এটি রোগশয্যায় দেখা করা এবং সাধারণ সাক্ষাৎ উভয়ই হলো। আর আমি আপনাকে সেই বিষয়ে সুসংবাদ দিচ্ছি যা আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছি। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যখন কোনো বান্দার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কোনো মর্তবা (মর্যাদা) নির্ধারিত থাকে যা সে তার আমল দ্বারা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি, তখন আল্লাহ তাকে তার শরীরে অথবা তার ধন-সম্পদে অথবা তার সন্তানে পরীক্ষায় ফেলেন (বিপদগ্রস্ত করেন), অতঃপর সে ধৈর্য ধারণ করে, যতক্ষণ না সে ওই মর্তবায় পৌঁছে যায় যা আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য নির্ধারিত ছিল।”
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
19 - أنا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَحْيَى الْعَطَشِيُّ، قَالَ: نا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ حَسَّانٍ الأَنْمَاطِيُّ، قَالَ: نا أَبُو مُسْلِمٍ الْحَرَّانِيُّ، قثنا مِسْكِينُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ هَارُونَ بْنِ مُوسَى الْبَصْرِيِّ، عَنْ أَبَانِ بْنِ تَغْلِبَ، عَنْ عَطِيَّةَ الْعَوْفِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الرَّجُلَ مِنْ أَهْلِ عِلِّيِّينَ لَيُشْرِفُ عَلَى أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيُضِئُ وَجْهُهُ كَأَنَّهُ كَوْكَبٌ دُرِّيٌّ، وَإِنَّ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ مِنْهُمْ وَأَنْعَمَا»
১৯ - আমি আবু আলী মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-আতাশি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম ইবনে হাসান আল-আনমাতি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম আল-হাররানি, তিনি আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন মিসকিন ইবনে বুকাইর থেকে, তিনি হারুন ইবনে মুসা আল-বাসরি থেকে, তিনি আবান ইবনে তাগলিব থেকে, তিনি আতিয়্যাহ আল-আউফি থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর দরুদ ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: «নিশ্চয়ই ইল্লিয়্যিনের অধিবাসীদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি যখন জান্নাতবাসীদের দিকে উঁকি দেবেন, তখন তাঁর চেহারা প্রদীপ্ত নক্ষত্রের ন্যায় উজ্জ্বল আলো ছড়াবে। আর নিশ্চয়ই আবু বকর ও উমর তাঁদেরই অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁরা কতই না শ্রেষ্ঠ!»
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ٢١)
20 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ الْقَطِيعِيُّ، قَالَ: نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ أَبُو الْحَارِثِ، قَالَ: نا أَبُو حَفْصٍ الأَبَّارُ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ حَصِيرَةَ، عَنْ أَبِي صَادِقٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ نَاجِدٍ، عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فِيكَ مَثَلٌ مِنْ عِيسَى عليه السلام، أَبْغَضَتْهُ يَهُودُ حَتَّى بَهَتُوا أُمَّهُ، وَأَحَبَّتْهُ النَّصَارَى حَتَّى أَنْزَلُوهُ بِالْمَنْزِلَةِ الَّتِي لَيْسَ بِهِ» .ثُمَّ قَالَ: يَهْلِكُ فِيَّ رَجُلانِ ، مُحِبٌّ مُفْرِطٌ يُقَرِّظُنِي بِمَا لَيْسَ فِيَّ، وَمُبْغِضٌ يَحْمِلُهُ شَنَآنِي عَلَى أَنْ يَبْهَتَنِي "
২০ - আমাদের অবহিত করেছেন আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন হামদান আল-কাত্বিঈ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সুরাইজ বিন ইউনুস আবুল হারিস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাফস আল-আব্বার, হাকাম বিন আবদুল মালিক থেকে, তিনি হারিস বিন হাসিরা থেকে, তিনি আবু সাদিক থেকে, তিনি রাবিআহ বিন নাজিদ থেকে, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমার মাঝে ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর একটি দৃষ্টান্ত রয়েছে; ইহুদিরা তাঁকে ঘৃণা করেছিল, এমনকি তারা তাঁর মায়ের প্রতি অপবাদ দিয়েছিল। আর খ্রিস্টানরা তাঁকে ভালোবেসেছিল, এমনকি তারা তাঁকে এমন মর্যাদায় আসীন করেছিল যা তাঁর জন্য (প্রযোজ্য) নয়।"অতঃপর তিনি (আলী রা.) বললেন: "আমার বিষয়ে দুই প্রকার ব্যক্তি ধ্বংস হবে: এক অতি-উৎসাহী প্রেমিক যে আমার মাঝে নেই এমন গুণের মাধ্যমে আমার প্রশংসা করবে, আর এক বিদ্বেষ পোষণকারী যার শত্রুতা তাকে আমার প্রতি অপবাদ দিতে প্ররোচিত করবে।"
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
21 - أنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْخَرَقِيُّ، قَالَ: ثنا عَلِيُّ بْنُ زَاطِيَا، قثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَرَوِيُّ، قَالَ: نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكُ بْنُ حَمْزَةَ بْنِ أَبِي أُسَيْدٍ السَّاعِدِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ أَبِي أُسَيْدٍ السَّاعِدِيِّ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلْعَبَّاسِ: «لا تَرِمْ مَنْزِلَكَ أَنْتَ وَبَنُوكَ غَدًا، حَتَّى آتِيكُمْ فَإِنَّ لِي فِيكُمْ حَاجَةً» .قَالَ فَانْتَظَرُوهُ حَتَّى بَعْدَمَا أَضْحَى، فَدَخَلَ عَلَيْهِمْ فَقَالَ: «السَّلامُ عَلَيْكُمْ» .قَالُوا: وَعَلَيْكُمُ السَّلامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ.قَالَ: «كَيْفَ أَصْبَحْتُمْ؟» قَالُوا: بِخَيْرٍ نَحْمَدُ اللَّهَ، فَكَيْفَ أَصْبَحْتَ فِدَاكَ أَبُونَا وَأُمُّنَا أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: «أَصْبَحْتُ بِخَيْرٍ أَحْمَدُ اللَّهَ» .فَقَالَ: «تَقَارَبُوا تَقَارَبُوا تَقَارَبُوا يُزْحِمُ بَعْضُكُمْ إِلَى بَعْضٍ» .حَتَّى إِذَا أَمْكَنُوهُ اشْتَمَلَ عَلَيْهِمْ بِمُلاءَتِهِ قَالَ: «يَا رَبِّ هَذَا عَمِّي وَصِنْوُ أَبِي وَهَؤُلاءِ أَهْلُ بَيْتِي فَاسْتُرْهُمْ مِنَ النَّارِ كَسَتْرِي إِيَّاهُمْ بِمُلاءَتِي هَذِهِ» .فَأَمَّنَتْ أَسْكُفَّةُ بَيْتِنَا وَحَوَائِطُ الْبَيْتِ فَقَالَتْ: آمِينَ آمِينَ آمِينَ
২১ - আমি আবুল কাসিম আব্দুল আজিজ ইবন জাফর ইবন মুহাম্মদ আল-খারাকী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবন জাতিয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবন আব্দুল্লাহ আল-হারাউয়ি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন উমর ইবন ইসহাক ইবন সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস, তিনি বলেন: মালিক ইবন হামজা ইবন আবি উসাইদ আস-সাঈদী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা আবু উসাইদ আস-সাঈদী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আব্বাসকে বললেন: "আগামীকাল আপনি এবং আপনার সন্তানেরা আপনার ঘর ছেড়ে যাবেন না, যতক্ষণ না আমি আপনাদের নিকট আসছি, কারণ আপনাদের বিষয়ে আমার একটি প্রয়োজন আছে।"বর্ণনাকারী বলেন, তারা চাশতের সময় পর্যন্ত তাঁর জন্য অপেক্ষা করলেন। অতঃপর তিনি প্রবেশ করলেন তাঁদের নিকট এবং বললেন: "আস-সালামু আলাইকুম।"তারা বললেন: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।তিনি বললেন: "আপনারা কেমন আছেন?" তারা বললেন: "ভাল আছি, আমরা আল্লাহর প্রশংসা করছি। হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আপনার সকাল কেমন হয়েছে? আমাদের পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক।" তিনি বললেন: "আমি ভাল আছি, আল্লাহর প্রশংসা করছি।"অতঃপর তিনি বললেন: "তোমরা কাছাকাছি হও, কাছাকাছি হও, কাছাকাছি হও, একে অপরের সাথে ঘেঁষে দাঁড়াও।"অবশেষে যখন তারা তাঁর নাগালের মধ্যে এলেন, তখন তিনি তাঁর চাদর দিয়ে তাঁদের আবৃত করে দিলেন এবং বললেন: "হে আমার রব! ইনি আমার চাচা এবং আমার পিতার সমতুল্য, আর এরা আমার পরিবারের সদস্য; সুতরাং আপনি তাঁদের জাহান্নামের আগুন থেকে আড়াল করুন, যেভাবে আমি তাঁদের আমার এই চাদর দিয়ে আড়াল করেছি।"অতঃপর আমাদের ঘরের চৌকাঠ এবং ঘরের দেয়ালসমূহ আমীন বলল; তারা বলল: আমীন, আমীন, আমীন।
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
22 - أنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَحْمَدَ الْحَافِظُ، قَالَ: نا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ، قَالَ: نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَتِيقُ، قَالَ: نا أَبُو الْفَضْلِ بْنُ حَبِيبٍ، قَالَ: أنا يَحْيَى بْنُ كَثِيرٍ صَاحِبُ الْكَرَابِيسِيِّ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى أَبِي، فَقَالَ: أَخْبِرْنِي عَنْ أَبِي بَكْرٍ، قَالَ: «عَنِ الصِّدِّيقِ تَسْأَلُ؟» قَالَ: رَحِمَكَ اللَّهُ وَتُسَمِّيهِ الصِّدِّيقَ.قَالَ: «ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ، قَدْ سَمَّاهُ صِدِّيقًا مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنِّي وَمِنْكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْمُهَاجِرُونَ وَالأَنْصَارُ، فَمَنْ لَمْ يُسَمِّهِ صِدِّيقًا لا صَدَّقَ اللَّهُ قَوْلَهُ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ، اذْهَبْ فَأَحِبَّ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ وَتَوَلَّهُمَا، فَمَا كَانَ مِنْ إِثْمٍ فَفِي عُنُقِي»
২২ - আমি আবু আল-হাসান আলী বিন উমর বিন আহমদ আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মাখলাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আল-আতিক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুল ফাদল বিন হাবিব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন কাসীর সাহেব আল-কারাবিসী আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি জা'ফর বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: এক ব্যক্তি আমার পিতার নিকট এল এবং বলল: আমাকে আবু বকর সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: "তুমি কি সিদ্দিক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছ?" সে বলল: আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, আপনি কি তাঁকে সিদ্দিক বলে ডাকেন?তিনি বললেন: "তোমার মা তোমাকে হারাক (ধিক তোমাকে)! আমার এবং তোমার চেয়ে উত্তম সত্তা তাঁকে সিদ্দিক বলে নামকরণ করেছেন; তিনি হলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুহাজির ও আনসারগণ। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁকে সিদ্দিক বলবে না, আল্লাহ যেন ইহকাল ও পরকালে তার কথা সত্য না করেন। যাও, তুমি আবু বকর ও উমরকে ভালোবাসো এবং তাঁদেরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করো; এতে যদি কোনো পাপ হয় তবে তা আমার ঘাড়ে।"
(খণ্ড: ٢)
মাজলিসানি মিন আমালিল জাওহারি_২
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
23 - أنا عَلِيُّ بْنُ لُؤْلُؤٍ الْوَرَّاقُ، قَالَ: أنا عُمَرُ بْنُ أَيُّوبَ السَّقَطِيُّ، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الأَنْمَاطِيُّ، قَالَ: نا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ أَبِي حُبَابٍ الْكَلْبِيِّ، عَنْ أَبِي سَلْمَانَ الْهَمْدَانِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه، قَالَ: «يَخْرُجُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ قَوْمٌ لَهُمْ نَبْزٌ يَنْتَحِلُونَ شِيعَتَنَا، وَلَيْسَ مِنْ شِيعَتِنَا، آيَةُ ذَلِكَ أَنَّهُمْ يَشْتُمُونَ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ ، فَإِنْ لَقِيتُمُوهُمْ فَاقْتُلُوهُمْ فَإِنَّهُمْ مُشْرِكُونَ»
২৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবন লু’লু’ আল-ওয়াররাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর ইবন আইয়ুব আস-সাকাতি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন মুয়াবিয়া আল-আনমাতি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া, আবু হুবাব আল-কালবি থেকে, তিনি আবু সালমান আল-হামদানি থেকে, তিনি আলী ইবন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “শেষ যুগে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যাদের একটি বিশেষ উপাধি থাকবে, তারা আমাদের শিয়া (অনুসারী) হওয়ার দাবি করবে, অথচ তারা আমাদের শিয়াদের অন্তর্ভুক্ত নয়; এর নিদর্শন এই যে, তারা আবু বকর ও উমরকে গালিগালাজ করবে। সুতরাং তোমরা যদি তাদের সাক্ষাৎ পাও তবে তাদের হত্যা করো, কেননা তারা মুশরিক।”