(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث الواردة في العين حقيقتها والوقاية والعلاج   (حسين بن غازي التويجري)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: الأحاديث الواردة في العين حقيقتها والوقاية والعلاج جمعا ودراسة [بحث محكَّم]

المؤلف: أ. د. حسين بن غازي التويجري

الناشر: (الناشر المتميز- الرياض)، (دار النصيحة - المدينة النبوية)

الطبعة: الأولى، 1443 هـ - 2022 م

عدد الصفحات: 69

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1446

বদনজর সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ: এর হাকিকত, সুরক্ষা এবং চিকিৎসা   (হুসাইন ইবন গাজী আত-তুয়াইজিরী)

বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ


গ্রন্থ: বদনজর সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ: এর হাকিকত, সুরক্ষা এবং চিকিৎসা; সংকলন ও গবেষণা [পিয়ার-রিভিউড গবেষণা]

লেখক: প্রফে. ড. হুসাইন ইবন গাজী আত-তুয়াইজিরী

প্রকাশক: (আন-নাশির আল-মুতামায়িয- রিয়াদ), (দারুন নাসিহা - মদিনা আন-নাবাবিয়্যাহ)

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪৩ হিজরি - ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة:

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ به من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}(1)

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا}(2)

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}(3)

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران (102).

(2) سورة النساء (1).

(3) سورة الأحزاب (70 - 71).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা:

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ব্যতীত মৃত্যুবরণ করো না।}(১)

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে অনেক নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে চাও এবং আত্মীয়তার বন্ধন (ছিন্ন করা) থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।}(২)

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।}(৩)

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান (১০২)।

(২) সূরা আন-নিসা (১)।

(৩) সূরা আল-আহযাব (৭০ - ৭১)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ৬)
أما بعد:

الإنسان في هذه الحياة معرض لكثير من الآفات والشرور، ومما يكثر وقوعه، بل هو سبب بعد قضاءالله وقدره في موت كثير من أمة النبي صلى الله عليه وسلم العين(1)، ولأهمية هذا الأمر من حيث وجوده: هل يقع هذا؟ أم لا؟ وهل تؤثر العين بحيث يظهر أثر ذلك على جسد المعيون؟ وإن كان كذلك فأصيب بالعين هل بالإمكان التداوي منه؟ وحصول الشفاء بإذن الله؟ وهل يمكن للمسلم أن يتقيه؟

ومن أجل الإجابة على هذه التساؤلات، جاءت فكرة البحث، وجمعت الأحاديث الواردة في هذا الباب، وقمت بتخريجها، وشرحها، وذكر كلام أهل العلم فيها، وقد سميت البحث:

(الأحاديث الواردة في العين: حقيقتها، والوقاية، والعلاج)

جمعًا ودراسةً(2)

--------------------------------------------

(1) سيأتي تخريجه تحت حديث رقم (5).

(2) نشر هذا البحث في مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة للعلوم الشرعية: عدد (191)، الجزء الأول، السنة (53)، ربيع الثاني 1441 هـ، وانظره:

https:// journals.iu.edu.sa/ ILS/ Main/ DownloadIssue? IssueId=1179&DocFileId=2529
অতঃপর:

মানুষ এই ইহজীবনে বহুবিধ বিপদ-আপদ ও অনিষ্টের সম্মুখীন হয়। আর যা অধিক মাত্রায় সংঘটিত হয়, বরং আল্লাহর ফয়সালা ও তকদিরের পর যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের অনেকের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তা হলো নজর লাগা (আল-আইন)(১)। আর এই বিষয়টি বিদ্যমান থাকার গুরুত্বের বিচারে প্রশ্ন জাগে: এটি কি বাস্তবে ঘটে? নাকি ঘটে না? নজর কি এমনভাবে প্রভাবিত করে যে তার প্রভাব আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রকাশ পায়? আর যদি তাই হয় এবং কেউ নজরে আক্রান্ত হয়, তবে কি এর চিকিৎসা করা সম্ভব? এবং আল্লাহর অনুমতিতে আরোগ্য লাভ করা কি সম্ভব? আর একজন মুসলমানের পক্ষে কি তা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রদানের উদ্দেশ্যেই এই গবেষণার পরিকল্পনাটি এসেছে। আমি এই অধ্যায়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ সংগ্রহ করেছি এবং সেগুলোর তাখরিজ ও ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি এ বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য উল্লেখ করেছি। আমি এই গবেষণার নাম দিয়েছি:

(নজর লাগা প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদিসসমূহ: এর বাস্তবতা, প্রতিরোধ ও প্রতিকার)

সংকলন ও পর্যালোচনা(২)

--------------------------------------------

(১) এর তাখরিজ সামনে ৫ নম্বর হাদিসের অধীনে আসবে।

(২) এই গবেষণাটি মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শরয়ি বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে: সংখ্যা (১৯১), ১ম খণ্ড, ৫৩তম বর্ষ, রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরি; এবং দেখুন:

https:// journals.iu.edu.sa/ ILS/ Main/ DownloadIssue? IssueId=1179&DocFileId=2529
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الدراسات السابقة:

وقفت على بعض الدراسات والمؤلفات في هذا الباب، ويغلب عليها عدم التخصص بالجانب الحديثي، والاقتصار على عزو الأحاديث، ومن ذلك:

1 - فتح الحق المبين في علاج الصرع والسحر والعين للدكتور عبد الله بن محمد الطيار، وتوسع وفقه الله في قضية علاج هذه الأمراض ومن ضمنها العين، وربما ذكر بعض الأحاديث معزوة فقط.

2 - الإصابة بالعين حقيقتها، أسبابها، مظاهرها، الوقاية والعلاج لخالد بن عبد الرحمن الشايع، وهو بحث مختصر لايتجاوز الثماني عشرة صفحة، ولذلك لم يتجاوز وفقه الله عزو الأحاديث القليلة التي ذكرها مع ذكر بعض أحكام أهل العلم.

3 - المنهل المعين في إثبات حقيقة السحر والعين لأسامة بن ياسين المعاني، وانصب عمل الباحث وفقه الله على إثبات حقيقة الحسد وكذا العين، ولم يتوسع في ذكر الأحاديث، وإذا ذكر شيئًا ذكره على سبيل العزو فقط.

4 - العين الحاسدة دراسة شرعية للدكتور حمدان بن محمد
পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:

আমি এই বিষয়ে কিছু গবেষণা ও গ্রন্থ সম্পর্কে অবগত হয়েছি। এগুলোর অধিকাংশের ওপর হাদিসশাস্ত্রীয় বিশেষায়িত দৃষ্টিভঙ্গির চেয়ে সাধারণ আলোচনার প্রভাব বেশি এবং এগুলো হাদিসসমূহের সূত্র উল্লেখের (তাহরিজ) মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তার মধ্যে কয়েকটি হলো:

১ - ডক্টর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আত-তাইয়ার রচিত ‘ফাতহুল হাক্কিল মুবিন ফি ইলাজিস সারয়ি ওয়াস সিহরি ওয়াল আইন’। আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন, তিনি এই রোগসমূহের চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন যার অন্তর্ভুক্ত বদনজরও রয়েছে। তিনি কিছু হাদিস কেবল সূত্রসহ উল্লেখ করেছেন।

২ - খালিদ বিন আব্দুর রহমান আশ-শায়ি রচিত ‘আল-ইসাবাতু বিল আইন: হাকিকাতুহা, আসবাবুহা, মাজাহিরুহা, আল-উয়িকায়াতু ওয়াল ইলাজ’। এটি একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণা যা আঠারো পৃষ্ঠার বেশি নয়। এই কারণে, আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন, তিনি সেখানে কেবল অল্প কিছু হাদিস সূত্রসহ উল্লেখ করেছেন এবং সেই সাথে আলেমগণের কিছু সিদ্ধান্ত বর্ণনা করেছেন।

৩ - উসামা বিন ইয়াসিন আল-মাআনি রচিত ‘আল-মানহালুল মুয়িন ফি ইসবাত হাকিকাতুস সিহরি ওয়াল আইন’। গবেষক (আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন) মূলত হিংসা ও বদনজরের বাস্তবতা প্রমাণের ওপর মনোনিবেশ করেছেন। তিনি হাদিস বর্ণনায় বিস্তারিত যাননি এবং যা কিছু উল্লেখ করেছেন তা কেবল সূত্র উল্লেখের নিমিত্তেই করেছেন।

৪ - ডক্টর হামদান বিন মুহাম্মদ রচিত ‘আল-আইনুল হাসিদা: দিরাসাতুন শারইয়্যাহ’
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ৮)
الحمدان، وهي ليست دراسة حديثية بحتة، وإنما ذكر مؤلفها وفقه الله جملة من الأحاديث معزوة لمن أخرجها وذكر حكم من أحكام الأئمة عليها فقط، ثم انصب جلُّ الكتاب على ذكر أقسام العين، والعائن، والعين عند الشعوب الأخرى، وعلاقة العين بالسحر، وعلم النفس، ثم توسع بذكر الرقية وشروطها، وصفتها.

5 - العين حق لمحمد بن عبد المعطي سنجاب، وهذه الرسالة من أحسن ما ألف في هذا الباب، وإن لم يكن قصد مؤلفها وفقه الله التوسع بذكر الأحاديث في هذا الباب، بل كان همه ذكر كلام أهل العلم قديمًا وحديثًا في المسائل الفقهية المتعلقة بالعين، والحسد والغبطة والفرق بينهما، وعلامات الحسد، وكيف يقع الحسد، وحكم من قتل بعينه، ثم عرّج على الرقية وتعريفها ومشروعيتها، وشيئا من علاج المعيون، وبدع الرقاة، ورقية الحيوان وغيرها، ومما يميزه عن غيره عنايته بتخريج الأحاديث إذا عرض لها من غير قصد الإحصاء، ولأهمية هذا الكتاب وكونه ألصق المؤلفات ببحثي، عملت مقارنة بين البحثين، ووجدت أني زدت عليه ثمانية أحاديث لم يخرجها، ولم يتعرض لها، والله تعالى أعلم
আল-হামদান; এটি নিছক কোনো হাদিসভিত্তিক গবেষণা নয়, বরং এর লেখক—আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন—একগুচ্ছ হাদিস উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলো যারা সংকলন করেছেন তাদের উদ্ধৃতিসহ সেগুলোর ওপর ইমামগণের কোনো একটি সিদ্ধান্ত বা হুকুম মাত্র উল্লেখ করেছেন। অতঃপর বইটির অধিকাংশ জুড়ে বদনজরের প্রকারভেদ, বদনজরদাতা, অন্যান্য জাতির নিকট বদনজরের ধারণা এবং জাদু ও মনোবিজ্ঞানের সাথে বদনজরের সম্পর্কের আলোচনা স্থান পেয়েছে। এরপর তিনি রুকইয়াহ, এর শর্তাবলি ও পদ্ধতির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

৫ - মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুতি সিনজাব রচিত ‘আল-আইনু হাক্কুন’; এই রিসালাহটি এই বিষয়ে রচিত সর্বোত্তম কাজগুলোর অন্যতম। যদিও এর লেখকের—আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন—উদ্দেশ্য এই বিষয়ে হাদিসসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া ছিল না, বরং তার মূল লক্ষ্য ছিল বদনজর, হিংসা ও ঈর্ষা (গিবতাহ) এবং এই দুয়ের পার্থক্য সংক্রান্ত ফিকহি মাসয়ালাগুলো সম্পর্কে প্রাচীন ও আধুনিক আলেমদের বক্তব্য উল্লেখ করা। এছাড়া হিংসার লক্ষণসমূহ, হিংসা কীভাবে সংঘটিত হয়, যে ব্যক্তি তার বদনজরের মাধ্যমে কাউকে হত্যা করে তার হুকুম ইত্যাদি আলোচনা করা হয়েছে। অতঃপর তিনি রুকইয়াহর সংজ্ঞা, এর বৈধতা, বদনজরগ্রস্ত ব্যক্তির চিকিৎসার কিছু পদ্ধতি, রুকইয়াহ পাঠকারীদের বিদআতসমূহ, পশুর রুকইয়াহ এবং অন্যান্য বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিষয়টিকে পরিসংখ্যানের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্য না থাকা সত্ত্বেও প্রাসঙ্গিকভাবে কোনো হাদিস আসলে সেটির তাখরিজের (উৎস নির্দেশ) প্রতি তার বিশেষ যত্ন তাকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র করেছে। এই কিতাবটির গুরুত্ব এবং আমার গবেষণার সাথে এর নিবিড় সম্পর্কের কারণে আমি উভয় গবেষণার মধ্যে একটি তুলনা করেছি এবং দেখেছি যে, আমি এতে এমন অতিরিক্ত আটটি হাদিস যুক্ত করেছি যা তিনি বর্ণনা করেননি এবং সেগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌خطة البحث:

قسمت البحث إلى مقدمة، ومبحثين، وخاتمة:

فالمقدمة ذكرت فيها أهمية هذا البحث، وخطة البحث، والمنهج الذي سرت عليه في جمع أحاديث الموضوع، وطريقة تخريج الأحاديث.

فالمبحث الأول: ويحتوي على مطالب ثلاثة:

المطلب الأول: تعريف العين لغةً، واصطلاحًا.

المطلب الثاني: الفرق بين الحاسد والعائن.

المطلب الثالث: ذكر العين في القرآن.

والمبحث الثاني: ويحتوي على ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: الأحاديث الواردة في إثبات الإصابة بالعين.

المطلب الثاني: الأحاديث الواردة في الاحتراز من العين.

المطلب الثالث: الأحاديث الواردة في الاستشفاء من العين.

والخاتمة: ذكرت فيها أهم النتائج التي توصلت إليها من خلال هذا البحث، ثم وضعت فهرسًا للمصادر والمراجع، وآخر للموضوعات.
গবেষণা পরিকল্পনা:

আমি গবেষণাপত্রটিকে একটি ভূমিকা, দুটি পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি:

ভূমিকায় আমি এই গবেষণার গুরুত্ব, গবেষণা পরিকল্পনা, এই বিষয়ের হাদিসসমূহ সংগ্রহে অনুসৃত পদ্ধতি এবং হাদিসের তাখরিজ (উৎস যাচাই) পদ্ধতি উল্লেখ করেছি।

প্রথম পরিচ্ছেদ: এটি তিনটি অনুচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে নজরের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: হিংসুক ও নজর প্রদানকারীর মধ্যে পার্থক্য।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কুরআনে নজরের উল্লেখ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এটি তিনটি অনুচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: নজর লাগা সাব্যস্ত হওয়া বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নজর থেকে সতর্কতা অবলম্বন বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: নজর থেকে আরোগ্য লাভ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ।

উপসংহার: এতে আমি এই গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ উল্লেখ করেছি, তারপর উৎস ও তথ্যসূত্র এবং বিষয়সূচির একটি নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌منهج البحث:

أولًا: جمعت الأحاديث من مصادر السنة المسندة، على الطريقة التالية:

أ - إن كان الحديث في الصحيحين، أو أحدهما، اكتفيت بالعزو لهما، وربما عزوت إلى السنن الأربعة أو لغيرها من أجل فائدة إسنادية أو متنية.

ب - فإن لم يكن الحديث في الصحيحين أو أحدهما، عزوته لأصحاب السنن الأربعة، مع الحكم عليه، وربما عزوته لغير السنن من أجل فائدة في الإسناد، أو في المتن.

ج- وإن لم يكن في السنن الأربعة أو في أحدها خرجته من بقية الكتب مرتبًا في العزو على سنة الوفاة، مع الحكم عليه، بعد ذكر المتابعات والشواهد إن احتاج الأمر إلى ذلك، ولا أستوعب جميع من أخرج الحديث، طلبًا للاختصار.

د- أذكر ما وقفت عليه من أحكام أهل العلم على الحديث من غير قصد الاستيعاب.

ثانيًا: الترجمة لرجال الإسناد ممن يقتضي المقام الترجمة لهم، على النحو التالي:
গবেষণার পদ্ধতি:

প্রথমত: আমি হাদীসের মূল সূত্র সংবলিত (মুসনাদ) সুন্নাহর উৎসসমূহ থেকে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে হাদীসসমূহ সংগ্রহ করেছি:

ক - হাদীসটি যদি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) বা এই দুটির কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি কেবল তাদের দিকেই হাওয়ালা বা সম্বন্ধ করেছি। কোনো সনদগত বা মতনগত (পাঠ্যগত) উপকারের জন্য কখনও কখনও চার সুনান গ্রন্থ বা অন্য কোনো গ্রন্থের হাওয়ালাও প্রদান করেছি।

খ - হাদীসটি যদি সহীহাইন বা এই দুটির কোনোটিতে না থাকে, তবে আমি তার হুকুম (মান) বর্ণনাসহ চার সুনান গ্রন্থকারদের দিকে তা সম্বন্ধ করেছি। সনদ বা মতনের কোনো বিশেষত্বের কারণে কখনও সুনান ব্যতীত অন্য কিতাবের দিকেও সম্বন্ধ করেছি।

গ- যদি হাদীসটি চার সুনান বা তার কোনো একটিতেও না থাকে, তবে আমি অন্যান্য কিতাব থেকে সেটি বের করেছি (তাখরীজ করেছি) এবং গ্রন্থকারদের মৃত্যুসন অনুযায়ী হাওয়ালা সাজিয়েছি। প্রয়োজনবোধে মুতাবাআত (সমর্থনকারী সনদ) এবং শাওয়াহিদ (সাক্ষ্য প্রদানকারী হাদীস) উল্লেখ করার পর হাদীসটির হুকুম বর্ণনা করেছি। তবে সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে আমি হাদীসটি যারা বর্ণনা করেছেন তাদের সকলকে অন্তর্ভুক্ত করিনি।

ঘ- হাদীসটির ব্যাপারে আলেমগণের যেসব হুকুম বা সিদ্ধান্ত আমি জানতে পেরেছি তা সবিস্তারে উল্লেখ করার উদ্দেশ্য ছাড়াই বর্ণনা করেছি।

দ্বিতীয়ত: পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে যাদের জীবনী উল্লেখ করা প্রয়োজন, সনদের সেই বর্ণনাকারীদের পরিচিতি নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে উপস্থাপন করেছি:
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ১১)
أ - إذا كان الراوي من رجال الكتب الستة، فأكتفي بكلام الحافظ ابن حجر في التقريب، ما لم يظهر لي خلافه، فحينئذ أذكر بعضًا من كلام أئمة الجرح والتعديل في تأييد ما ظهر لي من حال هذا الراوي.

ب- إذا لم يكن الراوي من رجال التقريب، فإني أعرِّف به من مظانِّ ترجمته بإيجاز، ثم أذكر خلاصة الحكم عليه.

ثالثًا: بيان معاني الكلمات الغريبة.

رابعًا: أذكر كلام شراح الحديث في بيان معنى الحديث، وتوجيههم له، وربما ذكرت بعض الفوائد المتعلقة المستنبطة من الحديث.

خامسًا: ضبط الكلمات والأسماء المشكلة.

سادسًا: الالتزام بعلامات الترقيم.

وأسأل الله التوفيق والسداد، وأن يجعل أعمالنا صالحة، ولوجهه خالصة، وهذا وقت البدء بالمقصود، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.

* * *
ক - বর্ণনাকারী যদি ‘কুতুবে সিত্তাহ’-র অন্তর্ভুক্ত হন, তবে আমি হাফেজ ইবনে হাজার-এর ‘তাকরিব’ গ্রন্থের বক্তব্যের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকব, যতক্ষণ না এর বিপরীত কিছু আমার কাছে স্পষ্ট হয়। এমতাবস্থায় আমি উক্ত বর্ণনাকারীর অবস্থা সম্পর্কে আমার কাছে যা প্রকাশ পেয়েছে তার সমর্থনে জারহ ও তা’দিলের ইমামগণের কিছু বক্তব্য উল্লেখ করব।

খ- বর্ণনাকারী যদি ‘তাকরিব’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত না হন, তবে আমি তাঁর জীবনচরিতের মূল উৎসগুলো থেকে সংক্ষেপে তাঁর পরিচয় পেশ করব এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সারসংক্ষেপ উল্লেখ করব।

তৃতীয়ত: অপরিচিত শব্দাবলির অর্থ বর্ণনা করা।

চতুর্থত: হাদিসের মর্মার্থ ব্যাখ্যায় এবং তার দিকনির্দেশনায় হাদিস বিশারদগণের আলোচনা উল্লেখ করব এবং কখনও কখনও হাদিস থেকে উদ্ভূত সংশ্লিষ্ট কিছু শিক্ষা উল্লেখ করব।

পঞ্চমত: জটিল শব্দ ও নামসমূহের উচ্চারণ নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা।

ষষ্ঠত: বিরামচিহ্নের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা।

আমি আল্লাহর কাছে তাওফিক ও সঠিক পথনির্দেশনা প্রার্থনা করছি এবং তিনি যেন আমাদের আমলগুলোকে নেক আমল হিসেবে কবুল করেন এবং তা কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করেন। আর এটিই মূল বিষয় শুরু করার সময়। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।

* * *
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌المبحث الأول: ويحتوي على مطالب ثلاثة:

‌‌المطلب الأول: تعريف العين:

‌‌في اللغة:

العين: حاسة البصر والرؤية، تكون للإنسان وغيره من الحيوان، والجمع أعين وعيون وأعيان، وتصغيرها عيينة، وتطلق على معان كثيرة، منها: الباصرة، وعين الشمس، وعين الماء، والجاسوس .. ورجل معيان وعيون: شديد الإصابة بالعين .. يقال: أصابت فلانا عين إذا نظر إليه عدو، أو حسود فأثرت فيه فمرض بسببها(1).

 

‌‌وفي الاصطلاح:

قال أبو عبد الله بن أبي نصر الحميدي: "نظر باستحسان مَا يُؤثر فِي المنظور إِلَيْهِ، وَيُقَال عنت الرجل إِذا أصبته بِعَيْنِك فَهُوَ معِين ومعيون وَالْفَاعِل عائن"(2).

--------------------------------------------

(1) انظر: الصحاح للجوهري (6/ 2170)، ولسان العرب (13/ 301).

(2) تفسير غريب ما في الصحيحين ص 171.
প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

‌প্রথম অনুচ্ছেদ: আইনের (নজর) সংজ্ঞা:

‌আভিধানিক অর্থে:

আইন: এটি দেখা ও দৃষ্টিশক্তির ইন্দ্রিয়, যা মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর থাকে। এর বহুবচন হলো আ'ইউন, উয়ুন এবং আ'ইয়ান। এর ক্ষুদ্রার্থবাচক রূপ হলো উয়াইনাহ। এটি অনেক অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছে: দর্শনেন্দ্রিয়, সূর্যের চাকতি, পানির ঝরনা এবং গুপ্তচর। আর 'মায়ইয়ান' এবং 'উয়ুন' বলা হয় সেই ব্যক্তিকে, যার নজর দেওয়ার ক্ষমতা অত্যন্ত তীব্র। বলা হয়ে থাকে: "অমুক ব্যক্তি নজর লেগেছে" যখন কোনো শত্রু বা হিংসুক ব্যক্তি তার দিকে তাকায় এবং এর ফলে সে প্রভাবিত হয় ও সেই কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

 

‌পারিভাষিক অর্থে:

আবু আব্দুল্লাহ বিন আবু নাসর আল-হুমাইদি বলেন: "পছন্দ বা প্রশংসার দৃষ্টিতে দেখা যা দৃষ্ট বস্তুর ওপর প্রভাব ফেলে। আর বলা হয় 'আনতুর রাজুলা' (আমি লোকটিকে নজর দিয়েছি) যখন তুমি তোমার চোখ দিয়ে তাকে আক্রান্ত করো। তখন আক্রান্ত ব্যক্তিকে 'মায়ীন' ও 'মা'ইউন' বলা হয় এবং নজর দানকারীকে 'আইন' বলা হয়।"

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-জিউহারি প্রণীত আস-সিহাহ (৬/ ২১৭০) এবং লিসানুল আরব (১৩/ ৩০১)।

(২) তাফসিরু গারিব মা ফিস সাহিহাইন, পৃষ্ঠা ১৭১।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقال ابن القيم: "وهي سهام تخرج من نفس الحاسد والعائن نحو المحسود والمعين تصيبه تارة، وتخطئه تارة .. "(1).

وقال ابن حجر: "والعين نظر باستحسان مشوب بحسد من خبيث الطبع يحصل للمنظور منه ضرر"(2).

* * *

 

‌‌المطلب الثاني: الفرق بين الحاسد والعائن:

قال ابن القيم: " والعاين والحاسد يشتركان في شيء ويفترقان في شيء فيشتركان في أن كل واحد منهما تتكيف نفسه وتتوجه نحو من يريد أذاه فالعائن تتكيف نفسه عند مقابلة المعين ومعاينته والحاسد يحصل له ذلك عند غيب المحسود وحضوره أيضًا ويفترقان في أن العائن قد يصيب من لا يحسده من جماد أو حيوان أو زرع أو مال وإن كان لا يكاد ينفك من حسد صاحبه وربما أصابت عينه نفسه فإن رؤيته للشيء رؤية تعجب وتحديق مع تكيف نفسه بتلك الكيفية تؤثر في المعين .. "(3).

--------------------------------------------

(1) زاد المعاد (4/ 154).

(2) فتح الباري (10/ 200).

(3) بدائع الفوائد (2/ 231).
ইবনুল কায়্যিম বলেন: "তা হলো এমন কিছু তীর যা হিংসুক এবং বদনজরকারীর নফস থেকে হিংসাকৃত ও বদনজরে আক্রান্ত ব্যক্তির দিকে বের হয়ে আসে; কখনো তা তাকে আঘাত করে, আবার কখনো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়..."(১).

ইবনে হাজার বলেন: "বদনজর হলো অনিষ্ট স্বভাবের কোনো ব্যক্তির হিংসামিশ্রিত প্রশংসার দৃষ্টি, যার ফলে যাকে দেখা হয়েছে তার ক্ষতি সাধিত হয়"(২).

* * *

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হিংসুক এবং বদনজরকারীর মধ্যে পার্থক্য:

ইবনুল কায়্যিম বলেন: "বদনজরকারী এবং হিংসুক একটি বিষয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং অন্য বিষয়ে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। তাদের সাদৃশ্য হলো—তাদের প্রত্যেকেরই নফস একটি বিশেষ অবস্থার রূপ নেয় এবং যাকে কষ্ট দিতে চায় তার দিকে ধাবিত হয়। তবে বদনজরকারীর নফস এই রূপ ধারণ করে তখন, যখন সে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সরাসরি দেখে বা তার মুখোমুখি হয়। পক্ষান্তরে হিংসুকের ক্ষেত্রে এটি হিংসাকৃত ব্যক্তির অনুপস্থিতি ও উপস্থিতি উভয় অবস্থাতেই ঘটে থাকে। আর তাদের মধ্যে পার্থক্য হলো, বদনজরকারী এমন কিছুকেও আক্রান্ত করতে পারে যার প্রতি তার হিংসা নেই; যেমন জড় পদার্থ, পশু, শস্য বা ধন-সম্পদ—যদিও এটি তার মালিকের প্রতি হিংসা থেকে খুব কমই মুক্ত থাকে। এমনকি অনেক সময় তার নিজের নজর নিজের ওপরও পড়ে যায়। কারণ কোনো বস্তুর প্রতি তার এই দৃষ্টি হলো বিস্ময় এবং একদৃষ্টিতে চেয়ে থাকার বহিঃপ্রকাশ, যা তার নফসের সেই বিশেষ অবস্থার সাথে মিলে আক্রান্ত বস্তুর ওপর প্রভাব ফেলে..."(৩).

--------------------------------------------

(১) জাদুল মাআদ (৪/ ১৫৪)।

(২) ফাতহুল বারী (১০/ ২০০)।

(৩) বাদাইউল ফাওয়ায়িদ (২/ ২৩১)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال أيضًا: " ونفس العائن لا يتوقف تأثيرها على الرؤية، بل قد يكون أعمى، فيوصف له الشيء فتؤثر نفسه فيه، وإن لم يره، وكثير من العائنين يؤثر في المعين بالوصف من غير رؤية … فكل عائن حاسد، وليس كل حاسد عائنًا(1) .. "(2).

* * *

 

‌‌المطلب الثالث: ذكر العين في القرآن:

أولًا: قال تعالى: {وَقَالَ يَابَنِيَّ لَا تَدْخُلُوا مِنْ بَابٍ وَاحِدٍ وَادْخُلُوا مِنْ أَبْوَابٍ مُتَفَرِّقَةٍ وَمَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنَ اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَعَلَيْهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُتَوَكِّلُونَ}(3).

--------------------------------------------

(1) لا يلزم ذلك، فقد يعين الرجل نفسه وماله وولده ولا يتصور الحسد هنا، وقد ذكر هو رحمه الله في بدائع الفوائد (2/ 753) ما يؤيد ذلك ويزيل ما قد يشكل من هذا النص، فقال: "النظر الذي يؤثر في المنظور قد يكون بسببه شده العداوة والحسد فيؤثر نظره في كما تؤثر نفسه بالحسد ويقوى تأثير النفس عند المقابلة … وقد يكون سببه الإعجاب وهو الذي يسمونه بإصابة العين وهو أن الناظر يرى الشيء رؤية إعجاب به أو استعظام فتتكيف روحه بكيفية خاصة تؤثر في المعين وهذا هو الذي يعرفه الناس من رؤية المعين فإنهم يستحسنون الشيء ويعجبون منه فيصاب بذلك".

(2) زاد المعاد (4/ 154).

(3) سورة يوسف (67).
তিনি আরও বলেন: "এবং কুনজরদাতার নফসের প্রভাব কেবল দেখার ওপর নির্ভর করে না, বরং সে অন্ধও হতে পারে, ফলে তার কাছে কোনো জিনিসের বর্ণনা দেওয়া হলে তার নফস সেটির ওপর প্রভাব বিস্তার করে, যদিও সে তা দেখেনি। অনেক কুনজরদাতা দেখার পরিবর্তে বর্ণনার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর প্রভাব ফেলে … সুতরাং প্রত্যেক কুনজরদাতা হলো হিংসুক, কিন্তু প্রত্যেক হিংসুক কুনজরদাতা নয়(১) .. "(২).

* * *

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনে কুনজরের উল্লেখ:

প্রথমত: আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং তিনি বললেন, হে আমার পুত্রগণ! তোমরা এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করো না, বরং ভিন্ন ভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশ করো। আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে আমি তোমাদের কোনো উপকারে আসব না। বিধান কেবল আল্লাহরই। তাঁরই ওপর আমি ভরসা করছি এবং ভরসাকারীদের উচিত তাঁরই ওপর ভরসা করা}(৩).

--------------------------------------------

(১) এটি আবশ্যক নয়, কারণ একজন ব্যক্তি তার নিজের প্রতি, তার সম্পদের প্রতি এবং তার সন্তানের প্রতি কুনজর দিতে পারে, আর এখানে হিংসার বিষয়টি কল্পনা করা যায় না। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) 'বাদায়েউল ফাওয়াইদ' (২/ ৭৫৩) গ্রন্থে এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা এই বিষয়টিকে সমর্থন করে এবং এই বক্তব্যের অস্পষ্টতা দূর করে। তিনি বলেন: "যে দৃষ্টি আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর প্রভাব ফেলে, তা কখনও তীব্র শত্রুতা ও হিংসার কারণে হতে পারে, ফলে হিংসার কারণে তার নফস যেভাবে প্রভাব ফেলে, তার দৃষ্টিও সেভাবে প্রভাব ফেলে এবং মুখোমুখি হওয়ার সময় নফসের প্রভাব আরও শক্তিশালী হয় … আবার কখনও এর কারণ হতে পারে মুগ্ধতা, যাকে মানুষ কুনজর লাগা বলে থাকে। আর তা হলো, দর্শক কোনো জিনিসের প্রতি মুগ্ধ হয়ে বা তাকে অনেক বড় মনে করে দেখে, ফলে তার রূহ এক বিশেষ অবস্থায় রূপ নেয় যা আক্রান্ত বস্তুর ওপর প্রভাব ফেলে। কুনজর লাগার ব্যাপারে মানুষ এটাই জানে যে, তারা কোনো জিনিসকে পছন্দ করে এবং তাতে মুগ্ধ হয়, ফলে তা আক্রান্ত হয়।"

(২) যাদুল মাআদ (৪/ ১৫৪)।

(৩) সূরা ইউসুফ (৬৭)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ১৫)
يخبر الله تعالى عن يعقوب، عليه السلام: إنه أمر بنيه لما جهزهم مع أخيهم بنيامين إلى مصر، ألا يدخلوا كلهم من باب واحد، وليدخلوا من أبواب متفرقة، فإنه كما جاء عن ابن عباس، ومحمد بن كعب، ومجاهد، والضحاك، وقتادة، والسدي: إنه خشي عليهم العين، وذلك أنهم كانوا ذوي جمال وهيئة حسنة، ومنظر وبهاء، فخشي عليهم أن يصيبهم الناس بعيونهم؛ فإن العين حق، تستنزل الفارس عن فرسه(1).

ثانيًا: قال تعالى: {وَإِنْ يَكَادُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَيُزْلِقُونَكَ بِأَبْصَارِهِمْ لَمَّا سَمِعُوا الذِّكْرَ وَيَقُولُونَ إِنَّهُ لَمَجْنُونٌ}(2).

(ليزلقونك) أي ينفذونك بأبصارهم كما جاء عن ابن عباس ومجاهد، ومعناه أي يعينوك بأبصارهم، وفي هذه الآية دليل على أن العين إصابتها وتأثيرها حق، بأمر الله، عز وجل .. "(3).

* * *

--------------------------------------------

(1) اانظر: تفسير القرآن العظيم لابن كثير (4/ 400).

(2) سورة القلم (51).

(3) اانظر: تيسير الكريم المنان للسعدي (8/ 201).
মহান আল্লাহ ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে: তিনি যখন তাঁর সন্তানদের তাঁদের ভাই বিন ইয়ামিনের সাথে মিসরের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করলেন, তখন তিনি তাঁদের নির্দেশ দিলেন যেন তাঁরা সবাই একটি প্রবেশপথ দিয়ে প্রবেশ না করেন, বরং তাঁরা যেন ভিন্ন ভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে প্রবেশ করেন। কারণ ইবনে আব্বাস, মুহাম্মদ বিন কাব, মুজাহিদ, দাহহাক, কাতাদাহ এবং সুদ্দী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: তিনি তাঁদের ব্যাপারে বদনজরের আশঙ্কা করেছিলেন। আর তা এই কারণে যে, তাঁরা অত্যন্ত সৌন্দর্য, সুঠাম দেহ এবং চমৎকার চেহারার অধিকারী ছিলেন। ফলে তিনি ভয় পাচ্ছিলেন যে মানুষ তাঁদেরকে নজর লাগিয়ে দিতে পারে; কেননা নজর লাগা সত্য, যা একজন অশ্বারোহীকে তার ঘোড়া থেকে নিচে নামিয়ে ফেলে(১).

দ্বিতীয়ত: মহান আল্লাহ বলেন: "আর কাফিররা যখন উপদেশবাণী শোনে, তখন তারা যেন তাদের দৃষ্টি দিয়ে আপনাকে আছাড় দিয়ে ফেলে দেবে, আর তারা বলে যে, নিশ্চয়ই সে তো এক উন্মাদ"(২).

(লাইউযলিকূনাকা) অর্থাৎ তারা তাদের দৃষ্টির মাধ্যমে আপনাকে বিদ্ধ করবে যেমনটি ইবনে আব্বাস ও মুজাহিদ থেকে বর্ণিত হয়েছে। এর অর্থ হলো তারা তাদের দৃষ্টি দিয়ে আপনার ওপর নজর লাগাবে। আর এই আয়াতে এই বিষয়ে প্রমাণ রয়েছে যে, বদনজর লাগা এবং তার প্রভাব মহান আল্লাহর নির্দেশে সত্য .. "(৩).

* * *

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে কাসীর কৃত তাফসীরুল কুরআনিল আযীম (৪/ ৪০০)।

(২) সূরা আল-কালাম (৫১)।

(৩) দেখুন: সাদী কৃত তায়সীরুল কারীমিল মান্নান (৮/ ২০১)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المبحث الثاني: ويحتوي على ثلاثة مطالب:

‌‌المطلب الأول: الأحاديث الواردة في إثبات الإصابة بالعين:

1 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "الْعَيْنُ حَقٌّ. وَنَهَى عَنِ الْوَشْمِ".

التخريج: أخرجه البخاري(1)، ومسلم(2)، وأحمد(3) وزاد: " وَيَحْضُرُ بِهَا الشَّيْطَانُ وَحَسَدُ ابْنِ آدَمَ"، وزيادة أحمد ضعيفة، فمكحول لم يسمع من أبي هريرة(4).

شرح ألفاظ الحديث:

قوله: (الْعَيْنُ حَقٌّ): أي الإصابة بالعين شيء ثابت موجود، أو هو من جملة ما تحقق كونه(5). قال المازري: أخذ الجمهور

--------------------------------------------

(1) الصحيح (7/ 132، 5740).

(2) الصحيح (4/ 1719، 2187).

(3) المسند (15/ 417، 9668).

(4) جامع التحصيل ص 285.

(5) فتح الباري (10/ 203).
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এটি তিনটি অনুচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:

‌প্রথম অনুচ্ছেদ: বদনজর লাগা সত্য হওয়ার বর্ণনায় আগত হাদিসসমূহ:

১ - আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "বদনজর লাগা সত্য। এবং তিনি উল্কি আঁকতে নিষেধ করেছেন।"

তাহরিজ: এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি(১), মুসলিম(২), এবং আহমাদ(৩); আহমাদ আরও বৃদ্ধি করেছেন: "এবং এর সাথে শয়তান এবং আদম সন্তানের হিংসা উপস্থিত হয়।" আহমাদের এই অতিরিক্ত অংশটি দুর্বল; কারণ মাকহুল আবু হুরায়রা থেকে কোনো হাদিস শোনেননি(৪)।

হাদিসের শব্দাবলির ব্যাখ্যা:

তাঁর বাণী: (বদনজর লাগা সত্য): অর্থাৎ বদনজর লাগার বিষয়টি একটি প্রতিষ্ঠিত ও বিদ্যমান বিষয়, অথবা এটি এমন সব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যার অস্তিত্ব সুনিশ্চিত হয়েছে(৫)। আল-মাযিরি বলেছেন: জুমহুর (অধিকাংশ আলেম) গ্রহণ করেছেন...

--------------------------------------------

(১) আস-সহিহ (৭/ ১৩২, ৫৭৪০)।

(২) আস-সহিহ (৪/ ১৭১৯, ২১৮৭)।

(৩) আল-মুসনাদ (১৫/ ৪১৭, ৯৬৬৮)।

(৪) জামিউত তাহসিল, পৃষ্ঠা ২৮৫।

(৫) ফাতহুল বারি (১০/ ২০৩)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ১৭)
بظاهر الحديث، وأنكره طوائف المبتدعة لغير معنى؛ لأن كل شيء ليس محالًا في نفسه ولا يؤدي إلى قلب حقيقة ولا إفساد دليل، فهو من متجاوزات العقول، فإذا أخبر الشرع بوقوعه لم يكن لإنكاره معنى، وهل من فرق بين إنكارهم هذا وإنكارهم ما يخبر به من أمورالآخرة(1).

قوله: (وَنَهَى عَنِ الْوَشْمِ): الوشم أن يغرز الجلد بإبرة، ثم يحشى بكحل أو نيل، فيَزرَقّ أثَرُه أَوْ يَخْضَرُّ(2).

قوله: (" وَيَحْضُرُ بِهَا الشَّيْطَانُ وَحَسَدُ ابْنِ آدَمَ"): فإن الشيطان يحضرها بالإعجاب بالشيء، وحسد ابن آدم بغفلته عن الله(3).

قال ابن القيم: " والشيطان يقارن الساحر والحاسد ويحادثهما ويصاحبها ولكن الحاسد تعينه الشياطين بلا استدعاء منه للشيطان لأن الحاسد شبيه بإبليس وهو في الحقيقة من أتباعه لأنه يطلب ما يحبه الشيطان من فساد الناس وزوال نعم الله عنهم .. "(4).

* * *

--------------------------------------------

(1) المعلم (3/ 155).

(2) النهاية (5/ 189).

(3) التيسير بشرح الجامع الصغير (2/ 159).

(4) بدائع الفوائد (2/ 758). ويحسن مراجعته فقد أطال حول هذا الأمر فأجاد وأفاد كما هي عادته رحمه الله.
হাদিসের বাহ্যিক অর্থের ভিত্তিতে, এবং বিদআতি দলগুলো কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একে অস্বীকার করেছে; কারণ যা কিছু স্বয়ং অসম্ভব নয় এবং যা কোনো বাস্তবতাকে পরিবর্তন করে দেয় না কিংবা কোনো দলিলের অবমাননা করে না, তা বিবেকের ঊর্ধ্বের বিষয়। সুতরাং যখন শরিয়ত এর সংঘটিত হওয়া সম্পর্কে সংবাদ দেয়, তখন তা অস্বীকার করার কোনো মানে হয় না। তাদের এই অস্বীকার এবং পরকালের বিষয়াবলি সম্পর্কে যা জানানো হয়েছে তা অস্বীকার করার মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে?(১).

তাঁর বাণী: (এবং তিনি উল্কি আঁকতে নিষেধ করেছেন): উল্কি হলো সুচ দিয়ে চামড়ায় ছিদ্র করা, তারপর তাতে সুরমা বা নীল ভরে দেওয়া, ফলে তার চিহ্নটি নীল বা সবুজ বর্ণ ধারণ করে।(২).

তাঁর বাণী: ("তার সাথে শয়তান এবং আদমসন্তানের হিংসা উপস্থিত হয়"): শয়তান কোনো জিনিসের প্রতি মুগ্ধ হওয়ার মাধ্যমে সেখানে উপস্থিত হয়, আর আদমসন্তানের হিংসা উপস্থিত হয় আল্লাহর প্রতি তার উদাসীনতার কারণে।(৩).

ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বলেন: "শয়তান জাদুকর ও হিংসুক ব্যক্তির সাথে যুক্ত থাকে, তাদের সাথে কথোপকথন চালায় এবং তাদের সাহচর্য অবলম্বন করে। তবে হিংসুক ব্যক্তিকে শয়তানরা তার পক্ষ থেকে কোনো প্রকার আহ্বান ছাড়াই সাহায্য করে। কারণ হিংসুক ব্যক্তি ইবলিসের সদৃশ এবং প্রকৃতপক্ষে সে তার অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত। কেননা সে মানুষের অনিষ্ট হওয়া এবং তাদের ওপর থেকে আল্লাহর নেয়ামত চলে যাওয়া কামনা করে, যা শয়তান পছন্দ করে..."(৪).

* * *

--------------------------------------------

(১) আল-মুয়াল্লিম (৩/ ১৫৫)।

(২) আন-নিহায়া (৫/ ১৮৯)।

(৩) আত-তাইসির বিশারহি আল-জামি' আস-সাগির (২/ ১৫৯)।

(৪) বাদায়েউল ফাওয়ায়েদ (২/ ৭৫৮)। এটি পুনরায় দেখে নেওয়া উত্তম হবে, কারণ তিনি এই বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং তাঁর স্বভাবসুলভ অত্যন্ত চমৎকার ও উপকারী আলোচনা পেশ করেছেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ১৮)
2 - عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "الْعَيْنُ حَقٌّ، وَلَوْ كَانَ شَيْءٌ سَابِقَ الْقَدَرِ سَبَقَتْهُ الْعَيْنُ، وَإِذَا اسْتُغْسِلْتُمْ فَاغْسِلُوا".

التخريج: أخرجه مسلم(1)، وهذا لفظه، وجاءت في الحديث زيادة لفظة: "يَسْتَنْزِلُ الْحَالِقَ" أخرجها أحمد(2) من طريق عبد الله بن الوليد، والبزار(3) من طريق الحسين ابن حفص، والطبراني(4) من طريق أبي حذيفة موسى بن مسعود، والحاكم(5) من طريق عبد الرحمن بن مهدي كلهم عن سفيان الثوري، عن دويد، عن إسماعيل بن ثوبان، عن جابر بن زيد، عن ابن عباس به، وفي إسناده دويد البصري قال فيه أبو حاتم: "شيخ لين"(6)، وذكره الأزدي في الضعفاء وقال لايصح حديثه وساق له هذا الحديث(7)، وخالف الجماعةَ عن الثوري محمدُ بن عبد الله بن

--------------------------------------------

(1) الصحيح (4/ 1719، 2188).

(2) المسند (4/ 418، 2680).

(3) مسند البزار (11/ 418، 5271).

(4) المعجم الكبير (12/ 184، 12833).

(5) المستدرك (4/ 215، 7498).

(6) الجرح والتعديل (3/ 438).

(7) لسان الميزان (2/ 433).
২ - ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নজর লাগা সত্য। যদি কোনো কিছু তাকদীরকে অতিক্রম করতে পারত, তবে বদনজর তা অতিক্রম করত। আর যখন তোমাদের (নজরের চিকিৎসার জন্য) ধৌত করতে বলা হয়, তখন তোমরা ধৌত করবে।"

তাখরীজ: এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন(১) এবং এটি তাঁর শব্দ। হাদীসটিতে একটি অতিরিক্ত অংশ এসেছে: "তা সুউচ্চ পাহাড়কে নিচে নামিয়ে দেয়"। এটি ইমাম আহমাদ(২) আবদুল্লাহ ইবনে আল-ওয়ালিদের সূত্রে, আল-বাযযার(৩) আল-হুসাইন ইবনে হাফসের সূত্রে, আত-তাবারানি(৪) আবু হুযাইফাহ মূসা ইবনে মাসউদের সূত্রে এবং আল-হাকিম(৫) আবদুর রহমান ইবনে মাহদীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা সকলে সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি দুওয়াইদ থেকে, তিনি ইসমাঈল ইবনে সাওবান থেকে, তিনি জাবির ইবনে যায়িদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাসের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদে দুওয়াইদ আল-বাসরি রয়েছেন, যাঁর সম্পর্কে আবু হাতিম বলেছেন: "তিনি একজন নমনীয় (দুর্বল) শায়খ"(৬)। আল-আযদি তাঁকে দুর্বল বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং বলেছেন যে, তাঁর হাদীস সহীহ নয় এবং তিনি এই হাদীসটি তাঁর সূত্রে উল্লেখ করেছেন(৭)। আর মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে... আস-সাওরী থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে জামাআত বা অধিকাংশ বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আস-সহীহ (৪/ ১৭১৯, ২১৮৮)।

(২) আল-মুসনাদ (৪/ ৪১৮, ২৬৮০)।

(৩) মুসনাদ আল-বাযযার (১১/ ৪১৮, ৫২৭১)।

(৪) আল-মুজাম আল-কাবীর (১২/ ১৮৪, ১২৮৩৩)।

(৫) আল-মুস্তাদরাক (৪/ ২১৫, ৭৪৯৮)।

(৬) আল-জারহু ওয়াত-তাদীল (৩/ ৪৩৮)।

(৭) লিসানুল মীযান (২/ ৪৩৩)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الزبير فقال عن الثوري، عن رجل، عن جابر بن زيد به، أخرجه أحمد(1)، ولكن قال فيه ابن حجر: " ثقة ثبت إلا أنه قد يخطئ في حديث الثوري(2) "، وهذا منه، وقد خالف الجماعة عنه، فالقول قولهم، والله أعلم.

شرح ألفاظ الحديث:

قوله: (الْعَيْنُ حَقٌّ، وَلَوْ كَانَ شَيْءٌ سَابِقَ الْقَدَرِ سَبَقَتْهُ الْعَيْنُ "): كالمؤكد لقوله (العين حق)، وفيه تنبيه على سرعة نفوذها وتأثيرها في الذوات(3).

والمعنى: لو أمكن أن يسبق القدر شيء، فيؤثر في إفناء شيء وزواله قبل أوانه المقدر له سبقت العينُ القدرلكنها لا تسبق القدر فإنه تعالى قدر المقادير قبل الخلق(4).

قال النووي: " ومعناه أن الأشياء كلها بقدر الله تعالى ولا تقع إلا على حسب ما قدرها الله تعالى وسبق بها علمه فلايقع ضرر

--------------------------------------------

(1) المسند (4/ 281، 2477).

(2) التقريب (6017).

(3) شرح المشكاة للطيبي (9/ 2961).

(4) التيسير بشرح الجامع الصغير (2/ 159).
যুবায়ের সওরী থেকে, তিনি এক ব্যক্তি থেকে, তিনি জাবির ইবনে যায়িদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি আহমাদ(১) সংকলন করেছেন। তবে ইবনে হাজার তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি বিশ্বস্ত ও সুদৃঢ়, তবে সওরীর হাদিস বর্ণনায় তিনি ভুল করে থাকতে পারেন(২)"। এটিও তেমনই একটি বিষয়, এবং তিনি এ ক্ষেত্রে জামাআতের (অধিকাংশ বর্ণনাকারীর) বিরোধিতা করেছেন। সুতরাং জামাআতের বক্তব্যই সঠিক বা অগ্রগণ্য। আল্লাহই ভালো জানেন।

হাদিসের শব্দাবলির ব্যাখ্যা:

তাঁর উক্তি: ("নজর লাগা সত্য; আর যদি কোনো কিছু তাকদিরকে ছাড়িয়ে যেতে পারত, তবে নজর লাগাই তাকদিরকে ছাড়িয়ে যেত"): এটি তাঁর 'নজর লাগা সত্য' উক্তিটির জন্য তাকিদ বা নিশ্চয়তাস্বরূপ। এতে সত্তাসমূহের মধ্যে এর দ্রুত প্রভাব বিস্তার ও ক্রিয়াশীলতা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে(৩)।

অর্থ হলো: যদি কোনো কিছুর পক্ষে তাকদিরকে ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হতো এবং তা কোনো বস্তুর ধ্বংস ও বিনাশে তার নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই প্রভাব ফেলতে পারত, তবে নজর লাগাই তাকদিরকে ছাড়িয়ে যেত। কিন্তু এটি তাকদিরকে ছাড়িয়ে যেতে পারে না, কেননা মহান আল্লাহ সৃষ্টির পূর্বেই সকল তাকদির নির্ধারণ করে রেখেছেন(৪)।

ইমাম নববী বলেছেন: "এর অর্থ হলো, সকল বিষয় মহান আল্লাহর তাকদির অনুযায়ী সম্পন্ন হয় এবং মহান আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন এবং তাঁর জ্ঞানে যা আগে থেকেই রয়েছে, তা ছাড়া কিছুই ঘটে না। সুতরাং কোনো ক্ষতি সংঘটিত হয় না

--------------------------------------------

(১) আল-মুসনাদ (৪/ ২৮১, ২৪৭৭)।

(২) আত-তাকরীব (৬০১৭)।

(৩) তিবী প্রণীত শারহুল মিশকাত (৯/ ২৯৬১)।

(৪) আত-তায়সীর বি-শারহিল জামিইস সগীর (২/ ১৫৯)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ২০)
العين ولاغيره من الخير والشر إلابقدر الله تعالى وفيه صحة أمر العين وأنها قوية الضرر والله أعلم"(1).

قوله: (وَإِذَا اسْتُغْسِلْتُمْ فَاغْسِلُوا(2): أي إذا أمر العاين بما اعتيد عندهم من غسل أطرافه وما تحت إزاره وتصب غسالته على المعيون، فليفعل ندبًا، وقيل وجوبًا(3).

* * *

 

3 - عَنْ حَيَّةَ بْنُ حَابِسٍ التَّمِيمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "لَا شَيْءَ فِي الْهَامِ، وَالْعَيْنُ حَقٌّ".

التخريج: أخرجه الترمذي(4)، وأحمد(5)، والبخاري(6) وزادا: "وَأَصْدَقُ الطَّيَرِ الْفَأْلُ". وقال الترمذي: "وحديث حية بن حابس حديث غريب، وروى شيبان، عن يحيى بن أبي كثير، عن حية بن

--------------------------------------------

(1) المنهاج (14/ 174).

(2) سيأتي ذكر صفة الغسل عند حديث (22).

(3) التيسير بشرح الجامع الصغير (2/ 159).

(4) الجامع (4/ 397، 2061).

(5) المسند (27/ 181، 16627).

(6) الأدب المفرد (914).
নজর লাগা অথবা অন্য কোনো কল্যাণ বা অকল্যাণ কেবল মহান আল্লাহর ফয়সালা অনুসারেই ঘটে থাকে। এতে নজর লাগার বিষয়টি সত্য হওয়া এবং এর ক্ষতি যে অত্যন্ত প্রবল—এ বিষয়ের সত্যতা প্রমাণিত হয়। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন(১)।

তাঁর বাণী: (আর যখন তোমাদের ধোয়ার অনুরোধ করা হয়, তখন তোমরা ধৌত করো)(২): অর্থাৎ যখন নজরদাতাকে তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং পরিধেয় বস্ত্রের (ইজার) ভেতরের অংশ ধৌত করার জন্য আদেশ করা হয় যা তাদের নিকট প্রচলিত এবং সেই ধোয়া পানি নজর লাগা ব্যক্তির ওপর ঢেলে দেওয়া হয়; তবে সে যেন তা করে। এটি করা মুস্তাহাব, আর কারো কারো মতে এটি ওয়াজিব(৩)।

* * *

 

৩ - হাইয়্যাহ ইবনে হাবিস আত-তামিমি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "পেঁচা বা অশুভ লক্ষণের কোনো ভিত্তি নেই, আর নজর লাগা সত্য।"

উৎস পরিচিতি: এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিজি(৪), আহমাদ(৫) এবং বুখারি(৬); আর তাঁরা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: "আর সবচেয়ে সত্য শুভ লক্ষণ হলো ফাল (উত্তম বাক্য)।" তিরমিজি বলেছেন: "হাইয়্যাহ ইবনে হাবিসের হাদিসটি গরিব, আর শায়বান এটি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি হাইয়্যাহ ইবনে..." থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আল-মিনহাজ (১৪/ ১৭৪)।

(২) ২২ নম্বর হাদিসের আলোচনায় ধৌত করার পদ্ধতির বিবরণ সামনে আসবে।

(৩) আত-তাইসির বিশারহি জামিইস সগির (২/ ১৫৯)।

(৪) আল-জামি (৪/ ৩৯৭, ২০৬১)।

(৫) আল-মুসনাদ (২৭/ ১৮১, ১৬৬২৭)।

(৬) আল-আদাবুল মুফরাদ (৯১৪)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ২১)
حابس، عن أبيه، عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم. وعلي بن المبارك وحرب بن شداد لا يذكران فيه: عن أبي هريرة. "، قلت: صحح ابن حجر رواية علي بن المبارك، وحرب بن شداد(1)، ومع هذا كله ففي إسناده حية بن حابس مقبول(2) ولم يتابع، ووجه الشاهد منه، يشهد له ما سبق من الأحاديث، والله أعلم، وقال الهيثمي: " وفيه حية بن حابس، لم يرو عنه غير يحيى، وبقية رجاله ثقات"(3)، وصححه لغيره الألباني(4).

شرح ألفاظ الحديث:

قوله: (لَا شَيْءَ فِي الْهَامِ، وَالْعَيْنُ حَقٌّ): الهامة هي بتخفيف الميم على المشهور وقيل بتشديدها، وفيها تأويلان أحدهما أن العرب كانت تتشاءم بها وهي الطائر المعروف من طير الليل، وقيل: هي البومة قالوا كانت إذا سقطت على دار أحدهم فيراها ناعية له نفسه أو بعض أهله، وهذا تفسير مالك بن أنس.

--------------------------------------------

(1) الإصابة (1/ 285).

(2) التقريب (1602).

(3) مجمع الزوائد (5/ 181، 8416).

(4) الصحيحة (2949).
হাবিস, তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আলী বিন মুবারক এবং হারব বিন শাদ্দাদ এতে 'আবু হুরায়রা থেকে' কথাটি উল্লেখ করেননি। "আমি বলছি: ইবনে হাজার আলী বিন মুবারক এবং হারব বিন শাদ্দাদের বর্ণনাকে সহীহ বলেছেন(১), আর এ সব সত্ত্বেও এর সনদে হাইয়্যাহ বিন হাবিস রয়েছেন যিনি মাকবুল(২) এবং তার কোনো সমর্থক বর্ণনা নেই। এর সাক্ষ্যের দিকটি হলো, পূর্ববর্তী হাদিসগুলো একে সমর্থন করে, আর আল্লাহই ভালো জানেন। হাইসামি বলেছেন: "এতে হাইয়্যাহ বিন হাবিস রয়েছেন, তার থেকে ইয়াহইয়া ব্যতীত কেউ বর্ণনা করেননি, তবে এর বাকি বর্ণনাকারীরা বিশ্বস্ত"(৩), আর আলবানী একে অন্য বর্ণনার ভিত্তিতে সহীহ বলেছেন(৪)।

হাদিসের শব্দাবলির ব্যাখ্যা:

তার উক্তি: (হাম-এর অশুভত্বের কোনো ভিত্তি নেই, আর নজর লাগা সত্য): 'হামাহ' শব্দটি প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী মিম বর্ণে তাশদীদ ছাড়া, আবার কেউ কেউ তাশদীদসহ বলেছেন। এতে দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে; একটি হলো আরবগণ একে অশুভ লক্ষণ মনে করত এবং এটি রাতের পাখিদের মধ্যে একটি পরিচিত পাখি। বলা হয়েছে: এটি প্যাঁচা। তারা বলত যে, এটি যখন তাদের কারও বাড়ির ওপর বসত, তখন সে এটিকে নিজের বা তার পরিবারের কারও মৃত্যুর সংবাদবাহক মনে করত, আর এটিই মালিক বিন আনাসের ব্যাখ্যা।

--------------------------------------------

(১) আল-ইসাবাহ (১/ ২৮৫)।

(২) আত-তাকরীব (১৬০২)।

(৩) মাজমাউয যাওয়াইদ (৫/ ১৮১, ৮৪১৬)।

(৪) আস-সহীহাহ (২৯৪৯)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ২২)
والثاني أن العرب كانت تعتقد أن عظام الميت وقيل روحه ينقلب هامة تطير وهذا تفسير أكثر العلماء وهو المشهور، ويجوز أن يكون المراد النوعين فإنهما جميعا باطلان فبين النبي صلى الله عليه وسلم إبطال ذلك وضلالة الجاهلية فيما يعتقده من ذلك(1).

قوله: (وَأَصْدَقُ الطَّيَرِ الْفَأْلُ): مدح الفأل دون الطيرة، لأن التشاؤم سوء ظن بالله بغير سبب محقق، والتفاؤل حسن ظن به، والمؤمن مأمور بحسن الظن بالله على كل حال"(2).

* * *

 

4 - عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ الْعَيْنَ لَتُولَعُ الرَّجُلَ بِإِذْنِ الله، حَتَّى يَصْعَدَ حَالِقًا، ثُمَّ يَتَرَدَّى مِنْهُ.

التخريج: أخرجه أحمد(3)، والبزار(4)، والطبراني(5)، وقال العراقي(6)،

--------------------------------------------

(1) انظر: تحفة الأحوذي (6/ 186).

(2) انظر: التوشيح شرح الجامع الصحيح (8/ 3541).

(3) المسند (35/ 228، 21302).

(4) البحر الزخار (9/ 386، 3972).

(5) المعجم الأوسط (6/ 119، 5977).

(6) طرح التثريب (8/ 198).
দ্বিতীয়ত, আরবরা বিশ্বাস করত যে, মৃত ব্যক্তির হাড়—কিংবা বলা হয়েছে তার রূহ—একটি পেঁচায় (হামাহ্) পরিণত হয় যা উড়ে বেড়ায়। অধিকাংশ আলেমের ব্যাখ্যা এটাই এবং এটিই প্রসিদ্ধ। এমনও হতে পারে যে উভয় প্রকারই উদ্দেশ্য, কারণ উভয়টিই বাতিল। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসারতা এবং এ বিষয়ে জাহেলি যুগের বিশ্বাসগত পথভ্রষ্টতা স্পষ্ট করেছেন(১).

তাঁর বাণী: (আর সবচেয়ে সত্য সগুন হলো শুভলক্ষণ): এখানে শুভলক্ষণের প্রশংসা করা হয়েছে, অশুভ লক্ষণ গ্রহণের নয়। কারণ অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করা হলো কোনো সুনিশ্চিত কারণ ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করা, আর শুভলক্ষণ গ্রহণ করা হলো তাঁর প্রতি সুধারণা পোষণ করা। মুমিন ব্যক্তি সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করতে আদিষ্ট"(২).

* * *

 

৪ - আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই নজর (বুনজর) আল্লাহর অনুমতিতে মানুষকে এমনভাবে আক্রান্ত করে যে, এমনকি সে কোনো উঁচু স্থানে আরোহণ করে এবং তারপর সেখান থেকে নিচে পড়ে যায়।

তাহরিজ: এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ(৩), বাজ্জার(৪) এবং তাবারানি(৫), আর ইরাকি বলেছেন(৬),

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তুহফাতুল আহওয়াযী (৬/ ১৮৬)।

(২) দেখুন: আত-তাওশীহ শারহু জামিইস সহীহ (৮/ ৩৫৪১)।

(৩) আল-মুসনাদ (৩৫/ ২২৮, ২১৩০২)।

(৪) আল-বাহরুয যাখখার (৯/ ৩৮৬, ৩৯৭২)।

(৫) আল-মুজামুল আওসাত (৬/ ১১৯, ৫৯৭৭)।

(৬) তরাহুত তাসরীব (৮/ ১৯৮)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ২৩)
والهيثمي(1): " رجال إسناده ثقات"، قلت: وهو كذلك غير محجن الراوي عن أبي ذر ولم يرو عنه سوى أبي حرب بن أبي الأسود ولم يوثقه أحد، وذكره ابن حبان في الثقات(2)، وقال: "شيخ"، وله شاهدان يتقوى بهما، الأول من حديث ابن عباس، وفي إسناده دويد البصري وهو ضعيف كما تقدم بيانه(3)، والآخر من حديث جابر بلفظ: " إِنَّ الْعَيْنَ لَتُدْخِلُ الرَّجُلَ الْقَبْرَ"، وسيأتي بعد ذلك(4)، والحديث قوّاه الألباني بشواهده(5).

شرح ألفاظ الحديث:

قوله: (إِنَّ الْعَيْنَ لَتُولَعُ الرَّجُلَ بِإِذْنِ الله، حَتَّى يَصْعَدَ حَالِقًا، ثُمَّ يَتَرَدَّى مِنْهُ):

أي إن عين العائن من إنس أو جن (لتولع) أي تعلق، وتولع: بضم المثناة الفوقية من أولع به أغرى به، ويحتمل أنه من ولع كوجل أي استخف أي حمله على الخفة والجهل وأزاله عما كان عليه من الصواب أي أن العين ستخف الرجل فتخرجه عن الصواب.

--------------------------------------------

(1) مجمع الزوائد (5/ 183، 8421).

(2) الثقات (5/ 448).

(3) حديث رقم (2).

(4) حديث رقم (5).

(5) الصحيحة (889).
এবং হাইসামি(১) বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য", আমি বলি: বিষয়টি তেমনই, তবে মিহজান নামক বর্ণনাকারী ব্যতীত, যিনি আবু যর থেকে বর্ণনা করেছেন। তার থেকে আবু হারব বিন আবু আল-আসওয়াদ ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি এবং কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য (তাক্বদিল) বলেননি। তবে ইবনে হিব্বান তাকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন(২) এবং বলেছেন: "শাইখ"। এর দুটি সাক্ষী (সমর্থক বর্ণনা) রয়েছে যা দ্বারা এটি শক্তিশালী হয়; প্রথমটি ইবনে আব্বাসের হাদিস থেকে, যার সনদে দুওয়াইদ আল-বাসরি রয়েছেন এবং তিনি দুর্বল যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে(৩)। অন্যটি জাবিরের হাদিস থেকে যার শব্দ হলো: "নিশ্চয়ই বদনজর মানুষকে কবরে প্রবেশ করায়", যা সামনে বিস্তারিত আসবে(৪)। আলবানি তার সাক্ষীগুলোর মাধ্যমে হাদিসটিকে শক্তিশালী বলেছেন(৫)।

হাদিসের শব্দসমূহের ব্যাখ্যা:

তাঁর বাণী: (নিশ্চয়ই বদনজর আল্লাহর নির্দেশে মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে, এমনকি সে কোনো উঁচু পাহাড়ে আরোহণ করে, অতঃপর সেখান থেকে নিচে পড়ে যায়):

অর্থাৎ মানুষ বা জিনের মধ্য থেকে কুদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির নজর (লেতুলাউ) অর্থাৎ আচ্ছন্ন করে বা লেগে যায়। 'তুলাউ' শব্দটি প্রথম বর্ণে পেশ যোগে, যার অর্থ কোনো কিছুর প্রতি প্রলুব্ধ করা বা আসক্ত করা। আবার এটিও হতে পারে যে এটি 'উলা' ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ হালকা করা বা তুচ্ছ জ্ঞান করা। অর্থাৎ এটি তাকে লঘুতা ও অজ্ঞতার দিকে ধাবিত করে এবং সে যে সঠিক অবস্থায় ছিল তা থেকে তাকে বিচ্যুত করে। এর সারকথা হলো, বদনজর মানুষকে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য করে ফেলে, ফলে তাকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে দেয়।

--------------------------------------------

(১) মাজমাউয যাওয়াইদ (৫/ ১৮৩, ৮৪২১)।

(২) আস-সিকাত (৫/ ৪৪৮)।

(৩) হাদিস নং (২)।

(৪) হাদিস নং (৫)।

(৫) আস-সহিহাহ (৮৮৯)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ২৪)
(بالرجل) أي الكامل الرجولية، فالمرأة، ومن في سن الطفولية أولى. (بإذن الله تعالى) أي بتمكينه وأقداره. (حتى يصعد حالقًا) أي جبلًا عاليًا. (ثم يتردى) أي يسقط منه(1).

* * *

 

5 - عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ جَابِرٍ، عَنْ أَبِيهِ رضي الله عنه قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «جُلُّ مَنْ يَمُوتُ مِنْ أُمَّتِي، بَعْدَ قَضَاءِ اللهِ وَكِتَابِهِ وَقَدَرِهِ، بِالْأَنْفُسِ» يَعْنِي: بِالْعَيْنِ.

التخريج: أخرجه أبو داود الطيالسي(2) عن طالب بن حبيب، عن عبد الرحمن بن جابر به، ومن طريق الطيالسي أخرجه ابن أبي عاصم(3)، والبزار(4)، والطحاوي(5)، وإسناده حسن فيه طالب بن حبيب الأنصاري المشهور بابن الضجيع صدوق يهم(6)،

--------------------------------------------

(1) انظر: التيسير (1/ 297)، والتنوير (3/ 516).

(2) المسند (3/ 317، 1868).

(3) السنة (1/ 136، 311).

(4) كشف الأستار (3/ 403، 3052)، وإتحاف الخيرة (4/ 455، 3928).

(5) شرح مشكل الآثار (7/ 338، 2900).

(6) التقريب (3007).
(পুরুষ দ্বারা) অর্থাৎ পূর্ণ পুরুষত্ব সম্পন্ন ব্যক্তি; সুতরাং নারী এবং যারা শৈশব বয়সে আছে তারা (এই বিধানের) অধিকতর উপযুক্ত। (আল্লাহ তাআলার অনুমতিক্রমে) অর্থাৎ তাঁর সামর্থ্য প্রদান ও নির্ধারণের মাধ্যমে। (যাতে সে কোনো উঁচুতে আরোহণ করে) অর্থাৎ কোনো সুউচ্চ পাহাড়ে। (অতঃপর সে সেখান থেকে পড়ে যায়) অর্থাৎ সেখান থেকে নিক্ষিপ্ত হয়(১).

* * *

 

৫ - আবদুর রহমান বিন জাবির তাঁর পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহর ফয়সালা, তাঁর লিপি এবং তাঁর তাকদিরের পর আমার উম্মতের যারা মৃত্যুবরণ করে, তাদের অধিকাংশই 'আনফুস' এর কারণে মারা যায়» অর্থাৎ: কুদৃষ্টির কারণে।

তাখরিজ: এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ তায়ালিসি(২) তালিব বিন হাবিব থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন জাবির থেকে এই সূত্রে। তায়ালিসির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন ইবন আবি আসিম(৩), আল-বাজার(৪) এবং আত-তহাবি(৫)। এর সনদ হাসান; এতে তালিব বিন হাবিব আল-আনসারি রয়েছেন যিনি ইবনুল দজি' নামে পরিচিত, তিনি সত্যবাদী তবে কখনো কখনো বিভ্রান্ত হতেন(৬),

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আত-তায়সির (১/ ২৯৭), এবং আত-তানভির (৩/ ৫১৬)।

(২) আল-মুসনাদ (৩/ ৩১৭, ১৮৬৮)।

(৩) আস-সুন্নাহ (১/ ১৩৬, ৩১১)।

(৪) কাশফুল আসতার (৩/ ৪০৩, ৩০৫২), এবং ইতহাফুল খায়রাহ (৪/ ৪৫৫, ৩৯২৮)।

(৫) শারহু মুশকিলিল আসার (৭/ ৩৩৮, ২৯০০)।

(৬) আত-তাকরিব (৩০০৭)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ২৫)
والحديث قال عنه الهيثمي(1)، والسخاوي(2): " رجاله ثقات"، وحسَّن إسناده ابن حجر(3)، والشوكاني(4)، والألباني(5) قلت: نعم رجاله ثقات سوى طالب بن حبيب فهو صدوق كما تقدم.

* * *

 

6 - عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ، قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: نِصْفُ مَا يُحْفَرُ لِأُمَّتِي مِنَ الْقُبُورِ مِنَ الْعَيْنِ".

التخريج: أخرجه الطبراني(6)، وفي إسناده علي بن عروة القرشي الدمشقي متروك(7)، وضعف إسناده جدًا العراقي(8)، وحكم عليه بالوضع الألباني(9).

قال ابن القيم: "فأبطلت طائفة ممن قل نصيبهم من السمع

--------------------------------------------

(1) مجمع الزوائد (5/ 183، 8423).

(2) المقاصد الحسنة (145).

(3) فتح الباري (10/ 204).

(4) نيل الأوطار (8/ 248).

(5) الصحيحة (747).

(6) المعجم الكبير (24/ 155، 399).

(7) التقريب (4771).

(8) طرح التثريب (8/ 198).

(9) الضعيفة (1648).
এবং হাদিসটি সম্পর্কে হাইসামি(১) ও সাখাভী(২) বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য", এবং ইবনে হাজার(৩), শাওকানী(৪) ও আলবানী(৫) এর সনদকে হাসান (উত্তম) বলেছেন। আমি বলছি: হ্যাঁ, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, কেবল তালিব বিন হাবিব ব্যতীত; তিনি সত্যবাদী (সাদুক) যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

* * *

 

৬ - আসমা বিনতে উমাইস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আমার উম্মতের জন্য কবরের যে অংশটি খনন করা হয়, তার অর্ধেকই বদনজরের কারণে (হয়ে থাকে)।"

তাখরিজ: তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন(৬), আর এর সনদে আলী বিন উরওয়াহ আল-কুরাশি আদ-দিমাশকি রয়েছেন যিনি পরিত্যক্ত (মাতরুক)(৭), ইরাকি এর সনদকে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন(৮) এবং আলবানী একে জাল হওয়ার রায় দিয়েছেন(৯)।

ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "যাদের শ্রুতির (নকলি দলিলের) জ্ঞান অত্যন্ত সামান্য, এমন একদল লোক বাতিল প্রতিপন্ন করেছে...

--------------------------------------------

(১) মাজমাউয যাওয়ায়েদ (৫/ ১৮৩, ৮৪২৩)।

(২) আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ (১৪৫)।

(৩) ফাতহুল বারী (১০/ ২০৪)।

(৪) নাইলুল আওতার (৮/ ২৪৮)।

(৫) আস-সহিহাহ (৭৪৭)।

(৬) আল-মু'জামুল কাবীর (২৪/ ১৫৫, ৩৯৯)।

(৭) আত-তাক্বরীব (৪৭৭১)।

(৮) তারহুত তাসরীব (৮/ ১৯৮)।

(৯) আদ-দয়ীফাহ (১৬৪৮)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ২৬)
والعقل أمر العين، وقالوا: إنما ذلك أوهام لا حقيقة له، وهؤلاء من أجهل الناس بالسمع والعقل، ومن أغلظهم حجابًا، وأكثفهم طباعًا، وأبعدهم معرفة عن الأرواح والنفوس. وصفاتها وأفعالها وتأثيراتها، وعقلاء الأمم على اختلاف مللهم ونحلهم لا تدفع أمر العين، ولا تنكره، وإن اختلفوا في سبب وجهة تأثير العين … "(1).

* * *

 

‌‌المطلب الثاني: الأحاديث الواردة في الاحتراز من العين:

‌‌الاستعاذة بالله من العين:

7 - عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم: " اسْتَعِيذُوا بِاللهِ مِنَ الْعَيْنِ؛ فَإِنَّ الْعَيْنَ حَقٌّ".

التخريج: أخرجه ابن ماجه(2)، والطبراني(3)، والحاكم(4) وفي إسناده

--------------------------------------------

(1) زاد المعاد (4/ 152 - 154)، وقد توسع رحمه الله في هذا المبحث ولولا خشية الإطالة لنقلته كاملًا، فليراجع فإنه مهم جدًا.

(2) السنن (2/ 1159، 3508).

(3) المعجم الأوسط (6/ 107، 5945).

(4) المستدرك (4/ 215، 7497).
এবং বিবেকও বদনজরের বিষয়টিকে সমর্থন করে, কিন্তু তারা বলে: এটি কেবলই বিভ্রম, এর কোনো বাস্তবতা নেই। এরা হলো শ্রবণলব্ধ জ্ঞান এবং বিবেক-বুদ্ধির বিচারে মানুষের মাঝে সবচেয়ে অজ্ঞ, তাদের অন্তরের আবরণ অত্যন্ত পুরু, তাদের প্রকৃতি অত্যন্ত স্থূল এবং আত্মা ও নফস, তাদের বৈশিষ্ট্য, কার্যাবলি ও প্রভাব সম্পর্কে তাদের জ্ঞান সবচেয়ে ভাসা-ভাসা। অথচ বিভিন্ন জাতি ও ধর্মাদর্শের জ্ঞানী ব্যক্তিরা বদনজরের বিষয়টি অস্বীকার করেন না এবং একে প্রত্যাখ্যানও করেন না, যদিও বদনজরের প্রভাবের কারণ ও স্বরূপ নিয়ে তাদের মাঝে মতভেদ রয়েছে … "(১).

* * *

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বদনজর থেকে বেঁচে থাকার ব্যাপারে বর্ণিত হাদিসসমূহ:

‌‌বদনজর থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা:

৭ - আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা বদনজর থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো; কারণ বদনজর সত্য।"

হাদিস বিশ্লেষণ: এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজাহ(২), তাবারানি(৩) এবং হাকেম(৪) এবং এর সনদে

--------------------------------------------

(১) জাদুল মাআদ (৪/ ১৫২ - ১৫৪), তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন; দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কায় তা পূর্ণাঙ্গ উদ্ধৃত করা হয়নি। তাই এটি দেখে নেওয়া উচিত, কারণ এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

(২) আস-সুনান (২/ ১১৫৯, ৩৫০৮)।

(৩) আল-মুজামুল আওসাত (৬/ ১০৭, ৫৯৪৫)।

(৪) আল-মুসতাদরাক (৪/ ২১৫, ৭৪৯৭)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ২৭)
أبو واقد الليثي ضعيف(1)، والجملة الثانية ثابتة كما مر معنا في أول البحث، وبقي الجملة الأولى (اسْتَعِيذُوا بِاللهِ مِنَ الْعَيْنِ) فلها شاهد من حديث كعب بن مالك باللفظ نفسه، أخرجه الخرائطي(2) وفي إسناده ابن كعب مبهمًا، وأبو معشر نجيح بن عبد الرحمن ضعيف(3) وأسن واختلط، ويشهد لها أيضًا تعويذ النبي صلى الله عليه وسلم للحسن والحسين بقوله: " أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ" أخرجه البخاري كما سيأتي بعد ذلك، والحديث صححه الحاكم، ووافقه الذهبي(4)، والألباني(5).

شرح ألفاظ الحديث:

أرشد رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى دفع شر العين بالاستعاذة وعلمهم كيفية الاستعاذة وألفاظها كثيرة قد اشتملت عليها كتب السنة وظاهر الحديث أنه يكفيه أن يقول أعوذ بالله من العين.

واعلم أن الاستعاذة بمنزلة الدرع على المعين فإن سهام العائن

--------------------------------------------

(1) التقريب (2885).

(2) مكارم الأخلاق (1053).

(3) التقريب (7100).

(4) تلخيصه على المستدرك.

(5) الصحيحة (737).
আবু ওয়াকিদ আল-লাইসি একজন দুর্বল বর্ণনাকারী(১) এবং দ্বিতীয় বাক্যটি সাব্যস্ত হয়েছে যেমনটি গবেষণার শুরুতে আমাদের সামনে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর প্রথম বাক্যটি অবশিষ্ট থাকল—(তোমরা নজর লাগা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও)—একই শব্দে কাব ইবনে মালিকের বর্ণিত হাদিসটি এর সাক্ষী হিসেবে রয়েছে, যা আল-খারাতি বর্ণনা করেছেন(২)। এর সনদে ইবনে কাব অস্পষ্ট রয়েছেন এবং আবু মাশার নাজিহ ইবনে আবদুর রহমান দুর্বল বর্ণনাকারী(৩), তিনি অধিক বয়স্ক হয়েছিলেন এবং স্মৃতিবিভ্রমের শিকার হয়েছিলেন। হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বলে আশ্রয় প্রার্থনা করাও এর সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়: "আমি তোমাদের উভয়কে আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে প্রতিটি শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং অনিষ্টকর নজর থেকে আশ্রয় দিচ্ছি।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন যেমনটি সামনে আসবে। আর হাদিসটিকে হাকিম সহিহ বলেছেন এবং জাহাবি(৪) ও আলবানি(৫) তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

হাদিসের শব্দসমূহের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশ্রয়ের (ইস্তিয়াজা) মাধ্যমে নজরের অনিষ্টতা দূর করার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং তাঁদের আশ্রয় চাওয়ার পদ্ধতি শিখিয়েছেন। এর শব্দাবলি অনেক যা সুন্নাহর কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে। হাদিসের বাহ্যিক দিক থেকে বোঝা যায় যে, নজর থেকে বাঁচতে 'আমি আল্লাহর কাছে নজর লাগা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি' বলা তার জন্য যথেষ্ট হবে।

জেনে রাখুন যে, আশ্রয় প্রার্থনা (ইস্তিয়াজা) নজর আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য বর্মের মতো; কেননা নজরদাতার তীর

--------------------------------------------

(১) আত-তাকরিব (২৮৮৫)।

(২) মাকারিমুল আখলাক (১০৫৩)।

(৩) আত-তাকরিব (৭১০০)।

(৪) আল-মুস্তাদরাকের ওপর তাঁর তালখিস।

(৫) আস-সহিহাহ (৭৩৭)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ২৮)
بمثابة السهام الحقيقية فإن وجد البدن خاليًا والرجل غير مستعيذ يقذفه سهم نفسه الخبيثة وإن وجده خلاف ذلك لم يؤثر فيه(1).

* * *

 

‌‌تعويذ الأولاد بالله من العين:

8 - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُعَوِّذُ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ وَيَقُولُ إِنَّ أَبَاكُمَا كَانَ يُعَوِّذُ بِهَا إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ".

التخريج: أخرجه البخاري(2).

شرح ألفاظ الحديث:

قوله: (كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُعَوِّذُ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ): يُعَوِّذُ بضم الياء وكسر الواو الثقيلة وذال معجمة أي يطلب من الله عصمة(3).

قوله: (وَيَقُولُ إِنَّ أَبَاكُمَا): يريد إبراهيم عليه السلام وسماه أبًا

--------------------------------------------

(1) التنوير (2/ 326).

(2) الصحيح (4/ 147، 3371).

(3) عون المعبود (9/ 2009).
এগুলো প্রকৃত তিরের ন্যায়। সুতরাং শরীরকে যদি (জিকির ও সুরক্ষা হতে) খালি পাওয়া যায় এবং ব্যক্তিটি আল্লাহর নিকট আশ্রয়প্রার্থনাকারী না হয়, তবে তার খবিস নফসের তির তাকে বিদ্ধ করে; আর যদি বিষয়টি এর বিপরীত হয়, তবে তা তার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না(১)।

* * *

 

‌‌সন্তানদেরকে বদনজর থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে রাখা:

৮ - ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসান ও হুসাইনকে আল্লাহর আশ্রয়ে সোপর্দ করতেন এবং বলতেন, "তোমাদের পিতা (ইবরাহিম আলাইহিস সালাম) এই দোয়ার মাধ্যমে ইসমাইল ও ইসহাককে আল্লাহর আশ্রয়ে দিতেন: 'আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের উসিলায় প্রত্যেক শয়তান, বিষধর প্রাণী এবং প্রত্যেক অনিষ্টকারী বদনজর থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি'।"

তাখরিজ: এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন(২)。

হাদিসের শব্দাবলির ব্যাখ্যা:

তাঁর বাণী: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসান ও হুসাইনকে আল্লাহর আশ্রয়ে সোপর্দ করতেন): "ইউআউয়িযু" শব্দটি ইয়া-তে পেশ, দ্বিত্বযুক্ত ওয়াও-তে যের এবং নুক্তাযুক্ত 'যাল' বর্ণ সহযোগে গঠিত; অর্থাৎ তিনি আল্লাহর নিকট সুরক্ষা প্রার্থনা করতেন(৩)।

তাঁর বাণী: (এবং বলতেন, নিশ্চয়ই তোমাদের পিতা): এর দ্বারা তিনি ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে বুঝিয়েছেন এবং তাঁকে পিতা হিসেবে সম্বোধন করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আত-তানভির (২/ ৩২৬)।

(২) আস-সহিহ (৪/ ১৪৭, ৩৩৭১)।

(৩) আউনুল মাবুদ (৯/ ২০০৯)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ২৯)
لكونه جَدًّا عَلَا(1).

قوله: (أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ): كلمات الله: قيل: هي القرآن، وقيل: أسماؤه وصفاته، وقيل المراد بها كلامه على الإطلاق(2). والتامة: المراد بالتامة: الكاملة، وقيل النافعة، وقيل الشافية، وقيل المباركة، وقيل القاضية التي تمضي وتستمر ولا يردها شيء ولا يدخلها نقص ولا عيب(3).

قوله: (مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ): (من كل شيطان) يدخل تحته شياطين الإنس والجن، (وهامة) بالتشديد واحدة الهوام ذوات السموم، وقيل كل ما له سم يقتل فأما ما لا يقتل سمه فيقال له السوام، وقيل المراد كل نسمة تهم بسوء(4).

قوله: (وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ): أي: من عين تصيب بسوء، واللمم: طرف من الجنون يلم بالإنسان، أي: يقرب منه ويعتريه(5).

* * *

--------------------------------------------

(1) الفتح (6/ 410).

(2) انظر: الفتح (6/ 410)، وتحفة الأحوذي (6/ 184).

(3) الفتح (6/ 410).

(4) المصدر السابق.

(5) تحفة الأحوذي (6/ 184).
যেহেতু তিনি একজন উচ্চমর্যাদাবান দাদা ছিলেন(১)।

তাঁর বাণী: (আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের আশ্রয় প্রার্থনা করছি): আল্লাহর কালিমা বা বাণীসমূহ: কেউ বলেছেন: এটি হলো কুরআন; কেউ বলেছেন: তাঁর নাম ও গুণাবলি; আবার কেউ বলেছেন: এটি দ্বারা সাধারণভাবে তাঁর কালাম বা কথা উদ্দেশ্য(২)। এবং ‘পরিপূর্ণ’ (আত-তাম্মাহ): পরিপূর্ণ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পূর্ণাঙ্গ; কেউ বলেছেন: উপকারী; কেউ বলেছেন: আরোগ্য দানকারী; কেউ বলেছেন: বরকতময়; আবার কেউ বলেছেন: এটি এমন ফয়সালাকারী যা কার্যকর ও স্থায়ী হয়, কোনো কিছুই তাকে প্রতিহত করতে পারে না এবং তাতে কোনো ঘাটতি বা ত্রুটি প্রবেশ করে না(৩)।

তাঁর বাণী: (প্রত্যেক শয়তান ও বিষধর প্রাণী থেকে): (প্রত্যেক শয়তান থেকে) এর অন্তর্ভুক্ত হলো মানুষ ও জিন শয়তানসমূহ; (হাম্মাহ) ‘তাশদীদ’ সহকারে, এটি বিষধর প্রাণীকুলের একবচন, কেউ বলেছেন এটি এমন প্রত্যেক প্রাণীকে বোঝায় যার বিষ প্রাণঘাতী; আর যার বিষ প্রাণঘাতী নয় তাকে ‘সাওয়াম’ বলা হয়। আবার কেউ বলেছেন এটি দ্বারা এমন প্রতিটি প্রাণসত্তা উদ্দেশ্য যা অনিষ্ট করার ইচ্ছা পোষণ করে(৪)।

তাঁর বাণী: (এবং প্রত্যেক অনিষ্টকর কুদৃষ্টি থেকে): অর্থাৎ: এমন দৃষ্টি যা অনিষ্ট সাধন করে; আর ‘লামাম’ হলো এক প্রকার উন্মাদনা যা মানুষকে স্পর্শ করে, অর্থাৎ: তার নিকটবর্তী হয় এবং তাকে আক্রান্ত করে(৫)।

* * *

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী (৬/ ৪১০)।

(২) দেখুন: ফাতহুল বারী (৬/ ৪১০), এবং তুহফাতুল আহওয়াযী (৬/ ১৮৪)।

(৩) ফাতহুল বারী (৬/ ৪১০)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস।

(৫) তুহফাতুল আহওয়াযী (৬/ ১৮৪)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الدعاء بالبركة عند الإعجاب بشيء:

9 - عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ(1) قَالَ: مَرَّ عَامِرُ بْنُ رَبِيعَةَ بِسَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ وَهُوَ يَغْتَسِلُ، فَقَالَ: لَمْ أَرَ كَالْيَوْمِ، وَلَا جِلْدَ مُخَبَّأَةٍ، فَمَا لَبِثَ أَنْ لُبِطَ بِهِ، فَأُتِيَ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقِيلَ لَهُ: أَدْرِكْ سَهْلًا صَرِيعًا، قَالَ: مَنْ تَتَّهِمُونَ بِهِ؟ قَالُوا: عَامِرُ بْنُ رَبِيعَةَ، قَالَ: عَلَامَ يَقْتُلُ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ؟ إِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ مِنْ أَخِيهِ مَا يُعْجِبُهُ فَلْيَدْعُ لَهُ بِالْبَرَكَةِ! ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ، فَأَمَرَ عَامِرًا أَنْ يَتَوَضَّأَ، فَيَغْسِلَ وَجْهَهُ، وَيَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ، وَرُكْبَتَيْهِ، وَدَاخِلَةَ إِزَارِهِ، وَأَمَرَهُ أَنْ يَصُبَّ عَلَيْهِ.

التخريج: أخرجه ابن ماجه(2)، ومالك(3)، وابن أبي شيبة(4)، وابن حبان(5)، والحاكم(6)، كلهم من طريق الزهري، عن أبي أمامة به، وإسناده صحيح، والحديث صححه الحاكم، والألباني(7).

* * *

--------------------------------------------

(1) ظاهره الإرسال لكنه سمعه من أبيه كما جاء في رواية ابن أبي شيبة، وانظر: شرح الزرقاني (4/ 507).

(2) السنن (2/ 1160، 3509).

(3) الموطأ (2/ 938، 1678).

(4) المصنف (5/ 50، 23595).

(5) الصحيح (13/ 469، 6105).

(6) المستدرك (3/ 410، 5741).

(7) الصحيحة (2572).
কোনো কিছুর প্রতি মুগ্ধ হলে বরকতের দুআ করা:

৯ - আবু উমামা ইবনে সাহল ইবনে হুনাইফ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমির ইবনে রাবিআহ সাহল ইবনে হুনাইফের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি গোসল করছিলেন। তখন তিনি (আমির) বললেন: আজকের মতো (সুন্দর চামড়া) আমি কখনও দেখিনি, এমনকি পর্দানশীন কুমারী মেয়ের চামড়াও এমন নয়। তৎক্ষণাৎ তিনি (সাহল) মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। এরপর তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আনা হলো এবং বলা হলো: আপনি সংজ্ঞাহীন সাহলকে একটু দেখুন। তিনি বললেন: তোমরা এ ব্যাপারে কাকে সন্দেহ করছো? তারা বলল: আমির ইবনে রাবিআহকে। তিনি বললেন: তোমাদের কেউ কেন নিজের ভাইকে হত্যা করতে চায়? তোমাদের কেউ যখন তার ভাইয়ের মাঝে এমন কিছু দেখে যা তাকে মুগ্ধ করে, তবে সে যেন তার জন্য বরকতের দুআ করে! এরপর তিনি পানি আনালেন এবং আমিরকে ওযু করার নির্দেশ দিলেন। ফলে সে তার মুখমণ্ডল, দুই হাত কনুই পর্যন্ত, দুই হাঁটু এবং লুঙ্গির ভেতরের অংশ ধৌত করল এবং তিনি তাকে সেই পানি তাঁর (সাহলের) ওপর ঢেলে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন।

তাখরিজ: এটি ইবনে মাজাহ, মালিক, ইবনে আবি শায়বাহ, ইবনে হিব্বান এবং হাকিম বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সকলে যুহরির সূত্রে আবু উমামা হতে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সানাদ সহিহ। হাদিসটিকে হাকিম এবং আলবানি সহিহ বলেছেন।

* * *

--------------------------------------------

(১) বাহ্যিকভাবে এটি মুরসাল মনে হলেও তিনি এটি তাঁর পিতার নিকট হতে শুনেছেন, যেমনটি ইবনে আবি শায়বার বর্ণনায় এসেছে। দেখুন: শারহুয যুরকানি (৪/৫০৭)।

(২) আস-সুনান (২/১১৬০, ৩৫০৯)।

(৩) আল-মুওয়াত্তা (২/৯৩৮, ১৬৭৮)।

(৪) আল-মুসান্নাফ (৫/৫০, ২৩৫৯৫)।

(৫) আস-সহিহ (১৩/৪৬৯, ৬১০৫)।

(৬) আল-মুসতাদরাক (৩/৪১০, ৫৭৪১)।

(৭) আস-সহিহাহ (২৫৭২)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ৩১)
10 - عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: انْطَلَقْتُ أَنَا وَسَهْلُ بْنُ حُنَيْفٍ نَلْتَمِسُ الْخَمَرَ، فَوَجَدْنَا خَمَرًا وَغَدِيرًا، قَالَ: وَكَانَ أَحَدُنَا يَسْتَحِي أَنْ يَغْتَسِلَ وَأَحَدٌ يَرَاهُ، فَاسْتَتَرَ مِنِّي حَتَّى إِذَا رَأَى أَنْ قَدْ فَعَلَ نَزَعَ جُبَّةً عَلَيْهِ مِنْ كِسَاءٍ، ثُمَّ دَخَلَ الْمَاءَ، فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ نَظْرَةً فَأَعْجَبَنِي خَلْقُهُ، فَأَصَبْتُهُ بِعَيْنِي، فَأَخَذَتْهُ قَعْقَعَةٌ وَهُوَ فِي الْمَاءِ، فَدَعَوْتُهُ فَلَمْ يُجِبْنِي، فَانْطَلَقْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ الْخَبَرَ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: قُومُوا بِنَا فَأَتَاهُ فَرَفَعَ عَنْ سَاقِهِ فَدَخَلَ الْمَاءَ، فَلَمَّا أَتَاهُ ضَرَبَ صَدْرَهُ وَقَالَ: اللَّهُمَّ أَذْهِبْ حَرَّهَا وَبَرْدَهَا وَوَصَبَهَا ثُمَّ قَالَ: قُمْ فَقَامَ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: إِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ مِنْ نَفْسِهِ أَوْ مَالِهِ أَوْ أَخِيهِ مَا يُعْجِبُهُ فَلْيَدْعُ لَهُ بِالْبَرَكَةِ فَإِنَّ الْعَيْنَ حَقٌّ.

التخريج: أخرجه ابن ماجه مختصرًا(1)، وابن أبي شيبة(2)، وأحمد(3)،

--------------------------------------------

(1) السنن (2/ 1159، 3506)، مقتصرًا على قوله: (العين حق).

(2) المصنف (7/ 415، 24060).

(3) المسند (24/ 465، 15700)، وينتبه إلى أنه جاء فيه: أن العائن هو سهل بن حنيف، والصواب أنه عامر بن ربيعة كما جاء في جميع من روى هذا الحديث، وقد نبه عليه محققوا المسند جزاهم الله خيرًا.
১০ - আবদুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রাবিআহ থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এবং সাহল ইবনে হুনাইফ নির্জন স্থানের খোঁজে বের হলাম। আমরা একটি নির্জন আড়াল এবং একটি জলাশয় খুঁজে পেলাম। তিনি বলেন: আমাদের মধ্যে একজন অন্যজনের উপস্থিতিতে গোসল করতে লজ্জা বোধ করত। তাই সে আমার থেকে আড়ালে গেল। যখন সে মনে করল সে আড়াল হয়েছে, তখন সে তার পশমি জুব্বাটি খুলল এবং পানিতে নামল। তখন আমি তার দিকে তাকালাম এবং তার শারীরিক গঠন আমার খুব পছন্দ হলো। ফলে আমি তাকে বদনজর দিয়ে ফেললাম। তখন পানির মধ্যেই সে কাঁপতে শুরু করল। আমি তাকে ডাকলাম কিন্তু সে কোনো উত্তর দিল না। এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলাম এবং তাঁকে ঘটনাটি জানালাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা আমাদের সাথে চলো।" অতঃপর তিনি তার কাছে আসলেন এবং নিজের পায়ের গোছা থেকে কাপড় তুললেন এবং পানিতে নামলেন। যখন তিনি তার কাছে আসলেন, তখন তার বুকে আঘাত করলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ! এর উত্তাপ, শীতলতা এবং রোগ দূর করে দিন।" অতঃপর বললেন: "দাঁড়াও।" তখন সে দাঁড়িয়ে গেল। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমাদের কেউ যখন নিজের মাঝে, নিজের সম্পদের মাঝে বা তার ভাইয়ের মাঝে এমন কিছু দেখে যা তাকে মুগ্ধ করে, তবে সে যেন তার জন্য বরকতের দোয়া করে। কারণ বদনজর সত্য।"

উৎসসূত্র: এটি ইবনে মাজাহ সংক্ষেপে(১), ইবনে আবি শাইবাহ(২), এবং আহমাদ(৩) বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আস-সুনান (২/ ১১৫৯, ৩৫০৬), শুধুমাত্র "বদনজর সত্য" কথাটির মধ্যে সীমাবদ্ধ।

(২) আল-মুসান্নাফ (৭/ ৪১৫, ২৪০৬০)।

(৩) আল-মুসনাদ (২৪/ ৪৬৫, ১৫৭০০)। এখানে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন যে, এতে বর্ণিত হয়েছে: বদনজর প্রদানকারী ছিলেন সাহল ইবনে হুনাইফ; অথচ সঠিক হলো তিনি ছিলেন আমির ইবনে রাবিআহ, যেমনটি এই হাদিসের সকল বর্ণনাকারীর সূত্রে এসেছে। মুসনাদ-এর মুহাক্কিকগণ এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন, আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وأبو يعلى(1)، والنسائي(2)، والحاكم(3) كلهم من طريق أمية بن هند، عن عبد الله بن عامر به، وإسناده ضعيف، فيه أمية بن هند بن سعد بن سهل بن حنيف المزني مقبول(4)، وقد تابعه داود بن الحصين عن عبد الله بن عامر به بلفظ: " أَنَّهُ عَانَ سَهْلَ بْنَ حُنَيْفٍ، فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَغْتَسِلَ لَهُ، أخرجه أبو نعيم(5) وفي إسناده عبد الله بن لهيعة ضعيف(6)، ويشهد له الحديث الذي قبله.

شرح ألفاظ الحديثين:

قوله: (نَلْتَمِسُ الْخَمَرَ): الخمر بالتحريك: كل ما سترك من شجر أو بناء أو غيره(7).

قوله: (نَزَعَ جُبَّةً عَلَيْهِ مِنْ كِسَاءٍ): الْجُبَّة ثوب سابغ وَاسع الكمين مشقوق الْمُقدم يلبس فَوق الثِّيَاب والدرع(8).

--------------------------------------------

(1) المسند (13/ 152، 7195).

(2) السنن الكبرى (7/ 60، 7469).

(3) المستدرك (4/ 215، 7500).

(4) التقريب (560).

(5) معجم الصحابة (4/ 2051، 5150).

(6) التقريب (3563).

(7) النهاية (2/ 77).

(8) المعجم الوسيط (1/ 104).
আবু ইয়ালা(১), নাসায়ি(২) এবং হাকিম(৩) সবাই উমাইয়া বিন হিন্দের সূত্রে আব্দুল্লাহ বিন আমির থেকে এটি বর্ণনা করেছেন; আর এর সনদ দুর্বল। এতে উমাইয়া বিন হিন্দ বিন সাদ বিন সাহল বিন হুনাইফ আল-মুযানী রয়েছেন, যিনি মাকবুল (গ্রহণযোগ্য)(৪)। দাউদ বিন আল-হুসাইন আব্দুল্লাহ বিন আমিরের সূত্রে উক্ত হাদিসটির বর্ণনায় তার অনুসরণ করেছেন এই শব্দে: "তিনি সাহল বিন হুনাইফকে কুদৃষ্টি দিয়েছিলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি তার জন্য গোসল করেন।" এটি আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন(৫) এবং এর সনদে আব্দুল্লাহ বিন লাহিয়া রয়েছেন, যিনি দুর্বল(৬)। আর এর পূর্ববর্তী হাদিসটি একে সমর্থন করে।

হাদিস দুটির শব্দের ব্যাখ্যা:

তাঁর উক্তি: (আমরা আড়াল খুঁজছিলাম): 'খামার' শব্দে হরকত (যবর) সহকারে: যা কিছু আপনাকে গাছপালা, দালানকোঠা বা অন্য কিছু দ্বারা আড়াল করে(৭)।

তাঁর উক্তি: (তিনি তাঁর পরিহিত চাদরের জুব্বাটি খুললেন): জুব্বা হলো একটি দীর্ঘ ও প্রশস্ত পোশাক, যার হাতা দুটি চওড়া এবং সামনের অংশ খোলা থাকে; এটি সাধারণ পোশাক ও বর্মের ওপর পরিধান করা হয়(৮)।

--------------------------------------------

(১) আল-মুসনাদ (১৩/ ১৫২, ৭১৯৫)।

(২) আস-সুনানুল কুবরা (৭/ ৬০, ৭৪৬৯)।

(৩) আল-মুস্তাদরাক (৪/ ২১৫, ৭৫০০)।

(৪) আত-তাক্বরীব (৫৬০)।

(৫) মু'জামুস সাহাবাহ (৪/ ২০৫১, ৫১৫০)।

(৬) আত-তাক্বরীব (৩৫৬৩)।

(৭) আন-নিহায়াহ (২/ ৭৭)।

(৮) আল-মু'জামুল ওয়াসীত (১/ ১০৪)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল আইনি হাকীকাতুহা ওয়াল বিকায়াতি ওয়াল ইলাজ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
قوله: (فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ نَظْرَةً فَأَعْجَبَنِي خَلْقُهُ، فَأَصَبْتُهُ بِعَيْنِي): أن العين تكون مع الإعجاب، ولو بغير حسد، ولو من الرجل المحب، ومن الرجل الصالح(1).

قوله: (فَأَخَذَتْهُ قَعْقَعَةٌ وَهُوَ فِي الْمَاءِ): في رواية ابن أبي شيبة (فَأَخَذَتْهُ قَفقَفَةٌ وَهُوَ فِي الْمَاءِ) القعقعة: حكاية حركة الشيء يسمع له صوت، والقفقفة أي رعدة. يقال: تقفقف من البرد إذا انضم وارتعد(2) وهما بمعنى واحد.

قوله: (اللَّهُمَّ أَذْهِبْ حَرَّهَا وَبَرْدَهَا وَوَصَبَهَا): الْوَصَبُ: دوام الوجع ولزومه(3).

قوله: (: إِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ مِنْ نَفْسِهِ أَوْ مَالِهِ أَوْ أَخِيهِ مَا يُعْجِبُهُ فَلْيَدْعُ لَهُ بِالْبَرَكَةِ): (ما يعجبه) أي ما يستحسنه ويرضاه (فليدع له بالبركة) ندبا بأن يقول اللهم بارك فيه(4)، قال السخاوي: "وهذا مما جرب لمنع الإصابة بالعين"(5).

--------------------------------------------

(1) فتح الباري (10/ 205).

(2) النهاية (4/ 88، 92).

(3) المصدر السابق (5/ 190).

(4) التيسير (1/ 97).

(5) فيض القدير (6/ 130).
তাঁর বক্তব্য: (অতঃপর আমি তাঁর দিকে একপলক তাকালাম এবং তাঁর শারীরিক গঠন আমাকে মুগ্ধ করল, ফলে আমি আমার দৃষ্টির মাধ্যমে তাঁকে আক্রান্ত করলাম): কুদৃষ্টির প্রভাব মুগ্ধতার সাথেও হতে পারে, এমনকি হিংসা না থাকলেও; আর এমনকি কোনো মহব্বতকারী ব্যক্তি বা সৎ ব্যক্তির পক্ষ থেকেও তা হতে পারে(১)।

তাঁর বক্তব্য: (অতঃপর পানির মধ্যে থাকা অবস্থায় সে একটি খড়খড়ানি শব্দে বা কম্পনে আক্রান্ত হলো): ইবনে আবি শায়বাহর বর্ণনায় এসেছে (সে একটি কাঁপুনিতে আক্রান্ত হলো পানির মধ্যে থাকা অবস্থায়)। ‘কা’কাআহ’ হলো কোনো কিছুর নড়াচড়ার শব্দ যা শোনা যায় এমন অবস্থার বর্ণনা। আর ‘কাফকাফাহ’ অর্থ হলো কাঁপুনি। বলা হয়: সে শীতের চোটে কেঁপে উঠল যখন সে গুটিসুটি মেরে যায় এবং থরথর করে কাঁপে(২)। আর এ দুটি শব্দ একই অর্থ বহন করে।

তাঁর বক্তব্য: (হে আল্লাহ, আপনি এর উত্তাপ, এর শৈত্য এবং এর রোগ বা কষ্ট দূর করে দিন): ‘আল-ওয়াসাব’ হলো ব্যথার স্থায়িত্ব এবং তার অবিচ্ছিন্নতা(৩)।

তাঁর বক্তব্য: (তোমাদের মধ্যে কেউ যখন নিজের মাঝে, নিজের সম্পদের মাঝে অথবা তার ভাইয়ের মাঝে এমন কিছু দেখে যা তাকে মুগ্ধ করে, তবে সে যেন তার জন্য বরকতের দোয়া করে): (যা তাকে মুগ্ধ করে) অর্থাৎ সে যা উত্তম মনে করে এবং পছন্দ করে। (সে যেন তার জন্য বরকতের দোয়া করে) এটি মুস্তাহাব হিসেবে, আর তা হলো— ‘হে আল্লাহ, আপনি এতে বরকত দান করুন’ বলা(৪)। সাখাবী বলেন: "এটি কুদৃষ্টির প্রভাব প্রতিরোধের পরীক্ষিত মাধ্যমসমূহের অন্তর্ভুক্ত"(৫)।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী (১০/ ২০৫)।

(২) আন-নিহায়াহ (৪/ ৮৮, ৯২)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (৫/ ১৯০)।

(৪) আত-তায়সীর (১/ ৯৭)।

(৫) ফয়জুল কদীর (৬/ ১৩০)।