(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: -)
موسوعة الفقه على المذاهب الأربعة - ياسر النجار القسم: الفقه العام
الكتاب: موسوعة الفقه على المذاهب الأربعة
(مع أدلتها التفصيلية من الكتاب والسنة النبوية)
المؤلف: د ابن النجار الدمياطي، أبو عمار ياسر بن أحمد بن بدر النجار الدمياطي
راجعه: مجمع البحوث الإسلامية بالأزهر الشريف
الناشر: دار التقوى، القاهرة - مصر
الطبعة: الأولى (التامة)، 1444 هـ - 2023
عدد الأجزاء: 25 (24 والفهارس)
الكتاب وقف لله تعالى من فاعل خير، ويسألكم الدعاء له ولوالديه
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 شوّال 1446
চার মাযহাবের ফিকহ বিশ্বকোষ - ইয়াসির আন-নাজ্জার বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
বই: চার মাযহাবের ফিকহ বিশ্বকোষ
(কিতাবুল্লাহ এবং সুন্নাতে নববীর বিস্তারিত দলিলসহ)
লেখক: ড. ইবনুন নাজ্জার আদ-দামইয়াতি، আবু আম্মার ইয়াসির বিন আহমাদ বিন বদর আন-নাজ্জার আদ-দামইয়াতি
নিরীক্ষক: আল-আযহার আশ-শরীফের ইসলামি গবেষণা সংস্থা
প্রকাশক: দারুত তাকওয়া، কায়রো - মিশর
সংস্করণ: প্রথম (পূর্ণাঙ্গ)، ১৪৪৪ হিজরি - ২০২৩
খণ্ড সংখ্যা: ২৫ (২৪ এবং নির্ঘণ্ট)
বইটি এক নেককার ব্যক্তির পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ওয়াকফকৃত، এবং তিনি তাঁর নিজের ও তাঁর পিতা-মাতার জন্য আপনাদের নিকট দোয়ার আবেদন করেছেন
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ শাওয়াল ১৪৪৬
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحَمدُ للهِ مُسبِغِ النِّعمِ، ومُسوغِ القِسمِ، والمُنفرِدِ بالقِدمِ وبارئِ النَّسمِ، على ما وفَّقَ مَنْ اجتَباه من عِبادِه للتَّفقُّهِ في الدينِ، ونوَّهَ بذلك في الذِّكرِ الحَكيمِ فقالَ تعالَى وهو أَصدقُ القائِلينَ: {فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ} [التوبة: 122].
أَحمدُه سُبحانَه على ما شيَّدَ بمَنهجِ دِينِه أَركانَ الشَّريعةِ الغرَّاءِ، وسدَّدَ بأَحكامِه فُروعَ الحَنيفيةِ السَّمحاءِ، سُبحانَه عمَّ فَضلُه وإِحسانُه، وأَتَمَّ حُجتَه وبُرهانَه، وظهَرَ أمرُه وسُلطانُه، سُبحانَه ما أعظَمَ شانَه!
أسبَغَ علينا بفَضلِه مَلابسَ إِنعامِه، وبصَّرَنا من شَرعِه بحَلالِه وحَرامِه، أَحمَدُه حَمدًا يَفوقُ حمدَ الحامِدينَ، وأَشكرُه شُكرًا عددَ الأَيامِ والسِّنينَ.
وأَشهدُ أنْ لا إلهَ إلا اللهُ وحدَه لا شَريكَ له، العالِمُ بانقِيادِ الأَفئدةِ وامتِناعِها، المُطَّلعُ على ضَمائرِ القُلوبِ في حالةِ افتِراقِها واجتِماعِها، وأَشهدُ أنَّ مُحمدًا عبدُه ورَسولُه، سيدُ الأَبرارِ المَبعوثُ من أَطهرِ بيتٍ في
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নিআমতসমূহ পূর্ণকারী, বন্টনসমূহ সহজকারী, অনাদিত্বে একক এবং প্রাণের স্রষ্টা; যেহেতু তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাদের মনোনীত করেছেন তাদের দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের তাওফীক দিয়েছেন এবং মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে এর মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, আর তিনি সত্যবাদীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম সত্যবাদী: "তবে তাদের প্রত্যেক বড় দলের এক একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে?" [আত-তাওবাহ: ১২২]।
আমি তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং প্রশংসা করছি যেহেতু তিনি তাঁর দ্বীনের পদ্ধতির মাধ্যমে উজ্জ্বল শরীয়তের স্তম্ভসমূহ সুদৃঢ় করেছেন এবং তাঁর বিধানাবলীর মাধ্যমে উদার হানিফী আদর্শের শাখাগুলোকে সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন। তিনি অতি পবিত্র; তাঁর করুণা ও অনুগ্রহ ব্যাপক, তিনি তাঁর প্রমাণ ও দলিল পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর নির্দেশ ও কর্তৃত্ব প্রকাশিত হয়েছে। তিনি কতই না পবিত্র; তাঁর শান কতই না মহান!
তিনি স্বীয় অনুগ্রহে আমাদের উপর তাঁর নিআমতের আবরণ পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর শরীয়তের হালাল ও হারাম সম্পর্কে আমাদের সম্যক জ্ঞান দান করেছেন। আমি তাঁর এমন প্রশংসা করি যা সকল প্রশংসাকারীর প্রশংসাকে ছাড়িয়ে যায়, এবং তাঁর এমন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি যা দিবস ও বছরের সংখ্যার সমপরিমাণ।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; তিনি অন্তরের আনুগত্য ও বিমুখতা সম্পর্কে পরিজ্ঞাত, হৃদয়ের গোপন রহস্য সম্পর্কে অবহিত যখন তারা বিচ্ছিন্ন থাকে কিংবা একত্রিত থাকে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তিনি পুণ্যবানদের সরদার, যিনি অতি পবিত্র বংশধারা থেকে প্রেরিত হয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ৬)
مُضرَ بنِ نِزارٍ المَبعوثُ رَحمةً لِلعالَمينَ، ونورًا لسائرِ الخَلائقِ إلى يومِ الدِّينِ، أرسَلَه حينَ درَسَت أَعلامُ الهُدى، وظهَرَت أَعلامُ الرَّدى، وانطَمسَ مَنهجُ الحقِّ وعَفا، وأَشرفَ مِصباحُ الصِّدقِ على الانطِفا، فأَعلى مِنْ الدينِ مَعالمَه، ومِن حُكمِ الشَّرعِ دَلائلَه، فانشَرحَ به صُدورُ أهلِ الإِيمانِ، وانْزاحَت به شُبهاتُ أهلِ الطُّغيانِ، صلى الله عليه وسلم ما دامَت السماءُ والأرضُ هذه في سُموِّها وهذه في اتِّساعِها، وعلى آلهِ البَررةِ، وصَحبِه الخِيرةِ، مَصابيحِ الأُممِ ومَفاتيحِ الكَرمِ، وخُلفاءِ الدِّينِ، وحُلفاءِ اليَقينِ، الذين بلَغوا من مَحاسنِ الفَضائلِ الغايةَ، ووصَلوا من مَكارمِ الفَواضلِ نِهايةَ النِّهايةِ، الحافِظينَ لمَعالمِ الدِّينِ عن الاندِراسِ والانطِماسِ، الذين كَسروا جُيوشَ المَردةِ، وفتَحوا حُصونَ قِلاعِها، وهجَروا في مَحبةِ داعِيهم إلى اللهِ الأَوطارِ والأَوطانِ، ولم يُعاودُوها بعدَ وَداعِها وحفِظوا على أَتباعِهم أَقوالَه وأَفعالَه وأَحوالَه حتى أمِنَت بهم السُّنةُ الشَّريفةُ من ضَياعِها.
وبعدُ: فإنَّ العُلومَ وإن كانَت تَتعاظَمُ شَرفاً، وتَطلعُ في سَماءِ العُلا كَواكبُها شَرفًا، فلا مِريةَ في أن الفِقهَ أجلُّها قَدرًا، وأَعلاها فَخرًا وأَبلغُها فَضيلةً، وأَنجحُها وَسيلةً؛ لأنَّ به يُعرفُ الحَلالُ والحَرامُ، ويَدينُ الخاصُّ والعامُّ، وتبِينُ مَصابيحُ الهُدى من ظَلامِ الضَّلالِ وضَلالِ الظلامِ، قُطبُ الشَّريعةِ وأَساسُها، وقَلبُ الحَقيقةِ الذي إذا صلَحَ صلَحَت، فهو أَولى ما أُنفقَت فيه نَفايسُ الأَوقاتِ، وشمَّرَ في إِدراكِه والتَّمكنِ فيه أَصحابُ الأنفُسِ الزَّكياتِ، وبادَرَ إلى الاهتِمامِ به المُسارِعونَ إلى المَكرماتِ، وسارَعَ إلى
মুদার ইবনে নিযারের বংশোদ্ভূত, যিনি জগতসমূহের জন্য রহমত হিসেবে এবং বিচার দিবস পর্যন্ত সমস্ত সৃষ্টির জন্য আলো হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। তিনি এমন এক সময়ে প্রেরিত হয়েছিলেন যখন হিদায়াতের চিহ্নসমূহ মুছে গিয়েছিল, ধ্বংসের নিশানসমূহ প্রকাশ পেয়েছিল, সত্যের পথ বিলুপ্ত ও স্তিমিত হয়েছিল এবং সত্যের প্রদীপ নিভে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এরপর তিনি দ্বীনের নিদর্শনসমূহকে সমুন্নত করেছেন এবং শরীয়তের বিধানের প্রমাণাদিকে সুদৃঢ় করেছেন। ফলে তাঁর মাধ্যমে মুমিনদের অন্তরসমূহ উন্মোচিত হয়েছে এবং অবাধ্যদের সংশয়সমূহ দূরীভূত হয়েছে। তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক যতক্ষণ আসমান তার উচ্চতায় এবং জমিন তার প্রশস্ততায় বিদ্যমান থাকবে। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পুণ্যবান পরিবার এবং মনোনীত সাহাবীগণের ওপর, যারা জাতিসমূহের প্রদীপ, দানশীলতার চাবিকাঠি, দ্বীনের খলীফা এবং দৃঢ় বিশ্বাসের সহযোগী; যারা শ্রেষ্ঠতম ফযীলতসমূহের চরম শিখরে পৌঁছেছেন এবং মহত্তম গুণাবলীর শেষ প্রান্তে উপনীত হয়েছেন। যারা দ্বীনের নিদর্শনসমূহকে বিলুপ্তি ও মুছে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছেন; যারা বিদ্রোহী বাহিনীকে পরাস্ত করেছেন এবং তাদের দুর্গের কেল্লাসমূহ জয় করেছেন; যারা তাঁদের আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর ভালোবাসায় নিজেদের কামনা-বাসনা ও স্বদেশ ত্যাগ করেছেন এবং বিদায়ের পর আর সেদিকে ফিরে তাকাননি; এবং যারা তাঁদের অনুসারীদের জন্য তাঁর কথা, কাজ ও অবস্থাসমূহ সংরক্ষণ করেছেন, এমনকি তাঁদের মাধ্যমেই সুন্নতে নববী হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে নিরাপদ হয়েছে।
অতঃপর: জ্ঞান-বিজ্ঞানসমূহ যদিও মর্যাদাগত দিক থেকে অনেক বিশাল এবং মর্যাদার আসমানে এর নক্ষত্ররাজী উদিত হয়, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ফিকহ শাস্ত্র এগুলোর মধ্যে মর্যাদার দিক থেকে অধিক মহান, গৌরবের দিক থেকে সর্বোচ্চ, শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে সর্বাধিক প্রভাবশালী এবং লক্ষ্য অর্জনের সবচেয়ে সফল মাধ্যম; কারণ এর মাধ্যমেই হালাল ও হারাম চেনা যায়, বিশেষ ও সাধারণ মানুষ আনুগত্য করে, এবং হিদায়াতের প্রদীপসমূহ গোমরাহীর অন্ধকার ও অন্ধকারের গোমরাহী থেকে পৃথক হয়। এটি শরীয়তের কেন্দ্রবিন্দু ও তার ভিত্তি এবং হাকীকতের হৃদপিণ্ড, যা সংশোধন হলে সবকিছু সংশোধিত হয়। সুতরাং এটিই মূল্যবান সময় ব্যয় করার সর্বাধিক উপযুক্ত ক্ষেত্র, এবং পবিত্র আত্মার অধিকারীগণ এটি অর্জন ও এতে দক্ষতা লাভের জন্য কোমর বেঁধে প্রস্তুতি নিয়েছেন, আর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে সচেষ্ট ব্যক্তিগণ এর প্রতি গুরুত্ব দিতে তৎপর হয়েছেন এবং দ্রুত অগ্রসর হয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ৭)
التَّحلِّي به مُستبِقو الخَيراتِ، وقد تَظاهَرَ على ما ذكَرْته جُملٌ من آياتِ القُرآنِ الكَريماتِ، والأَحاديثِ الصَّحيحةِ النَّبويةِ المَشهوراتِ، ولا ضَرورةَ إلى الإِطنابِ بذكْرِها هنا؛ لكَونِها الواضِحاتِ الجَلياتِ.
وقد امتَنَّ الله سبحانه وتعالى على هذه الأُمةِ بإِبقاءِ طائِفةٍ منها على الحقِّ لا يَضرُّهم من خذَلُهم ولا من خالَفَهم حتى يَأتِيَ أمرُ اللهِ وهم على ذلك، وجعَلَ السَّببَ في بَقائِهم بَقاءَ عُلمائِهم واقتِداءَهم بأئِمتِهم وفُقائِهم، وجعَلَ هذه الأُمةَ معَ عُلمائِها كالأُممِ الخالِيةِ معَ أَنبيائِها، وأظهَرَ في كلِّ طَبقةٍ من فُقهائِها أَئمةً يُقتدى بها، ويُنتهى إلى رَأيِها، وجعَلَ في سَلفِ هذه الأُمةِ أَئمةً من الأَعلامِ، مهَّدَ بهم قَواعدَ الإِسلامِ وأَوضحَ بهم مُشكلاتِ الأَحكامِ، اتِّفاقُهم حُجةٌ قاطِعةٌ، واختِلافُهم رَحمةٌ واسِعةٌ، تَحيا القُلوبُ بأَخبارِهم، وتَحصُلُ السَّعادةُ باقتِفاءِ أَثرِهم، ثم اختَصَّ منهم نَفرًا أَعلى قَدرَهم ومَناصبَهم، وأَبقى ذِكرَهم ومَذاهبِهم، فعلى أَقوالِهم مَدارُ الأَحكامِ، وبمَذاهبِهم يُفتِي فُقهاءُ الإِسلَام، وهم الأَئمةُ الأَربعةُ الأَعلامُ: أَبو حَنيفةَ ومالِكٌ والشافِعيُّ وأَحمدُ، عليهم من اللهِ الرَّحمةُ الواسِعةُ والرِّضوانُ، فللهِ دَرُّهم، هم نُجومُ السَّماءِ، تُشيرُ إليهم بالأَكفِّ الأَصابعِ، وشُمُّ الأُنوفِ يَخضعُ إليهم كلُّ شامِخِ الأَنفِ رافِعٌ، حلَّقوا على سُورِ الإِسلامِ كسُوارِ المِعصمِ في اليدِ، زيَّنَ اللهُ الأَرضَ بمَواطئِ أَقدامِهم، فهم أَصحابُ الفضلِ على أَهلِ المَشارقِ والمَغاربِ؛ فقد ملَأَ عِلمُهم الآفاقَ، وأذعَنَ لهم أهلُ الخلافِ والوِفاقِ، فجَزاهُم اللهُ عن صَنيعِهم جَزاءً مَوفورًا، وجعَلَ عَملَهم
কল্যাণের পথে অগ্রগামীগণ এ গুণেই গুণান্বিত হন। আমি যা উল্লেখ করেছি, তার সপক্ষে পবিত্র কুরআনের বহু মহিমান্বিত আয়াত এবং সুপ্রসিদ্ধ সহীহ নববী হাদিসসমূহ সাক্ষ্য দেয়। বিষয়গুলো অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও প্রকাশিত হওয়ার কারণে এখানে সেগুলোর বিস্তারিত বর্ণনার প্রয়োজন নেই।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই উম্মতের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকে একটি দলকে সত্যের ওপর অটল রেখেছেন; যারা তাদের অপদস্থ করতে চায় কিংবা যারা তাদের বিরোধিতা করে, তারা আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না এবং তারা এই অবস্থাতেই অটল থাকবে। তিনি তাদের টিকে থাকার কারণ হিসেবে তাদের আলেমদের টিকে থাকা এবং তাদের ইমাম ও ফকীহগণের অনুসরণকে নির্ধারণ করেছেন। তিনি এই উম্মত ও তাদের আলেমদের দৃষ্টান্ত পূর্ববর্তী উম্মত ও তাদের নবীদের ন্যায় করেছেন। তিনি ফকীহদের প্রতিটি স্তরে এমন কিছু ইমামের আবির্ভাব ঘটিয়েছেন যাঁদের অনুসরণ করা হয় এবং যাঁদের মতামতের ওপর নির্ভর করা হয়। তিনি এই উম্মতের সালাফদের মধ্যে এমন কিছু বরেণ্য ইমাম তৈরি করেছেন, যাঁদের মাধ্যমে ইসলামের মূলনীতিসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং বিধিবিধানের জটিল বিষয়সমূহ সুস্পষ্ট করেছেন। তাঁদের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত একটি অকাট্য দলিল এবং তাঁদের মতপার্থক্য এক প্রশস্ত রহমত। তাঁদের জীবনচরিতে হৃদয়সমূহ সজীব হয় এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণে সৌভাগ্য অর্জিত হয়। অতঃপর তিনি তাঁদের মধ্য থেকে বিশেষ কিছু ব্যক্তিকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন, যাঁদের মর্যাদা ও অবস্থানকে করেছেন সুউচ্চ এবং তাঁদের স্মরণ ও মাযহাবসমূহকে অক্ষয় রেখেছেন। শরীয়তের বিধিবিধান তাঁদের উক্তিগুলোর ওপর আবর্তিত হয় এবং ইসলামের ফকীহগণ তাঁদের মাযহাব অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করেন। তাঁরা হলেন চার প্রখ্যাত ইমাম: আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ ও আহমাদ; তাঁদের ওপর আল্লাহর প্রশস্ত রহমত ও সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক। তাঁদের অবদান কতই না চমৎকার! তাঁরা আকাশের নক্ষত্রতুল্য, যাঁদের দিকে হাতের আঙ্গুল দিয়ে ইঙ্গিত করা হয়। প্রত্যেক আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তি তাঁদের সামনে মস্তক অবনত করে। তাঁরা ইসলামের প্রাচীরের চারদিকে হাতের কবজিতে কঙ্কণের ন্যায় পরিবেষ্টিত হয়ে আছেন। আল্লাহ যমীনকে তাঁদের পায়ের পদচিহ্ন দ্বারা সুশোভিত করেছেন। তাঁরা পূর্ব ও পশ্চিমের সকল মানুষের ওপর বিশেষ অনুগ্রহকারী; কারণ তাঁদের জ্ঞান দিগন্তময় ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিরুদ্ধবাদী ও অনুসারী সকলেই তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেছে। আল্লাহ তাঁদের এই মহৎ কর্মের জন্য তাঁদেরকে পরিপূর্ণ প্রতিদান দান করুন এবং তাঁদের আমলকে...
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ৮)
مُتقبَّلًا وسَعيَهم مَشكورًا، ولم تَزلِ الأَئمةُ الأَعلامُ -قَديمًا وحَديثًا- كلٌّ منهم مُذعِنٌ لفَضلِهم، ومُشتغِلٌ بقِراءةِ كُتبِهم.
من أجلِ ذلك قُمتُ بتَأليفِ كِتابي هذا «مَوسوعةُ الفقهِ على المَذاهبِ الأَربعةِ»، جمَعتُ فيه أَقوالَ المَذاهبِ الأَربعةِ بدءًا من الأَئمةِ إلى كلِّ عُلماءِ المَذاهبِ مِنْ المُتقدِّمينَ والمُتأخرِّينَ، وكانَ عمَلي في هذا الكِتابِ (بعدَ تَرجمةٍ عن الأَئمةِ الأَربعةِ ومُقدمةٍ ذكَرتُ فيها أَسبابَ اختِلافِهم، وهل الحقُّ واحدٌ أو كلٌّ مُجتهدٌ مُصيبٌ) ما يلي:
أولًا: أَجمعُ أَقوالَ المَذاهبِ الأَربعةِ في كلِّ مَسألةٍ.
ثانيًا: أَذكرُ الأَدلةَ التي استَدلُّوا بها سواءٌ أكانَت صَحيحةً أم ضَعيفةً، وسواءٌ من جهةِ النصِّ -قُرآنًا وسُنةً- أو مِنْ جِهةِ القِياسِ أو مِنْ غيرِها.
ثالثًا: أَذكرُ جَميعَ الأَقوالِ في كلِّ مَذهبٍ: الراجحَ والمَرجوحَ والمَشهورَ وغيرَ المَشهورِ في المَذهبِ، وكذلك الرِّواياتِ عن الإِمامِ الواحدِ أَذكرُها وأُبيِّنُ مَنْ اختارَها مِنْ أَصحابِه.
رابعًا: أَذكرُ المَصادرَ التي وَقفْتُ عليها ونقَلتُ منها أَقوالَ العُلماءِ في الهامشِ.
خامسًا: اعتَمدتُ على أَقوالِ كلِّ مَذهبٍ من كُتبِ المَذهبِ نفسِه، سواءٌ المُتقدِّمينَ منهم أم المُتأخِّرينَ.
কবুলকৃত এবং তাদের প্রচেষ্টা প্রশংসিত হোক। প্রাচীন ও আধুনিক কালের প্রখ্যাত ইমামগণ সর্বদা তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি অনুগত এবং তাদের গ্রন্থসমূহ অধ্যয়নে রত ছিলেন।
সেই কারণেই আমি আমার এই গ্রন্থ «চার মাযহাবের ফিকহ বিশ্বকোষ» রচনা করেছি। এতে আমি চার মাযহাবের ইমামগণ থেকে শুরু করে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মাযহাবী আলিমের মতামত সংগ্রহ করেছি। এই গ্রন্থে আমার কর্মপদ্ধতি (চার ইমামের জীবনী এবং একটি ভূমিকা—যাতে আমি তাঁদের মতপার্থক্যের কারণসমূহ এবং সত্য কি কেবল একটি নাকি প্রত্যেক মুজতাহিদই সঠিক, তা উল্লেখ করেছি—এর পরে) নিম্নরূপ:
প্রথমত: আমি প্রতিটি মাসআলায় চার মাযহাবের মতামতসমূহ সংগ্রহ করি।
দ্বিতীয়ত: আমি তাঁদের উপস্থাপিত দলীলসমূহ উল্লেখ করি, চাই তা সহীহ হোক বা যঈফ, এবং চাই তা সরাসরি পাঠ (নস)—কুরআন ও সুন্নাহ—থেকে হোক কিংবা কিয়াস বা অন্য কোনো মাধ্যম থেকে।
তৃতীয়ত: আমি প্রতিটি মাযহাবের সকল মতামত উল্লেখ করি: মাযহাবের অগ্রগণ্য, অনুজ্জ্বল, প্রসিদ্ধ এবং অপ্রসিদ্ধ মতামতসমূহ। একইভাবে একই ইমাম থেকে বর্ণিত বিভিন্ন বর্ণনাও আমি উল্লেখ করি এবং তাঁর অনুসারীদের মধ্যে কে সেটি গ্রহণ করেছেন তা স্পষ্ট করি।
চতুর্থত: আমি যে সকল উৎসের সন্ধান পেয়েছি এবং যেখান থেকে আলিমদের উক্তি উদ্ধৃত করেছি, তা পাদটীকায় উল্লেখ করি।
পঞ্চমত: আমি প্রতিটি মাযহাবের মতামতের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মাযহাবেরই মূল গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেছি, চাই তা পূর্ববর্তীদের রচিত হোক বা পরবর্তীদের।
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ৯)
سادسًا: أُبيِّنُ الصَّحيحَ والمُعتمَدَ والمَشهورَ في كلِّ مَذهبٍ في كلِّ مَسألةٍ وكذا الأَقوالُ الأُخرَى غيرُ المُعتمَدةِ والصَّحيحةِ في كلِّ مَذهبٍ، ولا أُرجِّحُ المَسألةَ تَرجيحًا من عِندي وإنما أُبيِّنُ الراجِحَ والمُعتمَدَ في المَذاهبِ.
سابعًا: أَقومُ بتَخريجِ الأَحاديثِ التي استدَلّوا بها وأُبيِّنُ صَحيحَها من سَقيمِها.
ثامنًا: أَعتمِدُ على كَلامِ الشيخِ الأَلبانِيِّ رحمه الله في الأَحاديثِ التي خارجَ الصَّحيحَينِ صِحةً وضَعفًا في جُلِّ الكِتابِ إن لم يَكنْ في كلِّه؛ لكيْ يَكونَ الكِتابُ على وَتيرةٍ واحِدةٍ؛ فكلُّ حَديثٍ قُلتُ فيه: صَحيحٌ أو ضَعيفٌ أو حَسنٌ أو أيُّ حُكمٍ عليه فجُلُّه على أَحكامِ الشيخِ الأَلبانِيِّ رحمه الله، والسَّببُ الذي جعَلَني أَعتمِدُ على تَحقيقِ الشيخِ الأَلبانِيِّ دونَ غيرِه أنه الوَحيدُ الذي له حُكمٌ على أَغلبِ أَحاديثِ الأَحكامِ؛ لتَحقيقِه السُّننَ الأَربعةَ التي عليها مَدارُ الأَحكامِ بعدَ الصَّحيحَينِ، ولأنِّي لمَّا قُمتُ في البِدايةِ بتَحقيقِ الأَحاديثِ بنَفسِي تَوسَّعَ الأمرُ جدًّا فوجَدْت أنَّ المَوسوعةَ ستَكونُ ضِعفَ ما هي عليه الآنَ وستَخرجُ عما وُضعَت له من بَيانِ الأَحكامِ الفِقهيةِ لا الحَديثيةِ.
وفي الخِتامِ .. يَعلمُ اللهُ أنِّي قد اجتهَدتُ في هذا الكِتابِ قدرَ استِطاعَتي وشمَّرتُ عن ساعدِ الاجتِهادِ، وطلَبتُ من اللهِ المَعونةَ والسَّدادَ، والهِدايةَ إلى سَبيلِ الرَّشادِ، وأَستَغفرُ اللهَ تَعالَى عما يَقعُ لي من الخَللِ في بعضِ المَسائلِ، فإنَّ الإِنسانَ مَحلُّ النِّسيانِ، وأَسألُ مَنْ وقَفَ عليه أن يستُرَ زلَلي؛
ষষ্ঠত: আমি প্রতিটি মাসআলায় প্রত্যেক মাযহাবের বিশুদ্ধ, নির্ভরযোগ্য এবং প্রসিদ্ধ মতগুলো বর্ণনা করি। অনুরূপভাবে প্রতিটি মাযহাবের অন্যান্য অনির্ভরযোগ্য ও অশুদ্ধ মতগুলোও উল্লেখ করি। আমি নিজের পক্ষ থেকে কোনো মাসআলার স্বতন্ত্র কোনো প্রাধান্য প্রদান করি না, বরং মাযহাবসমূহের প্রাধান্যপ্রাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য মতগুলোই স্পষ্ট করি।
সপ্তমত: তাঁরা যেসব হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, আমি সেগুলোর উৎস নির্ণয় করি এবং সেগুলোর মধ্য থেকে বিশুদ্ধ ও দুর্বল হাদিসগুলো পৃথক করে বর্ণনা করি।
অষ্টমত: সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর বাইরের হাদিসগুলোর বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আমি কিতাবের অধিকাংশ স্থানে—বরং প্রায় পুরো কিতাবেই—শাইখ আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছি; যেন কিতাবটি একই ধারায় বজায় থাকে। সুতরাং যে সকল হাদিস সম্পর্কে আমি বিশুদ্ধ, দুর্বল, হাসান বা অন্য কোনো হুকুম প্রদান করেছি, তার অধিকাংশই শাইখ আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর হুকুমের ওপর ভিত্তি করে। অন্য কাউকে ছেড়ে কেবল শাইখ আলবানি-এর যাচাই-বাছাইয়ের ওপর নির্ভর করার কারণ হলো, তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি বিধান সংক্রান্ত অধিকাংশ হাদিসের ওপর হুকুম প্রদান করেছেন; কারণ তিনি সুনানে আরবাআ-এর তাহকিক করেছেন, যার ওপর সহিহাইন-এর পর ফিকহি বিধানগুলো আবর্তিত হয়। এছাড়া শুরুতে যখন আমি নিজে হাদিসগুলোর তাহকিক করতে শুরু করেছিলাম, তখন বিষয়টি অনেক বিস্তৃত হয়ে যাচ্ছিল এবং আমি দেখলাম যে এই বিশ্বকোষটি বর্তমান আকারের চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে যাবে এবং এর মূল লক্ষ্য—অর্থাৎ হাদিস বিষয়ক আলোচনার পরিবর্তে ফিকহি বিধানসমূহ বর্ণনার যে উদ্দেশ্য—তা থেকে বিচ্যুত হবে।
পরিশেষে... আল্লাহ জানেন যে আমি আমার সাধ্যানুযায়ী এই কিতাবে পরিশ্রম করেছি এবং কঠোর প্রচেষ্টার জন্য কোমর বেঁধেছি। আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য, নির্ভুলতা এবং সঠিক পথের দিশা প্রার্থনা করেছি। কোনো মাসআলায় আমার পক্ষ থেকে যে ত্রুটি বিচ্যুতি ঘটবে তার জন্য আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, কারণ মানুষ হলো ভুল ও বিস্মৃতির আধার। আর আমি এই কিতাব পাঠকারীর কাছে অনুরোধ করছি, তিনি যেন আমার স্খলনগুলো গোপন রাখেন;
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ১০)
فإنَّ بِضاعَتي مُزجاةٌ، ولستُ من أهلِ هذا المَيدانِ، ولكنِّي مُتطفِّلٌ على ذلك، لستُ من فُرسانِ تلك المَسالكِ، وإنِّي أَسألُه تَعالى أنْ يَعفوَ مِنْ صَحائفِنا ما زلَّ به البَنانُ، أو أَخلَّ به البَيانُ، وأنْ يَتقبَّلَ مِنا ما سطَّرْناه، وأنْ يجعَلَه حُجةً لنا لا حُجةً علينا حتى نَتمَنى أنَّنا ما كتَبْناه وما قرَأْناه، اللَّهمَّ يا مُحوِّلَ الأَحوالِ حوِّلْ حالَنا إلى أَحسنِ حالٍ بحَولِك وقُوتِك يا عَزيزُ يا مُتعالِ.
وقد انتهَيْت من هذه المَوسوعةِ في أوَّلِ العَشرِ من ذي الحِجةِ لِلعامِ 1443 من هِجرةِ سَيدِ الأَنامِ مُحمدِ بنِ عبدِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، المُوافقِ 30/ 6/ 2022 من مِيلادِ المَسيحِ عليه وعلى نَبيِّنا الصَّلاةُ والسَّلامُ، وأنا في هذا الوَقتِ لم أَبلغِ الأربَعينَ من عمُرِي؛ فقد بدَأتُ في هذه المَوسوعةِ في بلَدي «مصرَ» مُحافظةِ «دِمياط» الحَبيبةِ وأنا ابنُ الرَّابعةِ والعِشرينَ، وانتَهيتُ منها في بلَدي الثانِي «تُركيا» في مَدينةِ «إِسطَنبول» وأنا في نِهايةِ عقدِي الرابِعِ ومُشرِفٌ على الأربَعينَ من عمُرِي، فاستَغرَقَت مني ما يَقرُبُ من ستةَ عشرَ عامًا، مرَرَت فيها بكلِّ ما يَتخيَّلُه الإِنسانُ وما لا يَتخيَّلُه، من مَشقَّةٍ وتَعبٍ، وسهَرِ اللَّيالي الطِّوالِ، ومن فقرٍ وبُعدٍ عن الأهلِ والأَوطانِ، والانتِقالِ من مَكتبةٍ لأُخرَى ومن مَكانٍ لآخرَ، فله الحَمدُ على أن أَكرمَني بإِتمامِها على أَكملِ وجهٍ فهو وحدَه العالِمُ كيف حبَّرْتُها تَحبيرًا، وكيف تعِبتُ فيها حتى تَخرجَ مُتقنَةً غايةَ الإِتقانِ في نَقلِ المَذاهبِ والمُعتمَدِ منها وغيرِ المُعتمَدِ، معَ
নিশ্চয়ই আমার পুঁজি অতি সামান্য, আর আমি এই ময়দানের যোগ্য ব্যক্তি নই; বরং আমি এতে এক অনধিকারপ্রবেশকারী মাত্র, আমি এই পথসমূহের অশ্বারোহীদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের আমলনামা থেকে সেই সকল ভুল ক্ষমা করে দেন যা লেখনীর স্খলনের কারণে ঘটেছে অথবা যা বর্ণনায় ত্রুটি সৃষ্টি করেছে। আর তিনি যেন আমাদের এই লেখনীকে কবুল করেন এবং একে আমাদের অনুকূলে দলিল হিসেবে গণ্য করেন, আমাদের প্রতিকূলে নয়; যাতে এমন অবস্থা না হয় যে (কিয়ামতের দিন) আমরা আকাঙ্ক্ষা করি যে আমরা এটি লিখিনি বা পড়িনি। হে আল্লাহ, হে অবস্থাসমূহের পরিবর্তনকারী! আপনার শক্তি ও সামর্থ্যের মাধ্যমে আমাদের অবস্থাকে সর্বোত্তম অবস্থায় পরিবর্তন করে দিন, হে মহা পরাক্রমশালী, হে সুউচ্চ।
আমি এই বিশ্বকোষটি সম্পন্ন করেছি সৃষ্টির সর্দার মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর হিজরি ১৪৪৩ সনের জিলহজ মাসের প্রথম দশকে, যা ঈসা মসিহ (তাঁর ওপর এবং আমাদের নবীর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর জন্মের ৩০/০৬/২০২২ তারিখের সমসাময়িক। এ সময়ে আমি এখনও আমার বয়সের চল্লিশ বছরে পৌঁছাইনি; আমি এই বিশ্বকোষটির কাজ শুরু করেছিলাম আমার প্রিয় মাতৃভূমি মিশরের 'দমিয়াত' প্রদেশে যখন আমার বয়স চব্বিশ বছর। আর আমি এটি সমাপ্ত করেছি আমার দ্বিতীয় দেশ তুরস্কের 'ইস্তাম্বুল' শহরে, যখন আমি আমার বয়সের চতুর্থ দশকের শেষ প্রান্তে এবং চল্লিশের কোঠায় পদার্পণ করছি। এতে আমার প্রায় ষোলো বছর সময় ব্যয় হয়েছে, যে সময়ে আমি মানুষের কল্পনীয় ও অকল্পনীয় সকল প্রকার শ্রম, ক্লান্তি, দীর্ঘ রজনী জাগরণ, দারিদ্র্য এবং পরিবার ও স্বদেশ থেকে বিচ্ছিন্নের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছি। এক লাইব্রেরি থেকে অন্য লাইব্রেরি এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছি। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য যিনি আমাকে এটি সর্বোত্তমভাবে সম্পন্ন করার মর্যাদা দান করেছেন; তিনি একাই অবগত আছেন যে আমি কত নিপুণভাবে এটি বিন্যস্ত করেছি এবং কতটা পরিশ্রম করেছি যাতে বিভিন্ন মাযহাব এবং সেগুলোর নির্ভরযোগ্য ও অনির্ভরযোগ্য মতসমূহ উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে এটি চূড়ান্ত পর্যায়ের নিখুঁত হয়ে প্রকাশ পায়, সাথে...
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ১১)
سُهولةِ العِبارةِ والتَّفنُّنِ في كَيفيةِ عرضِ المَسألةِ بحيثُ تَسهُلُ على طالبِ العِلمِ الاستِفادةُ منها، فأنا أَعلمُ ما يُعانِيه من كُتبِ الفقهِ المُقارَنِ مِنْ صُعوبةٍ وسُوءِ عَرضٍ، فأَسألُه سبحانه وتعالى أن يُباركَ في عمُرِي، وأن يَنفعَ بهذه المَوسوعةِ العِبادَ في عامَّةِ البِلادِ، وأن يَسلُكَ بي سَبيلَ الرَّشادِ، وأن يُلهِمَني التَّوفيقَ والسَّدادَ.
هذا وصَلِّ اللهُمَّ وسلِّمْ على سَيدِنا مُحمدٍ سَيدِ الأَنامِ، وعلى آلِه وأَصحابِه البَررةِ الكِرامِ، وأَتباعِه إلى مُنتهَى الإِسلامِ.
كتَبَه
ابنُ النَّجارِ الدِّمياطِيّ
أَبو عَمارٍ يَاسرُ بنُ أَحمدَ بنِ بَدرِ بنِ النَّجارِ
00905389108432
yasserbadr29@gmail.com
Yasserbadr40@yahoo.com
ভাষার সহজতা এবং মাসআলা উপস্থাপনের চমৎকার শৈলী যাতে জ্ঞানান্বেষীর জন্য তা থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয়; কেননা আমি জানি তুলনামূলক ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থাবলির কাঠিন্য ও দুর্বল উপস্থাপনার কারণে একজন শিক্ষার্থী কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন। তাই আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার জীবনে বরকত দান করেন, এই বিশ্বকোষের মাধ্যমে সকল দেশের বান্দাদের উপকৃত করেন, আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং আমাকে সঠিক পথ ও তাওফিক দান করেন।
পরিশেষে, হে আল্লাহ! আপনি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, পুণ্যবান ও সম্মানিত সাহাবীগণ এবং ইসলামের শেষ সময় পর্যন্ত তাঁর অনুসারীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
এটি লিখেছেন
ইবনুন নাজ্জার আদ-দিময়াতি
আবু আম্মার ইয়াসির ইবনে আহমাদ ইবনে বদর ইবনুন নাজ্জার
00905389108432
yasserbadr29@gmail.com
Yasserbadr40@yahoo.com
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تَرجَمةُ الأَئمةِ الأربَعةِ رحمهم الله
(1)
أولاً: تَرجَمةُ الإمامِ أَبي حَنيفةَ النُّعمانِ بنِ ثابِتٍ:هذا الإمامُ تَبايَنَت أَقوالُ الناسِ فيه تَبايُنًا بَليغًا، فمِن مُعظِّمٍ أشدَّ تَعظيمٍ، فمُقدِّمٍ له على جَميعِ العُلماءِ، وهم مُتعصِّبةُ الأَحنافِ، وفي مُقابلِهم مَنْ انتَقصَه وطعَنَ في حِفظِه وفَضلِه، وقد ساقَ الخَطيبُ رحمه الله في تَرجَمتِه أَقوالَ الفَريقينِ، إلا أنَّ أَسانيدَ مَنْ طعَنَ فيه الغالِبُ عليها الضَّعفُ الشَّديدُ، ومع تَتبُّعِ سِيرتِه وانتِقاءِ أَبعدِ الرِّواياتِ عن الغُلوِّ والقُصورِ، اتضَحَت لنا بفَضلِ اللهِ عز وجل الأُمورُ، وظهَرَ ما أخبَرَ به الحَربيُّ: لا يَقعُ في أَبي حَنيفةَ إلا جاهِلٌ أو حاسِدٌ
(2).
وإذا كانَ الأصلُ في المُسلمِ حُسنُ الظنِّ، فكيف بمَن شهِدَ له عُلماءُ عَصرِه الأَثباتُ بالعَدالةِ والفقهِ والشَّرفِ والفَضلِ، وكيف بمَن امتَلأتْ قُلوبُ المُسلِمينَ بمَحبَّتِه، وشُغلَت الأَلسِنةُ بالثَّناءِ عليه، وقد قالَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم: «تلك عاجلُ بُشرى المُؤمنِ» رَواه مُسلمٌ.
--------------------------------------------
চার ইমামের জীবনী আল্লাহ তাঁদের উপর রহম করুন
(১)প্রথমত: ইমাম আবু হানিফা নুমান ইবনে সাবিতের জীবনী:এই ইমাম সম্পর্কে মানুষের বক্তব্যের মধ্যে ব্যাপক মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ কেউ তাঁকে চরমভাবে সম্মান করেন এবং তাঁকে সমস্ত আলেমদের ঊর্ধ্বে স্থান দেন; তাঁরা হলেন কট্টর হানাফী অনুসারী। আবার এর বিপরীতে এমন লোকও আছেন যারা তাঁর অবমূল্যায়ন করেছেন এবং তাঁর মুখস্থশক্তি ও শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে সমালোচনা করেছেন। খতীব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ইমাম আবু হানিফার জীবনীতে উভয় পক্ষের বক্তব্যই বর্ণনা করেছেন। তবে যারা তাঁর সমালোচনা করেছেন তাদের বর্ণনাসূত্রগুলোর অধিকাংশই অত্যন্ত দুর্বল। তাঁর জীবন চরিত পর্যালোচনার মাধ্যমে এবং অতিরঞ্জন ও অবমূল্যায়ন থেকে মুক্ত বর্ণনাগুলো বাছাই করার ফলে আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা-র অনুগ্রহে আমাদের নিকট বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়েছে। এতে আল-হারবী যা বলেছিলেন তা-ই প্রকাশ পেয়েছে: "কেবল কোনো জাহেল (মূর্খ) অথবা হিংসুকই আবু হানিফার সমালোচনা করে।"
(২)যদি একজন মুসলিমের ব্যাপারে সুধারণা পোষণ করাই মূল নীতি হয়ে থাকে, তবে তাঁর ক্ষেত্রে বিষয়টি কেমন হবে যাঁর ন্যায়পরায়ণতা, ফিকহ, মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য তাঁর সমসাময়িক নির্ভরযোগ্য আলেমগণ প্রদান করেছেন? আর যাঁর ভালোবাসায় মুসলিমদের অন্তরসমূহ পরিপূর্ণ এবং যাঁর প্রশংসায় মানুষের জিহ্বা মুখরিত, তাঁর মর্যাদা কতটুকু হবে? অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তা হলো মুমিনের জন্য দুনিয়াতে আগাম সুসংবাদ।" এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الإمامُ أبو حَنفيةَ النُّعمانُ بنُ ثابِتٍ:
قالَ التاجُ السُّبكيُّ: يَنبَغي لك أيُّها المُسترشِدُ أنْ تَسلُكَ سَبيلَ الأَدبِ معَ الأَئمةِ الماضِينَ، وأنْ لا تَنظُرَ إلى كَلامِ بعضِهم في بعضٍ، إلا إذا أُتِيَ ببُرهانٍ واضحٍ، ثم إنْ قدِرتَ على التَّأويلِ وتَحسينِ الظنِّ فدونَك، وإلا فاضرِبْ صَفحًا عما جَرى بينَهم، فإنَّك لم تُخلقْ لهذا، فاشتَغلْ بما يَعنِيك، ودعْ ما لا يَعنِيك، ولا يَزالُ طالبُ العلمِ عِندي نَبيلًا حتى يَخوضَ فيما جَرى بينَ السَّلفِ الماضِينَ، ويَقضي لبعضِهم على بعضٍ، فإياكَ ثم إياكَ أن تُصغيَ إلى ما اتَّفقَ بينَ أَبي حَنيفةَ وسُفيانَ الثَّوريِّ، أو بينَ مالِكٍ وابنِ أَبي ذِئبٍ، أو بينَ أَحمدَ بنِ صالحٍ والنَّسائيِّ، أو بينَ أَحمدَ والحارسِ بنِ أسدٍ المُحاسِبيِّ
… وهَلمَّ جرًّا، إلى زَمانِ العزِّ بنِ عبدِ السَّلامِ والشَّيخِ تقيِّ الدينِ بنِ الصَّلاحِ؛ فإنَّك إذا اشتغَلتَ بذلك، خشِيتُ عليك الهَلاكَ؛ فالقومُ أَئمةٌ أَعلامٌ، ولأَقوالِهم مَحامِلُ، وربَّما لم تَفهمْ بعضَها، فليسَ لنا إلا التَّرضي وَالسُّكوتُ عمَّا جَرى بينهم، كما نَقولُ فيما جَرى بينَ الصَّحابةِ رِضوانُ اللهِ عليهم
(1).
عن يَحيى بنِ مَعينٍ قالَ: سمِعتُ يَحيى القَطانَ يَقولُ: جالَسْنا -واللهِ- أَبا حَنيفةَ، وسمِعْنا منه، وكنتُ -واللهِ- إذا نظَرتُ إليه، عرَفتُ في وجهِه أنَّه يَتقِي اللهَ عز وجل
(2).
--------------------------------------------
ইমাম আবু হানিফা আন-নুমান ইবনে সাবিত:
তাজ আল-সুবকি বলেছেন: হে হিদায়াত অন্বেষণকারী, তোমার জন্য উচিত হলো পূর্ববর্তী ইমামদের প্রতি শিষ্টাচারের পথ অবলম্বন করা এবং তাদের একজনের ব্যাপারে অন্যজনের সমালোচনার প্রতি দৃষ্টিপাত না করা, যতক্ষণ না কোনো স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপিত হয়। অতঃপর তুমি যদি (সেগুলোর অনুকূল) ব্যাখ্যা করতে এবং সুধারণা পোষণ করতে সক্ষম হও তবে তা-ই করো; অন্যথায় তাদের মধ্যে যা ঘটেছিল তা উপেক্ষা করো। কারণ তোমাকে এই কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি। সুতরাং তোমার যা প্রয়োজন তা নিয়ে ব্যস্ত থাকো এবং যা তোমার প্রয়োজন নেই তা বর্জন করো। একজন ইলম অন্বেষণকারী আমার নিকট ততক্ষণ পর্যন্ত মহৎ থাকে, যতক্ষণ না সে পূর্ববর্তী সালাফদের মধ্যে যা ঘটেছিল তাতে লিপ্ত হয় এবং একজনের বিপক্ষে অন্যজনের পক্ষে রায় প্রদান করে। সুতরাং সাবধান, এরপরও সাবধান! আবু হানিফা ও সুফিয়ান সাওরি, অথবা মালিক ও ইবনে আবি জিব, অথবা আহমদ ইবনে সালিহ ও নাসায়ি, অথবা আহমদ ও হারিস ইবনে আসাদ আল-মুহাসিবি
… এবং এভাবেই ইজ্জুদ্দিন ইবনে আবদুস সালাম ও শাইখ তাকিউদ্দীন ইবনে সালাহ-এর সময় পর্যন্ত যা কিছু ঘটেছে তাতে কান দেওয়া থেকে বিরত থাকো। কারণ তুমি যদি এসবে লিপ্ত হও, তবে আমি তোমার ধ্বংসের আশঙ্কা করি; কেননা তারা প্রথিতযশা ইমাম এবং তাদের কথাগুলোর ভিন্ন ব্যাখ্যা বা প্রেক্ষাপট রয়েছে। সম্ভবত তুমি তাদের কোনো কোনো কথা বুঝতে পারোনি, তাই আমাদের জন্য তাদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করা এবং তাদের মধ্যে যা ঘটেছিল সে সম্পর্কে নীরব থাকা ছাড়া অন্য কিছু করার নেই, যেমনটি আমরা সাহাবায়ে কিরাম (রাদিআল্লাহু আনহুম)-এর মধ্যে যা ঘটেছিল সে বিষয়ে বলে থাকি
(১)।
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া আল-কাত্তানকে বলতে শুনেছি: আল্লাহর কসম, আমরা আবু হানিফার মজলিসে বসেছি এবং তাঁর থেকে ইলম শ্রবণ করেছি। আল্লাহর কসম, আমি যখনই তাঁর দিকে তাকাতাম, তাঁর চেহারায় অনুধাবন করতে পারতাম যে তিনি মহান আল্লাহকে ভয় করেন
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وقالَ سُفيانُ بنُ عُيينةَ: ما قدِمَ مَكةَ رَجلٌ في وقتِنا أكثرَ صَلاةً من أَبي حَنيفةَ
(1).
ورَوى الخَطيبُ بسندِه أَبياتًا مدَحَ فيها ابنُ المُبارَكِ أَبا حَنيفةَ رحمه الله فقالَ:
رَأيتُ أَبا حَنيفةَ كلَّ يَومٍ
… يَزيدُ نَبالةً ويَزيدُ خَيرا
ويَنطقُ بالصَّوابِ ويَصطفيهِ
… إذا ما قالَ أهلُ الجَورِ جُورا
يُقايسُ مَنْ يُقايسُه بلُبٍّ
… فمَن ذا يَجعلُونَ له نَظيرَا
كَفانا فَقدَ حَمادٍ وكانَت
… مُصيبتُنا به أَمرًا كَبيرَا
فردَّ شَماتةَ الأَعداءِ عنَّا
… وأَبدَى بعدَه عِلماً كَثيرَا
رَأيتُ أَبا حَنيفةَ حينَ يُؤتى
… ويُطلبُ عِلمُه بَحرًا غَزيرَا
إذا ما المُشكلاتُ تَدافَعتْها
… رِجالُ العِلمِ كانَ بها بَصيرَا
(2)وبعدُ: فلَسْنا معَ مُتعصبَةِ الأَحنافِ الذين يَرفَعونَ الإمامَ أَبا حَنيفةَ فوقَ جميعِ عُلماءِ الأُمةِ، أو الذين يَعتقِدونَ أنَّ رَسولَ الله صلى الله عليه وسلم بشَّرَ به، وأنَّه لقِيَ جَمعًا من الصَّحابةِ ورَوى عنهم، كما أنَّنا كذلك لَسْنا معَ الذين يَطعَنونَ فيه ويُجرِّحونَه، ويَنسُبونَ إليه الأَقاويلَ الشَّنيعةَ ظُلمًا وبُهتانًا، بل نَعتقِدُ أنَّه إمامٌ من أَئمةِ المُسلِمينَ، طيِّبُ السِّيرةِ والسَّريرةِ، سارَت بعُلومِه الرُّكبانُ، وانتَشرَ عِلمُه في سائرِ البُلدانِ، ونُشهِدُ اللهَ عز وجل على حبِّنا له، وهو
--------------------------------------------
সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা বলেছেন: আমাদের সময়ে মক্কায় আবু হানিফার চেয়ে অধিক সালাত আদায়কারী কোনো ব্যক্তি আর আসেননি
(১)।
খতিব তার সানাদসহ এমন কিছু পংক্তি বর্ণনা করেছেন যাতে ইবনুল মুবারক আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহর প্রশংসা করে বলেছেন:
আমি আবু হানিফাকে দেখেছি প্রতিদিন
… তার মাহাত্ম্য বৃদ্ধি পায় এবং বৃদ্ধি পায় তার কল্যাণ
তিনি সত্য কথা বলেন এবং তা-ই পছন্দ করেন
… যখন অন্যায়কারীরা অন্যায্য কথা বলে
যারা তার সাথে যুক্তিতর্ক করে, তাদের সাথে তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক করেন
… সুতরাং তারা কাকে তার সমকক্ষ দাঁড় করাবে?
তিনি হাম্মাদের অভাব আমাদের মাঝে পূরণ করেছেন
… অথচ তার মৃত্যু আমাদের জন্য ছিল এক মহা বিপদ
তিনি আমাদের থেকে শত্রুদের বিদ্রূপকে প্রতিহত করেছেন
… এবং তার পরে বিপুল ইলম প্রকাশ করেছেন
আমি আবু হানিফাকে দেখেছি যখন তার কাছে আসা হয়
… এবং তার জ্ঞান অন্বেষণ করা হয়, তখন তিনি এক অথৈ সমুদ্র
যখন জটিল সমস্যাবলীর সমাধান করতে গিয়ে
… আলেমগণ হিমশিম খান, তখন তিনি সে বিষয়ে প্রজ্ঞাবান প্রমাণিত হন
(২)অতঃপর কথা হলো: আমরা সেই চরমপন্থী হানাফীদের সাথে নেই যারা ইমাম আবু হানিফাকে উম্মতের সকল আলেমের ঊর্ধ্বে স্থান দেয়, অথবা যারা বিশ্বাস করে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিয়ে সুসংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি সাহাবীগণের এক জামাতের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ও তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন; তেমনিভাবে আমরা তাদের সাথেও নেই যারা তার নিন্দা করে, তাকে অভিযুক্ত করে এবং তার প্রতি অন্যায় ও মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জঘন্য কথাবার্তা আরোপ করে। বরং আমরা বিশ্বাস করি যে, তিনি মুসলিমদের ইমামদের মধ্যে অন্যতম একজন ইমাম, যার জীবন ও অন্তর ছিল অত্যন্ত নির্মল, যার ইলম নিয়ে কাফেলাসমূহ দিগ্বিদিকে সফর করেছে এবং যার ইলম সকল জনপদে ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা তার প্রতি আমাদের ভালোবাসার ওপর মহান আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি, আর তিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
من أَئمةِ الاجتِهادِ، مَأجورٌ على كلِّ حالٍ، إما أَجرًا كامِلًا إن كانَ مُصيبًا، وإما أَجرًا ناقِصًا إن أخطَأَ، وهو مَعذورٌ إنْ أخطَأَ، والأَئمةُ الأَربعةُ الكِرامُ لهم من المَنزلةِ الخاصَّةِ في قُلوبِ المُسلِمينَ؛ لانتِفاعِ الناسِ بعُلومِهم، ولعلَّ لهم من سَريرةِ الخيرِ ما رفَعَ اللهُ بهم مَنارَهم، وأَبقَى على مرِّ الزَّمانِ ذِكرَهم، فنَسألُ الله عز وجل أن يُميتَنا على حبِّهم، وأن يَحشُرَنا في جَمعِهم يومَ يُحشرُ المَرءُ معَ من أحَبَّ، وصلِّ اللهُمَّ وبارِكْ على مُحمدٍ وآلِه وصَحبِه وسلِّمْ.
1 - اسمُه ومَولدُه وصِفتُه:
اسمُه: النُّعمانُ بنُ ثابتِ بن زُوطَى التَّيميُّ الكوفِيُّ، مَولى بَني تَميمِ بنِ ثَعلبةَ، وقيلَ: سببُ تَكنِيتِه بأَبي حَنيفةَ مُلازَمتُه للدّواةِ المُسماةِ: حَنيفةَ بلُغةِ العِراقِ.
مَولدُه: وُلدَ سنةَ ثَمانينَ بالكوفةِ، في خِلافةِ عبدِ المَلكِ بنِ مَرْوانَ، في حياةِ صِغارِ الصَّحابةِ، ورَأى أنسَ بنَ مالِكٍ لمَّا قدِمَ عليهم الكوفةَ، ولم يَثبُتْ له حرفٌ عن أحدٍ منهم.
صِفتُه: قالَ أبو يُوسفَ رحمه الله: كانَ رَبْعةً، من أَحسنِ الناسِ صورةً، وأَبلغِهم نُطقًا، وأَكملِهم إِيرادًا، وأَحلاهُم نَغْمةً، وأَبينِهم حُجةً على مَنْ يُريدُ.
وقالَ حَمادُ ولدُه: كانَ طَويلًا يَعلوهُ سُمرةٌ، جَميلًا حَسنَ الوجهِ، هَيبوبًا، لا يَتكلمُ إلا جَوابًا، ولا يَخوضُ فيما لا يَعنِيه.
তিনি ইজতিহাদকারী ইমামদের অন্তর্ভুক্ত, সব অবস্থাতেই তিনি সওয়াব বা পুরস্কার পাবেন; যদি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন তবে পূর্ণ সওয়াব, আর যদি ভুল করেন তবে আংশিক সওয়াব। আর ভুলের ক্ষেত্রে তিনি ক্ষমাযোগ্য। আর সম্মানিত চার ইমামের মুসলমানদের হৃদয়ে একটি বিশেষ মর্যাদা রয়েছে; কারণ মানুষ তাঁদের ইলম দ্বারা উপকৃত হয়েছে। আর সম্ভবত তাঁদের মধ্যে এমন কোনো অভ্যন্তরীণ কল্যাণ বা নেক আমল ছিল যার কারণে আল্লাহ তাঁদের সুখ্যাতির মিনারকে সমুন্নত করেছেন এবং মহাকালের আবর্তনেও তাঁদের আলোচনাকে অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। অতএব, আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁদের ভালোবাসার উপর আমাদের মৃত্যু দান করেন এবং তাঁদের দলের সাথে আমাদের হাশর করেন, যেদিন ব্যক্তিকে সেই লোকের সাথেই সমবেত করা হবে যাকে সে ভালোবাসত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীদের উপর রহমত, বরকত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
১ - তাঁর নাম, জন্ম ও শারীরিক গঠন:
তাঁর নাম: নুমান ইবনে সাবিত ইবনে জুতা আত-তাইমী আল-কুফী, বনু তামীম ইবনে সালাবার আযাদকৃত দাস। বলা হয়ে থাকে যে, তাঁকে আবু হানিফা উপনামে ডাকার কারণ ছিল ইরাকি ভাষায় ‘হানিফা’ নামক দোয়াত সর্বদা তাঁর সাথে রাখা।
তাঁর জন্ম: তিনি আশি হিজরি সনে কুফায় আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের খিলাফতকালে কনিষ্ঠ সাহাবীদের জীবদ্দশায় জন্মগ্রহণ করেন। আনাস ইবনে মালিক (রা.) যখন কুফায় এসেছিলেন, তখন তিনি তাঁকে দেখেছিলেন। তবে সাহাবীদের কারো কাছ থেকে কোনো একটি অক্ষর বর্ণনার বিষয়টি তাঁর ক্ষেত্রে প্রমাণিত নয়।
তাঁর শারীরিক গঠন: আবু ইউসুফ (রহ.) বলেন: তিনি মাঝারি গড়নের ছিলেন, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর আকৃতির অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বাগ্মী, সুন্দরভাবে বক্তব্য উপস্থাপনকারী, অত্যন্ত সুমিষ্ট কণ্ঠের অধিকারী এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সবচেয়ে স্পষ্ট দলীল উপস্থাপনকারী।
তাঁর পুত্র হাম্মাদ বলেন: তিনি দীর্ঘকায় ও শ্যামবর্ণের ছিলেন। তিনি দেখতে সুন্দর এবং সুদর্শন চেহারার অধিকারী ছিলেন। তিনি অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। উত্তর দেওয়া ছাড়া কথা বলতেন না এবং অনর্থক কোনো বিষয়ে লিপ্ত হতেন না।
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قالَ أَحمدُ بنُ حَجرٍ الهَيثميُّ: ولا تَنافِيَ بينَ كونِه رَبْعةً، وبينَ كونِه طَويلًا؛ لأنَّه قد يَكونُ معَ كونِه رَبْعةً أَقربَ إلى الطولِ.
وقالَ ابنُ المُباركِ: كانَ حَسنَ الوَجهِ، حَسنَ الثِّيابِ
(1).
وقالَ عبدُ الرَّحمنِ بنِ مُحمدِ بنِ المُغيرةَ: رَأيتُ أَبا حَنيفةَ شَيخًا يُفتي الناسَ بمَسجدِ الكوفةِ، على رَأسِه قَلنْسوةٌ سَوداءُ طَويلةٌ
(2).
2 - ثَناءُ العُلماءِ عليه والردُّ على من طعَنَ فيه:قالَ الفُضيلُ بنُ عِياضٍ: كانَ أَبو حَنيفةَ رَجلًا فَقيهًا، مَعروفًا بالفقهِ، مَشهورًا بالوَرعِ، واسعَ المالِ، مَعروفًا بالأَفضالِ على من يَطيفُ به، صَبورًا على تَعليمِ العلمِ بالليلِ والنَّهارِ، كثيرَ الصَّمتِ، قَليلَ الكلامِ، حتى تَردَ مَسألةٌ في حلالٍ أو حرامٍ، فكانَ يُحسِنُ أن يدلَّ على الحقِّ، هارِبًا من مالِ السُّلطانِ
(3).
وزادَ ابنُ الصَّباحِ: وكانَ إذا ورَدَت عليه مَسألةٌ فيها حَديثٍ صَحيحٍ تبِعَه، وإن كانَ عن الصَّحابةِ والتابِعينَ، وإلا قاسَ، وأحسَنَ القِياسَ
(4).
وعن أَبي بكرِ بنِ عَياشٍ قالَ: ماتَ عمرُ بنُ سَعيدٍ أَخو سُفيانَ، فأتَيْنا نُعزِّيه، فإذا المَجلسُ غاصٌّ بأَهلِه، وفيهم عبدُ اللهِ بنُ إِدريسَ، إذ أَقبَلَ أَبوحَنيفةَ في جَماعةٍ معه، فلمَّا رآهُ سُفيانُ، تَحرَّكَ من مَجلسِه، ثم قامَ فاعْتنَقَه، وأَجلسَه في مَوضعِه، وقعَدَ بينَ يدَيه. قالَ أَبو بكرٍ: فاغتَظْت عليه.
--------------------------------------------
আহমদ বিন হাজার আল-হাইতামি বলেছেন: তাঁর মাঝারি গড়নের হওয়া এবং দীর্ঘদেহী হওয়ার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই; কারণ তিনি মাঝারি গড়নের হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদেহের কাছাকাছি হতে পারেন।
ইবনুল মুবারক বলেছেন: তিনি সুন্দর চেহারার অধিকারী এবং চমৎকার পোশাক পরিহিত ছিলেন
(১)।
আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুগিরা বলেছেন: আমি আবু হানিফাকে কুফার মসজিদে একজন প্রবীণ শায়খ হিসেবে মানুষকে ফতোয়া দিতে দেখেছি, তাঁর মাথায় ছিল একটি লম্বা কালো টুপি
(২)।
২ - তাঁর সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের প্রশংসা এবং যারা তাঁর সমালোচনা করেছেন তাদের প্রতিবাদ:ফুদাইল বিন ইয়াদ বলেছেন: আবু হানিফা ছিলেন একজন ফকিহ ব্যক্তি, ফিকহ শাস্ত্রে সুপরিচিত, তাকওয়া ও পরহেজগারির জন্য প্রসিদ্ধ, অঢেল সম্পদের অধিকারী, তাঁর সান্নিধ্যে আসা ব্যক্তিদের প্রতি অনুগ্রহের জন্য সুখ্যাত, দিবা-রাত্রি ইলম শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে ধৈর্যশীল, অত্যন্ত নীরবতা পালনকারী, অল্পভাষী, যতক্ষণ না হালাল বা হারামের কোনো মাসআলা উপস্থিত হতো। তখন তিনি চমৎকারভাবে সত্যের দিশা দিতেন, আর তিনি সুলতানের ধন-সম্পদ থেকে বিমুখ থাকতেন
(৩)।
ইবনুল সাব্বাহ আরও বর্ণনা করেছেন: তাঁর নিকট যখন এমন কোনো মাসআলা আসত যাতে সহিহ হাদিস বিদ্যমান, তিনি সেটি অনুসরণ করতেন, চাই তা সাহাবী কিংবা তাবিঈদের থেকে বর্ণিত হোক না কেন; অন্যথায় তিনি কিয়াস করতেন এবং অত্যন্ত নিপুণ কিয়াস করতেন
(৪)।
আবু বকর বিন আইয়াশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সুফিয়ানের ভাই উমর বিন সাঈদ ইন্তেকাল করলেন, আমরা তাঁকে শোকবার্তা জানাতে গেলাম। মজলিস লোকে লোকারণ্য ছিল, তাঁদের মধ্যে আবদুল্লাহ বিন ইদরিসও উপস্থিত ছিলেন। এমন সময় আবু হানিফা একদল সঙ্গীসহ উপস্থিত হলেন। সুফিয়ান যখন তাঁকে দেখলেন, তিনি নিজ স্থান থেকে নড়ে উঠলেন, তারপর উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে আলিঙ্গন করলেন এবং তাঁকে নিজের জায়গায় বসিয়ে নিজে তাঁর সামনে বসলেন। আবু বকর বলেন: আমি তাঁর (সুফিয়ানের) ওপর রাগান্বিত হলাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقالَ ابنُ إِدريسَ: ويحَك! ألا ترَى؟ فجلَسْنا حتى تَفرَّقَ الناسُ، فقُلتُ لعبدِ اللهِ بنِ إِدريسَ: لا تَقمْ حتى نَعلمَ ما عندَه في هذا. فقُلتُ: يا أَبا عبدِ اللهِ، رَأيتُك اليومَ فعَلْت شيئًا أَنكرْتُه، وأَنكرَه أَصحابُنا عليك. قالَ: وما هو؟ قُلتُ: جاءَك أَبو حَنيفةَ، فقُمتَ إليه، وأَجلسْتَه في مَجلسِك، وصنَعتَ له صُنيعًا بَليغًا، وهذا عندَ أَصحابِنا مُنكَرٌ.
فقالَ: ما أَنكرْتَ من ذاك؟ هذا رَجلٌ من العلمِ بمَكانٍ، فإن لم أَقمْ لعِلمِه، قُمتُ لسِنِّه، وإن لم أَقمْ لسِنِّه، قُمتُ لفِقهِه، وإن لم أَقمْ لفِقهِه، قُمتُ لوَرعِه، فأَحجَمَني، فلم يَكنْ عِندي جَوابٌ
(1).
وعن أَبي وَهبٍ مُحمدِ بنِ مُزاحِمٍ قالَ: سمِعْت عبدَ اللهِ بنَ المُبارَكِ يَقولُ: رَأيتُ أَعبدَ الناسِ، ورَأيتُ أَورعَ الناسِ، ورَأيتُ أَعلمَ الناسِ، ورَأيتُ أَفقهَ الناسِ، فأما أَعبدُ الناسِ فعَبدُ العزيزِ بنُ أَبي رَوادٍ، وأما أَورعُ الناسِ فالفُضيلُ بنُ عِياضٍ، وأما أَعلمُ الناسِ فسُفيانُ الثَّوريُّ، وأما أَفقهُ الناسِ فأَبو حَنيفةَ.
ثم قالَ: ما رَأيتُ في الفقهِ مِثلَه
(2).
وعن يَحيى بنِ مَعينٍ قالَ: كانَ أَبو حَنيفةَ ثِقةً، لا يُحدِّثُ بالحَديثِ إلا بما يَحفُظُه، ولا يُحدِّثُ بما لا يَحفظُ
(3).
--------------------------------------------
ইবনে ইদ্রিস বললেন: তোমার জন্য আক্ষেপ! তুমি কি দেখছ না? এরপর আমরা বসে রইলাম যতক্ষণ না লোকজন চলে গেল। আমি আবদুল্লাহ ইবনে ইদ্রিসকে বললাম: এখান থেকে উঠবেন না যতক্ষণ না আমরা এ বিষয়ে তাঁর মনোভাব জানতে পারি। আমি বললাম: হে আবু আবদুল্লাহ, আজ আমি আপনাকে এমন কিছু করতে দেখেছি যা আমি অপছন্দ করেছি এবং আমাদের সঙ্গীরাও আপনার এই কাজের সমালোচনা করেছেন। তিনি বললেন: সেটি কী? আমি বললাম: আবু হানিফা আপনার নিকট আসলেন, আর আপনি তাঁর সম্মানে উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁকে নিজের আসনে বসালেন ও তাঁর প্রতি অত্যন্ত গভীর সম্মান প্রদর্শন করলেন, অথচ আমাদের সঙ্গীদের নিকট এটি আপত্তিকর বিষয়।
তিনি বললেন: এতে তোমার আপত্তির কী আছে? এই ব্যক্তি ইলমের ক্ষেত্রে এক উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। যদি আমি তাঁর ইলমের কারণে দণ্ডায়মান না হই, তবে তাঁর বয়সের সম্মানে দাঁড়াব; যদি তাঁর বয়সের জন্য না দাঁড়াই, তবে তাঁর ফিকহের (প্রজ্ঞা) সম্মানে দাঁড়াব; আর যদি তাঁর ফিকহের জন্য না দাঁড়াই, তবে তাঁর তাকওয়ার (আল্লাহভীতি) কারণে দাঁড়াব। এভাবে তিনি আমাকে নিরুত্তর করে দিলেন এবং আমার নিকট কোনো জবাব ছিল না
(১)।
আবু ওয়াহাব মুহাম্মদ ইবনে মুজাহিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি: আমি মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইবাদতকারী দেখেছি, শ্রেষ্ঠ খোদাভীরু দেখেছি, সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী দেখেছি এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ফকিহ দেখেছি। শ্রেষ্ঠ ইবাদতকারী হলেন আবদুল আজিজ ইবনে আবি রাওয়াদ, শ্রেষ্ঠ খোদাভীরু হলেন ফুযাইল ইবনে ইয়াজ, সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী হলেন সুফিয়ান সাওরি এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ফকিহ হলেন আবু হানিফা।
অতঃপর তিনি বললেন: ফিকহশাস্ত্রে আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি
(২)।
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু হানিফা ছিলেন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), তিনি কেবল সেই হাদিসই বর্ণনা করতেন যা তাঁর সুসংরক্ষিত (মুখস্থ) থাকত এবং যা তাঁর মুখস্থ থাকত না তা তিনি বর্ণনা করতেন না
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وعن أَبي وَهبٍ مُحمدِ بنِ مُزاحِمٍ قالَ: سمِعتُ عبدَ اللهِ بنَ المُبارَكِ يَقولُ: لَولا أنَّ اللهَ أَعانَني بأَبي حَنيفةَ وسُفيانَ، كُنْتُ كسائرِ الناسِ
(1).
وعن الشافِعيِّ قالَ: قيلَ لمالِكٍ: هل رَأيتُ أَبا حَنيفةَ؟ قالَ: نَعم، رَأيتُ رَجلًا لو كلَّمَك في هذه الساريةِ أن يَجعلَها ذَهبًا، لقامَ بحُجتِه
(2).
وعن قَيسِ بنِ الرَّبيعِ قالَ: كانَ أَبو حَنيفةَ ورِعًا تَقيًّا مُفضَّلًا على إِخوانِه
(3).
وقالَ شَريكُ: كانَ أَبو حَنيفةَ طَويلَ الصَّمتِ، كَثيرَ العَقلِ
(4).
وقالَ يَزيدُ بنُ هارونَ: ما رَأيتُ أَحدًا أَحلمَ من أَبي حَنيفةَ
(5).
وعن أَبي مُعاويةَ الضَّريرِ قالَ: حبُّ أَبي حَنيفةَ من السُّنةِ
(6).
وقالَ الشافِعيُّ: الناسُ في الفقهِ عِيالٌ على أَبي حَنيفةَ
(7).
وقالَ الذَّهبيُّ: وكانَ من أَذكياءِ بَني آدمَ، جمَعَ الفقهَ، والعِبادةَ، والوَرعَ، والسَّخاءَ، وكانَ لا يَقبلُ جَوائزَ الدَّولةِ
(8).
--------------------------------------------
আবু ওয়াহাব মুহাম্মদ বিন মুযাহিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি: আল্লাহ যদি আবু হানিফা ও সুফিয়ানের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য না করতেন, তবে আমি সাধারণ মানুষের মতোই থাকতাম
(১).
ইমাম শাফেঈ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইমাম মালেককে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: আপনি কি আবু হানিফাকে দেখেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি এমন এক ব্যক্তিকে দেখেছি, তিনি যদি এই খুঁটিটি সোনায় পরিণত করার বিষয়ে আপনার সাথে আলোচনা করতেন, তবে তিনি স্বীয় দলিলের মাধ্যমে তা প্রমাণ করে দিতেন
(২).
কায়েস বিন রাবী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু হানিফা ছিলেন অত্যন্ত পরহেজগার, খোদাভীরু এবং তার সমসাময়িকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ
(৩).
শারীক বলেন: আবু হানিফা দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকতেন এবং তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ছিলেন
(৪).
ইয়াজিদ বিন হারুন বলেন: আমি আবু হানিফার চেয়ে অধিক ধৈর্যশীল কাউকে দেখিনি
(৫).
আবু মুয়াবিয়া আদ-দারীর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু হানিফাকে ভালোবাসা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত
(৬).
ইমাম শাফেঈ বলেন: ফিকহ শাস্ত্রে সকল মানুষ আবু হানিফার মুখাপেক্ষী
(৭).
ইমাম যাহাবী বলেন: তিনি ছিলেন মানবজাতির অন্যতম মেধাবী ব্যক্তি। তিনি ফিকহ, ইবাদত, তাকওয়া ও দানশীলতার সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন এবং তিনি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার গ্রহণ করতেন না
(৮).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقالَ ضِرارُ بنُ صُردَ: سُئلَ يَزيدُ بنُ هارونَ أيُّهما أَفقهُ: الثَّوريُّ أو أَبو حَنيفةَ؟ فقالَ: أَبو حَنيفةَ أَفقهُ، وسُفيانُ أَحفظُ للحَديثِ
(1).
قالَ في هامشِ «السِّير»: وأما ما يُؤثَرُ عن النَّسائيِّ وابنِ عَديٍّ من تَضعيفِهما لأَبي حَنيفةَ من جِهةِ حِفظِه، فهو مَردودٌ لا يُعتدُّ به في جَنبِ تَوثيقِ أَئمةِ الجَرحِ والتَّعديلِ، من أَمثالِ عليِّ بنِ المَدينيِّ، ويَحيى بنِ مَعينٍ، وشُعبةَ، وإِسرائيلَ بنِ يُونسَ، ويَحيى بنِ آدمَ، وابنِ داودَ الخَرْيبيِّ، والحَسنِ ابن صالحٍ وغيرِهم، فهؤلاء كلُّهم مُعاصرِونَ لأبي حَنيفةَ، أو قَريبو العَهدِ به، وهم أَعلمُ الناسِ به، وأَعلمُ من النَّسائيِّ وابنِ عَديٍّ وأَمثالِهما من المُتأخِّرينَ عن أَبي حَنيفةَ بكَثيرٍ كالدَّارقُطنيِّ الذي وُلدَ بعدَ مِائتَي سنةٍ من وَفاةِ أبي حَنيفةَ، فقولُ هؤلاء الأَئمةِ الأَقربُ والأَعلمُ وأَحرى بالقَبولِ، وقولُ المُتأخِّرينَ زمنًا أَجدرُ بالرَّمي في حَضيضِ الخُمولِ.
وقد نقَلَ الشَّيخُ ابنُ حَجرٍ المَكيُّ في «الخيرات الحسان» (ص: 34) قولَ شُعبةَ بنِ الحَجاجِ في أَبي حَنيفةَ: كانَ -واللهِ- حَسنَ الفَهمِ، جَيدَ الحِفظِ. وهذا نصٌّ صَريحٌ في قُوةِ حِفظِه، صادِرٌ عمَّن هو مَشهودٌ له بالإِمامةِ وبالتَّدينِ والتَّشددِ في نَقدِ الرِّجالِ، وبهذا القولِ الرَّشيدِ يَسقُطُ كلُّ ما ادَّعاهُ المُتعصِّبونَ والحاقِدونَ، من مُتقدِّمٍ ومُتأخِّرٍ، من ضَعفِ هذا الإمامِ العَظيمِ
(2).
--------------------------------------------
দিরার ইবনে সুরদ বলেন: ইয়াযিদ ইবনে হারুনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, সাওরি না আবু হানিফা—কে অধিক ফকিহ? তিনি উত্তর দিলেন: আবু হানিফা অধিক ফকিহ, আর সুফিয়ান হাদিস সংরক্ষণে (হিফয) অধিক পারদর্শী
(১)।
‘আস-সিয়ার’ গ্রন্থের টীকায় বলা হয়েছে: ইমাম নাসায়ি এবং ইবনে আদি থেকে আবু হানিফার মুখস্থ শক্তির ব্যাপারে যে দুর্বলতার কথা বর্ণিত হয়েছে, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। জারহ ও তা’দিলের (হাদিস বর্ণনাকারী যাচাই শাস্ত্রের) ইমামগণের সমর্থনের বিপরীতে এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। যেমন আলী ইবনুল মাদিনি, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, শু’বা, ইসরাইল ইবনে ইউনুস, ইয়াহইয়া ইবনে আদম, ইবনে দাউদ আল-খারায়িবি, হাসান ইবনে সালিহ এবং অন্যান্যরা। এরা সবাই ছিলেন ইমাম আবু হানিফার সমসাময়িক অথবা তাঁর পরবর্তী নিকটবর্তী সময়ের। তাঁরা তাঁর সম্পর্কে সবচাইতে বেশি অবগত ছিলেন। তাঁরা ইমাম নাসায়ি, ইবনে আদি এবং তাঁদের মতো আবু হানিফার অনেক পরের আলেমদের তুলনায় অনেক বেশি জ্ঞানী ছিলেন, যেমন দারা কুতনি; যিনি আবু হানিফার ইন্তেকালের দুইশত বছর পর জন্মগ্রহণ করেছেন। অতএব, এই নিকটবর্তী এবং অধিক জ্ঞানী ইমামদের বক্তব্যই অধিকতর গ্রহণযোগ্য এবং গ্রহণের অধিক দাবিদার। আর কালানুক্রমিকভাবে অনেক পরে আসা ব্যক্তিদের বক্তব্য গুরুত্বহীন হিসেবে বর্জনযোগ্য।
শায়খ ইবনে হাজার মক্কি তাঁর ‘আল-খাইরাতুল হিসান’ (পৃষ্ঠা: ৩৪) গ্রন্থে আবু হানিফা সম্পর্কে শু’বা ইবনুল হাজ্জাজের উক্তি উদ্ধৃত করেছেন: "আল্লাহর কসম! তিনি উত্তম বুঝশক্তিসম্পন্ন এবং প্রখর মুখস্থ শক্তির অধিকারী ছিলেন।" তাঁর মুখস্থ শক্তির প্রবলতার ব্যাপারে এটি একটি সুস্পষ্ট দলিল, যা এমন একজনের পক্ষ থেকে এসেছে যিনি ইমামত, দ্বীনদারি এবং বর্ণনাকারীদের কঠোর সমালোচনার ক্ষেত্রে সর্বজনস্বীকৃত। এই সঠিক বক্তব্যের মাধ্যমে অতীত ও বর্তমানের গোঁড়া ও বিদ্বেষ পোষণকারীদের দাবিকৃত এই মহান ইমামের সমস্ত দুর্বলতার অভিযোগ অসার প্রমাণিত হয়
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقالَ السُّبكيُّ: ضَرورةٌ نافِعةٌ لا تَراها في شيءٍ من كُتبِ الأُصولِ، فإنَّك إذا سمِعتَ أنَّ الجَّرحَ مُقدَّمٌ على التَّعديلِ، ورَأيتَ الجَّرحَ والتَّعديلَ، وكُنتَ غِرًّا بالأُمورِ، أو فَدمًا مُقتصِرًا على مَنقولِ الأُصولِ، حَسِبتَ أنَّ العَملَ على جَرحِه، فإيَّاك والحذرَ كلَّ الحذرِ من هذا الحُسبانِ، بل الصَّوابُ عندَنا أن مَنْ ثبَتَت إِمامتُه وعَدالتُه، وكثُرَ مادِحوه ومُزكُّوه، وندُرَ جارِحوه، وكانَت هناكَ قَرينةٌ دالَّةٌ على سَببِ جَرحِه، مِنْ تَعصبٍّ مَذهبيٍّ أو غيرِه، فإنَّا لا نَلتفِتُ إلى الجَرحِ فيه، ونَعملُ فيه بالعَدالةِ، وإلا فلو فتَحْنا هذا البابَ، وأخَذْنا تَقديمَ الجَرحِ على إِطلاقِه، لَما سلِمَ لنا أَحدٌ من الأَئمةِ، وإذا ما من إمامٍ إلا وقد طعَنَ فيه طاعِنونَ، وهلَكَ فيه الهالِكونَ
(1).
3 - عِبادتُه رحمه الله:
عن أسدِ بنِ عَمرٍو: أنَّ أَبا حَنيفةَ رحمه الله صلَّى العِشاءَ والصُّبحَ بوُضوءٍ أَربعينَ سَنةً
(2).
وعن بِشرِ بنِ الوَليدِ عن القاضِي أَبي يُوسفَ قالَ: بينَما أنا أَمشي معَ أَبي حَنيفةَ، إذ سمِعْت رَجلًا يَقولُ لآخرَ: هذا أَبو حَنيفةَ لا يَنامُ اللَّيلَ. فقالَ أَبو حَنيفةَ: واللهِ، لا يُتحدَّثُ عني بما لم أَفعلْ، فكانَ يُحيِي اللَّيلَ صلاةً وتَضرُّعًا ودُعاءً
(3).
--------------------------------------------
আস-সুবকী বলেন: এটি একটি উপকারী আবশ্যিক বিষয় যা আপনি উসুল শাস্ত্রের কোনো কিতাবে পাবেন না। কেননা আপনি যখন শুনবেন যে ‘জারহ’ (সমালোচনা) ‘তাদীল’ (প্রশংসা)-এর ওপর প্রাধান্য পায়, আর আপনি যখন জারহ ও তাদীল উভয়টিই দেখবেন এবং আপনি যদি এ বিষয়ে অনভিজ্ঞ হন অথবা উসুল শাস্ত্রের বর্ণিত বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ কোনো স্থূলবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি হন, তবে আপনি ধারণা করবেন যে তার জারহ-এর ওপরই আমল করতে হবে। খবরদার! এই ধারণা থেকে পুরোপুরি সতর্ক থাকুন। বরং আমাদের নিকট সঠিক কথা হলো, যার ইমামত ও ন্যায়নিষ্ঠা (আদল) প্রমাণিত হয়েছে, যার প্রশংসাকারী ও প্রত্যয়নকারীর সংখ্যা অনেক এবং যার সমালোচকের সংখ্যা অতি নগণ্য, আর সেখানে যদি তাঁর সমালোচনার কারণ হিসেবে মাযহাবী গোঁড়ামি বা অন্য কিছুর আলামত পাওয়া যায়, তবে আমরা তাঁর ব্যাপারে সেই সমালোচনার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করব না এবং তাঁর ন্যায়নিষ্ঠার (আদল) ওপরই আমল করব। অন্যথায় আমরা যদি এই দরজা উন্মুক্ত করি এবং ঢালাওভাবে জারহ-কে প্রাধান্য দেওয়ার নীতি গ্রহণ করি, তবে আমাদের ইমামদের কেউই আমাদের নিকট নিরাপদ থাকবেন না। কারণ এমন কোনো ইমাম নেই যার ব্যাপারে সমালোচনাকারীরা সমালোচনা করেনি এবং যার কারণে ধ্বংসপ্রাপ্তরা ধ্বংস হয়নি।
(১).
৩ - তাঁর ইবাদত আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন:
আসাদ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত: আবু হানিফা আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন দীর্ঘ চল্লিশ বছর এশার অযু দিয়ে ফজরের সালাত আদায় করেছেন।
(২).
বিশর ইবনুল ওয়ালিদ থেকে বর্ণিত, তিনি কাজী আবু ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদা আমি আবু হানিফার সাথে হাঁটছিলাম, এমন সময় শুনতে পেলাম এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে বলছে, ‘ইনি আবু হানিফা, যিনি রাতে ঘুমান না।’ তখন আবু হানিফা বললেন, ‘আল্লাহর কসম, আমার ব্যাপারে এমন কিছু প্রচার করা হবে না যা আমি করি না।’ এরপর থেকে তিনি সালাত, রোনাজারি এবং দোয়ার মাধ্যমে রাত জেগে ইবাদত করতেন।
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ২২)
وعن المُثنَّى بنِ رَجاءٍ قالَ: جعَلَ أَبو حَنيفةَ على نَفسِه إن حلَفَ باللهِ صادِقًا أن يَتصدَّقُ بدِينارٍ، وكانَ إذا أَنفقَ على عِيالِه نَفقةً، تَصدَّقَ بمِثلِها
(1).
وقالَ أَبو عاصِمٍ النَّبيلُ: كانَ أَبو حَنيفةَ يُسمَّى الوَتِد؛ لكَثرةِ صَلاتِه
(2).
وعن يَحيى بنِ عبدِ الحَميدِ الحِمانِيِّ عن أَبيه: أنَّه صحِبَ أَبا حَنيفةَ سِتةَ أَشهرٍ، قالَ: فما رَأيتُه صلَّى الغَداةَ إلا بوُضوءِ عِشاءِ الآخِرةِ، وكانَ يَختِمُ كلَّ لَيلةٍ عندَ السَّحرِ
(3).
وعن القاسِمِ بنِ مَعنٍ: أنَّ أَبا حَنيفةَ قامَ لَيلةً يُردِّدُ قولَه تَعالَى: {بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهَى وَأَمَرُّ} [القمر: 46] ويَبكي ويَتضرَّعُ إلى الفَجرِ
(4).
وقالَ الفَضلُ بنُ دُكينٍ: رَأيتُ جَماعةً من التابِعينَ وغيرِهم، فما رَأيتُ أَحسنَ صلاةً من أَبي حَنيفةَ، ولقد كانَ قبلَ الدُّخولِ في الصلاةِ يَبكي ويَدعو
(5).
وقالَت أمُّ وَلدٍ لأَبي حَنيفةَ: ما توسَّدَ فِراشًا بليلٍ منذُ عرَفْته، وإنَّما كانَ نَومُه بينَ الظُّهرِ والعَصرِ بالصَّيفِ، وأولَ اللَّيلِ بمَسجدِه في الشِّتاءِ
(6).
وقالَ ابنُ أَبي رَوادٍ: ما رَأيتُ أَصبَرَ على الطَّوافِ والفُتيا بمَكةَ منه، إنَّما كانَ كلَّ اللَّيلِ والنَّهارِ في طَلبِ الآخرةِ والنَّجاةِ، ولقد شاهَدتُه عشْرَ لَيالٍ،
--------------------------------------------
মুসান্না ইবনে রাজা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু হানিফা নিজের ওপর এই নিয়ম নির্ধারণ করেছিলেন যে, যদি তিনি আল্লাহর নামে সত্য কসম করেন, তবে তিনি এক দিনার সদকা করবেন। আর তিনি যখন তাঁর পরিবারের জন্য কোনো অর্থ ব্যয় করতেন, তখন সমপরিমাণ অর্থ সদকা করতেন
(১)।
আবু আসিম আন-নাবিল বলেন: অতিরিক্ত সালাত আদায়ের কারণে আবু হানিফাকে 'আল-ওয়াতাদ' (খুঁটি) বলা হতো
(২)।
ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল হামিদ আল-হিমানি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ছয় মাস আবু হানিফার সান্নিধ্যে ছিলেন। তিনি বলেন: আমি তাঁকে কখনো ফজরের সালাত আদায় করতে দেখিনি ইশার ওজু ছাড়া (অর্থাৎ তিনি সারা রাত জাগ্রত থাকতেন)। আর তিনি প্রতি রাতে শেষ রাতে কুরআন খতম করতেন
(৩)।
কাসিম ইবনে মা'ন থেকে বর্ণিত যে, আবু হানিফা এক রাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহ তাআলার এই বাণীটি বারবার তিলাওয়াত করছিলেন: {বরং কিয়ামত তাদের প্রতিশ্রুত সময় এবং কিয়ামত হবে অত্যন্ত ভয়াবহ ও তিক্ত} [সূরা আল-কামার: ৪৬] এবং তিনি ফজর পর্যন্ত কাঁদছিলেন ও রোনাজারি করছিলেন
(৪)।
ফজল ইবনে দুকাইন বলেন: আমি তাবেয়ি এবং অন্যদের একটি দল দেখেছি, কিন্তু আবু হানিফার চেয়ে সুন্দরভাবে সালাত আদায় করতে আর কাউকে দেখিনি। তিনি সালাত শুরু করার আগে কাঁদতেন এবং দোয়া করতেন
(৫)।
আবু হানিফার একজন উম্মে ওয়ালাদ (সন্তানবতী দাসী) বলেন: আমি যখন থেকে তাঁকে চিনেছি, তিনি রাতের বেলা কখনো বিছানায় শোেননি। তাঁর ঘুম ছিল কেবল গ্রীষ্মকালে জোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে, আর শীতকালে রাতের প্রথম ভাগে তিনি তাঁর মসজিদে (নামাজের জায়গায়) ঘুমাতেন
(৬)।
ইবনে আবি রাওয়াদ বলেন: মক্কায় তাওয়াফ এবং ফতোয়া প্রদানের কাজে তাঁর চেয়ে ধৈর্যশীল আর কাউকে আমি দেখিনি। তিনি দিন-রাত কেবল আখেরাত অন্বেষণ এবং মুক্তির চিন্তায় মগ্ন থাকতেন। আমি তাঁকে দশ রাত পর্যবেক্ষণ করেছি,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فما رَأيتُه نامَ بالليلِ، ولا هدَأَ ساعةً من نَهارٍ، من طَوافٍ وصلاةٍ أو تَعليمٍ
(1).
وعن سُفيانَ بنِ عُيينةَ قالَ: ما قدِمَ مَكةَ رَجلٌ في وقتِنا أَكثرَ صلاةً من أَبي حَنيفةَ
(2).
4 - وَرعُه رحمه الله:
عن عبدِ اللهِ بنِ المُبارَكِ قالَ: قدِمتُ الكوفةَ، فسأَلتُ عن أَورعِ أَهلِها فقالوا: أَبو حَنيفةَ
(3).
وقالَ مَكيُّ بنُ إِبراهيمَ: جالَستُ الكوفِيِّينِ، فما رَأيتُ أَورعَ من أَبي حَنيفةَ
(4).
وعن عليِّ بنِ حَفصٍ البَزارِ قالَ: كانَ حَفصُ بنُ عبدِ الرَّحمنِ شَريكَ أَبي حَنيفةَ، وكانَ أَبو حَنيفةَ يُجهِّزُ عليه، فبعَثَ إليه رِفقةً بمَتاعٍ، وأَعلمَه أن في ثَوبِ كذا وكذا عَيبًا، فإذا بعْتَه فبيِّنْ، فباعَ حَفصٌ المَتاعَ ونسِيَ أن يُبيِّنَ، ولم يُعلِمْ لمَن باعَه، فلمَّا علِمَ أَبو حَنيفةَ تَصدَّقَ بثَمنِ المَتاعِ كلِّه
(5).
5 - سَماحتُه وكَرمُه رحمه الله:
عن قَيسِ بنِ الرَّبيعِ قالَ: كانَ أَبو حَنيفةَ رَجلًا وَرعًا، فَقيهًا مَحسودًا، كَثيرَ الصِّلةِ والبِرِّ لكلِّ من لجَأَ إليه، كَثيرَ الأَفضالِ على إِخوانِه
(6).
--------------------------------------------
আমি তাকে রাতে ঘুমাতে দেখিনি এবং দিনের কোনো এক মুহূর্তও তাকে তাওয়াফ, সালাত কিংবা শিক্ষাদানে বিরত থাকতে দেখিনি
(১)।
সুফইয়ান ইবনে উয়াইনা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের সময়ে আবু হানিফার চেয়ে অধিক সালাত আদায়কারী কোনো ব্যক্তি মক্কায় পদার্পণ করেনি
(২)।
৪ - তাঁর পরহেজগারি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি):
আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি কুফায় আগমন করলাম এবং সেখানকার সবচেয়ে আল্লাহভীরু ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তারা বললেন: আবু হানিফা
(৩)।
মক্কি ইবনে ইব্রাহিম বলেন: আমি কুফাবাসীদের সাথে উঠাবসা করেছি, তবে আমি আবু হানিফার চেয়ে অধিক পরহেজগার কাউকে দেখিনি
(৪)।
আলি ইবনে হাফস আল-বাযযার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: হাফস ইবনে আব্দুর রহমান ইমাম আবু হানিফার ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন। আবু হানিফা তাকে মালপত্র সরবরাহ করতেন। একবার তিনি তার কাছে কিছু কাপড় পাঠালেন এবং তাকে জানিয়ে দিলেন যে, অমুক অমুক কাপড়ে ত্রুটি রয়েছে, তাই বিক্রির সময় তা ক্রেতাকে স্পষ্ট করে দিয়ো। হাফস পণ্যটি বিক্রি করলেন কিন্তু ত্রুটি বলতে ভুলে গেলেন এবং কার কাছে বিক্রি করেছেন তাও শনাক্ত করতে পারলেন না। ইমাম আবু হানিফা যখন এটি জানতে পারলেন, তখন তিনি সেই পণ্যের সমুদয় মূল্য সদকা করে দিলেন
(৫)।
৫ - তাঁর উদারতা ও বদান্যতা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি):
কায়েস ইবনুর রাবি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু হানিফা ছিলেন একজন পরহেজগার ও ফকিহ ব্যক্তি যাকে ঈর্ষা করা হতো। তার নিকট আশ্রয়প্রার্থী প্রত্যেকের প্রতি তিনি অত্যন্ত সহমর্মী ও সদাচারী ছিলেন এবং তার ভাইদের প্রতি তিনি ছিলেন অত্যন্ত দানশীল
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وعن حَفصِ بنِ حَمزةَ القُرشيِّ قالَ: كانَ أَبو حَنيفةَ ربَّما مرَّ به الرَّجلُ، فيَجلِسُ إليه لغيرِ قَصدٍ ولا مُجالَسةٍ، فإذا قامَ سأَلَ عنه، فإن كانَت به فاقةٌ وصَلَه، وإن مرِضَ عادَه، حتى يَجرُّه إلى مواصَلتِه، وكانَ أَكرمَ الناسِ مُجالَسةً
(1).
6 - اتِّباعُه للسُّنةِ رحمه الله:
عن سَعيدِ بنِ سالمٍ البَصريِّ قالَ: سمِعتُ أَبا حَنيفةَ يَقولُ: لَقيتُ عَطاءً بمَكةَ فسأَلتُه عن شيءٍ، فقالَ: مِنْ أين أتيْتَ؟ قُلتُ: من أَهلِ الكوفةِ. قالَ: أنتَ من القَريةِ الذين فرَّقوا دِينَهم وكانوا شِيعًا؟ قُلتُ: نَعم. قالَ: فمِن أيِّ الأَصنافِ أنتَ؟ قُلتُ: ممَّن لا يَسبُّ السَّلفِ، ويُؤمنُ بالقَدرِ، ولا يُكفّرُ أَحدًا بذَنبٍ. قالَ: فقالَ لي عَطاءٌ: عرَفتَ، فلزَمْ
(2).
قالَ العَلامةُ أَحمدُ بنُ حَجرٍ الهَيثميُّ المَكيُّ: اعلَمْ أنَّه يَتعيَّنُ عليك أنْ لا تَفهَمَ من أَقوالِ العُلماءِ عن أَبي حَنيفةَ وأَصحابِه: أنَّهم أَصحابُ الرَّأيِ، أنَّ مُرادَهم بذلك تَنقيصَهم، ولا نِسبتَهم إلى أنَّهم يُقدِّمونَ رَأيَهم على سُنةِ رَسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ولا على قَولِ أَصحابِه؛ لأنَّه بَراءٌ من ذلك.
فقد جاءَ عن أَبي حَنيفةَ من طُرقٍ كَثيرةٍ ما مُلخَّصُه: أنَّه أولًا يَأخذُ بما في القُرآنِ، فإن لم يَجدْ، فبالسُّنةِ، فإن لم يَجدْ، فبقَولِ الصَّحابةِ، فإن اختَلفوا، أخَذَ بما كانَ أَقربَ إلى القُرآنِ أو السُّنةِ من أَقوالِهم، ولم يَخرجْ عليهم،
--------------------------------------------
হাফস ইবন হামযাহ আল-কুরাশী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইমাম আবু হানিফার পাশ দিয়ে হয়তো কোনো ব্যক্তি অতিক্রম করত, এরপর কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য বা বৈঠকের ইচ্ছা ছাড়াই তাঁর কাছে বসত। যখন সে ব্যক্তি উঠে চলে যেত, তখন তিনি তার সম্পর্কে খোঁজ নিতেন। যদি তার কোনো অভাব থাকত, তবে তিনি তাকে সাহায্য করতেন। আর যদি সে অসুস্থ হতো, তবে তিনি তাকে দেখতে যেতেন। এভাবে তিনি তাকে নিজের সাহচর্যে টেনে নিতেন। আর তিনি ছিলেন মজলিসের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদার ও মহানুভব।
(১).
৬ - সুন্নাহর প্রতি তাঁর অনুসরণ আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন:
সাঈদ ইবন সালিম আল-বাসরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি: আমি মক্কায় আতা (ইবন আবি রাবাহ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁকে কোনো একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: আপনি কোথা থেকে এসেছেন? আমি বললাম: কুফার অধিবাসীদের মধ্য থেকে। তিনি বললেন: আপনি কি সেই জনপদ থেকে এসেছেন যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ডিত করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে আপনি কোন দলের অন্তর্ভুক্ত? আমি বললাম: আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা সালাফদের (পূর্বসূরিদের) গালি দেয় না, তাকদীরের ওপর বিশ্বাস রাখে এবং পাপের কারণে কাউকে কাফির সাব্যস্ত করে না। তিনি বলেন: তখন আতা আমাকে বললেন: আপনি সত্য চিনেছেন, সুতরাং এর ওপর অটল থাকুন।
(২).
আল্লামা আহমাদ ইবন হাজার আল-হাইতামী আল-মাক্কী বলেন: জেনে রাখুন যে, ইমাম আবু হানিফা এবং তাঁর অনুসারীদের সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের এই কথা থেকে যে, তাঁরা 'আসহাবুর রায়' (যুক্তিনির্ভর মতের অনুসারী), আপনার জন্য এটি বোঝা আবশ্যক নয় যে তাঁদের উদ্দেশ্য এর মাধ্যমে তাঁদের হেয় প্রতিপন্ন করা, অথবা তাঁদের দিকে এমন বিষয় সম্বন্ধ করা যে তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ বা তাঁর সাহাবীগণের বাণীর ওপর নিজেদের রায় বা অভিমতকে প্রাধান্য দেন; কারণ তিনি এ জাতীয় অপবাদ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
কেননা ইমাম আবু হানিফা থেকে বহু সূত্রে যা বর্ণিত হয়েছে তার সারসংক্ষেপ হলো: তিনি প্রথমে কুরআনে যা আছে তা গ্রহণ করতেন। যদি তাতে না পেতেন, তবে সুন্নাহ থেকে গ্রহণ করতেন। যদি তাতেও না পেতেন, তবে সাহাবীগণের বাণী গ্রহণ করতেন। যদি তাঁরা (সাহাবীগণ) মতভেদ করতেন, তবে তাঁদের মতামতের মধ্য থেকে যেটি কুরআন বা সুন্নাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হতো, তিনি সেটিই গ্রহণ করতেন এবং তাঁদের (মতামতের) বাইরে যেতেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فإن لم يَجدْ لأَحدٍ منهم قولًا، لم يَأخذْ بقولِ أحدٍ من التابِعينَ، بل يَجتِهدُ كما اجتَهدوا.
وقالَ الفُضيلُ بنُ عِياضٍ: إنْ كانَ في المَسألةِ حَديثٌ صَحيحٌ تبِعَه، وإن كانَ عن الصَّحابةِ أو التابِعينَ فكذلك، وإلا قاسَ فأَحسَنَ القِياسَ.
وقالَ ابنُ المُبارَكِ «روايةً عنه»: إذا جاءَ الحَديثُ عن رَسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فعلى الرَّأسِ والعَينِ، وإذا جاءَ عن الصَّحابةِ اختَرْنا، ولم نَخرجْ عن أَقوالِهم، وإذا جاءَ عن التابِعينَ، زاحَمْناهم.
وعنه أيضًا: عَجبًا للناسِ! يَقولونَ: أَفتى بالرَّأيِ؟ ما أُفتي إلا بالأثَرِ.
وعنه أيضًا: ليسَ لأَحدٍ أنْ يَقولَ برَأيهِ معَ كِتابِ اللهِ تَعالَى، ولا معَ سُنةِ رَسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، ولا ما أَجمَعَ عليه الصَّحابةُ، وأما ما اختَلفوا فيه، فنَتخيَّرُ من أَقاويلِهم أَقربَه إلى كِتابِ الله تَعالَى أو إلى السُّنةِ ونَجتهِدُ، وما جاوزَ ذلك فالاجتِهادُ بالرَّأيِ لمَن عرَفَ الاختِلافَ وقاسَ، وعلى هذا كانوا
(1).
7 - مِحنتُه رحمه الله:
عن عبدِ الله بنِ عَمرٍو: أنَّ ابنَ هُبيرةَ ضرَبَ أَبا حَنيفةَ مائةَ سَوطٍ وعشَرةَ أَسواطٍ في أنْ يليَ القَضاءَ فأَبى، وكانَ ابنُ هُبيرةَ عاملَ مَرْوانَ على العِراقِ في زَمنِ بَني أُميةَ
(2).
--------------------------------------------
যদি তিনি তাঁদের কারো কোনো বক্তব্য না পেতেন, তবে তিনি তাবেঈদের কারো বক্তব্য গ্রহণ করতেন না, বরং তিনি ইজতিহাদ করতেন যেমন তাঁরা ইজতিহাদ করেছিলেন।
ফুযাইল বিন ইয়াদ বলেন: যদি মাসআলাটিতে কোনো সহীহ হাদীস থাকত, তবে তিনি সেটি অনুসরণ করতেন। আর যদি তা সাহাবী বা তাবেঈদের থেকে বর্ণিত হতো, তবে সেটির ক্ষেত্রেও তাই হতো। অন্যথায় তিনি কিয়াস করতেন এবং অত্যন্ত নিপুণভাবে কিয়াস করতেন।
ইবনুল মুবারক তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেন: যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কোনো হাদীস আসত, তখন তা শিরোধার্য ও সাদরে গ্রহণীয় হতো। আর যখন তা সাহাবীগণের পক্ষ থেকে আসত, তখন আমরা (তাঁদের বক্তব্যের মধ্য থেকে) নির্বাচন করতাম এবং তাঁদের বক্তব্যের বাইরে যেতাম না। আর যখন তা তাবেঈদের পক্ষ থেকে আসত, তখন আমরা তাঁদের সাথে ইজতিহাদে অংশ নিতাম (প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতাম)।
তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে: মানুষের জন্য বিস্ময়! তারা বলে: তিনি কি নিজস্ব মতের ভিত্তিতে ফতোয়া দেন? আমি তো কেবল আছারের (রেওয়ায়াত) ভিত্তিতেই ফতোয়া দিয়ে থাকি।
তাঁর থেকে আরও বর্ণিত: মহান আল্লাহর কিতাব, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ এবং সাহাবীগণ যে বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তার উপস্থিতিতে কারো নিজস্ব মত ব্যক্ত করার অধিকার নেই। আর তাঁরা যে বিষয়ে মতভেদ করেছেন, তাঁদের সেই বক্তব্যগুলোর মধ্য থেকে আমরা আল্লাহর কিতাব অথবা সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী বিষয়টি পছন্দ করি এবং ইজতিহাদ করি। এর অতিরিক্ত যা কিছু আছে তা সেই ব্যক্তির জন্য ব্যক্তিগত রায়ের মাধ্যমে ইজতিহাদ করা, যে মতভেদ সম্পর্কে অবগত এবং কিয়াস করতে সক্ষম। আর এর ওপরই তাঁরা প্রতিষ্ঠিত ছিলেন
(১)।
৭ - তাঁর পরীক্ষা (মিহনা), আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন:
আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত: ইবনে হুবায়রা আবু হানিফাহকে একশত দশটি বেত্রাঘাত করেছিলেন যেন তিনি বিচারকের পদ গ্রহণ করেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ইবনে হুবায়রা উমাইয়া যুগে ইরাকে মারওয়ানের গভর্নর ছিলেন
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وعن يَحيى بنِ عبدِ الحَميدِ عن أَبيه قالَ: كانَ أَبو حَنيفةَ يَخرجُ كلَّ يومٍ -أو قالَ: بينَ الأَيامِ- فيُضرَبُ ليَدخلَ في القَضاءِ فأَبى، ولقد بَكى في بعضِ الأَيامِ، فلمَّا أُطلقَ قالَ لي: كانَ غمُّ والدَتي أَشدُّ عليَّ من الضَّربِ
(1).
وعن بِشرِ بنِ الوَليدِ قالَ: طلَبَ المَنصورُ أَبا حَنيفةَ فأَرادَه على القَضاءِ وحلَفَ ليَليَنَّ فأَبى، وحلَفَ إنِّي لا أَفعلُ. فقالَ الرَّبيعُ الحاجبُ: تَرى أَميرَ المُؤمِنينَ يَحلِفُ وأنتَ تَحلِفُ؟ قالَ: أَميرُ المُؤمِنينَ على كَفارةِ يَمينِه أَقدرُ منِّي، فأمَرَ به إلى السِّجنِ، فماتَ فيه ببَغدادَ
(2).
وقيلَ: دفَعَه أَبو جَعفرٍ إلى صاحبِ شُرطتِه حُمَيدٍ الطُّوسيِّ، فقالَ: يا شَيخُ، إنَّ أَميرَ المُؤمِنينَ يَدفعُ إليَّ الرَّجلَ، فيَقولُ لي: اقتُلْه، أو اقطْعَه، أو اضرِبْه، ولا أَعلمُ بقصَّتِه، فماذا أَفعلُ؟ فقالَ: هل يَأمرُك أَميرُ المُؤمِنينَ بأمرٍ وقد وجَبَ، أو بأمرٍ لم يَجبْ؟ قالَ: بل بما قد وجَبَ. قالَ: فبادِرْ إلى الواجِبِ
(3).
وعن مُغيثِ بنِ بُديلٍ قالَ: دَعا المَنصورُ أَبا حَنيفةَ إِلى القَضاءِ فامتَنعَ، فقالَ: أَترغبُ عما نحنُ فيه؟ فقالَ: لا أصلُحُ، قالَ: كذَبتَ، قالَ: فقد حكَمَ أَميرُ المُؤمِنينَ عليَّ أنْ لا أصلُحَ إنْ كنتُ كاذِبًا، وإن كنْتُ صادقًا فقد أخبَرْتُكم أنِّي لا أَصلحُ، فحبَسَه.
--------------------------------------------
ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল হামিদ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু হানিফা প্রতিদিন বের হতেন—অথবা তিনি বলেছেন: কয়েক দিন অন্তর—এবং বিচারকের পদ গ্রহণ করার জন্য তাকে প্রহার করা হতো, কিন্তু তিনি অস্বীকার করতেন। কোনো কোনো দিন তিনি কেঁদে ফেলতেন। যখন তাকে মুক্তি দেওয়া হলো, তিনি আমাকে বললেন: "আমার মায়ের কষ্ট আমার কাছে এই প্রহারের ব্যথার চেয়েও কঠিন ছিল"
(১).
বিশর ইবনুল ওয়ালিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মনসুর আবু হানিফাকে তলব করলেন এবং তাকে বিচারকের দায়িত্ব দিতে চাইলেন। তিনি (মনসুর) কসম খেলেন যে তাকে অবশ্যই এ দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে, কিন্তু তিনি অস্বীকার করলেন এবং কসম খেলেন যে তিনি তা করবেন না। তখন দ্বাররক্ষী রবী বললেন: "আপনি দেখছেন যে আমিরুল মুমিনীন কসম খাচ্ছেন আর আপনিও কসম খাচ্ছেন?" তিনি (আবু হানিফা) বললেন: "আমিরুল মুমিনীন তার কসমের কাফফারা প্রদানে আমার চেয়ে বেশি সক্ষম।" তখন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলো এবং তিনি সেখানেই বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন
(২).
বর্ণিত আছে যে: আবু জাফর (মনসুর) তাকে তার পুলিশ প্রধান হুমাইদ আত-তুসির নিকট সমর্পণ করলেন। হুমাইদ বললেন: "হে শায়খ, আমিরুল মুমিনীন আমার কাছে কোনো ব্যক্তিকে সোপর্দ করেন এবং আমাকে বলেন: তাকে হত্যা করো, অথবা তার অঙ্গচ্ছেদ করো, অথবা তাকে প্রহার করো, অথচ আমি তার অপরাধের বিবরণ জানি না; এমতাবস্থায় আমি কী করব?" তিনি বললেন: "আমিরুল মুমিনীন কি আপনাকে এমন কোনো কাজের আদেশ দেন যা (শরয়ি দণ্ড হিসেবে) ওয়াজিব হয়েছে, নাকি যা ওয়াজিব হয়নি?" তিনি বললেন: "বরং যা ওয়াজিব হয়েছে।" তিনি বললেন: "তবে সেই ওয়াজিব পালনে ত্বরান্বিত হোন"
(৩).
মুগিস ইবনে বুদাইল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মনসুর আবু হানিফাকে বিচারকের পদের জন্য আহ্বান করলেন কিন্তু তিনি অস্বীকৃতি জানালেন। তিনি বললেন: "আমরা যে রাজকার্যে আছি তা কি আপনি অপছন্দ করছেন?" তিনি বললেন: "আমি এর যোগ্য নই।" তিনি (মনসুর) বললেন: "আপনি মিথ্যা বলছেন।" তিনি বললেন: "আমিরুল মুমিনীন নিজেই আমার ব্যাপারে ফয়সালা করে দিলেন যে আমি যোগ্য নই যদি আমি মিথ্যাবাদী হই (কেননা মিথ্যাবাদী বিচারক হওয়ার যোগ্য নয়); আর যদি আমি সত্যবাদী হই, তবে তো আমি আপনাকে জানিয়েই দিয়েছি যে আমি যোগ্য নই।" এরপর তিনি তাকে কারারুদ্ধ করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ورَوى نحوَها إِسماعيلُ بنُ أَبي أُويسٍ عن الرَّبيعِ الحاجبِ. وفيها قالَ أَبو حَنيفةَ: واللهِ، ما أَنا بمَأمونِ الرِّضى فكيفَ أكونُ مَأمونَ الغَضبِ؟! فلا أَصلُحُ لذلك. قالَ المَنصورُ: كذَبتَ، بل تَصلُحُ. فقالَ: كيف تُحلُّ أنْ تُولِّي من يَكذِبُ؟
وقيلَ: إنَّ أَبا حَنيفةَ ولِيَ القَضاءَ، فقَضى قَضيةً واحِدةً، وبقِيَ يَومينِ، ثم اشتْكى سِتةَ أَيامٍ، وتُوفِّيَ.
وقالَ الفَقيهُ أَبو عبدِ الله الصَّيْمريُّ: لم يَقبلِ العَهدَ بالقَضاءِ، فضُربَ وحُبسَ، وماتَ في السِّجنِ
(1).
8 - شُيوخُه وتَلامِذتُه رحمه الله:
شُيوخُه: قالَ الحافظُ: رَوى عن عَطاءِ بنِ أَبي رَباحٍ، وعاصمِ بنِ أَبي النَّجودِ، وعَلقمَةَ بن مَرثَدٍ، وحَمادِ بنِ أَبي سُليمانَ، والحَكمِ بنِ عُتيبةَ، وسَلمةَ بنِ كُهيلٍ، وأَبي جَعفرِ بنِ عليٍّ، وعليِّ بنِ الأَقمرِ، وزِيادِ بنِ عِلاقةَ، وسَعيدِ بنِ مَسروقٍ الثَّوريِّ، وعَديِّ بنِ ثابتٍ الأَنصاريِّ، وعَطيةَ بنِ سَعيدٍ العُوفِيِّ، وأَبي سُفيانَ السَّعديِّ، وعبدِ الكَريمِ أَبي أُميةَ، ويَحيى بنِ سَعيدٍ الأَنصاريِّ، وهِشامِ بنِ عُروةَ، وآخَرينَ
(2).
تَلامذَتُه: قالَ الحافظُ: وعنه ابنُه حَمادٌ، وإِبراهيمُ بنُ طَهمانَ، وحَمزةُ ابن حَبيبٍ الزَّياتُ، وزُفرُ بنُ الهُذيلِ، وأَبو يُوسفَ القاضِي، وأَبو يَحيى
--------------------------------------------
অনুরূপ বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে আবি উয়াইস রাবি আল-হাজিব থেকে। এতে আবু হানিফা বলেছেন: আল্লাহর কসম, আমি সন্তুষ্ট থাকা অবস্থায়ই নিরাপদ নই, তাহলে রাগান্বিত অবস্থায় কীভাবে নিরাপদ থাকব?! তাই আমি এর জন্য যোগ্য নই। মনসুর বললেন: আপনি মিথ্যা বলেছেন, বরং আপনি যোগ্য। তিনি বললেন: যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে তাকে আপনি কীভাবে দায়িত্ব অর্পণ করা বৈধ মনে করেন?
বলা হয়েছে যে, আবু হানিফা বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, এরপর তিনি একটি মামলার ফয়সালা করেন এবং দুই দিন অতিবাহিত করেন, এরপর ছয় দিন অসুস্থ থাকার পর ইন্তেকাল করেন।
ফকিহ আবু আব্দুল্লাহ আস-সাইমারী বলেছেন: তিনি বিচারকের দায়িত্বের অঙ্গীকার গ্রহণ করেননি, ফলে তাঁকে প্রহার করা হয় ও বন্দি করা হয় এবং তিনি কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেন
(১)।
৮ - তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রগণ রহিমাহুল্লাহ:
শিক্ষকগণ: হাফেজ বলেছেন: তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ, আসেম ইবনে আবি নাজুদ, আলকামা ইবনে মারসাদ, হাম্মাদ ইবনে আবি সুলাইমান, আল-হাকাম ইবনে উতাইবা, সালামা ইবনে কুহাইল, আবু জাফর ইবনে আলী, আলী ইবনে আল-আকমার, জিয়াদ ইবনে ইলাকা, সাঈদ ইবনে মাসরুক আস-সাওরী, আদি ইবনে সাবিত আল-আনসারী, আতিয়্যাহ ইবনে সাঈদ আল-আউফী, আবু সুফিয়ান আস-সাদী, আব্দুল কারীম আবু উমাইয়াহ, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী, হিশাম ইবনে উরওয়াহ এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন
(২)।
ছাত্রগণ: হাফেজ বলেছেন: তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁর পুত্র হাম্মাদ, ইব্রাহিম ইবনে তাহমান, হামজা ইবনে হাবিব আজ-জাইয়াত, জুফার ইবনে আল-হুদাইল, আবু ইউসুফ আল-কাজি, আবু ইয়াহইয়া
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الحِمانِيُّ، وعِيسى بن يُونسَ، ووَكيعٌ، ويَزيدُ بنُ زُريعٍ، وأسدُ بنُ عَمرِو بنِ البَجليُّ، وحَكامُ بنُ يَعلى بن سَلمٍ الرَّازيُّ، وخارِجةُ بنُ مَصعبٍ، وعبدُ المَجيدِ بنُ أَبي رَوادٍ، وعليُّ بنُ مُسهِرٍ، ومُحمدُ بنُ بِشرٍ العَبديِّ، وعبدُ الرَّزاقِ، ومُحمدُ بنُ الحَسنِ الشَّيبانِيُّ، ومُصعبُ بنُ المِقدامِ، ويَحيى بنُ يَمانٍ، وأَبو عِصمةَ نُوحُ بنُ أَبي مَريمَ، وأَبو عبدِ الرَّحمنِ المُقرِي، وأَبو عاصمٍ، وآخَرونَ
(1).
9 - بَراعتُه رحمه الله في الفقهِ:
قالَ يَحيى بنُ سَعيدٍ القَطانُ: لا نَكذِبُ اللهَ، ما سمِعْنا أَحسنَ مِنْ رَأيِ أَبي حَنيفةَ
(2).
وقالَ عليُّ بنُ عاصمٍ: لو وُزنَ عِلمُ أَبي حَنيفةَ بعِلمِ أَهلِ زَمانِه، لرجَحَ عليهم
(3).
وقالَ حَفصُ بنُ غِياثٍ: كَلامُ أَبي حَنيفةَ في الفقهِ أَدقُّ مِنْ الشَّعرِ، لا يَعيبُه إِلا جاهلٌ
(4).
--------------------------------------------
হিমানি, ঈসা বিন ইউনুস, ওয়াকি, ইয়াযীদ বিন যুরাই, আসাদ বিন আমর বিন আল-বাজালি, হাকাম বিন ইয়ালা বিন সালম আর-রাযী, খারিজাহ বিন মুসআব, আব্দুল মাজিদ বিন আবি রাওয়াদ, আলী বিন মুসহির, মুহাম্মাদ বিন বিশর আল-আবদী, আব্দুর রাজ্জাক, মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান আশ-শাইবানী, মুসআব বিন আল-মিকদাম, ইয়াহইয়া বিন ইয়ামান, আবু ইসমাহ নূহ বিন আবি মারইয়াম, আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরি, আবু আসিম এবং অন্যান্যরা
(১).
৯ - ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) পারদর্শিতা:
ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান বলেন: আমরা আল্লাহর সাথে মিথ্যা বলব না, আমরা আবু হানিফার মতের চেয়ে উত্তম কোনো মত শুনিনি
(২).
আলী বিন আসিম বলেন: যদি আবু হানিফার জ্ঞানকে তাঁর সমসাময়িকদের জ্ঞানের সাথে ওজন করা হতো, তবে তা তাদের উপর ভারী হতো
(৩).
হাফস বিন গিয়াছ বলেন: ফিকহ শাস্ত্রে আবু হানিফার আলোচনা চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম, কেবল একজন মূর্খই তাঁর সমালোচনা করে
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ورُويَ عن الأَعمشِ: أنَّه سُئلَ عن مَسألةٍ فقالَ: إنَّما يُحسِنُ هذا النُّعمانُ ابنُ ثابتٍ الخَزازُ، وأظُنُّه بُورِكَ له في عَملِه
(1).
وقالَ جَريرٌ: قالَ لي مُغيرةُ: جالِسْ أَبا حَنيفةَ تَفقَهْ؛ فإنَّ إِبراهيمَ النَّخعيَّ لو كانَ حيًّا لجالَسَه
(2).
وقالَ ابنُ المُبارَكِ: أَبو حَنيفةَ أَفقهُ الناسِ
(3).
وقالَ الشافعِيُّ: الناسُ في الفقهِ عِيالٌ على أَبي حنيفةَ.
قالَ الذَّهبيُّ: الإِمامةُ في الفقهِ ودَقائقِه مُسلَّمةٌ إلى هذا الإمامِ، وهذا أَمرٌ لا شكَّ فيه.
وليسَ يَصحُّ في الأَذهانِ شيءٌ
… إذا احْتاجَ النَّهارُ إلى دَليلِ
وسِيرتُه تَحتمِلُ أن تُفردَ في مُجلدَينِ رضي الله عنه ورحِمَه
(4).
10 - وَفاتُه رحمه الله:
قالَ الذَّهبيُّ في «العبر»: وقد رُوي أنَّ المَنصورَ سَقاه السمَّ، فماتَ شَهيدًا رحمه الله
(5).
--------------------------------------------
আমাশ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: “নিশ্চয়ই এই নুমান ইবনে সাবিত আল-খাযযায এটি ভালো জানেন, আর আমি মনে করি তার কর্মে বরকত দান করা হয়েছে।”
(১).
জারীর বলেন: মুগীরাহ আমাকে বলেছেন: “তুমি আবু হানিফার মজলিসে বসো, তবেই ফিকহ বুঝতে পারবে; কেননা ইবরাহীম আন-নাখায়ী যদি জীবিত থাকতেন, তবে তিনিও তাঁর মজলিসে বসতেন।”
(২).
ইবনুল মুবারক বলেন: “আবু হানিফা মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ফকীহ।”
(৩).
ইমাম শাফেয়ী বলেন: “ফিকহ শাস্ত্রে সকল মানুষ আবু হানিফার মুখাপেক্ষী।”
যাহাবী বলেন: “ফিকহ এবং এর সূক্ষ্ম রহস্যসমূহের ইমামত এই ইমামের প্রতি সর্বজনস্বীকৃত, আর এটি এমন এক বিষয় যাতে কোনো সন্দেহ নেই।”
আর বিচারবুদ্ধিতে কোনো কিছুই সঠিক বলে গণ্য হয় না... যখন দিনের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য দলিলের প্রয়োজন হয়।
আর তাঁর জীবনী স্বতন্ত্রভাবে দুই খণ্ডে রচনার যোগ্য, আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে রহম করুন।
(৪).
১০ - তাঁর মৃত্যু (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন): যাহাবী ‘আল-ইবার’ গ্রন্থে বলেন: “বর্ণিত হয়েছে যে, মনসুর তাঁকে বিষ পান করিয়েছিলেন, ফলে তিনি শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাঁকে রহম করুন।”
(৫).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وقالَ الهَيثميُّ: رَوى جَماعةٌ أنَّه رُفعَ إليه قِدحٌ فيه سمٌّ ليَشربَ، فامتَنعَ وقالَ: إنِّي لأعلَمُ ما فيه، ولا أُعِينُ على قتلِ نَفسي، فطُرحَ، ثم صُبَّ في فِيه قَهرًا، فماتَ.
وقيلَ: إنَّ ذلك كانَ بحَضرةِ المَنصورِ، وصحَّ أنَّه لمَّا أَحسَّ بالمَوتِ سجَدَ، فخرَجَت نَفسُه وهو ساجدٌ.
وقيلَ: الامتِناعُ عن القَضاءِ لا يُوجبُ للمَنصورِ أن يَقتُلَه هذه القِتلةَ الشَّنيعةَ؟ وإنَّما السَّببُ في ذلك أن بعضَ أَعداءِ أَبي حَنيفةَ دسَّ إِلى المَنصورِ أنَّ أَبا حَنيفةَ هو الذي أَثارَ عليه إِبراهيمَ بنَ عبدِ اللهِ بنِ الحَسنِ بنِ الحُسينِ ابنِ عليٍّ رضي الله عنه الخارجَ عليه بالبَصرةِ، فخافَ خَوفًا شَديدًا، ولم يَقرَّ له قَرارٌ، وأنَّه قوَّاه بمالٍ كَثيرٍ، فخشِيَ المَنصورُ من مَيلِه إِلى إِبراهيمَ؛ لأنَّه -أَعني: أَبا حَنيفةَ- كانَ وَجيهًا، ذا مالٍ واسعٍ من التِّجارةِ، فطلَبَه لبَغدادَ، ولم يَجسُرْ على قَتلِه بغيرِ سَببٍ، فطلَبَ منه القَضاءَ معَ عِلمِه بأنَّه لا يَقبلُه؛ ليَتوصَّلَ بذلك إلى قتلِه
(1).
واتفَقوا على أنَّه -رَحمةُ اللهِ عليهِ- ماتَ سَنةَ مائةٍ وخَمسينَ، عن سَبعينَ سنةً، قالَ كَثيرونُ: وكانَ موتُه في رَجبٍ، وقيلَ: في شَعبانَ، وقيلَ: نصفَ شَوالٍ، ولم يُخلفْ غيرَ ولدِه حَمادٍ
(2).
--------------------------------------------
হাইতামী বলেন: একদল বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর কাছে বিষযুক্ত একটি পানপাত্র পেশ করা হয়েছিল যেন তিনি তা পান করেন। তিনি তা পান করতে অস্বীকার করলেন এবং বললেন: "এতে কী আছে তা আমি নিশ্চিতভাবেই জানি, আর আমি নিজের জীবননাশের ব্যাপারে কোনো সহায়তা করব না।" ফলে তা ফেলে দেওয়া হলো, এরপর জোরপূর্বক তা তাঁর মুখে ঢেলে দেওয়া হলো এবং তিনি ইন্তেকাল করলেন।
বলা হয়: এই ঘটনাটি মানসুরের উপস্থিতিতে ঘটেছিল। আর এটি প্রমাণিত যে, যখন তিনি মৃত্যু অনুভব করলেন, তখন তিনি সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন এবং সিজদারত অবস্থাতেই তাঁর রুহ কবজ করা হলো।
বলা হয়: বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো মানসুরের জন্য তাঁকে এমন জঘন্য পদ্ধতিতে হত্যা করার পর্যাপ্ত কারণ হতে পারে না। বরং এর প্রকৃত কারণ ছিল এই যে, ইমাম আবু হানিফার জনৈক শত্রু মানসুরের কাছে এই তথ্য পাচার করেছিল যে, আবু হানিফাহ-ই বসরার বিদ্রোহী ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন হাসান বিন হুসাইন বিন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে মানসুরের বিরুদ্ধে উসকে দিয়েছেন। এতে মানসুর ভীষণ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং তাঁর স্থিরতা নষ্ট হয়ে যায়। আরও বলা হয়েছিল যে, আবু হানিফাহ তাঁকে প্রচুর অর্থ সাহায্য দিয়ে শক্তিশালী করেছেন। মানসুর ইব্রাহিমের প্রতি আবু হানিফার পক্ষপাতের বিষয়ে শঙ্কিত ছিলেন; কারণ তিনি—অর্থাৎ আবু হানিফাহ—ছিলেন বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন এবং ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত বিশাল সম্পদের অধিকারী। তাই মানসুর তাঁকে বাগদাদে তলব করেন, কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া তাঁকে হত্যা করার সাহস পাননি। তাই তিনি জেনে-বুঝেই তাঁকে বিচারকের পদ গ্রহণের প্রস্তাব দেন এই নিশ্চিত বিশ্বাসে যে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করবেন; যেন এর মাধ্যমে তাঁকে হত্যা করার একটি উছিলা খুঁজে পাওয়া যায়
(১)।
সকলেই একমত হয়েছেন যে, তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—১৫০ হিজরি সনে সত্তর বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। অনেকেই বলেছেন: তাঁর মৃত্যু হয়েছিল রজব মাসে; কেউ বলেন: শাবান মাসে; আবার কেউ বলেন: শাওয়াল মাসের মাঝামাঝিতে। তিনি তাঁর পুত্র হাম্মাদ ছাড়া আর কোনো সন্তান রেখে যাননি
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ثانيًا: مالِكُ بنُ أَنسٍ إمامُ دارِ الهِجرةِ:مالِكُ بنُ أَنسٍ رحمه الله، نَجمُ السُّننِ، ووارِثُ العُلومِ النَّبويةِ، والسُّننِ المُصطَفويةِ، في مَدينةِ رَسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم.
قالَ الإمامُ الذَّهبيُّ: قد كانَ هذا الإمامُ من الكُبراءِ والسُّعداءِ، والسادةِ العُلماءِ ذا حِشمةٍ وتَجمُّلٍ وعَبيدٍ، ودارٍ فاخِرةٍ، ونِعمةٍ ظاهِرةٍ، ورِفعةٍ في الدُّنيا والآخِرةِ، كانَ يَقبلُ الهَدايا، ويَأكلُ طَيبًّا ويَعملُ صالِحًا، وما أَحسَنَ قَولَ ابنِ المُبارَكِ فيه:
صَموتٌ إذا ما الصَّمتُ زيَّنَ أَهلَه
… وفتَّاقُ أبَكارِ الكَلامِ المُختَّمِ
وَعى ما وَعى القُرآنُ من كلِّ حكمَةٍ
… وسِيطَت له الآدابُ باللَّحمِ والدَّمِ
(1)وقالَ أَبو مُصعبٍ: كانوا يَزدحِمونَ على بابِ مالِكٍ، حتى يُقتَتلوا من الزَّحمِ، وكُنا نَكونُ عندَه فلا يُكلِّمُ ذا ذا، ولا يَلتفِتُ ذا إِلى ذا، والناسُ قابِلونَ برُءوسِهم هكذا، وكانَت السَّلاطينُ تَهابُه، وهم قابِلونَ منه ومُستمِعونَ، وكانَ يَقولُ: لا ونَعم، ولا يُقالُ له: من أين قُلتَ هذا؟!
(2).
وقالَ بعضُهم واصِفًا مالِكًا رحمه الله:
يَدعُ الجَوابَ ولا يُراجَعُ هَيبَةً
… والسَّائلُونَ نَواكِسُ الأَذقانِ
نورُ الوَقارِ وعزُّ سُلطانِ التُّقى
… فهُو المَهيبُ وليسَ ذا سُلطانِ
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: মালিক ইবনে আনাস, হিজরত ভূমির (মদীনার) ইমাম:মালিক ইবনে আনাস (রহিমাহুল্লাহ), সুন্নাহর উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শহরে নবুওয়াতের জ্ঞান ও মোস্তফায়ী সুন্নাহর উত্তরাধিকারী।
ইমাম আয-যাহাবী বলেন: এই ইমাম ছিলেন বরেণ্য ও সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত এবং উলামাদের নেতৃস্থানীয়; তিনি গাম্ভীর্য, সৌন্দর্য, সেবকদল, বিলাসবহুল অট্টালিকা, দৃশ্যমান নিয়ামত এবং দুনিয়া ও আখেরাতে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তিনি উপহার গ্রহণ করতেন, উত্তম আহার করতেন এবং সৎকর্ম সম্পাদন করতেন। ইবনুল মুবারক তাঁর সম্পর্কে কতই না চমৎকার বলেছেন:
তিনি মৌন থাকেন যখন মৌনতা তার অধিকারীদের অলঙ্কৃত করে
… আর তিনি ছিলেন মোহরযুক্ত নিগূঢ় কথার উন্মোচনকারী
কুরআন যে হিকমত ধারণ করেছে তিনি তা আত্মস্থ করেছেন
… এবং শিষ্টাচার তাঁর রক্ত ও মাংসের সাথে মিশে গিয়েছিল
(১)আবু মুসআব বলেন: লোকেরা মালিকের দরজায় এমন ভিড় জমাতো যে, ভিড়ের চাপে তারা লড়াই করার উপক্রম হতো। আমরা তাঁর নিকট উপস্থিত থাকতাম কিন্তু কেউ কারো সাথে কথা বলত না, কেউ কারো দিকে ফিরেও তাকাত না, আর মানুষ তাদের মাথা এভাবে নিচু করে থাকত। সুলতানরা তাঁকে ভয় পেতেন, তারা তাঁর কথা মেনে চলতেন এবং মনোযোগী শ্রোতা ছিলেন। তিনি বলতেন 'না' এবং 'হ্যাঁ', আর তাঁকে জিজ্ঞেস করা হতো না যে: "আপনি এটি কোথা থেকে বললেন?"
(২)।
কেউ কেউ মালিক (রহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন:
গাম্ভীর্যের কারণে তিনি জবাব দেন না এবং তাঁকে পুনরায় প্রশ্ন করা হয় না
… আর প্রশ্নকারীরা মাথা নিচু করে থাকে
গাম্ভীর্যের জ্যোতি এবং তাকওয়ার প্রতাপের শ্রেষ্ঠত্ব
… ফলে তিনি রাজদণ্ড ছাড়াই অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ভীতিজাগানিয়া ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ৩২)
والدَّارسُ لتَرجَمةِ الإمامِ يَقفُ على شيءٍ من أَسبابِ هذه الهَيبةِ وهذا القَبولِ، وقد أشَرْنا إلى شيءٍ من ذلك في غُضونِ التَّرجَمةِ، فمِن ذلك أنَّه كانَ كَثيرَ التَّعظيمِ لحَديثِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، فإذا أَرادَ أن يُحدِّثَ اغتَسلَ، وتَطيَّبَ، وسرَّحَ لِحيتَه، وجلَسَ على منصَّةٍ، ولا يَزالُ يُبخرُ بالعودِ حتى يَفرغَ، ومَن أَعزَّ دِينَ الله أَعزَّه اللهُ، ومَن نصَرَ دِينَ اللهِ نصَرَه اللهُ، قالَ تعالَى: {وَلَيَنْصُرَنَّ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ} [الحج: 40]، ومِن ذلك قُوةُ حُجتِه في نَصرِ السُّنةِ، وشِدتُه على أَهلِ الأَهواءِ والبِدعةِ، ومن ذلك احتِااطُه في الرِّوايةِ؛ نُصرةً للشَّريعةِ، فلا يَروِي إلا عن ثِقةٍ، ولا يَروِي إلا عمَّن عُرفَ بالرِّوايةِ، وأنَّه من أَهلِ الحَديثِ، وهو الذي قالَ: لا يُؤخذُ العِلمُ عن أَربعةٍ: سَفيهٍ يُعلِنُ السَّفهَ، وإن كانَ أَروى الناسِ، وصاحبِ بِدعةٍ يَدعو إلى هَواه، ومَن يَكذِبُ في حَديثِ الناسِ، وإن كنتُ لا أَتَّهمُه في الحَديثِ، وصالحٍ عابدٍ فاضلٍ، إذا كانَ لا يَحفظُ ما يُحدِّثُ به
(1).
قالَ ابنُ أَبي حَاتمٍ: كانَ مالِكٌ رحمه الله أولَ مَنْ انتَقى الرِّجالَ من الفُقهاءِ بالمَدينةِ، وأعرَضَ عمَّن ليسَ بثِقةٍ في الحَديثِ، ولم يَكنْ يَروِي إلا ما صحَّ، ولا يُحدِّثُ إلا عن ثِقةٍ، معَ الفقهِ والدِّينِ والفَضلِ والنُّسكِ
(2).
بقِيَ أنْ تَعرِفَ أنَّ أَصحَّ الأَسانيدِ: مالِكٌ عن نافعٍ عن ابنِ عُمرَ.
--------------------------------------------
ইমামের জীবনী পাঠকারী এই মহিমা ও গ্রহণযোগ্যতার কিছু কারণ উপলব্ধি করতে পারবেন, যার কিছু বিষয় আমরা জীবনীর মধ্যেই ইঙ্গিত করেছি। তার মধ্যে একটি হলো, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের প্রতি অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করতেন। যখন তিনি হাদীস বর্ণনা করতে চাইতেন, তখন গোসল করতেন, সুগন্ধি মাখতেন, দাড়ি আঁচড়াতেন এবং একটি উঁচু আসনে বসতেন। আর পাঠ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনবরত উদ জ্বালিয়ে ধূপ দিতেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর দ্বীনকে সম্মানিত করে, আল্লাহ তাকে সম্মানিত করেন এবং যে আল্লাহর দ্বীনকে সাহায্য করে, আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন। মহান আল্লাহ বলেন: "আর আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন যে তাঁকে সাহায্য করে" [হজ্জ: ৪০]। এর মধ্যে আরও রয়েছে সুন্নাহর সমর্থনে তাঁর শক্তিশালী দলিল প্রদান এবং প্রবৃত্তিপূজারী ও বিদআতিদের প্রতি তাঁর কঠোরতা। এছাড়া শরীয়তের সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে হাদীস বর্ণনায় তাঁর সতর্কতা; তিনি কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছাড়া কারও থেকে বর্ণনা করতেন না এবং হাদীস বর্ণনাকারী হিসেবে সুপরিচিত ও হাদীস বিশারদ ছাড়া কারও থেকে বর্ণনা করতেন না। তিনিই বলেছেন: চার ধরনের ব্যক্তির কাছ থেকে জ্ঞান গ্রহণ করা যাবে না: এমন নির্বোধ যে প্রকাশ্যে নির্বুদ্ধিতা প্রদর্শন করে, যদিও সে মানুষের মধ্যে অধিক হাদীস বর্ণনাকারী হয়; এমন বিদআতি যে তার প্রবৃত্তির দিকে আহ্বান করে; যে ব্যক্তি মানুষের সাথে কথাবার্তায় মিথ্যা বলে, যদিও হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি তাকে অভিযুক্ত মনে না করি; আর এমন পুণ্যবান ইবাদতকারী ও গুণী ব্যক্তি, যে যা বর্ণনা করে তা মুখস্থ রাখতে পারে না
(১)।
ইবনে আবি হাতিম বলেন: মালিক রহিমাহুল্লাহ মদীনার ফকীহদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাই করেছেন এবং হাদীস বর্ণনায় যারা নির্ভরযোগ্য নয় তাদের বর্জন করেছেন। তিনি ফিকহ, দ্বীনদারিতা, শ্রেষ্ঠত্ব ও ইবাদত-বন্দেগির সাথে কেবল সহীহ হাদীসই বর্ণনা করতেন এবং কেবল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকেই বর্ণনা করতেন
(২)।
অবশিষ্ট জানার বিষয় হলো, সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ হলো: মালিক, নাফি' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وأَصحُّ الكُتبِ المُصنَّفةِ في زَمانِه «موطَّأ» مالِكٍ، كما أَشارَ الشافِعيُّ رحمه الله، وذلك قبلَ تَصنيفِ «الصَّحيحَينِ»، واللهُ عز وجل يَغفِرُ لنا وله، ويُدخلُنا وإِياهُ جَنةً عاليةً قُطوفُها دانِيةً.
1 - اسمُه ومَولدُه وصِفتُه:
اسمُه: مالِكُ بنُ أَنسِ بنِ مالِكِ بنِ أَبي عامرِ بنِ عَمرِو بنِ الحارثِ بنِ غَيمانَ بنِ خُثيلِ بنِ عَمرِو بنِ الحارثِ، وهو ذو أَصبحٍ الأَصبحِيُّ الحِميرِيُّ، أَبو عبدِ الله المَدنِيُّ، إمامُ دارِ الهِجرةِ، وعِدادُهم في بَني تَيمِ بنِ مُرةَ من قُريشٍ، حُلفاءِ عُثمانَ بنِ عُبيدِ اللهِ التَّيميِّ، أَخي طَلحةَ بنِ عُبيدِ اللهِ
(1).
مَولدُه: قالَ الذَّهبيُّ: مَولدُ الإمامِ مالِكٍ على الأَصحِّ في سنةِ ثلاثٍ وتِسعينَ، عامَ مَوتِ أَنسٍ خادِمِ رَسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، ونشَأَ في صِيانةٍ ورَفاهيةٍ وتَجمُّلٍ
(2).
صِفتُه: عن مُطرفِ بنِ عبدِ اللهِ قالَ: كانَ مالِكُ بنُ أَنسٍ طَويلًا، عَظيمَ الهامةِ، أَصلعَ أَبيضَ الرأسِ واللِّحيةِ، شَديدَ البَياضِ إلى الشُّقرةِ
(3).
وعن عِيسى بن عمرَ المَدنِيِّ قالَ: ما رَأيتُ بَياضاً قطُّ ولا حُمرةً أَحسنَ من وجهِ مالِكٍ، ولا أَشدَّ بَياضَ ثَوبٍ من مالِكٍ
(4).
--------------------------------------------
তাঁর যুগে সংকলিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে বিশুদ্ধতম হলো মালিকের ‘মুয়াত্তা’, যেমনটি ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) ইঙ্গিত করেছেন। আর এটি ‘সহীহাইন’ (বুখারী ও মুসলিম) সংকলনের পূর্বের কথা। মহান আল্লাহ আমাদের এবং তাঁকে ক্ষমা করুন এবং আমাদের ও তাঁকে এমন এক সুউচ্চ জান্নাতে প্রবেশ করান যার ফলসমূহ অবনমিত।
১ - তাঁর নাম, জন্ম ও দৈহিক বৈশিষ্ট্য:
নাম: মালিক বিন আনাস বিন মালিক বিন আবু আমির বিন আমর বিন আল-হারিস বিন গাইমান বিন খুসাইল বিন আমর বিন আল-হারিস। তিনি যূ-আসবাহ গোত্রীয় আসবাহী হিময়ারী, আবু আব্দুল্লাহ মাদানী, হিজরতভূমির ইমাম। কুরাইশ বংশের বনু তাইম বিন মুররাহ গোত্রের সাথে তাঁদের গণনা করা হয়, যারা তালহা বিন উবাইদুল্লাহর ভাই উসমান বিন উবাইদুল্লাহ আত-তাইমীর মিত্র ছিলেন
(১)।
জন্ম: আয-যাহাবী বলেন: বিশুদ্ধতম মতানুযায়ী ইমাম মালিকের জন্ম ৯৩ হিজরীতে, যে বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদেম আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মৃত্যু হয়। তিনি অত্যন্ত যত্ন, সচ্ছলতা ও আভিজাত্যের মধ্যে বড় হয়েছেন
(২)।
দৈহিক বৈশিষ্ট্য: মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মালিক বিন আনাস দীর্ঘকায় এবং বৃহদাকার মস্তকবিশিষ্ট ছিলেন। তিনি ছিলেন টেকো এবং তাঁর মাথার চুল ও দাড়ি ছিল সাদা। গায়ের রঙ ছিল অত্যন্ত ফর্সা যা লালচে আভার দিকে ঝুঁকে ছিল
(৩)।
ঈসা বিন উমর মাদানী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মালিকের চেহারার চেয়ে সুন্দর শুভ্রতা বা লালচে আভা আর কখনো দেখিনি, আর মালিকের কাপড়ের চেয়ে অধিক ধবধবে সাদা কাপড়ও কখনো দেখিনি
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওসুআতুল ফিকহি আলাল মাজাহিবিল আরবাআ - ইয়াসির আন-নাজ্জার
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وعن عبدِ الرَّحمنِ بنِ مَهديٍّ قالَ: ما رَأيتُ أَهيبَ من مالِكٍ، ولا أَتمَّ عَقلًا، ولا أَشدَّ تَقوى
(1).
2 - ابتِداءُ طَلبِه للعِلمِ وثَناءُ العُلماءِ عليه:قالَ الذَّهبيُّ: وطلَبَ مالِكٌ العِلمَ وهو ابنُ بِضعَ عشْرةَ سنةً، وتَأهَّلَ للفُتيا وجلَسَ للِإفادةِ وله إِحدى وعِشرونَ سنةً، وحدَّثَ عنه جَماعةٍ وهو حيٌّ شابٌّ طَريٌّ، وقصَدَه طَلبةُ العِلمِ من الآفاقِ في آخرِ دَولةِ أَبي جَعفرِ المَنصورِ، وما بعدَ ذلك، وازدَحموا عليه في خِلافةِ الرَّشيدِ، وإلى أنْ ماتَ
(2).
عن عبدِ اللهِ ابنِ المُبارَكِ قالَ: ما رَأيتُ رَجلًا ارتَفعَ مِثلَ مالِكِ بنِ أَنسٍ، ليسَ له كَثيرُ صلاةٍ ولا صِيامٍ، إلا أنْ تَكونَ له سَريرةٌ
(3).
قالَ عبدُ اللهِ بنُ أَحمدَ: قُلتُ لأَبي: مَنْ أَثبَتُ أَصحابِ الزُّهريِّ؟ قالَ: مالِكُ أَثبَتُ في كلِّ شيءٍ
(4).
وقالَ الشافِعيُّ: إِذا ذُكرَ العُلماءُ فمالِكٌ النَّجمُ
(5).
وعن ابنِ عُيينةَ قالَ: مالِكٌ عالمُ أَهلِ الحِجازِ، هو حُجةُ زَمانِه
(6).
--------------------------------------------
আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মালিকের চেয়ে অধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, অধিক পরিপূর্ণ বুদ্ধিমান এবং অধিক পরহেযগার আর কাউকে দেখিনি
(১)।
২ - তাঁর জ্ঞানার্জন শুরু এবং তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা:ইমাম আয-যাহাবী বলেন: মালিক দশ বছরের কিছু বেশি বয়সে ইলম অন্বেষণ শুরু করেন এবং ফতোয়া প্রদানের যোগ্যতা অর্জন করেন ও ২১ বছর বয়সে পাঠদানের জন্য বসেন। তিনি জীবিত ও সতেজ তরুণ থাকাবস্থায় একদল লোক তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু জাফর আল-মনসুরের শাসনামলের শেষ দিকে এবং তার পরবর্তী সময়ে দিগন্তের প্রান্তসমূহ থেকে ইলম অন্বেষণকারীরা তাঁর কাছে আসতেন। আর হারুনুর রশীদের খিলাফতকালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁরা তাঁর নিকট ভিড় জমাতেন
(২)।
আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মালিক ইবনে আনাসের মতো কাউকে এতোটা মর্যাদা লাভ করতে দেখিনি; যদিও তাঁর খুব বেশি সালাত বা সিয়াম ছিল না, তবে অবশ্যই তাঁর কোনো গোপন নেক আমল ছিল
(৩)।
আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ বলেন: আমি আমার পিতাকে বললাম: যুহরীর সাথীদের মধ্যে কে সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য? তিনি বললেন: মালিক প্রতিটি বিষয়েই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য
(৪)।
ইমাম শাফিঈ বলেন: যখন আলেমদের কথা আলোচনা করা হয়, তখন মালিক হলেন নক্ষত্রতুল্য
(৫)।
ইবনে উয়াইনা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মালিক হলেন হিজাযবাসীদের আলেম এবং তিনি তাঁর সময়ের অকাট্য দলিল
(৬)।
--------------------------------------------