(খণ্ড: ১)
জুজউন মিন তাখরীজি আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারী
(পৃষ্ঠা: -)
جزء من تخريج أحمد بن عبد الواحد البخاري القسم: كتب السنة
الكتاب: جزء من تخريج أحمد بن عبد الواحد البخاري
المؤلف: الشَّمْسُ، أَبُو العَبَّاسِ أَحْمَدُ بنُ عَبْدِ الوَاحِدِ بنِ أَحْمَدَ المَقْدِسِيُّ، الحَنْبَلِيُّ، المُلَقَّبُ بِالبُخَارِيِّ (ت 623هـ)
الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية
الطبعة: الأولى، 2004
[الكتاب مخطوط]
عدد الصفحات: 21
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আহমাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারীর তাখরীজের একটি অংশ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আহমাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারীর তাখরীজের একটি অংশ
লেখক: আশ-শামস, আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আহমাদ আল-মাকদিসি, আল-হানবালি, আল-বুখারি উপাধিতে পরিচিত (মৃত্যু ৬২৩ হি.)
প্রকাশক: ইসলামি নেটওয়ার্ক (IslamWeb) সাইটের অধীনস্থ ‘জাওয়ামিউল কালিম’ নামক ফ্রি সফটওয়্যারে প্রকাশিত পাণ্ডুলিপি
সংস্করণ: প্রথম، ২০০৪
[কিতাবটি একটি পাণ্ডুলিপি]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
জুজউন মিন তাখরীজি আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারী
(পৃষ্ঠা: ১)
مِنْ تَخْرِيجِ الشَّيْخِ الإِمَامِ الْعَلامَّةِ شَمْسِ الدِّينِ أَبِي الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْمَقْدِسِيِّ ، الْمَعْرُوفِ بِالْبُخَارِيِّ.
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَبِهِ نَسْتَعِينُ
শাইখ, ইমাম, আল্লামা শামসুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী, যিনি আল-বুখারী নামে পরিচিত, তাঁর সংকলন ও হাদীস বিশ্লেষণ হতে।
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি।
(খণ্ড: ১)
জুজউন মিন তাখরীজি আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারী
(পৃষ্ঠা: ২)
1 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي زَيْدٍ ، كِتَابَةً ، أنبا مَحْمُودُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ، أنبا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ ، أنبا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ ، أنبا مُطَّلِبُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَالِحٍ ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ ، عَنْ عَامِرِ بْنِ يَحْيَى الْمُعَافِرِيِّ ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " سَيُصَاحُ بِرَجُلٍ مِنْ أُمَّتِي عَلَى رَؤُوسِ الْخَلائِقِ ، وَيُنْشَرُ عَلَيْهِ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ سِجِلا كُلُّ سَجِلٍّ مِنْهَا مَدُّ الْبَصَرِ ، ثُمَّ يُقَالُ لَهُ: أَتُنْكِرُ مِنْ هَذَا شَيْئًا؟ فَيَقُولُ: لا يَا رَبِّ ، فَيَقُولُ: أَلَكَ عُذْرٌ أَوْ حَسَنَةٌ؟ فَيَهَابُ الرَّجُلُ ، فَيَقُولُ الرَّجُلُ: لا يَا رَبِّ ، فَيَقُولُ: بَلَى إِنَّ لَكَ عِنْدَنَا حَسَنَاتٍ ، وَإِنَّهُ لا ظُلْمَ عَلَيْكَ ، فَيُخْرِجُ لَهُ بِطَاقَةً فِيهَا أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ، فَيَقُولُ: مَا هَذِهِ الْبِطَاقَةُ مَعَ هَذِهِ السِّجِلاتِ؟ فَيَقُولُ: إِنَّكَ لا تُظْلَمُ ، فَتُوضَعُ السِّجِلاتُ فِي كِفَّةٍ وَالْبِطَاقَةُ فِي كِفَّةٍ ، فَطَاشَتِ السِّجِلاتُ وَثَقُلَتِ الْبِطَاقَةُ "
১ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আবি যাইদ আমাদের লিখিতভাবে সংবাদ দিয়েছেন, মাহমুদ ইবনে ইসমাঈল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুলাইমান ইবনে আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুত্তালিব ইবনে শুয়াইব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাকে লাইস বর্ণনা করেছেন আমির ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুয়াফিরি থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান আল-হুবুলি থেকে, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন সমস্ত সৃষ্টির সামনে আমার উম্মতের এক ব্যক্তিকে উচ্চস্বরে ডাকা হবে এবং তার সামনে নিরানব্বইটি আমলনামার খাতা উন্মুক্ত করা হবে, যার প্রতিটি খাতা দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে, এরপর তাকে বলা হবে: তুমি কি এর মধ্য থেকে কোনো কিছু অস্বীকার করো? তখন সে বলবে: না, হে আমার রব। এরপর তিনি বলবেন: তোমার কি কোনো ওজর অথবা কোনো নেক আমল আছে? তখন লোকটি ভীত হয়ে পড়বে এবং বলবে: না, হে আমার রব। তখন তিনি বলবেন: অবশ্যই আমাদের নিকট তোমার নেক আমল রয়েছে এবং আজ তোমার ওপর কোনো জুলুম করা হবে না। এরপর তার জন্য একটি চিরকুট বের করা হবে যাতে রয়েছে: ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল’। তখন সে বলবে: এই আমলনামার খাতাগুলোর বিপরীতে এই চিরকুটের কী মূল্য আছে? তখন বলা হবে: তোমার ওপর কোনো জুলুম করা হবে না। অতঃপর আমলনামার খাতাগুলো পাল্লার এক পাশে রাখা হবে এবং চিরকুটটি অন্য পাশে রাখা হবে; তখন আমলনামার খাতাগুলো হালকা হয়ে যাবে এবং চিরকুটটি ভারী হয়ে যাবে।"
(খণ্ড: ১)
জুজউন মিন তাখরীজি আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারী
(পৃষ্ঠা: ৩)
2 - وَأَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ ، إِذْنًا ، أنبا مَحْمُودٌ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ ، ثنا أَبُو الْقَاسِمِ سُلَيْمَانُ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ ، ثنا عِيسَى بْنُ عَلِيٍّ الْعَسْكَرِيُّ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ الْقَاسِمِ ، ثنا آدَمُ ، عَنْ مَنْصُورِ ، عَنْ سَعِيدٍ بْنِ جُبَيْرٍ ، قَالَ: قُلْتُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ: حَدِّثْنِي حَدِيثًا سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: " يَأْتِي اللَّهُ عز وجل بِالْعَبْدِ الْمُؤْمِنِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يَجْعَلَهُ فِي حِجَابَهِ ، فَيَقُولُ لَهُ: اقْرَأْ صَحِيفَتَكَ فَيَقْرَأُ ، وَيُقَرِّرُهُ بِذَنْبٍ ذَنْبٍ ، وَيَقُولُ لَهُ: أَتَعْرِفُ؟ فَيَقُولُ: نَعَمْ يَا رَبِّ ، فَيَقُولُ: اقْرَأْ ، فَيَقْرَأُ ، وَيَلْتَفِتُ يَمْنَةً وَيَسْرَةً ، فَيَقُولُ: لا بَأْسَ عَلَيْكَ عَبْدِي إِنَّكَ فِي سِتْرِي لَيْسَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ أَنْ يَطَّلِعَ عَلَى ذُنُوبِكَ غَيْرِي "
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ, অনুমতিক্রমে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মাহমুদ; আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আহমাদ ইবন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন; আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবুল কাসিম সুলায়মান; আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ; আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ঈসা ইবন আলী আল-আসকারি; আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আহমাদ ইবনুল কাসিম; আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আদম, মানসুর থেকে, সাঈদ ইবন জুবাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবন উমরকে বললাম: আমাকে একটি হাদিস বর্ণনা করুন যা আপনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছেন। তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে শুনেছি: " আল্লাহ আযযা ওয়া জাল কিয়ামতের দিন মুমিন বান্দাকে নিয়ে আসবেন এবং তাকে তাঁর পর্দার আড়ালে রাখবেন, এরপর তাকে বলবেন: তোমার আমলনামা পাঠ করো। তখন সে পাঠ করবে এবং তিনি তাকে তার প্রতিটি গুনাহ স্বীকার করাবেন। তিনি তাকে বলবেন: তুমি কি এগুলো চিনতে পারছ? সে বলবে: হ্যাঁ, হে আমার প্রতিপালক। তিনি বলবেন: পাঠ করো। তখন সে পাঠ করবে এবং ডানে-বামে তাকাবে। তখন তিনি বলবেন: হে আমার বান্দা, তোমার কোনো ভয় নেই, নিশ্চয়ই তুমি আমার আবরণের মধ্যে আছো; আমার ও তোমার মাঝে আমি ছাড়া এমন কেউ নেই যে তোমার গুনাহসমূহ দেখে ফেলবে।"
(খণ্ড: ১)
জুজউন মিন তাখরীজি আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারী
(পৃষ্ঠা: ৪)
3 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُؤَدِّبُ ، كِتَابَةً ، أنبا يَحْيَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ الطَّرَّاحِ ، أنبا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ النَّقَّورِ ، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ هَارُونَ الضَّبِّيُّ ، ثنا أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَاذَانَ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ سَهْلٍ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ حَسَّانٍ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الأَشْرَسِ ، ثنا عَلِيُّ بْنُ مُوسَى الرِّضَى ، ثنا أَبِي ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل أَعْطَانِي مَا لَمْ يُعْطِ أَحَدًا مِنَ الأَنْبِيَاءِ ، وَفَضَّلَنِي عَلَى جَمِيعِ الْعَالَمِينَ ، وَجَعَلَ لأُمَّتِي فِي الصَّلاةِ عَلَيَّ أَفْضَلَ الدَّرَجَاتِ ، وَإِنَّ اللَّهَ عز وجل وَكَّلَ بِقَبْرِي مَلَكًا يَسْتَغْفِرُ لِلْمُصَلِّينَ عَلَيَّ وَيُبَلِّغُنِي صَلاتَهُمْ عَلَيَّ وَسَلامَهُمْ»
৩ - এবং আমাদের আবু হাফস ওমর ইবনে মুহাম্মদ আল-মুয়াদ্দিব লিখিতভাবে সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আলী ইবনুত তাররাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল হুসাইন আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুন নাক্কুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে হারুন আদ-দাব্বি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল হুসাইন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শাযান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে সাহল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনুল আশরাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে মুসা আল-রিদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব থেকে, এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাকে এমন কিছু দান করেছেন যা নবীদের মধ্য থেকে আর কাউকে দান করেননি, এবং আমাকে সকল জগতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তিনি আমার উম্মতের জন্য আমার ওপর দরূদ পাঠের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম মর্যাদা নির্ধারণ করেছেন। আর নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমার কবরের নিকট একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করেছেন, যিনি আমার ওপর দরূদ পাঠকারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং তাদের দরূদ ও সালাম আমার নিকট পৌঁছান।»
(খণ্ড: ১)
জুজউন মিন তাখরীজি আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারী
(পৃষ্ঠা: ৫)
4 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْفَارْفَانِيُّ ، إِذْنًا ، أنبا زَاهِرُ بْنُ طَاهِرٍ ، أنبا الإِمَامُ أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ فُورَانَ ، ثنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الطَّيْسَفُونِيُّ ، ثنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْبُخَارِيُّ ، ثنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَهْرَوَيْهِ ، ثنا أَبُو أَحْمَدُ دَاوُدَ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ يُوسُفَ ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ مُوسَى الرِّضَى ، قَالَ: نا زَاهِرٌ ، وَأنبا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَحَّاثِيُّ ، أنبا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ هَارُونَ الزَّوْزَنِيُّ ، قَالَ: وَأنبا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ أنبا أَبُو الْقَاسِمِ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَبِيبٍ الْمُفَسِّرُ ، قَالا: أنبا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَفِيدُ ، ثنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَامِرٍ الطَّائِيُّ ، بِالْبَصْرَةِ ، حَدَّثَنِي أَبِي ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ مُوسَى الرِّضَى ، حَدَّثَنِي أَبِي مُوسَى ، عَنْ أَبِيهِ جَعْفَرٍ ، عَنْ أَبِيهِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ ، عَنْ أَبِيهِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ ، عَنْ أَبِيهِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: يَقُولُ اللَّهُ عز وجل: «يَا ابْنَ آدَمَ مَا تُنْصِفُنِي ، أَتَحَبَّبُ إِلَيْكَ بِالنِّعَمِ وَتَتْمَقَّتُ إِلَيَّ بِالْمَعَاصِي ، خَيْرِي إِلَيْكَ يَنْزِلُ ، وَشِرْكُكَ إِلَيَّ صَاعِدٌ ، وَلا يَزَالُ مَلَكٌ كَرِيمٌ يَأْتِينِي عَنْكَ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ بِعَمَلٍ قَبِيحٍ ، يَا ابْنَ آدَمَ لَوْ سَمِعْتَ وَصْفَكَ مِنْ غَيْرِكَ وَأَنْتَ لا تَعْلَمُ مَنِ الْمَوْصُوفُ لَسَارَعْتَ إِلَى مَقْتِهِ»
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-ফারফানি, অনুমতিক্রমে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জহির বিন তাহির; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবুল কাসিম আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ফুরান; আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল্লাহ আত-তাইসাফুনি; আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী বিন আল-হাসান বিন আব্দুর রহিম আল-বুখারি; আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন মাহরোয়াইহি; আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আহমদ দাউদ বিন সুলাইমান বিন ইউসুফ; আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আলী বিন মুসা আর-রিদা। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জহির। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ আল-বাহহাসি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হারুন আজ-জাওজানি। তিনি বলেন: এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন হাবিব আল-মুফাসসির। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিদ; আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন আমির আত-তাইয়ি, বসরা নামক স্থানে; আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আমার পিতা; আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আলী বিন মুসা আর-রিদা; আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আমার পিতা মুসা; তাঁর পিতা জাফর থেকে; তাঁর পিতা মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন থেকে; তাঁর পিতা হুসাইন বিন আলী থেকে; তাঁর পিতা আলী বিন আবি তালিব থেকে। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: «হে আদম সন্তান, তুমি আমার প্রতি সুবিচার করো না; আমি নিয়ামতসমূহ প্রদানের মাধ্যমে তোমার নিকট প্রিয় হতে চাই, আর তুমি অবাধ্যতার মাধ্যমে আমার নিকট ঘৃণাভাজন হও। আমার পক্ষ থেকে তোমার কাছে কল্যাণ অবতীর্ণ হয়, আর তোমার পক্ষ থেকে শিরক আমার নিকট সমুত্থিত হয়। প্রতিনিয়ত একজন সম্মানিত ফেরেশতা দিন ও রাতে তোমার পক্ষ থেকে নিকৃষ্ট আমল নিয়ে আমার নিকট আসতে থাকে। হে আদম সন্তান, যদি তুমি নিজের গুণাবলি অন্য কারও মুখ থেকে শুনতে আর তুমি যদি না জানতে যে কার বর্ণনা দেওয়া হচ্ছে, তবে অবশ্যই তুমি তাকে ঘৃণা করতে ত্বরান্বিত হতে।»
(খণ্ড: ১)
জুজউন মিন তাখরীজি আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারী
(পৃষ্ঠা: ৬)
5 - وَبِهَذَا الإِسْنَادِ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ عز وجل خَلَقَ عَمُودًا مِنْ يَاقُوتٍ أَحْمَرَ رَأْسُهُ تَحْتَ العرش ، وَأَسْفَلُهُ عَلَى ظَهْرِ الْحُوتِ فِي الأَرْضِ السَّابِعَةِ السُّفْلَى ، فَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ مِنْ نِيَّةٍ صَادِقَةٍ اهْتَزَّ الْعَرْشُ وَتَحَرَّكَ الْعَمُودُ وَتَحَرَّكَ الْحُوتُ ، فَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل: «اشْهَدُوا سُكَّانَ سَمَاوَاتِي أَنِّي غَفَرْتُ لَهُ»
৫ - এবং এই সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা লাল ইয়াকুতের একটি স্তম্ভ সৃষ্টি করেছেন, যার শীর্ষদেশ আরশের নিচে এবং যার নিম্নদেশ সপ্তম নিম্ন জমিনে থাকা মাছের পিঠের উপরে। সুতরাং যখন কোনো বান্দা খাঁটি নিয়তে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই' বলে, তখন আরশ কেঁপে ওঠে, স্তম্ভটি আন্দোলিত হয় এবং মাছটি নড়ে ওঠে। তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: «হে আমার আকাশমণ্ডলীর অধিবাসীগণ, তোমরা সাক্ষী থাকো যে, আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।’»
(খণ্ড: ১)
জুজউন মিন তাখরীজি আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারী
(পৃষ্ঠা: ৭)
6 - وَأَنْبَأَنَا نَصْرُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَزَّازُ ، أنبا أَبُو الْقَاسِمِ ابْنُ الْمُخْتَارِ ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجَوْهَرِيُّ ، ثنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ ، ثنا شَاصُونَةُ بْنُ عُبَيْدٍ ، حَدَّثَنِي مَعْرِضُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ ، قَالَ: لَمَّا حَجَجْتُ حَجَّةَ الْوَدَاعِ دَخَلْتُ دَارًا بِمَكَّةَ ، فَرَأَيْتُ فِيهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَأَنَّ وَجْهَهُ دَارَةُ الْقَمَرِ ، وَسَمِعْتُ مِنْهُ عَجَبًا ، جَاءَهُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَامَةِ بِصَبِيٍّ يَوْمَ وُلِدَ وَقَدْ لَفَّهُ فِي خِرْقَةٍ، فَقَالَ رَسُولُ الله:
«يَا غُلامُ مَنْ أَنَا؟» قَالَ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ ، قَالَ: «صَدَقْتَ بَارَكَ اللَّهُ فِيكَ» .
ثُمَّ إِنَّ الْغُلامَ لَمْ يَتَكَلَّمْ بَعْدَهَا حَتَّى شَبَّ ، فَكُنَّا نُسَمِّيهِ مُبَارَكَ الْيَمَامَةِ
৬ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নাসর ইবন আব্দুর রহমান আল-কাযযায, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম ইবনুল মুখতার, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আল-হাসান ইবন মুহাম্মদ আল-জাওহারী, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু বকর আহমাদ ইবন জাফর ইবন হামদান, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন ইউনুস, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন শাসুনাহ ইবন উবাইদ, তিনি বলেন আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন মারিয ইবন আব্দুল্লাহ, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন আমি বিদায় হজ সম্পাদন করলাম, তখন মক্কার একটি ঘরে প্রবেশ করলাম। সেখানে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম, তাঁর চেহারা মোবারক যেন ছিল চাঁদের পূর্ণ থালার মতো। আর আমি তাঁর নিকট থেকে একটি বিস্ময়কর বিষয় শুনলাম। ইয়ামামাবাসীদের জনৈক ব্যক্তি একটি সদ্যোজাত শিশুকে নিয়ে তাঁর নিকট আসলেন যে দিন সে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল এবং তাকে একটি কাপড়ে জড়িয়ে রাখা হয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
«হে বালক, আমি কে?» সে বলল: আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: «তুমি সত্য বলেছ, আল্লাহ তোমার মাঝে বরকত দান করুন» ।
অতঃপর সেই বালকটি বড় হওয়া পর্যন্ত আর কথা বলেনি। তাই আমরা তাকে 'ইয়ামামার বরকতময়' বলে অভিহিত করতাম।
(খণ্ড: ১)
জুজউন মিন তাখরীজি আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারী
(পৃষ্ঠা: ৮)
7 - أَخْبَرَنَا إِذْنًا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي زَيْدٍ ، أنبا مَحْمُودٍ الصَّيْرَفِيُّ ، أنبا أَبُو بَكْرِ بْنُ شَاذَانَ ، أنبا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ ، أنبا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرٍو، ثنا حَجَّاجُ بْنُ يُوسُفَ الشَّاعِرُ ، ثنا أَبُو أَحْمَد الزُّبَيْرِيُّ ، ثنا نُعَيْمُ بْنُ ضَمْضَمٍ ، ثنا عِمْرَانُ بْنُ حِمْيَرِيٍّ ، قَالَ: قَالَ لِي عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ: أَلا أُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا حَدَّثَنِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ اللَّهَ عز وجل أَعْطَى مَلَكًا مِنَ الْمَلائِكَةِ أَسْمَاعَ الْخَلائِقِ وَهُوَ قَائِمٌ عَلَى قَبْرِي حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ ، فَلَيْسَ أَحَدٌ مِنْ أُمَّتِي يُصَلِّي عَلَيَّ صَلاةً إِلا قَالَ: يَا أَحْمَدُ فُلانُ ابْنُ فُلانٍ بِاسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيهِ صَلَّى عَلَيْكَ بِكَذَا وَكَذَا ، وَضَمِنَ الرَّبُّ عز وجل إِنَّ مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلاةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا ، وَإِنْ زَادَ زَادَهُ اللَّهُ عز وجل "
৭ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি যাইদ আমাদের অনুমতিক্রমে সংবাদ দিয়েছেন, মাহমুদ আস-সাইরাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর বিন শাযান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ বিন আমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আশ-শা’ইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আহমদ আয-যুবাইরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নুআইম বিন দামদাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইমরান বিন হিময়ারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আম্মার বিন ইয়াসির আমাকে বললেন: আমি কি তোমাদের এমন একটি হাদীস শোনাব না যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে শুনিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ফেরেশতাদের মধ্য হতে একজন ফেরেশতাকে সমস্ত সৃষ্টির শ্রবণশক্তি দান করেছেন এবং তিনি কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত আমার কবরের ওপর দণ্ডায়মান থাকবেন, সুতরাং আমার উম্মতের মধ্য থেকে যে কেউই আমার ওপর দরূদ পাঠ করবে, সে ফেরেশতা বলবে: হে আহমদ! অমুকের পুত্র অমুক—তার নিজের নাম ও তার পিতার নামসহ—আপনার ওপর এভাবে এভাবে দরূদ পাঠ করেছে। আর রব আযযা ওয়া জাল্লা গ্যারান্টি দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন, আর যদি সে বৃদ্ধি করে, তবে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাও বৃদ্ধি করবেন।"
(খণ্ড: ১)
জুজউন মিন তাখরীজি আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারী
(পৃষ্ঠা: ৯)
8 - أنبا مَحْمُودٌ ، أنبا إِسْمَاعِيلُ ، أنبا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَبِيبٍ ، ثنا ابْنُ جَعْفَرِ بْنُ مَطَرٍ ، ثنا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، ثنا يَزِيدُ بْنُ يَحْيَى ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«لَيْسَ يَتَحَسَّرُ أَهْلُ الْجَنَّةِ إِلا عَلَى سَاعَةٍ مَرَّتْ بِهِمْ لا يَذْكُرُونَ اللَّهَ عز وجل فِيهَا»9 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الْفَرَجِ ، أنبا الرَّئِيسُ أَبُو الْفَرَجِ ، أنبا أَبُو عَمْرِو بْنُ مَنْدَهْ ، أنبا ابْنُ بَرَّةَ ، أنبا اللِّبْنَانِيُّ ، أنبا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ ، ثنا بِشْرُ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ ، قَالَ: قَالَ هَنَّادٌ الْمُنَقِّرِيُّ: خَرَجْتُ يَوْمًا أُرِيدُ الْجَبَّانَ ، فَإِذَا ثَلاثَةُ نَفَرٍ يَحْمِلُونَ جَنَازَةً وَمَعَهُمُ امْرَأَةٌ ، فَحَمَلْتُ حَتَّى انْتَهَيْتِ إِلَى الْجَبَّانِ ، فَقُلْتُ: صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ ، فَقَالُوا: أَنْتَ تُصَلِّي عَلَيْهِ فَإِنَّمَا نَحْنُ حَمَّالُونَ ، فَصَلَّيْتُ عَلَيْهِ وَدَفَنَّاهُ ، فَبَيْنَا أَنَا قَاعِدٌ إِذْ غَلَبَتْنِي عَيْنَايَ ، فَأُرِيتُ فِي مَنَامِي ، فَقِيلَ لِي: قَدْ غَفَرَ اللَّهُ لِلْمَيِّتِ ، قَالَ: فَانْتَبَهْتُ فَزِعًا ، فَسَأَلْتُ عَنْ أَمْرِهِ ، فَقِيلَ لِي: سَلِ الْمَرْأَةَ فَهِيَ أُمُّهُ ، فَسَأَلْتُهَا ، فَقَالَتْ: مَا تُرِيدُ إِلَى ذَلِكَ؟ فَأَخْبَرْتُهَا ، فَحَمِدَتِ اللَّهَ تَعَالَى ، وَقَالَتْ: كَاَن ابْنِي مُسْرِفًا عَلَى نَفْسِهِ فَلَمَّا احْتُضِرَ قَالَ: يَا أُمَّاهُ أَلْصِقِي خَدِّي بِالتُّرَابِ ، فَفَعَلْتُ ، فَقَالَ: ضَعِي قَدَمَكِ عَلَيْهِ وَاسْتَوْهِبِينِي مِنْ رَبِّي عز وجل لَعَلَّهُ أَنْ يَرْحَمَنِي ، وَاقْلَعِي فَصَّ خَاتَمِي فَإِنَّ فِيهِ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاجْعَلِيهِ فِي كَفَنِي لَعَلَّ ذَلِكَ أَنْ يَنْفَعَنِي ، قَالَتْ: فَفَعَلْتُ ذَلِكَ بِهِ
8 - মাহমুদ আমাদের জানিয়েছেন, ইসমাঈল আমাদের জানিয়েছেন, আহমাদ বিন আলী আমাদের জানিয়েছেন, আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন হাবীব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইবন জাফর বিন মাতার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, জাফর বিন মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান বিন আবদুর রহমান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ বিন ইয়াহইয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ছাওর বিন ইয়াযীদ থেকে, তিনি খালিদ বিন মা'দান থেকে, তিনি জুবায়ের বিন নুফায়ের থেকে, তিনি মুআয বিন জাবাল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
«জান্নাতবাসীরা কোনো কিছুর জন্যই আফসোস করবে না, কেবল সেই মুহূর্তটি ছাড়া যা তাদের নিকট অতিবাহিত হয়েছে অথচ তাতে তারা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর যিকির করেনি।»9 - আব্দুল্লাহ বিন আবিল ফারাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আর-রাঈস আবুল ফারাজ আমাদের জানিয়েছেন, আবু আমর বিন মানদাহ আমাদের জানিয়েছেন, ইবন বাররাহ আমাদের জানিয়েছেন, আল-লিবনানী আমাদের জানিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আমাদের জানিয়েছেন, বিশর বিন মুআয আল-আনবারী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হান্নাদ আল-মুনাক্কিরী বলেছেন: আমি একদিন কবরস্থানের উদ্দেশ্যে বের হলাম, তখন দেখলাম তিনজন লোক একটি জানাজা বহন করে নিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের সাথে একজন মহিলা আছে। আমি জানাজাটি বহন করতে সাহায্য করলাম যতক্ষণ না কবরস্থানে পৌঁছালাম। আমি বললাম: আপনারা আপনাদের সাথীর জানাজা আদায় করুন। তারা বলল: আপনিই তার জানাজা পড়ান, কারণ আমরা কেবল বহনকারী। অতঃপর আমি তার জানাজা পড়ালাম এবং আমরা তাকে দাফন করলাম। এরপর আমি যখন বসে ছিলাম, তখন আমার দুচোখে ঘুম জড়িয়ে এল। আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমাকে বলা হলো: আল্লাহ মৃত ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি (হান্নাদ) বলেন: আমি আতঙ্কিত হয়ে জেগে উঠলাম এবং তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমাকে বলা হলো: ওই মহিলাকে জিজ্ঞাসা করো, কারণ তিনি তার মা। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: আপনি তা দিয়ে কী করবেন? আমি তাকে বিষয়টি জানালাম। তিনি মহান আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং বললেন: আমার ছেলে নিজের নফসের ওপর সীমালঙ্ঘনকারী ছিল। যখন তার মৃত্যু উপস্থিত হলো, সে বলল: হে মা, আমার গাল মাটির সাথে মিশিয়ে দিন। আমি তাই করলাম। সে বলল: আপনার পা আমার গালের ওপর রাখুন এবং আমার জন্য আমার মহান ও পরাক্রমশালী রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন, সম্ভবত তিনি আমার প্রতি দয়া করবেন। আর আমার আংটির পাথরটি খুলে নিন, কারণ তাতে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' খোদাই করা আছে এবং সেটি আমার কাফনের ভেতর রেখে দিন, সম্ভবত তা আমার উপকারে আসবে। মহিলাটি বললেন: আমি তার অসিয়ত অনুযায়ী তাই করেছি।
(খণ্ড: ১)
জুজউন মিন তাখরীজি আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারী
(পৃষ্ঠা: ১০)
9 - أَخْبَرَنَا مَحْمُودٌ ، أنبا الْحَافِظُ أَبُو الْقَاسِمِ ، أنبا أَبُو الطَّيِّبِ ، أنبا أَبُو عَلِيٍّ الْبَغْدَادِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْكَرِيمِ ، ثنا أَبُو أُمَيَّةَ الطَّرَسُوسِيُّ ، ثنا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ ، حَدَّثَنِي عُمَارَةُ بْنُ غَزِّيَّةَ ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ ، يُحَدِّثُ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الْبَخِيلَ مَنْ إِذَا ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ ، صلى الله عليه وسلم»
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মাহমুদ, আমাদের জানিয়েছেন হাফিজ আবুল কাসিম, আমাদের জানিয়েছেন আবু তায়্যিব, আমাদের জানিয়েছেন আবু আলী আল-বাগদাদী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারীম, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু উমাইয়াহ আত-তারসূসী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন মাখলাদ, আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুলাইমান, আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উমারা বিন গাজিয়্যাহ, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ বিন আলী বিন হুসাইনকে তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: «নিশ্চয়ই সেই ব্যক্তি কৃপণ, যার নিকট আমার কথা উল্লেখ করা হলো অথচ সে আমার ওপর সালাত পাঠ করল না (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)»
(খণ্ড: ১)
জুজউন মিন তাখরীজি আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারী
(পৃষ্ঠা: ১১)
10 - قَالَ: زَعِمَ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ ، قَالَ: ثنا عِمْرَانُ بْنُ أَبَانٍ الْوَاسِطِيُّ ، ثنا خَلَفُ بْنُ خَلِيفَةَ ، عَنِ ابْنِ أَخِي الشَّعْبِيِّ ، عَنِ الشَّعْبِيِّ ، عَنْ مَسْرُوقٍ ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ ، أَنَّ امْرَأَةً مِنَ الأَنْصَارِ أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِعَشَرَةِ أَوْلادٍ لَهَا ، فَقَالَتْ: هَؤُلاءِ أَوْلادِي اغْزُ بِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ، فَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَغْزُو بِهِمْ ، وَكَانَتْ تَسْأَلُ عَنْهُمُ اللَّهَ ، حَتَّى اسْتُشْهِدَ مِنْهُمْ سَبْعَةٌ ، فَكَانَتْ بِمَنْ مَضَى مِنْهُمْ أَشَدَّ فَرَحًا مِنْهَا بِمَنْ بَقِيَ ، حَتَّى بَقِيَ وَاحِدٌ مِنْهُمْ ، وكَانَ أَصْغَرَهُمْ ، وَكَانَ فِيهِ الْتِوَاءٌ ، فَمَرِضَ ، فَكَانَتْ عِنْدَ رَأْسِهِ تُمَرِّضُهُ وَتَبْكِي ، فَقَالَ: يَا أُمَّاهُ مَا لَكِ؟ لِمَ تَبْكِينَ لإِخْوَتِي كَانُوا خَيْرًا لَكِ مِنِّي ، وَكَانَ فِيَّ عَلَيْكِ الْتِوَاءٌ ، قَالَتْ: لِذَاكَ أَبْكِي ، قَالَ: يَا أُمَّاهُ أَرَأَيْتِ لَوْ أَنَّ النَّارَ بَيْنَ يَدَيْكِ أَكُنْتِ تُلْقِينِي فِيهَا؟ قَالَتْ: لا ، قَالَ: فَإِنَّ رَبِّي أَرْحَمُ بِي مِنْكِ ، فَمَاتَ ، فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم:
«إِنَّ ابْنَكِ قَدْ غُفِرَ لَهُ بِحُسْنِ ظَنِّهِ بِرَبِّهِ» قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ عَبْدًا فِي جَهَنَّمَ يُنَادِي أَلْفَ سَنَةٍ: يَا حَنَّانُ يَا مَنَّانُ ، فَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل لِجِبْرِيلَ عليه السلام: اذْهَبْ ائْتِنِي بِعَبْدِي هَذَا، فَيَذْهَبُ فَيَجِدُ أَهْلَ النَّارِ مُنْكَبِّينَ عَلَى وُجُوهِهِمْ فَيَرْجِعُ إِلَى رَبِّهِ عز وجل فَيُخْبِرُهُ ، فَيَقُولُ: ائْتِنِي بِعَبْدِي فَإِنَّهُ فِي مَكَانِ كَذَا وَكَذَا ، قَالَ: فَيَجِيءُ بِهِ فَيُوقَفُ بَيْنَ يَدَيْهِ ، فَيَقُولُ: يَا عَبْدِي كَيْفَ وَجَدْتَ مَكَانَكَ؟ وَكَيْفَ وَجَدْتَ مَقِيلَكَ؟ فَيَقُولُ: يَا رَبِّ مَا كُنْتُ أَرْجُو إِذْ أَخْرَجْتَنِي مِنْهَا أَنْ تُعِيدَنِي فِيهَا ، فَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل: دَعُوا عَبْدِي "
11 - وَعَنْ دَاوُدَ بْنِ الْمُحَبِّرِ ، حَدَّثَنِي أَعْيَنُ الْخَيَّاطُ ، قَالَ: سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ دِينَارٍ ، يَقُولُ: رَأَيْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ مُسْلِمَ بْنَ يَسَارٍ فِي مَنَامِي بَعْدَ مَوْتِهِ بِسَنَةٍ ، فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيَّ السَّلامَ ، قَالَ: أَنَا مَيِّتٌ ، فَكَيْفَ أَرُدُّ السَّلامَ؟ فَقُلْتُ لَهُ: وَمَاذَا لَقِيتَ يَوْمَ الْمَوْتِ؟ قَالَ: فَدَمَعَتْ عَيْنَا مَالِكٍ عِنْدَ ذَلِكَ ، قَالَ: لَقِيتُ وَاللَّهِ أَهْوَالا ، وَزَلازِلَ عِظَامًا شِدَادًا ، قُلْتُ: فَمَا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ؟ قَالَ: وَمَا تَرَاهُ يَكُونُ مِنَ الْكَرِيمِ ، قَبِلَ مِنَّا الْحَسَنَاتِ ، وَعَفَا لَنَا عَنِ السَّيِّئَاتِ ، وَمَحَا عَنَّا التَّبِعَاتِ ، قَالَ: ثُمَّ شَهِقَ مَالِكٌ شَهْقَةً خَرَّ مَغْشِيًّا عَلَيْهِ ، فَلَبِثَ بَعْدَ ذَلِكَ أَيَّامًا مَرِيضًا مِنْ غَشْيَتِهِ ، ثُمَّ مَاتَ فِي مَرَضِهِ ، وَيَرَوْنَ أَنَّ قَلْبَهُ انْصَدَعَ
11 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أنبا أَبُو بَكْرٍ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَرِيرٍ ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ ، أنبا مَعْرُوفُ بْنُ وَاصِلٍ ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ صَدَقَةَ ، قَالَ: أَخَذَ جِبْرِيلُ عليه السلام يَوْمًا بِزِمَامِ نَاقَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ طُوبَى لأُمَّتِكَ مَنْ قَالَ مِنْهُمْ: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ
10 - তিনি বলেছেন: হাসান ইবনে আলী আল-হুলওয়ানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইমরান ইবনে আবান আল-ওয়াসিতি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, খালাফ ইবনে খলিফা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আশ-শা'বীর ভ্রাতুষ্পুত্র থেকে, তিনি আশ-শা'বী থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন যে, আনসারদের একজন মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাঁর দশজন সন্তানকে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি বললেন: "এরা আমার সন্তান, এদের নিয়ে আল্লাহর পথে যুদ্ধে যান।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিয়ে যুদ্ধে যেতেন এবং ওই মহিলা তাদের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন। অবশেষে তাদের মধ্যে সাতজন শহীদ হলেন। যারা চলে গেছেন তাদের জন্য ওই মহিলার আনন্দ অবশিষ্টদের চেয়েও বেশি ছিল। অবশেষে তাদের মধ্যে একজনই বাকি রইল, যে ছিল তাদের মধ্যে সবচাইতে ছোট এবং তার মধ্যে শারীরিক বক্রতা (অক্ষমতা) ছিল। সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি তার শিয়রে বসে তার সেবা করছিলেন এবং কাঁদছিলেন। তখন সে বলল: "হে মা, আপনার কী হয়েছে? আপনি কেন কাঁদছেন? আমার ভাইয়েরা আপনার জন্য আমার চেয়ে উত্তম ছিল, আর আমার কারণে আপনি কেবল কষ্টই পেয়েছেন।" তিনি বললেন: "সেই কারণেই আমি কাঁদছি।" সে বলল: "হে মা, আপনি কি মনে করেন যদি আপনার সামনে আগুন থাকত, তবে কি আপনি আমাকে তাতে নিক্ষেপ করতেন?" তিনি বললেন: "না।" সে বলল: "তবে নিশ্চয়ই আমার রব আমার প্রতি আপনার চেয়েও বেশি দয়ালু।" অতঃপর সে মারা গেল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন:
"নিশ্চয়ই তোমার পুত্রকে তার রবের প্রতি সুধারণা পোষণ করার কারণে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।" তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জাহান্নামে এক বান্দা এক হাজার বছর ধরে ডাকতে থাকবে: হে দয়াময়, হে পরম অনুগ্রহকারী। তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে বলবেন: 'যাও, আমার এই বান্দাকে আমার কাছে নিয়ে এসো।' জিবরাঈল গিয়ে দেখবেন জাহান্নামবাসীরা তাদের মুখের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে আছে। তিনি তাঁর রব আযযা ওয়া জালের কাছে ফিরে গিয়ে তা জানাবেন। আল্লাহ বলবেন: 'আমার বান্দাকে নিয়ে এসো, সে অমুক অমুক স্থানে আছে।' বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি তাকে নিয়ে আসবেন এবং তাকে আল্লাহর দুই হাতের সামনে দাঁড় করানো হবে। আল্লাহ বলবেন: 'হে আমার বান্দা, তুমি তোমার স্থানটি কেমন পেয়েছ? তোমার বিশ্রামের জায়গাটি কেমন পেয়েছ?' সে বলবে: 'হে আমার রব, আপনি যখন আমাকে সেখান থেকে বের করেছেন, তখন আমি আর আশা করি না যে আপনি আমাকে পুনরায় সেখানে ফিরিয়ে দেবেন।' তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলবেন: 'আমার বান্দাকে ছেড়ে দাও।'"
11 - দাউদ ইবনে আল-মুহাব্বির থেকে বর্ণিত, আ'য়ান আল-খাইয়াত আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি মালিক ইবনে দিনারকে বলতে শুনেছি: আমি আবু আব্দুল্লাহ মুসলিম ইবনে ইয়াসারকে তাঁর মৃত্যুর এক বছর পর স্বপ্নে দেখেছি। আমি তাঁকে সালাম দিলাম কিন্তু তিনি সালামের উত্তর দিলেন না। তিনি বললেন: "আমি মৃত, আমি কীভাবে সালামের উত্তর দেব?" আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম: "মৃত্যুর দিন আপনি কীসের সম্মুখীন হয়েছিলেন?" বর্ণনাকারী বলেন: তখন মালিকের দুই চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি ভয়াবহ আতঙ্ক এবং সুমহান ও তীব্র ভূকম্পনের সম্মুখীন হয়েছিলাম।" আমি বললাম: "এরপর কী হলো?" তিনি বললেন: "একজন দয়ালু সত্তার কাছ থেকে যা আশা করা যায় তাই হয়েছে; তিনি আমাদের নেক আমলগুলো কবুল করেছেন, আমাদের মন্দ কাজগুলো ক্ষমা করেছেন এবং আমাদের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব মুছে দিয়েছেন।" বর্ণনাকারী বলেন: এরপর মালিক একটি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন এবং জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেলেন। এরপর তিনি তাঁর সেই মূর্ছা যাওয়ার কারণে কয়েক দিন অসুস্থ থাকলেন, অতঃপর সেই অসুস্থতাতেই মারা গেলেন। মানুষ মনে করত যে তাঁর হৃদপিণ্ড ফেটে গিয়েছিল।
11 - আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে জারীর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে রাজা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মারুফ ইবনে ওয়াসিল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে সাদাকা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: একদিন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উটনীর লাগাম ধরলেন এবং বললেন: "হে মুহাম্মাদ, আপনার উম্মতের সেই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ, যে বলবে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই।"
(খণ্ড: ১)
জুজউন মিন তাখরীজি আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারী
(পৃষ্ঠা: ১২)
11 - أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ بْنُ عَلِيٍّ. . . . ، أنبا أَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ طَاهِرٍ الْمَيْهَنِيُّ ، أنبا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ السَّمَرْقَنْدِيُّ ، أنبا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَلِيٍّ التَّاجِرُ ، أنبا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَارِسِيُّ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُرْجَانِيُّ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي عَوْنٍ ، ثنا عَمَّارُ بْنُ الْحَسَنِ ، أنبا سَلَمَةُ بْنُ الْفَضْلِ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ ، وَصَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ ، عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ: اسْتَعَرْتُ إِبْرَةً مِنْ حَفْصَةَ بِنْتِ رَوَاحَةَ ، كُنْتُ أُخَيِّطُ بِهَا ثَوْبَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَسَقَطَتْ عَنِّي الإِبْرَةُ ، فَطَلَبْتُهَا ، فَلَمْ أَقْدِرْ عَلَيْهَا ، فَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَتَبَيَّنْتُ الإِبْرَةَ بِشُعَاعِ نُورِ وَجْهِهِ ، فَضَحِكْتُ ، فَقَالَ: «مِمَّا ضِحِكْتِ؟» فَقُلْتُ: كَانَ كَيْتَ وَكَيْتَ ، فَنَادَى بِأَعْلَى صَوْتِهِ: «يَا عَائِشَةُ الْوَيْلُ ثُمَّ الْوَيْلُ ثَلاثًا لِمَنْ حُرِمَ النَّظَرَ إِلَى هَذَا الْوَجْهِ ، مَا مِنْ مُؤْمِنٍ وَلا كَافِرٍ إِلا وَيَشْتَهِي أَنْ يَنْظُرَ إِلَى هَذَا الْوَجْهِ»
১১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ বিন আলী... আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল আহমাদ বিন তাহির আল-মায়হানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান বিন আহমাদ আস-সামারকান্দি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল বিন আলী আত-তাজির, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-ফারিসি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আলী আল-জুরজানি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন বকর, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আবি আউন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আম্মার বিন আল-হাসান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সালামাহ বিন আল-ফজল, মুহাম্মাদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন রুমান ও সালিহ বিন কাইসান থেকে, তিনি উরওয়াহ বিন আজ-জুবায়ের থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি হাফসা বিনতে রাওয়াহার নিকট থেকে একটি সুঁই ধার নিয়েছিলাম, যা দিয়ে আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাপড় সেলাই করছিলাম। তখন সুঁইটি আমার হাত থেকে পড়ে গেল এবং আমি সেটি খুঁজলাম কিন্তু তা পেলাম না। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রবেশ করলেন এবং তাঁর চেহারার নূরের বিচ্ছুরণে আমি সুঁইটি স্পষ্ট দেখতে পেলাম। তখন আমি হাসলাম। তিনি বললেন: «তুমি কেন হাসলে?» আমি বললাম: এমন এমন হয়েছিল। তখন তিনি উচ্চস্বরে ডেকে বললেন: «হে আয়েশা! ধ্বংস, তারপর ধ্বংস—একথাটি তিনবার বললেন—তার জন্য যে বঞ্চিত হলো এই চেহারার দিকে তাকানো থেকে; এমন কোনো মুমিন বা কাফির নেই যে এই চেহারার দিকে তাকাতে আকাঙ্ক্ষা করে না।»
(খণ্ড: ১)
জুজউন মিন তাখরীজি আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
12 - وَأَخْبَرَنَا أَسْعَدُ بْنُ أَبِي طَاهِرٍ ، أنبا جَعْفَرٌ الثَّقَفِيُّ ، أنبا أَبُو طَاهِرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ ، أنبا أَبُو الشَّيْخِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الْعُمَرِيُّ ، ثنا عَاصِمُ بْنُ مُضَرِّسٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ سَلْمًا الْمَدَائِنِيَّ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«مَنْ ذَبَحَ نُسُكَهُ يَوْمَ الأَضْحَى ثُمَّ قَامَ إِلَى مَسْجِدِهِ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ، لَمْ يَسْلِ اللَّهَ فِيهَا شَيْئًا إِلا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ ، مَا لَمْ يَسْلْ قَطِيعَةَ رَحِمٍ ، أَوْ ظُلْمِ مُسْلِمٍ»
13 - أَنْبَأَنَا الْحَافِظُ عَبْدُ الْغَنِيِّ ، أنبا أَبُو الْمَحَاسِنِ ، أنبا الْحَافِظُ أَبُو شُجَاعٍ ، أنبا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ النَّيْسَابُورِيُّ ، إِجَازَةً ، سَمِعْتُ أَبَا الْعَبَّاسِ بْنَ مَسْرُوقٍ ، سَمِعْتُ ، أَحْمَدَ بْنَ مَنْصُورٍ الطُّوسِيَّ ، يَقُولُ: رَأَيْتُ أَبَا عُثْمَانَ الْحَارِثَ فِي النَّوْمِ رَاكِبًا بُرَاقًا يَطِيرُ حَوْلَ الْعَرْشِ ، فَقُلْتُ: مَا فَعَلَ اللَّهُ بِكَ؟ قَالَ: غَفَرَ لِي ، قُلْتُ: بِمَاذَا؟ قَالَ: بِالسُّنَّةِ ، قُلْتُ: فَمِنْ أَيْنَ لَكَ بِهَذَا الْبُرَاقِ؟ قَالَ: كَبْشٌ ذَبَحْتُهُ فِي يَوْمِ الْعِيدِ ، فَفَرَّقْتُهُ عَلَى الأَصْدِقَاءِ وَالْفُقَرَاءِ ، لَقِيَنِي لَمَّا دُعِيتُ إِلَى الزِّيَارَةِ ، فَقَالَ: ارْكَبْنِي فَإِنِّي أَضْحِيَتُكَ ، فَهُوَ ذَا يَطِيرُ بِي حَوْلَ الْعَرْشِ
১২ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আসআদ বিন আবি তাহির, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাফর আস-সাকাফি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির বিন আবদুর রহিম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুশ শাইখ আবদুল্লাহ বিন জাফর, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন জাফর, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আমর আল-উমারি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আসিম বিন মুদাররিস, তিনি বলেন: আমি সালম আল-মাদায়িনিকে নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
«যে ব্যক্তি ঈদুল আজহার দিন তার কুরবানি জবেহ করল, অতঃপর তার মসজিদে গিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করল, সে আল্লাহর নিকট যা-ই চাইল তিনি তাকে তা প্রদান করবেন; যতক্ষণ না সে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা অথবা কোনো মুসলিমের প্রতি জুলুম করার প্রার্থনা করে।»
১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবদুল গনি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মাহাসিন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবু শুজা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলি বিন মুহাম্মাদ আন-নাইসাবুরি—অনুমতি সূত্রে, আমি আবুল আব্বাস বিন মাসরুককে বলতে শুনেছি, আমি আহমাদ বিন মানসুর আত-তুসিকে বলতে শুনেছি: আমি স্বপ্নে আবু উসমান আল-হারিসকে একটি বোরাকের ওপর আরোহী অবস্থায় আরশের চারপাশে উড়তে দেখলাম। আমি বললাম: আল্লাহ আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন? তিনি বললেন: তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম: কিসের বিনিময়ে? তিনি বললেন: সুন্নাহর কারণে। আমি বললাম: আপনি এই বোরাক কোথা থেকে পেলেন? তিনি বললেন: এটি একটি ভেড়া যা আমি ঈদের দিন জবেহ করেছিলাম, অতঃপর তা বন্ধু-বান্ধব ও অভাবীদের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছিলাম। যখন আমাকে সাক্ষাতের জন্য আহ্বান করা হলো, তখন সে আমার সাথে সাক্ষাৎ করল এবং বলল: আপনি আমার ওপর সওয়ার হোন, কারণ আমিই আপনার কুরবানি। এখন সে আমাকে নিয়ে আরশের চারপাশে উড়ছে।
(খণ্ড: ১)
জুজউন মিন তাখরীজি আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
13 - أَخْبَرَنَا مَحْمُودٌ ، كِتَابَةً ، أنبا إِسْمَاعِيلُ الْحَافِظُ ، أنبا أَبُو الْمَعَالِي الشَّرِيفُ ، أنبا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُهْتَدِيِّ ، أنبا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَزَّارُ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَاجِيَةَ ، ثنا دَاوُدُ بْنُ رَشِيدٍ ، وَابْنُ الأَقْطَعِ ، قَالا: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ رَبِيعَةَ ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يَزِيدَ الْخَوْزِيِّ ، عَنْ عَمْرٍو ، وَعَنْ طَاوُسٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«مَا أَنْفَقْتُ الْوَرِقَ فِي شَيْءٍ أَفْضَلَ مِنْ نُحَيْرَةِ يَوْمِ عِيدٍ»14 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، كِتَابَةً ، أنبا الْقَزَّازُ ، أنبا أَبُو بَكْرٍ الْخَيَّاطُ ، أنبا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْعَلافُ ، أنبا الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانَ ، أنبا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ ، حَدَّثَنِي أَبُو يَاسِينَ ، ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ سَالِمٍ ، قَالَ: قَالَ أَبُو وَرْدٍ التُّجِيبِيُّ وَنَظَرَ إِلَى النَّاسِ فِي يَوْمِ عِيدٍ وَقَدْ دَهِمَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا ، فَبَكَى ، وَقَالَ: مَا رَأَيْتُ شَيْئًا أَشْبَهَ بِمَوْقِفِ الْقِيَامَةِ مِنْ هَذَا الْيَوْمِ.
ثُمَّ رَجَعَ إِلَى مَنْزِلِهِ مَرِيضًا ، فَلَمْ يَلْبَثْ إِلا يَسِيرًا حَتَّى مَاتَ رحمه الله
14 - أَخْبَرَتْنَا شُهْدَةُ بِنْتُ أَحْمَدَ ، إِذْنًا ، أنبا جَعْفَرُ بْنُ أَحْمَدَ ، قَالَ: حَدَّثَ جَعْفَرٌ الْخُلْدِيُّ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مَسْرُوقٍ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسْيَنِ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْفَرَجِ الْعَابِدُ ، قَالَ: كَانَ بِالْمَوْصِلِ رَجُلٌ نَصْرَانِيٌّ يُكَنَّى أَبَا إِسْمَاعِيلَ ، قَالَ: فَمَرَّ ذَاتَ لَيْلَةٍ بِرَجُلٍ وَهُوَ يَتَهَجَّدُ عَلَى سَطْحِهِ ، وَيَقْرَأُ {وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ} [آل عمران: 83] .
قَالَ: فَصَرَخَ أَبُو إِسْمَاعِيلَ صَرْخَةً غُشِيَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَزَلْ حَالُهُ ذَلِكَ حَتَّى أَصْبَحَ ، فَلَمَّا أَصْبَحَ أَسْلَمَ ، ثُمَّ أَتَى فَتْحًا الْمَوْصِلِيَّ فَاسْتَأْذَنَهُ فِي صُحْبَتِهِ ، فَكَانَ يَصْحَبُهُ وَيَخْدِمُهُ ، قَالَ: فَبَكَى أَبُو إِسْمَاعِيلَ حَتَّى ذَهَبَتْ إِحْدَى عَيْنَيْهِ وَعُشِّيَ مِنَ الأُخْرَى ، فَقُلْتُ لَهُ ذَاتَ يَوْمٍ: حَدِّثْنِي بِبَعْضِ أَمْرِ فَتْحٍ الموصلي ، قَالَ: فَبَكَى ، ثُمَّ قَالَ: أُخْبِرُكَ عَنْهُ ، كَانَ وَاللَّهِ كَهَيْئَةِ الرَّوْحَانِيِّينَ مُعَلَّقَ الْقَلْبِ بِمَا هُنَاكَ ، لَيْسَتْ لَهُ فِي الدُّنْيَا رَاحَةٌ ، قُلْتُ: عَلَى ذَاكَ ، قَالَ: شَهِدْتُ مَعَهُ الْعِيدَ ذَاتَ يَوْمٍ بِالْمَوْصِلِ وَرَجَعَ بَعْدَمَا تَفَرَّقَ النَّاسُ ، وَرَجَعْتُ مَعَهُ ، فَنَظَرَ إِلَى الدُّخَانِ يَفُورُ مِنْ نَوَاحِي الْمَدِينَةِ ، فَبَكَى ، ثُمَّ قَالَ: قَرَّبَ النَّاسُ قُرْبَانَهُمْ ، فَلَيْتَ شِعْرِي مَا فَعَلْتُ فِي قُرْبَانِي عِنْدَكَ أَيُّهَا الْمَحْبُوبُ.
ثُمَّ سَقَطَ مَغْشِيًّا عَلَيْهِ فَجِئْتُ بِمَاءٍ ، فَمَسَحْتُ بِهِ عَلَى وَجْهِهِ فَأَفَاقَ ، ثُمَّ مَضَى حَتَّى دَخَلَ بَعْضَ أَزِقَّةِ الْمَدِينَةِ ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ إِلَيَّ أَوْ قَالَ: فَحَتَّى مَتَى تَحْبِسُنِي أَيُّهَا الْمَحْبُوبُ.
ثُمَّ سَقَطَ مَغْشِيًّا عَلَيْهِ ، فَجِئْتُ بِمَاءٍ فَمَسَحْتُ بِهِ عَلَى وَجْهِهِ فَأَفَاقَ ، فَمَا عَاشَ بَعْدَ ذَلِكَ إِلا أَيَّامًا حَتَّى مَاتَ
14 - أَجَازَ لَنَا الْحَافِظُ ، أنبا أَبُو الْمَحَاسِنُ ، أنبا أَبُو شُجَاعٍ ، سَمِعْتُ أَبَا ثَابِتٍ الدَّيْلَمِيَّ الْوَاعِظَ ، سَمِعْتُ خَاِلي أَبَا حَاتِمٍ أَحْمَدَ بْنَ الْحَسَنِ ، سَمِعْتُ أَبَا عَمْرٍو عُثْمَانَ بْنَ مُحَمَّدٍ الْوَاعِظَ ، سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ الْحَسَنِ ، سَمِعْتُ أَبَا الْحَسَنِ الْقُرَشِيَّ ، يَقُولُ: ثنا أَبُو ذَرِّ ابْنُ أَبِي رُطَيْلٍ ، ثنا أَبِي ، قَالَ: سَمِعْتُ بَعْضَ أَصْحَابِ فَتْحٍ الْمَوْصِلِيِّ ، يَقُولُ: رَأَيْتُ فَتْحًا يَبْكِي ذَاتَ يَوْمٍ حَتَّى صَارَ الدَّمْعُ دَمًا ، فَقُلْتُ: يَا فَتْحُ إِنَّا لِلَّهِ هُوَ وَيَبْكِي الدَّمَ مِمَّ ذَا لَوْلا إِنَّكَ حَلَّفْتَنِي مَا أَخْبَرُتَك ، فَقُلْتُ لَهُ: مِمَّ الدَّمْعُ؟ فَقَالَ: مِنْ تَقْصِيرِي فِي حَقِّ اللَّهِ عز وجل ، قَالَ: فَقُلْتُ لَهُ مِمَّ الدَّمُ؟ قَالَ: خِفْتُ أَنْ لا يَكُونَ بُكَائِي لِلَّهِ عز وجل ، وَلَكِنْ أَكْتُمُهَا عَلَيَّ حَتَّى الْمَمَاتِ ، فَلَمَّا أَنْ مَاتَ ْرَأَيْتُهُ فِي الْمَنَامِ ، فَقُلْتُ لَهُ: يَا فَتْحُ مَا فَعَلَ الدَّمُ وَمَا فَعَلَ الدَّمْعُ؟ فَقَالَ: أَوْقَفَنِي الْجَبَّارُ بَيْنَ يَدَيْهِ ، فَقَالَ: وَلِمَ بَكَيْتَ الدَّمَ؟ فَقُلْتُ: مَخَافَةَ أَنْ لا يَكُونَ الدَّمْعُ لَكَ خَالِصًا ، فَقَالَ: يَا فَتْحُ لَمْ تَجْنَحْ إِلَى هَذَا كُلِّهِ فَوَعِزَّتِي وَجَلالِي مَا صَعِدَتْ صَحِيفَتُكَ مُنْذُ أَرْبَعِينَ سَنَةً فِيهَا خَطِيئَةٌ فَإِنَّ لَكَ بِالدَّمْعِ الْجَنَّةَ وَبِالدَّمِ أَنْ أَرْفَعَ الْحُجُبَ كُلَّهَا عَنْ مَنْ بَكَى بِالدَّمِ ، وَلا حِجَابَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ
14 - أَخْبَرَنَا الإِمَامُ أَبُو الْفَرَجِ ، إِذْنًا ، أنبا أَبُو بَكْرٍ الصُّوفِيُّ ، أنبا سَعْدٌ الْحِيرِيُّ ، أنبا ابْنُ بَالَوَيْهِ ، أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى الْقُرَشِيُّ ، ثنا أَبُو الأَشْهَبِ السَّائِحُ ، بَيْنَا أَنَا فِي الطَّوَافِ إِذَا أَنَا بِجُوَيْرِيَةَ قَدْ تَعَلَّقَتْ بِأَسْتَارِ الْكَعْبَةِ وَهِيَ تَقُولُ: يَا وَحْشَتِي بَعْدَ الأُنْسِ ، وَيَا ذُلِّي بَعْدَ الْعِزِّ ، وَيَا فَقْرِي بَعْدَ الْغِنَى ، فَقُلْتُ لَهَا: مَا لَكِ؟ أَذَهَبَ لَكِ مَالٌ؟ أَوْ أُصِبْتِ بِمُصِيبَةٍ؟ قَالَتْ: لا ، وَلَكِنْ كَانَ لِي قَلْبٍ فَقَدْتُهُ ، قُلْتُ: وَهَذِهِ مُصِيبَتُكِ؟ قَالَتْ: وَأَيَّةُ مُصِيبَةٍ أَعْظَمُ مِنْ فَقْدِ الْقُلُوبِ وَانْقِطَاعِهَا عَنِ الْمَحْبُوبِ ، فَقُلْتُ لَهَا: إِنَّ حُسْنَ صَوْتِكَ قَدْ عَطَّلَ عَلَيَّ سَامِعِيهِ الطَّوَافَ ، فَقَالَتْ: يَا شَيْخَ الْبَيْتِ بَيْتُكَ أَمْ بَيْتُهُ ، وَالْحَرَمُ حَرَمُكَ أَمْ حَرَمُهُ ، قُلْتُ: بَلْ بَيْتُهُ وَحَرَمُهُ ، قَالَتْ: فَدَعْنَا نَتَدَلَّلُ عَلَيْهِ عَلَى قَدْرِ مَا اسْتَزَارَنَا إِلَيْهِ ، ثُمَّ قَالَتْ: بِحُبِّكَ لِي أَلا رَدَدْتَ عَلَيَّ قَلْبِي ، فَقُلْتُ لَهَا: مِنْ أَيْنَ تَعْلَمِينَ أَنَّهُ يُحِبُّكِ؟ قَالَتْ: بِالْعِنَايَةِ الْقَدِيمَةِ ، جَيَّشَ مِنْ أَجْلِي الْجُيُوشَ ، وَأَنْفَقَ الأَمْوَالَ ، وَأَخْرَجَنِي مِنْ بِلادِ الشِّرْكِ ، وَأَدْخَلَنِي فِي التَّوْحِيدِ ، وَعَرَّفَنِي نَفْسَهُ ، فَهَلْ هَذَا لِعِنَايَةٍ قَدِيمَةٍ ، قُلْتُ: كَيْفَ حُبُّكِ لَهُ؟ قَالَتْ: أَعَظِّمُ شَيْءٍ وَأَجَلَّهُ
14 - بَلَغَنَا عَنْ إِبْرَاهِيمَ الْخَوَّاصِ ، قَالَ: كُنْتُ بِمَكَّةَ بَيْنَا أَنَا أَطُوفُ بِالْبَيْتِ فَنُودِيتُ فِي سِرِّي ، سِرْ إِلَى بِلادِ الرُّومِ ، فَقُلْتُ: يَا عَجَبًا أَكُونُ بِبَيْتِ اللَّهِ الْحَرَامِ فَأَتْرُكُهُ وَأَمْضِي إِلَى بِلادِ الرُّومِ ، ثُمَّ هَمَمْتُ بِالطَّوَافِ فَلَمْ أَسْتَطِعْ ، فَخَرَجْتُ إِلَى بِلادِ الرُّومِ ، فَلَمَّا دَخَلْتُهَا سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ ، إِنَّ بِنْتَ مَلِكِنَا قَدْ صُرِعَتْ وَقَدْ عُرِضَتْ عَلَى كُلِّ الأَطِبَّاءِ فَمَا عَرَفُوا لَهَا دَوَاءً ، فَقُلْتُ: إِلَيَّ إِلَيْهَا فَأَنَا غُلامُ الطَّبِيبِ ، فَحُمِلْتُ ، فَلَمَّا دَخَلْتُ عَلَيْهَا ، قَالَتْ: مَرْحَبًا يَا خَوَّاصُ ، فَقُلْتُ: مَا لَكِ؟ فَقَالَتْ: كُنْتُ فِي دِينِنَا حَتَّى الْبَارِحَةِ فَإِنِّي نَائِمَةٌ ، فَرَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ عَرْشَ رَبِّي بَارِزًا فَانْتَبَهْتُ كَمَا تَرَى لا يَنْطِقُ لِسَانِي إِلا بِقَوْلِ: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ ، فَلَمَّا رَأَوْنِي هَكَذَا نَسَبُونِي إِلَى الْجُنُونِ ، فَقُلْتُ: لَعَلَّ اللَّهَ يَخْلَعُكَ مِنْهُمْ ، فَمِنْ أَيْنَ عَرَفْتِ اسْمِي؟ قَالَتْ: نُودِيتُ سَنَبْعَثُ لَكِ مَنْ تَسْلَمِينَ عَلَى يَدَيْهِ فَأُلْهِمْتُ ذِكْرَكَ ، فَهَمَمْتُ بِالنُّهُوضِ ، فَقَالَتْ: إِلَى أَيْنَ؟ قُلْتُ: إِلَى مَكَّةَ ، فَقَالَتْ: هَا هِيَ مَكَّةُ ، فَنَظَرْتُ فَإِذَا مَكَّةُ ، فَسِرْتُ قَلِيلا فَإِذَا أَنَا بِالْبَيْتِ
১৩ - মাহমুদ লিখিতভাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসমাঈল আল-হাফিজ আমাদের জানিয়েছেন, আবু আল-মাআলি আশ-শরীফ আমাদের জানিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-মুহতাদি আমাদের জানিয়েছেন, আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বাযযার আমাদের জানিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন নাজিয়াহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, দাউদ বিন রশীদ এবং ইবনুল আকতা' আমাদের বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: মুহাম্মদ বিন রাবিয়াহ ইব্রাহিম বিন ইয়াযিদ আল-খাওযী থেকে, তিনি আমর এবং তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«আমি ঈদের দিনের কোরবানির চেয়ে উত্তম অন্য কোনো কিছুতে রৌপ্যমুদ্রা ব্যয় করিনি»১৪ - ওমর বিন মুহাম্মদ লিখিতভাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-কাযযায আমাদের জানিয়েছেন, আবু বকর আল-খাইয়াত আমাদের জানিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ আল-আল্লাফ আমাদের জানিয়েছেন, আল-হুসাইন বিন সাফওয়ান আমাদের জানিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়াসিন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান বিন সালিম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ওয়ারদ আত-তুজিবি ঈদের দিনে মানুষের ভিড় দেখে কাঁদলেন এবং বললেন: আমি কিয়ামতের ময়দানের সাথে এই দিনের চেয়ে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ অন্য কিছু দেখিনি।
অতঃপর তিনি অসুস্থ অবস্থায় নিজ গৃহে ফিরে গেলেন এবং অল্পকাল পরেই তিনি মৃত্যুবরণ করলেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
১৪ - শুহদাহ বিনতে আহমদ অনুমতিক্রমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জাফর বিন আহমদ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: জাফর আল-খুলদি বর্ণনা করেছেন, আহমদ বিন মাসরুক আমাদের বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আমাদের বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন আল-ফারজ আল-আবিদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মোসেলে আবু ইসমাইল উপনামের একজন খ্রিস্টান ব্যক্তি ছিল। তিনি বলেন: এক রাতে সে এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিল যখন সে তার বাড়ির ছাদে তাহাজ্জুদ পড়ছিল এবং পাঠ করছিল: {আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তাঁরই অনুগত হয়েছে এবং তাঁরই নিকট তারা ফিরে যাবে} [আলে ইমরান: ৮৩]।
তিনি বলেন: তখন আবু ইসমাইল এক বিকট চিৎকার দিলেন এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। সকাল হওয়া পর্যন্ত তাঁর এই অবস্থা বহাল থাকল। যখন সকাল হলো, তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। অতঃপর তিনি ফাতহ আল-মওসিলির নিকট এসে তাঁর সান্নিধ্যে থাকার অনুমতি চাইলেন। এরপর থেকে তিনি তাঁর সাথে থাকতেন এবং তাঁর খিদমত করতেন। বর্ণনাকারী বলেন: আবু ইসমাইল এত কাঁদলেন যে তাঁর এক চোখ নষ্ট হয়ে গেল এবং অন্য চোখটিও প্রায় দৃষ্টিহীন হয়ে পড়ল। একদিন আমি তাঁকে বললাম: আমাকে ফাতহ আল-মওসিলির কোনো অবস্থা সম্পর্কে বলুন। তিনি বলেন: তখন তিনি কাঁদলেন এবং বললেন: আমি তোমাকে তাঁর সম্পর্কে জানাচ্ছি; আল্লাহর কসম, তিনি ছিলেন আধ্যাত্মিক সত্তাসমূহের মতো, যা কিছু সেখানে (পরকালে) আছে তার সাথে তাঁর অন্তর ছিল সম্পৃক্ত, দুনিয়াতে তাঁর কোনো শান্তি ছিল না। আমি বললাম: সেই অবস্থার ওপরই (কিছু বলুন)। তিনি বললেন: একদিন আমি মোসেলে তাঁর সাথে ঈদে উপস্থিত ছিলাম। মানুষ যখন চলে গেল, তখন তিনি ফিরে এলেন এবং আমিও তাঁর সাথে ফিরলাম। তিনি শহরের চারপাশ থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখলেন এবং কাঁদলেন। অতঃপর বললেন: মানুষ তাদের কোরবানি পেশ করেছে, কিন্তু হায়! আমি আপনার নিকট আমার কোরবানির কী করলাম, হে প্রিয়তম!
অতঃপর তিনি জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেলেন। আমি পানি নিয়ে এলাম এবং তাঁর মুখমন্ডল মুছে দিলাম, তখন তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন। এরপর তিনি চলতে থাকলেন যতক্ষণ না শহরের একটি গলিতে প্রবেশ করলেন। অতঃপর তিনি নিজের মাথা আমার দিকে তুললেন অথবা বললেন: হে প্রিয়তম! আপনি আমাকে আর কতকাল আটকে রাখবেন?
অতঃপর তিনি পুনরায় জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেলেন। আমি পানি নিয়ে এলাম এবং তাঁর মুখমন্ডল মুছে দিলাম, তখন তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন। এরপর তিনি আর মাত্র কয়েকদিন জীবিত ছিলেন এবং মৃত্যুবরণ করলেন।
১৪ - আল-হাফিজ আমাদের অনুমতি দিয়েছেন, আবু আল-মাহাসিন আমাদের জানিয়েছেন, আবু শুজা আমাদের জানিয়েছেন, আমি আবু সাবিত আদ-দাইলামি আল-ওয়ায়েযকে বলতে শুনেছি, আমি আমার মামা আবু হাতিম আহমদ বিন আল-হাসানকে বলতে শুনেছি, আমি আবু আমর উসমান বিন মুহাম্মদ আল-ওয়ায়েযকে বলতে শুনেছি, আমি আলী বিন আল-হাসানকে বলতে শুনেছি, আমি আবু আল-হাসান আল-কুরাশিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: আবু যর ইবনে আবি রুতাইল আমাদের বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ফাতহ আল-মওসিলির জনৈক সঙ্গীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি একদিন ফাতহকে কাঁদতে দেখলাম এমনকি তাঁর অশ্রু রক্তে পরিণত হলো। আমি বললাম: হে ফাতহ! ইন্না লিল্লাহ! আপনি রক্তাশ্রু বিসর্জন দিচ্ছেন কেন? তিনি বললেন: যদি তুমি আমাকে কসম না দিতে তবে আমি তোমাকে বলতাম না। আমি তাঁকে বললাম: অশ্রু কেন? তিনি বললেন: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার হকের প্রতি আমার অবহেলার কারণে। তিনি বলেন: আমি তাঁকে বললাম: তবে রক্ত কেন? তিনি বললেন: আমি ভয় পেয়েছিলাম যে আমার কান্না হয়তো আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার জন্য (নিষ্ঠাপূর্ণ) হচ্ছে না। তবে এটি আমার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গোপন রেখো। অতঃপর যখন তিনি মারা গেলেন, আমি তাঁকে স্বপ্নে দেখলাম। আমি তাঁকে বললাম: হে ফাতহ! সেই রক্ত এবং সেই অশ্রুর কী অবস্থা হলো? তিনি বললেন: জাব্বার (মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ) আমাকে তাঁর সামনে দাঁড় করালেন এবং বললেন: তুমি রক্ত কেন কেঁদেছিলে? আমি বললাম: এই ভয়ে যে আমার অশ্রু হয়তো আপনার জন্য খাঁটি হচ্ছে না। তখন তিনি বললেন: হে ফাতহ! এই সবকিছুর প্রয়োজন ছিল না; আমার ইজ্জত ও জালালের কসম, গত চল্লিশ বছর ধরে তোমার আমলনামা থেকে কোনো পাপ আমার কাছে ওপরে ওঠেনি। সুতরাং তোমার অশ্রুর বিনিময়ে তোমার জন্য জান্নাত অবধারিত, আর রক্তের বিনিময়ে আমি ঐ ব্যক্তিদের থেকে সমস্ত পর্দা সরিয়ে দিই যারা রক্তাশ্রু বিসর্জন দেয়, ফলে আমার এবং তাদের মাঝে আর কোনো পর্দা থাকে না।
১৪ - ইমাম আবু আল-ফারজ অনুমতিক্রমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আস-সুফি আমাদের জানিয়েছেন, সাদ আল-হিরি আমাদের জানিয়েছেন, ইবনে বালওয়াইহি আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন ঈসা আল-কুরাশি আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু আল-আশহাব আস-সাইয়াহ আমাদের বর্ণনা করেছেন: আমি তাওয়াফ করছিলাম, এমতাবস্থায় একজন কিশোরীকে দেখলাম যে কাবার গিলাফ ধরে বলছিল: হে (আল্লাহর সাথে) ঘনিষ্ঠতার পর আমার এই একাকীত্ব! হে সম্মানের পর আমার এই হীনতা! এবং হে ঐশ্বর্যের পর আমার এই দরিদ্রতা! আমি তাকে বললাম: তোমার কী হয়েছে? তোমার কি সম্পদ হারিয়ে গেছে? নাকি তুমি কোনো বিপদে পড়েছ? সে বলল: না, বরং আমার একটি অন্তর ছিল যা আমি হারিয়ে ফেলেছি। আমি বললাম: এটাই কি তোমার বিপদ? সে বলল: অন্তর হারিয়ে যাওয়া এবং প্রিয়তমের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার চেয়ে বড় বিপদ আর কী হতে পারে? আমি তাকে বললাম: তোমার সুমধুর কণ্ঠস্বর অন্যান্য তাওয়াফকারীদের তাওয়াফ থেকে বিমুখ করে দিচ্ছে। তখন সে বলল: হে শেখ! এই ঘর কি আপনার না কি তাঁর? আর এই হারাম কি আপনার না কি তাঁর? আমি বললাম: বরং ঘরও তাঁর এবং হারামও তাঁর। সে বলল: তবে আমাদের তাঁর নিকট আবদার করতে দিন যে অনুপাতে তিনি আমাদের এখানে আসার দাওয়াত দিয়েছেন। অতঃপর সে বলল: আপনার প্রতি তাঁর ভালোবাসার দোহাই দিয়ে বলছি, আপনি কি আমার অন্তরটি আমার কাছে ফিরিয়ে দেবেন না? আমি তাকে বললাম: তুমি কীভাবে জানলে যে তিনি তোমাকে ভালোবাসেন? সে বলল: সেই অনাদি বিশেষ অনুগ্রহের মাধ্যমে; তিনি আমার জন্য সৈন্যবাহিনী পরিচালনা করেছেন, সম্পদ ব্যয় করেছেন, আমাকে শিরকের দেশ থেকে বের করে এনেছেন এবং তাওহীদের মধ্যে প্রবেশ করিয়েছেন এবং আমাকে তাঁর নিজের পরিচয় দান করেছেন। এটি কি তবে অনাদি বিশেষ অনুগ্রহ নয়? আমি বললাম: তাঁর প্রতি তোমার ভালোবাসা কেমন? সে বলল: সবচেয়ে মহান এবং সবচেয়ে উচ্চতর।
১৪ - ইব্রাহিম আল-খাওওয়াস থেকে আমাদের কাছে পৌঁছেছে যে, তিনি বলেন: আমি মক্কায় তাওয়াফ করছিলাম, এমন সময় আমার অন্তরে এক আহ্বান শুনলাম: তুমি রোম দেশে যাও। আমি মনে মনে বললাম: বিস্ময়কর ব্যাপার! আমি আল্লাহর পবিত্র ঘরে আছি, আর আমি এটি ছেড়ে রোম দেশে যাব? অতঃপর আমি তাওয়াফের ইচ্ছা করলাম কিন্তু সমর্থ হলাম না। ফলে আমি রোম দেশে রওনা হলাম। যখন আমি সেখানে প্রবেশ করলাম, তখন মানুষকে বলতে শুনলাম যে, আমাদের রাজার মেয়ে বিকারগ্রস্ত হয়েছে এবং তাকে সমস্ত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়েছে কিন্তু কেউ তার রোগ নির্ণয় করতে পারেনি। আমি বললাম: আমাকে তার কাছে নিয়ে চলো, আমি একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো। আমি যখন তার কাছে প্রবেশ করলাম, সে বলল: স্বাগতম হে খাওওয়াস! আমি বললাম: তোমার কী হয়েছে? সে বলল: গতরাত পর্যন্ত আমি আমাদের ধর্মেই ছিলাম, অতঃপর আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। ঘুমের মধ্যে আমি আমার রবের আরশকে প্রকাশিত অবস্থায় দেখলাম। ফলে আমার জাগ্রত অবস্থা এমন হলো যা আপনি দেখছেন; আমার জিহ্বা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ' ছাড়া আর কিছুই উচ্চারণ করছে না। তারা যখন আমাকে এই অবস্থায় দেখল, তারা আমাকে উন্মাদ সাব্যস্ত করল। আমি বললাম: সম্ভবত আল্লাহ তোমাকে তাদের থেকে মুক্ত করবেন। কিন্তু তুমি আমার নাম কীভাবে জানলে? সে বলল: আমাকে জানানো হয়েছে যে, 'আমি তোমার কাছে এমন এক ব্যক্তিকে পাঠাব যার হাতে তুমি ইসলাম গ্রহণ করবে', আর আমাকে তোমার নাম ইলহাম করা হয়েছে। অতঃপর আমি উঠে দাঁড়ানোর ইচ্ছা করলাম। সে বলল: কোথায় যাচ্ছেন? আমি বললাম: মক্কায়। সে বলল: এই তো মক্কা! আমি তাকিয়ে দেখলাম মক্কা দেখা যাচ্ছে। আমি কিছুক্ষণ হাঁটলাম এবং নিজেকে বাইতুল্লাহর সামনে পেলাম।
(খণ্ড: ১)
জুজউন মিন তাখরীজি আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
14 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ ، أنبا الْحَسَنُ ، أنبا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ سَعِيدٍ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرٍو ، ثنا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ ، ثنا أَسَدُ بْنُ مُوسَى ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ زِيَادٍ ، عَنْ أَبِي إِلْيَاسٍ ، عَنْ وَهْبٍ ، قَالَ: إِنَّ اللَّهَ عز وجل حِينَ فَرَغَ مِنْ خَلْقِهِ نَظَرَ إِلَيْهِمْ حِينَ مَشَوْا عَلَى وَجْهِ الأَرْضِ ، فَقَالَ: «أَنَا اللَّهُ لا إِلَهَ إِلا أَنَا ، أَنَا الَّذِي خَلَقْتُكَ بِقُوَّتِي وَأَتْقَنْتُكَ بِحِكْمَتِي ، حَقٌّ قَضَائِي وَنَافِذٌ أَمْرِي ، أَنَا أُعِيدُكَ كَمَا خَلَقْتُكَ وَأُفْنِيكَ حَتَّى أَبْقَى وَحْدِي ، فَإِنَّ الْمُلْكَ وَالْخُلُودَ لا يَحِقُّ إِلا لِي ، أَدْعُو خَلْقِي وَأَجْمَعُهُمْ لِقَضَائِي يَوْمَ يُحْشَرُ أَعْدَائِي ، وَتَجِلُ الْقُلُوبُ مِنْ خَوْفِي وَتَحِفُّ الأَقْدَامُ مِنْ هَيْبَتِي ، وَتَبْرَأُ الآلِهَةُ مِمَّنْ عَبَدَهَا دُونِي»
১৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন আলী, আমাদের খবর দিয়েছেন হাসান, আমাদের খবর দিয়েছেন আহমদ বিন জাফর বিন সাঈদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আমর, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সালামাহ বিন শাবিব, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন সালিহ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আসাদ বিন মুসা, ইউসুফ বিন যিয়াদ থেকে, আবু ইলিয়াস থেকে, ওয়াহব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী যখন তাঁর সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করা সমাপ্ত করলেন, তখন তিনি তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন যখন তারা পৃথিবীর পৃষ্ঠে বিচরণ করছিল। অতঃপর তিনি বললেন: «আমিই আল্লাহ, আমি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আমিই সেই সত্তা যিনি তোমাকে আমার শক্তিতে সৃষ্টি করেছি এবং আমার প্রজ্ঞা দ্বারা তোমাকে সুনিপুণ করেছি। আমার ফয়সালা সত্য এবং আমার আদেশ কার্যকর। আমিই তোমাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনব যেভাবে তোমাকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম এবং তোমাকে লয় করব যতক্ষণ না কেবল আমিই অবশিষ্ট থাকব। কেননা রাজত্ব ও অমরত্ব আমি ব্যতীত অন্য কারো জন্য শোভা পায় না। আমি আমার সৃষ্টিকে আহ্বান করব এবং আমার ফয়সালার জন্য তাদের একত্রিত করব যেদিন আমার শত্রুদের সমবেত করা হবে; আমার ভয়ে অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হবে এবং আমার প্রতাপে পা-সমূহ সংকুচিত হয়ে আসবে, আর যারা আমি ব্যতীত অন্য উপাস্যদের ইবাদত করত, সেই উপাস্যরা তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করবে»
(খণ্ড: ১)
জুজউন মিন তাখরীজি আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
15 - قَالَ: وَذَكَرَ وَهْبٌ أَنَّ اللَّهَ عز وجل لَمَّا فَرَغَ مِنْ جَمِيعِ خَلْقِهِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَقْبَلَ يَوْمَ السَّبْتِ يَمْدَحُ نَفْسَهُ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ، فَأَنْصَتَ كُلُّ شَيْءٍ وَأَطْرَقَ لَهُ كُلُّ شَيْءٍ خَلَقَهُ ، فَقَالَ: " أَنَا الْمَلِكُ لا إِلَهَ إِلا أَنَا ذُو الرَّحْمَةِ الْوَاسِعَةِ وَالأَسْمَاءِ الْحُسْنَى ، أَنَا اللَّهُ لا إِلَهَ إِلا أَنَا ذُو الْعَرْشِ الْمَجِيدِ وَالأَمْثَالِ الْعُلا ، أَنَا اللَّهُ لا إِلَهَ إِلا أَنَا ذُو الْمَنِّ وَالطَّوْلِ وَالآلاءِ وَالْكِبْرِيَاءِ ، أَنَا اللَّهُ لا إِلَهَ إِلا أَنَا بَدِيعُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَا فِيهِنَّ ، مَلأَتْ كُلَّ شَيْءٍ عَظَمَتِي ، وَقَهَرَ كُلَّ شَيْءٍ مُلْكِي ، وَأَحَاطَتْ بِكُلِّ شَيْءٍ قُدْرَتِي ، وَأَحْصَى كُلَّ شَيْءٍ عِلْمِي ، وَوِسَعَتْ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَتِي ، وَبَلَغَ كُلَّ شَيْءٍ لُطْفِي ، وَأَنَا اللَّهُ يَا مَعْشَرَ الْخَلائِقِ فَاعْرِفُوا مَكَانِي فَلَيْسَ فِي السَّمَوَاتِ وَالأَرَضِينَ إِلا أَنَا وَخَلْقِي كُلُّهُمْ لِي لا يَقُومُ وَلا يَدُومُ إِلا بِي يَتَقَلَّبُ فِي قَبْضَتِي وَيَعِيشُ فِي رِزْقِي ، وَحَيَاتُهُ وَمَوْتُهُ بِيَدِي ، فَلَيْسَ لَهُ مَحِيصٌ وَلا مَلْجَأٌ غَيْرِي ، لَوْ تَخَلَّيْتُ عَنْهُ إِذٌا لَدُمِّرَ كُلُّهُ وَإِذا لَكُنْتُ أَنَا عَلَى حَالِي لا يَنْقُصُنِي ذَلِكَ شَيْئًا وَلا يَزِيدُنِي ، وَأَنَا مُسْتَغْنٍ بِالْعِزِّ كُلِّهِ فِي جَبَرُوتِي وَمُلْكِي وَعُلُوِّ مَكَانِي وَعَظَمَةِ شَأْنِي ، فَلا شَيْءَ مِثْلِي وَلا إِلَهَ غَيْرِي وَلَيْسَ يَنْبَغِي لِشَيْءٍ خَلَقْتُهُ أَنْ يَعْدِلَ بِي وَلا يُنْكِرَنِي ، فَكَيْفَ يُنْكِرُنِي مَنْ خَلَقْتُهُ يَوْمَ خَلَقْتُهُ عَلَى مَعْرِفَتِي؟ أَمْ كَيْفَ يُكَابِرُنِي مَنْ قَدْ قَهَرَهُ مُلْكِي؟ فَلَيْسَ لَهُ خَالِقٌ وَلا بَاعِثٌ وَلا وَارِثٌ غَيْرِي ، أَمْ كَيْفَ يُعَادِينِي مَنْ نَاصِيَتُهُ بِيَدِي؟ أَمْ يَسْتَنْكِفُ عَنْ عِبَادَتِي عَبْدِي وَابْنُ عِبَادِي وَابْنُ إِمَائِي لا يُنْسَبُ إِلَى خَالِقٍ وَلا وَارِثٍ غَيْرِي ، أَمْ كَيْفَ يَعْبُدُ دُونِي مَنْ تَخْلُقُهُ الأَيَّامُ وَيَفْنَى أَجَلُهُ اخْتِلافَ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ؟ وَهُمَا شُعْبَةٌ يَسِيرَةٌ مِنْ سُلْطَانِي ، فَإِلَيَّ إِلَيَّ يَا أَهْلَ الْمَوْتِ وَاْلفَنَاءِ ، لا إِلَى غَيْرِي فَإِنِّي كَتَبْتُ الرَّحْمَةَ عَلَى نَفْسِي وَقَضَيْتُ الْعَفْوُ وَالْمَغْفِرَةَ لِمَنِ اسْتَغْفَرَنِي ، أَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا صَغِيرَهَا وَكَبِيرَهَا ، وَلا يَكْبُرُ ذَلِكَ عَلَيَّ ، فَلا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ وَلا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَتِي فَإِنَّ رَحْمَتِي سَبَقَتْ غَضَبِي ، وَخَزَائِنَ الْخَيْرِ كُلَّهَا بِيَدِي ، وَلَمْ أَخْلُقْ شَيْئًا مِمَّا خَلَقْتُ لِحَاجَةٍ كَانَتْ مِنِّي إِلَيْهِ ، وَلَكِنْ لأُبَيِّنَ بِهِ قُدْرَتِي وَلِيَنْظُرَ النَّاظِرُونُ فِي مُلْكِي وَتَدْبِيرِ حِكْمَتِي ، وَلِتَدِينَ الْخَلائِقُ كُلُّهَا لِعِزَّتِي ، وَيُسَبِّحَ الْخَلْقُ كُلُّهُمْ بِحَمْدِي ، وَلِتَعْن الْوُجُوهُ كُلُّهَا لِوَجْهِي
১৫ - তিনি বলেন: ওহাব উল্লেখ করেছেন যে, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ যখন জুমার দিনে তাঁর যাবতীয় সৃষ্টি কাজ সমাপ্ত করলেন, তখন শনিবার দিন তিনি তাঁর নিজের প্রশংসা করতে লাগলেন যেভাবে তিনি প্রশংসিত হওয়ার যোগ্য। তখন প্রতিটি বস্তু নীরব হয়ে গেল এবং তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিই তাঁর প্রতি বিনত হয়ে মাথা নিচু করল। অতঃপর তিনি বললেন: " আমিই মালিক (রাজা), আমি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, আমি প্রশস্ত রহমত ও উত্তম নামসমূহের অধিকারী। আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, আমি মর্যাদাপূর্ণ আরশের মালিক এবং সুউচ্চ উপমাসমূহের অধিকারী। আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, আমি অনুগ্রহ, প্রাচুর্য, নেয়ামত ও মহত্ত্বের অধিকারী। আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, আমি আসমানসমূহ, জমিন এবং এই দুয়ের মাঝে যা কিছু আছে তার অনন্য স্রষ্টা। আমার মহিমা প্রতিটি বস্তুকে পরিপূর্ণ করেছে, আমার রাজত্ব প্রতিটি বস্তুর ওপর জয়ী হয়েছে, আমার ক্ষমতা প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করেছে, আমার জ্ঞান প্রতিটি বস্তুকে গণনা করে রেখেছে, আমার রহমত প্রতিটি বস্তুকে ব্যাপ্ত করেছে এবং আমার অনুগ্রহ প্রতিটি বস্তুর নিকট পৌঁছেছে। হে সৃষ্টিজগত! আমিই আল্লাহ, সুতরাং তোমরা আমার অবস্থান জেনে নাও; কেননা আসমানসমূহ ও জমিনসমূহে আমি ছাড়া আর কেউ নেই। আমার যাবতীয় সৃষ্টি আমারই অনুগত; তারা আমার সাহায্য ছাড়া প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না এবং টিকে থাকতে পারে না। তারা আমার হাতের মুঠোয় বিচরণ করে এবং আমার দেওয়া রিজিক খেয়ে বেঁচে থাকে। তাদের জীবন ও মৃত্যু আমার হাতে। সুতরাং আমি ছাড়া তাদের পলায়নের কোনো পথ নেই এবং কোনো আশ্রয়স্থল নেই। আমি যদি তাদের ছেড়ে দিতাম, তবে তারা সকলেই ধ্বংস হয়ে যেত। এমতাবস্থায় আমি আমার নিজ অবস্থাতেই থাকতাম, তাতে আমার কোনো কিছুই কমত না এবং বাড়তও না। আমি আমার পূর্ণ প্রতাপ, রাজত্ব, সুউচ্চ অবস্থান ও সুমহান মর্যাদার কারণে অভাবমুক্ত। আমার তুল্য কোনো কিছুই নেই এবং আমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আমি যা কিছু সৃষ্টি করেছি তার কারো জন্যই সমীচীন নয় যে সে কাউকে আমার সমকক্ষ সাব্যস্ত করবে কিংবা আমাকে অস্বীকার করবে। যাকে আমি তাকে সৃষ্টির দিনেই আমার পরিচয়ের ওপর সৃষ্টি করেছি, সে কীভাবে আমাকে অস্বীকার করে? অথবা সে কীভাবে আমার সাথে দম্ভ করে যাকে আমার রাজত্ব পরাভূত করে রেখেছে? আমি ছাড়া তার কোনো স্রষ্টা নেই, পুনরুত্থানকারী নেই এবং কোনো উত্তরাধিকারী নেই। অথবা সে কীভাবে আমার সাথে শত্রুতা করে যার ললাট আমার হাতে? অথবা আমার বান্দা, আমার বান্দাদের সন্তান এবং আমার দাসীদের সন্তান কি আমার ইবাদতে অনীহা প্রকাশ করে, অথচ সে আমি ছাড়া অন্য কোনো স্রষ্টা বা উত্তরাধিকারীর সাথে সম্বন্ধযুক্ত নয়? অথবা সে কীভাবে আমাকে ছেড়ে অন্যের ইবাদত করে যাকে দিনসমূহ সৃষ্টি করে এবং দিন-রাতের পরিবর্তনের সাথে যার আয়ু শেষ হয়ে যায়? অথচ সেই দিন ও রাত আমার কর্তৃত্বের সামান্য একটি অংশ মাত্র। সুতরাং হে মৃত্যু ও ধ্বংসশীল জগতের অধিবাসীগণ! তোমরা কেবল আমার দিকেই এসো, আমার দিকেই এসো; অন্য কারো দিকে নয়। কারণ আমি রহমতকে আমার নিজের ওপর আবশ্যক করে নিয়েছি এবং যে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে তার জন্য আমি ক্ষমা ও মার্জনা নির্ধারণ করেছি। আমি ছোট-বড় সব গুনাহ মাফ করে দেই এবং তা করা আমার কাছে কোনো কঠিন কাজ নয়। সুতরাং তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না এবং আমার রহমত হতে নিরাশ হয়ো না; কেননা নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার ক্রোধের ওপর জয়ী হয়েছে। আর কল্যাণের যাবতীয় ভাণ্ডার আমার হাতে। আমি আমার সৃষ্টিজগতের কোনো কিছুই আমার কোনো প্রয়োজনে সৃষ্টি করিনি, বরং আমি তা করেছি আমার ক্ষমতা প্রকাশ করার জন্য এবং দর্শকরা যেন আমার রাজত্ব ও প্রজ্ঞাপূর্ণ পরিচালনা অবলোকন করতে পারে। আর যেন যাবতীয় সৃষ্টি আমার মর্যাদার কাছে মাথা নত করে, সমস্ত সৃষ্টি আমার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করে এবং সকল চেহারা যেন আমার চেহারার সামনে অবনমিত হয়।"
(খণ্ড: ১)
জুজউন মিন তাখরীজি আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
16 - أَنْبَأَتْنَا شُهْدَةُ بِنْتُ أَحْمَدَ الآبُرِّيُّ ، كِتَابَةً ، أنبا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ طَلْحَةَ ، أنبا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْحِنَّائِيُّ ، أنبا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الدَّقَّاقُ ، أنبا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ، قَالَ: ثنا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ زُفَرَ الأَصْبَهَانِيُّ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ الْهَاشِمِيُّ الدِّمَشْقِيُّ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ حِمْيَرٍ الْحِمْصِيُّ ، ثنا صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو السَّكْسَكِيُّ ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ عُمَيْرٍ ، قَالَ: كَذَا ، قَالَ: فَقُلْتُ: إِنَّمَا هُوَ شُرَيْحُ بْنُ عُبَيْدٍ ، قَالَ: كَذَا هُوَ عِنْدَنَا عَلَى أَبِي شِمْرٍ التَّدْمُرِيَّ ، عَنْ كَعْبِ الأَحْبَارِ ، إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَنْزَلَ عَلَى آدَمَ عليه السلام عَصِيَّا الأَنْبِيَاءِ الْمُرْسَلِينَ ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى ابْنِه شَيْثٍ ، فَقَالَ: أَيْ بُنَيَّ أَنْتَ خَلِيفَتِي مِنْ بَعْدِي فَخُذْهَا بِقَسْمِيْهَا: التَّقْوَى ، وَالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى ، وَكُلَّمَا ذَكَرْتُ اللَّهَ تَعَالَى إِلَى جَنْبِهِ اسْمُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم ، فَإِنِّي رَأَيْتُ اسْمَهُ مَكْتُوبًا عَلَى سَاقِ الْعَرْشِ وَأَنَا بَيْنَ الرُّوحِ وَالطِّينِ ، ثُمَّ إِنِّي طُفْتُ السَّمَوَاتِ فَلَمْ أَرَ فِي السَّمَوَاتِ مَوْضِعًا إِلا رَأَيْتُ اسْمَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مَكْتُوبًا عَلَيْهِ ، وَإِنَّ رَبِّي عز وجل أَسْكَنَنِي الْجَنَّةَ فَلَمْ أَرَ فِي الْجَنَّةِ قَصْرًا وَلا غُرْفَةَ إِلا رَأَيْتُ اسْمَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مَكْتُوبًا عَلَيْهِ، وَلَقَدْ رَأَيْتُ اسْمَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مَكْتُوبًا عَلَى نُحُورِ الْحُورِ الْعِينِ ، وَعَلَى وَرَقِ شَجَرَةِ طُوبَى ، وَعَلَى وَرَقِ سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى ، وَعَلَى أَطْرَافِ الْحُجُبِ ، وَبَيْنَ أَعْيُنِ الْمَلائِكَةِ ، فَأَكْثِرْ ذِكْرَهَا فَإِنَّ الْمَلائِكَةَ تَذْكُرُهَا فِي كُلِّ سَاعَاتِهَا ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
১৬ - শুহদাহ বিনতে আহমাদ আল-আবুরি আমাদের লিখিতভাবে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে তালহা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-হিন্নাঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আমর উসমান ইবনে আহমাদ আদ-দাক্কাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে যুফার আল-আসফাহানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল-হাশেমি আদ-দিমাশকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে হিমইয়ার আল-হিমসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাফওয়ান ইবনে আমর আস-সাকসাকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শুরাইহ ইবনে উমাইর থেকে, তিনি বলেন: এভাবেই, তিনি বলেন: আমি বললাম: তিনি তো কেবল শুরাইহ ইবনে উবাইদ, তিনি বললেন: আবু শিমর আত-তাদমুরির সূত্রে আমাদের নিকট এভাবেই আছে, কাব আল-আহবার থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহ তাআলা আদম আলাইহিস সালামের ওপর প্রেরিত নবীদের লাঠিসমূহ অবতীর্ণ করেছেন। এরপর তিনি তার পুত্র শীষের দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং বললেন: হে বৎস! তুমি আমার পরে আমার স্থলাভিষিক্ত, সুতরাং একে এর দুই অংশসহ গ্রহণ করো: তাকওয়া এবং সুদৃঢ় রশি; আর যখনই তুমি আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করবে, তার পাশেই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম যুক্ত করবে। কারণ আমি আরশের পায়ের ওপর তার নাম লিখিত দেখেছি যখন আমি রুহ ও কাদার মাঝে ছিলাম। এরপর আমি আসমানসমূহ পরিভ্রমণ করেছি এবং আসমানসমূহের এমন কোনো স্থান দেখিনি যেখানে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম লিখিত দেখিনি। আমার প্রতিপালক আযযা ওয়া জাল্লা আমাকে জান্নাতে বসবাস করতে দিয়েছিলেন, তখন আমি জান্নাতের এমন কোনো প্রাসাদ বা কক্ষ দেখিনি যেখানে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম লিখিত দেখিনি। আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম ডাগরচোখা হুরদের গ্রীবায়, তুবা বৃক্ষের পাতায়, সিদরাতুল মুনতাহার পাতায়, পর্দার প্রান্তসমূহে এবং ফেরেশতাদের দুই চোখের মাঝখানে লিখিত দেখেছি। সুতরাং তোমরা বেশি বেশি তাকে স্মরণ করো, কারণ ফেরেশতারা তাদের প্রতিটি মুহূর্তে তাকে স্মরণ করে, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
(খণ্ড: ১)
জুজউন মিন তাখরীজি আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
17 - وَأنبا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْقَاضِي، بِوَاسِطَ ، كِتَابَةً ، وَيَعْقُوبُ بْنُ يُوسُفَ سَمَاعًا ، أنبا أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ الْحُصَيْنِ ، أنبا أَبُو عَلِيٍّ ، أنبا أَبُو بَكْرِ بْنُ جَعْفَرٍ ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، حَدَّثَنِي أَبِي ، ثنا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ ، أنبا ابْنُ لَهِيعَةَ ، عَنْ دَرَّاجٍ ، عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، إِنَّهُ قَالَ: " إِنَّ مُوسَى عليه السلام سَأَلَ رَبَّهُ ، قَالَ: أَيْ رَبِّ عَبْدُكَ الْمُؤْمِنُ تَقْتُرُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا ، قَالَ: فَيَفْتَحُ لَهُ بَابًا مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ ، فَنَظَرَ فِيهَا ، قَالَ: «يَا مُوسَى هَذَا مَا أَعْدَدْتُ لَهُ» ، قَالَ مُوسَى: أَيْ رَبِّ وَعِزَّتِكَ وَجَلالِكَ لَوْ كَانَ أَقْطَعَ الْيَدَيْنِ وَالرِّجْلَيْنِ يُسْحَبُ عَلَى وَجْهِهِ مُنْذُ يَوْمَ خَلَقْتَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَكَانَ هَذَا مَصِيرَهُ لَمْ يَرَ بُؤْسًا قَطُّ ، قَالَ: ثُمَّ قَالَ مُوسَى: أَيْ رَبِّ عَبْدُكَ الْكَافِرُ تُوسِعُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا ، قَالَ: فَيُفْتَحُ لَهُ بَابٌ مِنَ النَّارِ ، قَالَ: «يَا مُوسَى هَذَا مَا أَعْدَدْتُ لَهُ» ، قَالَ مُوسَى: أَيْ رَبِّ وَعِزَّتِكَ وَجَلالِكَ لَوْ كَانَ لَهُ الدُّنْيَا مُنْذُ يَوْمَ خَلَقْتَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَكَانَ هَذَا مَصِيرَهُ لَمْ يَرَ خَيْرًا قَطُّ
১৭ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবন আহমদ আল-কাদি, ওয়াসিত শহরে লিখিতভাবে, এবং ইয়াকুব ইবন ইউসুফ শ্রবণের মাধ্যমে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনুল হুসাইন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবন জাফর; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আবদুর রহমান; আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবন ইসহাক; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবন লাহিয়া; দাররাজ থেকে; তিনি আবুল হাইসাম থেকে; তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে; তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: " নিশ্চয়ই মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর রবকে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বললেন: হে আমার রব! আপনার মুমিন বান্দা, যার ওপর আপনি দুনিয়াকে সংকীর্ণ করে দেন। তিনি (আল্লাহ) বললেন: অতঃপর তিনি তার জন্য জান্নাতের দরজাগুলোর মধ্য থেকে একটি দরজা খুলে দিলেন, ফলে সে তার দিকে দৃষ্টিপাত করল। তিনি বললেন: «হে মূসা, এটিই সেই প্রতিদান যা আমি তার জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি»। মূসা বললেন: 'হে আমার রব! আপনার ইজ্জত ও মহিমার কসম, যদি সে সৃষ্টির দিন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত দুই হাত ও দুই পা কাটা অবস্থায় থাকত এবং তাকে তার চেহারার ওপর টেনে হিঁচড়ানো হতো, আর এটিই হতো তার শেষ গন্তব্য, তবে সে কখনো কোনো দুঃখ-কষ্ট দেখত না।' তিনি বললেন: এরপর মূসা বললেন: 'হে আমার রব! আপনার কাফির বান্দা, যাকে আপনি দুনিয়াতে প্রাচুর্য দান করেন।' তিনি বললেন: অতঃপর তার জন্য জাহান্নামের একটি দরজা খুলে দেওয়া হলো। তিনি বললেন: «হে মূসা, এটিই সেই শাস্তি যা আমি তার জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি»। মূসা বললেন: 'হে আমার রব! আপনার ইজ্জত ও মহিমার কসম, যদি সৃষ্টির দিন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত পুরো দুনিয়া তার মালিকানায় থাকত এবং এটিই হতো তার শেষ গন্তব্য, তবে সে কখনো কোনো কল্যাণ বা সুখ দেখত না'।"
(খণ্ড: ১)
জুজউন মিন তাখরীজি আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
18 - أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ عَبْدِ الْقَادِرِ ، كِتَابَةً ، أنبا أَبُو الْفَتْحِ أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ ، أنبا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ ، أنبا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْحِنَّائِيُّ، أنبا أَبُو الْقَاسِمِ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْخَتَلِيُّ ، حَدَّثَنِي أَبُو مُحَّمَدٍ وَهْبُ بْنُ مَنْصُورٍ الْوَرَّاقُ ، ثنا الْيَمَانُ أَبُو الْحَسَنِ الْقُرَشِيُّ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حِمْيَرٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ ، رضي الله عنه ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ أَصْحَابَ الْكَبَائِرِ مِنْ مُوَحِّدِي الأُمَمِ كُلِّهَا الَّذِينَ مَاتُوا عَلَى كَبَائِرِهِمْ غَيْرَ تَائِبِينَ وَلا نَادِمِينَ ، مَنْ دَخَلَ النَّارَ مِنْهُمْ مِنَ الْبَابِ الأَوَّلِ مِنْ جَهَنَّمَ لا تُزَرَّقُ أَعْيُنُهُمْ ، وَلا تُسَوَّدُ وُجُوهُهُمْ ، وَلا يُقَرَّنُونَ بِالشَّيَاطِينَ ، وَلا يُغَلُّونَ بِالسَّلاسِلِ ، وَلا يُجْرَعُونَ الْحَمِيمَ ، وَلا يُلْبَسُونَ الْقَطِرَانَ ، مِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ النَّارُ إِلَى قَدَمَيْهِ ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ إِلَى رُكْبَتَيْهِ ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ إِلَى حَنْجَرَتِهِ ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ إِلَى عُنُقِهِ ، عَلَى قَدْرِ ذُنُوبِهِمْ وَأَعْمَالِهِمْ ، حَرَّمَ اللَّهُ أَجْسَادَهُمْ عَلَى الْخُلُودِ مِنْ أَجْلِ التَّوْحِيدِ ، وَصَوَّرَهُمْ عَلَى النَّارِ مِنْ أَجْلِ السُّجُودِ ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَمْكُثُ فِيهَا شَهْرٌا ثُمَّ يَخْرُجُ ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَمْكُثُ فِيهَا سَنَةً ، وَأَكْثَرُهُمْ فِيهَا مُكْثًا بِقَدْرِ الدُّنْيَا مُنْذُ خُلِقَتْ إِلَى يَوْمِ تَفْنَى ، وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ أَنْ يَرْحَمَهُمْ وَيُخْرِجَهُمْ ، قَالَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى ، وَمَنْ فِي النَّارِ مِنْ أَهْلِ الأَدْيَانِ لِمَنْ فِي النَّارِ مِنَ الْمُوَحِّدِينَ: آمَنْتُمْ بِاللَّهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ ، فَأَنْتُمْ وَنَحْنُ الْيَوْمَ فِي النَّارِ سَوَاءٌ ، قَالَ: فَيَغْضَبُ اللَّهُ تبارك وتعالى غَضَبًا لَمْ يَغْضَبْهُ لِشَيْءٍ فِيمَا مَضَى ، فَيُخْرِجُهُمْ إِلَى عَيْنٍ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالصِّرَاطِ ، فَيَنْبُتُونَ فِيهَا كَنَبَاتِ الطَّرَاثِيثِ ، أَوْ كَنَبَاتِ الْحَبَّةِ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ مِمَّا يَلِي الشَّمْسَ مِنْهُ أَحْمَرُ ، وَمَا يَلِي الظِّلَّ مِنْهُ أَخْضَرُ ، وَمَا يَلِي الطَّلَّ مِنْهُ أَصْفَرُ ، ثُمَّ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ مَكْتُوبًا فِي جِبَاهِهِمْ: هَؤُلاءِ الْجَهَنَّمِيُّونَ عُتَقَاءُ الرَّحْمَنِ عز وجل مِنَ النَّارِ ، فَيَمْكُثُونَ بِذَلِكَ مَا شَاءَ اللَّهُ عز وجل ، ثُمَّ يَسْأَلُونَ اللَّهَ عز وجل أَنْ يَمْحُوَ عَنْهُمْ ذَلِكَ الاسْمَ ، فَيَبْعَثُ اللَّهُ عز وجل إِلَيْهِمْ مَلَكًا فَيَمْحُوهُ عَنْهُمْ ، يَقُولُ اللَّهُ عز وجل لأَهْلِ الْجَنَّةِ:
«اطَّلِعُوا إِلَى مَنْ بَقِيَ فِي النَّارِ» .فَيَطَّلِعُونَ ، فَيَقُولُونَ: {مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ} [المدثر: 42] .
بَعْدَ خُرُوجِ النَّاسِ مِنْهَا: {قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ} [المدثر: 43] ، أَيْ إِنَّا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُوَحِّدِينَ ، وَلَوْ كُنَّا مِنْهُمْ لَخَرَجْنَا مَعَهُمْ ، ثُمَّ يَبْعَثُ اللَّهُ إِلَيْهِمُ الْمَلائِكَةَ بِمَسَامِيرَ مِنْ نَارٍ ، وَأَطْبَاقٍ مِنْ نَارٍ فَيُطْبِقُونَهَا بِتِلْكَ الأَطْبَاقِ ، وَيُسْمِرُونَهَا بِتِلْكَ الْمَسَامِيرِ ، فَيَتَنَاسَاهُمُ الْجَبَّارُ عَلَى عَرْشِهِ ، وَيَشْتَغِلُ عَنْهُمْ أَهْلُ الْجَنَّةِ بِنَعِيمِهِمْ وَلَذَّتِهِمْ ، وَهُوَ قَوْلُ اللَّهِ عز وجل: {رُبَمَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ كَانُوا مُسْلِمِينَ} [الحجر: 2]
১৮ - আমাদের জানিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক বিন আব্দুল কাদির, লিখিতভাবে; আমাদের জানিয়েছেন আবুল ফাতহ আহমদ বিন সুলায়মান; আমাদের জানিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আহমদ; আমাদের জানিয়েছেন আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন উবায়দুল্লাহ আল-হিন্নাঈ; আমাদের জানিয়েছেন আবু আল-কাসিম ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-খাতালি; আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ ওয়াহব বিন মনসুর আল-ওয়াররাক; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ইয়ামান আবু আল-হাসান আল-কুরাশি; মুহাম্মদ বিন হিমইয়ার থেকে; তিনি মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন আবি তালিব থেকে; তিনি তাঁর পিতা থেকে; তিনি তাঁর দাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই সমস্ত উম্মতের তাওহীদপন্থীদের মধ্যে যারা কবিরা গুনাহকারী, যারা তওবা ও অনুশোচনা ছাড়াই তাদের কবিরা গুনাহের ওপর মারা গেছে; তাদের মধ্যে যারা জাহান্নামের প্রথম দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে, তাদের চোখ নীল (অন্ধ) হয়ে যাবে না, তাদের চেহারা কালো হবে না, তাদের শয়তানদের সাথে শিকল দিয়ে একত্রে বাঁধা হবে না, তাদের বেড়ি পরানো হবে না, তাদের ফুটন্ত পানি পান করানো হবে না এবং তাদের আলকাতরার পোশাক পরানো হবে না। তাদের মধ্যে কাউকে আগুন তার দুই পা পর্যন্ত ধরবে, কাউকে তার দুই হাঁটু পর্যন্ত ধরবে, কাউকে তার কণ্ঠনালী পর্যন্ত ধরবে এবং কাউকে তার ঘাড় পর্যন্ত ধরবে—তাদের পাপ ও আমল অনুযায়ী। তাওহীদের কারণে আল্লাহ তাদের দেহকে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়া থেকে হারাম করেছেন এবং সিজদার কারণে তাদের আকৃতিকে আগুনের ওপর হারাম করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ সেখানে এক মাস অবস্থান করবে অতঃপর বেরিয়ে আসবে, কেউ সেখানে এক বছর অবস্থান করবে। তাদের মধ্যে দীর্ঘতম অবস্থানকাল হবে পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকে তার ধ্বংসের দিন পর্যন্ত সময়ের সমান। যখন আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করার ও তাদের বের করে আনার ইচ্ছা করবেন, তখন ইহুদি, নাসারা এবং জাহান্নামে থাকা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা জাহান্নামে থাকা তাওহীদপন্থীদের বলবে: 'তোমরা তো আল্লাহ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান এনেছিলে, অথচ আজ তোমরা ও আমরা জাহান্নামে সমান অবস্থায় আছি।' তিনি (নবীজি) বলেন: তখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা এমন রাগান্বিত হবেন যা ইতিপূর্বে আর কোনো কিছুর জন্য হননি। অতঃপর তিনি তাদের জান্নাত ও সিরাতের মধ্যবর্তী একটি ঝরনার দিকে বের করে আনবেন। ফলে তারা সেখানে এমনভাবে অঙ্কুরিত হবে যেমন তরাসীস উদ্ভিদ বা বন্যার স্রোতবাহিত আবর্জনায় বীজের অঙ্কুরোদগম হয়—যার সূর্যের দিকের অংশ লাল, ছায়ার দিকের অংশ সবুজ এবং শিশিরের দিকের অংশ হলুদ হয়। এরপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের কপালে লেখা থাকবে: 'এরা জাহান্নামী, যাদের রহমান আযযা ওয়া জাল্লা জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন।' আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা যতদিন চাইবেন তারা সেভাবে অবস্থান করবে, তারপর তারা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে যেন তিনি তাদের থেকে এই নাম মুছে দেন। তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাদের কাছে একজন ফেরেশতা পাঠাবেন এবং তিনি তা তাদের থেকে মুছে দেবেন। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা জান্নাতবাসীদের বলবেন:
«তোমরা দেখো জাহান্নামে আর কারা অবশিষ্ট আছে»।অতঃপর তারা উঁকি দেবে এবং বলবে: {কী তোমাদের সাকার (জাহান্নামে) প্রবেশ করালো?} [আল-মুদ্দাসসির: ৪২] ।
সেখান থেকে মানুষ বের হওয়ার পর: {তারা বলবে আমরা নামাজীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না} [আল-মুদ্দাসসির: ৪৩], অর্থাৎ আমরা তাওহীদপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না; যদি আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হতাম তবে আমরাও তাদের সাথে বেরিয়ে আসতাম। এরপর আল্লাহ তাদের কাছে আগুনের পেরেক এবং আগুনের ঢাকনা পাঠাবেন। অতঃপর তিনি তাদের ওপর সেই ঢাকনাগুলো দিয়ে ঢেকে দেবেন এবং সেই পেরেকগুলো দিয়ে গেঁথে দেবেন। অতঃপর পরাক্রমশালী আল্লাহ তাঁর আরশের ওপর তাদের ছেড়ে দেবেন (বিস্মৃতের ন্যায় ত্যাগ করবেন) এবং জান্নাতবাসীরা তাদের নেয়ামত ও আনন্দ নিয়ে মশগুল হয়ে পড়বে। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: {হয়তো কাফেররা আকাঙ্ক্ষা করবে যে যদি তারা মুসলিম হতো} [আল-হিজর: ২]।"
(খণ্ড: ১)
জুজউন মিন তাখরীজি আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারী
(পৃষ্ঠা: ২০)
19 - وَبِالإِسْنَادِ ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ ، ثنا عَبْدُ الْمُنْعِمِ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ ، أَنَّ يَحْيَى بْنَ زَكَرِيَّا ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِمَا ، لَمَّا قُتِلَ رَدَّ اللَّهُ تَعَالَى إِلَيْهِ رُوحَهُ ، ثُمَّ أُوقِفَ بَيْنَ يَدَيْهِ ، فَقَالَ لَهُ: "
يَا يَحْيَى هَذَا عَمَلُكَ الَّذِي عَمِلْتَهُ ، وَقَدْ أَعْطَيْتُكَ ثَوَابَ عَمَلِكَ ، لِكُلِّ وَاحِدَةٍ عَشْرًا، الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا ، قَالَ: فَرَأَى يَحْيَى إِلَى ثَوَابِ عَمَلِهِ ، فَإِذَا قَدْ أُعْطِيَ مِنَ الثَّوَابِ مَا لا عَيْنٌ رَأَتْ ، وَلا أُذُنٌ سَمِعَتْ ، وَلا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ ، فَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: يَا يَحْيَى هَذَا عَمَلُكَ ، وَهَذَا ثَوَابُهُ ، فَأَيْنَ نَعْمَائِي عَلَيْكَ؟ ثُمَّ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى لِلْمَلائِكَةِ: أَخْرِجُوا نَعْمَائِي عَلَيْهِ ، فَأَخْرَجُوا نِعْمَةً وَاحِدَةً مِنْ نِعَمِهِ ، فَإِذَا قَدِ اسْتَوْعَبَتْ جَمِيعَ أَعْمَالِهِ وَالثَّوَابَ ، فَقَالَ يَحْيَى: إِلَهِي مَا هَذِهِ النِّعْمَةُ الْجَلِيلَةُ الْعَظِيمَةُ الَّتِي قَدِ اسْتَوْعَبَتْ جِمِيعَ عَمَلِي وَعَشَرَةَ أَضْعَافِ ثَوَابِهَا؟ فَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: يَا يَحْيَى هَذِهِ النِّعْمَةُ الْجَلِيلَةُ الْعَظِيمَةُ مَعْرِفَتُكَ بِي ".
فَخَرَّ يَحْيَى لِوَجْهِهِ ، فَقَالَ: إِلَهِي جَازِنِي بِرَحْمَتِكَ وَبِفَضْلِكَ لا بِعَمَلِي
20 - وَحَدَّثَ أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ نَاصِرٍ ، أنبا أَبُو مُحَمَّدٍ التَّمِيمِيُّ ، أنبا أَبُو الْحُسَيْنِ السُّكِّرِيُّ ، أنبا الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانَ ، أنبا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ ، قَالَ: حَدَّثَنِي رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ ، ذَكَرَ أَنَّهُ مِنْ وَلَدِ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ ، قَالَ: كَانَ تَوْبَةُ بْنُ الصِّمَّةِ بِالرَّقَّةِ ، وَكَانَ مُحَاسِبًا لِنَفْسِهِ فَحَسَبَ ، فَإِذَا هُوَ ابْنُ سِتِّينَ سَنَةً فَحَسَبَ أَيَّامَهَا فَإِذَا وَاحِدٌ وَعِشْرُونَ أَلْفًا يَوْمٍ وَخَمْسُ مِائَةِ يَوْمٍ ، فَصَرَخَ ، وَقَالَ: يَا وَيْلَتِي أَلْقَى الْمَلِيكَ بِوَاحِدٍ وَعِشْرِينَ أَلْفَ ذَنْبٍ ، كَيْفَ وَفِي كُلِّ يَوْمٍ عَشَرَةُ آلافِ ذَنْبٍ ، ثُمَّ خَرَّ مَغْشِيًّا عَلَيْهِ ، فَإِذَا هُوَ مَيِّتٌ ، قَائِلا يَقُولُ: تِلْكَ رَكْضَةُ إلى الْفِرْدَوْسِ الأَعْلَى
20 - وَبِهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الدُّنْيَا ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ ، عَنْ مُوسَى بْنِ دَاوُدَ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ: " كَانَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ رَجُلٌ يَتَعَبَّدُ فِي صَوْمَعَتِهِ ، فَمَكَثَ بِذَلِكَ زَمَانًا ، فَأَشْرَفَ ذَاتَ يَوْمٍ فَإِذَا هُوَ بِامْرَأَةٍ ، فَأُفْتِنَ بِهَا وَهَمَّ بِهَا ، فَأَخْرَجَ رِجْلَهُ لِيَنْزِلَ إِلَيْهَا ، فَأَدْرَكَهُ اللَّهُ عز وجل بِسَابِقَةٍ ، فَقَالَ: مَا هَذَا الَّذِي أُرِيدُ أَنْ أَصْنَعَ ، وَرَجَعَتْ إِلَيْهِ نَفْسُهُ ، وَجَاءَتْهُ الْعِصْمَةُ ، فَنَدِمَ ، فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَعِيدَ رِجْلَهُ فِي الصَّوْمَعَةِ ، قَالَ: هَيْهَاتَ هَيْهَاتَ ، رَجُلٌ خَرَجْتَ تُرِيدُ أَنْ تَعْصِيَ اللَّهَ عز وجل تَعُودُ مَعِيَ فِي صَوْمَعَتِي لا يَكُونُ وَاللَّهِ ذَلِكَ أَبَدًا، فَتَرَكَهَا وَاللَّهِ مُعْلَقَّةً فِي الصَّوْمَعَةِ، تُصِيبُهَا الأَمْطَارُ ، وَالرِّيَاحُ ، وَالشَّمْسُ ، وَالثَّلْجُ حَتَّى تَقَطَّعَتْ فَسَقَطَتْ فَشَكَرَ اللَّهُ عز وجل لَهُ ذَلِكَ ، فَأَنْزَلَ فِي بَعْضِ الْكُتُبِ وَذُو الرِّجْلِ ، يَذْكُرُهُ بِذَلِكَ "
20 - وَبِهِ أنبا أَبُو بَكْرٍ ، أنبا الْفَتْحُ ، أنبا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ ، أنبا أَبُو الْحَسَنِ ، أنبا أَبُو إِبْرَاهِيمَ ، حَدَّثَنِي الْيَمَانُ بْنُ عِيسَى أَبُو سَهْلٍ الْحَذَّاءُ ، ثنا أَسْبَاطُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، قَالَ: كَانَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ: ذُو الْكِفْلِ ، وَكَانَ لا يَتَوَرَّعُ عَنْ ذَنْبٍ عَمِلَهُ فَأَتَتِ امْرَأَةٌ ، فَسَأَلَتْهُ ، فَأَبَى أَنْ يُعْطِيَهَا إِلَا أَنْ تُمَكِّنَهُ مِنْ نَفْسِهَا ، فَفَعَلَتْ ، فَلَمَّا جَلَسَ مِنْهَا مَجْلِسَ الْخَاتِنِ ارْتَعَدَتْ وَبَكَتْ ، فَقَالَ لَهَا: مَا يُبْكِيكِ؟ قَالَتْ: إِنَّ هَذَا عَمَلٌ مَا عَمِلْتُهُ قَطُّ ، وَمَا حَمَلَنِي عَلَيْهِ إِلا الْحَاجَةُ ، قَالَ: فَتَرَكَهَا وَسَلَّمَ لَهَا الدَّنَانِيرَ ، وَلَمْ يُصِبْ مِنْهَا ، فَمَاتَ مِنْ لَيْلَتِهِ ، فَأَصْبَحَ مَكْتُوبًا عَلَى بَابِهِ: اشْهَدُوا جَنَازَةَ الْكِفْلِ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَدْ غَفَرَ لَهُ
20 - وَبِهِ عَنِ ابْنِ أَبِي الدُّنْيَا عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ: وَثنا أَبُو خَيْثَمَةَ ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْحَاقَ ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ ، عَنْ مُسْتَلِمِ بْنِ سَعِيدٍ الْوَاسِطِيِّ ، قَالَ: أَخْبَرَنِي حَمَّادُ بْنُ جَعْفَرٍ ، عَنْ زَيْدٍ ، أَنَّ أَبَاهُ أَخْبَرَهُ ، قَالَ: خَرَجْنَا فِي غَزْوَةٍ إِلَى كَابُلَ وَفِي الْجَيْشِ صِلَةُ بْنُ أَشْيَمَ، فَنَزَلَ النَّاسُ عِنْدَ الْعَتَمَةِ فَصَلَّوْا ثُمَّ اضْطَجَعَ ، فَقُلْتُ: لأَرْمُقَنَّ عَمَلَهُ، فَأَلْتَمِسُ غَفْلَةَ النَّاسِ حَتَّى إِذَا قُلْتُ هَدَأَتِ الْعُيُونُ وَثَبَ فَدَخَلَ غَيْضَةً قَرِيبًا مِنَّا، وَدَخَلْتُ عَلَى إِثْرِهِ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي ، قَالَ: وَجَاءَ أَسَدٌ حَتَّى دَنَا مِنْهُ ، قَالَ: فَصَعِدْتُ فِي شَجَرَةٍ ، قَالَ: فَتَرَاهُ الْتَفَتَ أَوْ عَدَهُ جَرْوًا حَتَّى سَجَدَ ، فَقُلْتُ: الآنَ يَفْتَرِسُهُ وَلا شَيْءَ حَتَّى جَلَسَ، ثُمَّ سَلَّمَ ، ثُمَّ قَالَ: أَيُّهَا السَّبُعُ اطْلُبِ الرِّزْقَ مِنْ مَكَانٍ آخَرَ ، فَوَلَّى، وَإِنَّ لَهُ لَزَئِيرًا أَقُولُ تُصْدَعُ مِنْهُ ، قَالَ: فَمَا زَالَ يُصَلِّي حَتَّى كَانَ عِنْدَ الصُّبْحِ جَلَسَ فَحَمِدَ اللَّهَ بِمَحَامِدَ لَمْ أَسْمَعْ بِمِثْلِهَا إِلا مَا شَاءَ اللَّهُ ، ثُمَّ قَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ أَنْ تُجِيرَنِي مِنَ النَّارِ ، وَمِثْلِي يَجْتَرِئُ أَنْ يَسْأَلَكَ الْجَنَّةَ ، قَالَ: ثُمَّ رَجَعَ فَأَصْبَحَ كَأَنَّهُ بَاتَ عَلَى الْحَشَايَا
20 - وَحَدَّثَ أَبُو الْقَاسِمِ الْحَرِيرِيُّ ، أنبا أَبُو طَالِبٍ الْعُشَارِيُّ ، حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ سَمْعُونَ ، أنبا أَبُو بَكْرٍ الْعَبْدِيُّ ، قَالَ: كَتَبَ إَلَيَّ أَبُو حَارِثَةَ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ هِشَامِ بْنِ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى الْغَسَّانِيُّ ، قَالَ: قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي ، عَنْ أَبِي إِبْرَاهِيمَ الْيَمَانِيِّ ، قَالَ: خَرَجْتُ مَعَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ مِنْ صُورَ نُرِيدُ قَيْسَارِيَةَ ، فَلَمَّا كُنَّا بِبَعْضِ الطَّرِيقِ مَرَرْنَا بِمَوَاضِعَ كَثِيرَةِ الْحَطَبِ ، فَقَالَ: لَوْ شِئْتُمْ بِتْنَا فِي هَذَا الْمَوْضِعِ ، فَأَوْقَدْنَا مِنْ هَذَا الْحَطَبِ ، فَقُلْنَا: ذَاكَ إِلَيْكَ يَا أَبَا إِسْحَاقَ ، قَالَ: فَأَخْرَجْنَا زِنْدًا كَانَ مَعَنَا فَقَدَحْنَا فَأَقَدْنَا تِلْكَ النَّارَ ، فَوَقَعَ مِنْهَا جَمْرٌ كِبَارٌ ، قَالَ: فَقُلْنَا: لَوْ كَانَ لَنَا لَحْمٌ نَشْوِيهِ عَلَى هَذِهِ النَّارِ ، قَالَ: فَقَالَ إِبْرَاهِيمُ: مَا أَقْدَرَ اللَّهِ عز وجل أَنْ يَرْزُقَكُمْ ، ثُمَّ قَالَ: فَتَمَسَّحَ لِلصَّلاةِ ، فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ ، فَبَيْنَا نَحْنُ كَذَلِكَ إِذْ سَمِعْنَا جَلَبَةً شَدِيدَةً مُقْبِلَةً نَحْوَنَا ، فَابْتَدَرْنَا إِلَى الْبَحْرِ ، فَدَخَلَ كُلُّ إِنْسَانٍ مِنَّا فِي الْمَاءِ إِلَى حَيْثُ أَمْكَنَهُ ، ثُمَّ خَرَجَ ثَوْرٌ وَحْشٌ يَكِدُّهُ أَسَدٌ ، فَلَمَّا صَارَ عِنْدَ النَّارِ طَرَحَهُ فَانْصَرَفَ إِبْرَاهِيمَ بْنُ أَدْهَمَ ، فَقَالَ لَهُ: يَا أَبَا الْحَارِثِ تَنَحَّ عَنْهُ فَلَنْ يُقَدَّرَ لَكَ فِيهِ رِزْقٌ ، فَتَنَحَّى وَدَعَانَا ، فَأَخْرَجْنَا سِكِّينًا كَانَتْ مَعَنَا فَذَبَحْنَاهُ وَاشْتَوَيْنَا مِنُّه بَقِيَّةَ لَيْلَتِنَا
20 - وَحَدَّثَ أَبُو نُعَيْمٍ الْحَافِظُ ، وَأُخْبِرْتُ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سَوَادَةَ ، ثنا نَصْرُ بْنُ مَنْصُورٍ الْمِصِّيصِيُّ أَبُو مُحَمَّدٍ ، قَالَ: وَرَدَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَدْهَمَ الْمِصِّيصَةَ ، فَأَتَى مَنْزِلَ أَبِي إِسْحَاقَ الْفَزَارِيِّ ، فَطَلَبَهُ ، فَقِيلَ لَهُ: هُوَ خَارِجٌ ، فَقَالَ: أَعْلِمُوهُ إِذَا أَتَى أَنَّ أَخَاهُ إِبْرَاهِيمَ بْنَ أَدْهَمَ طَلَبَهُ وَقَدْ ذَهَبَ إِلَى مَرْجِ كَذَا وَكَذَا يَرْعَى فَرَسَهُ ، فَمَضَى إِلَى ذَلِكَ الْمَرْجِ ، فَإِذَا أُنَاسٌ يَرْعَوْنَ دَوَابَّهُمْ ، فَرَعَى حَتَّى أَمْسَى ، فَقَالُوا: ضُمَّ فَرَسَكَ إِلَى دَوَابِّنَا فَإِنَّ السِّبَاعَ تَأْتِينَا ، فَأَبَى وَتَنَحَّى نَاحِيَةً ، فَأَوْقَدُوا النِّيرَانَ حَوْلَهُمْ ، ثُمَّ أَخَذُوا فَرَسًا لَهُمْ صَئوُلا فَأَتَوْهُ بِهِ وَفِيهِ شِكَالانِ يَقُودُونَهُ بَيْنَهُمْ ، فَقَالُوا لَهُ: إِنَّ فِي دَوَابِّنَا رِمَاكًا وحُجُورًا فَلْيَكُنْ هَذَا عِنْدَكَ ، قَالَ: وَمَا يَصْنَعُ بِهَذِهِ الْحِبَالِ؟ فَمَسَحَ وَجْهَهُ وَأَدْخَلَ يَدَهُ بَيْنَ فَخِذَيْهِ فَوَقَفَ لا يَتَحَرَّكُ فَتَعَجَّبُوا مِنْ ذَلِكَ لامْتِنَاعِهِ ، فَقَالَ لَهُمُ: اذْهَبُوا فَجَلَسُوا يَرْمُقُونَهُ مَا يَكُونُ مِنْهُ مِنَ السِّبَاعِ ، فَقَامَ إِبْرَاهِيمُ يُصَلِّي وَهُمْ يَنْظُرُونَ ، فَلَمَّا كَانَ فِي بَعْضِ اللَّيْلِ أَتَتْهُ أَسَدٌ ثَلاثَةٌ يَتْلُو بَعْضَهَا بَعْضًا ، فَتَقَدَّمَ الأَوَّلُ إِلَيْهِ فَشَمَّهُ وَدَارَ بِهِ ثُمَّ تَنَحَّى نَاحِيَةً فَرَبَضَ ، وَفَعَلَ الثَّانِي وَالثَّالِثُ كِفِعْلِ الأَوَّلِ ، وَلَمْ يَزَلْ إِبْرَاهِيمُ لَيْلَتَهُ قَائِمًا يُصَلِّي حَتَّى إِذَا كَانَ السَّحَرُ ، قَالَ لِلأَسَدِ: مَا جَاءَ بِكُمْ تُرِيدُونَ أَنْ تَأْكُلُونِي امْضُوا ، فَقَامَتِ الأُسْدُ فَذَهَبَتْ ، فَلَمَّا كَانَ الْغَدُ جَاءَ الْفَزَارِيُّ إِلَى أُولَئِكَ فَسَأَلَهُمْ ، فَقَالَ: أَجَاءَكُمْ رَجُلٌ؟ فَقَالُوا: أَتَانَا رَجُلٌ مَجْنُونٌ وَأَخْبَرُوهُ بِقِصَّتِهِ فَأَرَوْهُ ، فَقَالَ: أَتَدْرُونَ مَنْ هُوَ؟ قَالُوا: لا ، قَالَ: هُوَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَدْهَمَ ، فَمَضَوْا مَعَهُ إِلَيْهِ ، فَسَلَّمَ وَسَلَّمُوا عَلَيْهِ ثُمَّ انْصَرَفَ الْفَزَارِيُّ إِلَى مَنْزِلِهِ
20 - وَحُكِيَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ، عَنْ بَقِيَّةَ بْنِ الْوَلِيدِ ، قَالَ: كُنْتُ مَعَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ فِي بَعْضِ قُرَى الشَّامِ وَمَعَهُ رَفِيقٌ لَهُ ، فَجَعَلْنَا نَمْشِي حَتَّى بَلَغْنَا إِلَى مَوْضِعِ خُشَاشٍ وَمَاءٍ ، فَقَالَ لِرَفِيقِهِ: أَمَعَكَ شَيْءٌ؟ فَقَالَ: مَعِيَ فِي الْمِخْلاةِ كُسَيْرَاتٌ ، فَجَلَسَ فَنَثَرَهَا ، فَجَعَلَ يَأْكُلُ ، فَأَكَلْتُ مَعَهُ ، ثُمَّ شَرِبَ مِنَ الْمَاءِ شَرْبَةً ، ثُمَّ تَمَدَّدَ فِي كِسَائِهِ ، فَقَالَ: يَا بَقِيَّةُ مَا أَغْفَلَ النَّاسَ عَمَّا أَنَا فِيهِ مِنَ النَّعِيمِ ، مَا لِي أَحَدٌ يَمُوتُ ، وَلا أَحَدٌ أُهَمُّ بِهِ ، قَالَ بَقِيَّةُ: فَتَغَيَّرَ وَجْهِي ، فَقَالَ لِي: أَلَكَ عِيَالٌ؟ قُلْتُ: نَعَمْ ، فَقَالَ: فَلَعَلَّ رَوْعَةُ صَاحِبِ عِيَالٍ أَفْضَلُ مِمَّا أَنَا فِيهِ ، قَالَ: قَامَ ، فَقُلْتُ لَهُ: يَا أَبَا إِسْحَاقَ عِظْنِي بِشَيْءٍ ، فَقَالَ: يَا بَقِيَّةُ كُنْ ذَنَبًا وَلا تَكُنْ رَأْسًا ، فَإِنَّ الذَّنَبَ يَنْجُو وَيَهْلِكُ الرَّأْسُ وَبِالإِسْنَادِ عَنْ آدَمَ بْنِ أَبِي إِيَاسٍ ، ثنا عَبَدَةُ ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ ، أنبا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبُ ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْحَجَّاجِ ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ الْكَرِيمِ بْنَ الْحَارِثِ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ: «مَنْ رَكَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ عَشْرَ رَكَعَاتِ بُنِيَ لَهُ قَصْرٌ فِي الْجَنَّةِ» .
فَقَالَ عُمَرُ رضي الله عنه: إِذًا تَكْثُرُ قُصُورُنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ ، فَقَالَ: رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اللَّهُ أَكْثَرُ»
21 - قَالَ بَعْضُ السَّلَفِ: مَاتَتْ لِيَ ابْنَةٌ فَرَأَيْتُهَا فِي الْمَنَامِ وَهِيَ تَقُولُ: يَا أَبَتِي قَدْ عَهِدُوا لِرَجُلٍ عِنْدِي وَهُوَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ ، فَسَلْهُمْ أَنْ يُنَحُّوهُ عَنِّي ، فَلَمَّا أَصْبَحْتُ أَتَيْتُ الْحَفَّارَ وَهُوَ يَحْفُرُ فَمَنَعْتُهُ ، فَقَالَ: تَمْنَعُنِي مِنْ مَقَابِرِ الْمُسْلِمِينَ ، فَأَخْبَرْتُهُ بِمَا رَأَيْتُ ، فَاغْتَمَّ أَهْلُ الْمَيِّتِ ، فَلَمَّا كَانَتِ اللَّيْلَةُ الثَّانِيَةُ رَأَيْتُ ابْنَتِي ، فَقَالَتْ: يَا أَبَتِي كَذَا أَمَرْتُكَ أَنْ تَهْتِكَ رَجُلا مِنَ الْمُسْلِمِينَ ، أَمَا إِنَّ اللَّهَ قَدْ رَحِمَهُ بِهَتْكِكَ لَهُ
21 - أَوْحَى اللَّهُ إِلَى مُوسَى بْنِ عِمْرَانَ عليه السلام: «أَنَّهُ مَاتَ وَلِيٌّ مِنْ أَوْلِيَائِي فَجِدْ فِي أَمْرِهِ ، وَغَسِّلْه ، وَصَلِّ عَلَيْهِ وَوَارِهِ» .
فَطَافَ مُوسَى ، فَوَجَدَ مَيِّتًا فَأَجَدَّ فِي أَمْرِهِ ، وَسَمِعَ النَّاسَ يَذْكُرُونَهُ بِالشَّرِّ وَيَصِفُونَ مِنْ طُغْيَانِهِ ، فَهَالَهُ ذَاكَ ، فَقَالَ: إِلَهِي ذَكَرْتَ أَنَّ هَذَا الْعَبْدَ مِنْ أَوْلِيَائِكَ ، وَهُؤَلاءِ عِبَادُكَ فِي أَرْضِكَ يَشْهَدُونَ بِمَا تَعْلَمُ ، فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهِ: " إِنْ كَانَ كَمَا يَقُولُ عِبَادِي فِيهِ وَأَكْثَر وَلَكِّنَهُ تَلْقَانِي عِنْدَ مَوْتِهِ بِخَمْسِ كَلِمَاتٍ صَفَحْتُ بِهَا عَنْ جُرْمِهِ ، فَأَوَّلُ كَلِمَةٍ ، قَالَ: اللَّهُمَّ إِنَّكَ تَعْلَمُ أَنِّي كُنْتُ أُحِبُّ الصَّالِحِينَ وَإِنْ لَمْ أَكُنْ مِنْهُمْ ، وَالثَّانِيَةُ: اللَّهُمَّ إِنِّي كُنُتْ أَشِنَى الْفَاسِقِينَ وَإِنْ كُنْتُ مِنْهُمْ ، وَالثَّالِثَةُ قَالَ: إِلَهِي لَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ أَنَّ إِدْخَالَكَ إِيَّايَ النَّارَ مِمَّا يَزِيدُ فِي مُلْكِكَ لَمَا سَأَلْتُكَ الْمَغْفِرَةَ ، وَالرَّابِعَةُ قَالَ: إِلَهِي لَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ أَنَّ إِدْخَالَكَ إِيَّايَ إِلَى الْجَنَّةِ مِمَّا يَنْقُصُ مِنْ مُلْكِكَ لَمَا سَأَلْتُكَ ، وَالْخَامِسَةُ: قَالَ: إِلَهِي يَئِسْتُ مِنْ عِبَادِكَ وَرَدَدْتُ حَوَائِجِي إِلَيْكَ ، وَأَظْهَرْتُ نَدَامَتِي لَدَيْكَ فَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لِي فَمَنْ يَغْفِرُ لِي ، وَإِنْ لَمْ تَرْحَمْنِي فَمَنْ يَرْحَمُنِي، وَإِنْ لَمْ تَصْفَحْ عَنِّي فَمَنِ الَّذِي يَصْفَحُ عَنِّي.
وَلأَجْلِ هَذَا الْكَلامِ يَا مُوسَى تُبْتُ عَلَيْهِ وَصَفَحْتُ عَنْ جُرْمِهِ "
21 - وَحَدَّثَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْغَنِيِّ ، وَأَنَا حَاضِرٌ ، أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الصُّوفِيُّ ، مُشَافَهَةً ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا جَعْفَرٍ ، يَقُولُ: سَمِعْتُ الصَّيْقَلِيَّ ، يَقُولُ: سَمِعْتُ النَّصْرَابَاذِيَّ ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا عُمَرَ الْبِيكَنْدِيَّ ، يَقُولُ: مَاتَ فِي جِيرَتِي رَجُلٌ مِنَ الْمُسْرِفِينَ فِي الْمَعَاصِي فَرَأَيْتُهُ بَعْدَ أَيَّامٍ فِي النَّوْمِ وَعَلَيْهِ الْحُلِيُّ وَالْحُلَلُ ، فَقُلْتُ: فُلانُ مَا فَعَلَ اللَّهُ بِكَ؟ قَالَ: غَفَرَ لِي ، قُلْتُ: بِمَاذَا؟ قَالَ: تَصَدَّقَتْ وَالِدَتِي عَنِّي بِنِصْفِ رَغِيفٍ ، أَمَا إِنَّهَا لَوْ تَصَدَّقَتْ بِرَغِيفٍ لَكَشَفَتْ لِي حَتَّى أَنْظُرَ عَيَانًا
21 - وَبِهِ ثنا أَبُو يَعْقُوبَ الْوَرَّاقُ ، أنبا أَبُو الْعَبَّاسِ بْنُ تَرْكَانَ ، ثنا أَبُو الْحَجْبَي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ ، ثنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ عَلِيٍّ الْخُوَارِزْمِيُّ ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْهَيْثَمِ بْنِ الْمُهَلَّبِ الزُّهْرِيُّ ، ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّادِقِ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَّ امْرَأَةً مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ خَرَجَتْ إِلَى قَرْيَةٍ لِتِجَارَةٍ مَعَ ابْنَيْنِ لَهَا ، وَتَصَدَّقَتْ لَهُمَا يَعْنِي بِرَغِيفَيْنِ ، حِينَ خَرَجَتْ مِنَ الدَّارِ وَمَرَّتِ بِالْبَحْرَ ، فَجَاءَ ذِئْبٌ وَحَمَلَ وَاحِدًا مِنْهَا ، فَبَكَتْ وَحَزِنَتْ ، وَذَهَبَ الذِّئْبُ بِهِ فَأَيِسَتْ مِنْهُ وَرَكِبَتْ مَعَ وَلَدِهَا الآخَرِ فِي الْبَحْرِ ، فَانْكَسَرَتِ السَّفِينَةُ فَوَقَعَ الْوَلَدُ فِي الْبَحْرِ ، وَكَانَ مَعَهَا مِائَةُ دِينَارٍ ، فَوَقَعَ فِي الْمَاءِ وَبَقِيتُ عَلَى لَوْحٍ ، فَطَرَحَهَا الرِّيحُ إِلَى مَكَانٍ فِي سَاحِلِ الْبَحْرِ ، فَخَرَجَتْ مِنَ الْمَاءِ وَدَخَلَتِ السُّوقَ لِتَشْتَرِيَ طَعَامًا فَإِذَا ابْنُهَا الَّذِي حَمَلَهُ الذِّئْبُ مَعَ رَجُلٍ ، فَتَعَلَّقَتْ بِهِ ، فَمَنَعَهَا الرَّجُلُ ، فَأَخَذَهَا إِلَى الْقَاضِي ، فَقَالَ لَهَا الْقَاضِي ، مَا شَأْنُكِ؟ فَقَصَّتْ عَلَيْهِ قِصَّتَهَا ، فَقَالَ الْقَاضِي لِلرَّجُلِ: مِنْ أَيْنَ لَكَ هَذَا الابْنُ؟ قَالَ: خَرَجْتُ إِلَى الصَّحْرَاءِ أَطْلُبُ رِزْقًا ، فَجَاءَ ذِئْبٌ بِهَذَا الصَّبِيِّ ، فَاجْتَهَدْتُ حَتَّى أَخَذْتُهُ مِنْهُ فَهُوَ عِنْدِي ، فَقَالَ الْقَاضِي: سَلِّمْ إِلَيْهَا ابْنَهَا ، فَسَلَّمَ ، ثُمَّ مَشَتْ مَعَ ابْنِهَا هُنَيَّةً ، فَإِذَا فَارِسٌ خَلْفَهُ ابْنُهَا الآخَرُ ، فَتَعَلَّقَتْ بِهِ ، فَخَاصَمَهَا الرَّجُلُ وَاجْتَمَعَ النَّاسُ ، فَقَالَتْ: هُوَ ابْنِي ، وَقَالَ الْفَارِسُ: هُوَ غُلامِي ، فَقَالَ النَّاسُ: اذْهَبُوا إِلَى الْقَاضِي ، فَلَمَّا حَضَرُوا عِنْدَ الْقَاضِي ، قَالَ لِلرَّجُلِ: كَيْفَ حَالُ هَذَا الصَّبِيِّ؟ قَالَ: أَنَا مَلاحٌ رَأَيْتُ هَذَا الصَّبِيَّ عَلَى رَأْسِ الْمَاءِ ، فَأَخَذْتُهُ وَهُوَ عِنْدِي ، فَقَالَ الْقَاضِي: سَلِّمْهُ إِلَى أُمِّهِ ، فَسَلَّمَهُ مِنْهَا فَجَاءَتْ بِوَلَدَيْهَا وَاشْتَرَتْ خُبْزًا وَسَمَكَتَيْنِ فَإِذَا فِي بَطْنِ أَحَدِهِمَا مِائَةُ دِينَارٍ ، وَفِي بَطْنِ الآخَرِ لُؤْلُؤَتَانِ ، بَاعَتْ بِمَالٍ كَثِيرٍ ، فَرَأَتْ فِي الْمَنَامِ أَنَّ اللَّهَ عز وجل قَدْ غَفَرَ لَكِ وَلِوَلَدَيْكِ ، وَيُدْخِلُكُمَا الْجَنَّةَ بِالرَّغِيفَيْنِ وَبِهِ أنبا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، أنبا الْحَسَنُ ، أنبا أَحْمَدُ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ هَارُونَ ، ثنا عَلِيُّ بْنُ مُسْلِمٍ ، ثنا أَبُو دَاوُدَ ، ثنا طَلْحَةُ بْنُ عَمْرٍو ، قَالَ: قَدِمَ عَلَيْنَا الْحَسَنُ فَجَلَسْنَا إِلَيْهِ مَعَ عَطَاءٍ ، فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: بَلَغَنَا أَنَّ اللَّهَ سبحانه وتعالى يَقُولُ: «يَابْنَ آدَمَ خَلَقْتُكَ وَتَعْبُدُ غَيْرِي ، وَتذْكُرُ بِي وَتَنْسَانِي ، وَتَدْعُو إِلَيَّ وَتَفِرُّ مِنِّي ، إِنْ هَذَا لأظْلَمُ ظُلْمٍ فِي الأَرْضِ»
19 - এবং এই সনদে আহমদ বিন মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল মুনইম, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেন যে, ইয়াহইয়া বিন যাকারিয়া (তাঁদের উভয়ের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) যখন শহীদ হলেন, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর রূহ ফিরিয়ে দিলেন। এরপর তাঁকে আল্লাহর দুই হাতের সামনে দাঁড় করানো হলো। তখন আল্লাহ তাঁকে বললেন: "
হে ইয়াহইয়া, এটি তোমার ঐ আমল যা তুমি করেছিলে, আর আমি তোমাকে তোমার আমলের সওয়াব দান করেছি; প্রত্যেকটির বিনিময়ে দশ গুণ, প্রতিটি নেকি তার দশ গুণ। " তিনি বলেন: তখন ইয়াহইয়া তাঁর আমলের সওয়াবের দিকে তাকালেন। তিনি দেখলেন তাঁকে এমন সওয়াব দান করা হয়েছে যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শুনেনি এবং কোনো মানুষের অন্তরে যা কল্পনাও আসেনি। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন: "হে ইয়াহইয়া, এটি তোমার আমল এবং এটি তার সওয়াব, তাহলে তোমার ওপর আমার নেয়ামতগুলো কোথায়?" এরপর আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের বললেন: "ওর ওপর আমার নেয়ামতগুলো বের করো।" তখন তারা তাঁর নেয়ামতসমূহের মধ্য থেকে মাত্র একটি নেয়ামত বের করল। দেখা গেল সেটিই তাঁর সমস্ত আমল ও সওয়াবকে পরিবেষ্টন করে ফেলেছে। তখন ইয়াহইয়া বললেন: "হে আমার ইলাহ! এই মহিমান্বিত ও সুমহান নেয়ামতটি কী, যা আমার সমস্ত আমল এবং তার দশ গুণ সওয়াবকেও পরিবেষ্টন করে ফেলেছে?" আল্লাহ তাআলা বললেন: "হে ইয়াহইয়া, এই মহিমান্বিত ও সুমহান নেয়ামতটি হলো আমার সম্পর্কে তোমার মা'রিফাত (পরিচয়)।"
এরপর ইয়াহইয়া তাঁর চেহারার ওপর সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন এবং বললেন: "হে আমার ইলাহ! আমাকে আপনার রহমত ও অনুগ্রহ দ্বারা প্রতিদান দিন, আমার আমল দ্বারা নয়।"
20 - এবং আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন নাসের আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু মুহাম্মদ আত-তামিমি থেকে, তিনি আবুল হোসেন আস-সুক্কারি থেকে, তিনি হোসেন বিন সাফওয়ান থেকে, তিনি আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কুরাইশ বংশের এক ব্যক্তি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, যিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি তালহা বিন উবাইদুল্লাহর বংশধর। তিনি বলেন: তাওবাহ বিন আস-সিম্মাহ রাক্কাহ শহরে ছিলেন। তিনি নিজের হিসাব নিতেন। একদিন তিনি হিসাব করে দেখলেন যে তাঁর বয়স ষাট বছর। এরপর তিনি এর দিনগুলো গণনা করলেন এবং দেখলেন তা একুশ হাজার পাঁচশ দিন। তখন তিনি চিৎকার করে উঠলেন এবং বললেন: "হায় আফসোস! আমি কি মালিকের (আল্লাহর) সাথে একুশ হাজার গুনাহ নিয়ে সাক্ষাৎ করব? এটা কীভাবে সম্ভব, অথচ প্রতিদিন তো দশ হাজার করে গুনাহ রয়েছে!" এরপর তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন এবং মারা গেলেন। তখন এক অদৃশ্য বক্তা বলছিলেন: "এটি জান্নাতুল ফেরদাউসের দিকে এক দ্রুত যাত্রা।"
20 - এবং এই সনদে আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবিদ দুনিয়া থেকে বর্ণিত, তিনি মুহাম্মদ বিন হোসেন থেকে, তিনি মুসা বিন দাউদ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন যায়েদ বিন আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তি তাঁর নির্জন ইবাদতখানায় ইবাদত করতেন। দীর্ঘকাল তিনি এভাবেই অতিবাহিত করলেন। একদিন তিনি ওপর থেকে উঁকি দিয়ে এক মহিলাকে দেখলেন। তিনি তাঁর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়লেন এবং তাঁর সাথে পাপ করার ইচ্ছা করলেন। তিনি ইবাদতখানা থেকে নামার জন্য তাঁর পা বের করলেন। তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর পূর্ববর্তী নেক আমলের কারণে তাঁকে হেফাযত করলেন। তখন তিনি বললেন: আমি এটি কী করতে যাচ্ছি? তাঁর বিবেক ফিরে এল এবং তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে সুরক্ষা লাভ করলেন। তিনি অনুতপ্ত হলেন। এরপর তিনি যখন ইবাদতখানায় তাঁর পা ফিরিয়ে নিতে চাইলেন, তখন তিনি নিজেই নিজেকে বললেন: কতই না দূরে! হে মানুষ, তুমি তো আল্লাহ তাআলার নাফরমানি করার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলে, এখন আবার আমার সাথে আমার ইবাদতখানায় ফিরে আসবে? আল্লাহর কসম, তা কখনোই হবে না। ফলে আল্লাহর কসম! তিনি পা-টিকে ইবাদতখানার বাইরে ঝুলন্ত অবস্থায় ছেড়ে দিলেন। বৃষ্টি, বাতাস, রোদ এবং তুষারপাত সেটির ওপর দিয়ে বইতে লাগল যতক্ষণ না সেটি বিচ্ছিন্ন হয়ে নিচে পড়ে গেল। আল্লাহ তাআলা তাঁর এই কাজের শোকরগোযারি করলেন (কবুল করলেন)। ফলে কোনো কোনো কিতাবে 'পা-ওয়ালা ব্যক্তি' (যুর রিজল) হিসেবে তাঁকে উল্লেখ করা হয়েছে।"
20 - এবং এই সনদে আবু বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ফাতহ থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আবুল হাসান থেকে, তিনি আবু ইব্রাহিম থেকে, তিনি বলেন আমার নিকট ইয়ামান বিন ঈসা আবু সাহল আল-হাফ্ফা বর্ণনা করেছেন, তিনি আসবাত বিন মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বনী ইসরাঈলে যুল-কিফল নামে এক ব্যক্তি ছিল, যে কোনো পাপ করতেই দ্বিধাবোধ করত না। একদিন এক মহিলা তাঁর কাছে এসে সাহায্য চাইল। তিনি তাকে কিছু দিতে অস্বীকার করলেন যতক্ষণ না সে নিজেকে তাঁর হাতে সঁপে দেয়। মহিলা রাজি হলো। এরপর তিনি যখন তার সাথে সঙ্গমে বসলেন (খাতেনের বসার স্থানে বসলেন), তখন মহিলা প্রকম্পিত হয়ে কাঁদতে লাগল। তিনি তাকে বললেন: তুমি কাঁদছ কেন? সে বলল: আমি এই কাজ জীবনে কখনো করিনি, শুধুমাত্র অভাবই আমাকে বাধ্য করেছে। তিনি বলেন: তখন তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন এবং দিরহামগুলো তাকে দিয়ে দিলেন আর তার সাথে কোনো পাপ করলেন না। সেই রাতেই তিনি মারা গেলেন। পরদিন সকালে তাঁর দরজায় লেখা দেখা গেল: "যুল-কিফলের জানাজায় উপস্থিত হও, কেননা আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।"
20 - এবং এই সনদে ইবনে আবিদ দুনিয়া আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু খাইসামাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইব্রাহিম বিন ইসহাক থেকে, তিনি ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি মুস্তালিম বিন সাঈদ আল-ওয়াসিতি থেকে, তিনি বলেন: আমাকে হাম্মাদ বিন জাফর সংবাদ দিয়েছেন যায়েদ থেকে, যে তাঁর পিতা তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমরা কাবুল অভিযানে বের হলাম এবং সেই সেনাবাহিনীতে সিলাহ বিন আশয়াম ছিলেন। মানুষ এশার সময় যাত্রা বিরতি করল এবং নামাজ পড়ে শুয়ে পড়ল। আমি বললাম: আমি অবশ্যই তাঁর আমল পর্যবেক্ষণ করব। আমি মানুষের অসতর্ক হওয়ার অপেক্ষা করলাম, যখন দেখলাম সবার চোখ ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন তিনি লাফিয়ে উঠলেন এবং আমাদের নিকটবর্তী এক ঝোপের আড়ালে প্রবেশ করলেন। আমিও তাঁর পিছু পিছু প্রবেশ করলাম। তিনি ওজু করলেন এবং নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি বলেন: এমতাবস্থায় একটি সিংহ আসল এবং তাঁর একদম নিকটে চলে আসল। আমি ভয়ে একটি গাছে চড়ে বসলাম। তিনি বলেন: আপনি কি মনে করেন তিনি ফিরে তাকিয়েছিলেন? না, বরং সিংহটিকে একটি কুকুর ছানার মতোও গুরুত্ব দেননি এবং সিজদায় চলে গেলেন। আমি মনে মনে বললাম: এখনই সিংহটি তাঁকে ছিঁড়ে খাবে। কিন্তু কিছুই হলো না। তিনি নামাজ শেষ করে বসে সালাম ফেরালেন। এরপর বললেন: হে হিংস্র পশু! তোমার রিযিক অন্য কোথাও তালাশ করো। তখন সিংহটি চলে গেল, যাওয়ার সময় সেটি এমন গর্জন দিচ্ছিল যা শুনে আমার মনে হচ্ছিল কলিজা ফেটে যাবে। তিনি বলেন: তিনি সুবহে সাদেক পর্যন্ত এভাবেই নামাজ পড়তে থাকলেন। এরপর বসে আল্লাহর এমন সব প্রশংসা করলেন যার মতো আমি আর শুনিনি। তারপর তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাই, আর আমার মতো লোক কি আপনার কাছে জান্নাত চাওয়ার সাহস রাখে? বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি ফিরে আসলেন এবং সকালে তাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি সারা রাত নরম বিছানায় কাটিয়েছেন।
20 - এবং আবুল কাসেম আল-হারিরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু তালিব আল-উশারি থেকে, তিনি আবু হাসান বিন সামউন থেকে, তিনি আবু বকর আল-আবদি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু হারিসাহ আহমদ বিন ইব্রাহিম বিন হিশাম বিন ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আল-গাসসানি আমার নিকট লিখেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইব্রাহিম আল-ইয়ামানি থেকে, তিনি বলেন: আমি ইব্রাহিম বিন আদহামের সাথে সূর শহর থেকে কায়সারিয়ার উদ্দেশ্যে বের হলাম। পথের এক জায়গায় আমরা এমন এক স্থানে পৌঁছালাম যেখানে প্রচুর কাঠ ছিল। তিনি বললেন: তোমরা চাইলে আমরা আজ রাতে এই স্থানেই থাকতে পারি এবং এই কাঠ দিয়ে আগুন জ্বালাতে পারি। আমরা বললাম: হে আবু ইসহাক, আপনি যা ভালো মনে করেন। তিনি বলেন: আমাদের সাথে থাকা চকমকি পাথর দিয়ে আমরা আগুন জ্বালালাম এবং বড় বড় অঙ্গার তৈরি হলো। আমরা বললাম: যদি আমাদের কাছে কিছু মাংস থাকত তবে আমরা এই আগুনে ঝলসিয়ে খেতে পারতাম। তিনি বলেন: তখন ইব্রাহিম বললেন: আল্লাহ তাআলা তোমাদের রিযিক দিতে কতই না সক্ষম! এরপর তিনি নামাজের জন্য ওজু করলেন এবং কেবলার দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন। আমরা এমতাবস্থায় থাকতেই আমাদের দিকে ধেয়ে আসা প্রচণ্ড শব্দ শুনতে পেলাম। আমরা ভয়ে সমুদ্রের দিকে দৌড়ে গেলাম এবং যে যার সাধ্যমতো পানির ভেতরে ঢুকে পড়লাম। এরপর একটি বন্য গরু বের হয়ে আসল যাকে একটি সিংহ তাড়া করছিল। যখন সেটি আগুনের কাছে পৌঁছাল, সিংহটি ওটিকে ধরাশায়ী করে ফেলে দিয়ে চলে গেল। ইব্রাহিম বিন আদহাম ফিরে আসলেন এবং তাকে (সিংহকে) উদ্দেশ্য করে বললেন: হে আবুল হারিস! এখান থেকে সরে যাও, কারণ এতে তোমার কোনো রিযিক নেই। সিংহটি সরে গেল এবং তিনি আমাদের ডাকলেন। আমাদের সাথে থাকা ছুরি দিয়ে আমরা সেটি যবেহ করলাম এবং সারা রাত সেটি ঝলসিয়ে খেলাম।
20 - এবং আবু নুআইম আল-হাফিয বর্ণনা করেছেন, আর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন সাওয়াদাহ, তিনি নসর বিন মনসুর আল-মিসসিসী আবু মুহাম্মদ থেকে, তিনি বলেন: ইব্রাহিম বিন আদহাম মিসসিসাহ শহরে আসলেন এবং আবু ইসহাক আল-ফাযারির বাড়িতে গিয়ে তাঁকে খুঁজলেন। তাঁকে বলা হলো: তিনি বাইরে গিয়েছেন। ইব্রাহিম বললেন: তিনি আসলে তাঁকে জানিয়ে দেবেন যে তাঁর ভাই ইব্রাহিম বিন আদহাম তাঁকে খুঁজতে এসেছিল এবং অমুক তৃণভূমিতে তাঁর ঘোড়া চরাতে গিয়েছেন। ইব্রাহিম সেই তৃণভূমিতে গেলেন এবং দেখলেন কিছু মানুষ সেখানে তাদের পশু চরাচ্ছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি সেখানে ঘোড়া চরালেন। তারা বলল: আপনার ঘোড়াটি আমাদের পশুদের সাথে বেঁধে রাখুন, কারণ এখানে হিংস্র পশু আসে। তিনি অস্বীকার করলেন এবং একপাশে সরে গেলেন। তারা তাদের চারপাশে আগুন জ্বালালো। এরপর তারা তাদের একটি অবাধ্য ঘোড়া নিয়ে আসল যেটিকে দুপাশে দড়ি দিয়ে ধরে কয়েকজন মিলে টেনে আনছিল। তারা তাঁকে বলল: আমাদের পশুর পালে মাদী ঘোড়া রয়েছে, তাই এটি আপনার কাছেই থাকুক। তিনি বললেন: এই রশি দিয়ে কী হবে? এরপর তিনি ঘোড়াটির মুখ মুছে দিলেন এবং তাঁর হাত ঘোড়াটির উরুর মাঝখানে রাখলেন। ঘোড়াটি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে গেল এবং নড়াচড়া করল না। ঘোড়াটির শান্ত হওয়া দেখে তারা আশ্চর্য হলো। তিনি তাদের বললেন: তোমরা চলে যাও। তারা গিয়ে আড়াল থেকে পর্যবেক্ষণ করতে লাগল যে হিংস্র পশুদের হাত থেকে তাঁর কী অবস্থা হয়। ইব্রাহিম নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং তারা দেখতে লাগল। রাতের এক অংশে তিনটি সিংহ একের পর এক তাঁর কাছে আসল। প্রথমটি এগিয়ে গিয়ে তাঁকে শুঁকল এবং তাঁর চারপাশ ঘুরে একপাশে বসে পড়ল। দ্বিতীয় এবং তৃতীয়টিও ঠিক প্রথমটির মতোই করল। ইব্রাহিম সারা রাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে থাকলেন। সাহরির সময় হলে তিনি সিংহগুলোকে উদ্দেশ্য করে বললেন: তোমরা কেন এসেছ? আমাকে খেতে চাও? চলে যাও। তখন সিংহগুলো উঠে চলে গেল। পরের দিন আল-ফাযারি সেই লোকদের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন: তোমাদের কাছে কি কোনো লোক এসেছিল? তারা বলল: আমাদের কাছে এক পাগল লোক এসেছিল এবং তারা তাঁর ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা করল এবং তাঁকে দেখাল। তিনি বললেন: তোমরা কি জানো তিনি কে? তারা বলল: না। তিনি বললেন: তিনি ইব্রাহিম বিন আদহাম। এরপর তারা তাঁর সাথে ইব্রাহিমের কাছে গেল। আল-ফাযারি এবং সেই লোকেরা তাঁকে সালাম দিল। এরপর আল-ফাযারি নিজ বাড়িতে ফিরে গেলেন।
20 - মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণিত, তিনি ইসমাইল বিন ইব্রাহিম থেকে, তিনি বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি শাম দেশের কোনো এক গ্রামে ইব্রাহিম বিন আদহাম এবং তাঁর এক সাথীর সাথে ছিলাম। আমরা হাঁটতে হাঁটতে ঝোপঝাড় ও পানি আছে এমন এক স্থানে পৌঁছালাম। তিনি তাঁর সাথীকে বললেন: তোমার সাথে কি কিছু আছে? সে বলল: আমার ঝোলায় কিছু শুকনা রুটির টুকরো আছে। তিনি বসলেন এবং সেগুলো ছড়িয়ে দিলেন। তিনি খেতে শুরু করলেন এবং আমিও তাঁর সাথে খেলাম। এরপর তিনি এক ঢোক পানি পান করলেন এবং তাঁর চাদরের ওপর গা এলিয়ে দিলেন। তিনি বললেন: হে বাকিয়্যাহ! মানুষ আমি যে নেয়ামতের মধ্যে আছি সে সম্পর্কে কতই না গাফেল! আমার এমন কেউ নেই যে মারা যাবে, আর না এমন কেউ আছে যাকে নিয়ে আমি চিন্তিত হব। বাকিয়্যাহ বলেন: তখন আমার চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তিনি আমাকে বললেন: তোমার কি পরিবার-পরিজন আছে? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: সম্ভবত পরিবার-পরিজন সম্পন্ন ব্যক্তির একটি দুশ্চিন্তা আমি যে অবস্থায় আছি তার চেয়েও উত্তম। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন। আমি তাঁকে বললাম: হে আবু ইসহাক! আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন: হে বাকিয়্যাহ! লেজ হয়ে থাকো, মাথা হয়ো না। কারণ লেজ রক্ষা পায় আর মাথা ধ্বংস হয়। এবং এই সনদে আদম বিন আবি ইয়াস থেকে বর্ণিত, তিনি আবদাহ থেকে, তিনি ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আবুল হাজ্জাজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি আব্দুল কারীম বিন আল-হারিসকে বলতে শুনেছেন যে, আল্লাহর রাসুল বলেছেন: "যে ব্যক্তি মাগরিব ও ইশার মাঝে দশ রাকাত নামাজ পড়বে, তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করা হবে।"
তখন ওমর (রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! তাহলে তো আমাদের অনেক প্রাসাদ হবে। আল্লাহর রাসুল (সা.) বললেন: "আল্লাহর নিকট আরও বেশি আছে।"
21 - জনৈক সালাফ বলেছেন: আমার এক কন্যা মারা গেল। আমি তাকে স্বপ্নে দেখলাম, সে বলছিল: হে বাবা! তারা আমার কবরের পাশে এমন এক ব্যক্তিকে দাফন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত। আপনি তাদের অনুরোধ করুন যাতে তাকে আমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়। সকালে আমি কবর খননকারীর কাছে গিয়ে তাকে বাধা দিলাম। সে বলল: আপনি কি আমাকে মুসলমানদের কবরস্থানে বাধা দিচ্ছেন? আমি তাকে আমার স্বপ্নের কথা জানালাম। এতে মৃত ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজনরা ব্যথিত হলো। দ্বিতীয় রাতে আমি আবার আমার কন্যাকে স্বপ্নে দেখলাম। সে বলল: হে বাবা! আমি কি আপনাকে কোনো মুসলমান ব্যক্তিকে অপমানিত করতে বলেছিলাম? জেনে রাখুন, আপনার এই অপমানের (পর্দা ফাঁসের) কারণেই আল্লাহ তার প্রতি রহম করেছেন (তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন)।
21 - আল্লাহ তাআলা মুসা বিন ইমরান (আ.)-এর প্রতি ওহী পাঠালেন: "আমার এক ওলী মারা গিয়েছেন, তুমি তাঁর জানাজার ব্যবস্থা করো, তাঁকে গোসল দাও, তাঁর জানাজা পড়ো এবং তাঁকে দাফন করো।"
মুসা (আ.) খোঁজ নিয়ে দেখলেন এক ব্যক্তি মারা গিয়েছে। তিনি তার জানাজার ব্যবস্থা করতে চাইলেন। কিন্তু তিনি শুনতে পেলেন লোকেরা তার মন্দ চর্চা করছে এবং তার অবাধ্যতার বর্ণনা দিচ্ছে। এতে তিনি বিস্মিত হয়ে বললেন: হে আমার ইলাহ! আপনি বলেছেন যে এই ব্যক্তি আপনার ওলীদের অন্তর্ভুক্ত, অথচ আপনার যমীনে আপনারই বান্দারা তার ব্যাপারে এমন সাক্ষ্য দিচ্ছে যা আপনি ভালো করেই জানেন। তখন আল্লাহ তাঁর প্রতি ওহী পাঠালেন: "আমার বান্দারা তার ব্যাপারে যা বলছে সে তেমনই ছিল, বরং তার চেয়েও বেশি। কিন্তু মৃত্যুর সময় সে আমার সাথে পাঁচটি বাক্য নিয়ে সাক্ষাৎ করেছে যার কারণে আমি তার অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছি। প্রথম বাক্যটি সে বলেছিল: হে আল্লাহ! আপনি জানেন যে আমি সৎকর্মশীলদের ভালোবাসতাম যদিও আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না। দ্বিতীয় বাক্যটি বলেছিল: হে আল্লাহ! আমি পাপাচারীদের অপছন্দ করতাম যদিও আমি নিজেই তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। তৃতীয়ত বলেছিল: হে আমার ইলাহ! আমি যদি জানতাম যে আমাকে জাহান্নামে প্রবেশ করালে আপনার রাজত্ব বৃদ্ধি পাবে তবে আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাইতাম না। চতুর্থত বলেছিল: হে আমার ইলাহ! আমি যদি জানতাম যে আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করালে আপনার রাজত্ব কমে যাবে তবে আমি আপনার কাছে জান্নাত চাইতাম না। পঞ্চমত বলেছিল: হে আমার ইলাহ! আমি আপনার বান্দাদের থেকে নিরাশ হয়ে আমার সব প্রয়োজন আপনার কাছেই সঁপে দিয়েছি এবং আপনার কাছে আমার অনুশোচনা প্রকাশ করেছি। সুতরাং আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন তবে কে আমাকে ক্ষমা করবে? আপনি যদি আমাকে দয়া না করেন তবে কে আমাকে দয়া করবে? আর আপনি যদি আমাকে মার্জনা না করেন তবে কে আছে যে আমাকে মার্জনা করবে?"
"হে মুসা! এই কথাগুলোর কারণেই আমি তাকে ক্ষমা করেছি এবং তার অপরাধসমূহ মার্জনা করে দিয়েছি।"
21 - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল গনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম, তিনি মুহাম্মদ বিন হোসেন সূফি থেকে সরাসরি শুনে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু জাফরকে বলতে শুনেছেন: আমি আস-সাইকালিকে বলতে শুনেছি: আমি আন-নাসরাবাদিকে বলতে শুনেছি: আমি আবু ওমর আল-বিকিন্দিকে বলতে শুনেছি: আমার প্রতিবেশী এক লোক মারা গেল যে গুনাহের কাজে সীমালঙ্ঘনকারী ছিল। কিছুদিন পর আমি তাকে স্বপ্নে দেখলাম, তার অঙ্গে সুন্দর পোশাক ও অলঙ্কার রয়েছে। আমি তাকে বললাম: অমুক, আল্লাহ তোমার সাথে কেমন আচরণ করেছেন? সে বলল: তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আমি বললাম: কিসের বিনিময়ে? সে বলল: আমার মা আমার পক্ষ থেকে অর্ধেক রুটি সদকা করেছিলেন। জেনে রাখুন, যদি তিনি একটি পূর্ণ রুটি সদকা করতেন তবে আমার জন্য পর্দা উন্মোচন করে দেওয়া হতো যাতে আমি স্বচক্ষে সবকিছু দেখতে পেতাম।
21 - এবং এই সনদে আবু ইয়াকুব আল-ওয়াররাক থেকে বর্ণিত, তিনি আবু আব্বাস বিন তুর্কান থেকে, তিনি আবুল হাজবি মুহাম্মদ বিন হোসেন থেকে, তিনি আবু বকর মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আলী আল-খাওয়ারিজমি থেকে, তিনি ইব্রাহিম বিন আল-হাইসাম বিন আল-মুহাল্লাব আয-যুহরি থেকে, তিনি আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি সুফিয়ান সাওরি থেকে, তিনি জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আস-সাদিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি শুনেছি বনী ইসরাঈলের এক মহিলা তার দুই ছেলেকে সাথে নিয়ে ব্যবসার উদ্দেশ্যে এক গ্রামে রওনা হলো। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সে তার ছেলেদের পক্ষ থেকে দুটি রুটি সদকা করল। পথে সে সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছিল। হঠাৎ একটি নেকড়ে এসে তার এক ছেলেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল। মহিলা কান্নাকাটি ও বিলাপ করতে লাগল। নেকড়েটি তাকে নিয়ে চলে গেল এবং মহিলা তার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়ল। এরপর সে তার অন্য ছেলেকে নিয়ে সমুদ্রে চড়ল। সেখানে জাহাজ ভেঙে গেল এবং তার সেই ছেলেও সমুদ্রে পড়ে গেল। মহিলার সাথে একশ দিনার ছিল, তাও পানিতে পড়ে গেল এবং সে নিজে একটি তক্তা ধরে বেঁচে থাকল। বাতাস তাকে সমুদ্রের এক তীরে পৌঁছে দিল। সে পানি থেকে উঠে কিছু খাবার কেনার জন্য বাজারে গেল। হঠাৎ সে দেখল এক ব্যক্তির কাছে তার সেই ছেলেটি আছে যাকে নেকড়ে নিয়ে গিয়েছিল। সে তাকে জাপটে ধরল, কিন্তু লোকটি তাকে বাধা দিল। লোকটি তাকে কাজীর কাছে নিয়ে গেল। কাজী তাকে বললেন: তোমার ঘটনা কী? মহিলা তাকে সব খুলে বলল। কাজী লোকটিকে বললেন: তুমি এই ছেলেটি কোথায় পেয়েছ? লোকটি বলল: আমি মরুভূমিতে রিযিকের সন্ধানে বেরিয়েছিলাম, তখন একটি নেকড়ে এই শিশুটিকে নিয়ে আসছিল। আমি অনেক চেষ্টা করে তার কাছ থেকে একে উদ্ধার করেছি এবং সে আমার কাছেই আছে। কাজী বললেন: ছেলেটিকে তার মায়ের হাতে তুলে দাও। সে তাকে দিয়ে দিল। মহিলা তার ছেলেকে নিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটার পর দেখল এক ঘোড়সওয়ারের পেছনে তার অন্য ছেলেটি বসে আছে। সে তাকেও জাপটে ধরল। লোকটি তার সাথে বিবাদে লিপ্ত হলো এবং লোক জমা হয়ে গেল। মহিলা বলল: এটি আমার ছেলে। ঘোড়সওয়ার বলল: এটি আমার গোলাম। লোকেরা বলল: চলো কাজীর কাছে যাই। যখন তারা কাজীর সামনে উপস্থিত হলো, কাজী লোকটিকে বললেন: এই শিশুটির ব্যাপার কী? সে বলল: আমি একজন নাভিক, আমি এই শিশুটিকে পানির ওপর ভাসতে দেখে উদ্ধার করেছি এবং সে আমার কাছেই আছে। কাজী বললেন: একে তার মায়ের কাছে সঁপে দাও। সে তাকে মায়ের কাছে দিয়ে দিল। মহিলা তার দুই ছেলেকে ফিরে পেল এবং সে কিছু রুটি ও দুটি মাছ কিনল। দেখা গেল একটি মাছের পেটে সেই একশ দিনার রয়েছে এবং অন্যটির পেটে দুটি মুক্তা রয়েছে যা সে অনেক দামে বিক্রি করল। এরপর সে স্বপ্নে দেখল যে, আল্লাহ তাআলা তাকে এবং তার দুই ছেলেকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং ওই দুটি রুটি সদকা করার উছিলায় তাদের সবাইকে জান্নাতে দাখিল করবেন। এবং এই সনদে আহমদ বিন মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত, তিনি হাসান থেকে, তিনি আহমদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন হারুন থেকে, তিনি আলী বিন মুসলিম থেকে, তিনি আবু দাউদ থেকে, তিনি তালহা বিন আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাসান আসলেন এবং আমরা আতা-এর সাথে তাঁর কাছে বসলাম। আমি তাঁকে বলতে শুনলাম: আমাদের কাছে পৌঁছেছে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: "হে আদম সন্তান! আমি তোমাকে সৃষ্টি করেছি আর তুমি অন্য কারও ইবাদত করছ, তুমি আমার দ্বারা স্মরণ করছ অথচ আমাকেই ভুলে যাচ্ছ, তুমি আমার দিকে ডাকছ অথচ আমার থেকে পালিয়ে যাচ্ছ; নিশ্চয়ই এটি জমিনের বুকে সবচাইতে বড় জুলুম।"
(খণ্ড: ১)
জুজউন মিন তাখরীজি আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারী
(পৃষ্ঠা: ২১)
22 - وَأنبا أَبُو طَاهِرٍ الْقُرَشِيُّ ، أنبا عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ حَمْزَةَ ، أنبا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ ، وأنبا أَبُو طَاهِرٍ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ الْعَلَوِيُّ ، أنبا أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ النَّسَائِيُّ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ يَاسِينَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلانَ ، حَدَّثَنِي أَبِي ، عَنْ جَدِّهِ يَاسِينَ بْنِ مُحَمَّدٍ ، عَنْ أَبِيهِ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلانَ ، يَقُولُ: أَصَابَتْنِي فَاقَةٌ شَدِيدَةٌ وَإِضَاقَةٌ، وَلا صَدِيقَ لِمُضَيَّقٍ، وَلَزِمَنِي دَيْنٌ ثَقِيلٌ، وَغَرِيمٍ مُلِحٌّ فِي اقْتِضَائِهِ ، فَتَوَجَّهْتُ نَحْوَ دَارِ الْحَسَنِ بْنِ زَيْدٍ ، وَهُوَ يَوْمَئِذٍ أَمِيرُ الْمَدِينَةِ لِمَعْرِفَةٍ كَانَتْ بَيْنِي وَبَيْنَهُ ، وَشَعُرَ بِذَلِكَ مِنْ حَالِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ ، وَكَانَتْ بَيْنِي وَبَيْنَهُ قَدِيمُ مَعْرِفَةٍ ، فَلَقِيَنِي فِي الطَّرِيقِ ، فَأَخَذَ بِيَدِي ، وَقَالَ: قَدْ بَلَغَنِي مَا أَنْتَ بِسَبِيلِهِ مِنَ الْخَلَّةِ ، فَمَنْ تُؤَمِّلُ لِكَشْفِ مَا نَزَلَ بِكَ؟ فَقُلْتُ: الْحَسَنَ بْنَ زَيْدٍ، فَقَالَ: إِذًا لا يَقْضِي حَاجَتَكَ وَلا يُسْعِفُ بِطَلَبَتِكَ فَعَلَيْكَ بِمَنْ يَقْدِرُ عَلَى ذَلِكَ وَهُوَ أَجْوَدُ الأَجْوَدِينَ ، فَالْتَمِسْ مَا تُؤَمِّلُ مِنْ قِبَلِهِ ، فَإِنِّي سَمِعْتُ ابْنَ عَمِّي جَعْفَرَ بْنَ مُحَمَّدٍ ، يُحَدِّثُ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ ، عَنْ أَبِيهِ الْحُسَيْنِ ، عَنْ أَبِيهِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: "
أَوْحَى إِلَى بَعْضِ أَنْبِيَائِهِ فِي بَعْضِ وَحْيِهِ: وَعِزَّتِي وَجَلالِي لأَقْطَعَنَّ أَمَلَ كُلَّ مُؤَمِّلٍ أَمَّلَ غَيْرِي بِالإِيَاسِ ، وَلأَكْسُوَنَّهُ ثَوْبَ الْمَذَلَّةِ فِي النَّاسِ، وَلأُبْعِدَنَّهُ مِنْ فَرَجِي وَفَضْلِي ، أَيُؤَمِّلُ عَبْدِي فِي الشَّدَائِدِ غَيْرِي وَالشَّدَائِدُ بِيَدِي ، أَوْ يُرْجَى سِوَايَ فِي الشَّدَائِدِ وَأَنَا الْغَنِيُّ الْجَوَّادُ، بِيَدِي مَفَاتِيحُ الأَبْوَابِ وَهِيَ مُغْلَقَةٌ وَبَابِي مَفْتُوحٌ لِمَنْ دَعَانِي ، أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّهُ مَنْ دَهَتْهُ نَائِبَةٌ لَمْ يَكْشَفْ كَشْفَهَا عَنْهُ غَيْرِي ، فَماِلَي أَرَاهُ بِمَأْمَلِهِ مُعْرِضًا عَنِّي وَقَدْ أَعْطَيْتُهُ بِجُودِي ، وَكَذَا مَا لَمْ يَسْأَلْنِي وَسَأَلَ فِي نَائِبَتِهِ غَيْرِي ، وَأَنَا اللَّهُ أَبْتَدِئ بِالْعَطِيَّةِ قَبْلَ الْمَسْأَلَةِ ، أَفَأُسْأَلُ فَلا أَجُودَ؟ كَلا ، أَوَلَيْسَ الْجُودُ وَالْكَرَمُ لِي؟ أَوَلَيْسَ الدُّنْيَا وَالآخِرَةُ بِيَدِي؟ فَلَوْ أَنَّ أَهْلَ سَبْعِ سَمَاوَاتٍ وَأَرَضِينَ سَأَلُونِي جَمِيعًا فَأَعْطَيْتُ كُل مِنْهُمْ مَسْأَلَتَهُ مَا نَقَصَ ذَلِكَ مِنْ مُلْكِي مِثْلَ جَنَاحِ بَعُوضَةٍ ، وَكَيْفَ يَنْقُصُ مُلْكٌ أَنَا قَيِّمُهُ فَيَا بُؤْسًا لِمَنْ عَصَانِي وَلَمْ يُرَاقِبْنِي ".
فَقُلْتُ: وَاللَّهِ لا سَأَلْتُ أَحَدًا بَعْدَ هَذَا حَاجَةً ، فَمَا لَبِثْتُ أَنْ جَاءَنِي اللَّهُ بِرِزْقٍ وَفَضْلٍ مِنْ عِنْدِهِ
وَأَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْغَنِيِّ ، أنبا أَبُو عَلِيِّ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ الْبَصْرِيُّ ، أنبا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي الْبَزَّارُ ، أنبا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ الْجَوْهَرِيُّ ، أنبا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَحْمَدَ الْحَافِظُ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ الْبُهْلُولِ ، حَدَّثَنِي أَبِي ، حَدَّثَنِي أَبِي ، عَنِ الْفُرَاتِ بْنِ السَّائِبِ ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرَادَ أَنْ يُرْسِلَ رَجُلا فِي حَاجَةٍ مُهِمَّةٍ ، وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ يَسَارِهِ ، فَقَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه: أَلا نَبْعَثُ أَحَدَ هَذَيْنِ؟ قَالَ: «وَكَيْفَ أَبْعَثُ أَحَدَ هَذَيْنِ؟ وَهُمَا مِنْ هَذَا الدِّينِ بِمَنْزِلَةِ السَّمْعِ وَالْبَصَرِ مِنَ الرَّأْسِ»
0 - أنبا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَلِيٍّ ، كِتَابَةً ، أنبا الْمُبَارَكُ بْنُ عَلِيٍّ ، أنبا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَلافُ ، أنبا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ الْحَمَامِيُّ ، أنبا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخُلْدِيُّ ، حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَصْرٍ ، حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ بَشَّارٍ ، حَدَّثَنِي يُوسُفُ بْنُ أَسْبَاطٍ ، قَالَ: كَتَبَ إِلَيَّ مُحَمَّدُ بْنُ سَمُرَةَ السَّائِحُ بِهَذِهِ الرِّسَالَةِ: أَيْ أَخِي إِيَّاكَ وَتَأْمِيرَ التَّسْوِيفِ عَلَى نَفْسِكَ ، وَإِمْكَانِهِ مِنْ قَلْبِكَ ، فَإِنَّهُ مَحَلُّ الْكَلالِ ، وَمَوُئِلُ التَّلَفِ ، وَبَادِرْ يَا أَخِي فَإِنَّهُ مُبَادِرٌ بِكَ ، وَأَسْرِعْ فَإِنَّهُ مُسْرِعٌ بِكَ ، وَجِدَّ فَإِنَّ الأَمْرَ جِدٌّ ، وَتَيَقَّظْ مِنْ رَقْدَتِكَ ، وَانْتَبِهْ مِنْ غَفْلَتِكَ ، وَتَذَكَّرْ مَا أَسْلَفْتَ وَقَصَّرْتَ وَفَرَّطْتَ وَجَنَيْتَ وَعَمِلْتَ فَإِنَّهُ مُحْصًى عَلَيْكَ ، وَكَأَنَّكَ بِالأَمْرِ قَدْ نَعَتْكَ فَاغْتَبَطْتَ بِمَا قَدَّمْتَ وَنَدِمْتَ عَلَى مَا فَرَّطْتَ ، فَعَلَيْكَ بِالْحَيَاءِ وَالْمُرَاقَبَةِ وَالاعْتِزَالِ وَالْمُلاقَاةِ ، فَإِنَّ السَّلامَةَ فِي ذَلِكَ مَوْجُودَةٌ ، وَفَّقَنَا اللَّهُ وَإِيَّاكَ لأَرْشَدِ الأُمُورِ ، وَلا قُوَّةَ بِنَا وَبِكَ إِلا بِهِ
0 - أنبا غَيْرُ وَاحِدٍ ، كِتَابَةً ، قَالَ: ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْقَزَّازُ ، أنبا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ ، أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْخَفَّافُ ، ثنا دَاوُدُ بْنُ الْجَرَّاحِ ، ثنا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْخَلِيلِ الْحَافِظُ ، حَدَّثَنِي أَبُو حَاتِمٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ ، قَالَ: سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ بْنَ مَنْصُورِ بْنِ عَمَّارٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: قَالَ لِي رَجُلٌ بِالشَّامِ: عِنْدَنَا رَجُلٌ مِنَ الْعِبَادِ مِنْ أَهْلِ وَاسِطِ الْعِرَاقِ لا يَأْكُلُ إِلا مِنْ كَدِّ يَدِهِ وَقَدْ دَبِرَتْ مِنْ سَفِّ الْخُوصِ صَفْحَةُ يَدَيْهِ ، وَلَوْ رَأَيْتَهُ لَوَقَذَكَ النَّظَرُ إِلَيْهِ ، فَهَلْ لَكَ أَنْ تَمْضِيَ بِنَا إِلَيْهِ؟ قُلْتُ: نَعَمْ ، فَأَتَيْنَا فَدَقَّقْنَا عَلَيْهِ بَابَهُ ، فَخَرَجَ إِلَى الْبَابِ ، فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِمَّنْ جَاءَ لِيَشْغَلَنِي عَمَا أَتَلَذَّذُ بِهِ مِنْ مُنَاجَاتِكَ.
ثُمَّ فَتَحَ الْبَابَ ، فَدَخَلْنَا ، فَإِذَا رَجُلٌ تَرَى بِهِ الآخِرَةَ ، وَإِذَا قَبْرٌ مَحْفَوُرٌ ، وَوَصِيَّةٌ مَكْتُوبَةٌ قَدْ كَتَبَهَا فِي الْحَائِطِ ، وَكَسَاؤَهُ قَدْ أَعَدَّهُ لِكَفَنِهِ ، فَقُلْتُ: أَيُّ مَوْقِفٍ لِهَذَا الْخَلْقِ؟ فَقَالَ بَيْنَ يدِي: مَنْ قَالَ؟ ثُمَّ صَاحَ ، وَخَرَّ لِوَجْهِهِ ، ثُمَّ أَفَاقَ مِنْ غَشْيَتِهِ ، فَقَالَ لَهُ صَاحِبِي: يَا أَبَا عَبَّادٍ هَذَا أَبُو السَّرِيِّ مَنْصُورُ بْنُ عَمَّارٍ ، فَقَالَ لِي: مَرْحَبًا يَا أَخِي مَا زِلْتُ إِلَيْكَ مُشْتَاقًا ، أُعْلِمُكَ أَنَّ بِيَ دَاءً قَدْ أَعْيَا الْمُتَطَبِّبِينَ قَبْلَكَ قَدِيمًا ، فَهَلْ لَكَ أَنْ تَتَأَتَّى بِرِفْقِكَ وَتَلْصِقَ عَلَيْهِ بَعْضَ مَرَاهِمِكَ لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَنْفَعَ بِكَ ، قَالَ: قُلْتُ: وَكَيْفَ يُعَالِجُ مِثْلِي مِثْلَكَ وَجُرْحُي أَثْقَلُ مِنْ جُرْحِكَ؟ قَالَ: وَإِنْ كَانَ كَذَاكَ فَإِنِّي مُشْتَاقٌ مِنْكَ إِلَى ذَلِكَ ، قَالَ: قُلْتُ: لَئِنْ كُنْتَ تَمَسَّكْتَ بِاحْتَفَارِ قَبْرِكَ فِي بَيْتِكَ ، وَبِوَصِيَّةٍ رَسَمْتَهَا بَعْدَ وَفَاتِكَ ، وَبِكَفَنٍ أَعْدَدْتَهُ لِيَوْمِ مَوْتِكَ ، فَإِنَّ لِلَّهِ عِبَادًا اقْتَطَعَهُمْ خَوْفُهُ عَنِ النَّظَرِ إِلَى قُبُورِهِمْ ، قَالَ: فَصَاحَ صَيْحَةً وَوَقَعَ فِي قَبْرَهِ ، وَجَعَلَ يَفْحَصُ بِرِجْلِهِ وَبَالَ فَعَرَفْتُ ذَهَابَ عَقْلِهِ ، فَخَرَجْتُ إِلَى طَحَّانٍ عَلَى بَابِهِ ، فَقُلْتُ: ادْخُلْ فَأَعِنَّا عَلَى هَذَا الشَّيْخِ ، فَاسْتَخْرَجْنَاهُ مِنْ قَبْرِهِ ، وَهُوَ فِي غَشْيَتِهِ ، فَقَالَ لِيَ الطَّحَّانُ: وَيْحَكَ مَا صَنَعْتَ؟ فَخَرَجْتُ وَتَرَكْتُهُ صَرِيعًا ، فَلَمَّا كَانَ الْغَدُ عُدْتُ إِلَيْهِ ، فَإِذَا بِسَلْخٍ فِي وَجْهِهِ ، وَإِذَا بِشَرِيطٍ قَدْ شَدَّ بِهِ رَأْسَهُ لِصُدَاعٍ وَجَدَهُ ، فَلَمَّا رَآنِي ، قَالَ: الْمُعَاوِدَةُ يَا أَبَا السَّرِيِّ رَحِمَكَ اللَّهُ.
فَقُلْتُ لَهُ: أَيْنَ بَلَغْتَ أَيُّهَا الْمُتَعَبِّدُ مِنْ أَحْزَانِكَ بِاللَّهِ؟ لَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى آكْلَ الْفَطِيرِ وَالصَّابِرَ عَلَى خُبْزِ الشَّعِيرِ ، يَأْكُلُ مَا اشْتَهَى ، وَيَسْعَى عَلَيْهِ بِلَحْمِ طَيْرٍ وَيُسْقَى مِنَ الرَّحِيقِ الْمَخْتُومِ ، فَشَهِقَ شَهْقَةً فَحَرَّكْتُهُ فَإِذَا هُوَ مَيِّتٌ
0 - أنبا أَبُو الْفَرَجِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ ، كِتَابَةً ، أنبا أَبُو بَكْرِ بْنُ حَبِيبٍ الْعَامِرِيُّ ، أنبا عَلِيُّ بْنُ أَبِي صَادِقٍ ، أنبا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ بَاكَوَيْهِ ، ثنا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الأَرْجَانِيُّ ، ثنا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ مُسْلِمٍ الرَّامَهْرُمْزِيُّ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا مُعَاوِيَةَ الأَسْوَدَ ، وَهُوَ عَلَى سُورِ طَرَسُوسَ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ يَبْكِي ، وَهُوَ يَقُولُ: أَلا مَنْ كَانَتِ الدُّنْيَا أَكْبَرَ هَمِّهِ طَالَ فِي الْقِيَامَةِ غَدًّا هَمُّهُ ، وَمَنْ خَافَ مِمَّا بَيْنَ يَدَيْهِ ضَاقَ فِي الدُّنْيَا ذَرْعُهُ ، وَمَنْ خَافَ الْوَعِيدَ لَهِيَ فِي الدُّنْيَا عَمَا يُرِيدُ ، يَا مِسكِينُ إِنْ كُنْتَ تُرِيدُ فِي الدُّنْيَا الْجَزِيلَ فَاقْلِلْ نَوْمَكَ بِاللَّيْلِ إِلا الْقَلِيلَ ، اقْبَلْ مِنَ اللَّبِيبِ النَّاصِحِ إِذَا أَتَاكَ بِأَمْرٍ وَاضِحٍ ، لا تَهْتَمَّ بِأَرْزَاقِ مَنْ تُخَلِّفُ فَلَيْسَتْ أَرْزَاقُهُمْ تُكَلَّفُ ، وَطِنَّ نَفْسَكَ لِلْمَقَالِ إِذَا وَقَفْتَ بَيْنَ يَدَيْ رَبِّ الْعِزَّةِ لِلسُّؤَالِ ، قَدِّمْ صَالِحَ الأَعْمَالِ ، وَدَعْ عَنْكَ كِبْرَةَ الأشْغَالِ ، بَادِرْ ثُمَّ بَادِرْ قَبْلَ نُزُولِ مَا تُحَاذِرُ إِذَا بَلَغَ رُوحَكَ التَّرَاقِيَ وَانْقَطَعَ عَنْكَ مَنْ أَحْبَبْتَ أَنْ تُلاقِيَ ، كَأَنِّي بِهَا قَدْ بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ ، وَكُنْتَ فِي سَكَرَاتِ الْمَوْتِ مَغْمُومًا وَقَدِ انْقَطَعَتْ حَاجَتُكَ إِلَى أَهْلِكَ وَأَنْتَ تَرَاهُمْ حَوْلَكَ ، وَبَقِيتَ مُرْتَهَنًا بِعَمَلِكَ ، الصَّبْرُ مَلاكُ الأَمْرِ وَفِيهِ أَعْظَمُ الأَجْرِ ، فَاجْعَلْ ذِكْرَ اللَّهِ مِنْ جُلِّ شَأْنِكَ ، وَأَمْلِكْ فِيهَا سِوَى ذَلِكَ لِشَأْنِكَ ، ثُمَّ بَكَى أَبُو مُعَاوِيَةَ بُكَاءً شَدِيدًا ، ثُمَّ قَالَ: أَوْهُ مِنْ يَوْمِ يَتَغَيَّرُ فِيهِ لَوْنِي ، وَيَتَلَجْلَجُ فِيهِ لِسَانِي ، وَيَجِفُّ فِيهِ رِيقِي ، وَيَقِلُّ فِيهِ زَادِي ، فَقِيلَ: يَا أَبَا مُعَاوِيَةَ مَنْ قَالَ هَذَا؟ قَالَ: الْحَكِيمُ
0 - وَبِهِ أنبا ابْنُ بَاكَوَيْهِ ، ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْفَضْلِ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْمَرْوَزِيُّ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلْمَانَ ، حَدَّثَنِي أَبُو حَمْزَةَ الأَسْلَمِيُّ ، وَكَانَ خَادِمًا لأَبِي مُعَاوِيَةَ الأَسْوَدِ ، قَالَ: كَانَ أَبُو مُعَاوِيَةَ قَدْ ذَهَبَ بَصَرُهُ فَكَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَقْرَأَ نَشَرَ الْمُصْحَفَ وَفَتَحَهُ فِيرَدَّ اللَّهُ بَصَرَهُ ، وَإِذَا أَطْبَقَ الْمُصْحَفَ ذَهَبَ بَصَرُهُ
0 - وَأنبا عَبْدُ الرَّحْمَنِ ، إِذْنًا ، أنبا عَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ أَحْمَدَ ، أنبا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي نَصْرٍ ، أنبا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْحَسَنِ الْفَارِسِيَّ ، يَقُولُ: بَلَغَنَا أَنَّ رَجُلا مِنْ أَصْحَابِ ذِي النَّوَى أُصِيبَ بِعَقْلِهِ ، فَكَانَ يَطُوفُ وَيَقُولُ: أَيْنَ قَلْبِي؟ أَيْنَ قَلْبِي؟ مَنْ وَجَدَ قَلْبِي؟ وَالصِّبْيَانُ. . . . .
২২ - আবু তাহের আল-কুরাশি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আব্দুল কারীম ইবনে হামজাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবনে আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; এবং আবু তাহের ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-আলাওয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবুল ফজল মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নাসায়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে ইয়াসিন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আজলান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার পিতা আমার কাছে তার দাদা ইয়াসিন ইবনে মুহাম্মদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি তীব্র অভাব ও সংকটে পতিত হলাম, আর সংকটাপন্ন ব্যক্তির কোনো বন্ধু থাকে না। আমার ওপর এক ভারী ঋণ চেপে বসল এবং পাওনাদার আদায়ে অত্যন্ত চাপ সৃষ্টি করছিল। তখন আমি আল-হাসান ইবনে যায়িদের বাড়ির দিকে রওনা হলাম, তিনি তখন মদিনার আমির ছিলেন এবং আমার ও তাঁর মধ্যে জানাশোনা ছিল। আমার এই অবস্থার কথা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে আল-হুসাইন জানতে পারলেন, তাঁর সঙ্গেও আমার পুরনো জানাশোনা ছিল। পথে তাঁর সাথে আমার দেখা হলো, তিনি আমার হাত ধরলেন এবং বললেন: তোমার এই দারিদ্র্যের কথা আমি জানতে পেরেছি। যে বিপদ তোমার ওপর নেমে এসেছে, তা দূর করার জন্য তুমি কার ওপর আশা রাখছ? আমি বললাম: আল-হাসান ইবনে যায়িদের ওপর। তিনি বললেন: তবে তিনি তোমার হাজত পূরণ করবেন না এবং তোমার চাহিদা মেটাতে পারবেন না। সুতরাং তুমি তাঁর কাছে যাও যিনি এর ওপর সক্ষম এবং যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা। তাঁর কাছেই তোমার প্রত্যাশা নিবেদন করো, কারণ আমি আমার চাচাতো ভাই জাফর ইবনে মুহাম্মদকে তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি তাঁর দাদার সূত্রে, তিনি তাঁর পিতা হুসাইনের সূত্রে, তিনি তাঁর পিতা আলী ইবনে আবি তালিবের সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "
আল্লাহ তাঁর কোনো এক নবীর প্রতি ওহির মাধ্যমে পাঠিয়েছেন: আমার ইজ্জত ও জালালের কসম! আমি অবশ্যই সেই প্রত্যেক আশাবাদীর আশাকে নিরাশায় পরিণত করে ছিন্ন করব, যে আমি ছাড়া অন্য কারো প্রতি আশা পোষণ করে। আমি অবশ্যই তাকে মানুষের মাঝে লাঞ্ছনার পোশাক পরিধান করাব এবং তাকে আমার সাহায্য ও অনুগ্রহ থেকে দূরে সরিয়ে দেব। আমার বান্দা কি কঠিন বিপদের সময় আমি ছাড়া অন্যের প্রতি আশা রাখে, অথচ বিপদ-আপদ আমার হাতে? সে কি বিপদকালে আমি ছাড়া অন্য কারো কাছে প্রত্যাশা করে, অথচ আমিই অভাবমুক্ত দাতা? আমার হাতেই বন্ধ দরজার চাবিকাঠি এবং আমার দরজা তো প্রার্থনাকারীদের জন্য উন্মুক্ত। তারা কি জানে না যে, যার ওপর কোনো বিপদ নেমে আসে, আমি ছাড়া তা কেউ দূর করতে পারে না? তবে কেন আমি তাকে দেখি যে সে তার আশা নিয়ে আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, অথচ আমি তাকে আমার দাক্ষিণ্য থেকে দান করেছি? সে আমাকে না চাইতেই আমি তাকে দিয়েছি, আর সে বিপদে পড়ে আমি ছাড়া অন্যকে ডাকে? আমিই আল্লাহ, চাওয়ার আগেই আমি দান করা শুরু করি। আমাকে চাওয়া হবে আর আমি দান করব না—তা কি হয়? কখনো নয়! বদান্যতা ও মহত্ত্ব কি আমারই নয়? দুনিয়া ও আখিরাত কি আমার হাতে নয়? সাত আসমান ও সাত জমিনের অধিবাসীরা যদি সবাই মিলে আমার কাছে চায় এবং আমি তাদের প্রত্যেকের চাওয়া পূরণ করি, তবে তা আমার রাজত্ব থেকে একটি মশার ডানার সমানও কমাবে না। আর সেই রাজত্ব কীভাবে কমবে যার রক্ষণাবেক্ষণকারী আমি? সুতরাং দুর্ভোগ সেই ব্যক্তির জন্য যে আমার অবাধ্যতা করে এবং আমাকে ভয় পায় না।"
আমি বললাম: আল্লাহর কসম, আজকের পর আমি আর কারো কাছে কোনো প্রয়োজন পেশ করব না। এরপর বেশি দেরি হলো না, আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে রিযিক ও অনুগ্রহ পাঠিয়ে দিলেন।
মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল গনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবু আলী ইবনে আবিল কাসিম আল-বাসরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি আল-বাযযার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবু মুহাম্মদ আল-হাসান আল-জাওহারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবুল হাসান আলী ইবনে উমর ইবনে আহমদ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবনে ইসহাক ইবনে আল-বুহলুল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার পিতা ফুরাত ইবনে সাইবের সূত্রে মায়মুন ইবনে মিহরান থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো এক গুরুত্বপূর্ণ কাজে একজনকে পাঠাতে চাইলেন, তখন আবু বকর ও উমর তাঁর ডানে ও বামে ছিলেন। আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আমরা কি তাঁদের মধ্য থেকে একজনকে পাঠাব না? তিনি বললেন: «আমি কীভাবে তাঁদের একজনকে পাঠাতে পারি? তাঁরা তো এই দ্বীনের ক্ষেত্রে ঠিক তেমনি, যেমন মাথার জন্য কান ও চোখ থাকে।»
০ - আব্দুর রহমান ইবনে আলী লিখিতভাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আল-মুবারক ইবনে আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-আল্লাফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আলী ইবনে আহমদ আল-হামামি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-খুলদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন ইব্রাহিম ইবনে নাসর আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইব্রাহিম ইবনে বাশশার আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইউসুফ ইবনে আসবাত আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে সামুরা আস-সাইয়াহ আমার কাছে এই পত্রটি লিখেছিলেন: হে ভাই! সাবধান, তোমার নফসের ওপর দীর্ঘসূত্রতাকে (আগামীতে করব এমন ভাবনা) কর্তৃত্ব দিয়ো না এবং একে হৃদয়ে স্থান দিয়ো না; কারণ এটি ক্লান্তির নিবাস এবং ধ্বংসের আশ্রয়স্থল। হে ভাই, তুমি দ্রুত অগ্রসর হও, কারণ মৃত্যু তোমার দিকে দ্রুত আসছে। দ্রুত করো কারণ সময় দ্রুত বয়ে যাচ্ছে। পরিশ্রম করো কারণ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। তোমার তন্দ্রা থেকে জেগে ওঠো এবং গাফিলতি থেকে সতর্ক হও। যা কিছু আগে করেছ, যে ত্রুটি ও অবহেলা করেছ এবং যা কিছু অর্জন বা আমল করেছ তা স্মরণ করো, কারণ তোমার সবকিছুর হিসাব রাখা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই বিষয়টি এমন হবে যে মৃত্যু সংবাদ তোমাকে গ্রাস করবে, তখন তুমি যা আগে পাঠিয়েছিলে তা দেখে ঈর্ষান্বিত হবে আর যা অবহেলা করেছ তার জন্য অনুতপ্ত হবে। সুতরাং তোমার কর্তব্য হলো লজ্জা, আল্লাহর নজরদারি, নির্জনতা ও তাঁর সাক্ষাৎ কামনা করা। কারণ এর মধ্যেই নিরাপত্তা নিহিত। আল্লাহ আমাদের এবং তোমাকে সঠিক কার্যাবলীর তাওফিক দিন। তাঁর সাহায্য ছাড়া আমাদের বা তোমার কোনো শক্তি নেই।
০ - একাধিক ব্যক্তি লিখিতভাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তারা বলেন আব্দুর রহমান আল-কাযযায আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে ইব্রাহিম আল-খাফফাফ আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন দাউদ ইবনে আল-জাররাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন হাফস ইবনে উমর ইবনে আল-খলীল আল-হাফিয আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আমাকে বলেছেন: আমি ইব্রাহিম ইবনে মনসুর ইবনে আম্মারকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, সিরিয়ায় এক ব্যক্তি আমাকে বলল: আমাদের এখানে ইরাকের ওয়াসিত অঞ্চলের একজন আবিদ (ইবাদতকারী) লোক আছেন, যিনি নিজের হাতের কামাই ছাড়া খান না। খেজুর পাতা বুনতে বুনতে তাঁর হাতের তালু ফেটে শক্ত হয়ে গেছে। আপনি যদি তাঁকে দেখতেন, তবে তাঁর দিকে তাকানোই আপনাকে স্তম্ভিত করে দিত। আপনি কি আমাদের সাথে তাঁর কাছে যেতে চান? আমি বললাম: হ্যাঁ। এরপর আমরা তাঁর কাছে এলাম এবং তাঁর দরজায় করাঘাত করলাম। তিনি দরজার কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই এমন ব্যক্তি থেকে যে আমাকে আপনার সাথে মুনাজাতের যে স্বাদ আমি পাই তা থেকে বিরত রাখতে এসেছে।
এরপর তিনি দরজা খুললেন এবং আমরা ভেতরে প্রবেশ করলাম। দেখলাম এমন এক ব্যক্তি যার মধ্যে পরকালের আভা দেখা যাচ্ছে। সেখানে একটি খনন করা কবর এবং দেয়ালে একটি অসিয়তনামা লেখা ছিল। তাঁর কম্বলটি তিনি কাফনের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। আমি বললাম: আল্লাহর এই সৃষ্টির দাঁড়ানোর জায়গা কোথায়? তিনি বললেন: কার সামনে? এরপর তিনি চিৎকার দিলেন এবং উপুড় হয়ে পড়ে গেলেন। যখন তাঁর জ্ঞান ফিরল, তখন আমার সাথী তাঁকে বললেন: হে আবু আব্বাদ, ইনি আবুস সারি মনসুর ইবনে আম্মার। তিনি আমাকে বললেন: স্বাগতম হে ভাই! আমি সবসময় আপনার সাক্ষাতের অপেক্ষায় ছিলাম। আমি আপনাকে জানাচ্ছি যে, আমার এমন এক রোগ হয়েছে যা আপনার আগের ডাক্তারদেরও অনেক আগে থেকে ক্লান্ত করে দিয়েছে। সুতরাং আপনি কি আপনার কোমলতা নিয়ে এগিয়ে আসবেন এবং এর ওপর কিছু মলম লাগিয়ে দেবেন, হয়তো আল্লাহ আপনার মাধ্যমে উপকার করবেন? তিনি (মনসুর) বলেন: আমি বললাম: আমার মতো লোক আপনার মতো লোকের চিকিৎসা কীভাবে করবে, যেখানে আমার নিজের যখম আপনার যখমের চেয়েও ভারী? তিনি বললেন: যদিও তা-ই হয়, তবুও আমি আপনার থেকে তা শোনার অপেক্ষায় আছি। তিনি (মনসুর) বলেন: আমি বললাম: আপনি যদি আপনার ঘরে কবর খনন করে, মৃত্যুর পরের অসিয়তনামা লিখে এবং মৃত্যুর দিনের জন্য কাফন প্রস্তুত করে তুষ্ট থাকেন, তবে জেনে রাখুন আল্লাহর এমন কিছু বান্দা আছেন যাদেরকে তাঁর ভয় নিজের কবরের দিকে তাকানো থেকেও বিমুখ করে দিয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি এক চিৎকার দিলেন এবং নিজের কবরের মধ্যে পড়ে গেলেন। তিনি পা দিয়ে আঘাত করতে লাগলেন এবং প্রস্রাব করে দিলেন, আমি বুঝতে পারলাম তাঁর হিতাহিত জ্ঞান চলে গেছে। আমি দরজার কাছে থাকা এক আটা পেষণকারীর কাছে গিয়ে বললাম: ভেতরে আসুন এবং এই শায়খের ব্যাপারে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা তাঁকে তাঁর কবর থেকে বের করলাম, তিনি তখন সংজ্ঞাহীন ছিলেন। আটা পেষণকারী আমাকে বলল: তোমার দুর্ভোগ হোক, তুমি কী করলে? আমি বের হয়ে এলাম এবং তাঁকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ফেলে রেখে গেলাম। পরদিন যখন আমি আবার তাঁর কাছে ফিরে এলাম, দেখলাম তাঁর মুখে কালচে দাগ পড়ে গেছে এবং মাথা ব্যথার কারণে একটি কাপড় দিয়ে তাঁর মাথা বাঁধা রয়েছে। যখন তিনি আমাকে দেখলেন, বললেন: হে আবুস সারি, আবার এসেছেন! আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন।
আমি তাঁকে বললাম: হে ইবাদতকারী, আল্লাহর ভয়ে আপনার দুঃখ কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে? আমি যেন দেখছি সেই ব্যক্তিকে যে শুকনো রুটি খেত এবং যবের রুটির ওপর ধৈর্য ধরত, সে এখন যা ইচ্ছে তাই খাচ্ছে, তার কাছে পাখির গোশত নিয়ে আসা হচ্ছে এবং তাকে মোহর মারা বিশুদ্ধ পানীয় পান করানো হচ্ছে। তখন তিনি এক দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন, আমি তাঁকে নাড়া দিয়ে দেখলাম তিনি মারা গেছেন।
০ - আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান লিখিতভাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবু বকর ইবনে হাবিব আল-আমিরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আলী ইবনে আবি সাদিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবু আব্দুল্লাহ ইবনে বাকুওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আলী ইবনে আল-হাসান ইবনে ইসমাইল আল-আরজানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে যায়িদ ইবনে মুসলিম আর-রামাহুরমুযি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু মুআবিয়া আল-আসওয়াদকে তারসুস শহরের প্রাচীরের ওপর গভীর রাতে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শুনেছি: জেনে রেখো, দুনিয়া যার সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হবে, পরকালে তার চিন্তা দীর্ঘ হবে। আর যে তার সামনে যা আসছে (পরকাল) তাকে ভয় করবে, দুনিয়াতে তার স্বস্তি সংকীর্ণ হয়ে যাবে। আর যে পরকালের শাস্তিকে ভয় করবে, সে দুনিয়াতে তার প্রবৃত্তি থেকে বিমুখ থাকবে। হে মিসকিন! তুমি যদি দুনিয়াতে মহা পুরস্কার পেতে চাও, তবে রাতে সামান্য সময় ছাড়া তোমার ঘুম কমিয়ে দাও। যখন কোনো বিচক্ষণ হিতৈষী তোমার কাছে কোনো স্পষ্ট বিষয় নিয়ে আসে, তা গ্রহণ করো। যারা তোমার পেছনে রয়ে যাবে (পরিবার) তাদের রিযিক নিয়ে চিন্তিত হয়ো না, কারণ তাদের রিযিকের দায়িত্ব তোমার ওপর নয়। যখন তুমি রাব্বুল ইজ্জতের সামনে সওয়াল-জওয়াবের জন্য দাঁড়াবে, তখন তাঁর কথার জবাব দেওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো। নেক আমল আগে পাঠাও এবং দুনিয়ার অতিরিক্ত ব্যস্ততা ত্যাগ করো। তুমি যা থেকে সতর্ক হচ্ছ তা নামার আগেই দ্রুত আমল করো; যখন তোমার প্রাণ কণ্ঠনালীতে পৌঁছাবে এবং যার সাথে দেখা করতে ভালোবাসতে তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আমি যেন দেখতে পাচ্ছি প্রাণ কণ্ঠনালীতে পৌঁছে গেছে, তুমি মৃত্যুর যন্ত্রণায় বিষণ্ণ হয়ে আছ, তোমার পরিবারের কাছে তোমার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে অথচ তুমি তাদের দেখছ তোমার চারপাশে, আর তুমি তোমার আমলের কাছে বন্দি হয়ে গেছ। ধৈর্যই হলো সবকিছুর মূল এবং এতেই রয়েছে মহান পুরস্কার। সুতরাং আল্লাহর স্মরণকে তোমার প্রধান কাজ বানিয়ে নাও এবং তোমার অন্য সব কাজকে এর অধীন করো। এরপর আবু মুআবিয়া অত্যন্ত কাঁদলেন এবং বললেন: হায় সেই দিনের আফসোস! যেদিন আমার গায়ের রং বদলে যাবে, জিহ্বা তোতলা হয়ে যাবে, থুথু শুকিয়ে যাবে এবং আমার পাথেয় কমে যাবে। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আবু মুআবিয়া, এ কথা কে বলেছেন? তিনি বললেন: কোনো এক হিকমতওয়ালা ব্যক্তি।
০ - এর মাধ্যমেই ইবনে বাকুওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আব্দুল আজিজ ইবনুল ফজল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মারওয়াযি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আব্দুল্লাহ ইবনে সালমান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু হামজা আল-আসলামি—যিনি আবু মুআবিয়া আল-আসওয়াদের খাদেম ছিলেন—আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুআবিয়া দৃষ্টিহীন হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি যখন কুরআন পড়তে চাইতেন, তখন মুসহাফ (কুরআন) খুলে মেলে ধরতেন এবং আল্লাহ তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতেন। আর যখন তিনি মুসহাফ বন্ধ করতেন, তাঁর দৃষ্টিশক্তি চলে যেত।
০ - আব্দুর রহমান অনুমতিক্রমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আব্দুল খালিক ইবনে আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবনে আবি নাসর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবি জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবুল হাসান আল-ফারিসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, যুন-নুন (আল-মিসরি)-এর সাথীদের মধ্যে একজনের মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তিনি ঘুরে বেড়াতেন আর বলতেন: আমার অন্তর কোথায়? আমার অন্তর কোথায়? কে আমার অন্তরের সন্ধান পেয়েছে? আর শিশুরা... ... ...