(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: -)
اللمع في الحوادث والبدع   (ابن بيدكين التركماني)

القسم: العقيدة


الكتاب: اللمع في الحوادث والبدع

وفي آخره: «رسالة الفتوَّة»، وهي «الحجة والبرهان على فتيان هذا الزمان» للمؤلِّف نفسه

بتقريظ: جماعة من العلماء، منهم شيخ الإسلام ابن تيمية (ت 728 هـ)

المؤلف: إدريس بن بيدكين بن عبد الله التركماني الحنفي (كان حيا 710 هـ)

تحقيق: دار الكوثر للتراث

مراجعة وتقديم: عبد الحق [بن ملا حقي] التركماني

الناشر: دار ابن حزم، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1434 هـ - 2013 م

عدد الصفحات: 828

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 1 شوّال 1446

আল-লুমা ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা   (ইবনে বাইদাকিন আত-তুর্কমানি)

বিভাগ: আকীদা


বই: আল-লুমা ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (ঘটনাপ্রবাহ ও বিদআতসমূহের আলোকপাত)

এবং এর শেষে রয়েছে: «রিসালাতুল ফুতুওয়াহ», যা লেখকেরই রচিত «আল-হুজ্জাতু ওয়াল বুরহানু আলা ফিতয়ানি হাজাজ জামান» (বর্তমান যুগের যুবকদের বিরুদ্ধে দলিল ও প্রমাণ)

প্রশংসাপত্রসহ: একদল উলামায়ে কেরাম, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)

লেখক: ইদ্রিস বিন বাইদাকিন বিন আব্দুল্লাহ আত-তুর্কমানি আল-হানাফি (৭১০ হিজরিতে জীবিত ছিলেন)

তাহকীক: দারুল কাওসার লিত-তুরাস

পর্যবেক্ষণ ও উপস্থাপনা: আব্দুল হক [বিন মুল্লা হাক্কি] আত-তুর্কমানি

প্রকাশক: দার ইবনে হাযম, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি - ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮২৮

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১ শাওয়াল ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ٤)
«هذا الكُرَّاسُ كلامُ رجلٍ صادقٍ ناصحٍ، متَّبعٍ لشريعة الإسلام، ناهٍ عمَّا نهى الله عنه من الآثام، متَّبعٍ للكتاب والسنة والأثر فيما دعا إليه من الأمر بالمعروف والنَّهي عن المنكر، محبٍّ لله ولرسوله، راغبٍ في طريق الله وسبيله، … وبوجود هذا وأمثاله مِنَ الآمرينَ بالمعروف والنَّاهين عن المنكر يُصْلِحُ الله للمسلمين دينَهم ودنياهم».

 

أبو العبَّاس ابنُ تيمية الحنبليُّ

من تقريظه لرسالة «الفتوَّة»
«এই পুস্তিকাটি একজন সত্যবাদী ও হিতাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তির কথা, যিনি ইসলামী শরীয়তের অনুসারী, আল্লাহ যে সকল পাপাচার থেকে নিষেধ করেছেন তা থেকে বারণকারী; তিনি সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের আহ্বানে কিতাব, সুন্নাহ এবং আছারের অনুসারী; তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসাপোষণকারী এবং আল্লাহর পথ ও পন্থার প্রতি অনুরাগী, … আর তাঁর মতো এবং তাঁর ন্যায় সৎ কাজের আদেশদানকারী ও অসৎ কাজের নিষেধকারীদের অস্তিত্বের মাধ্যমেই আল্লাহ মুসলিমদের দ্বীন ও দুনিয়া সংশোধন করে দেন।»

 

আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাম্বালী

‘আল-ফুতুওয়াহ’ রিসালার জন্য তাঁর লিখিত প্রশংসামূলক মন্তব্য থেকে
(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌بين يدي الكتاب

الحمد لله رب العالمين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، إله الأولين والآخرين، وأشهد أنَّ محمدًا عبدُه ورسولُه الأمين، بعثه رحمةً للعالمين، فبلَّغ الرسالة، وأدَّى الأمانة، ونصح الأمة، وتركها على المحجَّة البيضاء والحقِّ المبين، صلى الله وسلَّم عليه وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد: فهذا كتاب «اللُّمع في الحوادث والبدع» لإدريسَ بنِ بَيْدَكِينَ التركمانيِّ: رجلٍ صادقٍ ناصحٍ، قد هداه الله تعالى إلى الحقِّ والهدى، وحبَّب إليه العلم الشريف، فتعلَّم اللغة العربية، وقرأ القرآن الكريم، وتفقَّه في السُّنن، وَجَدَّ في طلب العلم فحصَّل قدرًا صالحًا منه، وقرأ في سير الصالحين فتأثر بأخبارهم، وحرص على سلوك سننهم وآثارهم، فبادر إلى الأعمال الصالحة، وأعدَّ العُدَّة للدار الآخرة، ولازم الأشياخ من أهل العلم والتديُّن والصَّلاح فانتفع بصحبتهم، وسَمَتْ نفسُه الشريفةُ العالية إلى اللحاق بركبهم، فشارك في التعليم والدعوة، ونهض بما قدر عليه من الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر. وخلال سنوات طويلة من التنقل في الحواضر الإسلامية في بلاد الشام ومصر، والمجاورة في مكَّة المباركة؛ اطَّلع ابن بَيْدَكِينَ على الأحوال الدينية والاجتماعية، فآلمه ما وجد فيها من البدع والمنكرات والمخالفات في العبادة والمعاملة والسلوك، وأدرك
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌গ্রন্থের প্রারম্ভিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের ইলাহ। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও বিশ্বস্ত রাসূল, যাঁকে তিনি বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন। তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং তাঁদের এক উজ্জ্বল শুভ্র পথ ও সুস্পষ্ট সত্যের ওপর রেখে গিয়েছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর: এটি ইদ্রিস বিন বাইদাকিন আত-তুর্কমানি রচিত ‘আল-লুমা ফিল হওয়াদিসি ওয়াল বিদা’ (নব্য আবিষ্কৃত বিষয় ও বিদআতসমূহের দ্যুতি) নামক গ্রন্থ। তিনি ছিলেন একজন সত্যনিষ্ঠ হিতাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি; আল্লাহ তাআলা তাঁকে সত্য ও হেদায়েতের পথে পরিচালিত করেছেন এবং তাঁর অন্তরে মর্যাদাপূর্ণ ইলমের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। ফলে তিনি আরবি ভাষা শিখেছেন, পবিত্র কুরআন পাঠ করেছেন এবং সুন্নাহর গভীর জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি ইলম অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং এর একটি বড় অংশ অর্জন করেছেন। তিনি নেককারদের জীবনী পাঠ করেছেন এবং তাঁদের জীবনবৃত্তান্ত দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। তিনি তাঁদের সুন্নাহ ও পদাঙ্ক অনুসরণ করতে সচেষ্ট ছিলেন; ফলে তিনি সৎকর্মে অগ্রণী হয়েছেন এবং পরকালের পাথেয় সংগ্রহ করেছেন। তিনি ইলম, দ্বীনদারি ও তাকওয়াসম্পন্ন শায়খদের সান্নিধ্যে থেকেছেন এবং তাঁদের সাহচর্য থেকে উপকৃত হয়েছেন। তাঁর সুমহান আত্মা তাঁদের কাফেলায় শামিল হতে আকাঙ্ক্ষা করত। ফলে তিনি শিক্ষা ও দাওয়াতের কাজে অংশগ্রহণ করেন এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ক্ষেত্রে সাধ্যমতো ভূমিকা পালন করেন। শাম ও মিসরের বিভিন্ন ইসলামি জনপদে দীর্ঘ বছরের ভ্রমণ এবং বরকতময় মক্কায় অবস্থানের সময় ইবনে বাইদাকিন ধর্মীয় ও সামাজিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। ইবাদত, লেনদেন ও আচার-আচরণে বিদআত, অপকর্ম ও শরিয়ত পরিপন্থী যেসব কর্মকাণ্ড তিনি দেখতে পান, তা তাঁকে ব্যথিত করে এবং তিনি উপলব্ধি করেন...
(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ٦)
الفارق الكبير بين ما كان عليه المجتمع الإسلامي في صدره الأول من الاستقامة على هدي الكتاب والسنة والاجتماع عليهما، وما آلتْ إليه حالُ الأمة من ظهور البدع والمعاصي وتفرُّق أهلها جماعات متنافرة متدابرة، مع فساد أهل السلطة والقوة، وسكوت كثيرٍ مِنْ أهل العلم والحجة، فانبرى بحماسة المتديِّن، وتجرُّد النَّاصح، وحُرقة المشفِق لتأليف هذا الكتاب في الدعوة إلى اتباع الكتاب والسنة، والسير على نهج السابقين من السلف الصالح الطيِّب، ونبذ البدع والمعاصي والمنكرات، والإنكار على أهلها والداعين إليها، والتحذير من حالهم ومآلهم.

نحن بين يدي رجلٍ قد غلبتْ عليه الشَّفقةُ والرِّقَّةُ والرَّحمةُ والتواضعُ(1). إنه عارفٌ بقدره، فليس هو من العلماء، لكنَّه طالبُ علمٍ، عاملٌ بعِلْمه، مستفيدٌ في نفسه، مفيدٌ لغيره خاصةً من طبقة العامة الذين لا يجدون من يرشدهم ويعلِّمهم، وإذا حضروا مجالس العلماء حضروها للبركة؛ لأنهم لا ينتفعون بأكثرها، فما يذكرونه من مصطلحات العلم والخلاف فيه ليس بالنسبة لهم إلا مغاليق غير مفهومة!

نجد التركمانيَّ قد أضاف إلى كتابه مقدمة قصيرة عبَّر فيها عمَّا أشرتُ إليه من حاله، مبيِّنًا سببَ التأليف، وغرضَه منه؛ فقال: «سألني بعض الأصحاب أنْ أذكر له شيئًا من البدع المحدَثة، الخارجة عن طريق المسلمين، المخالفة للسُّنة والكتاب، فأجبته إلى ذلك، وسألت الله تعالى الكريم الوهَّاب الذي يمحو ما يشاء ويثبت وعنده أم الكتاب أنْ يهديني إلى الحق والرُّشد والصَّواب، وأنْ يجعله خالصًا لوجهه الكريم ليحصل به النَّفع والخير والثَّواب، وعليه توكلت وإليه المرجع والمآب، وسميتُه كتابَ: «اللُّمع في الحوادث والبدع». غفر الله تعالى لقارئه ولمؤلفه، ولمن نظر فيه، وللسامعين، ولمن سدَّ خللًا وُجِد فيه إن اطلع، وكشَط شيئًا قاله المؤلفُ فخرَجَ بقوله عن الكتاب والسنة ووقع؛ لأنَّ المؤلف قليل العلم، كثير الجهل، غافل عن أهوال يوم المُطَّلَع».

--------------------------------------------

(1) وإن كان يقسو أحيانًا في بعض عباراته وأحكامه.

ইসলামি সমাজের প্রাথমিক যুগে কিতাব ও সুন্নাহর হিদায়াতের ওপর যে অবিচলতা এবং এ দুয়ের ওপর যে ঐক্য বিদ্যমান ছিল, তার সাথে পরবর্তীতে উম্মাহর যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে—অর্থাৎ বিদআত ও পাপাচারের প্রকাশ এবং উম্মাহর লোকদের পরস্পর বিচ্ছিন্ন ও বিমুখ বিভিন্ন দলে বিভক্ত হওয়া—তার মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান রয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ক্ষমতাসীন ও শক্তিধরদের চারিত্রিক অবক্ষয় এবং অনেক জ্ঞান ও প্রমাণের অধিকারীদের নীরবতা। এমতাবস্থায় একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির উদ্দীপনা, একজন নিষ্ঠাবান নসিহতকারী এবং একজন দরদি মানুষের ব্যাকুলতা নিয়ে তিনি কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণের দাওয়াত দিতে, পুণ্যবান পূর্বসূরি তথা সালাফে সালেহীনের পথে চলতে এবং বিদআত, পাপাচার ও গর্হিত কাজগুলো বর্জন করার আহ্বান জানিয়ে এই কিতাবটি রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। সেইসাথে বিদআতি ও তাদের দিকে আহ্বানকারীদের প্রতিবাদ করতে এবং তাদের বর্তমান অবস্থা ও পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করতে তিনি সচেষ্ট হয়েছেন।

আমরা এমন একজন মানুষের মুখোমুখি, যাঁর ওপর মমতা, কোমলতা, দয়া ও বিনয় প্রবল হয়ে উঠেছিল(১)। তিনি নিজের মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন; তিনি নিজেকে আলেমদের অন্তর্ভুক্ত মনে করতেন না, বরং তিনি ছিলেন ইলম অন্বেষণকারী একজন তালিবে ইলম, যিনি নিজের অর্জিত ইলম অনুযায়ী আমল করতেন। তিনি যেমন নিজে উপকৃত হতেন, তেমনি অন্যদের জন্যও—বিশেষত সাধারণ শ্রেণির মানুষের জন্য—উপকারী ছিলেন, যারা এমন কাউকে পায় না যারা তাদের সঠিক পথ দেখাবে বা শিক্ষা দেবে। তারা যখন আলেমদের মজলিসে উপস্থিত হয়, তখন কেবল বরকতের জন্য আসে; কারণ তারা সে মজলিসের অধিকাংশ আলোচনা থেকে উপকৃত হতে পারে না। আলেমরা ইলমের যেসব পরিভাষা ও মতভেদ নিয়ে আলোচনা করেন, সেগুলো তাদের কাছে বদ্ধ ও অবোধ্য বিষয় ছাড়া আর কিছুই নয়!

আমরা দেখতে পাই যে, আত-তুর্কমানি তাঁর কিতাবে একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা যুক্ত করেছেন, যেখানে তিনি তাঁর নিজের অবস্থা সম্পর্কে আমার উল্লেখ করা বিষয়গুলো ব্যক্ত করেছেন এবং কিতাবটি রচনার কারণ ও উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: «কিছু বন্ধু আমার কাছে অনুরোধ করেছেন যেন আমি তাদের জন্য নতুন উদ্ভাবিত কিছু বিদআতের কথা উল্লেখ করি, যা মুসলমানদের পথ থেকে বিচ্যুত এবং সুন্নাহ ও কিতাবের পরিপন্থী। আমি তাদের সেই অনুরোধ গ্রহণ করেছি। আমি মহান দাতা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি—যিনি যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছা বহাল রাখেন এবং যাঁর কাছে রয়েছে মূল কিতাব (উম্মুল কিতাব)—তিনি যেন আমাকে সত্য, সঠিক পথ ও নির্ভুলতার দিকে পরিচালিত করেন। আর তিনি যেন এই কাজটিকে কেবল তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, যাতে এর মাধ্যমে উপকার, কল্যাণ ও সওয়াব অর্জিত হয়। তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে সকলের প্রত্যাবর্তন। আমি এই কিতাবটির নাম দিয়েছি: «আল-লুমা ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা» (ঘটনাপ্রবাহ ও বিদআতসমূহের আলোকচ্ছটা)। আল্লাহ তাআলা এর পাঠক, লেখক, এর প্রতি দৃষ্টিপাতকারী, শ্রবণকারী এবং এতে কোনো ভুল খুঁজে পেলে যে তা সংশোধন করবে তাকে ক্ষমা করুন—যদি সে ভুলটি দেখতে পায় এবং লেখকের বলা কোনো বিষয় যা কিতাব ও সুন্নাহর বাইরে চলে গেছে তা মুছে দেয়; কারণ লেখকের জ্ঞান সামান্য, অজ্ঞতা অনেক বেশি এবং কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতা সম্পর্কে তিনি অসতর্ক»।

--------------------------------------------

(১) যদিও তিনি মাঝেমধ্যে তাঁর কিছু বক্তব্যে ও সিদ্ধান্তে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ٧)
ثم نجده يقول في مقدمته الثانية: «بدأت فيه وأنا نزيل مكة … وكنت وقت أن بدأت فيه ضعيفًا من جميع الجهات: من جهة البدن، ومن جهة العلم والعمل، والعربية، وبُعد الذهن، وقلة الكتب في هذا الفن، وما يرادفها من الأحاديث النبوية. وقد قلت بعض الأحاديث والحكايات بالمعنى، وقد جوَّز ذلك بعض العلماء، وفيه تيسير لمن قد حلَّ بقلبه الغفلة والعمى .. ».

ومن هنا فلا عجب أن نجد في الكتاب خللاً في لغته الأدبية، وضعفًا في مادته العلمية، وأحاديث وأخبارًا لا تصحُّ، ومصطلحات صوفية منبوذة؛ فتلك هي منتهى علم ابن بَيْدَكِينَ، وهو محكوم فيه بالنشأة والبيئة والثقافة العامة لمجتمعه الذي غلب عليه أسلوب القصص والأخبار والترهيب والترغيب من غير تثبُّتٍ ولا تمحيصٍ، وحسب التركمانيِّ أنه بذل جهده ناصحًا مخلصًا، فبيَّن كثيرًا من البدع، وحذَّر من كثير من المعاصي والمنكرات، ورصد جانبًا كبيرًا من أحوال مجتمعه، ليسجلها بدقَّة وأمانة، أما ما كان في كتابه من جوانب النقص؛ فقد حرصنا على تقويمها من خلال تخريج الأحاديث وبيان مراتبها من الصحة والضعف، والتعليق على كثير من المسائل، فجاء الكتاب في صورة حسنةٍ؛ إن شاء الله تعالى، وبقيت أشياءُ للمستدرك والمتعقِّب، والتوفيق من الله تعالى وحده.

* * *

إنَّ هذا العمل العلميَّ ثمرةُ تعاون نبيلٍ في خدمة التراث الإسلامي، فقد كنتُ أحرص منذ سنوات على إخراج هذا الكتاب ويحول انشغالي بمشروع تحقيق تراث ابن حزم دون ذلك، فرأيتُ أن أُسند العملَ في تحقيقه إلى الإخوة الأفاضل في دار الكوثر للتراث بمصر المحروسة، فأنجزوا ما يلزم من مقابلة المخطوطات، وضبط النصِّ، وتخريج الأحاديث، ثم أجريتُ مراجعة دقيقة لعملهم فصحَّحتُ واستدركت وقوَّمتُ، وأضفتُ جملةً من التعليقات ختمتها بحرف (ت)، وكتبتُ مقدِّمةً في ترجمة المؤلف والتعريف بكتابه.
এরপর আমরা তাকে তার দ্বিতীয় ভূমিকায় বলতে দেখি: «আমি এটি (রচনা) শুরু করি যখন আমি মক্কায় অবস্থান করছিলাম … এবং যখন আমি এটি শুরু করি তখন আমি সব দিক থেকেই দুর্বল ছিলাম: শারীরিক দিক থেকে, জ্ঞান ও আমলের দিক থেকে, আরবি ভাষার দিক থেকে, মেধাশক্তির স্বল্পতার দিক থেকে এবং এই শাস্ত্রের কিতাবপত্র ও সংশ্লিষ্ট নবিজি (সা.)-এর হাদিসের অপ্রতুলতার দিক থেকে। আমি কিছু হাদিস ও কাহিনী মর্মার্থের ভিত্তিতে বর্ণনা করেছি, কোনো কোনো আলেম এর অনুমতি দিয়েছেন; আর এতে সেই ব্যক্তির জন্য সহজীকরণ রয়েছে যার অন্তরে অসতর্কতা ও অন্ধত্ব বাসা বেঁধেছে.. ».

এ কারণে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে আমরা কিতাবটির সাহিত্যিক ভাষায় ত্রুটি, এর ইলমি বা তাত্ত্বিক উপাদানে দুর্বলতা, কিছু অশুদ্ধ হাদিস ও বর্ণনা এবং বর্জনীয় সূফি পরিভাষা দেখতে পাই; কারণ এগুলোই ছিল ইবনে বাইদাকিনের জ্ঞানের দৌড়। তিনি তার বেড়ে ওঠা, পরিবেশ এবং তার সমাজের সাধারণ সংস্কৃতির দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন যেখানে যাচাই-বাছাই ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ছাড়াই কিচ্ছা-কাহিনী, বর্ণনা এবং ভীতি ও উৎসাহ প্রদানের (তারহিব ও তারগিব) পদ্ধতির প্রাধান্য ছিল। তবে তুর্কম্যানির জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তিনি একজন একনিষ্ঠ হিতাকাঙ্ক্ষী হিসেবে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন; তিনি বহু বিদআত স্পষ্ট করেছেন, অনেক গুনাহ ও অপকর্ম সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং তার সমাজের অবস্থার একটি বড় অংশ পর্যবেক্ষণ করেছেন যাতে তা নিখুঁতভাবে ও সততার সাথে লিপিবদ্ধ করা যায়। আর তার কিতাবে যে সকল ত্রুটি ছিল, হাদিসের উৎস নির্ণয় (তাখরিজ) এবং সেগুলোর বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার স্তর স্পষ্ট করার মাধ্যমে আমরা সেগুলো সংশোধন করার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি। এছাড়া অনেক বিষয়ের ওপর টীকা প্রদান করায় কিতাবটি ইনশাআল্লাহ একটি সুন্দর অবয়বে উপস্থাপিত হয়েছে। আর কিছু বিষয় পরবর্তী সংশোধনকারী ও পর্যালোচনাকারীদের জন্য অবশিষ্ট রইল; তাওফিক কেবল একমাত্র মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।

* * *

এই ইলমি বা তাত্ত্বিক কাজটি ইসলামি ঐতিহ্য (তুরাস) খিদমতের ক্ষেত্রে এক মহৎ সহযোগিতার ফসল। আমি কয়েক বছর ধরে এই কিতাবটি প্রকাশ করার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলাম, কিন্তু ইবনে হাজমের তুরাস তাহকিক করার প্রকল্পে ব্যস্ততা আমাকে তা থেকে বিরত রেখেছিল। তাই আমি এর তাহকিক বা সম্পাদনার কাজটি মিশরের 'দারুল কাওসার লিত-তুরাস'-এর সম্মানিত ভাইদের ওপর অর্পণ করা সমীচীন মনে করেছি। তারা পাণ্ডুলিপিগুলোর পারস্পরিক তুলনা, পাঠ সংশোধন এবং হাদিসের উৎস নির্ণয়ের (তাখরিজ) প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করেছেন। এরপর আমি তাদের কাজের ওপর একটি সূক্ষ্ম পর্যালোচনা সম্পন্ন করি এবং তাতে প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিমার্জন ও মূল্যায়ন করি। আমি এতে অনেকগুলো টীকা যোগ করেছি যা (ত) অক্ষর দিয়ে শেষ করেছি এবং লেখকের জীবনী ও কিতাবটির পরিচিতি সম্বলিত একটি ভূমিকা লিখেছি।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ٨)
ولعلَّ مثل هذا العمل يكون نموذجًا يقتدي به من استحكمتْ فيهم شهوةُ نشر الكتب من منتحلي صنعة التحقيق؛ فيتَّقون الله عز وجل فيمن تحتَ أيديهم من طلبة العلم الذين يعملون لهم في نسخ المخطوطات ومقابلتها وتخريجها وتوثيقها والتعليق عليها، فينسبُ أولئك كلَّ هذه الأعمال إلى أنفسهم، متشبِّعين بما لم يعطوا، وهم يقرؤون في تلك الكتب التي يخرجونها للنَّاس آياتِ ترهيبٍ وزجرٍ تنخلع منها القلوبُ الحيَّةُ؛ كقول الله عز وجل: {وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ * الَّذِينَ إِذَا اكْتَالُوا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُونَ * وَإِذَا كَالُوهُمْ أَوْ وَزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ * أَلَا يَظُنُّ أُولَئِكَ أَنَّهُمْ مَبْعُوثُونَ * لِيَوْمٍ عَظِيمٍ * يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ} [المطففين: 1 - 6].

وبعد الانتهاء من عملنا في تصحيح الكتاب وفهرسته؛ وقفتُ على رسالة جامعية للدكتورة أسماء بنت داود العلواني في تحقيق قطعة من كتاب «اللمع» مع مقدمة دراسية، تقدَّمت بها إلى جامعة أم القرى بمكَّة المعظَّمة، سنة (1431)، وتقع الأطروحةُ في (659) صفحة: (160) صفحة للدراسة، و (324) صفحة للنصِّ المحقَّق، وهو من أول الكتاب إلى آخر فصل: (فيما يبتدع في المساجد والجوامع مما يفعله الكبراء … )، وهو إلى صفحة (280) من طبعتنا هذه، وبعده (69) صفحة ملحق دراسة الأسانيد(1)، وبقية الصفحات للفهارس والمصادر.

لقد جوَّدت الباحثةُ الفاضلة عملها في الدراسة والتحقيق، وأحسنت في ضبط النصِّ والتعليق عليه، وبذلت في ذلك جهدًا ظاهرًا موفَّقًا مشكورًا جزاها الله خيرًا، وسدَّد قولها وعملها، وليتها أتمَّت تحقيق الكتاب بتلك الرتبة؛ إذن لقدَّمت خدمةً جليلةً لهذا الأثر النفيس. ولا يُنقص من عملها ما يَرِدُ عليه من النَّقد، فليس من شرط الباحث أن لا يخطأَ، ولكن من شرطه أن يُخلص ويتقن ويبذل غاية جهده في التحقيق والتدقيق، بخلاف من خان

--------------------------------------------

(1) لا أدري كيف قبلت جهة الإشراف على البحث أن تقوم الطالبة بإفراد بعض أحاديث الكتاب بدراسة موسَّعة؛ رغم أنَّ ذلك خارج عن تخصُّصها وموضوع بحثها، كما أن الكتاب لا يحتوي على أحاديث مسندة أصلًا، وإنما أرادت بذلك تخريجها.

সম্ভবত এই কাজটি এমন ব্যক্তিদের জন্য একটি আদর্শ হবে যাদের মধ্যে বই প্রকাশের লালসা প্রবল হয়ে উঠেছে এবং যারা সম্পাদনার ছদ্মবেশ ধারণ করেছে; তারা যেন তাদের অধীনে থাকা ইলম অন্বেষণকারীদের ব্যাপারে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাকে ভয় করে, যারা তাদের জন্য পাণ্ডুলিপি নকল করা, পাঠান্তর তুলনা করা, হাদিসের উৎস নির্ণয় করা, তথ্য যাচাই করা এবং টীকা প্রদানের কাজ করে দেয়। অথচ তারা এই সমস্ত কাজকে নিজেদের নামে চালিয়ে দেয় এবং যা তারা করেনি তা দিয়েই তারা তৃপ্ত হতে চায়। অথচ তারা মানুষের জন্য প্রকাশিত এই সব বইয়ে এমন সব ভীতি প্রদর্শন ও সতর্কবাণী পাঠ করে যা দেখে জীবন্ত হৃদয়গুলো কেঁপে ওঠে; যেমন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার বাণী: {ধ্বংস তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়। যারা মানুষের কাছ থেকে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে, আর যখন তাদের জন্য মেপে দেয় বা ওজন করে দেয়, তখন তারা কমিয়ে দেয়। তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা পুনরুত্থিত হবে? এক মহা দিবসে। যেদিন সকল মানুষ বিশ্বজাহানের রবের সামনে দাঁড়াবে} [আল-মুতাফফিফিন: ১ - ৬]।

আমাদের গ্রন্থটি সংশোধন এবং নির্ঘণ্ট তৈরির কাজ শেষ করার পর, আমি ড. আসমা বিনতে দাউদ আল-আলওয়ানির একটি ডক্টরেট থিসিসের সন্ধান পাই যা «আল-লুমআ» গ্রন্থের একটি অংশের সম্পাদনা এবং একটি গবেষণামূলক ভূমিকা সম্বলিত। এটি তিনি (১৪৩১) হিজরি সনে মক্কা মুকাররমার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশ করেন। থিসিসটি (৬৫৯) পৃষ্ঠার: (১৬০) পৃষ্ঠা গবেষণামূলক আলোচনার জন্য, এবং (৩২৪) পৃষ্ঠা সম্পাদিত মূল পাঠ্যের জন্য, যা বইয়ের শুরু থেকে শেষ পরিচ্ছেদ পর্যন্ত বিস্তৃত: (মসজিদ ও জামে মসজিদগুলোতে বড়দের মাধ্যমে যেসব বিদআত প্রচলিত হয় … ), এবং এটি আমাদের এই সংস্করণের (২৮০) পৃষ্ঠা পর্যন্ত। এরপরের (৬৯) পৃষ্ঠা হলো সনদসমূহের গবেষণামূলক পরিশিষ্ট(১), আর অবশিষ্ট পৃষ্ঠাগুলো নির্ঘণ্ট ও উৎসগ্রন্থের জন্য।

সম্মানিত গবেষিকা অধ্যয়ন ও সম্পাদনার কাজে অত্যন্ত উৎকর্ষ সাধন করেছেন এবং পাঠ্য বিন্যাস ও টীকা প্রদানে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। তিনি এতে একটি সুস্পষ্ট, সফল ও প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তার কথা ও কাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন। তিনি যদি এই উচ্চমান বজায় রেখে পুরো গ্রন্থটির সম্পাদনা সম্পন্ন করতেন, তবে এই মূল্যবান পাণ্ডুলিপিটির এক মহান খিদমত হতো। তার কাজের ওপর যেসব সমালোচনা আসে তা তার কাজের মানকে ক্ষুণ্ন করে না; কারণ গবেষকের জন্য নির্ভুল হওয়া শর্ত নয়, বরং তার জন্য শর্ত হলো নিষ্ঠাবান হওয়া, কাজটি নিপুণভাবে করা এবং সম্পাদনা ও সূক্ষ্ম যাচাইয়ে তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা। তার বিপরীত হলো সেই ব্যক্তি যে খিয়ানত করেছে...

--------------------------------------------

(১) আমি জানি না কীভাবে গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃপক্ষ এই ছাত্রীকে বইটির কিছু হাদিস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার অনুমতি দিলেন; যদিও এটি তার বিশেষায়িত ক্ষেত্র এবং গবেষণার বিষয়ের বাইরে ছিল। তদুপরি, গ্রন্থটিতে মূলত কোনো সনদযুক্ত হাদিস নেই, বরং তিনি কেবল সেগুলোর উৎস নির্দেশ করতে চেয়েছিলেন।

(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ٩)
أمانة العلم، مثل هدَّام السنة الذي أبلغتُ في التشنيع عليه في مقدمتي لكتاب: «حجة الوداع»؛ فهو يستحقُّ ذلك وزيادة.

جرت الباحثةُ على سنن من قبلها من طلاب الدراسات العليا في عالمنا العربي في كيل المديح والثناء على الكتاب الذي يحقِّقونه وعلى مؤلفه، والمهابة من إخضاعه للنقد والفحص والتحليل، ولعل البيئة التعليمية العامة هي التي تدفعهم إلى ذلك، فيتخرَّج طلاب ليس عندهم قلقٌ ولا وسوسةٌ علمية، لا يحسنون إيجاد المشكلات ولا معالجتها، لهذا فليس من عجبٍ أن نجد الباحثةَ تصف ابنَ بَيْدَكِينَ بالعالم، والعلامة، والإمام، ومن أعلام القرن الثامن الهجري. وكل هذه العبارات مبالغة ومجازفة، فصاحبنا لا يعدو أن يكون طالب علمٍ غير متعمِّق فيه، لكنْ تميِّزُه حماسةٌ دينيةٌ، وحرصٌ وجدٌّ واجتهادٌ مكَّنه من تأليف هذا الكتاب(1). وقد سجَّلت الباحثةُ على استحياءٍ جملةً من ملاحظاتها النقدية على الكتاب، بما يتلخَّص في الأخطاء في بعض الأحاديث والآثار، وفي عزوها وتوثيقها، وبعض الأخطاء النحويَّة، والإكثار من استخدام الأسلوب الوعظي في ثنايا العرض والرد على البدع التي يسوقها المؤلف، وتقطيع سياق المسائل بالقصص والحكايات، وإطلاق عبارات كان الأولى بالمؤلف رحمه الله استعمال غيرها، كقوله عن يوسف الصديق عليه الصلاة والسلام: «لما طمع في اللعب صار أمره إلى العبودية والبئر والسجن»، وتخصيص علي بن أبي طالب رضي الله عنه بعبارة: «كرم الله وجهه»، وبعض الألفاظ والأحكام القاسية التي يطلقها على بعض العصاة والمبتدعة، كقوله عن رجل كتب على يده آية الكرسي: «إنه إذا مسَّ موضع الآية من يده وهو جنب فإنه يفسق ويكون ملعونًا»، وقوله عن الحائض إذا مكثت في المسجد إنها: «فاجرة، فإن استحلت ذلك كفرت وخسرت الدنيا والآخرة». ووجود عدد من الأحاديث الضعيفة أحيانًا، والموضوعة نادرًا، وأن المؤلف لم يلتزم باصطلاح

--------------------------------------------

(1) وأعرفُ في زماننا هذا عاميًّا، لا يحسن قراءة سطرين على الجادَّة، قد ألف بعض الكتب بجمع مادَّتها من الرسائل الجامعية، وبذل في ذلك جهده سنين طويلة، وأفلح بعد إلحاح في استكتاب جماعة من العلماء لتقريظ كتبه، والجنون فنونٌ! ومثله لا يبلغ في العلم مدَّ ابن بيدكين ولا نصيفه.

ইলমের আমানতদারিতা; যেমন সুন্নাহর সেই ধ্বংসকারী ব্যক্তি, যার ব্যাপারে আমি আমার 'হুজ্জাতুল বিদা' বইয়ের ভূমিকায় কঠোর সমালোচনা করেছি; সে এর চেয়েও বেশি কিছুর যোগ্য।

গবেষক মহোদয়া আমাদের আরব বিশ্বের উচ্চতর শিক্ষা স্তরের সেইসব ছাত্রদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, যারা তাদের সম্পাদিত গ্রন্থ এবং এর লেখকের ওপর স্তুতি ও প্রশংসার ডালি ঢেলে দেন। তারা গ্রন্থটিকে সমালোচনা, যাচাই এবং বিশ্লেষণের আওতায় আনতে ভয় পান। সম্ভবত সাধারণ শিক্ষা পরিবেশই তাদের এদিকে ধাবিত করে। ফলে এমন সব ছাত্র উত্তীর্ণ হয়ে বের হয় যাদের মধ্যে কোনো ইলমি অস্থিরতা বা সূক্ষ্ম অনুসন্ধিৎসা থাকে না, তারা সমস্যা চিহ্নিত করতে বা তার সমাধান দিতে পারদর্শী হয় না। এ কারণেই এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, গবেষক ইবনে বায়দাকীনকে 'আলেম', 'আল্লামা', 'ইমাম' এবং অষ্টম হিজরি শতাব্দীর অন্যতম ব্যক্তিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর এই শব্দগুলোর সবই অতিরঞ্জন ও সাহসিকতাপূর্ণ; কারণ আমাদের এই লেখক ইলমের গভীরে না পৌঁছানো একজন তালিবে ইলম মাত্র। তবে তার মধ্যে যে ধর্মীয় আবেগ, আকাঙ্ক্ষা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রম ছিল, তা-ই তাকে এই গ্রন্থটি রচনায় সক্ষম করেছে(১)। গবেষক মহোদয়া অত্যন্ত লাজুকভাবে এই গ্রন্থের ওপর তার সমালোচনামূলক পর্যবেক্ষণের একটি সারসংক্ষেপ তুলে ধরেছেন। যার সারমর্ম হলো: কিছু হাদীস ও আসারের মধ্যে ভুল থাকা, সেগুলোর সূত্রোল্লেখ ও প্রামাণিকতায় ত্রুটি, কিছু নাহু (ব্যাকরণ) সংক্রান্ত ভুল, লেখক কর্তৃক উপস্থাপিত বিদআতসমূহের বর্ণনার ভাঁজে ভাঁজে এবং সেগুলোর খণ্ডনে অতিরিক্ত ওয়াজ-নসিহতের শৈলী ব্যবহার, কিচ্ছা ও কাহিনীর মাধ্যমে মাসআলাসমূহের ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন করা, এবং এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করা যা পরিহার করা লেখকের (রাহিমাহুল্লাহ) জন্য উত্তম ছিল। যেমন ইউসুফ সিদ্দীক আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম সম্পর্কে তার কথা: «যখন তিনি খেলার লোভ করলেন, তখন তার বিষয়াদি দাসত্ব, কূয়োর অন্ধকূপ এবং জেলখানায় পর্যবসিত হলো», আলী ইবনে আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নির্দিষ্টভাবে «কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু» উপাধিতে ভূষিত করা, এবং কিছু অবাধ্য ও বিদআতিদের ওপর তার কঠোর শব্দ ও হুকুম আরোপ করা। যেমন তার হাতে আয়াতুল কুরসী লিখে রাখা কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে উক্তি: «জানাবাত (নাপাকি) অবস্থায় সে যদি তার হাতের আয়াতের স্থানটি স্পর্শ করে তবে সে ফাসেক হয়ে যাবে এবং অভিশপ্ত হবে», এবং ঋতুবতী নারী যদি মসজিদে অবস্থান করে তবে তার সম্পর্কে উক্তি: «সে পাপিষ্ঠা, আর যদি সে এটিকে হালাল মনে করে তবে সে কাফের হয়ে গেল এবং দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই হারালো»। এছাড়া মাঝে মাঝে কিছু যয়ীফ হাদীস এবং কদাচিৎ কিছু জাল হাদীসের উপস্থিতি থাকা, আর লেখক যে পরিভাষার প্রতি অনুগত থাকেননি...

--------------------------------------------

(১) আমি বর্তমান যুগে এমন একজন সাধারণ লোককে চিনি, যে সঠিকভাবে দুই লাইন পড়ার যোগ্যতা রাখে না, অথচ সে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিসিসগুলো থেকে উপাদান সংগ্রহ করে কিছু বই লিখে ফেলেছে। এতে সে দীর্ঘ বছর যাবৎ চেষ্টা করেছে এবং দীর্ঘ পীড়াপীড়ির পর একদল আলেমকে দিয়ে তার বইয়ের ওপর অভিমত লিখিয়ে নিতে সফল হয়েছে। আর পাগলামির তো কত ধরণই থাকে! অথচ তার মতো লোক ইলমের ক্ষেত্রে ইবনে বায়দাকীনের এক মুদ বা তার অর্ধেক পরিমাণ মর্যাদায় পৌঁছাতে পারবে না।

(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ١٠)
المحدثين في تصدير الأحاديث الضعيفة دون الصحيحة بألفاظ التمريض، وتكلُّفه السجع في بعض المواضع.

وذكرت الباحثةُ ملاحظةً أخرى مهمةً، لكنها لم تقف عندها، وهي: «إدخال عدد من المعاصي التي ليست ببدع في الكتاب، وتسميتها بدعًا». والحقيقة أن هذا خلل أساسيٌّ في منهجية التأليف، ولا يقف الأمرُ عند «عدد» ولا «بعض» التي أصرت الباحثة على استخدامها خلال الملاحظات السابقة، بل الأمر أعظم من ذلك، فالكتاب في عمومه في المعاصي والمنكرات، أما البدع بالمعيار الأصوليِّ الدقيق فقليلةٌ، والمؤلف لا يحقِّقُ الحدَّ بين البدعة والمعصية، ذلك لأنَّه يتناول المخالفات في المجتمع الإسلامي برؤية دينيةٍ، وعظيةٍ، إصلاحيةٍ، لهذا فهو يحكم على كل معصية ومنكر لم يكن ظاهرًا في المجتمع الإسلامي الأول، ولا هو من سلوك الصالحين الأتقياء البررة بأنَّها بدعةٌ. فمما ذكره التركمانيُّ بوصف البدعة: تعذيب الطير، وتخطي رقاب المصلين، والمرور بين يدي المصلي، ونقر الصلاة، والكلام في وقت الجمعة. وهذه أمثلة أشارت إليها الباحثةُ، وثمة أمثلة أخرى كثيرة جدًّا، منها: حلق اللحية، والوشْم والوصْل، ولطم الخدود وشق الجيوب، وثقب الأُذن والإحليل ولبس الحديد، ولعب الشطرنج، وقبول شهادة الكافر والفاسق ورد شهادة المؤمن، والشفاعة بغير حقٍّ، والظلم في الوصية، ومنكرات رماة البندق وأهل الصيد، والبيع في المسجد وتخطي رقاب المصلين، ومكث المرأة في المسجد الحرام، وترك النكاح مع القدرة، ومنكرات الأعراس والأفراح والولائم والموائد والمزح، والضحك في المقابر، وترك السلام والمصافحة، والشبع الزائد، وقطع الخبز بالسكين، والتكبُّر المذموم، ولبس الذهب والحرير، وعدم الغيرة والتبرج والاختلاط، وغير ذلك(1).

--------------------------------------------

(1) راجع في كتابنا هذا: 35، 129، 131، 170، 211، 251، 257، 259، 265، 266، 268، 269، 272، 284، 321، 328، 333، 334، 340، 374، 380، 381، 388، 390، 461، 480، 520، 618، 626، 683، ومواضع أخرى.

মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি অনুসরণ করে সহিহ হাদিসের পরিবর্তে দুর্বল হাদিসসমূহকে সংশয়বাচক শব্দ দ্বারা উপস্থাপন করা এবং কিছু কিছু স্থানে কৃত্রিমভাবে ছন্দ প্রয়োগ করা।

গবেষক আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেননি; আর তা হলো: «বইটিতে এমন অনেক গুনাহকে অন্তর্ভুক্ত করা যা আসলে বিদআত নয় এবং সেগুলোকে বিদআত হিসেবে অভিহিত করা।» প্রকৃতপক্ষে এটি রচনাশৈলীর একটি মৌলিক ত্রুটি। বিষয়টি কেবল «কিছু সংখ্যক» বা «কিছু» শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, যা গবেষক তার পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষণগুলোতে ব্যবহার করার জন্য জেদ ধরেছেন। বরং বিষয়টি আরও ব্যাপক। কারণ পুরো বইটি মূলত গুনাহ ও অন্যায় কার্যাবলি নিয়ে রচিত। সূক্ষ্ম উসুলি মানদণ্ডে বিদআতের সংখ্যা এতে খুবই কম। লেখক বিদআত ও গুনাহের মধ্যবর্তী সীমারেখা নির্ণয় করতে পারেননি; এর কারণ হলো তিনি ইসলামি সমাজের বিচ্যুতিগুলোকে ধর্মীয়, ওয়াজ-নসিহত ও সংস্কারমূলক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখেছেন। এ কারণেই তিনি এমন প্রতিটি গুনাহ ও অন্যায় কাজকে বিদআত বলে অভিহিত করেছেন, যা প্রথম যুগের ইসলামি সমাজে প্রচলিত ছিল না এবং যা পুণ্যবান ও আল্লাহভীরু সৎকর্মশীলদের আচরণভুক্ত ছিল না। তুর্কমানি বিদআত হিসেবে যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে: পাখিকে কষ্ট দেওয়া, মুসল্লিদের ঘাড় টপকিয়ে সামনে যাওয়া, মুসল্লির সামনে দিয়ে যাতায়াত করা, খুব দ্রুত নামাজ পড়া এবং জুমার খুতবার সময় কথা বলা। এগুলো গবেষক কর্তৃক নির্দেশিত কিছু উদাহরণ। এ ছাড়াও আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে, যেমন: দাড়ি মুণ্ডন করা, উল্কি আঁকা ও কৃত্রিম চুল লাগানো, গালে চড় মারা ও জামার কলার ছেঁড়া, কান ও মূত্রনালি ছিদ্র করা এবং লোহার অলঙ্কার পরিধান করা, দাবা খেলা, কাফের ও ফাসিকের সাক্ষ্য গ্রহণ করা এবং মুমিনের সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করা, অন্যায়ভাবে সুপারিশ করা, অছিয়তে জুলুম করা, বন্দুকধারী শিকারি ও শিকারিদের অন্যায় কার্যাবলি, মসজিদে কেনাবেচা করা ও মুসল্লিদের ঘাড় ডিঙিয়ে যাওয়া, মসজিদে হারামে নারীদের অবস্থান করা, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিয়ে ত্যাগ করা, বিয়ে-শাদি, আনন্দ-উৎসব, ওলিমা, দস্তরখান ও কৌতুকের ক্ষেত্রে সংঘটিত অন্যায়সমূহ, কবরস্থানে হাসাহাসি করা, সালাম ও মুসাফাহা বর্জন করা, অতিরিক্ত পেট পুরে খাওয়া, ছুরি দিয়ে রুটি কাটা, নিন্দনীয় অহংকার করা, সোনা ও রেশম পরিধান করা, আত্মমর্যাদাবোধের অভাব, বেপর্দা চলাফেরা ও অবাধ মেলামেশা ইত্যাদি(১)।

--------------------------------------------

(১) আমাদের এই কিতাবে দেখুন: ৩৫, ১২৯, ১৩১, ১৭০, ২১১, ২৫১, ২৫৭, ২৫৯, ২৬৫, ২৬৬, ২৬৮, ২৬৯, ২৭২, ২৮৪, ৩২১, ৩২৮, ৩৩৩, ৩৩৪, ৩৪০, ৩৭৪, ৩৮০, ৩৮১, ৩৮৮, ৩৯০, ৪৬১, ৪৮০, ৫২০, ৬১৮, ৬২৬, ৬৮৩ এবং অন্যান্য স্থান।

(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ١١)
لقد ارتبط ابن بَيْدَكِينَ بصورة المجتمع الإسلامي في القرون الأولى التي شهد لها النبيُّ صلى الله عليه وسلم بالخيرية، فوجد في سنة النبي صلى الله عليه وسلم، ثم في سير أصحابه الكرام وأئمة الدين والصالحين من بعدهم؛ الأسوةَ والقدوةَ والنموذجَ الذي ينبغي الاقتداءُ به، وإحياءُ آثاره ومآثره، لكنَّه كلَّما التفتَ إلى واقع المجتمع من حوله أصيب بالصَّدمة والذُّهول والخيبة، فقد كثرت المنكراتُ، وظهرت المعاصي، وعمَّ الجهلُ والظلم؛ إلا ما شاء ربُّك، فلا غروَ إذن أن يحكم التركمانيُّ على تلك المعاصي والمنكرات بأنَّها: «بدع»، نعم؛ إنها «بدع» بمعنى أنها دخيلةٌ على أخلاقيات المجتمع المسلم وسلوكه، حادثةٌ فيه بعد أن لم تكن، فهي بدع بالمنظور الأخلاقي والتاريخي والاجتماعي، وإن لم تكن بدعًا وفق التأصيل الأصولي، والتخريج الفقهي.

لن نعدم في الآثار السلفية إطلاق لفظ «البدعة» على بعض المنكرات الطارئة على سلوك الجماعة المسلمة، فقد كتب الخليفةُ الصالح عمرُ بن عبد العزيز رحمه الله إلى عمر بن الوليد بن عبد الملك بن مروان وكان لعَّابًا متنعِّمًا(1) يُنكر عليه بعضَ فعاله، فكان ممَّا كتبه إليه قولُه: «وإظهارُك المعازفَ والمزمارَ: بدعةٌ في الإسلام»(2). ومهما يكن فإنَّ اطلاق لفظ «البدعة» على المنكرات والمعاصي بعد تدوين الفقه واستقرار المصطلحات أمر غير مستحسن، وهو في التصنيف خللٌ منهجيٌّ يؤدي إلى الخلط وسوء الفهم.

وصنعت الباحثةُ ترجمةً للمؤلِّف، وأجادت في جمع مادتها من كتابه، وفاتتها موادُّ كثيرة، كما أنها أخطأت في أشياء، منها: أنها لم تستطع التعرف على شيخ المؤلف الذي أكثر في النقل عنه، وهو ابن عطاء الله السكندري، ولم تحدِّد تاريخ تقريظ شيخ الإسلام ابن تيمية لرسالة «الفتوَّة»، وهو خلال المدَّة من شوال (709) إلى شوال (712)، ولم تعرف المقتول

--------------------------------------------

(1) قاله الذهبيُّ في «تاريخ الإسلام» 3/ 133 (199).

(2) أخرجه النسائي في «السنن الكبرى» (4421)، وفي «المجتبى» 2/ 178، وصححه الألباني في «تحريم آلات الطرب» 120.

ইবনে বাইদাকিন প্রাথমিক শতাব্দীগুলোর মুসলিম সমাজের চিত্রের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছিলেন, যে শতাব্দীগুলোর শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দিয়েছেন। তাই তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ এবং পরবর্তীতে তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ, দ্বীনের ইমামগণ ও নেককারদের জীবনচরিতের মাঝে এমন আদর্শ, অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ও নমুনা খুঁজে পেয়েছিলেন যা অনুসরণ করা এবং তাদের নিদর্শন ও কীর্তিসমূহ পুনরুজ্জীবিত করা আবশ্যক। কিন্তু তিনি যখনই তাঁর চারপাশের সমাজের বাস্তবতার দিকে দৃষ্টিপাত করতেন, তখন তিনি মর্মাহত, কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও হতাশ হতেন। কারণ মন্দ কাজ বৃদ্ধি পেয়েছিল, পাপাচার প্রকাশ পেয়েছিল এবং অজ্ঞতা ও জুলুম ছড়িয়ে পড়েছিল; তবে আপনার রব যা চেয়েছেন তা ব্যতীত। অতএব, আত-তুর্কিমানি সেই সব পাপাচার ও অন্যায়ের ওপর ‘বিদআত’ হওয়ার হুকুম লাগিয়েছেন তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। হ্যাঁ, এগুলো ‘বিদআত’ এই অর্থে যে, এগুলো মুসলিম সমাজের নৈতিকতা ও আচরণের ওপর বহিরাগত বিষয়, যা পূর্বে ছিল না বরং পরে উদ্ভূত হয়েছে। সুতরাং এগুলো নৈতিক, ঐতিহাসিক এবং সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে ‘বিদআত’, যদিও তা উসূলী ভিত্তি বা ফিকহী বিশ্লেষণের বিচারে ‘বিদআত’ না-ও হতে পারে।

সালাফদের বাণীতে মুসলিম জামাআতের আচরণের ক্ষেত্রে অনুপ্রবেশকারী কিছু মন্দ কাজের ওপর ‘বিদআত’ শব্দের প্রয়োগ আমরা দেখতে পাই। পুণ্যবান খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ) উমর ইবনে ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের নিকট লিখেছিলেন—যিনি আমোদপ্রিয় ও বিলাসিতায় মগ্ন ছিলেন(১)—তাঁর কিছু কাজের প্রতিবাদ জানিয়ে। তিনি যা লিখেছিলেন তার মধ্যে ছিল: “তোমার বাদ্যযন্ত্র ও বাঁশি প্রকাশ করা হলো ইসলামে একটি বিদআত।”(২) যাই হোক না কেন, ফিকহ সংকলন এবং পরিভাষাসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পাপাচার ও অন্যায়ের ওপর ‘বিদআত’ শব্দের প্রয়োগ করা সমীচীন নয়। এটি বিন্যাসের ক্ষেত্রে একটি পদ্ধতিগত ত্রুটি, যা বিভ্রান্তি ও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে।

গবেষক লেখক সম্পর্কে একটি জীবনী তৈরি করেছেন এবং তাঁর গ্রন্থ থেকে তথ্য সংগ্রহে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন, তবে অনেক তথ্য তাঁর নজর এড়িয়ে গেছে। এছাড়া তিনি কিছু বিষয়ে ভুলও করেছেন, যেমন: তিনি লেখকের সেই শায়খকে চিনতে পারেননি যার থেকে তিনি অধিক উদ্ধৃতি দিয়েছেন, আর তিনি হলেন ইবনে আতাউল্লাহ আল-ইসকান্দারি। এছাড়া তিনি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ কর্তৃক ‘আল-ফুতুওয়াহ’ রিসালার ওপর লিখিত প্রশংসামূলক মন্তব্যের তারিখ নির্ধারণ করতে পারেননি, যা শাওয়াল (৭০৯) থেকে শাওয়াল (৭১২) হিজরির মধ্যবর্তী সময়ে ছিল। এবং তিনি নিহত ব্যক্তি সম্পর্কে জানতে পারেননি...

--------------------------------------------

(১) আয-যাহাবি এটি ‘তারিখুল ইসলাম’ ৩/১৩৩ (১৯৯)-এ বলেছেন।

(২) আন-নাসায়ী এটি ‘আস-সুনানুল কুবরা’ (৪৪২১) এবং ‘আল-মুজতাবা’ ২/১৭৮-এ বর্ণনা করেছেন; আলবানি একে ‘তাহরিমু আলাতিত তরাব’ ১২০-এ সহিহ বলেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ١٢)
على الزندقة في القاهرة، وهو ابن البققي. وتابعت الباحثةُ خطأ الباباني في «هدية العارفين» في نسبة كتاب «اللمع» إلى سميٍّ للتركماني متأخر، فدمجت بين اسمي الرجلين ونسبهما، وهو وهم نبَّهتُ عليه في صدر ترجمته.

وأفادتْ بترجمة ابن بيدكين في «الأثمار الجَنِيَّة في أسماء الحنفيَّة» لملا علي بن سلطان القاري (ت: 1014 هـ)، وهذا نصُّها: «إدريس بن عبد الله التركمانيُّ: له كتاب الفتوَّة قدر كرَّاسٍ ورقٍ صغير، وكتاب السَّماع المضرِّ قدر كرَّاس أيضًا، حرَّم فيه السماع وشدَّده وأطنب في التغليظ، وسمَّاه كتاب: الحجة والبرهان على فتيان هذا الزمان»(1).

قلتُ: هذا وَهْمٌ من القاري رحمه الله، فرسالة الفتوَّة هي «الحجة والبرهان … »، واسمها دالٌّ على موضوعها، فليس هو في السَّماع. ولعلَّ القاري هو مصدر الوهم لحاجي خليفة والبغدادي كما سيأتي في ترجمة التركماني.

وأحسنت الباحثةُ في انتقاد الطبعة الأولى والوحيدة للكتاب التي حققها الدكتور صبحي لبيب، وصدر سنة (1406 هـ) عن المعهد الألماني للآثار بالقاهرة، وفصَّلت القولَ بذلك بما لم أرَ التعرُّض له في مقدمتي هذه، وختمت انتقادها بمأخذ رأته في غاية الأهمية، وهو: «أن الهدف الذي سعى له كلٌّ من المحقِّق والمعهد الاستشراقي الذي تبنَّى العمل هو إخراج مرجع تاريخي يتحدث عن تاريخ مصر لحقبة من الزمان مضت، ويسلط الضوء على الشؤون الاقتصادية والاجتماعية في تلك الحقبة، مما يخالف مراد المؤلف رحمه الله، ويهمِّش كثيرًا من فوائد الكتاب ويسلبها أهميتها، ويخرج بالكتاب عن موضوعه الأصلي الذي يعالج قضاياه، يجلي ذلك ما ورد عن هذا التحقيق في مبدأ تصديره حيث جاء فيه: «يصدر هذا المجلد عن البدع للتركماني ليصبح إضافة جديدة لسلسة: (مصادر تاريخ مصر الإسلامية) التي

--------------------------------------------

(1) «الأثمار الجنية» الطبعة الهندية، ص: 166، الترجمة (112)، وطبعة الوقف السني ببغداد (1430 هـ)، ص: 356، الترجمة: (113)، وليس فيها كلمة «المضر»، و «الفتوة» تحرفت في الهندية إلى: «الفتوى».

কায়রোতে যিন্দিক হওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হন, আর তিনি হলেন ইবনুল বাক্কি। গবেষক নারী 'হাদিয়্যাতুল আরিফীন' গ্রন্থে বাবানি-র ভুল অনুসরণ করেছেন, যেখানে তিনি 'আল-লুমা' নামক কিতাবটিকে পরবর্তী যুগের তুরকুমানির এক নামধারী ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধ করেছেন। ফলে তিনি দুই ব্যক্তির নাম ও বংশ পরিচয়কে এক করে ফেলেছেন; এটি একটি বিভ্রান্তি যা আমি তাঁর জীবনী আলোচনার শুরুতেই উল্লেখ করেছি।

তিনি মোল্লা আলী বিন সুলতান আল-ক্বারী (মৃত্যু: ১০১৪ হিজরী) এর 'আল-আসমারুল জানিয়্যাহ ফী আসমায়িল হানাফিয়্যাহ' গ্রন্থ থেকে ইবনে বাইদাকিনের জীবনীর উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যার পাঠ নিম্নরূপ: «ইদ্রিস বিন আব্দুল্লাহ আত-তুরকুমানি: তাঁর ছোট কাগজের এক কুরাসা (পুস্তিকা) সমপরিমাণ 'কিতাবুল ফুতুওয়াহ' রয়েছে এবং ক্ষতিকর সামা (গান-বাদ্য) সংক্রান্ত এক কুরাসা সমপরিমাণ একটি কিতাবও রয়েছে, যাতে তিনি সামাকে হারাম ঘোষণা করেছেন, এ ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন এবং কঠোর ভাষায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। তিনি এর নাম দিয়েছেন: কিতাবুল হুজ্জাতি ওয়াল বুরহান আলা ফিতইয়ানি হাযায যামান»(১)।

আমি বলছি: এটি আল-ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি বিভ্রান্তি। কারণ 'ফুতুওয়াহ' বিষয়ক রিসালাহটিই হলো «আল-হুজ্জাতু ওয়াল বুরহান … », এবং এর নামই এর বিষয়বস্তুর প্রমাণ বহন করে; সুতরাং এটি সামা বা গান-বাদ্য বিষয়ক নয়। সম্ভবত আল-ক্বারী-ই হাজী খলিফা ও বাগদাদির জন্য এই বিভ্রান্তির উৎস ছিলেন, যা তুরকুমানির জীবনীতে সামনে আসবে।

গবেষক নারী কিতাবটির প্রথম এবং একমাত্র সংস্করণটির সমালোচনা করে সঠিক কাজ করেছেন, যা ডক্টর সুবহি লাবীব সম্পাদনা করেছেন এবং যা ১৪০৬ হিজরীতে কায়রোর জার্মান প্রত্নতত্ত্ব ইনস্টিটিউট থেকে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন যা আমি আমার এই ভূমিকায় আলোচনা করা প্রয়োজন মনে করিনি। তিনি তাঁর সমালোচনার ইতি টেনেছেন এমন একটি প্রসঙ্গের মাধ্যমে যাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন, আর তা হলো: «সম্পাদক এবং এই কাজের দায়িত্ব গ্রহণকারী প্রাচ্যবাদী ইনস্টিটিউটের লক্ষ্য ছিল এমন একটি ঐতিহাসিক উৎস বের করা যা মিশরের অতীত ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট কালখণ্ড সম্পর্কে আলোচনা করে এবং সেই সময়ের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করে। এটি লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) উদ্দেশ্যের পরিপন্থী এবং কিতাবটির অনেক ফায়দাকে প্রান্তিক করে ফেলে ও সেগুলোর গুরুত্ব কেড়ে নেয়। এটি কিতাবটিকে তার মূল বিষয়বস্তু থেকে বের করে আনে যা নিয়ে এটি আলোচনা করে। এই সম্পাদনার মুখবন্ধের শুরুতে যা এসেছে তা বিষয়টি স্পষ্ট করে, যেখানে বলা হয়েছে: "তুরকুমানির আল-বিদা' বিষয়ক এই খণ্ডটি প্রকাশিত হচ্ছে যাতে এটি (ইসলামী মিশরের ইতিহাসের উৎসসমূহ) সিরিজের একটি নতুন সংযোজন হতে পারে যা

--------------------------------------------

(১) «আল-আসমারুল জানিয়্যাহ» ভারতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা: ১৬৬, জীবনী নং (১১২); এবং বাগদাদের ওয়াকফ সুন্নি সংস্করণ (১৪৩০ হি.), পৃষ্ঠা: ৩৫৬, জীবনী নং (১১৩)। এতে «আল-মুদির» শব্দটি নেই, আর ভারতীয় সংস্করণে «আল-ফুতুওয়াহ» শব্দটি বিকৃত হয়ে «আল-ফাতওয়া» হয়ে গেছে।

(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ١٣)
يصدرها المعهد الألماني للآثار بالقاهرة، ومديره الأستاذ الدكتور فيرنر كايزر، ويشرف عليها الأستاذ الدكتور هانز رويمر … ويرجع اهتمام المحقق بموضوع البدع إلى عام (1945 م) عندما بدأ بحوثه عن تاريخ الاقتصاد الإسلامي، إذ اتضح له أن دراسة كتب الحيل والعرف والبدع جزء لا يمكن إغفاله عند دراسة شؤون الاقتصاد والمجتمع الإسلاميَّيْن … ». ويزيد الأمر توضيحًا ما ذكره مدير المعهد بعد ذلك في تصديره للكتاب حين قال: «حاول المحقق أن يقدِّم صورة واضحة المعالم عن قيمة (كتاب اللمع) كمصدر تاريخي هامٍّ [كذا، والصواب: مهمٍّ] … »، وقال بعد ذلك في ختام التصدير: «وبعد أن انتهت أعمال تحقيق اللمع اتصل بالمستشرق الأستاذ الدكتور رويمر راجيًا نشر التركماني في سلسلة مصادر تاريخ مصر … ». ولا شكَّ أن عملًا هذا هدفه الذي بُني عليه ولأجله، ستكون الجهود المبذولة فيه، وبالتالي نتيجته في حدود الهدف وما يتفق معه، فالناحية التاريخية هي المحور الذي يهتمُّ به هذا المعهد، وللمحقق تحقيق آخر لكتاب تاريخي هو كتاب: «دول الإسلام الشريفة»، بالمشاركة مع المستشرق أولريش هارمان».

قال عبد الحق التركماني عفا الله عنه: ما ذكرته الدكتورة أسماء العلواني حقٌّ لا مرية فيه، فالمستشرقون ومن لفَّ لفَّهم، وسار على نهجهم ينظرون إلى الميراث الديني بأنه من نتاج الفكر الإنسانيِّ فحسب، لهذا لا يتدبَّرون ما فيها من الآيات والحجج، ولا تتأثر قلوبهم بما فيها من الحكمة والموعظة، وهَمُّهُم جمع المادة العلمية من مظانِّها وغير مظانِّها، لدراسة الأفكار والظواهر وتحليلها ورصد جوانبها التاريخية والحضارية والاجتماعية والاقتصادية، بعقليَّة مادية لا تقرُّ بالوحي، ولا تدرك آثار ربوبية الله تعالى وملكه وتصرفه وتدبيره في الكون والتاريخ والحياة بمقتضى علمه وحكمته وعدله ورحمته. فليس من عجبٍ أن يُفني المستشرقون أعمارهم في دراسة الإسلام عقيدةً وشريعةً وتاريخًا ثم لا يُسلِمُ أحدٌ منهم إلا القليل النادر جدًّا، ولله في خلقه شؤون.

على أنه إذا كان المستشرقون قد غلو في القراءة التاريخية للتراث
কায়রোতে অবস্থিত জার্মান প্রত্নতাত্ত্বিক ইনস্টিটিউট এটি প্রকাশ করে, যার পরিচালক হলেন প্রফেসর ডক্টর ওয়ার্নার কাইজার এবং এটি তত্ত্বাবধান করেন প্রফেসর ডক্টর হ্যান্স রোমার … বিদআত (নব উদ্ভাবন) বিষয়ে গবেষকের আগ্রহ ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয় যখন তিনি ইসলামি অর্থনীতির ইতিহাসের ওপর তাঁর গবেষণা শুরু করেন; কারণ তাঁর কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, ইসলামি অর্থনীতি ও সমাজের বিষয়াবলী অধ্যয়নের ক্ষেত্রে কৌশল (হিয়াল), প্রথা (উরফ) এবং বিদআত সম্পর্কিত গ্রন্থাদি অধ্যয়ন এমন একটি অংশ যা উপেক্ষা করা সম্ভব নয় … »। ইনস্টিটিউটের পরিচালক বইটির ভূমিকায় যা উল্লেখ করেছেন তা বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে দেয়, তিনি বলেন: «গবেষক একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উৎস হিসেবে (কিতাবুল লুমা)-এর মূল্যের একটি সুস্পষ্ট চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন [মূল পাঠে এমনটিই আছে, তবে সঠিক শব্দ হবে: গুরুত্বপূর্ণ] … »। এরপর তিনি ভূমিকার শেষে বলেন: «লুমা গ্রন্থের সম্পাদনার কাজ শেষ হওয়ার পর, তিনি প্রাচ্যবিদ প্রফেসর ডক্টর রোমারের সাথে যোগাযোগ করেন এবং আল-তুর্কিমানি রচিত গ্রন্থটি মিসরের ইতিহাসের উৎস সিরিজের অন্তর্ভুক্ত করে প্রকাশের অনুরোধ জানান … »। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো কাজ যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়, তাতে ব্যয়িত শ্রম এবং এর ফলাফল সেই লক্ষ্যের গণ্ডিতে এবং তার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। সুতরাং ঐতিহাসিক দিকটিই হলো এই ইনস্টিটিউটের প্রধান আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। গবেষক আরও একটি ঐতিহাসিক গ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন, সেটি হলো: «দুওয়ালুল ইসলাম আশ-শারিফাহ», যা তিনি প্রাচ্যবিদ উলরিখ হারম্যানের সাথে যৌথভাবে করেছেন।

আব্দুল হক আল-তুর্কিমানি (আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন) বলেন: ডক্টর আসমা আল-আলওয়ানি যা উল্লেখ করেছেন তা সত্য এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা প্রাচ্যবিদগণ এবং তাদের অনুসারীরা ধর্মীয় ঐতিহ্যকে কেবল মানবীয় চিন্তাধারার ফসল হিসেবে দেখেন। এই কারণে তারা এর আয়াত ও প্রমাণসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেন না এবং এর হিকমত ও উপদেশ দ্বারা তাদের অন্তর প্রভাবিত হয় না। তাদের মূল লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য সকল উৎস থেকে বৈজ্ঞানিক উপকরণ সংগ্রহ করা, যাতে ওহিকে অস্বীকারকারী এক বস্তুবাদী মানসিকতা নিয়ে চিন্তাধারা ও ঘটনাসমূহ অধ্যয়ন, বিশ্লেষণ এবং সেগুলোর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিকগুলো পর্যবেক্ষণ করা যায়। তারা আল্লাহ তাআলার রুবুবিয়াত (প্রভুত্ব), তাঁর রাজত্ব এবং তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা, ন্যায়বিচার ও রহমতের দাবি অনুযায়ী মহাবিশ্ব, ইতিহাস ও জীবনে তাঁর কর্মতৎপরতা ও পরিচালনার প্রভাব অনুধাবন করতে পারে না। অতএব, এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, প্রাচ্যবিদরা ইসলামি আকাইদ, শরীয়াহ এবং ইতিহাস অধ্যয়নে তাদের জীবন ব্যয় করে দেন, অথচ তাদের মধ্যে অতি নগণ্য সংখ্যক ব্যতীত কেউ ইসলাম গ্রহণ করে না। আর সৃষ্টিজগতের ব্যাপারে আল্লাহর নিজস্ব কর্মপদ্ধতি রয়েছে।

যদিও প্রাচ্যবিদরা ঐতিহ্যের ঐতিহাসিক পাঠের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করেছেন
(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ١٤)
الديني، فعلينا أن لا نغلو في رفض تلك القراءة بإطلاق، فإنها مفيدة جدًّا في فهم سيرورة التاريخ الإسلامي، والتحولات الدينية والاجتماعية والأخلاقية التي طرأت على المجتمع المسلم، وارتباط ذلك بسنة الله عز وجل في الأمم والمجتمعات والأفراد، حيث كانت الأمة تنعم باجتماع الكلمة والعزِّ والتمكين وظهور الأمر؛ يوم كانت متمسِّكة بكتاب ربها عز وجل وسنة نبيها صلى الله عليه وسلم، فلمَّا ضعفتْ صلتها بهذين الأصلين، وظهرت البدع في العقائد والعبادات، وشاعت المعاصي والمنكرات والمظالم في المعاملات والأخلاق؛ ابتلاها ربُّها بالفرقة والضعف وتسلُّط الأعداء وكثرة النوازل والفتن.

وهذه الجملة متقررة عند أهل العلم والإيمان؛ لكن ما أقلَّ الدراسات العلمية الجادة في هذا المجال، أما الكتب الفكرية التي تناولت هذه القضية في العصر الحديث فقد ظلَّت محكومة بنظرية الخلافة والحكم، وكأنَّها أساس لكلِّ خير وإصلاح في الأمة، والحقيقة أنها نتيجة وأثرٌ لإقامة الدين الحقِّ وتحقيق التوحيد والاتباع.

لهذا فنحن في حاجة ماسَّة إلى قراءة إيمانيَّة تاريخية في تراثنا الإسلامي لرصد المخالفات العَقْدِيَّة والشرعية والسلوكية في المجتمع الإسلامي، وربطها بما أحاطتْ به من نوازلَ وحوادثَ، وانتهت إليه من نتائج وأحوال. وإذا كانت مظنَّة المادة العلمية لهذه الدراسة هي كتب التاريخ والتراجم؛ فإنَّ كتبًا في فنون أخرى تحوي مادة أكثر أهمية، وأعمق دلالة، وأدنى إلى خفايا المجتمع الإسلامي، فمنها المصنفات في الحوادث والبدع، وكتب الآداب الشرعية، وكتب الرِّحْلات، وكتب الفتاوى والنوازل. ولكتاب ابن بَيْدَكِينَ أهمية خاصَّة بين هذه الكتب، لما أشرتُ إليه سابقًا من دوافع التأليف لديه، وصلته بمجتمع العامَّة.

يبدو أنَّ بإمكاني أن أجعل هذه الفكرة أكثر وضوحًا من خلال اقتباس نصٍّ قيِّم لشيخ الإسلام ابن تيمية (ت: 728 هـ) رحمه الله، استخدم فيه المادةَ التاريخيةَ للعظة والاعتبار وفهم ما آلت إليه أحوالُ المسلمين، حيث قال في رسالته «الفرقان بين الحقٍّ والباطل»:
ধর্মীয়, তাই আমাদের উচিত হবে না সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে ঢালাওভাবে প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করা। কেননা এটি ইসলামি ইতিহাসের গতিপ্রবাহ এবং মুসলিম সমাজে যে ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক পরিবর্তনগুলো ঘটেছিল তা বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী। সেই সাথে উম্মাহ, সমাজ ও ব্যক্তির ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর রীতির সাথে এর সংশ্লিষ্টতা অনুধাবনেও এটি সহায়ক। যখন উম্মাহ তাদের প্রতিপালক মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেছিল, তখন তারা ঐক্য, মর্যাদা, কর্তৃত্ব এবং সত্যের বিজয়ের নেয়ামত ভোগ করছিল। কিন্তু যখন এই দুটি মূল ভিত্তির সাথে তাদের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ল এবং আকিদা ও ইবাদতে বিদআতের উদ্ভব হলো, আর লেনদেন ও চারিত্রিক ক্ষেত্রে পাপাচার, মন্দ কাজ ও জুলুম ছড়িয়ে পড়ল; তখন তাদের প্রতিপালক তাদের বিভেদ, দুর্বলতা, শত্রুদের আধিপত্য এবং বহুবিধ দুর্যোগ ও ফিতনার মাধ্যমে পরীক্ষায় ফেললেন।

এই কথাটি জ্ঞান ও ঈমানওয়ালাদের নিকট সুপ্রতিষ্ঠিত; তবে এই ক্ষেত্রে গভীর গবেষণামূলক কাজ খুবই সামান্য। আধুনিক যুগে যে সকল চিন্তাশীল কিতাব এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে, সেগুলো মূলত খিলাফত ও শাসনব্যবস্থার তত্ত্ব দ্বারা প্রভাবিত ছিল, যেন এটিই উম্মাহর সকল কল্যাণ ও সংস্কারের মূল ভিত্তি। অথচ বাস্তবতা হলো, এটি সত্য দ্বীন প্রতিষ্ঠা এবং তাওহীদ ও অনুসরণের যথার্থ বাস্তবায়নের একটি ফল ও প্রভাব মাত্র।

এই কারণে, মুসলিম সমাজে আকিদাগত, শরয়ি এবং আচরণগত বিচ্যুতিগুলো চিহ্নিত করার জন্য এবং সেগুলোকে সংশ্লিষ্ট দুর্যোগ ও ঘটনাবলির সাথে এবং তার পরিণতির সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য আমাদের ইসলামি ঐতিহ্যের একটি ঈমানি ও ঐতিহাসিক পঠন বা পর্যালোচনার একান্ত প্রয়োজন। যদি মনে করা হয় যে এই গবেষণার জ্ঞানতাত্ত্বিক উপাদানগুলো কেবল ইতিহাস ও জীবনীগ্রন্থসমূহে পাওয়া যাবে; তবে সত্য এই যে অন্যান্য শাস্ত্রের কিতাবসমূহে এমন অনেক উপাদান রয়েছে যা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সুগভীর অর্থবহ এবং মুসলিম সমাজের অভ্যন্তরীণ রহস্যের অধিক নিকটবর্তী। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক ঘটনাবলি ও বিদআত বিষয়ক রচনাদি, শরয়ি আদব সংক্রান্ত কিতাবসমূহ, ভ্রমণকাহিনী এবং ফতোয়া ও সমসাময়িক আপদ-বিপদ বিষয়ক কিতাবসমূহ। আর ইবনে বায়দাকিনের কিতাবটি এই সকল কিতাবের মধ্যে বিশেষ গুরুত্বের অধিকারী; যার কারণ আমি পূর্বে তাঁর রচনার নেপথ্য কারণ এবং সাধারণ জনগণের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততার বর্ণনায় উল্লেখ করেছি।

মনে হচ্ছে যে, আমি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরি) রহ.-এর একটি মূল্যবান উদ্ধৃতি পেশ করার মাধ্যমে এই ধারণাটিকে আরও স্পষ্ট করতে পারব। যেখানে তিনি ঐতিহাসিক তথ্যসমূহকে উপদেশ গ্রহণ এবং মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা ও পরিণতির বিষয়টি বোঝার জন্য ব্যবহার করেছেন। তিনি তাঁর ‘আল-ফুরকান বাইনাল হাক্কি ওয়াল বাতিল’ নামক রিসালায় বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ١٥)
«وقد قيل: إن أول من عُرف أنه أظهر في الإسلام التعطيلَ الذي تضمنه قول فرعون هو الجعد بن درهم، فضحَّى به خالد بن عبد الله القَسْرِيُّ(1)، وقال: أيها الناس! ضَحُّوا! تقبل الله ضحاياكم، إني مضحٍّ بالجعد بن درهم، إنه زعم أن الله لم يتخذ إبراهيم خليلًا، ولم يكلم موسى تكليمًا، تعالى الله عمَّا يقول الجعدُ علوًّا كبيرًا. ثم نزل فذبحه، وشكر له علماءُ المسلمين ما فعله كالحسن البصريِّ، وغيره. وهذا الجعد إليه يُنسب مروانُ بن محمد الجعديُّ، آخر خلفاء بني أمية، وكان شؤمه عاد عليه حتى زالت الدولة، فإنه إذا ظهرتِ البدعُ التي تخالف دين الرسل انتقم الله ممن خالف الرسل وانتصر لهم، ولهذا لما ظهرت الملاحدة الباطنية وملكوا الشام وغيرها ظهر فيها النفاق والزندقة الذي هو باطن أمرهم وهو حقيقة قول فرعون إنكارَ الصانع وإنكار عبادته، وخيار ما كانوا يتظاهرون به الرفضُ، فكان خيارهم وأقربهم إلى الإسلام الرافضةُ، وظهر بسببهم الرفض والإلحاد حتى كان من كان ينزل الشام مثل بني حمدان الغالية ونحوهم متشيِّعين، وكذلك من كان من بني بُوَيْه في المشرق. وكان ابن سينا وأهل بيته من أهل دعوتهم قال: وبسبب ذلك اشتغلتُ في الفلسفة. وكان مبدأ ظهورهم من حين تولِّي المقتدر، ولم يكن بَلَغَ بَعْدُ، وهو مبدأ انحلال الدولة العباسية، ولهذا سُمي حينئذ بأمير المؤمنين الأمويُّ الذي كان بالأندلس، وكان قبل ذلك لا يسمَّى بهذا الاسم ويقول: لا يكون للمسلمين خليفتان. فلمَّا وَلِيَ المقتدرُ، قال: هذا صبيٌّ لا تصحُّ ولايته. فسمِّي بهذا الاسم. وكان بنو عبيد الله القدَّاح الملاحدة يسمَّون بهذا الاسم، لكن هؤلاء كانوا في الباطن ملاحدة زنادقة منافقين، وكان نسبهم باطلًا كدينهم، بخلاف الأموي والعباسي، فإن كلاهما نسبه صحيح، وهم مسلمون كأمثالهم من خلفاء المسلمين.

--------------------------------------------

(1) من عظماء الأمة وأفذاذها، كان سيفًا مصلَّتًا على الباطنية والشعوبية، ولي مكة سنة (89) للخليفة الوليد بن عبد الملك رحمه الله، ثم ولاه هشام بن عبد الملك رحمه الله العراقَيْن (الكوفة والبصرة) سنة (105)، فأقام بالكوفة، وطالت مدَّته إلى أن عزله هشام سنة (120)، قُتل في أيام الوليد بن يزيد سنة (ت: 126) في قصَّة عجيبةٍ تدلُّ على نبله وشرفه وسؤدده، رحمه الله تعالى.

«বলা হয়ে থাকে যে, ইসলামে সর্বপ্রথম যাকে ‘তাতিল’ (আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার) প্রকাশ করার জন্য চেনা যায়—যা ফিরআউনের বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল—সে হলো জাদ বিন দিরহাম। ফলে খালিদ বিন আব্দুল্লাহ আল-কাসরি(১) তাকে কুরবানি করেন। তিনি বলেছিলেন: হে লোকসকল! আপনারা কুরবানি করুন! আল্লাহ আপনাদের কুরবানি কবুল করুন। আমি জাদ বিন দিরহামকে কুরবানি দিচ্ছি। সে দাবি করেছে যে, আল্লাহ ইবরাহিমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেননি এবং মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেননি। জাদ যা বলে আল্লাহ তা থেকে অতি উচ্চ এবং মহান। এরপর তিনি মিম্বর থেকে নেমে তাকে জবেহ করেন। মুসলিম উলামাগণ, যেমন হাসান বসরী ও অন্যান্যরা তার এই কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই জাদের দিকেই বনু উমাইয়ার শেষ খলিফা মারওয়ান বিন মুহাম্মদ আল-জাদিকে সম্পর্কিত করা হয়। জাদের অশুভ প্রভাব তার ওপর এমনভাবে পড়েছিল যে শেষ পর্যন্ত সাম্রাজ্য বিলুপ্ত হয়ে যায়। কেননা যখনই রাসূলগণের দ্বীনের পরিপন্থী বিদআত প্রকাশ পায়, আল্লাহ তখন রাসূলগণের বিরোধীদের থেকে প্রতিশোধ নেন এবং তাদের পক্ষ নিয়ে সাহায্য করেন। এই কারণেই যখন বাতেনি মুলহিদরা প্রকাশ পেল এবং শাম ও অন্যান্য অঞ্চল দখল করল, তখন সেখানে নিফাক ও যিন্দিকপনা প্রকাশ পেল যা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় ছিল। আর এটাই মূলত ফিরআউনের বক্তব্যের বাস্তবতা—অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করা এবং তাঁর ইবাদতকে অস্বীকার করা। তারা যা কিছু প্রকাশ করত তার মধ্যে সবচেয়ে ভালো ছিল ‘রাফয’ (শিয়া মতবাদ); তাই তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ও ইসলামের সবচেয়ে নিকটবর্তী ছিল রাফেযীরা। তাদের কারণেই রাফয ও নাস্তিকতা এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে, যারা শামে আসত যেমন চরমপন্থী বনু হামদান ও তাদের অনুসারীরা শিয়া হয়ে যায়। অনুরূপভাবে প্রাচ্যের বনু বুওয়াইহদের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছিল। ইবনে সিনা এবং তার পরিবারের সদস্যরা তাদের দাওয়াতের অনুসারী ছিল। সে বলেছে: এই কারণেই আমি দর্শন চর্চায় নিমগ্ন হয়েছিলাম। তাদের উত্থানের সূচনা হয় আল-মুকতাদিরের শাসনভার গ্রহণের সময় থেকে, যখন তিনি তখনও প্রাপ্তবয়স্ক হননি। এটিই ছিল আব্বাসীয় সাম্রাজ্যের পতনের শুরু। এই কারণেই তখন আন্দালুসে অবস্থানরত উমাইয়া শাসককে ‘আমীরুল মুমিনীন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এর আগে তাকে এই নামে ডাকা হতো না এবং তিনি বলতেন: মুসলিমদের জন্য দুজন খলিফা হতে পারে না। কিন্তু যখন আল-মুকতাদির ক্ষমতায় বসলেন, তখন তিনি বললেন: এ তো এক বালক, এর শাসন বৈধ নয়। ফলে তাকে এই নামে ডাকা শুরু হয়। মুলহিদ বনু উবায়দুল্লাহ আল-কাদ্দাহদেরও এই নামে ডাকা হতো, কিন্তু তারা ভেতরে ভেতরে ছিল নাস্তিক, যিন্দিক ও মুনাফিক। তাদের ধর্মের মতো তাদের বংশপরিচয়ও ছিল ভিত্তিহীন। উমাইয়া ও আব্বাসীদের বিষয়টি এর বিপরীত ছিল, কারণ তাদের উভয়ের বংশপরিচয় সঠিক ছিল এবং তারা অন্যান্য মুসলিম খলিফাদের মতোই মুসলিম ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) উম্মতের অন্যতম মহান ও অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি বাতেনি ও শুউবিয়াদের বিরুদ্ধে এক উন্মুক্ত তলোয়ার ছিলেন। খলিফা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পক্ষ থেকে তিনি ৮৯ হিজরিতে মক্কার গভর্নর নিযুক্ত হন। এরপর হিশাম বিন আব্দুল মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) তাকে ১০৫ হিজরিতে ইরাকাইনের (কুফা ও বসরা) গভর্নর নিযুক্ত করেন। তিনি কুফায় অবস্থান করেন এবং হিশাম কর্তৃক ১২০ হিজরিতে পদচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। ১২৬ হিজরিতে ওয়ালিদ বিন ইয়াজিদের আমলে এক বিস্ময়কর ঘটনায় তিনি নিহত হন, যা তাঁর আভিজাত্য, মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়। আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন।

(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ١٦)
فلما ظهر النفاقُ والبدعُ والفجورُ المخالف لدين الرسول سُلِّطتْ عليهم الأعداءُ، فخرجت الروم النصارى إلى الشام والجزيرة مرةً بعد مرةٍ، وأخذوا الثغور الشامية شيئًا بعد شيءٍ، إلى أن أخذوا بيتَ المقدس في أواخر المئة الرابعة، وبعد هذا بمدة حاصروا دمشقَ، وكان أهل الشام بأسوإِ حال بين الكفار النصارى والمنافقين الملاحدة، إلى أن تولَّى نور الدين الشهيد، وقام بما قام به من أمر الإسلام وإظهاره، والجهاد لأعدائه، ثم استنجد به ملوكُ مصر بنو عُبيد على النصارى فأنجدهم، وجرت فصول كثيرة، إلى أن أخذت مصر من بني عبيد، أخذَها صلاح الدين يوسف بن شادي، وخطب بها لبني العباس، فمن حينئذٍ ظهر الإسلام بمصر، بعد أن مكثت بأيدي المنافقين المرتدِّين عن دين الإسلام مئتَي سنة.

فكان الإيمانُ بالرسول والجهاد عن دينه سببًا لخير الدنيا والآخرة، وبالعكس البدعُ والإلحادُ ومخالفة ما جاء به سبب لشر الدنيا والآخرة. فلما ظهر في الشام ومصر والجزيرة الإلحادُ والبدعُ سُلِّط عليهم الكفار، ولما أقاموا ما أقاموه من الإسلام وقهر الملحدين والمبتدعين نصرهم الله على الكفار، تحقيقًا لقوله: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنْجِيكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ (10) تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ (11) يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (12) وَأُخْرَى تُحِبُّونَهَا نَصْرٌ مِنَ اللَّهِ وَفَتْحٌ قَرِيبٌ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ (13)} [الصف].

وكذلك لما كان أهل المشرق قائمين بالإسلام؛ كانوا منصورين على الكفار المشركين من الترك والهند والصين وغيرهم، فلما ظهر منهم ما ظهر من البدع والإلحاد والفجور سُلِّط عليهم الكفار؛ قال تعالى: {وَقَضَيْنَا إِلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ فِي الْكِتَابِ لَتُفْسِدُنَّ فِي الْأَرْضِ مَرَّتَيْنِ وَلَتَعْلُنَّ عُلُوًّا كَبِيرًا (4) فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ أُولَاهُمَا بَعَثْنَا عَلَيْكُمْ عِبَادًا لَنَا أُولِي بَأْسٍ شَدِيدٍ فَجَاسُوا خِلَالَ الدِّيَارِ وَكَانَ وَعْدًا مَفْعُولًا (5) ثُمَّ رَدَدْنَا لَكُمُ الْكَرَّةَ عَلَيْهِمْ وَأَمْدَدْنَاكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَجَعَلْنَاكُمْ أَكْثَرَ نَفِيرًا (6) إِنْ أَحْسَنْتُمْ أَحْسَنْتُمْ لِأَنْفُسِكُمْ وَإِنْ أَسَأْتُمْ فَلَهَا فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ الْآخِرَةِ لِيَسُوءُوا وُجُوهَكُمْ وَلِيَدْخُلُوا الْمَسْجِدَ كَمَا دَخَلُوهُ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَلِيُتَبِّرُوا مَا
যখন রাসূলের দ্বীনের পরিপন্থী মুনাফাকি, বিদআত এবং পাপাচার প্রকাশ পেল, তখন তাদের ওপর শত্রুদের আধিপত্য চাপিয়ে দেওয়া হলো। ফলে রোমান খ্রিষ্টানরা বারবার সিরিয়া ও জাজিরা অভিমুখে অভিযান চালাল এবং একে একে সিরিয়ার সীমান্ত এলাকাগুলো দখল করে নিল, এমনকি চতুর্থ হিজরি শতকের শেষভাগে তারা বায়তুল মুকাদ্দাস দখল করে নিল। এর কিছুকাল পরে তারা দামেস্ক অবরোধ করল। সিরিয়াবাসী তখন কাফের খ্রিষ্টান এবং নাস্তিক মুনাফাকদের মাঝে অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় ছিল। অবশেষে নূরুদ্দীন শহীদ শাসনভার গ্রহণ করলেন এবং ইসলামের বিষয়াবলি প্রতিষ্ঠা, এর প্রচার-প্রসার এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদের যে দায়িত্ব তা পালন করলেন। অতঃপর মিশরের বনু উবাইদ শাসকরা খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করলে তিনি তাদের সাহায্য করলেন। এভাবে অনেক ঘটনাপ্রবাহের পর বনু উবাইদের হাত থেকে মিশর উদ্ধার করা হলো। সালাহউদ্দীন ইউসুফ বিন শাদি তা জয় করেন এবং সেখানে আব্বাসীয়দের নামে খুতবা পাঠ করেন। তখন থেকেই মিশরে ইসলামের প্রাধান্য সূচিত হলো, যা এর আগে দুইশ বছর ধরে ইসলাম থেকে বিচ্যুত নাস্তিক মুনাফাকদের কবলে ছিল।

সুতরাং রাসূলের প্রতি ঈমান ও তাঁর দ্বীনের পথে জিহাদই ছিল দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের কারণ। পক্ষান্তরে বিদআত, নাস্তিক্যবাদ এবং তাঁর আনীত বিধানের বিরুদ্ধাচরণ ছিল দুনিয়া ও আখেরাতের অকল্যাণের কারণ। যখন সিরিয়া, মিশর ও জাজিরায় নাস্তিক্যবাদ ও বিদআত প্রকাশ পেল, তখন তাদের ওপর কাফেরদের চাপিয়ে দেওয়া হলো। আর যখন তারা ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করল এবং নাস্তিক ও বিদআতিদের দমন করল, তখন আল্লাহ তাদের কাফেরদের বিরুদ্ধে সাহায্য করলেন। এটি আল্লাহর এই বাণীরই বাস্তবায়ন: {হে মুমিনগণ! আমি কি তোমাদের এমন এক ব্যবসার সন্ধান দেব, যা তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক আজাব থেকে রক্ষা করবে? (১০) তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং আল্লাহর পথে তোমাদের জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করবে। এটিই তোমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ, যদি তোমরা জানতে। (১১) তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং তোমাদের প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত হয় এবং চিরস্থায়ী জান্নাতসমূহে তোমাদের জন্য থাকবে উত্তম বাসস্থান। এটিই মহাফল। (১২) এবং আরও একটি অনুগ্রহ যা তোমরা পছন্দ করো—আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও নিকটবর্তী বিজয়। আর মুমিনদের সুসংবাদ দাও। (১৩)} [আস-সাফ]।

অনুরূপভাবে যখন প্রাচ্যবাসীরা ইসলাম পালন করছিল, তখন তারা তুর্কি, হিন্দু ও চীনাদের মতো মুশরিক কাফেরদের বিরুদ্ধে সাহায্যপ্রাপ্ত ও বিজয়ী ছিল। কিন্তু যখন তাদের মাঝে বিদআত, নাস্তিক্যবাদ ও পাপাচার প্রকাশ পেল, তখন তাদের ওপর কাফেরদের চাপিয়ে দেওয়া হলো। মহান আল্লাহ বলেন: {আমি কিতাবে বনী ইসরাঈলকে জানিয়ে দিয়েছিলাম যে, তোমরা পৃথিবীতে দুবার বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং অতিশয় ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করবে। (৪) অতঃপর যখন সেই দুই প্রতিশ্রুতির প্রথমটির সময় এল, তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে আমার অত্যন্ত শক্তিশালী বান্দাদের পাঠালাম। তারা তোমাদের ঘরবাড়ির প্রতিটি কোণায় তল্লাশি চালাল এবং এটি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিশ্রুতি। (৫) অতঃপর আমি তোমাদের পুনরায় তাদের ওপর জয়ী করলাম এবং তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা সাহায্য করলাম এবং তোমাদের জনবল বাড়িয়ে দিলাম। (৬) যদি তোমরা ভালো করো, তবে নিজেদের জন্যই ভালো করবে; আর যদি মন্দ করো, তবে তা নিজেদের জন্যই। অতঃপর যখন পরবর্তী প্রতিশ্রুতির সময় এল, তখন তারা তোমাদের মুখমণ্ডল কালিমাগ্রস্ত করে দেওয়ার জন্য, প্রথমবার তারা যেভাবে মসজিদে প্রবেশ করেছিল সেভাবে তাতে প্রবেশ করার জন্য এবং তারা যা কিছু জয় করেছিল তা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার জন্য...} [আল-ইসরা: ৪-৭]
(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ١٧)
عَلَوْا تَتْبِيرًا (7) عَسَى رَبُّكُمْ أَنْ يَرْحَمَكُمْ وَإِنْ عُدْتُمْ عُدْنَا وَجَعَلْنَا جَهَنَّمَ لِلْكَافِرِينَ حَصِيرًا (8)} [الإسراء]

وكان بعضُ المشايخ يقول: هولاكو ملكُ الترك التتار الذي قهر الخليفةَ بالعراق، وقتل ببغدادَ مقتلةً عظيمةً جدًّا، يقال: قتل منهم ألف ألف، وكذلك قتل بحلب دار الملك حينئذٍ، كان بعض الشيوخ يقول هو للمسلمين بمنزلة بُخْتُ نَصَّر لبني إسرائيل. وكان من أسباب دخول هؤلاء ديار المسلمين ظهورُ الإلحاد والنفاق والبدع حتَّى أنَّه صنَّف الرازيُّ(1) كتابًا في عبادة الكواكب والأصنام وعمل السحر سماه: «السِّرُّ المكتوم في السِّحْرِ ومخاطبة النُّجوم»، ويقال: إنه صنَّفه لأُمِّ السلطان علاء الدِّين محمد بن تِكِش بن جلال الدين خوارزم شاه(2)، وكان من أعظم ملوك الأرض، وكان للرازي به اتصال قويٌّ، حتَّى أنه وصَّى إليه على أولاده، وصنَّفَ له كتابًا سماه: «الرسالة العلائية في الاختيارات السماوية». وهذه الاختياراتُ لأهل الضلال بَدَلَ الاستخارة التي علَّمها النبيُّ صلى الله عليه وسلم المسلمين كما قال جابرٌ في الحديث الصحيح الذي رواه

--------------------------------------------

(1) هو ابنُ خطيب الرَّي: أبو عبد الله محمد بن عمر بن الحسن بن الحسين التيمي الرازي الملقب بفخر الدين (544 - 606 هـ)، أحد أئمة الأشاعرة، صاحب التفسير الشهير. وكتابه في السحر صحيح النسبة إليه، أثبته من ليس من أئمة السنة كالطبيب المؤرخ ابن أبي أُصَيْبِعَة (ت: 668) في «عيون الأنباء في طبقات الأطباء» ص 469، وابن خِلِّكان (ت: 681) في «وَفَيات الأعيان» 4/ 248، لهذا قال ابن تيمية رحمه الله في «نقض المنطق»: «صنف الرازي كتابه في عبادة الكواكب والأصنام، وأقام الأدلة على حسن ذلك ومنفعته، ورغَّب فيه، وهذه ردة عن الإسلام باتفاق المسلمين، وإن كان قد يكون تاب منه وعاد إلى الإسلام». وقال الذهبي في «ميزان الاعتدال»: «في كتاب الرازي «السر المكتوم» سحر صريح، فلعله تاب من تأليفه إن شاء الله تعالى».

قلتُ: أورد ابن أبي أُصيبعة في ترجمته وصيَّة الفخر الرازي، وهي دالة على ندمه وتوبته، والله تعالى يتجاوز عنَّا وعنه.

(2) كذا، وفيه خطأ، صوابه: «علاء الدِّين محمد بن تِكِش»، وتكش يلقَّب أيضًا بعلاء الدِّين، أما جلال الدين فهو حفيد هذا، واسمه: مَنْكُوبْرِي بن مُحَمَّد بن تكش. وكان الفخر الرازي على صلة بمحمَّدٍ المتوفَّى سنة (617)، أما ابنه منكوبري فقُتل سنة (628). انظر: «تاريخ الإسلام» للذهبي 13/ 515 (478)، و 13/ 855 (452).

...পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে দেয়। (৭) আশা করা যায় যে তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের প্রতি দয়া করবেন, কিন্তু তোমরা যদি পুনরায় পূর্বের আচরণে ফিরে আসো, তবে আমিও পুনরায় দণ্ড দান করব। আর আমি জাহান্নামকে কাফিরদের জন্য কারাগার বানিয়েছি। (৮)} [আল-ইসরা]

কিছু শায়খ বলতেন: তুর্কি তাতারদের রাজা হালাকু, যে ইরাকে খলিফাকে পরাভূত করেছিল এবং বাগদাদে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল—বলা হয় যে সে সেখানে দশ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছিল, আর একইভাবে সে তৎকালীন রাজকীয় কেন্দ্র আলেপ্পোতেও হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল—কিছু শায়খ বলতেন যে, বনী ইসরাঈলের জন্য বুখত নাসর যেমন ছিল, মুসলমানদের জন্য সে তদ্রূপ ছিল। এই লোকদের মুসলিম ভূখণ্ডে প্রবেশের অন্যতম কারণ ছিল নাস্তিকতা, কপটতা এবং বিদআতের প্রকাশ। এমনকি রাযী(১) নক্ষত্র ও মূর্তিপূজা এবং জাদুর ওপর একটি কিতাব রচনা করেছিলেন যার নাম দিয়েছিলেন: ‘আস-সিররুল মাকতূম ফিস-সিহরি ওয়া মুখাতাবাতিন নুজুম’ (জাদু ও নক্ষত্রের সাথে কথোপকথনের গোপন রহস্য)। বলা হয় যে, তিনি এটি সুলতান আলাউদ্দীন মুহাম্মদ ইবন তিকিশ ইবন জালালুদ্দীন খাওয়ারিজম শাহের(২) মায়ের জন্য রচনা করেছিলেন। তিনি ছিলেন পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্রাট। রাযীর সাথে তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল, এমনকি তিনি নিজের সন্তানদের ব্যাপারে তাঁর কাছে অসিয়ত করে গিয়েছিলেন এবং তাঁর জন্য একটি কিতাব রচনা করেছিলেন যার নাম ছিল: ‘আর-রিসালাতুল আলাইয়্যাহ ফিল ইখতিয়ারাতিল সামায়্যিইয়্যাহ’ (আকাশমন্ডলীর শুভাশুভ নির্বাচনের আলাউদ্দীনীয় পত্র)। আর এই শুভাশুভ সময় নির্বাচন হলো পথভ্রষ্টদের জন্য সেই ইসতিখারার বিকল্প, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসলিমদের শিখিয়েছেন, যেমন জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত সহীহ হাদীসে এসেছে...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন ইবন খতীবুর রাই: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন উমর ইবনুল হাসান ইবনুল হুসাইন আত-তাইমি আর-রাযী, যিনি ফখরুদ্দীন উপাধিতে ভূষিত (৫৪৪ - ৬০৬ হিজরী)। তিনি আশআরিদের অন্যতম ইমাম এবং প্রসিদ্ধ তাফসীরের লেখক। জাদুর ওপর লেখা তাঁর কিতাবটি তাঁরই রচনা বলে প্রমাণিত। আহলুস সুন্নাহর ইমামগণের বাইরের ব্যক্তিবর্গও এটি নিশ্চিত করেছেন, যেমন চিকিৎসক ও ঐতিহাসিক ইবন আবি উসাইবিআহ (মৃত্যু: ৬৬৮ হিজরী) তাঁর ‘উয়ুনুল আনবা ফী তাবাকাতিল আতিব্বা’ (পৃষ্ঠা ৪৬৯) গ্রন্থে এবং ইবন খিল্লিকান (মৃত্যু: ৬৮১ হিজরী) তাঁর ‘ওয়াফায়াতুল আইয়ান’ (৪/২৪৮) গ্রন্থে। এই কারণেই ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) ‘নাকদুল মানতিক’ গ্রন্থে বলেছেন: ‘রাযী নক্ষত্র ও মূর্তিপূজার ওপর তাঁর কিতাবটি লিখেছেন এবং এর সৌন্দর্য ও উপযোগিতার পক্ষে প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন এবং এতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। আর এটি মুসলমানদের ঐকমত্য অনুযায়ী ইসলাম থেকে মুরতাদ হওয়ার শামিল, যদিও তিনি সম্ভবত এ থেকে তওবা করেছিলেন এবং ইসলামে ফিরে এসেছিলেন’। যাহাবী ‘মিযানুল ই’তিদাল’ গ্রন্থে বলেন: ‘রাযীর আস-সিররুল মাকতূম কিতাবে স্পষ্ট জাদু রয়েছে, ইনশাআল্লাহ সম্ভবত তিনি এটি রচনা থেকে তওবা করেছিলেন’।

আমি বলছি: ইবন আবি উসাইবিআহ তাঁর জীবনীতে ফখরুদ্দীন রাযীর অসিয়তনামা উল্লেখ করেছেন, যা তাঁর অনুশোচনা ও তওবার প্রমাণ দেয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের ও তাঁকে ক্ষমা করুন।

(২) মূল পাঠে এমনটিই আছে, তবে এতে ভুল রয়েছে। সঠিক হলো: ‘আলাউদ্দীন মুহাম্মদ ইবন তিকিশ’। তিকিশকেও আলাউদ্দীন উপাধি দেওয়া হতো। আর জালালুদ্দীন হলেন তাঁর নাতি, যাঁর নাম: মানকুবিরনী ইবন মুহাম্মদ ইবন তিকিশ। ফখরুদ্দীন রাযী মুহাম্মদের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, যিনি ৬১৭ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। আর তাঁর পুত্র মানকুবিরনী ৬২৮ হিজরীতে নিহত হন। দেখুন: যাহাবীর ‘তারিখুল ইসলাম’ ১৩/৫১৫ (৪৭৮), এবং ১৩/৮৫৫ (৪৫২)।

(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ١٨)
البخاري وغيره: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلمنا الاستخارةَ في الأمور كلها، كما يعلمنا السورة من القرآن، يقول: «إذا هَمَّ أحدكم بالأمر فليركع ركعتين من غير الفريضة، ثم ليقل: اللهم إني أستخيرك بعلمك، وأستقدرك بقدرتك، وأسألك من فضلك العظيم، اللهم إن كنت تعلم أن هذا الأمر ويسميه باسمه خيرٌ لي في ديني ومعاشي، وعاقبة أمري؛ فاقدره لي، ويسره، ثم بارك لي فيه. وإن كنت تعلم أن هذا الأمر شرٌّ لي في ديني ومعاشي، وعاقبة أمري؛ فاصرفه عنِّي، واصرفني عنه، واقدر لي الخير حيث كان، ثم رضني به».

وأهل النجوم لهم اختيارات إذا أراد أحدهم أن يفعل فعلًا أخذ طالعًا سعيدًا فعمل فيه ذلك العمل لينجح بزعمهم، وقد صنف الناس كتبًا في الرَّدِّ عليهم، وذكروا كثرة ما يقع من خلاف مقصودهم فيما يخبرون به، ويأمرون به، وكم يخبرون من خبر فيكون كذبًا، وكم يأمرون باختيار فيكون شرًّا. والرازي صنَّف الاختيارات لهذا الملك، وذكر فيه الاختيار لشرب الخمر وغير ذلك، كما ذكر في «السر المكتوم» في عبادة الكواكب ودعوتها مع السجود لها، والشرك بها، ودعائها، مثل ما يدعو الموحدون ربهم، بل أعظم، والتقرب إليها بما يظن أنه مناسب لها من الكفر والفسوق والعصيان، فذكر أنه يتقرب إلى الزهرة بفعل الفواحش وشرب الخمر والغناء ونحو ذلك مما حرمه الله ورسوله. وهذا في نفس الأمر يقرِّب إلى الشياطين الذين يأمرونهم بذلك، ويقولون لهم: إن الكوكب نفسه يحب ذلك، وإلا فالكواكب مسخرات بأمر الله، مطيعة لله، لا تأمر بشرك ولا غيره من المعاصي، ولكن الشياطين هي التي تأمر بذلك، ويسمونها روحانية الكواكب، وقد يجعلونها ملائكة، وإنما هي شياطين.

فلمَّا ظهر بأرض المشرق بسبب مثل هذا الملك ونحوه، ومثل هذا العالم ونحوه ما ظهر من الإلحاد والبدع سَلَّط الله عليهم الترك المشركين الكفار، فأبادوا هذا الملك، وجرت له أمور فيها عبرة لمن يعتبر، ويعلم تحقيق ما أخبر الله به في كتابه حيث يقول: {سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي
আল-বুখারী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রতিটি বিষয়ে ইস্তিখারা করার শিক্ষা দিতেন, যেমন তিনি আমাদের কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন: «তোমাদের কেউ যখন কোনো কাজের ইচ্ছা করে, সে যেন ফরয নামায ব্যতীত দুই রাকাত নামায পড়ে, তারপর যেন বলে: হে আল্লাহ, আমি আপনার ইলমের মাধ্যমে আপনার নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করছি, আপনার কুদরত বা ক্ষমতার মাধ্যমে আপনার নিকট সামর্থ্য প্রার্থনা করছি এবং আপনার মহান অনুগ্রহ ভিক্ষা করছি। হে আল্লাহ, আপনি যদি জানেন যে, এই বিষয়টি—সে যেন সেই বিষয়ের নাম উল্লেখ করে—আমার দ্বীন, জীবন এবং পরিণতির দিক থেকে আমার জন্য কল্যাণকর, তবে তা আমার জন্য নির্ধারিত করে দিন, তা সহজ করে দিন এবং তারপর তাতে আমার জন্য বরকত দান করুন। আর যদি আপনি জানেন যে, এই বিষয়টি আমার দ্বীন, জীবন এবং পরিণতির দিক থেকে আমার জন্য অনিষ্টকর, তবে তা আমার থেকে সরিয়ে দিন এবং আমাকেও তা থেকে সরিয়ে রাখুন; আর আমার জন্য যেখানেই কল্যাণ থাকুক তা নির্ধারিত করুন, অতঃপর আমাকে তাতেই সন্তুষ্ট রাখুন»।

আর জ্যোতিষীদেরও কিছু বিষয় নির্বাচনের পদ্ধতি রয়েছে; তাদের কেউ যখন কোনো কাজ করার ইচ্ছা করে, তখন সে একটি সৌভাগ্যবান নক্ষত্রের উদয়কাল বেছে নেয় এবং তাদের দাবি অনুযায়ী সফল হওয়ার জন্য সেই সময়ে ওই কাজটি করে। আলেমগণ তাদের খণ্ডনে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং তারা যে সংবাদ দেয় বা করার নির্দেশ দেয়, তাতে তাদের অভীষ্ট লক্ষ্যের বিপরীতে কত বেশি ঘটনা ঘটে, তা তারা উল্লেখ করেছেন। তারা কত সংবাদ দেয় যা মিথ্যা প্রমাণিত হয় এবং তারা কত কিছু নির্বাচনের নির্দেশ দেয় যা পরবর্তীতে অকল্যাণকর সাব্যস্ত হয়। আর আল-রাযী এই বাদশাহর জন্য এই বিষয় নির্বাচনের নিয়মগুলো সংকলন করেছেন এবং সেখানে মদ পান করা ও অনুরূপ কাজের উপযুক্ত সময় নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেছেন। যেমনটি তিনি ‘আল-সিররুল মাকতুম’ গ্রন্থে নক্ষত্রের ইবাদত এবং সেগুলোকে সিজদা ও সেগুলোর সাথে শিরক করার মাধ্যমে সেগুলোকে আহ্বান করার কথা উল্লেখ করেছেন; ঠিক যেভাবে তাওহীদপন্থীরা তাদের রবকে আহ্বান করে, বরং তার চেয়েও বেশি। আর কুফর, পাপাচার ও অবাধ্যতার মধ্য থেকে যা সেগুলোর জন্য উপযুক্ত মনে করা হয়, তার মাধ্যমে সেগুলোর নৈকট্য অন্বেষণ করা। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অশ্লীল কাজ, মদ পান, গানবাজনা ও আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কর্তৃক হারামকৃত অনুরূপ বিষয়ের মাধ্যমে শুক্র গ্রহের নৈকট্য চাওয়া হয়। এটি প্রকৃত অর্থে সেই শয়তানদেরই নৈকট্য দান করে যারা তাদের এসব করতে নির্দেশ দেয় এবং তাদের বলে যে: নক্ষত্র নিজেই তা পছন্দ করে। অথচ নক্ষত্রসমূহ আল্লাহর আদেশে নিয়ন্ত্রিত এবং আল্লাহর অনুগত; তারা শিরক বা অন্য কোনো পাপের আদেশ দেয় না। বরং শয়তানরাই এসবের আদেশ দেয় এবং তারা একে নক্ষত্রের আধ্যাত্মিক সত্তা বলে অভিহিত করে, আবার কখনো সেগুলোকে ফেরেশতা মনে করে; অথচ সেগুলো কেবল শয়তান ছাড়া আর কিছু নয়।

অতঃপর যখন এই বাদশাহ ও তার মতো অন্যদের কারণে এবং এই আলেম ও তার মতো অন্যদের কারণে প্রাচ্যের ভূমিতে ধর্মবিচ্যুতি ও বিদআত প্রকাশ পেল, তখন আল্লাহ তাদের ওপর মুশরিক কাফের তুর্কিদের চাপিয়ে দিলেন। ফলে তারা এই রাজত্ব নিশ্চিহ্ন করে দিল এবং সেই বাদশাহর সাথে এমন সব ঘটনা ঘটল যা শিক্ষা গ্রহণকারীদের জন্য এক দৃষ্টান্ত। আর এটি আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত বাণীর সত্যতা প্রমাণ করে যেখানে তিনি বলেছেন: {অচিরেই আমি তাদের আমার নিদর্শনসমূহ দেখাব দিগন্তে এবং...}
(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ١٩)
أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ} [فصلت: 53] أي: أن القرآن حقٌّ. وقال: {سَأُرِيكُمْ آيَاتِي فَلَا تَسْتَعْجِلُونِ} [الأنبياء: 37]، وبسط هذا له موضع آخر»(1).

بهذه الرؤية الإيمانية النافذة، والذَّوق الدِّينيِّ الحيِّ؛ يجبُ فهم سيرورة التاريخ الإسلامي وصيرورتها، والنَّظر إلى تقلُّباته، وتفسير ما عانى ويعانيه المسلمون من التفرق والضعف والجهل والتخلف وتسلط الأعداء، وبهذه القراءة لكتاب ابن بَيْدَكِينَ نستطيع أن ندرك ما كانت عليه حال الأمة في تلك الأزمان من ظهور البدع والمعاصي والمنكرات والمظالم، فكانت سنَّة ربانية أن تحيط بها الفتن والنوازل، لعل أفظعها سقوط بغداد عاصمة الخلافة العباسية سنة (656 هـ)، على أيدي التتار والمغول، وتتابع الحملات الصليبية على بلاد الشام ومصر التي بدأت منذ سنة (490 هـ)، وذهاب سلطان الخلافة وهيبتها، وانتهاء أمرها إلى قُوَّاد الجيوش من المماليك وغيرهم.

أما المدينة الطاهرة المقدَّسة مكَّة المباركة؛ فلم تكن الأوضاع الدينية والاجتماعية والسياسية فيها بأحسن حالًا من الحواضر الإسلامية الأخرى، وإن كان الله تعالى صانها من الاعتداء الخارجي، لكن ظهرت فيها منكرات عظيمة بسبب قلة أهل العلم وضعفهم، وفساد ولاة الأمر وبُعدهم عن حقائق الإسلام وأحكامه ومقاصده السامية، فلا عجب أن نجد ابن بَيْدَكِينَ قد ضاق صدره، وعظم أسفه على ما رآه من المنكرات في بيت الله الحرام، من ذلك: ما تبتدعه النسوة من السماع في مكة خير البقاع من غناء ورقص وضرب صدر وكشف قناع (ص: 206)، والرقص والنطُّ والغناء في مسجد الخيف من منى (210)، وما يفعله بعض العوام من نكاح المتعة في طريق الحجاز إلى انقضاء موسم الحج (305)، وبثَّ مُرَّ الشَّكوى مما يفعله بعض المبتدعة تبعًا لأشياخهم فيحلقون ذقونهم، ويوصلون شعورهم، ويكوون أبدانَهم ويوشمونَها، فينقش عليها اسم المحبوب، ثم يدخل السقاية بهذا المكتوب، ويقول: ولقد رأيت فقيرًا بمكة قد وشم على ساعده آية الكرسي

--------------------------------------------

(1) «مجموع فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية» 13/ 177 - 182.

...তাদের নিজেদের মধ্যে, যতক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে এটি সত্য।} [ফুসসিলাত: ৫৩] অর্থাৎ: নিশ্চয়ই কুরআন সত্য। এবং তিনি বলেছেন: {আমি তোমাদেরকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাব, সুতরাং তোমরা তাড়াহুড়া করো না।} [আল-আম্বিয়া: ৩৭], এবং এর বিস্তারিত আলোচনার অন্য স্থান রয়েছে।"(১).

এই প্রখর ঈমানী দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবন্ত ধর্মীয় রুচিবোধের মাধ্যমে ইসলামী ইতিহাসের পরিক্রমা ও তার পরিণতি অনুধাবন করা আবশ্যক; এবং এর পটপরিবর্তনের প্রতি দৃষ্টিপাত করা, এবং মুসলিমরা অনৈক্য, দুর্বলতা, মূর্খতা, অনগ্রসরতা এবং শত্রুদের আধিপত্যের যে কষ্টের সম্মুখীন হয়েছে ও হচ্ছে তার ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। ইবনে বাইদাকীনের এই কিতাব পাঠের মাধ্যমে আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে, সেই সময়ে বিদআত, অবাধ্যতা, অপকর্ম এবং জুলুমের প্রাদুর্ভাবের কারণে উম্মাহর অবস্থা কেমন ছিল। ফলে এটি এক রব্বানী সুন্নাহ (ঐশ্বরিক নিয়ম) ছিল যে ফিতনা ও বিপদসমূহ তাদের বেষ্টন করে ধরবে, যার মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল (৬৫৬ হিজরী) সালে তাতার ও মঙ্গোলদের হাতে আব্বাসী খিলাফতের রাজধানী বাগদাদের পতন এবং শাম (সিরিয়া) ও মিশরের ওপর ক্রুসেডারদের ধারাবাহিক অভিযান যা (৪৯০ হিজরী) সাল থেকে শুরু হয়েছিল; এছাড়া খিলাফতের ক্ষমতা ও প্রতাপ চলে যাওয়া এবং এর কর্তৃত্ব মামলুক ও অন্যান্য সেনাপতিদের হাতে চলে যাওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আর পবিত্র ও বরকতময় নগরী মক্কার ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি অন্যান্য ইসলামী প্রধান শহরগুলোর তুলনায় খুব একটা ভালো ছিল না; যদিও আল্লাহ তাআলা একে বহিরাগত আক্রমণ থেকে রক্ষা করেছিলেন, কিন্তু বিদ্যানদের স্বল্পতা ও তাদের দুর্বলতা এবং শাসকদের দুর্নীতি ও ইসলামের হাকীকত, বিধান ও মহান উদ্দেশ্যসমূহ থেকে তাদের দূরত্বের কারণে সেখানে ভয়াবহ অপকর্ম প্রকাশ পেয়েছিল। তাই এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, ইবনে বাইদাকীন আল্লাহর পবিত্র ঘরে যে সকল অপকর্ম দেখেছেন তাতে তাঁর অন্তর সংকুচিত হয়েছে এবং তাঁর অনুতাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ছিল: সর্বোত্তম ভূমি মক্কায় নারীরা গান, নাচ, বুক চাপড়ানো এবং ঘোমটা খোলার মাধ্যমে যে ‘সামা’ (বাদ্য-বাজনা) এর বিদআত সৃষ্টি করেছিল (পৃষ্ঠা: ২০৬), এবং মিনার মাসজিদুল খীফে নাচ, লাফানো এবং গান গাওয়া (২১০), এবং কিছু সাধারণ মানুষ হজের মৌসুম শেষ হওয়া পর্যন্ত হিজাজের পথে যে মুতআ বিবাহের চর্চা করত (৩০৫)। তিনি সেই সব বিদআতীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে তিক্ত অভিযোগ প্রকাশ করেছেন যারা তাদের শায়খদের অনুসরণে দাড়ি মুণ্ডন করত, চুলে পরচুলা লাগাত এবং নিজেদের শরীর দগ্ধ করত ও উলকি আঁকত, যাতে প্রিয়জনের নাম খোদাই করা হতো; তারপর সেই লেখা নিয়ে সাকায়াতে (পানি পানের স্থানে) প্রবেশ করত। তিনি বলেন: আমি মক্কায় একজন ফকীরকে দেখেছি যে তার হাতের কব্জিতে আয়াতুল কুরসী উলকি হিসেবে খোদাই করেছে।

--------------------------------------------

(১) ‘মাজমুউ ফাতাওয়া শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ’ ১৩/ ১৭৭ - ১৮২।

(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ٢٠)
بكمالها، .. وترى بعضهم يثقب أنفه، وآخر يثقب إحليله، ومنهم من يتكبَّل بالسلاسل والحديد (131)، ويقول: ونعوذ بالله من كل البدع والطغيان، ومن أخوة النسوان، ومرافقة المردان، والاشتغال عن الذكر والقرآن، بشيء من اللهو والهذيان؛ كالرقص على ضرب الدف والكف والغناء والألحان (132)، وينكر ما يفعله بعض العباد المتشبهين بأهل الجور والظلم والعناد في مكة خير البلاد: من أكل الوقوفات بغير حقٍّ، وتعطيل المدارس وسكناها بالأهل والأولاد (627)، ويذكر التركماني أن مكة المشرَّفة ليست بمعدن لما يريده الإنسان من الكتب (496)، ولعل أكثر ما ذكره من المنكرات هو مما شاهده في مكة، فقد ألَّف كتابه فيها، وما ذكره ابن بَيْدَكِينَ فقليل من كثير، وغيض من فيض، وقد سجَّل شيخُه شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية (728 هـ) رحمه الله وصفًا كليًّا جامعًا لحال الديار المقدسة في زمانهم، فقال:

«وأما سكان الحجاز: فأكثرهم أو كثير منهم خارجون عن الشريعة، وفيهم من البدع والضلال والفجور ما لا يعلمه إلا الله، وأهل الإيمان والدين فيهم مستضعفون عاجزون، وإنما تكون القوة والعزة في هذا الوقت لغير أهل الإسلام بهذه البلاد، فلو ذلت هذه الطائفة [يعني: أهل الشام في جهادهم ضد التتار] والعياذ بالله تعالى، لكان المؤمنون بالحجاز من أذل الناس، لا سيما وقد غلب فيهم الرفض ومُلْكُ هؤلاء التتار المحاربون لله ورسوله الآن مرفوض؛ فلو غلبوا لفسد الحجازُ بالكلية»(1).

سنعلو على عصر ابن تيمية وتلميذه قرنًا من الزمان ونيِّفًا لنقرأ شهادة صادقة لرحالة أندلسي ذُهل بما رآه في مكة من فساد الأحوال. إنه الإمام الصالح الجليل محمد بن أحمد بن جُبَير الكناني البلنسيُّ (ت: 614) رحمه الله(2)، فقد حضر موسم الحجِّ لسنة (579)، وكتب يقول:

«وأكثر هذه الجهات الحجازية وسواها؛ فرقٌ وشِيَع، لا دين لهم، قد

--------------------------------------------

(1) «مجموع الفتاوى» 28/ 530.

(2) هكذا وصفه الإمام الذهبي في «تاريخ الإسلام» 13/ 417 (236).

তার পূর্ণাঙ্গ রূপসহ, .. এবং আপনি তাদের কাউকে দেখবেন তার নাক ছিদ্র করতে, অন্য কেউ তার মূত্রনালী ছিদ্র করে, আর তাদের কেউ কেউ শিকল ও লোহার বেড়ি পরিধান করে (১৩১), এবং তিনি বলেন: আমরা সকল প্রকার বিদআত ও সীমালঙ্ঘন থেকে, নারীদের সাথে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন থেকে, কিশোরদের সঙ্গ থেকে এবং জিকির ও কুরআন থেকে বিমুখ হয়ে অনর্থক খেল-তামাশা ও আবোল-তাবোলে মগ্ন হওয়া থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি; যেমন দফ ও করতাল বাজিয়ে নৃত্য করা এবং গান ও সুরের লহরী (১৩২)। এবং তিনি সেইসব ইবাদতকারীদের কর্মকে প্রত্যাখ্যান করেন যারা শ্রেষ্ঠ নগরী মক্কায় অত্যাচারী, জালেম ও অবাধ্যদের সদৃশ হয়ে পড়েছে: যেমন অন্যায়ভাবে ওয়াকফকৃত সম্পদ ভক্ষণ করা এবং মাদ্রাসাগুলোকে অকার্যকর করে সেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করা (৬২৭)। আর আল-তুর্কমানি উল্লেখ করেন যে, মক্কা মুশাররাফা মানুষের কাঙ্ক্ষিত কিতাবসমূহের খনি নয় (৪৯৬)। সম্ভবত তিনি যেসব গর্হিত কাজের কথা উল্লেখ করেছেন তার অধিকাংশই তিনি মক্কায় প্রত্যক্ষ করেছেন, কারণ তিনি সেখানেই তার কিতাবটি রচনা করেছিলেন। আর ইবনে বায়দাকিন যা উল্লেখ করেছেন তা অতি সামান্য এবং সমুদ্রের মাঝে বিন্দুমাত্র। এবং তার শায়খ শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়া (৭২৮ হি.) রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাদের যুগের পবিত্র ভূমিগুলোর অবস্থার একটি সামগ্রিক ও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছেন, তিনি বলেছেন:

«আর হিজাজের অধিবাসীদের ব্যাপারে বলা যায়: তাদের অধিকাংশ বা তাদের অনেকেই শরীয়ত থেকে বিচ্যুত, এবং তাদের মধ্যে এমন বিদআত, ভ্রষ্টতা ও পাপাচার বিদ্যমান যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। তাদের মাঝে ঈমানদার ও দ্বীনদার ব্যক্তিরা দুর্বল ও অসহায়। বর্তমানে এই দেশগুলোতে ক্ষমতা ও মর্যাদা অমুসলিমদের হাতেই পুঞ্জীভূত। যদি এই দলটি [অর্থাৎ তাতারদের বিরুদ্ধে জিহাদে লিপ্ত শামের অধিবাসীরা] লাঞ্ছিত হতো—আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই—তবে হিজাজের মুমিনরা সবচাইতে লাঞ্ছিত ব্যক্তিতে পরিণত হতো। বিশেষ করে যখন তাদের মধ্যে রাফেজি মতবাদ প্রবল হয়ে উঠেছে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধরত এই তাতারদের শাসন এখন প্রত্যাখ্যাত; যদি তারা বিজয়ী হতো তবে হিজাজ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেত»(১).

আমরা ইবনে তাইমিয়া ও তার ছাত্রের যুগের পরবর্তী প্রায় এক শতাব্দী বা তার কিছু বেশি সময় সামনে অগ্রসর হব, যাতে একজন আন্দালুসি পর্যটকের সত্যনিষ্ঠ সাক্ষ্য পাঠ করতে পারি, যিনি মক্কার অবস্থার অবনতি দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন। তিনি হলেন মহান নেককার ইমাম মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন জুবায়ের আল-কিনানি আল-বালানসি (মৃত্যু: ৬১৪) রহমাতুল্লাহি আলাইহি(২)। তিনি ৫৭৯ হিজরীর হজের মৌসুমে উপস্থিত ছিলেন এবং লিখেছিলেন:

«আর এই হিজাজ অঞ্চল ও অন্যান্য স্থানের অধিকাংশ মানুষই বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত, তাদের কোনো দ্বীন নেই, তারা...

--------------------------------------------

(১) «মাজমুউল ফাতাওয়া» ২৮/ ৫৩০।

(২) ইমাম জাহাবি «তারিখুল ইসলাম» ১৩/ ৪১৭ (২৩৬)-এ তাকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ٢١)
تفرَّقوا على مذاهب شتَّى. وهم يعتقدون في الحاج ما لا يُعتقَد في أهل الذمة، قد صيَّروهم من أعظم غلاتهم التي يستغلونها: ينتهبونهم انتهابًا، ويسببون لاستجلاب ما بأيديهم استجلابًا. فالحاجُّ معهم لا يزال في غرامة ومؤونة إلى أَنْ ييسر الله رجوعَه إلى وطنه. ولولا ما تلافَى الله به المسلمين في هذه الجهات بصلاح الدين؛ لكانوا من الظلم في أمرٍ لينادي وليده، ولا يلين شديده، فإنه رفع ضرائب المكوس عن الحاج، وجعل عوض ذلك مالًا وطعامًا، يأمر بتوصيلها «مُكْثِرٌ»(1) أمير مكة، فمتى أبطأتْ عنهم تلك الوظيفة المترتبة لهم عاد هذا الأميرُ لترويع الحاجِّ، وإظهار تثقيفهم بسبب المكوس. واتَّفق لنا من ذلك أن وصلنا جُدَّة، فأُمسكنا بها خلال ما خوطب مُكثر الأمير المذكور. فورد أمره أن يضمَن الحاجُّ بعضهم بعضًا، ويدخلوا حرم الله، فإن ورد المال والطعام اللذان يرسمه من قبل صلاح الدِّين(2) وإلا فهو لا يترك ما له قبل الحاج. هذا لفظه، كأنَّ حَرَمَ الله عز وجل ميراثٌ بيده، محلَّل له اكتراؤه من الحاج، فسبحان مغيِّر السنن ومبدِّلها. والذي جعل له صلاح الدين بدلًا من مكس الحاج، ألفا دينار اثنان، وألفا أردب من القمح، وهو نحو الثمان مئة قفِّيز بالكيل الإشبيلي عندنا، حاشَى اقطاعات أقطعها بصعيد مصر، وبجهة اليمن لهم بهذا الرسم المذكور. ولولا مغيب هذا السلطان العادل صلاح الدين بجهة الشام في حروب له هناك مع الإفرنج؛ لما صدر عن هذا الأمير المذكور ما صدر في جهة الحاجِّ. فأحقُّ بلاد الله بأن يطهِّرها السيفُ، ويغسل أرجاسها وأدناسها بالدماء المسفوكة في سبيل الله: هذه البلاد الحجازية، لما هم عليه من حَلِّ عُرى الإسلام، واستحلال أموال الحاجِّ ودمائهم. فمن يعتقد من فقهاء أهل الأندلس إسقاط هذه الفريضة عنهم فاعتقاده صحيح لهذا السبب، وبما يُصنع بالحاجِّ مما لا يرتضيه الله عز وجل، فراكب هذا السبيل راكب خطر، ومعتسف غرر. والله قد أوجد الرخصة فيه على غير هذه الحال، فكيف وبيت الله الآن بأيدي أقوام

--------------------------------------------

(1) هو مكثر بن عيسى بن فليتة بن قاسم بن محمد بن جعفر الهاشمي الحسنيُّ، آخر أمراء مكة من بني فليتة.

(2) هو المجاهد الكردي صلاح الدين الأيوبيُّ (ت: 589) رحمه الله.

তারা বিভিন্ন মতবাদে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তারা হাজীদের ব্যাপারে এমন ধারণা পোষণ করে যা জিম্মিদের (অমুসলিম প্রজাদের) ব্যাপারেও করা হয় না। তারা হাজীদের তাদের বড় ধরণের আয়ের উৎসে পরিণত করেছে যা তারা শোষণ করে: তারা তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করে এবং তাদের কাছে যা আছে তা হস্তগত করার জন্য বিভিন্ন অজুহাত তৈরি করে। ফলে হাজীরা তাদের কাছে জরিমানা ও খরচের বোঝায় জর্জরিত থাকে যতক্ষণ না আল্লাহ তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া সহজ করেন। আর যদি আল্লাহ এই অঞ্চলগুলোতে সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর মাধ্যমে মুসলিমদের প্রতি কৃপা না করতেন, তবে তারা এমন যুলুমের শিকার হতো যার ভয়াবহতায় শিশুও বৃদ্ধ হয়ে যেত এবং যার কঠোরতা শিথিল হতো না। কারণ তিনি (সালাহউদ্দীন) হাজীদের ওপর থেকে অবৈধ শুল্ক প্রত্যাহার করেছেন এবং এর পরিবর্তে মক্কার আমির 'মুকসির'-কে অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। কিন্তু যখনই তাদের জন্য নির্ধারিত এই বরাদ্দ পৌঁছাতে দেরি হয়, তখনই এই আমির হাজীদের আতঙ্কিত করতে এবং শুল্কের অজুহাতে তাদের ওপর কড়াকড়ি শুরু করেন। আমাদের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছিল যখন আমরা জেদ্দায় পৌঁছালাম; উল্লিখিত আমির মুকসিরের সাথে যোগাযোগ চলাকালীন আমাদের সেখানে আটকে রাখা হয়েছিল। এরপর তার আদেশ এলো যে, হাজীরা একে অপরের জামিন হবে এবং তারা আল্লাহর হারামে প্রবেশ করবে; যদি সালাহউদ্দীনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত অর্থ ও খাদ্য আসে তবে ভালো, অন্যথায় হাজীদের কাছ থেকে তার পাওনা সে ছাড়বে না। এটিই ছিল তার বক্তব্য, যেন মহান আল্লাহর হারাম তার হাতে থাকা কোনো উত্তরাধিকার সম্পত্তি, যা হাজীদের কাছে ভাড়া দেওয়া তার জন্য বৈধ; পরিস্থিতি পরিবর্তনকারী ও রূপান্তরকারী (আল্লাহ) অতি পবিত্র। সালাহউদ্দীন হাজীদের শুল্কের পরিবর্তে তাকে যা দিয়েছিলেন তা হলো দুই হাজার দিনার এবং দুই হাজার ইরদাব গম, যা আমাদের অঞ্চলের সেভিল (ইশবিলিয়া) পরিমাপে প্রায় আটশ কাফিজের সমান; এছাড়া উচ্চ মিশর ও ইয়ামেন অঞ্চলে এই উদ্দেশ্যে তিনি আরও কিছু জায়গির বরাদ্দ করেছিলেন। এই ন্যায়পরায়ণ সুলতান সালাহউদ্দীন যদি সিরিয়া অঞ্চলে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যস্ত না থাকতেন, তবে হাজীদের ব্যাপারে উক্ত আমিরের পক্ষ থেকে এমন আচরণ প্রকাশ পেত না। আল্লাহর জমিনের মধ্যে তলোয়ার দিয়ে পবিত্র করার এবং আল্লাহর পথে রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে অপবিত্রতা ও কলুষতা ধুয়ে ফেলার সবচেয়ে যোগ্য স্থান হলো এই হিজাজ ভূমি, কারণ তারা ইসলামের বন্ধন ছিন্ন করেছে এবং হাজীদের সম্পদ ও রক্তকে বৈধ মনে করছে। সুতরাং আন্দালুসের ফকিহদের মধ্যে যারা এই কারণে তাদের ওপর থেকে এই ফরজ দায়িত্ব স্থগিত হওয়ার কথা মনে করেন, তাদের বিশ্বাস সঠিক। কারণ হাজীদের সাথে এমন আচরণ করা হয় যা মহান আল্লাহ পছন্দ করেন না। এই পথে ভ্রমণকারী মূলত বিপদের যাত্রী এবং ধ্বংসের পথে ধাবমান। আল্লাহ এই অবস্থা ব্যতীত অন্য অবস্থায় হজের অবকাশ দিয়েছেন, কিন্তু এখন আল্লাহর ঘর এমন এক কওমের হাতে রয়েছে...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন মুকসির বিন ঈসা বিন ফুলাইতা বিন কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন জাফর আল-হাশমি আল-হাসানি, বনু ফুলাইতা বংশের মক্কার শেষ আমির।

(২) তিনি হলেন মুজাহিদ কুর্দি সালাহউদ্দীন আইয়ুবী (মৃত্যু: ৫৮৯ হিজরি), আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ٢٢)
قد اتَّخذوه معيشة حرامٍ، وجعلوه سببًا إلى استلاب الأموال واستحقاقها من غير حِلٍّ، ومصادرة الحجاج عليها، وضرب الذلة والمسكنة الدنيَّة عليهم، تلافاها الله عن قريب بتطهير يرفع هذه البدع المجحفة عن المسلمين بسيوف الموحدين، أنصار الدين، … »(1).

ويذكر ابن جُبير تعدُّد المحاريب والأئمة في المسجد الحرام، فيقول: «وللحرم أربعة أئمة سنية، وإمام خامس لفرقة تسمى الزيدية، وأشراف أهل هذه البلدة على مذهبهم، وهم يزيدون في الأذان: حي على خير العمل، إثر قول المؤذن: حي على الفلاح. وهم روافضُ سبَّابون، والله من وراء حسابهم وجزائهم، ولا يجمعون مع الناس إنما يصلون ظهرًا أربعًا، ويصلون المغرب بعد فراغ الأئمة من صلاتها. فأول الأئمة السنية الشافعي، وإنما قدمنا ذكره لأنه المقدَّم من الإمام العباسي، وهو أول من يصلي، وصلاته خلف مقام إبراهيم، صلى الله عليه وسلم وعلى نبينا الكريم، إلا صلاة المغرب فإن الأربعة الأئمة يصلونها في وقت واحد مجتمعين لضيق وقتها، يبدأ مؤذن الشافعي بالإقامة، ثم يقيم مؤذنو سائر الأئمة، وربما دخل في هذه الصلاة على المصلين سهوٌ وغفلةٌ لاجتماع التكبير فيها من كل جهة، فربما ركع المالكي بركوع الشافعي أو الحنفي، أو سلم أحدهم بغير سلام إمامه. فترى كلَّ أُذُنٍ مُصِيخَةٌ لصوت إمامِها، أو صوت مؤذِّنه مخافةَ السهو. ومع هذا فيحدث السَّهوُ على كثير من الناس. ثم المالكيُّ وهو يصلي قبالة الركن اليماني، ثم الحنفيُّ وصلاته قبالة الميزاب تحت حطيم مصنوع له. ثم الحنبلي وصلاته مع صلاة المالكي في حين واحد، موضع صلاته يقابل ما بين الحجر الأسود والركن اليماني … »(2).

--------------------------------------------

(1) «رحلة ابن جبير» ص: 54، دار صادر، بيروت.

(2) «رحلة ابن جبير» 78. ويُراجع عن هذه البدعة وإنكار العلماء لها: رحلة القاسم بن يوسف التجيبي السَّبتي (ت: 730 هـ): «مستفاد الرحلة والاغتراب»، و «إصلاح المساجد» للشيخ جمال الدين القاسمي، و «تاريخ عمارة المسجد الحرام» لحسين عبد الله باسلامة رحمه الله.

তারা একে হারাম জীবিকার উপায়ে পরিণত করেছে এবং একে মানুষের সম্পদ অবৈধভাবে হরণ ও তা অর্জনের একটি মাধ্যমে পরিণত করেছে, যার কোনো বৈধতা নেই। তারা হাজিদের ওপর সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ এবং তাদের ওপর হীনতা ও চরম লাঞ্ছনা চাপিয়ে দিয়েছে। আল্লাহ অচিরেই এই পরিস্থিতি সংশোধন করবেন এমন এক পবিত্রকরণের মাধ্যমে, যা তাওহিদবাদী ও দ্বীনের সাহায্যকারীদের তলোয়ারের সাহায্যে মুসলমানদের থেকে এই ক্ষতিকর বিদআতগুলো দূর করে দেবে … »(১).

ইবনে জুবায়র মসজিদুল হারামে একাধিক মেহরাব ও ইমামের আধিক্যের কথা উল্লেখ করে বলেন: «হারামের চারজন সুন্নি ইমাম রয়েছেন এবং পঞ্চম একজন ইমাম রয়েছেন যায়েদিয়্যাহ নামক একটি ফিরকার জন্য। এই শহরের অভিজাত ব্যক্তিরা তাদের মাযহাবের অনুসারী। তারা মুয়াজ্জিনের 'হাইয়্যা আলাল ফালাহ' বলার পর আজানে 'হাইয়্যা আলা খাইরিল আমাল' যোগ করে। তারা রাফেজি ও গালিগালাজকারী; আল্লাহ তাদের হিসাব ও প্রতিফলের দায়িত্বে রয়েছেন। তারা সাধারণ মানুষের সাথে জামাতে শরিক হয় না, বরং জোহরের নামাজ চার রাকাত একাকী আদায় করে এবং ইমামদের নামাজ শেষ হওয়ার পর মাগরিবের নামাজ আদায় করে। সুন্নি ইমামদের মধ্যে প্রথম হলেন শাফেয়ী ইমাম। আমি তাকে আগে উল্লেখ করলাম কারণ তিনি আব্বাসীয় ইমামের পক্ষ থেকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। তিনি প্রথম সালাত আদায় করেন এবং তার সালাত হয় মাকামে ইবরাহিমের পিছনে—আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর এবং আমাদের সম্মানিত নবীর ওপর বর্ষিত হোক। তবে মাগরিবের সালাত চারজন ইমাম একসাথেই সময় সংকীর্ণতার কারণে আদায় করেন। শাফেয়ী ইমামের মুয়াজ্জিন ইকামতের মাধ্যমে শুরু করেন, এরপর অন্য সব ইমামদের মুয়াজ্জিনগণও ইকামত দেন। চারিদিক থেকে তাকবিরের ধ্বনি মিলিত হওয়ার কারণে নামাজিদের মধ্যে ভুল ও অসাবধানতা সৃষ্টি হয়। এমনকি অনেক সময় মালিকি মাযহাবের অনুসারী শাফেয়ী বা হানাফি ইমামের রুকু দেখে রুকু করে ফেলেন, অথবা কেউ কেউ তার ইমামের সালামের আগেই সালাম ফিরিয়ে ফেলেন। ফলে দেখা যায়, ভুলের ভয়ে প্রত্যেক কান তার নিজস্ব ইমাম বা মুয়াজ্জিনের আওয়াজের প্রতি নিবিষ্ট থাকে। এতদসত্ত্বেও অনেকের মধ্যেই ভুল হয়ে যায়। এরপর মালিকি ইমাম, তিনি রুকনে ইয়ামানির সামনে সালাত আদায় করেন। এরপর হানাফি ইমাম, তার সালাত হয় মিজাবের (কাবাগৃহের নালা) সামনে তার জন্য নির্মিত হাতীমের নিচে। এরপর হাম্বলি ইমাম, তার সালাত মালিকি ইমামের সালাতের সাথে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয় এবং তার সালাতের স্থানটি হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানির মধ্যবর্তী স্থানের বরাবর … »(২).

--------------------------------------------

(১) «রিহলা ইবনে জুবায়র» পৃ: ৫৪, দার সাদির, বৈরুত।

(২) «রিহলা ইবনে জুবায়র» ৭৮। এই বিদআত এবং ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে এর প্রতিবাদ সম্পর্কে দেখুন: কাসেম বিন ইউসুফ আত-তুজিবি আস-সাবতি (মৃত্যু: ৭৩০ হিজরি) এর সফরনামা: «মুস্তাফাদ আল-রিহলা ওয়াল ইগতিরাব», এবং শেখ জামালুদ্দিন আল-কাসিমির «ইসলাহুল মাসাজিদ», এবং হুসাইন আব্দুল্লাহ বা সালামাহ (রহিমাহুল্লাহ) এর «তারিখু ইমারাতিল মসজিদুল হারাম»।

(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ٢٣)
وهذه بدعةٌ قبيحةٌ شنيعةٌ، مُبكيةٌ مضحكةٌ، قد عجزَ العلماء والقضاة والمفتون عن تغييرها قرونًا طويلةً، حتَّى حقَّق الله ذلك على يد الملك الصالح عبد العزيز بن عبد الرحمن آل سعود رحمه الله، فأزال المحاريب الأربعة، وجمع المسلمين على إمام واحد، وذلك في سنة (1345 هـ/ 1926 م).

والمقصودُ أنَّ هذا الكتاب، وما هو من بابته من كتب البدع والآداب الشرعية، وكذلك كتب التاريخ والتراجم والرحلات؛ مظنَّة معلومات كثيرة مهمَّة عن أحوال العالم الإسلامي، وبجمع تلك المادة العلمية بدقة وأمانة؛ يمكن تكوين تصور صحيح عن ماضي المسلمين وحاضرهم، على هدى من سنن الله الكونية والشرعية، بعيدًا عن متاهات الفكر والعاطفة والتفسير السياسي والماديِّ لحقائق الدين وآثاره.

* * *

المكوِّن العلمي والديني لابن بَيْدَكِينَ مثير للاهتمام. نجد في شيوخه رجلان على طرفي النقيض في العقيدة والمنهج والدعوة، أولهما: ابن عطاء الله السكندري: صوفيٌّ جلدٌ، وثانيهما: أبو العباس ابن تيمية: إمام سلفيٌّ مصلحٌ. نستطيع أن نستنتج من خلال اقتباساته الكثيرة عن شيخه الأول، وتأثره بمواعظه، وصلته بمصادره والكتب التي كان يدرِّسها في مجالسه(1)؛ أنَّه لازمه مدَّة طويلة، وانتفع به في التديُّن والسلوك. أما صلته بابن تيمية فمتأخرة ومحدودة، ولا ندري إن كان أخذ عنه في دمشق قبل انتقاله إلى مصر، لكن الذي ندريه ونحن منه على يقين أنه اتَّصل بابن تيمية خلال وجوده في مصر من سنة (705) إلى سنة (712)، ومن المؤكَّد أن تلك الصلة بدأت بعد خروج ابن تيمية من السجن في شوال (709)، أي بعد موت ابن عطاء الله بأشهر.

إذا كانت اقتباسات ابن بَيْدَكِينَ عن ابن عطاء الله ظاهرة بيِّنة، قد

--------------------------------------------

(1) قارن بما ذكره د. عبد الحليم محمود في مقدمته لكتاب: «لطائف المنَن» لابن عطاء الله السكندري، دار المعارف، القاهرة، ط: 2، ص: 11.

আর এটি ছিল এক কুৎসিত ও জঘন্য বিদআত, যা একইসাথে ক্রন্দন ও উপহাসের উদ্রেক করে। যুগের পর যুগ ধরে আলেম, বিচারক ও মুফতিগণ এটি পরিবর্তনে অক্ষম ছিলেন, যতক্ষণ না আল্লাহ পুণ্যবান রাজা আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুর রহমান আল-সউদের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করলেন। ফলে তিনি চারটি মেহরাব অপসারণ করেন এবং মুসলমানদের একজন ইমামের অধীনে একত্রিত করেন। আর এটি ছিল ১৩৪৫ হিজরি/১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে।

মূল উদ্দেশ্য হলো, এই বই এবং বিদআত ও শরয়ী আদব বিষয়ক সমজাতীয় অন্যান্য কিতাব, সেইসাথে ইতিহাস, জীবনী এবং ভ্রমণ কাহিনীমূলক গ্রন্থগুলো মুসলিম বিশ্বের অবস্থা সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের আধার। সূক্ষ্মতা ও আমানতদারিতার সাথে এসব ইলমি উপাদান সংগ্রহের মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্টিজগত ও শরীয়ত সম্পর্কিত সুন্নাহ বা বিধিসমূহের আলোকে মুসলমানদের অতীত ও বর্তমান সম্পর্কে একটি সঠিক ধারণা লাভ করা সম্ভব। এটি চিন্তা ও আবেগের গোলকধাঁধা এবং দ্বীনের বাস্তবতা ও তার প্রভাবের রাজনৈতিক ও বস্তুবাদী ব্যাখ্যা থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে।

* * *

ইবনে বাইদাকিনের ইলমি ও দ্বীনি গঠনশৈলী অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক। আমরা তাঁর উস্তাদদের মধ্যে আকীদা, মানহাজ ও দাওয়াতের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর দুই ব্যক্তিকে দেখতে পাই। তাঁদের প্রথমজন হলেন ইবনে আতাউল্লাহ আস-সিকান্দারি: যিনি একজন কট্টর সুফি ছিলেন। আর দ্বিতীয়জন হলেন আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়া: যিনি একজন সালাফী সংস্কারক ইমাম। তাঁর প্রথম উস্তাদ থেকে নেওয়া প্রচুর উদ্ধৃতি, তাঁর ওয়াজ-নসিহতের প্রভাব এবং তাঁর উৎসসমূহ ও মজলিসে পাঠদানকৃত কিতাবপত্রের সাথে সম্পৃক্ততা(১) থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, তিনি দীর্ঘকাল তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন এবং দ্বীনদারি ও আচরণের ক্ষেত্রে তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন। অন্যদিকে ইবনে তাইমিয়ার সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিল পরবর্তী সময়ের এবং সীমিত। মিশরে হিজরত করার আগে তিনি দামেস্কে তাঁর কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন কি না তা আমাদের জানা নেই, তবে আমরা যা নিশ্চিতভাবে জানি তা হলো, মিশরে অবস্থানকালে ৭০৫ হিজরি থেকে ৭১২ হিজরির মধ্যে তিনি ইবনে তাইমিয়ার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। এটি নিশ্চিত যে, এই যোগাযোগ শওয়াল ৭০৯ হিজরিতে ইবনে তাইমিয়ার কারাগার থেকে মুক্তির পর শুরু হয়েছিল, যা ইবনে আতাউল্লাহর মৃত্যুর মাত্র কয়েক মাস পরের ঘটনা।

যদি ইবনে বাইদাকিন কর্তৃক ইবনে আতাউল্লাহর উদ্ধৃতিগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রকাশ্য হয়, যা সম্ভবত

--------------------------------------------

(১) ড. আব্দুল হালিম মাহমুদ রচিত ইবনে আতাউল্লাহ আস-সিকান্দারি-র 'লাতাইফুল মিনান' কিতাবের ভূমিকার সাথে তুলনা করুন, দারুল মা'আরিফ, কায়রো, ২য় সংস্করণ, পৃষ্ঠা: ১১।

(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ٢٤)
اهتدينا إليها في مصادرها؛ فإنَّنا لا نجد مثلها عن ابن تيمية، وربما يكون السبب في ذلك تأخر صلته به، وأفادت الباحثة أسماء العلواني أنَّ قول ابن بَيْدَكِينَ في النَّهي عن السَّماع (182 - 183): «فإن قال أحدهم: إن هذا السماع جعلناه شبكة نصطاد بها قلوب الغافلين … يقال له: شبكة مخرَّقة … إلخ»، يرد بعض عباراته في فتوى لابن تيمية في السماع(1). وكذلك قوله: «وكذلك قول بعضهم: إن الملائكة والنبيين والصالحين تحضر هذا السماع … » إلى آخر حديث: «إنما نهيت عن صوتين فاجرين: … » بمقدار نصف صفحة، منقول بتصرف يسير من فتوى أخرى لابن تيمية(2). وربَّما أمكن اكتشاف أمثلة أخرى مع شدَّة التحرِّي، وهو ما لم نفعله، على أننا وجدنا عنده اهتمامًا بموضوعاتٍ اهتمَّ بها ابن تيمية ضمن جهوده الإصلاحية، مثل النهي عن السماع البدعي، والرد على القرندلية والمرازقة والفتوة وغيرهم.

في رسالة الفتوة وهي: «الحجة والبرهان على فتيان هذا الزمان» بعض الشواهد على تأثر ابن بَيْدَكِينَ بشيخ الإسلام ابن تيمية رحمها الله تعالى، فقد استلَّها من كتابه «اللمع» حيث أفرد فيه فصلًا في الفتوة، فنجد في الرسالة المفردة التي قرَّضها ابن تيمية بعد التعديلات الدقيقة التي انتهى إليها ابن بَيْدَكِينَ إما بما استفاده من ملازمة ابن تيمية، وإما بتوجيه مباشر منه قبل أن يقرِّظ عليها، ونلاحظ أنه أول العلماء الأربعة في التقريظ.

نجد التركماني يقول في فصل الفتوة في «اللمع» (229): «لأن النبي صلى الله عليه وسلم نهى أن يحدَّ الرجلُ النظر إلى الغلام الأمرد، الحسن الوجه. ونهى أيضًا عن مجالسته، وأقام أمرد من بين يديه، وأجلسه خلفه. وقال سيد البشر: «كانت خطيئة داود النظرُ».». وهذا الحديث وما قبله لا يصحُّ، لهذا حاول تصحيح العبارة في الرسالة المفردة، فقال (817): «لأن الشعبي وغيره من مشايخ الأشياخ، كلٌّ منهم نهى أن يحدَّ الرجل … » فذكره ولم

--------------------------------------------

(1) «مجموع فتاوى ابن تيمية» 11/ 601.

(2) «مجموع فتاوى ابن تيمية» 11/ 641 - 642، وكتابنا هذا: 194.

আমরা এগুলো তাঁদের মূল উৎসগুলোতে খুঁজে পেয়েছি; তবে ইবনে তাইমিয়্যার পক্ষ থেকে আমরা এ জাতীয় কিছু পাই না। সম্ভবত এর কারণ ছিল তাঁর সাথে ইবনে তাইমিয়্যার দেরিতে যোগাযোগ ঘটা। গবেষক আসমা আল-আলওয়ানি উল্লেখ করেছেন যে, 'সামা' (বাদ্য-গান) নিষিদ্ধকরণ বিষয়ে ইবনে বাইদাকিনের উক্তি (১৮২ - ১৮৩): «যদি তাদের কেউ বলে: আমরা এই সামা-কে একটি জাল বানিয়েছি যা দিয়ে আমরা গাফেলদের অন্তর শিকার করি … তাকে বলা হয়: এটি একটি ছেঁড়া জাল … ইত্যাদি», এর কিছু কিছু অভিব্যক্তি ইবনে তাইমিয়্যার সামা বিষয়ক একটি ফতোয়ায় পাওয়া যায়(১)। অনুরূপভাবে তাঁর উক্তি: «তদ্রূপ তাদের কারো কারো কথা: ফেরেশতাগণ, নবীগণ এবং নেককার ব্যক্তিরা এই সামা-তে উপস্থিত হন … » থেকে হাদীসের শেষ পর্যন্ত: «আমি কেবল দুটি পাপাচারী শব্দ থেকে নিষেধ করেছি: … »—এই প্রায় অর্ধেক পৃষ্ঠা জুড়ে থাকা অংশটি ইবনে তাইমিয়্যার অন্য একটি ফতোয়া থেকে সামান্য পরিবর্তনসহ সংকলিত(২)। অত্যন্ত নিবিড় অনুসন্ধানের মাধ্যমে সম্ভবত আরও উদাহরণ খুঁজে পাওয়া সম্ভব ছিল, যা আমরা করিনি। তবে আমরা তাঁর মধ্যে এমন সব বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ লক্ষ্য করেছি যেগুলোতে ইবনে তাইমিয়্যা তাঁর সংস্কারমূলক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছিলেন, যেমন বিদআতি সামা নিষিদ্ধ করা এবং কালান্দারিয়া, মারাজিকা, ফুতুউয়াহ ও অন্যদের প্রতিবাদ করা।

ফুতুউয়াহ বিষয়ক রিসালাহ, যার নাম: «আল-হুজ্জাহ ওয়াল-বুরহান আলা ফিতইয়ানি হাযায যামান», সেখানে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার (আল্লাহ তায়ালা তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন) প্রতি ইবনে বাইদাকিনের প্রভাবিত হওয়ার কিছু প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি এটি তাঁর «আল-লুমা» গ্রন্থ থেকে গ্রহণ করেছেন, যেখানে তিনি ফুতুউয়াহ সম্পর্কে একটি পৃথক পরিচ্ছেদ উৎসর্গ করেছিলেন। ফলে আমরা সেই স্বতন্ত্র রিসালাহটি পাই যাতে ইবনে তাইমিয়্যা তাঁর প্রশংসা-অভিমত লিখেছিলেন। এটি ইবনে বাইদাকিন কর্তৃক সেই সব সূক্ষ্ম পরিমার্জনের পর চূড়ান্ত হয়েছিল যা তিনি হয় ইবনে তাইমিয়্যার সান্নিধ্য থেকে অর্জন করেছিলেন, অথবা অভিমত দেওয়ার পূর্বে ইবনে তাইমিয়্যার সরাসরি নির্দেশনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল। আমরা লক্ষ্য করি যে, অভিমত প্রদানকারী চারজন আলেমের মধ্যে তিনি প্রথম ছিলেন।

আমরা আল-তুর্কুমানিকে «আল-লুমা» (২২৯) গ্রন্থের ফুতুউয়াহ পরিচ্ছেদে বলতে দেখি: «কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো সুশ্রী বালকের দিকে একদৃষ্টিতে তাকাতে নিষেধ করেছেন। তিনি তাদের সাথে বসতেও নিষেধ করেছেন এবং তাঁর সামনে থেকে একজন বালককে উঠিয়ে দিয়ে নিজের পেছনে বসিয়েছিলেন। আর মানবজাতির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব বলেছেন: "দাউদের গুনাহ ছিল দৃষ্টিপাত করা"|»। এই হাদীসটি এবং এর আগেরটি সহীহ নয়। এই কারণে তিনি স্বতন্ত্র রিসালাহটিতে বাক্যটি সংশোধনের চেষ্টা করেছেন এবং বলেছেন (৮১৭): «কেননা আশ-শা'বি এবং অন্যান্য প্রবীণ শাইখদের প্রত্যেকেই নিষেধ করেছেন যে, কোনো ব্যক্তি যেন একদৃষ্টিতে না তাকায় … » অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন কিন্তু করেননি

--------------------------------------------

(১) «মাজমু আল-ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যা» ১১/ ৬০১।

(২) «মাজমু আল-ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যা» ১১/ ৬৪১ - ৬৪২, এবং আমাদের এই বই: ১৯৪।

(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ٢٥)
ينسب شيئًا منه إلى النبي صلى الله عليه وسلم. ويترجح عندي أنَّه استفاد هذا من شيخ الإسلام، فقد قال: «وقد روى الشعبيُّ عن النبي صلى الله عليه وسلم: أن وفد عبد القيس لما قدموا على النبي صلى الله عليه وسلم وكان فيهم غلام ظاهر الوضاءة، أجلسه خلف ظهره، وقال: «إنما كانت خطيئة داود عليه السلام النظر». هذا وهو رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو مزوج بتسع نسوة، والوفد قوم صالحون، ولم تكن الفاحشة معروفة في العرب، وقد روي عن المشايخ من التحذير عن صحبة الأحداث ما يطول وصفه»؛ على أن شيخ الإسلام بيَّن في مواضع نكارة هذا الحديث(1).

ونجده في موضع آخر يقول في تفسير: {ويطعمون الطعام على حبه مسكينًا ويتيما وأسيرا} [الإنسان: 8]: «نزلت في حقِّ علي بن أبي طالب رضي الله عنه، وهو الفتى الكبير، روي ذلك عن أهل التفسير»، هذا في «اللمع» (231)، أما في الرسالة المفردة فقد عمد إلى حذفه، فنقدِّرُ أنَّ ابن تيمية أشار عليه بذلك، فقد قال رحمه الله في رسالة «فضل أبي بكر الصديق رضي الله عنه»: «وأما سورة {هل أتى}، وقول من يقول: إنها نزلت لما تصدقوا على مسكين ويتيم وأسير. ويذكرون أن ذلك كان لما تصدقت فاطمة رضي الله عنها بقوت الحسن والحسين. وهذا كذب؛ لأن سورة {هل أتى} مكيَّةٌ بالإجماع، والحسنين إنَّما وُلدا بالمدينة بعد غزوة بدر، باتِّفاق أهل العلم»(2).

ونجده بعد ذلك ينقل كلامًا طويلًا في الفتوة عن أبي العباس المرسي من كتاب «لطائف المنن» لشيخه ابن عطاء الله، ويذكر بعده وصفًا لعلي بن أبي طالب رضي الله عنه فيه ما لا يصحُّ، ثم يذكر فتوَّة إبراهيم ومحمدٍ عليهما الصلاة والسلام، وهو نصٌّ طويل في ثلاث صفحات (232 - 237)، وقد تخلَّص منه في الرسالة المفردة، وأعاد ربط الكلام في هذا الموضع بصياغة

--------------------------------------------

(1) «مجموع الفتاوى» 28/ 370، 32/ 248، 15/ 377، وكتابنا هذا: 229، 817.

(2) «فضل أبي بكر الصديق رضي الله عنه»، منشور في «مجلة جامعة أم القرى لعلوم الشريعة» المجلد (13)، العدد (22)، (1422 هـ). وطبع مفردًا لدى دار الصحابة بمصر، (1412 هـ)، ص: 54.

তিনি এর কিছুটা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। আমার কাছে এটিই অগ্রগণ্য মনে হয় যে, তিনি এটি শায়খুল ইসলাম থেকে গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছিলেন: «শুবি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন আবদুল কায়েসের প্রতিনিধি দল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং তাদের মাঝে অত্যন্ত উজ্জ্বল চেহারার এক কিশোর ছিল, তখন তিনি তাকে নিজের পিঠের পেছনে বসালেন এবং বললেন: ‘নিশ্চয়ই দাউদ আলাইহিস সালামের বিচ্যুতি ছিল কেবল দৃষ্টিপাত করা।’ আর এটি এমন অবস্থায় যে তিনি ছিলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং নয়জন স্ত্রীর স্বামী, আর প্রতিনিধি দলটি ছিল পুণ্যবান ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি, আর আরবদের মাঝে কোনো অশ্লীলতা পরিচিত ছিল না। আর মাশায়েখদের পক্ষ থেকে কিশোরদের সাহচর্য বর্জনের ব্যাপারে যে সতর্কতা বর্ণিত হয়েছে তা বর্ণনা করতে দীর্ঘ সময় লাগবে»; যদিও শায়খুল ইসলাম বিভিন্ন স্থানে এই হাদিসের অসারতা স্পষ্ট করেছেন(১).

এবং আমরা তাকে অন্য একটি স্থানে এই আয়াতের তাফসীরে বলতে দেখি: {তারা খাবারের প্রতি ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দীকে খাবার দান করে} [ইনসান: ৮]: «এটি আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর শানে নাযিল হয়েছে, যিনি ছিলেন মহান বীর; মুফাসসিরগণের পক্ষ থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে।» এটি ‘আল-লুমা’ (২৩১) গ্রন্থে রয়েছে। তবে স্বতন্ত্র পুস্তিকাটিতে তিনি এটি বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা ধারণা করি যে, ইবনে তাইমিয়াহ তাকে এই পরামর্শ দিয়েছিলেন। কেননা তিনি রাহিমাহুল্লাহ ‘ফাদলু আবি বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু’ শীর্ষক পুস্তিকায় বলেছেন: «আর ‘হাল আতা’ সূরা এবং যারা বলে যে এটি অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দীকে দান করার সময় নাযিল হয়েছিল, তাদের বক্তব্য প্রসঙ্গে—তারা উল্লেখ করেন যে, এটি তখন হয়েছিল যখন ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা হাসান ও হুসাইনের খাবার দান করেছিলেন। এটি একটি মিথ্যা কথা; কারণ ‘হাল আতা’ সূরাটি সর্বসম্মতিক্রমে মক্কী, আর হাসান ও হুসাইন আলেমদের ঐকমত্য অনুযায়ী বদরের যুদ্ধের পর মদিনায় জন্মগ্রহণ করেছেন»(২).

এরপর আমরা তাকে দেখি তিনি তার শায়খ ইবনে আতাউল্লাহর ‘লাতায়েফুল মিনান’ গ্রন্থ থেকে আবুল আব্বাস আল-মুরসির উদ্ধৃতিতে ‘ফুতুওয়াহ’ (আদর্শ বীরত্ব) সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা নকল করছেন। এরপর তিনি আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর এমন কিছু গুণাবলি উল্লেখ করেন যা বিশুদ্ধ নয়। অতঃপর তিনি ইব্রাহিম ও মুহাম্মদ আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালামের বীরত্ব বর্ণনা করেছেন, যা তিন পৃষ্ঠা (২৩২-২৩৭) ব্যাপী একটি দীর্ঘ পাঠ। তবে স্বতন্ত্র পুস্তিকাটিতে তিনি এটি বর্জন করেছেন এবং এই অংশের বক্তব্যসমূহ নতুন আঙ্গিকে বিন্যস্ত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ ২৮/৩৭০, ৩২/২৪৮, ১৫/৩৭৭ এবং আমাদের এই বই: ২২৯, ৮১৭।

(২) ‘ফাদলু আবি বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু’, যা ‘মাজাল্লাতু জামিয়াতি উম্মিল কুরা লি-উলুমিশ শারিয়াহ’ (উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় শরীয়াহ বিজ্ঞান সাময়িকী), খণ্ড (১৩), সংখ্যা (২২), (১৪২২ হিজরি)-তে প্রকাশিত হয়েছে। এটি মিশরের দারুস সাহাবাহ থেকে স্বতন্ত্রভাবে মুদ্রিত হয়েছে (১৪১২ হিজরি), পৃষ্ঠা: ৫৪।

(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ٢٦)
حسنة (818 - 819). ونقدِّر أيضًا أن هذا الاختصار كان بتوجيه من ابن تيمية الذي لا يتسامح في ذكر روايات لا تصحُّ، خاصَّة عندما تُضعف الردَّ على المخالفين لاحتجاجهم بها بغير وجه حقٍّ(1).

وزاد ابن بَيْدَكِينَ (822) إشارة غير وافية إلى تاريخ حدوث هذه البدعة، وهو مما شرحه شيخ الإسلام في فتياه عن الفتوة(2).

إذا كان ابن عطاء الله أعظم تأثيرًا في التكوين المعرفي والثقافي لابن بَيْدَكِينَ، فقد كان ابن تيمية والدعاة من تلاميذه أعظم وأبلغ تأثيرًا فيه لسلوك منهج الاعتصام بالكتاب والسنة، ومنابذة البدع وأهلها، والغيرة على حرمات الشريعة، ومن المحال أن يخرج من مدرسة ابن عطاء الله وأمثاله من الصوفية الخرافية، المنحرفين عن السنة وأهلها مثل ابن بَيْدَكِينَ بغيرته الإيمانية، وحماسته الدينية، وحرصه على تجريد الاتباع للأسوة والقدوة صلى الله عليه وسلم، كما يشهد به جميع صفحات كتابه، فمادته كما قال (146): «في هذا الكتاب البدع المستجدَّة مما شاهدناه»، وقال (790): «أردتُ أن يكون هذا الكتاب جميعه في ذكر من خرج عن الشرع وابتدع، فجعل الله سبحانه بعضه في ذكر من اتَّبع لنبيِّه وحبيبه، وذلَّ وخضع»، ويبثُّ مرَّ الشكوى من: «كثرة البدع وغربة الإسلام» (138)، ومن: «شيوع البدع وقلَّة إنكارها» (170)، ويبيِّن أن قلَّة إنكارها هي السبب في انتشارها (134)، لهذا يحثُّ ولاة الأمر على القيام بواجبهم في إزالة البدع وزجر أهلها ومنعهم (239، 546، 553)، كما يحثُّ قراء كتابه على إزالة البدع إن قدروا على ذلك (139)، ويهدم أهم أسس التصوف فيؤكِّد على أنَّه: «لا ينبغي للمسلم أن يطيع شيخه ويعصي ربَّه ونبيَّه» (493).

أما عقيدة ابن بَيْدَكِينَ في أسماء الله تعالى وصفاته وغيرها؛ فهي عقيدة سلفية في الجملة، على طريقة أهل السنة والجماعة في إثبات أخبار الكتاب

--------------------------------------------

(1) يُراجع: «مجموع الفتاوى» 4/ 491 - 493، و 18/ 355 - 371، و «منهاج السنة» 5/ 28 - 38.

(2) «مجموع الفتاوى» 11/ 82.

হাসান (৮১৮ - ৮১৯)। আমরা আরও মনে করি যে, এই সংক্ষেপণ ইবনে তাইমিয়্যাহর নির্দেশনায় হয়েছিল, যিনি সহীহ নয় এমন বর্ণনা উল্লেখ করার ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখান না, বিশেষ করে যখন সেগুলো বিরোধীদের প্রতিবাদকে দুর্বল করে দেয় কারণ তারা সেগুলোকে অন্যায়ভাবে দলিল হিসেবে ব্যবহার করে(১)।

এবং ইবনে বাইদাকিন (৮২২) এই বিদআতটি শুরু হওয়ার ইতিহাসের প্রতি একটি অপূর্ণাঙ্গ ইঙ্গিত যোগ করেছেন, যা শায়খুল ইসলাম 'ফুতুওয়াহ' সংক্রান্ত তাঁর ফতোয়ায় ব্যাখ্যা করেছেন(২)।

ইবনে আতাউল্লাহ যদি ইবনে বাইদাকিনের জ্ঞানীয় ও সাংস্কৃতিক গঠনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে থাকেন, তবে কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার মানহাজ অনুসরণ, বিদআত ও বিদআতিদের বর্জন এবং শরীয়তের পবিত্রতার প্রতি আত্মমর্যাদাবোধের ক্ষেত্রে ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর প্রচারক ছাত্ররা তাঁর ওপর অনেক বেশি ও গভীর প্রভাব ফেলেছিলেন। আর ইবনে আতাউল্লাহর মাদ্রাসা এবং তাঁর মতো কুসংস্কারাচ্ছন্ন সুফি যারা সুন্নাহ ও সুন্নাহর অনুসারীদের থেকে বিচ্যুত, তাদের মধ্য থেকে ইবনে বাইদাকিনের মতো ঈমানি আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন, ধর্মীয় উদ্দীপনা এবং অনুসরণের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একমাত্র আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করার বিষয়ে আগ্রহী কারো বের হওয়া অসম্ভব, যেমনটি তাঁর কিতাবের প্রতিটি পৃষ্ঠা সাক্ষ্য দেয়। এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে যেমনটি তিনি (১৪৬) বলেছেন: «এই কিতাবে রয়েছে আমরা যা প্রত্যক্ষ করেছি সেইসব নব উদ্ভাবিত বিদআতসমূহ», এবং তিনি (৭৯০) বলেছেন: «আমি চেয়েছিলাম এই পুরো কিতাবটি তাদের বর্ণনায় হোক যারা শরীয়ত থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং বিদআত করেছে, কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এর কিছু অংশ তাঁর নবী ও প্রিয়তমের অনুসরণকারী এবং বিনয়ী ও অনুগতদের বর্ণনায় নির্ধারণ করেছেন»। এবং তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন: «বিদআতের আধিক্য এবং ইসলামের অসহায়ত্ব» (১৩৮) এবং «বিদআতের বিস্তার ও তা প্রতিরোধে অনীহা» (১৭০) নিয়ে, এবং তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, প্রতিবাদের অভাবই হলো বিদআত ছড়িয়ে পড়ার কারণ (১৩৪)। এই কারণে তিনি শাসকদের বিদআত নির্মূল করতে এবং বিদআতিদের সতর্ক ও প্রতিহত করার দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করেন (২৩৯, ৫৪৬, ৫৫৩), একইভাবে তিনি তাঁর কিতাবের পাঠকদেরও সামর্থ্য থাকলে বিদআত দূর করার আহ্বান জানান (১৩৯), এবং তিনি তাসাউফের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ধুলিসাৎ করে জোর দিয়ে বলেন যে: «একজন মুসলিমের জন্য তার পীরের আনুগত্য করা এবং তার রব ও নবীর অবাধ্য হওয়া উচিত নয়» (৪৯৩)।

মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী এবং অন্যান্য বিষয়ে ইবনে বাইদাকিনের আকিদা হলো সামগ্রিকভাবে সালাফি আকিদা, যা কিতাবের ভাষ্যসমূহ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের পদ্ধতি অনুযায়ী।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: «মাজমুউল ফাতাওয়া» ৪/ ৪৯১ - ৪৯৩, এবং ১৮/ ৩৫৫ - ৩৭১, এবং «মিনহাজুস সুন্নাহ» ৫/ ২৮ - ৩৮।

(২) «মাজমুউল ফাতাওয়া» ১১/ ৮২।

(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ٢٧)
والسنة من غير تحريف ولا تأويل ولا تعطيل، ومن غير تمثيل ولا تشبيه ولا تكييف. وقد أحسن ابن بَيْدَكِينَ فختم كتابه بنبذة في العقيدة نقلها من عقيدة الإمام أبي جعفر الطحاوي الحنفي (ت: 321 هـ) المشهورة بالعقيدة الطحاوية (791 - 797)، وفيها إثبات الاستواء، خلافًا لما وقع فيه من الخطإِ أثناء ردِّه على المرازقة (501 - 506)، ومهما يكن؛ فهذه مسالك دقيقة لا يُحسِن ابن بَيْدَكِينَ الخوض فيها، وحسبه ما نقله من «العقيدة الطحاوية» ففيه الدلالة الكافية لصحَّة معتقده، وموافقته لأهل السنة والجماعة(1).

أما في الفقه فهو حنفيُّ المذهب، وذلك بحكم البيئة والنشأة، وعامَّة التركمان حنفيَّة(2)، وفي علماء المذهب جماعة مشهورة منهم، كالعلامة عثمان بن إبراهيم بن مصطفى المارديني (650 - 731 هـ)، وهو فقيه، من العارفين بالتفسير انتهت إليه رياسة الحنفية بالديار المصرية، وهو الذي قرَّظ لابن بَيْدَكِينَ على رسالته في «الفتوة»، وابناه: تاج الدين أحمد بن عثمان (681 - 744 هـ)، قاضٍ وفقيهٍ، وعلاء الدين عليٌّ (683 - 750 هـ)، قاضٍ وفقيه ومحدِّث، له: «الجوهر النقي في الردِّ على البيهقي»، ويُعرفُ ثلاثتهم بابن التركمانيِّ رحمهم الله تعالى جميعًا.

إذن؛ فلا عجبَ أن نجد ابن بَيْدَكِينَ ينسب نفسه: «الحنفيَّ»، وينقل في مواضع من كتابه (278، 313، 508، 542) عن الفقيه الحنفي الشهير

--------------------------------------------

(1) ترى د. أسماء العلواني أنَّ التركماني تعمَّد إغفال مواضع من العقيدة الطحاوية، فلم يقتبسها لأنه رآها منتقدَةً، فلم يذكر فيها مثلًا ما جاء في الطحاوية: «ولا يخرج العبد من الإيمان إلا بجحود ما أدخله فيه، والإيمان هو الإقرار باللسان والتصديق بالجنان»، وكذلك ما جاء فيها: «والإيمان واحد، وأهله في أصله سواء»، وكذلك لما جاء عند عبارة الطحاوية: «ولا نشهد لهم بالجنة .. »، استبدل بها رحمه الله قوله: «ونشهد لمن … شهد له النبي صلى الله عليه وسلم بالجنة». ونجده في موضع آخر يصرِّحُ بعقيدة أهل السنة بأن الإيمان يزيد وينقص.

(2) وإن كان في أعلامهم من ليس على المذهب الحنفي، كالإمام مؤرخ الإسلام شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان بن قايماز بن عبد الله الذهبي التركماني (673 - 748 هـ)، فقد كان شافعيَّ المذهب رحمه الله تعالى.

এবং সুন্নাহ অনুযায়ী, কোনো প্রকার বিকৃতি, অপব্যাখ্যা বা অর্থহীনকরণ ছাড়াই, এবং কোনো প্রকার উদাহরণ প্রদান, সাদৃশ্য স্থাপন বা ধরন নির্ধারণ ছাড়াই। ইবনে বায়দাকিন অত্যন্ত উত্তম কাজ করেছেন যে, তিনি তাঁর কিতাবটি আকিদাহ সংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্তসার দিয়ে সমাপ্ত করেছেন, যা তিনি ইমাম আবু জাফর তাহাবি হানাফি (মৃত্যু: ৩২১ হিজরি) এর বিখ্যাত আকিদাহ আল-তাহাবিয়া (৭৯১ - ৭৯৭) থেকে উদ্ধৃত করেছেন। আর এতে আল্লাহর আরশের উপর উঠার বিষয়টি সাব্যস্ত করা হয়েছে, মারাজিকা সম্প্রদায়ের খণ্ডন করার সময় তিনি যে ভুলের শিকার হয়েছিলেন তার বিপরীতে (৫০১ - ৫০৬)। তা যাই হোক; এগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম পথ যাতে ইবনে বায়দাকিন প্রবেশ করতে পারদর্শী নন, তবে তিনি ‘আকিদাহ তাহাবিয়া’ থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তাই যথেষ্ট, এতে তাঁর আকিদাহর সঠিকতা এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সাথে তাঁর ঐকমত্যের পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে(১)।

পক্ষান্তরে ফিকহের ক্ষেত্রে তিনি হানাফি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, যা তাঁর পরিবেশ এবং বেড়ে ওঠার কারণে হয়েছিল, আর সাধারণ তুর্কিমানগণ হানাফি ছিলেন(২)। এই মাযহাবের আলেমদের মধ্যে তাঁদের একটি বিখ্যাত দল রয়েছে, যেমন আল্লামা উসমান বিন ইব্রাহিম বিন মুস্তফা আল-মারদিনি (৬৫০ - ৭৩১ হিজরি), তিনি একজন ফকিহ ছিলেন এবং তাফসির শাস্ত্রে বিজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মিসর ভূখণ্ডে হানাফিদের নেতৃত্ব তাঁর কাছে এসে পৌঁছেছিল। তিনিই ইবনে বায়দাকিনের ‘আল-ফুতুওয়াহ’ বিষয়ক রিসালার ওপর প্রশংসা লিখেছিলেন। তাঁর দুই পুত্র: তাজউদ্দিন আহমদ বিন উসমান (৬৮১ - ৭৪৪ হিজরি), যিনি একজন কাজি ও ফকিহ ছিলেন; এবং আলাউদ্দিন আলি (৬৮৩ - ৭৫০ হিজরি), যিনি একজন কাজি, ফকিহ ও মুহাদ্দিস ছিলেন, তাঁর রচিত গ্রন্থ: ‘আল-জাওহারুন নাকি ফির রাদ্দি আলাল বাইহাকি’। তাঁদের তিনজনকে ‘ইবনে তুর্কিমানি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়, আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলের ওপর রহম করুন।

সুতরাং, এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে আমরা ইবনে বায়দাকিনকে নিজেকে ‘আল-হানাফি’ হিসেবে পরিচয় দিতে দেখি এবং তিনি তাঁর কিতাবের বিভিন্ন স্থানে (২৭৮, ৩১৩, ৫০৮, ৫৪২) প্রসিদ্ধ হানাফি ফকিহ থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেন।

--------------------------------------------

(১) ড. আসমা আল-আলওয়ানি মনে করেন যে, তুর্কিমানি আকিদাহ তাহাবিয়ার কিছু অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে গেছেন এবং সেগুলো উদ্ধৃত করেননি কারণ তিনি সেগুলোকে সমালোচিত মনে করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি তাহাবিয়াতে বর্ণিত এই অংশটি উল্লেখ করেননি: ‘বান্দা ইমান থেকে বের হয় না যতক্ষণ না সে যা তাকে প্রবেশ করিয়েছিল তা অস্বীকার করে, আর ইমান হলো মুখে স্বীকার করা এবং অন্তরে বিশ্বাস করা’। এবং একইভাবে এতে যা এসেছে: ‘ইমান এক, এবং এর অনুসারীরা এর মূলের ক্ষেত্রে সমান’। এছাড়া যখন তাহাবিয়ার এই বাক্যের ক্ষেত্রে এসেছে: ‘আমরা তাদের জন্য জান্নাতের সাক্ষ্য দেই না...’, তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এর বদলে এই কথাটি ব্যবহার করেছেন: ‘আমরা তাদের জন্য সাক্ষ্য দেই যাদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতের সাক্ষ্য দিয়েছেন’। এবং আমরা তাঁকে অন্য এক স্থানে আহলুস সুন্নাহর আকিদাহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে দেখি যে, ইমান বাড়ে এবং কমে।

(২) যদিও তাঁদের বিখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন যিনি হানাফি মাযহাবের ওপর ছিলেন না, যেমন ইসলামের ঐতিহাসিক ইমাম শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন উসমান বিন কাইমাজ বিন আব্দুল্লাহ আল-জাহাবি তুর্কিমানি (৬৭৩ - ৭৪৮ হিজরি), তিনি শাফেয়ি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।

(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ٢٨)
أبي اللَّيث السَّمرقنديِّ (ت: 373 هـ) رحمه الله، غير أنَّه غير متعصِّب لمذهبه، بل نجده ينقل من كتب الحنابلة أيضًا، كالمغني لابن قدامة (223)، والمنتقى من الأخبار في الأحكام للمجد ابن تيمية (405) في مسألة منع النساء من زيارة القبور، وخالف في ذلك الأصحَّ في مذهبه، كما خالف مذهب الحنفية وعامة الفقهاء في مسألة قراءة القرآن عند القبور (424)، ونقل عن النووي رحمه الله (779).

* * *

قد يظنُّ بعضُ الناس وبعضُ الظنِّ إثمٌ أنَّني عُنيت بتحقيق هذا الكتاب ونشره بدافعٍ قوميٍّ، لكون المؤلِّف تركمانيًّا؛ فقد ابتلي أكثر الناس في بلاد الإسلام بالنَّزعات والنَّعرات القومية والقبلية والوطنيَّة، وتغذِّي ذلك أحزاب سياسية ومخططاتُ أعداء الإسلام لتمزيق الأمة وتقطيع أوصالها، وجعلها قطعانًا يسهل تسييرها والتحكُّم فيها. ولا أحتاج إلى التكلُّف في دفع ذلك الظنِّ الفاسد فقد بيَّنت في مقدمتي الدراسية لكتاب: «الأحاديث النبوية في ذم العنصريَّة الجاهلية» للشيخ عبد السلام بن برجس آل عبد الكريم رحمه الله تعالى؛ ما يجب على المسلم من البراءة من تلك النزعات والدعوات الجاهلية لمنافتها لحقيقة الرضا بالله عز وجل ربًّا، وبالإسلام دينًا، وبمحمدٍ صلى الله عليه وسلم نبيًّا ورسولًا. وفي تلك الدراسة وما في الكتاب نفسه من الأحاديث النبوية الزاجرة عن ذلك الاعتقاد والسلوك الجاهلي؛ حجة كافية، وموعظة بليغة لمن كان يبتغي وجه الله عز وجل والدارَ الآخرة، أمَّا من غفل عن الغاية التي خلق من أجلها، والمعنى الحقيقي لحياته ووجوده، وهو أن يعبد الله تعالى وحده لا يشرك به شيئًا، كما قال ربُّنا سبحانه: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56]، وغفل عن العاقبة والمصير والحياة الحقيقية الأبدية إما إلى الجنة وإما إلى النار: {يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ * إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ} [الشعراء: 88 - 89]، ويوم لا ينفع عرقٌ ولا قومية ولا لغة ولا لون ولا جنس: {لَنْ تَنْفَعَكُمْ أَرْحَامُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَفْصِلُ بَيْنَكُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ
আবুল লাইস আস-সামারকান্দী (মৃত্যু: ৩৭৩ হি.) রহিমাহুল্লাহ, তবে তিনি স্বীয় মাযহাবের প্রতি অন্ধ পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন না, বরং আমরা তাকে হাম্বলী কিতাবসমূহ থেকেও উদ্ধৃতি দিতে দেখি, যেমন ইবনে কুদামার 'আল-মুগনী' (২২৩), এবং নারীদের কবর যিয়ারত নিষিদ্ধ হওয়ার মাসআলায় মাজদ ইবনে তাইমিয়্যাহ-র 'আল-মুন্তাকা মিনাল আখবার ফিল আহকাম' (৪০৫)। এ ক্ষেত্রে তিনি তার মাযহাবের অধিকতর বিশুদ্ধ মতের বিরোধিতা করেছেন, যেমনটি তিনি কবরস্থানে কুরআন পাঠের মাসআলায় (৪২৪) হানাফী মাযহাব ও সাধারণ ফকীহগণের বিরোধিতা করেছেন এবং আন-নাওয়াবী রহিমাহুল্লাহ (৭৭৯) থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।

* * *

কিছু মানুষ ধারণা করতে পারে—আর কিছু কিছু ধারণা তো পাপ—যে আমি এই কিতাবটির তাহকীক ও প্রকাশনার প্রতি আগ্রহী হয়েছি জাতীয়তাবাদী প্রেরণায়, কারণ লেখক ছিলেন একজন তুর্কমেনি। প্রকৃতপক্ষে মুসলিম ভূখণ্ডের অধিকাংশ মানুষ জাতীয়তাবাদী, গোত্রবাদী ও দেশাত্মবোধক চিন্তা ও স্লোগানে আক্রান্ত হয়েছে। রাজনৈতিক দলসমূহ এবং ইসলামের শত্রুদের পরিকল্পনা উম্মাহকে খণ্ডবিখণ্ড করা, তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন করা এবং তাদেরকে এমন এক পালে পরিণত করার জন্য এই বিষয়গুলোকে রসদ যোগায়, যাদেরকে পরিচালনা করা ও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। এই ভ্রান্ত ধারণা খণ্ডন করার জন্য আমার খুব বেশি পরিশ্রমের প্রয়োজন নেই, কারণ শায়খ আব্দুস সালাম বিন বারজাস আল-আব্দুল কারীম রহিমাহুল্লাহু তাআলার ‘আল-আহাদিসুন নাবাবিয়্যাহ ফী যাম্মিল আনসারিয়্যাতিল জাহিলিয়্যাহ’ (জাহিলী বর্ণবাদ নিন্দায় নববী হাদীসসমূহ) কিতাবটির জন্য আমার লিখিত গবেষণামূলক ভূমিকায় আমি বর্ণনা করেছি যে, এই ধরনের জাহিলী প্রবণতা ও আহ্বানসমূহ থেকে একজন মুসলিমের বিমুখ থাকা কতটা আবশ্যক। কেননা এগুলি মহান আল্লাহর প্রভুত্বে, দ্বীন হিসেবে ইসলামে এবং নবী ও রাসূল হিসেবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সন্তুষ্ট থাকার প্রকৃত হাকীকতের পরিপন্থী। সেই গবেষণায় এবং খোদ উক্ত কিতাবে উল্লিখিত সেই জাহিলী বিশ্বাস ও আচরণ থেকে সতর্ককারী নববী হাদীসসমূহের মধ্যে পর্যাপ্ত দলিল এবং কার্যকর উপদেশ রয়েছে সেই ব্যক্তির জন্য, যে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকাল প্রত্যাশা করে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি তার সৃষ্টির উদ্দেশ্য এবং তার জীবন ও অস্তিত্বের প্রকৃত তাৎপর্য সম্পর্কে গাফেল হয়ে গেছে—আর তা হলো তিনি মহান আল্লাহর ইবাদত করবেন একনিষ্ঠভাবে, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবেন না, যেমনটি আমাদের প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি} [আয-যারিয়াত: ৫৬], এবং সে গাফেল হয়েছে শেষ পরিণাম, গন্তব্য এবং জান্নাত বা জাহান্নামের চিরস্থায়ী প্রকৃত জীবন সম্পর্কে: {যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সে ব্যতীত যে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে সুস্থ অন্তর নিয়ে} [আশ-শুআরা: ৮৮ - ৮৯]। আর সেদিন কোনো বংশ, জাতীয়তাবাদ, ভাষা, গায়ের রঙ বা লিঙ্গ উপকারে আসবে না: {কিয়ামতের দিন তোমাদের আত্মীয়-স্বজন ও সন্তান-সন্ততি তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না, তিনি তোমাদের মাঝে ফয়সালা করে দেবেন। আর তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা।}
(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ٢٩)
بَصِيرٌ} [الممتحنة: 3]، {يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ * وَأُمِّهِ وَأَبِيهِ * وَصَاحِبَتِهِ وَبَنِيهِ * لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ يَوْمَئِذٍ شَأْنٌ يُغْنِيهِ}، والناس فريقان لا ثالث لهما، فإمَّا: {وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ مُسْفِرَةٌ * ضَاحِكَةٌ مُسْتَبْشِرَةٌ}، وهم أهل الإيمان الصحيح والعمل الصالح، وإما: {وَوُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ عَلَيْهَا غَبَرَةٌ * تَرْهَقُهَا قَتَرَةٌ * أُولَئِكَ هُمُ الْكَفَرَةُ الْفَجَرَةُ} [عبس: 34 - 42] نعوذ بالله من حالهم؛ فلا ينتفع ذلك الغافل بعلمٍ ولا موعظةٍ، أسأل الله تعالى أن يهدي قلوبنا، ويطهرها من الشرك والنفاق والرياء.

إنني أرى أنَّ اهتمامَ كلِّ قوم من الأقوام الإسلامية بلغتهم وميراثهم الإسلامي إن سلمت النيات والمقاصد أمرٌ حسنٌ، يُظهر عظمة هذا الدين الذي استوعب بسماحته وسعته ورحمته أقوامًا كثيرة مختلفة في ألسنتها وألوانها وأعراقها، فاجتمعوا على دين التوحيد أمةً واحدةً، وإخوةً مؤمنين، يتناصرون ويتراحمون ويتعاطفون، وتنعدم الفوارق بينهم كلَّما وقفوا بين يدي الله عز وجل، متَّجهين إلى قبلةٍ واحدةٍ، يدعون ربًّا واحدًا، ويقرؤون بالعربية كلامه المجيد، يسألونه الهداية إلى سلوك طريق واحد: {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ * صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ}، فلا يزيغهم عنه إلا ما يبتلون به من الجهل والغفلة أو يتلبَّسونَ به من أهواء النفس وشبهاتها وشهواتها.

نعم؛ فقد كان المجتمع الإسلامي مثالًا للتعددية القوميَّة والثَّقافيَّة، فلم يُمنَع أحدٌ من التحدُّث بلغته، ولا الالتزام بزيِّه وهيئته، ولا العيش على طريقة أسلافه؛ ما لم يكن في ذلك مخالفة لشريعة الله عز وجل، فتحقَّق فيهم قول الله تعالى: {وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا}، وصار معيار التميُّز إقامة العبودية لله عز وجل: {إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ} [الحجرات: 13]، فتسابقوا في خدمة عقيدتهم ودينهم، فكان منهم العلماء والأمراء والعبَّاد والزهَّاد والمجاهدون، بذلوا أموالهم وأنفسهم في نصرة الإسلام، وإعلاء كلمة الله عز وجل، فلا تجدُ علمًا من العلوم الشرعية والعربية، ولا ميدانًا من ميادين الجهاد والعمل والتَّضحية إلا وهم شركاءُ فيه: عربهم وعجمهم، أحمرهم وأسودهم، مشرقيِّهم ومغربيِّهم. وبذلك بارك الله في آثارهم، وأعلى
পরিদ্রষ্টা} [মুমতাহিনা: ৩], {সেদিন মানুষ পলায়ন করবে তার ভাই থেকে, তার মা ও তার পিতা থেকে, তার স্ত্রী ও তার সন্তানাদি থেকে। সেদিন তাদের প্রত্যেকের এমন অবস্থা হবে যা তাকে (অন্য সব কিছু থেকে) বিমুখ করে রাখবে।}, আর মানুষ তখন দুটি দলে বিভক্ত হবে, তৃতীয় কোনো দল নেই; হয়: {সেদিন অনেক মুখমণ্ডল হবে উজ্জ্বল, সহাস্য ও প্রফুল্ল}, আর তারা হলো বিশুদ্ধ ঈমান ও সৎকর্মের অধিকারী। অথবা: {আর সেদিন অনেক মুখমণ্ডল হবে ধূলিধূসরিত, কালিমা তাদেরকে আবৃত করে ফেলবে। এরাই তারা যারা ছিল কাফির ও পাপাচারী।} [আবাসা: ৩৪ - ৪২] আমরা তাদের অবস্থা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি; সেই গাফেল (উদাসীন) ব্যক্তি কোনো জ্ঞান বা উপদেশ দ্বারা উপকৃত হয় না। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের অন্তরসমূহকে হিদায়াত দান করেন এবং এগুলোকে শিরক, নিফাক ও রিয়া (লোকদেখানো ইবাদত) থেকে পবিত্র করেন।

আমি মনে করি যে, প্রতিটি মুসলিম জাতির নিজস্ব ভাষা এবং তাদের ইসলামি ঐতিহ্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করা একটি উত্তম বিষয়, যদি তাদের নিয়ত ও উদ্দেশ্য সঠিক থাকে। এটি এই দ্বীনের মহানুভবতা প্রকাশ করে, যা তার উদারতা, প্রশস্ততা ও রহমতের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষা, বর্ণ ও বংশের বহু জাতিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ফলে তারা তাওহীদের দ্বীনের ওপর এক উম্মত হিসেবে এবং মুমিন ভাই হিসেবে একত্রিত হয়েছে, যারা একে অপরকে সাহায্য করে, একে অপরের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শন করে। তাদের মধ্যকার ভেদাভেদ বিলুপ্ত হয়ে যায় যখনই তারা মহান আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হয়, একই কিবলার দিকে মুখ করে, একই রবের নিকট দুআ করে এবং আরবি ভাষায় তাঁর মহিমান্বিত কালাম পাঠ করে; তারা তাঁর কাছে একটি মাত্র পথে চলার হিদায়াত প্রার্থনা করে: {আমাদেরকে সরল পথ দেখান। তাঁদের পথ, যাঁদেরকে আপনি নিয়ামত দান করেছেন। তাঁদের পথ নয় যাঁরা ক্রোধভাজন এবং যারা পথভ্রষ্ট।} অজ্ঞতা ও গাফলত (উদাসীনতা) অথবা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ, সংশয় ও লালসায় নিপতিত হওয়া ছাড়া আর কোনো কিছুই তাদেরকে এই পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে না।

হ্যাঁ; ইসলামি সমাজ ছিল জাতীয় ও সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সেখানে কাউকে তার মাতৃভাষায় কথা বলতে, তার নিজস্ব পোশাক ও বেশভূষা বজায় রাখতে কিংবা তার পূর্বপুরুষদের পদ্ধতিতে জীবনযাপন করতে বাধা দেওয়া হয়নি; যতক্ষণ না তাতে মহান আল্লাহর শরীয়তের কোনো বিরোধিতা থাকত। ফলে তাদের মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীর বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে: {আমি তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো।} আর শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড সাব্যস্ত হয়েছে মহান আল্লাহর দাসত্ব (উবূদিয়াত) প্রতিষ্ঠা করা: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সেই সবচেয়ে বেশি সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।} [হুজুরাত: ১৩]। অতঃপর তারা তাদের আকিদা ও দ্বীনের খিদমতে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করতে লাগল। ফলে তাদের মধ্য থেকেই সৃষ্টি হয়েছেন আলেম, আমির, আবিদ, যাহেদ এবং মুজাহিদগণ; যারা ইসলামের সাহায্যার্থে এবং মহান আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করার জন্য তাদের সম্পদ ও জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাই আপনি শরয়ী ও আরবি জ্ঞান-বিজ্ঞানের এমন কোনো শাখা পাবেন না এবং জিহাদ, কর্ম ও আত্মত্যাগের এমন কোনো ক্ষেত্র পাবেন না যেখানে তাদের অংশগ্রহণ ছিল না—সেটা আরবরা হোক কিংবা অনারবরা, লাল (ফর্সা) হোক কিংবা কালো, প্রাচ্যের হোক কিংবা প্রতীচ্যের। আর এভাবেই আল্লাহ তাদের রেখে যাওয়া কীর্তিতে বরকত দান করেছেন এবং সেগুলোকে উচ্চমর্যাদা দান করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ٣٠)
شأنهم، وأبقَى ذِكْرَهُم، فهذه كتب التاريخ والتراجم والرجال والأنساب تزخر بسيرهم العطرة، وأخبارهم الطيبة، وأعمالهم الجليلة، وهذه مصنفاتهم في مختلف العلوم والفنون قد حفظ الله بها دينه وحجَّته على خلقه، ولو أنهم عملوا لغايات عنصرية بغيضة، أو من أجل رقعة أرض؛ إذن لطمس الله عز وجل آثارهم، ولم يكتب النفع والقبول لأعمالهم.

* * *

أتممتُ كتابةَ هذه المقدِّمة الليلةَ الماضيةَ؛ فإذا بي أُفجَع بعدَ ظُهر هذا اليوم الأربعاء (23) من شهر رجب (1433 هـ)، الموافق (13/ 6/ 2012 م)؛ بوفاة والدي الشَّيخ ملا حقِّي بن عليِّ بن غنيٍّ التُّركمانيِّ، في محلِّ مولده ونشأته وحياته: مدينة كركوك في العراق، أسأل الله تعالى بأسمائه الحسنى وصفاته العليا أن يغفر له ويرحمه، ويجعله من أهل الجنَّة والنَّعيم المقيم.

أَجِدُ بين والدي الشيخ ملا حقي والشيخ إدريس بن بيدكين رحمهما الله وغفر لهما شبهًا من وجوهٍ، منها: كونهما من التُّركمان، وطلبهما العلمَ على كبر، وعنايتهما بالقرآن الكريم، وتفقُّههما على مذهب الإمام أبي حنيفة رحمه الله، وغلبة الفقر والتواضع والانكسار عليهما، وحبهما للسنة، وبعدهما عن البدعة، وسلامتهما من بدع التصوُّف وانحرافات الفِرَق، وما كتب الله عز وجل لهما من القبول والحظوة عند النَّاس؛ لما وجدوا فيهما من الخير والصلاح ومكارم الأخلاق. ولم تكن عندهما عنايةٌ بتقييد تاريخهما وأخبارهما، وكانا يميلان إلى الخمول والسلامة أعني ترك التكلف وعدم حب الظهور والتصدر ولابن أبي الدنيا كتاب «التواضع والخمول» وقيَّدا حصيلةَ علمهما في مواعظ إصلاحيَّة، فألَّف ابن بيدكين كتابه هذا، وجمع والدي مجموعةَ خطبٍ ومواعظَ؛ نسأل الله تعالى أن ييسِّر لنا طباعتها قريبًا.

كان مولدُ أَبي رحمه الله في سنة (1351 هـ/ 1932 م) في محلَّة المصَلَّى بمدينة كركوك، ونشأ في قلعة كركوك في أسرةٍ صالحةٍ متديِّنةٍ، فقيرةِ الحال، فقد كان والدُه رحمه الله يعمل حلَّاقًا في السُّوق الكبير، ويضطر إلى العمل أحيانًا في البناء، لهذا بدأ أبناؤُه بالعمل في مقتبل عمُرِهم، فكان والدي يعمل في الخِبازَة، ويخرجُ بعد الفجر لتوزيع الخبز، فحُرِمَ الدراسةَ
তাদের মর্যাদা এবং তাদের স্মৃতিকে আল্লাহ সমুন্নত রেখেছেন। ইতিহাস, জীবনী, বর্ণনাকারী এবং বংশবিদ্যার এই গ্রন্থগুলো তাদের সুগন্ধিময় জীবনী, উত্তম সংবাদ এবং মহৎ কর্মে পরিপূর্ণ। বিভিন্ন বিজ্ঞান ও কলায় তাদের এই সকল রচনাবলির মাধ্যমেই আল্লাহ তাঁর দ্বীন এবং তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁর প্রমাণকে রক্ষা করেছেন। তারা যদি ঘৃণ্য জাতিগত উদ্দেশ্যে কিংবা একখণ্ড জমির জন্য কাজ করতেন, তবে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাদের চিহ্নসমূহ মিটিয়ে দিতেন এবং তাদের কর্মের জন্য কোনো উপকারিতা ও কবুলিয়ত দান করতেন না।

* * *

গত রাতে আমি এই ভূমিকা লেখা সম্পন্ন করেছিলাম; কিন্তু আজ বুধবার (২৩ রজব ১৪৩৩ হিজরী, মোতাবেক ১৩ জুন ২০১২ খ্রিস্টাব্দ) জোহরের পর আমার পিতা শায়খ মোল্লা হাক্কী বিন আলী বিন গনি আল-তুর্কমানির ইন্তেকালের সংবাদে আমি শোকাহত হই। তিনি ইরাকের কিরকুক শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন ও জীবন অতিবাহিত করেন। আমি আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ এবং তাঁর সুউচ্চ গুণাবলির উসিলায় তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁকে ক্ষমা করেন, তাঁর প্রতি রহম করেন এবং তাঁকে জান্নাত ও চিরস্থায়ী নিয়ামতের অধিবাসী করেন।

আমি আমার পিতা শায়খ মোল্লা হাক্কী এবং শায়খ ইদ্রিস বিন বাইদাকিন (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন ও ক্ষমা করুন) এর মধ্যে বেশ কিছু দিক থেকে সাদৃশ্য খুঁজে পাই। যেমন: তারা উভয়ই তুর্কমানি বংশোদ্ভূত ছিলেন, অধিক বয়সে ইলম অন্বেষণ শুরু করেছিলেন, পবিত্র কুরআনের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন, ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ চর্চা করতেন। তাদের মধ্যে দারিদ্র্য, বিনয় ও নম্রতার প্রভাব ছিল প্রবল। তারা সুন্নাহকে ভালোবাসতেন, বিদআত থেকে দূরে থাকতেন এবং তাসাউউফের বিদআত ও বিভিন্ন বিভ্রান্ত দলের বিচ্যুতি থেকে মুক্ত ছিলেন। আল্লাহ তাআলা মানুষের মাঝে তাদের জন্য যে গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা নির্ধারণ করেছিলেন, তা ছিল তাদের মধ্যে বিদ্যমান কল্যাণ, সততা এবং মহৎ চরিত্রের কারণে। তাদের নিজেদের ইতিহাস বা সংবাদ লিপিবদ্ধ করার প্রতি কোনো বিশেষ ভ্রূক্ষেপ ছিল না। তারা লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এবং নিরাপদ থাকাকেই পছন্দ করতেন—অর্থাৎ লৌকিকতা বর্জন এবং খ্যাতি ও নেতৃত্বের প্রতি অনীহা পোষণ করতেন। ইবন আবিদ দুনিয়ার 'আত-তাওয়াদু ওয়াল-খুমুল' (বিনয় ও নিভৃতচারিতা) নামে একটি কিতাব রয়েছে। তারা তাদের অর্জিত ইলমকে সংস্কারমূলক নসিহত হিসেবে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। ইবন বাইদাকিন তাঁর এই গ্রন্থটি রচনা করেন এবং আমার পিতা একগুচ্ছ খুতবা ও নসিহতের সংকলন তৈরি করেছিলেন; আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি শীঘ্রই সেগুলো প্রকাশের ব্যবস্থা সহজ করে দেন।

আমার পিতার (রহ.) জন্ম হয়েছিল ১৩৫১ হিজরী মোতাবেক ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে কিরকুক শহরের মুসাল্লা মহল্লায়। তিনি কিরকুক দুর্গের এক নেককার, ধর্মপ্রাণ ও দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পিতা (রহ.) বড় বাজারে নাপিতের কাজ করতেন এবং কখনো কখনো রাজমিস্ত্রির কাজ করতেও বাধ্য হতেন। এই কারণে তাঁর সন্তানরা অল্প বয়সেই কাজ শুরু করেছিলেন। আমার পিতা রুটি তৈরির কাজ করতেন এবং ফজরের পর রুটি বিতরণের জন্য বের হতেন; যার ফলে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হন।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ٣١)
النظاميَّة المبكِّرة، لكن حبَّب الله تعالى إليه طلبَ العلم، فبدأ بختم القرآن الكريم في السادسة عشرة من عمره، وفي سنة (1368 هـ/ 1949 م) انتقل إلى بغدادَ، وبدأ بحفظ القرآن الكريم على المتصدِّر للإقراء في جامع المرادية الشيخ المؤذِّن ياسين (ولم يكن الوالدُ يتذكَّر تمام اسمه ونسبه رحمه الله. فكان يعمل نهارَه في الخِبازَة، يضع المصحفَ الشرَّيف على طَرَفِ التنُّور: يخبزُ ويحفظُ، فإذا جاءَ المساء انصرف إلى شيخه، يعرض عليه تلاوته وحفظه، حتَّى أتمَّ حفظ القرآن الكريم في سنتَيْن، وحصل على الإجازة منه، وعاد إلى كركوك سنة (1954 م)، ولازم الشيخَ المقرئ ملا حَسُّون رحمه الله، فعرضَ عليه القرآنَ حفظًا وتجويدًا مرَّتين.

وقد كان أكثرُ النَّاس في تلك الأزمان في غفلةٍ وجهالةٍ بالغةٍ، وكانت البدعُ هي الغالبة على أحوالهم، فكانتْ قراءةُ القرآن الكريم صنعةً يتعلَّمُها القارئ ليقرأ في المآتم والموالد، فيطرب الناسُ لصوته من غير فهمٍ ولا تدبُّرٍ، وهكذا وجد الوالدُ نفسَه بعد تحصيله على الإجازة في التجويد والقراءات، لكن سمتْ نفسه إلى طلب العلم، والتفقُّه في الدِّين، فبدأ بالتَّعليم الدينيِّ في المساجد فدرس النحو والصرف والعقيدة والتفسير والحديث والسيرة والفقه الحنفي والفرائض وغيرها من العلوم والفنون على المشايخ المدرِّسين في مساجد المدينة، وأشهرهم: الشيخ ملا مجيد عريان، والشيخ العلامة ملا عبد المجيد القطب (ت: 1406 هـ) وقد أدركْتُه، وزرتُه مرارًا صحبةَ والدي في جامع النُّعمان بالسُّوق الكبير، وكان والدي خلال تلك المدَّة يسافر إلى بغداد كلَّ أسبوعٍ للقراءة على الشيخ عبد القادر الخطيب (ت: 1389 هـ/ 1969 م) رحمه الله، فأخذ عنه روايتَي حفصٍ وشعبةَ عن عاصمٍ، وأجازه الشيخُ ترتيلًا وحفظًا. فلمَّا تخرَّج على مشايخه، وأجازوه، عُيِّن إمامًا وخطيبًا، فبدأ بالانصراف عن القراءة في المآتم والموالد، حتَّى تركها كليًّا، رغم شدَّة لوم أقرانه وأصحابه له، واستغرابهم لاعتزاله بعدما نال من الشُّهرة والقبول لحسن صوته وجودة أدائه، ولأنَّ تلك الصَّنعةَ كانتْ مصدرَ كسب مالٍ وفيرٍ، لكنَّه كان صابرًا على حال الفقر والحاجة.

واظب الوالدُ الشيخُ رحمه الله على الإمامة والخطابة في عدَّة مساجد في
প্রাথমিক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর অন্তরে ইলম অর্জনের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিলেন। ফলে তিনি ষোলো বছর বয়সে পবিত্র কুরআন খতম করা শুরু করেন। ১৩৬৮ হিজরী (১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ) সালে তিনি বাগদাদে গমন করেন এবং মুরাদিয়া মসজিদের প্রধান ক্বারী শায়খ মুয়াজ্জিন ইয়াসীনের কাছে পবিত্র কুরআন মুখস্থ করা শুরু করেন (আমার পিতা তাঁর পূর্ণ নাম ও বংশ পরিচয় মনে করতে পারতেন না, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। তিনি দিনের বেলা রুটি তৈরির কাজ করতেন। তিনি চুল্লির পাশে পবিত্র মাসহাফ রেখে দিতেন; রুটি তৈরি করতেন আর মুখস্থ করতেন। সন্ধ্যা হলে তিনি তাঁর শায়খের কাছে যেতেন এবং নিজের তিলাওয়াত ও মুখস্থ অংশ শোনাতেন। এভাবে দুই বছরের মধ্যে তিনি পবিত্র কুরআন মুখস্থ সম্পন্ন করেন এবং তাঁর কাছ থেকে ইজাযত লাভ করেন। এরপর ১৯৫৪ সালে তিনি কিরকুকে ফিরে আসেন এবং ক্বারী শায়খ মোল্লা হাসসুন (রহ.)-এর সান্নিধ্যে থাকেন এবং তাঁর কাছে দুইবার মুখস্থ ও তাজবিদসহ পুরো কুরআন পেশ করেন।

সেই সময়ে অধিকাংশ মানুষ চরম গাফেলতি ও অজ্ঞতার মধ্যে নিমজ্জিত ছিল এবং তাদের অবস্থায় বিদআতেরই প্রাধান্য ছিল। তখন কুরআন তিলাওয়াত ছিল একটি পেশার মতো, যা ক্বারীগণ শিখতেন কেবল শোকসভা ও মিলাদ মাহফিলে পড়ার জন্য, যাতে মানুষ কোনো প্রকার বুঝ ও চিন্তা-গবেষণা ছাড়াই তাঁর কণ্ঠে মুগ্ধ হতে পারে। তাজবিদ ও কিরাআতের ইজাযত লাভের পর আমার পিতা নিজেকে এমনই এক পরিস্থিতির মাঝে খুঁজে পান। কিন্তু তাঁর মন ইলম অর্জন ও দ্বীনের গভীর জ্ঞান লাভের দিকে ধাবিত হলো। ফলে তিনি মসজিদগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ শুরু করেন। তিনি শহরের বিভিন্ন মসজিদের উস্তাদদের কাছে নাহু, সরফ, আকিদা, তাফসির, হাদিস, সিরাত, হানাফি ফিকহ, ফারায়িজ এবং অন্যান্য জ্ঞান ও শিল্পকলা অধ্যয়ন করেন। তাঁদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিলেন: শায়খ মোল্লা মাজিদ আরিয়ান এবং আল্লামা শায়খ মোল্লা আব্দুল মাজিদ আল-কুতুব (মৃত্যু: ১৪০৬ হি.)। আমি তাঁকে পেয়েছি এবং আমার পিতার সাথে বড় বাজারের নুমান মসজিদে বারবার তাঁর কাছে গিয়েছি। সেই সময়ে আমার পিতা প্রতি সপ্তাহে বাগদাদে যেতেন শায়খ আব্দুল কাদির আল-খতিব (মৃত্যু: ১৩৮৯ হি./১৯৬৯ খ্রি., আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর কাছে পড়ার জন্য। তিনি তাঁর কাছ থেকে আসেমের সূত্রে হাফস ও শু’বার রেওয়ায়েত গ্রহণ করেন এবং শায়খ তাঁকে তারতিল ও হিফজ উভয়ের ইজাযত প্রদান করেন। যখন তিনি তাঁর উস্তাদদের কাছে শিক্ষা সমাপ্ত করলেন এবং তাঁরা তাঁকে ইজাযত দিলেন, তখন তিনি ইমাম ও খতিব হিসেবে নিযুক্ত হলেন। এরপর তিনি শোকসভা ও মিলাদ মাহফিলে কিরাআত পড়া থেকে দূরে সরতে শুরু করেন, এমনকি এক পর্যায়ে তা সম্পূর্ণ বর্জন করেন। যদিও তাঁর সমসাময়িক ও সঙ্গীরা তাঁকে এ জন্য তীব্র তিরস্কার করত এবং তাঁর এই বিমুখতায় তারা বিস্ময় প্রকাশ করত; কারণ তাঁর সুকণ্ঠ ও সুন্দর তিলাওয়াতের জন্য তিনি ব্যাপক খ্যাতি ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছিলেন এবং এই পেশাটি প্রচুর অর্থ উপার্জনের উৎস ছিল। তবে তিনি দারিদ্র্য ও অভাবের ওপর ধৈর্য ধারণ করেছিলেন।

আমার পিতা শায়খ (রহ.) বেশ কিছু মসজিদে ইমামতি ও খুতবা প্রদানের কাজে নিয়মিত নিযুক্ত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাউ ফিল হাওয়াদিসি ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ٣٢)
المدينة العتيقة، إلى أن نقل سنة (1960 م) إلى جامع الحاج إبراهيم بك التِّكريتيِّ، وفي التاسع عشر من شهر محرَّم الحرام سنة (1387 هـ)، الموافق للتاسع والعشرين من شهر نيسان سنة (1967 م) صدر المرسومُ الجمهوريُّ عن رئيس الجمهورية يومئذٍ الفريق عبد الرحمن محمد عارف؛ بتوجيه جهة الإمامة والخطابة في جامع كركوك الكبير إلى والدي رحمه الله. وما زلنا نحتفظ بالنسخة الأصلية لذلك المرسوم، وله أهميته ودلالته، فإنَّ منصب الإمامة والخطابة في مسجد المدينة الجامع نيابةٌ عن وليِّ الأمر، ورغمَ علمانيَّة الدولة؛ فإنَّ ذلك الإجراء بقي في هيكل الدَّولة، وهو ممَّا ورثه النظام الجمهوري عن النظام الملكي، وورثه الأخيرُ من تنظيمات الدولة في العهد العثمانيِّ. وفي سنة (1980 م) انتقل الوالد إلى جامع اليرموك، حتَّى أحيل إلى التقاعد سنة (1997 م)، واستمرَّ في الخطابة في مساجد المدينة؛ حتَّى أقعده المرضُ، رحمه الله تعالى وغفر له.

كان الوالدُ الشيخُ هادئ الطبع، كريم النفس، صبورًا عفيفًا، بعيدًا عن القيل والقال، لم نسمع منه في بيته أو مجلسه كلمةَ فحشٍ أو سبٍّ أو تنقُّص من أحدٍ، كان مسلمًا مسالمًا، قد سلم النَّاسُ من لسانه ويده، وأَمِنُوا بوائقَه، واطمئنُّوا إلى أخلاقه واستقامته، وأقرُّوا بفضله ونُبْله، وعلموا أنَّه غير منافسٍ لهم في دنياهم، ولا راغبٍ في جاههم، ولا ناظرٍ إلى أموالهم؛ فأحبُّوه واحترموه وأجلُّوه، ورأوا فيه القدوة الصالحة، ونموذج الشيخ الصادق؛ فهو كثير الصَّمت، عفيف اللسان، طاهر الأثواب، رفيع الأخلاق، مع تديُّنٍ وصلاحٍ، وثباتٍ على وجهةٍ واحدةٍ، رغم تقلُّب الأحوال وتتابع الابتلاءات والفتن، فقد ابتلي في نفسه بالأمراض الكثيرة منذ كهولته، وابتلي في أبنائه بمرض أربعةٍ منهم بمرض نزف الدَّم الوراثي (الهيموفيليا)، هذا مع قصر ذات اليد، وانتفاء أسباب العلاج والراحة، فكان يشكو حاله إلى الله عز وجل، ولا ينزل حوائجه بالنَّاس.

أما خطبه يوم الجمعة فقد كانت مقصد المصلين من جميع فئات المجتمع، خاصة الشباب، فيمتلئ بهم المسجد الكبير وملحقاته، وكان يتقنُ إعداد خطبته، ويُحسن اختيار موضوعاتها، ويجوِّد إلقاءها، فكانت مدرسة
পুরাতন শহর, ১৯৬০ সাল পর্যন্ত, যখন তাঁকে আল-হাজ ইব্রাহিম বেক আত-তিকরিতি জামে মসজিদে স্থানান্তরিত করা হয়। এরপর ১৩৮৭ হিজরি সনের ১৯শে মহররমুল হারাম, যা ১৯৬৭ সালের ২৯শে এপ্রিলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ফিল্ড মার্শাল আবদুর রহমান মুহাম্মদ আরিফের পক্ষ থেকে একটি রাষ্ট্রপতি ডিক্রি জারি করা হয়; যাতে আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-কে কিরকুক গ্র্যান্ড মসজিদের ইমামতি ও খুতবা প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। আমরা আজও সেই ডিক্রির মূল কপিটি সংরক্ষণ করছি, যার রয়েছে নিজস্ব গুরুত্ব ও তাৎপর্য। কেননা শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইমামতি ও খুতবা প্রদানের পদটি মূলত রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতিনিধিত্বের সমতুল্য। রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতা সত্ত্বেও এই প্রক্রিয়াটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে রয়ে গিয়েছিল। এটি এমন এক বিষয় যা প্রজাতন্ত্র পদ্ধতি রাজতন্ত্র থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিল এবং রাজতন্ত্র এটি উসমানীয় আমলের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাঠামো থেকে লাভ করেছিল। ১৯৮০ সালে পিতা ইয়ারমুক জামে মসজিদে স্থানান্তরিত হন এবং ১৯৯৭ সালে অবসর গ্রহণের আগ পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন। তিনি শহরের বিভিন্ন মসজিদে খুতবা প্রদান অব্যাহত রেখেছিলেন, যতক্ষণ না অসুস্থতা তাঁকে অক্ষম করে ফেলে। মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে ক্ষমা করুন।

পিতা শায়খ শান্ত স্বভাবের, উদার হৃদয়ের, ধৈর্যশীল ও পবিত্র চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি অনর্থক কথাবার্তা থেকে দূরে থাকতেন। আমরা তাঁর ঘরে বা মজলিসে কখনো কোনো অশ্লীল শব্দ, গালিগালাজ বা কাউকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে শুনিনি। তিনি ছিলেন একজন শান্তিপ্রিয় মুসলিম, যাঁর জিহ্বা ও হাত থেকে মানুষ নিরাপদ ছিল। লোকেরা তাঁর অনিষ্ট থেকে নির্ভয় থাকত এবং তাঁর চরিত্র ও সততার ওপর আস্থাশীল ছিল। তারা তাঁর মর্যাদা ও মহানুভবতাকে স্বীকার করত। তারা জানত যে তিনি তাদের দুনিয়াবি বিষয়ে কোনো প্রতিযোগী নন, তাদের পদমর্যাদার প্রতিও তাঁর কোনো লালসা নেই এবং তাদের ধন-সম্পদের দিকেও তিনি দৃষ্টিপাত করেন না। তাই তারা তাঁকে ভালোবাসত, সম্মান করত এবং শ্রদ্ধা করত। তারা তাঁর মাঝে এক সৎ আদর্শ এবং একজন সত্যনিষ্ঠ শায়খের নমুনা দেখতে পেত। তিনি ছিলেন অত্যন্ত নীরব, সংযতভাষী, পবিত্র পোশাকধারী এবং উচ্চ নৈতিকতাসম্পন্ন। এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন ধার্মিক ও নেককার। পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং একের পর এক পরীক্ষা ও ফিতনার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজ আদর্শে অবিচল ছিলেন। বার্ধক্যকাল থেকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনেক রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে চারজন বংশগত রক্তক্ষরণজনিত ব্যাধি (হিমোফিলিয়া)-তে আক্রান্ত হয়ে পরীক্ষার সম্মুখীন হন। এর সাথে ছিল আর্থিক অস্বচ্ছলতা এবং চিকিৎসা ও বিশ্রামের উপকরণের অভাব। এতদসত্ত্বেও তিনি মহান আল্লাহর নিকট নিজের অভিযোগ পেশ করতেন এবং মানুষের কাছে নিজ প্রয়োজনের কথা প্রকাশ করতেন না।

তাঁর জুমার খুতবাগুলো ছিল সমাজের সর্বস্তরের মানুষের, বিশেষ করে যুবকদের গন্তব্যস্থল। ফলে বিশাল মসজিদ ও এর সংলগ্ন এলাকা মুসুল্লিদের দ্বারা পূর্ণ হয়ে যেত। তিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে খুতবা প্রস্তুত করতেন, চমৎকারভাবে বিষয় নির্বাচন করতেন এবং সাবলীলভাবে তা প্রদান করতেন। ফলে তাঁর খুতবা ছিল একটি পাঠশালাস্বরূপ।