(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: -)
منية السول في تفضيل الرسول (صلى الله عليه وسلم)   (عز الدين بن عبد السلام)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: مُنْيَةُ السُّولِ في تفضيلِ الرَّسُّولِ (صلى الله عليه وسلم)

المؤلف: أبو محمد عز الدين عبد العزيز بن عبد السلام بن أبي القاسم بن الحسن السلمي الدمشقي، الملقب بسلطان العلماء (ت 660هـ)

رواية: الحافظ شرف الدين أبي عبدالله محمد الميدومي

تحقيق: د. صلاح الدين المنجد

الناشر: دار الكتاب الجديد - بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1401 هـ - 1981 م

عدد الصفحات: 38

أعده للشاملة: أبو إبراهيم حسانين

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 14 صفر 1432

রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায় মুনিয়াতুল সুল   (ইযযুদ্দিন বিন আব্দুস সালাম)

বিভাগ: সীরাতে নববী (নবীজীর জীবনী)


কিতাব: রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায় মুনিয়াতুল সুল

লেখক: আবু মুহাম্মদ ইযযুদ্দিন আব্দুল আযীয বিন আব্দুস সালাম বিন আবুল কাসিম বিন আল-হাসান আস-সুলামি আদ-দিমাশকী, সুলতানুল উলামা উপাধিতে ভূষিত (মৃত্যু ৬৬০ হিজরী)

বর্ণনা: হাফেজ শরফুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আল-মাইদুমি

তাহকীক: ড. সালাহউদ্দিন আল-মুনজিদ

প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-জাদীদ - বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০১ হিজরী - ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইব্রাহিম হাসানাইন

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৪ সফর ১৪৩২

(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: -)
ـ[مُنْيَةُ السُّولِ في تفضيلِ الرَّسُّولِ صلى الله عليه وسلم]ـ

المؤلف: أبو محمد عز الدين عبد العزيز بن عبد السلام بن أبي القاسم بن الحسن السلمي الدمشقي، الملقب بسلطان العلماء (المتوفى: 660هـ)

رواية: الحافظ شرف الدين أبي عبدالله محمد الميدومي

تحقيق: د. صلاح الدين المنجد

الناشر: دار الكتاب الجديد - بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1401 هـ - 1981 م

عدد الأجزاء: 1

أعده للشاملة/ أبو إبراهيم حسانين

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায় মুনইয়াতুস সুল]

লেখক: আবু মুহাম্মদ ইজ্জুদ্দীন আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে আবিল কাসিম ইবনুল হাসান আস-সুলামি আদ-দিমাশকি, ‘সুলতানুল উলামা’ উপাধিতে ভূষিত (মৃত্যু: ৬৬০ হিজরি)

বর্ণনায়: হাফিজ শরফুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আল-মাইদুমি

সম্পাদনা: ড. সালাহউদ্দীন আল-মুনাজ্জিদ

প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-জাদিদ - বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০১ হিজরি - ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ডের সংখ্যা: ১

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইব্রাহিম হাসানাইন

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে মিল রাখা হয়েছে]
(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمدُ لله ربِّ العالمين، وصلاته وسلامُه على سيّدنا محمد وآله وصحبه أجمعين. ورضي الله عن التابعين.

قال الشيخ الفقيهُ الإمامُ العالمُ العاملُ مفتي المسلمين عِزُّ الدين أبو محمد عبد العزيز ابن عبد السلام السُّلمي رحمةُ الله عليه:

قال اللهُ تعالى لنَبيّنا محمدٍ صَلَواتُ الله عليه وسلامُه، مُمْتَنا عليه، مُعَرِّفاً لِقَدْرِه (وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا) (113).

وقد فَضّل الله تعالى بعضَ الرُسُلِ على بعضٍ فقال: (تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ مِنْهُمْ مَنْ كَلَّمَ اللَّهُ وَرَفَعَ بَعْضَهُمْ دَرَجَاتٍ) (253)، فالتفضيلُ الأوّلُ صريح في أصل المفاضلة، والثاني في
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং তাঁর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। আর আল্লাহ তাআলা তাবেঈগণের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

ফকীহ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম ও আমলকারী, মুসলিমদের মুফতি ইজ্জুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুস সালাম আস-সুলামী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন:

আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মদের (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) প্রতি অনুগ্রহ প্রকাশ করে এবং তাঁর উচ্চ মর্যাদা জ্ঞাপন করে বলেছেন: "এবং আল্লাহ আপনার প্রতি কিতাব ও হিকমত নাযিল করেছেন এবং আপনাকে এমন বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন যা আপনি জানতেন না; এবং আপনার প্রতি আল্লাহর মহা অনুগ্রহ রয়েছে।" (১১৩)।

এবং আল্লাহ তাআলা রাসূলগণের মধ্যে একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তিনি বলেছেন: "এই রাসূলগণ, আমি তাদের একজনকে অন্যজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন, আবার কাউকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন।" (২৫৩)। সুতরাং প্রথম শ্রেষ্ঠত্ব দানটি মূল শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের বিষয়ে সুস্পষ্ট, আর দ্বিতীয়টি হলো...
(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ১৮)
تَضعيف المفاضلة بدرجات. ونكّرها تنكيرَ التعظيمِ بمعنى درجات عظيمة.

‌‌وقد فَضّل اللهُ تعالى نبيّنا محمد صلى الله عليه وسلم بوجوه:

‌‌أوّلها: أنَّه ساد الكُلَّ. فقال صلَّى الله عليه وسم: "أنا سيِّدُ وَلَدِ آدمَ ولا فَخْر" (1). والسيّدُ مَن اتّصفَ بالصّفات العَلِيّة والأخلاق السَّنِيّة، وهذا مُشْعِرٌ بأنَّه أفْضَلُ منهم في الدارَين. أمّا في الدنيا فلِما اتّصفَ به من الأخلاقِ المذكورةِ، وأمّا فى الآخرةِ فلِأَنّ جزَاءَ الآخرةِ مُرَتّب على الأوصَاف والأخلاق. فإذا فَضَلَهُم في الدنيا في المناقب والصِّفات، فَضَلَهُم في الآخرة في المراتب والدرجات.

وإنّما قال صلى الله عليه وسلم: "أنا سيِّدُ وَلَدِ آدمَ ولا فَخْر" لِيُعَرِّف أمّته مَنْزِلتَه من رَبِّهِ عز وجل. ولمّا كان مَنْ ذَكرَ مناقب نفسِه إنّما يذكُرُها افتخاراً في الغالب، أراد صلى الله عليه وسلم أنْ يَقْطَعَ وَهْمَ مَنْ يَتَوَهَّم من الجَهَلَةِ أنَّه ذَكَرَ ذلك افتخاراً، فقال: "ولا فخرَ".

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي، عن أبي سعيد الخدري.
শ্রেষ্ঠত্বের গুণিতক কয়েক স্তর। তিনি এগুলোকে মহত্ত্ব বোঝাতে অনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যার অর্থ হলো মহান মর্যাদাসমূহ।

‌নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বিভিন্ন দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন:

‌প্রথমত: তিনি সকলের নেতৃত্ব দান করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি আদম সন্তানদের নেতা এবং এতে কোনো অহংকার নেই" (১)। আর নেতা তিনিই, যিনি উচ্চতর গুণাবলী ও মহান চরিত্রে ভূষিত হন। এটি নির্দেশ করে যে, তিনি উভয় জাহানেই তাদের অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। দুনিয়ার ক্ষেত্রে এর কারণ হলো উল্লেখিত চরিত্রে তাঁর ভূষিত হওয়া, আর আখিরাতের ক্ষেত্রে কারণ হলো আখিরাতের প্রতিদান গুণাবলী ও চরিত্রের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। সুতরাং তিনি যখন দুনিয়াতে গুণাগুণ ও বৈশিষ্ট্যে তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হয়ে থাকেন, তখন আখিরাতেও সম্মান ও মর্যাদায় তিনি তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হবেন।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেবল একারণেই "আমি আদম সন্তানদের নেতা এবং এতে কোনো অহংকার নেই" বলেছেন যাতে তাঁর উম্মত মহান রবের নিকট তাঁর মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারে। এবং যেহেতু সাধারণত যে ব্যক্তি নিজের গুণাগুণ বর্ণনা করে সে গর্ব করার উদ্দেশ্যেই তা করে থাকে, তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঐসব মূর্খদের সংশয় দূর করতে চেয়েছেন যারা ধারণা করতে পারে যে তিনি গর্বের বশবর্তী হয়ে তা উল্লেখ করেছেন, তাই তিনি বললেন: "এবং এতে কোনো অহংকার নেই"।

--------------------------------------------

(১) তিরমিযী এটি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ১৯)
ومنها قولُه صلى الله عليه وسلم: "وبِيَدي لِوآءُ الحمْدِ يومَ القيامة ولا فَخْر".

ومنها قولُه صلى الله عليه وسلم: " وما مِنْ نبي يومئذ: آدَمُ فَمَنْ دونَه إلَّا تحت لوائي يومَ القيامةِ، ولا فَخْرَ.".

وهذه. الخصائصُ تدلُّ على عُلُوّ مَرْتَبتِه على آدَم وغيرهِ، إذْ لا معنى للتفضيل إلَّا التخصيص بالمناقبِ والمراتب.

ومنها: أنَّ الله عز وجل أخبره أنَّه غَفَر له ما تقدّمَ من ذَنْبه وما تأخر، ولم ينقل أنه أخبر أحدا من الأنبياء بِمِثلِ ذلك، بل الظاهِرُ أنَّه لم يُخْبِرهم، لأنّ كُلَّ واحِدٍ منهمِ إذا طُلِبَ منه الشفاعة في الوْقِفِ ذكر خَطيئتهُ التي أصَاب وقال: نفْسي نَفْسي. ولو عَلِمَ كُلّ واحدٍ منهم بغُفْران خطيئته لم يُوْجَل منها في ذلك

--------------------------------------------

الترمذي، المصدر السابق، والزرقاني 5/ 395؛ والشفاء 207.
এবং এর মধ্যে রয়েছে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: "কিয়ামত দিবসে প্রশংসার পতাকা আমার হাতে থাকবে, আর এতে কোনো অহংকার নেই।"

এবং এর মধ্যে রয়েছে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: "সেদিন আদম এবং তাঁর পরবর্তী সকল নবীই কিয়ামত দিবসে আমার পতাকাতলে থাকবেন, আর এতে কোনো অহংকার নেই।"

আর এই বৈশিষ্ট্যসমূহ আদম ও অন্যান্যদের ওপর তাঁর মর্যাদার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে, কারণ কোনো বিশেষ গুণাবলি ও পদমর্যাদার বিশেষত্ব দান ব্যতীত শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের আর কোনো অর্থ নেই।

এবং এর মধ্যে আরও রয়েছে: আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর পূর্বের ও পরের সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দিয়েছেন; আর নবীদের মধ্য হতে অন্য কাউকেও অনুরূপ সংবাদ প্রদানের কথা বর্ণিত হয়নি। বরং স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, তিনি তাঁদের তা জানাননি। কারণ কিয়ামতের ময়দানে যখন তাঁদের প্রত্যেকের কাছে সুপারিশ কামনা করা হবে, তখন তাঁরা নিজ নিজ কৃত ত্রুটির কথা স্মরণ করবেন এবং বলবেন: ‘আমার নফস, আমার নফস’। যদি তাঁদের প্রত্যেকের নিজের ত্রুটি মার্জনার বিষয়টি জানা থাকত, তবে তাঁরা সেদিন তা নিয়ে ভীত হতেন না।

--------------------------------------------

তিরমিযী, পূর্বোক্ত উৎস; এবং আল-যারকানী ৫/৩৯৫; এবং আশ-শিফা ২০৭।
(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২০)
المقام، وإذا اسْتَشْفَعَتِ الخلائقُ بالنبيِّ صلى الله عليه وسلم في ذلك المقام قال: أنا لها.

ومنها: أنَّه أوّلُ شافِعٍ وأوّلُ مُشَفَّع. وهذا يدلُّ على تخصيصه وتفضيله.

ومنها: إيثارُه صلى الله عليه وسلم على نَفْسِهِ بدَعْوَتهِ، إذْ جَعَل اللهُ لِكُلِّ نبيٍّ دعوةً مُسْتَجابةً، فكُل منهم تَعَجَّلَ دعوتَه في الدنيا، واختبأ هو، صلى الله عليه وسلم، دعوتَه شفاعةً لأمّته.

ومنها: أنَّ اللهَ أقسَمَ بحياته صلى الله عليه وسلم، في قوله تعالى (لَعَمْرُكَ إِنَّهُمْ لَفِي سَكْرَتِهِمْ يَعْمَهُونَ). والإِقسامُ بحياة المُقْسَمِ بحياته يدُلُّ على شَرَف حياته وعِزّتها عند المُقْسِمِ بها. وإنَّ حياته صلى الله عليه وسلم لجديرَةٌ أنْ يُقسَمَ بها، لِما كان فيها من البَرَكةِ العامّة والخاصّة. ولم يثبُتْ هذا لغَيْره.
মাকাম; এবং যখন সৃষ্টিজগত সেই মাকামে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সুপারিশ প্রার্থনা করবে, তখন তিনি বলবেন: আমিই এর জন্য।

আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো: তিনি প্রথম সুপারিশকারী এবং প্রথম ব্যক্তি যার সুপারিশ কবুল করা হবে। এটি তাঁর বিশেষত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে।

আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো: দোয়ার ক্ষেত্রে তাঁর নিজের ওপর (উম্মতকে) প্রাধান্য দেওয়া; কেননা আল্লাহ প্রত্যেক নবীর জন্য একটি কবুলযোগ্য দোয়া রেখেছেন, ফলে তাঁদের প্রত্যেকেই দুনিয়াতে নিজের দোয়ার ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করেছেন, আর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দোয়াটিকে তাঁর উম্মতের সুপারিশের জন্য জমা রেখেছেন।

আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো: আল্লাহ তাআলা তাঁর জীবনের শপথ করেছেন, মহান আল্লাহর এই বাণীতে: (আপনার জীবনের শপথ! নিশ্চয়ই তারা তাদের নেশায় বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে)। আর যার জীবনের শপথ করা হয় তাঁর জীবনের শপথ করাটি শপথকারীর নিকট সেই জীবনের মর্যাদা ও সম্মানের প্রমাণ দেয়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন শপথ করার মতোই যোগ্য, কারণ এতে ছিল ব্যাপক ও বিশেষ বরকত। আর এটি অন্য কারো জন্য প্রমাণিত নয়।
(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২১)
ومنها: أنَّ الله تعالى وَقّره في ندائه، فناداه بأحبّ أسمائه، وأسْنى أوْصافه. فقال: (يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ .. )، (يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ .. ) وهذه الخَصيصَةُ لم تَثْبُتْ لِغَيْرِه، بل ثَبَتَ أنَّ كُلًّا منهم نودِي باسمه.

فقال الله تعالى: (وَقُلْنَا يَا آدَمُ اسْكُنْ أَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ)، (يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ اذْكُرْ نِعْمَتِي عَلَيْكَ)، (يَا مُوسَى (11) إِنِّي أَنَا رَبُّكَ)، (يَا نُوحُ اهْبِطْ بِسَلَامٍ)، (يَا دَاوُودُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ) (يَا إِبْرَاهِيمُ (104) قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا)، (يا لُوطُ إنَّا رُسُلُ ربِّكَ)، (يَا زَكَرِيَّا إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَامٍ اسْمُهُ يَحْيَى)، (يَا يَحْيَى خُذِ الْكِتَابَ بِقُوَّةٍ).
এর মধ্যে একটি হলো: আল্লাহ তাআলা তাঁকে ডাকার ক্ষেত্রে বিশেষ সম্মান প্রদান করেছেন, তাই তিনি তাঁকে তাঁর সর্বাধিক প্রিয় নাম এবং সুউচ্চ গুণাবলি দ্বারা সম্বোধন করেছেন। তিনি বলেছেন: (হে নবী...), (হে রাসূল...)। আর এই বৈশিষ্ট্যটি তিনি ব্যতীত অন্য কারো জন্য প্রমাণিত নয়, বরং এটিই সাব্যস্ত যে তাঁদের প্রত্যেককেই তাঁদের নাম ধরে আহ্বান করা হয়েছে।

অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (হে আদম, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো), (হে ঈসা ইবনে মারিয়াম, তোমার প্রতি আমার নেয়ামত স্মরণ করো), (হে মুসা, নিশ্চয়ই আমিই তোমার রব), (হে নুহ, শান্তির সাথে অবতরণ করো), (হে দাউদ, নিশ্চয়ই আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছি), (হে ইব্রাহিম, তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ), (হে লুত, নিশ্চয়ই আমরা তোমার রবের প্রেরিত দূত), (হে জাকারিয়া, আমি তোমাকে এক পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি যার নাম ইয়াহইয়া), (হে ইয়াহইয়া, কিতাবটিকে দৃঢ়তার সাথে গ্রহণ করো)।
(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২২)
ولا يَخْفى على أحدٍ أنَّ السيِّد إذا دعا أحدَ عبيدِه بأفْضَلِ ما وُجد فيهم من الأوصافِ العليّة والأخلاقا السِّنِيّة، ودعا الآخرين بأسمائهم الأعلام التي لا تُشْعِرُ بوصْفا من الأوصاف، ولا بخُلُقٍ من الأخلاق، أنَّ منزلةَ مَنْ دعاه بأفْضَلِ الأسماء والأوصافِ أعزُّ عليه، وأقْرَبُ إليه مِمّن دعاه باسمه العَلَم. وهذا معلوم بالعُرْف أنَّ مَنْ دُعِيَ بأفْضَلِ أسمائه وأخلاقِه وأوْصافِه كان ذلك مبالغةً في تَعْظيمه واحترامه. حتى قال القائل:

لا تَدْعُني إلَّا بيا عَبْدَها. . . فإنّه أشرفُ أسمائي

ومنها: أنَّ مُعجزة كلِّ نبي تَصَرّمَتْ وانقَضتْ، ومُعجزةُ سَيِّدِ الأوَّلين والآخرين، وهي القُرآنُ العظيم، باقية إلى يَوْمِ الدّين. (إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ) (9).
আর কারও কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, মনিব যখন তাঁর কোনো দাসকে তাদের মাঝে বিদ্যমান সর্বোত্তম উচ্চ গুণাবলি ও মহৎ চরিত্রের মাধ্যমে সম্বোধন করেন, এবং অন্যদেরকে তাদের এমন সাধারণ নাম ধরে ডাকেন যা কোনো বিশেষ গুণ বা চরিত্রের প্রতি ইঙ্গিত করে না; তখন যাকে সর্বোত্তম নাম ও গুণাবলি দ্বারা সম্বোধন করা হয়েছে, তার মর্যাদা মনিবের নিকট ওই ব্যক্তির চেয়ে অধিক সম্মানিত ও নিকটবর্তী যাকে কেবল তার নাম ধরে ডাকা হয়েছে। প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী এটি সুবিদিত যে, যাকে তার সর্বোত্তম নাম, চরিত্র ও গুণাবলির মাধ্যমে সম্বোধন করা হয়, তা মূলত তার মহিমা ও সম্মানের অতিশয় প্রকাশস্বরূপ। এমনকি কবি বলেছেন:

তুমি আমাকে 'হে তার দাস' ছাড়া অন্য কোনো নামে ডেকো না... কারণ এটিই আমার নামসমূহের মাঝে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: প্রত্যেক নবীর মুজিজা বা অলৌকিক নিদর্শন সময় অতিবাহনের সাথে সাথে শেষ ও বিলুপ্ত হয়ে গেছে, কিন্তু পূর্বাপর সকলের সরদারের মুজিজা—যা হলো মহান কুরআন—কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে। (নিশ্চয়ই আমি এই উপদেশ বা কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষক) (৯)।
(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২৩)
ومنها تسليمُ الحَجَر عليه، وحَنينُ الجِذْعِ إليه. ولم يَثْبُتْ لواحدٍ من الأنبياء مثلُ ذلك.

"خُذْ ما تراهُ ودَعْ شيئاً سمعتَ به"
এবং সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো পাথর কর্তৃক তাঁকে সালাম প্রদান এবং (খেজুর) গাছের কাণ্ডের তাঁর প্রতি ব্যাকুল হয়ে ক্রন্দন করা। আর নবীগণের মধ্যে অন্য কারো জন্য এর অনুরূপ কিছু প্রমাণিত হয়নি।

"যা তুমি প্রত্যক্ষ করছ তা গ্রহণ করো এবং লোকমুখে শোনা কথা বর্জন করো।"
(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২৪)
ومنها: أنَّه وُجِدَ في معجزاته صلى الله عليه وسلم ما هو أظْهَرُ في الإعجاز من معجزات غيره، كتَفجُّرِ الماء من بَيْن أصابعه، فإنّه أبلغُ في خَرْقِ العادةِ من تَفَجُّره من الحَجَر، لأن جِنْسَ الأحجار ربّما يتفجّرُ منه الماء. فكانت معجزتُه بانفجار الماء من بَيْن أصابعه أبلغَ من انفجار الحَجَرِ لموسى.

ومنها: أنَّ عيسى عليه السلام أبرأ الأكْمَهَ والأبْرَصَ مع بقاء عَيْنِهِ في مَقرِّها. ورسولُ الله صلى الله عليه وسلم رَدّ العَيْنَ بعد أن سالتْ على الخدِّ. ففيه مُعجزة من وَجْهَيْن: أحدهما التئاَمُها بعد
এগুলোর মধ্যে একটি হলো: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুজিজাসমূহের মধ্যে এমন কিছু পাওয়া যায় যা অন্যদের মুজিজার তুলনায় অলৌকিকত্বের দিক থেকে অধিকতর স্পষ্ট। যেমন তাঁর আঙুলসমূহের মাঝখান থেকে পানি প্রবাহিত হওয়া। কারণ পাথর থেকে পানি নির্গত হওয়ার চেয়ে এটি প্রাকৃতিক নিয়মের লঙ্ঘনে অধিকতর জোরালো; কেননা পাথর জাতীয় বস্তু থেকে অনেক সময় পানি প্রবাহিত হয়ে থাকে। ফলে তাঁর আঙুলসমূহের মাঝখান থেকে পানি প্রবাহিত হওয়ার মুজিজাটি মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর পাথর থেকে পানি নির্গত হওয়ার চেয়েও অধিকতর জোরালো ছিল।

এগুলোর মধ্যে আরেকটি হলো: ঈসা (আলাইহিস সালাম) জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে আরোগ্য দান করতেন যখন তাদের চোখ নিজ স্থানে বহাল থাকত। আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চোখকে তার স্থানে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তা গাল বেয়ে নিচে নেমে যাওয়ার পর। এতে দুটি দিক থেকে মুজিজা নিহিত রয়েছে: একটি হলো তা জোড়া লেগে যাওয়া...
(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২৫)
سَيَلانها، والآخرُ ردُّ البصر إليها بعد فَقْدِه منها.

ومنها: أنَّ الأموات الذين أحياهم من الكفْر بالإيمان أكثَرُ عدداً ممّن أحياهم عيسى بحياة الأبدان. وَشَتّان بين حياة الإيمان وحياة الأبدان.

ومنها: أنَّ الله تعالى يكتب لكل نبيٍّ من الأنبياء من الأجْر بقدر أعمال أمّته وأحوالها وأقوالها. وأمّتُه صلى الله عليه وسلم شَطْرُ أهلِ الجنّة. وقد أخْبَرَ اللهُ تعالى أنَّهم خَيْرُ أُمّةٍ أُخرِجتَ للناس. وإنّما كانوا خَيْرَ الأمم لِما اتّصفوا به من المعارفِ والأحوالِ والأقوالِ والأعمال. فما من مَعْرفةٍ ولا حالة، ولا عبادة، ولا مقالة، ولا شيء مما يُتَقَرّبُ به إلى الله عز وجل، مما دَلّ عليه رسولُ الله صلى الله عليه وسلم ودعا إليه، إلَّا وله أجرُه وأجْرُ مَنْ عَمِلَ به إلى يوم القيامة. لقوله صلى الله عليه وسلم: "مَنْ دعا إلى هُدًى كان له أجْرُه وأجْرُ مَنْ عمل به إلى يوم القيامة". ولا يَبْلُغُ أحدٌ من الأنبياء إلى هذه المرتبة.
তার প্রবাহ, এবং অন্যটি হলো তা হারানোর পর তাতে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া।

এর মধ্য হতে একটি হলো: কুফর থেকে ঈমানের মাধ্যমে তিনি যাদের পুনর্জীবিত করেছেন, তাদের সংখ্যা ঈসা (আলাইহিস সালাম) কর্তৃক শারীরিকভাবে জীবিত করা মৃতদের চেয়ে অনেক বেশি। আর ঈমানের জীবন ও শারীরিক জীবনের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে।

এর মধ্য হতে আরও একটি হলো: আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক নবীর জন্য তাঁর উম্মতের আমল, অবস্থা ও কথা অনুযায়ী সওয়াব লিপিবদ্ধ করেন। আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মত হলো জান্নাতবাসীদের অর্ধেক। আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা মানবজাতির জন্য প্রেরিত শ্রেষ্ঠ উম্মত। মূলত তারা শ্রেষ্ঠ উম্মত হয়েছে সেসব জ্ঞান, অবস্থা, কথা ও আমলের কারণে যার গুণে তারা গুণান্বিত। সুতরাং এমন কোনো জ্ঞান, অবস্থা, ইবাদত, কথা বা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের কোনো মাধ্যম নেই—যার দিকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং যার প্রতি আহ্বান করেছেন—যার সওয়াব এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা সে অনুযায়ী আমল করবে তাদের সওয়াব তিনি লাভ করবেন না। কেননা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি হেদায়েতের দিকে আহ্বান করবে, সে তার নিজের সওয়াব এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা সে অনুযায়ী আমল করবে তাদের সওয়াবও লাভ করবে।" আর নবীদের মধ্যে অন্য কেউ এই মর্যাদায় পৌঁছাতে পারেননি।
(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقد جاء في الحديث: "الخَلْقُ عِيالُ الله، وأحبُّهم إليه أنْفَعُهم لِعِياله" (1). فإذا كان صلى الله عليه وسلم قد نفع شَطْرَ أهلِ الجنّة، وغيرُه من الأنبياء، صلوات الله وسلامه عليهم، إنّما نفع جزءاً من أجْزآء الشَطْرِ الآخر، كانتْ منزلتُه، صلى الله عليه وسلم في القرْب على قدر منزلته في النَفْع. فما من عارفٍ من أمّته إلاّ وله صلى الله عليه وسلم مثلُ أجْرِ معرفته مُضافاً إلى مَعارفه. وما من ذي حالٍ من أمّته إلَّا وله مِثْلُ أجْرِهْ على حاله مضموماً إلى أحواله صلى الله عليه وسلم. وما من ذي مَقالٍ يُتَقَرّبُ به إلى الله عزّ

--------------------------------------------

(1) قال ابن حجر في الفتاوى الحديثية: حديث الخلق عيال الله .. ورد من طرق كلها ضعيفة. ورواه الحافظ المنذري في أربعينه، وقال أبو عبد الله محمد السُّلمي في تخريجها: .. وله طرق يقوّي بعضها بعضاً (انظر: كشف الخفاء ومزيل الالتباس. 1/ 457 - 458).
হাদিসে এসেছে: "সৃষ্টিজগত আল্লাহর পরিবারস্বরূপ, আর তাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় সেই ব্যক্তি, যে তাঁর পরিবারের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী" (১)। সুতরাং, যেহেতু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জান্নাতবাসীদের অর্ধেককে উপকৃত করেছেন, আর অন্যান্য নবীগণ (তাঁদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) অন্য অর্ধেকের কেবল একটি অংশের উপকার করেছেন, তাই আল্লাহর নৈকট্যের ক্ষেত্রে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মর্যাদা হবে তাঁর উপকারের পরিমাণের সমান। তাঁর উম্মতের প্রত্যেক আধ্যাত্মিক জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির অর্জিত জ্ঞানের সমপরিমাণ সওয়াব তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজস্ব অর্জিত জ্ঞানের সাথে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হবে। এবং তাঁর উম্মতের এমন কোনো আধ্যাত্মিক স্তরের অধিকারী নেই, যার সেই স্তরের সমপরিমাণ সওয়াব তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজস্ব আধ্যাত্মিক অবস্থার সাথে যুক্ত হবে না। এবং এমন কোনো কথার অধিকারী নেই যার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা হয়...

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজার আল-ফাতাওয়া আল-হাদিসিয়্যাহ গ্রন্থে বলেছেন: 'সৃষ্টিজগত আল্লাহর পরিবার...' হাদিসটি এমন সব সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যার সবগুলোই দুর্বল। হাফেজ মুনজিরি এটি তাঁর আরবাঈন গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আস-সুলামি এর উৎস বিশ্লেষণে বলেছেন: ...এর এমন কিছু সূত্র রয়েছে যা একে অপরকে শক্তিশালী করে (দেখুন: কাশফুল খাফা ওয়া মুজিলুল ইলতিবাস, ১/ ৪৫৭ - ৪৫৮)।
(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২৭)
وجَلّ إلَّا وله صلى الله عليه وسلم مِثْلُ أجْرِ ذلك القول، مضموماً إلى مقالته صلى الله عليه وسلم وتبليغ رسالته. وما من عَمَلٍ من الأعمال المقرِّبة إلى الله عز وجل من صلاةٍ وزكاةٍ وعِتْقٍ وجِهادٍ وبِرٍّ ومعروفٍ وذِكْرٍ، وصَبْر، وعَفْوٍ، وصَفْحٍ، إلَّا وله صلى الله عليه وسلم مِثْلُ أجْرِ عامله، مضموماً إلى أجْرِه على أعماله. وما مِنْ دَرَجَةٍ عَلِيّةٍ، ومرتبةٍ سَنيّةٍ نالَها أحدٌ من أمّته بإرْشاده ودلالته إلَّا ولهُ مِثْلُ أجْرِها مَضْموماً إلى درجته صلى الله عليه وسلم ومَرْتبته، وَيَتَضاعَفُ ذلك بأنّ مَنْ دعا من أمّته إلى هُدًى، أوْ سَنَّ سُنّةً حَسَنَةً كان له أجْرُ مَنْ عَمِلَ بذلك على عدَد العاملين. ثم يكونُ هذا المُضَاعَفُ لِنَبِيّنا صلى الله عليه وسلم، لأنَّه دَلّ عليه وأرْشَدَ إليه. ولأجْلِ هذا بكى موسى عليه السلام ليلةَ الإسرآء بكاءَ غِبْطَةٍ غَبَطَ بها النبيّ صلى الله عليه وسلم إذْ يَدْخُلُ من أمّته الجنّةَ أكثرُ مما يدخُلُ من أمّةِ موسى. ولم يَبْكِ حَسَداً كما يتوهمّه بعضُ الجَهَلَة، وإنّما بكى أَسَفاً على ما فاته من مثل مرتبته.

ومنها: أنَّ الله عز وجل أرسل كُلَّ نبيٍّ إلى قَوْمِه خاصّةً، وأرسَلَ نبيّنا صلى الله عليه وسلم إلى الجنّ والإنْس. فلكُلّ نبيٍّ من
...এবং মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর উদ্দেশ্যে [যা বলা হয়] তার বিনিময়ে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই বাণীর অনুরূপ সওয়াব লাভ করেন, যা তাঁর নিজস্ব বাণী ও রিসালাত প্রচারের সওয়াবের সাথে যুক্ত হয়। সালাত, জাকাত, দাসমুক্তি, জিহাদ, নেক আমল, ভালো কাজ, জিকির, ধৈর্য, ক্ষমা এবং মার্জনা করার মতো আল্লাহ তাআলার নৈকট্য দানকারী এমন কোনো আমল নেই যার আমলকারীর অনুরূপ সওয়াব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাভ করেন না, যা তাঁর নিজের আমলের সওয়াবের সাথে যুক্ত হয়। তাঁর পথনির্দেশ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে তাঁর উম্মতের কেউ অর্জন করেছে এমন কোনো উচ্চ মর্যাদা বা সুমহান স্তর নেই যার অনুরূপ সওয়াব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য নির্ধারিত নেই, যা তাঁর নিজস্ব মর্যাদা ও স্তরের সাথে যুক্ত হয়। আর এটি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায় কারণ তাঁর উম্মতের মধ্য থেকে যে কেউ কোনো হিদায়াতের দিকে আহ্বান করে অথবা কোনো উত্তম সুন্নাত চালু করে, সে আমলকারীদের সংখ্যা অনুযায়ী আমলকারীর সমান সওয়াব লাভ করে। অতঃপর এই বর্ধিত সওয়াব আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাভ করেন, কারণ তিনিই এর পথ দেখিয়েছেন এবং এর দিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আর একারণেই মিরাজের রাতে মুসা আলাইহিস সালাম গিবতাহ বা সপ্রশংস আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কেঁদেছিলেন যা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি পোষণ করেছিলেন, যেহেতু তাঁর উম্মত থেকে মুসা আলাইহিস সালাম-এর উম্মতের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে। তিনি হিংসাবশত কাঁদেননি যেমনটি কিছু মূর্খ লোক ধারণা করে থাকে, বরং তিনি নিজের ক্ষেত্রে তাঁর মতো মর্যাদা হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপে কেঁদেছিলেন।

এর মধ্যে আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো: আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা প্রত্যেক নবীকে বিশেষভাবে তাঁর স্বজাতির কাছে পাঠিয়েছেন, আর আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিন ও মানবজাতির কাছে পাঠিয়েছেন। সুতরাং প্রত্যেক নবীর জন্য...
(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২৮)
الأنبياء ثوابُ تَبْليغه إلى أمّته، ولِنبيّنا صلى الله عليه وسلم ثوابُ التبليغ إلى كُلِّ مَنْ أُرْسلَ إليه تارةً بمباشرةِ الإبلاغِ، وتارةً بالتَسَبُّبِ إليه. ولذلك تمنّن الله تعالى عليه فقال (وَلَوْ شِئْنَا لَبَعَثْنَا فِي كُلِّ قَرْيَةٍ نَذِيرًا) (51). ووَجْهُ التَمَنّنِ أنَّه لو بَعَثَ في كُلِّ قريةٍ نَذِيرًا لما حَصَلَ لرسولِ الله صلى الله عليه وسلم إلَّا أجْرُ إنذارِهِ أهلَ قَرْيَته.

ومنها: أنَّ الله تعالى كلَّم موسى بالطور، وبالوادي المقدّس. وكلّم نبيّنا، صلى الله عليه وسلم، عند سِدْرَة المُنْتَهى.

ومنها: أنَّه قال: "نحن الآخِرون السابقون مِن أهلِ الدُنيا، والأوّلون يوم القيامة المُقْضَى لهم قَبْل الخلائق، ونحن أوّل مَنْ يدخُل الجنّة".

ومنها: أنه كُلّما ذكر السؤدُد مُطْلقاً فقد قَيّده بيوم القِيامة. فقال:
নবীদের জন্য রয়েছে তাদের উম্মতের কাছে বাণী পৌঁছে দেওয়ার সওয়াব, আর আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য রয়েছে যাদের কাছেই তাঁকে পাঠানো হয়েছে তাদের প্রত্যেকের কাছেই বাণী পৌঁছে দেওয়ার সওয়াব; কখনো সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে, আবার কখনো পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হওয়ার দ্বারা। আর এই কারণেই মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি অনুগ্রহ প্রকাশ করে বলেছেন, "আর আমি যদি ইচ্ছা করতাম, তবে প্রতিটি জনপদেই একজন সতর্ককারী পাঠাতাম।" (৫১)। আর অনুগ্রহ প্রকাশের দিকটি হলো এই যে, যদি তিনি প্রতিটি জনপদে একজন সতর্ককারী পাঠাতেন, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল তাঁর নিজ জনপদের অধিবাসীদের সতর্ক করার সওয়াবই পেতেন।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: মহান আল্লাহ মূসা (আ.)-এর সাথে তূর পাহাড়ে ও পবিত্র উপত্যকায় কথা বলেছেন। আর আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথা বলেছেন সিদরাতুল মুনতাহার নিকট।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: তিনি বলেছেন, "আমরা দুনিয়াবাসীদের মধ্যে সবশেষে আগমনকারী কিন্তু (মর্যাদায়) অগ্রগামী, আর কিয়ামতের দিন প্রথম যাদের বিচার সমস্ত সৃষ্টির আগে সম্পন্ন করা হবে এবং আমরাই প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করব।"

এর মধ্যে আরও রয়েছে: তিনি যখনই নিঃশর্তভাবে নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেছেন, তখনই তা কিয়ামত দিবসের সাথে নির্দিষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২৯)
"أنا سيّد وَلَدِ آدم يوم القِيامة، وأوّل مَنْ يَنْشَقُّ عنه القَبْر، وأوّلُ شافعٍ، وأوّلُ مُشفّعٍ" (1).

ومنها: أنَّه صلى الله عليه وسلم أخْبَرَ أنَّه يرغَبُ إليه الخَلْقُ كُلّهم يوم القِيامة، حتى إبراهيم (2).

ومنها: أنَّه قال صلى الله عليه وسلم: "الوسيلةُ مَنْزلَةٌ في الجنّة لا ينْبَغيِ أن تكون إلَّا لعبدٍ من عباد الله. وأرجو أن أكون أنا هُوَ. فمَنْ سأل ليَ الوسيلةَ حَلّت عليه الشفاعة." (3).

ومنها: أنَّه يَدْخُلُ من أمّته الجنّة سَبْعون ألفاً بغير حساب (4) ولم يثبُت ذلك لغيره.

--------------------------------------------

(1) انظر صحيح مسلم، الحديث رقم 1782؛ والترمذي، الحديث رقم 3620.

(2) انظر الترمذي، الحديث 2436. (ج 7/ ص 147).

(3) أخرجه الترمذي، انظر الحديث 3616 و 3619؛ ص 298.

(4) الترمذي عن أبي أمامة: قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:

وعدني ربي أن يُدخل الجنة من أمتي سبعين ألفاً لا حساب عليهم ولا عذاب، مع كل ألف سبعون ألفاً وثلاث حثيات من حثياته. (7/ 151) وانظر

الحديث رقم 2448 من صحيح الترمذي (7/ 157). وأخرجه أيضاً الشيخان والنسائي.
“আমি কিয়ামতের দিন আদম সন্তানের নেতা হবো, এবং আমিই প্রথম ব্যক্তি যার ওপর থেকে কবর উন্মোচিত হবে, এবং আমিই প্রথম সুপারিশকারী এবং প্রথম ব্যক্তি যার সুপারিশ কবুল করা হবে” (১)।

এর মধ্যে একটি হলো: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, কিয়ামতের দিন ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) সহ সকল সৃষ্টি তাঁর প্রতি আশান্বিত ও মুখাপেক্ষী হবে (২)।

এর মধ্যে একটি হলো: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ওয়াসিলা হলো জান্নাতের এমন একটি মর্যাদা যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল একজনের জন্যই হওয়া সমীচীন। আর আমি আশা করি যে, আমিই হবো সেই ব্যক্তি। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার জন্য ওয়াসিলা প্রার্থনা করবে, তার জন্য সুপারিশ অবধারিত হয়ে যাবে।" (৩)।

এর মধ্যে একটি হলো: তাঁর উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার ব্যক্তি বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে (৪), যা অন্য কারো জন্য সাব্যস্ত হয়নি।

--------------------------------------------

(১) দেখুন সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭৮২; এবং তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬২০।

(২) দেখুন তিরমিযী, হাদীস ২৪৩৬। (খণ্ড ৭/ পৃষ্ঠা ১৪৭)।

(৩) এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন, দেখুন হাদীস ৩৬১৬ এবং ৩৬১৯; পৃষ্ঠা ২৯৮।

(৪) আবু উমামা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে তিরমিযী বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি:

আমার প্রতিপালক আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যাদের কোনো হিসাব ও শাস্তি হবে না, প্রতি হাজারের সাথে আরও সত্তর হাজার এবং আল্লাহর অঞ্জলি সমূহের মধ্য থেকে তিন অঞ্জলি। (৭/ ১৫১) এবং দেখুন

সহীহ তিরমিযীর ২৪৪৮ নং হাদীস (৭/ ১৫৭)। এটি শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) এবং নাসায়ীও বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ৩০)
ومنها: الكَوْثَرُ الذي أعْطِيَهُ في الجنّة، والحَوْضُ الذي أعطِيَهُ في الموقف. ومنها: قولُه صلى الله عليه وسلم: "نحن الآخِرون السّابقون"، أي الآخرون زماناً، السابقون بالمناقب والفضائل".

ومنها: أنَّه أُحِلّتْ له الغنائم، ولم تحِلّ لِأحدٍ قبله، وجُعلتْ صفوفُ أمّته كصفوف الملائكة، وجُعِلَتْ له الأرضُ مَسْجِداً وتُراباً طَهورا.

وهذه الخصائص تدلُّ على عُلوّ مرتبته والرّفقِ بأمّته.
এর মধ্যে রয়েছে: জান্নাতে তাঁকে দানকৃত কাওসার এবং হাশরের ময়দানে তাঁকে দানকৃত হাউজ। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: "আমরা আগমনের দিক দিয়ে সর্বশেষ, কিন্তু মর্যাদার দিক দিয়ে অগ্রবর্তী", অর্থাৎ সময়ের দিক দিয়ে সর্বশেষ, কিন্তু গুণাবলি ও শ্রেষ্ঠত্বের দিক দিয়ে অগ্রবর্তী।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: তাঁর জন্য গনিমতের মাল হালাল করা হয়েছে, যা তাঁর পূর্ববর্তী কারো জন্য হালাল ছিল না; তাঁর উম্মতের কাতারগুলোকে ফেরেশতাদের কাতারের ন্যায় করা হয়েছে; এবং তাঁর জন্য সমগ্র জমিনকে সিজদাহর স্থান ও এর মাটিকে পবিত্রকারী করা হয়েছে।

এই বৈশিষ্ট্যসমূহ তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা এবং তাঁর উম্মতের প্রতি সহজীকরণের প্রমাণ বহন করে।
(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ৩১)
ومنها: أنَّ الله تعالى أثنى على خُلُقِه فقال: (وإنّك لَعَلَى خُلُقٍ عَظيمٍ). واستعظامُ العظماء للشيء يدُلَّ على إيغاله في العظمة. فما الظنُّ باستعظام أعظم العظماء.

ومنها: أنَّ الله تعالى كلّمه بأنواع الوحي، وهي ثلاثةٌ: أحدُها الرؤيا الصالحةُ، والثاني الكلامُ من غَيْرِ واسِطة، والثالثُ مع جبريل صلى الله عليه وسلم.

ومنها: أنَّ كتابه صلى الله عليه وسلم، مُشْتَمِلٌ على ما اشتملت عليه التوراةُ والإنجيلُ والزّبور. وفُضِّل بالمفصّل.

ومنها: أنَّ أمّته أقلّ عملاً ممن قبلهم، وأكثرُ أجْراً، كما جاء في الحديث.
এর মধ্যে একটি হলো: আল্লাহ তাআলা তাঁর চরিত্রের প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন: (এবং নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী)। কোনো মহান সত্তা যখন কোনো বিষয়কে মহান হিসেবে গণ্য করেন, তখন তা সেই বিষয়ের চরম মহত্ত্ব নির্দেশ করে। তাহলে মহানদের মহান (আল্লাহ) যখন কোনো কিছুকে মহান বলেন, সে বিষয়ে ধারণা কী হতে পারে?

এর মধ্যে একটি হলো: আল্লাহ তাআলা তাঁর সাথে বিভিন্ন প্রকার ওহীর মাধ্যমে কথা বলেছেন, যা তিন প্রকার: প্রথমটি হলো নেক স্বপ্ন, দ্বিতীয়টি হলো কোনো মাধ্যম ছাড়া সরাসরি কথা বলা, এবং তৃতীয়টি হলো জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে।

এর মধ্যে একটি হলো: তাঁর প্রতি অবতীর্ণ কিতাব (কুরআন) তাওরাত, ইনজীল ও যাবূর কিতাবে যা কিছু ছিল তা ধারণ করে আছে। আর একে ‘মুফাসসাল’ সূরার মাধ্যমে বিশেষ মর্যাদা দান করা হয়েছে।

এর মধ্যে একটি হলো: তাঁর উম্মত পূর্ববর্তীদের তুলনায় কম আমলকারী কিন্তু অধিক প্রতিদান লাভকারী, যেমনটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ৩২)
ومنها: أنَّ اللهَ عز وجل عَرَض عليه مفاتيح كنوز الأرض، وخيّره بين أن يكون نبيّاً ملِكاً، أو نبيّاً عبداً. فاستشارَ جبريل. فأشار إليه أنْ تواضَعْ. فقال: بل نبيّاً عَبْداً، أجوعُ يومًا وأشبعُ يومًا. فإذا جعتُ دَعَوْتُ اللهَ، وإذا شَبِعْتُ شكرتُ الله. قصد صلى الله عليه وسلم أن يكون مَشْغُولاً بالله في طَوْرَيِ الشِدّةِ والرخاء، والنعمةِ والبلاء.

ومنها: أنَّ الله أرسله رحمةً للعالَمين. فأمْهَلَ عُصاةَ أمّته، ولم يُعاجِلْهُم إبقاءً عليهم، بخلاف مَنْ تَقَدّمه من الأنبياء، فإنّهم لَمّا كذّبوا عوجلوا بِذُنوبهم.

وأما أخلاقه صلى الله عليه وسلم في حِلْمه وعَفْوه وصَبْره وصفحه وشُكْره، ولينه في الله، وأنَّه لم يَغْضَب لِنفسه، وأنه جاء لإتمام مكارمَ الأخلاق،.
এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: আল্লাহ প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত তাঁর নিকট জমিনের ধনভাণ্ডারের চাবিকাঠিসমূহ পেশ করেছিলেন এবং তাঁকে একজন নবী-বাদশাহ অথবা একজন নবী-বান্দা হওয়ার মাঝে ইখতিয়ার দিয়েছিলেন। তখন তিনি জিবরাইলের সাথে পরামর্শ করলেন। জিবরাইল তাঁকে বিনয়ী হওয়ার পরামর্শ দিলেন। এরপর তিনি বললেন: "বরং আমি একজন নবী-বান্দা হয়েই থাকব; একদিন ক্ষুধার্ত থাকব এবং একদিন তৃপ্ত থাকব। যখন আমি ক্ষুধার্ত হব তখন আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করব, আর যখন তৃপ্ত হব তখন আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করব।" তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাধ্যমে সংকল্প করেছিলেন যেন তিনি কাঠিন্য ও স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিয়ামত ও পরীক্ষা—উভয় অবস্থাতেই আল্লাহর স্মরণে মগ্ন থাকতে পারেন।

এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: আল্লাহ তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তাই তিনি তাঁর উম্মতের অবাধ্যচারীদের অবকাশ দিয়েছেন এবং তাদের রক্ষার খাতিরে তাদের ওপর দ্রুত আজাব পাঠাননি; যা তাঁর পূর্ববর্তী নবীদের ক্ষেত্রে ছিল ভিন্ন, কারণ তাদের সম্প্রদায় যখন তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল, তখন তাদের পাপের কারণে তাদের ওপর দ্রুত আজাব আপতিত হয়েছিল।

আর তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উন্নত চরিত্র যথা—তাঁর সহনশীলতা, ক্ষমা, ধৈর্য, উদারতা, কৃতজ্ঞতা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে তাঁর কোমলতা; আর এটি যে তিনি কখনও নিজের জন্য ক্রোধান্বিত হতেন না এবং তিনি যে সর্বোত্তম চারিত্রিক গুণাবলির পূর্ণতা সাধনের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وما نُقل من خُشوعه وخُضوعه، وتبذّله وتواضُعه، في مأْكله ومَلْبَسِه، ومَشْرَبه ومَسْكَنه، وجميل عُشْرَته، وكريم خليقته، وحُسْن سَجيّته، ونُصحه لأمّته، وحِرْصِه على إيمان عشيرته، وقيامه بأعباء رسالته، ورأْفته بالمؤمنين ورحمتِه، وغِلْظتِه على الكافرين وشِدّته، ومُجاهدته في نُصْرَة دِين الله وإعلاءَ كلمته، وما لَقِيَه من أذى قَوْمِه وغيرِهم، في وَطَنهِ وغُرْبتهِ، فبعضُ هذه المناقب موجودٌ في كتاب الله، وبعضُها موجودٌ في كُتُب شمائله وسيرته.

أمّا لينُه صلَّى الله عليه وسم ففي قوله تعالى (فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ)، وأمّا شِدّتُه صلى الله عليه وسلم على الكافرين، ورحمته بالمؤمنين ففي قوله تعالى (مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ). وأمّا حِرْصُه صلى الله عليه وسلم على إيمان أمّته، ورَأْفَتِه بالمؤمنين، ورحمته وشَفَقَته على الكافّة، ففي قوله تعالى (لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ) (128). وأمّا نُصْحُهُ صلى الله عليه وسلم -
এবং তাঁর বিনয় ও নম্রতা, তাঁর আহার, পোশাক, পানীয় ও বাসস্থানে তাঁর সাদাসিধা জীবনযাপন ও বিনয়, তাঁর সুন্দর সাহচর্য, মহান চরিত্র, উত্তম স্বভাব, উম্মতের প্রতি তাঁর নসীহত, নিজের গোত্রীয়দের ঈমানের প্রতি তাঁর প্রগাঢ় আকাঙ্ক্ষা, রিসালাতের দায়িত্বভার পালন, মুমিনদের প্রতি তাঁর মমতা ও দয়া, কাফিরদের প্রতি কঠোরতা ও দৃঢ়তা, আল্লাহর দ্বীনের সাহায্য ও তাঁর বাণীকে সমুন্নত করার ক্ষেত্রে তাঁর সংগ্রাম এবং স্বদেশে ও প্রবাসে নিজের কওম ও অন্যদের থেকে তিনি যে কষ্ট ভোগ করেছেন—তার বর্ণনা যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, এ সকল গুণের কিছু আল্লাহর কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে এবং কিছু তাঁর শামায়েল (চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য) ও সীরাতের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে।

তাঁর কোমলতা (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী হলো: "আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছিলেন।" আর কাফিরদের প্রতি তাঁর কঠোরতা এবং মুমিনদের প্রতি তাঁর দয়া সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী হলো: "মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে দয়ালু।" আর তাঁর উম্মতের ঈমানের প্রতি তাঁর প্রগাঢ় আকাঙ্ক্ষা, মুমিনদের প্রতি তাঁর মমতা এবং সকলের প্রতি তাঁর দয়া ও করুণা সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী হলো: "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে একজন রাসূল এসেছেন, তোমাদের যা কষ্ট দেয় তা তাঁর জন্য পীড়াদায়ক; তিনি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী, মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত মমতাশীল ও পরম দয়ালু।" (১২৮)। আর তাঁর নসীহত বা সদুপদেশ সম্পর্কে—
(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ৩৪)
في أداء رسالته، ففي قوله تعالى (فَتَوَلَّ عَنْهُمْ فَمَا أَنْتَ بِمَلُومٍ) (54) ولو قَصّر لَتَوَجّه إليه اللّوْم.

ومنها: أنَّ الله تعالى نَزّلَ أمّته مَنْزِلةَ العُدولِ من الحُكّام، فإنّ الله إذا حَكَمَ بين العِباد فجَحَدَ الأممُ بتبليغ الرسالة أحْضَرَ أمّةَ مُحمّد صلى الله عليه وسلم فيَشْهَدون على الناسِ بأنّ رُسلهم أبلَغَتْهم. وهذه الخصيصَةُ لم تَثْبُتْ لأحدٍ من الأنبياء.

ومنها: عصمةُ أمّته بأنَّها لا تَجْتَمع على ضَلالةٍ في فَرْع ولا أصل.

ومنها: حِفْظ كتابه، فلو اجتمع الأوّلون والآخِرون على أنْ يزيدوا فيه كلمةً، أو يُنْقِصوا كلمةً لعجزوا عن ذلك. ولا يَخْفى ما وَقَع من التبديل في التوراةِ والإنجيل.
তাঁর রিসালাত পালনের ক্ষেত্রে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "অতএব আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন, আপনি তিরস্কৃত হবেন না" (৫৪)। যদি তিনি ত্রুটি করতেন, তবে তিনি তিরস্কারের সম্মুখীন হতেন।

এর মধ্যে রয়েছে: মহান আল্লাহ তাঁর উম্মতকে ন্যায়পরায়ণ বিচারকদের মর্যাদায় আসীন করেছেন। আল্লাহ যখন বান্দাদের মাঝে বিচার করবেন এবং পূর্ববর্তী জাতিসমূহ তাদের নিকট রিসালাত পৌঁছানোর কথা অস্বীকার করবে, তখন আল্লাহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মতকে উপস্থিত করবেন। অতঃপর তারা সাক্ষ্য দেবে যে, তাদের রাসূলগণ তাদের নিকট রিসালাত পৌঁছে দিয়েছিলেন। এই বিশেষ মর্যাদা অন্য কোনো নবীর জন্য প্রমাণিত নয়।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: তাঁর উম্মতের সুরক্ষা, যে তারা দ্বীনের কোনো শাখা বা মূল বিষয়ে কখনোই ভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না।

এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত: তাঁর কিতাবের হিফাজত। যদি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষ এতে একটি শব্দ বৃদ্ধি বা হ্রাস করার জন্য সমবেত হয়, তবুও তারা তাতে অক্ষম হবে। আর তাওরাত ও ইঞ্জিলে যে বিকৃতি বা পরিবর্তন ঘটেছে তা কারও কাছে অস্পষ্ট নয়।
(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ৩৫)
ومنها: أنَّ الله سَتَرَ على من لم يتقَبّل عَمَلَه من أمّته. وكان مَنْ قَبْلَهُمْ يُقَرِّبون القرابين، فتأكُلُ النارُ ما تقَبّل منها، وتَدَع ما لم يتقَبّل. فيصبح صاحبه مُفْتَضَحاً، ولمثل ذلك قال اللهُ تعالى (وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ) (107). وقال صلى الله عليه وسلم: "أنا نبيّ الرحمة".

ومنها: أنَّه بُعِثَ صلى الله عليه وسلم بجوامع الكَلِم، واختُصِرَ له الحديث اختصاراً، وفاق العَرَبَ في فصاحته وبلاغتِه.

وكما فَضّله الله على أنبيائه ورُسُله من البَشَر، فكذلك فَضّله على مَن اصطفاه من رُسُله من أهل السماء وملائكته، لأنّ أفاضل البَشَر أفضلُ من الملائكة، لقوله تعالى (إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ) (7)، والملائكة من جملة البريّة، لأنّ البريّة الخليقة، مأخوذ من بَرَأ اللهُ الخَلْقَ أي اختَرَعه وأوْجَدَه.
এবং এর মধ্যে রয়েছে: আল্লাহ তাঁর উম্মতের মধ্যে যার আমল কবুল করা হয়নি তার বিষয়টি গোপন রেখেছেন। তাদের পূর্ববর্তীরা কুরবানি পেশ করত, অতঃপর আগুন সেটিকে গ্রাস করত যা কবুল করা হতো এবং যা কবুল করা হতো না তা ছেড়ে দিত। ফলে তার মালিক লজ্জিত ও অপমানিত হতো। আর এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি" (১০৭)। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি রহমতের নবী" ।

এবং এর মধ্যে রয়েছে: তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) 'জাওয়ামিউল কালিম' (সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণী) দিয়ে পাঠানো হয়েছে, তাঁর জন্য কথাকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, এবং তিনি তাঁর স্পষ্টতা ও বাগ্মিতায় আরবদের ছাড়িয়ে গেছেন।

আর আল্লাহ যেভাবে তাঁকে মানুষের মধ্য থেকে তাঁর নবী ও রসূলগণের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তেমনিভাবে আকাশের অধিবাসী তাঁর রসূলগণ এবং ফেরেশতাদের মধ্য থেকে যাদের তিনি মনোনীত করেছেন তাদের ওপরও তাঁকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। কারণ মানুষের মধ্যে যারা শ্রেষ্ঠ তারা ফেরেশতাদের চেয়েও উত্তম; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, তারাই সৃষ্টির সেরা" (৭)। আর ফেরেশতারাও সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত, কারণ 'বারিয়্যাহ' অর্থ সৃষ্টি, যা 'বারাআল্লাহুল খালক' অর্থাৎ আল্লাহ সৃষ্টিকে উদ্ভাবন ও অস্তিত্ব দান করেছেন—এ শব্দ থেকে গৃহীত।
(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ৩৬)
ولا يَدْخُلُ الملائِكَةُ في قوله (إنَّ الذينَ آمنوا وعَمِلوا الصالحاتِ) لأنّ هذا اللفظ مُخْتَصَّ بِعُرْف الاستعمال فيمن آمَنَ من البشر، بدليل أنَّه هو المتبادَرُ إلى الأَفْهام عند الإطلاق.

فإنْ قيلَ: البريّةُ مأخوذ من البرَى. وهو التُرابُ، فكأنَّه قال: إنّ الذين آمنوا وعملوا الصالحات أولئك هم خَيْرُ البريئة.

فالجوابُ من وجهَيْن: أحدُهما أنَّ أئمة اللغة قد عَدّوا البريئة في جملة ما تركت العرب هَمْزَهُ.

والوجهُ الثاني، وهو الأظْهَرُ، أنَّ نافعاً

قرأ بالهمز. وكلا القرآءتَيْن كلامُ الله. فإنْ كانت إحدى القرآءتَيْن قد فَضّلَت الذين آمنوا وعملوا الصالحات على سائرِ البشر، فقد فَضّلتْهم القراءهُ الأُخرى على سائر الخَلْق. وإذا ثَبَتَ
"নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে" — আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত ফেরেশতারা নন। কেননা ব্যবহারের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী এই শব্দগুচ্ছ কেবল মানুষের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্যই নির্দিষ্ট। এর প্রমাণ হলো, সাধারণভাবে এই শব্দগুলো ব্যবহার করলে মানুষের বোধগম্যতায় এটিই প্রথমে আসে।

যদি বলা হয়: ‘বারিয়্যাহ’ শব্দটি ‘বারা’ থেকে গৃহীত, যার অর্থ হলো মাটি। ফলে বিষয়টি এমন যেন তিনি বলেছেন: "নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে, তারাই সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম।"

এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়: প্রথমত, ভাষাতত্ত্বের ইমামগণ ‘বারিয়্যাহ’ শব্দটিকে সেই সকল শব্দের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যেগুলোর হামযাহ আরবরা পরিহার করেছে।

দ্বিতীয় দিক, যা অধিকতর স্পষ্ট তা হলো, ইমাম নাফি' এটি হামযাহ সহকারে পাঠ করেছেন। আর উভয় কিরাত-ই আল্লাহর বাণী। অতএব যদি এক কিরাতের মাধ্যমে ঈমানদার ও নেককারদের সমস্ত মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়, তবে অন্য কিরাতের মাধ্যমে তাদের সমস্ত সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে। আর যখন এটি সাব্যস্ত হলো...
(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ৩৭)
أنّ أفاضل البشر أفضَلُ من الملائكة، فالأنبياء صلواتُ الله عليهم وسلامُه أفضل الذين آمنوا وعملوا الصالحات. بدليل قوله تعالى بعد ذكر جماعة من الأنبياء (وَكُلًّا فَضَّلْنَا عَلَى الْعَالَمِينَ) (86). فدلّتِ هذه الآية على أنَّهم أفضَلُ البشر، وأفَضَلُ من الملائكة، لأنّ الملائكة من العالَمين، سواء كان مُشْتقاً من العالم أو العلامة.

وإذا كانت الأنبياءُ أفْضَلَ من الملائكة، ورسولُ الله صلى الله عليه وسلم أفْضَلَ من الأنبياء، فقد ساد ساداتِ الملائكة، فصار أفْضَلَ من الملائكة بَدَرَجَتَيْن، وأعلى منهم بِرُتْبَتَيْن، لا يعلم قَدْرَ تلك الرُتْبَتَيْن، وشَرَفَ تَيْنك الدرجتَيْن إلَّا مَنْ فَضَّل خاتَمَ النبيّين وسيّدَ المُرْسلين على جميع العالمين.

وهذه لُمَعٌ وإشارات يكتفي العاقلُ الفَطِنُ بمثْلِها، بل ببعضها، ونحنُ نسألُ اللهَ تعالى بمنّه وكَرَمه أنْ يوفّقْنا لاتّباع رسوله في سُنّتِه
নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে যারা শ্রেষ্ঠ তারা ফেরেশতাদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। নবীগণ (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) মুমিন ও সৎকর্মশীলদের মধ্যে সর্বোত্তম। এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী, যেখানে তিনি একদল নবীর কথা উল্লেখ করার পর বলেছেন: "আর আমি তাদের প্রত্যেককে বিশ্বজগতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি" (৮৬)। এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে তাঁরা মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং ফেরেশতাদের চেয়েও উত্তম। কারণ ফেরেশতারাও বিশ্বজগতের অন্তর্ভুক্ত, চাই শব্দটি 'আলাম' থেকে উদ্ভূত হোক কিংবা 'আলামাহ' (নিদর্শন) থেকে।

আর যখন নবীগণ ফেরেশতাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবীদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ, তখন তিনি ফেরেশতাদের প্রধানদেরও প্রধান হলেন। ফলে তিনি ফেরেশতাদের চেয়ে দুই স্তরে শ্রেষ্ঠ এবং তাদের চেয়ে দুই মর্যাদায় উচ্চতর হলেন। ঐ দুই মর্যাদার পরিমাণ এবং সেই দুই স্তরের মাহাত্ম্য কেবল তিনিই জানেন, যিনি শেষ নবী ও রাসূলদের সরদারকে সমস্ত বিশ্বজগতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।

এগুলো হলো কিছু আলোকচ্ছটা ও ইঙ্গিত, যা একজন বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট, বরং এর সামান্য কিছু অংশই যথেষ্ট। আমরা মহান আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ ও দানশীলতার উসিলায় প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের তাঁর রাসূলের সুন্নাহ অনুসরণের তাওফীক দান করেন।
(খণ্ড: ১) মুনিয়াতুস সূল ফী তাফজীলির রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وطريقته وجميع أخلاقه الظاهرة والباطنة، وأن يجعلنا من أحْزابه وأنصاره.

والحمدُ لله وحده، وصلاتُه على خَيْر خَلْقِه محمدٍ وآله وصحبه.

‌‌وحسبنا اللهُ ونعم الوكيل، ولا حَوْلَ ولا قوّةَ إلَّا بالله العليّ العظيم.
এবং তাঁর তরীকা ও তাঁর যাবতীয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য চরিত্রের ওপর (আমাদের পরিচালিত করেন), এবং তিনি যেন আমাদের তাঁর দলভুক্ত ও সাহায্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন।

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং তাঁর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর।

আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক; আর সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।