(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث الواردة في التحذير من الشرك وبيان خطره القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: الأحاديث الواردة في التحذير من الشرك وبيان خطره جمعا ودراسة [بحث محكَّم]
المؤلف: أ. د. حسين بن غازي التويجري
الناشر: (الناشر المتميز- الرياض)، (دار النصيحة - المدينة النبوية)
الطبعة: الأولى، 1443 هـ - 2022 م
عدد الصفحات: 65
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1446
শিরক থেকে সতর্কীকরণ এবং এর ভয়াবহতা বর্ণনায় বর্ণিত হাদিসসমূহ বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ
গ্রন্থ: শিরক থেকে সতর্কীকরণ এবং এর ভয়াবহতা বর্ণনায় বর্ণিত হাদিসসমূহ: সংগ্রহ ও পর্যালোচনা [পিয়ার-রিভিউড গবেষণা]
লেখক: প্র. ড. হুসাইন বিন গাজি আত-তুওয়াইজরি
প্রকাশক: (আন-নাশিরুল মুতামায়িয- রিয়াদ), (দারুন নাসিহা - মাদিনাতুন নাবাবিয়্যাহ)
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪৩ হিজরি - ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৪৬
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمة:إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ به من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}
(1){يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا}
(2){يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}
(3)أما بعد:
فقد خلقنا الله لغاية عظيمة، ومهمة جسيمة، ألا وهي عبادته
--------------------------------------------
দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা:নিশ্চয়ই যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।}
(১){হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।}
(২){হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।}
(৩)অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের এক মহান উদ্দেশ্যে এবং এক গুরুতর দায়িত্বে সৃষ্টি করেছেন, আর তা হলো তাঁর ইবাদত করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وحده دون من سواه،: قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ}
(1)، ومن أجل تحقيق هذه المهمة على الوجه الأكمل، وإقامة الحجة على الخلق، أرسل الله سبحانه وتعالى الرسل صلوات الله وسلامه عليهم، قال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ}
(2)، قال السعدي رحمه الله: "هذه الغاية، التي خلق الله الجن والإنس لها، وبعث جميع الرسل يدعون إليها، وهي عبادته، المتضمنة لمعرفته ومحبته، والإنابة إليه والإقبال عليه، والإعراض عما سواه، وذلك يتضمن معرفة الله تعالى، فإن تمام العبادة، متوقف على المعرفة بالله، بل كلما ازداد العبد معرفة لربه، كانت عبادته أكمل، فهذا الذي خلق الله المكلفين لأجله، فما خلقهم لحاجة منه إليهم" ا. هـ
(3).
وخلق الله الخلق أسوياء على الفطرة وعلى التوحيد والسلامة من الشرك ودَرَنِه، فاجتالتهم شياطين الإنس والجن وحرفوهم عنها، إلى الشرك والضلالة، إلا من عصمه الله، فَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ
--------------------------------------------
একমাত্র তাঁরই জন্য, তিনি ছাড়া অন্য কারো জন্য নয়: মহান আল্লাহ বলেন: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি}
(১)। আর এই মহান দায়িত্বটি পূর্ণাঙ্গরূপে সম্পাদন এবং সৃষ্টির ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা রাসুলগণকে (তাঁদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) প্রেরণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসুল পাঠিয়েছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো}
(২)। আস-সাদী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এটিই সেই লক্ষ্য, যার জন্য আল্লাহ জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং সমস্ত রাসুলকে এর দিকে আহ্বান করার জন্য পাঠিয়েছেন। আর তা হলো তাঁর ইবাদত; যা তাঁর পরিচয় লাভ করা, তাঁর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন ও তাঁর প্রতি মনোনিবেশ করা এবং তিনি ব্যতীত অন্য সব কিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এটি মহান আল্লাহর পরিচয় লাভ করাকেও অন্তর্ভুক্ত করে; কেননা ইবাদতের পূর্ণতা আল্লাহর পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল। বরং বান্দা তার রব সম্পর্কে যত বেশি জ্ঞান ও পরিচয় লাভ করবে, তার ইবাদত তত বেশি পূর্ণাঙ্গ হবে। এই উদ্দেশ্যের জন্যই আল্লাহ দায়বদ্ধ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের প্রতি কোনো প্রয়োজনের কারণে তাদের সৃষ্টি করেননি।" উদ্ধৃতি সমাপ্ত
(৩)।
আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে ফিতরাত (সহজাত প্রকৃতি), তাওহিদ এবং শিরক ও এর কলুষতা থেকে মুক্ত ও সুষম অবস্থায় সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানরা তাদের প্ররোচিত করে সেই পথ থেকে বিচ্যুত করে শিরক ও গোমরাহীর দিকে নিয়ে গেছে, তবে আল্লাহ যাকে রক্ষা করেছেন সে ব্যতীত। আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا مِنْ مَوْلُودٍ إِلَّا يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ، فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ، وَيُنَصِّرَانِهِ. أَوْ يُمَجِّسَانِهِ. "
(1)، من أجل هذا كان الواجب على كل مكلف، أن يحذر من الشرك، ووسائله، وأن يفتش، بل يدقق في أقواله، وأفعاله وإراداته، هل هي سالمة من الشرك أم لا؟، وهذا هو نهج الأنبياء والصالحين الخوف على النفس والذرية من الشرك، قال تعالى: {وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ آمِنًا وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الْأَصْنَامَ}
(2)، قال الشيخ سليمان بن عبد الله آل الشيخ رحمه الله: "فإذا كان ابراهيم عليه السلام يسأل الله أن يجنبه ويجنب بنيه عبادة الأصنام فما ظنك بغيره كما قال ابراهيم التيمي ومن يأمن من البلاء بعد ابراهيم رواه ابن جرير
(3) .. وهذا يوجب للقلب الحي أن يخاف من الشرك لا كما يقول الجهال إن الشرك لا يقع في هذه الأمة ولهذا أمنوا الشرك فوقعوا فيه"
(4)، بل لخطره وعظم مصيبته خافه علينا أرحم الخلق بالخلق صلى الله عليه وسلم بقوله: " أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِمَا هُوَ أَخْوَفُ عَلَيْكُمْ
--------------------------------------------
তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রতিটি নবজাতকই ফিতরাতের (প্রাকৃতিক স্বভাবের) ওপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি বানায়, খ্রিস্টান বানায় অথবা অগ্নিপূজারী বানায়।"
(১) এই কারণেই প্রত্যেক মুকাল্লাফের (শরিয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) ওপর ওয়াজিব হলো শিরক এবং এর মাধ্যমগুলো থেকে সতর্ক থাকা; আর তার উচিত নিজ কথা, কাজ এবং সংকল্পের ব্যাপারে অনুসন্ধান করা, বরং সূক্ষ্মভাবে যাচাই করা যে, তা শিরক থেকে মুক্ত কি না? আর নিজের এবং নিজের বংশধরদের ব্যাপারে শিরকের ভয় রাখাই হলো নবী ও নেককারদের পথ। আল্লাহ তায়ালা বলেন: {এবং যখন ইবরাহিম বলেছিলেন: হে আমার রব! এই শহরটিকে নিরাপদ করুন এবং আমাকে ও আমার সন্তানদের প্রতিমা পূজা করা থেকে দূরে রাখুন}
(২) শায়খ সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ আল-শেখ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "যদি ইবরাহিম আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যে, তিনি যেন তাকে এবং তার সন্তানদের প্রতিমা পূজা থেকে দূরে রাখেন, তবে অন্যদের ব্যাপারে আপনার ধারণা কী হতে পারে? যেমনটি ইবরাহিম আত-তাইমি বলেছেন: 'ইবরাহিমের পর কে এই বিপদমুক্ত থাকার ব্যাপারে নির্ভয় হতে পারে?' এটি ইবনে জারীর বর্ণনা করেছেন
(৩)... আর এটিই জ্যান্ত হৃদয়ের জন্য শিরকের ভয় করাকে আবশ্যক করে তোলে; মূর্খদের মতো নয় যারা বলে যে, এই উম্মতের মধ্যে শিরক সংঘটিত হবে না, ফলে তারা শিরক থেকে নির্ভয় হয়েছে এবং এতেই নিপতিত হয়েছে।"
(৪) বরং এর ভয়াবহতা এবং মহা মুসিবতের কারণে সৃষ্টির প্রতি সৃষ্টির সবচেয়ে দয়ালু ব্যক্তি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ব্যাপারে এটি নিয়ে ভয় প্রকাশ করে বলেছেন: "আমি কি তোমাদের এমন একটি বিষয়ে সংবাদ দেব না, যা তোমাদের জন্য আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভয়ের বিষয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
عِنْدِي مِنَ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ؟ قَالَ: قُلْنَا: بَلَى. فَقَالَ: الشِّرْكُ الْخَفِيُّ: أَنْ يَقُومَ الرَّجُلُ يُصَلِّي، فَيُزَيِّنُ صَلَاتَهُ لِمَا يَرَى مِنْ نَظَرِ رَجُلٍ"
(1). ولأهمية الموضوع وهو بيان خطر الشرك وعظم أمره، وأنه أظلم الظلم، جمعت الأحاديث الواردة في هذا الباب، والتي تذكرلفظ الشرك، في هذا البحث وسميته
(الأحاديث الواردة في التحذير من الشرك، وبيان خطره) جمعًا ودراسةً
الدراسات السابقة: لم أقف على من جمع الأحاديث الواردة في هذا الموضوع في بحث مستقل مع دراستها وتخريجها والحكم عليها، وإنما هي أحاديث مبثوثة في مصادر السنة، وكتب العقائد.
حدود البحث: جمع الأحاديث التي ذكرت لفظ الشرك ودراستها والحكم عليها صحة وضعفًا، مع شرحها.
خطة البحث:قسمت البحث إلى مقدمة، ومبحثين، وخاتمة:
--------------------------------------------
...আমার নিকট মাসীহ দাজ্জালের চেয়েও (ভয়ংকর)? তিনি বললেন: আমরা বললাম: অবশ্যই। অতঃপর তিনি বললেন: তা হলো গোপন শিরক: একজন মানুষ সালাত আদায় করতে দাঁড়াবে, এরপর সে তার সালাতকে সুন্দর করবে যেহেতু সে দেখছে যে অন্য একজন মানুষ তার দিকে তাকাচ্ছে।"
(১)। বিষয়টির গুরুত্বের কারণে, আর তা হলো শিরকের ভয়াবহতা এবং এর বিষয়ের ভয়াবহতা বর্ণনা করা, এবং এটি যে সর্বাপেক্ষা বড় যুলুম, সে কারণে আমি এই অধ্যায়ে বর্ণিত এবং শিরক শব্দটি উল্লেখ রয়েছে এমন হাদীসগুলো এই গবেষণায় একত্রিত করেছি এবং এর নামকরণ করেছি—
(শিরক থেকে সতর্কীকরণ এবং এর ভয়াবহতা বর্ণনায় বর্ণিত হাদীসসমূহ) সংকলন ও গবেষণা।
পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ: আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি এই বিষয়ে বর্ণিত হাদীসগুলোকে একটি স্বতন্ত্র গবেষণায় সেগুলোর বিশ্লেষণ, তাখরীজ ও হুকুমসহ একত্রিত করেছেন; বরং এগুলো সুন্নাহর উৎসসমূহ এবং আকীদার কিতাবসমূহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাদীস।
গবেষণার পরিধি: শিরক শব্দটি উল্লেখ হয়েছে এমন হাদীসগুলো সংগ্রহ করা এবং সেগুলোর বিশ্লেষণ ও বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার নিরিখে হুকুম প্রদান করা, সাথে সেগুলোর ব্যাখ্যা করা।
গবেষণা পরিকল্পনা:আমি গবেষণাকে একটি ভূমিকা, দুটি পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
فالمقدمة ذكرت فيها أهمية هذا البحث، والدراسات السابقة، وحدود البحث، وخطة البحث، والمنهج الذي سرت عليه في جمع أحاديث الموضوع، وطريقة تخريج الأحاديث.
والمبحث الأول: تعريف الشرك، وذكر أقسامه، وأحواله، ويحتوي على خمسة مطالب:
المطلب الأول: تعريف الشرك.
المطلب الثاني: أقسام الشرك: ينقسم إلى قسمين أكبر وأصغر.
المطلب الثالث: أحوال الشرك ظاهر وخفي.
المطلب الرابع: الفرق بين الشرك الأكبر والأصغر.
المطلب الخامس: ذكر الشرك في القرآن.
المبحث الثاني: الأحاديث الواردة في التحذير من الشرك، وبيان خطره: ويحتوي على عشرة مطالب:
المطلب الأول: الشرك أكبر الموبقات.
المطلب الثاني: الشرك أظلم الظلم.
المطلب الثالث: الشرك أكبر الكبائر.
المطلب الرابع: الشرك أعظم الذنوب عند الله.
ভূমিকা অংশে আমি এই গবেষণার গুরুত্ব, পূর্ববর্তী অধ্যয়নসমূহ, গবেষণার পরিধি, গবেষণা পরিকল্পনা, বিষয়ের হাদিসসমূহ সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমার অনুসৃত পদ্ধতি এবং হাদিসের তাখরিজ পদ্ধতি উল্লেখ করেছি।
প্রথম পরিচ্ছেদ: শিরকের সংজ্ঞা, এর প্রকারভেদ ও অবস্থাসমূহ বর্ণনা; এটি পাঁচটি উপ-পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: শিরকের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: শিরকের প্রকারভেদ: এটি দুই ভাগে বিভক্ত, বড় ও ছোট।
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: শিরকের অবস্থা—প্রকাশ্য ও গোপন।
চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: বড় শিরক ও ছোট শিরকের মধ্যে পার্থক্য।
পঞ্চম উপ-পরিচ্ছেদ: কুরআনে শিরকের আলোচনা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শিরক থেকে সতর্কীকরণ এবং এর ভয়াবহতা বর্ণনায় বর্ণিত হাদিসসমূহ: এটি দশটি উপ-পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: শিরক হলো ধ্বংসাত্মক বিষয়গুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: শিরক হলো সর্বাপেক্ষা বড় জুলুম।
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: শিরক হলো কবীরা গুনাহসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড়।
চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নিকট শিরক হলো সর্বশ্রেষ্ঠ পাপ।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
المطلب الخامس: الشرك سبب لدخول النار.
المطلب السادس: تخلي الله عن المشرك يوم القيامة، ورد أعماله، وعدم إثابته عليها.
المطلب السابع: الشرك موجب لدخول النار، والتوحيد موجب لدخول الجنة.
المطلب الثامن: مشروعية قول هذا الدعاء عند الخوف من الشرك.
المطلب التاسع: فضل التوحيد والسلامة من الشرك.
المطلب العاشر: ذكرأمثلة من الأقوال والأعمال الشركية.
أولًا: تحريم الرقى الشركية.
ثانيًا: الطيرة من الشرك.
ثالثًا: الحلف بغير الله من الشرك.
رابعًا: تزيين الصلاة من أجل نظر الناس شرك.
خامسًا: تعليق التميمة من الشرك.
سادسًا: السحر من الشرك.
والخاتمة: ذكرت فيها أهم النتائج التي توصلت إليها من خلال
পঞ্চম বিষয়: শিরক জাহান্নামে প্রবেশের কারণ।
ষষ্ঠ বিষয়: কিয়ামতের দিন আল্লাহ কর্তৃক মুশরিককে পরিত্যাগ করা, তার আমলসমূহ প্রত্যাখ্যান করা এবং সেগুলোর জন্য তাকে প্রতিদান না দেওয়া।
সপ্তম বিষয়: শিরক জাহান্নামে প্রবেশকে অবধারিত করে এবং তাওহীদ জান্নাতে প্রবেশকে অবধারিত করে।
অষ্টম বিষয়: শিরকের আশঙ্কা হলে এই দুআটি পাঠ করার বৈধতা।
নবম বিষয়: তাওহীদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং শিরক হতে মুক্ত থাকা।
দশম বিষয়: শিরকী কথা ও কাজের কতিপয় উদাহরণ উল্লেখ করা।
প্রথমত: শিরকী ঝাড়ফুঁক (রুকইয়া) নিষিদ্ধ হওয়া।
দ্বিতীয়ত: কুলক্ষণ গ্রহণ করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
তৃতীয়ত: আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে শপথ করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
চতুর্থত: মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে সালাত সুন্দরভাবে আদায় করা শিরক।
পঞ্চমত: তাবীজ লটকানো শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
ষষ্ঠত: জাদু শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
উপসংহার: এতে আমি গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
هذا البحث، ثم وضعت فهرسًا للمصادر والمراجع، وآخر للموضوعات.
منهج البحث:أولًا: جمعت الأحاديث من مصادر السنة المسندة، على الطريقة التالية:
إن كان الحديث في الصحيحين، أو أحدهما، اكتفيت بالعزو لهما، وربما عزوت إلى السنن الأربعة أو لغيرها من أجل فائدة إسنادية أو متنية.
فإن لم يكن الحديث في الصحيحين أو أحدهما، عزوته لأصحاب السنن الأربعة، مع الحكم عليه، وربما عزوته لغير السنن من أجل فائدة في الإسناد، أو في المتن.
فإن لم يكن في السنن الأربعة أو في أحدها خرجته من بقية الكتب مرتبًا في العزو على سنة الوفاة، مع الحكم عليه، بعد ذكر المتابعات والشواهد إن احتاج الأمر إلى ذلك، ولا أستوعب جميع من أخرج الحديث، طلبًا للاختصار.
أذكر ما وقفت عليه من أحكام أهل العلم على الحديث من غير قصد الاستيعاب.
এই গবেষণা, এরপর আমি উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহের একটি সূচি এবং বিষয়বস্তুর জন্য অপর একটি সূচি নির্ধারণ করেছি।
গবেষণার পদ্ধতি:প্রথমত: আমি মুসনাদ হাদীস গ্রন্থসমূহ থেকে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে হাদীসসমূহ সংগ্রহ করেছি:
যদি হাদীসটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) বা এই দুটির কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি সেগুলোর দিকে সম্পৃক্ত করাই যথেষ্ট মনে করেছি। কখনও কখনও সনদ বা মতন সংক্রান্ত কোনো বিশেষ উপকারের খাতিরে আমি সুনানে আরবাআ অথবা অন্যান্য গ্রন্থের দিকেও সম্পৃক্ত করেছি।
আর হাদীসটি যদি সহীহাইন বা এই দুটির কোনো একটিতেও না থাকে, তবে আমি সেটি সুনানে আরবাআ-এর সংকলকদের দিকে সম্পৃক্ত করেছি এবং সেই সঙ্গে এর হুকুম (মান) বর্ণনা করেছি। কখনও সনদ বা মতনের কোনো বিশেষ উপকারের জন্য আমি সুনান গ্রন্থসমূহ ব্যতীত অন্য গ্রন্থের দিকেও সম্পৃক্ত করেছি।
যদি হাদীসটি সুনানে আরবাআ বা এর কোনোটিতে না থাকে, তবে আমি সেটি অন্যান্য গ্রন্থ থেকে বের করেছি এবং গ্রন্থকারদের মৃত্যুসন অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করেছি। সাথে এর হুকুম বর্ণনা করেছি এবং প্রয়োজনবোধে মুতাবাআত (সমর্থনমূলক সনদ) ও শাওয়াহিদ (সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা) উল্লেখ করেছি। সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে আমি হাদীসটির সমস্ত সংকলকের নাম উল্লেখ করিনি।
আমি হাদীসটির বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমদের যে সকল হুকুম বা মন্তব্যের সন্ধান পেয়েছি তা উল্লেখ করেছি, তবে সকল মন্তব্য বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা এখানে আমার উদ্দেশ্য নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
إذا ثبت حديث الباب فلا أتوسع بذكر الشواهد.
ثانيًا: الترجمة لرجال الإسناد ممن يقتضي المقام الترجمة لهم، على النحو التالي:
إذا كان الراوي من رجال الكتب الستة، فأكتفي بكلام الحافظ ابن حجر في التقريب، ما لم يظهر لي خلافه، فحينئذ أذكر بعضًا من كلام أئمة الجرح والتعديل في تأييد ما ظهر لي من حال هذا الراوي.
ب- إذا لم يكن الراوي من رجال التقريب، فإني أعرَّف به من مظانِّ ترجمته بإيجاز.
ثالثًا: بيان معاني الكلمات الغريبة.
رابعًا: أذكر كلام شراح الحديث في بيان معنى الحديث، وتوجيههم له، وربما ذكرت بعض الفوائد المتعلقة بالحديث.
خامسًا: ضبط الكلمات والأسماء المشكلة.
سادسًا: الالتزام بعلامات الترقيم.
وأسأل الله التوفيق والسداد، وأن يجعل أعمالنا صالحة، ولوجهه خالصة، وهذا وقت البدء بالمقصود، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
*****
যদি সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছেদের হাদিসটি প্রমাণিত হয়, তবে আমি সহায়ক বর্ণনা (শাওয়াহিদ) উল্লেখের মাধ্যমে দীর্ঘ আলোচনা করব না।
দ্বিতীয়ত: সনদের বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে যাদের জীবনী আলোচনা করা প্রয়োজন, তাদের জীবনী নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা হবে:
যদি বর্ণনাকারী ‘কুতুবে সিত্তাহ’র (ছয়টি কিতাব) অন্তর্ভুক্ত হন, তবে আমি হাফেজ ইবনে হাজার বিরচিত ‘তাকরীব’ গ্রন্থের বক্তব্যের ওপরই নির্ভর করব, যতক্ষণ না আমার কাছে এর বিপরীত কিছু স্পষ্ট হয়। এমতাবস্থায় আমি উক্ত বর্ণনাকারীর অবস্থা সম্পর্কে আমার কাছে যা প্রকাশ পেয়েছে তার সমর্থনে ‘জারহ ও তাদীল’ (দোষ-গুণ বিচার) শাস্ত্রের ইমামগণের কিছু বক্তব্য উল্লেখ করব।
খ- যদি বর্ণনাকারী ‘তাকরীব’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত না হন, তবে আমি তার জীবনীর সম্ভাব্য উৎসসমূহ থেকে সংক্ষেপে তার পরিচয় প্রদান করব।
তৃতীয়ত: অপরিচিত ও কঠিন শব্দসমূহের অর্থ ব্যাখ্যা করা।
চতুর্থত: হাদিসের মর্মার্থ বর্ণনা এবং এর ব্যাখ্যায় হাদিস ব্যাখ্যাকারকদের বক্তব্য উল্লেখ করা। কখনো কখনো হাদিস সংশ্লিষ্ট কিছু শিক্ষণীয় বিষয় ও উপকারিতা (ফায়েদা) উল্লেখ করা।
পঞ্চমত: জটিল শব্দ ও নামসমূহের সঠিক উচ্চারণ ও হরকত নির্ধারণ করা।
ষষ্ঠত: যতি চিহ্নের ব্যবহারের প্রতি যত্নশীল হওয়া।
আমি আল্লাহর কাছে তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি এবং তিনি যেন আমাদের আমলসমূহকে নেক আমল হিসেবে কবুল করেন এবং তা কেবল তাঁর চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন। আর এটিই মূল বিষয় শুরু করার সময়। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষণ করুন।
*****
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المبحث الأول: تعريف الشرك، وذكر أقسامه، وأحواله، ويحتوي على خمسة مطالب:
المطلب الأول: تعريف الشرك:في اللغة: الشرك: بكسر الشين، وإسكان الراء تقول: شاركته في الأمر وشركته فيه أشركه شركًا، بكسر الأول وسكون الثاني، ويأتي: شركة، بفتح الأول وكسر الثاني فيها. ويقال: أشركته: أي جعلته شريكًا
(1).
وله معان كثيرة منها: المشاركة، والمخالطة، والحظ والنصيب، والتسوية، والكفر:
قال ابن فارس: "الشركة هو أن يكون الشيء بين اثنين لا ينفرد به أحدهما، ويقال: شاركت فلانًا في الشيء، إذا صرت شريكه، وأشركت فلانًا، إذا جعلته شريكًا لك"
(2).
وقال ابن منظور: "الشَّركة والشَّرِكة سواء؛ مخالطة الشريكين،
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: শিরকের সংজ্ঞা, এর প্রকারভেদ এবং এর অবস্থাসমূহ বর্ণনা, এবং এটি পাঁচটি অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: শিরকের সংজ্ঞা:ভাষাগত অর্থে: শিরক (আশ-শিরক): শীন বর্ণের নিচে কাসরা (জের) এবং রা বর্ণে সুকুন (জযম) যোগে। আপনি বলেন: ‘আমি অমুক বিষয়ে তার সাথে শরীক হয়েছি’, আর শিরক শব্দটি প্রথম বর্ণে কাসরা এবং দ্বিতীয় বর্ণে সুকুন যোগে ব্যবহৃত হয়। এর আরেকটি রূপ হলো ‘শারিকাহ’, যেখানে প্রথম বর্ণে ফাতহা (যবর) এবং দ্বিতীয় বর্ণে কাসরা হয়। বলা হয়: ‘আমি তাকে শরীক করেছি’ অর্থাৎ আমি তাকে অংশীদার বানিয়েছি।
এর অনেকগুলো অর্থ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: অংশীদারিত্ব, সংমিশ্রণ, ভাগ্য ও অংশ, সমতা বিধান এবং কুফর।
ইবন ফারিস বলেন: "অংশীদারিত্ব হলো কোনো একটি বস্তু দুইজনের মধ্যে থাকা যাতে তাদের কেউ একা তার মালিকানা লাভ করে না। বলা হয়: আমি অমুক ব্যক্তির সাথে কোনো বিষয়ে শরীক হয়েছি যখন আমি তার অংশীদার হলাম। আর আমি অমুক ব্যক্তিকে শরীক করেছি যখন আমি তাকে আমার অংশীদার বানিয়েছি।"
ইবন মানযুর বলেন: "আশ-শারকাহ এবং আশ-শারিকাহ উভয়ই সমান; যার অর্থ দুই অংশীদারের সংমিশ্রণ,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
يقال: اشتركنا بمعنى تشاركنا، وقد اشترك الرجلان وتشاركا، وشارك أحدهما الآخر والشريك: المشارك، والشرك كالشريك، والجمع أشراك وشركاء"
(1).
وقال الأزهري: " شريك وأشراك، كما قالوا: يتيم وأيتام، ونصير وأنصار، والأشراك أيضًا جمع الشرك وهو النصيب، كما قال: قسم وأقسام"
(2).
وقال ابن منظور- أيضًا-: " طريق مشترك: أي يستوي فيه الناس، واسم مشترك: تستوي فيه معاني كثيرة .. "
(3).
وقال الجوهري: "والشرك أيضًا: الكفر"
(4).
في الاصطلاح: سيأتي التعريف به عند ذكر أقسامه.
* * *
المطلب الثاني: أقسام الشرك: ينقسم إلى قسمين:
القسم الأول: الشرك الأكبر: دعوة غير الله معه
(5)، وبعبارة أخرى: هو أن يجعل لله ندًا يدعوه كما يدعو الله، أو يخافه، أو
--------------------------------------------
বলা হয়: আমরা অংশীদার হয়েছি এর অর্থ আমরা একে অপরের অংশীদার হয়েছি। দুই ব্যক্তি অংশীদার হয়েছে এবং একে অপরের সাথে অংশীদারিত্ব করেছে। একজন অন্যজনের অংশীদার হয়েছে। 'শারীক' হলো অংশীদার। 'শিরক' শব্দটি 'শারীক' শব্দের মতোই, এর বহুবচন হলো 'আশরাক' এবং 'শুরাকা'
(১)।
আল-আজহারী বলেন: "শারীক এবং আশরাক, যেমন তারা বলে: ইয়াতীম এবং আইতাম, নাসীর এবং আনসার। আর আশরাক শব্দটি 'শিরক' শব্দেরও বহুবচন যার অর্থ হলো অংশ বা ভাগ, যেমন বলা হয়: কিসম এবং আকসাম"
(২)।
ইবনে মানযুর আরও বলেন: "সাধারণ পথ: অর্থাৎ যাতে মানুষ সমান সুযোগ পায়। এবং যৌথ শব্দ: যাতে অনেকগুলো অর্থ সমানভাবে থাকে..."
(৩)।
আল-জাওহারী বলেন: "শিরক এর অর্থ কুফরও হয়"
(৪)।
পরিভাষায়: এর প্রকারভেদ আলোচনার সময় এর সংজ্ঞা প্রদান করা হবে।
* * *
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শিরকের প্রকারভেদ: এটি দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রথম প্রকার: শিরকে আকবার (বড় শিরক): আল্লাহর পাশাপাশি অন্য কাউকে ডাকা
(৫), অন্য কথায়: আল্লাহর জন্য কোনো সমকক্ষ স্থির করা যাকে সে আল্লাহর ন্যায় ডাকে, অথবা তাকে ভয় পায়, অথবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
يرجوه، أو يحبه كحب الله، أو يصرف له نوعًا من خصائص الربوبية والإلهية
(1).
أو يقال: هوكل شرك أطلقه الشارع وكان متضمنًا لخروج الإنسان عن دينه
(2).
ومن أمثلته: دعاء غير الله دعاء عبادة، أو دعاء مسألة، أو استغاثة بغير الله فيما لايقدر عليه إلا الله، أو نذر لغير الله ونحوه.
القسم الثاني: الشرك الأصغر: هوجميع الأقوال والأفعال التي يتوسل بها إلى الشرك، كالغلو في المخلوق الذي لا يبلغ رتبة العبادة، وكالحلف بغير الله ويسير الرياء ونحو ذلك
(3).
وبعبارة أضبط، هوكل عمل قولي أو فعلي أطلق عليه الشرع وصف الشرك ولكنه لا يخرج عن الملة
(4).
--------------------------------------------
তার কাছে আশা করা, অথবা তাকে আল্লাহর মতো ভালোবাসা, অথবা তার জন্য রুবুবিয়্যাত ও উলুহিয়্যাতের কোনো বৈশিষ্ট্য নিবেদন করা
(১).
অথবা বলা হয়: এটি হলো এমন প্রত্যেক শিরক যাকে শরীয়ত প্রণেতা শিরক হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং যা মানুষের দ্বীন থেকে বের হয়ে যাওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে
(২).
এর উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে: আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে ইবাদতমূলক দুআ করা, অথবা সাহায্য প্রার্থনা করা, অথবা এমন বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে উদ্ধার প্রার্থনা (ইস্তিগাছা) করা যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ করতে সক্ষম নয়, অথবা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে মানত করা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো।
দ্বিতীয় প্রকার: ছোট শিরক (শিরকে আসগর): এটি হলো এমন সকল কথা ও কাজ যা বড় শিরকের মাধ্যম হয়, যেমন সৃষ্টির ব্যাপারে এমন বাড়াবাড়ি করা যা ইবাদতের পর্যায়ে পৌঁছায় না, এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করা ও সামান্য লোক দেখানো আমল (রিয়া) এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো
(৩)।
আরও সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞায়, এটি হলো এমন প্রত্যেক কথা বা কাজ যাকে শরীয়ত শিরক হিসেবে অভিহিত করেছে কিন্তু তা ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় না
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المطلب الثالث: أحوال الشرك:جلي، وخفي ويقعان في كلٍ من القسمين السابقين، قال الشيخ ابن باز رحمه الله: "أما الشرك الخفي فإنه يعمهما، فيقع في الأكبر، كشرك المنافقين؛ لأنهم يخفون عقائدهم الباطلة، ويتظاهرون بالإسلام رياء، وخوفًا على أنفسهم، ويكون في الشرك الأصغر، كالرياء"
(1).
* * *
المطلب الرابع: الفرق بين الشرك الأكبر والأصغر:فالأكبر: يخرج صاحبه من الملة، ولايجتمع مع أصل الإيمان، ويحبط الأعمال جميعها، ومرتكبه خالد مخلد في النار، ولايغفر الله لصاحبه إلا بالتوبة منه
والأصغر: لا يخرج صاحبه من الإسلام، ويجتمع مع أصل الإيمان ويناقض كماله الواجب، وينقص ثواب العمل المصاحب له، وقد يحبطه إذا زاد وغلب، ومرتكبه غير مخلد في النار، ويدخل تحت المشيئة في مغفرة الله للذنوب على قول،
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শিরকের অবস্থাসমূহ:প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য; যা ইতিপূর্বে উল্লেখিত উভয় প্রকারের মধ্যেই ঘটে থাকে। শায়খ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "অপ্রকাশ্য শিরক উভয় প্রকার শিরককেই অন্তর্ভুক্ত করে। এটি শিরকে আকবারেও (বড় শিরক) ঘটে থাকে, যেমন মুনাফিকদের শিরক; কারণ তারা তাদের ভ্রান্ত আকিদা গোপন রাখে এবং লোকদেখানো উদ্দেশ্যে ও নিজেদের প্রাণের ভয়ে বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করে। আবার এটি শিরকে আসগারেও (ছোট শিরক) হতে পারে, যেমন রিয়া (লোকদেখানো আমল)।"
(১).
* * *
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শিরকে আকবার ও শিরকে আসগারের মধ্যে পার্থক্য:বড় শিরক: এটি এর কর্তাকে ধর্মাদর্শ (মিল্লাত) থেকে বের করে দেয়, এটি ঈমানের মূল ভিত্তির সাথে একত্র হতে পারে না, এটি সমস্ত আমলকে নষ্ট করে দেয় এবং এতে লিপ্ত ব্যক্তি জাহান্নামে চিরকাল অবস্থান করবে। আল্লাহ তাওবা ব্যতীত এর কর্তাকে ক্ষমা করবেন না।
ছোট শিরক: এটি এর কর্তাকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় না, এটি ঈমানের মূল ভিত্তির সাথে একত্র থাকতে পারে তবে ঈমানের ওয়াজিব পূর্ণতার পরিপন্থী। এটি সংশ্লিষ্ট আমলের সওয়াব কমিয়ে দেয় এবং তা বৃদ্ধি পেয়ে প্রবল হলে আমলকে নষ্টও করে দিতে পারে। এর লিপ্ত ব্যক্তি জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না এবং একটি মতানুসারে এটি গুনাহ মাফের বিষয়ে আল্লাহর ইচ্ছার (মাশীয়াহ) অধীনে থাকবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وقيل بل يدخل الموازنة
(1).
فائدة: قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: "والشرك نوعان أكبر وأصغر فمن خلص منهما وجبت له الجنة ومن مات على الشرك الأكبر وجبت له النار ومن خلص من الأكبر وحصل له بعض الأصغر مع حسنات راجحة على ذنوبه دخل الجنة فإن تلك الحسنات هي توحيد كثير مع يسير من الشرك الأصغر ومن خلص من الشرك الأكبر ولكن كبر شركه الأصغر حتى رجحت به سيئاته دخل النار، فالشرك يؤاخذ به العبد إذا كان أكبر أو كان كثيرًًا أصغر، فالأصغر القليل في جانب الإخلاص الكثير لا يؤاخذ به، والخلاص من الأكبر ومن أكثر الأصغر الذي يجعل السيئات راجحة على الحسنات فصاحبه ناج ومن نجا من الشرك الأكبر الذي لا يغفره الله ورجحت حسناته على سيئاته دخل الجنة .. "
(2).
* * *
--------------------------------------------
এবং বলা হয়েছে যে, বরং এটি পাল্লা বা আমল মাপার আওতাভুক্ত হবে
(১)।
উপকারিতা: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "শিরক দুই প্রকার: বড় এবং ছোট। যে ব্যক্তি এই উভয় প্রকার শিরক থেকে মুক্ত থাকবে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত। আর যে ব্যক্তি বড় শিরকের ওপর মৃত্যুবরণ করবে, তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত। আর যে ব্যক্তি বড় শিরক থেকে মুক্ত থাকল কিন্তু তার মধ্যে কিছু ছোট শিরক পাওয়া গেল, এমতাবস্থায় যে তার নেক আমলগুলো গুনাহের ওপর প্রবল (ভারী) হলো, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। কারণ সেই নেক আমলগুলো হলো সামান্য ছোট শিরকের বিপরীতে বিশাল তাওহীদ। আর যে ব্যক্তি বড় শিরক থেকে মুক্ত থাকল কিন্তু তার ছোট শিরক এত বৃদ্ধি পেল যে তার কারণে তার পাপগুলো (পুণ্যের ওপর) ভারী হয়ে গেল, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। সুতরাং বান্দাকে শিরকের কারণে পাকড়াও করা হবে—তা বড় শিরক হোক অথবা অধিক পরিমাণে ছোট শিরক হোক। অতএব, প্রচুর ইখলাসের বিপরীতে সামান্য ছোট শিরকের কারণে পাকড়াও করা হবে না। আর বড় শিরক এবং সেই অধিক পরিমাণ ছোট শিরক—যা মন্দ কাজকে নেক কাজের ওপর ভারী করে দেয়—তা থেকে মুক্তি লাভকারী ব্যক্তিই নাজাতপ্রাপ্ত। আর যে ব্যক্তি বড় শিরক থেকে মুক্তি পেল যা আল্লাহ ক্ষমা করেন না এবং তার নেক আমলগুলো মন্দ কাজের ওপর প্রবল হলো, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে..."
(২)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المطلب الخامس: ذكر الشرك في القرآن:
أولًا:قال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا}
(1).
قال السعدي رحمه الله: "يخبر تعالى: أنه لا يغفر لمن أشرك به أحدًا من المخلوقين، ويغفر ما دون الشرك من الذنوب صغائرها وكبائرها، وذلك عند مشيئته مغفرة ذلك، إذا اقتضت حكمتُه مغفرتَه.
فالذنوب التي دون الشرك قد جعل الله لمغفرتها أسبابًا كثيرة، كالحسنات الماحية والمصائب المكفرة في الدنيا، والبرزخ ويوم القيامة، وكدعاء المؤمنين بعضهم لبعض، وبشفاعة الشافعين. ومن فوق ذلك كله رحمته التي أحق بها أهل الإيمان والتوحيد.
وهذا بخلاف الشرك فإن المشرك قد سد على نفسه أبواب المغفرة، وأغلق دونه أبواب الرحمة، فلا تنفعه الطاعات من دون التوحيد، ولا تفيده المصائب شيئا، ..
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: কুরআনে শিরকের আলোচনা:প্রথমত:মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না, এবং এটি ছাড়া অন্য সব অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে এক মহাপাপ উদ্ভাবন করল}
(১)।
আস-সাদী রহিমাহুল্লাহ বলেন: "মহান আল্লাহ সংবাদ দিচ্ছেন যে: তিনি তাঁর সাথে কোনো সৃষ্টিকে শরীক করার অপরাধ ক্ষমা করবেন না। তবে শিরক ব্যতীত অন্যান্য ছোট-বড় পাপ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন; যখন তাঁর প্রজ্ঞা সেই পাপ ক্ষমার দাবি রাখে।
শিরক অপেক্ষা কম অপরাধগুলোর ক্ষমার জন্য আল্লাহ তাআলা অনেক উপায় রেখেছেন, যেমন—পাপ মোচনকারী নেক আমল এবং দুনিয়া, বারযাখ ও কিয়ামত দিবসের বিপদ-আপদ যা গুনাহর কাফফারা হয়; অনুরূপভাবে মুমিনদের একে অপরের জন্য দোয়া এবং সুপারিশকারীদের সুপারিশ। আর এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে রয়েছে তাঁর সেই রহমত যার হকদার কেবল ঈমান ও তাওহীদপন্থীরাই।
আর বিষয়টি শিরকের বিপরীত; কেননা মুশরিক নিজের জন্য ক্ষমার সব পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে এবং নিজের সামনে রহমতের দরজাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। সুতরাং তাওহীদ ব্যতিরেকে কোনো ইবাদত তার উপকারে আসবে না এবং কোনো বিপদ-আপদও তাকে কোনো ফায়দা দিবে না, ..
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ولهذا حُتِّم على صاحبه بالخلود بالعذاب وحرمان الثواب {إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ}
(1)، وهذه الآية الكريمة في حق غير التائب وأما التائب فإنه يغفر له الشرك فما دونه كما قال تعالى: {قُلْ يَاعِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا}
(2)، أي لمن تاب إليه وأناب"
(3).
ثانيًا:قال تعالى: {إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ}
(4).
قال ابن جرير رحمه الله: " إنه من يشرك بالله فقد حرم الله عليه الجنة، أن يسكنها في الآخرة، ومأواه النار"، يقول: ومرجعه ومكانه الذي يأوي إليه ويصير في معاده، من جعل لله شريكًا في عبادته نارُ جهنم وما للظالمين"، يقول: وليس لمن فعل غير ما أباح الله له، وعبد غير الذي له عبادة الخلق من أنصار"، ينصرونه يوم القيامة من الله، فينقذونه منه إذا أورده جهنم"
(5).
--------------------------------------------
এই কারণেই এর লিপ্ত ব্যক্তির জন্য আযাবে চিরস্থায়ী হওয়া এবং সওয়াব থেকে বঞ্চিত হওয়া অবধারিত করা হয়েছে: {নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম}
(১)। আর এই বরকতময় আয়াতটি সে ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে তওবা করেনি; কিন্তু যে তওবা করেছে, তার শিরকসহ যাবতীয় গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন}
(২), অর্থাৎ যে ব্যক্তি তাঁর নিকট তওবা ও প্রত্যাবর্তন করে
(৩)।
দ্বিতীয়ত:আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম; আর জালেমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই}
(৪)।
ইবনে জারীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "নিশ্চয়ই যে আল্লাহর সাথে শিরক করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন, অর্থাৎ আখিরাতে সেখানে বসবাস করা; এবং তার ঠিকানা হবে আগুন"। তিনি বলেন: "এর অর্থ হলো যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদতে অন্যকে শরিক করেছে, তার প্রত্যাবর্তনস্থল ও আশ্রয়স্থল হবে জাহান্নামের আগুন। 'আর জালেমদের জন্য...', তিনি বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর অনুমোদিত কাজের বাইরে কাজ করেছে এবং মাখলুকের ইবাদত পাওয়ার যোগ্য সত্তা ব্যতীত অন্যের ইবাদত করেছে, তাদের জন্য কোনো 'সাহায্যকারী নেই', যারা কিয়ামতের দিন আল্লাহর মোকাবিলায় তাকে সাহায্য করবে এবং যখন তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে তখন তাকে তা থেকে উদ্ধার করবে"
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
ثالثًا:قال تعالى: {وَإِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ يَابُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ}
(1).
قال ابن كثي رحمه الله الله: "يقول تعالى مخبرًا عن وصية لقمان لولده الذي هو أشفق الناس عليه وأحبهم إليه، فهو حقيق أن يمنحه أفضل ما يعرف؛ ولهذا أوصاه أولًا بأن يعبد الله وحده ولا يشرك به شيئا، ثم قال محذرًا له: {إن الشرك لظلم عظيم} أي: هو أعظم الظلم"
(2).
وقال السعدي رحمه الله: "أو قال له قولًا به يعظه بالأمر، والنهي المقرون بالترغيب والترهيب، فأمره بالإخلاص، ونهاه عن الشرك، وبيَّن له السبب في ذلك فقال: {إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ}
(3) ووجه كونه عظيمًا أنه لا أفظع وأبشع ممن سَوَّى المخلوق من تراب، بمالك الرقاب، وسوَّى الذي لا يملك من الأمر شيئًا، بمن له الأمر كله، وسوَّى الناقص الفقير من جميع
--------------------------------------------
তৃতীয়ত:মহান আল্লাহ বলেন: {আর স্মরণ করো, যখন লুকমান তার ছেলেকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিল, 'হে বৎস! আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করো না। নিশ্চয়ই শিরক হলো এক মহা জুলুম।'}
(১)।
ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আল্লাহ তাআলা লুকমানের পক্ষ থেকে তাঁর সন্তানের প্রতি তাঁর দেওয়া সেই উপদেশের সংবাদ দিচ্ছেন, যে সন্তান তাঁর কাছে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দয়াপাত্র এবং সবচেয়ে প্রিয়। অতএব, তিনি তাঁর জানাশোনার মধ্যে যা সবচেয়ে উত্তম তা-ই তাকে দান করার উপযুক্ত। এ কারণেই তিনি তাকে প্রথমে কেবল আল্লাহর ইবাদত করার এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করার উপদেশ দিয়েছেন। এরপর তিনি তাকে সতর্ক করে বলেছেন: {নিশ্চয়ই শিরক হলো এক মহা জুলুম} অর্থাৎ: এটিই সবচেয়ে বড় জুলুম"
(২)।
সা’দী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "অথবা তিনি তাকে এমন কথা বললেন যার মাধ্যমে তিনি তাকে আদেশ ও নিষেধের দ্বারা উপদেশ দিচ্ছেন যা উৎসাহ ও ভীতির সাথে সম্পৃক্ত। ফলে তিনি তাকে একনিষ্ঠতার আদেশ দিলেন এবং শিরক করতে নিষেধ করলেন। আর এর পেছনের কারণ বর্ণনা করে বললেন: {নিশ্চয়ই শিরক হলো এক মহা জুলুম}
(৩)। এটি মহান বা গুরুতর হওয়ার কারণ এই যে, মাটি থেকে সৃষ্ট সৃষ্টিকে সমস্ত কিছুর মালিকের সমান মনে করা, এবং যার কোনো কিছুর ওপর কোনো কর্তৃত্ব নেই তাকে যার হাতে সকল কর্তৃত্ব তাঁর সমান মনে করা, এবং সর্বদিক দিয়ে ত্রুটিপূর্ণ ও অভাবগ্রস্তকে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الوجوه، بالرب الكامل الغني من جميع الوجوه، وسوَّى من لم ينعم بمثقال ذرة من النعم، بالذي ما بالخلق من نعمة في دينهم، ودنياهم وأخراهم، وقلوبهم، وأبدانهم، إلا منه، ولا يصرف السوء إلا هو، فهل أعظم من هذا الظلم شيء، وهل أعظم ظلمًا ممن خلقه الله لعبادته وتوحيده، فذهب بنفسه الشريفة، فجعلها في أخس المراتب جعلها عابدة لمن لا يسوى شيئا، فظلم نفسه ظلما كبيرًا "
(1).
* * *
--------------------------------------------
দিকসমূহ থেকে, সেই রবের সাথে যিনি সকল দিক থেকে পূর্ণ ও অমুখাপেক্ষী; আর সে তাকে সমতুল্য করেছে যে অণু পরিমাণ নিআমত দান করেনি, সেই সত্তার সাথে—সৃষ্টিজগতের দ্বীন, দুনিয়া ও আখিরাতে এবং তাদের অন্তরে ও শরীরে যত নিআমত রয়েছে তা কেবল তাঁরই পক্ষ থেকে, আর তিনি ব্যতীত কেউ অনিষ্ট দূর করতে পারে না। সুতরাং এই যুলুমের চেয়ে বড় কি কিছু হতে পারে? আর তার চেয়ে বড় যালিম কে হতে পারে যাকে আল্লাহ তাঁর ইবাদত ও তাওহীদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, অথচ সে নিজের সম্মানিত নফসকে নিয়ে গিয়ে নিকৃষ্টতম স্তরে উপনীত করল এবং তাকে এমন কিছুর ইবাদতকারীতে পরিণত করল যার কোনো মূল্যই নেই? ফলে সে নিজের নফসের ওপর এক মহা যুলুম করল। "
(১).
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
المبحث الثاني: الأحاديث الواردة في التحذير من الشرك، وبيان خطره: ويحتوي على عشرة مطالب:
المطلب الأول: الشرك أكبر الموبقات:1 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا هُنَّ قَالَ: الشِّرْكُ بِاللهِ وَالسِّحْرُ وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَأَكْلُ الرِّبَا وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ الْغَافِلَاتِ.
أولًا: التخريج: أخرجه البخاري
(1)، ومسلم
(2).
ثانيًا: شرح ألفاظ الحديث:
اجْتَنِبُوا: ابعدوا، افتعال من الجنب، وهو أبلغ من لا تشركوا
(3).
الْمُوبِقَاتِ: بضم الميم وسكون الواو وكسر الموحدة بعدها قاف
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শিরক থেকে সতর্কীকরণ এবং এর ভয়াবহতা বর্ণনায় বর্ণিত হাদীসসমূহ: এবং এটি দশটি অনুচ্ছেদ সংবলিত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: শিরক ধ্বংসাত্মক পাপসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড়:১ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক বিষয় থেকে বেঁচে থাক। তারা (সাহাবীগণ) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, সেগুলো কী? তিনি বললেন: আল্লাহর সাথে শিরক করা, যাদু, অন্যায়ভাবে আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃত প্রাণ হত্যা করা, সুদ খাওয়া, ইয়াতীমের মাল আত্মসাৎ করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করা এবং সচ্চরিত্রা মুমিন উদাসীন নারীদের প্রতি অপবাদ দেওয়া।
প্রথমত: হাদীসের উৎস: ইমাম বুখারী
(১) এবং মুসলিম
(২) এটি বর্ণনা করেছেন।
দ্বিতীয়ত: হাদীসের শব্দগুলোর ব্যাখ্যা:
বেঁচে থাকো: তোমরা দূরে থাকো; এটি ‘জানব’ ধাতু থেকে ‘ইফতিআল’ ওজনে গঠিত। আর এটি ‘শিরক করো না’ বলার চেয়েও অধিক জোরালো।
(৩)ধ্বংসাত্মক বিষয়সমূহ: মীম বর্ণে পেশ, ওয়াও বর্ণে সুকুন এবং বা বর্ণে কাসরা (যের) সহকারে, এরপর ক্বাফ বর্ণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فألف ففوقية، أي: المهلكات، وسميت هذه الكبائر موبقات؛ لأنها تهلك فاعلها في الدنيا بما يترتب عليها من العقوبات، وفي الآخرة من العذاب
(1).
فائدة: قال النووي رحمه الله: "وقال العلماء رحمهم الله: ولا انحصار للكبائر في عدد مذكور، وقد جاء عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه سئل عن الكبائر أسبع هي؟ فقال: هي إلى سبعين، ويروى إلى سبعمائة، وأما قوله صلى الله عليه وسلم الكبائر سبع فالمراد به: من الكبائر سبع. فإن هذه الصيغة وإن كانت للعموم فهي مخصوصة بلا شك، وإنما وقع الاقتصار على هذه السبع، وفي الرواية الأخرى ثلاث
(2)، وفي الأخرى أربع
(3) لكونها من أفحش الكبائر مع كثرة وقوعها لا سيما فيما كانت عليه الجاهلية، ولم يذكر في بعضها ما ذكر في الأخرى، وهذا مصرح بما ذكرته من أن المراد البعض، وقد جاء بعد هذا من الكبائر شتم الرجل والديه
(4)، وجاء في النميمة، وعدم الاستبراء
--------------------------------------------
ধ্বংসাত্মক বিষয়াবলি। এই বড় গুনাহসমূহকে 'মু'বিক্বাত' (বিধ্বংসী) হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে; কারণ তা সম্পাদনকারীকে দুনিয়াতে এর ফলে নির্ধারিত দণ্ডবিধির মাধ্যমে এবং আখেরাতে আজাবের মাধ্যমে ধ্বংস করে দেয়
(১)।
ফায়দা: ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "উলামায়ে কেরাম (রাহিমাহুমুল্লাহ) বলেছেন: বড় গুনাহসমূহ কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁকে বড় গুনাহসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—তা কি সাতটি? তিনি বললেন: সেগুলো সত্তর পর্যন্ত হতে পারে, আবার সাতশ পর্যন্তও বর্ণিত হয়েছে। আর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী—'বড় গুনাহ সাতটি'—এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: বড় গুনাহসমূহের মধ্য হতে সাতটি। কারণ এই শব্দচয়ন যদিও ব্যাপক অর্থ প্রকাশ করে, তবে তা নিঃসন্দেহে নির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য (অর্থাৎ কেবল এই সাতটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়)। আর কেবল এই সাতটির উল্লেখ করার কারণ হলো, এগুলো অত্যন্ত জঘন্য বড় গুনাহ হওয়ার পাশাপাশি এগুলোর ব্যাপক প্রচলন ছিল—বিশেষ করে জাহেলিয়াতের যুগে। আবার কোনো বর্ণনায় যা উল্লেখ করা হয়েছে অন্য বর্ণনায় তা করা হয়নি। এটি আমার এই বক্তব্যেরই স্পষ্ট প্রমাণ যে, এর দ্বারা বড় গুনাহসমূহের একটি অংশ বা কতিপয় গুনাহ উদ্দেশ্য। এরপর বড় গুনাহসমূহের বর্ণনায় আরও এসেছে—ব্যক্তির তার পিতা-মাতাকে গালি দেওয়া
(৪), আর চোগলখোরি এবং প্রস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জন না করার বিষয়েও এসেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
من البول
(1)، أنهما من الكبائر. وجاء في غير مسلم من الكبائر اليمين الغموس
(2) … "
(3).
الشِّرْكُ بِاللهِ: بدأ به لعظم خطره، وأنه أكبر الكبائر، وأظلم الظلم، وأعظم العظائم
(4).
وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللهُ إِلَّا بِالْحَقِّ: إلا بالحق: أي هو القتل الذي أذن الله به، كالقصاص، والقتل على الردة، والرجم
(5).
وَالْيَتِيمِ: هو من فقد أباه قبل البلوغ
(6).
وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ: أي الفرار عن القتال يوم التقاء الطائفتين، وإنما يكون كبيرة إذا فر إلى غير فئة، وإذا كان العدو ضعفي المسلمين
(7).
--------------------------------------------
প্রস্রাব থেকে
(১), এ দুটি কবিরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত। মুসলিম শরীফ ব্যতীত অন্য কিতাবে কবিরা গুনাহসমূহের বর্ণনায় 'আল-ইয়ামীনুল গামূস' (মিথ্যা শপথ)
(২) এর কথা এসেছে... "
(৩)।
আল্লাহর সাথে শিরক করা: এর চরম ভয়াবহতা এবং এটি সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ, চরমতম জুলুম ও মহাপাপ হওয়ার কারণে এটি দিয়ে আলোচনা শুরু করা হয়েছে
(৪)।
আল্লাহ যে প্রাণ হত্যা করা হারাম করেছেন তাকে ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া হত্যা করা: ন্যায়সঙ্গত কারণ বলতে সেই হত্যাকে বোঝায় যার অনুমতি আল্লাহ দিয়েছেন, যেমন কিসাস (প্রতিশোধ), মুরতাদ হওয়ার কারণে হত্যা এবং রজম (ব্যভিচারের শাস্তি হিসেবে পাথর নিক্ষেপে হত্যা)
(৫)।
এতিম: যে ব্যক্তি বালেগ হওয়ার পূর্বেই পিতাকে হারিয়েছে
(৬)।
যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা: অর্থাৎ দুই দল মুখোমুখি হওয়ার দিনে লড়াই ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া। এটি কেবল তখনই কবিরা গুনাহ হবে যখন অন্য দলের সাথে মিলিত হওয়ার বা রণকৌশল পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছাড়া পলায়ন করা হয়, এবং যদি শত্রুর সংখ্যা মুসলমানদের তুলনায় দ্বিগুণ বা তার কম হয়
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ الْغَافِلَاتِ: المحصنات بكسر الصاد وفتحها والمراد بها هنا العفائف، وبالغافلات: الغافلات عن الفواحش وما قذفن به، ولا يختص بالمزوجات بل حكم البكر كذلك بالإجماع
(1).
* * *
المطلب الثاني: الشرك أظلم الظلم:2 - عَنْ عَبْدِ اللهِ رضي الله عنه قَالَ: لَمَّا نَزَلَتِ {لخ لم لى لي مج مح}
(2) شَقَّ ذَلِكَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ أَيُّنَا لَا يَظْلِمُ نَفْسَهُ قَالَ: لَيْسَ ذَلِكَ إِنَّمَا هُوَ الشِّرْكُ أَلَمْ تَسْمَعُوا مَا قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ: {يح يخ يم يى يي ذ? ر? ى? تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ ئر}
(3).
أولًا: التخريج: أخرجه البخاري
(4)، ومسلم
(5).
--------------------------------------------
সচ্চরিত্রা, মুমিন ও উদাসীন নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ: 'মুহসানাত' শব্দে সোয়াদ বর্ণে কাসরা (জের) বা ফাতহা (যবর) উভয়টিই হতে পারে এবং এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সতী-সাধ্বী বা পবিত্রা নারীগণ। আর 'গাফিলাত' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: যারা অশ্লীল কাজ এবং যে অপবাদ তাদের প্রতি দেওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অসতর্ক। এটি কেবল বিবাহিত নারীদের জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং ইজমা (ঐকমত্য) অনুযায়ী কুমারী নারীদের বিধানও একই রকম
(১)।
* * *
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম:২ - আবদুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন আয়াত নাযিল হলো: {যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে মিশ্রিত করেনি}
(২) তখন বিষয়টি মুসলিমদের নিকট অত্যন্ত কষ্টকর মনে হলো। তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে নিজের ওপর জুলুম করেনি? তিনি বললেন: বিষয়টি তেমন নয়, বরং এটি হলো শিরক। তোমরা কি শোননি লোকমান তার পুত্রকে উপদেশ দিতে গিয়ে যা বলেছিলেন: {হে আমার প্রিয় বৎস! আল্লাহর সাথে শিরক করো না; নিশ্চয়ই শিরক হলো বড় জুলুম}
(৩)।
প্রথমত: উৎস নিরূপণ (তাখরীজ): এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারী
(৪) এবং ইমাম মুসলিম
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ثانيًا: شرح ألفاظ الحديث:
وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ: يلبسوا أي يخلطوا، وبظلم: أي بشرك وهو أعلى أنواع الظلم،
… وفي المتن من الفوائد الحمل على العموم حتى يرد دليل الخصوص، وأن النكرة في سياق النفي تعم، وأن الخاص يقضي على العام، والمبين على المجمل، وأن اللفظ يحمل على خلاف ظاهره لمصلحة دفع التعارض، وأن درجات الظلم تتفاوت .. وأن من لم يشرك بالله شيئا فله الأمن وهو مهتد
(1).
* * *
المطلب الثالث: الشرك أكبر الكبائر:3 - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما: أَنَّ نَاسًا مِنْ أَهْلِ الشِّرْكِ، كَانُوا قَدْ قَتَلُوا وَأَكْثَرُوا، وَزَنَوْا وَأَكْثَرُوا، فَأَتَوْا مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا: إِنَّ الَّذِي تَقُولُ وَتَدْعُو إِلَيْهِ لَحَسَنٌ، لَوْ تُخْبِرُنَا أَنَّ لِمَا عَمِلْنَا كَفَّارَةً، فَنَزَلَ {وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ}
(2) وَنَزَلَ: {قُلْ يَاعِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: হাদিসের শব্দাবলির ব্যাখ্যা:
“এবং তারা তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে মিশ্রিত করেনি”: ‘িলবিসু’ (يلبسوا) অর্থ তারা মিশ্রিত করেছে; এবং ‘জুলুমের সাথে’ অর্থ শিরকের সাথে, আর তা হলো জুলুমের সর্বোচ্চ পর্যায়,
... আর মূল পাঠের শিক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে: ব্যাপকতা (উমুম) বজায় রাখা যতক্ষণ না বিশেষীকরণের (খুসাস) কোনো দলিল আসে; এবং নেতিবাচক প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্টবাচক শব্দ (নাকেরা) ব্যাপক অর্থ প্রদান করে; এবং বিশেষ সাধারণের ওপর প্রাধান্য পায়, আর বিশদ বর্ণনা অস্পষ্ট বর্ণনার ওপর প্রাধান্য পায়; এবং বৈপরীত্য নিরসনের প্রয়োজনে শব্দকে তার বাহ্যিক অর্থের বিপরীতে প্রয়োগ করা হয়; এবং জুলুমের স্তরসমূহে তারতম্য ঘটে... এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করেনি, তার জন্য রয়েছে নিরাপত্তা এবং সে হিদায়াতপ্রাপ্ত
(১)।
* * *
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শিরক সবচেয়ে বড় কাবিরা গুনাহ:৩ - ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত: মুশরিকদের কিছু লোক, যারা অনেক হত্যা করেছিল এবং প্রচুর ব্যভিচার করেছিল, তারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল: “আপনি যা বলছেন এবং যার দিকে আহ্বান করছেন তা অবশ্যই উত্তম; যদি আপনি আমাদের জানাতেন যে, আমরা যা করেছি তার কোনো কাফফারা বা প্রায়শ্চিত্ত আছে কি না!” তখন অবতীর্ণ হলো: {আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহকে ডাকে না এবং আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন তাকে যথার্থ কারণ ছাড়া হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না}
(২) এবং অবতীর্ণ হলো: {বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের প্রতি সীমালঙ্ঘন করেছ...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ}
(1).
أولًا: التخريج: أخرجه البخاري
(2)، ومسلم
(3).
ثانيًا: شرح ألفاظ الحديث:
{لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ}: أي: لا تيأسوا منها، فتلقوا بأيديكم إلى التهلكة، وتقولوا قد كثرت ذنوبنا وتراكمت عيوبنا، فليس لها طريق يزيلها ولا سبيل يصرفها، فتبقون بسبب ذلك مصرين على العصيان، متزودين ما يغضب عليكم الرحمن، ولكن اعرفوا ربكم بأسمائه الدالة على كرمه وجوده، واعلموا أنه يغفر الذنوب جميعا من الشرك، والقتل، والزنا، والربا، والظلم، وغير ذلك من الذنوب الكبار والصغار. {إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ} أي: وصفه المغفرة والرحمة، وصفان لازمان ذاتيان، لا تنفك ذاته عنهما، ولم تزل آثارهما سارية في الوجود، مالئة للموجود، تسح يداه من الخيرات آناء الليل والنهار، ويوالي النعم على العباد والفواضل في
--------------------------------------------
...নিজেদের নফসের প্রতি (জুলুম করেছ), তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।}
(১).
প্রথমত: তাখরিজ: এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি
(২) এবং মুসলিম
(৩)।
দ্বিতীয়ত: হাদিসের শব্দাবলির ব্যাখ্যা:
{তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না}: অর্থাৎ: তোমরা তা থেকে নিরাশ হয়ো না, যার ফলে তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিবে এবং বলবে যে আমাদের গুনাহ অনেক বেড়ে গেছে এবং আমাদের দোষ-ত্রুটি পুঞ্জীভূত হয়ে গেছে, সুতরাং তা দূর করার কোনো পথ নেই এবং তা সরিয়ে ফেলার কোনো উপায় নেই। ফলে তোমরা এর কারণে নাফরমানিতে অবিচল থাকবে এবং এমন পাথেয় সংগ্রহ করবে যা দয়াময় (রহমান)-কে তোমাদের ওপর রাগান্বিত করবে। বরং তোমরা তোমাদের রবকে তাঁর এমন সব নামের মাধ্যমে চেনো যা তাঁর মহানুভবতা ও দানশীলতার প্রমাণ দেয়, এবং জেনে রেখো যে তিনি শিরক, হত্যা, ব্যভিচার, সুদ, জুলুম এবং এ ছাড়া অন্যান্য ছোট-বড় সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন। {নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} অর্থাৎ: তাঁর বৈশিষ্ট্য হলো ক্ষমা ও দয়া, যা দুটি অবিচ্ছেদ্য সত্তাগত গুণ, তাঁর সত্তা থেকে যা কখনো পৃথক হয় না। অস্তিত্বের মাঝে এগুলোর প্রভাব সর্বদা চলমান এবং সৃষ্টিজগতকে তা পূর্ণ করে রেখেছে। রাত ও দিনের প্রহরে আল্লাহর হাতসমূহ কল্যাণ বর্ষণ করে চলেছে, এবং তিনি বান্দাদের ওপর নেয়ামত ও অনুগ্রহের ধারা অব্যাহত রাখেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
السر والجهار، والعطاء أحب إليه من المنع، والرحمة سبقت الغضب وغلبته،. ولكن لمغفرته ورحمته ونيلهما أسباب إن لم يأت بها العبد، فقد أغلق على نفسه باب الرحمة والمغفرة، أعظمها وأجلها، بل لا سبب لها غيره، الإنابة إلى الله تعالى بالتوبة النصوح، والدعاء والتضرع والتأله والتعبد، فهلم إلى هذا السبب الأجل، والطريق الأعظم
(1).
* * *
المطلب الرابع: الشرك أعظم الدنوب عند الله:4 - عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَيُّ الذَّنْبِ أَعْظَمُ عِنْدَ اللهِ؟ قَالَ: "أَنْ تَجْعَلَ لِلهِ نِدًّا، وَهُوَ خَلَقَكَ، قَالَ: قُلْتُ لَهُ: إِنَّ ذَلِكَ لَعَظِيمٌ. قَالَ: قُلْتُ: ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ: ثُمَّ أَنْ تَقْتُلَ وَلَدَكَ مَخَافَةَ أَنْ يَطْعَمَ مَعَكَ، قَالَ: قُلْتُ: ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ: ثُمَّ أَنْ تُزَانِيَ حَلِيلَةَ جَارِكَ".
أولًا: التخريج: أخرجه البخاري
(2)، ومسلم
(3).
--------------------------------------------
গোপন ও প্রকাশ্য, এবং দান করা তাঁর নিকট বিরত রাখার চেয়ে অধিক প্রিয়, এবং রহমত ক্রোধের অগ্রগামী হয়েছে ও তার ওপর বিজয়ী হয়েছে। তবে তাঁর ক্ষমা ও রহমত এবং তা লাভের জন্য কিছু কারণ বা মাধ্যম রয়েছে, যদি বান্দা সেগুলো সম্পাদন না করে, তবে সে নিজের ওপর রহমত ও ক্ষমার দরজা বন্ধ করে দিল। সেগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা মহান ও শ্রেষ্ঠ, বরং এটি ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই, তা হলো—নিষ্ঠাপূর্ণ তাওবার মাধ্যমে মহান আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, এবং দুআ, প্রার্থনা, উপাসনা ও ইবাদত বন্দেগি করা। অতএব, এই সুমহান মাধ্যম ও শ্রেষ্ঠ পথের দিকে এগিয়ে এসো
(১)।
* * *
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নিকট শিরক হলো সবচেয়ে বড় গুনাহ:৪ - আবদুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহর নিকট কোন গুনাহটি সবচেয়ে বড়? তিনি বললেন: "আল্লাহর সাথে কাউকে সমকক্ষ সাব্যস্ত করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।" তিনি বলেন, আমি তাঁকে বললাম: নিশ্চয়ই এটি সুমহান অপরাধ। আমি বললাম: এরপর কোনটি? তিনি বললেন: "এরপর তোমার সন্তানকে এই ভয়ে হত্যা করা যে, সে তোমার সাথে আহার করবে।" আমি বললাম: এরপর কোনটি? তিনি বললেন: "এরপর তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা।"
প্রথমত: উৎস নির্দেশ (তাখরিজ): এটি ইমাম বুখারি
(২) ও মুসলিম
(৩) বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ثانيًا: شرح ألفاظ الحديث:
أَنْ تَجْعَلَ لِلهِ نِدًّا: الند بكسر النون وتشديد الدال، بمعنى المثل، والشبه، والنظير، والضد
(1).
قال القرطبي رحمه الله: "ومعناه: أن اتخاذ الإنسان إلهًا غير خالقه المنعم عليه، مع علمه بأن ذلك المتخذ ليس هو الذي خلقه، ولا الذي أنعم عليه: من أقبح القبائح، وأعظم الجهالات؛ وعلى هذا فذلك أكبر الكبائر، وأعظم العظائم"
(2).
يَطْعَمَ مَعَكَ: بفتح الياء أي يأكل
(3).
أَنْ تُزَانِيَ حَلِيلَةَ جَارِكَ: حليلة: هي بالحاء المهملة وهي زوجته سميت بذلك لكونها تحل له، وقيل لكونها تحل معه، ومعنى تزاني: أى تزنى بها برضاها، وذلك يتضمن الزنى، وإفسادها على زوجها، واستمالة قلبها إلى الزاني وذلك أفحش، وهو مع امرأة الجار أشد قبحًا، وأعظم جرمًا لأن الجار يتوقع من جاره الذب عنه وعن حريمه، ويأمن بوائقه، ويطمئن إليه، وقد أُمِر بإكرامه
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: হাদীসের শব্দাবলির ব্যাখ্যা:
আল্লাহর জন্য সমকক্ষ সাব্যস্ত করা: 'নিদ্দ' শব্দটি নূন বর্ণে কাসরা (জের) এবং দাল বর্ণে তাশদীদ সহযোগে; এর অর্থ হলো সদৃশ, উপমা, তুল্য এবং প্রতিপক্ষ
(১)।
ইমাম কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এর অর্থ হলো: মানুষের তার স্রষ্টা ও নিয়ামতদাতা ব্যতীত অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করা, অথচ সে জানে যে সেই গৃহীত সত্তা তাকে সৃষ্টি করেনি এবং তাকে নিয়ামতও দান করেনি—এটি নিকৃষ্টতম মন্দ কাজ এবং চরম মূর্খতা; আর এ কারণেই এটি কবিরা গুনাহসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং অপরাধসমূহের মধ্যে গুরুতর অপরাধ"
(২)।
তোমার সাথে আহার করা: ইয়া বর্ণে ফাতহা (যবর) যোগে, অর্থাৎ সে আহার করবে
(৩)।
তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা: 'হালীলাহ' শব্দটি 'হা' বর্ণ দিয়ে, এর অর্থ হলো তার স্ত্রী। তাকে এই নামে অভিহিত করার কারণ হলো সে তার জন্য হালাল (বৈধ), আবার কারো মতে সে তার সাথে একই স্থানে অবস্থান করে বলে তাকে এই নামে ডাকা হয়। আর 'তুযানি' এর অর্থ হলো: তার সম্মতিতে তার সাথে ব্যভিচার করা। এটি ব্যভিচার করা, স্বামীর সাথে তার সম্পর্ক নষ্ট করা এবং ব্যভিচারীর দিকে তার মনকে আকৃষ্ট করার বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, যা অত্যন্ত অশ্লীল। আর প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে এই কাজ করা আরও অধিক জঘন্য এবং গুরুতর অপরাধ। কারণ প্রতিবেশী তার প্রতিবেশীর নিকট থেকে নিজের এবং নিজের পরিবারের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রত্যাশা করে, তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে এবং তার প্রতি নিশ্চিন্ত থাকে; অথচ প্রতিবেশীকে সম্মান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
والإحسان إليه، فاذا قابل هذا كله بالزنى بامرأته، وإفسادها عليه مع تمكنه منها على وجه لا يتمكن غيره منه، كان في غاية من القبح"
(1).
* * *
المطلب الخامس: الشرك سبب لدخول النار:5 - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: يَقُولُ اللهُ تبارك وتعالى لِأَهْوَنِ أَهْلِ النَّارِ عَذَابًا: لَوْ كَانَتْ لَكَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا أَكُنْتَ مُفْتَدِيًا بِهَا؟ فَيَقُولُ: نَعَمْ. فَيَقُولُ: قَدْ أَرَدْتُ مِنْكَ أَهْوَنَ مِنْ هَذَا وَأَنْتَ فِي صُلْبِ آدَمَ، أَنْ لَا تُشْرِكَ. أَحْسَبُهُ قَالَ: وَلَا أُدْخِلَكَ النَّارَ، فَأَبَيْتَ إِلَّا الشِّرْكَ".
أولًا: التخريج: أخرجه البخاري
(2)، ومسلم
(3).
ثانيًا: شرح ألفاظ الحديث:
أَكُنْتَ مُفْتَدِيًا بِهَا: من الافتداء وهو خلاص نفسه من الذي وقع
--------------------------------------------
এবং তার প্রতি ইহসান করা; এমতাবস্থায় সে যদি এই সবকিছুর প্রতিদান তার স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার এবং তার সতীত্ব নষ্ট করার মাধ্যমে দেয়, অথচ সে তার নিকট এমনভাবে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে যা অন্য কেউ হতে পারে না, তবে তা হবে চরম জঘন্য কাজ"
(১).
* * *
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: শিরক জাহান্নামে প্রবেশের কারণ:৫ - আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা জাহান্নামিদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা আযাব ভোগকারী ব্যক্তিকে বলবেন: যদি তোমার কাছে পৃথিবী এবং তাতে যা কিছু আছে সব থাকত, তবে কি তুমি তার বিনিময়ে মুক্তি পেতে চাইতে? সে বলবে: হ্যাঁ। তখন তিনি বলবেন: আমি যখন তুমি আদমের পৃষ্ঠদেশে ছিলে, তখন তোমার কাছে এর চেয়ে সহজ একটি বিষয় চেয়েছিলাম, আর তা হলো—তুমি শিরক করবে না। বর্ণনাকারী বলেন: আমার ধারণা তিনি আরও বলেছিলেন: এবং আমি তোমাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব না। কিন্তু তুমি শিরক করা ছাড়া আর সবকিছুই প্রত্যাখ্যান করেছ।"
প্রথমত: তাখরিজ (উৎস নির্দেশ): এটি ইমাম বুখারি
(২) এবং মুসলিম
(৩) বর্ণনা করেছেন।
দ্বিতীয়ত: হাদিসের শব্দাবলির ব্যাখ্যা:
তুমি কি তার বিনিময়ে মুক্তি পেতে চাইতে: এটি 'আল-ইফতিদা' শব্দ থেকে গৃহীত, যার অর্থ হলো—নিজেকে এমন বিপদ থেকে মুক্ত করা যাতে সে নিপতিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فيه بدفع ما يملكه
(1).
* * *
المطلب السادس: تخلي الله عن المشرك يوم القيامة، ورد أعماله، وعدم إثابته عليها:6 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: قَالَ اللهُ تبارك وتعالى: أَنَا أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ، مَنْ عَمِلَ عَمَلًا أَشْرَكَ فِيهِ مَعِي غَيْرِي تَرَكْتُهُ وَشِرْكَهُ.
أولًا: التخريج: أخرجه مسلم
(2).
ثانيًا: شرح ألفاظ الحديث:
أَشْرَكَ فِيهِ مَعِي غَيْرِي تَرَكْتُهُ وَشِرْكَهُ: معناه أنا غني عن المشاركة؛ وغيرها، فمن عمل شيئًا لي ولغيري، لم أقبله، بل أتركه لذلك الغير، والمراد: أن عمل المرائي باطل، لاثواب فيه، ويأثم به
(3).
* * *
--------------------------------------------
এতে তার মালিকানাধীন সম্পদ প্রদানের মাধ্যমে
(১)।
* * *
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: কিয়ামতের দিন মুশরিক থেকে আল্লাহর বিমুখতা, তার আমল প্রত্যাখ্যান এবং এর ওপর তাকে কোনো সওয়াব প্রদান না করা:৬ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: আমি অংশীদারদের শিরক (অংশীদারিত্ব) থেকে সবচেয়ে বেশি অমুখাপেক্ষী। যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যাতে সে আমার সাথে অন্য কাউকে অংশীদার করেছে, আমি তাকে এবং তার শিরককে বর্জন করি।
প্রথমত: তথ্যসূত্র: এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন
(২)।
দ্বিতীয়ত: হাদিসের শব্দের ব্যাখ্যা:
তাতে আমার সাথে অন্যকে অংশীদার করল, আমি তাকে ও তার শিরককে বর্জন করি: এর অর্থ হলো আমি অংশীদারিত্ব এবং তা থেকে অমুখাপেক্ষী; সুতরাং যে ব্যক্তি আমার এবং অন্য কারো জন্য কোনো কাজ করল, আমি তা কবুল করি না, বরং তা সেই অন্যের জন্য ছেড়ে দেই। আর এর উদ্দেশ্য হলো: লোকদেখানো ব্যক্তির আমল বাতিল, তাতে কোনো সওয়াব নেই এবং এর কারণে সে গুনাহগার হবে
(৩)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
7 - عَنْ أَبِي سَعْدِ بْنِ أَبِي فَضَالَةَ الْأَنْصَارِيِّ، وَكَانَ مِنَ الصَّحَابَةِ
(1)، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "إِذَا جَمَعَ اللهُ النَّاسَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لِيَوْمٍ لَا رَيْبَ فِيهِ، نَادَى مُنَادٍ: مَنْ كَانَ أَشْرَكَ فِي عَمَلٍ عَمِلَهُ لِلهِ أَحَدًا، فَلْيَطْلُبْ ثَوَابَهُ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللهِ، فَإِنَّ اللهَ أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ".
أولًا: التخريج: أخرجه الترمذي
(2)، وابن ماجه
(3)، وفي إسناده زياد بن ميناء، مقبول
(4)، وله شاهد من حديث أبي هريرة المتقدم
(5) ولاسيما الجملة الأخيرة منه، قال ابن المديني: "إسناد صالح يقبله القلب، ورب إسناد ينكره القلب، وزياد بن ميناء مجهول لا أعرفه"
(6)، وقال الترمذي: "هذا حديث غريب، لا نعرفه إلا من حديث محمد بن بكر"، وحسنه الألباني
(7).
* * *
--------------------------------------------
৭ - আবু সা’দ বিন আবু ফাযালাহ আল-আনসারী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন
(১), তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ যখন কিয়ামতের দিন মানুষকে এমন এক দিনের জন্য একত্রিত করবেন যাতে কোনো সন্দেহ নেই, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কৃত কোনো আমলে অন্য কাউকে শরিক করেছে, সে যেন তার সওয়াব আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট অনুসন্ধান করে। কেননা আল্লাহ অংশীদারদের শিরক (অংশীদারিত্ব) হতে অত্যন্ত অমুখাপেক্ষী।"
প্রথমত: তাখরিজ (উৎস): এটি তিরমিযী
(২) ও ইবনে মাজাহ
(৩) বর্ণনা করেছেন। এর সনদে যিয়াদ বিন মীনা রয়েছেন, তিনি মাকবুল (গ্রহণযোগ্য)
(৪)। ইতিপূর্বে বর্ণিত আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদীসটি
(৫) এর সমর্থক (শাহিদ) হিসেবে রয়েছে, বিশেষ করে এর শেষাংশ। ইবনুল মাদীনী বলেছেন: "এটি এমন একটি উত্তম (সালিহ) সনদ যা অন্তর গ্রহণ করে, অথচ অনেক সনদ রয়েছে যা অন্তর প্রত্যাখ্যান করে। আর যিয়াদ বিন মীনা মাজহুল (অপরিচিত), আমি তাকে চিনি না"
(৬)। ইমাম তিরমিযী বলেছেন: "এটি একটি গারীব হাদীস, মুহাম্মাদ বিন বকর এর বর্ণনা ব্যতীত এটি আমরা জানি না।" আর আলবানী এটিকে হাসান বলেছেন
(৭)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীত তাহযীরি মিনাশ শিরকি ওয়া বায়ানি খাতারিহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
المطلب السابع: الشرك موجب لدخول النار، والتوحيد موجب لدخول الجنة:8 - عَنْ عَبْدِ اللهِ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مَنْ مَاتَ يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ. وَقُلْتُ أَنَا: مَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ.
أولًا: التخريج: أخرجه البخاري
(1)، ومسلم
(2).
ثانيًا: شرح ألفاظ الحديث:
وَقُلْتُ أَنَا: مَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ: قال ابن حجر رحمه الله: " ولم تختلف الروايات في الصحيحين في أن المرفوع الوعيد، والموقوف الوعد .. وكأن ابن مسعود لم يبلغه حديث جابر .. "
(3).
* * *
--------------------------------------------
সপ্তম পরিচ্ছেদ: শিরক জাহান্নামে প্রবেশের কারণ এবং তাওহীদ জান্নাতে প্রবেশের কারণ:৮ - আবদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করা অবস্থায় মারা যাবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আর আমি বললাম: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরীক না করা অবস্থায় মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
প্রথমত: তাখরিজ (উৎস নির্দেশ): এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী
(১) ও মুসলিম
(২)।
দ্বিতীয়ত: হাদীসের শব্দসমূহের ব্যাখ্যা:
আর আমি বললাম: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরীক না করা অবস্থায় মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে": ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "সহীহাইন-এর বর্ণনাগুলোতে এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই যে, মারফু (রাসূলের উক্তি) অংশটি হলো সতর্কবাণী এবং মাওকুফ (সাহাবীর উক্তি) অংশটি হলো সুসংবাদ... সম্ভবত ইবনে মাসউদের নিকট জাবিরের হাদীসটি পৌঁছায়নি..."
(৩)।
* * *
--------------------------------------------