(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث الواردة في ذكر أحكام الشيب وبيان فضله القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: الأحاديث الواردة في ذكر أحكام الشيب وبيان فضله جمعا ودراسة [بحث محكَّم]
المؤلف: أ. د. حسين بن غازي التويجري
الناشر: (الناشر المتميز- الرياض)، (دار النصيحة - المدينة النبوية)
الطبعة: الأولى، 1443 هـ - 2022 م
عدد الصفحات: 38
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1446
বার্ধক্যের বিধান এবং এর ফজিলত বর্ণনায় বর্ণিত হাদিসসমূহ বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ
বই: বার্ধক্যের বিধান এবং এর ফজিলত বর্ণনায় বর্ণিত হাদিসসমূহ: সংগ্রহ ও পর্যালোচনা [পিয়ার-রিভিউড গবেষণা]
লেখক: প্রফেসর ড. হুসাইন বিন গাজি আত-তুওয়াইজিরি
প্রকাশক: (আন-নাশির আল-মুতামাইয়িজ- রিয়াদ), (দারুন নাসিহাহ - আল-মদিনা আন-নাবাবিয়্যাহ)
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪৩ হিজরি - ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৪৬
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمة:إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ به من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}
(1){يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا}
(2){يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}
(3)أما بعد:
فالإنسان يمر بمراحل من عمره، فيبدأ طفلًا، ثم مرحلة
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা:নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
(১){হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট কিছু চাও এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষণকারী।}
(২){হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করল।}
(৩)অতঃপর:
বস্তুত মানুষ তার জীবনের বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়, সে শিশু হিসেবে শুরু করে, তারপর এক পর্যায়ে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الشباب، ثم مرحلة الشيخوخة، فالهرم إن لم يمت قبل ذلك، ومن نعم الله علينا أن جعلنا مسلمين، ومن شمولية الإسلام أنه بيّن ما يحتاج إليه المسلم في كل مرحلة من عمره من أحكام، فللطفولة أحكام، وكذا الشباب، والشيخوخة، والهرم، وأيضًا لكل مرحلة عمرية علامات يتميز بها، ومن ذلك ظهور الشيب، فهو في الغالب علامة على انتهاء مرحلة الشباب، وبداية مرحلة الشيخوخة، قال تعالى: {اللَّهُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ ضَعْفٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنْ بَعْدِ ضَعْفٍ قُوَّةً ثُمَّ جَعَلَ مِنْ بَعْدِ قُوَّةٍ ضَعْفًا وَشَيْبَةً يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَهُوَ الْعَلِيمُ الْقَدِيرُ}
(1)، وظهوره نذير بطول العمر ودنو الأجل، على قولٍ
(2) في تفسير قوله تعالى {أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُمْ مَا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَنْ تَذَكَّرَ وَجَاءَكُمُ النَّذِيرُ}
(3)، وطول العمر مع حسن العمل صفة حسنة، وفضيلة عظيمة، قد امتدحها صلى الله عليه وسلم عندما سئل أي الناس خير فقال: " مَنْ طَالَ عُمْرُهُ وَحَسُنَ عَمَلُهُ"
(4)، وظهور الشيب يكرهه كثير من الناس، ويحاربه إما بنتفه،
--------------------------------------------
যৌবন, অতঃপর বার্ধক্যের স্তর, এরপর অতি বার্ধক্য—যদি তার আগে মৃত্যু না ঘটে। আমাদের প্রতি আল্লাহর অন্যতম নিয়ামত এই যে, তিনি আমাদের মুসলিম বানিয়েছেন। ইসলামের পূর্ণাঙ্গতার একটি দিক হলো, এটি একজন মুসলিমের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে যা যা প্রয়োজন, তার বিধিবিধান বর্ণনা করেছে। শৈশবের যেমন বিধান রয়েছে, তেমনি যৌবন, বার্ধক্য ও অতি বার্ধক্যেরও বিধান রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি বয়সের স্তরের কিছু স্বতন্ত্র নিদর্শন রয়েছে, যার অন্যতম হলো চুলে শুভ্রতা (পাকা চুল) প্রকাশ পাওয়া। এটি সাধারণত যৌবনকাল সমাপ্ত হওয়া এবং বার্ধক্যকাল শুরু হওয়ার লক্ষণ। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ তিনিই, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন দুর্বল অবস্থায়, অতঃপর দুর্বলতার পর শক্তি দান করেছেন, শক্তির পর আবার দিয়েছেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান}
(১)। আর চুলে শুভ্রতা আসা দীর্ঘ হায়াত এবং মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার সতর্কবার্তা, মহান আল্লাহর এই বাণীর এক তাফসির
(২) অনুযায়ী: {আমি কি তোমাদেরকে এতটা বয়স দিইনি যে, তখন কেউ উপদেশ গ্রহণ করতে চাইলে উপদেশ গ্রহণ করতে পারত? আর তোমাদের কাছে তো সতর্ককারী এসেছিল}
(৩)। নেক আমলের সাথে দীর্ঘ জীবন লাভ করা একটি উত্তম বৈশিষ্ট্য এবং মহান মর্যাদা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রশংসা করেছেন যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম কে? তিনি বললেন: “যার আয়ু দীর্ঘ হয় এবং আমল সুন্দর হয়”
(৪)। চুলে পাক ধরা বা শুভ্রতা প্রকাশ পাওয়াকে অনেক মানুষই অপছন্দ করে এবং তারা এর বিরুদ্ধে লড়াই করে—হয়তো তা উপড়ে ফেলার মাধ্যমে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
أو تغييره بالسواد، وهذا من الجهل بالسنة، حيث جاءت ببيان فضله، وأنه نور المسلم، كما جاءت بالنهي عن نتفه، بل بإكرامه بصبغه بغير السواد، ولأهمية هذا الموضوع جمعت الأحاديث الواردة في هذا الباب، وعنونت للبحث
(الأحاديث الواردة في ذكر أحكام الشيب وبيان فضله) جمعًا ودراسةً
الدراسات السابقة:بعد البحث والتفتيش وقفت على مؤلفين في هذا الباب اعتنيا بذكر الأحاديث في ذلك:
الأول: كتاب العمر والشيب لأبي بكر عبد الله بن محمد الأموي المعروف بابن أبي الدنيا، وقد ذكر حديثين، وتسعًا وثمانين أثرًا فقط.
الثاني: نور الشيب وحكم تغييره في ضوء الكتاب والسنة للدكتور سعيد بن علي بن وهف القحطاني، يذكر الأحاديث معزوة لمخرجيها، مع ذكر أحكام الشيخ الألباني رحمه الله.
অথবা কালো রং দিয়ে তা পরিবর্তন করা; আর এটি সুন্নাহ সম্পর্কে অজ্ঞতার অন্তর্ভুক্ত। কেননা সুন্নাহ এর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করেছে এবং একে মুসলিমের নূর বা আলো হিসেবে অভিহিত করেছে। একইভাবে সুন্নাহ তা উপড়ে ফেলতে নিষেধ করেছে, বরং কালো রং ব্যতীত অন্য রঙের মাধ্যমে রাঙিয়ে একে সম্মান জানানোর নির্দেশ দিয়েছে। এই বিষয়ের গুরুত্বের কারণে আমি এই অধ্যায়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ একত্রিত করেছি এবং গবেষণাপত্রটির শিরোনাম দিয়েছি— (পাকা চুলের বিধান এবং এর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার ক্ষেত্রে বর্ণিত হাদিসসমূহ: সংকলন ও অধ্যয়ন)।
পূর্ববর্তী অধ্যয়নসমূহ:অনুসন্ধান ও গবেষণার পর আমি এই বিষয়ে দুটি গ্রন্থ পেয়েছি যা এ সংক্রান্ত হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করেছে:
প্রথমটি: আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-উমাওয়ি, যিনি ইবনে আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত, তাঁর রচিত 'কিতাবুল উমর ওয়াশ শায়ব' (বয়স ও পাকা চুল বিষয়ক গ্রন্থ)। তিনি এতে মাত্র দুটি হাদিস এবং উননব্বইটি আছার (বর্ণনা) উল্লেখ করেছেন।
দ্বিতীয়টি: ডক্টর সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতানি রচিত 'নূরুশ শায়ব ওয়া হুকমু তাগয়ীরিহি ফী দউল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ' (পাকা চুলের জ্যোতি এবং কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে তা পরিবর্তনের বিধান)। তিনি হাদিসসমূহকে সেগুলোর মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধ করে উল্লেখ করেছেন এবং সেই সাথে শায়খ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মূল্যায়নও উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
خطة البحث:قسمت البحث إلى مقدمة، وستة مطالب، وخاتمة:
فالمقدمة ذكرت فيها أهمية هذا البحث، والدراسات السابقة، وخطة البحث، والمنهج الذي سرت عليه في جمع أحاديث الموضوع، وطريقة تخريج الأحاديث.
وأما المطالب الستة:
فالمطلب الأول: ذكر الشيب في القرآن الكريم.
والمطلب الثاني: فضل الشيب، والنهي عن نتفه.
والمطلب الثالث: مشروعية توقير ذي الشيبة المسلم.
المطلب الرابع: الأمر بصبغ الشيب ومخالفة أهل الكتاب.
المطلب الخامس: أفضل ما يغير به الشيب.
المطلب السادس: النهي عن تغيير الشيب باللون الأسود.
والخاتمة: ذكرت فيها أهم النتائج التي توصلت إليها من خلال هذا البحث، ثم وضعت فهرسًا للمصادر والمراجع، وآخر للموضوعات.
গবেষণার রূপরেখা:আমি গবেষণাকে একটি ভূমিকা, ছয়টি অনুচ্ছেদ এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি:
ভুমিকায় আমি এই গবেষণার গুরুত্ব, পূর্ববর্তী অধ্যয়নসমূহ, গবেষণার রূপরেখা, আলোচ্য বিষয়ের হাদিসসমূহ সংগ্রহে আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি এবং হাদিসের তথ্যসূত্র বিশ্লেষণের (তাখরিজ) পদ্ধতি উল্লেখ করেছি।
আর ছয়টি অনুচ্ছেদ হলো:
প্রথম অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে শুভ্র চুলের (পক্বতা) আলোচনা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শুভ্র চুলের মর্যাদা এবং তা উপড়ে ফেলতে নিষেধ করা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: পক্বকেশধারী (বৃদ্ধ) মুসলিমকে সম্মান করার বিধান।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: চুলে রং করার নির্দেশ এবং আহলে কিতাবদের বিরোধিতা করা।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: চুলে রং করার জন্য সর্বোত্তম বস্তু।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: কালো রঙের মাধ্যমে চুলের শুভ্রতা পরিবর্তন করার নিষেধাজ্ঞা।
উপসংহার: এতে আমি এই গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো উল্লেখ করেছি, অতঃপর উৎস ও তথ্যসূত্র সমূহের একটি নির্ঘণ্ট এবং বিষয়সূচির একটি নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
منهج البحث:أولًا: جمعت الأحاديث من مصادر السنة المسندة، على الطريقة التالية:
فإن كان الحديث في الصحيحين، أو أحدهما، اكتفيت بالعزو لهما، وربما عزوت إلى السنن الأربعة أو لغيرها من أجل فائدة إسنادية أو متنية.
فإن لم يكن الحديث في الصحيحين أو أحدهما، عزوته لأصحاب السنن الأربعة، مع الحكم عليه، وربما عزوته لغير السنن من أجل فائدة في الإسناد، أو في المتن.
فإن لم يكن في السنن الأربعة أو في أحدها خرجته من بقية الكتب مرتبًا في العزو على سنة الوفاة، مع الحكم عليه، بعد ذكر المتابعات والشواهد إن احتاج الأمر إلى ذلك، ولا أستوعب جميع من أخرج الحديث، طلبًا للاختصار.
أذكر ما وقفت عليه من أحكام أهل العلم على الحديث من غير قصد الاستيعاب.
إذا ثبت حديث الباب فلا أتوسع بذكر الشواهد.
ثانيًا: الترجمة لرجال الإسناد ممن يقتضي المقام الترجمة لهم،
গবেষণার পদ্ধতি:প্রথমত: আমি মুসনাদ হাদীস গ্রন্থসমূহ থেকে হাদীসগুলো নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে সংগ্রহ করেছি:
হাদীসটি যদি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) বা তার কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি কেবল সেই দুটি গ্রন্থের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি; তবে কখনও কখনও সনদ বা মূল পাঠের কোনো বিশেষ উপকারের জন্য সুনানে আরবাআ বা অন্য কোনো গ্রন্থের উদ্ধৃতিও দিয়েছি।
যদি হাদীসটি সহীহাইন বা তার কোনো একটিতেও না থাকে, তবে আমি সেটি চার সুনান গ্রন্থের দিকে নিসবত করেছি এবং এর হুকুম বর্ণনা করেছি; আবার কখনও কখনও সনদ বা মতনের কোনো বিশেষ উপকারের জন্য সুনান গ্রন্থগুলো ব্যতীত অন্য গ্রন্থের উদ্ধৃতিও দিয়েছি।
যদি সেটি চার সুনান গ্রন্থের কোনো একটিতেও না থাকে, তবে আমি অন্যান্য অবশিষ্ট গ্রন্থ থেকে সেটি তাখরীজ করেছি এবং গ্রন্থকারদের মৃত্যুসন অনুযায়ী ক্রমানুসারে উদ্ধৃতি প্রদান করেছি। সাথে হাদীসটির হুকুমও বর্ণনা করেছি। প্রয়োজন সাপেক্ষে মুতাবাআত ও শাওয়াহিদ উল্লেখ করার পর আমি এটি করেছি। তবে সংক্ষিপ্ততার খাতিরে যারা এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তাদের সকলকেই আমি উল্লেখ করিনি।
আমি হাদীসটির ব্যাপারে আলেমগণের যেসব হুকুম (সিদ্ধান্ত) পেয়েছি তা উল্লেখ করেছি, তবে তার পূর্ণ পরিবেষ্টন করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না।
যদি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মূল হাদীসটি সাব্যস্ত হয়ে যায়, তবে আমি শাওয়াহিদ বর্ণনায় আর বিস্তারিত আলোচনা করিনি।
দ্বিতীয়ত: সনদের সেই সব বর্ণনাকারীর জীবনী উল্লেখ করা, যাদের জীবনী বর্ণনা করা প্রাসঙ্গিক,
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
على النحو التالي:
إذا كان الراوي من رجال الكتب الستة، فأكتفي بكلام الحافظ ابن حجر في التقريب، ما لم يظهر لي خلافه، فحينئذ أذكر بعضًا من كلام أئمة الجرح والتعديل في تأييد ما ظهر لي من حال هذا الراوي.
ب- إذا لم يكن الراوي من رجال التقريب، فإني أعرَّف به من مظانِّ ترجمته بإيجاز.
ثالثًا: بيان معاني الكلمات الغريبة.
رابعًا: أذكر كلام شراح الحديث في بيان معنى الحديث، وتوجيههم له، وربما ذكرت بعض الفوائد المتعلقة بالحديث.
خامسًا: ضبط الكلمات والأسماء المشكلة.
سادسًا: الالتزام بعلامات الترقيم.
وأسأل الله التوفيق والسداد، وأن يجعل أعمالنا صالحة، ولوجهه خالصة، وهذا وقت البدء بالمقصود، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
* * *
নিম্নরূপভাবে:
যদি বর্ণনাকারী কুতুবে সিত্তাহর (ছয় কিতাব) অন্তর্ভুক্ত হন, তবে আমি হাফেজ ইবনে হাজারের ‘তাক্বরীব’ গ্রন্থের বক্তব্যের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকব, যতক্ষণ না আমার নিকট এর বিপরীত কিছু স্পষ্ট হয়। এমতাবস্থায় আমি উক্ত বর্ণনাকারীর অবস্থা সম্পর্কে আমার নিকট যা প্রকাশ পেয়েছে তার সমর্থনে জারহ ও তা’দীল শাস্ত্রের ইমামগণের কিছু বক্তব্য উল্লেখ করব।
খ- যদি বর্ণনাকারী ‘তাক্বরীব’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত না হন, তবে আমি তাঁর জীবনী সম্বলিত উৎসগুলো থেকে সংক্ষেপে তাঁর পরিচয় তুলে ধরব।
তৃতীয়: অপরিচিত শব্দাবলির অর্থ বর্ণনা করা।
চতুর্থ: হাদিসের অর্থ বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আমি হাদিস ব্যাখ্যাকারীদের বক্তব্য উল্লেখ করব এবং সম্ভবত হাদিস সংশ্লিষ্ট কিছু ফায়দা বা শিক্ষণীয় বিষয় উল্লেখ করব।
পঞ্চম: জটিল শব্দ ও নামসমূহের সঠিক উচ্চারণ নির্ধারণ করা।
ষষ্ঠ: বিরামচিহ্নের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
আর আমি আল্লাহর নিকট তাওফীক ও সঠিক পথে অটল থাকার প্রার্থনা করছি এবং তিনি যেন আমাদের আমলসমূহকে নেক আমল হিসেবে কবুল করেন এবং তা যেন একমাত্র তাঁর চেহারার জন্য নিবেদিত হয়। আর এটাই মূল বিষয়ে প্রবেশের সময়। আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
المطلب الأول: ذكر الشيب في القرآن الكريم:قال تعالى: {قَالَ رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا وَلَمْ أَكُنْ بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا}
(1).
قال الشيخ السعدي رحمه ا لله: "أي: وهي وضعف، وإذا ضعف العظم، الذي هو عماد البدن، ضعف غيره، {وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا} لأن الشيب دليل الضعف والكبر، ورسول الموت ورائده، ونذيره، فتوسل إلى الله تعالى بضعفه وعجزه، وهذا من أحب الوسائل إلى الله، لأنه يدل على التبري من الحول والقوة، وتعلق القلب بحول الله وقوته. {وَلَمْ أَكُنْ بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا} أي: لم تكن يا رب تردني خائبًا ولا محرومًا من الإجابة، بل لم تزل بي حفيًا ولدعائي مجيبًا، ولم تزل ألطافك تتوالى علي، وإحسانك واصلًا إلي، وهذا توسل إلى الله بإنعامه عليه، وإجابة دعواته السابقة، فسأل الذي أحسن سابقًا، أن يتمم إحسانه لاحقًا"
(2).
* * *
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে বার্ধক্যজনিত শুভ্রতার উল্লেখ:মহান আল্লাহ বলেন: “সে বলল, হে আমার রব! আমার হাড়গুলো দুর্বল হয়ে গেছে এবং বার্ধক্যজনিত শুভ্রতায় আমার মাথা ভরে গেছে। হে আমার রব! আপনাকে ডেকে আমি কখনো বঞ্চিত হইনি”
(১)।
শায়খ আস-সাদী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “অর্থাৎ: নরম ও দুর্বল হয়ে গেছে; আর শরীরের খুঁটিস্বরূপ হাড় যখন দুর্বল হয়ে যায়, তখন অন্যান্য অঙ্গও দুর্বল হয়ে পড়ে। ‘আর বার্ধক্যজনিত শুভ্রতায় আমার মাথা ভরে গেছে’ কারণ সাদা চুল হলো দুর্বলতা ও বার্ধক্যের প্রমাণ, মৃত্যুর দূত ও অগ্রগামী বার্তাবাহক এবং সতর্ককারী। সুতরাং সে তার দুর্বলতা ও অক্ষমতার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নিকট অসিলা পেশ করেছে। আর এটি আল্লাহর নিকট প্রিয়তম অসিলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কারণ এটি নিজের উপায় ও শক্তি থেকে নিঃস্ব হওয়া এবং আল্লাহর ক্ষমতা ও শক্তির সাথে অন্তরকে জুড়ে দেওয়ার প্রমাণ বহন করে। ‘হে আমার রব! আপনাকে ডেকে আমি কখনো বঞ্চিত হইনি’ অর্থাৎ: হে রব! আপনি আমাকে কখনো ব্যর্থ করে ফিরিয়ে দেননি এবং দুআ কবুল হওয়া থেকে বঞ্চিত করেননি; বরং আপনি সর্বদা আমার প্রতি সদয় ছিলেন এবং আমার দুআ কবুল করেছেন। আপনার করুণা ধারাবাহিকভাবে আমার ওপর বর্ষিত হচ্ছে এবং আপনার ইহসান সর্বদা আমার নিকট পৌঁছে যাচ্ছে। আর এটি হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে প্রাপ্ত নেয়ামত এবং পূর্ববর্তী দুআসমূহ কবুল হওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট অসিলা করা। অতএব, তিনি সেই সত্তার নিকট প্রার্থনা করেছেন যিনি অতীতে ইহসান করেছেন, যেন তিনি ভবিষ্যতেও তাঁর ইহসান পূর্ণ করেন”
(২)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
قال تعالى: {فَكَيْفَ تَتَّقُونَ إِنْ كَفَرْتُمْ يَوْمًا يَجْعَلُ الْوِلْدَانَ شِيبًا * السَّمَاءُ مُنْفَطِرٌ بِهِ كَانَ وَعْدُهُ مَفْعُولًا}
(1)قال ابن جرير رحمه الله: " يعني يوم القيامة، وإنما تشيب الولدان من شدّة هوله وكربه"
(2).
وقال السعدي رحمه الله: " أي: فكيف يحصل لكم الفكاك والنجاة من يوم القيامة، اليوم المهيل أمره، العظيم قدره، الذي يشيب الولدان، وتذوب له الجمادات العظام، فتتفطر به السماء وتنتثر به نجومها {كَانَ وَعْدُهُ مَفْعُولا}، أي: لا بد من وقوعه، ولا حائل دونه"
(3).
* * *
المطلب الثاني: فضل الشيب والنهي عن نتفه:1 - عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: " لَا تَنْتِفُوا الشَّيْبَ، مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَشِيبُ شَيْبَةً فِي الْإِسْلَامِ إِلَّا كَانَتْ لَهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ: وفي رواية: " إِلَّا كَتَبَ اللهُ لَهُ بِهَا حَسَنَةً وَحَطَّ بِهَا
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেছেন: {সুতরাং যদি তোমরা কুফরি করো তবে তোমরা সেই দিন থেকে কীভাবে আত্মরক্ষা করবে, যে দিন শিশুদের বৃদ্ধ বানিয়ে দেবে? আকাশ সেদিন বিদীর্ণ হবে; তাঁর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পূর্ণ হবে}
(১)ইবনে জারীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "অর্থাৎ কিয়ামতের দিন, আর ভয়াবহতা ও কষ্টের তীব্রতার কারণেই শিশুরা বৃদ্ধ হয়ে যাবে"
(২)।
আস-সা'দী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "অর্থাৎ: কিয়ামতের দিন থেকে তোমাদের মুক্তি ও নিষ্কৃতি কীভাবে সম্ভব হবে? যে দিনের বিষয়টি অত্যন্ত ভয়াবহ, যার মর্যাদা অতি মহান, যা শিশুদের বৃদ্ধ বানিয়ে দেবে এবং যার কারণে সুদৃঢ় জড়বস্তুগুলো বিগলিত হবে। ফলে আকাশ বিদীর্ণ হবে এবং তারকারাজি ঝরে পড়বে। {তাঁর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পূর্ণ হবে}, অর্থাৎ: তা অবশ্যই ঘটবে এবং এর মাঝে কোনো প্রতিবন্ধক নেই"
(৩)।
* * *
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: বার্ধক্যের (পাকা চুলের) মর্যাদা এবং তা উপড়ে ফেলতে নিষেধ:১ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা পাকা চুল উপড়াবে না; কোনো মুসলিমের ইসলাম অবস্থায় কোনো চুল পাকলে তা কিয়ামতের দিন তার জন্য নূর হবে। অন্য এক বর্ণনায় আছে: "বরং আল্লাহ এর বিনিময়ে তার জন্য একটি নেকি লিখে দেন এবং এর দ্বারা একটি পাপ মোচন করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
عَنْهُ خَطِيئَةً"، ولفظ الترمذي، وابن ماجه: "نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ نَتْفِ الشَّيْبِ، وَقَالَ: هُوَ نُورُ الْمُؤْمِنِ".
التخريج: أبو داود
(1) وهذا لفظه، والترمذي
(2)، والنسائي
(3)، وابن ماجه
(4)، وإسناده حسن، فيه: عمرو بن شعيب، وأبوه صدوقان
(5)، والحديث حسنه الترمذي، وصححه لغيره الألباني
(6).
* * *
2 - عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: مَنْ شَابَ شَيْبَةً فِي سَبِيلِ اللهِ، كَانَتْ نُورًا لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَقَالَ رَجُلٌ عِنْدَ ذَلِكَ: فَإِنَّ رِجَالًا يَنْتِفُونَ الشَّيْبَ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مَنْ شَاءَ فَلْيَنْتِفْ نُورَهُ.
--------------------------------------------
...তার থেকে একটি পাপ", আর তিরমিজি ও ইবনে মাজাহর শব্দ হলো: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাকা চুল তুলে ফেলতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: এটি মুমিনের নূর।"
তাখরিজ: আবু দাউদ
(১) এবং এটি তার শব্দ, তিরমিজি
(২), নাসায়ি
(৩) ও ইবনে মাজাহ
(৪)। এর সনদ হাসান; এতে রয়েছেন আমর ইবনে শুআইব ও তাঁর পিতা, তাঁরা উভয়েই সদুক (সত্যবাদী)
(৫)। হাদিসটিকে তিরমিজি হাসান বলেছেন এবং আলবানি লি-গাইরিহি সহিহ বলেছেন
(৬)।
* * *
২ - ফাদালা ইবনে উবাইদ থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যার কোনো চুল আল্লাহর পথে পেকেছে, তা কিয়ামতের দিন তার জন্য নূর হবে। তখন এক ব্যক্তি বলল: নিশ্চয়ই কিছু লোক পাকা চুল উপড়ে ফেলে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যার ইচ্ছা সে যেন তার নূর উপড়ে ফেলে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
التخريج: أخرجه أحمد
(1)، والبزار
(2)، والطبراني
(3)، والبيهقي
(4)، وهو حديث حسن، قال المنذري: "رواه البزار والطبراني في الكبير والأوسط من رواية ابن لهيعة وبقية إسناده ثقات"
(5)، وتبعه الهيثمي
(6)، قلت: تابعه يحيى بن أيوب الغافقي، وهو صدوق ربما أخطأ
(7)، كما في رواية الطبراني، والبيهقي، وكذلك الراوي عن ابن لهيعة، قتيبة بن سعيد وأحاديثه عنه صحاح كما قال الإمام أحمد
(8)، ويشهد له الحديث الذي قبله، والحديث حسنه الألباني
(9).
* * *
--------------------------------------------
উৎস নির্দেশ: এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ
(১), বাযযার
(২), তাবারানি
(৩) এবং বায়হাকি
(৪)। হাদিসটি হাসান। মুনযিরি বলেছেন: "বাযযার এবং তাবারানি আল-কাবীর ও আল-আওসাত গ্রন্থে ইবনে লাহিয়া-র বর্ণনা থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন এবং এর সনদের অবশিষ্ট রাবিগণ নির্ভরযোগ্য"
(৫)। হাইসামিও তাঁর অনুসরণ করেছেন
(৬)। আমি বলছি: ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আল-গাফেকি তাঁর অনুসরণ করেছেন, তিনি সত্যবাদী তবে কখনো কখনো ভুল করতেন
(৭), যেমনটি তাবারানি ও বায়হাকির বর্ণনায় পাওয়া যায়। অনুরূপভাবে ইবনে লাহিয়া থেকে বর্ণনাকারী কুতাইবা ইবনে সাঈদ-এর ক্ষেত্রেও একই কথা; তাঁর থেকে বর্ণিত হাদিসগুলো সহিহ, যেমনটি ইমাম আহমাদ বলেছেন
(৮)। এর আগের হাদিসটিও এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে। আলবানি হাদিসটিকে হাসান সাব্যস্ত করেছেন
(৯)。
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المطلب الثالث: مشروعية توقير ذي الشيبة المسلم:3 - عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ مِنْ إِجْلَالِ اللهِ إِكْرَامَ ذِي الشَّيْبَةِ الْمُسْلِمِ، وَحَامِلِ الْقُرْآنِ غَيْرِ الْغَالِي فِيهِ وَالْجَافِي عَنْهُ، وَإِكْرَامَ ذِي السُّلْطَانِ الْمُقْسِطِ.
أولًا التخريج: أخرجه أبو داود
(1)، والبزار
(2)، والبيهقي
(3) من طريق أبي داود، وفي إسناده أبو كنانة القرشي مجهول، وقد اختلف على عوف بن أبي جميلة فيه: فرواه عنه عبد الله بن حمران مرفوعًا كما تقدم، وخالفه معاذ بن معاذ
(4)، وروح بن عبادة
(5)، والنضر بن شميل
(6) وجعلوه موقوفًا على أبي موسى، وهم جمع وثقات، وهو صدوق يخطئ قليلًا
(7)، واختلفت الرواية عن عبد الله بن المبارك عنه على
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুসলিম বৃদ্ধকে সম্মান প্রদর্শনের বৈধতা:৩ - আবু মুসা আল-আশআরি (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলাকে সম্মান করার অন্তর্ভুক্ত হলো বৃদ্ধ মুসলিমকে সম্মান করা, কুরআনের এমন বাহককে সম্মান করা যে তাতে সীমা লঙ্ঘন করে না এবং তা থেকে বিমুখ হয় না, এবং ন্যায়পরায়ণ শাসককে সম্মান করা।
প্রথমত تخريج (উৎস বিশ্লেষণ): এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ
(১), আল-বাযযার
(২) এবং আল-বাইহাকী
(৩) আবু দাউদের সূত্রে। এর সনদে আবু কিনানা আল-কুরাশি অজ্ঞাত (মাজহুল), এবং আওফ ইবনে আবি জামিলার বর্ণনায় এতে মতভেদ রয়েছে: আব্দুল্লাহ ইবনে হামরান তার থেকে এটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, তবে মুয়াজ ইবনে মুয়াজ
(৪), রাওহ ইবনে উবাদাহ
(৫) এবং আন-নাদর ইবনে শুমাইল
(৬) তার বিরোধিতা করেছেন এবং তারা একে আবু মুসার ওপর মাওকুফ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। তারা একটি বড় জামাত এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী, আর তিনি (আব্দুল্লাহ ইবনে হামরান) সত্যবাদী তবে সামান্য ভুল করেন
(৭)। তার থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারকের বর্ণনায় ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الوجهين الرفع
(1) والوقف
(2)، فكأنه يصح الوجهان، والله أعلم.
والحديث له شاهد من حديث جابر أخرجه الطبراني
(3)، وفي إسناده محمد بن صالح المدني مقبول
(4)، وله شاهد مرسل بإسناد رجاله ثقات أخرجه الحارث
(5)، والحديث حسنه النووي
(6)، والعراقي
(7)، وابن حجر
(8)، والألباني
(9).
ثانيًا: شرح ألفاظ الحديث:
قوله: (إِنَّ مِنْ إِجْلَالِ اللهِ): أي: من تعظيم الله وتبجيله
(10).
--------------------------------------------
উভয় সুরত বিদ্যমান: রাফ’
(১) এবং ওয়াকফ
(২), ফলে প্রতীয়মান হয় যে উভয় সুরতই সঠিক, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
হাদীসটির একটি সাক্ষী বর্ণনা রয়েছে জাবির (রা.)-এর হাদীস থেকে যা তাবারানী
(৩) বর্ণনা করেছেন, এর সনদে মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ আল-মাদানী রয়েছেন যিনি মাকবূল (গ্রহণযোগ্য)
(৪)। এর একটি মুরসাল সাক্ষী বর্ণনাও রয়েছে এমন সনদে যার বর্ণনাকারীবৃন্দ নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), এটি আল-হারিস
(৫) বর্ণনা করেছেন। হাদীসটিকে ইমাম নববী
(৬), ইরাকী
(৭), ইবনে হাজার
(৮) এবং আলবানী
(৯) হাসান বলেছেন।
দ্বিতীয়ত: হাদীসের শব্দাবলির ব্যাখ্যা:
তাঁর উক্তি: (নিশ্চয়ই আল্লাহর সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত হলো): অর্থাৎ: আল্লাহর মহিমা ও তাঁর বড়ত্ব প্রকাশের অন্তর্ভুক্ত
(১০)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قوله: (إِكْرَامَ ذِي الشَّيْبَةِ الْمُسْلِمِ): أي: تعظيم الشيخ الكبير الذي قضى عمره في طاعة الله، وذلك بتوقيره في المجالس، والرفق به، والشفقة عليه ونحو ذلك، كل هذا من كمال تعظيم الله لحرمته عند الله
(1).
قوله: (وَحَامِلِ الْقُرْآنِ غَيْرِ الْغَالِي فِيهِ وَالْجَافِي عَنْهُ): أي وإكرام قارئه، وحافظه ومفسره، وسماه حاملًا له لما يتحمل في حفظه من الدرس والمشقة، وفي تفهمه وتدبره والعمل بما فيه، فهو حامل لمشاق كثيرة، تزيد على الأحمال الثقيلة.
(غَيْرِ الْغَالِي): الغلو التشديد ومجاوزة الحد، يعني غير المتجاوز الحد في العمل به وتتبع ما خفي منه، واشتبه عليه من معانيه وفي حدود قراءته ومخارج حروفه.
(وَالْجَافِي عَنْهُ): أي وغير المتباعد عنه، المعرض عن تلاوته، وإحكام قراءته، وإتقان معانيه والعمل بما فيه.
قال العزيزي رحمه الله: "ويدخل في ذلك من أعرض عنه بكثرة النوم، والبطالة، والإقبال على الدنيا والشهوات، بل ينبغي لحامل
--------------------------------------------
তাঁর উক্তি: (বার্ধক্যে উপনীত মুসলিমকে সম্মান করা): অর্থাৎ: সেই বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিকে সম্মান করা যিনি আল্লাহর আনুগত্যে স্বীয় জীবন অতিবাহিত করেছেন। আর তা হলো মজলিসসমূহে তাঁকে মর্যাদা প্রদান করা, তাঁর প্রতি নম্রতা ও অনুকম্পা প্রদর্শন করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। এ সবই মহান আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পূর্ণতার অংশ, কারণ আল্লাহর নিকট তাঁর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে
(১)।
তাঁর উক্তি: (কুরআনের ধারককে সম্মান করা, যে তাতে বাড়াবাড়ি করে না এবং তা থেকে বিমুখ হয় না): অর্থাৎ কুরআনের ক্বারী, হাফেজ ও মুফাসসিরকে সম্মান করা। তাঁকে কুরআনের ‘ধারক’ বলা হয়েছে কারণ এর মুখস্থ করার ক্ষেত্রে পাঠ ও কষ্টের যে ভার তিনি বহন করেন, এবং এর মর্ম অনুধাবন, অনুধ্যান ও সে অনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে যে পরিশ্রম করেন তার কারণে। সুতরাং তিনি বহু কষ্টের ভার বহনকারী, যা কোনো ভারী বোঝার চেয়েও অধিক।
(বাড়াবাড়ি না করা): ‘গুলু’ বা অতিশয়োক্তি হলো কঠোরতা অবলম্বন এবং সীমা লঙ্ঘন করা। অর্থাৎ কুরআনের আমল করার ক্ষেত্রে এবং এর অস্পষ্ট ও দুর্বোধ্য অর্থের অনুসরণে সীমা লঙ্ঘন না করা, আর এর তিলাওয়াতের সীমা ও হরফের মাখরাজ নিয়ে অতিরঞ্জন না করা।
(তা থেকে বিমুখ না হওয়া): অর্থাৎ কুরআন থেকে দূরত্ব বজায় না রাখা, এর তিলাওয়াত করা থেকে মুখ ফিরিয়ে না নেওয়া, এর পঠনশৈলীকে সুদৃঢ় করা এবং এর অর্থের সঠিক উপলব্ধি ও সে অনুযায়ী আমল করা ত্যাগ না করা।
আল-আযীযী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: "এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই ব্যক্তি যে অধিক নিদ্রা, অলসতা এবং দুনিয়া ও প্রবৃত্তির মোহে মগ্ন হয়ে কুরআন থেকে বিমুখ থাকে। বরং কুরআনের ধারকের জন্য উচিত হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
القرآن أن يعرف بقيام ليله إذا الناس نيام، وببكائه إذا الناس يضحكون، وبصمته إذا الناس يخوضون، وما أقبح بحامل القرآن أن يتلفظ بأحكامه، ولا يعمل به، فهو كمثل الحمار يحمل أسفارًا"
(1).
قزله: (وَإِكْرَامَ ذِي السُّلْطَانِ الْمُقْسِطِ): المقسط بضم الميم أي: العادل في حكمه بين رعيته
(2).
* * *
المطلب الرابع: الأمر بصبغ الشيب ومخالفة أهل الكتاب:4 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "إِنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى لَا يَصْبُغُونَ فَخَالِفُوهُمْ".
أولًا: التخريج: أخرجه البخاري
(3)، ومسلم
(4)، وجاء عند الترمذي
(5)،
--------------------------------------------
কুরআন বহনকারীর উচিত হলো তার রাতের ইবাদতের মাধ্যমে পরিচিত হওয়া যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে, এবং তার কান্নার মাধ্যমে যখন মানুষ হাসাহাসি করে, এবং তার নীরবতার মাধ্যমে যখন মানুষ অনর্থক কথায় মগ্ন থাকে। আর কুরআন বহনকারীর জন্য এটি কতই না কদর্য যে, সে এর বিধানাবলি মুখে উচ্চারণ করে অথচ সে অনুযায়ী আমল করে না; এমতাবস্থায় সে তো সেই গাধার মতো যে কিতাবসমূহ বহন করে
(১)।
তার উক্তি: (এবং ন্যায়পরায়ণ শাসকের সম্মান করা): আল-মুকসিত—মীম বর্ণের উপর পেশ সহ—অর্থাৎ: স্বীয় প্রজাদের মাঝে বিচারে ন্যায়পরায়ণ
(২)।
* * *
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সাদা চুলে খিযাব লাগানোর নির্দেশ এবং আহলে কিতাবের বিরোধিতা করা:৪ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই ইহুদি ও খ্রিস্টানরা খিযাব লাগায় না, সুতরাং তোমরা তাদের বিরোধিতা করো।"
প্রথমত: তাখরিজ (সূত্র নির্দেশ): এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী
(৩), মুসলিম
(৪), এবং তিরমিযীর নিকটও এটি এসেছে
(৫),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وأحمد
(1) بلفظ: "غَيِّرُوا هَذَا الشَّيْبَ وَلَا تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ وَلَا بِالنَّصَارَى ".
ثانيًا: شرح ألفاظ الحديث:
قوله: (لَا يَصْبُغُونَ فَخَالِفُوهُمْ): يقتضي مشروعية الصبغ، والمراد به صبغ شيب اللحية والرأس
(2).
قال الشوكاني رحمه الله: " الحديث يدل على أن العلة في شرعية الصباغ وتغيير الشيب، هي مخالفة اليهود والنصارى، وبهذا يتأكد استحباب الخضاب، وقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يبالغ في مخالفة أهل الكتاب ويأمر بها، وهذه السنة قد كثر اشتغال السلف بها، ولهذا ترى المؤرخين في التراجم لهم يقولون: "وكان يخضب وكان لا يخضب" "
(3).
* * *
5 - عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: غَيِّرُوا الشَّيْبَ، وَلَا تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ.
--------------------------------------------
এবং আহমাদ
(১) এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা এই বার্ধক্য (সাদা চুল) পরিবর্তন করো এবং ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না।"
দ্বিতীয়ত: হাদিসের শব্দাবলির ব্যাখ্যা:
তাঁর বাণী: (তারা খেজাব লাগায় না, সুতরাং তোমরা তাদের বিরোধিতা করো): এটি খেজাব লাগানোর বৈধতা দাবি করে, আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দাড়ি ও মাথার সাদা চুল রাঙানো
(২)।
ইমাম শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "হাদিসটি প্রমাণ করে যে, খেজাব লাগানো এবং সাদা চুল পরিবর্তন করার বৈধতার কারণ হলো ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টানদের বিরোধিতা করা। আর এর মাধ্যমেই খেজাব লাগানোর মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়টি সুনিশ্চিত হয়। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আহলে কিতাবদের বিরোধিতা করার ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ ছিলেন এবং এর নির্দেশ দিতেন। সালাফদের মধ্যে এই সুন্নতের ব্যাপক প্রচলন ছিল, এ কারণেই জীবনীকারগণ তাদের জীবনচরিতে বলতেন: 'তিনি খেজাব লাগাতেন' এবং 'তিনি খেজাব লাগাতেন না'।"
(৩)।
* * *
৫ - ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমরা সাদা চুল পরিবর্তন করো এবং ইয়াহুদিদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
التخريج: أخرجه النسائي
(1)، وأبو يعلى
(2)، والطحاوي
(3)، وإسناده حسن، فيه أحمد بن جناب المصيصي صدوق
(4)، لكنه اختلف على هشام بن عروة فيه على أوجه: منها:
أولًا: حديث الباب وهو ما رواه عيسى بن يونس، عنه، عن أبيه، عن ابن عمر، وثانيها: ما رواه محمد بن كناسة، عنه، عن أخيه عثمان بن عروة، عن أبيه، عن جده الزبير
(5)، وحكم النسائي عن هذين الوجهين بأنهما غير محفوظين، وتابعه الدارقطني
(6).
وثالثها: ما رواه الثوري، عنه، عن أبيه، عن عائشة
(7).
ورابعها: ما رواه أصحابه الحفاظ
(8)، عنه، عن أبيه مرسلًا،
--------------------------------------------
তাকরিজ: এটি বর্ণনা করেছেন নাসায়ি
(১), আবু ইয়ালা
(২) এবং তহাবি
(৩); এর সনদ হাসান (উত্তম), এতে আহমাদ বিন জানাব আল-মাসসিসি রয়েছেন যিনি সদুক (সত্যবাদী)
(৪), তবে হিশাম বিন উরওয়ার সূত্রে এর বর্ণনায় বিভিন্ন দিক থেকে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে: তার মধ্যে:
প্রথমত: এই অধ্যায়ের হাদিস, যা ঈসা বিন ইউনুস তার সূত্রে, তার পিতা থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। দ্বিতীয়ত: যা মুহাম্মদ বিন কুনাসাহ তার সূত্রে, তার ভাই উসমান বিন উরওয়া থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা জুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন
(৫); আর ইমাম নাসায়ি এই দুই সূত্রের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে উভয়টিই গায়রে মাহফুজ (অসংরক্ষিত), এবং দারা কুতনিও তার অনুসরণ করেছেন
(৬)।
তৃতীয়ত: যা সাওরি তার সূত্রে, তার পিতা থেকে এবং তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন
(৭)।
চতুর্থত: যা তার হাফেজ ছাত্রগণ
(৮) তার সূত্রে, তার পিতা থেকে 'মুরসাল' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وهو الذي رجحه ابن معين
(1)، والدارقطني
(2)، والخطيب
(3)، وابن القطان
(4)، وحكم عليه الطحاوي بالاضطراب
(5)، وقال ابن حجر: "ورجاله ثقات لكن اختلف على هشام بن عروة فيه كما بينه النسائي وقال إنه غير محفوظ"
(6)، والحديث صححه ابن جرير
(7)، والألباني
(8)، قلت: أما متن الحديث فثابت، كما في حديث أبي هريرة المتقدم قبله.
* * *
6 - عَنِ الزُّبَيْرِ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: "غَيِّرُوا الشَّيْبَ، وَلَا تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ".
--------------------------------------------
এবং এটিকেই ইবনে মুঈন
(১), আদ-দারাকুতনী
(২), আল-খতিব
(৩) এবং ইবনুল কাত্তান
(৪) প্রাধান্য দিয়েছেন। আত-তহাবী একে 'ইযতিরাব' (বিভ্রান্তিপূর্ণ) বলে হুকুম দিয়েছেন
(৫)। ইবনে হাজার বলেন: "এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য, তবে হিশাম বিন উরওয়ার সূত্রে এতে মতভেদ রয়েছে, যেমনটি আন-নাসায়ী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে এটি সংরক্ষিত নয়"
(৬)। আর হাদিসটিকে ইবনে জারির
(৭) ও আল-আলবানী
(৮) সহীহ বলেছেন। আমি বলি: হাদিসের মূল পাঠ (মতন) প্রমাণিত, যেমনটি এর আগে বর্ণিত আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিসে রয়েছে।
* * *
৬ - যুবায়ের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা বার্ধক্যের শুভ্রতাকে (চুল-দাড়ির সাদা রং) পরিবর্তন করো এবং ইহুদিদের সদৃশ হয়ো না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
التخريج: أخرجه النسائي
(1)، وأحمد
(2)، وأبو يعلى
(3)، وإسناد حسن، فيه: محمد ابن عبد الله بن كُنَاسة الأسدي، صدوق
(4)، ولكن اختلف فيه على هشام بن عروة كما تقدم بيانه في الحديث السابق.
* * *
7 - عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنهما قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: "غَيِّرُوا الشَّيْبَ وَلَا تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ وَالنَّصَارَى".
التخريج: أخرجه الطحاوي
(5)، وأبو نعيم
(6)، والطبراني
(7)، وأبو الشيخ الأصبهاني
(8)، وأبو بكر بن المقرئ
(9)، وسبق الكلام عليه عند
--------------------------------------------
তখরিজ: এটি বর্ণনা করেছেন নাসায়ি
(১), আহমাদ
(২) এবং আবু ইয়ালা
(৩)। এর সনদ হাসান; এতে রয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু কুনাসা আল-আসাদি, তিনি সাদুক (সত্যবাদী)
(৪)। তবে পূর্ববর্তী হাদিসে যেমনটি বর্ণনা করা হয়েছে, হিশাম ইবনু উরওয়ার বর্ণনায় তার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।
* * *
৭ - আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা বার্ধক্যের শুভ্রতা (পাকা চুল) পরিবর্তন করো এবং ইয়াহুদি ও নাসারাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না।"
তখরিজ: এটি বর্ণনা করেছেন তহাবি
(৫), আবু নুআইম
(৬), তবারানি
(৭), আবুশ শাইখ আল-আসবাহানি
(৮) এবং আবু বকর ইবনুল মুকরি
(৯)। এ বিষয়ে ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
تخريج حديث ابن عمر المتقدم.
* * *
8 - عَنْ جَابِرٍ قَالَ: أُتِيَ بِأَبِي قُحَافَةَ، أَوْ جَاءَ عَامَ الْفَتْحِ، أَوْ يَوْمَ الْفَتْحِ، وَرَأْسُهُ وَلِحْيَتُهُ مِثْلُ الثَّغَامِ، أَوِ الثَّغَامَةِ، فَأَمَرَ أَوْ فَأُمِرَ بِهِ إِلَى نِسَائِهِ قَالَ: غَيِّرُوا هَذَا بِشَيْءٍ.
أولًا: التخريج: أخرجه مسلم
(1).
ثانيًا: شرح ألفاظ الحديث:
قوله: (أُتِيَ بِأَبِي قُحَافَةَ): بضم القاف وتخفيف الحاء المهملة، هو عثمان بن عامر بن عمرو بن كعب بن سعد بن تيم بن مرة القرشي التيمي، أبو قحافة، والد أبي بكر الصديق، أسلم عام الفتح، ومات سنة أربع عشرة، وله سبع وتسعون سنة
(2).
قوله: (وَرَأْسُهُ وَلِحْيَتُهُ مِثْلُ الثَّغَامِ، أَوِ الثَّغَامَةِ): الثغام: بثاء مثلثة مفتوحة ثم غين معجمة مخففة، نبت أبيض الزهر والثمر يشبه به
--------------------------------------------
পূর্বোক্ত ইবনে উমরের হাদীসের তাখরীজ।
* * *
৮ - জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মক্কা বিজয়ের বছর বা বিজয়ের দিনে আবু কুহাফাকে আনা হলো, অথবা তিনি আসলেন। তাঁর মাথা ও দাড়ি 'ছাগাম' বা 'ছাগামাহ' উদ্ভিদের মতো (সাদা) ছিল। তখন তাঁকে তাঁর স্ত্রীদের কাছে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো অথবা তাঁকে নেওয়ার নির্দেশ করা হলো এবং বলা হলো: "তোমরা একে কোনো কিছু দ্বারা পরিবর্তন করো।"
প্রথমত: তাখরীজ: এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন
(১)।
দ্বিতীয়ত: হাদীসের শব্দসমূহের ব্যাখ্যা:
তাঁর উক্তি: (আবু কুহাফাকে আনা হলো): 'ক্বফ' বর্ণে পেশ এবং নুকতাহীন 'হা' বর্ণকে হালকাভাবে পড়ার মাধ্যমে। তিনি হলেন উসমান বিন আমির বিন আমর বিন কাব বিন সাদ বিন তাইম বিন মুররাহ আল-কুরাশি আত-তাইমি, আবু কুহাফা—আবু বকর আস-সিদ্দিকের পিতা। তিনি মক্কা বিজয়ের বছর ইসলাম গ্রহণ করেন এবং চৌদ্দ হিজরিতে সাতানব্বই বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন
(২)।
তাঁর উক্তি: (তাঁর মাথা ও দাড়ি ছাগাম বা ছাগামাহর মতো): ছাগাম: তিন নুকতাযুক্ত 'সা' বর্ণে জবর এবং এরপর নুকতাযুক্ত হালকা 'গাইন' বর্ণসহ। এটি এমন এক উদ্ভিদ যার ফুল ও ফল সাদা, যার সাথে (সাদা চুল ও দাড়ির) তুলনা করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الشيب. وقيل هي شجرة تبيض كأنها الثلج
(1).
* * *
9 - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " لَا تَشَبَّهُوا بِالْأَعَاجِمِ غَيِّرُوا اللِّحَى".
التخريج: أخرجه البزار
(2)، وابن عدي
(3)، وفي إسناده رشدين بن كريب القرشي ضعيف
(4)، وقال البزار: "وهذا الحديث لا نعلمه يروى بهذا اللفظ إلا عن ابن عباس بهذا الإسناد. "، وضعفه ابن القيسراني
(5)، والهيثمي
(6)، وابن حجر
(7)، قلت: الأمر بتغيير الشيب ثابت بأحاديث الباب.
--------------------------------------------
বার্ধক্যের শুভ্রতা। বলা হয়েছে, এটি এমন এক গাছ যা বরফের ন্যায় সাদা হয়ে যায়
(১).
* * *
৯ - ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা অনারবদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না, দাড়ির (সাদা রঙ) পরিবর্তন করো।"
তাখরিজ: এটি বর্ণনা করেছেন আল-বাযযার
(২), এবং ইবনে আদি
(৩)। এর সনদে রুশদিন বিন কুরাইব আল-কুরাশি রয়েছেন যিনি দুর্বল
(৪)। আল-বাযযার বলেন: "এই শব্দে হাদিসটি এই সনদ ছাড়া ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।" ইবনুল কায়সারানি
(৫), আল-হাইতামি
(৬) এবং ইবনে হাজার
(৭) এটিকে দুর্বল বলেছেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: বার্ধক্যের শুভ্রতা পরিবর্তনের নির্দেশ এই অধ্যায়ের অন্যান্য সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المطلب الخامس: أفضل ما يغير به الشيب:10 - عَنْ أَبِي ذَرٍّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ أَحْسَنَ مَا غُيِّرَ بِهِ هَذَا الشَّيْبُ الْحِنَّاءُ، وَالْكَتَمُ".
أولًا: التخريج: أخرجه أبو داود
(1)، والترمذي
(2)، والنسائي
(3)، وابن ماجه
(4)، وإسناده صحيح، والحديث صححه الترمذي، والألباني
(5).
ثانيًا: شرح ألفاظ الحديث:
قوله: (إِنَّ أَحْسَنَ مَا غُيِّرَ بِهِ هَذَا الشَّيْبُ): الحديث يدل على أن الحناء والكتم من أحسن الصباغات التي يغير بها الشيب، وأن الصبغ غير مقصور عليهما، لدلالة صيغة التفضيل على مشاركة غيرهما من الصباغات لهما في أصل الحسن، وهو يحتمل أن يكون على التعاقب ويحتمل الجمع
(6).
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বার্ধক্যের শুভ্রতা পরিবর্তনের সর্বোত্তম মাধ্যম:১০ - আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই বার্ধক্যের এই শুভ্রতা পরিবর্তনের জন্য সর্বোত্তম মাধ্যম হলো মেহেদী এবং কাতাম।"
প্রথমত: উৎস নির্দেশ: এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ
(১), তিরমিযী
(২), নাসাঈ
(৩) এবং ইবনে মাজাহ
(৪)। এর সনদ সহীহ এবং ইমাম তিরমিযী ও আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন
(৫)।
দ্বিতীয়ত: হাদীসের শব্দসমূহের ব্যাখ্যা:
তাঁর বাণী: (নিশ্চয়ই বার্ধক্যের এই শুভ্রতা পরিবর্তনের জন্য যা ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে সর্বোত্তম...): হাদীসটি প্রমাণ করে যে, মেহেদী এবং কাতাম হলো বার্ধক্যের শুভ্রতা পরিবর্তনের শ্রেষ্ঠ রঞ্জক পদার্থের অন্তর্ভুক্ত। আর চুল রাঙানো কেবল এই দুটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; কারণ ‘অধিক উত্তম’ (ইসমে তাফযীল) শব্দটি নির্দেশ করে যে, সৌন্দর্যের মূল গুণটিতে অন্যান্য রঞ্জকও এই দুটির সাথে অংশীদার। এটি পর্যায়ক্রমে ব্যবহার এবং একত্রে মিশ্রিত করে ব্যবহার—উভয়টিই হওয়ার সম্ভাবনা রাখে
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قوله: (الْحِنَّاءُ، وَالْكَتَمُ):
الحناء: شجر ورقه كورق الرمان وعيدانه كعيدانه له زهر أَبيض كالعناقيد يتخذ من ورقه خضاب أحمر
(1).
والكتم بفتح الكاف والتاء مخففة هو نبات يشبه ورق الزيتون، يصبغ به الشعر يكسر بياضه أو حمرته إلى الدهمة وهو غير الوسمة، وقيل: يخرج الصبغ أسود يميل إلى الحمرة، وصبغ الحناء أحمر، فالصبغ بهما معًا يخرج بين السواد والحمرة
(2).
* * *
المطلب السادس: النهي عن تغييير الشيب باللون الأسود:11 - عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رضي الله عنهما قَالَ: أُتِيَ بِأَبِي قُحَافَةَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ وَرَأْسُهُ وَلِحْيَتُهُ كَالثَّغَامَةِ بَيَاضًا، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: غَيِّرُوا هَذَا بِشَيْءٍ، وَاجْتَنِبُوا السَّوَادَ.
التخريج: أخرجه مسلم
(3)، وقد وقع الاختلاف على أبي الزبير محمد بن
--------------------------------------------
তাঁর বক্তব্য: (মেহেদি এবং কাতাম):
মেহেদি: একটি বৃক্ষ যার পাতা ডালিমের পাতার মতো এবং ডালগুলোও ডালিমের ডালের মতো। এর থোকার মতো সাদা ফুল হয়। এর পাতা থেকে লাল রঞ্জক তৈরি করা হয়
(১)।
কাতাম—কাফ ও তা বর্ণের ফাতহাহ (যবর) সহ এবং তা বর্ণটি হালকা উচ্চারণে—হল এমন একটি উদ্ভিদ যা যায়তুনের পাতার সদৃশ। এটি দিয়ে চুল রঙ করা হয়, যা চুলের শুভ্রতা বা লালিমাকে কালচে রঙের দিকে নিয়ে যায়। এটি 'ওয়াসমা' উদ্ভিদ থেকে ভিন্ন। কেউ কেউ বলেছেন: এর নির্গত রঙ লালচে আভা মিশ্রিত কালো হয়। আর মেহেদির রঙ হয় লাল। সুতরাং উভয়টি একত্রে ব্যবহার করলে কালো ও লালের মাঝামাঝি একটি রঙ তৈরি হয়
(২)।
* * *
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: কালো রঙের মাধ্যমে বার্ধক্যজনিত শুভ্রতা পরিবর্তন করার নিষেধাজ্ঞা:১১ - জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মক্কা বিজয়ের দিন আবু কুহাফাহকে (রাসূলুল্লাহর নিকট) আনা হলো, তখন তাঁর মাথার চুল ও দাড়ি 'ছাগামাহ' উদ্ভিদের মতো ধবধবে সাদা ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তোমরা কোনো কিছু দিয়ে এটি পরিবর্তন করো এবং কালো রঙ পরিহার করো।
উৎস নির্দেশ: এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন
(৩), এবং আবু যুবাইর মুহাম্মদ ইবনে... এর বর্ণনায় মতভেদ পরিলক্ষিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
مسلم عن جابر به، في إثبات لفظة: " واجتنبوا السواد"، وعند تتبع مرويات هذا الحديث وجدت أن من روى عن أبي الزبير هذا الحديث تسعة من الرواة، وسأسوق مروياتهم مع الحكم عليها:
أولًا: من أثبتوا لفظة " وجنبوه السواد":1 - ابن جريج عبد الملك بن عبد العزيز الأموي مولاهم
(1)، أخرجها مسلم.
2 - أيوب بن أبي تميمة السختياني
(2)، أخرجها أبو عوانة
(3)، والطبراني
(4)، ورجالها إليه ثقات.
3 - ليث بن أبي سليم، أخرجها ابن ماجه
(5)، وأحمد
(6)، وليث صدوق اختلط جدا، ولم يتميز حديثه فترك
(7)، لكنه قد توبع كما تقدم.
--------------------------------------------
জাবির (রা.)-এর সূত্রে মুসলিম (রহ.) থেকে বর্ণিত, এতে "এবং তোমরা কালো রঙ বর্জন করো" শব্দটির প্রমাণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই হাদিসের বর্ণনাগুলো অনুসন্ধান করার সময় আমি দেখেছি যে, আবু যুবায়ের থেকে নয়জন বর্ণনাকারী এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আমি তাদের বর্ণনাগুলো এবং সেগুলোর ওপর হুকুমসহ (মন্তব্যসহ) নিচে উল্লেখ করছি:
প্রথমত: যারা "এবং তাকে কালো রঙ থেকে দূরে রাখো" শব্দগুচ্ছটি সাব্যস্ত করেছেন:১ - ইবনু জুরাইজ আব্দুল মালিক বিন আব্দুল আজিজ আল-উমাবী, তাদের আযাদকৃত গোলাম
(১), এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
২ - আইয়ুব বিন আবি তামিমিয়াহ আস-সাখতিয়ানী
(২), এটি আবু আওয়ানাহ
(৩) এবং তাবারানি
(৪) বর্ণনা করেছেন; আর তার পর্যন্ত এর বর্ণনাকারীবৃন্দ নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)।
৩ - লাইস বিন আবি সুলাইম, এটি ইবনু মাজাহ
(৫) এবং আহমাদ
(৬) বর্ণনা করেছেন। লাইস সত্যবাদী (সাদুক), তবে তার স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত বিক্ষিপ্ত হয়ে গিয়েছিল এবং তার বর্ণিত হাদিসগুলো পৃথক করা সম্ভব হয়নি, তাই তা বর্জন করা হয়েছে
(৭); কিন্তু পূর্বে যেমন অতিক্রান্ত হয়েছে যে তার সমর্থিত বর্ণনা (তাবি') রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
4 - مطر بن طهمان الورّاق أخرجها الطبراني
(1)، ومترصدوك كثير الخطأ
(2)، لكن الراوي عنه داود بن الزبرقان متروك
(3).
5 - أجلح بن عبد الله الكندي
(4)، أخرجها أبو يعلى
(5)، وفي إسناده شريك ابن عبد الله النخعي صدوق يخطئ كثيرًا تغير حفظه منذ ولي القضاء بالكوفة
(6).
6 - المغيرة بن مسلم المدائني
(7)، أخرجها ابن جرير
(8)، وأبو القاسم بن بشران
(9)، وإسنادها إليه رجاله ثقات.
ثانيًا: من لم يذكروا لفظة" وجنبوه السواد":--------------------------------------------
4 - মাতার বিন তাহমান আল-ওয়াররাক; এটি তাবারানি
(১) বর্ণনা করেছেন। তিনি সত্যবাদী তবে অনেক ভুল করেন
(২), কিন্তু তার থেকে বর্ণনাকারী দাউদ বিন আয-যিবারকান পরিত্যক্ত
(৩)।
5 - আযলাহ বিন আব্দুল্লাহ আল-কিন্দি
(৪); এটি আবু ইয়ালা
(৫) বর্ণনা করেছেন। এর সনদে রয়েছেন শারিক ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নাখয়ি, তিনি সত্যবাদী তবে প্রচুর ভুল করেন; কুফায় বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তার স্মৃতিশক্তি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল
(৬)।
6 - মুগিরা বিন মুসলিম আল-মাদায়িনি
(৭); এটি ইবনে জারির
(৮) এবং আবুল কাসিম বিন বিশরান
(৯) বর্ণনা করেছেন। তার পর্যন্ত এর সনদের বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য।
দ্বিতীয়ত: যারা "এবং তাকে কালো রঙ থেকে দূরে রাখো" শব্দগুচ্ছটি উল্লেখ করেননি:--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
1 - عزرة بن ثابت الأنصاري
(1)، أخرجها النسائي
(2)، والحاكم
(3)، وإسنادها إليه رجالهم ثقات.
2 - محمد بن إسحاق بن يسار القرشي، أخرجها ابن عساكر
(4)، وإسنادها إليه فيه محمد بن محمد بن سليمان الباغندي مدلس
(5)، وابن إسحاق صدوق يدلس
(6)، وقد توبع كما تقدم.
ثالثًا: من جاء عنه الوجهان:1 - أبو خيثمة زهير بن معاوية الجعفي
(7)، اختلف عليه فيها على وجهين، الوجه الأول: من لم يذكر لفظة: وجنبوه السواد"، وهم: يحيى بن يحيى
(8)، وعمرو بن خالد الحنظلي
(9)، والحسن بن موسى
--------------------------------------------
১ - উযরাহ ইবনে সাবিত আল-আনসারী
(১), এটি আন-নাসায়ী
(২) এবং আল-হাকিম
(৩) বর্ণনা করেছেন; তাঁর পর্যন্ত এর বর্ণনাসূত্রের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
২ - মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াসার আল-কুরাশী, এটি ইবনে আসাকির
(৪) বর্ণনা করেছেন; তাঁর পর্যন্ত এর বর্ণনাসূত্রে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান আল-বাগান্দি রয়েছেন যিনি মুদাল্লিস (তথ্য গোপনকারী)
(৫) এবং ইবনে ইসহাক সত্যবাদী কিন্তু তিনি তাদলীস করেন
(৬), তবে পূর্বে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে তাঁর সমর্থনকারী বর্ণনা (মুতাবায়াত) পাওয়া গিয়েছে।
তৃতীয়ত: যাদের থেকে দুই ধরনের বর্ণনা পাওয়া গিয়েছে:১ - আবু খাইসামাহ যুহাইর ইবনে মুয়াবিয়া আল-জু'ফী
(৭), তাঁর থেকে এই বর্ণনায় দুইভাবে মতভেদ করা হয়েছে; প্রথম পদ্ধতি: যারা "এবং তাকে কালো রঙ থেকে দূরে রাখো" কথাটি উল্লেখ করেননি, তারা হলেন: ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া
(৮), আমর ইবনে খালিদ আল-হানজালী
(৯) এবং আল-হাসান ইবনে মুসা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الأشيب، وأحمد بن عبد الملك الحراني
(1).
والوجه الثاني: من ذكر لفظة" وجنبوه السواد" وهو إبراهيم بن إسحاق بن مهران
(2)، ولو طبقنا قواعد ترجيح الروايات لقلنا بأن رواية الأكثر والأوثق هي الأرجح، وهم الذين لم يذكروا لفظة "وجنبوه السواد" عن شيخهم أبي خيثمة، لكن هذه القاعدة ستلزمنا بترجيح رواية الأكثر والأوثق عن أبي الزبير وهم الذين أثبتوا لفظة وجنبوه السواد، والخلاصة أن الكفتين متعادلتان ففي كل مجموعة رواة ثقات فلا ترجيح لأحدهما على الآخر، ومما يزيد الأمر إشكالًا هو ما جاء عند أحمد
(3)، بلفظ: "قَالَ زُهَيْرٌ: قُلْتُ لِأَبِي الزُّبَيْرِ: أَقَالَ جَنِّبُوهُ السَّوَادَ؟ قَالَ: لَا، بينما جاء عند أبي داود الطيالسي
(4) أنَّ أبا خيثمة زهير بن معاوية سأل أبا الزبير أَحَدَّثَكَ جَابِرٌ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِأَبِي قُحَافَةَ: «غَيِّرُوا، وَجَنِّبُوهُ السَّوَادَ» فَقَالَ: لَا، فنفى التغيير بأكمله، وبهذا يتبين لنا جليًّا أن الإشكال من
--------------------------------------------
আল-আশব এবং আহমাদ বিন আব্দুল মালিক আল-হাররানি
(১)।
আর দ্বিতীয় দিকটি হলো: যারা "এবং তোমরা কালো রঙ এড়িয়ে চলো" শব্দসমষ্টি উল্লেখ করেছেন, আর তিনি হলেন ইব্রাহিম বিন ইসহাক বিন মিহরান
(২)। আমরা যদি বর্ণনাকে প্রাধান্য দেওয়ার নীতিগুলো প্রয়োগ করি, তবে আমরা বলতাম যে অধিকাংশ এবং অধিক নির্ভরযোগ্যদের বর্ণনাটিই অগ্রগণ্য, আর তারা হলেন তারা যারা তাদের শায়খ আবু খাইসামা থেকে "এবং তোমরা কালো রঙ এড়িয়ে চলো" শব্দসমষ্টি উল্লেখ করেননি। কিন্তু এই নীতিটি আমাদের জন্য আবু যুবাইর থেকে অধিকাংশ এবং অধিক নির্ভরযোগ্যদের বর্ণনাকে প্রাধান্য দেওয়া আবশ্যক করে তুলবে, যারা "এবং তোমরা কালো রঙ এড়িয়ে চলো" শব্দসমষ্টিটি সাব্যস্ত করেছেন। সারকথা হলো যে উভয় পাল্লাই সমান, কেননা প্রত্যেক দলেই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী রয়েছেন, ফলে একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার সুযোগ নেই। আর বিষয়টি যে দিকটি আরও জটিল করে তোলে তা হলো আহমাদ-এর নিকট যা এসেছে
(৩), এই শব্দে: "যুহাইর বলেন: আমি আবু যুবাইরকে বললাম: তিনি কি বলেছিলেন যে—তোমরা কালো রঙ এড়িয়ে চলো? তিনি বললেন: না।" অন্যদিকে আবু দাউদ আত-তায়ালিসি-এর নিকট বর্ণিত হয়েছে যে
(৪) আবু খাইসামা যুহাইর বিন মুআবিয়া আবু যুবাইরকে জিজ্ঞাসা করলেন: জাবির কি আপনাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু কুহাফাকে বলেছিলেন: «তোমরা (চুলের রঙ) পরিবর্তন করো এবং কালো রঙ এড়িয়ে চলো»? তখন তিনি বললেন: না। এভাবে তিনি সম্পূর্ণ পরিবর্তনের বিষয়টিই অস্বীকার করলেন। এর মাধ্যমে আমাদের নিকট স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে সমস্যাটি হলো—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أبي الزبير نفسه، فتارة يثبتها، وأخرى ينفيها، فنحتاج إلى مرجحٍ خارجي، وذلك من خلال النظر في الأحاديث الأخرى وسأذكرها تِبَاعًا، والتي ترجح صحة لفظ (وجنبوه السواد)، والله أعلم بالصواب
(1).
* * *
12 - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: "يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ قَوْمٌ يَخْتَضِبُونَ بِهَذَا السَّوَادِ كَحَوَاصِلِ الْحَمَامِ لَا يَرِيحُونَ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ".
أولًا: التخريج: أخرجه أبو داود
(2)، والنسائي
(3)، وأحمد
(4) من طرق عن عبيد الله بن عمرو الجزري، عن عبد الكريم بن مالك الجزري
(5)،
--------------------------------------------
আবু যুবায়ের নিজেই; কখনো তিনি এটি সাব্যস্ত করেছেন, আবার কখনো তিনি এটি অস্বীকার করেছেন। তাই আমাদের একটি বাহ্যিক প্রমাণের প্রয়োজন, আর তা অন্যান্য হাদিসগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমেই সম্ভব এবং আমি সেগুলো ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করব, যা (কালো রঙ এড়িয়ে চলো) শব্দটির বিশুদ্ধতাকে প্রাধান্য দেয়। আর আল্লাহই অধিক ভালো জানেন
(১).
* * *
১২ - ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "শেষ জামানায় এমন একদল লোক হবে যারা কবুতরের পেটের মতো এই কালো রঙ দিয়ে খিযাব (রঙ) লাগাবে, তারা জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।"
প্রথমত: তখরীজ: এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ
(২), নাসাঈ
(৩) এবং আহমাদ
(৪) উবাইদুল্লাহ ইবনে আমর আল-জাজারীর বিভিন্ন সূত্রে, তিনি আব্দুল কারীম ইবনে মালিক আল-জাজারী
(৫) থেকে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس به، وإسناده صحيح، وقد اختلف على عبيد الله بن عمرو في رفعه، ووقفه، فالأكثر على رفعه
(1)، ومنهم: أبو توبة الربيع بن نافع، وعبد الرحمن بن عبيد الله الحلبي، وحسين بن محمد المروزي، وأحمد بن عبد الملك، وخالفهم عبد الجبار بن عاصم الرقي فرواه عنه موقوفًا
(2)، والقول قول الأكثر والأوثق، ولو صح الموقوف فله حكم الرفع، فمثله لا يقال بالرأي كما قال ابن حجر
(3)، و الحديث جوَّده العراقي
(4)، والهيثمي
(5)، وقوَّاه ابن حجر، وصححه الألباني
(6).
--------------------------------------------
সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ সহীহ। উবায়দুল্লাহ ইবনে আমরের বর্ণনায় এটি মারফু হিসেবে হবে নাকি মাওকুফ হিসেবে, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; তবে অধিকাংশ বর্ণনাকারী এটি মারফু হিসেবে হওয়ার পক্ষেই মত দিয়েছেন
(১)। তাদের মধ্যে রয়েছেন: আবু তাওবাহ আর-রাবি ইবনে নাফে, আবদুর রহমান ইবনে উবায়দুল্লাহ আল-হালাবী, হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আল-মারওয়াযী এবং আহমাদ ইবনে আব্দুল মালিক। তাদের বিরোধিতা করেছেন আব্দুল জাব্বার ইবনে আসিম আল-রাক্কি; তিনি এটি তাঁর থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন
(২)। তবে অধিকাংশ ও অধিক নির্ভরযোগ্য রাবীদের বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য। আর যদি মাওকুফ বর্ণনাটি সহীহও হতো, তবুও তা মারফুর হুকুম রাখত; কারণ ইবনে হাজার যেমনটি বলেছেন, এই ধরনের বিষয় নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে বলা সম্ভব নয়
(৩)। ইরাকি
(৪) ও হাইসামি
(৫) হাদিসটিকে উত্তম বলেছেন, ইবনে হাজার একে শক্তিশালী বলেছেন এবং আলবানী একে সহীহ বলেছেন
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী যিকরি আহকামিশ শাইবি ওয়া বায়ানি ফাদলিহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ثانيًا: شرح ألفاظ الحديث:
قوله: (يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ قَوْمٌ يَخْتَضِبُونَ بِهَذَا السَّوَادِ): يختضبون: أي يغيرون لون شعرهم، والمقصود يغيرون الشيب بالسواد
(1).
قوله: (كَحَوَاصِلِ الْحَمَامِ): الحواصل: الصدور، وإن كانت الحوصلة المعِدة، ومعناه كحواصل الحمام في الغالب؛ لأن حواصل بعض الحمام ليست بسود
(2).
قوله: (لَا يَرِيحُونَ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ): لا يريحون: أي لا يشمون ولا يجدون رائحة الجنة، والمراد به التهديد، أو محمول على المستحل، أو مقيد بما قبل دخول الجنة من القبر، أو الموقف أو النار
(3).
* * *
13 - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: كُنَّا يَوْمًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَدَخَلَتْ عَلَيْهِ الْيَهُودُ، فَرَآهُمْ بِيضَ اللِّحَى، فَقَالَ: مَا لَكُمْ لَا تُغَيِّرُونَ؟ " فَقِيلَ: إِنَّهُمْ
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: হাদিসের শব্দাবলির ব্যাখ্যা:
তাঁর বাণী: (শেষ জামানায় এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে যারা এই কালো রঙ দ্বারা খিজাব লাগাবে): ‘ইয়াখতাদ্বিবুন’ (খিজাব লাগানো): অর্থাৎ তারা তাদের চুলের রঙ পরিবর্তন করবে, আর এর উদ্দেশ্য হলো বার্ধক্যের শুভ্রতাকে কালো রঙ দ্বারা পরিবর্তন করা
(১)।
তাঁর বাণী: (কবুতরের বুকের মতো): ‘আল-হাওয়াাসিল’: বুকসমূহ, যদিও ‘হাওয়াাসালাহ’ বলতে অন্নথলি বা পাকস্থলী বুঝায়। এর অর্থ হলো অধিকাংশ কবুতরের বুকের মতো; কারণ কিছু কবুতরের বুক কালো হয় না
(২)।
তাঁর বাণী: (তারা জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না): ‘লা ইয়ারীহুন’: অর্থাৎ তারা জান্নাতের সুঘ্রাণ পাবে না এবং তা অনুভব করবে না। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সতর্কবাণী বা ধমকি প্রদান করা, অথবা এটি ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে একে হালাল মনে করে, অথবা এটি জান্নাতে প্রবেশের পূর্ববর্তী সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন কবর, হাশরের ময়দান বা জাহান্নাম
(৩)।
* * *
১৩ - আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ছিলাম, এমতাবস্থায় ইহুদিরা তাঁর নিকট প্রবেশ করল। তিনি তাদের দাড়ি সাদা দেখলেন এবং বললেন: "তোমাদের কী হলো যে তোমরা (রঙ) পরিবর্তন করছ না?" তখন বলা হলো: "নিশ্চয় তারা
--------------------------------------------