(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: -)
المختصر من دروس رمضان والعشر القسم: مسائل فقهية
الكتاب: المختصر من دروس رمضان والعشر
المؤلف: د أمين بن عبد الله الشقاوي
الناشر: (المؤلف)
الطبعة: الثانية، 1445 هـ - 2024 م
عدد الصفحات: 124
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 رمضان 1446
রমজান ও শেষ দশকের পাঠের সংক্ষিপ্তসার বিভাগ: ফিকহি মাসায়েল
গ্রন্থ: রমজান ও শেষ দশকের পাঠের সংক্ষিপ্তসার
লেখক: ড. আমিন বিন আব্দুল্লাহ আশ-শাকাবি
প্রকাশক: (লেখক)
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪৪৫ হিজরী - ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১ রমজান ১৪৪৬
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الْحَمْد لِلَّهِ نحمده ونَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا، وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عمران: 102] {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء: 1] {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [الأحزاب: 70: 71]
أما بعد، فإن خير الحديث كتاب الله وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة.
فهذا كتابي المختصر في دروس رمضان وملحق به فضائل عشر ذي الحجة، وقد ألفت في هذا الباب كتبا ورسائل كثيرة ورغبة مني أن أكون مع هذا الركب المبارك لا سيما أن هذا الموضوع هو الذي لا يزال يقرأ في الكتب في رمضان في المساجد وغيرها وهذا الذي حملني على جمع هذا المختصر وإلا فإن فضل من
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (১০২)} [আলে ইমরান: ১০২] {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন (বিচ্ছিন্ন করা) থেকে বেঁচে থাকো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক। (১)} [নিসা: ১] {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে। (৭১)} [আহযাব: ৭০: ৭১]
অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সা.)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ; আর প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই বিদআত (بدعة) এবং প্রতিটি বিদআতই (بدعة) পথভ্রষ্টতা (ضلالة)।
এটি রমজানের দরস সংক্রান্ত আমার একটি সংক্ষিপ্ত (مختصر) গ্রন্থ এবং এর সাথে জিলহজ মাসের দশ দিনের ফজিলত সংযুক্ত করা হয়েছে। এই বিষয়ে আমি ইতিপূর্বে অনেক কিতাব ও ছোট পুস্তিকা (رسالة) রচনা করেছি। আমার আকাঙ্ক্ষা হলো যেন আমি এই বরকতময় কাফেলার সাথে থাকতে পারি, বিশেষ করে এই বিষয়টিই রমজানে মসজিদ ও অন্যান্য স্থানে কিতাবাদি থেকে পঠিত হয়ে থাকে। আর এটিই আমাকে এই সংক্ষিপ্ত (مختصر) সংকলনটি প্রস্তুত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, নতুবা যারা...
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ৬)
سبقني إلى الكتابة في هذا الموضوع ظاهر لا يخفى وقد اجتهدت أن يكون على هذا النحو
أولا: الاختصار، والغرض من ذلك أمور، منها:
1 - إسماع المصلين أو أكثرهم.
2 - ترك مجال للقارئ للشرح والتعليق.
ثانيا: تجنب المسائل الاجتهادية وترك هذا الاجتهاد للقارئ من أئمة المساجد وغيرهم.
ثالثا: ختمت كل درس ببعض الأسئلة المتعلقة به؛ ليحصل التفاعل أو ليحصل التذاكر بين القارئ والمستمع، وذلك أحرى بثبات المسألة واستذكارها.
هذا، وأسأل الله الكريم أن يعفو عن التقصير والزلل وأن ينفع به كاتبه وقارئه وسامعه
إنه سميع مجيب.
المؤلف
الرياض 17/ 6/ 1444 هـ
এই বিষয়ে আমার পূর্বেও অনেকে লিখেছেন, যা অত্যন্ত স্পষ্ট; আর আমি একে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করার চেষ্টা করেছি:
প্রথমত: সংক্ষেপণ, আর এর পেছনে কয়েকটি উদ্দেশ্য রয়েছে, যার মধ্যে আছে:
১ - মুসল্লিদের বা তাদের অধিকাংশকে শোনানো।
২ - পাঠকারীর জন্য ব্যাখ্যা ও পর্যালোচনার সুযোগ রাখা।
দ্বিতীয়ত: গবেষণালব্ধ (اجتهادية) মাসআলাসমূহ এড়িয়ে চলা এবং এই গবেষণার (اجتهاد) বিষয়টি মসজিদের ইমাম ও অন্যান্য পাঠকদের ওপর ছেড়ে দেওয়া।
তৃতীয়ত: আমি প্রতিটি পাঠকে সংশ্লিষ্ট কিছু প্রশ্নের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি; যাতে পাঠক ও শ্রোতার মধ্যে মিথস্ক্রিয়া অথবা পারস্পরিক আলোচনা তৈরি হয়, যা বিষয়টি সুদৃঢ় হওয়া ও স্মরণে রাখার জন্য অধিক উপযোগী।
পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার ত্রুটি-বিচ্যুতি ও স্খলন ক্ষমা করেন এবং এর লেখক, পাঠক ও শ্রোতাকে এর দ্বারা উপকৃত করেন।
নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।
লেখক
রিয়াদ ১৭/ ০৬/ ১৪৪৪ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ৭)
الدرس الأول
من
فضائل شهر رمضان ووجوب صيامه رقم (1)
الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده
لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، وبعد ..
قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ (183)} [سورة البقرة، الآية رقم: 183].
روى الإمامان البخاري ومسلم من حديث ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «بُنِي الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالْحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ»
(1).
فالصيام أحد أركان الإسلام ومبانيه العظام؛ ولأنه لا غنى لأمة من الأمم عنه، فقد أخبر سبحانه أنه فرضه على جميع الأمم، ولما فيه من تهذيب الأخلاق، وتطهير النفوس، وحملها على الصبر الذي لا يستقيم لأحد من الخلق أمر من أمور الدنيا والآخرة إلا به، ورأس هذه الأمور كلها التقوى الذي جعل ربنا سبحانه الصيام سببا لنيلها فقال {لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ}.
وفرض صيام رمضان في السنة الثانية من الهجرة، فصام رسول الله صلى الله عليه وسلم تسع سنين، وكان النبي صلى الله عليه وسلم يبشر أصحابه بقدوم رمضان، فروى الإمام أحمد في مسنده من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: لما حضر رمضان قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «قَدْ جَاءَكُمْ رَمَضَانُ، شَهْرٌ مُبَارَكٌ، افْتَرَضَ اللهُ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ، تُفْتَحُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، وَتُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ، وَتُغَلُّ فِيهِ الشَّيَاطِينُ، فِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ، مَنْ حُرِمَ خَيْرَهَا،
--------------------------------------------
প্রথম পাঠ
রমজান মাসের
ফজিলত এবং এর রোজা ফরজ হওয়া সংক্রান্ত (১)
যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই,
তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর...
মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার (১৮৩)} [সূরা আল-বাকারা, আয়াত নং: ১৮৩]।
ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; সালাত কায়েম করা; জাকাত প্রদান করা; হজ সম্পাদন করা এবং রমজানের রোজা রাখা»
(১)।
সুতরাং রোজা ইসলামের অন্যতম রুকন এবং এর মহান ভিত্তিগুলোর একটি; যেহেতু কোনো উম্মতের জন্যই এটি অপরিহার্য, তাই মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তা সকল উম্মতের ওপর ফরজ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে চারিত্রিক পরিশুদ্ধি, আত্মার পবিত্রতা এবং ধৈর্যের প্রশিক্ষণ, যা ছাড়া কোনো সৃষ্টির পক্ষেই দুনিয়া ও আখেরাতের কোনো বিষয় সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়। আর এই সকল বিষয়ের মূল হলো তাকওয়া, যাকে আমাদের প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলা রোজা পালনের উদ্দেশ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেন: {যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার}।
হিজরির দ্বিতীয় বর্ষে রমজানের রোজা ফরজ করা হয়। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয় বছর রোজা পালন করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের রমজানের আগমনে সুসংবাদ দিতেন। ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ-এ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন রমজান মাস উপস্থিত হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমাদের নিকট রমজান এসেছে, এটি একটি বরকতময় মাস। আল্লাহ তোমাদের ওপর এর রোজা ফরজ করেছেন। এতে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়। এতে এমন এক রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ৮)
فَقَدْ حُرِمَ»
(1).
فينبغي للمؤمن أن يفرح بقدوم هذا الشهر، وما فيه من الخير والفضل العظيم وأن يصومه إيماناً واحتساباً.
اللهم كما بلغتنا رمضان، فأعنا على صيامه وقيامه، واجعلنا فيه من المقبولين،
ومن عتقائك من النار.
والحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
الأسئلة:
1 - اذكر النصوص الشرعية التي تدل على وجوب صيام رمضان.
2 - متى فرض صيام رمضان؟
3 - كم عدد السنين التي صام فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم رمضان؟
4 - هل فرض الصيام على أمة محمد صلى الله عليه وسلم فقط؟ مع ذكر الدليل.
5 - ما هي الحكمة في فرض الصيام على جميع الأمم؟
--------------------------------------------
সে অবশ্যই বঞ্চিত হলো।»
(১).
অতএব মুমিনের উচিত এই মাসের আগমনে এবং এতে যে কল্যাণ ও সুমহান ফযিলত রয়েছে তাতে আনন্দিত হওয়া এবং ঈমান ও সওয়াবের আশায় এই মাসে রোজা রাখা।
হে আল্লাহ! যেভাবে আপনি আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন, সেভাবে আমাদের এর রোজা পালন ও কিয়াম (সালাত) আদায়ের তৌফিক দান করুন এবং আমাদের এই মাসে কবুলকৃতদের অন্তর্ভুক্ত করুন,
এবং জাহান্নাম থেকে আপনার মুক্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর।
প্রশ্নাবলি:
১ - রমজানের রোজা ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ বহনকারী শরয়ি দলীলসমূহ উল্লেখ করুন।
২ - রমজানের রোজা কখন ফরয করা হয়েছে?
৩ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কত বছর রমজানের রোজা রেখেছেন?
৪ - রোজা কি কেবল উম্মতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ফরয করা হয়েছে? দলীলসহ উল্লেখ করুন।
৫ - সকল উম্মতের ওপর রোজা ফরয করার হিকমত (রহস্য) কী?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ৯)
الدرس الثانيمن فضائل شهر رمضان رقم (2)الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده
لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، وبعد ..
فإن الخالق لجميع المخلوقات جل وعلا قد فضَّل بعضها على بعض، واختار منها ما شاء، فخلق الناس واختار منهم الأنبياء، وخلق الأماكن واختار منها المساجد، وخلق الشهور واختار منها رمضان، قال تعالى: {وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ مَا كَانَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ سُبْحَانَ اللَّهِ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ (68)} [سورة القصص، الآية رقم: 68].
وهذا «الشهر» قد خصَّه الله عز وجل بخصائص، من أعظمها وأجلها أن الله تعالى أنزل فيه القرآن العظيم هدًى للناس وبينات، قال تعالى: {شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ (185)} [سورة البقرة، الآية رقم: 185].
قال بعض أهل العلم: إن الله تبارك وتعالى عقَّب بالفاء السببية التي تفيد التعليل؛ ليبين أن سبب اختيار رمضان ليكون شهر الصوم هو إنزال القرآن فيه، قال تعالى: {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ (1)} [سورة القدر، الآية رقم: 1].
قال ابن كثير رحمه الله: يمدح تعالى شهر الصيام من بين سائر الشهور، بأن اختاره من بينهن لإنزال القرآن العظيم فيه
(1).
ومنها: أنه تفتح فيه أبواب الجنان، وتغلق فيه أبواب النيران، روى البخاري
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পাঠরমজান মাসের ফজিলতসমূহ থেকে (২)সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই,
তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর...
নিশ্চয়ই সকল সৃষ্টির স্রষ্টা মহান আল্লাহ তাদের কতককে কতকের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং তাদের মধ্য থেকে যা ইচ্ছা পছন্দ করেছেন। তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের মধ্য থেকে নবীদের মনোনীত করেছেন, স্থানসমূহ সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের মধ্য থেকে মসজিদসমূহকে মনোনীত করেছেন, আর মাসসমূহ সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের মধ্য থেকে রমজানকে মনোনীত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আপনার প্রতিপালক যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং পছন্দ করেন, তাদের কোনো এখতিয়ার নেই। আল্লাহ পবিত্র এবং তারা যাকে শরিক করে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে (৬৮)} [সূরা আল-কাসাস, আয়াত নম্বর: ৬৮]।
আর এই «মাসটিকে» আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মহান বৈশিষ্ট্য হলো আল্লাহ তাআলা এতে মানুষের হেদায়েত ও সুস্পষ্ট প্রমাণের জন্য মহান কুরআন নাযিল করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {রমজান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হেদায়েতস্বরূপ এবং হেদায়েত ও (সত্য-মিথ্যার) পার্থক্যের সুস্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস প্রত্যক্ষ করে, সে যেন তাতে রোজা রাখে। আর যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকে অথবা সফরে থাকে, তাকে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান এবং তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না। আর যেন তোমরা নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করতে পারো এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার জন্য আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো এবং যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো (১৮৫)} [সূরা আল-বাকারা, আয়াত নম্বর: ১৮৫]।
কোনো কোনো আলেম বলেছেন: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা এখানে 'ফা-য়ে সাবাবিয়্যাহ' (সাবব বা কারণ নির্দেশক ফা) ব্যবহার করেছেন যা হেতুবর্ণনা (تعليل) প্রকাশ করে; যাতে এটি স্পষ্ট হয় যে, রমজানকে সিয়ামের মাস হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ হলো এতে কুরআন নাযিল করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আমি এটি কদরের রাতে নাযিল করেছি (১)} [সূরা আল-কদর, আয়াত নম্বর: ১]।
ইবনে কাসির (রহ.) বলেন: মহান আল্লাহ সকল মাসের মধ্য থেকে সিয়ামের মাসের প্রশংসা করেছেন, যেহেতু তিনি একে মহান কুরআন নাযিলের জন্য মনোনীত করেছেন
(১)।
অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে: এতে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বুখারি বর্ণনা করেছেন (روى)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ১০)
ومسلم في صحيحيهما من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إِذَا دَخَلَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ، وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ»
(1). وهذا فضل عظيم خص الله به هذا الشهر من بين سائر الشهور فلا تفوتنك يا عبد الله هذه الفضائل.
ومنها: أن فيه ليلة خير من ألف شهر، كما قال تعالى: {وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ (2) لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ (3)} [سورة القدر، الآية رقم: 2 - 3]. روى البخاري ومسلم في صحيحيهما من حديث أبي هريرة رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
(2).
والمقصود من هذه الخيرية أن العمل الصالح في هذه الليلة أفضل من العمل ألف شهر.
اللهم ارزقنا الإخلاص في القول والعمل، وأعنا على ذكرك وشكرك وحسن عبادتك، ربنا تقبل منا إنك أنت السميع العليم، واغفر لنا إنك أنت الغفور الرحيم.
والحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
الأسئلة:
1 - اذكر بعض خصائص شهر رمضان.
2 - لماذا خص الله رمضان بإنزال القرآن فيه؟
3 - ما (معنى ليلة القدر خير من ألف شهر)؟
4 - لماذا تسلسل الشياطين في رمضان؟
--------------------------------------------
বুখারি ও মুসলিম তাদের উভয় সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “যখন রমজান প্রবেশ করে, জান্নাতের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দ্বারসমূহ রুদ্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়।”
(১) এটি একটি মহান ফযিলত যা আল্লাহ এই মাসকে অন্যান্য সকল মাসের মাঝে বিশেষভাবে দান করেছেন; অতএব হে আল্লাহর বান্দা, তুমি এই ফযিলতগুলো হাতছাড়া করো না।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: এতে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কী? (২) লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম (৩)} [সুরা আল-কদর, আয়াত নং: ২-৩]। বুখারি ও মুসলিম তাদের উভয় সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম (ইবাদতের জন্য দণ্ডায়মান) করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।”
(২)এই শ্রেষ্ঠত্বের উদ্দেশ্য হলো এই রাতে নেক আমল করা হাজার মাস আমল করার চেয়েও উত্তম।
হে আল্লাহ! আমাদের কথা ও কাজে ইখলাস (একনিষ্ঠতা) দান করুন, এবং আমাদের আপনার জিকির, শোকর ও উত্তম ইবাদত পালনে সাহায্য করুন। হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। আর আমাদের ক্ষমা করুন, নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
আর সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাথীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
প্রশ্নসমূহ:
১ - রমজান মাসের কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করুন।
২ - আল্লাহ কেন রমজান মাসকে এতে কুরআন নাজিল করার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন?
৩ - (লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম)—এর অর্থ কী?
৪ - রমজানে কেন শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ১১)
الدرس الثالثمن فضائل شهر رمضان رقم (3)الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، وبعد ..
فاستكمالاً للحديث عن فضائل شهر رمضان فمن ذلك:
استجابة الدعاء والعتق من النار، فقد روى الإمام أحمد في مسنده من حديث أبي هريرة أو عن أبي سعيد رضي الله عنهما شك الراوي- أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إِنَّ لِلَّهِ عُتَقَاءَ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ، لِكُلِّ عَبْدٍ مِنْهُمْ دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ»
(1).
وروى الإمام أحمد في مسنده من حديث أبي أمامة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن لله عند كل فطر عتقاء»
(2).
ومنها: أن خلوف فم الصائم أطيب عند الله من ريح المسك، روى البخاري ومسلم في صحيحيهما من حديث أبي هريرة رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ، الْحَسَنَةُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِئَةِ ضِعْفٍ، قَالَ اللهُ عز وجل: إِلاَّ الصَّوْمَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي، لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ: فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ، وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ. وَلَخُلُوفُ فِيهِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ»
(3).
ومنها: فضل الاعتمار فيه: روى البخاري ومسلم في صحيحيهما من حديث ابن عباس رضي الله عنهما: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لاِمْرَأَةٍ مِنَ الأَنْصَارِ يُقَالُ لَهَا أُمُّ سِنَانٍ: «مَا مَنَعَكِ أَنْ تَكُونِي حَجَجْتِ مَعَنَا؟». قَالَتْ: نَاضِحَانِ كَانَا لأَبِي فُلَانٍ - زَوْجِهَا - حَجَّ هُوَ وَابْنُهُ عَلَى أَحَدِهِمَا،
--------------------------------------------
তৃতীয় পাঠরমজান মাসের ফজিলতসমূহ থেকে, নং (৩)সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। অতঃপর...
রমজান মাসের ফজিলত সম্পর্কে আলোচনার ধারাবাহিকতায় এর মধ্যে রয়েছে:
দোয়া কবুল হওয়া এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি। ইমাম আহমাদ তাঁর Musnad-এ আবু হুরায়রা অথবা আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন - বর্ণনাকারী (রাবি) সন্দেহ করেছেন - যে নবী (সা.) বলেছেন: «নিশ্চয়ই প্রত্যেক দিন ও রাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে (জাহান্নাম থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি রয়েছে। তাদের প্রত্যেক বান্দার জন্য রয়েছে একটি কবুল হওয়া দোয়া (دعوة مستجابة)»
(১)।
ইমাম আহমাদ তাঁর Musnad-এ আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে নবী (সা.) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট প্রতিটি ইফতারের সময় (জাহান্নাম থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি রয়েছে»
(২)।
আরও একটি ফজিলত হলো: রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক প্রিয়। বুখারি ও মুসলিম তাঁদের সহিহদ্বয়ে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে নবী (সা.) বলেছেন: «আদম সন্তানের প্রতিটি আমল বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়। প্রতিটি নেকি দশ গুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। মহান আল্লাহ বলেন: তবে রোজা ব্যতীত, কেননা তা কেবল আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব। সে আমার সন্তুষ্টির জন্য তার প্রবৃত্তি ও খাদ্য বর্জন করে। রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ: একটি তার ইফতারের সময় এবং অন্যটি তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়। আর রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক প্রিয়»
(৩)।
এর মধ্যে আরও রয়েছে: এই মাসে উমরা করার ফজিলত। বুখারি ও মুসলিম তাঁদের সহিহদ্বয়ে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে নবী (সা.) উম্মে সিনান নামক জনৈকা আনসারি নারীকে বলেছিলেন: «আমাদের সাথে হজ্জ করতে তোমার কিসে বাধা দিয়েছিল?». তিনি বললেন: আমাদের (অর্থাৎ আবু অমুকের - তাঁর স্বামী) দুটি পানি বহনকারী উট ছিল, যার একটিতে করে তিনি ও তাঁর পুত্র হজ্জে গিয়েছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ১২)
وَكَانَ الآخَرُ يَسْقِي عَلَيْهِ غُلَامُنَا. قَالَ: «فَعُمْرَةٌ فِي رَمَضَانَ تَقْضِي حَجَّةً، أَوْ حَجَّةً مَعِي»
(1)(2).
ومنها: تكفير الخطايا والسيئات، روى ابن حبان في صحيحه من حديث مالك بن الحسن بن مالك بن الحويرث عن أبيه عن جده قال: صَعِدَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم المِنبَرَ، فَلَمَّا رَقِيَ عَتَبَةً قَالَ: «آمِينَ» ثُمَّ رَقِيَ عَتَبَةً أُخرَى فَقَالَ: «آمِينَ»، ثُمَّ رَقِيَ عَتَبَةً ثَالِثَةً، فَقَالَ: «آمِينَ»، ثُمَّ قَالَ: «أَتَانِي جِبرِيلُ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَنْ أَدرَكَ رَمَضَانَ فَلَم يُغفَر لَهُ فَأَبعَدَهُ اللهُ، قُلتُ: آمِينَ، قَالَ: وَمَنْ أَدرَكَ وَالِدَيهِ أَوْ أَحَدَهُمَا فَدَخَلَ النَّارَ فَأَبعَدَهُ اللهُ، قُلتُ: آمِينَ، فَقَالَ: وَمَنْ ذُكِرتَ عِندَهُ فَلَم يُصَلِّ عَلَيكَ فَأَبعَدَهُ اللهُ، قُلْ: آمِينَ، فَقُلتُ: آمِينَ»
(3).
وروى البخاري ومسلم في صحيحيهما من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
(4).
ومعنى: «إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا» أي: مصدقًا بفرضية الصيام، وراغبًا في ثوابه، طيبة نفسه بالصيام، غير كاره لصيامه ولا مستثقل لقيامه.
ومنها: أن من صام رمضان وأدى الفرائض الأخرى كان من الصديقين والشهداء، فروى ابن حبان في صحيحه من حديث عمرو بن مرة الجهني رضي الله عنه قال: جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ إِنْ شَهِدْتُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ، وَصَلَّيْتُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ، وَأَدَّيْتُ الزَّكَاةَ، وَصُمْتُ رَمَضَانَ وَقُمْتُهُ،
فممن أنا؟ قال: «من الصديقين والشهداء»
(5).
--------------------------------------------
এবং অপরটি দ্বারা আমাদের গোলাম পানি সেচ করত। তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বললেন: «রমজানে উমরা আদায় করা একটি হজের সমতুল্য, অথবা আমার সাথে হজ করার সমতুল্য»
(১)(২)।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: পাপ ও মন্দ কাজসমূহ মোচন হওয়া। ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে মালিক বিন আল-হাসান বিন মালিক বিন আল-হুয়াইরিস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ মিম্বারে আরোহণ করলেন। যখন তিনি প্রথম ধাপে উঠলেন তখন বললেন: «আমিন»। তারপর দ্বিতীয় ধাপে উঠলেন এবং বললেন: «আমিন»। তারপর তৃতীয় ধাপে উঠলেন এবং বললেন: «আমিন»। এরপর তিনি বললেন: «জিবরীল আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না, আল্লাহ তাকে (রহমত থেকে) দূর করে দিন। আমি বললাম: আমিন। তিনি বললেন: যে ব্যক্তি তার পিতামাতাকে অথবা তাদের কোনো একজনকে বার্ধক্যে পেল, অতঃপর (তাদের সেবা না করে) জাহান্নামে প্রবেশ করল, আল্লাহ তাকে দূর করে দিন। আমি বললাম: আমিন। তিনি বললেন: যার নিকট আপনার আলোচনা করা হলো অথচ সে আপনার ওপর দরুদ পাঠ করল না, আল্লাহ তাকে দূর করে দিন; আপনি বলুন: আমিন। তখন আমি বললাম: আমিন»
(৩)।
ইমাম বুখারি ও মুসলিম তাঁদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: «যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে»
(৪)।
«ঈমান ও সওয়াবের আশায় (ইমানান ওয়া ইহতিসাবান)» কথাটির অর্থ হলো: রোজার আবশ্যকতাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, এর প্রতিদানের আকাঙ্ক্ষা রেখে, স্বাচ্ছন্দ্যচিত্তে রোজা পালন করা; রোজা পালনকে অপছন্দ না করা এবং এর কিয়ামকে (রাতের সালাত) কষ্টকর মনে না করা।
এর আরেকটি ফজিলত হলো: যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখবে এবং অন্যান্য ফরজসমূহ আদায় করবে, সে সত্যবাদী ও শহীদদের অন্তর্ভুক্ত হবে। ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে আমর বিন মুররা আল-জুহানি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী ﷺ-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার অভিমত কী, যদি আমি সাক্ষ্য দেই যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল, আর আমি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করি, জাকাত প্রদান করি এবং রমজানের রোজা রাখি ও কিয়াম (রাতের সালাত) পালন করি,
তবে আমি কাদের অন্তর্ভুক্ত হব? তিনি বললেন: «সত্যবাদী এবং শহীদদের অন্তর্ভুক্ত»
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
اللهم أحينا حياة طيبة، وارزقنا حسن العاقبة إنك جواد كريم.
والحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
الأسئلة:
1 - اذكر بعضاً من فضائل رمضان.
2 - ما هو الفضل الوارد في العمرة في رمضان؟.
3 - ما معنى إيماناً واحتساباً؟
4 - من صام رمضان وأدى الفرائض فما له من الأجر؟
হে আল্লাহ! আমাদের পবিত্র জীবন দান করুন এবং আমাদের উত্তম পরিণতি দান করুন; নিশ্চয়ই আপনি মহান দাতা ও দয়ালু।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীগণের ওপর।
প্রশ্নসমূহ:
১ - রমজানের কতিপয় ফজিলত উল্লেখ করুন।
২ - রমজানে উমরাহ করার ব্যাপারে কী ফজিলত বর্ণিত হয়েছে?
৩ - ঈমানসহ (إيماناً) এবং সওয়াবের প্রত্যাশায় (احتساباً) কথাটির অর্থ কী?
৪ - যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল এবং ফরজসমূহ (الفرائض) পালন করল, তার জন্য কী প্রতিদান রয়েছে?
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الدرس الرابعما خص الله به رمضان من الأعمال الصالحةالحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده
لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، وبعد ..
خص الله رمضان بأربعة أعمال ينبغي الاهتمام بها وتقديمها على غيرها من الأعمال الصالحة أوجب الله منها واحداً.
الأول: وهو أن يصوم العبد كما أراد الله وأن يحافظ على صيامه من الإخلال والنقص، روى ابن خزيمة في صحيحه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لَيْسَ الصِّيَامُ مِنَ الْأَكْلِ وَالشُّرْبِ، إِنَّمَا الصِّيَامُ مِنَ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ
(1)، فَإِنْ سَابَّكَ أَحَدٌ أَوْ جَهِلَ عَلَيْكَ، فَلْتَقُلْ: إِنِّي صَائِمٌ، إِنِّي صَائِمٌ»
(2).
وروى ابن ماجه في سننه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «رُبَّ صَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ صِيَامِهِ إِلَّا الْجُوعُ، وَرُبَّ قَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ قِيَامِهِ إِلَّا السَّهَرُ»
(3).
وروى البخاري في صحيحه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ لم يَدَعْ قوْلَ الزُّورِ وَالعملَ بِه
(4)، والجهلَ، فَلَيْسَ لله حَاجَةٌ في أَنْ يَدَعَ طَعامَهُ وشرابَهُ»
(5).
الثاني: قراءة القرآن روى البخاري ومسلم في صحيحهما من حديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أجود الناس، وكان أجود ما يكون في رمضان حين يلقاه جبريل،
--------------------------------------------
চতুর্থ পাঠরমজান মাসকে আল্লাহ তাআলা যে সকল নেক আমল দ্বারা বিশেষায়িত করেছেনসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক
তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর...
আল্লাহ তাআলা রমজান মাসকে এমন চারটি আমল দ্বারা বিশেষায়িত করেছেন যেগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করা এবং সেগুলোকে অন্যান্য নেক আমলের ওপর প্রাধান্য দেওয়া উচিত। আল্লাহ এগুলোর মধ্যে একটিকে ফরজ করেছেন।
প্রথম: তা হলো বান্দা সেভাবে রোজা পালন করবে যেভাবে আল্লাহ চেয়েছেন এবং তার রোজাকে ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা থেকে রক্ষা করবে। ইবনে খুজাইমা তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «রোজা কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়, বরং রোজা হলো অসার কাজ ও অশ্লীলতা
(১) থেকে বিরত থাকা। যদি কেউ তোমাকে গালি দেয় বা তোমার সাথে মূর্খতাসুলভ আচরণ করে, তবে তুমি বলো: আমি রোজাদার, আমি রোজাদার»
(২)।
এবং ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «অনেক রোজাদার এমন আছে যাদের রোজা থেকে প্রাপ্তি কেবল ক্ষুধা, আবার অনেক রাত জেগে ইবাদতকারী এমন আছে যাদের ইবাদত থেকে প্রাপ্তি কেবল বিনিদ্র রজনী»
(৩)।
এবং বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা, সে অনুযায়ী কাজ করা
(৪) এবং মূর্খতা পরিহার করল না, আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই যে সে তার পানাহার বর্জন করবে»
(৫)।
দ্বিতীয়: কুরআন তিলাওয়াত। বুখারি ও মুসলিম তাঁদের সহিহ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচাইতে দানশীল। আর রমজান মাসে যখন জিবরীল তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি আরও বেশি দানশীল হতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وكان يلقاه في كل ليلة من رمضان، فيدارسه القرآن فلرسول الله صلى الله عليه وسلم أجود بالخير من الريح المرسلة
(1).
قال النووي رحمه الله: وفيه من الفوائد استحباب الإكثار من القراءة في رمضان، وكونها أفضل من سائر الأذكار، إذ لو كان الذكر أفضل أو مساوياً لفعلاه
(2)، وقال في موضع آخر: وفي هذا الحديث فوائد منها استحباب إكثار الجود في رمضان، ومنها: زيادة والخير عند ملاقاة الصالحين، وعقب فراقهم ومنها: استحباب مدارسة القرآن
(3).
الثالث: قيام الليل مع الجماعة: لم يشرع قيام الليل جماعة على وجه الدوام إلا في شهر رمضان وذلك من خصائصه، ولذا جاء في الحديث الذي رواه الترمذي في سننه من حديث أبي ذر الغفاري رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إِنَّهُ مَنْ قَامَ مَعَ الإمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ»
(4).
الرابع: الصدقة بجميع أنواع الخير: من علم، وكسوة، وطعام، وغير ذلك كما ورد في حديث ابن عباس السابق ذكره.
اللهم لا تجعل حظنا من صيامنا الجوع والعطش، ولا تجعل حظنا من قيامنا السهر والتعب، وتقبل منا إنك أنت السميع العليم، واغفر لنا إنك أنت الغفور الرحيم.
والحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
الأسئلة:
1 - خص رمضان بأعمال ينبغي تقديمها على غيرها فما هي؟.
2 - ما هو الواجب من هذه الأعمال، وما هو المسنون؟.
3 - ما الذي يدل عليه كلام النووي؟
4 - الحسنات تجلب الحسنات، فما هو الدليل؟
--------------------------------------------
وكان তিনি রমজানের প্রতি রাতে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাকে কুরআন পাঠ করে শোনাতেন। ফলে রাসুলুল্লাহ (সা.) কল্যাণ বন্টনে প্রবাহিত (مرسلة) বায়ুর চেয়েও অধিক দানশীল ছিলেন
(১)।
ইমাম নববী (রহ.) বলেন: এতে কিছু শিক্ষা রয়েছে, যেমন—রমজানে অধিক পরিমাণে কুরআন পাঠ করা মুস্তাহাব হওয়া এবং এটি অন্য সকল জিকিরের চেয়ে উত্তম হওয়া। কারণ যদি জিকির উত্তম বা সমপর্যায়ের হতো, তবে তাঁরা উভয়ই তাই করতেন
(২)। তিনি অন্য এক স্থানে বলেন: এই হাদিসে অনেকগুলো শিক্ষা রয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো—রমজানে অধিক পরিমাণে বদান্যতা প্রদর্শন মুস্তাহাব হওয়া। আরেকটি হলো—নেককার ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাতের সময় এবং তাঁদের সাথে সাক্ষাতের অব্যবহিত পরে কল্যাণ বৃদ্ধি পাওয়া। আরেকটি হলো—পরষ্পর কুরআন পঠন-পাঠন (مدارسة) করা মুস্তাহাব হওয়া
(৩)।
তৃতীয়: জামাতের সাথে কিয়ামুল লাইল (রাতের সালাত) আদায় করা: রমজান মাস ব্যতীত অন্য কোনো সময়ে নিয়মিতভাবে জামাতের সাথে কিয়ামুল লাইল পালন করার বিধান দেওয়া হয়নি এবং এটি এই মাসেরই অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এজন্যই তিরমিজি তাঁর সুনান গ্রন্থে আবু যর আল-গিফারি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সা.) বলেছেন: «নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি ইমামের সাথে (সালাত শেষ করে) ফিরে যাওয়া পর্যন্ত কিয়াম (সালাত আদায়) করবে, তার জন্য পূর্ণ এক রাতের কিয়ামের সওয়াব লিখে দেওয়া হবে»
(৪)।
চতুর্থ: সকল প্রকার কল্যাণের মাধ্যমে সদকা করা: যেমন জ্ঞান দান করা, পোশাক দান করা, খাদ্য দান করা এবং অনুরূপ অন্যান্য বিষয়, যেমনটি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত ইতিপূর্বে উল্লিখিত হাদিসে এসেছে।
হে আল্লাহ! আমাদের সিয়ামের প্রাপ্তি কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা করবেন না এবং আমাদের কিয়ামের প্রাপ্তি কেবল নির্ঘুম রাত ও ক্লান্তি করবেন না। আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। আমাদের ক্ষমা করুন, নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
প্রশ্নসমূহ:
১ - রমজানকে এমন কিছু আমলের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করা হয়েছে যা অন্যগুলোর ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, সেগুলো কী কী?
২ - এই আমলগুলোর মধ্যে কোনটি ওয়াজিব এবং কোনটি মাসনুন?
৩ - ইমাম নববীর বক্তব্য কী নির্দেশ করে?
৪ - নেক আমল অন্য নেক আমলকে টেনে আনে—এর দলিল কী?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الدرس الخامسالدعاء في رمضان فضله ومكانته رقم (1)الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده
لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، وبعد.
قال تعالى: {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ (186)} [سورة البقرة، الآية رقم: 186].
قال ابن كثير: وفي ذكره تعالى هذه الآية الباعثة على الدعاء متخللة بين أحكام الصيام، إرشاد إلى الاجتهاد في الدعاء عند إكمال العدة، بل وعند كل فطر
(1).
روى الإمام أحمد في مسنده من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ثَلَاثَةٌ لَا تُرَدُّ دَعْوَتُهُمْ: الْإِمَامُ الْعَادِلُ، وَالصَّائِمُ حَتَّى يُفْطِرَ، وَدَعْوَةُ الْمَظْلُومِ»
(2).
وروى الإمام أحمد في مسنده من حديث أبي هريرة أو عن أبي سعيد رضي الله عنهما شك الراوي أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إِنَّ لِلَّهِ عُتَقَاءَ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ، لِكُلِّ عَبْدٍ مِنْهُمْ دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ»
(3).
--------------------------------------------
পঞ্চম পাঠরমজানে দোয়া: এর ফজিলত ও গুরুত্ব (১)সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই।
আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর:
মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, নিশ্চয়ই আমি অতি নিকটে। আমি প্রার্থনাকারীর ডাকে সাড়া দিই যখন সে আমাকে ডাকে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে, যাতে তারা সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়। (১৮৬)} [সূরা আল-বাকারা, আয়াত নং: ১৮৬]।
ইবনে কাসির বলেন: মহান আল্লাহ কর্তৃক সিয়ামের বিধানসমূহের মাঝে দোয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদানকারী এই আয়াতের উল্লেখ করার মধ্যে এই নির্দেশনা রয়েছে যে, (রমজানের) নির্দিষ্ট সংখ্যা পূর্ণ করার সময়, বরং প্রতিটি ইফতারের সময় দোয়ায় সচেষ্ট হওয়া উচিত
(১)।
ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না: ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোজাদার যতক্ষণ না সে ইফতার করে এবং মজলুমের দোয়া»
(২)।
ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে আবু হুরায়রা অথবা আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন—এখানে বর্ণনাকারীর সন্দেহ হয়েছে—যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই প্রত্যেক দিন ও রাতে আল্লাহর পক্ষ হতে (জাহান্নাম থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি রয়েছে, এবং তাদের প্রত্যেক বান্দার জন্য একটি কবুলযোগ্য দোয়া রয়েছে»
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ويجب على الداعي أن يراعي الأمور التالية:
1 - الإخلاص لله في الدعاء: روى أبو داود في سننه من حديث النعمان بن بشير رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ»، وقال تعالى: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا (18)} [سورة الجن، الآية رقم: 18].
2 - ألا يستعجل في الدعاء، روى الإمام أحمد في مسنده من حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَدْعُو بِدَعْوَةٍ لَيْسَ فِيهَا إِثْمٌ، وَلَا قَطِيعَةُ رَحِمٍ، إِلَّا أَعْطَاهُ اللهُ بِهَا إِحْدَى ثَلَاثٍ: إِمَّا أَنْ تُعَجَّلَ لَهُ دَعْوَتُهُ، وَإِمَّا أَنْ يَدَّخِرَهَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ، وَإِمَّا أَنْ يَصْرِفَ عَنْهُ مِنَ السُّوءِ مِثْلَهَا» قَالُوا: إِذًا نُكْثِرُ، قَالَ: «اللهُ أَكْثَرُ»
(1).
وروى البخاري ومسلم في صحيحيهما من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «يُسْتَجَابُ لِأَحَدِكُمْ مَا لَمْ يَعْجَلْ، يَقُولُ: دَعَوْتُ فَلَمْ يُسْتَجَبْ لِي»
(2).
3 - ألا يدعو بإثم أو قطيعة رحم، روى مسلم في صحيحه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لَا يَزَالُ يُسْتَجَابُ لِلْعَبْدِ، مَا لَمْ يَدْعُ بِإِثْمٍ أَوْ قَطِيعَةِ رَحِمٍ»
(3).
4 - أن يكون حاضر القلب حال الدعاء مقبلاً على ربه عند مناجاته في خشوع وسكينة، موقناً بالإجابة:
ففي الصحيحين من حديث أنس بن مالك رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: قال الله تعالى: «أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي
(4) وفي رواية وَأَنَا مَعَهُ إِذَا دَعَانِي»
(5).
--------------------------------------------
একজন দোয়াকারীর জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা আবশ্যক:
১ - দোয়ায় আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা: আবু দাউদ তাঁর সুনানে নুমান ইবনে বশির (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «দোয়াই হলো ইবাদত», এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য। অতএব তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না (১৮)} [সূরা আল-জিন, আয়াত নম্বর: ১৮]।
২ - দোয়ায় তাড়াহুড়ো না করা। ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «কোনো মুসলিম যদি এমন কোনো দোয়া করে যাতে কোনো পাপ বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার বিষয় নেই, তবে আল্লাহ তাকে তিনটি বিষয়ের একটি দান করেন: হয় তার দোয়া দ্রুত কবুল করেন, অথবা তা তার জন্য পরকালের জন্য জমা রাখেন, অথবা তার থেকে সমপরিমাণ কোনো অমঙ্গল সরিয়ে দেন» তারা বললেন: তবে তো আমরা অধিক পরিমাণে দোয়া করব। তিনি বললেন: «আল্লাহ আরও অধিক (দানকারী)»
(১)।
বুখারি ও মুসলিম তাঁদের সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের প্রত্যেকের দোয়া কবুল করা হয় যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়ো করে। সে বলে: আমি দোয়া করলাম কিন্তু আমার দোয়া কবুল হলো না»
(২)।
৩ - কোনো পাপ বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার দোয়া না করা। মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «বান্দার দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল হতে থাকে, যতক্ষণ না সে কোনো পাপ বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার দোয়া করে»
(৩)।
৪ - দোয়ার সময় একাগ্রচিত্ত হওয়া, আল্লাহর প্রতি নিবিষ্ট হয়ে বিনয় ও প্রশান্তির সাথে তাঁর কাছে প্রার্থনা করা এবং দোয়া কবুলের দৃঢ় বিশ্বাস রাখা:
সহিহাইন-এ আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ তাআলা বলেন: «আমি আমার বান্দার আমার প্রতি ধারণার অনুরূপ
(৪) এবং অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: আর আমি তার সাথে থাকি যখন সে আমাকে ডাকে»
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قال سفيان بن عيينة: (ألا يمنعن أحدكم من الدعاء ما يعلمه من نفسه، فإن الله تعالى أجاب شر المخلوقين إبليس إذ قال: {قَالَ أَنْظِرْنِي إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ (14) قَالَ إِنَّكَ مِنَ الْمُنْظَرِينَ (15)} [سورة الأعراف، الآية رقم: 14 - 15])
(1).
اللهم إنا نعوذ بك من علم لا ينفع، ومن قلب لا يخشع، ومن نفس لا تشبع، ومن دعوة لا يُستجاب لها.
والحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
الأسئلة:
1 - هل دعوة الصائم مستجابة؟ مع ذكر الدليل.
2 - هل دعاء غير الله شرك أكبر؟ مع ذكر الدليل.
3 - هل تكون إجابة دعاء المسلم في الدنيا أم في الآخرة؟ فصل في ذلك مع ذكر الدليل.
4 - ذكر المؤلف أن الداعي وهو يدعو لابد أن يكون حاضر القلب موقناً بالإجابة حتى يُجاب دعائه. ما الدليل على ذلك؟
--------------------------------------------
সুফিয়ান ইবন উয়ায়নাহ বলেছেন: (তোমাদের কারো নিজের (পাপ বা ত্রুটি) সম্পর্কে জানা বিষয় যেন তাকে দু’আ করা থেকে বিরত না রাখে; কেননা আল্লাহ তাআলা সৃষ্টির নিকৃষ্টতম ইবলিসের দু’আ কবুল করেছিলেন যখন সে বলেছিল: {সে বলল, আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন। (১৪) তিনি (আল্লাহ) বললেন, নিশ্চয়ই তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত। (১৫)} [সূরা আল-আরাফ, আয়াত নম্বর: ১৪ - ১৫])
(১).
হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি এমন জ্ঞান হতে যা কোনো উপকারে আসে না, এমন অন্তর হতে যা বিনীত হয় না, এমন নফস হতে যা তৃপ্ত হয় না এবং এমন দু’আ হতে যার উত্তর প্রদান করা হয় না।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সকল সাহাবীদের ওপর।
প্রশ্নাবলী:
১ - রোযাদারের দু’আ কি কবুলযোগ্য? দলীলসহ উল্লেখ করুন।
২ - আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট দু’আ করা কি শিরকে আকবার? দলীলসহ উল্লেখ করুন।
৩ - মুসলিমের দু’আর উত্তর কি দুনিয়াতে প্রদান করা হয় নাকি আখিরাতে? এ বিষয়ে দলীলসহ বিস্তারিত আলোচনা করুন।
৪ - লেখক উল্লেখ করেছেন যে, দু’আ কবুল হওয়ার জন্য দু’আকারীকে দু’আ করার সময় অবশ্যই উপস্থিত হৃদয়ে (একাগ্রচিত্তে) এবং কবুল হওয়ার ব্যাপারে সুনিশ্চিত হতে হবে। এর দলীল কী?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ২১)
الدرس السادسالدعاء في رمضان فضله ومكانته رقم (2)الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، وبعد.
فاستكمالاً للحديث عن الدعاء في رمضان أهميته وفضله، ومما ينبغي للداعي مراعاته ما يلي:
1 - تقوى الله بفعل الطاعات واجتناب المعاصي، قال تعالى: {إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ (27)} [سورة المائدة، الآية رقم: 27].
2 - أن يعلم الداعي أن من أعظم أسباب استجابة الدعاء الكسب الطيب.
روى مسلم في صحيحه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا، وَإِنَّ اللهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ»، ثم ذكر في آخر الحديث: «الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ، يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ، يَا رَبِّ، يَا رَبِّ، وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ، وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ، وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ، وَغُذِيَ بِالْحَرَامِ، فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ؟»
(1).
3 - أن يعلم الداعي أن من موانع الدعاء ترك الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، روى الترمذي في سننه من حديث حذيفة بن اليمان رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتَأْمُرُنَّ بِالمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ المُنْكَرِ أَوْ لَيُوشِكَنَّ اللَّهُ أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِقَابًا مِنْهُ ثُمَّ تَدْعُونَهُ فَلَا يُسْتَجَابُ لَكُمْ»
(2).
--------------------------------------------
ষষ্ঠ পাঠরমজানে দোয়া: এর ফজিলত ও গুরুত্ব (২)সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। অতঃপর:
রমজানে দোয়ার গুরুত্ব ও ফজিলত বিষয়ক আলোচনার ধারাবাহিকতায়, দোয়াকারীর যা যা লক্ষ্য রাখা উচিত তা নিম্নে দেওয়া হলো:
১ - ইবাদত পালন এবং পাপাচার বর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করা। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ কেবল মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করেন (২৭)} [সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত নং: ২৭]।
২ - দোয়াকারীর জানা উচিত যে, দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো হালাল উপার্জন।
মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «হে লোকসকল! নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ব্যতীত অন্য কিছু কবুল করেন না। আল্লাহ মুমিনদের সেই নির্দেশই দিয়েছেন যা তিনি রাসূলদের নির্দেশ দিয়েছিলেন»। এরপর তিনি হাদিসের শেষে উল্লেখ করেন: «এক ব্যক্তি দীর্ঘ সফর করে, যার চুলগুলো উস্কোখুস্কো এবং দেহ ধূলিমলিন। সে আকাশের দিকে হাত প্রসারিত করে বলে: হে আমার প্রতিপালক! হে আমার প্রতিপালক! অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম এবং সে হারামের মাধ্যমেই পুষ্ট হয়েছে। সুতরাং তার দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে?»
(১)।
৩ - দোয়াকারীর জানা উচিত যে, দোয়া কবুলের অন্যতম অন্তরায় হলো সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ পরিত্যাগ করা। তিরমিযী তাঁর সুনান গ্রন্থে হুযাইফা বিন আল-ইয়ামান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজের নিষেধ করবে; অন্যথায় আল্লাহ অচিরেই তোমাদের ওপর তাঁর পক্ষ থেকে শাস্তি পাঠাবেন। এরপর তোমরা তাঁর কাছে দোয়া করবে, কিন্তু তোমাদের দোয়া আর কবুল করা হবে না»
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ২২)
وقد ذكر أهل العلم أن من آداب الدعاء أن يبدأ الداعي بحمد الله والثناء عليه بما هو أهله، والصلاة والسلام على رسوله صلى الله عليه وسلم، وأن يرفع يديه حال الدعاء مستقبلاً القبلة، وأن يكون على طهارة، وأن يكون معترفاً بذنبه ونعمة الله وفضله عليه، وأن يكون مفتقراً إلى الله تعالى وأن لا يعتدي في الدعاء، وقد وردت هذه الآداب وغيرها بأحاديث صحيحة عن النبي صلى الله عليه وسلم ثم عليه أن يتحرى الأوقات الفاضلة التي يستجاب فيها الدعاء كحال السجود، وبين الآذان والإقامة، وليلة القدر، وفي الثلث الأخير، وغير ذلك من المواضع وأن يختار الجوامع من الدعاء
(1)، فقد روى الترمذي في سننه من حديث عائشة رضي الله عنها أنها قالت: أرأيت با نبي الله إن علمت أُيُّ ليلةٍ ليلةُ القدر ما أقول فيها قال: «قُولِي اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي»
(2).
اللهم إنك عفو كريم تحب العفو فاعف عنا، اللهم تقبل منا الصيام والقيام وتجاوز عن تقصيرنا وزللنا يا رب العالمين.
والحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
الأسئلة:
1 - اذكر بعضاً من موانع الدعاء.
2 - اذكر بعضاً من آداب الدعاء.
3 - ما هو الدعاء الذي علمه النبي صلى الله عليه وسلم عائشة رضي الله عنها أن تقوله ليلة القدر؟
--------------------------------------------
আলিমগণ উল্লেখ করেছেন যে, দোয়ার আদবসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো—দোয়াকারী আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর যোগ্য গুণকীর্তন করার মাধ্যমে শুরু করবেন, তাঁর রাসূলের ওপর সালাত ও সালাম পাঠ করবেন এবং দোয়া করার সময় কিবলামুখী হয়ে হাত উত্তোলন করবেন। আর তিনি যেন পবিত্র অবস্থায় থাকেন, নিজের পাপ এবং তাঁর ওপর আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহের কথা স্বীকার করেন, মহান আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী হন এবং দোয়ার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন না করেন। এই আদবসমূহ এবং অন্যান্য বিষয়গুলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসসমূহে বর্ণিত হয়েছে। এরপর তাঁর উচিত সেই শ্রেষ্ঠ সময়গুলো তালাশ করা যেগুলোতে দোয়া কবুল করা হয়, যেমন—সিজদাহরত অবস্থা, আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়, লাইলাতুল কদর, রাতের শেষ তৃতীয়াংশ এবং এ জাতীয় অন্যান্য মুহূর্ত। আর তিনি যেন ব্যাপক অর্থবোধক দোয়াগুলো নির্বাচন করেন
(১)। তিরমিজি তাঁর সুনান গ্রন্থে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছিলেন: হে আল্লাহর নবী! আপনি কি মনে করেন, আমি যদি জানতে পারি যে কোন রাতটি লাইলাতুল কদর, তবে আমি তাতে কী বলব? তিনি বললেন: «তুমি বলো: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন।»
(২)হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, সুতরাং আমাদের ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! আমাদের পক্ষ থেকে সিয়াম ও কিয়াম কবুল করুন এবং আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি ও পদস্খলনগুলো মার্জনা করুন, হে রাব্বুল আলামিন।
সকল প্রশংসা সৃষ্টিজগতের রব আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর।
প্রশ্নাবলি:
১ - দোয়ার কিছু প্রতিবন্ধক উল্লেখ করুন।
২ - দোয়ার কিছু আদব উল্লেখ করুন।
৩ - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে লাইলাতুল কদরে বলার জন্য কোন দোয়াটি শিখিয়েছিলেন?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الدرس السابعمفطرات الصيامالحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، وبعد ..
قال تعالى: {أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُونَ أَنْفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنْكُمْ فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ} [سورة البقرة، الآية رقم: 187].
ذكر الله في هذه الآية الكريمة أصول مفطرات الصوم وذكر النبي صلى الله عليه وسلم في السنة تمام ذلك:
1 - الجماع، وهو أعظمها وأكبرها إثماً، فمتى جامع الصائم بطل صومه فرضاً كان أو نفلاً ووجبت عليه الكفارة، وفي الصحيحين من حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: «أَنَّ رَجُلًا وَقَعَ بِامْرَأَتِهِ فِي رَمَضَانَ، فَاسْتَفْتَى رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: هَلْ تَجِدُ رَقَبَةً؟، قَالَ: لَا، قَالَ: هَلْ تَسْتَطِيعُ صِيَامَ شَهْرَيْنِ؟، قَالَ: لَا، قَالَ: فَأَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا»
(1).
2 - 3 - الأكل والشرب، لقوله تعالى: {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ} [سورة البقرة، الآية رقم: 187]، روى الإمام أحمد في مسنده من حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إِذَا سَمِعَ أَحَدُكُمُ النِّدَاءَ وَالْإِنَاءُ
--------------------------------------------
সপ্তম পাঠসিয়াম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। অতঃপর...
আল্লাহ তাআলা বলেন: {সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের জন্য পোশাকস্বরূপ এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাকস্বরূপ। আল্লাহ জেনেছেন যে, তোমরা নিজেদের প্রতি খিয়ানত করছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদের ক্ষমা করেছেন। সুতরাং এখন তোমরা তাদের সাথে সহবাস করো এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা অন্বেষণ করো। আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ফজরের সাদা সুতা কালো সুতা থেকে তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। অতঃপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো} [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত নং: ১৮৭]।
আল্লাহ তাআলা এই সম্মানিত আয়াতে সিয়াম ভঙ্গের মূল ভিত্তিগুলো উল্লেখ করেছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাহর মধ্যে তার পূর্ণ বিবরণ প্রদান করেছেন:
১ - সহবাস: এটি সিয়াম ভঙ্গের সবচেয়ে গুরুতর এবং পাপের দিক থেকে সবচেয়ে বড় কারণ। সুতরাং যখনই কোনো রোজাদার সহবাস করবে, তার সিয়াম বাতিল হয়ে যাবে—তা ফরজ হোক বা নফল—এবং তার ওপর কাফফারা ওয়াজিব হবে। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম-এ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: «এক ব্যক্তি রমজান মাসে তার স্ত্রীর সাথে সহবাসে লিপ্ত হলো, অতঃপর সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফতোয়া চাইল। তিনি বললেন: তোমার কি কোনো দাস মুক্ত করার সামর্থ্য আছে? সে বলল: না। তিনি বললেন: তুমি কি টানা দুই মাস সিয়াম পালন করতে সক্ষম? সে বলল: না। তিনি বললেন: তবে ষাটজন মিসকিনকে অন্নদান করো»
(১)।
২ - ৩ - পানাহার: আল্লাহ তাআলার বাণীর কারণে: {আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ফজরের সাদা সুতা কালো সুতা থেকে তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়} [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত নং: ১৮৭]। ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ-এ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন আযান শুনতে পায় এমতাবস্থায় যে পাত্রটি (তার হাতে)...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
عَلَى يَدِهِ، فَلَا يَضَعْهُ حَتَّى يَقْضِيَ حَاجَتَهُ مِنْهُ»
(1).
قال الشيخ ابن عثيمين رحمه الله وعندي أن الحديث موجه على أحد وجهين:
الوجه الأول: إما أن يكون المؤذن يؤذن بالتحري، والذي يؤذن بالتحري قد يصيب وقد لا يصيب كالمؤذنين عندنا الآن.
الوجه الثاني: أن يكون ذلك بالتأذين من المؤذن عن يقين ومشاهدته للفجر، ولكن هذا من باب الرخصة، لما كان الإنسان رفع الماء ليشرب تعلقت به نفسه، كان من رحمه الله عز وجل أن يقضي الإنسان حاجته منه، كما لو حضر الطعام والإمام يصلي فإنك تأكل الطعام ولو فاتتك الصلاة فتسقط بذلك واجباً
(2).
3 - التقيؤ عمداً وهو إخراج ما في المعدة من طعام أو شراب عن طريق الفم لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «مَنْ ذَرَعَهُ القَيْءُ، فَلَيْسَ عَلَيْهِ قَضَاءٌ، وَمَنْ اسْتَقَاءَ عَمْدًا فَلْيَقْضِ»
(3).
4 - خروج دم الحيض والنفاس لقول النبي صلى الله عليه وسلم في المرأة: «أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تُصَلِّ وَلَمْ تَصُمْ؟»
(4) فمتى رأت دم الحيض أو النفاس فلا يجوز لها إكمال صومها ولو قبل الغروب بلحظة وعليها القضاء
(5).
تنبيه: «ينبغي للصائم ألا يكثر من المضمضة والاستنشاق لقول النبي صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
(..তার হাতে) থাকে, তবে সে যেন তা রেখে না দেয় যতক্ষণ না সে তার প্রয়োজন পূরণ করে»
(১).
শায়খ ইবনে উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমার মতে হাদিসটি দুটি দিকের একটির ওপর পরিচালিত হতে পারে:
প্রথম দিক: হয় মুয়াজ্জিন অনুমানের (التحري) ভিত্তিতে আজান দিচ্ছেন; আর যিনি অনুমানের ভিত্তিতে আজান দেন, তিনি কখনো সঠিক হতে পারেন আবার কখনো ভুল করতে পারেন, যেমনটি বর্তমানে আমাদের মুয়াজ্জিনদের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।
দ্বিতীয় দিক: মুয়াজ্জিন কর্তৃক নিশ্চিত বিশ্বাস এবং ফজর প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে আজান দেওয়া; তবে এটি অনুমতির (رخصة) পর্যায়ভুক্ত। যখন মানুষ পান করার জন্য পানি উঠায় এবং তার মন সেটির প্রতি আগ্রহী থাকে, তখন এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ যে, মানুষ তা থেকে তার প্রয়োজন পূরণ করবে। যেমন যদি খাবার উপস্থিত হয় আর ইমাম নামাজ পড়তে থাকেন, তবে আপনি খাবার খাবেন যদিও আপনার নামাজ ছুটে যায়; ফলে এর মাধ্যমে আপনি একটি ওয়াজিব (واجب) ত্যাগ করছেন
(২)।
৩ - ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা; আর তা হলো মুখ দিয়ে পাকস্থলীর খাবার বা পানীয় বের করে দেওয়া। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল럼-এর বাণীর কারণে: «যার অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি প্রকাশ পায়, তার ওপর কাজা নেই; কিন্তু যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে, সে যেন কাজা আদায় করে»
(৩)।
৪ - হায়েজ ও নিফাসের রক্ত বের হওয়া। নারী সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল럼-এর বাণীর কারণে: «নারীর যখন হায়েজ হয় তখন কি সে নামাজ ও রোজা ত্যাগ করে না?»
(৪) সুতরাং যখনই সে হায়েজ বা নিফাসের রক্ত দেখবে, তার জন্য রোজা পূর্ণ করা জায়েজ হবে না, এমনকি তা যদি সূর্যাস্তের এক মুহূর্ত আগেও হয়; বরং তার ওপর কাজা করা আবশ্যক
(৫)।
সতর্কতা: «রোজাদারের জন্য কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি না করা উচিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল럼-এর বাণীর কারণে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
للصحابي لقيط بن صبرة رضي الله عنه: «وَبَالِغْ فِي الِاسْتِنْشَاقِ إلَّا أَنْ تَكُونَ صَائِمًا»
(1).
اللهم وفقنا لاتباع سنة نبيك، والعمل بما دلنا عليه من الخير والهدى.
والحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
الأسئلة:
1 - ما هي أصول مفطرات الصيام؟ مع ذكر الدليل.
2 - إذا تقيأ بغير قصد منه هل يفطر أم لا؟
3 - هل يأثم من استقاء عمداً؟
4 - هل تقضي الحائض الصوم والصلاة؟
--------------------------------------------
সাহাবী (صحابي) লাকীত ইবনে সাবরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত: «এবং তুমি নাকের ভেতর পানি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আধিক্য করো (ভালোভাবে করো), তবে রোজা অবস্থায় থাকলে নয়»
(১)।
হে আল্লাহ, আপনি আমাদের আপনার নবীর সুন্নাত অনুসরণ করার এবং তিনি আমাদের যে সকল কল্যাণ ও হিদায়াতের দিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন সে অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন।
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের (صحابة) ওপর।
প্রশ্নাবলি:
১ - সিয়াম ভঙ্গের মূল কারণসমূহ কী কী? দলীলসহ উল্লেখ করুন।
২ - যদি কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি করে, তবে কি তার রোজা ভঙ্গ হবে কি না?
৩ - যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বমি করে, সে কি গুনাহগার হবে?
৪ - ঋতুবতী নারী কি সিয়াম ও সালাতের কাজা আদায় করবে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الدرس الثامنمن تناول شيئاً من المفطرات ناسياً أو جاهلاً أو مكرهاًالحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، وبعد ..
فإن المفطرات التي سبق ذكرها لا يفطر الصائم بشيء منها إلا إذا تناولها عالماً ذاكراً مختاراً وهذه ثلاثة شروط:
أولاً: أن يكون عالماً، فإن كان جاهلاً لم يفطر، لقوله تعالى: {رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا} [سورة البقرة، الآية رقم: 286]، فقال الله قد فعلت
(1) سواء كان جاهلاً بالحكم الشرعي، مثل أن يظن أن هذا الشيء غير مُفّطر فيفعله، أو جاهلاً بالحال مثل أن يظن أن الفجر لم يطلع فيأكل وهو طالع أو يظن أن الشمس قد غربت فيأكل وهي لم تغرب فلا يفطر في ذلك كله.
وفي صحيح البخاري من حديث أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنهما قالت: «أفْطرْنَا في عهدِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم يوم غيم ثم طلعت الشمس»
(2)، ولم تذكر أن النبي صلى الله عليه وسلم أمرهم بالقضاء، لأنهم كانوا جاهلين بالوقت ولو أمرهم بالقضاء لنقل؛ لأنه مما توافرت الدواعي على نقله لأهميته.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في رسالته (حقيقة الصيام):
من فعل محظوراً مخطئاً أو ناسياً لم يؤاخذه الله بذلك وحينئذ يكون بمنزلة من لم يفعله فلا يكون عليه إثم، ومن لا إثم عليه لم يكن عاصياً ولا مرتكباً لما نُهي عنه وحينئذ
--------------------------------------------
অষ্টম পাঠভুলবশত, অজ্ঞতাবশত অথবা বাধ্য হয়ে রোজা ভঙ্গকারী কোনো কিছু গ্রহণ করা প্রসঙ্গেসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুলের ওপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল। অতঃপর...
পূর্বে উল্লিখিত রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলোর কোনোটির মাধ্যমেই রোজাদারের রোজা ভঙ্গ হবে না, যতক্ষণ না সে তা জেনেশুনে, স্মরণে রেখে এবং স্বেচ্ছায় গ্রহণ করে। আর এগুলো হলো তিনটি শর্ত:
প্রথমত: তাকে সচেতন বা জ্ঞানবান হতে হবে। যদি সে অজ্ঞ হয় তবে রোজা ভঙ্গ হবে না। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না} [সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৬]। তখন আল্লাহ বলেন, ‘আমি তা কবুল করলাম’
(১)। চাই সে শরয়ি বিধান সম্পর্কে অজ্ঞ হোক—যেমন মনে করা যে এই বিষয়টি রোজা ভঙ্গকারী নয় এবং তা সম্পাদন করা—অথবা পরিস্থিতি সম্পর্কে অজ্ঞ হোক—যেমন মনে করা যে সুবহে সাদিক এখনো উদিত হয়নি ফলে সে পানাহার করল অথচ তা উদিত হয়েছিল, অথবা মনে করা যে সূর্য ডুবে গেছে ফলে সে পানাহার করল অথচ তা ডুবেনি—এসব ক্ষেত্রে রোজা ভঙ্গ হবে না।
সহিহ বুখারি-তে আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে একবার মেঘলা দিনে আমরা ইফতার করেছিলাম, অতঃপর সূর্য উদিত হলো»
(২)। তিনি এটি উল্লেখ করেননি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাজা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারণ তারা সময় সম্পর্কে অনবহিত ছিলেন। আর যদি তিনি তাদের কাজা করার নির্দেশ দিতেন তবে তা অবশ্যই বর্ণিত হতো; কারণ গুরুত্বের কারণে এটি এমন বিষয় যা লোকপরম্পরায় বর্ণনার ব্যাপক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘হাকিকাতুস সিয়াম’ নামক পুস্তিকায় বলেছেন:
যে ব্যক্তি ভুলবশত বা বিস্মৃতিবশত কোনো নিষিদ্ধ কাজ করে ফেলে, আল্লাহ তাকে সেজন্য পাকড়াও করেন না। এমতাবস্থায় সে ওই ব্যক্তির ন্যায় যে তা করেনি, ফলে তার ওপর কোনো গুনাহ হবে না। আর যার কোনো গুনাহ নেই, সে অবাধ্য নয় এবং যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে তাতে লিপ্ত হিসেবেও গণ্য হবে না। আর এমতাবস্থায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فيكون قد فعل ما أُمر به ولم يفعل ما نُهي عنه
(1).
ثانياً: أن يكون ذاكراً، فإن كان ناسياً فصيامه صحيح ولا قضاء عليه؛ لما سبق في آية البقرة ولما رواه البخاري ومسلم في صحيحهما من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ نَسِيَ وَهُوَ صَائِمٌ فَأَكَلَ أَوْ شَرِبَ، فَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ، فَإِنَّمَا أَطْعَمَهُ اللهُ وَسَقَاهُ»
(2)، فأمر النبي صلى الله عليه وسلم بإتمامه دليل على صحته.
3 - أن يكون مختاراً، أي متناولاً للمفطر باختياره وإرادته، فإن كان مكرهاً فصيامه صحيح ولا قضاء عليه لأن الله سبحانه رفع الحكم عمن كفر مكرهاً، وقلبه مطمئن بالإيمان فقال تعالى: {مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمَانِ} [سورة النحل، الآية رقم: 106] الآية، فإذا رفع الله حكم الكفر عمن أُكره عليه فما دونه أولى ولقول النبي صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ وَضَعَ عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأَ، وَالنِّسْيَانَ، وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ»
(3)(4).
اللهم حبب إلينا الإيمان وزينه في قلوبنا وكره إلينا الكفر والفسوق والعصيان واجعلنا من الراشدين.
والحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
الأسئلة:
1 - ما الحكم إذا تناول الصائم شيئاً من المفطرات جاهلاً بالحكم؟
2 - ما الحكم إذا أكل الصائم أو شرب ناسياً؟
3 - ما الحكم إذا تناول الصائم شيئاً من المفطرات مكرهاً؟
--------------------------------------------
এর মাধ্যমে সে যা আদিষ্ট হয়েছে তা পালন করল এবং যা থেকে তাকে নিষেধ করা হয়েছে তা পরিহার করল
(১)।
দ্বিতীয়ত: সচেতন (ذاكر) থাকা; যদি সে বিস্মৃত (ناس) অবস্থায় থাকে, তবে তার রোজা সঠিক (صحيح) এবং তার ওপর কোনো কাজা ওয়াজিব হবে না; ইতিপূর্বে সুরা বাকারার আয়াতে যা বর্ণিত হয়েছে এবং সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি রোজা থাকা অবস্থায় ভুলে গেল এবং পানাহার করল, সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে। কারণ আল্লাহই তাকে খাইয়েছেন এবং পান করিয়েছেন»
(২), নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক রোজা পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া তার রোজা সঠিক (صحيح) হওয়ার প্রমাণ।
৩ - স্বেচ্ছাপ্রবৃত্ত (مختار) হওয়া, অর্থাৎ নিজ পছন্দ ও ইচ্ছায় রোজা ভঙ্গকারী কিছু গ্রহণ করা। যদি সে বাধ্য (مكره) হয়, তবে তার রোজা সঠিক (صحيح) এবং তার ওপর কোনো কাজা নেই। কারণ মহান আল্লাহ বাধ্য হয়ে কুফরি প্রকাশকারীর ওপর থেকে হুকুম তুলে নিয়েছেন, যদি তার অন্তর ঈমানে প্রশান্ত থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর আল্লাহর সাথে কুফরি করে—তবে সে নয় যাকে বাধ্য করা হয়েছে অথচ তার অন্তর ঈমানে প্রশান্ত...} [সুরা আন-নাহল, আয়াত: ১০৬]। সুতরাং আল্লাহ যদি কুফরির মতো বিষয়ের ওপর বাধ্য হওয়া ব্যক্তির হুকুম রহিত করে দেন, তবে এর চেয়ে নিম্নতর বিষয়ের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি প্রযোজ্য। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: «নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ভুল-ত্রুটি, বিস্মৃতি (النسيان) এবং যা করতে তারা বাধ্য (استكرهوا عليه) হয়, তা ক্ষমা করে দিয়েছেন»
(৩)(৪)।
হে আল্লাহ, ঈমানকে আমাদের কাছে প্রিয় করে দিন এবং আমাদের অন্তরে তা সুশোভিত করুন। আর কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে আমাদের নিকট অপ্রিয় করে দিন এবং আমাদের সঠিক পথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
প্রশ্নসমূহ:
১ - হুকুম না জেনে রোজা ভঙ্গকারী কিছু গ্রহণ করলে তার বিধান কী?
২ - রোজা থাকা অবস্থায় ভুলবশত পানাহার করলে তার বিধান কী?
৩ - বাধ্য হয়ে রোজা ভঙ্গকারী কিছু গ্রহণ করলে তার বিধান কী?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الدرس التاسعأصحاب الأعذار رقم (1)الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، وبعد ..
فالمقصود بأصحاب الأعذار من يباح لهم الفطر في رمضان لعذر شرعي ومنهم:
1 - المسافر، لقوله تعالى: {وَمَنْ كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} [سورة البقرة، الآية رقم: 185]، والأفضل للمسافر فعل الأسهل عليه من الصيام والفطر فإن تساويا فالصوم أفضل لأنه أسرع في إبراء ذمته وأنشط له إذا صام مع الناس، ولأنه فعل النبي صلى الله عليه وسلم، ففي الصحيحين من حديث أبي الدرداء رضي الله عنه قال: خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في شهر رمضان في حر شديد، حتى إن أحدنا ليضع يده على رأسه من شدة الحر، وما فينا صائم إلا رسول الله صلى الله عليه وسلم وعبد الله بن رواحة
(1)، وفي أحاديث أخُر أنه صلى الله عليه وسلم أفطر مراعاة لأصحابه حين بلغه أنهم شق عليهم الصيام.
2 - المريض الذي يرجى برْءُ مرضه، وله ثلاث حالات:
الأولى: أن لا يشق عليه الصوم ولا يضره فيجب عليه الصوم لأنه ليس له عذر يبيح الفطر.
الثانية: أن يشق عليه الصوم ولا يضره فيفطر؛ لقوله تعالى: {فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} [سورة البقرة، الآية رقم: 184] ويكره له الصوم مع المشقة لأنه خروج عن رخصة الله.
روى الإمام أحمد في مسنده من حديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللهَ
--------------------------------------------
নবম পাঠওজরসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ নং (১)সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুলের ওপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল। অতঃপর..
ওজরসম্পন্ন ব্যক্তি বলতে তাদের বোঝানো হয়েছে যাদের জন্য শরয়ী ওজরের কারণে রমজান মাসে রোজা না রাখা বৈধ (مباح); তাদের মধ্যে রয়েছেন:
1 - মুসাফির (ভ্রমণকারী), মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকবে কিংবা সফরে থাকবে, তবে সে অন্য দিনগুলোতে তা পূরণ করে নেবে} [সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত নং: ১৮৫]। মুসাফিরের জন্য রোজা রাখা এবং না রাখার মধ্যে যেটি তার জন্য সহজতর, সেটি করাই উত্তম। যদি উভয়টিই সমান হয়, তবে রোজা রাখাই উত্তম; কারণ এটি দায়মুক্তি বা জিম্মাদারি (ذمة) দ্রুত পালনের সহায়ক এবং মানুষের সাথে রোজা রাখা অধিক স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক। এছাড়া এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল ছিল। সহীহাইন-এ আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রমজান মাসে প্রচণ্ড গরমে বের হয়েছিলাম, এমনকি আমাদের কেউ কেউ প্রচণ্ড তাপের কারণে নিজের হাত মাথার ওপর রাখছিল। আমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা ব্যতীত আর কেউ রোজা অবস্থায় ছিলেন না
(1)। অন্যান্য হাদিসসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানতে পারলেন যে সাহাবীদের জন্য রোজা রাখা কষ্টকর হচ্ছে, তখন তাদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে তিনি রোজা ভেঙেছিলেন।
2 - অসুস্থ ব্যক্তি যার রোগমুক্তির আশা করা যায়; তার তিনটি অবস্থা রয়েছে:
প্রথমত: যার জন্য রোজা রাখা কষ্টকর নয় এবং কোনো ক্ষতিও করে না, এমতাবস্থায় তার ওপর রোজা রাখা আবশ্যক (واجب); কারণ তার এমন কোনো ওজর নেই যা রোজা ভঙ্গ করাকে বৈধ (مباح) করে।
দ্বিতীয়ত: যার জন্য রোজা রাখা কষ্টকর কিন্তু কোনো ক্ষতি করে না, সে রোজা ভাঙবে; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {অতএব তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে কিংবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে তা পূরণ করে নেবে} [সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত নং: ১৮৪]। কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও তার জন্য রোজা রাখা অপছন্দনীয় (مكروه); কারণ এটি আল্লাহর দেওয়া বিশেষ ছাড় বা সহজ সুযোগ (رخصة) থেকে বিমুখ হওয়া।
ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ-এ আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ৩০)
يُحِبُّ أَنْ تُؤْتَى رُخَصُهُ، كَمَا يَكْرَهُ أَنْ تُؤْتَى مَعْصِيَتُهُ»
(1).
الثالثة: أن يضره الصوم فيجب عليه الفطر، ولا يجوز له الصوم؛ لقوله تعالى:
{وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا (29)} [سورة النساء، الآية رقم: 29]، ولقوله تعالى: {وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ} [سورة البقرة، الآية رقم: 195]، ولقول النبي صلى الله عليه وسلم: «لا ضَرَرَ وَلا إِضْرَارَ»
(2).
3 - الحائض فيحرم عليها الصيام ولا يصح منها؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم في آخر الحديث: «أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تُصَلِّ وَلَمْ تَصُمْ؟ قُلْنَ: بَلَى. قَالَ: فَذَلِكِ مِنْ نُقْصَانِ دِينِهَا»
(3) فإذا ظهر الحيض منها وهي صائمة ولو قبل الغروب بلحظة لم يصح صومها ولزمها قضاؤه وكذلك النفساء ويجب عليها القضاء بعدد الأيام التي فاتتها لقوله تعالى: {فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} [سورة البقرة، الآية رقم: 184]
(4).
اللهم تقبل منا الصيام والقيام، واجعلنا من المقبولين ومن عتقائك من النار.
والحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
الأسئلة:
1 - إذا كان المريض لا يشق عليه الصيام ولا يضره فهل يصوم أم لا؟
2 - إذا كان المريض يضره الصوم فهل يجب عليه الفطر أم لا؟
3 - ما هو الأفضل في حق المسافر أن يصوم أم يفطر؟
4 - ما الحكم إذا نزل من المرأة دم الحيض قبل الغروب بدقائق هل تكمل الصيام أم تفطر؟
--------------------------------------------
তিনি পছন্দ করেন যেন তাঁর প্রদানকৃত সহজ বিধানগুলো গ্রহণ করা হয়, যেমনিভাবে তিনি অপছন্দ করেন যেন তাঁর অবাধ্যতামূলক কাজগুলো করা হয়»
(১).
তৃতীয় অবস্থা: সিয়াম পালন করলে যদি অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষতি হয়, তবে তার জন্য রোজা ভঙ্গ করা আবশ্যক (ওয়াজিব), এবং তার জন্য সিয়াম পালন করা বৈধ নয়; কেননা মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
{আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু (২৯)} [সুরা নিসা, আয়াত নম্বর: ২৯], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা নিজ হাতে নিজেদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না} [সুরা বাকারা, আয়াত নম্বর: ১৯৫], এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না»
(২).
৩ - ঋতুবতী নারী: তার জন্য সিয়াম পালন করা হারাম এবং তার পক্ষ থেকে তা শুদ্ধ হবে না; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি হাদিসের শেষাংশে বলেছেন: «নারী যখন ঋতুবতী হয়, তখন কি সে সালাত ও সিয়াম ত্যাগ করে না? তারা বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: এটাই তাদের দ্বীনের অপূর্ণতা»
(৩)। সুতরাং যদি কোনো নারীর সিয়াম পালনরত অবস্থায় ঋতুর রক্ত প্রকাশ পায়, এমনকি সূর্যাস্তের এক মুহূর্ত আগেও যদি তা হয়, তবে তার সিয়াম শুদ্ধ হবে না এবং তাকে তা কাজা করতে হবে। অনুরূপভাবে প্রসূতি (নিফাসওয়ালী) নারীর ক্ষেত্রেও একই বিধান। তাকে সেই সংখ্যক দিন কাজা করতে হবে যা তার থেকে ছুটে গেছে, কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: {অন্যান্য দিনে সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে} [সুরা বাকারা, আয়াত নম্বর: ১৮৪]
(৪).
হে আল্লাহ, আমাদের সিয়াম ও কিয়াম কবুল করুন এবং আমাদের কবুলকৃত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন ও জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সাহাবীবৃন্দের ওপর।
প্রশ্নাবলী:
১ - যদি অসুস্থ ব্যক্তির জন্য সিয়াম পালন করা কষ্টকর না হয় এবং তার কোনো ক্ষতি না হয়, তবে সে কি সিয়াম পালন করবে নাকি করবে না?
২ - যদি অসুস্থ ব্যক্তির জন্য সিয়াম পালন ক্ষতিকর হয়, তবে কি তার ওপর রোজা ভঙ্গ করা আবশ্যক (ওয়াজিব) হবে নাকি হবে না?
৩ - মুসাফিরের (সফরকারী) ক্ষেত্রে কোনটি উত্তম—সিয়াম পালন করা নাকি রোজা ভঙ্গ করা?
৪ - সূর্যাস্তের কয়েক মিনিট আগে যদি কোনো নারীর ঋতুর রক্ত নির্গত হয়, তবে বিধান কী—সে কি সিয়াম পূর্ণ করবে নাকি ভঙ্গ করবে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الدرس العاشرأصحاب الأعذار رقم (2)الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده
لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، وبعد ..
فاستكمالاً للحديث عن أصحاب الأعذار فمن ذلك:
1 - المرأة إذا كانت مرضعاً أو حاملاً فخافت على نفسها أو على الولد من الصوم فإنها تفطر لحديث أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل وَضَعَ لِلْمُسَافِرِ الصَّوْمَ وَشَطْرَ الصَّلَاةِ، وَعَنِ الْحُبْلَى وَالْمُرْضِعِ»
(1).
ويلزمها القضاء بعدد الأيام التي أفطرت حين يتيسر لها ذلك ويزول عنها الخوف كالمريض إذا بريء.
2 - العاجز عن الصيام عجزاً مستمراً لا يُرجى زواله، كالكبير والمريض مرضاً
لا يُرجى برؤه فلا يجب عليه الصيام؛ لأنه لا يستطيعه، قال تعالى: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} [سورة التغابن، الآية رقم: 116] وقال تعالى: {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا} [سورة البقرة، الآية رقم: 268] لكن يجب عليه أن يطعم بدل الصيام عن كل يوم مسكيناً، قال ابن عباس رضي الله عنهما في الشيخ الكبير والمرأة الكبيرة لا يستطيعان أن يصوما فيطعمان مكان كل يوم مسكيناً
(2)، وأطعم أنس رضي الله عنه بعدما كبر عاماً أو عامين كل يوم مسكيناً خبزاً ولحماً وأفطر
(3).
3 - من احتاج للفطر لدفع ضرورة غيره كإنقاذ معصوم من غرق أو حريق أو هدم أو
--------------------------------------------
দশম পাঠওযরপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ নং (২)সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। অতঃপর...
ওযরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আলোচনার ধারাবাহিকতায় তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন:
১ - নারী যদি স্তন্যদানকারী বা গর্ভবতী হন এবং রোজা রাখার কারণে নিজের বা সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা করেন, তবে তিনি রোজা ভাঙতে পারবেন। এর দলিল আনাস বিন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ মুসাফিরের জন্য রোজা এবং নামাজের অর্ধাংশ (কসর) স্থগিত করেছেন, আর গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মহিলার পক্ষ থেকেও (রোজার বাধ্যবাধকতা সরিয়ে নিয়েছেন)»
(১)।
এবং যখন তাঁর জন্য তা সহজ হবে এবং আশঙ্কার কারণ দূর হবে, তখন তাঁকে (রোজা না রাখা) দিনগুলোর সমপরিমাণ রোজা কাজা করতে হবে; যেমন অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার পর কাজা করে থাকেন।
২ - যে ব্যক্তি সিয়াম পালনে এমনভাবে অক্ষম যে অক্ষমতা স্থায়ী এবং তা দূর হওয়ার কোনো আশা নেই; যেমন অতি বৃদ্ধ এবং এমন রোগী যার আরোগ্য লাভের আশা নেই, তাঁর ওপর সিয়াম ফরজ নয়; কারণ তিনি এতে সক্ষম নন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব তোমরা আল্লাহকে যথাসম্ভব ভয় করো} [সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ১৬] এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না} [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৬]। তবে তাঁর জন্য প্রতিটি রোজার পরিবর্তে একজন মিসকিনকে (দরিদ্র) খাবার খাওয়ানো আবশ্যক। অতি বৃদ্ধ পুরুষ ও অতি বৃদ্ধা নারীর বিষয়ে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তাঁরা যদি রোজা রাখতে সক্ষম না হন, তবে প্রতিদিনের পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাবার খাওয়াবেন
(২)। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন বার্ধক্যে উপনীত হলেন, তখন তিনি এক বা দুই বছর (রোজা না রেখে) প্রতিদিনের পরিবর্তে একজন মিসকিনকে রুটি ও গোশত খাইয়েছেন এবং রোজা ভাঙতেন
(৩)।
৩ - অন্যের জীবন রক্ষার প্রয়োজনে যার রোজা ভাঙার প্রয়োজন হয়; যেমন কোনো সংরক্ষিত প্রাণকে ডুবে যাওয়া, অগ্নিকাণ্ড বা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করার ক্ষেত্রে বা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ৩২)
نحو ذلك، فإذا كان لا يمكنه انقاذه إلا بالتقوي عليه بالأكل والشرب جاز له الفطر بل وجب الفطر حينئذ؛ لأن إنقاذ المعصوم من الهلكة واجب، وما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب، ويلزمه قضاء ما أفطره.
ومثل من احتاج إلى الفطر للتقوي به على الجهاد في سبيل الله في قتاله العدو فإنه يفطر ويقضي ما أفطر، سواء كان ذلك في السفر أو في بلده إذا حضره العدو، وفي صحيح مسلم من حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أنه قال سافرنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى مكة ونحن صيام فنزلنا منزلاً فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّكُمْ قَدْ دَنَوْتُمْ مِنْ عَدُوِّكُمْ، وَالْفِطْرُ أَقْوَى لَكُمْ " فَكَانَتْ رُخْصَةً، فَمِنَّا مَنْ صَامَ وَمِنَّا مَنْ أَفْطَرَ
(1)(2).
4 - الناسي والجاهل والمكره وقد تقدم الكلام عنهم في كلمة سابقة.
اللهم إنك عفو تحب العفو فاعف عنا، وتول أمرنا وأصلح شأننا كله، يا أرحم الراحمين.
والحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
الأسئلة:
1 - هل يجوز للمرأة إذا كانت مرضعاً أو حاملاً وخافت على نفسها أو ولدها أن تفطر؟ مع الدليل.
2 - هل يجب الصيام على المريض مرضاً لا يرجى برؤه أو الكبير العاجز عن الصيام؟ مع ذكر الدليل.
3 - من احتاج الفطر لدفع ضرر كإنقاذ معصوم من غرق أو حريق هل يشرع له الفطر؟ أم لا فصل في ذلك.
--------------------------------------------
অনুরূপ বিষয়সমূহ; সুতরাং তাকে (বিপদগ্রস্তকে) উদ্ধার করা যদি পানাহারের মাধ্যমে শক্তি অর্জন ব্যতীত সম্ভব না হয়, তবে তার জন্য রোজা ভঙ্গ করা বৈধ (جائز), বরং তখন রোজা ভঙ্গ করা আবশ্যক (واجب) হয়ে যায়; কারণ কোনো নিরাপদ (معصوم) ব্যক্তিকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করা আবশ্যক (واجب), আর যে কাজ ব্যতীত কোনো ওয়াজিব (واجب) সম্পন্ন হয় না, সেই কাজও ওয়াজিব (واجب)। এবং তাকে পরবর্তীতে উক্ত রোজা কাজা (قضاء) করতে হবে।
অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদে শত্রুর সাথে যুদ্ধের জন্য রোজা ভঙ্গের মাধ্যমে শক্তি অর্জনের প্রয়োজন বোধ করে, সে রোজা ভঙ্গ করবে এবং উক্ত রোজা কাজা (قضاء) করবে; চাই তা সফরে হোক অথবা নিজ শহরে হোক যখন শত্রুর উপস্থিতি ঘটে। সহিহ মুসলিম-এ আবু সাঈদ খুদরি (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে মক্কার উদ্দেশ্যে সফর করলাম এবং আমরা রোজা পালনরত ছিলাম। অতঃপর আমরা এক স্থানে অবতরণ করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের শত্রুর নিকটবর্তী হয়েছ, আর রোজা ভঙ্গ করা তোমাদের জন্য অধিক শক্তিশালী হওয়ার কারণ।" সুতরাং এটি ছিল একটি অবকাশ (رخصة), ফলে আমাদের মধ্যে কেউ রোজা রেখেছিল এবং আমাদের মধ্যে কেউ রোজা ভঙ্গ করেছিল
(১)(২)।
৪ - বিস্মরণকারী, অজ্ঞ এবং বাধ্য ব্যক্তি; ইতিপূর্বে একটি আলোচনায় তাদের সম্পর্কে বর্ণনা অতিবাহিত হয়েছে।
হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করাকে পছন্দ করেন, তাই আমাদের ক্ষমা করুন। আমাদের সকল বিষয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করুন এবং আমাদের সকল অবস্থাকে সংশোধন করে দিন, হে দয়ালুদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
প্রশ্নসমূহ:
১ - কোনো নারী যদি দুগ্ধদানকারী কিংবা গর্ভবতী হন এবং নিজের বা তাঁর সন্তানের ব্যাপারে আশঙ্কা বোধ করেন, তবে কি তাঁর জন্য রোজা ভঙ্গ করা বৈধ (جائز)? দলীলসহ লিখুন।
২ - যে রোগের আরোগ্য হওয়ার আশা নেই এমন রোগী অথবা রোজা পালনে অক্ষম বৃদ্ধ ব্যক্তির ওপর কি রোজা পালন আবশ্যক (واجب)? দলীলসহ উল্লেখ করুন।
৩ - ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য (যেমন: কোনো নিরাপদ (معصوم) ব্যক্তিকে ডুবে যাওয়া বা অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা করতে) যার রোজা ভঙ্গ করার প্রয়োজন হয়, তার জন্য কি রোজা ভঙ্গ করা শরয়িভাবে অনুমোদিত (يشرع)? নাকি এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত বিধান আছে? আলোচনা করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الدرس الحادي عشرالصوم المشروعالحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده
لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، وبعد ..
فإن الصوم المشروع الذي يقبله الله ويرضى به ويعود على الصائم بالنفع في الدنيا والآخرة هو ما يلتزم فيه العبد بالأمور التالية:
الأول: أن يقصد بصيامه التعبد لله بذلك، ففي الحديث القدسي عن النبي صلى الله عليه وسلم: قال الله تعالى: «الصَّوْم لي وَأَنا أجزي بِهِ»
(1).
الثاني: أن يجتنب في صيامه المفطرات، وهي على نوعين:
1 - الأكل والشرب والجماع وغيرها من المفطرات المعلومة لعامة المسلمين.
2 - اللغو والرفث والجهل وقول الزور وغيرها من الذنوب.
روى ابن خزيمة في صحيحه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لَيْسَ الصِّيَامُ مِنَ الْأَكْلِ وَالشُّرْبِ، إِنَّمَا الصِّيَامُ مِنَ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ
(2)، فَإِنْ سَابَّكَ أَحَدٌ أَوْ جَهِلَ عَلَيْكَ فَلْتَقُلْ: إِنِّي صَائِمٌ، إِنِّي صَائِمٌ»
(3).
وروى ابن ماجه في سننه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «رُبَّ صَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ صِيَامِهِ إِلَّا الْجُوعُ، وَرُبَّ قَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ قِيَامِهِ إِلَّا السَّهَرُ»
(4).
--------------------------------------------
একাদশ পাঠবিধিবদ্ধ রোজাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর...
নিশ্চয়ই বিধিবদ্ধ রোজা যা আল্লাহ কবুল করেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন এবং যা দুনিয়া ও আখেরাতে রোজাদারের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে, তা হলো সেই রোজা যাতে বান্দা নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ মেনে চলে:
প্রথম: রোজার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদতের সংকল্প করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসে কুদসি (قدسي)-তে মহান আল্লাহ বলেন: «রোজা আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব»
(১)।
দ্বিতীয়: রোজার অবস্থায় রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা, যা দুই প্রকার:
১ - পানাহার, স্ত্রী সহবাস এবং সাধারণ মুসলিমদের নিকট পরিচিত অন্যান্য রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ।
২ - অনর্থক কাজ ও কথা, অশ্লীলতা, মূর্খতা, মিথ্যা কথা এবং অন্যান্য গুনাহ।
ইবনে খুজাইমা তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম রোজা নয়, বরং রোজা হলো অনর্থক কথা ও অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকা
(২)। সুতরাং যদি কেউ তোমাকে গালি দেয় বা তোমার সাথে মূর্খতাসূলভ আচরণ করে, তবে তুমি বলো: আমি রোজাদার, আমি রোজাদার»
(৩)।
ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «অনেক রোজাদার এমন আছে যাদের রোজা থেকে ক্ষুধা ছাড়া আর কিছুই জুটবে না, এবং অনেক কিয়ামকারী (রাতের সালাত আদায়কারী) এমন আছে যাদের কিয়াম থেকে বিনিদ্র রজনী ছাড়া আর কিছুই জুটবে না»
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وروى البخاري في صحيحه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ، وَالْعَمَلَ بِهِ، وَالْجَهْلَ، فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ»
(1).
وهذا النوع الثاني أشدها خطراً وأولى بالاهتمام والعناية.
الثالث: أن يصوم النهار كاملاً من طلوع الفجر الصادق إلى غروب الشمس ولا يتم له ذلك إلا بأن يبيت النية من الليل، قال تعالى: {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ} [سورة البقرة، الآية رقم: 187]. وروى الترمذي في سننه من حديث أم المؤمنين حفصة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ لَمْ يَجْمَعِ الصِّيَامَ قَبْلَ الْفَجْرِ فَلَا صِيَامَ لَهُ»
(2).
قال النووي رحمه الله: لا يصح صوم رمضان ولا القضاء ولا الكفارة ولا صوم فدية الحج وغيرها من الصوم الواجب بنية من النهار بلا خلاف
(3)، فمن لم ينوي الصيام قبل طلوع الفجر فلا يكون قد صام من أول النهار.
اللهم إنك عفو تحب العفو فاعف عنا، وتول أمرنا وأصلح شأننا كله، يا أرحم الراحمين.
والحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
الأسئلة:
1 - هل التعبد لله بالصيام شرط لصحته؟
2 - المفطرات على نوعين، اذكرهما.
3 - هل تبيت النية من الليل شرط لصحة الصيام الواجب والمسنون؟
4 - هل يوجد فرق في تبيين النية بين الصيام الواجب والمسنون؟
--------------------------------------------
ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা, তদানুযায়ী আমল এবং মূর্খতা পরিহার করেনি, তার পানাহার ত্যাগের আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই»
(1)।
আর এই দ্বিতীয় প্রকারটি সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক এবং অধিক গুরুত্ব ও যত্নের দাবিদার।
তৃতীয়ত: সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পূর্ণ দিবস রোজা পালন করা; আর রাতের বেলা নিয়ত নিশ্চিত করা ছাড়া এটি পূর্ণ হয় না। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ভোরের সাদা সুতা কালো সুতা থেকে তোমাদের নিকট স্পষ্ট হয়ে যায়} [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৮৭]। আর তিরমিজি তাঁর সুনান গ্রন্থে উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে রোজা পালনের সংকল্প করেনি, তার কোনো রোজা নেই»
(2)।
ইমাম নববী (রহ.) বলেন: রমজানের রোজা, কাজা, কাফফারা, হজের ফিদইয়া স্বরূপ রোজা এবং অন্যান্য ওয়াজিব রোজা দিনের বেলার নিয়তে সঠিক (صحيح) হবে না—এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই
(3); সুতরাং যে ব্যক্তি ফজর উদয়ের পূর্বে রোজার নিয়ত করেনি, সে দিনের শুরু থেকে রোজা পালনকারী হিসেবে গণ্য হবে না।
হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, অতএব আমাদের ক্ষমা করুন। আপনি আমাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করুন এবং আমাদের সকল বিষয় সংশোধন করে দিন, হে পরম দয়ালু।
সমস্ত প্রশংসা জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
প্রশ্নসমূহ:
১ - আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে রোজা রাখা কি তার সঠিক (صحيح) হওয়ার জন্য শর্ত?
২ - রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলো দুই প্রকার, সেগুলো উল্লেখ করো।
৩ - ওয়াজিব ও নফল রোজা সঠিক (صحيح) হওয়ার জন্য কি রাতে নিয়ত করা শর্ত?
৪ - ওয়াজিব ও নফল রোজার নিয়ত নির্ধারণের মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الدرس الثاني عشرمن حكم الصيامالحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده
لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، وبعد ..
قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ (183)} [سورة البقرة، الآية رقم: 183].
قال الشيخ عبد الرحمن بن سعدي رحمه الله: يخبر تعالى بما من الله به على عباده بأنه فرض عليهم الصيام كما فرضه على الأمم السابقة، لأنه من الشرائع والأوامر التي هي مصلحة للخلق في كل زمان، وفيه تنشيط لهذه الأمة بأنه ينبغي لكم أن تنافسوا غيركم في تكميل الأعمال والمسارعة إلى صالح الخصال، وأنه ليس من الأمور الثقيلة التي اختصكم الله بها ثم ذكر تعالى حكمته في مشروعيته فقال: {لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} فإن الصيام من أكبر أسباب التقوى ولأن فيه امتثال أمر الله واجتناب نهيه.
فمما اشتمل عليه من التقوى أن الصائم يترك ما حرم الله عليه من الأكل والشرب والجماع ونحوها التي تميل إليها نفسه متقرباً بذلك إلى الله راجياً بتركها ثوابه فهذا من التقوى.
ومنها: أن الصائم يدرب نفسه على مراقبة الله تعالى فيترك ما تهوى نفسه مع قدرته عليه لعلمه باطلاع الله عليه.
ومنها: أن الصائم تكثر طاعته والطاعات من خصال التقوى.
ومنها: أن الغني إذا ذاق ألم الجوع أوجب له ذلك مواساة الفقراء المعدمين وهذا من
দ্বাদশ পাঠসিয়ামের কিছু হিকমত (তাৎপর্য)সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর...
আল্লাহ তাআলা বলেন: "হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।" [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত নম্বর: ১৮৩]।
শায়খ আবদুর রহমান বিন সাদী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ওপর যে অনুগ্রহ করেছেন সে সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি তাদের ওপর সিয়াম ফরজ করেছেন যেমনিভাবে তিনি পূর্ববর্তী উম্মতদের ওপর তা ফরজ করেছিলেন; কারণ এটি এমন এক শরিয়ত ও বিধানের অন্তর্ভুক্ত যা সকল যুগে সৃষ্টির জন্য কল্যাণকর। এতে এই উম্মতের জন্য অনুপ্রেরণা রয়েছে যে, আমলসমূহ পূর্ণ করতে এবং নেক গুণাবলির দিকে ধাবিত হতে তোমাদের অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতা করা উচিত। আর এটি এমন কোনো কষ্টসাধ্য বিষয় নয় যা আল্লাহ কেবল তোমাদের জন্যই নির্দিষ্ট করেছেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা এটি বিধান করার হিকমত বা প্রজ্ঞা উল্লেখ করে বলেছেন: {যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো}। কেননা সিয়াম তাকওয়া অর্জনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। কারণ এতে আল্লাহর আদেশের আনুগত্য এবং তাঁর নিষেধ বর্জন করা হয়।
সিয়াম যে সকল তাকওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে তার মধ্যে রয়েছে: রোজাদার ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এবং তাঁর সওয়াবের আশায় নিজের প্রবৃত্তির চাহিদাজনক পানাহার, স্ত্রী সহবাস ও এই জাতীয় যা কিছু আল্লাহ হারাম করেছেন তা বর্জন করে; আর এটি তাকওয়ারই অংশ।
এর মধ্যে আরও রয়েছে: রোজাদার নিজেকে আল্লাহর নজরদারির ওপর অভ্যস্ত করে তোলে। ফলে সে নিজের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও প্রবৃত্তির চাহিদা বর্জন করে, কারণ সে জানে যে আল্লাহ তাকে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এর মধ্যে আরও রয়েছে: রোজাদারের ইবাদত-বন্দেগি বৃদ্ধি পায়, আর ইবাদতসমূহ তাকওয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
এর মধ্যে আরও রয়েছে: ধনী ব্যক্তি যখন ক্ষুধার যন্ত্রণা আস্বাদন করে, তখন এটি তার মনে রিক্তহস্ত দরিদ্রদের প্রতি সহমর্মিতা সৃষ্টির কারণ হয় এবং এটি...
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতাসারু মিন দুরুসি রমাদান ওয়াল আশর
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
خصال التقوى
(1).
ومنها: أن يعلم الناس ما في طاعة الله والتقرب إليه من الخيرات العاجلة والآجلة، فإن الناس حين يتقربون إلى الله في رمضان يحصل لهم من تفريج الهموم وقضاء الحاجات ما هو مشاهد معلوم.
اللهم إنا نسألك الهدى والتقى والعفاف والغنى، اللهم أصلح فساد قلوبنا، وخذ بنواصينا إلى البر والتقوى.
والحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
الأسئلة:
1 - اشرح الآية الكريمة {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ (183)}.
2 - اذكر بعض الحكم من الصيام.
3 - يكثر الخير في رمضان، ويستغني الفقراء وتفرج الكروب، وتبسط أيدي الأغنياء، فما أسباب ذلك؟
--------------------------------------------
তাকওয়ার বৈশিষ্ট্যসমূহ
(১)।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: মানুষকে এটা জানানো যে, আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর নৈকট্য লাভের মধ্যে ইহকালীন ও পরকালীন কী কী কল্যাণ নিহিত রয়েছে। কেননা মানুষ যখন রমজানে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে, তখন তাদের দুশ্চিন্তা মুক্তি ও প্রয়োজন পূরণের এমন সব বিষয় অর্জিত হয় যা দৃশ্যমান ও সর্বজনবিদিত।
হে আল্লাহ, আমরা আপনার কাছে হিদায়াত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও সচ্ছলতা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ, আমাদের অন্তরের কলুষতা সংশোধন করে দিন এবং আমাদের ললাটকে পুণ্য ও তাকওয়ার দিকে পরিচালিত করুন।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
প্রশ্নাবলি:
১ - এই পবিত্র আয়াতের ব্যাখ্যা করুন: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো (১৮৩)}।
২ - সিয়ামের কিছু হিকমত বা তাৎপর্য উল্লেখ করুন।
৩ - রমজানে কল্যাণের আধিক্য ঘটে, দরিদ্ররা অভাবমুক্ত হয়, বিপদ-আপদ দূর হয় এবং ধনীদের হাত প্রসারিত হয়—এর কারণসমূহ কী?
--------------------------------------------