(খণ্ড: ১)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: -)
أخبار مكة - الأزرقي - ت علي عمر القسم: كتب السنة
الكتاب: أخبار مكة وما جاء فيها من الآثار
المؤلف: أبو الوليد محمد بن عبد الله بن أحمد الأزرقي (ت نحو 250 هـ)
المحقق: على عمر
الناشر: مكتبة الثقافة الإسلامية، القاهرة - مصر
الطبعة: الأولى، 1437 هـ - 2016 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 شوّال 1446
আখবারু মক্কাহ - আল-আযরাকী - সম্পাদনায়: আলী উমর বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: আখবারু মক্কাহ ওমা জাআ ফিহা মিনাল আসার (মক্কার সংবাদ এবং এতে বর্ণিত নিদর্শনসমূহ)
লেখক: আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ আল-আযরাকী (মৃত্যু আনুমানিক ২৫০ হিজরী)
সম্পাদক: আলী উমর
প্রকাশক: মাকতাবাতুস সাকাফাহ আল-ইসলামিয়্যাহ, কায়রো - মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৭ হিজরী - ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১ শাওয়াল ১৪৪৬
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة التحقيق:لا نعرف عن بدايات التأليف في تاريخ مكة -وخاصة المؤلفات التي أفاد منها اللاحقون- سوى مؤلف في تاريخ مكة للحسن بن يسار البصري المتوفى سنة 110 هـ، الذي كتب رسالة عن "فضائل مكة المشرفة" كانت فيما بعد أحد المصادر الرئيسية لمؤرخي مكة.
ومؤلف آخر في تاريخ مكة لعثمان بن ساج المتوفى سنة 180 هـ، ويرجح أن كتابه في تاريخ مكة كان أحد مصادر الأزرقي المتوفى نحو 250 هـ، في كتابه الذي نقدم له اليوم.
ثم جاء الوليد الأزرقي فكتب في "أخبار مكة" وقد استقى كثيرًا من معلوماته الواردة في كتابه عن عبد الله بن عباس وتلاميذه، حيث كان لديهم معلومات وفيرة عن مكة.
ويبدو أن الأزرقي كان مولعًا بمعرفة الأخبار التاريخية وروايتها، كما أن اسمه يظهر كمصدر للمعلومات عن تاريخ مكة القديم، وكذلك فيما يتعلق بتاريخها الإسلامي وما صاحبه من أحداث.
وقد استغرق ثلاثة أرباع كتابه ذكر قصص كانت قد نمت في الجاهلية حول حرم مكة، ووصف الشعائر ذات الصلة بمكة.
أما الربع الباقي فيبحث في الأماكن المقدسة الأخرى من مكة، بالإضافة إلى الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعاصريه من المكيين، وعن خطط مكة وأطرافها.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদকের ভূমিকা:মক্কার ইতিহাসের প্রাথমিক রচনা সম্পর্কে আমরা কেবল হাসান ইবনে ইয়াসার আল-বাসরি (মৃত্যু ১১০ হি.)-এর মক্কার ইতিহাস বিষয়ক একটি রচনা ছাড়া তেমন কিছু জানি না—বিশেষ করে সেই সব রচনা যা পরবর্তীগণ ব্যবহার করেছেন। তিনি "ফাযায়েলে মক্কাতুল মুশাররাফাহ" (সম্মানিত মক্কার মর্যাদা) সম্পর্কে একটি পুস্তিকা লিখেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে মক্কার ইতিহাসবিদদের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে পরিগণিত হয়।
মক্কার ইতিহাস সম্পর্কে আরেকটি রচনা হলো উসমান বিন সাজ (মৃত্যু ১৮০ হি.)-এর। ধারণা করা হয় যে, মক্কার ইতিহাস বিষয়ে তাঁর বইটি আল-আজরাকি (মৃত্যু প্রায় ২৫০ হি.)-এর অন্যতম উৎস ছিল, যার বইটি আমরা আজ উপস্থাপন করছি।
অতঃপর ওয়ালিদ আল-আজরাকি আগমন করেন এবং "আখবারু মক্কা" (মক্কার সংবাদসমূহ) রচনা করেন। তিনি তাঁর বইটিতে উল্লিখিত তথ্যের বড় একটি অংশ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও তাঁর ছাত্রদের থেকে গ্রহণ করেছেন, কারণ মক্কা সম্পর্কে তাঁদের কাছে প্রচুর তথ্য ছিল।
প্রতীয়মান হয় যে, আল-আজরাকি ঐতিহাসিক সংবাদসমূহ জানা এবং তা বর্ণনার প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। মক্কার প্রাচীন ইতিহাস এবং সেই সাথে এর ইসলামি ইতিহাস ও তৎসংশ্লিষ্ট ঘটনাবলির তথ্যের উৎস হিসেবে তাঁর নাম বিশেষভাবে প্রকাশ পায়।
তাঁর বইটির তিন-চতুর্থাংশ জুড়ে রয়েছে জাহেলি যুগে মক্কার হারামকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন কাহিনীর উল্লেখ এবং মক্কার সাথে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের বর্ণনা।
অবশিষ্ট এক-চতুর্থাংশে মক্কার অন্যান্য পবিত্র স্থানসমূহ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও মক্কাবাসীদের মধ্য থেকে তাঁর সমসাময়িকদের কথা এবং মক্কা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার সীমানা ও রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ٤)
وقد حظيت مرويات الأزرقي باهتمامات المؤرخين اللاحقين في العهود التي تلته.
هذا، وقد استندت في تحقيق كتاب أخبار مكة إلى ما يلي:
1 - مخطوطة مصورة من معهد المخطوطات بالقاهرة برقم 2186 تاريخ عن النسخة الروسية رقم 607 B، وهي نسخة نفيسة كتبت بقلم نسخ قديم فيه ضبط، من القرن الخامس الهجري تقديرًا، وبأولها قراءة هذا الكتاب لأبي الوليد الباجي بخطه على شيخه أبي الحجاج يوسف بن فتوح، وإجازة من الشيخ الباجي بجميع مصنفاته ومروياته وبجميع ما يجوز له روايته من منقول ومسموع بشرطه، وبآخرها مقابلتان: الأولى مقابلة على أصل مصنفه وقرئ عليه مرات، والثانية قوبلت على نسخة صحيحة مكتتبة من نسخة المؤلف تجاه الكعبة عام 633 هـ، وقد جعلت هذه النسخة أصلًا.
2 - النسخة التي طبعت في أوروبا بعناية وستنفيلد 1858 م، وقد رمزت إليها بالحرف "أ".
3 - نسخة بتحقيق رشدي الصالح ملحس، وقد رمزت إليها بالحرف "ب".
وقد أشرت إليها جميعًا في تعليقاتي بـ"الأصول".
وكان حرصي على سلامة النص أكثر من حرصي على التعريف بالأعلام والبلاد، والإسراف في الشرح والتعليق؛ إذ كان ذلك أهم ما يحتاج إليه العلماء والباحثون عند الرجوع إلى الكتب المحققة.
كما قمت في آخر الكتاب بعمل الفهارس المتنوعة التي تقرب نفعه، وتدني جناه.
القاهرة في رجب سنة 1424 هـ
سبتمبر سنة 2003 م
د. علي عمر
পরবর্তী যুগের ঐতিহাসিকগণের নিকট আল-আযরাক্বীর বর্ণনাগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব লাভ করেছে।
আর আমি 'আখবারু মক্কাহ' গ্রন্থটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত উৎসসমূহের ওপর নির্ভর করেছি:
১ - কায়রোর পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউট থেকে প্রাপ্ত ২১৮৬ নম্বর সংগৃহীত একটি পাণ্ডুলিপি, যা মূলত ৬০৭ বি নম্বরীয় রাশিয়ান পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপিত। এটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান অনুলিপি যা প্রাচীন নাসখ লিপিতে হরকতসহ লিখিত। ধারণা করা হয় এটি হিজরি পঞ্চম শতাব্দীর। এর শুরুতে আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি কর্তৃক তাঁর শাইখ আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ বিন ফুতুহ-এর নিকট পাঠ করার বিবরণ তাঁর নিজ হাতে লিখিত রয়েছে। এতে শাইখ আল-বাজি প্রদত্ত তাঁর সকল গ্রন্থ ও বর্ণনার এবং শর্তসাপেক্ষে তাঁর থেকে শ্রুত ও বর্ণিত সকল বিষয় বর্ণনা করার একটি সাধারণ ইজাযতও রয়েছে। এর শেষে দুটি যাচাইকরণ রয়েছে: প্রথমটি লেখকের মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে এবং সেটি লেখকের সামনে কয়েকবার পাঠ করা হয়েছিল। দ্বিতীয়টি ৬৩৩ হিজরিতে কাবার সামনে লেখকের পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা একটি বিশুদ্ধ পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। আমি এই পাণ্ডুলিপিটিকেই মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি।
২ - ১৮৫৮ সালে উস্টেনফেল্ডের তত্ত্বাবধানে ইউরোপে মুদ্রিত সংস্করণটি, যেটিকে আমি 'আলিফ' প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
৩ - রুশদি আস-সালিহ মালহাস সম্পাদিত সংস্করণটি, যেটিকে আমি 'বা' প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
আমি আমার টীকাগুলোতে এই সবগুলোকে সম্মিলিতভাবে 'আল-উসুল' (মূল উৎসসমূহ) হিসেবে উল্লেখ করেছি।
ব্যক্তিত্ব বা স্থানসমূহের পরিচিতি প্রদান এবং অতিমাত্রায় ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ বা টীকা প্রদানের চেয়ে মূল পাঠ্যের নির্ভুলতার দিকেই আমার অধিক মনোযোগ ছিল; কারণ সম্পাদিত গ্রন্থসমূহ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটিই আলিম ও গবেষকদের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় বিষয়।
এছাড়া বইটির শেষে আমি বিভিন্ন ধরনের নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র যুক্ত করেছি, যা এর উপকারিতাকে আরও সহজলভ্য ও ফলপ্রসূ করবে।
কায়রো, রজব ১৪২৪ হিজরি
সেপ্টেম্বর ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
ড. আলী উমর
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ٥)
صفحة عنوان المخطوطة
পাণ্ডুলিপির শিরোনাম পাতা
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ٦)
الصفحة الأولى من المخطوطة
পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ٧)
الصفحة الأخيرة من المخطوطة
পাণ্ডুলিপির সর্বশেষ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ٩)
بسم الله الرحمن الرحيم
وصلى الله على سيدنا محمد النبي وآله الطاهرين وسلم كثيرا
ذكر ما كانت الكعبة الشريفة عليه فوق الماء قبل أن يخلق الله السموات والأرض، وما جاء في ذلك:أخبرني والدي الفقيه الإمام المحدث صدر الدين بقية المشايخ أبو حفص عمر بن عبد المجيد بن عمر القرشي الميانشي رحمة الله عليه، قال: حدثنا القاضي الإمام أبو المظفر محمد بن علي بن الحسين الشيباني الطبري، عن جده الشيخ الإمام الحسين وعن الشيخ أبي الحسن علي بن خلف الشامي، عن أبي القاسم خلف بن هبة الله الشامي، عن أبي محمد الحسن بن أحمد بن إبراهيم بن فراس، عن أبي الحسن محمد بن نافع الخزاعي، عن أبي محمد إسحاق بن أحمد بن إسحاق بن نافع الخزاعي، عن أبي الوليد محمد عبد الله بن أحمد بن محمد بن الوليد بن عقبة بن الأزرق بن عمرو بن الحارث بن أبي شمر الغساني الأزرقي قال: حدثنا جدي أحمد بن محمد بن الوليد الأزرقي قال: حدثنا سفيان بن عيينة، عن بشر بن عاصم عن سعيد بن المسيب قال: قال كعب الأحبار: كانت الكعبة غُثاء على الماء قبل أن يخلق الله عز وجل السموات والأرض بأربعين سنة، ومنها دُحيت الأرض.
قال: حدثنا أبو الوليد، قال: حدثني مهدي بن أبي المهدي قال: حدثنا أبو أيوب البصري، عن هشام عن حميد قال: سمعت مجاهدًا يقول: خلق الله عز وجل هذا البيت قبل أن يخلق شيئًا من الأرضين.
قال: حدثنا أبو الوليد قال: حدثنا جدي عن سعيد بن سالم، عن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আল্লাহর রহমত ও প্রচুর শান্তি আমাদের নেতা নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পবিত্র বংশধরদের ওপর বর্ষিত হোক।
আল্লাহ তাআলা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করার পূর্বে সম্মানিত কাবা পানির ওপর যে অবস্থায় ছিল তার বর্ণনা এবং এ প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে:আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা ফকীহ, ইমাম, মুহাদ্দিস সদরুদ্দীন, মাশায়েখদের অবশিষ্টাংশ আবু হাফস উমর বিন আব্দুল মাজীদ বিন উমর আল-কুরাশী আল-মিয়ানাশী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাযী ইমাম আবু মুজাফফর মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন আশ-শায়বানী আত-তাবারী, তাঁর দাদা শেখ ইমাম আল-হুসাইন থেকে এবং শেখ আবু আল-হাসান আলী বিন খালাফ আশ-শামী থেকে, তিনি আবু আল-কাসিম খালাফ বিন হিবাতুল্লাহ আশ-শামী থেকে, তিনি আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আহমদ বিন ইবরাহিম বিন ফরাস থেকে, তিনি আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন নাফে’ আল-খুযাঈ থেকে, তিনি আবু মুহাম্মদ ইসহাক বিন আহমদ বিন ইসহাক বিন নাফে’ আল-খুযাঈ থেকে, তিনি আবু আল-ওয়ালীদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-ওয়ালীদ বিন উকবা বিন আল-আযরাক বিন আমর বিন আল-হারিস বিন আবু শিমর আল-গাসসানী আল-আযরাকী থেকে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার দাদা আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-ওয়ালীদ আল-আযরাকী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন উয়াইনা, বিশর বিন আসিম থেকে, তিনি সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব থেকে, তিনি বলেন: কাব আল-আহবার বলেছেন: আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আসমান ও জমিন সৃষ্টি করার চল্লিশ বছর পূর্বে কাবা পানির ওপর ফেনা সদৃশ ছিল, এবং সেখান থেকেই পৃথিবী বিস্তৃত করা হয়েছে।
তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-ওয়ালীদ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মাহদী বিন আবিল মাহদী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আইয়ুব আল-বাসরী, হিশাম থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে, তিনি বলেন: আমি মুজাহিদকে বলতে শুনেছি: আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত এই পৃথিবীসমূহের কোনো কিছু সৃষ্টি করার পূর্বেই এই ঘরটি সৃষ্টি করেছেন।
তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-ওয়ালীদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার দাদা সাঈদ বিন সালিম থেকে, তিনি...
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ١٠)
طلحة بن عمرو، عن عطاء، عن ابن عباس أنه قال: لما كان العرش على الماء قبل أن يخلق الله السموات والأرض بعث الله تعالى ريحًا هَفَّافة فصَفَقَت الماء فأبرزت عن حَشْقة في موضع البيت كأنها قبة، فدحا الله الأرضين من تحتها فمادت، ثم مادت فأوتدها الله تعالى بالجبال، فكان أول جبل وضع فيها أبو قُبَيْس؛ فلذلك سميت مكة أم القرى
(1).
قال: وحدثني يحيى بن سعيد عن محمد بن عمر بن إبراهيم الجبيري، عن عثمان بن عبد الرحمن، عن هشام، عن مجاهد قال: لقد خلق الله عز وجل موضع هذا البيت قبل أن يخلق شيئًا من الأرض بألفي سنة، وان قواعده لفي الأرض السابعة السفلى.
--------------------------------------------
তালহা ইবনে আমর থেকে, আতা থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: যখন আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহর আরশ পানির উপর ছিল, তখন আল্লাহ তাআলা একটি স্নিগ্ধ বাতাস প্রবাহিত করলেন, যা পানিতে ঢেউ সৃষ্টি করল। ফলে (কাবা) ঘরের স্থানে একটি শুষ্ক উচ্চভূমি প্রকাশ পেল যা দেখতে গম্বুজের মতো ছিল। এরপর আল্লাহ তার নিচ থেকে জমিনসমূহকে বিস্তৃত করলেন, ফলে তা দুলতে শুরু করল। অতঃপর তা দুলতে থাকলে আল্লাহ তাআলা পাহাড়ের মাধ্যমে সেটিকে স্থির করলেন। আর সেখানে স্থাপিত প্রথম পাহাড় ছিল আবু কুবাইস। আর এ কারণেই মক্কাকে 'উম্মুল কুরা' নামকরণ করা হয়েছে
(১).
তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে ইব্রাহিম আল-জুবাইরি থেকে, তিনি উসমান ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি হিশাম থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে; তিনি বলেছেন: আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এই ঘরের স্থানটিকে জমিনের কোনো কিছু সৃষ্টি করার দুই হাজার বছর পূর্বে সৃষ্টি করেছেন, আর নিশ্চয়ই এর ভিত্তি সপ্তম নিম্ন জমিন পর্যন্ত বিস্তৃত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ١٠)
ذكر بناء الملائكة الكعبة قبل خلق آدم، ومبتدأ الطواف كيف كان:حدثنا أبو الوليد قال: حدثني علي بن هارون بن مسلم العجلي، عن أبيه قال: حدثنا القاسم بن عبد الرحمن الأنصاري قال: حدثني محمد بن علي بن الحسين قال: كنت مع أبي علي بن الحسين بمكة فبينما هو يطوف بالبيت وأنا وراءه، إذ جاءه رجل شَرْجَع من الرجال يقول: طويل فوضع يده على ظهر أبي، فالتفت أبي إليه فقال الرجل: السلام عليك يابن بنت رسول الله، إني أريد أن أسألك فسكت أبي وأنا والرجل خلفه، حتى فرغ من أسبوعه فدخل الحجر فقام تحت الميزاب فقمت أنا والرجل خلفه ليصلي ركعتي أسبوعه، ثم استوى قاعدًا فالتفت إلي فقمت فجلست إلى جنبه فقال: يا محمد، فأين هذا السائل؟ فأومأت إلى الرجل فجاء فجلس بين يدي أبي فقال له أبي: عم تسأل؟ قال: أسألك عن بدء هذا الطواف
আদম সৃষ্টির পূর্বে ফেরেশতাদের কাবা নির্মাণ এবং তাওয়াফের সূচনার বর্ণনা:আবু আল-ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে হারুন ইবনে মুসলিম আল-ইজলি আমার নিকট তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-কাসিম ইবনে আবদুর রহমান আল-আনসারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মক্কায় আমার পিতা আলী ইবনুল হুসাইনের সাথে ছিলাম। তিনি যখন কাবা ঘর তাওয়াফ করছিলেন এবং আমি তাঁর পেছনে ছিলাম, তখন জনৈক দীর্ঘকায় লোক তাঁর নিকট এলেন। 'শারজা' অর্থ দীর্ঘকায়। তিনি আমার পিতার পিঠে তাঁর হাত রাখলেন। তখন আমার পিতা তাঁর দিকে ফিরে তাকালেন। লোকটি বললেন: আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে আল্লাহর রাসূলের কন্যার সন্তান। আমি আপনাকে কিছু জিজ্ঞাসা করতে চাই। তখন আমার পিতা চুপ থাকলেন এবং আমি ও ওই লোকটি তাঁর পেছনে পেছনে ছিলাম, যতক্ষণ না তিনি তাঁর তাওয়াফের সাত চক্কর পূর্ণ করলেন। অতঃপর তিনি হিজর-এ প্রবেশ করলেন এবং মীজাবের নিচে দাঁড়ালেন। আমি ও লোকটি তাঁর পেছনে দাঁড়ালাম যেন তিনি তাঁর তাওয়াফের দুই রাকাত নামাজ পড়তে পারেন। এরপর তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং আমার দিকে তাকালেন। আমি উঠে তাঁর পাশে বসলাম। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ, সেই প্রশ্নকারী কোথায়? আমি লোকটির দিকে ইশারা করলাম। তখন তিনি এসে আমার পিতার সামনে বসলেন। আমার পিতা তাঁকে বললেন: তুমি কী বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে চাও? তিনি বললেন: আমি আপনাকে এই তাওয়াফের সূচনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি।
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ١١)
بهذا البيت لم كان وأنى كان؟ وحيث كان وكيف كان؟ فقال له أبي: نعم من أين أنت؟ قال: من أهل الشام قال: أين مسكنك؟ قال: في بيت المقدس قال: فهل قرأت الكتابين، يعني: التوراة والإنجيل؟ قال الرجل: نعم قال أبي: يا أخا أهل الشام احفظ ولا تروين عني إلا حقا، أما بدء هذا الطواف بهذا البيت فإن الله تبارك وتعالى قال للملائكة: {إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً} فقالت الملائكة: أي رب أخليفة من غيرنا ممن يفسد فيها، ويسفك الدماء، ويتحاسدون، ويتباغضون، ويتباغون؟! أي رب اجعل ذلك الخليفة منا فنحن لا نفسد فيها، ولا نسفك الدماء، ولا نتباغض، ولا نتحاسد، ولا نتباغى، ونحن نسبح بحمدك، ونقدس لك، ونطيعك ولا نعصيك فقال الله تعالى: {إِنِّي أَعْلَمُ مَا لا تَعْلَمُونَ} قال: فظنت الملائكة أن ما قالوا رد على ربهم عز وجل، وأنه قد غضب من قولهم فلاذوا بالعرش، ورفعوا رءوسهم، وأشاروا بالأصابع يتضرعون، ويبكون إشفاقًا لغضبه وطافوا بالعرش ثلاث ساعات فنظر الله إليهم فنزلت الرحمة عليهم، فوضع الله تعالى تحت العرش بيتًا على أربع أساطين من زبرجد وغشاهن بياقوتة حمراء، وسمي ذلك البيت الضُّرَاح
(1).
ثم قال الله تعالى للملائكة: "طوفوا بهذا البيت ودعوا العرش" قال: فطافت الملائكة بالبيت وتركوا العرش وصار أهون عليهم وهو البيت المعمور الذي ذكره الله عز وجل يدخله في كل يوم وليلة سبعون ألف ملك لا يعودون فيه أبدًا.
ثم إن الله سبحانه وتعالى بعث ملائكة فقال لهم: "ابنوا لي بيتًا في الأرض بمثاله وقدره" فأمر الله سبحانه من في الأرض من خلقه أن يطوفوا بهذا البيت كما يطوف أهل السماء بالبيت المعمور، فقال الرجل: صدقت يابن بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم هكذا كان.
--------------------------------------------
এই ঘর সম্পর্কে, এটি কেন ছিল এবং কীভাবে ছিল? আর এটি কোথায় ছিল এবং কেমন ছিল? তখন আমার পিতা তাকে বললেন: হ্যাঁ, আপনি কোথা থেকে এসেছেন? তিনি বললেন: আমি শামের অধিবাসীদের একজন। তিনি বললেন: আপনার বাসস্থান কোথায়? তিনি বললেন: বাইতুল মাকদিসে। তিনি বললেন: তবে কি আপনি কিতাবদ্বয় অর্থাৎ তাওরাত ও ইঞ্জিল পাঠ করেছেন? লোকটি বলল: হ্যাঁ। আমার পিতা বললেন: হে শামের অধিবাসী ভাই, মনে রাখুন এবং আমার পক্ষ থেকে সত্য ব্যতীত অন্য কিছু বর্ণনা করবেন না। এই ঘরের এই তাওয়াফের সূচনা সম্পর্কে মূল কথা হলো যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ফেরেশতাদের বলেছিলেন: "নিশ্চয় আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা নিয়োগ করতে যাচ্ছি।" তখন ফেরেশতারা বলল: হে রব, আমাদের ব্যতীত অন্য কাউকে কি খলিফা করবেন, যে সেখানে ফাসাদ সৃষ্টি করবে, রক্তপাত ঘটাবে এবং তারা পরস্পর হিংসা করবে, বিদ্বেষ পোষণ করবে এবং বিদ্রোহ করবে?! হে রব, সেই খলিফা আমাদের মধ্য থেকেই নিয়োগ করুন, কেননা আমরা সেখানে ফাসাদ সৃষ্টি করব না, রক্তপাত ঘটাব না, একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করব না, হিংসা করব না এবং বিদ্রোহ করব না। আর আমরা আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করি, আপনার মহিমা বর্ণনা করি, আপনার আনুগত্য করি এবং আপনার অবাধ্য হই না। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন: "নিশ্চয় আমি তা জানি যা তোমরা জানো না।" তিনি বললেন: ফেরেশতারা তখন ধারণা করল যে, তারা যা বলেছে তা তাদের রব আযযা ওয়া জাল্লার কথার ওপর প্রতিবাদস্বরূপ হয়ে গেছে এবং তাদের একথায় তিনি রাগান্বিত হয়েছেন। ফলে তারা আরশের আশ্রয় নিল, তাদের মাথা উত্তোলন করল এবং আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে তাঁর রাগের ভয়ে ভীত হয়ে কাকুতি-মিনতি ও ক্রন্দন করতে লাগল এবং তারা তিন ঘণ্টা যাবত আরশ তাওয়াফ করল। অতঃপর আল্লাহ তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং তাদের ওপর রহমত নাযিল হলো। ফলে আল্লাহ তাআলা আরশের নিচে পান্নার চারটি স্তম্ভের ওপর একটি ঘর স্থাপন করলেন এবং সেগুলোকে লাল ইয়াকুত পাথর দিয়ে আবৃত করে দিলেন। আর সেই ঘরের নাম দেওয়া হলো 'যুরাহ'
(১)。
অতঃপর আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের বললেন: "তোমরা এই ঘরটি তাওয়াফ করো এবং আরশ ত্যাগ করো।" তিনি বললেন: তখন ফেরেশতারা ঘরটি তাওয়াফ করল এবং আরশ ছেড়ে দিল এবং এটি তাদের জন্য সহজতর হলো। আর এটিই হলো সেই বাইতুল মামুর, যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা উল্লেখ করেছেন, যেখানে প্রতিদিন ও রাতে সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন এবং তারা আর কখনো সেখানে ফিরে আসেন না।
অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ফেরেশতাদের পাঠালেন এবং তাদের বললেন: "তোমরা পৃথিবীতে আমার জন্য এর অনুরূপ এবং এই পরিমাণে একটি ঘর নির্মাণ করো।" এরপর আল্লাহ সুবহানাহু তাঁর সৃষ্টির মধ্যে যারা পৃথিবীতে আছে তাদেরকে এই ঘরটি তাওয়াফ করার নির্দেশ দিলেন, যেভাবে আসমানবাসীরা বাইতুল মামুর তাওয়াফ করে। তখন লোকটি বলল: আপনি সত্য বলেছেন হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যার সন্তান, বিষয়টি এমনই ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ١٢)
ذكر زيارة الملائكة البيت الحرام:حدثنا أبو الوليد قال: حدثني مهدي بن أبي المهدي، قال: حدثنا عبد الرزاق، قال: حدثنا عمر بن بكار، عن وهب بن منبه، عن ابن عباس، أن جبريل عليه السلام وقف على رسول الله صلى الله عليه وسلم وعليه عصابة حمراء قد علاها الغبار فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ما هذا الغبار أرى على عصابتك أيها الروح الأمين؟ " قال: إني زرت البيت فازدحمت الملائكة على الركن، فهذا الغبار الذي ترى مما تثير بأجنحتها.
وأخبرني جدي، عن سعيد بن سالم، عن عثمان بن ساج قال: أخبرني عثمان بن يسار قال: بلغني -والله أعلم- أن الله تعالى إذا أراد أن يبعث ملكًا من الملائكة لبعض أموره في الأرض، استأذنه ذلك الملك في الطواف بالبيت، فهبط الملك مُهِلّا
(1).
وأخبرني جدي، عن سعيد بن سالم، عن عثمان بن ساج عن وهب بن منبه نحو هذا إلا أنه قال: ويصلي في البيت ركعتين.
وأخبرني جدي، عن سعيد بن سالم، عن عثمان بن ساج، قال: أخبرني عباد بن كثير
(2)، عن ليث بن معاذ قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "هذا البيت خامس خمسة عشر بيتًا، سبعة منها في السماء إلى العرش، وسبعة منها إلى تخوم الأرض السفلى، وأعلاها الذي يلي العرش البيت المعمور، لكل بيت منها حرم كحرم هذا البيت، لو سقط منها بيت لسقط بعضها على بعض إلى تخوم الأرض السفلى، ولكل بيت من أهل السماء ومن أهل الأرض من
--------------------------------------------
ফেরেশতাদের পবিত্র কাবাঘর যিয়ারতের বর্ণনা:আবু আল-ওয়ালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাহদী ইবনে আবি আল-মাহদী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রাজ্জাক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে বাক্কার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, জিবরাঈল (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) আল্লাহর রাসূলের (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) কাছে এসে দাঁড়ালেন; তাঁর মাথায় ছিল ধূলিমলিন একটি লাল পাগড়ি। তখন আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁকে বললেন: "হে রুহুল আমিন! আমি আপনার পাগড়িতে এই যে ধুলাবালি দেখছি, তা কিসের?" তিনি বললেন: "আমি পবিত্র ঘর (কাবা) যিয়ারত করেছি, সেখানে ফেরেশতাগণ রুকন (কোণ)-এর কাছে ভিড় করছিল; আপনি যে ধুলাবালি দেখছেন তা মূলত তাদের পাখার ঝাপটায় উড়া ধূলিকণা।"
আমার দাদা সাঈদ ইবনে সালিম থেকে, তিনি উসমান ইবনে সাজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উসমান ইবনে ইয়াসার আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে এই মর্মে খবর পৌঁছেছে—আর আল্লাহই ভালো জানেন—যখন মহান আল্লাহ জমিনে কোনো কাজের জন্য কোনো ফেরেশতাকে পাঠাতে চান, তখন সেই ফেরেশতা আল্লাহর ঘরের তওয়াফ করার অনুমতি প্রার্থনা করেন; অতঃপর ফেরেশতা উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় অবতরণ করেন
(১)।
আমার দাদা সাঈদ ইবনে সালিম থেকে, তিনি উসমান ইবনে সাজ থেকে, তিনি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; তবে তিনি এতে বলেছেন: এবং তিনি (ফেরেশতা) এই ঘরে দুই রাকাত সালাত আদায় করেন।
আমার দাদা সাঈদ ইবনে সালিম থেকে, তিনি উসমান ইবনে সাজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আব্বাদ ইবনে কাসির
(২) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন লায়স ইবনে মুয়াজ থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: "এই ঘরটি পনেরোটি ঘরের মধ্যে পঞ্চম। এর মধ্যে সাতটি আসমানে আরশ পর্যন্ত এবং সাতটি জমিনের নিম্নতম সীমা পর্যন্ত অবস্থিত। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ঘরটি, যা আরশ সংলগ্ন, তা হলো বাইতুল মামুর। এগুলোর প্রত্যেকটি ঘরের জন্য এই ঘরের পবিত্রতার ন্যায় পবিত্রতা ও মর্যাদা রয়েছে। যদি এগুলোর কোনো একটি ঘর পড়ে যেত, তবে একটির ওপর অন্যটি পড়তে পড়তে জমিনের নিম্নতম সীমা পর্যন্ত পৌঁছে যেত। আসমান ও জমিনবাসীদের মধ্য থেকে প্রত্যেকটি ঘরের জন্য রয়েছে ইবাদতকারী..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ١٣)
يعمره كما يعمر هذا البيت".
حدثني أبو الوليد، قال: وحدثني جدي عن سعيد بن سالم، عن عثمان، عن وهب بن منبه، أن ابن عباس أخبره أن جبريل وقف على رسول الله صلى الله عليه وسلم وعليه عصابة خضراء قد علاها الغبار فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ما هذا الغبار الذي أرى على عصابتك أيها الروح الأمين؟ " قال: إني زرت البيت فازدحمت الملائكة على الركن، فهذا الغبار الذي ترى مما تثير بأجنحتها.
তারা এটিকে আবাদ করে যেমন এই ঘরটি আবাদ করা হয়।".
আবু আল-ওয়ালিদ আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাকে সাঈদ ইবনে সালিম থেকে, তিনি উসমান থেকে, তিনি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে আব্বাস তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে জিবরাঈল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে দাঁড়ালেন এবং তাঁর মাথায় একটি সবুজ পাগড়ি ছিল যা ধুলোয় আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে রুহুল আমিন! আমি আপনার পাগড়ির ওপর এই যে ধুলোবালি দেখছি তা কিসের?" তিনি বললেন: "আমি (কাবা) ঘরটি যিয়ারত করেছি, তখন রুকনের নিকট ফেরেশতাদের প্রচণ্ড ভিড় ছিল। সুতরাং আপনি যে ধুলোবালি দেখছেন তা তাদের ডানার ঝাপটায় উড়ে আসা ধুলো।"
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ١٣)
ذكر هبوط آدم إلى الأرض، وبنائه الكعبة، وحجه، وطوافه بالبيت:حدثنا أبو الوليد، حدثنا جدي، قال: حدثنا سعيد بن سالم، عن طلحة بن عمرو الحضرمي عن عطاء بن أبي رباح، عن ابن عباس قال: لما أهبط الله آدم إلى الأرض من الجنة، كان رأسه في السماء، ورجلاه في الأرض وهو مثل الفلك من رعدته، قال: فطأطأ الله عز وجل منه إلى ستين ذراعا، فقال: يا رب ما لي لا أسمع أصوات الملائكة ولا أحسهم؟ قال: "خطيئتك يا آدم، ولكن اذهب فابن لي بيتًا فطف به واذكرني حوله، كنحو ما رأيتَ الملائكة تصنع حول عرشي" قال: فأقبل آدم عليه السلام يتخطى فطويت له الأرض وقبضت له المفاوز، فصارت كل مفازة يمر بها خطوة وقبض له ما كان من مخاض ماء، أو بحر فجعل له خطوة.
ولم تقع قدمه في شيء من الأرض إلا صار عمرانا وبركة، حتى انتهى إلى مكة فبنى البيت الحرام، وإن جبريل عليه السلام ضرب بجناحه الأرض فأبرز عن أس ثابت على الأرض السفلى، فقذفت فيه الملائكة الصخر، ما يطيق الصخرة منها ثلاثون رجلًا.
আদমের পৃথিবীতে অবতরণ, তাঁর কাবা নির্মাণ, হজ এবং বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করার বর্ণনা:আবুল ওয়ালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার দাদা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সাঈদ ইবনে সালিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন তালহা ইবনে আমর আল-হাদরামি থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহ যখন আদমকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করালেন, তখন তাঁর মাথা আকাশে এবং তাঁর দুই পা পৃথিবীতে ছিল এবং প্রকম্পিত হওয়ার দিক থেকে তিনি একটি নৌকার মতো ছিলেন। তিনি বলেন: অতঃপর পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ তাঁকে কমিয়ে ষাট হাত করে দিলেন। তখন আদম বললেন: হে রব, আমার কী হলো যে আমি ফেরেশতাদের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি না এবং তাঁদের অনুভব করতে পারছি না? আল্লাহ বললেন: "হে আদম, এটি তোমার গুনাহের কারণে। তবে তুমি যাও এবং আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করো, অতঃপর তা তাওয়াফ করো এবং তার চারপাশে আমাকে স্মরণ করো, যেভাবে তুমি ফেরেশতাদের আমার আরশের চারপাশে করতে দেখেছ।" তিনি বলেন: অতঃপর আদম আলাইহিস সালাম অগ্রসর হতে লাগলেন, তাঁর জন্য জমিনকে গুটিয়ে দেওয়া হলো এবং মরুভূমিগুলোকে সংকুচিত করা হলো; ফলে তিনি যে মরুভূমিই অতিক্রম করতেন তা এক কদমে পরিণত হতো। আর তাঁর জন্য জলাশয় বা সমুদ্রের পারাপারের পথ সংকুচিত করে এক কদমে পরিণত করা হলো।
জমিনের যে অংশেই তাঁর পা পড়েছে, তা-ই জনবসতি ও বরকতময় স্থানে পরিণত হয়েছে, অবশেষে তিনি মক্কায় পৌঁছালেন এবং বাইতুল হারাম নির্মাণ করলেন। আর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর ডানা দিয়ে জমিনে আঘাত করলেন এবং জমিনের একদম তলদেশ থেকে একটি সুদৃঢ় ভিত্তি উন্মোচিত করলেন। অতঃপর ফেরেশতারা তাতে পাথর স্থাপন করলেন, যে পাথরগুলোর একেকটি বহন করতে ত্রিশজন মানুষও সক্ষম ছিল না।
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ١٤)
وإنه بناه من خمسة أجبل من لبنان، وطور زَيْتا، وطور سينا، والجودي، وحراء حتى استوى على وجه الأرض.
قال ابن عباس: فكان أول من أسس البيت وصلى فيه وطاف به آدم عليه السلام حتى بعث الله الطوفان قال: وكان غضبًا ورجسًا قال: فحيثما انتهى الطوفان ذهب ريح آدم عليه السلام قال: ولم يقرب الطوفان أرض السند والهند.
قال: فدَرَس موضع البيت في الطوفان، حتى بعث الله تعالى إبراهيم وإسماعيل، فرفعا قواعده وأعلامه وبنته قريش بعد ذلك، وهو بحذاء البيت المعمور، لو سقط ما سقط إلا عليه
(1).
حدثنا أبو الوليد، حدثنا مهدي بن أبي المهدي، قال: حدثنا إسماعيل بن عبد الكريم الصنعاني، عن عبد الصمد بن معقل، عن وهب بن منبه أن الله تعالى لما تاب على آدم عليه السلام أمره أن يسير إلى مكة، فطوى له الأرض وقبض له المفاوز، فصار كل مفازة يمر بها خطوة، وقبض له ما كان فيها من مخاض ماء أو بحر، فجعله له خطوة، فلم يضع قدمه في شيء من الأرض إلا صار عمرانًا وبركة، حتى انتهى إلى مكة.
وكان قبل ذلك قد اشتد بكاؤه وحزنه لما كان فيه من عظم المصيبة، حتى إن كانت الملائكة لتحزن لحزنه ولتبكي لبكائه، فعزاه الله تعالى بخيمة من خيام الجنة، ووضعها له بمكة في موضع الكعبة قبل أن تكون الكعبة.
وتلك الخيمة ياقوتة حمراء من يواقيت الجنة، فيها ثلاثة قناديل من ذهب من تبر الجنة، فيها نور يلتهب من نور الجنة، ونزل معها الركن وهو يومئذ ياقوتة بيضاء من ربض الجنة، وكان كرسيا لآدم عليه السلام يجلس عليه، فلما صار آدم بمكة وحرس له تلك الخيمة بالملائكة، كانوا يحرسونها ويذودون عنها ساكن الأرض.
--------------------------------------------
এবং নিশ্চয়ই তিনি এটি পাঁচটি পাহাড়—লেবানন, তূর জাইতা, তূর সীনা, জুদী এবং হেরা—এর পাথর দিয়ে নির্মাণ করেছিলেন, যতক্ষণ না তা ভূপৃষ্ঠের উপর সমানভাবে স্থাপিত হলো।
ইবনে আব্বাস বলেন: আদম আলাইহিস সালামই সর্বপ্রথম এই ঘরের ভিত্তি স্থাপন করেন, এতে সালাত আদায় করেন এবং এর চারপাশে তওয়াফ করেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা মহাপ্লাবন প্রেরণ করেন। তিনি বলেন: তা ছিল আল্লাহর ক্রোধ ও শাস্তি স্বরূপ। তিনি বলেন: মহাপ্লাবন যেখানেই পৌঁছেছে, সেখান থেকে আদমের সুগন্ধি বিলীন হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন: মহাপ্লাবন সিন্ধু ও হিন্দ দেশের নিকটবর্তী হয়নি।
তিনি বলেন: মহাপ্লাবনে বায়তুল্লাহর স্থানটি বিলীন হয়ে গিয়েছিল, অবশেষে আল্লাহ তাআলা ইব্রাহীম ও ইসমাইল আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করলেন। অতঃপর তাঁরা এর ভিত্তি ও আলামতসমূহকে উপরে উঠালেন এবং পরবর্তীতে কুরাইশরা তা নির্মাণ করে। এটি বায়তুল মামুরের ঠিক সমান্তরালে অবস্থিত; যদি তা উপর থেকে পড়ত, তবে তা ঠিক এর (কাবা) উপরেই পড়ত।
(১)আবুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাহদি ইবনে আবি মাহদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল ইবনে আব্দুল কারিম আস-সানআনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুস সামাদ ইবনে মাকিল থেকে, তিনি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ তাআলা যখন আদম আলাইহিস সালামের তওবা কবুল করলেন, তখন তাঁকে মক্কার দিকে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর জন্য জমিনকে সংকুচিত করে দিলেন এবং মরুভূমিগুলোকে সংক্ষিপ্ত করে দিলেন। ফলে তিনি যে মরুভূমিই অতিক্রম করতেন, তা তাঁর একটি পদক্ষেপে পরিণত হতো। সেখানে পানির স্রোত বা সমুদ্র যা কিছু ছিল, তাও তিনি তাঁর জন্য সংকুচিত করে দিয়েছিলেন এবং সেগুলোকে তাঁর জন্য একটি পদক্ষেপে পরিণত করেছিলেন। তিনি জমিনের যেখানেই তাঁর পা রাখতেন, সেখানেই জনপদ ও বরকত সৃষ্টি হতো, এভাবে তিনি মক্কায় পৌঁছালেন।
এর পূর্বে তাঁর ওপর আপতিত বিপদের ভয়াবহতার কারণে তাঁর কান্না ও শোক অত্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল, এমনকি ফেরেশতারাও তাঁর শোকে শোকাহত হতেন এবং তাঁর কান্নায় কাঁদতেন। তখন আল্লাহ তাআলা জান্নাতের তাঁবুসমূহের মধ্য থেকে একটি তাঁবু দিয়ে তাঁকে সান্ত্বনা দিলেন এবং কাবার অস্তিত্ব হওয়ার পূর্বেই মক্কায় কাবার স্থানে তা স্থাপন করলেন।
সেই তাঁবুটি ছিল জান্নাতের ইয়াকুত পাথরসমূহের মধ্য থেকে একটি লাল ইয়াকুত। তাতে জান্নাতের খাঁটি স্বর্ণের তৈরি তিনটি প্রদীপ ছিল। তাতে জান্নাতের নূর থেকে প্রজ্জ্বলিত আলো ছিল। এর সাথে রুকন অবতীর্ণ হয়েছিল, যা সেই দিন জান্নাতের একটি সাদা ইয়াকুত ছিল। সেটি ছিল আদম আলাইহিস সালামের জন্য একটি আসন যার ওপর তিনি বসতেন। আদম যখন মক্কায় পৌঁছালেন, তখন ফেরেশতারা তাঁর জন্য সেই তাঁবুটি পাহারা দিচ্ছিলেন। তাঁরা সেটি পাহারা দিতেন এবং জমিনের বাসিন্দাদের তা থেকে দূরে সরিয়ে রাখতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ١٥)
وساكنها يومئذ الجن والشياطين، فلا ينبغي لهم أن ينظروا إلى شيء من الجنة؛ لأنه من نظر إلى شيء من الجنة وجبت له، والأرض يومئذ طاهرة نقية لم تنجس، ولم تسفك فيها الدماء، ولم يعمل فيها بالخطايا؛ فلذلك جعلها الله مسكن الملائكة، وجعلهم فيها كما كانوا في السماء يسبحون الله الليل، والنهار لا يفترون.
وكان وقوفهم على أعلام الحرم صفًّا واحدًا مستديرين بالحرم الشريف كله، الحل من خلفهم والحرم كله من أمامهم فلا يجوزهم جن ولا شيطان، ومن أجل مقام الملائكة حُرم الحرم حتى اليوم، ووضعت أعلامه حيث كان مقام الملائكة، وحرم الله عز وجل على حواء دخول الحرم والنظر إلى خيمة آدم عليه السلام من أجل خطيئتها التي أخطأت في الجنة، فلم تنظر إلى شيء من ذلك حتى قبضت.
وإن آدم عليه السلام كان إذا أراد لقاءها ليلم بها للولد، خرج من الحرم كله حتى يلقاها، فلم تزل خيمة آدم عليه السلام مكانها حتى قبض الله آدم، ورفعها الله تعالى.
وبنى بنو آدم بها من بعدها مكانها بيتًا بالطين والحجارة، فلم يزل معمورًا يعمره من بعدهم حتى كان زمن نوح عليه السلام فنسفه الغرق وخفي مكانه.
فلما بعث الله تعالى إبراهيم خليله عليه السلام طلب الاساس، فلما وصل إليه ظلل الله تعالى له مكان البيت بغمامة، فكانت حفاف البيت الأول، ثم لم تزل راكدة على حفافه تظل إبراهيم وتهديه مكان القواعد حتى رفع الله القواعد قامة.
ثم انكشفت الغمامة، فذلك قول الله عز وجل: {وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَاهِيمَ مَكَانَ الْبَيْتِ} [الحج: 26] أي: الغمامة التي ركدت على الحفاف لتهديه مكان القواعد، فلم يزل بحمد الله منذ رفعه الله معمورًا.
قال وهب بن منبه: وقرأت في كتاب من الكتب الأولى ذكر فيه أمر
সে সময়ে এর অধিবাসী ছিল জিন ও শয়তানরা। তাদের জন্য জান্নাতের কোনো কিছুর দিকে তাকানো সমীচীন ছিল না; কারণ যে ব্যক্তি জান্নাতের কোনো কিছুর দিকে তাকাবে, তা তার জন্য অবধারিত হয়ে যাবে। আর তখনকার জমিন ছিল পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন, যা অপবিত্র ছিল না, তাতে কোনো রক্তপাত ঘটানো হয়নি এবং তাতে কোনো পাপ কাজ করা হয়নি। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা ইহাকে ফেরেশতাদের বাসস্থান নির্ধারণ করেছিলেন এবং তাদেরকে সেখানে এমনভাবে রেখেছিলেন যেমন তারা আসমানে ছিল, তারা দিবা-রাত্রি আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করত এবং তাতে বিন্দুমাত্র শিথিলতা করত না।
আর তাদের অবস্থান ছিল হারামের সীমানাসমূহের ওপর এক কাতারে, যা পুরো হারামে শরিফকে ঘিরে ছিল। হিল (হারামের বাইরের এলাকা) ছিল তাদের পেছনে এবং পুরো হারাম ছিল তাদের সামনে, ফলে কোনো জিন বা শয়তান তাদের অতিক্রম করতে পারত না। ফেরেশতাদের সেই অবস্থানের কারণেই আজ পর্যন্ত হারামকে পবিত্র ঘোষণা করা হয়েছে এবং যেখানে ফেরেশতাদের অবস্থান ছিল সেখানেই হারামের সীমানা-চিহ্ন স্থাপন করা হয়েছে। আর জান্নাতে কৃত ভুলের কারণে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা হাওয়া আলাইহাস সালামের জন্য হারামে প্রবেশ করা এবং আদম আলাইহিস সালামের তাঁবুর দিকে তাকানো নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন। ফলে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এর কোনো কিছুর দিকেই তাকাতে পারেননি।
আর আদম আলাইহিস সালাম যখন সন্তানের উদ্দেশ্যে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে চাইতেন, তখন তিনি পুরো হারাম এলাকা থেকে বের হয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন। আদম আলাইহিস সালামের তাঁবুটি তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত নিজ স্থানেই ছিল, এরপর আল্লাহ তাআলা তা উঠিয়ে নেন।
অতঃপর আদম সন্তানরা তাঁর পরে সেই স্থানে কাদা ও পাথর দিয়ে একটি ঘর নির্মাণ করল। তাদের পরবর্তী বংশধরদের দ্বারা তা আবাদ হতে থাকল যতক্ষণ না নূহ আলাইহিস সালামের সময় এল; অতঃপর মহাপ্লাবন একে বিধ্বস্ত করে দিল এবং এর স্থানটি বিলুপ্ত হয়ে গেল।
যখন আল্লাহ তাআলা তাঁর খলিল ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে পাঠালেন, তখন তিনি এর ভিত্তিমূল অন্বেষণ করলেন। যখন তিনি সেখানে পৌঁছালেন, আল্লাহ তাআলা মেঘের ছায়া দিয়ে ঘরের স্থানটি তাঁর জন্য চিহ্নিত করে দিলেন। এটি ছিল প্রথম ঘরের সীমানা। মেঘটি সেই সীমানার ওপর স্থির থেকে ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে ছায়া দিচ্ছিল এবং তাঁকে ভিত্তিমূলের স্থানের নির্দেশনা দিচ্ছিল, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা ভিত্তিমূলগুলোকে এক মানুষ সমান উচ্চতায় উন্নীত করলেন।
অতঃপর মেঘটি সরে গেল। আর এটাই মহান আল্লাহর বাণী: “আর যখন আমি ইবরাহিমের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম সেই ঘরের স্থান” [সূরা হজ: ২৬]। অর্থাৎ সেই মেঘটি যা সীমানার ওপর স্থির ছিল যাতে তাঁকে ভিত্তিমূলের স্থানের পথপ্রদর্শন করা যায়। আল্লাহর প্রশংসায়, আল্লাহ তাআলা একে উন্নীত করার পর থেকে এটি আবাদ হয়েই আছে।
ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ বলেন: আমি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের মধ্য থেকে একটি কিতাবে পড়েছি, যাতে এই বিষয়টির উল্লেখ ছিল...
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ١٦)
الكعبة فوجد فيه أن ليس من ملك من الملائكة بعثه الله تعالى إلى الأرض إلا أمره بزيارة البيت، فينقض من عند العرش محرمًا ملبيًا حتى يستلم الحجر، ثم يطوف سبعًا بالبيت ويركع في جوفه ركعتين ثم يصعد.
وحدثني محمد بن يحيى، عن إبراهيم بن محمد بن أبي يحيى، عن عبد الله بن لبيد قال: بلغني أن ابن عباس قال: لما أهبط الله سبحانه آدم عليه السلام إلى الأرض أهبطه إلى موضع البيت الحرام وهو مثل الفلك من رعدته، ثم أنزل عليه الحجر الأسود -يعني الركن- وهو يتلألأ من شدة بياضه، فأخذه آدم عليه السلام فضمه إليه أنسًا به ثم نزلت عليه العصا، فقيل له: تخط يا آدم فتخطى فإذا هو بأرض الهند والسند، فمكث بذلك ما شاء الله ثم استوحش إلى الركن، فقيل له: احجج قال: فحج فلقيته الملائكة فقالوا: بر حجك يا آدم، لقد حججنا هذا البيت قبلك بألفي عام
(1).
وحدثني جدي، قال: حدثنا سعيد بن سالم، عن عثمان بن ساج، قال: أخبرني محمد بن إسحاق قال: بلغني أن آدم عليه السلام لما أهبط إلى الأرض حزن على ما فاته مما كان يرى ويسمع في الجنة من عبادة الله عز وجل، فبوأ الله له البيت الحرام وأمره بالسير إليه، فسار إليه لا ينزل منزلًا إلا فجر الله له ماء معينا، حتى انتهى إلى مكة فأقام بها يعبد الله عند ذلك البيت ويطوف به، فلم تزل داره حتى قبضه الله بها
(2).
حدثني جدي، قال: حدثني سعيد بن سالم، عن عثمان بن ساج، قال: بلغني أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال لكعب: يا كعب، أخبرني عن البيت الحرام قال كعب: أنزله الله تعالى من السماء ياقوتة مجوفة مع آدم عليه السلام فقال له: "يا آدم، إن هذا بيتي أنزلته معك يطاف حوله كما يطاف حول عرشي، ويصلى حوله كما يصلى حول عرشي" ونزلت معه الملائكة فرفعوا قواعده من
--------------------------------------------
কাবা। তিনি তাতে পেলেন যে, মহান আল্লাহ পৃথিবীতে যে ফেরেশতাকেই পাঠিয়েছেন, তাকেই এই ঘর যিয়ারত করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে তিনি আরশ থেকে ইহরাম অবস্থায় তালবিয়া পাঠ করতে করতে নিচে নেমে আসেন এবং হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করেন। এরপর সাতবার ঘরটি তওয়াফ করেন এবং তার ভেতরে দুই রাকাত নামাজ পড়েন, অতঃপর উপরে উঠে যান।
মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবু ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে লাবিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, ইবনে আব্বাস বলেছেন: যখন মহান আল্লাহ আদম আলাইহিস সালামকে পৃথিবীতে নামিয়ে আনেন, তখন তাকে বায়তুল হারামের স্থানে অবতীর্ণ করেন। তখন তিনি (আদম) প্রচণ্ড কম্পনে অস্থির ছিলেন। এরপর তিনি তার ওপর হাজরে আসওয়াদ—অর্থাৎ রুকন—নাজিল করেন, যা তার চরম শুভ্রতার কারণে ঝলমল করছিল। আদম আলাইহিস সালাম তা গ্রহণ করে মনের শান্তির জন্য নিজের সাথে জড়িয়ে ধরলেন। এরপর তার কাছে লাঠি নাজিল করা হলো এবং তাকে বলা হলো: "হে আদম! কদম ফেলো।" তখন তিনি কদম ফেললেন এবং নিজেকে হিন্দ ও সিন্ধের ভূমিতে দেখতে পেলেন। সেখানে আল্লাহ যতক্ষণ চাইলেন তিনি অবস্থান করলেন, এরপর রুকনের জন্য তিনি ব্যাকুল হয়ে পড়লেন। তাকে বলা হলো: "হজ করো।" তিনি হজ করলেন এবং ফেরেশতাদের সাথে তার দেখা হলো। তারা বললেন: "হে আদম! আপনার হজ কবুল হোক, আমরা আপনার দুই হাজার বছর আগেই এই ঘরের হজ করেছি।"
(১)আমার দাদা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ ইবনে সালিম থেকে, তিনি উসমান ইবনে সাজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আদম আলাইহিস সালামকে যখন পৃথিবীতে নামিয়ে আনা হলো, তখন তিনি জান্নাতে মহান আল্লাহর যে ইবাদত দেখতেন ও শুনতেন, তা হারিয়ে যাওয়ায় বিষণ্ণ হয়ে পড়লেন। তখন আল্লাহ তার জন্য বায়তুল হারাম নির্দিষ্ট করে দিলেন এবং সেখানে যাওয়ার আদেশ দিলেন। তিনি সেদিকে রওনা হলেন। তিনি যেখানেই যাত্রাবিরতি করতেন, আল্লাহ সেখানেই তার জন্য প্রবহমান পানির প্রস্রবণ তৈরি করে দিতেন। এভাবে তিনি মক্কায় পৌঁছালেন এবং সেখানে অবস্থান করে সেই ঘরের নিকট আল্লাহর ইবাদত ও তওয়াফ করতে লাগলেন। মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই তার আবাস ছিল।
(২)আমার দাদা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ ইবনে সালিম থেকে, তিনি উসমান ইবনে সাজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, উমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু কাবকে বললেন: "হে কাব! আমাকে বায়তুল হারাম সম্পর্কে সংবাদ দাও।" কাব বললেন: মহান আল্লাহ একে আদম আলাইহিস সালামের সাথে আসমান থেকে একটি ফাঁপা ইয়াকুত পাথর হিসেবে নাজিল করেছেন। আল্লাহ তাকে বললেন: "হে আদম! এটি আমার ঘর, আমি এটি তোমার সাথে নাজিল করেছি যাতে একে কেন্দ্র করে তওয়াফ করা হয় যেভাবে আমার আরশের চারদিকে তওয়াফ করা হয়, এবং এর চারপাশে নামাজ পড়া হয় যেভাবে আমার আরশের চারপাশে নামাজ পড়া হয়।" আর তার সাথে ফেরেশতারাও নাজিল হলেন এবং তারা এর ভিত্তিগুলো উত্তোলন করলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ١٧)
حجارة، ثم وضع البيت عليه فكان آدم عليه السلام يطوف حوله كما يطاف حول العرش، ويصلي عنده كما يصلى عند العرش، فلما أغرق الله قوم نوح رفعه الله إلى السماء، وبقيت قواعده
(1).
حدثني جدي، قال: وحدثني إبراهيم بن محمد بن أبي يحيى، عن أبان بن أبي عياش قال: بلغنا عن أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه سأل كعبًا، ثم نسق مثل الحديث الأول.
وحدثني جدي، قال: وحدثني إبراهيم بن محمد بن أبي يحيى، عن الزهري عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، عن ابن عباس -رضوان الله عليه- قال: كان آدم عليه السلام أول من أسس البيت، وصلى فيه حتى بعث الله الطوفان
(2).
حدثنا مهدي بن أبي المهدي قال: حدثنا عبد الله بن معاذ الصنعاني، عن معمر عن أبان أن البيت أهبط ياقوتة لآدم عليه السلام أو درة واحدة.
وحدثني جدي قال: حدثنا سعيد بن سالم القداح، عن عثمان بن ساج، عن وهب بن منبه قال: كان البيت الذي بوأه الله تعالى لآدم عليه السلام يومئذ ياقوتة من يواقيت الجنة حمراء تلتهب، لها بابان أحدهما شرقي والآخر غربي، وكان فيه قناديل من نور آنيتها ذهب من تبر الجنة وهو منظوم بنجوم من ياقوت أبيض، والركن يومئذ نجم من نجومه، وهو يومئذ ياقوتة بيضاء
(3).
حدثنا جدي، قال: حدثني إبراهيم بن محمد بن أبي يحيى، قال: حدثنا المغيرة بن زياد، عن عطاء بن أبي رباح قال: لما بنى ابن الزبير الكعبة أمر العمال أن يبلغوا في الأرض، فبلغوا صخرًا أمثال الإبل الخلف قال: فقالوا: إنا قد بلغنا صخرًا معمولًا أمثال الإبل الخلف قال: قال: زيدوا فاحفروا، فلما
--------------------------------------------
পাথরসমূহ, অতঃপর তিনি এর উপরে ঘরটি স্থাপন করলেন। আদম আলাইহিস সালাম এর চারপাশে তাওয়াফ করতেন যেভাবে আরশের চারপাশে তাওয়াফ করা হয় এবং এর নিকট সালাত আদায় করতেন যেভাবে আরশের নিকট সালাত আদায় করা হয়। যখন আল্লাহ নূহের সম্প্রদায়কে নিমজ্জিত করলেন, তখন আল্লাহ একে আসমানে উঠিয়ে নিলেন এবং এর ভিত্তিগুলো অবশিষ্ট রইল
(১)。
আমার দাদা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন আবি ইয়াহইয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবান বিন আবি আইয়াশ থেকে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীগণের থেকে আমাদের কাছে পৌঁছেছে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু কাবকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, অতঃপর প্রথম হাদিসের মতোই বর্ণনা করেছেন।
আমার দাদা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন আবি ইয়াহইয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যুহরী থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবাহ বিন মাসউদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আদম আলাইহিস সালামই প্রথম ব্যক্তি যিনি ঘরটির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং তাতে সালাত আদায় করেছিলেন যতক্ষণ না আল্লাহ তুফান (মহাপ্লাবন) প্রেরণ করলেন
(২)।
মাহদী বিন আবি মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন মুয়ায আস-সানআনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মামার থেকে, তিনি আবান থেকে যে, ঘরটি আদম আলাইহিস সালামের জন্য একটি ইয়াকুত অথবা একটি মোতি হিসেবে অবতীর্ণ করা হয়েছিল।
আমার দাদা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ বিন সালিম আল-কাদ্দাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান বিন সাজ থেকে, তিনি ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সেই ঘরটি, যা আল্লাহ তাআলা সেদিন আদম আলাইহিস সালামের জন্য নির্ধারণ করেছিলেন, তা ছিল জান্নাতের ইয়াকুতসমূহের মধ্যে একটি লাল প্রজ্জ্বলিত ইয়াকুত। এর দুটি দরজা ছিল, একটি পূর্ব দিকে এবং অন্যটি পশ্চিম দিকে। তাতে আলোর প্রদীপ ছিল যার পাত্রগুলো ছিল জান্নাতের স্বর্ণের। এটি সাদা ইয়াকুতের নক্ষত্রখচিত ছিল। আর রুকন (হাজরে আসওয়াদ) সেদিন তার নক্ষত্রগুলোর মধ্যে একটি নক্ষত্র ছিল এবং সেদিন তা ছিল একটি সাদা ইয়াকুত
(৩)।
আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন আবি ইয়াহইয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুগীরাহ বিন যিয়াদ থেকে, তিনি আতা বিন আবি রাবাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনুয যুবাইর যখন কাবা নির্মাণ করলেন, তিনি শ্রমিকদের মাটির গভীরে পৌঁছানোর নির্দেশ দিলেন। তারা গর্ভবতী উটনীর মতো বিশাল বিশাল পাথরের নিকট পৌঁছাল। তিনি বলেন: তারা বলল, আমরা গর্ভবতী উটনীর মতো বিশাল নির্মিত পাথরের নিকট পৌঁছেছি। তিনি বলেন: তিনি বললেন, আরও খনন করো। অতঃপর যখন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ١٨)
زادوا بلغوا هواء من نار يلقاهم فقال: ما لكم؟ قالوا: لسنا نستطيع أن نزيد، رأينا أمرًا عظيمًا فلا نستطيع. فقال لهم: ابنوا عليه، قال: فسمعت عطاء يقول: يرون أن ذلك الصخر مما بنى آدم عليه السلام.
وحدثني جدي، عن سعيد بن سالم، عن عثمان بن ساج، عن الزهري، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، عن ابن عباس، خر آدم ساجدًا يبكي فهتف به هاتف فقال: "ما يبكيك يا آدم؟ " قال: أبكاني أنه حيل بيني وبين تسبيح ملائكتك وتقديس قدسك، فقيل له: "يا آدم، قم إلى البيت الحرام" فخرج إلى مكة فكان حيث يضع قدميه يفجر عيونًا، وعمرانًا، ومدائن وما بين قدميه الخراب والمعاطش، فبلغني أن آدم عليه السلام تذكر الجنة فبكى، فلو عدل بكاء الخلق ببكاء آدم حين أخرج من الجنة ما عدله، ولو عدل بكاء الخلق وبكاء آدم عليه السلام ببكاء داود حين أصاب الخطيئة ما عدله.
حدثني جدي قال: أخبرنا سعيد بن سالم، عن عثمان بن ساج، عن وهب بن منبه أن آدم عليه السلام اشتد بكاؤه وحزنه لما كان من عظم المصيبة حتى إن كانت الملائكة لتحزن لحزنه، ولتبكي لبكائه قال: فعزاه الله بخيمة من خيام الجنة وضعها له بمكة في موضع الكعبة قبل أن تكون الكعبة، وتلك الخيمة ياقوتة حمراء من ياقوت الجنة وفيها ثلاثة قناديل من ذهب من تبر الجنة، فيها نور يلتهب من نور الجنة، فلما صار آدم عليه السلام إلى مكة وحرس له تلك الخيمة بالملائكة، فكانوا يحرسونه ويذودون عنها سكان الأرض، وسكانها يومئذ الجن والشياطين، ولا ينبغي لهم أن ينظروا إلى شيء من الجنة؛ لأنه من نظر إلى شيء منها وجبت له، والأرض يومئذ نقية طاهرة طيبة لم تنجس ولم تسفك فيها الدماء، ولم يعمل فيها بالخطايا؛ فلذلك جعلها الله يومئذ مستقر الملائكة وجعلهم فيها كما كانوا في السماء يسبحون الليل والنهار لا يفترون، قال: فلم تزل تلك الخيمة مكانها حتى قبض الله آدم عليه السلام ثم رفعها إليه.
তারা অগ্রসর হয়ে আগুনের এক তপ্ত হাওয়ার কাছে পৌঁছাল যা তাদের মুখোমুখি হয়েছিল। তিনি বললেন: "তোমাদের কী হয়েছে?" তারা বলল: "আমরা আর সামনে এগোতে পারছি না, আমরা এক মহা বিষয় দেখেছি যার কারণে আমরা সক্ষম হচ্ছি না।" তিনি তাদের বললেন: "এর উপরেই নির্মাণ করো।" বর্ণনাকারী বলেন: আমি আতা’কে বলতে শুনেছি—তারা মনে করত যে, ওই পাথরটি সেই সব বস্তুর অন্তর্ভুক্ত যা আদম (আলাইহিস সালাম) নির্মাণ করেছিলেন।
আমার দাদা আমাকে বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে সালিম থেকে, তিনি উসমান ইবনে সাজ থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আদম (আলাইহিস সালাম) সিজদাবনত হয়ে কাঁদছিলেন। তখন এক অদৃশ্য আহ্বানকারী তাকে ডেকে বলল: "হে আদম! কিসে তোমাকে কাঁদাচ্ছে?" তিনি বললেন: "আমাকে এই শোচনা কাঁদাচ্ছে যে, আপনার ফেরেশতাদের তাসবিহ পাঠ এবং আপনার পবিত্র সত্তার পবিত্রতা বর্ণনার মাঝে আমার জন্য অন্তরায় সৃষ্টি করা হয়েছে।" তখন তাকে বলা হলো: "হে আদম! বাইতুল হারামের দিকে চলো।" অতঃপর তিনি মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। তিনি যেখানেই তার পা রাখতেন, সেখানেই ঝরনাধারা প্রবাহিত হতো এবং সেখানে বসতি ও শহর গড়ে উঠত। আর তার দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থানগুলো অর্থাৎ যেখানে তিনি পা রাখতেন না, তা বিরান ও তৃষ্ণার্ত ভূমি হিসেবেই থেকে যেত। আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আদম (আলাইহিস সালাম) জান্নাতের কথা স্মরণ করে কাঁদতেন। জান্নাত থেকে বের হওয়ার সময় যদি সমস্ত সৃষ্টির কান্নাকে আদমের কান্নার সাথে তুলনা করা হতো, তবে তা আদমের কান্নার সমান হতো না। আবার যদি সমস্ত সৃষ্টির কান্না এবং আদম (আলাইহিস সালাম)-এর কান্নাকে দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর কান্নার সাথে তুলনা করা হতো যখন তিনি তার পদস্খলনের জন্য কেঁদেছিলেন, তবে তাও তার সমপর্যায়ভুক্ত হতো না।
আমার দাদা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ ইবনে সালিম, তিনি উসমান ইবনে সাজ থেকে, তিনি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেন যে, বিপদের গুরুত্বের কারণে আদম (আলাইহিস সালাম)-এর কান্না ও শোক এতই তীব্র হয়েছিল যে, ফেরেশতারাও তার দুঃখে দুঃখিত হতো এবং তার কান্নার কারণে কাঁদত। তিনি বলেন: তখন আল্লাহ তাকে জান্নাতের তাঁবুগুলোর মধ্য থেকে একটি তাঁবুর মাধ্যমে সান্ত্বনা দিলেন, যা তিনি তার জন্য মক্কায় কাবার স্থানে স্থাপন করেছিলেন কাবা নির্মিত হওয়ার পূর্বে। সেই তাঁবুটি ছিল জান্নাতের লাল ইয়াকুত পাথরের তৈরি এবং তাতে জান্নাতের খাঁটি স্বর্ণের তিনটি প্রদীপ ছিল, যাতে জান্নাতের নূর প্রজ্জ্বলিত ছিল। আদম (আলাইহিস সালাম) যখন মক্কায় পৌঁছালেন, তখন ফেরেশতারা সেই তাঁবুটি পাহারা দিচ্ছিলেন। তারা তাকে পাহারা দিতেন এবং পৃথিবীর অধিবাসীদের—যারা সে সময় ছিল জিন ও শয়তান—সেখান থেকে বিতাড়িত রাখতেন। জান্নাতের কোনো কিছুর দিকে তাকানো তাদের জন্য সমীচীন ছিল না; কারণ যে ব্যক্তি তার কোনো কিছুর দিকে তাকাবে, তা তার জন্য অবধারিত হয়ে যাবে। সে সময় পৃথিবী ছিল স্বচ্ছ, পবিত্র ও সুগন্ধময়; তা অপবিত্র ছিল না, সেখানে কোনো রক্তপাত হয়নি এবং কোনো পাপ কাজ করা হয়নি। এই কারণেই আল্লাহ সেই সময় পৃথিবীকে ফেরেশতাদের আবাসস্থল করেছিলেন এবং তাদের সেখানে রেখেছিলেন ঠিক যেমন তারা আসমানে দিন-রাত ক্লান্তিহীনভাবে আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করে। তিনি বলেন: আল্লাহ আদম (আলাইহিস সালাম)-এর জান কবজ করা পর্যন্ত তাঁবুটি সেই স্থানেই ছিল, অতঃপর তিনি তা নিজের দিকে তুলে নেন।
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ١٩)
حدثني مهدي بن أبي المهدي، عن عبد الله بن معاذ الصنعاني، عن معمر عن قتادة في قوله عز وجل {وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَاهِيمَ مَكَانَ الْبَيْتِ} [الحج: 26] قال: وضع الله تعالى البيت مع آدم عليه السلام فأهبط الله تعالى آدم إلى الأرض، وكان مهبطه بأرض الهند، وكان رأسه في السماء ورجلاه في الأرض، وكانت الملائكة تهابه فقبض إلى ستين ذراعًا فحزن آدم عليه السلام إذ فقد أصوات الملائكة وتسبيحهم، فشكا ذلك إلى الله تعالى فقال الله تعالى: "يا آدم، إني أهبطت معك بيتًا يطاف حوله كما يطاف حول عرشي" فانطلق إليه فخرج آدم عليه السلام ومد له في خطوه فكان خطوتان أو بين خطوتين مفازة، فلم يزل على ذلك، فأتى آدم عليه السلام البيت فطاف به، ومن بعده من الأنبياء.
حدثني محمد بن يحيى عن عبد العزيز بن عمران، عن عمر بن أبي معروف، عن عبد الله بن أبي زياد أنه قال: لما أهبط الله تعالى آدم عليه السلام من الجنة قال: "يا آدم، ابن لي بيتًا بحذاء بيتي الذي في السماء، تتعبد فيه أنت وولدك كما تتعبد ملائكتي حول عرشي" فهبطت عليه الملائكة فحفر حتى بلغ الأرض السابعة، فقذفت الملائكة الصخر حتى أشرف على وجه الأرض، وهبط آدم عليه السلام بياقوتة حمراء مجوفة لها أربعة أركان بيض، فوضعها على الأساس فلم تزل الياقوتة كذلك حتى كان زمن الغرق، فرفعها الله سبحانه
(1).
--------------------------------------------
মাহদী বিন আবি আল-মাহদী আমাকে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুআজ আস-সানআনী থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন— {এবং যখন আমি ইব্রাহীমের জন্য সেই ঘরের স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম} [আল-হাজ্জ: ২৬]: তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা আদম আলাইহিস সালামের সাথে ঘরটি স্থাপন করেছিলেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা আদমকে পৃথিবীতে নামিয়ে দেন, এবং তার অবতরণস্থল ছিল হিন্দুস্তান ভূখণ্ডে। তখন তার মাথা ছিল আকাশে এবং তার দুই পা ছিল জমিনে। ফেরেশতারা তাকে দেখে ভয় পেতেন, ফলে তাকে কমিয়ে ষাট হাত করে দেওয়া হয়। ফেরেশতাদের আওয়াজ এবং তাদের তাসবীহ শুনতে না পাওয়ায় আদম আলাইহিস সালাম দুঃখিত হলেন এবং আল্লাহ তাআলার কাছে সে বিষয়ে অভিযোগ করলেন। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন: "হে আদম, আমি তোমার সাথে এমন একটি ঘর অবতীর্ণ করেছি যার চারদিকে তাওয়াফ করা হয়, যেমন আমার আরশের চারদিকে তাওয়াফ করা হয়।" অতঃপর তিনি সেদিকে রওনা হলেন এবং তার পদক্ষেপগুলো দীর্ঘ করে দেওয়া হলো; তার দুই পদক্ষেপের দূরত্ব বা দুই পদক্ষেপের মধ্যবর্তী স্থান ছিল এক একটি বিস্তীর্ণ মরুভূমি। তিনি এভাবেই চলতে থাকলেন এবং শেষ পর্যন্ত আদম আলাইহিস সালাম সেই ঘরে পৌঁছে তা তাওয়াফ করলেন, এবং তার পরবর্তী নবীগণও তা-ই করেছিলেন।
মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আমাকে বর্ণনা করেছেন আবদুল আজিজ বিন ইমরান থেকে, তিনি উমর বিন আবি মা’রুফ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আবি যিয়াদ থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: যখন আল্লাহ তাআলা আদম আলাইহিস সালামকে জান্নাত থেকে নামিয়ে দিলেন, তখন তিনি বললেন: "হে আদম, আকাশে অবস্থিত আমার ঘরের সোজাসুজি আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করো, সেখানে তুমি এবং তোমার সন্তানরা ইবাদত করবে যেমন আমার ফেরেশতারা আমার আরশের চারপাশে ইবাদত করে।" তখন ফেরেশতারা তার কাছে নেমে এলেন এবং তারা সপ্তম জমিন পর্যন্ত খনন করলেন। অতঃপর ফেরেশতারা পাথর নিক্ষেপ করলেন এমনকি তা ভূপৃষ্ঠ পর্যন্ত উন্নীত হলো। আদম আলাইহিস সালাম একটি ফাঁপা লাল ইয়াকুত পাথর নিয়ে অবতরণ করেছিলেন যার চারটি কোণ ছিল সাদা। তিনি তা ভিত্তির ওপর স্থাপন করলেন। মহাপ্লাবনের সময় পর্যন্ত ইয়াকুত পাথরটি এভাবেই ছিল, অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু তা উঠিয়ে নেন
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ١٩)
ما جاء في حج آدم عليه السلام ودعائه لذريته:حدثنا أبو الوليد، قال: حدثني جدي، عن سعيد بن سالم عن عثمان بن ساج قال: حُدثت أن آدم عليه السلام خرج حتى قدم مكة فبنى البيت، فلما فرغ من بنائه قال: أي رب، إن لكل أجير أجرًا وإن لي أجرًا، قال: "نعم،
আদাম আলাইহিস সালামের হাজ্জ এবং তাঁর সন্তানদের জন্য তাঁর দুআ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে:আবুল ওয়ালীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ ইবনে সালিম থেকে, তিনি উসমান ইবনে সাজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে, আদাম আলাইহিস সালাম বের হলেন এবং মক্কায় আসলেন, এরপর তিনি ঘরটি (কাবা) নির্মাণ করলেন। যখন তিনি এর নির্মাণ কাজ শেষ করলেন, তখন বললেন: হে আমার প্রতিপালক, প্রত্যেক শ্রমিকেরই পারিশ্রমিক রয়েছে, আর নিশ্চয়ই আমার জন্যও পারিশ্রমিক রয়েছে। তিনি বললেন: "হ্যাঁ,
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
فاسألني" قال: أي رب، تردني من حيث أخرجتني، قال: "نعم ذلك لك" قال: أي رب، ومن خرج إلى هذا البيت من ذريتي يقر على نفسه بمثل الذي قررت به من ذنوبي أن تغفر له قال: "نعم ذلك لك"
(1).
حدثنا أبو الوليد، قال: حدثنا محمد بن يحيى، عن إبراهيم بن محمد بن أبي يحيى عن أبي المليح أنه قال: كان أبو هريرة يقول: حج آدم عليه السلام فقضى المناسك فلما حج قال: يا رب إن لكل عامل أجرًا قال الله تعالى: "أما أنت يا آدم فقد غفرت لك، وأما ذريتك فمن جاء منهم هذا البيت فباء بذنبه غفرت له".
فحج آدم عليه السلام فاستقبلته الملائكة بالرحمة فقالت: بر حجك يا آدم، قد حججنا هذا البيت قبلك بألفي عام، قال: فما كنتم تقولون حوله؟ قالوا: كنا نقول: سبحان الله، والحمد لله، ولا إله إلا الله، والله أكبر قال: فكان آدم عليه السلام إذا طاف بالبيت يقول هؤلاء الكلمات، وكان طواف آدم عليه السلام سبعة أسابيع بالليل، وخمسة أسابيع بالنهار.
قال نافع: كان ابن عمر رحمه الله يفعل ذلك.
حدثني محمد بن يحيى قال: حدثني هشام بن سليمان المخزومي، عن عبد الله بن أبي سليمان مولى بني مخزوم أنه قال: طاف آدم عليه السلام سبعًا بالبيت حين نزل، ثم صلى وجاه باب الكعبة ركعتين، ثم أتى الملتزم فقال: اللهم إنك تعلم سريرتي وعلانيتي فاقبل معذرتي، وتعلم ما في نفسي وما عندي فاغفر لي ذنوبي، وتعلم حاجتي فأعطني سؤلي، اللهم إني أسألك إيمانًا يباشر قلبي ويقينًا صادقًا حتى أعلم أنه لن يصيبني إلا ما كتبت لي، والرضا بما قضيت علي.
قال: فأوحى الله تعالى إليه: "يا آدم، قد دعوتني بدعوات فاستجبت لك،
--------------------------------------------
অতঃপর আমাকে জিজ্ঞেস করো।" তিনি বললেন: "হে আমার রব, আপনি কি আমাকে সেখান থেকেই ফিরিয়ে দেবেন যেখান থেকে আমাকে বের করেছেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তা তোমার জন্য।" তিনি বললেন: "হে আমার রব, আমার সন্তানদের মধ্যে যারা এই ঘরে আসবে এবং নিজের অপরাধসমূহ সেইভাবেই স্বীকার করবে যেভাবে আমি আমার গুনাহসমূহ স্বীকার করেছি, তাদের কি আপনি ক্ষমা করে দেবেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তা তোমার জন্য।"
(১).
আবুল ওয়ালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবুল মালিহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: আবু হুরায়রা বলতেন: আদম আলাইহিস সালাম হজ পালন করলেন এবং হজের যাবতীয় কার্যাদি সম্পন্ন করলেন। যখন তিনি হজ সম্পন্ন করলেন, তখন বললেন: "হে আমার রব, প্রত্যেক শ্রমিকের জন্যই তো পারিশ্রমিক রয়েছে।" আল্লাহ তাআলা বললেন: "হে আদম, তোমার কথা যদি বলো, তবে আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আর তোমার সন্তানদের ব্যাপারে কথা হলো, তাদের মধ্যে যারা এই ঘরে আসবে এবং নিজের গুনাহ স্বীকার করবে, আমি তাদের ক্ষমা করে দেব।"
আদম আলাইহিস সালাম হজ পালন করলেন। ফেরেশতারা রহমতের সাথে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং বললেন: "হে আদম, আপনার হজ কবুল হোক। আমরা আপনার দুই হাজার বছর আগে এই ঘরে হজ করেছি।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "আপনারা এর চারপাশে কী বলতেন?" তারা বললেন: "আমরা বলতাম: সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ পবিত্র), আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর), লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই) এবং আল্লাহু আকবার (আল্লাহ মহান)।" বর্ণনাকারী বলেন: আদম আলাইহিস সালাম যখন বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতেন, তখন এই শব্দগুলো বলতেন। আদম আলাইহিস সালাম-এর তাওয়াফ ছিল রাতে সাত সপ্তাহ এবং দিনে পাঁচ সপ্তাহ।
নাফে বলেন: ইবনে উমর রাহিমাহুল্লাহ এরূপ করতেন।
মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম ইবনে সুলাইমান আল-মাখজুমি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বনু মাখজুমের মুক্তদাস আবদুল্লাহ ইবনে আবি সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: আদম আলাইহিস সালাম যখন অবতরণ করলেন, তখন বায়তুল্লাহ সাতবার তাওয়াফ করলেন। এরপর কাবার দরজার সামনে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন। অতঃপর মুলতাজামে এসে বললেন: "হে আল্লাহ, আপনি আমার গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছুই জানেন, তাই আমার ওজর কবুল করুন। আমার অন্তরে কী আছে এবং আমার কাছে কী আছে তা আপনি জানেন, তাই আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন। আপনি আমার প্রয়োজন জানেন, তাই আমার প্রার্থনা পূরণ করুন। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এমন ঈমান প্রার্থনা করছি যা আমার অন্তরের সাথে মিশে থাকবে এবং এমন সত্য ইয়াকিন প্রার্থনা করছি যেন আমি জানতে পারি যে, আপনি আমার জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছু আমার কাছে পৌঁছাবে না, আর আপনি আমার জন্য যা ফয়সালা করেছেন তাতে যেন আমি সন্তুষ্ট থাকি।"
বর্ণনাকারী বলেন: তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর নিকট ওহি পাঠালেন: "হে আদম, তুমি আমার কাছে কিছু প্রার্থনা করেছ এবং আমি তোমার দুআ কবুল করেছি,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ٢١)
ولن يدعوني بها أحد من ولدك إلا كشفت غمومه وهمومه، وكففت عليه ضيعته، ونزعت الفقر من قلبه، وجعلت الغناء بين عينيه، وتجرت له من وراء تجارة كل تاجر، وأتته الدنيا وهي راغمة وإن كان لا يريدها". قال: فمذ طاف آدم عليه السلام كانت سنة الطواف.
"আর তোমার সন্তানদের মধ্য থেকে যে কেউ এই দোয়ার মাধ্যমে আমাকে ডাকবে, আমি অবশ্যই তার দুঃখ ও দুশ্চিন্তা দূর করে দেব, তার বিষয়াবলিকে সুসংহত করব, তার অন্তর থেকে দারিদ্র্য দূর করে দেব এবং তার দুই চোখের সামনে সচ্ছলতা স্থাপন করব। আর প্রতিটি ব্যবসায়ীর ব্যবসার আড়ালে আমি তার জন্য ব্যবসা করব এবং দুনিয়া তার কাছে বিনীত হয়ে আসবে, যদিও সে তা না চায়।" তিনি বলেন: আদম আলাইহিস সালাম যখন থেকে তাওয়াফ করেছেন, তখন থেকেই তাওয়াফের সুন্নাত প্রচলিত হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ٢١)
"سنة الطواف":حدثني جدي قال: حدثنا سعيد بن سالم، عن عثمان بن ساج، قال: حدثني موسى بن عبيد، عن محمد بن المنكدر قال: كان أول شيء عمله آدم عليه السلام حين أهبط من السماء، طاف بالبيت فلقيته الملائكة فقالوا: بر نسكك يا آدم، طفنا بهذا البيت قبلك بألفي سنة.
حدثني جدي، عن سفيان بن عيينة، عن الحرام بن أبي لبيد المدني قال: حج آدم عليه السلام فلقيته الملائكة فقالوا: يا آدم بر حجك، قد حججنا قبلك بألفي عام.
حدثني جدي عن سعيد بن سالم، عن عثمان بن ساج، قال: أخبرني سعيد أن آدم عليه السلام حج على رجليه سبعين حجة ماشيًا، وأن الملائكة لقيته بالمأزمين فقالوا: بر حجك يا آدم، أما إنا قد حججنا قبلك بألفي عام.
حدثني جدي، عن سعيد بن سالم، عن طلحة بن عمرو الحضرمي، عن عطاء بن أبي رباح عن ابن عباس رضي الله عنه قال: حج آدم عليه السلام وطاف بالبيت سبعًا، فلقيته الملائكة في الطواف فقالوا: بر حجك يا آدم، أما إنا قد حججنا قبلك هذا البيت بألفي عام، قال: فما كنتم تقولون في الطواف؟ قالوا: كنا نقول: سبحان الله، والحمد لله، ولا إله إلا الله، والله أكبر، قال آدم عليه السلام: فزيدوا فيها: ولا حول ولا قوة إلا بالله قال: فزادت الملائكة فيها ذلك.
"তাওয়াফের সুন্নাত":আমার দাদা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে সালিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে সাজ থেকে, তিনি বলেন: মূসা ইবনে উবায়দ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-মুনকাদির থেকে, তিনি বলেন: আদম আলাইহিস সালাম যখন আসমান থেকে অবতরণ করলেন, তখন তিনি সর্বপ্রথম যে কাজটি করেছিলেন তা হলো বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করা। তখন ফেরেশতামণ্ডলী তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: হে আদম! আপনার ইবাদত কবুল ও পুণ্যময় হোক, আমরা আপনার দুই হাজার বছর পূর্ব থেকেই এই ঘরের তাওয়াফ করছি।
আমার দাদা সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা থেকে, তিনি আল-হারাম ইবনে আবি লাবিদ আল-মাদানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আদম আলাইহিস সালাম হজ্জ পালন করলেন। তখন ফেরেশতারা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: হে আদম! আপনার হজ্জ কবুল ও পুণ্যময় হোক, আমরা আপনার দুই হাজার বছর পূর্ব থেকেই হজ্জ পালন করছি।
আমার দাদা সাঈদ ইবনে সালিম থেকে, তিনি উসমান ইবনে সাজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আদম আলাইহিস সালাম সত্তর বার পায়ে হেঁটে হজ্জ পালন করেছেন। ফেরেশতারা মা'যামাইন নামক স্থানে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: হে আদম! আপনার হজ্জ কবুল ও পুণ্যময় হোক, নিশ্চয়ই আমরা আপনার দুই হাজার বছর পূর্ব থেকেই হজ্জ পালন করছি।
আমার দাদা সাঈদ ইবনে সালিম থেকে, তিনি তালহা ইবনে আমর আল-হাদরামি থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আদম আলাইহিস সালাম হজ্জ পালন করলেন এবং সাত বার বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করলেন। তাওয়াফের সময় ফেরেশতামণ্ডলী তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: হে আদম! আপনার হজ্জ কবুল ও পুণ্যময় হোক, নিশ্চয়ই আমরা আপনার দুই হাজার বছর পূর্ব থেকে এই ঘরের হজ্জ করছি। আদম আলাইহিস সালাম বললেন: আপনারা তাওয়াফের সময় কী পাঠ করতেন? তাঁরা বললেন: আমরা পাঠ করতাম—সুবহানাল্লাহ, ওয়ালহামদুলিল্লাহ, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আকবার। আদম আলাইহিস সালাম বললেন: আপনারা এর সাথে ‘ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বৃদ্ধি করুন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন ফেরেশতারা সেই তাসবিহতে এটি বৃদ্ধি করে নিলেন।
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
قال: ثم حج إبراهيم عليه السلام بعد بنيانه البيت، فلقيته الملائكة في الطواف فسلموا عليه فقال لهم إبراهيم: ماذا كنتم تقولون في طوافكم؟ قالوا: كنا نقول قبل أبيك آدم: سبحان الله والحمد لله ولا إله إلا الله والله أكبر، فأعلمناه ذلك فقال آدم عليه السلام: زيدوا فيها: ولا حول ولا قوة إلا بالله، فقال إبراهيم: زيدوا فيها: العلي العظيم قال: ففعلت الملائكة ذلك.
তিনি বললেন: এরপর ইবরাহিম আলাইহিস সালাম গৃহটি নির্মাণের পর হজ্জ পালন করলেন। তখন তাওয়াফ করার সময় ফেরেশতাগণ তাঁর সাথে সাক্ষাত করলেন এবং তাঁকে সালাম দিলেন। ইবরাহিম আলাইহিস সালাম তাঁদেরকে বললেন: তোমরা তোমাদের তাওয়াফে কী বলতে? তাঁরা বললেন: আমরা তোমার পিতা আদমের পূর্বে বলতাম: আল্লাহ অতি পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। এরপর আমরা তাঁকে তা অবগত করলাম, তখন আদম আলাইহিস সালাম বললেন: এর সাথে বৃদ্ধি করো—আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই। অতঃপর ইবরাহিম আলাইহিস সালাম বললেন: এর সাথে বৃদ্ধি করো—যিনি সুউচ্চ, অতি মহান। তিনি বললেন: ফেরেশতাগণ তখন তা-ই করলেন।
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
ذكر وحشة آدم في الأرض حين نزلها، وفضل البيت الحرام والحرم:حدثنا أبو الوليد قال: حدثني جدي، عن سعيد بن سالم، عن عثمان بن ساج عن وهب بن منبه أنه قال: إن آدم عليه السلام لما هبط إلى الأرض استوحش فيها؛ لما رأى من سعتها ولم ير فيها أحدًا غيره فقال: يا رب، أما لأرضك هذه عامر، يسبحك فيها ويقدس لك غيري؟
قال: "إني سأجعل فيها من ذريتك من يسبح بحمدي ويقدس لي، وسأجعل فيها بيوتًا ترفع لذكري ويسبحني فيها خلقي، وسأبوئك فيها بيتًا أختاره لنفسي وأختصه بكرامتي وأوثره على بيوت الأرض كلها باسمي، فأسميه بيتي وأنطقه بعظمتي، وأجوزه بحرماتي، وأجعله أحق بيوت الأرض كلها وأولاها بذكري، وأضعه في البقعة التي اخترت لنفسي، فإني اخترت مكانه يوم خلقت السموات والأرض، وقبل ذلك قد كان بغيتي فهو صفوتي من البيوت، ولست أسكنه وليس ينبغي لي أن أسكن البيوت ولا ينبغي لها أن تسعني، ولكن على كرسي الكبرياء والجبروت وهو الذي استقل بعزتي، وعليه وضعت عظمتي وجلالي، وهنالك استقر قراري، ثم هو بعد ضعيف عني لولا قوتي، ثم أنا بعد ذلك ملء كل شيء، وفوق كل شيء، ومع كل شيء، ومحيط بكل شيء، وأمام كل شيء، وخلف كل شيء، ليس ينبغي لشيء أن
পৃথিবীতে আদমের অবতরণকালীন একাকীত্বের বর্ণনা এবং বাইতুল হারাম ও হারামের শ্রেষ্ঠত্ব:আবুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমার নিকট সাঈদ ইবনে সালিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি উসমান ইবনে সাজ থেকে, তিনি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই আদম (আলাইহিস সালাম) যখন পৃথিবীতে অবতীর্ণ হলেন, তখন তিনি সেখানে নির্জনতা ও একাকীত্ব অনুভব করলেন; কারণ তিনি পৃথিবীর বিশালতা দেখলেন অথচ সেখানে তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে দেখলেন না। তখন তিনি বললেন: হে আমার রব, আপনার এই পৃথিবীতে কি কোনো আবাদকারী নেই, যে আমি ব্যতীত আপনার তাসবিহ পাঠ করবে এবং আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করবে?
তিনি (আল্লাহ) বললেন: "নিশ্চয়ই আমি এতে তোমার বংশধরদের মধ্য থেকে এমন লোক সৃষ্টি করব যারা আমার প্রশংসার সাথে তাসবিহ পাঠ করবে এবং আমার পবিত্রতা বর্ণনা করবে। আর আমি এতে এমন সব ঘর নির্মাণ করব যা আমার স্মরণের জন্য সমুন্নত করা হবে এবং সেখানে আমার মাখলুক (সৃষ্টিজগত) আমার তাসবিহ পাঠ করবে। আর আমি তোমার জন্য সেখানে এমন একটি ঘর নির্দিষ্ট করব যা আমি নিজের জন্য মনোনীত করেছি, একে আমার বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেছি এবং আমার নামে পৃথিবীর সকল ঘরের ওপর একে প্রাধান্য দিয়েছি। আমি একে 'আমার ঘর' হিসেবে নামকরণ করব, একে আমার মহিমা দ্বারা মুখরিত করব এবং আমার পবিত্রতা ও অলঙ্ঘনীয়তা দ্বারা একে সংরক্ষিত করব। আমি একে পৃথিবীর সকল ঘরের মধ্যে হকের বিচারে সবচেয়ে অগ্রগণ্য এবং আমার স্মরণের জন্য সর্বাধিক উপযুক্ত করব। আমি একে এমন এক ভূখণ্ডে স্থাপন করব যা আমি নিজের জন্য পছন্দ করেছি। কেননা আমি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিনই এর স্থান নির্বাচন করেছি, বরং তার আগেও এটি আমার অভিপ্রায় ছিল। সুতরাং এটি সকল ঘরের মধ্যে আমার মনোনীত ঘর। আমি এতে বসবাস করি না এবং ঘরসমূহে বসবাস করা আমার জন্য সমীচীন নয়, আর কোনো ঘরের পক্ষেও আমাকে ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে আমি মহত্ত্ব ও পরাক্রমের কুরসীর উপরে আছি যা আমার সম্মানের সাথে সুপ্রতিষ্ঠিত, এবং যার ওপর আমি আমার মহানুভবতা ও মহিমা স্থাপন করেছি। সেখানেই আমার স্থিতি অর্জিত হয়েছে। অতঃপর আমার শক্তি ব্যতীত সে (কুরসী) আমার ভার বহনে অক্ষম। তদুপরি আমি সবকিছুর পূর্ণতা দানকারী, সবকিছুর উপরে, সবকিছুর সাথে, সবকিছুকে পরিবেষ্টনকারী, সবকিছুর সামনে এবং সবকিছুর পেছনে। কোনো কিছুর জন্যই সমীচীন নয় যে...
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
يعلم علمي، ولا يقدر قدرتي، ولا يبلغ كنه شأني.
أجعل ذلك البيت لك ولمن بعدك حرمًا وأمنًا، أحرم بحرماته ما فوقه، وما تحته، وما حوله، فمن حرمه بحرمتي فقد عظم حرماتي، ومن أحله فقد أباح حرماتي، ومن أمن أهله فقد استوجب بذلك أماني، ومن أخافهم فقد أخفرني في ذمتي، ومن عظم شأنه عظم في عيني، ومن تهاون به صغر في عيني ولكل ملك حيازة ما حواليه، وبطن مكة خيرتي وحيازتي وجيران بيتي وعمارها وزوارها وفدي وأضيافي في كنفي وأفنيتي ضامنون علي في ذمتي وجواري، فأجعله أول بيت وضع للناس وأعمره بأهل السماء وأهل الأرض يأتونه أفواجًا شعثًا غبرًا على كل ضامر يأتين من كل فج عميق، يعجون بالتكبير عجيجًا ويرجون بالتلبية رجيجًا وينتحبون بالبكاء نحيبًا، فمن اعتمره لا يريد غيري فقد زارني ووفد إلي ونزل بي، ومن نزل بي فحقيق علي أن أتحفه بكرامتي وحق الكريم أن يكرم وفده وأضيافه، وأن يسعف كل واحد منهم بحاجته.
تعمره يا آدم ما كنت حيا، ثم تعمره من بعدك الأمم والقرون والأنبياء، أمة بعد أمة، وقرن بعد قرن، ونبي بعد نبي، حتى ينتهي ذلك إلى نبي من ولدك وهو خاتم النبيين، فأجعله من عماره، وسكانه، وحماته، وولاته، وسقاته يكون أميني عليه ما كان حيا، فإذا انقلب إلي وجدني قد ذخرت له من أجره وفضيلته ما يتمكن به للقربة مني والوسيلة إلي، وأفضل المنازل في دار المقام.
وأجعل اسم ذلك البيت وذكره وشرفه ومجده وثناءه ومكرمته لنبي من ولدك يكون قبل هذا النبي وهو أبوه يقال له: إبراهيم أرفع له قواعده، وأقضي على يديه عمارته، وأنيط له سقايته، وأريه حله وحرمه ومواقفه، وأعلمه مشاعره ومناسكه، وأجعله أمة واحدة قانتًا لي قائمًا بأمري داعيًا إلى سبيلي أجتبيه وأهديه إلى صراط مستقيم، أبتليه فيصبر، وأعافيه فيشكر، وينذر لي فيفي، ويعدني فينجز، وأستجيب له في ولده وذريته من بعده، وأشفعه فيهم فأجعلهم
আমার জ্ঞান তিনি জানেন না, আমার ক্ষমতার পরিমাপ তিনি করতে পারেন না এবং আমার শানের নিগূঢ় রহস্য পর্যন্ত তিনি পৌঁছাতে পারেন না।
আমি এই ঘরকে তোমার জন্য এবং তোমার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সম্মানিত ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল বানালাম। এর সম্মানের খাতিরে আমি এর উপর, এর নিচ এবং এর চারপাশের যা কিছু আছে তা হারাম (পবিত্র ও নিষিদ্ধ) করলাম। যে ব্যক্তি আমার সম্মানের খাতিরে একে সম্মান করল, সে প্রকৃতপক্ষে আমার নির্ধারিত পবিত্র বিষয়গুলোকেই মহান করল। আর যে একে অবমাননা করল, সে আমার সম্মাননাকেই লঙ্ঘন করল। যে ব্যক্তি এর বাসিন্দাদের নিরাপত্তা দিল, সে এর মাধ্যমে আমার পক্ষ থেকে নিরাপত্তা পাওয়ার হকদার হলো। আর যে তাদের ভীত করল, সে আমার জিম্মাদারি বা অঙ্গীকার ভঙ্গ করল। যে ব্যক্তি এর মর্যাদাকে বড় করে দেখল, সে আমার দৃষ্টিতে মহান হলো; আর যে একে তুচ্ছজ্ঞান করল, সে আমার দৃষ্টিতে ক্ষুদ্র হয়ে গেল। প্রত্যেক রাজারই একটি সংরক্ষিত এলাকা থাকে; আর মক্কার অভ্যন্তরভাগ হলো আমার মনোনীত ও সংরক্ষিত স্থান। আমার ঘরের প্রতিবেশী, এর আবাদকারী এবং জিয়ারতকারীরা হলো আমার কাছে আসা প্রতিনিধি দল ও মেহমান, যারা আমার আশ্রয় ও আঙ্গিনায় রয়েছে। তারা আমার জিম্মায় ও আশ্রয়ে আমার পক্ষ থেকে জামানতপ্রাপ্ত। সুতরাং আমি একে মানুষের জন্য নির্ধারিত প্রথম ঘর বানালাম এবং আসমান ও জমিনবাসীদের দ্বারা একে আবাদ করব। তারা দলে দলে বিক্ষিপ্ত চুল ও ধূলিধূসরিত অবস্থায় কৃশকায় উটের পিঠে চড়ে দূর-দূরান্ত থেকে এখানে আসবে। তারা উচ্চস্বরে তাকবীর ধ্বনি দেবে, উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়া পাঠ করবে এবং ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে ক্রন্দন করবে। যে ব্যক্তি কেবল আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এর ওমরাহ করবে, সে যেন আমারই জিয়ারত করল, আমারই প্রতিনিধি হয়ে এল এবং আমার কাছেই মেহমান হিসেবে অবতরণ করল। আর যে আমার নিকট মেহমান হিসেবে এল, তাকে আমার পক্ষ থেকে সম্মান ও উপহার প্রদান করা আমার জন্য আবশ্যক হয়ে গেল। আর সম্মানিত সত্তার বৈশিষ্ট্য হলো তার প্রতিনিধি ও মেহমানদের সম্মান করা এবং তাদের প্রত্যেকের প্রয়োজন পূরণ করা।
হে আদম, তুমি যতদিন জীবিত থাকবে ততদিন একে আবাদ রাখবে। অতঃপর তোমার পরে বিভিন্ন উম্মত, যুগ ও নবীগণ একে আবাদ রাখবে; এক উম্মতের পর অন্য উম্মত, এক যুগের পর অন্য যুগ এবং এক নবীর পর অন্য নবী। পরিশেষে এ ধারা তোমার সন্তানদের মধ্য থেকে এমন এক নবীর কাছে পৌঁছাবে যিনি হবেন সর্বশেষ নবী। আমি তাকে এর আবাদকারী, বাসিন্দা, রক্ষক, অভিভাবক ও পানি পান করানোর দায়িত্বশীলদের অন্তর্ভুক্ত করব। সে যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন এই ঘরের ব্যাপারে আমার বিশ্বস্ত আমানতদার হবে। অতঃপর যখন সে আমার কাছে ফিরে আসবে, তখন সে দেখতে পাবে যে আমি তার জন্য এমন পুরস্কার ও মর্যাদা সঞ্চিত রেখেছি, যার মাধ্যমে সে আমার নৈকট্য ও উসিলা লাভ করতে সক্ষম হবে এবং চিরস্থায়ী আবাসে সর্বোত্তম মর্যাদা লাভ করবে।
আমি এই ঘরের নাম, খ্যাতি, মর্যাদা, মহিমা, প্রশংসা ও সম্মান তোমার সন্তানদের মধ্য থেকে এমন এক নবীর জন্য নির্দিষ্ট করব যিনি এই শেষ নবীর আগে আসবেন এবং তিনি তাঁর পিতা (পূর্বপুরুষ); তাকে ইব্রাহিম বলা হয়। আমি তাঁর জন্য এর ভিত্তিগুলোকে উঁচু করব, তাঁর হাতের মাধ্যমেই এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করব, তাঁর সাথে পানি পান করানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট করব এবং তাঁকে এর হালাল ও হারাম এলাকা এবং অবস্থানের স্থানসমূহ দেখাব। আমি তাঁকে এর ইবাদতের স্থানসমূহ ও হজের নিয়মাবলী শিক্ষা দেব। আমি তাঁকে আমার অনুগত একনিষ্ঠ এক জাতি হিসেবে গড়ে তুলব, যে আমার আদেশে অবিচল থাকবে এবং আমার পথের দিকে আহ্বান করবে। আমি তাকে মনোনীত করব এবং সরল পথের দিশা দেব। আমি তাকে পরীক্ষায় ফেলব আর সে ধৈর্য ধারণ করবে, আমি তাকে নিরাপদ রাখব আর সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। সে আমার জন্য মানত করলে তা পূর্ণ করবে, আমার সাথে ওয়াদা করলে তা রক্ষা করবে। আমি তাঁর সন্তান ও পরবর্তী বংশধরদের ব্যাপারে তাঁর দোয়া কবুল করব এবং তাঁদের ব্যাপারে তাঁর সুপারিশ গ্রহণ করব, অতঃপর আমি তাদের করব—
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
أهل ذلك البيت، وولاته، وحماته، وخدامه، وسدانه، وخزانه، وحجابه حتى يبتدعوا ويغيروا.
فإذا فعلوا ذلك فأنا الله أقدر القادرين على أن أستبدل من أشاء بمن أشاء، أجعل إبراهيم إمام أهل ذلك البيت، وأهل تلك الشريعة يأتم به من حضر تلك المواطن من جميع الإنس والجن، يطئون فيها آثاره، ويتبعون فيها سنته، ويقتدون فيها بهديه، فمن فعل ذلك منهم أوفى نذره واستكمل نسكه، ومن لم يفعل ذلك منهم ضيّع نسكه وأخطأ بغيته.
فمن سأل عني يومئذ في تلك المواطن: أين أنا؟ فأنا مع الشعث الغبر الموفين بنذورهم المستكملين مناسكهم المبتهلين إلى ربهم الذي يعلم ما يبدون وما يكتمون.
وليس هذا الخلق ولا هذا الأمر الذي قصصت عليك شأنه يا آدم بزائد في ملكي، ولا عظمتي، ولا سلطاني، ولا شيء مما عندي إلا كما زادت قطرة من رشاش وقعت في سبعة أبحر
(1) تمدها من بعدها سبعة أبحر
(1) لا تحصى، بل القطرة أزيد في البحر من هذا الأمر في شيء مما عندي ولو لم أخلقه لم ينقص شيئًا من ملكي ولا عظمتي ولا مما عندي من الغناء والسعة إلا كما نقصت الأرض ذرة وقعت من جميع ترابها، وجبالها، وحصاها، ورمالها، وأشجارها، بل الذرة أنقص في الأرض من هذا الأمر لو لم أخلقه لشيء مما عندي، وبعد هذا من هذا مثلًا للعزيز الحكيم".
حدثنا مهدي بن أبي المهدي قال: حدثنا إسماعيل بن عبد الكريم الصنعاني قال: حدثني عبد الصمد بن معقل، عن وهب بن منبه بنحوه.
--------------------------------------------
সেই ঘরের অধিবাসী, এর শাসকগণ, এর রক্ষকগণ, এর সেবকগণ, এর চাবিবাহকগণ, এর কোষাধ্যক্ষগণ এবং এর দ্বারপালগণ, যতক্ষণ না তারা বিদআত শুরু করে এবং পরিবর্তন ঘটায়।
যখন তারা তা করবে, তখন আমিই আল্লাহ, সকল সক্ষমের চেয়ে অধিক সক্ষম—আমি যাকে ইচ্ছা তার পরিবর্তে যাকে ইচ্ছা স্থলাভিষিক্ত করতে পারি। আমি ইব্রাহিমকে সেই ঘরের অধিবাসীদের ইমাম মনোনীত করব এবং সেই শরীয়তের অনুসারী বানাব তাদের, যারা সমস্ত মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে সেই স্থানগুলোতে উপস্থিত হবে। তারা সেখানে তার পদচিহ্ন অনুসরণ করবে, তার সুন্নাহর অনুগমন করবে এবং তার হিদায়াতকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করবে। তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এমনটি করবে, সে তার মানত পূর্ণ করল এবং তার ইবাদত সম্পন্ন করল; আর যে তা করবে না, সে তার ইবাদত বিনষ্ট করল এবং তার উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থ হলো।
সেদিন সেই স্থানগুলোতে যদি কেউ আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে: আমি কোথায়? তবে (জেনে রাখুক) আমি সেই উস্কোখুস্কো চুল ও ধূলিধূসরিত ব্যক্তিদের সাথে আছি, যারা তাদের মানত পূর্ণকারী, তাদের ইবাদত সম্পাদনকারী এবং তাদের রবের কাছে বিনীতভাবে প্রার্থনাকারী, যিনি জানেন তারা যা প্রকাশ করে এবং যা গোপন করে।
হে আদম, এই সৃষ্টিজগত কিংবা এই বিষয়াদি যার অবস্থা আমি তোমার কাছে বর্ণনা করেছি, তা আমার রাজত্বে, আমার মহত্ত্বে, আমার কর্তৃত্বে কিংবা আমার কাছে যা আছে তাতে তেমন কিছুই বৃদ্ধি করে না, কেবল যেমনটি বৃদ্ধি পায় সাত সমুদ্রের মধ্যে পড়া জলকণার একটি ফোঁটা, যার সাথে পরবর্তীতে আরও অগণিত সাত সমুদ্র
(১) যুক্ত হয়। বরং সেই ফোঁটাটি সমুদ্রের মধ্যে যা বৃদ্ধি করে, আমার নিকট যা আছে তাতে এই বিষয়ের বৃদ্ধি তার চাইতেও নগণ্য। আর আমি যদি এটি সৃষ্টি না করতাম, তবে তা আমার রাজত্ব, আমার মহিমা কিংবা আমার অমুখাপেক্ষিতা ও প্রশস্ততা থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করত না, কেবল যেমনটি পৃথিবী থেকে একটি ধূলিকণা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে এর মাটি, পাহাড়, কঙ্কর, বালু এবং গাছপালা থেকে হ্রাস পায়। বরং সেই ধূলিকণাটি পৃথিবী থেকে যা হ্রাস করে, আমি যদি এটি সৃষ্টি না করতাম তবে আমার নিকট যা আছে তা থেকে এই বিষয়ের হ্রাস পাওয়া তার চাইতেও কম। আর এই উপমাটি মহা পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় সত্তার পক্ষ থেকে।
মাহদী ইবনে আবিল মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল ইবনে আব্দুল কারীম আস-সানআনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল সামাদ ইবনে মা'কিল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
ما جاء في البيت المعمور:حدثنا أبو الوليد قال: حدثني جدي قال: حدثني سعيد بن سالم، عن عثمان بن ساج، عن وهب بن منبه قال: أخبرني أبو سعيد عن مقاتل يرفع الحديث إلى النبي صلى الله عليه وسلم في حديث حدث به قال: "سمي البيت المعمور؛ لأنه يصلي فيه كل يوم سبعون ألف ملك، ثم ينزلون إذا أمسوا فيطوفون بالكعبة، ثم يسلمون على النبي صلى الله عليه وسلم ثم ينصرفون فلا تنالهم النوبة حتى تقوم الساعة".
حدثني جدي، عن سعيد بن سالم، عن عثمان بن ساج عن وهب بن منبه أنه وجد في التوراة بيتًا في السماء بحيال الكعبة فوق قبتها، اسمه الضراح وهو البيت المعمور، يرده كل يوم سبعون ألف ملك، لا يعودون إليه أبدًا.
حدثني جدي، عن سعيد بن سالم قال: أخبرني ابن جريج، عن صفوان بن سليم، عن كريب مولى ابن عباس عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "البيت الذي في السماء يقال له: الضراح، وهو مثل بناء هذا البيت الحرام ولو سقط لسقط عليه، يدخله كل يوم سبعون ألف ملك لا يعودون فيه أبدًا".
وحدثني جدي عن سعيد بن سالم، عن عثمان بن ساج قال: أخبرني محمد بن السائب الكلبي قال: بلغني -والله أعلم- أن بيتًا في السماء يقال له: الضراح بحيال الكعبة، يدخله كل يوم سبعون ألف ملك من الملائكة ما دخلوه قط قبلها.
حدثني جدي قال: حدثني سفيان بن عيينة، عن ابن أبي حسين، عن أبي الطفيل قال: سأل ابن الكواء عليًّا رضي الله عنه: ما البيت المعمور؟ قال: هو الضراح، وهو حذاء هذا البيت، وهو في السماء السادسة يدخله كل يوم
বাইতুল মামুর সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে:আবুল ওয়ালীদ আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে সালিম আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবনে সাজ থেকে, তিনি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে, তিনি বলেন: আবু সাঈদ আমাকে মুকাতিল থেকে সংবাদ দিয়েছেন, যিনি হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বর্ণিত একটি হাদীসে বলেছেন: "এটির নাম 'বাইতুল মামুর' রাখা হয়েছে; কারণ প্রতিদিন সেখানে সত্তর হাজার ফেরেশতা সালাত আদায় করেন। এরপর যখন সন্ধ্যা হয় তখন তারা নিচে নেমে আসেন এবং কাবার চারপাশে তাওয়াফ করেন। এরপর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সালাম পেশ করেন এবং প্রস্থান করেন। কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত তাদের পুনরায় আসার আর সুযোগ হয় না।"
আমার দাদা আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে সালিম থেকে, তিনি উসমান ইবনে সাজ থেকে, তিনি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাওরাতে আকাশের এমন একটি ঘরের উল্লেখ পেয়েছেন যা কাবার ঠিক সমান্তরালে তার গম্বুজের উপরে অবস্থিত, যার নাম হলো 'আদ-দিরাহ' এবং এটিই হলো বাইতুল মামুর। প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা সেখানে গমন করেন, যারা আর কখনো সেখানে ফিরে আসেন না।
আমার দাদা আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে সালিম থেকে, তিনি বলেন: ইবনে জুরাইজ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে, তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আকাশে যে ঘরটি রয়েছে তাকে 'আদ-দিরাহ' বলা হয়। এটি এই পবিত্র ঘর (কাবা)-এর আদলেই নির্মিত। যদি এটি উপর থেকে পড়ে যেত, তবে ঠিক এর (কাবার) উপরেই পড়ত। প্রতিদিন সেখানে সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন, যারা আর কখনো সেখানে পুনরায় ফিরে আসেন না।"
আমার দাদা সাঈদ ইবনে সালিম থেকে আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি উসমান ইবনে সাজ থেকে, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আস-সাইব আল-কালবি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে এ সংবাদ পৌঁছেছে—আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন—যে, আকাশে আদ-দিরাহ নামক একটি ঘর রয়েছে যা কাবার ঠিক সমান্তরালে অবস্থিত। প্রতিদিন সেখানে ফেরেশতাদের মধ্য থেকে সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন, যারা এর আগে কখনো সেখানে প্রবেশ করেননি।
আমার দাদা আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি হুসাইন থেকে, তিনি আবু তুফায়েল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে আল-কাউওয়া আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন: বাইতুল মামুর কী? তিনি বললেন: সেটি হলো আদ-দিরাহ, এটি এই ঘরের (কাবার) ঠিক সমান্তরালে ষষ্ঠ আকাশে অবস্থিত। প্রতিদিন সেখানে প্রবেশ করে...
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
سبعون ألف ملك لا يعودون فيه أبدًا.
حدثني أبو محمد قال: حدثنا أبو عبيد الله سعيد بن عبد الرحمن المخزومي قال: حدثنا سفيان بن عيينة بنحوه، إلا أنه قال: في السماء السابعة، وقال: لا يعودون إليه إلى يوم القيامة.
حدثنا أبو الوليد قال: حدثنا مهدي بن أبي المهدي قال: حدثنا عبد الله بن معاذ الصنعاني قال: حدثنا معمر، عن وهب بن عبد الله، عن أبي الطفيل قال: شهدت عليًّا رضي الله عنه وهو يخطب وهو يقول: سلوني، فوالله لا تسألونني عن شيء يكون إلى يوم القيامة إلا حدثتكم به، وسلوني عن كتاب الله، فوالله ما منه آية إلا وأنا أعلم أنها
(1) بليل نزلت أم بنهار، أم بسهل نزلت أم بجبل.
فقام ابن الكواء وأنا بينه وبين علي رضي الله عنه وهو خلفي قال: أفرأيت البيت المعمور ما هو؟ قال: ذاك الضراح فوق سبع سموات تحت العرش، يدخله كل يوم سبعون ألف ملك، لا يعودون فيه إلى يوم القيامة.
--------------------------------------------
সত্তর হাজার ফেরেশতা যারা সেখানে আর কখনোই ফিরে আসে না।
আবু মুহাম্মাদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু উবায়দুল্লাহ সাঈদ ইবন আবদুর রহমান আল-মাখজুমি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সুফিয়ান ইবন উয়ায়না আমাদের কাছে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি বলেছেন: সপ্তম আকাশে, এবং তিনি বলেছেন: কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তারা সেখানে আর ফিরে আসে না।
আবুল ওয়ালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মাহদি ইবন আবি আল-মাহদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবন মুয়াজ আস-সানআনি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মা'মার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওয়াহাব ইবন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আবুল তুফায়েল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে খুতবা প্রদানরত অবস্থায় দেখেছি এবং তিনি বলছিলেন: তোমরা আমাকে জিজ্ঞেস করো। আল্লাহর কসম, কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে সে সম্পর্কে তোমরা আমাকে যা-ই জিজ্ঞেস করবে আমি তোমাদের তা বলে দেব। আর আমাকে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো। আল্লাহর কসম, এমন কোনো আয়াত নেই যা সম্পর্কে আমি জানি না যে সেটি
(১) রাতে অবতীর্ণ হয়েছে নাকি দিনে, সমতলে অবতীর্ণ হয়েছে নাকি পাহাড়ে।
অতঃপর ইবনুল কাওয়া দাঁড়িয়ে গেলেন, তখন আমি তাঁর এবং আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাঝে ছিলাম আর তিনি আমার পেছনে ছিলেন। তিনি বললেন: আপনি কি আল-বায়তুল মামুর সম্পর্কে অবহিত আছেন, সেটি কী? তিনি (আলী) বললেন: সেটি হলো আদ-দিরাহ, যা সাত আসমানের উপরে এবং আরশের নিচে অবস্থিত। প্রতিদিন সেখানে সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন, কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তারা সেখানে আর ফিরে আসেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আখবারু মক্কা - আল-আজরাকি - তাহকিক আলি উমর
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
ما جاء في رفع البيت المعمور زمن الغرق، وما جاء فيه:حدثنا أبو الوليد قال: حدثني جدي قال: حدثنا سعيد بن سالم، عن ابن جريج عن مجاهد قال: بلغني انه لما خلق الله عز وجل السموات والأرض كان أول شيء وضعه فيها البيت الحرام، وهو يومئذ ياقوتة حمراء جوفاء، لها بابان: أحدهما شرقي والآخر غربي، فجعله مستقبل البيت المعمور.
মহাপ্লাবনের সময় বাইতুল মামুর ঊর্ধ্বে তুলে নেওয়া এবং এ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে:আবু আল-ওয়ালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে সালিম আমাদের কাছে ইবনে জুরাইজ থেকে এবং তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, মুজাহিদ বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা যখন আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেন, তখন তাতে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি স্থাপন করেন তা ছিল বাইতুল হারাম। সেদিন সেটি ছিল একটি ফাঁপা লাল ইয়াকুত পাথর, যার দুটি দরজা ছিল: একটি পূর্বমুখী এবং অন্যটি পশ্চিমমুখী; এরপর তিনি এটিকে বাইতুল মামুরের মুখোমুখি স্থাপন করেন।